Wednesday, April 5, 2017

চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান বরখাস্তের আদেশ স্থগিত

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান জার্জিস হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। স্থগিতাদেশের পাশাপাশি দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বুধবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পৃথক দুটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এ স্থগিতাদেশ দেন।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন আদালত। হরতাল-অবরোধে পুলিশের ওপর হামলা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গৃহিত হওয়ায় মঙ্গলবার তাদের বরখাস্ত করেছিল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

মোদি-হাসিনার বৈঠকে থাকছেন মমতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় তাঁর সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আমন্ত্রণে আগামী শুক্রবার রাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি আসছেন মমতা। আজ বুধবার সরকারি সূত্রে মমতার এই আসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার চার দিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন। তাঁর ওই সফরের সময় মমতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে কি না তা নিয়ে জোর জল্পনা ছিল। হাসিনার সঙ্গে মমতার সাক্ষাতের ঘোষণার পর এ জল্পনার অবসান হলো। এ সফরের সময় তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পসহ নানা বিষয়ে পারস্পরিক মতবিনিময় হবে।
সূত্র জানায়, আগামী শনিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মমতা। ওই দিন কলকাতা-খুলনা বাস চলাচল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। এ সময় মমতাও সেখানে থাকবেন। ওই দিন রাতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে প্রণব মুখার্জির দেওয়া নৈশভোজে উপস্থিত থাকবেন মমতা। তিনি ১১ এপ্রিল দলীয় সাংসদদের সঙ্গে কথা বলতে পার্লামেন্টে যাবেন। ওই দিনই তিনি কলকাতায় ফিরবেন।

মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়সহ সামাজিক বিভিন্ন সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন-২০১৬’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশন ও ইউএনডিপি যৌথভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০১৫ সালের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। বিশ্বের ১৮৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৯তম। আগের বছর (২০১৪) বাংলাদেশ ১৪২তম অবস্থানে ছিল। এ বছর বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে ঘানা ও জাম্বিয়া। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারত ও ভুটান। প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। বিশেষ বক্তা হিসেবে ছিলেন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন কার্যালয়ের পরিচালক ড. সেলিম জাহান। ইউএনডিপির এবারের মানব উন্নয়ন সূচকের মূল প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানব উন্নয়ন’। ১৯৯০ সাল থেকে এ সূচক তৈরি করে আসছে ইউএনডিপি। এবারের সূচক-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মানব উন্নয়নে বেশ উন্নতি হলেও সমতা নিশ্চিত হয়নি।
ফলে এখনো সমাজে বিপুলসংখ্যক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ রয়ে গেছে। বৈশ্বিক এ প্রতিবেদনটিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষাসহ সূচকে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাম এসেছে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ও বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠানের। সামাজিক নিরাপত্তায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিরও প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচক নির্ণয়ে মূল মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নাগরিকদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষা ও মাথাপিছু জাতীয় আয়। যেসব দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি, শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নত ও মাথাপিছু আয় বেশি, সেসব দেশ এ সূচকের তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। সূচকে সবার শীর্ষে রয়েছে নিশীথ সূর্যের দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও ডেনমার্ক।

হাঁপানি রোগী যা করবেন, যা করবেন না

হাঁপানি রোগের চিকিৎসার মূল কথাই হলো রোগীকে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে দেয়া। ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা, গানবাজনা, পড়াশোনা সবই যাতে আর পাঁচটা সুস্থ শিশুর মতো হয় তারই চেষ্টা করা হয়। হাঁপানি রোগী যাতে হীনম্মন্যতার শিকার না হয় তার দিকে সবসময় নজর রাখতে হয়। নিয়ম মতো চললে হাঁপানি রোগীদের রোগের উপসর্গ কম প্রকট হয় এবং তারা মোটামুটি ভালো বোধ করে। খাওয়া-দাওয়া, কাজকর্ম বা নিদ্রা- কোনো কিছুতেই অনিয়ম করা তাদের জন্য ক্ষতিকর। হাঁপানি রোগী সকালে বেশিক্ষণ শুয়ে থাকবে না। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়বে। সারা দিনের কাজকর্মের পর পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া খুব প্রয়োজন। সকালে উঠে হাঁটা ও সাধারণ কিছু ব্যায়াম করা দরকার। তার খাবার হবে সহজপাচ্য। নির্দিষ্ট সময়ে সে খাদ্য গ্রহণ করবে এবং অধিক ভোজন করবে না। হাঁপানি রোগী কখনো ধূমপান করবে না। ধূমপান শ্বাসনালীকে উত্তেজিত করে এবং পরিণামে শ্বাসনালীর সংক্রমণে সাহায্য করে। হাঁপানি রোগীর শোয়ার ঘর ছিমছাম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং অনেক জিনিসপত্রে তা ঠাসা থাকবে না। শোয়ার ঘর ধুলোবালি থেকে মুক্ত থাকবে এবং ঘরে আলো-বাতাস থাকবে প্রচুর। ঘরের আসবাবপত্র এমনভাবে গোছানো থাকবে যেন প্রতিদিন পরিষ্কার করা সহজ হয়। শোয়ার ঘরে কোনো লেপ বা কার্পেট না রাখা বাঞ্ছনীয়। বায়ুদূষণ হাঁপানি রোগীর পক্ষে মারাত্মক। সুতরাং সে দিকে নজর দিতে হবে। রোগীর বাসস্থান এবং কর্মস্থল নির্বাচনে এসব কথা মনে রাখা দরকার।
যে ঋতুতে রোগের প্রকোপ বাড়ে সে ঋতুতে হাঁপানি রোগী কোনো বাগানবাড়ি বা পল্লী অঞ্চলে বেড়াতে যাবেন না। যে ঋতুতে হাঁপানি বাড়ে সে ঋতুতে খাদ্য নির্বাচনেও বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কোন সময়ে কোন ওষুধ কী মাত্রায় খেতে হবে, বুদ্ধিমান রোগী তা সহজেই শিখে নেয় এবং এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধু শারীরিক কাজকর্মেই নয়, মানসিক কাজকর্মেও নিয়মানুবর্তিতা হাঁপানি রোগীর পক্ষে একান্ত প্রয়োজন। মানসিক চাপ হাঁপানির আক্রমণে সাহায্য করে। হাঁপানি রোগী তার কাজকর্ম সাথে সাথে করে ফেলবে। কাজ জমিয়ে রাখবে না। জমা কাজ বা কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন অবসরের জন্য কিছুটা সময় সরিয়ে রাখতে হবে। এই অবসরের সময় নিজের একান্ত ভালো লাগার কাজ করা উচিত। গান শোনা, গল্পের বই পড়া, পছন্দসই রেডিও বা টিভির অনুষ্ঠান উপভোগ করা ভালো। পরিশেষে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় হলো- দৈনন্দিন রুটিনমতো চলা, তা হলে হাঁপানিকে অনেকটা এড়ানো সম্ভব।
লেখক : অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, রাফা মেডিক্যাল সার্ভিস, মহাখালী, ঢাকা।
ফোন : ০১৯১১৩৫৫৭৫৬।

বৈশাখি মেলা উপলক্ষে মানিকগঞ্জে সাজ তৈরি কারিগরদের ব্যাস্ততা

আর কদিন বাধেই এতিহ্যবাহী বৈশাখি মেলা। মেলা আসলেই এর সাথে সংশিষ্ট ব্যাবসায়ীরা আগেই থেকেই ব্যাস্ত হয়ে পড়েন। গ্রাম ত বটেই এখন শহরে কিংবা অফিস পাড়ায়ও ভিন্ন সাজে সজ্জিত হয় উঠে নতুন বছর কে স্বাগত জানাতে। বৈশাখির মেলার বিন্নি ছাড়া মেয়ের জামাইরা শুশুরু বাড়ি যান না। আর বিন্নির সাথে বড় বাতাসা, ঘোরা, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার সাজ ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। মেলার দিন গাভীর দুধ দিয়ে বিন্নি বাতাসা না খেলে কি চলে। আর এ সাজ তৈরি গারিগরা এখন ভিসন কর্মব্যাস্ত সময় পার করছে। মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটীর ভাটারা কয়েক বণিক পরিবার প্রায় ১৫০ বছর ধরে বিন্নির সাজ তৈরি করে সংসার চালাচ্ছেন। গ্রাম কিংবা মেলার মধ্যে বিন্নির সাথে সাজ যেমন বড় বাতাসা, ঘোরা, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকা প্রয়োজন পড়ে। আর এ সাজ শুধু মাত্র জেলার একটি গ্রামেই তৈরি করে থাকে, সেটি হচ্ছে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটীর ভাটারা বনিক পাড়ায়। এ বালিয়াাটীর সাজ নিতে মানিকগঞ্জ জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, ঢাকার জেলার বিভিন্ন পাইকাররা এখন এ বনিক বাড়ীতে ভীর করছে। এ বনিক পাড়ার সাজ কারিগররা জানান, এ বছর পহেলা বৈশাখ কে কেন্দ্র করে প্রায় ৬ শত মুন সাজ বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সাটুরিয়া উপজেলার ভাটারা গ্রামের শ্যামল, দিলিপ বণিক এ সাজ তৈরিতে মহা ব্যাস্ত সময় পার করছে। সাজ সর্ম্পকে তারা ১ম ধারণা দেন, বিন্নি হচ্ছে কিছুটা মুড়ির মত, বিন্নি ক্ষেতে হলে দুধ লাগে আর মিষ্টির জন্য এ সাজের প্রয়োজন পড়ে। সাজ শুধু মাত্র চিনি দিয়ে বানানো হয়। আর বড় বাতাসা বানাতে গেলে চিনির সাথে আখের গুর লাগে। দিলিপ বণিক আরো জানান, প্রথমে বিশেষ ভাবে তৈরি করা পাতিলে চিনি জাল করা হয়, চিনি ঘলে গেলে, সে গরম চিনির পানি, ঘোরা, হাতি, মটুক, পাখি ও নৌকার কাঠের ফর্মায় ডালা হয়।
মিনিট ১০ পরেই তা আবার ফ্রেম থেকে খুলে ফেলা হয়। আর তৈরি হয়ে যায় সাজ। আর কদমা বানাতে গেলে চিনির জাল করে আবার তা ঠান্ডা করে, বিশেষ ভাবে বড় রশির মত তৈরি করা হয়, পড়ে তা চিকুন সুতা দিয়ে ছোট ছোট আকারে কাটা হয়, তখন তৈরি হয়ে যায় কদমা । এবারের বৈশাখ মেলা উপলক্ষে প্রায় ৫ প্রকার সাজ তৈরি করা হচ্ছে। এ সাজ করিগর ভগবত বনিক জানান, আমাদের বাপ- দাদারা এ ব্যাবসা করতেন, তাতে কম করে হলেও প্রায় ১৫০ বছর ধরে এ ব্যাবসা করে আসছি। তিনি আরো জানান, আমরা বতর্মানে ৫টি পরিবার এ সাজ তৈরি করে আসছি। মানিকগঞ্জের শুধুমাত্র আমরাই এ ব্যাবসা করে আসছি। দিলিপ বণিক জানান, গেলবার বৈশাখে আমরা প্রায় ৫০০ মুন সাজ বিক্রি করেছিলাম। এ বছর প্রায় ৬ শ মুন সাজ বিক্রি হবে আশা করছেন। আমরা প্রতি কেজি সাজ পাইকারী বিক্রি করছি ৮০ টাকা , আর মেলার দিন তারা ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি করে থাকে। এক মুন সাজ তৈরি করতে খরচ হয় ২ হাজার ২ শত টাকা, আর পাইকারী বিক্রি করা যায় ২ হাজার ৮ শত টাকা । বড় বাতাসা ১ দিনে ২ মুন তৈরি করা যায়,আর সাজ তেরি করা যায় ৪ মুন পর্যন্ত। চিনির দাম দফায় বাড়াতে তাদের লাভ কম হচ্ছে। তাছাড়া সাজ তৈরির করার সময় সবসময় চুলা জ্বালাতে হয়, জ্বালানি হিসেবে আমরা ব্যাবহার করি গষি, কিন্তু সরকার যদি আমাদের গ্যাস সংযোগ দিত, তাহলে আমাদের খরচ কমার পাশ- পাশি দিনে বেশী করে কাজ করতে পারতাম বলে জানালেন সাজ কারিগররা।

রাষ্ট্রপতি ভবনে হাসিনা-মমতা বৈঠক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির দেয়া ভোজসভায় উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিস্তার পানিচুক্তি নিয়ে নানা ধরনের জল্পনার মধ্যে মমতা এতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। আর ভোজসভার আগে রাষ্ট্রপতি ভবনেই শেখ হাসিনার সাথে মমতা ব্যানার্জির বৈঠক হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথেও মমতা ব্যানার্জি বসবেন বলে কথা রয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানান মমতা ব্যানার্জিকে। আগামী ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন ভারতে। ভারতের রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দি হিন্দু পত্রিকায় বলা হয়, শেখ হাসিনা এবং মমতা ব্যানার্জির সাথে প্রণব মুখার্জি আলাদা আলাদা বৈঠকও করতে পারেন।

মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনী

বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে তদানীন্তন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বাঙালি সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীর অবদান অতুলনীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সামরিক সদস্যদের নিয়ে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ খবর ফাঁস হয়ে গেলে রাষ্ট্রদ্রোহ তথা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামি হিসেবে বন্দী হয়ে কারাবরণ করেন। আসামিদের মধ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট জহুরুল হক অন্যতম। তাকে সেনাবাহিনী হত্যা করে। তবে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পণ্ড হয়ে যায় এবং সবাই খালাস পান। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর সামরিক বাহিনীর বাঙালি সৈনিক, নাবিক, বৈমানিক, পুলিশ ও আনসার মুক্তিযুুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উন্মুখ হয়ে ওঠেন। রণপ্রস্তুতির জন্য গোপন বৈঠক ও শলাপরামর্শ করতে থাকেন। চূড়ান্তক্ষণ উপস্থিত হলো ২৫ মার্চ, যখন পাকিস্তানিবাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করে। ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের পরপর মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত হন কর্নেল এম এ জি ওসমানী। সব পেশাজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, জনগণের সাথে, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।
তখন আমি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সমরাস্ত্র মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং পদে কর্মরত। ’৭১ সালের ২৮ মে পাকিস্তানের সারগোধা বিমানঘাঁটি থেকে পালিয়ে বিমানে ঢাকায় অবতরণ করি। কয়েক দিন কক্সবাজার সদরের মুকতারকুল নিজ গ্রামে অবস্থান করার পর মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের সদর দফতর, ভারতের হরিয়ানা ক্যাম্পে যোগদান করলাম। যুদ্ধকে বেগবান করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বৈমানিকদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হয় ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে। স্থান নির্ধারিত হয়েছিল ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর বিমানঘাঁটি, যা দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে জাপানিরা দখল করেছিল। চতুর্দিকে জঙ্গল আর পাহাড়বেষ্টিত এই ঘাঁটি। পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনের পাঁচজন পাইলটসহ আমরা ছিলাম ৬৮ জন। বিমানবাহিনী অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন গ্রুপ ক্যাপটেন এ কে খোন্দকার (পরে বিমানবাহিনী প্রধান ও মন্ত্রী)। ভারত সরকার দিয়েছিল তিনটি বিমান। একটি অটার, একটি হেলিকপ্টার ও একটি ডাকোটা। মূলত এগুলো যুদ্ধের নয়, যাত্রীবাহী বিমান। আমরা বৈমানিক ইঞ্জিনিয়াররা অটার ও হেলিকপ্টারকে রকেট, মেশিনগান ও বোমা দিয়ে যুদ্ধবিমানে রূপান্তরিত করি। বিমান তিনটির গায়ে লাল-সবুজে বাংলাদেশের পতাকা অঙ্কন করা হয়েছিল যেন সাংবাদিকেরা ভারতের বিমান মনে না করেন। ডাকোটা বিমানটিকে ব্যবহার করা হলো মুক্তিযোদ্ধা আর মালামাল পরিবহনের জন্য। পিআইএ-এর বেসামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জঙ্গি বিমানের পাইলটে পরিণত করা হয়েছিল। অটার বিমান চালনা করতেন গ্রুপ ক্যাপটেন শামসুল আলম এবং পিআইএ-এর ক্যাপ্টেন আকরাম।
আমি বোমা নিক্ষেপের দায়িত্বে ছিলাম। লিডিং এয়ার ক্র্যাফটম্যান রুস্তম আলী মেশিনগান ফায়ার করতেন। হেলিকপ্টারটি চালাতেন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদ (পরে বিমানবাহিনী প্রধান) এবং ফাইট লেফটেন্যান্ট বদরুল আলম ও ক্যাপটেন শাহাবুদ্দিন। পরিবহন ডাকোটা বিমানটির দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন খালেক, শরফুদ্দিন ও মুকিত। প্রশিক্ষণ চলত দিবা-নিশি, তবে বেশির ভাগ সময় অন্ধকার রাতে। রাত ১০টায় অন্ধকার রাতে অভিযানে আমরা বের হলাম অটার বিমান নিয়ে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি স্টেশনে হামলা আমাদের উদ্দেশ্য। হেলিকপ্টারটি উড়াল দিলো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা তেলডিপো অভিমুখে। আমাদের প্রত্যেকের সাথে ছিল একটি স্টেনগান আর ৫০০ টাকা। আমরা চারজন খুব নিচু দিয়ে এবং পাহাড়, সমতল, গাছ ও সাগরের ওপর দিয়ে উড়লাম, যাতে পাকিস্তানের রাডারে ধরা না পড়তে হয়। রাত ২টায় পৌঁছলাম আমাদের লক্ষ্যে, অর্থাৎ পতেঙ্গার তেল শোধনাগার ও ডিপোতে। হানাদার বাহিনীর প্রতিরক্ষাব্যূহ ভেদ করে কর্ণফুলী নদীর মোহনা দিয়ে উড়ে পৌঁছলাম লক্ষ্যবস্তুর পূর্ব পাশে। পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রকেট, মেশিনগান ও বোমা নিক্ষেপ করে আক্রমণ শুরু করা হলো। এর পরপরই তেল ট্যাংকার বিস্ফোরিত হলো এবং দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। এত উঁচুতে আগুন উঠে গেল যেন বিমান ছুঁই ছুঁই। তখনই পাকিস্তানি স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফট মেশিনগান একসঙ্গে ফায়ার করতে লাগল। আমরা পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে সন্দ্বীপের দিকে চলে গেলাম। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমাদের বিমানে একটি গুলিও লাগেনি। আমরা ফেনীর ওপর দিয়ে উড়ে আসামের কুম্ভিগ্রাম বিমানঘাঁটিতে ভোর ৫টায় অবতরণ করলাম। সেখানে উপস্থিত হন আমাদের অধিনায়ক এবং ভারতের বিমানবাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান। তারা আমাদের অভ্যর্থনা জানালেন এবং সফল অভিযানের কথা শুনে আনন্দ ও গর্ববোধ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কাভারিং সাপোর্ট দেয়ার জন্য উল্লিখিত বিমান দু’টি খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বার আখাউড়ায় ভীষণ যুদ্ধে আমরা চতুর্দিকে আক্রমণ চালিয়ে ঘায়েল করে দেয়াতে পাকবাহিনী পিছু হটে যেতে বাধ্য হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা অভিমুখে অনায়াসে অগ্রসর হয়ে ঢাকা দখল করে নেয়। আমরা আরো অনেক ফলপ্রসূ হামলা চালিয়ে হানাদারদের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। দেরিতে হলেও সরকার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব:) শামসুল আলমকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেছেন। ১৯৭১ সালে বিমানযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে গর্ববোধ করছি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীও এ জন্য স্মরণীয় বরণীয়।
লেখক : বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য

আশা-নিরাশার দোলাচলে অবসরভোগীরা

সামাজিক সুরক্ষায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও সরকার বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। ব্যক্তির কল্যাণের সামষ্টিক পর্যায়ই সামাজিক কল্যাণ। সামাজিক কল্যাণের শতভাগ নিশ্চয়তায় বৈষম্য বিলোপ, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক ও অর্থতুল্য সেবাসহ আরো সুযোগ সৃষ্টি প্রয়োজন। প্রবীণ-অবসরভোগী-পেনশনারদের কল্যাণে একমাত্র সরকারই পারে প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবভিত্তিক মৌলিক বিষয়ের ওপর নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর করে তাদের সুরক্ষা দিতে। জনস্বার্থে কিছু দফায় বিস্তারিত বর্ণিত হলো।
(ক) ব্যাংকে সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানতের সুদহার নি¤œমুখী হওয়ায় আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম। মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ছাড়াও সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য সরকারের বিশেষ বিবেচনায় সৃষ্ট পেনশনার সঞ্চয়পত্র বেশি লাভজনক হওয়ায় পেনশন বিক্রির টাকা, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের তহবিল দিয়ে নির্দিষ্ট নির্ধারিত অঙ্কের টাকা পর্যন্ত পেনশনাররা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকেন। অন্য আয়ের উৎসবিহীনদের কাছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেশি নিরাপদ বলে মাসিক পেনশন সম্পূর্ণ বা শতভাগ সমর্পণ বা বিক্রি করেও তা কেনা হয়। যেহেতু, মাসিক ভিত্তিতে প্রাপ্য পেনশন করমুক্ত তাই ৩০.০৬.১১ তাং এর আগে বিক্রীত সঞ্চয়পত্র করমুক্ত রাখা হয়েছিল; কিন্তু পরে প্রয়োজনে পুনঃবিনিয়োগ বা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে বাধ্যতামূলকভাবে। সুদহার হ্রাস করে ও করারোপ করায় একজন বিনিয়োগকারীর স্থির আয়ের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, তাতে তাদের আয়ও হ্রাস পেয়েছে। (খ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বা মূলধন স্থানান্তরের জন্য ইএফটি পদ্ধতির মাধ্যমটি অত্যন্ত যুগোপযোগী। আয়কর প্রত্যয়নপত্রের জন্য গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে হয়, যা কাক্সিত নয়। গ্রাহকের ম্যানডেট অনুযায়ী যে শাখায় মুনাফা স্থানান্তর করা হয় সেখানে কর্তনকৃত করের প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করলে ক্রেতাদের দুর্ভোগ কমবে। অনুরূপভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যেসব শাখা সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সেখানে মুনাফা থেকে কর কর্তন করলে চার্জ ব্যতিরেকে কর প্রত্যয়নপত্র ইস্যুর বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বিশেষ নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। (গ) বয়স বৈষম্যের সাথে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়ে চলছে। আয় কমছে; বাজারমূল্য কম বেশি বাড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন দ্বিগুণ বেড়েছে। আর্থিক সুরক্ষার জন্য পেনশন ৪০ শতাংশের পরিবর্তে শতভাগ বাড়ানো দরকার। (ঘ) প্রবীণ অবসরভোগীদের বয়স ৬৫ বছর হলে চিকিৎসাভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হয়। অথচ ৫৯-৬০ বছর পর্যন্ত বয়সে চাকরিরত অবস্থায় একই ভাতা ১৫০০ টাকা, পার্থক্য শুধু এক হাজার টাকার। চিকিৎসা ব্যয় ক্রমবর্ধমান বিবেচনায় ওই ভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকার স্থলে শতভাগ বৃদ্ধি করা দরকার। অধিকন্তু, যে প্রতিষ্ঠান থেকে অবসরে যাবে সেখান হতে প্রয়োজনে এককালীন চিকিৎসাভাতা প্রদানের বিধান চালু করা প্রয়োজন। (ঙ) ঋণ সঙ্কোচনের জন্য ঋণ মঞ্জুরি ও বিতরণে অনিয়ম রোধে সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ঋণ প্রদানে লিয়েন প্রথা রহিত করা হয়েছিল। ত্রৈমাসিক মুনাফাভিত্তিক পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্র সুরক্ষায় একটি বিশেষ সঞ্চয়পত্র। অবসরভোগীদের সুবিধার্থে যাদের ওই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে তা লিয়েনের মাধ্যমে ন্যূনতম অঙ্কের ঋণ মঞ্জুরির ব্যবস্থা থাকা দরকার। প্রয়োজনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণদান পদ্ধতি সহজ করা প্রয়োজন। (চ) সিএসআর নীতিমালায় একক বা কয়েকটি ব্যাংক একসাথে কল্যাণ তহবিল গঠন করে প্রবীণ অবসরভোগীদের, তাদের উত্তরাধিকারীদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের প্রয়োজনে সেবা দিতে পারে।
(ছ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত ১৪.১০.২০১৫-এর প্রজ্ঞাপনে ১৪২৩ বঙ্গাব্দ হতে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রবর্তনের ঘোষণা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মাসিক নিট পেনশন, আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদেরও এ সুবিধা দেয়া হয়েছে। তবে সাধারণ প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় শতভাগ পেনশন সমর্পণ বা বিক্রি যারা করেছেন তাদের এ সুবিধার আওতায় আনা হয়নি। সিপিএফভুক্তদেরসহ ১০০ শতাংশ পেনশন সমর্পণকারীদের ওই সুবিধার আওতায় আনলে বৈষম্য রহিত হবে। (জ) সঞ্চয়, জমা ও সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে অনেকেই ‘নমিনি’ উল্লেখ করে থাকেন। ‘নমিনি’ শব্দটি মনোনীত ব্যক্তি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। মনোনীতরা উত্তরাধিকারী হতেও পারে, না-ও হতে পারে, এ ক্ষেত্রে নমিনি ট্রাস্টি। ব্যাংকের হিসাব খোলার ফরমে নমিনির উল্লেখ আছে। অনেক হিসাবের ধারক নমিনিকে সম্পদ বা অর্থ গ্রহণের জন্য যথার্থ মনে করেন। যদিও হিসাব খোলার ফরমেটের পাদটীকায় নমিনিসংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয় না। ধারকের ইচ্ছানুযায়ী সুস্পষ্ট ও নির্দিষ্ট করে মনোনয়ন বা ম্যান্ডেট থাকলে মৃত্যুর পর নমিনি কর্তৃক নগদ অর্থ গ্রহণ, সম্পদ আহরণ ও ভোগের বৈধতার বিষয় সবার কাছে সুস্পষ্ট হবে। জানা যায়, সঞ্চয়পত্রসংশ্লিষ্ট উত্তরাধিকারী আইনের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। (ঝ) মাসিক পেনশন ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের মতো শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের চিকিৎসা ভাতা ও বোনাস প্রদানের নিয়ম প্রবর্তনসহ সিপিএফভুক্ত অবসরভোগীদেরও একই সুবিধার আওতায় আনা প্রয়োজন। শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের পুনরায় মাসিক নিট পেনশন ও পারিবারিক পেনশনের আওতায় আসার বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন। (ঞ) প্রবীণ ও অবসরভোগীদের ভ্রমণের সময় পরিবহনে হ্রাসকৃত মূল্যে টিকিট, হাসপাতালে সাশ্রয়ী সময়ে সিট বরাদ্দসহ চিকিৎসাসুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।
অবসরভোগীদের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে। বয়স ও দায়িত্ব বিবেচনায় তারা সংগঠিত নন। তাদের নির্ভরতা শুধুই সরকারের প্রতি। সরকার তথা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অর্থ, আইন, সমাজকল্যাণ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, জাতীয় সঞ্চয়ব্যুরো, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অবসরভোগীদের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও বৈষম্য দূরীকরণে সামাজিক সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অবসরে যারা আছেন বা যাবেন তারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে স্বমর্যাদায় সুন্দর থাকবেন।
লেখক : নির্বাহী কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত),
রূপালী ব্যাংক লিমিটেড

ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি

ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারত দু’টি ভিন্ন রাষ্ট্র। এ দু’টি রাষ্ট্রের কোনো সাধারণ শত্রু নেই। সুতরাং কার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা চুক্তি, তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনে সৃষ্টি হতে পারছে নানা প্রশ্ন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে টানাপড়েন চলেছে, ভারত ইচ্ছা করলে তা মিটিয়ে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারত। কিন্তু দেশটি এ ক্ষেত্রে নীরব থাকা সমীচীন মনে করেছে। ভারত এখন পর্যন্ত বিশ্বের সব থেকে বড় সমরাস্ত্র কেনা দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ নাকি চাচ্ছে ভারতের কাছ থেকে সমরাস্ত্র কিনতে। এই সমরাস্ত্রের মান কী হবে আমরা তা জানি না। সবচেয়ে প্রশ্নসাপেক্ষ ব্যাপার হচ্ছে, ভারতের তৈরি বিস্ফোরক। ভারত সব কিছুতেই ভেজাল মেশায়। ভারতের বিস্ফোরক হতে পারে ভেজাল বিস্ফোরক। ভারতের কাছ থেকে তাই সমর সম্ভার ক্রয় সামরিক দিক থেকে কতটা সুবিবেচনার কাজ হচ্ছে, সেটি কেবল বলতে পারেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত আমাদের দেশটাকে ঘিরে আছে তিন দিকে। ভারতের সাথে মৈত্রী আমাদের ভৌগোলিক কারণেই কাম্য। এ জন্য বাংলাদেশ-ভারত হওয়া উচিত অনাক্রমণ চুক্তি, কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। কেননা ভারত এবং আমাদের কোনো সাধারণ শত্রু নেই, যে নাকি বাংলাদেশ ও ভারতকে আক্রমণ করতে পারে। একটি দেশে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের সময় দু’টি বিষয় হতে হয় বিশেষভাবে বিবেচ্য, একটি হলো তার ইতিহাস আরেকটি হলো তার ভৌগোলিক অবস্থান। চীন ও নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্ক মোটেও মসৃণ নয়। এ দু’দেশের সাথে ভারতের সঙ্ঘাত ঘটা খুবই সম্ভব। ১৯৬২ সালের চীন-ভারত সঙ্ঘাত এখনো হয়ে আছে পুরনো দুষ্ট ক্ষতের মতো। ভারতের সাথে যদি নেপাল অথবা চীনের সঙ্ঘাত ঘটে তবে নেপাল ও চীন দখল করতে চাইতে পারে শিলিগুড়ি করিডোর। এটি ১৭ মাইল বা ২৭ কিলোমিটারের কাছাকাছি চওড়া, যার অবস্থান বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে। চীন অথবা নেপালের সাথে যদি ভারতের সঙ্ঘাত বাধে, তবে তারা এই করিডোর বা যাতায়াত পথ দখল করে নিতে চাইতে পারে। কেননা এই পথ দখল করে নিলে ভারত পারবে না উত্তর-পূর্ব ভারতে রসদ ও সৈন্য পাঠাতে।
তখন ভারতকে রসদ ও সৈন্য পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমাদের কোনো ইচ্ছা না থাকলেও বাংলাদেশকে হয়ে উঠতে হবে রণক্ষেত্র। চীনের চুম্বি উপত্যকা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব ১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি নয়। চীনের সাথে ভারতের সঙ্ঘাত বাধলে চীনও চাইতে পারে শিলিগুড়ি করিডোর দখল করতে। বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে যাওয়া তাই ভৌগোলিক বিচারে বিপজ্জনক। কারণ তাহলে চীন ও নেপাল বাংলাদেশকে ভাবতে পারে বৈরী রাষ্ট্র। আসামে অহমিয়ারা চাচ্ছে স্বাধীন হতে। ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে তারাও হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের বৈরী। আসাম থেকে উলফারা ঢুকতে চাইতে পারে বাংলাদেশে; ভারতের অস্ত্র ও সৈন্য চলাচল বন্ধ করার জন্য। অন্য দিকে বাংলাদেশের ইতিহাস এমন যে, প্রতিরক্ষা চুক্তি করা যেতে পারে না। আজকের বাংলাদেশের উদ্ভব হয়েছে পাকিস্তান ভেঙে। পাকিস্তানের উদ্ভব হতে পেরেছিল মুসলিম জাতীয়তাবাদকে নির্ভর করে। এই মুসলিম জাতীয়তাবাদ ব্রিটিশ শাসনামলে সৃষ্টি হয়েছিল সে সময়ের রাষ্ট্্িরক ব্যবস্থায় যার রেশ এখনো বজায় আছে। বাংলাদেশ এখনো ভারতকে সেভাবে বিশ্বাস করতে পারছে না। কেননা ভারতে ক্রমে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদ প্রকট হয়ে উঠছে যার অন্যতম লক্ষ্য অখণ্ড ভারত গড়া। সহজ কথায়, বর্তমান পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে সামরিকভাবে গ্রাস করা এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়া আদৌ ইতিহাসনির্ভর হতে পারে না। বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশ আক্রান্ত হলে ঐতিহাসিক কারণে একমাত্র ভারতের দ্বারাই হতে পারে। সাবেক পাকিস্তান এখন আর নেই। ১৭০০ কিলোমিটার দূর থেকে বর্তমান পাকিস্তান ভারতকে এড়িয়ে আসতে পারে না বাংলাদেশ দখল করতে তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্য ভারত-বাংলাদেশ ঐক্যের কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না এবং এ জন্য হতে পারে না যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। আমরা ১৯৭১-এর সময়ে বাস করছি না। পাকিস্তানের গোয়াদরে চীন গড়ে তুলেছে বিরাট নৌঘাঁটি। চীনের সাথে পাকিস্তানের কোনো সামরিক চুক্তি সরাসরি না থাকলেও আছে উহ্য প্রতিরক্ষার সমঝোতা। গোয়াদর বন্দর রক্ষার জন্য, বিদেশী পত্রপত্রিকার খবরে প্রকাশ, চীন নাকি ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ১০ হাজার সৈন্য। কাশ্মির নিয়ে ভারত পাকিস্তান সঙ্ঘাত মেটেনি। কিন্তু নতুন করে বৈরিতা দেখা দিয়েছে সিন্ধু নদের পানি নিয়ে। সিন্ধু নদের পানি নিয়ে যদি ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয় তবে আমরা নিশ্চয়ই সে সঙ্ঘাতে অংশী হতে পারি না। কিন্তু ভারতের সাথে যদি আমরা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হই, যে কোনো ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাতে বাধ্য হয়ে ভারতের প্রতিরক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। এসব কথা ভেবেই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়া কতটা সমীচীন হবে সে সম্বন্ধে। ১৯৭১-এর পৃথিবী আর আজকের পৃথিবী এক নয়। বাংলাদেশের মানুষ তখন যতটা ভারতমুখী হয়েছিল এখন তা নয়। ১৯৭১-এ পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ছিল না। এখন যুদ্ধ হলে তা নেবে ভয়াবহ রূপ। এই যুদ্ধে ভারত যে জিতবেই এমন নিশ্চয়তা নেই; কেননা ১৯৭১-এ সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল ভারতের বন্ধু। তখন চীনের ভয় ছিল সে যদি পাকিস্তানের হয়ে ভারতের সাথে যুদ্ধে জড়ায় তবে পেছন থেকে আক্রান্ত হতে পারে সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা। কিন্তু এখন আর তার সে ভয় নেই। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়েছে। রাশিয়াও নেই ভারতের সাথে সামরিক সম্পর্কে আবদ্ধ। পাকিস্তান আক্রান্ত হলে চীন ও নেপাল গ্রহণ করতে পারে পাকিস্তানের পক্ষ। সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত ছিল ১৫টি রিপাবলিক নিয়ে। এর মধ্যে ছয়টি রিপাবলিক ছিল মুসলিম অধ্যুষিত। এই ছয়টি রিপাবলিক এখন চাচ্ছে পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের সাথে সামরিকভাবে জোট বাঁধতে; অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তান বন্ধুহীন হয়ে পড়বে না। তাই বলা যায় না, ভারত এই যুদ্ধে জিতবেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার নিজের দেশ রক্ষার জন্য আত্মনিবেদিত; কিন্তু তার মধ্যে বিরাজ করছে একটা মুসলিম চেতনা। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তাই চাইতে পারে না ভারতের হয়ে অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে লড়তে, যাতে তার দেশের কোনো স্বার্থ নেই। এ কথা দিবালোকের মতো সত্য যে, ভারত যদি বর্তমান পাকিস্তানকে গ্রাস করতে পারে তবে বাংলাদেশকে গ্রাস করার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যাবে । ভারত-বাংলাদেশকে গ্রাস করতে পারেনি পাকিস্তানের সাথে পারমাণবিক যুদ্ধে না জড়াতে চাওয়ার জন্য। কিন্তু ভারতের ক্ষমতায় এখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকার। তার পক্ষে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব।
লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

রাজধানীর ২৫ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার যান চলাচল বন্ধ

বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা-মাশায়েখদের মহাসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসমাবেশ উপলক্ষে রাজধানীর যান ব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হয়।  সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজধানীর বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, বাংলামোটর, মগবাজার, পরীবাগ, সাকুরাগলি, পুলিশ ভবন, সবজিবাগান, মিন্টো রোড পূর্ব প্রান্ত, অফিসার্স ক্লাব, কাকরাইল চার্চ, শিল্পকলা একাডেমির গলি, দুদক গলি, কার্পেট গলি, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট, শহীদুল্লাহ হল, বকশীবাজার, পলাশী,
নীলক্ষেত, রুমান চত্বর, কাঁটাবন, শাহবাগ ও আজিজ সুপার মার্কেট এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।  এ ছাড়া এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শাহবাগ হতে মৎস্য ভবন ক্রসিং পর্যন্ত উভয়মুখী এবং শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর ক্রসিং পর্যন্ত উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে দুই লক্ষাধিক মুসল্লি এবং সেই সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশ করবে। এসব যান কোথায় থাকবে, তা-ও জানিয়ে দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

বালিয়াকান্দি ছাড়লো ব্রাজিল কন্যা

ফেসবুকে পরিচয় অতঃপর প্রেম। ব্রাজিল থেকে ছুটে এলো প্রেমিকের বাড়ী রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজার। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা একনজর দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছে ওই প্রেমিকের বাড়ীতে।
জনতার ঢল নামার কারণে বুধবার সকালে বালিয়াকান্দি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়েছে ব্রাজিল কন্যা। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজারের বলাই ঘোষের ছেলে শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা-কোলকাতা সার্ভিসের কর্মী সঞ্জয় ঘোষের বাড়ীতে ব্রাজিল থেকে একজন নারী সোমবার রাতে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ দেখড়ে ওই বাড়ীতে ভীড় জমাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম রকিব হায়দারের সাথে দেখা করেন জেইসা ও তার প্রেমিক সঞ্জয় ঘোষ। সঞ্জয় ঘোষ জানান, ফেইসবুকে তার সাথে ১৭ মাস পুর্বে ব্রাজিলের মিউনেশিয়াল এ্যাসিসটেন্ট জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভার পরিচয় ঘটে। এক পর্যায়ে সে বাংলাদেশে আসতে চায়। এজন্য সোমবার রাতে তার বাড়ীতে এসেছে।
সে বিয়ে করতে চাইলে সে বিয়ে করবে। তার পরিবারের সদস্যদের কোন বাধা নেই। মানুষের ভীড় করার কারণে তাকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি। ১০ এপ্রিল ব্রাজিলে ফিরে যাবে জেইসা। ব্রাজিলের নাগরিক জেইসা ওলিভেরিয়া সিলভা জানান, সে সঞ্জয় ঘোষের সাথে পরিচয়ের সুত্রধরে এসেছে। সে বাংলাদেশকে খুব ভালো বাসে। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী সরদার জানান, উৎসুক জনতার ভীড়ে ও জানাজানি হওয়ার কারণে বুধবার বালিয়াকান্দি ত্যাগ করেছেন ওই ব্রাজিল কন্যা।

পাইলট অজগরের প্রিয় শিকার মোটাসোটা মানুষ!

পাইলট অজগরের খিদে পেলে রক্ষে নেই৷ সামনে মানুষ পেলে ওর নোলা দিয়ে পানি পড়ে৷ যেন মহাভোজ৷ সুযোগ বুঝে জাপটে ধরে কোঁত করে গিলে নেয়া কোনো ব্যাপারই নয়৷ এমনই সর্বগ্রাসী খিদে নিয়ে এরা ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ পেট ভরা থাকলে নট নড়ন চড়ন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জলাভূমি রক্ষার কাজ করেন ব্যানোস ও লিওনার্দো সানচেজ। স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন তারা৷ রোজকার মতো জঙ্গলে টহল দিতে বেরিয়েছিলেন ব্যানোস ও সানচেজ। হঠাৎ এক জলার ধারে নজরে পড়ল অজগর৷ সেই সাপ দেখে তাদের চক্ষু চড়কগাছ। লম্বায় কম করে ১৫ ফুট৷ এরপর শুরু হলো অজগরে-মানুষে টানাটানি৷ শেষপর্যন্ত বাগে এসেছে অজগর৷ ঘেমে নেয়ে দুই বনকর্মী সাপটার ওজন নিয়েছেন৷
৬৫ কেজির সেই অজগর নাকি ৮০ কেজি ওজনের প্রমাণ সাইজ মানুষ গিলে নিতে ওস্তাদ৷ ছবি পোস্ট করতেই হই হই কাণ্ড৷ কারণ পাইলট প্রজাতির এতবড় অজগর চট করে মেলে না৷ দুই বনকর্মী জানিয়েছেন, পাইলট প্রজাতির অজগরের দৈর্ঘ্য সাধারণত চার ফুট বা তার কম হয়। একটা চার ফুটের অজগর ধরতে পারলে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ মার্কিন ডলার মেলে৷ আর এর পরের প্রতি ফুটের জন্য জন্য বাড়তি ২৫ ডলার পাওনা হয়৷ এই অজগরটা ১৫ ফুট লম্বা। ফলে পুরস্কার মূল্যে পকেট ভারী হয়েছে৷ ফ্লোরিডার জলভূমিতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে পাইলট অজগর৷ তাদের খাদ্য স্থানীয় পশুপাখি৷ ফলে সেই সংখ্যা কমছে৷ সরকার উপায় খুঁজছে অজগরের সর্বগ্রাসী খিদে থেকে বাকিদের রক্ষা করার৷

মাশরাফির অবসর নিয়ে ফেসবুকে মাতম

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুনদের জায়গা করে দিতেই তিনি ক্রিকেটের এ ফরম্যাট থেকে বিদায় নিচ্ছেন। কিন্তু শুধু এ ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ অধিনায়কের গোড়া সমর্থকেরা। তবে শুধু সমর্থকেরাই নয়, অবসরের সময় ও ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রীড়া সাংবাদিকদেরও কেউ কেউ। মাশরাফির জীবনী লেখক ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বিবিসিকে বলেছেন, "সিদ্ধান্তটি হঠাৎ করে এলো। তবে এমন একটা পরিস্থিতি কিন্তু নানাভাবে তৈরি করা হচ্ছিলো।" তিনি বলেন, মাশরাফির বয়স ৩৩ পার হয়েছে। নানা রকম ইনজুরি ছিলো, তাই অবসর সে নিতেই পারে। কিন্তু যেটা বিস্ময়কর তা হলো একটা সিরিজ চলছে, দুটি ম্যাচ বাকি। প্রথম ম্যাচের টসের সময় বলে দিলো যে সে এরপর খেলবে না। "সামনে বড় কোন টি-টোয়েন্টির অ্যাসাইনমেন্ট নেই। এখনি কেন বলতে হলো। কী পরিস্থিতি তৈরি হলো? গুঞ্জন হলো বোর্ড বা কোচের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই মাশরাফির মতের অমিল চলছিলো। আমার ধারণা সেটার একটি বহি:প্রকাশ হলো" - বলছিলেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়। আর এসব গুঞ্জন বা সন্দেহ থেকেই ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠেছে তার সমর্থকদের নানা ধরনের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও দাবিতে। এক্ষেত্রে অনেকেরই সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে মাশরাফির অবসরের প্রতিবাদে শুক্রবার বিসিবি অফিসের সামনে কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ইভেন্ট পাতায় সমালোচনাও করা হয়েছে বিসিবির। কাওসার সুমন নামে একজন প্রোফাইল পিকচারে মাশরাফির ছবি দিয়ে লিখেছেন, "যে খেলা নিয়ে মানুষের এতো আবেগ, উত্তেজনা, ভালোবাসা - সেই খেলা নিয়েই খেলছে বিসিবি! যে ছেলেটা জীবনের তোয়াক্কা না করে দেশবাসীকে হাসাচ্ছে, কাঁদাচ্ছে,
আবেগে ভাসাচ্ছে - তাকে নিয়েই খেলছে বিসিবি! কে হাতুরু, কে পাপন?" সাখাওয়াত হোসেন নামে একজন দৈনিক সমকালের 'অবসরের নেপথ্যে' শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ শেয়ার করেছেন। এ সংবাদটিতে বলা হয়েছে, "...মাশরাফির ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, অবসরের পেছনে নেপথ্যের কারণ আসলে বোর্ডের সিদ্ধান্ত। বোর্ড চাইছিল না, তিনি এই ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যান। গেল নিউজিল্যান্ড সফরের মাঝেই একবার ঢাকায় বসে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন মিডিয়ার সামনে বলে দেন টি২০ থেকে অবসর নিতে চাইছেন মাশরাফি.."। অফিউল হাসনাত রুহিন লিখেছেন, "যদি মাশরাফিকে দল ছেড়ে দেয়ার কথা বলে থাকে, তাহলে এই মুহূর্তে কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের অপসারণ চাই।" আবুল বাশার লিখেছেন, "মাশরাফির অবসরটা কেমন কেমন লাগছে। লম্বায় টেস্ট এর পরে একদিনের ম্যাচ, তারপর টি-২০। দম যদি সমস্যা হয় তাহলেতো আগে একদিনের ম্যাচ ছাড়ার কথা; টি-২০ এর আগে। সে ৫০-এ টিকে থাকে কিন্তু ২০-এ কাবু হয়ে যায়; কি আজগুবি বিষয়! কোন নচ্ছার কলকাঠি নাড়ছে নাতো পিছন থেকে?" সাখাওয়াত আল আমিন লিখেছেন, "ক্রিকেট দল ছাপিয়ে তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের ক্যাপ্টেন...।" আসাদ রহমানের স্ট্যাটাস, "হাতুরের বিদায় চাই.. ম্যাশকে অবসরে বাধ্য করেছে হাতুরে-পাপন"। এভাবেই মাশরাফির অবসর নিয়ে সমর্থকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট ও কোচের বিরুদ্ধে। যদিও মাশরাফির দিক থেকে এ ধরনের কোন ইঙ্গিত আসেনি। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মাশরাফির অবসর নিয়ে এতো সরগরম হলেও এ বিষয়ে বিসিবি কিংবা এর প্রেসিডেন্ট বা কোচের পক্ষ থেকে এখনও কোন মন্তব্য করা হয়নি। তবে ক্রিকেট বিষয়ক সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো মাশরাফির অবসরের সংবাদ প্রকাশ করে বলছে, "... মাশরাফি তার সিদ্ধান্ত প্রথমে সিনিয়র খেলোয়াড়দের ও পরে পুরো টিমকে জানান। জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের সাথে ৩-০ তে হারার পর টিম ও বিবিসি ম্যানেজমেন্টের ভেতরে নতুনদের নিয়ে দল গড়া এবং সাকিব আল হাসানকে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টের পরাজয়ের পরও দলে পরিবর্তনের গুঞ্জন শোনা যায়।" মাশরাফির নেতৃত্বে ২৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশে জিতেছে নয়টিতে। আর মঙ্গলবারের আগে তিনি ৫২টি ম্যাচ থেকে উইকেট নিয়েছেন ৩৯টি। টি-২০ থেকে বিদায় নিলেও মাশরাফির নেতৃত্বেই আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজ এবং এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। সূত্র : বিবিসি

'জীবন্ত কিংবদন্তী মাশরাফি'

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে দুহাত ভরে দিয়েছেন দলকে। এবার নবীনদের জায়গা করে দিতে হঠাৎ করেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেন মাশরাফি। তবে সিদ্ধান্তটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই এলো। এদিকে অবসরের ঘোষণার পর সতীর্থদের শুভ কামনার ভাসছেন টাইগার এই অধিনায়ক। নিজের ফেসবুক পেজে তামিম লেখেন, 'আমাদের ক্যাপ্টেন মাশরাফি ভাইকে নিয়ে যতই বলা হোক না কেন তা কমই হয়ে যাবে। হয়তো তার কোনো বিশ্বরেকর্ড নেই কিংবা ৪০০/৫০০ উইকেট তিনি পাননি, তবে তিনি অন্য দেশের ক্রিকেট কিংবদন্তীদের মতোই।
কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের মতো করে তিনি যে ছাপ রেখে গেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে পরিবর্তন এখন আমরা দেখছি এবং গর্ব করি সেটা তার নেতৃত্বে ভর করেই এসেছে। আমার কাছে এটা বিশ্বরেকর্ড কিংবা ৪০০ উইকেট নেয়ার মতোই। ড্রেসিং রুমকে কীভাবে পরিবারের মতো চালাতে হয় এবং প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে হয়- তিনি তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। মাশরাফি আমার কাছে জীবন্ত কিংবদন্তী। আপনার সামনের দিনগুলোর জন্য শুভকামনা। ক্যাপ্টেন আপনাকে খুব মিস করবো।'

বন্ধ হচ্ছে হাতির দাঁতের ব্যবসা!

হাতির দাঁতের উপর নকশা করে নানারকম শৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করা চীনে শত শত বছরের পুরনো ব্যবসা। তবে এই হস্তশিল্পীদের যুগ এখন শেষ হতে চলেছে। বন্য প্রাণী রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা, সাইটিসের কর্মকর্তা জন স্কানলন বলছেন, বুনো হাতি রক্ষায় এটি একটি যুগ সন্ধিক্ষণ। তিনি বলেন, "চীনে এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন আমরা দেখছি যে, হাতির দাঁতের ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্তটি খুবই কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এখানে অনেক হাতির দাঁতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আরো কিছু বন্ধের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় বলা যেতে পারে"। চীনের এই সিদ্ধান্ত একটু দেরি করেই এলো। দাঁত আছে, আফ্রিকার এমন হাতিগুলো এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। আর এসব হাতি হত্যার সবচেয়ে বড় কারণ হাতির দাঁত, যার সবচেয়ে বড় চাহিদা চীনে। দেশটিতে এসব দাঁতের অন্তত ৭০ শতাংশ পাচার হয়ে থাকে। চীনে এরকম দাঁতের একজন ব্যবসায়ী লিও ফাঙহাই। চীনা সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসাতেও, আর তাই তিনি বেশ ক্ষুণ্ণ। তিনি দাবি করছিলেন, চীনের সরকারের নিয়মনীতি মেনেই তার দাঁতের সরবরাহ আসে। "আমার খারাপ লাগছে, কারণ এই শিল্পটি আমি ভালোবাসি।
তবে এভাবে ব্যবসা বন্ধ করেও, হাতির দাঁতের বেআইনি ব্যবসা বন্ধ করতে পারবেন না। বরং হয়তো এটা অবৈধ ব্যবসায় অনেককে উৎসাহিত করবে"। এখানেও আপত্তি রয়েছে সংরক্ষণবাদীদের। ক্ষুদ্র আকারে হলেও, যদি আইনের মধ্যে হাতির দাঁতের ব্যবসা করতে দেয়া হয়, তা সমস্যাটি ঠেকাতে সামান্যই কাজে আসবে। হয়তো ভোক্তারা মনে করবে, হাতির দাঁত কিনতে কোন সমস্যা নেই। তা হয়তো অপরাধীদেরও সহায়তা করবে। আরো বড় সমস্যা হলো, চীনে ইন্টারনেটে হাতির দাঁত কেনাবেচা করতে এখনো কোন বাধা নেই। সেখানে আফ্রিকা থেকে আসা হাতির দাঁতও কিনতে পাওয়া যায়। বিবিসির তদন্তে দেখা যায়, চীনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এই ইন্টারনেট অপরাধীদের আওতায় আনতে পারছে না। তবে সেসব সমালোচনা যাই থাকুক না কেন, চীন নিঃসন্দেহে একটি বড় আর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাচীন একটি প্রাণী রক্ষার জন্য তারা তাদের প্রাচীন একটি শিল্পকে বিসর্জন দিতে যাচ্ছে।

বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প-শি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। উত্তর কোরিয়া ও বাণিজ্য প্রশ্নে ক্রমবর্ধমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সবচেয়ে টানাপোড়েনের এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্থিক ও সামরিকভাবে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের এই দুই প্রেসিডেন্ট ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো এস্টেটে বৈঠকে বসবেন। এদিকে এ বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়া বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। একে উস্কানিমূলকই মনে করছে বিশ্লেষকরা।

মধুখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ৭নং মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৬ এপ্রিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচারণা। মধুখালী উপজেলা সদরের বাজার থেকে সামান্য দূরত্বে কৃষি প্রধান মেগচামী ইউনিয়নে যাতায়াতে ‘জাইকা’র ঋণে প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে সম্প্রতি। তবে এখনো অধিকাংশ হাটবাজার-রাস্তাঘাটে উন্নয়নের বিশেষ ছোঁয়া লাগেনি। ৬টি সরকারী প্রাইমারী স্কুল, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি নন এমপিওভুক্ত হাইস্কুল এবং একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও একটি ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। একটি নন এমপিওভুক্ত কলেজও গড়ে উঠেছে। এলাকায় শিক্ষার হার মোটামুটি। শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় চাকরি ও বিদেশগমনের প্রবণতা রয়েছে অধিবাসীদের মধ্যে। যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী এলাকা হতে আসা দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিচরণও রয়েছে এখানে। এজন্য এবারের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করা অধিবাসীদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ভোটাররা জানান। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মেগচামী ইউনিয়নের এবারের নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, মেম্বার পদে ২১ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ১৪৭ জন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তরুণ উদীয়মান সমাজসেবক শেখ সবুজ। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকে রয়েছেন হাসান আলী খান। এছাড়া মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাব্বির উদ্দিন শেখ ‘চশমা’ প্রতীকে এবং ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান সুইট রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সাব্বির শেখের আপন ভাই মনিরুজ্জামান পলাশও চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘রজনীগন্ধা’ প্রতীকে। এছাড়া ‘আনারস’ প্রতিকে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হাসান মুকুল। সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এখানে বিএনপি প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া দলীয় ভোটারের সংখ্যা বেশি সাথে ব্যক্তি ইমেজ ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বিলআড়লিয়া বাজারে গেলে সেখানে কথা হয় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর সাথে।
তারা সকলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসন ও র‌্যাব-পুলিশের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিএনপি দলীয় প্রার্থী শেখ সবুজ অভিযোগ করেন, নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে প্রতিপক্ষ হতে হুমকি-ধামকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নৌকায় ভোট না দিলে হিন্দু ভোটারদের গায়ের চামড়া তুলে নেয়ার জন্য প্রকাশ্য সভায় হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমাকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ভোটারেরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুজ্জামান সুইট একইরকম অভিযোগ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের পক্ষ হতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাব্বির আলী বলেন, ২৫/২৬ লাখ টাকায় মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এজন্য দলীয় মনোনয়ন পাইনি। এখন ভোটারেরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে সেটিই দাবি করছি। নওশের আলী মন্ডল নামে এক ভোটার জানান, নির্বাচনের দিন বিশেষ কোনো কেন্দ্র টার্গেট করে ভোট কাটার চেষ্টা চলতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক রকিবুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারে সেব্যবস্থা নিতে হবে। এব্যাপারে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হাসান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাচনের পরিবেশ ভালো দাবি করেন। ভোটারদের হুমকি-ধামকির ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিয়ানীবাজারে ৩ হাজার হেক্টর জমি পানির নীচে

আকষ্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বোরো চাষীরা। অতিবৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টির কারণে ঝরে পড়ছে মৌসুমী ফলের মুকুল। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে মঙ্গলবার ও বুধবারে আরও প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট জমির বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উন্নত জাত ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে ৫ হাজার ৯শ’ ৭০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ করেন প্রান্তিক কৃষকরা। কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি পাতের ফলে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলার আলীনগর ও চারখাই ইউনিয়নসহ বেশ কিছু উচু এলাকার জমিগুলোর বোরো ধান এখনো তলিয়ে যায়নি। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট জমির বোরো ধানও রক্ষা পাবেনা বলে আশংকা করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিয়ানীবাজারসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
অতিবৃষ্টির পাশাপাশি শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া বোরো ধানের পাশাপাশি আম, কাঠাল, লিচুসহ মৌসুমী ফলের মুকুল ঝরে গেছে। অপ্রত্যাশিত চৈত্রবর্ষণে প্রান্তিক চাষিরা বেকায়দায় পড়েছেন। তিলপাড়া, মাথিউরা, মুড়িয়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রবল বর্ষনের ফলে সৃষ্ট পানিতে বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। শিলা বৃষ্টির কারণে আমের গুটি ঝরে পড়ে গাছগুলো প্রায় ফল শূণ্য। এ সময় কয়েকজন চাষীর সাথে কথা বললে তারা জানান, চলতি বছর তাদের আবাদ করা সকল জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে। ধানের “থোড়” তলিয়ে যাওয়ায় পানি নেমে গেলেও ফসল পাওয়া যাবেনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট বোরো ধান নিয়েও শংকা থাকবে। এখনো বেশ কিছু উচু এলাকার জমির বোরো ধান রক্ষা পেলেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সেগুলো তলিয়ে যাবে। তিনি বলেন, বৃষ্টির সাথে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে আম, কাঠাল, লিচুসহ মৌসুমী ফল মুকুল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সৈয়দপুরে ১১ চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চোরসহ ১১ মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সৈয়দপুর থানা পুলিশ। বুধবার দুপুর ১২ টায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিস কক্ষে এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোঃ আতিকুর রহমান এ তথ্য জানান। থানার সুত্রে জানা যায়, একটি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সৈয়দপুর পৌরসভার সামনে থেকে চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রির সময় আবুল কালাম ও জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আরো কয়েকজন চোরকে মোটর সাইকেল চোরকে আটক করে। তারা জানায় আমরা মোটর সাইকেল গুলো নীলফামারীর সৈয়দপুরের শহীদ তুলশীরাম সড়কে মামা এন্টারপ্রাইজে বিক্রি করি। এর প্রেক্ষিতে ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে মামা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে ৭টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়। এবং দোকান মালিক আজহার আলী টেক্কা ও কর্মচারী রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত চোরেরা হলেন গাইবান্ধার মালিবাড়ি, পিতাঃ মৃত দুলা মিয়ার পুত্র আবুল কালাম (৪০),
বগুড়া শাহজাহানপুরের আবুল কাশেমের পুত্র জাহিদুল ইসলাম (৩২), গাইবান্ধা সুলিয়ার হাফিজার রহমানের পুত্র নুর আলম (৩৫), রংপুর কাউনিয়া মাস্টারপাড়ার আবুলের পুত্র মোহাম্মাদ আলী (৩৬), কুড়িগ্রাম জগৎ কুমার গফুরি পুত্র রুপম কুমার (২৯), দিনাজপুর বোচাগঞ্জের এহসান আলীর পুত্র নুরুল আমিন (৪২), একই এলাকার বৃক্ষনাথের পুত্র শ্রী শান্ত কুরাম (৩০)। জব্দকৃত মোটর সাইকেলের মধ্যে ডিসকভার ৪টি, বাজাজ সিটি ১০০ সিসি ৪টি, হোন্ডা ১টি, ডায়োউন ১টি, হুনসেংন ১টি। নীলফামারী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, আমরা চোর সহ ১১টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবং চোরাই মোটর সাইকেল সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ছাত্রলীগের নাম নিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ালে উপযুক্ত শাস্তি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গিবাদীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ নামধারী কেউ এখনো জঙ্গিবাদী হয়েছে কীনা তা তদন্ত করে দেখতে হবে। তবে যদি কেউ ছাত্রলীগের নাম নিয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে তাদের উপযুক্ত শাস্তি পেতে হবে।’ তিনি আজ বুধবার ঢাকা থেকে নেত্রকোনা যাওয়ার পথে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন। ময়মনসিংহে উগ্রবাদী সন্দেহে আটক সাতজনের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের নেতাও রয়েছেন- এমন তথ্যের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এরা (উগ্রবাদী) দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এরা ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই এরা দেশের শান্তি বিনষ্ট করতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দক্ষতার সাথে এদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং পুলিশ জীবন দিয়ে জঙ্গিদের প্রতিহত করেছে। এজন্য পুলিশের ওপর জনগণের আস্থাও বেড়েছে।’ আগের পুলিশ আর এখনকার পুলিশের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা এখন দেশ নয় সারাবিশ্বের আতঙ্ক। সারাবিশ্ব আক্রান্ত হলেও দেশে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গিরা যখনই কিছু করার অপচেষ্টা করেছে তখনই জনগণ এগিয়ে এসেছে। সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের দমন করতে পেরেছে।’ ময়মনসিংহে আটক উগ্রবাদীরা পহেলা বৈশাখে হামলার পরিকল্পনা করছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় উৎসবের পরই পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। জানমালের কোনো ক্ষতি না করেই মানুষের সহযোগিতায় ময়মনসিংহের পুলিশ দক্ষতার সাথে জঙ্গিদের ধরতে সক্ষম হয়েছে। পহেলা বৈশাখে জনগণের নিরাপত্তার জন্য মোটরবাইকে একজনের বেশি চড়া নিষেধ করা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার পরই সব ধরণের অনুষ্ঠান সমাপ্ত করতে বলা হয়েছে।’
স্বরাষ্টমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত এবং ময়মনসিংহ শহরজুড়ে চারশ’ সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এরফলে যে কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ময়মনসিংহ রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিং দেন। এসময় ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আলম মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভূইয়া, বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেত্রকোনার উদ্দেশে ময়মনসিংহ ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, ময়মনসিংহে উগ্রবাদী সন্দেহে আটক সাতজনের মধ্যে জেলার ধোবাউড়া উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২৫) বাঘবেড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। মঙ্গলবার দুপুরে বাঘবেড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ হোসেন মিলন নয়া দিগন্তকে জানান, আল আমিন আওয়ামী পরিবারের ছেলে। তার চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। চাচা মোফাখখারুল ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের নেতা। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আল আমিন সামনের সারিতে থাকতো বলে তাকে ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদ দেওয়া হয়। সে উগ্রবাদী প্রমাণিত হলে অথবা কোনো ধরনের খারাপ কাজে জড়িত থাকলে অবশ্যই দল থেকে বহিস্কার করা হবে।

বালিয়াকান্দি স্কলার্স স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীর বৃত্তি লাভ

রাজবাড়ী জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের ২০১৭ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় বালিয়াকান্দি স্কলার্স স্কুলের ১৫ শিক্ষার্থী প্রথমবার অংশগ্রহন করে। এরমধ্যে ১জন সুপার টেলেন্টপুল, ৪জন টেলেন্টপুল ও ৪জন জেনারেল গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এ সাফল্যে অর্জন করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। বালিয়াকান্দি স্কলার্স স্কুলের অধ্যক্ষ জাফর আলী মিয়া জানান,
রাজবাড়ী জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের ২০১৭ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় ১৫জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। ফলাফলে চতুর্থ শ্রেণীর রওনক জাহান জয়ী সুপার টেলেন্টপুল, তামান্না সুলতানা টেলেন্টপুল, দ্বিতীয় শ্রেণীর মোঃ আবির শেখ টেলেন্টপুল, মোঃ মাহির উদ্দিন টেলেন্টপুল, দিগন্ত বালা টেলেন্টপুল, প্রথম শ্রেণীর অরুপ কুমার মন্ডল জেনারেল গ্রেড, আরিফা জান্নাত জেনারেল গ্রেড, দ্বিতীয় শ্রেণীর মীম জেনারেল গ্রেড, তৃতীয় শ্রেণীর প্রত্যয় কুমার মন্ডল জেনারেল গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। প্রথমবারই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯ শিক্ষার্থীর বৃত্তি লাভে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মাঝে উল্লাস দেখা দিয়েছে।

বালিয়াকান্দিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা শত্রুতা বশত

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডে পাটের গুদামসহ ৪টি দোকান ভস্মিভুত হয়েছে। এ ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা চালিয়েছে বলে বুধবার দুপুরে বালিয়াকান্দি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন, বাঘুটিয়া গ্রামের সুরেন্দ্রনাথ বসুর ছেলে গিরিন্দ্রনাথ বসু।
লিখিত বক্তব্যে গিরিন্দ্রনাথ বসু বলেন, বাঘুটিয়া গ্রামের গৌর চন্দ্র বসুর ছেলে গজেন্দ্রনাথ বসু জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও ইতিপুর্বে তার বাড়ীতে ড্রয়ার ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে ধরা পড়ে। গ্রাম্য শালিসে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা ফেরত দেয়নি। এ শত্রুতার জের ধরে গজেন্দ্রনাথ বসুর পাট আগুনে পুড়ে গেলে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাংবাদিকদের নিকট মিথ্যা, কাল্পনিক তথ্য দিয়ে তার ছেলে গৌতম বসু ও তার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। সে এখন বিভিন্ন মানুষের নিকট নানা ভাবে হুমকি প্রদর্শন করছে এবং অপরিচিত লোকজন নিয়ে বাড়ীর উপর হামলা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি গজেন্দ্রনাথ বসুর অপকর্মের বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর রাতে আগুণে মঞ্জু খা ও গজেন বসুর যৌথ পাটের গোডাউনের ৪শত মন পাট, মনোজিত বিশ্বাসের স্বর্ণের দোকান , অখিল শিকদারের স্যালো মেশিন ও পাট, আনসার মৃধার চাউলের দোকান ও মালামাল পুড়ে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভারতের সাথে বিতর্কিত চুক্তি করবেন না : মোশাররফ

ভারতের সাথে কোনো বিতর্কিত চুক্তি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের কাছে বিতর্কিত হন এমন কোন চুক্তি করবেন না।আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরে আরা সাফা, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। ভারত সরকারকে উদ্দেশ্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে চুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণ জানে না। এমন বিতর্কিত চুক্তি না করার জন্য অনুরোধ করছি। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে এমন চুক্তি করা ঠিক হবে না বলেও জানান তিনি। তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারতের সাথে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হচ্ছে পানি চুক্তি। এই পানি চুক্তি থেকে আর কোনো বড় চুক্তি হতে পারে না। আর এই চুক্তি না হলেও কোনো সমস্যা নেই এটা কিভাবে বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ড. মোশাররফ বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি এই পানি চুক্তি যদি আপনি না করতে পারেন তবে আপনার ভারত সফর সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী কোনো চুক্তি স্বাক্ষর করা হয় তবে দেশের জনগণ মানবে না।
শেষ রক্ত দিয়ে হলেও রুখবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, কুমিল্লা নির্বাচনে জয়ের জন্য আওয়ামী লীগ সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গুম, হত্যার ভয় দেখিয়েও আটকাতে পারেনি। যদি নিরপেক্ষ ভোট হতো তবে আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হতো। চলমান আইপিইউ সম্মেলন নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, যাদের আহ্বানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আসছে তারা নিজেরাই নির্বাচিত নয়। আইপিইউ সম্মেলন প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয়। অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের সৈন্যরা বাংলাদেশে ঢুকতে পারে সেই চুক্তিই শেখ হাসিনা গোপনে করছে। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ভারতের কাছে ইজারা দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ভারতের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিলে আপনি জনগণের ধিকৃত হবেন। জঙ্গিবাদের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, প্রতিটি জঙ্গীদেত বিষয়ে খবর নিয়ে দেখেন সবাই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগে রাজাকার পাবেন, জঙ্গী পাবেন, গণতন্ত্র বিরোধী পাবেন। কারণ তারা এসবের উৎপাদনের রাজনীতি করেন।

পাঠ্যবইয়ে ভুল: আরও ৪ কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

পাঠ্যবইয়ে ভুলের ঘটনায় জড়িত আরও চার কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এনিয়ে এ ঘটনায় মোট ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো। বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন করে চারজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ওই চার কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
তারা সবাই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। চার কর্মকর্তার মধ্যে এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুল মান্নানকে ঝিনাইদহের সরকারি কে সি কলেজে, এনসিটিবির সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক গৌরাঙ্গ লাল সরকারকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, এনসিটিবির বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক মোসলে উদ্দিন সরকারকে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে এবং বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক মো. হাননান মিঞাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে চারজনকেই বৃহস্পতিবারের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল এনসিটিবি থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিবকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। বদলি করা হয় আরেক কর্মকর্তাকে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও পাঁচ কর্মকর্তা কালো তালিকাভুক্ত আছেন।

আরিফুলের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বরখাস্তের আদেশ স্থগিতে দেয়া উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করে। চেম্বার জজ সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালতে এ আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগির হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মেয়র আরিফুলের বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন। দুই বছর তিন মাস পর রোববার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নেন আরিফ। এর তিন ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত একটি ফ্যাক্স বার্তা সিলেট সিটি কর্পোরেশনে প্রেরণ করা হয়। ওই বার্তায় বলা হয়, ‘আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা-৪/২০০৯ এর সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯ এর ১২ উপধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হল।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত বিস্ফোরক ও সাধারণ আইনে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গত ২৭ নভেম্বর শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয় সিলেট ও হবিগঞ্জের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছকে। পরবর্তীতে একই বেঞ্চ থেকে  জামিন পান মেয়র আরিফ। এর আগে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত দু’টি মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে সিসিক মেয়র আরিফকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। সম্প্রতি এই আদেশের বিরুদ্ধে মেয়র আরিফ রিট পিটিশন দায়ের করলে শুনানি শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সরকার পক্ষ আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। সকল আইনী বাধা দূর করে রোববার মেয়র পদে ফিরেছিলেন তিনি।

সিটিং সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন মন্ত্রী

সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অবৈধ পন্থা বন্ধে বাস মালিকরা রাজি হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী বলেন, ‘সিটিং সার্ভিস করা হয়েছে শুধু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য। মালিকরাই এটা করেছিল এখন মালিকরাই তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশাকরি এটা কার্যকর হবে।’
বুধবার সকালে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, 'গণপরিবহনে পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। আগে শুধু আর্থিক জরিমানা করা হতো। বর্তমানে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কারাদণ্ডের বিষয় থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।' অবস্থার আরও উন্নতির জন্য ভবিষ্যতে মোটরযান আইনে চালকদের পাশাপাশি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান সংযোজন করা হবে বলে জানান তিনি।

চাঞ্চল্যকর রুমি হত্যায় বাচ্চুর ফাঁসির আদেশ

রাজধানীতে কিশোরী সুস্মিতা রুমি (১৫) ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার এ রায় দেন। ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামি সাইদুর রহমান বাচ্চু জামিনে গিয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ২০১২ সালের ১ জুন সন্ধা থেকে পরের দিন সকাল ৮ টার মধ্যে কোনো একসময় রাজধানীর হাতিরপুলের নাহার প্লাজায় খুন হন ১৫ বছরের কিশোরী রুমি। খুনের আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
খুনের পর তার লাশ গুম করার জন্য কিশোরীর পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে বাথরুমের কমোডে রাখা হয়। এরপর তার শরীরের ২৬টি টুকরো একটি বাড়ির ছাদের ওপর এবং রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়। রুমির বাবার নাম সাদ্দাম হোসেন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তাদের গ্রামের বাড়ি। মোবাইলে বাচ্চুর সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে প্রেম হয়।

সুইডিশ রেডিওতে র‌্যাবের নির্যাতনের বর্ণনা

সুইডেনের সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত 'স্ভারিজেস রেডিও' গোপনে ধারণকৃত একটি অডিও প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশ পুলিশের এলিট বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কিভাবে মানুষ হত্যা এবং অপহরণ করে তার বর্ণনা উঠে এসেছে। ওই অডিওতে একজন উচ্চপদস্থ র‌্যাব কর্মকর্তা বাহিনীটির অপহরণ, হত্যা এবং লাশ গুমের বিষয়ে বিশদ বর্ণনা দেন। স্পর্শকাতর রেকর্ডটি প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ। তবে ওই কর্মকর্তা জানতেন না যে, তার কথাবার্তা রেকর্ড করা হচ্ছে। 'যদি তুমি তাকে (টার্গেটকৃত ব্যক্তি) খুঁজে পাও তাহলে সে যাই হোক না তাকে গুলি এবং হত্যা করো। এরপর তার পাশে একটি অস্ত্র রেখো দাও'। প্রায় সময়েই এমন নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাব বাংলাদেশের পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী। এটি সামরিক বাহিনী ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৪ সালে এই বাহিনীটিকে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে মাদক ও চোরাচালানোর মতো বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্য সামনে রেখে গঠন করা হয়। অডিওতে র‌্যাব কর্মকর্তার কথোপকথন ছিল বাংলায়। সুইডেনের রেডিওটি জানিয়েছে, তারা নিজেদের সূত্রগুলোর সুরক্ষার জন্য এটি অন্য দেশে অনুবাদ করেছে। ওই র‌্যাব কর্মকর্তা তার ভাষ্যে তুলে ধরেছেন, বাহিনীটি বাছাইকৃত মানুষকে কিভাবে কোনো ঘটনার সময়ে হত্যা করে। এক্ষেত্রে চায়ের দোকানে বসে থাকার সময়ে বা অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ করার সময় টার্গেটদের ধরা হয়। তিনি বলেন, শুরুর দিকে ক্রসফায়ারের ঘটনায় লোকজনের সঙ্গে অস্ত্র থাকতো না। এ কারণে তখন হত্যার কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই এলিট পুলিশ বাহিনী আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানোর কথা বলতো। অডিওতে র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের হাতে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ঘটনা ক্ষেত্রে কিভাবে গুলি ছোড়া হয়েছিল তা সহ বিভিন্ন তদন্ত হয়। কোনো ঘটনা ঘটলে সব কর্তৃপক্ষ তা কিভাবে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের সাংবাদিক ও জনগণের কাছে তুলে ধরে তার চমকপ্রদ বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি। তারা 'ক্রসফায়ারের' মতো শব্দ ব্যবহার করেন এবং দাবি করেন যে র‌্যাবের ওপর গুলি বর্ষণ করা হলে তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিল। ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কাউকে জোর করে গুম করার তিনটি কৌশলের কথা বর্ণনা করেছেন। তা হলো-টার্গেটকে ধরা, তাকে হত্যা করা এবং তৃতীয়ত মরদেহ লুকিয়ে ফেলা। নিহতদের মরদেহ নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার আগে তার সঙ্গে কিভাবে কংক্রিটের ব্লক বেঁধে দেয়া হয় অডিও কথোপকথনে তার সম্পর্কেও বলা হয়েছে।
এই কথোপকথনে এমন সব ভয়ংকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা সাধারণত হরর ছবিতে ব্যবহার হয়। ওই কর্মকর্তা তুলে ধরেছেন পুলিশ কিভাবে ধরে নেয়া লোকজনদের সঙ্গে মিথ্যা বলে। তারা আটকদের বলেন, তাদের নিরাপদে রেখে আসার জন্য তাদের কোনো বন্ধুর কাছে নিয়ে যাবেন। কিন্তু এমনটি না করে পুলিশ তাদের হত্যা করে। ওই র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, সবাই গুম করার দক্ষতা সম্পন্ন হয় না। আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হয় যেন ঘটনার কোনো ক্লু (প্রমাণ) না থাকে। যারা এসব করে তাদের সবার পরিচয়পত্র খুলে ফেলা হয়। আমাদেরকে হাতমোজা পরতে হয় যাতে আমাদের হাতের ছাপ ধরা না পড়ে এবং আমাদের জুতার ওপর কাপড় মোড়ানো থাকে যাতে তার দাগ বুঝা না যায়। আর আমরা অভিযানের সময় ধুমপান করতে পারি না। ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিনই লোকজন নিখোঁজ হয়। এছাড়া এভাবে নিরাপরাধ মানুষ বা যে কেউ নিহত হতে পারে। তার মতে, এটিই রাজনৈতিক বিরোধীদের থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হতে পারে এবং এখানে এমন শক্তি রয়েছে যারা ব্যাপক সংখ্যক মানুষকে মুছে ফেলতে চায়। তিনি এমন মতও দেন যে, এটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেরও একটি উপায় হতে পারে। ওই কর্মকর্তার কথোপকথনের রেকর্ডে এত বেশি ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যে সুইডিশ রেডিওর অনুবাদককে বেশ কয়েকবার বাইরে গিয়ে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে হয়েছে। র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, এই বাহিনী যাদের তুলে নিয়ে যায় তাদের পরিণতির বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে নির্ধারিত হয়। এই স্পর্শকাতর রেকর্ডে তিনি বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কিভাবে লোকজনকে নির্যাতন করা হয়। তিনি একটি অন্ধকার কক্ষের বর্ণনা দেন, যার মধ্যে একটি বাতি ছিল এবং সেখানে গ্রেফতার করা একজন ব্যক্তিকে নগ্ন করে রাখা হয়েছিল। তাকে হাতকড়া পরিয়ে ঝুলিয়ে রাখার পর তার অণ্ডকোষে ইট বেঁধে দেয়া হয়েছিল। ওজনের কারণে তার অণ্ডকোষ মোটামুটি ছিড়ে গিয়েছিল। এরপর নির্যাতিত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তখন তিনি জানতেন না যে ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছিল কী না।

আরও ভালো নির্বাচন চাই

গত ৩০ মার্চ নতুন নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতার ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হিসেবে বিবেচিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনটির ওপর নাগরিক সমাজের ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল। নির্বাচনে কে জিতবে বা কে হারবে তা দেখতে নাগরিক সমাজের যতটা আগ্রহ ছিল, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল নির্বাচনটি কেমন হয় সে বিষয়টি দেখার প্রতি। কারণ, দশম সংসদ নির্বাচন থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়ে। ওই সংসদ নির্বাচনে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি-কারচুপি ও নৈরাজ্য নির্বাচনটিকে কালিমালিপ্ত করে। পরবর্তীকালে পাঁচ পর্বে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচন, তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং ৬ পর্বে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় ব্যাপক দুর্নীতি-কারচুপি, ভোট কাটাকাটি, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, সন্ত্রাস-সহিংসতা, বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে কিছু ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সরকারদলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করাসহ বিভিন্ন প্রকার দুর্নীতিতে নাগরিক সমাজ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। এসব নির্বাচনে সংঘটিত অনিয়ম দৃশ্যমান হলেও নির্বাচন কমিশন অনিয়মকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে চেষ্টা করেনি। এ অবস্থায় রকিব কমিশনের মেয়াদ শেষ হলে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ায় এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়কাল এগিয়ে আসায় আগামী সংসদ নির্বাচন কীভাবে এবং কেমন সরকারের অধীনে হবে সে বিষয়ে নাগরিক সমাজে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। অবশ্য স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরমভাবে ব্যর্থ কাজী রকিব কমিশন মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন করে কমিশনের ভাবমূর্তি মেরামতের ব্যর্থ চেষ্টা করে। তবে নাসিক নির্বাচন মোটামুটি স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার পর এর অধীনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নাগরিক সমাজ নির্বাচনটিকে একদিকে কমিশনের পারফরম্যান্স পরীক্ষা এবং অন্যদিকে দুই বড় দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ব্যারোমিটার হিসেবে গণ্য করেছে। এ কারণে এ নির্বাচনের প্রচারণায় উভয় দলের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনী প্রচারণাকালে এ নির্বাচনে বড় রকমের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বা সন্ত্রাস-সহিংসতা হয়নি। ছোটখাটো ত্রুটি বাদ দিয়ে বলা যায়, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চালান। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতিও দৃশ্যত ভালো ছিল। তবে নির্বাচনের দিন কমিশনের কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। কমিশনের প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগে এবং তাদের প্রশিক্ষণে আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। এদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে গোপনে ইসির পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা দরকার ছিল। এরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতে পারত, তাহলে সকালের দিকে ভোটকেন্দ গুলোতে উল্লেখযোগ্য অনিয়ম না হলেও দুপুরের পর প্রায় শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ভোট কেন্দ্রে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ব্যালট পেপরে সিল মারাসহ বিভিন্ন রকম অনিয়ম ছড়িয়ে পড়বে কেন? ২৯টি ওয়ার্ডের ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডের ২১টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণকারী ব্রতীর প্রতিবেদন অনুযায়ী উল্লিখিত ২১টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে বেআইনিভাবে সিল মারতে দেখা গেছে। এ ৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র দুটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ জানতে চায়, যারা ভোট কেন্দ্রে ঢুকে একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে সিল মেরেছে তাদের শাস্তি হয়েছে কিনা। নির্বাচন কমিশন এত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ দেয়ার পরও যদি ভোটদস্যুরা ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারতে পারে, তাহলে সে নির্বাচনকে ভালো নির্বাচন বলার সুযোগ নেই। ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের সর্বপ্রথম শর্ত হল নির্বাচনে ভয়-ভীতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা। কুসিক নির্বাচনে বাহ্যিকভাবে পরিবেশ ভালো মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে পরিবেশ ভয়-ভীতিহীন ছিল না। নির্বাচনে ভোটের হার দেখে সে বিষয়টি অনুধাবন করা যায়। কারণ এ কথা সবাই জানে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট বেশি পড়ে। সে কারণে কুসিক নির্বাচনে শতকরা ৬৩ ভাগের মতো যে ভোট পড়েছে তা অনেক কম মনে করা যায়। কারণ, গত ৮ম সংসদ নির্বাচনে যেখানে শতকরা ৭৫.৫৯ এবং নবম সংসদ নির্বাচনে যেখানে শতকরা ৮৭.৬০ ভাগ ভোট পড়েছিল সেখানে ব্যাপক প্রচারণার পর একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাত্র শতকরা ৬৩ ভাগ ভোট পড়াকে স্বাভাবিক বলা যায় না।
কিছু কিছু কেন্দ্রে বেশি এবং কিছু কিছু কেন্দ্রে কম ভোট পড়ার হার দেখে ওই সব কেন্দ্রে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। যেমন শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত হলেও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রে, ভিক্টোরিয়া সরকারি মহাবিদ্যালয় বিজ্ঞান ভবন কেন্দ্রে এবং বাগিচাগাঁও ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শতকরা ৫০ ভাগেরও কম ভোট পড়বে কেন? আবার কোনোরকম ম্যানিপুলেশন বা ইঞ্জিনিয়ারিং না হলে ইছহাক সরকারি প্রাথমিক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে শতকরা ৯০.৭১, মডার্ন স্কুল প্রাইমারি শাখা কেন্দ্রে ৮৯.৬০, দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৮২.১ ভাগ ভোট পড়ে কীভাবে? এসব তথ্য থেকে কোনোরকম গবেষণা না করেই অনুধাবন করা যায়, যেসব কেন্দ্রে অনেক কম ভোট পড়েছে সেখানে হয়তো ভোটারদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করেছে এবং যেখানে খুব বেশি ভোট পড়েছে সেখানে হয়তো ভোট কেন্দ্রে কোনো বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। এ নির্বাচনে আরেকটি বিষয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নির্বাচনের দিন বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের অনেক কেন্দ্রে দেখাই যায়নি। পরে জানা যায়, তারা ছিলেন তবে তারা নৌকা মার্কার ব্যাজ বুকে লাগিয়ে ভোট কেন্দ্রে এবং ভোট কেন্দ্রের বাইরে চলাফেরা করেছেন। কাজেই পরিবেশ যদি স্বাভাবিকই হয়ে থাকে, তাহলে একটি দলের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বুকে প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রতীকের ব্যাজ লাগিয়ে ঘুরতে হবে কেন? যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের মতামতেও কুসিক নির্বাচন পরিচালনায় নতুন ইসির ভূমিকার মিশ্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। যেমন, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পর্যবেক্ষণে যেখানে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন ইসির শুভ সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে, সেখানে আরেক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ব্রতীর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে ‘কুসিক নির্বাচন ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের অর্জিত মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে’ উল্লেখ করে এ নির্বাচনের কিছুসংখ্যক ভোট কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে বেআইনিভাবে সিল মারা, ব্যালট ছিনতাই, ককটেল বিস্ফোরণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনের পর সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাখ্যায় কুসিক নির্বাচন পরিচালনায় নতুন ইসির ব্যাপক প্রশংসা করে আগামীতে এ কমিশনের অধীনেই সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় প্রার্থী ও নেতা-কর্মী-সমর্থকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করলে ভোট অনেক বেশি কাস্ট হতো এবং বিজয়ী প্রার্থী আরও অনেক বেশি ভোটের ব্যবধানে সরকারদলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে পারতেন। কুসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং নাগরিক সমাজের অসচেতন অংশের মধ্যে একটি ভুল ধারণা লক্ষ করা গেছে। তাদের অনেকেই মনে করেন, যেহেতু এ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় প্রার্থী জিতেছেন এবং সরকারদলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, কাজেই নির্বাচন হয়তো ভালোই হয়েছে। এ ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী জিতল বা হারল, তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বা দুর্নীতি-কারচুপি পরিমাপ করলে ভুল হবে। নির্বাচনী মাঠের বাস্তবতা দেখে এবং নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের পরিবেশ, ঘটনাবলী, তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করেই নির্বাচনের স্বচ্ছতার মাত্রা অনুধাবন করতে হয়। সেক্ষেত্রে কুসিক নির্বাচনের পরিবেশ, প্রচারণা, ভোট পড়ার হার, অদৃশ্য আতংক, নির্বাচনের দিনের ঘটনাবলী ও পরিবেশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের আচরণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিলে এ নির্বাচনকে একটি প্রশংসনীয় নির্বাচন বলে বিবেচনা করা যায় না। এ কথা স্বীকার্য, ইতিপূর্বে রকিব কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং ইউপি নির্বাচনগুলোতে সন্ত্রাস-সহিংসতা ও দুর্নীতি-কারচুপি যেভাবে ব্যাপকতা পেয়েছিল, কুসিক নির্বাচনে এমন নেতিবাচকতার মাত্রা ছিল তুলনামূলক কম। তারপরও নির্বাচনটিকে স্বচ্ছ নির্বাচনের তালিকাভুক্ত করা যায় না। নতুন নির্বাচন কমিশন তার ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সবটুকু মনোযোগ দেয়ার পরও একটিমাত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে গিয়েই যদি নির্বাচনের এ অবস্থা হয়, তাহলে তারা এর চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে স্বচ্ছতার সঙ্গে করতে পারবেন এমনটি বিশ্বাস করা যায় না। কারণ, ওই নির্বাচনে হেরে গেলে যেহেতু আর সরকারে থাকা যাবে না সেজন্য সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনী লড়াই হবে আরও অনেক তীব্র। সে কারণে কুসিক নির্বাচনে নতুন ইসির পারফরম্যান্স দেখে মনে হয়, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হলে এ কমিশনের পক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। সাধারণ মানুষ স্বচ্ছ নির্বাচন চান। কোনো বিশেষ দল নির্বাচনে জয়ী বা পরাজিত হলেই নির্বাচন ভালো হবে এমনটি তারা মনে করেন না। তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা দেখতে চান। তারা কুসিক নির্বাচনের চেয়ে ভালো নির্বাচন চান। তারা এমন একটি ত্রুটিমুক্ত সংসদ নির্বাচন চান, যে নির্বাচন দেশে ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
akhtermy@gmail.com

জাতীয়তাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা

আজকের পৃথিবীতে সব মহাদেশেই থেমে থেমে বা কিছু সময় বিরতি দিয়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ। যখন বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী তাদের লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানে তখন ওরা একে যুদ্ধ বলেই মনে করে। কিন্তু প্রকৃত যুদ্ধ তা নয়। সঠিকভাবে বলতে গেলে যুদ্ধ হল এক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্য রাষ্ট্রের প্রথাসিদ্ধ ও সংগঠিত শক্তি প্রয়োগ। গৃহযুদ্ধকে আমরা যুদ্ধ বলি এ কারণে যে, গৃহযুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর মানুষ অপর একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে বল প্রয়োগ করে। উদ্দেশ্য রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করা অথবা এর চেহারা পাল্টে দেয়া। ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর গৃহযুদ্ধ এবং স্রেফ ডাকাতির মধ্যে পার্থক্য করা মুশকিল। বর্তমান বিশ্বে শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হল ব্যর্থ রাষ্ট্র। তবে এটি এ কারণে নয় যে, তারা অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করতে পারে। কার্যত তারা এমন অসমর্থতায় ভোগে যে, অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সফলভাবে বল প্রয়োগের হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করতে পারে না। তারা যে বিপদের জন্ম দেয় তা হল নৈরাজ্যের মধ্যে তাদের অবসান। আরও বিপদের কারণ হল উন্নত রাষ্ট্রগুলো এগুলোকে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এ বিপর্যয় রোধ করার জন্য হস্তক্ষেপের পথ বেছে নেয়। কিন্তু একটি উন্নত রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অন্য একটি উন্নত রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে সুবিধাবাদিতার পথে প্রলুব্ধ করে। এ হস্তক্ষেপ কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের উদ্যোগে সংগঠিত হয়, অথবা রাষ্ট্রবহির্ভূত সন্ত্রাসবাদীদের হস্তক্ষেপ করতে প্রলুব্ধ করে। এর ফলে মানবিক দুঃখ-দুর্দশা ও রক্তপাত বাড়তে থাকে।
তদসত্ত্বেও এর ফলে বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ হয় না। যখন বিশ্বে দুটি পরাশক্তি ছিল, অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন, তখন এক পরাশক্তির হস্তক্ষেপ অন্য পরাশক্তির হস্তক্ষেপকে অনিবার্য করে তুলত। এখন পৃথিবীতে একটিমাত্র পরাশক্তি বিদ্যমান। যদিও অন্য পরাশক্তির উত্থানের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। একক পরাশক্তির হস্তক্ষেপ করার প্রবণতা দেখা গেলেও অতীতের তুলনায় তার তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকার ফলে আণবিক যুদ্ধের ভীতিও হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু গৃহযুদ্ধ কিংবা আধা গৃহযুদ্ধ এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেখানে অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা একটি মহাদেশের বিপুল অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমনটি আমরা লক্ষ করেছি কঙ্গো ও এঙ্গোলায়। এখন সোমালিয়ায় যা ঘটছে তা একই ধরনের বিপদের উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ রকম অবস্থায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তববাদী ও মানবতাবাদীদের মধ্যে মুখোমুখি দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। বাস্তববাদীরা দেখতে চান তাদের উন্নত দেশের সরকার নিজস্ব সমাজের স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে কিনা সেটা দেখুক। অন্যদিকে মানবতাবাদীদের কাছে গোটা ব্যাপারটি অসহনীয়। কারণ এর ফলে লাখ লাখ মানুষ নিহত হবে, যেহেতু তারা সন্ত্রাসকবলিত দেশে বাস করছে। তাদের জন্য এটাকে দুর্ভাগ্যই বলতে হবে। বাস্তববাদীরা এতই উদাসীন যে, দক্ষিণ সুদানে ধর্ষণ, দুর্ভিক্ষ ও হত্যাকাণ্ড ঘটলে আমেরিকা বা ব্রিটেনের কি-ই বা আসে যায়। তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এক অদ্ভুত ধরনের যুক্তি হাজির করে। তারা বলে, বিচার-বিবেচনা না করে হস্তক্ষেপ করলে আরও অনেক বেশি ধর্ষণ, অনাহার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে। যারা মানবতাবাদী তারা সমস্যাটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চান। তাদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা কী, কোনো ধরনের বিশ্ব সরকারের কথা কি ভাবা যায় না যা শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে পারে, দেশীয় সরকারগুলো যা করতে পারছে না? বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হয় পুরনো ধাঁচের জাতীয়তাবাদ থেকে।
যখন কোনো উগ্র জাতীয়তাবাদী সরকার তাদেরই সীমান্তের ওপারে অবস্থানরত সমজাতীয়দের নিজ অঙ্গীভূত করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে সংঘাতের উৎপত্তি ঘটতে পারে যখন একটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বহুজাতিক রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায়, যা তার উচ্চাভিলাষকে বাস্তবায়ন করবে। প্রথমটির দৃষ্টান্ত আমরা খুঁজে পাই যখন হিটলার তার চেক প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার ফলে দু’ধরনের সমস্যারই উদ্ভব হল। যেমন, চেচনিয়ায় রুশ উপস্থিতি উগ্র রুশ জাতীয়তাবাদের দৃষ্টান্ত হয়ে দেখা দিল। রুশরা চাইছিল চেচেনদের বৈধ আকাক্সক্ষাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে। অন্যদিকে চেচেন জাতীয়তাবাদীদের কর্মকাণ্ডকে রাশিয়াকে ভেঙে দেয়ার প্রয়াস হিসেবেও দেখা যায়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দু’ধরনের প্রবণতাই লক্ষ করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবশ্যই ইসরাইল নামক কৃত্রিম রাষ্ট্রের সৃষ্টি ভয়াবহ সংকটের জন্ম দিয়েছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যে আমরা একের পর এক রাষ্ট্রকে আরব জাতীয়তাবাদ অথবা ইসলামী জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করতে দেখেছি। এসব জাতীয়তাবাদের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে খর্ব করা। মধ্যপ্রাচ্য তেলসমৃদ্ধ হওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যদি তেলসম্পদ না থাকত তাহলে বৃহৎ শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মাথা ঘামাত না। এ রকম পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-সংঘাতে লিপ্ত হয়ে পড়লেও বৃহৎ শক্তিগুলো উদাসীনতাই দেখাত। আরব, ইরানি এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচীয় জাতীয়তাবাদ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা ছড়াবে। কিন্তু এ কারণে বড় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এর দ্বারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে ভীতি ও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে তাকে খাটো করে দেখা হয় না। অথবা এর ফলে নাগরিক অধিকার এবং উদারনৈতিক গণতন্ত্রের যে ক্ষতি হবে তাকেও খাটো করে দেখা উচিত নয়। সৌদি আরব সব সময় আল কায়দার লক্ষ্যবস্তু ছিল। কারণ আমেরিকা মক্কায় খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আমেরিকা নিজেও আক্রমণ ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এসব কারণে যাকে অনিবার্য ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় তা শুধু ব্যাপকতাই লাভ করবে না, বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েও দাঁড়াবে, যারা কোনোভাবেই এ সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নয়। অনিবার্য ক্ষতি এড়াতে গিয়ে তাদের নিজস্ব জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। গত ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জাতীয়তাবাদী ক্রোধের একটি সীমা আছে। বিশেষ করে এ জাতীয়তাবাদ যদি হয় উপনিবেশবাদ ও নব্য উপনিবেশবাদবিরোধী। কিন্তু যখন ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ সংমিশ্রিত হয়ে যায় তখন উল্লেখযোগ্য পার্থক্য সৃষ্টি হয়। সাধারণভাবে বলা যায়, জাতীয়তাবাদী আকাক্সক্ষার একটি স্বাভাবিক সীমারেখা আছে। ১৯৫০-এর দশকে কেনিয়ায় যখন মাউ-মাউ অভ্যুত্থান হয়, তখন তার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটানো এবং সম্ভব হলে বেশির ভাগ শ্বেতাঙ্গ অভিবাসীকে বিতাড়ন করা। একইভাবে অন্যান্য উপনিবেশবাদবিরোধী বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত উপনিবেশবাদী শক্তির অবস্থানকে অকার্যকর করে ফেলেছে এবং উপনিবেশবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিদ্রোহী জাতীয়তাবাদীরা রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, যা প্রায়ই বৈধতার সংকটে পড়ে। এ ছাড়া এসব রাষ্ট্রের অর্থনীতি জনসংখ্যা বিস্ফোরণের চাপের মুখে পড়ে এবং বৈদেশিক প্রতিযোগিতাকে ঠেকাতে হিমশিম খায়। এর অর্থ এই নয় যে, জাতীয় মুক্তির কাজটি সুসম্পন্ন হয়নি। বিদেশী শক্তিকে বিতাড়ন করা সম্ভব হয়েছে এবং জাতীয় সরকারও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের মন্দের উৎস বলে চিহ্নিত করে যে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ হয় তার ব্যাপারটি কিন্তু ভিন্ন। সন্ত্রাসবাদীদের এমন কোনো স্বদেশ নেই যা তারা মুক্ত করতে চায়। বরং তাদের দেশটি ভুল লোকের হাতে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অর্থে বৈশ্বিক ঔপনিবেশিক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী, ইহজাগতিক ও বস্তুবাদী সংস্কৃতির উৎস। যারা এভাবে চিন্তা করে তাদের দৃষ্টিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সামরিকের তুলনায় অধিকতর আধ্যাত্মিক। ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যেভাবে উপনিবেশবাদের উচ্ছেদ সাধন করা হয়েছে সেভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে উচ্ছেদ করা যাবে না। উদ্ভূত ব্যাপার হল যুদ্ধের সম্ভাব্য কারণ খুবই সেকেলে। যদি রাষ্ট্রীয় সীমান্ত সুচিহ্নিত না থাকে তাহলে অস্ত্র শক্তিতে বলীয়ান রাষ্ট্রগুলো লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়বে, যার মাধ্যমে তারা সীমান্ত বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি খুঁজবে। ভারত হল এমন একটি রাষ্ট্র, যার সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। সুতরাং প্রাচীনকাল থেকে যে কারণে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যুদ্ধ হয়েছে, সে কারণগুলো আমাদের এ অঞ্চলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। নিউইয়র্ক টাইমসে ম্যাক্স ফিশারের লেখা একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ভারত প্রথম আঘাতের নীতি নেবে!’ তাহলে বাংলাদেশ ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়েও নিজেকে বাঁচাতে পারবে কি? কারণ পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তা আমাদের ছোট্ট ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিরোধে লিপ্ত কোনো পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ বিপদমুক্ত নয়।
ড. মাহ্বুব উল্লাহ্ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সুরে কথা বলছেন: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি সব সময় ধংসাত্মক রাজনীতি করেছে। এ জোট দেশের কখনো ভালো চায়নি। এখনো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া পাকিস্তানের সুরে কথা বলেন। বুধবার সকালে ভোলায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (পার্থ বিজেপি) শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। এগুলো মানুষকে জানাতে হবে।
এসময় তিনি ভোলার উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন। ভোলার গাজিপুর রোডের নিজ বাসভবন চত্বরে আয়োজিত ওই যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু, যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, প্রচার সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাপ্তা ইউনিয়নের বিজেপির সভাপতি ছগির আহম্মেদ ওই ইউনিয়নের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

নওগাঁয় ডাকাতিকালে গৃহকর্তার গুলিতে নিহত ১

নওগাঁর বদলগাছীতে ডাকাতিকালে গৃহকর্তার গুলিতে শহিদ (৪৫) নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের ফজলে আজিজ চৌধুরীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নিহত ডাকাতের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,
উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জানালা ভেঙ্গে ফজলে আজিজ চৌধুরীর বাড়িতে ১২/১৫ জনের ডাকাত দল হানা দেয়। এরপর বাড়ির সদস্যদের মারধর করে ১২ ভরি স্বর্ণলংকার ও ৭০/৮০ হাজার নগদ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করে। এ সময় গৃহকর্তা তাদের লক্ষ্য করে বন্দুকের গুলি ছোঁড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ডাকাত ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে অন্য ডাকাতরা পালতে সক্ষম হয়েছেন। বদলগাছী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, নিহত ডাকাতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।

দুই সহস্রাধিক বোতল ফেনসিডিলসহ চালক আটক

ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা দুই হাজার ৩৫০ বোতল ফেনসিডিলের একটি চালান আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় ফেনসিডিল বহনকারী প্রাইভেটকারসহ চালক হারুন অর রশিদকে আটক করা হয়। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার ভবারবেড় এলাকার জলিল উদ্দিনের ছেলে। যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোরের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল বাজারে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার আটক করে ক্যাম্পে আনা হয়।
পরে গাড়ির মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় রক্ষিত দুই হাজার ৩৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। আটক চালক হারুন জানায় এসব মাদকদ্রব্য ঢাকাতে যাবে। তবে প্রকৃত মালিক কে পাচারকারী তা জানেন না বলে বিজিবিকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে চালক হারুনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের মধ্যম কাদমা গ্রামে ছেঁড়া তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- উপজেলার ভেলাগুড়ি গ্রামের বিদ্যুৎ শ্রমিক খোরশেদ আলম (৪০), একই গ্রামের ফেরদৌস হোসেন (৩৫), মধ্যম কাদমা গ্রামের মিলন্ট হোসেন (৩২), ও উকিল হোসেন (৩৫)। ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈদুতিক খুঁটি থেকে ছিঁড়ে পড়া একটি তার সংযোগ দিতে যান চার শ্রমিক। এসময় উকিল নামের এক শ্রমিক খুঁটিতে উঠেন আর বাকি তিনজন তাকে ধরে থাকে।
কিন্তু হঠাৎ করেই ওই তার বিদ্যুতায়িত হলে চার শ্রমিকই স্পৃষ্ট হন। চার শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে প্রথমে খোরশেদ, মিল্টন ও ফেরদৌস মারা যান। পরে অপর শ্রমিক উকিল হোসেনও মারা যান বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা থানার ওসি রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চার শ্রমিক মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

গরু চোরের সঙ্গে পুলিশকেও মারধর, পালাল ৫ আসামি

পলাতক আসামি ধরে থানায় ফেরার পথে গরু চোর সন্দেহে পুলিশের এএসআইসহ দুইজনকে পিটিয়ে আহত করেছে এলাকাবাসী। এ সময় আটক ৫ আসামি পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৮নং ভাদগ্রাম ইউনিয়নের আটঘড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মির্জাপুর থানার এএসআই মো. সোহেল রানা খন্দকার ও টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি গ্রামের  মজিবুর রহমানের ছেলে মো. তারা মিয়া (৫০) । আহত তারা মিয়া গরুচোর বলে জানায় পুলিশ। তাদের আশংকাজনক অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন,  দিবাগত রাতে কয়েকজন পলাতক আসামিদের আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে ভাগ্রাম এলাকায় একদল চোর তিনটি গরু চুরি করে একটি কাভার্ডভ্যানে পালানোর চেষ্টা করছিল। এসময় টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঠা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সড়কের চার পাশ ঘেরাও করে গরু চোরদের কাভার্ডভ্যান আটক করে। এসময় কয়েক জন গরু চোর পালিয়ে গেলেও তারা মিয়া নামে এক চোরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। বিষয়টি বুঝতে না পেরে উত্তেজিত জনতা পুলিশকেও গরু চোর সন্দেহে পিটাতে থাকে। এতে মির্জাপুর থানা পুলিশের এএসআই সোহেল রানা গুরুতর আহত হয়। হামলার সময় সুযোগ বুঝে গ্রেফতারকৃত ৫ আসামি পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে  গরুচোর তারা মিয়া ও পুলিশের এএসআই সোহেলকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করে। ওসি বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযানে নেমেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাত্রদল নেতা নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শান্তিনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ জুয়েল ও  জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনি ভূঁইয়া।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লিয়াকত আলী ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি মো. হুমায়ূন কবির জানান, রাত সাড়ে ১০টার শান্তিনগর এলাকায় একটি অজ্ঞাত গাড়ি ওই দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জুয়েল ও রনি উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান জুয়েল।

মেয়রের চেয়ারে বসলেন বুলবুল

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন- রাসিক মেয়র পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থগিতের পর নিজ কার্যালয়ে গেছেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে এবার তার কার্যালয়ের তালা লাগানো নয়, খোলা ছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর উপ-শহরের নিজ বাড়ি থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে নগর ভবনে আসেন তিনি। এ সময় কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংক্যক নেতাকর্মীরা মেয়র বুলবুলকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুয়া পড়ে মেয়র চেয়ারে বসেন। এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জনগণের দেয়া রায়কে এতোদিন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকার আমাকে ক্ষমতার বাইরে রেখেছিল। এতে নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। নগরীর কোনো উন্নয়ন হয় নি।
কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই আমার প্রথম কাজই হলো নগর ভবনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। বুলবুল আরও বলেন, পাঁচ বছরের সকল সমস্যা তার মেয়াদের বাকি ১৫ মাসের মধ্যেই সমাধান করবো। এজন্য পরিষদকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হবে। সরকার আমাকে সহযোগিতা করলে অসমাপ্ত নগরীর সকল সেবামূলক কাজ করতে পারবো। আগামী শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলেও জানান বুলবুল। এর আগে দীর্ঘ ২৩ মাস পর আদালতের রায় পেয়ে গত রোববার নগর ভবনে যান রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাকে। ওইদিন বেলা ৩টার দিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি ফ্যাক্স বার্তা এসেছে সিটি কর্পোরেশনে। এ সময় মেয়র বুলবুল নগর ভবনে তার দফতরেই ছিলেন। নগরীর ২০১৫ সালের বোয়ালিয়া থানার একটি মামলায় বুলবুলের বিরুদ্ধে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় অবরোধ-হরতাল চলাকালে মোট ১৭টি মামলার আসামি হন রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামি হওয়ায় ২০১৫ সালে ৭ মে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তবে বুলবুলের আপিলের পর ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্ত আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর আইনী লড়াই শেষে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপরই রোববার দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে যান মেয়র বুলবুল। ২০১৩ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে এক লাখ ৩১ হাজার ৫৮ ভোট  পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বুলবুল। ওই বছরের ২১ জুলাই তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৮ সালের ১৫ জুন তার পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে।