Wednesday, July 19, 2017

যানজটে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট : বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের লক্ষ্য অর্জনে ঢাকার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। যানজটের কারনে ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্ম ঘন্টা নষ্ট হয়। বিগত ১০ বছরে যান চলাচলের গড় প্রতি ঘন্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত নেমে এসেছে। যা পায়ে হেটে চলার গড় গতি হচ্ছে ৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। আর ঢাকার দুমেয়র বলেছেন, ঢাকাকে অাধুনিকায়ন করতে হলে সবগুলো সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনকে সিটি গভমেন্টে পরিনত করতে হবে। আজ রাজধানীর এক হোটেলে আগামী ২০৩৫ সালে ঢাকার উন্নয়ন শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিন এশীয় প্রধার অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা, ইউই লী। ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ঢাকার দুমেয়র আনিসুল হক ও মো. সাঈদ খোকন, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। বিশ্ব ব্যাংকক বলছে, ঢাকা মহানগরীর দ্রুত সম্প্রসারণের সাথে ঢাকার নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। ফলে একটি বিশৃঙ্খল ও অসমনগরায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। প্রায় ৩৫ লাখ বস্তিবাসীসহ অনেক অধিবাসী প্রায়ই মৌলিক সেবা, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। মেয়র আনিসুল হক বলেন, বিশ্বব্যাংক ভাল পার্টনার, কিন্তু লেইট ডিসিশন মেইকার। এখানে সমস্যা হলো জনসংখ্যা ও ট্রাফিক। আমাদের অনেক প্রস্তুতি দরকার। পযোজন সরকারের অংশগ্রহন। মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এখানে এখোনো পরিকল্পিত ড্রেনেজ, সুয়ারেজ, অবকাঠামো নেই। দরকার সেবা খাতের মধ্যে সমন্বয় সাধন। ৫৬সেবা খাত ঢাকায় কাজ করছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনকে সিটি গভর্মেন্টে পরিনত করতে হবে। কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে সাড়ে ৩ কোটি।

হাতিরঝিলের পানিতে দূষণ

পচন ধরেছে রাজধানীর সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবন্ধব এলাকা হিসেবে পরিচিত হাতিরঝিলের পানিতে। মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। দুর্গন্ধের কারণে কমে গেছে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা। টেকা দায় হয়েছে আশপাশ এলাকার বাসিন্দাদের। কাওরানবাজার, বাংলামোটর, পান্থপথ, কাঁঠাল বাগানসহ আশপাশ এলাকার ড্রেনের পানির পাশাপাশি স্যুয়ারেজের পানি হাতিরঝিলের মধ্যে চলে আসায় পানিতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।  সরেজমিন দেখা যায়, হাতিরঝিলের সোনারগাঁও হোটেল প্রান্ত দিয়ে বাইরের পানি হাতিঝিলের ভেতরে ঢুকছে। ময়লা আবর্জনাসহকারে আসা এ পানি হাতিরঝিলে প্রবেশমুখে স্থাপিত বিশেষ পরিষ্কারকারী যন্ত্র এসএসডিএসের মধ্য দিয়ে আসছে। তবে সেখানে একটি স্থানে তিনটি যন্ত্র থাকলেও গতকাল বিকেলে একটি চালু থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া পাশে আরো দু’টি যন্ত্র থাকলেও তা বন্ধ ছিল। এ দুটি দীর্ঘ দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে বলে জানা যায়। পুরো হাতিরঝিল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সোনারগাঁও হোটেল প্রান্তের পানি অত্যধিক কালো রঙ ধারণ করেছে এবং এ অংশের পানিতে দুর্গন্ধও বেশি। বিজিএমই ভবন পার হয়ে সাতরাস্তা-মগবাজার সড়ক অতিক্রমের পর পানির কালো রঙ কিছুটা কমলেও স্বচ্ছ নয়। এ অংশে পানি সবুজ রঙ ধারণ করেছে। এ ছাড়া পুরো হাতিরঝিলের পানিতে কুচুরিপানা ও ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মওসুম এলেই হাতিরঝিলের পানিতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশ এলাকার ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্যুয়ারেজের পানি হাতিরঝিলে চলে আসায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।  হাতিরঝিলসংলগ্ন দিলুরোডের বাসিন্দা তোতা মিয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই হাতিরঝিলের পানি খারাপ হতে শুরু করে। অন্য সময় পানি পরিষ্কার রাখতে ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও এ সময় তা দেখা যায় না।  মধ্য বেগুনবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন নয়া দিগন্তকে বলেন, পুরো হাতিরঝিলজুড়েই ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। বিকেলে এখানে একটু ঠাণ্ডা বাতাস খেতে আসি। কিন্তু তার উপায় নেই। হাতিরঝিলের পাশে বসা যায় না। এমনকি দুর্গন্ধে বাসায়ও থাকতেও কষ্ট হয়। এ জন্য হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা লোকজন কিছুক্ষণ থেকেই দ্রুত চলে যায়।
 হাতিরঝিলে ঘুরতে আসা তরুণ সোহম খান বলেন, একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য এখানে প্রায়ই আসি। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষা এলেই পানিতে দুর্গন্ধ হয়ে যায়। তখন এখানে বেশিক্ষণ থাকা যায় না।  সীমা দাস নামে এক গৃহবধূ বলেন, সময় পেলেই বাচ্চাদের নিয়ে এখানে আসি। কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে বাচ্চাদের অসুবিধা হয়। তারা থাকতে চায় না। এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য টানাটানি করে।  হাতিরঝিলের প্রকল্প পরিচালক (রাজউক) জামাল আক্তার ভূঁইয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, আশপাশের ময়লা পানি চলে আসার কারণে বর্ষাকালে দুর্গন্ধ হচ্ছে। এ জন্য হাতিরঝিলের পানি পরিষ্কার রাখতে সম্প্রতি ‘সেপারেশন অব স্যুয়ার লাইন ফ্রম স্টর্ম ওয়াটার লাইন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্প অনুসারে হাতিরঝিলের বাইরে থেকে আসা পানির জন্য পৃথক লাইন করার কাজ চলমান রয়েছে। এ প্রকল্প অনুসারে ড্রেনের পানি ও স্যুয়ারেজের পানি আলাদা করা হবে। শুধুমাত্র ড্রেনের পানি হাতিরঝিলে ঢোকার সুযোগ দেয়া হবে। আর স্যুয়ারেজের ময়লা পানি পৃথক লাইন দিয়ে হাতিরঝিলের বাইরে দিয়ে যাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তখন আর দুর্গন্ধের সমস্যা থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিল্লি গেলেন এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৫ দিনের সফরে আজ বুধবার দিল্লি গেছেন। সকাল ১০টায় এয়ার ইন্ডিয়া বিমানযোগে দিল্লির উদ্দেশ্যে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। এরশাদের সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার,  প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায় ও মেজর (অব.) মোঃ খালেদ আখতার। তাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ আবুল কাশেম ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরুসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার ক্ষতি পোষাতে মৎস্য চাষে গুরুত্ব দিতে হবে। মাছ সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য। এজন্য এই সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ আরো বাড়াতে হবে। জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাছ উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণেই ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায় চন্দ্র চন্দ। মৎস্য সচিব মাকসুদুল হাসান খান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মাছ চাষে গড়বো দেশ, বদলে দেব বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ১৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী মৎস্য সপ্তাহ পালিত হবে। মৎস্য সপ্তাহ যথাযথভাবে পালনের জন্য মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশে মাছ চাষের উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি পুরস্কার দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বর্ণ ও রৌপ্য মেডেল পরিয়ে দেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে শুধু মাছ চাষ বাড়ালেই চলবে না, মাছ সংরক্ষণ ও রফতানি করার উপযোগী করে তুলতে হবে। মাছ রফতানি বাড়াতে সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে দুটি ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধানমন্ত্রী বলেন, মাছ ক্লোলেস্টেরোল ফ্রি। এর তেল আরও উপকারী। এ কারণে মাছ বেশি খেলে অসুবিধা হয় না। বাংলাদেশের মাটি সোনার মাটি। এখানে ফসল যেমন উৎপাদন হয়, তেমনি মাছ চাষের জন্যও উপযোগী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির মাছ চাষে আমরা বিশ্বে চতুর্থ স্থানে। আগামীতে মৎস্য চাষে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তাতে আমাদের দেশ মৎস্য উৎপাদনে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণভবনের লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করে এই মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা প্রতি বছর এই মৎস্য সপ্তাহ পালন করি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে ভেজাল দেয়ার একটা প্রবণতা আছে, এই ভেজাল দেয়ার দরকারটা কী? এই ভেজাল দিয়ে বেশি মুনাফা করতে গিয়ে নিজের ব্যবসারও সর্বনাশ, দেশেরও সর্বনাশ হচ্ছে। এতে দেশেরও সুনাম নষ্ট হয়। বিদেশেও দেশের বাজারের ক্ষতি হয়। এই সর্বনাশের পথে যেন কেউ না যায়। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত এবং চাষের সাথে যারা জড়িত, তাদেরকে আমি অনুরোধ করবো, ব্যবসাটাও নষ্ট করবেন না, আর দেশের পণ্যটাও আপনারা নষ্ট করবেন না। চিংড়িতে ভেজাল দেয়ার চেষ্টায় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে যখন আমি সরকারে আসি, দেখলাম, চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ আমাদের কাছ থেকে আর চিংড়ি নেবে না। তখন এক ভদ্রলোক ছিলেন, তিনি ভাল রাজনৈতিক নেতাও হয়ে গিয়েছিলেন। এক সময় আমাদের পার্টি, আরেক সময় আরেক পার্টি, এভাবে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি চিংড়ি মাছের ভেতর লোহা ঢুকিয়ে দিয়ে ওজন বৃদ্ধি করে রপ্তানি করতে যাচ্ছিলেন। সেটা যখনই ধরা পড়ে গেছে, সঙ্গে সঙ্গে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ। আমরা কেবলই তখন সরকারে এসেছি। তখন আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলি। বিষয়্িট তাদের বোঝাতে সক্ষম হই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাছের ক্ষেত্রগুলো, অর্থাৎ মাছের হ্যাচারিগুলো খুব অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। সে সময় ৪০ কোটি টাকা তাদেরকে আমরা দেই। সে সময় এটা বিশাল একটা অংক। টাকা দিয়ে কমিটি করে দেই যাতে হ্যাচারিগুলো উন্নত মানের হয়। আমাদের রপ্তানি আরও খুলে যায়। রপ্তানির সময় অবশ্যই আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে, যে কোনো মতে কোনো রকম অভিযোগ যেন না আসে। সততার সঙ্গে ব্যবসা করেই মুনাফা অর্জন সম্ভব। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশেও বাজার বাড়ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে। একজন রিকশাওয়ালা আগে যে কামাই করতো, তাতে চালই কেবল কিনতে পারত, এখন আল্লাহর রহমতে তা আর নেই। এখন মাছ থেকে শুরু করে সবই কিনতে পারে, সেই সক্ষমতাটা তাদের আছে। দিনমজুরেরও সেই সক্ষমতাটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই চাহিদাটাও বাড়ছে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ক্রয়ক্ষমতা যত বাড়বে, আমাদের নিজস্ব বাজারও তত সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার কমে গেছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, মানুষ ভালো জিনিস খেতে চায়, তাদের খাদ্যের চাহিদাটা আমরা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে করতে পারি। শেখ হাসিন বলেন, এক সময় ফরমালিক সম্পর্কে সবাই খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। আমরা কিন্তু ফরমালিন এর অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করেছি। মাছে ফরমালিন দেয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে। এ বিষয়ে আরও কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ইলিশ রক্ষায় নানা চেষ্টার ফলে উৎপাদন বছরে এক লাখ টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে তিন লাখ ৮৭ হাজার টনে পৌঁছেছে। ইলিশ রক্ষায় বৈশাখে এই মাছটি না খাওয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানান তিনি। চিংড়ি ও মৎস্য এবং মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানিতে সরকার উপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাভার, চট্টগ্রাম এবং খুলনায় তিনটি সর্বাধুনিক মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাছাড়া চাষিদের রোগমুক্ত চিংড়ি পোনা সরবরাহের জন্য কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনায় তিনটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কক্সবাজারে আরও একটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গেও ভাল মাছ উৎপন্ন হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানেও পরীক্ষার জন্য একটি এবং সিলেট অঞ্চলে আরও একটি টেস্টিং ল্যাব তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে তাগাদা দেন। সেই সঙ্গে বৃহত্তর সিলেট, বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণার হাওর অঞ্চলে মাছ চাষ বাড়ানোর পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলে আমরা যে ফসল ফলাতে যাই, প্রায়ই তো আগাম বন্যা হয় এবং ফসল নষ্ট হয়। মোট কথা, হাওর অঞ্চলগুলোতে আমাদের আসলে মৎস্য চাষের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভেতরে যে খাদগুলো আছে, সেগুলো আমাদের কাটতে হবে, ড্রেজিং করতে হবে। কেবল মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং প্রক্রিয়াজাত করাও দরকার। আর এই মাছ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড, ইতালিতে পাঠানো সম্ভব। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডে মাছ এবং ভাত খুবই জনপ্রিয়, বিদেশিদের কাছেও জনপ্রিয়। তারা সপ্তাহে একদিন যদি ভাত ও তরকারি না খায়, তাহলে তাদের পেট ভরে না। যেসব মাছের চাহিদা বেশি, সেগুলো নিয়ে গবেষণারও তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাশোল মাছও এক সময় কেবল পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যেত। সেটাও আমরা গবেষণা করে উৎপাদন করছি। সিলেটের মানুষ বোয়াল মাছ খেতে খুব পছন্দ করে। এটার ওপর কোনো গবেষণা এখনও হয়নি। এটার ওপরও গবেষণা দরকার। কোনটার বাজারে চাহিদা বেশি, সেটার ওপর গবেষণা করা, উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা। এটার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ধরনের মাছ কিন্তু আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। দেশীয় মাছগুলো, যেগুলো বিপন্ন প্রায় সেগুলো সংগ্রহ করা এবং প্রজনন করে বংশ বিস্তারের জন্য আপনারা দৃষ্টি দেবেন। আশা করি, মাছে, ভাতে বাঙালি-এটা যেন আমরা বজায় রাখতে পারি, সে জন্য তিনি আরও কাজ করতে মৎস্য বিভাগের বিজ্ঞানী ও কর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।

‘মাহফুজকে ভারতের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল মাহফুজকে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই হামলায় তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। তবে ভারতের গোয়েন্দারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। আজ বুধবার সকালে ডিএমপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। এর আগে বলা হয়েছিল, সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্সফোর্স (এসটিএফ) ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা। বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ নিয়ে সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল ভারতীয় গোয়েন্দাদের। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেওয়া হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এ মামলা-সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ। ৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেপ্তার সোহেল মাহফুজ ওরফে নসরুল্লাহকে নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরকের জোগানদাতা বলছে পুলিশ। সোহেল মাহফুজ হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ মামলারও আসামি তিনি। তাঁকে ধরিয়ে দিতে ভারতীয় পুলিশ ২০১৪ সালে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

জামিন বাতিল : মানবসেতুতে হাঁটা সেই চেয়ারম্যানকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

স্কুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানবসেতু রচনা করে তার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা পরিষদের সেই চেয়ারম্যান  নূর হোসেন পাটোয়ারীরকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এখতিয়ার বহির্ভূত আদালত থেকে নেওয়া জামিন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির বিপ্লব ও মো. সারোয়ার হোসেন। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল মানবসেতুর ওপর দিয়ে হাঁটা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীর জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জামিন প্রদানকারী চাঁদপুরের শিশু আদালতের বিচারক কোন কর্তৃত্ববলে তাকে জামিন দিয়েছেন তা জানতে  চান আদালত। আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বিপ্লব জানান, চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে গত ২৯ মার্চ চাঁদপুরের শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে চার্জশিট দাখিলের আগ পর্যন্ত জামিন দেন। এরপর মামলার বাদী আব্দুল কাদের গাজী নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত আজ জামিন বাতিল করেন। গত ৩০ জানুয়ারি হাইমচরের নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী মানবসেতুর ওপর দিয়ে হাঁটেন হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী। এ ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল কাদের গাজী মামলা দায়ের করেন।

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত : অভিনেতা আবদুর রাতিনের ইন্তেকাল

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র, বেতার, মঞ্চ ও নাট্যাভিনেতা আবদুর রাতিন আর নেই। রাজধানীর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাত ২টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজেউন)। আজ বাদ যোহর নারিন্দার বিনোদ বিবি মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে স্বামীবাগে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। কিছুদিন আগে চিকুনগুনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর পুরনো ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল শক্তিমান এ অভিনেতাকে। কিন্তু চিকনগুনিয়া থেকেই তার কিডনী ও লিভারে সমস্যা দেখা দেয়। শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। এর মধ্যে গত ৬ জুলাই ব্রেইনস্ট্রোক হয় তার। এরপর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকলে তাকে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অভিনেতা রাতিন অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৭০ সালে মোস্তফা মেহমুদ পরিচালিত নতুন প্রভাত ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। তারপর অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেন। এছাড়া তার অভিনীত মঞ্চ নাটকের সংখ্যা প্রায় শতাধিক।

বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত বহাল

সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ সতর্কবার্তা থেকে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ওডিশা উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি এখন স্থল নিম্নচাপ হয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার নৌযানকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

লঞ্চশ্রমিকদের কাছে অসহায় যাত্রীরা

লঞ্চশ্রমিকদের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রতিনিয়ত যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। শ্রমিকেরা চাইলেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। আবার মালামালের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত কোনো ভাড়া না থাকায় শ্রমিকেরা তাদের ইচ্ছেমতো মালামালের ভাড়া আদায় করছে। ডেক যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে নানা অজুহাতে। অতিরিক্ত টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলেই যাত্রীদের তারা শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করছে।  পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় সদরঘাটে দফায় দফায় লঞ্চ যাত্রীদের ওপর হামলা ছাড়াও নিয়ম লঙ্ঘন করে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো ও নদীতে লঞ্চগুলোর বেপরোয়া প্রতিযোগিতা নৌযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে কিছু শ্রমিক। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় প্রতিটা লঞ্চের শ্রমিকদের হাতে যাত্রী লাঞ্ছিত হয়েছে। এসবের যারা প্রতিবাদ করছে তাদের লঞ্চশ্রমিকেরা লাঠি, রড দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। লঞ্চে বছরের পর বছর এহেন ঘটনা ঘটলেও নীরব থাকছে বিআইডব্লিউটিএ। এ দিকে গত ১১ জুলাই পারাবত-১২ লঞ্চের ২১৮ নম্বর কেবিন নেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সেক্রেটারি তানভির। তার ও অন্যদের রুমের সামনে তোষক বিছিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ শ’ টাকা ভাড়া বাবদ নিয়ে সিট করে দিচ্ছে লঞ্চশ্রমিকেরা। প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিক লাঞ্ছিত করে কিছু শ্রমিক। তানভির এ প্রতিবেদককে বলেন, তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। ছুটিতে বাড়ি থাকলেও জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে হবে তাকে। পারাবত-১২ লঞ্চে উঠেন এবং ২১৮ নম্বর কেবিনে সিট নেন তিনি। প্রতিটা রুমের সামনেই তোষক বিছানো দেখে ও চলাফেরার জায়গা না থাকায় প্রতিবাদ করলে ওই লঞ্চশ্রমিকেরা তেড়ে যায় তার দিকে। তিনি বলেন, পরে সকাল ৭টায় লঞ্চ থেকে নামার সময়ে নিচে গেটের সামনে ম্যানেজার তাকে ডাক দিয়ে বলে লঞ্চের বিষয়ে কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলা হবে। এমন আচারণের প্রতিবাদ করলে পারাবতের ম্যানেজার ও তার দলবল কিলঘুষি মারে তাকে। তা ছাড়া ম্যানেজার আরো বলে যে, এই লঞ্চের মালিক মন্ত্রীর বেয়াই। তোর মতো ছাত্রলীগকে মেরে নদীতে ফেলে দিলেও কিছু হবে না বলে হুমকি দেয় ম্যানেজার বলে জানান তানভির। গত ২৫ জুন এমভি টিপু লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন যাত্রী লঞ্চটি ছাড়ার জন্য মাস্টারকে অনুরোধ জানালে লঞ্চশ্রমিকদের চরম অসৌজন্য মূলক আচরণের শিকার হন যাত্রীরা। এ সময় কয়েকজন যাত্রী প্রতিবাদ করলে লঞ্চশ্রমিকেরা লাঠি, রড নিয়ে কয়েকজন যাত্রীকে পিটিয়ে আহত করে ও একজন নারী যাত্রীকে পানিতে ফেলে দেয়।  গত ২৩ জুলাই একই লঞ্চের শ্রমিকেরা যাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। এসব হামলা সম্পর্কে টার্মিনালে দায়িত্বরত নৌপুলিশ হাসনাবাদ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো: শহিদুল আলম বলেন, লঞ্চে যাত্রী ও লঞ্চশ্রমিকদের মারামারির ঘটনায় সাথে সাথে নৌপুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যাত্রীদের নিরাপদে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। স্টাফদের কেবিন বাণিজ্য ও কেবিন বয়দের নারী বাণিজ্য লঞ্চের পরিবেশকে কলুষিত করে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া লঞ্চের কেবিনগুলোতে মাদকের আড্ডা বসে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, পরিবার নিয়ে যাওয়ার জন্য সুন্দরবন লঞ্চে ওঠে কেবিন না পেয়ে দোতলায় ডেকে দেখেন সব জায়গায় বিছানা ফেলা। কিছু যাত্রী ডেকে মালামাল নিয়ে বিছানায় বসে থাকলেও বিছানা খালি থাকা সত্ত্বেও অনেকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দালালরা বিছানা নিয়ে দাম হাঁকছে ৩ শ’ থেকে ৫ শ’ টাকা। পরে তিনি একজনকে অনেক অনুরোধ করে ২ শ’ টাকায় একটি বিছানা কেনেন বলে জানান।  সেলিম নামে বরিশালের এক যাত্রী জানান, একটি লঞ্চে বরিশাল থেকে আসার পথে একজন কেবিন বয় কোনো গার্লফেন্ড লাগবে কি না জিজ্ঞাসা করে। ফিরোজ আলম নামে চাঁদপুর থেকে মিতালী লঞ্চে ঢাকায় আসা যাত্রী এ প্রতিবেদককে বলেন, পবিত্র রমজানে রাতে কেবিনে বসে মুরগির গোশত দিয়ে সেহরি খাওয়ার অর্ডার দেন তিনি। এ সময় কেবিন বয় এক পচা মুরগির গোশত এনে দেয়। গত ২১ জুন ঘাটে বার্থিং করতে এসে এমভি জাহিদ-৮ নামের লঞ্চটি এমভি গ্লোরি অব শ্রীনগর লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে মুচড়ে দেয়। এ কারণে নৌপরিবহন অধিদফতরের কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই লঞ্চকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। ঠিক একই দিনে পানামা লঞ্চে যাত্রী উঠানো হয়। পরে যাত্রীদের জানিয়ে দেয় হয় যে, আগামীকাল ভোরে লঞ্চ ছাড়বে। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর ও যাত্রীদের কোপানো হয়েছে। একাধিক আনসার সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় দোকানিরা এ প্রতিবেদককে জানান, ২১ জুন রাত ১০টায় পানামা লঞ্চে যাত্রীদের কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিশেষ দিনগুলো কিংবা ঈদ কোরবানিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। তাই একটু আতটু কথাকাটাকাটি হতে পারে। তবে কোনো লঞ্চ মালিক কিংবা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যাত্রী পরিবহন সংস্থা ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, ঈদে কোনো যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া কোনো লঞ্চ মালিক কিংবা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকদিন আগে কির্ত্তন খোলা লঞ্চ মালিককে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং মাস্টারকে জেলে দেয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন লঞ্চের বিরুদ্ধে মেরিন কোর্টে মামলাও করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো লঞ্চ মালিক কিংবা শ্রমিকের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগের সত্যতা মিলে তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জার্মানিতে গোপনে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প-পুতিন!

জার্মানিতে জি২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গোপনে আরেকটি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির। ট্রাম্প ও পুতিনের গোপন বৈঠকের বিষয়টি হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে। এই বৈঠকের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এ মাসের শুরুতে জার্মানিতে জি২০ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবার কয়েক ঘণ্টা পর, তারা দ্বিতীয় দফায় আরেকটি বৈঠক করেন, যা এ পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। একজন রুশ দোভাষীর উপস্থিতিতে ট্রাম্প প্রায় এক ঘণ্টা মি. পুতিনের সঙ্গে আলাপ করেন। তবে কি নিয়ে আলাপ করেছিলেন দুই নেতা সে বিষয়ে কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউজ। এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, জি২০ সম্মেলনে ডিনারের মাঝপথে নিজের আসন ছেড়ে উঠে পুতিনের পাশের একটি খালি চেয়ারে বসে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সে সময় একাই ছিলেন। তবে, পুতিনের সঙ্গে ছিল তার দোভাষী। এমন সময় এ খবর প্রকাশিত হল যখন ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনে তদন্ত চলছে। সে তদন্তে সর্বশেষ ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড জন ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার নির্বাচনী প্রচারণা দলের সাবেক ব্যবস্থাপক পল ম্যানাফোর্টের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন সিনেট কমিটির তদন্তকারীরা।

জাকির নায়েকের ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল

ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিলের কারণে মালয়েশিয়ার ইসলামি সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না জাকির নায়েক। শনিবার মালয়েশিয়ার কালান্তান প্রদেশের ইসলামি সম্মেলনে বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল তার। সম্মেলনের আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামি পার্টিকে (পিএএস) উদ্ধৃত করে মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস এবং বহুভাষার এশীয় সংবাদমাধ্যম বেনার নিউজ এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জাকিরের পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার খবর জানায়। সংবাদ মাধ্যমগুলো জানায়, দেশটির জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) সামনে সশরীরে হাজির না হওয়ায় তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।
এরপরেই জাকিরের পক্ষ থেকে ইসলামি সম্মেলনের আয়োজক পিএএসকে ‘অনিবার্য কারণবশত’ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার কথা জানানো হয়। উগ্রবাদ প্রচারে অর্থায়ন এবং জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণের অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে জাকিরের গড়া ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারত সরকার। পাশাপাশি তার পিস টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা জাকির নায়েক ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার নামে জারি হয় সমন। এরপর আরও তিনবার সমন জারি হলেও আদালতে যাননি তিনি। উগ্রবাদ প্রচারের অভিযোগে এনআইএ-এর তলবেও সাড়া দেননি এ বক্তা। তদন্তের স্বার্থে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হলেও নায়েক ভারতে ফেরেননি।

পার্লামেন্টে বুকের দুধ খাওয়ানো সেই এমপির পদত্যাগ

পার্লামেন্টে সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করা অস্ট্রেলীয় সিনেটর লারিসা ওয়াটার্স পদত্যাগ করেছেন। তার দ্বৈত নাগরিকত্বের খবর প্রকাশিত হলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। মাইনর গ্রিন্স পার্টি থেকে নির্বাচিত লারিসা কানাডায় জন্ম নিয়েছিলেন, ফলে জন্মসূত্রে তিনি কানাডারও নাগরিক। অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান অনুযায়ী কেউ যদি দুই বা তার বেশি দেশের নাগরিকত্ব ধরে রাখে তাহলে ফেডারেল কোনো অফিসের জন্য নির্বাচন করা যাবে না। শুক্রবার স্কট লুডলাম নামের আরেকজন মাইনর গ্রিন্স পার্টি সিনেটর দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। এই দু’জন সিনেটরই দলের ডেপুটি লিডার ছিলেন। গত মে মাসে পার্লামেন্টে সন্তানকে বুকের দুধ খাইয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেন ওয়াটার্স। ওয়াটার্স বলেছেন, নিজের কানাডার নাগরিকত্ব বিষয়ে অবহিত ছিলেন না। সে দেশে ৭০ বছরের পুরনো একটি আইন অনুসারে কেউ কানাডায় জন্ম নিলে তিনি সেই দেশের নাগরিক। তবে কেউ নাগরিকত্ব না চাইলে তাকে আবেদন করতে হবে। বিবিসি।

পর্নোসাইটে প্রবেশে বয়স যাচাই করা হবে

পর্নোগ্রাফিক সাইটে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। সামনের বছর থেকে এসব সাইটে প্রবেশের সময় গ্রাহককে তার বয়স ১৮ পেরিয়েছে তা প্রমাণ করতে হবে। ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলোতে আইন অনুযায়ী বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা ইনস্টল করতে হবে। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট সুরক্ষিত করতেই এ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দেশটি, বলা হয়েছে বিবিসি-র প্রতিবেদনে। নতুন আইনের ব্যাপারে শিগগিরই ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। আইন অনুযায়ী পর্নো সাইটগুলোকে গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেয়া লাগতে পারে, যেমনটা জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোতে দেয়া হয়। যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাক্টের নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ব্লক করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলোতে লেনদেন এবং অন্যান্য সেবা দিচ্ছে তাদেরকে যে কোনো ধরনের আইন লংঘনের বিষয়ে জানানো হবে। নতুন আইন তদারক ও বাস্তবায়ন করতে একটি নীতিনির্ধারক কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হবে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দেশটির ডিজিটাল মন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। টেকশহর।

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের অন্তত ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা উসকে দেয়ার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। খবর আলজাজিরার। নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জারিফ বলেছেন, নিজ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার হাতে বন্দি হয়ে পড়বে আমেরিকা। নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি খতিয়ে দেখার জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি। নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রবিষয়ক পরিষদের সভাপতি রিচার্ড হ্যাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, অন্য দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাধারণভাবে কোনো ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করা যায় না। নিষেধাজ্ঞা আরোপের চলমান নীতি পরিবর্তন না করলে অচিরেই আমেরিকা নিজ আরোপিত নিষেধাজ্ঞার হাতে বন্দি হয়ে পড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে ইরান। সোমবার হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। এর মধ্য দিয়ে গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্বিতীয়বারের মতো ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করল, বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে নিজেদের পরমাণু চুক্তি মেনে চলছে ইরান। গত বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারণাকালে ইরানের সঙ্গে এ পরমাণু সমঝোতা চুক্তিকে ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বাজে চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় গেলে এ চুক্তি বাতিল করবেন বলে হুশিয়ারিও দেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তত্ত্বাবধানে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এ সমঝোতায় সই করে ইরান এবং ছয় জাতিগোষ্ঠীর সদস্য আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রতি ৯০ দিন পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কংগ্রেসের কাছে ইরানের সমঝোতা মেনে চলার বিষয়টি অবশ্যই অবহিত করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গত সোমবার ছিল কংগ্রেসকে অবহিত করার শেষ দিন।

সৎকারের তিন মাস পর ‘প্রত্যাবর্তন’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সৎকারের তিন মাস পর ‘মৃত’ এক নারী বাড়ি ফিরে এসেছেন। তবে স্বেচ্ছায় তিনি ফিরে আসেননি। তাকে পুলিশ ধরে এনেছে। পুলিশ জানায়, নিমতার অধিবাসী মিঠু কুণ্ডু গত ২১ মার্চ অফিসে যাচ্ছেন বলে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। এর পর ২৪ মার্চ নিমতা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। ৩ এপ্রিল একটি অপহরণের মামলা দায়ের হয়। এর পর ১২ এপ্রিল খড়দহের উদয়শঙ্কর মাঠ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুরো শরীর আগুনে ঝলসে যাওয়ায় পেট কাটা মৃতদেহটি দেখে কারও কিছু বোঝার উপায় ছিল না। অবশেষে দেহের পাশে পড়ে থাকা টপ ও লেগিংসের টুকরো দেখে নিখোঁজ মায়ের দেহ শনাক্ত করা গেছে বলে জানিয়েছিলেন ওই নারীর ছেলেমেয়েরা। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয় তদন্তকারীদের মনে। দেহটির শেষকৃত্য হয়ে গেলেও হাল ছাড়েননি তারা। অবশেষে চব্বিশ পরগনা জেলার নিমতা থানার পুলিশ একই এলাকার ৩৫ বছর বয়সী মিঠুকে পাঞ্জাব থেকে উদ্ধার করে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, ওই নারী আসলে মরেননি। তবে মিঠুর দেহ ভেবে তার ছেলেমেয়েরা যার সৎকার করেন, তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, যে ফোনটি নিয়ে মিঠু নিখোঁজ হন, তার আইএমইআই নম্বর ধরে টাওয়ার লোকেশন মেলে বিহারের পাটনায়। ইতিমধ্যে জোড়াবাগান এলাকায় মিঠুর এক পরিচিতের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, হরমন সিংহ নামে ১৯ বছরের এক যুবকের সঙ্গে ওই মহিলার ঘনিষ্ঠতা ছিল। ইতিমধ্যে পুলিশের নজরে আসে, আচমকা মিঠুর একটি বন্ধ নম্বরও চালু হয়ে গিয়েছে। জানা যায়, ফোনটি ব্যবহার করছেন সোনু নামের এক যুবক। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ পৌঁছে যায় পাটনায়। সোনুর থেকে পুলিশ জানতে পারে, গত ২১ মার্চ ট্রেনে মিঠু ও হরমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দু’জনে বিয়ে করে আশ্রয় খুঁজছেন জেনে সোনু তাদের নিজের বাড়িতে থাকতে দেন। কয়েক দিন থাকার পর পাঞ্জাবের বাটালার বাসিন্দা হরমন বাড়ির লোকজনকে রাজি করিয়ে মিঠুকে নিয়ে সেখানে চলে যান। ফোনটি দিয়ে যান সোনুকে। গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মিঠুর সন্ধান পায়।

আইএস জঙ্গিরা কত বেতন পান

তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা কেমন বেতন পান তা নিয়ে নানা জল্পনা ও কৌতূহল ছিল। সেই জল্পনার অনেকটাই অবসান ঘটিয়েছে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক। সম্প্রতি স্পুৎনিক এক্সক্লুসিভ কিছু তথ্য-প্রমাণ হাতে পেয়েছে, যাতে আইএস জঙ্গিদের বেতনের একটা তথ্যচিত্র পাওয়া যায়। সম্প্রতি ইরাকের ফেডারেল পুলিশ পশ্চিম মসুল থেকে ওই তথ্য উদ্ধার করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, আইএসের সবাই একই রকমের বেতন পায় না। সন্ত্রাসীদের পারিবারিক মর্যাদা ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর বেতন বেশি বা কম হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। অবিবাহিত বা পরিবারের সদস্য সংখ্যা এক হলে সবচেয়ে কম ৭২ ডলার বা ৯৫ হাজার ইরাকি দিনার বেতন পায়। অন্যদিকে, ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণকারী আবু জানা নামে এক আইএস সদস্য গত মাসে বেতন পেয়েছে ১৮৪ ডলার। তার পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। আবু নাসের নামে ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণকারী আরেক জঙ্গি গত মাসে বেতন পেয়েছে ২৫৬ ডলার। তার পরিবারে স্ত্রী ও ছয় সন্তান রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র স্পুৎনিককে জানিয়েছে, আইএস সদস্যদের বেতন পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে কম বা বেশি হয়। সাধারণভাবে আইএস সদস্যদের পরিবারের সন্তান ও স্ত্রীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারণ করা হয়। তবে সাধারণত কারো বেতন ৩০০ ডলারের বেশি নয়। এদিকে, আইএসের নেতাদের বেতন ৫০০ ডলার কিংবা তার চেয়ে বেশি। তবে চলতি বছরে আইএস কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়েছে। কারণ কথিত আন্তর্জাতিক জোট তাদের ব্যাংকের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে। এই ব্যাংকের মাধ্যমেই তারা অর্থ লেনদেন করত। গত বছর আইএসের ২০১৪ সালের বেতনের তালিকা প্রকাশ করেছিল স্পুৎনিক। ২০১৪ সালে আইএস সদস্যরা প্রথম ইরাকের নেইনাভা ও আনবার প্রদেশ দখলে নিয়েছিল। সে সময় বিদেশি সদস্যদের জনপ্রতি বেতন ছিল এক হাজার ৩০০ ডলার। পাশাপাশি বিদেশি জঙ্গিদের একটি বাড়ি, একটি গাড়ি ও একজন স্ত্রী দেয়া হতো। এ ছাড়া, বিনামূল্যে গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। তবে স্থানীয় আইএস সদস্যদের বেতন অনেক কম ছিল। তারা ৬০০ ডলারের মতো পেত।

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বেইজিং

সিকিম নিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে এবার চীন ও ভারত বিদেশি কূটনীতিকদের সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করেছে। চীন বিদেশি কূটনীতিকদের বলেছে, ‘ভারতের ব্যাপারে তাদের ধৈর্য অসীম হবে না।’ খবর এনডিটিভি ও পিটিআইর। পরমাণু শক্তিধর দুটি দেশের মধ্যে নজিরবিহীন সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বের বহু দেশই উদ্বিগ্ন। চীন ও ভারত অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করায় অচলাবস্থা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে চীন বলছে, সিকিম ভারতের সেনা না সরালে কোনো আলোচনা হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রথমে ভারত এক ব্রিফিংয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের তাদের অবস্থান জানায়। এরপর পাল্টা ব্রিফিং করে বেইজিং। ভারত সরকার দাবি করেছে, সিকিম নিয়ে চীনের সঙ্গে উত্তেজনায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে বিদেশি সরকারগুলো তাতে নির্ভার হতে পারছে না। চীন বলছে, সিকিম সীমান্তে ভারত অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।
আর ভারতের অভিযোগ, চীনা সেনারা সেখানে অবৈধভাবে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করছে। যেখানে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে ডোকলাম ভুটানের বলে দাবি ভারতের। আর ভুটানের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ভারতের। এ অবস্থান চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম অব্যাহতভাবে ভারতকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং ১৯৬২ সালে চীনের সঙ্গে যুদ্ধে ভারতের শোচনীয় পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বেইজিংয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ের কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সেনাদের সিকিমে অবস্থান গ্রহণে বিদেশি কূটনীতিকরা ‘মর্মাহত’ হয়েছেন। সরকারের মুখপাত্র হিসেবে খ্যাত পত্রিকাটির এক নিবন্ধে বলা হয়, ‘চীন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং ভারতকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিমি সীমান্তেই সর্বাত্মক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।’ পত্রিকাটি বলছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন যুদ্ধকে ভয় পায় না এবং বেইজিং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ভারতের সিকিম প্রদেশের সীমান্তে যে ডোকলাম বা দোংলং এলাকা নিয়ে দু’দেশ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সেখানে খুব কমসংখ্যক মানুষের বসবাস রয়েছে, তবে কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ভারত, চীন ও ভুটানের সীমান্ত রয়েছে।
তিব্বতে চীনের যুদ্ধের মহড়া : ডোকলামে ভারত ও চীনের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই চীনা সেনারা তিব্বতে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে বলে জানাল সে দেশের সংবাদমাধ্যম। তিব্বত কম্যান্ডের অধীনে থাকা একটি ব্রিগেড দ্রুত সেনা পাঠানো ও বিভিন্ন ইউনিটের একসঙ্গে হামলার একটি মহড়া দিয়েছে। ওই ব্রিগেডটি পার্বত্য যুদ্ধে (মাউন্টেন ওয়ারফেয়ার) বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সেটি এখন ডোকলামের কাছেই পূর্ব তিব্বতের লিঝি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। চীনা চ্যানেল একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মহড়ায় ট্যাঙ্কবিধ্বংসী গ্রেনেড ও বাঙ্কার ধ্বংসের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। পদাতিক বাহিনীকে সাহায্য করতে হাউইৎজার কামান কিভাবে ব্যবহার করা হবে তাও পরীক্ষা করে দেখছে চীনা সেনা। তিব্বতের মোবাইল সংস্থার কর্মীরা জরুরি অবস্থায় দ্রুত একটি মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরির মহড়াও করেছেন। ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়াতেই যে চীনা সেনারা এই পদক্ষেপ করেছে তা নিয়ে সন্দেহ নেই প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের। চীনা বিশেষজ্ঞ ঝৌ চেনমিংয়ের মতে, ‘চীনা সেনা দেখাতে চেয়েছে তারা সহজেই ভারতকে কাবু করতে পারবে।’

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিপুল ‘ক্রস ভোট’

ভারতে সোমবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কয়েকটি রাজ্যে ব্যাপক হারে ‘ক্রস ভোট’ পড়েছে। এর মানে হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিয়েছেন বহু সংসদ সদস্য ও বিধায়ক। ক্রস ভোটে বিজেপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দের পাল্লা অনেকটাই ভারি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। রামনাথ কোবিন্দের জয় আগেই অনেকটা নিশ্চিত ছিল। সোমবার ভোট শেষে বিজেপির দাবি, ৭০ শতাংশ ভোট পাবেন কোবিন্দ। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ইন্ডিয়া টুডের। ক্রস ভোটিংয়ের আশঙ্কায় শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন বিরোধী জোটের প্রার্থী মীরা কুমার। দিন শেষে তার এ আশঙ্কা সত্যে পরিণত হয়। উভয় পক্ষে ক্রস ভোটের ঘটনা ঘটলেও এ ক্ষেত্রে বিজেপির প্রার্থীই এগিয়ে রয়েছেন। তবে উড়িষ্যায় নবীন পট্টনায়কের দলে ভাঙন ধরিয়ে মীরাকে ফায়দা করে দিয়েছে কংগ্রেস। নবীন অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। নীতিশ কুমারের দলের কেরালার সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন মীরাকে। কিন্তু দেশের বাকি প্রান্তে ক্রস ভোটিংয়ে পাল্লা ভারি হয়েছে কোবিন্দের। ক্রস ভোটের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে। এখানে বাপ-বেটার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হল রাষ্ট্রপতি ভোটেও। মুলায়ম সিং যাদব আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি ভোট দেবেন দীর্ঘদিনের বন্ধু কোবিন্দকে। তার ভাই শিবপালও একই পথে। তাদের দাবি, অখিলেশ যাদবের একাধিক বিধায়ক ক্রস ভোটিং করে বিজেপির পাল্লা ভারি করেছেন। সিপিআই-এম শাসিত ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত ছয় বিধায়ক মীরার বদলে কোবিন্দকে ভোট দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এক কংগ্রেস বিধায়কও। পাঞ্জাবে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির অনেকে কোবিন্দকে ভোট দিয়েছেন বলে বিজেপির দাবি। আম আদমি পার্টির বিধায়ক এইচএস ফুলকা পূর্বে মীরা কুমারের প্রতি সমর্থনের কথা জানালেও পরে ভোট বয়কট করেন। তিনি বলেন, শিখ দাঙ্গায় জড়িত কংগ্রেসের প্রার্থীকে তিনি ভোট দেবেন না। হরিয়ানায় বিজেপি বিধায়ক ৪৭ জন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টারের দাবি, তাদের ঝুলিতে ভোট পড়েছে ৭৫ জনের। সে দাবি সত্যি হলে, নির্দল, বিএসপি, আইএনএলডি বিধায়ক ছাড়াও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ককে ভাঙাতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। রাষ্ট্রপতি ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। ২৪ জুলাই ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হবে। এর পরদিন ২৫ জুলাই শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন দিল্লির রাইসিনা হিলে উঠবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। কোবিন্দ ও মীরা দু’জনই দলিত সম্প্রদায়ের প্রার্থী হওয়ায় নিন্মবর্ণের একজন হিন্দু ভারতের সর্বোচ্চ পদে বসতে যাচ্ছেন। উপ-রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বেঙ্কাইয়া : এদিকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এনডিএ তথা বিজেপির প্রার্থী বেঙ্কাইয়া নাইডু। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে এসে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।সোমবার সন্ধ্যায় বিজেপির পরিষদ বোর্ডের বেঠকে বেঙ্কাইয়ার নাম চূড়ান্ত হয়। ওই রাতেই কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন এবং তথ্য ও সম্প্রচার দফতরের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ইস্তফাপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠান তিনি। সংসদ ভবনে বেঙ্কাইয়া নাইডুর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় সেখানে হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, লালকৃষ্ণ আদভানিসহ বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের অন্য সদস্যরা। আগামী ৫ আগস্ট উপ-রাষ্ট্রপতি পদে ভোটগ্রহণ হবে।

৪০ মিনিট ‘মৃত’ এরপর জীবিত

৪০ মিনিট মৃত থাকার পর জীবন পেলেন এক ব্যক্তি! বিশ্বাস হচ্ছে না? অদ্ভুত এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায়। খবর বিবিসির। নতুন জীবন ফিরে পাওয়া ব্যক্তির নাম জন ওগবার্ন। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাসার কাছেই একটি স্থানে ল্যাপটপে কাজ করার সময় গত ২৬ জুন হৃদরোগে আক্রান্ত হন। টানা ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি এখন আবার দিব্যি বেঁচে আছেন। পাশে দায়িত্বরত দুই পুলিশ কর্মকর্তা দৌড়ে এসে তাকে সিপিআর (রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করতে কৃত্রিম চেষ্টা) দেয়া শুরু করেন। কার্ডিওপালমোনারি রিসাসসিটেশন (সিপিআর) দেয়ার ৪২ মিনিট পর ওগবার্নের নাড়িস্পন্দন (পালস) ফিরে আসে। পালস ফিরে পেয়ে ওগবার্ন হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা তাকে পুরোপুরি সেরে ওঠা পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। এখন সুস্থই আছেন ওগবার্ন। চিকিৎসকরা তাকে ছয় মাস গাড়ি না চালাতে বলেছেন। সুস্থ হওয়াটাকে নিজের দ্বিতীয় জীবন বলে মনে করছেন ওগবার্ন। দ্বিতীয় এ জীবনের কিভাবে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায় সেটি নিয়েই তার এখন চিন্তা। মাইকেল কুর্জ নামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত হৃদরোগ চিকিৎসক বলছেন, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ১ মিনিট বন্ধ থাকাবস্থায় যদি সিপিআর না দেয়া হয়, তবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ করে কমে যায়। প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রে বছরে সাড়ে তিন লাখ রোগী কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের স্বীকার হন। তাদের মধ্যে ৯০ ভাগই মারা যান।

হুমায়ূনের কবরে স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসা

গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা, দোয়া ও মোনাজাত করেছেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিশাদ, নিনিত,  লেখকের পরিবার-পরিজন ও হুমায়ুন ভক্তরা। বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে লেখকের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। এর পর মাওলানা মজিবুর রহমান বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকা, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত হুমায়ূন ভক্ত নুহাশপল্লীতে ভিড় করেন। তাদের অনেকেই প্রিয় লেখকের কবরে ফুল দেন এবং নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থেকে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এদিকে হলুদ পাঞ্জাবি ও গেঞ্জি পরিহিত বেশ কিছু 'হিমু' নুহাশ পল্লীতে আসেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরাও নুহাশ পল্লীতে প্রিয় লেখকের কবর জিয়ারত করেন।

চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধে ফের ২০ মিটার ভাঙন

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নির্মাণাধীন শহর রক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাঁধটির আজিমুদ্দি মোড় ব্রিজ সংলগ্ন প্রায় ২০মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এ কারণে যুমনা তীরবর্তী মানুষের মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় চলতি বছরে এ বাঁধে ৮/১০ বার ধস নামে। এ কারণে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে সবকিছু গুটিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজলার সরাতৈল থেকে দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার পুকুরিয়া, খগনের ঘাট, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ঘোরজানের চেকির মোড়, আজমিদ্দি মোড়, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চৌহালী শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে যার ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধটিতে দফায় দফায় ধস দেখা দেয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে, বাঁধটি নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, যমুনার প্রবল স্রোতে বাঁধের তলদেশে গর্তের সৃষ্টি হয়ে এ ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুতই মেরামত কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

'প্রেমের' কারণে হত্যা, লাশ কলেজ মাঠে

কুষ্টিয়ায় 'প্রেমঘটিত' কারণে অজ্ঞাত পরিচয়ে (২৫) এক তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ সরকারি কলেজ মাঠে ফেলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে সরকারি কলেজ মাঠ থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম জানান, সকালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন সরকারি কলেজ মাঠে এক তরুণীর লাশ পড়ে রয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। 'প্রেমঘটিত' কারণে ওই তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, লাশের গলায় ও থুতনিতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অন্য স্থানে হত্যা করে রাতের যে কোনো সময় লাশটি এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আমজাদ হোসেন বলেন, আমি কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। ভোরে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথে ছাত্র নেতারা মোবাইলে আমাকে জানায়, কলেজের মাঠে এক তরুণীর লাশ পড়ে আছে। ঘটনা তদন্তের জন্য পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে আটকও করা হয়নি।

সাপাহারে ২ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় বাংলাদেশি দুই গরু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। বুধবার ভোরে উপজেলার করমুডাঙ্গা সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে তাদের আটক করা হয়। বাংলাদেশিরা হলেন-  উপজেলার করমুডাঙ্গা গ্রামের শফিকুলের ছেলে মাহবুবুর আলম ও মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ১৫/২০ জনের একটি দল ভারতে গরু আনতে যায়। বুধবার ভোররাতে গরু নিয়ে ফেরার সময় করমুডাঙ্গা সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে ২৪০ নং পিলারের কাছে গরু ব্যবসায়ীরা আসার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এসময় অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও ওই দুই গরু ব্যবসায়ীকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ সদস্যরা। বিজিবি-১৪ লে. কর্নেল মো. খিজির খান বাংলাদেশি দুই গরু ব্যবসায়ীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের ফেরত আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হবে।

সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি ভারতীয় গোয়েন্দারা

জেএমবি নেতা সোহেল মাহফুজকে ভারতের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। বুধবার সকালে ডিএমপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এ কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দারা সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত ছিল বলে তথ্য দিয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেয়া হবে। ইতিমধ্যে এ মামলা-সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছেছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ নিয়ে সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্সফোর্স (এসটিএফ) ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তাদের। এর আগে গত ৭ জুলাই রাতে শিবগঞ্জের পুস্কনি এলাকার একটি আমবাগান থেকে সোহেল মাহফুজ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেন, সোহেলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেল। তিনি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোরের জঙ্গি আস্তানায় সোহেলের যাতায়াত ছিল। সে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করতো। বোমা বানাতেও পারদর্শী সে। সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা মূলত জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকে। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবি নেতা মাহফুজ সোহেল জেএমবির ভারতীয় শাখার প্রথম আমির ও খাগড়াগড় বোমা হামলার অন্যতম আসামি। সোহেলকে ধরিয়ে দিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ১০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বলেও জানান তিনি। গ্রেফতার হওয়া সোহেলের অন্য তিন সহযোগীর মধ্যে রয়েছেন- নব্য জেএমবির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজ, অস্ত্র সরবরাহকারী জুয়েল রানা এবং নব্য জেএমবির রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার সমন্বয়কারী জামাল হোসেন।

'জলাভূমির সঠিক ব্যবহার করলে মাছের অভাব হবে না'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে অসংখ্য জলাভূমি রয়েছে, এর সঠিক ব্যবহার করলে কখনও মাছের অভাব হবে না। বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৭ উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে মৎস্যখাতে অবদান রাখায় ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ডিম ছাড়ার সময় মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে আমরা জেলেদের অর্থ ও চাল বরাদ্দ দিচ্ছি। এতে ইলিশ রক্ষা হচ্ছে। যার কারণে ইলিশ ১ লাখ উৎপাদন বেড়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টনে পরিণত হয়েছে। দেশে আগের তুলনায় মাছ চাষ বেড়েছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষের জন্য সাভার, খুলনা ও মংলায় মৎস্য ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ ৫০ হাজার মৎস্য উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। আর চলতি অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার সুফলভোগীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য বিষয়ে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে চাঁদপুর জেলায় মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জে আরও তিনটি ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউট স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি।

‘স্বপ্নে আইয়া ছ্যাঁকা দিব শইল কাটব’

‘মা নদী আর ফিররা আইবে না। মোরে হে জেম্মে কইররা এস্তারি দিয়া ছ্যাঁক দেছে, ব্লেড দিয়া শইলের হগল জায়গায় কাটছে। হেম্মে কইররা হেরে ছ্যাঁক দিবনি। হেম্মে কইররা ব্লেড দিয়া কাডবনি। হে কী আর মোর স্বপ্নে আইব, স্বপ্নে আইয়া মাইরব, শইল কাটব।’ একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে মা সাফিয়া বেগমকে বারে বারে এ প্রশ্নই করছিল আদুরী। রায় কী বোঝে না সে, তাকে নির্যাতনের অনুরূপ সাজা গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীকে দেয়া হবে কিনা সেটাই প্রশ্ন তার। ছাড়া পেলে নদী কী আবারও তার ওপর নির্যাতন চালাবে? চার বছর ধরে আদুরী পটুয়াখালীতে নিজ গ্রামে মায়ের সঙ্গে থাকে। কিন্তু ঢাকায় নির্যাতনের বিভীষিকা এখনও ভুলতে পারেনি সে। প্রতি রাতে স্বপ্নে তাকে মারতে আসে গৃহকর্ত্রী নদী। কেঁপে উঠে ঘুম ভাঙে তার। এজন্যই এত প্রশ্ন। আর কী করে ভুলবে- ক্ষতগুলোতে এখনও যে ব্যথা হয়। ছ্যাঁকায় পুড়ে ছোট হয়ে যাওয়া জিহ্বা যে তাকে স্পস্ট করে কথা বলতে দেয় না। ভুলে যায় পড়া, দরকারি কাজ। সে কারণেই সম্প্রতি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েও ক্লাস করা হচ্ছে না তার। তবু সে স্বপ্ন দেখে- ‘বড় হইয়া আমি (নির্যাতিত) মাইনষের পাশে খাড়ামু। পুলিশ আমাগো বহু সাহায্য করছে, তাগো মতো হমু। না অইলে আপাগো (আইনজীবী) মতো হমু। হেরাও অনেক সাহায্য করছে। হের জন্য যত খাটন (অধ্যবসায়) লাগে খাটমু।’ ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বারিধারা ডিওএইচএস তেলের ডিপোসংলগ্ন ডাস্টবিন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অচেতন আদুরীকে। কঙ্কালসার শরীরে ভয়াবহ নির্যাতনের ক্ষত। এর দায়ে ঢাকার ৩নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার গৃহকর্ত্রী নদীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদুরীর মা সাফিয়া বেগম জানান, বিচারের রায় শুনতে আদালতে এসেছে আদুরীসহ সাত স্বজন। পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের পূর্ব জৈনকাঠি থেকে লঞ্চে সোমবার সকালে ঢাকায় আসেন। রাতে বাড্ডায় এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকেই কোর্টে আসেন। আদুরী ও তার স্বজনদের সঙ্গে কোর্ট চত্বর ও পরে আগারগাঁওয়ে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির অফিসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা কথা হয় এ প্রতিবেদকের। আদুরী জানায়, রাতে মায়ের বুকে ঘুমালেও আতংকে ঘুম আসে না। শরীরের প্রচণ্ড ব্যথায় কাঁদে। গরম লোহা দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ায় জিহ্বাহ কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। ফলে ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মাথা, হাত, পা, গলাসহ সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্নগুলো দেখে সে এখনও আতকে উঠে। সব সময় ভাবে, এই বুঝি রাক্ষসটা (নদী) এসে মারধর শুরু করবে। সাফিয়া বেগম বলেন, রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে, ‘না, না আর মাইরেন না, আমি মইরা যামু। মোরে ছাইরা দেন’। আইনজীবী সমিতির অফিসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল আদুরী। ভাত খেতে খেতে বলে, নদী তাকে কোনো দিন পেট ভরে খেতে দেয়নি। গলায় পারা দিয়ে ব্লেড হাতে নিয়ে মাথা, গলা ও গাল কাটত। এসব কথা বলতে বলতে ভেঙে পড়ে কান্নায়। সাফিয়া বেগম জানান, শুরুতে মামলা মীমাংসা করতে বহুবার নদীর আত্মীয়রা টাকা নিয়ে তার বাসায় গেছেন। কখনও কখনও ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন। মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কোনো চাপে নত হইনি। তিনি আরও বলেন, আদুরী যত বড় হচ্ছে ততই চিন্তা হচ্ছে। এ মেয়েকে কী করে বিয়ে দেবেন। মেয়ে এখনও ভালোভাবে হাঁটতে পারে না। ৫/৭ মিনিট হাঁটার পর পড়ে যায়। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও পড়া মুখস্ত হয় না বলে আর কথা ঠিকমত বলতে পারে না বলে সেখানে যাওয়া বন্ধ। তার চিকিৎসারই বা কী হবে! বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী জানান, আদুরী এখনও ভীষণ অসুস্থ। বিশেষ করে তার মনে ভয়ভীতি বাসা বেঁধে আছে। সে এখনও পরিবারের সদস্য ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। রায়ের বিষয়ে সালমা আলী বলেন, এ রায় ইতিহাস হয়ে থাকবে। ভবিষৎতে গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনকারী যত বড় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হোক, আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। আদুরীকে আইনি সহায়তাকারী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার রিংকি যুগান্তরকে বলেন, আদুরী আরও পড়ালেখা করতে চায়। এক্ষেত্রে আদুরীর আর্থিক সাপোর্ট জরুরি। কোনো একটা স্থায়ী ব্যবস্থা হলে আদুরীর পড়ালেখার বিষয়টি নিশ্চিত হতো। আদুরীর মামা নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার পর পরই (২০১৩ সালে) ডিএমপি পুলিশের পক্ষ থেকে আদুরীর জন্য সাতটি রিকশা দেয়া হয়েছিল। রিকশাগুলো কিছুদিন পরেই নষ্ট হয়ে যায়। ছয়টি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আর একটি রিকশা ভাড়ায় দেয়া হয়। এছাড়া ওই সময়েই সরকারের পক্ষ থেকে আদুরীর জন্য চার কাঠা জমি দেয়া হয়। যার দুই কাঠা আদুরীর নামে ও দুই কাঠা আদুরীর মায়ের নামে। আর্থিক সমস্যা আদুরীর পরিবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বড় পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম আমরা। আদুরীকে আমরা পড়ালেখা করাতে চাই। আর ওরও (আদুরী) পড়ালেখার প্রতি বেশ আগ্রহ। সরকার ছাড়া আমাদের আর গতি নাই।

হুমায়ূন আহমেদের চলে যাওয়ার দিন আজ

তিনি কথার জাদুকর, গল্পের রাজপুত্র। না ফেরার দেশে চলে গিয়েও তিনি আছেন। আজও তার স্থান বাঙালির হৃদয়ের মণিকোঠায়। তিনি আর কেউ নন- হুমায়ূন আহমেদ। পাঁচ বছর আগে শ্রাবণের আজকের দিনেই পাড়ি জমান পরপারে। আজ ১৯ জুলাই, বুধবার। বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূনের প্রয়াণ দিবস। নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছিল সারা দেশে। লেখকের মরদেহ দেশে আনা হয় ২৩ জুলাই। বিমানবন্দর থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে কফিন সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। লাখো মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পরদিন তার মরদেহ সমাহিত করা হয় গাজীপুরের নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়। আজ লেখকের মৃত্যু দিবসে তার সমাধিক্ষেত্র ভরে উঠবে ফুলে ফুলে। ভক্ত ও অনুরাগীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও দোয়া কামনার মাধ্যমে লেখকের প্রতি জানাবেন ভালোবাসা। জাতীয় পত্রিকাগুলো তাকে নিয়ে প্রকাশ করছে নানান প্রতিবেদন। টিভি চ্যানেলগুলো নাটকসহ নানান আয়োজনে জানাবে তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আত্মজৈবনিক গ্রন্থে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন- ‘কল্পনায় দেখছি নুহাশ পল্লীর সবুজের মধ্যে শ্বেতপাথরের কবর, তার গায়ে লেখা- ‘চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।’ সে কথাগুলো কাচের এপিটাফ করে তার সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন নিজের নকশায় সাজিয়েছেন স্বামীর কবর। সেখানে আজ শাওন ও তার দুই শিশুপুত্র নিনিদ ও নিষাদের ফুলের ছোঁয়া পাবেন তিনি। তারপর হাজারও মানুষ নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবেন প্রিয় লেখককে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশ পলীর পার্শ^বর্তী এতিমখানার অনাথ শিশুদের খাওয়ানো হবে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের খাবার। থাকবে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। এছাড়া হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, অন্বেষা, কাকলী ও সময়সহ কয়েকটি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী লেখকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাবেন।
হুমায়ূন ভক্তদের গড়া হিমু পরিবহন নামের সংগঠনের পক্ষ থেকে লেখকের প্রয়াণবার্ষিকীতে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসূচি। আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে ম্যাড থেটার পরিবেশিত নাটক ‘নদ্দিউ নতিম’। হুমায়ূন আহমেদের ‘কে কথা কয়’ উপন্যাস অবলম্বনে প্রযোজনাটির নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন আসাদুল ইসলাম। হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়। খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী, শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, মধ্যাহ্ন, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনী দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেঁটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। আশির দশকের মাঝামাঝি তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ অসম্ভব জনপ্রিয় হয়। তার হাসির নাটক ‘বহুব্রীহি’ এবং ঐতিহাসিক নাটক ‘অয়োময়’ বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন। ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’ এর চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন।

আমাকে অপহরণই করা হয়েছিল

রহস্যজনক অপহরণের ঘটনায় কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা তার অপহরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও তিনি অপহৃত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেছেন, তাকে (ফরহাদ মজহার) সেদিন অপহরণ করেই খুলনায় নেয়া হয়েছিল। বেলা ১১টার দিকে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবির দাবি, ফরহাদ মজহার নিজেই খুলনায় গিয়েছিলেন। ফরহাদ মজহার জবানবন্দিতে অপহরণের মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়েছেন ফরহাদ মজহার। উদ্ধারের পর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, তাকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়েছিল। তার বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি স্থানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও এবং অর্চনা রানী নামে এক নারীর কথা বলা হলে এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ফরহাদ মজহার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদেও একই কথা বলেছেন। তার কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে (ফরহাদ মজহার) খুলনার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। আদালতে দেয়া জবানবন্দির সঙ্গে তদন্তে মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, সেখান থেকে নড়ছেন না।
ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আখতার আমাদের বলেছেন, আপনাদের তদন্ত আপনারা করেন, আমরা আমাদেরটা দেখব। এদিকে ফরিদাকে উদ্ধৃত করে তার এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, ডিবি বলেছে, ঘটনাটি অপহরণের কিছু নয়। জবাবে ফরহাদ মজহার বলেছেন, আপনাদের তদন্তে অন্য কিছু বের হলে সে অনুযায়ী আপনারা কাজ করেন। কিন্তু আমাদের বক্তব্য আদালতেই দেয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা ডিবি জানায়, ফরহাদ মজহারের জবানবন্দি, হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজারের জবানবন্দি, তার (ফরহাদ মজহার) ভক্ত এক নারীর জবানবন্দিতে গরমিল থাকায় তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাছাড়া তিনি অপহৃত হয়েছেন- এমন কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে আগে আদালতে তিনি যে জবানবন্দি দিয়েছেন, এখনও সেই অবস্থানেই আছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টার দিকে ফরহাদ মজহার ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং ফরহাদ মজহারের দেয়া তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে। ফরহাদ মজহারের দেয়া তথ্য সঠিক না হলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে আবদুল বাতেন বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ পুলিশকে বিভ্রান্ত করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। ফরহাদ মজহার যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২১১ ধারায় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি পুলিশ আমাদের ডেকেছিল। তারা নানা বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা যা জানি তা বলেছি। প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগর এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রথমে ফরহাদ মজহারকে খুলনায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকার আদাবর থানায় আনা হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

টাকা ছাড়া সিট মেলে না ঢামেক হাসপাতালে

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। সারা দেশের রোগীদের অনেকটা শেষ ভরসাস্থল এ হাসপাতাল। তবে এখানে একেকটি সিট যেন সংঘবদ্ধ চক্রের একেকটি সোনার ডিম পাড়া হাঁস। সিটে রোগী উঠলেই টাকা। টাকা ছাড়া এখানে সিট মেলে না। এমনকি ফ্লোরে রোগী রাখতেও গুনতে হয় টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় ও এমএলএসএসদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিনের পর দিন সিট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের হাতে রোগী ও তাদের স্বজনরা রীতিমতো জিম্মি। তারা ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না। পকেটের বাড়তি টাকা খুইয়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। হারুনুর রশিদ। তার দুই পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত। ৪ জুলাই সন্ধ্যায় স্বজনরা তাকে এ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কাউন্টার থেকে টিকিট নিয়ে যান জরুরি বিভাগের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের কক্ষে। তিনি দেখে তাকে ভর্তি করতে বলেন। এরপর রশিদকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতাল-২ এর ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে। তবে একজন ওয়ার্ডবয় রোগীর স্বজনকে জানান, সিট নিতে হলে ৮শ’ টাকা লাগবে। না দিতে পারলে ফ্লোরে একটি বিছানা পেতে দেয়া হবে। এর জন্যও গুনতে হবে তিনশ’ টাকা। রোগী রশিদের স্বজন জানান, বাধ্য হয়ে ৩শ’ টাকা দিয়ে বিছানা নেন তারা। এমনকি তাদের শাসিয়েও দেয়া হয়েছে কাউকে এ ব্যাপারে না জানাতে। ২২ জুন আগারগাঁও এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন সুমন (২৫)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার ভাই আনোয়ার হোসেন। রাত ১০টার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে মনির নামে এক কর্মচারী ৫০০ টাকার বিনিময়ে তাকে ৩৯ নম্বর সিটটি দেন বলে জানান তিনি। আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, টাকা দেয়ার আগে তারা সোজা জানিয়ে দেন, এখানে কোনো সিট খালি নেই। প্রথমে এক হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫০০ টাকায় রাজি হয়। টাকা দেয়ার পর, এখন সিট পাওয়া গেল কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মনির তাকে জানান, এ হাসপাতালে টাকা দিলে সিট কেন, বাঘের চোখও পাওয়া যায়! আনোয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, আপনাকে জানালাম, তবে আমার রোগী ভর্তি থাকা অবস্থায় লিখবেন না। লিখলে রোগীর ক্ষতি হবে। শুধু হারুনুর রশিদ ও সুমনই নন। তাদের মতো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন এ হাসপাতালে আসা হাজারও রোগী ও তাদের স্বজনরা। টাকা দিয়েও এমন আতঙ্ক কাজ করে তাদের মাঝে। মঙ্গলবার হাসপাতালের ফুটপাতের ভাতের হোটেলে বসে খাচ্ছেন এক রোগীর স্বজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, এক বছর ধরে তিনি রোগী নিয়ে এ হাসপাতালে আছেন। এখানে টাকা ছাড়া এক পাও নড়া যায় না। পদে পদে ওয়ার্ডবয়, এমএলএসএস ও স্পেশাল বয়দের টাকা দিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে গত সাড়ে তিন বছরে ৫ লাখ ২০ হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫৬ জন, ২০১৫ সালে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১২২ জন এবং ২০১৬ সালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৯ জন রোগী। বাকি রোগী ভর্তি হয়েছেন চলতি বছরে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে ১০০ রোগীর মধ্যে ৯০ জনকেই সিট কিংবা বিছানা নিতে হয় টাকা দিয়ে। ৯০ জনের মধ্যে অন্তত ৫০ জন সিট নেন, আর ৪০ জন বিছানা নিয়ে ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নেন। অন্যরা নিজেদের বিছানা বিছিয়ে কোনোমতে চিকিৎসা নেন। সিটের জন্য ৫০০ টাকা এবং বিছানার জন্য ৩০০ টাকা হিসেবে যদি ধরা হয়, তাহলে দেখা যায়, সিট বাণিজ্যের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা যুগান্তরকে জানান, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডেই বিছানা বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। তবে এসব দেখার যেন কেউ নেই।
গত সপ্তাহে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বারান্দায় রোগী, লিফটের সামনে রোগী এবং মেঝেতেও রোগী আছেন। অথচ বিভিন্ন ওয়ার্ডে অনেক সিট খালি পড়ে আছে। অনেকেই জানান, এ হাসপাতালে রোগীর তুলনায় সিটের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল। তবে হাসপাতালের পিওন, সুইপারসহ ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের হাতে বাড়তি অর্থ দিলেই মেলে সিট। আর এ অনিয়মের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেলের নতুন ভবন-২ এর সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই চোখে পড়ে বিভিন্ন বয়সী রোগীর ভিড়। নির্ধারিত ওয়ার্ডে সিট না পেয়ে অনেক রোগী বারান্দায় শুয়ে আছেন। পাশেই বসে আছেন রোগীর স্বজনরা। দ্বিতীয় থেকে নবম তলার একই চিত্র। সিট না পেয়ে ফ্লোরে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। একাধিক রোগীর স্বজন জানান, তাদের বলা হয়েছে, ওয়ার্ডে সিট ফাঁকা নেই। ফাঁকা হলেই সিট দেয়া হবে। তবে ফাঁকা হলে সিট পাওয়ার নজির এখানে খুব কমই আছে বলে অভিযোগ করেন তারা। হাসপাতালের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন জানান, তার রোগী চার দিন ধরে ফ্লোরে পড়েছিল। এক এমএলএসএসকে ৮শ’ টাকা দেয়ার পর তিনি সিট পেয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেও ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার তার কোনো এখতিয়ার নেই। যা বলবেন পরিচালক। তবে তিনি জানান, রোগীর তুলনায় এ হাসপাতালে সিট সংখ্যা সীমিত। এ কারণে সবাইকে সিট দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বারান্দায় চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। সিট ফাঁকা থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো বিভিন্ন বিভাগে বিভক্ত। কোনো বিভাগে স্বল্প রোগী ভর্তি হন। ফলে সিট ফাঁকা থাকে। এক বিভাগের রোগীকে অন্য বিভাগে রাখা যায় না বলেই কিছু সিট ফাঁকা থেকে যায়। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

শেরেবাংলা নগরের সড়ক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অধিকাংশ রাস্তাই বেহাল দশা। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগ। এ অবস্থা থেকে অফিসগামী ও সাধারণ মানুষদের মুক্তি দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য ‘ঢাকার শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার ই এবং এফ ব্লকের বিভিন্ন রাস্তার নির্মাণ কাজ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণলয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি নিয়ে আগামী রোববার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে রাস্তার মালিকানা কার অর্থাৎ গণপূর্ত অধিদফতর নাকি ঢাকা সিটি কর্পোরশেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় যেসব রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলোর মালিকানার বিষয়ে প্রকল্পের পটভূমিতে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন ছিল। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এ ধরনের রাস্তা সিটি কর্পোরেশনের মেরামত বা সংস্কার করার কথা। তবে প্রকল্পের আওতাভুক্ত রাস্তাগুলোর মালিকানা/মালিকানা হস্তান্তর/শুধু রাস্তা মেরামত ও সংস্কার নিয়ে গণপূর্ত অধিদফতর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। কেন না, এ বিষয়ে অনেক চিঠি চালাচালি হয়েছে বলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শেরেবাংলা নগরে গণপূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন রোকেয়া সরণি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে মিরপুর রোড গণভবন সংযোগ স্থল পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গণভবনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগত ভিআইপিরা যাতায়াত করে থাকেন। শেরেবাংলা নগর মহাপরিকল্পনায় প্রশাসনিক এলাকায় ই ব্লকের স্থাপত্য অধিদফতরের প্রণীত অনুমোদিত নকশায় চিহ্নিত প্লটগুলো গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বরাদ্দ দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ন্যাশনাল লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইমাম প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, সার্ক মেট্রোলোজিক্যাল রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ বেতার, পরিবেশ অধিদফতর, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো, নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, এলজিইডি ইন্সটিটিউট, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের প্রধান কার্যালয় বা ভবন নির্মাণ করে দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া এফ ব্লকের নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কর ভবন, নিউরোসাইন্স হাসপাতাল, প্রতœতত্ত্ব ভবন, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, বাংলাদেশ ফ্লিম আর্কাইভ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, জিটিসিএল ভবন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ইএনটি হাসপাতাল, এসপি অফিসসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দেশি-বিদেশী ভিআইপিরা শেরেবাংলা নগরের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকলল্পনা কমিশনে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০ জুন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পাশে ২৩০ দশমিক ২৮ মিটার রাস্তা অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান। ফলে এ অংশটি প্রকল্প থেকে বাদ দেয়ার সুপারিশ করেছেন। এছাড়া মাহবুব মোর্শেদ সড়ক (আগারগাঁও-শ্যামলী) থেকে পিএসসির শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সড়কটি ১৫০ ফুট প্রশস্ততায় নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু ব্যস্ততম এ সড়কটি ১০০ ফুট প্রশস্ত রয়েছে। এর প্রশস্ততা হ্রাস করা যেতে পারে।

উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির খবর গুজব: ওবায়দুল কাদের

মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে- এমন ইঙ্গিত দিলেও উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ সৃষ্টির খবর সে ফ গুজব। এটা একেবারে ভিত্তিহীন কথাবার্তা। এটার কোনো বাস্তবতা নেই। আর নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমিশনের অধীনে থাকার পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে কিনা, সে ব্যাপারে কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে।’ মঙ্গলবার ঢাকার মহাখালীর সেতু ভবনে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে কবে নাগাদ তা হবে, কিভাবে হবে, প্রধানমন্ত্রী কাকে রাখবেন, কাকে বাদ দেবেন, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। তবে উপ-প্রধানমন্ত্রী পদের বিষয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা সত্য নয়। এটার বাস্তবতা নেই, ভিত্তিহীন ও মিথ্যা কথা। এ রকম কোনো পদ সৃষ্টি হবে না, সরকারেরও এমন কোনো ইচ্ছা নেই।’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। নির্বাচনকালীন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার। সরকার শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমিশনের অধীনে থাকার পাশাপাশি সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে কিনা, সে ব্যাপারে কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে।’ বিএনপি মহাসিচবের ‘স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করে ইসি রোডম্যাপ কিভাবে ঘোষণা করে’- বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কমিশন কিভাবে রোডম্যাপ দেবে সেটা তাদের এখতিয়ার। ইসি চাইলে নিশ্চয় রোডম্যাপ পরিবর্তনও করতে পারে। বিএনপি এ নিয়ে শুধু শুধু কথা বলতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছে।’ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘হাইকমিশনার আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার কি ভাবছে তা জানতে চেয়েছেন মাত্র। কোনো পরামর্শ দেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক বিষয় আমরাই দেখব। যে দেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন করতে পারে, তাদের কারও কাছে নতি স্বীকারের দরকার নেই। বাংলাদেশ আর আগের মতো অবস্থায় নেই যে, চাপ দিয়ে কিছু আদায় করা যাবে।’ কথা বলার এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের।

ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারজট, পণ্য খালাসে সময়ক্ষেপণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ী নেতারা বিদ্যমান সমস্যার জন্য মূলত বন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। নৌমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বললেন, ক্ষমতাবান কারও কথা শুনতে চাই না। ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী কাউকে দেখতেও চাই না। তিন-চার মাস নয় দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান চাই। একই সঙ্গে বন্দরে কর্মরত কাস্টমসসহ সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। অন্যথায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সমস্যার কথা তুলে ধরার ইঙ্গিত দেন তারা। চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার জাহাজ ও কনটেইনার জটের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। সভার সভাপতি নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রায় পুরো সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দু-এক দিনের মধ্যে বন্দর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসার আশ্বাস দেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। ওই পরিষদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছেন। জানা গেছে, সম্প্রতি বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারজট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা নৌমন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে বন্দরে জটের কারণে মোটা অংকের টাকা গচ্চা দেয়া, রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব, ক্রেতাদের বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে মুখ ফিরিয়ে নেয়াসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।
তারা বলেন, বন্দরে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও জাহাজ বার্থিং করতে পারছেন না। দুটি গ্যাংট্রি ক্রেন নষ্ট থাকায় পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। বন্দর কাস্টমস, ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দেয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দর খোলা থাকলে রাজস্ব বিভাগ খোলা থাকে না, রাজস্ব বিভাগ খোলা থাকলে ব্যাংক বন্ধ থাকে। কোথাও সমন্বয় নেই। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালিদ ইকবাল বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনার জটের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে ৩-৪ মাস সময় চান। তবে ব্যবসায়ীরা তাকে ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ী নেতা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যের প্রায় পুরো সময় নীরব ছিলেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সচিব অশোক মাধব রায়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নৌমন্ত্রী বন্দরে জট কমাতে না পারলেও দেশের ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, সময়মতো রফতানি করতে না পারলে শুধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা নয়, দেশের সুনামও নষ্ট হবে। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ হারাব। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে দু-এক দিনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে সমন্বয় সভা করব। ওই সভায় সব সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং এর সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে। এর আগে নৌ সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, ভাড়া করে হলেও কম সময়ের মধ্যে ক্রেন আনার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বন্দরের সঙ্গে রাজস্ব বিভাগ জড়িত। বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কাল (আজ) বৈঠক করবেন নৌমন্ত্রী। বন্দরের সমস্যা সমাধানের সব চেষ্টা করবেন। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইকুইপমেন্ট আমদানিতে ৩-৪ মাস সময় লাগলে বন্দরে জট কমবে না, ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে না। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকতে পারব না। সময় কারও জন্য বসে থাকে না। ক্রেন আনতে চার মাস সময় লাগার কথা শুনতে চাই না। বন্দরের এনসিটি অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক বা অন্য কোনো ক্ষমতাবানের কথা বা অন্যকিছু শুনতে চাই না। আমরা চাই, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সমাধান। আপনি ওই সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিন। দেশের স্বার্থ, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থের পরিপন্থী কাউকে দেখতে রাজি নই। প্রধানমন্ত্রীর দরজা সবার জন্য খোলা। প্রয়োজনে সেখানে যাব।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বন্দরের টাকা কেন ব্যাংকে অলস অবস্থায় এফডিআর করে রাখা হবে? কোন কমিটি বা কে ওই টাকা বন্দরের উন্নয়ন কাজে ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে? আমরা চট্টগ্রাম বন্দরকে সক্ষম দেখতে চাই। এ বন্দরে পণ্য আমদানি-রফতানিতে বেশি সময় লাগায় ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।’ বন্দরে জট প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালিদ ইকবাল বিদ্যমান সমস্যার কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সিসিটির দুটি গ্যাংট্রি ক্রেন ডেমেজ হয়েছে। ঈদের আগে পণ্য আমদানির পরিমাণ বেশি ছিল। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণ ছিল। তিনি বলেন, কনটেইনারজট শুরু হয়েছে গত মাসে। ওই সময়ে সিঙ্গাপুর ও শ্রীলংকার কলম্বো থেকে যে সংখ্যক জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে তা রিসিভ করতে পারিনি। তিনি বলেন, বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত দুটি বড় আকারের মোবাইল হারবার ক্রেন আনার চিন্তা করছি। এটি আনতে ৩-৪ মাস সময় লাগবে। এ সময় ব্যবসায়ীরা ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে বলেন, ক্রেন আনতে ৩-৪ সময় লাগলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হবে। আমরা দ্রুত সমাধান চাই। বন্দর নিয়ে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ৭০টি জাহাজ বহির্নোঙরে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করবে। বাকিগুলো সেখানেই পণ্য খালাস করে চলে যাবে। আমি অনুরোধ জানাই, আপনারা গিয়ারলেস জাহাজ কম আনেন, গিয়ার জাহাজে পণ্য আমদানি করেন। এতে জট কমে আসবে। বন্দরের ইকুইপমেন্ট আমদানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে তিনটি রাবার টায়ার গ্যাংট্রি ক্রেন আমদানি করেছি। আরও ৮টি আসবে। হঠাৎ করে একদিনে এসব ইকুইপমেন্ট আমদানি সম্ভব নয়। আগামী বছরের মধ্যে ৫০ শতাংশ ইকুইপমেন্ট আনতে পারব। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরে জট কমানোর ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারকসহ অনেকেই জড়িত। আমরা সবার সঙ্গে সমন্বয় করে জট কমানোর চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আগের চেয়ে আমদানি-রফতানি বেড়ে যাওয়ায় জট বেড়েছে। জেটি বেশি থাকলে এ সমস্যা থাকত না। তিনি আরও বলেন, আমাদের আমদানি বেশি হচ্ছে। কিন্তু রফতানি কম। এ কারণে ৫০ শতাংশের বেশি কনটেইনার খালি পাঠাতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এক ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, এসব বলবেন না। এর সঙ্গে দেশের উচ্চপর্যায়ের পলিসি জড়িত। আমরা খালি কনটেইনার পাঠাতে চাই না, কনটেইনারে পণ্য ভরে পাঠাতে চাই। কিন্তু দেশে উৎপাদন না বাড়লে রফতানি বাড়বে না। অবকাঠামো, গ্যাস সংকটসহ নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সবাই জানে। এসব বলে লাভ নেই। বন্দরের সমস্যার সমাধান চাই। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি ও রফতানিতে সমস্যা রয়েছে। বিমানবন্দরে মালামাল রাখার শেড নেই, নেই দক্ষ জনবল। বৃষ্টিতে ভিজে মালামাল নষ্ট হয়। মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দরের জাহাজ বার্থিং পেতে ১০-১২ দিন লেগে যায়। পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি করা হলে স্ক্যানিংয়ে লেগে যায় আরও কয়েকদিন। কোনো কোনো সময়ে পণ্য খালাসে ২-৩ সপ্তাহ চলে যায়। বন্দরে এভাবে সময়ক্ষেপণের জন্য ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এতে প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অপরদিকে সঠিক সময়ে পণ্য রফতানি করতে না পারায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এসব সমস্যার কারণে পোশাক শিল্পের ব্যবসা বাংলাদেশ থেকে সরে ভারত, কম্বোডিয়া, মিয়ানমারসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাতে আমরা লক্ষ্যমাত্রার ১১ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছি। অপরদিকে ভারত ১৪ শতাংশ বেশি রফতানি করেছে। এসব সমস্যা শুধু পোর্টের একার নয়, কাস্টমস, ব্যাংক ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আমদানি-রফতানিতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের এ নেতা নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, রাজস্ব বিভাগসহ সবার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন। বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু চট্টগ্রাম বন্দরের নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরে বলেন, বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারজট বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, গত এপ্রিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পোশাক শিল্পের আমদানিকৃত মালামাল খালাসে বিশেষ করে যেসব জাহাজে এলসিএল পণ্যবাহী কনটেইনার বেশি থাকে তা আনস্ট্যাফিং-পূর্বক ডেলিভারি দিতে ১০-১৮ দিন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। ফলে পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত মালামাল ছাড়করণে দেরির প্রভাব পড়ছে রফতানির ক্ষেত্রে। এতে রফতানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বন্দরের সংকট তুলে ধরে বলেন, পর্যাপ্ত ইকুইপমেন্ট না থাকলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা শত আন্তরিকতা দেখালেও সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কত দ্রুত (স্পিড টু মার্কেট) পণ্য পৌঁছানো যায়। এ জায়গাটিতে আমরা মার খাচ্ছি। সম্ভাবনাময় পোশাক ও পাদুকা শিল্প বাংলাদেশ থেকে সরে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যে জাহাজটি ৭ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছল, সেটি ১৭ জুলাই সিসিটিতে বার্থিং পাচ্ছে না। বেনাপোল স্থলবন্দরের অবস্থাও ভালো নয়। সঠিক সময়ে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারলে দ্রুত তা রফতানি করতে পারব না। বন্দরে জটের জন্য সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বন্দর খোলা থাকলে রাজস্ব বিভাগ খোলা থাকে না, রাজস্ব বিভাগ খোলা থাকলে ব্যাংক খোলা থাকে না। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সব বিভাগের সহযোগিতা দরকার। ওই সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য মো. জাফর আলম, বিটিএমএ’র সভাপতি তপন চৌধুরী, বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. মনির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণের নামে প্রমোদভ্রমণ

প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক পড়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। শিক্ষা খাতে চলমান ৭ ডজন প্রকল্পের অধীনে প্রায় প্রতি মাসেই এ ধরনের বিদেশ সফর হচ্ছে। শিক্ষা ও শিক্ষকদের জন্য প্রকল্প হলেও তাদের অধিকাংশই উপেক্ষিত। অগ্রাধিকার পাচ্ছেন শিক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা। সফর থেকে ফেরার পরদিনই অবসরে গেছেন- এমন কর্মকর্তার নামও আছে এ তালিকায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষব্যক্তির ঘনিষ্ঠ, মুখচেনা ব্যক্তিরাই ঘুরেফিরে যাচ্ছেন বিদেশ। নামে প্রশিক্ষণ হলেও বাস্তবে একেকটি নতুন দেশ ভ্রমণ করাই যেন কর্মকর্তাদের মূল উদ্দেশ্য। শীর্ষব্যক্তির জ্ঞাতসারে বিনা বাধায় এসব ঘটছে বলে জানা গেছে। বিদেশ থেকে ফিরে অধিকাংশ সদস্য প্রায় একই ধরনের দায়সারা গোছের প্রতিবেদন দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। মাঠপর্যায়ে এ প্রশিক্ষণের তেমন একটা প্রতিফলন দেখা যায় না। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচে প্রতি মাসেই শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলেও তা কাজে আসছে না। প্রায় প্রতিটি প্রশিক্ষণ শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের জন্য আয়োজন করা হলেও সেখানে রাখা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে। ফলে এ প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কেউ থাকে না। যুগান্তরের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে প্রশিক্ষণে একই বা মুখচেনা কিছু ব্যক্তির ঘন ঘন বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদেরও দৃষ্টি এড়ায়নি। এ কারণেই তিনি রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) এক অনুষ্ঠানে বলেন, একই কর্মকর্তা ঘুরেফিরে বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। মাউশি থেকে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়, তাদেরই অনুমোদন দেয়া হয়। অথচ এর জন্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নাম হয়। তিনি বলেন, সবাইকেই সুযোগ দিতে হবে। এতে সবার কাজে উৎসাহ বাড়বে। জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া ফি’র টাকায় চলে এ প্রতিষ্ঠান। সেই টাকায় ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন কিছু ব্যক্তি।
ইউজিসির উচ্চশিক্ষা মান উন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অধীনে প্রশিক্ষণের জন্য ৬২ জনকে অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন শিক্ষকও নেই। ৫০ জন ছিলেন ইউজিসির কর্মকর্তা। বাকি ১২ জন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা। এভাবে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বা বিভিন্ন প্রকল্প ও সংস্থার অর্থায়নে আয়োজিত প্রায় সব প্রশিক্ষণই ‘প্রমোদভ্রমণে’ পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, ২৯ জুলাই ৯৬ জনের একটি বিশাল টিম যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিইপি) অধীনে সরকারি-বেসরকারি কলেজের ডিগ্রি-অনার্স পড়ানো শিক্ষকদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসে (ইউএনএমসি) প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কিন্তু এ তালিকার ব্যাপারে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশিক্ষণার্থী তালিকাভুক্তির সার্কুলার ব্যাপক প্রচার পায়নি। তাছাড়া আবেদনের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যারে ত্রুটি ছিল। যে কারণে ইচ্ছুক অনেকেই আবেদন করতে পারেননি। আবার যে ক’জন আবেদন করেছেন, তাদের অনেককে আগেই বাদ দেয়া হয়। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পরিচিতজন, ব্যাচমেট, একই বিভাগের শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। কথা ছিল, বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ভাষাগত পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ফলে শুধু একাডেমিক ফলের ওপর ভিত্তি করে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা কতটা সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। জানা গেছে, প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া প্রত্যেককে দৈনিক ১৭০ ডলার বা ১৩ হাজার ৬০০ টাকা (এক ডলার ৮০ টাকা হিসাবে) করে দেয়া হবে। প্রায় ১০ মাস আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ব্যাপারে এমন অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে অসন্তুষ্ট সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অন্ধকারে রেখে প্রতিষ্ঠানটির একজন ডিন এবং প্রকল্পের দুই কর্মকর্তা এ তালিকা তৈরির প্রাথমিক কাজ করেন। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর অবশ্য এভাবে তালিকা তৈরির প্রাথমিক দায়িত্ব পালনকারী ডিনের কাছে কৈফিয়ত চান ভিসি। তার হস্তক্ষেপে পরবর্তী ব্যাচ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএসের সনদ চেয়ে ১৬ জুলাই বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে ৬.৫ স্কোর করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে সোমবার রাতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সবকিছু শুনে মঙ্গলবার অফিসে যেতে বলেন। পরদিন বেলা ১১টার থেকে বিকাল ৪টা এ কর্মকর্তার জন্য অপেক্ষা করে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে দু’বার কল করা হলে একবার ধরেননি, আরেকবার লাইন কেটে দেন। পরে এসএমএস করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তালিকা তৈরির প্রাথমিক দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাজ ছিল শুধু শিক্ষকের তালিকা পাঠানো, ভাষাগত পরীক্ষা নয়। যারা যাচ্ছেন, তাদের এ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। অবশ্য ভবিষ্যতে যারা যাবেন, তাদের আইইএলটিএসের সনদ চাওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা চলে যাচ্ছেন, তাদের সরকারি আদেশ (জিও) হয়ে গেছে। তাই তাদের ব্যাপারে আমাদের এখন আর কিছু করার নেই। জানা যায়, মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে একাধিক প্রকল্প থেকে বছরে বেশকিছু বিদেশ প্রশিক্ষণ থাকে। মাউশির একাধিক কর্মকর্তা প্রতিবারের প্রশিক্ষণেই থাকেন। সবচেয়ে বেশি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্র“ভমেন্ট (টিকিউআই)-২ এবং সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেসিপ)। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার ঋণে পরিচালিত এসব প্রকল্পের প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের জন্য রাখা হয় বড় অঙ্কের সম্মানীও। প্রতিটি প্রশিক্ষণ শিক্ষা কর্মকর্তাদের ও শিক্ষকদের জন্য আয়োজন করা হলেও সেখানে রাখা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। ফলে এ প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্নই তুলতে পারেন না। গত ফেব্রুয়ারিতেও এ প্রকল্পের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর এক প্রশিক্ষণে ১৩ জন কর্মকর্তা ফিলিপাইনে গেছেন। গত বছরের নভেম্বরেও একই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে ১৯ জন কর্মকর্তা গেছেন অস্ট্রেলিয়া। একই বিষয়ের প্রশিক্ষণ হলেও একই ব্যক্তি পর পর দু’বার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। অথচ যারা সুযোগ পাননি, তাদের কোনো প্রশিক্ষণেই পাঠানো হচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার প্রশিক্ষণটি মূলত মাউশির কর্মকর্তাদের জন্য হলেও সেখানে ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’জন অতিরিক্ত সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, বাস্তবায়ন মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা। এছাড়া বাকি ১১ জনের মধ্যে মাউশির সাতজন ও অন্যান্য দফতরের চারজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ফিলিপাইন থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে আসা মাউশির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমাদের যারা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তারা ছিলেন মূলত স্কুলপ্রধান। কিন্তু এ দলে স্কুলপ্রধানের সংখ্যা তেমন একটা ছিল না। তাই প্রশিক্ষকরাও পরিচয়ের পর থেকে কিছুটা বিব্রত ছিলেন। পরিচয় পর্বেই যদি ঝামেলা বাধে, তাহলে বাকি প্রশিক্ষণ কেমন হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।’ গত অক্টোবরে এই টিকিআই-২ এর অধীনে নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নিতে যান ১৬ কর্মকর্তা। মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে এ প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া ১৬ জনের মধ্যে আটজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ছয়জন সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং একজন মাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একজন জানান, পরিচয় পর্বে আটজনই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা থাকায় তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে বাধ্য হয়ে ওই আটজন নিউজিল্যান্ডে ঘুরেফিরে বেড়িয়েছেন। বাকিরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জানা গেছে, এ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন এক অতিরিক্ত সচিব। তিনি ২৮ অক্টোবর প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরে ২৯ অক্টোবরই অবসরোত্তর ছুটিতে যান। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের পিডি জহিরউদ্দিন বাবর যুগান্তরকে বলেন, অতীতে বিদেশ প্রশিক্ষণে শিক্ষকের চেয়ে কর্মকর্তা বেশি ছিল। প্রকল্প চলে ডিপিপির আলোকে। ডিপিপির নির্দেশনার বাইরে আমাদের কাজ করার সুযোগ নেই। তাছাড়া এ প্রকল্পে প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করেছে এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক)। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণের সব অর্থ তাদের দেয়া। তাই তাদের প্রেসক্রিপশন আমাদের মানতে হয়। তবে এ বাস্তবতা সামনে রেখে আমরা ভবিষ্যতে বিদেশে পাঠানো টিমের ৮৫ শতাংশ সদস্য শিক্ষক রাখার পরিকল্পনা করেছি। টিম ব্যবস্থাপনার জন্য বাকি সদস্য কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এডিবি অনুমোদন করলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রশিক্ষণে কেউ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে- এমন তথ্য আমার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে প্রশিক্ষণে যাওয়া কর্মকর্তারা না হোক, ওই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের অবহিত করত।’ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে হেকেপ প্রকল্প। এর অধীনে বিদেশ গমনের রীতিমতো মচ্ছব চলছে। মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির একই ব্যক্তিকে এ প্রকল্পের অর্থে একাধিকবার বিদেশ পাঠানো হয়েছে। কোন ধরনের কর্মকর্তা কোন মহাদেশ পর্যন্ত যেতে পারবেন, তা ডিপিপিতে (প্রকল্প প্রস্তাবনা) উল্লেখ আছে। তা সত্ত্বেও জুনিয়র কর্মকর্তাদের সিনিয়রদের ট্যুরে পাঠানো হচ্ছে। ২০১২ সালে প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে শুধু অর্থ ব্যয়ের উদ্দেশ্যে বিদেশে ভ্রমণ আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের গত নভেম্বর পর্যন্ত ছয়টি ট্যুর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষাবিদের চেয়ে আমলা কিংবা নন-শিক্ষাবিদদের সংখ্যাই ছিল বেশি। গত অক্টোবর-নভেম্বরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ জনকে প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর ছিল ওই প্রশিক্ষণ। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা তাতে ছিলেন না। ৬২ জনের মধ্যে ৫০ জন ইউজিসির কর্মকর্তা। হেকেপের আটজন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চারজন। মন্ত্রণালয়ের চারজনের মধ্যে দু’জন যুগ্ম সচিব এবং দু’জন উপসচিব পদমর্যাদার। তাদের মধ্যে একজন উপসচিবের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ একই কর্মকর্তা এর আগেও এ প্রকল্প থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। ৬২ জনের মধ্যে ৩২ জন জুনিয়র কর্মকর্তা। ডিপিপি অনুযায়ী তারা এ প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন না। এর মধ্যে আছেন হেকেপের সিস্টেম অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রাম অফিসার। আরডিপিপি অনুযায়ী সিনিয়র সহকারী সচিবের নিচে কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের প্রশিক্ষণে যেতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে হেকেপের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্তর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, সব নিয়মনীতি মেনেই প্রকল্পের ট্যুরগুলো হচ্ছে। গত অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়া প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউজিসির কয়েকজন কর্মকর্তা বিশ্বব্যাংকে অভিযোগ করেছিলেন। তবে পরে তা নিষ্পত্তি হয়ে যায়।

ভ্রমণে গিয়ে নৌকাডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নৌকাডুবে মৃত্যু হয়েছে জাকারিয়া আহমদ সিহান (২৭) ও ওহিদ মতিন রিয়াদ (২৬) নামের আপন দুই খালাতো ভাইয়ের। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাড়ুলি বিলে ভ্রমণে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান তারা। নিহত জাকারিয়া আহমদ সিহান ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফরিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের পুত্র এবং মতিন রিয়াদ সিলেট নগরীর দর্শন দেওড়ির আব্দুল মতিনের পুত্র। নিহতদের পরিবার সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায়  সিহানদের বাড়ির পাশের গাড়ুলি বিলে খাবারসহ নৌকাযোগে আনন্দ ভ্রমণে বের হন ফেঞ্চুগঞ্জে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসা ওহিদ মতিন রিয়াদ, ওলিদ মতিন ফুয়াদ। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে যোগ দেন খালাতো ভাই সিহান, শিহাব ও মতিন নামের অপর যুবক। নৌকা নিয়ে গাড়ুলি বিলের কিছু দূরে যাওয়ার পর নৌকার ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করলে ভ্রমণকারীরা তীরে ভেড়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিলে তীব্র বাতাস শুরু হলে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে নৌকাটি পানিতে তলিয়ে যায়। সাতাঁর কেটে শিহাব, মানিক ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফুয়াদ তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সিহান ও রিয়াদ পানিতে তলিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত ১২টার দিকে সিহান ও রিয়াদের লাশ উদ্ধার করে। প্রাণে বেচেঁ যাওয়া রিয়াদের বড় ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওহিদ মতিন ফুয়াদ বলেন, আমার ভাই (রিয়াদ) সাঁতার জানতো না। খালার বাড়িতে আনন্দ করতে এসে ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে যাচ্ছি।

চট্টগ্রামে 'বন্দুকযুদ্ধে' জলদস্যু বাহিনীর প্রধান নিহত

চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আবুল কালাম (২৫) ওরফে ল্যাংরা কামাল নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের দাবি,  নিহত আবুল কালাম একটি জলদস্যু বাহিনীর প্রধান। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। কামাল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বড় দরবেশ গ্রামের হোসেন আহমদের ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২ অটোমেটিক রাইফেল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ছয়টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, পলোগ্রাউন্ড মাঠে কালামসহ একদল সশস্ত্র দস্যু অস্ত্র কেনাবেচা করছে এমন গোপন খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি টহল দল সেখানে যায়। এসময় মাঠে থাকা দস্যুরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে অন্য দস্যুরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ওই হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, কালাম একটি জলদস্যু বাহিনীর প্রধান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার নামও রয়েছে।

পুলিশকে মাথায় আঘাত করে কাভার্ডভ্যান থেকে ফেলে হত্যা

উল্টোপথে যাওয়ার সময় কাভার্ডভ্যানকে থামাতে গিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় দায়িত্বরত সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে পুলিশের সদস্য সাদ্দাম হোসেনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তার মাথায় আঘাত করে কাভার্ডভ্যান থেকে ফেলে দেয় চালক। এতে আহত সাদ্দামের মৃত্যু হয়। কাভার্ডভ্যানসহ চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেন (২৬) ময়মনসিংহের ভালুকা থানার ঘোয়ারী এলাকার আবদুস সালামের ছেলে। তিনি ২-৩ মাস আগে সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে থানায় কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরে চন্দ্রা এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যান সড়কে উল্টোপথে যাওয়ার সময় ওই সাদ্দাম কভার্ডভ্যানটি থামার জন্য সিগন্যাল দেন। এ সময় কাভার্ডভ্যানের চালক তার গাড়িটি সামান্য গতিরোধ করে। পুলিশ সদস্য দৌড়ে গেলে চালক কাভার্ডভ্যানটি দ্রুত চালাতে শুরু করে। এরই মধ্যে পুলিশ সদস্য ওই কাভার্ডভ্যানের হাতল ধরে ফেলে।
চালক দরজা না খোলায় সাদ্দাম চলন্ত গাড়ির হাতল ধরে থাকে আর চালক গাড়ি চালিয়ে যায়। গাড়িটি তাকে বেশ কিছুদূর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এক সময় সাদ্দাম কাভার্ডভ্যানের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় চালক তাকে মাথায় আঘাত করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এতে পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটির পিছু নিয়ে ঘটনাস্থলের একটু দূরে গিয়ে কাভার্ডভ্যানসহ চালক ইউসুফকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পরে কাভার্ডভ্যানসহ চালককে সালনা-কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে থানার ওসি হোসেন সরকার বলেন, মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে উল্টোপথে আসা একটি কাভার্ডভ্যানকে থামানোর চেষ্টাকালে পুলিশ সদস্য সাদ্দাম নিহত হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। ঘাতক কাভার্ডভ্যানের চালক ও কাভার্ডভ্যান আটক করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে গুদাম থেকে পাচার হল কয়েকশ’ টন চাল

সোমবার রাত ৯টা ৩৩ মিনিট। নগরীর হালিশহর সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো (সিএসডি) বা গুদামের প্রধান ফটকের লাইটগুলোর বেশির ভাগই নেভানো। তবে সতর্ক অবস্থানে ছিল নিরাপত্তারক্ষীরা। কয়েকজন প্রধান সড়কে পায়চারী করছিলেন আর এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন। পথচারীদের ওপর ছিল তাদের কড়া নজর। গেটের পাশের চায়ের টংঘরটিও বন্ধ করে দেয়া হয় আগেভাগেই। সোমবার সকালে যুগান্তরের কাছে তথ্য ছিল রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে ২০ থেকে ২২টি ট্রাকে করে সরকারি চাল ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) ছাড়াই বের হয়ে যাবে। একই তথ্য ছিল র‌্যাব-৭ এর কাছেও। অভিযানের প্রস্তুতি পাকা করে র‌্যাব। পুরো ঘটনা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার জন্য রাত সোয়া ৯টায় সিএসডি এলাকায় অবস্থান নেন যুগান্তরের এ প্রতিবেদক। সোমবার বিকাল ৪টার পরই কয়েকটি খালি ট্রাকের সিএসডিতে প্রবেশের খবর আসে। শেষ পর্যন্ত গুদাম থেকে রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে চাল বোঝাই প্রথম বিশাল ট্রাকটি (যশোর ট-১১-১০৩৩) নির্বিঘেœ বের হয়ে যায়। রাতভর ২০-২২টি ট্রাক চাল বোঝাই করে সিএসডি এলাকা ত্যাগ করলেও র‌্যাব দৌড়ঝাঁপ করে সাতটি ট্রাক আটক করতে পেরেছে। উদ্ধার করা চালের পরিমাণ ১৫৫ মে.টন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সিএসডির ব্যবস্থাপক প্রণয়ন চাকমাকে তার সরকারি বাসভবন থেকে আটক করেছে র‌্যাব। আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে সিএসডির সহকারী ব্যবস্থাপক ফখরুল আলম মানিকের হালিশহর এক্সেস রোডের সালাম ভ্যালির বাসায়। খবর পেয়ে তিনি আগেই পালিয়ে যান। এছাড়া সাতটি ট্রাকের চাল ও হেলপারদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে খাদ্য বিভাগে। আটক ট্রাকগুলো ১৮ টনি, ১২ টনি এবং ৭ টনি। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার রুহুল আমিন মঙ্গলবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, পাচারের সময় সোমবার মধ্যরাতেই অভিযান চালিয়ে সরকারি চালভর্তি ৬টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। পরে আরও একটি আটক করা হয়। আটক করা হয়েছে সিএসডির ব্যবস্থাপককেও। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। সোমবার রাত ৯টা ৩৬ মিনিটে দু’জন দারোয়ান সিএসডির প্রধান গেট খুলে দিলে প্রথম ট্রাক চাল বোঝাই বের হয়ে আসে এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ট্রাকটি কোথায় যায় তা প্রত্যক্ষ করার কৌতূহল নিয়ে যুগান্তরের এ প্রতিবেদক মোটরবাইকে করে ট্রাকটির পিছু নেন এবং ৬ কিলোমিটার যাওয়ার পর ট্রাক শহর ছেড়ে চলে যায়। চালভর্তি এ ট্রাকটি সিটি গেটের ১০০ গজ সামনে গিয়ে ৩ জন শ্রমিককে তুলে নেয়। র‌্যাব এ ট্রাকটি আটক করতে পারেনি।
এরপর ৯টা ৪৪ মিনিটে চট্টমেট্রো-ট ১১-৪৪৪৫ নম্বরের আরেকটি ট্রাক বের হয়ে যায়। এটি কর্নেল হাটের দিকে যেতে দেখা যায়। এভাবে ৯টা ৪৯ মিনিটে চট্টমেট্রো ট ১৩-১৫৪৭ নম্বর ট্রাক, ৯টা ৫৩ মিনিটে ঢাকামেট্রো-১৪ ৩০৭০ নম্বর ট্রাক, ৯টা ৫৮ মিনিটে ১১-০৮২৫ নম্বর, ১০টা ৮মিনিটে চট্টমেট্রো ট-১১-০৩৬৫ নম্বর, ১০টা ১৭ মিনিটে ঝিনাইদহ ট-০২-১৯০ নম্বর, ১০টা ২৭ মিনিটে ঢাকামেট্রো ট-১৪-৪১৫৯ নম্বরের ট্রাক চালবোঝাই করে সিএসডি থেকে বের হতে দেখা যায়। এছাড়া ১০টা ৪৩ মিনিটে ঢাকামেট্রো-ট-১৪-১৯৪০ এবং ১০টা ৪৬ মিনিটে চট্টমেট্রো ট-১১-৩৩৯৬ ট্রাকটি চাল ভর্তি করে বের হয়ে যায়। পরে একে একে চট্টমেট্রো ট-০৫-০৯৩৯ নম্বর এবং চট্টমেট্রো ট-০৫-০১৭১ নম্বরের ট্রাকটি বের হয়ে আসে। প্রায় রাতভর থেমে থেমে চাল বোঝাই করে সিএসডি এলাকা ত্যাগ করে চালবোঝাই ট্রাক। সূত্র বলছে, চালবোঝাই প্রায় ২০-২২টি ট্রাক সিএসডি থেকে বের হয়ে যায়। তবে ঠিক কী পরিমাণ চাল পাচার করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে র‌্যাব চট্টগ্রাম নগরীর স্থানে অভিযান চালিয়ে ট্রাকগুলোর মধ্যে সাতটি আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলো র‌্যাব-৭ এর সদর দফতর পতেঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার চালের পরিমাণ প্রায় ১৫৫ মে.টন (৩ হাজার ৯৬ বস্তা) বলে সূত্র জানিয়েছে। র‌্যাব জানায়, চালবোঝাই ট্রাকগুলো নগরীর আগ্রাবাদের হাজীপাড়া এলাকা থেকে একটি, হালিশহর নয়াবাজার হক্কানী পেট্রুল পাম্পের সামনে থেকে চারটি ও হাটহাজারীর সরকার হাট এলাকা থেকে একটি আটক করা হয়। পরে আরও একটি ট্রাক আটক করা হয়। এ সময় ট্রাক চালক ও হেলপারসহ ১২ জনকে আটক করা হয়। আটক ওসমান আলী (৫০), আবদুল হাই (৩৪), রাজু খান (২৪), সোহেল (২৩), সুকুমার (৩২) র‌্যাবের কাছে সিএসডি গুদাম থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক নিয়ে বের হওয়ার কথা স্বীকার করেছন। কোনো কাগজপত্র না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। এক ট্রাকচালক পরে র‌্যাবকে জানিয়েছেন, স্যার আমরা তো প্রায়ই এভাবে চাল নেই। আগেও আপনারা ধরেননি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার আশিকুর রহমান। মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে চাল পাচারের ‘হোতা’ হিসেবে পরিচিত সিএসডির ব্যবস্থাপক প্রণয়ন চাকমাকে আটক করা হয়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘গুদাম থেকে বের হওয়া মালগুলোর দায়ভার আমার ও সহকারী ম্যানেজারের। বেশির ভাগ সময় সহকারী ম্যানেজার আমার পক্ষ হয়ে স্বাক্ষর করে থাকেন।’ তিনি র‌্যাব সদস্যদের সামনেই অকপটে সব দোষ স্বীকার করে নেন। বলেন, চালভর্তি ট্রাকগুলো অবৈধভাবেই সিএসডি থেকে বের হয়েছে। সরকারি চাল বের করার নেপথ্যে : হালিশহর সিএসডি একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব সিএসডি পরিদর্শন করেন। এ সময় গুদামে সংরিক্ষত চালের হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণে বেশ গরমিল বা ঘাপলা দেখতে পান। ক্ষুব্ধ ঐ কর্মকর্তা গুদামের ম্যানেজার প্রণয়ন চাকমা ও সহকারী ম্যানেজার ফখরুল আলম মানিককে শাসান। চট্টগ্রাম ত্যাগের আগে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যা খুশি করেন, যা ইচ্ছে হয় করেন, আমি চলে গেলাম।’ এরপর সিএসডির ম্যানেজার প্রণয়ন চাকমা ও সহকারী ম্যানেজার ফখরুল আলম মানিকসহ আরও কয়েক কর্মকর্তা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে ঠিক করেন সিএসডি গুদামে হিসাবের অতিরিক্ত থাকা কয়েকশ’ টন চাল সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে সামনে আরও বিপদ। সে অনুযায়ী সহকারী ম্যানেজার মানিক ও কয়েক ঠিকাদার মিলে ট্রাকগুলো ভাড়া করা হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার মধ্যরাতে গুদাম থেকে হিসাবের অতিরিক্ত চাল পাচার বের করে দেন। এর আগেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। সাধারণত বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তারা কৌশলে গুদামে চাল কম দেখিয়ে পরে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেন। র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আশিকুর রহমান যুগান্তরকে জানান, এসব চাল কীভাবে সরকারি গুদাম থেকে বের হয়েছে তার সপক্ষে দালিলিক প্রমাণ নিয়ে পতেঙ্গা র‌্যাব অফিসে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। কিন্তু ঘটনাস্থলে ট্রাক চালকরা যেমন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তেমনি মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈধ কোনো কাগজপত্র নিয়ে আসতে পারেননি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারাও। এ ঘটনার নেপথ্যে যদি আর কেউ থেকে থাকেন তাহলে তদন্তে তা বের হয়ে আসবে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে জানার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলামকে ফোন করলে যুগান্তরের রিপোর্টার পরিচয় দেয়ার পর তিনি লাইন কেটে দেন। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।