Saturday, December 11, 2010

আলোচনা- এ মাটির মায়ায় by ইকবাল হোসাইন চৌধুরী

৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে পয়লাবার পা রেখেছিলেন সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশে। সেই বাংলাদেশের মায়া আর ছেড়ে যায়নি তাঁকে। ‘টেস্টিমনি অব সিক্সটি’ নামের ঐতিহাসিক দলিলের পেছনের মানুষ জুলিয়ান ফ্রান্সিস আপন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বাংলাদেশকেই। ’৭১-এর সেই দিনগুলোতে সর্বস্ব-হারা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য কাজ করা শুরু করেছিলেন।

আলোচনা- মধ্যবিত্তের উত্থান, না ভোক্তাশ্রেণীর উদ্ভব? by শফিউল আলম ভুইয়া

সাম্প্রতিক কালে একটি বিষয় কানে আসছে। বিষয়টি বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে একটি মধ্যবিত্তশ্রেণীর উত্থান ঘটেছে। এর প্রমাণ হচ্ছে, রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে খাবারের জন্য এমনকি ইফতারের জন্য অসংখ্য মানুষের ভিড়, কারও কারও জায়গা না পেয়ে ফিরে যাওয়া, ঈদ বা ছুটি কাটানোর উদ্দেশে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এবং দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ।

গল্পালোচনা- হিমালয়ের পায়ের কাছেঃ গোধূলির ছায়াপথে by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

ন ঘুরে বেড়ায় পাহাড়ের চূড়ায় দৃষ্টিপথে, যেখানে অন্নপূর্ণা, কাঞ্চনজঙ্ঘা, ধবলগিরি, নন্দাদেবী। সাদা বরফের চূড়ায় সূর্যের সোনালি পরশ, ফেরারি মন ধায় ঊর্ধ্বলোক থেকে আরও ঊর্ধ্বপানে। পাখা নেই, তবুও আজ আমি হিমালয়। জিএমজির সুবিশাল বিমানে উপভোগ করছি মনোরম দৃশ্য, আর মনের কুঠরিতে বন্দী করি অনুপম মুহূর্তের নির্যাস।

রাজনৈতিক আলোচনা- পতিত স্বৈরাচারের আস্ফালন ও আওয়ামী লীগের নীরবতা by সোহরাব হাসান

৯৯০ সালে গণ-আন্দোলন তথা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ নামের যে স্বৈরশাসক ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর পতন ঘটেছিল, ইদানীং সেই ব্যক্তি নিজেকে অপাপবিদ্ধ যিশু বলে প্রমাণ করতে চাইছেন। তবে দেশের মানুষ এতটা নির্বোধ নন যে তাঁর কথায় বিভ্রান্ত হবেন। ১৯৯০ সাল থেকে প্রতিবছর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবস পালন করে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু স্বৈরাচারীরা তা মানেন না। তাঁরা এটিকে পালন করেন গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হিলের সেঞ্চুরি

চলতি অ্যাশেজে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন, এই কথা নিজ মুখে বলেছেন ডেভিড হাসি। এবার ব্যাট দিয়েও ‘বললেন’। ইংল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ভিক্টোরিয়ার হয়ে অপরাজিত ৬৭ করেছেন হাসি ভাইদের ছোটজন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১০৫ রান এসেছে মাইকেল হিলের ব্যাট থেকে। ২ উইকেটে ২১৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে ভিক্টোরিয়া।
জবাবে ১ উইকেটে ৫০ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করেছে ইংল্যান্ড একাদশ। ২৭ রান করে আউট হয়েছেন অ্যালিস্টার কুক। স্ট্রাউস ১৭ আর বেল ৬ রানে অপরাজিত আছেন। এই ম্যাচে বিশ্রাম পেয়েছেন কেভিন পিটারসেন। ইংল্যান্ড বিশ্রাম দিয়েছে মূল বোলারদেরও। খেলছেন ক্রিস ট্রেমলেট, আজমল শেহজাদ, টিম ব্রেসনান, মন্টি পানেসাররা।

রুয়ান্ডায় গণহত্যার ওপর আর্কাইভস

রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে সে দেশের গণহত্যার ওপর একটি আর্কাইভস (মহাফেজখানা) গতকাল শুক্রবার খোলা হয়েছে। এই আর্কাইভসে রুয়ান্ডার গণহত্যা-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার নথি, ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ভিডিও দৃশ্যসহ আরও অনেক কিছু রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিভিন্ন বিবরণও এতে রয়েছে।
১৯৯৪ সালের ওই গণহত্যায় রুয়ান্ডার প্রায় আট লাখ লোক নিহত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুয়ান্ডা সরকার ও গণহত্যাবিরোধী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান এজিস ট্রাস্ট এই আর্কাইভসটি প্রতিষ্ঠা করে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই আর্কাইভস ১৯৯৪ সালের ভয়াবহ গণহত্যা সম্পর্কে মানুষকে নতুন করে অনেক কিছু জানার সুযোগ দেবে।

অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টিপাতে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত চারজনের মৃত্যু

কয়েক সপ্তাহের লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।
এ ছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে মারা গেছে চারজন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল শুক্রবার উপকূল-সংলগ্ন ৪৫টি অঞ্চলকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক বছরের খরা শেষে এ মাসের এই ভারী বৃষ্টিপাত অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির বদলে দুর্ভোগ বয়ে এনেছে।
বৃষ্টির পানিতে আটকে পড়া কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কয়েক বছরের আবহাওয়ার ইতিহাসে এটাকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাঁরা।

হাইতিতে নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে

হাইতির গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করা হবে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন এ ঘোষণা দেয়। গত ২৮ নভেম্বর হাইতির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশন জানায়, শীর্ষ তিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোট গণনা করা হবে। ওই তিন প্রার্থী হচ্ছেন মারলান্দে ম্যানিগাত, জুড সেলেস্টিন ও মিশেল মরটেলি।
কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন বাতিলের দাবিতে রাজধানী পোর্ট অ প্রিন্সে মিছিল করেছে শত শত বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীরা মূলত নির্বাচনের ফলাফলে তৃতীয় স্থানে থাকা মিশেল মরটেলির সমর্থক।
মরটেলি অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচন থেকে তাঁকে হটানোর জন্য ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০১০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট পড়ার হিসাব দ্রুত খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় হাইতিতে চারজন নিহত হন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করেছিল, ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠায় সেই লক্ষ্য পূরণ এখন হুমকির মুখে। সম্প্রতি কলেরা মহামারিতে দেশটি বিপর্যস্ত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়বে

যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। সিনেটে এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করা হলে রিপাবলিকানরা এর পক্ষে সমর্থন দেবেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা এ-সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করবেন এবং প্রতিনিধি পরিষদে এটা তোলার সুযোগ দেবেন না।
এ ছাড়া বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য হাইব্রিড গাড়ি, বায়োডিজেল, জ্বালানিবান্ধব বাড়ি ইত্যাদির উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারেও একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার বারাক ওবামা ঘোষণা করেছিলেন, আগামী ১ জানুয়ারি আয়কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার যে সময়সীমা রয়েছে তা বাড়ানো হবে। রিপাবলিকানদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ওই ঘোষণাই তিনি বহাল রাখতে চান।
এর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ধনীরা যাতে এ সুবিধার সুযোগ নিতে না পারেন, এ জন্য এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এ ব্যাপারে এখনো একই অবস্থানে রয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার এক কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা একমত হয়েছেন, আয়কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে তুলতে দেবেন না তাঁরা। ওবামা ও রিপাবলিকানদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তির আয় দুই লাখ ডলারের বেশি এবং দম্পতিদের আয় আড়াই লাখ ডলারের বেশি হলে তাঁরা আয়করের আওতায় আসবেন।

ব্রিটেনে শীত কমবে পোল্যান্ডে আরও চারজনের মৃত্যু

তীব্র শীতে নাকাল ব্রিটেনে শীত আগামী সপ্তাহে কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। তীব্র শীতে পোল্যান্ডে আরও চারজন মারা গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে শীতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭০ জনে।
ব্রিটেনে বিগত ১০০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ শীত চলছে। তুষারপাতে এর মধ্যে দেশটির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সবকিছুই ঢেকে গেছে তুষারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন রাস্তায় সেনা নামিয়েছেন। গতকাল রাতে স্কটল্যান্ডের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ইংল্যান্ডে ছিল মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহে মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হতে পারে।
পোল্যান্ডে শীতে বৃহস্পতিবার রাতে আরও চারজন মারা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। পোল্যান্ডে গত নভেম্বরে তীব্র শীত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছে।

মিয়ানমার গোপন পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ মিয়ানমার গোপন পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের সহযোগিতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে। নজরদারি ওয়েবসাইট উইকিলিকস প্রকাশিত নতুন বার্তা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ব্রিটেনের পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান গতকাল শুক্রবার এই বার্তা প্রকাশ করে।
২০০৪ সালের আগস্টে ইয়াঙ্গুনে মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো বার্তায় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি বাংকারে তিনি প্রায় ৩০০ জন উত্তর কোরীয় কর্মীকে কাজ করতে দেখেছেন। মিয়ানমারের শ্রমিকদের সহযোগিতায় উত্তর কোরীয় কর্মীরা একটি পাকা বাংকার তৈরি করছেন। ইয়াঙ্গুন থেকে ৪৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের পাদদেশে এই বাংকার তৈরি করা হচ্ছে। মাটির নিচ থেকে এই বাংকারের চূড়ার উচ্চতা প্রায় ৫০০ ফুট।
২০০৪ সালের অপর এক বার্তায় মিয়ানমার সফর করা একজন বিদেশি ব্যবসায়ীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের পশ্চিম-মধ্য অঞ্চল ম্যাগওয়ের মিনবু শহরে ইস্পাতের একটি বড় চালান খালাস হতে দেখেছেন তিনি। একটি জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ ইস্পাত নামানো হয়। সাধারণত কোনো একটি কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় ইস্পাতের চেয়ে এর পরিমাণ ছিল অনেক বেশি।
ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গুনে মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী বলেছেন, মিনবু শহরের কাছে একটি পরমাণু চুল্লি তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে পিয়ংইয়ং ও মিয়ানমারের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে উত্তর কোরীয় প্রকৌশলীদের উপস্থিতির ব্যাপারে জোরালো খবর রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমারে আসা উত্তর কোরীয় প্রকৌশলীদের সংখ্যা তিন শতাধিকেরও বেশি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমার ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য পরামাণু কর্মসূচি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।
তবে মিয়ানমারের জান্তা সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির কোনো ইচ্ছে তাদের নেই। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও উড়িয়ে দিয়েছে জান্তা সরকার।
গত মাসেই জাতিসংঘ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের কাছে নিষিদ্ধ পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম সরবরাহ করছে উত্তর কোরিয়া। স্বপক্ষ ত্যাগী মিয়ানমারের সেনাবাহিনী একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নরওয়ে-ভিত্তিক গণমাধ্যম ডেমোক্র্যাটিক ভয়েজ অব বার্মা (ডিভিবি) গত জুনে বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে মিয়ানমার। এ লক্ষ্যে বছরের পর বছর ধরে তারা গোপনে সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। ডিভিবির সংগ্রহে মিয়ানমারের গোপন বাংকার ও সুড়ঙ্গসংশ্লিষ্ট ছবি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণও রয়েছে। ডিভিবি বলেছে, উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় এসব বাংকার ও সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাবেক পরিচালক রবার্ট কেলি অক্টোবরে বলেছেন, প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে মিয়ানমারের পরমাণু কর্মসূচি প্রক্রিয়াধীন। এই কর্মসূচি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।

‘আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চান মিসরের প্রেসিডেন্ট’

মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক আগামী বছর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে আজীবন ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করছেন।
গত বৃহস্পতিবার উইকিলিকস প্রকাশিত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান উইকিলিকসের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরে ২০১১ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না।’
গত বছর মে মাসে কায়রোতে মার্কিন দূতাবাসের একটি নথির তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘২০১১ সালে মিসরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে পর্যন্ত বর্তমান প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক বেঁচে থাকলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং অবশ্যই জিতবেন।’
এতে আরও বলা হয়, গোপনে প্রেসিডেন্ট মুবারকের বিরুদ্ধে সমালোচনা হলেও তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন বা তাঁর অবর্তমানে কী পরিস্থিতি হবে তা কেউ নিশ্চিত নন।
বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুবারকের পিত্তথলিতে (গলব্লাডার) গত মার্চ মাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
উইকিলিকসের নথিতে প্রেসিডেন্ট মুবারকের ছেলে জামাল, দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ওমর সুলেইমান ও আরব লীগের প্রধান আমর মুসাকে প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুজিবকে নিয়ে সিরাজের একমাত্র লেখা by সেলিম রেজা নূর

আমি নিউইয়র্কে থাকি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আর্কাইভস ঘেঁটে সিরাজুদ্দীন হোসেনের অনেক লেখা সংগ্রহ করেছি। সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর, কাশ্মীর সমস্যা, পশ্চিমবঙ্গের বাংলা বইবিষয়ক সমস্যা, ভাষা আন্দোলন, পাট সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে তাঁর স্বনামে প্রকাশিত লেখাগুলো আগ্রহোদ্দীপক। ‘অনামী’ ছদ্মনামে সিরাজুদ্দীন হোসেনের ‘মঞ্চে-নেপথ্যে’ কলামগুলোও সংগ্রহ করতে পেরেছি। অপেক্ষা করছি, একদিন সিরাজুদ্দীন হোসেনের সত্যিকার অবদান সম্পর্কে গবেষণা হবে এবং তিনি পাবেন তাঁর যোগ্য আসন। ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় সিরাজুদ্দীন হোসেন থাকতেন বেকার হোস্টেলে। তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, কাজী গোলাম মাহবুব, আসফউদ্দৌলা রেজা, শামসুদ্দীন মোল্লা প্রমুখ। শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তখন থেকেই সখ্য ছিল সিরাজের। বন্ধু শেখ মুজিবকে ইত্তেফাক-এর মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার রূপকারদের মধ্যে সিরাজ ছিলেন অন্যতম। শুধু একাত্তরের মার্চ মাসে প্রকাশিত ইত্তেফাক-এর শিরোনামগুলোর দিকে নজর দিলেই আমরা তার প্রমাণ পাব। এই ফিচারে আমরা সিরাজুদ্দীন হোসেনের লেখা একটি অবতরণিকা নিয়ে আসব। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত হওয়ার পর যে ভাষণগুলো দিয়েছিলেন, তারই একটি সংকলন করেছিলেন আমিনুল হক বাদশা। এটি প্রকাশিত হয়েছিল কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের সম্মেলন উপলক্ষে। বাদশার অনুরোধে বন্ধু মুজিবকে নিয়ে অবতরণিকাটি লিখে দিয়েছিলেন সিরাজুদ্দীন হোসেন। সরাসরি শেখ মুজিবকে নিয়ে এটাই তাঁর একমাত্র লেখা। লেখাটি তিনি লিখেছিলেন ১৯৬৯ সালের ২৩ জুন। শেখ মুজিবের মধ্যে একজন সত্যিকার নেতার দেখা পেয়েছিলেন তিনি। লেখাটা এ রকম:
‘বাংলার মানস-সন্তান। অগ্নিপুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ ও জাতির জন্য সংগ্রামী পথে পা বাড়িয়ে জীবনে বহু নিগ্রহ তিনি ভোগ করেছেন, কিন্তু দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা তিনি করেননি কখনো। অত্যাচারী, অবিবেকী আইয়ুব-মোনেম সরকার দেশের বুকে কবরের শান্তি কায়েম করে যখন স্বস্তিতে রাজত্ব করতে চেয়েছিলেন, দেশ ও জাতির দুর্দিনের কথা চিন্তা করে এই একটি কণ্ঠ সেদিন ভীম গর্জনে গর্জে উঠেছিল। ভয়-ভীতির জড়তা কাটিয়ে সারা বাংলার মানুষ সেদিন জেগে উঠেছিল, কাতার বেঁধেছিল এই অকুতোভয় মধ্যবয়সী নেতার পেছনে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার উত্তাল তরঙ্গে যখন মোনেমশাহির তখতে তাউস সয়লাব হতে চলেছে, ঠিক তখনই তাঁকে দেশরক্ষা আইনে আটক করা হলো কারাগারে। কিন্তু সে আইনও যখন তাঁকে আটকে রাখার পক্ষে অপর্যাপ্ত বিবেচিত হলো, তখনই বিশেষ আইন প্রণয়ন করে তাঁকে প্রধান আসামি করা হলো তথাকথিত এক ষড়যন্ত্র মামলার। একপর্যায়ে দেশব্যাপী প্রচণ্ড গণবিস্ফোরণের মুখে ষড়যন্ত্র মামলার ভিত ধসে পড়ল। শেখ মুজিব বেরিয়ে এলেন, সারা দেশ তাঁকে লুফে নিল বিজয়ী বীরের বেশে। সত্য বলতে কি, শিশু কচি-কাঁচাদের মুখেও ধ্বনিত হলো, “জেলের তালা ভেঙ্গেছি, শেখ মুজিবকে এনেছি”।
শেখ মুজিবের নেতৃত্বের মাহাত্ম্য এখানেই। বাংলার ঘরে ঘরে শিশু, কিশোর, আবালবৃদ্ধবনিতার আজ সে নয়নমণি। দীর্ঘ কারানিগ্রহ ভোগের পর মুক্ত বিহঙ্গের মতো যখন তিনি এ দেশের লাখো কোটি মানুষের মাঝে এসে দাঁড়ালেন, তারই প্রথম কটি দিনে জাতির উদ্দেশে তিনি যা কিছু বলেছেন, ‘পাঠচক্রে’র পক্ষ থেকে তার এই সংকলন বের করায় গ্রন্থকারকে আমার অভিনন্দন। কেননা, দেশজোড়া যে সমস্যা, তার সমাধানের জন্য আজ নেতৃত্বের এ শূন্যতার রাজ্যে নির্ভীক, গতিশীল, প্রাণধর্মী যে গণমুখী নেতৃত্বের প্রয়োজন, তা কেবল শেখ মুজিবেরই সম্ভব। তাই তাঁর যা বক্তব্য, জাতির তা মূল্যবান সম্পদ।
শেখ মুজিবকে আমি চিনি। কলেজ জীবনে পাকিস্তান আন্দোলনেও আমি তাঁকে দেখেছি। নিজেদের আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ময়দানে তিনি ছিলেন মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্ত ও প্রিয় সৈনিক। সংগ্রামী পুরুষ শহীদ সাহেবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বলতে ছিলেন দুজন—ইত্তেফাক সম্পাদক জনাব তফাজ্জল হোসেন ও শেখ মুজিব। শহীদের চরিত্রের একটা অপূর্ব প্রতিচ্ছায়া দেখেছি তাঁদের দুজনের মধ্যে। শহীদ সাহেব ও জনাব তফাজ্জল হোসেন আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁদের চারিত্রিক দৃঢ়তায় এ দেশের ১২ কোটি মানুষের কল্যাণব্রতে দীক্ষা নিয়ে আজও খাড়া গর্দানে আমাদের মধ্যে বিরাজ করছেন মুক্তির বরপুত্র শেখ মুজিব। নিজেদের প্রয়োজনে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের টুঁটি টিপে হত্যার জন্য তাঁর নেতৃত্বের যিনি যত অপব্যাখ্যাই করুন না কেন, পাকিস্তানের ১২ কোটি মানুষের মুক্তির প্রকৃত দিশারি যে তিনি, আমার মনে সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। আমার দেশের তরুণ সংগ্রামী ছাত্র-জনতার জন্য শেখ মুজিবের নেতৃত্ব আদর্শ হোক, তাঁদের যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ হোক, দেশবাসীর মুখে হাসি ফুটুক—এই আমার অন্তরের কামনা।’
বঙ্গবন্ধুর এককালীন প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশার কাছ থেকে লেখাটি সম্প্রতি সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র এ লেখাটিতে সিরাজ উঠিয়ে এনেছেন শেখ মুজিবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সিরাজুদ্দীন হোসেনকে পাকিস্তানি বাহিনী ও আলবদররা হত্যা করল ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর। ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ লন্ডন থেকে ঢাকার বঙ্গভবনে টেলিফোন আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির গণসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ শাহজাহানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সিরাজকে কি সত্যিই ওরা মেরে ফেলেছে?’
উত্তরে বলা হয়, হ্যাঁ।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আহা!’

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১০ by আইন ও সালিশ কেন্দ্র

২০১০ সালে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল মিশ্র। একদিকে যেমন কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, তেমনি নেতিবাচক উদাহরণও রয়েছে অনেক। ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণীত হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতি অনুমোদিত হয়েছে, সংশোধিত শিশুনীতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইন অনুমোদিত হয়েছে। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিডও) আওতায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া উচ্চ আদালত কর্তৃক ফতোয়াকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরখা পরা বাধ্যতামূলক করা যাবে না, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে—এ ধরনের কিছু ভালো সিদ্ধান্ত এসেছে। কিন্তু উপরিউক্ত উদ্যোগের ফলাফল পাওয়ার ক্ষেত্রে আশানুরূপ অগ্রগতি অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ—বারবার এ ঘোষণা দেওয়া হলেও এটি অব্যাহতভাবে চলছে। ‘ক্রসফায়ার’ নেই, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘আত্মরক্ষার্থে গুলি’ চালানোর ফলে মৃত্যু ঘটছে—এ ধরনের যুক্তি দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত ১১৭ জন এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। তা ছাড়া নতুন প্রবণতা হিসেবে নিখোঁজ বা ‘গুপ্তহত্যার’ ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ অথবা গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের র্যাব বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেই তুলে নিয়ে গেছে, যা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
প্রায় পুরো বছরই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক। নিজ বাসভবনে এক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা এবং এতে বেশ কয়েকজন মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু, ছিনতাইকারীদের হাতে গণমাধ্যমের কর্মীসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ড, মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং তাতে গণপিটুনির শিকার হয়ে অনেক মৃত্যুর ঘটনা নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদাহরণ। চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত ৯০ জন গণপিটুনির শিকার হয়ে নিহত হয়েছে।
চলতি বছর বখাটেদের দ্বারা নারীদের উত্ত্যক্ত করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃৃদ্ধি পায়। অবশ্য সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে নানামুখী প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ দেখা যায়। ফলে অনেক প্রতিবাদও দেখা যায়। কিন্তু বখাটেদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। এমনকি প্রতিবাদকারীরাও বখাটেদের রোষানলে পড়েছে। এর মধ্যে নাটোরের কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহমান এবং ফরিদপুরে মা চাঁপা রানী ভৌমিকের মৃত্যু ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়ে ২৮ জন নারী, মেয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে এক বাবা এবং ছেলের অবাধ্যতায় অতিষ্ঠ হয়ে একজন মা আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১৮ জন।
চলতি বছর বিরোধী দল দুই দিন হরতাল পালন করে। হরতালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনা বা হরতালের আগে গণগ্রেপ্তারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি মানুষের মনে ভীতি সঞ্চারের জন্য বিরোধী দল কর্তৃক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
বিচার বিভাগের কাজকে মসৃণভাবে চালানোর জন্য সরকার নিম্ন আদালতের জন্য বেশ কিছু বিচারক নিয়োগ দিয়েছে। তবে হাইকোর্টে দুজন বিচারকের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। তা ছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা স্বচ্ছভাবে অনুসরণ না করায় দলীয় নিয়োগের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। সরকার সম্প্রতি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০ ধারা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘আপরাধ আমলে নেওয়ার’ ক্ষমতা দেওয়া হবে। এটা বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা এবং এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তা ছাড়া বিচারব্যবস্থার প্রচলিত নিয়মনীতিকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বেশ কিছু দুর্নীতির মামলা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজনৈতিক বিবেচনায় যতগুলো মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, সবই ছিল সরকারদলীয় কর্মীদের। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নাটোরের গামা হত্যাকাণ্ডের আসামিদের বা শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতের শাস্তি মওকুফের ঘটনা এ ক্ষেত্রে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সরকারদলীয় প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মাসুম নামের জনৈক সাংবাদিক (নিউ এজ) র্যাবের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চলতি বছর ১৫৮ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। তা ছাড়া চ্যানেল ওয়ান বন্ধ করা ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের চেষ্টা, সাময়িকভাবে ফেসবুক বন্ধ রাখা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মূল যে সমস্যা—ভূমিবিরোধ, তা নিষ্পত্তিতে তেমন অগ্রগতি নেই। ভূমি জরিপ আগে হবে নাকি পুনর্বাসন আগে হবে, তা নিয়ে ব্যাপক মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। তবে এ বিষয়ে পুনরায় চিন্তাভাবনা চলছে। ওই অঞ্চলে সহিংসতাও বন্ধ হয়নি। সহিংসতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী এবং সরকারের ভূমিকা ও আন্তরিকতা নিয়েও নানা সময় প্রশ্ন উঠেছে। ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ১৩ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে সন্তু লারমা হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করবে, এ বিশ্বাস আমার নেই। মানুষের জীবন ও জীবিকার সংগ্রামেও অনেক চড়াই-উতরাই ঘটেছে।’
পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং কবে থেকে শ্রমিকেরা তা পাবেন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন পোশাকশিল্পে অস্থিরতা চলে, একপর্যায়ে মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য পোশাকশিল্প বন্ধের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। রূপগঞ্জে সেনা আবাসন প্রকল্পের জমি কেনা নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় গ্রামবাসীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন নিখোঁজ হয়। ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের প্রতিবাদে মানুষ পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়েছে। তা ছাড়া দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুৎ-পরিস্থিতি সারা বছরই নাজুক ছিল।
এপ্রিল ২০০৯ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্যপদ শূন্য ছিল। দীর্ঘদিন পর ২২ জুন ২০১০ সরকার চেয়ারম্যান ও অন্য ছয়জন কমিশনার নিয়োগদানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছে। তবে কমিশনের জন্য বিধিমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো এখনো অনুমোদন করা হয়নি।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের গুরুত্বপর্ণ সব ক্ষমতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২৬ এপ্রিল ২০১০ মন্ত্রিপরিষদে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। এই সংশোধনী গৃহীত হলে সরকার কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর করার যে অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ হবে না এবং কমিশনের কর্মপরিধি যেমন সংকুচিত হবে, তেমনি এর ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে। এই সংশোধনীর অন্যতম হচ্ছে, সরকারি কর্মকর্তাদের (মন্ত্রীসহ) বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে কমিশনকে সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে। আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, কমিশনের সচিব হবেন প্রধান হিসাব কর্মকর্তা এবং তিনি সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন, যা কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রিত করবে। তা ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ করা এবং মিথ্যা অভিযোগে শাস্তির বিধান রাখাও দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আশার ব্যাপার হচ্ছে, সংশোধনীটি এখনো সংসদে উত্থাপিত হয়নি। আইন কমিশন বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্যমূলক আইন চিহ্নিত করে সংশোধনের কর্মপরিকল্পনা করলেও দীর্ঘদিন ধরে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। তা ছাড়া আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের হঠাৎ পদত্যাগ এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে।
যেহেতু বর্তমানে যে দল সরকার পরিচালনা করছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মানবাধিকারের সুরক্ষা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হিসেবে ব্যক্ত হয়েছিল, তাই দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আসক সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক): একটি মানবাধিকার সংগঠন।

ইসলামে প্রতিবন্ধীদের অধিকার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত প্রতিবন্ধী বলতে স্বাভাবিক কর্ম সম্পাদনে অক্ষম ব্যক্তিকে বোঝায়। প্রতিবন্ধী মূলত শারীরিক, মানসিক, দৃষ্টি, শ্রবণেন্দ্রিয়র ক্ষতির কারণে হয়ে থাকে। তাদেরও মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। ইসলাম প্রতিবন্ধীদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে মানুষকে কর্তব্য-সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে বঞ্চিতদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর তাদের (বিত্তবান) ধন-সম্পদে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।’ (সূরা আল-যারিয়াত, আয়াত-১৯)
একজন প্রতিবন্ধী সমাজে সুস্থ-সুন্দরভাবে বিকশিত হয়, যদি দেশের অবকাঠামো ভালো হয়। মানবাধিকার, উপযুক্ত পরিচর্যা, অনুকূল পরিবেশ, আর্থিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সমবেদনা পেলে তারা দেশ ও জাতি গঠনে যোগ্য অংশীদার হতে পারে। প্রতিবন্ধীরা শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থসামাজিক অক্ষমতা বা অসুবিধার কারণে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। প্রতিবন্ধীর প্রতি দয়া-মায়া, সেবা-যত্ন, সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহূদয়তার হাত সম্প্র্রসারণ করা ইসলাম অনুসারীদের একান্ত কর্তব্য। মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্য প্রাপ্য। মানুষ পরস্পর ভাই ভাই। তাই একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন ও সহানুভূতিশীল হওয়া অবশ্যকরণীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দীকে মুক্ত করে দাও।’ (বুখারি)
শারীরিক, শ্রবণ, বাক, বুদ্ধি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের একটি অংশ জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী। অপর অংশ দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হয়। জন্মপ্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তুমি তোমার সুমহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো, যিনি সৃষ্টি করেন ও সুঠাম করেন এবং যিনি পরিমিত বিকাশ সাধন করেন ও পথনির্দেশ করেন।’ (সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১-৩) গর্ভাবস্থায় মায়ের দৈহিক কোনো ঘাটতি, পুষ্টিহীনতা বা অসুস্থতা, জন্মের পর বেড়ে ওঠার সময় অপুষ্টি, রোগাক্রান্ত হওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রভৃতিসহ পিতা-মাতার অমনোযোগ ও অযত্নের কারণেও শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘তিনিই মাতৃগর্ভে যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের আকৃতি গঠন করেন।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-৬)
জন্মপ্রতিবন্ধীই হোক আর দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধীই হোক, ইসলামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং অন্যদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া অবশ্যকর্তব্য। বিপদ-আপদে সব সময় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানো মানবতার দাবি ও ঈমানি দায়িত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা তাদের উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা ঠাট্টা-তামাশা করা সৃষ্টিকে তথা আল্লাহকে উপহাস করার শামিল। প্রতিবন্ধীদের সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারেন সেসব ধর্মপ্রাণ সংবেদনশীল মানুষ, যাঁরা অপরের দুঃখ-বেদনাকে সহমর্মিতার দৃষ্টিতে দেখেন।
একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরাইশ নেতাদের সঙ্গে আলোচনারত ছিলেন। এমতাবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাক্তুম (রা.) নামের এক অন্ধ সাহাবি সেখানে উপস্থিত হয়ে মহানবী (সা.)-কে দ্বীন সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এতে কুরাইশদের সঙ্গে নবীজির আলোচনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। নবী করিম (সা.) মক্কার জাত্যভিমানী কুরাইশদের মন রক্ষার্থে প্রতিবন্ধী লোকটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করলেন না। কিন্তু আল্লাহর কাছে এ বিষয়টি পছন্দনীয় হলো না। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবন্ধীদের অধিকার সম্পর্কে আয়াত নাজিল হয়; যাতে তাদের প্রতি ইসলামের কোমল মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি এল। তুমি কেমন করে জানবে—সে হয়তো পরিশুদ্ধ হতো অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে উপদেশ তার উপকারে আসত।’ (সূরা আবাসা, আয়াত: ১-৪)
নবী করিম (সা.) প্রতিবন্ধীদের সর্বদাই অত্যন্ত ভালোবাসতেন ও বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাক্তুম (রা.)-কে নবীজি তাঁর অপার স্নেহে ধন্য করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই তাঁকে দেখতেন, তখনই বলতেন, ‘স্বাগতম জানাই তাঁকে, যাঁর সম্বন্ধে আমার প্রতিপালক আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন।’ মহানবী (সা.) এ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবিকে দুবার মদিনার সাময়িক শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। এ জন্য প্রতিবন্ধীদের ভালোবাসা নবী করিম (সা.)-এর অনুপম সুন্নতও বটে। ঘটনাক্রমে রাসুলে করিম (সা.) যদি প্রতিবন্ধীকে অগ্রাধিকার না দেওয়ায় সতর্কীকরণের মুখে পড়তে পারেন, তাহলে ধর্মপ্রাণ মানুষ এ কাজ করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হবেন। সুতরাং সবাইকে খুব সতর্ক হতে হবে এবং প্রতিবন্ধীদের প্রতি অবহেলা নয়, ভালোবাসা আর সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সবারই প্রতিবন্ধীদের অধিকারের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়ার দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের বৈষম্য ও দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকে না। ইসলাম শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে দুর্বল-অসহায় প্রতিবন্ধীদের অধিকারের ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবন্ধীরাও তাদের পিতা-মাতার প্রিয় সন্তান। তাদের মধ্যেও সুখ-দুঃখ, ব্যথা-বেদনা, স্নেহ-ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের অনুভূতি আছে। এ জন্য দেশ গড়ার ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত কার্যক্রমের প্রয়োজন রয়েছে। ইসলামের আলোকে প্রতিবন্ধীদের পরমুখাপেক্ষিতার পথ থেকে স্বাবলম্বিতার পথে আনতে হবে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করে, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে সাহায্য করে থাকেন।’ (মুসলিম)
মানবসমাজে যারা প্রতিবন্ধী, তারা সমাজের বোঝা নয়, তাদের মধ্যে রয়েছে অনেকে আল্লাহ প্রদত্ত তীক্ষ মেধাসম্পন্ন অনন্য প্রতিভা। শারীরিক বা যেকোনো প্রতিবন্ধিতা অক্ষমতা নয়, বরং ভিন্ন ধরনের সক্ষমতা। দুস্থ প্রতিবন্ধী ও পঙ্গু-বিকলাঙ্গদের সেলাইয়ের কাজ, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প, কাঠশিল্প, মৃৎশিল্প, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, সংগীত প্রভৃতি সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন যোগ্যতার মাধ্যমে দক্ষতা গড়ে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। আমাদের সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রতিবন্ধীদের উপেক্ষা করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কখনো সম্ভব হতে পারে না। সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক অংশ অসহায় প্রতিবন্ধীদের ইসলাম প্রদত্ত অধিকার সুরক্ষা হচ্ছে কি না, তা সবারই লক্ষ করা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড দাওয়াহ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

ফের হামলা হলে শত্রু নির্মূল করার ঘোষণা দ. কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে হামলা হলে শত্রুকে নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল হ্যান মিন কু। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, মার্কিন সেনাদের নিয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী শত্রুকে নির্মূল করবে। এর আগে গত বুধবার সিউলে এক বৈঠকে কু এবং মার্কিন চিফস জয়েন্ট অব স্টাফ অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে একমত হন।
এদিকে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা নিরসনে চীনের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক দায় বিঙ্গুয়ো গতকাল পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বৈঠকে তাঁরা দুই দেশের সম্পর্ক এবং কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মতৈক্যে পৌঁছেছেন। কোরীয় উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপের পরিপ্রেক্ষিতে চীন এ বৈঠক করল।
গত ২৩ নভেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলা-পাল্টা গোলার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে দুই মেরিন সেনাসহ অন্তত চারজন নিহত হন। বিষয়টি নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হামলা মোকাবিলায় গ্যাস মাস্ক: উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য রাসায়নিক হামলা মোকাবিলায় সীমান্তবর্তী দ্বীপের সব অধিবাসীকে গ্যাস মাস্ক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ইয়নপিয়ংসহ সীমান্তবর্তী ওই পাঁচটি দ্বীপের অধিবাসীদের জন্য আগামী বছর আরও এক হাজার ৩০০ গ্যাস মাস্ক সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে ৮৭ শতাংশ নাগরিকের গ্যাস মাস্ক রয়েছে।

বসতি স্থাপন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা সম্ভব নয়

ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপন বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তবে তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় রাজি হবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্টভাবে কিছু বলেননি।
মিসরের রাজধানী কায়রোতে গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বসতি স্থাপন অব্যাহত থাকলে আমরা শান্তি আলোচনায় যাব না।’
ওয়াশিংটন গত মঙ্গলবার জানায়, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপন বন্ধ করতে ইসরায়েলকে রাজি করানোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

মিসিসিপি বিমানবন্দরে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দেহ তল্লাশিতে ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মীরা শংকরের দেহ তল্লাশি করার ঘটনায় ভারত সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত ৪ ডিসেম্বর মিসিসিপি বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির তদন্ত দাবি করে বলেছে, ‘এই ঘটনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা বলেছেন, কূটনৈতিক মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও মীরা শংকরের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে ফিরছিলেন মীরা শংকর। বিমানে ওঠার জন্য তিনি জ্যাকসন-এভার্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাঁকে আলাদাভাবে তল্লাশি করতে চান নিরাপত্তাকর্মীরা। রাষ্ট্রদূত হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও একজন নারী নিরাপত্তাকর্মী তাঁর দেহ তল্লাশি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, মীরা শংকর শাড়ি পরায় তাঁর দেহ তল্লাশি করেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
মিসিসিপির গভর্নর হেইলি বারবারের মুখপাত্র ডান টার্নার বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশ্বে প্রতি চারজনে একজন ঘুষ দেন

বিশ্বে দুর্নীতি তিন বছর আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ডেনমার্ক ছাড়া সারা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই গত বছর প্রতি চারজনের একজন ঘুষ দিয়েছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক সমীক্ষায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ব দুর্নীতি দমন দিবস উপলক্ষে বিশ্ব দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ ফল প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।
বার্লিনভিত্তিক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ৮৬টি দেশের ৯১ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা চালায়। এতে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তাঁদের দেশের সরকার এ সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ।
প্রতি চারজনে একজন জানিয়েছেন, তাঁরা পুলিশকে ঘুষ দিয়েছেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাজস্ব বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ঘুষ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। ২৯ শতাংশ ঘুষ পেয়েছে পুলিশ, ২০ শতাংশ নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) ও পারমিট কর্মকর্তারা, এবং ১৪ শতাংশ পেয়েছেন বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের প্রতি দুজনের একজন গত ১২ মাস এ ধরনের অনৈতিক লেনদেন করেছেন বলে জানা গেছে।
এরপর শীর্ষস্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো। এসব দেশের ৩৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা নানা কারণে ঘুষ দিয়েছেন।
দুর্নীতির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান; এরপর যথাক্রমে কম্বোডিয়া, ক্যামেরন, ভারত, ইরাক, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, ফিলিস্তিন, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন ও উগান্ডা। এসব দেশের প্রতি দুজনের একজন ঘুষ লেনদেন করেছেন।
ডেনমার্কে ঘুষ লেনদেনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘুষ লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে কম (পাঁচ শতাংশ) ঘুষ দেওয়া হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ ও উত্তর আমেরিকায়।
গবেষণায় প্রশ্নোত্তরে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা সমস্যা এড়াতে ঘুষ দিয়েছেন। তাঁদের ২৫ শতাংশের দাবি, বিভিন্ন প্রক্রিয়ার গতি ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ দিয়েছেন তাঁরা।
এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষই সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিয়েছেন।
এদিকে বিবিসির এক জরিপে দেখা গেছে, সারা বিশ্বের মানুষ দুর্নীতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন। গতকাল ওই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। এ জরিপে ২৬টি দেশের ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। কোন বিষয়টিকে তাঁরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন—এ প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ মানুষই দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন।
দুর্নীতি বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে ও দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২০০৩ সালে বিশ্ব দুর্নীতি দমন দিবস ঘোষণা করে।

১৩ লাখেরও বেশি অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার সুযোগ

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে গত বুধবার অভিবাসীদের বৈধতাসংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদিত হয়েছে। ‘ড্রিম অ্যাক্ট’ নামের এই বিলটি সিনেটে পাস হওয়ার পর আইনে পরিণত হলে ১৩ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিলটি সিনেটে তোলার কথা। বিলটি অনুমোদন পেতে সিনেটের ১০০ সদস্যের মধ্যে ৬০ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির পক্ষে ২১৬ এবং বিপক্ষে ১৯৮ ভোট পড়ে। রিপাবলিকান দলের আটজন আইনপ্রণেতা দলীয় অবস্থানের বিপরীতে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের ৩৮ জন আইনপ্রণেতা ওই বিলের বিপক্ষে ভোট দেন বলে জানা গেছে।
ড্রিম অ্যাক্টে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যেসব অবৈধ অভিবাসীর বয়স ১৬ বছরের কম ছিল, তারাই এ আইনের আওতায় আসবে। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর বা বেশি সময় থেকে বসবাসরত, হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েট বা সমমানের শিক্ষা গ্রহণকারীরাই বৈধতার সুযোগ নিতে পারবে। এই আইনের আওতায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ বছরের জন্য শর্ত সাপেক্ষে বৈধতার সনদ দেওয়া হবে। পাঁচ বছর পর আবেদনকারী আরও পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য আবেদন করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে এসব আবেদনকারীকে কমপক্ষে দুই বছরের জন্য উচ্চশিক্ষা নিতে হবে অথবা সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হবে। প্রাথমিক এসব প্রক্রিয়ার পর স্থায়ী অভিবাসনের জন্য আবেদন করতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাসের পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ বিলটি মেধাবী কিছু তরুণদের পক্ষে, যারা যুক্তরাষ্ট্রকে সেবা দিতে চায়। তার মানে, বিলটি যুক্তরাষ্ট্রেরও পক্ষে।’
বিলের সমর্থক আইনপ্রণেতারা বলছেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে কয়েক লাখ অভিবাসী উপকৃত হবে। এ আইনের আওতায় অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং শিক্ষার্থী অভিবাসীরাই বৈধতার সুযোগ নিতে পারবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা স্টেনি হোয়ার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অভিবাসী চায়, বিলটি সেই ধরনের অভিবাসীরই পক্ষে।’
রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই বিলের মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের মদদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রিপাবলিকান নেতা লামার স্মিথ বলেন, ড্রিম অ্যাক্ট বিল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুঃস্বপ্ন। দেশে যেখানে বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ, সেখানে আইন লঙ্ঘনকারীদের বৈধতা দেওয়ার প্রস্তাব আরও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
গুয়ানতানামোর বন্দীদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হবে না: কিউবায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন গুয়ানতানামো বে কারাগারের বন্দীদের যুক্তরাষ্ট্রে না নেওয়ার পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের আরেকটি বিল পাস হয়েছে। মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হয়। এই বিল পাসের ফলে বন্দীদের ফৌজদারি আদালতে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্যোগ ভেস্তে গেল।
এর আগে মার্কিন সরকার ৯/১১-এর ঘটনায় দোষ স্বীকার করা খালিদ শেখ মোহাম্মদের মতো বন্দীদেরও যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে বিচার করার অনুমতি দিয়েছিল। রিপাবলিকান ও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সরকারের ওই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলকে সহায়তা: স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইসরায়েলকে ২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তাসংক্রান্ত বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। বিলটির পক্ষে ২১২ ও বিপক্ষে ২০৬ ভোট পড়ে।
ইসরায়েল আশা করছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে লেবানন ও হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা থেকে জঙ্গিদের রকেট হামলা থেকে তারা রেহাই পাবে।

জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে অংশীদারিমূলক বাজেট দরকার

খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধীন প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক তাঁদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ২৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে বাংলদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাট রপ্তানিকারকেরা জানান, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রপ্তানিমুখী ২৬ হাজার মেট্রিক টন পাট বোঝাই (লোড) হচ্ছে না। এসব পাট বিদেশে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি ও মংলা বন্দরে দুটি বিদেশি জাহাজ অপেক্ষা করছে। এ ছাড়া বেনাপোল বন্দরেও গত ১১ দিনে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাট রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রপ্তানি করতে না পারায় জাহাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ বিপুল অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
আন্দোলনরত সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারের মধ্যে তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং আগামীকাল শনিবার থেকে শ্রমিকেরা রাজপথে থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজেএর ভাইস চেয়ারম্যান সোবহান শরীফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাট রপ্তানিকারক ফজলুর রহমান শরীফ, বিজেএর নির্বাহী সদস্য শেখ সৈয়দ আলী, শেখ কাওসার আলী, মো. রবিউল হক বিশ্বাস, প্রশান্ত কুমার দত্ত, খন্দকার আলমগীর কবীর, এস এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

খুলনায় জুট প্রেস শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত, পাট রপ্তানি ব্যাহত

খুলনা মহানগরের দৌলতপুরে জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধীন প্রায় ১৮ হাজার শ্রমিক তাঁদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ২৯ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে বাংলদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাট রপ্তানিকারকেরা জানান, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রপ্তানিমুখী ২৬ হাজার মেট্রিক টন পাট বোঝাই (লোড) হচ্ছে না। এসব পাট বিদেশে নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি ও মংলা বন্দরে দুটি বিদেশি জাহাজ অপেক্ষা করছে। এ ছাড়া বেনাপোল বন্দরেও গত ১১ দিনে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা পাট রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে রপ্তানি করতে না পারায় জাহাজের ক্ষতিপূরণ বাবদ বিপুল অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
আন্দোলনরত সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারের মধ্যে তাঁদের সব দাবি মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং আগামীকাল শনিবার থেকে শ্রমিকেরা রাজপথে থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজেএর ভাইস চেয়ারম্যান সোবহান শরীফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাট রপ্তানিকারক ফজলুর রহমান শরীফ, বিজেএর নির্বাহী সদস্য শেখ সৈয়দ আলী, শেখ কাওসার আলী, মো. রবিউল হক বিশ্বাস, প্রশান্ত কুমার দত্ত, খন্দকার আলমগীর কবীর, এস এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

স্বনামধন্য ব্যাংকার লুৎফর রহমান সরকারকে সংবর্ধনা

স্বনামধন্য ব্যাংকার, উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর লুৎফর রহমান সরকারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে গত বুধবার রাতে দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (আইবিবি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
লুৎফর রহমান সরকার ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারি অর্ধডজন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে গণমুখী ব্যাংকিংয়ে তাঁকে পথিকৃৎ বিবেচনা করা হয়। ব্যাংকিং খাতে সাড়া জাগানো বিভিন্ন ঋণ ও সঞ্চয়-পণ্যের উদ্ভাবক তিনি।
লুৎফর রহমান সরকার ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) ও ভোক্তা ঋণ স্কিমের উদ্ভাবক। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য তিনি আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প ‘বিকল্প’র স্রষ্টা। সৃজনশীল এই ব্যাংকার দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক সময় ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে অবদান রাখেন।
সাবেক এই গভর্নর একই সঙ্গে দক্ষ পেশাজীবী, লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক। এল আর সরকার নামে সুশীল সমাজের কাছে সমাদৃত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৭ সালে তাঁর রম্য রচনার প্রথম বই দৈনন্দিন প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখা চারটি রম্য রচনাগ্রন্থ ও তিনটি ছড়ার বই পাঠকসমাজে সমাদৃত। ছোটদের জন্য তাঁর তিনটি ছড়ার বইও রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং নজরুল একাডেমীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
লুৎফর রহমান সরকার দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে বরাবরই সাহসী ভূমিকা রাখেন। গভর্নর থাকাকালে ব্যাংক পরিচালকদের নিজ ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নেওয়া বন্ধে কঠোর ভূমিকা নেন। তিনি প্রথম ঋণখেলাপিদের তালিকাও পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
এই গুণী ব্যাংকারের সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, তিনি একজন ব্যতিক্রমী ও যোগ্য ব্যাংকার। তিনি সব সময় দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতেন।
লুৎফর রহমান সরকার বলেন, ‘আমার সম্পর্কে যেসব কথা বলা হচ্ছে, আমি তার অত দাবিদার না।’ তবে তিনি বলেন, ‘৪৮ বছরের ব্যাংকিং সময়ের দিকে তাকালে দেখতে পাই, কিছু এলাকা আছে যার প্রশংসার দাবিদার হতে পারি। কিছু কাজ করেছি মাত্র।’
এল আর সরকার বলেন, তিনি সব সময় দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করেছেন।
এবিবির চেয়ারম্যান কে মাহমুদ সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান ও শিক্ষাবিদ মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য দেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইবিবির মহাসচিব মুহাম্মদ আবদুল মতীন।
আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংকিং জগতের জীবন্ত কিংবদন্তি হচ্ছেন লুৎফর রহমান সরকার, যিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের পুরোধা।
মুস্তাফা নূরউল ইসলাম বলেন, মুদ্রার এপিঠ ব্যাংকার হলে ওপিঠ লুৎফর রহমান সরকার।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, জনাব সরকার গণমুখী ব্যাংকিং বিষয়ে সর্বদা পদক্ষেপ নিতেন। বিকল্প প্রকল্পের কারণে তাঁকে সনাতনী ব্যাংকিং প্রথা ভাঙার দায়ে জেল খাটতে হয়েছে।

নজিরবিহীন দরপতন খতিয়ে দেখতে তদন্ত্ত কমিটি গঠন

দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে নজিরবিহীন দরপতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে প্রধান করে গতকাল বৃহস্পতিবার চার সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন নির্বাহী পরিচালক এ টি এম তারিকুজ্জামান, পরিচালক মাহবুব আলম ও সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিন। এ কমিটিকে আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে গত বুধবার যেভাবে সূচক কমেছে, তা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তাই এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্তে এ ঘটনার পেছনে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালের চেয়েও ভয়াবহ ধসের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে বুধবার। ওই দিন লেনদেন শুরুর সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৫৪৭ পয়েন্ট বা প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ কমে যায়। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সূচক পতনের এ নজিরবিহীন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে। ঘটনাটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এতটাই আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল যে, তাঁরা লেনদেন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এমনকি গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের মতো ঘটনা ঘটান তাঁরা।
অবশ্য বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসির দ্রুত পদক্ষেপে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। এ সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে সূচক আবার প্রায় ৫৮৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে দিনশেষে সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৩৪ পয়েন্ট কমে আট হাজার ৪৫১ পয়েন্টে নেমে আসে।
জিয়াউল হক খোন্দকার সূচকের এ উত্থান-পতনের ঘটনাকে তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক বলে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই দিন তিনি তাঁকে অবহিত না করে বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে নির্দেশনা জারির অভিযোগে সদস্য মনসুর আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
জানা গেছে, গতকাল মনসুর আলম নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে এতে তিনি কী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা জানা যায়নি।
মনসুর আলমের উদ্যোগে জারি করা নির্দেশনায় কোনো বিনিয়োগকারী হাতে থাকা শেয়ার আগে বিক্রি না করে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে অন্য কোনো শেয়ার কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এর আগে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে পরে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে আর্থিক সমন্বয় করতে পারতেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন, এ নির্দেশনাটির কারণে বাজারে প্রচলিত আর্থিক সমন্বয়সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়, বাজার পতনের পেছনে যা বড় ভূমিকা রাখে।
এদিকে, ব্যাপক দরপতনের পরের দিন গতকাল বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিন দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে।
জানা গেছে, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই এসইসি ও ডিএসই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় ছিল। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দিনভর বাজারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে মৌখিকভাবে শেয়ার ক্রয়প্রবণতার মধ্যে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব কারণে অনেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সকাল থেকে শেয়ার বিক্রির পরিবর্তে কেনার দিকে বেশি ঝুঁকেছিলেন। ফলে বাজারে শেয়ারের চাহিদা তৈরি হয়ে দামও বাড়তে থাকে।
দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১২৯ পয়েন্ট বা দেড় শতাংশ বেড়ে হয়েছে আট হাজার ৫৮০। এদিন বাজারে লেনদেন হওয়া ২৪২টি কোম্পানির মধ্যে ২২০টির দাম বাড়ে। কমেছে শুধু ২২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৬২৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৪৬ কোটি টাকা কম। দরপতনের দিনেও ডিএসইতে প্রায় এক হাজার ৯৬৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

নাভানা রিয়েল এস্টেট পুঁজিবাজারে আসছে

আবাসন খাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড পুঁজিবাজারে আসছে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি চলতি মাসের মধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন চেয়ে বিবরণপত্র বা প্রসপেক্টাস জমা দেবে। আর অনুমোদন পাওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
এ কাজের প্রাথমিক প্রক্রিয়া হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে কোম্পানির উদ্যোক্তারা রোড-শোর আয়োজন করেন। শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে এ রোড-শোর আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এতে নাভানা রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রোড-শোতে উদ্যোক্তারা কোম্পানিটির মৌলিক বিভিন্ন দিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামনে বর্ণনা করেন।
এ সময় জানানো হয়, নাভানা রিয়েল এস্টেটের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা, যা ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের তিন কোটি শেয়ারে বিভক্ত। প্রতিষ্ঠানটি আইপিওর মাধ্যমে নতুন করে আরও তিন কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়বে। এতে তাদের মোট পরিশোধিত মূলধন বেড়ে হবে ৬০ কোটি টাকা।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দেখানো হয়েছে নয় টাকা ৬৬ পয়সা।
কোম্পানিটির বর্তমান আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ইত্যাদি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ শেয়ারের নির্দেশক মূল্য চেয়েছে ১৪০ টাকা। তবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী ন্যূনতম ১৫টি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে শেয়ারের প্রকৃত নির্দেশক দাম ঠিক করা হবে। আর এ নির্দেশক মূল্যের ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নেবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এর ২০ শতাংশ কম-বেশির মধ্যে থেকে দাম প্রস্তাব করবে। এভাবে প্রস্তাবিত দামের ভারিত্ব গড়ের ভিত্তিতে আইপিওর মূল্য নির্ধারিত হবে। তাই কোম্পানিটি বাজার থেকে কত টাকা উত্তোলন করবে চূড়ান্ত দরপত্র সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব নয়।
রোড-শোতে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত টাকা কোম্পানিটির ব্যবসা সম্প্রসারণ, জমি ক্রয় ও ব্যাংকঋণ পরিশোধের পাশাপাশি চলতি মূলধন হিসেবে কাজে লাগানো হবে। বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কোম্পানিটির ৪৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আর শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে ৭৫টি প্রকল্প।
উল্লেখ্য, কোম্পানিটির ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের নামে।

মালয়েশিয়া যাচ্ছে ভারোত্তোলন দল

আন্তমহাদেশীয় ক্লাব গ্রাঁ প্রিঁতে অংশ নিতে আগামীকাল মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বাংলাদেশের চার ভারোত্তোলক। পেনাং শহরে আগামীকাল টুর্নামেন্ট শুরু হলেও বাংলাদেশের খেলা ১৩ ডিসেম্বর। প্রতিযোগিতায় ছেলেদের ৫৬ কেজি ওজন-শ্রেণীতে আইনউদ্দিন, মেয়েদের ৪৮ কেজিতে মোল্লা সাবিরা সুলতানা, ৫৩ কেজিতে ফুলবতী চাকমা ও ৫৮ কেজিতে ফাহিমা আক্তার (ময়না) অংশ নেবেন

বেনজেমা আর আর্সেনালের রাত

টাকার প্রশ্ন হোক কিংবা তারকাদ্যুতি অথবা পারফরম্যান্স—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অনেকেরই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এগুলোর যেকোনো দিক দিয়েই করিম বেনজেমার রোনালদোকে ছাড়িয়ে যাওয়া কষ্টকল্পনা। কিন্তু পরশু দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে রোনালদোকে ছাপিয়ে গেলেন বেনজেমা।
এই ফরাসি স্ট্রাইকারের হ্যাটট্রিকেই চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অজেরিকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল। তবে রোনালদো একেবারেই অন্তরালে থাকার পাত্র নন! রিয়ালের বাকি গোলটি পর্তুগিজ উইঙ্গারেরই। বেনজেমার হ্যাটট্রিকেও তিনি অবদান রেখেছেন তাঁর প্রথম গোলের জোগানদাতা হয়ে।
নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অযথা ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত প্রথম একাদশের অনেককেই বিশ্রাম দিয়েছিলেন কোচ হোসে মরিনহো। এ মৌসুমে তাই সপ্তমবারের মতো প্রথম একাদশে নামার সুযোগ মেলে বেনজেমার। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে এ মৌসুমে ২০ ম্যাচ খেলা বেনজেমা নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ছয়ে।
১২ মিনিটে করা বেনজেমার প্রথম গোলটি একটি মাইলফলকও। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের ৩০০তম গোল এটি। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ইউরোপিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়নস লিগ নাম নেওয়ার পর এই কীর্তি প্রথম গড়ল রিয়াল। ম্যাচে আগাগোড়াই অজেরিকে কোণঠাসা করে রেখেও প্রথমার্ধে রিয়াল গোল পায় এই একটিই।
দারুণ এক চিপ করে ৪৯ মিনিটে রোনালদো করেন দলের দ্বিতীয় গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২১ ম্যাচে এটি তাঁর ২০তম গোল। ৭২ মিনিটে দ্বিতীয় এবং শেষ বাঁশির মিনিট দুই আগে হ্যাটট্রিক পেয়ে যান বেনজেমা। এত দিন পর নিজেকে ফিরে পেয়ে দারুণ খুশি ফরাসি স্ট্রাইকার, ‘তিন গোল করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। প্রতিদিনই আমি আগের দিনের চেয়ে ভালো বোধ করছি। আর এটা মাঠেই প্রতিফলিত হচ্ছে।’
রোনালদো-হিগুয়েইনরা ফর্মেই আছেন, বেনজেমাও ফিরলেন ফর্মে। এল ক্লাসিকোর হতাশা মুছে রিয়াল মাদ্রিদ আবার যেন সুখী সংসার। গত ছয়টি মৌসুম কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠতে না পারা রিয়াল দশম শিরোপার আশায় আবার বুক বাঁধতে শুরু করেছে।
বেনজেমা আর রিয়ালের রাতে আর্সেনাল শিবিরও উল্লসিত। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিজেদের মাঠে পার্টিজানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। থিও ওয়ালকট, সামির নাসরি ও রবিন ফন পার্সির গোলই ‘গানার’দের নিয়ে গেছে নকআউট পর্বে। তবে এখনই শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন না কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। বার্সেলোনাকেই শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার বলছেন তিনি, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। বার্সেলোনার মতো সুপার ফেবারিট দল আছে এখানে।’
ওদিকে আয়াক্সের কাছে ২-০ গোলে হেরেও সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিলানের কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির ভাবনা অন্যরকম, ‘নকআউট পর্বে তো উঠেই গেছি আমরা। একটি পরাজয়েই সব শেষ হয়ে যায়নি।’ এএফপি, রয়টার্স, ওয়েবসাইট।

এ ক ন জ রে
বায়ার্ন ৩ : ০ বাসেল
ক্লুজ ১ : ১ রোমা
জিলিনা ১ : ২ স্পার্তাক
মার্শেই ১ : ০ চেলসি
মিলান ০ : ২ আয়াক্স
রিয়াল ৪ : ০ অজেরি
আর্সেনাল ৩ : ০ পার্টিজান
শাখতার ২ : ০ ব্রাগা
 প্রথমে স্বাগতিক দল

খবর, প্রথম আলোর- ৪০ বছর পড়ে থাকা লাশটার সৎকার করতে চাই ______যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার তাগাদা দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর ধরে একটা লাশ পড়ে আছে, সেই লাশটার একটা সৎকার আমরা করতে চাই।’

এই কি আমাদের মানবাধিকার? by অ্যাডভোকেট এলিনা খান

নেয়ামুল। বয়স সাত। সাত বছরের এই ছেলেটির পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা! শুধু তা-ই নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ ব্লেড দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে! কেন এই নির্মমতা? তার অপরাধ কী? তার বাবার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কথা কাটাকাটির জের হিসেবে এ ঘটনার শিকার হয় নেয়ামুল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। কী লাভ হয়েছে মামলা করে? কারণ এ মামলা দায়েরের পর আসামিদের কেউই গ্রেপ্তার হয়নি;

চারু শিল্প- ঐতিহ্যের মধ্যে সমকাল by নির্লিপ্ত নয়ন

শিল্পকলার আধুনিকায়নের কালে শিল্পকর্মের মধ্যে শিল্পীর চেতনাগত অবস্থান এবং বিবেচনার বিষয়টি বেশ পোক্ত। যতই দিন যাচ্ছে এটি আরও শক্তপোক্ত হচ্ছে। চিন্তার বহিরাবরণ নয়, শিল্পীরা এখন তাঁদের চিন্তার অন্তর্নিহিত তলানিটুকুও দর্শকের সামনে প্রকাশ করতে চান। আর এ ক্ষেত্রে শিল্পকর্মের পরিসরের মধ্যে তাঁরা স্বীকার করে নিয়েছেন স্পেসের বাস্তবতাকে।

সাহিত্যালোচনা- কেমন দেখতে চাইঃ ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা by বিশ্বজিৎ ঘোষ

কালে আমাদের সংস্কৃতির একটি প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে বইমেলা। একুশে বইমেলা ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা। বাংলা একাডেমীর বইমেলা প্রমাণ করে যে বই নিয়ে আমাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। লেখক-পাঠক-প্রকাশক-প্রচ্ছদশিল্পী—সবার কাছেই এই বইমেলা ভিন্ন এক আনন্দের উৎস হয়ে হাজির হয়।

সাহিত্যালোচনা- দ্রীপ প্রতিভার দ্যুতিময় স্মারক by কাজল রশীদ

হুমায়ুন কবির জন্মশতবর্ষ স্মরণ—সম্পাদক আবুল আহসান চৌধুরী ও মাসুদ রহমান \ প্রচ্ছদ ও রেখাচিত্র: কাইয়ুম চৌধুরী ও মুর্তজা বশীর \ ফেব্রুয়ারি ২০১০ \ ইত্যাদি, ঢাকা \ ৪৮৭ পৃষ্ঠা \ ৫৫০ টাকা। শোন মা আমিনা রেখে দে রে কাজ,/ ত্বরা করে মাঠে চল।/ করিস না দেরি,/ এখুনি নামিবে ঢল।
[মেঘনার ঢল: হুমায়ুন কবির]
হুমায়ুন কবির এই কবিতার রূপান্তরিত স্রষ্টা। কিন্তু প্রজ্ঞাগুণে এটি হয়ে উঠেছে বাংলার মানসভূমের স্বর্ণশস্য। শওকত ওসমান যেমন বলেছেন,

গল্প- বৃষ্টি by শওকত চৌধুরী

লাকায় সার্কাস পার্টি এসেছে। নাম বেহুলা বেঙ্গলস পার্টি। বেঙ্গলস বলতে কী বোঝাচ্ছে? কলকাতা নাকি বাংলাদেশ? ফরহাদকে প্রশ্নটা করতেই সে ভ্রু কুঁচকে তাচ্ছিল্যের একটা বাড়ি ছুড়ে দিল, ‘তুই না এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাস? এখনো তুই বুঝিস না বেঙ্গলস বলতে কী বোঝায়?’
বেঙ্গলস না বোঝার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সম্পর্ক আমি কিছুতেই বুঝতে পারলাম না। ফলে আমার মুখটা দেখতে অধিকতর বোকাদের মতো হয়ে গেল।

রাজনৈতিক আলোচনা- শহীদুল্লা কায়সারঃ রাজনৈতিক সৃষ্টিশীলতা by সৈয়দ আজিজুল হক

হীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৬-১৯৭১) পেশায় যদিও ছিলেন সাংবাদিক, কিন্তু তাঁর জীবনচেতনার মর্মমূলটি ছিল সামগ্রিকভাবে রাজনীতি দ্বারা পরিব্যাপ্ত। এই রাজনীতিরও মূল কথা ছিল ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে দেশ, সমাজ ও জীবনের মুক্তি সাধন। দুটি উপনিবেশবাদী শক্তির বিপক্ষে তাঁকে হতে হয়েছিল সংগ্রামশীল—একটি ব্রিটিশ, আরেকটি পাকিস্তানি। এর প্রথমটির শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আস্বাদ তিনি পেয়েছিলেন ছাত্রজীবনেই; যদিও সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল দেশ বিভাগের যন্ত্রণা,

সাহিত্যালোচনা- আনোয়ার পাশাঃ জাতিরাষ্ট্রের অংশ ও প্রেরণা by শান্তনু কায়সার

জাতিরাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া থেকে বাংলাদেশের জন্ম, তার গতিপথ নানা সময়েই বিঘ্নিত ও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যে নৃতাত্ত্বিক পথে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডকে আশ্রয় করে এর অভিযাত্রা নিকট অতীতে, তা যেমন রাজনৈতিক চরিত্র অর্জন করেছে, তেমনি তার সাংস্কৃতিক অভিযাত্রাকেও বিস্মৃত হওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে একাত্তরের শহীদ আনোয়ার পাশার সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে এর একটি বিশেষ রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর যিনি বিশ্বাসহন্তা ঘাতকদের দ্বারা ধৃত ও নিহত হন,

সাহিত্যালোচনা- মুনীর চৌধুরীঃ তাঁর নাটক by আনিসুজ্জামান

মাদের নাট্যসাহিত্যে যাঁরা বিষয় ও প্রকরণ দুই দিকেই আধুনিকতার প্রবর্তন করেছিলেন, মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-৭১) তাঁদের অগ্রগণ্য। তিনি রেখে গেছেন দুটি নাটক এবং তিনটি সংকলনে বারোটি একাঙ্কিকা। নাটকের অনুবাদেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় রেখে গেছেন। তাঁর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি তিনটি অনুবাদ-নাটক, পাঁচটি একাঙ্কিকার অনুবাদ-সংগ্রহ একটি এবং একাধিক নাটকের অসম্পূর্ণ অনুবাদ। মুনীর চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক দুটি: রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২) ও চিঠি (১৯৬৬)। তাঁর নাট্যস্বভাবের দুই বিপরীতমুখী প্রবণতার পরিচয় রয়েছে তাতে।