Friday, June 18, 2010

ফেবারিট তকমা ঘুচল স্পেনের?

১০ বছর ধরে স্পেন জাতীয় দলে খেলছেন ইকার ক্যাসিয়াস, রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে ১১ বছর। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় সত্যিটাই যেন ভুলে গেছেন স্পেন অধিনায়ক, না হলে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের পর কীভাবে বললেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কীভাবে কী হয়ে হয়ে গেল। পুরো ম্যাচেই আমরা ওদের চেয়ে ভালো খেললাম আর ওরা প্রথম সুযোগটা কাজে লাগিয়েই জিতে গেল...!’ এত বছরের অভিজ্ঞতায় এই গোলরক্ষকের তো অন্তত এটা বোঝার কথা, ফুটবল খেলায় জেতে সুযোগ কাজে লাগাতে পারা দল, বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা দল নয়!
ম্যাচের ৬৩ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছে স্পেন, গোলে শট নিয়েছে ২৪টি, এর মধ্যে ১১টি ছিল লক্ষ্যে। ১০টি ফিরিয়েছেন গোলরক্ষক, একটি গোলবার। সুইজারল্যান্ড লক্ষ্যে শট নিয়েছে মাত্র তিনটি। একটি ফিরিয়েছেন ক্যাসিয়াস, একটি গোলবার। আর আসল কাজটি হয়েছে বাকিটিতেই, যেটি আল্পস পর্বতের পাদদেশের ছোট্ট শান্ত দেশটিকে এনে দিয়েছে মহামূল্য ৩ পয়েন্ট। কিন্তু ক্যাসিয়াসকে এটা কে বোঝাবে! যে ম্যাচে স্পেন বড় ব্যবধানে না জিতলেও অঘটন ধরা হতো, সেই ম্যাচ হারাটাকে মেনেই নিতে পারছেন না ইউরোজয়ী অধিনায়ক, ‘স্কোয়াডের সবাই বিধ্বস্ত, যেভাবে আমরা হারলাম এটা মেনে নিতে সবারই কষ্ট হচ্ছে।’
কষ্ট যে সবার হচ্ছে, এটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একমাত্র গোলটি খাওয়ার ঠিক আগে এক সুইস ফুটবলারের বুটে লেগে কপালের ডান পাশটা কেটে গেল জেরার্ড পিকের। রক্ত ঝরল অনেক, কিন্তু হূদয়ের রক্তক্ষরণই তো হলো বেশি! স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের প্রাথমিক ক্ষোভটা গিয়ে পড়েছে যারা তাদের এত দিন ফেবারিট বলেছে, তাদের ওপর, ‘এখন আমরা ফেবারিটের ফালতু ট্যাগটা পেছনে ফেলতে পারি। সব সময়ই বলে আসছিলাম আমরা ফেবারিট নই, কারণ আমরা কখনোই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলিনি। আমরা ভালো দল, কিন্তু ফেবারিট? কোনোভাবেই না।’ একটু সামলে নিয়ে অবশ্য হারের দায় চাপিয়েছেন দুর্ভাগ্যকে, ‘আমরা প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি করেছি, দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত একটা গোল আমাদের করা উচিত ছিল। একটা দল কীভাবে হারতে পারে, তার খুব ভালো উদাহরণ এটা।’
শুধু পিকে নয়, স্পেনের বেশির ভাগ ফুটবলারই ভাগ্যকে দুষছেন। মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজ যেমন বলছেন, ‘দুবার ওরা আমাদের গোলবারের সামনে যেতে পেরছে, এতেই জিতেছে। পুরো খেলা আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি, চার-পাঁচটা পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না।’ একই মত ডেভিড ভিয়ারও। তবে পরাজয়ে অন্তত একটা ইতিবাচক দিক বের করেছেন এই স্ট্রাইকার, ‘এই ম্যাচ সবাইকে দেখিয়েছে, এ ধরনের টুর্নামেন্টে সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। খারাপ দিনে যে কেউ হারতে পারে। ভাগ্য ভালো আমাদের খারাপ দিনটা গ্রুপ পর্যায়ে এসেছে, আমরা বাদ পড়ে যাচ্ছি না।’
বাস্তবতা মেনে নিয়ে ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস এখন তাকিয়ে পরের ম্যাচগুলোর দিকে, ‘খেলা আমরা নিয়ন্ত্র্রণ করেছি, কিন্তু বাস্তবতা হলো ৩ পয়েন্ট পাইনি। এখন আমাদের পরের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।’ ২১ জুন হন্ডুরাসের বিপক্ষে খেলবে স্পেন, চার দিন পর চিলির বিপক্ষে। এই ম্যাচ দুটি জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। ‘আমরা খেলার চেষ্টা করেছি, ওরা চেষ্টা করেছে ডিফেন্স করার। তবে এই কাজ ওরা ভালো করেছে। তবে বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। পরের ম্যাচ দুটি আমাদের জিততেই হবে, এর বিকল্প নেই।’

হেরে গেছে ফ্রান্স

দুঃস্বপ্ন যেন কাটছেই না ফ্রান্সের। প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কাল মেক্সিকোর কাছে ০-২ গোলে হেরে গেছে রেমন্ড ডমেনেখের দল। হাভিয়ের হার্নান্দেজ ৬৪ মিনিটে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেওয়া গোলটি করেছেন অফসাইডে থেকে। ফ্রান্স যখন ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই মেক্সিকোর একটি আক্রমণ ঠেকাতে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন এরিক আবিদাল। ৭৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্লাঙ্কো। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে ফ্রান্সকে এখন শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি জিতলেই চলবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে মেক্সিকো-উরুগুয়ে ম্যাচের দিকেও।

বিপন্ন উপকূল, বিক্ষুব্ধ ওবামা by বদরূল ইমাম

ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম—সংক্ষেপে বিপি—বিশ্বের অন্যতম সেরা তেল কোম্পানি। যে সাতটি তেল কোম্পানি (বিশ্বখ্যাত লেখক এন্থনি সিমসনের সেভেন সিসটার) গত শতাব্দীতে বিশ্বের বিশাল তেলভান্ডারগুলো আবিষ্কারের মাধ্যমে তেল বিপ্লবের সূচনা করেছিল, তাদেরই একটি এই ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম। বিপি বাস্তবিক পক্ষেই পুঁজিবাদী বিশ্বের ধ্বজাধার ইঙ্গ-মার্কিন আঁতাতের প্রতীক। অথচ খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এখন বয়ে চলেছে বিপিরিরোধী বিক্ষোভ, প্রকাশ হচ্ছে বিপির প্রতি ঘৃণা, প্রতীকী বর্জন চলছে বিপির পেট্রলপাম্প, কাদার প্রলেপ পড়ছে বিপির সাইনবোর্ডে। আর এসবের কারণ একটিই। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রবক্ষে বিপির তেলকূপে সংঘটিত হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলকূপ দুর্ঘটনা, যা কিনা সে দেশের সমুদ্রবক্ষ ও উপকূল এলাকায় বয়ে এনেছে সর্বকালের সর্ববৃহৎ পরিবেশ দূষণ বা বিপর্যয়। আজ প্রায় দুই মাস হতে চলল, এখনো বন্ধ হয়নি সাগরের তলে দুর্ঘটনাকবলিত কূপ থেকে ভেসে আসা তেলের প্রবাহ; কবে হবে তারও নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।
সেদিন ছিল ২০ এপ্রিল ২০১০। তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ গালফ অব মেক্সিকোর গভীর সমুদ্রবক্ষে বিপির তেলকূপবাহী রিগ ও প্লাটফর্মটি সহসাই দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ ও বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই ১১ জন কর্মীর মৃত্যু ঘটে, প্রায় ১০০ জন কর্মী আহত অবস্থায় পালিয়ে রক্ষা পায়। এদিকে পাঁচ হাজার ফুট গভীর সমুদ্রতলে ভাঙা তেলকূপটি থেকে বিরামহীনভাবে লাখ লাখ গ্যালন তেল বের হয়ে সমুদ্রের পানিতে মিশে যেতে থাকে। বিপি একাধিক পদ্ধতিতে তেলকূপটি বন্ধ করতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিপিকে অপরাধ আইনে অভিযুক্ত করে আদালতে নেওয়ার দাবি ওঠে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবার প্রেসিডেন্ট ওবামাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারার দোষে দুষ্ট দেখাতে সচেষ্ট হয়ে ওঠে।
একসময় ওবামা ঠিকই বুঝতে পারেন, সাইক্লোন ক্যাটরিনা যেমন প্রেসিডেন্ট বুশের পতনের গোড়াপত্তন করেছিল, বিপির এই অভিশপ্ত কূপ তাঁর জন্য অশুভ ক্ষণ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। পরিস্থিতি এতটা খারাপ হওয়ার আগেই তিনি দুইবার উপকূল এলাকা ঘুরে এসেছেন। কিন্তু এখন যেন সবকিছুই ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। তৃতীয়বার তিনি উপকূল এলাকা ঘুরে এসে বুঝতে পারলেন, এ কূপ সহসা বন্ধ হবে না, আরও লাখ লাখ গ্যালন তেলের দূষণ তাঁকে তাড়া করে ছাড়বে। প্রেসিডেন্ট ওবামা বিশ্বব্যাপী একজন ঠান্ডা মাথার সুষ্ঠুভাষী বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে এতটাই ক্ষিপ্ত করে তুলেছে যে তাঁর বক্তব্যে ভিন্নতর সুর চলে আসে। ৭ জুন অর্থাৎ দুর্ঘটনার ৫০ দিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উচ্চস্বরেই বললেন, ‘...I talk to the experts because they have the best answer, so I know whose ass to kick...’ অর্থাৎ ‘...আমি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছি, এটি ঠিক করার জন্য যে, কার পশ্চাৎদেশে আমাকে লাথিটা মারতে হবে।’ অনেকেই বুঝতে পেরেছেন যে প্রেসিডেন্ট ওবামা বিপির প্রধান কর্তাব্যক্তি টনি হেইউডকে মাথায় রেখেই কথাটি বলেছেন।
এদিকে কী পরিমাণ তেল প্রতিদিন ফাটা পাইপ দিয়ে বের হয়ে সাগরের পানিতে মিশছে, তা নিয়ে বেধে যায় আরেক হইচই। বিপি প্রথম দিকে জানায়, এর পরিমাণ প্রতিদিন পাঁচ হাজার গ্যালন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বিপির কর্মকাণ্ডে অবিশ্বাসী মনোভাবের গন্ধ পায় মার্কিন জনগণ। একজন কংগ্রেসম্যান বিপিকে বাধ্য করেন সাগরের তলদেশে লাগানো ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করা চলমান চিত্র প্রকাশ করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক চলমান ভিডিও চিত্রের ওপর ভিত্তি করে তেলের প্রবাহ নির্ধারণ করার পন্থা উদ্ভাবন করেন। তিনি হিসাব কষে দেখান, ভাঙা কূপ দিয়ে বের হওয়া তেলের পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার গ্যালন। প্রবাহিত তেলের প্রকৃত পরিমাণ না জানানোর উদ্দেশ্য কী তা সহজেই বুঝতে পারে জনগণ। দূষণের মাত্রা ও বিনষ্ট তেলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্তভাবে বিপিকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
নির্গত তেল সরাসরি সাগর ও উপকূল ভূমিকে দূষিত করেছে বটে, কিন্তু ক্ষতির মাত্রা তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সমুদ্র উপকূল বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকায় মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী চাষ করে জীবিকা অর্জন করে এমন হাজার হাজার কর্মী সমুদ্র দূষণের কারণে বেকার হয়ে পথে বসেছে। সমুদ্র উপকূল দূষণের ফলে কেবল ফ্লোরিডা প্রদেশে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতের পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার ফলে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হারাতে হয়েছে। ইতিমধ্যেই পরিবেশবাদীদের দাবির মুখে প্রেসিডেন্ট ওবামা আগামী ছয় মাস সমুদ্রে নতুন কূপ খননের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। ফলে তেলকূপ খনন ব্যবসায় নিয়োজিত হাজার হাজার কর্মী তাঁদের চাকরি হারিয়েছে।
সবার মুখে এখন প্রশ্ন, এই তেলপ্রবাহ আর এই তেল দূষণ কবে থামবে? ইতিমধ্যে বিপি কয়েক দফায় কয়েক প্রকারের পদ্ধতিতে কূপের মুখ বন্ধ করতে চেষ্টা চালায়, কিন্তু কোনোটিই সফল হয়নি। সমস্যা হলো, সাগরের তলে যেখানে কূপটি দিয়ে তেল বের হয়ে চলেছে, সেখানে পানির গভীরতা পাঁচ হাজার ফুট। এত গভীরে কোনো মানুষ গিয়ে কাজ করতে পারে না। সবই করতে হয় দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত রোবট দিয়ে। অথচ এ গভীরতায় তীব্র পানির চাপ ও অতিনিম্ন তাপমাত্রা যেকোনো ধরনের কাজকে অতিশয় জটিল করে তোলে। বিশ্বে ইতিপূর্বে কোথাও কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তাই তা সামাল দেওয়াব অভিজ্ঞতাও কারও নেই।
বিপি তার ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, সহসা এই তেলপ্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। এর জন্য প্রকৃত পদ্ধতি রিলিফ কূপ খনন করা দরকার, যা ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। কিন্তু রিলিফ কূপ খনন সম্পন্ন করতে আগস্ট মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। তার আগ পর্যন্ত তেলপ্রবাহ ও সমুদ্র দূষণ চলতে থাকবে। এই তেলকূপ দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মার্কিন জনগণের জীবনে যেমন দুর্যোগ নেমে এসেছে, বিপির অবস্থাও সেই রকম বেসামাল। ইতিমধ্যে স্টক মার্কেটে বিপির শেয়ারের দামে পতন ঘটেছে। কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি সামলাতে আগামী মাস ও বছরগুলোতে বিপি হিমশিম খাবে। অনেকে মনে করেন, এই দুর্ঘটনা বিপিকে দেউলিয়া করে ছাড়বে।সর্বকালের সর্ববৃহৎ এই তেলকূপ দুর্ঘটনা ইতিহাসের পাতায় বিপি কোম্পানিকে কালো অক্ষরে চিহ্নিত করে রাখবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ড. বদরূল ইমাম: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, রেজাইনা বিশ্ববিদ্যালয়।

উদাসীনতার খেসারত by মেহেদি আহমেদ আনসারি

বহুদিনের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর উদাসীনতার খেসারত হচ্ছে দলে দলে এভাবে মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু। তদরাকি ও নজরদারি না থাকায়ই বেগুনবাড়িতে খালের ধারে মাটি পুরে ভবন তৈরি হয়েছে এবং তা উপড়ে পড়েছে। পুরান ঢাকায় আগুনে পুড়ে মানুষ মারা গেছে। আর এখন ধস নামছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের ঢালে।
অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছে পাহাড়ধসে। কয়েক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছরের এ সময়টিতে অর্থাৎ জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে বৃষ্টিপাত বাড়লে বিভিন্ন স্থানে ভূমিধস হয়। এর মাত্রা ও ব্যাপকতা ক্রমশ বাড়ছে। এর কিছু কারণ প্রাকৃতিক আর কিছু কারণ মানুষের তৈরি। তবে প্রধান কারণ হচ্ছে, আমাদের পাহাড়গুলোর গঠন। বাংলাদেশের যে ভূমিরূপ, তাতে পাহাড়গুলো মূলত মাটির এবং সেই মাটির আবার দুটি ধরন—বালুমাটি আর আঠালো মাটি বা ক্লে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়গুলো এসব বালু ও আঠালো মাটি জমাট বেঁধেই তৈরি হয়েছে। বালুমাটি থাকে পাথর (স্যান্ডস্টোন) হিসেবে। পানির সংস্পর্শে এলে তা জমাটবদ্ধ থাকার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং স্থিতিশীলতা কমে যায়। তাই বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে গেলে পাহাড় নিজেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। তখন এর প্রবণতা থাকে ধসে পড়ার।
সাধারণত পাহাড়ের ঢাল বা স্লোপ ২৬.৫ ডিগ্রি কোণে থাকলে ধসের সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু অনেক জায়গায়ই ঢালের মাটি কেটে কেটে ঢাল ৭০ ডিগ্রি কোণের মতো খাড়া হয়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অনেক পাহাড়ই ৮০-৯০ ডিগ্রি হয়ে আছে। সাধারণত, ঘাস ও গাছের আচ্ছাদন থাকার জন্যও পাহাড়ের গভীরে পানি যেতে পারে না। কিন্তু গাছ কাটা ও পাহাড়ের ওপর নিয়ম না মেনে বসতি স্থাপন করার ফলে অনেক ক্ষেত্রে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষাও আর থাকছে না। এতে করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল জব্বার এ সমস্যার একটি সমাধান বের করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি’র মাধ্যমে সেখানের দুটি পাহাড়ের ধস ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এর জন্য তাঁদের খুব বড় কোনো আয়োজন বা খরচ লাগেনি। পাহাড়ের ওপর সস্তা পাটের চট, জিও টেক্সটাইল এবং বিশেষ জাতের ঘাস ব্যবহার করে এটা করা হয়েছে খুবই অল্প খরচে। এ ধরনের সুরক্ষার ফলে গত দুই বছর ওই পাহাড়গুলো ভালোভাবে টিকে আছে। অন্যদিকে যেসব পাহাড় থেকে মাটি কাটার ফলে ঢাল খুব খাড়া হয়ে গেছে, সেখানে স্তরে স্তরে মাটি কেটে আবার ঢাল সৃষ্টি করা যায়।
এটা গেল কারিগরি দিক। তবে সমস্যার মনুষ্যসৃষ্ট দিকটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাহাড়ধস হলেই মানুষের মৃত্যু হবে, তা নয়। বিপজ্জনক পাহাড়ের নিচে ঘরবাড়ি বানানোর ফলেই মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে। সরকার, জনপ্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল পাহাড়কাটা বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে তৈরি হওয়া বসতবাড়ি সরানোর ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে যে অনুমোদন ছাড়া ঘরবাড়ি বানানো যাবে না। ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম শহরে পাহাড়ধসে ১২৮ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের নিযুক্ত কমিটি অবিলম্বে পাহাড়ের ঢাল থেকে বাসাবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তা পালন করা হয়েছিল কি?
দেখা যায়, গরিব মানুষই হয় এসব বিপর্যয়ের প্রধান শিকার। সাধারণত ক্ষমতাহীন এসব গরিবের পক্ষে সম্ভব হয় না সরকারি জমিতে কিংবা নদী-খাল-ঝিল ভরাট করে বা পাহাড় কেটে বসতি বানানো। একশ্রেণীর প্রভাবশালী লোক পাহাড়ের মাটি কেটে ব্যবসা করেন। তাঁদেরই কেউ কেউ আবার সেসব জায়গায় ঘরবাড়ি তুলে গরিব মানুষকে ভাড়া দেন। এভাবে দিনে দিনে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চলতে থাকে। গোড়া থেকেই যদি এটা ঠেকানো যেত, তাহলে এই বিপন্নতার মধ্যে আমাদের পড়তে হতো না।
অন্যদিকে এটাও লক্ষণীয়, পাহাড়ি অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী আদিবাসীরা কিন্তু এ ধরনের ধসে কম ক্ষতির শিকার হয়। প্রথমত, তারা পাহাড়ের ঢালে বাড়ি না বানিয়ে পাহাড়ের ওপরে বানায়। দ্বিতীয়ত, তারা পাহাড়কে জানে এবং জানে বলে এর ক্ষতি না করে সেখানে বসবাসের রীতিকৌশল তাদের জানা। গত মঙ্গলবারের পাহাড়ধসে তাই পার্বত্য এলাকার আদিবাসীরা মারা যায়নি। যারা বাইরে থেকে গেছে, তারাই হতাহত হয়েছে বেশি। উন্নয়নকাজ করার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে, যাতে প্রকৃতির ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ না হয়। সরকার ভূমিধস ঠেকানোর বিষয়ে কমিটি করেছে, কিন্তু সেখানে বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়নি। ১৯৯৩ সালে দুর্যোগব্যবস্থাপনা দপ্তরের উদ্যোগে চারটি দুর্যোগ মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো হলো—সাইক্লোন, টর্নেডো, বন্যা ও নদীভাঙনের হুমকির মানচিত্র। এই মানচিত্রের তালিকায় ভূমিকম্পের বিষয়টি গত বছর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জেলাওয়ারি দুর্যোগের ঝুঁকির এই মানচিত্র প্রণয়ন করা আছে। বুয়েট থেকে এটাকে হালনাগাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার বা এসইডি প্রণীত হয়েছে ১৯৯৯ সালে। দুর্যোগের সময় মানুষ ও সরকারকে কী করতে হবে, এতে তার দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। তাতে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, দুর্যোগ হলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কমিটির কাজ হবে দুর্যোগ মোকাবিলা ও তার ঝুঁকি কমিয়ে আনায় সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। বর্তমান সরকার মার্চ ২০১০ সালে এই কমিটি গঠন করেছে, আটজন সাংসদ সেই কমিটিতে আছেন।
এখন সবদিকেই তো বিপদ। সরকারি তদারকি না থাকায় এবং ভবনগুলোর মাননিয়ন্ত্রণ ও বসতিস্থাপনের ঝুঁকি নিরূপণ ঠিক না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। কারণ, দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঠিকমতো কাজ করছেন না।
যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে এবং এ অবস্থা চলতে থাকলে, দুর্যোগ আরও বাড়বে। সবচেয়ে বেশি সংকট সৃষ্টি হয়েছে রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে। এখনই যদি সুদূরপ্রসারি সমাধানের পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে অনেক শহর বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়বে।
ড. মেহেদি আহমেদ আনসারি: অধ্যাপক এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার প্রিভেনশন অ্যান্ড আরবান সেফটির পরিচালক।

ফ্রিডম ফ্লোটিলার ত্রাণ গাজায় পাঠানো হবে

গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর জব্দ করা ত্রাণসামগ্রী জাতিসংঘের মাধ্যমে গাজায় পাঠানো হবে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে গাজায় ক্ষমতাসীন দল হামাস ওই ত্রাণ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন আশা প্রকাশ করেছেন, ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলার ঘটনায় তাঁর প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রস্তাব ইসরায়েল মেনে নেবে।
গত ৩১ মে গাজা অভিমুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা চালান ইসরায়েলি সেনারা। ওই হামলায় নয়জন নিহত হয়। এর কয়েক দিন পর গাজা অভিমুখী আরেকটি ত্রাণবাহী জাহাজও আটকে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়, ফ্রিডম ফ্লোটিলার ছয়টি জাহাজ থেকে জব্দ করা ত্রাণসামগ্রী ৭০টি ট্রাকে করে গাজায় পাঠানো হবে। তবে এসব ত্রাণ পরীক্ষা করে দেখা হবে। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূতের মুখপাত্র রিচার্ড মিরন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এসব ত্রাণ গাজায় পাঠানোর উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপন্ন প্রজাতির গরুর ক্লোন

দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকেরা স্থানীয় একটি বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গরুর ক্লোন করেছেন। গতকাল বুধবার তাঁরা এই দাবি করেন। সরকারি অর্থে এই ক্লোন করা হয়। খবর এএফপির।
জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও মিরায়ে বায়োটেকের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল গরুর এই ক্লোন করে। প্রতিষ্ঠান দুটির বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে হুকু বা কালো পশমের এই গরুর বাছুর জন্ম নেয়। জন্মের পর থেকে এটি সুস্থ রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৮ সালে গবেষকেরা একটি হুকু ষাঁড়ের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় কোষ নিয়ে তা হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। পরে তা নিষিক্ত ডিম্বাণুর মধ্যে ব্যবহার করা হয়। তা স্থাপন করা হয় একটি গাভির ভেতর।
দক্ষিণ কোরিয়া এর আগে একটি গরুসহ বিভিন্ন পশুর ক্লোন করেন।

ব্রিটেন ২০৩০ সাল নাগদ কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে

বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্যাভ্যাস ও পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের হার শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে। দেশটির সেন্টার ফর অলটারনেটিভ টেকনোলজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে গতকাল বুধবার এ কথা বলা হয়েছে।
কার্বণ নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিবেদনে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা হলো—খাদ্য আমদানি অর্ধেক বা তারও বেশি কমাতে হবে, স্বল্প দূরত্বে যেতে বিমানের পরিবর্তে বাস বা ট্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে, প্রাণিজ খাদ্য গ্রহণের হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমাতে হবে।
‘জিরো কার্বন ব্রিটেন ২০৩০’ শীর্ষক ৪০০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে ব্রিটেনকে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে

শর্তসাপেক্ষে পরমাণু আলোচনা ফের শুরু করতে প্রস্তুত ইরান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে তাঁর দেশ শর্তসাপেক্ষে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত। দেশের সরকারি টেলিভিশনে গতকাল বুধবার দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমরা তাদের (শক্তিধর দেশগুলোর) সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে প্রস্তুত...তবে আমাদের কিছু শর্ত আছে। সেগুলো শিগগির জানানো হবে।’ তিনি এ-ও বলেন, অবরোধ আরোপ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না।
তেহরানের বিতর্কিত কর্মসূচি বন্ধে বারবার আহ্বান জানিয়ে ব্যর্থ হয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত সপ্তাহে চতুর্থ দফা অবরোধ আরোপ করেছে। পশ্চিমা বিশ্বের আশঙ্কা, ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরাই বলে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বোমা বানানো নয়।
এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) তেহরানের ওপর অবরোধ কঠোর করার পরিকল্পনা করছে। আজ বৃহস্পতিবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
আরও শক্তিশালী পরমাণু চুল্লি: ইরান আরও শক্তিশালী নতুন পরমাণু চুল্লি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। দেশটির পরমাণুবিষয়ক প্রধান আলী আকবর সালেহি গতকাল বুধবার এ কথা বলেছেন। ইরানের সরকারি টেলিভিশনের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সালেহির বরাত দিয়ে ওয়েবসাইটটিতে বলা হয়, রেডিও আইসোটোপ উৎপাদনের লক্ষ্যে তেহরান এ ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। নতুন পরমাণু চুল্লিগুলো তেহরানের বর্তমানের চুল্লির চেয়ে আরও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। সালেহি বলেন, ইরানের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে এসব চুল্লি নির্মাণ করা হবে। চুল্লিগুলোতে উৎপাদিত রেডিও আইসোটোপ আঞ্চলিক ও ইসলামী দেশগুলোতে বিক্রি ও রপ্তানি করা হবে।

কিরগিজস্তানে সহিংসতা ফের বেড়েছে

কিরগিজস্তানে নতুন করে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের ওশ শহরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। জাতিগত উজবেকরা শহরটির একটি তেলের গুদাম দখলে নিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
কয়েক দিনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১৭৮ জনে পৌঁছেছে। এদিকে উজবেকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার শরণার্থীর জন্য জাতিসংঘের প্রথম ত্রাণবাহী বিমান গতকাল বুধবার দেশটির আন্দিজান শহরে পৌঁছেছে।
ওশ শহরে বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক সহিংসতা বাড়ার খবর দিয়ে জানান, রাতে শহরে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। অসংখ্য বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে শহরের ঠিক কোন স্থান থেকে গুলি করা হচ্ছে বা তা কোথায় আঘাত করছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। একপর্যায়ে টানা ৪৫ মিনিট এই গোলাগুলি চলে। ওশ শহরের বাসিন্দারা জানান, সারা রাত ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। জাতিগত উজবেকরা ওশ শহরের একটি তেলের গুদাম দখল করে নিয়েছে। বিস্ফোরণের মাধ্যমে তা উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে তারা। ওশ শহরে গতকাল কিরগিজ সেনাদের টহল দিতে দেখা গেছে।
কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সহিংসতায় গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭৮ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ওশ শহরে ১৩২ ও জালালাবাদে ৪৬ জন। সহিংসতায় এক হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা রেডক্রস জানায়, হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি। এই মুহূর্তে সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। অনেককে সমাহিত করা হয়েছে, যেগুলোর হয়তো হিসাব করা হয়নি। আবার অনেক লাশ এখনো রাস্তায় পড়ে আছে।
উজবেকিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ত্রাণ নিয়ে গতকাল বুধবার একটি বিমান আন্দিজানে পৌঁছেছে। ত্রাণবাহী আরও কয়েকটি বিমান শিগগিরই পৌঁছার কথা রয়েছে। এদিকে শরণার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সহিংসতার সময় কিরগিজরা উজবেক নারীদের ধর্ষণ ও শিশুদের নির্যাতন করেছে।
মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে কিরগিজ ও জাতিগত উজবেকদের মধ্যে গত ১০ জুন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সহিংসতার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট কুরমানবেক বাকিয়েভকে দায়ী করে আসছে। তবে বেলারুশে অবস্থানরত বাকিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

শরণার্থীদের জন্য বিপজ্জনক দেশ মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মালয়েশিয়াকে শরণার্থীদের জন্য ‘বিপজ্জনক’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে শরণার্থীরা প্রায়ই নির্যাতন, গ্রেপ্তারের শিকার হয়। তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়।
মালয়েশিয়ায় সরকারি হিসাবে প্রায় ৯০ হাজার শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী সেখানে অনিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা সরকারি হিসাবের দ্বিগুণেরও বেশি।
অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, শরণার্থীদের বেশির ভাগ সামরিক জান্তা-শাসিত মিয়ানমারের নাগরিক। নির্যাতন, মামলা ও মৃত্যুর হুমকি থেকে বাঁচতে তারা নিরাপত্তার আশায় মাতৃভূমি ছেড়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের নির্যাতন, গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়।
২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, মালয়েশীয় সরকার শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দিয়ে দাবি করে, তারা নিজেরা পালিয়েছে। তবে এতে আরও বলা হয়, গত বছরের জুলাইয়ের পর থেকে এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে আসেনি। অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলা নামের সরকার সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় আগতদের অভিবাসনের কাগজপত্র তল্লাশির কাজ করে রেলা।
মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, তারা জাতিসংঘ অনুমোদিত শরণার্থীদের পরিপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তাদের কজ করার অনুমতি দেওয়ার কথাও বিবেচনায় রাখছে। সাম্প্রতিক এই প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া একটি ‘অপরাধী দেশ’: যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়াকে একটি ‘অপরাধী দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ং যদি অন্য রকম সম্পর্ক চায়, তাহলে তাদের উসকানিমূলক আচরণ বদলাতে হবে। গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি এ কথা বলেন।
একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নতুন করে উত্তর কোরিয়ার ওপর একতরফা অবরোধ আরোপের মেয়াদ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রবিষয়ক হুমকি বহাল থাকার কথা উল্লেখ করেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ উত্তর কোরিয়ার ওপর এই একতরফা অবরোধ আরোপ করেছিলেন।
জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার দূত সিন সন গতকাল বলেন, গত ২৬ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যদি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা প্রস্তাব পাস করে, তাহলে তাঁরা সামরিক ব্যবস্থা নেবেন।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, এটি সেই একই রকম উসকানিমূলক আচরণ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০০৯ সালের শুরু থেকে যা উত্তর কোরিয়ার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের এপ্রিলে দূর পাল্লার একটি রকেট ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। সে সময় জাতিসংঘ এর নিন্দা জানায়। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ছয় জাতির আলোচনায় এ ঘটনা বাধা সৃষ্টি করে। একই বছর মে মাসে উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয় পরমাণু পরীক্ষা চালায়।
ক্রাউলি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া একটি অপরাধী দেশ। কাজেই অন্যান্য দেশের মতো আন্তর্জাতিক আইন না মেনে এমনটি করবে, এটিই তো স্বভাব। বৈধ পথ ছাড়া চোরা পথে সামনের দিকে এগোতে চায় তারা।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করে, উত্তর কোরিয়া অবৈধভাবে তাদের বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচারের ব্যবস্থাকে ব্যবহার করছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ক্রাউলি বলেন, এটিও উত্তর কোরিয়ার আরেক বৈশিষ্ট্য। প্রতিবেশীদের সঙ্গে চাইলেই ভালো সম্পর্ক রাখতে পারে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে তারা বৈধ লেনদেন করতে পারে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে আমাদের যা প্রয়োজন, তা হচ্ছে জবাবদিহিতা।
ক্রাউলি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া তার অগ্রহণযোগ্য আচরণ বদলাবে, সে প্রত্যাশায় তাদের দিকে তাকিয়ে আছি।’
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা ওবামার এক নোটিশে উল্লেখ করা হয়, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপ করা অবরোধের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৬ জুন জাতীয় জরুরি অবস্থার আদলে এই অবরোধ আরোপ করা হয়। ওবামা ক্ষমতায় আসার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এই মেয়াদ বাড়ালেন।
এ ব্যাপারে ওবামা বলেন, কোরীয় উপদ্বীপে ব্যবহারযোগ্য পরমাণু অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য ব্যতিক্রমী হুমকি হিসেবে কাজ করছে।

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।
দেশটির ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (ডিপিজে) দলের নেতাদের পরিবর্তন করার পর এলডিপি অভিযোগ তোলে, প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের জনপ্রিয়তা নেই। পরে তারা কানের বিরুদ্ধে নিম্নকক্ষে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে। তারা নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবি জানায়।
তবে নিম্নকক্ষে ডিপিজে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় কান অনাস্থা ভোটে সহজেই উতরে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ডিপিজের পার্লামেন্ট (ডায়েট) বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান শিনজি তারুতোকো বলেন, ‘আমরা সহজেই উতরে যেতে পারব।’ তবে অনাস্থা ভোটে হেরে গেলে কানকে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিতে হতে পারে।

ভারতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১২ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত

ভারতে যৌথ বাহিনী সন্দেহভাজন ১২ মাওবাদী বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারীও রয়েছেন। কলকাতা থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরে মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহলে মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমনে পরিচালিত অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরজিত কর পুরকায়স্থ জানান, মাওবাদী বিদ্রোহীরা রঞ্জার জঙ্গলে গোপনে বৈঠক করছে—এ খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান শুরু করে। এ পর্যন্ত আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যৌথ বাহিনী ১২ বিদ্রোহীর নিহত হওয়ার দাবি করেছে।
এর আগে গত সোমবার ভারতীয় যৌথ বাহিনী মাওবাদী সহিংসতার জন্য ‘রেড করিডোর’খ্যাত ঝাড়খন্ডে ১০ বিদ্রোহীকে হত্যা করে। গত বছর ভারত সরকার মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমনে অভিযান শুরু করে। তখন থেকেই মাওবাদী বিদ্রোহীরা বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে। গত এপ্রিলে ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের হামলায় পুলিশের ৭৬ সদস্য নিহত হন।

লাদেনের সন্ধানকারী মার্কিনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে

পাকিস্তানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধরতে গিয়ে আটক মার্কিন নাগরিক গ্যারি ব্রুকস ফকনারের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে সে দেশের কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার এক তদন্ত কর্মকর্তা এ কথা জানান। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের চিত্রল এলাকা থেকে গত সোমবার অস্ত্রসহ গ্যারিকে আটক করা হয়।
পাকিস্তানের ওই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আটকের পর গ্যারিকে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তারা তাঁকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। বিশেষ করে গ্যারির কাছ থেকে উদ্ধার করা ছোরা ও তরবারি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। আটক করার সময় গ্যারির কাছ থেকে পিস্তল, ছোরা, তরবারি ও রাতে অন্ধকারে দেখার চশমা উদ্ধার করা হয়।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পিস্তল ও তরবারি সঙ্গে রাখা অবশ্যই অপরাধ। কিন্তু আমরা এ ব্যাপারে আরও পরিষ্কারভাবে জানতে চাই। তাঁকে মনোরোগ চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে।’ আটক গ্যারি ফকনার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা।
এ দিকে গ্যারির ভাই স্কট ফকনার সিএনএনকে বলেন, তাঁর ভাই উন্মাদ নন। বরং তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও ঈশ্বরে বিশ্বাসী। আড়াই কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়ার লোভে তিনি বিন লাদেনকে ধরতে বের হননি। স্কট বলেন, ‘তাঁর ভাই গ্যারি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ওসামার ওপর খুবই ক্ষুব্ধ হন। এই হামলাকে একজন খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী হিসেবে বেশির ভাগ মার্কিনের মতো আমরাও বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নিয়েছি

আইএসআইর সহায়তার কথা অস্বীকার তালেবানের

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্সের (আইএসআই) কাছ থেকে অর্থ, প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় পাওয়া সম্পর্কিত প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা গত মঙ্গলবার এ কথা জানায়।
এসআইটিই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নামের ওই পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, আফগান তালেবানেরা চলতি সপ্তাহের ওই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ সত্যবিবর্জিত, মিথ্যা ও অসত্য প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ওপর পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (এলএসই) চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত আফগানিস্তানের মাঠপর্যায়ের নয়জন তালেবান কমান্ডারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের তালেবান জঙ্গিরা আইএসআইয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে।
এলএসইর ওই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আইএসআই ও তালেবান জঙ্গিরা অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা তালেবানের আন্দোলন টিকিয়ে রাখতে জোরালো সমর্থন জোগায়।
এসআইটিই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, তালেবান জঙ্গিরা বলেছে, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এটা বিশ্বাস করবে না যে আফগানিস্তানে মার্কিন উপস্থিতির বিরুদ্ধে জিহাদে পাকিস্তান তাদের সহায়তা করছে। কেননা, পাকিস্তান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করছে।

১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৪৫০ কোটি ডলার

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বৈদেশিক পণ্যবাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ৪৫০ ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এ হিসাব পাওয়া গেছে।
অবশ্য গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়কালে বাণিজ্য-ঘাটতি ছিল ৪৪৯ কোটি ডলার। ফলে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অতি সামান্য বেড়েছে।
অবশ্য একই সময়কালে সেবা-বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই ঘাটতি ছিল ১৪২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তুত করা লেনদেনের ভারসাম্য সারণি থেকে দেখা যায় যে আলোচ্য সময়কালে পণ্য রপ্তানি বাবদ বাংলাদেশের আয় হয়েছে এক হাজার ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর মানে সার্বিকভাবে রপ্তানি সামান্য বেড়েছে।
কিন্তু প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের (ওভেন ও নিট মিলিয়ে) মোট রপ্তানি ১০ মাসে দাঁড়িয়েছে ৯৯৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ফলে পোশাক খাতের মোট রপ্তানি কমেছে পৌনে দুই শতাংশ।
আলোচ্য সময়কালে আমদানি বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের ১০ মাসে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৯২৩ কোটি ডলার। অবশ্য এটি সিঅ্যান্ডএফ হিসাব।
লেনদেনের ভারসাম্য সারণিতে এফওবি হিসাব দেওয়া হয়, যেখানে বিমা ও জাহাজীকরণের ব্যয় বাদ দেওয়া হয়। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে এক হাজার ৭৪৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়কালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭৩২ কোটি ২০ লাখ ডলার। তার মানে আমদানি ব্যয় দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে বাণিজ্য-ঘাটতি বাড়লেও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্তাবস্থা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ২৮৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের ১০ মাসে এর পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ২৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। এটি ছিল তার আগের অর্থবছর ২০০৭-০৮-এর ৬৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ উদ্বৃত্তের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি।
চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত মানে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরেই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি। বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে।
তবে আলোচ্য সময়কালে আর্থিক হিসাবের ভারসাম্যে ৪৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়কালে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়কালে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এর পরিমাণ ছিল ৮৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মানে হলো, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কমে যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সার্বিকভাবে লেনদেনের ভারসাম্যে ২৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

স্কয়ার টেক্সটাইলসের ৩১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেডের ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে নগদে ১৬ ও বোনাস শেয়ারে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়া হবে।
কোম্পানির ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। গাজীপুরের সারদাগঞ্জে কোম্পানির কারখানা চত্বরে গতকাল বুধবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরী।
সভায় কোম্পানির পরিচালক কাজী হারুনুর রশিদ, কাজী ইকবাল হারুন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, অর্থ ও হিসাব পরিচালক মো. কবির রেজা এবং কোম্পানির সচিব খন্দকার হাবিবুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০০৯ সালে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেডের মোট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। একই বছরে কোম্পানির কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩১ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ও ২৬ কোটি ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা।
আলোচ্য বছরে স্কয়ার টেক্সটাইলস লিমিটেড জাতীয় কোষাগারে মোট ছয় কোটি ৫১ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।
সভায় স্কয়ার টেক্সটাইলসের সাম্প্রতিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়

ভেরনকে ছাড়াই নামছে আর্জেন্টিনা

জিয়ান্নিনা, দালমা আজ বাবার জন্য কোন পোশাকটি বেছে রেখেছেন? সেদিনের সেই ধূসর রঙের স্যুটটাই কি? ওটা তো আর্জেন্টিনার জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে এসেছে। কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার শুভ অভিষেক ঘটিয়েছে। বলা যায় না, সংস্কারতাড়িত হলে বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের দুই মেয়ে ওটাই আজ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও বাবার গায়ে তুলে দিতে পারেন। আবার তুলে দিতে পারেন অন্য কোনো পোশাক, যা এ ম্যাচ জিতিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত করে দিতে পারে আর্জেন্টিনার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যে পোশাকই ম্যারাডোনা পরে আসুন, রংটা জয়ের। মানে জয়ের সুতীব্র ইচ্ছার আরকি।
তবে আর্জেন্টিনা নিশ্চিতই শুধু কোচের পোশাকজাত সৌভাগ্যের দিকে তাকিয়ে নেই। তাদের বিশ্বাসের বড় জায়গাটি সামর্থ্য। প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়াকে ন্যূনতম ব্যবধানে হারালেও তারা প্রমাণ করেছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। আক্রমণের তোড়ে নাইজেরিয়াকে ভাসিয়ে দিয়ে সারা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে মেসি, হিগুয়েইন, তেভেজকে নিয়ে গড়ে ওঠা তাদের আক্রমণের ফলাটা কত তীক্ষ।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভালোবাসা পেয়েছেন, প্রতিদানে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা গায়ে নিজেকে করেছেন উজ্জ্বল। কিন্তু আজ মেসিকে প্রতিদান হিসেবে দিতে হবে আরও কিছু। সতীর্থকে দিয়ে গোল করাতে হবে, করতে হবে, ছাড়তে হবে গোল অপচয়ের বিলাসিতা। আর্জেন্টিনা শিবির আত্মবিশ্বাসী, মেসি দুটো কাজই নিখুঁতভাবে করবেন। গোল অপচয়ের মহড়াও দেবেন না। এই মেসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খোলসটা ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। এই মেসি বার্সেলোনার, যিনি একটা ম্যাচের মালিন্য পরের ম্যাচে মুছে ফেলেন দ্বিগুণ ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে। তাহলে তো সকার সিটিতে এলিস পার্কে বকেয়া থেকে যাওয়া হ্যাটট্রিকটাই পেয়ে যাবেন আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার! না, ব্যাপারটা ফ্যান্টাসি নয়। প্রতিপক্ষের নাম দক্ষিণ কোরিয়া। যারা গ্রিসকে ২-০ গোলে হারিয়ে এই বিশ্বকাপে প্রথম উড়িয়েছে এশিয়ার পতাকা। যারা একটা বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে পাওয়া নিজেদের সর্বোচ্চ সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্নে একটা তুলির টান দিয়ে ফেলেছে।
মোটামুটি স্বল্পভাষী বলে পরিচিত মেসিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেন কথায় পেয়ে বসেছে। অনেক কথা বলছেন। শোনা যাক, আজকের ম্যাচের আগে তিনি কী বলেছেন। নিজের সম্পর্কে, প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোনো কথাই বলেননি। যা বলেছেন তার মধ্যে যেন ফুটে উঠেছে আলবিসেলেস্তিদের পতাকার রং, ‘আর্জেন্টিনার ভয়ের কারণ শুধু আর্জেন্টিনাই। বাকি সব দলের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, শিরোপা জয়ের জন্য যে মান, যে প্রতিভা লাগে, সেটি আমাদের আছে। এখন আমাদের শুধু অখণ্ড মনোযোগী হতে হবে। অনুশীলন করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে, থাকতে হবে এমন ঐক্যবদ্ধ।’
শুধু এই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না তাঁরা। প্রতিটি ম্যাচকেই তাঁরা নতুন একেকটা চূড়া ছুঁয়ে দেখার চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে চান। এই চ্যালেঞ্জে যিনি দলের নেতা সেই হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনকে ছাড়াই আজ নামতে হবে আর্জেন্টিনাকে। পায়ের পেশিতে সেদিন চোট পাওয়ায় আজ তাঁকে নামিয়ে মোটেই ঝুঁকি নিতে চান না ম্যারাডোনা। কাল প্রিটোরিয়ার লফটাস ভার্সভেল্ড স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ বারবার শুধু ভেরনের কথাই বলে গেলেন।
ভেরনকে ছাড়াই ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তাঁর জন্য কতটা কঠিন ছিল, শুধু সেই বয়ান, ‘সেবাকে (ভেরন) বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আসলেই খুব কঠিন। সে সত্যিই খেলার জন্য উন্মুখ। আর কেউই বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে থাকতে চায় না। কিন্তু আমাদের এটা মেনে নিতেই হবে। তাকে নামিয়ে আমি ঝুঁকি নিতে পারি না। তাকে আমার প্রয়োজন, খুব প্রয়োজন। কিন্তু সে নিজেও বুঝতে পারছে এটির গুরুত্ব। তার চারিত্রিক দৃঢ়তা আছে, সে হলো সত্যিকারের নেতা।’
ভেরনকে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিলেও ম্যারাডোনা বলেননি, তাঁর জায়গায় কে খেলবেন। তবে নাইজেরিয়া ম্যাচের ৭৪ মিনিটে যেহেতু ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। ধরে নেওয়া হচ্ছে তিনিই হবেন ভেরনের বিকল্প। শোনা যাচ্ছে, ওই দিন রাইটব্যাক হিসেবে খেলা হোনাস গুতিয়েরেজের জায়গায় দেখা যেতে পারে নিকোলাস বুর্দিসোকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একাদশে কোনো পরিবর্তন হবে কি না, জানা যায়নি। তবে পরিবর্তন তাদের একটা হবেই, এটা নিশ্চিত, সেটা হলো মানসিকতার। গ্রিস আর আর্জেন্টিনা এক দল নয়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও কিছু করতে হলে দারুণ কিছু দেখাতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার মিডফিল্ডার কিম নাম-ইল নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়ানোর আগে তারা একটু নার্ভাস, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরা একটু নার্ভাস। তবে তাদের মান আর প্রতিভার দিকে তাকিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছি না। তাদের আছে মেসি, আমাদের আছে পার্ক জি-সুং।’
সত্যিই তো গ্রিসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই কোরিয়া দেখিয়েছে তাদের আছে একজন পার্ক। তবে আরেকজনও আছেন—হু জুং-মু। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এই হু ছিলেন ম্যারাডোনার প্রহরী। ম্যারাডোনাকে সেদিন আটকাতে পারেনইনি, উল্টো ৩-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ২৪ বছর পর দুজন মাঠের ডাগ-আউটে। আজ কোচ হয়ে কি আটকাতে পারবেন ম্যারাডোনাকে?

অভিশাপ জয়ে দুঙ্গার শুরু

ওয়াল্ট ডিজনি ‘ডোপি’ নামে একটি অ্যানিমেশন চরিত্র তৈরি করেছিলেন। খর্বকায় ‘ডোপি’ কথা বলতে পারত না। ছোটবেলায় আকারে ক্ষুদ্র ছিলেন ও কম কথা বলতেন বলে ব্রাজিলের এক ফুটবলারের ডাকনামও হয়ে গিয়েছিল—ডোপি।
এই ‘ডোপি’ বড় হয়েছেন, অনেক বড়। কিন্তু সেই ডোপির মতোই কেমন যেন অসহায় একটা জীবন কাটাতে হয় তাঁকেও। এত কিছু করলেন, এত কিছু এনে দিলেন দেশবাসীর জন্য; তার পরও তাদের কাছে নায়ক হয়ে ওঠা হয় না তাঁর!
অধিনায়ক হিসেবে একটি বিশ্বকাপ, কোচ হিসেবে একটি কোপা আমেরিকা ও একটি কনফেডারেশনস কাপ জিতেছেন। তার পরও ‘ভিলেন’ হয়েই থাকতে হয় একালের ‘ডোপি’, কার্লোস দুঙ্গাকে। এত সাফল্যের পরও তাঁর দেশের সাংবাদিকেরাই প্রার্থনা করেন, দুঙ্গা যেন ব্যর্থ হন। তবে সাংবাদিকদের ধিক্কার আর তাচ্ছিল্যকে উপেক্ষা করে দুঙ্গা ঠিকই আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ে শুভযাত্রা করে ফেললেন।
পরশু উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে সেই যাত্রাটা ভালোয় ভালোয় শুরু করতে পেরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস অন্তত ফেলতে পেরেছেন দুঙ্গা। যদিও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন দলের খেলায়, ‘শুরুটা সব সময়ই খুব কঠিন হয়। অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয় বলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এটা ঠিক যে আমাদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। কিন্তু এটাই ফুটবল।’
দুঙ্গার শুরুটা হয়েছিল সেই ১৯৯৪ সালে। পেলের বিদায়ের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ ছুঁতে পারছিল না ব্রাজিল। সেই সময়ে হঠাৎ করেই দলের নেতৃত্ব পেয়ে ব্রাজিলকে বদলে ফেলা শুরু করেছিলেন দুঙ্গা। জয়ের জন্য ফুটবল খেলে দেশটিকে এনে দিয়েছিলেন চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা।
কোথায় সেই ট্রফি নিয়ে সবাই মেতে উঠবে, তা না ব্রাজিলিয়ানরা চিৎকার শুরু করল—এ বিশ্বকাপ আমাদের নয়, দুঙ্গার। দুঙ্গা নাকি ব্রাজিলের সৃজনশীল খেলা নষ্ট করে, কেবল জয়মুখী ফুটবল খেলেছেন। ১২ বছর পর আবার যখন কোচ হয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরলেন চারদিকে সেই একই রব।
দুঙ্গার দল ম্যাচের পর ম্যাচ জিতছে, টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট জিতছে; কিন্তু ব্রাজিলিয়ানদের মন ভরে না। তাঁরা দুঙ্গাকে গালি দিয়েই চলেছেন। সাধারণ লোকের কথা বলে লাভ কী! সক্রেটিস, কার্লোস আলবার্তোরাও সমানে বলে চলেছেন, এই ব্রাজিল ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল’ খেলে না।
শুধু সাবেকেরা এসব কথা বললে সমস্যা ছিল না। সংবাদমাধ্যমও দুঙ্গাকে নিয়ে শাপশাপান্ত করতেই থাকে। বাড়তে থাকে দুঙ্গার সঙ্গে সাংবাদিকদের দূরত্ব। দুঙ্গা সাংবাদিকদের এই ‘গালাগাল’ এড়াতে দল নিয়ে আরও নিভৃতচারী হয়ে উঠলেন, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারও কখনো কখনো বন্ধ হয়ে গেল তাঁর অনুশীলনে। এই নিয়ে সাংবাদিকদের ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল বিশ্বকাপে এসে।
আর না পেরে সেদিন খেলা শুরুর আগে দুঙ্গা করুণভাবে বললেন, ‘আমি তো সব সময় দলকে সমর্থন দিই। যদি আপনাদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিই, একটু কড়া কথা বলি; আপনারা বলেন আমি লোকটাই নাকি উগ্র। আপনারা আমাকে আঘাত করেন, রাত-দিন আক্রমণ করেন। একটু উত্তর দিলেই আপনারা বলেন, আমি সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছি।’
যত যাই হোক, যেভাবে বিশ্বকাপটা শুরু করলেন, সেভাবে এগিয়ে যেতে পারলে ব্রাজিল দুঙ্গার পাশেই থাকবে। তখন কোথায় হারিয়ে যাবে এই আক্রমণকারীরা!

ইংল্যান্ডকে চমকে দেবে আলজেরিয়া

১৯৮২ বিশ্বকাপে আবির্ভাবেই সবাইকে চমকে দিয়েছিল আলজেরিয়া। প্রথম ম্যাচেই পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে এবং গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চিলিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল দেশটি। তার পরও প্রথম পর্ব পার হতে পারেনি তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম এক বিতর্কিত ম্যাচের কারণে। বলা হয়, অস্ট্রিয়ার সঙ্গে পাতানো ম্যাচ খেলে আলজেরিয়াকে ছিটকে ফেলে প্রথম পর্ব পার হয়ে গিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। আসল ঘটনা যা-ই হোক, ঠিক পরের বিশ্বকাপটিতে খেলার সুযোগ পেলেও আলজেরিয়া এই আফসোস আর মেটাতে পারেনি।
এর পর অনেক যুগ পার হয়ে গেছে। জিনেদিন জিদানের মতো ফুটবলারের জন্ম তাদের দেশে হলেও তাঁকে ধরে রাখা যায়নি। আর বিশ্বকাপও খেলছে দেশটি ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম।
প্রথম ম্যাচে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে অন্তত বিরাশির আক্ষেপ মেটানোর মতো কিছু করতে পারেনি তারা। হেরেছে ০-১ গোলে। এবার আলজেরিয়ান অধিনায়ক আনথের ইয়াহিয়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কিছু করে দেখাতে চান, ‘আমরা ইংলিশদের ঝামেলায় ফেলতে চাই। আমরা এই ম্যাচে আরেকটু বেশি কিছু চাই। সেটাই আমাদের মানায়।’
এবার ইয়াহিয়াদের ভরসায় শেষ দুটো ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করে যেতে চান কোচ রাবাহ সাদান। ইংল্যান্ড যদিও সাদানের বিবেচনায় বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট, তার পরও তিনি এই ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী।

‘পেলের জাদুঘরে থাকা উচিত’

তাঁর জার্সি, তাঁর পায়ের ছোঁয়া পাওয়া ফুটবল কিংবা এক জোড়া বুট; যেকোনো কিছু পেলেই বর্তে যাওয়ার কথা বিশ্বের বড় বড় জাদুঘরের। তাঁর সবকিছুই হয়তো সংরক্ষণের দাবি রাখে। ধরুন, এসব কিছুই না, স্বয়ং কালোমানিক পেলেই ঢুকে পড়লেন কোনো জাদুঘরের শো-কেসে! জাদুঘরের সামনে লম্বা লাইন পড়বে নিশ্চিত।
ম্যারাডোনা সেই সুপারিশই করলেন—পেলেকে জাদুঘরে ঠাঁই দেওয়া হোক। বলা বাহুল্য, এই সুপারিশের মধ্যে একটুও পেলে-ভক্তি নেই। বিশ্বকাপের সঙ্গে সঙ্গেই আবার শুরু হওয়া পেলে-ম্যারাডোনা বিতর্কে সর্বশেষ সংযোজন ম্যারাডোনার এই ‘সুপারিশ’।
পেলেকে ম্যারাডোনা এক পশলা আক্রমণ করার পর ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি বলেছিলেন, স্রেফ টাকার জন্যই নাকি আর্জেন্টিনার কোচ হয়েছে ম্যারাডোনা। তার জবাব এল কাল লোটাস ভার্সফেল্ড স্টেডিয়ামে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে পেলেকে স্রেফ উড়িয়ে দিতে চাইলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
পেলের বুড়িয়ে যাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘আমি তার কথায় একটু বিস্মিত হইনি। তার তো এখন জাদুঘরে থাকার সময় হয়ে গেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে ম্যারাডোনার পাল্টা-আক্রমণের শিকার শুধু পেলেই হননি, আঘাত এল ফরাসি কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনির ওপরও।
কয়েক মাস আগে প্লাতিনি বলেছিলেন, ম্যারাডোনা ভালো খেলোয়াড়, কিন্তু ভালো কোচ নন। ম্যারাডোনার জবাব, ‘প্লাতিনির কথায়ও আমি অবাক হইনি। কারণ তার সঙ্গে আমার সম্পর্কে সব সময়ই এ রকম একটা ফাঁক থাকে। আমাদের দেখা হলে স্রেফ “হাই”, “গুডবাই” এসব কথা হয়। আর আপনারা তো জানেনই যে ফরাসিরা কেমন মানুষ। প্লাতিনিও তো একজন ফরাসি। প্লাতিনি মনে করে, সে আমাদের সবার চেয়ে ভালো।’
এক দফা পেলে-প্লাতিনিকে আক্রমণ করার পর আবার জাবুলানি বল প্রসঙ্গে এসেও এই দুই গ্রেটকে একটা খোঁচা দিয়েছেন ম্যারাডোনা, ‘হ্যাঁ, বলও তো একটা ইস্যু। যদিও আমি এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই না, কারণ সবাই-ই তো এটা নিয়ে কথা বলছেই। তবে বলটা খেলায় কিছু ভূমিকা রাখছে। আমি বরং পেলে আর প্লাতিনিকে বলি, আমাকে নিয়ে কথা না বলে ওই বলটা দিয়ে একটু খেলে দেখুন।’

দুই গোলদাতা ও রোনালদো

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বিশ্বসেরাদের একজন। নিজ দেশের সেরাদের মধ্যে গোনা হয় রবার্ট ভিতেককে। মাইকনকে ঠিক দুটোর কোনো দলেই ফেলা যায় না। তবে বিশ্বকাপের পঞ্চম দিন তিনজনকেই এনে দিল এককাতারে। তাঁরা তিনজন পরশুর তিন ম্যাচের ‘তারা’, হয়েছেন ম্যাচ-সেরা।
গোলের পর কত রকম উদ্যাপনই তো দেখেছেন। উদ্যাপনের নানা ভঙ্গি নিয়ে আলোচনাও হয় বিস্তর। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের সেরা গোলটি উপহার দেওয়ার পর মাইকন যা করলেন, তেমন কিছু ফুটবল ইতিহাস খুব কমই দেখেছে। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাইকন নিজেও তো গোল করে বসেন প্রায়ই, তিনিই বা কবে গোল করে কেঁদেছেন! পরশু ব্রাজিলকে স্বস্তি দেওয়া গোলটির পর সতীর্থদের আলিঙ্গনে যখন সিক্ত হচ্ছিলেন, মাইকনের মুখে তখন হাসি কোথায়? মুখভঙ্গি ছিল কান্নার, গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়েনি, তবে চোখের কোণে চিকচিক করছিল অশ্রু।
মাইকন নিজে অবশ্য কাঁদার কথা ঠিক মানতে চাইছেন না, ‘বিশ্বকাপে আমার প্রথম ম্যাচেই গোল করে ফেলেছি। আমি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। মনে পড়ছিল এখানে আসতে আমাকে কত কিছু করতে হয়েছে। আমি ঠিক কাঁদিনি, তবে আমার স্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য বাগদানের আংটিতে চুমু খেয়েছি। আমাকে এই পর্যায়ে আনার জন্য ও অনেক সাহায্য করেছে।’
রবার্ট ভিতেককেও ম্যাচের সেরা বানিয়েছে একটি ‘প্রথম’। মাইকনের মতো তিনিও পেয়েছেন প্রথম গোল, তবে শুধু নিজের নয়, বিশ্বকাপে প্রথম গোল তাঁর দেশেরই। এর আগেও ৮টি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব ছিল স্লোভাকিয়ার, তবে তা চেকোস্লোভাকিয়ার অংশ হিসেবে। ১৯৯৩ সালে চেকোস্লোভাকিয়া ভাগ হওয়ার পর স্লোভাকিয়া এবারই প্রথম বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে। পরশু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০ মিনিটে স্তানিশ্লাভ সেসটেকের পাসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠানোর পাশাপাশি ইতিহাসেও ঢুকে গেলেন ভিতেক।
পরশু আর দুই ম্যাচ-সেরার মতো গোল পাননি রোনালদো। আইভরিকোস্ট-পর্তুগাল ম্যাচে তো গোলই হয়নি। পুরো ম্যাচে বলার মতো গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন রোনালদোই, একটি ফ্রি-কিক গোলবার কাঁপিয়ে ফিরে আসে মাঠে। তাঁর পায়ে বল গেলেই ম্যাচে যা একটু উত্তেজনা ছড়িয়েছে। হলুদ কার্ড পাওয়ার পরও তাই ম্যাচের সেরা রোনালদো।

আর্জেন্টিনার গোল হয়নি

লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুয়েইনরা এক গাদা গোলের সুযোগ মিস করায় অনেককেই শঙ্কাটা পেয়ে বসেছিল—নাইজেরিয়া না ম্যাচ ড্র করে ফেলে। এখন জানা যাচ্ছে, এক হিসেবে নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচটি আসলে ‘ড্র’ই হয়েছিল!
না, এখন আর ম্যাচের ফলাফল বদলে দিচ্ছে না ফিফা। কিন্তু ফিফার রেফারি কমিটি পরিষ্কার বলে দিয়েছে, ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার করা একমাত্র গোলটি অবশ্যই বাতিল করা উচিত ছিল রেফারির। ম্যাচের ভিডিও দেখে কমিটি নিশ্চিত হয়েছে, গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ গোল করার ঠিক আগ মুহূর্তে ওয়াল্টার স্যামুয়েল ফাউল করেছিলেন। এই ঘটনা এড়িয়ে গিয়ে গোলকে বৈধ ঘোষণা করে দেওয়ায় জার্মান রেফারি উলফগ্যাং স্টার্কের তীব্র সমালোচনা করেছে রেফারি কমিটি।
স্প্যানিশ পত্রিকা ওলেতে প্রকাশিত রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, রেফারি কমিটি কর্নার কিক বা ফ্রি-কিকের সময় এ ধরনের ফাউলে চোখ রাখার জন্য তাগিদ দিয়েছে রেফারিদের।
ঘটনাটা ঘটেছিল হুয়ান সেবাস্টিয়ান ভেরন কর্নার কিক নেওয়ার সময়। কর্নার কিকের বল বাতাসে ভাসা মাত্রই স্যামুয়েল নাকি আঁকড়ে ধরেছিলেন চিনেদু ওবাসিকে। ফলে ওবাসি আর এগিয়ে গিয়ে হেইঞ্জকে মার্ক করতে পারেননি। এই সুযোগেই হেইঞ্জ নিজেকে একেবারে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে হেডটা করেছিলেন।
রেফারি স্টার্ক ব্যাপারটা একদমই খেয়াল করেননি। ফলে যা হওয়ার তা হয়েই গেছে। এখন আর ফল বদলে দেওয়ার উপায় নেই। তবে ওলের রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘ডেড বল’ পরিস্থিতিতে এ ধরনের ফাউলের প্রতি আরও সজাগ থাকার জন্য রেফারিদের তাগিদ দিয়েছে কমিটি। এ রকম ক্ষেত্রে গোল বাতিল করে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেছে তারা

দ্রগবাকে নিয়ে কুইরোজের প্রশ্ন

ফিফা বলে দিয়েছিল রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। রেফারির সেই সিদ্ধান্ত গেল দিদিয়ের দ্রগবার পক্ষে। পরশু পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে তাই ভাঙা হাতে প্লাস্টিক আবরণ লাগিয়েই খেললেন আইভরিকোস্টের এই স্ট্রাইকার। কিন্তু ম্যাচ শেষে পর্তুগাল কোচ কার্লোস কুইরোজ একহাত নিলেন ফিফাকে। তাঁর মতে, দ্রগবাকে প্লাস্টিক কাস্ট পরে খেলার অনুমতি দিয়ে দ্বিমুখী আচরণই করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে হাত ভেঙে গিয়েছিল দ্রগবার। হাতে কদিন ব্যান্ডেজ ঝুলিয়েও ঘুরেছেন তিনি। পরশুর ম্যাচে ৬৬ মিনিটের সময় সেই ভাঙা হাত নিয়েই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামলেন। তবে ব্যান্ডেজ নয়, ঝুঁকি এড়াতে হাতের ওপর তিনি পরেছিলেন প্লাস্টিকের একটা আবরণ। কুইরোজের আপত্তি ওটা নিয়েই। তাঁর দাবি, ফিফা যেখানে অন্য খেলোয়াড়দের এমনকি একটা ব্রেসলেট পরেও খেলতে দেয় না, সেখানে দ্রগবার প্লাস্টিকের আবরণ পরে মাঠা নামাটা দ্বিমুখী আচরণই হয়েছে। ফিফার বিরুদ্ধে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ এনে পর্তুগাল কোচ বলেছেন, ‘ব্যাপারটা একটু অস্বাভাবিকই হলো। কারণ এ সংক্রান্ত কিছু আইনকানুন তো আছে।’
দ্রগবা প্লাস্টিক কাস্ট পরে খেলে উল্টো পর্তুগিজ খেলোয়াড়দের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে মনে করছেন কুইরোজ, ‘অনেক সময় খেলোয়াড়দের ব্রেসলেট বা হাতে প্লাস্টার লাগিয়েও খেলতে দেওয়া হয় না। আপনি যখন সামান্য ব্রেসলেট পরেও খেলতে পারছেন না, দ্রগবার মতো কারও এভাবে খেলে ফেলাটা একটু দৃষ্টিকটুই। এ রকম পরিস্থিতিতে সে পর্তুগিজ খেলোয়াড়দেরই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
দ্রগবার প্লাস্টিক কাস্ট নিয়ে আলোচনা পর্তুগাল-আইভরিকোস্ট ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই। ফিফার একজন প্রতিনিধি জানিয়েছিলেন, পর্তুগিজ প্রতিনিধিদল ও রেফারির অনুমোদনের পর দ্রগবা চাইলে হাতে কাস্ট লাগিয়ে খেলতে পারেন। কিন্তু কুইরোজ বলছেন, ‘দ্রগবা খেলবে কি খেলবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পর্তুগালের নয়। এটা দেখার কথা ফিফার এবং প্রতিনিধিদলের সভায় তারা বলেছিল, এ ব্যাপারে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ সে সিদ্ধান্তটা দ্রগবার পক্ষে হওয়ায় আইন সবার জন্যই এক কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কুইরোজ।
দ্রগবাকে নিয়ে যত বিতর্কই হোক, প্রতিরোধমূলক কাস্ট পরে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ১৯৮৬-এর মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার এ রকম কাস্ট পরে খেলেই হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে ১৯৭৮-এর বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হল্যান্ডের রেনে ফন ডার কারখফও পরেছিলেন প্লাস্টিকের পাতলা আবরণ।

ড্র ম্যাচে দ্রগবার জয়

মনের দিক দিয়ে দুজনই খুব শক্ত। প্রতিজ্ঞায় অবিচল থাকার প্রমাণ অনেক দিয়েছেন তাঁরা। তবে পরশু একজন প্রতিজ্ঞা রাখতে পারলেও আরেকজন পারেননি। প্রয়োজনে ভাঙা হাত নিয়ে পর্তুগালের বিপক্ষে আইভরিকোস্টের প্রথম ম্যাচে খেলার কথা বলেছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা, তিনি খেলেছেন। গোল কবে আসবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এত দিন বলে আসছিলেন—‘সব বিশ্বকাপের জন্য জমিয়ে রেখেছি।’ পরশু আইভরিকোস্টের বিপক্ষে অন্তত তাঁর সেই জমিয়ে রাখা গোলের দেখা মেলেনি।
রোনালদো গোল পাননি। ভাঙা হাত নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে গোল পাননি দ্রগবাও। ‘মৃত্যুকূপ’ গ্রুপে পর্তুগাল-আইভরিকোস্টের প্রথম ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র। এর পরও এই ম্যাচের পর একটা প্রশ্ন চারদিকে ঘুরছে—রোনালদো-দ্রগবার দ্বৈরথে জয় হলো কার? ম্যাচ যখন ড্র, এই দুই তারকার দ্বৈরথকেও ড্র বলে দিতে পারেন অনায়াসে।
একটা কিন্তু তবু থেকে যায়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর দল পর্তুগাল, আর আইভরিকোস্টের র‌্যাঙ্কিং ৩১। এর ওপর আবার আইভরিয়ানদের সবচেয়ে বড় তারকা দ্রগবা পুরো ম্যাচে খেলেননি। এই বিবেচনায় আইভরিকোস্টের সঙ্গে পর্তুগালের ড্রটা একটু বেমানানই। দ্রগবা তো পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করাটাকেই দেখছেন এক প্রকার জয়, ‘বিশ্বের তিন নম্বর দলের সঙ্গে ড্র। এটা দারুণ। আমরা গর্ব করতে পারি। আমাদের তৃপ্ত হওয়া উচিত। কারণ বিশ্বকাপে আমাদের ইতিহাসটা সংক্ষিপ্তই।’
দ্রগবার তৃপ্তির পাশে রোনালদোর অতৃপ্তি ছিল স্পষ্টই। ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় তাঁর চেহারায় ফুটে উঠেছে বিরক্তি। কারণটা জানাই—ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে চেয়েছিলেন, সেটা হয়নি। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এটা জানা গেল রোনালদোর কাছ থেকেও, ‘ম্যাচ-সেরা হওয়ার চেয়ে তিনটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেই ভালো লাগত আমার।’
তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলে যেটা করতে হতো সেটা পর্তুগাল করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে স্পষ্ট গোলের সুযোগ তারা তৈরি করতে পেরেছে মাত্র একটি। প্রথমার্ধে সেই সুযোগ এসেছিল রোনালদোর হাত ধরেই। বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় কামান গতির শট নিয়েছিলেন গোলে। কিন্তু ভাগ্যও যেন সঙ্গে ছিল না রোনালদোদের। আইভরিকোস্টের গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও রোনালদোর সেই শট ফিরে এসেছে পোস্টে লেগে। জিততে না পারার পেছনে রোনালদোও দুর্ভাগ্যের কথাই বললেন, ‘আমরা ভালোই খেলেছি। এর পরও জিততে পারিনি, কারণ ভাগ্য আমাদের সঙ্গে ছিল না।’
কোচ কার্লোস কুইরোজ অবশ্য ভাগ্য-টাগ্যর কথা বলেননি। আইভরিকোস্টের অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতার সমালোচনা করেছেন তিনি, ‘একটি মাত্র দল জিততে চেয়েছে এই ম্যাচে। আক্রমণও করতে চেয়েছে একটি দলই। কিন্তু আমাদের সামনে ১১ জন খেলোয়াড় ছিল বলে সেটাও অসম্ভব ছিল।’ রোনালদোও কণ্ঠ মিলিয়েছেন কোচের কণ্ঠে, ‘আমরা জানতাম আইভরিকোস্ট বেশি আক্রমণ করবে না এবং ডিফেন্সেই বেশি থাকবে। ওরা আসলে প্রথমার্ধে আমাদের ভয় পেয়েছিল।’
অনেকের ধারণা, এখন পর্তুগালেরও দ্বিতীয় রাউন্ডে না যেতে পারার ভয় আছে। আর ম্যাচের আগে রোনালদো নিজেই তো বলেছিলেন, আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচটি তাঁদের ‘ফাইনাল’। সেই ‘ফাইনাল’ ম্যাচের বাধা পেরোতে না পারলেও রোনালদো সবকিছুর শেষ এখানেই দেখছেন না। পর্তুগালকে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা তাঁর।

ব্রাজিলের ফিনিশার কই!

কেমন খেলল ব্রাজিল? ব্রাজিলকে ব্রাজিলের মতো লেগেছে? ফেবারিটের মর্যাদা রাখার মতো দল কি এই ব্রাজিল?
পরশু ব্রাজিলকে দেখার পর আমার মনে হয়েছে, ব্রাজিল অসাধারণ কিছু খেলেনি, আবার খারাপও খেলেনি। ব্রাজিল ফুটবলের চিরায়ত সেই ছন্দ বা শিহরণের অভাব ছিল। তবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা নিরাশও করেনি। তাদের ছোট ছোট পাসে ছন্দ খুঁজে পাওয়া গেছে কখনো কখনো। প্রান্ত বদল করে খেলাটাকে ঘুরিয়ে দেওয়া—এই জিনিসগুলো ছিলই।
তবে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা ছিল, গোল করার দক্ষতা দেখাতে পারেনি এই ব্রাজিল। গোল করতে হলে প্রতিপক্ষকে বিচলিত করার মতো পাস চাই। এই পাসটা ছিল না উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে। ব্রাজিল কেন ব্রাজিল, সেটা বোঝাতে গেলে গোলের সুযোগ তাদের তৈরি করতেই হতো। কিন্তু সেই সুযোগ খুব বেশি তারা করতে পারেনি।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে অনেক সমস্যা দেখলাম। এই ব্রাজিলের সবচেয়ে দুর্বল দিকও ওটাই—ফিনিশিং। অ্যাটাকিং থার্ড পর্যন্ত গিয়ে এলোমেলো হয়ে গেছে ফরোয়ার্ডরা। দক্ষ গোলদাতার অভাবটা ফুটে উঠেছে। ব্রাজিল খেলোয়াড়েরা বারের ওপর দিয়ে ধুম করে মেরে দিচ্ছে, পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যাচ্ছে...এগুলো ঠিক তাদের সঙ্গে যায় না।
আগের ব্রাজিলের সঙ্গে এই ব্রাজিলের পার্থক্যটা মূলত একটা জায়গায়ই মনে হচ্ছে—ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের অভাব আছে এই দলে। ফ্যাবিয়ানোর সঙ্গে তো আপনি রোনালদোকে মেলাতে পারবেন না। রোমারিও বলুন, রোনালদো বলুন—এই ব্রাজিলে ওই মানের স্ট্রাইকার নেই। এখানেই মার খেলেও খেতে পারে সেলেকাওরা।
ব্রাজিল তাদের আসল খেলা থেকে সরে গেছে। দুঙ্গার ব্রাজিল শুধুই জেতার জন্য খেলে। অনেক দিন ধরে চলে আসা এই বিতর্কের যৌক্তিকতা অবশ্য খুঁজে পাই না। মাঝমাঠে শিল্প করব, গোল করব না—এটা তো হয় না। দুঙ্গা নিশ্চয়ই এসব নিয়ে কাজ করছেন। তবে তাঁর যে ছক, সেই অনুযায়ীই খেলেছে ব্রাজিল। এর মধ্যে চোখে লেগেছে লুসিওর বারবার ওপরে উঠে যাওয়া। তাঁকে একটু উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছে। আর যে গোলটা ব্রাজিল খেল, তখন তাদের রাইটব্যাক ছিল গা-ছাড়া।
মাইকনের গোলটা মুগ্ধ করার মতো। তবে আমার মনে হয় মাইকন গোলে শট নেয়নি। সে পাওয়ারের ওপর ড্রাইভ করেছে। বল বাঁক নিয়ে চলে গেছে জালে। এই গোলের পর যতটা উজ্জীবিত হয়ে খেলতে পারত, ব্রাজিল ততটা পারেনি।
কোরিয়াকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। প্রচুর দৌড় ছিল তাদের খেলায়। ব্রাজিলকে আটকাতে তৈরি করা গোটা তিনেক দেয়াল ভালোই কাজে দিয়েছে। রক্ষণে কোরিয়ার খেলোয়াড়দের যোগাযোগ ভালো ছিল।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেনি। শুরুটা ভালোই ছিল। তার একটা শট পোস্টেও লাগল। এরপর দেখলাম ওর মাথা গরম করার জন্য যা দরকার, পরিকল্পিতভাবে সেটাই করে গেল আইভরিকোস্ট। একবার তো ফাঁদে পা দিয়ে হলুদ কার্ডও খেল ও। দ্রগবা বদলি হিসেবে নেমে দেখিয়ে দিয়েছে কেন সে স্ট্রাইকার হিসেবে ভয়ংকর।

দুই মেরুতে

বিশ্বকাপ জিতেছে দু দলই। বাছাইপর্বে খোঁড়ানোর পরও দু দলই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল স্বপ্ন নিয়ে। মিল এখন পর্যন্ত এটুকুই। আজ ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যখন যার যার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে, তখন দু দল একেবারেই ভিন্ন মেরুতে দাঁড়িয়ে।
প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা মাত্র এক গোলের জয় পেলেও দলটির চেহারাই বদলে গেছে পারফরম্যান্সের কারণে। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করতে থাকা আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি স্বভাববিরুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের খেলা খেললে বিশ্বকাপে আর কেউ তাদের আটকাতে পারবে না। উল্টো, প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করে আরও হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে ফ্রান্স।
দ্বিতীয় পর্বে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ফ্রান্সের আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। ওদিকে আবার কোচ রেমন্ড ডমেনেখের রণপরিকল্পনা ও প্রথম একাদশ নিয়ে দলের ভেতর অসন্তোষের গুঞ্জন আছে। যদিও ডমেনেখের দাবি, মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়টা পেতে তাঁর খেলোয়াড়েরা মরিয়া হয়ে আছে, ‘খেলোয়াড়েরা এই ম্যাচ খেলতে আর ধৈর্য ধরতে পারছে না। যদিও মেক্সিকো খুবই ভালো দল। যখন তারা গতি বাড়ায়, বলের ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে নেয়; প্রতিপক্ষ যত ভালোই হোক, তাদের ওরা নড়বড়ে করে দিতে পারে। আমাদের জন্য খুব জরুরি হলো, ওদের বলের ওপর কর্তৃত্ব করতে না দেওয়া।’
ফ্রান্সকে সাত-পাঁচ অনেক কিছু ভাবতে হলেও আর্জেন্টিনা আছে সুবিধাজনক অবস্থায়। আজকের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও, আর্জেন্টিনার জন্য এমন কিছু হুমকি হয়ে ওঠার মতো দল নয়। আর আর্জেন্টিনা তো এখন কাউকে হুমকিই মনে করছে না!
প্রথম ম্যাচে আক্রমণভাগ, বিশেষত লিওনেল মেসি দুর্দান্তভাবে জ্বলে ওঠায় কোচ ম্যারাডোনা অনেক নির্ভার। দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়ে এখনই ট্রফিতে চোখ চলে গেছে মেসিদের।
আর্জেন্টিনার হয়ে সেই কথাটাই বলে দিলেন কার্লোস তেভেজ, ‘আর্জেন্টিনার জন্য ভালো বিশ্বকাপ মানে, বিশ্বকাপ জেতা। এর কম কিছু করতে আসিনি আমরা। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলাম বা শেষ ষোলোতে—এসবে কিচ্ছু যায় আসে না।’
তার মানে তেভেজদের লক্ষ্য ফাইনাল!

মেসি একা পারবেন না!

বিশ্বকাপ না খেলা সবচেয়ে বড় তারকা মনে করা হয় তাঁকে। না খেললে কী হবে, তিনি ঠিক ঠিক জানেন, একা একজন কোনো দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেন না। বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে সপ্তাহখানেক হয়েছে এই এক সপ্তাহের খেলার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ডি স্টেফানো নির্দিষ্ট কোনো ফেবারিট দলও দেখতে পাননি।
‘আমার কাছে কে বিশ্বকাপ জিততে পারে বলে মনে হয়েছে? সেই একই নাম। ইউরোপ থেকে স্পেন, ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড এবং আমেরিকা থেকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল’—বিশ্বকাপ ফেবারিট বাছতে বলায় ডি স্টেফানো বলেছেন এই কথা। আর্জেন্টিনার মানুষ মনে করে, ছিয়াশিতে যেমন ডিয়েগো ম্যারাডোনা পেরেছিলেন, এবার লিওনেল মেসিও তেমনই একাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেন। কিন্তু কিংবদন্তি ডি স্টেফানো তা মনে করেন না, ‘মেসি দুর্দান্ত। ওর মান এবং স্কিল দুটোই অসাধারণ। তবে ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার দল। একা কেউ কখনো কিছু জিততে পারে না।

ব্যাটিং-ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ

শুরু আর শেষে এমন অমিল! তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের মারকাটারি ব্যাটিংয়ে মাত্র ২.৫ ওভারেই ওপেনিং জুটিতে চলে এল ৩৫ রান। সেখান থেকে বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ১৬৭ রানে! শ্রীলঙ্কার রণগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ভারত ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ২৯ ওভার ৪ বল বাকি থাকতেই।
এশিয়া কাপে কাল নিজেদের প্রথম ম্যাচে টসে জিতে একটু বেশিই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলেন তামিম ও ইমরুল। প্রাভিন কুমারের প্রথম ওভারেই ৯ রান, জহির খানের দ্বিতীয় ওভারে এল ১৬ আর প্রাভিনের পরের ওভারে ১০ রান। কিন্তু বেশি বেশি শট খেললে যা হয়, প্রাভিনের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে সুরেশ রায়নার দুর্দান্ত ক্যাচ তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল-মোহাম্মদ আশরাফুল মিলে ৪৬ রানের জুটি গড়লেও বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয়ে গেছে ৩৪.৫ ওভারেই। টপ-মিডল অর্ডার মিলিয়ে চরম ব্যাটিং ধস, সর্বোচ্চ রান ইমরুলের ৩৭। ইমরুলসহ ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবাই ভালো শুরু করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই, পারেননি বড় জুটি গড়তেও।
বাংলাদেশের ইনিংস ভেঙে পড়েছে মূলত বীরেন্দর শেবাগের অফ স্পিনের সামনেই। মাত্র ২.৫ ওভার বল করেই, ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং—৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এর মধ্যে ইনিংসের ৩৫তম ওভারের প্রথম, চতুর্থ ও পঞ্চম বলেই নিয়েছেন ৩টি। তবে ব্যাট হাতে শেবাগ ব্যর্থ, মাত্র ১১ রান করে মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে কট বিহাইন্ড। দল হারলেও ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে সাড়ে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা খারাপ হয়নি মাশরাফির। তাঁর অন্য উইকেটটি ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করা গৌতম গম্ভীরের। পরপর ২ বলে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের উইকেটও ২টি।

লক্ষণটা ভালো নয় বললেন স্পেন কোচ

হতভম্ব—সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই এক কথায় পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া জানালেন স্পেন কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। হতভম্ব কিংবা বিস্ময়, যেটাই বলুন—শুধু স্পেন কোচ নয়, পুরো ফুটবলবিশ্বেরই আসলে একই প্রতিক্রিয়া। শিরোপা ফেবারিটরা প্রথম ম্যাচেই সুইজারল্যান্ডের মতো দলের কাছে হেরে যাবে, এটা কি কেউ ভেবেছিল! ভালো প্রতিরোধ-ট্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা ভাবলেও এমন একটি জয়ের কথা হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি সুইজারল্যান্ডও।
কেউ ভাবুক আর না ভাবুক, এটা ঘটেছে। ৮৫ বছরের মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৯তম ম্যাচে এসে স্পেনের বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছে সুইসরা। স্পেন কোচের কাছে পুরো বিষয়টিও ভাগ্যের খেলা, ‘আজ আসলে আমাদের দিন ছিল না। আমাদের দুর্ভাগ্যও বলতে পারেন। সুইজারল্যান্ড আরও একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এই দুটি সুযোগ ছাড়া পুরো ম্যাচটিই ছিল আমাদের নিয়ন্ত্রণে।’
সত্যিই তা-ই। ম্যাচে স্পেনের শতকরা ৬৩ ভাগ বল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের ৩৭ ভাগের তুলনাও সেটাই বলে। এমন খেলার পরও নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচেই হেরে যাওয়াটা ভালো লাগছে না দেল বস্কের, ‘লক্ষণটা ভালো নয়।’ তবে যা হয়ে গেছে তা নিয়ে না ভেবে পরের দু ম্যাচেই চোখ স্পেন কোচের, ‘এখন পরের দুই ম্যাচে জিততে হবে আমাদের। আপাতত এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশ্বকাপে তিন ভাই

হন্ডুরাসের ২৩ জনের দলে দুজন প্যালাসিওস আগে থেকেই ছিলেন। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে হয়ে গেলেন তিনজন। মিডফিল্ডার উইলসন প্যালাসিওস দলের সবচেয়ে বড় তারকা, জনি প্যালাসিওস খেলেন রক্ষণভাগে। চোট পাওয়া হুলিও সিজার ডি লিওনের বদলে সুযোগ পেলেন জেরি প্যালাসিওস। নাম দেখে যা অনুমান করছেন, তাই ঠিক। তাঁরা তিনজনই ভাই। হন্ডুরাসের রক্ষণ, মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগের তিন ভাই মিলে গড়েছেন ইতিহাস। এক দলে তিন ভাই—বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম।
ফিফার কাছে ইতালির ক্লাব তুরিনোর ফরোয়ার্ড ডি লিওনের বদলে একজনকে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল হন্ডুরাস। নিয়ম অনুযায়ী কোনো দলের প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ইনজুরি আক্রান্ত ফুটবলারের বদলি নেওয়া যাবে। অনুমতি পেতে তাই সমস্যা হয়নি। সবার শেষে ডাক পাওয়া জেরি তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়, খেলেন চীনের ক্লাব হাংঝু গ্রিনটাউনে। সবচেয়ে বিখ্যাতজন উইলসন খেলেন টটেনহাম হটস্পারে, আর তিনজনের সবচেয়ে ছোট জনি খেলেন নিজ দেশের ক্লাব অলিম্পিয়ায়।
ইতিহাস গড়ার মুহূর্তে তিন ভাইয়েরই মনে পড়ছে আরেক প্যালাসিওসের কথা। আরও এক ভাই ছিলেন তাঁদের, সবার ছোট বলে এডউইন প্যালাসিওস ছিলেন সবচেয়ে আদরের। গত বছর এডউইনকে কিডন্যাপ করে সন্ত্রাসীরা, দেড় লাখ ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পরও কয়েক দিন পর পাওয়া যায় কেবল তাঁর লাশ। ‘ফুটবলে আমি যা কিছু করি, সবই এডউইনের জন্য। ও আমাকে ওপর থেকে দেখছে’, বলেছেন উইলসন।

বেকেনবাওয়ারকে ইংলিশ জবাব

ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের কথাটা খুব আহত করেছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের। ইংল্যান্ডের ফুটবল নিয়ে তিনি যে সমালোচনা করেছেন, তার তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছেন তাঁরা। এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ১-১ গোলের ড্র ম্যাচটি দেখার পর ইংল্যান্ডের খেলাকে ঠারেঠোরে ‘প্রাগৈতিহাসিক’ বলেছেন বেকেনবাওয়ার, ‘ওদের খেলা দেখে মনে হয়েছে, ইংলিশরা সেই জঘন্য পুরোনো দিনে ফিরে গেছে। যেখানে তাদের খেলার ধরন ছিল কিক মারো আর দৌড় দাও!’
বেকেনবাওয়ারের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই ডিফেন্ডার ম্যাথু আপসন ও মাইকেল ডসন। ‘আমাদের খেলা দেখে উনি যেটা বলেছেন, সেটা ওনার মতামত। ব্যাপারটা হচ্ছে জয়ের। আমরা যদি শুধু বলে লাথি মেরে আর দৌড়াদৌড়ি করে ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে তা-ই’—বলেছেন আপসন। আর ডসনের কথা, ‘আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা এমন ফুটবল খেলব, যেটা আমাদের সঙ্গে মানিয়ে যায়।’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘আসলে প্রত্যেকেই তাদের মতামত দেবে। কিন্তু সবকিছুকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই। আপনি ইংল্যান্ড দলটির দিকে তাকান, যাতে বিশ্বমানের অনেক খেলোয়াড় আছে। তাই কে কী বলল সেটাতে কান না দিয়ে এই মুহূর্তে নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রতে দলের মনোবল ভেঙে যায়নি বলেও জানালেন আপসন ও ডসন। রবার্ট গ্রিনও নাকি তাঁর অপেক্ষায় আছেন পরের ম্যাচগুলোয় ভালো করার জন্য। গ্রিনের প্রস্তুতি নিয়ে ডসন বলেছেন, ‘ভুল করার পরবর্তী সময়টা ও ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে। এটা ঘটতেই পারে, কিন্তু এখন সে পুরো মনোযোগী। আমরা কেউই বাড়তি চাপ নিচ্ছি না। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেললে কিছু চাপ তো থাকবেই।’

আজ গোল পাবে মেসি

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে নাইজেরিয়া-গ্রিস। গ্রুপ পর্বে দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচটা হেরে এসেছে। ফলে এই ম্যাচে হেরে গেলে প্রথম রাউন্ড থেকেই ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথম ম্যাচে দ্রুতগতির ধারালো আক্রমণকারী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গ্রিসের রক্ষণভাগ ছিল নড়বড়ে। সেদিক দিয়ে নাইজেরিয়া অনেক ভালো খেলেছে, অপেক্ষাকৃত বড় শক্তির আর্জেন্টিনার কাছেই হেরেছে তারা।
গ্রিসকে আক্রমণভাগ থেকে অবশ্যই চারিস্তিয়াসকে সরাতে হবে। দলে নিয়ে আসতে হবে ক্ষিপ্রগতির সালপিংগিদিসকে এবং তার সঙ্গে জুটি গড়ে তুলতে হবে সামারাসকে। কোচ অটো রেহাগেলকে এই ম্যাচ জেতার জন্য সর্বস্ব বাজি ধরতেই হবে। আমি নিশ্চিত, রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ঘুম থেকে জাগানোর জন্য তিনি কিছু না কিছু করবেনই। হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনটা দখলে রাখার জন্য কাতসুনারিস আর কারাগুনিসকেও বাড়তি কিছু করতে হবে। দলটার বয়স হয়েছে। মাঠের খেলায় বুড়োটে ভাব স্পষ্ট।
গত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়া অনেক ভালো খেলেছে। ওসাজ ওদেমউইঙ্গিকে বাঁ দিকে নামানোর ফলেই এমনটা হয়েছে। ওদের গোলরক্ষক এনাইয়ামা তো দুর্দান্ত। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার তাইয়ো আর তোবো বুক চিতিয়ে লড়ে গেছে আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ডদের বিরুদ্ধে। মাঝমাঠে ইতুহুও নজর কেড়েছে। তবে ওদের ভাগ্য ভালো, মেসি, তেভেজ, হিগুয়েইনদের আবারও সামলানোর গুরুভার আর ওদের কাঁধে নেই। এই ম্যাচে আমার চোখে নাইজেরিয়ানরাই ফেবারিট। ওরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজ আর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই খেলবে।
প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ে আর ডিয়েগো ফোরলানের বিপক্ষে যুঝতে দেখেছি ফ্রান্সকে। ওদের আক্রমণ ছিল অকার্যকর। আশা করি, ফরাসি কোচ ডমেনেখ আজ আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠবেন, চেলসি জুটি আনেলকা আর মালুদাকে একসঙ্গেই খেলাবেন। গোভুকে তেমন কিছুই করতে দেখছি না। রিবেরিকেও ম্যাচে আরও কর্তৃত্ব করতে হবে। গোলপ্রহরী হুগো লরিস; ডিফেন্সে সানিয়া, গালাস, আবিদাল আর ইভরা আছে বলে ওদের রক্ষণটা খুবই শক্তিশালী। ওদের আমি ৪-৪-২ ছক নিয়ে খেলতে বলি। আমার আরেকটি পরামর্শ ওদের জন্য, মাঝমাঠে তুলালান আর দিয়াবিকে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করতে হবে।
প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচে মেক্সিকো বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করেছে ডিফেন্ডার মার্কেজের গোল। এই ম্যাচ থেকে ফল পেতে চাইলে হার্নান্দেজ, ফ্রাঙ্কো আর জিওভানি ডস সান্টোসকে ফিনিশিংয়ে আরও ভালো করতে হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেতে মরিয়া ফ্রান্সের ওপর ম্যাচটা জেতার চাপ থাকবে। আশা করছি, ওরা মেক্সিকোর রক্ষণে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে ফাটল ধরাবে। কিন্তু উরুগুয়ে ম্যাচে যেমনটা খেলেছে, তার চেয়েও বেশি সৃষ্টিশীলতা দেখাতে হবে ওদের, করতে হবে আরও ভালো ফিনিশিং।
আর্জেন্টিনা আর দক্ষিণ কোরিয়া দুই দলই এই গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে ওপরে আছে। দুটো দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিনটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। যদিও সেটি ম্যারাডোনা আর তাঁর আর্জেন্টাইন তারকাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না বলেই আমি মনে করি। কারণ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আরও বেশি গোল করা উচিত ছিল। আশা করছি, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তারা সেটি পারবে। গ্রিসের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোরীয় তারকা পার্ক জি-সুং দুর্দান্ত একটি গোল করেছিল। ডিফেন্সে চু ইয়ং-হিউং আর লি জুং-সুর খেলা আমার মনে ধরেছে। দক্ষিণ কোরীয়রা মাঝমাঠে অতিদ্রুত পাল্টা-আক্রমণ সাজিয়ে ফেলতে পারে। তবে ওদের স্ট্রাইকারদের ধারালো মনে হয়নি। রক্ষণ ওদের ভালো, তবে এও মনে রাখবেন, যেকোনো রক্ষণ তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার আছে। আর্জেন্টিনার জন্য খুব বেশি সমস্যা ওরা তৈরি করতে পারবে বলে মনে হয় না। আর তাই দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার জন্য দরকারি তিনটি পয়েন্ট ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল এই ম্যাচেই পেয়ে যাবে। আর্জেন্টিনা কোনো গোল তো খাবেই না, মেসি আজ গোলও পাবে বলে আমার ধারণা।

উজ্জীবিত হতে চাইছে ইংল্যান্ড

শুক্রবার ইংল্যান্ড আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে। দ্বিতীয় রাউন্ডের স্বপ্ন ধরে রাখার জন্য আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে জয় ভিন্ন অন্য কোনো বিকল্প নেই ফ্যাবিও ক্যাপেলোর ছেলেদের সামনে। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোলরক্ষক রবার্ট গ্রিনের ভুলে ড্র করে নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে অনেকটাই নিচের দিকে দেখছে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা। আর এতেই আশঙ্কা পেয়ে বসেছে ইংল্যান্ডকে ঘিরে। তারা আদৌ কি আলজেরিয়াকে হারাতে পারবে? প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইংলিশ ফরোয়ার্ডদের তথৈবচ পারফরম্যান্স এই শঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর সামনে এ মুহূর্তে অনেক সমীকরণ এসে ভিড় করছে। ইংল্যান্ড সব সময়ই চাইবে বাকি দুই ম্যাচে—আলজেরিয়া ও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে বড় জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ নিশ্চিত করতে। কারণ, এই গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন দ্বিতীয় রাউন্ডে ইংল্যান্ডকে দাঁড়া করিয়ে দেবে এই বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সেরা দল হিসেবে বিবেচিত জার্মানির সামনে। আর প্রথম স্থান পেলে ইংল্যান্ড খেলবে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ ঘানার বিপক্ষে। ফ্যাবিও ক্যাপেলো প্রতিপক্ষ হিসেবে কাকে পাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করছে শুক্রবারের আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সের ওপর।
এদিকে জার্মানরা কিন্তু ইংল্যান্ডকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরে নিয়েছে। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের আক্রমণ। হ্যাঁ, আক্রমণই। ‘কাইজার’ যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচটি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজ দেশের পারফরম্যান্স দেখে ধরেই নিয়েছেন—দ্বিতীয় রাউন্ডে জার্মানির সামনে পড়ছে ইংল্যান্ডই। তাই কথার আক্রমণ শুরু করেই কি না তিনি বলে ফেলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখে মনে হয়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অতীতের সেই জঘন্য ‘‘দৌড়ানো ও বলে লাথি দেওয়া’’ জাতীয় ঘরানায় ফিরে গেছে।’
কাইজারের এ আক্রমণ ইংল্যান্ডকে তাতিয়ে দিতে পারে কি না এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন এটাই। কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলো অবশ্য আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির আগে কিছুটা নির্ভারই মনে করতে পারেন নিজেকে। কারণ, তিনি দলে ফিরে পেয়েছেন অত্যন্ত পছন্দের খেলোয়াড় গ্যারেথ ব্যারিকে। গ্যারেথ ব্যারির উপস্থিতিতে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের বুনট অনেকটাই শক্তিশালী হবে। অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড তাঁর চিরাচরিত স্থান বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ পরিচালনা করার স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারবেন।
ইংল্যান্ড চিন্তিত হতে পারে স্ট্রাইকার ওয়েন রুনির ফর্ম নিয়ে। গত সেপ্টেম্বর থেকে রুনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনো গোল পাননি। এমিল হেসকি ইংল্যান্ডের পক্ষে ৫৯টি ম্যাচ খেলে ফেললেও গোল পেয়েছেন মাত্র সাতটি। সব মিলিয়ে ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে ক্যাপেলের কপালে চিন্তার খাঁজ থেকেই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচকে শুরু থেকে না খেলানো নিয়ে ইংলিশ মিডিয়ায় অনেক তোলপাড় হয়েছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ক্রাউচকে ইংল্যান্ড শুরু থেকে পাবে কিনা তা কিন্তু ঝুলেই রইল।
তবে ফ্যাবিও ক্যাপেলো নাকি ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ থেকে উত্সাহিত হওয়ার মতো অনেক কিছুই খুঁজে পেয়েছেন। তিনি সেই ব্যাপারগুলোকে খেলোয়াড়দের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদেরকে উজ্জীবিত করতে চাইছেন। এ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দেরও তা দরকার। না হলে ৪৪ বছরের খরা কাটানোর স্বপ্ন যে স্বপ্নই থেকে যাবে।

ডমেনেখের রেকর্ড গড়ার ম্যাচও

ফরাসি ডিফেন্ডার এরিক আবিদাল নিজ দলের সামর্থ্যটা ভালো করেই জানেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে নিষ্প্রভ ফুটবল খেলে ড্র করা ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে সে কারণেই নিরুদ্বিগ্ন তিনি। ‘২০০৬ সালেও একই অবস্থা হয়েছিল আমাদের। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। এবারও প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছি। এ নিয়ে তাই চিন্তার কিছু নেই’—বলেছেন আবিদাল।
কিন্তু ফ্রান্স দলও কি একই রকম নির্ভার থাকতে পারছে? পারছে না। দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে আজ মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় চাই। মেক্সিকোও প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ড্র করেছে (১-১)। সামনে ফ্রান্সের মতো পরাশক্তি, কিন্তু মেক্সিকোর অধিনায়ক জেরার্দো তোরাদোর কথায় সেই সমীহ কোথায়? ‘ফ্রান্স নামের ওজনে বড় হতে পারে। কিন্তু নাম তো আর মাঠে নেমে খেলবে না। খেলবে তো খেলোয়াড়েরাই।’ ঠিকই বলেছেন। দলের নামই যদি সব হতো, তাহলে চীনের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্স হারে না (০-১), ১-১ গোলে ড্র করে না তিউনিশিয়ার সঙ্গে। জিদানের সেই ফ্রান্স যেন কোথায় হারিয়ে গেছে!
আজ একটা পরিসংখ্যান ফ্রান্সের জন্য অনুপ্রেরণা হলেও হতে পারে—এর আগে দুই দলের ছয়টি ম্যাচ খেলেছে, মেক্সিকোর কাছে কখনো হারেনি তারা, জিতেছে ৫ ম্যাচ। তবে ফ্রান্স যেন নিজেদের ছায়া হয়ে আছে কিছুদিন ধরে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সকে দেখে হতাশ জিনেদিন জিদান তো বলেই দিয়েছেন, ‘এই ফ্রান্স তাঁর পছন্দ নয়।’ আজ জিজু যেখানেই থাকুন, ‘পছন্দের ফ্রান্সকেই’ খুঁজে ফিরবেন।
সর্বশেষ খবর—মালুদাকে ফেরানো হচ্ছে একাদশে। কোচের সঙ্গে ঝামেলা বাধায় প্রথম ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হয়েছিল বলে অনেকের ধারণা। দলের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড় সেসব ভুলে বলছেন, ‘আপনাকে জিততে হবে। একবার যখন আপনি জিতবেন, পৃথিবীর সবকিছুই সুন্দর লাগবে। সবাই আপনার বন্ধু হবে এবং আপনার দিকে হাসিমুখে তাকাবে।’
দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় উপহার দিতে মুখিয়ে আছেন থিয়েরি অঁরি। দলের খোঁড়ানো দেখে অঁরির কি আর ভালো লাগে! আজ তাঁর ওপর দায়িত্বটা তাই একটু বেশিই থাকছে। সাইডলাইন নয়, আজ সম্ভবত প্রথম একাদশেই থাকছেন এই স্ট্রাইকার।
আজ জিতলে মিশেল হিদালগোকে পেছনে ফেলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডটা (৪২ জয়) হয়ে যাবে ডমেনেখের। নিজের পছন্দের ছক ৪-২-৩-১-এ ফিরে ফ্রান্স কোচ চাইছেন সেই জয়টা তুলতে।

ফ্রান্স-মেক্সিকো
নিকোলাস আনেলকা
৬৪ ম্যাচে ১৪ গোল, জাতীয় দলে এক যুগের ক্যারিয়ারে আনেলকার রেকর্ডটা দেখলে হয়তো লজ্জা পাবেন তিনি নিজেও। সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিতে পারেন এই বিশ্বকাপে, যদি টেনে নিয়ে যেতে পারেন ফ্রান্সকে। প্রথম ম্যাচে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল তাঁর তিনটি হেড, আনেলকা আজ পারবেন গোলমুখ খুলতে?

জিওভানি ডস সান্টোস
হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে রোনালদিনহো! চেহারা, শরীর, চুলের সাদৃশ্য তো আছেই, আছে খেলার ধরনেও। সেই একই রকম ছটফটে, ভালোবাসেন বলের কারুকাজ করতে। প্রথম ম্যাচেই ডস সান্টোস দেখিয়েছেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার ভাবা হয়। নিজেকে চেনাতে চাইবেন আজও।

ম্যারাডোনার জন্য প্রস্তুত হু

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে একে অপরের বিপক্ষে লড়েছেন। এবারও সে একই লড়াই। পার্থক্য কেবল অবস্থানে। ২৪ বছর আগে দুজন মাঠে লড়েছেন ফুটবলার হিসেবে। এবার ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও হু জং-মুর লড়াইটা হবে কোচ হিসেবে। দুই কোচের লড়াই দেখতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। আজ বিকেলেই যে আর্জেন্টিনা-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচ!
২৪ বছর আগে মাছির মতো ম্যারাডোনার চারপাশে ঘুর ঘুর করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান কোচ হু। সুবিধা তেমন করতে পারেননি। আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচ জিতেছিল ৩-১ ব্যবধানে। সেবার আর্জেন্টিনাকে শিরোপাও এনে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। এবার কোচ হিসেবে যখন শিরোপা প্রত্যাশা করছেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি, তখন সামনে সেই পুরোনো শত্রু।
২৪ বছর আগে পারেননি। এবার আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ। তবে হুর দাবি, প্রতিশোধের লক্ষ্যে নয়, পেশাদার কোচ হিসেবেই ম্যারাডোনার দলকে হারাতে চান তিনি। রয়টার্সকে গতকাল বুধবার হু বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য আমি প্রস্তুত। মাঠেই সব প্রশ্নেরই জবাব দেব আমরা।’ ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার সঙ্গে ম্যাচের স্মৃতিচারণা করে হু বলেন, ‘ম্যারাডোনার মতো বিশ্বমানের ফুটবলারকে ঠেকানো যে কারোর জন্যই কঠিন ছিল। আমি কখনোই তাঁকে জোর করে থামানোর চেষ্টা করিনি। আমি ততটুকুই করেছি, মাঠে যতটুকু করার অধিকার রয়েছে একজন ফুটবলারের। অন্যায় কিছু করলে রেফারি অবশ্যই সেদিন হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠে সতর্ক করতেন অথবা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতেন।’

রোনালদোর হলুদ কার্ড বাতিলের দাবি পর্তুগালের

শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামতো হয়নি পর্তুগালের। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আইভরিকাস্টের বিপক্ষে ড্র করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পর্তুগালকে। উল্টো হলুদ কার্ড দেখেছেন পর্তুগালকে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখানো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিফার নিয়ম অনুসারে এরপর আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই এক ম্যাচ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে রোনালদোকে। তবে হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো কোনো কাজ রোনালদো করেনি কারণ দেখিয়ে সেই হলুদ কার্ড বাতিলের দাবি তুলেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন।
আইভরিকোস্টের গাই দেমেলের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পরলে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান উরুগুয়ের রেফারি জর্জ লারিয়োন্ডা। ঘটনার বিবরণ দিয়ে পর্তুগীজ ফুটবল ফেডারেশন বলছে,‘আইভরিকোস্টের পেনাল্টি বক্সের কাছে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় রোনালদোকে। উঠে দাঁড়ানোর পরে তাকে ঘিরে ধরে অপমান করে আইভরিকোস্টের খেলোয়াড়েরা।’ টেলিভিশনে অবশ্য দেখা গেছে, রোনালদোও দেমেলের দিকে তাকিয়ে চিত্কার করছিলেন।
রোনালদোকে বাইরে রেখে মাঠে নামতে চাইছে না পর্তুগাল। তাই হলুদ কার্ডের ফাঁড়া কাটানোর জন্যই ফিফার কাছে সেই হলুদ কার্ড প্রত্যাহারের তদবির। বহিস্কৃত হয়ে মাঠের বাইরে বসে থাকতে না চাইলে রোনালদোকেও এর পর থেকে মাথাটা ঠাণ্ডা রেখে খেলতে হবে।