Monday, May 31, 2010

থাইল্যান্ডে কারফিউ প্রত্যাহার

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় জারি করা রাত্রিকালীন কারফিউ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। থাই প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া গতকাল শনিবার কারফিউ তুলে নেওয়ার এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এখন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। তাই কারফিউ তুলে নেওয়া হলো। তবে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। ১০ দিন আগে রাজধানী ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের ২৩টি প্রদেশে ওই কারফিউ জারি করা হয়।
থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকেরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে দুই মাস আগে। লাল শার্ট পরা এসব বিক্ষোভকারীর সঙ্গে সেনাদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর ১৯ মে থাইল্যান্ডের ৭৬টি প্রদেশের মধ্যে ২৩টি প্রদেশে সরকার রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করে। পরবর্তী সময়ে সরকার আরও কঠোর হলে আন্দোলনকারীরা রণে ভঙ্গ দেন। সেনাদের তোপের মুখে লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল ছেড়ে চলে যান। তাঁদের নেতারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আন্দোলনের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে থাকসিনের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দুই মাসের ওই আন্দোলনে মোট ৯০ জন নিহত ও কয়েক শ লোক আহত হন।
কারফিউ তুলে নেওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়া সাংবাদিকদের বলেন, আজ থেকে দেশে কারফিউ থাকবে না। তবে জরুরি অবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।

নেপালে গণপরিষদের মেয়াদ বাড়ল এক বছর

নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য গঠিত পার্লামেন্ট বা গণপরিষদের মেয়াদ এক বছর বাড়াতে রাজি হয়েছে দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। গত শুক্রবার পার্লামেন্টের এক বিশেষ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনেও রাজি হয়েছে দলগুলো। এদিকে প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত।
মাওবাদী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে নতুন জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনে রাজি হয়েছেন নেতারা। খবরে বলা হচ্ছে, এই সমঝোতার পর প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ করতে রাজি হয়েছেন।
নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য দুই বছর আগে গণপরিষদ গঠন করা হয়। কিন্তু ২৮ মের সময়সীমার মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নে ব্যর্থ হয় গণপরিষদ। এ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ আগে আইনপ্রণেতারা অধিবেশনে মিলিত হন এবং গণপরিষদের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে একমত হন।
সমঝোতা চুক্তির যথাযথ শর্তগুলো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রিপাবলিকা ডেইলির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, শুক্রবারের অধিবেশনের শেষমুহূর্তে মাওবাদী দলের আইনপ্রণেতারা গণপরিষদের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। তবে এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলকে মাওবাদীদের দাবি মেনে নিতে হয়েছে। মাওবাদীদের দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। ওয়েবসাইটে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যত শিগগির সম্ভব পদত্যাগ করবেন।
মাওবাদী দলের মুখপাত্র দীননাথ শর্মা বলেন, ‘আমরা শেষ মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘গণপরিষদের মেয়াদ এক বছর বাড়াতে রাজি হয়েছি আমরা। শান্তি-প্রক্রিয়াকে একটি যৌক্তিক সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে মতৈক্য ও সহযোগিতার প্রতিও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মুখপাত্র দীননাথ শর্মা আরও বলেন, ‘একটি নতুন জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের ব্যাপারেও আমরা রাজি হয়েছি।’ মাওবাদীরা ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে নেপালের ২৪০ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের বিলোপ ঘটান। রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দেশকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে পরিণত করেন তাঁরা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বিষ্ণু রিজাল গতকাল বলেছেন, মাধব কুমার পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তা আলোচনা করতে দিনব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরানের ওপর অবরোধ প্রস্তাব অনুমোদন

ইরানের ওপর অবরোধ আরোপের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। এই প্রস্তাবে ইরানের জ্বালানি খাতের সঙ্গে বাণিজ্য ও তেহরানের কাছে স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি বিক্রিসংক্রান্ত চুক্তি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার ৪১৬-১ ভোটে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়।
প্রস্তাবের লেখক প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য রন ক্লেইন বলেন, এখন যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে—কোম্পানিগুলো ইরানের দুষ্ট শাসক শ্রেণীকে সমর্থন জানাবে অথবা মার্কিন সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করবে। দুটো এক সঙ্গে সম্ভব নয়।
ক্লেইনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবসাসংক্রান্ত চুক্তি করতে কোম্পানিগুলোর পেন্টাগনকে (মার্কিন সেনাসদর) আশ্বস্ত করতে হবে, তারা ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে না। প্রস্তাবটি এখন মার্কিন সিনেটে তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এটিতে সই করলে তা আইনে পরিণত হবে।

পাকিস্তান-ইরান গ্যাস সরবরাহ লাইন স্থাপনে চুক্তি

দুই দেশের মধ্যে গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন স্থাপনের জন্য শুক্রবার একটি চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান ও ইরান। আগামী চার বছরের মধ্যে এই সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে। কর্মকর্তারা জানান, ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আসালুইয়েহ থেকে শুরু হয়ে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী ইরানশহর এলাকায় শেষ হবে। এই পাইপলাইন ব্যবহার করে ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস আমদানি করবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর পাকিস্তানের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী সাইয়েদ নাভিদ কামার সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে পরিকল্পনা ছিল সরবরাহ লাইনটি স্থাপিত হবে ইরান, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। কিন্তু ভারত গত বছর প্রকল্পটি থেকে বেরিয়ে যায়।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত গ্যাস ক্রয় ও বিক্রয় চুক্তি সম্পর্কে কামার বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে বলে আমি খুবই খুশি। এটা আমাদের শিল্পোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি উৎপাদনে সাহায্য করবে।’
কামার আরও বলেন, ‘ইরান আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগেই, আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে তারা।’ এই সরবরাহ লাইন ব্যবহার করে যে গ্যাস আমদানি করা হবে তা পাকিস্তানে বর্তমানে উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশের সমান। আমদানি করা এই গ্যাস বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানান।
পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ চুক্তির অধীনে ২৫ বছর গ্যাস সরবরাহ করবে ইরান এবং চুক্তিটি নবায়নের সময় এই মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

তিন দেশকে এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষরের আহ্বান

জাতিসংঘ ভারত, পাকিস্তান ও ইসরায়েলকে আর দেরি না করে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও সমন্বিত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে ওই তিন দেশকে কোনো পূর্ব শর্ত না দেওয়ার ব্যাপারেও অনুরোধ জানানো হয়। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মাসব্যাপী চলা সম্মেলনের শেষ দিনে পরমাণু বিস্তার রোধবিষয়ক অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনে এনপিটিতে স্বাক্ষর করা ১৮৯টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে তাঁরা পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মতৈক্যে পৌঁছান। এ প্রসঙ্গে এনপিটিতে ইসরায়েলের স্বাক্ষর করার বিষয়টিকে তাঁরা গুরুত্ব দেন। এ ব্যাপারে নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েল বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা প্রসঙ্গে কেবল ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।
সম্মেলনে কর্মপরিকল্পনার জন্য এই প্রথমবারের মতো সর্বসম্মতিক্রমে ২৮ পৃষ্ঠার একটি চূড়ান্ত দলিল অনুমোদিত হয়। এর মূল তিনটি বিষয় হলো পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রকরণ, পরমাণু বিস্তার রোধ ও শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই চূড়ান্ত দলিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বৈশ্বিক পরমাণু বিস্তার রোধ কার্যক্রম জোরদার করবে। তবে মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে ইসরায়েলের নাম এককভাবে উল্লেখ করায় তিনি এর বিরোধিতা করেন।
দলিলে উল্লেখ করা হয়, সম্মেলনে সবাই এই মতৈক্যে পৌঁছেছে যে, চুক্তিতে সব দেশের সম্পৃক্ততাই কেবল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারে। এ জন্য চুক্তিতে এখনো স্বাক্ষর না করা তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও ইসরায়েলকে দেরি না করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সম্মেলনে যোগ দেওয়া প্রতিনিধিরা একযোগে সমর্থন দেন। এতে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও সমর্থন দেয়। এ লক্ষ্যে ২০১২ সালে একটি সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হয়েছিল, ইরানি দূত আলি আজগর সুলতানিয়েহ এই প্রস্তাবে ভেটো দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন, ‘সীমিত আকারে হলেও এই চূড়ান্ত দলিল পরমাণু নিরস্ত্রকরণের অভিন্ন লক্ষ্যের দিকে আমাদের নিয়ে যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত এলাকা গড়া প্রসঙ্গে এনপিটি চুক্তিতে ইসরায়েলের স্বাক্ষরের বিষয়কে গুরুত্বারোপ করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি হচ্ছে এনপিটিবিষয়ক একটি যুগান্তকারী ভণ্ডামি। সেখানে কেবল আমাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বাগাতে যে উঠেপড়ে লেগেছে, সেই ইরানের নাম নেই। অথচ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ইরানি পরমাণু প্রকল্পের সামরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর ব্যাপারে নিত্যনতুন তথ্য দিচ্ছে।

হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া

গুয়াতেমালা ও ইকুয়েডরে গত শুক্রবার দুটি আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। এতে দেশ দুটির কয়েকটি বড় শহর ছাইমেঘে ঢেকে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।
গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত পাকায়া আগ্নেয়গিরিতে গত বুধবার প্রথম অগ্ন্যুৎপাত হয়। শুক্রবার আবার নতুন করে উদিগরণ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আলভারো কলোম আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকায় ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
পাকায়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন টেলিভিশনকর্মী রয়েছেন। তিনি আগ্নেয়গিরির উদিগরণের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।
ইকুয়েডরে তুঙ্গুরাহুয়া আগ্নেয়গিরিতে শুক্রবার অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এতে আশপাশের সাতটি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর গুয়ায়াকুইলের বিমানবন্দর ও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দুই হাজার ৫৫২ মিটার উঁচু পাকায়া আগ্নেয়গিরির উদিগরণের ফলে ছাই ও ধূলিমেঘের সৃষ্টি হয়েছে। গুয়াতেমালা সিটির লা অরোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের এলাকার আকাশ ছাইয়ে ঢেকে গেছে। এই ছাই সরে না যাওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে।
প্রেসিডেন্ট কলোম জানান, আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটনায় অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে তিনটি শিশু। শতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। গুয়াতেমালার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ক জানান, আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৯০০ মানুষকে পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন।
ইকুয়েডরে তুঙ্গুরাহুয়া আগ্নেয়গিরির ইতিহাসে অন্যতম বড় অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে শুক্রবার। এদিন ব্যাপক আকারে ছাই ও লাভায় উদিগরণ হয়। আতঙ্কে আশপাশের সাতটি গ্রাম থেকে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।
ইকুয়েডরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আঞ্চলিক সমন্বয়ক ইউরি ডি জ্যানোন বলেছেন, বিপর্যয় এড়াতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দ্রুত বিক্রি হচ্ছে বিশ্বকাপের টিকিট

দক্ষিণ আফ্রিকায় আসন্ন বিশ্বকাপে দর্শকস্বল্পতার আশঙ্কা করেছিল অনেকেই। তবে সমালোচকদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত করে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে বিশ্বকাপের টিকিট। ১১ জুন বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
শুরুর দিকে টিকিট বিক্রি ছিল অনেকটাই ধীরগতির। তবে যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই টিকিটের বিক্রির ওপর চাপ বাড়ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ইরভিন খোজা রয়টার্সকে গতকাল শনিবার বলেন, ‘বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচের জন্য বরাদ্দ ২৯ লাখ টিকিটের মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশ ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে।’
২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করে ইরভিন বলেন, ‘আগের বিশ্বকাপের সমান তালে টিকিট বিক্রি এগিয়ে চলেছে। আমাদের বিশ্বাস, লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব আমরা। অবশ্যই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এটি সম্ভব হয়েছে।’
গতকাল পর্যন্ত ফিফার হিসাব অনুযায়ী এখনো প্রায় ৯০ হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। টিকিট বিক্রিতে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার বলেন, ‘যেভাবে টিকিট বিক্রি এগিয়ে চলেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপের আগেই টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে যাবো বলে আমি আশা করছি। অন্যদের মতো আমিও জমজমাট বিশ্বকাপ দেখার অপেক্ষায় আছি।’

গোলপোস্টের নিচে ব্রাজিলের তারকা

জাদুকরি প্লে-মেকার আর ভুবন ভোলানো স্ট্রাইকার—ফুটবল বিশ্বে এটাই ব্রাজিলের পরিচিতি। এমন খেলোয়াড় এবারও আছেন—রিয়াল মাদ্রিদ প্লে-মেকার কাকা, সান্তোস ও সেভিয়ার দুই স্ট্রাইকার রবিনহো ও লুইস ফ্যাবিয়ানো। তবে এবার শুধু তাঁরাই নন, ব্রাজিল দলে তারকা এবার দুই গোলরক্ষক হুলিও সিজার আর গোমেজ। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হতে পারেন এবার তাঁরাও।
গোলরক্ষকের জন্য ব্রাজিল কখনোই প্রসিদ্ধ নয়। তবে এবার তারা বিশ্বকাপে গেছে অনেকের মতেই বর্তমানে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক ইন্টার মিলানের সিজারকে নিয়ে। তাঁর বিকল্প গোলরক্ষক গোমেজও বলতে গেলে তাঁরই মতো। টটেনহাম হটস্পারের এই গোলরক্ষক হয়েছেন ইংলিশ লিগের এ মৌসুমের সেরা গোলরক্ষক। দলের আরেক গোলরক্ষক দোনিও খেলেন বড় ক্লাবে। সিরি ‘আ’তে এ মৌসুমের দ্বিতীয় দল এএস রোমা তাঁর ঠিকানা। এই তিন গোলরক্ষকের কণ্ঠেই ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দেওয়ার প্রত্যয়।
বিশ্বের সেরা কয়েকজন গোলরক্ষকের দেশ ইতালি। সেই দেশেরই ক্লাব ইন্টারে খেলেন সিজার। এ বছর ইন্টার যে শিরোপাত্রয়ী জিতেছে, তাতে তাঁর অবদান অনেক। সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিশ্বকাপ সাফল্য প্রত্যাশা সিজারের, ‘আপনি যখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতবেন, তখন সেটা নিশ্চয়ই অনেক বড় ব্যাপার। তবে আমার পা মাটিতে রাখতে হবে। গোলরক্ষকের পজিশনটা একটু অন্যরকম। আজ আপনি বিশ্বের সেরা তো কাল বিশ্বের সবচেয়ে বাজে হয়ে যেতে পারেন। তবে আমার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপ জয়।’ বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকাটাও সিজারের স্বপ্ন, ‘বিশ্বকাপ জয় আমার বড় একটা স্বপ্ন। মানুষ যখন ২০১০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা করবে, তখন আমার নামটিও বলুক, এটাই আমার চাওয়া।’
মৌসুমের শেষের দিকে অসাধারণ খেলেছেন টটেনহাম গোলরক্ষক গোমেজ। দুর্দান্ত কিছু সেভ করে টটেনহামকে প্রথমবারের মতো নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। তবে এর পরও নিশ্চিত নয় যে, সিজারের পরের পছন্দ তিনিই হবেন। কোচ কার্লোস দুঙ্গা এখনো ঠিক করে বলেননি যে, দোনি, না গোমেজ হবেন সিজারের বিকল্প। তবু মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন গোমেজ, ‘বিশ্বকাপ দলে আমি ডাক পাব, এটাই স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন বিশ্বকাপটা স্মরণীয় করে রাখতে চাই।

মালিকের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

পাকিস্তানের ক্রিকেটে কখন কী হয়, এর হিসাব মেলানো অত্যন্ত সোজা কাজ নয়। এক দিকে বোর্ডের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, অন্যদিকে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেটাররা! এই স্ববিরোধিতা ঘোচাতেই কি না গতকাল পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে শোয়েব মালিকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
শোয়েব মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিসিবির ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’ মালিকের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা তোলার পাশাপাশি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে তাঁর দুই কোটি রুপির জরিমানা। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ‘আপিল’ করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক ইউনুস খানও। তাঁর ব্যাপারে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। উল্টো সবাইকে বিস্মিত করে পিসিবি জানিয়েছে, ইউনুস আর মোহাম্মদ ইউসুফকে নিষিদ্ধই করা হয়নি!
অস্ট্রেলিয়ায় জঘন্য সফর কাটিয়ে দেশের ফেরার পর অন্তঃকোন্দলের অভিযোগে জরিমানা থেকে শুরু করে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা—নানা শাস্তি দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের সাত ক্রিকেটারকে। সেই শাস্তি নিয়ে খেলোয়াড়দের আপিলের ভিত্তিতে শুনানি করে রায় দিলেন বিশেষ আদালত।
কাল রায় ঘোষণার পর পিসিবির আইনজীবী তালিব রিজভী বলেছেন, ‘তার (মালিকের) আবেদনের অংশবিশেষ মেনে নেওয়া হয়েছে।’ এই রিজভীই অবাক করলেন ইউসুফ-ইউনুস প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে।
রিজভী বলছেন, এই দুই সাবেক অধিনায়ককে দলে নিতে কোনো বাধা নেই, ‘এটা একটা ভুল ধারণা, এই দুই ক্রিকেটারকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা কোনো সময় বেঁধে দিয়ে বলিনি যে, এই সময়ের মধ্যে এই ক্রিকেটারকে জাতীয় দলে নেওয়া যাবে না। তারা যেহেতু শোয়েব মালিক বা রানা নাভেদের মতো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিষিদ্ধ নয়, তাই বোর্ড চেয়ারম্যান চাইলেই যেকোনো সময় তাদের দলে নেওয়া যেতে পারে।’ এএফপি, ওয়েবসাইট।
সবই ঠিক আছে। কিন্তু সেই ‘অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা’ ব্যাপারটির ব্যাখ্যা তাহলে কী! এই নিষেধাজ্ঞা কি তোলার দরকার হয় না?

স্পেন ও নিউজিল্যান্ডের জয়

স্পেনকে ভাবা হচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার। সেই দাবির পক্ষে গতকাল অস্ট্রিয়ার ইন্সবার্কে প্রস্তুতি ম্যাচে ইকার ক্যাসিয়াসের স্পেন ৩-২ গোলে হারিয়েছে বিশ্বকাপের বাইরের দল সৌদি আরবকে। ওই অস্ট্রিয়াতেই গা-গরমের আরেক ম্যাচে দুই বিশ্বকাপ যাত্রীর লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ড ১-০ গোলে হারিয়েছে সার্বিয়াকে। এদিকে স্যামুয়েল ইতোর বিশ্বকাপের বর্জনের হুমকিতে অস্থির ক্যামেরুন ১-১ গোলে ড্র করেছে স্লোভাকিয়ার সঙ্গে।

সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা

আর্নেস্ট হিলাইরে আর মুখ বন্ধ রাখতে পারেননি। দলের পরাজয় দেখতে দেখতে ক্লান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী বললেন এমন বিব্রতকর পরাজয় ভবিষ্যতে আরও অনেক দেখতে হবে। হিলাইরের এমন হতাশা পরশুর পরাজয় দেখার পর। ডমিনিকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২৪ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলাররা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে এ ম্যাচটিও হারতে হয়েছে ৬৭ রানে। প্রথম তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রায়েম স্মিথের দল জিতে নিয়েছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ। স্বাগতিকদের ধসিয়ে দিয়েছে মরনে মরকেলের ৪ ও চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের ৩ উইকেট, তবে ম্যাচের একমাত্র ফিফটি করে ম্যাচসেরা এবি ডি ভিলিয়ার্স।

মরিনহো হয়ে গেলেন রিয়ালের

আবারও নতুন দেশ। নতুন ক্লাব এবং নতুন চ্যালেঞ্জ। আবারও কি অনায়াসে পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়বে সাফল্য? সেই উত্তর জানতে আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে হোসে মরিনহোকে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে পেতে সমর্থকদের যে ব্যাকুল প্রতীক্ষা, সেটির অবসান হয়ে গেল পরশু। ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হলো ‘স্পেশাল ওয়ানের’। রিয়ালে আসলে যাত্রা শুরু হলো দুই পর্তুগিজ জুটির। সাইডবেঞ্চে মরিনহো, মাঠে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!
ইতিহাসে তৃতীয় কোচ হিসেবে ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে ইউরোপ-শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জয় করেছেন, সেটিও রিয়ালের মাঠে দাঁড়িয়েই। ইন্টারের হয়ে দুই বছরে চারটি শিরোপা জেতা মরিনহো বলেছিলেন, ইতালির ক্লাবটিকে দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এবার তিনি বেরিয়ে পড়তে চান নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধানে।
সেই চ্যালেঞ্জ মরিনহোর শুরুই হয়ে গেছে। মাঝখানে আলোচনা আটকে ছিল চুক্তির ‘বাই আউট’ শর্ত নিয়ে। ইন্টারের সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তি ছিল তাঁর। শর্ত অনুযায়ী, যে পক্ষ মেয়াদের আগেই সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবে, তাকে দিতে হবে ১ কোটি ৬০ ইউরো। অবশেষে রিয়াল সেই টাকার পুরোটাই শোধ করে দিতে রাজি হওয়ায় আলোচনার জট খুলে গেল। পরশু রিয়ালের ওয়েবসাইটে খুশির খবরটি জানানো হয়েছে খুবই সংক্ষিপ্ত একটি বিবৃতিতে, ‘আজ একটা সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হচ্ছেন।’
ইন্টারে সুখেই ছিলেন। কিন্তু ইতালিয়ান ফুটবলের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা সব সময়ই জানিয়ে দিচ্ছিলেন সুযোগ পেলে। মোরাত্তিও মনে করেন, ‘মরিনহো আসলে ইতালির ফুটবলের ওপর বিরক্ত হয়েই চলে গেলেন। ইন্টার তাঁকে যতটা না হারাল, তার চেয়েও বেশি হারাল ইতালি।’
বার্সেলোনার এই সাবেক সহকারী কোচের এখন প্রথম মিশন হবে, রিয়ালের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবটির ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখে দেওয়া। এবং অবশ্যই চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতা। ২০০২ সালে সর্বশেষ এই ট্রফি জিতেছিল রিয়াল।
পোর্তো এবং ইন্টারের হয়ে দুবার এই ট্রফি জেতা মরিনহো আশ্বস্ত করছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব ঘুচে গেল বলে! আগামীকাল স্থানীয় সময় দুপুর একটায় সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে দর্শকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে আনা হবে এই ৪৭ বছর বয়সীকে।

ডানোন নেশনস কাপের জন্য প্রস্তুতি

অনূর্ধ্ব-১০-১২ বছরের ছেলেদের জন্য ফুটবল উৎসব ডানোন নেশনস কাপ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এর আগে দুবার এ প্রতিযোগিতায় দল পাঠিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠেয় এবারের আসরেও অংশ নেবে বাংলাদেশ। ৩৯টি জেলা দল নিয়ে দেশের ৮টি আঞ্চলিক ভেন্যুতে আজ ও আগামীকাল শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দল নির্বাচনের জন্য আয়োজিত বাছাইপর্ব। কাল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ৩ জুন ঢাকায় শুরু চূড়ান্ত পর্বে খেলবে বাছাইয়ের সেরা ৮ দল। বরাবরের মতো পৃষ্ঠপোষণা করছে গ্রামীণ-ডানোন।

Sunday, May 30, 2010

ছোট দেশ বলে কি মনমানসিকতাও ছোট হবে by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম অবশেষে স্বীকার করে নিয়েছেন যে জেনারেল জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এটা খুবই আনন্দের কথা যে তিনি তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন হলো, জিয়া সম্বন্ধে ওই কটূক্তি না করলেই কি হতো না? এই কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না যে জিয়া যখন ২৭ মার্চ ১৯৭১ সালে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তিনি গোটা বাঙালি জাতির মানসপটে একটি উদ্দীপনা ও চেতনার উদ্রেক করেন। ওই প্রথম আমরা জানতে পারি যে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দ্বারা গণহত্যার সূচনার পর শত্রুকবলিত বাংলাদেশে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে চলেছে। এবং এই প্রতিরোধের ফলেই বছর শেষে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা লাভ করেছিল। এই ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরার আর বোধকরি প্রয়োজন নেই। আমাদের সকলেরই সবকিছু জানা আছে। বর্তমান বাংলাদেশে আমরা সবাই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছি না কেন, আমাদের সকলেরই মেনে নিতে হবে ১৯৭১ সালে প্রকৃতভাবে যা কিছু ঘটেছিল। কারা সেই যুদ্ধে আমাদের অণুপ্রাণিত করেছিলেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এবং এই সকল সাহসী মানুষের দলে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
হ্যাঁ, এতে কোনো সন্দেহ নেই, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো ও তার ইতিহাসের ওপর প্রচুর আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক হিসেবে যে ক্ষতি জিয়া করেছেন, আমাদের সকলের জীবনে সেই বাস্তবতা ভোলার নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে আঘাত করেছেন দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনা করে। তাঁর রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল আর সেটা আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করা এবং এ কাজটি করেছেন তিনি সেই পুরোনো রাজাকার ও পাকিস্তানি অনুচরদের সঙ্গে নিয়ে, যারা ১৯৭১ সালে বাঙালি নিধন অভিযানে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সাহায্য করেছিল। তিনি অত্যন্ত নৈতিকতাবিরোধী কাজ করেন, যখন তিনি সংবিধানে অন্তর্গত রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিকে আঘাত করেন। এই বিষয়গুলোও আজ আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যারা এই সত্যগুলো স্বীকার করতে পারে না, তাদের ইতিহাস-সংক্রান্ত জ্ঞান দুঃখজনকভাবে অতি নগণ্য। এবং ইতিহাসের আরেকটি সত্য হলো যে জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মতো আরও অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রামের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে ফেলেন। এবং এই সব কারণেই আমাদের অবাক হতে হয়, যখন আমরা দেখি যে একজন মন্ত্রী একজন সামরিক নেতার দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কিসের ভিত্তিতে জিয়াকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বলে আখ্যায়িত করলেন, সেই বিষয়টির ব্যাপারে আমরা অবগত নই। তার চেয়েও বড় কথা, তিনি সরকারের একটি উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন এবং এই আসনে থেকে তিনি কেন সাবেক একজন নেতার—হোক সে একজন সামরিক শাসক—এমন কঠোর সমালোচনা করে বসলেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তিনি কেন একজন মুক্তিযোদ্ধার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তিনি কি জানতেন না যে এমন ধরনের মন্তব্য দেশ ও জাতিকে এক নতুন বিতর্কে জড়িয়ে ফেলবে? আরেকটি প্রশ্ন থেকে যায় এখানে—তিনি যে এ রকম মন্তব্য করবেন, এ বিষয়ে কি সরকারি দলের অন্যান্য নেতা আগে থেকেই অবগত ছিলেন?
দেশপ্রেম একটি গভীর বিষয়। আমাদের কারও কোনো অধিকার নেই কোনো ব্যক্তির দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করার। আপনার সঙ্গে আমার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে এই মতপার্থক্যকে ভিত্তি করে আমরা একে অপরকে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য নিয়ে আক্রমণ করব, এ কেমন কথা? হ্যাঁ, যেই শ্রেণীর মানুষের দেশদ্রোহিতার ব্যাপারে আমাদের বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, তারা হলো ওই সকল ব্যক্তি, যারা ১৯৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এবং রাজাকার হিসেবে কাজ করেছে। ওই সকল মানুষ ছাড়া এ দেশের প্রত্যেক নাগরিক বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতি তার আনুগত্য প্রশ্নাতীত। কিন্তু সেই নীতি, সেই বিশ্বাস আমরা আমাদের জীবনে কতটা ধরে রেখেছি? একটু ভেবে দেখুন। এই বাংলাদেশে এখনো এমন মানুষ আছেন, যাঁরা নির্দ্বিধায় বলে বেড়ান, ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এঁরা এত নির্বোধ কেন? নাকি আমরা ধরে নেব যে জাতির জনকের প্রতি তাঁদের ঘৃণা এতই প্রকট যে তাঁরা যেকোনোভাবেই হোক তাঁর চরিত্র হনন করতে বদ্ধপরিকর? বঙ্গবন্ধু তো ছিলেন নির্বাচিত নেতা। তিনি তো জীবনে কোনো দিন আপস করেননি এবং করেননি বলেই আমাদের এমন সুন্দর ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন। ২৫ মার্চ তিনি তাঁর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে গেছেন—তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের যা যা করণীয়, দেশকে মুক্ত করার ব্যাপারে যা করা দরকার, সবই করে গেছেন। এবং যাঁরা ইতিহাসের এই দিকটা বোঝেন না অথবা বুঝতে চান না, কেবল তাঁরাই সেই আত্মসমর্পণের কথা বলেন। এতে করে কেবল তাঁদের আত্মসম্মানেই ভাটা পড়ে।
এ দেশে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি আমরা প্রায় নিয়মিতভাবে ভুলে যাই। ১৯৭৫-এর তথাকথিত সিপাহি-জনতা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যখন জেনারেল খালেদ মোশাররফকে হত্যা করা হয়, তখন একশ্রেণীর মানুষ অত্যন্ত উল্লসিত হয়েছিলেন। তাদের ছোট চিন্তা এবং তাদের ঠুনকো দেশপ্রেম তাদের মনে এ ধারণা জন্মায় যে খালেদ মোশাররফ ছিলেন একজন ভারতীয় চর, যাঁর এমন করুণ মৃত্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। এবং জিয়াউর রহমান যত দিন বেঁচে ছিলেন, তত দিন তিনি জাতিকে কখনো স্মরণ করিয়ে দেননি যে মোশাররফ ছিলেন একজন বড় মাপের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে হত্যা করা ছিল একটি জাতির মূল্যবোধকে ধ্বংস করা। একইভাবে লক্ষ করে থাকবেন যে বাংলাদেশে এমন একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে, যাদের নজরে আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন ভারতপ্রেমী বাঙালি রাজনৈতিক নেতা। এই শ্রেণীর মানুষকে বোকা বললে ভুল হবে। প্রকৃত অর্থে এরাই হচ্ছে বাংলাদেশের শত্রু এই জন্য যে এরা সর্বদাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অর্জনগুলোকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে শুধু এরাই ছিল না, তাঁকে সেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই হেয় করার অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়। এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদেরাই বঙ্গবন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে তাজউদ্দীন একচ্ছত্রভাবে নিজেকে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন। আমাদের জাতীয় জীবনে একটি চরম দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক বিরোধ। এবং যাঁরা সেদিন এ বিরোধটা ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা বুঝলেন না বাংলাদেশের তাঁরা কী বিরাট একটি ক্ষতি করছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারালাম, তাজউদ্দীনকে হারালাম, গোটা মুজিবনগর সরকারকে হারালাম।
কোনো ব্যক্তির কোনো নেতা বা নেত্রীর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে ভাবা দরকার যে এর ফলাফল কী হতে পারে। আমরা লক্ষ করছি, বছরের পর বছর যখন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন, তিনি প্রায় সব সময়ই অনায়াসে বলে ফেলেন যে এ দলটি বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিচ্ছে। আমরা এখনো পর্যন্ত উন্নত এবং আধুনিক দেশ ও জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারিনি বলে বেগম জিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা এসব ঢালাও মন্তব্য করে পার পেয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। বিশ্বের যেকোনো উন্নত সমাজে এ ধরনের মন্তব্য এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করত, যা অবশেষে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াত। আওয়ামী লীগ অথবা আওয়ামী লীগ সরকার দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করে যাচ্ছে—এ কথা কে বিশ্বাস করবে? এ প্রশ্নের উত্তর খালেদা জিয়া ও বিএনপি একবারও কি দেওয়ার চেষ্টা করেছে? অন্যদিকে আবার এই সেদিন আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অত্যন্ত সরলভাবে কিন্তু কঠোর ভাষায় আমাদের সবাইকে অপ্রস্তুত করে দিলেন এই বলে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আহূত ২৭ জুনের হরতালের পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। কোন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এই গুরুতর অভিযোগটি করলেন, সেটা আর জানা গেল না। কোনো এক সময় স্বয়ং শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রশ্ন তুললেন, চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে আসলেও কি জিয়াউর রহমানের মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল? এর কয়েক দিন পর শেখ সেলিম বিষয়টি আবারও উত্থাপন করলেন এই মন্তব্য করে যে সেই কবরে জেনারেল জিয়ার মরদেহ রয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।
আমাদের দেশটা ছোট। আমাদের ছোট ছোট স্বপ্ন ও আশা। কিন্তু আমাদের মনমানসিকতাও ছোট ও ক্ষুদ্র হতে হবে এটা কে বলল? আমাদের ইতিহাসকে আমরা খণ্ডিত করে ফেলব এই কথা কে বলল? আমাদের দেশে রাজনীতি দুটি ক্ষেত্রে বা tribe-এ পরিণত হবে, সেটাই বা হবে কেন? বাংলাদেশ তো রুয়ান্ডা কিংবা বুরুন্ডি নয় যে এখানেও হুতু ও তুতসির ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ব দিনের পর দিন, বছরের পর বছর আমাদের বর্তমানকে গুঁড়িয়ে দেবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎকে বাক্সবন্দী করে রাখবে।
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

পশ্চিমবঙ্গে ৮১ পৌরসভায় নির্বাচন কাল

কলকাতা ও বিধান নগরসহ পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভার নির্বাচন কাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কলকাতার ১৪১টি ওয়ার্ডে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এই প্রথমবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আধাসামরিক বাহিনী চাওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এ নির্বাচনে বাম বিপর্যয় হলে তিন-চার মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে নাকি মমতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের কথাও হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনেকের মতে, এ নির্বাচনে বাম বিপর্যয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে বাম নেতাদের মূল্যায়ন—যতটা বলা হচ্ছে, ততটা খারাপ ফল হবে না। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, কলকাতা পৌরসভার ১৮১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭০-৭৫টি ওয়ার্ডে জিততে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। আর কংগ্রেস পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন। অন্যদিকে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট আসন পেতে পারে ৫৫-৬০টি।

দাঁত না মাজলে হূদরোগের ঝুঁকি

যারা নিয়মিত দাঁত মাজে না, মুখ থাকে অস্বাস্থ্যকর— তুলনামূলক-ভাবে তাদের হূদরোগ বেশি হয়। স্কটল্যান্ডের গবেষকদের একটি সমীক্ষার ফলাফলে এ কথা জানা যায়। গতকাল শুক্রবার চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল-এ এই সমীক্ষাবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা স্কটল্যান্ডের ১১ হাজার নাগরিকের ওপর এই সমীক্ষা চালান। এর মধ্যে প্রতি ১০ জনে সাতজন জানান, প্রতিদিন তাঁরা দুবার করে দাঁত মাজেন। ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের ভাষ্য, ছয় মাস পর পর তাঁরা দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যান। অন্যদের বারবার দাঁত মাজার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ নেই। এসব ব্যক্তির দাঁতের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে হূদরোগের বাড়তি ঝুঁকি ৭০ শতাংশ।

মাদকাসক্তি নিরাময়ে হেরোইন-চিকিৎসা

হেরোইন এমন এক মাদকদ্রব্য, যার আসক্তি ডেকে আনে ভয়াবহ পরিণাম। তবে এটা খুব কাজের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহূত হতে পারে। আর তা মাদকসেবীদের চিকিৎসায়ই। যুক্তরাজ্যের গবেষকেরা বলছেন, যেসব মাদকসেবীর আসক্তি চরমে পৌঁছেছে, তাদের শরীরে ওষুধ হিসেবে হেরোইন প্রবিষ্ট করালে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে এই চিকিৎসা চালাতে হবে নিবিড় তত্ত্বাবধানে। চিকিৎসা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
গবেষকেরা জানান, এ ওষুধের কার্যকরতা যাচাইয়ে ১২৭ জন মাদকসেবীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। আগে অনেক চেষ্টা করেও এদের মাদকাসক্তি দূর করা যায়নি। হেরোইন-পদ্ধতিতে চিকিৎসার ছয় মাস পর দেখা গেছে, তাদের হেরোইন সেবনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। এ চিকিৎসা যে মাদকসেবীদের নেশামুক্ত করার ব্যাপারে খুব কাজ দিতে পারে, এর জোরালো প্রমাণ রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, চিকিৎসকদের এ পরামর্শ বিবেচনা করা হবে।
যেসব মাদকসেবীর ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়, তারা গড়ে ১৭ বছর ধরে মাদকাসক্ত। একেকজনের চিকিৎসা চলছে ১০ বছর ধরে। গবেষকেরা দক্ষিণ লন্ডন, ব্রাইটন ও ডার্লিংটনের ক্লিনিকে গিয়ে মাদকসেবীদের ওপর এই পরীক্ষা চালান।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মাদক নিরাময়ে প্রচলিত চিকিৎসায় রোগীদের সাধারণত মেথাডনের মতো ওষুধ দেওয়া হয়। এতে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ মাদকসেবী হেরোইনের আসক্তি থেকে মুক্ত হতে পারে না। কিন্তু তাদের যদি সুচের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রার হেরোইন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়, তাহলে তা আশাব্যঞ্জক ফল বয়ে আনতে পারে। এ পরীক্ষা শুরুর ছয় সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি লক্ষ করা যায়

ছুটি কাটাতে শিকাগো গেছেন ওবামা দম্পতি

ছুটি কাটাতে গত বৃহস্পতিবার সপরিবারে নিজ শহর শিকাগোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটায় ওবামা পরিবারকে নিয়ে সোলজার ফিল্ডে অবতরণ করে এয়ারফোর্স ওয়ান।
প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে আছেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা, দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া এবং তাঁর শাশুড়ি মারিয়ান রবিনসন।
শিকাগোতে পারিবারিক বাড়িতে অবস্থান করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিকাগোয় তাঁর সফরসূচি সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নাটক দেখতে সস্ত্রীক থিয়েটারে যেতে পারেন ওবামা। এ ছাড়া হকি খেলা দেখতে মাঠে যেতে পারেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের স্মরণে অনুষ্ঠেয় এক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। শিকাগোর ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এলমউডে আব্রাহাম লিঙ্কন জাতীয় সমাধিক্ষেত্রে ওই স্মরণসভা হবে

‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অন্যতম অংশীদার’

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ভারতকে অন্যতম কৌশলগত অংশীদার বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারের বিষয়টিকেও দেশটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নয়া জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এই দেশটির সঙ্গে আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিনিময় করতে পারি। ভারতের সঙ্গে অংশীদারের মাধ্যমে ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা যৌথভাবে কাজ করতে পারি।

তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের দাবি বিপির

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ এ পর্যন্ত ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম। এ কাজে তারা কিছুটা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মতো পরিদর্শনে যাওয়ার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার।
তেলক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে কতটুকু সফল হচ্ছে, তা দেখতে গতকাল লুইজিয়ানা উপকূলের কাছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা ওবামার।
এর আগে বিস্ফোরণের পরপরই এক বার সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার দায়িত্ব হলো সমস্যাটি সমাধান করা।’
বিপি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে তাদের ‘টপ কিল’ পদ্ধতি কিছুটা সফল হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কাদা ও সিমেন্ট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের ছিদ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধ হবে। গত বুধবার ‘টপ কিল’ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়। তেল কোম্পানিটি জানায়, টপ কিল প্রক্রিয়া কতখানি সফল হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিলে তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর থেকে যে পরিমাণ তেল সাগরে মিশেছে, তা মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা। নতুন হিসাবে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৯ হাজার ব্যারেল তেল সাগরে মিশেছে। এ হিসাবে এ পর্যন্ত এক কোটি ৮৬ লাখ থেকে দুই কোটি ৯৫ লাখ গ্যালন তেল সাগরে মিশেছে। আগে জানানো হয়েছিল, দৈনিক পাঁচ হাজার ব্যারেল তেল ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সবচেয়ে বেশি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালে। ওই সময় তেল কোম্পানি এক্সনের তেলবাহী জাহাজ ভ্যালডেজের দুর্ঘটনায় এক কোটি ১০ লাখ গ্যালন তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েছিল।
গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিপি জানায়, তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত ক্ষতিগ্রস্ত পাইপের মেরামতকাজ, তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয় একটি কূপ খনন এবং ক্ষতিপূরণ ও মার্কিন সরকারের ব্যয় মেটাতে এ অর্থ খরচ হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখনই পুরো খরচের হিসাব করা সম্ভব নয়।

গাজায় ত্রাণবোঝাই জাহাজ ঢুকতে দেবে না ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টন পণ্যের নৌবহর প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ফ্রিডম ফ্লোটিলা নামের নৌবহরে পানি শোধনাগার ইউনিটসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের এক সপ্তাহ পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, শক্তি প্রয়োগ করে হলেও ওই নৌবহর গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। আজ শনিবার ওই নৌবহর গাজায় পৌঁছার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের একজন মুখপাত্র জানান, তিনি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারা সাইপ্রাস, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন ও তুরস্কের দূতদের সতর্ক করে দিয়েছে। এসব দেশ থেকে নৌবহর গাজার দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
২০০৭ সালের জুন থেকে গাজা অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, গাজায় সামরিক সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিতেই তাদের এই অবরোধ।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব রবার্ট গিবস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আগামী ৯ জুন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাবেন বারাক ওবামা। তিনি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল পরোক্ষ আলোচনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি এই দুই দেশকে প্রত্যক্ষ আলোচনার দিকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে কাজ করতে পারে—তা নিয়ে কথা বলবেন।

এনপিটি কার্যকর করতে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত খসড়া উত্থাপন

জাতিসংঘ পরমাণু সম্মেলনে শেষ মুহূর্তে অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) চূড়ান্ত খসড়া উপস্থাপন করা হয়েছে। মাসব্যাপী সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে গত বৃহস্পতিবার নতুন খসড়া দলিল উত্থাপন করা হয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে খসড়া উপস্থাপন করেন সম্মেলনের সভাপতি ফিলিপাইনের লিব্রান কাবাকতুলান। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সামনে যে খসড়া হাজির করা হয়েছে, এর থেকে ভালো কিছু আর আশা করা যেতে পারে না।’
ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ইতিমধ্যে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো কীভাবে চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় যোগ দেবে, তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এই মতবিরোধের কারণে এক দশক ধরে এনপিটি নিয়ে অচলাবস্থা চলছে।
পরমাণু শক্তিধর দেশ এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্বে পরমাণু অস্ত্রহীন দেশগুলো গত বুধবার এ নিয়ে সম্মেলনে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে উত্থাপন করা এনপিটির খসড়ায় প্রায় ২০০ সংশোধনী আনে জোটনিরপেক্ষ দেশগুলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পরমাণু অস্ত্রধর দেশগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। তবে যথারীতি তা মেনে নিতে অস্বীকার করে ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
এনপিটির চূড়ান্ত খসড়া গৃহীত হলেই পরমাণু অস্ত্র বিস্তারবিষয়ক সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে তা নয়, তবে এর মাধ্যমে সযোগিতার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
এ ছাড়া এর ফলে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নীতির জয় হবে। পূর্বসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের সংঘাতমূলক কৌশল থেকে সরে এসে ওবামার ঘোষিত পরিকল্পনায় বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে চূড়ান্ত খসড়ায়। খসড়ায় নিরস্ত্রীকরণের কার্যপদ্ধতি, পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য তা পর্যবেক্ষণ, বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরমাণুমুক্ত অঞ্চল সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
২৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত খসড়ার মধ্যে ১১ পৃষ্ঠাজুড়ে আছে নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক কর্মপরিকল্পনার বর্ণনা। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় সম্মেলন শেষ হওয়ার আগে এই খসড়া অনুমোদনের জন্য নেতারা পাবেন মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময়।
এক পশ্চিমা কূটনীতিক সতর্কতার সঙ্গে বলেন, সবকিছুতে মতৈক্য না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে তিনিসহ অন্যরা মনে করছেন, সম্মেলন ইতিবাচক পথেই শেষ হতে যাচ্ছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী আসগর সাংবাদিকদের জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে সব পরমাণু অস্ত্র ধ্বংসের সময়সীমার বিষয়টি খসড়ায় যোগ করা না হলে ইরান সেই খসড়া অনুমোদন দেবে না।

সময় বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে নাকচ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সিনেট। একই দিনে সিনেট আফগান যুদ্ধ ও ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতিতে সহায়তাসহ কয়েকটি প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুস ফেইনগোল্ড সেনা প্রত্যাহারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রস্তাব সিনেটে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, ২০১১ সালের জুলাই পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করা হবে। তবে তা কবে শেষ হবে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামার উচিত, সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মার্কিন ও আফগানিস্তানের জনগণকে জানানো। ফেইনগোল্ডের এ প্রস্তাবের বিপক্ষে ৮০ ও পক্ষে ১৮ ভোট পড়ে।
সশস্ত্র বাহিনী-সংক্রান্ত সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান কার্ল লেভিন বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় বেঁধে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এটা করা হলে তালেবান জঙ্গিরা সুযোগ নেবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডিক ডারবিন, প্যাটি মুরেসহ কয়েকজন রুস ফেইনগোল্ডের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
সিনেট ৬৭-২৮ ভোটে আফগান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলার অনুমোদন দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে আরও ৩০ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বারাক ওবামা। আফগান যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার কোটি ডলার।

লাহোরে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৮০

পাকিস্তানের লাহোরে গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত এবং সাত পুলিশ সদস্যসহ ১০৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, একে-৪৭, গ্রেনেড ও বোমা নিয়ে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়। দুজন সন্ত্রাসী মসজিদের ভেতর ঢুকে আত্মঘাতী হামলা চালায়।
পুলিশ জানায়, হামলার শিকার মসজিদ দুটি লাহোরের মডেল টাউন ও ঘনবসতিপূর্ণ ঘারহি শাহ এলাকায় অবস্থিত। মডেল টাউন এলাকার মসজিদ থেকে লাহোরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টো জানান, ওই মসজিদে অন্তত ২৬ জনের বেশি নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০৮ জন। সেখানে উদ্ধার-তৎপরতা চলছে। একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে সন্ত্রাসীরা এ মসজিদে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মসজিদে ঢোকার সময় বন্দুকধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে এবং গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ মসজিদটি ঘিরে রেখেছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে পুলিশ এখনো কিছু জানতে পারেনি।
পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো নিউজ জানায়, মডেল টাউন মসজিদে হামলায় সাতজন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাঁচজন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা যায়। গত মার্চে এ মসজিদে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছিল। এতে ৫৫ জন নিহত হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘারহি শাহ মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলি ও বোমায় অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা সাজ্জাদ ভুট্টো বলেন, উভয় মসজিদ মিলে কমপক্ষে ৫০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। সব মিলিয়ে দুটি মসজিদে ভয়াবহ এ হামলায় ৮০ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়। হামলার সময় মসজিদ দুটিতে শত শত মুসল্লি ছিলেন।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মুজহা আহমেদ জানান, সন্ত্রাসীরা মসজিদ লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং গ্রেনেড ছুড়ে মারে। তারা মসজিদ থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় মডেল টাউন মসজিদে ২৬ জন এবং ঘারহি শাহ মসজিদে ৫৪ জন নিহত হয়। তিনি নিহতের সংখ্যা ৬৪ বলে দাবি করেন।
চার পুলিশ নিহত: বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটার কাছে একটি স্যাটেলাইট শহরে গতকাল অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীরা গুলি করে চার পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিন জানান, হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা, দুজন কনস্টেবল ও একজন গাড়িচালক ঘটনাস্থলে নিহত হন।
আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্ত-সংলগ্ন বেলুচিস্তানে সম্প্রতি সহিংতা বেড়ে গেছে। মার্চে এখানে সহিংসতায় ২৪ জনের বেশি মারা যান। এ ছাড়া সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে প্রায়ই সহিংস ঘটনা ঘটছে।

আবার গৃহযুদ্ধের পথে নেপাল!

নেপালে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে উঠেছে। নতুন সংবিধান প্রণয়নে গঠিত পার্লামেন্টের (কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদবের ডাকা জরুরি বৈঠক সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার মধ্য রাতে এ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এর বিলুপ্তি দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব নিয়ে ২০০৮ সালে কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির যাত্রা শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ করার কথা ছিল। এর ভিত্তিতেই এ বছর নতুন করে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু সংবিধান রচনার দায়িত্ব পালনে এ পরিষদ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বিগত দুই বছরে পার্লামেন্টের নির্বাচিত সদস্যরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাগিবতণ্ডায় জড়ালেও সংবিধান রচনায় মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেননি। এখন পরিষদে সবচেয়ে বেশি আসনের অধিকারী মাওবাদী পার্টি বলছে, প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ না করলে তারা পরিষদের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে ভোট দেবে না। তারা চাইছে, ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নতুন একটি সরকার গঠিত হোক।
মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) ও নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু তারা ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নয়। এটিই বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণ।
নেপালের পত্রপত্রিকায় এরই মধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ পরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণীত না হলে চার বছর পর আবার সেই পুরোনো গৃহযুদ্ধই ফিরে আসবে। এর আগে গৃহযুদ্ধে কমপক্ষে ১৬ হাজার লোক মারা যায়।
গতকাল নেপালি ভাষার নয়া পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘আজকের (গতকাল শুক্রবার) দিনটি আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এ আশঙ্কা খুব জোরালো। আজ যদি পরিষদ বিলুপ্ত হয়, তাহলে তা হবে গৃহযুদ্ধের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান।

বিশ্বকাপের পর যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাবে ব্রাজিল

দীর্ঘ ১৪ বছর আগে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের দেশে নিয়ে যেতে পেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাঝে কয়েকবার ব্রাজিলকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে তারা। কিন্তু সময় হয়নি ব্রাজিলের। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের। বিশ্বকাপের পরই যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্মতি দিয়েছে ব্রাজিল। ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ আগস্ট।
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে খেলতে আসছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের কোচ বব ব্র্যাডলি বলছেন, ‘ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা দলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করা যেকোনো দেশের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের অনেক কিছু শেখার আছে।’

ভারতকে হারিয়ে দিল জিম্বাবুয়ে

অধিনায়কত্বের অভিষেক দুজনেরই। ম্যাচের শুরুতে হাসলেন সুরেশ রায়না, শেষে এলটন চিগুম্বুরা। রায়না জিতেছিলেন টস, চিগুম্বুরা তো জিতলেন ম্যাচটাই। বুলাওয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬ বলে অপরাজিত ২৪ রান করে জিম্বাবুয়ের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন অধিনায়ক নিজেও। পঞ্চম উইকেটে ক্রেইগ আরভিনের সঙ্গে ৩২ বলে তাঁর ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভারতের ২৮৫ রান জিম্বাবুয়ে টপকে গেছে ১০ বল হাতে রেখেই।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে রায়নার সঙ্গে রোহিত শর্মার ৬৭ রানের জুটি। তবে ভারত ২৮৫ পর্যন্ত যেতে পেরেছে পঞ্চম উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে রোহিতের ১৩২ রানের জুটিতে। রোহিত পেয়েছেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, প্রথম ফিফটির ৮৫ বলে, দ্বিতীয়টি ২৯ বলে। ভারতের তিন অভিষিক্ত পেসার বিনয় কুমার, অশোক দিন্দা ও উমেশ যাদবের বোলিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৮ রান তোলেন মাসাকাদজা ও ব্রেন্ডন টেলর। এই দুজনের সঙ্গে ল্যাম্বের বিদায়ের পর প্রথমে কভেন্ট্রি, পরে চিগুম্বুরাকে নিয়ে অভিষেক ম্যাচেই দলকে জয় এনে দেন শন আরভিনের ছোট ভাই ক্রেইগ। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত: ৫০ ওভারে ২৮৫/৫ (কার্তিক ২২, বিজয় ১১, কোহলি ০, রোহিত ১১৪, রায়না ৩৭, জাদেজা ৬১*, ইউসুফ ১১*; পোফু ২/৬৩, উতসেয়া ১/৪৬)। জিম্বাবুয়ে: ৪৮.২ ওভারে ২৮৯/৪ (মাসাকাদজা ৪৬, টেলর ৮১, ল্যাম্ব ২৭, আরভিন ৬৭*, কভেন্ট্রি ৩২, চিগুম্বুরা ২৪*; বিনয় ২/৫১, মিশ্র ১/৪৭, জাদেজা ১/৫১)।

মরিনহো-মোরাত্তি পাঁচালি

খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সমর্থকেরা মিলে টানা এক সপ্তাহ ডুবে ছিলেন উৎসবে। তার পরও নাকি উৎসবটা মনের মতো হয়নি! আর জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে ইন্টার মিলানের চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের উৎসব না জমার কারণ নাকি কোচ হোসে মরিনহো! এমনটাই দাবি করেছেন খোদ ইন্টার মিলান সভাপতি মাসিমো মোরাত্তি।
কোনো ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে যাননি মোরাত্তি, বলেছেন, শিরোপা জয়ের পর পরই মরিনহো ইন্টার মিলান ছেড়ে রিয়ালে চলে যাওয়ার বাতাস তুলেই উৎসব পণ্ড করে দিয়েছেন। শুধু কি তাই! মোরাত্তির অভিযোগ, ‘বাই-আউট শর্ত’ নিয়ে ঝামেলাটাও বাধিয়েছেন মরিনহো। ইন্টার মিলানের সঙ্গে কোচ মরিনহোর চুক্তির মেয়াদ ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। শর্ত ছিল, মেয়াদ শেষের আগেই চলে যেতে চাইলে, ‘বাই-আউট শর্ত’-এর জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো ইন্টার কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করবেন মরিনহো। ইন্টার সভাপতি মরিনহোর ওপর বিরক্ত হয়ে বলেছেন, ‘একটি শর্ত রয়েছেই, সঙ্গে এই শিরোপা উৎসবে যিনি জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি আর কেউ নন, মরিনহো।’
তবে ৪৫ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ, সঙ্গে ইতালির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ‘ট্রেবল’ জেতানো কোচের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণও করেছেন, ‘তবে এটাও পরিষ্কার, তিনি যা করেছেন তাতে চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব। এই দলের মধ্যে বিশাল আনন্দ বইয়ে দিয়েছেন তিনি।’ শুক্রবারের মধ্যে, না হলে আর দু-একদিনের মধ্যেই মরিনহোকে নিয়ে রিয়াল-ইন্টার একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে বলে আশায় ছিলেন মোরাত্তি।
ওদিকে রিয়ালের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ জানিয়ে দিয়েছেন রিয়ালের সঙ্গে মরিনহোর চুক্তি হয়েছে, এখন ইন্টারের সঙ্গে বাই-আউট শর্তের অর্থের ব্যাপারে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইতালির গণমাধ্যমের কাছে মরিনহো অবশ্য বলেছেন, মোরাত্তি তাঁকে কথা দিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারলে বাই-আউট শর্তের টাকাটা কমানো হবে। তবে মোরাত্তি অস্বীকার করেছেন মরিনহোর দাবি, ‘আমি কখনোই এটি বলিনি।’ মরিনহোকে নিয়ে রিয়াল-ইন্টারের টানাপোড়েনটা এখন স্পষ্ট। রিয়াল মরিনহোকে পেতে বাড়তি কোনো টাকা দিতে নারাজ, আর ইন্টার টাকা না পেলে তাঁকে ছাড়বে না!

২২৫ রানের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৩/৩

সিরিজ বাঁচাতে জয়ের বিকল্প নেই—এমন এক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২২৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্রিস গেইল (১৬), ডেল রিচার্ডস (২৮) ও ড্যারেন ব্রাভোকে (১) হারিয়ে ১৩.১ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৬৩। শিবনারায়ণ চন্দরপল খেলছিলেন ১২ রান নিয়ে, রানের খাতা খোলার অপেক্ষায় ডোয়াইন ব্রাভো।
ডমিনিকায় টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই ছুঁয়েছেন দুই অঙ্ক, কিন্তু ফিফটি করতে পেরেছেন একমাত্র এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৮০ বলে ৭০ রান করে রানআউট হয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ডি ভিলিয়ার্স। ফর্মে থাকা আরেক ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা করেছেন ২৮ বলে ৩৪। ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার কাইরন পোলার্ড। নিকিতা মিলারের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া সুলিমান বেন ও ডোয়াইন ব্রাভো নিয়েছেন দুটি করে উইকেট

ন্যু ক্যাম্পেই যাচ্ছেন ফ্যাব্রিগাস

বিশ্বকাপের এই উত্তপ্ত সময়ে ক্লাব ফুটবলের খবরাখবর নিয়ে দৌড়ঝাঁপ না করলেও হতো! কিন্তু ঘটনার নায়ক যে সেস ফ্যাব্রিগাস। আর তাঁর সঙ্গে জড়ানো বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্সেনাল। ফুটবল-দুনিয়ায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করা খবরটি হলো, আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনাতেই পাড়ি জমাচ্ছেন সেস ফ্যাব্রিগাস।
পুরোনো বন্ধুদের কাছে ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার নিজেই বলেছেন, আগামী গ্রীষ্মে বার্সেলোনাতেই যোগ দিচ্ছেন তিনি। যদিও পরক্ষণেই বলেছেন, এই মুহূর্তে তাঁর ভাবনা জুড়ে শুধুই বিশ্বকাপ, ‘আমি শান্তই আছি। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বিশ্বকাপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু সেটি নিয়েই ভাবছি এবং আমার চোটও আর নেই।’ বিশ্বকাপে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘আমি সব সময় জয়ের জন্যই খেলি। এখন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলের অংশ হওয়া এবং বিশ্বকাপে খেলা। স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে আমি সবকিছু ঢেলেই করব।’
ভাবনায় যতই বিশ্বকাপ থাক, নিজের ঘরে ফেরার উত্তেজনা চাপা দিয়ে রাখা কঠিন। বার্সেলোনার সমর্থক, বার্সার একাডেমিতেই ফুটবলের হাতেখড়ি। সেই বার্সায় ফেরার পথে স্পেনের হয়ে ৪৮টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডারও পারেননি সেটিকে চাপা দিয়ে রাখতে। ফ্যাব্রিগাস নিজেই বলেছেন, ‘আমি আর্সেনের (আর্সেন ওয়েঙ্গার) সঙ্গে কথা বলেছি। কারও সঙ্গে এটাই সম্ভবত আমার জীবনের সেরা কথোপকথন। আমি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান করি। ব্যস, এর বেশি কিছু বলতে চাই না আমি

ইথিওপিয়ার নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী জোট

ইথিওপিয়ার গত রোববারের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী জোট। নির্বাচনে বর্তমান প্রধামন্ত্রী মেলেস জেনাবির দল ইথিওপিয়ান পিপল্স রেভল্যুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) জয়লাভ করেছে।
বিরোধী জোট মেদারিকের প্রধান নেতা মেরারা গুদিনা জানান, ‘নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আমরা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানাচ্ছি।’
নির্বাচনে ৫৩৬টি আসনের মধ্যে মেদারিক মাত্র একটি এবং ক্ষমতাসীন ইপিআরডিএফ ৪৯৯টি আসনে জয়লাভ করে।
এর আগে অন্য একটি বিরোধী দল ২৩ মের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকেরা এর সমালোচনা করেছেন।

Saturday, May 29, 2010

নিরাপদ মাতৃত্ব গর্ভবতীর অধিকার by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভবতীর অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার ব্যাপারে বিভিন্ন শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা রয়েছে। মাতৃত্ব অর্জন নারীসত্তাকে পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেয়। সন্তান গর্ভে এলে মাকে ধর্মীয় অনুশাসন ও অনেক কঠিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তা না হলে মা ও শিশু উভয়েরই মৃত্যুর আশঙ্কা হতে পারে। ভবিষ্যতে যিনি মা হবেন তাঁকে অবশ্যই স্বাস্থ্য উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও যথেষ্ট পরিচর্যা করতে হবে। সুস্থ শিশুর জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ মাতৃত্ব। এজন্য গর্ভবতী মায়ের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম, যত্ন ও সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারী নিরাপদে মা হবেন এ দায়িত্ব আমাদের সবার, প্রকৃতপক্ষে নিরাপদ মাতৃত্ব প্রতিটি গর্ভবতী নারীরই ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এর সঙ্গে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব হলো মাতার খাওয়া-পরার উত্তম ব্যবস্থা করা।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৩৩)
অথচ দেশের অধিকাংশ গর্ভবতী নারীই অপুষ্টির শিকার। ফলে তাঁদের নবজাত সন্তানও হয় পুষ্টিহীন। ভবিষ্যতে কন্যাশিশুটি একদিন পরিবারে মায়ের অবস্থানে যায়। এই মা-ই অপুষ্টিতে নিজে ভুগে জন্মদান করেন পুষ্টিহীন সন্তান। সাধারণত সমাজজীবনে স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের খাদ্য পরিবেশনের পর স্ত্রী নিজের জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাবার রাখেন না। স্ত্রী বা সন্তানের মা যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণে যত্নবান হন, এদিকে পরিবারের প্রধান বা স্বামীর দৃষ্টি রাখা অবশ্যকর্তব্য। সন্তান পেটে এলে মায়েদের জন্য পুষ্টিকর ও বেশি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। কেননা তাঁর খাবারে একটি নয়, দুটি প্রাণ বাঁচে। বিশেষ করে গর্ভকালীন এবং শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান বা দুধ দানকালে এ ব্যাপারে বেশি সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার। তাই গর্ভবতী স্ত্রীর খাবারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘তোমরা (স্বামীরা) যা খাবে তাদেরকে (নারীদের) তা-ই খেতে দিবে।’
ইসলামের দৃষ্টিতে গর্ভবতী মায়ের যত্ন মূলত শিশুর যত্ন। সন্তান যে মুহুর্তে মাতৃগর্ভে আসে, ঠিক তখন থেকেই শিশুর যত্নের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের যত্ন নিতে হয়। গর্ভবতী মাকে অবশ্যই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অবলম্বন করতে হবে। তাকে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, অসদাচরণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। সন্তান গর্ভে এলে মায়ের শরীরে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও পুষ্টির দরকার হয়। তাই গর্ভবতী মাকে বেশি করে পুষ্টিকর ও পরিমিত সুষম খাবার খেতে হবে। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিজিক থেকে তোমরা উত্তম খাবার খাও।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৭২)
মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা নারীকে প্রদান করেছেন নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার তথা গর্ভধারণের ক্ষমতা। যদিও বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নারীর গর্ভধারণ ও শিশু জন্মদানের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি বছর বিশ্বে পাঁচ লাখ নারী জন্মদানসংক্রান্ত জটিলতায় মারা যান। সন্তান প্রসবজনিত কারণে বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজন মা মারা যান। প্রসবকালীন জটিলতার কারণে কেউ আজীবন অসুস্থ জীবন-যাপন করেন। পারিবারিক অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবার নিম্নমুখী মান, ভুল চিকিৎসা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সর্বোপরি নারীর প্রতি পরিবারের পুরুষদের অবহেলার কারণে নারীরা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গর্ভধারণের সময় স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সবার আগে তাঁর স্বামীর সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে, যেমন কর্তব্য রয়েছে সমাজ ও রাষ্ট্রের। আর ইসলামে সন্তানের মায়ের মর্যাদা অতি উচ্চে প্রতিষ্ঠিত। নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।’ (আহমাদ, নাসাঈ) তাই পারিবারিক জীবনে শিশুর মা সব সদস্যের কাছ থেকে সম্মানজনক মর্যাদার অধিকারী ও সদাচরণ পাওয়ার দাবিদার।
মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। মায়েদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ শিশুদের জীবন রক্ষায় সমানভাবে সহায়তা করে। শিক্ষার অভাব ও ধর্মীয় গোড়ামির কারণে গ্রামাঞ্চলে মেয়েরা প্রতি বছর সন্তান ধারণ করে থাকে, যার কারণে সঠিক পরিচর্যা না হওয়ায় পুষ্টিহীনতা ও রোগাক্রান্ত মা ও শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অথচ মাতৃত্বকালীন অপুষ্টির কারণে রোগাক্রান্ত মায়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটায় অনেক সময় মা ও নবজাত শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। সাধারণত বাল্যবিবাহ ও গর্ভসঞ্চার, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ, কিশোরী মায়ের পুষ্টিহীনতা, রক্তস্বল্পতা, গর্ভাবস্থায় রক্তক্ষরণ, সুচিকিৎসার অভাব প্রভৃতি কারণে নারীর নিরাপদে মা হওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। সুতরাং, নবজাতক ও শিশুমৃত্যু রোধ করতে হলে গর্ভধারণের আগে থেকেই সন্তানসম্ভবা মায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। তা ছাড়া গর্ভকালীন ও প্রসবের পর একাধিকবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য মুসলিম পরিবারের সবাই গর্ভবতী হওয়া থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাকে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা, সৎ পরামর্শ ও উৎসাহ দিতে পারেন।
ইসলামে সন্তান প্রসবকালে পবিত্রতা ও সাবধানতা অবলম্বনের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা রয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মায়েদের খুব সতর্ক থাকতে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার না থাকায় মায়েরা গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা নেওয়ার কারণে অনেক মা সন্তান প্রসব করার সময় মৃত্যুকে বরণ করে নেন। নারী যখন গর্ভবতী হন, খাবারের চাহিদা তখন বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শরীরে তখন আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। প্রধানত আয়রনের অভাবেই এই রক্তশূন্যতা দেখা দেয় গর্ভকালে। এ ছাড়া তাঁদের জন্য সব সময় জরুরি ওষুধগুলো হাতের কাছে রাখতে হবে। এসব মা ও শিশুকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি গ্রামে গণসচেতনতামূলক ব্যবস্থাসহ ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
মুসলিম পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে পুরুষ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। মায়েদের ভারী ও কঠিন কাজ না দিয়ে তাঁদের কষ্ট লাঘব করতে পারেন। ঘন ঘন সন্তান প্রসব থেকে বিরত রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এগিয়ে এসে জনগণকে সচেতন করতে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে। যেসব মা স্বাস্থ্যসেবা পান না তাঁদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে হবে, যেসব মা পুষ্টিকর খাবার পান না তাঁদের পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। দেশের নারীর প্রজনন স্ব্বাস্থ্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও এর বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য। তাই নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভবতীর অধিকার ও মাতৃস্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের ব্যাপকভাবে গণ-উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। আমরা যদি নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করে গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ রাখতে সচেষ্ট হতে পারি, তাহলে সন্তানেরা সুস্থ থাকবে এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ জাতি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

বাস করার জন্য সেরা নগর ভিয়েনা সবচেয়ে খারাপ বাগদাদ

সবাসের জন্য বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ভালো নগর ভিয়েনা এবং সবচেয়ে খারাপ বাগদাদ। নিউইয়র্ক ও লন্ডনের মতো জনবহুল এবং অপেক্ষাকৃত কম গোছানো নগরগুলো মাঝারি অবস্থানে আছে। গত বুধবার প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
মার্কার কনসালটেন্টস নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা পরিচালিত জরিপে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ২০১০ সালের জন্য বসবাসের সবচেয়ে উপযোগী নগরগুলোর প্রথম পাঁচটি হলো ভিয়েনা, জুরিখ, জেনেভা, ভ্যাঙ্কুভার ও অকল্যান্ড। তালিকায় প্যারিস ৩৪তম, লন্ডন ৩৯তম, টোকিও ৪০তম, মাদ্রিদ ৪৮তম ও নিউইয়র্ক ৪৯তম অবস্থানে রয়েছে।
জরিপকারী প্রতিষ্ঠান মার্কার কনসালটেন্টস জানায়, সবচেয়ে সুন্দর অথবা জীবন যাপনের জন্য সেরা নগর নির্ধারণের জন্য নয়, বরং স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জনসেবা দেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে থাকা নগরের তালিকা তৈরিই এই জরিপের উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ৪২০টি নগরে জীবন যাপনের মান যাচাইয়ের জন্য ৩৯টি বিষয় সামনে রেখে এই জরিপ চালায়। জরিপে অপরাধের মাত্রা, ব্যাংকিং সেবা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পয়োনিষ্কাশন, স্কুল, পরিবহন ও জলবায়ু সংক্রান্ত অবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এবার তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ দশ সেরা নগরের তালিকায় সুইজারল্যান্ডের নাম আছে। বার্নের স্থান নবম। জার্মানির তিনটি শহর ডুসেলডোর্ফ, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখের অবস্থানও সেরা দশের মধ্যে।

নেপালে সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রেসিডেন্ট

নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম যাদব দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান তিন দলের নেতাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন। সংবিধান প্রণয়নে গঠিত পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছে। একটি কার্যকর সরকারের অভাবে বিরাজ করছে অচলাবস্থা। আজ শুক্রবার এই পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে।
সমস্যা সমাধানে প্রেসিডেন্ট যাদব কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু তা সফল হয়নি। প্রেসিডেন্ট যাদবের মুখপাত্র রাজেন্দ্র দহল বলেন, সময়মতো এই পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়ানো না হলে দেশে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। ওই পরিস্থিতির কথা ভেবে প্রেসিডেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশকে রাজনৈতিক সংকট থেকে বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঐকমত্যে পৌঁছার আহবান জানিয়েছেন।
নেপালের জোট সরকার এরই মধ্যে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ বাড়াতে একটি বিল উত্থাপন করেছে। ২০০৮ সালে এই পার্লামেন্ট গঠিত হয়। এর দায়িত্ব ছিল দুই বছরের মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, যা চলতি বছর একটি নতুন নির্বাচনের পথ করে দেবে। কিন্তু সংবিধানের বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বর্তমান পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া বিরোধী দল মাওবাদী পার্টি বলছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই বিলে ভোট দেবে না।
২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করার আগে মাওবাদীরা দীর্ঘ এক দশক গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যায়। গত বছর তারা বিরোধী দলে অবস্থান নেয়। মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ড চাইছেন ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেওয়া নতুন সরকার। এ জন্য তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ও নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু অন্য দলগুলো এতে সাড়া না দেওয়ায় আলোচনায় অগ্রগতি না হয়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

থাকসিনকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানাবে থাই সরকার

থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। থাই উপপ্রধানমন্ত্রী সুদিপ থাগসুবান গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আরও চারটি প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে থাই সরকার। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি সংবাদপত্র ও একটি সাময়িকী। এর আগে রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলসহ আরও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থার আওতায় এসব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে।
সুদিপ থাগসুবান বলেছেন, থাকসিনকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানানো হবে। থাইল্যান্ডের বিশেষ তদন্ত বিভাগ, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ জানাতে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘থাকসিন নিজেকে নির্দোষ মনে করলে তিনি দেশে এসে তা প্রমাণ করুন।’
এ ব্যাপারে থাকসিন এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইন্টারপোল থাই সরকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা নিলে সেটি হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
উপপ্রধানমন্ত্রী সুদিপ থাগসুবান বলেছেন, ‘এগুলো সত্যিকারের সংবাদপত্র নয়। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার কাজে এগুলো ব্যস্ত। এসব পত্রিকা একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।’
বিরোধীদের একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাংককের চুলালংকর্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক উইলাসিনি ফিফিতকুল বলেছেন, চরম রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গণমাধ্যম বন্ধের বিষয়টি হয়তো সময়োপযোগী। তবে সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করা উচিত নয়।

শক্তিশালী দেশগুলো বিচারের অগ্রগতি রুদ্ধ করে রেখেছে

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর কট্টর সমালোচনা করে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিচারের অগ্রগতিকে তারা রুদ্ধ করে রেখেছে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ২০০৯ সালের মানবাধিকার-বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ আহ্বান জানানো হয়। ওই তিন দেশের মিত্র জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত চার দেশ ভারত, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি আইসিসির বিরোধিতা পরিহারের আহ্বান জানায় তারা।
অ্যামনেস্টির অভিযোগ, ২০০৯ সালে আফ্রিকায় নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ শত শত লোককে হত্যা করলেও তদন্ত তেমন হয়নি। দোষীকে দণ্ড থেকে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার রীতিই এ জন্য দায়ী। অবৈধ অভিবাসীদের শাস্তিদানে বেত্রাঘাত বন্ধে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানায় তারা।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে অ্যামনেস্টির অন্তর্বর্তী মহাসচিব ক্লডিও কর্ডন বলেন, কোনো ব্যক্তিই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এ সংস্থা তা নিশ্চিত করতে চায়। এ মাসে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে সেনা অভিযান চলে, ঘটনা তদন্তে সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দাদের অনুমোদন দিতে সে দেশের সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
মহাসচিব বলেন, আমাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো তাদের আইনের ঊর্ধ্বে রেখেছে। একই সঙ্গে তারা রক্ষা করছে মিত্রদের। কাজেই আইন কেবল উদ্দেশ্য হাসিলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, আইসিসির সঙ্গে পুরোপুরি সম্পৃক্ত না হওয়া কোনো দেশের জন্যই যৌক্তিক নয়। গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে বিচার করার একমাত্র স্বাধীন ও স্থায়ী আদালত এটি।
সাংবাদিকদের কর্ডন বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা নিয়ে শুরুতে তাঁর যে শঙ্কা ছিল, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে তা দিন দিন কমছে। এ ব্যাপারে তাঁর আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এ বিরোধিতা নিস্তেজ হয়ে আসছে।’
অ্যামনেস্টির মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি ন্যায়বিচারের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তাহলে তারা উপলব্ধি করবে এ আদালত যথাযথ মানবাধিকারের মান নিয়ে কাজ করছে। কাজেই এ আদালতকে সমর্থন না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতে যোগ দেবে বলে তিনি আশাবাদী। গত বছর দারফুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এ পদক্ষেপকে তিনি যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে গিনির রাজধানী কোনাক্রির স্টেডিয়ামে গত সেপ্টেম্বরে ঘটা একটি গণহত্যার ওপর আলোকপাত করা হয়। সেখানে দেড় শতাধিক লোক বিক্ষোভ করার সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নারীরা প্রকাশ্যে ধর্ষিত হয়। এ ব্যাপারে গিনির সরকার এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো তদন্ত করেনি। এ জন্য জাতিসংঘ একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কায় সেনা ও তামিল গেরিলাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় সাত হাজার বেসামরিক লোক নিহত হয়। উভয় পক্ষই যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পক্ষেরই জবাবদিহি নেই, আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয়ও নেই। এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনেও বহু লোক নিহত ও আশ্রয়হীন হয়। এসব ঘটনার জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার দায়ী হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশা লাঘবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মালয়েশিয়ায় প্রচলিত আইনানুযায়ী, কেউ সেখানে অবৈধভাবে বাস করলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ছয়বার বেত্রাঘাত করা হয়। একই সঙ্গে জরিমানা ও পাঁচ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় অ্যামনেস্টির নির্বাহী পরিচালক নোরা মুরাত বলেন, মালয়েশিয়া যদি মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে চায়, তাহলে বেত্রাঘাত করার মতো অবমাননাকর শাস্তির পদ্ধতি তাদের শিগগির বাতিল করতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর রাশিয়ায় মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া হয়। তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

নেপালে এভারেস্ট দিবসে ১০০ জনকে সম্মাননা দেওয়া হবে কাল

তৃতীয় আন্তর্জাতিক এভারেস্ট দিবস আগামীকাল ২৯ মে। এ উপলক্ষে ভারতের পর্বতারোহীসহ বিশ্বের ১০০ জনের বেশি এভারেস্ট জয়ীকে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হবে। ১৯৫৩ সালের এই দিনে প্রথমবারের মতো এভারেস্টকে জয় করে মানুষ। ওইদিন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারি ও নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগে এভারেস্ট জয়করেন।এ কারণে এই দিনকে আন্তর্জাতিক এভারেস্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। নেপালের পর্বতারোহণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট অং শেরিং শেরপা এ কথা জানান।
অস্ট্রিয়ার পিটার হেবলার (অক্সিজেন ছাড়া যিনি প্রথম এভারেস্টে আরোহণ করেন), আপা শেরপা (২০ বার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণকারী), মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী বীর যোদ্ধা মেজর এইচপিএস আলহুওয়ালিয়া, ভারতের সর্বকনিষ্ঠ এভারেস্ট জয়ী অর্জুন বাজপেয়িসহ বেশ কয়েকজনকে সংবর্ধনা জানানো হবে।
এই অনুষ্ঠানে সার্কের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে আপা শেরপাকে সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তেনজিং হিলারি অ্যাওয়ার্ড এমন একজনকে দেওয়া হবে যিনি এভারেস্টের কাছে খুম্বু অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখছেন। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল কাঠমান্ডুতে পর্বতারোহী, ভ্রমণ উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পপতি ও সংবাদ কর্মীদের নিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে।

পাকিস্তান থেকে আল-কায়েদার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, পাকিস্তানি ভূখণ্ড ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগানিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। তাই আফগানিস্তানে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে নতুনভাবে দৃষ্টি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউসের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা জন ব্রেনান গত বুধবার এ কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদবিষয়ক সহকারী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রেনান বলেন, ‘চলমান সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কৌশল একেবারেই অভিন্ন।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক কৌশলের ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণার এক দিন আগে প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন জন ব্রেনান। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জড়িত। আমরা আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত।’ তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অধিকতর দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা দায়িত্ব নিয়ে ইরাক যুদ্ধ শেষ করছেন। কেননা ৯/১১ ঘটনার সঙ্গে ইরাক যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ব্যাপারে নতুন করে মনোযোগ দিয়েছেন।
ব্রেনান বলেন, ‘আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে পরাস্ত করতে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। তারা যেখানেই ষড়যন্ত্র করবে এবং প্রশিক্ষণ নেবে সেখানেই হামলা চালানো হবে।’ তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও এর বাইরে আমরা কেবল আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই লড়াই করছি না; পাশাপাশি আমরা এসব দেশের সরকারকেও সাহায্য করছি; যাতে তারা নিজস্ব নিরাপত্তার মাধ্যমে আল-কায়েদার মূলোৎপাটন করতে পারে। তা ছাড়া সন্ত্রাসীরা যাতে সীমানা পেরিয়ে এসব দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়েও তাদের সাহায্য করা হচ্ছে।’
পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিনি সন্দেহভাজন জঙ্গি ডেভিড হেডলির কথা উল্লেখ করে ব্রেনান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি চরমপন্থী আদর্শে গড়ে উঠেছে। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকেরা মিনেসোটা থেকে সোমালিয়ায় গিয়ে লড়াই করছে। ভার্জিনিয়ার পাঁচ বাসিন্দা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। শিকাগোর বাসিন্দা ডেভিড হেডলি মুম্বাই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। ডেনমার্কের এক কার্টুনিস্ট হত্যার ঘটনার সঙ্গে পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা জিহাদ জেনি জড়িত।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এসব সন্ত্রাসী ব্যক্তির কারণে যে নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি হয়েছে তা প্রেসিডেন্ট ওবামার জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
পাকিস্তানে বোমা বানানোর প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গি নাজিবুল্লাহ জাজির কথাও উল্লেখ করেছেন ব্রেনান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী অনেকেই অস্ত্রসহ ধরা পড়েছেন। তাঁরা অবাধে সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে ভ্রমণ করছেন, আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছেন। তবে তাঁদের ভয়ানক কিছু পরিকল্পনা গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
ব্রেনান বলেন, ‘ওবামার নতুন কৌশল অনুয়ায়ী আল-কায়েদা ও এর সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে অবশ্যই পরাভূত করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা শক্তিশালী ও স্বাভাবিক স্থিতিপূর্ণ একটি রাষ্ট্র তৈরি করব। মার্কিনিদের মূল্যবোধ আমরা ধরে রাখব। এভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হব।

রুনি আমাদের দলের মুকুট

তা রা র ক থা রিও ফার্ডিনান্ড ইংল্যান্ড পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই সঙ্গী নানা বিতর্ক। তবে মূল কাজ যেটি, সেই রক্ষণভাগ সামলানোয় তিনি দুর্দান্ত। ১৯ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল সর্বকনিষ্ঠ ইংলিশ ডিফেন্ডার হিসেবে, ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন রক্ষণদুর্গের অন্যতম ভরসা। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও থাকবে তাঁর হাতে। রিও ফার্ডিনান্ড জানাচ্ছেন তাঁর বিশ্বকাপ ভাবনা—
বিশ্বকাপের ড্র নিয়ে আমি আনন্দে ভেসে যাচ্ছি না। এর আগেও এমন গ্রুপে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে, লোকে যেটিকে বলেছে সহজ কিন্তু পরে দেখা গেছে কঠিন। এ ধরনের টুর্নামেন্টে সব গ্রুপই সব সময় কঠিন। বড় ব্যবধানের ফলাফল এখন আর দেখা যায় না। র্যাঙ্কিংয়ের একশতে থাকা দলের সঙ্গে খেললেও দেখা যায় ব্যবধান বড়জোর দুই গোলের। এবারও কাজটা কঠিন হবে।
এ মৌসুমে এতসব গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ইনজুরিতে পড়াটা ইংল্যান্ডের পক্ষে কাজ করতে পারে। ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে আমাদের হারটার কথা মনে করুন, ওই মৌসুমে রোনালদিনহো ৩৭টি ম্যাচ খেলেছিল, আর আমাদের বেশির ভাগই খেলেছিল ৫০টি করে। তরতাজা হয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াটা উষ্ণ আবহাওয়ায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শোনা যাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় আবহাওয়াটা উষ্ণ থাকবে না। জমে যাওয়ার মতো ঠান্ডা? ভালো, তাহলে আমাদের সুযোগ আছে!
জয়ের মূল চাবিকাঠি? প্রস্তুতি, নিজেকে পুরোপুরি ঢেলে দেওয়া এবং সামান্য একটু ভাগ্য। প্রস্তুতি মানে শুধু কৌশল নির্ধারণ নয়, সময়মতো খাওয়া-দাওয়া, ঘুম এবং পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। প্রস্তুতির দিক দিয়ে ইতালিয়ান মানসিকতাটা (ফাবিও ক্যাপেলোর অধীনে) অসাধারণ। প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়েও তাঁর খেয়াল আছে।
আমাদের প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকাপটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেক ভালো ফুটবলার আছে, কিন্তু সবার ক্যারিয়ারে এটা একটা বিশাল শূন্যতা যে দল হিসেবে আমরা এখনো কিছু করতে পারিনি। বলার মতো কিছু না করেই শেষ টানাটা হবে আমাদের জন্য হতাশাজনক।
রুনি আমাদের দলের মুকুট। সে এই মুহূর্তে ভালো খেলছে, প্রচুর গোল করেছে এবং ইংল্যান্ডের জন্য সে দুর্দান্ত। বিশ্বকাপে ভালো করতে ওর মানের একজন ফুটবলার আমাদের ভীষণ দরকার।’

অতঃপর সুখের সংসার

শোয়েব-সানিয়ার প্রথম দেখা হয়েছিল নাকি দুবাইয়ে। দেখা থেকে কথা, কথা থেকে... থাক এসব পুরোনো বৃত্তান্ত। দুজনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পরই তাঁরা ঠিক করেছিলেন দুবাইতেই থাকবেন। এটাও পুরোনো গল্প। নতুন খবর, মধুচন্দ্রিমা-পর্ব শেষ করে দুবাইতে শোয়েব-সানিয়া জুটি এখন ব্যস্ত যাঁর যাঁর কাজে। কাজ বলতে অবশ্য একজনের প্রস্তুতি টেনিস কোর্টে ফেরার, আরেকজনের ক্রিকেট মাঠে।
স্বামী শোয়েব মালিকের কাছে এখনো ঘরের টানটা একটু বেশি, তবে স্ত্রী সানিয়া খুবই সিরিয়াস টেনিস নিয়ে। সানিয়া জানিয়েছেন, শরীরটাকে ঠিক রাখতে নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। তিন সপ্তাহ ধরে এটা চালিয়ে যাওয়ায় কব্জির পুরোনো ইনজুরিটা প্রায় যাওয়ার পথে। তবে ঘাসের কোর্টের চ্যালেঞ্জটা এখনই নিতে চাইছেন না তিনি। পরিকল্পনা করছেন হার্ডকোর্টে ফেরার।
দুবাইতে বসে সংবাদমাধ্যমের কাছে সানিয়া নিজের কথা, কব্জির ইনজুরি আর টেনিসের কথা বলেছেন, শোয়েবের ক্রিকেট নিয়ে বলেছেন, কথায় কথায় জানিয়েছেন শোয়েবের সঙ্গে ভালোই কাটছে তাঁর দিনগুলো। কোর্টে ফেরার লড়াইয়ে শোয়েবের সহযোগিতা পাচ্ছেন। তবে বিয়ের পর নাকি খুব বেশি বদলাননি সানিয়া। ‘না, খুব বেশি পরিবর্তন লক্ষ করছি না। তবে হ্যাঁ, আমরা এখন এক বাথরুম এবং বেডরুম ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি—’ হাসতে হাসতে বলেছেন সানিয়া। পাঁড় ক্রিকেট ভক্ত, কিন্তু এর আগে শোয়েবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে সেভাবে দেখেননি। এখন দেখবেন। দুটি জীবন যে জড়িয়ে গেছে একসঙ্গে! নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে আটকে আছেন এখনো, তা সত্ত্বেও এশিয়া কাপের জন্য ঘোষিত পাকিস্তানের প্রাথমিক দলে আছেন শোয়েব মালিক।

গলার কাঁটা হয়ে গেলেন ট্রট by তারেক মাহমুদ

লর্ডসে বাংলাদেশ দলের চেয়েও নবীন বলতে পারেন জনাথন ট্রটকে। এ মাঠে বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক ২০০৫ সালে হলেও ট্রটের হলো কালই। শুধু অভিষেক কেন, লর্ডসে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নেওয়াটাকে স্বপ্নের মতো অভিষেক বলাই তো ভালো! দিনশেষে ট্রট নিজেও সেটাই বললেন, ‘লর্ডসে খেলার স্বপ্ন ছিল। সেঞ্চুরি দিয়ে তা পূরণ করতে পেরে ভালো লাগছে।’
ট্রটের জন্য যেটা প্রথম, সেটা এরই মধ্যে চারবার দেখে ফেলেছেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছিলেন, লর্ডসে সেঞ্চুরি করেছেন এরপর আরও তিনটি। ট্রটের মতো কাল সেঞ্চুরি না পেলেও মাহমুদউল্লাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে এক সিরিজ পর দলে ফেরাটা স্ট্রাউস উদ্যাপন করলেন ৮৩ রানের ইনিংস দিয়ে। প্রয়াত চেক স্থাপত্যবিদ ইয়ান কাপালিসি ও তাঁর সঙ্গী আমান্দা লেভেতের বানানো স্পেসশিপ-সদৃশ প্রেসবক্স হয়তো ট্রট-স্ট্রাউসদের স্বপ্নের মতো ব্যাটিং দেখার জন্যই। তবে প্রথম দিনে হাসি ছিল বাংলাদেশের বোলারদের মুখেও। ২৭০ বলে ট্রটের অপরাজিত ১৭৫ আর স্ট্রাউসের ৮৩ রানের সৌজন্যে প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩৬২ রান করে ফেললেও বাংলাদেশের বোলাররা তুলে নিতে পেরেছেন চারটি উইকেট।
লর্ডস টেস্টে ইংলিশ কন্ডিশন বড় বেশি প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কা জেগেছিল পরশু রাতে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সঙ্গে হাড়ে কাঁপন ধরানো ঠান্ডা হাওয়া। আকাশ আর আবহাওয়া গুমোট হয়ে থাকল কাল সকালেও। এই কন্ডিশনে আগে ব্যাট করলে সাকিব আল হাসানের দলকে অবধারিতভাবেই ভুগতে হতো। সাকিব টসে জিতে ফিল্ডিং নেওয়ায় সেটা হয়নি, সকালের সুইং আর মুভমেন্টে সমস্যায় পড়ে যাচ্ছিলেন বরং স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরাই।
অ্যালিস্টার কুককে এলবিডব্লু করে দিয়ে দলের মাত্র ৭ রানের সময় ইংল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। কিন্তু সকালের মেঘ সরে গিয়ে সূর্য তাপ ছড়ানো শুরু করার পর আবহাওয়ার মন যত ভালো হতে লাগল, ততই মন খারাপ হতে থাকে বাংলাদেশ বোলারদের। লর্ডসের ঘাসে ঢাকা উইকেটও তখন স্ট্রাউস-ট্রটের কাছে চমত্কার ব্যাটিং উপযোগী। দ্বিতীয় উইকেটে ১৮১ রানের জুটিতে বাংলাদেশের সুন্দর সকালটাকে দুপুরে গড়াতে দেননি এই দুই ব্যাটসম্যানই।
শাহাদাতের সঙ্গে নতুন বলে বোলিং শুরু করেন রবিউল ইসলাম। চ্যালেঞ্জ ছিল দুজনের জন্যই। ২০০৫ সালে লর্ডসে দুঃস্বপ্নের মতো টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শাহাদাতের। রবিউল ঠিক সে মাঠেই অভিষেক টেস্ট খেলতে নামলেন কাল। চ্যালেঞ্জে প্রাথমিকভাবে দুজনই সফল। সকালের সিমিং কন্ডিশনে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলার পাশাপাশি প্রেসবক্সের ব্রিটিশ সাংবাদিকদেরও প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের দুই পেসার। কিন্তু সেসব খেলা লাঞ্চ গড়ানোর আগ পর্যন্তই। লাঞ্চের আগে ১০৫ রান তুলে ফেলা ইংল্যান্ডের আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। যদিও শাহাদাত-রবিউলের সঙ্গে ততক্ষণে হাত ঘোরাতে শুরু করেছেন আরও তিন বোলার—সাকিব, রুবেল হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।
গত বছর আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওভালে সেঞ্চুরি দিয়ে টেস্ট অভিষেক হলেও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জনাথন ট্রটকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল। থাকাটাই স্বাভাবিক, গতকালের আগে টেস্টে ১৩ ইনিংস খেলে অভিষেকের সেঞ্চুরির সঙ্গে মাত্র দুটি ফিফটিই তো করেছেন! বাংলাদেশের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট হতে পারে সে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মাইলফলক। ১৩৩ বলে নিজের ১২তম বাউন্ডারিটি মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শূন্যে ভেসে করা তাঁর উদ্যাপনেও খুঁজে পাওয়া গেল সমালোচনা থেকে মুক্তির আনন্দ। ট্রটকে নিয়ে বেশি সমালোচনা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গত সিরিজের ব্যর্থতার কারণেই। যদিও ট্রট বলছেন, ‘আমি ওই সফর নিয়ে হতাশ নই। কিছু ভালো ইনিংসও তো খেলেছিলাম! কিছু ভালো বল হবে, কিছু বাজে শট হবে—এটাই তো ক্রিকেট।’
স্ট্রাউস-ট্রটের কাছে হেরে গেলেও বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিন আরও একবার অসহায় বানিয়ে দিল কেভিন পিটারসেনকে। গত সিরিজে চট্টগ্রামে ৯৯ আর ঢাকায় অপরাজিত ৭৪ রানের দুটি ইনিংস খেললেও পিটারসেনকে ঠিক পিটারসেন মনে হয়নি। কাল তো ১৮ রানেই সাকিবের বলে বোল্ড। প্রথম দিনে বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে পড়ল না সে সুবাদে। স্ট্রাউস আর ট্রট মিলেই যা করেছেন, নইলে ইংল্যান্ডের বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থই। কুক ফিরলেন ৭ রানে, পিটারসেন ১৮ আর রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড ইয়ান বেল ১৭ রানে। তবে শেষ বেলায় ট্রটের সঙ্গী হয়ে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা এউইন মরগান দলে আসার সার্থকতা প্রমাণ করছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১০৪ রানের জুটিতে কাল আর কোনো উইকেট হারায়নি ইংল্যান্ড। দিনশেষে বাংলাদেশ কোচ জেমি সিডন্সের হতাশা হয়তো সে কারণেই, ‘আমি দলের এই পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নই। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ঠিক জায়গায় বল ফেলে যাওয়া। সেটা খুব বেশি হয়নি। দিন শেষে সে কারণেই আমরা পিছিয়ে।’ ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে দাঁড়ানো ইমরুল কায়েস মরগানের শটে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়লেও তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানালেন সিডন্স, ‘মাথায় আঘাত পাওয়ার পরপরই ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এমআরআই স্ক্যানের রিপোর্ট হাতে না এলেও ধারণা করা হচ্ছে, গুরুতর কিছু হয়নি তার।’
আর একটা কারণ অবশ্যই জোনাথন ট্রট। কে জানে, লর্ডস-অভিষেকে নিজেকে ফিরে পাওয়া এই ব্যাটসম্যানই হয়তো হয়ে যাবেন ম্যাচের নির্ধারকই!

হার দিয়ে শেষ রাসেলের

ব্রাদার্সের কাছে ০-২ গোলে হার দিয়ে কাল বাংলাদেশ লিগ শেষ করল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। এতে তাদের অবস্থানের কোনো হেরফের হয়নি। ২৪ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তারা পেশাদার ফুটবল লিগে তৃতীয় (প্রথমবার হয়েছিল চতুর্থ)। তিন নম্বর জায়গাটা ধরে রাখা রাসেলের জন্য বড় কোনো প্রাপ্তি নয়। এই জায়গার জন্য এবারও লিগে রাসেলের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
ব্রাদার্সকে এগোতে হয়েছে সংগ্রাম করে। এটি তাদের পঞ্চম জয়। ৩০ মিনিটে মুরাদ আহমেদ প্রথম গোল করেছেন, ৫৯ মিনিটে ২-০ করেন তন্ময়। মাঠে কালকের রাসেল ছিল ছন্নছাড়া, অন্যদিকে ব্রাদার্স খেলেছে এবারের লিগে তাদের অন্যতম সেরা ম্যাচ। ২৩ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ২৫, এখন পর্যন্ত ষষ্ঠ স্থান ধরে রেখেছে দলটি।

ফ্রান্সের ভালবুয়েনা হল্যান্ডের পার্সি

দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে বিশ্বকাপের দলগুলো এখন মাঠের লড়াইয়ে নেমে দলের দুর্বলতা খোঁজায় ব্যস্ত। এই লক্ষ্যেই পরশু রাতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বিশ্বকাপযাত্রী পাঁচ দল। শিরোপার দুই দাবিদার ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডের সঙ্গে চিলি এবং উরুগুয়েও জয় পেয়ে অনুপ্রাণিত। ব্যতিক্রম কেবল মেক্সিকো। বিশ্বকাপে সব সময়ই ‘কঠিন’ প্রতিপক্ষ বলে বিবেচিত দলটি আগের দিন হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে। পরশু হারল নেদারল্যান্ডের কাছে।
আর্সেনাল তারকা রবিন ফন পার্সির অসাধারণ দুই গোলই নেদারল্যান্ডকে এনে দিয়েছে দারুণ এক জয় (২-১)। ১৯৯৮-এর চ্যাম্পিয়ন ও গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স ২-১ গোলে কোস্টারিকাকে, চিলি ৩-০ গোলে জাম্বিয়াকে এবং উরুগুয়ে ইসরায়েলকে হারিয়েছে ৪-১ গোলে।
ফ্রান্স জিতেছে নবাগত ম্যাথ্যু ভালবুয়েনার কাঁধে চেপে, আর খানিকটা ভাগ্যের চাকায়। ১২ মিনিটে কোস্টারিকা এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্স সমতায় ফেরে আত্মঘাতী গোলে। খেলা শেষের ৭ মিনিট আগে কোচ ডমেনেখের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন মার্শেই স্ট্রাইকার ভালবুয়েনা।
জিতলেও আরিয়েন রবেন, মার্ক ফন বোমেল, ওয়েসলি স্নাইডার—সেরা তিন অস্ত্রকে বাইরে রেখে নেমেছিল ডাচ দল। তার পরও জিতেছে তারা, জয়ের নায়ক ফন পার্সি। ম্যাচ শেষে কোচ বার্ট ফন মারউইক তাই পার্সির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

মাইকেল এসিয়েনের বিশ্বকাপ শেষ

শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার স্বপ্নে ডুবে ছিলেন ঘানার মিডফিল্ডার মাইকেল এসিয়েন। কিন্তু বিধিবাম, ডান হাঁটুর ইনজুরিটা কেড়েই নিল তাঁর বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ঘানার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও চেলসির চিকিত্সক দল যৌথভাবে তাঁর অবস্থা দেখে যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেটাই ভেঙে দিয়েছে এসিয়েনের বুক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষেও পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন না এসিয়েন। অথচ ১৩ জুন সার্বিয়ার সঙ্গে ম্যাচ দিয়েই ঘানা শুরু করবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। ঘানাইয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনই নিশ্চিত করেছে এসিয়েন-ভক্তদের হূদয় ভেঙে দেওয়া এই খবরটি। ঘানা ও চেলসির ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন গত জানুয়ারিতে, আফ্রিকান নেশনস কাপে খেলার সময়। সেই থেকেই মাঠের বাইরে তিনি।
এদিকে অনুশীলনের সময় সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে চিবুক কেটে গেছে জার্মান ফরোয়ার্ড টমাস মুলারের। তবে চোট খুব বেশি নয়, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই মুলার সেরে উঠবেন বলে আশা করছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন।

দুঃখে যাদের জীবন গড়া... by মীর মাহমুদুল হাসান

পাথর ভাঙছে মনজুর। ছয় বছর বয়স ওর। স্কুলে যাওয়া হয় না। তাই বুকের জগদ্দল পাথরটি সরানোর চেষ্টায় পাথরের সঙ্গেই মিতালি পাতাতে হয়েছে ওকে। কোমল হাতে এই পাথর ভেঙেই চালাতে হয় পেট।
বাবা আবদুল বুদার পাথর পরিবহনের ট্রলিতে কাজ করেন। মা মনজিলাও ছেলের মতো পাথর ভাঙার কাজ করেন। নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা সদরের গয়াবাড়ী ইউনিয়নের সুটিবাড়ী বাজারের অদূরে একটি পতিত জমিতে বসে পাথর ভাঙছিল বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ-শিশু।
গয়াবাড়ী গ্রামে মনজুরদের বাড়ি। জমিজমা বলতে কিছুই নেই তাদের। যা ছিল সব গ্রাস করেছে রাক্ষুসী তিস্তা।
‘তুমি স্কুলে যাও না?’
‘এবার স্কুলে ভর্তি হইছি। সারা দিন পাথর ভাঙ্গি ১০ টাকা পাই।’
‘স্কুলে না গিয়ে পাথর ভাঙছ কেন?’
‘হামার যে অভাব, এই জন্য মাও ভাঙ্গির কয়।’
‘পাথর ভাঙতে কষ্ট হয় না?’
‘আগে বেশি হতো, এখন কম হয়।’
হাতের বেশ কিছু জায়গায় হাতুড়ির আঘাতে থেঁতলে যাওয়ার চিহ্ন দেখিয়ে বলে, ‘এগুলো ব্যথা করে। কিন্তু কাম না কইরলে মাও গাইল দেয়।’
‘সারা দিনে কত টাকা আয় হয়?’
‘এক ফেরা ভাঙ্গির পাইরলে ১০ টাকা পাই।’
‘টাকা কী কর?’
‘মাও নিয়া চাউল আনে। মোর একটা বন্ধু আছে। অর নাম জহুরুল। তায়ও স্কুল না জায়য়া পাথর ভাঙ্গে।’
মনজুর গয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। মনজুরের মা মনজিলা বেগম (৩৫) বলেন, ‘মনজুর মাঝেমধ্যে স্কুলেও যায় পাথরও ভাঙ্গে। গরিব মানুষ কাম না শিখলে খাবে কী?’
মনজিলা জানান, তাঁর স্বামী ট্রলিতে পাথর ওঠানো-নামানোর কাজ করে ৮০-৯০ টাকা পান। কাজ না থাকলে বসে থাকতে হয়। তিনি প্রতিদিন তিন-চার ফেরা পাথর ভেঙে ৩০-৪০ টাকা আয় করেন। যখন কাজ থাকে না তখন সবাই বসা। ঋণ-মহাজন করে অথবা আগাম কাজের জন্য মজুরি নিয়ে খেতে হয়। সঞ্চয় বলে তাঁদের কিছু থাকে না।
মনজিলা বলেন, ‘পাথর ভাঙার কাম তো সব সময় থাকে না। নদীর পানি শুকি গেইলেও হামার কষ্ট, আবার বেশি বাইরলেও হামার কষ্ট। তা ছাড়া এলাকার পাথর তোলা মেশিনগুলো মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়। তখনো কাম থাকে না।’
এবার দুঃখের কথা বলতে অন্যরাও এসে যোগ দেয়। মিনি বেগম (৩৫) বলেন, ‘স্বামী রশিদুল ইসলাম ট্রলিতে লেবারি করে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ টাকা পান। যেখানে পাথর ওঠানোর মেশিন আছে সেখান থেকে পাথর আনেন। আর হামরা পাথর ভাঙ্গি ১০ টাকা করি ফেরা। সারা দিনে দুই-তিন ফেরার বেশি ভাঙ্গা যায় না। জমিজমা নাই। পাথর ভাঙ্গি খাই, মেশিন বন্ধ হইলে হামার কামও বন্ধ হয়।’
আছিয়া, কল্পনা, রশিদাসহ কয়েকজন জানান, তাঁদের স্বামীরা মজুরি পান ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর তাঁরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা। রশিদা বলেন, ‘৪০ টাকা কামাই কইরতে জুলুম হয়। সব জিনিসের এত দাম বাড়ে, কিন্তু হামার দাম বাড়ে না, আরও কমায়।’
চোখ ফেরাতেই দেখি তিন বছর বয়সী সুমিও পাথর ভাঙছে।
এ সময় পাথর ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, ‘এখানে প্রায় ২৫-৩০ জন পাথর কিনি বিক্রি করি। পাথরের সাইজ অনুযায়ী ২০ টাকা থেকে ২৯ টাকা সিএফটি কিনি। আবার ভাঙ্গার পর ২১ টাকা থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত সিএফটি বিক্রি করি।’ প্রতিটি সাইটে ৩০-৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান তিনি।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখরিবাড়ী, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নদীভাঙা প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক নদী থেকে পাথর তুলে ও পাথর ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের মজুরি কম হওয়ার কারণে পরিবারের সব সদস্য কাজ করেও সচ্ছলভাবে চলতে পারেন না। তাঁদের অনেকের নিজের ভিটেটুকুও নেই। বাঁধের ধারে কোনোভাবে দিন যাপন করেন। এখানে আয়ের অন্য কোনো পথ না থাকায় এই শক্ত কাজটাই করতে হয় তাঁদের।
শিশু মনজুর আর সুমীর দিকে তাকাই। ওরা তখন আবার ফিরে গেছে পাথর ভাঙতে।

কেন রুখে দাঁড়াতে হয় by আনিসুল হক

গত ১৪ মে ২০১০ ডেইলি স্টার-এর ম্যাগাজিনে আনুশকা ইউসুফের একটা লেখা ছাপা হয়েছে ‘মি মোই আমি’ শিরোনামে। তিনি শুরু করেছেন এইভাবে, ‘আমার মা এসেছেন ফ্রান্সের একটা চমৎকার ছোট্ট শহর থেকে, আর আমার বাবা এসেছেন বাংলাদেশের জনবহুল রাজধানী থেকে। এবং আমি জন্মেছি আমেরিকান হয়ে।’ তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছে, তিনি কোন সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বলছেন, ‘কোনটা আমি? যে ইউরোপীয় ফরাসি মেয়েটি সকালবেলা ক্রয়সাঁ খায়, যে বাংলাদেশি মেয়েটি সপ্তাহান্তে ভারতীয় ছবি দেখে, নাকি ওই সর্ব-আমেরিকান কিশোরী যে স্কুল শেষে ম্যাগনোল্ডসে যায়?’ তিনটা দেশের তিনটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির চিহ্ন হিসেবে লেখিকা তিনটা জিনিসকে বেছে নিয়েছেন, ফরাসি সংস্কৃতি থেকে নিয়েছেন ক্রয়সাঁ, আমেরিকা থেকে নিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ডস, আর বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন তিনি ভারতীয় ছবিকে।
তিনি লিখেছেন, ‘আমি আবিষ্কার করেছি যে বাঙালি জীবনচর্যা একজন বালিকার জন্য অনেক উদ্দীপনাময়।...সব সময় টেলিভিশনে একটা বলিউডের ছবির আনন্দপূর্ণ মিউজিক ভিডিও চলবে, মহিলারা পরচর্চা করবে, ডাল ঘোঁটার শব্দ ভেসে আসবে, একজনের কথার ওপরে গলা চড়িয়ে চুটকি বলবে আরেকজন। এটার সঙ্গে নির্ভুলভাবে আমাকে মানিয়ে নিতে হবে, তাই তো?’ মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি কষ্ট স্বীকার করলেন। সেটা কী? ‘আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে ভারতীয় নাচ শিখতে শুরু করলাম এবং নিয়মিতভাবে হিন্দি সিনেমা দেখা শুরু করলাম।...বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে বলিউড নাচে অংশ নেওয়ার জন্য অনুশীলন করতে শুরু করলাম।’
বাংলাদেশের সংস্কৃতি হিসেবে, বাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে তিনি যা কষ্ট করে শিখেছেন তা হলো বলিউডের নাচ। বিয়ের আগে বলিউডের নাচকেই তিনি ভাবছেন বাংলাদেশের বাঙালির সংস্কৃতি। আনুশকাকে দোষ দেব না। এটাই এখন প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। সারা বিশ্বভুবনে হিন্দি সংস্কৃতির কাছে বাঙালি সংস্কৃতির চিহ্নগুলো অপসারিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও বহু জায়গায় বহুভাবে এটা ঘটেছে। ঘটানোর জন্য বাস্তব চেষ্টা চলছে।
ভারত নামের বিশাল বহুভাষী রাষ্ট্রের সংহতির জন্য, ঐক্যের জন্য হিন্দির বন্ধন দরকার। তারা চাইবেই সারা ভারতের সব মানুষ, সে বাঙালি কিংবা তামিল যেই হোক না কেন, হিন্দি সংস্কৃতির দ্বারা আবিষ্ট হোক। বাঙালি সংস্কৃতি অনেক শক্তিশালী, তার শেকড় বহু গভীরে প্রোথিত। কিন্তু হিন্দির সঙ্গে বাংলার জনপ্রিয় সংস্কৃতির যে লড়াইটা, তা অসম। কারণ ভারতের জনসংখ্যা এক শ কোটির বেশি। হিন্দি জনপ্রিয় সংস্কৃতির পণ্যগুলো নির্মিত হয় সেই বিশাল বাজারের জন্য, ফলে তার পেছনে কেবল ভারত রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা থাকে না, থাকে বিশাল অঙ্কের পুঁজি। তাই তার সঙ্গে একটা ১০ বা ১৫ কোটি ভোক্তার জন্য বানানো জিনিসের প্রতিযোগিতাটা অসম হতে বাধ্য। ভারত একটা বৃহৎ শক্তি, হিন্দিও একটা বৃহৎ শক্তি। তার কাছে পশ্চিমবঙ্গের লেখক-সাহিত্যিকেরা তাঁদের অসহায়ত্ব নানা লেখায়, নানা সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করে চলেছেন। তাঁরা বলছেন, বাঙালি সংস্কৃতি যদি বেঁচে থাকে, যদি আলো-হাওয়া-জল দিয়ে পরিপুষ্ট হয়, তবে তা হবে বাংলাদেশে। কলকাতার মধ্যবিত্ত ছাত্রটি ইংরেজি শিখছে-বিশ্বনাগরিক হওয়ার জন্য, হিন্দিতে চোশত হচ্ছে-সর্বভারতীয় হওয়ার জন্য। বাংলাদেশে এই হুমকির কোনো কারণ ছিল না। বাংলাদেশের বাংলা মাধ্যম থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলেমেয়ে বেরোচ্ছে মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে, যারা বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্য, আমাদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-শরৎচন্দ্র-জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান-হুমায়ূন আহমেদ-প্রথম আলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, ধারণ করছে, চর্চা করছে।
কিন্তু মুম্বাইয়া সংস্কৃতির পণ্যগুলোর পেছনে আছে বড় বাজেট, আছে বাজারজাত করার আধুনিকতম সব উপায় ও আয়োজন। বাংলাদেশে আমরা হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে অবাধ করে দিয়েছি। বাসার ছোট্ট মেয়েটি হিন্দি চ্যানেলে কেশ-প্রসাধনীর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে—লম্বি লম্বি বাল হ্যায় আচ্ছি আচ্ছি বাল হ্যায়। সুন্দর বাংলা শব্দ ‘ঐশ্বযর্’ তার কাছে ‘ঐশ্বরিয়া’। ‘অভিজিৎ’ তার কাছে ‘আবহিজিৎ’। এমনকি ‘মন্ত্র’র মতো সুন্দর শব্দ তার কাছে ‘মান্ত্রা’। বাংলা শব্দ তার কাছ থেকে অপসারিত হয়ে যাচ্ছে হিন্দি শব্দ ও উচ্চারণ দ্বারা। তবু আরেকটা ভাষা, সে হিন্দিই হোক, উর্দুই হোক, শেখাটা যে কারোর জন্যই ভালো। কিন্তু সংস্কৃতির চিহ্নগুলো যদি অপসারিত হয়ে যায়?
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে সৈয়দ শামসুল হক একটা চমৎকার প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যেটা প্রচারপত্রের আকারে হাতে হাতে বিলি হয়েছিল। লেখাটার শিরোনাম ছিল, ‘কেন রুখে দাঁড়াতে হয়’। সৈয়দ শামসুল হকের উদ্বেগ ছিল, আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো, আমাদের শাড়ি, মেয়েদের কপালের টিপ যেন অপসারিত না হয়ে যায়! আমরা যে হাত দিয়ে ভাত খাই, ওই ভাতই আমাদের সংস্কৃতি, যেমন আনুশকা ইউসুফের ফরাসি মায়ের কাছে ক্রয়সাঁ, আমেরিকান কিশোরীর জন্য ম্যাগডোনাল্ডস, আমার কাছে তেমনি ভাত। ওটা আমি দোসা দিয়ে, ইদলি দিয়ে অপসারিত হতে দিতে পারি না।
সেই কবে শরৎচন্দ্র খোট্টা বেটাদের নিয়ে রসিকতা করেছেন (খোট্টা শালার ব্যাটারা আমাকে কিলায়া কাঁঠাল পাকায়া দিয়া)। জীবনানন্দ দাশ কিছু দিন দিল্লিতে ছিলেন মাস্টারি চাকরি নিয়ে, তাঁর জীবন শুকিয়ে এসেছিল। কলকাতার কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুক আছে, সকালবেলা ফোন গেছে একটা মেড়োর কাছে, সে কিছুতেই ভানুর কথা বুঝছে না, তাকে তিনি গালি দিচ্ছেন, ওপাশ থেকে বলছে, কী, হামকো গালি দিয়া? ভানু বলছেন, না তোমারে গালি দিব না, চুমা দিব, শালা হিন্দুস্তানি মাউড়া, বোঝে না কিছু।
আমি জাতিবৈর নই। ভাষাবৈরও নই। হিন্দি ভাষা শিখতে আমার আপত্তি নেই। আমি নিজে ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটা দেখতে বলেছি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের। তবু নিজের সংস্কৃতি—আমাদের ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, আমাদের রবীন্দ্র-নজরুল-জীবনানন্দ দাশের জন্য খুব মায়া হয়! এর আগে এই প্রথম আলোতেই আমি লিখেছি, হিন্দির সঙ্গে বাংলার লড়াইয়ে আমরা হেরে গেছি। আমি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছি। আমাদের বানানো টিভি অনুষ্ঠান আর কেউ দেখে না। কেবল গরিব মানুষ, গ্রামগঞ্জে যেখানে স্যাটেলাইট নেই, তারা দেখে। তবু সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। ছয় কোটি লোক বিটিভি দেখে, এক কোটি দেখে স্যাটেলাইট। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, বাংলা ভাষাটা বাঁচায়া রাখছে কৃষক-শ্রমিক সাধারণ মানুষরা, কারণ তারা বাংলায় কথা কয়। এখন আমরা এই কৃষক-শ্রমিকদের মুখেও হিন্দি তুলে দিতে চাইছি, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক যে কৃষক-শ্রমিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন এই ভাষাটা বাঁচায়া রাখার। যাদের হিন্দি টিভি চ্যানেল বা ভিসিআর দেখার সুযোগ নেই, তাদের জন্য কাঁধে বয়ে বয়ে হিন্দি ফিল্ম নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না শোনা যাচ্ছে!
কী লাভ বা ক্ষতি হবে তাতে? রবীন্দ্রনাথ যখন বলেন, পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর, তখন তিনি ঢাকাই শাড়ির বিজ্ঞাপন করেন। আর যখন দিল্লি ৬ ছবিতে মাসাক কালির কথা বলা হয়, আর আমাদের ঈদের মার্কেট ভেসে যায় মাসাক কালি শাড়িতে, তখন আমরা সরাসরি ভারতীয় পোশাকের বিজ্ঞাপন করি। আজকে লেহেংগা এসে শাড়িকে প্রতিস্থাপিত করতে চায়। তাতে আমরা কেবল আমাদের সংস্কৃতির চিহ্নই হারাই না, আমরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার ঢাকাই শাড়ির কারিগরটাকে বঞ্চিত করি। সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য কেবল সংস্কৃতির জন্য দরকার হয় না, সেটা অর্থনীতির জন্যও দরকার, সেটাই এই সময়ে বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্তা। নইলে বড়লোক দেশগুলো সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বানায় ও পোষে কি নিতান্তই শখে? সেদিন টেলিভিশনে শিল্পী আনুশেহ একটা অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করছিলেন, অনুষ্ঠানটার নাম ছিল ‘আমার পণ্য আমার দেশ’। তাঁর মা, শিল্পী লুবনা মরিয়ম ফোন করে বললেন, ‘আমি বলব, আমার সংস্কৃতি আমার দেশ’। দুটোই সত্য। আমার পণ্যই আমার দেশ, আমার সংস্কৃতিও আমার দেশ। কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।
সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে, একদল মানুষ যেন বলতে চাইছে, আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিন্দি ছবি দেখে, গরিব মানুষ দেখার সুযোগ পায় না, হিন্দি ছবি দেখার মৌলিক অধিকার থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অন্যায়। বাংলাদেশের নির্মাতারা যদি গরিব মানুষকে ভালো ছবি দেখাতে না পারে, তাহলে আমরা কেন তাদের হিন্দি ছবি দেখতে দেব না? তারা চাইছেন, এখন একই সঙ্গে বোম্বে, মাদ্রাজ, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, গুয়াহাটি, জয়পুর ও আগ্রার সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, গলাচিপায় হিন্দি ছবি মুক্তি পাক। শাহরুখ খান-ঐশ্বরিয়া আসবেন তাঁদের ছবির প্রচারণার কাজে। ওই বিজ্ঞ মানুষদের কথা শুনে মনে হচ্ছে, হিন্দি ছবি হচ্ছে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে উন্নত সৃষ্টি, যেটা না দেখলে মানবজনমই বৃথা! এমন মানবজনম আর কি হবে! ওরে মরার আগে সব বাঙালি প্রতি বছরে গোটা ৫২ হিন্দি ছবি দেখে নিয়ে তারপর চোখ বুজিস। নইলে মরার পরে কী বলবি, জীবনে কী দেখেছিস!
সিনেমা যে কত বড় মাধ্যম, কত শক্তিশালী মাধ্যম, বড় পর্দার প্রভাব যে কত ব্যাপক ও কত গভীর, সেটাও যদি বলে বোঝাতে হয়! এখনই ঢাকার উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে হিন্দি নাচগানের আয়োজন করে, তখন যে কী হবে! আর আনুশকা ইউসুফ তো সেটাকেই বাংলাদেশি ও বাঙালি সংস্কৃতি বলে ধরে নিয়েছেন।
বাংলাদেশের হলে হলে হিন্দি ছবি দেখানোর দাবি যাঁরা করছেন, তাঁদের যুক্তিটা আমি বোঝার চেষ্টা করছি। তাঁরা বলছেন, যেহেতু এত দিন ধরে বাংলা ছবিকে সুরক্ষা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি, আমরা ভালো ছবি ঢাকায় নির্মিত হতে দেখিনি, কারণ বাংলা ছবিওয়ালাদের কোনো প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়নি, তাই হিন্দি ছবি আনতে হবে, তাহলে প্রতিযোগিতা হবে, তখন বাংলাদেশের ছবির নির্মাতারা হিন্দি ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এমন ছবি বানাতে বাধ্য হবেন। প্রটেকশন দিয়ে যদি অন্য কোনো লাভ হয়ে না থাকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতির চিহ্নগুলো হিন্দি সংস্কৃতির চিহ্ন দ্বারা পুরোপুরি অপসারিত হয়ে যায়নি, এই একটা লাভ তো হয়েছে। আর সূর্য দীঘল বাড়ি কি দিল তো পাগল হ্যায়-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে? মাটির ময়না প্রতিযোগিতা করবে কুচ কুচ হোতা হ্যায়-এর সঙ্গে? এটাকে প্রতিযোগিতা বলে? সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ছবিগুলো আনুন—ইরান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এমনকি ভারতের, কোনোই আপত্তি নেই, তবে তা আন্তর্জাতিক বিচারে ভালো ছবি হতে হবে এবং ভারতে হলিউডি ছবির ক্ষেত্রে যে রকম স্থানীয় ভাষায় ডাবকৃত হওয়া বাধ্যতামূলক, আমাদের দেশেও তাই করতে হবে, এই দেশে বিদেশি ছবি অবশ্যই বাংলায় ডাব করে চালাতে হবে। আর একটা প্রশ্ন, আমরা কেন হিন্দি চ্যানেলগুলোকে এই দেশের টিভিতে এমন অবাধ করে দিয়েছি, যখন ভারতে আমাদের চ্যানেলগুলো দেখানো হয় না বললেই চলে! প্রতিটা হিন্দি চ্যানেলের জন্য বাড়ি-প্রতি অন্তত পাঁচ টাকা করে কর নিলেও তো সরকারের কোষাগারে কিছু জমা হয়!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক।

বুদ্ধের মানবতাবাদী শিক্ষা by সুকোমল বড়ুয়া

আজ মহান বুদ্ধপূর্ণিমা। মানবের ইতিহাসে এক পরম পবিত্র তিথি। খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৪ অব্দের এই দিনেই জন্ম হয়েছিল মহামানব গৌতম বুদ্ধের। দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর তাঁর বুদ্ধত্ব লাভ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৯ অব্দে। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধর্ম প্রচারের পর ৮০ বছর বয়সে তাঁর মহাপরিনির্বাণ হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪৪ অব্দে। গৌতম বুদ্ধের মহান জীবনের এই প্রধান তিনটি ঘটনাকেই মানববিশ্বের ইতিহাসে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে অভিহিত করা হয়। এ দিন সমগ্র বিশ্বের বৌদ্ধরা এবং মানবতাবাদী দার্শনিক চিন্তাবিদেরা বুদ্ধের জীবনদর্শনকে গভীরভাবে অনুধাবন করেন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন।
প্রতিবছর মহান এই বুদ্ধপূর্ণিমা উদ্যাপনের মধ্য দিয়েই আমরা মহামানব গৌতম বুদ্ধের মানবতাবাদী শিক্ষা, জীবনদর্শন এবং উত্তম মানবজীবন গঠনের লক্ষ্যে সুন্দর, সৎ ও আলোকিত আদর্শের এক অপূর্ব শিক্ষা লাভ করি; যা ইহজাগতিক এবং পারমার্থিক উভয় জীবনের জন্য অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ। বৌদ্ধমতে, প্রজ্ঞাময় জীবনের মধ্য দিয়েই একজন মানুষের সর্বোত্তম জীবন গড়ে ওঠে; যেখানে তিনি হন ন্যায়পরায়ণ, বিবেকবান ও আত্মসচেতন। আমি কে? আমার করণীয় কী? ভালো-মন্দ কী কাজ আমার করা উচিত এবং অনুচিত? আমার কর্মে আমি নিজেই সন্তুষ্ট কি না? সর্বোপরি আমার কর্মে মানবজাতি উপকৃত হচ্ছে কি না?—এসব বিষয় চিন্তা করাই হলো বৌদ্ধ-ভাবনা। একজন মানুষ এসব চিন্তা করতে গেলেই তার জীবন সম্পর্কে, জীবনের করণীয় সম্পর্কে এবং কর্মের শুভাশুভ সম্পর্কে অনায়াসে ভাবতে পারবে। এতে আত্মজীবন যেমন বিশ্লেষণ করা যাবে, তেমনি জীবন-সচেতনতাও বৃদ্ধি পাবে।
তবে আমরা সহজে আত্মজীবন বিশ্লেষণ করতে চাই না। নিজের সম্পর্কে জানতেও চাই না। তাই আমাদের মানবতা ও বিবেকবোধ আজ এত বিপন্ন, মানবজাতির এত দুঃখ-দুর্দশা। এ জন্যই বুদ্ধ বলেছেন—উত্তিট্ঠ নপ্প মজ্জেয়্য, ধম্মং সুচরিতং চরে, অর্থাৎ তোমরা ওঠো! আত্মসচেতন হও। সুন্দররূপে ধর্মাচরণ করো। বুদ্ধ আরও বলেছেন, এহিপসি্সকো ধম্মো সন্দিটিঠকো পচ্চত্তং বেদিতব্বং, অর্থাৎ তুমি তোমাকে জানো, দেখো, সম্যকভাবে পর্যবেক্ষণ করো এবং তুমি তোমাকেই বিচার-বিশ্লেষণ করো। মহামতি বুদ্ধের এই জীবনদর্শন সক্রেটিস ও প্লেটোর জীবনেও দেখতে পাই।
বৌদ্ধমতে, তিনিই প্রজ্ঞাবান ও সর্বোত্তম, যিনি আত্মসচেতন, নীতিবোধসম্পন্ন, বিবেকবান এবং যিনি তাঁর ভালো-মন্দ কর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত হন। ব্যক্তি বিবেকসচেতন হলেই মন্দ কর্ম থেকে বিরত থাকতে পারেন। তাই বৌদ্ধ মানস গঠনের লক্ষ্যে পঞ্চশীল বা পঞ্চনীতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তি তাঁর জীবনের প্রথম থেকেই এই সদ্গুণ চর্চা করবে। এই পঞ্চনীতিতে আমি শুধু নিজেই নীতিপরায়ণ হব তা নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যকেও নীতিবান হতে অনুপ্রাণিত করব। বৌদ্ধ পঞ্চনীতিতে বলা হয়েছে—১. আমি কোনো প্রাণীকে হত্যা করব না, আঘাত করব না। অন্যকেও এ কাজ করার জন্য কখনো উৎসাহিত করব না। ২. আমি চৌর্যবৃত্তি করব না, অন্যকেও এ কাজে অনুপ্রাণিত করব না। ৩. আমি ব্যভিচার করব না, অন্যকেও এ কাজে উৎসাহ দেব না। ৪. আমি মিথ্যা বলব না, অন্যকেও তা করার জন্য উৎসাহিত করব না। ৫. আমি মাদকদ্রব্য সেবন করব না, অন্যকেও উৎসাহিত করব না।
এই নীতিগুলো যদি সবাই পালন করি তাহলে কখনো কি আমরা অনৈতিক কাজ করতে পারি? শীল পালনের গুরুত্বকে বৌদ্ধ ধর্ম সবিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। বৌদ্ধ নীতিবিজ্ঞান ও কার্যকারণ তত্ত্বে বলা হচ্ছে, একটি অনৈতিকতা আরেকটি অনৈতিকতার জন্ম দেয়। একটি সদিচন্তা আরেকটি সদিচন্তা সৃষ্টি করে। অশুভ চিন্তা থেকে কখনো শুভ ফল পাওয়া যায় না। ব্যক্তির কর্ম যদি কৃষ্ণ হয়, ফলও হবে কৃষ্ণ। কৃষ্ণকর্ম থেকে কখনো শুক্লফল আশা করা যায় না।
বৌদ্ধমতে, বিদ্যা ও সম্যক জ্ঞানের অভাবই হচ্ছে অবিদ্যা। অবিদ্যাই সব অজ্ঞানতার মূল কারণ। অশুভ, দুর্বিনীত এবং অজ্ঞানপ্রসূত সব কাজের জন্য ব্যক্তির অবিদ্যাই দায়ী। লোভ, দ্বেষ, মোহ, হিংসা, জিঘাংসা প্রভৃতি কুমানসিকতা অবিদ্যা ও অজ্ঞানতা থেকেই সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় নানা রকম মিথ্যা ও অসদাচরণ। সুতরাং আমাকে বুঝতে হবে, আমার বিপথগামী চিত্তই আমাকে প্রতি মুহূর্তে অশুভ পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বৌদ্ধশাস্ত্র বলছে, শত্রু যতটুকু ক্ষতি করতে পারবে না, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারবে ব্যক্তির নিজের বিপথগামী চিত্ত। নিজের পিতা-মাতা নিজ সন্তানসন্তুতির যতটুকু উপকার সাধন করতে পারবে না, তার চেয়ে বেশি উপকার করতে পারবে নিজের সুসংযত ও সুপথে পরিচালিত চিত্ত। তাই বৌদ্ধ ধর্মে সদ্জীবন গঠন ও পরিচালনার জন্য আটটি বিশুদ্ধ পথ বা মার্গের কথা বলা হয়েছে, যাকে বৌদ্ধ পরিভাষায় বলা হয় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ। এগুলো হলো—সদ্দৃষ্টি, সদ্বাক্য, সদ্কর্ম, সদ্জীবিকা, সদ্সংকল্প, সদ্প্রচেষ্টা, সদ্স্মৃতি ও সদ্সমাধি। ব্যক্তির ব্যবহারিক জীবনে তো বটেই, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এসবের গুরুত্ব অনেক।
মানুষ হিসেবে আমি যদি উত্তম হই, সর্বশ্রেষ্ঠ হই, তাহলে আমার প্রতিটি কর্ম, চিন্তাও কি উত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ হবে না? এ জন্যই বৌদ্ধ ধর্ম বলছে—হীনধম্ম ন সেবেয়্য, পমাদেন ন সংবসো, অর্থাৎ তোমাদের জীবনে তোমরা কখনো হীন আচরণ করবে না, কখনো প্রমাদের বশবর্তী হয়ো না। কারণ হীনতা অধম চরিত্রের কাজ এবং প্রমাদই মৃত্যুর পথ।
অতএব চলুন, আমরা আজ চিত্তকে পরিশুদ্ধ করি। হিংসা, ক্রোধ পরিহার করি এবং সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও নানা ধরনের অপকর্ম থেকে নিজকে বিরত রাখি। এভাবে যদি আমরা নিত্যসুন্দর ও সৎপথে পরিচালিত হই তাহলে আর কোনো রকম অন্যায়, অবিচার ও অপরাধ থাকবে না। সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বে আর কোনো রকম নৈরাজ্য ও অশান্তি থাকবে না। থাকবে না কোনো রকম অরাজকতা। অতএব চলুন, আমরা আজ সেই লক্ষ্যে মহামতি গৌতম বুদ্ধের মানবতাবাদী অহিংস জীবনদর্শনে উজ্জীবিত হই। সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু—জগতের সকল জীব সুখী হোক। ভবতু সব্ব মঙ্গলং—সকলের মঙ্গল হোক। বাংলাদেশ চির সমৃদ্ধময় হোক। বিশ্বে শান্তি বর্ষিত হোক।
ড. সুকোমল বড়ুয়া: সাবেক চেয়ারম্যান, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আকাশছোঁয়া মুসা by আসিফ নজরুল

তিন-চার বছর আগের কথা। রিমি পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তাকে। ফরসা, একহারা গড়ন, শিশুতোষ চোখ, ওপরের দিকে দৃষ্টি। কিন্তু সবচেয়ে চোখে পড়ে তার ফুলে ওঠা র‌্যাকস্যাক। পিঠে এ ধরনের ভারী র‌্যাকস্যাক দেখা যায় বিমানবন্দরে, টুরিস্ট স্পটে। কিন্তু এটা বিমানবন্দর নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের করিডর। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের হাঁটাচলা। মাঝখানে এই র‌্যাকস্যাক পিঠের তরুণ! আমি কি সামান্য বিরক্ত হই? তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন করি, কোথায় আছেন আপনি? সে এই প্রশ্ন শুনে হাসে। রিমি জানায় কোন পত্রিকায় কাজ করে তার বর। প্রথম আলো নয়, ডেইলি স্টার বা অন্য কোনো বড় পত্রিকায়ও নয়। আলাপ এখানেই শেষ। আমি তাঁর নামও মনে রাখি না।
চার দিন আগে ডেইলি স্টার-এর ওয়েবপেজে দেখি এক অকল্পনীয় ছবি। এভারেস্ট জয় করেছে বাংলাদেশের এক তরুণ! আনন্দে চিৎকার করে উঠি। বাংলাদেশ জয় করেছে মাউন্ট এভারেস্ট! কাঠমান্ডু থেকে ফেরার পথে বিমানের পাইলট একবার ঘোষণা করলেন, এভারেস্ট আমাদের বাঁয়ে এখন। জানলা দিয়ে দেখি, তুষারশুভ্র মৌন এক বিস্ময়! অনেক উঁচুতে মেঘ আর আকাশের সবচেয়ে কাছের পর্বতশৃঙ্গ! হিলারি আর তেনজিং এত উঁচুতে উঠেছিলেন! দূর, বিশ্বাসই হয় না আমার। ততক্ষণে বিমানের বাঁ দিকে হুড়মুড় করে উঠে এসেছে অনেকে। বিমান কি সামান্য কাত হয়ে পড়ল একদিকে! কারও কি আর্তচিৎকার শুনলাম আমি? হাসি মনে মনে। নিরাপদে এভারেস্ট দেখার জন্য এটুকু পাগলামি আমি হলেও করতাম। সেই এভারেস্টের চূড়ায় নিজের পায়ে আরোহণ করেছে মুসা ইব্রাহীম, বাংলাদেশের এক তরুণ! সত্যি সত্যিই করেছে! কই, কোনো দিন তো শুনিনি তার কথা আগে!
পরদিন প্রথম আলোতে তার ছবি, তার স্ত্রী আর শিশুপুত্রের ছবি। মূল শিরোনামের পাশে মুসাকে নিয়ে আনিসুল হকের লেখা। সেটি পড়ে বুক চিনচিন করে ওঠে আমার। আহা রে, এই লেখাটা যদি লিখতে পারতাম আমি! আনিস, মতি ভাই, সাগর ভাই, কতজন মুসাকে সাহায্য করেছেন। ওর জন্য কিছু করার সুযোগ থাকত যদি আমার! একটু যদি পরিচয়ও থাকত ওর সঙ্গে!
আনিসের নিচে সুমনা শারমিনের লেখা। মুসার পরিবারের গল্প। চমকে উঠি আমি। রিমির (উম্মে সরাবন তহুরা) বর মুসা ইব্রাহীম! রিমি আমারই ছাত্রী ছিল একসময়, এখন ময়মনসিংহের বিচারক। কয়েক বছর আগে র‌্যাকস্যাক পিঠে এক তরুণকে সে-ই নিয়ে এসেছিল আমাদের আইন বিভাগে। পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল তার স্বামীকে। সেই তরুণই মুসা ইব্রাহীম! মহা স্টুপিড আমি। সেই র‌্যাকস্যাক দেখে বিরক্ত হয়েছিলাম? হালকা-পাতলা শিশুতোষ চোখের সেই ছেলেই জয় করেছে এভারেস্ট! একটু রাগ হয় রিমির ওপর। বলেনি কেন সে, মুসা একজন পর্বতারোহী? আনিসুল হকের লেখা পড়ে জানলাম, সারাক্ষণ র‌্যাকস্যাক পিঠে রাখে সে ওজন বহনের অভ্যাস করার জন্য। রিমি তো এটাও বলেনি!
বললে কী হতো? হাসি মনে মনে। আমি কি তাহলে একবারও ভাবতাম, এই ছেলে একদিন এভারেস্ট জয় করবে? একদিন ইতিহাস নির্মাণ করবে! হয়তো বরং আরও বিরক্ত হয়ে ভাবতাম, বাংলাদেশে আবার পর্বতারোহী কী? আমি সাধারণ মানুষ, আটপৌরে জীবনে আটপৌরে ভাবনা নিয়ে থাকি। মুসা অন্য কেউ, অনন্য একজন! তার উচ্চতা বোঝার শক্তিই তো ছিল না আমার!
এখন আমি বারবার মুসার ছবি দেখি, তাকে নিয়ে সব লেখা ওয়েবসাইট খুলে খুলে পড়ি। পাহাড়ের মাথায় মুসার ছবি, সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা। চোখ ভিজে যায়, বুকের ভেতর আরেক এভারেস্ট ওঠে জেগে। বাংলাদেশ পারে! চাইলেই পারে বাংলাদেশ। পারে এমনকি এভারেস্ট ছুঁতে!
মুসা ইব্রাহীম, আপনি আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করুন। স্যালুট নিন, প্রণাম নিন। দুঃখ-যন্ত্রণা ভরা এ দেশের পত্রিকার শিরোনাম কিছুদিনের জন্য হলেও পাল্টে দিয়েছেন আপনি। সারা দেশকে আনন্দে উদ্বেল করেছেন। বহু বছর পর আপনিই দেখিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণেরা কেমন অমিত শক্তির, দৃঢ়সংকল্পের, দুর্দান্ত ইচ্ছাশক্তির।
এই তরুণেরা গোটা বাংলাদেশকে এভারেস্টের উচ্চতায় তুলতে পারবে না একদিন? নিশ্চয়ই পারবে। সব প্রতিকূলতা জয় করে বিজয়ী হতে পারবে না একদিন? অবশ্যই পারবে। হয়তো আমরা থাকব না সেদিন! কিন্তু বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই একদিন।
মুসা, আপনি ম্লান হয়ে যাওয়া আমাদের সেই বিশ্বাস কি অবলীলায় পুনর্নির্মাণ করেছেন! আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
>>>আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

দুর্বল দুর্নীতি দমন কমিশন চাই কার স্বার্থে -দুদক সংস্কার by মনজুর রশীদ খান

গত এপ্রিলে দুর্নীতি দমন আইন ২০০৪-এর প্রস্তাবিত সংশোধনী সরকারের মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর বের হলে সচেতন মহলে বেশ হইচই পড়ে যায়। অনেকের মতে, এই সংশোধনী আইনটিকে অনেকটা আগের বৈশিষ্ট্যেই ফিরিয়ে নেবে। অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৭-এর পটপরিবর্তনের পূর্বাবস্থার কাছাকাছি থেকে যাবে। তাই আশঙ্কা, এতে দুদক শক্তিশালী নয়, দুর্বল হয়ে পড়বে। মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগল, তাহলে কি মন্ত্রিপরিষদ দেশে দুর্নীতি কমে গেছে বলে নিশ্চিত হয়েই শক্তিশালী করার উদ্যোগ থেকে সরে গেছে? ১৫ মাস দেশ শাসন করে সরকার কি বুঝতে পেরেছে উপজেলা, জেলা, রাজধানীর বিভিন্ন অফিস, ছোট-বড় সংস্থা প্রভৃতি থেকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিশুদ্ধ হয়ে ভালো হয়ে গেছেন? হয়তো মন্ত্রিপরিষদ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় রিপোর্ট পড়ে, বড় কর্তাব্যক্তিদের ব্রিফিং শুনে বা দলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শুনে সন্তুষ্ট হয়েছে যে, শক্তিশালী দুদকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু সুশীল সমাজ, দাতাগোষ্ঠীসহ দেশি-বিদেশি সংগঠন এবং গণমাধ্যমের মত ভিন্ন। তাদের ধারণা, এই সংশোধনী দুদককে নিরপেক্ষ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখবে।
সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে বড় আমলা ও রাজনৈতিক পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে হলে সরকারের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ তাদের জন্য বিশেষ রক্ষাকবচের ব্যবস্থা থাকবে। বাহ্যত যুক্তি হলো দুদকের মামলার ভয়ে প্রশাসন গতিহীন হয়ে পড়বে, দুদকের সদস্যদের হাতে পদস্থ কর্মকর্তাদের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হবে ইত্যাদি। সেই পুরোনো যুক্তি, যা দুই যুগ আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও পরে বেগম জিয়ার সময়ও শোনা যেত। প্রসংগত উল্লেখ করা যায়, ২০০৪ সালে বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে। প্রধানত দাতাগোষ্ঠীর চাপে এই কমিশন করলেও যাঁদের চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয় তাঁরা নানা প্রতিকূলতার কারণে কখনোই সঠিকভাবে কাজ করতে পারেননি। হয়তো সে সরকার তেমনটাই চেয়েছিল।
কারা দুদকের নামে ভীত-সন্ত্রস্ত হতে পারে তা বোঝা অসাধ্য নয়। কে জানে না, দুর্নীতির প্রধান আখড়া যে সরকারি ছোট-বড় দপ্তরগুলো। একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে জনসাধারণের হয়রানির খবর প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমে পাওয়া যায়। সৎ, কর্তব্যপরায়ণ, নিষ্ঠাবান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হবে কেন? যারা দুর্নীতিবাজ তারা তো আতঙ্কিত হওয়ারই কথা। প্রকৃতপক্ষে যদি এমন কিছু সংস্থা থাকে যা অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীকে ভীত-সন্ত্রস্ত রাখে, তা তো খুবই ভালো। তারা ঘুষ চাইতে শতবার ভাববে। দুদকের লোকজন যদি সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি, ভোগান্তির সৃষ্টি করে ও নিজেরাই দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তাহলে তো সংস্কার আরও বেশি জরুরি। সুযোগ্য সুদক্ষ ও কর্তব্যপরায়ণ লোক নিয়ে একটি আদর্শ সংস্থা করে গড়ে তুলতে দুদকের যথোপযোগী আইনি সংশোধন ও সংস্কারের বিকল্প নেই। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিছু বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মূল বিষয় যেমন পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে নতুন সরকারকে ক্ষমতায়ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার কাজটি করেছে, তেমনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রবল ঝাঁকুনির সুফল জাতির জন্য অপর একটি বড় প্রাপ্তি। সে সময় অধ্যাদেশ জারি করে দুদক আইনের যথার্থ সংস্কার এবং পুনর্গঠন করা হয়েছিল (যে অধ্যাদেশ সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হওয়ার ফলে বাতিল হয়ে যায়)। এর ফলে কমিশন সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু গত ১৩-১৪ মাস যাবৎ দুদক অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাহলে জনমনে এমন ধারণাই সৃষ্টি হতে বাধ্য যে ক্ষমতাসীন দল কঠোর হাতে দুর্নীতি দমনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে আন্তরিক নয়।
প্রশ্ন জাগে, ক্ষমতাসীন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত শক্ত অবস্থান থেকে সরে আসার আরেকটি পরোক্ষ সম্ভাব্য কারণ কি ২০০৭-এর পটপরিবর্তনের পর গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুদক ও যৌথ বাহিনী পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযান? সে সময় দুদক এবং দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমনবিষয়ক বিভিন্ন টাস্কফোর্স অনেক ক্ষমতাবান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিপুল অর্থসম্পদ লুটপাটের অভিযোগে আটক করে। তাঁদের গ্রেপ্তার এবং সাজাপ্রাপ্তির ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত রয়েছেন উভয় দলেরই কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সে সময় মহা শক্তিধর দুর্নীতিবাজদের মহা বিপদ গেছে।
কেউ কখনো কল্পনাও করেনি যে এমন গ্যাঁড়াকলে পড়তে হবে। কোনো স্বাধীন শক্তিশালী দুদক থাকলে যে মহা বিপদ আসতে পারে সেটি পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা বুঝতেন (দুদক শক্তিশালী ও সক্রিয় থাকলে অবাধ লুটপাট বিপজ্জনক ভাবা হতো)। যেমন তারা বুঝেছিলেন যে নিজেদের লোক তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ও নির্বাচন কমিশনপ্রধান না হলে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসা কঠিন। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কিছু কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার সব দায়ভার পড়ল গিয়ে দুদক নামের প্রতিষ্ঠানের ওপর। অথচ সে সময় অধিকাংশ হাই প্রোফাইল কেসই গুরুতর দুর্নীতি ও অপরাধ দমনবিষয়ক টাস্কফোর্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ক্ষমতাসীন দলের কারও কারও আক্রোশ দুদকের ওপর। তারা দুদকের ওপর্রখড়্গহস্ত। তাদেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের ফল এই প্রতিষ্ঠানকে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়াস বলে ধারণা করা অমূলক নয়। এর সঙ্গে আমলাদের একটি শক্তিশালী মহলেরও একাত্মতা রয়েছে এমনটা অবস্থা দৃষ্টে মনে হওয়াও স্বাভাবিক।
যেসব রাঘববোয়াল দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে, যারা নিজেদের সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করত, তাদের জন্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ছিল একটি ভয়ংকর রকমের ধাক্কা। সেই অভিযানের প্রধান ভূমিকায় ছিল তখনকার দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমনবিষয়ক বিভিন্ন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। তাদের সক্রিয়তা না থাকলে বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় বড় লুটপাটের ঘটনা পর্দার আড়ালেই থাকত। দেশে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনে যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তা স্বীকৃত বাস্তবতা। উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেন, ‘একটা বড় ঝাঁকুনির প্রয়োজন ছিল।’ কোনো কোনো টাস্কফোর্সের কর্মকর্তাদের (বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে) কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়নি, কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বাড়াবাড়ির অভিযোগ উঠেছে। তখন সঠিক দিকনির্দেশনা অনুপস্থিত ছিল এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছিল না বলে মনে হয়। অবশ্যই এসব অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুদক আইন সংশোধন করে নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিয়েছিল। তৎকালীন চেয়ারম্যান দুর্নীতি নির্মূলে নানা উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসিত হন। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়িতে দুদকের সদস্যরা খুব একটা জড়িত ছিল না বলেই জানা যায়। আমার মনে হয় না যে, বড় মাপের মামলার গ্রেপ্তারে চেয়ারম্যানের কোনো ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল, সবকিছুর জন্য যেন তৎকালীন চেয়ারম্যানই দায়ী। এখন মাঠে টাস্কফোর্সের কেউ নেই, সমন্বয়ক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাও নেই। অথচ রোষানলে পড়ে গেল মাঠে অবস্থানকারী দুদক নামের প্রতিষ্ঠানটি। হয়তো এ জন্যই এর ডানা ছাঁটার প্রয়াস!
কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের মতো দুদক না চাইতে পারেন। কিন্তু প্রকারান্তরে কি এমন দুদক আইন চাইবেন যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় শক্তি-সামর্থ্যহীন ও কার্যকর রাখার উপাদানহীন থাকে? যেটি নামে থাকবে, যাতে দাতারা খুশি থাকেন; কাজের মধ্যে থাকবে ছোটখাটো অর্থাৎ চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষমতা। সরকারের বড়কর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। সেই আগের অবস্থা যা এরশাদ সাহেব ও বেগম জিয়ার সময় প্রচলিত ছিল। বড়কর্তা যাঁরা আশপাশে থাকতেন, যাঁদের সাহায্য ছাড়া ফাইলপত্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা সৃষ্টি করা যেত না; তাঁরা চাইতেন রক্ষাকবচ। সে অবস্থায়ই ফিরিয়ে নিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, দুদককে এমন স্বাধীনতা দেওয়া যাবে না যাতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা উচ্চস্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। সব দেশেই কোনো ধরনের অপরাধ-তৎপরতা বেড়ে গেলে নতুন নতুন আইন করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে। ৯/১১’র পর সন্ত্রাস দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করা হয়েছে। জনগণ নানা হয়রানির শিকার হলেও মেনে নিচ্ছে এই বলে যে দেশ নিরাপদ থাকবে। আর আমাদের কী হলো? দুর্নীতিতে পরপর চ্যাম্পিয়ন হলেও দুর্নীতি দমনে আরও কঠোর ব্যবস্থার বদলে দুর্বল রাখার পথ খোঁজা হচ্ছে। টিআইবির অভিমত, বাংলাদেশে দুর্নীতি কমেনি, বরং বেড়েই চলেছে। পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন সঠিক হলে সরকারি অফিসে—উপজেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত—কোথাও দুর্নীতি কমেছে বলে মনে হয় না।
দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অর্থও এই নয় যে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ পাবেন। তাঁরাও সরকারের একটি অংশ এবং সুনির্দিষ্ট আইন ও বিধিবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন। এই সংস্থাকে নিরপেক্ষ, শক্তিশালী ও কার্যকর রাখার জন্য বিশেষ কিছু প্রতিবিধানের প্রয়োজন আছে। সংস্থার প্রধানকে যথাযথ আইনি ও অন্যান্য ক্ষমতা দিতে হবে এবং অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে। দুদকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি, তদন্ত-প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক ও অন্যায় আচরণের অভিযোগগুলো দেখার কড়া ব্যবস্থা রাখতে হবে। দুদক আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া এখন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে পাস হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিরোধী দল থেকে জোরালো বিরোধিতার আশা নেই। কারণ সে দলেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সংখ্যা বেশি। সরকারি দলের কেউ বিপক্ষে কথা বলবেন বলে আশা করাও বৃথা। তাদেরও একটি অংশ যে দুদকের ওপর ভীষণ রকম ক্ষিপ্ত তার বহিঃপ্রকাশ টিভির টক-শো, গোলটেবিল আলোচনা সভা এবং সংসদেও দেখা গেছে। এখন একমাত্র ভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য, যাঁদের দেশ ও জনগণের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রাখার সুনাম রয়েছে। সংসদে তাঁরা সঠিক নির্দেশনার সূচনা করবেন বলে আশা রাখি। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই শক্তিশালী দুদক দেখতে চান বলে আসছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও দেশি-বিদেশি সংগঠন-সংস্থা প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিপক্ষে মত দিয়ে আসছে, যাকে জনমতেরই প্রতিফলন বলা যেতে পারে। আশা করি, গণতান্ত্রিক সরকার এর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেবে।
মেজর জেনারেল (অব.) মনজুর রশীদ খান: সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
mnzr23@gmail.com