Tuesday, June 20, 2017

২১৯টি নতুন গ্রহ : পৃথিবীর মতো ১০টি

২১৯টি নতুন গ্রহ আবিস্কার করেছে নাসার কেপলার মিশন, যার ১০টির আকার পৃথিবীর মতো। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে বিজ্ঞানী মারিও পেরেজ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পেরেজ বলেন, পৃথিবী আকৃতির ১০টি গ্রহ শিলাময়, তবে এগুলো পানি ধারনে সক্ষম। খবর সিএনএন ও ডেইলি মেইলের।
এই কেপলার তথ্যের সন্নিবেশ একদম দূর্লভ, এটি একমাত্র মানুষ ধারন ক্ষমতার গ্রহ, যা পৃথিবী সদৃশ্য।
নতুন তথ্যমতে, কেপলার এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪টি গ্রহানু নির্বাচন করেছে এবং ২০৩৫ টি সাম্ভাব্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছে।
নতুন তথ্যে বলা হয়, অর্ধেকের বেশি সাম্ভাব্য গ্রহ ছায়াপথ হয় বায়বীয়, যেখানে কোন বর্হিভাগ নেই অথবা যেখানে অনেক ভারী বায়ুমন্ডল আছে যা আমাদের কল্পনাতীত। কিন্তু কেপলার এই গ্রহানুগুলোকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে।
সৌরজগতের বাইরে বাসযোগ্য গ্রহ অনুসন্ধানের কাজে নিয়োজিত নাসার টেলিস্কোপ কেপলার। ২০০৯ সালে নাসা কেপলার টেলিস্কোপটি পাঠানোর পর থেকে এটি ব্যস্ত সময় পার করছে। ছায়াপথগুলোর মধ্যে কোথাও কোনো গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে কি না, সেই দুরূহ সন্ধানের কাজটিই করে এটি। ২০১৩ সালের মধ্যেই কেপলার তার প্রাথমিক লক্ষ্যপূরণ করে ফেলে। আবিষ্কার করে ফেলে সৌরজগতের বাইরে প্রায় পাঁচ হাজার সম্ভাব্য গ্রহ। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৩৫টি গ্রহের অস্তিত্বের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া কেপলারের দ্বিতীয় মিশনে সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত আরো ৫২০টি সম্ভাব্য গ্রহ আবিষ্কার করা হয়, যার মধ্যে ১৪৮টি গ্রহ নিশ্চিত হওয়া গেছে। সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো আকৃতির ও বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে এর আগে ২১টি গ্রহ আবিষ্কার করেছিল কেপলার। তাই এবার আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, কেপলারের নতুন আবিষ্কারের তালিকায় সম্ভবত বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে সেরা কিছু থাকবে। নাসার আমেস রিসার্চ সেন্টার পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী মার্কিন সময় ১৯ জুন সোমবার সকাল ১১টায় (ইডিটি) এ ব্যাপারে ব্রিফিং করে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সাথে নাসার ওয়েবসাইটেও সরাসরি অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখানো হয়েছে।
নাসার মতে, কেপলারের নতুন আবিষ্কার এ যাবতকালের সবচেয়ে উন্নত বিশ্লেষণের ফলাফল এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ গবেষণায় নতুন কিছু উত্থাপিত হয়েছে। নাসার সায়েন্স মিশন পরিচালনা এর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইনস্টিটিউট, মানোয়ার হাওয়াই ইউনিভার্সিটি এবং ক্যালটেক এর বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে তাদের সর্বশেষ আবিষ্কারের ব্যাপারে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।

ম্যাডাম, হেড স্যারের রুমে একা যাবেন না by মহিউদ্দিন অদুল

‘ম্যাডাম, হেডস্যারের রুমে কখনো একা যাবেন না। তিনি খারাপ লোক। আপনার ক্ষতি করবে।’ নারী সহকর্মীর প্রতি এ কোনো শিক্ষকের সতর্কবাণী নয়। নয় কমিটির সদস্য কিংবা অভিভাবকেরও। খোদ স্কুলের কিশোর-কিশোরী ছাত্র-ছাত্রীদের এমন সতর্কবাণী নতুন নারী শিক্ষকদের প্রতি। খিলগাঁও গভ. স্টাফ কোয়ার্টার হাইস্কুলে কোনো নারী শিক্ষিকা যোগদান করলেই সেই স্কুলের ভুক্তভোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী ছাত্রছাত্রীরাই এই বলে তাদের শিক্ষকদের সতর্ক করতো। শ্লীলতা বা সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তার কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিতো কচিকাঁচারাই। গত মঙ্গলবার ফাঁদে ফেলে শ্লীলতাহানির শিকার ওই শিক্ষিকাকেও ছাত্রছাত্রীরা সতর্ক করেছিল। গত মার্চে তার সঙ্গে স্কুলে যোগ দেয়া অপর দুই খণ্ডকালীন শিক্ষিকাকেও একইভাবে তারা রক্ষার চেষ্টা করে।
গত বছরের ১লা সেপ্টেম্বর ওই স্কুলে ৫২ বছর বয়সী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। কিন্তু প্রথম ক্লাসে (অ্যাকাউন্টিং) গিয়েই সন্তানের বয়সী শিক্ষার্থীদের কাছে তেমন সতর্কবাণী শুনে তিনি একেবারে থ বনে যান। সর্বশেষ এক খণ্ডকালীন শিক্ষিকার মামলায় গত বুধবার গ্রেপ্তার হন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরদিন জুতা ও ঝাঁটা নিয়ে থানার সামনে মিছিল করে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সরদার মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের শ্লীলতা ও সম্ভ্রমহানি এবং ইভটিজিং থেকে রেহাই পায়নি স্কুলের নারী শিক্ষকরা। দশম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীরাও। যার শেষ শিকার হলেন এমবিএতে পড়ুয়া ওই অবিবাহিত শিক্ষিকা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের প্রায় সবার এমন অভিযোগেও রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি ও দাপটে দিব্যি স্বপদে টিকে আছেন তিনি। গত মঙ্গলবার শ্লীলতাহানির শিকার শিক্ষকের মামলায় পরদিন বুধবার গ্রেপ্তার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটিও গঠন হয়নি। তবে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে স্কুল কমিটি। 
জানা যায়, এর আগে মোস্তফা কামাল ও রেজাউল করিম নামে অপর দুই খণ্ডকালীন শিক্ষককে নানা অজুহাতে বেতন বকেয়া রেখে স্কুল থেকে সরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক সরদার হেলাল উদ্দিন। এরপর তিনি তিনজন নারীকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেন। চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম ক্লাসেই ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রধান শিক্ষকের নারী লোলুপ দৃষ্টি থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়। প্রথমে নতুন শিক্ষকরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে প্রধান শিক্ষকের আচরণেই তা প্রকাশ পেতে থাকে। তিন শিক্ষকের প্রতিই তার কুদৃষ্টি। প্রথম শিকার হিসেবে বেছে নেন তার এলাকা থেকে আসা পিতৃহীন ওই নারী শিক্ষককে। গত মার্চে ওই নারী শিক্ষক প্রথম তার মাকে নিয়ে স্কুলে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে যান। সে দিনই তার কু-মতলব প্রকাশ পেলেও প্রথমে তা বুঝতে পারেননি ওই নারী ও তার মা।
ওই শিক্ষকের মা মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের খবর পেয়ে আমি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে তার জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে যাই। প্রথম দিনই অনর্থক আমাদের প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলতে থাকে। ওই শিক্ষকের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে শিক্ষিকার মা বলেন, ‘আমি প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ জনকে চাকরি দিই। আপনার মেয়েকে আমার বয়সী (পঞ্চাশোর্ধ্ব) ছেলে দেখে বিয়ে দেবেন। মানুষ কী বলে কানে নেবেন না। মেয়েকে আদর-আহ্লাদে রাখবে। সুখী রাখবে।’ কিন্তু তার ওই কথার ইঙ্গিত বুঝতে পারেননি তারা। সে কথার কোনো সায়-সম্মতিও দেননি। স্বাভাবিক পরামর্শ মনে করে এড়িয়ে যান। বুঝতে পারিনি তার কু-মতলব।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই শিক্ষিকা বলেন, ওই দিন তার সে কথার ইঙ্গিত আমরা বুঝতে পারিনি। তখন আমি বোরকা ও হিজাব পরে স্কুলে গিয়েছিলাম। পরেও তা পরেই স্কুলে যাওয়া-আসা করতাম। প্রধান শিক্ষক তা না পরতে নিষেধ করেন। স্কুলের অন্য নারী শিক্ষকরাও দেখি হিজাব-বোরকা পরেন না। তা দেখে ও প্রধান শিক্ষকের পরামর্শে আমিও হিজাব-বোরকা পরা বাদ দিই। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিনি আমাকে বলদা গার্ডেন, হাতিরঝিল ও বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বারবার প্রস্তাব দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রস্তাব দেন তিনি ১৭ লাখ টাকায় গাজীপুরে জায়গা কিনবেন। তার সঙ্গে আগামী শুক্রবার যেতে হবে। দু’ঘণ্টা অন্তরঙ্গ সময় কাটাতে হবে। এছাড়া  স্কুলে গেলে আমরা তিন নতুন নারীকে শিক্ষক কমনরুমের পরিবর্তে তার কক্ষে বসতে বলেন। স্কুল দুই শিফটে পরিচালিত হলেও আমাদের সকাল প্রায় আটটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ধরে রাখা হতো। ক্লাসে গেলে শিক্ষার্থীরা আমাদের তার কাছ থেকে সতর্ক থাকতে বলে। পরামর্শ দেয় দূরে থাকতে। অপরদিকে তিনি বলেন অন্য শিক্ষকরা খারাপ। তাদের সঙ্গে না মিশতে। আমি অবিবাহিত হলেও তিনি আমাকে বিবাহিত পরিচয় দেয়ার পরামর্শ দেন। আর আমার শরীর নিয়ে নানা মন্তব্য করতে থাকেন। বলেন, আমি মোটা হয়ে যাচ্ছি। ওই পোশাক ভালো মানাচ্ছে না। তিনি আমাকে পোশাক কিনে দেবেন। জুতা কিনে দেয়ার প্রস্তাব করেন। বিভিন্ন সময় কথা বলার সময় আমার গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আমাকে প্রস্তাব করেন, তুমি আমাকে অন্তরঙ্গ সময় দিলে তিন শিক্ষকের মধ্যে সিনিয়র করে দেবে, চাকরি স্থায়ী করে দেবে। বেতন বাড়বে। আমরা তিন শিক্ষকও নিজেদের নিরাপদ করার জন্য একা তার কক্ষে না গিয়ে একত্রে যাওয়া শুরু করলাম।
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার তিনি আমাকে কাজ শেখানোর নামে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে নেয়ার জন্য ফোন করেন। জোর করে বাসা থেকে রাস্তায় আসতে বলেন। আমিও বাধ্য হয়ে তার সঙ্গে যাই। একটি রিকশায় দু’জন শিক্ষা বোর্ডে যাই। সেখানে কাজের ও ডিসি অফিসে যাওয়ার নামে নানা নাটকীয়তা ও টালবাহানা করেন। অগত্যা আমার চাপাচাপিতে চলে আসতে রাজি হন। আমাকে নিয়ে আবার রিকশায় বাসার দিকে রওনা দেন। সেদিন আকাশে রোদ বা বৃষ্টি ছিল না। তারপরও তিনি রিকশার হুট উঠিয়ে দেন। এরপর রিকশার ভেতরেই আমাকে জড়িয়ে ধরেন। একপর্যায়ে মুগদার পূর্ব মানিকনগরে বাসার কাছে এসে রিকশা থেকে নেমে যাই। কান্নাকাটি করতে থাকি। এরপর বাসায় গিয়ে মাকে সবকিছু বলি। এরপর মা তাকে ফোন করে বকাবকি করেন। তারপর স্কুলের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও স্কুল কমিটির সদস্যদের জানাই। ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করি।
শুধু শিক্ষক নয়। স্কুলের ছাত্রীরাও প্রায় সময় তার হাতে যৌন হয়রানি বা শ্লীলতাহানির শিকার হতো। ওই শিক্ষিকার মামলার দিনই স্কুলের ২০ জন শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করে আরো একটি লিখিত অভিযোগ খিলগাঁও থানায় দাখিল করেছে। যদিও তাতে মামলা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার তাকে থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করার দিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা জুতা ও ঝাঁটা মিছিল নিয়ে থানায় যায়।
ওই স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, একই স্কুল থেকে পড়ে যাওয়া আমার বড় ভাই ও বোন আমাকে তার কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিল। তখন তিনি শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির পরও দেখি একই অবস্থা। শারীরিক শিক্ষার পিটির ক্লাসে অকারণে নিবিড়ভাবে আমাদের শরীর ও স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দিতো। জাতীয় দিবসসহ যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রায় ছাত্রদের বাদ দিয়ে ছাত্রীদের দিয়েই উদযাপন করাতেন। তাই আমরা ছাত্রী ও নতুন শিক্ষক এলে তাদের সতর্ক করি।
ওই ক্লাসের অপর এক ছাত্রী বলেন, বিশেষ করে দশম শ্রেণির সিসি ক্যামেরা তিনি বারবার জুম করে দেখতেন। বলতেন, আমরা বাথরুমে অশ্লীল কাজ করি। তাই বাথরুমেও সিসি ক্যামেরা লাগাবেন। এর প্রতিবাদ করায় এক বিবাহিত ছাত্রীকে তিনি স্কুলে আসতে দেননি।
দশম শ্রেণির আরেক ছাত্রী বলেন, আমার গায়ে হাত দেয়া ও অনর্থক হাত ধরার প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, শিক্ষক ছাত্রীর হাত ধরতে পারে।
সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বলেন, একদিন আমি স্কুলে যেতে দেরি করি। তারপর তিনি আমার বাসায় যাওয়ার বায়না খুঁজতে থাকেন।
ওই ক্লাসের অপর এক ছাত্রী বলেন, একদিন আমরা কয়েকজন ছাত্রী বাথরুমে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাদের থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ওড়না নিয়েছো কেন? এরপর যৌন ক্রিয়া ও প্রসব ব্যথা সম্পর্কে অশ্লীল কথা বলেন।
দশম শ্রেণির এক ছাত্র বলেন, একদিন আমি হেড স্যারের কক্ষে ঢুকি। তখন দেখি তিনি দশম শ্রেণির ছাত্রী ও এক শিক্ষিকার ছবি সিসি ক্যামেরায় জুম করে দেখছিলেন।
খিলগাঁও স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলমগীর চৌধুরী বলেন, তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে আগে ছাত্রছাত্রীদের কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এখন কিছু অভিযোগ পাচ্ছি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ও খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মানবজমিনকে বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অকারণে ছাত্রীদের গায়ে হাত দিতো বলে জানিয়েছে অনেকেই। বিশেষত নারীর প্রতি তার লোলুপ দৃষ্টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিব্রত রাখতো।
মতিঝিল থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে রোববার আমি স্কুল পরিদর্শন করেছি। ভিকটিম, শিক্ষক, পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একটি প্রতিবেদন শিক্ষা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছি। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে থেকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো স্তরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

সাদ্দামের ফাঁসির সময় কেঁদেছিলেন যে মার্কিন সৈন্যরা

২০০৪ সালের জুন মাসে সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকি অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়া হয় বিচারের জন্য। এর আগের বছর ডিসেম্বর মাসে মার্কিন বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাকে পাহারা দিয়েছিলেন ১২ জন মার্কিন সৈন্য। বিবিসি হিন্দি'র জন্য সেই সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন রেহান ফজল: গ্রেফতার হওয়ার আগে তারা যে সাদ্দাম হোসেনের ‘বন্ধু’ ছিলেন, সেটা মোটেই নয়। কিন্তু ওই ১২ জন আমেরিকান সৈন্য সাদ্দামের শেষ সময়ের বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারাই ছিলেন সাদ্দামের সঙ্গে। মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে ‘সুপার টুয়েলভ’ বলে ডাকা হতো। তাদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, ‘দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড’ নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে ‘নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তার আমেরিকান প্রহরী - ইতিহাস যে কথা বলেনি’। বইটি জুড়ে রয়েছে সাদ্দাম হোসেনকে তার শেষ সময় পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা। মি. বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে, তারা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল।
দাদুর মতো দেখতে লাগত সাদ্দামকে
বার্ডেনওয়ার্পার তারই এক সেনা-সঙ্গী রজারসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘আমরা কখনও সাদ্দামকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হত্যাকারী হিসাবে দেখিনি। তার দিকে তাকালে নিজের দাদুর মতো লাগত অনেক সময়ে।’ ইরাকের জেলে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটানোর সময়ে সাদ্দাম হোসেন আমেরিকান গায়িকা মেরি জে ব্লাইজার গান শুনতেন নিয়মিত। নিজের এক্সারসাইজ বাইকে চড়তে পছন্দ করতেন সাদ্দাম। ওটার নাম দিয়েছিলেন ‘পনি’। মিষ্টি খেতে খুব ভালবাসতেন। মাঝেমধ্যেই মাফিন খেতে চাইতেন। বার্ডেনওয়ার্পার লিখেছেন, নিজের জীবনের শেষ দিনগুলোতে সাদ্দাম তাদের সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করতেন। ওই ব্যবহার দেখে বোঝাই যেত না যে সাদ্দাম হোসেন কোনও এক সময়ে একজন অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক ছিলেন।
কাস্ত্রো তাকে সিগার খেতে শিখিয়েছিলেন
সাদ্দামের ‘কোহিবা’ সিগার খাওয়ার খুব নেশা ছিল। মনে করা হয় কিউবার সিগারের মধ্যে এই ‘কোহিবা’ সবার চেয়ে সেরা সিগারগুলোর অন্যতম। ভেজা ওয়াইপে জড়িয়ে একটা বাক্সের মধ্যে রাখা থাকত সিগারগুলো। সাদ্দাম নিজেই বলেছিলেন যে, বহু বছর আগে ফিদেল কাস্ত্রো তাকে সিগার খাওয়া শিখিয়েছিলেন। সিগার ছাড়াও বাগান করা আরেকটা শখ ছিল সাদ্দাম হোসেনের। জেলের ভেতরে অযত্নে ফুটে থাকা জংলী ঝোপঝাড়গুলোকেও তিনি একটা সুন্দর ফুলের মতো মনে করতেন।
খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই সংবেদনশীল ছিলেন সাদ্দাম
সকালের নাস্তাটা তিনি কয়েকটা ভাগে খেতেন - প্রথমে অমলেট, তারপর মাফিন আর শেষে তাজা ফল। ভুল করেও যদি তার অমলেটটা টুকরো হয়ে যেত, সেটা তিনি খেতে অস্বীকার করতেন। বার্ডেনওয়ার্পার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে লিখেছেন: একবার সাদ্দাম তার ছেলে উদয় কতটা নিষ্ঠুর ছিল, সেটা বোঝাতে গিয়ে বীভৎস একটা ঘটনার কথা বলেছিলেন। ওই ব্যাপারটায় সাদ্দাম প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। উদয় কোনও একটা পার্টিতে গিয়ে গুলি চালিয়ে দিয়েছিল - তাতে বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছিলেন। গুলিতে আহত হয়েছিলেন আরও কয়েকজন। সাদ্দাম ব্যাপারটা জানতে পেরে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে উদয়ের সবক’টা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিতে। ওই ঘটনাটা বলতে গিয়ে সেনা প্রহরীদের সাদ্দাম ভীষণ রেগে গিয়ে শুনিয়েছিলেন যে উদয়ের দামী রোলস রয়েস, ফেরারি, পোর্শা গাড়িগুলোতে তিনি আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ
সাদ্দাম হোসেনের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত আমেরিকান সেনারাই তাকে একদিন জানিয়েছিলেন যে, তার ভাই মারা গেছেন। যে সেনাসদস্য খবরটা দিয়েছিলেন, সাদ্দাম তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘আজ থেকে তুমিই আমার ভাই।’ আরেকজন প্রহরীকে বলেছিলেন, ‘যদি আমার সম্পত্তি ব্যবহার করার অনুমতি পাই, তাহলে তোমার ছেলের কলেজে পড়তে যা খরচ লাগবে, সব আমি দিতে রাজী।’ এক রাতে বছর কুড়ি বয়সের সেনা প্রহরী ডসন বাজে মাপে কাটা একটা স্যুট পড়ে ঘুরছিল। জানা গেল যে, ডসনকে ওই স্যুটটা সাদ্দাম উপহার হিসাবে দিয়েছেন। বার্ডেনওয়ার্পারের কথায়, ‘বেশ কয়েকদিন আমরা সবাই ডসনকে নিয়ে হাসাহাসি করছিলাম ওই স্যুটটার জন্য। ওটা পড়ে ও এমন ভাবে হাঁটাচলা করত, যেন মনে হতো কোনও ফ্যাশন শো’য়ে ক্যাটওয়াক করছে ডসন।’ সাদ্দাম আর তার প্রহরীদের মধ্যে বন্ধুত্ব বেশ ঘন হয়ে উঠছিল, যদিও তাদের ওপরে কড়া নির্দেশ ছিল যে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও যেন কেউ না করে। সাদ্দাম হোসেনকে মামলা চলা চলার সময় দুটো জেলে রাখা হয়েছিল। এক জেল ছিল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কয়েদখানা, আর অন্যটা উত্তর বাগদাদের সাদ্দামেরই একটা প্রাসাদে। ওই প্রাসাদটা ছিল একটা দ্বীপে। একটা সেতু পেরিয়ে ওই দ্বীপে যেতে হতো। ‘আমরা অবশ্য সাদ্দামকে এমন কিছু দিইনি, যেটা তিনি পাওয়ার অধিকারী ছিলেন না। কিন্তু তার অহংবোধে কখনও আঘাত করতাম না আমরা,’ লিখছেন বার্ডেনওয়ার্পার। স্টিভ হাচিনসন, ক্রিস টাস্করের মতো কয়েকজন প্রহরী ওই প্রাসাদেরই একটা স্টোর রুমে সাদ্দামের দপ্তর তৈরি করে দিয়েছিল।
সাদ্দামের দরবার
সাদ্দাম হোসেনকে একটা চমক দেওয়ার ইচ্ছা ছিল সবার। পুরনো, ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র থেকে একটা ছোট টেবিল আর চামড়ার ঢাকনা দেওয়া একটা চেয়ার নিয়ে আসা হয়েছিল। টেবিলের ওপরে ইরাকের একটা ছোট পতাকাও রাখা হয়েছিল। ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম জেলের ভেতরেই সাদ্দামের জন্য শাসনকাজ পরিচালনার মতো একটা অফিস তৈরি করতে। যখন সাদ্দাম ওই ঘরটায় প্রথমবার গিয়েছিলেন, একজন সেনা সদস্য হঠাৎই খেয়াল করে যে টেবিলের ওপরে ধুলো জমে আছে। সে ধুলো ঝাড়তে শুরু করেছিল,’ লিখছেন বার্ডেনওয়ার্পার। ওই আচরণটা সাদ্দামের নজর এড়ায়নি। চেয়ারে বসতে বসতে তিনি মুচকি হেসেছিলেন। তারপর থেকে তিনি রোজ ওই চেয়ারে এসে বসতেন। তার নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত সেনাপ্রহরীরা সবাই সামনের চেয়ারগুলোতে বসতেন। যেন সাদ্দাম নিজের দরবারে বসেছেন। নিরাপত্তা রক্ষীরা চেষ্টা করত সাদ্দামকে খুশী রাখতে। তার বদলে সাদ্দামও সকলের সঙ্গে হাসি-মস্করা করতেন। কয়েকজন রক্ষী পরে বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন যে, তারা বিশ্বাস করতেন ‘যদি তাদের কোনও ঝামেলায় পড়তে হয়, তাহলে সাদ্দাম তাদের বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনও বাজি রেখে দিতে পারেন’। যখনই সময়-সুযোগ পেতেন, তখনই সাদ্দাম হোসেন পাহারার দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। বার্ডেনওয়ার্পারের বইটাতে সবথেকে আশ্চর্যজনক যে বিষয়টার উল্লেখ রয়েছে, সেটা হল সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তার প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন, যদিও তিনি আমেরিকার কট্টর শত্রু ছিলেন।ন প্রহরীদেরই একজন, অ্যাডাম রজারসন উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, ‘সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।’ সাদ্দামের ফাঁসির পরে যখন তার লাশ বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সেখানে জমা হওয়া কিছু লোক তার লাশের ওপরে থুতু ছিটিয়েছিল। ওই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমেরিকান সেনারা। বার্ডেনওয়ার্পার লিখছেন, ওই নোংরামি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তারা সকলে, বিশেষ করে যে ১২ জন তার শেষ সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাদেরই মধ্যে একজন ওখানে জমা হওয়া লোকজনের কাছে হাত জোড় করে তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দলের বাকিরা তাকে টেনে সরিয়ে নেয়। ওই ১২ জনের অন্যতম, স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন। হাচিনসন এখন জর্জিয়ায় বন্দুক চালনা আর ট্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেওয়ার কাজ করেন। তার মনে এখনও ক্ষোভ রয়েছে, কারণ সেদিন যেসব ইরাকী সাদ্দামের লাশকে অপমান করছিল, তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে না পড়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল তাদের। সাদ্দাম হোসেন কিন্তু শেষ দিন পর্যন্ত আশা করতেন যে তার ফাঁসি হবে না। একজন রক্ষী, অ্যাডাম রোজারসন বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, কোনও নারীর সঙ্গে প্রেম করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাদ্দাম। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে আবারও বিয়ে করার ইচ্ছাও হয়েছিল তার। ২০০৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর তিনটে নাগাদ ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়েছিল। তাকে জানানো হয়েছিল যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হবে। এই কথাটা শোনার পরে সাদ্দামের ভেতরের সব বিশ্বাস ভেঙ্গে পড়েছিল। তিনি চুপচাপ গোসল করে ফাঁসির জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়েও তার একটা ভাবনা ছিল। জানতে চেয়েছিলেন, ‘সুপার টুয়েলভের সদস্যরাও কি ঘুমোচ্ছে?’ ফাঁসির কয়েক মিনিট আগে স্টিভ হাচিনসনকে কারাকক্ষের বাইরে ডেকে পাঠান সাদ্দাম হোসেন। লোহার শিকগুলোর মধ্যে দিয়ে হাতটা বের করে নিজের রেমন্ড ওয়েইল হাতঘড়িটা দিয়ে দেন স্টিভকে। হাচিনসন আপত্তি করেছিলেন। তবে সাদ্দাম কিছুটা জোর করেই ঘড়িটা স্টিভের হাতে পরিয়ে দেন। জর্জিয়ায় হাচিনসনের বাড়ির একটা সিন্দুকে রাখা ঘড়িটা এখনও টিক টিক করে চলেছে।

পিস্তলের গুলিতে আমেরিকায় মারা যাচ্ছ শত শত শিশু

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বন্দুকের গুলিতে এক হাজার তিন শ' শিশু নিহত হয়। সরকারের তৈরি করা এক পরিসংখ্যানে এ কথা বলা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর পাঁচ হাজার আটশত শিশু বন্দুকের গুলিতে গুরুতর আহত হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে যেসব শিশু নিহত হচ্ছে তাদের মধ্যে মাত্র ছয় শতাংশ দুর্ঘটনাবশত। বাকিগুলো হত্যাকাণ্ড কিংবা আত্মহত্যার মতো ঘটনা। মূলত এক বছর থেকে সতের বছর বয়সী শিশুরা বন্দুক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। গবেষক ক্যাথরিন ফোলার বলেন, "প্রতিবছর আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রতিদিন ১৯ শিশু আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মারা যাচ্ছে নয়তো গুরুতর আহত হচ্ছে।" গবেষকরা বলছেন, আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এর আগে এতো ব্যাপক মাত্রায় গবেষণা হয়নি।
২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যখন তাদের পরিবার কিংবা ছেলে বন্ধু এবং মেয়ে বন্ধুর সাথে সম্পর্ক নিয়ে জটিলতার পড়ে তখন তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান শিশুদের আত্মহত্যার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি। আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে কোন রাজ্যে শিশু নিহত হবার প্রবণতা বেশি সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এবং লুইজিয়ানায় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশুমৃত্যু বেশি হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, পৃথিবীর অন্য উন্নত দেশগুলোতে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর ঘটনা আমেরিকার তুলনায় অনেক কম। আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করতে বেশ কয়েকবার সরব হয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু তার সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শিশুমৃত্যু ছাড়াও বিভিন্ন সময় আমেরিকায় বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়। সূত্র : বিবিসি

উ. কোরিয়ায় বন্দি থাকা সেই ছাত্রের মৃত্যু

উত্তর কোরিয়াতে ১৫ মাস কারাগারে ছিলেন অটো ওয়ার্মবিয়ের। তার মধ্যে এক বছরই তিনি কোমায় ছিলেন। গত মঙ্গলবার সেই অবস্থাতেই তাকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়। এরপর সিনসিনাটির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে মারা গেলেন তিনি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়াতে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মারা গেছেন। সংবাদদাতা বারবারা প্লেট আশার ঐ বিবৃতিতে কি আছে সেটি উল্লেখ করছিলেন। যাতে বলা হয়েছে, দেশে আসার পর অটো ওয়ার্মবিয়ের মুখে কিছু বলতে না পারলেও তার চেহারায় কিছুটা হলেও প্রশান্তির আভাস ফুটে উঠেছিলো। তার বাবা সাংবাদিকদের এর আগে বলেছিলেন, ‘তাকে আটক করে যা করা হয়েছে সেই ভয়াবহ ব্যাপার মেনে নেয়া কঠিন’। অটো ওয়ার্মবিয়ের বয়স ছিলো ২২ বছর। বন্ধুদের সাথে উত্তর কোরিয়াতে গিয়েছিলেন অবকাশ যাপনে। সেখানে হোটেলের একটি সাইনবোর্ড চুরি করার অপরাধে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিলো। সেসময়ই বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। কিন্তু গত এক বছর ধরে অটো ওয়ার্মবিয়ের কোমায় থাকার বিষয়টি তার পরিবারের কাছেও গোপন রাখা হয়েছিলো। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বচিউলিজম নামের এক অসুখে তার এই অবস্থা হয়েছে। কিন্তু এই অসুখ কিভাবে হলো তার কোন ব্যাখ্যা নেই। তবে দেশে ফেরার পর চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তাকে পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে আঘাতের কথা উল্লেখ করেন। এদিকে এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে একটি নিষ্ঠুর রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেছেন। সূত্র: বিবিসি

সিরিয়ায় ধ্বংসস্তূপে যেভাবে চলছে ইফতার

সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর দৌমার বাসিন্দারা একসাথে ইফতার করছেন এমন কিছু ছবি অনলাইনে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে। বিবিসি ট্রেন্ডিং তার চিত্র তুলে এনেছে। রাজধানী দামেস্কের কাছেই অবস্থিত দৌমা এলাকা, বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এই এলাকার বেশিরভাগই এখন ধ্বংসস্তূপে নিমজ্জিত। কিন্তু এরই মধ্যে সেখানকার বাসিন্দারা একসাথে ইফতার করার ব্যবস্থা করেছেন। বাসিন্দাদের জন্য এরকম ইফতারের আয়োজন করেছেন সিরিয়ান আদালেহ ফাউন্ডেশন। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে তার কার্যক্রম শুরু করে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রীত পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌটা এলাকায় সহায়তা দেবার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ শুরু হয়। রমজানের শেষ দশ দিন এই প্রতিষ্ঠানটি দৌমার বাসিন্দাদের খাবার সরবরাহ করবে। ‘বিমান হামলার ভয়ে আমরা সাধারণত এ ধরনের আয়োজন করি না। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তির সুবিধা আমরা নিচ্ছি’ -মানবাধিকার সংস্থার একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে এমনটাই বলছিলেন। সিরিয়ায় চলমান অবরোধ-সংঘর্ষের জেরে সেখানে খাদ্যের দাম অনেক চড়া। ইফতারির জন্য যে খাবার দৌমায় সরবরাহ দেয়া হয় সেটি তৈরি করা হয় পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা ঘৌটায়। প্রায় চার বছর ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে দৌমা এলাকা। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর গত মাসে প্রথমবারের মতো একটি সাহায্য সংস্থা দৌমায় প্রবেশ করতে পারে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে জায়েশ-আল-ইসলাম, আর গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকাকে লক্ষ্য করে সিরিয়া সরকারি বাহিনী অনবরত বিমান ও বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। শহরের প্রায় একশোর মতো বাসিন্দা একসাথে ইফতার গ্রহণ করছেন। এদের মধ্যে একজন বলছেন ‘বিমান হামলার ভয়ে আমরা মসজিদে লুকিয়ে ইফতার করেছি অনেক সময়’। সিরিয়ার একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট টুইটারে ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছেন, ‘দৌমায় মৃত্যুর পরিবর্তে আজ জীবনের ছোঁয়া’। আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী এই খাবারকে বর্ণনা করছে ‘ইফতার অব হিরোজ’ বলে। ‘অনেক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে এই মানুষগুলো মানুষের জন্য কাজ করছে এবং অন্যদের জন্যও উদাহরণ তৈরি করছে’-লিখেছেন আরেকজন। ছবিগুলো অনলাইনে প্রকাশের পর হাজার হাজার মানুষ এটি শেয়ার করছে ও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ছবিগুলো শেয়ার করে রোজাদারদের সুস্বাস্থ্যও কামনা করেছেন সিরিয়ার নামকরা কজন সাংবাদিক। অনেক ব্যবহারকারী এটাও বলেছেন যে, ছবিগুলোতে যে শিশুদের দেখা যাচ্ছে তারা সবাই যুদ্ধে পরিবার-পরিজন হারানো এতিম।

আফগানিস্তানে মার্কিন ঘাঁটির কাছে বন্দুক হামলা : ৮ জন নিহত

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পারওয়ানে মার্কিন ঘাঁটির কাছে গতরাতে আকস্মিক এক হামলায় আট আফগান রক্ষী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় এক কর্মকর্তা একথা জানান। প্রাদেশিক এক নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে বন্দুকধারীরা বাগরাম বিমানঘাঁটির কাছে নৈশ প্রহরীদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়। এ সময় ১০ নৈশপ্রহরী একটি গাড়িতে করে টহল দিচ্ছিল। এই হামলায় আটজন নিহত ও অপর দুইজন আহত হয়।’ রাজধানী কাবুল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে বাগরাম বিমানঘাঁটিটি বিগত ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর প্রধান সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। বাগরাম জেলার শাহ্ আকা এলাকায় এ হামলা চালানো হয়।

চলন্ত গাড়িতে ৮ ঘণ্টা গণধর্ষণের পর রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হলো মহিলাকে

এক মহিলাকে অপহরণ করে চলন্ত গাড়িতে ৮ ঘণ্টা গণধর্ষণ করার পর রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিল ৩ ধর্ষক। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের রাজধানী দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামে। পুলিশকে ৩৫ বছরের ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি থাকেন গুরুগ্রামে। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ সোহনা এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নেয় ৩ জন। এরপর চলন্ত গাড়িতে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে তাকে গণধর্ষণের পর গ্রেটার নয়ডার কাছে একটি হাসপাতালের সামনে তাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয় ধর্ষকরা। এক মহিলা পথচারী ওই মহিলাকে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিয়ানা পুলিশ। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ধর্ষিতার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ : সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের নির্মাণকাজ আজ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়ত নির্বিঘœ ও ভোগান্তি কমাতে এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এই নির্দেশ দেয়া হয়। ঈদের পর যথারীতি এ মহাসড়কের চার লেনের নির্মাণকাজ চলবে। আজ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তারগাছ এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। সেতুমন্ত্রী যানজট নিরসনে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। কিছু সড়ক হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলেও দেয়া হয়েছে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সওজ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুরুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী বিএম নাহীম রেজাসহ দলের অন্যান্য নেতা কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে যানবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে করে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় পয়েন্টে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা নবীনগর সড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সূত্র : বাসস

রিজার্ভ চুরির ৩৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আজ মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো: আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ওই চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের মধ্যে শ্রীলংকায় পাঠানো ২০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নিউইয়র্কে ফেরত প্রদান করা হয়। এছাড়া ফিলিপাইনে পাঠানো ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক নিউইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে জমা হয়েছে। মুহিত বলেন, ফিলিপাইনে পাঠানো অর্থের বাকি অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), অর্থ মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)সহ সকল সংস্থা একযোগে কাজ করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, চুরি হওয়া সমুদয় অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় দলিলাদি সরবরাহ সাপেক্ষে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের বরাবরে ‘পালারমো কনভেনশন’র আওতায় ‘মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স (এমএলএ) রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এ প্রেক্ষিতে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে। তিনি বলেন, এ চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং চুরি হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে বর্তমানে ফিলিপাইনে আইনি উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.২৪% হবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি অর্থবছরে (২০১৬-১৭) জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ হবে। তিনি আজ মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরনের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ১শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের মে পর্যন্ত ২২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদনের প্রদান করা হয়েছে। ৫৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য স্থান নির্বাচন এবং ৭৬টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গভর্নিং বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। মুহিত বলেন, এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরো ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতায় বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রাপ্তিতে বিলম্ব, বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকরণে প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, নিষ্কণ্টক জমির অভাব, ঋণের উচ্চ সুদের হার ইত্যাদি বাধা অপসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের কার্যক্রম দ্রুততর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে ঋণের সুদের হার হ্রাস পাশাপাশি বিদেশ থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখাসহ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ব্যক্তিখাতে ঋণের প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখা হয়েছে। আর্থিক খাতে পরিচালন পদ্ধতিসহ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কার্যক্রমকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ) গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি সঞ্চারী (ট্রান্সফরমেশনাল প্রজেক্ট) ১০টি বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মুহিত বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে শ্রম, সেবা ও পণ্যের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পসমূহের কাজ চলমান রয়েছে। মুহিত বলেন, শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে হচ্ছে ‘ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনএসডিএ) গঠন করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে ‘ন্যাশনাল হিউমেন রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এনএইচআরডিএফ) গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাজেটে আশা দীর্ঘ, আশ্বাস সংক্ষিপ্ত : বিশ্বব্যাংক

আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে উচ্চাভিলাসী ও রাজস্ব আদায়কে কষ্টসাধ্য বলে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক বলছে, এই বাজেটে আশা দীর্ঘ, কিন্তু আশ্বাস সংক্ষিপ্ত। বাজেটে খরচের তেমন কোনো চমক নেই। সংস্কারের স্বীকৃতি আছে, উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেই। আগারগাঁওস্থ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে বাজেট আলোচনায় আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে এই পর্যালোচনা দেয়া হয়। পর্যালোচনা তুলে ধরেন সংস্থার ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বক্তব্য রাখেন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান, রাজশ্রী পারালকার, মেহরিন এ মাহবুব। পর্যালোচনায় ড. জাহিদ বলেন, রাজস্ব আদায় নির্ভর করছে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের উপর। তারপর আয়করের উপর। আয়কর খাতে সংস্কার নেই। ফলে আদায়ের প্রত্যাশা কম। আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে সরলীকরণ করা হয়নি। রাজস্ব আদায়টি মিশ্র ঝুড়ি বলা যায়। তিনি বলেন, ব্যয়ের ৮০ ভাগ বরাদ্দ যাবে সুদ, বেতন, ভর্তুকি ও ট্রান্সফার খাতে।
আবার সুদ খাতে যা ব্যয় হবে তার ৪৭.৫ শতাংশ যাবে সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে। তিনি জানান, চালের দাম বৃদ্ধির কারণে খাদ্যে ভর্তুকি বাড়বে। কিন্তু অন্যান্য খাতে বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যে ভর্তুকি দিচ্ছি তা কতোদিন চলবে? পিডিবির লোকসান রয়েই গেছে। বিদ্যুত খাতের অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার উন্নয়ন না হলে এই ভর্তুকি কমানো যাবে না। তিনি বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখছি না। বছর বছর প্রকল্প সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রকল্প সমাপ্ত হচ্ছে। টেন্ডারিং এ প্রতিযোগিতার অভাবের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাজেটে কাঠামোগত সংস্কারের আলোচনা কম। বিশেষ করে আর্থিক খাতের সংস্কারের আলোচনা আসেনি। ব্যাংকিং খাতে খেলাপী ঋণের হার কমিয়ে আনার কোনো কথা বলা হয়নি। চিমিয়াও ফান বলেন, বাজেট খুবই উচ্চাভিলাসী। এমনকি সামষ্টিক অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাভিলাসী। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে কষ্টভোগ করতে হবে সরকারকে। ৩১.৮ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সাদ্দামের মৃত্যুতে কেঁদেছিল মার্কিন নিরাপত্তাক্ষীরা

ইরাকের সেনা শাসক সাদ্দাম হোসেনের শেষদিনগুলোর সঙ্গী ছিলেন মার্কিন সেনার ১২ পুলিশ সদস্য। ২০০৪ সালের জুন মাসে সাদ্দাম হোসেনকে ইরাকি অন্তবর্তী সরকারের কাছে তুলে দেয়ার পর সাদ্দামের নিরাপত্তার দায়িত্বে পেয়েছিলেন এই ১২ পুলিশ সদস্য। মার্কিন ৫৫১ নম্বর মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির ওই ১২ জন সেনাসদস্যকে 'সুপার টুয়েলভ' বলে ডাকা হতো। তাদেরই একজন, উইল বার্ডেনওয়ার্পার একটি বই লিখেছেন, 'দা প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস, হিজ অ্যামেরিকান গার্ডস, অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লেফট আনসেইড' নামে। বাংলা করলে বইটির নাম হতে পারে 'নিজের প্রাসাদেই এক বন্দী, তার আমেরিকান প্রহরী - ইতিহাস যে কথা বলেনি'। বইয়ে বার্ডেনওয়ার্পার স্বীকার করেছেন যে তারা যখন সাদ্দাম হোসেনকে জল্লাদদের হাতে তুলে দিলেন ফাঁসির জন্য, তখন তাদের ১২ জনেরই চোখে পানি এসে গিয়েছিল। বইটাতে সবথেকে আশ্চর্যজনক যে বিষয়টার উল্লেখ রয়েছে, সেটা হল সাদ্দামের মৃত্যুর পরে তার প্রহরীরা রীতিমতো শোক পালন করেছিলেন, যদিও তিনি আমেরিকার কট্টর শত্রু ছিলেন। প্রহরীদেরই একজন, অ্যাডাম রজারসন উইল বার্ডেনওয়ার্পারকে বলেছিলেন, "সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পরে আমার মনে হচ্ছে আমরা ওর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। নিজেদেরই এখন তার হত্যাকারী বলে মনে হচ্ছে। এমন একজনকে মেরে ফেললাম আমরা, তিনি যেন আমাদের খুব আপনজন ছিলেন।" সাদ্দামের ফাঁসির পরে যখন তার মরদেহ বাইরে নিয়ে আসা হয়েছিল, তখন সেখানে জমা হওয়া লোকজন মৃতদেহের ওপরে থুতু ছিটিয়েছিল। ওই ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমেরিকান সেনারা। বার্ডেনওয়ার্পার লিখছেন, ওই নোংরামি দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন তারা সকলে, বিশেষ করে যে ১২ জন তার শেষ সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাদেরই মধ্যে একজন ওখানে জমা হওয়া লোকজনের কাছে হাত জোড় করে তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দলের বাকিরা তাকে টেনে সরিয়ে নেয়। ওই ১২ জনের অন্যতম, স্টিভ হাচিনসন সাদ্দামের ফাঁসির পরেই আমেরিকার সেনাবাহিনী থেকে ইস্তফা দেন। সূত্র: বিবিসি

পর্তুগালে ফাতিমা (সা. আ)'র সেই অলৌকিক উপস্থিতির শততম বার্ষিকী

১০০ বছর আগে ১৯১৭ সালের ১৩ মে পর্তুগালের ‌‘ফাতিমা’ নামক শহরে ঘটেছিল পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত বা অলৌকিক ঘটনাগুলোর অন্যতম ঘটনা। তিনটি ভাগ্যবান শিশু (দুই বালিকা ও এক বালক) ‘আমাদের মহীয়সী নারী ফাতিমা’ বা ‘তাসবিহ’র অধিকারী মহীয়সী নারী’র আলোকোজ্জ্বল অবয়ব বা জলজ্যান্ত কাঠামো দেখেছিল বলে দাবি করেছিল।
তাদের ভাষায় সেই নুরানি অবয়বটি ছিল ‘সূর্যের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল ও সর্বোচ্চ মাত্রায় জ্বলজ্বল পানিতে ভরা কাঁচের বা স্ফটিকের বলের চেয়েও বেশী স্বচ্ছ ও শক্তিশালী আলো বিকিরণকারী এবং আলাদা হয়েছিল সূর্যের আলোর মাধ্যমে’! সেই অবয়ব তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাদেরকে বিশেষ দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
সেই দোয়ার বরকতে অসুস্থ ব্যক্তিরা আরোগ্য লাভ করেছিল। সেই মহীয়সী নারী ওই শিশুদের কাছে প্রতি মাসে একবার করে আরও ৫ বার দেখা দিয়েছিলেন বলে বর্ণনা করা হয়। (তিনি ১৯১৬ সালেও ওই শিশুদের কাছে একবার দেখা দিয়েছিলেন বলে বর্ণনা রয়েছে)
ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় ক্যাথলিক চার্চ বা গির্জার কর্তৃপক্ষ এই তিন শিশুকে শিগগিরই গ্রেফতার করে এবং তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর হুমকি দেয়। পরে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল বলে বর্ণনা রয়েছে, যদিও ঠিক সেই শিশুদেরকেই মুক্তি দেয়া হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়।
তাদেরকে ঘটনার সত্যতার ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল বলে বর্ণনা রয়েছে। ফলে তাদের অনুরোধে সেই মহীয়সী নারী নুরানি বা আলোকময় অবয়ব নিয়ে আবারও হাজির হয়েছিলেন বলে বর্ণনা এসেছে। প্রায় সত্তুর হাজার মানুষ সেই অলৌকিক উপস্থিতি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিল। তৎকালীন পত্র-পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর এই বিশেষ দিনে ফাতিমা শহরে একটি বিশেষ মেলা বসে। সেখানে নানা জাতি ও ধর্মের হাজার হাজার মানুষ ও রোগী তাদের সমস্যা সমাধানের আশায় সমবেত হন। তারা তাসবিহ পাঠ করেন এবং হাঁটু গেঁড়ে ওই ঐতিহাসিক ঘটনার নিদর্শন স্থল বা স্মৃতি-চিহ্নের কাছে যান। এ অঞ্চলে একটি বড় হোটেলের নামও ফাতিমা।
সেই মহীয়সী নারীর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য লাভকারী ওই তিন সৌভাগ্যবান শিশুর নাম ছিল লুসিয়া সান্তোস, জ্যাসিন্টা ও ফ্রান্সিসকো মার্টোইন। তাদের দুই জন কিছুকাল পর মারা যায়। লুসিয়া সান্তোসের মৃত্যু ঘটে ২০০৫ সালে।
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান কেন্দ্র ভ্যাটিকান এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা স্বীকার করলেও ওই আলোকোজ্জ্বল অবয়বকে মা মেরি বা হযরত মরিয়াম (সালামুল্লাহি আলাইহা)’র অলৌকিক উপস্থিতি বলে দাবি করে আসছে। ভ্যাটিকান ‘ফাতিমার তিন গোপন বাণী’ নামে সেই মহীয়সী নারীর বক্তব্য প্রকাশ করে। কিন্তু ভ্যাটিকানের মাধ্যমে প্রকাশিত কথিত ‘ফাতিমার তিন গোপন বাণী’র বক্তব্যে পুরো ঘটনা ও শিশুদের কাছে সেই রহস্যময় অস্তিত্বের বলা কথা বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে বলে অনেক গবেষক মনে করেন।
এর কারণ, প্রথমত খ্রিস্টানদের লিখিত বর্ণনাগুলোর কোথাও কখনও কুমারী মা মেরি বা বিবি মরিয়ম (সা.)-কে ‘ফাতিমা’ বলে উল্লেখ করা হয়নি।
দ্বিতীয়ত খ্রিস্টানদের লিখিত বর্ণনার কোথাও কখনও কুমারী মা মেরি বা বিবি মরিয়ম (সা.)-কে তাসবিহ’র অধিকারী বলে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়াও গবেষকদের মতে, পর্তুগালের ফাতিমা শহরটির আরবি ‘ফাতিমা’ নামও খুবই লক্ষণীয়। এই শহরটির প্রতিষ্ঠাতা ছিল প্রাচীন মুসলিম স্পেন বা ইবেরিয়ার মুসলিম শাসকরা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লাম)’র কন্যা হওয়ার কারণে ফাতিমা নামটি মুসলিম বিশ্বে খুবই জনপ্রিয় ও সম্মানিত। “ফাতিমা আজ জাহরা” (সালামুল্লাহি আলাইহা)’র জাহরা শব্দটির অর্থ “সর্বোচ্চ আলোকময়”।
আরও লক্ষণীয় বিষয় হল, নবী-নন্দিনী হযরত ফাতিমা (সা.) ছিলেন তাসবিহ’র অধিকারী। তিনি তাসবিহ বানিয়েছিলেন মাটি দিয়ে। বিশ্বনবী (সা.) তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনটি তাসবিহ বা আল্লাহর প্রশংসাসূচক বাক্য শিখিয়েছিলেন যা মুসলমানরা আজো প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাহলিল বা পাঠ করে থাকেন। (৩৩ বার সুবাহান আল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবর)
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণীয় দিক হল, ১৫৭১ সালে পোপ পঞ্চম পিয়াস কুমারী মা মেরির সম্মানে ‘আমাদের মহীয়সী নারীর বিজয়’ শীর্ষক এক ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন। খ্রিস্টানরা পশ্চিম ইউরোপে তুর্কি মুসলমানদের বিজয় ঠেকাতে সক্ষম হওয়ায় এই ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন পোপ।
কিন্তু এর কয়েক বছর পর বা পরবর্তী বছরগুলোতে তুর্কি মুসলিম সেনারা পশ্চিম ইউরোপ দখল করতে থাকলে তৎকালীন ১৩ তম পোপ গ্রেগরি ওই ভোজসভার নাম পরিবর্তন করেন। নতুন নাম দেয়া হয় ‘তাসবিহর অধিকারী আমাদের মহীয়সী নারী’। আর এভাবেই খ্রিস্টানদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত কুমারী মা মেরি বা হযরত মরিয়ম (সা.)’র সঙ্গে তাসবিহ-কে সংশ্লিষ্ট করা হয়।
কেউ কেউ মনে করেন দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপে মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় এবং তারা হযরত ফাতিমা (সা.)’র তাসবিহ পাঠ করতে থাকায় এই প্রবণতা ঠোকানোর জন্য প্রোপাগান্ডা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয় ভ্যাটিকান।
তাই এ সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি যে ১৯১৭ সালে পর্তুগালের ফাতিমা শহরের একটি এলাকায় যে তিন শিশু বিশেষ আলোকোজ্জ্বল অবয়ব দেখেছিল তা ছিল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা (সা.)’র নুরানি বা আধ্যাত্মিক উপস্থিতি এবং তিনি রহস্যময় গোপন বাণীতে সম্ভবত ইউরোপীয়দের সবাই এক সময় মুসলমান হয়ে যাবে বা এই মহাদেশ মুসলিম-প্রধান মহাদেশে পরিণত হবে বলেই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
এই অলৌকিক ঘটনা নিয়ে পাশ্চাত্যে ও ইরানে আলাদাভাবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এবং লেখা হয়েছে অনেক বই।

ধনী ক্রেতারা কলকাতামুখী, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা করছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তবে ভিসাপ্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় ঈদের বাজার করতে কলকাতামুখী হচ্ছেন ক্রেতারা। ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেন যোগাযোগ চালু এবং সব পণ্যের মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় ভারতে ক্রেতাদের আগ্রহ আরো বেড়েছে। দেশের বিত্তবানরা ঈদের কেনাকাটা করতে ভারতে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দেশী ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর শরীফ জানান, গত ১২ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে বেনাপোল বন্দর হয়ে কলকাতায় গেছে ৩১ হাজার ৩৫৪ জন যাত্রী। একই সময়ে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন প্রায় ২৫ হাজার যাত্রাী। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদকে সামনে রেখে বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাসপোর্টধারীদের যাতায়াত বেড়েছে। এদের বেশির ভাগ ঈদের শপিং করে ফিরছেন। সম্প্রতি চিকিৎসা নিয়ে ভারত থেকে ফিরেছেন সাংবাদিক শফিউদ্দীন বিটু। ফেরার সময় প্রিয়জনদের জন্য ঈদের পোশাক ক্রয় করতে যান কলকাতার মার্কেটে। সেখানকার নিউ মার্কেট, বড় বাজার, চাদনীচক মার্কেটে গিয়ে দেখেন বাংলাদেশী ক্রেতাদের ভিড়। মার্কেটগুলোর অধিকাংশ ক্রেতাই বাংলাদেশী। ক্রেতাদের চাপে হোটেলগুলোতে কোনো রুম পাওয়া যাচ্ছে না। পণ্য ব্যাগেজ রুল অতিক্রম করায় কাস্টমস ও পুলিশকে বকশিশ দিয়ে ম্যানেজ করছেন যাত্রীরা। ভারতীয় ভিসা পেতে ই-টোকেন পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া হয় ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে। ভারতে ভ্রমণ ভিসার আবেদন করতে ই-টোকেন পদ্ধতি উঠিয়ে নেয়ার পর ভারত যাওয়া খুব সহজ হয়ে যায়; যার বদৌলতে ক্রেতারা ভারতে গিয়ে ঈদ শপিং করছেন। রাজধানীর অভিজাত মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ দল বেঁধে মার্কেটে আসছেন কেনাকাটা করতে। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, বেচাকেনা সন্তোষজনক নয়। তাদের অভিযোগ, বড় ক্রেতারা এখন আর দেশের মার্কেটে আসছে না। যোগাযোগ ও ভিসাপদ্ধতি সহজ হওয়ায় অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতাও ঈদের কেনাকাটা করতে ছুটছেন কলকাতায়।বসুন্ধরা সিটির একজন দোকান মালিক বলেন, রমজানের অর্ধেক সময় চলে গেলেও ব্যবসা জমছে না, আর জমবে বলে মনেও হয় না। মানুষ এখন ইন্ডিয়ামুখী। আমাদের ক্রেতারা তাদের সব কেনাকাটা ইন্ডিয়া থেকে করে নিয়ে আসছে, যে দু-একটা আইটেম বাদ পড়ে গেছে সেটা আমাদের কাছ থেকে নিচ্ছে। ধানমন্ডি শাড়ি দোকান ‘শাড়ি প্লাজা’য় গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাশূন্য। মালিক কবির বলেন, অনেক বছর থেকে ব্যবসা করছি, এমন আর হয়নি। যাদের টাকা আছে সবাই শপিং করতে ইন্ডিয়া চলে যাচ্ছে। ১০ হাজার টাকার শাড়ি কিনতেও ইন্ডিয়া যাচ্ছে। ভিসা সহজে দেয়ায় ইন্ডিয়া যাওয়াও সহজ হয়ে গেছে। এত ভিসা দেয়ায় আমাদের বিশাল তি হয়ে গেছে। এই লস কাটিয়ে ওঠার কোনো রাস্তা দেখছি না। আরেক শাড়ি ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আমাগো মাথায় হাত। কর্মচারীদের বেতন দিমু কেমনে বুঝতে পারতাছি না। মোদি ভারত যাওয়া সহজ কইরা আমাগো ব্যবসায় লালবাত্তি জ্বালাইয়া দিছে। হুনছি কলকাতায় থাকার হোটেল নাই, তাও মানুষ যাইতাছে। আমাগো সব টাকা ভারত নিয়া যাইতাছে।’ একই দেখা যায় বসুন্ধরা সিটি, গাউছিয়া, গ্লোব শপিং সেন্টার, চাঁদনীচক, অরচার্ড পয়েন্ট, রাফা প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকাসহ রাজধানীর সব শপিং মলের। ধানমন্ডি রাফা প্লাজার ব্যবসায়ী শফিউদ্দিন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, এত দিন অল্পসংখ্যক ক্রেতা পোশাক নেড়েচেড়ে দেখলেও বেচাবিক্রি কম ছিল। তবে পনেরো রোজা থেকে বেচাকেনা বেশ ভালো। যদিও অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বিক্রি কম হবে বলেই মনে হচ্ছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। আবার যাদের হাতে টাকা আছে তারা দেশের মার্কেট পছন্দ করেন না। কেনাবাচার জন্য তারা ছুটে যাচ্ছেন ভারত বা থাইল্যান্ডে। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারী বেতনসহ সব খরচই বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাটসহ নানা কারণে আমাদের দেশে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকজন স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন না বলেও জানান শফিউদ্দিন। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার ভারতীয় পোশাকের প্রাধান্য বেশি। রয়েছে পাকিস্তানি পোশাকের অবস্থানও। আবার দেশী পোশাককে বিদেশী বলে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে দোকানিদের বিরুদ্ধে। দেশী বা বিদেশী, বিভিন্ন সিরিয়াল ও সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের নামে আসা পোশাকের বিক্রি বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। মার্কেটভেদে প্রতিটি স্টোন থ্রি পিস ৭ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা, স্টোন কেপ থ্রি পিস সাড়ে ১১ হাজার থেকে সাড়ে ১৭ হাজার টাকা, স্টোন ওয়ান পিস সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানি পার্ল থ্রি পিস ১০ হাজার থেকে শুরু করে ১৮ হাজার টাকা, কেপ সাড়ে ১১ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মান ও রঙের গাউন পাওয়া যাচ্ছে ৭ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার মধ্যে। সিঙ্গেল পিস কুর্তি ৫ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কটন কুর্তি, সামু সিল্ক, স্টিচ ও আনস্টিচ থ্রি পিসের বাহারি কালেকশনও রয়েছে। বড়দের পাঞ্জাবি সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, ছোটদের পাঞ্জাবি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে।

নির্বাচনের মাঠে সরব বিএনপি

‘সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন’- সম্প্রতি এক ইফতার মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ভোটের মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ঈদ সামনে রেখে তারা গণসংযোগে নেমেছেন জোরেশোরে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নেতাদের পরোক্ষভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে কাউকেই এখনো পর্যন্ত নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিগন্যাল দেয়া হয়নি। যার ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই যে যার মতো করে সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের বাধা উপেক্ষা করেই রমজানের শুরু থেকে চলছে ইফতার মাহফিল, দুস্থদের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ ও নির্যাতিতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রম। ঈদ সামনে রেখে এখন শুরু হয়েছে ঈদ উপহার বিতরণ। শুধু তাই নয়, আগামী নির্বাচনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য অথচ নিষ্ক্রিয় বা অসচেতন এমন সবাইকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্র থেকে জেলায় চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিএনপি রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নয়া দিগন্তকে কেন্দ্রের চিঠির কথা জানিয়ে বলেন, বিএনপি মহাসচিব জেলাপর্যায়ে দু’দিন আগে এমন চিঠি পাঠিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ ১৮ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক কেউই যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে। নির্বাচনী মাঠের কথা তুলে ধরে নাটোর সদর আসনের সাবেক এই এমপি বলেন, দলীয় ও সামাজিক নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা ভোটারদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। আশা করছি, এবার তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নিজেরাই ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসাবেন। জানা গেছে, দলীয় নয়, সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি।
এ চিন্তা থেকে বেগম খালেদা জিয়া ধানের শীষের পে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। আর এতে করে সারা দেশের নেতাকর্মী, সমর্থকরা আরো চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। এভাবেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন ও একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি যুগপৎভাবেই এগিয়ে নিতে চাইছে দলের হাইকমান্ড। দলটির একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। দেশের ভেতরেই কেবল নয়, ধানের শীষের পে খালেদা জিয়ার ভোট চাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিএনপি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। একই সাথে কোনো কারসাজির মাধ্যমে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে উঠবে। জানা গেছে, রোজার পরে খালেদা জিয়া চোখের ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাবেন। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের একটি রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন তিনি। এরপর ধানের শীষের পে ভোট চাইতে মাঠে নামবেন খালেদা জিয়া। বিভাগীয় শহরে হবে সভা-সমাবেশ। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এবার ৩০০ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। প্রায় প্রতিটি আসনেই পাঁচ থেকে ছয়জন নেতা দলের চূড়ান্ত টিকিট পেতে আগ্রহী। সেই আগ্রহ থেকেই অনেক নেতা মাঠে নেমেছেন। মনোনয়ন না পেলেও ভবিষ্যতের জন্য দলের নজর কাড়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ শুরু করেছেন তরুণ বহু নেতা। তবে কমপক্ষে ১০০ আসনে সাবেক এমপিদের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। বিএনপির সিনিয়র নেতা ও ঢাকা-৫ এর সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একইসাথে নিচ্ছি। ঈদ সামনে রেখে নির্বাচনী এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তবে দলের চেয়াপরপারসন যে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই দলের নেতাকর্মীরা কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম নয়া দিগন্তকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক সম্পৃক্ততামূলক কাজের পরিধি বেড়েছে। রমজান মাসজুড়েই এ কার্যক্রম চলছে। সার্বক্ষণিক মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। গত শনিবার তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম বলেন, নির্বাচনী গণসংযোগ চলছে। ভোটারেরা সুষ্ঠু ভোটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। নেতাকর্মীরাও সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য তরুণ নেতা হাসান মামুন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। দল যদি যোগ্য মনে করে এই আসনে আমাকে প্রার্থী করে তাহলে ইতিবাচক ফল এনে দিতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করব। ফরিদপুর-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ যুবদল নেতা মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু বলেন, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সর্বশেষ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। আওয়ামী লীগ ভোট জালিয়াতি না করলে তিনিই ওই নির্বাচনে বিজয়ী হতেন। তবে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে সারা বছরই তাদের পাশে আছি। ঈদকে ঘিরে জেলা সদরের ১১টি ইউনিয়নে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তাহলে তিনি এই আসনে নির্বাচন করতে চান। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতা রকিবুল করিম খান পাপ্পু বলেন, নির্বাচন হলে যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রত্যাশা থেকে আমরা গণসংযোগ শুরু করেছি। সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের কাছে যাচ্ছি। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছি।

মার্কিন জঙ্গিবিমানের গুলিতে সিরীয় ফাইটার ভূপাতিত

সিরিয়ার রাকা প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের গুলিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত হয়েছে। ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম কোনো সিরীয় সামরিক বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করল যুক্তরাষ্ট্র। রোববারের এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর জঙ্গি বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এরপর থেকে বিমানের পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। রোববার বিকালে রাকার রাসাফাহ গ্রামের কাছে ঘটনাটি ঘটে। খবর বিবিসির। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় জঙ্গিবিমানটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দামেস্ক। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এফ/এ-১৮ই সুপার হরনেট বিমানটি সিরিয়ার এসইউ-২২ ফাইটার বিমানটিকে মার্কিন সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) অবস্থানের কাছে বোমা ফেলার পর সিরীয় জঙ্গিবিমানটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনী। তারা জানায়, ‘নিজেদের এলাকার ভেতরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত একমাত্র কার্যকর বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ দুর্বল করতে ‘অসৎ’ এ হামলাটি চালান হয়েছে। এমন একসময় এটি ঘটানো হয়েছে যখন সিরীয় সেনাবাহিনী ও তার মিত্ররা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিষ্কার অগ্রগতি অর্জন করছে।’ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, সন্ত্রাসবিরোধী হামলায় রত বিমান ভূপাতিত করে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের প্রকৃত অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে দায়েশের সঙ্গে আমেরিকার গোপন আঁতাতের বিষয়টি ফুটে উঠেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাবকা শহরের কাছে এসডিএফের যোদ্ধাদের রক্ষা করতে ‘জোট অংশীদারদের সম্মিলিত আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে’ সিরীয় বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, এর আগে ‘সিরীয় জান্তার বাহিনীগুলো’ তাবকার দক্ষিণে এসডিএফ অধিকৃত একটি শহরে হামলা চালিয়ে বহু যোদ্ধাকে আহত করে তাদের ওই শহর থেকে হটিয়ে দিয়েছে। পরে জোট বাহিনীর বিমানগুলো শক্তি প্রদর্শন করে তাদের থামানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সিরীয় সেনাবাহিনীর একটি এসইউ-২২ জঙ্গিবিমান এসডিএফ বাহিনীর অবস্থানের কাছে বোমা ফেললে যুক্তরাষ্ট্রের এফ/এ-১৮ই সুপার হরনেট জঙ্গিবিমান তাৎক্ষণিকভাবে সিরীয় বিমানটিকে গুলি করে ফেলে দেয়।
সিরীয় বিমানটি ফেলে দেয়ার আগে ‘পরিস্থিতি যেন আরও নাজুক না হয়ে পড়ে তার জন্য’ রাশিয়ার বাহিনীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে নেয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সম্প্রতি উত্তর সিরিয়া ও দেশটির রাকা প্রদেশে আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহী বাহিনীগুলো আইএসের তথাকথিত রাজধানী রাকা শহর ঘিরে ফেলেছে এবং জঙ্গিদের হাত থেকে কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে সিরিয়ার সেনাবাহিনী আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পশ্চাৎপসারণরত আইএস জঙ্গিদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধার করছে। ওই সেনাবাহিনী এখন রাকা প্রদেশে প্রবেশ করে আইএসের কাছ থেকে বেশকিছু তেলক্ষেত্র ও গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে। যে এলাকাগুলো গত তিন বছর ধরে জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়া সরকার, রাশিয়া কিংবা সরকারপন্থী বাহিনীরগুলোর বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ করতে চায় না। তবে যে কোনো হুমকি থেকে জোটের শরিকদের রক্ষা করতে তারা পিছপা হবে না। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, সব দেশকেই সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। সিরিয়ার কোনো জঙ্গিবিমানকে মার্কিন বিমানের ভূপাতিত করার ঘটনা এটাই প্রথম হলেও দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে সিরীয় সরকারি বাহিনীর পক্ষের একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতে রাষ্ট্রপতি পদে বিজেপির প্রার্থী দলিত নেতা রামনাথ কোবিন্দ

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এ পদে সোমবার বিহারের বর্তমান রাজ্যপাল (গভর্নর) রামনাথ কোবিন্দের নাম ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে তার নাম চূড়ান্ত হয়। খবর এনডিটিভির। গত তিন বছর ধরে বিহারের রাজ্যপাল পদে রয়েছেন কোবিন্দ। বর্তমানে তার বয়স ৭১ বছর। অমিত শাহ জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ বিরোধী নেতাদের এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। রামনাথ কোবিন্দ কানপুর থেকে উঠে আসা বিজেপির দলিত নেতা। ১৯৯৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত কোবিন্দ বিজেপির তফসিলি মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় আইনজীবী। সুপ্রিমকোর্টে প্র্যাকটিস করতেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের শীর্ষ সহযোগী ছিলেন। বিজেপি আশা করছে, একজন দলিতকে প্রার্থী করার ফলে ভারতের নিন্মবর্ণের হিন্দু ও দরিদ্র ভোটারদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, কোবিন্দ হবেন একজন ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রপতি। অভিজ্ঞ এই আইনজীবীর সংবিধানের ওপর জানাশোনা থাকায় জাতি উপকৃত হবে। কোবিন্দের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো প্রার্থী দেবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে নির্বাচন হলও ক্ষমতাসীন দলের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। সোমবার সকালেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার অভিযোগ করেন, কেন্দ্র প্রার্থী ঘোষণা করতে খুব বেশি সময় নিচ্ছে। ২-৩ দিনের বেশি অপেক্ষা করা যাবে না বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরে চান, এই পদে প্রার্থী হোক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এমএস স্বামীনাথন কিংবা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বিরোধীদের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল রাজনাথ সিং, অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নাইডুকে। এর আগে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা এলকে আদভানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নাম শোনা গিয়েছিল। তবে শনিবার সুষমা জানান যে তিনি প্রার্থী হচ্ছে না। ১৭ জুলাই এ নির্বাচনকে সামনে রেখে একক প্রার্থী ঘোষণায় একজোট হয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। আগামী ২৮ জুন রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। আর ২০ জুলাই ভোট গণনা শেষে জানা যাবে কে হচ্ছেন ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি।

ঘাতককে গণপিটুনি থেকে বাঁচালেন মসজিদের ইমাম

লন্ডনের ফিন্সবুরি পার্কে মুসল্লিদের ওপর ভ্যান চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন ওই ভ্যানচালককে ক্ষিপ্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচিয়েছেন মসজিদের এক ইমাম। উত্তেজিত জনতার হাতে পড়লে গণপিটুনিতে হয়তো মৃত্যুই হতো তার। তখন আর পুলিশের পক্ষে ওই চালককে জীবিত উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হতো না। কিন্তু তা হতে দেননি ইমাম মোহাম্মদ মাহমুদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, পুলিশ পৌঁছার আগে ক্ষিপ্ত জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং তার শরীরের যেখানে খুশি সেখানে আঘাত করতে শুরু করে। উত্তপ্ত ওই পরিস্থিতির মধ্যে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে দেখা গেছে ওই ইমামকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পুলিশ না আসা পর্যন্ত গণপিটুনির হাত থেকে হামলাকারী ভ্যানচালককে সুরক্ষা দেন তিনি। পরে পুলিশ এসে ভ্যানচালককে গ্রেফতার করে। পুলিশের ধারণা, ওই চালক একাই হামলা চালিয়েছে।
হামজা নিমানি নামের এক মুসল্লি বলেন, ঘটনার পর রক্তমাখা রাস্তায় কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। এ সময় একজন লোককে প্রায় শতাধিক মানুষ ঘিরে ফেলে। এতে মসজিদের মধ্যে থাকা প্রায় ৩ শতাধিক মুসল্লি স্তম্ভিত হন এবং চিৎকার দিয়ে ওঠেন। আবদুল নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জনগণ ওই ভ্যানচালকের ওপর চড়াও হয়। তখন তিনি ‘আমাকে সাহায্য করুন’ বলে চিৎকার দিতে থাকে। সে পালানোর চেষ্টা করছিল কিন্তু আমরা তাকে ধরে রেখেছিলাম।’ আবদুল আরও বলেন, ‘আরেকটু হলে সে হয়তো মারা যেত, কারণ সবাই তাকে কিল-ঘুষি দিচ্ছিল। তখনই ইমাম এসে বলেন, তাকে আর মারবেন না। পুলিশ আসার আগ পর্যন্ত তাকে ধরে রাখুন।’ পরে পুলিশ এসে ওই ভ্যানচালককে আটক করলে সে হাসছিল এবং মুসলিমদের নিয়ে বিদ্রƒপাত্মক কথা বলছিল। ইতিমধ্যে লন্ডনের মুসলিম ওয়েলফেয়ার হাউস থেকে ইমাম মাহমুদকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। মুসলিম ওয়েলফেয়ারের প্রধান নির্বাহী তৌফিক কাসিমী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মোহাম্মদ মাহমুদের সাহস ও নির্ভীকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে, আরও বেশি প্রাণহানি ও রক্তাক্ততা ঠেকানো গেছে।’

ভার্জিনিয়ায় মসজিদ থেকে ফেরার পথে মুসলিম কিশোরী খুন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক মুসলিম কিশোরী খুন হয়েছেন। রোববার তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একদিন নিখোঁজ থাকার পর মসজিদের বাইরে থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীর নাম নাবরা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। খবর বিবিসির। পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে নাবরা তার চার বন্ধুর সঙ্গে হার্নডন এলাকার রাস্তায় হাঁটছিল। তারা নামাজের পর রমজানের রোজা পালনের জন্য একটি রেস্টুরেন্টে শেষ রাতের খাবার খেতে যাচ্ছিল। এসময় এক গাড়ি চালকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে লোকটি গাড়ি থেকে উঠে নাবলাকে খুন করে পালিয়ে যায়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রায় রাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নাবলার ওপর হামলা হলে তার চার বন্ধু দৌড়ে পাশের একটি মসজিদে পালিয়ে যায়। কিন্তু নাবলা সেখানে পড়ে থাকে এবং তারপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। খোঁজখবর শুরু হলে ওই এলাকা থেকে দারউইন মার্টিনেজ তরেস নামের এক ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। তরেসকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে একটি পুকুরে নাবলার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডটি বিদ্বেষমূলক কিনা এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে গোপনে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি ব্রিটেনের

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের কাছে গোপনে গণনজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি করেছে ব্রিটেন। দেশটির বৃহত্তম অস্ত্র কোম্পানি বিএই মধ্যপ্রাচ্যে ছয়টি স্বৈরতান্ত্রিক দেশের কাছে দেশগুলোর জনগণের উপর নজরদারির জন্য প্রচুর নজরদারি যন্ত্রপাতি বিক্রি করেছে। নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো জন্য এই দেশগুলোর সরকারের সমালোচনা করে আসছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। বিবিসির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নজরদারির এ সূক্ষ্ম প্রযুক্তি বিশালসংখ্যক জনগণের ই-মেইল ও মোবাইল ফোনের ওপর নজরদারি ও গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। বিবিসির সংগৃহীত দলিলপত্র মতে, সম্প্রতি এ প্রযুক্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, আলজেরিয়া এবং মরক্কোর কাছে বিক্রি করেছে বিএই। এ প্রযুক্তির সহায়তায় একসঙ্গে অনেক মানুষের ই-মেইল এবং মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে আড়িপাতা সম্ভব। সংকেত ব্যবস্থার মাধ্যমে যেসব বার্তা আদান-প্রদান করা হয় তাও ভেঙে ফেলতে পারে এ প্রযুক্তি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, ভিন্নমতালম্বীদের মুখ বন্ধ করতে বা তাদের কারাগারে পাঠাতে এ প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেন এবং তার মিত্রদের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে এ প্রযুক্তি। এমনকি তাদের নিরাপত্তাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বুধবার প্রকাশিত বিবিসির অনুসন্ধানমূলক ওই প্রতিবেদন মতে, বিতর্কিত এ নজরদারি প্রযুক্তির বিক্রি সম্পন্ন হয় ডেনমার্কের একটি কোম্পানির মাধ্যমে। ব্রিটেনের কোম্পানি বিএই ২০১১ সালে ডেনমার্কের কোম্পানি কিনে নেয়। বর্তমানে বিএই সিস্টেম অ্যাপ্লাইড ইন্টেলিজন্স নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি এমন উন্নতমানের নজরদারি যন্ত্র প্রস্তুত করে, যা লাখ লাখ মানুষের ইলেক্ট্রনিক যোগাযোগ যেমন কম্পিউটার ও মোবাইল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। আর এ ধরনের সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতিই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের জনগণের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির এক সময়ের একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে নজরদারি প্রযুক্তির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোনো যোগাযোগব্যবস্থা হ্যাক করতে পারবেন।’ ওই ব্যক্তি দাবি করেন, এই প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোনের তথ্যউপাত্তের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো লোকের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা যায়। বিবিসির মতে, যেকোনো ধরনের দুর্ভেদ্য যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে ফেলতে সক্ষম এই প্রযুক্তি। গত দুই বছর ধরে ইয়েমেন আগ্রাসনে জড়িত সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করে ব্রিটেন যখন চাপের মুখে তখন এ খবর প্রকাশিত হল। এমন খবর খোদ ব্রিটিশ সরকারকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ২০১৫ সালে এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, এই প্রযুক্তির রফতানির ব্যাপারে যদি সরকারের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গেই নাকচ করা হবে। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্রিটেন ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর পিস্তলের গুলিতে হাজারো শিশুর মৃত্যু

স্বল্পোন্নত অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় আমেরিকাতে বুলেটের আঘাতে শিশুমৃত্যু উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি সরকারি এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রতিবছর দেশটিতে এক হাজার তিনশ'র বেশি শিশু বন্দুকের গুলিতে মৃত্যুবরণ করে। দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর পাঁচ হাজার আটশ' শিশু বন্দুকের গুলিতে গুরুতর আহত হয়। তবে এর মধ্যে মাত্র ছয় শতাংশ দুর্ঘটনাবশত। বাকিগুলো হত্যাকাণ্ড কিংবা আত্মহত্যার মতো ঘটনা। গবেষক ক্যাথরিন ফোলার বলেন, প্রতিদিন ১৯জন শিশু আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে মারা যাচ্ছে নয়তো গুরুতর আহত হচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর দেশটির ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এই মৃত্যুহার বেশি।

কোবিন্দকে নিয়ে খুশি নন মমতা!

বিজেপি রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করতেই সম্পূর্ণ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ভারতের গোটা বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম সবাই বিহারের রাজ্যপাল রামনাথ কোবিন্দের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। রামনাথ কোবিন্দকে নিয়ে মোটেই খুশি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আরও অনেক বড় বড় দলিত নেতা আছেন, কোবিন্দকে চিনতামই না।’ মমতা বলেন, নাম ঘোষণার পর জানলাম, তিনি বিহারের রাজ্যপাল। দেশে আরও অনেক বড় বড় দলিত নেতা রয়েছেন। কোবিন্দ বিজেপির দলিত নেতা ছিলেন বলেই রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মেনে নিতে হবে, এটা হয় না।’ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) করে আসা কোনো রাজনীতিক দেশের রাষ্ট্রপতি পদের যোগ্য নন বলে মত দিয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। বিরোধী দলগুলো ২২ জুন বৈঠকে বসছে। সেখানে তারা প্রার্থিতার বিষয়ে আলোচনা করবে। দুটি কারণে কোবিন্দকে নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের। এর একটি তার আরএসএস ঘনিষ্ঠতা ও বিরোধীদের আগে থেকে না জানিয়ে তার নাম ঘোষণা দেয়া। বিজেপির পক্ষে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং নগর উন্নয়নমন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছিলেন। কিন্তু কাকে বিজেপি প্রার্থী করতে চায়, সে বিষয়ে বিরোধীদের কোনো ইঙ্গিত দেননি। সোমবার বিজেপি সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে রামনাথ কোবিন্দের নাম ঘোষণার পরেই তা বিরোধীদের জানানো হয়। এ পদ্ধতিকে বিরোধী দলগুলো অনুমোদন করছে না। লোকসভার সাবেক স্পিকার তথা কংগ্রেসের দলিত নেত্রী মীরা কুমারকে বিরোধী দলগুলো প্রার্থী করতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেন, বিজেপি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে বিরোধী দলগুলোকে তা জানিয়েছে। সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী বেছে নেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হয়নি। কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ অধিকাংশ বিরোধী দল কোবিন্দের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের জন্য ২২ জুনের বৈঠকের আগে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাইছে না কোনো দলই। এদিকে ইউরোপ সফরে যাওয়ার পথে দুবাই বিমানবন্দরে মমতা বলেন, ‘কোবিন্দকে চিনতামই না। নাম ঘোষণার পর জানলাম, তিনি বিহারের রাজ্যপাল। দেশে আরও অনেক বড় বড় দলিত নেতা রয়েছেন। কোবিন্দ বিজেপির দলিত নেতা ছিলেন বলেই রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মেনে নিতে হবে, এটা হয় না।’ ইয়েচুরি বলেন, ‘কোবিন্দ একজন আরএসএস নেতা অর্থাৎ তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শনের মানুষ। তাই এটা আমাদের কাছে একটা রাজনৈতিক লড়াই।’

উত্তর কোরিয়ায় বন্দি থেকে ফেরা মার্কিন ছাত্রের মৃত্যু

উত্তর কোরিয়ায় বন্দি থেকে ফেরা মার্কিন ছাত্র অটো ওয়ার্মবিয়ের মারা গেছেন। দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলো। উত্তর কোরিয়াতে ১৫ মাস কারাগারে ছিলেন ওয়ার্মবিয়ের। এর মধ্যে এক বছরই তিনি কোমায় ছিলেন। গত মঙ্গলবার সেই অবস্থাতেই তাকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হয়। এরপর সিনসিনাটির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে মারা গেলেন অটো ওয়ার্মবিয়ের। খবর বিবিসি। অটো ওয়ার্মবিয়ের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে উত্তর কোরিয়াতে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মারা গেছেন।
অটো ওয়ার্মবিয়ের বয়স ছিলো ২২ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াতে গিয়েছিলেন অবকাশ যাপনে। সেখানে হোটেলের একটি সাইনবোর্ড চুরি করার অপরাধে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিলো। সেসময়ই বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। কিন্তু গত এক বছর ধরে অটো ওয়ার্মবিয়ের কোমায় থাকার বিষয়টি তার পরিবারের কাছেও গোপন রাখা হয়েছিলো। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বচিউলিজম নামের এক অসুখে তার এই অবস্থা হয়েছে। কিন্তু এই অসুখ কিভাবে হলো তার কোন ব্যাখ্যা নেই। তবে দেশে ফেরার পর চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তাকে পরীক্ষার পর মস্তিষ্কে আঘাতের কথা উল্লেখ করেন। এদিকে এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে একটি নিষ্ঠুর রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেছেন।

সিরিয়ার ধ্বংসস্তুপে নিমজ্জিত বাসিন্দাদের একসঙ্গে ইফতার

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের অদূরেই অবস্থিত দৌমা এলাকা। চলমান যুদ্ধে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এ এলাকার বেশিরভাগই এখন ধ্বংসস্তুপে নিমজ্জিত। কিন্তু এরই মধ্যে সেখানকার বাসিন্দারা একসঙ্গে ইফতার করার ব্যবস্থা করেছেন। খবর বিবিসি। খবরে বলা হয়, সিরিয়ার অবরুদ্ধ শহর দৌমার বাসিন্দারা একসঙ্গে ইফতার করছেন এমন কিছু ছবি অনলাইনে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে। বিবিসি ট্রেন্ডিং তার চিত্র তুলে এনেছে। সিরিয়ান আদালেহ ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ইফতারের এ ব্যবস্থা করেছেন। রমজানের শেষ দশ দিন প্রতিষ্ঠানটি দৌমার বাসিন্দাদের খাবার সরবরাহ করবে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রতি পূর্বাঞ্চলীয় ঘৌটা এলাকায় সহায়তা দেবার লক্ষ্যে সিরিয়ান আদালেহ ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। সিরিয়ায় চলমান অবরোধ-সংঘর্ষের জেরে সেখানে খাদ্যের দাম অনেক চড়া। ইফতারির জন্য যে খাবার দৌমায় সরবরাহ দেয়া হয় সেটি তৈরি করা হয় পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা ঘৌটায়। প্রায় চার বছর ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে দৌমা এলাকা। ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর গত মাসে প্রথমবারের মতো একটি সাহায্য সংস্থা দৌমায় প্রবেশ করতে পারে।
বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে জায়েশ-আল-ইসলাম, আর গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকাকে লক্ষ্য করে সিরিয়া সরকারি বাহিনী অনবরত বিমান ও বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। সিরিয়ান আদালেহ ফাউন্ডেশনের কল্যানে শহরের প্রায় একশোর মতো বাসিন্দা একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করছেন। এদের মধ্যে একজন বলছেন "বিমান হামলার ভয়ে আমরা মসজিদে লুকিয়ে ইফতার করেছি অনেক সময়"। "বিমান হামলার ভয়ে আমরা সাধারণত এ ধরনের আয়োজন করি না। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তির সুবিধা আমরা নিচ্ছি" -মানবাধিকার সংস্থার একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে এমনটাই বলছিলেন। এদিকে দৌমায় ধ্বংসস্তুপে একসঙ্গে শহরবাসীর ইফতার করার ছবিগুলো অনলাইনে হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি ভাইরাল হয়েছে। সিরিয়ার একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট টুইটারে ছবিগুলো পোস্ট করে লিখেছেন "দৌমায় মৃত্যুর পরিবর্তে আজ জীবনের ছোঁয়া'। আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী এই খাবারকে বর্ণনা করছে 'ইফতার অব হিরোজ' বলে। "অনেক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে এই মানুষগুলো মানুষের জন্য কাজ করছে এবং অন্যদের জন্যও উদাহরণ তৈরি করছে"-লিখেছেন আরেকজন। ছবিগুলো অনলাইনে প্রকাশের পর হাজার হাজার মানুষ এটি শেয়ার করছে ও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। ছবিগুলো শেয়ার করে রোজাদারদের সুস্বাস্থ্যও কামনা করেছেন সিরিয়ার নামকরা কজন সাংবাদিকও। অনেক ব্যবহারকারী এটাও বলেছেন যে ছবিগুলোতে যে শিশুদের দেখা যাচ্ছে তারা সবাই যুদ্ধে পরিবার-পরিজন হারানো এতিম।

গরু রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা ভারতের

ভারতের একজন মন্ত্রী বলেছেন, দেশটিতে বাঘ রক্ষায় যে ধরনের স্কিম রয়েছে, গরু রক্ষার জন্য ঠিক একই ধরনের জাতীয় স্কিমের পরিকল্পনা করছে সরকার। মুম্বাইয়ে জাতীয় গরু সম্মেলনে এক ভাষণে বিজেপি সরকারের এক মন্ত্রী হংসরাজ আহির একথা বলেন। গরুর জন্য বিশেষ অভয়ারণ্য বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রায় চল্লিশ বছর আগে 'প্রজেক্ট টাইগার' নামে এক প্রকল্প চালু করেছিল দেশটির সরকার। বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাঘের প্রজাতিকে সুরক্ষা দেয়াই ছিল ওই প্রকল্পের লক্ষ্য। কেন্দ্রীয়ভাবে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হয়। বাঘের বাসস্থান সংরক্ষণ ও অবৈধ শিকার রোধে অর্থ প্রদান করে দিল্লি সরকার। আর এখন হংসরাজ আহিরের বক্তব্য অনুযায়ী, একই ধরনের বিষয় অনুসরণ করা হবে গরুর ক্ষেত্রে। হংসরাজ বলেছেন, 'প্রজেক্ট কাউ' নামের ওই প্রকল্পে গরুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করা হবে। যদিও এখানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। বাঘ বিপন্ন প্রজাতি কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। ভারতে বাঘ হত্যা করা ও এর দেহের কোনো অংশ নিয়ে বাণিজ্য করা অবৈধ।
কিন্তু ভারতের অনেক রাজ্যে এখনো গরু জবাই ও গরুর মাংস খাওয়ার বিষয়টি বৈধ। আর এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইস্যুটিও অনেক স্পর্শকাতর। হিন্দুরা গরুকে অতি পবিত্র মনে করে এবং গরু রক্ষা করা হিন্দুদের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। গরুতে নিষেধাজ্ঞা চায় না উত্তর-পূর্বের বিজেপি নেতারাই গরু নিয়ে বিজেপির কেন আগ্রাসী মনোভাব? ২০১৪ সালে ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর গরু জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে গো-রক্ষায় বিভিন্ন নিয়মকানুন বেঁধে দেয়া হয়েছে। গরু জবাইকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ভারতের গুজরাট রাজ্যে নতুন একটি আইনও পাস হয়। অনেক রাজ্যে গরু কেনা-বেচা বন্ধে সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হন, বিক্ষোভও করেন। এমনকি গরু জবাইকে কেন্দ্র বেশ কিছু মুসলিমকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত বলে অভিযোগও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে গরু নিয়ে এমন ধরনের ঘটনা স্বাধীন ভারতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। গো-রক্ষার নামে যদি বিজেপি সরকার পশু বিক্রি বা পরিবহনের নিষেধাজ্ঞা বাড়াতেই থাকে তাহলে দেশের হাজার হাজার মানুষ যারা গরুর বাজার, পশু পরিবহন, কসাইখানা বা মাংসের দোকানের সঙ্গে যুক্ত -তাদেরও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বন্ধ হয়ে যাবে দৈনন্দিন আয়ের উৎস।
সূত্র- বিবিসি বাংলা।

কেন কাতারের পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক

‘দুধের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ!’ কয়েকদিন আগে টুইটারে এমন একটি মন্তব্য করেন কাতারের এক নাগরিক। এ মন্তব্যের সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। ওই ছবিতে দেখা যায়, কাতারের সুপার মার্কেটগুলোতে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে তুর্কি ব্র্যান্ডের দুধের বোতল। গত সপ্তাহে তুরস্ক থেকে কাতারে দুধ, ডিম, দই, মুরগির মাংস ও জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিমানে করে পাঠানো হয়। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপের ফলে দেশটিতে যেন খাদ্য সংকট তৈরি না হয় সেই প্রচেষ্টাতেই দুগ্ধজাত পণ্যসামগ্রী পাঠাচ্ছে তুরস্ক। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, কাতারকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা অমানবিক এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিরোধী। এটা কাতারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার শামিল। কাতারকে অবরোধ থেকে বাঁচাতে খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়াও সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এরদোগান প্রশাসন। কিন্তু কাতারকে রক্ষায় কেন এত আগ্রহ তুরস্কের? প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসরসহ আটটি দেশ ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়ার’ অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্কের প্রতিক্রিয়া ছিল, কোনো পক্ষ না নেয়া এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপের মধ্যস্থতা করা। এর দু’দিনের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে কাতারের পক্ষ নেয় আঙ্কারা। অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এরদোগান বলেন, তুরস্ক যেভাবে আইএসের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, কাতারের অবস্থানও তাই। কাজেই মানুষকে বোকা বানানো বন্ধ করা উচিত। তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের একদিন পর কাতারে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। সেখানে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। সাম্প্রতিক সময়ে কাতারের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ২০১৫ সালে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। এ ছাড়া কাতারে সামরিক ঘাঁটিও তৈরি করেছে তুরস্ক। সেখানে বর্তমানে কয়েকশ’ তুর্কি সেনা মোতায়েন থাকলেও এটি পাঁচ হাজারে উন্নীত করা হবে।
কাতার সংকট সৃষ্টির কয়েকদিনের মধ্যেই দেশটিতে আরও সেনা মোতায়েনের একটি বিল পার্লামেন্টে অনুমোদন করে আঙ্কারা প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরব বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দোহাকে অন্যতম মিত্র হিসেবে গ্রহণে আঙ্কারার অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ রয়েছে। গত বছর এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনা অভ্যুত্থানের ব্যর্থ চেষ্টার সময় প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সংহতি প্রকাশ করেন কাতারের আমীর। অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের বিশেষ বাহিনীর ১৫০ সদস্যের একটি ইউনিট তুরস্ক পাঠানো হয়েছিল বলেও খবর পাওয়া যায়। দুই দেশের সরকারের মধ্যে আদর্শিক ঐক্যও রয়েছে। মিসরভিত্তিক ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুড ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে মনে করে না দেশ দু’টি। মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাতে ২০১৩ সালের সেনা অভ্যুত্থানকে নিন্দা জানিয়েছিল দুই দেশ। আবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো ইসলামপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে কাতার ও তুরস্ক। ইরানের প্রতিও দেশ দু’টির দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। দুই পক্ষই স্বীকার করে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তি হল ইরান। আর ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অব্যাহত বিষোদ্গারের রাজনীতি থেকে সরে এসে উভয় পক্ষই সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে, চলতি সংকটে কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে ইরানও। তুরস্কের মতোই ইরানও কাতারে খাদ্য সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। পাশাপাশি কাতারে বিপুল বিনিয়োগও করেছে তুরস্ক।

ফতুল্লায় গণহিস্টিরিয়ায় শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি পোষাক কারখানায় গণহিস্টিরিয়া রোগে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার এন্টি এ্যাপারেল নামে পোশাক কারখানার অসুস্থ শ্রমিকদের নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ ও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট দুইটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শ্রমিকরা জানান, ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় অবস্থিত এন্টি এ্যাপারেলসে প্রায় ৬শ শ্রমিক কাজ করেন। এরমধ্যে সোমবার ইফতারের পর থেকেই শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে এর সংখ্যা বেড়ে গেলে গার্মেন্টে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এতে মালিক পক্ষ গার্মেন্টটি বন্ধ ঘোষণা করেছেন। নারায়ণগঞ্জ ১০০শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেলে অফিসার ডা. আসাদুজ্জামান জানান, এটা বড় ধরনের সমস্যা নয়। ডাক্তারি ভাষায় একে বলা হয় মাস সাইকোসিস অথবা গণহিস্টিরিয়া। যে কোনো কারণে বা আতংক থেকে সাইকোসিস সৃষ্টি হয়। একজনের এমন সমস্যা দেখা দিলে তার দেখাদেখি অন্যদেরও হয়ে থাকে। আমাদের মেডিকেলে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি।

বিএসএফের হাতে আটক ২ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর

নওগাঁর পোরশা সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি দুই গরু ব্যবসায়ীকে গরুসহ স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পোরশা উপজেলার দুয়ারপাল সীমান্তের ২৩২ নম্বর মেইন পিলার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠেয় এক পতাকা বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়। আটককৃতরা হলেন- উপজেলার দুয়ারপাল গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মানিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত কেতাব আলীর ছেলে মাইনুল ইসলাম। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী ৭/৮ জনের একটি দল ভারতের অভ্যন্তরে গরু নিতে যান। গরু নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে সোমবার ভোর ৪টায় দুয়ারপাল সীমান্তের দিকে আসতে শুরু করেন। সীমান্তে প্রায় এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে ভারতের মালদহ জেলার ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা মনিরুল ইসলাম ও মাইনুল ইসলামকে ৪টি গরুসহ আটক করে। এ সময় তাদের সঙ্গে অন্য গরু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যান। ১৪ বিজিবি (পত্নীতলা) ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী রেজা জানান, সোমবার সন্ধ্যা রাতে সংবাদ পেয়ে বিএসএফের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের চিঠি পাঠানো হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাদের বলা হয়েছে, আটককৃত বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীদের স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের শেষে তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

রিজার্ভ চুরির ৬৬ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যায়নি: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৬৬.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এমপি মো. আবদুল্লাহ’র এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। মঙ্গলবার সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে শ্রীলংকায় পাঠানো ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক (এফআরবি, এনওয়াই) যু্ক্তরাষ্ট্রে ফেরত দেয়। তিনি বলেন, ফিলিপাইনে পাঠানো বাকি ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪.৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া রিজার্ভের ৬৬.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়া যায়নি। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হযেছে এবং অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে ফিলিপাইনের আইনি উদ্যোগ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিপাইনে পাঠানো টাকার অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, অর্থমন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ সকল সংস্থা একযোগে কাজ করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, বাকি অর্থ উদ্ধারে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা করছে।

তমালতলায় প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা

নাটোরের সবচেয়ে বড় আমের আড়ত বাগাতিপাড়ার তমালতলা বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে তা কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্রায় তিনশ’ শ্রমিকের দু’মাসের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এ বাজারে। সম্প্রতি আড়ত ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আমের জন্য বেশ বিখ্যাত। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৬০ ভাগ আম এ উপজেলায় উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আম ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা,
সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়। আড়তদাররা জানান, চলতি মৌসুমে কয়েক দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন একেবারে কম হয়নি। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়সীমা পার হওয়ায় কয়েকটি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গোপালভোগ, লক্ষণ ভোগ, ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, নাক ফজলি, তোতাপুরি ও আঁটি জাতের আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। উষা ফল ভাণ্ডারের আড়তদার উজ্জ্বল জানান, তমালতলা বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। এ বাজারে মোট ৩০টি আড়ত রয়েছে। প্রতিটি আড়তে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকার বেশি আম বেচাকেনা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে তমালতলা বাজারে প্রায় প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।

রক্তনালীর চর্বি কমিয়ে হৃদরোগ সারাবে টিকা!

রক্তে কোলেস্টেরলের (চর্বি) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন আর গাদা গাদা ওষুধ সেবন করতে হবে না। এর জন্য একটি টিকাই যথেষ্ট বলে মনে করেন গবেষকরা। রক্তনালীতে চর্বি জমে বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয় মানুষের রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি হলে সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। আর সেই ঝুঁকি কমতেই এই টিকা আবিষ্কার করা হয়। টিকাটি ইতিমধ্যে ইঁদুরের ওপর সফল প্রয়োগ হয়েছে। এখন মানুষের ওপর এর গবেষণা চালানো হচ্ছে। আগামী ছয় বছরের মধ্যে এ টিকা বাজারে আসার কথা রয়েছে বলে জানান গবেষকরা। খবর বিবিসির। অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন যেটি রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে। এজন্য ৭২ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর এ টিকা প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে এটি সত্যিই কাজ করছে কি না। এটি সফল হলে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ওষধ সেবন করতে হবে না। টিকা দিলেই কোলেস্টরেল কমে আসবে এবং সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে। তবে মানবদেহের জন্য এ টিকা কতটা নিরাপদ এবং কার্যকরী হবে সে বিষয়টি দেখতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ছয় বছরের মধ্যে এ টিকা হয়তো বাজারে আসতে পারে। কিন্তু গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি বাজারে আসলেও ব্যায়াম পরিহার করা এবং অধিকমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। এ টিকা নিলেও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপন করতে হবে। এ টিকা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল তৈরি হওয়া ঠেকাবে। গবেষকদের ধারণা, প্রতি বছর একবার এ টিকা নেবার প্রয়োজন হতে পারে। ইঁদুরের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, এটি একবার প্রয়োগ করার ফলে বারো মাসে খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমেছে। কোলেস্টরেল হচ্ছে চর্বির একটি উপাদান। মানবদেহের শরীরের জন্য এটি প্রয়োজন। কিন্তু এলডিএল কোলেস্টরেল বেশি থাকলে সেটি হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। কোরেস্টরেল কমানোর জন্য বাজারে ওষধ থাকলে অনেকে সেটি নিয়ম করে সেবন করতে পারেন না। তাছাড়া সবার ক্ষেত্রে সে ঔষধ সমানভাবে কাজ করে না। সেজন্য গবেষকরা আরেকটি বিকল্প পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন। এ ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারের চেষ্টায় নেমেছিলেন তারা। কিন্তু এ টিকার একটি নেতিবাচক দিক থাকতে পারে। এর ফলে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

ঘরমুখী যাত্রীদের সহায়তা করুন: ওবায়দুল

ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলে সহায়তায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা সড়কে থেকে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সহায়তা করবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তারগাছ এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে তিনি এ নির্দেশ দেন।
সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ঢাকা-র্টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেনের কাজ বন্ধ থাকবে। ঈদের পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত এই সড়কে আর কোনো কাজ হবে না। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। কয়েকটি সড়ক হালকা যানবাহন চলাচেলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যানজট নিরসনে জনগণের পাশের দাঁড়নোর জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা দুর্যোগ ও যানজট নিরসনে মানুষের পাশে থাকবে। এসময় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলাম, সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী টি এন নাহীন রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২৭ জুন পর্যন্ত থাকতে পারে বৃষ্টির বিড়ম্বনা

আঁধার-কালো মেঘে ঢাকা আকাশ। তার থেকে ঝরছে ঝরঝর বৃষ্টি। হালকা থেকে ভারি। কখনোবা এক নাগাড়ে। সঙ্গে গুড়–ম গুড়–ম শব্দে পড়ছে বাজ। আষাঢ়ের প্রথম পাঁচ দিন ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশের মানুষের এভাবেই কেটেছে। টানা বৃষ্টির কারণে শহরে রাজপথে জলজট। গ্রামের মেঠোপথের সঙ্গে দিগন্তজোড়া ফসলের ক্ষেত ডুবে একাকার। দীর্ঘ খরতাপের পর অবশ্য নতুন পানির ছোঁয়ায় প্রকৃতি পেয়েছে নতুন জীবন। গ্রামে গেলে এখন দিনেও শোনা যায় কোলা ব্যাঙের গান। আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি) বলছে, বঙ্গোপসাগর নিস্তরঙ্গ নয়। তবে কোনো লঘু বা নিন্মচাপ নেই। কেবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই এমন বৃষ্টিপাত। তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস অনুযায়ী আরও দু’দিন থাকবে এই পরিস্থিতি। যদিও মার্কিন স্যাটেলাইট টেলিভিশন দ্য ওয়েদার চ্যানেলের ওয়েবসাইট বলছে, এই অবস্থা ২৭ জুন পর্যন্ত থাকতে পারে। বাংলাদেশে ২৬ বা ২৭ জুন ঈদুল ফিতরের উৎসব হতে পারে। সোমবার সকাল থেকেই ঢাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকাল ৫টার দিকে এ রিপোর্ট লেখাকালে বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। সকালে বড় ফোঁটায় এমনই বৃষ্টি হয়েছিল যে, দু’ঘণ্টায় রাজধানীর অনেক প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে মহল্লার গলি পানিতে ডুবে যায়। দুপুর ১২টার মধ্যে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, বকশিবাজার, লালবাগ, সায়েদাবাদ, মিরহাজিরবাগ, সূত্রাপুর, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, বনশ্রী, রামপুরা, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা, কালশী, উত্তরা, বনানী ও গুলশানের রাস্তায় পানি জমে। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় বৃষ্টি মানুষকে ব্যাপক ভুগিয়েছে। বিএমডির কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে নিকলিতে। সেখানে ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে ১২টার পর ৩ ঘণ্টায় ফেনীতে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। প্রায় সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে দেশের নদ-নদীগুলোয় পানির সমতল বেড়েছে। সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, খোয়াই এবং সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এগুলোর মধ্যে সুরমা কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। সারিগোয়াইন সারিঘাট এলাকায় বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপরে ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে খোয়াই নদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ সেন্টিমিটারের বেশি পানি বেড়েছে। সাঙ্গু চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারি পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে চলে গেছে। বিএমডি বলছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে প্রায় সারা দেশেই অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

আরাফাত সানির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৮ জুলাই

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ক্রিকেটার আরাফাত সানি এবং তার মা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৮ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়ারুল ইসলাম এ দিন ধার্য করেন। আজ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য দিন ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করে সময় আবেদন করায় আদালত এ দিন ধার্য করেন। আরাফাত সানির আইনজীবী এম জুয়েল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বরে ক্রিকেটার আরাফাত সানির সঙ্গে ৫ লাখ এক টাকা দেনমোহরে নাসরিন সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ের ছয় মাস পর ক্রিকেটার আরাফাত সানি নাসরিনের কাছে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকার জন্য সানি তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গালিগালাজ করে ভাড়া বাসায় রেখে যান।
পরবর্তীতে নাসরিন সানির সঙ্গে দেখা করলে সানি তাকে বলেন, যৌতুকের টাকা না দিলে আমার মা তোমার সঙ্গে সংসার করতে দেবেন না এবং এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমার পরিণতি খারাপ হবে। কারণ, তোমার কিছু অশ্লীল ছবি আমার মোবাইলে রয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, এরপর তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সানির মা বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, তোর সঙ্গে আমার ছেলে সংসার করবে না, তাই সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যবস্থা কর। তখন বাদী তার বাসায় চলে যান। এ ঘটনায় ঢাকার ৪নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে ক্রিকেটার আরাফাত সানি ও মা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেন সানির স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা। এর আগে ভিন্ন ধারায় আরও দুটি মামলা করেন নার্গিস। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নেয়ার জন্য মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেন এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর থানা মামলাটি এজাহার হিসাবে রেকর্ড করেন।

ঈদের ছুটির প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন হয়নি যে কারণে

সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ঈদের ছুটি দ্বিগুণ করা সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়নি। আগামী ২৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাসসহ অর্থবছরের শেষদিনের কথা বিবেচনা করে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলেও তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এ বিষয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেট পাস ও অর্থবছরের শেষদিনের কার্যক্রমের বিষয় উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করলে প্রস্তাবটি হিমাগারে চলে যায়। উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ বা ২৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

মাতাল হয়ে বান্ধবীর সঙ্গে ফুর্তি করতে গিয়ে দুর্ঘটনা

মাতাল অবস্থায় প্রাইভেট কারের মধ্যে বান্ধবীকে নিয়ে ফুর্তি করতে গিয়েই কারওয়ান বাজারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এক নিরাপত্তা প্রহরী ঘটনাস্থলে নিহত ও তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে এক কলেজছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার রাতে দুর্ঘটনার পর ধরা পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজমুল হাসান। তার বান্ধবী ও এক বন্ধু পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মাতাল নাজমুল হাসানকে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িসহ আটক করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, গাড়িচালক নাজমুল হাসানের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে পুলিশ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা করেছে। দুর্ঘটনার ৫ দিনেও কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি নিহত ও আহতের পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির মালিক নাজমুল হাসানের বাবা বাদশা মিয়া। নাজমুল হাসান রাজধানীর ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র। তাদের বাসা রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়। বাসা নং ১৩। তার বাবা ইতালিতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী, নিরাপত্তা প্রহরী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দ্রুত গতিসম্পন্ন একটি প্রাইভেট কার কারওয়ান বাজার হোটেল সুপার স্টারের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতের ওপর উঠে যায়। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ফোর্স সিকিউরিটি এজেন্সির নিরাপত্তা প্রহরী ইসমাইল হোসেন গাড়িচাপায় নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। তাদের মধ্যে কলেজছাত্র ফাহিমুর রহমান বাবুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকি দু’জনের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফোর্স সিকিউরিটি এজেন্সির আরেক নিরাপত্তা প্রহরী মোতালেব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ দ্রুতগতির একটি গাড়ি এসে চারজনকে চাপা দেয়। এ সময় আমি ছুটে গেলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু গাড়ি ঘোরানোর সময় ফুটপাতের দোকানে ধাক্কা খেয়ে আছড়ে পড়ে। তখন এক মেয়ে এবং এক ছেলে গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তবে গাড়ির চালকের সিটে বসা একজনকে ধরে ফেলি। এ সময় আমরা তাকে আবোল-তাবোল করতে দেখি। ফোর্স সিকিউরিটি এজেন্সির মালিক সুজন সাহা যুগান্তরকে বলেন, তখন নাজমুল হাসানকে মাদকাসক্ত মনে হয়েছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। নিহত নিরাপত্তা প্রহরী ইসমাইল হোসেনের ছেলে এরশাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, তারা দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে চায়। কিন্তু আমরা তাতে সম্মত হইনি। ফাহিমের বাবা রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, একমাত্র ছেলের দুর্ঘটনার খবর শোনার পর তার মা পাগলপ্রায়। এখন পর্যন্ত ছেলের জ্ঞান ফেরেনি। এ পর্যন্ত আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কীভাবে কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’ এমন পরিস্থিতিতে নাজমুলের পরিবারের কাছে ছেলের চিকিৎসার খরচ দাবি করেছেন তিনি। আত্মীয় জুয়েল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ফাহিম গুরুতর আহত হয়েছেন। সে বাঁচবে কিনা ডাক্তাররা নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারছেন না।’তেজগাঁও থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ কবির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ওইদিনের ঘটনা শোনামাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে গাড়িসহ নাজমুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারার অপরাধে মামলা করা হয়েছে।