Friday, April 4, 2025

ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক শুল্ক থেকে বাংলাদেশ যেভাবে লাভবান হতে পারে by মো. ইমরান আহম্মেদ

বাংলাদেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩৭ শতাংশ রিটেলিয়েট (প্রতিশোধমূলক) ট্যারিফ আরোপ করেছেন। এর ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বাংলাদেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ৭৪ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করে, এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাংলাদেশের পণ্যে তার অর্ধেক, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ দিতে হয়। বলা প্রয়োজন এই ট্যারিফ বা শুল্ক দিতে হয় আমদানি ও রপ্তানিকারকদের।

নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের পণ্যে অতিরিক্ত ২২ শতাংশ ট্যারিফ প্রদান করতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির চেয়ে রপ্তানি বেশি করে, তাই এমন অবস্থায় বজায় থাকলে নিঃসন্দেহে তা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কিন্তু ট্রাম্পের এমন ট্যারিফ ঘোষণায় বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি করেছে। সেটি হলো, বাংলাদেশ যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাহলে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ট্যারিফের থেকে কম, অর্থাৎ ১০ শতাংশ ট্যারিফ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শক্ত অবস্থান করে নিতে পারবে। কারণ, ট্রাম্পের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে ট্যারিফ আরোপ করেছে।

এখন বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বিদ্যমান ট্যারিফ ৭৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে, তাহলে বাংলাদেশের পণ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশই ট্যারিফ আরোপ করবে। এতে বরং বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এখন পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, তাতে বাংলাদেশের লাভ হবে কি না? চলুন, সরলভাবে হিসাব করে দেখি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট ট্রেড রিপ্রেজেনটেটিভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য রপ্তানি ছিল ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ (৩৪.০ মিলিয়ন ডলার) কমেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি ছিল ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১ দশমিক ১ শতাংশ (৮৯.৩ মিলিয়ন ডলার) বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২ শতাংশ (১২৩.২ মিলিয়ন ডলার) বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদি আমরা ২০২৪ সালের আমদানি ও রপ্তানি ডেটাকে বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করি, তাহলে ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে বর্তমান হারে, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ ট্যারিফ ধরলে প্রায় ৩ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এখন এতে যদি বাংলাদেশ ৭৪ শতাংশ হারে ট্যারিফ নেয়, তাহলে বাংলাদেশ ট্যারিফ পাবে ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিদ্যমান হিসাবে বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার ট্যারিফ পাবে।

এখন যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ট্যারিফ কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের পণ্যে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রদান করবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ট্যারিফ প্রদান করবে শূন্য দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ট্যারিফ প্রদান করবে শূন্য দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ৬২ বিলিয়ন বা ৬২০ মিলিয়ন ডলার বেশি ট্যারিফ প্রদান করতে হবে। ফলে বর্তমান আমদানি ও রপ্তানির তথ্যের হিসাবেও বাংলাদেশকে ৮৬০ মিলিয়ন ডলার কম ট্যারিফ প্রদান করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ কমালে বাংলাদেশের আরও বেশ কিছু সুবিধা আছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেসব পণ্য বেশি আমদানি করি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য (সয়াবিন, গম, তুলা), মেশিনারি ও ইলেকট্রনিকস (জেনারেটর, মেডিকেল যন্ত্রপাতি) এবং কেমিক্যালস ও ফার্মাসিউটিক্যালস।

এখন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমালে সয়াবিন, গম ও তুলার আমদানি খরচ কমবে, ফলে সয়াবিন তেল, আটা ও তুলা বা সুতার দাম কমবে। যেহেতু এসব পণ্য বাংলাদেশের চাহিদা তুলনায় অনেক কম আমদানি করতে হয়, তাই এগুলো আমদানি বাড়ালে আমাদের কৃষি খাত ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা কম; বরং এসবের আমদানি খরচ কম হলে আমরা আরও কম দামে তৈরি পোশাক বানাতে পারব।

এ ছাড়া সয়াবিন ও আটার মতো খাদ্যপণ্যের দামও কমে আসবে। অন্যদিকে মেশিনারি ও ইলেকট্রনিকস (জেনারেটর, মেডিকেল যন্ত্রপাতি) এবং কেমিক্যালস ও ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব হবে। বর্তমানে দাম বেশি পড়ায় একটু সস্তায় পেতে এগুলোর বেশির ভাগ চীন, ভারত বা জাপানের মতো দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। এসব পণ্যে আমাদের চীন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য–ঘাটতি রয়েছে। এখন যদি একই দামে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য পাওয়া যায়, তাহলে সেটি আরও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

এ কথা সত্য যে আমি যত সরলভাবে হিসাবটি দেখিয়েছি, বাণিজ্যের হিসাব–নিকাশ একটু জটিল। তবে আপনি যেভাবে হিসাব করেন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা সেসব পণ্য আমদানি করি, তার জন্য আমাদের স্থানীয় খাত বা শিল্পকে প্রটেকশন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা এসব খাতে আমাদের চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন অনেক কম। তাই, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল নিলে ট্রাম্পের এমন প্রতিশোধমূলক ট্যারিফও আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র। আমার এই তৈরি পোশাকের কাঁচামাল তুলার অন্যতম আমদানির বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। তৈরি পোশাক খাত আমাদের অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন। কাজেই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আগেই বাংলাদেশের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যত দ্রুত করা যাবে, ততই মঙ্গল।

* মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পলিটিকস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিভাগের পিএইচডি গবেষক।
emranahmmed1991@gmail.com

 ট্রাম্পের প্রতিশোধমূলক শুল্ক থেকে বাংলাদেশ যেভাবে লাভবান হতে পারে

ইউরোপকে সুরক্ষা দিতে গড়ে ওঠা ন্যাটো কি টিকে থাকবে by শামিমা নাসরিন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী  বিপর্যস্ত, অনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত ও ক্লান্ত ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাবমুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের এদিনে গঠিত হয়েছিল সামরিক জোট ন্যাটো। সঙ্গে আটলান্টিকের ওপারে সমাজতন্ত্রের বিস্তার আটকে দিয়ে নিজেদের পুঁজিবাদী ধারণা বিস্তারের পথ প্রশস্ত করা, আর বিশ্বের একক ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার সুপ্ত বাসনাও যুক্তরাষ্ট্রের মনে ছিল। নিজের লক্ষ্যে একসময় দারুণ সফলভাবে পথচলা ন্যাটো এখন অস্তিত্বের সংকটে। প্রতিষ্ঠার ৭৬ বছর পর এসে সামরিক এই জোটকে এখন নিজেকে রক্ষার পথ খুঁজতে হচ্ছে।

আজ ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গঠিত হয় একটি সামরিক জোট। পুরো নাম নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন, সংক্ষেপে ন্যাটো। প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট বলা যায় একে।

৭৬ বছর আগে সই হওয়া ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিকে ‘ওয়াশিংটন চুক্তি’ নামেও ডাকা হয়। চুক্তিতে সই করে মোট ১২টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কানাডা, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও পর্তুগাল।

ধীরে ধীরে আরও দেশ এ জোটে শরিক হয়, বাড়তে থাকে ন্যাটোর পরিধি। বর্তমানে ৩২টি দেশ এ জোটের সদস্য। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ন্যাটোয় যোগ দেয় সুইডেন। দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষতার নীতি ছুড়ে ফেলে সুইডেন ন্যাটোয় যুক্ত হয়েছে। ন্যাটোর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। ন্যাটোর বর্তমান মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি একসময় নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

একজন ট্রাম্প ও ন্যাটোর অস্তিত্বের সংকট

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ন্যাটো সম্মেলন। এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠবে, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এর কারণ হলেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যে জুজু তাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় ন্যাটো গড়েছিল, সেই জুজুকেই এখন দুহাত বাড়িয়ে আলিঙ্গন করতে আগ্রহী ট্রাম্প। তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে বাকি অংশীজনেরা নিজেদের সামরিক ব্যয় না বাড়ালে ট্রাম্প ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে যাচ্ছেন। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ব্রাসেলসে গিয়ে বলেছেন, ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্র আগেও যেমন তৎপর ছিল, এখনো তা–ই আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কার করে বলেছেন, তিনি ন্যাটোকে সমর্থন করেন। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবে। তবে শর্ত হলো, বাকি অংশীদারদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যয় দ্বিগুণ করতে হবে।

রুবিও যতই ট্রাম্পের ন্যাটোর প্রতি সমর্থন অটুট থাকার কথা বলুন, ইউরোপ তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। ট্রাম্পের ইচ্ছার সঙ্গে ন্যাটোর স্বার্থের দ্বন্দ্ব নানামুখী। যেমন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। আধা স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ। ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এখন ট্রাম্প যদি সত্যিই গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে চান, তবে সেটা ন্যাটোর ওপর সরাসরি আঘাত হবে।

অথচ ন্যাটো গঠনের মূলমন্ত্রই হলো সম্মিলিত নিরাপত্তা। ন্যাটো চুক্তির পঞ্চম ধারায় বলা আছে, জোটভুক্ত কোনো দেশ যদি বিদেশি শক্তির আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে জোটের সব সদস্যদেশ একযোগে তা প্রতিহত করবে; অর্থাৎ সদস্যদেশগুলো সম্মিলিতভাবে একে অপরকে সুরক্ষা দেবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ

ন্যাটোর বিপরীতে একই রকম একটি সামরিক জোট গড়তে ১৯৫৫ সালে ওয়ারশ জোট গড়েছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও তার মিত্ররা। সোভিয়েত পতনের মধ্য দিয়ে এ জোটও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ওয়ারশ সামরিক জোটের বেশির ভাগ সদস্য পরে ন্যাটো জোটে যোগ দেয়। পরিধি বাড়াতে বাড়াতে ন্যাটো পৌঁছে যায় রাশিয়ার সীমান্তে।

ইউক্রেন ও বেলারুশ বাদে রাশিয়ার সীমান্তের সব কটি দেশ ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। ইউক্রেন ন্যাটোতে ঢুকতে মুখিয়ে আছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার ন্যাটোভুক্ত হওয়ার কথা বলছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্য হতে চাওয়া নিয়ে প্রবল আপত্তি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে যে আলোচনা শুরু করেছেন, সেখানে তিনি ইউরোপ ও ন্যাটোকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে গেছেন। আর শান্তি আলোচনা শুরু করার আগে পুতিনের অন্যতম শর্ত, ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে পারবে না।

বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ন্যাটো বারবার স্পষ্ট করে বলেছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। পুতিনও ন্যাটোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে আগ্রহী নন। তবে তিনি এ–ও বলেছেন, সবার আগে তিনি রাশিয়ার স্বার্থ দেখবেন এবং রাশিয়ার জাতীয় স্বার্থে সামান্যতম আঘাতও তিনি মেনে নেবেন না।

নিজেদের সীমান্তে ন্যাটোর বিস্তার নিয়ে রাশিয়া বহু বছর ধরেই আপত্তি তুলে আসছিল। এবার দেশটি সে আপত্তি জোরালোভাবে তোলার সুযোগ পেয়েছে। পুতিনকে যুদ্ধের অবসানে রাজি করাতে ন্যাটোর বিষয়ে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ইউরোপ কী ন্যাটোকে বাঁচাতে পারবে


ন্যাটো মহাসচিব রুটে বলেছেন, ‘আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর দৃঢ় মিত্র। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিশ্রুতি এসেছে একটি প্রত্যাশাকে সঙ্গে নিয়ে। সেই প্রত্যাশা হলো, ইউরোপীয় মিত্রদের এবং কানাডাকে আরও ব্যয় করতে হবে।’

কানাডা এবং ইউরোপীয় মিত্ররা ২০১৭ সাল থেকেই ব্যয় বাড়িয়েছে বলেও জানান রুটে। তিনি বলেন, ন্যাটো মিত্রদের উচিত, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে তা নিজেদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ করা।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটের সব সদস্যকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশ করার আহ্বান জানায়। জোটের বেশির ভাগ সদস্য এখন সেটা করছে। ২০২৪ সালে তাদের গড় ব্যয় ছিল গড় জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

কিন্তু ট্রাম্প এখন নতুন লক্ষ্য ঠিক করেছেন। রুবিও সে বার্তা নিয়েই ব্রাসেলসে গেছেন। রুবিও বলেছেন, জোটের প্রতিটি সদস্যকে প্রতিরক্ষা ব্যয় সর্বোচ্চ জিডিপির ৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং তা পূরণ করার চেষ্টা করতে হবে।

ট্রাম্প যে প্রত্যাশা রেখেছেন, ন্যাটোর কোনো সদস্যের পক্ষে সেটা সম্ভবত পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের রাফায়েল লস।

লস বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধের সময় ন্যাটোর কয়েকটি সদস্যদেশ ৫ শতাংশ বা তার বেশি প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে। কিন্তু সেটা ব্যতিক্রম অবস্থা ছিল, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্র নিজে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে। রাশিয়া ২০২৫ সালে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে জিডিপির ৬ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ন্যাটো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের দূরত্ব বাড়ছে। যদিও রুবিও এই টানাপোড়েনকে সংবাদমাধ্যমের সৃষ্টি বলে দাবি করছেন। তিনি বলছেন, ‘বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কিছু দেশীয় সংবাদমাধ্যমে ন্যাটো সম্পর্কে যে অতি আবেগ ও অতিরঞ্জন দেখতে পাচ্ছি, তা অযৌক্তিক।’

তবে রুবিও যতই অযৌক্তিক বলুন, ‘খ্যাপাটে’ ট্রাম্প কখন কী করে বসেন, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। ট্রাম্প তো ন্যাটোকে হুমকি দিয়ে বলেই রেখেছেন, যদি জোটের অন্য সদস্যরা নিজেদের হিস্যার চাঁদা না দেয়, তবে তিনি রাশিয়াকে ‘যা খুশি তা–ই’ করতে উৎসাহ দেবেন। ন্যাটোর জন্মের সময় কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি তাদের এ দিনও দেখতে হবে।

তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে, ন্যাটো ওয়েব সাইট, এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা

 ওয়াশিংটনে ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করে ১২টি দেশ। ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯
ওয়াশিংটনে ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে সই করে ১২টি দেশ। ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯ ছবি: ন্যাটোর ওয়েবসাইট থেকে

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলো বাংলাদেশ

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

শফিকুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো।

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মোদির হাতে যে আলোকচিত্র তুলে দিলেন ইউনূস

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আধা ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। সেখানে নরেন্দ্র মোদির হাতে একটি আলোকচিত্র তুলে দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারিতে ভারতের মুম্বাইতে ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস হয়েছিল, সেখানেই প্রথমবার ড. ইউনূসকে স্বর্ণপদকে সম্মানিত করেছিল ভারত সরকার। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসের হাতে সেই পদক তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে।

পুরস্কার নেয়ার সেই ছবি নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হলো।

এর আগে এদিন সকালে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিমসটেক নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে ইউনূসের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির দেখা হয়। নৈশভোজে একই টেবিলে তারা পাশাপাশি বসেন।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকক পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস। ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

mzamin

mzamin
বৈঠকের আগে করমর্দন করছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে।

পঁচিশ ক্যাডার বনাম এক ক্যাডার: সরকার কোন পক্ষে by তুহিন ওয়াদুদ

একই বিসিএসের মাধ্যমে যোগদান করে প্রশাসন ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তা সিনিয়র সচিব কিংবা মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন; আর কেউ তাঁদের চেয়ে পাঁচ-ছয় ধাপ নিচের পদ থেকে অবসরে যান। কোনো ক্যাডার কর্মকর্তারা সরকারি গাড়ি-বাড়ি-চালক সুবিধা পান; আর কেউ অফিস চালানোর ন্যূনতম আবর্তন ব্যয়টুকুও পান না, নিজের টাকায় অফিস চালান। কেউ গাড়ি কেনার ব্যাপক সুবিধা পান, কেউ পান না।

অতীতে যে ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের যত বেশি ক্ষতি করেছেন, তাঁরাই সুবিধাও পেয়েছেন তত বেশি। যাঁরা ক্ষতি করেননি, তাঁদের কোনো সুবিধাও নেই। বর্তমানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে মোট ক্যাডারের সংখ্যা ২৬। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্যান্য ক্যাডারের বৈষম্যের চিত্র চূড়ান্ত পর্যায়ের। এই বৈষম্য থেকে সৃষ্ট বিরোধ চরমে পৌঁছেছে।

ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তার মধ্যকার বৈষম্য দূর করার জন্য ২৫ ক্যাডারের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ‘আন্তক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’। এই সংগঠনের স্লোগান ‘ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার’। নিজেদের দাবি আদায়ে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করেছেন। এ পরিষদের আয়োজনে ‘জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রত্যাশিত সিভিল সার্ভিস’ শীর্ষক একটি সেমিনার ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। আমাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সেমিনারে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পরিষদের সমন্বয়ক ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান।

সেমিনারে লিখিত বক্তব্যে সমস্যার কথা যেমন তুলে ধরা হয়েছে তেমনি সমাধানের পথও দেখানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব ক্যাডারের পদোন্নতি প্রশাসন ক্যাডারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিজেদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেন। অন্যেরগুলোর সঙ্গে সমতা বিধান করেন না। সমস্যা নিরসনে পিএসসির অধীনে পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণের দাবি তোলা হয়েছে। প্রশাসনসহ সব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পিএসসি দেবে।

উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের যেকোনো কাজ প্রশাসন ক্যাডারের অধীনে থাকায় সেই কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে ও অন্তঃকোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। সে জন্য প্রশাসন ক্যাডারের অধীনতা থেকে এসব কাজ মুক্ত করার দাবি জানানো হয়। মন্ত্রীদের খুব কাছে থাকার সুবাদে চাকরির অনেক সুবিধা কেবল প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পান বলেও উল্লেখ করা হয়। সব ক্যাডারের জন্য সমসংখ্যক পদসোপান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যাতে একই সময়ে একই বিসিএসের সবার পদোন্নতি নিশ্চিত করা যায়।

উল্লিখিত সেমিনারপত্রে ওই সময়ের প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পুলিশ ও পশু সম্পদ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির তুলনামূলক একটি চিত্র হাজির করা হয়েছে। সেমিনারপত্র অনুযায়ী, ওই সময়ে Ñপ্রশাসন ক্যাডারে মোট কর্মকর্তা ৭ হাজার ৭৬ জনের মধ্যে ১০৪ জন ছিলেন প্রথম গ্রেডে, ৪৬১ জন ছিলেন দ্বিতীয় গ্রেডে, ৮৫১ জন তৃতীয় গ্রেডে। এ ছাড়া কয়েকজন সিনিয়র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদের সচিব ছিলেন।

পুলিশের ৩ হাজার ১০০ কর্মকর্তার মধ্যে প্রথম গ্রেডে ছিলেন ২ জন, দ্বিতীয় গ্রেডে ছিলেন ৮, তৃতীয় গ্রেডে ছিলেন ১৩৫ জন। কৃষি ক্যাডারের ৩ হাজার ২০০ জনের মধ্যে প্রথম গ্রেডে কেউ নেই, দ্বিতীয় গ্রেডে ছিলেন ৫, তৃতীয় গ্রেডে ছিলেন ৪৯ জন। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ১৫ হাজার ৫০০ জন। তাঁদের মধ্যে একজনও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডে নেই। স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৩২ হাজার জনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডে একজনও নেই। তৃতীয় গ্রেডে ছিলেন ৬৫৭ জন। পশু সম্পদ ক্যাডারে ২ হাজার ৯৩ জনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেডে কেউ নেই। তৃতীয় গ্রেডে ছিলেন ৩৩ জন। ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি, বরং বৈষম্য আরও বেড়েছে বলে মনে হয়।

শিক্ষা ক্যাডারের সাড়ে ১৫ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে একজনও প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় গ্রেডে নেই। অবিশ্বাস্য বৈষম্য! কেন চতুর্থ গ্রেডের ওপরে কেউ নেই—এর কোনো সদুত্তর আছে কি? তাঁরা এক নম্বর গ্রেডে গেলে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর কি ভীষণ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে? বরং চার নম্বর গ্রেডে গিয়ে থেমে যাওয়ার কারণে তাঁরা মানসিকভাবে আহত হচ্ছেন। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার ওপর সৃষ্ট বিরক্তি হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে। যার প্রভাব পড়ছে পাঠদানে।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রায় সবাই পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় গ্রেডে উন্নীত হবেন। প্রথম গ্রেডেও যাবেন অনেকে। কেবল তা–ই নয়, সুপার গ্রেডে সিনিয়র সচিব মন্ত্রিপরিষদ সচিব হবেন অনেকেই। সিনিয়র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব—দুটি গ্রেড এক নম্বর গ্রেডেরও ওপরে। স্পেশাল গ্রেডের পদ। আপাতদৃষ্টে বেতন স্কেলে ২০টি ধাপ মনে করা হলেও প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ২২টি। ওপরের দুটি সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না, এতটাই ওপরে তাঁরা।

আনুপাতিক হারে চিকিৎসকদের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ দিলে কি স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম সর্বনাশ হতো? চিকিৎসকেরা প্রথম–দ্বিতীয় গ্রেডে গেলে কি তাঁদের সেবার মান খারাপ হয়ে যেত? অন্য যেকোনো ক্যাডারের চেয়ে একাডেমিক অনেক বেশি যোগ্যতা নিয়েও কেন তাঁরা ওই দুই গ্রেডে যেতে পারবেন না, এ প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। স্বাস্থ্য ক্যাডারের অনেক পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে সেগুলোয় পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো বিভাগে গত ছয় বছরে একবারও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, বৈষম্য দূর হবে। বাস্তবে সেই বৈষম্য আরও বাড়ছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মাসখানেকের মধ্যে একেকজন কর্মকর্তা কয়েকবার পদোন্নতিও নিয়েছেন। মৃত কর্মকর্তাদেরও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নেই।

এখন বিসিএসের ব্যাচ ধরেই পদোন্নতি হয়েছে ও হচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারেও সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এর ভিন্নতা হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বৈষম্য সৃষ্টিতে নতুন নজির স্থাপিত হবে। বৈষম্য দূরীকরণের চেষ্টায় যেন নতুন বৈষম্য সৃষ্টি না হয়। স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা কতটা দুর্ভাগা যে তাঁদের পদোন্নতির জন্য কর্মবিরতি পালনের মতো কর্মসূচিও দিতে হচ্ছে।

পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুজন ছাড়া কেন অন্যরা এক নম্বর গ্রেডে যেতে পারছেন না? এক নম্বর গ্রেডে বেশিসংখ্যক গেলে কি তাঁরা আইনশৃঙ্খলার সামাল দিতে পারবেন না? সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় পুলিশসহ অন্যান্য ক্যাডারের কেউ কেন হতে পারবেন না? কৃষি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কেউ কেন এক নম্বর গ্রেডে যেতে পারবেন না? পশু সম্পদ ক্যাডারের কর্মকর্তা তো তৃতীয় গ্রেডে চাকরির ইতি টানতে হয়। কেন এত বৈষম্য, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

কেবল উল্লিখিত কয়েকটি ক্যাডার নয়, দুজন পুলিশ এবং প্রশাসন ছাড়া অন্য সব ক্যাডারের কর্মকর্তাদের এক নম্বরে রাখা হয়নি কী কারণে? প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সবার ভাগ্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে কি তাঁদের সবার ওপরের আসনে বসে থাকতে হবে? এখানে একটি বিষয় বলে রাখা ভালো, পদোন্নতির সঙ্গে খুব বেশি আর্থিক লাভালাভ থাকে না। এর কারণ, বার্ষিক বৃদ্ধিতে বেতন এমনতিই স্কেলের উচ্চতায় চলে যায়।

একই সঙ্গে একই প্রশ্নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তারা চাকরিতে যোগদান করেন। কেবল তা–ই নয়, চাকরি স্থায়ীকরণ ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষাও হয় একই প্রশ্নে। এখানে মেধার প্রশ্ন নয়। সবাই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রতিযোগিতা করে এসেছেন। কেউ যদি বিশেষ সুবিধা পান, তাহলে তা হওয়া উচিত বিশেষায়িত বিষয়ের ক্যাডার কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, কৃষি কিংবা পশু সম্পদ।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নাকি বেশি মেধাবী, তাই তাঁদের বেশি সুবিধা পাওয়া উচিত—এমন একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন আদালত। ওই বিচারক হয়তো জানেন না, সম্মিলিত মেধার পেছনে থাকা কতজন প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করেন। ‘জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রত্যাশিত সিভিল সার্ভিস’ শীর্ষক সেমিনারপত্রে দেখানো হয়েছে, ২৫তম বিসিএস পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধার দিক থেকে শেষ ৫০ জনের মধ্যে ৩০ জন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়েছেন।

বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাঁরা চাকরিতে যোগদান করেন, তাঁরা প্রত্যেকে সেবকমাত্র। এসব সেবকের মধ্যে একটি ক্যাডারের নামকরণ যখন হয়, প্রশাসন তখন আর সেবকচরিত্রে তাঁদের মধ্যে থাকে না। এ জন্য এই ক্যাডারের নামও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আন্তক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণ এখন দেশের স্বার্থে জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিশেষ একটি ক্যাডারের প্রতি অন্তর্বতী সরকারের যে বিশেষ দরদ, তা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। অথচ বিগত দিনগুলোতে জনস্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনা নেই।

ভোটের অধিকার থেকে অনেক অধিকার ক্ষুণ্ন করার ক্ষেত্রে এই ক্যাডার সর্বাগ্রে ছিল। ভবিষ্যতে যাতে কোনো রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ করে দেশকে নিলামে তুলতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষেই সহজেই সম্ভব এই বৈষম্যমূলক পদ্ধতির মূলোৎপাটন করা। বৈষম্যবিরোধী সরকারের হাত ধরে আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর হোক। এটি বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের যুগ যুগ ধরে চলে আসা জটিলতা দূর করবে। ২৫টি ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি আমলে নেওয়া হোক। দেশটা আমাদের সবার। এমনও আছে, পরিবারের একেকজন একেক ক্যাডারের কর্মকর্তা। আমরা চাই, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় দেশ এগিয়ে যাক।

* তুহিন ওয়াদুদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং নদী রক্ষাবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপলের পরিচালক

পঁচিশ ক্যাডার বনাম এক ক্যাডার: সরকার কোন পক্ষে

ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি অগ্রহণযোগ্য, কড়া বার্তা দিল রাশিয়া

মিত্র রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া।

একই সঙ্গে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই হুঁশিয়ারি দেন। খবর রয়টার্স।

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করবে। এই ধরনের হুমকি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে কোনো চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। তার এই বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে এবং ভারত মহাসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক জ্বালানি ও গবেষণার জন্য।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তেহরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির অধিকারে শ্রদ্ধা জানায়।

মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার লঙ্ঘন। এ ধরনের হামলা অনিবার্যভাবে ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভও মার্কিন হুমকির নিন্দা জানিয়েছেন। লাইফ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, যদি পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা হয়, তাহলে এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। তবে এই চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার শর্ত নেই। অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ আক্রান্ত হয়, তাহলে অন্য পক্ষ সরাসরি আক্রমণকারীকে প্রতিহত করবে না। তবে সামরিক ও কৌশলগত বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। রাশিয়া একদিকে ইরানের সমর্থন নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের চাপ মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত

গাজায় অবিরাম হামলা নিহত আরও ৬২

গাজায় চলমান ইসরাইলি তাণ্ডব। একের পর এক হামলায় প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৬২ জন। এদিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিশর ও কাতার থেকে দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আটকে দেয়ার অভিযোগ এনেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের পশ্চিমে অবস্থিত আল মাওসি এলাকার বাস্তুচ্যুত মানুষরাও ইসরাইলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে আছেন। ১৮ই মার্চ থেকে গাজায় পুনরায় হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এতে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ফিলিস্তিনি। এদিকে অবিস্ফোরিত বোমায় সয়লাব হয়ে আছে গাজা। যা অপসারণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাবে। ফিলিস্তিনে অভিযান পরিচালনার পর বৃটেনের সেনাবাহিনীতে মাইন নিষ্ক্রিয়করণ বিষয়ক সাবেক কর্মকর্তা নিকোলাস অর বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের কারণে আমরা প্রতিদিন গাজায় দুজনকে হারাচ্ছি। দাতব্য প্রতিষ্ঠান হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনালের জন্য গাজায় অবস্থান করেন অর। তিনি বলেন, হতাহতের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। অর আরও বলেন, অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের হুমকি থেকে কেউ নিরাপদ নয়। শিশুরা  বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। বলেন, আপনি একটি বিস্ফোরক তোলা মাত্রই তা বিস্ফোরিত হবে এবং নিমিষেই আপনি, আপনার পরিবার ও আপনার ভবন শেষ হয়ে যাবে। এদিকে  লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের শহর নাকৌরাতে হামলা জোরদার করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক উপ-প্রধান জয়েস মসুয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, সাহায্য কর্মীদের জন্য গাজা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। ইসরাইল উপত্যকাটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে  সেখানে কমপক্ষে ৪০৮ জন সাহায্য কর্মী নিহত হয়েছেন। এদিকে হাঙ্গেরি সরকারের আমন্ত্রণে দেশটিতে পৌঁছেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি যাতে নির্বিঘ্নে হাঙ্গেরি সফর করতে পারেন  এ কারণে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) থেকে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করেছে হাঙ্গেরি। কারণ নেতানিয়াহুর ওপর আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে। এতে করে আইসিসিভুক্ত কোনো দেশে ভ্রমণ করলেই তার গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইয়েমেনে একজন নিহত হয়েছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের দেয়া পাল্টা প্রস্তাবে হামাস রাজি হবে না বলে জানিয়েছে স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি।
mzamin

ইরানে হামলা চালালে অন্যরকম এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে এবারকার যুদ্ধ হবে অন্যরকম। এতদিন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কার্যত ছিল নিঃসঙ্গ। কিন্তু সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতা পেয়েছে। ফলে ইরানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোমর কষে নামলেও আগের মতো সায় পাচ্ছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।  সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর অর্থ এসব দেশের বিমানঘাঁটি বা আকাশপথকে ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে গাজায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মদতে সরাসরি হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।

মুসলিম দেশগুলো এ যুদ্ধ নিয়ে একটি একক অবস্থানে আসতে না পারলেও ইরান ইস্যুতে দৃশ্যত একত্রিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তাদের ভূখণ্ডকে ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহার করতে দেবেন না। এর অধীনে আছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানে জ¦ালানি নেয়া ও উদ্ধার অভিযান। যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিডলইস্ট আই। মার্কিন বাহিনীর স্পর্শকাতর সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার এখতিয়ার নেই তার। এ জন্য তিনি নাম প্রকাশ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে সেখানে বোমা হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণায় সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। তারা বলেছে, যদি ইরান আক্রান্ত হয় তাহলে তারা পারমাণবিক বোমা বানাবে। তা দিয়েই উচিত জবাব দেবে শত্রুকে। ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। ইরানে হামলা চালানোর জন্য পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন স্থানে। মোতায়েন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজও। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে। যেকোনো সময় তা থেকে ভয়াবহ আরেক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। ইরান বুঝতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেলসমৃদ্ধ আরব বন্ধুরা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পক্ষে নেই। ফলে এবার এ নিয়ে কঠোর দরকষাকষি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে ইরানের প্রতি বেশ বড় রকমের সমর্থন আছে উপসাগরীয় দেশগুলোর। এ জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যদিয়ে তারা তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্চে আমিরাত ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারই ধারাবাহিকতায় কাতার ও সৌদি আরবের কাছে দীর্ঘদিন অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত বন্ধ থাকার পর তা অনুমোদন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন কেনার অনুমোদন পায় দোহা। রিয়াদ নিশ্চিত করে ওয়েপন সিস্টেম। ওদিকে ইরানে ট্রাম্পের হামলা চালানোর ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধজাহাজ ও কার্গোকে জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। এক্সে যে ফ্লাইট ডাটা সরবরাহ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, আগের চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিয়েগো গারসিয়াতে বি-২ বোমারু বিমানের সমাবেশ ঘটিয়েছে। এমনটা এটাই প্রথম নয়। ১৯৯০-এর দশকে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে বোমা হামলা করে।

ওদিকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তখন থেকেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ইসরাইলে হামলার জবাবে তাদের তেল বিষয়ক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্র।

mzamin

বিশ্ব নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অন্যান্য দেশ মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের বিপরীতে রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্কের একটি ধারা চালু করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সকল পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন ট্যারিফ এবং দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক আরোপ করার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে শুল্ক বিভিন্ন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে শতকরা ৩৭ ভাগ। এর মধ্যদিয়ে ট্রাম্প ইচ্ছে পূরণের সবচেয়ে বড় জুয়া খেলছেন। অনলাইন বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশক ধরে রাজনীতির ধরন পাল্টে দিয়েছেন ট্রাম্প। এ জন্য ১৯৮০’র দশক থেকে ধারাবাহিকভাবে একটি কাজ করে এসেছেন ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে শুল্ককে বানিয়েছেন হাতিয়ার। এখন তিনি সেই টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে নিজের প্রেসিডেন্সিকে বাজি রেখেছেন। তার এই কর্মকাণ্ডে বিশ্বনেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, এর ফলে ইউরোপের সঙ্গে ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ বলে উল্লেখ করেছেন। লক্ষ্য করার বিষয় হলো তিনি চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। তবে এ থেকে রেহাই পেয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং জাপানের ওপর যথাক্রমে ২০ এবং ২৪ শতাংশ শুল্ক দেয়া হয়েছে। আর ভারতকে আমদানি শুল্ক দিতে হবে ২৬ শতাংশ। এদিকে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংসের ওপর ট্রাম্পের কঠোর বাধা-নিষেধের সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে অন্যায় উল্লেখ করে আলবানিজ বলেছেন, এই অন্যায় পদক্ষেপের জন্য আমেরিকান জনগণকে আরও চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্পের অযৌক্তিক শুল্কের জন্য সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে আমেরিকার জনগণকে। এ কারণেই আমাদের সরকার রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ আরোপ করবে না। আমরা এমন কোনো প্রতিযোগিতায় যোগ দেবো না যা উচ্চমূল্য এবং ধীর প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে।

ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বলেছেন, বিশ্ববাণিজ্য এই ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের তুলনায় কানাডার জন্য ট্রাম্পের শুল্ক কিছুটা সীমিত ছিল। কিন্তু কার্নি বলেছেন- অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং গাড়ির ওপর মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখ লাখ কানাডিয়ান। পাল্টা ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। কিছুটা নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। বলেছেন, কারওই বাণিজ্যযুদ্ধের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। পার্লামেন্টের বক্তব্যে স্টারমার আরও বলেন, আমরা সকল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা কোনো কিছুকেই উড়িয়ে দিচ্ছি না। বাণিজ্যযুদ্ধের বিষয়ে সতর্ক করে জার্মানি জানিয়েছে, এই বাণিজ্যযুদ্ধ উভয় পক্ষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। নিজ দেশের কোম্পানি এবং কর্মীদের রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার দেশ কোম্পানি এবং কর্মীদের রক্ষা করবে এবং একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। বাণিজ্যে কোনোরকম বাধা চায় না সুইডেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসন উল্লেখ করেছেন যে, তার দেশ বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান কোনো বাধা চায় না। তিনি বলেছেন, আমরা বাণিজ্যযুদ্ধ চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও সহযোগিতার পথে ফিরে যেতে চাই। যেন এ দেশের মানুষ আরও ভালো জীবন উপভোগ করতে পারে।

আইরিশ বাণিজ্যমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেছেন, আয়ারল্যান্ড এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পেতে প্রস্তুত। আলোচনা এবং সংলাপ সর্বদাই এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম উপায় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও বলেছেন, পশ্চিমাদের দুর্বল করে দেবে এমন বাণিজ্যযুদ্ধ এড়াতে নতুন চুক্তি অনুসন্ধান করবে তার দেশ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জর্জিয়া। তিনি বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে কাজ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। যার লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানো। ফ্রান্স সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, এপ্রিলের মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ২৭ দেশের এই ব্লকের প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করা। এরপর খাত-ভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া। এদিকে বুধবার ট্রাম্পের আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের বিরুদ্ধে একটি আইন পাস করেছে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে গত সপ্তাহে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছিলেন, তার দেশ শুল্কের মুখে স্থির থাকতে পারবে না।

ইচ্ছে পূরণে সবচেয়ে বড় জুয়া: হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বন্ধু, কনজারভেটিভ রাজনীতিক ও মন্ত্রীদের পরিবেষ্টিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ দিনকে বর্ণনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এই দিনের জন্য অপেক্ষা করছে দীর্ঘদিন ধরে। বিবিসি লিখেছে, অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের  দেয়া বক্তৃতার অর্ধেক ছিল উদ্‌যাপন, বাকি অর্ধেক ছিল আত্মপ্রশংসা। নিয়মিত বিরতিতে চলছিল হাততালি। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় শুল্ক নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নাফটার মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নিয়ে নিজের শুরুর দিকের সমালোচনার কথা স্মরণ করেন। প্রেসিডেন্ট মানছেন, নতুন শুল্ক ঘোষণার কারণে আগামী দিনে তাকে ‘বিশ্ববাদী’ আর ‘বিশেষ স্বার্থবাদীদের’ চাপের মুখে পড়তে হবে। তবে তিনি নিজের বিশ্বাসের ওপর আমেরিকানদের ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কথায়, ভুলে গেলে চলবে না, গত ৩০ বছর ধরে বাণিজ্য নিয়ে আমাদের বিরোধীরা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, তার প্রত্যেকটিই সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পকে যেমন সমমনা উপদেষ্টারা ঘিরে রেখেছেন, তেমনি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণও রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাতে। এ অবস্থায় বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে নতুন আমেরিকা গড়ার দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে পরিণত করার সুযোগ ট্রাম্পের সামনে এসেছে। তার ভাষ্য, এসব নীতিই যুক্তরাষ্ট্রকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে একটি সম্পদশালী দেশে পরিণত করেছিল এবং আবারো করবে। ট্রাম্প বলেন, কঠোর পরিশ্রমী মার্কিনিরা বছরের পর বছর ধরে দর্শকসারিতে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে; কারণ অন্যান্য দেশ ধনী ও শক্তিশালী হয়েছে, যার বেশির ভাগ খরচ গুনতে হয়েছে আমাদের। বিবিসি লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি অপেক্ষা করছে। সব দেশের অর্থনীতিবিদরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, চীনের ওপর ৫৩ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২০ শতাংশ এবং সব দেশের ওপর অন্তত ১০ শতাংশের যে শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে, তা আখেরে আমেরিকান ভোক্তাদেরই ভোগাবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দারও ঝুঁকি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কেন রগফ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মন্দায় পড়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ  বেড়ে গেছে।

mzamin

ট্রাম্পের বড় জুয়া

নিজের মতো করে যুক্তরাষ্ট্রকে সাজাতে চান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সেটা করতে গিয়ে তিনি নিজের সঙ্গেই সবচেয়ে বড় জুয়া খেলছেন। কয়েক দশক ধরে তিনি এই নীতিতে কাজ করছেন। বিশেষ করে ১৯৮০’র দশক থেকে ধারাবাহিকভাবে তিনি নিজের মতো করে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব ব্যবস্থাকে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মনে করেন মার্কিন অর্থনীতিকে যদি চাঙ্গা করতে চান তাহলে তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শুল্ক। সেই শুল্ক আরোপ করে তিনি বাকি বিশ্বকে কার্যত একপেশে করে ফেলতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, তিনি এক্ষেত্রে নিজের বিরুদ্ধে নিজেই জুয়া খেলছেন। এটা করতে গিয়ে তিনি নিজের প্রেসিডেন্সিকে বাজি রাখছেন। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ২টার পর  হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্বের শতাধিক দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তালিকায় মিত্র দেশ  যেমন রয়েছে, তেমনই প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিপক্ষ দেশকেও রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। 

হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে বন্ধু, কনজারভেটিভ রাজনীতিক ও মন্ত্রীদের পরিবেষ্টিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ওই দিনকে বর্ণনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এই দিনের জন্য অপেক্ষা করেছে দীর্ঘদিন ধরে। বিবিসি লিখেছে, অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের দেয়া বক্তৃতার অর্ধেক ছিল উদ্‌যাপন, বাকি অর্ধেক ছিল আত্মপ্রশংসা। নিয়মিত বিরতিতে চলছিল হাততালি। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় শুল্ক নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি নাফটার মতো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা নিয়ে নিজের শুরুর দিকের সমালোচনার কথা স্মরণ করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মানেন যে, নতুন শুল্ক ঘোষণার কারণে আগামী দিনে তাকে ‘বিশ্ববাদী’ আর ‘বিশেষ স্বার্থবাদীদের’ চাপের মুখে পড়তে হবে। তবে তিনি নিজের বিশ্বাসের ওপর আমেরিকানদের ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার কথায়, ভুলে গেলে চলবে না, গত ৩০ বছর ধরে বাণিজ্য নিয়ে আমাদের বিরোধীরা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, তার প্রত্যেকটিই সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পকে যেমন সমমনা উপদেষ্টারা ঘিরে  রেখেছেন, তেমনি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণও রয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির হাতে। এ অবস্থায় বাণিজ্য নীতির মাধ্যমে নতুন আমেরিকা গড়ার দীর্ঘদিনের দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে পরিণত করার সুযোগ ট্রাম্পের সামনে এসেছে। তার ভাষ্য, এসব নীতিই যুক্তরাষ্ট্রকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে একটি সম্পদশালী দেশে পরিণত করেছিল এবং আবারো করবে।

ট্রাম্প বলেন, কঠোর পরিশ্রমী মার্কিনিরা বছরের পর বছর ধরে দর্শকসারিতে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে; কারণ অন্যান্য  দেশ ধনী ও শক্তিশালী হয়েছে, যার বেশির ভাগ খরচ গুনতে হয়েছে আমাদের। আজকের পদক্ষেপের মাধ্যমে অবশেষে আমরা আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে চলেছি; অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মহান। বিবিসি লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি অপেক্ষা করছে। সব দেশের অর্থনীতিবিদরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, চীনের ওপর ৫৩ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২০ শতাংশ এবং সব দেশের ওপর অন্তত ১০ শতাংশের যে শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে, তা আখেরে আমেরিকান ভোক্তাদেরই  ভোগাবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, সেই সঙ্গে বৈশ্বিক মন্দারও ঝুঁকি  তৈরি করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কেন রগফ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মন্দায় পড়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তিনি (ট্রাম্প) বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি পারমাণবিক বোমা ছুড়েছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ওপর এই স্তরের কর আরোপের সিদ্ধান্ত হবে বিস্ময়কর। ট্রাম্পের পদক্ষেপে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ বৃদ্ধির যেমন আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই যেসব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টায় রয়েছে আমেরিকা- এমন মিত্রদেরও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। যেমন চীনের সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষাকবচ হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সম্প্রতি ওই তিন দেশ ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির জবাব দিতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে। বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প যদি সফল হন, তবে তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার  মৌলিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলবেন, যা গড়ে তুলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন নীতি আমেরিকান উৎপাদন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করবে, রাজস্বের নতুন উৎস তৈরি করবে এবং আমেরিকাকে আরও স্বাবলম্বী করবে। কোভিড মহামারিতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে  যে ধরনের সংকটে পড়তে হয়েছে,  তেমন পরিস্থিতি থেকেও রক্ষা করবে। বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘ পরিকল্পনা অনেকের কাছে ‘অত্যন্ত অবাস্তব’  ঠেকতে পারে। কিন্তু যুদ্ধের অবসান,  ভৌগোলিক অবস্থানের নতুন নামকরণ, নতুন অঞ্চল অধিগ্রহণ বা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প বিলোপ ও জনবল কমানোর মাধ্যমে যে প্রেসিডেন্ট তার উত্তরাধিকারকে শক্তিশালী করতে চান, তার জন্য এটাই হতে পারে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ফলপ্রসূ পুরস্কার। নিজের ভঙ্গিতেই তিনি বলেছেন, এটা হবে আমেরিকার ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’। বুধবারের ঘোষণার মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, ট্রাম্প যদি নতুন নীতি অনুসরণ করেন, তাহলে ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রায় অবশ্যম্ভাবী। এখন যে প্রশ্নটি সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো- এই পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে ট্রাম্প কি ইতিহাসের পাতায় সুখ্যাতি অর্জন করতে পারবেন, না কুখ্যাতি?

ট্রাম্পের ভাষণ ছিল বিজয়োল্লাসে পূর্ণ। তার এ পদক্ষেপের ফলে আমেরিকান অর্থনীতি এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে  যে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা ভাষণে ছিল অনুপস্থিত। অবশ্য তিনি বলেছেন, যা তিনি করতে চান, সেজন্য এটুকু ঝুঁকি নেয়াই যায়। আর তাতেই বক্তব্যের একেবারে শেষে, তার সাহসী চেহারার মাঝে ছোট্ট একটি সন্দেহের ছায়া যেন উঁকি দিচ্ছিল। ট্রাম্প বলেন, এটা হতে চলেছে এমন এক দিন, যেদিনের কথা আপনারা ভবিষ্যতে স্মরণ করবেন। তখন আপনারা বলবেন, ‘তিনি ঠিকই করেছিলেন’।

mzamin

বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘতম উপকূল রেখা আমাদের

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ‘ভূমিবেষ্টিত’ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে ভারতে। থাইল্যান্ডে চলমান বে-অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে ড. ইউনূসের কথার সূত্র ধরে বিমসটেকে ভারতের কৌশলগত ভূমিকার কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি ৬৫০০ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং বিমসটেকের ৫টি সদস্য দেশের সঙ্গে ভৌগোলিক সংযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ভাষণে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ উপলক্ষে জয়শঙ্করের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেছেন, সর্বোপরি বঙ্গোপসাগরে আমাদের প্রায় ৬৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা আছে। ভারত শুধু ৫টি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই তার সীমান্ত ভাগাভাগি করে এমন নয়,  একই সঙ্গে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং আসিয়ানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। বিশেষ করে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলটি বিমসটেকের জন্য একটি সংযোগকেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এখানে সড়ক, রেলপথ, জলপথ, গ্রিড এবং পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বিমসটেকের ২৮তম বার্ষিকীতে এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছি আমরা। বর্তমানে আমরা অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং এক অস্থির সময়ে, যখন বিশ্বব্যবস্থা নিজে থেকেই পরিবর্তনের মুখে। এটা আমাদেরকে বিমসটেককে আরও উচ্চাভিলাসী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেবে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের আশপাশে এবং তার কাছাকাছি দেশগুলোর একটি অভিন্ন স্বার্থ ও উদ্বেগ রয়েছে। এর কিছু অংশ এসেছে আমাদের ইতিহাস থেকে। ফলে এ অঞ্চলের মঙ্গলের জন্য অন্য অগ্রাধিকারগুলোর চেয়েও বড়। এর ফল এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিমসটেক সদস্যদের মধ্যে সংযুক্তি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ বা সেবাখাত যেটাই হোক না কেন, আমরা এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রকৃত সম্ভাবনার চেয়ে কম কাজ করছি। যদি সেটা পরিবর্তন করতে চাই আমরা তাহলে অতীত এবং ভবিষ্যৎ উভয়ই আমাদের বন্ধু। একটি হলো ঐতিহ্য, নীতি এবং অভ্যাস, যা এখন সমসাময়িক হতে পারে। অন্যটি হতে পারে নতুন হাতিয়ার এবং একেবারে নতুন সম্ভাবনা। উল্লেখ্য, চারদিনের চীন সফরের সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূমিবেষ্টিত। তাদের ‘সমুদ্রে যাওয়ার কোনো পথ নেই’।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তিনি তাদের সমুদ্রের সুযোগ পাওয়ার প্রাথমিক গেটওয়ে বলে মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর জন্য বেইজিংকে উৎসাহিত করেন। বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ হলো সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক। তার এ বক্তব্যের ফলে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ভারতে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, আমরা এ বিষয়ে সচেতন যে, আমাদের পণ্য, পরিষেবা এবং এই বৃহৎ ভৌগোলিক ক্ষেত্রের জনগণের জন্য তা প্রবাহ করার জন্য সহযোগিতা ও সুবিধা প্রধান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা গত দশকে বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি ও মনোযোগ নিবেদন করেছি। আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, সহযোগিতা হলো একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। এটা চেরি তোলার মতো সময় নয়। ওদিকে ড. ইউনূসের বক্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্বশর্মা। তিনি একে আক্রমণাত্মক এবং নিন্দনীয় বলে অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে এমন উস্কানিমূলক বিবৃতিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, ড. ইউনূসের এমন মন্তব্য চিকেন নেক করিডোর নিয়ে আলোচনাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কৌশলগত দাবার ঘুঁটি হিসেবে দেখছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এমন অভিযোগ করেছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিং।

mzamin

দুঃসংবাদ by এম এম মাসুদ ও সিদ্দিকুর রহমান

বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘোষণা দেশের জন্য রপ্তানি আয়, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের দুঃসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক, অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা। তাদের মতে, এতে শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের জন্য এটি বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। দেশ নতুন করে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য উদ্বেগজনক। এতে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশি পোশাকের দাম বাড়বে এবং দেশটির বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ক্রেতারা বিকল্প দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন, ফলে রপ্তানি আদেশ হ্রাস পেতে পারে, যা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে গেলে বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মারাত্মকভাবে আঘাত হানবে কারণ নতুন করের হার বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা সব আইটেমের জন্য ইমপ্লিকেবল হবে। নতুন করের হারে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে। ফলস্বরূপ, আমেরিকান ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তারা ভোক্তাদের আইটেমগুলোর জন্য কম ব্যয় করবে। অন্যদিকে, নতুন শুল্কের হার মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। ফলে বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই প্রভাব পড়বে আমেরিকার অর্থনীতিতে চাহিদা কমার কারণে। ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপরে যেসব কারণে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে, সেগুলো দূর করে এ শুল্ক কমিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে পারলে নেতিবাচক প্রভাব থেকে বের হয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। তিনি পরামর্শ দেন, বাংলাদেশকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে যে, পরোক্ষ শুল্ক হিসাবের ভিত্তিগুলো যথাযথ কিনা। পাশাপাশি, সরকার ইতিমধ্যে যে সংস্কারগুলো করেছে, সেগুলো তুলে ধরা জরুরি। জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এক্সপোর্ট সাবসিডি কমিয়েছে এবং সরকার সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপন করা উচিত সরকারের পাশাপাশি রপ্তানিকারকদেরও সম্মিলিতভাবে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এনিয়ে তিনি বলেন, এই বাড়তি শুল্ক সরবরাহকারীরা নয়, ক্রেতারা পরিশোধ করবে এই বিষয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দরকার। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-কে একটি যৌথ নীতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কোনো ব্যবসায়ী প্রতিযোগিতার কারণে নিজ উদ্যোগে পণ্যের দাম কমিয়ে এই বাড়তি শুল্কের চাপ নিজের ওপর না নেন। যদি কেউ এই কৌশল না মানে, তাহলে তার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও রাখা উচিত।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি কমবেই- এই ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট রপ্তানি ইউএসের বাজারে বড় ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকি আছে। ইউএসের বাজারে রপ্তানি কমে যাবে, তা তো প্রেডিক্ট করতেই পারি। সেখানে অন্যান্য পণ্যও রপ্তানি করি, লেদার, ওষুধ ইত্যাদি, সেখানেও ধাক্কা খেতে পারি।

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম বলেছেন, মার্কিন সরকার বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ কর আরোপ করেছে। এটা আমাদের কাছে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। তিনি বলেন, ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে এটা রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিক রপ্তানি কমে যেতে পারে কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক পণ্যের সবচেয়ে একক বড় বাজার। এখন তাৎক্ষণিক সমাধান হলো আমাদের সরকার ধীরে ধীরে তাদের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডিউটি কমিয়ে দিতে পারে। এটা করলে আমাদের ক্ষতি নেই কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের আমদানির চেয়ে রপ্তানি অনেক বেশি। তাই যতটুকু আমদানি হচ্ছে সেখানে সরকার যদি ডিউটি কমিয়েও দেয় এর প্রভাব খুব একটা হবে না। এটা একটা সমাধান হতে পারে, বলে মনে করেন হাতেম।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, যে ট্যারিফ বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয়েছে সেটা আমাদের ওপর হওয়ার কথা না। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানির এভারেজ ডিউটি ১৫.২ শতাংশ। আমেরিকাতে কিন্তু পণ্যের আইটেম অনুযায়ী ডিউটি কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্ল্যাট ১২.৫ শতাংশ। আমেরিকায় পলেস্টার পোশাকে একরকম, নিটে একরকম, উলে একরকম, ট্রাউজারে একরকম। একেকটায় একেক রকম ডিউটি। কিন্তু গড়ে সেখানে ১৫.২ শতাংশ। তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, যন্ত্রপাতি এবং পোশাক শিল্পের জন্য যেসব পণ্য আমদানি করি তার অধিকাংশ শুল্কমুক্ত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ শতাংশ। ডিউটি বাড়ানোর প্রভাব তো পড়বেই। হয়তো টোটাল টার্নওভার কমে যাবে যুক্তরাষ্ট্রে। ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্র বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করে। সেখানে ১০ শতাংশ আমদানি হয়তো কমে যাবে। ফলে আমাদের ওপর এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে কারণ আমাদের সবচেয়ে বড় বাজার হলো আমেরিকা।

শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, শুল্ক শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক কমানো সম্ভব হবে।

বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় হুমকি। ভারত ও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার বেশি হওয়ায় তারা এই নতুন কাঠামো থেকে সুবিধা পাবে। সরকারকে শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শুল্ক প্রত্যাহারে রাজি করানোর আহ্বান জানান। তা না হলে, আমাদের পোশাক খাত ভয়াবহ সংকটে পড়বে, সতর্ক করেন রকিবুল আলম চৌধুরী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের তথ্য অনুসারে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে, বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮০০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.৯৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল, যা আগের বছরে ছিল ৭.২৮ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি ১.৫ শতাংশ কমে ২.২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৬.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যে বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসছে, তা সহজেই অনুমেয়।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এখন দেখতে হবে, বাংলাদেশের প্রতিযোগীদের ওপর ঠিক কী হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিষয়টি হলো ভিয়েতনাম, চীন ও কম্বোডিয়ার শুল্ক বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হবে, সে কারণে হয়তো আরএমজি শিল্প অতটা আক্রান্ত হবে না, এমন ধারণা কেউ কেউ করছেন।

দেখা যাচ্ছে, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্কের ওপর শুল্ক আমাদের চেয়ে কম। এই ফাঁকে ভারত হয়তো লাভবান হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তারা এমনিতেই কিনবে কম; এর জেরে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।? আরেকটি সুবিধা হলো, বাংলাদেশ মূলত মধ্যম ও কম দামের পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে ভিয়েতনাম, চীন বা এমনকি ভারত এখন উচ্চ মূল্যের পোশাক রপ্তানি করছে। ফলে তারা যতটা আক্রান্ত হবে, বাংলাদেশ ততটা হবে না বলেই ধরে নেয়া যায়।     

তারপরও অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের উচিত মার্কিন পণ্যের শুল্ক কমানো, সেটা হলে আমাদের পণ্যে মার্কিন শুল্ক কমে যাবে। বাংলাদেশের উচিত, মার্কিন পণ্যের ওপর প্রচলিত শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যে মার্কিন শুল্ক হবে ১৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান ৫টি রপ্তানি পণ্য: বোনা পুরুষদের স্যুট: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ১.৯ বিলিয়ন ডলার। বোনা মহিলাদের স্যুট: একই বছরে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ১.০৯ বিলিয়ন ডলার। বোনা পুরুষদের শার্ট: ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ৭০৫ মিলিয়ন ডলার। বোনা পোশাক: ২০২৩ সালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৩০% ছিল বোনা পোশাক, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। বোনা টেক্সটাইল পণ্য: বাংলাদেশের রপ্তানির একটি অংশ বিভিন্ন টেক্সটাইল পণ্য নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। এই পণ্যগুলোর মধ্যে প্রধানত তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির শীর্ষে রয়েছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ঘোষণার দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ তালিকা প্রকাশ করেন। যেখানে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরাইলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।

mzamin

ট্রাম্পের ‘নিউক্লিয়ার বোমার’ প্রভাব কী? by জিয়া হাসান

বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপরে ট্রাম্পের নিউক্লিয়ার বোমা হামলা নিয়ে, আমাদের প্রথম প্রশ্ন আরএমজিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা এবং দীর্ঘমেয়াদে চায়না বা ভিয়েতনামের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে কিনা, বাংলাদেশ বেনিফিটেড হবে কিনা এবং আমাদের করণীয় কি?

প্রথম প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ, কিন্তু কন্টেক্সচুয়াল। কারণ আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন রাষ্ট্র বিভিন্নভাবে রিয়াক্ট করবে। এই রিয়াকশন কীভাবে করতেছে তার ওপরে নির্ভর করবে আরএমজিতে প্রভাব পড়বে কিনা।

দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর বাংলাদেশ সেই বেনিফিট নিতে পারবে কিনা, তা আমাদের রাজনৈতিক গতির ওপরে নির্ভর করবে। রাজনীতির যে অবস্থা দেখতেছি তাতে আমি দেখি না, বাংলাদেশ কীভাবে চাইনিজ ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সোডাসের সুযোগ নিতে পারে, যেখানে ট্যারিফের পূর্বের সময়েই এই সুযোগটা আমরা নিতে পারিনি। মধ্যম মেয়াদে আমার ধারণা সবচেয়ে বেশি বেনিফিটেড হবে ইন্ডিয়া। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটা আমেরিকান হেজেমনির সমাপ্তির সূচনা ও চাইনিজ যুগের আবির্ভাব ঘটবে।

আমাদের করণীয় কি সেটা নির্ধারণ করতে হলে, বুঝতে হবে যে, এই ট্যারিফের ডিক্লারেশনে ট্রাম্প অনেকগুলো ব্লাফ দিয়েছে। ফলে ব্লাফগুলো ধরা জরুরি। বলা হচ্ছে এটা রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ। অর্থাৎ আমেরিকার পণ্য আমদানিতে বেশি ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে, তাদের ওপরে বেশি ট্যারিফ আরোপিত হয়েছে। এটা একটা ব্লাফ।

বাংলাদেশ আমেরিকান পণ্যে মোটেও ৭৮% ডিউটি নাই বা ভিয়েতনাম ৯০% বা শ্রীলঙ্কা ৮৮% ট্যারিফ রেটে  মার্কিন পণ্য আমদানি করে না।
মূলত প্রতিটা রাষ্ট্রের সঙ্গে যে ট্রেড ডেফিসিট বা ঘাটতি, সেটাকে আমেরিকার আমদানির সঙ্গে ভাগ করে তাকে ১.২ বা ১.৫ বা বিভিন্ন রকম কোয়ালিফায়ার দিয়ে গুন করে এই ট্যারিফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কোয়ালিফায়ারগুলো কিসের ভিত্তিতে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে একটা পলিসি পেপার আছে, সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্য নিয়ে ৫ পাতার বিবরণ আছে।

মোদ্দা কথা হলো- আপনার আমেরিকার সঙ্গে ট্রেড ডেফিসিট বেশি, আমেরিকা বেশি ডিউটি আরোপ করেছে যেন আপনি আমেরিকা থেকে বেশি পণ্য কিনেন।  

বাংলাদেশের যে আমদানি তার মধ্যে আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য কটন আর গম, যা অন্য সাপ্লাইয়ার থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু বাকি পণ্যগুলো ক্রয় করাতে আমেরিকার কোনো কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ নাই। ফলে সেটা কেনা অসম্ভব। কিন্তু ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন আমেরিকান পণ্যের ডিউটি কমাতে পারে। কারণ তাতে কোনো ক্ষতি নাই। ভিয়েতনাম অলরেডি বেশ কিছু পণ্যে ডিউটি কমিয়েছে। কিন্তু এটাতে লাভ হবে কিনা জানি না। কারণ ইফেক্টিভলি এই ডিউটি রিসিপ্রোক্যাল বা পাল্টাপাল্টি ট্যারিফ ডিউটি না। এটা ট্রেড ডেফিসিটের ডলার ভ্যালুর ওপরে নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমেরিকা যেসব পণ্য উৎপাদন করে, তার তেমন কোনো চাহিদা আমাদের নেই। ফলে এই ট্রেড ডেফিসিট কমিয়ে আনার কোনো প্র্যাক্টিকাল উপায় নাই। ফলে জাস্ট সিগনালিংয়ের জন্য সরকারের উচিত বিভিন্ন পণ্যে ডিউটি রেট কমিয়ে নিয়ে আসা।

এখন আসেন আরএমজি নিয়ে আলোচনা: ট্রাম্পের শুল্কহার রিসিপ্রোক্যাল শুল্ক নয় বরং বাণিজ্য ঘাটতি ও জিও পলিটিক্স। যদিও ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাল্টাপাল্টি হারে শুল্ক ও অশুল্ক বাধার উপরে রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের ভিত্তিতে এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা হিসাব করেছে তার সঙ্গে কোনো দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কতো, সেই ঘাটতিকে আমেরিকার উক্ত দেশ থেকে আমদানির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করে একটি কোয়াফিশিয়েন্ট দিয়ে গুন করে শুল্কের হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধিকাংশ দেশের জন্য এই কোয়াফিশিয়েন্ট ০.৫। কিন্তু আমেরিকা যাকে শাস্তি দিতে চায়, তার জন্য কোয়াফিশিয়েন্টের হার বেশি রাখা হয়েছে। যেমন চীনের জন্য কোয়াফিশিয়েন্ট ০.৮ কিন্তু পাকিস্তানের জন্য ০.৪১। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিছুটা আনফেভারেবল হারে ডিউটি নির্ধারণ করা হয়েছে ০.৫৪ হারে কোয়াফিশিয়েন্ট ধরে।

০.৫ কোয়াফিশিয়েন্ট হিসাবে ধরে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি সুবিধা পাচ্ছে এবং পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

হিসাবটা এভাবে হচ্ছে, আমেরিকার বাংলাদেশ থেকে ২০২৪ সালে রপ্তানি ছিল ২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ৭.৪ বিলিয়ন ডলার, যার ফলে ট্রেড ডেফিসিট ভাগ আমদানি দাঁড়িয়েছে ৬৯%, কিন্তু বাংলাদেশের ডিউটি নির্ধারিত হয়েছে ৩৭% কারণ ০.৫৪ কোয়াফিশিয়েন্ট দিয়ে গুন করা হয়েছে।
এই কোয়াফিশিয়েন্ট হিসাবটা এক্সেক্টলি কীভাবে করা হয়েছে সেটা কেউ জানে না। তবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে, আমেরিকার ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিস আমেরিকার ট্রেড ব্যারিয়ার নিয়ে একটি গ্লোবাল রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মাত্র দুইদিন আগে, সেখানে বিভিন্ন দেশের ব্যারিয়ারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ধরে নিতে পারি, সেই রিপোর্টের মূল ইস্যু এবং আমেরিকার জিও-সিকিউরিটি মাথায় রেখে এই কোয়াফিশিয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রিপোর্টে বাংলাদেশ নিয়ে ৫ পাতার বিবরণ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেটা দেখতে পারে।

বর্তমানে ট্রাম্প যে নীতি অনুসরণ করছেন তা হচ্ছে- আমার থেকে বেশি আমদানি করো, তাহলে তোমার শুল্কের হার কমবে। তা না হলে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখো বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করো, তাহলে আমি কোয়াফিশিয়েন্টে ছাড় দেবো।

mzamin

আনোয়ারুজ্জামানের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন কয়েস লোদী

সিলেট নগরে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। বললেন- বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ৫ই আগস্ট থেকে মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছে। নেতাকর্মীদের বাসা ও বাড়িতে যে ভাঙচুর হয়েছে সেটি সিলেট আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কূটকৌশল। বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সিলেট নগরে উত্তেজনা বিরাজ করে। আর এই উত্তেজনার কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বাসাবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রথমেই ভাঙচুর করা হয় সাবেক মেয়র ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলাস্থ বাসা। এরপর একেক করে সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের হাউজিং এস্টেটস্থ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী টিলাগড়ের, সাবেক এমপি এডভোকেট রঞ্জিত সরকারের গোপালটিলার, সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের দর্শন দেউরী, সাবেক কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আপ্তাব হোসেন খানের পীর মহল্লার, সাবেক কাউন্সিলর রুহেল আহমদের মেজরটিলার নুরপুরস্থ বাসায় ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুরের ঘটনায় গোটা নগরেই উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া ভাঙচুরের ঘটনা ঠেকাতে নগরে র‌্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি সেনা টহল জোরদার করা হয়। চালানো হয় অভিযানও। ঘটনার পর এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান ও জালালাবাদ থানার ওসি হারুনুর রশীদ জানান- ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওই বাসাগুলোতে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ ওই বাসাগুলো পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় সিলেট থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্য থেকে রাতে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন।

ওই ব্রিফিংয়ে তিনি ঘটনার জন্য সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। একইসঙ্গে আনোয়ারুজ্জামান অভিযোগ করেন নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর প্রকাশ্য মদদে তার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আনোয়ার দাবি করেন- তার বাসা ভাঙচুরের সময় কেয়ারটেকারকে মারধর করেছে। একইসঙ্গে তার বাসাসহ নেতাদের বাসার সকল মালামাল লুট করেছে। আনোয়ারুজ্জামান দাবি করেন- সিলেটে কারও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা কোনো দিন ছিল না। হামলাকারী ছেলেরা ছাত্রদল পরিচয় দিয়ে এসে প্রকাশ্য হামলা ও ভাঙচুর করেছে। ৮ মাস পর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ন্যক্কারজনক বলে জানান তিনি। সিলেটে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে সেটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন সিলেট বিএনপি’র একাধিক নেতা। তাদের মতে, সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রতিতে সবার আগে আঘাত করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আপ্তাব ও পাঙ্গাসের নেতৃত্বে মিছিল সহকারে গিয়ে নগরের হাউজিং এস্টেটে সিনিয়র জামায়াত নেতা ডা. সায়েফ ও হাফেজ আব্দুল হাই হারুনের বাসার ভেতরে পরিবারকে রেখে আগুন দিয়েছিল। একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মালেকের তেতলীস্থ বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পাশাপাশি ৪ঠা আগস্ট যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকশ’ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কার্যকলাপ করেছিলেন বলে সিলেটের সম্প্রিতি বিনষ্ট হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে দেয়া আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। নগরের হাউজিং এস্টেটে তার বাসা। তার বাসার অদূরে হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর বাসায়ও হামলা হয়েছে। গতকাল তিনি মানবজমিন-এর কাছে আনোয়ারুজ্জামানের দেয়া বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, বাসাবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কূটকৌশল। এ কৌশল তারা অতীতেও প্রয়োগ করেছে। এখানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন জড়িত থাকার যে কথা বলা হচ্ছে সেটি ঠিক নয়। কারণ; ৫ই আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় মাঠে কাজ করছেন। সুতরাং ভাঙচুরের প্রশ্নই উঠে না। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে দীর্ঘ দুঃশাসনের কারণে হাসিনা সরকার গণ-মানুষের ক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এ সংগঠনের সদস্যরা ৫ই আগস্টের পর থেকে নানা প্রোপাগান্ডা ও পরিস্থিতি ঘোলাটে করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় সিলেটে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য মিছিল সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হচ্ছে। ৭ মাস পর এসে ওই সংগঠনের কর্মীরা অযাচিত কাজ করছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপিসহ ছাত্রদল এ ঘটনায় গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। নগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কীভাবে মিছিল করে অপতৎপরতা চালায় সেটি খতিয়ে দেখতে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে আহ্বান জানান।

মিছিল করায় ৮ জন গ্রেপ্তার: বুধবার ভোরে সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করার দায়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্য রয়েছে- মদিনা মার্কেট এলাকার গার্ডেন গলি বাসার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা সোহেল আহমদ সানী, সিলেটের টুকেরবাজার নালিয়া এলাকার রমনী মোন করের ছেলে রবিন কর, নাইওরপুল এলাকার বঙ্গবীর ব্লক-বি-৮২ এর বাসিন্দা ফাহিম আহমদ, শামীমাবাদ এলাকার রহমান ভিলার বাসিন্দা রাজন আহমদ রমজান, পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা বশির খান লাল ও খাদিমপাড়া এলাকার সোয়েব আহমেদ। কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় তাদের গতকাল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

mzamin

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কি পিছিয়ে পড়বে by শুভংকর কর্মকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। কারণ, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসবে। এত দিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির কী হবে, সেটি নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও বাজারটিতে পোশাক রপ্তানিকারক প্রায় সব দেশের ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক বসেছে। শীর্ষ দশ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে শুধু মেক্সিকোর ওপর নতুন এই শুল্ক আরোপ হয়নি।

ফলে পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কতটা নেতিবাচক পড়বে, সেটি নিয়ে এখনো পরিষ্কার নন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা। তাঁরা বলছেন, নতুন করে শুল্ক আরোপে কম বা বেশি প্রভাব পড়বে। তার বড় কারণ হলো, শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। এর ফলে পণ্যের চাহিদা কমবে। এসব প্রভাব পর্যালোচনার পর যত দ্রুত সম্ভব সরকারি পর্যায়ে পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা শুরু করতে হবে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়ে পাল্টা শুল্কের চাপ কমাতে হবে। না হলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়বে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকেরা ৭ হাজার ৯২৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই বাজারে শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে—চীন, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মেক্সিকো, হন্ডুরাস, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক। গত বছর (২০২৪ সাল) বাংলাদেশ ৭৩৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। গত বছর বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া প্রতি বর্গমিটার পোশাকের দাম ছিল ৩ দশমিক ১০ ডলার।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাল্টা শুল্কে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। তবে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনাও আছে। বাংলাদেশের উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো। যেহেতু খুব বেশি পণ্য দেশটি থেকে আসে না, সেহেতু খুব বেশি ক্ষতি হবে না। বরং পাল্টা শুল্ক কমলে তৈরি পোশাকসহ অন্য পণ্যের রপ্তানি বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমদানি করে পোশাক তৈরি করছি আমরা। সেই পোশাকের বড় অংশ আবার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ের পদক্ষেপ নিতে পারে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বরাবরই শীর্ষে রয়েছে চীন। গত বছর এই বাজারে চীন ১ হাজার ৬৫১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদে চীনা পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন। পাল্টা ব্যবসা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক বসায় চীন। উভয় দেশের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমতে থাকে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এখন আবার ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এতে করে চীনের তৈরি পোশাক রপ্তানি আরেক দফা কমার শঙ্কা রয়েছে।

ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। গত বছর ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ভিয়েতনাম। এই রপ্তানি ২০২৩ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। ভিয়েতনামের ওপর চীন ও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ৪৬ শতাংশ। ফলে গত কয়েক বছর দেশটির তৈরি পোশাক রপ্তানি যে গতিতে বাড়ছিল সেটি শ্লথ হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চতুর্থ সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে ভারত। গত বছর ৪৬৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে দেশটি। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন। যেহেতু প্রতিযোগী দেশের তুলনায় পাল্টা শুল্ক কম বসেছে এবং দেশটির সরকার তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে সেহেতু ভারতে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পঞ্চম শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ইন্দোনেশিয়া ৪২৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া হন্ডুরাসের ওপর ১০ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ওপর ৪৯, পাকিস্তানের ওপর ২৯ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ১৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মেক্সিকোর ওপর এখন পাল্টা শুল্ক আরোপ না করা হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায় ট্রাম্প প্রশাসন। তার মানে শীর্ষ দশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক কেউই স্বস্তিতে নেই।

জানতে চাইলে বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাল্টা শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধস নামবে, সেটি এখনই মনে করছি না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নীতি টেকসই হবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ, বাড়তি শুল্কের চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়বে। ফলে তাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাল্টা শুল্কের চাপে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের প্রথমেই পোশাকের দাম কমানোর ওপর চাপ দিতে পারে। এখন যে ক্রয়াদেশ আছে, সেগুলোর দামও কমাতে বলতে পারে ক্রেতারা। ফলে সম্মিলিতভাবে সেই চাপ সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের উচিত বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করে কৌশল নির্ধারণ করা।’

পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা।
পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা না কমালে কিসের সংস্কার by ফরিদুল হক

সম্প্রতি সংস্কারবিষয়ক পাঁচটি কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত জানতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পাঠানো স্প্রেডশিটের জবাবে মতামত জানিয়েছে বিএনপি, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। নিজেদের দেওয়া মতামতে বিএনপি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর পক্ষে নয়। অথচ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে সৃষ্ট প্রায় সব সংকটের গোড়ায় রয়েছে এই প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র এবং জবাবদিহিহীন ক্ষমতাকাঠামো!

বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও রাজনীতি নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেছেন, যেমন আকবর আলি খান, তাঁরা দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীর হাতে অস্বাভাবিক ক্ষমতা তুলে দিয়েছে। এমনকি সেটা বহু স্বৈরাচারের চেয়ে বেশি সাংবিধানিক ক্ষমতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভোগ করে থাকেন।

এক দশক ধরে বাংলাদেশের গণপরিসরের বহুজন সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে দেখিয়েছেন, কীভাবে সংবিধানের নানা অলিগলি দিয়ে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে পৌঁছায়। কীভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র আদতে সাংবিধানিকভাবে একটা ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা এক পদে বা এক ব্যক্তির কাছে জবাবদিহিহীনভাবে পুঞ্জিভূত করাকেই বলা হচ্ছে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র। এই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রকে ব্যবহার করেই কিংবা এর বাইপ্রোডাক্ট হিসেবেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সব সংকট আবির্ভূত হয়েছে।

এই যে হাসিনার ভয়াবহ স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠা এবং এর পরিণতিতে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট মাসে হাজার দেড়েক নাগরিকের প্রাণহানির ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, এমন এক সাংবিধানিক কাঠামো, যেখানে এক ব্যক্তির আঙুলের নির্দেশে সব হয়ে যেত। এই ফেনোমেনোনকে কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র’ এবং এই স্বৈরতন্ত্রের যাবতীয় উপাদান ’৭২–এর সংবিধানের মধ্য দিয়েই প্রবর্তন করা হয়।

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ক্ষমতাচর্চার জায়গাগুলো হচ্ছে, জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁদের প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে পারবেন, নিয়োগকৃত প্রতিনিধিদের সব কাজের তদারকি করতে পারবেন, প্রতিনিধিরা কাজ করতে গিয়ে কোনো অন্যায়-অপকর্ম করলে তাঁদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে মেয়াদ শেষে বা শেষ হওয়ার আগেই প্রতিনিধিকে শান্তিপূর্ণ পথে প্রত্যাহার করতে পারবেন।

এই আলোকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে এর তিন বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের একদম ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সব জায়গায় জবাবদিহি থাকা, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কাউকে অপসারণ করার শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা থাকা ইত্যাদি। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে একদম শুরু থেকেই এগুলো অনুপস্থিত। তাই বারবার একই রকমের সংকট ঘুরেফিরে আসে। আর সংকটের সবচেয়ে উৎকট রূপ দেখা যায় ক্ষমতার পালাবদলের সময়।

রাষ্ট্রের প্রধান তিন বিভাগ

দুনিয়ার যেকোনো আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে এইটা এখন প্রায় কাণ্ডজ্ঞানের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে রাষ্ট্রের প্রধান তিন বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে। নির্বাহী প্রধান তো নয়ই, এমনকি বিভাগকেও অন্য দুই বিভাগের ওপর কর্তৃত্ব করতে দেওয়া যাবে না।

কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদ বলে, কোনো একজন সংসদ সদস্য যতই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্টে যান না কেন, যদি উনি দলের নমিনেশনে ভোটে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে উনি দলের (আসলে দলের প্রধানের) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে ভোট দিতে পারবেন না, তা সেই পার্লামেন্টে যত বড় গণবিরোধী আইনই পাস হোক না কেন!

এ জন্যই প্রতিবছর বাজেটসহ লুট-মহালুটের আইন পাস হয়, সেগুলো নিয়ে কথা বলা বন্ধ করতে সেসব আইনে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়। সেসব আইনের রাজনৈতিক বিরোধিতা বন্ধ করতে কথা দমন-জুলুমের আইন বানানো হয়। আর প্রতিনিয়ত জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার বন্দোবস্ত করার পরও সরকারি দলের কোনো এমপিকে ৫০ বছরে দলের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি।

নির্বাহী বিভাগের অবস্থা দেখতে গেলে পাওয়া যায়, সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যাঁকে ইচ্ছা মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেবেন, নিয়োগ বাতিল করবেন এবং নির্বাহী ক্ষমতা তাঁর একক কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হবে। কিন্তু সংসদের কাছে ‘যৌথভাবে’ দায়ী থাকবে মন্ত্রিসভা। অথচ সংসদের প্রধানও থাকেন প্রধানমন্ত্রী এবং ৭০ অনুচ্ছেদবলে মেজরিটি সদস্য থাকেন তাঁর আজ্ঞাবহ কর্মচারীর মতো প্রায়।

আবার সরকারের সব নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হবে, কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাঁর সব কাজ করবেন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮/৩ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ‘পরামর্শে’। কিন্তু কী সেই পরামর্শ, তা নিয়ে কোথাও প্রশ্ন করা যাবে না। আবার রাষ্ট্রপতি নিয়োগ হচ্ছে সংসদের মেজরিটি সদস্যের (মানে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়) ভোটে এবং তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও থাকে সেই ৭০ অনুচ্ছেদের সংসদের কাছে। তাই অতীতে দেখা গেছে, ‘পরামর্শ’ ইগনোর করা তো দূরের কথা, এমনকি কবর জিয়ারতের অনুমতিও থাকে না রাষ্ট্রপতির।

এ তো গেল আইন ও নির্বাহী বিভাগের কথা। এদিকে বিচার বিভাগের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি, যিনি তাঁর সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে (পড়ুন নির্দেশে) করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। আবার বিচারক নিয়োগ দেবেন প্রধান বিচারপতির পরামর্শে, কিন্তু সেখানেও প্রধানমন্ত্রীর ‘নির্দেশ’!

আবার নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন ১০ বৎসরকাল অ্যাডভোকেট না থাকিয়া থাকিলেই’ নিয়োগের জন্য “যোগ্য” হয়ে যাবেন?’ সব পদে নিয়োগের জন্য কত কত পরীক্ষা–নিরীক্ষা সাক্ষাৎকার; কিন্তু বিচারক নিয়োগের জন্য সামান্য সাক্ষাৎকারেরও দরকার নেই! এতে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়, দলীয় আনুগত্যই সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক হিসেবে এবং বিচারক থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পাওয়ার অন্যতম প্রধান যোগ্যতা। আর একদম ওপরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে নিচের দিকের অবস্থা কেমন আর ৫০ বছরে আমরা কে কতটুকু ন্যায়বিচার পেয়েছি, সেটা তো সবার জানাই আছে। তার জন্য আর বিশদ ব্যাখ্যা না করলেও চলে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠাগুলো কীভাবে ফাংশন করছে। প্রধান প্রধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেমন নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষকসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ‘গলা ফাটানো’ হয়, সেগুলোর নিয়োগ, অপসারণ, কাজের শর্তাবলি প্রায় একই রকম। সবখানেই দায়িত্ব দেওয়া আছে রাষ্ট্রপতিকে এবং ‘অনুচ্ছেদ ৪৮/৩’–এর বলে ক্ষমতা সব প্রধানমন্ত্রীর হাতে। আর তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকায় এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গত ৫০ বছরে কতটুকু মানুষের পক্ষে ছিল, তা আমাদের অভিজ্ঞতায় পরিষ্কার।

বাংলাদেশের সংবিধানের সবচেয়ে বড় ওকালতি চাতুরি হচ্ছে, এই সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে গোটা একটা পরিচ্ছেদ আছে এবং সেখানে রাষ্ট্রপতি পদের জন্যই আলাদা সাতটা অনুচ্ছেদ আছে, যেখানে ওই পদের সব দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পদের দায়দায়িত্বের জন্য আলাদা কোনো পরিচ্ছদ তো দূরে থাকুক, একটা পুরো অনুচ্ছেদই নেই। অথচ বিভিন্ন পরিচ্ছদ-অনুচ্ছেদে জায়গায় জায়গায় রাষ্ট্রের সব বিভাগ ও সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর কার্যক্ষেত্রে বাস্তবতা কী, সেটা আমাদের চোখের সামনে।

আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, সব পদের পদধারীদেরই সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ, ক্ষমতার বিন্যাসটাই এমন, যিনিই প্রধানমন্ত্রী, তিনিই সংসদনেতা আর তিনিই দলীয়প্রধান থাকেন। তাই রাষ্ট্রের, সরকারের ও দলের সব ক্ষমতা তাঁর পায়ে গিয়ে লুটিয়ে পড়ে।

শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যত সংকট, তার বেশির ভাগই হচ্ছে ক্ষমতা হস্তান্তরের শান্তিপূর্ণ কোনো পথ শুরু থেকেই তৈরি করতে না পারা। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্নে যখন সরকারি দলের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, তাকে হারানো যায়নি আবার যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে, আগের সরকার ক্ষমতায় আসতে পারেনি।

কারণ, ’৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী, এমপি সাহেবরা এমপি থাকা অবস্থায় ডিসি-এসপিদের প্রোটোকলসহ যত রকম সরকারি/ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, সেগুলোসহই ইলেকশন করবেন আর তাঁদের বিরুদ্ধে যাঁরা ইলেকশন করবেন, তাঁরা সাধারণ মানুষের মতো ইলেকশন করবেন। স্থানীয় প্রশাসন-পুলিশ এমপির নির্দেশে (সরকারের নির্দেশে) কাজ করতে বাধ্য থাকে। আর সে জন্যই সরকারে রেখে বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো সরকারি দলকে হারানো যায়নি।

তারপরও যদি নির্বাচনে কোনো এমপি সাহেব হেরে যান, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগপর্যন্ত তিনিই এমপি থাকবেন। আর পুরো সরকারই যদি হেরে যায়, তাহলেও তাঁরা সরকারে থাকবেন; কারণ মেয়াদ শেষ হয়নি। এই অবস্থায় সেই সরকারি দলের কাছে পার্লামেন্টে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তাহলে তাঁরা চাইলে সেই সময়ে, এমনকি সংবিধান সংশোধনও করে ফেলতে পারেন। আর সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের সেই কর্মকাণ্ড ‘বৈধ’ও বটে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ক্ষমতা কমানোতে বিএনপির একমত না হওয়া আদতে প্রমাণ করে, বিএনপি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রধান সংকটটা চিহ্নিতই করতে পারেনি। বিগত ১৫ বছরের রেজিমকে কেবল আওয়ামী লীগ/ হাসিনার উপস্থিতিই সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে তাদের কাছে। এটা খুব দুঃখজনক, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল, যারা বিগত রেজিমে সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত, দীর্ঘদিন ধরে যারা গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সংকটকে আমলে নিতে পারছে না।

ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া মতামতের পর সংস্কার কোথায় হবে (গণপরিষদে নাকি সংসদে), তর্কটা আদৌ আর সেখানে নেই; বরং বিএনপির মতো গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা দল এই মুহূর্তে সুসংহত গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার চায় কি না, সেই প্রশ্নে তাদের আন্তরিকতা মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিএনপির নেতৃস্থানীয়রা আজকাল ‘সংস্কার’ নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিচ্ছেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত প্রাণহানির পর বাংলাদেশ কোনোভাবেই আর এমন কোনো জায়গায় ফিরে যেতে পারে না, যেখানে আরেক হাসিনা বা আরেক আওয়ামী লীগের জন্ম হতে পারে! যে গণতন্ত্রের জন্য সুদীর্ঘকাল ধরে লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী, এত রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের আত্মদানের প্রতি এর চেয়ে বড় বেইমানি আর হতে পারে না, যদি আবারও হাসিনা তৈরির পথ রেখে দেওয়া হয়।

* ফরিদুল হক যুগ্ম সদস্যসচিব জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা না কমালে কিসের সংস্কার

বিশ্ববাণিজ্যে শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে বিপুল।

এই শুল্ক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আয়ের চার্টের দিকে তাকালে। চার্টের শুল্ক নির্দেশক রেখাগুলো এক ধাক্কায় এতটা ওপরে উঠেছে, যা বিগত এক শতকের মধ্যে দেখা যায়নি। এমনকি এই রেখাগুলো গত শতকের ত্রিশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উচ্চ সংরক্ষণবাদের সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্পের আরোপ করা এই বাড়তি শুল্কের প্রভাব এরই মধ্যে পড়া শুরু করেছে। রাতারাতি শেয়ারবাজারে পতন দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা বৈশ্বিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য যেসব পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, সেগুলোই হবে এই শুল্কের প্রকৃত প্রভাব।

ট্রাম্পের নতুন নীতির কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে সর্বজনীন শুল্ক। আগামীকাল শুক্রবার রাত থেকে এই শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। এরপর কয়েক ডজন দেশের ওপর অতিরিক্ত হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ওই দেশগুলোর উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এশিয়ার দেশগুলোর ওপর যে পরিমাণে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তা সত্যিকার অর্থেই চমকে দেওয়ার মতো। এই শুল্ক বৃদ্ধি হাজার হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং সম্ভবত পুরো দেশের ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে দেবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গড়ে তোলা কিছু সরবরাহব্যবস্থা সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়বে। অনিবার্য এই প্রভাব নিশ্চিতভাবে তাদের চীনের দিকে ঠেলে দেবে।

এটা কি শুল্ক ও করের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরির প্রচেষ্টা? যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন দৃশ্যত দাবি করছে, এই শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে কর কমানোর লক্ষ্যে। তবে এই দুইয়ের মধ্যে দ্রুতই তাল মেলানোর সুযোগ সীমিত। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এটা সামঞ্জস্য তৈরি নয়, এটা একটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি।’

কথিত এই ‘পাল্টা শুল্কের’ পেছনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যে সূত্রটা রয়েছে, তা হলো তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে যেসব দেশের বেশি পরিমাণ উদ্বৃত্ত রয়েছে, সেসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা। এর অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির চেয়ে ওই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বেশি রপ্তানি করেছে। যখন কোনো দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকছে না, তখন সেই দেশের পণ্যে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে।

এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিকভাবে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়। এই নীতির লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য–ঘাটতি শূন্যে নামিয়ে আনা। এটা বিশ্ববাণিজ্যের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য এবং বিশেষ করে এশিয়ার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

দ্বিতীয়ত, এটা স্পষ্ট যে দ্বিপক্ষীয় দর–কষাকষি তেমন একটা তফাত তৈরি করেনি অথবা প্রকৃতপক্ষে কোনো তফাতই তৈরি করেনি।

ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি স্বাভাবিক বিষয়, যেখানে একেক দেশ একেক জিনিস তৈরিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করে। যুক্তরাষ্ট্র এখন দৃশ্যত এই যুক্তিকে নাকচ করছে।

কিন্তু কারখানা সরিয়ে নিতে বছরের পর বছর লেগে যাবে। এশিয়ায় এই মাত্রায় শুল্ক আরোপ, বিশেষ করে ৩০ বা ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কারণে দ্রুতই পোশাক, খেলনা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে বাকি বিশ্ব কীভাবে সাড়া দেয়।

ইউরোপ এখন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডগুলোর ভোগ্যপণ্য না কেনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর যে একচ্ছত্র আধিপত্য, সেটা ধাক্কা খেতে পারে।

আর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষগুলোকে অবশ্যম্ভাবী মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্যযুদ্ধ এড়ানো যাবে না বলেই মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। ছবি: এএফপি

চীনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা রাহুল গান্ধীর

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কঠোর সমালোচনা করেছেন। সীমান্তে চীনের ‘চার হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড’ দখলে নেওয়া এবং ‘মিত্র’ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় তিনি লোকসভায় এই সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে ভারতের অর্থনীতি ‘সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত’ হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা।

আজ বৃহস্পতিবার ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিত অভিযানের [জিরো আওয়ার] মাধ্যমে চীন ‘আমাদের ভূখণ্ডের’ চার হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি ভূমি দখলে নিয়েছে। এটা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

রাহুল বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রসচিবকে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কেক কাটতে দেখে আমি হতবাক।...অথচ চীনে আমাদের চার হাজার বর্গকিলোমিটার দখল করে নিয়েছে। এটা সবার জানা কথা।’

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এই [চীনের দখল করে নেওয়া] ভূখণ্ডে আসলে কী ঘটছে, সেটাই আমার জিজ্ঞাসা।...২০ জন জওয়ান শহীদ হয়েছেন। [চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে] কেক কেটে তাঁদের প্রাণদান উদ্‌যাপন করা হয়েছে! আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি না। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আগে সমমর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের ভূমি অবশ্যই ফেরত আনতে হবে।’

রাহুল গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু উভয়ে চীনা সরকারের কাছে চিঠি লিখেছেন। এই বিষয়টি ভারতের মানুষ চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে জানতে পেরেছে।

কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘বহির্বিশ্বের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় মিটমাট করাটাই পররাষ্ট্রনীতির কাজ।...আপনারা চীনের কাছে ভূমি দিয়ে দিয়েছেন।...হঠাৎ করে আমাদের মিত্রদেশ আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করল, যা আমাদের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করতে যাচ্ছে। আমাদের গাড়ি, ওষুধ ও কৃষিশিল্প সব বিপর্যয়ের মুখে।’

গতকাল বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে পাল্টা শুল্কারোপ করেছেন। ভারতের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৭ শতাংশ শুল্ক। চীনের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। ভিয়েতনামের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৪৬ শতাংশ। চীন ও ভিয়েতনাম উভয়েই যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ।

লোকসভার ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে রাহুল গান্ধীর অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ঠাকুর অভিযোগ করে বলেন, কংগ্রেসের আমলেই সীমান্তে ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছিল চীন। রাহুল গান্ধী যেসব অভিযোগ করেছেন, তা  [ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী] পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নীতির কারণেই ঘটেছে।

অন্যদিকে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন চীন থেকে তহবিল নিয়েছিল অভিযোগ করে ঠাকুর বলেন, ‘আপনারা কেন চীন থেকে তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন, এখনো সেটার ব্যাখ্যা দেননি।’

বক্তৃতা করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় বাজেট অধিবেশন, ৩ এপ্রিল ২০২৫
বক্তৃতা করছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় বাজেট অধিবেশন, ৩ এপ্রিল ২০২৫ ছবি: এএনআই

হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমায় যে তিন ধরনের খাবার

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে সবারই। হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, এমনকি স্মৃতিভ্রমের মতো রোগও আছে এই তালিকায়। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কার কতটা বেশি, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে জীবনধারার ওপর। খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, বিশ্রাম ও চাপমুক্ত জীবনযাপন এ কারণেই এতটা গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশোধিত (রিফাইনড) শস্য এবং প্রক্রিয়াজাত অন্যান্য খাবার, চর্বিজাতীয় খাবার, লাল মাংস প্রভৃতি খেলে দীর্ঘমেয়াদি এসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এসব খাবারের বদলে বরং ছোটবেলা থেকেই এমন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন, যা খেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি কমে। এমনটাই বলেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন।

নানান ধরনের বাদাম ও অন্যান্য বীজ

নানান ধরনের বীজে রয়েছে ভিটামিন ই। ভিটামিন ই একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। দীর্ঘ মেয়াদে শরীর সুস্থ রাখতে যেকোনো বীজ খেতে পারেন আপনি। মিষ্টিকুমড়ার বীজ, লাউয়ের বীজ, পুঁইয়ের দানা, চিয়া সিড, তিসি—নানান কিছু রাখতে পারেন আপনার খাদ্যতালিকায়। চিয়া সিড, তিসি, আখরোট ও অন্যান্য বাদামে পাবেন ভিটামিন ই এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের দেহে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের ঝুঁকি কমায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে।

ফলমূল, শাকসবজি

রঙিন ফলমূল ও শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন এ। মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, গাজর, পাকা আম, পাকা পেঁপে, পেয়ারা, তরমুজ, বিটরুট ইত্যাদিতে পাবেন প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ। আম, জলপাই, লাল ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, পালংশাক, শর্ষেশাক প্রভৃতিতে আরও রয়েছে ভিটামিন ই। টক ফলে পাবেন ভিটামিন সি। তাই পেয়ারা, জলপাই, চালতা, লেবু, কমলা, কাঁচা আম প্রভৃতি ফল থেকে কোনো না কোনোটি খেতেই হবে রোজ। এই তিন ভিটামিনই অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তাই এসব খাবার খেলে আপনার নানান রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমবে। তবে মনে রাখবেন, তাপে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। তাই ফলের আচার খেলে ভিটামিন সি পাবেন না। ফলমূল ও শাকসবজিতে যে আঁশ থাকে, তা আবার রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বহু রোগের ঝুঁকি কমে। যেসব ফলমূল বা সবজির খোসা খাওয়া সম্ভব, সেগুলো খোসাসমেত খাওয়ার চেষ্টা করুন। আলাদাভাবে সবজির খোসা দিয়েও কিছু মজাদার পদ তৈরি করা যায়। যেমন লাউ বা কুমড়ার খোসা অনায়াসেই ভিন্ন কোনো পদ তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।

স্বাস্থ্যকর তেল

যে তেলে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন ই থাকে, তা গ্রহণ করা ভালো। সূর্যমুখী তেল, জলপাই তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল স্বাস্থ্যকর। মাছের তেলও ভালো খাবার। তবে মাছের চর্বি স্বাস্থ্যকর নয়। তবে খুব বেশি বড় আকারের মাছগুলোর তেল কক্ষ তাপমাত্রায় জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এ ধরনের তেল না খাওয়াই ভালো। যকৃতের তেলও এড়িয়ে চলুন।

রান্নার জন্য স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহারের খরচ বেশি বলে অনেকেই অবশ্য এসব তেল কিনতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন—

* ডুবোতেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। কম তেলে খাবার রান্না করুন। যে তেল কক্ষ তাপমাত্রায় জমাট বেঁধে থাকে, সেই তেল গ্রহণ করবেন না। ডালডা, মারজারিন প্রভৃতি বর্জনীয়।

* একবার ব্যবহার করা তেল আবার ব্যবহার করবেন না।

* ভাজাপোড়া খাবারের বদলে কিছু সেদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। যেমন সবজি পাকোড়া না করে সবজির সালাদ করতে পারেন সামান্য জলপাই তেল আর কিছু স্বাস্থ্যকর মসলা দিয়ে। স্বাদ পাবেন, সুস্থও থাকবেন।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে সবারই
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছু দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে সবারই। ছবি: পেক্সেলস