Friday, January 25, 2019

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে সচেষ্ট জাতিসংঘ

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, তারা মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিতে সফলতা অর্জন করেছে। কিন্তু এখনো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ শরণার্থী শিবিরে পর্যাপ্ত সেবা প্রদানে আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। বৃহসপতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসরত ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও অধিক শিশু এখন তাদের শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত থাকে। মানবাধিকার কর্মীরা ইতিমধ্যে সমগ্র শিবিরজুড়ে এ ধরনের প্রায় ১৬০০ শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করেছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেইগবেডার এক বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। এ বছর আমরা পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরো অধিক শিশুর জন্য এ সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রত্যেকটা শিশুর জন্য শিক্ষার মান উন্নয়নেও আমরা নজর দিচ্ছি।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চল থেকে সহিংসতার মুখে ৯ লাখ ২০ হাজারেরও অধিক সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা যাদের বেশিরভাগই মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে তারা।
তাদের মধ্যে ৭ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে এসেছে। তখন বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পাশবিক দমন-পীড়ন শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এ সহিংসতাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের তদন্তকারী দলও মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। অগ্নিসংযোগ, যৌন নির্যাতন ও সাধারণ নাগরিক হত্যার ব্যাপক অভিযোগ থাকা সত্যেও মিয়ানমার প্রথম থেকেই নৃশংসতার দাবি অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
মানবাধিকার কর্মীদের হিসেবে, সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ৬০ শতাংশই শিশু। একইসঙ্গে দারিদ্র্যপীড়িত শিবিরগুলোতে প্রতিদিনই আরো শিশুর জন্ম হচ্ছে। কক্সবাজারে ইউনিসেফের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ইফাত ফারহানা বলেছেন, রোহিঙ্গা শিশুদের অনেকেই গুলির আঘাত, তীব্র সহিংসতা এবং চলাচল ও সেবাপ্রাপ্তিতে বাধার কারণে মানসিকভাবে আঘাতগ্রস্ত। শারীরিক এবং শেখার অক্ষমতাও তাদের শিক্ষাদানের প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
এ বছর ইউনিসেফ ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুর জন্য শিক্ষা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য তারা তাদের শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫০০ তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে, রোহিঙ্গা শিবিরে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ইউনিসেফ তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিসেফের হিসেবে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের রোহিঙ্গা তরুণদের ৯৭ শতাংশই কোনো ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করছে না।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ বছর বয়সী বালিকা মিনারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর রোহিঙ্গা শিবিরের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর নোংরা ও গরম পরিবেশের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু ইউনিসেফের নতুন পদক্ষেপের পর সে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করেছে। মিনারা জানায়, এখন শিক্ষাকেন্দ্রগুলো চমৎকার। এখানে আর কর্দমাক্ত মেঝে নেই।

যৌন দাসত্ব থেকে দুই কোরিয়ান নারীকে উদ্ধারের কাহিনী by সু-মিন হোয়াং

চীনের ইয়ানজি শহরের একটি আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তৃতীয় তলার জানালার সঙ্গে বিছানার চাদর বেধে বেধে একটি দড়ির মতো তৈরি করে বেধেছেন দুইজন নারী।
একটু পর দেখা গেল, তারা সেই কাপড় ধরে জানালা থেকে ঝুলে নীচে নেমে আসছেন।
জানালার নীচেই দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের উদ্ধারকারীরা। তাদের একজন বলছেন, ''তাড়াতাড়ি, আমাদের বেশি সময় নেই''।
নিরাপদেই তারা দুজন নীচে নেমে এলেন। এরপর দৌড়ে একটু দূরে অপেক্ষায় থাকা উদ্ধারকারীদের গাড়িতে উঠে পড়লেন।
কিন্তু তাদের বিপদ এখনো কাটেনি।
মিরা এবং জিউন, দুজনেই উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারী, যারা মানব পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।
যারা তাদের উত্তর কোরিয়া থেকে চোরাচালানের পথ ধরে পালাতে সাহায্য করেছিল, চীনের সীমান্ত অতিক্রমের পরে তারাই একটি যৌন ব্যবসা দলের কাছে তাদের হস্তান্তর করে দেয়।গত পাঁচ বছর ধরে মিরাকে এবং আট বছরআটকে থাকা অবস্থায় যৌন ওয়েব সাইটে মিরাধরে জিউনকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দী করে ওয়েবক্যামের সামনে যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অনেক সময় ওয়েবক্যামের সামনে তাদের সরাসরি যৌনকর্ম অংশ নিতে বাধ্য করা হতো।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করা বেআইনি। এখনো দেশ ছাড়তে গিয়ে অনেকে জীবন সংশয়েও পড়েন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া যায়। কিন্তু উত্তর আর দক্ষিণ কোরিয়ার মাঝের ভূখণ্ডটি সামরিক এলাকা এবং অসংখ্য মাইনে ভরা। ফলে কারো পক্ষে সেখান থেকে পালানো প্রায় অসম্ভব।
ফলে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক অনেক উত্তর কোরিয়ান বরং উত্তরের দিকে যায় এবং সেখান থেকে চীনের সীমান্ত অতিক্রম করে।
কিন্তু উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা লোকজনকে অবৈধ অভিবাসী বলে চীনে মনে করা হয় এবং ধরতে পারলে আবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবে দেশে ফিরে গেলে এই দেশত্যাগীদের 'পিতৃভূমির প্রতি বিদ্রোহের' অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাগারে ঠাই হয়।
১৯৯০ সালে উত্তর কোরিয়ার চরম দুর্ভিক্ষের সময় অনেক কোরিয়ান তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, যাকে বলা হয় আরডুয়োস মার্চ, যখন অন্তত ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
কিন্তু ২০১১ সালে কিম জং-আন ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তর কোরিয়া থেকে দেশত্যাগী মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ আর দালালদের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসাবে মনে করা হয়। মিরা যখন দেশ ত্যাগ করেন, তখন তার বয়স ২২ বছর।
দুর্ভিক্ষের শেষের দিকে তার জন্ম, যারা উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রজন্ম হিসাবে বেড়ে উঠেছে। যারা আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের বদৌলতে ডিভিডি, কসমেটিকস, কাপড়চোপড় আর পাইরেটেডে বিদেশী চলচ্চিত্র দেখতে পারে।
বহির্বিশ্বের এসব জিনিস তাদের দেশ ত্যাগ করতে আগ্রহী করে তোলে। পাইরেডেট যেসব চলচ্চিত্র তারা দেখতে পায়, সেখানে বহির্বিশ্বের একটি খণ্ডিত চিত্র তাদের চোখে ধরা পড়ে, যা তাদের দেশ ত্যাগ করতে উৎসাহ যোগায়।
ফলে যারা উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, মিরা তাদেরই একজন।
''আমি চীনা চলচ্চিত্রগুলো বুদ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ভাবতে শুরু করেছিলাম যে, চীনের সব মানুষই হয়তো এরকম। আমি একজন চীনা যুবককে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম এবং উত্তর কোরিয়াতে এরকম একজনকে অনেকদিন ধরে খুঁজেছি।'' বলছেন মিরা।
তারা পিতা, সাবেক সৈনিক এবং পার্টির একজন সদস্য ছিলেন খুবই কড়া একজন ব্যক্তি, যিনি পরিবারকে শক্ত হাতে পরিচালনা করতেন। কখনো কখনো তিনি মিরাকে মারধরও করতেন। একজন চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মিরা, কিন্তু তার পিতা তাতে বাধা দেন। ফলে সে আরো বেশি হতাশ হয়ে পড়ে এবং চীনে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
''আমার বাবা ছিলেন পার্টির একজন সদস্য এবং এটা ছিল দম বন্ধ করা একটি ব্যাপার। তিনি আমাদের বিদেশী চলচ্চিত্র দেখতে দিতেন না, আমাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হতো এবং ঘুমাতে যেতে হতো। আমার নিজস্ব কোন জীবন ছিল না।''
অনেক বছর ধরে মিরা একজন দালালকে খোঁজেন যিনি তাদের টুমেন নদী পার হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে সহায়তা করবেন। কিন্তু সরকারের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক চোরাকারবারিদের নার্ভাস করে তোলে যে, মিরা হয়তো তাদের সম্পর্কে সরকারকে জানিয়ে দেবে।
চার বছর ধরে চেষ্টার পরে অবশেষে তিনি এমন একজনে খুঁজে পেলেন, যিনি তাকে সীমান্ত পার হতে সহায়তা করবেন। অন্য অনেক দেশত্যাগীর মতো পাচারকারীদের দেয়ার জন্য মিরারও পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। সুতরাং সে 'বিক্রি' হতে রাজি হয়, যার ফলে কাজ করে সে তার দেনা শোধ করবে। মিরা ভেবেছিল, তাকে কাজ করতে হবে কোন রেস্তোরায়।
কিন্তু সে আসলে প্রতারণার শিকার হয়। মিরা এমন একটি পাচারকারী গ্রুপের শিকারে পরিণত হয়, যারা উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে থাকে।
টুমেন নদী পার হয়ে চীনে প্রবেশের পর মিরাকে সরাসরি ইয়ানজি শহরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে একজন কোরিয়ান-চীনা ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ব্যক্তিকে এরপর থেকে সে 'পরিচালক' হিসাবেই চিনবে।
ইয়ানবিয়ান অঞ্চলের কেন্দ্র স্থলে ইয়ানজি শহরটি অবস্থিত। আদি কোরিয়ান অধ্যুষিত এলাকাটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র, যেখানে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা অনেকেই লুকিয়ে থাকেন।
পলাতকদের বড় একটি অংশই নারী। কিন্তু চীনে তাদের বসবাসের কোন আইনি মর্যাদা না থাকায় এই নারীরা সহজ শিকারে পরিণত হয়। অনেকে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় কনে হিসাবে বিক্রি হয়, অনেকে যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হয়, আর মিরার মতো অনেকে ক্যামেরার সামনে যৌনতা সংশ্লিষ্ট কাজ করতে বাধ্য হয়। অ্যাপার্টমেন্টে আসার পর ওই পরিচালক মিরার কাছে অবশেষে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, তার চাকরিটা আসলে কী?
মিরার জন্য একজন প্রশিক্ষক ঠিক করে দেন তিনি, যে তার সঙ্গে একই রুমে থাকবে। মিরাকে চোখে চোখে রাখবে, শেখাবে এবং অভ্যাস করাবে।
''আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অনেক মানুষের সামনে সব পোশাক খুলে ফেলা, একজন নারী হিসাবে এটা খুবই অপমানজনক ছিল। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার দেশের কথা মনে পড়ছে কিনা!''
ওই যৌন ওয়েবসাইট এবং এর বেশিরভাগ গ্রাহকই দক্ষিণ কোরিয়ান। তারা প্রতি মিনিটের জন্য টাকা দিতো, সুতরাং নারীদের উৎসাহ দেয়া হতো তারা যেন যত বেশি সম্ভব গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ধরে রাখে।
যখনি মিরা আর এই কাজ করতে চাইতো না, ওই পরিচালক তাকে উত্তর কোরিয়া ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিতেন।
''আমার পরিবারের সব সদস্য সরকারে কাজ করে। আমি সেখানে ফিরে গেলে তাদের সবার লজ্জার কারণ হবো। তার চেয়ে আমার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বা মরে যাওয়া ভালো।'' বলছেন মিরা। একই সময়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টে নয়জন পর্যন্ত নারী থাকতেন। যখন মিরার প্রথম রুমমেট আরেকটি মেয়ের সঙ্গে মিলে পালিয়ে যায়, তখন মিরাকে আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়। সেখানেই তার প্রথম জিউনের সঙ্গে পরিচয় হয়।
২০১০ সালে যখন উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসে, তখন জিউনের বয়স মাত্র ১৬ বছর।
তার দুই বছর বয়সের সময় তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় এবং তাদের পরিবার চরম দারিদ্রের মধ্যে পড়ে। ১১ বছর বয়সে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যাতে সে কাজ করতে পারে। বাড়তি কিছু অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে অবশেষে তার পরিবার চীনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু মিরার মতো সেও দালালদের খপ্পরে পড়ে।
যখন সে ইয়ানজি শহরে আসে, 'পরিচালক' তাকে পুনরায় উত্তর কোরিয়া পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কারণ সে বলে, ''জিউন খুব কালো আর অসুন্দর।''
কিন্তু পরিস্থিতি যাই হোক, জিউন আর সেখানে ফিরে যেতে রাজি ছিল না।
''এটা এমন একটি কাজ, যেটা আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি। কিন্তু চীনে আসার জন্য আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছি, সুতরাং আমি খালি হাতে ফেরত যেতে পারি না।'' বলছেন জিউন।
''আমার স্বপ্ন ছিল পৃথিবী ছাড়ার আগে আমার দাদা-দাদীকে খানিকটা ভাত খাওয়ানো, যার জন্য আমি সবকিছুই করতে পারি। আমি পরিবারের কাছে কিছু টাকা পাঠাতে চেয়েছিলাম।''জিউন খুব কঠোর পরিশ্রম করে। তার আশা ছিল, পরিচালক হয়তো তার কর্মনিষ্ঠার জন্য তাকে পুরস্কৃত করবে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে আর তাদের কাছে টাকা পাঠাতে পারবে, এই প্রতিশ্রুতিকে সে এমনভাবে কাজ করতে থাকে যার ফলে সেখানকার অন্য মেয়েদের চেয়েও সে বেশি অর্থ আনতে শুরু করে।
''আমি চেয়েছিলাম যে পরিচালক আমার গুরুত্ব বুঝতে পারুক এবং আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চেয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, ভালো করতে পারলে এই বাড়ি থেকে মুক্তি পাওয়া প্রথম মেয়েটি হবো আমি।''
অনেক সময় রাতে সে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছে, যাতে সে প্রতিদিনকার লক্ষ্য ১৭৭ ডলার আয় করতে পারে। পরিবারের জন্য অর্থ আয় করতে সে অনেকটা মরিয়া হয়ে ছিল।
এ সময় জিউন মিরাকেও পরামর্শ দিয়েছিল যেন সে বিদ্রোহী হয়ে না ওঠে এবং পরিচালকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে।
মিরাকে সে পরামর্শ দিয়েছিল,'' প্রথমত, কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। পরিচালক যদি তোমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে না থাকে, তাহলে তার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে পারো।''
জিউন বলছে, ওই বছরগুলোতে অন্য মেয়েদের চেয়ে সে অনেক বেশি অর্থ আয় করেছে।
''আমি ভেবেছিলাম পরিচালক সত্যিকারে আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু যেদিন আমার আয় কমে গেল, তার চেহারার অভিব্যক্তিও বদলে গেলো। সে হয়তো আমাদের বলতে পারতো যে, এত কষ্ট করো না।''ওই অ্যাপার্টমেন্টটি পরিচালকের পরিবারের সদস্যরা কড়াভাবে পাহারা দিতো। তারা পিতা-মাতা সামনের কক্ষে ঘুমাতো এবং সামনের দরজাটি সবসময়েই বন্ধ থাকতো।
পরিচালক নিজেই মেয়েদের খাবার পৌঁছে দিতো এবং তার ভাই প্রতিদিন সকালে এসে আবর্জনা নিয়ে যেতো।
''এটা ছিল পুরোপুরি একটি কারাগার, বরং তার চেয়েও খারাপ।'' বলছেন জিউন।
প্রতি ছয়মাসে একবার বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেতো উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। তবে আয় অনেক বেশি হলে মাসে একবার এই সুযোগ মিলতো। এ সময় তারা কেনাকাটা করতো অথবা চুলের পার্লারে যেতো। কিন্তু তখনো তাদের অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হতো না।
''একজন প্রেমিকের মতো আমাদের পাশাপাশি হাঁটতেন পরিচালক, কারণ তিনি ভয় পেতেন যে, আমরা হয়তো পালিয়ে যাবো।'' বলছেন মিরা। '' আমি আশেপাশে হেটে দেখতে চাইতাম, কিন্তু সেটা কখনো করতে দেয়া হতো না। কারো সঙ্গে আমাদের কথা বলতে দেয়া হতো না, এমনকি পানির একটি বোতল কেনার সময়েও না। নিজেকে আমার বোকা বোকা মনে হতো। ''
একজন উত্তর কোরীয় নারীকে অ্যাপার্টমেন্টে 'ব্যবস্থাপক' হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন পরিচালক। যখন পরিচালক থাকতেন না, তার পক্ষে অন্য মেয়েদের ওপর তিনি নজরদারি করতেন।
মিরাকে ওই পরিচালক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ভালোভাবে কাজ করলে একজন ভালো মানুষের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেবেন। জিউনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। যখন জিউন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন তাকে বলা হয়, তার যাতায়াতের জন্য ৫৩২০০ ডলার দিতে হবে। পরে তিনি বলেন, তিনি জিউনকে মুক্তি দিতে পারছেন না, কারণ কোন দালালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওয়েবক্যামের সামনে যৌনতার কাজ করার পর যে অর্থ উপার্জন হয়, তার কোন কিছুই কখনো পাননি মিরা বা জিউন।
প্রথমে পরিচালক রাজি হয়েছিল যে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশ তাদের দেয়া হবে। যখন তারা চলে যাবে, তখন এই অর্থ তারা পাবে।
কিন্তু মিরা এবং জিউন ক্রমেই বুঝতে শুরু করেছিল যে, তারা হয়তো কোনদিনই মুক্তি পাবে না।
জিউন বলছেন, ''এরকম পরিস্থিতিতে সাধারণত আমরা যা ভাবি, আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। কিন্তু আমি একবার অতিরিক্ত ওষুধ খেয়েছিলাম আর আরেকবার জানালা থেকে ঝাপ দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম।''
এর মধ্যেই মিরার পাঁচটি বছর আর জিউনের সাতটি বছর চলে গেছে। এরপর তিন বছর ধরে চেনা মিরার ওয়েবক্যামের একজন গ্রাহকের তার প্রতি মায়া হয়। তিনি মিরাকে প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি গত ২০ বছর ধরে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষজনকে সহায়তা করছেন।
ওই গ্রাহক দূর থেকে মিরার কম্পিউটারে একটি বার্তা পাঠানোর অ্যাপলিকেশন স্থাপন করে দেন, যা দিয়ে মিরা প্যাস্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষজনের মধ্যে প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ান ভালো পরিচিত। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই তাকে আক্রমণ করে 'অপহরণকারী' বলে বর্ণনা করে।
১৯৯৯ সালে ক্রিশ্চিয়ান দাতব্য প্রতিষ্ঠান ডুরিহানা প্রতিষ্ঠান পর থেকে তিনি প্রায় ১২০০ দেশত্যাগীকে নিরাপত্তায় সহায়তা করেছেন।
তিনি প্রতিমাসেই দুই অথবা তিনটি উদ্ধার অভিযানের অনুরোধ পান। তবে মিরা আর জিউনের ঘটনাটি তাকে খুবই আহত করে।
প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ান বলছেন, ''আমি অনেক মেয়েকে দেখতে পেয়েছি যারা তিনবছর ধরে কারাগারে আছে। কিন্তু এতবছর ধরে এভাবে আটকে রাখার ঘটনা আর আমি দেখিনি। এটা আমার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছিল।''
তিনি বলছেন, নারীদের পাচারকারী চক্রটি অনেক বেশি সংঘবদ্ধ এবং সীমান্তে পাহারা দেয়া কিছু উত্তর কোরীয় সেনাও এর সাথে জড়িত। চীনের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের ভাষায়, নারীদের পাচারকে ''কোরিয়ান শুকরের ব্যবসা' বলে বর্ণনা করা হয়। পাচার করা নারীদের দাম ১০০ ডলার থেকে শুরু করে হাজার ডলার হতে পারে।
যদিও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, তবে ব্যাপক হারে উত্তর কোরিয়ার নারীদের পাচারের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব পাচারের ওপর বাৎসরিক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট দেশগুলোর একটি বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
পরবর্তী কয়েক মাস ধরে মিরা এবং জিউনের সঙ্গে একজন গ্রাহক সেজে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন চোয়ান।
তিনি বলছেন, '' সাধারণত আটকে রাখা নারীরা বুঝতে পারে না তারা কোথায় আছে, কারণ এসব অ্যাপার্টমেন্টে হয়তো রাতের বেলা বা চোখ বন্ধ করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে মিরা এবং জিউন জানতো যে তারা ইয়ানজিতে রয়েছে এবং তারা বাইরে একটি হোটেলের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছিল।''
গুগল ম্যাপ থেকে তাদের ঠিকানা বের করে ওই অ্যাপার্টমেন্টটি আগে থেকে ভালো মতো দেখার জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবীকে পাঠান চোয়ান।
দেশত্যাগী যেকারো জন্যই চীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিপদজনক হতে পারে। বেশিরভাগই তৃতীয় একটি দেশে যেতে চান অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে। যেখান থেকে তারা বিমানে করে দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারবেন এবং আশ্রয় চাইতে পারবেন।
তবে কোন পরিচয়পত্র ছাড়া চীনের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করাটি তাদের জন্য বিপদজনক।
''অতীতে দেশত্যাগী মানুষজন ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে চলে যেতে পারতো। কিন্তু এখন কর্মকর্তারা এমন যন্ত্র ব্যবহার করেন, যা দিয়ে বোঝা যায় যে, পরিচয়পত্রটি আসল নাকি নকল।'' বলছেন চোয়ান।
ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালানোর পর জিউন এবং মিরা চীনের ভেতর দিয়ে ডুরিহানার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন।
পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তারা কোন হোটেলে উঠতে পারেননি। ফলে তাদের ট্রেনে ঘুমানো অথবা রেস্তোরায় জেগে বসে থেকে রাত পার করতে হয়েছে। চীনের শেষের দিনে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি পাহাড় বেয়ে ওঠার পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী একটি দেশে প্রবেশ করে। যে পথ ধরে তারা সেখানে গিয়েছে, তা প্রকাশে বাধা রয়েছে।
অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালানোর ১২ দিন পরে মিরা এবং জিউনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো চোয়ানের দেখা হয়।
''আমি ভেবেছিলাম, আমি তখনি নিরাপদ বোধ করবো যখন আমি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকত্ব পাবো। কিন্তু প্যাস্টর চোয়ানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিরাপদ বোধ করতে শুরু করলাম। আমি মুক্তি পাওয়ার আনন্দে কাঁদতে শুরু করলাম।'' বলছেন জিউন।
পরের ২৭ ঘণ্টা ধরে তারা একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে কাছের দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।
চোয়ান বলছেন, অনেক উত্তর কোরিয়ানের জন্য যাত্রার শেষের অংশটি কঠিন হয়ে যায়, যেহেতু সেটি গাড়িতে করে যেতে হয়, যা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।
''দেশত্যাগীরা অনেক সময় গাড়ির ব্যাপারে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বমি করেন। এটা নরকের মতো একটি রাস্তা, যা স্বর্গের দিকে নিয়ে যায়।'' বলছেন চোয়ান। দূতাবাসে পৌঁছানোর খানিকক্ষণ আগ মিরা দুর্বলভাবে হাসেন এবং বলেন, তার কান্না আসছে।
''আমার মনে হচ্ছিল, আমি সব দুঃখ দুর্দশা কাটিয়ে উঠলাম। অনেক অনুভূতি আসাযাওয়া করলো। দক্ষিণ কোরিয়া গেলে আমি হয়তো কখনোই আমার পরিবারের সদস্যদের দেখতে পাবো না, সেজন্য আমার অপরাধ বোধও লাগছিল। আমার দেশত্যাগের উদ্দেশ্য এটা ছিল না।'' বলছেন জিউন।
প্যাস্টর চোয়ান এবং দুই তরুণী একসঙ্গে দূতাবাসে প্রবেশ করেন। কয়েক সেকেন্ড পর চোয়ান ফিরে যান, তার কাজ শেষ হয়ে গেছে।
মিরা এবং জিউনকে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় দুইজনকে, যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারে যে তারা গুপ্তচর নয়।
এরপরে তাদের পরবর্তী তিনমাস কাটাতে হবে উত্তর কোরিয়ানদের জন্য নির্ধারিত হানাউইন পুনর্বাসন কেন্দ্রে, যেখানে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণ পাবেন।
দেশত্যাগীরা শিখবেন কিভাবে বাজারহাট করতে হয়, কিভাবে স্মার্ট ফোন চালাতে হয়, মুক্তবাজার অর্থনীতি আর চাকরির প্রশিক্ষণ পাবেন। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং দেয়া হবে। এরপরে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক হয়ে উঠবেন।
''আমি ইংরেজি অথবা চাইনিজ শিখতে চাই, যাতে আমি একজন ভ্রমণ গাইড হতে পারি'' বলছেন মিরা।
''কফি শপে কফি খেয়ে আর বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে আমি একটি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চাই।'' বলছেন জিউন। ''কেউ একজন আমাকে বলেছিল, একটি বৃষ্টি ঠিকই থামবে, কিন্তু আমার জন্য বর্ষাকাল একদিন ধরে চলেছে যে, আমি সূর্যের কথা ভুলেই গেছি।''

ইটালির যে যৌনপল্লীতে নেই যৌনকর্মী, আছে শুধু সেক্স ডল

ইটালির টুরিন শহরে সম্প্রতি খোলা এক যৌনপল্লী তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এই যৌনপল্লীতে নারী যৌনকর্মীর পরিবর্তে আছে সেক্স ডল। চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি ব্যবসাও করছে ভালো।
এই শহরের খ্যাতি গাড়ি আর চকোলেটের জন্য। কিন্তু সম্প্রতি আলোড়ন এবং বিতর্ক তৈরি করেছে সেখানে খোলা এক নতুন ব্যবসা - নতুন ধরনের এক যৌনপল্লী।
সেখানে নারী যৌনকর্মীর পরিবর্তে আছে কেবল যৌন পুতুল বা সেক্স ডল। এই পুতুলগুলোর সাথেই যৌন কর্ম করে খদ্দেররা।
এই যৌনপল্লীর প্রতিটি কক্ষে আছে একটি করে বিছানা। হালকা লাল আলো জ্বলছে ভেতরে। রুমের ভেতরেই আছে শাওয়ার। টেলিভিশন। আর আছে একটি করে সেক্স ডল।
পুতুলগুলো একেবারেই নরম। মোট ১২টি পুতুল আছে সেখানে। প্রতিটির চুলের স্টাইল আলাদা, দেহের গঠন আলাদা, পরনের পোশাকও আলাদা।
এসব পুতুল তৈরি করা হয়েছে সিলিকন দিয়ে। কিন্তু দেখতে একেবারে জীবন্ত।
যৌনপল্লীর একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখানে এখানে ম্যাজিক বিক্রি করছি।
পুতুলের এই যৌনপল্লীটি চালান এক মহিলা। বয়স তার পঞ্চাশের কোঠায়। নিজের নাম বলতে চাইলেন না। কিন্তু তিনি কি আইন মেনে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন?
"অবশ্যই এখানে সবকিছু বৈধ, আইন মেনেই করা হচ্ছে। এখানে অনৈতিক কিছু হচ্ছে না, কাউকে শোষণ করা হচ্ছে না। এখানে লোকজন আসছে, ফুর্তি করছে। তারা কারও কোন ক্ষতি করছে না," বলেন তিনি।পরের ঘরটিতে ছিল একজন খদ্দের। নার্সের পোশাক পরা এক পুতুলের সঙ্গে বসে আছেন তিনি। যদি যৌন কাজের জন্যই তিনি এখানে এসে থাকেন, তাহলে একজন সত্যিকারের রক্তমাংসের মানুষের পরিবর্তে কেন একটা পুতুলকে তিনি বেছে নিচ্ছেন?
তিনি জবাব দিলেন, "একজন যৌনকর্মী একজন সত্যিকারের মানুষ। আপনি দেখতে কেমন, আপনি কি কল্পনা করেন, সেসব নিয়ে সে হয়তো আপনাকে বিচার করবে। কিন্তু একটা পুতুলের ক্ষেত্রে তার বালাই নেই। তখন আমাকে কেবল নিজের তৃপ্তির কথাটাই ভাবতে হবে। নিজেকে অনেক বেশি ভারমুক্ত মনে হবে।"প্লেবয় ম্যাগাজিনের ফটো শ্যুট চলছে একটা জায়গায়। মডেল মারিনার ছবি তোলা হচ্ছে। ফিতা দিয়ে চুল বাঁধা, নখে টকটকে লাল নেইল পলিশ, পায়ে ল্যাটেক্সের বুট। নিজের পেশা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন মারিনা?
তিনি বলেন, "আমার পেশা নিয়ে আমি মোটেই উদ্বিগ্ন নই। এটাকে আমি প্রতিযোগিতা বলেই মনে করি না।"
সেক্স ডল কি ভবিষ্যতে যৌনকর্মীদের জায়গা নিয়ে নেবে?
"না, আমার তা মনে হয় না। তবে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। কারণ এই ব্যাপারটি হয়তো অনেকের কাছে অনেক বেশি রোমাঞ্চকর মনে হতে পারে।"
এসব সেক্স ডল আসলে নারীকে একটা বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে সমালোচনা আছে। তবে সেক্স ডলের মালিকরা দাবি করছেন, তারা এসব সেক্স ডলকে শ্রদ্ধার চোখেই দেখেন। এদের একজন যুক্তরাজ্যের ডীন। তার নয়টি সেক্স ডল আছে।
স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডীনের ছেলেমেয়েরাও তার কাছ থেকে চলে গেছে। নিঃসঙ্গ বোধ করছিলেন তিনি। তখন এসব সেক্স ডল নাকি তার শূন্যতা পূরণ করেছে। কিন্তু ব্যাপারটা কি খুব বিদঘুটে এবং একটু ভৌতিক নয়?কেন আপনার বিদঘুটে বা ভৌতিক মনে হচ্ছে? আমার পুতুলগুলো কাউকে বাছবিচার করে না। কোন বাজে কথা বলে না। আর তারা ব্রেক্সিটের জন্য ভোট দেবে না। আর এজন্যেই আমি তাদের পছন্দ করি," ডীনের সোজা জবাব।
কিন্তু ডীন যদি আবার কোন নারীর সঙ্গে প্রেম শুরু করেন এবং সেই নারী যদি এই সেক্স ডলের ব্যাপারে আপত্তি জানান, তখন কী হবে?
তিনি বলেন, "না, আমি একে বাদ দিতে পারবো না। গত কয়েক বছরে ও আমাকে এত দিয়েছে যে, আমি ওকে ছাড়তে পারবো না। কখনোই না।"
ডীন বলছেন, এই সেক্স ডল তাকে সুখী করেছে। আর ইটালিতে এসব সেক্স ডল অর্থ নিয়ে আসছে।
শুধু ইটালি নয়, এই সেক্স ডলের ব্যবসা এখন জমজমাট স্পেন, রাশিয়া, জার্মানিসহ আরো অনেক দেশে।
সূত্রঃ বিবিসি

ভয়াবহ গ্যাং ইয়াকুজা: নিজের মেয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে যাদের অন্ধকার জগত

জাপানের ভয়াবহ এক গ্যাং জাপান’স ইয়াকুজা। এ চক্রটি এতটাই দুর্ধর্ষ যে তারা নিজেদের কিশোরী মেয়ে, স্ত্রীদের দিয়ে দেহব্যবসা পর্যন্ত করাতে দ্বিধাবোধ করে না। কখনো তারা গণহত্যা চালায়। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবসা করে। এমনই এক অন্ধকার জগতের কাহিনী ফুটে উঠেছে লন্ডনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে। সেখানে শোকো টেনডো নামের একজন যুবতীর কাহিনী দিয়ে শুরু করা হয়েছে। তার পিতা হিরোইয়াসু টেনডো ওই চক্রটির একজন সদস্য। শোকো টেনডোর শরীরে এখনও প্রহারের চিহ্ন।
তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর আঁচড় এখনো তার গায়ে। শোকো টেনডো যখন টিনেজার তখনই এক জীর্ণশীর্ণ হোটেলরুমে তাকে ধর্ষণ করেছে তার পিতারই অপরাধচক্রের সহযোগীরা। এই ধারা অব্যাহত ছিল। তাকে যৌন দাসী হতে বাধ্য করে তার পিতা। এভাবে ৫ বছর চলেছে। তারপর সেখান থেকে পালিয়েছেন শোকো টেনডো।
জাপান’স ইয়াকুজা গ্যাংয়ের রয়েছে ৩৫০০০ শক্তিশালী সদস্য। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করে না। তবে সম্প্রতি মনে হচ্ছিল তাদের সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু এ সপ্তাহে টোকিওর এক বিনোদন এলাকায় এই চক্রের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কয়েক ডজন পর্যটকের সামনে। এ দৃশ্য দেখে পর্যটকরা ভীত শঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
ইয়াকুজা অপরাধী চক্রের কাছে নিজের মেয়ে বা স্ত্রীর কোনো মর্যাদা নেই। স্ত্রী বা নিজের মেয়েকেও মাঝে মাঝে তারা পতিতা বানিয়ে ফেলে। এসব নিয়ে নিজের স্মৃতিকথা লিখেছেন শোকো টেনডো। এতে তিনি বলেছেন, শোকো টেনডোকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছে তার অপরাধী পিতা। ওইসব ধর্ষক অন্য কেউ নয়। তারা তার পিতা হিরোইয়াসুর সহযোগী। হোটেল রুমে তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে যেতো ওইসব অপরাধী। শরীরে থাকতো থেঁতলে যাওয়া দাগ। এর ফলে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন শোকো টেনডো। এ সময় তাকে নিয়মিতভাবে ওই মাদক তাকে সরবরাহ করতো ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ছাড়া শোকো টেনডোকে ভয়াবহভাবে প্রহার করতো ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা। এতে তার হাড় ভেঙে যেত। শোকো টেনডো বলেছেন, যখনই কোনো নতুন পুরুষ আসতো আমার কাছে প্রতিবারই মনে করতাম সে বুঝি একটু ভিন্ন হবে। কিন্তু না। তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন নেই।
শোকো টেনডোর বয়স এখন ৫০ এর কোটায়। তিনি প্লাস্টিক সার্জারি করে শরীরের ক্ষতগুলো ঢেকে ফেলেছেন। তবে এখনও তার শরীরে ও মনের ভিতর রয়ে গেছে দগদগে ঘা।
মনে করা হয় ইয়াকুজারা জাপানে যৌন বাণিজ্য চালু করেছে। সেখানে তারা ভিসা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের প্রলুব্ধ করে নিয়ে যায়। তারপর তাদের কাছ থেকে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ঋণ শোধের জন্য পতিতাপল্লীতে কাজ করতে বাধ্য করে।
এক জরিপে দেখা গেছে, জাপানের শতকরা ৫০ ভাগ পুরুষ যৌন সুবিধা নেয়ার জন্য অর্থ খরচ করেছেন। শতকরা ৭৫ ভাগ জুনিয়র ও হাই স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মধ্যবয়সী পুরুষের শিকারে পরিণত হয়েছে। এসব কাজের জন্য যে পতিতাপল্লী এ নেটওয়ার্কের তা শুধু জাপানেই সীমাবদ্ধ এমন নয়। এর বিস্তার ঘটেছে কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনেও। এসব দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী উড়ে যান ‘সেক্স পার্টি’তে যোগ দেয়ার জন্য।
এখন পর্যন্ত ইয়াকুজা গোষ্ঠীতে একজন মাত্র নারী নেত্রীর খবর পাওয়া গেছে। তার নাম ফুমিকো টাওকা। তার স্বামী কাজুও টাওকা ছিলেন গ্যাং। তিনিও এ ব্যবসা করতেন। তিনি তারা যাওয়ার পর গ্যাংয়ের হাল ধরেন ফুমিকো। ১৯৮৪ সালে তিনি এ ব্যবসা চালানোর জন্য একজন পুরুষকে নিয়োজিত করেন। তার আগে পর্যন্ত তিনিই চালাতেন সব।
(বাকি অংশ আগামীকাল)

নরপিশাচ পিতা!

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে এক নরপিশাচ পিতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে তারই মেয়ে (১৬) এনেছে ধর্ষণের অভিযোগ। এতে ওই বালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এমনটা সে টের পাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। তার অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ বুধবার পিতা নামের ওই নরপিশাচকে গ্রেপ্তার করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
ওই বালিকার অভিযোগ, গত এক বছরে বার বার তাকে ধর্ষণ করেছে তার পিতা। কিন্তু তার গর্ভে সন্তান এসেছে এটা টের পাওয়ার পর দিশা হারিয়ে ফেলে সে।
পুলিশে এফআরআই করে। তাতে বলা হয়েছে, নির্যাতিত মেয়েটি ওই ব্যক্তির ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। মেয়েটির রয়েছে আরো দুটি বোন ও তিনটি ভাই। পরিবারটির বসবাস রাওয়ালপিন্ডির গিরজা রোডে। অভিযুক্ত পিতা কাছাকাছি একটি ইটভাটার শ্রমিক। তার নিষ্ঠুরতা ও নির্যাতনের অভিযোগে মেয়েটির মা পালিয়ে চলে গিয়েছেন পেশোয়ারে। এরপর তার পিতার নির্যাতন নেমে আসে বড় ভাইয়ের ওপর। তাকেও প্রহার করতে থাকে তার পিতা। এক পর্যায়ে সে ভাইবোনগুলোকে নির্যাতিত বালিকার কাছে রেখে চলে যায় পেশোয়ারে। এসব ভাইবোনের সবাই তার ছোট। এ অবস্থায় নির্যাতিত ওই বালিকার দিকে চোখ পড়ে তার পিতার।
পুলিশের কাছে দেয়া বিবৃতিতে ওই বালিকা বলেছে, সে আমাকে প্রহার করতো। গত বছর বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। যখন তাকে আমি থামার জন্য অনুরোধ করতাম, তাকে বলতাম আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ দেবো, তখন সে আমাকে হুমকি দিতো। বলতো, আমার মায়ের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করেছে আমার সঙ্গেও সেই একই রকম ব্যবহার করবে। আমাকে হত্যা করবে।
ডন নিউজ টিভিকে ওই বালিকা বলেছে, তাদের আদি নিবাস পেশোয়ার। সেখান থেকে তারা গিয়ে বসবাস করছে রাওয়ালপিন্ডিতে। তার কথায়, ছোট ভাইবোনগুলোকে দেখাশোনার জন্য ছিলাম আমি একা। কিন্তু আমার পিতা সব নিষ্ঠুরতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাই আমি পুলিশের কাছে এসেছি আমাকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে।
সদর বাইরুনি পুলিশ স্টেশনের ডিএসপি ফারহান আসলাম বলেন, ওই বালিকার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে, সে অন্তঃসত্ত্বা। প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গেছে যে, তাকে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ করা হতো। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পর সব সত্য বেরিয়ে আসবে। বোঝা যাবে ধর্ষক কে তার পিতা নাকি অন্য কেউ।
ওদিকে গ্রেপ্তার করা ওই ব্যক্তিকে শুক্রবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে। আর মেয়েটিকে রাখা হয়েছে নারী পুলিশদের তত্ত্বাবধানে।

ভেনিজুয়েলায় বিরোধী নেতার নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা: যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে। দেশটির সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অস্থির পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গাইডো নিজেকে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করায় এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে। গাইডোর এমন ঘোষণাকে অভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করেছে মাদুরো সরকার। একই সঙ্গে তাকে জেল দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, গত বছর দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন হয়। পশ্চিমা বহু দেশ নির্বাচিত সরকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তারপরও ১০ই জানুয়ারি নিজের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন নিকোলাস মাদুরো। তবে ঘটনাটি আরো প্যাঁচ খায় বুধবার যখন হুয়ান গাইডো তার নেতাকর্মী সমর্থকদের সামনে নিজে নিজেই শপথ নিয়ে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন তখন। আর তাকে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন মাদুরো। পাশাপাশি তার দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের ভেনিজুয়েলা ছেড়ে যেতে সময় দেন ৭২ ঘণ্টা। মাদুরো বলেন, তারা চায় ভেনিজুয়েলা ওয়াশিংটন থেকে পরিচালিত হোক। আমাদের উপরে অনেক হস্তক্ষেপ হয়েছে। এখন এটি বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডো নিজ দলীয় সমর্থকদের বলেন, আমরা এই দখলদারিত্বের পতন ঘটিয়ে ছাড়বো। আমরা জানি একদিন এর পরিণতি আসবেই। এরপর তিনি গ্রেপ্তারের ভয়ে অজানা স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ভেনিজুয়েলার সংবিধান বলে, প্রেসিডেন্টের পদ যদি শূন্য বলে নির্দিষ্ট হয় তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে একটি নতুন নির্বাচন আহ্বান করতে হবে।
রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
এদিকে, ভেনিজুয়েলায় যে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। গতকাল ভেনিজুয়েলার কাছের মিত্র রাশিয়া এ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করলে তা বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, মস্কো যেকোনো সময় ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারো হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের স্পষ্টভাবে জানা উচিত আমরা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে তাদেরকে সাবধান করছি। আমরা মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কর্মকাণ্ড লাতিন আমেরিকার উন্নয়নের যে ভিত্তি তাতে বিপর্যস্ত করবে। রিয়াবকভ মাদুরোর নাম উচ্চারণ না করলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকারকে রক্ষায় সচেষ্ট রাশিয়া। তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে সমর্থন করেছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।
এর আগে গত মাসে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম দুই রুশ বোম্বার যুদ্ধবিমান ভেনিজুয়েলায় পাঠানো হয়েছে। দেশটির নির্বাচিত সরকারের প্রতি রুশ সমর্থনের অংশ হিসেবেই এ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মাদুরোকে ইরান, তুরস্ক, মেক্সিকো ও বলিভিয়ার সমর্থন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বৃহস্পতিবার বলেছেন, তেহরান ভেনিজুয়েলার বৈধ সরকারকে সমর্থন করছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের প্রয়াস, অবৈধ কোনো পদক্ষেপ বা জনগণের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার মুখে ইরানের এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ভেনিজুয়েলার সঙ্গে সংহতি ঘোষণা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তাইয়্যেফ এরদোগান। তিনি গতকাল মাদুরোর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। টেলিফোন সংলাপের সময়ে তিনি মাদুরোর উদ্দেশ্যে বলেন, মাদুরো আমার ভাই। দৃঢ় অবস্থান নিন, আমরা আপনার পাশে আছি। এ ছাড়া ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাক গলানোর কঠোর নিন্দা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগ্লু। এ ছাড়া টুইটারে এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন হ্যাশট্যাগ টুইট করেছেন।
মাদুরোকে সমর্থন দিয়েছে বলিভিয়াও। মাদুরোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান মোরালেস। সমর্থন জানিয়ে করেছেন টুইটও। এতে তিনি লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ ও নিকোলাস মাদুরো’র প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করছি।  ভেনেজুয়েলা সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবেলা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার জনগণ আর মার্কিনিদের আঙ্গিনায় পরিণত হবে না। পাশাপাশি মেক্সিকো’র প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জেসাস রামিরেজ কিউভাসও মাদুরোর প্রতি তার দেশের স্বীকৃতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফাইটিং ফোর্সের প্রথম ব্যাটালিয়ন আধিনায়ক হলেন চার নারী সেনা কর্মকর্তা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। চার নারী সেনা কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ওই চার কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার বাহিনীর সদর দপ্তরে পদোন্নতি পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের চার নারী কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর জানায়, মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পাওয়া চার নারী কর্মকর্তা হলেন মেজর সানজিদা হোসেন (আর্টিলারি), মেজর সৈয়দা নাজিয়া রায়হান (আর্টিলারি), মেজর ফারহানা আফরীন (আর্টিলারি) ও মেজর সারাহ্ আমির (ইঞ্জিনিয়ার্স)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নারীর ক্ষমতায়নের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০০০ সাল থেকে সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে নিয়মিতভাবে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ৪৭তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে শুরু হওয়া এই নারী কর্মকর্তারা এরই মধ্যে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা প্রদর্শনে সফল হয়েছেন। তাঁদের এই সক্ষমতার অংশ হিসেবে চার নারী কর্মকর্তাকে মেজর থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।