Thursday, May 20, 2010

টেস্ট অধিনায়ক বাট

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে সালমান বাটকে ভাবছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম সরাসরিই বলে দিয়েছেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটার ইউসুফ, ইউনুস, মালিকের অনুপস্থিতিতে সালমানই টেস্ট অধিনায়কত্বের জন্য সঠিক লোক।’ কোচ ওয়াকার ইউনুসেরও নাকি প্রথম পছন্দ বাট।’

৫০ বছরে আসামের ভাষা আন্দোলন by অমর সাহা

আসামের কাছাড় জেলা শহরের গান্ধীবাগে রয়েছে আসামের বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ স্মৃতিসৌধ। কলকাতা থেকে কাছাড়ে গিয়েছিলাম এই শহীদ স্মৃতিসৌধ দেখার জন্য। গান্ধীবাগ সেদিন ছিল বন্ধ। সাধারণত বিকেলে দর্শনার্থীদের জন্য খোলা হয় এই গান্ধীবাগ। কিন্তু বিকেলে শিলচর থেকে বিদায় নিয়ে কলকাতায় ফিরতে হবে, এ কারণেই সকালের দিকে শহীদ স্মৃতিসৌধ দেখার উদ্যোগ নিই। শিলচরের আনন্দবাজার পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি উত্তম সাহা সকালেই শিলচর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুস্মিতা দেবকে ফোন করে আমাদের শহীদ স্মৃতিসৌধ দেখানোর ব্যবস্থা করেন। আমরা বেলা ১১টার দিকে সোজা চলে যাই গান্ধীবাগে। সুদৃশ্য শিশুপার্ক। এই পার্কের পেছনের দিকে রয়েছে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নির্মিত শহীদ স্মৃতিসৌধ। আমরা ঢুকলাম। শহীদ স্মৃতিসৌধের ভেতরে। এই শহীদ মিনার গড়া হয়েছে একটি মন্দিরের আদলে। ভেতরে মেঝের ওপর ১১টি কৌটায় রাখা হয়েছে ১১ শহীদের চিতাভস্ম। মাঝে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে একটি বড় পদ্মফুল। আমরা ওই চিতাভস্মের সামনে মোম জ্বালালাম। ছড়িয়ে দিলাম ফুল। শ্রদ্ধা জানালাম শহীদদের প্রতি অবনত মস্তকে।
বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেই পথ ধরে আসামের এই বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকার শিলচরে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন হয়েছিল নয় বছর পর ১৯৬১ সালের ১৯ মে। আসামের রাজ্য ভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি দানের দাবিতে। সেই ভাষা আন্দোলনে আসামে শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন। আজ সেই ভাষা আন্দোলন ৫০ বছরে পা দিচ্ছে। সেদিনের সেই ভাষা আন্দোলনের ফসল তুলে নিয়েছে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা। আসামের দ্বিতীয় রাজ্যভাষা হয়েছে বাংলা। আর বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা হয়েছে বাংলা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা রাজ্য আসাম। আসামকে ভাগ করা হয়েছে দুটি উপত্যকায়। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ও বরাক উপত্যকা। বরাক উপত্যকায় রয়েছে তিনটি জেলা কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি। কাছাড় জেলার জেলা সদর শিলচর। এখানের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই বাঙালি বা বাংলায় কথা বলেন।
১৯৫১ সালে আদমশুমারিতে দেখা গেছে, বরাকে বাঙালিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। আসাম রাজ্যের একটি অংশে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এটাই মেনে নিতে পারছিল না সেদিন অসমিয়া নেতারা। ফলে ভারত বিভাগের পর বাঙালিদের সঙ্গে অসমিয়াদের একটা ঠান্ডাযুদ্ধ লেগেই ছিল। আর এর জেরে সংখ্যালঘু অসমিয়ারা বাঙালিদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার চালিয়ে আসত সরকারি মদদে। কারণ রাজ্য সরকারকে তখন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে আসছে অসমিয়ারাই। শুধু তা-ই নয়, যেসব খাস জমি বাঙালিরা যুগ যুগ ধরে আবাদ করে উর্বর করে তুলেছে, সেই সব জমিও সরকার বাঙালিদের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নিয়ে দিয়ে দেয় অসমিয়া, খাসি ও গারোদের। ফলে এই নিয়ে বাঙালি-অসমিয়া বিরোধ শুরু হয়। বাঙালিদের মধ্যে বাড়তে থাকে ক্ষোভ ।
১৯৬০ সালের ২৮ অক্টোবর। আসাম বিধানসভায় পাস হওয়া আইনে বলা হয়, আসামের সরকারি ভাষা হবে অসমিয়া। বাঙালিসহ সবাইকে পড়তে হবে অসমিয়া ভাষায়। এই ঘোষণাকে সেদিন মেনে নিতে পারেননি বরাকের বাঙালিরা। তারা গর্জে ওঠে এর প্রতিবাদে। বেরিয়ে পড়েন রাজপথে। ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা আন্দোলনের জন্য গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সভাপতি হন আবদুর রহমান চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক হন পরিতোষ পাল চৌধুরী। এই সংগ্রাম পরিষদকে ঘিরে বরাক উপত্যকার হিন্দু-মুসলমান এক হয়ে যায় ভাষার প্রশ্নে। শুরু করে আন্দোলন। দাবি ওঠে, ‘জান দেব তবু ভাষা দেব না। চাই বাংলা ভাষার স্বীকৃতি, রাজ্যস্তরে সরকারি ভাষা হিসেবে।’
শুরু হয় বরাকজুড়ে বাংলা ভাষার আন্দোলন। তখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের বিমলা প্রসাদ চালিহা। ইনিই আবার নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে পরাজিত হয়ে শিলচরে এসে সেই বাঙালিদের আশার বাণী শুনিয়ে তাদের ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী চালিহাই ঘোষণা দেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষার মাধ্যম হবে অসমিয়া। এই ঘোষণার পর তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাঙালিদের মাঝে। শুরু হয় বরাক উপত্যকাজুড়ে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন। এই আন্দোলন দ্রুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ও কাছাড়ে। এরই মধ্যে শাসক দল কংগ্রেস থেকে ফতোয়া দেওয়া হয়, কোনো কংগ্রেস কর্মী ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। স্কুল-কলেজে সরকারি নির্দেশ পৌঁছে গেল, কেউ যদি ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হয় তবে তাদের পেতে হবে শাস্তি।
এরপর ঘটল সেই ঐতিহাসিক ঘটনা।
১৯৬১ সালের ১৯ মে। সব বাধা ভেঙে আসামে শুরু হলো বাংলা ভাষার দাবিতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন। সেদিন আন্দোলনে শরিক হতে শিলচর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছে। চলছে অবস্থান ধর্মঘট। মানুষের মুখে মুখে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে নানা স্লোগান। বিকেল চারটার মধ্যে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিকেল দুইটা ৩৫ মিনিটে বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো শিলচর স্টেশনে। ভারতের আধাসামরিক বাহিনী অতর্কিতে গুলি শুরু করে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর। এতে এখানে শহীদ হন আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১১ তরুণ-তরুণী।
শহীদ হলেন কমলা ভট্টাচার্য, কুমুদ দাস, শচীন পাল, সুনীল সরকার, কানাইলাল নিয়োগী, সুকমল পুরকায়স্থ, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, তরুণী দেবনাথ, বীরেন্দ্র সূত্রধর, হীতেশ বিশ্বাস এবং সত্যেন্দ্র দেব। সবারই বয়স ছিল ২৫-এর মধ্যে। কমলা ভট্টাচার্য এবং শচীন পালের বয়স ১৮ পার হয়নি। শহীদ হওয়ার আগের দিন এ দুজন স্কুলে দিয়েছিলেন জীবনের শেষ পরীক্ষা।
এই ঘটনার খবর ২০ মে ভারতের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশ হলে দেশজুড়ে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। দাবি ওঠে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। ৪০ হাজার মানুষের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয় শিলচরে। তার পরই ১১ শহীদের শেষকৃত্য হয় শিলচর শ্মশানে। আজও সেই শ্মশানে এই ১১ শহীদের ১১টি স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভের সামনে নামফলক রয়েছে শহীদদের। শুধু তা-ই নয়, শিলচর স্টেশনের সামনে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল এই ১১ তরুণ-তরুণীকে, সেখানেও তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। ১১ শহীদের নামে ১১টি স্তম্ভ।

সর্প হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে ঝাড়ে -সপ্তাহের হালচাল by আব্দুল কাইয়ুম

বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ঘাড় থেকে এক-এগারোর ‘ভূত’ ছাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়দায়িত্ব্ব আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। ওই সরকারের ভূত আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যেও আছে। এদের তাড়াতে হবে।’ সেটা গত ১২ মের ঘটনা। এর পরদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে এক-এগারোর সব দায়দায়িত্ব বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে বলেন, ‘২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা ঘোষণার পেছনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অপশাসন ও ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রই দায়ী।’
ভূত ছাড়ানোর জন্য জানা দরকার সেই ভূত এল কীভাবে? কে আনল? এসব সম্পর্কে পরিষ্কার না হয়ে ভূত ছাড়াতে গেলে হয়তো ভূতের নামে অন্য কিছু ছাড়ানো হবে, ভূতের জায়গায় ভূত থেকেই যাবে। ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৭ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাসের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মনে করলে এখনো শিউরে উঠতে হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দুই জোটের মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ওই অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকত না। সবাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছিল, যেন ভয়াবহ পরিস্থিতির অবসান হয়। ফলে জরুরি অবস্থা জারি অবধারিত হয়ে ওঠে।
বিধির বিধান এমনই যে সেই সময় যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা জারি করেন, সেই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারেরই নির্বাচিত এবং দলের একান্ত অনুগত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। যে সেনা সমর্থনে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল বলে সাধারণভাবে স্বীকৃত, সেই জেনারেলদের সবাই পদোন্নতি ও নিয়োগ লাভ করেছিলেন বিএনপি সরকারের আমলে এবং সরকারের আস্থাভাজন না হলে তাঁদের ওই সব গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তাদের সমর্থনপুষ্ট রাষ্ট্রপতি, তাদের আস্থাভাজন সেনানেতৃত্ব, প্রশাসনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে তাদের দলের আস্থাভাজন লোকজন। তাঁরাই জরুরি আইন জারি করলেন এবং সেই আইন জোরেশোরে প্রয়োগ করতে শুরু করলেন। তাহলে আওয়ামী লীগকে কেন দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে? এক-এগারোর উদ্যোক্তারা কি আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন? তেমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ কি বিএনপির কাছে আছে?
তবে এটাও ঠিক যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বিভিন্ন সময় বলেছেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের আন্দোলনের ফসল। তাদের আন্দোলনের ফলে জরুরি আইন জারি ও পুনর্গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাবের শর্ত সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি কেন তা করতে গেলেন? বিএনপির নেতাদের ভেবে দেখা উচিত, তাঁদের বিশ্বস্ত ব্যক্তিরাই কেন বেঁকে বসেছিলেন? তাঁরা কেন এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হলেন, যা দলের সর্বনাশ ডেকে এনেছে বলে বিএনপির নেতারা মনে করেন?
এখন বিএনপির নেতারা ভূত তাড়ানোর কথা বলছেন, কিন্তু তাঁদের শাসনকালে কেন ভাবলেন না যে ভূত চেপে বসতে পারে? বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান তাঁর কিছু কথা কিছু স্মৃতি বইতে লিখেছেন, ‘বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার বিচারপতিদের চাকুরির বয়স দুবছর বাড়ানোর উদ্যোগ নিলো। এটা ছিল সংবিধানের বরখেলাপ। আমি এর প্রবল বিরোধিতা করলাম। ... এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আমরা এমন একজন বিচারপতিকে উপদেষ্টা করতে চাই যিনি আমাদের পক্ষে কাজ করবেন। সমস্যার শুরু হলো সেখান থেকেই।’ (হাক্কানী পাবলিশার্স, ফেব্রুয়ারি ২০০৯, পৃষ্ঠা ২৭৯-২৮০)। কথাটা এক অর্থে সত্য। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। আন্দোলন শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, বিএনপি তাদের দলের সমর্থক একজনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আনার অসৎ উদ্দেশ্যেই বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়েছে। অথচ তখন অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর কোনো বিষয় আলোচনায় ছিল না। হঠাৎ করে কেন সেটা করা হলো?
তবে শুধু বয়সসীমাই একমাত্র ব্যাপার ছিল না। সন্ত্রাস, দলীয়করণ, লাগামহীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার চরমে উঠেছিল। বিএনপির নেতা-মন্ত্রীদের ভাগ না দিলে কোনো ব্যবসা করা যায় না—এমন অভিযোগ লোকের মুখে মুখে ফিরত। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যদি ওই সব অপকর্মে লিপ্ত না হতো, তাহলে হয়তো দেশকে দুই বছরের জরুরি আইন, বিএনপির ভাষায় এক-এগারোর ভূতের বোঝা বহন করতে হতো না। ভূত তাড়ানোর আগে বিএনপির নিজেদের অনুসন্ধান করে দেখা দরকার, কাদের প্ররোচনায় এবং কোন নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিস্থিতির এ রকম অবনতি ঘটেছিল। ভূতের কিছু আস্তানা বোধ হয় ওখানেই আছে।
বিগত সরকারের পরিকল্পিত ব্যক্তি যেন প্রধান উপদেষ্টা না হতে পারেন, সে জন্য ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি সরকারের মেয়াদপূর্তির সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট সহিংস আন্দোলন শুরু করে। বেশ কয়েকজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠতে থাকে। পরিস্থিতি আগে থেকেই তপ্ত ছিল। আওয়ামী লীগ সংসদ বর্জন, হরতালের পর হরতাল, অবরোধ করে চলছিল।
এটা কিন্তু নতুন নয়। এ রকম রাজনৈতিক অস্থিরতা আগেও অনেকবার হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দিনের পর দিন হরতাল হয়েছে। জনতার মঞ্চ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সব দল বর্জন করা সত্ত্বেও বিএনপি একাই ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে। আবার মাত্র দেড় মাসের মাথায় সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু করে সেই সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে। নতুন নির্বাচনে সব দল অংশ নিয়েছে। এত গোলযোগ সত্ত্বেও কিন্তু তখন জরুরি আইনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। যে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল, সেটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেই নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু ২০০৬ সালের শেষ দিকে এসে পরিস্থিতি আওতার বাইরে চলে গিয়েছিল। কারণ নির্বাচন কমিশন ছিল বিতর্কিত। তারা অসৎ পথে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ ভুয়া ভোটার তালিকাভুক্ত করেছিল। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেগুলো চিহ্নিত ও বাতিল হয়। এমনকি উচ্চ আদালতকেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের ক্ষমতায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য এই সব নগ্ন পদক্ষেপের আশ্রয় নিয়েছিল বলেই মূলত দেশে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
বিএনপি সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম এ আজিজের সময় ভোটার তালিকা প্রণয়ন নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়। ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল হক ভূঁইয়াকে দিয়ে ভুয়া ভোটার তৈরির চেষ্টা করলে তিনি আপত্তি জানান। তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। দলীয় ক্যাডাররা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। পুলিশ গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। তাঁর চাকরিটাই চলে যায়। কিন্তু তিনি অনমনীয় থাকেন। এসব ঘটনা সবিস্তারে পত্রপত্রিকা ও রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এভাবে ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরির অপচেষ্টা ফাঁস হয়ে যায়। নির্বাচন যে প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে তাতে কারও কোনো সন্দেহ থাকে না।
রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ প্রধান উপদেষ্টা হয়ে বসার পরও আওয়ামী লীগ প্রথমে নির্বাচনে রাজি ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। সে সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন উপদেষ্টার সঙ্গে পরে আলোচনা হলে তিনি বেশ কৌতুকপ্রদ কিছু কাহিনি আমাকে বলেন। বঙ্গভবনে উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রশ্ন উঠত, তখন নাকি হঠাৎ করে প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণের জন্য চলে যেতেন পাশের ঘরে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টা বলতেন যে সিঙ্গাপুরের ডাক্তাররা নাকি তাঁকে কিছুক্ষণ পরপর ওষুধ খেতে বলেছেন। ওই উপদেষ্টা তখন প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, বারবার এত ওষুধ খেলে রক্তে চিনির মাত্রা কমে গিয়ে বিপদ হতে পারে! কিন্তু তিনি কি সত্যিই ওষুধ খেতে যেতেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ওই উপদেষ্টা হাসতে হাসতে বলেন, হয়তো তিনি তাঁদের নেতার সঙ্গে টেলিফোনে পরামর্শের জন্য যেতেন! ওই সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ শেষ মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা বলতেন, ‘চিন্তা করে দেখি, কাল বলব।’ এরপর আর ওই বিষয়ে তিনি কিছু বলতেন না। শেষ পর্যন্ত এ ধরনের নানা অনিয়ম ও কাজ করার অনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণে ওই উপদেষ্টাসহ চারজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করেন।
এভাবে পরিস্থিতি উত্তরোত্তর খারাপের দিকে যায়। উন্নয়ন-সহযোগী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়েন। শোনা যায়, জাতিসংঘ থেকেও আপত্তি আসে। এক নির্বাচন নিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের একঘরে হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিগত জোট সরকারের আমলে অকল্পনীয় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, সমান্তরাল সরকার প্রভৃতি নানা ঘটনা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কম হয়নি, হয়তো মাত্রার হেরফের ছিল। কিন্তু ২০০১ সালে মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের শর্তগুলো নিশ্চিত করা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগেও কোনো প্রশ্ন ওঠেনি বা প্রশ্ন ওঠার সুযোগ ছিল না। ভোটার তালিকায় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু ২০০৬ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষে এসব প্রশ্নে বিতর্ক দেখা দেয়। এবং প্রশ্ন ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল ওই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কতগুলো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ রুদ্ধ হলে গণতন্ত্রের আর কী থাকে? আর ভোটার তালিকাই যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কীভাবে সম্ভব? ২০০৭ সালে এই প্রশ্ন দুটি প্রধান হয়ে ওঠে বলেই দেশে-বিদেশে সব মহল বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি এক-এগারোর পরিবর্তন অবধারিত করে তোলে। এর জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তাহলে বলতে হয়, রাজনীতিতে বিদ্যমান অসহিষ্ণুতা, পাল্টাপাল্টি মনোভাব, সহিংসতা ও সীমাহীন দুর্নীতির জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার প্রভৃতিই দায়ী। এগুলোই আমাদের রাজনীতির আসল ভূত। এই ভূতগুলো তাড়ানোই আসল কথা। তাহলে আর দেশে কখনো জরুরি আইন জারির দরকার পড়বে না। দুই প্রধান দলের মূল নেতাদের মধ্যে যত দ্রুত এই উপলব্ধি ঘটবে, দেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র তত বেশি সংহত হবে।
এক-এগারোর পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। আর এখন সেই জোটেরই নেতা বলছেন এক-এগারোর ভূত ছাড়াতে হবে! যারা ‘সর্প হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে ঝাড়ে’ তাদের বিভ্রান্তিকর রাজনীতি পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে।
আব্দুল কাইয়ুম : সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

সততা ও শুদ্ধতায় পরিবর্তন -ভূমি প্রশাসনে সুশাসন by মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী

ভূমি মানুষের জীবন-জীবিকার কেন্দ্রবিন্দু, মানুষের স্বপ্ন দেখার সম্বল। ভূমির সঙ্গে জড়িয়ে আছে উৎপাদন, জীবিকা ও উন্নয়ন। একখণ্ড ভূমিতে মানুষের কত রক্ত, শ্রম ও ঘাম জড়িয়ে আছে। মানুষের প্রাণের চেয়েও প্রিয় ভূমি। এ প্রিয় অবলম্বনটুকু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ভূমি প্রশাসনের। আমাদের দেশের ভূমি প্রশাসন অনেক পুরোনো। ভূমি অফিসের সঙ্গে জনগণের যোগ অত্যন্ত নিবিড়। ভূমি অফিসে কৃষক, শ্রমিক, জেলে, মাঝি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ধনী, নির্ধন সবাইকে আসতে হয়। ভূমি অফিসগুলোর রয়েছে জনগণকে সেবা দেওয়ার গৌরবময় ঐতিহ্য। পাশাপাশি রয়েছে হয়রানি, ভোগান্তি ও স্বপ্ন ভাঙার করুণ ইতিহাস।
ভূমি নিয়ে মানুষের দুঃখ-দুরবস্থার অন্ত নেই। নামজারির জন্য কত মাস অপেক্ষা করতে হবে, তার সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারে না। ভূমি নিয়েই যত দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা। সবার আগে মানুষ খোঁজ নেয় তার ভূমি মালিকানা ঠিক আছে তো? শুধু রাজস্ব আদায়ই ভূমি প্রশাসনের একমাত্র কাজ নয়। তার চেয়েও বড় কাজ হলো, ভূমি মালিকানা পরিবর্তন, রেকর্ড সংশোধন ও হালনাগাদকরণ, ভূমির সদ্ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ, ভূমির ইজারা প্রদান, নামজারি কার্যক্রম সম্পাদন, খাসজমি ব্যবস্থাপনা, ভূমিহীন বাছাই, রেকর্ড রেজিস্টার সংরক্ষণ, অর্পিত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, সরকারি জমিসংশ্লিষ্ট দেওয়ানি মামলার দলিলাদি প্রস্তুত, সার্টিফিকেট মামলা পরিচালনা, খাসজমির অবৈধ দখল রোধ, হাটবাজার, জলমহাল ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা, আদর্শ গ্রাম, আবাসন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প বাস্তবায়ন, ভূমি জরিপে সরকারি স্বার্থ রক্ষা, ভূমি অফিসের পুকুর, গাছপালা ও সম্পদ সংরক্ষণ ইত্যাদি।
দেশের ভূমি অফিসগুলো গ্রামীণ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। জনগণের সুখ, দুঃখ এবং অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো। ভূমি অফিসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেলে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আর না পেলে অভিশাপ দিয়ে যায়। দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত ভূমি অফিসগুলো কোনোটি মাটির ঘর, কোনোটি টিনের ঘর কিংবা সেমি পাকা ঘর। এসব অফিসে নেই কোনো জৌলুশ। কিন্তু অফিসগুলো শ্যামল ছায়ায় ঘেরা। ভূমি প্রশাসনে রয়েছে সুশাসনের সংকট। নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বলয় ঘিরে আছে ভূমি অফিসে। ভূমি নিয়ে মানুষের ভোগান্তির ক্ষেত্রগুলো হলো: রেকর্ডিং-ব্যবস্থায় জটিলতা, নামজারিতে দীর্ঘসূত্রতা, খাসজমি বন্দোবস্তে অস্বচ্ছতা, অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় অবহেলা, ভূমি রাজস্ব আদায়ে হয়রানি, জাল দলিল সৃষ্টি করে নামজারি, খতিয়ানে বেআইনি সংশোধনী ইত্যাদি। এ ছাড়া খতিয়ান ও ভলিউমের পাতা বিনষ্টকরণ, আদালতে সরকার পক্ষে দুর্বল তথ্য উপস্থাপন, বেআইনিভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, অকৃষি জমিকে কৃষিজমি দেখিয়ে কর প্রদান, ত্রুটিপূর্ণ রেজিস্ট্রেশন, সরেজমিনে তদন্ত ছাড়াই প্রতিবেদন, নামজারির পর রেকর্ড সংশোধন না করা এবং জনবল ও লজিস্টিকসের অভাব ভূমি প্রশাসনের নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। এসব সমস্যা ও সংকটের খবর মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রকাশ ও প্রচার হয়।
ভূমি প্রশাসনসংক্রান্ত সরকারি নীতি ও নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদের কর্মকর্তারা। তাঁদের চেতনায় সততা না থাকলে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভূমির মালিকদের দুঃখ, কষ্ট ও চাহিদা কর্মকর্তাদের উপলব্ধি করার মানসিকতা থাকতে হবে এবং ভূমির মালিকদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। ভূমি প্রশাসনে দুর্নীতি নির্মূলে যে দুর্লঙ্ঘ্য বাধা, তা ভেঙে দিতে হবে। জনগণের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে উদাসীন থাকা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো অপরাধ। ভূমি অফিস নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার জমাট অন্ধকারে ঢাকা। ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃঢ় পায়ে এগিয়ে এসে এ অন্ধকারেই জ্বালাতে হবে সেবার প্রদীপ শিখা। সেবার স্পর্শে মুছে দিতে হবে ভোগান্তির যন্ত্রণা।
জনগণের প্রতি বৈরী মনোভাব সুশাসনের অন্তরায়। অনেক সংকট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভূমি অফিসে আসতে হয় জনগণকে আস্থা ও আশা নিয়ে। ভূমি অফিসে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করলেই ভূমি নিয়ে মানুষের কান্না ও দুঃখ বোঝা সহজ হবে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বৃত্তে বন্দী ভূমি মালিকদের উদ্ধার করে মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধৈর্য ও পরিচর্যায় গড়ে তুলতে হবে সেবামুখী ভূমি প্রশাসন। জনগণের সঙ্গে দেয়াল রাখা যাবে না। মানুষের প্রবেশ অবাধ ও অবারিত করে দিতে হবে। এখন উপনিবেশ নেই। জমিদারি নেই। দুর্নীতি ও হয়রানির ঘটনা সরাসরি শ্রবণ করতে হবে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।
ভূমি প্রশাসনকে দুর্নীতির জাল থেকে বের করে আনতে হবে। কর্মকর্তা হিসেবে সবার আগে নিজের চেতনা ও কাজকে শুদ্ধ করতে হবে। ভূমি অফিস হোক ভূমি মালিকানা রক্ষার নিরাপদ আশ্রয়। একবার দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হলে তার সঙ্গে সবার অভিযোজন হয়ে যাবে। ন্যায়ের দণ্ড হাতে নিয়ে ভূমি প্রশাসনের ওপর থেকে চিরদিনের জন্য মুছে ফেলতে হবে দুর্নীতির চিহ্ন। ভূমি নিয়ে যারা দুঃখ ও দুর্ভোগে পড়েছে, তাদের দিকে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। মানুষের মনে এই প্রেরণা ও প্রত্যাশা জন্মাতে হবে যে দেশের ভূমি প্রশাসনে ফিরে আসবে সুশাসন, পূরণ হবে জনগণের প্রত্যাশা এবং নিশ্চিত হবে সেবামুখী পরিবেশ। ভূমি প্রশাসনে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য হোক জনসেবা। রূপকল্প হোক ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী: এডিসি (রাজস্ব), বগুড়া।

কারাগার থেকে চাঁদাবাজি -দায়ী কারা কর্মকর্তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে



সব সম্ভবের বাংলাদেশে কিছুই যে অসম্ভব নয়, কারাগারে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বাইরের দুনিয়ায় যা করা সম্ভব, কারাগারে তা সম্ভব নয়। সেখানে অবস্থানরত সব (দণ্ডিত বা বিচারাধীন) বন্দীকে কারা আইন মেনে চলতে হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বন্দী বাইরের কারও সঙ্গে দেখা বা যোগাযোগ করতে পারেন না। কিন্তু কারাগারগুলোতে যে পরিবেশ বিরাজ করছে, তা নৈরাজ্যজনক। সেখানে কেউ আইনকানুন মানছেন না। বাইরে থেকে অবাধে কারাগারে মাদকদ্রব্য চালান হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কারাবন্দীরা ইচ্ছামতো মুঠোফোনে কথা বলছেন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-সহযোগীদের সঙ্গে, বিশেষ করে মুঠোফোনের মাধ্যমে কারাবন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী এক মাসে তিন হাজার মিনিট কথা বলেছেন। কারাগারে বসেই তিনি সহযোগীদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছেন। গোয়েন্দা সূত্রে বিষয়টি ধরা পড়লেও কারা কর্তৃপক্ষ এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কীভাবে নেবে, যেখানে শর্ষের ভেতরেই ভূত রয়েছে। এসব মুঠোফোন বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে এক শ্রেণীর কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায়। অনেক সময় আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময়ও বন্দীরা খবর আদান-প্রদান করে থাকেন।
এসব দেখার দায়িত্ব কারা কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। কারাগার থেকে মুঠোফোনে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো বা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করা এখন কোনো কঠিন কাজ নয়। ফলে এটা স্পষ্ট যে কারা কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো অংশের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এর সঙ্গে লেনদেনের সম্পর্কটিও পরিষ্কার। এ অবস্থায় আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে বন্দীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় কোনো আইন বা প্রযুক্তি কাজে আসবে না।
একজন অপরাধীকে কারাগারে আটক রাখা হয়, যাতে তিনি আর অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন। সেটি যদি বন্ধই করা না যায়, তাহলে তাঁকে কারাগারে রাখার কি যুক্তি আছে? আশা করি কারাগারে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসীর কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে এবং কারাগারে মুঠোফোনের ব্যবহারসহ সব অপরাধ তৎপরতা বন্ধে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বাজেট অর্থবহ করতে হবে -জ্বালানি ও মানবসম্পদে মনোযোগ জরুরি

সুযোগ সব সময় আসে না, বিশেষ করে প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে। কিন্তু সুযোগ আসার পরও নিজেদের অপ্রস্তুতির জন্য তা হারাতে হলে মাশুল গুনতে হয় অনেক বেশি। বাংলাদেশের সামনে এখন সে রকমই একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এটা হয়েছে মূলত চীন থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশমুখী হওয়ার যে কথা ভাবছেন, সেটার কারণে। দেশের বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা এটাকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখতে চান। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অবকাঠামোজনিত অপ্রতুলতায়, যার মূলে আছে বিদ্যুতের ঘাটতি। পাশাপাশি রয়েছে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদের অভাব। বছরের পর বছর এই দুই খাতের উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে অনেকটাই অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এই বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই দুই খাতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। চলতি সপ্তাহেই প্রথম আলো আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায়ও বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা এ রকম অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট করেই বলেছেন, বাজেটের মাধ্যমে শুধু এই দুই খাতে যথাযথ বরাদ্দ দিলেই চলবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অবশ্যই সুপরিকল্পিতভাবে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত হতে হবে বাজেটীয় ব্যয়। এটা খুব তাৎপর্যবহ। বরাদ্দ দেওয়ার আগে যদি ঠিকভাবে পরিকল্পনা করা না হয়, তাহলে সেই বরাদ্দও অপব্যয় হতে বাধ্য। এবং পরিকল্পনাটি হতে হবে সুদূরপ্রসারী। আগামী বাজেট যেহেতু ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছরে বাস্তবায়ন করা হবে, সেহেতু একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বরাদ্দ প্রদান ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
বস্তুত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিময়তা আসবে না। আর সেই বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন জ্বালানি-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সমর্থন। সরকারকে এদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। বর্তমানে বিদ্যুতের সংকট যে অবস্থায় উপনীত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু চটজলদি বা তাৎক্ষণিকভাবে সংকট মোচন সম্ভব নয়, সেহেতু তড়িঘড়ি করে সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়। কারণ, সংকটের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা মহল সুবিধা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মানবসম্পদের দিকে নজর বাড়ানো আরেকটি জরুরি কাজ হয়ে উঠেছে। প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তি ও জনবল গড়ে তোলা না গেলে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তির জোগান মিলবে না, অন্যদিকে বাড়বে বেকারত্ব। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি জোরদার করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতেরও উচিত সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করা। গতানুগতিকভাবে দাবিদাওয়া পেশ করার চেয়ে তা অনেক বেশি অর্থবহ হবে। আর সরকারের কাজ হবে বেসরকারি খাতের সঙ্গে মিলে এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটানো। আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন থাকাটাই কাম্য।

অ্যারিজোনার কঠোর অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের অভিবাসনবিরোধী নতুন আইনের বিরুদ্ধে গত সোমবার মামলা করেছে দেশটির নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। তারা বলেছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।
অ্যারিজেনার রাজধানী ফিনিক্সের ফেডারেল কোর্টে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও আরও কয়েকটি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী মামলাটি দায়ের করে।

জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে ‘মূত্র ব্যাংক’!

নেপালে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে কৃষকেরা দেশটিতে প্রথমবারের মতো ‘মানবমূত্র ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেছে। নেপাল নিউজ অনলাইন এ খবর জানায়।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সিদ্ধিপুর গ্রামে গত সোমবার এই মূত্র ব্যাংকের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গ্রামের কৃষকেরা জানান, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে তাঁদের জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ফসল উৎপাদনও অনেক কমেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মূত্র ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
কৃষকেরা দাবি করেন, জমিতে মূত্র ব্যবহার করে উৎপাদিত খাদ্যশস্য স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক এবং কৃষকের জন্য লাভজনক। প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা রোসান রাজ শ্রেষ্ঠা মূত্র ব্যাংকের উদ্বোধন করে বলেন, এই ব্যাংক কৃষি খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মূত্র সরবরাহ করতে সহায়তা করবে।
এই ব্যাংক থেকে কৃষকেরা এক রুপির বিনিময়ে এক লিটার মূত্র কিনতে পারবেন।

‘রানির মৃত্যু’ ঘোষণা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিবিসি

রসিকতা করে ‘রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন’ ঘোষণা দেওয়ায় ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) গতকাল মঙ্গলবার দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বার্মিংহাম ও পার্শ্ববর্তী ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের স্থানীয় রেডিও চ্যানেল বিবিসি ডব্লিউএমে গত সোমবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ‘রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন’। উপস্থাপক ড্যানি কেলি (৩৯) শ্রোতাদের উদ্দেশে এ ঘোষণা দেন।
বিবিসির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, উপস্থাপক কেলি তাঁর শো চলাকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্পর্কে ভুল মন্তব্য করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ মন্তব্যের সংশোধন করা হয়েছে। বিবিসি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।’
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এই মন্তব্যের মাধ্যমে কারও মনে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বিবিসি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’ তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
বিবিসি ডব্লিউএমের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘একজন রসিক মানুষ হিসেবে কেলির সুনাম রয়েছে।’

অ্যারোইয়োর নিযুক্ত বিচারপতির কাছে শপথ নেবেন না অ্যাকুইনো

ফিলিপাইনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল অ্যারোইয়োর নিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নেবেন না সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ‘নয়নয়’ বেনিগনো অ্যাকুইনো। গত সোমবার নবনিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রেনাতো করোনাকে শপথবাক্য পাঠ করান অ্যারোইয়ো।
পিটিআই অনলাইনের খবরে বলা হয়, ১০ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন বেনিগনো অ্যাকুইনো। ভোট গণনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। অবস্থাদৃষ্টে বেনিগনোর প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে তিনি প্রেসিডেন্টের শপথ প্রধান বিচারপতির কাছে নেবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
অ্যাকুইনো বলেন, তিনি তাঁর উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের টারলাকে একজন গ্রাম্য নেতার কাছে শপথ নিতে ইচ্ছুক। ৩ জুন অ্যারোইয়োর মেয়াদ শেষ হবে।
ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো কর্মকর্তা এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাস করার অনুমতি পেলেন ওবামার কেনীয় ফুফু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কেনীয় ফুফু জিতুনি ওনিয়াংগো যুক্তরাষ্ট্রে বাস করার অনুমতি পেয়েছেন। গত সোমবার তাঁর আইনজীবী এ কথা জানান। তিনি সে দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বাস করে আসছিলেন।
জিতুনি ওনিয়াংগোর বাবার পরিবার কেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যা ওবামার জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।
ওনিয়াংগোর আইনজীবী অ্যাটর্নি মার্গারেট ওং জানান, বিচারক লিওনার্দ শাপিরোর কার্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়, ওনিয়াংগো তাঁকে বিতাড়নের বিরুদ্ধে করা মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন। বিচারকের এই নির্দেশের বলে ওনিয়াংগো এখন সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন।
ওং বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ওনিয়াংগো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বাস করার বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামা জয়ী হওয়ার কয়েক দিন আগে সংবাদ মাধ্যমে ওনিয়াংগোর অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বাস করার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। তিনি ওবামার বাবার সৎ বোন।

সিনেটের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রস্তাব সরকারের প্রত্যাখ্যান

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় দেশটির সিনেটের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সরকার। বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল ছেড়ে না গেলে সরকার কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে সিনেটের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে ‘ধংসের চূড়ান্ত সীমা থেকে সরে এসে’ আলোচনায় বসতে থাইল্যান্ডের সরকার ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানের সদস্যদেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে গত পাঁচ দিনেই অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধীদের আলোচনায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয় দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। ৬০ সিনেটরের একটি চিঠি গত সোমবার সরকার ও বিরোধীদের কাছে পাঠানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের নেতা নাতাউত সাইকুয়ার বলেন, ‘আমরা সিনেটের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। স্পিকারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার জন্য আমরা কোনো শর্ত আরোপও করছি না।’
তবে সিনেটের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংযুক্তমন্ত্রী সাতিত ওংনংতায়ে। গতকাল দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল না ছাড়লে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না সরকার। তিনি আরও বলেন, এর আগেও দুটি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাংসুবান বিক্ষোভকারীদের ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করছে। তারা বিক্ষোভকারীদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন করে কাউকে বিক্ষোভকারীদের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। সেখানে খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের আসল লক্ষ্য হলো ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া।’ স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রেখেছে।
গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংককের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নভি পিল্লাই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে দুই পক্ষকেই আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত সোমবার সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় পার হওয়ার পর পরিস্থিতি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দুর্নীতির দায়ে চীনে ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির দায়ে চীনে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৬০ কোটি ইউয়ান। হুয়াং গুয়াং উ নামের ওই ব্যবসায়ী একসময় চীনের সেরা ধনী ছিলেন। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, চীনের গোম ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস হোল্ডিংসের সাবেক চেয়ারম্যান হুয়াং প্রায় ৩০ বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যবসায় নেমে পড়েন। তিনি বর্তমানে শত শত কোটি ডলারের মালিক। অথচ তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন প্রায় শূন্য হাতে । গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার।
২০০৮ সালে চীনে ধনীদের যে তালিকা করা হয় তার শীর্ষে ছিলেন হুয়াং। এর কয়েক মাস পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে বেইজিংয়ে তাঁর বিচার শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর গোম অ্যাপ্লায়েন্স করপোরেশনের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত হুয়াংকে ওই দণ্ড দেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ আইন

বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকার একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করেছে। গত সোমবার ‘ড্যানিয়েল পার্ল ফ্রিডম অব দ্য প্রেস অ্যাক্ট’ নামের ওই আইনের প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাক্ষর করেছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সাংবাদিক প্রয়াত ড্যানিয়েল পার্লের নামে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক এ আইনটি প্রণীত হয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল ২০০২ সালে পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় জঙ্গিদের হাতে নিহত হন। এর পর থেকে মার্কিন সংবাদপত্রসেবীরা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ আইন প্রণয়নের ফলে বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের স্বাধীনতার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পর্যবেক্ষণ করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের বার্ষিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে দেশে দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দমন-নিপীড়নের বিবরণ তুলে ধরবে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে সরকারি মহল সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে কি না, তাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
আইনের প্রস্তাবে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিক ড্যানিয়েলের স্ত্রী মারিয়ান ও আট বছরের ছেলে অ্যাডাম উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, ড্যানিয়েলের মৃত্যুর পর অ্যাডামের জন্ম হয়। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, প্রণীত আইনের ফলে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার অবস্থান নিশ্চিত করবে।

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২০

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী কাবুলে পার্লামেন্টের কাছে ন্যাটো সেনাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ এ হামলা চালানো হয়। তালেবানর জঙ্গিরা এ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
সূত্র জানায়, বোমা বহনকারী কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পার্লামেন্টের কাছে দিনের ব্যস্ত সময়ে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণস্থলের কাছেই রয়েছে বিদেশিদের পরিচালিত একটি হাসপাতাল, সেনাবাহিনীর একটি কেন্দ্র এবং দেশটির পানি ও শক্তিসম্পদ মন্ত্রণালয় ।
আফগান সেনাবাহিনীর প্রধান চিকিৎসক জেনারেল আহমেদ জিয়া ইয়াফতালি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে পাঁচটি মৃতদেহ আনা হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা ২০ এর বেশি এবং এদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।’ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারাই বাশারি জানান, হামলায় কমপক্ষে ২০ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
পাকিস্তানে নিহত ১২
এদিকে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের ডেরা ইসমাইলে গত মঙ্গলবার একটি সাইকেলবোমা বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হয়েছে। তালেবান ও আল-কায়েদার সহযোগী জঙ্গিদের দমনে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
ডেরা ইসমাইল খান হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে ১২টি মৃতদেহ ও আহত ১০ জনকে আনা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের আঁকা ১২টি ছবি নিলামে উঠছে

আগামী মাসে লন্ডনের সদবি’স নিলামঘরে ভারতীয় শিল্পের বার্ষিক নিলামে উঠছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ১২টি ছবি। এত দিন ছবিগুলো ডেভনের ডার্টিংটন হলে ছিল। ডার্টিংটন হল ট্রাস্ট ছবিগুলো বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেড় কোটি পাউন্ডের একটি প্রকল্প চালানোর জন্য ছবিগুলো নিলামে ওঠাচ্ছে ট্রাস্ট।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিওনার্ড এলমহার্স্ট বিশের দশকে ডার্টিংটন হল প্রতিষ্ঠা করেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ছবিগুলো সম্ভবত উপহার হিসেবে এলমহার্স্টকে দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ডার্টিংটনে একাধিকবার গিয়েছিলেন।
ট্রাস্টের প্রধান কর্মকর্তা ভগান লিন্ডসে জানান, ডার্টিংটন হলের শুমাখার কলেজটি আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এ প্রকল্পের জন্যই ছবিগুলো বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
লন্ডনে টেগোর সেন্টারের অমলেন্দু বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথের ছবি বিক্রির খবরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এলমহার্স্টের স্বপ্ন একে একে ভেঙে যাচ্ছে। একসময় ডার্টিংটন হলের রবীন্দ্রনাথের ঘরটি প্রদর্শনশালা হিসেবে সংরক্ষিত ছিল। এক দশক আগে সেই ঘরটিও দখল করে নিয়েছে শুমাখার কলেজ। তিনি বলেন, এখনো একটি ঘরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠি সংরক্ষিত আছে। কবে না সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রজতকান্ত রায় বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি বিক্রির খবর অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রভবনের প্রাধিকারিক নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় গত বছর ডার্টিংটন হলে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, ছবির পাশাপাশি সেখানে রবীন্দ্রনাথের ৩০টি ফাইল রয়েছে। সেসব ফাইলে রবীন্দ্রনাথ ও এলমহার্স্টের চিঠিও রয়েছে। সেসব চিঠি এখনো ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা করলেন প্রেসিডেন্ট জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিককে সাধারণ ক্ষমা করেছেন। লাহোরের উচ্চ আদালত জামিন আবেদন বাতিল করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে রেহাই দিতে প্রেসিডেন্ট তাঁকে ক্ষমা করেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ্ বাবর জানান, জারদারি বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে রেহমান মালিককে ক্ষমা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ঘটনা ক্ষমতাসীন সরকারকে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে ঠেলে দেবে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে একটি দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালত রেহমান মালিককে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সে সময় মালিক দেশের বাইরে ছিলেন। ২০০৭ সালে বিরোধীদের চাপের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্স (এনআরও) নামে একটি আইন পাস করেন। ওই আইনে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দেওয়া যাবতীয় রায় ও দায়ের করা মামলা স্থগিত করে তাঁদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। এনআরও অনুমোদনের পর মালিক দেশে ফেরেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট এনআরও বাতিল করেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রেসিডেন্টসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সচল করার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লাহোরের উচ্চ আদালতে আপিল করলেও গত সোমবার আদালত ওই রায় বহাল রাখেন এবং তাঁর জামিন আবেদন বাতিল করেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জারদারি তাঁর বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে গতকাল মালিককে ক্ষমা করে তাঁকে গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রক্ষা করেন।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করায় জারদারি নতুন বিতর্কে পড়বেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার ক্ষমতা আছে। তাই বলে একজন প্রমাণিত অপরাধীকে ক্ষমা করার নৈতিক অধিকার প্রেসিডেন্টের আছে কি না এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর সংসদে অপরাধীর সদস্যপদ বহাল থাকে কি না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।

ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না: যুক্তরাষ্ট্র

পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটবে না যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার ইরান, ব্রাজিল ও তুরস্ক একটি পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটন এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা এক হাজার ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম তুরস্কে পাঠাবে। তুরস্ক এই ইউরেনিয়াম ‘প্রয়োজনীয় মাত্রায়’ আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তেহরানকে তা ফেরত দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান তার পরমাণু জ্বালানি তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করলেও অবরোধ আরোপের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হচ্ছে না। তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ বন্ধ হবে না, এমনকি এ পদক্ষেপে কোনো ধীরতাও আসবে না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, ‘পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’ তবে তিনি বলেন, ইরান নতুন চুক্তি মেনে চললে ‘কিছুটা অগ্রগতি’ হবে। এর আগে ত্রিপক্ষীয় এ চুক্তির ব্যাপারে তিনি ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন।
গিবস বলেন, ইরান এ চুক্তি মেনে চললেও তাদের পরমাণু কর্মসূচির ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। কেননা তেহরান ঘোষণা করেছে, ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তারা অব্যাহত রাখবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘অনেকেই আছেন যাঁরা ইরানের পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তিকে সফলতা হিসেবে অভিহিত করবেন। কিন্তু এ চুক্তির মাধ্যমে নতুন কিছু ঘটেছে কি না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো চুক্তিটির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করছেন। তাঁরা এ নিয়ে শিগগরিই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করেছেন। এমনকি তুরস্ক ও ব্রাজিলের সঙ্গেও তারা আলোচনা করার চিন্তাভাবনা করছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ফের অবরোধ আরোপের ‘কোনো কারণই’ দেখছে না আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। এ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা (তুরস্ক ও ব্রাজিল) আশ্বস্ত করছি, ইরানের স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম এখন থেকে তুরস্কেই থাকবে।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো অ্যামোরিম বলেন, চুক্তির ফলে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তির মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার বিজয় হয়েছে। এর ফলে প্রমাণিত হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের মধ্যে সফল আলোচনার পর সোমবার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তেহরানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ চুক্তিতে সই করেন।

মিথ্যা বলায় পুরুষ এগিয়ে

মিথ্যা ছাড়া নিপাট সাধু সেজে এই সমাজে বাস করা কঠিন। বাস্তবজীবনে এমন পরিস্থিতি আসে, যখন মিথ্যার আশ্রয় ছাড়া রক্ষা পাওয়া কঠিন। তখন বাধ্য হয়ে মানুষ মিথ্যা কথা বলে। তবে মিথ্যা বলায় নারীর চেয়ে পুরুষের পাল্লা ভারি। একজন পুরুষ প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে মিথ্যা বলে। একজন নারী বলে দুটি করে মিথ্যা। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের ফলে এমনটাই দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্যের বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়ানপোল তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে এই জরিপ চালায়। জরিপের ফলাফল গত সোমবার দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, একজন পুরুষ বছরে গড়ে এক হাজার ৯২ বার মিথ্যা বলে থাকে। নারী বছরে গড়ে মিথ্যা বলে ৭২৮ বার। দেখা গেছে, একজন সাধারণ নারী মিথ্যা বলায় যে অপরাধবোধে ভোগে, সে তুলনায় পুরুষের অপরাধবোধ কম।
লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরের সহযোগী মেডিকেল কিউরেটর কেটি ম্যাগস বলেন, মানুষের স্বভাব অনুযায়ী মিথ্যাকে হয়তো এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে কথাবার্তায় মিথ্যা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।
জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ নারী মিথ্যা বলার পর বিবেকের দংশনে ভোগে। এমন পুরুষ রয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিরা বেশি মিথ্যাচারে অভ্যস্ত। নারীর মধ্যে তাদেরই মিথ্যা বলা প্রবণতা বেশি, যারা দুরবস্থার মধ্যে থেকেও ভালো থাকার ভান করে। কেউ তাদের হালফিল জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘না রে, ভাই, কোনো ঝুটঝামেলা নেই। ভালোই আছি।’
মায়ের কাছে বানিয়ে গল্প ফাঁদার মানুষ কিন্তু কম নয়। ২৫ শতাংশ পুরুষ এ কথা স্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে নারী রয়েছে ২০ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ স্বীকার করে, অন্যের মনে কষ্ট না দিতে তারা প্রায়ই কোনো ঠিক বিষয় না হলেও তা ঠিক হয়েছে বলে মেনে নেয়। ১০ শতাংশ বলে, তারা তাদের সঙ্গীদের ধোঁকা দিতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

কমনওয়েলথ দাবা

ভারতের নয়াদিল্লিতে হয়ে গেল কমনওয়েলথ দাবা। বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন (রাজীব) ১১ খেলায় ৮ পয়েন্ট পেয়ে হয়েছেন ১৫তম। ফিদে মাস্টার আবু সুফিয়ান (শাকিল) ৭ পয়েন্ট নিয়ে ৩৩তম। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ সাড়ে পাঁচ পয়েন্ট পেয়ে ১৩৯তম। ১৫টি দেশের ৩১১ জন দাবাড়ু অংশ নিয়েছেন টুর্নামেন্টে।

জাতীয় স্কুল কাবাডি

পল্টন কাবাডি স্টেডিয়ামে কাল শুরু হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জাতীয় স্কুল কাবাডি। প্রথম দিনে খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল ৫৬-২৭ পয়েন্টে মানিকনগর মডেল হাইস্কুলকে, নবাবপুর সরকারি স্কুল ৯১-৬৪ পয়েন্টে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক স্কুলকে, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল ৫৪-২৭ পয়েন্টে সেগুনবাগিচা হাইস্কুলকে হারিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান অলি উচ্চবিদ্যালয় জিতলেও একজন অবৈধ খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে প্রতিপক্ষ আনসার ভিডিপি উচ্চবিদ্যালয়কে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী ইমতিয়াজ ইবনে সাত্তার।

আজমলকে তাড়া করছে সেই ওভার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে তিন দিন আগে, আরও দু দিন আগে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনাল। কিন্তু অবিশ্বাস্য সেই শেষ ওভারটির স্মৃতি এখনো ভুলতে পারছেন না সাঈদ আজমল। পাকিস্তানকে হারিয়ে দেওয়া সেই ওভারটির জন্য এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে এই অফ স্পিনারের হূদয়ে।
৩৯ ওভার পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল পাকিস্তান, সব গড়বড় হয়ে গেল আজমলের করা শেষ ওভারে। টুর্নামেন্টে দলের সেরা বোলার, নিয়মিতই বোলিং করছিলেন স্লগ ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭, আজমল দিয়েছিলেন মাত্র ৫। কিন্তু সেমিফাইনালে তিন ছয়, এক চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মাইক হাসি।
সতীর্থদের সমবেদনাও সান্ত্বনা হতে পারছে না আজমলের, ‘হাসি শেষ ছয়টি মারার পর আমার হূদয় ভেঙে গিয়েছিল, এখনো ভাঙা। আমার জন্য সময়টা ছিল খুব কঠিন আর আবেগময়। সতীর্থ সবাই আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে, এসব নিয়ে ভাবতে না করেছে, কিন্তু আমি সত্যিই হতাশ। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ হারলে খুব খারাপ লাগে, ব্যথাটা এখনো আছে।’
পরিকল্পনা ছিল সব বলই করবেন ইয়র্কার লেন্থে। প্রথম বলটি ইয়র্কারই হয়েছিল, মাত্র ১ নিতে পেরেছিলেন মিচেল জনসন। পরে বাতাসটা একটু বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি, দাবি আজমলের। আগের দিন কামরান আকমল বলেছিলেন, আজমল এখনো ম্যাচ-উইনার। কাল পাকপ্যাশন ডট কমকে আজমল নিজেও জানালেন সতীর্থদের কীভাবে পাশে পেয়েছেন, ‘স্কোয়াডের সব ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচ, অন্য সবাই আমাকে বলেছে জয়ের কৃতিত্ব যেমন সবার, তেমনি হারের দায়ভারও সবার। কোনো একজনের দিকে আঙুল তোলার প্রশ্নই ওঠে না।’
আজমল এখন তাকিয়ে আছেন শ্রীলঙ্কা সফরের দিকে। এশিয়া কাপে ভালো করে ভুলতে চান এই দুঃখ।

পেনাল্টি শটে ভনিতা নয়

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা নিয়ম সংস্কার করে ফেলল ফুটবলের আইন প্রণেতা সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। এখন থেকে পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় কোনো ভনিতা করা চলবে না। সরাসরি নিতে হবে শট।
গোলরক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার জন্য কিক নিতে গিয়ে হুট করে থেমে গিয়ে খানিকক্ষণের বিরতি নিয়ে এর পর কিক নেওয়ার চল আছে ফুটবলে। যেটি প্যারাডিনহা (সাময়িক বিরতি) নামে পরিচিত। এতে কিক নেওয়ার ভান করায় গোলরক্ষক অনেক সময় একদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সুযোগে গোলপোস্টের ফাঁকা দিকটায় মেরে বল পাঠানো হয় জালে।
আইএফএবির কাছে মনে হয়েছে, এটি গোলরক্ষকের সঙ্গে এক রকম প্রতারণা। আর তাই আগের নিয়মটি সংস্কার করে এই ভনিতা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএফএবির সদস্য প্যাট্রিক নেলসন কাল জানিয়েছেন, ‘আমরা বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এটি পুরোপুরি অক্রীড়াসুলভ।’
কিক নিতে গিয়ে থেমে গেলে এখন থেকে হলুদ কার্ড দেখতে হবে খেলোয়াড়দের। অবশ্য দৌড়ে আসার সময় গতির পরিবর্তন করতে পারবেন খেলোয়াড়েরা। ফুটবলে আরও দুজন লাইন্সম্যান যোগ করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে আইএফএবির সভায়। তবে এখনই এটি চালু না করে আরও দুই বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চতুর্থ ম্যাচ অফিসিয়ালকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। খেলোয়াড় বদলি এবং মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নজরে রাখার দায়িত্ব ছিল চতুর্থ অফিসিয়ালের। তবে এখন থেকে তিনি মাঠের ভেতরের কোনো বিষয়েও রেফারিকে সহায়তা করতে পারবেন।

আজ বাংলাদেশের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ

টেস্টের আগে ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ আজ। ইংল্যান্ড সফরে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড লায়নস। আগের ম্যাচের মতো ডার্বির এই চার দিনের ম্যাচটিতেও বাইরে থাকছেন জলবসন্তে আক্রান্ত সাকিব আল হাসান। তাঁর অনুপস্থিতিতে যথারীতি দলের নেতৃত্ব দেবেন মুশফিকুর রহিম।
সারের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি ড্র হলেও গত ম্যাচে অ্যাসেক্সের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু ২৭ মে, লর্ডসে।
ইনজুরি থেকে অনেকটাই সেরে ওঠা তামিম ইকবালকে খেলানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা কাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার টিম মিটিংয়ে। তামিম সেরে উঠতে থাকলেও ইনজুরিতে পড়েছেন শাহাদাত হোসেন। যদিও তাঁর কুঁচকির ইনজুরিটা গুরুতর কিছু নয়। টুকটাক কিছু ইনজুরি আছে আরও কয়েকজনের। একমাত্র সুখবর, ছাই মেঘকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ড পৌঁছাতে পেরেছেন শামসুর রহমান।

অপেক্ষা ২৩ দিন

১৯৫৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে ফ্রান্স টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও সে আসরে সর্বোচ্চ ২৩ গোল করেছিল তারা। এর চেয়ে বেশি গোল পরের আর কোনো আসরেই করতে পারেনি কোনো দল। অবশ্য এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি হাঙ্গেরির, ২৭ গোল করেছিল তারা ১৯৫৪ সালে। বিশ্বকাপে জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের (২৫) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ ম্যাচ খেলেছেন ইতালির পাওলো মালদিনি।

দু দিনেই হার দেখছে বাংলাদেশ ‘এ’

প্রথম দিনে বোলারদের সাফল্যটা ব্যাটসম্যানরা কাল একেবারে ধুলোয়ই লুটিয়ে দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষেই পরাজয় দেখছে বাংলাদেশ ‘এ’। স্বাগতিকদের ১২৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রানে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’। দিনশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা লিডটাকে বাড়িয়ে করেছে ৩২২, হাতে এখনো ৮ উইকেট।
বাংলাদেশের একমাত্র বলার মতো পারফরমার সোহরাওয়ার্দী শুভ। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটের পর কাল নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটো উইকেটই। এর আগে ব্যাট হাতে করেছেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩।
অথচ মিরপুরে কাল দিনের শুরুটা ছিল আশাজাগানিয়া। ৩ রানে শাহরিয়ার নাফীসের বিদায়ের পর আগের দিনের শেষ বিকেলটা নিরাপদে কাটিয়ে দিয়েছিলেন নাজিমউদ্দিন ও মার্শাল আইয়ুব। কাল এই দুজন ৭ ওভারে তুলেছিলেন ৩৫ রান। ৩৩ রান করা নাজিমউদ্দিনকে আউট করে ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন শেন শিলিংফোর্ড। ড্রেসিংরুমে ফিরে অধিনায়ক দেখলেন পরের এক ঘণ্টায় কীভাবে পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেল বাংলাদেশের ইনিংস।
৩৭ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হয়ে গেল ৮ উইকেটে ৯৪। দুই ছয় ও ১ চারে সোহরাওয়ার্দীর ২৩ রানে অন্তত ১২৫ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। উইকেট পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ বোলারের সবাই। চার উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল অফ স্পিনার শিলিংফোর্ড, দুটি লেগ স্পিনার ওডিয়াস ব্রাউন। আরেক লেগ স্পিনার ইমরান খান, নতুন বলের দুই বোলার গ্যাভিন টং ও লায়নেল বেকার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে স্মিথ-ডাওলিন উদ্বোধনী জুটিতেই রান তুলে ফেলেন ৭৫। ট্রাভিস ডাওলিনকে এলবিডব্লু করে প্রথম ব্রেক থ্রু দেওয়া সোহরাওয়ার্দী পরে আরেক ওপেনার ডেভন স্মিথকেও আউট করেছেন একইভাবে। ৫৫ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন কার্ক এডওয়ার্ডস। দুরন্ত ফর্মে থাকা ড্যারেন ব্রাভোও আছেন উইকেটে। বাইরে আছেন ব্রেন্ডন ন্যাশ, নাজিমউদ্দিনের দলের জন্য আশার খবর খুব একটা নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ২৮৫ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৫০ ওভারে ১৬২/২ (স্মিথ ৬২, ডাওলিন ৩২, এডওয়ার্ডস ৫৫*, ব্রাভো ১০*; সোহরাওয়ার্দী ২/৬৩)।
বাংলাদেশ ‘এ’: ৪৫ ওভারে ১২৫ (নাজিমউদ্দিন ৩৩, সোহরাওয়ার্দী ২৩, আইয়ুব ২১; শিলিংফোর্ড ৪/৩০, ব্রাউন ২/২৪, বেকার ১/২৭, টং ১/৪০)।

ঝড় তুলতে চান বোল্ট

৯.৬৯ থেকে টাইমিংটা এক ধাক্কায় নামিয়ে এনেছেন ৯.৫৮ সেকেন্ডে! এক শ মিটার দৌড়ের বিশ্ব রেকর্ডটা আর কত কমিয়ে আনতে পারবেন উসাইন বোল্ট?
সুনির্দিষ্ট কোনো টাইমিংয়ের কথা মুখে আনলেন না বিশ্বের দ্রুততম মানব। তবে মৌসুমের প্রথম ১০০ মিটার দৌড়ে নামার আগে আভাস দিলেন, শুরুটায় দুর্দান্ত কিছু করে ফেলতে চান। আজ দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুর প্রি-চ্যাম্পিয়নশিপে নামছেন বোল্ট।
বোল্টের জন্য লড়াইয়ের মঞ্চটা ফাঁকাই পড়ে থাকছে। কারণ এখানে তিনি পাচ্ছেন না তাঁর দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বদেশি আসাফা পাওয়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের টাইসন গেকে। স্প্রিন্টে বোল্টের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, সেটিকে এবার চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাতে চান গে-পাওয়েল দুজনই। ভালো পারফরম্যান্স করে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছেন। ডায়মন্ড লিগ অ্যাথলেটিকসের দোহা মিটে ৯.৮১ সেকেন্ড টাইমিং করেছেন পাওয়েল। আর গত পরশু ম্যানচেস্টারে ২০০ মিটার সোজা দৌড়ে ১৯.৪১ সেকেন্ড টাইমিং করে ৪৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন গে।
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও দেগুর মিটের অন্য গুরুত্ব আছে বোল্টের কাছে। আগামী বছর এখানেই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। দেগুর ট্র্যাক আগে থেকেই পরখ করে দেখার সুযোগ মিলছে তাঁর। বোল্টের হাতে বিশ্ব রেকর্ড এত অবলীলায় ভাঙতে দেখেছে সবাই, যেখানেই যান একটা প্রশ্ন তাঁকে শুনতেই হয়, ‘এখানেও কি কিছু হবে নাকি?’ দক্ষিণ কোরিয়াতেও সেই একই প্রশ্ন। উত্তরে নিরাশ করলেন না এই ২৩ বছর বয়সী, ‘আমার সব সময়ই লক্ষ্য থাকে সমর্থকদের খুশি করা। আশা করি, এখানে খুব জোরেই দৌড়াতে পারব। কোথায় আমার শেষ সীমা? কেউ জানে না! আমি সব সময়ই কঠোর অনুশীলন করি, মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রাখি আর কঠোর পরিশ্রম করি।’

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু

ফুটবল, ক্রিকেট দুটি খেলারই জন্ম ইংল্যান্ডে বলে দাবি করা হয়। অথচ ফুটবলে তাদের বড় সাফল্যে বলতে সেই ১৯৬৬-এর বিশ্বকাপ, যেটি নিয়ে আবার বিতর্কও আছে। আর ক্রিকেটে সাফল্য ধরা দিল এই সেদিন, পল কলিংউডরা জিতল ‘খুদে’ বিশ্বকাপ। তবে কলিংউডদের হাত ধরে আশার আলো ঝলক দিয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডে। ২০১০ সাল কি ইংলিশদের খরা ঘোচানোর বছর?
কলিংউডরা তাঁদের কাজ করেছেন। এবার ওয়েইন রুনিদের পালা। সেই ভার কাঁধে নিয়ে গতকাল ফ্যাবিও ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড পৌঁছে গেল অস্ট্রিয়ান আলপসে; নিবিড় অনুশীলন শিবিরে। ইংল্যান্ড একা নয়। স্পেন, নেদারল্যান্ডসহ মোট নয়টি দল তাদের ‘কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ করছে এই পার্বত্য অঞ্চলে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশ কিছু গ্রুপের খেলা পড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে। সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতেই পাহাড়-পর্বতে এই অনুশীলন।
ইংল্যান্ডের প্রাথমিক দলের ৩০ সদস্যের মধ্যে ২৪ জনকে নিয়ে ক্যাপেলো পৌঁছেছেন অস্ট্রিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ইরডনিংয়ে। কদিন আগে এফএ কাপের ফাইনাল খেলায় পোর্টসমাউথ ও চেলসির ৫ খেলোয়াড়কে বাড়তি কিছুদিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আর মিডফিল্ডার গ্রেথ ব্যারি গোড়ালির চোটের কারণে যাননি দলের সঙ্গে।
ইংল্যান্ড দল এখানে ২৩ মে পর্যন্ত নিবিড় অনুশীলন করার পর লন্ডনে ফিরে আসবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২৪ মে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য। এরপর আবার তারা অস্ট্রিয়ায় ক্যাম্প করবে ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত। ১ জুন চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগের দিন অস্ট্রিয়ারই গ্রাজ শহরে ইংল্যান্ড প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জাপানের বিপক্ষে।
এ তো গেল প্রস্তুতির খবর। কিন্তু প্রস্তুতি যেমনই হোক, ইংলিশ মিডিয়ায় এখন জোর তর্ক বিশ্বকাপে তাদের এক নম্বর জার্সি কে পরবেন? তর্কটা মোটেও ইংল্যান্ডের জন্য সুখকর না। আসলে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানোর জন্য বলার মতো তেমন কোনো তারকা নেই ইংলিশদের। দলে আছেন তিন গোলরক্ষক—ওয়েস্ট হামের রবার্ট গ্রিন, পোর্টসমাউথের ডেভিড জেমস ও ম্যানচেস্টার সিটির জো হার্ট। এর মধ্যে বিশ্বকাপে দায়িত্বটা কে পাবেন?
ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কথা বলার অধিকার নিশ্চয়ই দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার শিলটনের। সেই অধিকার থেকে নয়, বর্তমান দলের গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স দেখার অভিজ্ঞতা থেকে শিলটন বলছেন, রবার্ট গ্রিনেরই এক নম্বর জার্সি পাওয়া উচিত, ‘আমি রবার্ট গ্রিনের পক্ষে। কারণ, ও খুব একটা ভুল করে না। ও খুব অল্পই খেলেছে। কিন্তু সেই সময়েই ভালো কিছু সেভ করেছে এবং বেশ নিরেট হয়ে থেকেছে।’ শিলটনকে মুগ্ধ করতে পারাটা সহজ কাজ না। কিন্তু তাতে গ্রিনের নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। কারণ, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ও নিয়মিত গোলরক্ষক ডেভিড জেমস আবার ভোট পাচ্ছেন সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক ডেভিড সিমান ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক পিটার চেকের।

পিসিবি তদন্ত কমিটির ভিডিও ফাঁস

দলে যত গণ্ডগোল ও বিভক্তির মূলে শোয়েব মালিক—এ কথা প্রকাশ্যেই বলেছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। মজার ব্যাপার, শুধু ইউসুফ নন; শহীদ আফ্রিদি-ইন্তিখাব আলমরাও মনে করছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের নিকট অতীতের দলাদলির মূল হোতা শোয়েব মালিক!
পাকিস্তান ক্রিকেটে দলাদলির এই বাসি খবর নতুন করে সংবাদমাধ্যমে আসার কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) তদন্ত কমিটির শুনানির ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়া।
অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণ অনুসন্ধানে ওই কমিটি গঠন করেছিল পিসিবি। কমিটি দলের কোচ ও ক্রিকেটারদের যে সাক্ষাৎকার নিয়েছে, তার ধারণকৃত ভিডিও সম্প্রতি ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে।
এই ভিডিওতে দেখা গেছে, কোচ ইন্তিখাব আলম, দল ব্যবস্থাপক আকিব জাভেদ, তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ ও বর্তমান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি সবাই মিলে দায় চাপিয়েছেন শোয়েব মালিকের কাঁধে।
মালিককে দায় দিয়েছেন ইউসুফও। তবে তদন্ত কমিটিতে ইউসুফের বক্তব্য শুধু মালিকের বিপক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পিসিবির আইন উপদেষ্টা তাফাজ্জুল রিজভীর বারবার বাধার মধ্যেও ইউসুফকে দেখা গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নীতি নিয়েই লম্বা বক্তৃতা দিতে।
ইউসুফ মনে করছেন, টি-টোয়েন্টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বর্তমান নীতি, ‘পাকিস্তানের এই দলে কোনো ভালো টেস্ট ক্রিকেটার নেই। দলটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো। আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান বোর্ডও টি-টোয়েন্টিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে তদন্ত কমিটির ক্রিকেট-জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইউসুফ। এই পর্যায়ে রিজভী আবার তাঁকে থামিয়ে দিলে ইউসুফ বলে ওঠেন, ‘আমি কাউকে কোনো নির্দেশনা দিচ্ছি না। পাকিস্তানের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য কথা বলছি।’
সবশেষে নিজের অধিনায়কত্বের সময়ে কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে, এটা মেনে নিয়ে নিষেধাজ্ঞার পর অবসর নিয়ে ফেলা এই টেস্ট ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমি পরামর্শ দেব, দলে পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য। একই সঙ্গে বোর্ডের উচিত সিরিজ-বাই-সিরিজ না এগিয়ে এক বা দু বছরের জন্য অধিনায়ক নির্বাচন করা।’
ওদিকে বিশ্বকাপের পর সেন্ট লুসিয়া ছাড়ার আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক আফ্রিদি দাবি করেছেন, পাকিস্তান দলের সিনিয়রদের ঝেড়ে ফেলে একটা ধাক্কা দেওয়াটা জরুরি, ‘কিছু সিনিয়র ক্রিকেটারের এখন সরে যাওয়ার সময় চলে এসেছে। তাদের কাছ থেকে আর ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’

মালিক সম্পর্কে কে কী বলেছেন
ইন্তিখাব আলম
তার মানসিকতাটা সুবিধার নয়। সে সমস্যার সৃষ্টি করে। (নিউজিল্যান্ড সফর থেকে) আমি তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিলাম।
মোহাম্মদ ইউসুফ
সব সময়ই দলের ভেতরে সে রাজনীতি করে। সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান বড় একটা ভুল করেছেন, ২০০৭ সালে যখন দলে তার জায়গাটা নিশ্চিত নয়, তখন তাকে দলের অধিনায়ক করে ক্ষতি করেছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের।
শহীদ আফ্রিদি
আমি তার (মালিকের) মুখের ওপরই পরিষ্কার বলে দিয়েছিলাম, তার দ্বিমুখী নীতি বজায় থাকলে দলে বেশি দিন সে টিকে থাকতে পারবে না। আমি যদি অধিনায়ক হতাম, তাহলে তাকে দলে রাখতাম না।

পন্টিংকে পাশে পেলেন ক্লার্ক

পল কলিংউডকে নিশ্চয়ই খুব হিংসা হচ্ছে মাইকেল ক্লার্কের! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মতো ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ ইংলিশ অধিনায়কও। কিন্তু কলিংউডের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা আড়াল হয়ে গেছে দলীয় সাফল্যে, বরং অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বের জন্য ভিজছেন প্রশংসার বৃষ্টিতে। আর ফাইনালে হারার পর প্রকাশ্যে উঠে এসেছে ক্লার্কের ব্যাটিং ব্যর্থতা। ক্লার্ক নিজেই বলেছেন, টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর জায়গা এখন আর নিশ্চিত নয়। অধিনায়কত্বের রেকর্ডটা দুর্দান্ত হওয়ার পরও তাই শঙ্কায় তাঁর নেতৃত্বও। তবে বিপদে ক্লার্ক পাচ্ছেন একটা বড় আশ্রয়, তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন খোদ রিকি পন্টিং।
‘ওর এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত ১২ থেকে ১৮ মাসে আমার অনুপস্থিতিতে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ও বেশ কটি ওয়ানডেতে ও দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছে। মাইকেলকে যতবারই নেতৃত্ব দিতে দেখেছি, অসাধারণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যই ওকে দরকার’—এই হলো ক্লার্কের নেতৃত্ব নিয়ে পন্টিংয়ের বিশ্লেষণ। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে পন্টিংয়ের উত্তরসূরি মনে করা হয় ক্লার্ককে। এই দুই দলে পন্টিংয়ের সহকারী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত বছর টি-টোয়েন্টি থেকে পন্টিংয়ের অবসরের পর শুধু টি-টোয়েন্টি দলের জন্য অধিনায়ক করা হয় ক্লার্ককে।
অধিনায়ক হিসেবে ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়ে একটি মাত্র পরাজয়। আফসোস, সেই একমাত্র পরাজয়টি এল ফাইনালে! আর এই এক পরাজয়ে যেন ম্লান হয়ে গেল তাঁর দুর্দান্ত রেকর্ড। অথচ এখনো জয়ের হারে (৮৯.২৮ শতাংশ) তাঁর ধারে-কাছে নেই কেউ। তবে ঝমেলাটা তাঁর ব্যাটিং নিয়ে। ৩১ ম্যাচে ২১.৮৫ গড়ে রান করেছেন ৪৩৭, এর চেয়েও বড় সমস্যা স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০১.৩৯।
এই বিশ্বকাপে যেমন ৭ ম্যাচে ৮০.৭০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৯২ রান। ওপেনিং থেকে শুরু করে ব্যাটিং করেছেন ৭ নম্বর পর্যন্ত প্রতিটি পজিশনেই, কিন্তু সাফল্যের সূত্রটা উদ্ধার করতে পারেনি।
ক্লার্ককে সরিয়ে ক্যামেরন হোয়াইটকে অধিনায়ক করার প্রস্তাব করছেন অনেকেই। অবশ্য পন্টিং অবসর নেওয়ার পর নেতৃত্বের দৌড়ে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক হোয়াইটই ছিলেন সবার আগে। কিন্তু টেস্ট-ওয়ানডের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক বিবেচনা করে ক্লার্ককেই দেওয়া হয় নেতৃত্ব। গত এক বছরে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হোয়াইট। ২০টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৩.৭২ গড়ে ৪৮১ রান তাঁর, স্ট্রাইক রেট ১৪৮.৪৫। এই বিশ্বকাপেও ৪৫ গড়ে ১৮০ রান করেছেন, মেরেছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়ায় তাই একটা দাবি উঠেছে, ক্লার্ককে সরিয়ে হোয়াইটকেও দেওয়া হোক টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব। তবে খোদ হোয়াইটই আবার এতে রাজি নন। মাত্র এক ম্যাচে ক্লার্কের ব্যর্থতা নিয়ে এত শোরগোলেরও কোনো যুক্তি তিনি দেখেন না। ‘নেতৃত্ব নিয়ে ভাবার মতো জায়গায় আমি নেই। আমি ভালো খেলছি, দলও ভালো করছে। আমি যেটা করতে পারি দলে আমার ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করা ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাইকেলকে সাহায্য করা’—বলেছেন হোয়াইট।

জ্বালানি ও মানবসম্পদে মনোযোগ জরুরি-বাজেট অর্থবহ করতে হবে

সুযোগ সব সময় আসে না, বিশেষ করে প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে। কিন্তু সুযোগ আসার পরও নিজেদের অপ্রস্তুতির জন্য তা হারাতে হলে মাশুল গুনতে হয় অনেক বেশি। বাংলাদেশের সামনে এখন সে রকমই একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এটা হয়েছে মূলত চীন থেকে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশমুখী হওয়ার যে কথা ভাবছেন, সেটার কারণে। দেশের বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা এটাকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখতে চান। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে অবকাঠামোজনিত অপ্রতুলতায়, যার মূলে আছে বিদ্যুতের ঘাটতি। পাশাপাশি রয়েছে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদের অভাব। বছরের পর বছর এই দুই খাতের উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যা অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে অনেকটাই অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এই বাস্তবতায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে এই দুই খাতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। চলতি সপ্তাহেই প্রথম আলো আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায়ও বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা এ রকম অভিমত প্রকাশ করেছেন। তাঁরা স্পষ্ট করেই বলেছেন, বাজেটের মাধ্যমে শুধু এই দুই খাতে যথাযথ বরাদ্দ দিলেই চলবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে এবং অবশ্যই সুপরিকল্পিতভাবে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত হতে হবে বাজেটীয় ব্যয়। এটা খুব তাৎপর্যবহ। বরাদ্দ দেওয়ার আগে যদি ঠিকভাবে পরিকল্পনা করা না হয়, তাহলে সেই বরাদ্দও অপব্যয় হতে বাধ্য। এবং পরিকল্পনাটি হতে হবে সুদূরপ্রসারী। আগামী বাজেট যেহেতু ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রথম বছরে বাস্তবায়ন করা হবে, সেহেতু একটি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বরাদ্দ প্রদান ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে।
বস্তুত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিময়তা আসবে না। আর সেই বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন জ্বালানি-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সমর্থন। সরকারকে এদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। বর্তমানে বিদ্যুতের সংকট যে অবস্থায় উপনীত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু চটজলদি বা তাৎক্ষণিকভাবে সংকট মোচন সম্ভব নয়, সেহেতু তড়িঘড়ি করে সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়। কারণ, সংকটের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা মহল সুবিধা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মানবসম্পদের দিকে নজর বাড়ানো আরেকটি জরুরি কাজ হয়ে উঠেছে। প্রশিক্ষিত শ্রমশক্তি ও জনবল গড়ে তোলা না গেলে একদিকে যেমন প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তির জোগান মিলবে না, অন্যদিকে বাড়বে বেকারত্ব। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি জোরদার করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতেরও উচিত সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করা। গতানুগতিকভাবে দাবিদাওয়া পেশ করার চেয়ে তা অনেক বেশি অর্থবহ হবে। আর সরকারের কাজ হবে বেসরকারি খাতের সঙ্গে মিলে এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটানো। আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন থাকাটাই কাম্য।

জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে ‘মূত্র ব্যাংক’!

নেপালে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে কৃষকেরা দেশটিতে প্রথমবারের মতো ‘মানবমূত্র ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করেছে। নেপাল নিউজ অনলাইন এ খবর জানায়।
রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সিদ্ধিপুর গ্রামে গত সোমবার এই মূত্র ব্যাংকের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গ্রামের কৃষকেরা জানান, রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে তাঁদের জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ফসল উৎপাদনও অনেক কমেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মূত্র ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
কৃষকেরা দাবি করেন, জমিতে মূত্র ব্যবহার করে উৎপাদিত খাদ্যশস্য স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক এবং কৃষকের জন্য লাভজনক। প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা রোসান রাজ শ্রেষ্ঠা মূত্র ব্যাংকের উদ্বোধন করে বলেন, এই ব্যাংক কৃষি খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মূত্র সরবরাহ করতে সহায়তা করবে।
এই ব্যাংক থেকে কৃষকেরা এক রুপির বিনিময়ে এক লিটার মূত্র কিনতে পারবেন।

অ্যারিজোনার কঠোর অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের অভিবাসনবিরোধী নতুন আইনের বিরুদ্ধে গত সোমবার মামলা করেছে দেশটির নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। তারা বলেছে, আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।
অ্যারিজেনার রাজধানী ফিনিক্সের ফেডারেল কোর্টে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও আরও কয়েকটি নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী মামলাটি দায়ের করে।

‘রানির মৃত্যু’ ঘোষণা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিবিসি

রসিকতা করে ‘রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন’ ঘোষণা দেওয়ায় ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি) গতকাল মঙ্গলবার দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বার্মিংহাম ও পার্শ্ববর্তী ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের স্থানীয় রেডিও চ্যানেল বিবিসি ডব্লিউএমে গত সোমবার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, ‘রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেছেন’। উপস্থাপক ড্যানি কেলি (৩৯) শ্রোতাদের উদ্দেশে এ ঘোষণা দেন।
বিবিসির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি, উপস্থাপক কেলি তাঁর শো চলাকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সম্পর্কে ভুল মন্তব্য করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এ মন্তব্যের সংশোধন করা হয়েছে। বিবিসি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে।’
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘এই মন্তব্যের মাধ্যমে কারও মনে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। বিবিসি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’ তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
বিবিসি ডব্লিউএমের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘একজন রসিক মানুষ হিসেবে কেলির সুনাম রয়েছে।

সিনেটের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রস্তাব সরকারের প্রত্যাখ্যান

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় দেশটির সিনেটের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে সরকার। বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল ছেড়ে না গেলে সরকার কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে সিনেটের দেওয়া আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে ‘ধংসের চূড়ান্ত সীমা থেকে সরে এসে’ আলোচনায় বসতে থাইল্যান্ডের সরকার ও বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানের সদস্যদেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে গত পাঁচ দিনেই অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধীদের আলোচনায় নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয় দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। ৬০ সিনেটরের একটি চিঠি গত সোমবার সরকার ও বিরোধীদের কাছে পাঠানো হয়।
বিক্ষোভকারীদের নেতা নাতাউত সাইকুয়ার বলেন, ‘আমরা সিনেটের প্রস্তাব গ্রহণ করেছি। স্পিকারের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে আমরা সব সময় প্রস্তুত আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আলোচনার জন্য আমরা কোনো শর্ত আরোপও করছি না।’
তবে সিনেটের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংযুক্তমন্ত্রী সাতিত ওংনংতায়ে। গতকাল দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল না ছাড়লে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না সরকার। তিনি আরও বলেন, এর আগেও দুটি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপপ্রধানমন্ত্রী সুথেপ থাংসুবান বিক্ষোভকারীদের ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী শুধু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করছে। তারা বিক্ষোভকারীদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। তিনি বলেন, ‘নতুন করে কাউকে বিক্ষোভকারীদের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। সেখানে খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমাদের আসল লক্ষ্য হলো ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া।’ স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে ঘিরে রেখেছে।
গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংককের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নভি পিল্লাই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে দুই পক্ষকেই আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত সোমবার সরকারের বেঁধে দেওয়া সময় পার হওয়ার পর পরিস্থিতি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অ্যারোইয়োর নিযুক্ত বিচারপতির কাছে শপথ নেবেন না অ্যাকুইনো

ফিলিপাইনের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া ম্যাকাপাগাল অ্যারোইয়োর নিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নেবেন না সম্ভাব্য পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ‘নয়নয়’ বেনিগনো অ্যাকুইনো। গত সোমবার নবনিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রেনাতো করোনাকে শপথবাক্য পাঠ করান অ্যারোইয়ো।
পিটিআই অনলাইনের খবরে বলা হয়, ১০ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন বেনিগনো অ্যাকুইনো। ভোট গণনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। অবস্থাদৃষ্টে বেনিগনোর প্রেসিডেন্ট হওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে তিনি প্রেসিডেন্টের শপথ প্রধান বিচারপতির কাছে নেবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।
অ্যাকুইনো বলেন, তিনি তাঁর উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের টারলাকে একজন গ্রাম্য নেতার কাছে শপথ নিতে ইচ্ছুক। ৩ জুন অ্যারোইয়োর মেয়াদ শেষ হবে।
ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো কর্মকর্তা এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবেন।

দুর্নীতির দায়ে চীনে ব্যবসায়ীর ১৪ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির দায়ে চীনে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ৬০ কোটি ইউয়ান। হুয়াং গুয়াং উ নামের ওই ব্যবসায়ী একসময় চীনের সেরা ধনী ছিলেন। চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে।
সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, চীনের গোম ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস হোল্ডিংসের সাবেক চেয়ারম্যান হুয়াং প্রায় ৩০ বছর আগে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যবসায় নেমে পড়েন। তিনি বর্তমানে শত শত কোটি ডলারের মালিক। অথচ তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন প্রায় শূন্য হাতে । গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার।
২০০৮ সালে চীনে ধনীদের যে তালিকা করা হয় তার শীর্ষে ছিলেন হুয়াং। এর কয়েক মাস পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে বেইজিংয়ে তাঁর বিচার শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর গোম অ্যাপ্লায়েন্স করপোরেশনের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত হুয়াংকে ওই দণ্ড দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না: যুক্তরাষ্ট্র

পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটবে না যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার ইরান, ব্রাজিল ও তুরস্ক একটি পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওয়াশিংটন এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী ইরান তার স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা এক হাজার ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম তুরস্কে পাঠাবে। তুরস্ক এই ইউরেনিয়াম ‘প্রয়োজনীয় মাত্রায়’ আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তেহরানকে তা ফেরত দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইরান তার পরমাণু জ্বালানি তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করলেও অবরোধ আরোপের ঝুঁকি থেকে মুক্ত হচ্ছে না। তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ বন্ধ হবে না, এমনকি এ পদক্ষেপে কোনো ধীরতাও আসবে না।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস বলেছেন, ‘পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’ তবে তিনি বলেন, ইরান নতুন চুক্তি মেনে চললে ‘কিছুটা অগ্রগতি’ হবে। এর আগে ত্রিপক্ষীয় এ চুক্তির ব্যাপারে তিনি ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন।
গিবস বলেন, ইরান এ চুক্তি মেনে চললেও তাদের পরমাণু কর্মসূচির ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। কেননা তেহরান ঘোষণা করেছে, ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তারা অব্যাহত রাখবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ‘অনেকেই আছেন যাঁরা ইরানের পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তিকে সফলতা হিসেবে অভিহিত করবেন। কিন্তু এ চুক্তির মাধ্যমে নতুন কিছু ঘটেছে কি না তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো চুক্তিটির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করছেন। তাঁরা এ নিয়ে শিগগরিই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করেছেন। এমনকি তুরস্ক ও ব্রাজিলের সঙ্গেও তারা আলোচনা করার চিন্তাভাবনা করছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ফের অবরোধ আরোপের ‘কোনো কারণই’ দেখছে না আঙ্কারা। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা উচিত। এ মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা (তুরস্ক ও ব্রাজিল) আশ্বস্ত করছি, ইরানের স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম এখন থেকে তুরস্কেই থাকবে।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেলসো অ্যামোরিম বলেন, চুক্তির ফলে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ চুক্তির মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার বিজয় হয়েছে। এর ফলে প্রমাণিত হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগানের মধ্যে সফল আলোচনার পর সোমবার এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তেহরানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এ চুক্তিতে সই করেন।

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২০

আফগানিস্তানে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী কাবুলে পার্লামেন্টের কাছে ন্যাটো সেনাদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ এ হামলা চালানো হয়। তালেবানর জঙ্গিরা এ হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
সূত্র জানায়, বোমা বহনকারী কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত পার্লামেন্টের কাছে দিনের ব্যস্ত সময়ে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণস্থলের কাছেই রয়েছে বিদেশিদের পরিচালিত একটি হাসপাতাল, সেনাবাহিনীর একটি কেন্দ্র এবং দেশটির পানি ও শক্তিসম্পদ মন্ত্রণালয় ।
আফগান সেনাবাহিনীর প্রধান চিকিৎসক জেনারেল আহমেদ জিয়া ইয়াফতালি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে পাঁচটি মৃতদেহ আনা হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা ২০ এর বেশি এবং এদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।’ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারাই বাশারি জানান, হামলায় কমপক্ষে ২০ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছে। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।
পাকিস্তানে নিহত ১২
এদিকে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের ডেরা ইসমাইলে গত মঙ্গলবার একটি সাইকেলবোমা বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হয়েছে। তালেবান ও আল-কায়েদার সহযোগী জঙ্গিদের দমনে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
ডেরা ইসমাইল খান হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, ‘হাসপাতালে ১২টি মৃতদেহ ও আহত ১০ জনকে আনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা করলেন প্রেসিডেন্ট জারদারি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিককে সাধারণ ক্ষমা করেছেন। লাহোরের উচ্চ আদালত জামিন আবেদন বাতিল করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে রেহাই দিতে প্রেসিডেন্ট তাঁকে ক্ষমা করেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ফরহাতুল্লাহ্ বাবর জানান, জারদারি বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে রেহমান মালিককে ক্ষমা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ ঘটনা ক্ষমতাসীন সরকারকে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে ঠেলে দেবে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে একটি দুর্নীতির মামলায় নিম্ন আদালত রেহমান মালিককে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সে সময় মালিক দেশের বাইরে ছিলেন। ২০০৭ সালে বিরোধীদের চাপের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন অর্ডিন্যান্স (এনআরও) নামে একটি আইন পাস করেন। ওই আইনে দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে দেওয়া যাবতীয় রায় ও দায়ের করা মামলা স্থগিত করে তাঁদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। এনআরও অনুমোদনের পর মালিক দেশে ফেরেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট এনআরও বাতিল করেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রেসিডেন্টসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সচল করার নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে লাহোরের উচ্চ আদালতে আপিল করলেও গত সোমবার আদালত ওই রায় বহাল রাখেন এবং তাঁর জামিন আবেদন বাতিল করেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা অনিবার্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জারদারি তাঁর বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে গতকাল মালিককে ক্ষমা করে তাঁকে গ্রেপ্তার হওয়া থেকে রক্ষা করেন।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি তারিক মাহমুদ বলেন, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা করায় জারদারি নতুন বিতর্কে পড়বেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার ক্ষমতা আছে। তাই বলে একজন প্রমাণিত অপরাধীকে ক্ষমা করার নৈতিক অধিকার প্রেসিডেন্টের আছে কি না এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর সংসদে অপরাধীর সদস্যপদ বহাল থাকে কি না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।

মিথ্যা বলায় পুরুষ এগিয়ে

মিথ্যা ছাড়া নিপাট সাধু সেজে এই সমাজে বাস করা কঠিন। বাস্তবজীবনে এমন পরিস্থিতি আসে, যখন মিথ্যার আশ্রয় ছাড়া রক্ষা পাওয়া কঠিন। তখন বাধ্য হয়ে মানুষ মিথ্যা কথা বলে। তবে মিথ্যা বলায় নারীর চেয়ে পুরুষের পাল্লা ভারি। একজন পুরুষ প্রতিদিন গড়ে তিনটি করে মিথ্যা বলে। একজন নারী বলে দুটি করে মিথ্যা। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের ফলে এমনটাই দেখা গেছে।
যুক্তরাজ্যের বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়ানপোল তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে এই জরিপ চালায়। জরিপের ফলাফল গত সোমবার দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এ প্রকাশিত হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, একজন পুরুষ বছরে গড়ে এক হাজার ৯২ বার মিথ্যা বলে থাকে। নারী বছরে গড়ে মিথ্যা বলে ৭২৮ বার। দেখা গেছে, একজন সাধারণ নারী মিথ্যা বলায় যে অপরাধবোধে ভোগে, সে তুলনায় পুরুষের অপরাধবোধ কম।
লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরের সহযোগী মেডিকেল কিউরেটর কেটি ম্যাগস বলেন, মানুষের স্বভাব অনুযায়ী মিথ্যাকে হয়তো এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে কথাবার্তায় মিথ্যা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।
জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ নারী মিথ্যা বলার পর বিবেকের দংশনে ভোগে। এমন পুরুষ রয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। পুরুষদের মধ্যে মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তিরা বেশি মিথ্যাচারে অভ্যস্ত। নারীর মধ্যে তাদেরই মিথ্যা বলা প্রবণতা বেশি, যারা দুরবস্থার মধ্যে থেকেও ভালো থাকার ভান করে। কেউ তাদের হালফিল জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, ‘না রে, ভাই, কোনো ঝুটঝামেলা নেই। ভালোই আছি।’
মায়ের কাছে বানিয়ে গল্প ফাঁদার মানুষ কিন্তু কম নয়। ২৫ শতাংশ পুরুষ এ কথা স্বীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে নারী রয়েছে ২০ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ স্বীকার করে, অন্যের মনে কষ্ট না দিতে তারা প্রায়ই কোনো ঠিক বিষয় না হলেও তা ঠিক হয়েছে বলে মেনে নেয়। ১০ শতাংশ বলে, তারা তাদের সঙ্গীদের ধোঁকা দিতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

কমনওয়েলথ দাবা

ভারতের নয়াদিল্লিতে হয়ে গেল কমনওয়েলথ দাবা। বাংলাদেশের গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন (রাজীব) ১১ খেলায় ৮ পয়েন্ট পেয়ে হয়েছেন ১৫তম। ফিদে মাস্টার আবু সুফিয়ান (শাকিল) ৭ পয়েন্ট নিয়ে ৩৩তম। গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ সাড়ে পাঁচ পয়েন্ট পেয়ে ১৩৯তম। ১৫টি দেশের ৩১১ জন দাবাড়ু অংশ নিয়েছেন টুর্নামেন্টে।

লাল কার্ড দেখেও পাঁচ মিনিট মাঠে!

অনেক দিন অপেক্ষার পর পরশু শুরু হয়েছে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগ। শুরুই হয়েছে বটে, কিন্তু এসব লিগে যা হয়, সেটিও শুরু হয়ে গেছে একই সঙ্গে। রেফারির সিদ্ধান্ত না মানা, তাঁকে মারতে যাওয়া, গালাগাল....পুরোনো সেই ব্যাধি দেখা গেল লিগের দ্বিতীয় দিনেই।
কাল সানরাইজ ও উত্তর বারিধারার ম্যাচ চলছিল কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। আজাদের গোলে এগিয়ে যায় বারিধারা। ১-১ করেন সানরাইজের রাশেদুল। ম্যাচটা ড্র-ই ছিল শেষ পর্যন্ত। ম্যাচটা যে কারণে দৃষ্টি কেড়েছে তা হলো, ৫৫ মিনিটে রেফারি মোহাম্মদ জালালউদ্দিন সানরাইজের লেফট ব্যাক মুকুলকে লাল কার্ড দেখালে তুলকালাম কাণ্ড বেধে যায় মাঠে।
খেলোয়াড় নিজে তো বটেই, সানরাইজ-কর্তারাও লাল কার্ড মানতে পারেননি। ভিআইপি গ্যালারি থেকে তাঁরা রেফারিকে গালিগালাজ শুরু করেন; মারতেও তেড়ে যান কেউ কেউ, তবে মাঠে পুলিশ থাকায় গায়ে হাত তুলতে পারেননি।
ওদিকে লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়টি কিছুতেই মাঠ ছাড়বেন না! তাঁর দাবি, অযৌক্তিকভাবে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে! মিনিট পাঁচেক মাঠেই থাকলেন ওই খেলোয়াড়। শেষমেশ অবশ্য হার মানতে হলো তাঁকে। সহকারী রেফারি বুুঝিয়ে-সুজিয়ে কোনোরকমে মাঠের বাইরে নিয়ে যান।
রেফারিং নিয়ে বিস্তর অভিযোগ শোনা গেল দুই দলেই। সানরাইজের কোচ কামাল বাবু বললেন, ‘ম্যাচে রেফারিংয়ের মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’ বারিধারার কোচ মোহাম্মদ আলীর কথা, ‘এই ম্যাচে রেফারির ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’

পেনাল্টি শটে ভনিতা নয়

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা নিয়ম সংস্কার করে ফেলল ফুটবলের আইন প্রণেতা সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। এখন থেকে পেনাল্টি শট নেওয়ার সময় কোনো ভনিতা করা চলবে না। সরাসরি নিতে হবে শট।
গোলরক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার জন্য কিক নিতে গিয়ে হুট করে থেমে গিয়ে খানিকক্ষণের বিরতি নিয়ে এর পর কিক নেওয়ার চল আছে ফুটবলে। যেটি প্যারাডিনহা (সাময়িক বিরতি) নামে পরিচিত। এতে কিক নেওয়ার ভান করায় গোলরক্ষক অনেক সময় একদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সুযোগে গোলপোস্টের ফাঁকা দিকটায় মেরে বল পাঠানো হয় জালে।
আইএফএবির কাছে মনে হয়েছে, এটি গোলরক্ষকের সঙ্গে এক রকম প্রতারণা। আর তাই আগের নিয়মটি সংস্কার করে এই ভনিতা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইএফএবির সদস্য প্যাট্রিক নেলসন কাল জানিয়েছেন, ‘আমরা বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এটি পুরোপুরি অক্রীড়াসুলভ।’
কিক নিতে গিয়ে থেমে গেলে এখন থেকে হলুদ কার্ড দেখতে হবে খেলোয়াড়দের। অবশ্য দৌড়ে আসার সময় গতির পরিবর্তন করতে পারবেন খেলোয়াড়েরা। ফুটবলে আরও দুজন লাইন্সম্যান যোগ করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে আইএফএবির সভায়। তবে এখনই এটি চালু না করে আরও দুই বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চতুর্থ ম্যাচ অফিসিয়ালকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। খেলোয়াড় বদলি এবং মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নজরে রাখার দায়িত্ব ছিল চতুর্থ অফিসিয়ালের। তবে এখন থেকে তিনি মাঠের ভেতরের কোনো বিষয়েও রেফারিকে সহায়তা করতে পারবেন।

আজমলকে তাড়া করছে সেই ওভার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে তিন দিন আগে, আরও দু দিন আগে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার সেমিফাইনাল। কিন্তু অবিশ্বাস্য সেই শেষ ওভারটির স্মৃতি এখনো ভুলতে পারছেন না সাঈদ আজমল। পাকিস্তানকে হারিয়ে দেওয়া সেই ওভারটির জন্য এখনো রক্তক্ষরণ হচ্ছে এই অফ স্পিনারের হূদয়ে।
৩৯ ওভার পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল পাকিস্তান, সব গড়বড় হয়ে গেল আজমলের করা শেষ ওভারে। টুর্নামেন্টে দলের সেরা বোলার, নিয়মিতই বোলিং করছিলেন স্লগ ওভারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ম্যাচেও শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭, আজমল দিয়েছিলেন মাত্র ৫। কিন্তু সেমিফাইনালে তিন ছয়, এক চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিলেন মাইক হাসি।
সতীর্থদের সমবেদনাও সান্ত্বনা হতে পারছে না আজমলের, ‘হাসি শেষ ছয়টি মারার পর আমার হূদয় ভেঙে গিয়েছিল, এখনো ভাঙা। আমার জন্য সময়টা ছিল খুব কঠিন আর আবেগময়। সতীর্থ সবাই আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে, এসব নিয়ে ভাবতে না করেছে, কিন্তু আমি সত্যিই হতাশ। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা ম্যাচ হারলে খুব খারাপ লাগে, ব্যথাটা এখনো আছে।’
পরিকল্পনা ছিল সব বলই করবেন ইয়র্কার লেন্থে। প্রথম বলটি ইয়র্কারই হয়েছিল, মাত্র ১ নিতে পেরেছিলেন মিচেল জনসন। পরে বাতাসটা একটু বেড়ে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি, দাবি আজমলের। আগের দিন কামরান আকমল বলেছিলেন, আজমল এখনো ম্যাচ-উইনার। কাল পাকপ্যাশন ডট কমকে আজমল নিজেও জানালেন সতীর্থদের কীভাবে পাশে পেয়েছেন, ‘স্কোয়াডের সব ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচ, অন্য সবাই আমাকে বলেছে জয়ের কৃতিত্ব যেমন সবার, তেমনি হারের দায়ভারও সবার। কোনো একজনের দিকে আঙুল তোলার প্রশ্নই ওঠে না।’
আজমল এখন তাকিয়ে আছেন শ্রীলঙ্কা সফরের দিকে। এশিয়া কাপে ভালো করে ভুলতে চান এই দুঃখ।

আজ বাংলাদেশের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ

টেস্টের আগে ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানিয়ে নেওয়ার শেষ সুযোগ আজ। ইংল্যান্ড সফরে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটিতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড লায়নস। আগের ম্যাচের মতো ডার্বির এই চার দিনের ম্যাচটিতেও বাইরে থাকছেন জলবসন্তে আক্রান্ত সাকিব আল হাসান। তাঁর অনুপস্থিতিতে যথারীতি দলের নেতৃত্ব দেবেন মুশফিকুর রহিম।
সারের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি ড্র হলেও গত ম্যাচে অ্যাসেক্সের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু ২৭ মে, লর্ডসে।
ইনজুরি থেকে অনেকটাই সেরে ওঠা তামিম ইকবালকে খেলানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা কাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার টিম মিটিংয়ে। তামিম সেরে উঠতে থাকলেও ইনজুরিতে পড়েছেন শাহাদাত হোসেন। যদিও তাঁর কুঁচকির ইনজুরিটা গুরুতর কিছু নয়। টুকটাক কিছু ইনজুরি আছে আরও কয়েকজনের। একমাত্র সুখবর, ছাই মেঘকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে ইংল্যান্ড পৌঁছাতে পেরেছেন শামসুর রহমান।

অপেক্ষা ২৩ দিন

১৯৫৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে ফ্রান্স টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও সে আসরে সর্বোচ্চ ২৩ গোল করেছিল তারা। এর চেয়ে বেশি গোল পরের আর কোনো আসরেই করতে পারেনি কোনো দল। অবশ্য এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি হাঙ্গেরির, ২৭ গোল করেছিল তারা ১৯৫৪ সালে। বিশ্বকাপে জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের (২৫) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ ম্যাচ খেলেছেন ইতালির পাওলো মালদিনি।

দু দিনেই হার দেখছে বাংলাদেশ ‘এ’

প্রথম দিনে বোলারদের সাফল্যটা ব্যাটসম্যানরা কাল একেবারে ধুলোয়ই লুটিয়ে দিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষেই পরাজয় দেখছে বাংলাদেশ ‘এ’। স্বাগতিকদের ১২৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রানে এগিয়ে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’। দিনশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা লিডটাকে বাড়িয়ে করেছে ৩২২, হাতে এখনো ৮ উইকেট।
বাংলাদেশের একমাত্র বলার মতো পারফরমার সোহরাওয়ার্দী শুভ। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেটের পর কাল নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটো উইকেটই। এর আগে ব্যাট হাতে করেছেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩।
অথচ মিরপুরে কাল দিনের শুরুটা ছিল আশাজাগানিয়া। ৩ রানে শাহরিয়ার নাফীসের বিদায়ের পর আগের দিনের শেষ বিকেলটা নিরাপদে কাটিয়ে দিয়েছিলেন নাজিমউদ্দিন ও মার্শাল আইয়ুব। কাল এই দুজন ৭ ওভারে তুলেছিলেন ৩৫ রান। ৩৩ রান করা নাজিমউদ্দিনকে আউট করে ৫৩ রানের জুটি ভাঙেন শেন শিলিংফোর্ড। ড্রেসিংরুমে ফিরে অধিনায়ক দেখলেন পরের এক ঘণ্টায় কীভাবে পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেল বাংলাদেশের ইনিংস।
৩৭ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ হয়ে গেল ৮ উইকেটে ৯৪। দুই ছয় ও ১ চারে সোহরাওয়ার্দীর ২৩ রানে অন্তত ১২৫ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। উইকেট পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ বোলারের সবাই। চার উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল অফ স্পিনার শিলিংফোর্ড, দুটি লেগ স্পিনার ওডিয়াস ব্রাউন। আরেক লেগ স্পিনার ইমরান খান, নতুন বলের দুই বোলার গ্যাভিন টং ও লায়নেল বেকার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে স্মিথ-ডাওলিন উদ্বোধনী জুটিতেই রান তুলে ফেলেন ৭৫। ট্রাভিস ডাওলিনকে এলবিডব্লু করে প্রথম ব্রেক থ্রু দেওয়া সোহরাওয়ার্দী পরে আরেক ওপেনার ডেভন স্মিথকেও আউট করেছেন একইভাবে। ৫৫ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন কার্ক এডওয়ার্ডস। দুরন্ত ফর্মে থাকা ড্যারেন ব্রাভোও আছেন উইকেটে। বাইরে আছেন ব্রেন্ডন ন্যাশ, নাজিমউদ্দিনের দলের জন্য আশার খবর খুব একটা নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ২৮৫ ও দ্বিতীয় ইনিংস ৫০ ওভারে ১৬২/২ (স্মিথ ৬২, ডাওলিন ৩২, এডওয়ার্ডস ৫৫*, ব্রাভো ১০*; সোহরাওয়ার্দী ২/৬৩)।
বাংলাদেশ ‘এ’: ৪৫ ওভারে ১২৫ (নাজিমউদ্দিন ৩৩, সোহরাওয়ার্দী ২৩, আইয়ুব ২১; শিলিংফোর্ড ৪/৩০, ব্রাউন ২/২৪, বেকার ১/২৭, টং ১/৪০)।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু

ফুটবল, ক্রিকেট দুটি খেলারই জন্ম ইংল্যান্ডে বলে দাবি করা হয়। অথচ ফুটবলে তাদের বড় সাফল্যে বলতে সেই ১৯৬৬-এর বিশ্বকাপ, যেটি নিয়ে আবার বিতর্কও আছে। আর ক্রিকেটে সাফল্য ধরা দিল এই সেদিন, পল কলিংউডরা জিতল ‘খুদে’ বিশ্বকাপ। তবে কলিংউডদের হাত ধরে আশার আলো ঝলক দিয়ে উঠেছে ইংল্যান্ডে। ২০১০ সাল কি ইংলিশদের খরা ঘোচানোর বছর?
কলিংউডরা তাঁদের কাজ করেছেন। এবার ওয়েইন রুনিদের পালা। সেই ভার কাঁধে নিয়ে গতকাল ফ্যাবিও ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড পৌঁছে গেল অস্ট্রিয়ান আলপসে; নিবিড় অনুশীলন শিবিরে। ইংল্যান্ড একা নয়। স্পেন, নেদারল্যান্ডসহ মোট নয়টি দল তাদের ‘কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ করছে এই পার্বত্য অঞ্চলে। এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশ কিছু গ্রুপের খেলা পড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে। সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতেই পাহাড়-পর্বতে এই অনুশীলন।
ইংল্যান্ডের প্রাথমিক দলের ৩০ সদস্যের মধ্যে ২৪ জনকে নিয়ে ক্যাপেলো পৌঁছেছেন অস্ট্রিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ইরডনিংয়ে। কদিন আগে এফএ কাপের ফাইনাল খেলায় পোর্টসমাউথ ও চেলসির ৫ খেলোয়াড়কে বাড়তি কিছুদিন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। আর মিডফিল্ডার গ্রেথ ব্যারি গোড়ালির চোটের কারণে যাননি দলের সঙ্গে।
ইংল্যান্ড দল এখানে ২৩ মে পর্যন্ত নিবিড় অনুশীলন করার পর লন্ডনে ফিরে আসবে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২৪ মে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য। এরপর আবার তারা অস্ট্রিয়ায় ক্যাম্প করবে ২৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত। ১ জুন চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগের দিন অস্ট্রিয়ারই গ্রাজ শহরে ইংল্যান্ড প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে জাপানের বিপক্ষে।
এ তো গেল প্রস্তুতির খবর। কিন্তু প্রস্তুতি যেমনই হোক, ইংলিশ মিডিয়ায় এখন জোর তর্ক বিশ্বকাপে তাদের এক নম্বর জার্সি কে পরবেন? তর্কটা মোটেও ইংল্যান্ডের জন্য সুখকর না। আসলে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ানোর জন্য বলার মতো তেমন কোনো তারকা নেই ইংলিশদের। দলে আছেন তিন গোলরক্ষক—ওয়েস্ট হামের রবার্ট গ্রিন, পোর্টসমাউথের ডেভিড জেমস ও ম্যানচেস্টার সিটির জো হার্ট। এর মধ্যে বিশ্বকাপে দায়িত্বটা কে পাবেন?
ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি কথা বলার অধিকার নিশ্চয়ই দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার শিলটনের। সেই অধিকার থেকে নয়, বর্তমান দলের গোলরক্ষকদের পারফরম্যান্স দেখার অভিজ্ঞতা থেকে শিলটন বলছেন, রবার্ট গ্রিনেরই এক নম্বর জার্সি পাওয়া উচিত, ‘আমি রবার্ট গ্রিনের পক্ষে। কারণ, ও খুব একটা ভুল করে না। ও খুব অল্পই খেলেছে। কিন্তু সেই সময়েই ভালো কিছু সেভ করেছে এবং বেশ নিরেট হয়ে থেকেছে।’ শিলটনকে মুগ্ধ করতে পারাটা সহজ কাজ না। কিন্তু তাতে গ্রিনের নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার কিছু নেই। কারণ, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ও নিয়মিত গোলরক্ষক ডেভিড জেমস আবার ভোট পাচ্ছেন সাবেক ইংলিশ গোলরক্ষক ডেভিড সিমান ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক পিটার চেকের

পন্টিংকে পাশে পেলেন ক্লার্ক

পল কলিংউডকে নিশ্চয়ই খুব হিংসা হচ্ছে মাইকেল ক্লার্কের! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মতো ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ ইংলিশ অধিনায়কও। কিন্তু কলিংউডের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা আড়াল হয়ে গেছে দলীয় সাফল্যে, বরং অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্বের জন্য ভিজছেন প্রশংসার বৃষ্টিতে। আর ফাইনালে হারার পর প্রকাশ্যে উঠে এসেছে ক্লার্কের ব্যাটিং ব্যর্থতা। ক্লার্ক নিজেই বলেছেন, টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর জায়গা এখন আর নিশ্চিত নয়। অধিনায়কত্বের রেকর্ডটা দুর্দান্ত হওয়ার পরও তাই শঙ্কায় তাঁর নেতৃত্বও। তবে বিপদে ক্লার্ক পাচ্ছেন একটা বড় আশ্রয়, তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন খোদ রিকি পন্টিং।
‘ওর এখন বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত ১২ থেকে ১৮ মাসে আমার অনুপস্থিতিতে অনেকগুলো টি-টোয়েন্টি ও বেশ কটি ওয়ানডেতে ও দারুণ নেতৃত্ব দিয়েছে। মাইকেলকে যতবারই নেতৃত্ব দিতে দেখেছি, অসাধারণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্যই ওকে দরকার’—এই হলো ক্লার্কের নেতৃত্ব নিয়ে পন্টিংয়ের বিশ্লেষণ। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে পন্টিংয়ের উত্তরসূরি মনে করা হয় ক্লার্ককে। এই দুই দলে পন্টিংয়ের সহকারী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত বছর টি-টোয়েন্টি থেকে পন্টিংয়ের অবসরের পর শুধু টি-টোয়েন্টি দলের জন্য অধিনায়ক করা হয় ক্লার্ককে।
অধিনায়ক হিসেবে ১৫টি টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়ে একটি মাত্র পরাজয়। আফসোস, সেই একমাত্র পরাজয়টি এল ফাইনালে! আর এই এক পরাজয়ে যেন ম্লান হয়ে গেল তাঁর দুর্দান্ত রেকর্ড। অথচ এখনো জয়ের হারে (৮৯.২৮ শতাংশ) তাঁর ধারে-কাছে নেই কেউ। তবে ঝমেলাটা তাঁর ব্যাটিং নিয়ে। ৩১ ম্যাচে ২১.৮৫ গড়ে রান করেছেন ৪৩৭, এর চেয়েও বড় সমস্যা স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০১.৩৯।
এই বিশ্বকাপে যেমন ৭ ম্যাচে ৮০.৭০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৯২ রান। ওপেনিং থেকে শুরু করে ব্যাটিং করেছেন ৭ নম্বর পর্যন্ত প্রতিটি পজিশনেই, কিন্তু সাফল্যের সূত্রটা উদ্ধার করতে পারেনি।
ক্লার্ককে সরিয়ে ক্যামেরন হোয়াইটকে অধিনায়ক করার প্রস্তাব করছেন অনেকেই। অবশ্য পন্টিং অবসর নেওয়ার পর নেতৃত্বের দৌড়ে ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক হোয়াইটই ছিলেন সবার আগে। কিন্তু টেস্ট-ওয়ানডের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক বিবেচনা করে ক্লার্ককেই দেওয়া হয় নেতৃত্ব। গত এক বছরে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হোয়াইট। ২০টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৩.৭২ গড়ে ৪৮১ রান তাঁর, স্ট্রাইক রেট ১৪৮.৪৫। এই বিশ্বকাপেও ৪৫ গড়ে ১৮০ রান করেছেন, মেরেছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ছক্কা।
অস্ট্রেলিয়ায় তাই একটা দাবি উঠেছে, ক্লার্ককে সরিয়ে হোয়াইটকেও দেওয়া হোক টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব। তবে খোদ হোয়াইটই আবার এতে রাজি নন। মাত্র এক ম্যাচে ক্লার্কের ব্যর্থতা নিয়ে এত শোরগোলেরও কোনো যুক্তি তিনি দেখেন না। ‘নেতৃত্ব নিয়ে ভাবার মতো জায়গায় আমি নেই। আমি ভালো খেলছি, দলও ভালো করছে। আমি যেটা করতে পারি দলে আমার ভূমিকা ঠিকঠাক পালন করা ও সহ-অধিনায়ক হিসেবে মাইকেলকে সাহায্য করা’—বলেছেন হোয়াইট।