Wednesday, November 22, 2017

আফ্রিকার স্বৈরাচারদের মেরুদণ্ডে শিহরণ

রবার্ট মুগাবে অধ্যায়ের শেষ। নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে জিম্বাবুয়ে। মঙ্গলবার রাতে ৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকা মুগাবে পদত্যাগের পর মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেছে দেশটির চিত্র। এক সময়ের বিপ্লবী যেন পরিণত হয়েছেন খড়কুটোয়। সেনাবাহিনীর রোষ আর জনগণের অশ্রদ্ধায় ভেসে গেছেন তিনি। তার এই ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ায় আফ্রিকায় অন্যান্য স্বৈরশাসকদের মেরুদণ্ডে হিম শীতল শিহরণ দিয়ে যাচ্ছে।
তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে এমন আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। জিম্বাবুয়ের সেনাপ্রধান জেনারেল কনস্তান্তিনো চিওয়েঙ্গা গত সপ্তাহে মুগাবের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারপর থেকে ক্রমাগত সমর্থন হারাতে থাকেন মুগাবে। রাজধানী হারারে, বুলাওয়ে ও অন্যান্য শহরে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়তে থাকে মানুষ। নিজের জানু-পিএফ দল বিদ্রোহ করে বসে। মঙ্গলবার তার দলই তাকে পদত্যাগের জন্য অভিসংশন প্রক্রিয়া শুরু করে। এরপর বাধ্য হন ৯৩ বছর বয়সী মুগাবে পদ ছাড়তে। তার এই পরিণতিতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর অবস্থানে আছেন আফ্রিকার দেশ উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনি। কারণ, রবার্ট মুগাবের মতো তিনিও গেরিলা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। ১৯৮৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষমতার রশি ধরে ঝুলে আছেন তিনি। ক্ষমতায় এসেই প্রেসিডেন্টের সময়সীমার যে বিধান আছে তা বাতিল করেছেন। মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে যাতে না পারে সেজন্য তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্জীব করে রেখেছেন। কেড়ে নিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা। ব্যাপক অনিয়ম ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি পঞ্চম বারের মতো ‘বিজয়’ অর্জন করেন। এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। কিন্তু এতে তার কর্ণকুহরে কোনো সুড়সুড়ি জাগাতে পারে নি। উগান্ডা প্রায় ৪ কোটি মানুসের দেশ। সেখানে যাদের গড় বয়স ১৫ বছর, তাদের বেশির ভাগেরই জন্ম হয় নি মুসেভেনির ক্ষমতা গ্রহণের সময়। মুসেভেনির বয়স এখন ৭৩ বছর। রবার্ট মুগাবের চেয়ে তিনি ২০ বছরের ছোট। কিন্তু এখনকার যুগ হচ্ছে ফেসবুক যুগ। এ সময়ে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার স্বাধীনতা যুগের দৃষ্টিভঙ্গি আবেদন জাগাতে পারে না। সম্প্রতি তিনি ক্ষমতা গ্রহণের ৩১ বছর পূর্তি উদযাপন করেছেন। এ উপলক্ষ্যে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তাতে আধুনিক গণতন্ত্রে যে জবাবদিহিতার বিষয় থাকে তার লেশমাত্র ছিল না। জিম্বাবুয়েন অবজার্ভারের মতে, মুসেভেনি দর্শক শ্রোতাদের বলেছেন, আমি শুনতে পেয়েছি কিছু লোক বলছে, আমি তাদের চাকর। আমি সবার চাকর নই। আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমি আমার নিজের জন্য এবং আমার বিশ্বাসের জন্য লড়াই করছি।
উগান্ডার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ম্যাগাজিনে অ্যানড্রু ময়েন্ডা লিখেছেন, মুগাবে যেসব ভুল করেছেন তার কিছুটা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন মুসেভেনি। তার ভাষায় ‘ উগান্ডায় জানু-পিএফ দলের সমকক্ষ অতি পুরনো গার্ড বলে পরিচিত ন্যাশনাল রেজিসট্যান্স মুভমেন্ট ও উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সকে বিযুক্ত করেছেন মুসেভেনি। জিম্বাবুয়েতে সেনা নেতৃত্বের সবই নেয়া হয়েছে পুরনো গার্ড থেকে, যারা আফ্রিকায় ‘বুশ ওয়ার’-এ লড়াই করেছিলেন। সেক্ষেত্রে এসব গার্ডকে এড়িয়ে গেছেন মুসেভেনি। মওয়েন্ডা বলেছেন, জিম্বাবুয়েতে এমারসন মনাঙ্গাগওয়ার মতো অবস্থানে ছিলেন উগান্ডার বর্ষীয়ান রাজনীতিক আমামা মবাবাজি। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি ক্ষমতায় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেন এমন একটি আশঙ্কা দেখেছিলেন মুসেভেনি। তাই তিনি তাকে বরখাস্ত করেছেন। তবে কি পরিণতি এখন একই হবে?
সাব সাহারান আফ্রিকার আরো কমপক্ষে তিনটি দেশের সরকার প্রধান এখন একই প্রশ্নের মুখে রয়েছেন। তারা হলেন রোয়ান্ডার পল কাগামে, বুরুন্ডির পিয়েরে নকুরুনজিজা ও কঙ্গের জোসেফ কাবিলা। রবার্ট মুগাবের হঠাৎ পতনে হয়তো তাদেরও মুখে হাত পড়েছে। এর মধ্যে কাগামে ১৯৯৪ সাল থেকে রোয়ান্ডার ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন। আগস্টে সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে। তাতে তিনি আরো সাত বছরের অনুমোদন পেয়েছেন। ওই ভোটে শতকরা ৯৮.৭৯ ভাগ ভোট পড়েছে বলে বলা হয়। তবে সংবিধান সংশোধন করে তিনি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা পাকা করেছেন। সেখানে তার চেয়ে উত্তম যোগ্যতাসম্পন্ন বিরোধী দলীয় তিনজন প্রার্থীকে করা হয়েছে অযোগ্য। তাই নির্বাচনের আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মুথোনি ওয়ানেকি বলেছেন, ২৩ বছর আগে রোয়ান্ডার ক্ষমতা দখল করেছে রোয়ান্ডা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট। কিন্তু সেই রোয়ান্ডাবাসী এখনও সরকারি নীতির সমালোচনা অথবা স্বাভাবিক জীবনযাপরে বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ভয়াবহ প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তা আতঙ্কজনক ও নিষ্পেষণমুলক।
তবে কাগামে যে মুগাবের ভাগ্য বরণ করতে যাবেন এমন সম্ভাবনা খুবই কম। এমন ঝুঁকিতে আপাতত নেই প্রতিবেশী বুরুন্ডির প্রেসিডেন্ট পিয়েরে নকুরানজিয়াও। তিনিও ২০১৫ সালে একই রাজনৈতিক গেম খেলেছেন। সাংবিধানিক বিধান থাকা সত্ত্বেও তিনিও তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেছেন। ব্যাপক জনপ্রিয় বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তিনিও। তাদেরকে তিনি সহিংস উপায়ে চাপিয়ে রেখেছেন। তাকে প্রেসিডেন্ট পদে অনুমোদন দেয় নি আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তাতে কি! তিনি থোড়াই কেয়ার করেন এসব। তাই তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন। এ মাসে তার বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সেই তদন্তে কি বেরিয়ে আসে, তার ওপর নির্ভর করছে তার ভাগ্য। অন্তত তখন পরিবর্তন আসতে পারে বুরুন্ডিতে।
ওদিকে কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হয়ে যায় জোসেফ কাবিলার। তবে তিনিও মুগাবের মতো ক্ষমতার রশি টেনে ধরে থাকেন। এ বছর বিলম্বিত নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত বানচাল হয়ে যায়। কারণ, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। গত বছর ডিসেম্বরে রাজধানী কিনসাসাতে যে সহিংসতা দেখা দেয়, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় তা বাতিল করা হয়।
আফ্রিকায় স্বৈরাচারদের এমন সব অন্যায় শাসনের ফলে প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। মূল্য দিতে হচ্ছে তাদেরকে। কঙ্গোর রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে ‘বিকলাঙ্গতা’। এতে সেখানে জরুরি মানবাধিকারের প্রতি দৃষ্টি থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে যাদের ভীষণ সহায়তা প্রয়োজন তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছে না। এ মাসে এসব বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। তারা বলেছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কাসাই অঞ্চলে সহিয়সতায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। নিহত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। আফ্রিকার অন্য কোনো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা কঙ্গোতে বেশি। এ বিষয়ে তোয়াক্কা করেন না কাবিলা।
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মারামারি, ২ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের গাড়ি চালককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত জাহেদ হোসেন ও মোমেনা আকতারকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম এ আদেশ জারি করেন।

অভিযুক্ত ২ জনই চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের হিসাব শাখার উচ্চমান সহকারী এবং আপন ভাইবোন।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে বোর্ডের গাড়ি চালক মীর আবছার ও তৌহিদুর রহমানকে মারধর করেন হিসাব শাখার উচ্চমান সহকারী জাহেদ হোসেন ও মোমেনা আকতার।

মারধরের শিকার হয়ে বিচার চেয়ে তারা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। পরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ উপ বিদ্যালয় পরিদর্শক আবুল মনসুর ভূঁইয়াকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম জানান, বোর্ডের গাড়ি চালককে মারধরের ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোটের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত বোর্ডের উচ্চমান সহকারী জাহেদ হোসেন ও মোমেনা আকতারকে শিক্ষাবোর্ডের আইন অনুযায়ী সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মহিউদ্দিন চৌধুরী এখন ঝুঁকিমুক্ত

সিঙ্গাপুরে গ্ল্যানিগ্লেস হাসপাতালে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫ টায় ডায়ালাইসিস সাপোর্টের মাধ্যমে তাঁর অস্ত্রোপচার (এনজিওগ্রাম) শুরু হয়। তিনি এখন ঝুঁকিমুক্ত।

হাসপাতালের ওয়েবসাইটে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চিকিৎসার বিবরণে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, মহিউদ্দিন চৌধুরীর এনজিওগ্রাম সোমবার বিকেলে স¤পন্ন হয়। তিনি এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকির মধ্যে নেই। তাঁর চিকিৎসা স্বাভাবিক ও সফলভাবে হচ্ছে। এনজিওগ্রাম করতে সব মিলিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এরপর তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালটির সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট ডা. তান চং হিয়কের তত্ত্বাবধানে চলছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চিকিৎসা।

চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, এনজিওগ্রাম শুরুর আগে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কিডনি বিশেষজ্ঞ বাবার শরীরে ডায়ালাইসিসের সংযোগ স্থাপন করেন। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাবার কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা হবে। বাবা এখন ঝুঁকিমুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

বাবার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে  ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সবকিছু ঠিকঠাক চলায় তিনি আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করেন।

প্রায় ৭৪ বছর বয়সী মহিউদ্দিন চৌধুরী হঠাৎ গত ১১ নভেম্বর শনিবার রাতে চরম অসুস্থতা বোধ করেন। এ সময় তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। পরদিন বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে গিয়ে তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে কিডনি ডায়ালাইসিসের পর একটু সুস্থ বোধ করলে চিকিৎসদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৬ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের গ্ল্যানিগ্লেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

‘নারী শিক্ষার উন্নয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা’

চট্টগ্রাম -১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’র মাননীয় সাংসদ ও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নতশীল রাষ্ট্র গড়তে নারী-পুরুষের জন্য বৈষম্যহীন শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আর্থ-সামাজিক বাধা গুলো দূর করা প্রয়োজন।

সরকারি বেসরকারি উদ্যোগের ফলে নারী শিক্ষার হার সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে মায়েরা আরো বেশি যত্নবান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশকে নিরক্ষর মুক্ত করে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সময়ের ব্যাপার। তিনি নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পরার কথা তুলে ধরেন।

১৮নভেম্বর সকাল ১১ টায় গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদ্রাসায় আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নব নির্মিত একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও মা সমাবেশে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

গারাংগিয়া ইসলামিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এটিএম মমতাজুল ইসলাম ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন,বিশিষ্ট নারী নেত্রী, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগে কার্যনির্বাহী সদস্য ও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গারাংগিয়া কামিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পীর সাহেব গারাংগিয়া হয়রত শাহ্ মাওলানা আনওয়ারুল হক সিদ্দিকী,পীর সাহেব গারাংগিয়া হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ মাহমুদল হাসান সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য ও সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল হোসেন,সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন,সোনাকানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ, মাস্টার জাফর আহমদ, এটিএম রশীদ উদ্দিন ছিদ্দিকী শাহীন, এআর মহিউদ্দিন রাশেদ, এডিশনাল পিপি এডভোকেট কামাল উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান, তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নারীনেত্রী নার্গিস আক্তার, যুবলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, সাতকানিয়া ছাত্রলীগে আহবায়ক হারেছ মোহাম্মদ, স্থানীয় সাংসদের সহকারী একান্ত সচিব শাহাদাত হোসেন শাহেদ, স্থানীয় ইউপি মেম্বার মহিউল আলম মনির, সাতকানিয়া কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিসসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেত্রীবৃন্দ।।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গারাংগিয়া রব্বানী মহিলা ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে এমপি নদভী পত্নী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন,নারী শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারীকে সচেতন ও আত্মপ্রত্যয়ী করা, সম-অধিকারের অনুকূলে নারীর দৃষ্টিভঙ্গী প্রখর করা, সকল পর্যায়ে দেশ পরিচালনায় অংশ গ্রহণে নারীকে উদ্বুদ্ধ ও দক্ষ করা, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও দারিদ্র বিমোচনে নারীর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধনে সহায়তা করা, সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবার গঠনে উৎসাহিত করা এবং যৌতুৃক ও নারী নির্যাতন রোধ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে পারেন এমন দৃষ্টিভঙ্গি নারীর মধ্যে সৃষ্টি করা। তিনি ইসলামের ইতিহাসে বিদুষী নারীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরে তাঁদের অনুকরণে জীবন গড়ার আহবান জানান।

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

দ্রুত পর্দা নামছে, উঠছে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতার মসনদে। একদিকে বিদায় নিয়েছেন ৩৭ বছরের শাসক রবার্ট মুগাবে। তারপর পরই ক্ষমতায় আসছেন তারই বরখাস্ত করা ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। যিনি ‘ক্রোকোডাইল’ বা কুমির নামেই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। গৃহযুদ্ধের সময় তিনি ‘ক্রোকোডাইল গ্রুপের’ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে তাকে ওই নামে ডাকা হয়। এই কুমির মানুষই হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট।
এরই মধ্যে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিশ্চিত করেছে মুগাবের ক্ষমতাসীন দল জানু-পিএফ পার্টি। দলটির একজন মন্ত্রী টেলিফোনে মিডিয়াকে বলেছেন, এরই মধ্যে কুমির মানুষ দেশ চালনা করছেন। তিনি স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বুধবার তাকে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে শপথ করানোর কথা রয়েছে। এমনটা নিশ্চিত করেছেন জানু-পিএফ পার্টির চিফ হুইপ লাভমোর মাতুকে। এর মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ের ক্ষমতায় আসীন হচ্ছেন আরেক বিপ্লবী। দেশটিতে ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার পূর্ব পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ‘দ্য ক্রোকোডাইল’। তার বয়স এখন ৭৫ বছর। জিম্বাবুয়েতে তিনি একজন বড় ব্যক্তিত্ব। স্ত্রী গ্রেসি মুগাবে, এমারসন মনাঙ্গাগওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার যে লড়াই হয়েছে তাতে কতল হয়েছেন মুগাবে। এতে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। কিন্তু তার অতীত অতোটা সুখকর নয়। ১৯৮০র দশকে তিনি বিরোধীদের ওপর ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছিলেন। এতে তাকে সহায়তা করেছিল উত্তর কোরিয়ায় প্রশিক্ষিত ‘ফিফট আর্মি ব্রিগেড’। ওই সময় তারা জিম্বাবুয়ের গুকুরাহুন্ডিতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সব সময়ই অস্বীকার করে যাচেছন এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। তার এই নিষ্ঠুরতা এতটাই পরিচিত যে, জিম্বাবুয়েতে হাতেগোনা যা কয়েকজন দুঃসাহসী নেতা আছেন তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তারা দেশের ভিতরে কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই নিজে নিজে গাড়ি চালিয়ে যেতে পারেন। তার টিকি’টি স্পর্শ করার সাহস কারো হয় না। মুগাবের মতো তারও আছে দীর্ঘ ও বর্ণিল রাজনৈতিক চরিত্র। এক সময় তিনি আইন, প্রতিরক্ষা, গৃহায়ন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার।
এমনকি তাকে বলা হয় স্পাইমাস্টারও। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে তার ক্ষমতা নিয়ে রেষারেষি থেকে তাকে বরখাস্ত করেন মুগাবে। কারণ, তাকেই দেখা হচ্ছিল মুগাবে পরবর্তী নেতা হিসেবে। কিন্তু ক্ষমতা হাতছাড়া করতে রাজি হন নি মুগাবে। তিনি নিজের চেয়ে ৪১ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেসি মুগাবেকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিলেন। এ জন্যই এমারসন মনাঙ্গাগওয়াকে বরখাস্ত করেন তিনি। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় পালিয়ে চলে যান এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়। গৃহবন্দি করে প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে। ফার্স্টলেডি গ্রেসি মুগাবে পালিয়ে চলে যান নামিবিয়ায়। তারপর আর তিনি প্রকাশ্যে আসেন নি। এসব ঘটনার জন্য মুগাবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন এমারসন মনাঙ্গাগওয়ার বিরুদ্ধে।
সেনাবাহিনী যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসে তখন দৃশ্যত মাখনের ভাগ বসাতে দেশে ফিরে যান এমারসন মনাঙ্গাগওয়া। কখনো কখনো তাকে বলা হয় তথাকথিত ল্যাকোস্টে অংশের নেতা হিসেবে। ক্রোকোডাইল লোগো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নামে এমন নামে দেয়া হয়েছে। তার দলের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর রয়েছে ঘনিষ্ঠতা। উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ের ক্রোকোডাইল এমারসন মনাঙ্গাগওয়ার জন্ম ১৯৪২ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর জিশাভানা জেলায়। কি ঘটেছিল গুরুকাহুন্ডিতে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র পিছন ফিরে দেখা যাক। ১৯৮০ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হন রবার্ট মুগাবে। তাকে বানানো হয় জিম্বাবুরে প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৮৩ সালে জিম্বাবুয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাতাবেলেল্যান্ডে বড় ধরনের দমন অভিযানে নেতৃত্ব দেন এমারসন মনাঙ্গাগওয়াঅ রবার্ট মুগাবের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জোশুয়া নকোমোর সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ছিল এই মাতাবেলেল্যা-। নেকোমার দলীয় সদস্যরা ওই অঞ্চলে সিরিজ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে অভিযোগ আনেন মুগাবে। ১৯৮৩ থেকে ৮৭ সাল পর্যন্ত ওই গুকুরাহুন্ডিতে অভিযান পরিচালনা করেন এমারসন। এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পানিতে ভয়াবহ দূষণ পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পানিতে ভয়াবহ মাত্রার দূষণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে উদ্ধৃত করে সংস্থাটি বলছে, ক্যাম্পগুলোতে গৃহস্থালি কাজে যে পানি ব্যবহৃত হচ্ছে তার ৬২ শতাংশই দূষিত। খবর বিবিসি'র।

এসব কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে এবং তাতে কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে বলে সংস্থার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত ২৫শে অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে এসেছে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা।

আর সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

গত ২৫শে অগাস্ট থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৩৬ হাজার ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪২ শতাংশের বয়সই পাঁচ বছরের নীচে।

কিন্তু ক্যাম্পে পানি দূষণের কারণ কি?

ইউনিসেফ বলছে, ক্যাম্পের পানিতে যে ধরণের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাচ্ছে তাতে বোঝা যায় যে পানি মানুষের পয়ো:বর্জ্য মিশছে।

মূলত ক্যাম্পের ভেতর এমন অনেক জায়গায় টিউবওয়েল করা হয়েছে যার কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।

অনেকগুলো তেমন গভীরও নয় আবার এমনভাবে এগুলো করা হয়েছে যে যেখান থেকে পানি আসছে সেখানেই দূষণের সুযোগ আছে।

ইউনিসেফ বলছে, তারা এখন আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে টিউবওয়েল স্থাপনের বিষয়ে কাজ করছে।

তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারের সাথেও তারা একযোগে দূষণ পরিস্থিতি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।

এছাড়া সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় দু লাখ লিটার পানি।

আর এর মধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে প্রায় পাঁচশ গভীর নলকূপ।

৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খোলা হলো চমেকের মূল ফটক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মূল ফটক প্রায় ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলে দেয়া হয়েছে। কে বা কারা এই ফটক বন্ধ করেছে তা জানে না পুলিশ ও চমেক প্রশাসন।

তবে আকস্মিকভাবে মূল ফটক বন্ধ করে দেয়ার পরও খোলা ছিল জরুরি বিভাগের প্রবেশ পথটি।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সকালে কে বা কারা মূল গেইটে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে চলে গেছে।

কারা তালা দিয়েছে সেটা কেউ বলতে পারছে না। পরে বেলা সাড়ে বারটার দিকে গেইটটি খুলে দেয়া হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের প্রভাব পড়েনি বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মূল গেইটটি বন্ধ থাকায় রোগিদের বহনকারী গাড়িসহ সব ধরনের পরিবহন চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়েছে।

এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগি ও তাদের স্বজনরা।

সম্প্রতি চিকিৎসকদের দুই গ্রুপে সংঘাতের জেরে এই ফটক বন্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এর আগে গেলো সোমবার নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে চিকিৎসকদের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর একটি পক্ষ ছিলেন চমেকের ইন্টার্নি চিকিৎসকরা এবং অপর পক্ষে ছিলেন নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ডাক্তারদের একাংশ এবং ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

হ্যাকারদের এক লাখ ডলার দিয়েছিল উবার!

গ্রাহকদের চুরি হওয়া তথ্য মুছে ফেলার জন্য হ্যাকারদের এক লাখ ডলার দিয়েছে জনপ্রিয় যাত্রী পরিষেবা প্রতিষ্ঠান উবার। ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় হ্যাকাররা পাঁচ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। খবর বিবিসির।

কোম্পানিটির সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিক ওই হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানতো বলে জানিয়েছে এই তথ্য ফাঁসকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ।

উবার জানিয়েছে, পাঁচ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের নাম, ইমেইল এবং মোবাইল ফোন নম্বর চুরি করেছিল হ্যাকাররা।

চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ছয় লাখ ড্রাইভারের নাম এবং লাইসেন্সের বিস্তারিতও ছিল।

এক বিবৃতিতে উবার জানিয়েছে, এ ঘটনার শিকার ড্রাইভারদের ফ্রি ক্রেডিট মনিটরিং প্রোটেকশন দেবে তারা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের এটা দেয়া হবে না।

উবারের নির্বাহী প্রধান দারা খোসরোশাহি বলেছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলো প্রতারণা কিংবা অপব্যবহারের শিকার হয়েছে এমনটা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলো মনিটর করছি এবং সেগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনা ঘটা উচিত হয়নি এবং আমি কোনো যুক্তিও দাঁড় করাবো না।

খোসরোশাহি বলেন, আমি অতীত তো আর মুছে ফেলতে পারব না। তবে আমি উবারের সব কর্মীদের পক্ষ থেকে বলতে পারি যে, আমরা ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবো।

এদিকে এই ঘটনা ফাঁস হবার পর উবারের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জো সালিভান কোম্পানি ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে উবার এ ঘটনার বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, দুই জন হ্যাকার অনলাইন রিসোর্স ডেভেলপার কোম্পানি গিটহাবে ঢুকতে সক্ষম হয়।

আর সেখান থেকেই তারা উবারের লগ-ইন ক্রেডেনসিয়াল খুঁজে পায়। যেটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসের সার্ভারে সংরক্ষিত ছিল।

উল্লেখ্য, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিস। এর আগে ২০১৪ সালে নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটার ঘটনায় ২০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হয়েছিল উবারকে।

পতনের মূলে গ্রেসি by নাজমুস সাদাত পারভেজ

ক’দিন আগেও জিম্বাবুয়েতে দেশটির প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের সঙ্গে টক্কর দিতে চায়, এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। প্রায় চার দশক ধরে দেশটিতে একচ্ছত্র ক্ষমতার ছড়ি ঘুরিয়ে আসছেন রবার্ট মুগাবে। এ সময়ে তিনি নস্যাৎ করে দিয়েছেন তাকে ঘিরে চলতে থাকা বিপুল পরিমাণের ষড়যন্ত্র। জিম্বাবুয়ের এই একনায়কের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি কেউ-ই। হঠাৎ করে জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পালাবদলের সুর উঠেছে, তাতে অবশ্য গত প্রায় চার দশকের মধ্যে প্রথম প্রশ্নের মুখে পড়েছে রবার্ট মুগাবের কর্তৃত্ব। পরিস্থিতি এমন গুরুতর রূপ নিয়েছে যে, পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে পারেন তিনি।
যদিও রোববার রাতে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তাদের পাশে নিয়ে বক্তব্য দেবার সময় পুরো জিম্বাবুয়ে এবং বিশ্ববাসীকে অনেকটা হতবাক করে দিয়ে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মুগাবে। তবে বাস্তবতা হলো, তার দল জানু-পিএফ তাকে বহিষ্কার করেছে। দেশজুড়ে তার পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন হচ্ছে। মঙ্গলবার তাকে সরিয়ে দিতে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রস্তাবে ভোট হচ্ছে। সেনাপ্রধান চিয়েঙ্গা বলছেন, পদত্যাগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও শর্তাবলিতে সম্মত হয়েছেন রবার্ট মুগাবে। হয়তো শেষ পর্যন্ত মুগাবে পদত্যাগে বাধ্য হবেন কিংবা তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হবে। বাতাসে ভাসছে এমন সম্ভাবনাই। এই আকস্মিক সিংহাসনচ্যুতির সম্ভাবনায় সবচেয়ে অবাক হয়েছেন সম্ভবত রবার্ট মুগাবে নিজেই। তিনি কি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পেরেছিলেন যে, চার দশক ধরে একনায়কতন্ত্রের যে শক্ত জালে তিনি জিম্বাবুয়েকে আটকে রেখেছেন, হঠাৎ করে তা আলগা হয়ে যাবে? খর্ব হবে তার সর্বময় ক্ষমতা! অবস্থাদৃষ্টে এমন অভাবিত ঘটনাই ঘটতে চলেছে। আর এর মূলে আছেন রবার্ট মুগাবের স্ত্রী গ্রেসি মুগাবে। মূলত গ্রেসি মুগাবেকে কেন্দ্র করেই সিংহাসনচ্যুতি হচ্ছে রবার্ট মুগাবের।
ঘটনার সূত্রপাত
অধিকাংশ রাজনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মুগাবের পতনের শুরু আসলে হয় ২০১৪ সালের মধ্যভাগে। যখন তিনি তার ৫২ বছর বয়সী স্ত্রী গ্রেসিকে রাজনীতিতে প্রবেশ করান। প্রেসিডেন্ট মুগাবের দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রেসি। তিনি এক সময় মুগাবের নির্বাচনী মুদ্রাক্ষরিক ছিলেন। এক সময় রবার্ট মুগাবের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে গ্রেসির। তারা পরসপরে প্রেমের সমপর্কে জড়ান। সে সময় প্রেসিডেন্ট মুগাবের প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে ভুগছিলেন। নিজের প্রথম স্ত্রীর অসুস্থতার সময় অফিস সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমে জড়ানোর বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি জিম্বাবুয়ের জনগণ। যে কারণে, গ্রেসি জনপ্রিয়তায় রবার্ট মুগাবের প্রথম স্ত্রীর ধারে-কাছেও আসতে পারেননি। ১৯৯৬ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রবার্ট মুগাবে ও গ্রেসি। এরপর থেকেই শুরু হয় গ্রেসির বিলাশবহুল জীবনযাপন। বিশ্বের নামিদামি ডিজাইনার ব্রান্ডের কাপড়চোপড়, জুতা, অলঙ্কারের নেশা চেপে ধরে তাকে। প্যারিস, রোম, লন্ডনের মতো সব বিখ্যাত ফ্যাশন হাউজগুলোতে তার যাতায়াত একটি সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়। আড়ম্বরপূর্ণ, বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় তিনি অকাতরে লাখ লাখ ডলার অপচয় করতে থাকেন। এ জন্যে জিম্বাবুয়ের গণমাধ্যম তাকে নিন্দা করে গুচি গ্রেসি (গুচি বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যয়বহুল ফ্যাশন হাউজ) বলে আখ্যায়িত করে। তবে, শুধু বিলাসবহুল জীবনযাপনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি গ্রেসি। এক পর্যায়ে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অনেকেই সন্দেহ করেন এর পেছনে হাত আছে জিম্বাবুয়ের রাজনীতিবিদ মোয়র। মোয়র জিম্বাবুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে পদচারণ বর্ণময়। ২০০৪ সালে একবার তাকে সদ্য বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট মনাঙ্গয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়ানোর অভিযোগে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে মোয় মনাঙ্গয়ার প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে ওঠেন। তবে একসময় মোয় আবারো প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের আস্থাভাজন হতে সক্ষম হন। নিজের অবস্থান সুসংহত করতে মোয় সে সময় দ্বারস্থ হন ফার্স্ট লেডি গ্রেসির। তিনি গ্রেসিকে বোঝান যে, তার স্বামী মুগাবে এখন জীবন সায়াহ্নে অবস্থান করছেন। যে কোনো সময় তিনি মৃত্যুবরণ করতে পারেন। তখন গ্রেসির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। ভবিষ্যৎ সুসংহত করতে তিনি গ্রেসিকে রাজনীতিতে সংযুক্ত হয়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে আসার জন্য ফুসলে দেন। এ প্রসঙ্গে জিম্বাবুয়েতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক দেইয়া মাভিঙ্গা বলেন, ফার্স্ট লেডি গ্রেসির মনে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি তাকে রাজনীতির মাঠে আসতে উদ্বুদ্ধ করেন মোয়। রাজনীতিতে আসার পর ধীরে ধীরে ভাইস প্রেসিডেন্ট মনাঙ্গয়াকে দল থেকে বিতাড়ন করার নানা উদ্যোগ নিতে থাকেন গ্রেসি। কারণ মনাঙ্গয়াকে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের উত্তরসূরি ভাবা হয়। তাকে সরিয়ে দিতে পারলে গ্রেসির ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হতো। এছাড়াও, অন্যান্য কিছু প্রবীণ রাজনীতিবিদের কোণঠাসা করতেও নানা উদ্যোগ নেন গ্রেসি ও তার অনুসারীরা। এসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রেসির নিজের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার আকাঙ্ক্ষা। অপরদিকে, অসুস্থতায় কাবু হয়ে পড়া প্রেসিডেন্ট মুগাবে চিকিৎসার জন্য ঘনঘন সিঙ্গাপুর যাতায়াত করতে থাকলেও, তার উত্তরসূরি কে হবেন- সে ব্যাপারে পরিষ্কার কিছুই বলেন না। এ অবস্থায় মুগাবেকে মনাঙ্গগয়ার প্রতি বিমুখ করে তুলতে মোয়কে নিয়ে নানান পরিকল্পনা আটতে থাকেন গ্রেসি। এক পর্যায়ে তারা মনাঙ্গগয়ার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তোলেন। এতে দারুণ চটে যান মুগাবে। তিনি মনাঙ্গগয়াকে বরখাস্ত করেন। এতে মুগাবে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের মুখ্য হবার দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায় গ্রেসির সামনে। তবে এ সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেনি জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী। তারা এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে মুগাবের অবৈধ হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে দেশের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। গৃহবন্দি করা হয় মুগাবেকে। এর পর থেকে গ্রেসিকেও আর জনসম্মুখে আসতে দেখা যায়নি। অবস্থাদৃষ্টে, ভাইস প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে গ্রেসির নিজের পথ সুগম করার চাল বুমেরাং হয়ে গেছে। সমপ্রতি তাকে জানু-পিএফ পার্টির মহিলা দলের প্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে দলের রাজনীতি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেগে উঠছে মাউন্ট আগুঙ্গ, সিঙ্গাপুরের ভ্রমণ সতর্কতা জারি

ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আগুঙ্গ আগ্নেয়গিরিতে ছোটখাটো অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এরপরই পাশ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুর তার নাগরিকদের জানিয়েছে প্রয়োজনে সংক্ষিপ্ত নোটিশে তাদের সেখান থেকে সরে যেতে হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ এখনো মাউন্ট আগুঙ্গ নিয়ে কোনো সতর্কতা জারি করেনি। তবে মাউন্ট আগুঙ্গ এখন অগ্ন্যুৎপাতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেয়ে এক ধাপ নিচে রয়েছে। এদিকে দেশটিতে ফ্লাইট বাতিলেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরিয়ানদের এইসময় আক্রান্ত এলাকাতে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। একইসঙ্গে যেকোনো সময় সংক্ষিপ্ত নোটিশে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

তারা বলছে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আকাশজুড়ে ছাই ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেটির ফলে ‘বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন অ্যাজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাউন্ট আগুঙ্গ থেকে মঙ্গলবার ম্যাগমার কারণে উত্তপ্ত বাষ্পীকৃত বিস্ফোরণ ঘটেছে। এসময় সাতশ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত কালো ধোঁয়া দেখা যায়। পরে মাউন্ট আগুঙ্গ থেকে ছাই, নুড়ি পাথর ও বালু বেরিয়ে আসে।

ডিসকভারম্যাগাজিনডটকম জানিয়েছে, এটা ‘প্রিয়েটিক’ অবস্থা। এটা এমন এক অবস্থা যেখানে ম্যাগমার কারণে উত্তপ্ত হয়ে পানি বাষ্পীকৃত হয়ে বেরিয়ে আসে।

এর আগে গেলো অক্টোবরে আগ্নেয়গিরিটির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে সর্বোচ্চ সর্তকতা জারি করে লোকজনকে দ্রুত নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়।

মাউন্ট আগুঙ্গ ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটির উচ্চতা নয় হাজার আটশ ৪২ ফুট (৩০০০ মিটার)। ১৯৬৩ সালে সর্বশেষ এটি অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল। সেসময় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং ধ্বংস হয়ে যায় বহু গ্রাম।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৩০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। এগুলোর প্রায় অনেকগুলোই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সক্রিয় হবার আভাস দিচ্ছে। তবে বড় ধরনের বিস্ফোরণের হওয়ার আগে বেশ কয়েক মাস ছোট ছোট অগ্ন্যুৎপাত হয়।

শেষ পর্বে কী থাকবে?

প্রায় ৭০০ বছর আগে তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন সুলতান সুলেমান। এই সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ ছিল সুলতান সুলেমানের নেতৃত্বে ষোড়শ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী। ক্ষমতার টানাপোড়েনে সাম্রাজ্যের নানা ষড়যন্ত্র, সন্তানদের হত্যা এবং দাসপ্রথার অন্তরালের কাহিনী নিয়ে নির্মিত মেগা সিরিয়াল ‘সুলতান সুলেমান’ বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এবার শেষ হচ্ছে এই সিরিয়ালটি। কাল বৃহস্পতিবার প্রচারিত হবে বিদেশি ভাষায় নির্মিত এই ধারাবাহিকের শেষ পর্ব। এই পর্বেই মারা যাবেন সুলতান সুলেমান।

সুলতান সুলেমান’র ভয়েস ডিরেক্টর দীপক সুমন বলেন, এই টিভি সিরিয়ালের বাংলা ডাবিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমার শিল্পী জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আর সুলতান সুলেমান চরিত্রের বাংলা ডাবিং শিল্পী হিসেবে যে সময় অতিক্রম করলাম, সেটা আমার অভিনয় শিল্পীর জীবনকে নানা অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ করেছে।

পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দীপক সুমন বলেন, শুধু ভয়েজ দিলেই তো বাংলায় সুলতান সুলেমান দর্শকদের কাছে পৌঁছে যেতো না। এর সঙ্গে জড়িত পুরো দীপ্ত টিভি পরিবার। সংশ্লিষ্ট স্ক্রিপ্ট টিম, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, এডিটর, প্রোডিউসার, এমনকি যে ছেলেটা আমাদের স্ক্রিপ্ট ফটোকপি করে দেয়- সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই আজ আমরা দর্শকদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

সিরিয়ালটির শেষ পর্বে অটোমান সাম্রাজ্যের এই সুলতানকে দেখা যাবে যুদ্ধের ময়দানে। সৈন্যদের উদ্দেশে দীর্ঘ বক্তৃতার সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়বেন তিনি। মৃত্যুর আগে তিনি স্মরণ করবেন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রধান সেনাপতি ইব্রাহিম পাশাকেও।

আগামীকাল শেষ পর্ব হলেও দর্শকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর থেকে আবারও শেষ মৌসুমটি পুনঃপ্রচার হবে।

মোশাররফ করিম ভক্তের কাণ্ড!

অভিনয় নৈপুণ্যে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন মোশাররফ করিম। দেশে-বিদেশে রয়েছে তার হাজারো ভক্ত। সেই ভক্তদের ভালোবাসার প্রকাশও ভিন্ন রকম। কিছুদিন আগেই ভারত থেকে এক ভক্ত এসে উত্তরায় মোশাররফ করিমের শুটিং সেটে হাজির হন।

অভিজিৎ দত্ত নামের সেই ভক্ত মোশাররফ করিমকে জড়িয়ে ধরে কান্না জুড়ে দেন। গত মাসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মোশাররফ করিম। সেই খবর জেনে, ভারত থেকে নূর আলম নামের আরেক ভক্ত দেখা করতে আসেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন উপহার।

এবার মোশাররফ করিমের আরেক বাংলাদেশি ভক্তের খোঁজ পাওয়া গেলো। মোশাররফ করিম তার ফেসবুকে সাঈদ নামের সেই ভক্তের কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন।

মোশাররফ করিমের এই ভক্ত তার মাথার পেছনে প্রিয় তারকার নাম লিখেছেন। বিষয়টি নিয়ে মোশাররফ করিম নিজেও বেশ অবাক হয়েছেন।

ছবিটি নিজের ফেসবুক পেইজে পোস্ট করে মোশাররফ করিম লিখেছেন, কিছু ভালোবাসা কাজের অনুপ্রেরণা যোগায়। প্রতিদিন এমন অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। সবাই এমনভাবে আমায় ভালোবেসে যাবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আপনাদের আরো ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারি।

মোশাররফ করিমের অভিনয় শুরু থিয়েটারে। নাট্যকেন্দ্র নামের একটি থিয়েটার দলের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে টিভি নাটকে অভিনয় করে পেয়েছেন তারকাখ্যাতি। অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিনেতা। চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

উৎপাদনমূখী শিল্প খাতে প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন-গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি

দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র যৌথ আয়োজেন “রিসোর্সেস এফিসিয়েন্ট ক্লিনার প্রোডাকশন এন্ড ইটস বেনিফিটস ফর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক কর্মশালা ২১ নভেম্বর সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় চিটাগাং চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), সরওয়ার হাসান জামিল, অঞ্জন শেখর দাশ ও মোঃ আবদুল মান্নান সোহেল, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক রিয়াদ হোসেন, মেটাবিল্ড’র প্রজেক্ট ম্যানেজার এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী, সিনিয়র টেকনিক্যাল এক্সপার্ট রজত বাত্রা, প্রজেক্ট ম্যানেজার স্টিফান লেনিটজমি, বিভিন্ন মেটাল ইন্ডাষ্ট্রিজ’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম সূচনা বক্তব্যে বলেন-বাংলাদেশে চলমান বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বিশেষ করে দীর্ঘ বহুমূখী সেতু, সড়ক, ফ্লাইওভারসহ অন্যান্য প্রজেক্টের কারণে শুধুমাত্র গত বছরেই ইস্পাত শিল্পের প্রসার ঘটেছে ১৫%। বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদনমূখী শিল্প খাতে সকলেই পরিচ্ছন্ন ও গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে সচেতন। মেটাবিল্ড তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পে জ্বালানী সাশ্রয়ের পাশাপাশি আরো পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ অবদান রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

 কর্মশালায় মেটাবিল্ড’র প্রজেক্ট ম্যানেজার এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী, সিনিয়র টেকনিক্যাল এক্সপার্ট রজত বাত্রা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার স্টিফান লেনিটজমি আলাদা তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে শিল্প খাতে জ্বালানী সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদেরকে সম্যক ধারণা প্রদান করেন।

সমুদ্র পাড়ে ভক্তদের সঙ্গে খেললেন তামিম-মুশফিকরা

কক্সবাজার সীগাল হোটেলের সম্মুখ বিচে ক্রিকেট খেললেন বাংলাদেশ দলের তারকা ক্রিকেটাররা। তবে তা ছিল একটু ভিন্ন ধাঁচের। বরাবরই ক্রিকেটাররা মাঠে খেলেন, আর দর্শকরা তা উপভোগ করেন গ্যালারি কিংবা বাসার ড্রইং রুমে বসে। পছন্দের তারকা ক্রিকেটাররা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আজ সেই আক্ষেপ থাকল না হাজির ভক্ত-দর্শকদের। খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেলেন পছন্দের ক্রিকেটারদের। শুধু তাই নয়, একসঙ্গে খেললেন, অটোগ্রাফ, ফটোগ্রাফ ও সেলফি তুললেন।

তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভক্ত-দর্শকদের মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে এ ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ম্যাচটি যৌথভাবে আয়োজন করে গ্রামীন ফোন ও লাইভ টেকনোলজিস লিমিটেড।

'গ্রামীন ফোন বিচ ক্রিকেট' শিরোনামে এতে অংশ নেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকারসহ আরো কয়েকজন ক্রিকেটার। তাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেছেন, সময় কাটিয়েছেন, সেলফি তুলেছেন সারাদেশের ৮০ জন ভক্ত-দর্শক।

এসব ভক্ত-দর্শক বাছাই করা হয় একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যার ক্যাম্পেইন করে লাইভ টেকনোলজি। পাশাপাশি বিজয়ী ভাগ্যবান ৮০ জনকে ঢাকা-কক্সবাজার আনা-নেয়া, থাকা-খাওয়া এবং অন্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠানটি।

লাইভ টেকনোলজির পরিচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘সাধারণ দর্শকদের ক্রিকেটারদের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে গ্রামীন ফোন। এ আয়োজনের ফলে ক্রিকেটের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরো বাড়বে। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন আরো বড় পরিসরে করতে চাই।’

এর আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দুটি বিচ ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হবে। আজ বুধবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপ-কমিটি।

এসএসসি পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে।

সূচি অনুযায়ী, গত বছরের মতো এবারও মাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশের উত্তর আগে দিতে হবে। পরে নেওয়া হবে সৃজনশীল/রচনামূলক অংশের পরীক্ষা। উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে যথাসম্ভব সবই করবে সরকার। গতকাল বিকালে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী  দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি আগামী জানুয়ারি মাস থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যেককে ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন। বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর (তৎকালীন ইপিআর) সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ভাতা প্রদান করার। ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তারা সে সময় বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বলে তাদের ভাতা প্রদান করা হয়নি।
তারা সকলেই প্রায় এখন অবসরে এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও সমস্যায় রয়েছেন আমরা এদের সকলকেই আগামী জানুয়ারি থেকে ভাতা প্রদান করবো। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এবং আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের আমরা মর্যাদা দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সম্মানী চেক এবং মোবাইল ট্যাবসহ বিভিন্ন উপহার ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধে সম্মাননা পদকপ্রাপ্তদের মাঝে বিতরণ করেন। ‘শান্তিকালীন’ পদক ২০১৬ বিজয়ী ১২ জন এবং ‘অসামান্য সেবা’ পদক বিজয়ী ১৪ জনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন সদস্যের মাঝে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদক বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুমহান দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। এ পবিত্র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম, অবকাঠামো নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বশীল অংশগ্রহণ বজায় রাখছে। আমি এজন্য সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমাদের সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। দেশের সকল বাহিনী এবং প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা আজ বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি। আমরা সেই সক্ষমতা এবং সামর্থ্য অর্জন করেছি এবং আমাদের তা ধরে রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি বিজয়ী জাতি এবং এ জাতি কখনও মাথা নত করে থাকবে না। স্বাধীনতার এই গৌরবকে আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর। কিন্তু, সেই হারানো গৌরব আমরা আবার ফিরিয়ে এনেছি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্যই ছিল দেশের জনগণকে দারিদ্রের কষাঘাত থেকে মুক্ত করার, মানুষ উন্নত জীবন পাবে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে, শিক্ষা পাবে এবং তারা মাথা উঁচু করে চলবে।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না এবং ইতিহাস তার স্থান একদিন ঠিকই করে নেবে। এটা এখন প্রমাণিত।
তিনি বলেন, জাতির পিতা তার ভাষণের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং গেরিলা যুদ্ধের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্ষমতালিপ্সুরা ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র করে এবং জাতির পিতার নাম ও তার সকল অর্জনকে মুছে ফেলে দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। কাজেই যারা ১৯৭৫-এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে পতিত হয়েছে, তারা কূপমণ্ডূকতায় ভুগছে।
শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ: ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে  প্রেসিডেন্ট ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক পৃথকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শহীদদের স্মরণে বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে এসে পৌঁছলে তাদেরকে স্বাগত জানান তিন বাহিনী প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এদিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
এদিকে বিকালে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুরে ঘুরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অন্যান্য কর্মসূচি: এদিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে  সেনাবাহিনী প্রধান ২৬শে নভেম্বর, নৌবাহিনী প্রধান ২১শে নভেম্বর এবং বিমান বাহিনী প্রধান ২২শে নভেম্বর নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সদস্য এবং তাদের পরিবারবর্গের সম্মানার্থে পৃথক পৃথক সংবর্ধনার আয়োজন করবেন।     দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ-জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং অপরাহ্ণ/সন্ধ্যায় বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা ও রাজেন্দ্রপুর (গাজীপুরসহ) সেনানিবাস/ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর  দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা, বরিশাল ও চাঁদপুরে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ ২১শে নভেম্বর বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ- এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের রিপোর্ট

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা কো কো লিন’কে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি কোথায় আছেন তা কেউ বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে এশিয়ান হিউম্যান  রাইটস কমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ১৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজারে একটি বাসে ভ্রমণ করার সময় তাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসটির চালক বলেছেন, এ ঘটনা ঘটেছে চন্দনাইশে। মহাসড়কে তার বাসটিতে থামায় কিছু মানুষ।
এরপর তাদের দু’জন কো কো লিনকে বাস থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে নেয়। আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন নামে রোহিঙ্গাদের সংগঠনের নেতা কো কো লিন। এ সংগঠনটি লন্ডনভিত্তিক। এর বাংলাদেশ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন লিখেছে, ১৭ই নভেম্বর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে একটি বাসে আরোহণ করেন কো কো লিন। রাত আটটার দিকে বাসটি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি যে বাসটিতে ভ্রমণ করছিলেন তা ছিল এসি। এর চালক, ও কন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন সূত্র বলেছেন, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসটি চন্দনাইশে পৌঁছে। সেখানে মহাসড়কে বাসটি থামায় কিছু মানুষ। এরপর দু’জন বাসের ভেতর উঠে যায়। কো কো লিনের আসন পর্যন্ত পৌঁছে যায় তারা। তাকে বাস থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে নেয়। বাসের চালক বলেন, ওই দু’ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরা ছিল না। তবে, তারা নিজেদের ডিবি অথবা ডিআইবির সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছে। এদিনই ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ইউরোপীয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিল নেতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তিনি জার্মানিতে অবস্থান করেন এবং কো কো লিন তার বড়ভাই। তিনি ওই পোস্টে দাবি করেন, তার ভাইকে হয়তো সরকারের লোকেরা না হয় অপরাধীরা অপহরণ করেছে। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কাছে নিয়মিত কথা বলে যাচ্ছিলেন কো কো লিন। অনেকবার তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে পর্যায়ক্রমিক গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা মিয়ানমারকে রোহিঙ্গামুক্ত করতে চায়। মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্ররা বিভিন্ন সময়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তিনি তার পোস্ট ও বক্তব্যের মাধ্যমে তার পাল্টা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এখানে উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত কো কো লিন। ওদিকে এ সপ্তাহে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বেশ কিছু নেতা বলেছেন, কয়েকদিনে মিয়ানমারের মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সাতজন রোহিঙ্গাকে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের হাতে। এটা ঘটেছে কো কো লিন নিখোঁজ হওয়ার এক বা দু’দিন পরে। মিয়ানমারের মুখপাত্ররা সম্প্রতি বলেছেন, তারা ‘ওয়ান্টেড রোহিঙ্গা’দের একটি তালিকা দিয়েছেন বাংলাদেশের হাতে। এক মুখপাত্র বলেছেন, এক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চমৎকারভাবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সরকার। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন আরো বলেছে, গত দু’ বছরে কক্সবাজার থেকে বেশ কিছু রোহিঙ্গা পুরুষকে তুলে নিয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী এজেন্সির লোকজন। তাদের বেশির ভাগই নিখোঁজ রয়েছে। এমনটা অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিছু নেতা। তারা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ রোহিঙ্গাদেরকে গোপনে তুলে দেয়া হয়েছে মিয়ানমারের হাতে।

চীনা প্রস্তাবে ঢাকায় কিছুটা অস্বস্তি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অস্ত্র বিরতিসহ চীনের ৩ দফা প্রস্তাবে ঢাকায় কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, ‘এতে বাংলাদেশের কোনো অবস্থান নেই।’ সংকট সমাধানে গতকাল নেপিড’তে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তিন দফা (থ্রি-ফেজ) পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। বলেন, প্রথমত: রাখাইনে অস্ত্রবিরতি কার্যকর করতে হবে, যাতে সেখানে শৃঙ্খলা আর স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয় এবং মানুষকে আর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে না হয়। দ্বিতীয়ত: অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে  হবে, যাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি হয়। তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপে রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে, যেখানে দারিদ্র্যবিমোচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ দাবির বিষয়ে ঢাকার কর্মকর্তারা আগাগোড়ায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তাদের কথা- রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। সেখানেই সমাধান খুঁজতে হবে। রাখাইন সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিয়েই উদ্বিগ্ন ঢাকা। এ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংলাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও সোচ্চার রয়েছে বাংলাদেশ।
এশিয়া-ইউরোপের দেশগুলোর জোট-আসেমের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের পররাষ্ট্‌্র মন্ত্রী ওয়াং ই মিয়ানমারের রাজধানী নেপিড সফরে রয়েছেন। মিয়ানমার যাওয়ার পথে তিনি ঢাকায় দু’দিন কাটিয়ে গেছেন। গত শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকায় স্পষ্ট করেই বলেছেন তারা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সংকটটির সমাধান দেখতে চান। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই চীনের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও সমঝোতায় আমরা উৎসাহ দেবো, প্রয়োজনে সহায়তা করবো। মিয়ানমার বা বাংলাদেশ কারও পক্ষ নেবে না চীন। নেপিড’তেও গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বেইজিং বিশ্বাস করে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে চলমান সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান আসবে। মন্ত্রী এ-ও বলেন, সব পক্ষের চেষ্টায় এই ফর্মুলার প্রথম ধাপ ইতিমধ্যে ‘অর্জিত হয়েছে’। এখন সেখানে যাতে নতুন করে কোনো যুদ্ধের উসকানি তৈরি না হয়, সেটা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রোববার দিনের শেষের দিকে মন্ত্রীর প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অস্ত্রবিরতি, দ্বিপক্ষীয় সংলাপে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওই প্রস্তাবের বিষয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়- তিনি বলেছেন, রাখাইনে অস্ত্রবিরতি শুরু হয়েছে। সেখানে নতুন করে কোনো উত্তেজনা যেন না হয় সেটি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মন্ত্রী আশা করেন, এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত আনার বিষয়ে একধরনের ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তাই তারা শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করবে এবং তা বাস্তবায়ন করবে বলেও আশা করেন ওয়াং ই। তিনি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় ওয়াং ই বলেন, এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সমর্থন ও উৎসাহ দিতে হবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও সুষ্ঠু আবহ সৃষ্টি করতে পারে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর বিষয়ে রয়টার্স লিখেছে, নেপিড’তে দেয়া চীনের প্রস্তাবে বাংলাদেশের যেমন সমর্থন আছে, মিয়ানমারেরও একই অবস্থা। বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে ওয়াং ই বলেছেন, পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলা উচিত হবে না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। উল্লেখ্য, ২৫শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি মিয়ানমারের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১১ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন। এরপরই প্রতিশোধ হিসেবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংস অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারা ধর্ষণ, হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, প্রহার সহ এমন কোনো নিষ্ঠুরতা নেই, যা তারা করে নি। এর ফলে বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন কমপক্ষে ৬ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। এর ফলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।

সাইবার ক্রাইম বাড়ছে বেশিরভাগ ফেসবুককেন্দ্রিক by রুদ্র মিজান

বাড়ছে সাইবার ক্রাইম। প্রতিদিনই অভিযোগ আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ৯৫ ভাগ অভিযোগই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুককে কেন্দ্র করে। ফেসবুকে প্রেম, ভালোবাসা। তারপর শারীরিক সম্পর্ক। একপর্যায়ে ব্ল্যাকমেইল।
হুমকি-ধমকি। এক্ষেত্রে ভিকটিমের বেশিরভাগই নারী। সাধারণত এক শ্রেণির প্রতারকের শিকার হন সরল মনের নারীরা। সাইবার ক্রাইমের অভিযোগের পাল্লা ভারি হলেও মামলা হচ্ছে এর ৩০ ভাগ। সামাজিক নানা কারণে মামলা থেকে দূরে থাকতে চায় ভুক্তভোগীরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সাইবার আইনে মামলা হয়েছে ৬২৭টি। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা প্রায় ৭০০ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। দিন দিন সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে মামলার সংখ্যা।
২০১৪ সালে সাইবার আইনে মামলা হয়েছিল ১১৫। ২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৬। ২০১৬ সালে ৬৬০। সাইবার ক্রাইমের অন্তত ১২টি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে সাইবার হয়রানি। এতে রয়েছে ই-মেইল, ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে হুমকি-ধমকি, ব্যক্তির নামে মিথ্যাচার বা অপপ্রচার, নারী অবমাননা, যৌন হয়রানি। এছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্য-পরিচয়-ছবি চুরি, হ্যাকিং, অর্থ আত্মসাৎ ও পর্নোগ্রাফি এবং মেলওয়্যার স্পার্মিংয়ের অভিযোগের সংখ্যাও কম না। সাইবার ক্রাইম বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখেই গত বছরের মে মাসে যাত্রা শুরু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। এই ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তারা নানাভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাইবার ক্রাইমের শিকার ব্যক্তিদের। সামাজিক কারণে মামলা না করেও সেবা নিচ্ছেন অনেকে। ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ রয়েছে পাঁচ শতাধিক। এরমধ্যে তদন্তাধীন মামলা রয়েছে ৯৬টি।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, অনেক অভিযোগ আসে। অভিযোগের ৯৫ ভাগই ফেসবুককেন্দ্রিক প্রেম-ভালোবাসা থেকে হুমকি-ধমকি, ব্ল্যাকমেইল। এক্ষেত্রে বিকাশে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ভিকটিমের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই তদন্ত করা হয় বলে জানান তিনি।
সাইবার ক্রাইমের শিকার হয়ে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে যান। নিজের গোপন দুর্বল বিষয়গুলো মানুষ জেনে যাবে- এমনটি ভেবে কোনো উপায় খুঁজে পান না। এরকম জটিল পরিস্থিতি থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তাদের একজন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। ওই ছাত্রী জানান, ২০১২ সালে মোখলেছুর রহমান নামে বুয়েটের এক ছাত্রের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান। এলিফ্যান্ট রোডের আমতলার একটি বাসায় প্রায়ই ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতেন এই জুটি। এমনকি লালবাগ থানা এলাকার একটি বাসায়  মেডিকেলের ওই ছাত্রীকে নিয়ে যেতো ছেলেটি। ওই সময়ে দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের অনেক ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে মোখলেছুর। মেডিকেলের ওই ছাত্রী দাবি করেন, বিয়ের প্রলোভন দিয়েই তার সঙ্গে এরকম সম্পর্ক তৈরি করে ছেলেটি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে নানা রকম টালবাহানা করতে থাকে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিতেই ঘটে বিপত্তি। একের পর এক অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওচিত্র, ছবি পাঠানো হয় ওই ছাত্রীর ফেসবুকের ইনবক্সে, হোয়াটসঅ্যাপে। ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, আমাকে বাদ দিয়ে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এসব বিষয়ে কথা বলতেই সোস্যাল মিডিয়ায় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি, ভিডিও আপলোড করে আমার মর্যাদাহানি করবে বলে হুমকি দিচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত মেডিকেলের ওই ছাত্রী থানা-পুলিশমুখো হন। গ্রেপ্তার করা হয় মোখলেছুরকে।
এরকম অভিযোগ অনেক। ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম থেকে শারীরিক সম্পর্কের ফলে নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন এক নারী। তিনি রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা। দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে থাকেন পটুয়াখালীতে। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই নারীর ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিলো শাহরিয়ার আহমেদ নামে এক যুবকের সঙ্গে। চ্যাট করতে করতে ঘনিষ্ঠ হয়ে যান তারা। সরাসরি সাক্ষাতের প্রথমদিনই উত্তরার ছয় নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর সড়কের বাসায় ডেকে নেন সাঈদকে। বাসায় সেদিন একা। স্বামী পটুয়াখালী। দুই মেয়ে স্কুলে। এভাবে প্রায়ই বাসায় মিলিত হন তারা। কিন্তু রমজান মাসে স্বামী ঢাকায় থাকায় বাইরে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে সময় কাটাতেন শাহরিয়ারের সঙ্গে। তবে স্ত্রীর অন্যমনস্কতা টের পান স্বামী। বাকবিতণ্ডা হয়। কলহ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেন ওই নারী। ঠিক তখনই ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে শাহরিয়ার। যে কোনো মূল্যে সম্পর্ক ধরে রাখতে চায় সে। অন্তরঙ্গ ছবিগুলো প্রকাশের হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ফেসবুকে পোস্ট করে দেয় তা। আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজনদের কাছে মুখ দেখাতে পারছিলেন না ওই নারী। সারাক্ষণ কাটতো বাসায়। সংসার ভাঙে প্রায়। একপর্যায়ে নিজের জীবন নিজেই শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। শাহরিয়ারকে ফোনে বলেছিলেন, ‘দোহাই আমাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করো না।’ তাতেও থামেনি শাহরিয়ার। বরং এবার ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিতে থাকে। যা  গোপনে হোটেলকক্ষে ধারণ করেছিলো সে। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে মামলা করা হয় উত্তরা পূর্ব থানায়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তার করা হয় শাহরিয়ারকে। উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও। এভাবেই ওই নারীকে রক্ষা করা হয় দুর্বৃত্তের কবল থেকে। সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ কমাতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশুর by এমএম মাসুদ

গত এক দশকের ব্যবধানে কর্মরত শিশুর সংখ্যার পাশাপাশি শিশুশ্রম অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর সংখ্যা কমেনি। বাংলাদেশে এখন সাড়ে ৩৪ লাখ শিশু কর্মরত। ২০০৩ সালে কর্মরত শিশু ছিল প্রায় ৭৪ লাখ। বর্তমানে কর্মরত শিশুদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত আছে ১২ লাখ ৮০ হাজার। আর ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে।
তাদের কাজের বৈশিষ্ট্য জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য বেশ হুমকিস্বরূপ। দেশে শিশুশ্রমের প্রায় ৯৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। এর মধ্যে শুধু শহরাঞ্চলেই কর্মরত রয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ২৯৮ শিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জানা গেছে, বিশ্বের প্রতি ১০ জন শিশুর একজন শিশু শ্রমিক। আর তাদের অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। তবে নব্বই দশকের পর শিশু শ্রমিকদের সংখ্যা ১০ কোটি কমে গেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বিশ্বে ১৫ কোটি ২০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে? তাদের আড়াই কোটি শিশুকেই জোর করে কাজা বাধ্য করা হচ্ছে।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ শ্রম আইনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজে নেয়া যাবে না। ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত কাজে নেয়া যাবে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া যাবে না। আর শিশুদের জন্য ৩৮ ধরনের ঝঁকিপূর্ণ কাজে নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, এখনো পুরো বিশ্বের মোট শিশু শ্রমিকের ৫ শতাংশই বাংলাদেশে। সমাজ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম প্রত্যাহার ও নিরসনে সর্বস্তরের জনগণের মূল্যবোধের পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া একমাত্র সচেতনতাই শিশুশ্রম নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সে কারণে পরিবার থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বিবিএসের ২০০৩ সালের জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষায় দেখা গেছে, তখন প্রায় ৭৪ লাখ কর্মরত শিশু ছিল। এদের মধ্যে ৩১ লাখ ৭৯ হাজার শিশুর কাজ শিশুশ্রমের আওতায় ছিল। তবে এক দশকের ব্যবধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের সংখ্যা তেমন কমেনি, কমেছে মাত্র ১১ হাজার। ২০০৩ সালে দেশে ১২ লাখ ৯১ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ছিল। বর্তমানে সাড়ে ৩৪ লাখ শিশু কর্মরত। সে হিসাবে প্রায় এক দশকের ব্যবধানে কর্মরত শিশুর সংখ্যার পাশাপাশি শিশুশ্রম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিএসএএফ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছরের শিশু শ্রমিক রয়েছে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। এদের মধ্যে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশু শ্রমিক রয়েছে ১৭ লাখ; যাদের কাজ করার কোনো অনুমতি না থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে তারা। এসব শিশুর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু, যা উদ্বেগজনক।
শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; এদের মধ্যে শিশুশ্রম রয়েছে ৮ নম্বরে। এই শিশুশ্রম নিরসনে ২০১২-১৫ সাল পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তবুও সম্ভব হয়নি শিশুশ্রম নিরসন করা।
সারা দেশে শিশু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বিএসএএফ-এর পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে চুরি করার অপবাদে ২০১৬ সালে দরিদ্র শ্রমজীবী ১০৬টি শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালে এসব নির্যাতনের শিকার হয়েছে আরো ৯০ শিশু। ২০১৩-২০১৭ এর মে পর্যন্ত ৬৫ জন শিশু গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। একই সময় ২১ জন শিশু গৃহকর্মীকে ধর্ষণ ও ২১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ জন শিশু গৃহকর্মী আত্মহত্যা করে। এর বাইরেও অনেক শিশু বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
বিএএসএফ’র চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বাইরে নিতে হবে। ২০২৫ সালে দেশে শিশু শ্রমিক থাকবে না। কিন্তু সেটা বাস্তবায়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। ফলে লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সন্দিহান রয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি শিশু দৈনিক গড়ে ৮ ঘণ্টা শ্রমের বিনিময়ে মাত্র ১০০ টাকা উপার্জন করে। তারা মাসে গড়ে সর্বোচ্চ ১০,৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৬০ টাকা উপার্জন করে। বেশির ভাগ শিশু (৭২%) তাদের রোজগারের এই অর্থ পরিবারের প্রয়োজনে ব্যয় করে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন’ (৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমীক্ষা করা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৬ লাখ, এদের মধ্যে ১৭ লাখ শিশু কোনো না কোনো ভাবে শ্রমে নিযুক্ত, যার ১২ লাখ ১০ হাজার শিশু জড়িত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যেমন, ওয়েল্ডিং ও মোটর ওয়ার্কশপ, যানবাহনের হেলপার, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক কারখানা, বিড়ি কারখানা, নির্মাণ কাজ-ইট ভাটা, পাথর ভাঙ্গা, অটোমোবাইল স্টেশন, বর্জ্য অপসারণ, চামড়ার কারখানা, বিস্কিট কারখানা, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজে নিয়োজিত।
সমীক্ষায় দেখা যায়, শ্রমজীবী শিশুদের গড় মাসিক পারিবারিক আয় ৮,৬০৭ টাকা। শ্রমজীবী শিশুরা গড়ে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাস। শ্রমজীবী শিশুর ৮০% (ছেলে ৮১%, মেয়ে ৭৭%) বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত।
তথ্যে দেখা গেছে, ৬৯% অভিভাবক অবহিত আছেন যে, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের দুর্ঘটনা বা শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা আছে, তা সত্ত্বেও তারা বাধ্য হন শিশুদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করতে। শতকরা ৬০% শিশু দিনে এবং ৪০% দিন ও রাত উভয় সময়ই তাদের শ্রমে নিয়োজিত থাকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দরিদ্রতা শিশুশ্রম নিরসনে বাধা। এ ছাড়া শিশুদের স্বল্পবেতন ও সহজ শর্তে কাজে নিয়োগদান, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োগকারী মালিকপক্ষের সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার অভাব, শিশু বান্ধব কাজের অভাব ইত্যাদি বিষয় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিবন্ধক। তবে দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে শিশুশ্রম নিরোধ ও নিরসনে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শ্রমজীবী শিশুদের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে।
বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮টি খাতে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন শিশু ‘শিশুশ্রমে’ নিয়োজিত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ জন মেয়ে শিশু। শিশুশ্রমে নিয়োজিতদের ৫৭ শতাংশের কাজই অস্থায়ী। বর্তমানে শিশুশ্রমে নিয়োজিত আছে এমন ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু এক সময় স্কুলে গেলেও এখন আর যায় না। আর ১ লাখ ৪২ হাজার শিশু কখনই স্কুলে যায়নি।
শিশু শ্রমিকদের মজুরিও বেশ কম। প্রায় ৭ লাখ শিশু কোনো মজুরি পায় না। মজুরি পায় সব মিলিয়ে ১০ লাখ ১৯ হাজার শিশু। ৩ লাখ ৮৮,১৪২ শিশু মাসে ৫-৭ হাজার টাকা মজুরি পায়। আর প্রায় এক লাখ শিশু আড়াই হাজার টাকার কম পায়। সাড়ে সাত হাজার টাকার বেশি মাসে মজুরি পায় আড়াই লাখ শিশু। অন্যদিকে সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের (১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু) মজুরিও বেশ কম।
জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ অনুসারে, ৫-১৮ বছরের শিশু কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পারবে না। ৫-১৪ বছর পর্যন্ত শিশুশ্রম নিয়োগকর্তার জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইন শুধু কাগজে-কলমেই।