Tuesday, September 25, 2018

জাসলিনকে গর্ভবতী করেছিলেন ৬৫ বছরের অনুপ!

ভজন গায়ক অনুপ জালোটা ও তার ৩৭ বছরের ছোট প্রেমিকা জাসলিন মাথারুকে নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম নেটদুনিয়া। দু’জনে এখন বিগ বসের ঘরে। অসম প্রেমের আখ্যানের পাশাপাশি বর্ষীয়ান অনুপকে ঘিরে চলছে নানা গুঞ্জন। এরই মধ্যে সামনে এল নতুন তথ্য। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেল এক বিস্ফোরক তথ্য। অনীশা সিং নামের এক মডেল এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, অনুপের সঙ্গে জাসলিনের ঘনিষ্ঠতা নাকি গত বছরই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে গর্ভপাতও করাতে হয় বলে দাবি অনীশার। অনীশা আরও বলেন, জাসলিনের অভিযোগ ছিল, অনুপের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্যই নাকি ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কেবল এখানেই শেষ নয়, দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরেন অনীশা। তিনি বলেন, অনুপ নাকি তাকে বলেছিলেন, জাসলিন প্রতারণা করছেন। জাসলিনের নাকি ব্রিটেনের এক যুবকের সঙ্গে প্রেম রয়েছে। নিজেকে অনুপের ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ও বলেন অনীশা। এই ভাবেই নানা কথা বলে অনুপ ও জাসলিনের সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেই চলেন অনীশা। প্রসঙ্গত, অনীশা সিং শর্মা নামের ওই মডেল অনুপের বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান গায়ক তাকে ‘বিগ বস’-এ জুটি বেঁধে প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হয়েছেন।

২৩ হাজার পোস্ট-মর্টেম করেছেন যিনি

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট ডা. রিচার্ড শেফার্ড।
৯/১১ তে টুইন টাওয়ারে বোমা হামলায় নিহতদের থেকে শুরু করে ২০০৫ এর লন্ডন হামলার শিকাররা, ১৯৯৩ সালে খুন হওয়া সাড়া জাগানো স্টিফেন লরেন্স থেকে শুরু করে প্রিন্সেস ডায়ানা'র মৃতদেহ - ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনিই।
দীর্ঘদিন যাবত এই কাজ করার ফলে দেখা দিয়েছে নানা ধরণের মানসিক জটিলতা।
ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট পেশা তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যকে কতটা প্রভাবিত করেছে তা প্রকাশ করতে বিবিসি'র ভিক্টোরিয়া ডার্বিশায়ার অনুষ্ঠানকে রিচার্ড শেফার্ড বলেন, "এক জায়গায় ২০০টি টুকরো টুকরো, ক্ষতবিক্ষত প্রাণহীন দেহ আপনার মনে একটি ছাপ রেখে যায়"।
"মৃত্যুর সাথে আমি খুবই পরিচিত, গত ৩৫ বছর ধরেই মৃত্যুর সাথে আমার পরিচয় - কিন্তু এর মধ্যে এমন একটা সময় আসে যখন এটিকে দৈনন্দিন জীবন থেকে আলাদা করা সম্ভব হয় না"।
মানসিক সমস্যার সূত্রপাত
ডা. শেফার্ডে'র অনুমান অনুযায়ী তাঁর ক্যারিয়ারে ২৩ হাজারেরও বেশী পোস্ট মর্টেম করেছেন তিনি।
এর মধ্যে অনেক দেহই ছিল গত কয়েক দশকে সংঘটিত হওয়া বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হওয়া মানুষের মরদেহ।
দীর্ঘদিন এই পেশায় থাকার কারণে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগতে হয়েছে তাঁকে।
ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট হিসেবে সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থায়, তাঁর বয়স যখন ষাটের কোঠায়, এই সমস্যা শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি।
পানীয়ের গ্লাসে বরফের উপস্থিতি তাঁকে তাঁর মানসিক সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বোমা হামলায় নিহতদের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন ড. শেফার্ড। সেসময় বরফ না থাকায় মৃতদেহগুলো শীতল রাখা সম্ভব হয়নি।
সেসময় মানসিক সমস্যার সূত্রপাত হলেও ড. শেফার্ড মনে করেন এর গোড়াপত্তন হয় আরো বছর দশেক আগেই।
'উদ্ভট এবং অস্বস্তিকর'
"হাঙ্গারফোর্ড হত্যাকাণ্ডের পর মানসিক অস্থিরতার প্রথম ইঙ্গিতটা পাওয়া যায়," বলেন ড. শেফার্ড।
১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের হাঙ্গারফোর্ড এলাকায় বন্দুকধারী মাইকেল রায়ান নিজেকে হত্যা করার আগে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ড. শেফার্ডের প্রথম বড় কেস ছিল সেটি।
"ঐ ঘটনাটি খুবই উদ্ভট ও অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার ভেতরে। যা পরবর্তীতে ক্রমশ বিস্তার লাভ করে," বলেন ড. শেফার্ড।
তাঁর নতুন বইয়ে ডা. শেফার্ড লিখেছেন যে একসময় চোখ বন্ধ করতেও অস্বস্তি বোধ করতেন তিনি, কারণ তাঁর মনে হতো চোখ বন্ধ করলে রক্তাক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাঁর চিন্তাকে গ্রাস করবে।
"পরিপাকতন্ত্র, স্যাঁতস্যাঁতে যকৃত, স্পন্দনহীন হৃদয়, ছিন্ন হাত, দম আটকানো রক্তের গন্ধ প্রতিনিয়ত আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতো"।
তিনি বলেন, "মাঝেমধ্যে আমার মনে হতো এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মনে হয় মৃত্যুই ভালো"।
তবে পোস্ট-মর্টেম বা ময়নাতদন্ত যে কোনো নির্দয় বিষয় নয় তা'ও মনে করিয়ে দেন তিনি।
"মানুষের মধ্যে ভুল ধারণাটা কেন তৈরি হয়েছে তা আমি বুঝি। কিন্তু এটিও একটি জটিল অস্ত্রোপচার আর এর ফলে মৃতদেহগুলো দেখতে কদর্য হয়ে যায় না"।
পেশাগত নৈতিকতা
ড. শেফার্ড বলেন ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে মূল কাজটিই হলো সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করা।
"সত্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - আমি এই নীতিতে বিশ্বাসী," বলেন ড. শেফার্ড।
"আমি মৃতের পরিবারকে সবচেয়ে নিখুঁত তথ্য জানানোর চেষ্টা করি"।
ড. শেফার্ড জানান, মৃতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী যে প্রশ্নের সম্মুখীন তিনি হয়ে থাকেন তা হলো, "মৃত্যুর সময় কী সে ব্যথা অনুভব করেছিল?"
ড. শেফার্ড বলেন, "এই প্রশ্নের উত্তরে পরিবারের সদস্যরা যতই আঘাত পাক না কেন, আমি সাধারণত সত্যটাই বলে থাকি"।
সূত্রঃ বিবিসি

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়ি, আছে ৩টি হেলিপ্যাড, সিনেমা হল, ৬০০ কাজের লোক

একটি বাড়ি। বানাতে খরচ ১০০ কোটি পাউন্ড। ২৭ তলাবিশিষ্ট এ বাড়িতে আছে তিনটি হেলিপ্যাড। আছে ৫০ আসনের একটি থিয়েটার। আর আছে ৬০০ স্টাফ বা কাজের লোক। এসবই মাত্র একটি পরিবারের জন্য।
বলতে পারেন কোন পরিবার এমন বিলাসী জীবন যাপন করে! খুব বেশি দূরের দেশে নয়। ভারতের মুম্বইতে তার বাস। আর বাড়িটিও সেখানে। এ বাড়ির মালিক পৃথিবী নামের এই গ্রহের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আমবানির।
একটি পরিবারের জন্য এক শত কোটি পাউন্ডেরও বেশি অর্থ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওই বাড়ি। তাতে মাত্র একটি পরিবারের বাস। মাত্র একটি পরিবারের বসবাসের জন্য সম্ভবত বিশ্বে আর কোথাও এত বড় বাড়ি, তাদেরকে দেখাশোনার জন্য এত কাজের লোক আর কোথাও নেই। মুকেশ আমবানি সেই ব্যক্তি, যিনি নিজের এয়ারবাস জেটে করে চলাচল করেন। একটি বিশাল বিস্তৃত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকও তিনি। আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বা আইপিএলের একটি টিমের মালিকও।
২০০২ সালে স্ট্রোক করে মারা যান মুকেশ আমবানির পিতা। তারপর বিলিয়নিয়ার এই ব্যবসায়ী নিজের স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্য নিজের শহর মুম্বইতে একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এর নাম দেয়া হয় আন্তিলিয়া। বিশ্বের অন্যতম ধনীরা বাস করেন যে সড়কে সেই সড়কে তিনি এই বাড়ি নির্মাণ করেন।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি ভারতের শীর্ষ ধনীর খেতাব পান। জুলাই মাসে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫০০ কোটি ডলার বা ৩৪০০ কোটি পাউন্ড। তার পিতা ধীরুভাই আমবানিও ভারতে ধনীদের তালিকায় ছিলেন। তিনি ম্যাটেরিয়াল ব্যবসা শুরু করেন। পরে তার পরিবার এই ব্যবসাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পলিস্টার ফাইবার ও সুতা তৈরির কারখানায় পরিণত করে। ভারত থেকে বর্তমানে যে পরিমাণ পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয় তার ৫ ভাগের এক ভাগই সরবরাহ দেয় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
২০১০ সাল থেকেই আন্তিলিয়া নামের ওই বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন মুকেশ আম্বানি, তার স্ত্রী নিতা আম্বানি, তিন সন্তান অনন্ত আম্বানি, আকাশ আম্বানি ও ইশা আম্বানি। তাদের এ বাড়িটি নির্মাণ যখন চলছিল তখনই একে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক ভবন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  সুবিস্তৃত, কাচে আবৃত এই ভবনটি মুম্বইয়ের আকাশে উঠে গেছে ১৫০ মিটারেরও বেশি উপরে। ফলে ওই শহরে যে ২ কোটি মানুষ বসবাস করে এই টাওয়ার তা ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে গেছে। মুম্বই শহরকে যে ধোয়ার শহর বলা হয়, সেই ধোয়ার আস্তরণ পাড় হয়ে আকাশের দিকে উঠে গেছে এই ভবন। আর তাতেই বসবাস আম্বানি পরিবারের।
আন্তিলিয়ার বিলাসিতা, বহুতলবিশিষ্ট বাগান, বিস্ময়কর পানির ফিচার, ছাদের ওপর তিনটি হেলিপ্যাড দেখাতে ২০১২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান নিতা আম্বানি। ২৭ তলার এই ভবনটির বৈশিষ্ট হলো প্রতিটি তলার সিলিং এক একটি এক একদিকে বের করে দেয়া। আছে ৫০ আসনের সিনেমা হল। লবি থেকে আছে ৯ টি এলিভেটর বা লিফট। অতিথিদের বিনোদনের জন্য আছে একটি গ্রান্ড বলরুম।
এপার্টমেন্টের একপ্রান্তে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে সুইমিং পুল। ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সেখানে রাখা যায় মোট ১৬০টি গাড়ি। আর বাড়িটি দেখাশোনা, পরিষ্কার করতে রয়েছেন ৬ শতাধিক স্টাফ। তারা ২৪ ঘন্টা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। এত কাজের লোক থাকা সত্ত্বেও যখন মুকেশ ও নিতা আম্বানির সন্তানরা বিদেশের পড়াশোনা রেখে বাড়ি আসে বেড়াতে তখন নিজেদের রুম তারা নিজেরাই পরিষ্কার করে নেয়।
ভ্যানিটি ফেয়ারকে নিতা আম্বানি বলেছেন, ভারতীয় হার্টকে ধারণ করে এটি একটি আধুনিক বাড়ি। এতটা উপরে আমরা বাড়ি করেছি এ জন্য যে, আমরা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো চাই। তাই এটি একটি বাগানের ভিতর একটি বাঁকানো বাড়ি। বাড়িটির মডেল করা হয়েছে একটি পদ্মফুলের ওপর ও সূর্য্যরে ভিত্তিতে। এতে ডেকোরেশন করা হয়েছে বিরল কাঠ, মার্বেল ও মুক্তো দিয়ে।
এই বাড়িটিতে যে পরিমাণ প্রযুক্তিগত সম্পদ রয়েছে তার চেয়ে মাত্র একটি আবাসিক ভবনে বেশি খরচের প্রযুক্তি আছে। আর সেটা হলো বাকিংহাম প্যালেস। কিন্তু বৃটেনের রাজপরিবারের এই বাড়ি হলো ক্রাউন ল্যান্ড বা রাজকীয় জমিতে। কিন্তু মুকেশ আম্বানির বাড়ির মালিক শুধু তিনি নিজে।
মুকেশ আম্বানির বাড়ি নিয়ে ২০১০ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখক জ্ঞান প্রকাশ বলেছিলেন, এ বাড়িটি হলো আকাশ ছোঁয়ার গেট। ধনীরা কিভাবে শহর থেকে দূরে মুখ রাখতে চান, বাস করতে চান তারই ভাবমূর্তি ফুটে উঠেছে সেখানে।
মুকেশ আম্বানি পরিবার যে শুধু এই বাড়িতেই বসে বিলাসিতা ভোগ করেন তা নয়। যখনই তারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত প্রিয়জনকে দেখতে চান তখনই ব্যক্তিগত এয়ারবাসে উঠে বসেন। তারপর আকাশে উড়ে পৌঁছে যান তাদের কাছে। এই এয়ারবাসটি স্ত্রী নিতাকে তার জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি ২০০৭ সালে।
কিনেছেন ৬ কোটি ডলার দিয়ে। এই বিমানটি কেনার পর তিনি তা ১৮০ জন আরোহী চলাচলের উপযোগী করিয়ে নেন। বর্তমানে ওই এয়ারবাসে রয়েছে একটি লিভিং রুম, বেডরুম, স্যাটেলাইট টিভি, একটি স্কাই বার ও একটি স্পা।
আম্বানি দম্পতির মেয়ে ইশা আম্বানি (২৬)। সম্প্রতি তিনি ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, তিনি জানেন যে ভারতের ভবিষ্যত তার হাতে। তার ভাষায়, সারা জীবন আমি দেখেছি আমার পরিবার রিলায়েন্স গ্রুপকে বড় করতে এবং সারা ভারতবাসীর জীবনমানের উন্নতি ঘটানোর জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছে।
এই কোম্পানি ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আমি বুঝতে পারি। সত্যিকার অর্থে আমি বিশ্বাস করি যে, রিলায়েন্সকে আরো বড়ো করা হলো আমার স্বপ্ন। আমার রোল মডেল হলেন আমার পিতা। তার কারণে আমি নির্ভয় একটি জীবন পেয়েছি। আমি যদি সাহসী হই, কঠোর পরিশ্রমী হই এবং যদি আত্ম প্রত্যয়ী হই তাহলে আমি সব কিছু অর্জন করতে পারবো। তিনি আমাকে এভাবেই বড়ো করেছেন। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, আকাশের দিকে তাকাও। কোনো গ্লাস সিলিং নেই। যতদূর উঠতে চাও উঠতে পারো। আমার পিতা ভারতপ্রেমী।

বিমানবন্দরে আত্মহত্যার চেষ্টা করা রুনা বললেন আমি মরতে চাই by মরিয়ম চম্পা

এটা শুধু একদল নারীর স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প নয়। বরং তাদের নিয়তি আর জীবন কীভাবে তছনছ হয়ে গেছে এটা সে গল্প। ওরা স্বপ্ন দেখেছিল। বর্ণনা করা যায় না, বলা যায় না, লেখা যায় না। অসহ্য আর দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে  ফিরছে ওরা। বিমানবন্দরে নেমেই ভেঙে পড়ছে কান্নায়। কেউবা লজ্জায় মুখ ঢাকছে। কেউবা করছে আত্মহত্যার চেষ্টা। সৌদি ফেরত নারীদের জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম চম্পা
রুনা লায়লাকে নিশ্চয় আমাদের মনে আছে। এই তো সেদিনের কথা। সৌদি থেকে ফিরে গত ২৮শে আগস্ট দুপুর ২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় তলার মহিলা টয়লেটে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এসময় একটি চিরকুটে লোকমানসহ আরো চার ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন। পরিচ্ছন্নকর্মীরা ঠিক সময় উপস্থিত না হলে আজ হয়তো রুনা ওপারের বাসিন্দা হতেন। এখনো যে হতে চান না তা নয়। সুযোগ পেলেই যেকোনো সময় ঘটাতে পারেন বড় কোনো দুর্ঘটনা। তার বাড়ি দিনাজপুরের ফারাক্কাবাদ, মিরগাঁও বিরল গ্রামে। পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনরা তাকে এখন গৃহবন্দি করে রেখেছে। নাওয়া-খাওয়া নেই। এমনকি প্রয়োজন ছাড়া কারো সঙ্গে খুব একটা কথা বলেন না। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। এই হাসেন, এই কাঁদেন। রুনার বয়স কাগজে কলমে ২৬ বছর। আর দশটা পড়ুয়া মেয়ের মতো কলেজের গণ্ডিতে পা রেখেছিলেন। দিনাজপুরের মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয়বর্ষে পড়তেন রুনা।
৪ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। বড় দুই বোন শ্বশুরবাড়ি। শ্বাসকষ্টজনিত রোগ ও বুকের হাড় ক্ষয় হয়ে দুই বছর আগে মারা যান বাবা আজহার আলী। তিনি দিনাজপুরে নাইটগার্ডের চাকরি করতেন। সৌদিতে থাকায় বাবার মুখটা শেষবারের মতো দেখতে পারেননি রুনা। মা জমিলা খাতুনও বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি স্ট্রোক করেছেন।
রুনার এক বান্ধবী তাকে সৌদি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলো। শুরুতে রাজি হননি। একসময় সংসারের অভাব-অনটন দূর করার কথা চিন্তা করে সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রুনা। ২০১৬ সালের ২রা মার্চ ফকিরাপুলের পানির ট্যাংকির কাছে হাজী ফারুক ট্রাভেলস নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি যান। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হন। কফিল ভালো না হওয়ায় পালিয়ে এসে আশ্রয় নেন দূতাবাসের মক্তবে। সেখানে এসে তছনছ হয়ে যায় তার জীবন। রুনা বর্তমানে তার বড় বোনের বাসায় গাজীপুরের জিরানিতে আছেন। অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘আর বলিয়েন না, আমি অনেক বেশি অসুস্থ। ওরা আমাকে পাহারা দিচ্ছে কেন বুঝতেছি না। আপা-দুলাভাই আমাকে পাহারা দিচ্ছে। কেন দিচ্ছে জানি না। আমি কী ফকিন্নি না চোর। আল্লাহই জানে। আপনার সঙ্গে সব শেয়ার করবো। ডোন্ট মাইন্ড। এভাবেই ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে কথা বলেন সৌদি ফেরত নারী রুনা। তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে শেয়ার করলে ভয় পাবেন না তো। আচ্ছা আমি মরবো আপনেও কি মরবেন। যখন আমি খাবো তখন আপনেও কি খাবেন। আচ্ছা আচ্ছা ইনশাআল্লাহ। যেহেতু একটা সাথী পেলাম। এখন আর পরপারে একা যাবো না। সঙ্গে একজন সাথী যাবে।’
ধন্যবাদ খুশি হলাম। তা দুপুরে খেয়েছেন। আমি খাইনি। খেলেই গলা জ্বলে। পরিমাণে তো (কীটনাশক) একটু বেশি খেয়েছিলাম। তাই ওরা খুব মোটা পাইপ দিয়ে আমার গলায় ওয়াশ করেছে।
আমি ডাক্তার দেখাবো না। আমি তো চাই যেনো ধুঁকে ধুঁকে মরে যাই। আমি মরতে চাই। জানেন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবাই যা করে আমি তা করবো না। আমি এখন বসে বসে মৃত্যুর প্রহর গুনছি। হঠাৎ কান্নাভেজা কণ্ঠে...আপনে কি মজা নিচ্ছেন আমার সঙ্গে। সবাই মজা নিচ্ছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে কিছু মানুষের কথা শুনে খুব বাঁচতে ইচ্ছা করে। বিধাতা মনে হয় এই পৃথিবীতে আমাকে রাখবে না। জানেন একটা কলম যখন কালিশূন্য হয়ে যায় তখন বাইরে থেকে অনেকেই ভাবে আহা কলমটি দেখতে কতোই না সুন্দর। কিন্তু যখন ব্যবহার করবে তখন দেখবে কলমে কালি নেই। ঠিক আমিও ওরকম একজন মানুষ। যার কলম আছে কিন্তু কালি নেই। সব কথা শেয়ার করে আমি যেহেতু মরছি। তাই আর কিছু শেয়ার করতে চাই না। কোনো এক সময় শুনবেন রুনা ‘সি ইজ ডেথ’। রুনা আর থাকবে না। আমি তো কাউকে আশা দিয়ে নিরাশ করিনি। কখনো মিথ্যা কথা বলিনি। সবাই আমাকে পাহারা দিয়ে রাখছে। কোনো কিছুই করতে পারছি না। একবার পার্টি দিয়েছিলাম এয়ারপোর্টের তিন তলার বাথরুমে এবার পার্টি দেবো আজিমপুর গোরস্থানে। আমার না কিছুই ভালো লাগছে না। বিলিভ মি আসলে কি বলবো। আমি কখনো জানতাম না আমার জীবনটা এমন এলোমেলো ছন্নছাড়া হয়ে যাবে।
আবার কান্না...। আপনে কে। আপনার নাম কি। জানেন আমার নামটাও খুব সুন্দর। কিন্তু ভাগ্যটা না খুবই খারাপ। আমি আর পারছি না। আমার আর কোনো কথা নেই। সব কথা ফুরিয়ে গেছে। আমার ভাগ্যই খারাপ। শোনেন আমি একজন রানিং স্টুডেন্ট ছিলাম। বান্ধবীর কথায় অনেক কষ্টের পর সৌদি গেলাম। আমার দুঃখের কথা শুনলে বনের পশু-পাখি, গাছপালাও কাঁদবে। সৌদির কফিল ভালো না হওয়ায় দূতাবাসে চলে আসি। সেখানে লোকমান আমাকে ফাঁদে ফেলে। হঠাৎ ও আমার জীবনটা এলোমেলো করে দিলো। হায়রে লোকমান। আহারে লোকমান। ওর চেহারা দেখলে নিষ্পাপ শিশুর মতো মনে হয়। কিন্তু ভেতরে এত জংলি-জানোয়ার, এত খারাপ জানা ছিল না। বাসার সবাই পাগল হয়ে গেছে। আমাকে হাসপাতালে নিতে চেয়েছে। কিন্তু পারেনি। এখন বাসায় ডাক্তার ডেকেছে। আসুক না ডাক্তার...গায়ে পানি ঢেলে দেবো। বাপ বাপ করে পালাবে।

সাধারণের ভোট ভাবনা by মরিয়ম চম্পা

সামনে জাতীয় নির্বাচন। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা। আগামী নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় আসবে। কেমন নির্বাচন হবে। আদৌ নির্বাচন হবে কি-না। এমন সব আলোচনা ঠাঁই পাচ্ছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন চায়ের টং দোকান থেকে শুরু করে পার্ক, রাস্তাঘাট, ফুচকার দোকান, স্কুল-কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। এ প্রসঙ্গে প্রাইভেট গাড়িচালক রবিউল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে এমন সরকার চাই যে সরকার কিনা দেশ-দশ ও সবার ভালো চায়।
একইসঙ্গে নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ করাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিগত নির্বাচনগুলো ভালো হয়েছে। তাই আমি চাই, আগামী নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হোক।  রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই ও পালিশ করেন ফারুক। তিনি বলেন, ‘অতোকিছু বুঝি না। যে সরকার আমাগো পেট ভরে তিন বেলা থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, জনসাধারণের ভালো চাইবে- এমন সরকার চাই। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে চাই। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে আমরা ভোট দিতে পারি নি। ভোট ছাড়া নির্বাচন হয় কীভাবে?
পত্রিকার হকার মো. হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও ভালো নির্বাচন দেখতে চাই। এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নাই। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটা ভালো ও নিরাপদ। এতে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। একই সঙ্গে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন দেখতে চাই।
চা বিক্রেতা মো. আক্তার হোসেন বলেন, বিগত সব নির্বাচনে যেভাবে ভোট দিয়েছি এবারো একইভাবে ভোট দিতে চাই। একই সঙ্গে বলতে চাই- নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে। মিলেমিশে একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করেন। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. কাওসার আহমেদ বলেন, অবশ্যই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত। নতুন ভোটার হিসেবে বলতে চাই, বর্তমান সরকারকে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একজন নতুন ভোটার হিসেবে চাইবো আমার ভোটটি যেন অন্য কেউ না দিতে পারে। আমার ভোট আমি দিবো, দেখে-শুনে বুঝে দিবো, যাকে খুশি তাকে দিবো।
হাসপাতালের স্টাফ মামুন অর রশীদ মামুন বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাওয়াটা যৌক্তিক হবে না। একইসঙ্গে সকল দলমতের প্রতি সরকারকে নমনীয় ও কোমল হতে হবে। তবেই সম্ভব একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া। মেডিকেল কর্মচারী ঈশা খান বলেন, ভোট আদৌ হবে কিনা সেটাও ভাবনার বিষয়। কষ্ট করে, রোদে পুড়ে, সময় নষ্ট করে ভোট দিতে গিয়ে যখন দেখি আমার ভোটটি অন্য কেউ দিয়ে ফেলেছে তার থেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়াই তো ভালো। কারণ যে দেশে ভোটকেন্দ্রে না গিয়েও ভোট হয়ে যায়, সে দেশে কীভাবে একটি ভালো নির্বাচন আশা করতে পারি। আগামী নির্বাচনে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেটাই চাইবো। উইমেন্স ফেডারেশনের অনার্সের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, আমি এ বছর নতুন ভোটার।
কিন্তু কাউকেই আমি ভোট দিবো না। আমি ভোটকেন্দ্রে যাবো ঠিকই তবে না ভোট দিবো। কারণ যাকেই ভোট দেই না কেন ভালো কিছু হবে না। ভালো কিছু হতে হলে নতুন একজনকে ক্ষমতায় আসতে হবে। যে সরকার ব্যবস্থা হবে দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা। অন্যথায় যেমন চলছে তেমনই চলবে। উইমেন্স ফেডারেশন কলেজের শিক্ষার্থী বুসরা বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন দেশের কোনো সুব্যবস্থা হবে না। শুধু শুধু ভোট দিয়ে বা ভোট নষ্ট করে লাভ নেই। তাই মূল্যবান ভোটটি নষ্ট করতে চাই না। তার থেকে ভালো- ভোটই দিবো না। দেখা গেল যাকে ভরসা করে, বিশ্বাস করে ভোট দিলাম সেও দুর্নীতিগ্রস্ত। পুলিশ অফিসার কামাল বলেন, নির্বাচন একটা রাজনৈতিক বিষয়। এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই ভালো।
তাছাড়া আমরা অন ডিউটি থাকা অবস্থায় ভোট দিতে পারি না। যদি ছুটিতে থাকি তাহলে যেখানে ভোটার হয়েছি উক্ত এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে হয়। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী সোনিয়া সরকার বলেন, বর্তমান সরকারকেই আমরা পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চাই। শেখ হাসিনার সরকারের সকল কর্মকাণ্ডই আমার ভালো লাগে। তার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সবকিছুই প্রশংসনীয়। তাছাড়া একই ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে। ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে আমি খুবই এক্সাইটেড যে, প্রথমবারের মতো ভোট দিবো। যদি নির্বাচন হয়, যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিবো। কারণ বর্তমানে সবকিছুই হচ্ছে একতরফা।
সব কিছুই সরকার তার নিজের খেয়াল-খুশি মতো করে যাচ্ছে। এতে জনগণের ভালো হলো না মন্দ হলো সেটা তারা ভেবে দেখেন না। এ অবস্থায় নতুন ভোটার হিসেবে কিছুটা শঙ্কিত। কি হবে আগামী নির্বাচনে। একজন সরকারি চাকরিজীবী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, নির্বাচনটা একতরফা নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এরকম অবস্থা বিদ্যমান থাকলে দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বাপ্পি বলেন, সর্বদলীয় অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে জনগণ তাদের মত প্রকাশের অধিকার পাবে।
আগামী নির্বাচনে একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হবে। আমরা চাই একজন সৎ ও যোগ্য সরকার নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসুক। বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম বলেন, আমরা চাই ভালো সরকার ক্ষমতায় আসুক। যে চুরি-চামারি করবে না। দেশের উন্নয়ন করবে। ভবিষ্যতে আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। এমন সরকার চাই যে হবে দুর্নীতিমুক্ত।  একজন গৃহিণী বলেন, আমি মনে করি বর্তমানে আমরা নিরাপদ না। ইচ্ছা করলেও মন খুলে অনেক কথাই বলতে পারি না। এখন আমি কিছু বলার পরে যদি আমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয় তাহলে আমাকে রক্ষা করবে কে।
কি যে হওয়া উচিত আর কি যে হচ্ছে কিছুই বুঝি না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত মিত্র বলেন, আমরা চাই একটি ফেয়ার নির্বাচন হোক। যেটা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উভয় ক্ষেত্রে স্বীকৃতি পাবে। নির্বাচনে যেন কোনো ধরনের কারচুপি না হয়। সকল মানুষ বা ভোটার যেন ভোট দেয়ার মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। ফুচকা বিক্রেতা মো. মন্টু বলেন, আমরা সাধারণ জনগণ কিছু বললেই কি আর না বললেই কি। তার পরেও বলতে চাই, যে যোগ্য সেই ক্ষমতায় আসুক- একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাইবো নির্দলীয়-নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হোক। ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাই ঠিক আছে। তার সরকারের কোনো বিকল্প নেই। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা ভোটের অধিকার ও ভাতের অধিকার ফিরে পেতে চাই। সবাই যেনো সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে। তা না হলে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না।
ধানমন্ডি নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাজিব হোসেন বলেন, আমরা নিরাপদ সড়ক, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও নাগরিক অধিকার ফেরত চাই। ফেয়ার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থপেডিকস বিভাগের ডা. মো. সজল বলেন, সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন ও নিরাপদ সমাজ ব্যবস্থা চাই। আগামী প্রজন্ম যেনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। এই নিশ্চয়তা যে দিতে পারবে এমন সরকার চাই।
রিকশাচালক মো. বকুল মিয়া বলেন, ‘নির্বাচন নিয়া আমাগো ভাইবা লাভ কি? পাবলিকরা কয়জনে ভোট দিতে পারে। সব তো নিজেরা নিজেরাই দিয়া ফালায়।’

মালদ্বীপে বিরোধীদের অভাবনীয় জয়

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অভাবনীয় জয় পেয়েছে মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এমডিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ সোলিহ। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, তার কাছে ১৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বর্তমানে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন। তিনি চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রোববারের নির্বাচনে বিজয়ী মোহাম্মদ সোলিহ’র ওপর ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর আশীর্বাদ রয়েছে। তাই মালদ্বীপের নির্বাচন হলেও চীন ও ভারতের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আর এতে চূড়ান্তভাবে ভারতীয় আধিপত্যেরই বিজয়গাথা রচিত হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এমডিপি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এমডিপির প্রধান ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ। নির্বাচনের ফলাফল মেনে পরাজয় স্বীকার করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, মোহাম্মদ সোলিহ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়েছেন। বিপরীতে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ১৩২ ভোট। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, রোববারের নির্বাচনে মালদ্বীপের প্রায় ৮৯ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে হাজির হন। ব্যাপক ভোটারের উপস্থিতি দেখে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়ে দেয়। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে গতকাল প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে নির্বাচন কমিশন এমডিপিকে বিজয়ী ঘোষণা করে। ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী দল এমডিপির প্রধান মোহাম্মদ সোলিহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে অভিনন্দন জানান বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন।
পরে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে আবদুল্লাহ ইয়ামিন বলেন, মালদ্বীপের জনগণের নিজস্ব মতামত রয়েছে। আমি হার মেনে নিচ্ছি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাকালে তিনি তার সবটুকু দিয়ে মালদ্বীপের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। বিশেষ করে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। ইয়ামিন জানান, তিনি তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ করবেন। সে অনুযায়ী এ বছরের ১৭ই নভেম্বর পর্যন্ত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন তিনি। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামি আইনের ব্যাপক ব্যাবহার করেছেন ইয়ামিন। তার আমলে দেশটির উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। তবে একইসঙ্গে কট্টোর আইন ও বিরোধী মত বন্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিতও হয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মালদ্বীপে প্রভাব বিস্তার নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতেও ভারত ও চীন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এদিক দিয়ে মালদ্বীপের নির্বাচনে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল ভারত ও চীন। তবে রোববারের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা মালদ্বীপের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভোটের আগে বিরোধীদের প্রধান কার্যালয়গুলো ঘেরাও করে তল্লাশি করেছে পুলিশ। এছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালদ্বীপে প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়।
ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ বিরোধীদলীয় ৯ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বাতিল করে দেয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ওই অভিযোগ বাতিল করে দেয়া দু’জন বিচারকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেন। তার গৃহীত কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঝড় ওঠে ওয়াশিংটন, লন্ডন ও নয়াদিল্লিতে। ভারতের অনেকে ছোট্ট এই দেশটিতে হস্তক্ষেপের দাবি জানান। এমনকি নির্বাসন থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ সামরিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান ভারতের প্রতি।
কিন্তু ইয়ামিনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় চীন। তারা এটিকে ভারত মহাসাগরে নতুন বাণিজ্যিক রুট তৈরি ও প্রভাব বিস্তারের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। ক্রমেই মালদ্বীপের ওপর প্রভাব বৃদ্ধি করে চীন। অনেকদিন ধরেই দেশটি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে। এর মধ্য দিয়ে এসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা করে তারা। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের অধীনে মালদ্বীপ বড় বড় প্রকল্পগুলোতে চীনা অর্থকে স্বাগত জানায়। তারা চীনের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফলে আবদুল্লাহ ইয়ামিনের শাসনামলে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে চীন মালদ্বীপে অধিক প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পায়। কিন্তু রোববারের নির্বাচনে মোহাম্মদ সোলিহ এর বিজয়ের ফলে চীনের এ আধিপত্য হুমকির মুখে পড়েছে।

দুর্নীতিবাজদের নিয়ে জোট করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা হচ্ছে -প্রধানমন্ত্রী by মিজানুর রহমান

দুর্নীতিবাজরা জোট করে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, খুনি, অর্থ পাচারকারী এবং সুদখোররা আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে, এরা ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংস করে ফেলবে। এরা দেশের সম্পদ লুটে খেয়েছে, এরা  ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে মিলে দেশ ধ্বংস করবে। কাজেই জনগণকে তাদের সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নির্বাচনকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সরকারবিরোধী জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে তারা কিভাবে দুর্নীতিকে প্রতিরোধ করবেন?
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমান দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং তারা যে অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তা আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং মাহমুদুর রহমান মান্না এই দুর্নীতিবাজদেরই সঙ্গে নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। দরিদ্রদের উচ্চসুদে ঋণ দিয়ে তিনি এখন বড়লোক হয়েছেন। হিলারি ক্লিনটনের সহযোগিতায় ড. ইউনূস পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি (ইউনূস) ইয়াজউদ্দীন নেতৃত্বাধীন সরকারকে ডাবল এ প্লাস মার্ক দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এরা সব এক জায়গায়। কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনি। এভাবে সব আজকে এক জায়গায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ নতুন জোটকে সমর্থন দিয়েছেন কিন্তু অতীতে তারা দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনুল হোসেন কাকরাইলের বাড়ির জমি দখল করেছিলেন, সে জায়গা নিয়ে মামলা আছে।
সাজু হোসেন বনাম রাষ্ট্র ওই মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত। আর ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে এক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি নিজের ভাইয়ের নামে দখল নেয়ার ঘটনায় বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ অভিযুক্ত। কিন্তু তৎকালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ তাকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সমস্ত দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন! কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবে? যুক্তফ্রন্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কেন সরকারকে উৎখাত করবে? কারণটা কী? দেশের জন্য আমরা কি করি নাই? এমন কোনো খাত নেই, যেখানে উন্নয়ন করি নাই। আরে এটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই সম্ভব।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের মিডটাউনের হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি এ সময় অন্যদের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতিকে নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি: এদিকে সংবর্ধনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে অবস্থানকালে সিদ্দিকুর রহমান সভাপতির বক্তব্য দেয়ার জন্য চেষ্টা করলেও উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাধার কারণে তিনি আর বক্তব্য চালিয়ে যেতে পারেননি। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া তারা বলেন, ‘নো মোর সিদ্দিক’। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় নেতারা চেষ্টা করলেও তারা নেতাকর্মীদের থামাতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য শেষেও নেতাকর্মীরা ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
বিএনপির বিক্ষোভ: এদিকে হিলটন হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা চলাকালে বাইরে বিএনপি ও বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘গো ব্যাক হাসিনা’। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তবে দলটির সমর্থকদের বিভিন্ন গ্রুপ এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। এছাড়া বিমানবন্দরেও তাদের একটি অংশ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়।

পদ্মার ডান তীরে ভাঙন ফের আতঙ্ক

জেলার নড়িয়া উপজেলার পদ্মার ভাঙনের তীব্রতা কমলেও আতঙ্ক কাটেনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। পানি কমতে শুরু করলেও আবার ভাঙনের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে- এমন আশঙ্কা করছে নদী তীরের ক্ষতিগ্রস্ত বসবাসকারী মানুষ। আতঙ্কে পদ্মার পাড়ের শত শত পরিবার অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ড্রেজিংয়ের জাহাজ নড়িয়া পদ্মার পাড়ে চলে এসেছে। আরো দুইটি ড্রেজিংয়ের জাহাজ যথা সময়ের মধ্য চলে আসবে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হবে। পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
থেমে থেমে মানুষের ঘরবাড়ি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। নড়িয়ার তিনটি ইউনিয়ন মধ্য মোক্তাকারের চর, কেদারপুর, ঘড়িষার। এর মধ্যে বেশ ক্ষতি হয়েছে কেদারপুর, ও মোক্তাকারের চর এই ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম ও একটি পৌরসভার ২নং ও ৪নং ওয়ার্ডেরসহ প্রায় ৭ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মার পাড়ের তারা মিয়া বেপারী, মোজাফর হাওলাদার, লক্ষ্মী দত্ত, আব্বাস খান, আবদুল কাদির শেখ ও শাজাহান সিকদারের স্ত্রী সকিনা বেগম বলেন, এ বছর বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে নড়িয়া দুইটি ইউনিয়নের একটি পৌরসভার আংশিক ও নড়িয়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স (নতুন) ভবনসহ অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, দালানকোঠা বিলীন হয়ে গেল। কেদারপুর ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন বলেন, মানুষের চোখের সামনে বাপ-দাদার ভিটাবাড়ি ও ২শ’ বছরের কবর ও মসজিদ এবং মন্দির ও শ্মশান পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেল। অনেকের বহুতল ভবন, লাইফ কেয়ার ক্লিনিক, দেওয়ান শপিংমল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি স্থাপনা বিলীন গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, কেউ ভাড়া বাড়ি কেউ রাস্তার পাশে, স্কুল মাঠে, কেউ মানুষের জমি ভাড়া করে উঠাইছে, কেউ খোলা আকাশের নিচে ঝুপড়ি করে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ২/৩ মাসে ৫ হাজার ৮১ ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। পদ্মার এমন ভয়ঙ্কর রূপ ১ বছরে কেউ এই রকম দেখিনি। এ দিকে গত অর্থ বছরে প্রধানমন্ত্রীর একনেকের মিটিং এ ১ হাজার ৯৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভাঙন ঠেকানোর জন্য অতিরিক্ত ৮ কোটি, ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, আসা করি এখন পানি কমবে এবং নদীর স্রোতও অনুকূলে চলে আসবে। সরকারের নির্দেশে আমরা ড্রেজিং কাজ শুরু করতে পারবো। নড়িয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মার ভাঙনে বাপ-দাদার ভিটাবাড়ি ঘর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে। প্রতিদিন বিভিন্ন পয়েন্টে আমরা ত্রাণ দিচ্ছি যেমন গত রোববার মোক্তাকারের চর ২০০০ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও পৌরসভার ২নং ও ৪নং ওয়াডে ১৭০০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছি। গতকাল ন্যাশনাল ব্যাংক ত্রাণ দিবে। এই জন্য আমরা আগামীকাল ৩০ কেজি করে বাকিদের দিবো এমনি ভাবে সরকারের নির্দেশে চার মাস ক্ষতিগ্রস্তরা চাল পাবে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর ভাঙনে মানুষের ভিটেবাড়ি ঘর দরজা সব নিঃস্ব হয়ে গেছে। বিধায় সরকারে পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: বিচারকের প্রতি দুই আসামির অনাস্থা

ন্যায় বিচার পাবেন না- এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন এই মামলার দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান। গতকাল নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের বিশেষ আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবীরা এ অনাস্থার কথা জানান। অনাস্থা জানানোর পরপরই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আদালতে জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আখতারুজ্জামান।
এদিকে এ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্যক্রম চলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে জানিয়ে শুনানি মুলতবির আবেদন করেন খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তবে, এ আবেদনে সাড়া দেননি আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিতকরণ ও তাকে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার আবেদন জানান আইনজীবীরা। আদালত তার আদেশে জামিন বর্ধিতকরণের আবেদন মঞ্জুর করে কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়ে মঙ্গলবার (আজ) ধার্য দিনে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আদেশ দেন।
এদিকে নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া ও বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মোবাইল কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে গতকাল আদালতে একাধিকবার উভয়পক্ষের আইনজীবীরা তর্কে জড়ান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আদালতের ভেতরে-বাইরে অনেক সংকট তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একজন বুদ্ধিজীবী ও সিনিয়র মানুষ কখনো আদালতে না যাওয়ার জন্য এভাবে কোনো আইনজীবীকে পরামর্শ দিতে পারেন না।’ খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘একজন ‘অর্ডিনারি’ ব্যক্তি পরামর্শ দিলেই আমরা সেই পরামর্শ শুনতে বাধ্য নই। আমরা তার কথায় কিছু করি না।’
এর আগে গত ২০শে সেপ্টেম্বর এক আদেশে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ চলবে বলে আদেশ দিয়ে ২৪, ২৫ ও ২৬শে সেপ্টেম্বর অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন আদালতের বিচারক। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের ভেতরে প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে স্থাপিত বিশেষ আদালতে চলছে। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায় হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত এই কারাগারে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ই আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাবেক একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
গতকাল ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিতকরণ ও তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে আদালতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা কোনো আসামি অসুস্থ হলে জেল কোড অনুযায়ী তাকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম। আগে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এরপরই তিনি বিচার কার্যক্রমে অংশ নেবেন।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাস্টডিয়ান আপনি। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। সরকারও কোনো দায়িত্ব নিচ্ছে না। এখন আপনি যদি জেল কোডের দোহাই দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান তাহলে আমরা যাবো কোথায়? আপনি দ্রুত কোনো স্পেশালিস্ট হাসপাতালে তার চিকিৎসার আদেশ দিন। উনি সুস্থ হয়েই আদালতে আসবেন।’
খালেদা জিয়ার অন্য আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) ধারা অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে বিচারের যে আদেশ দিয়েছেন এর বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আজই (গতকাল) আবেদন করবো।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং আদালতের কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘একজন অসুস্থ মানুষের বিচার করার জন্য প্রসিকিউশনের এত তাড়াহুড়ো কেন?’
শুনানিতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আসামিপক্ষ বলছে তারা উচ্চ আদালতে যাবে। যদি উচ্চ আদালত থেকে তারা কোনো আদেশ আনতে পারে তখন না হয় বিষয়টি দেখা যাবে। যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু হোক।’ আদালতের ভেতরে-বাইরে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘উনারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) বলছেন, খালেদা জিয়া যেদিন সুস্থ হবেন সেদিনই তিনি আদালতে আসবেন। কিন্তু এরকম তো কোনো আইন নেই।’
জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বকশীবাজারে আদালতের যে অবস্থা ছিল, এখানেও সেই একই অবস্থা। গত তারিখে যে আদেশটি (খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ) দেয়া হয়েছে সেটি আইনসিদ্ধ হয়নি এবং আজকেও আদালতে কোরাম হয়নি। আমরা আজকেই (গতকাল) উচ্চ আদালতে যাবো।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু এই মামলার বিষয়বস্তু এক আদেশও একই দিচ্ছেন তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪০ (এ) এর যে ব্যাখ্যা সেটির অপব্যাখ্যা হয়েছে বলে আমি মনে করি। উচ্চ আদালতে এটির যথার্থ বিশ্লেষণ করা দরকার।’
মনিরুল ইসলাম খানের আইনজীবী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা ওই আদেশে (খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার) নেই। শুধু পিপি’র বক্তব্য লেখা হয়েছে আদেশে। আর বিদেশি আদালতের যেসব উদাহরণ দেয়া হয়েছে সেটি আমাদের এখানকার আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমরা আইনজীবী হিসেবে আসামিকে যদি কোনো সুবিধা দিতে না পারি তাহলে এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।’
এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘যদি ওনারা যুক্তিতর্ক না করেন, আর উচ্চ আদালত যদি কোনো স্থগিতাদেশ না দেন তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘এটি আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রতি বাইরের নির্দেশ মাত্র। এই আদালত ও বিচারকার্যক্রম নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিফলন হচ্ছে।’ একপর্যায়ে তর্কে জড়ান উভয়পক্ষের আইনজীবীরা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরের নির্দেশ পান তো আপনারা।’
মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘ষড়যন্ত্র কোথায় হচ্ছে তা আমরা যেমন জানি দেশের ১৬ কোটি মানুষও জানে। এভাবে একজন বুদ্ধিজীবী সিনিয়র মানুষ (ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী) সানাউল্লাহ মিয়াকে আদালত বর্জনের পরামর্শ দিতে পারেন না।’
মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘একজন পরামর্শ দিয়েছে মাত্র। কিন্তু আমরা কি তার পরামর্শ মানতে বাধ্য? একজন ‘অর্ডিনারি’ মানুষের কথায় আমরা কিছু করি না।’
দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘কোথা থেকে কি হচ্ছে আমরা তা জানি। আদালতকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। আদালতকে নিয়ে এ ধরনের বুদ্ধিজীবীরা কথা বলেন। আমাদের লজ্জা হয়।’ বিচারকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য ২৫ ও ২৬শে সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখ আছে। আপনি অপেক্ষা করুন। যদি তারা শুনানিতে না আসে তাহলে রায়ের তারিখ ধার্য করুন।’
মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘আদালতের পিপি রাজনীতির ভাষায় কথা বলতে পারেন না। এভাবে আমরা আইনজীবীরা বাইরের মানুষকে রাজনীতির ভাষায় কথা বলতে উৎসাহিত করছি। একপর্যায়ে বিচারক যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য আদেশ দেন।’ এতে আপত্তি জানান আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আবেদন দাখিল করে বলেন, ‘এই আদালতের প্রতি আমার আস্থা নেই। আদালত ও বিচারক পরিবর্তনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করবো। সে জন্য ২০ দিন সময় চাই। পাশাপাশি মনিরুল ইসলামের আইনজীবী মো. আখতারুজ্জামানও তার অনাস্থার কথা আদালতকে জানান।’
এসময় দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘উনারা আদালতের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করবেন আবার জামিন বর্ধিতকরণের আবেদনও করবেন। আদালতের প্রতি অনাস্থা থাকলে তো জামিনের কোনো অধিকার থাকে না।’
একপর্যায়ে আদালতের বিচারক জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, যদি এই পিটিশনই দেবেন তাহলে আপনারা শুনানি করলেন কেন?
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতের প্রতি অনাস্থা জানানো আসামির আইনগত অধিকার।’ শুনানি নিয়ে আদালতের বিচারক আদেশে জিয়াউল ইসলাম মুন্নার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিন বর্ধিত করে তার চিকিৎসা বিষয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়ে মঙ্গলবার (আজ) পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম মুলতবির আদেশ দেন বিচারক।

চট্টগ্রামে গণধর্ষণের শিকার দুই কিশোরী

মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে বিচারের নামে আটকে রেখে দুই কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ৮ যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় দুই কিশোরীকে উদ্ধারের পর পুলিশ ৬ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক রয়েছে আরো দুই যুবক। রোববার দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট মোড়ের জলসা মার্কেটের নবম তলার ছাদে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের এই ঘটনা ঘটে বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।
ধর্ষিত দুই কিশোরীর নাম গোপন রাখা হলেও ঘটনায় জড়িত যুবকদের নাম বলেছেন ওসি। এরমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ৬ যুবক হচ্ছে-
জাহাঙ্গীর আলম (২৪), ফারুক (২৭), আব্দুল আউয়াল ওরফে ডালিম (৩০), কবির (২৭), বাবলু (২৮) ও সেলিম (৩৫)। আর পলাতক দুই যুবক হচ্ছে- রুবেল (২৫) ও এনাম (২৭)।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ১৭ বছরের এক তরুণী আগে থেকে জলসা মার্কেটে চাকরি করতো। ওই মার্কেটের ৫ম তলার জয়ন্তী বোরকা হাউসের মালিক রাশেদ তাকে জানায়, তার দোকানের জন্য একজন মহিলা কর্মচারী লাগবে। সে হিসেবে ওই তরুণী ১৬ বছর বয়সী তার এক বান্ধবীকে নিয়ে রোববার দুপুর ২টার দিকে রাশেদের দোকানে যায়।
কথা বলে চলে আসার সময় রাশেদের দোকানের এক মেয়ের মোবাইল হারিয়ে গেছে বলে ডালিম ও সেলিম নামের দুজন তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রথমে রাশেদের রুমে বসিয়ে মোবাইল চুরি করেছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। এরপর সেলিমের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিচারের কথা বলে দুই কিশোরীকে জলসা মার্কেটের ৯ম তলার ছাদে নিয়ে যায় তারা। সেখানে আটজনই পালাক্রমে দুই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণে রক্তাক্ত হওয়ার পর তারা দুই কিশোরীকে মুমূর্ষু অবস্থায় ছাদে রেখে যায়।
এদিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার দীর্ঘক্ষণ পরও ঘরে না ফেরায় ১৭ বছরের ওই তরুণীর মা রাত সাড়ে ১০টার দিকে জলসা মার্কেটে যান। সেখানে সমিতির লোকজনদের বলার পর খোঁজাখুঁজি করে মার্কেটের ছাদে গিয়ে তার মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবীর খোঁজ পান। এ সময় তারা অসুস্থ অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রাত দুইটার দিকে ৮ ধর্ষকের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। টের পেয়ে দুই ধর্ষক পালিয়ে যায় বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন।