Tuesday, July 21, 2026

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল by নজরুল ইসলাম

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। এটি কেবল সান্ত্বনার কোলাকুলি ছিল না, বরং ছিল বিশ্বফুটবলের রাজদণ্ড এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরের প্রতীক।

নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক যখন ৩৯ বছর বয়সি মেসির নাম ধরে চিৎকার করছিলেন, তখন হয়তো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক তার শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। আর ঠিক সে মুহূর্তে বার্সেলোনার বর্তমান ১০ নম্বর জার্সিধারী ইয়ামাল জড়িয়ে ধরলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বরকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের র‍্যাফেলের অংশ হিসেবে ২০ বছর বয়সি মেসির কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবিটির বৃত্ত যেন আজ সম্পূর্ণ হলো। সেই শিশুটিই আজ বিশ্বজয়ী পুরুষ।

দুবছর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের নায়ক ইয়ামাল এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে একপ্রকার ‘পূর্ণতা’ দিলেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা এই তরুণ মাত্র ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন।

ফাইনালের মঞ্চে ইয়ামালের উপস্থিতি ছিল স্পেনের নিখুঁত ও নান্দনিক কৌশলের মূল ভিত্তি। বিপরীতে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্পেনের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি ইয়ামাল। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্টে মূল একাদশে থেকে টানা ১৩ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। পেলে (১৯৫৮), জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০১৮) পর ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে খেলে শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করলেন ইয়ামাল ও তার সতীর্থ পাউ কুবার্সি।

আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোসহ প্রতিপক্ষের চরম শারীরিক ও মানসিক চাপ উড়িয়ে দিয়ে মাঠে শান্ত ছিলেন ইয়ামাল। তার এই পরিপক্বতা দেখে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টসের পণ্ডিত জো হার্ট বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল কেবল প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি, সে বুক চিতিয়ে লড়েছে। পুরো দল তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শান্ত ছিল সে। ১৯ বছর বয়সেই সে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েদিল।’

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে স্পেনের নতুন এই সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ও দারুণ ফুটবল খেলেছে, যা তাকে আরো পরিপক্ব হতে সাহায্য করবে। দলের জন্য ও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।’

রদ্রিগোর মতো অভিজ্ঞ অধিনায়কের ছায়ায় এবং নিজের অবিশ্বাস্য প্রতিভায় ভর করে ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্বজয় করেছে। ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের সামনে যে আরো কত সাফল্য অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলে দেবে।

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল
বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে লামিনে ইয়ামাল

যন্তর মন্তরে ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন চলবে, সরকারের কাছে তাদের তিন দাবি কী

সংসদ ভবন অভিযান চলাকালে গতকাল সোমবার বিকেলে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ধরনামঞ্চ ভেঙে দিয়েছিল। আজ মঙ্গলবার ভোরে সেখানেই ফিরে এসেছেন আন্দোলনকারী নেতারা। সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরেই তাঁরা ধরনা চালাবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওখানেই থাকবেন। তবে নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল যাচ্ছেন না।

আজ সকালে ধরনামঞ্চে ফিরে এসে অভিজিৎ দিপকে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, নতুন করে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক তাঁরা দিচ্ছেন না। কারণ, তাতে পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হবে। পুলিশ আবার শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করবে। তাঁদের বদনাম করবে। সে সুযোগ পুলিশকে তাঁরা দেবেন না।

অভিজিৎ বলেন, সরকারের মুখ পুড়েছে। তারা চাইলে এমন ঘটনা ঘটত না। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করলে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। কিন্তু সরকার নির্লজ্জ। বিজেপির নেতারা উদ্ধত।

সিজেপির আন্দোলনে সাড়া দিয়ে সংসদ ভবন অভিযানে শামিল হওয়া আহত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অভিজিৎ আজ সকালেই এক বার্তা দেন। এক্সে সেই বার্তায় তিনি লেখেন, ‘পুলিশি বর্বরতায় আপনারা আহত হয়েছেন। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অমানবিক দিল্লি পুলিশের নৃশংসতা থেকে আপনাদের রক্ষা করতে পারিনি।’

অভিজিৎ লিখেছেন, একজন ধর্মেন্দ্র প্রধান, যিনি ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের রক্তাক্ত করল। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের প্রত্যেকের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। আপনাদের সবার স্বার্থে এই লড়াই জারি থাকবে।’

গতকালের ঘটনার জন্য দিল্লি পুলিশ যেমন আন্দোলনকারীদের দায়ী করছে, আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ ও বিরোধীরা তেমন দায়ী করছেন পুলিশ ও সরকারকে। সিজেপি ও বিরোধীরা বলছেন, পুলিশ লাঠি না চালালে, কাঁদানে গ্যাস না ছুড়লে এমন হতো না। তারা ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইল বলেই হিংসা ছড়াল। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ছাত্ররা তাদের আক্রমণ করেছে।

গতকালের ঘটনায় পুলিশ ৫টি এফআইআর দাখিল করেছে। ৭০ জনের বেশি ছাত্রছাত্রীকে আটক করেছে। পুলিশ দেখতে চাইছে, এই আন্দোলনের পেছনে বৃহত্তর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না। শান্তি–শৃঙ্খলা নষ্ট করার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে কি না।

পুলিশের দাবি, তাদের ১১৮ জন কর্মী জখম হয়েছেন। সিজেপির দাবি, শতাধিক ছাত্রছাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।

সংসদমুখী যাত্রা যে এমন মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, সেই অনুমান দিল্লি পুলিশ করতে পারেনি। সরকারও নয়। সরকারি এক সূত্র স্বীকার করে, আন্দোলনকারীরা এত বিপুল সংখ্যায় জড়ো হবেন, চারদিক থেকে সংসদের দিকে এগিয়ে যাবে, পুলিশি প্রতিরোধে ভয় পাবে না—এ ধারণা সরকার ও পুলিশের ছিল না। নিঃসন্দেহে এটা গোয়েন্দা ব্যর্থতাও।

ওই সূত্রের মতে, পুলিশ ভেবেছিল, হয়তো কয়েক হাজার ছাত্রছাত্রী জড়ো হবেন। ব্যারিকেড ভেঙে তাঁরা এগোবেন না। কিন্তু হাজারে হাজারে তরুণ–তরুণী এভাবে চলে আসবেন, কল্পনা করা যায়নি। পুলিশি হিসাবে গতকাল কম করেও ৫০ হাজার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ স্বীকার করছে, গত ৪০ বছরে কোনো আন্দোলন এভাবে সংসদ ভবনের এত কাছে চলে আসতে পারেনি। পুলিশের গাড়ি দখল করতে পারেনি। পুলিশের গাড়ি ওল্টায়নি।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র আজ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের পক্ষে ছাত্রসমর্থন দেখা যাচ্ছে। তাঁরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।

কর্ণাটকের বিজেপি নেতা কে সুধাকর গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে যেমন ঘটেছে, এখানেও তেমনই একটা ঘটানোর চক্রান্ত চলছে। এই আন্দোলন তারই অংশ। তবে সেটা হবে না। কারা ঠিক পথে রয়েছে, কারা ভুল পথে, তা দেশের মানুষ জানে।

ছাত্র আন্দোলন ও সংসদ অভিযানে পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব প্রতিটি বিরোধী দল। গতকালের মতো আজও সংসদ অচল থাকে। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এ নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। সংসদ ভবন চত্বরে গণমাধ্যমকে রাহুল বলেন, অবাক কাণ্ড, স্পিকার বলছেন আলোচনার জন্য সরকারের অনুমতি চাইবেন!

রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এত দিন ধরে শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, এক দিনও তিনি কথা বলেননি। কোনো মন্তব্য করেননি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা উইয়ে খাওয়া কাঠের মতো ফোঁপড়া হয়ে গেছে। গোটা দেশ তা জানে। আন্দোলন তার বিরুদ্ধেই। অথচ প্রধানমন্ত্রী নীরব। গতকাল যা ঘটল, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আজ সকালে রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে গিয়ে আহত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন অভিজিৎ দিপকে ও সিজেপির অন্য নেতারা। হাসপাতালে যান আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, আতিশি, সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জয় সিংসহ অন্য নেতারা।

সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা ভদ্রও আরএমএল হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন। আহত ব্যক্তিদের সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডাও।

নাড্ডার সঙ্গে গতকাল দেখা করেছিলেন সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা। সরকারের কাছে তাঁরা তিনটি দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক, সোনম ওয়াংচুককে নিঃশর্তে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং যে ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে দেওয়া হোক।

গণমাধ্যমকে সিজেপি নেতারা বলেন, সরকার এখনো কিছুই জানায়নি। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পাঁচ ঘণ্টা সময় শুধু নষ্ট হয়েছে। তাঁরা বলেন, নাড্ডা বলেছেন, নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। কিন্তু কিছুই জানানো হয়নি।

আজ এনডিএ সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠক শেষে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু গণমাধ্যমকে বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি হবে। ত্রুটিমুক্ত পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়। সেটাই সরকারের লক্ষ্য।

রিজিজু বলেন, ‘ছাত্রদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভুল পথে যাওয়া খুব সহজ। সঠিক পথে থাকা কঠিন। ছাত্রদের ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনাই আমাদের কর্তব্য।’

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ২১ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লি
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যন্তর মন্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। ২১ জুলাই ২০২৬, নয়াদিল্লি। ছবি: এএনআই

মানুষের দাঁত নতুন করে প্রাকৃতিকভাবে গজাবে

দাঁত গজাতে পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসার শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।

দাঁত পড়ে যাওয়ার পর বর্তমানে যেসব চিকিৎসা রয়েছে, সেগুলো সাময়িক এবং শতভাগ কার্যকর নয়। কিন্তু কেমন হতো, যদি কৃত্রিম ব্যবস্থার বদলে আমাদের দাঁত প্রাকৃতিকভাবেই আবার গজাত? বিভিন্ন জরিপ বলছে, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৭০ শতাংশেরই দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে একধরনের ভয় কাজ করে। দাঁতে ফিলিং করা বা ড্রিল করার প্রতি তাঁদের আতঙ্ক ও অনীহার কারণে অনেকেই নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার বা যত্ন নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বায়োকেমিস্ট হ্যানেল রুওহোলা-বেকারের কাছে প্রায় প্রতিদিনই এমন সব মানুষের ই–মেইল আসে, যাঁরা দাঁতের সাধারণ চিকিৎসা বা ব্যথার চেয়েও জটিল কোনো ডেন্টাল এক্সপেরিমেন্টের মধ্য দিয়ে যেতেও রাজি। তাঁদের একটাই আকুতি—রুওহোলা-বেকার যেন তাঁদের দাঁত আবার গজাতে সাহায্য করেন।

রুওহোলা-বেকার বিশ্বজুড়ে এমন একদল বিজ্ঞানীর অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা প্রথাগত ডেন্টাল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে রিজেনারেটিভ মেডিসিন বা পুনরুৎপাদনশীল চিকিৎসার শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। দাঁত হারানো এবং দাঁতের ব্যথায় ভোগা লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি এক নতুন আশার আলো।

বিজ্ঞানীদের এই স্বপ্ন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে কোনো একদিন দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার অর্থ হবে—সিনথেটিক উপাদান দিয়ে দাঁত মেরামত করা কিংবা তা টেনে উপড়ে ফেলার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু বা আস্ত একটি দাঁত প্রাকৃতিকভাবেই আবার গজিয়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর স্টেম সেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর রুওহোলা-বেকার বলেন, ‘আমরা যখন কাজ শুরু করি, তখন একটি বিষয় আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—মানুষ দাঁতের চিকিৎসায় নতুন কিছুর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’

দাঁত পড়ে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের বেশি অসুস্থ হওয়া এবং দ্রুত মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। এটি মানুষের খাওয়া, চিবানো এবং হাসির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যা সামাজিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষতি করতে পারে—আর এই ক্ষতিকর চক্র শৈশব থেকেই শুরু হতে পারে।

রুওহোলা-বেকার এবং তাঁর দল কাজ করছেন একধরনের ‘লিভিং ফিলিং’ বা জীবন্ত ফিলিং নিয়ে। আক্কেল দাঁত নিয়ে গবেষণা করে এই বিজ্ঞানী দেখতে পান, এনামেল তৈরিকারক বিশেষ কোষ মানুষের দাঁত পুরোপুরি ওঠার পর মারা যায়। ফলে দাঁত একবার মাড়ি ভেদ করে বাইরে চলে এলে এই কোষগুলোকে আর উদ্দীপিত করা যায় না।

এর পরিবর্তে, গবেষক দলটি কিছু স্টেম সেলকে রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে অ্যামেলোব্লাস্টে রূপান্তরিত করেন। ল্যাবরেটরির পাত্রে এই উপাদানগুলো একত্রিত করার পর একটি ‘টুথ অর্গানয়েড’ তৈরি হয়, যা নিজে থেকেই এনামেল প্রোটিন নিঃসৃত করতে সক্ষম।

রুওহোলা-বেকার এমন একটি ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে এই এনামেল প্রোটিনগুলো ফিলিং তৈরিতে বা ফেটে যাওয়া দাঁতের ওপর প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ল্যাবরেটরিতে আস্ত একটি দাঁত তৈরি করা।

দন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেকেই ভয় পান
দন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে অনেকেই ভয় পান। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত, স্বীকার করল পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।

গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সহকারী শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ সেনাসদস্য ‘কোনো না কোনো মাত্রায় আঘাত’ পেয়েছেন। তবে তাঁদের বড় অংশই সামান্য মস্তিষ্কের আঘাত বা কনকাশনে ভুগেছেন। আহত সেনাদের ৯৬ শতাংশই ইতিমধ্যে নিজেদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তবে এ সেনারা কীভাবে আহত হয়েছেন, তা পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের জবাবে শন পার্নেল তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘তাঁরা আবারও লড়াইয়ে ফিরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে যে পেন্টাগন ডজনখানেক মার্কিন সেনার আহত হওয়ার খবর জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখছে।

এ অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পার্নেল গতকাল দিনের শুরুতে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘আহত সেনাদের সংখ্যা লুকিয়ে রাখার এ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক অভিযোগকে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করছে। নিউইয়র্ক টাইমসের কিছু পক্ষপাতদুষ্ট লেখক মার্কিন সামরিক বাহিনী ও তার নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করতে মরিয়া হয়ে এ মিথ্যাচার করছেন।’

পার্নেলের এ বক্তব্যের জবাবে নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল রোডস হা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদনের নির্ভুলতার ব্যাপারে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের বেশ কয়েকটি হামলা এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।’

নিউইয়র্ক টাইমসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা সামরিক অভিযানের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, যা মার্কিন জনগণকে তাঁদের সরকার কীভাবে কাজ করছে, তা বুঝতে সাহায্য করে।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার এ সর্বশেষ পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগের দিনই পেন্টাগন জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুজন মার্কিন সেনা নিহতের খবর জানায়। ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭–তে।

১৯ জুলাই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্ডানে নিহত ওই দুই সেনার বিষয়ে কথা বলেন। নিহত সেনারা হলেন হাওয়াইয়ের ইভা বিচের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ওই মহান ব্যক্তিরা, ওই মহান দেশপ্রেমিকেরা সেখানে লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’
আরব সাগরে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারে মার্কিন সেনাসদস্যরা। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন
আরব সাগরে উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারে মার্কিন সেনাসদস্যরা। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন। ছবি: ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড/এক্স

দুই দশক ক্ষমতায় থাকায় পর ঘোষণা দিলেন ‘আর কোনো নির্বাচন হবে না’ -নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ওর্তেগা

নিকারাগুয়ার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা ঘোষণা দিয়েছেন, দেশটিতে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। তার এ ঘোষণার ফলে ক্ষমতা পরিবর্তনের সাংবিধানিক পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রোববার (১৯ জুলাই) সান্দিনিস্তা বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে ওর্তেগা বলেন, বিরোধীদের আর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে কীভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

৮০ বছর বয়সী ওর্তেগা বলেন, ‘সরকার দখল বা ক্ষমতা দখলের জন্য এখানে আর কোনো নির্বাচন হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দল এবং সোমোসা-সমর্থকদের আবার ক্ষমতায় ফেরার দিন শেষ। আর কখনো নয়।’

উল্লেখ্য, ওর্তেগা ২০০৭ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছেন। এর আগে ১৯৮০-এর দশকেও তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে তিনি স্ত্রী রোসারিও মুরিলোর সঙ্গে যৌথভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

২০২১ সালের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই নির্বাচনের আগে ওর্তেগা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী নেতা, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার এবং ভিন্নমত দমন করার অভিযোগ ওঠে।

গত বছর সংবিধান সংশোধনীতে তার স্ত্রী রোসারিও মুরিলোকে ‘সহ-রাষ্ট্রপতি’ করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ছয় বছরে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে দম্পতিটি সরকার, সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা। ছবি: সংগৃহীত
নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর আগ্রহ নেই ইসরায়েলের: স্মোট্রিচ

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়ানোর কোনো আগ্রহ ইসরায়েলের নেই।

মঙ্গলবার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য ইসরায়েলের ইয়াদ বিনইয়ামিনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

স্মোট্রিচ বলেন, এই মুহূর্তে ইসরায়েল রাষ্ট্রের এই অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য অনুকূল এবং এতে নিজেদের জড়ানোর কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না।

তবে তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে।

স্মোট্রিচের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-গারবিয়েহ এলাকা থেকে সরে যাচ্ছে। প্রায় একই সময় সেখানে মোতায়েন শুরু করেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের শহরটিতে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধও জানানো হয়েছে। 

বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত
বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি চিকিৎসকের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ও উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়াকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন একদল ইসরায়েলি অধিকারকর্মী। সোমবার জেরুজালেমে একটি মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে তারা বিক্ষোভ করেন।

দখলবিরোধী ইসরায়েলি সংগঠন ফ্রি জেরুজালেম আয়োজিত এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি নির্যাতন বন্ধেরও দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীরা ডা. আবু সাফিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যানার বহন করেন, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে স্লোগান দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লুইস ফ্র্যাঙ্কেনথাল আনাদোলুকে বলেন, ডা. আবু সাফিয়ার আটক অবৈধ। তার অভিযোগ, আটক অবস্থায় ওই চিকিৎসক নির্যাতন, অনাহার এবং জীবনঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমাদের বার্তা হলো নির্যাতন বন্ধ করুন, গণহত্যা বন্ধ করুন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করুন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় রোগী ও চিকিৎসাকর্মীদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পর হাসপাতালটি ধ্বংস করা হয় এবং পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়াকে আটক করা হয়। 

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি হামলায় দুই সপ্তাহে ১০০ মার্কিন সেনা আহত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাহাজের নাবিকেরা সেটি ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নেন।

কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশই সামান্য মাত্রার কনকাশনে (মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। ইরানি হামলায় সেনা হতাহতের তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পেন্টাগন কোনো তথ্য আড়াল করেনি।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে জর্ডান ও ইরাকে দায়িত্ব পালনকালে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

টানা ১০ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব কমেনি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

হুথিদের এক কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের প্রতিবাদে লোহিতসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও এই অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অতীতে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথিরা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে সৌদি আরবের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই জলপথে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখবে।

এদিকে, সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তর সফর করেছেন। তবে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা ভেঙে পড়ায় নতুন কোনো সমাধান হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ মার্কিন ডলারের ওপরে লেনদেন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ৪ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক প্রতিবেদন তারা পেয়েছে। জাহাজটির ক্রুরা নিরাপদে লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, সিএনএন

ইরানি হামলায় দুই সপ্তাহে ১০০ মার্কিন সেনা আহত
ফাইল ছবি।

বিবলিওথেরাপি: বইয়ের মাধ্যমে মনের আরোগ্য by সরদার আব্দুল মতিন

মানুষের জীবনে মানসিক সুস্থতা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, যতটা শারীরিক সুস্থতা। আজকের দ্রুতগতির তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও একাকিত্ব যেন এক অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘বিবলিওথেরাপি’ বা বইয়ের মাধ্যমে মানসিক আরোগ্য একটি প্রাচীন অথচ আধুনিক প্রেক্ষাপটে পুনরুজ্জীবিত ধারণা হিসেবে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

‘বিবলিওথেরাপি’ শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ থেকে—‘বিবলিও’ অর্থাৎ ‘বই’ এবং ‘থেরাপিয়া’ অর্থাৎ ‘চিকিৎসা’। সহজভাবে বলতে গেলে, বিবলিওথেরাপি হলো এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসাপদ্ধতি, যেখানে বই পড়ার মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি, আত্মজ্ঞান ও আবেগীয় ভারসাম্য ফিরে পাওয়া যায়। এটি শুধু গল্প বা উপন্যাস পড়া নয়, বরং পাঠকের মানসিক অবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বই বা সাহিত্য নির্বাচনের মাধ্যমে তার চিন্তা ও অনুভূতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো।

আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশনের (এএলএ) দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিবলিওথেরাপি হলো চিকিৎসা ও মনোরোগবিদ্যায় থেরাপিউটিক সহায়ক হিসেবে নির্বাচিত পাঠ উপকরণের ব্যবহার এবং নির্দেশিত পাঠের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানে নির্দেশনা।

স্যামুয়েল জনসন যথার্থই বলেছিলেন, ‘আ রাইটার অনলি বেগিন আ বুক; আ রিডার ফিনিশেস ইট’ বিবলিওথেরাপি কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের নিরাময় নয়, এটি নতুন করে বেঁচে থাকার মন্ত্র। একটি ভালো বই যে আলো জ্বালাতে পারে, তা কোনো ওষুধ বা পরামর্শ হয়তো পারে না।

বিবলিওথেরাপির ইতিহাস

বিবলিওথেরাপির শিকড় অনেক প্রাচীন। প্রাচীন গ্রিসে ‘থিবস’ শহরের গ্রন্থাগারের প্রবেশদ্বারে একটি শিলালিপি ছিল—‘হিলিং প্লেস ফর দ্য সোল’, অর্থাৎ ‘এটি আত্মার আরোগ্যের স্থান।’ প্রাচীন মিসরের রাজা দ্বিতীয় রামেসিস তাঁর লাইব্রেরির দরজায় লিখে রেখেছিলেন ‘আত্মা নিরাময়ের ঘর’ এগুলোই ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ বহু আগে থেকেই বইকে মনের চিকিৎসা হিসেবে দেখত।

আধুনিক অর্থে ‘বিবলিওথেরাপি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯১৬ সালে স্যামুয়েল ম্যাককর্ড ক্রোথারস ফোনেটিক নামক একজন আমেরিকান ধর্মযাজক, প্রাবন্ধিক ও চিন্তাবিদের প্রবন্ধে। ১৯৪১ সালে ডরল্যান্ডস মেডিকেল ডিকশনারিতে বিবলিওথেরাপি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্বীকৃত পায়। তবে বিশ শতকের মাঝামাঝি এসে এটি মনস্তত্ত্ব ও সমাজচিকিৎসার অংশ হিসেবে সুসংগঠিত রূপ পরিগ্রহ করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিবলিওথেরাপির প্রয়োগ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু মানুষের দেহ নয়, মনকেও ক্ষতবিক্ষত করেছিল। যুদ্ধ শেষে হাজার হাজার আহত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত সৈনিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিল। অনেকের মধ্যে হতাশা, অপরাধবোধ, ভয় ও যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক আঘাত (পোস্ট–ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার–পিটিএসডি) দেখা দেয়।

এ সময় ইউরোপ ও আমেরিকার হাসপাতালগুলোতে বিশেষভাবে ‘হসপিটাল লাইব্রেরিস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিক ও মনোবিজ্ঞানীরা সৈনিকদের জন্য মানসিক প্রশান্তিদায়ক বই বেছে দিতেন। গল্প, আত্মজীবনী, ভ্রমণকাহিনি, কবিতা ও ধর্মগ্রন্থ—এসব বই পাঠের মাধ্যমে সৈনিকদের মনে আশার আলো জ্বালানো হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন হাসপাতালগুলোতে ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ‘বিবলিওথেরাপি প্রোগ্রাম’ চালু করা হয়। গ্রন্থাগারিকেরা রোগীর মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বইয়ের তালিকা তৈরি করতেন। উদাহরণস্বরূপ—যেসব সৈনিক ভয়ের কারণে কথা বলতেন না, তাঁদের দেওয়া হতো সাহসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের গল্প; যাঁরা পরিবার হারিয়ে একাকিত্বে ভুগতেন, তাঁদের দেওয়া হতো মানবিক সম্পর্ক ও সহানুভূতির গল্প। ফলাফল ছিল আশাজাগানিয়া—অনেক সৈনিক তাঁদের হতাশা কাটিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এই সফলতার কারণেই বিবলিওথেরাপি পরবর্তী সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যচিকিৎসার স্বীকৃত অংশে পরিণত হয়।

বিবলিওথেরাপির ধরন

বিবলিওথেরাপি সাধারণত দুটি প্রধান ধরনে প্রয়োগ করা হয়—

১. ক্লিনিক্যাল বিবলিওথেরাপি: এটি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এখানে রোগীর মানসিক সমস্যার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বই বেছে দেওয়া হয়। পড়ার পর থেরাপিস্ট রোগীর প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পরামর্শ দেন। এটি হতাশা, উদ্বেগ, পিটিএসডি বা আচরণগত সমস্যায় ভুগছেন, এমন রোগীদের জন্য কার্যকর।

২. স্ব-সহায়ক বা উন্নয়নমূলক বিবলিওথেরাপি: এখানে পাঠক নিজের ইচ্ছায় এমন বই বেছে নেন, যা তাকে অনুপ্রাণিত করে বা আত্মোন্নয়নে সহায়তা করে। যেমন আত্মজীবনী, প্রেরণাদায়ক সাহিত্য বা আধ্যাত্মিক বই।
বিবলিওথেরাপি কেন মানসিক রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ

মানুষের মন এমন এক জটিল ক্ষেত্র, যেখানে প্রত্যেকের যন্ত্রণা ও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। কিন্তু সাহিত্য, গল্প বা কবিতার মাধ্যমে মানুষ নিজের মতো করে আরেক জীবনের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পায়। এটাই বিবলিওথেরাপির মূল জাদু।

১. সহমর্মিতা জাগায়: গল্পের চরিত্রের সঙ্গে পাঠক নিজের অনুভূতির মিল খুঁজে পায়। এতে একাকিত্ব কমে, সহমর্মিতা বাড়ে এবং নিজের সমস্যাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়।

২. আবেগ প্রকাশে সাহায্য করে: অনেকেই নিজের ব্যথা বা ভয় প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু কোনো বইয়ের চরিত্র যখন সেই অনুভূতি প্রকাশ করে, পাঠক মানসিকভাবে মুক্তি পেতে শুরু করেন।

৩. আত্মজ্ঞান বৃদ্ধি করে: পাঠক নিজের চিন্তা ও আচরণ নিয়ে ভাবতে শেখে। এতে আত্মবিশ্লেষণের ক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসে।

৪. স্ট্রেস কমায়: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাঠ মানসিক চাপ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে। বই পড়া মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে, হার্টরেট ও টেনশন হরমোন কমায়।

৫. আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে: ইতিবাচক গল্প বা প্রেরণাদায়ক বই মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালায়। এতে জীবনের প্রতি বিশ্বাস ও আশাবাদ বাড়ে।

আধুনিক যুগে বিবলিওথেরাপির পুনর্জাগরণ

একুশ শতকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে ‘রিডিং ফর ওয়েল–বিয়িং’ বা ‘বুকস অন প্রেসক্রিপশন’ নামে জাতীয় পর্যায়ের বিবলিওথেরাপি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—যুক্তরাজ্যে ২০১৩ সালে ‘রিডিং ওয়েল’ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে ডাক্তাররা রোগীদের নির্দিষ্ট বই পড়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু আমাদের দেশে মনোরোগ চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ অবস্থায় বিবলিওথেরাপি একটি কার্যকর, সাশ্রয়ী ও মানবিক সমাধান হতে পারে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘রিডিং থেরাপি কর্নার’ স্থাপন করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য ইতিবাচক পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। লাইব্রেরিয়ানরা প্রশিক্ষিত হয়ে মানসিক অবস্থা অনুযায়ী বই সুপারিশ করতে পারেন।

বিবলিওথেরাপি মানুষের অন্তর্নিহিত ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার এক নীরব শক্তি। বই মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু—তা শুধু জ্ঞান দেয় না, মনের গভীরে শান্তির আলো জ্বালায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিকদের মনোবল পুনরুদ্ধারের ইতিহাস যেমন প্রমাণ করেছে, তেমনি আজও বই হতে পারে একাকী বা হতাশ মানুষের শ্রেষ্ঠ নিরাময়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2Fzyc9qduq%2FWhatsApp-Image-2025-11-23-at-20.10.13.jpeg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
গ্রাফিকস: এআই/প্রথম আলো

বাঁধনের ১৭ কেজি ওজন কমানোর পেছনের গল্প

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ অভিনয়শিল্পী ও মডেল আজমেরী হক বাঁধন হঠাৎ খেয়াল করেন, তাঁর ওজন বেড়ে ৭৮ কেজিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওজন বাড়ার কারণে চিন্তা বাড়ে। এরপর সিদ্ধান্ত নেন, ওজন আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। এটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। শুরু হয় মিশন। সেই মিশনে মোটামুটি সফল হয়েছেন বাঁধন। তবে সময় লেগেছে ছয় মাস। এই ছয় মাসের পরিশ্রমে বাঁধনের ওজন এখন ৬১ কেজি। এতে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন এই অভিনয়শিল্পী।

মাশরুর সিদ্দিকী ও আজমেরী হক বাঁধনের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর আগে তাঁদের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর বাঁধন তাঁর মেয়েকে নিয়ে মিরপুরে তাঁর বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

বাঁধন জানালেন, মাঝে চার বছর একটি প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের শুরুতে সেই প্রেমের সম্পর্কটা ভেঙে যায়। এরপর সে বছরের আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলনে বাঁধনকে বেশ সোচ্চার দেখা যায়। প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে বাঁধন মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। ওই সময়টায় তাঁর ওজন বাড়তে থাকে।

সেই সময়ের কথা মনে করে বাঁধন বললেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও আমার ব্রেকআপ—সব মিলিয়ে অন্য রকম একটা জীবন। আমার আবার ওভার ইটিং ডিজঅর্ডার আছে। যখন খাই, প্রচুর খাই। এই প্রচুর খাওয়ার কারণে ওজন বাড়তে থাকল। প্রায় ১৭ কেজি ওজন বেড়ে যায়। অনেক দিন ধরেই বাড়ছিল, কিন্তু কমাতে পারছিলাম না। খেয়েই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো যে আসলে ওজনটা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। কারণ, কাজও ছিল না। সামনের নির্বাচনের পর কয়েকটা কাজের ব্যাপারে কথাবার্তা হচ্ছে, যেগুলোর প্রস্তুতি নেওয়ারও একটা ব্যাপার আছে। তাই ওজন কমানোটা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বাঁধন জানালেন, প্রায় ছয় মাসে ১৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন। এই সময়টায় চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়েছেন। নিয়ম মেনে ব্যায়ামও করছেন। বাঁধন বললেন, ‘আমাকে এক্সারসাইজ করতে হয়েছে। খাবার নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম, ৪০ বছরের পর ওজন কমানো খুব কষ্ট হয়ে যাবে—যেহেতু এখন আমার ৪৩, তাই এই ভয়টাও কাজ করছিল। তারপরও কমাতে পেরেছি।’

বাঁধন জানালেন, দুটি কাজ শেষ হয়ে আছে। আগামী বছরে এই দুটি কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছাবে। বললেন, ‘নির্বাচনের পর সিনেমার কাজ শুরু করব। দুটো কাজ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। সময়মতো আমি জানাব।’

ঢাকার মিরপুরে মা-বাবার সঙ্গে থাকেন বাঁধন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে তেমন কথা হয় না। কেউ তাঁকে বিয়ে নিয়ে কোনো বাড়তি চাপ দেন না। এ ক্ষেত্রে তাঁর পুরো স্বাধীনতা রয়েছে। তবে বাঁধন মাঝে একবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যদি মনের মতো জীবনসঙ্গী পান, মনে হয় পথচলাটা একসঙ্গে চলতে পারে, এমন ছেলে পেলে তাহলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজছেন। বাঁধন বললেন, ‘বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো জানি না, কীভাবে বিয়েটা হবে। কারণ, বিয়ে নিয়ে আমার এত ট্রমা কাজ করে, বিয়েটা আমার জন্য কতটা সুখকর হবে।’

বিয়ে নিয়ে ট্রমা কাজ করলেও জীবনের সুন্দর সময় পার করছেন বলে জানালেন বাঁধন। প্রেমের সম্পর্কে আছেন এমনটাও শোনা যাচ্ছে। বললেন, ‘আমি এখন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর একটা সময় কাটাচ্ছি। কাজ, জীবন ও আমার সন্তান নিয়ে—একটা সুন্দর সময় কাটাচ্ছি। আমার মা–বাবার সঙ্গে সম্পর্ক, আমার ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক—অনেক সুন্দর। আমি সেটা খুবই উপভোগ করছি। প্রেম সুন্দর। আমি প্রেমের সম্পর্কে থাকতে চাই। মাত্র তো প্রেমে পড়লাম, এখন এই সম্পর্ককে যত্ন করতে হবে। খুব শিগগির প্রেমের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনব।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-17%2Faamemdnz%2F0a00d07d-0ce8-41e7-8b0c-ef8ad51bfb47.jpg?rect=0%2C0%2C1600%2C1067&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
আগের ও পরের ছবিতে বাঁধন। কোলাজ

ইরান কোন ভয় থেকে আবার যুদ্ধ করল by সানাম ভাকিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বেধে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুই দেশ একের পর এক সামরিক হামলা চালাচ্ছে। মাত্র এক মাস আগেই যে সমঝোতা স্মারক হয়েছিল, তা ভেঙে পড়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুবিধা তুলে নিয়েছে। আবার ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি করেছে। দেশের ভেতরে এক শরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান আমেরিকার মিত্রদেশ—কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে আঘাত হেনেছে। এত দ্রুত এই ভাঙন দেখিয়ে দিল, শুরুতেই দুই দেশ আসলে ঠিক করেনি এই সমঝোতার লক্ষ্য কী।

ওয়াশিংটনের কাছে এই চুক্তি ছিল একটি বড় প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। তাদের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং ধীরে ধীরে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু তেহরানের কাছে এটি ছিল এক বিরতি। তারা দেখতে চেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন কতটা আন্তরিক এবং বড় চুক্তিতে যেতে কতটা প্রস্তুত। ইরান কখনোই মানেনি যে এই চুক্তির মানে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের প্রভাব ছেড়ে দেওয়া বা বাধাহীন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।

এই ব্যাখ্যার ফারাক দ্রুত অবিশ্বাসে পরিণত হয়। ইরানের কর্মকর্তারা মনে করতে শুরু করেন, আমেরিকা এই বিরতিকে ব্যবহার করছে তাদের ধীরে ধীরে দুর্বল করার জন্য।

তেহরানের দৃষ্টিতে এই চুক্তি ছাড় আদায়ের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। তাই তারা আবার জাহাজে হামলা শুরু করে এবং সামুদ্রিক পথ বিঘ্নিত করে। ওয়াশিংটন এটিকে চুক্তি ভঙ্গ হিসেবে দেখে আবার সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই সংঘাত শুধু হরমুজ প্রণালি নিয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বৃহত্তর কূটনীতির শর্ত। আর ইরানের কাছে সেটাই দর-কষাকষির অস্ত্র, যা কেবল বড় কোনো সমঝোতার বিনিময়ে ছাড়া সম্ভব। ফলে দুই দেশ আসলে একই বিষয়ে আলোচনা করছিল না।

ইরানের এই সংঘাতে ফেরার সিদ্ধান্তকে অনেকেই হিসেবি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, ধীরে ধীরে শক্তি ক্ষয় হওয়ার চেয়ে সরাসরি সংঘর্ষ কম বিপজ্জনক। বিশেষ করে ইসরায়েলের একতরফা হামলার সম্ভাবনাও এই হিসাবের অংশ।

ইরানের সবচেয়ে বড় ভয় হলো, ধীরে ধীরে তাদের প্রভাব কমে যাবে। তারা যদি এখনই জাহাজে হামলা বন্ধ করে, তাহলে ভবিষ্যতে সেই শক্তি আবার ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। তাই তারা ইচ্ছা করেই উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, যাতে আমেরিকাকে বড় শর্তে আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করা যায়।

এই কৌশল অনেকটাই ট্রাম্পকে ঘিরে। ইরান মনে করে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া, আমেরিকান সেনাদের মৃত্যু এবং দীর্ঘ যুদ্ধ—এসব ট্রাম্প এড়াতে চাইবেন। বিশেষ করে নির্বাচন সামনে থাকায় তিনি বড় ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। তাই ইরান এখনই চাপ বাড়াতে চাইছে।

কিন্তু এখানে ভুলও হতে পারে। ট্রাম্প শক্তি দেখাতে পছন্দ করেন। তিনি ভাবতে পারেন, বেশি চাপ দিলে ইরান নতি স্বীকার করবে—যেমনটা তিনি অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভেবেছিলেন। কিন্তু ইরানকে তিনি যতটা দুর্বল ভাবছেন, আসলে ততটা নয়। আর ট্রাম্প অপমান মেনে নেওয়ার মানুষ নন। তাই চাপ কাজ না করলে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারেন।

ইরানের ভেতরের রাজনীতিও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। পুরোনো নেতার মৃত্যুর পর বাইরে থেকে স্থিতিশীলতা দেখালেও ভেতরে অনিশ্চয়তা আছে। নতুন নেতৃত্ব পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়, আর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন আছে।

আগে সীমিতভাবে সবাই মিলে সমঝোতায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই ঐকমত্য নেই। কেউই আগে এগোতে চায় না, কারণ এতে তাদের দুর্বল মনে হতে পারে বা ট্রাম্পকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠতে পারে।

ধর্মীয় নেতাদের কঠোর অবস্থানও পরিস্থিতি কঠিন করেছে। এতে ট্রাম্পকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, ধর্মীয় শত্রু হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফলে সমঝোতা করা আরও কঠিন হয়ে গেছে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে লাভবান হচ্ছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। তারা যত বেশি সংঘাত থাকবে, তত বেশি প্রভাবশালী থাকবে।

তবে এই কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ। এখন হয়তো লাভ হচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার হামলা সহ্য করবে না। তারা এত দিন ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বারবার আঘাত পেলে তারা আমেরিকার দিকেই বেশি ঝুঁকবে। ইতিমধ্যেই কিছু দেশ বিকল্প পথ তৈরি করছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমে।

এতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকাও কমে যাচ্ছে। আগে কাতার, ওমান বা পাকিস্তান দুই পক্ষকে আলোচনায় আনতে পারত। কিন্তু সংঘাত বাড়লে সেই সুযোগও কমে যায়। ফলে ইরানের নিজেরই বেরিয়ে আসার পথ কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরান আসলে পুরোনো কৌশল ব্যবহার করছে—সংঘাত বাড়িয়ে পরে সমঝোতা করা। তারা দেখাতে চায়, তাদের ছাড়া এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। কিন্তু এই কৌশল তখনই কাজ করে, যখন আলোচনায় ফেরার পথ খোলা থাকে। যদি সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে শুধু সংঘাতই বাড়বে। কঠোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে, আর সমঝোতা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

বাস্তবতা হলো—ইরান আমেরিকাকে পুরোপুরি হটাতে পারবে না। আবার আমেরিকাও বড় যুদ্ধ ছাড়া ইরানকে পুরোপুরি থামাতে পারবে না।

তাই একমাত্র সমাধান হলো নতুন করে স্পষ্ট চুক্তি করা। সেখানে জাহাজ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু কর্মসূচি এবং সামরিক আচরণ—সবকিছু পরিষ্কারভাবে ঠিক করতে হবে। নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে, আর সমস্যা হলে দ্রুত কথা বলার পথও থাকতে হবে।

নাহলে একই ঘটনা বারবার ঘটবে—সংঘাত, যুদ্ধবিরতি, আবার সংঘাত। কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না।

* সানাম ভাকিল, চ্যাটাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক।
- টাইম থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত।

ইরানের ড্রোন হামলার পর কুয়েত বিমানবন্দরে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে
ইরানের ড্রোন হামলার পর কুয়েত বিমানবন্দরে ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা হুতিদের

রয়টার্সঃ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। আজ সোমবার ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নতুন মাত্রা পেল। পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও নতুন ঝুঁকি তৈরি হলো।

এক বিবৃতিতে হুতিদের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব ‘অন্যায্য ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’ আরোপ করেছে। এর জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রপথে অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। হুতিদের এ ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টানা নবম দিনের মতো গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। নতুন করে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের মধ্যে গত মাসে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেঙে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে হুতিরা এই ঘোষণা দিল, যখন পাল্টাপাল্টি হামলা সত্ত্বেও কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। হুতিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছু সময়ের জন্য বেড়ে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তা আবার কমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে গেলে আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের পথ বাব–এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য হুতিদের ওপর চাপ দিচ্ছিল তেহরান। প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে বিশ্বে তেল সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে।

আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব–এল-মান্দেব প্রণালি। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি। ১২ জুলাই ২০২৬
আরব সাগর থেকে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব–এল-মান্দেব প্রণালি। স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবি। ১২ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স।

ভারতের রাজনীতিতে নতুন ঝড় by উদয় চন্দ্র

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঠিক দুই মাস পর এর অনুসারীরা এখন এক চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি। দিল্লির যন্তর মন্তর মানমন্দিরে সিজেপির অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। অনির্দিষ্টকালের অনশনের ২১তম দিনে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ করেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও অনশন শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ভারতের পার্লামেন্টের দিকে যাত্রা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।

গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বেকার যুবকদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর এ মন্তব্যে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপরই জন্ম নেয় সিজেপি। ভারতের তরুণদের মধ্যে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। তাঁরা একের পর এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি গড়ে তোলেন।

গত শনিবারের এ সংঘাতের আগে সরকারের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তারা কঠোর দমন–পীড়নও করেনি, আবার আন্দোলন মেনেও নেয়নি। সরকারের নীতি ছিল বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা। আন্দোলনকে একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে রাখা এবং জোট ভেঙে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সিজেপির এই উত্থান শাসকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

সিজেপিকে এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাময়িক ভাইরাল ঝড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এমন কোনো ব্যঙ্গাত্মক তরুণ সংগঠন নয়, যা রাস্তায় অল্প কিছুদিন দৃশ্যমান থেকে মিলিয়ে যাবে। এই ‘তেলাপোকা’ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। কারণ, এটি সমাজের এক গভীর ক্ষোভের নাম দিয়েছে।

কাউকে তেলাপোকা বলার অর্থ হলো তাকে নোংরা, অপ্রয়োজনীয় ও চোখের আড়ালে রাখার যোগ্য মনে করা। তেলাপোকাকে সবাই ঘৃণা করে, কিন্তু এটি সহজে মরে না। এটি সমাজের অন্ধকার কোণে টিকে থাকে। বিষ, অন্ধকার আর ঘৃণা সহ্য করেও এটি বেঁচে থাকে। ঘরের মালিকেরা ঘর যতই পরিষ্কার দাবি করুক না কেন, ময়লা থাকলেই তেলাপোকা বেরিয়ে আসে।

ভারতের বহু তরুণ এখন বেকারত্ব, প্রশ্নপত্র ফাঁস আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মুখোমুখি। এই অপমানজনক শব্দটি তাঁদের ভেতরের কষ্টকেই যেন ফুটিয়ে তুলেছে। সিজেপি তরুণদের এই অপমানকে দৃশ্যমান করেছে। তাঁরা বলতে চাইছেন, ক্ষমতা যদি আমাদের এই চোখেই দেখে, তবে এ নামেই আমরা আমাদের কথা বলব। ফলে একটি গালি এখন তাঁদের গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি কোনো বিপ্লবী রাজনীতি নয়। এই তেলাপোকা আসলে সেই ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে লাখো তরুণের ওপরমুখী হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

এমন এক সময়ে এই ‘তেলাপোকা রাজনীতি’র উদয় হলো, যখন নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এক অপরাজেয় নির্বাচনী যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের রয়েছে বিপুল অর্থবল, আদর্শিক শৃঙ্খলা ও কল্যাণমুখী প্রকল্প। তারা হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও বিরোধীদের বিভাজনকে ভোটে রূপান্তর করতে পারদর্শী।

তবু ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি জাতীয়ভাবে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে। অর্থাৎ ভোট দেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে সমর্থন করেননি। বর্তমান সরকারের ক্ষমতা কোনো নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটি টিকে আছে আঞ্চলিক ও জাতিগত জোট, বিরোধী দলের ভাঙন এবং দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে।

বর্তমানে ওপর থেকে নির্বাচনী রাজনীতি গোছানো মনে হলেও নিচ থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা নড়বড়ে। তরুণেরা চাকরিহীনতা ও পরীক্ষা বাতিলের কারণে ক্ষুব্ধ। তাঁরা এমন এক সময়ে রাজনীতিতে আসছেন, যখন ক্ষোভ প্রকাশের গণতান্ত্রিক মাধ্যমগুলো—যেমন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন, গণমাধ্যম ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান—দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

কোভিড-১৯ মহামারির পর ভারতের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। বর্তমানে ৮০ কোটির বেশি ভারতীয় সরকারের দেওয়া ফ্রি রেশনের ওপর নির্ভরশীল। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই খাদ্যসহায়তা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে তারা কোনোমতে বেঁচে আছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে রাষ্ট্রের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এই খাদ্যসহায়তা সমাজের আসল উন্নয়নকে বোঝায় না; বরং এটি মহামারি–যুগের অর্থনৈতিক দুর্বলতা দূর করতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে।

অন্যদিকে দেশের সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে চলে গেছে। ভারতের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনী এখন দেশের মোট আয়ের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন, যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। এটাই বর্তমানের রাজনৈতিক অর্থনীতি—নিচে খয়রাতি সাহায্য, ওপরে একচেটিয়া ব্যবসা আর মাঝখানে পিষ্ট হচ্ছে মধ্যবিত্ত সমাজ। এই মধ্যবিত্ত এখন চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি আর অবরুদ্ধ আকাঙ্ক্ষার শিকার।

ভারত স্কুল ও উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে, কিন্তু তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। শিক্ষিত তরুণেরাই এই বৈপরীত্যের সবচেয়ে বড় শিকার। তাঁরা বিশ্বাস করেছিলেন, ডিগ্রি থাকলেই জীবনে উন্নতি করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তব অর্থনীতি তাঁদের কেবল হতাশাই দিচ্ছে।

এ কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষা বাতিল তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটি পরীক্ষা মানে কেবলই একটি পরীক্ষা নয়। এটি জীবন পরিবর্তনের এক জুয়া খেলা। সন্তান যাতে একটি সম্মানজনক চাকরি পায়, সে জন্য মা-বাবা সঞ্চয় করেন, ঋণ নেন, এমনকি জমিও বিক্রি করে দেন। কোচিং সেন্টারে দেন চড়া ফি।

যখন একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তখন সেই পরিবারের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়। রাষ্ট্র কেবল পরীক্ষা নিতেই ব্যর্থ হয় না, বরং লাখ লাখ পরিবারের ত্যাগকে উপহাস করে।

তেলাপোকা প্রতীকটি তাই আজ অনেক ভারী অর্থ বহন করছে। এটি এমন এক নাগরিকের কথা বলে, যে কোনো সম্মান ছাড়াই বেঁচে থাকে। মোদি–আমল ভোট জিততে পারলেও সামাজিক অসন্তোষ দূর করতে পারেনি। ভারতের লাখ লাখ তরুণ আজ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন—যাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ বা বৈশ্বিক যোগাযোগ নেই, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী?

সিজেপি নিজেও এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। এই দল অত্যন্ত ভঙ্গুর ও দুর্বল। এর অসংলগ্নতাই এর আসল সত্য। এটি নতুন কোনো দলের আগমনবার্তা নয়, বরং পুরোনো রাজনীতির ব্যর্থতার প্রতীক।

কোনো ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন এত দূর এলে সমাজ পরিবর্তনের জন্য তার পুরোপুরি রাজনৈতিক দল হয়ে ওঠার প্রয়োজন পড়ে না। সাধারণ ভাষায় কথা বলা যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ ব্যঙ্গের আশ্রয় নেয়। সংগঠিত রাজনীতি যখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তখন মানুষ মিমের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। অন্ধকার সময়ে হাসতে পারাটাই হলো সাহসের শেষ রূপ।

তেলাপোকা কোনো বিপ্লবী নায়ক নয়। এটি এক সাধারণ জীব, যা ঘরের মালিকদের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে।

* উদয় চন্দ্র, অশোকা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি অনূদিত।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ভারতের পার্লামেন্টের দিকে যাত্রা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা ভারতের পার্লামেন্টের দিকে যাত্রা করেন। ছবি : রয়টার্স

জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কারের খোঁজে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী by জাহিদ হোসাইন খান

মহাকাশের বিশালতায় পৃথিবী থেকে ১ হাজার ৩৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত টিওআই–২১৫৫ নামক একটি নক্ষত্রকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে এক রহস্যময় বস্তু, যা বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষকদের মতে, টিওআই-২১৫৫বি নামের এই বস্তুটির অবস্থান এমন এক সন্ধিক্ষণে, যা নক্ষত্র ও ব্যর্থ নক্ষত্র বা ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এই রহস্যের উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল।

সম্প্রতি দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে টিওআই–২১৫৫বি নামক এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট মিশনের তথ্য ব্যবহার করে এবং পরবর্তী সময় বিভিন্ন স্থলভিত্তিক মানমন্দিরের সহায়তায় এই বস্তুর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর ও গঠন একে মহাজাগতিক বিবর্তনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। এর ভর প্রায় ৮০ দশমিক ৬ বৃহস্পতির সমান, যা এটিকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা বাদামি বামন এবং খুব কম ভরের নক্ষত্রের মধ্যবর্তী একটি সীমানায় স্থাপন করে। সাধারণত নক্ষত্র হতে গেলে কেন্দ্রে হাইড্রোজেনের ফিউশন বা সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য যে ন্যূনতম ভরের প্রয়োজন হয়, এই বস্তু ঠিক সেই সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটিই মূলত এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক।

টিওআই–২১৫৫বির ব্যাসার্ধ প্রায় শূন্য দশমিক ৯৭ বৃহস্পতির সমান এবং ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি, যা একে এক অনন্য মহাজাগতিক বস্তুতে পরিণত করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ। একজন গবেষক হিসেবে তাঁর নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম এই আবিষ্কারকে সম্ভব করেছে। মহাকাশ গবেষণার মতো জটিল ও সূক্ষ্ম একটি ক্ষেত্রে, যেখানে তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি, সেখানে রেদোয়ানের নেতৃত্ব ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশংসনীয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য ও রেডিয়াল ভেলোসিটি পরিমাপের মাধ্যমে তিনি ও তাঁর সহযোগী ব্যক্তিরা প্রমাণ করেছেন, টিওআই–২১৫৫বির মতো বস্তু নক্ষত্র ও উপ-নাক্ষত্রিক বস্তুর বিবর্তনীয় মডেলগুলো পরীক্ষা করার জন্য একটি চমৎকার বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। রেদোয়ানের এই কাজ কেবল একটি নতুন মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান নয়, নক্ষত্রের জন্মের সীমা ও উপাদানের গঠন সম্পর্কে ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

মো. রেদোয়ান আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব মহাজাগতিক বস্তুর ভর নক্ষত্রে পরিণত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় এবং তাই তাদের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয় না, সেগুলোকে ব্রাউন ডোয়ার্ফ বা ‘ব্যর্থ নক্ষত্র’ বলা হয়। টিওআই–২১৫৫বির ভর বৃহস্পতির ভরের প্রায় ৮০ দশমিক ৬ গুণ। সাধারণত বৃহস্পতির ভরের ৭৫ থেকে ৮০ গুণ বেশি ভরের বস্তুকে নক্ষত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নতুন এই বস্তু সেই তত্ত্বের একেবারে কিনারে দাঁড়িয়ে আছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর দল নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বস্তুটির আকার ও ভর নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানী মো. রেদোয়ান আহমেদ জানান, কেবল ভরই শেষ কথা নয়, একটি বস্তুর বয়স, রাসায়নিক গঠন ও বায়ুমণ্ডলীয় বৈশিষ্ট্যও নির্ধারণ করে সেটি নক্ষত্র হিসেবে জ্বলে উঠবে কি না। ফলে নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যে কোনো স্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা সম্ভব হচ্ছে না।

টিওআই–২১৫৫বি মহাকাশের অন্যতম বিরল একটি বস্তু। এটি নক্ষত্র ও ব্রাউন ডোয়ার্ফের মধ্যকার রূপান্তরকালীন অবস্থায় থাকায় বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। মো. রেদোয়ান আহমেদের মতে, এ ধরনের আরও মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কীভাবে একটি বস্তু নক্ষত্রে পরিণত হয় এবং কোন সীমা অতিক্রম করলে তার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ফিউশন শুরু হয়।

মো. রেদোয়ান আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডনি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমির অ্যাস্ট্রোফিজিকস বিভাগের পিএইচডি গবেষক। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সোপ্ল্যানেট, ব্রাউন ডোয়ার্ফ, নাক্ষত্রিক কার্যকলাপ ও রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পার্কস রেডিও টেলিস্কোপের ক্রায়োপ্যাফ ম্যাসার পর্যবেক্ষণের ডেটা পাইপলাইন উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি তিনি নক্ষত্র ও উপ–নাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যকার সীমানা নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসের অ্যাস্ট্রোমিউজার্স গ্রুপ ও বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকসের অ্যাসোসিয়েট মেম্বার হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল
মহাকাশবিজ্ঞানের জগতে নতুন এক রহস্যের উন্মোচন করেছেন মো. রেদোয়ান আহমেদ ও তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা দল। সংগৃহীত

মহাকাশে আকারে বড় বিরল গ্রহের সন্ধান

মহাবিশ্বের অসীম অন্ধকারের গভীরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি অচেনা গ্রহ। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে থাকা তেমনই এক দানবীয় গ্রহের সন্ধান পেয়েছে নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট। নাসার তথ্যমতে, স্থান–কালের তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহটি শনাক্ত করা হয়েছে। চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবারই প্রথম নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট সাধারণত নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি থাকা গ্রহগুলো আবিষ্কার করে থাকে। তবে নতুন আবিষ্কৃত এই গ্রহ নিজের নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থান করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বৃহস্পতি গ্রহের মতো দূরবর্তী কক্ষপথে ঘুরছে। নতুন গ্রহটির বিষয়ে নিউ মেক্সিকো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডায়ানা ড্রাগোমির বলেন, ‘সার্ভে স্যাটেলাইট যখন মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে এটি কখনো এ ধরনের গ্রহ খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। নতুন গ্রহটির ভর আমাদের বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে ১ দশমিক ৬ গুণ বেশি এবং এর কক্ষপথের দূরত্বও প্রায় এক। এই আবিষ্কার প্রমাণ করছে স্যাটেলাইটে ধারণ করা পুরোনো তথ্যের মধ্যে সম্ভবত আরও অনেক মাইক্রোলেনসিং গ্রহ লুকিয়ে আছে, যা গবেষকেরা আগে খোঁজার কথা ভাবেননি।’

২০২৩ সালে প্রথম গ্রহটির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির গায়া স্পেস টেলিস্কোপ। সে সময় গায়া টেলিস্কোপের অ্যালার্ট সিস্টেমে দেখা গিয়েছিল একটি নক্ষত্র হঠাৎ অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মহাকাশে যখন একটি নক্ষত্র অন্য একটি দূরবর্তী নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মহাকর্ষ বলয়ের কারণে পেছনের নক্ষত্রের আলোকে বিবর্ধিত বা বড় করে দেখায়, তখন এ ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্র্যাভিটেশনাল মাইক্রোলেনসিং বলা হয়। আর তাই পরবর্তী সময় বিজ্ঞানীরা টেস স্যাটেলাইটের আর্কাইভে থাকা পুরোনো তথ্য পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁরা দেখতে পান টেস স্যাটেলাইটটিও একই মহাজাগতিক ঘটনা রেকর্ড করে রেখেছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, গায়া২৩ব্রা বি’ নামের গ্রহটি একটি কমলা রঙের বামন নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই নক্ষত্রের ভর আমাদের সূর্যের ভরের প্রায় ৮০ শতাংশ। গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। টেস স্যাটেলাইটটি সাধারণত পৃথিবীর কাছাকাছি মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষের মধ্যে গ্রহ অনুসন্ধান করে। সে তুলনায় এই গ্রহের দূরত্ব অনেক বেশি।

সূত্র: এনডিটিভি

মহাকাশ
মহাকাশ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

পাতালপুরীর খোঁজে বিজ্ঞানীরা by জাহিদ হোসাইন খান

পৃথিবীর কেন্দ্রে কী রয়েছে, তা জানতে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সেই কৌতূহল মেটাতে অর্ধশতাব্দী আগে এক অবিশ্বাস্য ও দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা। মাটির নিচে প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে গর্ত তৈরি করেছিলেন তাঁরা, যা মানুষের তৈরি সবচেয়ে গভীর লম্বা গর্ত। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বিজ্ঞানের এই বিশাল অর্জন পৃথিবীর মোট ব্যাসার্ধের তুলনায় ছিল সমুদ্রে এক ফোঁটা শিশিরের মতো।

১৯৭০ সালে উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপে ভূ-পৃষ্ঠের গভীর রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেন সোভিয়েত ভূতাত্ত্বিকেরা। ১৯৮৯ সালে যখন এই খননকাজ শেষ হয়, তখন গর্তটির গভীরতা গিয়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ২৬২ মিটার (প্রায় ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার)। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গভীর উল্লম্ব গর্ত, যা কোলা সুপারদীপ বোরহোল নামে পরিচিত। তবে এই বিশালাকার অর্জনের পরও বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে মাত্র শূন্য দশমিক১৯ শতাংশ পথ পাড়ি দিতে পেরেছিলেন। কারণ, পৃথিবীর কেন্দ্র প্রায় ৬ হাজার ৩৭১ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত।

কোলা উপদ্বীপের প্রকল্পটি কোনো খনিজ তেল বা মূল্যবান ধাতু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এর লক্ষ্য ছিল কেবল ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা। ভূমিকম্পের তরঙ্গের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভেতরের স্তর সম্পর্কে যেসব ধারণা করেছিলেন, শিলাখণ্ড সরাসরি সংগ্রহ করে সেগুলোর সত্যতা যাচাই করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানীদের ইচ্ছা ছিল ১৫ কিলোমিটার গভীরে পৌঁছানো, যদিও তা সম্ভব হয়নি।

প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই খনন অভিযানে ভূপৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৬ হাজার ৮৪২ মিটার পর্যন্ত আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অতিক্রম করার পর পাওয়া যায় শতকোটি বছরের পুরোনো নাইস শিলা। বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, গ্রানাইটসমৃদ্ধ এই শিলার নিচে কঠিন ব্যাসাল্ট শিলার একটি পরিষ্কার স্তর রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি; প্রাচীন কেলাসিত শিলার জটিল নেটওয়ার্ক দেখা গেছে। সবচেয়ে চমকপ্রদ আবিষ্কার ছিল গভীর পাথরের স্তরে পানির উপস্থিতি। মাটির প্রায় ১১ কিলোমিটার গভীরে শিলার সূক্ষ্ম ফাটলে এই পানির সন্ধান পাওয়া যায়।

১২ কিলোমিটারের বেশি গভীরে পৌঁছানোর পর বিজ্ঞানীরা বড় ধরনের কারিগরি ও প্রাকৃতিক বাধার মুখে পড়েন। ধারণার চেয়েও মাটির গভীরের তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় (প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) প্রচণ্ড তাপে ড্রিলিংয়ের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নরম হয়ে কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। ভূ-গর্ভের অতিরিক্ত চাপে গর্তের ভেতরের দেয়াল বারবার দুমড়েমুচড়ে ও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তিগত বাধার পাশাপাশি ১৯৯০ দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে। ফলে এই প্রকল্পের অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৯২ সালে স্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

কোলা উপদ্বীপে খনন করা এই গর্ত পৃথিবীর মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের কেবল তিন ভাগের এক ভাগ। ফলে ভূ-ত্বকের নিচে থাকা হাজার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত ম্যান্টল স্তরের ধারেকাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ৫০ বছর অতিক্রম করার পরও আজ পর্যন্ত অন্য কোনো গবেষণা প্রকল্প এত গভীরে সরাসরি লম্বা গর্ত তৈরি করতে পারেনি।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

পৃথিবী
পৃথিবী। ফাইল ছবি: রয়টার্স