Friday, August 23, 2019

ধ্বংসস্তুপ থেকে জেগে উঠছে আফগানিস্তানের দারুলআমান প্রাসাদ

কাবুলের অতিকায় এক প্রাসাদের ভেতরে একদল ঝালাই কর্মী দ্রুত অভিজাত সিঁড়ির দুই পাশে ধাতব রেলিং লাগাচ্ছিল। বাইরে, বাগানকর্মীরা মাটিতে পানি দিচ্ছিল, যাতে দ্রুত সেখানে ঘাস জন্মায়।

এক সময়ের ধ্বংসপ্রাপ্ত দারুলআমান প্রাসাদের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য মাত্র আর কয়েকদিন সময় হাতে আছে তাদের। আফগান স্থাপত্যের একটা আকর্ষণীয় শো-পিস এই প্রাসাদ যেটা বহু দশকের যুদ্ধের সময় দেশের বিপর্যস্ত অবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন ঝুলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে একটা চুক্তির বিষয় নিয়ে যখন অপেক্ষা চলছে, এ অবস্থায় সামান্য সময়ের জন্য হলেও অতীতকে উদযাপন করতে চায় যুদ্ধবিধ্বস্ত এই জাতি আর এই উদযাপনের কেন্দ্রে থাকবে দারুলআমান প্রাসাদ।

১৯ আগস্টের মধ্যেই প্রাসাদের কাজ শেষ করতে হবে। ১০০ বছর আগে এই দিনেই ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয়েছিল আফগানিস্তান। এ দিন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি নতুন মেরামতকৃত ভবনের উদ্বোধন করবেন।

দারুলআমান শব্দের অর্থ ‘শান্তির আবাস’। শেষ পর্যন্ত এখানে কি কাজ করা হবে সেটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও, এর একটা অংশকে যাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ভবনটির অবস্থান একটি পাহাড়ের উপর, যেখান থেকে কাবুলকে চমৎকারভাবে দেখা যায়। সর্বসাম্প্রতিককালে প্রাসাদটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। ছাদগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। দেয়ালগুলো ভেঙ্গে পড়েছিল এবং গুলির আঘাতে জর্জরিত হয়ে ছিল। এবং এককালের অসামান্য নিও-ক্লাসিক্যাল বহিরাবরণ গ্রাফিতিতে ঢাকা পড়েছিল আর ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।

কিন্তু ২০১৬ সালে ঘানি এই প্রাসাদের পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেন। ডিজাইন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের মার্চে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাভিদ হাম্মাদ বলেন, দারুলআমানের পুনর্নির্মাণটা আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই কাজটা বহু সঙ্ঘাতের পর একটা নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

১০.৫ মিলিয়ন ডলারের এই মেরামত কাজ কাবুলের জনশক্তির জন্য একটা আশীর্বাদ হয়ে আসে। ভবনের কক্ষগুলোর জন্য সিডার গাছের সিলিং এসেছে পশ্চিমের কুনার প্রদেশ থেকে। আর মেঝের মার্বেল পাথর এসেছে পশ্চিমের শহর হেরাত থেকে। এর অর্থ হলো পুরো দেশেই এটাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা বেড়েছে।

কিন্তু প্রাসাদটিতে আগের ঐশ্বর্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় সবাই একই রকম খুশি নয়। বিশ্বের দরিদ্রতম একটা দেশে অর্থগুলো অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যেতো বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় দোকানদার আলী বললেন, “দারুলআমান প্রাসাদ পুনর্নির্মাণ করা ভালো। কিন্তু অর্থগুলো মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানো যেতো”।

কাবুলের আরেক বাসিন্দা গুলাম মোহাম্মদ বললেন ভাঙাচোরা প্রাসাদটিকে সেভাবেই ফেলে রাখা উচিত ছিল, যাতে সেটা দেখে আফগানিস্তানের সমস্যাশঙ্কুল অতীতের ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়।

মোহাম্মদ বলেন, “একই রকম রাখলে ভালো হতো। মানুষ স্মরণ করতো যে যুদ্ধ কত ভয়াবহ। পুনর্নির্মাণের আগে, প্রাসাদটা সুন্দর ছিল”।

১৯১৯ সালের ১৯ আগস্ট লন্ডন আর কাবুলের মধ্যে ইঙ্গ-আফগান চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ব্রিটেন আফগানিস্তানের স্বাধীনতাকে মেনে নিয়েছিল এবং এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ব্রিটিশ ভারত পশ্চিমে খাইবার পাসের পরে আর সম্প্রসারিত হবে না।

বিশের দশকের শুরুর দিকে রাজা আমানুল্লাহ খানের জন্য এই প্রাসাদটির ডিজাইন করেছিলেন জার্মান প্রকৌশলীরা। প্রাসাদটি মূলত আফগানিস্তানের নতুন পার্লামেন্ট হিসেবে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে রাজনীতির পট পরিবর্তনের কারণে এটা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। বেশ কিছু মন্ত্রণালয়ের অফিস ছিল এখানে। সেই সাথে একটি মেডিকেল স্কুল ও যাদুঘরও গড়ে তোলা হয় এখানে।

১৯৬৪ সালে ভবনে একবার আগুন লেগেছিল। এর পর থেকে অব্যাহতভাবে আফগানিস্তানের সঙ্ঘাতের সাক্ষী হয়ে আছে এই প্রাসাদ।

প্রটোকলের অযুহাতে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি নেপালের দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

পুস্প কমল দহল ও মাধব কুমার নেপাল (ডানে)
নেপালের ক্ষমতাসীন সিপিএন দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুস্প কমল দহল এবং মাধব কুমার নেপাল ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে তার হোটেলে গিয়ে সাক্ষাত করতে অস্বীকার করেছেন। প্রটোকলের কথা বলে তারা এই সফর প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও অন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং বাবুরাম ভাট্টারায় ভারতীয় মন্ত্রীর সাথে দেখা করবে দোয়ারিকার হোটেলে গিয়েছিলেন।

দুই দিনের সফরে বুধবার নেপাল পৌঁছান জয়শঙ্কর। তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় তার হোটেলে সাক্ষাতের জন্য দহলকে এর পরপরই নেপালকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

দহল তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে যাওয়া কূটনৈতিক রীতির মধ্যে পড়ে না। নেপালও একই কারণে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা অবশ্য দুপুরে হোটেলে গিয়ে ভারতীয় মন্ত্রীর সাথে দেখা করেন। মে মাসের শেষের দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন জয়শঙ্করকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ দেন, তখন তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন দেউবা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সোশালিস্ট পার্টি নেপালের চেয়ারম্যান ভাট্টারায় ভারতীয় মন্ত্রীর সাথে এক বিকেলে দেখা করেছেন। ভাট্টারায় তার দলের অন্য চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী উপেন্দ্র যাদবকেও সাথে নিয়েছিলেন।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদিপ কুমার গিয়াওয়ালির আমন্ত্রণে নেপাল-ভারত জয়েন্ট কমিশনের বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য নেপাল সফরে গেছেন জয়শঙ্কর। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সাথে তার বাসভবনে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে তিনি সেখানে রাজনৈতিক বৈঠক শুরু করেন।

মন্ত্রী হিসেবে জয়শঙ্করের এটা প্রথম নেপাল সফর। নেপালের বিরুদ্ধে ভারত যখন অবরোধ আরোপ করেছিল, তখন পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালের নতুন সংবিধান গ্রহণের আগ দিয়ে নেপাল সফর করেছিলেন তৎকালিন পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর। তিনি নেপালি নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যাতে তারা নতুন সংবিধান গ্রহণ না করেন এবং সেখানে মাধেসিদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তার পরামর্শের প্রতি নেপালি নেতাদের অস্বীকৃতিতে তিনি স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং মনে করা হয় নেপাল সংবিধান গ্রহণের পর তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের জন্য তিনিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজি করিয়েছিলেন।

জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে সংহিত জানাতে এক মঞ্চে ভারতের বিরোধী দলগুলো

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সরকারের দমন অভিযানের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। তারা অবিলম্বে হিমালয়ান অঞ্চলটির রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে।

৫ আগস্ট হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার মুসলিম সংখ্যাগুরু কাশ্মীর রাজ্যের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করার প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলো বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন কর। কাশ্মীরে সরকার ব্যাপক দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মর্যাদা বাতিলের পর থেকে রাজ্যটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

কাশ্মীরকে সীমিত স্বায়ত্তশাসন দিয়ে সংবিধানের ৩৭০ নং ধারা বাতিলের আগে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। কার্ফু জারি, টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন এবং রাজনৈতিক নেতাদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হয়।

তামিল নাড়ু রাজ্যের আঞ্চলিক দল দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাঘাম আয়োজিত দিল্লির প্রতিবাদ সভায় বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভায় ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তার আদর্শিক গুরু আরএসএ যখন ৩৭০ বাতিল উযযাপন করছে তখনো বেশিরভাগ মানুষ জানে না এই ধারায় কি বলা হয়েছে।

হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী সংগঠন আরএএস চায় ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরএসএসের আজীবন সদস্য।

পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের সদস্য আজাদ বলেন, কয়েকটি টেলিফোন লাইনে সংযোগ দিয়ে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে বলছে যে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়েছে। শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ল্যান্ড ফোন রয়েছে। শুধু কর্মকর্তারাই কি এই ফোন ব্যবহার করে? কাশ্মীর পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

অঘোষিত জরুরি অবস্থা

সমাবেশে উপস্থিত প্রতিবাদকারীরা জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে স্লোগান দেয়। এবং বলে ‘জোরসে বলো, আমরা সবাই এক’।

বিরোধী দলগুলো কাশ্মীরে অঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে মূল ধারার সকল রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের মুক্তি দাবি করে।

গ্রেফতার হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার সদস্য ফারুক আব্দুল্লাহ, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি এবং আমলা থেকে রাজনীতিকে পরিনত হওয়া শাহ ফয়সাল। এছাড়া আরো হাজার হাজার কাশ্মীরীকে আটক করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বৃহস্পতিবারের আয়োজনের এজেন্ডা হলো রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও রাজ্যটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।

তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের নেতারা কি করেছে যে তাদেরকে জেলখানায় রাখতে হবে? এই প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের রয়েছে। তারা কোন অপরাধ করলে আইন মতো শাস্তি দিন। অন্তত তাদের অপরাধগুলো আমাদের জানান।

অল ইন্ডিয়া ডেমক্রেটিক উইমেন্স এসোসিয়েশনের সদস্য ও সমাজকর্মী মাইমুনা মোল্লাও একই কথা বলেন। নেতারা কেন জেলাখানায় – এটা আমাদের সবার প্রশ্ন। সরকারের কাছে এর কোন জবাব না থাকলে তার মানে সেখানে সন্দেহ করার কিছু রয়েছে।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন

সমাবেশে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ডি রাজা বলেন, মোদি আরএসএসের এজেন্ডা ফলো করে দেশের ক্ষতি করছেন। আমরা জম্মু-কাশ্মীরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছি, তাদেরকে খাঁচায় পুরে তাদের নেতাদের আটকে রেখেছি। রাজ্যের সাবেক মূখ্যমন্ত্রীদেরই যদি সমস্যায় পড়তে হয় তাহলে সেখানকার সাধারণ মানুষের কি অবস্থা তা সহজেই বুঝা যায়।

বিজেপি অবশ্য বলছে যে কাশ্মীরের জনগণের কল্যাণ চিন্তা করেই নেতাদের আটকে রাখা হয়েছে।

দিল্লির সমাবেশে প্রচুর কাশ্মীরী ছাত্র-ছাত্রী যোগ দেয়। তারা তাদের রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। সমাবেশে শুধু আটক নেতাদের উপর জোর দেয়াতেও বিরক্তি প্রকাশ করে তারা।
কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে ভারতের বিরোধী দলগুলো
>>>হান্নান জাফর ও বারবারা নাইকো

বিশেষ কিছু: নরেন্দ্র মোদির ভুটার সফর

ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে দুই দিনের যে সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সেটা ভারত ও ভুটানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের একটা অংশ, যেখানে দুই দেশের নেতারাই তাদের মেয়াদের শুরুর দিকে একে অন্যের দেশ সফরকে অন্যতম অগ্রাধিকার জ্ঞান করে থাকেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছিলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিং; তার পাল্টা সফরে গেলেন মোদি। আসলে ৭২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাংদেচ্ছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি উদ্বোধনের বিষয়টি চিন্তা করে সফরের সময় পেছানো হয়েছিল। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠতার ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যেটা আজকের পৃথিবীতে বিরল। সীমান্ত উন্মুক্ত, পররাষ্ট্রনীতিতে দুই দেশ পরস্পরের কাছাকাছি এবং আলোচনার ভিত্তিতে পরিচালিত, এবং সকল কৌশলগত ইস্যুতে নিয়মিত খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রয়েছে, যেটা এই সম্পর্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং যেটা বিগত বহু দশক ধরে বজায় রয়েছে। কৌশলগত ইস্যুতে ভারতকে সর্বোতভাবে সহায়তা করায় সেটা আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও জাতিসংঘে ভারতের জন্য বিরাট অর্জনের কারণ হয়েছে। একইভাবে, ভারতের জন্য যেগুলো হুমকি, সেগুলোর বিরোধিতা করার ব্যাপারে ভুটানের নেতৃবৃন্দ কখনও পিছু হটেননি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৩ সালে সাবেক রাজা উলফা বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন; আবার সম্প্রতি দোকলাম উপত্যকায় চীনা সেনাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে ভুটান। ভুটানের পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য ভারতের সহায়তা, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উচ্চ রাজস্ব আয়ের জন্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করে দিয়ে এরপর সেই বিদ্যুৎ আবার কিনে নেয়ার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে একটা পারস্পরিক উপকারের ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যেটা দুই দেশের নেতারাই লালন করে এসেছেন এবং এটাকে মি মোদি ‘উদাহরণ সৃষ্টিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে, ভুটানের সাথে এই সম্পর্কটাকে নিজেদের প্রাপ্য হিসেবে নিলে ভুল করবে নয়াদিল্লী। বিগত কয়েক বছরে, ভারত তাদের বিদ্যুৎ ক্রয় নীতিতে হঠাৎ করে পরিবর্তন আনায়, এবং তাদের অনমনীয় মূল্য এবং ভুটানকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হতে না দেয়ায়, এবং বাংলাদেশের মতো তৃতীয় দেশের সাথে বাণিজ্য করতে না দেয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। এই ইস্যুগুলোকে এখন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। আরেকটি উদ্বেগ যেটি মতপার্থক্য তৈরি করতে পারে, সেটা হলো – ভারতের সাথে অতি বেশি বাণিজ্য, পরিবহন এবং পর্যটনের কারণে ভুটানের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল গ্রুপের অধীনে ভুটানে মোটর ভেহিকল এগ্রিমেন্ট (এমভিএ) বাস্তবায়নের যে পরিকল্পনা ভারতের রয়েছে, সেটা ভুটান স্থগিত রেখেছে। একই সাথে ভারতীয় পর্যটকদের ভুটানে প্রবেশের জন্য যে শুল্কের প্রস্তাব ভুটান দিয়েছে, সেটাও দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য বাড়াতে পারে। ভুটানের শিক্ষার্থীদের আগের প্রজন্ম ভারতের বাইরে কোথায় তাকায়নি, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ ভুটানিজরা শিক্ষার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এ কারণে সম্পর্কে মেরামতের অনেক কিছু রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো নয়াদিল্লীকে কৌশলগত অন্যান্য শক্তি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে যারা ভুটানকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে যেটা ফুটে উঠেছে। বিশ্বে যেখানে অসংখ্য উপায় প্রতিনিয়ত খুলে যাচ্ছে, সেখানে ভারত ও ভুটানের জন্য ভালো হবে যদি তারা একে অন্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলে।

কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের উপর তাজা গুলি বর্ষণে’র অভিযোগ জাতিসংঘ টিমের

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) বৃহস্পতিবার বলেছে যে, কাশ্মীরে ‘তথ্য ব্লাকআউট’ ওই অঞ্চলের জনগণকে সম্মিলিতভাবে শাস্তি প্রদানের শামিল।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাটি বলে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং কাশ্মীরী জনগণের মৌলিক অধিকার নাকচ করে দিয়ে ভারত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোন যৌক্তিকতা ছাড়াই সরকার ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ নেটাওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে যা প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার মৌলিক রীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই ব্লাক আউট জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের জন্য সম্মিলিত শাস্তির শামিল। তাদের বিরুদ্ধে এমনকি কোন অপরাধে জড়িত হওয়ার অজুহাতও নেই।

জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে জাতিসংঘ সংস্থাটির কাছে খবর আসছে বলে তারা জানায়।

বিভিন্ন বাসাবাড়িতে রাতের বেলা হানা দিয়ে তরুণদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউএনএইচআরসি।

বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেন যে, কাশ্মীরী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাজা গুলি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জীবনের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ ও র‌্যাপোটিয়ারদের মধ্যে রয়েছেন ডেভিড কায়ে, মাইকেল ফ্রস্ট, বার্নার্ড দুহাইমি, ক্লিমেন্ত নিয়ালেতসোসি ভল ও এ্যাগনেস ক্লামার্দ।

এত পুরনো গাড়িও কেউ চালায় না, মিগ-২১ সম্পর্কে বললেন আইএএফ প্রধান

ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া মঙ্গলবার বলেন, ভারতীয় বিমানবাহিনী এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ জঙ্গি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। অথচ এত পুরানো গাড়িও কেউ চালায় না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও উন্নত এফ-১৬ জেট ব্যবহার করছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হিসাবে চার দশকের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলো এখনও ব্যবহার করে চলেছে ভারত। আর এই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বারবার।

ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও দেশীয়করণ সম্পর্কিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় ওই প্রসঙ্গে বলেন তিনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পাশে বসিয়ে আইএএফ প্রধান বলেন, আমরা এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ বিমান ওড়াচ্ছি, যখন এত পুরনো গাড়িও বাতিল করে দেওয়া হয়।

ধানোয়া আরো বলেন যে, চলতি বছরেই রাশিয়ান ফাইটার জেটের প্রাথমিক সংস্করণটি পর্যায়ক্রমে বাতিল করা শুরু হবে। তিনি বলেন, আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষবারের মতো ওড়ানো হবে এই রাশিয়ান যুদ্ধবিমান।

ভারতীয় উপাদান ব্যবহার করে সংস্কারের কারণে বিমানটি গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল। ধানোয়া বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান ভারতে তৈরি হয়। রাশিয়ানরাও যেখানে মিগ-২১ ওড়াচ্ছে না, সেখানে এই সংস্কারের সুবিধাগুলোর জন্যে এতদিন ধরে এই বিমান সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে।

সেই ১৯৭৩-৭৪ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে মিগ-২১ যোগ হয়।

এমনকি পুলওয়ামা হামলার পরেই উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানকে সফলভাবে তাড়া করতে পেরেছিল একটি আপগ্রেডেড মিগ-২১ বাইসনে সওয়ার হয়েই। ওই ভারতীয় যুদ্ধবিমানটি আরও উন্নত প্রযুক্তির বিমান পাকিস্তানের এফ-১৬কেও গুলি করতে সক্ষম হয়েছিল।

কমপক্ষে ১১০টি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ২০০৬ সালে মিগ-২১ বাইসনে আপগ্রেড করা হয়।

এমনকি বিমানবাহিনী প্রধান ধানোয়াও মিগ-২১ বিমান উড়িয়েছেন। ২০১৭ সালের মে মাসে, তিনি কারগিল যুদ্ধে নিহতদের সম্মানে চারটি বিমানের ‘মিসিং ম্যান’ গঠন করে আকাশ থেকে তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়েছে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। ভারত তার সংগ্রহে থাকা ৮৭২টি মিগ বিমানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়েছে, সম্প্রতি সংসদে তথ্য দিয়ে একথা বলা হয়।

পুরুষ অভিভাবকত্ব বাতিলের প্রথম দিনেই দেশ ছাড়লো সহস্রাধিক সৌদি নারী

পুরুষ অভিভাবকত্ব বাতিলের প্রথম দিনেই দেশ ছেড়েছেন এক হাজারেরও বেশি সৌদি নারী। গত সোমবার কট্টর রক্ষণশীল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের সীমান্ত দিয়ে বিদেশে যাত্রা করেছেন ওই নারীরা। এ খবর দিয়েছে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম আল অ্যারাবিয়া।
এর আগে উদারিকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সৌদি আরবে নারীদের ওপর পুরুষ অভিভাবকত্ব বাতিল করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ফলে ২১ বছরের বেশি যে কেউ এখন কারো অনুমতি ছাড়াই বিদেশ সফর করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত রাজকুমারী রিমা বিন্ত বন্দর বলেন, নারী অধিকারের জন্য নতুন এ পদক্ষেপ ইতিহাস হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, তিনি সৌদি আরবের ইতিহাসের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত। ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার স্বার্থে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান উদারিকরণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
ফলে দেশটি ক্রমাগত মধ্যযুগীয় বিভিন্ন আইন শিথিল করতে শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে গত বছর নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয় সৌদি আরব। এ ছাড়া, দেশটিতে নিয়মিত বিদেশি সংগীত তারকাদের কনসার্ট আয়োজিত হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী চালু হচ্ছে সহস্রাধিক সিনেমা হলও। সমপ্রতি বহুল সমালোচিত নারীদের ওপর পুরুষ অভিভাবকত্ব প্রথার বিলুপ্তি ঘটায় সৌদি আরব। ফলে এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কারো অনুমতি ছাড়াই ভ্রমণ ও দেশ ছাড়ার সুযোগ পাবে। এর পূর্বে বেশ কয়েকজন সৌদি নারী পারিবারিক নানা অত্যাচারের মুখে দেশ থেকে পালালে তা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে পুরুষ অভিভাবকত্ব বাতিলের ফলে এমন দেশত্যাগের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে।

কাশ্মীর প্রশ্নে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ প্রস্তাবের কথা বলল রাশিয়া by দেবিরুপা মিত্র

কাশ্মীর প্রশ্নে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে কিছুটা রহস্য ছিল। ভারতকে রাশিয়া সমর্থন করলেও দিল্লির দীর্ঘ দিন আগে বাতিল করা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের উল্লেখ করায় এই সমর্থন নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বিলোপ ও রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে ভারতীয় ইউনিয়নভুক্ত ভূখণ্ডে পরিণত করার ভারতীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করে। সভাটি রুদ্ধদ্বার হলেও এটিই ছিল ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পর ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্নে’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সভা।

পরিষদের সভাপতি পোল্যান্ডোর জোয়ানা রংনেকা অবশ্য প্রকাশ্যে বিবৃতি দিতে সব সদস্যের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাননি। চীন বৈঠকের একতরফা সিদ্ধান্তের বিপরীতে সাধারণ ইচ্ছার বার্তা প্রকাশ করার অনুরোধ জানায়।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতীয় দূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন তা প্রত্যাখ্যান করেন। কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি জাং উনকে অন্যান্য সদস্যের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখার বিষয়টি অনুমোদন করেনি।

বৈঠকে ভারতের অবস্থান সমর্থন করে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সও কার্যত চীনা প্রস্তাব আটকে দিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়া থেকে বিরত রাখতে সভাপতিকে বলেন।

তবে সভায় রাশিয়ার অবস্থানে পর্যবেক্ষকেরা বেশ দোটানা ভাব দেখেছেন।

রাশিয়ার প্রথম উপ স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলিনস্কি সভাটি শুরুর আগে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ‘দ্বিপক্ষীয় আলোচনা’ চান।

তিনি এক টুইটে আশা প্রকাশ করেন যে কাশ্মীর ইস্যুটি কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে মীমাংসিত হবে। টুইটটি সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

তার দ্বিতীয় টুইটটি তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। তবে তাতে কাশ্মীর প্রশ্নে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি লিখেন, কাশ্মীর বিরোধটি ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণার আলোকে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে মীমাসা করা উচিত। তারপর তিনি জাতিসংঘ সনদ ও সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন।

এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি আরেক টুইটে বলেন, ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই রাশিয়ার বন্ধু ও অংশীদার। রাশিয়ার কোনো ‘গোপন এজেন্ডা’ নেই।

রাশিয়ার কূটনীতিবিদের সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেই নড়চেড়ে বসেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। কারণ জাতিসংঘ প্রস্তাবটি মোটামুটিভাবে পাকিস্তান ও চীনের অবস্থান। শুক্রবার চীনা দূত তার বিবৃতিতে বলেন, কাশ্মীর ইস্যুটি জাতিসংঘ সনদ, জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে অনুযায়ী সুরাহা হওয়া উচিত।

অন্যদিকে ভারত মনে করে ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তির পর ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

রাশিয়া কখনো কাশ্মীরের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কথা বলেনি। ভারতের সাথে তার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণেই তারা ওই অবস্থান গ্রহণ করেছিল। ১৯৫০-এর দশকে সোভিয়েত নেতারা শ্রীনগর সফর করতেন এবং নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অনুকূলে ভেটো দিতেন।

রুশ কূটনীতিকের এই টুইট মস্কোর আগের মন্তব্য থেকে ভিন্ন। ৫ সেপ্টেম্বরের পর মস্কো জানিয়েছিল যে কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

আর ৯ আগস্ট রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারভা মিডিয়ায় এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, কাশ্মীর প্রশ্নে মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলা উচিত দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে। তা হতে পারে ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণার আলোকে। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কথা বলেননি।

একইভাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কোরেশির সাথে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভের টেলিফোন সংলাপের পর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছিল তাতে বলা হয়, মস্কো চায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা হোক। এখানেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ নেই।

এ কারণেই নিউ ইয়র্কে রুশ কূটনীতিক যখন সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাবের কথা বললেন, তখন সবাই চমকে ওঠে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, নিউ ইয়র্কে রাশিয়া আসলে উন্মুক্ত সভা আয়োজনের রুশ প্রস্তাবই সমর্থন করেছে। তবে ভারত সরকার এ ধরনের বৈঠকের ঘোর বিরোধী।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়া তাদের পক্ষে কথা বলেছে।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সম্পর্ক উষ্ণ থাকলেও তারা একে অপরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করছে। কারণ উভয় দেশই নতুন নতুন বন্ধু সংগ্রহের অভিযানে নেমেছে।

মস্কোর অভিযোগ হলো, ভারত খুব বেশি করে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। আর পাশ্চাত্য রাশিয়াকে টার্গেট করায় অস্বস্তিতে আছে ভারত। বিশেষ করে চীনকে রাশিয়ার ব্যাপকভাবে গ্রহণ করাটা ভারত ভালোভাবে দেখছে না।

চলতি বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফর করার কথা। সেখানে তার প্রধান অতিথি হিসেবে ইস্টার্ন ইকোনমিক সামিটে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আবার মার্কিন অবরোধের হুমকির মুখেও রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে ভারত। আরো কিছু প্রতিরক্ষা চুক্তিও আছে হাতের নাগালে।

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিবিড় থাকলেও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তা তেমনভাবে নেই।

ভারতের এক কর্মকর্তা বলেন, পাশ্চাত্যের সাথে বিরোধের কারণেই জৈশ-ই-মোহাম্মদের মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘ কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো ইস্যুতে ভারতের পক্ষে নেই রাশিয়া। তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন, জাতিসংঘের সত্যিকারের ভোট প্রক্রিয়ায় ভারতের পক্ষেই থাকবে রাশিয়া।

আবার আফগান শান্তি প্রতিষ্ঠার ইস্যুতে ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে রাশিয়া।

এই প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের গিলগিট-বাল্টিস্তানে একটি দ্বিপক্ষীয় সামরিক মহড়ার খবর দেয় রাশিয়া।

কিন্তু ভারত জানায়, তারা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের অংশ মনে করে। কিন্তু ভারত পছন্দ না করলেও এর পর থেকে খাইবার-পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তানের সাথে দ্বিপক্ষীয় মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

ভারতের চাবাহার দিয়ে মার্কিন অবরোধ এড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই: মার্কিন কূটনীতিক

চাবাহার বন্দর দিয়ে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ভারত এড়িয়ে যাচ্ছে, এমন কোনো প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। শীর্ষ এক মার্কিন কূটনীতি মঙ্গলবার জানিয়েছেন।

ভারত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। গত মে মাসে আটটি দেশকে দেয়া ছাড় শেষ হওয়ার পর ভারত আশা করেছিল যে মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের চাবাহার বন্দর উন্নয়নে তার অংশীদারিত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ফরেন প্রেস সেন্টারে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্রায়ান হুক বলেন, মার্কিন অবরোধ ভারত লঙ্ঘন করছে, এমন কোনো প্রমাণ তাদের হাতে নেই।

চাবাহার দিয়ে মার্কিন অবরোধ ভারত লঙ্ঘন করছে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে বাণিজ্যের জন্য ইরানি বন্দরটির উন্নয়ন করছে ভারত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৫ সালের ইরান ও কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের মধ্যকার পরমাণু চুক্তিটি বাতিল করে ইরানের ওপর নানা ধরনের অবরোধ আরোপ করেছেন।

তবে আটটি দেশকে তিনি ছয় মাসের ছাড় দিয়েছিলেন। এগুলো হচ্ছে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, তুরস্ক, ইতালি ও গ্রিস। তখন শর্ত ছিল একটিই। তা হলো ইরান থেকে তেল আমদানি হ্রাস করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিলে ছাড় নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

চীনের পর ভারতই ছিল ইরানি তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। ভারত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ইরান থেকে ২২.৬ মিলিয়ন টন (৪৫২,০০০ ব্যারেল দিনে) তেল আমদানি করেছিল। তা এখন কমে হয়েছে বছরে ১৫ মিলিয়ন টন (দিনে ৩০০,০০০ ব্যারেল)।

দুই বছরেও অনিরাপদ রাখাইন বিচার হয়নি জড়িতদের -অ্যামনেস্টির রিপোর্ট

রাখাইন রাজ্যকে এখনো অনিরাপদ বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো নৃশংসতার দু’বছর হতে চলেছে, অথচ এর জন্য যারা দায়ী তারা এখনো বিচারের হাত থেকে দূরে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। আগামী রোববার রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনার দু’বছর পূর্ণ হচ্ছে। তাদের ওই অভিযানে নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচতে নারী, পুরুষ ও শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার। জাতিসংঘের তদন্তকারী দল ওই নৃশংসতার তদন্তে বলেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে। গণহত্যা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষোভ ও জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদ মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে বিচারের প্রস্তাব উত্থাপন করলেও এখনো ওইসব জেনারেল তাদের পদে বহাল আছেন।
তারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলাকে তত্ত্বাবধান করেছেন। রাখাইনের আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতের পর কীভাবে নতুন করে সেখানে যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে সেনাবাহিনী তা প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস বিকুয়েলিন বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবর্তনের জন্য যে পদক্ষেপ সম্প্রতি নিয়েছে, তাতে আশ্রয়শিবিরের শরণার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হত্যা, ধর্ষণ ও গ্রামের পর গ্রাম আগুন জ্বালিয়ে দেয়ার স্মৃতি এখনো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে ভাস্বর। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এতটাই শক্তিধর ও অনুতাপহীন যে, রাখাইনে যে কারো ফিরে যাওয়া এখনো অনিরাপদ। এই ভয়াবহ বার্ষিকী এটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে দাঁড়াতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ। তারা ব্যর্থ ওই গণ নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে। জরুরিভিত্তিতে মিয়ানমার পরিস্থিতিকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানো উচিত নিরাপত্তা পরিষদের এবং দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর ডানা মেললো ‘গাঙচিল’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর বিকালে আবুধাবির উদ্দেশ্যে ডানা মেলে ‘গাঙচিল’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই। তাই এখন থেকে আমরা নিজেদের অর্থ দিয়ে বিমান ক্রয় করবো। বিমান নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন  করব। তিনি বলেন, ধার করে আর বিমান কেনা হবে না। আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নিয়ে উড়োজাহাজ কেনা হলেও এখন থেকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজস্ব অর্থ ঋণের মাধ্যমে বিমান কেনা হবে। আমি চাচ্ছি দুটি কার্গো বিমান নেয়ার জন্য।
আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কার্গো বিমান আমরা কিনবো। গাঙচিল উদ্বোধনের পর উড়োজাহাজটি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি সবাইকে বলবো আন্তরিকতা নিয়ে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা এটি পরিচালনা করবেন। কারণ হচ্ছে আজ দেশ যদি উন্নত হয়, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়, দেশের উন্নতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সবাই সুন্দর জীবন পাবেন, সুখীভাবে চলতে পারবেন। বিমানের সুনাম বাড়াতে আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি বিমানের সুনাম বৃদ্ধি, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং যে বিমানগুলো আমরা এনে দিচ্ছি সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হবে। যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, এটা সবার দায়িত্ব। কারণ এটা নিজের দেশের ও নিজস্ব সম্পদ। সে কথা মনে রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে। বিমানের রুট বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বোয়িং থেকে আমাদের নবম প্লেন এলো। আরেকটা এলে ১০টি হবে। কাজেই বোয়িং থেকে আমরা ১০টি বিমান কিনলাম। তবে এখনও আমরা আমেরিকা যেতে পারছি না। আশা করি খুব শিগগির এই সমস্যার সমাধান হবে। যে বিমানগুলো কেনা হয়েছে, এগুলো সরাসরি আমেরিকা যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আমরা চেষ্টা করছি লন্ডনে আরও স্লট বৃদ্ধি করতে। এছাড়া অন্যান্য দেশেও চেষ্টা করছি। যাত্রীসেবা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক রক্ত দিয়ে গেছেন। তার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। ২৯টি বছর হারিয়ে গেছে এটা দুর্ভাগ্যের। এই সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা উন্নয়ন করেনি, করতেও চায়নি। কারণ যারা ছিল তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতো না। অনুষ্ঠানে বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারহাত হাসান জামিল বলেন, বিকালে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আবুধাবি যাওয়ার মধ্য দিয়ে এ উড়োজাহাজের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে। বিমানের চতুর্থ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রাজহংস আসবে ১২ সেপ্টেম্বর। এর আগে গত ২৫ জুলাই দেশে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’। কোনোরকম যাত্রাবিরতি ছাড়াই সিয়াটল থেকে সরাসরি ঢাকায় এসে অবতরণ করে বিমানটি। এর মধ্য দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টিতে। ১২ সেপ্টেম্বর ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার রাজহংস যোগ হলে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ১৬। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ। বিমান বহরে থাকা ১৫টি উড়োজাহজের মধ্যে ৯টি বিমানের নিজস্ব। বাকি উড়োজাহাজগুলো বিভিন্ন মেয়াদে লিজে সংগ্রহ করা। বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজের নামকরণ করা হয়েছে। ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের নাম রাখা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দে। গতকালের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী  মাহবুব আলী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ ইনামুল বারী, বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারহাত হাসান জামিল, পরিচালক (প্রকৌশল) খন্দকার সাজ্জাদুর রহিম, পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দীন আহমেদ, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ভিনীত সুদ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক আবু সাইদ মেহবুব খানসহ বিমান ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের অন্য কর্মকর্তারা।

যারা প্ররোচনা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়াকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একেএম আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত না যাওয়ার জন্য যারা প্ররোচনা দিয়েছে, যারা ইংরেজিতে পোস্টার-প্লেকার্ড লিখে সাপ্লাই দিয়েছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান না পাঠানোর আহবান জানিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্বিতীয় দফায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও প্রত্যাবাসন না হওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গতকাল বিকালে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম স্বল্প আকারে হলেও প্রত্যাবাসনটা শুরু হবে। কিন্তু তা হয়নি।

আমরা এখনও আশায় বুক বেঁধে আছি। সমস্যাটা তৈরি করছে মিয়ানমার, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না। প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, জয়েন্ট কমিশনের চতুর্থ বৈঠকে আমরা মিয়ানমারকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে এখানে ট্রাস্ট ডেফিসিট বা আস্থার সঙ্কট আছে।
বিশ্বাসের ঘাটতি আছে। এখানে যারা রোহিঙ্গাদের নেতা আছে, মাঝি আছেন তাদের শ’খানেককে আপনারা রাখাইনে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে একটি শঙ্কা আছে। তারা মনে করে রাখাইনে এখনও তাদের সিকিউরিটি এবং সেফটির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা হয়নি। মিয়ানমার বলছে তারা সেখানে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এটা এখন তাদের নিয়ে গিয়ে দেখাক তারা তাদের নিরাপত্তায় সেখানে কি আয়োজন করেছে। কতটা তাদের সেফটি ব্যবস্থা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এবারই প্রথম প্রত্যাবাসনের আয়োজনে মিয়ানমারের প্রতিনিধি কক্সবাজারে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে চীনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।

আমাদের তো আছেনই। আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আমাদের কোথাও কোন ঘাটতি বা গাফলতি নেই। মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল রোহিঙ্গারা যে শর্ত দিচ্ছে তা পূরণের আগে তাদের ফেরত পাঠানো ঠিক হবে কি-না? জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে হোস্টেজ বা জিম্মি হতে পারি না। তাদের ডিমান্ড নিজের দেশে ফিরে গিয়েই তাদের অর্জন করতে হবে। এ জন্য তারা আমাদের জিম্মি করতে পারে না। যারা প্ররোচনা বা নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করছে রোহিঙ্গাদের না যাওয়ার জন্য, তাদের বিষয়ে সরকার কি কোন পদক্ষেপ নিবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো। যারা লিফলেট বিতরণ করেছে, ক্যাম্পেইন করছে না যাওয়ার জন্য আমরা তাদের চিহ্নিত করছি এবং অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বলেছে তাদের যাওয়া ঠিক হবে না। তাদেরকে বলছে দাবি করো। ইংরেজীতে সাইনবোর্ড  লিখে দিচ্ছে, অবশ্যই আমরা তাদের  আইডেন্টিফাই করবো এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ফের বলেন, না, আমাদের নতুন কোন প্রস্তাব নয়। আমরা যেটা বলেছি সেটা অনেক আগেই বলেছি। আসিয়ানরাও এটা জানে, যে এখানে একটি আস্থার সঙ্কট আছে। এটা দূর করতে হবে। রোহিঙ্গারা এখানে আরাম আয়েশে আছে, এটা ফেলে তারা যাবে বলে তিনি মনে করেন কি? প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, আগামীতে এত আরাম থাকবে না। কারণ অনেক দিন হয়ে গেলে এটা থাকে না। এখন অনেকে সাহায্য-সহায়তা দিচ্ছে। সরকার নিজে থেকে প্রায় আড়াই-তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। আগামীতে এটা থাকবে না। সুতরাং যারা যেতে চাইছে না তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যই ভাবা উচিত এবং ফিরে যাওয়া উচিত।

ভাষানচরেও তো তারা যেতে রাজী নয়। এত টাকা খরচ করে সরকার সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। সেখানে তাদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়েও তো সরকার শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না, কেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন আমরা এ ব্যাপারে শক্ত হবো। তবে মন্ত্রী জোর দিয়েই বলেন, প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের চেষ্টা জোরকদমেই চলবে। যে প্রক্রিয়াটা ২২ শে আগস্ট শুরু করার চেষ্টা ছিল, কিন্তু পারলাম না সেই চেষ্টায় কোন বিরতি হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটা শুরু হলেও সবাইকে পাঠাতে অনেক দিন লাগবে। মিয়ানমার যেটা নির্ধারণ করেছে সব লোক ফেরত যেতে দু’বছর লাগার কথা। ২২ শে আগস্ট শুরু হলে ভাল হতো। কিন্তু হয়নি। আমরা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটা ধরে রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাই। নাগরিকত্ব এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারী বর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তি না হলে বাস্তুচ্যুতরা ফিরে না যাওয়ার যে গো ধরেছে সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার তো বলেছে তারা ফিরে গেলে একটা কার্ড দেয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে তাদের নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে। একটা পর্যায়ে তারা নাগরিকত্ব পাবে। এখানে বাংলাদেশের কিছুই করার নেই। দ্বিতীয়তঃ তারা চায় শাস্তি। তাদের ওপর যারা নির্যাতন করেছে তাদের বিচার। তাতো আমরা করতে পারি না, মন্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রীর। রোহিঙ্গা ঢলের দু’বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। বছরপূর্তির ওই সময়ে কি তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন যে আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের এত উদারতা দেখানো ভুল হয়েছে? মন্ত্রী বলেন, না, ভালমন্দ দু’দিকেই আছে। মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। আমরা মনে করেছিলাম তারা কথা রাখবে।

আগে কিন্তু মিয়ানমার কথা রেখেছিল। তারা ১৯৭৮ সালে ফেরত নিয়েছে। ৯২ সালেও ফেরত নিয়েছে। ১৯৯২ সালে এসেছিল মোটামুটি প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার। তখন ২ লাখ ৩০ হাজারকে তারা ফেরত নিয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার কিন্তু কখনও বলেনি যে তারা এদের ফেরত নেবে না। সাংবাদিকরা বলেন, কিন্তু রোহিঙ্গাদের শর্তগুলোই বাধা! এটা নিরসন হবে কিভাবে? জবাবে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারকেই এটা প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিকারভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আয়োজন করেছে। আমি মনে করি তারা যদি রাখাইনে সত্যিই কোন উন্নতি করে থাকে সেটা লোকজনকে নিয়ে গিয়ে দেখাক। রাখাইনে আসলে কি উন্নয়ন করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য কি বব্যস্থা করেছে, তাদের নিরাপত্তার জন্য কি আয়োজন রয়েছে, সেটা তাদের দেখাক। বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকদেরও নিয়ে যেতে পারে। এতে আস্থার সঙ্কট দূর হবে এবং রোহিঙ্গারা ফিরতে রাজী হবে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা চিন্তা করছি বিভিন্ন দেশের লোককে নিয়ে একটা কমিশন গঠন করব। তারা রাখাইনে যাবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তারা যদি সৎ হয় অবশ্যই সেখানে সব কিছু দেখাবে। মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল আগের দুটো প্রত্যাবাসনই তো বিএনপির আমল (৭৮, ৯২)। এবারে আমরা বেশী নরম হচ্ছি কিনা? এমন প্রশ্নে মন্ত্রীর সাফ জবাব না, অবশ্যই আমরা নরম না।

ছাত্রদলের কাউন্সিল: ইতিহাস গড়তে চান পাপন-ডালিয়া by শাহনেওয়াজ বাবলু

সাতাশ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ আর উদ্দীপনা। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১১০ জন মনোনয়ন ফরম কিনলেও ফরম জমা দিয়েছেন ৭৬ জন। তবে ছাত্রদলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন দুই নারী। যদিও একই পদের জন্য তিনজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাদিয়া পাঠান পাপন ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ডালিয়া রহমান। আর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেও জমা দেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী মানছুরা আলম। 

এই বিষয়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি রুমিন ফারহানা মানবজমিনকে বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন নারী প্রার্থী হয়েছে এটা সত্যিই খুশির খবর।
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের নেতা সবাই নারী। সব জায়গায় নারীদের জয়জয়কার। নারীরা যেখানেই হাত দিয়েছে সেখানেই সোনা ফলেছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সব ক্ষেত্রেই নারীরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে। এবার সাধারণ সম্পাদক পদে নারীরা প্রার্থী হয়েছে, আগামী সভাপতি পদেও তারা প্রার্থী হবে।

ছাত্রদলের নারীদের বড় দুই পদে এগিয়ে আসাটা সংগঠনের জন্য পজেটিভ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ছাত্রদলের সুচনা থেকেই নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এবারই প্রথম সাধারণ সম্পাদক পদে দুই নারী প্রার্থী হয়েছেন। এটা ছাত্রদলের জন্য পজেটিভ। আমরা কাউন্সিল ঘোষণার আগেই সেরা দুই পদ সবার জন্য উন্মুক্ত করেছি। এখন যারা কাউন্সিলর আছেন তারাই তাদের সঠিক নেতাকে বেছে নেবেন।

নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আমি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ছাত্রদল করে আসছি। বিগত আন্দোলনে আমি অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছি। বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি হয়েছি। কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছি। আমি শুরু থেকে মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করেছি। আমি মনে করি তৃণমুল ছেলে কিংবা মেয়ে বিবেচনা করবে না, আগামী আন্দোলন সংগ্রামে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারবে তাদেরকেই নির্বাচিত করবে। আর আমার আশা তৃণমুল আমাকে প্রধান্য দেবে, নারীকে প্রাধান্য দেবে। ডালিয়া বলেন, আমার সাহস আছে। আছে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি। দুঃসময় পাড়ি দিয়ে নেতৃত্বে আসতে চাই। বিগত আনেন্দালন সংগ্রামে আমি সব সময় সক্রিয় ছিলাম, এখনো আছি। তৃণমূলের ভোটাররাও আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন। আশা করছি নিরাশ হব না। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বেগম বদরুন্নেসা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেন। বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় জন্ম নেয়া ডালিয়া রহমান স্কুল জীবন শেষ করেন বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজ থেকে। বড় ভাইয়ের হাত ধরে ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি ডালিয়ার। তিনি বেসরকারি ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও এলএলএম করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আওতায় তিনি এলএলবি অনার্স করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ডালিয়া।

রাজি নয় রোহিঙ্গারা শুরু হলো না প্রত্যাবাসন

রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহে ফের থমকে গেল প্রত্যাশিত প্রত্যাবাসন। চীনের মধ্যস্থতায় তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গতকাল স্বল্প পরিসরে হলেও রোহিঙ্গাদের একটি দলকে ফেরত পাঠানোর সব আয়োজন সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু না! শেষ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও ফিরতে রাজী হয়নি। বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর যেভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য এটি ঝুলে গিয়েছিল এবার তা হবে না। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘ শরনার্থী সংস্থার প্রতিনিধিরা তালিকায় থাকা ৩৩৯৯ রোহিঙ্গার মধ্যে যাদের এখনও সাক্ষাৎকার বাকী তাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার ধারা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ৩-৪ দিন তালিকায় থাকা সব রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। এরমধ্যে স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজী কোন পরিবার পাওয়া গেলে তাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ প্রস্তুত থাকবে। এদিকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্টির মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পে সেনা, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের টহল জোরদার ছিল আগে থেকেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটি অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।  গতকাল দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি অফিসে শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম সংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য ৩ হাজার ৪৫০ জনের একটি তালিকা মিয়ানমার সরকার দিয়েছিল।

সেই তালিকায় দুইবার নাম থাকা ব্যক্তি ও পরিবার এবং বাংলাদেশের নাম না পাঠানো সত্বেও ৪জনকে ফেরত চাওয়া মোট ৫১ জনকে বাদ দিয়ে ১০৩৮টি পরিবারের ৩৩৯৯জনের তালিকা ধরে সাক্ষাৎ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল বাংলাদেশ ও  ইউএনএইচসিআর। এর মধ্যে ২৯৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার গ্রহন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজনও ফেরত যেতে রাজী হয়নি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তালিকায় থাকা বাকী রোহিঙ্গাদের ৩-৪ দিনের মধ্যে সাক্ষাৎকার নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক প্রশ্নে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ কিনা জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এটা ব্যর্থ বলা যাবে না। সব পরিবারের সাক্ষাৎকার চলছে। আমাদের বাস ট্রাক প্রস্তুত থাকবে। যে কেউ ফিরতে চাইলে পাঠানো হবে। মিয়ানামারে ফেরত বিষয়ে রোহিঙ্গারা যে সব শর্ত দিচ্ছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের। আমরা শুধু মাত্র ওপারে ফেরত পাঠাব। মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের জেং থাং জু’সহ ২ জন, মিয়ানমার দূতাবাসের একজন নেইন চেং জ্য, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ জন কর্মকর্তা, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক জন যুগ্ন-সচিব ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কর্মকর্তা। এর আগে বৃহস্পতিবার বান্দরবনের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম মৈত্রি সেতু দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। মিয়ানমারও এসব রোহিঙ্গাদের গ্রহনের জন্য প্রস্তুতি ছিল বলে জানা যায়। রোহিঙ্গাদের ট্রানজিট ঘাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৫ টি বাস ও মালামাল বহনের জন্য ৩টি ট্রাকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। এজন্য শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ট্রানজিট ঘাট পর্যন্ত নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী জানান, প্রত্যাবাসনের নামে মিয়ানমার যা করছে তা শুধু আইওয়াশ। তা নাটক ছাড়া কিছু নয়, রোহিঙ্গাদের উত্থাপন করা দাবী সমুহের সমাধান আন্তর্জাতিক ভাবে না হলে প্রত্যাবাসন আদৌ হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে তৃতীয় দিনের মতো তালিকায় থাকার রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছে ইউএনএইচসিআরসহ সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) প্রতিনিধিরা। সাক্ষাৎকার দিয়ে ফেরার পথে শালবাগান ক্যাম্পের রহিমা বেগম ও আবদুল আজিজ বলেন, মিয়ানমার সরকারের দেয়া এনভিসি কার্ড গ্রহন করব না ও আশ্রয় শিবিরেও থাকবো না বলে জানিয়ে দিয়েছি। রোহিঙ্গা স্বীকৃতিসহ পূর্ণ নাগরিকত্ব ও নিজ নিজ ভিটে জমি ফেরত দিলেই কেবল ফিরবো। শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-ব্লকের নেতা (মাঝি) মো: জাকারিয়া জানান, আগেও মিয়ানমার সরকার কথা রাখেনি। বারবার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে। এবারও ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে আইডিপি ক্যাম্পে আটকে রাখবে। তাই পূর্ণ নাগরিকত্ব না দেয়া পর্যন্ত ফেরত যাবো না। ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গারাও প্রায় অভিন্ন সুরে বলেন, নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত, কারাগারে বন্দি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা, ধর্ষনের বিচার, অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা প্রদান ছাড়া আমরা ফিরে যাবো না। টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ খালেদ হোসেন জানান, তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়াধীন থাকবে। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ১০৪ পরিবার প্রধানের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে ভারতীয় তেল ব্লকের কাছে চীনের কোস্ট গার্ড মোতায়েন

দক্ষিণ চীন সাগরে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েনের জন্য চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে হ্যানয়। ভিয়েতনামের কূটনীতিকরা বলছেন যে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন।

ভারাতের রাষ্ট্রায়ত্ব ওএনজিসি বিদেশ লি.-এর তেল স্থাপনার কাছে চীন ওই মোতায়েন করে। ভিয়েতনামের ওই অর্থনৈতিক জোনে রাশিয়ার রোজন্যাফটের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্লকটি পরিচালনা করছে বিদেশ লি.।

সূত্র জানায়, ভিয়েতনামের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোনে ২০১৯ সালে এটা চীনের দ্বিতীয়বারের মতো অনুপ্রবেশ। সর্বশেষ অনুপ্রবেশে ২০টি চীনা জাহাজ সেখানে অবস্থান নেয়।

সূত্র জানায়, গত ১৩ আগস্ট এই অনুপ্রবেশ শুরু হয়। এতে ছয়টি কোস্ট গার্ড জাহাজ, ১০টি মাছধরা জাহাজ ও দুটি সার্ভিস জাহাজ, যার সঙ্গে একটি একটি এইচ৬ বম্বার, ফাইটার এয়ারক্রাফট ও মিড এয়ার রিফুয়েলার ছিলো। এগুলোকে ইকনমিক জোনের উপর উড়তে দেখা গেছে।

ভিয়েতনামের সরকারি সূত্র জানায়, পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে… এটা আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘন।

সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলছে যে, ৩ জুলাই প্রথম চীনা অনুপ্রবেশটি ১-২ আগস্ট আসিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র বলে, খুবই হিসেবি কাজকর্ম এবং ব্যাংকক বৈঠকে চীনা পক্ষ জানায় যে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রয়েছে। কিন্তু এটা নৌচলাচালের স্বাধীনতা ধ্বংসের শামিল।

চীনের এই কাজের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়ার কথা হ্যানয় ভাবছে। এর মধ্যে আইনি ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আবেদনও রয়েছে।

একজন কূটনীতিক বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে একই রকম চীন-পাকিস্তান মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। পাকিস্তান যদি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে পারে, তাহলে দক্ষিণ চীন সাগরের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যু কেন তোলা যাবে না।

পরিস্থিতির ব্যাপারে ভারত ও রাশিয়াকে অবহিত করেছে ভিয়েতনাম।

কৌশলগত দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটাই দাবি করে চীন। এই সাগরের উপকূলীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম। খনিজ সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের উপর দাবি আছে প্রত্যেক দেশের।

গত মাসে ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতর থেকে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির উপর জোর দেয়া হয়, যার মধ্যে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলা হয়।

অপেক্ষার অবসান, আগামী মাসেই ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে আসছে রাফালে

তর্কবিতর্ক, কেলেঙ্কারি, তথ্য প্রমাণ, তথ্য গোপন – এসব কিছুকে পিছনে ফেলে সে আসছে। বহু প্রতীক্ষা শেষে আগামী মাসেই ভারতের হাতেই চলে আসবে নতুন তৈরি রাফালে যুদ্ধবিমান। সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বরে প্যারিস যাচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়া। সেখানেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে রাফালে জেট।প্রথম দফায় ৩৬টি রাফালে তৈরির বরাত পেয়েছিল ফ্রান্সের দাসাল্ট অ্যাভিয়েশন। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমানগুলি তৈরির কাজ শেষ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নাগাদ দিন স্থির করা হয়েছে আপাতত, যেদিন ভারতকে তা হস্তান্তর করা হবে।

আজ অর্থাৎ  বৃহস্পতিবার ফ্রান্স সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে প্রতিরক্ষা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে। সূত্রের খবর, সেখানে রাফালে হস্তান্তর নিয়েও কথা হব দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এবং সেখানে উপস্থিত থাকবে বায়ুসেনার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। তাঁরা ইতিমধ্যেই প্যারিস পৌঁছে গিয়েছে বলেও খবর।

সেপ্টেম্বর, ২০১৬। ভারত-ফ্রান্স যৌথ আলোচনার পর এই সময়েই ভারত যুদ্ধবিমান রাফালে তৈরির দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল ফরাসী সংস্থা দাসাল্ট অ্যাভিয়েশনকে। রাফালে যুদ্ধবিমানটি দূরপাল্লায় একইসঙ্গে যুদ্ধাস্ত্র এবং মিসাইল বহনে সক্ষম। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬টি উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন যুদ্ধবিমান কিনতে ভারতকে দিতে হবে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। ওদিকে দাসাল্টের ওয়ার্কশপে যখন ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি চলছে, তখন দেশেও তোড়জোড় চলছে রাফালে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ। আম্বালা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পাইলটদের প্রশিক্ষণ, রাফালে ব্যবহারের যথাযথ পরিকাঠামো, হ্যাঙার তৈরির কাজ চলেছে। এসবের জন্য বায়ুসেনা আলাদাভাবে ৪০০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

আম্বালায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে একাধিক কারণে। ভারত-পাক সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরের আম্বালায় প্রশিক্ষণ হলে, সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রণকৌশল ঠিক করতে সুবিধা হবে। তাই রাফালের প্রথম স্কোয়াড্রন হবে আম্বালাতেই। আর দ্বিতীয়টি হবে পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা ঘাঁটিতে। ওদিকে, অরুণাচলের উপর চিনের আগ্রাসনের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। এই রাফালে যুদ্ধবিমানের বরাত নিয়ে বছর দুই আগে মোদি সরকারকে কার্যত তুলোধোনা করেছিলেন বিরোধীরা। ৫৮ হাজার কোটি টাকার বরাতে বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি আছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই তরজা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। শেষমেশ যদিও যথাযথ প্রমাণের অভাবে শীর্ষ আদালত রাফালে চুক্তিতে কোনও অস্বচ্ছতা নেই বলেই জানিয়ে দেয়। সেসব বিতর্ক কাটিয়ে অবশেষে ভারতের হাতে আসছে উচ্চপ্রযুক্তির রাফালে যুদ্ধবিমান।

অমিত শাহ কি এ বার বদলা নিলেন? প্রশ্ন কংগ্রেসের অন্দরেই

রাজধানীর অশোক রোডের ৯ নম্বর বাংলোটি বরাদ্দ ছিল অরুণ জেটলির নামে। পাশের ১১ নম্বরটি সেই সময় বিজেপি সদর দফতর। জেটলি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা। দুপুরের পর দরবার বসাতেন। আর প্রায় রোজই চুপ করে বসে থাকতেন এক আগন্তুক।

সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় তখন তিনি রাজ্যছাড়া। গুজরাতে প্রবেশ করতে পারতেন না। তার আগে তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল সিবিআই। গ্রেফতারির ঠিক আগে আমদাবাদের বিজেপি দফতরে গিয়ে বলে এসেছিলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। পরে আদালতে নিষ্কৃতি পান।

রাজধানীর অলিন্দে অনেকেই আজকের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন ২০১০ সালের সেই ঘটনার। তখন কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন পি চিদম্বরম। আর আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সিবিআই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করল। আর ঠিক একই ভাবে কংগ্রেস দফতরে এসে চিদম্বরম দাবি করলেন, তিনি নির্দোষ।

কংগ্রেসের অন্দরেই এখন প্রশ্ন, অমিত শাহ কি তা হলে এ বার বদলা নিলেন? চিদম্বরমের আইনজীবী, সঙ্গী ও কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ বললেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমি কিছু বলব না। কিন্তু চিদম্বরমের ভাবমূর্তি বিলকুল সাফ।’’

কংগ্রেস শিবিরে এ-ও আলোচনা চলছে— ‘আজ যদি জেটলি এতটা অসুস্থ না থাকতেন, হয়তো সিবিআই-ইডির এমন অপব্যবহার হত না। প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ যা-ই থাক, তলে তলে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে জানতেন জেটলিরা। বিরোধী নেতাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখতেন। ‘আজকের’ বিজেপিতে যা বিরল।’

রাজীব গাঁধীর ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী কালই এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেবেন সনিয়া গাঁধী। সেখানেও এই নিয়ে মোদী সরকারকে তুলোধোনা করার প্রস্তুতি চলছে। আজ রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরাও তেড়েফুঁড়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন। যে সাংবাদিক সম্মেলন-মঞ্চে চিদম্বরমকে বলার সুযোগ করে দিল কংগ্রেস, সেখানে দলের তাবড় নেতারা হাজির হন সনিয়ার নির্দেশেই।

বিজেপির অবশ্য সাফ কথা, আইন আইনের পথেই চলছে। কোনও রাজনীতির প্রশ্নই ওঠে না। তারা তো আর চিদম্বরমকে দুর্নীতি করতে বলেনি।

শুধু তা-ই নয়, চিদম্বরমকে সিবিআই দফতরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীর ‘আমিও চৌকিদার’ বক্তৃতার অংশ। যেখানে ভরা ময়দানে  তিনি বলছেন, ‘‘এখন কেউ জামিনে আছেন, কেউ আদালতে একের পর এক তারিখ নিচ্ছেন, কেউ আদালতে চক্কর কাটছেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমি তাঁদের জেলের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। ২০১৯-এর পর?’’

জনতা চেঁচিয়ে উঠল, ‘‘জেল! জেল! জেল!’’

বভার-৩৭৩ উন্মোচন: "নিষেধাজ্ঞা সামরিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ এনে দিয়েছে"

বভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানির উপস্থিতিতে আজ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্মোচন করা হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস উপলক্ষে এ ব্যবস্থা উন্মোচন করা হয়।

তেহরানে উপস্থিত বিদেশি সামরিক কর্মকর্তাগণ, রাষ্ট্রদূত ও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেছেন, "নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাইতেও শক্তিশালী এবং তা সক্ষমতার দিক দিয়ে রাশিয়ার এস-৪০০ এর কাছাকাছি।"

সমরবিদরা বলছেন, এই ব্যবস্থা একই সময়ে ৩০০টি লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত, ৬০টিকে অনুসরণ ও ছয়টি'র সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত হতে পারে। বলা যায় এটি রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতোই। উন্মোচনের পর ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এটিকে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। এ সাফল্যের ফলে শত্রুর যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় ইরান এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করা ইসলামি ইরানের অন্যতম একটি মৌলিক নীতি যা কিনা এখন পর্যন্ত শত্রুর সামরিক হামলার হুমকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সরকার প্রতিরক্ষা শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন নীতি গ্রহণ করে এবং নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ইরান নিজস্ব প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের সহায়তায় তৈরি ৭৭০টির বেশি সামরিক পণ্য উন্মোচন করেছে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, "শত্রুর নিষেধাজ্ঞা ও হুমকি সামরিক ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সুযোগ এনে দিয়েছে।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামরিক দিক দিয়ে ইরানের শক্তি অর্জন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা এ অঞ্চলে নিরাপত্তা রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখছে। বভার-৩৭৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুদের জন্য সতর্কবার্তা। সম্প্রতি ইরান পারস্য উপসাগরে মার্কিন অত্যাধুনিক গ্লোবাল হক ড্রোন ভূপাতিত করে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতার ব্যাপারে মার্কিন সাময়িকী নিউজ উইক লিখেছে, এ ক্ষেত্রে ইরানিদের সাফল্য সত্যিই প্রশংসাযোগ্য এবং দেশটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। কিন্তু এরপরও আমেরিকা ইরানকে কোণঠাসা করার জন্য এ অঞ্চলে তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

প্রতিরক্ষা শিল্পে ইরানের সাফল্যের কারণে শত্রুদের আগ্রাসনের বাসনা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই এ ক্ষেত্রে ইরান যতটা উন্নতি করবে ঠিক ততটাই শত্রুরা পিছিয়ে যাবে। এ কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সব ষড়যন্ত্রই ব্যর্থ হয়ে গেছে। সামরিক ক্ষেত্রে স্বাধীননীতি ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশে পরিণত করেছে এবং এ অঞ্চলের জাতিগুলোকে নিরাপত্তা দিয়েছে।

গুটিকয়েক জঙ্গি ঠেকাতে কাশ্মিরে কেন লাখ লাখ সেনা: -অরুন্ধতীর প্রশ্ন

অরুন্ধতী রায়
‘কাশ্মিরের নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তাগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা, প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ ও অপদস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। কাঁটাতারে বন্দি এসব মানুষের ওপর ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অচলাবস্থার মধ্যে বাস করতে হচ্ছে তাদের। যদি তথ্যপ্রবাহের এ যুগে সরকার এতো সহজে গোটা জনসংখ্যাকে বাকি দুনিয়া থেকে কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারে, তবে সামনের সময়গুলো কেমন হবে তা গুরুতরভাবে ভাবনার বিষয়।’ নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ লেখা নিবন্ধে এভাবেই কাশ্মিরের সাম্প্রতিক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন স্বনামধন্য ভারতীয় মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যেখানে নিজেই দাবি করে যে গুটিকয়েক জঙ্গি ছাড়া বেশিরভাগ মানুষ তাদের সমর্থন করে, সেখানে কেন লাখ লাখ সেনার উপস্থিতি।
১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ‘নীরবতাই সবথেকে জোরালো আওয়াজ’ (The Silence Is the Loudest Sound) শিরোনামের নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন,  "স্বাধীনতা পরবর্তী ৭২ বছরে ভারতের বিভিন্ন সরকার ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ এর শর্ত ক্ষুণ্ণ করতে করতে একে কংকালসারে পরিণত করেছে। আর এখন তা ছুড়ে দেওয়া হয়েছে নরকের দিকে। কাশ্মিরকে বলা চলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিকায়িত অঞ্চলগুলোর একটি কিংবা শীর্ষ সামরিকায়িত অঞ্চল। ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন নিজেরাই দাবি করে যে ওই অঞ্চলে কেবল গুটিকয়েক ‘জঙ্গি’ আছে। এ গুটিকয়েক জঙ্গিকে ঠেকাতে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে ৫ লাখেরও বেশি সেনা সদস্য।”
নিবন্ধে বলা হয়, ‘আগে যদি কারও কোনও সন্দেহ থেকেও থাকে, তবে এখন অন্তত নিশ্চিত হয়ে যাওয়া উচিত যে কাশ্মিরি জনগণই তাদের [ভারতীয় কর্তৃপক্ষের] সত্যিকারের শত্রু। গত ৩০ বছরে কাশ্মিরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যা কিছু করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য। কাশ্মির সংঘাতে বেসামরিক, সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লাখো মানুষ গুম হয়ে গেছে। নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। এর মধ্য দিয়ে এক রকম আবু গারিবে পরিণত হয়েছে উপত্যকা।’
অরুন্ধতী মনে করেন, প্রথম মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির কঠোর অবস্থানের কারণে কাশ্মিরে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ জন সদস্যকে। বুকারজীয় এই লেখক তার নিবন্ধে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের দুই মাস পার হয়ে গেছে। তার সরকার সবচেয়ে বিপজ্জনক চালটি দিয়েছে। তারা আগুনে ঘি ঢেলেছে। এটি যদি যথেষ্ট খারাপ কাজ না হয়েও থাকে, তারপরও যে সস্তা ও প্রতারণাপূর্ণ উপায়ে কাজটি করা হয়েছে তা লজ্জাজনক। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন অজুহাতে কাশ্মিরে ৪৫ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতোয়েন করা হয়েছে।’

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার বাসনা: এবার মুখ খুললেন ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন
অর্থের বিনিময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড কেনার যে বাসনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ করেছেন তা এবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন দ্বীপটির মালিক দেশ ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বললেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না এবং এটিকে আমেরিকার কাছে বিক্রির করার প্রস্তাব ‘হাস্যকর’।
আমেরিকা বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি কিনতে চায় বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নিশ্চিত করার পর ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দিলেন।
তিনি রোববার গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রি হবে না। এটি ডেনমার্কের কোনো জিনিস নয়। গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা সেখানকার অধিবাসীদের। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতে চাই যে, ঠাট্টার ছলে এটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।”
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার নিজে সাংবাদিকদের কাছে একথার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি তার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি বিষয়টির সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আগামী মাসের গোড়ার দিকে ডেনমার্ক সফরে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে তিনি ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেনের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিম কিয়েলসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের অর্থনেতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো রোববার একথার সত্যতা নিশ্চিত করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কথা বলেছেন।
উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড দ্বীপের অর্থনীতি ডেনমার্কের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে থাকলেও বাকি বিষয়গুলো পরিচালনায় স্থানীয় সরকার স্বাধীনতা ভোগ করে।
গ্রিনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে কার্টুনিস্টদের কাছেও হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছেন ট্রাম্প

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মুহিবুর ফাউন্ডেশন

‘তুমি পারবে না’ কিংবা ‘তোমাকে দিয়ে হবে না’—এমন নেতিবাচক কথা নয়, বরং ‘তুমিই যোগ্য, তুমিই সেরা’ স্লোগান নিয়ে সিলেটে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশন পরিচালিত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করার কৃতিত্ব দেখিয়ে সমীহ আদায় করে নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সিলেট কমার্স কলেজ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ, ইডেন গার্ডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মুহিবুর রহমান একাডেমি।
সিলেট কমার্স কলেজ
‘প্রাইভেট পড়াকে না বলুন’ স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সালে নগরের মিরের ময়দান এলাকায় ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল কলেজটি। বর্তমানে ৭০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ২০০৯ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিষ্ঠানটি ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন শিক্ষার্থী কোনো এক দিন ক্লাস ফাঁকি দিলে, তাৎক্ষণিকভাবে সেটি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। এর ফলে অভিভাবকেরা ওই শিক্ষার্থীর গতিবিধির ওপর নজর রাখেন। কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে কোনো বিষয় না বুঝলে, ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত সময় নিয়ে তাকে সেটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আবু ইফতেখার বলে, ‘শহরের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জন্য এই কলেজটিই সবচেয়ে ভালো।’
সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ
বিজ্ঞান শাখার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কলেজটি পরিচিতি পেয়েছে। নগরের মিরের ময়দান এলাকায় ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী ৩৭৫ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উচ্চমাধ্যমিকে এখানকার শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করে আসছেন।
মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়ে এ কলেজে ভর্তি হয়েছে রিজওয়ানা ইসলাম। সে বলে, ‘এখানে পড়াশোনার পরিবেশ খুবই ভালো। মানসম্মত পড়ালেখার দিক দিয়েও এ প্রতিষ্ঠান এগিয়ে।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে যেমন মুখস্থ করতে দেওয়া হয় না, তেমনি প্রাইভেটকেও ‘না’ জানানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মু. ম রহমান বুলবুল বলেন, ‘আমাদের এখানে একেকটি ক্লাস হয় ৭৫ মিনিটের। প্রতিদিন ল্যাব ক্লাস হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনায় প্রতিযোগিতা তৈরিতে শিক্ষকেরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।’
ইডেন গার্ডেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
এ কলেজটির অবস্থান নগরের রায়নগর দর্জিপাড়া এলাকায়। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থী ২৫০ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কলেজের শিক্ষার্থীরাও শতভাগ পাস করে আসছে।
মুহিবুর রহমান একাডেমি
নগরের দরগামহল্লা এলাকায় ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত চালু রয়েছে। বর্তমানে ৮৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রধান শিক্ষক মো. শামস উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ক্লাসের বাইরেও বিশেষ ক্লাস নেওয়া হয়। এতে ইতিবাচক ফল আসছে। ভালো পাঠদানের পরিবেশ তৈরি করতে শিক্ষকদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
মুহিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের শরণাপন্ন হতে হয় না। সিসিটিভির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক ক্লাস ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে অভিভাবকদের রেকর্ড প্রদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা আছে।’ মুহিবুর রহমান আরও বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ভর্তি পরীক্ষাসহ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ জীবনের যেকোনো প্রকার প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে নিয়মিত সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। রয়েছে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনসুবিধাও। এর বাইরে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমও নিয়মিত চারটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়।’
সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন এক শিক্ষক। ছবি: প্রথম আলো

ভিক্ষুক মনোয়ারা এখন সফল দুধ ব্যবসায়ী

মনোয়ারা বেগম এখন আর ভিক্ষা করে না। দুধ বিক্রি করে এখন সে স্বাবলম্বী। মাগুরা পৌর এলাকার শিবরামপুর এলাকার অধিবাসী মনোয়ারার স্বামী ২০১০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিকভাবে মৃত্যু বরণ করেন। ৩ সন্তানের জননী মনোয়ারা তখন দিশাহারা হয়ে বাচ্চাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে এদিক ওদিক ছোটেন। কোনো উপায় না দেখে সে বেছে নিতে বাধ্য হয় ভিক্ষাবৃত্তিকে। কিন্তু এতে তার এবং তিন সন্তানের দুবেলার অন্ন জোগানো ছাড়া জীবনের কোনো চাহিদাই তার পূর্ণ হচ্ছিল না। ২০১৮ সালে রোভা ফাউন্ডেশন এবং মাগুরা সদর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সে শুরু করে গরুর দুধ বিক্রি। দিনে দিনে পাল্টাতে থাকে তার জীবন।
এখন সে ৬টি ছাগলের মালিক।
মনোয়ারা বলেন, আমি বিভিন্ন বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকায়। এই দুধ আমি মাগুরা নতুন বাজারে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করি। তাতে করে প্রতি কেজিতে আমার ১০ টাকা লাভ হয়। দিনে ৫০ কেজি দুধ বিক্রি করলেই আমার ৫০০ টাকা লাভ থাকে। এভাবে মাসে ১৫ হাজার টাকা অনায়াসেই আয় করতে পারি। দুধ বিক্রির কাজ আমার সকালেই শেষ হয়ে যায়, বাকি সময়টা কাটে ছাগল পালন করে। উপজেলা প্রশাসন থেকে আমি অনুদান পেয়ে গতবছর তিনটি ছাগল কিনেছিলাম যা গত ঈদুল আজহায় ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে আমি নিজের টাকায় ৬টা ছাগল কিনে পালন করছি। আশা করছি তা আগামী ঈদুল আজহায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবো। মনোয়ারা গর্ব করে বলেন, এখন আমি স্বাবলম্বী। মানুষের দ্বারে দ্বারে আর ভিক্ষা করা লাগে না। এখন কেউই আর আমাকে ভিক্ষুক বলে না। মাগুরা রোভা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কাজী কামরুজ্জামান বলেন, মনোয়ারাকে অনুদান দেয়ার পর আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। দুধ বিক্রি থেকে ছাগল পালন সবক্ষেত্রে তার ভালোমন্দ দেখাশোনা করছি। সবচেয়ে ভালোলাগে এই ভেবে যে, সে অতি সহজেই ভিক্ষুক থেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা মাগুরাকে ভিক্ষুক মুক্ত জেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। মনোয়ারা শুধু মাগুরা নয় আমাদের সমাজের একটি অন্যতম দৃষ্টান্ত।

‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ তরুণীর প্রতিবাদে সমালোচনার ঝড়

চলার পথে বিশেষ করে গণপরিবহনে যৌন হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছেন জিনাত জাহান নিশা নামে এক তরুনী। বাংলাদেশি ডিজাইনার নিশা ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা)) চারুকলা অনুষদ থেকে চিত্রকলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।
জিনাত জাহান নিশা এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, বাসে, রাস্তায় নিজের সাথে হওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিবাদ, ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ লেখনি দিয়ে খোঁপার কাঁটায়। এবার নিয়ে এলাম তা টি-শার্টে।
গত বছর খোঁপার কাঁটায় ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ লিখে গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এই তরুণী। এবার একই শ্লোগানে নিয়ে এসেছেন টি-শার্ট। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার এ অভিনব কৌশলের  সমালোচনা করেছেন অনেকে।
ফেসবুকে সুলতান মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, আপনাদের এমন কুরুচি পুর্ণ বিজ্ঞাপনে আমার অনেকগুলো মন্তব্য ছিলো। বলতে গেলে আমার অবস্থা বেহাল হবার উপক্রম হবে। তাই এখানেই নিরব। তবে এমন অবস্থা আপনাদের কাম্য নয়। বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে নিজেরাই বিজ্ঞাপন হওয়া ঠিক না। বাংলাদেশের পুরুষরা সত্যি অন্য রকম এক আইডল। বাসে উঠার পর কখনও কি দেখছেন কোন মেয়ে নিজ থেকে উঠে গিয়ে কোন ছেলেকে বসতে দিয়েছে!! না' এরকম অবস্থা বিরল।
তিনি আরো লিখেছেন, আমি দেখেছি অসংখ্য ছেলেকে মেয়েদের রিস্পেক্ট করে নিজের আসনে বসাতে। সেদিন ফার্মগেট থেকে আসার পথে এক ছেলেকে দেখলাম সিট না পেয়ে মহিলা সিটে বসে পরেছে। কিছুক্ষণ পর এক মহিলা বাসে উঠেই যেন, আকাশ থেকে পরার উপক্রম।ইচ্ছা মত বকে ছেলেটাকে সিট থেকে উঠিয়ে তিনি সিটে বসে যেন মনে হচ্ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধের জয়ের স্বাদ নিচ্ছেন। বাম দিকে তাকিয়ে দেখলাম তিনটা সিট ই মহিলার দখলে। অথচ সিটগুল ছিল স্রেফ পুরুষের জন্য। ঐ মহিলার আচরণে ক্ষিপ্ত হয়ে আস্তে করে আপুদের বল্লাম-- প্লিজ এটা তো পুরুষদের সিট। আমাদের কে আমাদের সিট ছেড়ে দিতে পারেন। আরো মজার ব্যাপার হল - তিনটা মেয়ের পাশেই কিন্তু তিনজন পুরুষ ছিল। মেয়েগুলো আগের মহিলার কান্ড দেখে নিজ থেকে উঠতে গেলে আমি বারণ করলাম। আপনাদের উঠার দরকার নেয়। শুধু ঐ আপুটাকে একটু মার্জিত ব্যবহার শিখিয়ে দিবেন। গা ঘেঁষে বসবেন না। ভাল কথা। এই বাক্যলাপ দারা যদি বুঝান পুরুষরা নিজ থেকে আপনাদের গা গেসে বসতে অভ্যস্ত তাহলে চরম একটা ভূল করবেন। বাসে উঠে কোন সিট না পেলে আপনাদের কি অবস্থা হবে একবার ও ভেবে দেখেছেন? পুরুষরাও যদি লিখে দেয় গা ঘেঁষে বসবেন না! তাহলে তো কেল্লা খতম।
ফারজানা ইসলাম লিখেছেন,  অশ্লীলতা কখনো প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না!!
আকবর হোসেন শিপন নামে একজন লিখেছেন, লোকাল বাসে চড়বেন না, তাহলে কেউ গাঁ ঘেষেও দাঁড়াতে পারবে না।
এম আরমান খান জয় নামে আরো একজন লিখেছেন,  দেখুনঃ কি ভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে.... গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না, আজকে কয়েক জন মেয়ে "গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না" লেখা টি-শার্ট পরে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ/পেজে। এই বিষয়টা ওনাদের কাছে ভালো মনে হয়েছে বলে প্রতিবাদ এই ভাবে করেছে। সব বিষয়ের মত এই বিষয়টাতেও দুইটা পক্ষ হয়ে গেছে, এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু, এই লেখাটা ইডেটিং করে নোংরামি করছে একশ্রেণির মানুষ নোংরা ভাষার ব্যবহারের মাধ্যমে। ভাষা গুলো এতোটাই নোংরা যে বলার মত না। তাই, সকলের কাছে অনুরোধ প্রতিবাদ করুন যুক্তিতর্ক দিয়ে নোংরামি আর নোংরা ভাষার ব্যবহার করে না। যদি প্রতিবাদকারীদের পোশাক ভালো না লাগে বা কারো মনে হয় প্রতিবাদের কৌশলটা অযৌক্তিক। তাহলে, কোনটা যৌক্তিক সেট তুলে ধরুন।
যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে তরুণী নিশার প্রতিবাদ ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ : প্রতিদিন চলার পথে নারীদের সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হতে হয় গণপরিবহণগুলোতে। এই যৌন হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছেন বাংলাদেশি তরুণী জিনাত জাহান নিশা। বাংলাদেশি ডিজাইনার নিশা ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) চারুকলা অনুষদ থেকে চিত্রকলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন এই তরুণী।
এর আগে গত বছর খোঁপার কাঁটায় ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ লিখে গণপরিবহনে নারীদের যৌনহয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এই তরুণী। এবার একই শ্লোগানে নিয়ে এসেছেন টি-শার্ট। জিনাত জাহান নিশা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বাসে, রাস্তায় নিজের সাথে হওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রতিবাদ, ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম ‘গা ঘেঁষে দাঁড়াবেন না’ লেখনি দিয়ে খোঁপার কাঁটায়। এবার নিয়ে এলাম তা টি-শার্টে।
নিশা লিখেছেন, এই টি-শার্ট পরলেই অনাকাঙ্খিক্ষত ঘটনাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে না নিশ্চয়ই। তবে আমাদের সোচ্চার আওয়াজই পারে এসব অনাকাঙ্খিক্ষত ঘটনা নির্মূল করতে। সেই ধারণা থেকেই এই শ্লোগানে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা।

মাছ ধরার ফাঁদ by আনিস মাহমুদ

প্রথম আলো, ০৪ জুলাই ২০১৯: বর্ষার নতুন পানিতে মাছ ধরা পড়ে বেশ। পানি বাড়লেই মৎস্যজীবীদের তৎপরতা বাড়ে। এ সময় তাঁদের কাছে চাহিদা বাড়ে মাছ ধরার ফাঁদ বা চাঁইয়ের। সিলেট অঞ্চলে মাছ ধরার ফাঁদ ‘কুই’ নামেও পরিচিত। চাঁই তৈরি করে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার শালুটিকর বাজারে বিক্রির জন্য রেখেছেন বিক্রেতারা। ফাঁদে বাইম, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরা পড়ে বেশি। ছোট-বড় আকারভেদে বিক্রি হয় ৬০ থেকে ১২০ টাকায়।
বাজারে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসাবাজারে বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসানৌকায় করে এনে ঘাটে রেখেছেন কুইনৌকায় করে এনে ঘাটে রেখেছেন কুইবাজারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছেবাজারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছেপানিতে ভিজিয়ে নেওয়া হচ্ছেপানিতে ভিজিয়ে নেওয়া হচ্ছেনিজে তৈরি করে বাজারে বিক্রির জন্য এনেছেননিজে তৈরি করে বাজারে বিক্রির জন্য এনেছেনছাতা মেলে ক্রেতার অপেক্ষায় বিক্রেতাছাতা মেলে ক্রেতার অপেক্ষায় বিক্রেতাকুই বিক্রি করতে এসেছেনকুই বিক্রি করতে এসেছেনবাজারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কুইবাজারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কুইমাছ ধরার ফাঁদ বা কুই নিয়ে বাড়ি ফেরামাছ ধরার ফাঁদ বা কুই নিয়ে বাড়ি ফেরা

ধসে পড়তে পারে চট্টগ্রাম কালুরঘাট সেতু by ইব্রাহিম খলিল

সম্প্রতি কুলাউড়ায় সেতু ভেঙে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের কয়েকটি বগি খালে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই নারী ও দুই পুরুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরো ৬৭ জনের মতো ট্রেনযাত্রী।
এমনি এক প্রাণহানি আর দুর্ভোগের ঘটনা ঘটতে পারে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত কালুরঘাট সেতু ধসে। কারণ ৮৫ বছর বয়সের বার্ধক্য এ সেতু এখন অপেক্ষায় রয়েছে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার।
২০০১ সালে রেলওয়ে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। অথচ এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন। চলছে যাত্রীবাহী ও ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাঙ্কার। এই সেতু মূলত দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাতায়াতে ট্রেন চলাচলের জন্য নির্মিত।    
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৩০ সালে নির্মিত সেতুটিতে রেলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল করছে ১৯৫৮ সাল থেকে।
এই একটি সেতু দিয়ে যান চলাচল, পায়ে হেঁটে পারাপার এবং রেল চলাচল করে থাকে। একমুখী চলাচলের কারণে দুই পাশে যানজট হওয়ার পাশাপাশি সেতুর উপর চাপ থাকে সব সময়। যার জন্য বারবার মেরামত করে সেতুটি সচল রাখার ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে সেতুটি মেরামত করা হয়। এর আগে ২০০৪ সালেও এটি মেরামত করা হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত ছোটখাটো মেরামত কাজ করা হচ্ছে এই সেতুর।
সূত্র জানায়, কালুরঘাট সেতুর উপর দিয়ে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যেকোনো যানবাহন চলাচল নিষেধ। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ফার্নেস অয়েল নিয়ে যেসব ট্যাঙ্কার এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে তার সম্মিলিত ওজনও ১০ টনের বেশি। এভাবে চলতে থাকলে কালুরঘাট সেতুতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরজমিন দেখা যায়, সেতুর উপরের কার্পেটিং উপড়ে গিয়ে স্থানে স্থানে উঁচু-নিচু হয়ে গেছে।  রেললাইনের গোড়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে নদীর পানি চলাচলের দৃশ্য চোখে পড়ছে। কয়েকটি স্থানে মরিচায় লোহার পাত ক্ষয়ে গিয়ে আলগা হয়ে গেছে।
সেতুর পাশের দোকানদার মোহাম্মদ বাবুল জানান, প্রতিদিনই সেতুর দুই পাশে যানবাহনের জট থাকে। যতই দিন যাচ্ছে সেতুর উপর চাপ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে এই সেতু পারাপারে দু’পারের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
তিনি বলেন, এ সেতুর পরিণতি এখন এতই মুমূর্ষু যে, যেকোনো সময় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সেতুর মতো ধসে পড়তে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটবে কুলাউড়ার চেয়েও মারাত্মক ও ভয়াবহ। কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সেতু ধসে পড়লে প্রাণহানি ঘটবে ব্যাপক।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ মো. আবিদুর রহমান বলেন, সেতুটিতে এমনিতে চাপ বেশি। আমরা সাধারণত পাঁচ টনের বেশি অনুমোদন করি না। তবে এখন তার চেয়ে আরো বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল করে। এটি সেতুর জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, এই সেতু বর্তমানে মেরামতের মাধ্যমে চলছে। এমনিতে লোহার পিলার ৬০-৭০ বছর ব্যবহারের পর বাদ দেয়া উচিত। কিন্তু এটি এখনো চলছে। তবে আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক জানান, এনটি-আরপি জয়েন্টভেঞ্চার তিন বছরের মধ্যে রেল চলাচলের ৬০টি সেতুর নির্মাণ ও সংস্কার শেষ করবে বলে চুক্তি করেছিল। তিন বছরে তারা কেবল এক-তৃতীয়াংশ কাজ করেছে। বড় সেতুগুলোর ধারে-কাছেও যায়নি।
বিশেষ করে কালুরঘাট সেতুর কোনো মেরামত কাজই তারা করেনি। কাজ শেষ না করে উল্টো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে। আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো ঠিক করা যায়নি। ইতিমধ্যে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে। শিগগিরই সেতু সংস্কারে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।
তিনি জানান, সেতু দিয়ে বোয়ালখালী, পটিয়ার একাংশ ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের যানবাহনও চলাচল করে। বার্ধক্যে এসে এই সেতু এখন আর বয়সের ভার বইতে পারছে না। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছে। তার পরও যানবাহন চলাচল করছে সমানে, বরং আগের তুলনায় বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেতুটি।
উল্লেখ্য, ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ফ্রন্টের সেনা পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে একটি আপদকালীন সেতু তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ১৯৩০ সালে ব্রুনিক অ্যান্ড কোমপানির ব্রিজ বিল্ডার্স হাওড়া নামে একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কালুরঘাটে যুদ্ধকালীন ব্যবহারের জন্য একটি সেতু তৈরি করে। জরুরি ভিত্তিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে সেতুটি ১৯৩০ সালের ৪ঠা জুন উদ্বোধন করা হয়।
পরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধ মোটরযান চলাচলের জন্য ডেক বসানো হয়। দেশ বিভাগের পর ডেক তুলে ফেলা হয়। ১৯৫৮ সালে এই একমুখী যুদ্ধসেতুটিই সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এ সেতুতে দুটি অ্যাবটমেন্ট, ছয়টি ব্রিক পিলার, ১২টি স্টিল পিলার ও ১৯টি সপ্যান রয়েছে।

আইএসের বিরুদ্ধে আফগান তালেবানদের যুদ্ধের মাত্র শুরু by আলি এম লতিফি

চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানে উদযাপনের কথা ছিল কারণ এই সপ্তাহেই ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীন হয়েছিল ৩২ মিলিয়ন মানুষের এই দেশ। কিন্তু বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক দুই দিন আগেই ট্রাজেডি আঘাত হানলো।

শনিবার আইএস গ্রুপের কথিত এক সদস্য নিজের শরীরে বিস্ফোরক জড়িয়ে শনিবার আট শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিয়ে অনুষ্ঠানে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

কাবুলে যদিও বহু বছর ধরে সহিংসতা চলে আসছে, কিন্তু পশ্চিম কাবুলের এই হামলাটি ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। বিস্ফোরণে ৬৩ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কয়েকশ। সন্ত্রাসী হামলায় যেমনটা হয়, বোমা হামলায় পুরো কাবুল জুড়ে নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কাবুলের একজন অধিবাসী পারবিন পোপাল বলেন, “যখন থেকে এখানে আত্মঘাতী হামলা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই আমি আশঙ্কা করে এসেছি যে বিয়ের অনুষ্ঠানকে আবার যেন টার্গেট করা না হয়। যখনই আমি কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে গেছি, আমার মনে হয়েছে এই ওরা আসলো বলে”।

সোমবার মানুষের দুর্দশা ও অবিশ্বাস দ্বিগুণ হলো যখন পূর্ব আফগানিস্তানের জালালাবাদ শহরে রেস্তোরাঁ ও পাবলিক স্কয়ারে বেশ কয়েকটি বোমা বিস্ফোরিত হলো। স্বাধীনতা দিবসে এই সব হামলায় বহু ডজন মানুষ আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অল্প বয়স্ক শিশুরাও রয়েছে। হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেনি।

মার্কিন প্রশাসন যখন দোহায় প্রথমবারের মতো তালেবানদের সাথে সরাসরি আলোচনা শুরু করলো, তখন থেকেই এই প্রশ্ন উঠেছে যে আইএস গ্রুপের সাথে জড়িত যোদ্ধাদের সাথে কি করা হবে।

পূর্বাঞ্চলীয় ননগারহার প্রদেশের পার্লামেন্ট সদস্য নাবিলাহ বাজ বলেছেন, আইএসের মোকাবেলা করাটা তালেবানদের মোকাবেলা করার চেয়ে অনেক কঠিন হতে পারে।

তিনি বলেন, “বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা করাটা দায়েশের উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কারণ গোষ্ঠিবাদ নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে, রাজনীতির তারা তোয়াক্কা করে না”।

দুই গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য হলো: “তালেবানদের রাজনৈতিক দাবি রয়েছে, তারা বলে থাকে যে, তারা সরকারে ছিল এবং তাদেরকে উৎখাত করা হয়েছে”।

স্বাধীনতা দিবসের আগের সপ্তাহগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেয়া হয়েছিল। এ উপলক্ষ্যে ২০ শতকের কিছু প্রাসাদ আবার খুলে দেয়া হয়, যেগুলো যুদ্ধের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠানে সহিংসতা বোমা হামলাকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যে কারণে কর্মকর্তারা এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেছেন, “তাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা যদি উদযাপন করো, তাহলে হামলায় নিহত ও আহত সবার জুতা তোমাদের প্রাসাদে নিয়ে যাবো আমরা”।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শিগগিরই একটা চুক্তির খবরের জন্য অপেক্ষা করছে সবাই। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি টানার জন্য তালেবান আর ওয়াশিংটন একটা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে।

এই ভয়াবহ হামলার একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

“আফগানিস্তান নিয়ে খুবই ভালো একটা বৈঠক শেষ হয়েছে। ১৯ বছরের এই যুদ্ধের প্রতিপক্ষের অনেকে এবং আমরা একটা চুক্তির জন্য অপেক্ষা করছি – যদি সম্ভব হয়!”

তালেবানদের সাথে সমঝোতায় ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিনিধি জালমাই খলিলজাদ এক টুইটে বলেছেন যে, এই হামলা তাদের আলোচনার গতি আরও বাড়াবে।

প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ইতোমধ্যে হামলার দায়দায়িত্ব পরোক্ষভাবে তালেবানদের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, “তালেবানরা তাদের দায় এড়াতে পারে না। কারণ তারা সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দিয়েছে”।

তালেবানরা হত্যাকাণ্ডের দায় নাকচ করে দিয়ে বলেছে: “নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের বর্বর হত্যাকান্ডের কোন যুক্তি থাকতে পারে না।” তবে তারা নিজেদের হামলা অব্যাহত রেখেছে, যে সব হামলায় বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে।

কাশ্মীর সঙ্ঘাতে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, অভিযোগ পাকিস্তানের

ভারত ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধকৌশল’ অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করে পাকিস্তান সোমবার বলেছে, একটি ড্যাম থেকে পানি ছাড়ার বিষয়টি নয়া দিল্লি জানায়নি। এর ফলে পাকিস্তানে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যকার টানাপোড়েন সাম্প্রতিক সময়ে আরো বেড়েছে। বিশেষ করে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ভারত বাতিল করায় দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তান এতে আরো ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে বহিষ্কার করেছে।

ইসলামাবাদ সোমবার বলে, ভারত থেকে প্রবাহিত শতদ্রু নদীর পানি অপ্রত্যাশিতভাবে ছেড়ে দেয় ভারত। এটা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার পানিচুক্তির বরখেলাপ।

পাকিস্তানের ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির চেয়ারম্যান মুজাম্মিল হোসাইন বলেন, তারা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে, তারা অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে, তারা পানিসম্পদ দিয়ে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। অর্থনীতি, কৃষি ও সেচব্যবস্থায় এই পানির একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ চালাচ্ছে।

পাকিস্তান জরুরিভাবে পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক বলেন, পাকিস্তানে পানি ছাড়ার বিষয়টি ভারত অবগত করেনি।

এ ব্যাপারে ভারতের পানি মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেয়া হয়নি।

তবে এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, বর্ষা মওসুমে পানি ছাড়াটা রুটিন কাজ। এতে চুক্তির কোনো বরখেলাফ হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে আগে পানি ছাড়ার বিষয়টি জানাতাম। এখন ওই দিন শেষ হয়ে গেছে।

পানিসম্পদ নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্ততায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানিচুক্তি হয়।

ভারত গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে পানি দেয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল।

হোসাইন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেবেন। তিনি চুক্তির তেমন ধারধারেন না।

২০১৬ সালে সিন্ধু পানি চুক্তির বৈঠক স্থগিত করার পর মোদি সরকারি কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, রক্ত আর পানি একসাথে প্রবাহিত হতে পারে না।

ভারত জানিয়েছে, তারা পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে পানির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কাশ্মীরে গণভোটের আয়োজন করে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুন: মোদিকে কোরেশির চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘকে দেয়া অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থতার জন্য নয়া দিল্লির সমালোচনা করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কাশ্মীরে গণভোটের আয়োজন করে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে বলেছেন। এতে অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যদা বাতিল কাশ্মীরবাসী মেনে নিয়েছে কিনা তারও প্রমাণ হবে।

গত রোববার মুলতানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কোরেশি বলেন, আমি মোদিকে কার্ফু তুলে নিয়ে গণভোট আয়োজনের চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। কাশ্মীরের সব নেতাকে ডেকে জিজ্ঞেস করুন।

মোদিকে উদ্দেশ্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ভারত জাতিসংঘকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আপনি যদি কাশ্মীর সিদ্ধান্তের জনপ্রিয়তার ব্যাপারে জনগণের মতামত জানতে চান তাহলে গণভোট দিন, তাহলেই দেখতে পাবেন।

সংলাপের বিরুদ্ধে নয় পাকিস্তান

কোরেশি বলেন এই অঞ্চলটি যে বিরোধপূর্ণ সে কথা জাতিসংঘ মহাসচিবও স্বীকার করেছেন এবং এই বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘ প্রস্তাব, জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তা পাকিস্তানের জন্য বড় কূটনৈতিক বিজয় বলে কোরেশি উল্লেখ করেন।

তবে বিশ্ব সম্প্রদায় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংলাপ আয়োজনের উপর কতটা জোর দিচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে পাকিস্তান কখনো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সংলাপের বিরোধিতা করেনি।

কাশ্মীর বিরোধের গতিশীলতা ব্যাখ্যা করে কোরেশি বলেন যে এই ইস্যুর পক্ষ তিনটি: পাকিস্তান, ভারত ও কাশ্মীর। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে দুটি পক্ষের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আর তৃতীয় পক্ষ কাশ্মীরী জনগণ রয়েছে কঠোর কার্ফুর আওতায়, বর্বর সামরিক শক্তি দিয়ে তাদের দমিয়ে রাখা হয়েছে।

আক্ষেপ করে পাকিস্তানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বিধিনিষেধের বেড়াজালে কাশ্মীরী জনগণের দম বন্ধ হয়ে আসছে। তাদের ওষুধপত্র বা খাবার কিনতে দেয়া হচ্ছে কিনা সেটাও আমরা জানি না। এ অবস্থায় কোন ধরনের আলোচনা চালানো যায়?

ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানকে সংলাপে বসতে বলার আগে নিরাপত্তা পরিষদকে অবশ্যই ভারতীয় সরকারের নৃশংসতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে বলে কোরেশি উল্লেখ করেন।

কাশ্মীরের পাশে আমরা আছি

কোরেশি আরো বলেন, কাশ্মীরীরা জন্য অবর্ণনীয় দুর্দশা ও কষ্টের মধ্যে রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপর থেকে অব্যাহত গোলা বর্ষণে আমাদের জওয়ান ও নিরপরাধ বেসামরিক লোকজন নিহত হচ্ছে। পাকিস্তান ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। তবে পাকিস্তান তার অভিপ্রায় ও দৃঢ় ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে। আমরা সবসময় কাশ্মীরীদের পাশে রয়েছি।

কাশ্মীর ইস্যুটিকে তুলে ধরায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রশংসা করেন কোরেশি।

কাশ্মীরের ব্যাপারে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীর বিরোধে পাকিস্তানের অবস্থান জাতিসংঘ সনদের নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন ভিত্তিক এবং এটা অপরিবর্তিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও কাশ্মীরী জনগেণের ইচ্ছা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তি হতে হবে।