Friday, August 21, 2009

বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না?

ঊর্ধ্বমুখী বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা হিসেবে সরকার অবশেষে ডিম ও আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে ডিম-আলুর দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়া শুরু করেছে বলেই সরকারকে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পাশাপাশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিশোধিত চিনি আমদানির শুল্ক। এর মানে হলো, আমদানি বাড়িয়ে দেশের বাজারে এই তিনটি পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো হবে, যাতে তা ভোক্তার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। এতে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে; অন্তত সরকার এটাই প্রত্যাশা করছে।
কিন্তু এই পদক্ষেপ আবার আমাদের একটি পুরোনো প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। সেটি হলো—বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না? প্রশ্নটা এসেছে দেশে আলুর মজুদ ও ডিম উত্পাদনের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাঁচ মাসের আলু মজুদ রয়েছে। তাহলে এই মজুদ থেকে বাজারে পণ্য ছেড়ে জোগান বাড়ানো হচ্ছে না কেন? কেন দাম স্থিতিশীল না থেকে বাড়ছে? স্পষ্টতই এখানে বাজার-প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে না।
অবশ্য ডিমের বিষয়টি পুরোপুরি এ রকম নয়। চাহিদার বিপরীতে ডিমের উত্পাদন ও সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণে খামারগুলোয় বিপর্যয় নেমে আসায় ডিমের উত্পাদন হ্রাস পেয়েছিল। তবে খামারগুলো আবার চালু হতে শুরু করেছে। তাতে অবশ্য বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি; যার প্রমাণ ডিমের দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলা। আমদানির সিদ্ধান্ত দাম কমাতে কতটা সহায়তা করবে, তা জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে মূল আমদানিটা হবে প্রতিবেশী ভারত থেকে। আর ভারতও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। তাই মূল্যছাড়ের পাশাপাশি নিরাপদ ডিমের সরবরাহটাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে থাকল চিনি। পরিশোধিত চিনি ও চিনির মণ্ডের (র সুগার) মধ্যে শুল্ক-ব্যবধান একই রেখে দুই ধরনের চিনির শুল্ক হ্রাস কমানো তেমন ফল দেবে না, এটা সহজেই অনুমেয়।
তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ডিম-আলু আমদানি ও চিনির শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত কি সময়োপযোগী হয়েছে? প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখন চিনি আমদানির ঋণপত্র খুললে তা আসতে এক-দেড় মাস সময় লাগবে। তত দিনে রমজান মাস শেষ হয়ে চাহিদাও কমে যাবে। অন্যদিকে আলুর স্থানীয় মজুদ বাজারে ছেড়ে দাম কমানোর চাপমূলক কৌশল হিসেবে আমদানির সিদ্ধান্তটি অন্তত আরও সপ্তাহখানেক আগে নেওয়া যেত।

আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে -তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সময়ই দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের ধারণা ছিল, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিন-চার মেয়াদের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে আপনাআপনি এ ব্যবস্থার প্রয়োজন শেষ হবে বলে তখন সাধারণভাবে আশা করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে তিন মেয়াদের পর এখন বাস্তবিকই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলছেন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে। তাঁর মতে, তিনবার এ পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি ও নির্ধারিত মেয়াদ তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর প্রলম্বিত হওয়ায় এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। তাঁর আলোচনার প্রস্তাবটি ঠিক, কিন্তু ব্যাখ্যাটি ভুল। আসলে ব্যর্থতা নয়, সাফল্যই মূল বিবেচ্য বিষয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন, সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে বলেই এখন এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে কি না তা নিয়ে আলোচনা করা চলে।
এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আশির দশকে আন্দোলনের সময় প্রথম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রকৃত জনদাবিতে পরিণত হয়। একানব্বইয়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তারই ফসল। কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিল না। হয়তো এর প্রয়োজনও পড়ত না, যদি ১৯৯৪ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও সহিংসতা না হতো। এর পরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সব বিরোধী দলের দেশজোড়া আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কায়েম করা হয়। সাধারণভাবে মানুষ বিশ্বাস করে, এর পর থেকে প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ২০০৬ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিতর্কিত কিছু পদক্ষেপের কারণে প্রশ্ন দেখা দেয়। এর ফলে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাব ঘটে।
কিন্তু এটা অনস্বীকার্য যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচনী আইনের সংস্কার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভের ফলে এখন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর আছে কি না তা নিয়ে চিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনটি শর্তের বিনিময়েই তা সম্ভব। প্রথমত, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো কলাকৌশল থেকে ক্ষমতাসীন সরকারকে বিরত থাকার কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা। এ জন্য নির্বাচনের তিন মাস আগে সরকারের পদত্যাগ ও বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র মন্ত্রিসভার অধীনে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ব্যবস্থাই প্রচলিত। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের সময় তার সর্বময় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ প্রশ্নে দেশে প্রকৃত অর্থেই রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিজ্ঞানী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকবে কি থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এভাবেই শুরু হতে পারে।

বিশ্ব মানবিক দিবস পালন

বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে ও মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা নিজেদের প্রাণ উত্সর্গ করেছেন অথবা আহত হয়েছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ গতকাল বুধবার প্রথমবারের মতো বিশ্ব মানবিক দিবস পালন করেছে।
নিউইয়র্কে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন যোগ দেন। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল জেনেভায় বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধিরা সমবেত হন।
মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত বছর অন্তত ১২২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হন। গতকাল ছিল ইরাকে জাতিসংঘ অফিসে বোমা হামলার ছয় বছর পূর্তির দিন। ২০০৩ সালের এই দিনে ইরাকের বাগদাদে জাতিসংঘ অফিসে সন্ত্রাসী হামলায় ২২ জন মানবিক ত্রাণকর্মী নিহত হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৯ সালের ১৯ আগস্টকে প্রথম বিশ্ব মানবিক দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়।

‘কোজাগর’, ‘গণেশি’র পর এবার ‘অরণ্য’

‘কোজাগর’ ও ‘গণেশি’র পর এবার মারা গেল ‘অরণ্য’। মায়ের দুধের অভাবে দলছুট এ হাতির ছানাটিকে বাঁচানো গেল না। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে গত শনিবার রাতে অরণ্যের মৃত্যু হয়। এর আগে কোজাগর ও গণেশি নামে আরও দুটি হাতির ছানা একই কারণে মারা যায়।
মাস দেড়েক আগে জলঢাকা নদীতে ভেসে আসে অরণ্য। এরপর তাকে বাঁচাতে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে প্রথমে গুঁড়ো দুধ, পরে নারিকেলের দুধ, ছাগলের দুধ ও চালের গুঁড়ো মেশানো পানীয় তৈরি করে খাওয়ানো হয়। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি।
পশুচিকিত্সক শ্বেতা মণ্ডল বলেন, মায়ের দুধের অভাবেই অরণ্যের শরীরে নানা রোগ দেখা দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মারা যায় ছোট্ট হাতিটি।

আর্জেন্টিনার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ হন্ডুরাসের

রবার্তো মিশেলেত্তির নেতৃত্বাধীন হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশ থেকে আর্জেন্টিনার কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করেছে। গত মঙ্গলবার এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি জারি করে হন্ডুরাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তেগুচিগালপায় তাদের কূটনীতিকদের আর্জেন্টিনার দূতাবাস ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ।
হন্ডুরাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আর্জেন্টিনা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই নির্দেশ জারি করেছে। গত বৃহস্পতিবার হন্ডুরাসের সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থানকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত সে দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন থেকে ইসরায়েলি দূতাবাসের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করবে হন্ডুরাস।
গত ২৮ জুন সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর মিশেলেত্তির সরকার এ নিয়ে দ্বিতীয় একটি দেশের কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নির্দেশ দিল। এর আগে তারা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কারের আদেশ দেয়। কিন্তু মিশেলেত্তির সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে ওই আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায় ভেনেজুয়েলা।
এদিকে মিশেলেত্তির সরকারের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করেছে মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মহাসচিবের পদত্যাগ

টাইফুন মোরাকোট আঘাত হানার পর উদ্ধারকাজে ধীরগতির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চেন চাও-মিন ও মন্ত্রিসভার মহাসচিব (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি জেনারেল) সুয়েহ হসিয়াং-চুয়ান। গতকাল বুধবার তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর লিউ চাও-শিউয়ানের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন। মন্ত্রিসভার একজন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন। বিষয়টি এখন তাঁর বিবেচনাধীন। এর আগে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হসিয়া লি-ইয়ান একই কারণে পদত্যাগ করেন।

বিশ্বমন্দায় সংবাদপত্রে পরিবর্তনের হাওয়া

চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত খাত সংবাদপত্র। বিশ্বের এই নতুন অর্থনৈতিক দুর্যোগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনাচরণকে ভীষণভাবে ব্যাহত করছে। এই মন্দায় মার্কিনরা সংবাদপত্রকেও ঠিক সে রকম বিলাসী ব্যয় হিসেবে দেখছে।
মন্দার ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর অবস্থা তথৈবচ। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মানুষ প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে থাকার কারণে সংবাদ জানার জন্য সংবাদপত্রের ইন্টারনেট সংস্করণকে বেছে নিচ্ছে। কারণ যেখানে পুরো সংবাদপত্রই বিনে পয়সায় পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে কিছু পয়সা খরচ করে মূল পত্রিকা কেনাকে ‘বাজে খরচ’ই মনে করছে তারা। দেশগুলোর অনেক পুরোনো, নামকরা ঐতিহাসিক পত্রপত্রিকার বিক্রি নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোটায়। খরচ কুলিয়ে উঠতে না পেরে পত্রিকাগুলোতে চলছে এখন কর্মী ছাঁটাই, নতুবা পুরো পত্রিকাটাই বন্ধ করে দেওয়ার অসহায় প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পোস্ট অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা। কিন্তু চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় এ জনপ্রিয় পত্রিকার পাঠকসংখ্যাও নেমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে সিয়াটল শহরের অন্য পত্রিকাগুলো একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলেও নিজেদের একটা নির্দিষ্ট পাঠক শ্রেণীর সমন্বয়ে মিটমিট করে জ্বলে রয়েছে সিয়াটল পোস্ট (পত্রিকাটি সিয়াটল পোস্ট ইন্টেলিজেন্সার নামেও পরিচিত) পত্রিকার সার্কুলেশন। গত মার্চ মাস থেকে সিয়াটল পোস্ট সিয়াটলের বেঁচে থাকা একমাত্র সংবাদপত্র। প্রতিদ্বন্দ্বী আর সব পত্রিকার করুণ পরিণতি দেখে সিয়াটল পোস্ট-এর প্রকাশক ফ্র্যাংক এ ব্লেথেনও তাঁর পত্রিকার অবস্থা যে অন্যসব পত্রিকার মতো হবে না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অর্থনৈতিক মন্দা মানুষকে এত বাজেভাবে ধাক্কা দিয়েছে যে ‘একমাত্র পত্রিকার শহর’ সিয়াটল যেকোনো সময় পরিণত হতে পারে ‘পত্রিকাবিহীন শহরে’।
তবে মানুষের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। মূল সংবাদপত্রের পাঠকসংখ্যা কমে যাওয়ার পর, পত্রিকাগুলোর রাজস্বে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে পত্রিকার চেহারা, আঙ্গিকে বিভিন্ন ধরনের কাঁটছাট আনতে বাধ্য হয়েছেন মালিক ও প্রকাশকেরা। বিজ্ঞাপনের আয় কমে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক সংবাদপত্রই এখন অনলাইন সংস্করণের পথে হাঁটছে। পত্রিকা বিক্রি কমে গেলেও গত এক বছরে অনলাইন সংস্করণে লগইন অনেকখানি বেড়েছে। কারণ মানুষ এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে সংবাদপত্র ‘বিনা মূল্যে’ পড়ার আনন্দ উপভোগ করছে। সেই হিসাবে পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে অন্যভাবে, অনলাইনের মাধ্যমে। এতে পত্রিকাগুলো অন্যভাবে চিন্তা করছে বেঁচে থাকার। তারা তাদের কর্মকাণ্ডে একটা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। অনলাইন সংস্করণ, মোরাইল ফোনে সংবাদ সেবা, ব্লগ ইত্যাদির মাধ্যমে সংবাদপত্রগুলো টিকে থাকার চেষ্টায় রয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা তারা তাদের চেষ্টায় সফল। মানুষ ইতিমধ্যেই অনলাইনকে তাদের সংবাদপত্র পাঠের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করেছে।
অনলাইনের উত্থান সংবাদপত্রের অস্তিত্ব কোনোমতে রক্ষা করলেও সংবাদপত্র শিল্পের কর্মী ছাঁটাইকে রোধ করতে পারেনি। এমনকি নিউইয়র্ক টাইমস-এর মতো পত্রিকাও তাঁদের কর্মী ছাঁটাই রোধ করতে পারেনি। বিশ্বমন্দার আগে নিউইয়র্ক টাইমস-এর বার্তা বিভাগে ৩৭৫ জনের মতো কর্মী কর্মরত ছিলেন। এখন মন্দার পরে নিউইয়র্ক টাইমস কর্মীসংখ্যা ২১০-এ নামিয়ে এনেছে। সিয়াটল পোস্টও এ ব্যাপারে সতর্ক ভূমিকা নিয়েছে। তাঁরাও কর্মী নিয়োগে যথেষ্ট যাচাই-বাছাইয়ের আশ্রয় নিয়েছে। এ ব্যাপারে সিয়াটল পোস্ট-এর নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড বোর্ডম্যান বলেন, “কর্মী নিয়োগে আমাদের যথেষ্ট সতর্ক হতে হবে। মন্দার এ সময়ে আমাদের বিলাসিতার সুযোগ নেই। তবে এর মানে এই নয় আমরা আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে কম কর্মী নিয়োগ দেব। এটা তো ঠিক ‘কম’ কখনো ‘বেশি’র জায়গা নিতে পারে না।” তবে সিয়াটল পোস্ট আগের ১৬৫ জন কর্মীর জায়গায় এখন ২০ জন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ২০ জন কর্মী মূলত অনলাইন পাঠকদের দৈনন্দিন সংবাদ চাহিদা মিটিয়ে চলেছেন। এরাই সংক্ষিপ্ত কলেবরের মূল পত্রিকায় অবদান রাখছেন। এই ২০ জন তাঁদের সংবাদপত্রের সিদ্ধান্তমতো নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করে চলেছেন। এগুলো হলো অপরাধ, আকাশ বিজ্ঞান, খেলাধুলা, রাজনীতি প্রভৃতি।
বৈশ্বিক মন্দা অনেক কিছুর মতো সংবাদপত্র শিল্পকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে। তবে এই মন্দা আবার পত্রিকাগুলোর সামনে নতুন পথও খুলে দিয়েছে। সংবাদপত্রের মালিকেরা এখন তাঁদের কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বৈচিত্র্য আনার চিন্তা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলতার মুখ দেখেছে। কেবল সংবাদপত্রের খুচরা বিক্রি নয়, সংবাদ নানাভাবে বিক্রি করে যে ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়া যায় তা ইতিমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাই সংবাদপত্রে দিনবদলের পালা হয়তো শুরুই হয়ে গেছে। পুরোনোপন্থীরা এই পরিস্থিতিকে দেখছেন সংবাদপত্রের শনির দশা হিসেবে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? একটু অন্যভাবে দেখলে সংবাদপত্র তাঁর ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। আর নতুনকে গ্রহণ করেই সংবাদপত্র আধুনিক চেহারায় টিকে থাকবে—এ কথা বলাই যায়। নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে নাইর ইকবাল।

তালেবান মুখপাত্র মৌলভি ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত

পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সে দেশের তালেবানের প্রধান মুখপাত্র মৌলভি ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছেন। তাঁকে গত সোমবার রাতে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের মোহমান্দ উপজাতীয় এলাকা থেকে আটক করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে মৌলভি ওমর নিশ্চিত করেছেন, এ মাসের শুরুর দিকে মার্কিন বিমান হামলায় তালেবান নেতা বায়তুল্লাহ মেহসুদ নিহত হয়েছেন। তালেবানরা এর আগে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি নাকচ করে দিয়েছিল।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হরকত জিহাদ-ই-ইসলামির একজন কমান্ডার কারি সাইফুল্লাহকে ইসলামাবাদের একটি হাসপাতাল থেকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আটক করা হয়েছে। তিনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়ে থাকতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৌলভি ওমর ও কারি সাইফুল্লাহ উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৌলভি ওমর তেহরিক-ই-তালেবানের মুখপাত্র। তিনি বায়তুল্লাহ মেহসুদের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি তালেবানের বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

২০২০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি রাস্তায় নামাবে জার্মানি

২০২০ সাল নাগাদ দেশের রাস্তায় পরিবেশবান্ধব ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি নামানোর এক মহাপরিকল্পনা নিয়েছে জার্মান সরকার। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার একটি খসড়া পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য গাড়ি প্রস্তুতকারক বৃহত্ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
‘ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মোবিলিটি প্ল্যান’ নামের ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, ২০২০ সাল নাগাদ দেশের রাস্তাগুলোয় কমপক্ষে ১০ লাখ ইলেকট্রিক গাড়ি চলুক—কেন্দ্রীয় সরকারের এটাই ইচ্ছে। বার্লিনের ওই পরিকল্পনায় ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়ির ব্যাটারি ও রিচার্জ যন্ত্রের উন্নয়ন নিয়ে গবেষণার জন্য ওই ভর্তুকি দেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী রাজনৈতিক দলগুলো ওই গাড়ি নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি করে আসছিল, যাতে উত্পাদন খরচ কম হয় এবং ক্রেতারা তা কম দামে কিনতে পারে।

মেগরাহির মুক্তির বিরোধিতা করলেন হিলারি

স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে যাত্রীবাহী বিমানে বোমা হামলাকারীর সম্ভাব্য মুক্তির বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এর আগে বিমানটি উড়িয়ে দেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া লিবিয়ার নাগরিক আবদেল বাসেত আলি মোহাম্মদ আল-মেগরাহির মুক্তির বিরোধিতা করেন সাতজন মার্কিন সিনেটর।
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি গ্রামের আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ উড়িয়ে দেওয়ার দায়ে মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলার ঘটনায় বিমানটির ২৭০ জন আরোহী প্রাণ হারায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮৯ জন ছিল মার্কিন নাগরিক। ৫৭ বছর বয়সী মেগরাহি প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
হিলারি গত মঙ্গলবার বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অনেকের সঙ্গে আমি কথা বলে তাঁদের ভয়ানক অভিজ্ঞতার ব্যাপারে জেনেছি।’ তিনি এও বলেন, ওই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে সাজা ভোগ করছেন এমন কাউকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ ভুল। বিবিসি।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে গত মঙ্গলবার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ার উদ্যোগ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন এ দুই নেতা। তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং একটি সমাধানে পৌঁছানোর ওপর জোর দেন। খবর বিবিসির।
বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার কায়রো বক্তৃতার কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রশংসা করেন হোসনি মোবারক। তিনি বলেন, কায়রোতে দেওয়া তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব সন্দেহ ছিল, তা ‘দূর হয়ে গেছে’। বৈঠকে মোবারক আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েল পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের কাজ বন্ধ করবে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। বৈঠকে হোসনি মোবারক প্রেসিডেন্ট ওবামাকে জানান, শান্তিপ্রক্রিয়ার বিষয়ে ইসরায়েল ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ না নিলে মিসর কোনো কিছু করবে না।
প্রেসিডেন্ট মোবারক বলেন, বিগত মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মিসরের কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে ‘ইতিবাচক ও কৌশলগত’ ভালো সম্পর্ক চলছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে ইরাক যুদ্ধ, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব এবং মিসরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন হোসনি মোবারক। বৈঠকে আরব-ইসরায়েল পরিস্থিতি, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গেও বৈঠক করেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।

শঙ্কা আর উদ্বেগের মধ্যে আজ ভোট দিচ্ছেন আফগানরা

নানা শঙ্কা আর জঙ্গিদের হুমকির মধ্যেই আফগানিস্তানে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর আগে ২০০৪ সালে নানা সহিংসতার মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের এবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ। নির্বাচনের আগের দিন গতকাল রাজধানী কাবুলের একটি ব্যাংকে জঙ্গি হামলার খবর মিলেছে। ওই হামলায় পুলিশের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশের পাল্টা হামলায় নিহত হয়েছে তিনজন তালেবান জঙ্গি। এ পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে বিশ্লেষকেরা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
আজ সকাল থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। একই সঙ্গে দেশের প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচনের জন্যও ভোট নেওয়া হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা।
এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। তবে সহিংসতার আশঙ্কা ও তালেবান হুমকির মুখে ১২ শতাংশের মতো ভোটকেন্দ্র খোলা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের মহাসচিব গতকাল এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব যোগ্য ভোটারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটারদের পাশাপাশি সব প্রার্থী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তিনি একসঙ্গে কাজ করতে বলেছেন।
স্থানীয় সরকারি সূত্র বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দক্ষিণে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। চার ঘণ্টা ধরে ওই গোলাগুলি চলে। ওই সময় তিন পুলিশ ও তিন জঙ্গি নিহত হয়। তালেবানরা এক বিবৃতিতে ব্যাংকে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বীরা: প্রেসিডেন্ট পদে ব্যালটে নাম থাকছে মোট ৪১ জনের। তাঁদের মধ্যে ১১ জন আগেই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। লড়াইয়ের মাঠে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন পশ্চিমা সমর্থিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তবে সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহও তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন। এ ছাড়া অপর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আশরাফ গনি আহমদজাই, স্বতন্ত্র প্রার্থী রমজান বাশারদস্ত, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল জাবার সাবিত, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার মিরওয়ায়েস ইয়াসিনি, সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) শাহনওয়াজ তনাই এবং দুই নারী প্রার্থী ফ্রোজান ফানা ও সাহলা আত্তা।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি ৩৪টি প্রদেশে ৪২০ জন প্রাদেশিক কাউন্সিলরও নির্বাচন করবেন ভোটাররা। প্রাদেশিক কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন হাজার ১৯৬ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ৩২৮ জন নারী।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক: দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় আড়াই লাখ পর্যবেক্ষক এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা মনোনীত বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষকের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন ফাউন্ডেশন অব আফগানিস্তান’-এর সভানেত্রী নাদের নাদেরি। জঙ্গি হুমকির কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা পর্যবেক্ষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।

বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ২৮০ কোটি টাকার ইট রপ্তানি হবে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এবার বাংলাদেশ থেকে ইট রপ্তানি হবে। ওই রাজ্যের সরকার বাংলাদেশ থেকে ৪০ কোটি ইট বা প্রায় ২৮০ কোটি টাকা মূল্যের ইট আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ওই রাজ্যের বেসরকারি খাতেও এর তিন গুণ চাহিদা রয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইট রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) এ তথ্য জানায়।
রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইবিসিসিআইয়ের সভাপতি ও নিটল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। এ সময় চেম্বারের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল মাতলুব বলেন, ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচুর রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ভারতের সঙ্গে ঘাটতি অনেকটা কমানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইট সাত টাকা দরে ৪০ কোটি ইট বিক্রি করা হবে।
আবদুল মাতলুব ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সড়ক ও পরিবহনব্যবস্থা ও স্থলবন্দরের উন্নয়নের সুপারিশ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, পরিবেশদূষণের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ ইট উত্পাদনে নিরুত্সাহিত করে থাকে। কিন্তু এ দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের সব রীতিনীতি মেনেই ইট উত্পাদন করছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ত্রিপুরায় ইট রপ্তানি উপলক্ষে আইবিসিসিআই আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের বাংলাদেশ প্রান্তে আজ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া ত্রিপুরার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জিতেন্দ্র চৌধুরী সম্মানিত অতিথি, সাংসদ লুত্ফুল হাই ও শাহ আলম, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ও ত্রিপুরার মুখ্য সচিব সুধীর শর্মা উপস্থিত থাকবেন।

ঋণ ও আমানতের সুদের ব্যবধান পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম

দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারসমূহের মধ্যকার ব্যবধান ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মে মাসে কিছুটা বেড়েছে।
আর এই ব্যবধান প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় বেশি হলেও পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার তুলনায় কিছুটা কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার প্রতিবেদনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এতে দেখা যায় যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের গড় ভারিত সুদের হার ছিল যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এর ফলে দুয়ের মধ্যকার ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
আর মে মাসে এসে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য এই ব্যবধান আরও কমিয়ে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টে নামিয়ে আনার পক্ষপাতী।
প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ভারতে এই ব্যবধান চার থেকে সাড়ে চার শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যে ব্যবধান যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশীয় পয়েন্ট ও ৬ দশমিক ৩২ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে ২০০৭-০৮ অর্থবছরের শেষে অর্থাত্ ২০০৮ সালের জুন মাসে ব্যাংকগুলোয় ঋণের ক্ষেত্রে গড় ভারিত সুদের হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ আর আমানতের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এর ফলে ঋণ ও আমানতের সুদহারের মধ্যকার ব্যবধান ২০০৭-০৮ অর্থবছর শেষে নেমে এসেছিল ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্টে (পারসেন্টেজ পয়েন্ট)।
মুদ্রানীতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সমন্বয় করার ফলে আমানতের প্রকৃত সুদের হার এখন তিন শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের মে মাসের হিসাবে এই হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর গড় ভারিত হিসেবে এই হার ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করলে ঋণের সুদের হার মে মাসে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা কিনা গড় ভারিত হিসেবে ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তার মানে হলো, আমানতকারীরা ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে অনেক কম হারে সুদ পাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে ঋণের সুুদের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিক থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণের বিষয়টি ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দেয়। তখন থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হতো না, পরামর্শ দেওয়া হতো।
কিন্তু দুই বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দেশনা জারি করে সুদের হার বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বমন্দার পরিপ্রেক্ষিতে গত অর্থবছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাশীল আচরণের অভাবই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঋণের সুদহার বেঁধে দিতে বাধ্য করেছে।

বাংলাদেশ জিতেছে, তাই ভালো আছি’

দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর মাশরাফি বিন মুর্তজা এখন মেলবোর্নে দিন গুনছেন দেশে ফেরার। হাঁটুতে চোট পেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মাঝপথে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া বাংলাদেশ অধিনায়কের সঙ্গে কাল টেলিফোনে তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হলো। জানালেন বাংলাদেশের সাফল্যে তাঁর উচ্ছ্বাসের কথাও কেমন আছেন?
মাশরাফি বিন মুর্তজা: অনেক ভালো।
অনেক ভালো! ঘটনা কী, সুস্থ হয়ে গেছেন নাকি?
মাশরাফি: না, সুস্থ হতে দেরি আছে। বাংলাদেশ জিতেছে, এ কারণে অনেক ভালো আছি।
আচ্ছা আচ্ছা, তা আপনার নিজের অবস্থা কী?
মাশরাফি: ভালোই আছি। ১০ তারিখে অপারেশন হয়েছে। অপারেশনের পর একবার চেকআপ করিয়েছি। যাওয়ার আগে আরেকবার করানোর ইচ্ছা আছে। ২২ তারিখে দেশে ফিরব।
আপনি তো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় পেয়েছিলেন। সে তুলনায় তো ইনজুরিটা কম গুরুতরই হয়েছে, না কি?
মাশরাফি: হ্যাঁ, লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে তো এক বছর বাইরে বসে থাকতে হতো। সে তুলনায় তো কমই হয়েছে। এখন মাস দুয়েকের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারব বলে আশা করছি।
এক হাঁটুর সমস্যা নিয়ে গেলেন অথচ দুই হাঁটুতেই অপারেশন লাগল!
মাশরাফি: হ্যাঁ। ডান হাঁটুতে চোট নিয়ে এলাম, ডাক্তার দুই হাঁটু দেখে বলল, বাঁ হাঁটুর অবস্থা আরও খারাপ। বাঁ হাঁটুতে এখনই অপারেশন না করালে পরে বড় সমস্যা হতে পারত। এর আগেও একবার এমন হয়েছিল। এক হাঁটুতে চোট পেয়ে মেলবোর্নে এসেছি, ডাক্তার বলেছে অন্য হাঁটুর অবস্থাও ভালো নয়।
তাহলে তো ডান হাঁটুর ইনজুরিটা শাপে বরই হয়েছে, তাই না?
মাশরাফি: আর শাপে বর! অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেসথেসিয়া করার আগে ডেভিড ইয়াং (অস্ট্রেলিয়ান শল্যবিদ) নতুন একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় বলল, ওর দুই হাঁটুতে ছয়টা অপারেশন হয়ে যাচ্ছে। তিনবার হাঁটু পুরো নতুন করে সাজাতে হয়েছে (রিকনস্ট্রাকশন)। তার পরও কীভাবে খেলে, ও-ই জানে!
দুই মাসের মধ্যে মাঠে ফিরতে পারলে তো অক্টোবরের শেষে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেই খেলতে পারার কথা।
মাশরাফি: তাই তো আশা করছি। আমি প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই ফিরব। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই খেলা শুরু করতে চাই। এখন দেখা যাক, কী হয়!
বাংলাদেশের জয়ে আনন্দের কথা বলছিলেন। টিভিতে খেলা দেখেছেন নাকি?
মাশরাফি: না, টিভিতে দেখিনি। ইন্টারনেটে বল বাই বল দেখেছি। অপারেশনের পর প্রথম সপ্তাহটা তো অসুস্থ ছিলাম। শেষ দুইটা ম্যাচ ভালো করে দেখেছি। তামিমের ইনিংসটা (চতুর্থ ওয়ানডেতে ১৫৪) দেখে খুব মজা পেয়েছি, কাল (মঙ্গলবার) মুশফিকের ইনিংসটাও খুব ভালো লেগেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফিরে আসার সময় কি ভাবতে পেরেছিলেন, বাংলাদেশ ওখানে ওয়ানডে সিরিজের পর জিম্বাবুয়েতেও এত ভালো করবে?
মাশরাফি: জিম্বাবুয়েটা নিয়ে আমার একটু চিন্তা ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওই দল আমাদের সঙ্গে পারবে না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু জিম্বাবুয়ে আমাদের সঙ্গে অনেক খেলেছে। নিজেদের দেশে ওরা যথেষ্ট ভালো দলও। খেলেছেও ভালো। আমরা জিতেছি ওদের চেয়েও বেশি ভালো খেলায়। এই সিরিজে সবচেয়ে যা ভালো লেগেছে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যাটসম্যান দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে।
মেলবোর্নে এখন কোথায় আছেন?
মাশরাফি: মেলবোর্নে তো আমার একটাই ঠিকানা—বাবু ভাই (মেলবোর্ন প্রবাসী ইকরাম বাবু)। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর উনার বাসাতেই আছি। উনি আমার জন্য যা করছেন, তাঁর তুলনা নেই। নিজের সব কাজ বাদ দিয়ে উনি আমাকে নিয়েই আছেন। এর আগেও যতবার মেলবোর্নে এসেছি, উনি এমনই করেছেন। শুধু আমার জন্য কেন, শরীফ (পেসার মোহাম্মদ শরীফ), সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার)—বাংলাদেশের যত ক্রিকেটার এখানে চিকিত্সা করাতে এসেছেন, সবার জন্যই উনি এমন করেছেন।

সবার ওপরে তামিম ইকবাল

চতুর্থ ম্যাচে ১৫৪ রানের ইনিংসটির কল্যাণে দু দল মিলিয়েই সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের। এর পরই আছেন জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রি। তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড অপরাজিত ১৯৪ সিরিজে তাঁর রান নিয়ে গেছে ২৯৬-এ। গত পরশু পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষে কভেন্ট্রি ও তামিমের রান ছিল সমান। পরে ৪ রান করে তাঁকে টপকে যান তামিম।
অত বড় একটা ইনিংস খেলার পর তামিম সবার ওপরে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাফল্যভাস্বর সিরিজে সবচেয়ে ইতিবাচক ছিল, ব্যাটিংয়ে নির্দিষ্ট কারও মুখ চেয়ে থাকেনি বাংলাদেশ। একেক ম্যাচে দাঁড়িয়ে গেছেন একেকজন। এ কারণেই বাংলাদেশের আরও তিন ব্যাটসম্যানের দেড় শ ছাড়ানো রান, আরেকজনের প্রায় দেড় শ (১৪৮)। সেঞ্চুরির দিক থেকেও এটি মহাস্মরণীয় এক সিরিজ। এই সিরিজের আগে ২০১টি ওয়ানডে খেলে যেখানে বাংলাদেশের পক্ষে মাত্র ১২টি সেঞ্চুরি, এই পাঁচ ম্যাচেই সেঞ্চুরি ৩টি। সংখ্যাটা ৪-ই হয়ে যেত। হয়নি শেষ ম্যাচে মুশফিকুর রহিম ৯৮ রানে আউট হয়ে যাওয়ায়।
সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৮টি) জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি স্পিনার রেমন্ড প্রাইসের। ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফলতম বোলার বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেল। বোলিংয়ে কারও একক আধিপত্য নেই, সত্যিকার টিম ওয়ার্ক যাকে বলে। তবে লক্ষণীয় হলো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্পিনারের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকা পেসাররাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সফল। হঠাত্ ডাক পেয়ে উড়ে যাওয়া ডলার মাহমুদের শেষ ম্যাচে ২৮ রানে ৪ উইকেট সিরিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

ক্রিকেটারদের পুলে এবার ১৯ জন

২০০৯-১০ মৌসুমের প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের জন্য ১৯ জন খেলোয়াড়কে পুলভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। গত ১ মার্চ থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের নেওয়া হয়েছে এই পুলে। গতবারের মতো এবারও সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড়কে নাম রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে কোনো দল।
পুলভুক্ত ১৯ ক্রিকেটার
মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, শাহাদাত হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মেহরাব হোসেন, রকিবুল হাসান, মাহমুদ উল্লাহ, জুনায়েদ সিদ্দিক, নাজমুল হোসেন, মাহবুবুল আলম, নাঈম ইসলাম, ইমরুল কায়েস, রুবেল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র ও ডলার মাহমুদ।

মারুফই মোহামেডানের কোচ

কে হচ্ছেন মোহামেডানের কোচ, গত কিছুদিন এটা ছিল স্টেডিয়ামপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন। ক্লাবের একটা মহল থেকে আপত্তি ওঠায় গতবারের ‘সফল’ কোচ মারুফুল হককেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা থমকে ছিল। শেষ পর্যন্ত গতকাল মারুফকেই কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে মোহামেডান।
সিদ্ধান্তটা এসেছে ক্লাবের নতুন ফুটবল কমিটির সভায়। পরশু ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সভায় কোচ ঠিক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই দিনই গঠিত ফুটবল কমিটির ওপর। পরদিনই কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামের ব্যবসায়িক অফিসে বসেন কমিটির ১৬-১৭ জন কর্মকর্তা। সেখানে কোচ হিসেবে শুধু মারুফের নামই এসেছে। তবে জানা কথাই, ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের ইচ্ছারই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।
আবদুস সালাম জানাচ্ছেন, ‘মারুফকেই আমরা কোচ রাখছি। সভায় সবাই তাঁর প্রশংসা করেছে। গতবার তিনি ফেডারেশন এবং সুপার কাপ জিতিয়েছেন, বি-লিগে রানার্সআপ করেছেন দলকে। কাজেই তাঁকে বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তিই আমরা দেখিনি।’
গত মৌসুমেই মারুফের কোচিংয়ের সমালোচনা শুরু করেছিলেন ফুটবল কমিটির সদস্য কিছু সাবেক ফুটবলার। এবারও তাঁরাই অগ্রণী হয়ে কোচ হিসেবে শফিকুল ইসলাম মানিককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। মানিক না মারুফ—এ নিয়ে মোহামেডান কর্তাদের তীব্র মতভেদ দেখা দেওয়াতেই কোচ চূড়ান্ত করতে এতটা সময় লাগল ক্লাবটির। তবে এটিকে সবাই খুশি মনে মেনে নিয়েছেন, এমন নয়। কাল মোহামেডানের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোস্তাকুর রহমানের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও এ কারণেই বলে মনে করছেন অনেকে।
মারুফুল হক নিজেও মোহামেডানে থেকে যাওয়ার ভাবনাটা একটা সময় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাঁকেই কোচ করা হয়েছে জানার পর কাল রাতে টেলিফোনে বললেন, ‘নানা কারণে ধরে নিয়েছিলাম, মোহামেডানে হয়তো আর ফিরে যাওয়া হচ্ছে না। এমনকি এ বছর আর কোচিংই করাব না ঠিক করেছিলাম। অনেক দিন ধরেই আমি একটু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছি। তবে এখন সিদ্ধান্তটা জেনে ভালো লাগছে।’
কোচের মতো মোহামেডানের অধিনায়ক পদে পরিবর্তন আনা হয়নি। আরমান আজিজই থাকছেন অধিনায়ক। ম্যানেজার হিসেবে বহাল থাকবেন আমিরুল ইসলাম বাবু। সহকারী ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। ঠিক হয়েছে, আবাহনীর পথ ধরে এবার একজন বিদেশি ট্রেনার আনবে মোহামেডান।
জরুরি এসব সিদ্ধান্ত নিতে পেরে এত দিনে মোহামেডান ভারমুক্ত হতে পারল! তবে মোস্তাকুর রহমানের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল, মারুফুল হকের জন্য হয়তো বড় চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে সামনে।

অ্যাশেজ মীমাংসার টেস্ট শুরু আজ

নাটকের শেষ অঙ্ক মঞ্চায়নের জন্য প্রস্তুত ওভাল। ওভাল! এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর কী হতে পারে? ১৮৮২ সালে এই ওভালেই ইংল্যান্ডের ৭ রানের পরাজয়ের শোক থেকেই তো জন্ম নিয়েছিল অ্যাশেজ কিংবদন্তি। এই ওভালেই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত শূন্য। এই সেই ওভাল, ১৯ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ডেনিস কম্পটন ১৯৫৩ সালে ইংলিশদের এনে দিয়েছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত ভস্মাধার। এই ওভালই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখেছে ২০০৫-এ। কেভিন পিটারসেনের সেঞ্চুরিতে ড্র নিশ্চিত করে ১৮ বছর পর আবারও অ্যাশেজ ঘরে তুলেছিল ইংল্যান্ড!
সেই ওভালে আজ থেকে যখন শুরু হচ্ছে এবারের অ্যাশেজের ভাগ্য-নির্ধারণী টেস্ট, ইতিহাসের ছড়িয়ে থাকা এই সব নুড়ি-পাথরও যেন ধরা দিচ্ছে মানিক-রতন হয়ে।
রিকি পন্টিংয়ের কথাই ধরুন। আর সব বাদ দিয়ে ২০০৫ সালের অভিজ্ঞতাটাই তাঁর মনে সবচেয়ে টাটকা থাকার কথা। সেবার পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বেই তো ১৮ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ হারানোর কলঙ্ক। প্রতিশোধের আগুন কি জ্বলছে না তাঁর মনে?
পন্টিং নিজ মুখে স্বীকার করেছেন, ক্যারিয়ারের ১৩৬তম টেস্টটি গুরুত্ব বিবেচনায় ছাপিয়ে যাচ্ছে বাকি সবকিছুকেই, ‘আমার মনে পড়ে না এমন একটা ম্যাচের জন্য শেষ কবে এতটা রোমাঞ্চিত বোধ করেছি।’
না, প্রতিশোধ স্পৃহায় নয়, পন্টিংকে আলোড়িত করছে ওভালের ইতিহাস। পন্টিংকে হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাসও—ইংল্যান্ডে সিরিজ-জয়ী অস্ট্রেলীয় অধিনায়কদের তালিকায় নাম লেখানো। আগামী ডিসেম্বরে ছত্রিশে পা দিতে চলা পন্টিংয়ের যে এটাই শেষ সুযোগ। আবার কি ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে আসা হবে তাঁর?
এ জন্যই পন্টিংয়ের এত ব্যাকুলতা। না হলে রীতিমতো দিব্যি কেটে তিনি বলছেন, প্রতিশোধ-ট্রতিশোধ কোনো কিছু মাথায় নেই তাঁর। কিন্তু পন্টিংয়ের এই দাবি আপনি বিশ্বাস করবেন কি না আপনার ব্যাপার। কারণ তাঁর এ মন্তব্যটাই যে তা বিশ্বাস করতে দিচ্ছে না, ‘২০০৫ সালের ওই পরাজয়ে আমি যতটা আহত হয়েছি, ড্রেসিংরুমে আমার পাশের খেলোয়াড়টি কিন্তু এর চেয়ে কম আহত হয়নি।’
কী আশ্চর্য দেখুন, শেষ টেস্টের প্রিভিউটার শুরু অর্ধেক অস্ট্রেলিয়া জিতবে কি না এই খাতেই বরাদ্দ হয়ে গেল! অথচ লর্ডসে ইংল্যান্ড জেতার পর মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডে টানা দুই অ্যাশেজ হেরে যাওয়া অধিনায়কের তালিকাতেই না নাম উঠে যায় পন্টিংয়ের। আসলে লর্ডসের ওই চপেটাঘাত যেন ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলীয়দের। এজবাস্টন টেস্টে যে ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু, তার পূর্ণতা এসেছে হেডিংলিতে ইংনিস ব্যবধানে জয় দিয়ে।
গত দুই টেস্টে ২০০৫ অ্যাশেজের দুই নায়কের অনুপস্থিতি অবশ্য ভালোই অনুভব করেছে ইংল্যান্ড। পিটারসেন দর্শকই হয়ে গেছেন। অনেক দোনোমনা শেষে ওভালে ফিরছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। যেটি তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট। ফ্লিনটফের টেস্ট বিদায় সংবর্ধনার মৌতাতে যেন আচ্ছন্ন পুরো ক্রিকেট বিশ্বই।
অস্ট্রেলীয়দের কাজই হলো এসবের ফাঁক-ফোকর থেকে ফায়দা খুঁজে নেওয়া। পন্টিং যেমন বলছেন, ফ্লিনটফের বিদায়ী টেস্টের কারণে ইংল্যান্ডের মনোযোগ অন্য দিকে থাকবে। ফ্লিনটফ নিজে অবশ্য এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন, ‘১-১-এ সিরিজে সমতা, ওভালে জিতলেই অ্যাশেজ জয়—এসব অনেক বড় ব্যাপার। এটা আমার শেষ টেস্ট হতে পারে, কিন্তু আমি এটা নিয়ে অযথা উত্তেজনায় ভুগছি না। কারণ অ্যাশেজ জেতার সুযোগ এর চেয়ে অনেক বড় ব্যাপার।’
ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস কিন্তু বলছেন, এই টেস্টে ফ্লিনটফ অবশ্যই বড় ব্যাপার। আর তাঁর বিদায়ী টেস্টে সতীর্থরা জয়ই উপহার দিতে চায়। জয় ছাড়া অন্য কিছু ইংল্যান্ড ভাবছে না। ভাবার অবকাশও নেই। ম্যাচটা ড্র হলেও গতবারের বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার কাছেই থেকে যাবে অ্যাশেজ ট্রফি।
অস্ট্রেলিয়ার ড্র হলেই চলে—এ ধরনের কথাবার্তা আবার মাইকেল ক্লার্কের মোটেও ভালো লাগছে না। অধিনায়কের পথে না হেঁটে সহ-অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, জয় দিয়েই হবে প্রতিশোধ। তা ছাড়া টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে চাইলে জয়ের বিকল্পও নেই অস্ট্রেলিয়ার হাতে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও ভারত—চার দলের মধ্যে মাত্র ৫ পয়েন্টের ব্যবধান। ওভাল টেস্ট ও শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সিরিজের ফলাফলে তাই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে শীর্ষ চারের অবস্থানের।

বিশ্ববিদ্যালয় -আগস্ট-বিক্ষোভের দুই বছর ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা by বাধন অধিকারী

২০ আগস্ট ২০০৭। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত সেনা-ক্যাম্পের এক সেনাসদস্যের সঙ্গে খেলার মাঠে শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই মূর্ত হয়ে ওঠে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই দিনের শিক্ষার্থী-নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মৌন মিছিল করা হয়। তাতে অংশ নেন চারজন শিক্ষক ও বেশ কিছু শিক্ষার্থী। পরের ঘটনা সবার জানা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে এল অকথ্য নির্যাতন-নিপীড়ন ও গ্রেপ্তার-রিমান্ড-মামলা। স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়ে বিচারের সম্মুখীন করা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকদের। তাঁরাও রেহাই পেলেন না রিমান্ডের নাম করে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন-সাজা থেকে। নিম্ন আদালতের রায়ে সাজা প্রদানের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সরকার তাঁদের মুক্তি দিতে বাধ্য হলো, কিন্তু সাজিয়ে রাখল সাধারণ ক্ষমতার একটি একাঙ্কিকা। মানে তোমরা অন্যায় করেছ, তোমরা সাজাপ্রাপ্তও, কিন্তু আমরা তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সেই সময়ের রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিপক্ষ বিবেচনা করেছিল এবং সেই সময়ের রাষ্ট্রের আইন বিভাগের চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকেরা ছিলেন অপরাধী।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি মামলায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মামলা নিয়েও উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। এই মামলাটির ক্ষেত্রেও উচ্চ আদালতের রায় শিক্ষকদের পক্ষে যাবে বলেই আশা করছি।
কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার সুরাহা হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভাঙচুরের যে মামলাটি দিয়েছিল, সেটি এখনো ওভাবেই আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র কর্তৃক দায়ের করা অপর একটি মামলার রায়ে ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত, যাঁরা তথাকথিত সাধারণ ক্ষমায় ক্ষমাপ্রাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও এখনো তাদের আপিল করা হয়নি উচ্চ আদালতে। ভিসি ছাত্র উপদেষ্টাকে দেখিয়ে দেন, ছাত্র উপদেষ্টা দেখান লিগ্যাল সেলকে, কিন্তু মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয় না।
এখন কথা হলো, মামলা থেকে রেহাই না পেলেও শিক্ষকদের খুব বেশি ক্ষতির কিছু ছিল না। ৭৩-এর অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার যতটুকু নিশ্চয়তা বিধান করেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই শিক্ষকেরা তখন রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের চাকরি হারাননি চাকরিসংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে আছে বলে। তবে শিক্ষকেরা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে তাঁদের গায়ে সরকারের জুড়ে দেওয়া কলঙ্কের হাত থেকে রেহাই পাবেন। প্রতিবাদের ন্যায্যতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। এটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর রায়। এই মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি না পেলে তাঁরা চাকরির আবেদন করতে পারবেন না। বিভিন্ন রকমের হয়রানির শিকার হবেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে। অনিশ্চিত হয়ে পড়বে তাঁদের ভবিষ্যত্।
আগস্টের ছাত্র বিক্ষোভ এবং পরবর্তী ছাত্র-শিক্ষক মুক্তির আন্দোলন ছিল অগণতান্ত্রিক জরুরি-ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বড় ধরনের প্রতিবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন জাগিয়ে তুলেছিল সারা দেশকে। আগস্টের সেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের সঙ্গে সমাজের অন্যান্য শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতিরোধ যুক্ত হলে অগণতান্ত্রিক সেই সরকার বাধ্য হয়ে নির্বাচন দেয় এবং সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এই সরকার। আগস্ট বিক্ষোভের সব মামলা থেকে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি দেওয়াটা তাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সঙ্গে সরকার যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেটার কার্যকর ভূমিকা এবং নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও এই সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়বোধ ভুলে গেলে দেশের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অশ্রদ্ধা করা হবে। দুই শতাধিক আসন পেয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া মহাজোট সরকার সেই অশ্রদ্ধা পোষণের কাজটি করবে না—এই আশাবাদটুকু তাদের কাছে রাখছি।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আগস্ট বিক্ষোভ আমাদের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রশ্নটিকে সামনে এনেছিল। আবার প্রমাণিত হয়েছিল যে, রাষ্ট্র যখন ঠিক পথে পরিচালিত হয় না, তখন বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে সমাজের অমঙ্গল হয় না। তাই এই বিরুদ্ধাচরণের মানে রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করবার, প্রতিবাদ করবার নৈতিক দায়িত্ব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বঞ্চিত করা যাবে না। ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতির নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়কে রাষ্ট্রের অঙ্গে পরিণত করবার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। ৭৩-এর অধ্যাদেশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার যতটুকু নিশ্চয়তা বিধান করেছিল, তা দিয়ে আগস্টের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঠেকানো যায়নি। অধ্যাদেশের সংস্কার করে তাই রাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা আদায় করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরই। তিনজনের প্যানেল থেকে ভিসি নিয়োগ দেওয়ার যে সুযোগ রাষ্ট্রপতির হাতে, সেটা একটা বড় সমস্যা। এই জায়গায় পরিবর্তন দরকার। দরকার অভ্যন্তরীণ কর্তৃত্ববাদী পরিচালন ব্যবস্থার অবসান। লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি নয়, আবার ছাত্ররাজনীতি বন্ধের নামে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন তত্পরতা বন্ধের পাঁয়তারাও নয়, দরকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীন সংগঠন।
আজকে আগস্ট ঘটনার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে এসে সেই স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে অগ্রসর হওয়াটাই আমাদের কাজ। স্বাধীন চিন্তাই কেবল পারে অপেক্ষাকৃত স্বাধীন ও মুক্ত পৃথিবীর দিকে নিয়ে যেতে। ধারণাগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় সেই স্বাধীন চিন্তার প্রাণকেন্দ্র। আমাদের কাজ যার যার জায়গা থেকে সেই ধারণার যথার্থ বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকা।
বাধন অধিকারী: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ভোটারদের ‘সত্যাগ্রহের’ অপ্রকাশিত সত্য by ফারুক ওয়াসিফ

এরকম এক কথা আছে যে, জনগণ যেমন সরকার তেমন। কথাখানি বাংলাদেশে আর সত্য মনে হয় না। অন্তত গত নির্বাচন দেখে এই অমত করতেই হচ্ছে।
নির্বাচনটি যে ‘ঐতিহাসিক’ তা নিয়ে কারও সন্দেহ নেই। ক্ষমতার মসনদ কার হলো তার নিরিখে নয়, কীভাবে এবং কোন অবস্থায় এমন ‘ঐতিহাসিক’ বিজয় এসেছে, তার বিচারে। জরুরি অবস্থা, জেল-জুলুম, ফৌজি হম্বিতম্বি মানুষকে খুব একটা উত্তেজিত করেনি। তারা বরং উপযুক্ত মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছে। ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮-এর মোক্ষম মুহূর্তে ভোটারের বেশে তারা তাদের ‘নীরব’ অ্যাকশনটি করে দিয়েছে। সেটাই ছিল তাদের এক ঢিলে দুই পাখি মারার কর্ম। একদিকে সেনা-সমর্থিত জরুরি অবস্থা অন্যদিকে রাজনীতি-আশ্রিত দুর্নীতিবাজ, ধর্ম ব্যবসায়ী, মিথ্যার ব্যাপারিদের জবাব দিয়ে দেওয়া। মাওলানা ভাসানীর ভাষায় ‘অলাইকুমআসসালাম’ বলে দেওয়া।
জরুরি অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই আইনের বরখেলাপ ঘটিয়েছিল। তার জবাবে মানুষ আইন অমান্য প্রতিবাদ তেমন হয়নি। এজন্যই একে বলছি, গান্ধির সত্যাগ্রহ বা শেখ মুজিবের অসহযোগ। আজকের সীমিত গণতন্ত্রের টাইট বাঁধনে অনেক ক্ষেত্রেই গণআন্দোলনের সুযোগ থাকে না। এরকম অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে অপশাসন পাল্টানোর সুযোগ নিতে দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা ও বাংলাদেশের গত নির্বাচন এর আদর্শ উদাহরণ। মানুষ মনের মতো সরকার পায়নি সত্য কিন্তু ‘যারে সইতে নারি’ তার বিদায় হয়েছে। এজন্যই তা ‘সত্যাগ্রহ’। কিন্তু কোন সত্যকে তারা সেদিন তুলে ধরেছিল? জনতার সেই সত্য আর জনতা-সমর্থিত সরকারের সত্য কি এখন এক দাগে এক মাপে মিলছে? দাগে দাগে মিলিয়ে দেখা যাক।
এক. ২৯/১২-র নির্বাচন সরাসরি ১/১১-এর খণ্ডন বা নেমেসিস। যে অবস্থা ও যে শক্তি একে ডেকে এনেছিল ২৯/১২-তে জনগণ তাদের অস্বীকার করেছে। নির্বাচনের আগে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) এক জরিপে দেখা যায়: ৮৭ ভাগ ভোটার মনে করে, যে দলেরই সরকার হোক নির্বাচিত সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের থেকে ভালভাবে দেশ চালাবে (http://asiafoundation.org)। নিশ্চয়ই দ্রব্যমূল্য বাড়া এবং ক্ষমতার অনেক কর্তাদের দুর্নীতি তাদের এটা ভাবতে বাধ্য করেছিল।
দুই. ১৯৫৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ মরণ-ধাক্কা খেয়েছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট তেমন ধাক্কা না খেলেও, তাদের চালচলন বদলাতে হবেই, হুঁশিয়ারির সেই লাল পতাকা ভোটাররা উড়িয়ে দিয়েছেন। আওয়ামি লীগের হাতে এছ আরও প্রায় সাড়ে চার বছর, কিন্তু বিএনপির হাতে সেই সময় নেই, যদি পরের নির্বাচনে সবুজ কার্ড পাওয়ার আশা দলটি করে থাকে।
তিন. প্রমাণ হয়েছে ‘বিদেশি বন্ধুরা’ নয়, জনগণই বাংলাদেশি গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সহায়। বিদেশিরা সমর্থন দিয়েছিল ১/১১-এর অনির্বাচিত সরকারকে। অথচ ২০০৮-এর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রমাণ হয় জনগণের ঝোঁক নির্বাচন ও রাজনীতিবিদদের দিকে। অতীতেও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এবং তাদের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এরশাদের সামরিক স্বৈরাচার, বিএনপি-জোটের দুই আমলের ‘সেনা-সমর্থিত’ সরকারকে সমর্থন দিয়ে তাদের মেয়াদ বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ আছে। অথচ ওই সব আমলেই বেশি হারে আইন-আদালতকে তুচ্ছ করা, দলীয়করণ এবং কালো টাকা ও দুর্বৃত্তদের প্রতিষ্ঠা তথা রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি হয়েছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই সময়েই রাজনীতি থেকে সাধারণ মানুষ ক্রমশ পরিত্যক্ত হয়েছে।
চার. ‘সত্যাগ্রহ’ বা ‘ঐতিহাসিক’ কথাটা বাড়িয়ে বলা নয়। ভোটের দিন ভোট যাই সাভার অঞ্চলে। ঘুরে ঘুরে যা দেখি এককথায় ‘তীর্থযাত্রী’ ও ‘তীর্থদর্শন’। ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল তীর্থস্থানের মতোই জনাকীর্ণ ও মুখর। পশ্চিমা দেশের মতো মানুষ কাজ সারার মতো ভোট দিয়েই চলে যাচ্ছে না। যিনি সকালে এসেছেন, তিনি দুপুর পর্যন্ত রয়ে যাচ্ছেন। যিনি দুপুরে খেয়েদেয়ে এসেছেন তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রের সামনের মাঠে বা চত্বরে বসে আড্ডা-আলোচনা ইত্যাদি করছেন। মহিলারা এসেছে সেজেগুজে—যেন ঈদ লেগেছে। ফতুল্লার পোশাক শ্রমিক ভোটের ছুটিতে সাভারের গেরুয়ায় গ্রামের বাড়িতে এসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভোট দিতে বেরিয়েছেন। তাঁর কারখানার শ্রমিকরা অনেকেই নাকি ভোট দিতে বাসে-ট্রেনে-লঞ্চে করে দূরদূরান্তে গ্রামের বাড়ি গেছে। প্রাচীন লোকশ্রুতি আছে, ন্যায়ের পক্ষে নাকি গায়েবি জিন-ফেরেশতারা এসে যুদ্ধ করে দিয়ে যায়। এমনিতে যাঁদের সাড়াশব্দ কম পাওয়া যায়, দেশের সেই হতদরিদ্র মানুষরা সেই গায়েবি সৈনিকদের মতো নীরবে এসে নীরবে মহাজোটকে জয়যুক্ত করে দিয়ে গেছেন।
এই ভোটারদের বড় অংশই কিন্তু গ্রাম-শহরের গরিব মানুষ। সেদিক থেকে এই সরকার গরিব ও বঞ্চিতদের রায়ে আসা সরকার। গত এক যুগের লাগামছাড়া বাজার অর্থনীতি, দিশাহীন উন্নয়ন প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় লুটপাটের সর্বনাশা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও তাঁরা সেদিন একযোগে ‘না’ বলেছেন। যেহেতু ওই সময়টায় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল সেহেতু খেসারতটা বিএনপিকেই দিতে হয়েছে বেশি। অস্ফুট হলেও এটা মুক্তবাজারি বাড়াবাড়ি, করপোরেট উন্নয়ন, রাজনৈতিক মাফিয়াতন্ত্র এবং যুদ্ধাপরাধী ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের শ্রেণীসংগ্রামেরই প্রকাশ। ঠিক যেমন পূর্ব বাংলার দরিদ্র কৃষকেরা ১৯৪৬-এ জমিদার শ্রেণীর বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের জোতদারদের জয়ী করেছিলেন, অনেকটা সেভাবেই। কিন্তু মুসলিম লীগ তাদের চরম হতাশ করেছিল। এ জন্যই তীব্র আশার শিখর থেকে সাধারণ মানুষ যদি আবার হতাশার খাদে পড়তে বাধ্য হলে বিজয়ীদের জন্য এর প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। গতকালই এক বয়স্ক রিকশাচালককে বলতে শুনি, আওয়ামি লীগের মেরুদণ্ড গরিবরা, কিন্তু গরিবদের সঙ্গে কী লাগাইছে সরকার? তাঁর অভিযোগ ছিল, মোবাইল কোর্ট বসিয়ে রিকশাচালকদের হয়রানি করা বিষয়ে। এরকম আশাভঙ্গের স্বাদ স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার অনেকটা পেয়েছিল।
পাঁচ. প্রমাণ হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের সামাজিক ভিত্তি খুবই নাজুক। এই নির্বাচন জনবিচ্ছিন্ন উগ্রপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে রাজনৈতিক হুমকির পর্যায় থেকে আইনশৃঙ্খলা সমস্যার পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। পাশ্চাত্যের বহু বিশ্লেষক, গবেষক ও কূটনীতিকের ‘বাংলাদেশ হবে পরবর্তী আফগানিস্তান’, ‘ককুন অব টেরর’ জাতীয় মুখস্থ বুলিকে নাকচ করে ভোটাররা প্রমাণ করেছেন, ধর্মীয় সহনশীলতা, নমনীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতাই বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক মেজাজের মূল সুর। গণযুদ্ধ, গণ-অভ্যুত্থান এবং গণভোটই তাঁদের প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র। একাত্তর থেকে এ অবধি এর বাইরে প্রমাণ নেই। তাই দেখা গেল, পাকিস্তানের মতো পশ্চিমা হস্তক্ষেপ, আলজেরিয়ার মতো সরকারি দমন-পীড়ন, কিংবা মার্কিন-ব্রিটিশ প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা ও তাদের যন্ত্রপাতি দিয়ে যা করা যানি, তা ভোটাররাই করে দিয়েছেন। এখনো দুর্নীতি, অগণতন্ত্র ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণই বড় রক্ষাকবচ। এবং এই জনগণ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মুসলিম ভোটার। দুঃখ যে, ওপর তলার অনেকেই এই মানুষের প্রতি আস্থা না রেখে ভরসা করেন আরো ওপরের ‘বিদেশি বন্ধুদের’। আমাদের বিভিন্ন সরকারও জনগণের এই উদার ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক চেতনার বিপরীত রাষ্ট্রীয় নীতি চাপিয়ে দিয়েছে। পঁচাত্তর-পরবর্তী পাশ্চাত্যের মদদপুষ্ট এসব সরকারই ইসলামের রাজনৈতিক অপব্যবহার বেশি করেছে। শেখ হাসিনাও কম যাননি। ২২ জানুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তো খেলাফত মজলিশের সঙ্গে চুক্তিই করে ফেলেছিলেন! তার পরও প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট ৫-১০ শতাংশ করে বেড়েছে। কারণ, তারা একেই মনে করেছে মন্দের ভালো। দুঃখ এই, ‘মন্দের ভাল’র বাইরে সত্যিকার বিকল্প এখনো দানা বাধেনি আর আশা এই, ‘মন্দের ভাল’ বাছতে বাছতে ‘ভাল’র ভাল জন্মানোর পরিবেশ হয়তো সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশি সমাজ মোটাদাগে গণতন্ত্রভক্ত এবং ধর্ম বিষয়ে প্রাণখোলা ও উদার, কিন্তু রাষ্ট্র তা নয়। বলা যায়, সমাজ ও রাষ্ট্রের এই বিরোধই বাংলাদেশের মূল সমস্যা। ‘বিদেশি বন্ধুদের’ প্রতি আবেদন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিজ থেকেই কায়েম থাকতে সক্ষম। হস্তক্ষেপ ও সবক নয়, আমাদের প্রয়োজন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখায় নিঃশর্ত সহযোগিতা। তাতে আমাদের গণতন্ত্রের গণতন্ত্রায়ন সহজ না হোক, কিছু বাধা অন্তত কমবে। গত নির্বাচনের ‘সত্যাগ্রহের’ এটাও এক পরম সত্য।
ছয়. স্বাধীনতার রক্ষক দাবিদার আওয়ামী লীগ কিন্তু তাদের স্লোগান ও ইশতেহারে তাদের এসব বাহারি বুলির ব্যবহার কম করে সুফল পেয়েছে। কিছুটা পিছু হটে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শকে তারা সাংস্কৃতিক আদর্শে পরিণত করে নিয়েছে আরও আগে। উভয় জোটই কমবেশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরাশক্তির মুখাপেক্ষী। তাহলেও বরাবরের মতো বিএনপি-জামায়াত ভারত বিরোধিতা ও ধর্মীয় আত্মপরিচয়ের রাজনীতি দিয়ে নিজেদের আলাদা দেখাতে চাইছে। কিন্তু এই কার্ড গত নির্বাচনে খুব একটা কাজ করেছে বলে মনে হয় না। এখন সরকার দিচ্ছে সুশাসন, দ্রব্যমূল্য কমানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি আর বিএনপি জোট নিয়েছে সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবস্থান। টিপাইমুখ, বিডিআর বিদ্রোহ, ট্রানজিট ইত্যাদি প্রশ্নে আওয়ামী লীগের কিছুটা নমনীয় ও ধীরে চলো নীতির সুযোগ নিতে চাইছে তারা। হারানো সমর্থন ফিরে পাওয়ায় এটাই তাদের বর্তমান কৌশল। নির্বাচনে প্রভাব না ফেললেও প্রতিকূল আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য সার্বভৌমত্বের রাজনীতির আবেদন আপাতত বেশি বলেই মনে হচ্ছে। সরকার যদি এ ব্যাপারে সতর্ক ও স্বচ্ছ না হয়, তাহলে এটাই হতে পারে তার একিলিসের হিল অর্থাত্ সেই নাজুক জায়গা, যেখানে আঘাত করে তাকে ধরাশায়ী করা সম্ভব।
সাত. তৃতীয় দফায় নির্বাচিত হলে খালেদা জিয়া পরিবার ডায়নাস্টি বা রাজবংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ভয় ছিল। সমর্থন তুলে নিয়ে নতুন ডায়নাস্টির পথে ভোটাররা কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে ভোটাররাই। একদিক থেকে ‘মাইনাস টু’ সফল কারণ দুই পরিবারের দুই তনয় ক্ষমতার বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এদেশে যতবারই কোনো রাজনৈতিক পরিবার ডায়নাস্টি হতে গিয়েছে, ততবারই জনগণ তা রুখে দিয়েছেন। বায়াত্তরের পর মুজিব পরিবারের একচ্ছত্র ক্ষমতার তাপে জনসমর্থন উঠে যাওয়াতেই ঘাতকদের পক্ষে ষড়যন্ত্র সফল করা সম্ভব হয়েছিল। বিষয়টা যদি দুই নেত্রী বুঝতে পারেন, তাতে তাঁদের ও দেশের সবারই মঙ্গল।
উপসংহার: ভোটের দিন দেখেছিলাম, ক্যাডাররা ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে দাঁড়িয়ে ভোটারদের তেল-তোয়াজ দিয়ে যাচ্ছে। আজ পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ভোটারের সারিতে যাঁরা সেদিন দাঁড়িয়েছেন, তার সঙ্গে ক্ষমতার সারিতে আজ যাঁরা দাঁড়িয়ে, তাদের মধ্যে দূরত্ব কেবলই বাড়ছে। জনগণের সত্যাগ্রহ আর ক্ষমতাসীনদের পালিত সত্য এক থাকছে না। গরিব মানুষ ‘ভদ্রলোক-বাবুদের’ ভোট দেয় বটে কিন্তু প্রয়োজন না মিটলে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে দেরি করে না। জনগণ বদলানোর আগে শাসকদের খাসলতই বদলাতে হবে। কী অর্থনীতি কী রাজনীতি, সবখানেই জনগণ দায়িত্বশীল বলেই দেশটা চলছে এবং টিকে আছে। এই সত্য উপলব্ধি করতে হবে।
যে অতীত মৃত, তা ইতিহাস নয়। কেননা, ইতিহাস একমাত্র বর্তমানেই বেঁচে থাকে। সেই বর্তমানে গত নির্বাচনের ঐতিহাসিক শিক্ষা ও সত্য এখনো জাগ্রত। একইভাবে জাগ্রত জরুরি অবস্থার ক্ষত। প্রজাতন্ত্রে রাজশক্তি ও প্রজাশক্তির ভারসাম্য রাখার স্বার্থে এই দুইকেই মনে রাখা দরকার।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না

ঊর্ধ্বমুখী বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা হিসেবে সরকার অবশেষে ডিম ও আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে ডিম-আলুর দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়া শুরু করেছে বলেই সরকারকে শেষ পর্যন্ত এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। পাশাপাশি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিশোধিত চিনি আমদানির শুল্ক। এর মানে হলো, আমদানি বাড়িয়ে দেশের বাজারে এই তিনটি পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো হবে, যাতে তা ভোক্তার চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। এতে চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে; অন্তত সরকার এটাই প্রত্যাশা করছে।
কিন্তু এই পদক্ষেপ আবার আমাদের একটি পুরোনো প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। সেটি হলো—বাজার-প্রক্রিয়া কি ঠিকমতো কাজ করছে না? প্রশ্নটা এসেছে দেশে আলুর মজুদ ও ডিম উত্পাদনের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাঁচ মাসের আলু মজুদ রয়েছে। তাহলে এই মজুদ থেকে বাজারে পণ্য ছেড়ে জোগান বাড়ানো হচ্ছে না কেন? কেন দাম স্থিতিশীল না থেকে বাড়ছে? স্পষ্টতই এখানে বাজার-প্রক্রিয়া ঠিকমতো কাজ করছে না।
অবশ্য ডিমের বিষয়টি পুরোপুরি এ রকম নয়। চাহিদার বিপরীতে ডিমের উত্পাদন ও সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণে খামারগুলোয় বিপর্যয় নেমে আসায় ডিমের উত্পাদন হ্রাস পেয়েছিল। তবে খামারগুলো আবার চালু হতে শুরু করেছে। তাতে অবশ্য বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি; যার প্রমাণ ডিমের দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলা। আমদানির সিদ্ধান্ত দাম কমাতে কতটা সহায়তা করবে, তা জানার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে মূল আমদানিটা হবে প্রতিবেশী ভারত থেকে। আর ভারতও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। তাই মূল্যছাড়ের পাশাপাশি নিরাপদ ডিমের সরবরাহটাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে থাকল চিনি। পরিশোধিত চিনি ও চিনির মণ্ডের (র সুগার) মধ্যে শুল্ক-ব্যবধান একই রেখে দুই ধরনের চিনির শুল্ক হ্রাস কমানো তেমন ফল দেবে না, এটা সহজেই অনুমেয়।
তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ডিম-আলু আমদানি ও চিনির শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত কি সময়োপযোগী হয়েছে? প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখন চিনি আমদানির ঋণপত্র খুললে তা আসতে এক-দেড় মাস সময় লাগবে। তত দিনে রমজান মাস শেষ হয়ে চাহিদাও কমে যাবে। অন্যদিকে আলুর স্থানীয় মজুদ বাজারে ছেড়ে দাম কমানোর চাপমূলক কৌশল হিসেবে আমদানির সিদ্ধান্তটি অন্তত আরও সপ্তাহখানেক আগে নেওয়া যেত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা -আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তে আসতে হবে

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের সময়ই দেশের রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের ধারণা ছিল, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিন-চার মেয়াদের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে আপনাআপনি এ ব্যবস্থার প্রয়োজন শেষ হবে বলে তখন সাধারণভাবে আশা করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে তিন মেয়াদের পর এখন বাস্তবিকই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আর প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি বলছেন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার আলোকে। তাঁর মতে, তিনবার এ পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি ও নির্ধারিত মেয়াদ তিন মাসের পরিবর্তে দুই বছর প্রলম্বিত হওয়ায় এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। তাঁর আলোচনার প্রস্তাবটি ঠিক, কিন্তু ব্যাখ্যাটি ভুল। আসলে ব্যর্থতা নয়, সাফল্যই মূল বিবেচ্য বিষয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন, সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে বলেই এখন এ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে কি না তা নিয়ে আলোচনা করা চলে।
এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আশির দশকে আন্দোলনের সময় প্রথম নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রকৃত জনদাবিতে পরিণত হয়। একানব্বইয়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল তারই ফসল। কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা ছিল না। হয়তো এর প্রয়োজনও পড়ত না, যদি ১৯৯৪ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও সহিংসতা না হতো। এর পরই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সব বিরোধী দলের দেশজোড়া আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কায়েম করা হয়। সাধারণভাবে মানুষ বিশ্বাস করে, এর পর থেকে প্রতিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু ২০০৬ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিতর্কিত কিছু পদক্ষেপের কারণে প্রশ্ন দেখা দেয়। এর ফলে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাব ঘটে।
কিন্তু এটা অনস্বীকার্য যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নির্বাচনী আইনের সংস্কার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা লাভের ফলে এখন বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়েছে। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর আছে কি না তা নিয়ে চিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে তিনটি শর্তের বিনিময়েই তা সম্ভব। প্রথমত, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো কলাকৌশল থেকে ক্ষমতাসীন সরকারকে বিরত থাকার কার্যকর, বিশ্বাসযোগ্য ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা। এ জন্য নির্বাচনের তিন মাস আগে সরকারের পদত্যাগ ও বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র মন্ত্রিসভার অধীনে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ব্যবস্থাই প্রচলিত। দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের সময় তার সর্বময় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ প্রশ্নে দেশে প্রকৃত অর্থেই রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা।
দেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিজ্ঞানী, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকবে কি থাকবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এভাবেই শুরু হতে পারে।