Thursday, March 20, 2014

সংলাপ আগে, আন্দোলন পরে by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পটভূমিতে আরেকটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন দিতে বর্তমান সরকার আগ্রহী কি না, তা খুব স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য নেতারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে যা বলেছিলেন, এখন তা আর স্বীকার করছেন না। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এখন ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে অন্য সুরে কথা বলছেন। কারণ, রাজনীতির কৌশলে বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে হেরে গেছে। আওয়ামী লীগ ও সরকার তার পুরো সুবিধাটি এখন ভোগ করছে। রাজনীতিতে এ রকম হতেই পারে।

যোগ্যতার নাম ‘ছাত্রলীগ’ by এ কে এম জাকারিয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একটি লেখা লিখেছেন। এর শিরোনাম: ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’। হল উদ্ধারের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই গণমাধ্যমে ঠাঁই পাচ্ছে। হঠাৎ কী হলো যে শিক্ষকদের এই শিরোনামে একটি লেখা লিখতে হলো? কারা এই ‘সন্ত্রাসী’? লেখা থেকে উদ্ধৃত করছি; ‘শিক্ষার্থীদের হল উদ্ধারের যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকদের কোনো ভিন্নমত নেই। কিন্তু ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা ও ছাত্রলীগ নামধারী যে সন্ত্রাসীরা শিক্ষককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে, তাদের নেতৃত্বাধীন কর্মসূচিতে ন্যায্যতার প্রশ্নে শিক্ষকেরা কীভাবে অংশ নেবেন? (সমকাল, ১৯ মার্চ)।

বদলে যাচ্ছে মিয়ানমার by সোহরাব হাসান

ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে নেমেই অবাক হলাম। লৌহযবনিকার দেশ বলে পরিচিত মিয়ানমারে আসা অতিথিদের বেশির ভাগই পর্যটক। এসেছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে। আছেন এশীয় দেশগুলোর ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশাজীবীও। পর্যটকেরা যে দেশটি দেখতে আসেন, সেই দেশটির সঙ্গে তাঁদের একধরনের সখ্য গড়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক ও হার্দিক বিনিময় হয়। ২০১১ সালে মিয়ানমারের বন্ধ দরজা খোলার পর থেকেই প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসতে শুরু করেন। ২০১৩ সালে পর্যটক বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

সংলাপ আগে, আন্দোলন পরে

৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পটভূমিতে আরেকটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন দিতে বর্তমান সরকার আগ্রহী কি না, তা খুব স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য নেতারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে যা বলেছিলেন, এখন তা আর স্বীকার করছেন না। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা এখন ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে অন্য সুরে কথা বলছেন। কারণ, রাজনীতির কৌশলে বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে হেরে গেছে। আওয়ামী লীগ ও সরকার তার পুরো সুবিধাটি এখন ভোগ করছে। রাজনীতিতে এ রকম হতেই পারে। এখন মার্চ মাস। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে ইয়াহিয়া খান ও ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী’ পদে মানতে চাননি। পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৫ মার্চ রাতে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ফল কী হলো? আমও গেল, ছালাও গেল। এ জন্য পাকিস্তানিদের মনস্তাপ কি কখনো ঘুচবে? রাজনীতিতে ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ১৮-দলীয় জোটের অংশ না নেওয়া ভুল হয়েছিল, না ঠিক হয়েছিল, এ বিতর্ক করে এখন লাভ নেই। কারণ, পাখি উড়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপজেলা নির্বাচনের পর আন্দোলনের আভাস দিয়েছেন। আমরা বুঝতে পারি না,
এখনই আন্দোলনের কথা আসছে কেন? আন্দোলন হলো শেষ অস্ত্র। বিএনপি যদি আগাম নির্বাচন চায়, তাহলে তো প্রথমে সরকারকে আলোচনার প্রস্তাব দেবে। আলোচনার জন্য চাপ দেবে। তখন আমরা দেখব, সরকারপক্ষ কী বলে বা কী করে। আন্তর্জাতিক মহলও দেখবে সরকারের ভূমিকা। আলোচনার প্রস্তাব দিলে সরকারকে একটা কথা তো বলতেই হবে। মন্ত্রীরা মুখে যত কথাই বলুন, সরকারও এই প্রশ্নবিদ্ধ ভোটারবিহীন নির্বাচনে ‘নির্বাচিত সরকার’ নিয়ে খুব স্বস্তিতে নেই। দেশে-বিদেশে তাদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কাজেই, বিএনপি যদি আলোচনার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সরকারের আনুষ্ঠানিক উত্তর কী হবে, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই। আলোচনার প্রস্তাব বিএনপিকেই দিতে হবে। কারণ, গরজ বিএনপির। তবে সে ক্ষেত্রে বিএনপিকে তার অবস্থান পাল্টাতে হবে। বর্তমান সরকারকে ‘অবৈধ’ বলা ঠিক হবে না। অবৈধ সরকারের সঙ্গে কি আলোচনা করা যায়? বর্তমান সরকার আইনিভাবে বৈধ, কিন্তু বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। এটা দেশে-বিদেশে অনেকেই বলেছেন। এটা সরকারকে মেনে নিতে হবে। আমরা আশা করব, বিএনপি এখন আন্দোলনের কথা না বলে আলোচনার প্রস্তাব দেবে। আলোচনা ব্যর্থ হলে বা সরকার আলোচনায় আগ্রহী না হলে তা জনগণ দেখবে। তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিলে জনগণ তাতে সাড়া দিতেও পারে। জনগণ যেন বুঝতে পারে, বিএনপি বাধ্য হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে।
দুই বিভিন্ন পত্রপত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা গেছে: বিএনপির মধ্যে একটা সংস্কার অভিযান শুরু হয়েছে। এটা ভালো লক্ষণ। তবে তার আগে কয়েকটা বিষয় বিএনপিকে ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। কারণ, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপির জন্য এটা নতুন অধ্যায়। বিএনপি যদি একটি গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিকশিত হতে চায়, তাহলে কয়েকটি ব্যাপারে তার অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। যেমন: ১. বিএনপি যে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার, তা দলের কাজে ও কথায় স্পষ্ট করতে হবে; ২. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান নেতৃত্ব ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে একাত্ম হতে হবে; ৩. মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও জামায়াতের নেতাদের ভূমিকা সম্পর্কে নিন্দামুখর হতে হবে; ৪. মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সাম্য সম্পর্কে আস্থাবান হতে হবে। এগুলো ১৯৭১-এর মূল কথা, ইতিহাসের অংশ। ইতিহাসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে কিন্তু বিকৃত করার সুযোগ নেই। বিএনপিকে বুঝতে হবে, শুধু জিয়াউর রহমানের একটি ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। আর বেতারে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা ইতিহাসের একটি বড় ঘটনা। আওয়ামী লীগ একে যত ছোট করার চেষ্টাই করুক না কেন। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করার বহু পথ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিলেও আওয়ামী লীগের অপকীর্তি কম নেই। বিএনপি আওয়ামী শাসনামলের সমালোচনা করতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরব সব বাংলাদেশির। বিএনপি কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর স্বার্থে সেই গৌরব হাতছাড়া করছে কেন?
জামায়াত কয়েকটি ভোট ছাড়া বিএনপিকে আর কিছু দেয়নি। বিনিময়ে বিএনপি অর্জন করেছে বহু মানুষের ধিক্কার, যারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চায় না। ১৯৭১ সালে বিএনপির জন্ম হয়নি। ১৯৭১-এর ইতিহাস ও আদর্শকে স্বীকার করলে বিএনপির ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। বিএনপি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল নয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, যিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। বিএনপি ও ১৯-দলীয় জোটে রয়েছেন অনেক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে মেনে নিয়েও বিএনপি ’৭২-৭৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যর্থতা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন, ’৭৫ সালে বাকশাল গঠন, পরবর্তী আওয়ামী সরকার ইত্যাদির তীব্র সমালোচনা করতে পারে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সমালোচনা থাকবেই। তবে তা হতে হবে তথ্যনিষ্ঠ। আজগুবি সমালোচনা কোনো ফল দেয় না। আমাদের ধারণা, বিএনপি তাদের নতুন অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দলকে পুনর্গঠন করতে পারলে আগামী নির্বাচনে ও আন্দোলনে বিএনপি লাভবান হতে পারে। বিএনপির নেতৃত্বকে একটা বিষয় পরিষ্কার বুঝতে হবে: এ দেশের বহু লোক আওয়ামী লীগের শাসন থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু তাই বলে তারা যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, জঙ্গি, মৌলবাদী গোষ্ঠীরও শাসন চায় না। বিএনপির সঙ্গে এসব গোষ্ঠীর যে কোনো মিত্রতা নেই, তা বিএনপির কথায় ও কাজে প্রমাণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ব্যাপারে বিএনপির মধ্যে যে কোনো অস্পষ্টতা নেই, তা-ও বিএনপিকে কথায় ও কাজে প্রমাণ করতে হবে। এ দেশের মানুষ, বিশেষ করে তরুণেরা এখন খুবই সচেতন।
তিন সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনের (যতটা হয়েছে) ফলাফল থেকে প্রমাণিত হয়, সমগ্র দেশে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। সরকার বিএনপিকে নানাভাবে দমন করার চেষ্টা করছে। নেতাদের হয়রানি ও নির্যাতন করছে। পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সহায়ক হয়েছে। এগুলো কিন্তু দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিশ্চয় কোনো না কোনো সময়ে বিরোধী দলে যেতে হবে। তখন বর্তমান সরকার যা যা করছে, তার পুনরাবৃত্তি যে হবে না, তা কি কেউ বলতে পারে? সংসদে অন্য কোনো জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনো পাবে না, তা কি কেউ নিশ্চিত বলতে পারে? তখন কত কিছুরই তো পরিবর্তন হতে পারে। কাজেই সরকার বা আওয়ামী লীগ এখন যেসব অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে, তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না। আমরা চাই আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিও একটি গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত একটি বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিকশিত হোক। বিএনপি যদি একটি প্রতিক্রিয়াশীল, ডানপন্থী, জামায়াতঘেঁষা মৌলবাদী দল হিসেবে পরিচিতি অর্জন করে, তাহলে বহু সচেতন মানুষের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আর বিকল্প থাকে না। বিএনপি তাদের অতীত কিছু কথা ও কাজের জন্য বহু বদনাম কুড়িয়েছে। এখন নতুন অধ্যায় শুরু করার সময় নিজেদের নানা ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নেবে, এটাই অনেকের প্রত্যাশা।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: উন্নয়ন ও মিডিয়াকর্মী।

যোগ্যতার নাম ‘ছাত্রলীগ’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক একটি লেখা লিখেছেন। এর শিরোনাম: ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন’। হল উদ্ধারের আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই গণমাধ্যমে ঠাঁই পাচ্ছে। হঠাৎ কী হলো যে শিক্ষকদের এই শিরোনামে একটি লেখা লিখতে হলো? কারা এই ‘সন্ত্রাসী’? লেখা থেকে উদ্ধৃত করছি; ‘শিক্ষার্থীদের হল উদ্ধারের যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষকদের কোনো ভিন্নমত নেই। কিন্তু ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা ও ছাত্রলীগ নামধারী যে সন্ত্রাসীরা শিক্ষককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে, তাদের নেতৃত্বাধীন কর্মসূচিতে ন্যায্যতার প্রশ্নে শিক্ষকেরা কীভাবে অংশ নেবেন? (সমকাল, ১৯ মার্চ)। শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা সন্ত্রাসীদের দলীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় পেলাম, কিন্তু কী করেছিল তারা? শিক্ষকেরা যা লিখেছেন, সংক্ষেপে সেটাই তুলে ধরছি। হল উদ্ধারসহ নানা দাবিতে গঠিত ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দ আলম ১৩ মার্চ লাঞ্ছিত হয়েছেন। এই শিক্ষক একসময় ছাত্রকল্যাণের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কমন রুমের জন্য টেন্ডারকৃত মালামাল বুঝে নেওয়ার জন্য যে কমিটি হয়েছে, তার আহ্বায়কের দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর ওপর। ছাত্রলীগের নেতারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেই শিক্ষকের কক্ষে হাজির হয়ে ‘তাঁর মাথায়, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে’ কমন রুমের কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যয়নপত্র বের করে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন।
তিনি অপারগতা প্রকাশ করায় ‘ওই উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীরা সৈয়দ আলমকে ধাক্কা মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। স্বাক্ষর না করলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন এবং তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।’ ছাত্রদের হাতে শিক্ষক যখন লাঞ্ছনার শিকার হন, তখন তা শিক্ষকদের কতটা ব্যথিত ও মর্মাহত করতে পারে, তা অনুমান করতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। স্বাভাবিক কারণেই শিক্ষকেরা তাঁদের সমিতির মাধ্যমে এই হামলার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, সনদ বাতিল, অস্ত্র আইনে মামলা ও গ্রেপ্তার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান। এর প্রতিক্রিয়া ‘ছাত্র নামধারী’ সন্ত্রাসীরা আবারও শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া, শিক্ষকদের গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলা, হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটায়। ১৩ মার্চ হামলার ঘটনার পর যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই লেখাটির কোনো দরকার হতো না। লেখায় ছাত্রলীগের কোন নেতার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে, তাঁর সহযোগী কারা ছিলেন—সবই উল্লেখ রয়েছে। তার মানে, সবাই সবকিছু জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বা সম্ভব নয়। ছাত্রলীগ যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য এই ছাড়টি যে দেওয়াই আছে! শুধু এই ছাড়ে সম্ভবত ছাত্রলীগের হচ্ছে না। তাঁদের জন্য নানা ক্ষেত্রে আরও আরও ছাড় দরকার। এ ধরনের দাবিও ওঠা শুরু হয়েছে। ‘সাধারণত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে বিভিন্ন দাবি করেন। কিন্তু আজ তাঁদের পক্ষ থেকে আমিই ছাত্রলীগের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে চাকরি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ (প্রথম আলো, ১৮ মার্চ)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে এই দাবি তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল আজিজ।
তিনি সরকার-সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নীল দলের আহ্বায়ক। তিনি মনে করেন, ছাত্রলীগ করাই চাকরির বড় যোগ্যতা। ‘যাঁরা দলের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের ভালো ফলাফলের প্রয়োজন নেই।’ আপাতত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন দাবি উঠেছে। দাবি যখন উঠেছে, আশা করা যায়, ভবিষ্যতে হয়তো এই বিধানও কার্যকর হবে! m১৩ মার্চ অধ্যাপক মোহাম্মদ সৈয়দ আলম ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হলেন, ১৭ মার্চ সেই রসায়ন বিভাগেরই আরেক শিক্ষক ছাত্রলীগের ‘প্রত্যেক নেতা-কর্মীর’ জন্য চাকরি চেয়ে বসলেন! আমাদের খুব জানতে ইচ্ছা করে, তাঁর বিভাগের একজন শিক্ষকই যে দিন চারেক আগে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হলেন, সেটা কি তিনি জানতেন? আর না জানলেও কি একজন শিক্ষক এমন দাবি করতে পারেন? প্রথম আলোয় ‘ছাত্রলীগ করাই চাকরির বড় যোগ্যতা’—এই খবরটি পড়ে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন, এমন এক শিক্ষক তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন: ‘এই খবরটি পড়ার পর প্রথমেই আমার মনে প্রশ্ন জাগল, আমি কি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কি আমি দুই দফায় পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেছিলাম?’ ছাত্রলীগের যে নেতারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করলেন এবং করে যাচ্ছেন, তাঁদের সবার চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে হয়তো এই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা আপাতত বেঁচে যাবেন!
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

হিন্দু ভারত, মুসলমান পাকিস্তান

পাঞ্জাব (লাহোর যার রাজধানী) এখনো পাকিস্তানের মেরুদণ্ড। সিন্ধুতে গোলযোগ চলছে। এর মূল কারণ শিয়া ও সুন্নিদের চিরদিনের কোন্দল। বেলুচিস্তানে চলছে স্বশাসনের দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তি আন্দোলন। সম্প্রতি পাঁচ দিন পাকিস্তানে অবস্থানের সময় আমি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে স্বাধীনতার দাবিতে কোয়েটা থেকে ইসলামাবাদে মিছিল করে আসা বেলুচদের ছবি দেখেছি। বেলুচিস্তানে বিদ্রোহ জিইয়ে রাখতে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ করা হয়ে থাকে ভারতের বিরুদ্ধে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ সীমান্তের ওপারের আফগান তালেবানের সঙ্গে সংঘাতে এতটাই লিপ্ত যে উন্নয়নের পথে এগোবার ফুরসত মিলছে না তাদের। এ অবস্থায় কোন জিনিসটি পাকিস্তানকে এখনো ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, সে দেশের এক শীর্ষ আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তাঁর সোজাসাপ্টা জবাব ছিল: সেনাবাহিনী। ওই আইনজীবীর কথা সত্যি হতেই পারে। তার পরও আমি মনে করি না, পাকিস্তানে আবার সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রক্রিয়া ক্রমেই পোক্ত হচ্ছে। এটা পেছন দিকে ফেরানো অসম্ভব। সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লোকজন পথে নেমে আসবে। এশিয়া কাপ ক্রিকেটে পাকিস্তান ভারতকে হারানোর দিন আমি লাহোরে ছিলাম। লোকজন ব্যাপক আনন্দ-ফুর্তি করছিল। খুশিতে ফাঁকা গুলি ছুড়ছিল অনেকে। এ উচ্ছ্বাসের কারণ বোধগম্য। ভারতের সাত ভাগের এক ভাগ আয়তনের দেশটি একে অন্তত একটি ক্ষেত্রে পরাস্ত করে অনুপ্রাণিত বোধ করছিল। আমি যে কারণে আশ্চর্য হয়েছিলাম, তা হলো, খেলায় জয় নিয়ে পাকিস্তানিদের আলাপে বারবার উঠে আসছিল ভারতের এখনো পাকিস্তানকে ‘মেনে না নেওয়া’র বিষয়টি। পাকিস্তানের রাজনীতিবিদেরা ভোটারদের ভয় দেখাতেই এ ধুয়া তোলেন। পাকিস্তান তার আত্মপরিচয়ের জন্য কেন ভারতের স্বীকৃতি চাইবে, তা আমার বোধগম্য নয়।
ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি লাহোর সফর করার সময় আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করার দরকার নেই, স্বাধীন রাষ্ট্রটিই তার পরিচয়। এখনো পাকিস্তানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভারতীয় হিসেবে পরিচিত বাজপেয়ি মিনার-ই-পাকিস্তানেও ঘুরতে গিয়েছিলেন। আমিও তখন সেখানে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়িকে পুনরুক্তি করতে শুনেছিলাম যে ভারতের সংহতি ও অখণ্ডতা নির্ভর করে পাকিস্তানের সংহতি ও অখণ্ডতার ওপর। এটা খুব দুঃখজনক যে কোনো উগ্রপন্থী সংগঠন বাজপেয়ির সফরের পর মিনার-ই-পাকিস্তানকে ‘পবিত্র’ করার জন্য পানি দিয়ে ধুয়েছিল। পাকিস্তানে রাষ্ট্র পরিচালনায় এখনো সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আলোচনার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ভারতকে যে বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন, তা সেনাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া সম্ভব হয়নি। মনে হয়, সেনাবাহিনী একটি ‘লক্ষণরেখা’ টেনে দিয়েছে, যার বাইরে সরকার যেতে পারে না। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। কাশ্মীরে ভারতকে হেনস্তা করার জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা-ই ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে পাকিস্তানকে ভোগাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক উভয় কর্তৃপক্ষকে বেগ দিচ্ছে। তাদের হামলার সঙ্গে যোগ হচ্ছে দেশীয় তালেবান তেহরিক ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দৌরাত্ম্য। তারা পাকিস্তানের যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় আঘাত হানতে পারে; পারে যাকে ইচ্ছা হত্যা করতে। তবে মোটের ওপর লাহোর তথা পাঞ্জাব নিরাপদ। বলাবলি আছে যে লাহোরের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে টিটিপির কোনো একটা সমঝোতা হয়েছে। পাঞ্জাবকে রেহাই দেওয়ার জন্য তিনি টিটিপিকে ‘পুরস্কৃত’ করে থাকেন। পাকিস্তানের সামনে সমস্যার শেষ নেই। মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান ছায়া এর একটি মাত্র। লাহোরে আমাকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে, তা হলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে প্রতিবাদের অনুপস্থিতি।
ব্লাসফেমি আইনের বিরোধিতা করার জন্য খুন হওয়া পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরের ব্যাপারে কেউই কথা বলতে চান না। এদিকে ভারতে তখন কী ঘটছে? পাকিস্তানি ক্রিকেট দলকে হর্ষধ্বনি দিয়ে সমর্থন জানানোর জন্য মিরাটের বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৯ কাশ্মীরি শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। প্রথমে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সমালোচনার ঝড় উঠলে ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় ভারতের বিষয়ে কাশ্মীরিদের মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যে কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করেছিল, তারা হয় খুবই গোঁড়া মানসিকতার, অথবা আশা করেছিল, ওই পাকিস্তানবিরোধী ভূমিকার জন্য তারা প্রশংসিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ওই উদ্যাপন আর বহিষ্কারাদেশ—এ দুটি ঘটনা এটাই তুলে ধরে যে দেশ বিভাগের আগের বয়ান (হিন্দু ভারত আর মুসলমান পাকিস্তান) বদলায়নি। চেতনার গভীরে ভাবনাটা একই রয়ে গেছে যে ধর্ম রাষ্ট্রের পরিচায়ক। স্বাধীনতার ৬৭ বছর পরও ভারত গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে যেমনটা পেরেছে, ধর্মনিরপেক্ষতাকে সে রকম জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। আর পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সমস্যা নেই বললেই চলে, কারণ সে দেশে জাতিগত বিশোধন হয়েছে ব্যাপকভাবে। সে কারণে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক কলহ শিয়া আর সুন্নিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অমুসলিম ঘোষিত আহমদিয়াদের ওপরই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের মূল আঘাতটা লাগছে। কবর খুঁড়ে তাদের মৃতদেহের দেহাবশেষ বাইরে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলতে হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বৈরিতার মাত্রাটা কমে এসেছে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে হূদ্যতা সৃষ্টির আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানে। ভিসার শর্ত শিথিল হলে পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার মানুষ ভারতে আসবেন। এটা ভারতের জন্যও ভালো। এদিকে সমস্যাটা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও হাফিজ সাইদ যাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই উগ্রপন্থী প্রান্তিক গোষ্ঠীকেই পাকিস্তানের মূল ভাবধারা মনে করা হয়।

রাশিয়ার ওপর অবরোধ সহজ নয়

মানচিত্রে ক্রিমিয়া
ক্রিমিয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউক্রেন থেকে বের হয়ে রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ক্রিমিয়ায় গণভোটের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। ইঙ্গিত দিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন নিয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থানে যাবে তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়া উপদ্বীপটিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, রাশিয়ার ওপর কতটা কঠোর হতে পারে পশ্চিমা বিশ্ব। কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে রাশিয়ার ওপর? গণভোটের আগে থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান কঠোর করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ। রাশিয়া-ইইউ অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা স্থগিত করে সেই অবস্থানের জানান দেয় পশ্চিমা বিশ্ব। জি-৮-এ রাশিয়ার অংশগ্রহণের ওপর গতকাল স্থগিতাদেশ দিয়েছেন সংস্থাটির নেতারা। আগামী জুনে রাশিয়ার সোচিতে অনুষ্ঠেয় জি-৮ সম্মেলনেও ইইউ ও মার্কিন প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রিমিয়াকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের রুশপন্থী ২১ জন নেতার বিরুদ্ধে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং তাঁদের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। যুক্তরাষ্ট্র ১১ জনের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নিয়েছে। ইইউ ইঙ্গিত দিয়েছে, এই তালিকায় ধীরে ধীরে ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রথমে রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের এই তালিকায় রাখা হলেও ধীরে ধীরে রুশ ব্যবসায়ীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের বাইরে বিভিন্ন কূটনৈতিক এবং সামরিক সংলাপে রাশিয়াকে একঘরে করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ।
তারা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রাশিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কথাও ভাবতে পারে। এই মুহূর্তে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ইইউ। মস্কোকে বশে আনতে এটাও ব্যবহার করতে পারে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই সংগঠনটি। ইইউর এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ৮৪ শতাংশই নেয় ইউরোপের দেশগুলো। শুধু তা-ই নয়, রাশিয়ার রপ্তানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ৭৬ শতাংশই কেনে ইউরোপ; যা রাশিয়াকে চাপে ফেলার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করবে ইইউ। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে ইইউ সমস্যায় পড়বে কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক তথ্যে দেখা যায়, রাশিয়ার বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ৬৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ রয়েছে। এর বেশির ভাগই ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া। রাশিয়া বাণিজ্যিকভাবে একঘরে হলে তার প্রভাব রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও পড়বে। ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারলে ঋণ দেওয়া ইইউ ও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়বে। রাশিয়ার সরকারি মালিকানাধীন গাজপ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও একই অবস্থা হবে। তখন প্রয়োজনীয় চাহিদার বিশাল পরিমাণ গ্যাস কোথায় পাবে ইইউ। গ্যাসের দামই বা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে খুবই জটিল প্রক্রিয়া। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যেহেতু নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, তাই সেই অবস্থান থেকে ওয়াশিংটনের সরে আসার অবস্থা নেই। এখন কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসবে, সেটাই দেখার বিষয়। বিবিসি।

মুসলিম নেতা চান মমতা কংগ্রেসকে সমর্থন করুক

মমতা বন্দোপাধ্যায়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মুসলিম ধর্মীয় নেতা ইমাম বরকতি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রীর কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত। এদিকে জোট না হলেও নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রশ্নে মমতার তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার পথ খোলা রেখেছেন কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদের শাহি ইমাম মাওলানা বরকতি বলেন, ‘মুসলিমরা চায়, রাহুলের মতো মমতাও বিজেপির বিপক্ষে শক্তভাবে কথা বলেন।
আমরা জানি, মমতা ধর্মনিরপেক্ষ। তবে মমতা যদি তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় প্রমাণ করতে চান, তাহলে তাঁকে মোদির বিপক্ষে আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে।’ এদিকে তৃণমূলের সঙ্গে একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না কংগ্রেস। গত সোমবার এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট-প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং দর্শনে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে আমরা সব সময়ই আগ্রহী। তাঁদের সঙ্গে জোট হতেই পারে।’

এত নিচু দিয়ে ওড়া সম্ভব?

এত বড় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ কি রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারে? আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সীমানা পেরিয়ে সবার অগোচরে এমন একটি উড়োজাহাজের কোথাও অবতরণ করা কি সম্ভব? এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের নিখোঁজ উড়োজাহাজটি নিয়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কিছু স্থান রয়েছে, যা রাডারের আওতামুক্ত। কোনো উড়োজাহাজ নিচু দিয়ে উড়লে, রাডারকে ফাঁকি দিতেই পারে। তবে ৮ মার্চ নিখোঁজ উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৭৭-২০০ইআর মডেলের। এত বড় উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটা আদৌ সম্ভব কি না, সেটা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ গোয়েন্দা জেফনি বিট বলেন, পাহাড়ি এলাকার ভেতর দিয়ে উড়ে যাওয়া এবং রাডার ফাঁকি দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া একজন অভিজ্ঞ পাইলট ভালোই জানেন, কোথায় কোথায় রাডার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন কমান্ডোরা যখন ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিল, তারা এমনটাই করেছিল।’
গত সোমবার মালয়েশিয়ার সংবাদপত্র নিউ স্ট্রেইটস টাইমস অনামা সূত্রের বরাত দিয়ে খবর দেয়, নিখোঁজ বিমানটি রাডারকে ফাঁকি দিতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার ফুট বা তারও কম উচ্চতায় উড়তে ও পাহাড়ি এলাকা ব্যবহার করে থাকতে পারে। কয়েকজন বিশ্লেষক বলেন, এত বড় একটা উড়োজাহাজকে ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি দিয়ে দীর্ঘ সময় উড়িয়ে নেওয়া খুবই কঠিন। তা ছাড়া, সেটা করলেই যে রাডারের চোখ ফাঁকি দেওয়া সম্ভব, তাও স্পষ্ট নয়। বিমান চালনাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরিবহনসংক্রান্ত সাবেক মহাপরিদর্শক ম্যারি শিয়াভো বলেন, ‘পাঁচ হাজার ফুট রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার মতো যথেষ্ট নিচু নয়। সাধারণ ফ্লাইটগুলো সব সময়ই কোনো না কোনোভাবে এই উচ্চতায় উড়ে থাকে এবং তা রাডারে ধরা পড়ে।’ অবশ্য ভিন্নমতও রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অত বড় একটা উড়োজাহাজের পক্ষে রাডারকে ফাঁকি দেওয়া কঠিন কাজ হলেও তা অসম্ভব নয়। সিএনএন।