Thursday, May 27, 2010

দমন-পীড়ন-হত্যাকাণ্ড ও নীরব ওবামা by শামুস কুকে

থাইল্যান্ডের রাজপথে যখন বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হচ্ছে, তখন হোয়াইট হাউসের নীরবতায় সন্দেহ জাগে। নীরবতা অনেক সময় ষড়যন্ত্রের সমার্থক। কল্পনা করা যায়, ভেনেজুয়েলার সরকার এ রকম হত্যাকাণ্ড চালালে মার্কিন মিডিয়া ও ওবামা জোরেশোরে এর নিন্দা জানাতেন। অথচ থাইল্যান্ডে রক্তগঙ্গা বয়ে গেলেও তাঁরা নীরব।
এ নীরবতার ব্যাখ্যা মেলে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের সম্পর্কের ইতিহাসে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ডই ছিল এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমিউনিস্টবিরোধী’ দুর্গ। এখান থেকেই থাইল্যান্ডসহ চীন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও পুঁজিবাদবিরোধী অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে তত্পরতা চালানো হতো। এভাবে থাইল্যান্ড পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত রাষ্ট্রে এবং পায় অস্ত্র, অর্থ ও থাইল্যান্ডের কমিউনিস্টদের দমনে মার্কিন সরকারের গোয়েন্দা-সহযোগিতা। এ সম্পর্কের জের ধরেই থাইল্যান্ডে একের পর এক সামরিক সরকার ক্ষমতায় বসে এবং অগণিত প্রতিবাদীকে হত্যা করে যায়। আগে এই প্রতিবাদীদের বলা হতো ‘কমিউনিস্ট’, আর এখন বলা হয় ‘সন্ত্রাসবাদী’।
থাই-যুক্তরাষ্ট্রের এই আঁতাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট থাকসিন সিনাওয়াত্রার সময়ে। তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেন, আইএমএফকে ‘না’ বলে দেন। এশিয়ান টাইমস তাঁর এই পদক্ষেপকে বর্ণনা করে, ‘চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা-সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর এমনই নাখোশ হয় যে ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেনা অভ্যুত্থানে থাকসিনের ক্ষমতাচ্যুত হওয়াকে নীরবে অভিনন্দন জানায়।’ থাকসিন কেবল পররাষ্ট্রনীতিই বদলানোর উদ্যোগ নেননি, দেশের ভেতরে তিনি দরিদ্রবান্ধব অনেক কর্মসূচি হাতে নেন। এটাই চটিয়ে দেয় থাইল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণীকে। পরিণামে সেনাবাহিনীর হাতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্র তাদের অনুগত নয় এমন সরকারগুলোকে উচ্ছেদ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের সেনাবাহিনীর কিছু অংশকে ঘুষ দিয়ে রাজি করায়। টিম ওয়েইনারসের সিআইএর ইতিহাস নিয়ে লেখা লিগ্যাসি অব অ্যাশেস বইয়ে এ বিষয়ে বিশদ বিবরণ দেওয়া আছে। যখনই কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের মদদে সেনা অভ্যুত্থান হয়, তখনই মার্কিন সরকার ও করপোরেট মিডিয়া অনেকটা নীরবে তাতে সম্মতি জানায়; কিন্তু যখনই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পুতুল সরকার উচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, তখনই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিহিংসা আর নিন্দার জোয়ার বয়ে যায়।
এশিয়ান টাইমস জানাচ্ছে, ‘২০০৬ সালের অভ্যুত্থানের মূল হোতাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের লোক বলে পরিচিত। এর মধ্যে আছেন অভ্যুত্থানের নীলনকশাকারী ও সিআইএর প্রশিক্ষিত সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রাসং সুনসিরি এবং প্রিভি কাউন্সিলের সভাপতি প্রেম তিনসুলানন্দা। প্রাসং খোলাখুলি অভ্যুত্থান ঘটানোয় নিজের ভূমিকা স্বীকার করেছেন...।’
থাই প্রেসিডেন্ট থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে এই সেনা অভ্যুত্থানই হলো বর্তমান সংকটের মূল কারণ। থাইল্যান্ডের গরিব মজুর ও কৃষকদের বড় অংশই থাকসিনকে নিজেদের প্রেসিডেন্ট বলে মনে করে। এখনো তারা তাঁর ফিরে আসার দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমনকি তাদের দাবি আদায়ে তারা খুবই কঠিন ও সহিংস পথ নিতেও দ্বিধা করেনি। যদি তারা বিজয়ী হয়, তাহলে থাইল্যান্ডে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে। থাইল্যান্ড এখন এর ধনিক শ্রেণী ও বঞ্চিত দরিদ্রদের মধ্যে সংঘাতে কাঁপছে। গরিবদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ব্যাংকক কয়েক সপ্তাহ ধরে অচল। সরকার এখন সেনাবাহিনীকে দিয়ে দমন-পীড়ন আর হত্যাকাণ্ড দিয়ে এই বিদ্রোহ দমনের পথ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডের এই গরিবদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট ওবামা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। আর এই নীরবতা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই নীরব ছাড়পত্রের সুযোগে থাইল্যান্ডের ধনিক শ্রেণীর সরকার প্রতিবাদকারীদের নির্দয়ভাবে দমন করে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রই হলো থাই রপ্তানিপণ্যের প্রধান ক্রেতা। একই সঙ্গে তারা থাইল্যান্ডে বিরাট আকারের সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এ অবস্থায় ওবামার একটি জোরালো উচ্চারণ থাই সরকারকে আরও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারত। কিন্তু তিনি নীরব থাকবেন বলেই ঠিক করেছেন।
এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু মার্কিন মদদপুষ্ট এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে শত শত কিংবা হাজারে হাজারে মানুষকে খুন করতে হতে পারে। এমনকি এরই মধ্যে গুপ্তঘাতক দিয়ে বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে।
সেনা সরকারকে সমর্থন করার ধারা বুশ সরকারের মতোই বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। থাইল্যান্ডের বর্তমান রক্তপাতের দায় তাই ওবামার ওপরও বর্তায়। প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া ক্ষমতায় টিকে থাকলে উত্তরোত্তর সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হবে। দরিদ্র শ্রেণীগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে থাই অভিজাত শ্রেণী, সেনাবাহিনী ও বিদেশমুখী ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা আরও জোটবদ্ধ হবে। আজ যদি থাইল্যান্ডের জনগণ তাদের খুনে সরকারকে উচ্ছেদ করতে সমর্থ না হয়, তাহলে তার দায় ওবামাকেও নিতে হবে। কেননা এই সরকার তখন দীর্ঘ মেয়াদে দমন-পীড়ন ও হত্যা-নির্যাতন দিয়ে নিজেদের ক্ষমতা অটুট রাখার চেষ্টা করে যাবে।
থাইল্যান্ডের চলমান বিক্ষোভের পরিণতি যা-ই হোক, থাইল্যান্ডের গ্রামীণ দরিদ্র শ্রেণীগুলোর রাজনৈতিক জাগরণ ঘটেছে। তারাই হয়ে উঠেছে সেনা-সমর্থিত সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ।
কাউন্টারকারেন্টস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত।
শামুস কুকে: ব্রিটিশ লেখক ও সমাজকর্মী।

আইলার এক বছর পর -বাঁধ মেরামতে ব্যর্থতার জবাবদিহি চাই

গত বছরের ২৫ মে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলা উপকূলে আঘাত হানে। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ভোলা, বরগুনাসহ উপকূলের এক বিরাট অংশের বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। সর্বনাশা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগেও হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু এবার দেখা গেল, এক বছর পরও হাজার হাজার মানুষ বাঁধের ওপর থাকতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ, যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙে সমুদ্রের পানি ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তার বেশির ভাগ অংশ মেরামত করা হলেও বেশ কয়েকটি এলাকার বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি আজও। তাই এখনো ওই ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ভেতরে ঢুকছে। ঘরবাড়িতে মানুষ ফিরতে পারছে না। বিশেষভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, দাকোপসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ বাঁধের ওপর মানবেতর জীবন যাপন করছে। কখনো নিজের বাড়িতে ফেরা সম্ভব হবে কি না, সে ব্যাপারে ওরা নিশ্চিত নয়।
কেন বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি, সেটা এক যৌক্তিক প্রশ্ন। কারণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ মোটামুটি দক্ষতা অর্জন করেছে বলে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন উপলক্ষে স্বীকার করেছে। তাহলে এবার কেন সেই সাফল্য বাংলাদেশ দেখাতে পারল না? গত বছর বলা হয়েছিল, বর্ষায় যেহেতু জোয়ারের প্রবল ঢেউ থাকে, তাই শীতকাল ছাড়া কয়েকটি স্থানে বাঁধ মেরামত করা কঠিন। হয়তো এ কথায় যুক্তি ছিল। কিন্তু শীতও তো চলে গেল। বাঁধ মেরামতের কাজটি হলো না কেন?
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ ক্ষেত্রে অবহেলা অনেকাংশে দায়ী। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ব্যবস্থাপনায়ও ছিল ত্রুটি। কিন্তু তার চেয়েও বড় কারণ হলো অনিয়ম ও দুর্নীতি। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ারে তা ভেসে গেছে।
এই ব্যর্থতার দুটি কারণ হতে পারে। হয়তো কারিগরি ত্রুটি ছিল, তাই নির্মিত বাঁধ কোনো কোনো স্থানে নিয়মিত জোয়ারে ভেসে গেছে, অথবা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে। কম টাকায় নির্মাণকাজ দায়সারাভাবে করা হলে তা না টেকারই কথা। চুরি-দুর্নীতির অভিযোগ এলাকায় গেলেই শোনা যায়, পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময় তা প্রকাশিতও হয়েছে। আবার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাঁধ নির্মাণের নকশায় ত্রুটিও থাকতে পারে। এর সঙ্গে যদি দুর্নীতি যুক্ত হয়, তাহলে রুদ্র প্রকৃতির ওপর দোষ দিয়ে তো লাভ নেই।
কারিগরি ত্রুটি বা দুর্নীতি, যেটাই হয়ে থাকুক, পুরো ব্যাপারটা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। জবাবদিহি না থাকলে কাজের সুষ্ঠু অগ্রগতি সম্ভব নয়। হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। তাদের আশ্রয় নেই, কাজ নেই, খাদ্য নেই। বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ। অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়িয়ে ভাঙা বাঁধ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। উপকূলের মানুষ যেন নিজেদের ঘরবাড়িতে ফিরতে পারে, সে ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।

সোয়াত থেকে জঙ্গিদের আত্মীয় সন্দেহে ২৫টি পরিবার বহিষ্কার

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকা থেকে তালেবান যোদ্ধাদের আত্মীয় সন্দেহে প্রায় ২৫টি পরিবারের ১৩০ জনকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তারা সামরিক বাহিনীর পাহারাধীন একটি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ কথা জানান। তাঁরা বলেন, সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিদের আত্মীয় হওয়ার কারণে বহিষ্কারের শিকার হয়েছে পরিবারগুলো।
গত বছর সোয়াত উপত্যকাকে তালেবান জঙ্গি মুক্ত করতে অভিযান চালায় সামরিক বাহিনী। বর্তমানে এলাকাটির নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বও তাদের। সম্প্রতি সেখানে স্থানীয় শান্তি কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য ও সম্প্রদায়ের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আখতার আব্বাস জানান, প্রায় ২৫টি পরিবারের ১৩০ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একটি জিরগা (স্থানীয় পরিষদ) তাদের বহিষ্কার করে। কারণ তাদের ভয়, পরিবারগুলো এখনো জঙ্গিদের সহায়তা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছে জঙ্গিরা।
আব্বাস আরও জানান, ওই পরিবারগুলোর যেসব সদস্য তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আত্মসমর্পণের সময়সীমা ছিল ২০ মে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের আত্মীয়দের বহিষ্কার করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ওই সব পরিবারকে আশ্রয় শিবিরে নিয়ে আসে সেনাবাহিনী।
বহিষ্কার হওয়া ওই পরিবারের সদস্যদের পালাই এলাকার একটি পরিত্যক্ত আফগান আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে।
সামরিক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসেবার সুবিধা করে দিচ্ছে। স্থানীয় জেলা সমন্বয় কর্মকর্তা জাভেদ মারওয়াত বলেন, তথ্য পাওয়া গেছে, পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের তথ্য ও সমর্থন দিয়ে সহযোগিতা করছিল। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তাই তাদের শিবিরে আনা হয়েছে।

ইথিওপিয়ায় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের জয়

ইথিওপিয়ার জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মেলেস জেনাবির দল ইথিওপিয়ান পিপলস রেভ্যুলুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। গত সোমবার দেশটির ন্যাশনাল ইলেকটোরাল বোর্ড (এনইবিই) নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য জানায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনে এই বিজয় মেলেসকে দেশটির গণতন্ত্রকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে। সাবেক বিদ্রোহী নেতা মেলেস ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী মেলেস ২০১৫ সালে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন বলে পরিকল্পনা করেছেন।
দেশটির ৪৩ হাজার ৫০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে থাকসিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

থাইল্যান্ডের একটি আদালত গতকাল মঙ্গলবার সে দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। রাজধানী ব্যাংককে সাম্প্রতিক সময়ে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সহিংস আন্দোলনে ইন্ধন ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আদালত এ নির্দেশ দিয়েছেন।
দেশটির বিশেষ তদন্ত বিভাগের উপপ্রধান নারাস সাভেসতানান জানিয়েছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে থাকসিনের জড়িত থাকার বিষয়ে গতকাল ব্যাংককের একটি ফৌজদারি আদালতে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালত যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে থাকসিনের বিরদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। শুনানি শেষে সাভেসতানান আদালত কক্ষের বাইরে এসে সাংবাদিকদের আরও বলেন, থাকসিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার এ নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব এখন এটর্নি জেনারেলের।
থাকসিনের আইনজীবী পিচিত চিয়্যুনবান বলেছেন, তিনি তাঁর মক্কেলকে আদালতের এ আদেশ সম্পর্কে অবহিত করবেন এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
থাই সরকারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন জড়িত। তাঁর উসকানিতেই লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী আন্দোলন করেছে।
সরকার পতন ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে মধ্য মার্চ থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে ব্যাংকক। ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে টানা ছয় সপ্তাহ ধরে অবস্থান করে তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে ৮৮ জন নিহত এবং প্রায় দুই হাজার লোক আহত হয়।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গত বুধবার থাই সেনারা সর্বাত্মক অভিযান চালায়। পাশাপাশি ব্যাংককসহ ২৩টি প্রদেশে কারফিউ জারি করা হয়। এদিন সেনা অভিযানে ইতালির এক সাংবাদিকসহ ছয়জন নিহত হয়। পরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন নেতার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সহিংস এ আন্দোলনের অবসান ঘটে।
থাইল্যান্ডের বিশেষ তদন্ত বিভাগের (ডিএসআই) প্রধান থারিথ পেংদিত সোমবার বলেছিলেন, লাল শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে থাকসিনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য-প্রমাণ আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে সরকারের এ অভিযোগ থাকসিন অস্বীকার করে বলেছেন, ব্যাংককে সহিংস ঘটনার পেছনে তাঁর কোনো হাত নেই। এমনকি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পেছনেও তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।
২০০৬ সালে রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাকসিন সিনাওয়াত্রা সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে আছেন। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দেশে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ সময়ই তিনি দুবাইয়ে থাকেন। গতকাল তিনি পরিবার নিয়ে বলকান রাষ্ট্র মন্টিনেগ্রোতে যান। আবার গতকালই সে দেশ ত্যাগ করেন। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সোমবার থাকসিন মন্টিনেগ্রোতে পৌঁছান। এর আগে গত মার্চে তিনি প্রথম মন্টিনেগ্রোতে যান।
এদিকে থাইল্যান্ডকে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ হিসেবে ঘোষণাসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সোমবার মার্কিন সিনেটে অনুমোদিত হয়েছে। একই সঙ্গে সিনেটররা ব্যাংককে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পররাষ্ট্রবিষয়ক চেয়ারম্যান জিম ওয়েব এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে ব্যাংককের সহিংস ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপর দিকে থাই সরকার ব্যাংকক ও আরও ২৩টি প্রদেশে চলমান রাত্রিকালীন কারফিউর মেয়াদ আরও চার দিন বাড়িয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাসচিব তাউইল প্লেনরি জানান, গতকাল মন্ত্রী পরিষদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৫ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত রাতের বেলা কারফিউ বলবত্ থাকবে।

গিনিতে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৪ জন প্রার্থী

গিনিতে আগামী ২৭ জুন প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ২৪ জন বেসামরিক প্রার্থী দাঁড়াচ্ছেন। গত সোমবার রাতে পশ্চিম আফ্রিকার ওই দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মামাদাউ সিলা এ কথা জানান।
মামাদাউ সিলা বলেন, ৩৬ জন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন; কিন্তু ২৪ জনকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোনো সেনা কর্মকর্তা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তিনি বলেন, নির্বাচনে একমাত্র নারী প্রার্থী হলেন কাবা হাদজা সারান দারাবা। প্রয়াত স্বৈরশাসক কন্টের শাসনামলে তিনি মন্ত্রী ছিলেন।
নির্বাচনে চারজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা হলেন সেলু দালিন দিয়ালো, ফ্রাঙ্কোয়েস লনসেনি ফল, লানসানা কুয়াতে ও সিদিয়া তুরে।
১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে গিনি। এর পর থেকে সেনা ও স্বৈরশাসকেরা দেশটি শাসন করে আসছেন।

নিকোলা সারকোজিকে বোতল নিক্ষেপ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিকে লক্ষ্য করে এক স্কুলছাত্র বোতল ছুড়ে মেরেছে। তবে এটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্যারিসের বাইরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেন সারকোজি। এরই অংশ হিসেবে গতকাল তিনি গিয়েছিলেন প্যারিসের উত্তরে চার্লস ফৌকুয়েক্স হাইস্কুলে।
স্কুলে যাওয়ার পর উত্সুক জনতা তাঁকে ঘিরে ধরেন। এদের মধ্যে ছিল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় হঠাত্ তাঁর দিকে ধেয়ে আসে প্লাস্টিকের একটি বোতল। এরই মধ্যে এক দেহরক্ষী এসে বোতল ও সারকোজির মধ্যে দাঁড়ালে তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। বোতলটি ওই স্কুলেরই এক ছাত্র ছুড়ে মারে।
এ ঘটনার পর সারকোজি স্কুলের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে তিনি স্কুলের একটি শ্রেণীকক্ষ পরিদর্শন শেষে স্কুলপ্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

লস্কর নেতা হাফিজের মুক্তির নির্দেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সে দেশের দাতব্য সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদের মুক্তির আদেশ বহাল রেখেছেন। তিনি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বাই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়।
২০০৯ সালের জুনে লাহোরের উচ্চ আদালত তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ও পাঞ্জাবের প্রাদেশিক সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
বিচারপতি নাসির উল মুলকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার আপিল নাকচ করে আগের আদালতের রায় বহাল রাখেন।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী এ কে দোগার বলেন, মামলায় হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে সরকারের কৌঁসুলিরা ব্যর্থ হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, শুধু ধারণার ভিত্তিতে একজন মানুষের স্বাধীনতার অধিকার হরণ করা যায় না।

গোপন সামরিক তত্পরতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আল-কায়েদাসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকায় গোপন সামরিক তত্পরতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন সামরিক নথিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস গত সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নথিপত্র থেকে দেখা যায়, ইরান, সৌদি আরব, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গি নেটওয়ার্ক পরাজিত বা ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র গোপন সামরিক তত্পরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া এই কর্মকাণ্ডের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা, যাতে দেশের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে যেকোনো জায়গায় তারা হামলা চালাতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, গোপন সামরিক তত্পরতা বাড়ানোর বিষয়টি শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার জেনারেল ডেভিড ফেট্রাউস গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুমোদন করেন। এ ক্ষেত্রে ইরানের ওপর তিনি বেশি জোর দেন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে গেলে, দেশটির ওপর যাতে হামলা চালানো যায়, সে জন্য ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ব্যাপারে মার্কিন সেনা, বিদেশি ব্যবসায়ী, সুশীলসমাজের লোকজনসহ অন্য মাধ্যমে জঙ্গিদের অবস্থানের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে আমেরিকা। সেসব দেশের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য জঙ্গি হুমকিও নিরূপণ করছে তারা। এ ছাড়া সেসব দেশের বন্ধুভাবাপন্ন স্থানীয় কিছু বাহিনীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক ফলপ্রসূ হলেও মতানৈক্য রয়েছে: হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক খুবই ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে, তবে বেশকিছু বিষয়ে বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনকে (সিসিটিভি) দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন হিলারি ক্লিনটন।
ক্লিনটন বলেন, ‘আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে আমরা সব বিষয়েই একমত হব এমনটি আশা করা ঠিক না। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। তবে বাণিজ্য অনেকটাই কঠিন বিষয় ছিল একমত হওয়ার জন্য। দুই পক্ষই বাণিজ্যসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করেছে।’
গত সোমবার বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। দুই দিনের এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন হিলারি ক্লিনটন ও মার্কিন অর্থমন্ত্রী টিমোথি গেইটনার।
হিলারি বলেন, আজকের পারস্পারিক সম্পর্কযুক্ত বিশ্বে, ‘বিশেষ করে বৈশ্বিক আর্থিক বাজার ব্যবস্থায় দেশগুলোকে উদারনীতি গ্রহণ করতে হবে। বাজার খুলে দিতে হবে। আমাদের মেনে নিতে হবে, বাজারে হস্তক্ষেপকারী সরকার নয় বরং সহযোগী মনোভাবাপন্ন সরকার আমাদের সবার স্বার্থের পক্ষে কাজ করবে।

জ্যামাইকায় মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে অভিযান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩

জ্যামাইকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার কোক ওরফে দুদুসকে ধরতে গত সোমবার তাঁর শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত রাজধানী কিংস্টনের টিভোলি গার্ডেন এলাকায় অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় তাঁরা দুদুসের সশস্ত্র অনুগতদের প্রচণ্ড বাধার মুখে পড়ে। তাদের সঙ্গে রীতিমতো বন্দুকযুদ্ধ বেধে যায়। এতে এক সেনা ও দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত দুদুসকে মার্কিন প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জ্যামাইকা সরকার ঘোষণা দেওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়।
জ্যামাইকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডুইট নেলসন গত সোমবার রাতে বলেছেন, যৌথ বাহিনী টিভোলি গার্ডেন থেকে বেশ কিছু লোককে আটক করেছে। তবে, তাদের মধ্যে দুদুস নেই। তিনি বলেন, সেখানে কিছুসংখ্যক বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে কয়েকটি অসমর্থিত সূত্রে তিনি খবর পেয়েছেন। স্থানীয় এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে পুরো টিভোলি গার্ডেন ঘিরে ফেলা হয়েছে। দুদুসকে ধরতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিংস্টনের বাসিন্দাদের পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেলসন বলেছেন, যেভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে তাতে অপরাধীর পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে, টিভোলি গার্ডেন এবং রাজধানীর একটি বিশাল এলাকায় স্থানীয়রা দুদুসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। টিভোলি গার্ডেনে অভিযান চালানোর সময় যৌথ বাহিনী স্থানীয়দের প্রবল বাধার মুখে পড়েন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে সেনাবাহিনী সেখানে ঢোকে। স্থানীয়রা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, দুদুস তাঁদের কাছে অভিভাবকের চেয়েও বেশি কিছু। অনেকের কাছেই তিনি একজন ত্রাতা হিসেবে বিবেচিত।
ক্রিস্টোফার কোক ওরফে দুদুস কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক না হলেও তিনি নিজেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। গত সোমবার বহু সমর্থককে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এক সমর্থকের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমাদের জন্য যিশু প্রাণ দিয়েছিলেন, আমরা দুদুসের জন্য প্রাণ দেব।’
দুদুসের একজন আইনজীবী তাঁকে সাধারণ ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসাজশ নেই। তবে মার্কিন কৌঁসুলিদের দাবি, ১৯৯০ সালে ‘দি শাওয়ার পোস’ নামে দুদুস একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র গড়ে তোলেন। তখন থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন ও মারিজুয়ানা চালান করে আসছেন। ওই মাদক বিক্রির অর্থ দিয়ে তিনি অস্ত্র কিনে দেশে পাঠাচ্ছেন। তাঁর এই নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তুলেছেন তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দুদুসকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জ্যামাইকা সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ব্রুস গোল্ডিং দুদুসকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সাধারণ নির্বাচনে জিতে অনন্য ইতিহাস গড়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিশ্বেশ্বর। তিনি শুধু সে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত সরকারপ্রধান হিসেবেও প্রথম। গত সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর পাঁচদলীয় জোট বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতাসীন দলের ৪৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটায়। গতকাল মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কমলা প্রসাদের শপথ নেওয়ার কথা।
নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৪১টি আসনের মধ্যে কমলা প্রসাদের পিপলস পার্টনারশিপ ২৯টি আসন পায়। তিনি বলেন, দেশের সব নারী ও নারী সংগঠনগুলো আমাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করায় তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাদের পক্ষ নিয়েই আমি এই বিজয় উদ্যাপন করছি। ২০০২ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিক ম্যানিং পরাজয় মেনে নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে দুই নাতির দাদি কমলা একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ব্যবসায় প্রশাসনে তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ওপর ডিপ্লোমা করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী অ্যাটর্নি জেনারেল। আইনবিষয়ক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।
কমলা প্রসাদের পূর্বপুরুষ ১৮৪৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে ভারত থেকে শ্রমিক হিসেবে ত্রিনিদাদে আসেন।

পর্যটন ভিসা সহজ করবে মালয়েশিয়া

ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করবে মালয়েশিয়া। পর্যটনশিল্পকে আরও চাঙা করার জন্য এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটি। মালয়েশিয়ার একজন কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
বর্তমানে এ চারটি দেশের পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় ঢোকার আগে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুসারে মালয়েশিয়ায় ঢুকতে তাঁদের ভিসা লাগবে না। মালয়েশিয়ায় ঢুকে ট্রানজিট পাস নিলেই চলবে।
এ ব্যাপারে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার মহাপরিচালক মির্জা মোহাম্মদ তাইয়েব বলেন, এর ফলে মালয়েশিয়ায় অবকাশ যাপন তাঁদের পক্ষে আরও সহজ হবে।
ওই চারটি দেশ থেকে গতবছর মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ করেন প্রায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার পর্যটক। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশ থেকে যান আট লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৩ জন।

হুমকিমূলক আচরণ বন্ধ করুন

যুদ্ধংদেহী ও হুমকিমূলক আচরণ বন্ধ করার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ‘দক্ষিণ কোরিয়ার একটি রণতরী ডুবির জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী’—আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানানো হলো। এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, রণতরী ডুবির ঘটনায় তাদের কোনো শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলে, তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করবে। অন্যদিকে চীন সরকার বলেছে, কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ বরদাস্ত করবে না তারা।
আন্তর্জাতিক তদন্তে দেখা গেছে, গত ২৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার একটি ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার চেওনান নামের যুদ্ধজাহাজটি ডুবেছে।
গত সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেন, ‘আমরা মনে করি, উত্তর কোরিয়ার তাদের যুদ্ধংদেহী ও হুমকিমূলক আচরণ বন্ধ করা উচিত। আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিউং-বাকের পদক্ষেপকে সমর্থন করছি।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করেন। গিবস জানান, ওবামা মার্কিন সেনা অধিনায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার আচরণের পরিবর্তন চায় যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ভিন্ন ভিন্ন আচরণ মেনে নিয়েছি আমরা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, প্রতিবারই কোনো একপর্যায়ে এসে উত্তর কোরিয়া এ ধরনের উস্কানিমূলক আচরণ করছে। আমরা পরিষ্কার জানাতে চাই, উত্তর কোরিয়াকে এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।’
ক্রাউলি আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে আমাদের ঝগড়া রয়েছে এবং এটা চলছে। আমরা বহুপক্ষীয় এবং এককভাবে পর্যালোচনা করে দেখব, কোন পন্থায় উত্তর কোরিয়ার সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যায়। উত্তর কোরিয়ার জনগণ এখন যে দুর্দশায় আছে, তাদের এর চেয়ে বেশি দুর্দশায় ফেলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।’
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে পাঠানো উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর একটি বার্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ডজনখানেক যুদ্ধজাহাজ উত্তর কোরিয়ার জলসীমা লঙ্ঘন করেছে। এটা উসকানিমূলক। এর কারণে পীতসাগরে আরেকটি সামরিক সংঘাত হতে পারে। সীমানা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে উত্তর কোরিয়া তার জলসীমা রক্ষায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। আর এ জন্য দক্ষিণ কোরিয়া পুরোপুরি দায়ী থাকবে।
তবে পিয়ংইয়ংয়ের এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো রণতরী উত্তর কোরিয়ার জলসীমা লঙ্ঘন করেনি।
তবে কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা নিয়ে সব পক্ষকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনের বক্তব্য, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা শ্রেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিয়াং ইউ বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত নিজ নিজ স্বার্থে কোরীয় উপদ্বীপ ও এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এ অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত হয়, এমন কোনো পদক্ষেপ বরদাস্ত করবে না চীন।
উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ মিউং-হওয়ানের সঙ্গে বৈঠক করতে চীনের শীর্ষ দূত ওউ দাওয়েই সিউল সফরে যাওয়ার পর এ বক্তব্য দিল চীন সরকার।

স্যামির ঝড় সামলে স্মিথদের জয়



ড্যারেন স্যামি যখন ব্যাট হাতে নামলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় তখন দূরের বাতিঘর। ৫৬ বলে প্রয়োজন ১০১ রান, হাতে ৪ উইকেট। ছয় ছক্কা ও দুই চারে ২৬ বলে ৫৮ রান করে এটিকে ঢিলছোড়া দূরত্বে এনে দিলেন স্যামি, যদিও সতীর্থদের ব্যর্থতায় শেষ রক্ষা হলো না। ১৭ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পরশু অ্যান্টিগায় ১৩ বলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৮ রানের, কিন্তু শেষ ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা টানা দুই বলে। ২০ বলে ফিফটি করা স্যামিকে ক্ষেত্রটা প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন ডোয়াইন ব্রাভো (৭০ বলে ৭৪) ও দলে ফেরা ডেল রিচার্ডস (৫১)। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঠিক ৩০০ রানের পুঁজি এনে দেন ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত পারফরম্যান্স। সর্বোচ্চ ৯২ করেছেন হাশিম আমলা, গত ৮ ম্যাচে তাঁর ষষ্ঠ পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। ৩০০তম ম্যাচে জ্যাক ক্যালিস করেছেন ৮৫, টানা চতুর্থ সেঞ্চুরির হাতছানি দেখা এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৫ বলে ৪১। এদিকে দুটি পুলিশ স্টেশনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় কিংস্টনে জরুরি অবস্থা জারি করায় বদলে যেতে পারে শেষ ওয়ানডে ও প্রথম টেস্টের ভেন্যু। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩০০/৫ (আমলা ৯২, ক্যালিস ৮৯, ডি ভিলিয়ার্স ৪১, স্মিথ ৩৭, মিলার ২৬*; পোলার্ড ২/৪৯, টেলর ২/৫০)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৮.১ ওভারে ২৮৩ (ব্রাভো ৭০, স্যামি ৫৮*, রিচার্ডস ৫১, পোলার্ড ২৯; মরনে মরকেল ৩/৫৮)।

সাফিনার বিদায়

দুই বছর আগে এই ফ্রেঞ্চ ওপেনেই স্মরণীয় উত্থান ঘটেছিল দুজনের। সেবার ফাইনালে দিনারা সাফিনাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন আনা ইভানোভিচ। কিন্তু এবার প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিলেন সাফিনা। কাল ৩৯ বছর বয়সী জাপানের কিমিকো দাতের কাছে ৩-৬, ৬-৪, ৭-৫ গেমে হেরে গেলেন রুশ তরুণী। ভার্জিনিয়া ওয়েডের পর রোলাঁ গাঁরোয় সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচ জিতলেন দাতে। সাফিনা হারলেও আনা ইভানোভিচ শুরু করেছেন সহজ জয় দিয়ে। পরশু প্রথম রাউন্ডে তাইপের কাই চেন চ্যাংকে ৬-৩, ৬-৩ গেমে উড়িয়ে দিয়েছেন সার্বিয়ান তারকা। ওদিকে কাল পুরুষদের বিভাগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্ডি রডিক বেশ ঘাম ঝরিয়েই পেরিয়েছেন প্রথম রাউন্ডের বাধা। ফিনল্যান্ডের জার্কো নাইমিনেনকে হারাতে তাঁকে খেলতে হয়েছে পাঁচ সেট—৬-২, ৪-৬, ৪-৬, ৭-৬ (৭/৫), ৬-৩।

ব্রাজিলের ‘মারকানা’ কান্না

বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফুটবলকে পুনরায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। এ জন্য ১২ বছর ধরে নির্বাসিত বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে বিশ্বকাপ আয়োজনে ইচ্ছুক দেশগুলোর কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসলীলায় বিধ্বস্ত ইউরোপীয় কোনো দেশই ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ছিল না। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে ফিফার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আর কোনো দেশ আবেদন না করায় ফিফা ব্রাজিলকেই বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মনোনীত করে।
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের আগ দিয়ে ইংল্যান্ড ফিফার সঙ্গে নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে আবারও সংস্থাটির সদস্যপদ গ্রহণ করে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই ইংল্যান্ড ফিফার বাইরে ছিল। ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। মাঝখানের দুটি বিশ্বকাপে অনুপস্থিত উরুগুয়ে ৫০ সালের বিশ্বকাপে আবার ফিরে আসে। আর ফিরে এসেই ফাইনালে ব্রাজিলের লাখো দর্শককে কাঁদিয়ে ব্রাজিলের মাটি থেকে জিতে নিয়ে যায় বিশ্বকাপের শিরোপা।
১৯৫০ সালে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েও তা হেলায় হারায় ভারত। ভারতের বিশ্বকাপে না খেলতে পারার কারণটা বড় অদ্ভুত। ভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) ফিফার কাছে আবেদন জানায়, বিশ্বকাপে ভারতীয় দল খালি পায়ে কেবল অ্যাংকলেট পড়ে খেলতে নামবে। ফিফা আইএফএর সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে ভারতের আর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর এই বিশ্বকাপে অনেক দেশই অংশ নেয়নি। বিশ্বযুদ্ধের কারণে একঘরে জার্মানিকে অংশ নিতেই দেওয়া হয়নি। অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের আগে নিজেদের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ খেলার অনুপযুক্ত মনে করে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। চেকোস্লোভাকিয়া, রাশিয়া, হাঙ্গেরি রাজনৈতিক কারণে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর আগে একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় নিহত হলেও ইতালি শেষ পর্যন্ত ভঙ্গুর দল নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নেয়।
১৩টি দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে ছিল এক অদ্ভুত ফরম্যাট। ১৩টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে, প্রতিটি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নকে নিয়ে আবার রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে দ্বিতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। এই দ্বিতীয় রাউন্ডে চারটি দল চারটি দলের সঙ্গে মুখোমুখি হয়, শীর্ষে থাকা দুটি দল ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটে, ইংল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে। সেই ম্যাচে ফুটবলের জনকদের ১-০ গোলে হারিয়ে সবাইকে হতবাক করে দেয় ফুটবলে নবাগত যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচটি নিয়ে একটি মজার ঘটনা আছে—ম্যাচের পরের দিন সকালে দৈনিক পত্রিকা খুলে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ মনে করে, খবরটি ছাপানোর সময় নিশ্চয়ই কোথাও ভুল করেছে সংবাদপত্রগুলো। নিশ্চয়ই ফলটি ১০-১ লিখতে গিয়ে মুদ্রণপ্রমাদ বশত ‘০-১’ হয়ে গেছে! এই খবরটি পড়ে বিভিন্ন মারফত বহু পাঠক সংবাদপত্র কার্যালয়ে যোগাযোগ করে। কিন্তু পত্রিকাগুলো থেকে জানানো হয়, কোনো মুদ্রণপ্রমাদ নয়, গতকাল যুক্তরাষ্ট্র আসলেই ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছে।
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ফাইনাল এটি। ব্রাজিলীয়দের জন্য এই ফাইনাল ছিল এক ট্র্যাজিক অধ্যায়। ১ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে ফাইনাল খেলতে নেমে শিরোপা জয়ের জন্য ব্রাজিলের প্রয়োজন ছিল কেবল ড্র। রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারকানা স্টেডিয়ামে এক লাখ ৭৪ হাজার দর্শক সেদিন মাঠে গিয়েছিল উত্সব করতে করতেই। তত্কালীন ব্রাজিলের তুখোড় ফর্মের কাছে উরুগুয়ে খরকুটোর মতো উড়ে যাবে—এমন ধারণাই ছিল সবার। খেলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে উরুগুয়ে। প্রথমার্ধজুড়েই অ্যাদেমির, জিজিনহো ও জাইর ত্রয়ীর আক্রমণ ঠেকাতে নাকাল হতে থাকে উরুগুয়ে। উরুগুয়েন গোলরক্ষক গাস্তন ম্যাসপোলির অসাধারণ নৈপুণ্য সেদিন উরুগুয়েকে অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করে। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে ব্রাজিল অবশেষে উরুগুয়ের গোলমুখ খুঁজে পায়। অ্যাদেমির ও জিজিনহোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে গোল করেন অ্যাদেমির। মারকানা স্টেডিয়ামের উত্সব যেন নতুন মাত্রা পায় সেই মুহূর্তে। গোল করেও একের পর এক আক্রমণ করে যেতে থাকে ব্রাজিল। আক্রমণ করতে করতে ক্লান্ত ব্রাজিল দলের ফাঁক-ফোকর বের করে বুদ্ধিদীপ্ত প্রতি আক্রমণ শুরু করে উরুগুয়ে। খেলার ৬৬ মিনিটের সময় সমতা ফিরিয়ে আনে উরুগুয়ে। ব্রাজিলের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বিগোদের একটি ভুলে ঝিজিয়া মুহূর্তের জন্য থমকে দেন মারকানা স্টেডিয়ামকে। পরক্ষণেই আবার প্রাণ ফিরে আসে স্টেডিয়ামে। কারণ দর্শকেরা জানত, একটি ড্র-ই ব্রাজিলের শিরাপা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বিধি বাম। খেলার ৭৯ মিনিটের সময় সেই ঝিজিয়াই মারকানাতে প্রেতপুরীর নিস্তব্ধতা নামিয়ে আনেন উরুগুয়েকে ২-১ গোলে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে। বাকি ১১ মিনিটে ব্রাজিল আরও কয়েকটি আক্রমণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। রেফারি খেলার শেষ বাঁশি বাজালে শোকস্তব্ধ মারকানা স্টেডিয়ামের লাখ লাখ দর্শক কান্নায় ভেঙে পড়ে, কয়েকজন তো এই দুঃখ সইতে না পেরে মারকানার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহননের পথই বেছে নেয়।
শিরোপা জয়ের ব্যাপারে ব্রাজিল এতটাই নিশ্চিত ছিল যে ফাইনালের পরের দিন দেশটিতে সরকারিভাবে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ছুটি ব্রাজিলীয়রা কাটিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এ রকম শোকের আবহ দেশটিতে আগে কখনো দেখেনি কেউ। ফাইনালের পরের দিন পুরো ব্রাজিল ছিল শোকস্তব্ধ। নীরব, নিথর। সেই দিনটির সাক্ষী হয়ে বেঁচে থাকা প্রবীণেরা আজও শিউরে ওঠেন ফাইনাল-পরবর্তী ব্রাজিলের কয়েকটি দিনের কথা মনে করে।

রাহাতুলের ৭ উইকেট

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের দুই দিনের ফাইনালের প্রথম দিনটি সিলেটের। রাহাতুলের বোলিং-নৈপুণ্যে ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কাল প্রথম ইনিংসে দুই শ রানও পেরোতে পারেনি বিকেএসপি। তাদের ১৯৪ রানে অলআউট করেছে সিলেট। ৬১ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন রাহাতুল। নাসুম পেয়েছেন ২টি। জবাবে দিন শেষে প্রথম ইনিংসে ৮১ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে সিলেট। সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন মিজানুর।

মেয়েদের স্কুল ক্রিকেট

পিঙ্কির (১০১) সেঞ্চুরিতে মেয়েদের স্কুল ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে ৪২ রানে জয় পেয়েছে ভিকারুননিসা নূন ‘বি’ স্কুল। ধানমন্ডি সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রথমে ব্যাট করে ১৫৫ রান তোলে ভিকারুননিসা নূন ‘বি’ স্কুল। জবাবে ১১৩ রানেই অলআউট পারগেন্ডারিয়া হাইস্কুল।

স্বপ্নপূরণ হচ্ছে মরগানের

চাইলে একটা নাটক লিখে ফেলা যায় এইউইন মরগানের জীবন নিয়ে, নয়তো সিনেমার চিত্রনাট্য। ছোটবেলায় অসম্ভব যে স্বপ্নটা খেলা করত তাঁর চোখে, আজ সেটা বাস্তবতার পাখা মেলার অপেক্ষায়। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্নপূরণের আর একটুই বাকি এই আইরিশ ক্রিকেটারের।
লর্ডসে আগামীকাল বাংলাদেশের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়ে যাবে কি না, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে গতকাল লর্ডসের প্যাভিলিয়নে ইংল্যান্ডের যে কজন খেলোয়াড়কে গণসাক্ষাত্কারের জন্য হাজির করা হলো, সেখানে মরগানের টেবিলেই হলো সবচেয়ে বেশি ভিড়। আইরিশ থেকে ইংলিশ ক্রিকেটার হয়ে যাওয়া মরগান বলেনও ভালো। ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ডাক পাওয়াটা যে ঠিক নিজেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, সেটা স্বীকার করায় একটু দ্বিধান্বিত দেখাল না তাঁকে, ‘ফোন পেয়ে অবাকই হয়েছিলাম আমি। খুব খুশিও লাগছিল, কারণ এ রকম একটা ফোন পাওয়ার স্বপ্ন সব শিশুরই থাকে। আর আমি টেস্ট ক্রিকেটই খেলতে চেয়েছি সব সময়, চেয়েছি সেরাদের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্যের পরীক্ষা নিতে। টেস্ট খেলাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’
আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২৩টি ওয়ানডে খেললেও এউইন মরগান এখন পুরোদস্তুর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের হয়ে এর মধ্যেই খেলে ফেলেছেন ১৮টি ওয়ানডে আর ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এবার টেস্ট দলে ডাক পেয়ে আসল স্বপ্নপূরণটাও এখন সময়ের ব্যাপার, যে স্বপ্ন দেখার শুরু তাঁর সেই ছোটবেলা থেকেই, ‘সেই ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম আমি...টেলিভিশনে ইংল্যান্ডের টেস্ট দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। সব সময় চেয়েছি আমার স্বপ্নের নায়কদের মতো হতে।’ এই স্বপ্ন থেকেই ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন মরগান। ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার বাসনায় চলে এলেন আয়ারল্যান্ড থেকে। এসে আরেকবার প্রমাণ করলেন, ভাগ্য সব সময় সাহসীদেরই সঙ্গে থাকে।
টেস্ট ক্রিকেটে মরগান কেমন করবেন, ইংলিশ মিডিয়ার সেটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল। একজন তো জিজ্ঞেসই করে বসলেন টানা ছয় ঘণ্টা ব্যাটিং করার মতো ধৈর্য তাঁর আছে কি না। মরগান হেসে উত্তর দেন, ‘আমি তো মনে করি, আছে। কে জানে, প্রথম ম্যাচেই হয়তো চার শ রান করে ফেললাম! খুব খারাপ হয় না তাহলে শুরুটা...।’ না, কথার মতো টেস্ট ক্রিকেটটাকে মোটেই রসিকতা হিসেবে নিচ্ছেন না। বরং ওই রসিকতাটুকু করার আগে বলে নিয়েছেন, শুরুর দিকে ব্যাটিংটা এখনকার মতো সুশৃঙ্খল ছিল না বলেই ওয়ানডে থেকে টেস্টে আসতে এতটা সময় লেগে গেছে।
২০০৯ সালের আগস্টের পর প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে কোনো ম্যাচই খেলা হয়নি মরগানের। মিডলসেক্সের হয়ে তাঁর আগের মৌসুমটাও ছিল যাচ্ছেতাই, ২০ ইনিংসে করতে পেরেছিলেন মাত্র ৪৫৫ রান। সেই দুঃসময় কাটিয়ে ওঠায় কৃতিত্ব দিচ্ছেন ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে, ‘খুব ছোটখাটো বিষয়ও ওর দৃষ্টি এড়ায় না। আমার খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে এতে।’
মরগানের টেস্ট দলে ডাক পাওয়াটা ইংল্যান্ডে যত না বড় খবর, তার চেয়ে বড় খবর আয়ারল্যান্ডে। নিজেই জানালেন, তিনি একাদশে থাকলে লর্ডস টেস্টের প্রচারটাও অন্যরকম হবে সে দেশের মিডিয়ায়। তবে তা দেখতে আয়ারল্যান্ডে বসে থাকছেন না মরগানের বাবা-মা। মরগান খেললে তাঁরা মাঠে বসেই দেখবেন ছেলের টেস্ট অভিষেক।

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে কাল জিতেছে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়াচক্র। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে তারা ২-০ গোলে হারিয়েছে মহাখালী একাদশকে। গোল করেছেন সোহেল ও ইরিন।

পিসিএল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নয়!

বহুল আলোচিত পিসিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টটিকে এত দিন চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার টুর্নামেন্ট বলে দাবি করে আসছিলেন আয়োজকেরা। কিন্তু গতকাল ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শ্যামাপদ দে স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পিসিএলের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক অস্বীকার করা হয়। গত এপ্রিলে শারজায় অনুষ্ঠিত পিসিএলের দ্বিতীয় আসরেও এটি বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার টুর্নামেন্ট বলে দাবি করেছিলেন আয়োজকেরা।

কাকা-বালাকের উল্টো খবর

ব্রাজিলের ষষ্ঠ শিরোপা অভিযানের সেরা ভরসাদের একজন তিনি। সেই কাকাকে নিয়েই সামান্য দুশ্চিন্তায় ছিল ব্রাজিল। অবশেষে এই চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছে দুঙ্গার দল। আজ দল দক্ষিণ আফ্রিকায় রওনা দেওয়ার আগেই অনুশীলনের ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন কাকা।
কুঁচকি ও ঊরুর ইনজুরিতে পড়ে এই মৌসুমের শেষ দিকে মাঠেই নিয়মিত থাকতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কাকা। যখন মাঠে নামতে পেরেছেন, এই দুই ইনজুরির ধকলে নিজের সেরা ফর্মে আসতে পারেননি। এবার চিকিত্সকেরা জানালেন, মাঠে সেরাটা দিতে আর কোনো বাধা নেই।
বাধা নেই সেভিয়া স্ট্রাইকার ফ্যাবিয়ানোরও। ব্রাজিলের আক্রমণভাগের আরেক ভরসা ফ্যাবিয়ানো পায়ের ইনজুরিতে পড়ে ‘কোপা দেল রে’র ফাইনালে খেলতে পারেননি। সেই ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার পর এখন তাঁরও আর অনুশীলনে যোগ দিতে বাধা নেই।
এসব ইনজুরি-মুক্তির খবরের উল্টো পাশে জার্মানির আলোটা আর জ্বলতে দিলেন না মাইকেল বালাক। এফএ কাপের ফাইনালে ইনজুরিতে পড়ার পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, বালাকের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। কিন্তু এর মধ্যে আবার অনেক চিকিত্সক দাবি করেছিলেন, তাঁরা এই মিডফিল্ডারকে বিশ্বকাপের আগেই সুস্থ করে দিতে পারবেন।
কিন্তু এবার বালাক সংবাদমাধ্যকে নিশ্চিত করলেন, ওসব ‘জাদুকরি’ চিকিত্সায় তাঁর নিজেরই বিশ্বাস নেই। সুতরাং বিশ্বকাপ খেলার কোনো আশাও তাঁর নেই, ‘কিছু জাদুকরি-চিকিত্সক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু আমি কোনো জাদুতে বিশ্বাস করি না। আমার (বিশ্বকাপ খেলার) কোনো সম্ভাবনাই নেই।

মাইকনই এবার কাফু

শুধু নাক গুঁজে নিজের রক্ষণভাগ সামলে রাখা নয়, ব্রাজিল বরাবরই এমন সব ডিফেন্ডারের জন্ম দিয়েছে, রক্ষণ সামলে প্রায়ই যাঁরা উঠে যান আক্রমণভাগে। ত্রাস ছড়ান প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গে। সত্তরের দশকের কাফুরিঙ্গা থেকে শুরু করে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু ছিলেন যেমন। ছিলেন রবার্তো কার্লোস। ব্রাজিলের সেই অভিজাত ডিফেন্ডারদের তালিকায় নাম লেখাতে প্রস্তুত মাইকন।
কাফু এবং কার্লোস অধ্যায় শেষ হয়ে গেলে ব্রাজিলজুড়ে একটা প্রশ্ন উঠেছিল, এই দুজনের শূন্যস্থান পূরণ করবেন কে? প্রশ্নটা বেশিক্ষণ বাতাসে ভাসতে দেননি, মাইকন দ্রুতই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি প্রস্তুত। অন্তত মাঠের ডান প্রান্তে নতুন একজন কাফুকে পেয়ে গেছে ব্রাজিল।
কাফু ছিলেন বলেই জাতীয় দলের প্রথম একাদশে জায়গা পাকা করতে সময় লেগেছে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা থিতু হয়েছে দুঙ্গা কোচ হওয়ার পর। ২০০৭ কোপা আমেরিকা আর গত বছর ফিফা কনফেডারেশনস কাপজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই ২৮ বছর বয়সী।
২০০৩ সালে অভিষেক হলেও গত বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি ২৩ জনের দলে। এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। খেলতে যাচ্ছেন ইন্টার মিলানের হয়ে ‘ট্রেবল’ সাফল্যের টাটকা স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই। আধুনিক ফুটবলে তাঁকে যে সেরা রাইটব্যাক ভাবা হচ্ছে, সেটি প্রমাণের সুযোগ এসেছে ডগলাস মাইকন সিসেনান্দোর সামনে।
রাইট উইং ধরে বিরামহীন ছুটতে পারেন বলেই ইন্টার মিলান এবং ব্রাজিল দুই দলই মাইকনের এই সামর্থ্যকে মাথায় রেখেই রণকৌশল সাজায়। তাঁকে দেওয়া হয় ইচ্ছেমতো স্বাধীনতা। মাইকন এতটাই দুর্দান্ত খেলছেন, একই সময়ের আরেক সেরা রাইটব্যাক দানি আলভেজকে শেষ পর্যন্ত হয়তো বেঞ্চে বসেই দেখতে হবে বিশ্বকাপ। অথচ এই আলভেজও বার্সেলোনার গত দুটো মৌসুমের দুর্দান্ত সাফল্যের অন্যতম কারিগর।
মার্কিন অভিনেতা মাইকেল ডগলাসের নামে নাম রাখা হয় মাইকনের। কিন্তু অভিনেতা নয়, ফুটবলারই হতে হয়েছে তাঁকে। না হয়ে উপায়ও ছিল না। মাইকনের ফুটবলার বাবা সদ্যোজাত যমজ সন্তানের নাড়ি নিয়ে গিয়ে পুঁতে এসেছিলেন তাঁর ক্লাব নোভো হামবার্গোতে।
ক্রুজিরো, মোনাকো হয়ে এখন খেলেন ইন্টারে। ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়েই এবার পূর্ণ করেছেন শিরোপাত্রয়ী। সাফল্যবিধৌত মৌসুমটি পূর্ণতা পাবে তখনই, যদি শেষান্তে এসে আজন্ম-আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিটাও ছুঁতে পারেন। আর সেই স্বপ্নপূরণের জন্য মাইকন উন্মুখ।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের অনায়াস জয়

জঘন্য বাছাইপর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে টিকিট পাওয়ার পর দল নির্বাচনে বিতর্ক। চাপের মধ্যে ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আপাতত ম্যারাডোনার সব চাপ বিরতিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন ম্যাক্সিমিলানো রদ্রিগেজরা।
লিভারপুল উইঙ্গার রদ্রিগেজের জোড়া গোল আর কার্লোস তেভেজ, অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া ও সার্জিও আগুয়েরোর একটি করে গোলে কানাডাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। দেশটির স্বাধীনতার দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বুয়েনস এইরেসের এই প্রীতি ম্যাচে মাঠেই নামেননি আর্জেন্টিনার মহাভরসা লিওনেল মেসি।
দারুণ এক জয় পেয়েছে ইংল্যান্ডও। ওয়েম্বলির প্রস্তুতি ম্যাচে গ্লেন জনসন, লেডলি কিং ও পিটার ক্রাউচের গোলে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা শক্তিশালী মেক্সিকোকে।
প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ২-১ গোলে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু বুলগেরিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও বিশ্বকাপ আয়োজক স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। সবচেয়ে বড় চমকটা দিয়েছে পর্তুগাল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দল গোলশূন্য ড্র করেছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ১১৭ নম্বর দল কেপ ভার্দের সঙ্গে।
কানাডার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসিকে বিশ্রাম দিয়ে তেভেজ ও হিগুয়েইনের সঙ্গে তৃতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে হাভিয়ের পাস্তোরেকে নামিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। পাস্তোরে কিছু করতে না পারলেও ১৬ ও ৩২ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছেন রদ্রিগেজ। ৩৭ মিনিটে ৩-০ করেছেন ডি মারিয়া। খেলা শেষ হওয়ার ১৯ মিনিট আগে কানাডার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছেন ম্যারাডোনার ‘জামাতা’ আগুয়েরো।
শুধু ‘জামাতা’র পারফরম্যান্স নয়, মেসিবিহীন দলের এই পারফরম্যান্সে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত ম্যারাডোনা। বেশি উচ্ছ্বসিত তিনি বুয়েনস এইরেসে খেলা দেখতে আসা আর্জেন্টাইনদের আনন্দ দেখে। এবার সমর্থকদের নিশ্চিন্ত থাকার আহ্বান জানাতে পারছেন এ বছর এই নিয়ে টানা পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতা কোচ, ‘ওরা প্রমাণ করেছে, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দেওয়ার পর আর কোনো ম্যাচই প্রীতি ম্যাচ থাকে না। আমি উত্সাহিত বোধ করছি, কারণ মানুষ খুশি হয়েছে। এখন আর্জেন্টাইন লোকজন একটু শান্ত হয়ে থাকতে পারে। কারণ আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে।’
খুশি ফ্যাবিও ক্যাপেলোও। মেক্সিকো ম্যাচটিকে দেখছিলেন খেলোয়াড়দের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে। সুযোগটা খেলোয়াড়েরা ভালোই কাজে লাগিয়েছেন বলে বিশ্বাস ইংল্যান্ড কোচের, ‘আমি খুশি। একটা লম্বা মৌসুম কাটানোর পর খেলোয়াড়েরা শারীরিক ও মানসিকভাবে এখন কেমন আছে, সেটা জানা বেশ জরুরি ছিল।’
তার পরও একটু খচখচানি রয়ে গেছে ক্যাপেলোর মনে। ১৭ মিনিটে কিং, ৩৪ মিনিটে ক্রাউচ ও ৪৭ মিনিটে জনসন গোল করেছেন ইংল্যান্ডের পক্ষে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান কমিয়েছিলেন ফ্রাঙ্কো। ম্যাচে ইংল্যান্ড মূলত পাল্টা-আক্রমণনির্ভর ফুটবল খেলেছে। ক্যাপেলো দলের কাছ থেকে ভালো আক্রমণও চাইছেন।
ওদিকে যাঁর অতৃপ্ত থাকার কথা সেই দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা বলছেন, তিনি খুবই খুশি। বিশ্বকাপে আসতে না পারা বুলগেরিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে খুশি, কারণ বুলগেরিয়া নাকি খুব ভালো খেলেছে, ‘আমি দলের পারফরম্যান্সে খুশি। কারণ বিশ্বকাপে আমরা যে ধরনের খেলার মুখোমুখি হব, বুলগেরিয়া সেই ধরনের ফুটবল খেলেছে।’
ম্যাচে যদিও ২০ মিনিটেই সাংওয়ানির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আফ্রিকানরা। কিন্তু ১১ মিনিট পরই সমতা নিয়ে আসেন বোজিনভ।
কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করা এই ম্যাচে পর্তুগাল খারাপ খেলেছে এমন কথা বলার সুযোগ নেই। আসলে ম্যাচজুড়ে গোল মিসের মহড়া দিয়েছেন লিডসন, নানিরা। প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো প্রবল পরাক্রমে ম্যাচে ফিরলেও তাঁকে ঠেকিয়ে দিয়েছেন ভার্দের গোলরক্ষক। ১৭ ও ২৬ মিনিটে দুটি মিস করেছেন লিয়েডসন, ডেকোর ব্যাকহিল থেকে পাওয়া সুযোগ মিস করেছেন নানি।
৬১, ৮১ ও ৯২ মিনিটে রোনালদোর শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন গোলরক্ষক। ভালো খেলা যতই হোক, জয় না পাওয়াটা অবশ্যই হতাশার। তার পরও রোনালদো আশাবাদী, বিশ্বকাপে দল ভালো করবে, ‘অবশ্যই আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র শুরু করলাম আমরা। এটা স্রেফ আমাদের নিজেদের ফিরে পাওয়ার একটা ম্যাচ ছিল। অবশ্যই বিশ্বকাপে আমরা এর চেয়ে অনেক ভালো করব।’

নিজের ব্যাটিং করছেন আশরাফুল

এক মুঠ গুড়, তিন আঙুলের এক চিমটি লবণ আর আধা লিটার পানি—এই ফর্মুলায় খাওয়ার স্যালাইন বানানো গেলেও মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটিংটা অন্য জিনিস। অঙ্ক কষে আর যা-ই হোক আশরাফুলের মতো শট খেলা যায় না। জেমি সিডন্সের ‘ব্যাক লিফট ফর্মুলা’ বাদ দিয়ে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই আশরাফুল তাই ফিরে গেলেন পুরোনো ব্যাটিংয়ে, যেটাকে তিনি বলছেন, ‘...আমার ব্যাটিং।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই ম্যাচের পর ইংল্যান্ডে এসে তিনটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন আশরাফুল। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ আর ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটা ছাড়া তাঁর ব্যাট কথা বলেছে অন্য সব ম্যাচেই। রসিকতা করে কেউ কেউ বলছেন, এটা নাকি খারাপ লক্ষণ! রান-টান করে প্রস্তুতি ম্যাচেই কোটা পূরণ করে ফেলেছেন আশরাফুল। যদিও আশরাফুল নিজে মনে করছেন, এটা তাঁর স্বকীয় ব্যাটিংয়ে ফিরে যাওয়ারই সুফল, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্র্যাকটিস ম্যাচ, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ... এর পর এখানে এসে পরপর তিনটা ইনিংসে তিনটা ফিফটি করলাম। প্রতিটি ইনিংসেই আগের স্টাইলের ব্যাটিংটা আমার উপকার করেছে। গত সাত-আট মাস আমি চেষ্টা করেছি স্ট্রোক খেলা কমিয়ে দিতে, তাতে লাভ হয়নি। গত দুইটা ইনিংস রান না করলেও আমার ব্যাটিং এখন ভালো হচ্ছে।’
মাঠে ফর্ম ফিরে পাওয়ার আগে মনের জোর ফিরে পাওয়াটাই বেশি জরুরি। প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স সেটা আশরাফুলকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ব্যাটিং নিয়ে এত দিন নানা মুনির নানা মতে বিভ্রান্ত থাকলেও এখন নিজের সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন নিজেই, ‘আমি আমার স্টাইলেই থাকার চেষ্টা করব। মূল কথা হলো সাফল্য পাওয়া। আগে ১০ ম্যাচে খারাপ খেলে এক ম্যাচে ভালো খেলতাম। কিন্তু ব্যাটিং বদলে দেখা গেছে গত সাত-আট মাসে ওই এক ম্যাচেও ভালো খেলতে পারছি না!’
নিজেকে ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আগামীকাল লর্ডসেই শুরু হয়ে যাচ্ছে। তবে চ্যালেঞ্জটা শুধু আশরাফুলেরই নয়, ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই পুরো বাংলাদেশ দলেরই। আর ইংলিশ কন্ডিশন মানে উইকেট-আবহাওয়ার সঙ্গে এখানকার মিডিয়াও। মাঠে একটু পা হড়কালে ক্রিকেট-তীর্থ লর্ডস থেকেই যে বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার বিরুদ্ধে আবার জিকির উঠে যেতে পারে, সেটা আশরাফুলেরও জানা। তবে এবার এই ব্যাপারেও আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘এ রকম হতেই পারে। কারণ আমাদের জেতার হার খুবই কম। গতবারও এটা হয়েছিল। টেস্টে খারাপ খেলার পর আমাদের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেতার পর ওই মিডিয়াই আমাদের প্রশংসা করেছে। কাজেই ভালো খেললে প্রশংসা করতেই হবে। তবে ইংল্যান্ড শুধু বাংলাদেশ না, সবার জন্যই কঠিন। অস্ট্রেলিয়াও এখানে গত দুটি অ্যাশেজ হেরেছে।’
২০০৫ সালে বাংলাদেশ দলের সবার জন্যই লর্ডসে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল প্রথম। আর এবার আশরাফুলসহ দলের তিন ক্রিকেটারের কাছে লর্ডস পুরোনো মাঠ। ২০২০ সালের আগে ইংল্যান্ডে আর টেস্ট খেলার সুযোগ নেই বলে দলের অন্যদের মধ্যেও আছে ভালো কিছু করে যাওয়ার তাড়না। সঙ্গে আছে ইংলিশ আবহাওয়ার ক্রিকেটীয় চেহারায় ফেরা। দুই টেস্টের সিরিজে ভালো কিছুর আশা করার এসবও কারণ আশরাফুলের কাছে, ‘২০০৫-এ লর্ডসের প্রথম টেস্ট ম্যাচে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। তা ছাড়া সেবার আবহাওয়া ছিল খুব ঠান্ডা, মানিয়ে নিতে পারেনি কেউ। এতগুলো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলারও সুযোগ পাইনি। এবার টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তিনটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। আশা করছি, ভালো খেলবে সবাই।’ এর বাইরে বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক অতীতটাকেও তিনি নিয়ে আসছেন সামনে, ‘এক-দেড় বছর ধরেই আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচই জেতার মতো ছিল। আমাদের গত ৫-৬টি টেস্ট ম্যাচ যদি দেখেন প্রতিটি ম্যাচই পাঁচ দিনে বা পাঁচ দিনের কাছাকাছি গেছে। কিছু ম্যাচে তো আরেকটু ভালো ব্যাটিং করলে জিতেই যাই!’
খেলাধুলায় আত্মবিশ্বাস বড় একটা ভিটামিন। নিজের ওপর আস্থা চলে আসা মানে সবকিছুই পানির মতো সহজ। আশরাফুলের কাছে যেমন সহজ লাগছে ইংলিশ মিডিয়া, ইংলিশ কন্ডিশন, সর্বোপরি নিজের ব্যাটিংটা। সবকিছুর যোগফলে একটু চাপ আছে, তবে সেটা মাঠে নামার আগ পর্যন্ত। ফর্ম ভালো থাকলে ব্যাটের আঘাতে বাউন্ডারি খুঁজে পায় ‘চাপ’ও।
‘টেন্ডুলকারকেও একবার চাপ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। টেন্ডুলকার স্বীকার করেছিলেন, তাঁর মতো ব্যাটসম্যানও চাপে ভোগেন, মাঠে নামার আগে তিনিও চাপে থাকেন। কিন্তু মাঠে নামার পর আস্তে আস্তে মানিয়ে নেন, চাপটা তখন আর থাকে না’—চাপ নিয়ে বলছিলেন আশরাফুল।

মধুর সমস্যায় পাহেইরা

বিশ্বকাপের ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল নির্বাচনের আগে মধুর সমস্যায় পড়ে গেছেন কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা। ঘরোয়া লিগ থেকে বাছাই করা ফুটবলাররা প্রায় সবাই ফর্মে থাকায় কাকে ছেড়ে কাকে রাখবেন এ সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্রাজিলীয় কোচ।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ফুটবলে খেলা কয়েকজন খেলোয়াড়কে দারুণ পছন্দ হয়েছে পাহেইরার। তাঁরা নাকি ইউরোপভিত্তিক খেলোয়াড়দের চেয়েও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। চলতি মাসের ৩১ তারিখ দক্ষিণ আফ্রিকার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করার কথা। এসময়ে ‘কাকে ছেড়ে দলে কাকে নেবেন’ জাতীয় একটি মধুর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন পাহেইরা। রয়টার্সকে অকপটেই বলেছেন এই ‘সমস্যা’য় পড়ে তাঁর ভালোই লাগছে। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো কোচই এমন সমস্যায় পড়তে চাইবেন। তবে যা নিয়ে ভাবছি তা হলো, আমাকে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
কার্লোস আলবার্তো পাহেইরার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে, বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার জন্য স্থানীয় ও ইউরোপভিত্তিক ফুটবলারদের প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবলারদের ব্রাজিল ও জার্মানিতে পাঠানো হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই ফুটবলারদের স্কিল ও ফিটনেসের অভূতপূর্ব উন্নতিতে দারুণ খুশি পাহেইরা। বিশ্বকাপে শক্ত গ্রুপে পড়ে, ফ্রান্স, মেক্সিকো ও উরুগুয়ের মতো দলগুলোর সঙ্গে খেলতে নামার আগে এই প্রস্তুতি দলের জন্য দারুণ কাজে এসেছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
স্বাগতিক দেশ হিসেবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর থাকবে সকলের দৃষ্টি। তবে পাহেইরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই স্পটলাইটকে একেবারেই চাপ হিসেবে দেখছেন না তিনি। তিনি বলেন, স্বাগতিকদের ওপর সবসময়ই চাপ থাকে, এটা খুবই স্বাভাবিক। আগামী ৩১ মে ঘোষণা হতে যাওয়া চূড়ান্ত দল একেবারেই পারফরম্যান্স ও ফর্মভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন পাহেইরা। পাহেইরা বলেছেন, ‘শীর্ষ ফুটবলার হয়েও কোনো লাভ নেই, যদি না খেলোয়াড়টি ভালো ফর্মে না থাকে। পারফরম্যান্সই দলগঠনে মূল বিবেচ্য। একটি সুসংগঠিত দল নির্বাচনই আমার লক্ষ্য।’

প্যারাগুয়ের হার, নাইজেরিয়ার ড্র

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতিটা ভালো হলো না প্যারাগুয়ে ও নাইজেরিয়ার। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে পড়া আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে না হলেও বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়া আরেক দল সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করতে বাধ্য হয়েছে নাইজেরিয়া।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্যারাগুয়ের ছিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। দলটি বাছাইপর্ব শেষ করেছিল শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে, আর আর্জেন্টিনার চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা বাছাইপর্ব কাটিয়ে অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে দলটি। তবে গতকাল আয়ারল্যান্ডের কাছে হার, একটা বড় ধাক্কাই দিয়েছে দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে।
স্বাগতিক বলেই যেন বাড়তি শক্তি পেয়ে গিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। না হলে এতটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে কেন দলটি! গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন কেভিন ডোয়েল। ৩৯ মিনিটের মাথায় ব্যবধানটা দ্বিগুণ করেন লিয়াম লরেন্স। খেলার ৫৮ মিনিটে একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হন প্যারাগুয়ের লুকাস। বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় প্যারাগুয়েকে।
বিশ্বকাপের আগে খেলা প্রস্তুতি ম্যাচ অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে নাইজেরিয়ার জন্যও। আফ্রিকার ‘সুপার ঈগল’দের সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র অপ্রস্তুত করে দিয়েছে দলটিকে। অথচ বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট হাতে নেওয়ার অন্যতম দাবিদার তারা। এলোমেলো ফুটবল খেলে দর্শকদের বিরক্তি উত্পাদন ছাড়া আর কিছুই ছিল না ম্যাচটিতে। সবচেয়ে সাংঘাতিক ব্যাপার তুলনামূলক সৌদি আরবের সঙ্গে গোল হওয়ার মতো একটি আক্রমণও করতে পারেনি নাইজেরিয়া। আজ বৃহস্পতিবারই বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য লন্ডন পৌঁছানোর কথা নাইজেরিয়ার। আগামী ৩০ মে কলম্বিয়ার সঙ্গে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামার কথা নাইজেরিয়ার।