Tuesday, June 16, 2026
নয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও বড়, নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক, গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য: ইসরায়েলি-মার্কিন সূত্র
নয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও বড়, নির্ভুল, ধ্বংসাত্মক, গতিশীল ও অপ্রতিরোধ্য: ইসরায়েলি-মার্কিন সূত্র
ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও ধ্বংসাত্মক, দ্রুত-গতির, বড় ও অপ্রতিরোধ্য। এদিকে একজন মার্কিন বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন যে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো “প্রতিরোধ বা ভূপাতিত করা অসম্ভব”।
গত ৮ জুন সন্ধ্যায় শুরু হয়ে ২৪ ঘণ্টারও কম সময় স্থায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান ইসরায়েল-অধিকৃত ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এই অনন্য অভিযান শুধু আগাম হামলা হওয়ার কারণেই নয়, একইসঙ্গে স্বল্প সময়ে ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক আঘাত হানার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন বিভাগের সাবেক উপদেষ্টা এবং এমআইটির অধ্যাপক থিওডর পোস্টল ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো “প্রত্যাশার তুলনায় আরও বেশি নির্ভুল ও ধ্বংসাত্মক” হয়ে উঠেছে।
পোস্টল বলেন, “ইরানিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা অসাধারণভাবে উন্নত হয়েছে। আমি প্রথমে যা দেখেছিলাম, এমনকি ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধেও (১২ দিনের যুদ্ধ) যা দেখেছিলাম, তার চেয়েও এগুলো অনেক বেশি কার্যকর। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে।”
হিব্রু ও পশ্চিমা সূত্রে দাবির সমর্থন
এই মার্কিন বিশেষজ্ঞের দাবি আরও গুরুত্ব পায়, যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্র ১২ ঘণ্টার ক্ষয়ক্ষতির কিছু তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর অধিকৃত ভূখণ্ডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
হিব্রু দৈনিক ইসরায়েল হাইয়োম জানায়, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের হামলায় অধিকৃত ভূখণ্ডের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৫০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
একই সময়ে সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র “কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি”। যদিও এই নিষ্ক্রিয়তার কারণ উল্লেখ করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হতে পারে এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে অক্ষমতা।
নাসর অভিযানে ইরান তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ছিল ৩০টির কিছু বেশি, যার উল্লেখযোগ্য অংশ ইহুদিবাদী ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
অজানা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি
প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত উচ্চ গতিতে তাদের লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এর কিছুক্ষণ পর একটি অবহিত সামরিক সূত্র জানায়, অধিকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে হামলায় ইরান “খেইবারশেকান” ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বশেষ প্রজন্ম ব্যবহার করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে ডাইভ দেওয়ার সময় প্রায় ৯ মাখ গতিতে পৌঁছায় এবং থাড (THAAD) ও অ্যারো (Arrow)-এর মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও এটিকে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
চলতি বছরের অরদিবেহেশ্ত মাসে তথা এপ্রিল-মে মাসে (২১ এপ্রিল-২১ মে) যুদ্ধবিরতির কিছুদিন পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ বিভাগের কমান্ডার জেনারেল মুসাভি জানান যে যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম পুনরায় সক্রিয় করা এবং হালনাগাদের গতি বেড়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি কমান্ডারের উপদেষ্টা জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি “অরদিবেহেশ্ত মাসে (২১ এপ্রিল-২১ মে) তৈরি” নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদনের কথাও উল্লেখ করেন।
যদিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি যে নাসর অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তৈরি করা হয়েছিল কি না, তবে এগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এমন ছিল যে অধিকৃত ভূখণ্ডে তা এক ধরনের ধাক্কার সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষার “বোকামিপূর্ণ” চেষ্টা
অধিকৃত ভূখণ্ডের উত্তরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর এবং ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট আহত ইসরায়েলির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯,১২০ জনে পৌঁছেছে।
এছাড়া ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করেই জানায় যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৭ জন নতুন আহতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
আহতের সংখ্যা রহস্যজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া, ইসরায়েল হাইয়োমের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির স্বীকারোক্তি এবং পরবর্তীতে টেল নোফ ও নেভাতিম ঘাঁটির কিছু অংশে ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ— এ সবকিছুই ইঙ্গিত দেয় যে নাসর অভিযানে ব্যবহৃত দ্রুতগতির ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছে।
থিওডর পোস্টলও জোর দিয়ে বলেন:
“এসব (নতুন ইরানি) ক্ষেপণাস্ত্র কোনোভাবেই প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এগুলো আরও বড় এবং অধিক ধ্বংসাত্মক ওয়ারহেড বহন করে।”
তবে এই মার্কিন বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক হলো, তিনি নিজে ঠিক কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের কথা বলছেন তা নিশ্চিতভাবে না জানলেও, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচেষ্টাকে “বোকামিপূর্ণ” বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তার ভাষায়: “এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর বাস্তবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা নেই।”

Thursday, April 30, 2026
পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার গোপন বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা ও যুদ্ধের ভয়াবহতা
পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার এবং পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা চালানো, যা মানুষের জীবন ও পরিবেশে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলো:
পূর্ব এশিয়ায় আমেরিকার বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা
১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চীন ও কোরিয়ায়, প্লেগ এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগসহ জৈবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষাগুলো বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক নথিপত্র ও রিপোর্ট দেখায় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও কোরিয়ার কিছু অঞ্চলে প্লেগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী। অনেক পরীক্ষা গোপনে ও সামরিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, যেখানে লক্ষ্য ছিল বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের প্রভাব মানুষের উপর এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোর উপর পরিমাপ করা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধগুলোর মধ্যে একটি ছিল কোরিয়া ও উত্তর-পূর্ব চীনে, যেখানে ব্যাপক পরিমাণে ব্যাকটেরিয়া, কীটপতঙ্গ, পশুর ক্ষয়িষ্ণু অংশ এবং মাছের দেহ ঝড়ানো হয়েছিল মানুষের উপর ও কৃষিভূমিতে। এর ফলে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স ও এনসেফালাইটিসের মত রোগের দ্রুত প্রাদুর্ভাব হয় এবং ব্যাপক মৃত্যু ঘটে। এই অপরাধগুলোর প্রভাব এখনও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে জেনেটিক্যাল রোগের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম টেনে চলেছে। এই পরীক্ষা কখনো খোলাখুলি এবং কখনো গোপনে চালানো হতো। এই পরীক্ষায় রোগগুলো সচেতনভাবেই মানুষের ও পশুর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হতো যাতে এর প্রভাব পরিবেশ ও দেশের নিরাপত্তার ওপর মূল্যায়ন করা যায়।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার
ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫–১৯৭৫) চলাকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা হয় কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস, শত্রু দমনে এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে আঘাত করার জন্য। এর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হচ্ছে 'অরেঞ্জ এজেন্ট' নামক রাসায়নিক। এই পদার্থে ডাইঅক্সিন ছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মানুষের স্বাস্থ্যে, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যদিও এটি সরাসরি দুর্ভিক্ষ বা রোগের সৃষ্টিকারী ছিল না, তবে এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব ব্যাপক ছিল।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব স্বাস্থ্য ও পরিবেশে
চীন, কোরিয়া ও ভিয়েতনামসহ পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী ও বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে। প্লেগ, কলেরা, ম্যালেরিয়া ও শ্বাসকষ্টের মত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়। এই রোগগুলো শুধু তখনকার সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে, যুদ্ধ শেষে অনেক মানুষ এখনো রাসায়নিক ও বায়োলজিক্যাল পদার্থের কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকেই ত্বকের রোগ, ক্যান্সার ও জন্মগত বিকলাঙ্গতায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিবেশও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বনাঞ্চল ও কৃষিজমির ধ্বংস।
উপসংহার
পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ, বিশেষ করে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর গভীর ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। প্লেগসহ মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে এসব অস্ত্রের ব্যবহার প্রমাণ করে, এই অস্ত্রগুলো শুধু তাত্ক্ষণিক ক্ষতি করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ধ্বংসাত্মক ফলাফল বয়ে আনে। এই ঘটনা গুলোকে আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন যাতে আন্তর্জাতিক স্তরে এর ফলাফল ও দায়িত্ববোধ স্পষ্ট হয় এবং যারা এই মানবতাবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
![]() |
| মার্কিন বিমান থেকে ভিয়েতনামে রাসায়নিক বোমা হামলা |
Monday, March 2, 2026
ইমাম খামেনেয়ীর শাহাদাত: ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র রক্ত জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শক্তি যোগাবে’
ইমাম খামেনেয়ীর শাহাদাত: ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পবিত্র রক্ত জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শক্তি যোগাবে’
পার্সটুডে জানিয়েছে, ইয়েমেনের আসনারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক দফতর আজ এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় ইরানের সরকার ও জনগণকে সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি জানবাজি রেখে মার্কিন নেতৃত্বে শয়তানি শক্তি, জুলুমবাজ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে জিহাদ করে এসেছেন কিন্তু কখনো তিনি এই জিহাদ থেকে সরে দাঁড়াননি। তার এই চেতনা আমাদের সবার জন্য বড় শিক্ষা এবং সবসময় মুক্তিকামী মানুষের আশার প্রদীপ হয়ে ছিল এবং থাকবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই পবিত্র রক্ত জুলুম ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে শক্তি যোগাবে এবং আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হতে খুব দেরি নেই।
আয়াতুল্লাহিল খামেনেয়ী ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রতীক ছিলেন: আম্মার হাকিম
ইরাকের ইসলামী বিপ্লবী উচ্চ পরিষদ বা সাইরি আন্দোলনের নেতা সাইয়্যেদ আম্মার হাকিম এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর শাহাদাতে মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের সকল সত্যপথের অনুসন্ধানকারীদেরকে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি তার বরকতপূর্ণ জীবনে ধর্ম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
আম্মার হাকিম তার বিবৃতিতে আরো বলেন, কল্যাণ এবং হকের পথ চলা কখনো বন্ধ হবে না এবং শহীদ আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ধর্ম ও মানবতার খেদমতে যে পথ দেখিয়ে গেছেন তা চিন্তাশীল ও মুমিন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল গেঁথে থাকবে।
ইরাকের সাদর আন্দোলনের নেতা মোক্তাদা সাদরও এক শোকবার্তায় আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর শাহাদাতের ঘটনায় সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহার কাছে এই বিপ্লবী নেতার জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান কামনা করছি। মোক্তাদা সাদর ইরাকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্যে নাজাফ, কারবালাসহ ইরাকের বহু শহরে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
'শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে মুসলিম উম্মাহর ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখা যাবে না'
ফিলিস্তিন মুজাহেদিন আন্দোলন এই পবিত্র রমজান মাসে ইসরায়েল-মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি দশকের পর দশক ধরে মজলুম জনগণ বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বলিষ্ঠ সমর্থন দিয়ে এসেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ সব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
![]() |
| আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী |
Wednesday, November 5, 2025
"পশ্চিম এশিয়ায় নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা ইসরায়েলকে কবরস্থ করবে"
মিডল ইস্ট মনিটর সম্প্রতি একটি প্রবন্ধে লিখেছে: ইতিহাসে এমন অনেক লোক আছে যারা অংহকারের শিকার হয়ে ভাগ্যহারা হয়। তারা তাদের তৈরি ধ্বংসযজ্ঞের উপরে দাঁড়িয়ে আছে, এখনও মাথা উঁচু করে আছে, এখনও বিশ্বাস করে যে তারা আরেকটি নৃশংসতার মাধ্যমে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারবে। নেতানিয়াহু তার নামকে এমনই এক তালিকায় যুক্ত করেছেন।
কাতারের দোহায় হামাস নেতাদের হত্যার ব্যর্থ প্রচেষ্টা কেবল একটি সাধারণ কৌশলগত ভুল ছিল না। এটি ছিল যুক্তি, মানবতার বিরুদ্ধে এবং এখনও অবশিষ্ট সামান্য কূটনীতির বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধের ডাক। কাতারে আক্রমণ করার অর্থ ছিল আরব বিশ্বের দিক থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রসারিত একমাত্র হাতকেই কামড়ানো।
নেতানিয়াহু যা করেছেন তা কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, এটি ছিল রাজনৈতিক আত্মহত্যা। এই আক্রমণের পরিণতি হবে ভয়াবহ এবং ইসরাইলকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে। নেতানিয়াহুর আর কোনও সতর্কবার্তা কোনও কাজে আসবে না। তিনি হতাশার জগতে আটকা পড়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী লেবানন, তুরস্ক বা কাতারে, যেখানেই হামাস নেতারা থাকবেন, সেখানেই আবারও হামলা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু এটা অবশ্যই বলা উচিত যে নেতানিয়াহু যে অতল গহ্বর খুলে দিয়েছেন তা কেবল গাজাতেই নয় যেখানে তিনি পতিত হচ্ছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সারা বিশ্বের মানুষের রাস্তায় ইহুদিবাদ-বিরোধী মিছিল দেখতে পাচ্ছেন। একসময় ইউরোপের রাজধানীগুলোতে পতাকার জন্য খ্যাত ইসরায়েল এখন সেখানে একজন বিতাড়িতের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইহুদিবাদী সৈন্যরা অভিশাপ পাচ্ছে। লন্ডন, বার্লিন, প্যারিস এবং নিউ ইয়র্কে প্রতি সপ্তাহে এই স্লোগান শোনা যায়। আমেরিকায়, যেখানে ইহুদিবাদীরা মনে করত এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ সেখানেও পরিস্থিতি বদলে গেছে। ছাত্ররা সমস্বরে তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। আমেরিকান ইহুদিরা কাঁদতে কাঁদতে বলে: "আমরা তোমাদের (ইসরায়েল) নামের সাথে একমত নই।"
নেতানিয়াহুর ক্লান্ত ও অকার্যকর লাঠি আর ভিন্নমতকে থামাতে পারবে না। জনগণ গাজার ধ্বংসাবশেষ যথেষ্ট দেখে ফেলেছে। ইহুদিবাদী রেজিমের মুখ থেকে মুখোশ খুলে গেছে। নেতানিয়াহুর দাবি যে তিনি পশ্চিম এশিয়াকে নতুন করে সাজিয়ে তুলবেন, তা কেবল একটি কল্পনা। আপনারা যে পরিকল্পনাগুলো করেছেন তা হল ধ্বংসের পরিকল্পনা; গাজা ধ্বংস হয়ে গেছে, পশ্চিম তীরের আরও অনেক অংশ গ্রাস করা হয়েছে এবং সিরিয়া ও লেবাননের ভূমিতে বোমা হামলা করা হয়েছে। এই হঠকারি কল্পনাগুলো আশ্চর্যজনক।
নেতানিয়াহু পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের জন্য যা ডিজাইন করেছেন তা হল ইসরায়েলের সমাধিফলক। একসময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কৃত্রিম পোশাকে ঢাকা ইসরাইল এখন বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা, দুর্বৃত্ত শাসনব্যবস্থা এবং লজ্জাজনক দখলদার সেনাবাহিনী হিসেবে কু্খ্যাত। নেতানিয়াহু, তুমি রুবিকন পেরিয়ে গেছো, আর ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। সেতুগুলো পুড়ে গেছে। তুমি সদিচ্ছার শেষ চিহ্নও হারিয়ে ফেলেছো। ইতিহাস তোমাকে ক্ষমা করবে না।
নেতানিয়াহু, তুমি পশ্চিম এশিয়ার চিত্র নতুন করে আঁকতে পারবে না। তুমি শুধু ইসরায়েলের মৃত্যুর বাণী লিখছ। ইতিহাস তোমাকে মনে রাখবে না, একজন মহান রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, ইসরায়েলের রক্ষক হিসেবে নয়, বরং এমন একজন হিসেবে তোমার নাম লেখা থাকবে যে ইসরায়েলকে ধংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।
![]() |
| পশ্চিম এশিয়ায় নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা ইসরায়েলকে কবরস্থ করবে |
Tuesday, September 16, 2025
ইসরায়েলি অর্থনৈতিক সাময়িকী ক্যালকালিস্টের স্বীকারোক্তি: ইরানের সাথে যুদ্ধের পর থেকে কোনো বিদেশী পর্যটক ইসরায়েলে আসেননি
ইসরায়েলি অর্থনৈতিক সংবাদপত্র "ক্যালকালিস্ট" একটি বিস্তৃত প্রতিবেদনে ইসরায়েলি পর্যটন শিল্পের নজিরবিহীন সংকটের কথা তুলে ধরেছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, "ক্যালকালিস্ট"-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ইরানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি ইসরায়েলের বৃহত্তম হোটেল কমপ্লেক্স, ফ্যাটাল হোটেল নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতার ওপর সরাসরি ও গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা ইসরায়েলি পর্যটন শিল্পের অবস্থার এক অভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
ক্যালকালিস্ট আরও বলেন যে এই সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে বৃহৎ ফ্যাটাল হোটেল নেটওয়ার্ক তাদের বার্ষিক রাজস্ব পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে বাধ্য হয়েছে।
হোটেল খালি থাকা ও বেকারত্ব তীব্রতর হওয়া
ক্যালকালিস্ট লিখেছে: ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইসরায়েলের ফ্যাটাল হোটেলগুলিতে অতিথি আগমন ও কর্মসংস্থানের হার মাত্র ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা প্রায় ৭২ শতাংশ ছিল এবং এটা লক্ষণীয় যে এই সময়কালটিকে ঐতিহ্যগতভাবে পর্যটনের সর্বোচ্চ ঋতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি বসন্তকালীন ছুটি ও ইস্টার উদযাপনের সময়। ইসরায়েলি অর্থনৈতিক সংবাদপত্র জানিয়েছে যে অধিকৃত অঞ্চলগুলিতে হোটেল ভাড়া নেয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় স্পষ্টতই বিদেশী পর্যটকদের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নির্দেশিত হয়েছে, অতীতে এ সমস্যা অভ্যন্তরীণ শরণার্থীদের গ্রহণ করে আংশিকভাবে পূরণ করা হয়েছিল, কিন্তু এবার এই সমাধানও পরিস্থিতি বাঁচাতে অক্ষম।
ইরানের সাথে যুদ্ধের পর নানা ধরনের ক্ষতি
হিব্রু ভাষার সংবাদপত্রটি আর্থিক তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে যে ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ বাজারে ফ্যাটালের মূল পরিচালন মুনাফা ২৫ শতাংশ কমে ১১৩ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৩০.৫ মিলিয়ন ডলার) হয়েছে এবং কেবল জুন মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধের ফলে সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন শেকেল (প্রায় ১৩.৫ মিলিয়ন ডলার) ধরা হয়েছে। এই সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে, কিছু ইসরায়েলি হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন হোটল মালিকরা। একই সময়ে বিদেশী পর্যটক ও বিদেশী নানা গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপকভাবে বুকিং বাতিলকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্ষিক আয় হ্রাসের পূর্বাভাস
নতুন অনুমান অনুসারে, ইসরায়েলি হোটেল কোম্পানি ফ্যাটাল হোটেলস তাদের বার্ষিক আয়ের পূর্বাভাস ৮.১ থেকে ৮.৩ বিলিয়ন শেকেল (২.১৮ থেকে ২.২৪ বিলিয়ন ডলার) কমিয়ে এনেছে এবং পরিচালন মুনাফা ২.৭৫ থেকে ২.৯ বিলিয়ন শেকেল (৭৪২.৫ থেকে ৭৮৩ মিলিয়ন ডলার) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদেশী পর্যটকদের প্রত্যাবর্তনের জন্য অন্ধকার পূর্বাভাস
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ক্যালকালিস্ট তাদের প্রতিবেদনের শেষাংশে বিদেশী পর্যটকদের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে উল্লেখ করে বলেছে, ফ্যাটাল হোটেল চেইন বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, এবং উপরন্তু, ইউরোপীয় হোটেল বা রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ তহবিল থেকে অতিরিক্ত আয়ও ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ বাজারের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে না। ক্যালকালিস্টের মতে, ইসরায়েলের পর্যটন শিল্প, যা গত কয়েক বছরের উত্তেজনাপূর্ণ আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছিল তা এখন আরও গভীর পতনের সম্মুখীন হচ্ছে এবং স্বল্পমেয়াদে এর পুনরুদ্ধারের কোনও স্পষ্ট আশা নেই।
![]() |
| ইসরায়েলি অর্থনৈতিক সাময়িকী ক্যালকালিস্টের স্বীকারোক্তি: ইরানের সাথে যুদ্ধের পর থেকে কোনো ইসরায়েলে ভ্রমণ করেনি |
Friday, July 18, 2025
মুয়াবিয়াকে কখনও স্বীকৃতি দেননি ইমাম হাসান (আ)

Tuesday, May 6, 2025
ট্রাম্প-কেনেডি স্টাইলের গণহত্যা; আমেরিকা কি জেনেটিক পরিবর্তনের আধুনিক পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে?
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, আমেরিকায় ‘ইউজেনিক্স’ নামক এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব প্রয়োগ করে মানবজাতির উন্নয়ন আর সুস্থ-সবল ভবিষ্যত প্রজন্ম তৈরির নামে হাজার হাজার মানুষকে বন্ধ্যা করা হয়েছিল, এমনকি কেড়ে নেয়া হয় বহু লোকের প্রাণও।
পার্সটুডে বলছে, গার্ডিয়ান পত্রিকা সোমবার এক প্রতিবেদেনে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে পরিবেশ, শিক্ষা, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে 'সফ্ট ইউজেনিক্স' প্রয়োগ করছে। এই পদ্ধতি বা দৃষ্টিভঙ্গির মূল চেতনা হচ্ছে- দুর্বলদের হত্যা করে বুদ্ধিমান জাতি ও বর্ণকে সহযোগিতা করো।
দ্য গার্ডিয়ান আরও লিখেছে, মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সব সময় তার যৌবনকালের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সেই সময় মানুষ জানতই না ডায়াবেটিস ও অটিজম কী জিনিস। একই সঙ্গে সে সময় স্থূলতার হার অনেক কম ছিল। তিনি প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের পক্ষেও কথা বলেন।
এই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সমাজের দুর্বল অংশকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনেডি আসলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভৌগোলিক অবস্থানের মতো বিষয়গুলোকে এড়িয়ে মার্কিন সমাজে সফ্ট ইউজেনিক্স প্রয়োগ করছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, কেনেডির পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের আরো অনেকেই এ ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করছেন। মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সম্পর্কে বাড়তি উত্তেজনা এবং উৎসাহের কারণ হলো তারা যুক্তরাষ্ট্র এমনকি বিশ্বের অন্যান্য অংশের মানুষের জেনেটিক গঠনে হস্তক্ষেপ করতে চান। ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টা ইলান মাস্কের উদ্যোগে বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে আফ্রিকায় শিশুমৃত্যু এবং এইডস ও ম্যালেরিয়ার ঘটনা ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
গার্ডিয়ান এই সমস্ত নীতিকে "সফ্ট ইউজেনিক্স" হিসেবে অভিহিত করে লিখেছে, যদি দুর্বল মানুষদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবন রক্ষাকারী সেবাগুলো কেড়ে নেওয়া হয় তাহলে আপনি প্রকৃতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিলেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত কেবল সবচেয়ে যোগ্য মানুষেরাই বেঁচে থাকতে পারবে।
ট্রাম্প প্রশাসনে তৎপর কেনেডির মতো কর্মকর্তাদের মতে, সমাজের ভয়াবহ অবস্থার কারণ হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিরা। যারা অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং চিকিৎসা সেবা পেতে বাধা দেয় তারা এই অবস্থার জন্য দায়ী নয়।

Monday, May 5, 2025
ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না: ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা
আধুনিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যেগুলো ইরানিদের মনে আমেরিকার প্রতি এক গভীর অবিশ্বাস ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই নিবন্ধে আমরা সেই ঘটনাগুলো, তাদের প্রেক্ষাপট, ইরানি জনগণের অভিজ্ঞতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করব:
১. ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান: গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রথম খোঁচা
ইরানে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ১৯৫১ সালে Anglo-Iranian Oil Company জাতীয়করণ করেন। এতে ব্রিটিশ ও মার্কিন স্বার্থে আঘাত লাগে। এর পরিণতিতে সিআইএ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা MI6 যৌথভাবে " Operation Ajax" নামের এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে মোসাদ্দেক সরকারকে পতন করিয়ে শাহ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতায় বসায়।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইরানিদের মনে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে এক তীব্র অনাস্থা জন্ম নেয়। ইরানিসমাজ বুঝে যায় যে, আমেরিকা কেবল গণতন্ত্রের মুখোশ পরে আছে, আসলে তাদের আসল উদ্দেশ্য ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা। ইরানের সম্পদ ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা। হাজার বছরের পুরাতন সভ্যতা ও শিক্ষার দেশ ইরানকে সদ্য জন্ম নেয়া বহুজাতিক আমেরিকা পরিচালনা করবে! এটা ইরানিদের আত্মমর্যাদা, আভিজাত্য আর ইতিহাসের নির্মাণের সাথে কেবলই সাংঘর্ষিক।
২. শাহের স্বৈরতন্ত্র ও সাভাক-এর দমন-পীড়ন: মার্কিন সমর্থন
মোসাদ্দেক পতনের পর আমেরিকার সমর্থনে শাহ ইরানে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেন। তার শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয় সাভাক (SAVAK) নামের ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থা। মার্কিন প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা এই বাহিনী অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের গুম, আটক ও হত্যায় অংশ নেয়।
শাহের পশ্চিমঘেঁষা নীতিতে ইসলামি ঐতিহ্য, পোশাক ও সমাজব্যবস্থা আক্রান্ত হয়। ইরানিরা এই শাসনকে কেবল অভ্যন্তরীণ নয়, বরং মার্কিন আধিপত্যের এক ছায়া সরকার হিসেবে দেখেছিল।
৩. ইসলামি বিপ্লব (১৯৭৯): আত্মপরিচয়ের বিপ্লব
১৯৭৯ সালের বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। শাহ পালিয়ে গেলে ইরানি জনতা আমেরিকার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, কারণ তারা মনে করত আমেরিকা তাদের স্বৈরশাসককে রক্ষা করেছিল।
তেহরানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দখল ও ৫২ জন কূটনীতিককে বন্দি রাখা হয় ৪৪৪ দিন। এই ঘটনা ইরান-আমেরিকার সম্পর্ককে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইরান এই দূতাবাসকে "স্পাই হাউজ" হিসেবে ঘোষণা করে।
৪. ইরান-ইরাক যুদ্ধ ও আমেরিকার পক্ষপাত
১৯৮০ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই যুদ্ধে আমেরিকা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইরাককে সমর্থন করে। অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, এমনকি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে চুপ থাকার অভিযোগ ওঠে।
যুদ্ধে প্রায় তিন লাখের বেশি ইরানি শহীদ হন। তারা স্পষ্টভাবে দেখে যুদ্ধ ইরানের মাটিতে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব সাদ্দামের পাশে দাঁড়িয়েছে। ফলে আমেরিকার প্রতি ঘৃণা আরও গাঢ় হয়।
৫. ইরান এয়ার ৬৫৫ ট্রাজেডি: নিরীহ যাত্রীদের মৃত্যুও মাফ হয়নি
১৯৮৮ সালে আমেরিকার ইউএসএস ভিনসেন্স রণতরী ইরান এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করে। এতে ৬৬ শিশুসহ ২৯০ জন নিহত হন। আমেরিকা এটিকে ভুল আখ্যা দিলেও কোনো দুঃখপ্রকাশ করেনি।
ইরানিদের কাছে এটি ছিল সরাসরি এক গণহত্যার দৃষ্টান্ত, যা আরও একবার প্রমাণ করে দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানি প্রাণের মূল্য নেই।
৬. JCPOA চুক্তি ভঙ্গ: প্রতিশ্রুতি ভাঙার রাজনীতি
২০১৫ সালে ইরান ও পাঁচ+১ গ্রুপের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় যুগান্তকারী পারমাণবিক চুক্তি JCPOA। এতে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করে, আর আমেরিকাসহ পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে সরে যান এবং আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ইরানিদের কাছে এটা ছিল সরাসরি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা। তাদের মতে, আমেরিকার কথা ও চুক্তির কোনো মূল্য নেই। আমেরিকা নিজের ওয়াদাকে নিজেই সম্মান করতে জানেনা।
৭. সোলাইমানি হত্যা: জাতিগত অসম্মানের নতুন অধ্যায়
২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় শহীদ হন ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। তিনি দেশের জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে ইরানিদের মনে প্রতিশোধ ও ঘৃণার আগুন আরো জ্বলে ওঠে।
শুধু একজন নেতাকেই নয়, এই হামলায় ইরান অনুভব করে যে তাদের সার্বভৌমত্বকেও হত্যা করা হয়েছে।
৮. অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: নিরীহ জনগণকে শাস্তি
মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতি বিধ্বস্ত করে। ওষুধ, খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়। সাধারণ নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যন্ত একাধিকবার জানায় এই নিষেধাজ্ঞা মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে দশকের পর দশক ধরে।
৯. সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক আগ্রাসন
মার্কিন গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র একতরফাভাবে ইরানকে প্রায়শ 'সন্ত্রাসী রাষ্ট্র' হিসেবে মিথ্যা-বানোয়াট উপস্থাপন করে। পশ্চিমা রাজনীতিবিদদের বক্তব্যেও ইরানবিরোধিতা ঘৃণামূলক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
সেই সাথে আমেরিকা ইসরাইল ও সৌদি আরবের সাথে মিলিত হয়ে ইরানবিরোধী সামরিক জোট গঠন করে। এতে ইরান নিজেকে আরও বেশি 'ঘেরাও করা' ও কোণঠাসা মনে করে। ইরান ও আমেরিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ইরানের আচরণ ও বাকশৈলীর শালীনতা লক্ষনীয় যা আমেরিকার বক্তব্যে অনুপস্থিত।
১০. ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: পুনরায় বিশ্বাসের সেতু?
ইরান একাধিকবার প্রমাণ দিয়েছে যে, তারা সংলাপ ও সহযোগিতার পথে যেতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার কথার পেছনে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ।
বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাস, একতরফা আধিপত্য ও নৈতিক দ্বিচারিতা ইরানিদের মনে মার্কিন বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে। শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক, শ্রদ্ধাপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি।
পরিশেষ
ইরান কেন আমেরিকাকে বিশ্বাস করে না তার উত্তর ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে। এটা কেবল কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি জাতির সম্মান, স্মৃতি ও স্বকীয়তা রক্ষার সংগ্রাম। আমেরিকা যদি সত্যিই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চায়, তবে তাকে শুধু চুক্তি নয় আচরণেও দায়িত্বশীল হতে হবে।

Saturday, August 24, 2024
কেন পশ্চিমা নারীবাদীদের কাছে ফিলিস্তিনি নারীদের ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়?
গত দশ মাসে, সহমর্মিতা প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেক পশ্চিমা নারীবাদী বিশেষ করে ব্রিটেনের নারীবাদী সংগঠনগুলোর দ্বিমুখী আচরণ প্রত্যক্ষ করা গেছে। পার্সটুডে'র মতে, ইসরাইলি নারীদের প্রতি সমর্থনে এই নারীবাদীদের কাছ থেকে অসংখ্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও,ফিলিস্তিনি নারীদের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে রহস্যজনকভাবে তারা নীরবতা রয়েছে।
ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনি নারীদের উপর ব্যাপক যৌন নিপীড়ন চালিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও এদিকে কারো কোনো নজর নেই। অথচ ফিলিস্তিনি নারীদের দুরবস্থার প্রতি এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার উচিত ছিল।
৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত শত শত ফিলিস্তিনি নারীকে ইসরাইল আটক করেছে এবং তাদের ওপর যৌন নির্যাতন, নগ্ন করে শারিরিক নির্যাতন, ধর্ষণের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে। এর মধ্যে দুটি ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পশ্চিমা নারীবাদীরা চোখ বন্ধ করে রেখেছে
চলতি বছর ১৯ ফেব্রুয়ারী জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নথিভুক্ত যৌন নিপীড়নের দুটি ঘটনাকে উপেক্ষা করা হলেও প্রশ্ন হচ্ছে, গত ৭৬ বছরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর যে সহিংসতা চালিয়েছে এবং এর যে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে সেটাকে কীভাবে উপেক্ষা করা যায়?
সাত অক্টোবরের আগে প্রকাশিত ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতার অসংখ্য রিপোর্ট, প্রতিবেদন সহজেই পাওয়া যায়। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই সব প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেমন ইসরাইলে নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেনারেল কমিটি, জেরুজালেম-ভিত্তিক মহিলা আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা কেন্দ্র,এর পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা যায়।
এই প্রতিবেদনগুলো আইনি শুনানি, আইনি অভিযোগ, প্রতিরক্ষা অ্যাটর্নিদের নথি এবং বন্দীদের সাক্ষ্যগুলোর উপর ভিত্তি করে, ইসরাইলে আটকে থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর যৌন সহিংসতা, নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের চিত্রিত ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। যদি নারীবাদীরা সত্যিই যুদ্ধে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তাহলে ফিলিস্তিনি নারীদের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধগুলো নিয়ে তাদের অবশ্যই কথা বলা উচিত।
গত দশ মাস ধরে ৪০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু এবং ২১ হাজারটিরও বেশি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলেও নারীবাদীদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। বরং তারা ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতা চরমভাবে উপেক্ষা করে গেছে।
একইভাবে, গত ১২ জুন প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও ফিলিস্তিনি নারীদের দুর্দশার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনা তাদের বিবেককেও আলোড়িত করতে পারেনি।
যৌন সহিংসতার সংস্কৃতি
যৌন সহিংসতার ঘটনা পুরুষদের বিরুদ্ধেও হয়েছে। ইসরাইলি সৈন্যরা ফিলিস্তিনি পুরুষদেরকে জোরপূর্বক নগ্ন করে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে সেদেহ তামান কারাগার থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে দেখা যায় ইসরাইলি সেনারা একজন ফিলিস্তিনিকে গণধর্ষণ করছে। বেজালেল স্মোট্রিচসহ ইসরাইলি মন্ত্রীরা ভিডিওটি প্রকাশের নিন্দা জানিয়েছিলেন, তবে যৌন নিপীড়নের কোনো নিন্দা তারা করেননি। লিকুদ পার্টির হ্যানোচ মিলভস্কির মতো কেউ কেউ এই নির্যাতনকে বৈধতা দিয়েছেন। যেমনটি পশ্চিমা নারীবাদীরা নীরব রয়েছে।
পাশ্চাত্যের নারীবাদীদের মতো বিশ্বের অন্য প্রান্তের নারীবাদীদের নীরবতাও নিন্দনীয়। ফিলিস্তিদের সীমাহীন দুর্দশার ব্যাপারে সবার নীরবতা থেকে মানবতার চরম অধ:পতনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
যখন নিহতদের ৭০% নারী ও শিশু, ফিলিস্তিনি নারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের খুঁজে বের করে, মায়েরা যখন তাদের প্রাণহীন শিশুদের আলিঙ্গন করে, যখন পরিবারগুলো শরণার্থী শিবিরে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা যায়, ইসরাইলের অবরোধের কারণে মায়েরা যখন তাদের সন্তানদের অনাহারে মরতে দেখে এবং যখন শিশুরা চরম দুর্ভিক্ষে খাবারের জন্য এদিক ওদিক ছুটাছু করে এবং কান্নাকাটি করে তখন এ নিষ্ঠুর নীরবতা কোনো রাজনীতি নয় বরং তা নারীদের প্রতি কথাকথিত নারীবাদীদের বিশ্বাসঘাতকতা।
Tuesday, March 30, 2021
আল আকসা মসজিদ ইসলাম ও ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচিতি
ইহুদিবাদী ইসরাইলের এই ন্যক্কারজনক আগ্রাসনের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। তা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের মজলুম জনতা তাদের দেশের ভূখণ্ডকে স্বাধীন করার তথা ইহুদিবাদী দখলমুক্ত করার দৃঢ় ইচ্ছা বাস্তবায়নে বিন্দুমাত্রও হাল ছাড়ে নি। বরং ফিলিস্তিনিদের মনোবল ও সংগ্রাম আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেগবান হয়েছে। ইরানের জনগণ সেই বিপ্লব বিজয়ের আগে থেকেই ফিলিস্তিনের মজলুম জনগোষ্ঠীকে সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। কিন্তু ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামী সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ইরানের ইসলামী বিপ্লব বিজয় ছিল ইহুদিবাদী ইসরাইলের জন্য চপেটাঘাত। কেননা ইরানের ইসলামী বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ) কেবল ইরানের জনগণকেই নয় বরং বিশ্বের সকল মুসলমান ও স্বাধীনচেতা মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য। ইমামের ওই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হয়।
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনী (রহ) ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের বুকে বিষাক্ত টিউমার বা ক্যান্সার বলে অভিহিত করেছেন। ফিলিস্তিনের সংগ্রামী জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের অধিকারের প্রতি সাহায্য-সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার জন্যে রমযানের শেষ শুক্রবারে নানা কর্মসূচি, অনুষ্ঠান ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন ঘোষণার আহ্বান জানান। বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব তাঁর এই আহ্বানে ব্যাপক সাড়া দেয় এবং এই দিনকে কুদস দিবস হিসেবে পালন করতে থাকে। এই দিনে বিশ্বজুড়ে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখা এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি বিশ্ব মুসলমানের ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
এ বছর এমন সময় বিশ্ব কুদস দিবস পালিত হতে যাচ্ছে যখন মার্কিন নতুন ষড়যন্ত্রের কারণে ফিলিস্তিন সংকট অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সমাজের ব্যাপক প্রতিবাদ সত্বেও তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করে আমেরিকা। আমেরিকার এ পদক্ষেপ দখলদার ইসরাইলের সম্প্রসারণকামীতাকে পূর্ণতা দিয়েছে যা কিনা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক পরিণতি ডেকে আনবে। বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে আমেরিকা ফিলিস্তিনিদেরকে এ বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে যে, ইসরাইলের স্থিতিশীলতা ও দখলদারিত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। আল আকসা মসজিদ ইসলাম ও ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচিতি। এটি মুসলমানদের প্রথম কেবলা হওয়ার কারণে শুধু ফিলিস্তিন নয় বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে এর ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। মুসলমানদের সবচেয়ে তিনটি পবিত্র স্থানের মধ্যে বায়তুল মোকাদ্দাস হচ্ছে অন্যতম। অথচ আমেরিকা দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে শুধু যে মুসলমানদের অবমাননা করেছে তাই নয় একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রীতি ও জাতিসংঘের ২৩৩৪ ও ৪৭৮ নম্বর প্রস্তাবও লঙ্ঘন করেছে।
দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে আমেরিকা দু'টি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য গঠনের যে পরিকল্পনা রয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করা। আর দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, লেবানন ও ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগ্রামীদেরকে নির্মূল করা যাতে দখলদার ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমানে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন নিয়ে দখলদার ইসরাইল পূর্ব বায়তুল মোকাদ্দাসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইল গাজার নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে তা তারা গত সাত দশক ধরে চালিয়ে আসছে। অথচ জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী আগ্রাসীদের মোকাবেলায় অস্ত্র ধারণা করার অধিকার ফিলিস্তিনিদের রয়েছে।
আমেরিকা তেলআবিব থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে দূতাবাস স্থানান্তর করায় এর প্রতিবাদে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি সেনাদের হামলায় প্রথম দিনেই ৬০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হন। প্রকৃতপক্ষে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের প্রধান শরীক হচ্ছে আমেরিকা। এ কারণে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "ফিলিস্তিনি জনগণ আর তাদের সংকট সমাধানের জন্য আমেরিকাকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেবে না।" তিনি বলেন, "এই অপরাধযজ্ঞের ঘটনায় 'ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায়' আমেরিকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।" তবে সব ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ও অন্যায় আচরণ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমানে আমেরিকা নতুন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আসল পরিচয় অর্থাৎ বায়তুল মোকাদ্দাসের পরিচিতি ধ্বংসের চেষ্টা করছে যাতে ফিলিস্তিনিদের আর কিছুই অবশিষ্ট না থাকে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল-মার্কিন ষড়যন্ত্রে নতুন করে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি-ইসরাইল সম্পর্ক এতদিন গোপন থাকলেও এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে। সৌদি আরবের সাবেক সামরিক কমান্ডার জেনারেল আনোয়ার এশকি বলেছেন, তার দেশ ইসরাইলি দখলদারিত্বের মুখে ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করতে বাধ্য নয়।" তিনি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, "ফিলিস্তিনিদের রক্ষার বিষয়ে সৌদি আরবের বাড়তি কোনো দায়িত্ব নেই। ফিলিস্তিনিরা যেহেতু সৌদি নাগরিক নন সে কারণে রিয়াদের কাছ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার তারা রাখেন না।" তিনি বলেন, "ইসরাইলকে শুধু শুধু শত্রু ভাবা হয়।”
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইমাম খোমেনি দখলদার ইসরাইলের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত ছিলেন। বিশ্ব কুদস দিবস পালন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, "কুদস দিবস কেবল ফিলিস্তিনিদের দিবস নয়। এটি এমন একটি দিবস যে, বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে এটা বুঝিয়ে দেয়া, তারা আর কোনো মুসলিম ভূখণ্ডকে এভাবে গ্রাস করতে পারবে না।" ইমাম খোমেনি(র.) আরো বলেছিলেন, "বিশ্ব কুদস দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা বলদর্পী শক্তিগুলোকে এমন একটি হুঁশিয়ারি সংকেত দিতে চাই যে তারা মুসলমানদের ওপর আর আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না এবং কুদস দিবস বিশ্ব মুসলমানদের প্রেরণা ও বেঁচে থাকার দিবস।"
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, "ফিলিস্তিনিদের রক্ষা করা সব মুসলমানের দায়িত্ব।"
ইহুদিবাদী ইসরাইলের নির্যাতনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে, আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে কখনোই দমানো যায় নি বরং কুদস দিবস পালন কিংবা মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ চাপের মাধ্যমে তাদেরকে কিছুটা দমানো সম্ভব হয়েছে। এবারের বিশ্ব কুদস দিবস ইসরাইল ও তাদের মিত্রদের জন্য এ বার্তাই পৌঁছে দেবে যে, ফিলিস্তিনের ওপর দখলদারিত্ব ও জুলুম নির্যাতনের দিন শেষ হয়ে এসেছে। সারা বিশ্বের মুসলমানদের উচিত মুসলমানদের প্রথম কেবলা আল আকসা উদ্ধারে বিশ্ব কুদস দিবসে শরীক হওয়া যাতে ইসরাইলের দখল থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ড উদ্ধারকে আরো তরান্বিত করা যায়।
Thursday, March 18, 2021
ইরানে অবস্থিত ৪০০ বছরের পুরোনো ভবন












Thursday, September 24, 2020
যে বাড়িতে বেড়ে ওঠেন ইমাম খোমেনী (র.)
![]() |
| এই বাড়িতেই ইমাম খোমেনী (র.)-এর শৈশব-কৈশোর কাটে। |
খোমেন শহরের অত্যন্ত প্রভাবশালী ইসলামী নেতা ছিলেন তিনি। কিন্তু তৎকালীন অত্যাচারী জমিদার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আর এ সময়েই জন্ম হয় তাঁর তৃতীয় সন্তান সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ আল মুসাভি আল খোমেনীর। খোমেন শহরের এই বাড়িতেই তিনি জন্মের পর থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত কাটান।

ইমামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পবিত্র কুরআন হেফ্জ করার মধ্যদিয়ে। এরপর তিনি ইরানের আরাক শহরে (১৯২০-২১) এবং পরবর্তীতে কোমে (১৯২৩) ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।
১৯৩০ এর দশকে ইমাম খোমেনী (রহ.) কোমের ধর্মতত্ত্ব কেন্দ্রের ছাত্রদের ইসলামি আইনশাস্ত্র শিক্ষা দেন।
১৯৫০ এর দশকে তিনি ইসলামি ফিকাহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করে মুজতাহিদ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ইমামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন শাহ সরকারের অত্যাচার, নিপীড়ন ও আমেরিকার পদলেহী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় মোহাম্মাদ-রেজা শাহ ইরানে কথিত স্বেতবিপ্লব শুরু করেছিলেন।
ইমামের নেতৃত্বে দেশে বসবাসরত ইরানি জনগণের পাশাপাশি সারাবিশ্বে অবস্থানরত ইরানিরা শাহ সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লবি তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সে বিপ্লব চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে এবং এর মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজীরবিহীন বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন ইমাম খোমেনী (রহ.)।
ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর ১০ বছর তিনি সব বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে ১৯৮৯ সালে আল্লাহর সাক্ষাতে চলে যান। তাঁর জানাযার নামাজে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮৯ সালের ২৩ মে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ইমামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এর ১১ দিন পর ৪ জুন তিনি ৮৭ বছর বয়সে তেহরানের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।








Wednesday, September 9, 2020
দ্বিতীয় মুয়াবিয়ার সাক্ষ্যসহ ইমাম হোসাইনের (আ) বিজয়ের কিছু প্রমাণ

‘‘তোমরাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত,মানবতার স্বার্থেই তোমাদের এ পৃথিবীতে আগমন। কেননা তোমরা আমর বিল মারুফ এবং নাহী আনিল মুনকার কর।’’
আদেশ প্রদানকারী বা বাধা প্রদানকারীর জন্যে দুটো শর্ত রয়েছে। প্রথমত জ্ঞান বুদ্ধির পরিপক্কতা ও বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিশক্তি। যেনতেনভাবে আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকারের কোন সার্থকতা নেই। আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার সম্বন্ধে আমার কতটুকু ধারণা রয়েছে? আর কেমন করেই বা তা কার্যকরী করা সম্ভব? এ ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণার অভাব আছে বলেই আমরা এতকাল অন্যের বিকৃত চুলের স্টাইল কিংবা জামার বোতাম আর জুতোর ফিতার বিকৃত স্টাইলের বিরুদ্ধে আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার করে এসেছি। মুনকারকে মারুফ আর মারুফকে মুনকার জ্ঞান করার ঘটনাও বিরল নয়। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার না করাই শ্রেয়। কেননা এ ধরনের আমর বিল মারুফ করতে গিয়ে কত মুনকারেরই প্রচলন হতে দেখা গেছে। তাই এ কাজে হাত দেবার আগে পর্যাপ্ত-জ্ঞান গবেষণা,পরীক্ষা-নিরীক্ষা,মনস্তত্ব আর সমাজ পরিচিতির মতো অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। যাতে সর্বোত্তম উপায়ে ও সর্বোচ্চ কার্যকরী পন্থায় ইসলামের এ মূলনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। মারুফ ও মুনকারকে শনাক্ত করতে হবে, এগুলোর মূল উৎস কোথায় তা খুঁজে বের করতে হবে। এ কারণে ইমামগণ অজ্ঞ লোকদেরকে আমর বিল মারুফ ওয়া নাহী আনীল মুনকার করতে বারণ করেছেন। কেননা لِاَنَّهُ مَا یُفْسِِدُهُ اَآْثَرُ مِمَّا یُصْلِحُهُ তারা যতটা না সংস্কার করতে পারে তার চেয়ে বেশী ধ্বংস করে দেয়। তারা ভাল করতে চায় কিন্তু ফলাফলে খারাপ হয়ে যায়। এমন দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি রয়েছে।
এখানে হয়তো অনেকে অজুহাত তুলতে পারে: আমরা যেহেতু অজ্ঞ শ্রেণীর লোক তাই এ ব্যাপারে আমাদের আর কোনো করণীয় রইল না। পবিত্র কোরআন সুস্পষ্ট ভাষায় এর উত্তর দিয়েছে:
)لِیَهْلِکَ مَنْ هَلَکَ عَنْ بَیِّنَةٍ وَ یَحْیَی مَنْ حَیَّ عَنْ بَیِّنَةٍ(
যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সত্যাসত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের পর ধ্বংস হয় এবং জীবিতদের মধ্য থেকে যে জীবিত থাকে সে যেন জীবিত থাকে সত্যাসত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশের পর। (আনফাল-৪২)
অথবা,
)لِئَلِّا یَکُونَ لِلنَّاسِ عَلَی اللهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرَّسُولِ (
‘‘যাতে রসুল আসার পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে।’’ (নিসা-১৬৫)
ইমামদের (আঃ) একজনকে প্রশ্ন করা হল: একদল মানুষ অজ্ঞ । কিয়ামতের দিন এদেরকে কিভাবে বিচার করা হবে? জবাবে তিনি বললেন: সেদিন একজন আলমকে হাজির করা হবে যে সবকিছু জেনেশুনেও তা পালন করতো না। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে তুমি এসব জেনেও মেনে চলতে না কেন? এবার তার আর কোনো অজুহাত থাকবে না। তখন তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। আরেকজনকে হাজির করে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে তুমি কেন পালন করতে না? জবাবে সে বলবে: আমি জানতাম না বলে পালন করিনি। প্রত্যুত্তরে বলা হবে:
هَلاَّ تَعَلَّمْتَ জানতে না তবে শিখতে তো আর বাধা ছিল না,জেনে নাওনি কেন? জানতাম না,বুঝতাম না এটা কোনো জবাব হল নাকি? বিবেককে আল্লাহ কী কারণে সৃষ্টি করেছেন? যাতে জ্ঞানার্জন করতে পার,পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করতে পার। এজন্যেই তোমাকে বিবেক দান করা হয়েছে। তোমাকে তেমন জ্ঞানী হতে হবে যারা কেবল চলতি ঘটনাবলীরই আচার-বিচার করে ক্ষান্ত হয় না,অতীত ও ভবিষ্যতও যাদের নখাগ্রে থাকে। হযরত আলী (আঃ) বলেছেন :
-وَ لاَ نَتَخَوَّفُ قَارِعَةً حَتَّی تَحُلَّ بِنَا আমাদের জনগণ গণ্ডমূর্খ হয়ে গেছে। কোন বিষয় যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদেরকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে ততক্ষণ তারা বেখবর থাকে। (নাহাজুল বালাগা-3২ নং খোতবা) এদের মধ্যে কেউ ভবিষ্যৎ বক্তা নেই। এদের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতার প্রয়োজন। কেবল সমসাময়িক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। সমাজতত্ত্বে এমন দখল থাকতে হবে যে,পঞ্চাশ বছর শত বছর কিংবা হাজার বছর পরের যে বিপর্যয় মানব জাতিকে হুমকি দিচ্ছে তাকেও যেন শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। হযরত ইবরাহীম(আঃ)-এর জ্ঞানের পরিসীমা বর্ণনায় আল্লাহ বলছেন,‘‘আমরা ইবরাহীমকে পরিপক্ব জ্ঞান দান করেছি।’’ (আম্বিয়া ৫১)। তাই সমাজে সংস্কার আনতে পরিপক্ব জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। দূরদর্শিতা বা ভবিষ্যৎ জ্ঞান ইমাম হোসাইনের (আঃ) বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইমাম হোসাইনের (আঃ) দূরদর্শিতার দৃষ্টিপটে ভবিষ্যৎ স্বচ্ছ হয়ে ধরা দিয়েছিল। অর্থাৎ তিনি খড়কুটোর মধ্যে ও ভবিষ্যতের যে আভাস প্রত্যক্ষ করতেন,অন্যরা আয়নায়ও তা দেখতে পেত না। আজ আমরা সে যুগের পরিস্থিতির বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারি। কিন্তু সেদিনকার মানুষের কাছে ইমাম হোসাইনের (আঃ) কথা-কাজ ছিল দুর্বোধ্য-দুর্গম।
আশুরার দিনেও তিনি নির্দ্বিধায় ঘোষণা দিলেন,ওরা আমাকে হত্যা করবেই। তবে আমি আজ তোমাদেরকে বলে যাচ্ছি,আমার হত্যার পর ওদের পতন অনিবার্য হবে। অনতিবিলম্বে তাদের পতন ঘটবে। এদের পতন ছিল আশাতীতভাবে দ্রুত। বনি উমাইয়ারাও বেশী দিন ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে ধরে রাখতে পারেনি। তাদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করলো বিন আব্বাসীয়রা। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ শতাধিক বছর ধরে মসনদ থাকলো তাদের আয়ত্তে। মোটকথা,কারবালার হত্যাকাণ্ড থেকে যে বনি উমাইয়ার প্রাসাদে ভাঙন ধরলো,অনতিবিলম্বেই তা তাদের চরম পতনের মাধ্যমে পরিণতি লাভ করলো। এ সমস্ত ঘটনা ইমাম হোসাইনের (আঃ) অনন্য দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।
কাপুরুষ ইবনে যিয়াদের উসমান নামের এক ভাই ছিল। একদিন উসমান বলল,হে ভাই,যিয়াদের সব সন্তান যদি দারিদ্র,অপমান আর দুঃখের সাথে বেঁচে থাকতো তাতেও আমি অসন্তুষ্ট হতাম না, যত না অসন্তুষ্ট হয়েছি তোমার হাতে আমাদের খান্দানে (কারবালার) এ অপরাধ দেখে। ইবনে যিয়াদের মা ছিল পরকীয়া-ব্যভিচারিণী। সেও একদিন ইবনে যিয়াদকে ভর্ৎসনা করে বলল: জেনে রেখো তুমি যে অপরাধ করেছ তাতে তোমার বেহেশতের কোনো আশা নেই। এমন কি মারওয়ান ইবনে হাকামের মতো জঘন্য কাপুরুষও ইয়াযিদের দরবারে প্রতিবাদী হয়ে বললোঃ সুবহানাল্লাহ,সুমাইয়ার (অর্থাৎ যিয়াদের মার) সন্তানেরা সম্মানিত হোক,কিন্তু নবীর বংশকে এ অবস্থায় তুমি দরবারে আনতে পারলে?
হ্যাঁ,এভাবেই সেদিন ইমাম হোসাইনের (আঃ) ভবিষ্যৎ বার্তা ফলতে শুরু করেছিল এবং তা দুশমনের কণ্ঠ থেকেও প্রতিধ্বনিত হয়েছিল। স্বয়ং ইয়াযিদের স্ত্রী হিন্দের কথাও হয়তো শুনে থাকবেন। ইয়াযিদের ক্রিয়াকর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সে ইয়াযিদের কাছে এসবের ব্যাখ্যা দাবি করে। শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে ইয়াজিদ এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বসে। উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের ঘাড়ে সমস্ত দায় চাপিয়ে দিয়ে সে আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা করে।
ইমাম হোসাইনের (আঃ) সর্বশেষ ভবিষ্যদ্বাণী ছিল অনতিবিলম্বে ইয়াযিদের পতন হবে। এদিকে কারবালা ঘটনার পর মাত্র দু’তিন বছর চরম দুর্দশা ও হতাশার মাধ্যমে ইয়াযিদী শাসন অব্যাহত থাকে তারপর তার জীবনাবসান ঘটে। পিতার মৃত্যুর পর ইয়াযিদ-পুত্র ‘দ্বিতীয় মুয়াবিয়া’ চেপে বসলো মসনদে। কিন্তু মাত্র চল্লিশ দিন পার না হতেই একদিন সে ঘোষণা দিল, হে লোকসকল! আমার পিতামহ মুয়াবিয়া (প্রথম) আলী ইবনে আবু তালিবের (আঃ)-সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অথচ হক ছিল আলীর (আঃ) সাথে। আবার,আমার পিতা ইয়াযিদ দাঁড়ায় হোসাইন ইবনে আলীর (আঃ) বিরুদ্ধে । এখানেও হোসাইন (আঃ) ছিল সত্যের উপরে, আমার পিতা নয়। আর আমি আমার পিতার ওপর অসন্তুষ্ট। নিজেকেও খেলাফতের যোগ্য বলে মনে করি না। তাই আমার পিতামহ কিংবা পিতার অপরাধের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর লক্ষে এখানেই আমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলাম। সে ক্ষমতা ছেড়ে দিল।
আর এভাবে জয় হল সত্যের। মিথ্যা হল অস্তমিত। ইমাম হোসাইন (আঃ) অসীম আধ্যাত্মিক শক্তিবলে শত্রু-মিত্র উভয়কেই ন্যায়ের পথে উদ্দীপ্ত করে দিলেন। সূচিত হল তরবারির উপর রক্তের বিজয়।
আশুরার রাতের দুর্বিষহ অবস্থা দেখে হযরত যয়নাব দু’একবার কেঁদেও ফেলেন। একবার ইমাম হোসাইনের (আঃ) কোলে মাথা রেখে তিনি এতোই কাঁদলেন যে,বেহুশ প্রায় হয়ে পড়েন। ইমাম হোসাইনের (আঃ) বিভিন্ন ভাবে তাকে শান্ত করেন। তারপর বলেন,
لَا یُذْهِبَنَّ حِلْمَکَ الشَّیْطَانُ
‘‘বোন আমার! শয়তান যেন তোমার ধৈর্যচ্যুতি না ঘটায়।’’ (এ’লামুল ওরা: ২৩৬,ইরশাদে মুফীদঃ ২৩২ বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৫/২)
তিনি হযরত যয়নাবকে (আঃ) বলেনঃ আমাদের নানাইতো এপথ দেখিয়ে গেছেন। বাবা-মা-ভাই সবাইতো এপথে শাহাদাত বরণ করেছেন। এতে তো গৌরব ছাড়া কাঁদার কিছুই নেই।
হযরত যয়নাব (আঃ) নিজেকে কিছুটা সংযত করে বলেনঃ ‘আমি কোনো কষ্টের জন্যে কাঁদছি না। আমার দুঃখ হলো এ কারণে যে, নানাকে হারিয়েছি,বাবাকে হারিয়েছি, মাকে হারিয়েছি, বড় ভাই হাসানকে (আঃ) হারিয়েছি। তারপরও এতদিন আপনার দিকে চেয়ে আমি সব দুঃখ ভুলেছিলাম। কিন্তু আজ তোমাকেও হারাতে হবে তাই আমার কষ্ট হচ্ছে ।
অথচ কারবালার ঘটনার পর-মুহূর্ত থেকে হযরত যয়নাব আর আগের যয়নাব রইলেন না। ইমাম হোসাইনের শৌর্য-বীর্য এবং ধৈর্য দেখে তিনি এমন মানসিকতা অর্জন করলেন যে, যত বড় ব্যক্তিত্বই হোক না কেন, যয়নাবের (আঃ) সামনে সে তুচ্ছ। ইমাম যয়নুল আবেদীন (আঃ) বলেনঃ আমরা বারোজন ছিলাম। সবাইকে এক শিকলে বেঁধে শিকলের একমাথা আমার বাহুতে এবং অন্য মাথা আমার ফুফুর বাহুতে বেঁধে দেয়া হয়।
বলা হয় যে,নবী পরিবারকে ২রা সফর তারিখে বন্দী অবস্থায় সিরিয়ায় নিয়ে আসা হয়। এ হিসাব অনুযায়ী কারবালার ঘটনা থেকে যখন বাইশ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেছে তখন বন্দীদেরকে ইয়াযিদের সবুজ প্রাসাদে নেয়া হল। সবুজ প্রাসাদ মুয়াবিয়ার তৈরি।
এই প্রাসাদ ঝলমলে,রাজকীয় সাজে সজ্জিত,আয়া-খানসামাদের ভিড় প্রভৃতিতে ভরা ছিল এবং কেউ এর মধ্যে ঢ়ুকলে হতবাক হয়ে পড়তো। বলা হয় যে,সাত সাতটা বড় বড় হল ঘর পার হলে তারপর ইয়াযিদের মণিমাণিক্য খচিত দরবারে আসা যেত। সেখানে ইয়াযিদ দাস-দাসী,উজির-নাযির সবাইকে নিয়ে বসে আছে। এমনি অবস্থায় বন্দী নবী পরিবারকে দরবারে আনা হল। কিন্তু হযরত যয়নাব (আঃ) এত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার পরও ইয়াযিদের দরবারে এমন সাহসী ভূমিকা নিলেন যে,সমস্ত দরবার কেঁপে উঠলো এবং উপস্থিত সভাসদরা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। এমন কি বাকপটু ইয়াযিদও সম্পূর্ণ নিশ্চুপ হয়ে গেল। ইয়াযিদ প্রথমে গর্বভরে তার বিজয় উল্লাস করছিল। সাথে সাথে হযরত যয়নাব (আঃ) বাঘের মতো গর্জে উঠে বললেন:
اَظَنَنْتَ یَا یَزِیدُ حَیْثُ اَخَذْتَ عَلَیْنَا اَقْطَارَ الْاَرْضِ وَ آفَاقَ السَّمَاءِ فَاَصْبَحْنَا نُسَاقُ آکمَا تُسَاقُ الْاُسَارَی اَنَّ بِنَا عَلَی اللهِ هَوَاناً وَ بِکَ عَلَیْهِ کرَامَة ؟
‘হে ইয়াযিদ খুব যে ফুর্তি করছ! আমাদেরকে এই হালে ফেলে ও নিজের হাতের মুঠোয় পেয়ে বোধ হয় মনে করছ যে,পৃথিবীর সব কিছু থেকে আমাদের বঞ্চিত করে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক নেয়ামত লাভ করেছ। আল্লাহর শপথ করে বলছি যে,আমার দৃষ্টিতে তোমার মতো কাপুরুষ আর কেউ নেই। আমার দৃষ্টিতে তোমার এক কানাকড়িও মূল্য নেই।’ (আল লুহুফঃ ৭৬,মাকতালুল মোকাররামঃ ৪৬২ বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৫/১৩৩)
একবার লক্ষ্য করুন যে, কেবল ঈমান ও ব্যক্তিত্ব ছাড়া সবকিছু হারিয়েছেন এবং বর্তমানে বন্দী অবস্থায় সবচেয়ে জঘন্য লোকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন-এরকম একজন মহিলার কাছ থেকে কী আশা করা যেতে পারে? কিন্তু দেখুন হযরত যয়নাব (আঃ) এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন যে, অতি শীঘ্রই শামে বিপ্লবের ঘনঘটা শুরু হয়।
ঐ দরবারে বসেই ইয়াযিদ তার কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়। বন্দীদেরকে সসম্মানে মদীনায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তারপর নিজে অনুতাপ প্রকাশ করে ও ইবনে যিয়াদকে অভিসম্পাত করে বলে আমি ওকে এ কাজ করতে আদেশ দেইনি। সে নিজেই একাজ করেছে। এই বিপ্লব কে ঘটালেন? ইসলামের মহীয়সী নারী হযরত যয়নাবই (আঃ) এরকম বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করে যান। তারপর তার বক্তব্যের শেষাংশে যে ইয়াজিদকে হাজার হাজার মানুষ জাঁহাপনা বলে ডাকতো সেই ইয়াজিদকে ব্যঙ্গ করে হযরত যয়নাব বললেন:
یَا یَزِیدُ آِدْ کِیْدَکَ وَاسْعَ سَعْیَکَ نَاصِبْ جَهْدَکَ فَوَاللهِ لَا تَمْحُوا ذِکرَنَا وَ لَا تَمِیتَ وَحْیَنَا
‘‘হে ইয়াযিদ! তোমাদের যে জল্পনা-কল্পনা আর ষড়যন্ত্র আছে সবই করো। তবে জেনে রেখো যে আমাদের স্মরণকে মানুষের অন্তর থেকে কোনোদিন মুছে ফেলতে পারবে না। আমাদের এ বাণী চিরন্তন। আর যারা নিশ্চিহ্ন হবে সে হলো তুমি এবং তোমার চাটুকাররা’’(আল লুহুফঃ ৭৭,বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৫/২৩৫)
একথা শুনে ইয়াজিদ প্রথম চুপ রইলো তারপর পাপিষ্ঠ ইয়াযিদ ভিতরে জ্বলে উঠলো এবং হযরত যয়নাবকে (আঃ) আরও কষ্ট দেয়ার জন্যে তার হাতের লাঠি দিয়ে ইমাম হোসাইনের (আঃ) ছিন্ন মস্তকে খোঁচা মারল। (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়িল আযিম)
ইমাম হোসাইন (আঃ) দূরদর্শী ছিলেন। তিনি যা দেখতেন সমসাময়িক কালের কোনো বুদ্ধিজীবী কিংবা চিন্তাবিদের মাথায়ও তা আসতো না। তিনি মানুষের পরিত্রাণের উপায় তাদের নিজেদের চেয়ে ভালো বুঝতেন। দশ,কুড়ি,পঞ্চাশ,শত বছর যখন পার হয় তখন মানুষ একটু একটু বুঝতে পারে যে,সত্যিই তো! তিনি তো এক মহা-বিপ্লব করে গেছেন। আজ আমরা পরিষ্কার বুঝতে পারি যে,ইয়াযিদ কি ছিল আর মুয়াবিয়া কি ছিল বা উমাইয়াদের ষড়যন্ত্র কি ছিল। কিন্তু ইমাম হোসাইন (আঃ) সেদিনই এর চেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছিলেন। সেকালে বিশেষ করে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মদীনার লোকজন ইমাম হোসাইন (আঃ) কি চান তা অনুধাবন করতে পারেনি। কিন্তু ইমাম হোসাইনের (আঃ) নিহত হবার সংবাদ যেদিন তাদের কানে গেলো,অমনি যেন সবার টনক নড়ে উঠলো। সবার একই প্রশ্নঃ হোসাইন ইবনে আলীকে (আঃ) হত্যা করা হলো কেন? এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য মদীনার চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। এর প্রধান ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা। তদন্ত কমিটি শামে গিয়ে ইয়াযিদের দরবারে এসে উপস্থিত হলো। মাত্র ক’দিন অতিক্রান্ত হতে না হতেই তারা অবস্থাটি ধরে ফেললো। অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে তারা শীঘ্রই মদীনায় ফিরে এলো। লোকজন জিজ্ঞেস করলো কী দেখে এলেন? জবাবে তারা বললোঃ শুধু এইটুকুই তোমাদের বলি যে,আমরা যে ক’দিন শামে ছিলাম সে ক’দিন শুধু এ চিন্তায় ছিলাম যে,খোদা এক্ষুণি হয়তো এ জাতিকে পাথর নিক্ষেপ করে ধ্বংস করবেন! লোকজন বললোঃ কেন,কী হয়েছে? তারা বললোঃ আমরা এমন এক খলিফার সামনে গিয়েছিলাম যে প্রকাশ্যে মদ খাচ্ছিল,জুয়া খেলছিল,কুকুর-বানর নিয়ে খেলা করছিলো,এমন কি বেগানা নারীর সাথে যেনাও করছিলো!
আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালার আটজন ছেলে ছিল। তিনি মদীনার জনগণকে বললেন: তোমরা বিদ্রোহ কর আর না করো আমি শুধু আমার আটজন ছেলেকে নিয়ে হলেও বিদ্রোহ করতে যাচ্ছি । কথামতো তিনি তার আটজন ছেলেকে নিয়ে বিদ্রোহ করলেন এবং ইয়াযিদের বিরুদ্ধে ‘‘হাররা বিদ্রোহে’’ প্রথম তার আটজন ছেলের সবাই এবং পরে তিনি নিজেও শহীদ হন। (মুরুজুয যেহাব ৩/৬৯)
আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালা নিঃসন্দেহে একজন চিন্তাশীল লোক ছিলেন। কিন্তু তিন বছর আগে ইমাম হোসাইন (আঃ) যখন মদীনা থেকে বেরিয়ে আসনে তখন তিনিও ইমামের (আঃ) কাজকর্ম থেকে কিছুই বুঝতে পারেননি।
ইমাম হোসাইন (আঃ) বিদ্রোহ করলেন,আন্দোলন করলেন,জানমাল উৎসর্গ করলেন। তিন বছর কেটে গেলো। তারপর আজ এসে আব্দুল্লাহ ইবনে হানযালার মতো ব্যক্তিরও টনক নড়লো। এ হলো ইমাম হোসাইনের (আঃ) দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণতার স্বরূপ মাত্র ।
কারবালার মতো ঘটনাকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে যে ঘটনায় আত্মিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়ে মাত্র ৭২ জনের এক বাহিনী ত্রিশ হাজার লোকের বাহিনীকে পরাজিত করেছে। তারা সংখ্যায় মাত্র ৭২ জন ছিলেন এবং মৃত্যু যে নির্ঘাত এটিও তারা নিশ্চিতভাবে জানতেন। তবুও কিভাবে তারা ত্রিশ হাজারের বাহিনীকে পরাজিত করতে সক্ষম হলেন?
প্রথমত তারা এমন শক্তিতে শক্তিমান ছিলেন যে,শত্রুদের থেকে হুর ইবনে ইয়াযিদ রিয়াহীর মতো ত্রিশ জনের অধিক লোককে বেঁচে থাকার ঘাঁটি থেকে নির্ঘাত মৃত্যুর ঘাঁটিতে আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। কিন্তু মৃত্যু ঘাঁটি থেকে একজন লোকও ইয়াযিদের দুনিয়াবি ঘাঁটিতে যায়নি। তাহলে বুঝতে হবে যে,এ ঘাঁটিতে সংখ্যা কম এবং নিশ্চিত হলেও এখানে শক্তি -সামর্থ্য অনেক বেশী যা দিয়ে শত্রুদেরকে আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয়ত আরবের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী একজনের মোকাবিলায় অন্য আরেকজন যুদ্ধ করতো। কারবালায় ইবনে সা’দ প্রথমে এভাবেই যুদ্ধ করতো রাজি হয়। কিন্তু যখন দেখল যে,এভাবে যুদ্ধ করলে ইমাম হোসাইনের (আঃ) একজন সৈন্যই তার সমস্ত সৈন্যকে সাবাড় করে দিতে যথেষ্ট তখন সে এ যুদ্ধ বর্জন করে দল বেঁধে আক্রমণ করার নির্দেশ দিতে বাধ্য হলো।
আশুরার দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একে একে ৭১ জন শহীদের লাশকে ইমাম হোসাইন কাঁধে বয়ে তাঁবুতে নিয়ে এসেছেন। তাদের কাছে গিয়ে অভয় বাণী দিয়েছেন,তাঁবুতে এসে সবাইকে শান্ত করেছেন,এছাড়া তিনি নিজেও কত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন। ৫৭ বছরের একজন বৃদ্ধলোক এত ক্লান্ত, শ্রান্ত অবস্থায় যখন ময়দানে এলেন তখন শত্রুরা ভেবেছিলো হয়তো সহজেই তাকে পরাস্ত করা যাবে। কিন্তু একটু পরেই তাদের সব আশা-ভরসা উড়ে গেলো। ইমাম হোসাইনের (আঃ) সামনে যে-ই এলো এক মুহূর্তও টিকে থাকতে পারলো না। ইবনে সাদ এ অবস্থা দেখে চিৎকার করে বলে উঠে:
هَذَا ابْنُ قَتَّالِ الْعَرَبِ
‘‘তোমরা জান এ কার সন্তান? এ তারই সন্তান যে সমস্ত আরবকে নিশ্চিহ্ন করতে পারতো। এ শেরে খোদা আলীর (আঃ) সন্তান।’’(মাকতালু মোকাররম: ৩৪৬ বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৫/৫৯ মানাকিবে ইবনে শাহের অশুবঃ ৪/১১০)
وَاللهِ نَفْسُ اَبِیهِ بَیْنَ جَنْبَیْهِ
তারপর বলে : ‘‘আল্লাহর শপথ করে বলছি,তার দু’বাহুতে তার বাবার মতোই শক্তি । আজ যে তার মোকাবিলায় যাবে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী।’’ এটি কি ইবনে সা’দের পরাজয়ের প্রমাণ নয়? ত্রিশ হাজার সেনা নিয়ে যে একজন ক্লান্ত-শ্রান্ত,বয়োবৃদ্ধ,অপরিমেয় দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে পশ্চাদপসরণ করে ছুটে পালায় এটি কি তাদের পরাজয় নয়? (ইরশাদে মুফিদঃ ২৩০ বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৪/৩৯০)
তারা তলোয়ারের মুখে যেমন পরাজয় বরণ করে তেমনি ইমাম হোসাইনের (আঃ) চিন্তাধারার কাছেও তাদের হীন চিন্তাধারা পরাজিত হয়।
আশুরার দিন যুদ্ধ আরম্ভ হবার আগে ইমাম হোসাইন (আঃ) -তিনবার বক্তৃতা দান করেন। এ বক্তৃতাগুলো প্রত্যেকটি বীরত্বপূর্ণ ছিল। যাদের বক্তৃতা করার অভ্যাস আছে তারা হয়তো জানেন যে বক্তৃতার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত মানসিকতার দরকার হয়। সাধারণ অবস্থায় মানুষ একটি অসাধারণ বক্তব্য রাখতে পারে না। যে হৃদয় আঘাত পেয়েছে সে ভালো মর্সিয়া পড়তে পারে। যার হৃদয় প্রেমে ভরা সে ভালো গজল গাইতে পারে। তেমনি কেউ যদি বীরত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করতে চায় তাহলে তার অস্তিত্ব বীরের ভাবানুভবে ভরা থাকতে হবে। ইমাম হোসাইন (আঃ) আশুরার দিনে যখন বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন তখন ইবনে সা’দ চিন্তায় পড়ে গেল। সবার কানে যাতে ইমামের কথা পৌঁছায় সে জন্য ইমাম হোসাইন (আঃ) একটি উঁচু জায়গা হিসাবে উটের পিঠে উঠে দাঁড়ালেন এবং চিৎকার করে বললেন:
تَبّاً لَکُمْ اَیَّتُهَا الْجَمَاعَة وَ تَرْحاً حیْنَ اسْتَصْرَخْتُمُونَا وَالِهین فَاَصْرَخْنَاآکمْ مُوجِفِینَ
‘‘হে জনগোষ্ঠী! তোমাদের জন্য ধ্বংস এ জন্য যে,তোমরা জটিল পরিস্থিতিতে আমার সাহায্য চেয়েছ। আমি তোমাদের সাহায্যের জন্য ছুটে এসেছি। কিন্তু যে তরবারি আমার সাহায্যে পরিচালনার শপথ তোমরা নিয়েছিলে আজ আমাকে হত্যার জন্য সে তরবারি হাতে নিয়েছ।’’ (আল-লুহুফঃ ৪১ তুহফাল উকুল: ১৭৩ মানাকিবে ইবনে শাহরে অশুবঃ ৪/১১০ মাকতালু মোকাররামঃ ২৮৬/৬)
সত্যিকার অর্থে হযরত আলীর (আঃ) জ্ঞানগর্ভমূলক বাগ্মিতার পর এ ধরনের বক্তৃতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ইমাম হোসাইনের(আঃ) বক্তৃতায় যেন হযরত আলীরই (আঃ) বিচক্ষণতা। যেন সেই জ্ঞান,সেই সাহস,সেই বীরত্ব । ইমাম হোসাইন (আঃ) এ কথা তিনবার চিৎকার করে বললেন। তাতেই ইবনে সাদের মনে ভয় ঢুকে গেলো যে,এভাবে কথা বলতে দিলে এক্ষুণি তার বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে। তাই ইমাম হোসাইন (আঃ) যখন চতুর্থ বারের মত কথা বলতে যাবেন এ সময় পরাজিত মনোবৃত্তি নিয়ে কাপুরুষ ইবনে সাদ নির্দেশ দিল যে,সবাই হৈ-হুল্লোড় করে উঠবে যাতে ইমাম হোসাইনের (আঃ) কথা কেউ শুনতে না পারে। এটি কি পরাজয় নয়? এটি কি ইমাম হোসাইনের (আঃ) বিজয় নয়?
ইতিহাসে আছে, আশুরার দিন ভোর বেলায় ইমাম হোসাইন নামাজ সেরে তার সঙ্গী-সাথীদেরকে বললেন, তৈরি হয়ে যাও। মৃত্যু এ দুনিয়া থেকে ঐ দুনিয়ার পার হবার জন্য একটা সাকো বৈ কিছুই নয়। একটা কঠিন দুনিয়া থেকে তামাদেরকে একটা মর্যাদাশালী মহান জগতে পার করে দেব। এ ছিল ইমাম হোসাইনের (আঃ) বক্তব্য। এ ঘটনাটি ইমাম হোসাইন (আঃ) বর্ণনা করেননি। কারবালায় যারা উপস্থিত ছিল তারাই বর্ণনা করেছে। এমন কি ইবনে সা’দের বিশিষ্ট রিপোর্টার হেলাল ইবনে নাফেও এ ঘটনা বর্ণনা করেছে যে,আমি হোসাইন ইবনে আলীকে (আঃ) দেখে অবাক হয়ে যাই। তার শেষ মুহূর্ত যতই ঘনিয়ে আসছিলো এবং যতই তার কষ্ট অসহনীয় হয়ে উঠছিল ততই তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। যেন দীর্ঘ বিরহের পর কারো তার আপনজনের সাথে মিলনের সময় হয়েছে। আরও বলে যেঃ
لَقَدْ شَغَلَنِی نُورُ وَجْهِهِ جَمَال هَیْبَتِهِ عَنِ الْفِکْرَةِ فِی قَتْلِهِ
এমনকি যখন অভিশপ্ত শিমার ইমাম হোসাইনের শিরশ্ছেদ করছিলো তখন আমি তার চেহারায় এমন প্রসন্নতা এবং উজ্জ্বলতা দেখেছিলাম যে তাকে হত্যা করার কথা একবারে ভুলেই গিয়েছিলাম। (আল লুহুফঃ ৫৩, বিহারুল আনওয়ারঃ ৪৫/৫৭) #
সূত্র: ইমাম হোসাইনের (আ) কালজয়ী বিপ্লব: শহীদ অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ মূর্তাজা মোতাহ্হারি
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




