Saturday, July 1, 2017

প্রসববেদনায় ছটফট করছেন যুবতী, অ্যাম্বুল্যান্স আগলে ১১ সিংহ! তার পর...

এ যেন এক রূপকথার গল্প! বাইরে সিংহের গর্জন আর তার মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে জন্ম নিল এক শিশু। না না, এটা কোনও সিনেমার গল্প নয়! এমন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল রাজকোটের জাফারবাদ গ্রামে। সূত্রের খবর, বুধবার রাতের বেলা হঠাত্ই প্রসবযন্ত্রণা শুরু হয় এক গভবর্তী মহিলার। তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১০৮ নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকেন। গ্রাম থেকে ওই মহিলার বাড়ির দূরত্ব ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার। এ দিকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পৌঁচ্ছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে চরম বিপদের সন্মুখীন হলেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। গোটা পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১১ থেকে ১২টি সিংহের দল। অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে তাঁরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু তার মধ্যে ঘটে যায় বিপত্তি। এরই মধ্যে মহিলার রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। বাইরে তখন সিংহের দল। এর মধ্যে দিয়ে চিকিতসাকেন্দ্র নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরেই প্রসব করাবেন। অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মচারীরা ডাক্তারকে ফোন করেন এবং ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে ডেলিভারির কাজ হয়। এর পর সিংহের দল সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। এর পর তাঁদের জাফারবাদ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন মা এবং শিশু উভয়েই সুস্থ। কথায় বলে, যার শেষ ভালো তার সব ভালো।
সুত্রঃ এই সময়

সুজানার কোলে শাকিব-অপুর সন্তান জয়

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের একমাত্র সন্তান আব্রাহাম খান জয়। এবারই ছিল তার জীবনের প্রথম ঈদ। আর এই ঈদে অপু বিশ্বাসের গুলশানস্থ নিকেতনের বাসায় গিয়েছিলেন অভিনেত্রী সুজানা। সেখানে জয়কে কোলে নিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন তিনি। আর সে সময়গুলো ক্যামেরাবন্দি করে গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে  পোস্ট করেছেন। এরপর থেকেই সে পোস্টে চলছে লাইক আর কমেন্টের ঝড়। সুজানা লিখেছেন- ঈদ আড্ডা, আমার সুন্দরী বান্ধবী আর তার রাজপুত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতেও এমন ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘রাজনীতি’ ছবিটি এবারের ঈদে ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। বুলবুল বিশ্বাস পরিচালিত এ ছবিটি দেখার জন্য আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ব্লকবাস্টার সিনেমাসে গিয়েছেন শাকিব খান। সেখান থেকে ফিরে আজই তিনি ছেলে জয়কে দেখতে যাবেন বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন। শাকিব খান ব্লকবাস্টার সিনেমাসে যাবার আগে বলেন, ঈদের সময় লন্ডনে ছিলাম। ফিরে এসে গতকাল(শুক্রবার) ঈদে মুক্তি পাওয়া আমার অভিনীত ‘নবাব’ ছবিটি শ্যামলী সিনেমা হলে দেখলাম। আজ ‘রাজনীতি’ ছবিটি দেখতে যাচ্ছি। সেখান থেকে ফিরে জয়কে দেখতে যাব। এখনও ছেলের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হয়নি আমার। অন্যদিকে অপু বিশ্বাস জানান, শাকিবকে বেশ মিস করছে জয়। একটু পর পর বাবা বলে ডাকছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর জয়ের জন্ম হয় কলকাতায়। শাকিব-অপুর বিয়ে হয়েছিল ২০০৮ সালের ১৮ই এপ্রিল। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখা হয়। পরে এ বছরই হঠাৎ করে গণমাধ্যমের কাছে বিয়ের কথা প্রকাশ করেন অপু বিশ্বাস। এ পর্যন্ত শাকিব-অপুর সন্তান জয়ের ছবি কোথাও প্রকাশ হলে সেটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

সেই জৌলুশ নেই নরসুন্দরদের

এই কিছু দিন আগেও নওগাঁর আত্রাইায়ের জাঁকিয়ে ছিলেন নরসুন্দরেরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা হাট-বাজারের অপরিহার্য অংশ ছিলেন। হাট-বাজারে রাস্তার পাশে বা গাছতলায় বসে খৌরকর্ম করত নরসুন্দর বা নাপিতরা। কোনো কোনো এলাকায় এদের শীল বলেও অবহিত করা হতো। পেশার ধরন পরিবর্তন হওয়ায় অনেক স্থানে এদের আর দেখা যায় না। তবে যারা আজও আধুনিক সেলুনের ব্যবস্থা করতে পারেনি তারা রয়ে গেছে রাস্তায় বা গাছ তলায়। আবার কেউ কেউ অন্য কোনো পেশায় যোগ দিতে পারেনি, তারা পুরনো নিয়মে পেশাকে আকড়ে ধরে আছেন। এদের একজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বিমল চন্দ্র শীল কান্দুর। হাটে হাটে বসে পুরোনো দিনের মতো চুল দাড়ি কামানোর প্রথাকে আঁকড়ে ধরে রুটি রুজির সন্ধানে আজও সময় পার করছেন। হাটে হাটে প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তার সংসার। বিমল চন্দ্র শীল কান্দুর বলেন, আজও আমি গাছের নিচ থেকে উঠে এসে বড় আয়না ঝুলানো দোকান দিতে পারিনি। তাই আজও বট বা বড় কোন গাছের নিচে বসে বিভিন্ন হাট-বাজারে আপন মনে এই পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। যুব সম্প্রদায়ের কেউ আর তার কাছে এই পিড়েয় বা ইটে বসে চুল দাড়ি কামাতে আসে না। সেলুনে যেতে যারা টাকার ভয় করে সেই মানুষগুলো চুল দাড়ি কামানোর জন্য তার কাছে আসে। আলাপচারিতায় উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের র্স্বগীয় রবি শীলের পূত্র গৌতম শীল বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই ক্ষুর, কাঁচি নিয়ে বাবার হাত ধরে এ পেশায় নেমে পড়েছি। এ পেশায় নিজেকে দক্ষ কারিগর হিসাবে গড়ে তুলতে আর অভাবের সংসারের হাল ধরতেই লেখাপড়া করতে পারিনি। ছোট বেলা থেকে অভাব অনাটন সাথে নিয়ে কোনো রকমে এই কাজ করে আজও বেঁচে আছি। এ কাজে অনেকের ভাগ্যের অনেক পরিবর্তন হলেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলেও জানান তিনি। এ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আজিজ জানান, জমিদার আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের শীল পরিবারের সদস্যরা নরসুন্দর বা নাপিতের কাজ করতো।
জমিদার আমলে এ পেশার বৈশিষ্ট্য ছিলো রমরমা। তখন তারা হাট বাজারে দল বেঁধে কাজ করতো। এলাকা ভেদে বিয়ের দিন বা আগের দিন বর ও কনের বাড়িতে নরসুন্দরদের ডাক পড়তো। সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে তাদের একটা অংশগ্রহণ ছিল। কালের বির্বতনে নরসুন্দর পেশার এখন ধরণ বদলেছে। রাস্তা ফুটপাত ও গাছ তলা থেকে উঠে এসেছে চক চকে দোকানের মধ্যে। এ পেশায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় এখন আর সেই আগের দিনের মত এ পেশার আর বাদ বিচার নেই। কোন বিশেষ শ্রেণীর মানুষ এখন আর এই পেশায় নেই। বরং সকল সম্প্রদায়ের কেউ না কেই এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। আধুনিক সভ্যতার এ যুগে নরসুন্দরা তাদের সেই পুরানো পেশা পরিবর্তন করে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় তাদের জীবন ধারা অনেক পাল্টে গেছে। সেই সাথে হাট বাজারে ফিড়েয় বা ইটের ওপর বসে নাপিতদের চুলদাড়ি কামানোর পুরনো দিনের কর্ম প্রায় হারাতে বসেছে। তবে এখনও কোথাও কোথাও ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাট বাজারে তাদের কাজ করতে দেখা যায়। ছোট বেলায় বাবার সাথে হাটে গিয়ে ফিড়েয় বা ইটে বসে চুল কেটেছি। আবার নাপিতরা বাড়ি বা গ্রামের মহল্লায় এসে নির্দিষ্ট স্থানে বসে সবার চুল দাঁড়ি কামিয়ে দিত। অনেকে নগদ পয়সা দিতো আবার অনেকে বছর ভিত্তিক ফসল উঠলে তাদের ধান পাট গম ছোলা দিয়ে চুলদাড়ি কামানোর টাকা পয়সা পরিশোধ করার রেওয়াজ ছিল।

কঠিন হচ্ছে আমেরিকায় প্রবেশ, বাড়ছে ক্ষোভও

ছয় মুসলিম-প্রধান দেশের বাসিন্দাদের ভিসা দিতে নতুন নিয়ম চালু করার প্রতিবাদে উত্তাল আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবার সমাজকর্মীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে হাতে হাত মিলিয়ে আন্দোলনে নামলেন আইনজীবীরাও। লস অ্যাঞ্জেলস থেকে নিউ ইয়র্ক, শিকাগো থেকে ওয়াশিংটন— রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের হাতে সাদা-কালো প্ল্যাকার্ড। যেখানে লেখা : ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্যাসিস্ট। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে আমেরিকার সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ পারিবারিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেই এই ৬টি দেশের নাগরিক বা উদ্বাস্তুরা মার্কিন মুলুকের ভিসা পাবেন। চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা মার্কিন অভিবাসন নীতি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে আংশিক সম্মতি দিয়েছে সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ৬টি দেশের সকল আবেদনকারীকে প্রমাণ দিতে হবে যে, তাদের অভিভাবক, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, সাবালক ছেলে বা মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ মার্কিন নাগরিক। নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে— দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনি, চাচা, মামা, ভাইপো-ভাইঝি, ভাগ্নে-ভাগ্নি, খালাতো-চাচাতো ভাই-বোন, শালা-ভগ্নিপতি, শালী-ননদ, দেওর-ভাসুর, বাগদত্তাসহ অন্যান্য আত্মীয়কে ‘ঘনিষ্ঠ’ পারিবারিক সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করা হবে না। ফলে ছয় মুসলিম দেশের নাগরিক এবং সব দেশের শরণার্থীদের আমেরিকায় প্রবেশ কঠিন হচ্ছে। যে ছয়টি দেশের নাগরিকদের উপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেগুলি হলো— ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নতুন এই নীতি কার্যকর হয়েছে। তবে এসব দেশের নাগরিক যাদের আগে থেকেই বৈধ ভিসা আছে তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। দ্বৈত নাগরিকরা যদি নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত দেশ থেকে আমেরিকায় আসেন তবে তাদের প্রবেশেও বাধা দেয়া হবে না। এছাড়া ব্যবসায়িক বা শিক্ষাগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে হোয়াইট হাউজের আবেদন মঞ্জুর করে, যেখানে ঘনিষ্ঠ নয় এমন আত্মীয়দের মার্কিন ভিসা কঠোর করার নীতি ৯০ দিনের জন্য অনুমোদিত হয়। শরণার্থীদের আমেরিকায় প্রবেশে ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞায়ও সায় দেন বিচারকরা। বিচারকদের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এ রুলিং ‘সরকারের সব শাখার ক্ষমতার পার্থক্য পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’। অন্যদিকে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ইমিগ্রান্টস রাইটস প্রজেক্টের পরিচালক ওমর জাদওয়াত বলেন, আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদেরই আমেরিকায় প্রবেশে অনুমতি দেওয়া উচিত। আর ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, নতুন নির্দেশের কারণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হবে, নিরপরাধ মানুষ আরো বিপদে পড়বে। নতুন নীতিতে এ ধরনের সবাইকে কঠোর যাচাইয়ের মুখে ফেলা হচ্ছে, বলেন তিনি।এদিকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিয়মটি বাস্তবায়ন শুরুর কিছু সময় আগে হাওয়াই অঙ্গরাজ্য এক ফেডারেল বিচারকের কাছে নতুন এই নিয়মের ব্যাখ্যা চেয়েছে।

আফগানিস্তানে বিমান হামলা, নিহত ১৩

আফগানিস্তানে বিভিন্ন উগ্রবাদী আস্তানায় দেশটির সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল। শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত ২৪ ঘন্টায় উগ্রবাদী আস্তানা লক্ষ্য করে আফগান বিমান বাহিনীর হামলায় ইসলামিক স্টেট গ্রুপের ৫ সদস্যসহ ১৩ সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে। খোয়াজা খিল গ্রাম,পাকতিকার বারমাল জেলা, কোরা কোল গ্রাম, সাল-ই-পুল জেলার সাইয়াদ ও আকসাই গ্রাম এবং জোজান প্রদেশের কোশ টিপা জেলায় এ অভিযানগুলো চালানো হয়।’ খবর সিনহুয়া’র। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অভিযানে উগ্রবাদীদের অস্ত্র ও গাড়িও ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তালেবান বা আইএস এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানায়নি।

উ. কোরিয়াকে আক্রমণের হুমকি ট্রাম্পের

উত্তর কোরিয়াকে বাগে আনতে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর থেকে কঠোর বাণিজ্যিক শর্ত তুলে নিতে চলেছে আমেরিকা। শুক্রবার বন্ধু রাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জেই–ইনের সঙ্গে হোয়াইট হাইসে বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এই নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উত্তর কোরিয়া নিয়ে ‘‌কৌশলগত ধৈর্যের’‌ পথ থেকেও সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ওবামার সময়ে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী হাতে নেন। সে সময় আমেরিকা বুঝিয়ে সুঝিয়ে পিয়ংইয়ংকে নিরস্ত করতে উদ্যোগী হয়। উত্তর কোরিয়ার মন রাখতে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক শর্ত চাপায়। উত্তর কোরিয়া কিন্তু পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী চালিয়ে গিয়েছে। এখন নিয়ম করে আমেরিকায় আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছেন উন। এই অবস্থায় আবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ব্যবহার করে উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখারক কৌশল নিলনে ডন। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‌নর্থ কোরিয়ার বেপরোয়া এবং পাশবিক হুমকির শিকার দুই দেশই। পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচীর দৃঢ়ভাবে উত্তর দেওয়ার সময় এসেছে।’‌ কীভাবে সে উত্তর দেয়া হবে তা খোলসা করেননি ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস বলেছেন, ‘‌উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যদি সেনা অভিযান চালাতে হয় তবে অবিশ্বাস্য উচ্চতায় পৌঁছবে। আর ফল হবে ভয়ানক। উত্তর কোরিয়াকে নিরস্ত করতে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টাও করেছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পরে চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠকে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব ছিল উত্তর কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপাক বেইজিং। চীন সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করেছে। এই অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ায় শাখা রয়েছে এমন একটি ব্যাঙ্ক এবং চীনা নাগরিকদের ওপর খড়্গ হস্ত হয়েছে। চীনের গাত্রদাহ বাড়িয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে ১৪২ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে আমেরিকা। ট্রাম্প এবং মুন দু’‌জনেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে এর জন্য উত্তর কোরিয়াকে অস্ত্র কর্মসূচি ছাড়তে হবে।

পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিন কিনছে ইসরাইল

ইসরাইল জার্মানির কাছ থেকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম তিনটি সাবমেরিন কিনছে। বিতর্কিত এ চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছে জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। জার্মান সাপ্তাহিক ডার স্পেইগেল কোনো সূত্র উল্লেখ না করে এ সংবাদ দিয়েছে। খবরে আরো বলা হয়েছে, দেড়শ কোটি ডলার ব্যয়ে জার্মানির কাছ থেকে ইসরাইল যেসব সরঞ্জাম কিনবে তার মধ্যে ডলফিন শ্রেণির তিনটি সাবমেরিন রয়েছে। এসব সাবমেরিন তৈরি করবে জার্মানির থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেম। প্রতিটি সাবমেরিন ১৬টি টর্পেডো বহন করতে পারবে।
এছাড়া, একটি সাবমেরিন থেকে ছোঁড়ার উপযোগী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে এতে। দেড় হাজার কিলোমিটার পাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্র ২০০ কিলোটন পরমাণু বোমা বহন করতে পারে। ইসরাইলের কাছে ডলফিন শ্রেণির পাঁচটি সাবমেরিন রয়েছে। সাবমেরিন কেনায় দুর্নীতি হয়েছে বলে এর আগে ইসরাইলি সংবাদ মাধ্যমে খবর বের হয়েছে। দুর্নীতির সাথে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জড়িত বলেও আভাস দেয়া হয়েছিল।

দ. চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বেইজিং

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিতি বিস্তার ও জোরদার করছে বেইজিং। স্পার্টলি দ্বীপপুঞ্জে যুদ্ধবিমানের জন্য ঘাঁটি নির্মাণ করছে। পাশাপাশি রাডার স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র চৌকি বসানো হচ্ছে। এ সব চৌকির ছাদ জরুরি অবস্থায় সরিয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া নেয়া যাবে। উপগ্রহ থেকে নেয়া ছবির ভিত্তিতে এ কথা জানিয়েছে এশিয়া মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ বা এমটিআই। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের দ্বীপ ফিয়ারি ক্রুস, মিসচিফ এবং সুবি রিফসেও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র, রাডার এবং যোগাযোগ স্থাপনাসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি দুই ধরণের কাজে ব্যবহারযোগ্য স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলছে জোরেশোরে। দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে যে সব দেশের সঙ্গে চীনের বিরোধ রয়েছে তাদের সাথে শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকারের কথা ঘোষণা করছে বেইজিং। এ সত্ত্বেও একই সঙ্গে গোটা দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক উপস্থিত জোরদার করছে বেইজিং। চীন ওই অঞ্চলে তার শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : ওয়েবসাইট

নিউইয়র্কের হাসপাতালে বন্দুক হামলা, হতাহত ৭

নিউইয়র্কের একটি ব্যস্ত হাসপাতালে বন্দুকধারীর হামলায় শুক্রবার বিকেলে এক নারী চিকিৎসক নিহত ও অপর ছয়জন আহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে।দেশটির কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। মেয়র বিল ডি ব্লাসিও ও পুলিশ প্রধান জেমস ও’নীল জানিয়েছেন, হামলাকারী নিজেও একজন চিকিৎসক এবং হাসপাতালের সাবেক কর্মী। তারা এই ঘটনার সাথে সন্ত্রাসবাদের সম্পৃক্ততা নাচক করে দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারী সাদা রঙের কোট পরে হাসপাতালে প্রবেশ করে। সে তার স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি শার্টের নিচে লুকিয়ে রেখেছিল। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার কিছু আগে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট ব্রোনক্স-লেবানন হাসপাতালে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় অনেক রোগী চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছিলেন। হামলার পরপরই পুলিশ হাসপাতালের চারপাশ ঘিরে ফেলে। এ সময়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা হাসপাতালের ছাদে অবস্থান নেয়। তারা প্রতিটি ভবনের তলায় গিয়ে হামলাকারীর সন্ধানে তল্লাশি চালায়। হামলাকারীকে ভবনটির ১৮ তলায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সর্বশেষ এই হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিতর্ককে আবার উস্কে দিতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।

পণ্যবাহী কনটেইনার ও জাহাজজটে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মযজ্ঞে স্থবিরতা

ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জীবনযাত্রা। শিল্পের চাকা বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিপণ্য ডেলিভারিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ফলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে আমদানিপণ্য বোঝাই কনটেইনারের স্তূপ জমেছে। আমদানি কনটেইনার রাখার ইয়ার্ডগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পাঁচ হাজার আমদানিপণ্য পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এমনি পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অবস্থানকাল যেমনি বেড়েছে তেমনি সৃষ্টি হয়েছে জাহাজজটের। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ১২৩টি কর্মক্ষম (ওয়ার্কেবল) জাহাজের মধ্যে ৬৬টিতে কাজ হলেও ৫৭টি জাহাজ অলস বসে ছিল। বন্দর সূত্র জানিয়েছে, ঈদের ছুটি শেষ হলেও বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানাসহ শিল্প কারখানার বেশির ভাগেরই ছুটি এখনো শেষ হয়নি। ফলে বন্দরের কনটেইনার ডেলিভারিতে অনেকটা স্থবিরতা দেখা দেয়। সূত্র মতে, দৈনিক যেখানে তিন হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সাইজের কনটেইনার হিসাবে) এর অধিক কনটেইনার ডেলিভারি হয় সেখানে গত তিন দিনে ডেলিভারি হয়েছে মাত্র ১৩ শ’ টিইইউএস কনটেইনার। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৮৭৬ টিইইউএস কনটেইনার জাহাজ থেকে খালাস হলেও ডেলিভারি হয়েছে ৭১৩ টিইইউএস। সূত্র জানায়, ঈদের আগের দিন গত ২৫ জুন বন্দর ইয়ার্ডে যেখানে আমদানিপণ্য বোঝাই ২৬ হাজার ৭৫২ টিইইউএস কনটেইনার ইয়ার্ডে ছিল, গত বৃহস্পতিবার তা ছিল ৩১ হাজার ৮৮৯ টিইইউএস। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ছিল ৫ হাজার ১১৪ টিইইউএস। বন্দর ইয়ার্ডে আমদানিপণ্য বোঝাই কনটেইনার ধারণক্ষমতা রয়েছে ২৬ হাজার ৮৫৭ টিইইউএস। সূত্র জানায়, বন্দর ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখার ক্যাপাসিটি হিসাব করা হয় সিক্স হাই হিসেবে (প্রতি ভাঁজে ৬টি কনটেইনার)। সে কারণে বাস্তবে বন্দর অভ্যন্তরে এখন কনটেইনার মুভমেন্টই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সূত্র দাবি করছে। সূত্র মতে, জেটিতে নোঙররত ১০টি কনটেইনার জাহাজ এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ২৬টি জাহাজ থেকে নামার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার। এমনিতেই ডেলিভারি কার্যক্রমে স্থবিরতা, এর ওপর গত ২৫ জুন বন্দরের সিসিটিতে জাহাজের ধাক্কায় গ্যান্ট্রিক্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গিয়ারলেস জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় সবচেয়ে বেশি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বন্দরের তথ্যানুযায়ী গত ১৮ জুন বন্দরে আসার গিয়ারলেস কনটেইনার জাহাজ এখনো বার্থিংয়ের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া বন্দরের জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ) এরিয়ায় কনটেইনারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আমদানিকৃত কাঠের রাউন্ডলগ, স্টিল বিলেট, স্টিল কয়েল, বিভিন্ন কৃষিজপণ্যসহ খোলা পণ্যের স্তূপ জমেছে বলে বন্দর সূত্র জানিয়েছে। তাদের মতে, যথাযথভাবে হ্যান্ডেল করা না গেলে সৃষ্ট জট নিরসনে আরো অন্তত ১৫ দিন লেগে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, গত রোববার থেকে ঈদের ছুটি হলেও কার্যত ছুটি শুরু হয় শুক্রবার থেকে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বেশির ভাহ শিল্প কারখানায় ঈদের ছুটি শেষ না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকায় ডেলিভারিতে স্থবিরতার ফাঁদে পড়েছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

বালিয়াকান্দিতে সন্তানকে বাচাঁতে মায়ের আকুতি

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাবরকোল গ্রামের মৃত আব্দুর রব শেখের ছেলে আব্দুল আওয়াল হৃদয় (২৮) দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছেন। দরিদ্রতার কষাঘাতের কারণে এখন ধনবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বৃদ্ধা মা হোসনে আরা বেগম। প্রিয় সন্তান অর্থের অভাবে চোখের সামনে চলে যাবে না ফেরার দেশে তা তিনি মানতে পারছেন না কোন ভাবেই। তাই তিনি সমাজের সামর্থবানদের কাছে তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্যে চেয়েছেন। কিডনী রোগে আক্রান্ত আব্দুল আওয়াল হৃদয়ের মা হোসনে আরা বেগম জানান, তার ছেলে দীর্ঘ দিন ধরে কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলো। হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল , সাভারের এনাম মেডিকেল ও সর্বশেষ জাতীয় কিডনি ইন্সটিটিউট নেওয়া হয়। বর্তমানে সে ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সোয়েব নোমানীর তত্বাবধায়নে রয়েছে। এখন তার দু’টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ডাক্তার বলেছে কিডনি প্রতিস্থাপন করলে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব। হৃদয়ের বড় ভাই মোঃ আব্দুল আলিম জানান, তার ভাই সাভারের হেমায়েতপুরের একটি গার্মেন্টস এর শ্রমিক ছিল। তার ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ছোট ভায়ের চিকিৎসাবাবদ প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এতো টাকা আমাদের যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না । ১৬ কোটি মানুষের দেশে কয়েক লক্ষ টাকার জন্য আমার প্রিয় ভাইকে হারাবো তা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যদি কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্যে করেন তাহলে হয়তো আমার ভাই অকালে মারা যাবে না। সাহায্যে পাঠানোর ঠিকানা- বিকাশ নাম্বার ০১৯৬৪-৬০১১৩৬ (বড় ভাই) ও সঞ্চয়ী হিসাব নং-৮০৪০, কৃষি ব্যাংক, বালিয়াকান্দি শাখা, রাজবাড়ী।

ফুলবাড়ীয়ায় বাড়ীঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট : আহত ৩

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের বৈদ্যবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের বাড়ী ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের প্রকাশ্য হত্যার হুমকিতে ৬ দিন ধরে ঘরবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ১২ সদস্যের পরিবারটি। উপজেলার বৈদ্যবাড়ী হুগলিপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ৭ মেয়ে নিয়ে সুখেই কাটছিল সংসার। তৃতীয় মেয়ে লাভলী বেগমের নামে ৭ শতাংশ জমি লিখে দেয়ার পর থেকে কাল হয়ে যায় তার ভাই তারা মিয়া। লাভলী বেগমের স্বামী বায়িায়ান ইউনিয়নের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলতাব আলী ফকিরের পুত্র আঃ আজিজ। তারা মিয়া তার স্ত্রী মালেকা খাতুন ছেলে ওয়াসিম তার স্ত্রী রূপালী বেগমের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায় হযরত আলীর সংসারে উপর। ঘরের সাথে ঘর হওয়ায় সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে হযরত আলী তার ৭ মেয়ে। ৭ মেয়ের মধ্যে ৫ মেয়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে চাকরী করে। শাবানা খাতুন (১০) হোছনা খাতুন (৮) কে নিয়ে বাড়ীতেই বসবাস করে হযরত আলী। ঈদে মেয়ে ও তার জামাইরা বাড়ীতে আসলে ঈদের দিন বিকালে মারপিট করে তারা মিয়ার স্ত্রী পুত্ররা। ঈদের পরের দিন রাত ৮ টার দিকে তারা মিয়া ১০/১২ জন ভাড়াটিয়া এনে ঘরবাড়ী ভাংচুর করে নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় আহত হয় হযরত আলীর মেয়ের জামাতা হারুণ অর রশিদ, মেয়ে শাবানা খাতুন (১০) ও হোসনা খাতুন। ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ৬ দিন ধরে ঘরবাড়ী ছাড়া ১২ সদস্যের অসহায় পরিবারটি। হযরত আলী জানান, আমার কোন ছেলে সন্তান নাই। জমি আছে ২২ শতাংশ। ৭ মেয়ের মধ্যে তৃতীয় মেয়ের নামে ৭ শতাংশ জমি লিখে দেয়ার পর থেকে আমার পরিবারের উপর নানা অত্যাচার করছে তারা মিয়ারা। বাধা দিতে গেলেই হত্যার হুমকি দেয়। বাড়ীতে গেলে পিটিয়ে বের করে দেয়। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখায়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমি দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে নিজ বাড়ীতে বসবাস করছি। তারা মিয়া ও তার ভাড়াটিয়াদের অব্যাহত হত্যার হুমকিতে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে রাত্রী যাপন করছি। হযরত আলী মেয়ের জামাতা আঃ আজিজ জানান, আমার পিতা বালিয়ান ইউনিয়নের সাবেক মুক্তিযোদ্দা কমান্ডার ছিলেন। শ্বশুড় আমার স্ত্রীর নামে জমি লিখে দেয়ার পর শ্বশুড়কে নিয়ে বাড়ীতে বসবাস করছি। জমি লিখে দেয়ার পর থেকে তাদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে তারা মিয়া। এবার ঘরবাড়ী ভাংচুর করে লুটপাট করে আমাদেরকে পিটিয়ে ঘরবাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে। হযরত আলীর মেয়ে লাভলী আকতার জানান, আমরা গার্মেন্টেসে চাকরী করে কষ্টার্জিত টাকায় বাড়ীঘর করেছি। সেই বাড়ীঘর ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। নিয়ে গেছে নগদ টাকা স্বর্নালংকার। দুই ছোট বোন নিয়ে আমার বৃদ্ধ পিতা মানুষের বাড়ী বাড়ী রাত্রী যাপন করছে। আমরা এ ঘটনার বিচার। নিজের বাড়ীতে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

সেনবাগ সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

নোয়াখালীর সেনবাগ সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রথম র্বষ একাদশ শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ শনিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এউপলক্ষে শনিবার (০১জুলাই) সকাল ১০টারদিকে সেনবাগ উপজেলা ও ছাত্রলীগ কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের ফুলদিয়ে বরণ করেন । এরপর সেনবাগ কলেজ ছাত্র-ছাত্রী মিলনায়তনে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা আবু শোয়েবরে সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশের সভাপতি ফিরোজ আলম রিগান। বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল হক তানভীর । আলোচনা শেষে উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে একটি আনন্দ মিছিল বের করে।

ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটানায় নিহত ২

ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত মহিলাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনা দুটি ঘটেছে শনিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কাঠালী ও শুক্রবার রাতে একই সড়কের মাস্টারবাড়ি আাইডিয়ালের মোড় এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূতে জানা যায়, শনিবার সকালে ময়মনসিংহগামী মাছবোঝাই পিকআপের সাথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার কাঠালী বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল এর সামনে বিপুরীতগামী যাত্রীবাহি বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পিকআপ চালক রুবেল হোসেন (৩২) মারা যান। নিহত রুবেল হোসেন শরীয়তপুর জেলার শশীপুর উপজেলার চরবাঘা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। এদিকে শুক্রবার রাতে একই সড়কের মাস্টারবাড়ি আইডিয়ালের মোড় এলাকায় গাড়ি চাপায় অজ্ঞাত মহিলা (৫০) ঘটনাস্থলেই মারা যান। ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: জহিরুল ইসলাম জানান, নিহত মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগির

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগ করে নতুন কমিটি ঘোষণা দেয় বিএনপি। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য আসে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় কিছু হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটির পুনর্গঠন ও নতুন কমিটি না হওয়ায় এলোমেলো অবস্থা বিরাজ করছে। এমন কিছু থানা রয়েছে যেগুলোতে কমিটির মেয়াদ প্রায় দুই যুগ। ফলে তৃণমূলের সাথে সিনিয়র নেতাদের দূরত্ব বাড়ছে। এ অবস্থায় সময়মতো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলেও দ্রুত তা ঘোষণা করবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। অন্য দিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্য, তরুণ ও ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ব্যাপারে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ আন্দোলনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ের মধ্যে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। তবে থানা কমিটি গঠনে সময় লাগবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলÑ বিএনপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ ও উত্তরের আংশিক নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয় গত ১৮ এপ্রিল রাতে। মহানগর দক্ষিণে বিএনপির ৭০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতি হন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার। অন্য দিকে ৬৬ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর উত্তরে বিএনপির সভাপতি হন এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান। জানা গেছে, মহানগর বিএনপির উত্তর ও দেিণর আংশিক কমিটি ঘোষণার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা জানতে পারে কমিটি ঘোষণায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ও শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য জোগাড় করছে সংস্থাগুলো। এসব সংস্থার প্রতিবেদনে কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নেতাদের মামলা ও রাজনৈতিক পরিচয় স্থান পায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করেন দলের সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতারা। এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মহানগর নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদপে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের মধ্যে কোন্দল থাকায় দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করতে পারেনি মহানগর বিএনপি।
এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতিতে ঢাকা মহানগর দেিণ ৭০ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরে ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্যসচিব করে ৫২ সদস্যের ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি ঘোষণার পর দলীয় কোন্দল এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি মহানগর বিএনপি। জানা গেছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাদের পর্যালোচনায় বলেছেÑ ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে তরুণ নেতাদের স্থান দেয়া হয়েছে। তবে কিছু নেতা কাক্সিক্ষত পদ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। যদিও বিএনপির অভ্যন্তরে কমিটি নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। সেই সাথে খোকাপন্থী ও আব্বাসপন্থী হিসেবে অনেকের তকমা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্থার পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর কমিটিকে পর্যবেণে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন কমিটির কার্যক্রম ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল নয়া দিগন্তকে বলেন, নতুন কমিটি হওয়ার পর আমরা সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এখনো আমরা নিজেরাই পর্যবেক্ষণ করছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে যোগ্য, দক্ষ ও ত্যাগীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে সহায়ক সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির অন্যতম এই যুগ্ম মহাসচিব।

দেশের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের আশংকা

দেশের কোথাও কোথাও আজ মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘন্টায় আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করে বিহার হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গেপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গেপসাগরের অন্যত্র মাঝারী অবস্থায় রয়েছে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫ টা ১৫ মিনিটে। বাসস

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ‘জঙ্গিবাদ’ নির্মূল অসম্ভব : রিজভী

সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ‘জঙ্গিবাদ’ নির্মূল অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে দেশে ‘জঙ্গিবাদ’ নির্মূল হবে না। আজ শনিবার সকালে গুলশানে হলি আর্টিজেন বেকারীর ঘটনাস্থলে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এই দেশ ও জাতির জন্য আজকের দিনটি একটি কালো অধ্যায়। দেশ-বিদেশের এতোগুলো মানুষ উগ্রবাদী জঙ্গিদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়া এটি নি:সন্দেহে আমাদের যে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং দেশের যে এগিয়ে চলা, আমরা যে সম্প্রীতির পক্ষে, প্রগতির পক্ষে, অগ্রগতির পক্ষে সেখানে কলঙ্ক তিলক তারা এঁকে দিয়েছিলো। রিজভী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এ ব্যাপারে একটা সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিভিন্নভাবে যে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক চেপে বসেছে, সেটিকে উৎখাত করা হবে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের দিকে থেকে এই ধরণের কোনো সমন্বিত উদ্যোগ আমরা দেখিনি। সকাল পৌনে ১১টার দিকে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্ব ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গুলশানের ৭৯ নং সড়কের হলি আর্টিজেন বেকারীর প্রাঙ্গণে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন। প্রতিনিধি দলের ছিলেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, জাসাসের রফিকুল ইসলাম তালুকদার, শায়রুল কবির খান ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল্লাহ আল মামুন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গ টেনে রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, যতবারই শুনেছি যে ক্ষমতাসীনরা নির্মূল করছেন, তারপরও দেখা গেছে যে কোথাও না কোথাও উগ্রবাদ তার হিংস্র থাবা মেলেছে, তার হিংস্র কামড় দিয়েছে। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের কাজ নয়। এটি হচ্ছে জাতির সামগ্রিক পদক্ষেপের একটি বিষয়। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সকলে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। আমাদের দীর্ঘদিনের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, ভালোবাসা দেশ, একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছাবোধের দেশ, আমাদের সেই ঐহিত্য আর কোনোভাবে যাতে ম্লান না হতে পারে, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখা, সেই হিসেবে সবাইকে কাজ করা। হলি আর্টিজেনের ঘটনার তদন্ত ও অভিযোগপত্রের প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, এই যে ঘটনা এখনো অভিযোগপত্র দেয়া হয়নি, কি ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বা প্রশাসন এখানে কী ধরনের কাজ করছে, আমরা বলতে পারছি না। আমরা আগে বলেছি, এ ব্যাপারে সমন্বিত উদ্যোগে নেয়া হতো, বিষয়টি বিশ্লেষণ করে, তদন্ত করা যেতো- এদের গুহাগুলো কোথায়, এদের নেটওয়ার্ক কোথায়- এটি যদি অনুসন্ধান করে চিহ্নিত করা যেতো তাহলে আর পূনরাবৃত্তি হতো না, আর এ সমস্ত ঘটনা হতো না। আমরা চাই, কোনো ধরণের যেন রহস্য তৈরি না হয়। বাইরের বিভিন্ন সংগঠন বলছে এটা আইএস আইএস করছে, সরকার বলছে না এটা করছে না। এগুলোর মধ্য দিয়ে যে রহস্য দানা বেঁধেছে, সেই রহস্য এবং কুঞ্জটিকা সরানোর দায়িত্বও হচ্ছে সরকারের। এগুলো মানুষের মন থেকে সকল শঙ্কা ও আশঙ্কা দুরীভুত করার দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদের, তারা এই কাজটি করবে। আর যাতে এদেশে উগ্রবাদের অন্ধকার ছোবল যাতে না হয়, উগ্রবাদরা বিষাক্ত ছোবল যাতে না দিতে পারে, যথাযথভাবে সেটি চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

‘জঙ্গি’ নির্মূল হয়নি, দুর্বল হয়েছে : কাদের

জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধভাবে এসে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এই দেশে জঙ্গিরা দুর্বল হলেও এখনো নির্মূল হয়নি। তাই যারা জঙ্গিবাদের পৃষ্টপোষক তাদের সেই প্ল্যাটফর্মে আহ্বান জানানো হবে না বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্যারিসের পুলিশ যেটা পারেনি বাংলাদেশের পুলিশ সেটা করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ যৌথভাবে জঙ্গি দমনে সফলতা পেয়েছে। আজ শনিবার সকালে হলি আর্টিজান রোস্তরাঁয় হামলার এক বছর উপলক্ষে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় মাহবুব-উল-হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এনামুল হক শামীম, আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ তার সাথে ছিলেন।

হলি আর্টিজানে নিহতদের স্মরণ

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার এক বছর পূর্তিতে সেখানে উগ্রবাদীদের হাতে নিহত দেশি-বিদেশিদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল থেকে  রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের এ রেস্তোরাঁয় নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নিহতদের পরিবারের স্বজনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য হলিজান আর্টিজান রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা রয়েছে। সকালে প্রথমে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন, জাপানের রাষ্টদূত মাশাতো ওয়ানাতাবে এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মিকিও হাতাডেয়া। তাঁরা শ্রদ্ধাস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সকাল ৮টায় হলি আর্টিজানের সামনে মূল সড়কে সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশিদের অনুরোধে তাঁদের ছবি তোলা যাবে না, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে বিদেশিরা পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ছবি না তোলার আবেদন করছেন। তাঁদের অনুরোধে ছবি না তোলাই উত্তম।

মামলার তদন্তই শেষ হয়নি

আজ ১ জুলাই। রাজধানীর গুলশানের হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ উগ্রবাদী হামলার এক বছর। দেশের সবচেয়ে ভয়াবহতম উগ্রবাদী হামলার বছর পূর্ণ হলেও এ মামলায় এখনো চার্জশিট প্রদান করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঞ্চল্যকর ওই হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত উগ্রবাদী এবং পরিকল্পনাকারীদের সবাই নিহত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চারজন গ্রেফতার হয়েছে। এর বাইরে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনকে গ্রেফতার করতে পারলে এ মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে। এ তিনজন হলো সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ ও বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট। এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় উগ্রবাদী হামলার ঘটনায় শিগগিরই নির্ভুল ও নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা হবে।  গত বছরের এই দিনে গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর রোডের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় বন্দুকধারী উগ্রবাদীরা। দেশের উগ্রবাদীদের এটাই সবচে বড় নাশকতা বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ নিহত হয় ২৩ জন। আর সেখানে কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় ৫ হামলাকারী ও এক সন্দেহভাজন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গুলশান হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি যেসব আলামত পরীার জন্য নিয়েছে তার রিপোর্ট এক বছরেও হাতে পায়নি কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। তদন্তকারী সূত্র জানায়, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে যারা নিহত হয়েছে বা আটক হয়েছে তারা সবাই কোনো-না-কোনোভাবে আর্টিজান হামলায় জড়িত। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলো নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক হাসনাত রেজা করিম এবং কল্যাণপুরে উগ্রবাদবিরোধী অভিযানে আটক রাকিব ওরফে রিগ্যান। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে প্রায় ১০০ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২ জন প্রত্যদর্শী হিসেবে তাদের জবানবন্দী দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ধারণা, এ হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডা প্রবাসী তামিম আহমেদ চৌধুরী। পরে তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তামিম আহমেদ চৌধুরী হোলে আর্টিজানের হামলায় অপারেশন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছে। হামলায় ব্যবহƒত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার একটি অস্ত্র কারখানায় তৈরি করা হয়েছিল এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তপথ দিয়ে ট্রাকে আমের ঝুড়িতে করে সেগুলো ঢাকায় আনা হয় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। গোয়েন্দা সূত্র মতে, উগ্রবাদী সোহেল মাহফুজ গুলশান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহের মূল হোতা। সে জেএমবির পুরনো ধারার সাথে যুক্ত ছিল। জেএমবির শীর্ষ ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর হলে সংগঠনটির আমির হয় সাইদুর রহমান। ওই সময় জেএমবির শূরা (নীতিনির্ধারণী) কমিটির সদস্য পদ পায় মাহফুজ। আরেক উগ্রবাদী রাশেদ ওরফে র‌্যাশ গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন। পাঁচ উগ্রবাদীকে হামলার আগে রাজধানীর বসুন্ধরার যে বাসায় রাখা হয়েছিল, ওই বাসায় রাশেদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। উগ্রবাদী বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট গুলশান হামলার জন্য দুবাই থেকে আসা ১৪ লাখ টাকা বাংলাদেশে গ্রহণ করে বলে তথ্য রয়েছে তদন্ত সংস্থার কাছে। দুবাইয়ে পলাতক মুফতি শফিকুর রহমান নব্য জেএমবিকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা করত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। বাশারুজ্জামান ওই অর্থ সংগ্রহ করে মূল সমন্বয়ক তামিমের কাছে দিত। বাকি দুই উগ্রবাদীর মধ্যে একজন সপরিবারে সিরিয়ায় পলাতক ডাক্তার রোকন। গুলশানে উগ্রবাদী হামলার আগে নব্য জেএমবির তহবিলে টাকা দেয় ডাক্তার রোকন। সংগঠনটির শূরা বোর্ডের এক সদস্য টাকা গ্রহণ করে। দুই দেশ ঘুরে হাত বদল হয়ে এ টাকা বাংলাদেশে পৌঁছায়। নব্য জেএমবির ছোট মিজান গুলশান হামলাসহ নব্য জেএমবির দেশব্যাপী হামলায় ব্যবহƒত অস্ত্র ও গ্রেনেডের জোগানদাতা। পুলিশ জানায়, মিজানের নেতৃত্বে গুলশান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাদের একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানÑ যাকে এরই মধ্যে গুলশান হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
এখন ছোট মিজানকে খুঁজছে পুলিশ। এ দিকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আর্টিজান হামলায় যারা সরাসরি জড়িত ছিল তারা কেউ জীবিত নেই, তারা ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এর বাইরে এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী, সহযোগিতাকারী এবং নানাভাবে যারা ভূমিকা রেখেছে এই রকম অনেককে চিহ্নিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে গত এক বছরে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছে আরো আটজন। জীবিত থাকলে হোলে আর্টিজান মামলার আসামি হতো তারা। এর বাইরে এ চারজন গ্রেফতার রয়েছে। তাদের তিনজন ইতোমধ্যে তাদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তিনি বলেন, তারা আরো অন্তত পাঁচজনকে খুঁজছেন। তার মধ্যে অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার করতে পারলে তদন্ত শেষ করবেন। তা না হলেও এই বছরের মধ্যেই তদন্ত শেষ করবেন। আর্টিজান হামলায় নিহত ১৭ বিদেশীর মধ্যে একজন ভারতীয়, নয়জন ইতালীয় ও সাতজন জাপানি। প্রায় ১২ ঘণ্টার ওই পণবন্দী সঙ্কট শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান অপারেশন থান্ডারবোল্টের মধ্য দিয়ে। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই র‌্যাব-পুলিশের সদস্য। তাদের কয়েকজন বলেছেন, উগ্রবাদীদের সেই হামলার ক্ষত এখনো তারা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। এ দিকে উগ্রবাদী হামলার পরে অনেক রাষ্ট্র তাদের নাগরিককে বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে। ব্যবসায় বাণিজ্যেও অনেকটা ধস নামে। বিশেষ করে ওই এলাকার হোটেল ব্যবসায় এখনো জমে ওঠেনি। বিদেশীরা এখনো সতর্কতার সাথে রাতে ঘোরাফেরা করেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

ট্রাম্প-জিনপিং ‘হানিমুন’ শেষ!

বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক উত্তেজনার এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। চীনের কাছে হংকংকে ফিরিয়ে দেয়ার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এখন উৎসবের আমেজে রয়েছেন। ঠিক সেই সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চীনের একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাইওয়ানের কাছে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রি চুক্তির মধ্য দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টের খোশ মেজাজ অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এপ্রিলেই নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোর বিলাসবহুল রিসোর্টে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে করেন। ওই বৈঠকে ট্রাম্প চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে উল্লেখ করেন। তবে অনেকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সেই ‘হানিমুন’ শেষ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র যখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে, ট্রাম্প ও জিনপিংয়ের সম্পর্ক তখন শীতল হতে শুরু করেছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের কাছে ১৪২ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
তাইওয়ান স্বায়ত্তশাসিত দেশ হলেও চীন এটাকে তার নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। আর সে কারণেই তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত মার্কিন-চীন সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে চীন। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দু’জন চীনা নাগরিক ও চীনের ব্যাংক অব ড্যানডংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন ব্যাংকটিকে অর্থপাচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কালো তালিকাভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি ও চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কুই তিয়ানকাই বৃহস্পতিবার পিপল’স ডেইলি পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পদক্ষেপকে ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের চেতনাবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি অবশ্যই পারস্পরিক আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে এটা মার-এ-লাগোতে এ দুই নেতার বৈঠকের চেতনাবিরোধী।’ চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি চীনের দীর্ঘদিনের ‘এক চীন নীতিকে’ও মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। তিয়ানকাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে চীন শক্ত প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে চীনের অধিকার থাকবে।’ নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই চীনের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বিভিন্ন বক্তব্য আসছিলেন ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চীনের ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের কাছে ট্রাম্পের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এক চীন নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বৃহস্পতিবার বিতর্কিত এ অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের অধীনে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি এটাই প্রথম। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দাবি করেছে, এসব অস্ত্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। গত মার্চে প্রথম এ সব অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ার্ট জানিয়েছেন, চুক্তির আওতায় তাইওয়ানে যে অস্ত্রগুলো সরবরাহ করা হবে তার মধ্যে রয়েছে রাডার বিধ্বংসী উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ভারি টর্পেডোসহ সাত ধরনের অস্ত্র।

জাতিসংঘের তদন্ত দলকে ঢুকতে দেয়া হবে না

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘ কোনো দল পাঠালে তাদের মিয়ানমারে প্রবেশ করতে ভিসা দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মিয়ানমার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা। শুক্রবার রাজধানী নাইপিদোয় এক বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সেক্রেটারি কিয়াও জেয়া এ কথা জানান। শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, জাতিসংঘের কোনো মিশনকে সহায়তা দেয়া হবে না। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। কিয়াও বলেন, ‘যদি তারা তদন্তের জন্য কোনো দল পাঠাতে চায় তবে তাদের মিয়ানমারে প্রবেশ করতে দেয়ার কোনো কারণ আমরা দেখছি না।’ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলা জান্তাশাসনের অবসান গঠিয়ে গত বছর নির্বাচনের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতায় আসে সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি। গত বছর অক্টোবরে রোহিঙ্গা ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা’ মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশের তিনটি পোস্টে হামলা চালিয়ে ৯ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করে। ওই হামলার পর রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সেনা অভিযানে শতাধিক মানুষ নিহত হয়। অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হয়। পুড়িয়ে দেয়া হয় এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। প্রাণ ভয়ে প্রায় ৭৫ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, সেনা অভিযানের নামে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়ন করা হচ্ছে, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। সুচি সরকার বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পরিস্থিতি যাচাইয়ে সরকারি তদন্ত দল গঠন করেছে। জাতিসংঘ একটি তদন্ত দল পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাইছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই রাখাইন রাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং কোনো আন্তর্জাতিক দলকে সেখানে এমনকি ত্রাণ নিয়েও প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে কঠোর সমালোচনা মুখে রয়েছেন সুচি। জুন মাসে সুইডেন সফর করেন তিনি। ওই সফরে জাতিসংঘের তদন্ত দল প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘জাতিসংঘের তদন্ত দলের কারণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈরীভাব আরও বেড়ে যেতে পারে।’ ফেব্রুয়ারিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জাতিসংঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং এ ধরনের মানবাধিকার বিরোধী অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়। সম্ভবত রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্মূল করতেই ওই সেনা অভিযান চলছে বলে ওই প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক রেজ্যুলেশনে রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের অভিযোগ এবং মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে জাতিগত দাঙ্গার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত দলের নাম প্রস্তাব করা হয়। ভারতের সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংয়ের নেতৃত্বে ওই দলের বাকি দুই সদস্য শ্রীলংকার আইনজীবী রাধিকা কুমারাস্বামী এবং অস্ট্রেলিয়ার কনসালটেন্ট ক্রিস্টোফার ডোমিনিক। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে কিয়াও বলেন, ‘যেখানে আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এখনও শেষ হয়নি সেখানে কেন তারা অকারণ চাপ তৈরি করতে চাইছে? এটা এ ইস্যুটি সমাধানে আমাদের প্রচেষ্টায় সহায়তা নয় বরং এটি হস্তক্ষেপ।’

কাতার বিষয়ে ট্রাম্প-এরদোগান ফোনালাপ

মধ্যপ্রাচ্যের কাতার সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুই নেতার মধ্যে এই ফোনালাপ হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি। দু'দেশের প্রেসিডেন্ট টেলিফোন আলাপে কাতার সংকট সমাধান হওয়া উচিৎ বলে মত প্রকাশ করেন।
আলোচনায় সংকটের কারণে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে তারা আলাপ করেন। দুই নেতার আলাপ কালে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, গত মাসের প্রথম দিকে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে সৌদি আরব, মিশর, আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইয়েমেন। কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগ এনে দেশগুলো এ পদক্ষেপ নেয়। এ ঘটনার প্রথম থেকেই তুরস্ক কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।

গরু রক্ষার নামে মোদির জমানায় ২৩ খুন

গো-ভক্তির নামে ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে। গো-রক্ষার নামে একটি উগ্র হিন্দুগোষ্ঠী হত্যা-ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গাড়িতে গো-মাংস বহন করার অভিযোগ এনে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর তিন দিন আগে ঝাড়খণ্ডের দেওরিতে উসমান আনসারি নামের এক ব্যক্তির বাড়ির বাইরে মরা গরু পড়ে থাকতে দেখে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় ওই ব্যক্তির বাড়িতে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে ঈদের বাজার শেষে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনের মধ্যে এক কিশোরকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ইন্ডিয়াস্পেন্ড জানায়, ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০১৪ সালের মে থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৩২টি। আর এসব হামলায় নারী-শিশুসহ ২৩ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি হরিয়ানা রাজ্যে দুই তরুণীকে গণধর্ষণ ও তাদের দুই আত্মীয়কে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বলেছে, গো-মাংস খাওয়ার জন্য এই শাস্তি। গো-ভক্তির নামে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। গো-রক্ষার নামে এই সহিংসতা ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। গো-রক্ষার নামে ২০১৪ সালের জুন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এ ধরনের ১১টি ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১২টি এবং ২০১৭ সালের এই ছয় মাসেই নয়টি ঘটনা ঘটেছে। আর এসব ঘটনার বেশির ভাগই ঘটছে ভারতের উত্তরাঞ্চলে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে মোট ১৪৫৪টি সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৮৩ জন মানুষ নিহত ও ৪৫৮৫ জন আহত হয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মূলত দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম, দলিত ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের লোকজন গো-রক্ষকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গরু সংক্রান্ত সহিংসতায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ৮৬ ভাগই মুসলিম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তারাও সহযোগীর ভূমিকা নেন। বেশির ভাগ ঘটনার ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা গরু হত্যা, মাংস খাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, কিন্তু তারপরও কোনো লাভ হয়নি। ইন্ডিয়াস্পেন্ড বলছে, এসব ঘটনায় রাজ্য সরকার কিছু অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু সেটাও গোলমাল সৃষ্টি হওয়ার পর। গো-ভক্তির নামে অমুসলিমদের ওপর ২৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এসব হামলা চালিয়েছে খোদ গো-রক্ষক দাবিকারী গোষ্ঠী। ইন্ডিয়াস্পেন্ডের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জনপ্রিয় নারী সাংবাদিককে ট্রাম্পের অশ্লীল আক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতিমান এক নারী সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় টুইট করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। খোদ তারই দল রিপাবলিকানের জ্যৈষ্ঠ নেতা ও ডেমোক্রেটিক দলের নেতারা ট্রাম্পের এ কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। সাংবাদিক মিকা বারজেজিন্সকিকে ‘কম আইকিউয়ের অধিকারী বেপরোয়া মিকা’ বলে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। এছাড়া মিকার সহকারী উপস্থাপক জোয়ে স্কারবোরাকে ‘মাতাল জোয়ে’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। এমএসএনবিসি টিভি চ্যানেলের ‘মর্নিং জোয়ে’ অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন এ দুই সাংবাদিক। ‘মর্নিং জোয়ে’ অনুষ্ঠানকে ‘খারাপ রেটিং’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্টের। কয়েক সপ্তাহ আগে ‘মর্নিং জোয়ে’ অনুষ্ঠানে স্কারবোরা ট্রাম্পকে ‘মূর্খ মাতাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং তাকে এমন শিশুর সঙ্গে তুলনা করেন যিনি তার প্যান্টে কার্য সম্পাদন করেন। এসময় মিকা ট্রাম্পের প্রশাসনের সদস্যদেরকে ‘কম মানসিক ও আবেগপ্রবণ’ বলে কটাক্ষ করেন। বৃহস্পতিবার টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘খারাপ রেটিংয়ের মর্নিং জোয়ে অনুষ্ঠানে আমাকে নিয়ে মন্দ কথা বলা হয়েছে। এ অনুষ্ঠান আর দেখবেন না।’ মিকাকে উদ্দেশ্য করে তিনি টুইটে লেখেন, ‘তার কসমেটিক সার্জারি করা মুখমণ্ডল থেকে খুব বাজেভাবে রক্ত ঝরছে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক মাস আগে মিকা ও জোয়ে ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো গলফ ক্লাবে তার সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করতে চেয়েছিলেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদেরকে না বলে দিয়েছিলাম।’ রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের এ ধরনের টুইটকে ‘প্রেসিডেন্ট দফতরের অভ্যন্তরের’ মন্তব্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই টুইট আমেরিকার রাজনীতি যে কতটা নিচু পর্যায়ে পৌঁছেছে তার ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মহাত্ত্বতার পরিচয় ফুটে ওঠে না।’
রিপাবলিকান দলের আরেক সিনেটর বেন স্যাসে বলেন, ‘দয়া করে এসব বন্ধ করুন। এটি কোনো স্বাভাবিক আচরণ নয়।’ রিপাবলিকান দলের হাউস স্পিকার পল রায়ানও এ সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো যৌক্তিক ও যথার্থ মন্তব্য নয়। আমরা এখানে চারপাশে থেকে তার বাচনভঙ্গি ও বিতর্কের শিষ্টাচারে কি উন্নতি আনতে চেষ্টা করছি। এটি স্পষ্টতই কোনো সাহায্যে আসছে না।’ এমএসএনবিসি জানায়, ‘এটি আমেরিকার জন্য একটি খারাপ দিন। যেখানে প্রেসিডেন্ট তার অফিসিয়াল কাজ বাদ দিয়ে মিথ্যাচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কাউকে কটাক্ষ করতে সময় ব্যয় করছেন।’ ডেমোক্রেটিক দলের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ট্রাম্পের টুইট ছিল চরম অশ্লীল, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি আঘাত এবং সব নারীর প্রতি কটাক্ষের শামিল। কিন্তু হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সাফাই গেয়েছে। ফক্স নিউজকে হোয়াইট হাউসের নারী মুখপাত্র সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স বলেন, আমি মনে করি না যে কখনও এমন কোনো প্রেসিডেন্ট ছিলেন না যিনি কাউকে আক্রমণ করে কথা বলেননি।’

৮ স্ত্রী সঙ্গে নিয়ে ভারতে কুয়েতের আমীর

চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন কুয়েতের আমীর। সঙ্গে এসেছেন তার ৮ স্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কুয়েতের আমীর শেখ সাবা আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কুনা) জানায়, রোববার এক ব্যক্তিগত সফরে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন তিনি ও তার পরিবার। ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লি নামার পর হেলিকপ্টারে গ্রেটার নয়ডা আসেন আমীর এবং তার পরিবার। গালফ বিজনেস জানায়, কাতার সংকটে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছেন আমীর আল সাবাহ। এর মধ্যেই ভারতে ব্যক্তিগত সফর করছেন তিনি। আমীরের সঙ্গে আরও রয়েছেন কুয়েত ন্যাশনাল গার্ডের ডেপুটি প্রধান শেখ মেশাল আল আহমাদ আল সাবাহ।
তবে ঠিক কী কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমীরের অসুস্থতা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে তার চিকিৎসার জন্য ২০ সদস্যের এক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ১৫ দিন আগেই আমীরের আসার কথা জানতে পারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর আমীরের জন্য বিশেষ কেবিনের ব্যবস্থা করা হয়। আমীরের সঙ্গে এসেছেন তার ৮ স্ত্রী ও পরিবারের আরও ২৮ সদস্য। তারা সবাই গ্রেটার নয়ডার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে উঠেছেন। এখান থেকে হাসপাতালের দূরত্ব ৯ কিলোমিটার। তা সত্ত্বেও হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন আমীরের পরিবারের সদস্যরা।

আইনস্টাইন-হকিংকে ছাড়িয়ে ১১ বছরের অর্ণব

ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিক ১১ বছর বয়সী অর্ণব শর্মা মেনসা আইকিউ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর ১৬২ অর্জন করেছে। যা আইনস্টাইন ও স্টিফেন হকিংয়ের চেয়েও দুই পয়েন্ট বেশি। দি ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই অর্ণব এ কঠিন আইকিউ পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করে। এর আগে এ পরীক্ষা সম্পর্কে তার কোনো ধারণাও ছিল না। প্রাথমিক পর্যায়ে তার মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। এতে সে যে স্কোর করে, তা সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে ১ শতাংশ মানুষেরই থাকে। এ সফলতা সম্পর্কে অর্ণব জানায়, ‘মেনসা আইকিউ পরীক্ষা খুবই কঠিন। অনেকে এতে উত্তীর্ণই হতে পারে না। তাই আমিও পাস করার আশা করিনি। আমি সালভেশ সেন্টারে পরীক্ষা দিই।
তারা আড়াই ঘণ্টা ধরে আমার পরীক্ষা নেয়। আমার এ পরীক্ষার জন্য কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছিল না, তারপরও আমি মোটেও উদ্বিগ্ন ছিলাম না। আমার পরিবার এতে চমকে গেছে। আমার ফলাফল শুনে তারা ভীষণ খুশি।’ অর্ণবের মা মেশা দামিজা শর্মা বলেন, ‘আমি কী ঘটতে যাচ্ছে সে নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। কারণ সে এ পরীক্ষার খাতা দেখতে কেমন, তা-ও জানত না।’ অর্ণব ছোটবেলা থেকেই গণিতে পারদর্শী জানিয়ে মা মেশা বলেন, ‘আড়াই বছর বয়সেই সে একশরও বেশি পর্যন্ত গুনতে পারত। আমিই একসময় তাকে গুনতে শেখানো বন্ধ করে দিই। কারণ আমি জানি, সংখ্যার কোনো শেষ নেই।’ মেনসার একজন মুখপাত্র জানান, ‘এটা সর্বোচ্চ নম্বর। কম মানুষই হয়তো ভবিষ্যতে এটা অর্জন করতে পারবে।’

গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল আটজন

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল আটজন। এই আটজনের সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে নিহত হয়েছে। তারা হল- তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, চাকরিচ্যুত মেজর জাহিদ, সরওয়ার জাহান, আবদুল্লাহ, আবু রায়হান তারেক, তানভীর কবির ও ফরিদুল ইসলাম আকাশ। কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। মনিরুল ইসলাম আরও জানান, গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত আরও গুরুত্বপূর্ণ পাঁচজনের নাম তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তারা হল- সোহেল মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেট, ছোট মিজান ও সাগর।
এই পাঁচজনের বিষয়ে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই পাঁচজনকে গ্রেফতারের জন্য চার্জশিট দাখিল করা অনেকাংশে আটকে আছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে নারকীয় হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক নিহত হন। এদের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় ও তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক। তা ছাড়া জঙ্গি হামলা প্রতিহত করতে প্রাণ হারান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। রাতভর জঙ্গিরা জিম্মি করে রাখে ২৫ জনকে। ২ জুলাই সকালে সেনা অভিযানে নিহত হয় হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় জিম্মিদের।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৫১ শ্রমিক আটক

মালয়েশিয়ায় ৫১ জন অবৈধ শ্রমিককে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাতে কুয়ালালামপুরের পেটালিং জায়া ডরমিটরিতে ইমিগ্রেশন ডিরেক্টর জেনারেল দাতুকে সেরি মুস্তাফার আলীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় ২৩৯ জনের কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর ৫১ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এ অভিযানে অবৈধ অভিবাসিদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। অভিযানের পর ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী বলেন, বেশিরভাগ শ্রমিক আসবাবপত্র-প্লাস্টিক উৎপাদন কারখানাগুলোতে কাজ করছেন। আমরা দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এ অভিযান চালিয়েছি। তিনি বলেন, ই-কার্ড (প্রযোজ্য কার্ড) নিবন্ধনের তারিখ ৩০  জুন শেষ। পারমিট ছাড়া কর্মরত শ্রমিকদের ধরতে এখন থেকে প্রতিদিনই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, নিয়োগকারী ও বিদেশি শ্রমিককে বৈধতা নিতে ইমিগ্রেশন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালায়। আটক মিয়ানমারের এক নারী কর্মী বলেন, তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। তার নিয়োগকর্তা তাকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। এ দিকে দি মাস্টার বিল্ডার্স এসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (এমবিএএম) সরকারের নিকট ই-কার্ড করার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে। এসোসিয়েশন বলেছে, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং ধীরগতি প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে সহজ ও দ্রুত ইকার্ড করতে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে সহযোগিতা করবে। তারা আশাকরে ই-কার্ড করার প্রক্রিয়া সহজ করা হলে নিয়োগকর্তারা অবৈধ কর্মীদের ইকার্ড করতে উদ্বুদ্ধ হবে। অনেক কর্মীদের সঙ্গে কথা করে জানা গেছে, তারা ই-কার্ড করার জন্য ৫শ থেকে ১ হাজার রিঙ্গিত দিয়েছে। অথচ মালয়েশিয়া সরকার ইকার্ড ফ্রি দিচ্ছে। ই-কার্ড মালয়েশিয়া বৈধভাবে কাজ করার সরকারি স্বীকৃতির একটি প্রক্রিয়া। এটি করার পর অবশ্যই পাসপোর্ট করতে হবে এবং রিহায়ারিং কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা মিডলম্যানদের দৌরাত্বে প্রক্রিয়াটিতে আশানুরুপ সফলতা আসেনি। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ এ ঘোষণা করার পর সর্বশেষ ২৬.৯৫৭ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ অবৈধ কর্মী ই-কার্ডের জন্য আবেদন করলে শেষ সময় পর্যন্ত ১,৪০,৭৪৬ জনের ই-কার্ড করেছে যা লক্ষ্যমাত্রার ২৩ ভাগ। ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট ৬ লক্ষ ই-কার্ড করার আশা করেছিল। লক্ষ্য পূরণে ১ জুলাই থেকে নিয়োগকর্তা ও অবৈধ কর্মীদের গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদানের কাজ শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। কিন্তু এমবিএএম এর মত নিয়োগকারী কর্মীসংকটে ভুগা প্রতিষ্ঠানগুলো সময় বৃদ্ধির জন্য সরকারের নিকট আপিল করেছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ মিশনের হাই কমিশনার মুহ. শহিদুল ইসলাম যৃগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ান সরকার এই সুযোগটি দেন দেশটিতে বসবাসকারী কাগজপত্রহীন কর্মীদের বৈধ হওয়ার জন্য। তিনি জানান, বৈধ কাগজপত্র পেতে মাইইজি’র অধীনে চলমান রি-হায়ারিং প্রকল্পে ১ লাখ ৮৮ হাজার বাংলাদেশি রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
আর অন্য সকল দেশ মিলিয়ে করেছে মাত্র ১০ থেকে ১২  হাজার। ‘যারা মেডিকেল আনফিট, যাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা চলমান রয়েছে এবং যে সব কর্মী বৈধভাবে কোনও কর্মক্ষেত্রে কর্মরত ছিলেন কিন্তু তারা মালিকপক্ষকে অবহিত না করে পালিয়ে গেছেন। অফিস তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশনে অভিযোগ দাখিল করেছে’ এই তিন শ্রেণির কর্মীরা ই-র্কাড করতে পারবে না। ই-কার্ডেরর আওতায় আসতে বাংলাদেশিদের বার বার জোরালো আহবান জানিয়েছি। আমরা সবাইকে সচেতন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় দূতাবাসের কন্সুলার টিম পাঠিয়েছি। ই-কার্ডধারীরা দ্রুত পাসপোর্ট করাতে পারবেন বলেও জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেছিলেন, আগে স্বাভাবিকভাবে পাসপোর্ট আসলেও এখন থেকে আমরা ডিএইচএল’র মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত পাসপোর্ট নিয়ে আসা হচ্ছে এবং তা দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। হাইকমিশনের বাইরে দালালের উৎপাত কমাতে করণীয় সম্পর্কে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলছি হাইকমিশনের অভ্যন্তরে কিংবা আশপাশে একটি বুথ করার ব্যাপারে। আশাকরি আগামী কয়েকমাসের মধ্যে এ সকল সমস্যার সমাধান হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী কমিউনিটি নেতা যুগান্তরকে বলেন, ই-কার্ড নিবন্ধন কার্যক্রমের সময় সূচি আরো ৬ মাস বর্ধিত করণের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জাতীয় শ্রমিক লীগ মালয়েশিয়া শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম হাওলাদার যুগান্তরকে মালয়েশিয়ায় ই-কার্ড নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাওয়া হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা লাভের সুযোগ কাজে লাগাতে ই-র্কাডের নিবন্ধনের সময় বর্ধিতকরণে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেল মো. সায়েদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ই-কার্ড করার সময় ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু রিহায়ারিং চালু আছে। যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের জন্য ই-কার্ড দেয়া হচ্ছিল।  এই কাজ যাতে বৃদ্ধি করা হয় এজন্য এমপ্লায়ররা সরকারের কাছে আপিল করেছে। আমরা আশাকরছি অবৈধ কর্মীরা আবারো ই- কার্ড করার সুযোগ পাবে। মালয়েশিয়া সরকার যে সহজ সুযোগ দিয়েছিল তা অব্যাহত রাখা হলে কর্মীরা উপকৃত হবে।

কয়েক মিনিটেই শেষ ১৮ বছরের আয়

‘এক-একটি গরুর দাম ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আগুনে দগ্ধ হওয়ায় সেই গরু বিক্রি করলাম মাত্র ৩০ হাজার টাকায়। পাঁচটি গরু তো পুড়ে মারাই গেছে। ১৮ বছর ব্যবসা করে যা আয় করেছিলাম কয়েক মিনিটের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল!’ গাবতলী পশুর হাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. অপু শুক্রবার যুগান্তরকে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বললেন। শুধু অপু নন, ওই আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন আরও অনেক ব্যবসায়ী। আসন্ন কোরবানির ঈদে কিভাবে তারা ব্যবসা করবেন, কোথায় পাবেন ব্যবসার পুঁজি সেই অনিশ্চিতায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি গরু, পাঁচটি ছাগল ও একটি ভেড়া পুড়ে মারা গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাদের অন্তত ২২টি পশু মারা গেছে। আর দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়া। গরু ব্যবসায়ী মো. অপু যুগান্তরকে বলেন, বাবা আমজাদ আলীও গরুর ব্যবসা করতেন। ১৮ বছর ধরে আমি বাবার ব্যবসার হাল ধরেছি। তিনি বলেন, সারা বছরই গরুর ব্যবসা করি। তবে পুড়ে যাওয়া গরুগুলো কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পালছিলাম। প্রতিটি গরুর দাম ছিল লাখ টাকার ওপরে। আগুনে পাঁচটি গরু পুড়ে মারা গেছে। দগ্ধ হয়েছে সাতটি, সেগুলো খুব অল্প টাকায় কসাইদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।
কসাইরা এসব মাংস বিভিন্ন প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করবেন। তিনি আরও বলেন, সামনের ঈদে কিভাবে ব্যবসা করব, কোথায় পুঁজির টাকা পাব বুঝতে পারছি না। ব্যাংকগুলো গরু ব্যবসায়ীদের লোন দেয় না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। আরেক ব্যবসায়ী মহসিন মেম্বার যুগান্তরকে বলেন, আগুনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার দুটি গরুই পুড়ে মারা গেছে। অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। এখন সব পুঁজি শেষ। ব্যবসা করার টাকা কোথায় পাব, সংসার চলবে কিভাবে বুঝতে পারছি না। গাবতলী গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আগুনে অনেকের পশু পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসার পুঁজি হারিয়েছে। সামনে কোরবানির ঈদ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা করতে পারেন সেজন্য সমিতির সবাই বসে তাদের আর্থিক সহাযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব। হাটের যে শেডগুলো পুড়ে গেছে সেগুলো দ্রুত সময়ে ঠিক করে দেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানাব। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যাংক লোন পায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছেও আবেদন জানাব। এদিকে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া শেডগুলো পরিষ্কার করছেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ট্রাকের পেছনে দড়ি বেঁধে পুড়ে মারা যাওয়া পশুগুলো টেনে হাটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগুনে পোড়া শেডের পাশে বসেই নিজেদের নিঃস্ব হওয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন কেউ কেউ।

রবিউলের ছবি আঁকড়ে বেঁচে আছে পরিবার

“এখনও কথা ফোটেনি ১১ মাসের শিশু কামরুন নাহার রায়নার মুখে। কোনো রকম শব্দ করতে শিখেছে। কাউকে দেখলে তার মুখ দিয়ে একটি শব্দই বের হয়, সেটি ‘বাবা’। দিন কাটে তার সেই ‘বাবা’ ডেকে ডেকে। বাবার ছবির ওপর বসে, ছবিতে হাত দিয়ে, ছবির সঙ্গে খেলতে খেলতে পার হয় তার দিনের বেশির ভাগ সময়।” যুগান্তরের কাছে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন উম্মে সালমা। গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের স্ত্রী তিনি। গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর জঙ্গিদের বুলেটে নিহত হন রবিউল। শুধু রায়না নয়, পুরো পরিবার এখন বেঁচে আছে রবিউলের ছবি আঁকড়ে। জন্মের পর বাবাকে দেখা হয়নি রায়নার। পাওয়া হয়নি আদর। এখন যেন ছবি দেখেই বাবাকে চেনা। আরেক সন্তান সাত বছরের সাজিদুল করিম সামি এখনও খোঁজে বাবাকে। উম্মে সালমা বলেন, সামি মাঝে মাঝে আনমনা হয়ে যায়। খেলতে খেলতে হঠাৎ বাবার কথা মনে পড়লে জিজ্ঞাসা করে- ‘মা, বাবা কখন আসবে?’ আবার বলে, ‘আমাদের আর কখনো ঈদের আনন্দ হবে না!’ সন্তানের এই প্রশ্ন হয়তো আজীবন শুনে যেতে হবে। সাভারের ভাড়াবাড়িতে বসে ২৪ জুন কথা হয় পুলিশের মেধাবী কর্মকর্র্তা রবিউল করিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মা, ভাবি, ভাতিজা-ভাতিজিকে নিয়ে সেখানে থাকেন রবিউলের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস। বাবা আবদুল মালেক মারা গেছেন ১৩ বছর আগে। পরিবারের অভিভাবক এখন তাই শামসই। রবিউলের বিষয়ে জানতে চাইলে মা করিমুন নেছা চোখ মুছতে থাকেন। বলেন, ছেলে হারানোর যন্ত্রণা বুঝবে না বাবা। সন্তানের বাবা-মা হও তখন বুঝবা। রবিউল যেদিন ইন্তেকাল করে (১ জুলাই) ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার তিনবার কথা হয়। সকালে আমি ওকে বলেছিলাম, বাবা রমজান মাস গেল, আমার সঙ্গে ইফতার করলি না, আজ করবি। সে রাজি হয়। বিকালে ফোন করে জিজ্ঞাসা করি- বাবা তুমি আসছ? তখনও সে বলে, আমি আসব মা। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছে অথচ না আসায় আমি তাকে আবারও ফোন করি। তখন রবিউল বলে, মা জরুরি কাজ আছে। গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসছে। আমার মনে হয় যাওয়া হবে না। তখন আমি তার প্রতি অভিমান করে কথা না বলে চুপ থাকি। এ সময় রবিউল বলে, দেখ, তোমাদের সঙ্গে আমার ঈদ করা হয় কিনা? আমি জিজ্ঞেস করি, এমন কথা কেন বলছ? আমি কেঁদে ফেলি। কাঁদতে কাঁদতে ফোন রেখে দেই। মা করিমুন নেছা বলেন, তার মতো মানুষ এ পৃথিবীতে খুব কম জন্মাবে। খুবই ভালো ছিল। বাড়ির মানুষ থেকে শুরু করে গ্রামের প্রতিটি মানুষ তাকে ভালোবাসত। ঈদ এলে বাড়ির সবার জন্য নতুন কাপড়-চোপড় আনত। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধী স্কুলের ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন জামা-পাঞ্জাবি কিনে নিজ হাতে ওদের পরিয়ে দিত। সে নিজেকে নিয়ে যতটা না ভাবত, তার চেয়ে বেশি ভাবত দেশ নিয়ে।
তাকে ছাড়া কিভাবে বেঁচে আছি এটা কিভাবে বুঝাব! এখন রবিউলের দুই সন্তানের মাঝে ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। কেমন আছেন জানতে চাইলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন উম্মে সালমা। দুই সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বলেন, এরাই আমার অবলম্বন। আমি এদের নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। মায়ের কান্না দেখে কেঁদে ফেলে দুই সন্তানও। মুহূর্তেই পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। একটু পর নিজেকে সামলে উম্মে সালমা বলেন, ঈদ এলে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি আনন্দ হতো আমাদের পরিবারে। গত বছর থেকে সেটি আর হয় না। শাশুড়ি ছেলের জন্য অধিকাংশ সময় কেঁদে কেঁদে দিন কাটান। সন্তানদের চোখ-মুখও অন্ধকার। কিভাবে যাবে আগামীর দিনগুলো- তা নিয়েই শঙ্কায় দিন কাটে আমাদের। শামসুজ্জামান শামস বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। ভাবি দিনের বেশির ভাগ সময় নিজের রুমে ভাইয়ের ছবি দেখে সময় কাটায়। ভাইয়ের কথা মনে পড়লে মা স্থির থাকতে পারেন না। তার চোখের পানি পরিবারের অন্যরাও সহ্য করতে পারেন না। আর শিশুদের কথা কী বলব- ওরা তো এখনও কিছু বুঝতে শেখেনি। সামি তার বাবার জন্য বেশি অস্থির হয়ে যায়। শামস আরও বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পাচ্ছি। সেটাই আমাদের এখনকার শক্তি। উম্মে সালমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাবির এ মুহূর্তে প্রয়োজন একটি কাজে ঢোকা। সরকার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাবিকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেটি হলে অনেক ভালো হবে। কাজের মধ্যে থাকলে তিনি দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে পারবেন। রবিউল করিমের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিগ্রামে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করে ৩০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশে যোগ দেন তিনি।

নতুন করে ‘অপারেশনাল সেল’ তৈরির চেষ্টায় নব্য জেএমবি

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির (জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) নব্যধারা (নব্য জেএমবি) নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে তাদের কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি। এক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ অভিযানে প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতাসহ ৬০ জঙ্গি নিহত হওয়ায় সংগঠনের নেতৃত্ব এখন তৃতীয় সারির নেতাদের হাতে। সংগঠনের সমন্বয়কের দায়িত্বে রয়েছে ছদ্মবেশী জঙ্গি আইয়ুব বাচ্চু ওরফে লালভাই ওরফে সাজিদ। তার নেতৃত্বে নতুন করে অপারেশনাল সেল বা আত্মঘাতী সেল তৈরির মাধ্যমে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে নব্য জেএমবি। গোয়েন্দাদের ভাষ্য, এ মুহূর্তে তারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। নতুন করে হামলার সক্ষমতা তাদের নেই। জঙ্গি বিষয়ে খোঁজ রাখেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন একাধিক কর্মকর্তারা জানান, জেএমবির নব্য ধারাটি মূল সংগঠন থেকে আলাদা হয়ে কার্যক্রম শুরু করে ২০১১ সালে। ব্যাপকভাবে মাঠে নামে ২০১৫ সালে। তারা নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট) বলে দাবি করে আসছে। তবে আইএস’র সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। তারা আইএস’র ভাবাদর্শে পরিচালিত হচ্ছে। পুরান জেএমবি থেকে আলাদা হয়ে নতুন ভাবধারায় পরিচালিত হচ্ছে। এ ভাবধারায় অনুপ্রাণীত হয়ে অনেকেই কথিত জিহাদের নামে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিডেঁরায় চলে গেছে। দুর্বল সংগঠনকে চাঙা করতে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে নব্য জেএমবির সমন্বয়ক আইয়ুব বাচ্চু। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে অপারেশনাল সেল তৈরির চেষ্টা করছে সে।
সম্প্রতি বনানী থেকে নিখোঁজ চার তরুণকে কোনো অপারেশনাল সেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানের ফলে নব্য জেএমবির সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। তবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এখনও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ জঙ্গি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, বাশারুজ্জামান ওরফে চকোলেট, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, মামুনুর রশীদ রিপন ও শরীফুল ইসলাম খালিদ অন্যতম। পুলিশের বিশেষায়িত বিভাগ কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নব্য জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে সোহেল মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ ও বাশারুজ্জামান অন্যতম। নব্য জেএমবির হামলার সক্ষমতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আগে জঙ্গি দমনে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করত। তবে গুলশান হামলার পর একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পরিবার, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় দিক থেকেও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরের ২৯ মার্চ মৌলভীবাজারে সিটিটিসির অপারেশন হিটব্যাকে নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা মাঈনুল ইসলাম মুসা নিহত হয়। সে ছিল সংগঠনের দ্বিতীয় সারির নেতা। মুসার মৃত্যুর পর আইয়ুব বাচ্চু সংগঠনের হাল ধরেছে। বাচ্চু জঙ্গি নেতা মুসার বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল। সে মুসার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল। নব্য জেএমবির জঙ্গিদের মনোবল বাড়াতে তারা এক সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফর করেছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সদস্য সংগ্রহ করেছে তারা। গুলশানের হামলার দুই মাস পর নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম আাহমেদ চৌধুরী নিহত হয়। তারপর সংগঠনের হাল ধরে সারোয়ার জাহান মানিক। সেপ্টেম্বরে মানিকের মৃত্যুর পর মুসা সংগঠনের নেতৃত্বে চলে আসে। এদিকে র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, সাজিদ নামে নব্য জেএমবির এক জঙ্গির বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ সাজিদই আইয়ুব বাচ্চু বলে র‌্যাবের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন। সম্প্রতি দুই জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর তারা সাজিদের বিষয়ে জানতে পারে। সে এখন নতুন সদস্য সংগ্রহ করে অপারেশনাল সেল বা আত্মঘাতী সেল তৈরি করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি বনানী থেকে নিখোঁজ চার তরুণকে বাচ্চু অপারেশনাল সেলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আদালতে দেয়া দুই জঙ্গির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতেও বনানী থেকে নিখোঁজ তরুণদের নাম এসেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব-১১ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, দুই জঙ্গির জবানবন্দিতে সম্প্রতি বনানী থেকে নিখোঁজ চার তরুণের মধ্যে কারও কারও নাম এসেছে।
আইএসে যোগ দিয়ে দেশ ছেড়েছে অনেক জঙ্গি : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, কথিত জিহাদের নামে ঘর ছেড়েছে এমন অন্তত ৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের বেশি সিরিয়ায় বা ইরাকে গেছে। চারজন সেখানে নিহত হয়েছে। কথিত হিজরতের নামে অনেক তরুণ ঘর ছেড়ে দেশের অভ্যন্তরেই জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে। এমন অন্তত ১৭ জন রয়েছে। সর্বশেষ জুনের প্রথম সপ্তাহে বনানী থেকে নিখোঁজ চার তরুণ জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ঘর ছেড়েছে। তারা হল- তাওহিদুর রহমান, ইমাম হোসেন, হাসান মাহমুদ ও কামাল হোসেন। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গিবাদে জড়ানো তরুণেরা অপারেশনাল সেলে যোগ দিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, জাপানে পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় মহিবুর রহমান। সে সাইফুল্লাহ ওজাকির মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যোগ দিয়ে সিরিয়া গমন করেছে। সংগীত শিল্পী তাহমিদ রহমান সাফি ও তার স্ত্রী সায়মা খান ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় যায়। সেখান থেকে তিন মাস পর এ দম্পতি সিরিয়ার চলে যায়। এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দেশ ছাড়ে ডা. আরাফাত হোসেন (তুষার)। হলি আর্টিজানে হামলার পাঁচ দিন পর এক ভিডিও বার্তায় হামলাকারী জঙ্গিদের অভিনন্দন জানায় তাহমিদ ও আরাফাত। ওই ভিডিওটি সিরিয়ার রাকায় ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ২০১৫ সালের জুন মাসে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রোকনুদ্দীন খন্দকার, তার স্ত্রী নাঈমা আক্তার, দুই মেয়ে রেজওয়ানা রোকন ও রমিতা রোকন এবং এক মেয়ের স্বামী সাদ কায়েস সিরিয়ায় চলে যায়।

হলি আর্টিজান এখন যেমন

জঙ্গি হামলার যে ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল দেশবাসী, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ি ও হলি আর্টিজান বেকারি নামটি। হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু আর জিম্মি উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার পর বন্ধ হয়ে যায় হলি আর্টিজান বেকারি। ছয় মাস পর এ বছরের ১০ জানুয়ারি নতুন ঠিকানায় যাত্রা শুরু করে বেকারিটি। আর রেস্তোরাঁ তুলে দিয়ে নিজেই থাকার জন্য বাড়িটি সংস্কার করছেন এর মালিক। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে একদল জঙ্গির হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ বিদেশিসহ ২২ জন প্রাণ হারান। পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে হলি আর্টিজানের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গি হামলা ও কমান্ডো অভিযানের কারণে বেকারির সীমানা দেয়াল ও ভবনের বেশির ভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেতরে থাকা মালামালও নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নতুন ঠিকানায় গুলশান এভিনিউয়ের র‌্যাংগস আর্কেডের দ্বিতীয় তলায় স্বল্পপরিসরে হলি আর্টিজানের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে সাতজন কর্মী কাজ করছেন। হলি আর্টিজানের ব্যবস্থাপক সাদাত মেহেদী যুগান্তরকে বলেন, মানুষের জীবনে ভালো সময় আসে, খারাপ সময় আসে, আমাদের ব্যবসায়ও একটা খারাপ সময় এসেছিল। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটা চেষ্টা আমরা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ৫০০ বর্গফুট জায়গায় বেকারিটি চালু করেছি। আগে ছিল দুই হাজার বর্গফুট জায়গা।’ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলি আর্টিজান বেকারি (গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ৫ নম্বরের বাড়ি) এখন সংস্কার করা হচ্ছে বসবাসের জন্য। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চলছে ঘষামাজা আর রঙের কাজ। আনা হচ্ছে নতুন আসবাবপত্র। ফটকে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত বছরের ১২ নভেম্বর মালিকের হাতে ভবনটি হস্তান্তর করেন। এরপর শুরু হয় সংস্কার কাজ। সবকিছু ঠিকঠাক হলে উঠবেন মালিক সামিরা আহম্মদ ও তার স্বামী সাদাত মেহেদী। জানা গেছে, সাদাতের স্ত্রী সামিরা উত্তরাধিকার সূত্রে এ বাড়ির মালিক। ১৯৭৯ সালে ‘আবাসিক ভবন কাম ক্লিনিক গড়ে তোলার জন্য’ ডা. সুরাইয়া জাবিনকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল বাড়িটি। ১৯৮২ সালে ওই প্লটের একপাশে গড়ে তোলা হয় লেকভিউ ক্লিনিক। সুরাইয়া জাবিনের মৃত্যুর পর প্লটের মালিক হন তার মেয়ে সামিরা ও সারা আহম্মদ। সামিরার স্বামী সাদাত মেহেদী তার বন্ধু নাসিমুল আলম পরাগসহ কয়েকজন মিলে ২০১৪ সালের জুনে গড়ে তোলেন হলি আর্টিজান বেকারি।

সেদিন যা ঘটেছিল

২০১৬ সালের ১ জুলাই। রাত ৯টা বাজতে মিনিট দশেক বাকি। একসঙ্গে পাঁচ জঙ্গি অতর্কিত প্রবেশ করে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে। তারা ব্যাগ থেকে দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র বের করে। কারও হাতে ছিল একে-২২ রাইফেল। কারও হাতে পিস্তল। একজনের হাতে ছিল চাপাতি। অস্ত্র বের করার পর কোনো সময়ক্ষেপণ না করেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে চালাতে একেকজন একেক দিকে এগোতে থাকে। কেউ প্রবেশ করে মূল রেস্তোরাঁয়। কেউ যায় লনের টেবিলের দিকে, যেখানে বিদেশি অতিথিরা বসে খাবার খাচ্ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে নারকীয় তাণ্ডব শুরু হলে বেকারিতে অবস্থানরতরা যে যেভাবে পেরেছেন আত্মগোপনের চেষ্টা করেছেন। কেউ টেবিলের নিচে ঢুকেছেন। কেউ দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন দোতলায়। এক জাপানি নাগরিক আশ্রয় নেন কোল্ড রুমে। বাইরের লনে বসে থাকা অতিথিদের কেউ কেউ গাছের আড়ালে লুকিয়েছেন। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন বেকারির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাৎক্ষণিকভাবে কেউই বুঝতে পারেননি, কারা আক্রমণ চালিয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলেন লুটপাটের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। লুটপাটের পর তারা চলে যাবে। হামলা চালানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা কিলিং মিশন শেষ করে। পুলিশও প্রথমে ভেবেছিল চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে শুরুতেই প্রাণ হারান পুলিশের দুই কর্মকর্তা।
তারা হলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন আহমেদ খান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জঙ্গিদের টার্গেট ছিল মূলত বিদেশি অতিথি। বাঙালি বা মুসলিম অতিথিদের তারা সেহরি খাইয়েছে। অভয় দেয়ার চেষ্টা করেছে। তারপরও ২৫ জিম্মির সবারই প্রতি মুহূর্ত কেটেছে মৃত্যু আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। রাতভর খুবই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে ছিলেন সবাই। অনেকে বন্দি ছিলেন বাথরুমে। ২ জুলাই সকালে সেনা অভিযানে নিহত হয় হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় জিম্মিদের। এর আগেই হলি আর্টিজানের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিককে। এদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি। তিনজন বাংলাদেশি। বিদেশিদের মধ্যে নয়জনই ইতালির নাগরিক। তারা হলেন- নাদিয়া বেনেদিত্তি, ভিনসেনজো দ আলেস্ত্রো, ক্লদিও মারিয়া দান্তোনা, সিমোনা মন্তি, মারিয়া রিবোলি, আডেলে পুলিজি, ক্লদিও কাপেল্লি, ক্রিস্টিয়ান রসি ও মার্কো তোন্দাৎ। ভয়াবহ এ হামলায় সাতজন জাপানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- তানাকা হিরোশি, ওগাসাওয়ারা, সাকাই ইউকু, কুরুসাকি নুবুহিরি, ওকামুরা মাকাতো, শিমুধুইরা রুই ও হাশিমাতো হিদেকো। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক। তার নাম তারিশি জৈন। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- ফারাজ আইয়াজ হোসেন, অবিন্তা কবির ও ইশরাত আখন্দ।
মৃত্যুর জন্য কালেমা পড়ে প্রস্তুত ছিলেন আকাশ : ‘মারা যাব নিশ্চিত। কালেমা পড়ে রেডি (প্রস্তুত)। তওবা-ইস্তেগফার করছিলাম। কান্নাকাটিও করি। এই ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম যে, সারাজীবন নামাজ পড়েও কত বড় বড় আলেম ওলামার কলেমা নসিব হয় না। আমি তওবা করে মরতে পারছি। আমার মতো মৃত্যু কয়জনের হয়?’- বুধবার যুগান্তরকে কথাগুলো বলছিলেন হলি আর্টিজান বেকারির সহকারী বাবুর্চি আকাশ খান (২০)। গত বছর ১ জুলাই সেখানে নারকীয় জঙ্গি হামলা ঘটেছিল। আজ এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। ওই হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের অন্যতম একজন আকাশ খান। তিনি জানান, ভয়াবহ সেই জঙ্গি হামলার দিন সারারাত তারা ৯ জন একটি বাথরুমে বন্দি ছিলেন। সেখানে দম বন্ধ হয়ে তারা প্রায় মারা যাচ্ছিলেন। সকালে জঙ্গিদের নির্দেশে রেস্টুরেন্টের একজন স্টাফ ও ওয়েটার এসে তাদের বাথরুম থেকে উদ্ধার করে। জঙ্গিদের হাতে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। শুধু আকাশই নয়, সেদিন হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি ২৫ জনেরই এমন অবস্থা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বেকারির ১৪ কর্মচারী ও ১১ জন অতিথি ছিলেন। সেদিন হামলা থেকে চার বিদেশিও বেঁচে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশ। বাংলা বলতে পারায় তিনি বেঁচে যান। জাপানি নাগরিক ওয়াতানাবি তামোকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি পরিত্যক্ত চুলার পেছনে লুকিয়ে ছিলেন সারারাত। শ্রীলঙ্কান দম্পতি হরিকেশা উইজেসেকেরা ও ফেফতা সায়মা উইজেসেকেরা দম্পতিও ওই চুলার পেছনে লুকিয়ে থাকার কারণে জঙ্গিরা তাদের খুঁজে পায়নি। আকাশ খান যুগান্তরকে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ওইদিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কাজে যাই। রাত ৯টার কিছু আগে একটি অর্ডারের মাল কাটছিলাম। হঠাৎ দেখি শেফ দিয়াগো ও জ্যাকপো পেছনের দিকে দৌড়াচ্ছেন আর বলছেন- গো, গো। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ঘটনা বুঝতে গেস্টদের টেবিলের সামনে যাই। দেখি, গেস্টরা ছোটাছুটি করছেন। টেবিলের নিচে, দেয়াল ও পিলারের পাশে আশ্রয় নিচ্ছেন। ভাবলাম, হয়তো ভূমিকম্প হচ্ছে। কারণ এর আগে যখন ভূমিকম্প হয়েছিল তখন গেস্টরা এভাবেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমিও নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ দেখি, কাঁধে ব্যাগ ও হাতে অস্ত্র নিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ছে এক যুবক। এ দৃশ্য দেখে আমি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করি। একটি বাথরুমের সামনে গিয়ে দেখি, অনেকে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছেন। আমিও সেখানে ঢুকে পড়ি।
পরে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফোন করে বলি, হোটেলে সন্ত্রাসী ঢুকেছে। তাড়াতাড়ি পুলিশ পাঠান। এরপর বাথরুমে বসে মোবাইলের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলের খবর দেখে ঘটনা জানার চেষ্টা করি। তাছাড়া আত্মীয় স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে মোবাইলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখি। হঠাৎ বাথরুমের ওপর দৌড়াদৌড়ির শব্দ শুনে মনে করি, পুলিশ এসেছে। সন্ত্রাসীরা পালাচ্ছে। এ সময় আমরা স্বস্তি অনুভব করি। এর কিছুক্ষণ পরই খবরে দেখি, সন্ত্রাসীদের হামলায় দু’জন পুলিশ নিহত হয়েছেন। এ সময় আতঙ্ক বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাথরুমে গরমের তীব্রতাও বেড়ে যায়।’ আকাশ বলেন, ‘রাত ২টার দিকে জঙ্গিরা আমাদের বাথরুমের সামনে আসে। তখন ভাবি, আজরাইল এসে গেছে। এখন জানটা কবজ করবে। তখন যে আমাদের কেমন লেগেছে বলে বোঝাতে পারব না। তারা দরজায় নক করে বলে, ভেতরে কারা আছ? বের হও। আমরা কোনো কথা না বলায় তারা হুমকি দেয়, বের না হলে গ্রেনেড মেরে সব উড়িয়ে দেব। এক পর্যায়ে দরজা খুললাম। অস্ত্রের মুখে তারা জানতে চাইল, কোনো ফরেনার আছে কিনা। আমরা নাসূচক জবাব দেয়ার পর তারা আমাদের সবাইকে চেক করে। পরে তারা বাথরুমের ভেতরে রেখে দরজা বাইরে থেকে আটকিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। তখন অক্সিজেনের অভাবে আমাদের জীবন যায়যায়। সবাই বাথরুমের ফ্লোরে শুয়ে দরজার নিচের সামান্য ফাঁকে নাক ঠেকিয়ে শ্বাস নিচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে আমাদের মনে হল- এভাবে মৃত্যুর চেয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মরাই ভালো। তাই দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিলাম আর বলছিলাম, আমাদের বাঁচান। সকাল ৬টা-৭টার দিকে জঙ্গিদের নির্দেশেই একজন স্টাফ ও একজন ওয়েটার এসে দরজা খুলে দেয়। তখন ভেবেছিলাম পুলিশ প্রশাসনের লোক ভেতরে ঢুকেছে। সন্ত্রাসীরা চলে গেছে। তাই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার আগে আমি গেস্টদের অবস্থা দেখতে চারপাশ ঘুরছিলাম। দেখলাম চারপাশে লাশ আর জমাটবাঁধা রক্ত। হোটেলের অবস্থা একেবারে তছনছ। ধারণা হচ্ছিল, সন্ত্রাসীরা ভেতরে ঢোকার এক ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাযজ্ঞ শেষ করেছে। আকাশ বলেন, ‘সকালে আমরা দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আশ্রয় নিই। সেখানে আরও কয়েকজন আশ্রয় নিয়েছিল। কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনীর গুলি শুরু হয়। আমরা বাঁচাও, বাঁচাও বলে চিৎকার করি। সেনা সদস্যরা আমাদের কাছে গিয়ে অস্ত্র তাক করে সবাইকে নিচে আসতে বলে। এ সময় মুহূর্তে আমি একজন সেনা সদস্যের কাছে জানতে চাই, সন্ত্রাসীদের কী হয়েছে? তিনি জানান, গুলিতে সব সন্ত্রাসী মারা গেছে। পরে নিচে নেমে এসে দেখি একসঙ্গে পাঁচ জঙ্গির লাশ পড়ে আছে। সেনা সদস্যরা আমাদের উদ্ধারের পর হলি আর্টিজানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে।’ ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশের জবানবন্দি : ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশ গুলশান হামলার ২৬ দিন পর আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে বলেছেন, সেদিন বাংলা বলতে পারায় বেঁচে ফিরেছিলেন তিনি। তিনি বাঙালি কিনা জঙ্গিরা তার কাছে জানতে চেয়েছিল। তিনি তাদের বলেছেন, ইয়েস, আমি বাঙালি। তার ভাষ্য, জঙ্গিরা ভেতরে ঢুকে বিদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে।
প্রথমদিকে জঙ্গিরা গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। পরে তারা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত জঙ্গিরা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তার ভাষ্য, তাদের প্রতিটি মুহূর্ত পার হয়েছে আতঙ্কে। তাদের আদৌ বাঁচিয়ে রাখা হবে কিনা তা অনুমান করতে পারছিলেন না। তারা ধরেই নিয়েছিলেন, নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। রাতে বাইরে থেকে জঙ্গিদের কাছে আসা অভিনন্দন বার্তাও তারা পড়ে শোনায়। সাত প্রকাশ জানান, জিম্মিদের সেদিন সেহরি খেতে বলা হয়েছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সন্দেহ এড়াতে সেদিন তিনি অন্যদের সঙ্গে সেহরি খান। সাত প্রকাশ ঢাকায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। কয়েক বছর ধরেই তিনি ঢাকায় আছেন। তিনি সেদিন ডিনার করতে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে এক বন্ধুর যোগ দেয়ার কথা ছিল। এর আগেই জঙ্গিরা সেখানে হামলা চালায়। যেভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন ওয়াতানাবি তামোকি : জাপানি নাগরিক ওয়াতানাবি তামোকি জাইকার হয়ে বাংলাদেশে কাজ করতেন। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তাদের কাছে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেদিন গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তারপর তিনি পরিত্যক্ত চুলার পেছনে আশ্রয় নেন। সারারাত তিনি সেখানেই ছিলেন। জঙ্গিরা তাকে খুঁজে পায়নি। পরদিন ভোরে কমান্ডো অভিযান শেষে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার সম্মিলিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ জুলাই তিনি টোকিও ফিরে যান।

স্মৃতি হাতড়ে সময় কাটছে ৩ বাংলাদেশি পরিবারের

গুলশানে অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই দেশ কাঁপানো হামলায় নির্মমভাবে যে ২০ জনকে খুন করা হয় তাদের তিনজনই বাংলাদেশের অভিজাত পরিবারের সন্তান। এদের মধ্যে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তানও রয়েছে, তার নাম অবিন্তা কবির। বাকি দু’জন হচ্ছেন- ইশরাত আখন্দ ও ফারাজ আইয়াজ হোসেন। বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো সংঘটিত এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পর তিন পরিবারের সময় কাটছে শোক আর স্মৃতিচারণে। স্বজনদের একটাই চাওয়া- বাংলার মাটিতে আর যেন হলি আর্টিজানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। স্বাভাবিক হতে পারছেন না ইশরাতের মা : তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন ছিলেন ইশরাত আখন্দ (৪২)। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ইশরাত ছিলেন সবার আদরের। কথা হয় ইশরাতের মামা হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সঙ্গে। ভাগ্নির স্মৃতিচারণ করে যুগান্তরকে বলেন, শিল্পকলার প্রতি অসম্ভব টান ছিল সদা হাস্যোজ্জ্বল ইশরাতের। তার ব্রত ছিল দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ করার। পেশাগত জীবনে দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সবশেষ তিনি একটি গার্মেন্ট কারখানার মানবসম্পদ শাখার পরিচলক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি হোটেল ওয়েস্টিন, বিজিএমইএ, ব্র্যাকনেট ও গ্রামীণফোনে কাজ করেছেন। ইশরাতের ভাই আবদুল্লাহ ইউসুফ আখন্দ যুগান্তরকে বলেন, ‘এক বছর আগের ঘটনা হলেও আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যেন গতকালের ঘটনা। ওকে আমরা ভীষণ মিস করি।
ইশরাতের কথা মনে হলেই ডুকরে কাঁদেন ৮৪ বছর বয়সী মা। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাই না। আর কোনো ভাই যেন তার বোনকে, কোনো মা যেন তার সন্তানকে এভাবে না হারায়।’ ইশরাতের বাবা বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মের সাবেক সিনিয়র অ্যাকাউন্টেন্ট আবদুল মজিদ মারা গেছেন ১০ বছর আগে। ইশরাতের বড় ভাই মহাকাশ বিজ্ঞান ভবনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওমর হায়াৎ আখন্দও মারা গেছেন আগেই। ইশরাতের মেঝো ভাই আলী হাসান আখন্দ এক সময় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সরকারি চাকরি করলেও এখন ব্যবসা করছেন। ছোট ভাই আবদুল্লাহ ইউসুফ আখন্দ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। ইশরাতের ভাই আবদুল্লাহ ইউসুফ বলেন, মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হলে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাসের পর ইশরাত অস্ট্রেলিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ ঘটে নেত্রকোনার মেয়ে ইশরাতের। পরে দীর্ঘদিন গুলশানের একটি বাসায় একাই থাকতেন। কথা হয় ইশরাতের বান্ধবী নাদিরা ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, মানুষকে অনুপ্রাণিত করার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল ইশরাতের। সে বলত, দেশের জন্য অনেক কিছু করার আছে। ইশরাতের বন্ধু শাখাওয়াত বলছিলেন, আবেগপ্রবণ ইশরাত সহজে সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। নানার মতো হতে চেয়েছিলেন ফারাজ : দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট ফারাজ আইয়াজ হোসেন (২০) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার ইমোরি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন। ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজের বাবা ওয়াকার হোসেন ব্যবসায়ী। মা সিমিন হোসেন ট্রান্সকম গ্রুপের উচ্চ পদে রয়েছেন। বড় ভাই যারেফ আইয়াজ হোসেনও ট্রান্সকম গ্রুপে কর্মরত। রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ২০১৪ সালে ‘এ-লেভেল’ পাস করার পর পড়াশোনার জন্য আমেরিকায় পাড়ি জমান। গ্রীষ্মের ছুটিতে ২০১৬ সালের ১৮ মে ঢাকায় আসেন। ১ জুলাই বন্ধু অবিন্তা ও তারিশির সঙ্গে হলি আর্টিজানে নৈশভোজে গিয়েই জঙ্গি হানার মুখে পড়েন। তারিশি ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। কর্পোরেট জগতে অবদান রেখে দেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন ছিল ফারাজের। বুধবার বিকালে কথা হয় ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক ফখরুজ্জামানের সঙ্গে। ফারাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ফারাজের বাবা দেশের বাইরে। মা বুধবার বাইরে থেকে দেশে এসেছেন। ফখরুজ্জামান জানান, ফারাজ প্রায়ই বলতেন ‘আমি বড় হয়ে নানাভাইয়ের মতো হব। বিশাল কর্পোরেট হাউস গড়ে তুলব।’ খেলাধুলার প্রতি ভীষণ অনুরাগ ছিল তার। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে লেখাপড়া করার সময় তিনি ভলিবল টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন। ক্রিকেটের প্রতিও ছিল তার অসম্ভব ঝোঁক। ফারাজের স্মৃতিচারণ করে তার বন্ধু রিফাত মুরসালিন বলেন, অসম্ভব প্রতিভার অধিকারী ফারাজ ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। সব সময় দায়িত্ব নিতে ভালোবাসতেন। সহসা কাউকে কষ্ট দিতে চাইতেন না।
দেশপ্রেমই কাল হল অবিন্তার : মা-বাবার একমাত্র সন্তান অবিন্তা কবির (১৮) ছিলেন বাংলাদেশ ও আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক। বাবা এহসানুল কবির যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মা রুবা আহমেদ এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান। আমেরিকার ইমোরি অক্সফোর্ড কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অবিন্তা ঘটনার তিন দিন আগে ছুটিতে ঢাকায় আসেন। ১ জুলাই ইফতারের পর ফারাজ ও তারিশির সঙ্গে দেখা করতে হলি আর্টিজানে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন। এলিগ্যান্ট গ্রুপের জিএম কর্নেল (অব.) আবদুল্লাহ হিল শামীম যুগান্তরকে জানান, অবিন্তাকে হারানোর পর থেকেই দৃশ্যত বাকরুদ্ধ তা মা রুবা আহমেদ। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না তিনি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালালেও নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া তার কণ্ঠস্বর শোনা যায় না। ‘ম্যাডামের’ (রুবার) এক সময়ের হাসিভরা মুখটি এখন সব সময়ই মলিন। কর্নেল (অব.) শামীম জানান, লেখাপড়া শেষে পারিবারিক ব্যবসায় মনোযোগী হতে চেয়েছিলেন অবিন্তা। বাংলাদেশকে ঘিরে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। বিদেশে পড়ালেখা করলেও মন পড়ে থাকত দেশে। তার হোস্টেল কক্ষে লাল-সবুজের বিরাট পতাকা সেঁটে রাখতেন তিনি। সুযোগ পেলেই চলে আসতেন দেশে। হলি আর্টিজানের মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের আগে তার মা আমেরিকা যান। অবিন্তাকে আনতে চাইছিলেন না। কিন্তু মেয়ের জেদের কাছে হার মেনে অবিন্তাকে নিয়ে দেশে ফেরেন। দেশে পা রাখার তিন দিনের মাথায় লাশ হতে হল অবিন্তাকে। দেশের প্রতি অস্বাভাবিক টানই কাল হল অবিন্তার। বাস্কেটবলের প্রতি তার ঝোঁক ছিল অসম্ভব। দেশে লেখাপড়া করার সময় তিনি তার প্রতিষ্ঠানের বাস্কেটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত দেশে ফিরে পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ মানুষদের জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন অবিন্তা। স্বপ্ন ছিল একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলার। অবিন্তার খালা জিনাত ইকরামুল্লাহ জানান, মা রুবা আহমেদ ছিলেন অবিন্তার রোল মডেল। মায়ের কাছ থেকেই সে কঠোর পরিশ্রম আর নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে শিখেছিল। উদারতাকে উপহার হিসেবে দেখত অবিন্তা।

বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে তিস্তার পানি

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার ভোররাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ ভয়বহ রূপ ধারণ করে। ফলে চরাঞ্চরের নিচু অঞ্চলের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে বলে যুগান্তরকে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকসনাল অফিসার (এসও) নূর ইসলাম। তিনি বলেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফরেস্টের চরের কয়েক বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ওই এলাকার পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে। ঝাড়সিংহেরশ্বর এলাকার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

আটক তিথি নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বামনপাড়া ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে আটক তিন নারীকে জঙ্গি দাবি করে পুলিশ বলছে, তাদের মধ্যে তিথি নামের এক নারী নব্য জেএমবির বর্তমান আমির আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সজিবের স্ত্রী। এছাড়া আটক আরেক নারী সুমাইয়াকে নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ডারের স্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ডারের নাম নিশ্চিত করা হয়নি। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন খন্দকার বলেন, বামনপাড়া ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে তিন নারীকে আটকের সময় তিথি ও সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তান তাদের সঙ্গে ছিল। ওই দুই ‘নারী জঙ্গির’ শিশু সন্তানদের পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া তলতলা মসজিদের পাশে একটি টিনসেডের এক তলা বাড়িতে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসানের ভাষ্য, অভিযানের একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী তিথি সুইসাইডাল ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। তবে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। এরপর পর্যায়ক্রমে ওই ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে সুমাইয়া ও টলি বেগম নামে আরও দুই নারী জঙ্গিকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তিথি ও সুমাইয়ার বাড়ি নাটোরে। দু’জনের দুটি শিশু সন্তান এসময় তাদের সঙ্গে ছিল। আটকের পর ওই শিশুদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া আটক আরেক নারী টলি বেগমের বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর গ্রামে।
পুলিশের দাবি, আটক নারীরা জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাস্থল থেকে কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য, একটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও হাত বোমা উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া বাড়িটির ভেতরে প্রচুর বিস্ফোরক দ্রব্য ও সুইসাইডাল ভেল্ট পড়ে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে কাউন্টার টেররিজমের আরেকটি ইউনিট এবং বোমা ডিসপোজাল (নিষ্ক্রিয়) টিম ঘটনাস্থালের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বর্তমানে বাড়ির আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ জনগণকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর হোসেনের ভাষ্য, আটক তিন নারী ‘জঙ্গিকে’ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তিথি বর্তমানে নব্য জেএমবির আমীর আইয়ুব বাচ্চুর ওরফে সজিবের স্ত্রী ও সুমাইয়া নিউ জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ডারের স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জঙ্গি আস্তানার’ বাড়িটির মালিক মাসুদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বয়স্ক। দুই মাস আগে তার স্ত্রী ১২শ’ টাকায় বাড়িটি আরমান নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছিলেন। সে পেশায় ডিস ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছিল। তিনি স্ত্রী নিয়ে থাকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাড়িটিতে কোনও পুরুষ সদস্য পাওয়া যায়নি। ওসি জানান, বাড়ির মালিককে দেয়া আরমানের স্থায়ী ঠিকানায় আমরা খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আরমানের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাকে পাওয়া গেলে অনেক তথ্য মিলবে।