Saturday, November 23, 2019

গর্ভেই নির্ধারিত হয়ে যায় সন্তানের ব্যক্তিত্ব: - নতুন গবেষণা

নতুন এক গবেষণা বলছে, কোনো নারী যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকেন, ঐ সন্তান ৩০ বছর বয়সের পৌঁছুনোর আগেই সে 'পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার' বা ব্যক্তিত্ব বৈকল্যে আক্রান্ত হতে পারে।
ঐ ঝুঁকি স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি হতে পারে।
এমনকি গর্ভাবস্থায় মাঝারি মাত্রার মানসিক চাপ যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তাহলেও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ফিনল্যান্ডে ৩,৬০০ গর্ভবতী নারী তাদের সন্তানদের ওপর ঔ গবেষণাটি চালানো হয়।
গর্ভাবস্থায় ঐ নারীদের মানসিক চাপ নিরূপণ করা হয়। পরে তাদের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর, ঐ সন্তানদের মানসিক বিকাশের ওপর নজর রাখা হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিৎ।
কীভাবে সন্তানকে বড় করা হয়, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা কী, শিশু বয়সে সে কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছিল কিনা - এগুলোও ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে।
তবে ঐ গবেষণায় জড়িত মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবও সন্তানের ব্যক্তিত্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

'পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার' বা ব্যক্তিত্ব বৈকল্য কী

'পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার' এমন একটি মানসিক অবস্থা যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবন তো বটেই, অন্যের জীবনেও বড় ধরণের সঙ্কট তৈরি করে।
গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে
এরা অনর্থক এবং অতিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হতে পারে, আবেগের ওঠানামার পেছনে কোনো যুক্তি থাকেনা, অতিমাত্রায় সন্দেহ-প্রবণ হয়ে পড়ে। এমনকী অনেক সময় সমাজ-বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
এ ধরনের মানুষ প্রায়শই মানসিক চাপে ভোগে। অনেক সময় এরা মাদক এবং মদে আসক্ত হয়ে পড়ে।

কীভাবে হয়েছিল এই গবেষণা

এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মনোবিজ্ঞান বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী 'ব্রিটিশ জার্নাল অব সাইকিয়াট্রি'তে।
গবেষণায় ৩,৬০০ গর্ভবতী নারীকে তাদের গর্ভাবস্থায় প্রত্যেক মাসে কিছু প্রশ্ন করে তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে মানসিক চাপের মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা করা হয়।
এই নারীরা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি এবং আশেপাশে থাকতেন। তারা ১৯৭৫ এবং ১৯৭৬ সালে সন্তানের জন্ম দেন।
ঐ সন্তানদের বয়স তিরিশে পৌঁছুনোর পর দেখা যায় তাদের ৪০ জনের মধ্যে মারাত্মক ব্যক্তিত্বের সংকট তৈরি হয়েছে । তাদের মানসিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

গবেষণায় ফলাফল

গবেষণায় দেখা যায় যে সব মায়েরা গর্ভাবস্থায় দীর্ঘদিন বড়রকম মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন, প্রধানত তাদের সন্তানরাই মানসিক সংকটে পড়েছে।
গর্ভবতী মায়ের মানসিক অবস্থার পরিণতি ভোগ করতে হয় সন্তানকেও
যে সব মায়েদের গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ কম ছিল, তাদের সন্তানদের চেয়ে চাপে থাকা মায়েদের সন্তানদের ব্যক্তিত্ব বৈকল্য হয়েছে অনেক বেশি - প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
মায়েদের চাপের কারণগুলোর মধ্যে ছিল - সম্পর্কের সংকট, সামাজিক বা মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কট।

কী করা যেতে পারে?

ব্রিটেনের রয়াল কলেজ অব সাইকিয়াট্রিস্টের অধ্যাপক ড. ট্রুডি সিনিভারত্নে বলছেন, গর্ভধারণ করলে অনেক নারী মানসিক চাপে পড়েন। তাদের জন্য সাহায্য খুবই জরুরী।
তিনি বলছেন - যদি এই মানসিক চাপ ঠিকমতো নিরসন না করা হয়, তার পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, তাদের জন্য এবং সন্তানদের জন্য।
"আমরা চাইনা যে বাবা-মার মনে এমন কোনো অপরাধ-বোধ তৈরি হোক যে তারা তাদের সন্তানদের ক্ষতি করছেন- কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এবং উঁচু মাত্রার মানসিক চাপ সন্তানদের ক্ষতি করে।"

কীভাবে গর্ভাবস্থায় মাসনিক চাপ কমানো সম্ভব

ড. সিনিভারত্নে বলছেন, গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই বাড়িতে এবং কাজের জায়গায় সাহায্য করতে হবে। চাপ তৈরি হলে, কীভাবে সে তা সামলাতে পারে - সে ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দিতে হবে।
"তাদেরকে জানতে হবে কীভাবে বিশ্রাম নিতে হয়, মানসিক চাপে পড়লে অন্যের কাছ থেকে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়।"
গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ধূমপান ত্যাগ এবং যথেষ্ট ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
গর্ভবতী মায়ের মানসিক মানসিক অবস্থা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে অনাগত সন্তানের ব্যক্তিত্ব

রসুনের চিকিৎসা ও গুণ by ডা: এম এ রাজ্জাক

রসুন শুধু আমাদের দেশেই মশলা বা ওষুধ হিসেবে পরিচিত নয়, প্রায় সারা বিশ্বেই এর সুদূর প্রসারী ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন কাল থেকেই এর অনেক নাম রয়েছে যেমন- সুকন্দক, অমৃত, রসুন আরো অনেক। এর জন্ম ইতিহাস এ রূপ যে, ইন্দ্র এবং তার পত্নী শচীদেবী একসময় নিঃসন্তান ছিলেন। তাদের বংশধারা বজায় রাখার জন্য কোনো এক ঋষীর পরামর্শে ইন্দ্র অমৃত সংগ্রহ করে আনলেন। খেতে দিলেন শচীদেবীকে সে অমৃত খাওয়ার সময় শচীদেবীর উদগার হয়, তাতে অমৃতের কিছু অংশ পড়ে যায়, সেই পতিত অমৃত থেকে জন্ম হয় এই রসুনের। তাই তাকে অমৃতও বলে। খাদ্য হিসেবে রসুন : মুখরোচক খাবার তৈরিতে এর জুড়ি নেই। এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ,বি,সি ও ডি। তা ছাড়া আছে পটাসিয়াম,ক্যালসিয়াম,ফসফরাস,আয়রন,আয়োডিন।
উগ্রশক্তির জীবাণুনাশক হিসেবে আছে- আ্যক্রোলিন, ক্রোটোলিন, ক্রোটোনিক, অ্যালডিহাইড,অ্যালাইল স্যালফাইড ও ভোলাটাইল টারপেনিস প্রভৃতি।
রসুনের সুদূরপ্রসারী ইতিহাস রয়েছে- জানা যায় হজরত ঈশা (আ:)-এর জন্মের ও অনেক আগে ব্যাবলিন বাসিন্দারা রসুনের ব্যবহার জানত। ফেরাউনের রাজপ্রাসাদ নির্মাণকালেও নাকি শ্রমিকদের খাদ্যেও সাথে রসুন খাওয়ানো হতো। আদিকালেই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী হিপোক্রেট ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। এ চিকিৎসা বিজ্ঞানী আরো বলেন আমাদের বনৌষধির মধ্যে রোগ প্রতিকারে রসুনের স্থান প্রথম।
কয়েক বছর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় রসুন প্রেমিকদের নিয়ে হয়ে গেল সিম্পোজিয়াম যা থেকে বেরিয়ে এলো রসুনের অনেক সুনাম। রসুনের মধ্যে এলাইল সালফেড থাকায় সব ধরনের জীবানু নাশ করার শক্তি আছে এতে।
রসুনের ব্যবহার : একটা রসুন থেতো করে ঘরে রাখলে ঘর জীবাণু মুক্ত থাকে। গত মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ চিকিৎসক আহত সৈনিকদের চিকিৎসায় রসুন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রয়োগ করতেন।
বিভিন্ন ধরনের বদ হজম, পাকস্থলীর বায়ু নিঃসরনে, খাদ্য হজমের ব্যাপারে রসুন সাহায্য করে। মেয়েদের রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে রসুন তা পুনরায় প্রবাহিত করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন রকম আওয়াজ অনুভূতিতে,কম শোনাতে, সমপরিমাণ আদার রস রসুন রসের সাথে মিশিয়ে ব্যবহারে ভালো ফল দেয়। আযুর্বেদের মতে রসুন বল, মেধা, স্মৃতি ও আয়ুর্বধক। পৌরুষ প্রবৃত্তির ধারক ও বাহক, নারীর পক্ষে সন্তানপ্রদ যুবতীর অঙ্গ সৌঠের সমতা রক্ষক। কিশোরের পক্ষে শরীর ও মনের সার্বিক উন্নতিকর। যে শিশুর/ব্যক্তির শরীরে তেমন কোনো রোগের সন্ধান পাওয়া যায় না অথচ শীর্ণকায় তাদের ১ কোয়া রসুন বেটে ২০০ গ্রাম দুধের সাথে জাল করে নিয়মিত সেবনে উন্নতি আসে। রসুন অস্থির ক্ষয় বন্ধ করে, প্রাত্যহিক ক্ষয় রোধ করে, বল বৃদ্ধি করে।
২/৩ কোয়া রসুন রস আমলকীর রসের সাথে মিশিয়ে খেলে যৌবন অটুট থাকে। রসুনের রস নিয়মিত মাথায় দিলে চুল পাকে, প্রলেপ দিলে টাক পড়ে না। যক্ষ্মা প্রতিরোধ করে। ফুসফুসের পচনসহ অন্যান্য গোলযোগ প্রতিহত করে। রসুন ছেচে সরিষার তেলের সাথে গরম করে মালিশ করলে গ্রন্থি ফুলা, সায়েটিকা, স্নায়বিক বেদনা, পক্ষাঘাত,বাত প্রভৃতির ব্যথা সেরে যায় পায়ের তলায় কড়া ও আম বাতের ভালো ওষুধ।
হোমিওপ্যাথিতে ব্যবহার :- হোমিওপ্যাথিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে রসুন থেকে তৈরি হয়েছে মেডিসিন। হোমিওপ্যাথিতে এর নাম এলিয়াম স্যাটাইভা। পরীক্ষায় যেসব লক্ষণ পাওয়া গেছে :- মানসিক উৎকণ্ঠা, জিবে চুল লেগে থাকার অনুভূতি। আবহাওয়ার পরিবর্তনে, খোলা বাতাসে, বিকেলে, রাতে ও সকালে ঘুম ভাঙার পর রোগের বৃদ্ধি ঘটে।
হোমিওপ্যাথি পরীক্ষায় ব্রঙ্কাইটিস : পুরনো কাশি, ঠাণ্ডায়, আবহাওয়া পরিবর্তনে বেড়ে যায়। বুকে ব্যথা হয়, প্রচুর শ্লেমা উঠে।
হাঁপানি : শ্বাস টানতে কষ্ট হয়। এলিয়াম সেটাইভা সেবনে ফুসফুসের কোষের মধ্যস্থিত জমাট কফকে তরল করে বাইরে বের করে দেয় এবং প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ করে।
যক্ষ্মা : ঘুষঘুষে জ্বর, কাশি,বুকে ব্যথা, ঠাণ্ডায় বৃদ্ধি, রক্ত কাশি, শরীর ক্ষয়, তাপমাত্রা হ্রাস, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, খোলা বাতাসে, বিকেলে, রাতে, সকালে,অনিন্দ্রায় বৃদ্ধি পেলে ৩ শক্তি ৩ ঘণ্টা পরপর সেবনে রোগী স্বাভাবিক হয়।
শরীর ক্ষয় :- যাদের খাওয়ার কমতি নেই অথচ শরীর শীর্ণকায় তাদের নিয়মাফিক সেবনে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
যৌবন রক্ষায় : নিয়মিত এলিয়াম স্যাটাইভা প্রয়োগে নারী, পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় ও ধরে রাখা সম্ভব হয়।
উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে ক্রিয়া করে।
মেধা হ্রাস : যেসব ছাত্রছাত্রীর স্মৃতিশক্তির হ্রাস আছে তাদের বৃদ্ধিকারক। শুধু স্মৃতিশক্তির বর্ধকই নয়, শরীর ও মনের সার্বিক উন্নতি করে।
কৃমি : ১ ফোঁটা এলিয়াম স্যাট শোয়ার সময় সেবন করে শোলে এতে গোলও গুড়া কৃমি বের হয়ে যায়।
পেট ফাঁপা : যাদের সামান্যতেই পেটের গোলযোগ, ফাঁপা, অজীর্ণ, জ্বালাযুক্ত উদগার হয়।
বাত- বেদনাদি : বাতের ব্যথা, সায়েটিকা স্নায়ুবিক বেদনা গ্রন্থিস্ফীতি, স্তনগ্রন্থির স্ফীতি, পক্ষাঘাত ব্যথা আছে, ৬ শক্তি প্রয়োগে সেরে যায়।
মেদ বৃদ্ধিতে : মেদ বৃদ্ধিতে অনেকে রসুন খান হোমিওপ্যাথি পরীক্ষায় এর রেজাল্ট আসেনি, আরো পরীক্ষা দরকার (এতে মাশরুম ও সয়াপুটিন নিতে পারেন)।
স্ত্রীরোগ : রসুন নারীর পক্ষে সন্তানপ্রদ। আয়ুবর্ধক, যুবতির জীবনের অঙ্গসৌঠের সমতা রক্ষা করে। মাসিকস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এটি ব্যবহারে তা পুনরায় প্রবাহিত হয়। স্তনস্ফীতিতে এর ভালো ফল হয়।
মূত্র রোধ : কোনো কারণে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে এলিয়াম স্যাট ভালো করে।
ক্ষতাদি : সর্বপ্রকার ফোঁড়া, বিষফোঁড়া, গলক্ষত, ডিপথেরিয়া, আঘাতজনিত ক্ষত, কাটাক্ষত, ফুসফুসের ক্ষত, আন্ত্রিক ক্ষতে এলিয়াম স্যাট।
এ ছাড়া ও স্বরযন্ত্রের জড়তা, কানে কটমট করা, দৃষ্টিহীনতা, রাতকানা, হিষ্টিরিয়া, ভ্রমরোগ, অস্থিভঙ্গে, পুরনো জ্বর, জীর্ণজ্বর, শরীরের জড়তা, চর্মরোগ, দুর্বলতা ও কাঁপুনি, শরীর কাঁপুনিতে ব্যবহার হয়। এলিয়াম স্যাটিভার ব্যবহারে শীতকালে শরীর গরম থাকে। শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এর সঠিক ব্যবহার ডায়াগনোসিস, মাত্রা, শক্তি একজন ভালো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকই নির্ধারণ করতে পারেন।
লেখক : অ্যাসো: প্রফেসার, তানজিম হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জ। চেম্বার : সিটি হোমিও ইন্টারন্যাশনাল ২৩, জয়কালি মন্দির, ঢাকা। ফোন : ০১৯১২৮৪২৫৮৮

আফগান যুদ্ধের সাক্ষী দেওয়া জাদুঘরে নেই মার্কিন বিধ্বংসী অস্ত্র!

সোভিয়েত আগ্রাসন থেকে শুরু করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধ, যুগ যুগ ধরে আফগানিস্তানে চলে আসছে সংঘাত-সহিংসতা। আর এর বলি হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বিগত কয়েক দশকের যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা উঠে এসেছিল দেশটির একটি জাদুঘরে। অর্গানাইজেশন ফর মাইন ক্লিয়ারেন্স অ্যান্ড আফগান রিহ্যাবিলিটেশনের জাদুঘরে দেশটিতে ব্যবহৃত সব যুদ্ধ সরঞ্জাম থাকলেও সেভাবে নেই মার্কিন বিধ্বংসী অস্ত্র।
২০০৪ সালে রাজধানী কাবুল থেকে তালেবানদের বিতাড়িত করার পর এই জাদুঘরটি খোলা হয়েছিল। সংক্ষেপে এটি ওমার নামেই পরিচিত। প্রতিবছর প্রায় এক হাজার দর্শনার্থী আসে এখানে। জাদুঘরটির সামনে ব্রিটিশ রাইফেল, আমেরিকান বোমা, ইতালীয় ও মিসরীয় স্থলমাইন এবং সোভিয়েত জেট বিমান প্রদর্শন করা হয়। সবগুলো অস্ত্রেই লেখা রয়েছে এফএফই বা ফ্রি ফ্রম এক্সপ্লোসিভ।

জাদুঘরের পরিচালক ফাজেল রহিম বলেন, আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি না। আমরা দেখাচ্ছি আফগানিস্তানে আসলে কি হচ্ছে।
তবে এই জাদুঘরে একটা জিনিসের অনুপস্থিতি রয়ে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সাল থেকে আফগানিস্তান মার্কিন দখলদারিত্বের মধ্যে থাকলেও দেশটির তেমন কোনও অস্ত্র নেই এখানে। যুদ্ধের প্রথমদিকে ব্যবহৃত কিছু ক্লাস্টারবোমা প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জাদুঘরটির উন্নয়নে ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০২ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে এক হাজার ২২৮টি বোমাবর্ষণ করে। এতে নিহত হন অন্তত ৬০ জন বেসামরিক নাগরিক। অথচ জাদুঘরে একটি ছোট কাচের গ্লাসে কিছু মার্কিন অস্ত্র ছাড়া আর কিছু নেই। পাশেই রয়েছে ইতালীয় ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ও রুশ রকেট গ্রেনেড।

জাদুঘরের মূল আকর্ষণ মাইন। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্থলমাইন রয়েছে আফগানিস্তানে। দেশটির মাইন অ্যাকশন প্রোগ্রামের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির হাজার বর্গ মাইলজুড়ে স্থলমাইন, অ্যান্টি ট্যাংক মাইন, যুদ্ধের বিস্ফোরক ছড়িয়ে থাকা বস্তুগুলো ওই জাদুঘরে নেই। ১৯৮৯ সাল থেকে মাইন বিস্ফোরণে হতাহত হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক। নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এক হাজার ৮০০ মাইলজুড়ে থাকা মাইন। যুগ যুগ ধরে পুঁতে থাকা এসব বিস্ফোরকের ক্ষত বয়ে বেড়াবে আফগানিস্তান।
জাদুঘরের ছাদে ঠাঁই পেয়েছে ইয়াক-৪০ সোভিয়েত বিমান। এটি এখন ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই বিমানের সিটে ১০০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করে যাদের বেশিরভাগ শিশু । তাদের বোঝানো হয় যে, অবিস্ফোরিত অস্ত্র কতটা ভয়ঙ্কর।