Sunday, August 16, 2009
১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্দিন আহমেদ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকাল সকাল গুলির শব্দে আমরা জেগে উঠি। এই শব্দ সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৫ সালের ঘানার কথা। ঘানার রাজধানী আক্রাতে রাষ্ট্রপতি নত্রুদ্ধমার পতাকাশোভিত বাড়িটি থেকে আমাদের বাসা খুব একটা দূরে ছিল না। আক্রাতে ১৯৬৫ সালে মার্চের এক সকালে একদল নিম্নপদস্থ সামরিক অফিসার অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং নক্রুমার শাসনের অবসান ঘটে। নক্রুমা তখন রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে ছিলেন। ১৫ আগস্টের গুলির শব্দে আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ঘানার সেই অভ্যুত্থানের ঘটনা। কিছুক্ষণ পর বেতারে তা নিশ্চিত করা হয়।
১৫ আগস্টের আগে একজনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি আমার দেখা ১৯৬৫ সালের ঘানার কাছাকাছি। ব্যক্তি হিসেবে নত্রুদ্ধমা খুবই জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তাঁর একদলীয় ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর তাঁর একান্ত সহচরেরা প্রকৃত অবস্থা তাঁকে অবগত করেনি। অন্যদিকে, আক্রাও অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল কূটনৈতিক তত্পরতায় এবং তা বিবেচিত হতো আফ্রিকার স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে দেশের পরিস্থিতি অনেকটা ১৯৬৫ সালের ঘানার মতোই ছিল। বঙ্গবন্ধু একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে নিজে খুব তৃপ্ত ছিলেন বলে মনে হয় না। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে যেদিন সংবিধান সংশোধন হয় সেদিন আমি মহাপরিচালক মোর্শেদ ও মহাপরিচালক আবুল আহসানকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সভাকক্ষে সাক্ষাত্ করি। আধা ঘণ্টার বেশি সময় তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা অবাক হলাম আলোচনার তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের এত সময় দিলেন! তাঁকে কিছুটা বিমর্ষ মনে হলো। তাঁর চারপাশের নিত্যদিনের মানুষদের থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন বলে মনে হলো আমাদের। সংবিধান পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করেননি। পরে আমার মনে পড়ল, সাংবিধান পরিবর্তনের পর মনোনীত জেলা গভর্নরদের সঙ্গে এক সভায় আমার দিকে লক্ষ করে উচ্চস্বরে ‘তুমি বাকশালে যোগদান করোনি’ বলে খোলামেলাভাবে হেসেছিলেন। তিনি জানতেন আমি সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলে যোগদানের ধারণার বিরোধী ছিলাম। আমার অবস্থানকে তিনি মূল্য দিয়েছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। এ নিয়ে তিনি কোনো বিরক্তিও প্রকাশ করেননি।
অন্য একদিন পররাষ্ট্র দপ্তরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার সময় তাঁকে বিষণ্ন মনে হলো। হঠাত্ বলে উঠলেন, দুই বছর পর তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন ও একটি বিরোধী দল গঠন করবেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে একদলীয় ব্যবস্থা তাঁরও মনঃপূত ছিল না, এমনকি তাতে তিনি বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ পদ্ধতি গ্রহণে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পোল্যান্ডের মতো দেশ একদলীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক অথনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে। আমার ধারণা, তাঁর ওপর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ মনির প্রচণ্ড প্রভাব ছিল (১৫ আগস্ট বিদ্রোহীদের হাতে ইনিও নিহত হন)। তবে পূর্ব ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের থেকে আলাদা ছিল। দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের উত্তম বিচারবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
১৫ আগস্টের দুই সপ্তাহ আগে আমি সুইডেনের গণমাধ্যমের কিছু কাটা অংশ (ক্লিপিংস) নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। এতে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন এবং সেনা কর্মকর্তাদের অভ্যুত্থান পরিকল্পনার বার্তা। এই বার্তার গুরুত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি আমাকে জানান, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহকে ফোন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর যখন অন্যতম বিদ্রোহী মেজর ডালিম প্রচারিত ‘শেখ মুজিব হত্যার’ কথা জানলাম, স্বভাবতই মর্মাহত হলাম। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে আমি জানি বিদ্রোহীরা আমাকেও খুঁজবে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলাম। সকাল আটটার কিছু পর জান্তার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন সামরিক সদস্য আমাকে তুলে নিতে সার্কিট হাউসে এলো। সেখানে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুরুল ইসলামকে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। আমাকে বলা হলো বেতারকেন্দ্রে আমার উপস্থিতি জরুরি। প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিনিট সময় চাইলাম। মাথার পেছনে বন্দুক তাক করে আমাকে জিপে তোলা হলো, আমি যেন ভয়ঙ্কর কোনো সন্ত্রাসী। সার্কিট হাউসের অন্য বাসিন্দারা ভাবল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আমাকেও হত্যা করা হবে, তারা আমার স্ত্রীকে সান্ত্বনা জানাতে এল। কিন্তু আমার স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন যে, আমার কিছু হতে পারে না। বেতারকেন্দ্রের পথে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তৌফিক ইমামের বাসভবনে জিপটি থামল এবং তাঁকেও তুলে নিল।
বেতারকেন্দ্রের ভেতরে খন্দকার মোশতাককে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ প্রিয়ভাজন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে দেখে চরমাশ্চর্য হলাম। তাঁদের পাশে সদ্য ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে খন্দকার মোশতাক জানতে চাইলেন, আলাদা কক্ষে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন কি না। তাঁকে ত্বরিত বলা হলো, ওই কক্ষের এক কোনায় কথা বলতে। তাঁদের ওপর খন্দকার মোশতাকের যে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তা স্পষ্ট হলো। প্রথম যে প্রশ্নটি তিনি করলেন তা হলো, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করবে কি না। আমার স্পষ্ট মূল্যায়ন জানতে চাইলেন। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমি আমার সংশয়ের কথা জানালাম। আমি তখন বললাম পরিস্থিতির মূল্যায়ন আরও বিস্তারিতভাবে করতে এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে চাই। আমি আরও বলি, বেতার ঘোষণার মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা ও জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত এবং পুলিশ-পাহারা আরও জোরদার করতে বলা উচিত। জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি আমাকে বিকেলে ব্রিফ করতে বলেন, যে বক্তৃতা নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে। যে জিপটি সার্কিট হাউস থেকে আমাকে নিয়ে আসে, সেই জিপেই পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হই। এবার আমার দিকে কোনো বন্দুক তাক করা ছিল না। আমি এবার অনেকটা শঙ্কামুক্ত। পররাষ্ট্র দপ্তরে যাওয়ার আগে আজিমপুরে এক বেতার প্রকৌশলীকে নামাতে হতো, তাই জিপটি ঘোরাপথে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেমন কোনো মানুষ বা রাজনৈতিক আলোড়নের লক্ষণ চোখে না পড়ায় আশ্চর্য হলাম। তাজ্জব ব্যাপার, বাকশাল বা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রাতারাতি উধাও এবং এমনকি যেখানে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নেই, সেখানেও হত্যাযজ্ঞ ও অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া বা প্রতিবাদ সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে আমার সহকর্মীদের ডাকলাম ও পরিস্থিতির মূল্যায়ন করলাম। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ফোন পেলাম। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোন করেন।
বিকেলে আমাকে বঙ্গভবনে ডাকা হলো। ক্ষমতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিটি কে তা স্পষ্ট ছিল না। আমি দেখলাম ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কিছুটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে ভাবলাম তিনিও অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু শিগগিরই বুঝলাম তিনি তাঁর নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। মাহবুব আলম চাষী সেই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন এবং তত্ক্ষণাত্ রাষ্ট্রপতি মোশতাকের মুখ্য সচিব নিযুক্ত হলেন। আসলে তিনি মোশতাকের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে সেই সন্ধ্যায়ই খন্দকার মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। তাঁর নির্দেশে চিফ অব প্রটোকল নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে কড়া সশস্ত্র প্রহরায় নিয়ে আসতে যান। না এলে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে, এই ভয়ে অধিকাংশই আসেন। যে কয়জন আসতে রাজি হননি পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ড. কামাল হোসেন বিদেশে ছিলেন। খন্দকার মোশতাক লন্ডনে তাঁকে বার্তা পাঠান তাঁর মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। ড. কামালের পরিবার ঢাকায় ছিল। আর তাই সোজাসুজি প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তিনি নিতে পারলেন না। তিনি হাইকমিশনের মাধ্যমে বার্তা পাঠান, যেহেতু তিনি চিকিত্সারত তাই তাঁর পক্ষে দেশে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কয়েক সপ্তাহ পর জেনারেল ওসমানীর হস্তক্ষেপে কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ড. কামাল হোসেন লন্ডনে তাঁদের নিরাপদ যাত্রার পর খন্দকার মোশতাকের সমালোচনা শুরু করেন।
পরদিন সকালে (১৬ আগস্ট ১৯৭৫) আমি বঙ্গভবনে থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মোশতাক আমাকে ডেকে পাঠান। আমি যদি ভুল না করে থাকি, মাহবুব আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ছাড়া জেনারেল সফিউল্লাহ ও জিয়াউর রহমানসহ সামরিক কর্মকর্তা ও নবীন অভ্যুত্থানকারীরা বঙ্গভবনের মন্ত্রণা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে খন্দকার মোশতাক আমার কাছে জানতে চান, শেখ মুজিবকে কীভাবে কবর দেওয়া উচিত এবং তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলি, যথাযথ মর্যাদা সহকারে তাঁকে কবর দেওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফল ইতিবাচক হবে। তখন দেশের ভেতর তাঁর মৃত্যুতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে জানতে চান। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের দিকে ইঙ্গিত করে বলি, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ভালো জানেন। মোশতাক গম্ভীরভাবে বলেন, ‘আমি কৌশলী জবাব দিয়েছি।’
ড. কামাল হোসেন হয়তো বাংলাদেশে ফিরবেন না—এটা বুঝতে পেরে খন্দকার মোশতাক এই সময়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে বিচারপতি চৌধুরী প্রথম যে নির্দেশনা পান তা হলো, জার্মানির বন থেকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া ও তাঁকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলা। আমার পরামর্শে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যেকোনো উপায়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে সম্মত হন। পছন্দমতো বিষয়টি মোকাবিলার ভার তিনি আমার ওপর ছেড়ে দেন। যেকোনো মুহূর্তে দেশ ছাড়ার জন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী খুব উদগ্রীব ছিলেন। তবে খন্দকার মোশতাক সেই মুহূর্তে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না এবং ১৯৭৫-এর সেপ্টেম্বরের শুরুতে লিমাতে অনুষ্ঠেয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চৌধুরী থাকুন সেটাও চাননি। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ যেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব না দেন সে ব্যাপারে আমি জোর সুপারিশ করি। মোশতাক শেষ পর্যন্ত তাতে সম্মত হন।
আগস্ট অভ্যুত্থানের পরবর্তী অবস্থা
মাহবুব আলম চাষী আমাকে প্রথমদিকে যেসব প্রশ্ন করেন তার অন্যতম ছিল বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থান কী প্রভাব ফেলবে। এই প্রশ্ন তিনি করেন ১৭ আগস্ট বিকেলে, আমার অফিসে। সেদিন সকালে বঙ্গভবনে তাঁর মুখ্য সচিব এর দপ্তর বসানো হয়। জ্যেষ্ঠ অনেককে পাশ কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাকে পররাষ্ট্রসচিব করায় আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর গুজব ছিল। আমি চাষীকে বললাম, আমি এই পদ ছেড়ে যেতে প্রস্তুত এবং এখনই তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারি। চাষী প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেন এবং আভাস দিলেন যে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি অকপটে তাঁকে বললাম, ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক ছিল। অভ্যুত্থান সব বদলে দিয়েছে। আমি আসলেই জানতাম না বাংলাদেশ কীভাবে তার অবস্থান ফিরে পাবে।
১৯৭৪ সালে ১২ জন রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নরম্যান কির্ক, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি টিটো, মিসরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, বার্মার রাষ্ট্রপতি নে উইন, সেনেগালের রাষ্ট্রপতি লিওপোল্ড সেনঘর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গঘ হুইটলেম, ভুটানের রাজা, মালয়েশিয়ার রাজা, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হৌয়ারি বুমেদীন এবং জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি কিসিঞ্জারসহ বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭৪-এর প্রথমদিকে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী অর্থনৈতিক মিশন বাংলাদেশ সফর করে। এই সময়ে সোনারগাঁও হোটেল প্রকল্পও শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাপান সফরে যান এবং তাঁর অনুরোধে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের ভবিষ্যত্ অংশগ্রহণের মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চস্তরের জাপানি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে।
অভ্যুত্থানের প্রধান নেতা মেজর ফারুক ও মেজর রশীদ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট আমার কাছে বারবার শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিদেশি প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। মনে হলো, নারীদের ও শেখ মুজিবের অল্পবয়সী সন্তানকে হত্যার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তারা আসলেই উদ্বিগ্ন ছিল। শেখ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত না ভুল করে ঘটা, তখনো আমার কাছে তা স্পষ্ট ছিল না। মোশতাকের পছন্দের এক ধরনের ব্যাখ্যা আছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দৈবক্রমে ঘটেছে বলে এসবকে তিনি জায়েজও করতে চেয়েছেন। তাদের দাবি, তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত জিম্মি করে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দেহরক্ষীদের প্রচণ্ড সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা গুলি করতে বাধ্য হয় এবং এভাবে ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন।
যে আলোকচিত্রী পরবর্তী সময়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন, তাঁদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মূল করা। ফারুক ও রশীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন সেনারাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের কিছুই জানানো হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করার জন্য দলে দলে ভাগ করে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে ফারুক সেনাদের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলে, শেখ মুজিবের সরকার ভারতের সঙ্গে মিলে দেশকে হিন্দু কর্তৃত্বাধীন করবে, তাই বাংলাদেশে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। এখন যদি তারা আক্রমণ না করে তবে বাংলাদেশ হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হবে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি জওয়ানদের ইসলামের নামে সচেষ্ট হতে বলেন। তার মতে, সেনারা দ্বিধাহীনভাবে হাত উঁচু করে আক্রমণে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।
সেনাদের মনোভাব বিষয়ে নিঃসন্দেহে আগে থেকেই গোয়েন্দা জরিপ করা ছিল। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা দেয়। ভুট্টোর সফরের পর পাকিস্তানপন্থী অনুভূতি আশঙ্কাজনকভাবে ফিরে আসতে থাকে। তখন পাকিস্তানের সামরিক চক্র একাত্তরের পরাজয়ের লজ্জার প্রতিশোধ নিতে চাইল। একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর শেখ মনির উত্থান দেখে মার্কিনিরা খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে শেখ মুজিবের ওপর বেশ প্রভাব ছিল শেখ মনির। শেখ মনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি বিশ্বস্ত। দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের পর বাংলাদেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাবকে সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত গভীর শঙ্কার সঙ্গে দেখেন। এ থেকে বোঝা যায়, মার্কিন মিশন অভ্যুত্থানের আগাম ধারণা পেলেও কেন তা বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি জানাতে চায়নি। ল্যাটিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মূল্যায়ন করেন যে, এ দেশে বাকশালবিরোধী মনোভাবের তীব্রতা শেখ মুজিবের শাসনের অবসানকে অভিনন্দন জানানো হবে। তবে কখনোই জানা যাবে না যে, সরকার উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে—এমন কথা তাঁরা জানতেন কি না। অন্যদিকে আসন্ন অভ্যুত্থান সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা জানত না, এটা অবিশ্বাস্য।
অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুট্টো নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে সৌদি আরব ও চীনকে তারবার্তা পাঠান। স্টেনলি ওলপোর্টের মতে, ‘ভুট্টো দুই বছর ধরে কয়েকটি মুজিববিরোধী দলের কাছে গোপন তহবিল পাঠিয়েছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের আগস্ট শেষ হওয়ার আগেই সেই তার সেই বিনিয়োগ বিপুলভাবে লাভের মুখ দেখে।’
মাহবুবুল আলম চাষীর সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন সরকারের কাছে (পাকিস্তানের কাছ থেকে) সম্পদ ফেরত আনা ও বিহারিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যস্থতার ফলে এসব বিষয়ে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন সম্পর্কে আমি তাঁকে অবহিত করি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে আমাদের পক্ষে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলাম। নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভুট্টোর ত্বরিত তারবার্তা ইঙ্গিত দেয় খন্দকার মোশতাক, মাহবুব আলম চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও সামরিক জান্তার ওপর ভুট্টোর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবন থেকে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিলম্বের জন্য অন্যদের সামনে আমাকে ভর্ত্সনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নষ্ট করেছে।’ কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, খন্দকার মোশতাক পেশাদারি দক্ষতার মূল্য দিতেন। আর এ জন্যই তাঁর সঙ্গে আমার বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে পদে বহাল রেখেছিলেন। পীর মুহসিনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র) নামের এক ব্যক্তিকে খন্দকার মোশতাক লন্ডন হয়ে পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। সেই সময় আমি জানতাম না যে তিনি খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে যাচ্ছেন। বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদের সন্তোষজনক সমাধান পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে জড়িত করা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতবাহী এক তারবার্তা আমি নিউইয়র্কে আমাদের মিশনে পাঠাই। আমাদের মিশন থেকে ত্বরিত উত্তর আসে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আজিজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মধ্যকার সভায় জানানো হয়, খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করার সময় বাংলাদেশ এই দুই শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমাদের সবার কাছে এটি ছিল এক প্রচণ্ড ধাক্কা।
ফারুক ও রশীদ বঙ্গভবনে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু অন্যদিকে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তখনই তাঁদের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট মনে হলো উভয়পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন ঘটতে পারে। আর তা যদি ঘটত তাহলে ফারুক ও রশীদ হারিয়ে যেতেন। আমার স্মরণ আছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সেনানিবাসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। জেনারেল ওসমানী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন। সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে আর কোনো রক্তপাত ঘটুক তিনি তার দৃঢ় বিরোধিতা করেন। জেনারেল ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতেও রাজি হন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত তাঁর জানার কথা, কিন্তু শিগগিরই আমি দেখলাম তা হচ্ছে না। এই অভ্যুত্থানের দুই-তিন দিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আমাকে বললেন, জেনারেল সফিউল্লাহ ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের জন্য দুটি রাষ্ট্রদূত মর্যাদার নিয়োগের স্থান খুঁজে বের করতে। জেনারেল ওসমানী পরে জানতে পারেন যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ফারুক ও রশীদ পাকিস্তানে তাঁদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির প্রহরীদের জন্য ফরাসি ট্যাঙ্ক কেনার জন্য সৌদি আরবের কাছে তহবিল চান। রাষ্ট্রপতির নিজস্ব প্রহরার নামে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের নামে নতুন একটি বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করবে ফারুক ও রশীদ, আর তা সেনাবহিনীর চিফ অব স্টাফের এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। নতুন ট্যাঙ্ক বঙ্গভবন ও দেশের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। সৌদিরা যখন ফ্রান্স থেকে চলতি দরপত্র পেতে চাইল, তখন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করেন। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আমি প্রায় প্রতিদিন মধ্যরাতে বঙ্গভবনে যেতাম। সেখানে আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল কীভাবে পুরো দেশ একগুচ্ছ তরুণ সেনা কর্মকর্তা দ্বারা চালিত হতো, যারা বন্দুকের জোরে পূর্ণ ক্ষমতা উপভোগ করত এবং বঙ্গভবন ও মোশতাকের সরকারের ওপর জারি রাখত শক্ত নিয়ন্ত্রণ। মেজর ফারুক ও রশীদ যখন সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বে। তার মধ্যেই, ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। পাশাপাশি সেদিন খন্দকার মোশতাক চেষ্টা চালান জেনারেল ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করানোর জন্য। একই সময়ে ভারতে প্রশিক্ষণরত ব্রিগেডিয়ার এইচ এম এরশাদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের জায়গায় তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ফারুক ও রশীদের চাপের কারণেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে এরশাদকে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯৭৫-এর শুরুর দিকে ফারুক ও রশীদ সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে ভারতে ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি এটি অবিশ্বাস্য। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, এরশাদ ১৯৭৫ সাল থেকেই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন।
(ক্রিটিকাল টাইমস: মেমোয়ার্স অব এ সাউথ এশিয়ান ডিপ্লোম্যাট বই থেকে নেওয়া, বইটির প্রকাশকাল ১৯৯৪, প্রকাশক ইউপিএল, ইংরেজি থেকে অনূদিত)
ফখরুদ্দিন আহমেদ (১৯৩১-২০০১): সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রসচিব। ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় মিটবে না
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উত্থান যতটা বীরত্বপূর্ণ, মৃত্যু ততটাই মর্মান্তিক। ঘাতকেরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে যে বর্বরতার প্রমাণ দিয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। মুহূর্তে দেশ হয়েছিল নেতৃত্বহীন আর রাষ্ট্র হয়েছিল পথচ্যুত। তবে এটাও সত্য যে জননায়ক হিসেবে তাঁর প্রশ্নহীন সফলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি কতটা সফল ছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা সামাল দেওয়ার কর্মধারা এবং বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি কেবল একটি রাষ্ট্রের স্থপতিই নন, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রেরণাও। সুতরাং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ নামের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর যে নাড়ির বন্ধন মহাকালের জন্য প্রতিষ্ঠিত, তা অস্বীকার করা যাবে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যথাযোগ্য স্বীকৃতিদান এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার ৩৪ বছর ধরে ঝুলে থেকেছে। লজ্জাকরভাবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে খুনিদের রক্ষার চেষ্টাও আমরা দেখেছি। অবশেষে সেই কালো আইনের রাহুগ্রাস থেকে সংবিধান ও দেশ রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু বিচার সম্পন্ন হলেও রায় চূড়ান্ত করে আদেশ কার্যকর করায় দুঃখজনক বিলম্ব দেখা যাচ্ছে। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিশ্চিতকরণ বেঞ্চ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন; কিন্তু আজও সেই রায় বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার বদলের পর বিচারকাজেও শিথিলতা এসে পড়ে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়াশীল জোট সরকারের উদ্যোগহীনতার কারণে মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকে। বিচারকদের বেঞ্চগঠনে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে বিচারপ্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেওয়া হয়। তবে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পাঁচ আসামির আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনেরই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়া এখন জাতীয় দায়। নতুন বিচারক নিয়োগের পর এখন আবার নতুন করে শুনানি শুরু হওয়ার পথে। আমরা আশা করব, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের উদ্যোগে দ্রুতই পুরো প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন হবে এবং মিটবে জাতীয় দায়।
মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দলীয় নন, জাতীয়; তিনি আর ব্যক্তি নন, ইতিহাসের নায়ক। ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ব্যাধি আকারে ফিরে ফিরে আসতে থাকে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের ধারাবাহিকতায় জেলহত্যাসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন না হলে সেই ব্যাধির বীজ রয়েই যাবে। সে দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
আজ এই শোকাবহ দিনে বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও একই ঘটনায় নিহত সবার আত্মার শান্তি কামনা ও শোকার্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহ দ্রুত গলছে
কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার পাইন আইল্যান্ড নামে ওই হিমবাহের ওপর এ গবেষণা চালানো হয়। উপগ্রহের সাহায্যে গলনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, হিমবাহের উপরিভাগের স্তর বছরে সর্বোচ্চ ১৬ মিটার করে কমছে। ১৯৯৪ সালের পর হিমবাহের স্তর প্রায় ৯০ মিটার কমে গেছে। সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এ গবেষণাটি চালায়। গবেষণা প্রতিবেদনটি জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) অধ্যাপক ডানকান উইংহ্যাম।
১৫ বছর আগে যে হারে বরফ গলছিল, সেই হিসাবে হিমবাহটির অন্তত ৬০০ বছর টিকে থাকার কথা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমানে যে হারে বরফ গলছে তাতে এর আয়ু হবে আর মাত্র ১০০ বছর। হিমবাহটির মধ্যভাগ গলছে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। এই গলন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে হিমবাহটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষণাটির সঙ্গে জড়িত লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন্ড্রু শেপার্ড বলেছেন, হিমবাহের মধ্যভাগে গলনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় তিন সেন্টিমিটার বেড়ে যেতে পারে। তিনি বিবিসিকে বলেন, হিমবাহে যে পরিমাণ বরফ রয়েছে তাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাইন আইল্যান্ড হিমবাহ বিজ্ঞানীদের ব্যাপক গবেষণার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে, হিমবাহটির ভাঙন, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফ আস্তরকে দ্রুত ভাঙনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়াবহ খরার মুখে ভারত by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের তথ্য নিয়ে ওই কমিটি ‘পুরোমাত্রায় খরা’ বিরাজ করছে—এমন জেলাগুলোকে খরাপীড়িত বলে ঘোষণা করেছে। সর্বশেষ পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের ১০টি জেলাকে খরাপীড়িত ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে ১৭৭টি জেলাকে খরাপীড়িত ঘোষণা করা হয়েছে। এই সংখ্যা দেশটির মোট জেলার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) এ সপ্তাহের প্রথমদিকে জানায়, চার মাসের বর্ষা ঋতুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৯৩ শতাংশ থেকে ৮৭ শতাংশে নেমে এসেছে। আইএমডি জানায়, ১২ আগস্ট থেকে আগের সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের খরা পরিস্থিতি ২০০২ সালের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেন, ১৪১টি জেলায় ভয়াবহ খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লিতে আগামী ১৭ আগস্ট খরা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এরপর ২১ আগস্ট বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা আছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ার বলেন, ১৭৭টি জেলায় ‘খরা বা খরার মতো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই জেলাগুলোর বেশির ভাগই বিহার, উত্তর প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, আসাম ও মণিপুর রাজ্যের।
একটি সূত্র জানায়, কোনো এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ২৬ থেকে ৫০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হলে তাকে ‘মাঝারি ধরনের খরা’ বলে ধরা হয়। আর বৃষ্টিপাত ৫০ শতাংশের চেয়ে কম হলে ‘প্রকট খরা’ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এভাবে কোনো এলাকায় মাঝারি বা প্রকট খরা দেখা দিলে ওই মৌসুমে পুরো দেশের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তুলনায় সারা দেশের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ শতাংশের কম হলে ওই বছরকে খরা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশে ৪০ শতাংশের চেয়ে বেশি এলাকায় খরা পরিস্থিতি বিরাজ করলে সারা ভারতে প্রকট খরার বছর বলে ধরা হয়।
২০০২ সালের পুরো মৌসুমে (১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হয়েছিল ১৯ শতাংশ। খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল দেশের ২৯ শতাংশ এলাকায়। ওই বছর ২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন ধান, ২ দশমিক ২ মিলিয়ন টন ডাল, সাত মিলিয়ন টন গম ও সাত মিলিয়ন টন অন্যান্য খাদ্যশস্যের উত্পাদন কমে গিয়েছিল।
চলতি বর্ষা মৌসুমের ১ জুন থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে ২৯ শতাংশ। দেশের মোট আয়তনের ৪০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত ৫৭ লাখ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ করা যায়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, এই মৌসুমে চাষাবাদের জন্য পরবর্তী তিন-চার সপ্তাহ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখনও দেড় মাস বর্ষা মৌসুম রয়েছে।
এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই জুন মাসে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এখন মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি সময় পার হলেও অন্যান্য বছর জুনে যে স্বাভাবিক বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টিও হয়নি। তবে জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ১৩০ বছরের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, জুন-জুলাইয়ে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ৬৭ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণত বর্ষাকালের মোট বৃষ্টিপাতের ৩০ শতাংশ হয় আগস্ট মাসে। তবে এই মাসের শুরুতে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ না বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম রয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এবার ফেল্প্স
![]() |
| দুর্ঘটনার পর ফেলপসের গাড়ি |
ব্লগে প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়েছে, ফেল্প্স নাকি বেশ জোরে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ট্রাফিকের লালবাতি দেখেও তাঁর দামি কালো ক্যাডিয়ালাক গাড়িটি থামাননি। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি হোন্ডা অ্যাকর্ডের সঙ্গে গিয়ে ধাক্কা লাগে। ওই গাড়ির মহিলা চালক সামান্য আহত হয়েছেন। সাবধানতার জন্য তাঁকে হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। যদিও তাঁর আঘাতও গুরুতর নয়।
দুর্ঘটনায় ফেল্পেসর গাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। মদ খেয়ে ফেল্প্স গাড়ি চালাচ্ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ-লজ্জার বলি- ডাইসন
স্পনসর-সংক্রান্ত ঝামেলায় মূল ক্রিকেটারদের বিদ্রোহে বাংলাদেশের বিপক্ষে জোড়াতালি দিয়ে দল নামিয়ে দুই টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সবগুলো ম্যাচেই হারে এককালের পরাক্রমশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর থেকেই গুঞ্জন ছিল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে সাবেক ওপেনার ডাইসনকে। মাঝপথে দায়িত্ব হারিয়ে স্বভাবতই হতাশ এই ৫৫ বছর বয়সী, ‘এই মুহূর্তে আমার কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না’। ডাইসনের বদলে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী ডেভিড উইলিয়ামস। দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ণাঙ্গ কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসা সাবেক এই উইকেটকিপারের সঙ্গে ডাইসনের সম্পর্কটা উষ্ণ ছিল না কখনোই। প্রকাশ্যেই ডাইসনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ১১ টেস্ট ও ৩৬ ওয়ানডে খেলা উইলিয়ামস। শুধু কোচই নয়, সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের ম্যানেজার ওমর খানকেও। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করবেন ৩০০ উইকেট নেওয়া প্রথম স্পিনার ল্যান্স গিবস। ধারণা করা হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দ্বিতীয় সারির দল খেলাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও বোর্ড ও প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনার মধ্যস্থতাকারী শ্রীদাথ রামফল বলেছেন, বোর্ডের উচিত সেরা ক্রিকেটারদেরই মাঠে নামানো।
২০০৭ সালে আরেক অস্ট্রেলিয়ান বেনেট কিংয়ের বদলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ডাইসন। পোর্ট এলিজাবেথে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে তাঁর শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। ওই জয়টা ছিল বিদেশের মাটিতে সাত বছর এবং সব মিলিয়ে দুই বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্ট জয়। তবে এই শুরু পরে আর ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর অধীনে ১৯ টেস্টের মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হেরেছে ৯টিতেই, আর ড্র ৭টি। ২৫টি ওয়ানডেতে জয় মাত্র ৯টিতে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয় তাঁর অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা সাফল্য।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রেসবক্সেই যত ক্রিকেট উত্তেজনা by তারেক মাহমুদ
![]() |
| বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচেই প্রিয় দল রাজস্থান রয়্যালসের পতাকা ওড়াল গ্রায়েম |
হতে পারে এই দর্শক-খরা জিম্বাবুয়ে দলের ব্যর্থতার কারণে। পয়সা খরচ করে মাঠে গিয়ে নিজেদের দলের পরাজয় তো বাংলাদেশের মানুষও দেখতে চায় না। অ্যান্ড্রু এই ধারণার পুরো বিপরীত। হারারেতে পরিবহন ব্যবসা আছে ভদ্রলোকের। সেই ব্যবসা ফেলে গত তিন দিন পড়ে আছেন বুলাওয়েতে। শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাটোপস ন্যাশনাল পার্ক রিসোর্টে উঠেছেন সপরিবারে। ছেলে গ্রায়েমের খেলা দেখার আবদার যখন মেটাতেই হবে, রথ দেখা কলা বেচা দুটোই হোক। খেলার দিন খেলা দেখা, খেলা না থাকলে সাফারিতে ঘোরা।
গ্রায়েমের বয়স মাত্র ৮-৯ বছর হলে কী হবে, এই ছেলে নাকি মাকে নিয়ে ডারবান গিয়ে গত আইপিএলের খেলাও দেখে এসেছে! রাজস্থান রয়্যালস তার প্রিয় দল। মাথায় নীল রঙের পাগড়ি আর হাতে রাজস্থান রয়্যালসের পতাকাও সেটাও বলছিল। ‘ক্রিকেট ক্রেজি’ গ্রায়েমকে আটকানোর সাধ্য তো তাই হলোই না অ্যান্ড্রুর, সঙ্গে নিয়ে আসতে হলো গ্রায়েমের বন্ধু ডগলাসকেও। কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেটা দেখার পর দুজনে তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ও বদলে ফেলেছে এর মধ্যে। গ্রায়েম স্মিথ থেকে সরে এসে গ্রায়েমের প্রিয় এখন সাকিব। ডগলাসও মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ভুলে সাকিবের নামই বলল বারবার।
কাল কুইন্স স্পোর্ট ক্লাবের গ্যালারিতে যে কজন দর্শক ছিল তাদের মধ্যে গ্রায়েম-ডগলাসদের বয়সীরাই বেশি। সে রকমই একজন স্কুলছাত্র জিরায়ি। তার প্রিয় খেলোয়াড় নাকি ‘মাশরাফুল’ (আসলে আশরাফুল)! ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার পর একটু লজ্জা পেলেও জিরায়ির মনে পড়ে গেল, মাশরাফি তো এই সিরিজে খেলছেই না। বাংলাদেশের মতো স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য এখানেও আছে বিনা পয়সায় খেলা দেখার সুযোগ। তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে মাঠে টেনে আনার উদ্যোগ।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য কাজটা যে কত জরুরি সেটা ভুমি ময়ো খুব ভালো বোঝেন। অ্যালিস্টার ক্যাম্পবেলের পাঁচ সদস্যের বিদায়ী নির্বাচক কমিটিতে (এই সিরিজের পরই আর দায়িত্বে থাকছেন না তাঁরা) আছেন তিনি। নির্বাচক কমিটিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই ভুমির মনে হচ্ছে, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে এর চেয়ে কঠিন কাজ আর হয় না, ‘এটা ঠিক যে জিম্বাবুয়েতে এখন আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার নেই বললেই চলে। একজন ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেললেও আরেকজন যে একটা মাঝারি মানের ইনিংস খেলে দিয়ে আসবে, সে রকম কেউ নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা, এখানে একই মানের অনেক ক্রিকেটার। সবাই মাঝারি মানের, কিন্তু কাকে বাদ দিয়ে আমরা কাকে নেব?’ তবে ভুমি আশাবাদী নতুনদের নিয়ে, গ্রায়েম-জিরায়ির মতো বয়সীরা শুধু মাঠেই আসছে না, ক্রিকেটটা খেলছেও, ‘আমাদের ক্রিকেট একাডেমি থেকে অনেক নতুন প্রতিভা উঠে আসছে। ভবিষ্যতের তারকা হয়তো সেখান থেকেই খুঁজে পাবে জিম্বাবুয়ে।’
কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবের প্রেসবক্সের কথা আগেই বলেছি। ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান হয়েছে মনে করে সকালে যে আশার আলো দেখেছিলাম, লাঞ্চের আগেই সেটা মরীচিকার মতো কোথায় হারিয়ে গেল! রিপোর্ট লিখছি আর ভাবছি লেখার পর সেটা কীভাবে পাঠব। আর ‘বাজার পরিস্থিতি’র অবস্থাও আগের মতোই। মানে সেই চিত্কার-চেঁচামেচি, হই-হল্লা। টেলর-মাসাকাদজার ১৪২ রানের জুটি সেই চেঁচামেচি কাল বাড়িয়ে দিল। হাততালি, ‘গ্রেট শট’, ‘গুড রান’, ‘কাম অন জিম্বাবুয়ে’ ফিফটির পর থেকেই মাসাকাদজার সেঞ্চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা। মাসাকাদজার সেঞ্চুরির পর তো পারলে একজন প্রেসবক্সের কাচ ভেঙেই ঝাঁপিয়ে পড়ে মাঠে—এটা প্রেসবক্স না গ্যালারি!
তা-ও ভালো, এহেলেলুর কথার সঙ্গে বাস্তবের কিছুটা মিল খুঁজে পাওয়া গেল। গ্যালারিতে উত্তাপ নাই থাকতে পারে, প্রেসবক্সটা তো জমজমাট! তা সেখানে কাজ করা যতই কষ্টের হোক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা খালি চোখে দিনে ও রাতে যে আকাশ দেখি, দেখে মুগ্ধ হই—মহাকাশচারীরা তাঁদের মহাকাশযান থেকে যা দেখেন, তা সে তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত। সেখানে কোটি কোটি গ্রহ, তারা, নক্ষত্রের খেলা, তাদের জন্ম-মৃত্যুর দৃশ্য তাঁরা দেখেন কাছে থেকে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে ওই একই কথা বলা চলে। উনি সারা জীবন জেল খেটে শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য সপরিবারে জীবন দান করে গেছেন। কী ছিল তাঁর অন্তরে, কোথা থেকে এল সেই দেশপ্রেম, তা ভাবতে গেলে আমরা সাধারণ মানুষ বিস্মিত হই। শুধু তাঁর কিছু সহযাত্রী, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে এক রাজনীতি করেছেন, তাঁরাই বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধুকে।
আজ ৩৩ বছর হয়ে গেল তাঁর ও পরিবারের আর সবার মৃত্যুর। কিন্তু আজও সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলো না। শাস্তি হলো না সেসব আত্মস্বীকৃত খুনির, যারা আট বছরের শিশুকেও নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করেনি। ইদানীং খবরের কাগজে মার্কিন সরকারের পুরোনো দলিলপত্র প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুকে কোনো দিনই মেনে নিতে পারেনি এ দেশের সেনাবাহিনীর একটি অংশ। দেশ স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু ১৯৭২ সাল থেকেই সেনাপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর অধীনস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্নেল ফারুক রহমান, কর্নেল রশিদ—এঁরা বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে ভারতীয় আক্রমণ ঠেকানোর বিরুদ্ধে অস্ত্র ক্রয়ের সন্ধানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। সেই কর্নেল ফারুক রহমান এখন জেলে, রশিদ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আর জিয়াউর রহমান নিহত হয়েছেন এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর সেনাপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যে শাসনব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, সেই পঞ্চম সংশোধনী সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করেছে ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি রায়। রাতের অন্ধকারে আদালত খুলিয়ে সেই রায় স্থগিত করেছিল সাবেক চারদলীয় জোট সরকার। বর্তমানে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার এখন পর্যন্ত সেই রায় বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়নি। দেখে-শুনে মানুষ ক্রমেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম, বর্তমান সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানটি ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে, কিন্তু সে ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। অবিলম্বে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি আমরা বর্তমান সরকারের কাছে। যে সরকারের প্রধান বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা, যে রাষ্ট্রের প্রধান এখন বঙ্গবন্ধুর একজন সহযোদ্ধা জিল্লুর রহমান।
এখন বোঝা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল দেশের স্বাধীনতার পর পরই। ১৯৭৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সম্পূর্ণ মুছে ফেলারও এক যড়যন্ত্র হয়েছিল। চেষ্টা হয়েছিল আওয়ামী লীগ নামের দলটিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার। কিন্তু সে চেষ্টা সফল হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, আজও চেষ্টা চলছে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে ফেলার। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর গ্রেনেড হামলা সে কথাই প্রমাণ করে। সেদিন সেই চেষ্টা সফল হলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।
এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায় হবে হাইকোর্টের পঞ্চম সংশোধনী রায়টি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশবাসীকে বুঝিয়ে দেওয়া যে সেনাপতি জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাক ও বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের শাসনকালটি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। তাঁরা সেদিন যে কাজটি করেছিলেন, তা ছিল সব ধরনের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। ১৯৭২-এর সংবিধানটি ফিরিয়ে এনেও সে কাজটি করা সম্ভব। আরেক সেনাপতি এরশাদের প্রতিষ্ঠিত ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বাতিল করে দিয়ে দেশের কিছু মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে ফেলার চেষ্টা যত তাড়াতাড়ি নস্যাত্ করা সম্ভব, ততই দেশের মঙ্গল।
কিন্তু কেন এই বিদ্বেষ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের প্রতি? সেনাবাহিনীর যে সামান্যসংখ্যক কর্মকর্তা এই বিদ্বেষ পোষণ করেন, তাঁরাও তো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামাতিদের সঙ্গে কীভাবে তাঁদের এই সখ্য গড়ে উঠল? অথচ এই জামাতিদের তৈরি রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস একাত্তরে বাংলার মানুষকে ও মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে, তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের হাতে। তাদের হাতে দু-তিন লাখ নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেই জামায়াতে ইসলামকে রাজনীতি করার অধিকার কী করে ফিরিয়ে দিলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। তাদের সঙ্গে কী করে হাত মেলালেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। রাজনৈতিক মোর্চা গঠন করে বাংলাদেশের পতাকাওয়ালা গাড়িতে চড়ার সুযোগ করে দিলেন ওই সব বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধীদের? এসব প্রশ্নের জবাব কে দেবে?
একটা ধারণা এই যে সবকিছুর মূলেই রয়েছে সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এসব মুক্তিযোদ্ধা সম্ভবত ভেবেছিলেন, যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হয়ে একটি মুসলমান রাষ্ট্র হবে। সেখানে অন্য ধর্মাবলম্বীদের স্থান অবশ্যই হবে, তবে মুসলমানদের, বিশেষ করে সুন্নি মুসলমানদের, কিছুটা নিচে।
কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ১৯৭২ সালের সংবিধানে যখন সে রকম কিছু হলো না, সবাই সমান হলো এবং কেউই বেশি সমান হওয়ার অবকাশ পেল না, তখনই তারা বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেওয়ার মতলব আঁটতে লাগল। হয়তো সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা তাদের ইচ্ছে ছিল না। তবে বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের কয়েকজন যেমন শেখ মণি, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান ইত্যাদি কিছু মানুষকে সরিয়ে ফেলা তাদের পরিকল্পনায় স্থান পেয়ে গেল। পনেরোই আগস্ট কাজটি সম্পূর্ণ সমাপ্ত না করতে পেরে তারা সেই বছরেরই তেসরা নভেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে তাদের অসমাপ্ত কাজটি শেষ করল।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখতে গিয়ে আজ তাই মনে হচ্ছে, বাহাত্তরের ওই সংবিধানটি যদি ফিরিয়ে আনা যায় এবং জনগণের কাছে এ কথা প্রমাণ করা যায় যে জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাক আসলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, তাহলেই আবার ফিরে আসবে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের জন্য একাত্তরে লাখ লাখ মানুষ আত্মত্যাগ করেছিল ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি উচ্চারণ করে। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ফিরিয়ে দিন আমাদের সেই হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ। আমরা আবার বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে ‘জয় বাংলা’ বলে ওঠার সুযোগ পাই।
এ জেড এম আবদুল আলী: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্দিন আহমেদ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকাল সকাল গুলির শব্দে আমরা জেগে উঠি। এই শব্দ সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দেয় ১৯৬৫ সালের ঘানার কথা। ঘানার রাজধানী আক্রাতে রাষ্ট্রপতি নত্রুদ্ধমার পতাকাশোভিত বাড়িটি থেকে আমাদের বাসা খুব একটা দূরে ছিল না। আক্রাতে ১৯৬৫ সালে মার্চের এক সকালে একদল নিম্নপদস্থ সামরিক অফিসার অভ্যুত্থান সংঘটিত করে এবং নক্রুমার শাসনের অবসান ঘটে। নক্রুমা তখন রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে ছিলেন। ১৫ আগস্টের গুলির শব্দে আমার স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে ঘানার সেই অভ্যুত্থানের ঘটনা। কিছুক্ষণ পর বেতারে তা নিশ্চিত করা হয়।
১৫ আগস্টের আগে একজনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি আমার দেখা ১৯৬৫ সালের ঘানার কাছাকাছি। ব্যক্তি হিসেবে নত্রুদ্ধমা খুবই জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু তাঁর একদলীয় ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, আর তাঁর একান্ত সহচরেরা প্রকৃত অবস্থা তাঁকে অবগত করেনি। অন্যদিকে, আক্রাও অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল কূটনৈতিক তত্পরতায় এবং তা বিবেচিত হতো আফ্রিকার স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের আগে দেশের পরিস্থিতি অনেকটা ১৯৬৫ সালের ঘানার মতোই ছিল। বঙ্গবন্ধু একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা নিয়ে নিজে খুব তৃপ্ত ছিলেন বলে মনে হয় না। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে যেদিন সংবিধান সংশোধন হয় সেদিন আমি মহাপরিচালক মোর্শেদ ও মহাপরিচালক আবুল আহসানকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সভাকক্ষে সাক্ষাত্ করি। আধা ঘণ্টার বেশি সময় তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আমরা অবাক হলাম আলোচনার তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাদের এত সময় দিলেন! তাঁকে কিছুটা বিমর্ষ মনে হলো। তাঁর চারপাশের নিত্যদিনের মানুষদের থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছিলেন বলে মনে হলো আমাদের। সংবিধান পরিবর্তন বিষয়ে তাঁর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করেননি। পরে আমার মনে পড়ল, সাংবিধান পরিবর্তনের পর মনোনীত জেলা গভর্নরদের সঙ্গে এক সভায় আমার দিকে লক্ষ করে উচ্চস্বরে ‘তুমি বাকশালে যোগদান করোনি’ বলে খোলামেলাভাবে হেসেছিলেন। তিনি জানতেন আমি সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলে যোগদানের ধারণার বিরোধী ছিলাম। আমার অবস্থানকে তিনি মূল্য দিয়েছিলেন বলে আমার বিশ্বাস। এ নিয়ে তিনি কোনো বিরক্তিও প্রকাশ করেননি।
অন্য একদিন পররাষ্ট্র দপ্তরসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার সময় তাঁকে বিষণ্ন মনে হলো। হঠাত্ বলে উঠলেন, দুই বছর পর তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন ও একটি বিরোধী দল গঠন করবেন। এটা স্পষ্ট ছিল যে একদলীয় ব্যবস্থা তাঁরও মনঃপূত ছিল না, এমনকি তাতে তিনি বিশ্বাসও করতেন না। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এ পদ্ধতি গ্রহণে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া পোল্যান্ডের মতো দেশ একদলীয় ব্যবস্থায় ব্যাপক অথনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে। আমার ধারণা, তাঁর ওপর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ মনির প্রচণ্ড প্রভাব ছিল (১৫ আগস্ট বিদ্রোহীদের হাতে ইনিও নিহত হন)। তবে পূর্ব ইউরোপের পরিস্থিতি বাংলাদেশের থেকে আলাদা ছিল। দুঃখজনকভাবে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের উত্তম বিচারবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করেছেন।
১৫ আগস্টের দুই সপ্তাহ আগে আমি সুইডেনের গণমাধ্যমের কিছু কাটা অংশ (ক্লিপিংস) নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করি। এতে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন এবং সেনা কর্মকর্তাদের অভ্যুত্থান পরিকল্পনার বার্তা। এই বার্তার গুরুত্ব খারিজ করে দিয়ে তিনি আমাকে জানান, সেনাপ্রধান সফিউল্লাহকে ফোন করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলবেন।
গুলির শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর যখন অন্যতম বিদ্রোহী মেজর ডালিম প্রচারিত ‘শেখ মুজিব হত্যার’ কথা জানলাম, স্বভাবতই মর্মাহত হলাম। পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে আমি জানি বিদ্রোহীরা আমাকেও খুঁজবে। আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সার্কিট হাউসে অবস্থান করছিলাম। সকাল আটটার কিছু পর জান্তার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন সামরিক সদস্য আমাকে তুলে নিতে সার্কিট হাউসে এলো। সেখানে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুরুল ইসলামকে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হলাম। আমাকে বলা হলো বেতারকেন্দ্রে আমার উপস্থিতি জরুরি। প্রস্তুতির জন্য কয়েক মিনিট সময় চাইলাম। মাথার পেছনে বন্দুক তাক করে আমাকে জিপে তোলা হলো, আমি যেন ভয়ঙ্কর কোনো সন্ত্রাসী। সার্কিট হাউসের অন্য বাসিন্দারা ভাবল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আমাকেও হত্যা করা হবে, তারা আমার স্ত্রীকে সান্ত্বনা জানাতে এল। কিন্তু আমার স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে বললেন যে, আমার কিছু হতে পারে না। বেতারকেন্দ্রের পথে মন্ত্রিপরিষদ সচিব তৌফিক ইমামের বাসভবনে জিপটি থামল এবং তাঁকেও তুলে নিল।
বেতারকেন্দ্রের ভেতরে খন্দকার মোশতাককে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর বিশেষ প্রিয়ভাজন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে দেখে চরমাশ্চর্য হলাম। তাঁদের পাশে সদ্য ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার কয়েকজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে খন্দকার মোশতাক জানতে চাইলেন, আলাদা কক্ষে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন কি না। তাঁকে ত্বরিত বলা হলো, ওই কক্ষের এক কোনায় কথা বলতে। তাঁদের ওপর খন্দকার মোশতাকের যে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তা স্পষ্ট হলো। প্রথম যে প্রশ্নটি তিনি করলেন তা হলো, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করবে কি না। আমার স্পষ্ট মূল্যায়ন জানতে চাইলেন। ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আমি আমার সংশয়ের কথা জানালাম। আমি তখন বললাম পরিস্থিতির মূল্যায়ন আরও বিস্তারিতভাবে করতে এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যেতে চাই। আমি আরও বলি, বেতার ঘোষণার মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা ও জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া উচিত এবং পুলিশ-পাহারা আরও জোরদার করতে বলা উচিত। জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি আমাকে বিকেলে ব্রিফ করতে বলেন, যে বক্তৃতা নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সন্ধ্যায় প্রচারিত হবে। যে জিপটি সার্কিট হাউস থেকে আমাকে নিয়ে আসে, সেই জিপেই পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্দেশে রওনা হই। এবার আমার দিকে কোনো বন্দুক তাক করা ছিল না। আমি এবার অনেকটা শঙ্কামুক্ত। পররাষ্ট্র দপ্তরে যাওয়ার আগে আজিমপুরে এক বেতার প্রকৌশলীকে নামাতে হতো, তাই জিপটি ঘোরাপথে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তেমন কোনো মানুষ বা রাজনৈতিক আলোড়নের লক্ষণ চোখে না পড়ায় আশ্চর্য হলাম। তাজ্জব ব্যাপার, বাকশাল বা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা রাতারাতি উধাও এবং এমনকি যেখানে সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি নেই, সেখানেও হত্যাযজ্ঞ ও অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া বা প্রতিবাদ সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে আমার সহকর্মীদের ডাকলাম ও পরিস্থিতির মূল্যায়ন করলাম। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ফোন পেলাম। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোন করেন।
বিকেলে আমাকে বঙ্গভবনে ডাকা হলো। ক্ষমতার কেন্দ্রীয় ব্যক্তিটি কে তা স্পষ্ট ছিল না। আমি দেখলাম ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ কিছুটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথমে ভাবলাম তিনিও অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু শিগগিরই বুঝলাম তিনি তাঁর নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। মাহবুব আলম চাষী সেই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন এবং তত্ক্ষণাত্ রাষ্ট্রপতি মোশতাকের মুখ্য সচিব নিযুক্ত হলেন। আসলে তিনি মোশতাকের ঘনিষ্ঠ পরামর্শক ছিলেন। এর কিছুক্ষণ আগে সেই সন্ধ্যায়ই খন্দকার মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করেন। তাঁর নির্দেশে চিফ অব প্রটোকল নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্যকে কড়া সশস্ত্র প্রহরায় নিয়ে আসতে যান। না এলে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে, এই ভয়ে অধিকাংশই আসেন। যে কয়জন আসতে রাজি হননি পরবর্তী সময়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ড. কামাল হোসেন বিদেশে ছিলেন। খন্দকার মোশতাক লন্ডনে তাঁকে বার্তা পাঠান তাঁর মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। ড. কামালের পরিবার ঢাকায় ছিল। আর তাই সোজাসুজি প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি তিনি নিতে পারলেন না। তিনি হাইকমিশনের মাধ্যমে বার্তা পাঠান, যেহেতু তিনি চিকিত্সারত তাই তাঁর পক্ষে দেশে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কয়েক সপ্তাহ পর জেনারেল ওসমানীর হস্তক্ষেপে কামাল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের তাঁর সঙ্গে যোগ দিতে লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ড. কামাল হোসেন লন্ডনে তাঁদের নিরাপদ যাত্রার পর খন্দকার মোশতাকের সমালোচনা শুরু করেন।
পরদিন সকালে (১৬ আগস্ট ১৯৭৫) আমি বঙ্গভবনে থাকাকালে রাষ্ট্রপতি মোশতাক আমাকে ডেকে পাঠান। আমি যদি ভুল না করে থাকি, মাহবুব আলম চাষী ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ছাড়া জেনারেল সফিউল্লাহ ও জিয়াউর রহমানসহ সামরিক কর্মকর্তা ও নবীন অভ্যুত্থানকারীরা বঙ্গভবনের মন্ত্রণা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে খন্দকার মোশতাক আমার কাছে জানতে চান, শেখ মুজিবকে কীভাবে কবর দেওয়া উচিত এবং তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে। আমি দ্বিধাহীনভাবে বলি, যথাযথ মর্যাদা সহকারে তাঁকে কবর দেওয়া উচিত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর ফল ইতিবাচক হবে। তখন দেশের ভেতর তাঁর মৃত্যুতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে জানতে চান। আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত তাহেরউদ্দিন ঠাকুরের দিকে ইঙ্গিত করে বলি, এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ভালো জানেন। মোশতাক গম্ভীরভাবে বলেন, ‘আমি কৌশলী জবাব দিয়েছি।’
ড. কামাল হোসেন হয়তো বাংলাদেশে ফিরবেন না—এটা বুঝতে পেরে খন্দকার মোশতাক এই সময়ে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে বিচারপতি চৌধুরী প্রথম যে নির্দেশনা পান তা হলো, জার্মানির বন থেকে রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া ও তাঁকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলা। আমার পরামর্শে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী যেকোনো উপায়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে সম্মত হন। পছন্দমতো বিষয়টি মোকাবিলার ভার তিনি আমার ওপর ছেড়ে দেন। যেকোনো মুহূর্তে দেশ ছাড়ার জন্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী খুব উদগ্রীব ছিলেন। তবে খন্দকার মোশতাক সেই মুহূর্তে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না এবং ১৯৭৫-এর সেপ্টেম্বরের শুরুতে লিমাতে অনুষ্ঠেয় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চৌধুরী থাকুন সেটাও চাননি। কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ যেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব না দেন সে ব্যাপারে আমি জোর সুপারিশ করি। মোশতাক শেষ পর্যন্ত তাতে সম্মত হন।
আগস্ট অভ্যুত্থানের পরবর্তী অবস্থা
মাহবুব আলম চাষী আমাকে প্রথমদিকে যেসব প্রশ্ন করেন তার অন্যতম ছিল বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থান কী প্রভাব ফেলবে। এই প্রশ্ন তিনি করেন ১৭ আগস্ট বিকেলে, আমার অফিসে। সেদিন সকালে বঙ্গভবনে তাঁর মুখ্য সচিব এর দপ্তর বসানো হয়। জ্যেষ্ঠ অনেককে পাশ কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাকে পররাষ্ট্রসচিব করায় আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জোর গুজব ছিল। আমি চাষীকে বললাম, আমি এই পদ ছেড়ে যেতে প্রস্তুত এবং এখনই তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে পারি। চাষী প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেলেন এবং আভাস দিলেন যে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমি অকপটে তাঁকে বললাম, ১৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক ছিল। অভ্যুত্থান সব বদলে দিয়েছে। আমি আসলেই জানতাম না বাংলাদেশ কীভাবে তার অবস্থান ফিরে পাবে।
১৯৭৪ সালে ১২ জন রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নরম্যান কির্ক, যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি টিটো, মিসরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত, ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, বার্মার রাষ্ট্রপতি নে উইন, সেনেগালের রাষ্ট্রপতি লিওপোল্ড সেনঘর, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী গঘ হুইটলেম, ভুটানের রাজা, মালয়েশিয়ার রাজা, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি হৌয়ারি বুমেদীন এবং জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি কিসিঞ্জারসহ বেশ কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। ১৯৭৪-এর প্রথমদিকে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী অর্থনৈতিক মিশন বাংলাদেশ সফর করে। এই সময়ে সোনারগাঁও হোটেল প্রকল্পও শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাপান সফরে যান এবং তাঁর অনুরোধে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের ভবিষ্যত্ অংশগ্রহণের মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চস্তরের জাপানি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে।
অভ্যুত্থানের প্রধান নেতা মেজর ফারুক ও মেজর রশীদ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট আমার কাছে বারবার শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্যদের হত্যায় বিদেশি প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। মনে হলো, নারীদের ও শেখ মুজিবের অল্পবয়সী সন্তানকে হত্যার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তারা আসলেই উদ্বিগ্ন ছিল। শেখ পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত না ভুল করে ঘটা, তখনো আমার কাছে তা স্পষ্ট ছিল না। মোশতাকের পছন্দের এক ধরনের ব্যাখ্যা আছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দৈবক্রমে ঘটেছে বলে এসবকে তিনি জায়েজও করতে চেয়েছেন। তাদের দাবি, তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত জিম্মি করে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দেহরক্ষীদের প্রচণ্ড সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা গুলি করতে বাধ্য হয় এবং এভাবে ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হন।
যে আলোকচিত্রী পরবর্তী সময়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি আমাকে বলেছেন, তাঁদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর পুরো পরিবারকে নির্মূল করা। ফারুক ও রশীদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন সেনারাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের কিছুই জানানো হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করার জন্য দলে দলে ভাগ করে ছড়িয়ে দেওয়ার আগে ফারুক সেনাদের উদ্দেশে বক্তৃতায় বলে, শেখ মুজিবের সরকার ভারতের সঙ্গে মিলে দেশকে হিন্দু কর্তৃত্বাধীন করবে, তাই বাংলাদেশে ইসলামকে রক্ষা করতে হবে। এখন যদি তারা আক্রমণ না করে তবে বাংলাদেশ হিন্দুদের দ্বারা শাসিত হবে। এই বিপর্যয় ঠেকাতে তিনি জওয়ানদের ইসলামের নামে সচেষ্ট হতে বলেন। তার মতে, সেনারা দ্বিধাহীনভাবে হাত উঁচু করে আক্রমণে যোগ দিতে সম্মতি জানায়।
সেনাদের মনোভাব বিষয়ে নিঃসন্দেহে আগে থেকেই গোয়েন্দা জরিপ করা ছিল। ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর জনগণের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা দেয়। ভুট্টোর সফরের পর পাকিস্তানপন্থী অনুভূতি আশঙ্কাজনকভাবে ফিরে আসতে থাকে। তখন পাকিস্তানের সামরিক চক্র একাত্তরের পরাজয়ের লজ্জার প্রতিশোধ নিতে চাইল। একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর শেখ মনির উত্থান দেখে মার্কিনিরা খুবই ক্ষিপ্ত হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে শেখ মুজিবের ওপর বেশ প্রভাব ছিল শেখ মনির। শেখ মনি ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি বিশ্বস্ত। দক্ষিণ ভিয়েতনামের পতনের পর বাংলাদেশে মার্কিনবিরোধী মনোভাবকে সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত গভীর শঙ্কার সঙ্গে দেখেন। এ থেকে বোঝা যায়, মার্কিন মিশন অভ্যুত্থানের আগাম ধারণা পেলেও কেন তা বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি জানাতে চায়নি। ল্যাটিন আমেরিকা ও অন্যান্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় সিআইএ ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মূল্যায়ন করেন যে, এ দেশে বাকশালবিরোধী মনোভাবের তীব্রতা শেখ মুজিবের শাসনের অবসানকে অভিনন্দন জানানো হবে। তবে কখনোই জানা যাবে না যে, সরকার উচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে—এমন কথা তাঁরা জানতেন কি না। অন্যদিকে আসন্ন অভ্যুত্থান সম্পর্কে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা জানত না, এটা অবিশ্বাস্য।
অভ্যুত্থানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভুট্টো নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিতে সৌদি আরব ও চীনকে তারবার্তা পাঠান। স্টেনলি ওলপোর্টের মতে, ‘ভুট্টো দুই বছর ধরে কয়েকটি মুজিববিরোধী দলের কাছে গোপন তহবিল পাঠিয়েছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের আগস্ট শেষ হওয়ার আগেই সেই তার সেই বিনিয়োগ বিপুলভাবে লাভের মুখ দেখে।’
মাহবুবুল আলম চাষীর সঙ্গে আমার প্রথম বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন সরকারের কাছে (পাকিস্তানের কাছ থেকে) সম্পদ ফেরত আনা ও বিহারিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যস্থতার ফলে এসব বিষয়ে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন সম্পর্কে আমি তাঁকে অবহিত করি। আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবকে আমাদের পক্ষে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলাম। নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ভুট্টোর ত্বরিত তারবার্তা ইঙ্গিত দেয় খন্দকার মোশতাক, মাহবুব আলম চাষী, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও সামরিক জান্তার ওপর ভুট্টোর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল। খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবন থেকে সরাসরি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চেয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বিলম্বের জন্য অন্যদের সামনে আমাকে ভর্ত্সনা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আপনাকে নষ্ট করেছে।’ কিন্তু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, খন্দকার মোশতাক পেশাদারি দক্ষতার মূল্য দিতেন। আর এ জন্যই তাঁর সঙ্গে আমার বড় ধরনের মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি আমাকে পদে বহাল রেখেছিলেন। পীর মুহসিনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র) নামের এক ব্যক্তিকে খন্দকার মোশতাক লন্ডন হয়ে পাকিস্তানে প্রেরণ করেন। সেই সময় আমি জানতাম না যে তিনি খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে যাচ্ছেন। বিহারি প্রত্যাবাসন ও সম্পদের সন্তোষজনক সমাধান পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সঙ্গে জড়িত করা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিতবাহী এক তারবার্তা আমি নিউইয়র্কে আমাদের মিশনে পাঠাই। আমাদের মিশন থেকে ত্বরিত উত্তর আসে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আজিজ আহমেদ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মধ্যকার সভায় জানানো হয়, খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করার সময় বাংলাদেশ এই দুই শর্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমাদের সবার কাছে এটি ছিল এক প্রচণ্ড ধাক্কা।
ফারুক ও রশীদ বঙ্গভবনে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। কিন্তু অন্যদিকে সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তখনই তাঁদের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট মনে হলো উভয়পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন ঘটতে পারে। আর তা যদি ঘটত তাহলে ফারুক ও রশীদ হারিয়ে যেতেন। আমার স্মরণ আছে, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সেনানিবাসের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আমার কাছে জানতে চান। জেনারেল ওসমানী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করেন। সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে আর কোনো রক্তপাত ঘটুক তিনি তার দৃঢ় বিরোধিতা করেন। জেনারেল ওসমানী মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতেও রাজি হন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত তাঁর জানার কথা, কিন্তু শিগগিরই আমি দেখলাম তা হচ্ছে না। এই অভ্যুত্থানের দুই-তিন দিনের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আমাকে বললেন, জেনারেল সফিউল্লাহ ও এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের জন্য দুটি রাষ্ট্রদূত মর্যাদার নিয়োগের স্থান খুঁজে বের করতে। জেনারেল ওসমানী পরে জানতে পারেন যে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হবে। ফারুক ও রশীদ পাকিস্তানে তাঁদের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির প্রহরীদের জন্য ফরাসি ট্যাঙ্ক কেনার জন্য সৌদি আরবের কাছে তহবিল চান। রাষ্ট্রপতির নিজস্ব প্রহরার নামে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের নামে নতুন একটি বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করবে ফারুক ও রশীদ, আর তা সেনাবহিনীর চিফ অব স্টাফের এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। নতুন ট্যাঙ্ক বঙ্গভবন ও দেশের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। সৌদিরা যখন ফ্রান্স থেকে চলতি দরপত্র পেতে চাইল, তখন ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুসন্ধান করেন। এ ক্ষেত্রে জেনারেল ওসমানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরোপুরি অজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আমি প্রায় প্রতিদিন মধ্যরাতে বঙ্গভবনে যেতাম। সেখানে আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল কীভাবে পুরো দেশ একগুচ্ছ তরুণ সেনা কর্মকর্তা দ্বারা চালিত হতো, যারা বন্দুকের জোরে পূর্ণ ক্ষমতা উপভোগ করত এবং বঙ্গভবন ও মোশতাকের সরকারের ওপর জারি রাখত শক্ত নিয়ন্ত্রণ। মেজর ফারুক ও রশীদ যখন সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বে। তার মধ্যেই, ২৪ আগস্ট ১৯৭৫ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন। পাশাপাশি সেদিন খন্দকার মোশতাক চেষ্টা চালান জেনারেল ওসমানীকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করানোর জন্য। একই সময়ে ভারতে প্রশিক্ষণরত ব্রিগেডিয়ার এইচ এম এরশাদকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের জায়গায় তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ফারুক ও রশীদের চাপের কারণেই মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে এরশাদকে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯৭৫-এর শুরুর দিকে ফারুক ও রশীদ সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ কোর্সে ভারতে ছিলেন। এরশাদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি এটি অবিশ্বাস্য। স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, এরশাদ ১৯৭৫ সাল থেকেই ষড়যন্ত্রে শামিল ছিলেন।
(ক্রিটিকাল টাইমস: মেমোয়ার্স অব এ সাউথ এশিয়ান ডিপ্লোম্যাট বই থেকে নেওয়া, বইটির প্রকাশকাল ১৯৯৪, প্রকাশক ইউপিএল, ইংরেজি থেকে অনূদিত)
ফখরুদ্দিন আহমেদ (১৯৩১-২০০১): সাবেক কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রসচিব। ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস-অভিনন্দন বাংলাদেশের এই কৃতী সন্তানকে
গরিবের ব্যাংকার হিসেবে বিশ্বে নন্দিত মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও জগদ্বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, মার্কিন রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি এডওয়ার্ড কেনেডি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেকের প্রতীক ধর্মযাজক নোবেল বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুসহ বিশ্বের ১৬ জন ব্যক্তিত্ব এ বছর ফ্রিডম অব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আমাদের ঘরের ছেলে মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি তাঁদেরও জানাই অভিনন্দন।
বিনম্র, একনিষ্ঠ সাধক মুহাম্মদ ইউনূস নীরবে কাজ করে যেতেই পছন্দ করেন। ৩৩ বছর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকালে তিনি সামান্য পুঁজি নিয়ে ‘গরিবের অর্থনীতি’র যে ক্ষীণ ধারার সূচনা করেছিলেন, তা যেন একের পর এক ডালপালা মেলে সারা বিশ্বকে জানান দিচ্ছে। এই পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছেন এক অবিস্মরণীয় গৌরব ও সম্মান। মেডেল অব ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড লাভের পর মুহাম্মদ ইউনূস তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যথার্থই বলেছেন, ‘এ সম্মানপ্রাপ্তি শুধু আমার নিজের জন্য নয়, এটা দেশের জন্য সম্মানজনক বলে মনে করছি।’
বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ আমরা কালেভদ্রে পাই। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা আর দুর্যোগকবলিত দেশ হিসেবে পরিচিত। সেই পরিচয়ের বৃত্ত থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে যে কজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। আমরা তাঁর কর্মময় দীর্ঘজীবন কামনা করছি। জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় মিটবে না
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উত্থান যতটা বীরত্বপূর্ণ, মৃত্যু ততটাই মর্মান্তিক। ঘাতকেরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে যে বর্বরতার প্রমাণ দিয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসেও বিরল। মুহূর্তে দেশ হয়েছিল নেতৃত্বহীন আর রাষ্ট্র হয়েছিল পথচ্যুত। তবে এটাও সত্য যে জননায়ক হিসেবে তাঁর প্রশ্নহীন সফলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি কতটা সফল ছিলেন, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা সামাল দেওয়ার কর্মধারা এবং বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তা সত্ত্বেও ভুলে গেলে চলবে না যে তিনি কেবল একটি রাষ্ট্রের স্থপতিই নন, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের আদর্শিক ও রাজনৈতিক প্রেরণাও। সুতরাং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ নামের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর যে নাড়ির বন্ধন মহাকালের জন্য প্রতিষ্ঠিত, তা অস্বীকার করা যাবে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যথাযোগ্য স্বীকৃতিদান এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার ৩৪ বছর ধরে ঝুলে থেকেছে। লজ্জাকরভাবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে খুনিদের রক্ষার চেষ্টাও আমরা দেখেছি। অবশেষে সেই কালো আইনের রাহুগ্রাস থেকে সংবিধান ও দেশ রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু বিচার সম্পন্ন হলেও রায় চূড়ান্ত করে আদেশ কার্যকর করায় দুঃখজনক বিলম্ব দেখা যাচ্ছে। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিশ্চিতকরণ বেঞ্চ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন; কিন্তু আজও সেই রায় বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার বদলের পর বিচারকাজেও শিথিলতা এসে পড়ে। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন প্রতিক্রিয়াশীল জোট সরকারের উদ্যোগহীনতার কারণে মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকে। বিচারকদের বেঞ্চগঠনে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে বিচারপ্রক্রিয়াকে স্থবির করে দেওয়া হয়। তবে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পাঁচ আসামির আপিলের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজনেরই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।
১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়া এখন জাতীয় দায়। নতুন বিচারক নিয়োগের পর এখন আবার নতুন করে শুনানি শুরু হওয়ার পথে। আমরা আশা করব, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের উদ্যোগে দ্রুতই পুরো প্রক্রিয়া নিষ্পন্ন হবে এবং মিটবে জাতীয় দায়।
মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দলীয় নন, জাতীয়; তিনি আর ব্যক্তি নন, ইতিহাসের নায়ক। ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ব্যাধি আকারে ফিরে ফিরে আসতে থাকে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচারের ধারাবাহিকতায় জেলহত্যাসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন না হলে সেই ব্যাধির বীজ রয়েই যাবে। সে দিকেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
আজ এই শোকাবহ দিনে বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও একই ঘটনায় নিহত সবার আত্মার শান্তি কামনা ও শোকার্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
-
▼
2009
(2847)
-
▼
August
(319)
-
▼
Aug 16
(11)
- ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্...
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় ...
- অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহ দ্রুত গলছে
- ভয়াবহ খরার মুখে ভারত by দীপাঞ্জন রায় চৌধুরী
- এবার ফেল্প্স
- বাংলাদেশ-লজ্জার বলি- ডাইসন
- প্রেসবক্সেই যত ক্রিকেট উত্তেজনা by তারেক মাহমুদ
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু লেখা একদিকে অত্যন্ত সহজ, অন্...
- ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি ও তাণ্ডব এবং তারপর by ফখরুদ্...
- জয়তু মুহাম্মদ ইউনূস-অভিনন্দন বাংলাদেশের এই কৃতী সন...
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের রায় কার্যকর ছাড়া জাতীয় দায় ...
-
▼
Aug 16
(11)
-
▼
August
(319)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

