Saturday, May 23, 2026

‘এ আনন্দ যেন বাবা–মায়ের জন‍্য অকল্পনীয় শান্তি’, ফেসবুকে চঞ্চল চৌধুরী

‘উৎকণ্ঠার ব‍্যাপারটা হলো, এবার শীতে আমার এসব প্রিয় এবং পছন্দের দামি জিনিসগুলোর মালিকানা বোধ হয় আর আমার থাকবে না।’ মজা করেই কথাগুলো ফেসবুকে লিখেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। কারণ, এই অভিনেতার ছেলে এখন আর ছোট নয়, দিন দিন বেড়ে উঠছে, হয়ে উঠছে বাবার মতো। চঞ্চলের পছন্দের পোশাকগুলো এখন ছেলের গায়ে একদম জুতসই।

এই অভিনেতার ছেলের নাম শৈশব রোদ্দুর শুদ্ধ। তার গায়ে একটি ব্লেজার। সেই ছবি পোস্ট করে চঞ্চল চৌধুরী মজা করে লিখেছেন, ‘যত দূর মনে পড়ে, গত শীতেও এই ব্লেজারখানার মালিকানা আমার হাতেই ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে আমার খালাতো ভাই প্রবীর নিজের শরীর থেকে খুলে আমাকে পরিয়ে দিয়ে বলেছিল, “দাদা, তোকে খুব সুন্দর মানিয়েছে। এটা তুই নিয়ে যা। আমার খুব পছন্দের ব্লেজার ছিল এটা।” এ রকম আরও কিছু কালেকশন আমার কাছে আছে। কোনোটা নিজের টাকায় কেনা, আবার কোনোটা প্রীতি উপহার।’

শুধু ব্লেজার নয়, এই অভিনেতার পছন্দের সব পোশাকই এখন ছেলের শরীরে মানানসই হয়। যে কারণে ছেলের দখলে যাচ্ছে তাঁর পোশাকগুলো। চঞ্চল লিখেছেন, ‘ছেলেটা বড় হতে হতে আমার সমস্ত পোশাকই এখন তার শরীরে খাপে খাপ সেট হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় বাবা–মায়ের সমস্ত কিছুই সন্তানের দখলে চলে যায়। এটাই মনে হয় প্রকৃতির নিয়ম।’

এভাবে পোশাক ছেলের দখলে যাওয়াটা যেকোনো মা-বাবার জন্যই শান্তির। এ ঘটনা চঞ্চল চৌধুরীকে আনন্দ দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘এ আনন্দ যেন বাবা–মায়ের জন‍্য অকল্পনীয় শান্তি। শুধুই কি সন্তানের হাতে বাবা–মায়ের বৈষয়িক অর্জনগুলো হাতবদল হলেই বাবা–মা খুশি হন, নাকি সন্তানের প্রতি আরেকটু বেশি কিছু প্রত‍্যাশা করেন, স্বপ্ন দেখেন! সবাই চায় বাবা–মায়ের আদর্শ, যোগ্যতা বা সকল ভালো অর্জনগুলোও যেন সন্তানেরা ভেতরে ধারণ করে, আগলে রাখে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।’

তবে চঞ্চল মনেপ্রাণে চান, তাঁর ছেলে যেন বিলাসী না হয়। যে কারণে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলের কাছে অনুরোধ করে লিখেছেন, ‘আর আমার ছেলে শুদ্ধর কাছে অনুরোধ, অতি বিলাসিতা আমার কখনোই পছন্দ নয়। তাই আমার সমস্ত পোশাক…বাপ–বেটা দুজনই ভাগাভাগি করেই পরি চল। আমার প্রতিটি পোশাকে আমার শরীরের যে পরিশ্রম আর সাধনার ঘাম–গন্ধ লেগে আছে, সেটাকে কখনো অবজ্ঞা করিস না, বাপ। অনেক বড় মানুষ হ।’ আরও লিখেছেন, ‘বাবা–মায়ের সকল ভালো অর্জনগুলোও নিজের জীবনে বয়ে নিয়ে সফল হও। সকল সন্তানের জন্য আশীর্বাদ ও শুভকামনা।’

ছেলের জন্মদিন চঞ্চলেরা। ছবি: ফেসবুক
ছেলের জন্মদিন চঞ্চলেরা। ছবি: ফেসবুক

পলিথিন ও বিভিন্ন পণ্যের প্লাস্টিক মোড়ক

কাঁচাবাজার থেকে আধুনিক শপিং মল—সব জায়গায়ই এখন পলিথিনের রাজত্ব চলছে। লন্ড্রি থেকে কাপড় নিলে, আধা কেজি সবজি কিনলেও হাতে আসে দুটি করে পলিথিন ব্যাগ। কারণ, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পলিথিন উৎপাদনে খরচ খুবই কম। অথচ এই অপচনশীল পলিথিনের আয়ু নাকি ৫০০ বছর পর্যন্ত! কিছুদিন আগে খবরে দেখা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ ড্রেজিং করা যাচ্ছে না, কারণ সেখানে দুই থেকে সাত মিটার পর্যন্ত পলিথিনের স্তর জমে গেছে। ফলে অত্যাধুনিক ড্রেজিং মেশিনও কাজ করতে পারছে না। শুধু কর্ণফুলী নয়, দেশের প্রায় সব নদ-নদীরই এই মরণদশা এখন বাস্তবতা।

পলিথিন ব্যাগের পাশাপাশি চিপসের মোড়ক, বিভিন্ন প্লাস্টিক বোতল, ই-বর্জ্য—সব মিলিয়ে এখন দেশের পরিবেশ গভীর সংকটে। যদিও অন্যান্য বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন, কিন্তু পলিথিন নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আইন রয়েছে, যার অধীনে এর উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ।

কিছুদিন আগে এক দেশীয় বিজ্ঞানী পাট থেকে পলিথিনের বিকল্প উপাদান উদ্ভাবন করে প্রশংসিত হয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে তা উৎপাদন ও বাজারজাত করার দাবি উঠলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো নীরব। ১৮ কোটি মানুষের এই দেশে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য। তাই বলা যায়, অন্তত পলিথিন ব্যাগের উৎপাদন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।

নূরুল আমিন, ঢাকা

https://media.prothomalo.com/prothomalo%2Fimport%2Fmedia%2F2016%2F11%2F14%2F59e134ee9e94c13fcc9435db3c14ef8f-18.jpg?rect=25%2C0%2C750%2C500&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
পলিথিন ব্যাগের পাশাপাশি চিপসের মোড়ক, বিভিন্ন প্লাস্টিক বোতল, ই-বর্জ্য—সব মিলিয়ে এখন দেশের পরিবেশ গভীর সংকটে। ফাইল ছবি