Showing posts with label খুলনা. Show all posts
Showing posts with label খুলনা. Show all posts

Tuesday, April 7, 2026

বড় নৌকায় আপত্তি, সুন্দরবনে গোলপাতা কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তা by ইমতিয়াজ উদ্দীন

সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণের মৌসুম ঘিরে উপকূলের নদীতীরের জনপদগুলোয় কয়েক সপ্তাহ ধরেই ছিল ব্যস্ততা। কোথাও পুরোনো নৌকা মেরামত, কোথাও নতুন পাটাতন বসানো, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ৩ মার্চ থেকে বাওয়ালিদের সুন্দরবনে ঢুকে গোলপাতা কাটার কথা ছিল। সেই আশায় প্রস্তুতিও শেষ করেছিলেন তাঁরা। তবে নৌকার মাপ নিয়ে বন বিভাগের আপত্তি ওঠায় শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় পড়েছে গোলপাতা আহরণ।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনে গোলপাতা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নৌকা সর্বোচ্চ ১৮৬ কুইন্টাল বা প্রায় ৫০০ মণ গোলপাতা বহন করতে পারবে। সে হিসাবে সর্বোচ্চ এক হাজার মণ ধারণক্ষমতার নৌকা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরিমাপ করে দেখা গেছে, গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি নেওয়া অধিকাংশ নৌকাই নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড়। এ কারণে সেসব নৌকাকে আপাতত সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

বন কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে অনেক বাওয়ালি ৫০০ মণ গোলপাতার রাজস্ব দিলেও বড় নৌকায় দেড় থেকে দুই হাজার মণ পর্যন্ত পাতা বোঝাই করে এনেছেন। এমনকি গোলপাতার নিচে লুকিয়ে সুন্দরবনের মূল্যবান গাছের গুঁড়ি কেটে আনার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতেই এবার নৌকার ধারণক্ষমতার সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩ মার্চ সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন নদীতীরে গিয়ে গোলপাতা আহরণের প্রস্তুতি নেওয়া নৌকাগুলোর পরিমাপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ফিতা দিয়ে প্রতিটি নৌকার মাপ নিয়েছি। প্রায় সব নৌকাই এক হাজার মণ ধারণক্ষমতার চেয়ে বড় পাওয়া গেছে। প্রতিটি নৌকার পরিমাপ ও ছবি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

বন বিভাগ ও বাওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরের নদী ও খালের পাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর গোলপাতা জন্মে। প্রতিবছর এই মৌসুমে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ গোলপাতা আহরণ, পরিবহন ও বিক্রির কাজে যুক্ত থাকেন।

বাওয়ালি আবদুল গনি বলেন, ‘নৌকার পেছনে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মাঝি-শ্রমিক ঠিক করা, বাজারসদাই—সব প্রস্তুতি শেষ। এখন বন বিভাগ বলছে নৌকা বড়, অনুমতি হবে না। অথচ গত বছর এই নৌকাতেই সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’

বনজীবীদের সংগঠন সুন্দরবন বাওয়ালি ফেডারেশনের সভাপতি মীর কামরুজ্জামান বলেন, প্রতিবছর সাধারণত দুই দফায় মোট ৫৬ দিনের জন্য গোলপাতা কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এবার অন্তত এক দফায় ২৮ দিনের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছিল বন বিভাগ। সেই অনুযায়ী বাওয়ালিরা নৌকা মেরামতসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন নৌকার মাপের দোহাই দিয়ে আমাদের বনে যেতে দিচ্ছে না। গত জুন মাসে এসব নৌকার পাস পারমিট বন বিভাগই নবায়ন করেছে। তখন যদি নৌকার মাপ নেওয়া হতো, তাহলে আমাদের এই বিপদে পড়তে হতো না।’

মীর কামরুজ্জামানের দাবি, প্রতিটি নৌকা প্রস্তুত করতে গড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। সব মিলিয়ে বাওয়ালিদের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। এখন অনুমতি না পেলে অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

তবে বন বিভাগ বলছে, সুন্দরবন সুরক্ষার স্বার্থেই এবার নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ‘আমরা আগেই বাওয়ালিদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলাম। প্রতিবছর নৌকা পরিমাপের জন্য তাঁদের আমাদের কার্যালয়ে আসতে হতো। এবার আমরা কর্মকর্তাদেরই নদীতীরে পাঠিয়েছি, যাতে বাওয়ালিদের বাড়তি খরচ না হয়। এখন থেকে সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়মের বাইরে কিছুই করা হবে না।’

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় সুন্দরবন থেকে কাঠ, মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধুসহ ১২টি খাত থেকে রাজস্ব আহরণ করা হতো। ১৯৮৯ সালে আইন করে গেওয়া ও গরান ছাড়া সব ধরনের গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। পরে ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালের আইলার পর গেওয়া ও গরান আহরণও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে সুন্দরবন থেকে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু ও পর্যটন খাত থেকেই রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।

বন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের ওপর চাপ কমাতে চাই। সম্পদ আহরণ ধীরে ধীরে সীমিত করতে চাই। এক হাজার মণ ধারণক্ষমতার বেশি নৌকা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি একটি সাহসী পদক্ষেপ। আগে অনেক সময় রাজনৈতিক চাপের কারণে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ত। এবারও তেমন কিছু হয় কি না, সেই আশঙ্কা আছে।’

পরিবেশবাদীরাও সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিয়েছেন। নাগরিক সংগঠন ‘উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন’-এর সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বনজীবীদের বনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে এবং তাঁদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। গুটিকয় বাওয়ালির স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় সম্পদ সুন্দরবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না।

সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ বলেন, প্রথমে বন বিভাগ এ বছর গোলপাতা আহরণ বন্ধ রাখার কথা ভেবেছিল। পরে বাওয়ালিদের অনুরোধে ৩ মার্চ থেকে ২৮ দিনের জন্য অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শর্ত ছিল—নৌকার নির্ধারিত মাপ অবশ্যই মানতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ নৌকাই নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড়। তাই আপত্তি জানানো হয়েছে। অতীতে কী হয়েছে, সেটি বড় বিষয় নয়, এখন থেকে নিয়ম মেনে চললে একটি সিস্টেম দাঁড়িয়ে যাবে।

সুন্দরবনে গোলপাতা কাটার প্রস্তুতিতে মেরামত করা নৌকা। তবে এসব নৌকা নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় হওয়ায় সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না বন বিভাগ। সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার কয়রা নদীর চরে
সুন্দরবনে গোলপাতা কাটার প্রস্তুতিতে মেরামত করা নৌকা। তবে এসব নৌকা নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় হওয়ায় সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না বন বিভাগ। সম্প্রতি সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার কয়রা নদীর চরে। ছবি : প্রথম আলো

Wednesday, February 18, 2026

বিএনপির ‘দুর্গ’ খুলনা-২ আসনে ‘হেভিওয়েট’ মঞ্জুর পরাজয়ের নেপথ্যে by উত্তম মণ্ডল

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে এবার ব্যতিক্রমী ফল হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো খুলনা নগরের কোনো আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-২ ও খুলনা-৬ আসনে জয় পায় জামায়াত। খুলনা-৬ আসনে জয় নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা থাকলেও খুলনা-২ আসনের ফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সংগঠক ও মাঠের নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, যিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। ভোটের আগে অনেক বিশ্লেষণেই মঞ্জুর জয়ের সম্ভাবনা দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

ইতিহাস বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে এ আসনে দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থানে ছিল বিএনপির। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ২০০১ সালে জয় পান বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালে জোটের ভরাডুবির মধ্যেও এ আসনে জয় পান নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ১৯৯৬ সালের পর জামায়াত এ আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি। সেবার জামায়াতের আনসার উদ্দীন ৮ হাজার ৪২৬ ভোট পান।

বিএনপির অন্তত ২০ জন স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট কম পড়া, দলীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপির পরাজয়ের বড় কারণ।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলার সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন, এ আসনে তুলনামূলক কম ভোট পড়েছে, যা বিএনপির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোটের সমন্বয়ও এখানে হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। ঘরে ঘরে যোগাযোগ, নারী ভোটারদের কেন্দ্রে আনা এবং দলীয় কোন্দল না থাকা—এসব বিষয় তাঁদের পক্ষে কাজ করেছে।

নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে জড়িত জামায়াতের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসনটি আমাদের কাছে নিশ্চিত ছিল না। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের মাথায় ছিল। আমরা নির্বাচনের জন্য প্রচুর কাজ করেছি, ঘরে ঘরে গিয়েছি।’

অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মতে, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন, কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং মাঠপর্যায়ে দুর্বল প্রচারণা পরাজয়ের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে না পারা এবং নারী ভোটারদের সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রে আনতে না পারা বড় দুর্বলতা ছিল।

নগরের বাগমারা এলাকার বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী বলেন, ‘আমাদের দেওয়া ভোটার স্লিপ সবার বাসায় পৌঁছেনি। বিএনপির নির্বাচনী প্রচার বাজার ও মূল সড়কে সীমাবদ্ধ ছিল। জামায়াত নারী কর্মীদের ব্যাপক কাজে লাগিয়েছে, আমরা সেভাবে পারিনি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে বর্তমান নেতা-কর্মীদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। মহানগর বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি থেকেও বাদ দেওয়া হয় মঞ্জু অনুসারীদের। দলীয় পদ হারানোর পরও রাজনীতি থেকে সরে যাননি তিনি। বিভিন্ন ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মঞ্জুকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে নগর বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতা এবং অনুসারীরা তা মেনে নিতে পারেননি।

এমনকি প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পরও দুই পক্ষ আলাদা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করে। মঞ্জুর প্রার্থিতা বাতিলের দাবিও জানান বর্তমান কমিটির নেতারা। একপর্যায়ে প্রকাশ্য বিরোধ মিটিয়ে দুই পক্ষের নেতারাই মঞ্জুর পক্ষে মাঠে নামেন। তবে ভেতরের পুরোনো কোন্দল ভেতরেই রয়ে গিয়েছিল।

ভোটের দুই দিন আগে খুলনা নগরে বিএনপির বর্তমান কমিটির এক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ধানের শীষে ভোট চাচ্ছি। তবে প্রার্থী ও তাঁর নিজের লোকদের কাছে সেভাবে মূল্যায়ন পাচ্ছি না। তিনি প্রার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি সাজিয়েছেন। ভেতরের ক্ষত আসলে পুরোটা উপশম হয়নি।’

খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো বুঝে উঠতে পারছি না এবার কেন হারলাম, হিসাব মিলছে না। আরও বিশ্লেষণ করার দরকার আছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় খুলনা–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সম্প্রতি নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণায় খুলনা–২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সম্প্রতি নগরের সোনাডাঙ্গা এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

Friday, January 30, 2026

অরণ্যের দেবী বনবিবির পূজা: পুঁথির ছন্দে বেঁচে থাকার প্রার্থনা by ইমতিয়াজ উদ্দীন

প্রকাশ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ঃ
‘বিপদে পড়িয়া বনে যে জনে ডাকে,

মা বলিয়া বনবিবি দয়ার মা তাকে

উদ্ধারিও তারে তোর আপনার গুণে...’

একটানা ছন্দে পুঁথিপাঠ চলছে। চারপাশে গোল হয়ে বসে আছেন বনজীবী নারী-পুরুষ। এটি কেবল তাঁদের কাছে পুঁথিপাঠ নয়, বিশ্বাস, ভরসা ও বেঁচে থাকার প্রার্থনা। সামনে মন্দিরের ভেতর বনবিবির থান (বেদি)। তাঁর নারীমূর্তির পাশে ভাই শাহ জঙ্গলি, গাজী আউলিয়া, শিশু দুঃখে ও বনবিবির দুই চাচা ধনাই ও মনাই। একটু দূরে দক্ষিণ রায়—বাঘের প্রতীকী মূর্তি।

বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন চরামুখা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এই দৃশ্য। সুন্দরবন উপকূলের মানুষের বিশ্বাস, বনবিবি অরণ্যের দেবী। বাঘ, কুমিরসহ সব হিংস্র প্রাণী তাঁর অনুগত। তাই প্রতিবছর মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহে কয়রার সুন্দরবনঘেঁষা গ্রামগুলোতে হয় বনবিবির পূজা ও মেলা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়রার চরামুখা গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়ে উৎসবের রং। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বনবিবির মন্দির, সামনে খোলা মাঠজুড়ে মেলার আয়োজন। মন্দিরে নারী-পুরুষের ভিড়। কেউ পুঁথিপাঠ শুনছেন, কেউ প্রসাদ নিচ্ছেন, কেউ নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন। প্রার্থনা শেষে মানুষ ঢুকছেন মেলা প্রাঙ্গণে। মন্দিরের সামনের মাঠ আর বেড়িবাঁধের পাশে দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সাজিয়েছেন পসরা—খাবার, খেলনা, মৃৎশিল্পসহ নানা পণ্যে জমজমাট বেচাকেনা।

বনবিবি মন্দিরের সভাপতি ভোলানাথ মাঝি বলেন, চরামুখা গ্রামে ১২৮৩ বঙ্গাব্দ থেকে প্রতিবছর পয়লা মাঘে বনবিবির পূজা ও মেলা হয়ে আসছে। বনবিবি সুন্দরবন উপকূলের বনজীবীদের মনে ভক্তি ও বিশ্বাসের প্রতীক। বনে গিয়ে যেন নিরাপদে ফেরা যায়, ভালো আয় হয়—এই কামনাতেই আদিকাল থেকে এই পূজা হয়।

মন্দির থেকে বেরিয়ে কথা হয় স্থানীয় বনজীবী সুভাষচন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাঘ-কুমিরসহ সব জন্তু বনবিবির কথা মানে—এইডাই আমাগের বিশ্বাস। জন্মের পর থেইকে আমরা মা বনবিবির পূজা কইরে আসটিছি। তাঁর আশীর্বাদে বিপদ কাটে।’

চরামুখা বনবিবি মেলার অন্যতম আয়োজক স্বরূপ মাঝি বলেন, একসময় এই এলাকায় বাঘের অত্যাচার ছিল। তখন তাদের বংশের পূর্বপুরুষ মধু মাঝি স্বপ্নে বনবিবির নির্দেশ পান পূজা দেওয়ার। সেই থেকেই মন্দির স্থাপন ও মেলার সূচনা। তিনি বলেন, ‘বংশপরম্পরায় আমরা এই আয়োজন করছি। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে যুগ যুগ ধরে এই উৎসব চলছে। মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করে এই দিনের জন্য।’

চরামুখা ছাড়াও কয়রার ঘড়িলাল, ১ নম্বর কয়রা, বানিয়াখালী, নয়ানীসহ সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে একই চিত্র। গ্রামবাসীরা মণ্ডপ তৈরি করে পুঁথি পাঠের মধ্য দিয়ে বনবিবিকে স্মরণ করছেন। কয়রা নদীর তীরবর্তী নয়ানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মন্দিরে চলছে বনবিবির পূজার বয়ান। পুরোহিত নীলকণ্ঠ মিস্ত্রি ছন্দে ছন্দে পড়ছেন ‘বনবিবি জহুরানামা’—বনবিবির মায়া, শিশু দুখের উদ্ধারের কাহিনি, বনজীবীদের রক্ষার আখ্যান।

মন্দিরের বাইরে দাঁড়িয়ে নয়ানী গ্রামের শিবপদ মণ্ডল বলেন, ‘আমাগের গ্রামে ১০০ বছরের বেশি সময় ধইরে এই পূজা হয়ে আসটিছে। আগে সুন্দরবনের ভেতর গিয়ে বনবিবির থান বানায়ে পূজা হুতো। কিন্তু এখন গ্রামেই আয়োজন করা হচ্ছে। শত শত মানুষ নিয়ে বনে ঢোকা এখন বড্ড ঝুঁকির কাজ।’

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সতীশচন্দ্র মিত্র তাঁর ‘যশোহর-খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে সুন্দরবন অঞ্চলে বনবিবিসহ আরও কাহিনি প্রচলিত ছিল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ তাঁর ‘সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ইতিহাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন পীর-আউলিয়ার আগমনের মধ্য দিয়েই সুন্দরবনে বনবিবি-সংক্রান্ত কাহিনির বিকাশ ঘটে। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বনজীবীদের কাছে বনবিবি হয়ে ওঠেন সুন্দরবনের রানি ও অভিভাবক।

বনবিবির মন্দিরে চলছে পুঁথি পাঠ ও প্রার্থনা। বৃহস্পতিবার খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারিতে
বনবিবির মন্দিরে চলছে পুঁথি পাঠ ও প্রার্থনা। বৃহস্পতিবার খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারিতে। ছবি: সাদ্দাম হোসেন

Monday, January 19, 2026

সুন্দরবনে ১০০ কেজি হরিণের মাংস ও ৪ হাজার মিটার ফাঁদ জব্দ

প্রকাশ ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ঃ সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি হরিণের মাংস ও প্রায় ৪ হাজার মিটার হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল সোমবার খুলনার কয়রা উপজেলার আওতাধীন সুন্দরবনের ঘোলের খাল–সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাংস ও ফাঁদ জব্দ করা হয়।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেল চারটার দিকে কোস্টগার্ডের একটি দল কয়রায় সুন্দরবনের কাগাদোবেকি টহল ফাঁড়ির ঘোলের খাল–সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ওই এলাকা থেকে ১০০ কেজি হরিণের মাংস এবং প্রায় ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

উদ্ধার করা হরিণের মাংস ও শিকারের ফাঁদ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য বন বিভাগের কাগাদোবেকি টহল ফাঁড়ির বনরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুনতাসীর ইবনে মহসিন বলেন, জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত এক বছরে সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ৮২৪ কেজি হরিণের মাংসসহ ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর সুন্দরবনের মুচির দোয়ানি এলাকা থেকে ২১ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই শিকারিকে আটক করা হয়। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্য প্রাণী হত্যা ও পাচার রোধে কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

নদী তীরে হরিণের পাল।‌ সুন্দরবনের নীলকমল এলাকায়
নদী তীরে হরিণের পাল।‌ সুন্দরবনের নীলকমল এলাকায়। ফাইল ছবি

Thursday, February 20, 2025

কুয়েটে রাজনীতি বন্ধই থাকবে একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করাসহ পাঁচ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে, বুধবার দিনভর ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রদল। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে কুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ৩টার পর অবশ্য শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যায়।
সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় পাঁচ সিদ্ধান্ত: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) গতকাল সিন্ডিকেটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও  প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
কুয়েটের প্রো-ভিসি ড. শেখ শরীফুল আলম জানান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম এ হাসেমকে সভাপতি ও সহকারী পরিচালক (ছাত্র ও কল্যাণ) শাহ মুহম্মদ আজমত উল্লাহকে সদস্য সচিব এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ ও প্রফেসর ড. আবু জাকির মোর্শেদকে সদস্য করে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এ ছাড়া অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- একা?ডে?মিক কার্যক্রম ২৮শে ফেব্রুয়া?রি পর্যন্ত স্থ?গিত, আহতদের সকল চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারীদের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধাদেশ বহাল রাখা। যদি কেউ এ আদেশ অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বহিরাগতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সকাল থেকেই অনেক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেন। ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে যারা ভাড়া রয়েছেন, তাদের ভেতর ভয় এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা রয়েছেন উদ্বিগ্ন।

কুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ঘিরে মঙ্গলবার ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের অধিকাংশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহতদের কুয়েটের মেডিকেল সেন্টারসহ আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে।
এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তবে থানায় মামলা হয়নি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (নর্থ) মো. নাজমুল হাসান রাজীব বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গতরাতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা: এদিকে মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর দুপর দেড়টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা কুয়েটের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মঙ্গলবার রাত থেকে ভিসি প্রফেসর ড. মাছুদ মেডিকেল সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। অসুস্থ থাকার কারণে তিনি সেখানে অবস্থান করার কথা জানালেও ছাত্ররা সারা রাত তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  তবে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার পর শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যান।

ছাত্রদল দায়ী করলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শিবিরকে: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুপ্ত কর্মী এবং ক্যাম্পাসে রয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মীদের দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। সেইসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে শুধুমাত্র ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ রাজনীতি করতে পারবে, আর অন্য কোনো সংগঠন করতে পারবে না- এটা তো হতে পারে না’। কুয়েটে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার দুপুরে ছাত্রদল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মধ্যদিয়ে নতুন একটি বাংলাদেশে আমরা পদার্পন করেছি। সেই বাংলাদেশে যদি আমরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বলি ছাত্র রাজনীতি থাকবে না। বিগত জুলাই-আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন না আনলে রাজনীতি করাটা কঠিন হবে। ছাত্রদল শুরু থেকেই ইতিবাচক রাজনীতি করে আসছে। সংকটটা তখনই প্রকট হবে, যদি আপনি জুলাই-আগস্টের স্পিরিটের সঙ্গে না যান। ছাত্রদল সবসময় জুলাই-আগস্টের স্পিরিটকে ধারণ করে প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি করতে চায়। আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চাই। যেখানে সব দলের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে। ছাত্রলীগের মতো একটি দলই রাজনীতি করবে বাকিদের যদি রাজনীতি করতে না দেন তাহলে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সেই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম বলেন, কুয়েটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটি রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করে আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা কুয়েটে নিজেদের কার্যক্রম চালু রেখে কোন মুখে দাবি করে যে তারা এখানে ছাত্র রাজনীতি চালু করতে দেবে না। কুয়েটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্যাডে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত ৭৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি প্রকাশিত হয়েছে। সেই কমিটি স্পষ্ট প্রকাশ পায় যে সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ছাত্রদলের ছেলেরা হেঁটে যাচ্ছে, অপরদিকে ওরা মিছিল নিয়ে আসছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ওমর ফারুক দেখিয়ে দিচ্ছে ছাত্রদলের ছেলেরা যাচ্ছে এবং তার উস্কানিতে ছাত্রদলের ছেলেদের তারা ধরেছে এবং পরবর্তী প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ছাত্রলীগের মতো যারা আচরণ করবে, তাদের পরিণতিও ছাত্রলীগের মতো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া বলেন, মঙ্গলবার বিকালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)- এ একটি চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এখানে সরজমিন তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে এসেছি। আমরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এসব ন্যক্কারজনক হামলাতে ও এসবের উস্কানিতে জড়িত যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক তাদের সকলকে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অনলাইনে ও অফলাইনে নিরন্তর অপপ্রচারের মাধ্যমে সত্য ঘটনাকে চাপা দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নামে যে মিথ্যা অপবাদ চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তার জবাবে বাস্তব প্রেক্ষাপটে আমাদের সংগঠনের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও আমরা এখানে তদন্তের দায়ভার নিয়ে এসেছি এবং মোটাদাগে একটি প্রতিবেদন আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে জমা দেবো, কিন্তু তারপরেও প্রশাসন কর্তৃক আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত এসব ঘটনার পুরো সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ওঈঈচজ)-এর ধারা নং ১৯, ২১ ও ২২ অনুসারে রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হয়ে বাকস্বাধীনতার চর্চা ও সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করা সকল শিক্ষার্থীর স্বীকৃত অধিকার। তা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতার কারণে বর্তমানে ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের চর্চা যখন অসম্ভব, তখন সেই ফ্যাসিবাদ ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির ধারক-বাহক গুপ্ত ও নিষিদ্ধ সংগঠন শিবির ও ছাত্রলীগ সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত ও অবৈধ উপায়ে ক্যাম্পাসসমূহে সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি করে ক্যাম্পাসসমূহে নিজেদের অঘোষিত দখলদারিত্ব জারি রাখার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, সাফি ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাহেদ হাসান, হাসানুর রহমান, শাহাদাত হোসেন, সোহেল রানা, নুরুজ্জামান চন্দন, কুয়েট শিক্ষার্থী রাহুল জাবেদ, ইফান ফয়সাল, শেখ জিলানী ও মাসুম।

mzamin

Wednesday, February 19, 2025

কুয়েটে হামলা: বহিষ্কার যুবদল নেতা

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে সময় ধারালো অস্ত্র হাতে অবস্থান নেয়া এক যুবদল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত মাহবুবুর রহমান খুলনার দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি।

মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোন অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা।

এতে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেনি,  ছাত্রদলের ওপরই হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের সাথে ঢাকা কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘শিক্ষা-মৌলবাদ—একসাথে চলে না’, ‘ছাত্রদলের ওপর হামলা কেন—প্রশাসন জবাব চাই’ এমন স্লোগান দেন বিক্ষোভ মিছিলটি টিএসসি থেকে ভিসি চত্বর ঘুরে ডাস চত্বর সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সহ সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভুঁইয়া ইমন প্রমুখ সভাপতি গনেষ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে যে ঐক্য হয়েছে আমরা চাই তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। গেটরুম গণরুমের মাধ্যমে জোর করে ছাত্রলীগের কায়দায় কোনো শিক্ষার্থীদের উপর আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাই না। অথচ খুলনায় অতর্কিত ভাবে আমাদের উপরই হামলা হয়েছে
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন শাওন বলেন পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর  আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

mzamin

Friday, November 29, 2024

‘বাঁইচে থাকা যে কত কষ্টের, তা আমার মতোন আর কেউ বুঝবে না’ by ইমতিয়াজ উদ্দীন

চার বছর ধরে রাস্তার পাশে খাস জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে শিশুসন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামের স্বপ্না বেগম। নিচু দোচালা ঘরটির গা ঘেঁষে বয়ে গেছে একটি খাল। ভাঙাচোরা ঘরটির আসবাব বলতে তেমন কিছু নেই। কয়েকটি কাঁথা ও বালিশই সম্বল। ঘরটির মধ্যেই চলে রান্না ও ঘুম। মাটিতে কাঁথা-কাপড় বিছিয়ে কোনোরকমে রাত কাটান তাঁরা। স্বপ্নার স্বামী আবদুর রউফ গাজী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এখানে আর তাঁদের খোঁজ নিতেও আসেন না।

গত বুধবার দুপুরে প্রচণ্ড রোদে খালের পাড় থেকে কাদামাটি তুলে ঘরের ভিত ঠিক করছিলেন স্বপ্না বেগম (৪২)। এ কাজে তাঁর সহযোগী ৯ বছরের মেয়ে মরিয়ম। নিচু ঘরটির মেঝেতে তখন থালায় ভাত নিয়ে বসে ছিলেন ছোট দুই ছেলে সাত বছরের আরিফুল ও পাঁচ বছরের রকিবুল। ঘরের সামনে অচেনা মানুষ দেখে এগিয়ে আসেন স্বপ্না বেগম। এ প্রতিনিধিকে জানান, তাঁর বড় ছেলে মেহেদী হাসানের (১৪) সামান্য রোজগারে সন্তানদের নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। কোনো দিন অর্ধাহারে, কোনো দিন থাকতে হয় অনাহারে।

জীবনের গল্প শোনাতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্বপ্না বেগম বলেন, ‘নিজির গতর খাটায়ে চার ছাওয়াল-মাইয়ের খাবার জোগাড় করতি হয়েছে। কখনো রাস্তার কাজে, কখনো মানুষির বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, আবার কখনো গাঙে জাল টানতি হয়। শরিলি আর কুলাই ওঠে না। অসুখবিসুখ লাইগেই আছে। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতি পারি না। বড় ছেলেটারে নদীতে পাঠাইছি। কয়দিন ধরে তার সামান্য রোজগারেই নুন-ভাত জোটে। বাঁইচে থাকা যে কত কষ্টের, তা আমার মতোন আর কেউ বুঝবে না।’

বলতে বলতে গলা ধরে আসে স্বপ্নার। মায়ের পাশে এসে দাঁড়ায় ছোট ছেলেমেয়েরা। শিশুরা অপলক তাকিয়ে আছে। আঁচলে চোখের পানি মুছে স্বপ্না বলেন, ‘একখান ঘরের জন্যি অনেকের কাছে গেছি। সবাই খালি আশ্বাস দেয়, ঘর দেয় না। চার বছর ধইরে রাস্তার পাশে পইড়ে আছি। আয়রোজগার নাই। ছোট ছাওয়াল দুটো বুঝতি চায় না। খালি এইটা-সেইটা খাইতে চায়। ভালো খাবার ছাওয়াল-মাইয়েগের কপালে নাই। মাঝেমধ্যি মনে হয়, গাঙে ডুইবে যাই। কিন্তু চার ছাওয়াল-মাইয়ের মুখির দিকি তাকায়ে তা করতি পারিনে।’

পাশের শাকবাড়িয়া নদী পার হলেই সুন্দরবন। সেখানে অন্যের ডিঙি নৌকায় করে মাছ ধরতে যান স্বপ্না বেগমের বড় ছেলে মেহেদী। যে বয়সে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, সে বয়সে মায়ের অসুস্থতার কারণে সব দায়িত্ব পড়েছে তার কাঁধে। নদীর পাড়েই দেখা হয় কিশোর মেহেদীর সঙ্গে। মেহেদী বলে, ‘খুব ভোরে গাঙে আসি। মানুষের সাথে ডিঙি নৌকায় বাদার খালে মাছ-কাঁকড়া ধইরে কোনো দিন দুই শ, কোনো দিন তিন শ টাকা পাই। যেদিন কেউ নৌকায় না নেয়, সেদিন নদীতে জাল টেনে বাগদা চিংড়ির রেণু ধরি। কামাই (রোজগার) একটু কম হয়। সেদিনটা অনেক কষ্টে যায় আমাগের।’

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ছোটবেলায় মা মারা যান স্বপ্নার। তারপর বাবা আরেকটি বিয়ে করলে স্বপ্নার ঠাঁই হয় নানাবাড়িতে। সেখানেই বেড়ে ওঠেন স্বপ্না। ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় আবদুর রউফের সঙ্গে। সন্তানদের জন্মের পর নানাবাড়ি থেকে চলে এসে রাস্তার পাশে ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। স্বপ্নার স্বামী রউফ গাজী আরেকটি বিয়ে করে চলে যান। সেই থেকে সন্তানদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবন যাপন করছেন স্বপ্না।

স্বপ্নার প্রতিবেশী আমেনা খাতুন বলেন, ‘ছোট বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে স্বপ্নার কষ্ট দেখতি না পাইরে মাঝেমধ্যি চাল-ডাল যা পারি, দেই। দুর্মূল্যের বাজারে গ্রামের সব মানষির টানাটানির মধ্যি দিন কাটাতি হয়। এর মধ্যি মন চালিও সব সময় সহযোগিতা করতি পারিনে।’

স্বপ্নার ঝুপড়ি ঘরে থাকার মতো অবস্থা নেই বলে জানান জোড়শিং গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন। তিনি আরও বলেন, স্বপ্নার বাচ্চারা বাড়িতে না খেয়ে থাকলেও খবর নেওয়ার কেউ নেই। সরকারি কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাঁকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিলে ভালো হতো। ছেলে–মেয়েরা পড়াশোনার নিশ্চয়তা পেত।

স্থানীয় দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, পরিবারটির খাওয়ার কষ্টের সঙ্গে বড় সমস্যা ঘরের। তাঁদের থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। অন্যান্য সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এবার ভিজিডির একটি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তিন সন্তানের সঙ্গে মা স্বপ্না বেগম। বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামে
তিন সন্তানের সঙ্গে মা স্বপ্না বেগম। বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার জোড়শিং গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, October 31, 2024

ভাঙাড়ি বিক্রেতা থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক by রাশিদুল ইসলাম

দেলোয়ার হোসেন দেলো। খুলনার অলিগলিতে ঘুরে একসময় ভাঙাড়ি কিনে বিক্রি করতেন। এরপর ছিলেন নতুন বাজারে মাছের আড়তে ক্লিনার। শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি শেখ জুয়েল ও শেখ সোহেলের আশীর্বাদে শূন্য থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তার রয়েছে মাছের কোম্পানি, পণ্যবাহী জাহাজ, একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পত্তি। কী- না করেছেন তিনি- কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট, জমি দখল, সুন্দরবনের ডাকাতদল নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার মাফিয়া ডন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এসব অবৈধ আয়ের বড় অংশ শেখ বাড়িতে চলে যেত। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কিছুদিন আগে খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ জুয়েলকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটা বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। গত ৫ই আগস্ট খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে প্রকাশ্যে শর্টগান দিয়ে গুলি করে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মামলা হয়েছে।

কে এই দেলো: ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষের সময় কাজের সন্ধানে গোপালগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে খুলনায় চলে আসেন দেলোয়ার হোসেন দেলোর পিতা আবুল হাসেম। জাতীয় পার্টির আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের দোলখোলাস্থ বাড়ির সিঁড়ির রুমে আশ্রয় পান। দেলোর বাবা দিনে রিকশা চালানো এবং রাতে কাজী বাড়ির নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন। তার সাত ছেলে-মেয়ে ও নিজেরা দু’জনসহ ৯জনের সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটতো। তখন বড় ছেলে মোজাহার হোসেন মোজো বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়ি থেকে ভাত নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে। বড় বোন মরিয়ম শীতলাবাড়ীর কবিরাজ মোহন ঠাকুরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

সূত্র জানায়, পরবর্তীতে  রায়পাড়ার কাস্টম বাবুদের বাড়িতে একটি ঘরভাড়া নেন আবুল হাসেম। সেখান থেকেই হয়ে যান খুলনার স্থায়ী বাসিন্দা। এক সময় বড়বাজারে সাঈদের কাপড়ের দোকানে সামান্য বেতনে কাজ শুরু করেন আবুল হাসেমের মেজো ছেলে দেলোয়ার হোসেন দেলো। পরে তিনি ভাঙ্গারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর নতুন বাজারে মাছের আড়ৎ-এ ক্লিনার হিসেবে কাজ করেছেন কিছুদিন। সুচতুর দেলো নতুন বাজারের আড়ৎদারদের কাছ থেকে বাকিতে  মাছ নিয়ে খুচরা বিক্রি শুরু করেন। পাশাপাশি মাছ কোম্পানির গ্রেডার হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন কৌশলে আড়ৎদারদের কাছ থেকে মাছ ক্রয় করে মাছ কোম্পানিতে সরবরাহ করার মধ্য দিয়ে আর্থিকভাবে কিছুটা সচ্ছল হন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ হওয়ার সুবাদে শেখ সোহেলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শেখ বাড়ির আশীর্বাদে যেভাবে উত্থান: শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি শেখ জুয়েল ও শেখ সোহেলের আশীর্বাদে দেলো এখন মাছ কোম্পানির মালিক। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ এলাকায় তার মাছ কোম্পানির নাম রোজেলা ফিস। ২০১০ সালে চার বন্ধুর যৌথ মালিকানায় এই মাছ কোম্পানিটি চালু করেন। পরবর্তীতে শেখ পরিবারের দাপটে তিন বন্ধুকে হটিয়ে নিজেই মালিক বনে যান। মাছ ব্যবসার অন্তরালেই চলতো তার মাদক ব্যবসা। শেখ সোহেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইয়াবার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির সঙ্গে সখ্য হয় দেলোর। ফলে কক্সবাজার থেকে মাছের কার্টনে এ অঞ্চলে আনা হতো মাদক ‘ইয়াবা’র বড় চালান। সেই ইয়াবা খুলনা থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরবরাহ করতেন তার ভাই মোজাহার হোসেন মোজো। এছাড়া দেলো-মোজোর নেতৃত্বে নগরীতে চলতো ফেনসিডিল ব্যবসা। খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে থেকে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন মোজো। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করতেন দলীয় প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা ও শেখ সোহেলের দেহরক্ষী শওকত হোসেন সহ কতিপয় নেতা। এ অবৈধ আয়ের একটি অংশ পেতেন প্রশাসন থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা। দেলোর বোন মরিয়মের রয়েছে বাগমারা এলাকায় মাদক ব্যবসা।

অবৈধ আয়ের যত সম্পদ: খুলনা মহানগরীর ইসলামপুর, দোলখোলা ও রায়পাড়া এলাকা সরজমিন ঘুরে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন দেলোর বিত্তবৈভবের অজানা কাহিনী। রায়পাড়া রোডস্থ ইসলামপুর মসজিদের পাশেই বিলাসবহুল ৫তলা অট্টালিকা, একই এলাকার নবারণ সংসদের পাশেই একটি ৬তলা, রাজ্জাকের গলির মধ্যে একটি ৬তলা, একটি ৪তলা, দু’টি দু’তলা ও তিনটি জমি, রায়পাড়া মেইন রোডস্থ মেট্রোপলিটন ক্লিনিকের সামনে একবিঘার উপরে সিদ্দিক মঞ্জিলের জমি কেনা ১০ কোটি টাকা দিয়ে, মুসলমানপাড়া মেইন রোডের খোকা মোল্লা লেনে ৩ কাঠার একটি জমি ও আব্দুল গনি বিদ্যালয় লেনে ৫ কাঠার একটি জমি এবং শহরেও রয়েছে জমি ও দখল করা অসংখ্য প্লট। খুলনা শহরে তার বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে ১০ থেকে ১২টা। নগরীর ক্লে রোডে রয়েছে একটি মার্কেট। এছাড়া ডুমুরিয়া মৌজায় নামে-বেনামে ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমি রয়েছে। যেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানবাড়ী। সেখানে মাঝে-মধ্যে আয়োজন করা হয় পিকনিকের নামে মাদক সেবন ও জলসা। এককথায় দেলো খুলনা শহরের দৃশ্যমান একজন ভূমিদস্যু নামে পরিচিত। খুলনা ও ঢাকায় তার অনেকগুলো ফ্ল্যাট আছে বলেও জানা যায়। দেলোয়ার হোসেন দেলোর রয়েছে বিলাসবহুল ৭-৮টা গাড়ি। একেক সময় একেকটা গাড়ি নিয়ে তিনি মহড়া দিতেন খুলনা শহরে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কিছুদিন আগে খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি শেখ জুয়েলকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটা বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন দেলো। এ নিয়ে নগরীতে ব্যাপক আলোচনায় আসেন ওই সংসদ সদস্য।

সুন্দরবনের দস্যু ও কিশোর গ্যাং দেলোর নিয়ন্ত্রণে: সুন্দরবনের বাওয়ালী ও জেলেদের অভিযোগ-সুন্দরবনের ৫-৬টা ডাকাতদল আছে দেলো ও তার ভাই মোজোর নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া খুলনার একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতেন তারা। এসব সন্ত্রাসীর কাছে রয়েছে অনেক অবৈধ অস্ত্র। অল্প সময়ে শেখবাড়ীর ছত্রছায়ায় দেলো হয়ে ওঠেন খুলনায় এক মূর্তিমান আতঙ্ক।
প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রর্দশন: সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৪ই আগস্ট জামায়াতের শীর্ষ নেতা প্রয়াত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নগরীর বসুপাড়ায় তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা চত্বরে কবর দেওয়ার অসিয়ত ছিল। কিন্তু সেখানে কবর না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ক্যাডারদের সঙ্গে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এই দেলো। তিনি প্রকাশ্যে শর্টগান ও একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ১৪ই আগস্ট ২০২৩ রাতে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রতিষ্ঠিত দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যুর সঙ্গেও এই দেলো জড়িত আছেন বলে প্রচার আছে। এ ছাড়া গত ৮ই জুলাই  খুলনা ২৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দেলোয়ার হোসেন দেলোর নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ৪ঠা আগস্ট খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে প্রকাশ্যে শর্টগান দিয়ে গুলি করেছিলেন দেলো। কয়েকজন ছাত্র সেদিন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপি অফিস ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ৫ই আগস্টের পর দেলো-মোজোসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।

অভিযোগ সম্পর্কে যা বলেন দেলো: অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দোলোয়ার হোসেন দেলো বলেন, চল্লিশ বছর ব্যবসা করে আমি এ পর্যন্ত এসেছি। ব্যবসার স্বার্থে শেখ পরিবারের অনেকের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল, তবে অবৈধ কিছু করিনি। আমার কোম্পানি ১০০ কোটি টাকার মাছ রপ্তানি করে। অর্থনীতিতে আমার বড় অবদান আছে। অস্ত্র প্রদর্শন ও আল্লামা সাঈদীর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দেয়া হয়েছে।

mzamin

Wednesday, October 23, 2024

সুন্দরবনে ১১ শাবকসহ বাঘের সংখ্যা বেড়ে এখন ১২৫

পাঁচ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১টি বেড়ে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে ৫৯ শতাংশ অর্থাৎ অন্তত ৭৩টি বাঘের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন অংশে। ২১টি বাঘ শাবকের ছবিও মিলেছে ক্যামেরায়। চলতি মাসের ৮ই অক্টোবর প্রকাশিত বাঘ গণনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবার সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু হয়। ৬০৫টি গ্রিডে এক হাজার ২১০টি ক্যামেরায় ৩১৮ দিন পর্যবেক্ষণ শেষে ২০২৪ সালের মার্চে বাঘ গণনা শেষ হয়। ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি পরীক্ষা করে ১২৫টি বাঘ পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৫ সালের গণনায় ১০৬টি বাঘ এবং ২০১৮ সালের গণনায় ১১৪টি বাঘের খোঁজ পাওয়া যায়। সে হিসেবে ৩ বছরে ৮টি এবং পরের ৫ বছরে ১১টি বাঘ বেড়েছে। এবার মা বাঘের সঙ্গে ২১টি শাবকের ছবি ধরা পড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের গণনায় পাঁচটি বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া যায়। তবে শাবকের মৃত্যুর হার বেশি বলে বরাবরের মতোই এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাঘ শাবকের মৃত্যুর হার বেশি এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে দুই বছর ধরে চলা বাঘ গণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ বিশ্ব বাঘ দিবসে (৩০শে জুন) ঘোষণার কথা থাকলেও দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে এবারের ফলাফল দেরিতে ঘোষণা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, সুন্দরবনকে তিনটি ব্লকে ভাগ করে বাঘ গণনার কার্যক্রম চালানো হয়। ব্লকগুলো হচ্ছে শরণখোলা-চাঁদপাই, খুলনা ও সাতক্ষীরা ব্লক। এরমধ্যে শরণখোলা রেঞ্জ ও চাঁদপাই এলাকার বনে ৫০টি বাঘ পাওয়া যায়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে এক বাঘিনীর সঙ্গে চারটি শাবক দেখা গেছে। বর্তমান বিশ্বে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বাঘ। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কয়েকটি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করীম বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার হরিণসহ অন্য খাবার ও বাঘের আবাসস্থল অনুকূলে থাকায় এখানে বাঘ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’

mzamin

Saturday, September 28, 2024

গণহত্যাকারীদের রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই: ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামীলীগকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, গণহত্যাকারীদের জনগণের ময়দানে রাজনীতি করার কোন অধিকার নেই। কেননা রাজনীতি করতে হবে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে, বাইরের কারও সাহায্য নিয়ে নয়। রাজনৈতিক দলসহ সকল পর্যায়ের স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে সম্মানের সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিদায় নিতে হবে। কেননা বছরের পর বছর দেরি করলে আগাছা জন্ম নিতে পারে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হতে পারে।

শুক্রবার সকালে নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটিতে খুলনা মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে রুকন সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

শিক্ষা সংস্কার কমিশনে আল্লাহকে স্বীকার করেন না এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমীর বলেন, শিক্ষা সংস্কার কমিশনে কমপক্ষে একজন আলিয়া ও একজন কওমী নেসাবের আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন চৌকস সেনা সদস্য হত্যাসহ দেশের সকল হত্যাকাণ্ড এবং এর মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা’ না হলে আবারো জালিমদের আগমন হতে পারে, তৃতীয় শক্তির উদ্ভব হতে পারে।
রুকন সম্মেলনে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিগত পনেরো বছরের আওয়ামী শাসনামলে রাষ্ট্রের কোন নাগরিকই লুটপাট ও জুলুমের বাইরে ছিল না। হাজারো মানুষের, মা-বোনদের, শিশুর কান্নার রোল আল্লাহর আরশে পৌঁছে গেছে। যার ফলেই জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের চিত্র তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, বিডিআর হত্যার মধ্যদিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রথম ধাপ শুরু হয়। এরপর জামায়াতের ওপর স্টিম রোলার চালানো হয়। পর্যায়ক্রমে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দিয়ে অথবা কারাগারে রেখে হত্যার মধ্যদিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। যারা সারাজীবন ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেই ইসলাম অবমাননার কথিত অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যেই জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা গ্রেফতার হতে শুরু করেছে। বর্তমান সরকার ওইসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় এনে একটি বিচারিক কার্যক্রমের সূচনা করবে বলেও তিনি আশা করেন।

সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তৃতা করেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। দারসুল কুরআন পেশ করেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন, মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ও জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান।

mzamin


Saturday, September 7, 2024

পিওন থেকে ১০ জাহাজের মালিক খুলনার তুহিন ঠাকুর by রাশিদুল ইসলাম

শাহ আলম ঠাকুর তুহিন। নামে ঠাকুর হলেও তার পেশাক-আশাকের কারণে খুলনার অনেকেই তাকে দরবেশ বলে ডাকেন। এক সময় ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক শ্রমিক ইউনিয়নের পিওন। মাত্র দেড় যুগের মধ্যে রূপকথার মতো হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। দেশি ও আর্ন্তজাতিক রুটে চলে তার ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ। ঢাকা, খুলনা ও ফরিদপুরের নগরকান্দায় রয়েছে আলীশান বাড়ি। তার এই সবকিছুর শক্তি যুগিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ইদ্দিন, শেখ জুয়েল ও শেখ সোহেল। শুধু তাই না, নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মোংলা বন্দর এলাকা দাপিয়ে বেড়াতেন। শেখ পরিবারের আশির্বাদ নিয়ে বিনা ভোটে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাষ্ট্রি ও জাহাজ মালিকদের সংগঠন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের পরিচালক হন। তিনি ছিলেন মোংলা বন্দরের অঘোষিত ডন। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন এই ধনকুবের।

কে এই তুহিন ঠাকুর: অনুসন্ধানে জানা যায়, তুহিন ঠাকুরের বাবা ঠাকুর আবুল বাশার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইন গ্রাম থেকে মোংলায় আসেন। তিনি ছিলেন মোংলা বন্দরের ডক শ্রমিক। বাবার কারণে নব্বই দশকের শেষের দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক শ্রমিক ইউনিয়নের পিওন হিসেবে চাকরি পান। সুচতুর তুহিন চাকরির পাশাপাশি মোংলা সেনাকল্যাণ সংস্থা ও বসুন্ধরা সিমেন্ট মিলে ব্রোকারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরপর ২০০৬ সালে চাকরি ছেড়ে নৌ-পরিবহনে দালালি শুরু করেন।

যেভাবে উত্থান: ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্য খুলে যায়। এ সময়ে বাগেরহাটের সংসদ সদস্য ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন খানজাহান আলী পরিবহনের ‘এমভি তন্ময়’, শেখ হেলালের স্ত্রী রূপা চৌধুরীর মালিকানাধীন অনন্যা করপোরেশনের ‘এমভি অনন্যা-১, ‘এমভি আনমনা’ নৌ-যানে কমিশন ভিত্তিক কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তার ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের মালিকানাধীন ‘আজমীর নেভিগেশন এন্ড কোম্পানির নৌযান ‘এমভি জয়নাব বাতুল, এমভি শেখ ফারদিন ও এমভি নাজিলা মরিয়ম’-এ  কাজ করেন। তখন থেকেই শেখ পরিবারের আশির্বাদ নিয়ে মোংলা বন্দরের নৌ-পরিবহনে ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে নিতে থাকেন। শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল সার্বক্ষণিকভাবে খুলনায় না থাকার কারণে তাদের ব্যবসার তদারকির ভার পড়ে তার উপর। তখন সে নিজেকে শেখ পরিবারের লোক বলে ব্যবসায়ী সেক্টরে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। প্রথমে জাহাজ ভাড়া নিয়ে পণ্য পরিবহন করতেন। এরপর ধীরে ধীরে ১০টি পণ্যবাহী জাহাজের মালিক হন।
তুহিন ঠাকুরের মালিকানাধীন  জাহাজ: তুহিন ঠাকুরের মালিকাধীন ১০টি জাহাজ থাকলেও অনুসন্ধানে ৭টি পণ্যবাহী লাইটার ভ্যাসেল (জাহাজ)এর নাম জানা গেছে। জাহাজের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এমভি আবুল বাশার, এক হাজার টন ধারণ সম্পন্ন রয়েছে ৫টি জাহাজ। এগুলো হচ্ছে- এমভি তন্নি, এমভি তামিম, এমভি সোহাগ, এমভি সুলতানা চাঁদনী ও এমভি সুমি সুলতানা। সবচেয়ে বিলাসবহুল দেড় হাজার টন এমভি নগরকান্দা। এসব জাহাজগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে। এ ছাড়াও মেসার্স শিপিং লাইন্স ও মেসার্স আই এফ এস লজিস্টিকাস নামে দু’টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাট: তুহিন ঠাকুরের খুলনা মহানগরীর আজম খান কমার্স কলেজের সামনে বিলাসবহুল ‘নান্দিক আবেদীন ভিলায়’ রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, রায়পাড়া গফ্‌ফারের মোড়ে রয়েছে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, মিস্ত্রিপাড়া বাজারের কাছে রয়েছে আরও একটি বাড়ি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে রয়েছে জমি। মিরপুরে রয়েছে দু’টি ফ্ল্যাট। ফরিদপুরের নগরকান্দায় রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি। এ ছাড়া নগরকান্দায় কাইচাইন গ্রামে বিশাল এলাকা জুড়ে জমি কিনে গড়ে তুলেছেন ‘তুহিন নগর’।

যেভাবে কাজ হাতিয়ে নিতেন: বহুরূপী তুহিন ঠাকুর একসময় মোংলা বন্দরের পিওন থাকলেও শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েলের দাপটের কারণে মোংলা বন্দরে অঘোষিত ডন বনে যান। তিনি বন্দরে ঢুকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হতো। এক সময় যেসব কর্মকর্তাদের স্যার বলে স্বম্বোধন করতেন তারাই তুহিন ঠাকুরকে দেখলে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াতে বাধ্য হতেন। বন্দরের নৌ-পরিবহনের অধিকাংশ কাজ বাগিয়ে নিতো তার মালিকানাধীন মেসার্স ইস্টার্ন কেরিয়ার্স। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল ছাড়াও অপর ৩ ভাইয়ের রয়েছে আরও জাহাজ। শেখ সোহেলের মালিকানাধীন শেখ নাবিলা করপোরেশন, শেখ রুবেলের মালিকানাধীন জালাল করপোরেশন এবং শেখ বেলাল উদ্দিন বাবুর মালিকানাধীন অহনা করপোরেশনের পণ্যবাহী জাহাজ দেখাশুনা করতেন এই তুহিন ঠাকুর। অভিযোগ রয়েছে শেখ পরিবার ও তুহিন ঠাকুরের জাহাজে পণ্য সরবরাহের পর অন্যান্য মালিকরা পণ্য সরবরাহের কাজ পেতেন। ফলে অনেক ব্যবসায়ীর নৌযানগুলো দিনের পর দিন অলস পড়ে থাকতো। শেখ পরিবারের দাপটে অনেকেই নিজের ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন।

সিটি মেয়রের ব্যবসায়িক পার্টনার: জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের ‘বিটুমিন’ এর পদ্মার এপারে একমাত্র পরিবেশক তুহিন ঠাকুর। এ কারণে তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। ফলে মেয়রকে দিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারদের বাধ্য করতেন তার ‘বিটুমিন’ কেনার জন্য। এ থেকে বড় অংকের কমিশন পেতেন সাবেক এই মেয়র।
তুহিন ঠাকুরের প্রভাব বিস্তার ও অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যাবসায়ী বলেন, তুহিন ঠাকুরের জোরজবরদস্তি করে কাজ বাগিয়ে নেয়ার প্রতিবাদ করলে অনেকেই নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন। একাধিক নৌ-পরিবহনের মালিক অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদান করেতো তুহিন ঠাকুর।

অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকারক ও মোংলা বন্দরের কর্মকর্তাদের হুংকার দিয়ে বলতেন ‘এমপি হেলাল সাহেব ও এমপি জুয়েল সাহেবের নির্দেশে আমি এসেছি, ‘দেশ চলে এখন তাদের কথায়’। ‘আর তাদের কথার বাইরে মোংলা বন্দরের পানিও নড়বে না’। তার এ দাপটের কারণে বন্দরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা ছিলেন অসহায়। তাছাড়া ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত বিভাগীয় নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইদের নিয়ন্ত্রণে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন সাবেক এমপি শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ২০১৭ সাল থেকে সরকার পতনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন তার ভাই শেখ সোহেল। কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন তার আরেক ভাই শেখ রুবেল। তারা সবাই প্রভাব খাটিয়ে ভোট ছাড়াই এ পদ দখল করেন।
শুধু তুহিন ঠাকুরই নয়, খুলনায় শেখ পরিবারের আশির্বাদপুষ্ট ডজন খানেক ব্যক্তি শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। তারা অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এদের বিরুদ্ধেও রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহ আলম ঠাকুর তুহিন প্রথমে বলেন, মোংলা বন্দরে আমার কোনো ব্যবসা নেই, কোনো জাহাজও নেই। পরে তিনি স্বীকার করেন তার দু’টি ভেসেল জাহাজ, স্ত্রীর নামে একটি জাহাজ, মেয়ের নামে একটি ও ছেলের নামে একটি জাহাজ রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ পরিবারের সঙ্গে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যে সম্পর্ক রয়েছে আমার সঙ্গে একইভাবে সম্পর্ক। আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে এ অবস্থায় এসেছি।

Sunday, September 8, 2019

সুন্দরী জুঁইয়ের প্রতারণার ফাঁদ

খুলনায় ফারহানা নাসরিন জুঁই নামে এক সুন্দরী তরুণীর প্রতারণায় আপন ভাই ও দুই স্বামী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সহোদর ও দুই স্বামীর ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে খুলনার আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনায় পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৩রা সেপ্টেম্বর খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নালিশি মামলার আমলি আদালতে (দৌলতপুর থানা) মামলাটি দায়ের করেন ওই যুবতীর বড় ভাই মোস্তফা ফয়সাল। তিনি নগরীর গোয়ালখালী মেইন রোড এলাকার এসএম বাবর আলীর ছেলে। এছাড়াও মামলায় একাধিক পুরুষের সঙ্গে জুই’র অনৈতিক সম্পর্কের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আদালতের সূত্র জানান, বাদীপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মালেক আদালতে মামলাটি দাখিল করেছেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলাম মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৫ই অক্টোবর মামলার পরবর্তী দিন ধার্যসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন। এজাহারে বাদী মোস্তফা ফয়সাল উল্লেখ করেন, তিনি ২০১২ সালে সরকারিভাবে চাকরি পেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান। যাওয়ার প্রাক্কালে তার বোন ফারহানা নাসনির জুই বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ তার নামে প্রেরণ করতে বিভিন্নভাবে ফয়সালকে উদ্বুদ্ধ করেন। এমনকি বলেন, ‘বাবা ও মায়ের নামে টাকা পাঠালে তারা সব টাকা খরচ করে ফেলবে, দেশে ফিরে কিছুই পাবে না’। এ ধরনের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংক দৌলতপুর শাখায় জুই’র নিজস্ব ব্যাংক হিসেবে ৬০ লাখ টাকা পাঠান। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি জুই’র কাছে নিজের প্রেরিত টাকা ফেরত চান। কিন্তু সে আজকাল করে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আলোচনা হলেও নানা অজুহাতে সে সময় ক্ষেপণ করে। সর্বশেষ গত ৩১শে আগস্ট টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সে রাখেনি। উপরন্তু ওইদিন সে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে।

বাদী আরও উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড প্রবাসী জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ফারহানা নাসরিন জুই’র প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জমি কেনার কথা বলে জুই তার কাছ থেকে তিন দফায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এরই মধ্যে সে মো. ইমরান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী জিয়াউর রহমান আয়ারল্যান্ডেই স্ট্রোকে মারা যান। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১১ই অক্টোবর ঢাকার ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে জুই। বিয়ের পর তার কাছ থেকে বিভিন্ন মালামাল ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ৮৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। আর্থিক বিষয় নিয়ে এক পর্যায়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিপুল অংকের এ অর্থ-সম্পদ স্থায়ীভাবে আত্মসাতের উদ্দেশে জুই স্বামী হুমায়ুন কবিরের সাক্ষর জাল করে ২০০৮ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি একটি ভুয়া খোলা তালাকনামা তৈরি করে। ওই ঘটনায় স্বামী হুমায়ুন কবির স্ত্রী ফারহানা নাসরিন জুইসহ কয়েকজনকে আসামি করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় জুইসহ আসামিরা এক মাস কারাবাস করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া জুই তার স্বামী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধেও যৌতুক ও নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা এবং হুমায়ুন কবিরও তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।

বাদী মোস্তফা ফয়সাল অভিযোগ করেন, তার এবং দুই ভগ্নিপতির বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হয়নি জুই। সে জহিরুল ইসলাম জনি, সাইফুল ইসলাম সাকিল, সায়মন ও মোস্তাফিজসহ আরো একাধিক পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় সে তাদের বাসায় ডেকে আনে। এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারণে সে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা তো ফেরত দিচ্ছে না। উপরন্তু বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে তার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে বরগুনার মিন্নির মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

Wednesday, September 4, 2019

হাবিবকে ১১ টুকরা করার নেপথ্যে

টাকা আর নারীর কারণেই খুন করে টুকরো টুকরো করে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল। খুনি আর ভিকটিমের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল জেলখানায়। পরে ভিকটিম কারামুক্ত হয়ে এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে। কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ওই পরস্ত্রীকে নিয়ে ঘুরেও বেড়ায় ভিকটিম। এরপর কারামুক্ত হয়ে আসামিরা খুলনার আদালত চত্বরে বসেই পরস্পর যোগসাজশে সাতক্ষীরা থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুলনায় এনে হত্যার পর লাশ ১১ টুকরো করে ফেলে দেয় একাধিক স্থানে। এভাবেই সাতক্ষীরার হাবিবুর রহমান ওরফে সবুজ (২৬) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক কাহিনী বের হয়ে আসল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে। গত ৫ই মার্চ বিকালে ডেকে এনে খুলনা মহানগরীর ফারাজীপাড়া লেনের একটি ভাড়া বাড়িতে বসে হাবিবকে হত্যা করে কয়েক টুকরো করে লাশের এক অংশ ফেলে দেয়া হয় শেরে বাংলা রোডের একটি স্থানে। বাকি অংশগুলোর মধ্যে কিছু অংশ দু’টি পলিথিনে মোড়ানো ব্যাগে ফারাজীপাড়ার দু’টি গলিতে ফেলা হয়।
কিছু অংশ রাখা হয় ওই ভাড়া বাড়ির খাটের নিচে। একাধিক স্থান থেকে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পর তাকে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতি। অর্থাৎ লাশের চোখ আর হাতের আঙুলের ছাপ নিয়ে কম্পিউটারে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বের হয়ে আসে তার সকল তথ্য। দেখা যায় তার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর থানাধীন ওমরাপাড়া এলাকায়। তার পিতা সাতক্ষীরা জজকোর্টের সামনে পান দোকান করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক শেখ আবু বকর বলেন, গত ৬ই মার্চ রাত ৯টা ২১ মিনিট থেকে ৭ই মার্চ সকাল ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত রাতের যেকোনো সময় পাঁচ আসামি খুন করে হাবিবুর রহমানকে। পরদিন এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তার লাশের টুকরোগুলো উদ্ধার করা হয় একাধিক স্থান থেকে। এ ব্যাপারে কেএমপির খুলনা থানায় একটি হত্যা মামলাও হয়। মামলার পর থেকেই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তবে, ১০ই মার্চ মামলার নথিপত্র বুঝে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করার পর থেকেই একে একে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় নিহতের মোটরসাইকেল, হেলমেট, চাবি, কেডস ও হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও দা। বেরিয়ে আসতে থাকে মামলার আসল কাহিনী।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নিহত হাবিবুর রহমানকে ওই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান ৫ই মার্চ বিকাল তিনটা ২৭ মিনিটের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল দিয়ে ফোন করে খুলনায় আনেন। ওইদিন বিকাল পাঁচটা চার মিনিটের সময় তিনি খুলনার ময়লাপোতা মোড়ে এসে পৌঁছান।

নিহত ব্যক্তি ও আসামিদের মোবাইল নেটওয়ার্ক, সিডিআর ও কান্ট্রি কোড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬ই মার্চ রাত ৯টা ২১ মিনিট থেকে পরদিন (৭ই মার্চ) সকাল ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আসামি সরদার আসাদুজ্জামান, অনুপম মহলদার, খলিলুর রহমান খলিল, আব্দুল হালিম গাজী এবং এ কে এম মোস্তফা চৌধুরী মামুন একই সঙ্গে একই স্থানে অর্থাৎ নগরীর ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ ওই সময়েই হাবিবকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করা হয়। আসামি আসাদ চারটি হত্যা মামলার আসামি এবং তার কাজই হচ্ছে ছলেবলে কোনো এক নারীকে বিয়ে করে তাকে খুন করে লাশ গুম করা। অপর আসামি অনুপম নিষিদ্ধ পার্টির সদস্য। নিষিদ্ধ পার্টি বিলুপ্ত হওয়ার পর সে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে।  সে আসাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াত। খলিলুর রহমান ওরফে খলিল বিভিন্ন নারী দিয়ে দেহ ব্যবসা করাত। হালিম গাজী সুন্দরবনের ডাকাত এবং মোস্তফা চৌধুরী মামুন মাদক ও নারী নির্যাতনসহ তিনটি মামলার আসামি। এছাড়া আসাদ, হালিম গাজী, অনুপম, মোস্তফা চৌধুরী মামুন ও খলিল একে অপরের বন্ধু। খুলনা জেলা কারাগারে বসেই তাদের পরিচয়। একইসঙ্গে সেখানে অপর একটি মামলায় নিহত হাবিবও অবস্থানকালীন তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়।

কিন্তু হাবিব আগে কারামুক্ত হলে তার সঙ্গে কথা ছিল অন্যদের জামিন করাতে সে তদবির করবে। কিন্তু সে জামিনে বের হয়ে মোস্তফা আল মামুনের দ্বিতীয় সুন্দরী স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে তিনি কুয়াকাটা, কক্সবাজারসহ বিভিন্নস্থানে ঘুরেও বেড়ায়। যেটি মামুন জেলে বসেই টের পায়। কিন্তু তারা সকলেই একদিন জামিনে বের হলে গত ৩রা মার্চ খুলনার জজকোর্টে হাজিরা দিতে আসলে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে মামুন দেখা করে বিষয়টি বলেন। এ সময় আসাদের সঙ্গে চুক্তি হয়, তাকে ৫০ হাজার টাকা দিলে হাবিবকে খুন করা হবে। আসাদ অবশ্য ৩৪ নম্বর ফারাজীপাড়া লেনের বাড়িতে যখন বাসা ভাড়া নেয় তখন সে নিজেকে আইএফআইসি ব্যাংকের সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা পরিচয় দেয়। আসাদের সঙ্গে অবশ্য আইনজীবী, প্রশাসন, রাজনীতিবিদসহ অনেকের এমন যোগাযোগ, সে কারাগারে বসেই অনেককে জামিনের ব্যবস্থা করায়। সেখান থেকেও সে আয় করে বেশকিছু অর্থ। জেলমুক্ত হওয়ার পর সে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে পাঁচ লাখ টাকা লোন করিয়ে দেয়ার নাম করে হাবিবের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেয়। তাছাড়া হাবিবের সঙ্গে সাতক্ষীরার আশাশুনি সড়কের একটি পেট্রল পাম্পের মালিকের যোগাযোগ থাকায় তাকেও আইএফআইসি ব্যাংক থেকে পাঁচ কোটি টাকা লোন করিয়ে দেয়ার নাম করে তার কাছ থেকেও দেড় লাখ টাকা নেয়া হয়। তবে কথা থাকে লোন হওয়ার পর তাকে দিতে হবে তিন লাখ টাকা। এভাবে আসাদ হাবিবের কাছ থেকে মোট সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়। আর তাকে হত্যার আগে হাবিবের ডেবিট কার্ড ও পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয় আসাদ। হত্যার পর অর্থাৎ ৭ থেকে ১০ই মার্চের মধ্যে আসাদ হাবিবের ব্যাংক হিসাব থেকে আরও দু’লাখ টাকা উঠায়। যেটি পিবিআই ওই ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ও স্থির চিত্র থেকে প্রমাণ পায়।

হাবিব হত্যার চার আসামি বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে থাকলেও মোস্তফা চৌধুরী ওরফে মামুন ভারতে অবস্থান করছেন বলেও পিবিআইর কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি মাঝে মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী খাদিজা ওরফে রূপার মোবাইলে ফোন দিয়ে তার দু’সন্তানের সঙ্গে কথা বলে এমনও প্রমাণ রয়েছে।

এভাবে হাবিব হত্যার মূল মোটিভ উদঘাটন করে এখন চার্জশিটের অপেক্ষায় আছে জানিয়ে পিবিআইর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ আবু বকর বলেন, চলতি মাসের (সেপ্টেম্বরে) যেকোনো সময়ে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হতে পারে।

Tuesday, August 20, 2019

‘স্ত্রী পরিচয়ে সহপাঠীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যেতো শিঞ্জন’

খুলনা মহানগরীর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছেলে শিঞ্জন রায় (২৫) তার সহপাঠী ওই ছাত্রী (২০) কে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে আবাসিক হোটেলে রেখেছিল। তাছাড়াও সোনাডাঙ্গাস্থ আবাসিক হোটেলসহ তাকে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া করে রেখে ধর্ষণ করতো। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হওয়াসহ নানা ধরনের আশ্বাসও দিয়েছে শিঞ্জন। এ নিয়ে ধর্ষণ মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয় শিঞ্জনকে। রোববার শিঞ্জন রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এদিকে ভিকটিম ওই ছাত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে রিলিজ করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানান গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে খুলনার কর কমিশনার প্রশান্ত কুমার রায়ের ছেলে শিঞ্জন রায় (২৫)। ওই ছাত্রী যে ভাড়া বাসায়, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন বন্ধু বান্ধবের বাসায় নিয়েও শিঞ্জন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করতো।
এরপর ওই ছাত্রী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গর্ভবতী হয়ে পড়েন। শিঞ্জন তাকে বিয়ে করবেন বলে নানাভাবে আশ্বস্তও করেছেন। এ অবস্থায় শিঞ্জন গত ১৪ই আগস্ট অন্যত্র বিয়ে করেন। ১৬ই আগস্ট নগরীর হোটেল সিটি ইনে পূর্বনির্ধারিত বৌভাত অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত ছিল।
এদিকে বিয়ের খবর ওই ছাত্রীর কানে পৌঁছালে সে শিঞ্জনের খোঁজে গত ১৫ই আগস্ট রাত ১০টার দিকে মুজগুন্নী আবাসিকের ১৬ নম্বর রোডে যান। সেখানে গিয়ে শিঞ্জন রায়ের দেখা পায়। এ সময় তার বিয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সে তাকে সেখান থেকে ইজিবাইকে জোর করে তুলে দিতে গেলে স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর থানা পুলিশের কাছে খবর গেলে তারা দু’জনকেই সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ১৫ই আগস্ট সাড়ে ১২টার ওই ছাত্রীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে হস্তান্তর করেন। এরপর রাত ৩টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই ছাত্রীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ১৬ই আগস্ট সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে শিঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন (নং-২০)।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এজাহারভুক্ত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। রোববার শুনানি শেষে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তিনি বলেন, এজাহারের বাদিনীর অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এজাহারে উল্লিখিত ভিকটিমকে ধর্ষণের স্থানসমূহের মধ্যে কয়েকটি স্থানের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে শুক্রবার সকাল থেকে গত ২৪ ঘণ্টা ওসিসিতে রাখা হয়েছিল। এসময় তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও তাকে মানসিক নিরাপত্তা দানের লক্ষ্যে কাউন্সিলিং করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তার পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে গেছে।
খুমেক হাসপাতালের ডা. শফিউজ্জামান বলেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিএনএ টেস্টের জন্যও স্যাম্পল নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

Sunday, August 4, 2019

এবার খুলনায় দু’জনের প্রাণ নিল ডেঙ্গু

খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্কুলছাত্র ও এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। রোববার সকাল ও শনিবার রাতে তারা মারা যান। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনায় এটাই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।

জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) নামে ওই স্কুলছাত্র মারা যায়।

এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১২টার দিকে মর্জিনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর শেখ জাগো নিউজকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্কুলছাত্র মঞ্জুর খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবুর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুর কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু কোনো উন্নতি না হওয়ায় শনিবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিতে বলেন। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে ফেরত দেয়া হয়। পরে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে কয়েক ব্যাগ রক্তও দেয়া হয় তার শরীরে। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সে মারা যায়।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্জিনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন। মর্জিনা বেগম খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

খুমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মর্জিনার স্বজনরা জানান, মর্জিনা বেগম লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। লিভারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি। পরে খুলনায় এসে খুমেকে চিকিৎসা নেন। শনিবার বেশ অসুস্থ হয়ে রাতে মারা যান।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আব্দুর রাজ্জাক বৃদ্ধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্কুলছাত্র ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কি-না সেটি তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

Friday, July 26, 2019

ধর্ষককে জুতার মালা দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত

ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে চারুকলার লাইব্রেরিতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র পাপ্পু কুমার এ ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনার পর ধর্ষিতা ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতন বিরোধী কমিটি পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাপ্পু বঙ্গবন্ধু পাঠক ফোরামের খুবি শাখার সভাপতি। ঘটনার পর গত ১৫ই জুলাই পাপ্পু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে ছাত্ররা তাকে মুখে কালি লাগিয়ে, গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। পাপ্পু খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩রা জুলাই খুবির চারুকলা অনুষদে চিত্রকলা প্রদর্শনী ছিল।
পাপ্পু প্রদর্শনী দেখানোর নাম করে ওই মেয়েকে ডেকে নেয়। মেয়েটি চারুকলায় যাওয়ার পর তাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে চারুকলার লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর পাপ্পু নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মেয়েটি লাইব্রেরির সিঁড়িতে কান্নাকাটি করার সময় রাত আড়াইটার দিকে দারোয়ান তাকে দেখতে পান। তখন তিনি পাপ্পুকে ডাকার ব্যবস্থা করেন। পরে ধর্ষিতার পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বরাবর পাপ্পুর শাস্তি দাবি করে আবেদন করেন।
তবে পাপ্পু ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে বলে সূত্র জানায়। খুবির ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান জানান, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতন বিরোধী কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে। খুব শিগগির পাপ্পুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Friday, May 31, 2019

খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুকের ব্যাগে ৫ লাখ টাকা

খুলনা নগরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধের ময়লা কাপড়ের ঝুলিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে কৌতুহলবশত স্থানীয় কয়েকজন যুবক খালিশপুর (পিপলস) জুট মিল গেট এলাকায় তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করলে ওই টাকা পাওয়া যায়। পরে পুলিশ টাকাসহ ওই ব্যক্তিকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের দৌলতপুর বাজার, বিএল কলেজ, খালিশপুর পিপলস গোল চত্বর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিকে দেখা যায়। কারও কাছে তিনি কখনো টাকা চান না। লোকজন এমনিতেই তাঁকে টাকা ও খাবার দিত।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁর নাম জেবাল হক বলে জানা গেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই সে খালিশপুর অঞ্চলে পথে পথে ভিক্ষা করে। বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে সে বলেছে, “লাশখানা থেকে লঞ্চে খুলনা আসছি”। বেশি টাকা হলেই সে ১০০ ও ৫০০ টাকার নোট বানিয়ে ব্যাগের মধ্যে রাখত।’
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তির কাছে ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা ছিল। এই পরিমাণ টাকা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের কাছে থাকা, যিনি রাস্তাঘাটে শুয়ে থাকেন, তা তাঁর জীবনের জন্য হুমকি। এ কারণে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। জব্দ তালিকায় টাকার ওই পরিমাণ দেখিয়ে সংরক্ষণের জন্য টাকাগুলো সরকারি কোষাগার (ট্রেজারিতে) রাখা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য ওই ব্যক্তিকে চ্যারিটি অব মাদার তেরেসা নামের একটি সংগঠনে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর টাকা তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে। তারপরের বিষয় তাঁর কাছে।’
খুলনায় মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তির ব্যাগে মিলেছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। ছবি: সংগৃহীত

Friday, April 12, 2019

খুলনায় জোড়া ইলিশ ৭০০০ টাকা

পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়ছে। একদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। এ জন্য চলছে নানা প্রস্তুতি। আর এ জন্য প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজারে। বেসামাল হয়ে উঠেছে খুলনার ইলিশ বাজার। দেড় কেজি সাইজের হিমাগারে রাখা জোড়া ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে সাত হাজার টাকা। ইলিশের সরবরাহ কম থাকার কারণ দেখিয়ে আকাশ ছোঁয়া দাম চাচ্ছে।
নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগারে রাখা প্রায় দেড় কেজি সাইজের ইলিশ আড়াই হাজার টাকা, এক কেজি সাইজের ২ হাজার টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ১২শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম সাইজের ৮০০ টাকা এবং সদ্য ধরা (টাটকা) ইলিশ ১ কেজি সাইজের ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ এক সপ্তাহ আগে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা, এক কেজি সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ৭শ’ টাকা, ৪০০ গ্রাম সাইজের ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা এবং সদ্য ধরা (টাটকা) ইলিশ ১ কেজি সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বরিশাল, ভোলা, পাথরঘাটা, চরখালী, বেকুটিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ইলিশ খুলনার চাহিদা মেটায়। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখন ইলিশের মওসুম না হওয়ায় ইলিশ ধরা পড়ছে কম। এ কারণেই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম।
নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী শাহজালাল ফিশের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘সাধারণত আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে। এখন ইলিশ ধরা মওসুম না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ অনেক কম। তিনি বলেন, বাজারে কোল্ড স্টোরে রাখা ইলিশের পরিমাণ বেশি। শাহজালাল ফিশের আরেক স্বত্বাধিকারী মো. কবির হাওলাদার একই মন্তব্য করেন। নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা মো. জামিল হোসেন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখকে পুঁজি করে ইলিশের চড়া দাম হাঁকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, টাটকা ইলিশের কথা বলে কোল্ড স্টোরে রাখা ইলিশ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।’ বাজারে আসা আরেক ক্রেতা এম এ জলিল বলেন, ‘ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।’

Monday, February 4, 2019

সুন্দরবনে হরিণ শিকারি চক্র বেপরোয়া

শীত মৌসুমে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে সংঘবদ্ধ হরিণ শিকারি চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও চোরাশিকারিরা কৌশলে নাইলনের ফাঁদ, জাল, স্প্রিং বসানো ফাঁদ, বিষটোপ, গুলি ছুড়ে, কলার মধ্যে বর্শি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা ফাঁদসহ পাতার ওপর চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে হরিণ শিকার করছে। আর এর গোশ্‌ত খুলনার দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা, বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ , মংলা, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরসহ দেশের ভিন্ন স্থানে চড়া দামে বিক্রি করছে। সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারি গভীর রাতে চড়াপুটিয়া থেকে ৩৫ কেজি ওজনের একটি জবাইকৃত হরিণ ও ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে গত এক মাসে ১২২ কেজি গোশ্‌ত, জবাইকৃত হরিণের চামড়া, মাথা ও ফাঁদ উদ্ধার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড পৃথক চারটি অভিযান চালিয়ে জবাইকৃত হরিণ, ৬৩ কেজি গোশ্‌ত, মাথা, চামড়াসহ শিকারিদের ব্যবহৃত হরিণ শিকারের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। এর আগে গত ২১ থেকে ২৩শে নভেম্বর রাসমেলা চলাকালে বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে হরিণের গোশ্‌ত, ফাঁদ, সরঞ্জাম ও নৌকাসহ ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বন আইনে মামলাও দেয়া হয়। এ সময় হরিণের মাথা ও চামড়াসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে বনবিভাগ।
এ ছাড়া ২২ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
চড়াপুটিয়ার অফিস ইনচার্জ মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ৩০শে জানুয়ারি রাতে মরাপশুরের কাগাখালে ভারানী দিয়ে টহলরত অবস্থায় একটি নৌকা, তার একটু উপরে ৩৫ কেজি ওজনের একটি জবাইকৃত হরিণ ও ২০০ হাত ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নৌকায় থাকা চাদপাই স্টেশন থেকে ১৫ই জানুয়ারি নেয়া একটি মাছের পাসসহ মংলার দক্ষিণ চাঁদপাই ইউনিয়নের হাকিম হাওলাদারের ছেলে একলাস (৩৫), ইলিয়াস (৩২) ও ইয়াসীন হাওলাদার (২৯)কে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা। এছাড়া গত ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সুন্দরবন থেকে আট কেজি হরিণের গোশ্‌তসহ একটি চামড়া ও একটি মাথা উদ্ধার করে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আবদুুল্লাহ আল-মাহমুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে হরিণের মাথা, গোশ্‌ত ও চামড়া উদ্ধার করা হয়। তবে পাচারকারিরা পালিয়ে যায়। এর আগে ১৭ই জানুয়ারি পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের তেরকাটি খাল এলাকা থেকে এলাকা থেকে ২৫ কেজি হরিণের গোশ্‌ত জব্দ করে বন বিভাগ। এ ছাড়া ৭ জানুয়ারি বনবিভাগ মংলার পশুর নদীর চিলাবাজার সংলগ্ন কানাইনগর এলাকা থেকে একটি ডিঙ্গি নৌকাসহ ৩০ কেজি হরিণের গোশ্‌ত উদ্ধার করে। অবশ্য এসব ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি বন বিভাগ।
এদিকে রাসমেলা ও পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক হরিণ শিকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। ‘সেভ দ্য সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় এবার রাস মেলায় অনেক বেশি হরিণ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ ও প্রশাসনকে হরিণ শিকার রোধে আরো বেশি কঠোর হতে হবে। বন আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি বনসংলগ্ন লোকালয়গুলোতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারেরও আহ্বান জানান তিনি।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও লোকবল সংকটের মধ্যেও হরিণ শিকারিদের অপতৎপরতা রোধ করতে বনবিভাগ সব সময় তৎপর। বনরক্ষীদের পাশাপাশি আমাদের স্মার্ট পেট্রোল দল সব সময় কাজ করছে। যাদের আমরা আটক করে আদালতে প্রেরণ করি তারা ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়। তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা গেলে এই জাতীয় অপরাধ সংঘটনের হার বহুলাংশে হ্রাস পাবে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন ভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়গুলোতে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করছি।

Thursday, January 31, 2019

পাটের লেমিনেশন ব্যাগ

পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত পাটের লেমিনেশন ব্যাগ  তৈরি করছে দেশের বৃহত্তম পাটকল খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল। এ জন্য মিলে স্থাপন করা বিশেষ ইউনিটের নাম প্রিমিয়াম লেমিনেশন প্ল্যান্ট (পিএলপি)। অন্য ইউনিটগুলোতে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে লোকসান হলেও লেমিনেশন ব্যাগে লাভের মুখ দেখেছে মিলটি। তবে সক্ষমতা অনুযায়ী অর্ডার নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পিএলপি ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করা হলেও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায় আগস্ট মাসে। এই ইউনিটে ৩০-৩৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শ্রমিক কাজ করছে। মিলের তাতে তৈরি হেশিয়ান চটের ওপর পিএলপি মেশিনের মাধ্যমে লেমিনেটিং করে পাটের লেমিনেশন ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। নতুন এই ইউনিটে উৎপাদন হচ্ছে লেমিনেটেড ব্যাগ এবং স্লাইবার ক্যানশীট নামে দু’ধরনের পণ্য।
বীজ সংরক্ষণের জন্য দুই ধরনের লেমিনেটেড ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। এর একটি ১০ কেজি ও অন্যটি ২০ কেজি ওজনের। ১০ কেজি ওজনের ব্যাগের মূল্য ৫১ টাকা এবং ২০ কেজি ওজনের ব্যাগের মূল্য ৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দু’দফায় প্রায় ৩ লাখ পিস লেমিনেশন ব্যাগ উৎপাদন করছে ইউনিটটি। প্রথম দফায় বিএডিসির কাছ থেকে দুই প্রকারের ১ লাখ ৫২ হাজার পিস পাটের লেমিনেশন ব্যাগ অর্ডার আসে। বিএডিসিকে সেই ব্যাগ প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বিএডিসি গত সপ্তাহে ১০ কেজি ওজনের ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ব্যাগের অর্ডার দিয়েছে। এসব ব্যাগ উৎপাদনে কাজ চলছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এসব পণ্য প্রদান করা হবে। শুধু ব্যাগই নয়, পিএলপি প্লান্টটিতে তৈরি হচ্ছে স্লাইভার ক্যানশীট। যা পাটকলগুলোতে সুতা রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই স্লাইবার ক্যানশীট খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলের চাহিদা পূরণ করে বাইরে বিক্রি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। ক্রিসেন্ট জুট মিলের ডেপুটি ম্যানেজার (উৎপাদন) ও পিএলপি ইউনিট ইনচার্জ গোলাম রসুল রাকিব বলেন, ইউসেফ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এখানকার শ্রমিকদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলে কাজ করানো হচ্ছে। বিএডিসিকে এই পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এই লেমিনেটেড ব্যাগে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে পারে না। পণ্যের গুণগত মান ভালো থাকে। ফলে গম, ধানের বীজ, চিনি, ফিস ফিড, পোল্ট্রি ফিড, সার, আটা-ময়দা ও কীটনাশক মোড়কে পাটের লেমিনেশন ব্যাগ খুবই উপযোগী। বিক্রি বাড়লে মিলের এই ইউনিটটি আরো বেশি লাভজনক হবে। বিএডিসির শতভাগ অর্ডার নেয়ার সক্ষমতা এই ইউনিটের রয়েছে বলে তিনি জানান। ক্রিসেন্ট জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক গাজী শাহাদাত হোসেন জানান, বিজেএমসির উৎপাদিত অন্য সব পণ্যে লোকসান হলেও এই প্লান্টটিতে উৎপাদিত লেমিনেশন ব্যাগ বিক্রি করে লাভ হচ্ছে। প্রথম দফায় কত টাকা লাভ হয়েছে তা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া বিজেএমসির পাটকলগুলোতে স্লাইভার ক্যানশীট নামে একটি পণ্যের প্রয়োজন হয়। এই স্লাইভার ক্যানশীটে সাধারণত সূতা রাখা হয়। এটাও এই প্লান্টে তৈরি করা হচ্ছে। শুধু ক্রিসেন্ট জুট মিলই নয়, খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি মিলের চাহিদা মিটিয়েও বাইরে বিক্রি করার সক্ষমতা রয়েছে। তিনি জানান, প্রথম দফায় উৎপাদিত পাটের লেমিনেশন ব্যাগ বিক্রি করে লাভ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় অর্ডার পেয়েছি। ফেরুয়ারিতে এই পণ্য বিএডিসিকে প্রদান করা হবে। তবে এই ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য বিক্রি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পণ্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। রাজধানীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিজেএমসির অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে পাটের লেমিনেশন ব্যাগ প্রদর্শন করা হচ্ছে।