Saturday, September 10, 2016

‘হিরোশিমার চেয়েও শক্তিশালী’ বোমা পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

কিম জং ইল
উত্তর কোরিয়া আবারও সফলভাবে একটি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম গতকাল শুক্রবার এ খবর প্রচার করে। উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী এটি ছিল দেশটির পঞ্চম ও এযাবৎকালের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা। তাদের দাবি, হিরোশিমায় বিস্ফোরিত বোমার চেয়েও শক্তিশালী এই পরমাণু বিস্ফোরণ। এ ঘটনায় নিন্দায় মুখর হয়েছে প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, চীনসহ পশ্চিমা দেশগুলো। দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হি বলেন, এই পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং-উন ‘বাতিকগ্রস্ত অদূরদর্শিতার’ পরিচয় দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার পুংগে-রি নামের পারমাণবিক ক্ষেত্রে ওই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার কৃত্রিম ভূকম্পন হয়। ১০ কিলো টনের ওই অস্ত্র নিক্ষেপ করে ১৯৪৫ সালের হিরোশিমা বিস্ফোরণের মতো বিধ্বংস ঘটানো সম্ভব। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, তারা এ সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে রকেটের মধ্যে একটি ছোটখাটো পারমাণবিক টর্পেডো সংযোজনের সামর্থ্য অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে। খবরটি প্রকাশের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর পরিণাম গুরুতর হতে পারে। সংকট নিরসনের জন্য তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার মিত্র হিসেবে পরিচিত চীনও ওই পারমাণবিক পরীক্ষার সমালোচনা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেইজিং পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়াতে উত্তর কোরিয়ার ওই পরীক্ষার পুরোপুরি বিরোধিতা করছে। চীন বিশ্বাস করে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। উত্তর কোরিয়া যদি কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরক মুখ বা টর্পেডোয় লাগানোর উপযোগী ছোট্ট যন্ত্র বানাতে পারে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও যথার্থতা ঠিক রাখতে পারে,
কিম জং উন
হয়তো মার্কিন স্থাপনা বা যুদ্ধযানের ওপরও হামলা চালানোর সামর্থ্য অর্জন করবে। মার্কিনবিরোধী দেশটি প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে। দক্ষিণ কোরীয় এবং পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা এখন পিয়ংইয়ংয়ের ওই অস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য দাবির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন। এ জন্য ভূকম্পনজনিত তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে দেখছেন তাঁরা। জাপান বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ওই অস্ত্র পরীক্ষা ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’। এতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ নির্ধারিত নিয়মের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হয়েছে। উত্তর কোরিয়া ২০০৬ সালে তাদের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। তখন থেকে দেশটির ওপর জাতিসংঘ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। তবে পিয়ংইয়ং বলেছে, তারা এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। কারণ, মার্কিন আগ্রাসনে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে। লাভরভ ও কেরির উদ্বেগ: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা সিরিয়ায় শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক বৈঠকের পর এ বক্তব্য দেন। কেরি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘে আলোচনা হবে। ওলাঁদের নিন্দা: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষার ‘জোরালো নিন্দা’ করেছেন। নিয়ম লঙ্ঘনের এই ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। প্যারিসে ওলাঁদের কার্যালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নতুন উসকানির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আইএইএর বক্তব্য: জাতিসংঘের অধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ গভীর সংকটজনক ও পরিতাপের বিষয়।

হিলারির অন্য রকম সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে হিলারি ক্লিনটন
মঞ্চ, মাইক্রোফোন, সাংবাদিকদের উপস্থিতি, অনেক প্রশ্ন—সবই ছিল। ঘটনাস্থল নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন বিমানবন্দর। পুরোনো ঐতিহ্য মেনেই গত বৃহস্পতিবার সেখানে হাজির হলেন হিলারি ক্লিনটন। আর তাঁকে দেখেও মনে হচ্ছিল, ভুলে গেছেন, ওটা সংবাদ সম্মেলন। একটা উড়োজাহাজের সামনে দাঁড়ালেন। সেই আকাশযানের গায়ে একটা বড় ‘এইচ’ অক্ষর, সঙ্গে লাল তির চিহ্ন। এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি হিলারির নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের লোগো। শুরু হলো সংবাদ সম্মেলন। হিলারি সমালোচনা করলেন প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ভীতিজাগানিয়া’ ভাবনাচিন্তার। বললেন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের পরিকল্পনার কথা। শেষ প্রশ্নটার জবাব দিলেন বিমানের সিঁড়িতে পা রাখার আগে। খুব অসাধারণ কিছু সেদিন ঘটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার এখন চলছে শেষ ধাপ। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিতে হিলারির অনীহার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল আছে যথেষ্ট। সমালোচকেরা বলেন, স্বচ্ছতার ঘাটতি আছে বলেই তিনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চান না। আর রাজনীতির প্রতি তাঁর মনোভাব নাকি খুবই শীতল এবং হিসাব করা।
হিলারি টানা কত দিন সংবাদ সম্মেলন থেকে দূরে ছিলেন, সেই হিসাবও আছে তাঁর বিরোধীদের কাছে। ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টি এ ব্যাপারে বেশ সরব। হিলারির ই-মেইল বিতর্কের বিষয়টিও সামনে এনে তাঁরা ফায়দা লুটতে চাইছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি একটি ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ই-মেইল আদান-প্রদানের ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। হয়তো সে কারণেই চলতি সপ্তাহে দু-দুটি সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি। নির্বাচনী প্রচারকাজে তাঁর উড়োজাহাজে ভ্রমণসঙ্গী হয়েছেন জনা চল্লিশেক সাংবাদিকও। তাঁদের প্রশ্নগুলোর উত্তরও হিলারি দিয়েছেন বিশদভাবে। এসবের মধ্যে ছিল কূটনীতি, অর্থনীতি, বিতর্ক ইত্যাদি নানা বিষয়ের জিজ্ঞাসা। তিনি হোয়াইট হাউসের জন্য নির্বাচিত হলে তাঁর মেয়ে চেলসি কি ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন? হিলারির জবাব, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই সেই ফয়সালা হবে। রাশিয়ানরা কি ট্রাম্পকে বিজয়ী করতে সাহায্য করছে? এই প্রশ্নের উত্তরে হিলারি আরকানসাসে দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন: ‘যদি কোনো কচ্ছপকে বেড়ার কাছে দেখতে পান, বুঝে নেবেন, ওটা দুর্ঘটনাক্রমে সেখানে পৌঁছায়নি।’ রুশ হ্যাকারদের সাইবার চুরি সম্পর্কে হিলারি বলেন, ট্রাম্প মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই এটা ঘটেছে। এর মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো অভিসন্ধি থাকতে পারে।

৯/১১ হামলার ১৫ বছর নতুন সন্ত্রাস, নতুন হুমকি

নিউইয়র্কে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ১৫ বছর পেরিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ওরকম সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র রুখতে যুক্তরাষ্ট্র এখন যথেষ্ট কঠোর হলেও সেখানে ছোটখাটো হামলার ঝুঁকি রয়ে গেছে। আর দেশের ভেতরে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সন্ত্রাসীরাই এখন হুমকি। নানা রকম হামলার চক্রান্ত খুঁজতে এবং জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদার সমমনা লোকজনের তৎপরতা নস্যাৎ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমন বিভাগ। কারণ, এসব জঙ্গিগোষ্ঠী এখন নতুন নতুন যোগাযোগপ্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে। ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক নিক রাসমুসেন চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বলেন, ‘আমাদের কাজটা দিন দিন কঠিনতর হচ্ছে। কট্টরপন্থীরা এখন নানা উপায়ে পারস্পরিক যোগাযোগের কাজটা সেরে নিতে পারে। অনেকে জনপ্রিয় স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই তথ্য বিনিময় করছে। এতে তারা মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর আওতার বাইরে থাকার সুযোগ পাচ্ছে।’
৯/১১ হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী মার্কিন লড়াইয়ের (ইউএস ওয়ার অন টেরর) যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে এটা আল-কায়েদা ও তালেবানের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিল। তবে ১৫ বছর পর তাদের লক্ষ্য আরেকটি সংগঠন, আইএস। এরা সিরিয়া ও ইরাকের একটা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি ইউরোপ-আমেরিকায় অভ্যন্তরীণভাবে গড়ে ওঠায় হামলা এবং সে রকম পরিকল্পনায় ইন্ধন জোগানোর সামর্থ্য রাখে আইএস। এসব হামলা ৯/১১-র তুলনায় ছোট মাত্রার হলেও ভয়ংকর এবং স্থানীয় লোকজনের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। এদিকে, সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পরও আল-কায়েদা টিকে আছে। সমমনা অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিয়ে তারা শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। ফিলিপাইন থেকে শুরু করে পশ্চিম আফ্রিকা অঞ্চল পর্যন্ত তারা সন্ত্রাসী হামলার জটিল ধরনের হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাইবার অ্যান্ড হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পরিচালক ফ্র্যাংক সিলাফো বলেন, ইরাক-সিরিয়া অঞ্চল থেকে ওই সন্ত্রাসী কার্যক্রম অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকি অব্যাহত আছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধিকতর জটিল অবস্থায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বেড়ে ওঠা সহিংস কট্টরপন্থীরা বেশ কয়েকটি আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। ফলে বিদেশি হুমকির চেয়ে এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজর এসব অভ্যন্তরীণ হামলাকারীদের দিকেই বেশি। এদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সী আমেরিকান-আফগান বংশধর এক ব্যক্তি গত জুনে অরল্যান্ডোয় সমকামীদের একটি নাইট ক্লাবে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন। তিনি কট্টর ইসলামপন্থীদের সমমনা ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি ও তাঁর স্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্দিনোয় বড়দিনের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেন। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এ রকম ১০২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যাদের অপরাধের সঙ্গে আইএসের যোগসাজশ রয়েছে। আর তাদের অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে জড়িয়েছে।
রাসমুসেন বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে কট্টরপন্থীদের সক্রিয়তার এক হাজারের বেশি ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া এখন চক্রান্ত তৈরি ও বাস্তবায়ন হচ্ছে অনেক বেশি দ্রুততায় এবং গুটি কয়েক লোকের মাধ্যমে। ফলে এদের সময়মতো খুঁজে বের করাটা গোয়েন্দাদের পক্ষে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আইএস ইরাক-সিরিয়া অঞ্চলে পরাজিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। কিন্তু এতে সন্ত্রাসী হামলার হুমকির সামগ্রিক অবসান হবে না। আইএস ভেঙে গেলেও সারা বিশ্বে গোপনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তাদের সমমনা লোকজন নতুন করে সক্রিয় হয়ে নীরবে ষড়যন্ত্র ও হামলা চালানোর সামর্থ্য রাখে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমি মনে করেন, আইএসের ‘খিলাফত’ ভেঙে দেওয়ার পরও সন্ত্রাসী হামলার হুমকি আগামী পাঁচ বছর ধরে বহাল থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও বলেন, হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের দুর্বলতাও সন্ত্রাস দমনের পথে একটি বড় বাধা। কাজেই বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে হবে। লড়াইয়ের মূলে রয়েছে একটা আদর্শ। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্জন সামান্য। এ কারণেই আইএস এবং আল-কায়েদার প্রতি সহানুভূতিশীল লোকজন সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেইডোসের বিশেষজ্ঞ মাইকেল লেইটার বলেন, এ ক্ষেত্রে সত্যিকারের সাফল্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। মুসলিমদের নিষিদ্ধ করে কোনো সুফল মিলবে না।

৫০০ রুপিতে জেলখানায়!

৫০০ রুপিতে জেলখানায়!
দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ২০০ বছর পুরোনো কারাগারে পর্যটকদের এক রাত কাটানোর সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সেখানে একটি রাত একজন কয়েদির মতো করে থাকার সুযোগ পাবেন। রাজ্যের সাংগারেড্ডি জেলায় অবস্থিত ঔপনিবেশিক আমলের এই কারাগারে দর্শনার্থীরা তাঁদের কারাকক্ষে যাওয়ার আগে কয়েদির পোশাক, সাধারণ বিছানা, সাবান ও খাবারের পাত্র পাবেন। সেখানে এক রাত থাকার জন্য খরচ পড়বে ৫০০ রুপি। রাজ্যের কারা মহাপরিচালক বিনয় কুমার সিং বলেন, পর্যটনের প্রসার ছাড়াও এক রাত জেলে কাটালে মানুষ জানতে পারবেন গারদের পেছনের জীবনটা আসলে কত কঠিন।
তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা মানুষকে বোঝাতে চাই, যেকোনো মূল্যেই তাঁদের অপরাধ থেকে দূরে থাকা উচিত।’ অশ্বারোহী সেনাদলের ব্যারাক হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ১৭৯৬ সালে এই ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময় সেগুলোকে কয়েদখানায় রূপান্তর করা হয়। প্রাচীন এ কয়েদখানাটি ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেখানে ভারতের অপরাধ ও কয়েদ-জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত চিত্রকর্ম ও অন্যান্য হস্তশিল্প প্রদর্শিত হয়।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ভিন্ন পথ by আরিফ চৌধুরী

তাঁরা বলেন, বাংলাদেশিরা একে অপরের কাছ থেকে স্রেফ দুই পা দূরে। গত ১ জুলাই এই বাস্তবতা অত্যন্ত করুণভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হলি আর্টিজান বেকারি এমন একটা জায়গা, যেখানে প্রবাসীরা গৃহকাতরতা কাটাতে নানা রকম খাবারদাবারের মধ্যে ডুব দিয়ে থাকেন। আমার চাচাতো ও মামাতো ভাইয়েরাও সেখানে যায়। ২০১১ সালে আমি যখন শেষবার বাংলাদেশে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে অনুষ্ঠিত এক জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলাম। গত ১ জুলাই রমজান মাসের একদম শেষ প্রান্তে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন সন্ত্রাসী ঠিক করল, একসঙ্গে অনেকজনকে হত্যা করার জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো জায়গা, যার মধ্য দিয়ে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ভীতসন্ত্রস্ত করা সম্ভব। আমার অনেক আত্মীয়স্বজনই ইফতারের জন্য গুলশানের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় যান। ফলে এই সংবাদ শোনার পর আমাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। যদিও আমরা জানতে পারলাম, তাঁরা ভালো আছেন। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম, যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত তিনজন ছাত্র সেখানে মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে ইমোরির দুজন ছাত্র ছিলেন, যাঁরা আবার আমাদের পারিবারিক বন্ধু। হ্যাঁ, স্রেফ দুই পা দূরের মানুষই বটে।
সম্প্রতি পুলিশের এই অভিযানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক ও এই আক্রমণের সন্দেহভাজন হোতা মারা গেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও আরও কয়েক বছর হয়তো এই জঘন্য সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংঘাত চলবে। ব্লগার, কর্মী, সাংবাদিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, শিয়া, সমকামী গোষ্ঠীর মানুষেরা এসব হামলার সম্মুখীন হতেন। এমনকি সাংস্কৃতিক তৎপরতা চালানোর জন্য একজন মুসলিম অধ্যাপককেও হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের অনেককে একদম দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনা খুবই বিরল ছিল। হলি আর্টিজানের ঘটনাই দেশে প্রথম, যেখানে একসঙ্গে এতজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হলো। একইভাবে এতেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যে এই হামলাকারীদের সবাই উচ্চশিক্ষিত, যারা সমাজের সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্য। এই হামলাকারীরা আসলেই আইএস, নাকি দেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, এর মধ্য দিয়ে আমরা এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম: সহিংস সন্ত্রাসবাদ এক সংকট, যেটা বাংলাদেশ অগ্রাহ্য করতে পারে না। যে দেশ ব্যাপক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছে, সে দেশে সহিংসতা নতুন বিষয় নয়। এমনকি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরও সময়-সময় রাজনৈতিক সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধকরণ ও ধরপাকড়ের কারণে দলটির কর্মী ও সমমনা চরমপন্থী দলের কর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ সংগ্রাম করেছেন, যাঁদের একটি অংশ আবার রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে সহিংসতা চালিয়েছে। তার সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর অতি উৎসাহ এবং সুযোগসন্ধানী আচরণ ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের নির্যাতনের কারণে দেশে ব্যাপক মেরুকরণ ঘটেছে। একই সঙ্গে, মানুষের মন কঠিন হয়ে উঠেছে। আবার এদের মধ্যকার আরও ক্ষুদ্র একটা অংশ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে উগ্রপন্থী হয়ে যাচ্ছে। কট্টর জঙ্গি মনোভাবাপন্ন সংগঠনে যোগ দিয়ে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে। আলজেরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়ও বিষয়টি দেখা গেছে। আর বর্তমানে মিসরের সিসিও একই ভুল করছেন। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার ক্ষমতা ও তাদের বাজেট বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে একটা নিরাপত্তা রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এর বদলে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক পুনর্বাসন, নাগরিক সমাজ ও তৃণমূল পর্যায়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করলে ভালো ফল আসবে। অ্যান্টি-টেররিজম অ্যান্ড কাউন্টার এক্সট্রিমিজম ইন বাংলাদেশ: ফ্রম পলিসি টু গ্রাসরুটস অ্যাক্টিভিজম শীর্ষক তুলনামূলক জুরিস্ট পলিসি পেপারে এ-বিষয়ক সুপারিশ করা হয়েছে।
গত কয়েক দশকে মুসলিম বিশ্বে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের যে মুসলিম নাগরিকেরা এসবে আক্রান্ত হননি, তাঁদের মধ্যেও চরমপন্থা-প্রভাবিত সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিত্বের বিস্তার ঘটছে। গুলশান হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই দেখা গেল, যেকোনো শিক্ষায় শিক্ষিত ও সামাজিক-অর্থনৈতিক বর্গের মানুষই উগ্রপন্থায় আক্রান্ত হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন মুসলিম দেশ এসব সন্ত্রাসী ও জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত মানুষের জন্য নানা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে। একইভাবে অনেক ইউরোপীয় দেশ বিদেশে এসব যুদ্ধফেরত নাগরিকদের জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। কথা হচ্ছে, অধিকাংশ মুসলিম দেশই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করে আইন দিয়ে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এদের হয় ফাঁসি দেওয়া হয়, না হয় দণ্ড দেওয়া হয়। তবে কিছু কিছু দেশ জঙ্গিদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট নাগরিকদের মন থেকে চরমপন্থী আদর্শ মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। সৌদি আরব পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কট্টর কিছু সন্ত্রাসবিরোধী আইন করলেও তাদের ‘কেয়ার রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার’ (সিআরসি) নামে একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র রয়েছে। এর মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত মানুষের ‘ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনের’ চেষ্টা করা হয়। এর লক্ষ্য হচ্ছে, এমনটা একটা পরিবেশ তৈরি করা, যাতে পরবর্তীকালে ‘বন্দীরা সহিংসতা করতে’ প্ররোচিত না হয়।
তাদের কাউন্সেলিং করা হয়। সৌদি আরবের মতো ডেনমার্কও একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র করেছে, যেখানে অন্য ইউরোপীয় দেশগুলো সাধারণত শাস্তি দিয়ে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করতে চায়। বাংলাদেশে চরমপন্থা দূর করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি চালু করা হলে দেশটির ভারাক্রান্ত বিচার বিভাগ কিছুটা রেহাই পাবে। সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার কারাগারে মুসলিম জঙ্গিদের সাধারণ কয়েদিদের থেকে আলাদা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, কারা কর্মীদের এই সক্ষমতা নেই যে তাঁরা সেলের ভেতরে উগ্রপন্থার বিস্তার ঠেকাতে পারেন। এই চরমপন্থা দূরীকরণের কর্মসূচি থাকলে জঙ্গিরা যেমন নিজেদের অস্ত্রে ধার দেওয়ার সুযোগ পায় না, তেমনি সাধারণ কয়েদিরাও এদের খপ্পরে পড়ে না। সহিংস চরমপন্থা ও রাজনৈতিক সহিংসতার সহজ সমাধান নেই। রাতারাতি এর সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব নজির দেওয়ার লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশকে এ লক্ষ্যে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের রসদ দেওয়া। এটা করতে বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সন্ত্রাসী হামলায় সারা বিশ্বই কেঁপে উঠছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা আইএস, আল-কায়েদা ও অন্য মুসলিমবিরোধী, অনৈসলামিক সন্ত্রাসীদের পরাভূত করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন পোর্টাল হাফিংটন পোস্ট থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
আরিফ চৌধুরী: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন গবেষক।

কর দিতে নগরবাসীর ভোগান্তি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে সময়মতো কর পরিশোধের বই না পাওয়ায় নগরবাসী নিজেদের সুবিধামতো ব্যাংকে কর দিতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে কর দিতে হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে হোল্ডিং কর পরিশোধ করলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নগরবাসীকে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থের ১০ শতাংশ ছাড় দেয়। প্রতিবছর জুলাই মাস থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি কর পরিশোধের বই পৌঁছে দেওয়া শুরু করেন। সেই বই নিয়ে নগরবাসী সুবিধামতো তাঁদের বাড়ির পাশের ব্যাংকে গিয়ে জমা দেন। কিন্তু এবার দুই সিটি করপোরেশনের কোনোটিই সময়মতো বই সরবরাহ করেনি। ফলে নগরবাসী যে দুর্ভোগে পড়েছেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, কর পরিশোধের শেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এখনো অনেকেই সিটি করপোরেশনের বই পাননি। ঝামেলা এড়াতে অনেকে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে গিয়ে কর দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো ভাংতি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, বাকি টাকা ‘বকশিশ’ হিসেবে রেখে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরবাসীর এই ভোগান্তি দূর করতে দুই সিটি করপোরেশনের উচিত যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের কাছে কর পরিশোধের বই পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য এখনই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া যেসব করদাতা নগরবাসীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য হলে অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে। উভয় সিটি করপোরেশন আগামী বছর থেকে অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে; এটা অবশ্যই করা দরকার। তবে চলতি অর্থবছরের কর পরিশোধের ভোগান্তি দূর করার উদ্যোগও জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে। নগরবাসী কর দিতে চান—সিটি করপোরেশনের উচিত সমাদরের সঙ্গে সেই কর গ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; উল্টো তাঁদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা নয়।