Tuesday, December 28, 2010

দলভিত্তিক পৌর নির্বাচন কতটা যৌক্তিক? by বদিউল আলম মজুমদার

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২৭ জানুয়ারি ২০১১ তারিখের মধ্যে সারা দেশে ২৫৯টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অনেক দিন পর এবং অনেক দাবির মুখে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভা ‘গঠিত’ হয় না, কারণ ‘কুদরত-ই-ইলাহী বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায় [৪৪ ডিএলআর(এডি)(১৯৯২)] অনুযায়ী, অনির্বাচিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরকার বলা যায় না। তাই দেরিতে হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ। তবে দলভিত্তিক আসন্ন নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিয়ে আমাদের মনে কিছু গুরুতর প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
প্রথমবারের মতো এবারই দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পশ্চিম বাংলার পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী আনিসুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে গত ৪ আগস্ট সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রথম দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবান্বিত করার পাঁয়তারা করছে—বিএনপি প্রথমে এমন অভিযোগ করলেও, পরবর্তীকালে তারাও দলভিত্তিক নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। জাতীয় পার্টিও এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জোগায়। আমাদের আশঙ্কা, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আবারও প্রমাণ করল যে তারা আইন, বিধি ও জনকল্যাণের সামান্যই তোয়াক্কা করে। বুদ্ধিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের চরম অনীহা। আপাতদৃষ্টিতে দলীয় স্বার্থের অনুকূলে বলে মনে হলে, এমনকি তারা আত্মঘাতী কাজ করতেও দ্বিধা করে না।
ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলনিরপেক্ষভাবেই হয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘পৌরসভা (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালা ২০১০’-এ একটি বিধান অন্তর্ভুক্ত করে। বিধিমালার ৬(ঙ) ধারা অনুযায়ী, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত অন্য কাহারো নাম, ছবি বা প্রতীক ছাপাইতে কিংবা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’ জাতীয় ইস্যুর ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না, তাই পৌরসভা নির্বাচনকে দলনিরপেক্ষ রাখার উদ্দেশেই এ বিধান করা হয়। কিন্তু নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার এ ধারা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দলভিত্তিক নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে পছন্দ হয়নি বলে বিধিমালাকে তারা সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করেছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আইনের শাসনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতিও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হয়েছে, যদিও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা আমরা অনেক দিন থেকেই শুনছি।
দলভিত্তিক নির্বাচন জনকল্যাণের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে ভোটারদের ‘চয়েস’ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিধি সীমিত হয়ে পড়ে। নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনের একটি আকর্ষণ হলো, সমাজকর্মের সঙ্গে জড়িত এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় অনেক ব্যক্তি সাধারণত এতে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আসেন। কিন্তু দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচন হলে এসব ব্যক্তির নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকে না, ফলে তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আকর্ষণ কমে যায়। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুণগতমানে অবনতি, যা ভোটারদের ঠকানোর সমতুল্য এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।
আরেকভাবেও দলভিত্তিক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দলভিত্তিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে পশ্চিম বাংলার মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়নে সবকিছু দলীকরণ করার মানসিকতা জন্মায়। ফলে গ্রামপর্যায়ে জনগণের নায্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চনা সৃষ্টি হয় (প্রথম আলো ৫ আগস্ট ২০১০)। এমনিতেই সবকিছুতে আমাদের দেশে দলীয়করণ চরম, যার ফলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক ও নির্দলীয় ব্যক্তিরা তাঁদের নায্য অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে, যাঁদের শক্তিশালী পৃষ্ঠপোষক নেই, তাঁরাও বিভিন্ন ফায়দা থেকে বঞ্চিত হন। দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে এ বঞ্চনা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং তা আরও ব্যাপকতা লাভ করবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এ ছাড়া এর ফলে দলীয় বিবেচনায় সরকারি বরাদ্দে পৌরসভাগুলোর মধ্যে পক্ষপাতিত্ব করা হবে।
দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলের জন্যও মঙ্গলজনক নয়। এতে দলের অভ্যন্তরে দলাদলি প্রকট হতে বাধ্য, যার ভবিষ্যৎ পরিণতি অশুভ না হয়ে পারে না। এ দলাদলি অহেতুক, কারণ দল মনোনয়ন প্রদান থেকে বিরত থাকলে, দলের মধ্যকার সর্বাধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ পেতেন, যেমন ঘটেছে গত উপজেলা নির্বাচনে। এতে দল কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। পক্ষান্তরে দলভিত্তিক নির্বাচনের এ আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ির কথা প্রতিদিন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। এর ফলে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল জোটভিত্তিক মনোনয়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে (যুগান্তর ২৫ ডিসেম্বর ২০১০)। এ ছাড়া আমাদের আশঙ্কা যে দলভিত্তিক নির্বাচনের ফলে আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
দলভিত্তিক নির্বাচনের অন্য পরিণতিও রয়েছে। এর ফলে দলবাজির তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃতি লাভ এবং আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এমনিতেই বর্তমানে আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে দলাদলি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং গ্রামপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাই তো এখন গ্রামগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য পৃথক পৃথক চায়ের দোকান দৃশ্যমান। দলভিত্তিক স্থানীয় নির্বাচনের ফলে এ ধরনের বিভক্তি ও দ্বন্দ্ব সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছাবে। প্রতিবেশী পশ্চিম বাংলায় গ্রামপর্যায়ে সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের মাস্তানি এবং মারামারি লেগেই আছে, যার ফলে সেখানেও দলনিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি শোনা যাচ্ছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিভক্ত ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত জাতি সামনে বেশি দূর অগ্রসর হতে পারে না।
দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো বেশ কয়েকটি যুক্তি উত্থাপন করে, যার অন্যতম হলো, এর মাধ্যমে দলীয় নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। এটি অনেকটা খোঁড়া যুক্তি, কারণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা, দলবিশেষের নয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে তেমন ভূমিকা রাখেন না, ফলে তাঁদের পক্ষে দলীয় নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। উপরন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের রাজনৈতিক দলে নীতি-আদর্শ অনেকটা অর্থহীন স্লোগানে পর্যবসিত হয়েছে এবং প্রধান দলগুলো বহুলাংশে ফায়দাবাজি এবং ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলভিত্তিক নির্বাচনের পক্ষে আরেকটি যুক্তি হলো, এর মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও দলীয় শৃঙ্খলার অধীনে আসবেন। ফলে অপেক্ষাকৃত সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা মনোনীত হবেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁদের পক্ষে অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার পথ রুদ্ধ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। আমাদের সমাজে অধিকাংশ অন্যায় ও গর্হিত কাজই পরিচালিত হয় সরাসরি দলীয় ছত্রচ্ছায়ায় অথবা দলীয় সমর্থনে। বস্তুত দলের, বিশেষত সরকারি দলের সমর্থন ছাড়া কেউ অপরাধ করে পার পায় না। এ ছাড়া আমাদের দেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক দলীয় অনুশাসনের প্রয়োগ অনুপস্থিত বললেই চলে।
দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্বাচনের পক্ষে জোরালো যুক্তি হলো, নির্দলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ‘বিরাজনৈতিকীকরণ’ করা হয়। তাঁদের কাছে রাজনীতি মানেই দল, দল ছাড়া তাঁরা রাজনীতির কথা ভাবতেই পারেন না। আর এ কারণেই নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে তাঁদের বিরোধিতা। তবে ‘নির্দলীয়’ আর ‘অরাজনৈতিক’ শব্দ দুটি সমার্থক নয়। বস্তুত নির্বাচনই একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, যা দলভিত্তিক হতে পারে, কিংবা নির্দলীয়ও হতে পারে। তাই নির্দলীয় নির্বাচন বিরাজনৈতিকীকরণের প্রক্রিয়া—এ দাবি সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হাইকোর্টের ২০০৮ সালের একটি রায়ও (মো. জসীম উদ্দীন সরকার বনাম বাংলাদেশ, রিট পিটিশন নম্বর ৪৯৬৩, সাল ২০০৮] এ সমস্যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে আমাদের আশঙ্কা। স্মরণ করা যেতে পারে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত ‘পৌরসভা (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০০৮’-এর ধারা ৩ অনুযায়ী, ‘পৌরসভা নির্বাচন রাজনৈতিক দলভিত্তিক হইবে না এবং নির্বাচনী প্রচারণায় কোন রাজনৈতিক দলের নাম, প্রতীক অথবা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম বা ছবি ব্যবহার করা যাইবে না।’ (সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্যও একই বিধান রাখা হয়েছিল।) আদালত আচরণবিধির এ ধারাটি অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এমন বিধান মূল আইনে নেই বলে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি মো. আবু তারিক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ে মাননীয় বিচারকেরা নির্দলীয় নির্বাচনকে ‘রাজনীতিবিবর্জিত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এ ধরনের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, এ ক্ষেত্রে রায়ে ধারণাগত অস্পষ্টতা রয়েছে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনীতি একটি প্রক্রিয়া—সব স্বার্থসংশ্লিষ্টকে সম্পৃক্ত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া—যা দলকে সম্পৃক্ত করেও হতে পারে, না করেও হতে পারে। বস্তুত ‘পলিটিক্স’ বা রাজনীতি শব্দের উৎপত্তি গ্রিক শব্দ ‘পলিস’ (polis) থেকে, যার অর্থ নগরভিত্তিক-রাষ্ট্র (city-state)। তাই ‘পলিটিক্যাল অ্যাকটিভিটিস’-এর (political activities) বা রাজনৈতিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য দল সৃষ্টি নয় বা দলীয় ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরোধ অবসান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এর সঙ্গে দলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই—যদিও দল রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তাই নির্দলীয় নির্বাচনের অর্থ বিরাজনৈতিকীকরণ নয়।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিজ্ঞ আদালত যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার যথার্থতা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ প্রদত্ত আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাসেম মামলার রায়ের [৪৫ ডিএলআর(এডি)(১৯৯৩)] কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ওই রায়ে আদালত বলেন, “‘তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ’-এর বিধানের অধীনে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে একমাত্র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে আইনি বিধির সঙ্গে সংযোজন করার ক্ষমতাকে বুঝায়।” তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের অগাধ ক্ষমতা রয়েছে বলে আমাদের ধারণা।
প্রসঙ্গত, জনজীবনে দুর্ভোগ লাঘবের উদ্দেশে এবারের পৌরসভা নির্বাচনী বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালায় সভা-সমিতি ও মিছিল-শোডাউন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছু বাধানিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, এসব বিধিনিষেধের কারণে নির্বাচনে উৎসবের আমেজ থাকবে না। এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান—উৎসবের আয়োজন নয়। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে হলে নির্বাচন অনুষ্ঠান রুটিন বিষয়ে পরিণত হতে হবে।
পরিশেষে, আমরা মনে করি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলনিরপেক্ষ হওয়া উচিত, কারণ এর পেছনে জোরালো যুক্তি রয়েছে। আমরা আরও মনে করি যে দলভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা ঠকবে এবং ভোটারদেরও ঠকাবে। এর মাধ্যমে দলের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হবে এবং একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে দলাদলি ভয়ানক আকার ধারণ করবে। ফলে দলের প্রতি অনুগত নয় এমন নাগরিকেরা তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন এবং সরকারদলীয় ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়েছেন এমন পৌরসভাগুলোই অধিকাংশ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাবে, যা ন্যায়নীতিবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধিতে বাধানিষেধ সত্ত্বেও দলভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আইনি বিধিবিধানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ভবিষ্যতে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

আজকের গল্প by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

নাতি গল্প বলছে তার পুতুলকে।
আর আমি ‘এ্যাড ভারবাটিম’ লিখছি। জীবনটাই যে গল্পের খনি।
মালী এখন রাজার জন্য চা বানাবে।
মালী এসে বলল, ‘রাজা, চিনি নেই, জুস দিই?’ রাজার সম্মতির অপেক্ষা না করেই মালী জুস নিয়ে এল। কিন্তু জুসের মধ্যে শুধুই পানি, অল্প একটু লবণ মেশানো। ‘এই আছে, আজকের মতো এইটুকুই খান।’
রাজা জুস খেয়ে বললেন, ‘মালী, রাজ্যের অবস্থা ভালো, না খারাপ?’
মালী বলল, ‘আপনার জুসের মতোই। চায়ের গল্পে পরে আসছি।’
এরপর আজকের প্রথম আলোর খবর। গল্পের মতোই।
‘হোয়াইট হাউসের জীবন নরকতুল্য’, বলেন মিশেল। ম্যাডাম কার্লা ব্রুনি সার্কোজিকে বলেছিলেন, ‘এটা নরক! আমি সহ্য করতে পারছি না!’ কেরানীগঞ্জের ঢাকা প্রতিনিধি লিখেছেন ‘রাস্তা নয়, যেন চষা জমি’ [সঙ্গে চষা জমির ছবি]। ‘দুর্নীতিতে ফেঁসে গেছে এমডিজি উন্নয়ন লক্ষ্য’ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল। নির্মলেন্দু-মহাদেব নিলেন না বিজনেস ক্লাসের টাকা। ‘দলতন্ত্র বেশির ভাগ সময়ে গণতন্ত্র নস্যাৎ করে’, বললেন স্পিকার। ‘বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এগারো লাখ, শুনানির জন্য অপেক্ষা একুশ বছর, বিশ বছরেও শেষ হয় যাবজ্জীবন।’ প্রতিদিন একটু একটু করে সংবাদ নোট করে রাখলে এমন একটি বই হয়, যেটি পড়তে ভালোই লাগবে। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান একটি বই লিখেছেন, যাতে বাংলাদেশের প্রতিদিনের ঘটনা সন্নিবেশিত। বইটি আমি মাঝে মাঝে পড়ি।
দিচ্ছি শুক্রবারের তাজা খবর। বাংলা একাডেমীর চত্বরে বাংলাদেশের গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে ছুটে আসা সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা। বাংলা একাডেমীর বার্ষিক সভা আজ। উপস্থিত হয়েছেন সাধারণ সদস্য, জীবন সদস্য, ফেলো, পুরস্কার পাওয়া শত কবি-সাহিত্যিক। গ্রাম থেকে সর্বাধিক। বছরের পর বছর মফস্বলে থেকেও তাঁরা সাহিত্যের বরপুত্র, সাহিত্যের সেবা করে চলেছেন দিবানিশি। সাহিত্যের ওপর বই লিখেছেন, কেউ কবিতা, কেউ গল্প, কয়েকখানা বই সঙ্গের ঝুলিতে।
আব্বাসী ভাই, এই কবিতার বইটি অবশ্যই পড়বেন। এতে লেখা এক শ বছরের বাংলাদেশ কীভাবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হবে, তার কথা। আরেকজন ঝাঁকড়া চুলের কবি বললেন, আপনার সঙ্গে ছবি তুলব। নজরুল পড়েছেন ক্লাস এইট পর্যন্ত, আমিও তাই। উনার ছিল বাবরি, আমারও তাই। উনি লিখেছেন, চার হাজার কবিতা, আমি সাড়ে চার হাজার। আমি অবাক হয়ে তাকালাম তাঁর দিকে। সত্যি তো, ইনিও তো সাহিত্যকে ভালোবেসেছেন নজরুলের মতোই। সাহিত্য তাঁর জীবনকে ঘিরে রেখেছে। না-ই বা স্পর্শ করলেন সাহিত্যগগনের সিংহদুয়ার, ভালোবাসায় তো তিনি অম্লান। কিছু শিল্পীকে পেয়েছি, যাঁরা আমার পিতাকে সারা জীবন অনুকরণ করার চেষ্টা করেছেন। একজনের নাম আব্বাস মিঞা, তাঁরই মতো বাবরি, তাঁরই মতো গলায় দোতরা বাঁধা এবং সারা বাংলায় আব্বাসের নামেই গান গেয়ে চলেছিলেন। এই চত্বরে তাঁদের একসঙ্গে পেয়ে কী যে ভালো লাগে!
এই বিশেষ অধিবেশনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন লেখকেরা। লেখকদের জীবনে সামান্য একটু আনন্দ। বিগত বছরগুলো ধরে কবি-সাহিত্যিকদের সঙ্গে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়েছি, ছবি তুলেছি, গল্প করেছি। দুপুরের খাওয়ার সময় চলে গেছি জুমার নামাজ পড়তে। এগারোটার দিকে এক কাপ চা পেলে আড্ডাটা আরও স্ফূর্তি পায়।
২০১১-এর ২৪ ডিসেম্বর এ সম্মেলন আমার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। বন্ধু মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান জানিয়েছেন যে এ বছর আমাকে বাংলা একাডেমীর বিশেষ সম্মানজনক পদ অর্থাৎ ‘ফেলো’ দেওয়া হবে। আমি বাংলা একাডেমীর ফেলো অর্থাৎ ‘পথচারী’ পঞ্চাশ বছর থেকে। পঞ্চাশ বছরে টেলিভিশনের অনুষ্ঠানগুলোয় বাংলা একাডেমীর সুখ্যাতি করেই চলেছি। বলেছি, বাংলা একাডেমী এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি লোকসংগীত সংগৃহীত। মৈমনসিংহ গীতিকা, পূর্ববঙ্গ গীতিকা ও পরবর্তী সংগ্রহের তালিকা সর্ববৃহৎ। একাডেমী রক্তের সঙ্গে মিশে, গ্রাম-গ্রামান্তরের লাখ লাখ গিদাল-সংগ্রাহক-উঠতি সাহিত্যিক-উঠতি কবির মতো। বাংলা একাডেমীর চত্বরেই মন ঘুরে বেড়ায়। সম্মানপ্রাপ্তিতে আনন্দিত। এমনটি হয়েছিল আরেকবার। গত বছর সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের ১২৫তম জন্মলগ্নে প্রধান অতিথি। পাঁচ হাজার দর্শক-শ্রোতা, যাদের গান শোনালাম, গল্প শোনালাম ও কাঁদালাম। জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। স্কুলের ছাত্র নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, শহীদ তাজউদ্দীন, ড. কামাল হোসেন, ড. বদরুদ্দোজা, সংগীত পরিচালক সমর দাস, সাহিত্যিক শাহরিয়ার কবিরসহ অজস্র কীর্তিমান পুরুষ। অথচ আমার মতো অধম সেখানে প্রধান বক্তা, গায়ক, গল্পকার।
সভায়এবার চায়ের সময় হলো। চা-পাতা কম, চিনি কম; নয় পানি গরম হয়নি, তবুও তো চা। নাতি বর্ণিত লবণের জুসের চেয়ে অনেক ভালো।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: সাহিত্যিক, সংগীত ব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

একজন আলী হোসেনের বঞ্চনা

২৯ বছর আগে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হলেও এখনো ন্যায্য বেতন-ভাতা পাননি ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা আলী হোসেন। বাধ্য হয়ে পান-বিড়ি বিক্রেতা ছেলের সংসারে বোঝা হয়ে আছেন ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ। ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারেননি অর্থের অভাবে। আলী হোসেন পাওনা বেতন-ভাতার জন্য প্রায় তিন দশক ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার পাননি।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬২ সালে ঢাকা পৌরসভায় পরিদর্শক হিসেবে যোগদানকারী আলী হোসেন নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতায় উচ্ছেদ কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পান। এই পদে থাকাকালে তিনি অনেক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে দেন। এতে নাখোশ কর্তাব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁকে চাকরিচ্যুত করেন। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে মন্ত্রণালয় তাঁকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেনি ডিসিসি। এরপর তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালতও তাঁর পক্ষে রায় দেন। কিন্তু ডিসিসি এখন পর্যন্ত পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। এ ব্যাপারে মেয়র বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। তিনি ডিসিসির মেয়রের দায়িত্বও পালন করছেন সাড়ে আট বছর। এত দিনেও পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হলো না কেন?
প্রকৃত প্রস্তাবে, ডিসিসি একটি অন্যায়কে আড়াল করতে একাধিক অন্যায়ের আশ্রয় নিয়েছে। আদালত যেহেতু তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন, সেহেতু অবসরের মেয়াদ পর্যন্ত তাঁর বেতন-ভাতা ডিসিসিকে পরিশোধ করতে হবে। সংস্থাটির কাছে আলী হোসেনের পাওনার পরিমাণ ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। অথচ তাঁকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
কেবল আলী হোসেন নন, চাকরিচ্যুতি বা অবসর নেওয়ার পর অনেক সরকারি কর্মকর্তাই তাঁদের পাওনা বুঝে নিতে নানা হয়রানির শিকার হন। যাঁরা অসহায় চাকরিচ্যুত ও অবসরভোগীদের পাওনা নিয়ে টালবাহানা করেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত। আলী হোসেনের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ডিসিসি অতীতের পাপ মোচন করতে পারে। এভাবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে একজন সৎ কর্মকর্তা অনন্তকাল জিম্মি থাকতে পারেন না।

দুর্নীতির রিপোর্টে মন্ত্রীরা বেসামাল! by সোহরাব হাসান

কথাবার্তা একটু হিসাব করে বলতে হয়, না হলে বুমেরাং হয়ে নিজের গায়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ আহূত ২৬ ডিসেম্বরের হরতালের প্রতি বিএনপি সমর্থন জানালে আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা রইরই করে উঠলেন। অভিযোগ করলেন, যুদ্ধাপরাধী আহূত হরতালে সমর্থন জানিয়ে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করার চক্রান্ত করছে।
প্রথমেই বলা দরকার, হরতাল একটি ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচি। কোনো হরতালেই জনগণের মঙ্গল আসে না। তবে এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা ও দক্ষতা দেখালে এবং সরকারি দল বিরোধীদের প্রতি সহনশীল আচরণ করলে তারা হরতাল ডাকার সুযোগ পায় না। ওলামা মাশায়েখ আহূত হরতালটি প্রত্যাহার করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তারা প্রমাণ করল, আলোচনা করে যেকোনো সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।
সরকার চাইলে কি আগের হরতালগুলো থেকেও দেশবাসীকে রেহাই দিতে পারত না? অবশ্যই পারত। শুধু বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে একটা মীমাংসায় আসতে হতো। আলোচনা মানে বিরোধী দলের সব দাবি মেনে নেওয়া নয়। সরকার ওলামা মাশায়েখদের দাবিমতে, জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল করেনি। তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রয়োজনে সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাতেই ওলামা মাশায়েখরা সন্তুষ্ট।
শেষ পর্যন্ত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে ২৬ ডিসেম্বরের হরতাল প্রত্যাহার করে নিয়েছে। হরতাল ডাকাটাই ছিল অন্যায় ও অযৌক্তিক। তার পরও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, তাদের দাবিদাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সংস্কৃতিতে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক।
কিন্তু মন্ত্রীরা আগের বক্তব্যের কী ব্যাখ্যা দেবেন? ওলামা মাশায়েখ পরিষদের এক নেতাকে ইঙ্গিত করে সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছিলেন, ২৬ ডিসেম্বরের হরতাল ডেকেছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীরা। সেই যুদ্ধাপরাধীদের ডাকা হরতালে সমর্থন জানিয়ে বিএনপি নিশ্চয়ই অন্যায় করেছে। এখন সরকার যখন সেই যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে আলোচনা করে হরতাল প্রত্যাহার করিয়ে নিল, তখন অবস্থাটি কী দাঁড়াল? কে বেশি আপস করল? এর পরও আমরা মনে করি, হরতাল আহ্বানকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার কোনো অন্যায় করেনি। সরকার একটি অনিবার্য হরতাল তথা ভাঙচুর-অবরোধ থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। কিন্তু শুরুতে তাঁরা যেভাবে বিরোধী দল ও ওলামা মাশায়েখ নেতাদের অভিযুক্ত করেছিলেন, তার মোক্ষম জবাবও দিয়েছেন পরিষদের এক নেতা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ একা দেশ স্বাধীন করেনি। দেশের স্বাধীনতায় তাঁদেরও ভূমিকা ছিল। ওলামা মাশায়েখদের কেউ যুদ্ধাপরাধ করে থাকলে সরকার অবশ্যই তার বিচার করবে। হরতাল ডাকা না-ডাকার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক?
ক্ষমতাসীনেরা যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে এ ধরনের সংলাপ, আলাপ-আলোচনা ও মতবিনিময়কে গুরুত্ব দিতেন, তাহলে দেশের অনেক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হতো। বিরোধী দল যেসব দাবিতে আন্দোলন করছে, সব কটি যেমন যৌক্তিক নয়, তেমনি ষড়যন্ত্রমূলকও নয়। সরকার সেগুলো নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচনা করতে পারত। দেশীয় সমস্যা নিয়ে বিদেশি দূতদের সঙ্গে আলোচনার চেয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা উত্তম। বিএনপি বলছে, তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার হামলা-মামলা চালাচ্ছে। তাদের এই দাবি অসত্য হলে সরকারের উচিত যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তা খণ্ডন করা। কোন নেতার বিরুদ্ধে কী মামলা আছে, তাও দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া।
রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা মামলা নিয়ে সরকার যা করছে, তার প্রতিবাদ এসেছে খোদ সরকারি দলের পক্ষ থেকে। এটি এখন নেতাদের ঘুষ-বাণিজ্যের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের মেয়াদ দুই বছর পার হতে চলেছে। এই দুই বছরে তারা কী করেছে, কী করেনি, কী করার অঙ্গীকার করেছিল, সেই হিসাব এখন জনগণ নিতে চাইবে। কেবল বিএনপি-জামায়াত ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না।
ওলামা মাশায়েখ পরিষদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যদি সরকার একটি সমঝোতায় আসতে পারে, তাহলে বিএনপির সঙ্গে আসতে পারবে না কেন? তারা আলোচনা করবে নিশ্চয়ই দুর্নীতির মামলা থেকে বিএনপির নেতাদের ছেড়ে দিতে নয়। আলোচনা করবে দেশ পরিচালনায় সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, কীভাবে জনজীবনের সমস্যা সমাধান করা যায়, কীভাবে সংসদ কার্যকর করা যায়, সেসব নিয়ে।

২.
বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতির একটি অদ্ভুত রেওয়াজ চালু আছে। সরকারের কোনো দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কথা বলা যাবে না। সরকারের মন্ত্রী, আমলা, পুলিশের বড়-ছোট ও মাঝারি কর্মকর্তা, সরকারের সমর্থক ও পেশাজীবীরা গায়ের জোরে সবার কণ্ঠ রোধ করতে চায়। তারা বিরোধী দলের প্রতিবাদ স্তব্ধ করতে চায়। গণমাধ্যমের কণ্ঠও রোধ করতে চায়। এমনকি স্বাধীন সংস্থাগুলোকেও পেশাদারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়। এটি সুস্থতার লক্ষণ নয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে তারা কাজ করে আসছে বহু বছর ধরে। টিআইবি কোনো সরকারকে ক্ষমতায় বসায় না, ‘ভূপাত ধরণীতল’ও করে না (করলে চার-চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারত না)। টিআইবি সরকারের বিভিন্ন সেবা খাত নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার ও মতামতের ভিত্তিতে কিছু জরিপ প্রতিবেদন করে থাকে। উদ্দেশ্য, কে কতটুকু সেবা পেল কিংবা পেল না, তা তুলে ধরা। এসব জরিপ শতভাগ নির্ভুল নয়, আবার উদ্দেশ্যমূলক, তা বলারও যুক্তি নেই।
টিআইবি বৃহস্পতিবার ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০১০’ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ‘২০০৭ সালের খানা জরিপে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার বিচার বিভাগের দুর্নীতির শিকার হয়েছিল। কিন্তু এ দফায় তা বেড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শতকরা ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বিচার বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন। তাঁদের ৮৮ শতাংশ দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। সেবাগ্রহীতারা দ্রুত শুনানি হওয়া, মামলার রায়কে প্রভাবিত করা, নথি তোলা, শুনানির তারিখ পেছানো ও নথিপত্র গায়েব করে দেওয়ার জন্য ঘুষ দেয়। এ সময় সবচেয়ে বেশি ঘুষ লেনদেন হয়েছে হাইকোর্টের মামলার ক্ষেত্রে, ঘুষের পরিমাণ খানাপ্রতি গড়ে ১২ হাজার ৭৬১ টাকা, জজকোর্টে তা ছয় হাজার ১৭৮ টাকা এবং ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ছয় হাজার ৫৯৮ টাকা।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আইনজীবীর হয়রানির শিকার হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ; ৪১ শতাংশ মানুষ সময়ক্ষেপণ, ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ আদালতের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মুহরির, ২ দশমিক ৭ শতাংশ দালালের হয়রানি এবং ৯ দশমিক ১ শতাংশ নথি তোলায় হয়রানির শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯-১০ সালে সেবা পাওয়ার জন্য সার্বিকভাবে প্রায় ৬০ শতাংশ খানা গড়ে সাত হাজার ৯১৮ টাকা ঘুষ দিয়েছে।
‘খাতভেদে ঘুষ ও নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ে এগিয়ে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। পুলিশের শনাক্তকরণ প্রতিবেদন ও অনাপত্তিপত্র পেতে সেবাগ্রহীতাদের ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশকে ঘুষ দিতে হয়েছে। এ ছাড়া গণগ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে গড়ে চার হাজার ৪৫ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। এরপরই দুর্নীতিতে এগিয়ে আছে ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা। সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে দুর্নীতির শিকার হয়েছে ৭১ দশমিক ২ শতাংশ। এ ছাড়া কর ও শুল্ক বিভাগের সেবা পাওয়ার জন্য ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সেবা পেতে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার, কৃষিসেবা পেতে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার, স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে সেবা পেতে ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার, স্বাস্থ্যসেবা পেতে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার, বিমা খাতে ১৫ শতাংশ খানা, ব্যাংকিং খাতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ খানা, ৭ দশমিক ২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা এনজিও থেকে ঋণ নিতে এবং শিক্ষা খাতে ১৫ শতাংশ খানা ঘুষ-অনিয়মের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।’ (প্রথম আলো ২৪ ডিসেম্বর ২০১০)।
এসব তথ্য নতুনও নয়, অভিনবও নয়। কিন্তু টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরই মন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা থেকে আইনজীবী সমিতির সভাপতি, পুলিশের মহাপরিদর্শক থেকে ঢাকার কমিশনার পর্যন্ত শোরগোল তুলেছেন। এর মধ্যে ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। কেউ প্রশ্ন করছেন, এ সময়ে কেন রিপোর্ট দেওয়া হলো? কেউ বলছেন, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। কেউ বলছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। আমরা বুঝি না, টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের বিচারের কী সম্পর্ক? মন্ত্রী-নেতারা যখন প্রতিবেদন নিয়ে ঝড় তুলছেন, তখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান কী বলছেন? জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানেই তিনি বলেছেন, ‘টিআইবি দুর্নীতির যে চিত্র প্রকাশ করেছে, দেশে তার চেয়েও বেশি দুর্নীতি হচ্ছে।’ (প্রথম আলো, ঐ)
তাহলে দুদক চেয়ারম্যানও কি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন? আরও মজার ব্যাপার হলো, সব বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বৈরিতা থাকলেও প্রতিবেদনের বিষয়ে তারা এককাট্টা। কুমিল্লায় টিআইবির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির এক সদস্য। টিআইবির প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সরকার-সমর্থক ও বিরোধী আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বলেছেন, প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। অনুরূপ মন্তব্য করেছেন সরকার-সমর্থক আইনজীবী নেতারাও। আসল কথা হচ্ছে, বিচার বিভাগ বা পুলিশ বিভাগে দুর্নীতি বেড়েছে কি কমেছে, তা জানতে টিআইবির প্রতিবেদন পড়ার প্রয়োজন নেই। ভূক্তভোগীরাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। কয়েক দিন আগে প্রধান বিচারপতিও নিম্ন আদালতের বিচারকদের ঘুষ গ্রহণ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাহলে টিআইবির দোষটা কোথায়? টিআইবির প্রতিবেদনে অসত্য কিছু থাকলে সরকার চ্যালেঞ্জ করতে পারত।তা না করে মন্ত্রীরা যে ভাষায় গবেষণা-প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন, তা শিষ্টাচার ও ন্যায়নীতিবর্জিত। এর পাশাপাশি মামলা করেও টিআইবির কর্মকর্তাদের খামোশ করার চেষ্টা চলছে। মন্ত্রীরা টিআইবির কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চেয়েছেন। তা চাইতেই পারেন। তাঁরা আইনকানুন মানছেন কি না, ঠিকমতো কর দিচ্ছেন কি না, সেসব দেখার দায়িত্ব সরকারেরই। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। এর সঙ্গে টিআইবির পুরো প্রতিবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে সরকার ঠিকমতো দেশ চালাচ্ছে কি না, তা জানতে চাওয়ার অধিকার জনগণের আছে। টিআইবির জরিপে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। তারা ঢালাওভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেনি। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন মাত্র। আগের জরিপগুলো বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায়। আগের জরিপে কখনো শিক্ষা খাত, কখনো বন্দর, কখনো স্থানীয় সরকার দুর্নীতির শীর্ষে ছিল। এবারে বিচার বিভাগ ও পুলিশ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে সংশ্লিষ্টদের লজ্জিত হওয়া উচিত ছিল। একসময় বলা হতো, শিক্ষা ভবনের ইটও ঘুষ খায়। সেই বদনাম ঘুচেছে, শিক্ষা খাতে দুর্নীতি কমেছে। টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৯ শতাংশ থেকে ১৫-তে নেমে এসেছে। স্বাস্থ্য খাতে ৪৪ থেকে নেমে ৩৩ শতাংশ হয়েছে। এটি নিশ্চয়ই এক ধাপ অগ্রগতি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত এই সফলতা দেখাতে পারলে অন্যরা কেন পারবে না?
আসলে কে মন্ত্রণালয় চালাচ্ছেন, কীভাবে চালাচ্ছেন, তার ওপরও মন্ত্রণালয়ের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ভর করে। মন্ত্রী যদি ঘুষ ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকেন, তাহলে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তারাও দুর্নীতি করতে ভয় পাবেন। এই সরল সত্যটি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের চালকেরাও বুঝতে পারলে জরিপ নিয়ে এত হইচই করতেন না। কথায় কথায় যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি টেনে আনতেন না। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক, তা সবাই চায়। তার অর্থ এই নয় যে মন্ত্রণালয়গুলোর দুর্নীতি, অনিয়ম ও অদক্ষতা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। আমরা এ রকম কবরের নিস্তব্ধতাপ্রিয় গণতন্ত্র চাই না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট পেরেজের জীবনাবসান

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস আন্দ্রেস পেরেজ (৮৮) আর নেই। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
পেরেজের মেয়ে মারিয়া ফ্র্যান্সিয়ার বরাত দিয়ে ভেনেজুয়েলার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্লোবোভিশন এ তথ্য জানায়।
পেরেজ ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ এবং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দেশটির তেলশিল্পের জাতীয়করণ করে পেরেজ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এ সময় তাঁকে ‘সৌদি ভেনেজুয়েলা’ নামে ডাকা হতো।
১৯৮৯ সালে পেরেজ দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই বছরই তাঁর অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিবাদে দেশটিতে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দাঙ্গায় তিন শরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনার পর তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামে।
১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই পেরেজ ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। এ সময় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে কারাদণ্ড দেন। তবে পেরেস বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাজার মেয়াদ শেষে তিনি বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

বাজপেয়িকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি বিজেপির

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা অটল বিহারি বাজপেয়িকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসরকারি সম্মান ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা। গত শনিবার ছিল বাজপেয়ির ৮৭তম জন্মদিনে তারা এ দাবি জানান।
এদিন সকালে দিল্লিতে বাজপেয়ির বাসভবনে উপস্থিত হন বিজেপির শীর্ষ নেতাসহ দলীয় কর্মীরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
বিজেপির সাবেক সভাপতি রাজনাথ সিং বাজপেয়ির জন্মদিনে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৫৪ বছর ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবদান রাখার জন্যই তিনি এই সম্মান পাওয়ার অধিকারী।
১৯২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর মধ্য প্রদেশের গোয়ালিয়রে বাজপেয়ির জন্ম। চিরকুমার বাজপেয়ি প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন ১৯৫৭ সালে।

বড়দিন আলাদাভাবে উদ্যাপন করলেন উইলিয়াম ও কেট

ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর বাগদত্তা কেট মিডলটন বাগদানের পর প্রথম বড়দিন আলাদাভাবে উদ্যাপন করেছেন। বড়দিনে উইলিয়াম তাঁর কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। আর কেট তাঁর বাবা-মা ভাই-বোনের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বড়দিনের উৎসব উদ্যাপন করেন। সানডে এক্সপ্রেস-এর এক গতকাল রোববার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক হেলিকপ্টারের পাইলট প্রিন্স উইলিয়াম বড়দিন উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে কর্মস্থলে ছিলেন। ওই দিন অ্যাংগ্লেসি ঘাঁটিতে রাজকীয় বিমানবাহিনীর ক্যান্টিনে সহকর্মীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন তিনি। ব্রিটেনের ঐতিহ্য অনুযায়ী অবিবাহিত কর্মকর্তাদের বড়দিনের ছুটিতেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।
এদিকে লন্ডনের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে বাকলবারিতে নিজ গ্রামে বাবা-মা ও ভাই-বোনের সঙ্গে বড়দিন উদ্যাপন করেন কেট।
ব্রিটেনের সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর প্রেমিকা কেট মিডলটনের বাগদান গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে আগামী বছর ২৯ এপ্রিল তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে।

গাজায় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলা নিক্ষেপ

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা ভূখণ্ডে গতকাল রোববার ট্যাংক থেকে কয়েক দফা গোলা নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি জঙ্গি সংগঠন হামাসের সদস্যদের গুলিবিনিময়ের কয়েক ঘণ্টা পর এই গোলা নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে হামাসের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
হামাস-নিয়ন্ত্রণাধীন গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক অভিযানের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে কয়েক সপ্তাহ ধরে আবার সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলের তৈরি করা কথিত নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর দিয়ে গাজা থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা চালান। জবাবে ইসরায়েল হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনুসে গতকাল সকালে তাঁদের সেনাদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা-প্রাচীর ঘেঁষে জঙ্গিদের একটি দল বিস্ফোরক মজুদ করে সেখান থেকে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল। সেখানে সেনারা স্থল অভিযান চালায়। বিমানবাহিনী তাদের সহায়তা করেছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের তৎপর অবস্থায় দেখলে সেনাদের কোনো রকম ইতস্তত করা ছাড়াই গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এএফপির একজন আলোকচিত্রী বলেছেন, খান ইউনুসে ইসরায়েলের সেনারা ট্যাংক থেকে কমপক্ষে ১০টি গোলা নিক্ষেপ করেছে। এতে তিনটি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি।
হামাসের সশস্ত্র সংগঠন আল কাজাম ব্রিগেডের সদস্যরা মুখোশ পরে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ওই ব্রিগেডের মুখোশ পরা মুখপাত্র নিজেকে আবু ওবিদেহ পরিচয় দিয়ে জানান, তাঁরা ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না। তাঁরা অস্ত্রবিরতিতে রাজি। তবে ইসরায়েল হামলা চালালে তাঁরা এর জবাব দেওয়ার এবং সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি আছেন।

জাতিসংঘের ত্রাণ তহবিলে ৪০ কোটি পাউন্ড দেবে যুক্তরাজ্য

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তায় জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তহবিলে চার কোটি পাউন্ড অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
এশিয়া মহাদেশে সুনামি আঘাত হানার ষষ্ঠ বছর পূর্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর আঘাত হানা ওই সুনামিতে ১৪টি দেশের দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। ওই সুনামির পর প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার লোকজনকে সহায়তায় জাতিসংঘ একটি স্থায়ী তহবিল গঠন করে।
সারা বিশ্বে এক বছরে ২৫ কোটিরও বেশি লোক প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হলে জাতিসংঘের যে পরিমাণ তহবিল দরকার হবে তার দুই-তৃতীয়াংশ পূরণ করতে পারবে ব্রিটিশ সরকারের এই অনুদান।
২০১০ সালে বিশ্বে দুটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। হাইতির ভূমিকম্প ও পাকিস্তানে বন্যা। এ দুটি দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় খুবই ধীরগতিতে সাড়া দিয়েছে। তা ছাড়া প্রাপ্ত সাহায্য বিতরণে দেখা দেয় চরম অব্যবস্থাপনা।
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-বিষয়কমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সহায়তায় আরও সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তহবিলে সমর্থনের অভাবে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় সংস্থাটির সামর্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সাল নাগাদ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৫ কোটি থেকে ৩৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এই হামলা জঘন্য ও বিশ্বমানবতার বিরুদ্ধে: ওবামা

পাকিস্তানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ত্রাণ বিতরণকালে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি এই হামলাকে জঘন্য ও বিশ্ব মানবতার বিরুদ্ধে হামলা বলে উল্লেখ করেন।
আফগান সীমান্তবর্তী উপজাতি-অধ্যুষিত বাজাউর এলাকায় গত শনিবার ডব্লিউএফপির আওতায় ত্রাণ বিতরণের সময় আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৩ জন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ১০০ জন।
বড়দিন পালন উপলক্ষে পরিবার নিয়ে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি জঘন্য এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাই। ত্রাণ বিতরণের সময় সাধারণ জনগণের ওপর এই হামলা হলো বিশ্ব মানবতার বিরুদ্ধে হামলা। পাকিস্তানি জনগণের এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।’
এদিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট কারজাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

আইভরি কোস্ট ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ

আইভরি কোস্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৪ হাজার মানুষ পার্শ্ববর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অধিকাংশই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নতুন প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়েতাহার সমর্থক বলে জানা গেছে। গত শনিবার জাতিসংঘ এসব তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান নাকচ করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা দেশটির প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো গতকাল রোববার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যেকোনো চেষ্টা ওই অঞ্চলকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
গত ২৮ নভেম্বর আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিরোধীদলীয় প্রার্থী আলাসেন ওয়েতাহাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। কিন্তু ওই ফল প্রত্যাখ্যান করে সাংবিধানিক পরিষদের সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন লঅন্ত বাগবো। আলাসেন ওয়াতেহাও পৃথকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
আইভরি কোস্টের প্রতিবেশী দেশ বেনিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন মেরি ইহোউজোউ জানান, প্রেসিডেন্ট বাগবোকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি দেশের প্রেসিডেন্ট কাল মঙ্গলবার আইভরি কোস্টে যাবেন। অনেক আগে থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে এলেও প্রেসিডেন্ট বাগবো বারবার তা নাকচ করে দিচ্ছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ফাটুউমাটা লেজেউন কাবা জানান, দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর থেকে আইভরি কোস্টের পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামগুলোর জনগণ দেশ ছাড়তে শুরু করে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় উদ্বিগ্ন জনগণ কয়েক দিন পর্যন্ত হেঁটে প্রতিবেশী দেশ লাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেয়। এখনো অনেকেই দেশ ছাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইউএনএইচসিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইভরি কোস্টের ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শরণার্থী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানবিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। লাইবেরিয়ার যে অঞ্চলে শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে, সেই গ্রামগুলোর জনগণেরও সাহায্য দেওয়া প্রয়োজন।’ বিবৃতিতে জানানো হয়, লাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চলে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত শরণার্থীর সংখ্যা ১৪ হাজার। ওই অঞ্চলে ৩০ হাজার শরণার্থীর সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সরকার ও বিভিন্ন মানবিক সাহায্য সংস্থার সহায়তা সত্ত্বেও শরণার্থীদের খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া শরণার্থীদের চাপের কারণে সেখানে সাত থেকে ২০ জন পর্যন্ত একটি কক্ষে থাকছে।
শরণার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শরণার্থী শিশুরা পুষ্টিহীনতার শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বাগবো পদত্যাগ না করলে সামরিক অভিযান চালানোরও হুমকি দিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট ইসিওডব্লিউএএস। প্রেসিডেন্ট বাগবো এই হুমকিকে অবিচার বলে আখ্যা দিয়েছেন। পশ্চিম আফ্রিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আইভরি কোস্টের হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা নতুন প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়েতাহাকে দেওয়ায় এর নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাগবো। গতকাল প্রেসিডেন্ট বাগবোর মুখপাত্র জানান, আইভরি কোস্টে এই অঞ্চলের অনেক দেশের নাগরিক আছে। সামরিক হামলা হলে সবাই বিপদের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে।’
বেনিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেন মেরি ইহোউজোউ জানান, ইসিওডব্লিউএএস এর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বাগবোকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে তিনটি দেশের প্রেসিডেন্ট কাল মঙ্গলবার আইভরি কোস্টে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন বেনিনের প্রেসিডেন্ট থমাস ইউয়েয়ি বোনি, সিয়েরা লিয়নের প্রেসিডেন্ট আর্নেস্ট বাই করোমা ও কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো ভেরোনা রদ্রিগেজ পিরেস।
নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়েতাহা সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে সে দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ওয়েতাহা দেশটির আবিদজান শহরে একটি হোটেলে কার্যালয় বানিয়ে অবস্থান করছেন। দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে। আর দেশটির নিজস্ব সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত প্রাসাদে অবস্থান করছে প্রেসিডেন্ট বাগবো।

ইয়নপিয়ং দ্বীপে হামলার ঘটনা বর্ণনা করলেন উ. কোরিয়ার সেনারা

উত্তর কোরিয়ার সেনারা দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে হামলা চালানোর ঘটনা গর্বের সঙ্গে বর্ণনা করছেন। তবে তাঁদের দাবি, দক্ষিণ কোরিয়ার হামলার জবাবেই এ হামলা চালানো হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গত শুক্রবার সেনাদের এই বর্ণনা প্রচার করে।
২৩ নভেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নপিয়ং দ্বীপে চারজন নিহত হয়। দুই পক্ষেরই দাবি, প্রতিপক্ষের হামলার জবাব দিতেই তারা পাল্টা হামলা চালায়।
উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নেতা কিম জং ইলের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিযুক্তির ১৯তম বার্ষিকীতে গত শুক্রবার শীর্ষ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনেক বেশি যুদ্ধংদেহি ছিল। কিমের সেনাপ্রধান গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘পবিত্র’ পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কিম মুন চোল নামের এক সেনা বলেন, ‘আমাদের পবিত্র সমুদ্রসীমায় শত্রুদের একটি গোলার শেল এসে পড়ে, যা আমাদের প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে তোলে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে শত্রুর স্থাপনা লক্ষ্য করে গোলা নিক্ষেপ করতে থাকি।’ বেশ উচ্চ স্বরে ও গর্বভরে এসব কথা বলেন কিম মুন। এ সময় তাঁর পাশে সামরিক পোশাক পরা অপর তিনজনকে দেখা যায়। মুনের বক্তব্যের সময় তাঁরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকেন। তাঁদের কারও পদমর্যাদা জানা যায়নি।
কিম কিয়ং সু নামের একজন সেনা বলেন, ‘শত্রুপক্ষের উসকানির পর আমরা চিৎকার করে বলি, আসুন শত্রুর বিপক্ষে যুদ্ধ করে জীবন উৎসর্গ করি। আমাদের প্রিয় নেতা কিম জং ইলের কথা ভেবে শত্রুদের নির্দয়ভাবে ধ্বংস করি।’ একপর্যায়ে সেনা পোশাক পরা একজন কর্মকর্তা কিম জং ইলের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেন।
দর্শকসারিতে থাকা সবাই তুমুল করতালি দিয়ে সেনাদের বক্তব্যকে অভিনন্দন জানান। দর্শকদের অধিকাংশ সামরিক পোশাক পরা ছিলেন। তাঁরা পৃথকভাবে কথাও বলছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পরে সবাই একসঙ্গে সামরিক বাহিনীর গান গেয়ে ওঠেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে গতকাল বলা হয়, ইয়নপিয়ং দ্বীপে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ইঙ্গিত দেয়, তারা পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চায়। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি গতকাল এক প্রতিবেদনে জানায়, উত্তর কোরিয়া আগামী বছর ইয়নপিয়ংসহ কয়েকটি দ্বীপ দখলের উদ্দেশে হামলা চালাতে পারে।

ভার্জিন আটলান্টিক কিনতে পারেন এয়ার এশিয়াপ্রধান

মালয়েশিয়ার বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার প্রধান নির্বাহী টনি ফার্নান্দেজ ব্রিটেনের অন্যতম বিমান সংস্থা ভার্জিন আটলান্টিক কেনার চিন্তাভাবনা করছেন। ব্রিটেনের সানডে টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
এক গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে সানডে টাইমস আরও জানিয়েছে, মাঝখানে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেও টনি ফার্নান্দেজ এখন পুনরায় ভার্জিন আটলান্টিক কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৫৪ কোটি ডলার দিয়ে তিনি ভার্জিন কিনতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে ভার্জিন আটলান্টিক অথবা এয়ার এশিয়ার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।
১৯৮৪ সালে চালু হওয়া ভার্জিন আটলান্টিকের ৫১ শতাংশের মালিক ব্রিটিশ কোটিপতি রিচার্ড ব্রানসন। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ২০০০ সালে ৬০ কোটি পাউন্ডে এই এয়ারলাইনসের বাকি ৪৯ শতাংশ মালিকানা কিনেছিল।

তফসিলি ব্যাংকগুলোকে স্কুল ব্যাংকিং চালুর আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান শিশুদের কাছে আধুনিক ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে স্কুল ব্যাংকিং চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চত্বরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর এ কথা বলেন।
আতিউর রহমান বলেন, সবার জন্য আর্থিক সেবার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্য বিশেষ ব্যাংকিংসেবা চালু করতে হবে। স্কুলের পাশে এটিএম বুথ চালু করে শিশুদের কাছে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। এখন সহজে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষের কাছে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দিতে হবে। মানুষের উদ্ভাবনী কর্মশক্তিকে কাজে লাগাতে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
গভর্নর বলেন, সবার কাছে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডাচ-বাংলা ব্যাংক দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং চালু করতে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য তফসিলি ব্যাংক ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মতো ই-ব্যাংকিং চালু করবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশ-ভারত চুক্তি জানুয়ারিতে

খুলনায় প্রস্তাবিত কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি যৌথ মালিকানা চুক্তি (জেভিএ) স্বাক্ষরিত হবে জানুয়ারিতে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান এ এস এম আলমগীর কবীর বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করতে পাঁচ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল আজ সোমবার ঢাকা আসবে। তবে জেভিএ চুক্তিটি হবে জানুয়ারিতে। এ এস এম আলমগীর এ ব্যাপারে ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত শনিবার নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন।’
আলমগীর কবীর বলেন, জেভিসিতে দুটি প্রধান পদ থাকবে। একটি চেয়ারম্যান ও অপরটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রতি আট বছর পর পদ পরিবর্তন করা হবে। তিনি জানান, কয়লা-চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের সময় বাংলাদেশ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবে এবং এটা সম্পন্ন হতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। সম-অংশীদারির ভিত্তির এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুই ইউনিট বিশিষ্ট হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের ফলাফল ঘোষণায় বাধা নেই

আপিল বিভাগ চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসি) নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা স্থগিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন। হাইকোর্টের আদেশটি আগামী ছয় সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে চেম্বারের ফলাফল ঘোষণায় কোনো আইনগত বাধা নেই।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি এস কে সিনহা এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষে লড়েন আইনজীবী রফিক-উল হক। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুল ইসলাম ও মো. ফাহমিদ সারোয়ার।
মো. ফাহমিদ সারোয়ার প্রথম আলোকে জানান, হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করায় ফলাফল ঘোষণায় কোনো বাধা নেই। তবে এ জন্য সিসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকতে হবে।
২১ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক অবকাশকালীন বেঞ্চ সিসিসির নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করেন। পরদিন ২২ ডিসেম্বর চেম্বারের সাধারণ সভায় এ ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল। এবারের নির্বাচনে পরিচালক পদে প্রার্থী আজফার আলী সাধারণ সভার এক নম্বর এজেন্ডা ফলাফল ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদনটি করেন।
উল্লেখ্য, ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রক্সি ভোট দেওয়ার অভিযোগে এনে ফলাফল ঘোষণার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদনটি করা হয়।

ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল

ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ও এ বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা-সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেননি আপিল বিভাগ। ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন আপিল বিভাগে আবেদন করে। আজ সোমবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি কোনো আদেশ দেননি।
এর ফলে ভাঙার জন্য জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে আইনজীবী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর ফলে হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
জাহাজ ভাঙা শিল্পের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ না করা পর্যন্ত জাহাজ আমদানি বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনার আলোকে দেশে বিষাক্ত জাহাজ অনুপ্রবেশ রোধে, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পর্যাপ্ত ও কার্যকরী’ বিধিমালা তিন মাসের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বেলার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে নির্দেশনা বাস্তবায়নে রসায়নবিদ, পদার্থবিদ, পরিবেশবিদ, আইনবিদ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে এক মাসের মধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা বিধান না করে বর্জ্যবাহী জাহাজ আমদানি করা যাবে না। ভাঙার জন্য জাহাজ এমনভাবে আনতে হবে, যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি না থাকে। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে হাইকোর্টের দেওয়া রায় যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। ওই রায় অনুসরন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের জলসীমায় কোনো বর্জ্যবাহী জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।
এর আগে ২০০৯ সালের ১৭ মার্চ কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আগে আমদানি করা জাহাজের বর্জ্যমুক্তকরণ (প্রিক্লিনিং) নিশ্চিত করতে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণ নিশ্চিত করতে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপক্ষে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর অনাপত্তি (এনওসি) প্রদানের কথা বলা হয়।
একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিমুক্ত ছয়টি আইনের অধীনে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলা হয়। সে সঙ্গে এসব বিষয় তদারকি করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১১ মে হাইকোর্ট ওই রায়ে স্পষ্টতা দিয়ে হাইকোর্ট ভাঙার জন্য আমদানি করা সব জাহাজের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বর্জ্যমুক্তকরণ সনদ লাগবে বলে নির্দেশ দেন। বলা হয়, এ আদেশটি সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
জানা যায়, সম্প্রতি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিধিমালা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের ইতিপূর্বে দেওয়া রায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া ইতিমধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ২২টি জাহাজকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে গত ১২ ডিসেম্বর বেলা হাইকোর্টে আবেদন করে। এতে নীতিমালা তৈরি না করা পর্যন্ত জাহাজ আমদানি বন্ধ ও ইতিমধ্যে আনা জাহাজগুলো না ভাঙার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ আবেদনের ওপর দুই দিনের শুনানি শেষে আদালত ১৫ ডিসেম্বর এ আদেশ দেন।

আইপিওর ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগে এসইসির তদন্ত কমিটি গঠন

দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেডের আইপিওর ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল রোববার এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে এসইসির সার্ভিলেন্স শাখা সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, এসইসির পরিচালক কামরুল আনাম খান ও উপপরিচালক রাজীব আহমেদ।
দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির আইপিও লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। লটারির ফলাফল অনুযায়ী মোট ১৮ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে ৩২ হাজার লোক শেয়ার পায়। লটারির ড্র কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) অধ্যাপক মোস্তফা আকবর। এ সময় সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল মোস্তফা আকবরকে সহায়তা করেন।
লটারির ব্যাপারে ওই দিন অধ্যাপক মোস্তফা আকবর বলেন, লটারি পুরোপুরি স্বচ্ছ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে ডিজিট বেছে নিয়ে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে এই লটারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এদিকে আইপিওর লটারির ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ এসইসির দৃষ্টিগোচর হলে বিষয়টি তদন্তে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তদন্ত শেষে আগামী ১৩ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির দুই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা উভয়ে তদন্তের ব্যাপারে দাপ্তরিক আদেশ পেয়েছেন বলে জানান।
দেশবন্ধু পলিমার লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৫০০টি শেয়ারে মার্কেট লট নির্ধারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য এক কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ম্যানেজার হলো ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।

টিকিট, নাকি সোনার হরিণ?

বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু হবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই। ক্রিকেট-পাগল মানুষের মনে এখন নতুন প্রশ্ন—টিকিট পাওয়া যাবে কোথায়? বিশ্বকাপের স্থানীয় আয়োজক কমিটি এখন পর্যন্ত এর সংক্ষিপ্ত একটা উত্তরই দিয়েছে—সিটি ব্যাংক। সারা দেশে বেসরকারি এই ব্যাংকের কোন কোন শাখা থেকে বিক্রি হবে বিশ্বকাপের টিকিট, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে দু-এক দিনের মধ্যে। তবে টিকিট বিক্রি শুরুর পর মানুষের আগ্রহটা নিশ্চিতভাবেই হাহাকারে পর্যবসিত হবে।
গ্যালারিতে চেয়ার বসানোর পর বাংলাদেশে বিশ্বকাপের দুই ভেন্যু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিশ্বকাপের টিকিট হবে তাই সোনার হরিণ। সাধারণ গ্যালারি থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট বক্স—সব মিলিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রতি ম্যাচে মাত্র ২৫৯০১ দর্শক খেলা দেখতে পারবে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংখ্যাটা আরও কম, ১৮২২৮। এর মধ্যে সাধারণ গ্যালারির টিকিট মিরপুরে প্রায় ১৫ হাজার এবং চট্টগ্রামে ১১ হাজারের মতো। এর পুরোটাই আবার বুথে বিক্রি হবে না। প্রতি ম্যাচের হাজার দেড়েক করে টিকিট বরাদ্দ থাকবে ‘সৌজন্য টিকিট’ হিসেবে।
করপোরেট বক্সের টিকিটও পাওয়া যাবে না বুথে। আগ্রহী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বরাদ্দ হচ্ছে এসব বক্স। আইসিসিকে ১০টি বক্স বরাদ্দ দেওয়ার পর বিসিবির হাতে বক্স আছে মোট ২৭টি এবং ২৭টি বক্সের জন্য নাকি আবেদন জমা পড়েছে চার শর মতো! গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বক্সের প্রতিটি আসনের টিকিটের দাম ২১ হাজার টাকা, কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য ২৪৫০০ টাকা করে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার হলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য টিকিট ছাড়া হবে মাত্র ১২ হাজার। স্থানীয় আয়োজক কমিটির টিকিট অ্যান্ড সিটিং কমিটির ম্যানেজার রিয়াজ আহমেদ বলেছেন, বিশ্বকাপে টিকিট বিক্রি থেকে তাঁরা ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের আশা করছেন।
সিটি ব্যাংকের কোন কোন শাখা থেকে টিকিট বিক্রি হবে, সেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা না গেলেও ঢাকায় মোট আটটি বুথে বিক্রি হবে টিকিট। চট্টগ্রামে বিক্রি হবে পাঁচটি বুথ থেকে। দেশের বাকি সব জেলায় টিকিট বিক্রি হবে একটি করে বুথ থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রস্তুতি ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিট একসঙ্গে বাজারে ছাড়ার কথা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে। শনিবার বলে ওই দিন ব্যাংক বন্ধ থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা। স্থানীয় আয়োজক কমিটি সূত্র অবশ্য এও জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি শুরুর এই তারিখ তিন-চার দিন পিছিয়েও যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে টিকিট কিনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি উদ্বোধন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপের টিকিট কেনার প্রক্রিয়াটা জটিল। কেনার সময় ক্রেতাকে সঙ্গে নিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট। টাকা দিয়েও সঙ্গে সঙ্গেই টিকিট হাতে পাবেন না ক্রেতা। তাকে দেওয়া হবে একটি ভাউচার, যেটি দেখিয়ে ম্যাচের ঠিক সাত দিন আগে সংগ্রহ করতে হবে টিকিট। টিকিট বিতরণ হবে স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট বুথে। কেউ অবশ্য চাইলে বাড়তি টাকা দিয়ে ডাকেও পেতে পারেন সেটা। প্রতি ম্যাচের জন্য একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুটি করে টিকিট কিনতে পারবেন। তবে প্রস্তুতি ম্যাচসহ বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচের টিকিটই কেনা যাবে একসঙ্গে।
টিকিট নিয়ে এখনই চারদিকে যে হাহাকার, তাতে দেশের মাটির বিশ্বকাপটা অনেককে টেলিভিশনে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আগে তো ধরতে হবে টিকিট নামের ‘সোনার হরিণ’, তার পরই না খেলা দেখা!

ভয়কে জয় করবে আর্সেনাল

ভয়, ভয় আর ভয়—বড় ম্যাচে আর্সেনালের ভালো করতে না পারার কারণ এই একটিই। এই আবিষ্কার অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাসেরই। কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও একমত এর সঙ্গে। আজ নিজেদের মাঠে চেলসি-পরীক্ষা ‘গানার’দের। মানে আরেকটা বড় ম্যাচ। ফ্যাব্রিগাস সতীর্থদের তাই পরামর্শ দিয়েছেন, চেলসিকে জয় করতে চাইলে আগে জয় করতে হবে ভয়কে।
গতবারের মতো এই মৌসুমের শুরুটাও দারুণ করেছিল ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল। তরুণ দলটি একের পর এক ম্যাচ জিতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে নিজেদের। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সামনে ভেঙে পরল সব বীরত্ব। হারতে হলো তরুণ ‘গানার’দের। চেলসি আর ম্যানইউর বিপক্ষে সর্বশেষ ১৮টি ম্যাচের মাত্র ৩টিতেই জিততে পেরেছে তারা।
চেলসির সঙ্গে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা আরও করুণ আর্সেনালের। সর্বশেষ ৫ ম্যাচের সব কটিতেই হেরেছে তারা। বছরের শেষ লিগ ম্যাচে চেলসির বিপক্ষে টানা হারের এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চান ওয়েঙ্গার, ‘এটি আমাদের জন্য অবশ্যই জিততে হবে এমন একটি ম্যাচ।’
নানি আর্সেনালকে একেবারে যে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলেন, এটা সহজে মেনে নিতে পারেননি ওয়েঙ্গার। মুখে এর জবাব দিয়েছেন। কিন্তু আসল জবাব দিতে হবে মাঠেই। আর্সেনালের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে ফ্যাব্রিগাস আর পুরো ফিট রবিন ফন পার্সির ফেরা।
আজ চেলসিকে আটকাতে চাইলে সবার আগে আটকাতে হবে দিদিয়ের দ্রগবাকে। এমনিতেই বড় ম্যাচের খেলোয়াড় এই আইভরিয়ান স্ট্রাইকার। আর্সেনালকে পেলে যেন গোল করার বাড়তি প্রেরণাও কোত্থেকে পেয়ে যান। আর্সেনালের বিপক্ষে খেলা ১১ ম্যাচে ১৩ গোল তাঁর।
ওয়েঙ্গারের মাথায় তাই ঘুরছে দ্রগবাকে আটকানোর পরিকল্পনাও, ‘ওকে (দ্রগবা) শান্ত করে রাখতে হবে। দ্রগবা-ল্যাম্পার্ডের জুটিটাও দারুণ। কী করে যেন ল্যাম্পার্ড সব সময় দ্রগবাকে খুঁজে পায়। তাই দ্রগবাকে থামাতে আমাদের বলের সরবরাহটা বন্ধ করে দিতে হবে।’
চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তিরও আজ বাজির ঘোড়া ইংলিশ মিডফিল্ডার ল্যাম্পার্ড। হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারের জন্য অনেক দিন মাঠের বাইরে থেকে মাত্রই ফেরা ল্যাম্পার্ড আজ আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেবেন বলে বিশ্বাস চেলসির ইতালিয়ান কোচেরও।

সিটিকে দুইয়ে তুললেন তেভেজ

সমর্থকদের মনে আঘাত দেওয়ার জন্য কার্লোস তেভেজকে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন রবার্তো মানচিনি। তেভেজ মনে হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি সমর্থকদের মন জয়ের ভালো উপায়ই বেছে নিয়েছেন। কাল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২ মিনিটের মাথায় গ্যারেথ ব্যারিকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। ৫ ও ৮১ মিনিটে গোল করেছেন নিজে। তাঁর জোড়া গোলে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-১-এ হারাল নিউক্যাসলকে। নিউক্যাসলের গোলটি কারলের। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে (৩৫) উঠে গেল ম্যান সিটি। কাল জোড়া গোল পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দিমিতার বারবেতভও। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে শীর্ষেই (৩৭) ম্যানইউ। ওদিকে লিভারপুল-ব্ল্যাকপুল ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে তুষারপাতের কারণে।

মুক্তিযুদ্ধ- বাংলাদেশের বন্ধুঃ জুলিয়ান ফ্রান্সিস by আবদুল খালেক ফারুক

৯৭১-র মুক্তিযুদ্ধে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত দুর্ভাগা বাঙালিদের শুধু খাদ্য আর চিকিৎসা সহায়তা নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জীবনী গানের আসর বসিয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত মানুষকে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন পেছনের রক্তাক্ত পথের দুঃসহ স্মৃতি। কলেরায় মৃত বাঙালিদের নিজের হাতে দিয়েছেন কবর। দেশ স্বাধীনের অনেক বছর পরেও প্রিয় বাঙালিদের ছেড়ে যাননি বাংলাদেশের এই অকৃত্রিম বন্ধু।

খবর, কালের কণ্ঠের- নিষ্ফল উদ্ধার অভিযানঃ দখলচক্রে ২৭ খাল

ঢাকঢোল পিটিয়ে মাঝেমধ্যেই অভিযান চালানো হয়; কিন্তু খালের ভাগ্য খোলে না তাতে। নিষ্ফল উদ্ধার অভিযানের কারণে এখনো দখলদারদের থাবার নিচেই ধুঁকছে রাজধানীর ২৭ খাল। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে স্থবির হয়ে পড়েছে উদ্ধার অভিযান। উদ্ধার করা খালগুলোও আবার চলে যাচ্ছে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। দখলদারদের তালিকায় আছে সরকারি দলের নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।