Showing posts with label কোরবান. Show all posts
Showing posts with label কোরবান. Show all posts

Friday, July 5, 2024

ইসলাম প্রচারের পর কীভাবে কোরবানি দেয়া চালু হয়েছিল by সায়েদুল ইসলাম

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, নবী আদম বা নবী ইব্রাহিমের সময় থেকেই পশু কোরবানি দেয়ার রীতি থাকলেও ঈদুল ফিতর বা রোজার মতো বেশ কয়েক বছর পরে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মক্কায় প্রতি বছরই কোরবানি দেয়া হতো। কিন্তু তখন মক্কার বাসিন্দার বিভিন্ন দেবদেবীর নামে সেগুলো কোরবানি দিতেন। ফলে ইসলামের নবী সেই সময় মক্কায় থাকলেও তিনি এই রীতি অনুসরণ করতেন না।

নবুয়ত প্রাপ্তির প্রায় তের বছর পরে মদিনায় হিজরত করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানি দেয়ার রীতি চালু হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগের উপ-পরিচালক মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’ইসলামের অনেক বিধিবিধান রাসুল (সাঃ) মদিনায় আসার পর কার্যকর হয়েছে। কারণ তিনি ইসলাম প্রচার শুরু করার পর মক্কার মানুষের মধ্যে একাত্মবাদ প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাথমিক কাজ। আর মদিনায় হিজরত করে আসার পর ইসলামের বিধিবিধান জারি হয়।‘’

হিজরি দ্বিতীয় সনে রোজা এবং ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন হয়েছিল। অবশ্য তার আগে থেকেই মদিনার মানুষজন অনেকটা একই আদলে উৎসব এবং রোজা পালন করতেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বলেছেন, হিজরি দ্বিতীয় সনে ঈদের প্রবর্তন করা হয়েছিল।

আনাস নামে নবী মুহাম্মদের একজন সাহাবী বা সাথীর বর্ণনা করা একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, মদিনায় যাওয়ার পর নবী দেখলেন যে সেখানকার মানুষ বছরে দুইটি বড় উৎসব পালন করে।

তিনি তখন জানতে চান, সেগুলো কী উৎসব?

এগুলো ছিল নওরোজ এবং মিহিরজান নামে দুটি উৎসব - যেগুলো সেখানকার বাসিন্দাদের ধর্ম এবং গোত্রের রীতি অনুযায়ী একটি শরতে এবং আরেকটি বসন্তকালে উদযাপিত হত।

অধ্যাপক মিয়াজী বলেছেন, ‘’তখন ওই দুইটি উৎসবের আদলে মুসলমানদের জন্য বছরে দুইটি ধর্মীয়, সামাজিক এবং জাতীয় উৎসব পালনের রীতি প্রবর্তন করা হয়।‘’

সেই দুই ঈদের একটি হজের সময় পালন করা হতো, যা ঈদুল আযহা নামে পরিচিত।

তবে ইসলাম প্রচারের পর ঠিক কবে আর কীভাবে প্রথম কোরবানি দেয়া হয়েছে সেই সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায় না।

কোন কোন ইতিহাসবিদ বলেন, মদিনায় আসার পর ইসলামের নবী প্রথম দুইটা দুম্বা নিজ হাতে কোরবানি দিয়েছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, একটা আমার নিজের পক্ষ থেকে আরেকটা আমরা উম্মতের পক্ষ থেকে।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেন, ‘’ইসলামের অনেক কিছুই আগের পয়গম্বরদের রীতি মেনে করা হয়েছে। যেমন প্রথম দিকে বায়তুল মোকাদ্দেসের দিকে সিজদা করা হলেও পরবর্তীতে ইব্রাহিম (আঃ) এর আদর্শ অনুযায়ী কাবার দিকে সিজদা করা হয়। কোরবানির ব্যাপারটিও তেমনি এসেছে।‘’

তিনি বলছেন, ‘’ইসলামের কোরান ও হাদিস অনুযায়ী, আদম (আঃ) থেকে কোরবানি শুরু হয়েছে। তবে সুরা কাওসার ও সুরা হজে কোরবানি করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। এই সুরা কাওসার নাজিল হয়েছিল হিজরতের আগেই, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময়। আর সুরা হজ মক্কা ও মদিনায় মিলিয়ে নাজিল হয়েছিল বলে মনে করা হয়।‘’

এই দুইটি সুরাতেই কোরবানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মি. পাটোয়ারি বলছেন, ‘’এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাকার সময় থেকেই কোরবানির বিষয়টা এসেছে।‘’

তবে তিনি প্রথম কবে কোরবানি দিয়েছেন, সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী জানাচ্ছেন, ‘’তিরমিজি হাদিসে উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছেন, হিজরতের পরে রাসুল (সাঃ) ১০ বছর মদিনায় ছিলেন, ১০ বছরেই কোরবানি করেছেন। আর আনাস ইবনে মালিক বলেছেন, রাসুল (সাঃ) দুইটা শিং ওয়ালা নাদুস-নুদুস দুম্বা জবাই করেছেন আর বলেছেন একটি আমার উম্মতের পক্ষ থেকে একটা আমার পক্ষ থেকে।‘’

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি সবসময়ে দুটা দুম্বা কোরবানি দিতেন, বলছেন মি. পাটোয়ারি।

আলেম বা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই সময় কোরবানির বিষয়টি ছিল অনেকটাই হজ কেন্দ্রিক।

যারা হজ বা ওমরাহ করতে যেতেন, তারা কোরবানির জন্য উট বা দুম্বার মতো পশু সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এসব পশুকে বলা হতো হাদি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আতাউর রহমান মিয়াজী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’ষষ্ঠ হিজরিতে বা ৬২৮ খৃষ্টাব্দে যখন রাসুল (সাঃ) ওমরাহের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন হুদাইবিয়ায় বাধা দেয়া হলে তিনি তাবুতে অবস্থান করেন। হুদাইবিয়ার সন্ধি হলে তিনি সেই সময় নিজের ও পরিবারের জন্য উট কোরবানি দেন।''

এ সময় তিনি ৬৩টি উট কোরবানি দেন বলে জানা যায়।

সেই সময় ইসলামের বিধিবিধানে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা কোরবানি দেয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে মাওলানা মোঃ আবু ছালেহ পাটোয়ারী বলেছেন, ‘’ষষ্ঠ হিজরিতে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় পশুগুলোকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম ছিল। তখন কোরবানি ছাড়া আরেকটা রীতি ছিল। পশুগুলোর সিনায় কেটে দাগ লাগিয়ে মক্কার দিকে ছেড়ে দেয়া হতো, যাতে বোঝা যেতো যে এগুলো কোরবানির পশু। হুদাইবিয়ার সন্ধির পর কিছু পশু কোরবানি দেয়া হয়, আর কিছু পশুকে সিনায় দাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।‘’

মি. পাটোয়ারি বলছেন, ‘’দশম হিজরিতে রাসুল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের পর সেই বছর তিনি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ করেন এবং কোরবানি দেন।‘’

এর আগের বছর সাহাবী আবুবকরের নেতৃত্বে একটি দলকে হজের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই দলের সঙ্গেও কোরবানির জন্য হাদি বা পশু ছিল। 

ঈদুল আযহা

Wednesday, November 25, 2009

কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি -দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন

রাজধানীসহ বড় শহরগুলোর চাহিদা মেটাতে ঈদুল আজহার আগের দিনগুলোতে গবাদিপশু পরিবহনের সংখ্যা অনেক গুণে বেড়ে যায়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রধান শহরগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। পশু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের নানা জায়গায় অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এবার সরকার আগে থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু এবারও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি হলে কোরবানির পশুর দাম বৃদ্ধি পায়, যার মাশুল গুনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।
গত সোমবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীতে পশু আসতে নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাকে পশু পরিবহনের সময় চাঁদাবাজির নানা খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব চাঁদাবাজিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে এখনই সতর্ক না হলে আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
কোরবানির পশুর বাজারেও চাঁদাবাজির প্রভাবে দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পশু পরিবহনে নিরুত্সাহিত বোধ করতে পারেন। শহরগুলোতে পশুর সরবরাহে নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের। গবাদিপশুর হাটে, মহাসড়ক ও নৌপথে চাঁদাবাজিমুক্ত পশু পরিবহন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনই পাহারা জোরদারসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, অনেক সময় রাস্তাঘাট বন্ধ করে পশুর হাট বসানো হয়। এতে স্থানীয় লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্যে ও চলাফেরায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে। এবার যেন কোনো অবস্থাতেই রাস্তা বন্ধ করে হাট না বসানো হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

Thursday, November 19, 2009

গরুর ট্রাকে চাঁদাবাজি -এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার

ঈদুল আজহা কাছাকাছি চলে আসায় বিদেশ থেকে গবাদিপশু আমদানি এখন চলছে বেশ জোরেশোরে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রধান শহরগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। কিন্তু অন্যান্যবারের মতো এবারও গবাদিপশু পরিবহনে ব্যবসায়ীদের নানা জায়গায় অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার হতে হচ্ছে, এমন অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়টির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো উঠছে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, কাস্টমস পরিদর্শক ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা গবাদিপশু চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিবহনে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের অন্তত ২০টি জায়গায় অবৈধ চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদার পরিমাণ প্রতি ট্রাকে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। চাঁদা না দিলে হয়রানির মুখে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে এসব পশু পাঠানোর সময় যে এ ধরনের চাঁদাবাজি ঘটবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে এমন ঘটনার নজির আমরা বিভিন্ন সময় ঘটতে দেখেছি। কোরবানির পশুর বাজারে নিঃসন্দেহে পরিবহনে এমন চাঁদাবাজির প্রভাব পড়বে। ভোক্তাদের অনেক বেশি অর্থ দিয়ে কিনতে হবে কোরবানির পশু। তাই এ বিষয়ে সরকারের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
গত বছরগুলোতে কোরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে এবং পশুর চামড়া বিদেশে চোরাচালানের মাধ্যমে পাচার হওয়া রোধে সরকার বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। গবাদিপশুর হাটে, মহাসড়ক ও নৌপথে পশু পরিবহন নির্ঝঞ্ঝাট করার উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এ ধরনের উদ্যোগে বেশ সফলতাও পাওয়া গিয়েছিল। এবার পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক। তাই ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত চাঁদাবাজির অভিযোগ আমলে নিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। চাঁদাবাজি রোধে পাহারা জোরদার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।