Tuesday, October 9, 2018

‘কপাল ভালো বউডা আমার বাইট্টা’ by আশরাফুল ইসলাম

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, আমার রাজনীতির ৫৮ বছর হয়ে গেছে। আর রাজনীতির স্কুল কলেজ গুরুদয়াল হলেও এই কিশোরাগঞ্জের মাটি আর এই কিশোরগঞ্জের মানুষ আমার রাজনীতির বিশ্ববিদ্যালয়। এখানকার মানুষের কাছে আমি রাজনীতি শিখেছি। আমি রাজনীতি করার সময়ে কিশোরগঞ্জে রিকসা সংগঠন করেছি, রিকসাওয়ালা ভাইদের নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি। মুঠে শ্রমিক, ঠেলা গাড়ি শ্রমিক এদেরকে নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি, সংগঠন করেছি। হোটেল রেস্টুরেন্ট শ্রমিক তাদেরকে নিয়েও আমি রাজনীতি করেছি। প্রতিটি শ্রমজীবি মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করেছি।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এই কিশোরগঞ্জবাসীর দোয়ায় আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের দুই দুইবার প্রেসিডেন্ট হয়েছি। এটা আমার বড়ো পাওয়া।
আমি মনে করি, এ পাওয়া আমার না সমস্ত কিশোরগঞ্জবাসীর এই পাওয়া। আমি জানি, কিশোরগঞ্জবাসী আমার জন্য দোয়া করেছে। তারা আমার সাফল্য কামনা করেছে। তাদের আন্তরিক কামনাতেই হয়তো আমি দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হয়েছি। আসলে এটা চরম পাওয়া এইজন্য যে, এ উপমহাদেশে এরকম দ্বিতীয় নজির আর নেই।
সোমবার বিকালে কিশোরগঞ্জ সদরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠে প্রেসিডেন্টকে দেয়া গণসংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জের কৃতিপুরুষ মো. আবদুল হামিদকে এই গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, আজকে গুরুদয়াল কলেজের এই মাঠে এসে আমার অতীতের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। এই যে গুরুদয়াল কলেজ এ মাঠ থেকে আমার রাজনীতি শুরু যদিও স্কুলে থাকতে আমি রাজনীতি করেছি দুই বছর। আমার রাজনীতির নেতৃত্ব এই গুরুদয়াল কলেজ থেকে শুরু। ১৯৬১ সালে আমি মেট্রিক পাস করে গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হই। ৬১ সালে তদানিন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের ফটো ভাঙ্গা দিয়ে শুরু করেছিলাম।
প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, আমার মনে পড়ে, এই গুরুদয়াল কলেজের তখন প্রিন্সিপাল ছিলেন ওয়াসিমুদ্দীন স্যার। শিক্ষকেরা সাধারণত ভালো ছাত্রদেরকে পছন্দ করেন। কিন্তু ওয়াসীমুদ্দীন স্যারসহ যারা তখন শিক্ষক ছিলেন, কেন জানি না আমি ভালো ছাত্র না হওয়া সত্ত্বেও আমাকে পছন্দ করতেন। সেটা আমি আজো জানি না। তারা আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ বলেন, আমি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত পর সে সময় যে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল, সে সংবর্ধনায় আমার ছোট ভাই সৈয়দ আশরাফ উপস্থিত ছিল। আমার দুঃখ লাগে, সে আজ পাশে নাই। কারণ সে অসুস্থ। তবে আমি আশা করি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আপনারাও করবেন, সে যেনো অচিরেই আমাদের মাঝে ফিরে আসে। আবারো যেনো সে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট গণসংবর্ধনা মঞ্চে থাকা সহধর্মিণী রাশিদা হামিদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ৬১ সালে আমার দীর্ঘ রাজনীতি শুরু করলেও আজ থেকে ৫৪ বছর আগে ৬৪ সালে বিয়ে করেছিলাম। আমি কলেজে ছাত্রলীগ করার সময় তখন কোনো ছাত্রী রাজনীতিতে আসতে চাইতো না। তখন কি করব এই সবেদন নীলমনি ঘরে একজন আছে, সেই ছাত্রীটাকেই ছাত্রলীগ বানিয়েছিলাম। আবার আওয়ামী লীগে যখন মহিলারা আসতো না, তাকে নিয়েই শুরু করলাম। তাঁর অবদান আমি অস্বীকার করি না। কারণ সে ৬৪ সালে বিয়ের পর থেকে ছাত্রজীবনে যে ছাত্র ভাইয়েরা আসতো, তাদেরকে চা বানিয়ে খাইয়েছে। তখন গ্যাস ছিল না, লাকড়ির চুলা আর কেরোসিনের চুলায় চা বানিয়ে খাইয়েছে। তিনি রসিকতা করে বলেন, আমার কপাল ভালো, বউডা আমার বাইট্টা। যদি বেশি লম্বা-টম্বা থাকতো, তাহলে মনে হয় চা বানাইতে বানাইতে কোমরডা বাঁকা হইয়া যাইতো।
তিনি বলেন, আপনারা ট্রেনের দাবি করেছেন, এটা যৌক্তিক দাবি। ভৈরব এসে ট্রেন আধ ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা অপেক্ষা করে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে কিশোরগঞ্জ আসতে হয়। যাওয়ার সময় আবার ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ভৈরবে আধ ঘন্টা-এক ঘন্টার জন্য থাকতে হয়। এ জন্য একটা বাইপাস করে দিলেই ট্রেন সরাসরি কিশোরগঞ্জ আসতে পারে। এটার জন্য আমি ডিও লেটার দিয়েছি। আমি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরেই খুব দ্রুত রেল মন্ত্রী ও রেল সচিবকে আমি বঙ্গভবনে ডাকবো। এ ব্যাপারে যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং আমাদের ট্রেনের যে সমস্যা এগুলো দূর করা হয়। আমি প্রথম প্রেসিডেন্ট হয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন বাড়িয়েছিলাম। চাহিদার প্রয়োজনে এখন আবার একটা নতুন ট্রেনের দরকার এবং ট্রেনের কোচ এবং বগি বাড়ানো প্রয়োজন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে নানা সাজে বাদ্য বাজিয়ে এবং বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ হাজির হন।
এর আগে দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ হেলিকপ্টারযোগে কিশোরগঞ্জ শহরের আলোর মেলা এলাকার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রেসিডেন্ট সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠের গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান। প্রেসিডেন্টের তিন দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিন  প্রেসিডেন্টকে পেশাজীবনের স্মৃতি বিজড়িত জেলা আইনজীবী সমিতিতে সংবর্ধনা দেয়া হবে। বেলা সাড়ে ১১টায় জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ সমাচার by অনিম আরাফাত

সমপ্রতি রাশিয়ার ভস্তক-২০১৮ সামরিক মহড়াটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটি ছিল গত ৩০ বছরের মধ্যে দেশটির সব থেকে বড় সামরিক মহড়া। একে তুলনা করা হচ্ছে ১৯৮১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন আয়োজিত জাপদ-১৯৮১ সামরিক মহড়ার সঙ্গে। ভস্তক-২০১৮তে প্রায় তিন লক্ষাধিক রাশিয়ান সেনা অংশ নেয়। রাশিয়ার আমন্ত্রণে সারা দিয়ে চীন ও মঙ্গোলিয়ার সেনারাও এই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল। তবে, পূর্ব সাইবেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এ মহড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাটো। জোটটির দাবি বড় কোনো যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই রাশিয়া তার অস্ত্রশস্ত্র শানিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা একে শুধু একটি সামরিক মহড়া থেকেও বড় কিছু ভাবছেন। এই মহড়াকে রাশিয়া বিশ্বের কাছে নিজের আধুনিক সব সমরাস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ভস্তক-২০১৮ মহড়া চলাকালীন রাশিয়া পৃথিবীর আধুনিকতম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ প্রদর্শন করে। গত কয়েক বছরের হিসেবে রাশিয়ার সমরাস্ত্রগুলোর মধ্যে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদাই সর্বাধিক। এটি এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিক রূপ। যেকোনো যুদ্ধে এর সক্ষমতার কারণে সৌদি আরব, চীন, ভারত, তুরস্ক ও কাতারের মতো বেশ কয়েকটি দেশ এস-৪০০ কেনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, যে দেশই রাশিয়ার এ অস্ত্র ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেসব দেশকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছে। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো সরবরাহ করতে পারে এ রকম যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার থেকে এস-৪০০ অনেক বেশি আধুনিক।
এটির রাডার ও অন্যান্য সেন্সরগুলো অবিশ্বাস্য রকমের। এটি ৬শ’ কিলোমিটার রেঞ্জের মধ্যে শত্রু বিমান, মিসাইল, ড্রোন বা যেকোনো হুমকি শনাক্ত করতে পারে। এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৪শ’ কিলোমিটার দূরের টার্গেট ধ্বংস করতে সক্ষম। এর সব থেকে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এস-৪০০ একইসঙ্গে একাধিক টার্গেট শনাক্ত করতে পারে এবং একইসঙ্গে প্রায় ৩৬টি টার্গেট ধ্বংস করতে সক্ষম। এমনকি স্টিলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসেও ব্যাপক কার্যকরি এস-৪০০। এ ছাড়া এটি সহজেই পরিবহন করা যায়। অর্থাৎ প্রয়োজনে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলা চালিয়ে এটিকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব। দূরের লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কাছের লক্ষ্যবস্তুতে হামলাতেও এস-৪০০ বেশ কার্যকর।
এর বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণেই অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও এস-৪০০ ক্রয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এমনকি ন্যাটো সদস্য তুরস্কও এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আগস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান বলেন, আঙ্কারা যত দ্রুত সম্ভব এস-৪০০ কিনতে চায়। তবে, রাশিয়া জানিয়েছে এর জন্য তুরস্ককে অন্তত ২০১৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ে তুরস্কের এ আগ্রহ রাজনৈতিক দিক থেকে দেশটির পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে, এর বাইরেও দেশগুলো আশঙ্কা করছে এর পেছনে রাশিয়ার অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। তুরস্কে এস-৪০০ স্থাপন করলে দেশটিতে থাকা ন্যাটোর সার্বিক ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বাভাবিকভাবেই রুশ পার্সোনালের দরকার পড়বে। রাশিয়ার পক্ষে তখন ন্যাটোর তথ্যভাণ্ডারে পৌঁছানো সহজ হয়ে যাবে। তবে, তুরস্কের দিক থেকে দেখলে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে বোঝাতে চাইছে তুরস্ক কারো কথায় উঠবস করবে না।
কিন্তু ভারত, সৌদি আরব ও কাতার ন্যাটো সদস্য নয়। তারপরেও এস-৪০০ কেনার চেষ্টা চালাতেই যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক হুমকির মুখে পড়তে হয় দেশগুলোকে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, রাশিয়া থেকে বড় অর্থের কোনো অস্ত্র ক্রয় করলে সে দেশকে অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়তে হবে। এস-৪০০ ক্রয়ের পর চীনকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে। সমপ্রতি ভারতকেও অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তারপরেও দেশটি এস-৪০০ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যেকার সমপর্ক আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে এস-৪০০ ক্রয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সাক্ষর করেছে ভারত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে নিয়ে ভাবছে না।
সৌদি আরব ও ভারতের মতো রাষ্ট্রগুলো বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন তাই এখনি এসব দেশের সঙ্গে সমপর্ক খারাপে ইচ্ছুক হবে না। তবে, সমরাস্ত্র বিক্রি থেকে রাশিয়ার বৈদেশিক আয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে। তাই হয়তো অন্যান্য দেশগুলোকে সাবধান করতে ভারতের উপর আংশিক অবরোধ আরোপ করতে পারে দেশটি।
কথা হচ্ছে, ভারতের মতো একটি রাষ্ট্র কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্কের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি নিচ্ছে? অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হলেও ভারতের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সেনাবাহিনী। সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে দেশটি পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। কিন্তু ভারত কখনো নির্দিষ্ট কোনো দেশ থেকে অস্ত্র ক্রয় করে না। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় রাষ্ট্রই ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। এ ক্ষেত্রে দেশটি একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে, ভারতের রয়েছে রাশিয়ার থেকে অস্ত্র কেনার কয়েক যুগের অভিজ্ঞতা। তাই রুশ প্রযুক্তির প্রতি দেশটির এক ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া কিছুক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় করে।
এটিও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার অন্যতম কারণ। তারপরেও সবকিছু ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্ব এখানে সপষ্ট। পৃথিবীজুড়ে রুশ অস্ত্রের চাহিদা দিনদিন বেড়ে চলেছে। তেলের পর অস্ত্র বিক্রি থেকেই দেশটি সব থেকে বেশি বৈদেশিক আয় করে থাকে। তাই যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার অস্ত্র বিক্রির গতি টেনে ধরতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু এস-৪০০ ব্যবস্থার বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট বাজার ও এ অস্ত্র পেতে দেশগুলোর ব্যাপক আগ্রহই প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে চলেছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেভাবে বাংলাদেশের অংশ হলো

বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার মাঝে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর মোহনায় এ দ্বীপটি অবস্থিত।
সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার তাদের একটি জনসংখ্যা বিষয়ক মানচিত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে সে দেশের অংশ দেখিয়েছে বলে বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ তুলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের তরফ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।
কিভাবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হলো?
সেন্ট মার্টিন দ্বীপটি নারকেল জিঞ্জিরা হিসেবে পরিচিত। প্রচুর নারকেল পাওয়া যায় বলে এ নামটি অনেক আগে থেকেই পরিচিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এবং অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে গবেষণা করেছেন। মি: পাশা বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।
অধ্যাপক বখতিয়ার বলেন, প্রায় ৫০০০ বছর আগে টেকনাফের মূল ভূমির অংশ ছিল জায়গাটি। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি সমুদ্রের নিচে চলে যায়।
এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ পাড়া জেগে উঠে। এর ১০০ বছর উত্তর পাড়া এবং পরবর্তী ১০০ বছরের মধ্যে বাকি অংশ জেগে উঠে।
গবেষক মোস্তফা কামাল পাশা জানালেন, ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এ দ্বীপটি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্যের সময় আরব বণিকরা
এ দ্বীপটিতে আরব বণিকরা বিশ্রাম নিতো। তখন তারা এ দ্বীপের নামকরণ করেছিল 'জাজিরা'। পরবর্তীতে যেটি নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত হয়।
অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগে সে এলাকায় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। বিভিন্ন কার্বন ডেটিং-এ এর প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক বখতিয়ার।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০০ সালে ভূমি জরিপের সময় এ দ্বীপটিকে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়।
যদিও সে সময়টিতে বার্মা ব্রিটিশ শাসনের আওতায় ছিল। কিন্তু তারপরেও সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে বার্মার অন্তর্ভুক্ত না করে ব্রিটিশ-ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল পাশা।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খ্রিস্টান সাধু মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়।
তবে অধ্যাপক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, দ্বীপটিকে যখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তখন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মার্টিনের নাম অনুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, ১৮৯০ সালে কিছু মৎস্যজীবী এ দ্বীপে বসতি স্থাপন করে।
এদের মধ্যে কিছু বাঙালি এবং কিছু রাখাইন সম্প্রদায়ের লোক ছিল। ধীরে-ধীরে এটি বাঙালী অধ্যুষিত এলাকা হয়ে উঠে।
কালক্রমে এ দ্বীপটি হয়ে উঠে বাংলাদেশের পর্যটনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে একটি।
গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ নারকেল গাছ আছে।
সুত্রঃবিবিসি

চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো সংশোধিত শ্রম আইন

সংশোধিত শ্রম আইন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলো। এর মাধ্যমে কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং ধর্মঘট করতে শ্রমিকদের সমর্থনের হার কমানো হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। সচিবালয়ে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যপদ কমানো হয়েছে। এতদিন ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন না পেলে ট্রেড ইউনিয়ন করা যেত না। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এখন ২০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন মিললে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে। ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধনের আবেদন পাওয়ার ৫৫ দিনের মধ্যে সরকারকে নিবন্ধন দিতে হবে। আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করা যাবে।
তিনি বলেন, সংশোধিত আইন অনুযায়ী কারখানার শ্রমিকদের উৎসব ভাতা দেয়া হবে। নারী শ্রমিক প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসবের পরে আট সপ্তাহ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকতে পারবেন। কোনো কারখানায় ২৫ জনের বেশি শ্রমিক থাকলে তাদের জন্য পানির ব্যবস্থাসহ খাবার কক্ষ রাখতে হবে, সেখানে বিশ্রামেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। শফিউল জানান, শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে পরে তা উৎসব ছুটির সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। উৎসবের ছুটিতে কাজ করালে একদিনের বিকল্প ছুটিসহ দুই দিনের ক্ষতিপূরণ মজুরি দিতে হবে। তিনি জানান, ‘অপ্রাপ্ত বয়স্ক’ শব্দটি শ্রম আইন থেকে বাদ দিয়ে সেখানে ‘কিশোর’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আগে ১২ বছর বয়সী শিশুরা কারখানায় হালকা কাজের সুযোগ পেত। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোররা হালকা কাজ করতে পারবে। সংশোধিক শ্রম আইন পাস হলে খাবার ও বিশ্রামের সময় বাদে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি কোনো শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। কারখানা ও শিল্প শ্রমিকরা সপ্তাহে একদিন এবং দোকান ও প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা দেড় দিন ছুটি পাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বলপ্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোনো স্থানে আটক রাখা, শারীরিক আঘাত এবং পানি, বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বা অন্য কোনো পন্থায় মালিককে কোনো কিছু মেনে নিতে বাধ্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। শ্রমিকরা বেআইনি ধর্মঘটে গেলে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ধর্মঘট করতে আগে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের সমর্থনের প্রয়োজন থাকলেও সংশোধিত আইনে ৫১ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন থাকার কথা বলা হয়েছে। শফিউল জানান, কোনো মালিক মহিলা শ্রমিকদের প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো মালিক বা শ্রমিক অসৎ শ্রম আচরণ করলে এক বছর কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আগে দুই বছর সাজার সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল। বেআইনি ধর্মঘট করলে আগে একবছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হতো। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হলে এক মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আগে এই অপরাধে ছয় মাস কারাদণ্ড দেয়া হতো। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, শ্রমিকরা কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে এক লাখ টাকার বদলে দুই লাখ টাকা এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে সোয়া একলাখ টাকার পরিবর্তে আড়াই লাখ টাকা পাবেন। কোনো ব্যক্তি কোনো শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

দুই শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধের নির্দেশ ডিআইএফই’র by এম এম মাসুদ

সারা দেশের ছোট-বড় দুই শতাধিক পোশাক কারখানা সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র কাছে এসব কারখানাকে ইউডি (ইউটিলিটি ডিকারেশন বা কাঁচামালের প্রাপ্যতার ঘোষণা) সংক্রান্ত সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ডিআইএফই সূত্রে জানা গেছে, যেসব কারখানার সংস্কার ২০ শতাংশের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে কারখানাগুলো সংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি করতে পারলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কারখানাগুলোর রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। অবশ্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেনি বলেই জানা গেছে। সংগঠন দুটির মতে, হঠাৎ করে এতগুলো কারখানা বন্ধ করা যাবে না। কারণ, এখানে শ্রমিকদের স্বার্থ জড়িত।
তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া বন্ধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বন্ধ করা হবে বলে মনে করে তারা।
জানা গেছে, কমপ্লায়েন্স মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে না পারা, কার্যাদেশ না থাকা ও আর্থিক লোকসানের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানা বন্ধের আনুষঙ্গিক কারণের মধ্যে আরো রয়েছে আর্থিক অসচ্ছলতা, ব্যাংকিং দায়, কর্মপরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত না হওয়া, গ্যাস সংকট, অগ্নিকাণ্ড, মালিকপক্ষের মতপার্থক্য ও কোন্দল, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব ও শ্রমিক অসন্তোষ। বস্ত্র অধিদপ্তরের খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ১৩টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৭টি সংগঠন হলো- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিটিটিএলএমইএ, বিএলএমইএ, বিজিএপিএমইএ ও বিএসটিএমপিআইএ। এর মধ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য কারখানাই সবচেয়ে বেশি বন্ধ হয়েছে। আর কমপ্লায়েন্স ইস্যুই এসব কারখানা বন্ধের মূল কারণ বলে মনে করে সংস্থাটি।
বস্ত্র অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ঢাকায় ৩ হাজার ৪১৬টি কারখানা। গাজীপুরে বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারখানা ১ হাজার ৯২৩টি। নারায়ণগঞ্জে আছে ১ হাজার ২৯৯টি কারখানা। এছাড়া চট্টগ্রামে ৯১০টি ও নরসিংদীতে ৪০২টি কারখানা সক্রিয় আছে।
ডিআইএফই’র উপ-মহাপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দুই শতাধিক কারখানার ইউডি বা ইউটিলিটি ডিকারেশন বাতিল করার জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’কে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে বড় বড় প্রায় ৫০টির বেশি কারখানা রয়েছে। বাকিগুলো এগুলো ক্ষুদ্র গার্মেন্টস ও অনেকেই সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করে। তিনি বলেন, যারা সংস্কার কাজ করছে তাদের অনেককেই আগামী নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছে। কারখানার শ্রমিকের নিরাপত্তা, দেশের ভাবমূর্তির স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের সংস্কারের কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি কোনো পদক্ষেপও নেইনি তারা। তিনি বলেন, কেননা এসব কারখানার কোনো একটিতে দুর্ঘটনা ঘটলে এবং তাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলে, তার দায় পুরো গার্মেন্টস খাতকেই নিতে হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এক সঙ্গে হঠাৎ করে এতগুলো কারখানা বন্ধ করা ঠিক হবে না। পাশাপাশি ইউডি বন্ধ করাও ঠিক হবে না। কারণ, এখানে শ্রমিকদের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, যারা সংস্কারকাজ চালিয়ে যাবে তাদের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর বন্ধ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই বন্ধ করা হবে। চেষ্টার ঘাটতি নেই। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক কারখানা বন্ধ হয়েছে কর্মপরিবেশের মানদণ্ড বজায় রাখতে না পেরে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এখন কমপ্লায়েন্স মেনেই ব্যবসা করতে হবে। কারণ অনিরাপদ কারখানা সচল রেখে এখন আর ব্যবসা করা যাচ্ছে না।
নিট খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত কয়েক বছরে পোশাক কারখানা বন্ধে বিভিন্ন কারণ থাকলেও কমপ্লায়েন্স ইস্যুই মুখ্য। এছাড়া অনেক কারখানা উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা মনে করেন, হঠাৎ করেই বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকরা বেকার হোক- সেটা চাই না। আবার ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কারখানায় কোনো শ্রমিক কাজ করুক- সেটাও চাই না।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, কারখানাগুলোর মালিক কিংবা প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৩২টি সভা করা হয়েছে এবং দুই দফা চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিআইএফই‘র চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কারখানার প্রনিতিধিদের সঙ্গে সভা করেছে বিজিএমইএ।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক হতাহতের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের পোশাক কারখানা সংস্কারের জোর দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরই ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি করে এমন দুই হাজার দুইশ কারখানা সংস্কারে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি জোট গঠিত হয়। তাদের কার্যক্রম এখন শেষ হওয়ার পথে। অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সভুক্ত কারখানাগুলোর সংস্কারে অগ্রগতি ৯০ শতাংশের ওপরে।

৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা সেবন ও বিপণনের সাজা মৃত্যুদণ্ড

ইয়াবা, কোকেন, হেরোইন ও কোকা জাতীয় মাদকদ্রব্য বহন, সেবন, বিপণন, মদতদান ও পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০১৮ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ আইনের অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ফিরে প্রেস ব্রিফিংয়ে  মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা পরিবহন, মজুত, বিপণন ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, কোকেনসহ সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড। আগের আইনে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে খসড়া আইনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইয়াবা ‘ক’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য। এর রাসায়নিক নাম অ্যামফিটামিন।
এই মাদকদ্রব্য বহন, মজুত, বিপণনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম হলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ১০০ গ্রামের বেশি থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ ও সরবরাহ করলে, মদত দিলে বা পৃষ্ঠপোষকতা করলে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা পাবেন।
একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটনে কাউকে প্ররোচনা দিলে, সাহায্য করলে বা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে, প্রচেষ্টা নিলে অপরাধ সংঘটন হোক বা না হোক তিনি এই আইনের অধীন অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। শফিউল আলম বলেন, হেরোইন, কোকেন মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড। আর মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরিবহন, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ- এগুলো সবগুলো এর মধ্যে চলে আসে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগের আইনটি ১৯৯০ সালে প্রণয়ন করা হয়।
এটাকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিঙ্গেল কনভেনশন অন নারকোটিকস ড্রাগস-১৯৬১, ইউএন কনভেনশন অন সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস-১৯৭১ এবং ইউএন কনভেনশন অন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবসটেন্সেস ১৯১৮ এ সই করেছে। এগুলোর ভিত্তিতে আইনটি হালনাগাদ করা হয়েছে। আগের আইনে অনেক বিষয় সরাসরি পরিষ্কার করা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনে ইয়াবা, সিসাবার, ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে।
এমন কোনো বিষয় নেই যা আইনে কাভার করবে না। কোনো না কোনোভাবে তালিকার মধ্যে চলে আসবে। ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাবিত আইনে ‘কন্ট্রোল-ডেলিভারি’ নামে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বিয়ারের সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত দশমিক ৫ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে বিয়ার বলা হবে। মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এই আইনের তফসিলে উল্লিখিত কোনো দ্রব্য এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মাদকদ্রব্য বলে ঘোষিত অন্য কোনো দ্রব্য যা সংশ্লিষ্ট তফসিলের অংশ বলে গণ্য হবে।
মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অন্য যেকোনো দ্রব্য মিশ্রিত বা একীভূত দ্রব্য সমুদয় পণ্য মাদকদ্রব্য বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, আইনে সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ-নির্যাস সহযোগে দশমিক ২ শতাংশের ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসএস ক্যানেল মিশ্রিত উপাদান। শফিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কেউ যদি বার চালাতে চায় তার লাইসেন্স লাগবে। লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ বার চালায় তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা আদায় করে শর্ত পূরণপূর্বক লাইসেন্স দেয়া হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে বিধি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যাবে। টেস্ট পজিটিভ হলে কমপক্ষে ছয় মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় সত্য বলেন নি: বুলবুল

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তবে বাংলাদেশে সম্প্রতি পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় সত্য কথা বলেন নি এবং সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তই বিতর্ক ও সমাচেনার জন্ম দিয়েছে।
পুরো সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো। এটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ
  •     ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী মহোদয় সত্য বলেন নি
  •     পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নি
  •     সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তই বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে
  •     এই আইনের অনেক ধারাই সাংবাদিকদের জন্য আতঙ্কের কারণ
  •      আইনে ১৪ টি জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে
  •     এই আইনে শাস্তির পরিমাণ অস্বাভাবিক
  •     দুটি আইনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত আছে
রেডিও তেহরান: জনাব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সম্প্রতি বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি আইন করা হয়েছে যা নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ও সরকার বড় রকমের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে আপনি একটি কলাম লিখেছেন যার শিরোনাম ছিল “এই বিতর্কের প্রয়োজন ছিল না”। আপনার লেখা থেকে পরিষ্কার যে, সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এই বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কেন এই বিতর্ক সৃষ্টি করা হলো বলে আপনার মনে হয়?
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য অংশীজন হিসাবে সম্পাদক পরিষদ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগটি অবশ্যই ভালো ছিল। তবে আমি " এই বিতর্কের প্রয়োজন ছিল না" এই জন্যে বলেছি যে যখন আলোচনা শেষে সংসদীয় কমিটিতে একটি চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু তারা প্রথম ও দ্বিতীয় বৈঠক করার পর চূড়ান্ত বৈঠকটি আর করলেন না। আর চূড়ান্ত বৈঠকটি না করার ফলে অনেকগুলো জায়গা অনিস্পন্ন থেকে গেল। তৃতীয় বৈঠকটি করলে এমন অবস্থা হতো না। আর সেজন্যেই আমি বলেছি যে আসলে এই বিতর্কটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে। এই বিতর্কটি তৈরি না করলেও পারত।
রেডিও তেহরান:  জাতীয় সংসদে যখন আইনটি নিয়ে আলোচনার পর পাস করা হয়েছে তখন কী শুধু কয়েকজন মন্ত্রীকে সৃষ্ট বিতর্কের জন্য দায়ী করা যায়? এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নিজেও কিন্তু আইনটির পক্ষে কথা বলছেন।
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: হ্যাঁ, একথা ঠিক যে এর দায়িত্বটি পুরোপুরিভাবে সরকারের ওপর বর্তাবে। আমি বলতে চেয়েছি পদ্ধতিগত ক্রুটির কথা। যাদের ওপর দায়িত্ব ছিল তারা সঠিকভাবে পদ্ধতি অনুসরণ করেন নি সেকথাই বলতে চেয়েছি। তবে চূড়ান্ত বিচারে এ আইনটি তো সরকারের আইন, এটি রাষ্ট্রের আইন। সংসদে পাসের মাধ্যমে এটি রাষ্ট্রের আইনে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা আলোচনায় বলব রাষ্ট্র এমন একটি আইন পাস করল যেটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নি। এই সমালোচনাটি আমরা এখনও করছি। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে তার বক্তব্য দিয়েছেন- সেটি ভিন্ন প্রশ্ন কিন্তু এ বিতর্কে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। বিতর্কটি নিষ্পন্ন করার জন্যই তো সংসদীয় কমিটি আমাদেরকে ডেকেছিল কিন্তু তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি না করার ফলেই তো বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই বিতর্কটি রেখেই সংসদীয় কমিটি পার্লামেন্টে গেলেন। ফলে চূড়ান্ত বিচারে আমরা এর সমালোচনা করছি। আর সেই সমালোচনার জায়গাটি তৈরি করে দিলেন এই সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত। আর সেখানে ছিলেন মন্ত্রী মহোদয় ও এমপিরা।
রেডিও তেহরান: মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলেছেন, আইনটি পাসের আগে সাংবদিকদের দেয়া সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আপনার লেখা থেকে পরিষ্কার যে, কয়েকজন মন্ত্রী অসত্য বলেছেন। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, এটি খুবই দুঃখজনক। দুঃখজনক একারণে যেখানে পার্লামেন্টে আমাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ নেই। মন্ত্রী মহোদয় একতরফাভাবে বললেন যে, সাংবাদিকদের সমস্ত দাবি মানা হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয়ের কথা সত্য না। আর সেটি যে সত্য না সেকথা আমার লেখার মধ্যে বলেছি এবং চ্যালেঞ্জ করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের হাতে চারটি ডকুমেন্ট আছে। একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে প্রথম খসড়া। দ্বিতয়টি হচ্ছে-সম্পাদক পরিষদের লিখিত বক্তব্য। তৃতীয়টি হচ্ছে-বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়েনের লিখিত প্রস্তাবনা এবং চতুর্থটি হচ্ছে যেটি সংসদে অন্যভাবে উপস্থাপন করা হলো। তো আমরা বলেছিলাম যে সবগুলো নিয়ে বসলেই বোঝা যাবে আমাদের কোন প্রস্তাব কতটুকু মানা হয়েছে। তবে হ্যাঁ একেবারে কোনো কিছু মানা হয় নি সেকথা বলব না। আর সেই মানার মধ্য দিয়ে নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বড় একটি উদাহরণ দিতে চাই।
আমরা বলেছিলাম যে, ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইন এবং ২০১১ সালের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান সংক্রান্ত আইন- এ দুটোকে মিলিয়ে করতে হবে। তারা আমাদের কথা শুনে তিন ধারায় তথ্য অধিকার আইনকে সংযুক্ত করল। কিন্তু ২০০৯ সালে যখন তথ্য অধিকার আইন হয়েছিল তখন কীজন্য এ আইনটি হয়েছিল? হয়েছিল এই কারণে যে, তখন কাজ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বাধা দেয়া হতো। আর সেই বাধাকে অতিক্রম করার জন্যই সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুধু সাংবাদিক না গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তথ্য অধিকার আইন করা হয়।
ফলে ২০০৯ সালের অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টটাকে একধরনের বাতিলই করে দেয়া হলো- এর কোনো কার্যকারীতা থাকল না। আর তথ্য অধিকার আইনে একই কথা বলা হয়েছিল। তথ্য অবারিত করার ক্ষেত্রে এই আইনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। তবে ৩ নং ধারায় ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইনকে সংযোজন করা হলো আবার একই আইনের ৩২ ধারায় ২০০৯ সালের যে আইনকে একধরনের ভোতা করে দিলাম সেটাকেই আবার উজ্জীবিত করা হলো।
রেডিও তেহরান:  ডিজিটাল আইন নিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ জানাচ্ছে কেন? আসলে সংকটটা কোথায়?
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, সংকটের জায়গাটি হচ্ছে একজন সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ যখন কথা বলবেন তখন তিনি তথ্য অধিকার আইনের রেফারেন্স করবেন। তিনি বলবেন তথ্য অধিকার আইনে আমাকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেই আইনে আমি একথা বলছি বা একাজটি করছি। আবার পুলিশ বলবে আপনি যে কাজ করেছেন সেজন্য আপনার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে। তবে হয়তো কোর্টে গেলে তথ্য অধিকার আইন চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকরা গ্রেফতার হবে, জেলে যাবে, কোর্ট পর্যন্ত যেতে জামিন অযোগ্য ধারায় তাকে যেতে হবে। এই যে ভোগান্তি হবে সেটাই আমাদের আতঙ্কের কারণ।
আরেকটি বড় সংকট রয়েছে। মৌলিক যে বিষয়টি পরিবর্তন করার কথা মন্ত্রীরা বলেছিলেন যে ৪৩ ধারায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করবেন। মন্ত্রীরা এ ব্যাপারে প্রস্তাব দিলেন। তখন আমরা বললাম এখানে তো কোনো প্রোটেকশন নেই। পুলিশের যাকে সন্দেহ হবে সে সাংবাদিক কিংবা সাধারণ মানুষ-তাকেই কোনো বাধা ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে। আমরা এর প্রতিবাদ করে বলেছিলাম যে এখানে সেফটি নীতি থাকতে হবে যাতে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার না হয়। আমাদের বক্তব্য শুনে মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিতে নিজেরাই প্রস্তাব দিলেন যে তাহলে সাংবাদিকদের প্রোটেকশন হিসেবে ডিজিটাল এজেন্সির যিনি মহাপরিচালক থাকে তাহলে তার অনুমতি নিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে হবে।
সংসদে চূড়ান্ত যে রিপোর্টটি পাবলিশ করা হয়েছে সেখানে কোন কোন ধারায় নতুন যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে তা আন্ডারলাইন পড়ে দেয়া হয়। সেই কপিটির মধ্যে বিষয়গুলো লেখা আছে। কিন্তু উদ্বেগজনক এবং হতাশাজনক বিষয় হচ্ছে মন্ত্রী যখন সংসদে এটি পাঠ করেন তখন বিষয়গুলো বাদ দিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের প্রোটেকশনটা থাকল কোথায়!
কাজেই দুটি আইনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত আছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের অবারিত ক্ষমতা দেয়া হলো। তারা যা খুশি তাই করতে পারবেন। কারো কোনো অনুমতি না নিয়েই কাউকে গ্রেফতার করতে পারবেন। তারপরও বড় উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে- এই আইনে ১৪ টি জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে। তাছাড়া শাস্তির পরিমাণ অস্বাভাবিক। কাজেই সব মিলিয়ে এই আইনে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো যথেস্ট উপাদান আছে। আর সেজন্যেই আমরা বলেছি যে, আইনের ধারাগুলো যদি দুর্বৃত্তদের ওপর প্রয়োগ করা হয় তাতে কোনো আপত্তি নেই। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে যারা অপরাধ করেন তাদের বিরুদ্ধে একটা আইনের মাধ্যমে চূড়ান্ত শাস্তি দেয়া হোক এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আইনের কোনো ধারাতে যাতে ২০০৯ সালের তথ্য অধিকার আইন এবং ২০১১ সালের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশকারীকে আইনগত সুরক্ষা প্রদান সংক্রান্ত আইন এই দুটো আইনের মধ্য দিয়ে তথ্য মুক্ত করার যে জায়গায় আমরা গিয়েছিলাম সেখান থেকে আমাদের আবার বিপরীতভাবে হাঁটতে হলো। আমরা গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বের হতে চেয়েছিলাম। ভয়ের সংস্কৃতি থেকে বের হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই আইনের মধ্য দিয়ে আমাদের মাথার ওপর একটা ভয়ের ছায়া ঝুলিয়ে রাখা হলো। যেটা মুক্ত স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।
রেডিও তেহরান: সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে সর্বশেষ যে বৈঠক হয়েছে তার পরিণতি কী হতে পারে বলে আপনি মনে করছেন?
মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল: দেখুন, তিনজন মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আমাদের এই উদ্বেগগুলোকে নিয়ে তারা মন্ত্রিসভায় যাবেন। আর মন্ত্রিসভা আবার এটাকে দ্রুততম সময়ে একটা সংশোধনী আনতে পারেন। এটি একটি দিক হতে পারে। আর দ্বিতীয় যেটি হতে পারে সেটি হচ্ছে-মন্দের ভালো- এই আইনটি প্রয়োগের যে বিধিমালা রয়েছে তাতেও যদি কিছু সংশোধনী এনে নতুন কিছু সংযোজন করা যায়। তবে বিধিমালা কখনও মূল আইনকে সুপারসিড করতে পারবে না। কোনো অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার ও তল্লাশীর যে অধিকার পুলিশকে দেয়া হয়েছে সেটি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে বিধিমালা দিয়ে হয়তো কিছু বিষয়কে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব।
আরেকটি হচ্ছে আমরা  অতীতে দেখেছি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক কিছুতে সদিচ্ছা দেখিয়েছেন এখানেও যদি তিনি তেমনটি দেখান তাহলে হয়তো শঙ্কার জায়গা থেকে সাংবাদিকরা বের হয়ে আসতে পারবেন।

আপত্তি অগ্রাহ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলে সই করলেন প্রেসিডেন্ট

অংশীজনের তীব্র আপত্তি ও বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগ অগ্রাহ্য করেই আইনে পরিণত হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল। বিলটিতে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ সই করায় এটি আইনে পরিণত হলো। গতকাল সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গত সপ্তাহে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে পাস হওয়া বিলগুলো সম্মতির জন্য  প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠান। সাংবাদিকসহ অংশীজনদের আপত্তি  উপেক্ষা করে ১৯শে সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮। বিলটি পাস না করতে সাংবাদিক এবং অংশীজনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল প্রেসিডেন্টের প্রতি। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই আইন স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হবে উল্লেখ করে তা পাস না করার আহ্বান জানায়।
আপত্তি উপেক্ষা করে বিল পাসের প্রতিবাদে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি দিলেও তথ্যমন্ত্রীর আলোচনার আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়।
আইনটি পাস হওয়ায় এখন আলোচনায়ও কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। তথ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাংবাদিকদের আপত্তির বিষয়টি গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার কথা থাকলেও এ আইনের বিষয় বৈঠকে উঠেনি।
গত ২৯শে জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। তখন থেকেই আইনটি নিয়ে আপত্তি ওঠে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারা নিয়ে আপত্তি জানায়। এ ছাড়া, ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা আইনের ২১, ২৮, ৩২ ও ২৫ ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। কমিটি প্রতিবেদন দিতে তৃতীয় দফায় ১১ই সেপ্টেম্বর এক মাসের সময় নিয়েছিল। ১৭ই সেপ্টেম্বর তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপন করে। ওই প্রতিবেদনে অংশীজনদের মতামতের তেমন কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।
ব্যাপক সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্যপ্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরো বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এসব বিতর্কিত ধারার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংসদে আইনটি পাসের পরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সংস্থা এতে সই না করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ডিজিটাল আইনে যা বলা হয়েছে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশকিছু ধারার বিষয়ে প্রবল আপত্তি ছিল সাংবাদিক ও অংশীজনের। এসব ধারা পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছিল সম্পাদক পরিষদসহ  সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে। আইনটির ৮ নং ধারায়, কতিপয় তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এ ধারার তিনটি উপ-ধারা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে- (১) মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোনো বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করিলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমত, ব্লক করিবার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে, অতঃপর বিটিআরসি বলিয়া উল্লিখিত, অনুরোধ করিতে পারিবেন। (২) যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের বা উহার কোনো অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন্ন করে, বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে, তাহা হইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করিবার জন্য মহাপরিচালকের মাধ্যমে, বিটিআরসিকে অনুরোধ করিতে পারিবেন। (৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন কোনো অনুরোধ প্রাপ্ত হইলে বিটিআরসি, উক্ত বিষয়াদি সরকারকে অবহিতক্রমে, তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতো, বন্ধ করিবে।
আইনের ২১ নম্বর ধারায় মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণার দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে। এ ধারার উপ-ধারায় বলা হয়, (১) যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণা চালান বা উহাতে মদত প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
২৫ নম্বর ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি বিষয়ে বলা হয়েছে।
এর উপ-ধারায় বলা হয়েছে, (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিযোগে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করিবার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
২৮  ধারায় ওয়েবসাইট বা কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ, সম্প্রচার ইত্যাদি বিষয়ে বলা হয়, (১) যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করিবার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করান, যাহা ধর্মীয় অনুভূতি বা ধর্মীয় মূল্যবোধের উপর আঘাত করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
২৯ ধারায় মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, প্রচারের বিষয়ে বলা হয়েছে (১) যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে Penal Code (Act XIV of ১৮৬০)-এর  section ৪৯৯-এ বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বছর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লাখ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
ধারা ৩১-এ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, ইত্যাদির অপরাধ ও দণ্ড বিষয়ে (১) যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সমপ্রচার করেন বা করান, যাহা সংশ্লিষ্ট শ্রেণি বা সমপ্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটিবার উপক্রম হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
ধারা ৩২-এ সরকারি গোপনীয়তা ভঙ্গের অপরাধ ও দণ্ড-এর বিষয়টি বর্ণিত হয়। বলা হয়েছে, (১) যদি কোনো ব্যক্তি Official Secrets Act, ১৯২৩ (Act No. XIX of ১৯২৩)-এর আওতাভুক্ত কোনা অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১৪  (চৌদ্দ) বছর কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লাখ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। (২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপরাধ দ্বিতীয়বার বা পুনঃপুনঃ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৪৩ ধারায় পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলা হয়, (১) যদি কোনো পুলিশ অফিসারের এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো স্থানে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে বা হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে বা সাক্ষ্য-প্রমাণাদি হারানো, নষ্ট হওয়া, মুছিয়া ফেলা, পরিবর্তন বা অন্যকোনো উপায়ে দষ্প্রাপ্য হইবার বা করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে (ক) উক্ত স্থানে প্রবেশ করিয়া তল্লাশি এবং প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হইলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; (খ) উক্ত স্থানে তল্লাশিকালে প্রাপ্ত অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার্য কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি এবং অপরাধ প্রমাণে সহায়ক কোনো দলিল জব্দকরণ; (গ) উক্ত স্থানে উপস্থাপিত যে কোনো ব্যক্তির দেহ তল্লাশি; (ঘ) উক্ত স্থানে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ করিয়াছেন বা করিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইলে উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা।
৫৩ ধারায় অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা নিয়ে বলা হয়েছে, এই আইনের- (ক) ধারা ১৭, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪-এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অ-জামিনযোগ্য হইবে; এবং (খ) ধারা-১৮-এর উপধারা (১) এর দফা (খ) ২০, ২৫, ২৯ ও ৪৮-এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে।
আইনের এসব ধারার বিষয়ে আপত্তি জানায় সম্পাদক পরিষদ। প্রতি ধারা ধরে পরিষদ আইনের অসঙ্গতি তুলে ধরে। পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন প্রতিহত করা এবং  ডিজিটাল অঙ্গনে নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন একটি আইন করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি, বিষয়বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এই আইন পুলিশকে বাসাবাড়িতে প্রবেশ, অফিসে তল্লাশি, লোকজনের দেহতল্লাশি এবং কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সার্ভার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংক্রান্ত সবকিছু জব্দ করার ক্ষেত্রে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। পুলিশ এ আইনে দেয়া ক্ষমতাবলে পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহবশত যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। এক্ষেত্রে পুলিশের কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন নেই। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এই আইনে অস্পষ্টতা আছে এবং এতে এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এবং সহজেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন এক আতঙ্ক ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে সাংবাদিকতা, বিশেষত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই আইন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ছাড়াও কম্পিউটার ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি ব্যবহারকারী সব ব্যক্তির মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এ আইন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং যেসব মহান আদর্শ ও মুক্তির জন্য আমাদের শহীদেরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেসব লঙ্ঘন করে।
২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি অ্যাক্ট)-এর বাস্তবতা তুলে ধরে সম্পাদক পরিষদ বলছে, এ আইনে বলা হয়েছিলো, সাংবাদিকদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; কারণ, আইনটি করা হয়েছে সাইবার অপরাধ ঠেকানো ও সাইবার অপরাধীদের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে। বাস্তবাতা হলো, সাংবাদিকসহ অন্য যারা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার চর্চা করতে গেছেন, তারা তথ্য ও যোগাযোগ-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় কারাভোগ করেছেন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখনো একইভাবে বলা হচ্ছে যে, সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ ঘটেনি, কিন্তু আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে যে, এই আইনেও সাংবাদিকরা আবার একই ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হবেন।

যুক্তরাজ্যে ৬৬ ভাগ ছাত্রী অবাঞ্ছিত শারীরিক স্পর্শের শিকার

যুক্তরাজ্যে প্রতি তিন জনে একজন ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির শিকার হন। আর প্রতি তিন জনের মধ্যে দুই জনই অবাঞ্ছিত যৌন মনোযোগের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন বলে চিলড্রেনস চ্যারিটি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ইউকে নামের একটি সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। জরিপটি প্রকাশ হয়েছে বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে। কাউকে হয়রানির শিকার হতে দেখলে নীরব দর্শকের  ভমিকা পালন না করে তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই জরিপটি ১৪ থেকে ২১ বছর বয়সী এক হাজার টিনেজার ছাত্রীর মধ্যে চালানো হয়েছে এবং ছাত্রীদের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ৬৬ শতাংশ ছাত্রীর অবাঞ্ছিত যৌন মনোযোগ অথবা অবাঞ্ছিত শারীরিক স্পর্শের অভিজ্ঞতা হয়েছে। এমনকি আট বছরের শিশুও এমন দৃশ্য দেখা বা এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছে। আর তিন জনে একজন ছাত্রী স্কুলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় অনাকাক্সিক্ষতস্পর্শ, তাকিয়ে থাকা, শিস দেয়ার মত অবাঞ্ছিত যৌন মনোযোগের শিকার হয়েছেন।
প্রতি চারজনের মধ্যে একজন ছাত্রী বলেছেন, তাদের অনুমতি না নিয়ে রাস্তায় অপরিচিত মানুষ তাদের ছবি তুলেছেন বা ভিডিও করেছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে।
এ স¤পর্কিত সাক্ষাতকারে উনিশ বছর বয়সী এক ছাত্রী জানান, রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় আমাকে একবার গাড়ি থেকে আমাকে অনুসরণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি আমার মোবাইল হাতে নিয়ে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম যে আমাকে কেউ নিতে আসছে। আপর এক ছাত্রী জানান, এখন তার বাবা-মা তার বাড়িতে ফেরা এবং সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হবার ব্যাপারে অনেক সতর্ক থাকেন। আঠার বছর বয়সী আরেক ছাত্রী বলেন, তিনি ভাবতেন রাস্তায় হয়রানি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু তার বাবা তাকে বিষয়টি সম্পর্কে ¯পষ্ট ধারনা দেন।
এ জরিপে উত্ত্যক্তকারীদের প্রতিউত্তর দিতে চাইলে কিছু সে সম্পর্কিত কিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলঃ
তাদের চোখের দিকে তারিয়ে কঠোর ও ¯পষ্টভাবে তাদের আচরণের নিন্দা জানান, আপনি আপনার প্রতিউত্তরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী বা কৈফিয়তমূলক আচরণ করবেন না, উত্ত্যক্তকারী তর্কাতর্কি বা আপনাকে নিয়ে মজা করার চেষ্টা করলে সে পথে অগ্রসর হবেন না। কারণ তাদের উদ্দেশ্য অবমাননাকর ব্যবহার করাও হতে পারে। নিজের বক্তব্য শেষে সে স্থান ত্যাগ করুন। কেননা তারা কোনোভাবেই আপনার সঙ্গ পাওয়ার যোগ্য নয়।

৫ দাবিতে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া এক মঞ্চে, প্রতিক্রিয়া বিশিষ্টজনের

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে এক মঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এখন থেকে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে দলগুলো। এর মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতাদের এক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা। ওই সময় থেকেই বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর বিভিন্ন সময় নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ রোববারের বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেতারা।
 
আ স ম আব্দুর রব

এখন থেকে আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করব: আব্দুর রব
বৈঠক শেষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব সাংবাদিকদের জানান, ‘যুক্তফ্রন্ট, ঐক্য প্রক্রিয়া ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ একসঙ্গে আলোচনা করেছি। উদ্দেশ্য একটাই, বর্তমান স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এক মঞ্চে দাঁড়ানো। একসঙ্গে আন্দোলন করার ব্যাপারে আজকে (রোববার) নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করব।’
সভায় গৃহীত পাঁচ দফা দাবি প্রসঙ্গে আ স ম রব বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ইভিএম বাতিল করতে হবে।
গতকালের বৈঠক শেষে আ স ম আব্দুর রব বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার সাথে জামায়াতের যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, আমরা বিএনপির সাথে ঐক্য করছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল এখানে থাকতে পারবে। বিএনপির সঙ্গে আলাদাভাবে কারা থাকছে, তা তাদের বিবেচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশের জনগণ চায় আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, দাবি আদায়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে। দাবি আদায় করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাই মিলে আন্দোলন করা হবে। পাঁচ দফার মধ্যেই খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের বিষয় আছে।
‘জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন’
বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে সাবেক বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব:)  আ ল ম ফজলুর রহমান রেডিও তেহরানকে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ চায়। সেদিক থেকে দেখলে বিরোধীমহলে একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যজোট একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হতে পারে।
ড. কামাল হোসেন
আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হবে: ড. কামাল
গতকাল বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভোটের অধিকারের দাবিতে’ এক মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, তাদের ঐক্য প্রক্রিয়ায় জনগণের বিপুল সাড়া পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই দেশটা কোনো ব্যক্তির না, কোনো দলের না, কোনো পরিবারের না; আমাদের সকলের। অতীতের মতো এবারও আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সফল হবে। ঐক্যের শক্তি নিয়ে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করব।’
দেশে লুটপাট চলছে উল্লেখ করে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এ নেতা বলেন, দেশ জনগণের মালিকানায় না থাকলে পাইকারিভাবে লুটপাট হয়, জনগণের সম্পত্তি পাচার হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লুটপাট হচ্ছে। স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি পালন হচ্ছে না। জনগণকে দেশের মালিকানা ভোগ করতে হলে মালিকের ভূমিকা অবশ্যই রাখতে হবে। সে ভূমিকা রাখার জন্যই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

তুরস্কে সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক নিহতের আশঙ্কা: সন্দেহের তীর রিয়াদের দিকে

সৌদি আরবের সরকার বিরোধী নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগ ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে তুর্কি কর্তৃপক্ষ আভাস দিয়েছে। তুর্কি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি কনস্যুলেটে ওই সাংবাদিককে হত্যা করা হতে পারে।
সৌদি আরবের এই সাংবাদিক গত মঙ্গলবার বিয়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। কিন্তু সেখান থেকে তিনি আর বের হয়ে না আসায় তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে সাংবাদিক জামাল খাশোগি কনস্যুলেট ত্যাগ করে চলে গেছেন কিন্তু তুরস্ক সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি ওই ভবন থেকে আর বের হননি।
কোনো কোনো সংবাদ সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সরকার বিরোধী নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে ব্যাপক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সৌদি আরবে এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে এবং এ কারণে গ্রেফতার এড়াতে তিনি সৌদি আরবের বাইরে জীবন যাপন করছেন।
জামাল খাশোগি ২০০৩ সালে সৌদি গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আল ওয়াতান পত্রিকার সম্পাদকীয়র পদ থেকে বহিষ্কৃত হন। এরপর ২০১০ সালে তিনি ফের পত্রিকার কাজে যোগ দিলে তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর  থেকে তিনি আরবি ভাষায় প্রকাশিত অন্যান্য দৈনিক ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সাংবাদিকতার কাজ করতেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করায় সৌদি আরব থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় এবং গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের সূত্রগুলো যদিও দাবি করছে জামাল খাশোগি সৌদি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন কিন্তু অন্য কেউই এমনকি বাইরে অপেক্ষমাণ তার বাগদত্তাও তাকে বেরিয়ে যেতে দেখেননি। তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও সৌদি সাংবাদিককে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়নি। সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, ১৫ সদস্যের একটি ঘাতক বাহিনীর হাতে তিনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন এবং হত্যার পরই তাকে কনস্যুলেট থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ থেকে বোঝা যায়, তুরস্কসহ আরো বহু দেশে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটগুলো বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কারণ এর আগেও এ ধরণের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উগ্র সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহল বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বেলফোর কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক নাওয়াফ ওবাইদ সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি সমর্থনের কথা উল্লেখ করে এক নিবন্ধে লিখেছেন, "সৌদি সরকার সন্ত্রাসীদের প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে মার্কিন বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা ও দেশটির কংগ্রেসের প্রতিবেদনেও সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি সমর্থনের বিষয়টি উঠে আসে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওই সব প্রতিবেদনে সৌদি আরবের হাত থাকা সংক্রান্ত তথ্যগুলো গায়েব করে দেয়া হয়েছিল।
যাইহোক, জামাল খাশোগিকে হত্যার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় নিজ কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সৌদি আরবের গোপন তৎপরতার বিরুদ্ধে তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে নীরবতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

ডিসেম্বরে নির্বাচন প্রসঙ্গ: সিইসি আগে কী বলেছিলেন?

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আইনবিধি সংস্কার, ইভিএম ব্যবহার, নিয়োগ-পদোন্নতিসহ নানা ইস্যুতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুধু বিতর্ক নয়- এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে দূরত্ব তৈরি হয় নির্বাচন কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে। এবার ভোটের তারিখ ঘোষণা নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন  কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা দাবি করেছেন, ‘ডিসেম্বর মাসে আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে’ এমন কোনো কথা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। সিইসি বলেন, নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে- এটা এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচন ডিসেম্বরে হবে- এটা আমরা বলিনি। যারা বলেছেন, সেটা তাদের কথা।
উনারা উনাদের হিসাবমতো বলেছেন।
গত শনিবার বিকালে সুনামগঞ্জে উন্নয়ন মেলায় ইভিএম প্রদর্শন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে ভিন্ন কথা। নিকট অতীতে সিইসি বেশ কয়েকবার ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়ে কথা বলেছেন। জাতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সিইসি নূরুল হুদা নিজে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ একাধিক উপলক্ষে ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্যতার কথা বলেছেন। সিইসির গত ২৭শে সেপ্টেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তবে ভোটগ্রহণের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আশা করি নভেম্বর মাসের শুরুতে তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও একবার সিইসি বলেছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বরে বা আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। শুধু সিইসি নন, আগামী ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ করা হবে- এমন কথা ইসি সচিবও একাধিকবার বলেছেন।
গত ২৮শে আগস্ট নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। ১০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা জানান। হেলালুদ্দীন বলেন, জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। সে সময় নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকে। ৮ই আগস্ট ইসি বলেন, সাংবাদিকরা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশ্ন করছেন ‘ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে?’। জবাবে স্পষ্টভাবেই ইসি সচিব বলছেন, শেষ সপ্তাহে। একই ধরনের বক্তব্য তার আগেও দিয়েছেন ইসি সচিব। ১৬ই আগস্ট তিনি বলেছিলেন, নভেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে এবং ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণ করা হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ভোটের তারিখ নিয়ে কথা বলেছেন। ইসির সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা একের পর এক তারিখ ঘোষণা করেছেন। মন্ত্রীদের এমন বক্তব্যে বিব্রত কমিশন। গত ৫ই সেপ্টেম্বর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক সভায় বলেছিলেন, ২৭শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এই তারিখ তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছেন বলে ওই সভায় উল্লেখ করেন। এর পরদিন সিইসি মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, অর্থমন্ত্রী ভোটের তারিখ ঘোষণা করে ঠিক করেননি। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর কোনো কথা হয়নি। এরপর গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল হতে পারে। পরদিন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসির সঙ্গে আলোচনা না করেই ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ইসির কাজ। আর ইসি এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। মন্ত্রীর এ বক্তব্য আচরণবিধির লঙ্ঘন হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখনও তফসিল ঘোষণা হয়নি। তফসিল ঘোষণার পরেই কমিশন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে কি না সেই বিষয়টা দেখবে। তার আগে দেখবে না।

দেশে রাসায়নিক অস্ত্র ঢুকতেছে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে উদ্দেশ্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ‘মানুষ বলে এতিমের টাকা চুরি কইরা খালেদা জিয়া জেলে গেছে। আমি বলি না। এতোগুলো মানুষরে পোড়াইয়া মারছে সেই পাপ আছে না? পাপ বাপেরেও ছাড়ে না। নিজের ছেলে কোকো যখন মারা গেছে তখন কান্নায় ভেঙে পড়ছে। কিন্তু মানুষের ছেলেরে মারছে ভাইবা দেখেন নাই। এখন মায় জেলে আছে আর ছেলে বিদেশে বইসা হুকুম দিতেছে। এই মাসের শেষের দিকে শুরু হবে আবার সন্ত্রাসের রাজনীতি। দেশে রাসায়নিক অস্ত্র ঢুকতেছে।
আবার আরাজকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তারা। রোববার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বাঘপাড়া এলাকায় ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামীম ওসমান বলেন, ‘ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপি জ্যান্ত মানুষের গায়ে আগুন জ্বালাইয়া দিছে। মানুষ তো মানুষ, গরুরেও আগুনে পোড়াইয়া মারছে। এটা কেমন রাজনীতি। নিজেকে রাজনীতিবিদ বলতে লজ্জা লাগে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত কয়দিন আমারে বাঁচতে দিবো আমি জানি না। বিভিন্ন সংস্থা থেকে বলতেছে, আমারে মারার চেষ্টা করতেছে। মারলে মারুক, মারার মালিক তো আল্লাহ।
মরে গেলে তো মরেই গেলাম। আর যদি মরে না যাই তো আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে ডেমরা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা হাতিরঝিল থেকেও সুন্দর হবে। ঢাকা থেকে মানুষ দেখতে আইবো। আমার কাছে নারায়ণগঞ্জ মানেই পুরো বাংলাদেশ। শামীম ওসমান বিএনপির নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগদান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিএনপির যারা ভালো আছেন আপনাদের জন্য দরজা খোলা আছে। আসেন, আমরা আপনাদের সম্মান দেবো। তিনি বলেন, আপনারা কেউ যদি মনে করেন অতীতের মতো আবারো কিছু করবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। পারবেন না কারণ, জনগণ এবার আপনাদের ছাড় দিবে না। আমি আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন, ভবিষ্যতেও তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। কিচ্ছু করতে পারবে না ওরা।
যাদের হাতে এতো রক্ত, তাদের আল্লাহ ছাড় দিবেন না। তিনি বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কোন এলাকায় গিয়ে ভোট ভিক্ষা চাই নাই। ভোট ভিক্ষা চাওয়া খুব লজ্জার। নৌকায় ভোট চাইতে হবে না। আপনার বিবেক আছে। নিজের বিবেককে প্রশ্ন করেন, দেশটাকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে চান নাকি দেশের ধ্বংস চান। যার গুলশান, বনানীতে বাড়ি আছে তার এমপি না হইলেও চলবে। সমস্যাটা আপনার, আমার না। উন্নয়ন চাইলে নৌকায় ভোট দিবেন। ভালো লাগলে ভোট দিবেন, না লাগলে দিবেন না। শামীম ওসমান বলেন, আমি এলাকার সমস্ত ইয়াং ছেলেমেয়েদের কাছে মাফ চাই। আমি লজ্জিত। আমি আপনাদের কাছে বলতে চাই, আমি কাজ করছি, আগামীতেও করবো। কিন্তু আমার স্বপ্ন পূরণ হয় নাই। সাত হাজার চারশো কোটি টাকার কাজ, অনেক কাজ জানি। কিন্তু আমার স্বপ্ন পূরণ হয় নাই। আমি দুনিয়ার অনেক দেশ দেখছি। নিজের মেয়েকে ভর্তি করাইছি বিদেশে। কাছের দেশ মালয়েশিয়ার পরিবেশ দেখলাম। আমার দেশে আমরা এমনটা করবো না?
ওদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ করে দেবো না? আমি ওয়াদা করছি, যদি শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হন আর আমি ক্ষমতায় আসি তাহলে নারায়ণগঞ্জ-৪ এলাকা এমন বানাবো যেন, ঢাকার ছেলেমেয়েরা নারায়ণগঞ্জে পড়তে আসবে। এই এলাকায় সবচেয়ে উন্নত মানের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হবে। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না। চিকিৎসার জন্য টপ ক্লাস মেডিকেল হাসপাতাল এন্ড কলেজ আমি বানাবো।’
নাসিক ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ প্রচার সম্পাদক মো. ইফতেখার আলম খোকনের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক ও নাসিক প্যানেল মেয়র-২ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মতিউর রহমান মতি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহ্‌সানুল হক নিপু প্রমুখ।

গায়েবি মামলা: পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট

দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় চার হাজার মামলায় মৃত ব্যক্তি কিংবা সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের আসামি করায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘এ ধরনের মামলায় (গায়েবি) পুলিশের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। খন্দকার মাহবুব হোসেনের (সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে এমন (গায়েবি) মামলা হলে জনগণের কাছে কি মেসেজ যাবে?
সোমবার (৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত রিটের শুনানিকালে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ। তাদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল।
শুনানির শুরুতে কয়েকটি মামলার এজাহার পর্যবেক্ষণ করে হাইকোর্ট বলেন, এ ধরনের মামলায় (গায়েবি) পুলিশের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়। খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতো লোকদের বিরুদ্ধে এমন মামলা হলে জনগণের কাছে কি মেসেজ যাবে? জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল আদালতকে বলেন, উনি (খন্দকার মাহবুব হোসেন) তো শুধু আইনজীবীই নন, একটি রাজনৈতিক দলের পদধারী। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, ‘এটা কি বললেন? তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না, এটা তো আইনে নেই। আগে আইনজীবীরাই বেশি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।’
এরপর এ মামলায় ড. কামাল হোসেন শুনানি করেন। শুনানির শেষ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চাইলে আদালত আগামীকাল পর্যন্ত মামলাটি মুলতবি করেন এবং অ্যাটর্নির শুনানি শেষে আদেশ দেবেন বলে জানিয়ে দেন। পরে মো. মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় চার হাজার মামলা হয়। ১০ বছর আগে মারা গেছেন এমন লোকদেরও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে একই জায়গায় পর পর তিন থেকে চারদিনে ৪-৫টি মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এর প্রত্যেকটি মামলায় তিনি ককটেল বিস্ফোরণের আসামি। তার মতো ব্যক্তি সন্ধ্যার পরে গিয়ে ককটেল ছুড়তে পারেন এটা আদৌ কি বিশ্বাসযোগ্য? ২০০৭ সালে মারা গেছেন, কিংবা চলতি বছর হজে ছিলেন, বিদেশে থাকেন- এমন লোকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট এ কে খান। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, সানাউল্লাহ মিয়ার পক্ষে এই রিট দায়ের করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করা হয়। রিটে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারা দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা চার হাজার মামলা এবং তিন লাখেরও বেশি লোককে আসামি করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করার জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যত গায়েবি মামলা করা হয়েছে সেগুলোর তদন্ত বন্ধ এবং এ গায়েবি মামলাগুলোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিটি করে ঘটনার তদন্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে যেন এ ধরনের মামলা দেওয়া না হয়, তার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা অপব্যবহার করে গায়েবি বা মিথ্যা মামলা দায়ের করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, ডিএমপি রমনা জোনের ডেপুটি ও অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, রমনা, পল্টন ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট নয়জনকে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।