Thursday, April 23, 2015

কোনো অবস্থাতেই পিছু হটব না: আফরোজা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আ​রে​​​​ফিন সিদ্দিকের সঙ্গে
দেখা করে তাঁর কাছে ভোট চান আফরোজা আব্বাস। ছবি: প্রথম আলো
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর হামলা প্রসঙ্গে আফরোজা আব্বাস বলেছেন, ‘এই হামলায় আমরা ভীত নই। আমরা নির্বাচন বয়কট করব না। কোনো অবস্থাতেই পিছু হটব না। সামনে এগিয়ে যাব। আমরা অনেক স্ট্রং। নির্বাচনের মাঠে ঘুরে এটা বুঝেছি।’
ঢাকা দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা স্বামীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় হলিফ্যামিলি হাসপাতাল এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মামলার কারণে মির্জা আব্বাস জনসংযোগ চালাচ্ছেন না। আজ বৃহস্পতিবার আফরোজা আব্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালান। এ সময় তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা ছিলেন।
বিএনপি নির্বাচন বয়কট করতে পারে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আফরোজা বলেন, জনগণকে বলব, ওই গুজবে কান দেবেন না। আপনারা দেখছেন আমার সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংখ্যা কম। কারণ তাঁদের নামে মামলা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণ নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যদি ঠিকঠাক কাজ করতে পারে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিরপেক্ষ আচরণ করে তাহলে নীরব বিপ্লব হয়ে যাবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনী নিয়ে খেলছে। তারা একবার বলছে সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নামাবে, এখন আবার বলছে ব্যারাকে থাকবে। আমরা সেনাবাহিনী চেয়েছি তাদের বিচারিক ক্ষমতাসহ ও কেন্দ্রে কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা। সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে এটা সরকারকে করতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রো-ভিসির কাছে ভোট চাইলেন আফরোজা
নির্বাচনী প্রচারের একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কার্যালয়ে ভোট চাইতে যান আফরোজা। এ সময় উপাচার্য একটি বৈঠকে ছিলেন। আফরোজার আসার খবর শুনে তিনি বৈঠক থেকে উঠে এসে তাঁকে স্বাগত জানান। উপাচার্য জানতে চান তাঁর নির্বাচনী প্রচার কেমন চলছে। উত্তরে আফরোজা বলেন, ‘আপনাদের দোয়ায় ভালোই চলছে। এদিকে প্রচার চালাতে এসেছিলাম। চিন্তা করলাম আপনার সঙ্গে দেখা করে যাই। আপনার সহযোগিতা চাই, ভোটও চাই।’ এর পর তিনি মির্জা আব্বাসের লিফলেট উপাচার্যের হাতে তুলে দেন। পরে আফরোজা সহউপাচার্য (শিক্ষা) নাসরিন আহমাদের কাছে গিয়েও ভোট চান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহউপাচার্য আ ফ ম ইউসূফ হায়দার ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন সদরুল আমিনসহ বিএনপিপন্থী শিক্ষকেরা ছিলেন।

সন্ত্রাসমুক্ত ও উন্নত চট্টগ্রাম গড়তে মনজুরের ইশতেহার

নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন
মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম। ছবি: সৌরভ দাশ
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম ‘সন্ত্রাসমুক্ত নগর, ফরমালিনমুক্ত খাবার ও উন্নত চট্টগ্রাম’ গড়তে ৫৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের রিমা কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের এক অনুষ্ঠানে মনজুর আলম ইশতেহার ঘোষণা করেন। তাঁর পক্ষে ইশতেহারটি পড়েন চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আল নোমান ও নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। মনজুর আলম ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছেন, পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরকে সম্পূর্ণ জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন। এ ব্যাপারে সরকার ও জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার (জাইকা) সহায়তায় খাল খননের জন্য ২৯৭ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), কুয়েত ফান্ড ও জাইকা থেকে আরও বরাদ্দ এনে ১৯৯৫ সালে প্রণীত ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাবেক এই মেয়র আগ্রাবাদ, সিডিএ, হালিশহর, বাকলিয়া, বহদ্দারহাটসহ যেসব এলাকায় জোয়ারের পানি ​ঢোকে, সেখানে ইতিমধ্যে গৃহীত স্লুইসগেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উল্লেখ করেন।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মনজুর আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা বৃষ্টির কারণে হয়, কখনো-কখনো আপনাদের কারণেও হয়ে। কোথাও যদি সামান্য বৃষ্টিতে তিন ইঞ্চি পানি ওঠে, তখন আপনারা গণমাধ্যমে তা প্রচার করেন। জলাবদ্ধতা নিয়ে আমি কী কাজ করেছি, তা সব সময় আপনাদের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করেছি। আমি জলাবদ্ধতাকে জলজটে এনেছি। নগরে একসময় বৃষ্টিতে পাঁচ থেকে সাত দিনের জন্য পানি জমে থাকত। এখন মাত্র ঘণ্টা তিনেক থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্ণফুলী নদী খনন করা হলে সাময়িক এ জলজটও থাকবে না। আবার যদি নির্বাচিত হই, পাঁচ বছরে দেখবেন জলাবদ্ধতা কতটুকু কমিয়ে এনেছি।’
গতবার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে ৫৬ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেন। ওই ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রায় অর্ধেকের বেশি বাস্তবায়ন করেছি। কিছু চলমান রয়েছে আর কিছু সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় তার সবই করেছি।’
নির্বাচনে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে মনজুর আলম বলেন, প্রত্যেক কেন্দ্রে সেনাবাহিনী টহল দিক, সেটি আমাদের দাবি। সরকার যদি আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করে এই শহরে একটিও দুঃখজনক ঘটনা ঘটবে না...যেমন একটি ঘটনা না বললেই নয়। পাঁচলাইশে গণসংযোগ শেষ করে আমার বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে আসার সময় আমার গাড়ির (পিকআপ) আয়না ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গাড়ির চালককে আহত করা হয়েছে, মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এটি দুঃখজনক। আমি নির্বাচন কমিশনকে বলব, বর্তমান এ অবস্থা যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে তা দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আমি বলব, সেনাবাহিনী যদি টহলে থাকে, তবে আমরা সুন্দরভাবে নির্বাচনটা করতে পারব।’
নির্বাচনী ইশতেহারে মনজুর আলম চট্টগ্রাম শহর আগামী দিনে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দলবাজের অভয়ারণ্য হবে, নাকি সন্ত্রাসমুক্ত জনপদ হবে, সে প্রশ্নটি রেখেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কাদের বুঝিয়েছেন প্রশ্ন করা হলে সাবেক মেয়র বলেন, ব্যক্তিবিশেষকে এটি বলা হয়নি, কাউকে কটাক্ষ করে এটি বলা হয়নি।

মেয়র পদ হারালেন লুৎফুর রহমান

পূর্ব লন্ডনের বাঙালি-অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র পদ হারালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর রহমান। নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার, বর্ণবাদ ও আর্থিক অনুদান দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার দায়ে আদালত ওই নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে খালি হওয়া মেয়র পদে পুনর্নির্বাচনে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসে বিচারক রিচার্ড মৌরি এ রায় ঘোষণা করেন। পেশায় সলিসিটর লুৎফুর রহমানের আচরণের বিষয়টি যুক্তরাজ্যের সলিসিটর্স রেগুলেটরি অথোরিটিকে (এসআরএ) জানানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমান ডেপুটি মেয়র অলিউর রহমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত বছরের মে মাসে লুৎফুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র পদে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচন বাতিলের দাবিতে পিটিশন দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের মাথায় পদ হারালেন তিনি। তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম কোনো মুসলিম ও অশ্বেতাঙ্গ কাউন্সিল মেয়র।
বিচারক আদেশে বলেন, ‘লুৎফুর রহমান ইসলাম বিদ্বেষের দোহাই দিয়ে তাঁর সমালোচকদের মুখ বন্ধ রেখে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়েছেন। রায়ে প্রকৃতপক্ষে হেরেছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দারা, বিশেষ করে বাংলাদেশি সম্প্রদায়। যাদের ভুল পথে পরিচালিত করে ভুক্তভোগী করা হলো।’ যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অর্থ, বর্ণবাদ এবং বিশেষ করে ধর্মের প্রভাব বন্ধে আইনি পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক।
বাংলাদেশের সিলেটের বালাগঞ্জের সিকান্দরপুরে জন্ম নেওয়া লুৎফুর রহমান লেবার দলের রাজনীতিক ছিলেন। ২০১০ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জের ধরে তিনি লেবার দল থেকে বহিষ্কৃত হন। ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তিনি লেবার দলের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট দলের ব্যানারে নির্বাচন করে আবারও বিজয়ী হন। এই নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট দলের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে নানা বিতর্ক ওঠে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার, বর্ণবাদ, পোস্টাল ভোটে জালিয়াতি, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আর্থিক প্রভাবের অভিযোগ এনে নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে পিটিশন দাখিল করেন সেখানকার চারজন বাসিন্দা। গত ২ ফেব্রুয়ারি এই পিটিশনের শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের অর্ধ শতাধিক সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। পরীক্ষা করা হয় পোস্টাল ব্যালটগুলো। এতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালটে অসংগতি ধরা পড়ে।
বিচারক রায়ে বলেন, লুৎফুর রহমান নিজে এবং তাঁর এজেন্টদের মাধ্যমে একাধিক নির্বাচনী অপরাধ সংগঠিত করেছেন। ধর্মীয় প্রভাব খাটানোর বিষয়ে রায় দেওয়া কঠিন উল্লেখ করে বিচারক বলেন, লুৎফুর রহমানকে ভোট দেওয়া ইমানি দায়িত্ব-বাংলাদেশি মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের এমন প্রচারণার বিষয়ে রায় এড়ানো খুব কঠিন। তিনি বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম ও অশ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘু নয়। এ এলাকায় বর্ণবাদী দল ইংলিশ ডিফেন্স ​লিগের অস্তিত্বও নেই। তাই লুৎফুর রহমান বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, এমন দাবি অবাস্তব। তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আর্থিক অনুদানে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে ভোট আদায়ে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং ধর্মের প্রভাব খাটিয়েছেন এমনটি প্রমাণিত হয়েছে।

কিষাণ সমাবেশে কৃষকের আত্মহত্যা

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কিষাণ সমাবেশে আত্মহত্যা করলেন এক কৃষক। বুধবার সমাবেশ চলাকালীন গাছের ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ওই কৃষক। এএপির কর্মীরা দ্রুত তাকে নিচে নামিয়ে এনে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার মোদি সরকারের জমি অধিগ্রহণ বিলের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে এএপির সভা চলছিল। তখনই গাছ থেকে ঝুলে পড়েন ওই কৃষক।
মৃত্যুর আগে একটি চিরকুট লিখে যান ওই কৃষক। সেখানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন রাজস্থানের দাউসা জেলার বাসিন্দা গজেন্দ্র সিং রাজপুত। সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, ‘আমার তিনটি সন্তান রয়েছে। ঘরে খাবার কিছু নেই। খরায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাবা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে!’ পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী এদিন যন্তর মন্তরে র‌্যালিতে অংশ নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও এএপি প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মোদি সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ বিলের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত ওই র‌্যালিতে যোগ দেয় অনেক কৃষক।
র‌্যালিতে অংশ নেয়া ওই কৃষক গাছের উপর উঠে যায়। সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে এএপি কর্মীরা নেমে আসার আহ্বান জানায়। এক পর্যায়ে এএপি কর্মীরা গাছে উঠে তাকে নামায়। এরপর ওই কৃষককে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
আম আদমি নেতা কেজরিওয়াল তার ভাষণের পর ওই কৃষকের অবস্থা জানতে হাসপাতালে যান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখ পেয়েছি যে, সে যখন সবার সামনেই গাছে উঠল তখন কেউ বাধা দেয়নি।’ এএপি নেতা কুমার বিশ্বাস তখন বক্তব্য রাখছিলেন। কুমার বিশ্বাস এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশ কেন সক্রিয় হল না। তিনি বলেন, কেন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা দেখল। মনে হচ্ছে এটা মোদি-সরকারের ষড়যন্ত্র। ভারতে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বিজেপি সরকার। এ আইন অনুযায়ী, স্থানীয়দের মতামত ছাড়াই সরকার কল-কারখানার জন্য কৃষি জমি বরাদ্দ দিতে পারবে। সমাবেশে মোদিকে কটাক্ষ করে কেজরিওয়াল বলেন, কৃষকরা এখন আর প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করে না। কারণ, তিনি কৃষকদের জমি চুরি করে ধনীদের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন। আর এ জন্যই জরুরিভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ আইনের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
এ বিলটি বাস্তবায়ন না করার জন্য কৃষকরা ছাড়াও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কংগ্রেস, আম আদমিসহ সব দল সংসদের পাশাপাশি মাঠেও নেমেছে।

জঙ্গিরা আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে -তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, তাকে খুন করার পরিকল্পনা করছে সন্ত্রাসীরা। তিনি জানিয়েছেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে গিয়ে জঙ্গিরা তাকে হত্যা করতে চায় বলে আশংকা করেছেন তিনি। এর আগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমই ব্লগার অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছিল। ডেইলি মেইলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি জানিয়েছেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সমপর্কে বিভিন্ন ঘৃণ্য বার্তা ছড়াচ্ছে। একই কাজ ব্লগার অভিজিৎ রায় ও ওয়াশিকুর রহমানের ক্ষেত্রেও তারা করেছে বলে দাবি তসলিমার। তবে হুমকি সত্ত্বেও, তিনি ‘যতদিন বাঁচবেন, ততদিন চুপ থাকবেন না’ বলেও অঙ্গীকার করেছেন। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উগ্রপন্থি জঙ্গিরা এখন তসলিমার পিছু নিয়েছে। তাদের নজরে তসলিমা অনেকদিন ধরেই রয়েছেন। এদিকে ১৯শে এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে টুইটারে টুইট করেন তসলিমা। তিনি টুইট বার্তায় নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক টুইটার আইডিকে মেনশন করে লিখেন, মোদিজি, আমি ব্যাকুলভাবে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাচ্ছি। আপনি কি দয়া করে আমার ইচ্ছাটা পূরণ করবেন? বিনীত, আপনার ‘টি’। তবে তসলিমার ওই টুইটের প্রতিক্রিয়ায় সমর্থনসূচক ও তীর্যক বহু মন্তব্য দেখা যায়। নাভনিত আগারওয়াল নামের একজন প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, আপনি বিজেপিতে যোগ দিন। ভারত দোষি নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আপনার মতো মহান লেখক টুইটারে আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু সরকার সাড়া দিচ্ছে না। এটা খুবই খারাপ সময়। ডক রম নামের একজনের প্রশ্ন, তসলিমা, আপনি কয়টি ভোটের প্রতিনিধিত্ব করেন? ইবন ফেরদৌস নামের একজন লিখেছেন, কেন দেখা করা দরকার? মোদিজির কাছে ভিক্ষা চাইতে? সুবোধ গেইম নামের ব্যবহারকারী লিখেছেন, জানালার দিকে পাথর ছুড়ে মারুন। এবং বলুন, আপনি মুসলিম, তাই আপনি আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তবে কেউ কেউ বলেছেন, মোদির উচিত তার আহ্বানে সাড়া দেয়া।

খালেদা জিয়ার ওপর আক্রমণ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সম্ভব নয় : কাদের সিদ্দিকী

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনসংযোগকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে একেরপর এক হামলার ঘটনায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপর বারবার এরকম আক্রমণের ঘটনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ঘটানো সম্ভব নয়। শান্তির দাবি নিয়ে বর্তমানে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থান করছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন, একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে বেগম খালেদা জিয়ার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপর বারবার এরকম আক্রমণের ঘটনা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ঘটানো সম্ভব নয়। এধরনের ঘৃণ্য কাজে ইন্ধন যুগিয়ে সরকার সন্ত্রাসবাদ ও নৈরাজ্যকে জাতীয়করণ করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বঙ্গবীর বলেন, জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রাখার পর থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই সরকরের কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে আশা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে এমন ছেলেখেলা কারোর জন্যই মঙ্গলময় হবে না। তাই অবিলম্বে খালেদা জিয়া এবং তার লোকজনের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’
ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন : এদিকে সফররত পাকিস্তান দলকে ওয়ানডে ক্রিকেটে হোয়াইট ওয়াশ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। তিনি বলেন, ‘সঠিক নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনা পেলে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা ক্রিকেটের মতোই সকল ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

বিমান নাকি ট্রেন, ৬০৩ কি.মি. গতি তুলে বিশ্বরেকর্ড

পাখি না বিমান, কি বলবেন একে! এইমাত্র শুধু দেখলেন একটি দীর্ঘ অবয়ব। আর মুহূর্তেই কোথায় যেন হাওয়া। বলা হচ্ছে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেনের কথা। জাপানের এ ট্রেনটি ঘণ্টায় ৬০৩ কিলোমিটার গতি তুলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনটি তার নিজের করা আগের রেকর্ডটি ভেঙেছে। গত বৃহস্পতিবার ট্রেনটি ঘণ্টায় ৫৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলেছিল। আজ পরীক্ষামূলকভাবে মাউন্ট ফুজির কাছে ট্রেনটির গতি পরীক্ষা করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। ম্যাগনেটিক লেভিটেশন বা সংক্ষেপে ম্যাগলেভ প্রযুক্তির এ ট্রেনের চলার জন্য কোন ধাতব ট্র্যাক বা রেলপথের প্রয়োজন হয় না। ঘর্ষণমুক্তভাবে চলার জন্য ট্রেনটি ব্যবহার করে বিদ্যুতায়িত চুম্বক এবং ট্র্যাকের ওপর ভেসে থেকেই দ্রুতবেগে ছুটতে থাকে। এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাত্র ১০ দশমিক ৮ সেকেন্ডে ট্রেনটি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি গতি তুলেছে। এ সময়ে ট্রেনটি ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।

‘মন্ত্রীরাও শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন,  ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি আমাদের সমাজে ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ ধরনের লেনদেনের সরাসরি অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। মন্ত্রীরাও এ ধরনের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বার্থে শিক্ষাকে এ ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে লেনদেনের সুযোগ কম থাকবে।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর পলাশীর ব্যানবেইস সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ টাকা দেই আমরা, কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ আমাদের হাতে নেই। মন্ত্রীরাও এ ধরনের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতি যে কার্যকর হবে, সেজন্য আমাদেরও স্বচ্ছ হতে হবে। তা না হলে কোন লাভ হবে না। কারণ আমরা মন্ত্রীরাও ঘুষ নিয়ে কোন শিক্ষককে নিয়োগ দেই, তখন সেই শিক্ষক ঘুষের লাখ লাখ টাকা তোলার চাপে থাকে। ফলে তার পক্ষে শিক্ষাদান সম্ভব হয় না। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন।

মিন্টুর যমুনা রিসোর্টের চুক্তি বাতিলের কার্যকারিতা স্থগিত

যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে সেতু কতৃপক্ষের দেয়া নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ নিয়ে নিম্ন আদালতের দেয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি আমির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের পক্ষে দায়ের করা এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়া হয়। এরফলে যমুনা রিসোর্টের কার্যক্রম চালাতে কোন আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। তাকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার মারগুব কবির। যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু যমুনা রিসোর্টের মালিক।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর ও কালিয়াকৈরে ১২০০ একর জমির ওপর অবকাশ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সেতু কতৃপক্ষের সঙ্গে যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের ৩০ বছরের জন্য চুক্তি হয়। পরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে ওই স্থাটিতেই গড়ে ওঠে বিলাসবহুল অবকাশ যাপন কেন্দ্র, যা যমুনা রিসোর্ট নামে পরিচিতি পায়। যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ১৬ই মার্চ যমুনা রিসোর্ট কতৃপক্ষকে নোটিশ দেয় সেতু কতৃপক্ষ। যমুনা রিসোর্টের পক্ষ থেকে ওই নোটিশের জবাব দেয়া হয়। পরে গত ১লা এপ্রিল চুক্তি বাতিল করে দেয় সেতু কতৃপক্ষ। এ আদেশের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে আবেদন করে যমুনা রিসোর্ট লিমিটেড। নিম্ন আদালত প্রথমে স্থিতাবস্থা জারি করে। পরে স্থিতাবস্থা খারিজ করে দেয়। নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যমুনা রিসোর্ট কতৃপক্ষ হাইকোর্টে আবেদন করে।

‘গাড়িসংকট’, আজ প্রচারে যাচ্ছেন না খালেদা

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় গতকাল বুধবার বিএনপির
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে
পর পর তিন দিন হামলার মুখে পড়ার পর আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারে নামছেন না বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন দিনের হামলায় খালেদা জিয়ার গাড়িসহ নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়িসংকটের কারণে আজ বের হচ্ছেন না খালেদা জিয়া।
গত শনিবার থেকে ঢাকায় দল-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে নামেন খালেদা জিয়া। প্রতিদিন বিকেল চারটার পর তিনি গুলশানের বাসা থেকে প্রচারের উদ্দেশ্যে বের হন। আজ বৃহস্পতিবার আর বের হননি। জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তিন দিনের হামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনের নিজের গাড়িসহ নিরাপত্তাকর্মীদের গাড়িগুলো ভাঙচুর হয়েছে। সেগুলো মেরামতে দেওয়া হয়েছে। এখনো সারাই হয়নি। যে কারণে আজ খালেদা জিয়া প্রচারে নামতে পারছেন না।
গত সোম, মঙ্গল ও বুধবার পর পর তিন দিন কারওয়ানবাজার, নয়াপল্টন ও বাংলামোটর এলাকায় হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। কারওয়ান বাজারে প্রথম দিনের হামলায় খালেদা জিয়ার অতিরিক্ত গাড়িসহ (স্পেয়ার কার) নিরাপত্তাকর্মীদের তিনটি গাড়ি এলোপাতাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খালেদা জিয়ার গাড়ির সামনের দিকের ডান পাশের কাচও ফেটে যায়। ভাঙা গাড়িগুলো নিয়েই পরদিন মঙ্গলবার প্রচারে নামেন খালেদা জিয়া। সেদিনও নয়াপল্টন এলাকায় তাঁর গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরদিন গতকাল বুধবার বাংলামোটরে সরাসরি খালেদা জিয়ার গাড়িতেই হামলা হয়। তাঁর গাড়ির পেছনের দিকে বাম পাশের কাচ ভেঙে যায়। এদিনও নিরাপত্তাকর্মীদের ভাঙা গাড়িগুলো এবং আরও দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব হামলায় গাড়ি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি আহত হয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের (সিএসএফ) ছয়-সাতজন। এসব কারণে আজ আর বের হননি খালেদা জিয়া।
বিএনপির সূত্র জানায়, আজ না নামলেও খালেদা জিয়া প্রচার থেকে একেবারে সরে দাঁড়াবেন না। গতকাল হামলার পর তাঁর উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেনও বলেছিলেন খালেদা জিয়া প্রচার অব্যাহত রাখবেন।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সরকারদলীয় ক্যাডাররা প্রতিকূলতা তৈরি করছেন, তার পরও বিএনপি নির্বাচনে থাকার পক্ষে। জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। তাঁরা জবাব দেবেন। খালেদা জিয়া প্রচার থেকে সরে যাবেন বলে তিনি মনে করেন না।

যেভাবে রসু সিরিয়াল কিলার by মির্জা জাকির

বাংলাদেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার চাঁদপুরের রসু খাঁকে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বেলা ১টায় চাঁদপুর আদালতে সহকারী জজ অরুনাথ চক্রবর্তী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর আদালতে রসু খাঁকে ভাবলেশহীন দেখা যায়।
রসু খাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ১০টি মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় দেয়া হল। বাকি ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১টি হত্যা ও অন্যগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা।
চাঁদপুরের মদনা গ্রামের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ ভালোবাসায় পরাস্ত হয়ে এক সময় সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। নিজের মুখে স্বীকার করে ১১ নারী হত্যার কথা। টার্গেট ছিল ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর। কিন্তু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তার সেই আশা পূরণ হয়নি। রসু যাদের হত্যা করেছে তারা সবাই ছিল গার্মেন্ট কর্মী।
রসু খাঁ ভালোবাসার অভিনয় করে নিুবিত্ত পরিবারের মেয়েদের ঢাকার সাভার ও টঙ্গী এলাকা থেকে চাঁদপুরে এনে প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করত। হত্যার শিকার ওইসব হতভাগ্য মেয়ের অধিকাংশেরই সঠিক নাম-ঠিকানা বা পরিচয় আজও জানা যায়নি।
তার মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খাঁ খালাস পেয়ে যায়। এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেয় ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ১টি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৮টি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে টঙ্গীর গার্মেন্ট কর্মী শাহিদা বেগম হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হল।
কে এই রসু খা? : এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেয় খুনি রশিদ খাঁ ওরফে রসু খাঁ (৩৮)। বাবা আবুল হোসেন ওরফে মনু খাঁ ছিলেন একজন ক্ষেতমজুর। ফরিদগঞ্জ থানার সীমানা এলাকায় অবস্থিত মদনা গ্রামের খাঁ বাড়ি তাদের। এ গ্রামটি চাঁদপুর সদর উপজেলার অন্তর্গত। গত ১৪-১৫ বছর আগে তার বাবা মারা যান। এতে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে তার পরিবার। কিছুদিন পর বাবার রেখে যাওয়া ৩০-৩৫ শতক জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে। সে দাবি করে, প্রতিপক্ষরা তাকে কারণে-অকারণে ‘চোর-চোট্টা’ বলে গালাগাল দিতে থাকে। তবে এলাকাবাসী জানায়, টুকিটাকি চুরিতে সে নিজেও জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বাবার মৃত্যুর ২-৩ বছর পর তার মা কিছু জমি বিক্রি করে ঢাকার টঙ্গীতে বসবাসরত বড় মেয়ে হাফছা বেগমের কাছে চলে যান। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে রসু খাঁ দ্বিতীয়। অপর ভাই বসু খাঁ নিরুদ্দেশ। ছোট বোন জান্নাত বেগম জর্ডান প্রবাসী। টঙ্গী চলে যাওয়ার পর ভবঘুরে দিন কাটে তার। গত ১৫-১৬ বছর আগে সে বিয়ে করে পার্শ্ববর্তী লাড়–য়া গ্রামের বেপারি বাড়িতে। বিয়ের আগে ঘটক তাকে পাত্রী দেখতে দেয়নি। রসু খাঁ বলেন, বাসর ঘরে ঢুকে দেখি বউয়ের ডান চোখ কানা। ২ বছর পর বউ গর্ভবতী হয়। এরপর ওই বউকে শ্বশুরবাড়ি রেখে শ্যালিকা রীনা বেগমকে নিয়ে চলে যাই টঙ্গী। দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রী রীনাকে নিয়ে বসবাস শুরু করে টঙ্গীর নিরসপাড়ায়। সেখানকার বাবু কমিশনারের এলাকায় জনৈক বাবলু মিয়ার বাড়িতে ৫শ’ টাকায় বাসা ভাড়া নেয়। পরে স্ত্রী রীনাকে গার্মেন্টে চাকরি করতে দেয়। রসু খাঁ জড়িয়ে পড়ে অপরাধ জগতের সঙ্গে। চুরিদারি করাই ছিল তার প্রধান পেশা। টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানসহ মাঝে মধ্যে নিজ এলাকায় এসে চুরিদারি করে আবার টঙ্গী ফিরে যেত।
রসু খাঁর বর্ণনা মতে, স্ত্রীর গার্মেন্টে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন গার্মেন্ট কর্মী মেয়েদের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। এরই একপর্যায়ে এক নারী কর্মীর সঙ্গে প্রেম হয় তার। ওই কর্মী তার সঙ্গে প্রতারণা করে এলাকার অন্য এক ছেলের সঙ্গে প্রেমে জড়ায়। এতে রসু খাঁ বাদসাধলে ওই কর্মী তার প্রেমিকের সহযোগিতায় ৫-৬ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা ১টি পাঁচতলা ভবনের ছাদে তুলে বেদম মারধর করে তাকে। সেদিনই সে প্রতিজ্ঞা করে, ১০১ জন নারীকে ধর্ষণ শেষে খুন করবে বলে। সে অনুযায়ী সে নারীদের সঙ্গে প্রেমের ভাব গড়া শুরু করে। এদের মধ্যে গার্মেন্ট কর্মীই বেশি। একপর্যায়ে সে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবেও কাজ করতে থাকে। খুনের আগে সে ধর্ষণ করত তাদের। পরে সুযোগ দিত সহযোগীদের। তবে তার দ্বারা ধর্ষণ ও খুনের শিকার প্রায় প্রত্যেকটি লাশেরই পরিচয় অজ্ঞাত রয়ে গেছে। তার দ্বারা খুন-ধর্ষণের শিকার ১১টি লাশই উদ্ধার করা হয় নদী, খাল বা ডোবার পাশ অথবা পানি থেকে। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের আগে অথবা পরে সে ওই নারীদের হাত ও পা বেঁধে পানিতে ফেলে দিত। কখনও মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সে তাদের পানিতে চেপে ধরে রাখত। কোনো গৃহবধূর পারিবারিক বিরোধের ফলে অথবা অন্য কোনো নারী/মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে হবে এমনি প্রস্তাব বা সুযোগ পেলেই সে ওই সুযোগ গ্রহণ করত। খুনের বিনিময়ে সে টাকাও নিয়েছে। এমনি খুনের হাত থেকে তার শালার বউও বাঁচতে পারেনি। তার শালা আ. মান্নান তাকে বলে যে, তার গার্মেন্ট কর্মী বউ (নাম বলেনি) অন্য ছেলেদের সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করে। এদের মধ্যে একটি হিন্দু ছেলেও আছে। এ জন্য শালার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এরপর দুজনে মিলে ফরিদগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে আসার নাম করে ২০০৭ সালের ১৯ জুন শালার বউকে ফরিদগঞ্জের ৯নং ইউনিয়নের ভাটিয়া গ্রামে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে একটি হিন্দু বাড়ির কাছে নিয়ে যায়। তারপর দুজনে মিলে ফুঁসলিয়ে নদীর পাড়ে তাকে ধর্ষণ শেষে মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে হাত-পা বেঁধে নদীর পানিতে চুবিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করে। হত্যা শেষে দুজনে ফিরে যায় ঢাকায়।
টঙ্গীর জনৈক বাড়িওয়ালা শাহীন ও সহযোগী ইউনুছের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় এক পতিতাকে টঙ্গী থেকে এনে ফরিদগঞ্জের হাঁসা গ্রামে একইভাবে ধর্ষণ শেষে দু’পায়ের সঙ্গে দু’হাত বেঁধে গলাটিপে হত্যা করে খালের পানিতে ফেলে দেয় রসু। ঘটনাটি একই বছরের ফেব্র“য়ারি মাসের ৯ তারিখ গভীর রাতের।
অপর এক ঘটনায় টঙ্গী নিরসপাড়ার মানিক নামে রসুর এক মুদি ব্যবসায়ী বন্ধুর বউ মিলে টঙ্গীর এক গার্মেন্ট কর্মীকে ফরিদগঞ্জের হাঁসা গ্রামের একটি বিলে এনে ধর্ষণ শেষে একইভাবে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী ডোবায় লাশ ফেলে দেয় সে। এ জন্য বন্ধুর বউ তাকে নগদ ৫ হাজার টাকাও পুরস্কার দেয়। সে এভাবে কখনও কোনো মেয়ের সঙ্গে নিজে প্রেম করে অথবা ভাড়ায় খেটে একের পর এক খুন করে ১১ নারীকে। প্রত্যেকটি ঘটনাতেই সে থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে সে হয়ে ওঠে এক দুর্ধর্ষ কুখ্যাত খুনি। যা এরশাদ শিকদারের নৃশংসতাকেও হার মানায়। প্রবাদ আছে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। অথবা দশ দিন চোরের একদিন গেরস্তের। এমনিভাবে গত ৭ জুলাই ২০০৯ তারিখে তার সর্বশেষ খুনের শিকার তিন সন্তানের জননী পারভিন আক্তার। এই খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই থেমে যেতে হয় তাকে। অবসান হল এক লোমহর্ষক ও দুঃখজনক অধ্যায়ের।
রসু খাঁর বর্ণনায় জানা যায়, গাজীপুর বাজারে পারভিনের সঙ্গে পরিচয় হয় কুখ্যাত খুনি রসু খাঁর। এতে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন হয়। রসু খাঁ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় মেলামেশা করে তার সঙ্গে। একপর্যায়ে ৭ জুলাই ২০০৯ তারিখে রাত ১০টায় পারভিনকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের হাঁসা গ্রামে। পথে দেখা হয় ওই ইউনিয়নের সিংহেরগাঁ গ্রামের আপন ভাগ্নে জহির ও গোবিন্দপুর গ্রামের সঙ্গী ইউনুছের সঙ্গে। এরপর তারা তিনজনে মিলে পারভিনকে ধর্ষণ করে। পারভিন ওই রাতে তাকে বিবাহ করতে হবে বলে চাপ দেয়। নচেৎ সে পুলিশকে জানিয়ে মামলার হুমকি দেয় এবং চেঁচামেচি শুরু করে। এতে ভাগ্নে জহির ও সঙ্গী ইউনুছ পারভিনের হাত ও পা চেপে ধরে মাটিতে শুইয়ে দেয়। রসু খাঁ পারভিনের মুখে পরনের কাপড় গুঁজে দিয়ে গলা টিপে হত্যা শেষে হাত-পা বেঁধে পার্শ্ববর্তী খালের পানিতে ফেলে দেয়। পরের দিন নিজেকে রিকশাচালক পরিচয় দিয়ে নিজ বাড়িতে বিরোধ আছে এমন দুজনের নাম বলে পারভিনের খুনের সঙ্গে তারা জড়িত বলে ফরিদগঞ্জ থানার ওসিকে জানায়। সে পরে মোবাইল থেকে সিম কার্ড খুলে ফেলে। পরে পুলিশ ওই দুজনকে ধরলেও মামলার কোনো ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ওই দু’ব্যক্তিকে কোর্টেও চালান করা হয়। তারা ২-৩ মাস হাজত বাস করে জামিনে বেরিয়ে আসে।
এদিকে রসু খাঁ ওই বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় গাজীপুর বাজারে রাতের বেলা একটি মসজিদের ১২টি ফ্যান চুরির মামলায় হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে যায়। ফ্যান চুরিতে ধরা খেলে এক ব্যক্তি তার কাছ থেকে মোবাইল ও ওই সিম কার্ডটি রেখে দেয়। পরে সেটি জনৈক যুবক ব্যবহার শুরু করলে পারভিনের মামলার তদন্তকারী এসআই মীর কাশেম ওই সিম নম্বরে কল দিয়ে কথা বলতে শুরু করে। এরপর সিম কার্ডের সূত্র উদ্ঘাটন পূর্বক শনাক্ত হয় কুখ্যাত খুনি রসু খাঁ। পুলিশ সোর্সের মাধ্যমে ৮ অক্টোবর ঢাকা টঙ্গীর বাসা থেকে রসু খাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে ফরিদগঞ্জ থানায়। এরপর কৌতূহলবশত ফরিদগঞ্জের গত প্রায় ২ বছরের অজ্ঞাতনামা অপর ৫টি খুনের সঙ্গে তাকে দায়ী করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। সেও অবলীলায় ফরিদগঞ্জের ৬টি, হাইমচরের ৩টি ও চাঁদপুরের ২টি ঘটনার স্থান ও সময়ের বর্ণনা দেয়। এ বর্ণনার সঙ্গে ৩টি থানার অজ্ঞাতনামা ১০টি লাশের রেকর্ড হুবহু মিলে যায়।

জীবন দিলেও ভল্টের চাবি দেননি ওয়ালিউল্লাহ by আলাউদ্দিন আরিফ

জীবন দিয়েছেন কিন্তু ভল্টের চাবি দেননি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক আশুলিয়ার কাঠগড়া শাখার ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহ। তিনি জীবন দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ রক্ষা করে গেছেন। কিন্তু বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে দেখা যায় তার দেড় বছরের ছেলে শ্রাবণকে কোলে নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন স্ত্রী মোখলেসা খাতুন। ফুটফুটে ছোট্ট শিশুটি মায়ের কোলে দুষ্টমি করছে। তার বাবা বেঁচে নেই এটুকু বোঝার বয়স তার হয়নি। ওয়ালিউল্লাহর (৪৫) তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে শ্রাবণ সবার ছোট।
বুধবার তিনিসহ ৮ জনের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এদের মধ্যে ৭ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা হলেন- ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহ, ব্যাংকের গ্রাহক শাহাবুদ্দীন, নূর মোহাম্মদ, পাশের টেইলার্সের দোকানি জমির উদ্দিন, ক্রোকারিজের দোকানি মনির হোসেন, নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মণ্ডল ও গানম্যান কাজী বদরুল আলম। গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন অজ্ঞাত এক ডাকাতের লাশ মর্গে পড়ে আছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তার লাশ নিতে কিংবা শনাক্ত করতে কেউ হাসপাতালের মর্গে যায়নি। নিহত ৮ জনের মধ্যে নূর মোহাম্মদ নামে কাঠগোলা বাজারের চাল ব্যবসায়ীর শরীরে শটগানের গুলি ছিল। অপর লাশগুলোর সবই ছুরিকাঘাতজনিত মৃত্যু। তাদের প্রত্যেকের বুকে, পেটে, হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ কে এম শফিউজ্জামান জানান।
লাশ নেয়ার সময় ওয়ালিউল্লাহর স্ত্রী মোখলেসা আহাজারি করতে করতে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এখন এই ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব? সন্তানদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ কে জোগাবে। সংসারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন ওয়ালিউল্লাহ। মোখলেসা চোখের পানি ছেড়ে বলেন, তাদের বড় মেয়ে অভি সাভারের নামাপাড়ার একটি স্কুলে ১০ শ্রেণীর ছাত্রী। মেঝ মেয়ে পপি পড়ছে তৃতীয় শ্রেণীতে। আর ছোট মেয়ে ঐশির বয়স মাত্র তিন বছর। স্বামী হারানোর শোকের পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন মোখলেসা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে ওয়ালিউল্লার লাশ গ্রহণ করেন তার বড়ভাই নূরুল আলম। তিনি জানান, ডাকাতের হামলা পুরো পরিবারটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কালিয়াকৈর শাখার ম্যানেজার আছাদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, ওয়ালিউল্লাহ ছিলেন ব্যাংকের একজন স্মার্ট কর্মকর্তা। তিনি খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যাংকের কাজ করতেন। এ শাখায় শুরু থেকেই ম্যানেজার ছিলেন তিনি। এ শাখা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে মিরপুর ও সাভার শাখায় কাজ করেন তিনি। সাভার শাখার নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত রায় বলেন, ওয়ালিউল্লাহ সহকর্মী হিসেবে ছিলেন আদর্শ ও দায়িত্ববান অফিসার। এ কারণেই তিনি জীবন দিয়েছেন তবুও ভল্টের চাবি দেননি। তিনি জীবন দিয়ে ব্যাংকের সম্পদ রক্ষা করেছেন।
শাহাবুদ্দীন : কাঠগড়া বাজারের প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দীন মোল্লা পলাশের লাশ গ্রহণ করেন তার ভাগ্নে রোকুজ্জামান। তিনি জানান, কাঠগড়া বাজারে গ্লোরী স্পেশাল প্রিন্টিং প্রেস নামে পলাশের একটি ছাপাখানা আছে। ঢাকার গোপীবাগ এলাকায় তার বাসা। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার লক্ষণদিয়া গ্রামে। পলাশের বাবার নাম শামসুদ্দীন মোল্লা। নিহতের স্ত্রী নাজনীন জানান, তাদের কোনো সন্তান নেই। ঘটনার সময় তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান।
নূর মোহাম্মদ : নিহত নূর মোহাম্মদের বাবার নাম কাশেম আলী বেপারি। কাঠগড়া বাজারে মেঘনা রাইস এজেন্সি নামে তার একটি চালের আড়ৎ আছে। টাকা জমা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। কাশেম আলী বেপারির লাশ গ্রহণ করেন ভাই আবদুর রহমান। তিনি জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার চরভাঙা গ্রামে।
জমির উদ্দিন : অপর নিহত জমির উদ্দিন সর্দার ব্যাংক ভবনের নিচতলায় একটি টেইলার্সের কর্মী। তার বাড়ি আশুলিয়ার জহর চান্দ্রা এলাকায়। বাবার নাম মখদুম সর্দার। ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জমির এগিয়ে এলে জমিরের পেটে ছুরিকাঘাত করে। এতে জমিরের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
মনির হোসেন : নিহত মনির হোসেন ছিলেন কাঠগড়া বাজারের নিউ স্টার ক্রোকারিজ নামে অ্যালুনিয়ামের ব্যবসায়ী। ডাকাতির খবর পেয়ে তিনি তাদের ধরার জন্য এগিয়ে যান। এ সময় ডাকাতরা তার পেটে, বুকের পাশে ছুরিকাঘাত করে। তার লাশ গ্রহণ করেন ছেলে আজিজুল ইসলাম। তাদের বাসা কাঠগড়া সরকার বাড়িতে। গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার সিংহরা গ্রামে।
ইব্রাহিম মণ্ডল : নিহত ইব্রাহিম মণ্ডল ছিলেন কমার্স ব্যাংক কাঠগড়া শাখার নিরাপত্তাকর্র্মী। তিনি গুলশানের যমুনা সিকিউরিটিজ কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার আবাদপুর পশ্চিমপাড়ায়।
কাজী বদরুল আলম : সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার কাজী বদরুল আলম ছিলেন ব্যাংকের প্রধান নিরাপত্তাকর্মী ও গানম্যান। তার বাবার নাম মৃত আবদুল কুদ্দুস। গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার আমদা গ্রামে। যুমনা সিকিউরিটিজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসএম তাজুল ইসলাম জানান, কাজী বদরুল ও ইব্রাহিম মণ্ডল এক বছর ধরে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের কাঠগড়া শাখায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

খালেদা জিয়ার গাড়িতে ছাত্রলীগের হামলা

এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কাজনক * হামলা সত্ত্বেও গণসংযোগ অব্যাহত থাকবে
নির্বাচনী প্রচারে নেমে তৃতীয় দিনের মতো হামলার স্বীকার হল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। বুধবার বিকালে বাংলামোটরে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা লাঠিসোটা, রড ও হকিস্টিক নিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়ির ওপর চড়াও হয়। এতে গাড়িটির বামদিকের গ্লাসটি ভেঙে যায়। খালেদা জিয়া এ গ্লাসের সামনের সিটে বসে ছিলেন। গাড়ির বাম দিকে বাম্পারও ভেঙে রাস্তাতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) শামিউল, আতিকুর রহমান, নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়ির চালক আবদুল মান্নানসহ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে শামিউলের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রুবেলের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রড, লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় কেউ কেউ গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে। হামলাকারীদের কয়েকজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। হামলার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে একদল যুবক দৌড়ে শাহবাগ হয়ে বাংলামোটরের দিকে যায়। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা ছিল। হামলার পর তাদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দিকে যেতে দেখা যায়।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির চেয়ারপারসনের নিজস্ব
নিরাপত্তাকর্মীদের একজনকে বাংলামোটরে রাস্তায় ফেলে মারধর করে
খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বুধবার সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির নেতারা বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তা ছাড়া এ হামলা হতে পারে না। তারা দাবি করেন পুলিশের সহায়তায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার দাবি করা হয়। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। অব্যাহত হামলার পরও খালেদা জিয়ার গণসংযোগ অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা ১৯ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অফিসে অবস্থান শেষে তিনি গুলশান বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন। বহরে বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার গাড়ি কর্ডন করে রাখে। খুব ধীরগতিতে বহরের গাড়ি চলে।
মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে ফকিরাপুলে গণসংযোগ শেষে নয়াপল্টনের দিকে আসার পথে কাঁচাবাজারসংলগ্ন এলাকায় সরকার সমর্থকদের হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এর আগে সোমবার প্রচারে নেমে কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার পথসভা ও গাড়িবহরে সরকার সমর্থক নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এর আগে উত্তরায় গণসংযোগকালে খালেদা জিয়াকে কালো পতাকা প্রদর্শন করে সরকার সমর্থকরা।
বুধবার বিকাল ৪টা ৪৭ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে পঞ্চম দিনের মতো গণসংযোগে বের হন খালেদা জিয়া। বনানী-মহাখালী, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার হয়ে তার গাড়ি বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে বাংলামোটরে ট্র্রাফিক সিগন্যালে আটকা পড়ে। সিগন্যাল উঠলে গাড়ি রওনা হওয়ার সময় বাংলামোটরের কনকর্ড টাওয়ারের সামনে ৩০-৪০ নেতাকর্মী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, ছি ছি খালেদা ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়ির দিকে এগিয়ে এসে লোহার রড, লাঠি ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। খালেদা জিয়ার পাশে সেলিমা রহমান বসা ছিলেন। লাঠির আঘাতে খালেদা জিয়ার গাড়ির বাম পাশের পেছনের দিকের গ্লাস ভেঙে যায়। এছাড়া বামপাশের চাকার ওপরে মার্কার ভেঙে যায়। এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর তার নিরাপত্তা কর্মীরা ঘিরে রেখে দৌড়াতে দৌড়াতে এগোতে থাকে। হামলাকারীরা এর পরপরই সিএসএফসহ গণমাধ্যমের গাড়ির ওপরও চড়াও হয়। এতে সিএসএফ ৪টি গাড়িসহ বেসরকারি টেলিভিশনের একটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।
সিগন্যাল শেষে গাড়ি চলতে থাকলে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা সামিউল ও আতিকুর রহমান গাড়িতে উঠতে পারেননি। এ সময় দৌড়ে গিয়ে হামলাকারীরা দু’জনকে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। প্রথম দফায় হামলাকারীদের হাত থেকে দৌড়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তারা। দ্বিতীয় দফায় তাদের দু’জনকে আবারও বেদম পেটানো হয়। তৃতীয় দফায় অন্য আরেকটি গাড়িতে উঠতে ব্যর্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান তারা। এ সময় হামলাকারীরা আবারও তাদের পেটাতে থাকে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্য হামলাকারীদের বারবার ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে না পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা আগ্নেয়াস্ত্র বের করার প্রস্তুতি নেন। পরে লোকজন এসে তাদের দু’জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদিকে খালেদা জিয়ার চলন্ত গাড়িবহর হামলার সময় ধাক্কায় ছাত্রলীগের দুই কর্মী পড়ে গিয়ে আহত হন।
পরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সরাসরি নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যায়। ৫টা ৩৫ মিনিটে কার্যালয়ের উল্টোপাশে এসে তার গাড়ি থামে। পরে ফকিরাপুল মোড় ঘুরে ৫টা ৫৪ মিনিটে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে চেয়ারপারসনকে বহনকারী গাড়ি। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে খালেদা জিয়া হাত দিয়ে ভাঙা জায়গা দেখেন। পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলায় অবস্থিত তার কক্ষে যান । এ সময় চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও মাহবুব আলম ডিউ, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা, শিরীন সুলতানা, সুলতানা আহমেদ, শামা ওবায়েদ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার খবর পেয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব. ) মাহবুবুর রহসান, আ স ম হান্নান শাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, কেন্দ্রীয় নেতা হেলেন জেরিন খান, রেহানা আক্তার রানু, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ, সদস্যসচিব শওকত মাহমুদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, সাংবাদিক শফিক রেহমান, মাহফুজউল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। ‘খালেদা জিয়ার ওপর হামলা কেন, শেখ হাসিনা জবাব চাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’ কার্যালয়ের বাইরে নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দেয়। পরে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠক শেষে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।
নির্বাচনী প্রচারের সময় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পরপর তিনদিন হামলার পরও তিনি প্রচার অব্যাহত রাখবেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যতই ঝড়ঝঞ্ঝা আসুক না কেন সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখবেন। দেখি সরকার কতটা হিংস্র হতে পারে। জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। সিটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। তা না হলে সরকারের যে পরিণতি হওয়ার তাই হবে।’
নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়ায় সরকার উন্মাদ হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাকশাল কিংবা একদলীয় শাসন চাইলে স্পষ্ট করে বলুন আমরা আমাদের পথ বেছে নেব। জনগণ উত্তেজিত হলে কোনো স্বৈরাচার পার পায়নি। ছাত্রলীগের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘সোনার ছেলেরা পুলিশ ছাড়া আসুন।’ দলীয় নেতাকর্মীদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান চেয়ারপারসনের এ উপদেষ্টা।

দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাতি- বীভৎসতা থেকে রেহাই পায়নি কেউ by নুরুজ্জামান লাবু ও হাফিজ উদ্দিন

ভয়ঙ্কর, নির্মম, নৃশংস। ঘটনার ভয়াবহতা এমন যে এসব শব্দ হার মানিয়েছে আশুলিয়ার কমার্স ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায়। প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রাহক সেজেই ব্যাংকে ঢুকেছিল দুর্বৃত্তরা। ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি একটু পরেই চোখের সামনে ঘটে যাবে বিভীষিকাময় ঘটনা। অন্যান্য দিনের মতোই চলছিল ব্যাংকের কার্যক্রম। ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহসহ অন্যরা ছিলেন নিজ নিজ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। ব্যাংকের ভেতরে গ্রাহকও ছিলেন ১৫-১৬ জনের মতো। কিন্তু দুপুর ২টার দিকে হঠাৎই পাল্টে যায় ব্যাংকের ভেতরের দৃশ্যপট। গ্রাহক সেজে ভেতরে ঢোকা ৪-৫ জন যুবক আসলে গ্রাহক ছিল না। মুহূর্তেই প্রত্যেকে ব্যাগ থেকে বের করে অস্ত্র। কারও হাতে ধারালো ছোরা, কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। হাতে ছিল গ্রেনেডও। পরিকল্পনা অনুযায়ী একজন জিম্মি করে ফেলে ব্যাংকের ম্যানেজার ওয়ালি উল্লাহকে। একজন জিম্মি করে নিরাপত্তারক্ষী বদরুল আলমকে। অন্যরা ততক্ষণে সবাই ঘটনার বিহ্বলতায় স্থির। দুর্বৃত্তরা সবাইকে শুয়ে পড়তে বলে। অনেকেই শুয়ে পড়ে মেঝেতে। দুর্বৃত্তরা ভল্টের চাবি নেয়ার চেষ্টা করে ম্যানেজারের কাছ থেকে। অন্যরা ক্যাশে থাকা টাকা-পয়সা সব নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। এদিকে ভেতরে থাকা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ব্যাংক গ্রাহক পলাশের সহযোগী একজন বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি ভেতরে যেতে গিয়ে দেখতে পান ব্যাংকের মূল দরজা তালাবদ্ধ। বুঝতে পারেন ভেতরে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বাইরে থেকে চিৎকার করেন ডাকাত ডাকাত বলে। পাশের মসজিদ থেকে খাদেম তৈয়ব আলী এগিয়ে যান রড হাতে। সঙ্গে আরও গোটা সাত-আট জন মানুষ। ব্যাংকের বাথরুমের জানালা দিয়ে কেউ একজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিলেন। বলছিলেন মাইকে কিছু একটা ঘোষণা দিতে। খাদেম তৈয়ব আলীর মাথায় হঠাৎ মাইক শব্দটি কানে আসে। তিনি দৌড়ে চলে যান মসজিদের ভেতর। মাইক চালু করেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘কমার্স ব্যাংকে ডাকাত ঢুকছে, সবাই এগিয়ে আসেন’। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে বাজারের লোকজন ছুটে আসে ব্যাংকের সামনে। এগিয়ে আসেন আশেপাশের বসতবাড়ির লোকজনও। ব্যাংকের ভেতরে ততক্ষণে ঘটে গেছে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। ভল্টের চাবি না দেয়ায় ম্যানেজারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। বাধা দিতে এগিয়ে আসায় নির্মমভাবে কোপানো হয় নিরাপত্তারক্ষী বদরুলকেও। একইভাবে কোপানো হয় গ্রাহক পলাশকেও। বাইরে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি দেখে মাথা বিগড়ে যায় দুর্বৃত্তদেরও। বন্ধ গেটের ভেতর থেকেই তারা বাইরের লোকজনের উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি আর বোমা ছুড়ে মারে। ব্যাংকের ভেতরেও ফাটানো হয় হ্যান্ড মেইড গ্রেনেড। পরে তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে দুর্বৃত্তরা। এলোপাতাড়ি গুলি আর বোমা ফাটিয়ে ছুটতে থাকে মূল রাস্তার দিকে। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করা অন্যরাও বোমা আর গুলি ছুড়তে থাকে। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক মোটরসাইকেলে থাকা তিন দুর্বৃত্তকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। এদের একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে স্থানীয় লোকজন। অপর দুই দুর্বৃত্ত বোরহান মৃধা (৩৫) ও সাইফুল (২৫)কে আটক করে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের গুলি ও বোমায় মারা যান ৫ জন। এদের তিনজন ঘটনাস্থলে এবং দু’জন মারা যান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ভয়াবহ এমন ব্যাংক লুটের ঘটনা এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটেছে বলে কেউ মনে করতে পারছে না। প্রকাশ্য দিবালোকে রীতিমতো ফিল্মি স্টাইলে ব্যাংক লুটের এ ঘটনায় হতচকিত খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। তারাও হিসাব মিলাতে পারছে না, কারা এবং ঠিক কি উদ্দেশ্যে জনবহুল এক বাজারের ভেতরের ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেছিল দুর্বৃত্তরা। কেন দুর্বৃত্তরা এই ব্যাংককেই বেছে নিয়েছিল লুট করতে। হিসাব মেলাতে পারছেন না তারাও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি নিছক একটি ব্যাংক ডাকাতি নয়, এর নেপথ্যে অন্য কোন কারণ রয়েছে। একই কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নূরুজ্জামানও বলেছেন, এর পেছনে অন্য কারণ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এক ডাকাতের সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন তিনি। বলছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছে। তাদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
কাঠগড়া এলাকায় সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাংকটির প্রধান ফটকে বুধবারও তালা ঝুলানো। পাশেই নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশের একাধিক দল। ব্যাংকের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখা গেছে রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফ্লোরে। ওই এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। সবার চোখে মুখে শোক আর আতংকের ছাপ। কাঠগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নিহত সাহাবুদ্দিন মোল্লা পলাশের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পলাশের প্রতিবেশী জুয়েল বলেন, পলাশ ছিল নিঃসন্তান। তিনি ছিলেন গ্লোরিয়াস ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেদিন ব্যাংকে গিয়েছিলেন এক লাখ টাকা ওঠাতে। সেখানেই ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান বলেন, ডাকাতদের ব্যবহার করা অস্ত্র খুবই আধুনিক। যেগুলো জঙ্গিরাই বেশি ব্যবহার করে। ডাকাতদের ব্যবহার করা বোমা দেশের বাইরে থেকে আনা হয়েছিল বলে তারা ধারণা করছেন। বাজারে এইসব অস্ত্র পাওয়া যায় না। এগুলো শুধু সেনাবাহিনী ব্যবহার করে। তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ডাকাত দলের সদস্য বোরহানের পুরো পরিবার জামায়াত- শিবিরের সঙ্গে জড়িত। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতেই তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ডিআইজি বলেন, ব্যাংকের সিসিটিভি সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের কোন হয়রানি করবে না পুলিশ এবং ডাকাতি প্রতিরোধে আহত-নিহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে।
গ্রেপ্তারকৃত দু’জন অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন: এনাম মেডিক্যালের সাত তলায় মুখোমুখি দুইটা কেবিনে চিকিৎসা হচ্ছে ডাকাতির ঘটনায় আটক বোরহান ও সাইফুলের। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছেন। বোরহান মৃধা নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার শংকরপাশা গ্রামে। তার বাবার নাম হাজী আবুল কালাম মৃধা। সে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন চন্দ্রা এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের পাঁচবিরি হরেন্দ্রবাজার গ্রামের আনোয়ারের ছেলে বলে জানিয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা অব্যাহত জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বোরহান ডাকাতির কথা স্বীকার করেনি। এমনকি সাইফুলকে সে চেনে না বলেও জানিয়েছে। তবে সাইফুল জানায়, তারা কয়েকজন মিলে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। সোমবার তুরাগের ইজতেমা মাঠে বসে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তার দায়িত্ব ছিল শুধু বোমা ফাটানোর। তাদের সঙ্গে বরিশালের পাতার হাটের মারুফ, কাজল ও লিটন নামে আরো তিন জন ছিল। তাকে এক বড় ভাই ডাকাতি করতে নিয়ে এসেছিল বলে সে দাবি করে। সাইফুল জানায়, সে ডাকাতি করতে সঙ্গে না গেলে তাকে কথিত ওই বড় ভাই মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দু’জনই চতুর প্রকৃতির। তারা প্রকৃত তথ্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছে। গণধোলাইয়ের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা সুবিধার নয়। একারণে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। সূত্র জানায়, বোরহানের বাবা আবুল কালাম মৃধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে চাকরি করতেন। বোরহান কোরআনের হাফেজ। দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। সে ঢাকায় কি কাজ করতো তা এলাকার লোকজন জানতো না। ঘটনার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বোরহানের বাবাকে কাশিয়ানী থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
আশুলিয়া থানায় দুই মামলা: বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কাঠগড়া বাজার শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আটককৃত ডাকাত সাইফুল ও বোরহানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয় ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। লুট হওয়া টাকার পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ১৯৩ টাকা। অন্যদিকে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশের এসআই জাকারিয়া হোসেন বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ জন স্থানীয় গ্রামবাসীকে আসামি করা হয়। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিম হাসান জানান, টাকা বেশি খোয়া যায়নি। তবে ব্যাংকের অনেক ক্ষতি হয়েছে।
চন্দ্রায় বোরহানের বাসায় অভিযান: বুধবার সকালে আশুলিয়া থানা পুলিশ ডাকাত বোরহানকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রা এলাকায় রমজান আলী শ্রমিক কলোনিতে অভিযান চালায়। ওই কলোনির একটি কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন বোরহান। ওই বাসা থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আমাদের কালিয়াকৈর প্রতিনিধি জানান, বোরহান রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফিরত আর সকালে চলে যেত। তার গতিবিধি সবসময়ই সন্দেহজনক ছিল। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কম মেলামেশা করতো। তার চারটি পিকআপ, একটি ট্রাক ও একটি নীল রঙ্গের ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিল। ট্রাকস্ট্যান্ডের ড্রাইভার শাহাবুদ্দিন জানান, প্রতি মাসেই তার গাড়ির ড্রাইভার পরিবর্তন করত। কোন পিকআপ মালিক সমিতির সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। আলাদা স্থানেই তার গাড়িগুলো রাখত। বাসার মালিক রমজান আলীর স্ত্রী রুপজান বলেন, বোরহান আমাদের বাসায় এসেছে দেড় মাস হবে। এর আগে সে আমার ভাই আফজালের বাসায় ভাড়া থাকত। দীর্ঘ ৩ বছর ওই বাসায় ভাড়া ছিল বলে তার কোন পরিচয় নেয়া হয়নি। ওর স্ত্রী পর্দা করতো কারও সঙ্গে তেমন মিশতো না। স্থানীয়রা জানান, ৬ মাস আগে জলিল নামে এক পিকআপ চালককে ওই এলাকার বাছেদের বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে দেয় রোবহান। সে তার স্ত্রী ও দুই বছরের মেয়ে তাসলিমাকে নিয়ে ওই বাসায় থাকত। জলিলের চলাচলও ছিল সন্দেহভাজনক। ডাকাতির ঘটনার পর থেকে জলিলকে আর দেখেনি এলাকাবাসী। ওই বাসার মালিক বাছেদ বলেন, আমার সঙ্গে তার তেমন কোন কথা হতো না। পিকআপ চালিয়ে রাতে আসত, সকালে যেত। বাড়ির ভাড়াটা তার স্ত্রী আমার স্ত্রীর কাছে দিয়ে যেত। ঘটনার পরপরই বোরহান ও জলিলের স্ত্রী বাসা ছেড়ে পালিয়েছে।
ডাকাতদের ধরলেন যারা: ঘটনার দিন স্থানীয় তিন যুবক রনি দেওয়ান, নয়ন দেওয়ান ও সোহেল মোল্যা ব্যাংকের পাশের একটি মাঠে আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় রনির এলিয়ন কার ও চালক হাসানও সঙ্গে ছিল। মসজিদের মাইকে ডাকাতির খবর শুনে তারা গাড়ি নিয়ে মূল রাস্তায় এগিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের একটি মোটরসাইকেল দেখিয়ে ডাকাত পালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়। এ সময় তারা নিজেদের এলিয়েন গাড়ি নিয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে ধাওয়া করে। ব্যাংকের এক কিলোমিটার দূরে চৌরাস্তায় ডাকাত দলের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয় তারা। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল বোরহান মৃধা। তার পরনে পায়জামা পাঞ্জাবি ছিল। অন্যরা ছিল প্যান্ট-শার্ট পরা। গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি পড়ে গেলে সাইফুলকে ধরে ফেলে রনি দেওয়ান। এর আগেই তারা প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে একটি বোমা নিক্ষেপ করে। সাইফুলকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। নয়ন আর সোহেল তাদের ধাওয়া করে পাশের আড়াগাঁও পর্যন্ত নিয়ে যায়। তাদের চিৎকারে আড়াগাঁওয়ের লোকজন সামনের দিকে বেরিকেড দিয়ে দুজনকে ধরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়রা অজ্ঞাত একজনকে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। বোরহান সেখান থেকেও ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় লোকজন। এদিকে রনি দেওয়ান মোটরসাইকেলের পাশে একটি ব্যাগে কিছু টাকা পড়ে থাকতে দেখে। এছাড়া ব্যাগের ২০ হাজার টাকা  ছিল সেখানে। আর তাজা বোমা তিনটি নিষ্ক্রিয় করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। এদিকে ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী মসজিদের খাদেম তৈয়ব আলী জানান, মসজিদ ও ব্যাংক মুখোমুখি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি দেখতে পান ব্যাংকের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে একজন ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার করছে। প্রথমে তিনি রড হাতে এগিয়ে যান। এ সময় কেউ একজন তাকে মাইকে ঘোষণা দেয়ার জন্য বলে। পরে তিনি দুই দফায় মাইকে ব্যাংকে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেন। তার আহ্বানেই এলাকাবাসী ব্যাংকের সামনে গিয়ে ডাকাতদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর : ডাকাতদের নির্মম হত্যার শিকার ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জামালপুর জেলার সদর থানার অনন্তবাড়ী গ্রামের ওয়াসিম উদ্দিনের ছেলে ওলিউল্লাহর লাশ বুধবার সকালে নুরুল আলমের কাছে ঢামেক মর্গ থেকে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মী বদরুল আলম, ডাকাতিতে বাধা দিতে গিয়ে নিহত ইব্রাহিম, সাহাবুদ্দিন পলাশ, নূর মোহাম্মদ, মনির হোসেন ও জমির উদ্দিনের লাশের ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনও নিহত ডাকাতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার দিনই পদোন্নতি হয়েছিল নিহত ম্যানেজারের: মঙ্গলবারই পদোন্নতি হয়েছিল নিহত ব্যাংক ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহর। জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির সেই চিঠি দুপুরে তার হাতে পৌঁছে ছিল। এ আনন্দ উপভোগ করার আগেই ব্যাংকে ঘটে যায় রোমহর্ষক ঘটনা। ওয়ালিউল্লাহর স্ত্রী মাহমুদা মেহাজাবিন বলেন, মঙ্গলবার সকালে অন্য দিনের মতো খাওয়া-দাওয়া করে ব্যাংকে গিয়েছিলেন তার স্বামী। দুপুরে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হলো এনাম মেডিক্যালে যেতে। সেখানে যাওয়ার পর তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর পান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা: আশুলিয়ার কাঠগড়ায় ভয়াবহ ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন ত্রুটি কিংবা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য ঘটনার সরজমিনে তদন্তের স্বার্থে তিন সদস্যের একটি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের আইজিপিকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন গভর্নর। এছাড়া এ ঘটনায় নিহতের পরিবারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও নিহতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তা ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন গভর্নর।

নির্দলীয় মোড়কে দলীয় নির্বাচন by রাহীদ এজাজ

সিটি নির্বাচনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে । পিছিয়ে নেই
সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলররাও। নানা কায়দায়
চলছে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা। উত্তর কাট্টলীতে
৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আবিদা
আজাদ ভোটারদের দুয়ারে নিজের প্রতীক হাতে (বাঁয়ে)।
খুলশী এলাকায় একই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী আরজু
শাহাবুদ্দিন ইশতেহারের প্রচারপত্র বিতরণ করছেন
ভোটারদের মধ্যে। গতকাল বুধবারের চিত্র l জুয়েল শীল
সিটি করপোরেশনের মতো স্থানীয় সরকার নির্দলীয় হবে এটি সংবিধান কিংবা স্থানীয় সরকার আইনের কোথাও বলা নেই। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণবিধিতে দলের নাম বা প্রতীক বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম বা ছবি না ছাপানোর নির্দেশনা রয়েছে।
দলের নাম বা প্রতীক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি প্রার্থীরা না ছাপালেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটা দলেরই হচ্ছে। চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন ও মোহাম্মদ মনজুর আলম যথাক্রমে চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী। আ জ ম নাছিরের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সাবেক গণপরিষদ সদস্য ইসহাক মিয়া। আর মনজুর আলমের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান নগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী যে দুটি নাগরিক ফোরামের মনোনীত, সেই ফোরাম দুটি শেষ পর্যন্ত পরিচালনা করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল। তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো।
আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রচার-প্রচারণায় নির্দলীয় আমেজ থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয় রাজনৈতিক দলের মোড়কে। এটা মানছেন ভোটাররাও।
গত বুধবার বিকেলে আগ্রাবাদে কথা হচ্ছিল বেসরকারি একটি সাহায্য সংস্থার গাড়িচালক মোহাম্মদ রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, নির্বাচনটা কিন্তু হাতি (নাছিরের প্রতীক) ও কমলালেবুর (মনজুর প্রতীক) নয়। লড়াইটা নৌকা আর ধানের শীষের। লোকজন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি যে ভোটটা দিতে পারেনি, এবার সেটাই দেবে।
চিটাগাং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) বিবিএ শেষ পর্বের ছাত্র মো. রাশেদুল ইসলাম ও নাহিদের সঙ্গে গত মঙ্গলবার কথা হচ্ছিল তাদের পাঠাগারে। নতুন দুই ভোটার বেশ রোমাঞ্চিত প্রথম ভোট নিয়ে। প্রার্থীর যোগ্যতা, নগরের সমস্যা, আগামী দিনের শহর সব বিষয় বিবেচনায় এনে তাঁরা ভোট দেবেন। তবে দুই তরুণই অকপটে স্বীকার করলেন প্রার্থীর যোগ্যতা, আগামী দিনের নগর সব কিছু ছাপিয়ে প্রধান হয়ে উঠবে কে কোন দলের মনোনীত। পছন্দ হোক আর নাই হোক শেষ পর্যন্ত নির্বাচনটা দলেরই।
প্রার্থীও যে দলের ওপর ভর করেই নির্বাচনী বৈতরণি পার করতে চান সেটি তঁাদের আচার-আচরণেও স্পষ্ট। গতকাল নির্বাচনী ইশতেহার প্রচার করতে গিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত পাঁচ বছরে গৃহীত প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী কর্মসূচির প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, ‘এ সরকারের আমলে চট্টগ্রামের পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামে তাঁর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমাকে মেয়র পদে সমর্থন করেছেন। আমি নির্বাচিত হলেই চট্টগ্রামকে ঘিরে সরকারের উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা আরও পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হবে।’
এদিকে গত সোমবার আলকরণ এলাকায় গণসংযোগের সময় মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, ‘আমি বেগম জিয়ার প্রার্থী। আমার বিজয় মানে বেগম জিয়ার বিজয়।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীদের এ ধরনের আচরণ নির্বাচনকে অবধারিতভাবে দলীয় আবহ দিচ্ছে। এ ছাড়া সব মিলিয়ে একধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ হচ্ছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্দলীয় ও দলীয়ের মধ্যে সত্যিকারের কোনো সীমারেখা নেই। আমাদের এখানে নির্বাচন মানে রাজনীতি, রাজনীতি মানে নির্বাচন। এই দুটি বিষয় আলাদা করা খুব কঠিন। দলগুলোর দাবি, প্রার্থীদের তারা সমর্থিত করছে। এটি একটি উভয় সংকট।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন যতই কাছে আসে, তখন দুদলের মধ্যে মেরুকরণ হয়ে যায়। আর আমরা স্থানীয় সরকারকে জাতীয় রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছি।’

সহিংসতা থেকে প্রার্থীকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

বাংলামটরে খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িতে
ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলা -নিজস্ব ছবি, মানবজমিন
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অবাধ মত প্রকাশ, প্রচারণাকালে সমাবেশের সুযোগ দিতে, প্রার্থীদের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আবারও নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দেয়ার পর সে কথাই পুনর্ব্যক্ত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মেরি হার্ফ। বিশেষ করে সোমবার ঢাকার কাওরান বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় তার ওপর হামলা হয়। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন। বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়েও। তাতে সাংবাদিকরা জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের কাছে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন। তারা জানতে চান বাংলাদেশের এ উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টায় জাতিসংঘের আদৌ কোন ভূমিকা আছে কিনা। জবাবে ডুজাররিক বলেন, তিনি এ বিষয়টি নজরে রাখবেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ফের উঠে আসে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মেরি হার্ফের কাছে বাংলাদেশ বিষয়ে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। নিচে তা প্রশ্নোত্তর আকারে তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ইস্যুতে আমার একটি প্রশ্ন আছে। আমি কি প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে পারি?
উত্তর: ঠিক আছে। প্রশ্ন করুন।
প্রশ্ন: আপনি কি বাংলাদেশে সহিংসতা সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো দেখেছেন?
উত্তর: দেখেছি।
প্রশ্ন: বিরোধীদলীয় নেত্রীর ওপর হামলার বিষয়?
উত্তর: আমার মনে হয়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তবে আমি আপনার জন্য তার মূল অংশটুকু তুলে ধরতে পারি: ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা। এ বিষয়টি নিয়েই সুনির্দিষ্ট ওই বিবৃতিটি দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য সহিংসতার ব্যবহারকে আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অহিংস হয়, তা নিশ্চিতে আমরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনেরও আহ্বান জানিয়েছি। আমরা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে বাধা সৃষ্টি না করতে, প্রার্থীদের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে এবং যারা আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছি।
প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, বর্তমান সরকার সংবেদনহীন কিংবা বিরোধীদলীয় নেত্রীকে সুরক্ষা দিতে পারছে না?
উত্তর: আমি মনে করি, এ ব্যাপারে আমাদের যা বলার আছে, তা আমি এরই মধ্যে বলেছি। আপনার জন্য আমার কাছে এর চেয়ে বেশি কোন তথ্য নেই।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ বিষয়ে আমার আরেকটি প্রশ্ন আছে।
উত্তর: হ্যাঁ, বলুন।
প্রশ্ন: সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘ সময় নিখোঁজ। তার ব্যাপারে আপনার কাছে নতুন কোন তথ্য আছে কি?
উত্তর: আপনার জন্য আমার কাছে যোগ করার মতো আর কোন তথ্য নেই।

খালেদার প্রচারে অব্যাহত হামলা

 বাংলামটরে খালেদার নিরাপত্তা রক্ষীকে রাস্তায় ফেলে পেটায়
সরকার সমর্থকরা। ছবি: মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, মানবজমিন
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িতে হামলা করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল বিকালে রাজধানীর বাংলা মটর কনকর্ড টাওয়ারের সামনে ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। পঞ্চম দিনের মতো বিএনপি সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের জন্য গণসংযোগে বের হলে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে চতুর্থদিনের মতো হামলার শিকার হয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। হামলায় খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, নিরাপত্তা টিম সিএসএফ সদস্য লে. কর্নেল (অব.) সামিউল ও আবদুল মান্নানসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত সামিউলকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ও মান্নানকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মশিউর রহমান রুবেল ও মামুন আহমেদসহ নেতাকর্মীরা আগে থেকেই বাংলা মটরে অবস্থান করছিলেন। সবার হাতেই ছিল কমলা রঙের লাঠি। ঠিক সাড়ে ৫টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরটি কাওরান বাজার পার হয়ে বাংলা মটরে পৌঁছালে সিগনালে পড়ে। এর পরপরই ছাত্রলীগ নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে গাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক লাঠি ছুড়ে মারে। গাড়ির বাঁ পাশে বসেছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি যেখানে বসেছিলেন তার ঠিক পেছনেই লাঠির আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান খালেদা জিয়া। এ ছাড়া বহরে থাকা একটি গাড়ির প্রায় সব কাচ লাঠি দিয়ে আঘাত করে ভেঙে ফেলা হয়। ওই গাড়িতে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফের সদস্যরা ছিলেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা সিএসএফের একাধিক সদস্যকে গাড়ির বাইরে এনে লাঠি দিয়ে মারতে থাকেন। রাস্তায় ফেলে সিএসএফের সদস্য সামিউলকে লাথি মারতে থাকেন এবং লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে। ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টের সামনেই ছাত্রলীগ কর্মীরা সিএসএফ সদস্যদের ওপর এ রকম হামলা চালান। হামলাকারীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’। প্রত্যক্ষদর্শী ১১১ কাজী নজরুল ইসলামের এমটিবি (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) টাওয়ারের সিকিউরিটির দায়িত্বে নিয়োজিত ফিরোজ বলেন, সাড়ে ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িটি তাদের ভবনের সামনে আসলে সিগনালে পড়ে। এ সময় ৩৫-৪০ জনের একটি দল গাড়িটিতে হামলা করে। হামলাকারীদের প্রত্যেকের হাতে লাল রঙ্গের লাঠি ও হকিস্টিক ছিল। ফিরোজ জানান, এ হামলার সময় তাদের ভবনের ফটক বন্ধ করে দেয়। কয়েক মিনিট ধরে ওই হামলা চলতে থাকে। পরে সিগন্যাল ছেড়ে দিলে দ্রুত গাড়িটি চলে যায়। তিনি আরও জানান, গাড়িটির বামপাশের গ্লাস ভেঙে গেছে। বাংলা মটর পয়েন্টের ইস্কাটন রোডের এক তরমুজ বিক্রেতা বলেন, আমরা দেখলাম হঠাৎ করেই শাহবাগ ও লিংক রোডের দিক থেকে লাঠি হাতে একদল যুবক এসে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গাড়ি বহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে একজন লোক প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তাকে বেধড়ক পেটায় হামলাকারীরা। হামলার সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ওই তরমুজ বিক্রেতা বলেন, ভয়ে আমরা সবকিছু ফেলে পালিয়ে যাই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর গণসংযোগে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ ধরে কাওরান বাজারের দিকে আসছে সেটা জেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বেরিয়ে একদল যুবক দৌড়ে বাংলা মটরের দিকে যায়। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা ছিল। হামলার কিছুক্ষণ পর তারা বাংলা মটর থেকে শাহবাগে ফিরে আসে। এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রুবেল দাবি করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে ছাত্রলীগ হামলা করেনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী সাঈদ খোকনের পক্ষে জনসংযোগ করছিল। আমরা নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি করছিলাম। খালেদা জিয়ার সিএসএফের গাড়ি এবং যুবদল, ছাত্রদলের মোটরসাইকেল আমাদের ওপর দিয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়। ওই গাড়িবহর থেকে আমাদের ওপর হামলা করা হয়, গুলিবর্ষণও করা হয়। এতে চার ছাত্রলীগকর্মী আহত হয়।’ এর আগে, রোরবার রাজধানীর উত্তরায়, সোমবার কাওরান বাজার এবং মঙ্গলবার ফকিরাপুল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। সোমবার সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় পাঁচজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এদিকে বিকাল পৌনে ৫টায় তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে জনসংযোগের উদ্দেশে বের হন খালেদা জিয়া। এদিকে হামলার পর বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে তার গাড়িবহর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছায়। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।  সেখানে দলের সিনিয়র নেতা ও ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, উপদেষ্টা ও পুলিশের সাবেক আইজি এমএ কাইয়ুম, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, কমিটির সদস্যসচিব ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ অংশ নেন। এদিকে রাত ৯টার পর বিএনপি সমর্থিত বিশিষ্ট নাগরিকদের সংগঠন ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’-এর একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনের বাসভবনে যান। সংগঠনের আহ্বায়ক প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে সদস্য সচিব শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই সিকদার, কাদের গনি চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন। তবে তারা সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। ফলে একটি প্রতিবাদ লিপি সিইসির নিরাপত্তা প্রধানের কাছে হস্তান্তর করে তারা ফিরে আসেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ কর্মসূচি
ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্রচার চালানোর সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি বহরে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সারা দেশের উপজেলা, জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। গতকাল এক যৌথবিবৃতিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চায় না -আফরোজা আব্বাস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলা প্রমাণ করে সরকার চায় না নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হোক। কিন্তু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এমন গ্যারান্টিও নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকার সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনে একতরফা সুযোগ-সুবিধা নেবে। তারা নিজেদের পক্ষে ফলাফল ঘোষণা করবে-এমন আশংকা রয়েছে নগরবাসীর মাঝে। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে নগরবাসীর আবেগ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন তথা সরকার বুঝতে  পেরেছে। নগরবাসীর এই আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবে এবং নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় সেই ব্যবস্থা নেবে। গতকাল পুরান ঢাকায় গণসংযোগকালে গণমাধ্যমের কাছে তিনি এ আশঙ্কার কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আফরোজা আব্বাস পুরান ঢাকার কাগজীটোলা এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ গণসংযোগে এসে শামিল হয়। বেলা ১১টার দিকে গণসংযোগ রূপ নেয় বিশাল গণবহরে। পরে তিনি পুরান ঢাকার কাগজীটোলা, শ্যামবাজার, লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, সদরঘাট, কোর্টকাচারি এলাকা, তাঁতীবাজার, লালকুটি, লক্ষ্মীবাজার, ইসলামপুর, আলুবাজারসহ বেশকিছু এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় সাবেক মন্ত্রী আবদুল হাই, তাঁতীদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, নিতাই চন্দ্র ঘোষ, ড্যাব নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মারুফ আল হাসান, কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেরুন নিছা বাশার গণসংযোগে অংশ নেন। আফরোজা আব্বাস পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসভবনে যান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অভিযোগ করে বলেন, সরকারের নানামুখী চাপের কারণে আপনাদের প্রিয় মির্জা আব্বাস আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসতে পারছেন না। এ পরিস্থিতি তার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। আমি তার স্ত্রী হিসেবে ২৮শে এপ্রিলের নির্বাচনে আপনাদের কাছে মির্জা আব্বাসের জন্য ভোট ও দোয়া চাইতে এসেছি। এদিকে আজ সকাল ৯টায় ইস্কাটনের হলি ফ্যামেলি হাসপাতাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন আফরোজা আব্বাস। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উদয়ন স্কুল সংলগ্ন টাওয়ার ভবন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বুয়েট এলাকায় গণসংযোগ করবেন তিনি। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ ন্যাপ। এদিকে জোটের আরেক শরিক দল এনডিপি নেতারা আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আবদুল হাই শিকদার ও প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরীসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গের গণসংযোগ
এদিকে গতকাল রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মির্জা আব্বাসের মগ মার্কা প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন দেশের বরেণ্য সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের একটি দল। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের সদস্য সচিব ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আবদুল্লাহ, কাদের গণি চৌধুরী, সুরকার ইথুন বাবু এ গণসংযোগে অংশ নেন। তারা মতিঝিল মধুমিতা সিনেমা হল থেকে শুরু করেন। এরপর ব্যাংকপাড়া, দিলকুশা এলাকা, দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন এসব এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই গণসংযোগে যোগ দেন।
শ্রমিক দল, জাসাসের গণসংযোগ ও পোস্টার ছিনতাই
এদিকে শ্রমিক দল ঢাকা মহানগরের সভাপতি কাজী আমির খসরুর নেতৃত্বে দিলকুশা, ফকিরাপুল, দৈনিকবাংলা মোড়, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় মির্জা আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এছাড়া, বেলা ১১টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জাসাস সভাপতি আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ঢাকার জুরাইন বিক্রমপুর প্লাজা, রহমান মার্কেট, আলম মার্কেট, পোস্তগোলা ও শ্মশান ঘাট এলাকায় মির্জা আব্বাসের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। জুরাইন মার্কেটে গণসংযোগকালে স্থানীয় সরকারদলীয় সমর্থকরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এদিকে কামরাঙ্গীর চরের মুসলিমবাগ এলাকায় প্রচারকর্মী খায়ের উদ্দিনের কাছ থেকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মগ মার্কা প্রতীকের পোস্টার ছিনতাই করে নিয়ে যায়। খায়ের উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বেলা ৩টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা আলমগীর শাহীন, সাব্বির ও সেলিমসহ ২৫-৩০ জনের সন্ত্রাসী গ্রুপ এসে তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে তার কাছ থেকে পোস্টার ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা : হান্নান শাহ ও আলালের নিন্দা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন-এর মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মির্জা আব্বাসের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে খালেদা জিয়া গণসংযোগের এক পর্যায়ে ফকিরাপুল বাজারের ফলপট্টি এলাকায় পৌঁছুলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও এমপি খালেদ মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মির্জা আব্বাসের কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে ‘মগ’ মার্কার প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় যুবদল নেতা আলমগীর হোসেন হীরা, রনি মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাহবুবুর রহমান পাখি, মফিজুল ইসলাম টুকু, শওকত আলী, অলিউল্লা অলি ও ছাত্রদল নেতা সোহরাব হোসেনসহ প্রায় ২০/২৫ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মী আহত হন। নেতৃদ্বয় বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটলেও তারা ছিল নির্বিকার।

সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা চাই -তাবিথ আউয়াল

সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার জোর দাবি জনিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার সিটি করপোরেশন মার্কেটে গণসংযোগের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের কাছে এ দাবি জানান তিনি। আগামী ২৬শে এপ্রিলের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা এখনও আশ্বস্ত হতে পারছি না। সেনাবাহিনী দৃশ্যমান হতে হবে। আর নির্বাচনের সময় অবশ্যই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার (বিচারিক ক্ষমতা) দিতে হবে। যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নেই। প্রতিদিনই ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারদলীয় লোকজন হুমকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশে তিনবার হামলা করা হয়েছে। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার ওপর ফের হামলার আশঙ্কা করে তার ও দলের প্রার্থী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ২০ দল সমর্থিত ‘বাস’ মার্কার এই মেয়র প্রার্থী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতই হুমকি দেয়া হোক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে এসেছে। জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হলেই এসব হুমকির প্রকৃত জবাব দেয়া হবে। রায়ের বাজারের এই সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে গণসংযোগ শুরুর সময় মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জোটের শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, হাবিবুর রহমান হাবিব ও হেলেন জেরিন খানসহ ২০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মোহাম্মদপুরে পুলপাড় জামে মসজিদ এলাকা থেকে ‘বাস’ মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ শুরু করেন তাবিথ আউয়াল। প্রার্থী আসার আগেই মসজিদ এলাকায় হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। বিভিন্ন গলি থেকে শ’ শ’ মানুষের কয়েকটি মিছিল এসে সেখানে সমবেত হয়। তারা মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ‘বাস’ ও স্থানীয় ২০ দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের স্ব-স্ব মার্কায় স্লোগান দেন। পরে তাবিথ আউয়াল পূর্ব রায়ের বাজার, রাজমুশরী, উত্তর সুলতানগঞ্জ, জাফরাবাদ, রায়েরবাজার, বিবির বাজার, পশ্চিম ধানমন্ডি, মহম্মদী হাউজিং সোসাইটি, কাটাসূর, গ্রাফিক আর্ট কলেজ, বাঁশবাড়ী, তাজমহল রোড, জহুরী মহল্লা, নূরজাহান রোড, রাজীয়া সুলতানা রোড, জাকির হোসেন রোড, লালমাটিয়া, আসাদ এভিনিউ, মগবাজার, চৌরাস্তা মসজিদ, দিলুরোড, নিউ ইস্কাটন, নয়াটোলা, মিরবাগ-মধুবাগ, মগবাজার ওয়ারলেস কলোনি পথচারী, দোকানিসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে গণসংযোগ করেন। এ ছাড়া ৩৪, ৩৩, ২৯, ৩১, ৩২, ৩৫, ৩৬ এবং ২০নং ওয়ার্ডে কয়েকটি পথসভা করেন তিনি। সেসব পথসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে আদর্শ ঢাকা আন্দোলন ও ২০ দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। নিজের বাস প্রতীকের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষেও ভোট চান তিনি।
ক্যাম্পেইন অফিস পরিদর্শনে বৃটিশ হাইকমিশনার
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন অফিস (রেগনাম টাওয়ার, ১৯১/বি, তেজগাঁও গুলশাল লিংক রোড) পরিদর্শন করেন। প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ছোট ভাই তাফসির আউয়াল বৃটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার তার কাছে নির্বাচনের সার্বিক বিষয় খোঁজ-খবর নেন এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা ব্যক্ত করেন।

পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করুন -আনিসুল হক

সিটি নির্বাচনে ইলেকশন কমিশনের সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক। সম্প্রতি কিছু ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে গতকাল নির্বাচনী গণসংযোগকালে আনিসুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আমি সমর্থন করি। এতে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে। ইদানীং কিছু ঘটনায় নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। ভাল নির্বাচন করার জন্য যা যা করার তাই করুক নির্বাচন কমিশন। আমি সমর্থন দিয়ে যাবো। গতকাল আনিসুল হক তার প্রচারণা শুরু করেন মিরপুরের পল্লবী থানার মুসলিম বাজার এলাকা থেকে। মিরপুরের এ অংশের একভাগে অবাঙালি বিহারি, অন্যভাগে নিম্নআয়ের মানুষের বাস। পল্লবীর এ অংশটি ২নং ওয়ার্ডের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি। এ দিন সকাল ১০টায় মুসলিমবাজার আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এসে পৌঁছান আনিসুল হক। এ সময় আনিসুল হকের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াসউদ্দিন মোল্লাহ, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তবে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আনিসুল হকের হয়ে টেবিলঘড়ি মার্কায় ভোট চান ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের জন্যও ভোট চান তিনি। এরপর বক্তব্য রাখেন মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক। ভোটের আর মাত্র ৫ দিন বাকি। আপনারা সঠিক প্রার্থী নির্বাচিত করুন- এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে আরও প্রায় সাড়ে তিন বছর এ সরকার ক্ষমতায় আছে। সরকারের সঙ্গে প্রার্থীর সুসম্পর্ক থাকলে তার পক্ষে অন্যদের তুলনায় বেশি ভাল কাজ করা সম্ভব। অতএব যিনি আপনাদের জন্য ভাল কাজ করবেন, তাকেই ভোট দিন। আমি শুধু বলবো চাপ আসবে, অনেকে অর্থের লোভ দেখাবে। দয়া করে কেউ ভোট এবং বিবেক বিক্রি করবেন না। আপস না করে পছন্দের মানুষকে নির্বাচিত করুন। খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আবারও নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ওই ঘটনায় আমি সবার আগে নিন্দা জানিয়েছি। দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি। তবে তিনি বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, এটা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। পথসভা শেষে মুসলিমবাজার মাঠে বাচ্চাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ ক্রিকেট খেলেন এবং পুরো এলাকার দোকানে দোকানে লিফলেট বিলি করেন। এরপর তিনি মিরপুর-১২-এর সাত্তার মোল্লার বস্তি, ঝিলপাড় মোল্লার বস্তি হয়ে ভোলার বস্তি ঘুরে দেখেন। বস্তিবাসীর কাছে ভোট চান। এ সময় অনেকেই জানতে চান, মেয়র নির্বাচিত হলে বস্তিবাসীর উন্নয়নে কি করবেন? আনিসুল হক বস্তিবাসীর জীবন মান উন্নয়নে তার যেসব কর্মসূচি আছে তার বিবরণ দেন। বিশেষ করে বস্তির শিশু ও নারীদের কল্যাণে পদেক্ষপ নেবেন। বস্তিবাসীর জন্য লো-কষ্ট হাউজিং, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ, নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থাসহ যা করণীয় সব করবেন বলে আশ্বাস দেন। এ সময় অনেক বৃদ্ধ মহিলা আনিসুল হকের মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দেন। বস্তির জনগণ তাকে নির্বাচিত করার আশ্বাস দেন। এরপর তিনি চ্যানেল একাত্তর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন আয়োজিত এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিকালে যোগ দেন বাউনিয়া বাঁধ এলাকার পথসভায়। সেখান থেকে সহস্র নাগরিক কমিটি আয়োজিত মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে আরেক পথসভায় যোগ দেন। এ সময় আনিসুল হকের সঙ্গে ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুসসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা। সবশেষ সন্ধ্যায় ভাষানটেক এলাকায় পথসভা ও জনসংযোগের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ করেন তিনি।