Monday, May 7, 2018

রোগীর সেবাই মাকসুদুরের নেশা

রোগীকে সুস্থ করে তুলতে বা বাঁচাতে শুধু চিকিৎসকেরই ভূমিকা থাকে না। এতে জোরালো ভূমিকা রাখেন নার্স, আয়া ও ওয়ার্ড বয়রাও। তবে, সবার শুরুতে অবদান থাকে একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের। তার কারণেই একজন আশঙ্কাজনক রোগীর দ্রুত চিকিৎসা করার সুযোগ পান চিকিৎসক ও নার্স। এদের মধ্যে অন্যতম বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মাকসুদুর রহমান (৪১)। মাকসুদের বাড়ি ভোলার মনপুরা উপজেলার আন্দিরপাড় এলাকায়। ২০০৪ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তিনি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ভোলার সিভিল সার্জন অফিস, দৌলতখান ও তজুমুদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এরপর পাঁচ বছর আগে বদলি হন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে। এরপর থেকে বরগুনার রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মাকসুদুর রহমানের। তিনি বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাইয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও অবদান রয়েছে আমাদের। আমাদের সামান্য এ অবদানের জন্য যখন একজন রোগী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন তখন পৃথিবীতে এর থেকে ভালো লাগার বিষয় আমার কাছে আর নেই। দীর্ঘ চাকরি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন তিনি। হয়েছেন অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনারও সাক্ষী। আবার রোগী পরিবহন করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখোমুখিও হয়েছিলেন দু’দুবার।
মাকসুদ বলেন, বছর খানেক আগে বরগুনার বাবুগঞ্জ এলাকার অসুস্থ এক কিশোরীকে নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিলেন তিনি। ১২-১৩ বছরের মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময়ই অসুস্থ মেয়েটির মুখ দেখে মায়ায় জড়িয়ে যান তিনি। মনে মনে ভাবেন, ‘না জানি মেয়েটির কত না কষ্টই হচ্ছে। আমারওতো এমন একটি সন্তান আছে।’ এমনটি ভাবতে ভাবতে আঁকাবাঁকা আর ভাঙা রাস্তা দিয়ে বরগুনার গৌরীচন্না পর্যন্ত সবেমাত্র পৌঁছেছে তার অ্যাম্বুলেন্স। এর পরপরই হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে মেয়েটি। এরপর তিনি গাড়ি থামিয়ে মেয়েটিকে নিজ হাতে অক্সিজেন পড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি মেয়েটিকে। তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনদের আগেই বুঝে ফেলেছিলেন তিনি। তখনই শুরু করেন হাউমাউ করে কান্না। তার কান্না দেখে কাঁদা শুরু করেন মেয়েটির স্বজনরাও। এরপর জড়ো হয় আশপাশের মানুষ।
মাকসুদুর রহমান জানান, বছর তিনেক আগে একবার প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে এক মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিলেন তিনি। ঝড়ের তীব্রতায় যখন পথ দেখা দুষ্কর, তখনও বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে চলছিল তার অ্যাম্বুলেন্স। পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি যখন মহিষকাটা এলাকায় পৌঁছে, তখনই একটি মাঝারি আকারের গাছ উপড়ে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সের উপর। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়িতে থাকা রোগী ও তার স্বজনরা অক্ষত থাকলেও মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে ঝড় থামলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অ্যাম্বুলেন্সের উপর থেকে গাছ সরিয়ে আহতাবস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দেন তিনি। তিনি বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়ক হয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বরিশাল যেতে হয়। কখনো কখনো দিনে দু’বার বরিশাল যেতে হয় আমাকে। ঝড় বৃষ্টি, সকাল দুপুর নেই, কখনো কখনো গভীর রাতেও রোগী নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয়। তবে, আমার যখনই ডাক পড়ে, কখনই অনীহা প্রকাশ করি না। যত কষ্টই হোক, একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে বেরিয়ে পড়ি।
ব্যক্তিগত জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক মাকসুদ রহমান। ১১ বছর বয়সী ছেলের নাম আবু বকর ছিদ্দিক আর সাত বছর বয়সী মেয়ের নাম বিবি আছিয়া। তারা দু’জনেই বরগুনার একটি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।

চাঞ্চল্যকর হত্যার তদন্ত (২): ফারুকী হত্যা রহস্য রয়েই গেল by আল আমিন

দেশের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তালিকায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের প্রধান খতিব ও টেলিভিশন উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ড। প্রায় ৩ বছর ৮ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি সংশ্লিষ্টরা। ফারুকী হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। থানা পুলিশ মামলাটি অনিহা প্রকাশ করে ডিবিতে হস্তান্তর করে। এরপর ডিবি পুলিশ এ ঘটনার কোনো ক্লু না পেয়ে সিআইডিতে হস্তান্তর করেন। সিআইডিতে এখন পর্যন্ত তিন বার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এ ঘটনার কোনো ক্লু পায়নি। সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, জঙ্গি, আর্থিক লেনদেন এবং পূর্বশত্রুতা- এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করে মামলার তদন্ত চলছে। সিআইডির পক্ষ থেকে তারা বিভিন্ন বিষয় ধরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
২০১৪ সালের ২৭শে আগস্ট শেরেবাংলানগর থানার পূর্ব রাজাবাজারের ১৭৪ নম্বর বাড়ির দোতলায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকারীরা ওই বাড়িতে মুরিদ সেজে ঢুকেছিল। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে পরিবার ও অন্য মুরিদানদের চোখ বেঁধে জিম্মি করে ফেলে। পরে তাকে জবাই করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাত নয়জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ফারুকী টেলিভিশনের উপস্থাপনা ছাড়াও একাধিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মতিন) প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী মানবজমিনকে জানান, প্রায় ৩ বছর ৮ মাস পার হয়ে গেল কিন্তু, এখন পর্যন্ত কী কারণে আমরা বাবা খুন হয়েছেন তা জানতে পারলাম না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তিনি বলেন, সিআইডিতে একাধিবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হয়েছে। যেই কর্মকর্তা আসে সেই আমাদের বিভিন্নভাবে আশ্বাস দেন ক্লু বের করার। কিন্তু, কেউ ক্লু বের করতে পারছে না, আসামিদেরও ধরতে পারছে না।
মামলাটির তদন্তকারী সিআইডির ইন্সপেক্টর মো. মাহমুদ হোসেন বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা কয়েকটি ইন্টিলেজেন্স নিয়ে কাজ করছি। দ্রুত এ বিষয়ে একটা ভালো ফলাফল জানাতে পারবো। আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে আরও দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত করা হচ্ছে। একটি তার আর্থিক বিষয় এবং অন্যটি পূর্বশত্রুতা। ফারুকী পীরপন্থী বলে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন। তার মতাদর্শ নিয়ে সমালোচনা ছিল। কয়েকজন আলেম তার মতাদর্শ বিরোধিতা করে ফতোয়া দিয়েছেন। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে তার বিরোধিতাকারীদের খুনের সঙ্গে কোনো যোগসাজস পাওয়া যায়নি।  
ফারুকী খুন হওয়ার চার দিন পর ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া থেকে মাহমুদা বেগম, শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মো. ইউসুফ নামে ফারুকীর তিন মুরিদকে আটক করে। ওই খুনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতারও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানান, ওই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। খুনিরা বাড়িতে ফারুকীর মুরিদ পরিচয়ে প্রবেশ করেন। তারা ফারুকীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এতে বোঝা যায় তারা আগেও ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং ফারুকীর সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। ধর্মীয় বিষয় ছাড়াও তার পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিজীবনে কারো সঙ্গে শত্রুতা ছিল কি না তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে তদন্তকারী সংস্থা। তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোন এবং ফেসবুকেও হুমকি দেয়া হয়েছিল। ফেসবুকের পেইজ ও মোবাইল ফোনের কললিস্টও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন সিআইডির কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করেও ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা দৃশ্য ও বস্তুগত আলামত থেকেও কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেননি। সূত্র জানায়, ফারুকী প্রত্যেক বছরে তার নিজস্ব এজেন্সির মাধ্যমে হজ্জে লোক পাঠাতেন।  টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি-না সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

স্তন স্ফীতকরণ? সাবধান

অনেক মেয়ে নিজেকে আকর্ষণীয় দেখাতে ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট বা স্তন স্ফীতকরণ করিয়ে থাকেন। চিকিৎসকরা অপারেশনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের স্তন স্ফীত করে কাঙ্খিত আকৃতি দিয়ে দেন। আবার বয়সের সঙ্গে নারীদের এই অঙ্গটি ঢিলেঢালা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে, নিজেকে আবেদনময়ী করে তুলতে অনেক নারী ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করান। এক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে নারীর প্রাকৃতিক স্তনের ভিতরে সিলিকনের তৈরি থলথলে একটি চাকতি প্রবেশ করিয়ে দেন। এতে নারীকে দেখায় আকর্ষণীয়। তাকে দেখায় টগবগে এক যুবতীর মতো। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, যেসব নারী এভাবে ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করানো হলেও শত শত নারী তাদের শরীরে প্রবেশ করিয়ে নিচ্ছেন টাইম বোমা। গবেষকরা বলছেন, যেসব নারী ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করিয়েছেন তাদের মধ্যে শত শত নারী এখন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করানো প্রতি ৩০০০ নারীর মধ্যে একজন নারী এনাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিফোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। তাদের বক্তব্য হলো, এই স্ফীতকরণের ফলে নারীর রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। এমনকি দু’ বছরের মধ্যে অনেক নারীকে অপারেশন করাতে হয়। এ খবর দিয়েছে পশ্চিমা একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ব্রেস্ট ইমপ্লান্ট করানোর কারণে ক্যান্সারের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে থাকা শত শত বৃটিশ নারীর স্তনে অপারেশন করতে হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, স্তন স্ফীতকরণ প্রক্রিয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রথমে যতটুকু ধারণা করা হয়েছিল এখন সেই ঝুঁকি তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এক সময় বিশ্বাস করা হতো বেস্ট ইমপ্লান্ট করানো হয়েছে এমন প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে একজনেরও কম নারী এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু গত সপ্তাহে নতুন গবেষণা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে প্রতি ৩০০০ নারীর মধ্যে একজন এমন ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, স্তন স্ফীতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনাপ্লাস্টিক লার্জ সেল লিমফোমা (বিআইএ-এএলসিএল) কোনো স্তন ক্যান্সার নয়। কিন্তু এটি হলো ‘নন হজকিনস’ লিম্ফোমা। এটি হলো রোগ প্রতিরোধ সিস্টেমের ক্যান্সার। এ ধরনের ক্যান্সার দেখা দিতে পারে সুনির্দিষ্ট কিছু ধরনের নারীর ক্ষেত্রে। যেমন যদি স্তনের ওপরের ত্বক দেখতে বাজে হয় এবং সেক্ষেত্রে অপারেশন করানো হয়। বৃটেনে শতকরা ৯৯ ভাগ নারীর ক্ষেত্রে স্তনে এমন চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু অপারেশনের গড়ে সাত বছর পরে এই ধরনের ক্যান্সারের উৎপত্তি হতে থাকে। তবে যদি একবার এই রোগ শুরুতে ধরা পড়ে তাহলে তা নিরাময়যোগ্য। কিন্তু যদি শুরুতে এ রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব না হয়, চিকিৎসা নেয়া না হয় তাহলে এ থেকে যে ক্যান্সার সৃষ্টি হয় তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এমডি অ্যান্ডারসন ক্যান্সার সেন্টারের ডা. মার্ক ক্লিমেনস বলেন, যদি এমন ক্যান্সার ধরা পড়ে তাহলে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল। আপনি যদি বিআইএ-এএলসিএল-এর কথা ভাবেন। মনে করুন এটি হলো একটি ম্যাচের কাঠি। যখন এটা ম্যাচ বক্সের ভিতরে আছে তখন এটা নিরাপদ। কিন্তু তা একবার সেখান থেকে বেরিয়ে এলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে পারে। বিআইএ-এএলসিএল নিয়ে গবেষণার সামনের সারিতে থাকা সার্জন প্রফেসর আনন্দ দেব বলেন, শুধু গত বছরে তারা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখতে পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান স্কুল অব এডভান্সড মেডিসিনের প্রফেসর তিনি। বলেন, এই রোগ সম্পর্কে আমাদেরকে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। গবেষণার সর্বশেষ ফল প্রকাশ করা হয়েছে নিউ ইয়র্কে দ্য এস্থেটিক মিটিং ২০১৮ তে। আমেরিকান সোসাইটি ফর এস্থেটিক প্লাস্টিক সার্জারি প্রতি বছর বার্ষিক ভিত্তিতে এই মিটিং আহ্বান করে থাকে। এখানে উল্লেখ্য, শুধু বৃটেনে প্রতি বছর ৫০ হাজার নারী স্তন স্ফীতকরণের অপারেশন করিয়ে থাকেন।

নারী সাংবাদিকতায় নাসিমা খান মন্টি by তানভীর আলম খান

নাসিমা খান মন্টি দৈনিক আমাদের অর্থনীতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ঢাকা ভিত্তিক দেশব্যাপী প্রচারিত কোনো জাতীয় দৈনিকে সত্যি সত্যি সক্রিয় অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক। এরকম শীর্ষপদে চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে তাকে অনেক মেধার চর্চা করতে হয় এবং পরিশ্রমও করতে হয় কঠোর।
তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল যে, তিনি সপ্তাহে সব কর্ম দিবসেই ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৬টায়। বাচ্চাদের তৈরি করে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে স্কুলে পাঠান। তারপর সকাল ১০টায় সপ্তাহে ছ’দিন অফিসে পৌঁছান তিনি। সাধারণত প্রথম বৈঠক করেন পত্রিকার বিজ্ঞাপন বিভাগের সঙ্গে। এই বৈঠকটি খুব দীর্ঘ হয় না। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কিছু দিক নির্দেশনা দেন তারপর হিসাব বিভাগের সঙ্গে কাজে বসেন। প্রতিদিনই কিছু না কিছু আর্থিক অনুমোদন দিতে হয় এবং কিছু চেকে স্বাক্ষর করতে হয়।
সাড়ে ১১টার মধ্যে ঢোকেন কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষে। সেখানেও কিছু পরামর্শ অথবা আইডিয়া দেন দিনের বিভিন্ন রিপোর্টিং বিষয়ে। খোঁজ খবর নেন দেশ  বিদেশের সর্বশেষ খবরাখবরের।
মাঝে মাঝে এ সময় বসেন কোনো পছন্দের বিষয়ে মন্তব্য প্রতিবেদন লিখতে, দুপুর ১টায় অফিস ছেড়ে যান। ছোট সন্তানকে স্কুল শেষে তুলে নিয়ে বাসায় ফেরেন। পরিবারের সবার সঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
আবার পত্রিকা অফিসে আসেন মোটামুটি বিকাল ৪টায়, বসেন কেন্দ্রীয় বার্তা কক্ষে। দিনের উল্লেখযোগ্য খবরাখবর বা ব্রেকিং নিউজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং নিজের মতামত দেন। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ আবার বসেন বিজ্ঞাপন বিভাগ এবং আর্থিক আদায় বিভাগের সঙ্গে, এই বৈঠক চলে প্রায় একঘণ্টা। সাড়ে ৬টা নাগাদ আবার ফিরে যান বাসায়, সময় দেন নিজ পরিবারের সঙ্গে। নিমন্ত্রণ থাকলে মাঝে মধ্যেই যেতে হয় কোনো না কোনো অনুষ্ঠানে।
নাসিমা খান মন্টি সাংবাদিকতা জীবনে কাজ করেছেন এমন সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- দৈনিক আমাদের সময়, এটিএন নিউজ টেলিভিশন, আমাদের সময়.কম, ইংরেজি দৈনিক আওয়ার টাইম ও বাংলা দৈনিক আমাদের নতুন সময়। এ ছাড়াও তিনি একসময় কাজ করতেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ।

শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ‘মোমবাতি-টর্চের আলোয় অপারেশন’ by এম ইদ্রিস আলী

২০১২ সালের ১লা ডিসেম্বর। আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগের কথা। সাধারণ মানুষদের কাছে সরকারি চিকিৎসাসেবার মান আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এদিনই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ শয্যার নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আজো অবধি সেই সুযোগ সুবিধার ছোঁয়া এই কমপ্লেক্সে লাগেনি। উপরন্তু ৩১ বেডের সীমিত জনবল দিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবা কোনো মতে চলছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ এটিএম আনোয়ার গাজী জানান, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডাক্তার আছেন মোট ১৩ জন। এর মধ্যে চারজন ডাক্তার রয়েছেন ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। এরা হলেন ডা. আহমেদ শিবলী মহিউদ্দিন। তিনি প্রেষণে রাজনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। ডা. শুভ্রাংশু শেখর দে তিনি বড়লেখা হাসপাতালে প্রেষণে কর্মরত। ডা. মিনাক্ষী দেবনাথ তিনি মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন অফিসে (এমওসিএস) পদে কর্মরত প্রেষণে আছেন। মেডিকেল অফিসার হোমিও ডা. মঈন উদ্দিন আহমেদ মামুন ডেপুটেশনে ঢাকা মিরপুর হোমিও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন কাজ করেন। আর সপ্তাহে একদিন শুধু বৃহস্পতিবারে শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে ডিউটি পালন করে আসছেন।  তিনি আরো জানান, হাসপাতালটিতে রয়েছে-অন্তঃবিভাগ, বর্হিঃবিভাগ ও প্রসূতি বিভাগ। চিকিৎসা নিতে প্রতিদিনেই শহরের মানুষ ও চা-বাগানের শ্রমিক এবং উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী, পুরুষ, প্রসূতি মা ও শিশুদের ভিড় লেগেই থাকে। এর মধ্যে মাত্র ৯ জন ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চালানো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রসূতি বিভাগে মাসে ২৫-৩০ অপারেশন হয়। এর জন্য দুজন ডাক্তারকে সেখানে সময় দিতে হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সু-ব্যবস্থা নেই। যেটি আছে তাতে আয়রনযুক্ত। এই পানি ব্যবহারের অনুপোযোগী। নার্সিং ডরমেটরিও জরাজীর্ণ। নেই আধুনিক ওষুধ রাখার স্টোরও। পুরাতন যেটি আছে তাতে স্থান সংকুলান হয় না। আলটাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট না থাকায় এটি ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে মূল্যবান এ মেশিনটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এক্সরে মেশিন থাকলেও সেটি পুরোপুরি নষ্ট। সে কারণে এক্সরে টেকনোলজিস্ট আবু সাঈদ সম্প্রতি হবিগঞ্জ বদলি হয়ে চলে যান। প্রসূতি বিভাগের ওটিতে বিদ্যুৎ ও আইপিএস লাইন নেই।
সে কারণে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি ও চার্জারের আলোতে সিজার করতে হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় হঠাৎ হাসপাতালের বিদ্যুত চলে যায়। আসে রাত একটায়। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আসা আমেনা, মরিয়ম ও শাহেদার প্রসব ব্যথা ওঠে। তাদের ডেলিভারি করানো হয়। রাত ১০টার পর থেকে চার্জারের আলো কমতে শুরু হলে অন্য দুই প্রসূতি ফাতেমা ও শরিফার সন্তান জন্মের জন্য মোমবাতি জ্বালিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন চিকিৎসকরা। ওই রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আর এমও মোহাম্মদ মহসীন জানান, সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চলে যাওয়ার পরই পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎ আসে রাত একটায়। তাই চার্জারের আলোতে ডেলিভারি করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে জেনারেটর ও আইপিএস থাকলেও লেবার ওয়ার্ডে সংযোগ নেই।’ এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম প্রকৌশলী শিবু লাল বসু জানান, ঝড়ে কোথায় লাইন নষ্ট হয়েছিল এটা খোঁজতে সময় লেগেছে। তবে উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাসপাতালে যখন কারেন্ট চলে যায় তখন মোমবাতি আর টর্চলাইট দিয়ে অপারেশন করতে হয়। ওই দিন ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। রোগীর মোমবাতির আলোয় স্যালাইন পুশ করতে গিয়ে সুই দিতে অসুবিধা হয়। রক্তনালী খোঁজে পাওয়া যায় না। তবুও আমরা সফলভাবে সিজার করতে পেরেছি। তিনি বলেন, গত বছরে প্রসূতি বিভাগে ২৯৬ জনকে সিজার করা হয়। নরমাল ডেলিভারি করানো হয় ১ হাজার ২১৫ জনকে। নতুন বিল্ডিংয়ে প্রসূতি বিভাগে আইপিএস কানেকশান নেই। জেনারেটর একটি আছে। বছরাধিকাল ধরে এটির ডায়নামা নষ্ট। তাছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার নেই শুরু থেকেই। অন্তঃবিভাগে মেডিকেল অফিসার নেই। পর্যাপ্ত ক্লিনার নেই। যারা আছেন তারা বয়স্ক। তিনি আরো বলেন, ‘৫০ বেড এখন পর্যন্ত শুধু নামেই। সে মানদণ্ডে অন্তঃবিভাগ ও বহিঃবিভাগে ডাক্তারদের পদ সৃজন হয়নি। মানুষ এখন অনেকটা সচেতন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও প্রসূতি সেবা নিতে সবসময় ভিড় লেগেই আছে। তবুও আমরা সাধ্য মতো চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি’।
শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরাজমান সমস্যার বিষয়গুলো শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এসব সমস্যার কথা কেউ বলে নাই। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে আইপিএসের জন্য আবেদন করলে ব্যবস্থা নেব’।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে খানাখন্দ, বাড়ছে দুর্ভোগ

শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে খানাখন্দ বাড়ছে দুর্ভোগ।  মহাসড়কের খানা-খন্দ সংস্কারের কাজ জোড়াতালি দিয়ে করলেও। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই একই অবস্থা দেখা যায়? ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায়  ছোট-বড় খানাখন্দে দিন দিন যাত্রীদের বাড়ছে দুর্ভোগ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ছোট-বড় গর্তের কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এতে মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকার পরও যানবাহন করে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে চলাচল করতে হচ্ছে মহাসড়ক দিয়ে। শায়েস্তাগঞ্জ লস্করপুর রেলগেইট নতুন ব্রিজ কদমতলী সুতাং শাহাজিবাজার হতে মাধবপুর পর্যন্ত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে খানা-খন্দে ভরপুর উল্লিখিত স্থানের মধ্যে, মিরপুর হতে মাধবপুর পর্যন্ত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অতিরিক্ত গর্ত থেকে বাঁচতে মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্রলি, ট্রাক্টর, নসিমন, করিমন সংঘর্ষ ঘটছে অহরহ। খানা-খন্দের কারণেই দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় লোকজন। এদিকে পাশাপাশি রাস্তা খারাপ থাকায় যানবাহন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অধিক সময় লাগছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এলজিআরডি কর্তৃক স্থানীয় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (জংদেবী) নামের এই প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাসের চুক্তিতে সংস্কারের কাজ দেয়া হয়েছে বলে সওজ কর্তৃপক্ষ বলেন। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ। কিন্তু সংস্কার করা হলেও তা কিছু দিন যেতে না যেতেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা রয়ে যাচ্ছে আগের মতোই। এতে করে স্থানীয় লোকজন এবং যাত্রী সাধারণের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওয়ার্কার অ্যাসিস্ট্যান আব্দুল বারিকের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (জংদেবী) নামের এই প্রতিষ্ঠান কাজ করাচ্ছেন আমরা শুধু তদারকি/দেখাশোনা করছি। উপসহকারী প্রকৌশলী শায়েস্তাগঞ্জ মাছুম আহমদ সিদ্দিকের সঙ্গে আলাপ করলে বলেন রাস্তার কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (জংদেবী) করার কথা ওই প্রতিষ্ঠান ছয় মাসের চুক্তিতে এ কাজ করছে। তবে সরজমিনে দেখা গেছে মহাসড়কে নিম্নমানের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। সওজে লোকদের কে ম্যানেজে করে তারা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করলে তিনি জানান আমি একসপ্তাহ হলো হবিগঞ্জে যোগদান করেছি এখন কিছুই বলতে পারব না।

এমপিওভুক্ত ৯ স্কুল যাচ্ছেতাই শিক্ষার মান by মো. শামীম হোসেন বাবু

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সবার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করছে। কিন্তু বর্তমানে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে গেজেটভুক্ত ৯টি  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মান অত্যন্ত বেহাল। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রথম ধাপে ৮৪টি দ্বিতীয় ধাপে ৮টি ও তৃতীয় ধাপে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরো ১৫টি রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করার জন্য সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  নামে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জমিতে নিজস্ব ঘর, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ (ক্লাসরুম) আসবাবপত্র, খেলার সরঞ্জাম, রেজিস্ট্রেশন বা জাতীয়করণ হতে কমপক্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থী প্রয়োজন অথচ বিদ্যালয়গুলোতে এর সবই অনুপস্থিত। গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার দুই দিনে উপজেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে জাতীয় করণ হওয়া বিদ্যালয়গুলোতে সরজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোতে নেই ভালো অবকাঠামো, আকর্ষণীয় বা শিশুবান্ধব শ্রেণিকক্ষ। বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১শ থেকে ১৩০ জনের উপরে শিক্ষার্থী থাকলে বাস্তবে কোনো কোনো স্কুলে ২০ থেকে ৩০ জন আবার কোনো কোনো স্কুলে কোনো শিক্ষার্থী চোখে পড়েনি। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী থাকলেও উপস্থিত নেই শিক্ষক। আবার কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা আসেন নিজেদের ইচ্ছামতো। এসবের পিছনে সরকারিভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরালো না হওয়া, টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দায়ী বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।  গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় উপজেলার রণচন্ডী ইউনিয়নে বদি শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ২০০৮ সালে, জাতীয়করণ হয়েছে ২০১৩ সালের ১লা জুলাই। শিক্ষক সংখ্যা ৪ জন। ছাত্রছাত্রী কাগজে কলমে ১০৪ জন। এ সময় কোনো ছাত্রছাত্রীর দেখা না মিললে একটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা টিনশেড ঘরে বসে আসেন তিনজন মহিলা শিক্ষক। এ সময় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাক্ষাচরণ বিদ্যালয়ে না থাকায় সহকারী শিক্ষক নারগিস আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমানে স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে বাচ্চারা পরীক্ষা দিয়ে চলে গেছে। এ ব্যাপারে বদি শিশু কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাক্ষাচরণ বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি। তবে স্কুলে পরীক্ষা চলছে। তাই বাচ্চারা পরীক্ষা দিয়ে একটু আগেই চলে গেছে। শনিবার বেলা ১২টার দিকে গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের দলিরাম দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ওই বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ২০০৭ সালে। এ সময় বিদ্যালয়টির তিনটি কক্ষে মোট ২৩টি শিশু আলাদা আলাদাভাবে খাতা কলম নিয়ে বসে আছে। বিদ্যালয়টিতে মোট চারজন শিক্ষক থাকলেও কোনো শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলে লিমন ইসলাম নামে এক কিশোর নিজেকে ওই স্কুলের শিক্ষক বলে জানান, তবে পরে তিনি জানান আমি এবারে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। বর্তমানে প্যারা শিক্ষক হিসেবে বাচ্চাদের পরীক্ষা নিচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরে গোলাম রব্বানী নামে এক শিক্ষক এসে বলেন, ভাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন চন্দ্র রায় ট্রেনিংয়ে আছে। আমি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছি আর বাকি দুজনের মধ্যে একজন ছুটিতে অপরজনও ট্রেনিংয়ে আছে। পুটিমারী ইউনিয়নের পুটিমারী সাতপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সাতপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ২০১২ সালে জাতীয়করণ ২০১৪ সালে। অথচ স্কুলে একটি টিনের ঘর ছাড়া আর কোনো অবকাঠামো চোখে পড়েনি। সাতপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, আমি ২০১১ সালে বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছি। আগের প্রধান শিক্ষক মারা যাওয়ায় আমি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছি। আমাদের বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রী আছে কিন্তু আজ একটু কম এসেছে।  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বলেন, আমি বর্তমানে একটি প্রোগ্রামে আছি। আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে পরে কথা বলবো বলে তিনি লাইন কেটে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলবো- যে সমস্ত বিদ্যালয়ে কাম্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রী নেই সেসব বিদ্যালয়ের তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিত না থাকলে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক কোটি ১০ লাখ লোক by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

বিল্লাল হোসেন। বয়স ছয় বছর। প্রতি দু’মাস অন্তর এক ব্যাগ করে রক্ত নিতে হয় তাকে। এভাবে রক্ত নিয়েই শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে। তিন বছর আগে তার থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই তার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। তার বাবা জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুয়ায়ী এক ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয়। শুধু বিল্লাল নন, বাংলাদেশে এক কোটি ১০ লাখ লোক থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা আক্রান্ত। দেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ লোক এই রোগে ভুগছেন। এমন তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি আরো জানায়, এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর পরস্পরের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে দেশে প্রতিবছর নতুন করে ৭ হাজার শিশু এই ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দিন দিন এই রোগের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে ভুগছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে থ্যালাসেমিয়ার বাহক সংখ্যা প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ১ লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও রোগে আক্রান্ত হবার কারণে থ্যালাসেমিয়া শিশুরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ রোগীকে কিউর বা নিরাময় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ভারতের ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালের বোন ম্যারো বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জ্যোতি শঙ্কর রায় চৌধুরী। গত বছর বাংলাদেশে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি আরো বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীকে সাত বছরের মধ্যে ট্রান্সপ্লান্ট করে দেয়া উচিত। যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো বলে এই বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন। থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তস্বল্পতাজনিত বংশগত রোগ। বাবা-মা উভয়েই এই রোগের বাহক হলে সন্তান এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। থ্যালাসেমিয়া শব্দের উৎপত্তি গ্রীক শব্দ থ্যালাসা থেকে এসেছে যার অর্থ সমুদ্র। ভূমধ্যসাগর সন্নিহিত অঞ্চলে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এজন্য একে থ্যালাসেমিয়া বলে। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে ত্রুটি হয়। অর্থাৎ ত্রুটিপূর্ণ হিমোগ্লোবিন জিনের কারণে এ রোগ হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবস্বাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। বাবা অথবা মা কিংবা বাবা-মা উভয়েরই থ্যালাসেমিয়ার জিন থাকলে বংশানুক্রমে এটি সন্তানের মধ্যে ছড়ায়। এই রোগ কোন ছোঁয়াচে নয়। জিনগত ত্রুটির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া রোগীর শরীরে যে লাল রক্ত কণিকা অর্থাৎ রেড র্লাড সেল তৈরি হয়, সেগুলো ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ভেঙে যায়। আর এই সেল ভাঙার কারণে শরীরে একদিকে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, অন্যদিকে বিলিরুবিনের এবং আয়রনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীর হলদেটে হয়ে যায় এবং অতিরিক্ত আয়রণ এর কারণে শরীরের বর্ণ হয়ে যায় তামাটে বা ধূসর। এ কারণে এদেরকে নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকতে হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ঘাতক ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া দুটি প্রধান ধরনের হতে পারে। আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণত আলফা থ্যালাসেমিয়া বিটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়া বিশিষ্ট রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি হয় অপরদিকে বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি। এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমতো চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশ্বে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। এ রোগের কিছু উপসর্গ বা লক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দুর্বলতা, অবসাদ অনুভব, অস্বস্তি, মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হওয়া, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস), মুখের হাড়ের বিকৃতি, পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, অতিরিক্ত আয়রণ, সংক্রমণ, অস্বাভাবিক অস্থি। এসব লক্ষণ সমূহ কারও মধ্যে দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের পরীক্ষা যেমন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট এবং পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্‌থ করতে হবে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকলে হিমোগ্লোবিন ইলেক্ট্রোফোরেসিস করে থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় সম্ভব। মৃদু থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণ ও উপসর্গ খুবই অল্প থাকায় ব্লাড ট্রান্সিফিউশন লাগে না। বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন কোনো অপারেশন হলে বা প্রসবের পর অথবা কোনো সংক্রমণ হলে প্রয়োজনবোধে রক্ত গ্রহণ করতে হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। প্রয়োজনবোধে ওষুধ এবং রক্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই এই রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয় বহুল। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে হয়। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। এতে বাংলাদেশে খরচ পড়বে ১৫ লাখ টাকা। এ বছর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন, কিউরেটিভ চিকিৎসা হিসেবে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন লাভজনক। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর পক্ষেই করা সম্ভব নয়।
থ্যালাসেমিয়া রোগটির প্রতিকার করা সম্ভব একমাত্র জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। এই রোগ সম্পর্কে মানুষের বিস্তারিত ধারণা থাকলে এর পরিপূর্ণ প্রতিকার সম্ভব হবে। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ এবং প্রতিকারে যে বিষয়গুলো প্রথমে জানতে হবে তা হলো-বিয়ের আগে বর ও কনের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে তারা কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক বা রোগী কিনা। যদি দুজনেই বাহক বা একজন বাহক অন্যজন রোগী হয় তাহলে তাদের সন্তান-সন্ততিও এই ঘাতক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই তাদের না বিয়ে করাই উত্তম। চিকিৎসকরা আরো পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আয়রণ জাতীয় ওষুধ না খেতে। অধিক আয়রণ জনিত জটিলতা এড়ানোর জন্য ৩ থেকে ৬ মাস পরপর রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে। বাব-মা উভয়েই বাহক হলে প্রিনেটাল ডায়াগনসিস-করাতে হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এমএ খান বলেন, ‘এই রোগের রি-এজেন্ট হাসপাতালে পর্যাপ্ত থাকে না। এ ধরনের রোগীদের শরীরে আয়রণ জমে যায়, তা বের করার দেয়ার জন্য ওষুধ দরকার হয়। তা সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ হয় না। ব্লাড দিয়ে স্ক্যানিং করা খরচও ২ হাজার টাকার উপরে। প্রতি বছরে এক লাখ টাকার উপরে খরচ হয়। যা গরিব রোগীর পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই এসব গরিব রোগীদের জন্য সুলভমূল্যে বা বিনা খরচে রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই বিশেষঞ্জ চিকিৎসক। এই পরিস্থিতিতে ৮ই মে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- বিয়ের আগে পরীক্ষা করলে রক্ত, সন্তান থাকবে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত।’

প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি তাদের

প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি রাজশাহী শিক্ষা  বোর্ডের ২৭ মেধাবী শিক্ষর্থীকে। এদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাকি ১৩ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এদের পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ১৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে রাজশাহীর পুঠিয়ার পঙ্গু শিশু নিকেতন সমন্বিত অবৈতনিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাসুম রানা। জিপিএ-৪.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। ওই বিদ্যালয়টির প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সুফিয়া খাতুন জিপিএ-৪.৭৩ ও শিখা খাতুন জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয়টির আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসানের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এছাড়া পাবনা সদরের দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছে জিপিএ-৪.৭৮। একই বিদ্যালয়ের ওবাইদুর রহমান জিপিএ-৪.৭২ এবং মোকাররম হোসেন ও মোহাম্মদ আলী জিপিএ-৪.৬৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। সিরাজগঞ্জের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিবন্ধী মাহামদুল আয়ুব আলী জিপিএ-৪.৭২, নওগাঁর মান্দা রামনগর উচ্চবিদ্যালয়ের আতাবর রহমান জিপিএ-৪.৩৩, পুঠিয়ার নাদের আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জুঁই খাতুন জিপিএ-৪.০৬, নওগাঁর ধামইরহাট মঙ্গলবাড়ি শহীদ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের রাবেয়া বাসরী ইমু জিপিএ-৩.৮৯ এবং রাজশাহী নগরীর মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আদিল মাহমুদ জিপিএ-৩.২৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এদিকে, রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের এসএম সাব্বির আহমেদ, পাবনার বেড়া উপজেলার আলহেরা একাডেমির নাজিবুল আলম অনিক, বগুড়া জেলা স্কুলের কাজী ফাহিম আবরার ও এসএম বাকি বিল্লাহ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের আফরোজ আহমেদ আসিফ শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা প্রত্যেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মডেল একাডেমির অহেদুর রহমান জিপিএ-৪.৮৯, বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের রায়হান ইসলাম সিফাত জিপিএ-৪.৮৩, রাজশাহী সরকারি মাদরাসার হাসিবুল ইসলাম জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
পাশাপাশি বগুড়ার পীরহাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী অনিকা বুশরা জিপিএ-৩.৭৮ রাজশাহীর বাগমারা শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাব্বির রহমান জিপিএ-৩.৬৭, নওগাঁর মহাদেবপুর সর্বমঙ্গলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তৌহিদুল ইসলাম সৌরভ জিপিএ-৩.৬১, বগুড়ার ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের রিজভী আহমেদ সাগর জিপিএ-৩.৩৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ মরদানা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাহিদ আলী জিপিএ-৩.০০ এবং রাজশাহী নগরীর মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের তাহসানুল আহনাফ হাবিব জিপিএ-২.৫০  পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

বেদে পল্লীতে একদিন by পিয়াস সরকার

এক ঘাটেতে রান্ধি-বাড়ি মোরা/আরেক ঘাটে খাই/মোদের বাড়ি ঘর নাই;/ সব দুনিয়া বাড়ি মোদের/ সকল মানুষ ভাই।
বহুল প্রচলিত এ স্লোক মনে করিয়ে দেয় বেদে জাতির কথা। যারা যাযাবর। তাদের নির্দিষ্ট কোনো ঘরবাড়ি নেই। এক সময় নৌকায় নৌকায় কাটতো বেদেদের দিন। নৌকায় ছিল তাদের ঘরবাড়ি। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতো বেদেরা। সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখানো, সিঙ্গা লাগানো, কবিরাজি ওষুধ বিক্রি, ঝাড় ফুঁক, চুড়ি ফিতা বিক্রি ছিল তাদের পেশা। এই সমাজের নারীরা মূলত প্রধান উপার্জক। কিন্তু সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে বেদেরা করেছে স্থায়ী বসতি। পাল্টিয়েছে পেশা। ঢাকার অদূরে সাভারের বংশী নদীর তীরে পোড়াবাড়ি, অমরপুর, কাঞ্চনপুর ও বাড্ডা গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন তারা। এই পল্লীতে তাদের বর্তমান সদস্য ২০ হাজারের ওপরে। স্থায়ী বসতির পাশাপাশি অনেকেই বদলে ফেলেছেন পেশা। তবে তাদের সংস্কৃতির বাহক সাপকে এখনো অনেকেই পেশা হিসাবে ধরে রেখেছেন।
বেদেনীরা সাধারণত রঙিন শাড়ি কিছুটা উঁচু করে কুচি ছাড়া পড়েন। সঙ্গে থাকে কিছুটা ছোট ব্লাউজ। আবার থ্রি-পিস পরলেও কোমড়ের কাপড় একটু ছোট এবং উঁচু। শাড়ি হোক কিংবা থ্রি-পিস শরীরের সঙ্গে টানটান করে পড়েন। প্রায় সকলের নাকে বড় নোলক শোভা পায়। পুরুষ বেদেদের দেখে চেনাটা দুষ্কর। তবে অধিকাংশের গলায় শোভা পায় রুদ্রাক্ষের মালা। বেদে-বেদেনি সবার মুখে পান সবসময়ের সঙ্গী।
বেদে পল্লীতে ঢুকতেই চোখে পড়ে অনেক পুরুষ তাস খেলায় মত্ত। ছেলেরা খেলছে ক্যারাম বোর্ড। তাস খেলতে খেলতে বেদে তৈয়ব আলী বলেন, বাপ দাদার পেশা, ছাড়তে পারি না। এই জন্যই সাপ নিয়ে আছি। আর সাপের সঙ্গে একটা মায়া তৈরি হয়ে গেছে। ইস্কানদার আলী বলেন, সাপের খেলা এখন আর মানুষ দেখে না। মেলা হলে সাপ নিয়ে খেলা দেখাতে যাই শুধু। আগের মত সাপ পাওয়াও যায় না। আগে মানুষের ঘরে সাপ ঢুকলে আমাদের ডাক দিত। আমরা সাপ ধরে নিয়ে আসতাম। ছোটবেলায় দেখেছি বর্ষাকালে সাপ ধরার জন্য প্রচুর ডাক আসতো। এখন মাসে দুই থেকে তিনটার বেশি ডাক আসে না। বেদে পল্লীর ভেতরে চোখে পড়ে বৃদ্ধা সালেহা বেগম তেল মালিশ করছেন আট বছরের একটি ছেলের পায়ে। সঙ্গে উচ্চ স্বরে মন্ত্র পড়ছেন। ছেলেটির বাবা রিকশাচালক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ছেলের পা ভাঙছিল একবছর আগে। চিকিৎসা নিয়েছি মেডিকেলে। ভালো হয়ে গেছিল আবার পায়ে ব্যথা পায়। ডাক্তারের কাছে না নিয়ে এখানে আনার কারণ হিসাবে বলেন, ডাক্তারের কাছে নিলে অনেক খরচ। আর অনেকের কাছে শুনেছি সালেহা কবিরাজের মালিশে ভালো হয়ে যায় ব্যথা। মালিশ শেষে দ্বিগুণ স্বরে কাতরাচ্ছিল ছেলেটি। কবিরাজ একটি তাবিজ ধরিয়ে দিলেন। বললেন, ভক্তি নিয়ে কাল ফজরের নামাজ পড়ে ছেলেকে গোসল করিয়ে পরিয়ে দিতে। মালিশ এবং তাবিজে ৩০১ টাকা হাদিয়া পেলেন তিনি। বেদেদের সাপ ধরা ও সাপের খেলা দেখানোর পাশাপাশি আরেকটি উল্লেখযোগ্য পেশা ঝাড়-ফুঁক এবং ওষধ বিক্রি করা। তাও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। সালেহা বেগম বলেন, আগে গ্রামে গ্রামে ওষুধ বিক্রি করতাম, ঝাড়-ফুঁক করে বেড়াতাম, সাপের বিষ নামাতাম। এখন অন্য কাজ করি কেউ আসলে সেবা দেই।
এসব ঝাড়-ফুঁকের কোনো বৈজ্ঞাণিক ব্যাখ্যা নেই বলে জানান ডা. ফাহমিদা আক্তারও। সাপের বিষ মন্ত্রে চলে যাবার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তবে কিছু সাপের বিষ থাকে না। আক্রান্ত স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এসব সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভেবে নেয় উপকার পেয়েছেন, বিষ নেমে গেছে। তিনি বলেন, গাছ-গাছড়া দিয়ে বানানো ওষধে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ উপকার পায়। তবে, বিষাক্ত সাপের কামড়ে তাদের ঝাড়-ফুঁক কোনো কাজেই আসে না। মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে উঠছে তাদের ব্যবসা।
লোকেদের কাছে সাপ দেখিয়ে টাকা তোলার সঙ্গে জড়িত আছে অনেক নারী। তাদের খোলের ভেতর অািধকাংশ সময় মেলে না সাপ। সাতজন মহিলার একটি দল টাকা তুলে এসে চা খাচ্ছিলেন পল্লীর একটি চায়ের দোকানে। রিনা বানু বলেন, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যাই। একেক দিন একেক স্থানে। আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। দুলালি বেগম বলেন, পেটের দায়ে করি। মানুষ খারাপ ব্যবহার করে। গায়ে হাত তোলে, খারাপ প্রস্তাব দেয়। বাক্সে সাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্ধমৃত দুটি সাপ দেখিয়ে বলেন, আমরা সাতজন বেরিয়েছিলাম সাতটা বাক্স নিয়ে। সাপ ছিল দুইটা। আমাদের সাপের সংকট যেমন আছে আবার সারা দিন সাপ নিয়ে ঘুরলে সাপের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। দুটা সাপ রাখি কেউ সমস্যা করলে দেখাই।
অনেকে চুড়ি-ফিতার ফেরি করে বেড়ান। খুরশিদা খাতুন বলেন, চুড়ি-ফিতার ব্যবসায় অনেক সমস্যা। ভারি ডালি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। বাসে নিতে চায় না, লাভ কম। এসব কারণে কমে যাচ্ছে চুড়ির ব্যবসা। তবে বিভিন্ন দিন যেমন পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, ঈদ ইত্যাদি দিবসের আগে বিক্রি হয় চুড়ি।
বেদেদের রীতি অনুযায়ী মহিলারা হবে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তবে মহিলারা এখনো পরিশ্রম করেন যাচ্ছেন, পাশাপাশি কাজ করেন পুরুষরা। এজাজুল হক বেদে পল্লীতে তার সাপের বাক্সের দোকান। বিভিন্ন দামের বাক্স রয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তার তিন ছেলে দুই মেয়ে। এক ছেলে চালায় পিকআপ, একছেলে রিকশা, আরেক ছেলে লেখাপড়া আর দুই মেয়ে পোশাকশ্রমিক। তিনি বলেন, বর্তমানে ছেলেমেয়েরা সাপের পেশায় আসতে চায় না। আমরাও জোর করতে পারি না। কারণ আয় কম। অন্য পেশায় আয় বেশি।
বেদেরা লেখাপড়ায় অনেক পিছিয়ে। অধিকাংশরাই অক্ষর জ্ঞান শূন্য। আবার যারা লেখাপড়া করেন তাদের অধিকাংশই পেরুতে পারেন না মাধ্যমিকের ধাক্কা। বেদে শিক্ষার্থীদের রয়েছে অনেক অভিযোগ। অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া বিটুল বলে, স্কুলে অন্য ছেলেরা আমাদের পাশে বসতে চায় না। নানা ধরনের মজা করে। যেমন ব্যাগে সাপ আছে নাকি রে? সাপের গন্ধ আসছে তোর শরীর থেকে ইত্যাদি। আবার কাজের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা। পোশাকশ্রমিক বিলকিস বলেন, মেয়েরা আমাদের দেখে কেমন জানি একটা ভঙ্গি করে। পাশে বসতে চায় না, একসঙ্গে খেতে চায় না।
বেদে পল্লীর বাসিন্দাদের নিয়ে প্রতিবেশীদের অভিযোগের শেষ নেই। বাসেদ আলী বলেন, বেদেদের জন্য ছেলেপেলে মানুষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেদে ছেলেদের সঙ্গে মিশে হাতে নিচ্ছে মাদক, ছাড়ছে লেখাপড়া। বেদেপল্লীতে মাদক বিশেষ করে গাঁজা এবং ইয়াবা খুব সহযেই পাওয়া যায়। বেদে মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে তারা। আবার ছেলেরা প্রায়ই চুরি করে। বিশেষ করে গাছের ফল রাখাই যায় না গাছে।
বেদে পল্লীতে একেক পরিবারে সন্তান সংখ্যা চোখে পড়বার মতো। অধিকাংশ পরিবারে ৪ থেকে ৫ জন সন্তান সাধারণ ঘটনা। ইদ্রিস মিয়ার বাড়িতে দেখা যায় তার ৪ জন স্ত্রীর ১৫ জন সন্তান। ইদ্রিস মিয়া বলেন, অধিক সন্তান মানেই অধিক আয়। এখানে সন্তানের জন্ম যেমন খুশির উপলক্ষ আনে না আবার বিয়ে, বহুবিবাহ এবং বিচ্ছেদটাও খুবই স্বাভাবিক। তাদের বিয়ে হয় এই বেদে পল্লীতেই। আবার দেশের অন্য বেদে পল্লীতেও বিয়ে হয়। সেই সঙ্গে সাধারণ ঘরেও বিয়ে হয় তবে তার সংখ্যা খুবই কম। বেদে মেয়ের বিয়ে সাধারণ ঘরে হলে খুব স্বাভাবিকভাবে তারা নিলেও ছেলে যখন সাধারণ অন্য মেয়ে বিয়ে করে আনেন তখন সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। বেদে অমিত হুকি বলেন, একবার সাপ ধরতে গিয়েছিলাম চলনবিলে। বিলের মাঝে হঠাৎ দল ছাড়া হয়ে যাই। সঙ্গে মোবাইল ফোন ছিল না। আশ্রয় নেই একটি দরিদ্র পরিবারে। ভালো লেগে যায় বাড়ির স্বামী হারা মেয়েকে। বিয়ে করে নিয়ে আসি পরের দিনই। কিন্তু ফেরার পর পরিবার, পল্লী ভালো চোখে দেখছিল না। খারাপ আচরণ করত, কথা বলত না। এসব কারণে বাড়িছাড়া ছিলাম প্রায় সাত মাস। স্ত্রী সন্তান সম্ভাবা হলে ফিরে আসি। এখন সব কিছু স্বাভাবিক।
বেদে পল্লীতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে সাস নামে একটি এনজিও। তাদের পরিচালিত একটি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা নিচ্ছেন বেদে শিশুরা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও হস্তশিল্পের কাজেও সহায়তা করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সচেতনমূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত তারা। সাসে কর্মরত মৃদুল রহমান বলেন, পিছিয়ে পরা এসব মানুষদের মূল স্রোতধারায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। তারা খুবই সম্ভাবনাময়, তারা একটু সহযোগিতা পেলে আরো উন্নতি করতে সক্ষম হবে।

শ্রীমঙ্গলে ২য় চা নিলাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু ১৪ই মে

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে আগামী ১৪ই মে দেশের ২য় চা নিলাম কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে গতকাল (রবিবার) দুপুরে ‘টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব জহর তরফদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ২য় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপন করে সিলেটের চা সিলেটেই নিলাম করার দাবিতে ৭০ বছর ধরে আন্দোলন হচ্ছিল। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকবৃন্দের সম্মেলনে সিলেট বিভাগের ৫টি এলাকায় সিলেটে ২য় চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ড উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি সহ চা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে শ্রীমঙ্গলে আরেকটি চা নিলাম কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২০১৩ সালের ২২ ও ২৩শে মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির গঠিত সাব-কমিটির সদস্য ও তৎকালীন সংসদ সদস্য তহুরা আলীর নেতৃত্বে দুজন সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ ও টিপু মুন্সী এবং চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র  স্থাপনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে সুস্পষ্ট মত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় চা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে চা উৎপাদক, ওয়্যার হাউস, ব্রোকার হাউস ও অকশন বিডারদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবন্দ বলেন, শ্রীমঙ্গলে চা-নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ায় এখন থেকে উৎপাদিত চা পাতা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নিলামে উঠানো যাবে। যেখানে আগে সময় লাগত তিন মাস। তাছাড়া এখানে নিলাম কেন্দ্র স্থাপনে যাতায়াত খরচ, সড়ক দুর্ঘটনা, সময় সাশ্রয়, মহাসড়কের যানজট নিরসন, দ্রুত সময়ে নিলামে উঠায় চা পাতার কোয়ালিটি ঠিক থাকাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ফাইভ স্টার মানের হোটেল ও রির্সোট থাকায় বায়াররাও এখানে আসতে আগ্রহী হবে। তাছাড়া এখানকার চা বাগান মালিকরা বিক্রিতে লাভবান হলে উৎপাদনেও তারা উৎসাহী হবেন। তারা জানান প্রতি নিলামে ৫০-৫৫ হাজার কেজি চা বিক্রি হবে। যার বাজার মূল্য হবে ১৪-১৫ কোটি টাকা। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী হারুন, চা নিলাম বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমান, সংগঠনের সদস্য ডা, এম এ আহাদ, অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক, সৈয়দ মুনিম আহমদ রিমন, সুয়েদ আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ।

সমুদ্রের ওপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেতু, দীর্ঘ ৫৫ কিলোমিটার

বলা যায় সমুদ্রের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত এক সেতু। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। কোনো স্থলভাগের দেখা নেই। এই ব্রিজ দিয়ে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে বাইরে তাকালে যেকারো ভয় পেয়ে যাওয়ার কথা। সমুদ্রের ভিতর দিয়ে বিশ্বের এমন সর্ববৃহৎ সেতু বা ব্রিজ নির্মাণ করেছে চীন। হংকং ম্যাকাউ পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্রিজ। নির্মাণে খরচ পড়েছে ২০০০ কোটি ডলার। পার্ল রিভার ডেলটার পানির ওপর দিয়ে এর বিস্তৃতি। এ ব্রিজ নির্মাণ কর্তৃপক্ষের নাম দেয়া হংকং-ঝুহাউ-ম্যাকাউ ব্রিজ অথরিটি। এর সহকারী পরিচালক ও সিনিয়র প্রকৌশলী গুও সিংলিন। দেশের জন্য এমন একটি অর্জনে তাকে ভীষণ গর্বিত দেখায়। এই গ্রীষ্মেই ব্রিজটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা। এটি প্রথমদিকে চীনের দুটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। একটি হলো হংকং। অন্যটি ম্যাকাউ। ২০০৩ সালে যখন ব্রিজটি নির্মাণের কথা বলা হয় তখন এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। সমুদ্রকে শাসন করে তার বুজে ভারি কংক্রিট আর স্টিলের স্প্যান বসিয়ে দিয়ে চীন শুধু তার রেকর্ড সৃষ্টিকারী মেগা প্রকল্পের সক্ষমতারই প্রমাণ দিচ্ছে এমন নয়। একই সঙ্গে তারা জানান দিচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশটির উচ্চাকাঙ্খা কি পরিমাণে বাড়ছে। ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে চীন, হংকং ও তাইওয়ানের মধ্যে। এমন সময় এই ব্রিজটিকে দেখা যেতে পারে চীনের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বড় একটি বিষয় হিসেবে। এ নিয়ে অবশ্য সমালোচকরা পরিবেশ ও মানবিক ক্ষতির বিষয় সামনে তুলে এনেছেন। এখানে সংক্ষেপে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রিজ বা সেতুগুলো সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হলো। চীনেই দানিয়াং-কুনশান গ্রান্ড ব্রিজ নামে একটি সেতু আছে। এর দৈর্ঘ্য ১০২ মাইল। তবে এটি কোনো সমুদ্রের ওপর নির্মিত নয়। তাইওয়ানে নির্মিত হয়েছে ৯৮ মাইল দীর্ঘ সেতু। এর নাম চ্যাংহুয়া-কাওহসিঙ্গায় ভিয়াডাক্ট। চীনের আরেকটি বড় সেতুর দৈর্ঘ্য ৭২ মাইল। এর নাম ক্যাঙডি গ্রান ব্রিজ। একই দেশে ৭১ মাইল দীর্ঘ আরেকটি সেতৃর নাম তিয়ানজিন গ্রান্ড ব্রিজ। ৫০ মাইল দীর্ঘ আরেকটি ব্রিজ আছে সেখানে। এর নাম ওয়েইনান ওয়েইহে ব্রিজ। এর পরে রয়েছে চীনেরই ৩৪ মাইল দীর্ঘ সেতু হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাউ ব্রিজ। এটি সমুদ্রের ওপরে নির্মিত। থাইল্যান্ডে রয়েছে ৩৩ মাইল দীর্ঘ ব্যাং না এক্সপ্রেসওয়ে। চীনে আছে ৩০ মাইল দীর্ঘ বেইজিং গ্রান্ড। যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ২৪ মাইল দীর্ঘ লেক পোনচারট্রেন কজওয়ে।

নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে যেতে পারবেনা রোহিঙ্গারাঃ বার্মা সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বার্মায় আসা রোহিঙ্গারা তাদের জন্য তৈরীকৃত নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরে যেতে পারবেনা বলে জানিয়েছেন বার্মার সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।
এতে করে রোহিঙ্গারা আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নতুন করে সংশয় তৈরী হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল বার্মার রাজধানী নেপিডোতে সফররত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান তার ফেসবুক পেইজে বলেন, রোহিঙ্গারা যতদিন পর্যন্ত তাদের জন্য তৈরীকৃত বাড়িতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তারা নিরাপদ। এছাড়া তিনি হত্যা, ধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত হিসেবে আখ্যা দেন।
তিনি রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালি সম্বোধন করে বলেন, ‘বাঙালিরা কখনোই বলবে না যে সেখানে খুশিমনে গেছে। তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে বা তাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে—এমন কথা বলে তারা সহানুভূতি আদায় করবে।
বার্মা সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে চুক্তিস্বাক্ষর সম্পন্ন করলেও রোহিঙ্গা সম্পর্কে সেনাপ্রধানের মন্তব্য বরাবরের মতই আক্রমণাত্বক। তার সমস্ত মন্তব্যেই তিনি রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালি বলে সম্বোধন করেন। রোহিঙ্গারা যদিও যুগ যুগ ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে কিন্তু সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে সবসময় রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অভিহিত করেন।
বার্মা সরকার প্রায়ই বলে যে, বার্মা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। কিন্ত জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বলছে, বার্মায় এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। যে সমস্ত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি বার্মা। এমনকি রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্পে মাত্র এক লাখের মত রোহিঙ্গা থাকতে পারবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

দুটি বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্ন: সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে by ওয়েছ খছরু

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন- গণিত ও ইংরেজিতে অভিন্ন প্রশ্নের কারণে এমনটি হয়েছে। আর শিক্ষাবিদরা বলছেন- এতে করে গুণগত মান বেড়েছে। অভিন্ন প্রশ্নের কারনে শহরের স্কুলে এর কোনো প্রভাব না পড়লেও গ্রামের স্কুলগুলোতে বিপর্যয়ের ছোঁয়া লেগেছে। বোর্ড সূত্র জানিয়েছেন- এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাস করেছে ৭০ দশমিক ৪৩। গেল বার এ বোর্ডের পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ২৬ ভাগ। এতে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৩। রোববার দুপুর ১২টায় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রকাশ করেন বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ। তিনি জানান, সাধারণ গণিতে খারাপ হওয়ার কারণে এবার পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে পাসের হার কমেছে। ইংরেজিতে ছিল অভিন্ন প্রশ্ন। ফলাফল বিশ্লেষণে তিনি জানান, এবার এসএসসিতে সাধারণ গণিত বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা একটু কঠিন হওয়ায় ফলাফলে পাসের হার কিছুটা কমেছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান, সাধারণ গণিত বিষয়ে ফেল করেছেন ৭৬ দশমিক ৬১ ভাগ শিক্ষার্থী। গণিতে যদি শিক্ষার্থীরা ভালো করত তবে ফলাফল আগের চেয়ে কিছুটা বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের পরীক্ষায় মোট অংশগ্রহণ করেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৮ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ছাত্র ৪৭ হাজার ৮৬৭ জন ও ছাত্রী ৬১ হাজার ৬১ জন। ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ হাজার ১৪৩ জন আর কৃতকার্য ছাত্রীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৫৬৭ জন। এবারের ফলাফলে খুশি সিলেটের ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ সহ সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও। ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল হোসনে আরা জানিয়েছেন- তার স্কুলের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট। এবার কোনো বিষয়ে অভিন্নতা থাকলেও এতে কোনো প্রভাব পড়েনি। সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল বাবলী পুরকায়স্থ জানিয়েছেন- তার স্কুলের মেয়েরা ভালো করেছে। এতে শিক্ষকরা কঠোর পরিশ্রম করেছে। প্রশ্নে অভিন্নতা থাকলেও ফলাফলে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান তিনি। সেরা সিলেট ক্যাডেট : এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে অতীত সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে ‘আলোকের অভিসারী’ খ্যাত সিলেট ক্যাডেট কলেজ। এবার এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট ক্যাডেট কলেজ থেকে মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৪ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের মতো শিক্ষা কার্যক্রমে ক্যাডেটরা আকর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করায় কলেজ অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন এম মাকসুদ আলম, (ই), এনইউপি, বিসিজিএম, বিসিজিএমএস, পিএসসি, বিএন ক্যাডেট, অভিভাবক এবং শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন- ‘সিলেট ক্যাডেট কলেজের এই সাফল্য সিলেটবাসীকে শিক্ষা অনুরাগী হতে আরো অনুপ্রাণিত করবে।’ ক্যাডেটরা যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে সৃজনশীল দেশপ্রেমিক মানব সম্পদে পরিণত হয়ে দেশ মাতৃকার কল্যাণে আরো বেশি অবদান রাখবে বলে অধ্যক্ষ বিশ্বাস করেন এবং আগামীতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন। এদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছেলেরা। মোট ৩ হাজার ১৯১ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১হাজার ৭১৮ ও ছাত্রী ১ হাজার ৪৭৩ জন। এবছর সিলেট বোর্ডে এসএসিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৯২৮জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে পাস করে ৭৬ হাজার ৭১০ জন পরীক্ষার্থী। পাসকারীদের মধ্যে ৩৪ হাজার ১৪৩ জন ছেলে এবং ৪২ হাজার ৫৬৭ জন মেয়ে। এদিকে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৬২ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও বাণিজ্য বিভাগে ৮১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্লু-বার্ডে উল্লাস : ফলাফল ঘোষণার পর সিলেটের নীলপাখিদের দল ব্লু-বার্ডে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। গোটা ক্যাম্পাস ছুঁয়ে যায় এ উল্লাস। এতে এসে শরিক হন শিক্ষকরাও। এ কলেজ থেকে এবার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফল ঘোষণার ক্যাম্পাসে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নেচেগেয়ে তারা উল্লাস করেন। যখন কলেজের অধ্যক্ষ একেক করে ফলাফল ঘোষণা করছিলেন তখন উল্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। কলেজের অধ্যক্ষ জানালেন- কলেজের শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণে এই ফলাফল হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এজন্য সবাইকে অভিনন্দন জানান। পাবলিক স্কুলে ৯৮ জন জিপিএ-৫ : প্রতি বছরের ন্যায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ৯৮টি জিপিএ-৫ অর্জনসহ সাফল্য করেছে। রোববার প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এক আনন্দমুখর পরিবেশে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অর্জিত ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামীতে আরো ভালো ফল অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভালো ফলাফলে সিলেটের মধ্যে সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসএসসি পরীক্ষায় ২৯৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৮ জন, এ গ্রেড ১২৩ জন, এ মাইনাস ৪৫ জন, বি ১৯ জন এবং সি গ্রেড ৫ জন। অধ্যক্ষ অর্জিত এ ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। গতবারের এসএসসি পরীক্ষায় অত্র প্রতিষ্ঠান ৬২টি জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

পোরশায় ২ চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার হাসপাতাল by ডিএম রাশেদ পোরশা

নওগাঁর পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চালানো হচ্ছে। উপজেলায় প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে মাত্র ২ জন চিকিৎসক চরম হিমশিম খাচ্ছেন। অপরদিকে, ৫ বছর ধরে শুধু কাগজে-কলমেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসাবে চলছে। প্রায় ৮ বছর আগে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এবং ৫ বছর আগে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করার জন্য তার উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ৫ বছর পরেও এখনো তার কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটি শুধুমাত্র কাগজ কলমে ৫০ শয্যা হিসেবে চলছে। হাসপাতালটিতে ৩১ শয্যার জনবলই পূরণ নেই। তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
জানা যায়, পোরশা উপজেলার নিতপুর সদরে ১৯৭০ সালে নির্মিত ৩১ শয্যার হাসপাতালটিতে বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবল কখনোই পূরণ ছিল না। এমনকি হাসপাতালটি যখন ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় তখনও কোনো পদই পূরণ ছিল না। এ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এবং ২০১০ সালে ৫০ শয্যার সকল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। অবকাঠামো তৈরি করার ৩ বছর পর ২০১৩ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়। ৫০ শয্যা হাসপাতাল উদ্বোধনের ৫ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি। দেওয়া হয়নি ৫০ শয্যার কোনো যন্ত্রপাতি এবং লোকবল। বর্তমানে হাসপাতালটির গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি বিভিন্ন পদের বিপরীতে মাত্র ১৮ জন লোকবল রয়েছে, যা উপজেলার প্রায় ২ লাখ জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ৫৬টি পদে মাত্র ১৮টি পদ পূরণ রয়েছে। বাকি ৩৮টি পদ অনেক দিন থেকে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। পদগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ মেডিকেল অফিসার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমবিবিএস চিকিৎসক হিসেবে যারা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। গুরুত্বপূণ্য এ পদে সর্বমোট ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২ জন চিকিৎসক। অফিস সহকারী ৩ জনের পদ থাকলেও এ পদে একজনও নেই। এমএলএসএস পদে ৬ জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এ পদে মাত্র ১ জন রয়েছেন। আয়া ২টি পদে একজনও নেই। পরিসংখ্যানবিদ না থাকায় একজন সিএইচসিপি দিয়ে কাজটি পার করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহকারী ২০ জনের স্থানে রয়েছে মাত্র ১২ জন। ইপিআই টেকনিশিয়ান মারা যাওয়ার পর এ পদটিও খালি অবস্থায় রয়েছে। জরুরি বিভাগে ১টি পদ খালি রয়েছে। সুইপার পদে ৫ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ জন। যে কারণে উপজেলার ২ লাখ জনসাধারণকে আশানুরূপ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।  এ ব্যাপারে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইবনে ইমাম জানান, ৩১ থেকে ৫০ শর্যায় উন্নীত হলেও এর কার্যক্রম চালু না হওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্রায় ২ লাখ জনগণের চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে কম সংখ্যক জনবল দিয়ে এতগুলো মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চত করা অনেক কঠিন কাজ। তিনি আরও জানান, ৫০ শয্যা শুধু কাগজে কলমে। বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলই নেই। তাই এখানে জরুরিভাবে চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি এ ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলেও জানান।

কিশোরগঞ্জে আট বছরে বজ্রপাতে নিহত ১২০ by আশরাফুল ইসলাম

কিশোরগঞ্জে ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গত সাত বছরে বজ্রপাতে ১০৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চলতি বছরের ৩রা মে পর্যন্ত বজ্রপাতে আরো ১২ জনের প্রাণহানির ঘটেছে। এই আট বছরে মোট ১২০ জনের প্রাণহানি ছাড়াও অন্তত সহস্রাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মানবজমিন-এর নিজস্ব অনুসন্ধানে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের এই সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাওর অধ্যুষিত এই জেলায় বৃষ্টির সঙ্গে নিয়মিত বজ্রপাতে এই হতাহতের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বছরওয়ারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে এ জেলায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই বছরে ২২ জন করে মোট ৪৪ জন নিহত হওয়া ছাড়াও অসংখ্য মানুষ বজ্রপাতের শিকার হয়ে আহত হন। এছাড়া ২০১৭ সালে ১৮ জন, ২০১১ সালে ১৬ জন, ২০১৫ সালে ১৩ জন, ২০১২ সালে ১০ জন এবং ২০১৪ সালে ৭ জন বজ্রপাতে নিহত হন।
উপজেলাওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, জেলার মধ্যে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে ইটনা উপজেলায়। ২০১১ সাল থেকে এই পর্যন্ত ইটনায় উপজেলায় বজ্রপাতে মোট ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরপরে রয়েছে নিকলী উপজেলা। নিকলী উপজেলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৯ জনের। এরপরে মিঠামইন উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১৫ জন। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ১৪ জন। করিমগঞ্জ উপজেলায় নিহত হয়েছেন ১০ জন, বাজিতপুর উপজেলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন, তাড়াইল উপজেলায় মারা গেছেন ৭ জন। কটিয়াদী উপজেলায় প্রাণহানি হয়েছে ছয় জনের। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচ জন। পাকুন্দিয়া উপজেলায় মারা গেছেন চারজন। হোসেনপুর উপজেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলায় দুইজন করে মোট চারজন বজ্রপাতে মারা গেছেন।
অনুসন্ধান ও গবেষণা দেখা গেছে, জেলার সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত উপজেলাগুলো হচ্ছে- ইটনা, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও নিকলী। বজ্রপাতের প্রাণহানির ঘটনা সেখানেই বেশি ঘটছে। এছাড়া করিমগঞ্জ, কটিয়াদী, বাজিতপুর, তাড়াইল, ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার অংশবিশেষ হাওর এলাকায় অবস্থিত। সেসব স্থানেও বজ্রপাতে মানুষ হতাহত হচ্ছে। বজ্রপাতে হতাহতদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে, ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে, জমিতে কাজ করতে গিয়ে কিংবা মাছ ধরতে গিয়ে। ফলে বজ্রপাত ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে হাওরের কৃষক, কৃষি শ্রমিক এবং জেলেদের মাঝে। এবারের বোরো মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক সংকটের পেছনে বজ্রপাত ভীতি কাজ করেছে বলে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চলতি বছরে ব্রজপাতে কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তাদের মধ্যে মিঠামইনে পাঁচজন, বাজিতপুরে দুইজন এবং ইটনা, অষ্টগ্রাম, পাকুন্দিয়া, নিকলী ভৈরবে একজন করে মারা গেছেন। এর মধ্যে ভৈরবে গত ৩০শে মার্চ ভবানীপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে আলমগীর (২৫), মিঠামইনে গত ৫ই কাটখাল গ্রামের হযরত আলীর ছেলে দ্বীন ইসলাম (৩৫) ও নয়ানগর গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে আহম্মদ আলী (৪৫), ইটনায় গত ১১ই এপ্রিল দীঘিরপাড় পাথারহাটির আলী মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা আক্তার (২২), অষ্টগ্রামে গত ১৭ই এপ্রিল বড়াইচর গ্রামের হেলিম মিয়ার ছেলে ঈমান হোসেন (১২), বাজিতপুরে গত ২২শে এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আব্দুর রাশিদ (৩৫) ও বাজিতপুর উপজেলার বাহেরবালি গ্রামের ছামেদ মিয়ার ছেলে তৌহিদ মিয়া (২৭), মিঠামইনে গত ২২শে এপ্রিল বৈরাটি ইউনিয়নের ভুরভুড়ি গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর স্ত্রী রূপচাঁন বেগম (৬০), মিঠামইনেই গত ২৪শে এপ্রিল রহমান (৫৫) ও আলীম উদ্দিন (৪০), পাকুন্দিয়ায় গত ২৬শে এপ্রিল পাটুয়াভাঙ্গা দকদিগা গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৫) এবং সর্বশেষ গত ২রা মে নিকলীতে দামপাড়া ইউনিয়নের শেখ নবীনপুর গ্রামের নীল মামুদের ছেলে মো. আলী আকবর (৩৫) মারা যান।
এদিকে ক্রমাগত বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে থাকায় ২০১৬ সালের ১৭ই মে বজ্রপাতকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বজ্রপাতে নিহতের পরিবার ও আহতদের সরকারিভাবে অনুদান সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তেমন প্রচারণা না থাকায় বজ্রপাতে নিহতদের পরিবার ও আহতদের অনেকেই এই সরকারি অনুদান সহায়তা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে বজ্রপাতে হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যানও প্রশাসনের কাছে পাওয়া যায় না।
তবে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামীল জানান, বজ্রপাতে কোন নিহতের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন নিহতের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছে। এছাড়া বজ্রপাত থেকে রক্ষায় গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি হিসেবে এক মাস আগে থেকে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ, মসজিদে আলোচনা ও গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বজ্রপাত প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় এ জেলায় ইতিমধ্যে ১৬ হাজার ১৫০টি তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে এবং এ বছর আরো লাগানো হবে বলেও তরফদার মো. আক্তার জামীল জানান।

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে ৮ জেলায় ‘লাইটেনিং সেন্সর’ by দীন ইসলাম

দেশের বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করতে আট জেলায় নতুন প্রযুক্তি ‘লাইটেনিং সেন্সর’ লাগিয়েছে সরকার। ঝড়-বৃষ্টির সময় কোনো জেলায় কখন বজ্রপাত হয়েছে বা কতবার বিদ্যুৎ চমকিয়েছে তার হিসাব নিতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির লাইটেনিং ডিটেকটিভ সেন্সর বসানো হয়েছে। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করার পর লাগানো হবে বজ্রপাত নিরোধক ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’। অ্যারেস্টারের মাধ্যমে বজ্রপাত টেনে মাটির নিচে পাঠিয়ে দেয়া যাবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে এরই মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, নওগাঁর বদলগাছি, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনার কয়রা এবং পটুয়াখালীতে লাইটেনিং সেন্সর লাগানো হয়েছে। আটটি সেন্সরে পুরো দেশের চিত্র উঠে আসবে। একেকটি সেন্সরের রেঞ্জ ২৫০ কিলোমিটার। প্রতিটি সেন্সর থেকে এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত মনিটরিং করা যাবে। এক মৌসুমে (এপ্রিল থেকে জুন) দেশে কতবার বিদ্যুৎ চমকায় এবং বজ্রপাত হয় সেটি সংরক্ষণ করা হবে। তবে এখন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হবে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে রেডিও, টেলিভিশন, ওয়েবসাইটে এখনো তাঁরা বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেন। তবে সেটি রাডার থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেয়া হয়, যাতে বজ্রপাতের চিত্র সুস্পষ্টভাবে আসে না। এ ছাড়া এখন বজ্রপাতের তথ্য দেয়া হয় জেলাওয়ারি। কিন্তু ডিটেকটিভ সেন্সরের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট এলাকার নাম বলা যাবে। এর আগে বজ্রপাতের প্রতি নজর ছিল কম। বর্তমানে গুরুত্ব অনুধাবন করে এখন এর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। এজন্য প্রথম ধাপে এলাকা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৩টি নদীবন্দরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতের সংকেত ও সংখ্যা নিরূপণের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি ডিকেটটিভ সেন্সরের যন্ত্রপাতি কেনায় খরচ হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে কম লোক মারা গেছে জাপানে। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে মাত্র ২৪ জন বজ্রপাতে মারা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩১৯ জন মারা গেছে। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সচেতনতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রেও বজ্রপাতে মৃত্যু হার কমছে। সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডা এমনকি পাশের দেশ ভারতেও বজ্রপাত রোধ করতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে। উল্টোদিকে বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। এতে সরকার ২০১৬ সালে একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এ বছর পহেলা বৈশাখ থেকে এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ১০৫ জন মারা গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে বজ্রপাতে চার দিনে ৮১ জন মারা যায়। এরপর ২০১৬ সালে ৩৮০ জন ও ২০১৭ সালে ৩০৭ জন মারা গেছে। দিন দিন বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এটা প্রতিরোধে তৎপর হয়েছে আবহাওয়া অফিস। এজন্য প্রথম ধাপে ‘লাইটেনিং সেন্সর’ লাগানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ লাগানো হবে। সহসাই অ্যারেস্টার লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট by কাজী সোহাগ

দফায় দফায় তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। হয়েছে প্রস্তুতিরও পরিবর্তন। তবে এবার চূড়ান্ত উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। প্রতিদিনই চলছে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সবচেয়ে বড় ও শেষ ধাপের পরীক্ষা ছিল স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট বা স্যাটেলাইট বহনকারী রকেটের প্রাক-উৎক্ষেপণ পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে শুক্রবার সন্ধ্যায় কেনেডি স্পেস সেন্টারে ওই পরীক্ষা করে স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। এই প্রতিষ্ঠানের ফ্যালকন-৯ রকেটে করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটকে মহাকাশে পাঠানো হবে। সফল পরীক্ষা শেষে স্পেস এক্স শনিবার টুইটারে এক বিবৃতি দেয়। এতে জানানো হয়, ফ্যালকন-৯-এর ব্লক-৫-এর স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট ঠিকভাবে শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই রকেটে করে বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট মহাকাশে যেতে পারে। রকেটের কারিগরি অবস্থা বেশ ভালো। পরীক্ষার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ গতকাল মানবজমিনকে বলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত দিন ও সময় জানতে পারবো। তখন আমাদের দেশের দিক থেকে কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি নেয়া হবে। এর আগে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার পর স্যাটেলাইট উৎক্ষেণপণ পিছিয়ে যায়। এমনকি বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকতার আমন্ত্রণপত্র, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সবকিছু চূড়ান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়াজনিত সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়। এদিকে স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ স্থল ফ্লোরিডায় সরকারের ৪২ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল থাকবে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হওয়ার পর জাতীয়ভাবে তা উদযাপন করা হবে। প্রকৃতপক্ষে আমরা যখন স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে শুরু করবো তখন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারবো। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট শুধু কারিগরি বা ব্যবসার বিষয় নয়, এটি আমাদের গর্বের বিষয়। আমার মনে হয়েছে আমাদের প্রস্তুতি যতটুকু করা সম্ভব ছিল তার কোনটার কোনো কমতি নেই। ভবিষ্যতের ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এরপর ২, ৩, ৪ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এখন অপরিহার্য ভাবনা। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজবাউজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এখন কেবল কিছু ‘কানেকটিভিটির’ কাজ বাকি রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, বলা হচ্ছে, আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিনিয়োগের পুরো টাকা উঠে আসবে। এটা শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু আমরা যদি ক্যাপাসিটি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিক্রি করতে না পারি, তাহলে সেলিব্রেশন করে লাভ নেই। বিপণনের ক্ষেত্রে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, তিন হাজার কোটি টাকা, আমি ৭/৮ বছরের কথা বলছি না, বিনিয়োগের টাকা যেন উঠে আসে, সেভাবে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। গত ৩০ মার্চ একটি বিশেষ বিমানে করে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাডে স্যাটেলাইটটি পৌঁছায়। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য তৈরি এ স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের জন্য আর বাকি ২০টি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে। সফলভাবে মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

খুলনাতেও গুজব, শঙ্কা by রোকনুজ্জামান পিয়াস

এক দিনেই ঘোষণা হয়েছিল দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল। প্রচার-প্রচারণাও শুরু হয়েছিল জোরেশোরে। নির্বাচনের নয় দিন আগে স্থগিত হয়ে গেছে গাজীপুর সিটির নির্বাচন। খুলনার প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তবে গতকাল গাজীপুরে ভোট স্থগিতের ঘোষণার পর খুলনায়ও দেখা দিয়েছে ভয় আর শঙ্কা। নির্বাচন হবে তো- এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। আবার কেউ কেউ বলছেন, এক দিনে দুই সিটির নির্বাচন ছিল। এখন একটির নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের গুরুত্বও বেড়ে যাবে কিছুটা। সারা দেশের দৃষ্টি থাকবে নির্বাচনের ওপর। এই নির্বাচন এখন সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং প্রধান দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন থাকে এটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ৪নং ওয়ার্ডের ভোটার আবদুল লতিফের সঙ্গে কথা হয় নগরীর শিববাড়ি এলাকায়। তিনি বলেন, গাজীপুরের ভোট স্থগিত হয়েছে, খুলনায় কি হয় কে জানে। আর ভোট হলেও শান্তিপূর্ণ না হলে মানুষ কেন্দ্রে যেতে ভয় করবে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার এলাকায় প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ভোট রয়েছে। দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। গতকাল বিকালে কথা হয় রয়েল মোড়ের হোটেলের কর্মচারী আক্কাছ আলীর সঙ্গে। নির্বাচনে কোন মেয়র প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট টানতে পারবেন জানতে চাইলে তিনি অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বলেন, এটা বলা মুশকিল। তার দৃষ্টিতে পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও লড়াই হবে মূলত দুই জনের মধ্যে। একজন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক, অপরজন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তাদের কেউ-ই কারো থেকে কম নয়। খালেকের খুঁটির জোর তিনি সরকারদলীয় প্রার্থী। তার ধারণা, এ কারণে উন্নয়ন কাজের বিবেচনায় ভোটাররা তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাইবে। অন্যদিকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি খুলনাবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয়, স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তা ছাড়া আগে থেকেই খুলনা বিএনপির ঘাঁটি। সে হিসেবে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে খুলনার ভোটারদের মধ্যে। এদিকে গতকাল হাইকোর্টের নির্দেশে একইদিন অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়ে ভোটারদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত খুলনার নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ তৈরী হয়। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে শক্ত দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আগামী ১৫ তারিখের নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এমনটাই আভাস দিয়েছেন এই সিটির তৃণমূল পর্যায়ের ভোটাররা। তারা বলছেন, প্রার্থী হিসেবে কাউকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সম্ভাব্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মানদণ্ড নির্ধারণও করছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, তালুকদার আবদুল খালেকের সরকারদলীয় প্রার্থী, স্বাভাবিকভাবেই তিনি বাড়তি সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ব্যক্তিগতভাবে একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। এটা তার বড় যোগ্যতা হিসেবে ভোটাররা বিবেচনা করবেন। ভোটারদের নানামুখী বিশ্লেষণে তাই কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। অন্যদিকে বাকি ৩ মেয়রপ্রার্থীদের আলোচনাতেই আনছেন না ভোটাররা। 
গতকাল খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, ভোট নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই মানুষের মাঝে। নগরীর সড়কের পাশের চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডায়-আলোচনায় ঘুরে ফিরে আসছে ভোটের কথা। মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের আলোচনায় ওঠে আসছে বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।
রয়েল মোড়ে কথা হয় মাহমুদ আলী নামের এক ভোটারের সঙ্গে। তিনি বলেন, তালুকদার খালেক মেয়র হলে খুলনার উন্নয়ন হবে। কারণ, তিনি সরকারি দলের মেয়র। অন্যদিকে মঞ্জু মেয়র হলে আগের মেয়রের মতো তাকেও জেলে পাঠানো হতে পারে। এ বিবেচনায় সাধারণ ভোটারদের অনেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বেছে নিতে পারেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে যদি আওয়ামী লীগ হেরে যায়, তখন কি হবে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন। বলেন, আদৌ কি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে? তবে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুকেও তিনি একজন জনপ্রিয় প্রার্থী মনে করেন। তার ধারণা, তিনি বিরোধী দলে না থাকলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিততেন। মহানগরীর ডাকবাংলা মোড়ে কথা হয় সিএনজি চালক আসাদের সঙ্গে। নির্বাচনী প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি বলেন, খুলনায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি যোগ করেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না-ও হতে পারে। আর হলেও সেটা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কিনা জানতে চাইলে আসাদ বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থী হওয়ায় তালুকদার আবদুল খালেক বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন, যেগুলো বিএনপি প্রার্থী পাচ্ছেন না। আর নির্বাচনের সময় তো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলেই একচেটিয়া সহযোগিতা পাবেন।
সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাছেই ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধার চায়ের দোকান। সেখানে বসতেই শোনা যায় নির্বাচনী আলোচনা। এর মধ্যে দুই যুবক খুলনার রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এবার তালুকদার আবদুল খালেকের বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ হিসেবে তারা বলেন, বিএনপির ভোট এবার ভাগ হয়ে যাবে। একটি অংশ চলে যাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর দিকে। এ ছাড়া বিএনপির কোনো কোনো নেতাকর্মী গোপনে এবং প্রকাশ্যে খালেকের পক্ষে কাজ করছেন বলে তারা জানান। তবে তাদের এই কথার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের একজন ভোটার আজাদ। তিনি বলেন, এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় যে, বিএনপির ভোট জাতীয় পার্টিতে চলে যাবে। বরং জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের ভোট কাটার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন আওয়ামী লীগেই। বিএনপিতে এখনো কোনো মতবিরোধ তৈরী হয়নি। তবে তিনি এজন্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ব্যক্তিত্বকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, বিএনপির অন্য যেকোনো প্রার্থীর তুলনায় মঞ্জু বিতর্কের ঊর্ধ্বে। একপর্যায়ে দুই যুবক ওঠে গেলে তিনি বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়েও বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না। সেক্ষেত্রে ভরাডুবির ভয়ে নির্বাচন স্থগিতও করতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে শুনলাম গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত খুলনার নির্বাচনেও এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোন যুক্তিতে তিনি এমন ধারণা করছেন? জবাবে আজাদ বলেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন সংস্থার জরিপ রয়েছে।

পরমাণু সমঝোতা ত্যাগ করা হবে ‘ভুল’: রিপাবলিকান প্রতিনিধি

মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক থর্নবেরি
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেয়ার বিরোধিতা করেছেন মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক থর্নবেরি।
তিনি বলেছেন, এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া হবে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ এবং তা করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত হবে না। এ ভুল সিদ্ধান্ত যাতে নেয়া না হয় সেজন্য চেষ্টা চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
থর্নবেরি রোববার আমেরিকার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প যাতে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে না যান সেজন্য তিনি তাকে পরামর্শ দেবেন। তিনি বলেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ইউরোপীয় দেশগুলো পরিবর্তন আনতে পারে কিনা- সেজন্য ট্রাম্পের উচিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার বিষয়টিকে আরেকটু পিছিয়ে দেয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন আর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তখন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন রিপাবলিকান প্রতিনিধি এসব কথা বললেন।
ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে দেশটির বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পরমাণু সমঝোতা সই হয়। এতে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া সই করে।
কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার স্বার্থ রক্ষিত হয়নি- দাবি করে তাতে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় তার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা না হলে তিনি আমেরিকাকে এ সমঝোতা থেকে বের করে নেবেন। আগামী ১২ মে তার এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
তবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এ ব্যাপারে নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে বলেছে, পরমাণু সমঝোতা যেরকম আছে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

দুর্ঘটনা নয়, হত্যার শিকার চট্টগ্রামের যুবলীগ নেতা

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবুল হাশেম তালুকদার (৫৫) ওরফে বাচাকে নিজ বাড়িতে আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে পরকীয়া প্রেমিকা জিফু আক্তার। পুড়িয়ে মারার আগে তাকে জ্যুসের সঙ্গে বিষও খাওয়ানো হয়। বিয়ে করতে অস্বীকার করায় পরিকল্পিতভাবে এ হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন প্রেমিকা জিফু আক্তার (৩৮)। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ ভূঁইয়া রোববার দুপুরে মানবজমিনকে এসব তথ্য দেন।
ওসি বলেন, গত শুক্রবার ভোর ৬টায় খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ইছামতি এলাকার তালুকদার বাড়ির নিজ ঘর থেকে আবুল হাশেম তালুকদার প্রকাশ বাচার পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ঘরের ভেতর কিছু কাপড়- চোপড় ও গ্যাস সিলিন্ডার পোড়া দেখা গেলেও ঘরের  তেমন ক্ষতি হয়নি।
যা দেখে সন্দেহ জাগে। ফলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করার পর আলামত সংগ্রহ করা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। পরকীয়া প্রেমিকা জিফু আক্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে।  
জিফু আক্তার আবুল হাশেম তালুকদার প্রকাশ বাচার শ্বশুর বাড়ির প্রতিবেশী। সম্পর্কে চাচী শাশুড়ি হন জিফু। তবে তার বাবার নাম বা বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি।
ওসি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জিফু আক্তার বাচাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে নিহত আবুল হাশেম তালুকদার ওরফে বাচার সঙ্গে এ মহিলার অবৈধ দৈহিক সমপর্ক চলে আসছিল। ওই মহিলা তিন সন্তানের মা।
জিফু স্বীকারোক্তিতে বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাচা তার সাথে দীর্ঘদিন ধরে দৈহিক সমপর্ক গড়ে তুললেও তাকে বিয়ে করার জন্য বললে সে অস্বীকার করে। এছাড়া বাচা জিফু আক্তার বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়ে দিয়েছিল।
যা নিয়ে তাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন বাচার বাড়িতে তার স্ত্রী সন্তানরা না থাকার খবর পেয়ে জিফু আক্তার বাচার ঘরে যায়। সেখানে তারা রাতে দৈহিক মেলামেশাও করেছে। এ সময় জিফু বাচাকে বিয়ে করার কথা বললে বাচা বিয়ে করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।
এরপর বাচা পানি খেতে চাইলে পূর্ব-পরিকল্পনা মতে বাচাকে হত্যার জন্য পানির বদলে একটি জ্যুস খেতে দেয়।  এর আগেই জ্যুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে রাখে জিফু। জ্যুস খাওয়ার পর বাচা ঢলে পড়লে জিফু ঘরের সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে কাপড়-চোপড় পুড়িয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

৩৯ দফা ঢাকা ঘোষণায় শেষ হলো ওআইসি সম্মেলন

৩৯ দফা ঢাকা ঘোষণা গ্রহণের মধ্য দিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৪৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দুইদিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়েছে। রোববার বিকালে প্রেস স্টেটম্যান্টে এ ঘোষণা গৃহীত হয়েছে বলে জানান সম্মেলনের সভাপতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে ওআইসি’র মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওসাইমিনও এ নিয়ে কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা দু’টো জিনিস চেয়েছিলাম। একটি হচ্ছে- রোহিঙ্গা ইস্যু এবং অন্যটি ওআইসি’র সংস্কার। আমরা দু’টোই অর্জন করতে পেরেছি।’ তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি মন্ত্রীপর্যায়ের কমিটির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গাম্বিয়ার প্রস্তাব ছিল এটি। সব সদস্য রাষ্ট্র এতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ওই কমিটি ওআইসি’র তরফে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে রাখাইনে গণহত্যাসহ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার বিচার নিশ্চিতে কাজ করবে। এছাড়া, ওআইসি’র সংস্কার নিয়ে বাংলাদেশ এবং তুরস্ক একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর আগে সমাপনী প্রেস স্টেটম্যান্টে যৌথভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএস মাহমুদ আলী এবং ওআইসি মহাসচিব জানান- সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ১২০টির বেশি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছেন ওআইসি’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা।
এ ইস্যুতে কারও কোনো দ্বিমত বা ভিন্নমত ছিল না বলেও জানানো হয়। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে ওআইসি’র সদস্যভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে একটি বিশেষ সেশনে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। পরে এটি ঢাকা ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই সেশনে গোয়েন্দা বিষয়ক গাম্বিয়ার প্রস্তাবিত একটি রেজ্যুলেশনের সংশোধন চেয়েছে বাংলাদেশ। রেজ্যুলেশনে বলা আছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দায়বদ্ধতার জন্য ওআইসি’র এডহক মন্ত্রী পর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করবে। অপরাধের পরিবর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন শব্দটির প্রতিস্থাপিত করে সংশোধনী চেয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপুমনি এই সংশোধনীর প্রস্তাব করেন। মূল প্রস্তাবে বলা আছে, গত বছর ২৫শে আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার দায়বদ্ধতার জন্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করা। এছাড়া মানবাধিকার পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ নিশ্চিত করা। বিশেষ সেশনে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠানে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ দূত বব রে, জাতিসংঘের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল রশিদ খালিকভ, ওআইসি’র ইন্ডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের সভাপতি, আরাকান ইউনিয়নের পক্ষে ড. ওয়াকার উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। এরপর উন্মুক্ত আলোচনায় জিবুতি, ইরান, উগান্ডা, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, মালয়েশিয়া, মিশর, তুরস্ক, কাজাখস্তান ও সুদানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত চুক্তি করেছি। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আমরা তৈরি। তবে সমস্যা হচ্ছে ফেরত পাঠানোর জন্য তাদের যে বাড়িঘর তা এখনও তৈরি করা হয়নি।’ কানাডার দূত বব রে বলেন, ‘আমি যখন কক্সবাজার সফর করেছিলাম তখন রোহিঙ্গারা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি বিশ্বকে বলি তারা মানুষ। কানাডা দায়বদ্ধতার নীতিতে বিশ্বাসী এবং আমরা জানি এটি জটিল একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।’ রশিদ খালিকভ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু এবং অনেকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে ৯৫১ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।’ ওআইসি’র ইন্ডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের সভাপতি বলেন, আমরা ২০১১ সালে থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্ডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের আলোচনা করছি। আমাদের একটি সুপারিশ আছে, রোহিঙ্গা বিষয়ে একটি বিশেষ ‘পাথ ফাইন্ডিং কমিশন’ গঠন করা। ওয়াকার উদ্দিন বলেন, ‘আমার জন্ম রাখাইনে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এ ধরনের অত্যাচার আমি জন্ম থেকে দেখে আসছি। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানাই।’ জিবুতির প্রতিনিধি বলেন, ‘আমি ৪-৫ বছর আগে রাখাইনে গিয়েছিলাম। আমি তাদের দুঃখ-কষ্ট নিজ চোখে দেখে এসেছি।’ ইরানের প্রতিনিধি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে। আমাদের চেষ্টা করতে হবে টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর। উগান্ডার প্রতিনিধি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার ও শান্তিপূর্ণ বসবাসের অধিকার আছে।’ ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।’ পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিষয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’ ইরাকের প্রতিনিধি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মানুষ। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তাদের মানবাধিকারকে সম্মান করার।’ মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের এ বিষয়ে বড় ভূমিকা আছে।’
ওআইসিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নতুন মাত্রা, ভারত ‘অন্তর্ভুক্তি’ নিয়ে প্রশ্ন: এদিকে ওআইসি সংশ্লিষ্ট ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, গেল বছরের আগস্টে রাখাইন বর্মী বর্বরতা শুরু হওয়া এবং আচমকা বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ঢল বাংলাদেশের পর এই প্রথম সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন হলো। এবং ঘটনাচক্রে কিংবা কাকতালীয়ভাবে সম্মেলনটি ঢাকায় হওয়ার জন্য পূর্ব-নির্ধারিত ছিল। বাংলাদেশ এ আয়োজনের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে জানিয়ে এক দায়িত্বশীল প্রতিনিধি গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে বলেন- সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রোহিঙ্গা সংকটের একেবারে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয়ার জন্য। তারা যে ধারণা পেয়েছেন তা সম্মেলনের রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ সেশনে তুলে ধরেছেন। সেখানে ওআইসি’র প্রায় সব রাষ্ট্রের প্রতিনিধিই কথা বলেছেন। তারা পুঞ্জীভূত এ সংকেটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর বিশ্ব সমপ্রদায়ের সঙ্গে মিলে চাপ বাড়ানোর বিষয়ে তাদের প্রত্যেকে নৈতিক, রাজনৈতিক এবং কার্যকরী সমর্থন দেয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। ৩৯ দফা ঢাকা ডিকলারেশনে তার প্রতিফলন রয়েছে। সেখানে ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ চারটি দফায় এর বিস্তারিত রয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আনান কমিশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন, গণহত্যা, গণধর্ষণের জন্য দায়ী বর্মী সেনাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং বাস্তুচ্যুতদের ফেরাতে সই হওয়া চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ রয়েছে।
কেবল ওআইসি নয়, পশ্চিমা দুনিয়া বিশেষ করে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ দূত বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মহলে জোরালোভাবে উপস্থাপনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সব মিলে এটি স্পষ্ট যে ঢাকায় ওআইসি’র সম্মেলন রোহিঙ্গা ইস্যুকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ওআইসি’র সংস্কার প্রশ্নে বাংলাদেশের যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তার ব্যাখ্যায় দিল্লির সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে- বাংলাদেশ ভারতকে ওআইসি’র পর্যবেক্ষক করার জন্য এ প্রস্তাব দিয়েছে। এবং বাংলাদেশ এতে লবি করছে। অবশ্য ওআইসি সংশ্লিষ্ট অন্য একটি কূটনৈতিক সূত্র ধারণা দিয়েছে- ওআইসিতে পর্যবেক্ষক হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বৈরী অবস্থানে থাকা পাকিস্তান আপত্তি বা রিজারভেশন দিতে পারে। কিন্তু আদৌ কি ঢাকা ভারতের জন্য লবি করছে, ওআইসি’র সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ যে প্রস্তাব দিয়েছে তা কি ভারতের অন্তর্ভুক্তির জন্য? সম্মেলনের ক্লোজডোর সেশনে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়েছে কি? তাকে পাকিস্তানের কোনো অবজারভেশন বা রিজারভেশন ছিল কি? এমন না না প্রশ্ন গতকাল দিনভর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের আঙ্গিনায় ঘুরপাক খেয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবাদ বিফিংয়েও বিষয়টি এসেছিল। প্রতিমন্ত্রী তাতে যা বলেন- তা হলো বিশ্বের এমন দেশও রয়েছে যেখানে ওআইসিভুক্ত অনেক রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস। কিন্তু ওই দেশ ওআইসিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওআইসি এখন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রি নয়, কো-অপারেশন। সেখানে নন-ওআইসি রাষ্ট্রগুলোর মুসলমানদেরও অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ও তুরস্ক ওআইসি’র সামগ্রিক সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। এতে ওআইসি’র ম্যান্ডেটও রয়েছে। তবে ভারতের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ঢাকা সম্মেলনে আলোচনা বা পাকিস্তানের আপত্তির প্রশ্ন এড়িয়ে যান প্রতিমন্ত্রী। পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এসএসসিতে ভাটার টানে রেকর্ড by নূর মোহাম্মদ

নয় বছরের মধ্যে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিম্ন ফলাফল হয়েছে। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে। গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বেড়েছে। গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বোর্ডগুলোর তথ্যমতে, ২০১১ সালের পর এবার সর্বনিম্ন ফলাফল হয়েছে। ২০১১ সালে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০১২ সালে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৬ দশমিক  ৩২ শতাংশ। ২০১৩ সালে পাসের হার ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ৯ বছরের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক পাস করে ২০১৪ সালে। এ বছর পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পরের বছর ২০১৫ সালে ৪ শতাংশ কমে পাশের হার দাঁড়ায় ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশে। ২০১৬ সালে পাসের হার ১ শতাংশ বাড়ে। এ বছর পাসের হার ছিল ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ২০১৭ সালে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে পাসের হারে। প্রায় ৮ শতাংশ কমে পাসের হার দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশে। বোর্ড ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনায় পাসের হারে ছন্দপতন হচ্ছে। এটি সার্বিক শিক্ষার মানের উন্নতির সূচক।
গতকাল সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেয়ার পর দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এসএসসি ও  সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ছাড়া সকল সূচকে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। শতকরা পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭। জিপিএ- ৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে পাঁচ হাজার ৮৬৮ জন। গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতবারও পাসের হার কমেছে, এবারো পাসের হার কমেছে। তবে দেখা দরকার মূল্যায়নটা সঠিক হয় কিনা। আমাদের শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থী বাড়ছে। সবাই ফেল করছে তা নয়। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ইতিবাচক দিক হলো পাসের হার কমেছে। আমরা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছি। মূল্যায়নে সমতা আনার জন্য এই পরিবর্তন। শিক্ষকরা যাতে ভালো করে খাতা দেখেন, ভালো করে না দেখেই যেন নম্বর না দেন। সেদিক থেকে ভালো করে খাতা দেখার ফলে পাসের হার কমেছে।
আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীন এবার ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪২৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৫ জন। পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ ভাগ। গত বছর পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ২১ ভাগ। গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমেছে এক দশমিক ৮১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৪৫ জন। গত বছরের চেয়ে চার হাজার ৮৮১ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ৮১ দশমিক ৪৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৫৮৫ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৩৯ ভাগ। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৭ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯ হাজার ৪৯৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৭০ ভাগ। কুমিল্লা বোর্ডে ৮০ দশমিক ৪০ ভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয় হাজার ৮৬৫। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক শূন্য তিন ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল চার হাজার ৪৫০ জন। যশোর বোর্ডে ৭৬ দশমিক ৬৪ ভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে নয় হাজার ৩৯৫ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক শূন্য চার ভাগ। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে আট হাজার ৯৪ জন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৯ ভাগ। এবছর বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭১ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৪৬২ জন। গতবছর পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ২৪ ভাগ। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ১৯১ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ২৬ ভাগ। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৬২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৭৫৫ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৮ ভাগ। গত বছরের চেয়ে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে। অন্যান্য বোর্ডে গত বছরের চেয়ে পাসের হার কমেছে। এর কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছর ধরে অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা নেয়ার ফলে কুমিল্লা বোর্ড এ জায়গায় এসেছে বলে মনে করি। তারপরেও আরো কী কী বিষয় হতে পারে তা আমরা জেনে জানাতে পারবো। ফলাফলে সমতা আসছে, সবাই কাছাকাছি আছে। একটা ভিত্তি তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিভাগভিত্তিক আটটি সাধারণ বোর্ডে পাসের শীর্ষে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৯৩ দশমিক তিন শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৬৯ ভাগ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এ বিভাগের ৯৭ হাজার ৭৮০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ব্যবসায় শাখা বিভাগে তিন হাজার ৭৪৬ জন ও মানবিক বিভাগের এক হাজার ৩১৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা বেশি পাস করেছে। ১০টি বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭১ ভাগ। আর ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৭৭ ভাগ। অর্থাৎ ছাত্রদের চেয়ে দুই দশমিক ১৪ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে এগিয়ে। ৫৫ হাজার ৭০১ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর ৫৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৬৯ ভাগ। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।  মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যা গতবার ছিল ৭৬ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাঁচ দশমিক ৩১ শতাংশ কম পাস করেছে। তবে উভয় বোর্ডে গতবারের চেয়ে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। কারিগরি বোর্ডে এ বছর চার হাজার ৪১৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।  গত বছর এ সংখ্যা ছিল চার হাজার ১৭৮। মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৩৭১ জন। গতবছর পেয়েছিল দুই হাজার ৬১০ জন। বিদেশে আটটি কেন্দ্রে ৪৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ৪২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৮ ভাগ। জিপিএ-৫  পেয়েছে ৯০ জন। এ বছর সারা দেশে এক হাজার ৫৭৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ২৬৬টি। গত বছরের চেয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা ৬৯২টি প্রতিষ্ঠান কমেছে। এ বছরও ১০৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। গত বছর এ ধরনের ৯৩টি প্রতিষ্ঠান ছিল। গত বছরের চেয়ে শতভাগ ফেল কলা ১৬টি প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। এরমধ্যে মাদরাসা বোর্ডে ৯৬টি। গত ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরুর পরে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১২টি বিষয়ের এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে। এতে অন্তত ৫ হাজার শিক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা করা হয়েছে। সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এদের সবাইকে খুঁজে বের করছি। কেউ রেহাই পাবেন না। প্রথমত ওই সময় ধরা পড়েছে অনেকে। ১৫৭ জন জেলে আছে, ২৫টি মামলা নিয়ে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের ছাত্র জীবন, শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। এর বাইরেও খাতা দেখার মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ফল পুনঃনিরীক্ষা: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।
ফল খারাপের নেপথ্যে: ফলাফল খারাপের কারণ হিসেবে বেশ কিছু কারণে চিহ্নিত করেছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। প্রথমত মানবিকে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের চেয়ে খারাপ ফল করেছে। তারপর সব বোর্ডে ইংরেজি ও গণিতের খারাপ ফলাফল। এছাড়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ফল অন্যান্য বছরের চেয়ে খারাপ হয়েছে। এর প্রভাব সার্বিক ফলাফলে পড়েছে। তবে সাধারণ ৮টি বোর্ডের গণিত ও ইংরেজিতে খারাপ ফলে সবচেয়ে প্রভাব পড়েছে। চলতি বছর শুধু কুমিল্লা বোর্ড ছাড়া সব বোর্ডের গণিতের ফল খারাপ হয়েছে। এজন্য প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে দায়ী করছেন বোর্ডের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়েছে। তবে দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ভালো হওয়ায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা কাভার করলেও এর একটা প্রভাব এখানে পড়েছে। আর গণিতের প্রশ্ন তুলনামূলক একটু কঠিন হয়েছে। এবার অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হওয়ায় সব বোর্ডের এর প্রভাব পড়েছে।
বোর্ড চেয়ারম্যানরা বলছেন, গত দুই বছরের তুলনায় এবার বাম্পার ফলাফল করেছে কুমিল্লা বোর্ড। গত বছর এ বোর্ডের পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এবার ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ বোর্ডের পাসের হার ফলাফলকে একটা ব্যালেন্সে দাঁড় করিয়েছে। গত বছরের মতো এবারো কুমিল্লা বোর্ড খারাপ করলে সব বোর্ডের পাসের হার আরো ৫-৬ শতাংশ কমে যেত।    
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানান, এবার পাসের হার কমার আরেকটি অন্যতম কারণ কারিগরি ও মাদরাসা উভয় শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার কমা। তবে উভয় বোর্ডেই জিপিএ ৫-এর সংখ্যা বেড়েছে। কারিগরি বোর্ডে এ বছর জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ৪ হাজার ৪১৩, গতবার ছিল ৪ হাজার ১৭৮। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ২২৬ জন। একইভাবে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থী, গত বছর পেয়েছিল ২ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে ৭৬১টি। চলতি বছর এ বোর্ডের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এ দুই বিষয়ে ফল খারাপ হওয়ার বোর্ডের সার্বিক ফলে ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাদরাসা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে গণিতের পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এবার সেই পাসের হার ৮০ দশমিক ২৯ শতাংশ। এবার গণিতের পাসের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। একই অবস্থা কম্পিউটার বিজ্ঞানে। এ বিষয়ে গত বছর পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এবার ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে সেই পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ ব্যাপারে মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম সাইফুল্লাহ বলেন, গণিতের প্রশ্নটা একটু কঠিন হওয়ায় এবার এ বিষয়ে ফল খারাপ হয়েছে। তবে অন্যান্য বিষয়ে ফলাফলের ধারাবাহিকতা রয়েছে।