Monday, January 31, 2011

গল্প- তেঁতুল by সালাহ উদ্দিন শুভ্র

মায়ের ছবিটার ওপর একটা টিকটিকি চার পায়ে আর লেজে অবোধ্য কৌশলে ধীর হয়ে আছে। তার মুখের কিছু সামনেই রং আর অবয়ব ধরা যায় না এমন একটা পোকা। টিকটিকির চোয়ালে যার জীবনের শেষ পরিণতি। অথচ এই মুহূর্তে পোকাটা তা বুঝতে পারছে না। সেই পোকা তখন তার জীবনের কোনো ক্ষণ নিয়ে হয়তো ব্যস্ত।

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পুস্তক প্রকাশনা

দীনবন্ধু মিত্রের ঐতিহাসিক 'নীলদর্পণ' নাটক ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে। এর অর্থ এই নয় যে, সৃজনশীল প্রকাশনায় ঢাকার অতীত ঐতিহ্য গৌরবজ্জ্বল। বেঙ্গল লাইব্রেরি ক্যাটালগে ১৮৬৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভুক্তি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ঢাকা থেকে সৃজনশীল বইয়ের প্রকাশনা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এমনকী নোটবই ব্যতীত মূল পাঠ্যপুস্তকও ঢাকা থেকে তেমন একটা ছাপা হয়নি।

উত্তপ্ত ইয়েমেনে বিক্ষোভ চলছেই

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এদিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিরসনে ক্ষমতাসীন দল সংলাপের জন্য বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা গত শুক্রবার রাতে এ কথা জানায়।
গতকাল বিক্ষোভকারীদের মিছিল সানায় অবস্থিত মিসরের দূতাবাসের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলী চলে গেছেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককেও চলে যেতে হবে এবং এরপর চলে যেতে হবে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টকেও।
গত সপ্তাহে কয়েকটি বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া নারী বিক্ষোভকারী তাওয়াকেল কারমান বলেন, সাধারণ পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় অন্য বিক্ষোভকারীরা তাদের ধরে ফেলে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর শাসনের অবসানের আগ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।
তাওয়াকেল কারমান বলেন, তাঁদের সঙ্গে আছে দক্ষিণের সাউদার্ন মুভমেন্ট, উত্তরের শিয়া বিদ্রোহী ও সংসদের বিরোধী পক্ষ। তিনি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান জানান।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা মধ্য জানুয়ারি থেকে প্রায় প্রতিদিনই সানায় সালেহর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার ওয়েবসাইটে ক্ষমতাসীন দল জেনারেল পিপলস কংগ্রেস (জিপিসি) পার্টির একটি কমিটির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, তারা গণমাধ্যমকে প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। এ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে কাজ করার এবং সংলাপে অংশ নিয়ে তা সফল করার আহ্বান জানিয়েছে।

‘মধ্যপ্রাচ্যের বিক্ষোভ ইরানের বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি’

তিউনিসিয়ায় সরকার পরিবর্তন, মিসর ও ইয়েমেনে সহিংস বিক্ষোভ যেন ইরানের সেই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ খাতামি এ কথা বলেন। শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবা পাঠের সময় খাতামি বলেন, একটি ইসলামি মধ্যপ্রাচ্য আত্মপ্রকাশ করছে। ইরানি নেতা বলেন, ইরানের সাবেক শাহ্ যে নীতি অবলম্বন করেছিলেন, তিউনিসিয়ার বেন আলীও একই নীতি অবলম্বন করেন। তাঁকেও একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। মিসরের হোসনি মোবারকের পরিণতি শাহ্র চেয়ে ভালো হবে না।

দেশে দেশে প্রবাসী মিসরীয়দের বিক্ষোভ

মিসরের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর প্রায় ৪০০ বিক্ষোভকারী ফেইথ মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্ট মোবারকের পদত্যাগ দাবি করেন। রাজধানী আঙ্কারায় মিসরের দূতাবাসের সামনে প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। এ সময় তাঁরা মোবারকের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনেও মিসরের দূতাবাসের সামনে প্রায় অর্ধশত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে মোবারকের পদত্যাগ দাবি করেন। এখানে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া আবদুল্লাহ আলী আল-জাজিরা টেলিভিশনকে বলেন, তাঁরা মিসরে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন চান।
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে অবস্থিত মিসরের দূতাবাসের সামনে প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। এ সময় তাঁরা ‘মোবারক বিদায় হও, আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতা চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এ ছাড়া কাতারের রাজধানী দোহায়ও মিসরীয় দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে।

জেগে উঠেছে আরবের তরুণ প্রজন্ম

জেগে উঠেছে আরবের তরুণ প্রজন্ম। গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় নেমে এসেছে তারা। রাজপথে নেমে তারা ইতিমধ্যেই পতন ঘটিয়েছে তিউনিসিয়ার শাসক জয়নুল আবেদিন বেন আলীর, যিনি দীর্ঘ ২৩ বছর সে দেশের ক্ষমতায় ছিলেন। গণতন্ত্রের জন্য তিউনিসিয়ার তরুণেরা যে বিক্ষোভ শুরু করেছিল, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে মিসর, ইয়েমেন, জর্ডান, আলজেরিয়া, ওমান, সুদান ও মৌরিতানিয়ায়। তারণ্যের এ আগুন মধ্যপ্রাচ্যে কোন পরিবর্তনের ঈঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে নানা হিসাব কষছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।মিসর আরব বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ। আকৃতির দিক দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী বিশ্বে দশম। ১৯৫২ সাল থেকে সেনা শাসকেরাই দেশটি শাসন করে আসছে। গণতন্ত্রের জন্য প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকলে এর জন্য আন্দোলন এত দিন তেমন একটা দানা বাঁধেনি। কিন্তু তিউনিসিয়ার সাম্প্রতিক সফল গণ-অভ্যুত্থান মিসরের তরুণ প্রজন্মসহ জনসাধারণকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। তারা নেমে আসে রাস্তায়। চলমান এই আন্দোলনে ইতিমধ্যেই ৭৪ জন নিহত হয়েছে। আন্দোলনের ধাক্কা গিয়ে লেগেছে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সরকারেও। ইতিমধ্যেই তিনি মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর ছেলে গামাল মোবারক ১০০টি লাগেজ নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে।আরব বিশ্বের আরেক দেশ ইয়েমেনও এখন রীতিমতো উত্তাল। ১৯৭৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর পদত্যাগের দাবিতে প্রতিদিন রাজপথে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করছেন। গণতন্ত্রের দাবিতে চারজন বিক্ষোভকারী ইতিমধ্যেই আত্মাহুতি দিয়েছেন।আলজেরিয়ায়ও প্রবল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পাঁচজন নিহত ৮০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদুর আজিজ বুতেফলিক ১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন।জর্ডানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ খুব একটা চোখে না পড়লেও তিউনিসিয়ার ঘটনার পর সেখানে এখন প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। রাজধানী আম্মানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভ করছে।দেশজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সুদানের রাজধানী খার্তুমে সম্প্রতি এক ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। আরব বিশ্বের আরেক দেশ ওমানেও ১৭ জানুয়ারি বিক্ষোভ হয়েছে। রাজতন্ত্রের জাঁতাকলে পিষ্ট এ দেশটির এ বিক্ষোভকে অনেকেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মৌরিতানিয়ায় গত ২২ জানুয়ারি এক ব্যক্তি নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। ২১ জানুয়ারি মরক্কোতেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ওই বিক্ষোভে তিনজন নিজেদের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। উল্লেখ্য, তিউনিসিয়ায় সরকার পতনের সূচনা হয়েছিল একজন বিক্ষোভকারীর গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে।

বোমায় কান্দাহারের ডেপুটি গভর্নর নিহত

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চিলীয় প্রদেশ কান্দাহারের ডেপুটি গভর্নর আবদুল লতিফ আশনা গতকাল শনিবার আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আশনার দেহরক্ষীসহ অপর পাঁচজন আহত হন । কর্মকর্তারা এ কথা জানান। আশনার মুখপাত্র জালমে আইয়ুবী জানান, এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী মোটরসাইকেলে এসে ডেপুটি গভর্নরের গাড়িবহরে হামলা চালায়। এ সময় আশনা গাড়িতে করে কান্দাহারে তাঁর কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনবেরি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

হিটলারকে বোকা বানালেন যে গুপ্তচর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নাৎসি বাহিনী বিশ্বস্ত বলে ভুল করা এক গুপ্তচরের মাধ্যমে কীভাবে বোকা বনেছিল, এ তথ্য এই প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে। এই গুপ্তচর হলেন স্প্যানিশ ব্যবসায়ী জুয়ান পুজল গার্সিয়া। ব্রিটেনে নাৎসিদের নিয়োগ করা ওই গুপ্তচরের দ্বৈত ভূমিকার কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেয়াদও কমে আসে। ঐতিহাসিক ডি-ডে সম্পর্কের মাধ্যমে নাৎসি সেনাদের কাছে পাঠানো ওই গুপ্তচরের এক চিরকুট থেকে তাঁর কারসাজির কথা জানা যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে ডি-ডে (১৯৪৪ সালের ৬ জুন) একটি স্মরণীয় দিন। ওই দিন জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা মিত্রবাহিনীর বিরাট একটি দল ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে পৌঁছায়। এই সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে নাৎসিদের পতন শুরু হয়।
ওই চিরকুটের তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, গার্সিয়া মিত্রবাহিনীর এই সেনা মোতায়েন সম্পর্কে নাৎসিদের ভুল তথ্য দেন। গার্সিয়া নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে নরম্যান্ডির উপকূলে নয়, পাস দি কালাইয়ে বিপুলসংখ্যক মিত্র সেনা ভিড়ছে। এই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে হিটলার যে পথ অনুসরণ করেন, এতে নাৎসি বাহিনী সাফল্যের বদলে বরং বিপদের মুখে পড়ে।

পার্লামেন্ট ভেঙে দিচ্ছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ব্রায়ান কোয়েন আগামী মঙ্গলবার দেশের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। গত শুক্রবার তিনি এ কথা জানান।
আসন্ন ওই সাধারণ নির্বাচনে ব্রায়ান কোয়েনের ক্ষমতাসীন ফিয়ানো ফল পার্টির ব্যাপক ভরাডুবির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দেশটিতে তাঁর ব্যর্থ শাসনামলের পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেদ্দায় বন্যায় এক বাংলাদেশিসহ ১১ জনের মৃত্যু

সৌদি আরবের জেদ্দায় গত বুধবার থেকে প্রবল বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় এক বাংলাদেশিসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন সৌদি আরবের, দুজন কানাডীয়, একজন মিসরীয়, একজন তুর্কি, একজন ফিলিপিনো, একজন ইয়েমেনি, একজন নেপালি ও একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, এখনো তিন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বন্যাদুর্গত লোকদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার নিয়ে তৎপরতা চালিয়েছে। এ ছাড়া বন্যার কারণে জেদ্দার সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আইভরি কোস্টের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ

আইভরি কোস্টের সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। তারা আগামী এক মাসের মধ্যে দেশটির নেতৃত্ব-সংকট নিরসনে পাঁচটি দেশের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করবে। গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কোক উৎপাদনকারী এই দেশটিতে।আফ্রিকান ইউনিয়নস পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিলের (পিএসসি) বর্তমান প্রধান মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহামেদ ওউল আবদেল আজিজ গত শুক্রবার বলেন, ‘সংকট নিরসনে আমরা একটি প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই প্যানেল আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করবে। তাদের সিদ্ধান্ত আইভরি কোস্ট কর্তৃপক্ষকে মানতে হবে। দু-এক দিনের মধ্যে প্যানেল সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও মৌরিতানিয়ার নেতাদের অংশগ্রহণে চার ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠকের পর আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান জিন পিং বলেন, ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছার জন্য আমরা আলোচনার ক্ষেত্র বাড়াচ্ছি।’জিন পিং বলেন, আইভরি কোস্টের সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের অবশ্যই মুখোমুখি বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমারও শরিক হতে চায়: সু চি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে মিয়ানমারও শরিক হতে চায়। গতকাল শবিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হওয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে এক অডিও বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এ কথা বলেন।
সু চি বলেন, ‘আমি মিয়ানমারের সাড়ে পাঁচ কোটি নাগরিকের পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা বিশ্বসম্প্রদায়ের অংশ হতে চাই। শুধু অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেই যুক্ত হওয়া নয়, বরং আমরা নিজ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্যও অর্জন করতে চাই, যার মাধ্যমে আমাদের দেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে পুরোমাত্রায় তুলে ধরা সম্ভব হবে।’ তিনি বলেন, মিয়ানমারের এই বিপুলসংখ্যক নাগরিকের বেশির ভাগই এখনো পশ্চাতে পড়ে রয়েছে।’ দেশটির উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে মিয়ানমারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সু চি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা ও জাতীয় ঐক্য ছাড়া মিয়ানমার বিশ্বসম্প্রদায়ের অংশ হতে পারবে না।
পার্লামেন্ট অধিবেশন কাল বসছে: মিয়ানমারে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কাল সোমবার শুরু হতে যাচ্ছে সে দেশের পার্লামেন্ট অধিবেশন। অধিবেশনের কার্যক্রম গোপন রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে জান্তা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশটিতে আর কোনো পার্লামেন্টের অধিবেশন বসেনি। সু চির অনুপস্থিতিতে গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। নির্বাচিত এক হাজারেরও বেশি পার্লামেন্ট সদস্য এ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। এ সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁরা রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন।
নির্বাচনের আগেই এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এ ছাড়া সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) এক হাজার ১৫৪ আসনের মধ্যে ৮৮২টিতেই জয়লাভ করে। এদিকে জান্তা সরকারের তথাকথিত ‘সুশৃঙ্খল গণতন্ত্র’র নামে দেওয়া এই নির্বাচনে বিজয়ী আইনপ্রণেতারা জানেন না নতুন পার্লামেন্টে তাঁদের ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এনডিএফ) আইনপ্রণেতা সো উইন বলেন, ‘পার্লামেন্ট কীভাবে চলবে, এ বিষয়ে কেউ কিছুই জানে না। সেখানে যাওয়ার পর আমরা সব বুঝতে পারব।’
এ ছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মিয়ানমারে প্রকাশ্যেই আলোচিত হচ্ছে। তা হলো, দেশটির প্রেসিডেন্ট কে হচ্ছেন? সাধারণত উচ্চকক্ষের নির্বাচিত তিনজন প্রার্থী থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দুজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়ে থাকে। একটি নির্বাচন কমিটি এটি করে।
মিয়ানমারে ১৯৯২ সাল থেকে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা জেনারেল থান শয়ে (৭৭) অবসরের প্রান্তসীমায় পৌঁছে গেছেন। তবে তিনি পুরোপুরি ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ।
পার্লামেন্ট অধিবেশনে রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার ও মুঠোফোন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এবার ব্যাংকিং খাতের গোপন নথি ফাঁস করবেন অ্যাসাঞ্জ

গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, তাঁরা এবার ব্যাংকিং খাতের গোপন নথি ফাঁস করবেন। তবে এসব নথিতে কী ধরনের তথ্য থাকতে পারে, সে ব্যাপারে আভাস দেননি তিনি।সিবিএস টেলিভিশনে গত শুক্রবার ‘৬০ মিনিটস’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ এসব কথা বলেন। আজ রোববার তাঁর ওই সাক্ষাৎকার প্রচার করার কথা রয়েছে।
এর আগে ফোবর্স ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ২০১১ সালের শুরুতে উইকিলিকস মার্কিন বড় ব্যাংকগুলোর গোপন নথি প্রকাশ করবে। এই পরিকল্পনাকে তিনি ‘মেগালিক’ বলে উল্লেখ করেন। বলা হয়, এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ নভেম্বর ব্যাংক অব আমেরিকা করপোরেশনের শেয়ারের দর তিন শতাংশেরও নিচে নেমে যায়। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা ছিল—উইকিলিকস ব্যাংকিং খাতের যে তথ্য প্রকাশ করার কথা বলেছে, তাতে এই ব্যাংকের অনেক গোপন তথ্য থাকতে পারে।এ ছাড়া ২০০৯ সালের অক্টোবরে কম্পিউটার ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাসাঞ্জ বলেন, তাঁদের কাছে ব্যাংক অব আমেরিকার পাঁচ গিগাবাইট পরিমাণ গোপন নথি রয়েছে।
৬০ মিনিটস অনুষ্ঠানের সঞ্চালক স্টিভ ক্রফটসের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে কী নথি ফাঁস করা হবে, সে ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’ তিনি বলেন, উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রের বাজে আচরণের জবাব দেবে।’

শ্রীলঙ্কার ক্ষতির সিরিজ

বৃষ্টির কারণে গত ডিসেম্বরে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ স্থগিত করে দেশে ফিরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই সময় সিরিজ না হওয়ায় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) কত ক্ষতি হয়েছে জানেন? এক লাখ ২০ হাজার ডলার!
এসএলসির প্রধান নির্বাহী অজিথ জয়াসেকেরা কাল বলেছেন, সম্প্রচার-স্বত্ব হিসেবে টেলিভিশন ফি বাবদ তাঁদের ক্ষতি প্রতি ম্যাচে ২৫ ডলার করে, ‘ম্যাচ হয়নি। আমরাও প্রতি ম্যাচ থেকে ফি পাইনি।’ ওই সিরিজের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু তাতে এসএলসির ওই গচ্চা টাকা উঠে আসবে না।তা ছাড়া এবারের তিন ম্যাচের সিরিজটিও আর টেন স্পোর্টস সম্প্রচার করবে না। তাদের পরিবর্তে খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে শ্রীলঙ্কার জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন রুপাভাহিনি। যার অর্থ, শ্রীলঙ্কানদের বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দর্শকেরা সরাসরি খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবে। আগে পাঁচটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপের দুটি ভেন্যুতে। এবার ৩১ জানুয়ারি, ৩ ও ৬ ফেব্রুয়ারি—তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে।

ক্রিকেটকে বিদায় ব্রাকেনের

বল হাতে নিলেই উইকেট, দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া—বছর দেড়েক আগেও কি দুর্দান্ত ফর্মেই না ছিলেন নাথান ব্রাকেন! গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলীয় সাফল্যের অন্যতম কুশীলব ২০০৯ পকেটে পুরে নেন অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার। ২০০৮-এ ওঠেন ওয়ানডে বোলিংয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে, জায়গা করে নেন আইসিসির ২০০৮ বিশ্ব ওয়ানডে দলেও। কিন্তু চোটের কাছে হেরে সেই ব্রাকেন নাম লেখালেন সাবেকের খাতায়!
হ্যাঁ, নাথান ব্রাকেন এখন সাবেক এক ক্রিকেটারের নাম। চোটের কারণে ৩৩ বছর বয়সেই ক্রিকেটটাকে বিদায় বলে ফেললেন ওয়ানডে বিশেষজ্ঞ ব্রাকেন। গতকাল বিদায়ী ঘোষণায় ১৭৪টি (অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ সর্বোচ্চ) ওয়ানডে উইকেটের মালিকের কণ্ঠেও সেই অসহায়ত্বের সুর, ‘সত্যিই আমি আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া—দুই জায়গাতেই ক্রিকেটটা উপভোগ করছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হাঁটুর চোটই শেষ পর্যন্ত সব কেড়ে নিল।’
ব্রাকেন সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছিলেন ২০০৯-এর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, নটিংহামে। ‘অবসরে’র পরামর্শটা তাঁকে দিয়েছেন চিকিৎসকেরাই। ১১৬টি ওয়ানডে, ৫টি টেস্ট ও ১৯টি টি-টোয়েন্টি খেলা পেসার মাঠে থাকার সম্ভাব্য সব পথ খুঁজে দেখেছেন, কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে অবসর নেওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন।
বিদায়বেলায় বাঁহাতি এই সুইং বোলার দিয়েছেন বিশেষ এক পরামর্শ—অস্ট্রেলিয়ার কোচিং কাঠামো বদলানো যায় কি না ভেবে দেখতে বলেছেন, যাতে খেলোয়াড়েরা তাঁদের নিজস্ব প্রশিক্ষকের কাছে আরেকটু বেশি সময় কাটাতে পারেন। ক্রিকেট ছাড়লেও ব্রাকেন আঁকড়ে থাকবেন ক্রিকেটকেই। ভবিষ্যতে কাজ করতে চান ক্রিকেট মিডিয়ায়।

ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ২৫০ রান

সম্মিলিত দলীয় প্রচেষ্টার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে আজকের ম্যাচের অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকার্ডটা। তরুন ইংলিশ পেসার ক্রিস ওয়াকসের অসাধারণ বোলিংয়ের সামনে বড় কোন পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেন নি অসি ব্যাটসম্যানরা। পঞ্চম উইকেটে ডেভিড হাসি আর মাইকেল ক্লার্কের সর্বোচ্চ জুটিটা ৬৫ রানের। কিন্তু তারপরও সবার ছোট ছোট অবদানের উপর ভর করে শেষপর্যন্ত ২৪৯ রান জমা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান স্কোরবোর্ডে। আর দীর্ঘদিন পর রানখরা কিছুটা হলেও কাটাতে পেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বদলি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রানের ইনিংসটি এসেছে তাঁরই ব্যাট থেকে। ক্রিস ওয়াকস ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ৪৫ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ছয়টি উইকেট।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা খারাপ হয় নি অস্ট্রেলিয়ার। উদ্বোধনী জুটিতে শেন ওয়াটসন আর ব্রাড হাডিন যোগ করেছিলেন ৪৮ রান। কিন্তু ১৬ রান করে ওয়াটসন আউট হয়ে যাওয়ার পর মোটামোটি নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকে অস্ট্রেলিয়ার। তবে আজকের অসি ইনিংসের ইতিবাচক দিকটা হলো আউট হওয়ার আগে প্রত্যেকেই সাধ্যমতো কিছু কিছু করে রান জমা দিয়েছেন স্কোরবোর্ডে। ওয়াটসন, শন মার্শ, ক্যামেরন হোয়াইট ও মিচেল জনসন— চারজনই করেছেন ১৬ রান। ব্রাড হাডিন আর ডেভিড হাসি পেরোতে পেরেছেন ত্রিশের কোটা। করেছেন যথাক্রমে ৩৭ ও ৩৪ রান। স্টিভেন স্মিথ অপরাজিত ছিলেন ২৪ রানে।

আদেবায়োরে খুশি মরিনহো

ইনজুরির কারণে রিয়াল মাদ্রিদ দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়েছে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনকে। স্ট্রাইকার-সংকটে পড়ে রিয়ালের লা লিগা অভিযান এখন অনেকটাই অগোছালো। আক্রমণভাগের কৌশল সাজাতে রীতিমতো হিমশিম দলের পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো। তিনি কিছুদিন ধরেই বলে আসছিলেন স্ট্রাইকার-সংকটের কথা। ক্লাব ম্যানেজমেন্টকে বারবারই মনে করিয়ে দিয়েছেন, নতুন একজন স্ট্রাইকারের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা। ম্যানেজমেন্টও মরিনহোর কথায় হন্যে হয়েই নেমেছে একজন মানসম্মত স্ট্রাইকারের সন্ধানে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্লাবটি টাকার ঝুলি নিয়ে ঘুরেছে বিভিন্ন ক্লাবের দ্বারে। নিস্টলরয়, ক্লোসা, তেভেজ থেকে শুরু করে অনেককে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার ইমানুয়েল আদেবায়োরেরই দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। আপাতত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেই বাকি মৌসুমটা কাটিয়ে দিতে হবে তাদের।
মন্দের ভালো হিসেবে নয়, আদেবায়োরকে পেয়ে খুশিই হয়েছেন কোচ মরিনহো। যদিও এক বছর ধরে মাঠের বাইরে সময় কাটাচ্ছেন আদেবায়োর। গত জানুয়ারি মাসে আফ্রিকান নেশনস কাপে টোগো জাতীয় দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে আর মাঠেই নামতে পারেননি আদেবায়োর। তবে দীর্ঘদিনের এই অনুপস্থিতি কোনো সমস্যা তৈরি করবে না বলেই বিশ্বাস মরিনহোর। তিনি বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের পর থেকে আদেবায়োর কোথাও নিয়মিত খেলেনি। কিন্তু মূল ব্যাপারটা হলো যে, সে ইনজুরিতে পড়েনি। আর প্রতিদিনই একটু একটু করে উন্নতি করছে। এখন মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সে। অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই এটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আদেবায়োরের বড় ক্লাবে খেলার যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা দুটোই আছে। সে জন্যই আমি এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি না।’
হিগুয়েইনের অনুপস্থিতিতে মূল একাদশে জায়গা পেয়ে নিজেকে নতুন করে চেনানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা। শেষ দুই ম্যাচে গোল করে রিয়ালকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। এখন আদেবায়োর দলে আসায় আবারও বেনজেমা মূল একাদশের বাইরে চলে যাবেন কি না, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে মরিনহো ব্যাপারটাকে দেখছেন অন্যভাবে। তাঁর মতে, মাঠের রণকৌশল ঠিকভাবে সাজাতে গেলে দলে অন্তত তিনজন ভালো স্ট্রাইকার থাকা আবশ্যক। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘দলে তিনজন স্ট্রাইকার থাকা খুবই জরুরি। এ মুহূর্তে যদি আরও একজন ইনজুরিতে পড়ে, তাহলে আমাদের কাছে শুধু একজন স্ট্রাইকার বাকি থাকবে। এখন রিয়ালে একটা আদর্শ অবস্থা আছে। হিগুয়েইন ফিরে এলে তাকে আমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাব। এখন আমি পুরোপুরি চিন্তা করছি, আদেবায়োর ও বেনজেমাকে নিয়ে। কারণ তারা এখন খুবই অপরিহার্য খেলোয়াড়।

এবারের বিশ্বকাপ স্পিনার ও শিশিরভেজা সন্ধ্যার

বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করার সময়ই তিন স্বাগতিক দেশ কিছু ব্যাপারে অন্য ১১ প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে গেছে। নিজেদের মাঠের চরিত্র বিচার করে এই তিন দেশই ১৫ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াড নির্বাচন করেছে স্পিনারদের প্রাধান্য দিয়ে। পাশাপাশি পুরো দল নির্বাচনে এমন খেলোয়াড়দের তারা প্রাধান্য দিয়েছে, যাঁরা ব্যাট হাতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কয়েক ওভার স্পিন দিয়েও দলকে সাহায্য করতে পারেন।
১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রুপ পর্যায়ের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্বকাপের মূল লড়াইটা শুরু হবে মার্চ মাসে। উপমহাদেশে মার্চ মাসের আবহাওয়ার সঙ্গে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের অনেক পার্থক্য। এ সময় আবহাওয়া হয়ে ওঠে বেশ গরম। সাধারণত মার্চ মাসকে উপমহাদেশের ক্রিকেট মৌসুমের একেবারে অন্তিম সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময়টিতে স্পিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। মার্চের গরমে দিনে ম্যাচগুলোতে উইকেট হয়ে উঠবে শুষ্ক ও শক্ত। বলার অপেক্ষা রাখে না, দলগুলো এ সময় স্পিন দিয়েই দলগুলো প্রতিপক্ষের মারকুটে ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করতে সচেষ্ট হবে। একদিনের ক্রিকেট যেহেতু ব্যাটসম্যানদেরই খেলা, তাই স্পিন যে এ সময় ম্যাচগুলোর ফল নির্ধারণী অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
তবে, এবারের বিশ্বকাপের ৪৯টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে পুরোটাই দিনের আলোয়। বাকি ম্যাচগুলো সবই দিন-রাতের। ম্যাচের শুরুটা সূর্যের আলোতে হলেও ফল নির্ধারণী অংশটা অনুষ্ঠিত হবে রাতের বেলা—ফ্লাড লাইটের কৃত্রিম আলোয়। তাই এ সময় শিশির হয়ে উঠবে মাথাব্যথার বড় একটি কারণ। উপমহাদেশে দিনের আলোয় অনুষ্ঠিত খেলাগুলোতে যেখানে স্পিনাররা রাজত্ব করেন, ফ্লাড লাইটের আলোয় শিশিরের কারণে বল ভিজে যাওয়ায় তাঁরাই হয়ে ওঠেন কোনো দলের ম্যাচ হারার সবচেয়ে বড় কারণ।
গত বছরের ঠিক এ সময়ই ঢাকায় ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের কথা এখানে বলে নেওয়া ভালো। সেই সিরিজের সাতটি ম্যাচেই পরে ব্যাটিং করা দল জয় পেয়েছে। এবারের বিশ্বকাপেও দিবা-রাত্রির ম্যাচগুলোর সময় আবহাওয়া যদি একই রকমের আচরণ করে, তাহলে এ কথা জোর দিয়ে বলাই যায়, ম্যাচগুলোতে টস হয়ে উঠবে মহা গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। টস-জয়ী দল অবশ্যই চাইবে আগে সূর্যের আলোর সুবিধা নিয়ে স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কম রানে বেঁধে ফেলতে; আর পরে ফ্লাড লাইটের আলোয় শিশিরের কারণে প্রতিপক্ষের স্পিনারদের বিব্রতকর অবস্থার সুযোগে খেলায় বাজিমাত করা।
এমন পরিস্থিতিতে একাদশে বৈচিত্র্য থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খেলার প্রথমার্ধে ফিল্ডিং করলে আপনার দলে প্রয়োজন ভালো কয়েকজন স্পিনার—যাঁরা প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখতে পারবেন সহনীয় রানের মধ্যে। ফ্লাড লাইটের আলোয় ফিল্ডিং করলে শিশিরের কারণে আপনার দলে থাকতে হবে কয়েকজন ভালো মিডিয়াম পেসার, যাঁরা সুইং দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করতে পারবেন।
এবারের বিশ্বকাপে কোন দলের কী সম্ভাবনা, সেটা নিয়ে আলোচনায় গেলে আমি প্রথমেই বলব বাংলাদেশের কথা। কয়েক দিন আগেও যে দলটি ক্রিকেট বিশ্বের হাসির খোরাক ছিল, তারা এখন অনেক পরিণত। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের দৌড়ে আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখব। এর কারণ, তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দলে বিশ্বমানের কয়েকজন স্পিনারের উপস্থিতি। এই দলের কম্বিনেশনটাই এমন যে তারা ইচ্ছা করলে ৫০ ওভারের ইনিংসে ৪০ ওভারই স্পিনারদের কাজে লাগাতে পারবে।
ভারতীয় দলে এমন কয়েকজন ব্যাটসম্যান রয়েছেন, যাঁরা প্রয়োজনে স্পিনও করতে পারেন। সেই সঙ্গে দলটিতে হরভজন সিংয়ের নেতৃত্বে বিশ্বমানের স্পিন আক্রমণ তো রয়েছেই। এই দলে পার্টটাইম স্পিনার হিসেবে বীরেন্দর শেবাগ ও যুবরাজ সিং এমন মানের স্পিনার, যাঁরা কিনা ইংল্যান্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্পিনারদের চেয়েও যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তবে অবশ্যই ইংলিশ স্পিনারদের সেই তালিকায় আমি গ্রায়েম সোয়ানের মতো স্পিনারকে রাখব না।
ভারত বিশ্বকাপ জয়ের জন্য চমত্কার একটি দল। তবে এই দলটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ। ৯৭টি আন্তর্জাতিক শতক হাঁকিয়ে এবারের বিশ্বকাপটি খেলতে আসবেন শচীন টেন্ডুলকার। অনেকে বলছেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তাই শেষ বিশ্বকাপটি তিনি স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখে।অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড দলের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ইনজুরি। অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং, মাইক হাসি ও ইংল্যান্ডে স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্রায়েম সোয়ানের ইনজুরি বিশ্বকাপে ভালোই প্রভাব ফেলতে পারে।শচীন টেন্ডুলকারের মতোই আরেক গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরন এবারই খেলবেন তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। শ্রীলঙ্কা দলটির এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা রয়েছে ইতিহাসের সেরা এই অফস্পিনারকে ঘিরেই। দলটির সবচেয়ে বড় সুবিধা, এই দলটির কোনো ইনজুরি-সমস্যা নেই। আর গোটা দলটাই মুখিয়ে রয়েছে মুরালিকে যথাযোগ্য বিদায় সম্ভাষণ জানাতে। বিশ্বকাপ জয়ই হতে পারে, মুত্তিয়া মুরালিধরনকে দেওয়া সবচেয়ে বড় বিদায় উপহার।
নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান দলকে গতানুগতিকই মনে হয়েছে। এই দুটো দলে সাফল্য ক্ষুধিত খেলোয়াড়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।আর দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি ভালো হলেও এই দলের সবচেয়ে বড় শত্রু অতীত ইতিহাস। অতীতের জুজু কাটিয়ে উঠতে পারলে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা।

Sunday, January 30, 2011

অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্য চলছেই by চিররঞ্জন সরকার

রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বাগে আনতে অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সম্প্রতি নতুন সব নিয়মনীতি প্রবর্তন করা হলো। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না। নতুন নিয়মের বিষয়ে প্রথম দিন চালকদের কিছুটা সচেতন থাকতে দেখা গেলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আবারও অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করছেন তাঁরা। এখনো অধিকাংশ চালককে মিটারে না গিয়ে চুক্তিতে যাত্রী বহন করতে দেখা যাচ্ছে। অল্প দূরত্বে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথারীতি ‘যাব না’ জানিয়ে গাড়ি টান দিয়ে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন; অথচ সরকার যথারীতি এ বিষয়েও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
রাজধানীতে যাদের নিজস্ব গাড়ি নেই, বাস-মিনিবাসে ওঠার মতো অভ্যাস, শারীরিক সামর্থ্য ও ধৈর্য নেই, তাদের বাধ্য হয়েই সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করতে হয়। আর এসবের ওপর নির্ভর করাটা যে কতটা বিড়ম্বনার ব্যাপার, তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। প্রয়োজনে আপনি ঢাকা শহরে যানবাহন পাবেন না। মধ্যবিত্তরা দীর্ঘদিন রিকশানির্ভর ছিল। কিন্তু রাজধানীর ভিআইপি সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে রিকশা তুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। ঢাকা শহরে সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাবে চলাচল করাটা যে কতটা বিড়ম্বনার ব্যাপার, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে।
এমনিতেই আমাদের দেশের মানুষের অন্তঃকরণ-জুড়ে কেবলই ক্ষোভ-বঞ্চনা, না পাওয়ার বেদনা, জীবনের হিসাব মেলাতে না পারার একটা টানাটানি, অসহিষ্ণু পরিস্থিতি। সীমিত আয় দিয়ে সংসারজীবনের সবকিছু সামলাতে গিয়ে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা। ঘর-কর্মক্ষেত্র কোথাও মানুষের শান্তি-স্বস্তি নেই। এমন পরিস্থিতিতে যখন রাস্তায় বের হয়ে প্রতি পদে ভোগান্তি, হয়রানি পোহাতে হয়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে যদি যুগপৎ প্রত্যাখ্যান, অপমান আর আর্থিক দণ্ড ভোগ করতে হয়, তখন সত্যিই নিজেকে খুবই তুচ্ছ, অসহায় মনে হয়। ধিক্কার দিতে ইচ্ছা হয়, সবকিছু ভেঙে ফেলতে ইচ্ছা করে! এই কি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা? এর চেয়ে অধম জীবন আর হতে পারে?
সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে যাত্রীদের সেই ১০ বছর আগে থেকেই সমস্যা। ২০০১ সালে তদানীন্তন সরকার টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সির জায়গায় যখন থ্রি-স্ট্রোক সিএনজি চালু করল, তখন আমাদের মতো রাজধানীর নাগরিকেরা বেশ খুশি হয়েছিল। স্বস্তি পেয়েছিল। সঙ্গে এল ট্যাক্সিক্যাব। বেশ কয়েকটি কোম্পানি নিয়ে এল শত শত ট্যাক্সিক্যাব। হলুদ, কালো গাড়ি। সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাব মিটারে ভাড়া নেবে, সরকার তা বাধ্যতামূলক করল। যাত্রীরা যে গন্তব্যে যেতে চায়, সেখানেই ভাড়ার গাড়ি যাবে—সরকার নির্দেশ দিল। চালকদের পরতে হবে ইউনিফর্ম। চালকদের ছবি, নাম ও গাড়ির বিস্তারিত বিবরণ-সংবলিত কাগজপত্র রাখতে হবে গাড়িতে—এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাত্রীরা যেন দেখতে পায়। গাড়ির গায়ে পুলিশের বেশ কয়েকটি টেলিফোন নম্বর। সেই টেলিফোন নম্বরে যাত্রীরা অভিযোগ করতে পারবে। একেবারে আদর্শ এক পরিবহন নিয়মনীতি। সরকার বাহবা পেল। যদিও সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব-সংক্রান্ত ‘আদর্শ’ সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে বেশি দিন লাগল না। শুরুতেই গন্ডগোল। সিএনজিতে ভাড়ার মিটার চালু হলো বটে। তবে যাত্রীরা এই ব্যবস্থার সুবিধা তেমন পেল না। বিশেষ করে, সিএনজির চালকেরা প্রায় প্রথম থেকেই মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলেন। আরেকটি বিরক্তিকর কাজ তাঁরা করলেন—যাত্রী যেখানে যাবে, সেখানে তাঁরা যাবেন না। যে গন্তব্য নিজের পছন্দ, চালক সেখানে যাবেন—অন্য কোথাও না। চালকেরা ইউনিফর্ম পরলেন। গাড়ির গায়ে বড় করে অভিযোগের টেলিফোন নম্বর শোভা পেল। দুঃখের বিষয়, দুটো মূল সমস্যার কোনো সমাধান হলো না। যাত্রীর গন্তব্যে চালকেরা যাবেন না, আর মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া দাবি। বিশেষ করে, দুই মাইলের গন্তব্যে সিএনজি কখনোই মিটারের ভাড়ায় চলেনি। এখনো চলে না।
বেশি ভাড়া কেন আদায় করেন, এ ব্যাপারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের জিজ্ঞেস করলেই তাঁরা বলেন, ‘কাগজে-কলমে ৬৫০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মালিককে দিনান্তে জমা দিতে হয় হাজার টাকা। বিভিন্ন অজুহাতে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য গুনতে হয় গড়ে প্রায় ১০০ টাকা। এ ছাড়া তেল-গ্যাস-রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যারেজ ভাড়া বাবদ ব্যয় করতে হয় দৈনিক প্রায় হাজার-দেড় হাজার টাকা। ঢাকা শহরে যে যানজট, তাতে করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দৈনিক কতটুকুই বা চলতে পারে, কজন যাত্রী বহন করতে পারে? কাজেই আমাদের বাড়তি আদায় না করে উপায় কী?’
মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, ‘একটি সিএনজির দাম প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। রাস্তায় চলাচলের জন্য এক বছরের কাগজপত্র তৈরি করতে ব্যয় হয় প্রায় সাত হাজার টাকা। অথচ এসব কাগজপত্র মাত্র দুই হাজার টাকায় পাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএ নামের সরকারি সংস্থাটির কর্মকর্তারা প্রতিটি সিএনজির এক বছরের কাগজপত্রের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেন। আর ১০ বছর পর এই সিএনজিগুলো স্রেফ ফেলে দিতে হবে। লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে যদি কোনো লাভই না হয়, তাহলে আমরা কী করব?’
ওদিকে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, ‘সবকিছুই তো ঠিকঠাক মতো চলছে। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে তো আমরা ঠিকই চালকদের মিটারে যেতে বাধ্য করি। আর মালিকদের তো ৬৫০ টাকাই জমা দেওয়ার কথা। এর বেশি যদি কেউ দিয়ে থাকে, এর জন্য আর আমরা কী করতে পারি?’
দেখা যাচ্ছে, সবাই নিজের পক্ষে অকাট্য যুক্তি হাজির করছেন। এতে করে ভোগান্তিটা পোহাতে হচ্ছে কেবল যাত্রীদের। অথচ এ ব্যাপারে যাবতীয় দায়িত্ব সরকারের পালন করার কথা। মালিকদের জন্য একটি যৌক্তিক জমার পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া, সেটা গ্রহণে তাদের বাধ্য করা, চালকদের যেকোনো গন্তব্যে মিটারে যেতে বাধ্য করা, সিএনজি আমদানি, লাইসেন্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব ছাড়পত্র প্রয়োজন হয়, সেসব ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি কঠোরভাবে বন্ধ করার মাধ্যমে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবের চলাচলের ক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য বন্ধ করা যেতে পারে। এটা করতে পারে কেবল সরকার। কিন্তু সরকারকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব পালনে মোটেও আগ্রহী দেখা যায় না।
চিররঞ্জন সরকার: লেখক, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত।
chiroranjan@gmail.com

ক্ষমতায় থাকতে ইচ্ছুক কাজাখ প্রেসিডেন্ট

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট নুরসুলতান নাজারবায়েভ বলেছেন, যত দিন প্রয়োজন তত দিন তিনি দেশের জন্য কাজ করে যেতে প্রস্তুত। গতকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া বাৎসরিক ভাষণে নুরসুলতান নাজারবায়েভ এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার শারীরিক সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত আমি দেশের জন্য কাজ করে যেতে প্রস্তুত। আমার প্রতি জনগণের যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্বাস রয়েছে।’

কলকাতা শহরের কেন্দ্রে সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করার দাবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সড়ক বন্ধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও মিছিল অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। হাওড়া গণতান্ত্রিক নাগরিক সমিতির পক্ষে মামলাটি করেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পিনাকী চন্দ্র ঘোষ ও বিচারপতি শুক্লা কবির সিনহার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে গত বৃহস্পতিবার মামলাটির প্রাথমিক শুনানি হয়। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কলকাতার সব রাজনৈতিক দলকে নোটিশ দিতে সুভাষ দত্তকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন আদালত।

হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেট ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা (৯২) দুই দিন পর গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল ছেড়েছেন। তিনি জোহানেসবার্গের নিজ বাসভবনে ফিরে গেছেন।
সেনাচিকিৎসক বিজয়নন্দ রামলাকেন বলেন, গতকাল ম্যান্ডেলাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি বাড়িতে আছেন। এর আগে গতকাল সেই দেশের উপরাষ্ট্রপতি কাগালেমা মোতলান্থে বলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। হাসপাতালে তাঁর শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার পরও তিনি মানসিকভাবে চাঙা আছেন। এদিকে ম্যান্ডেলার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে দেখতে যান। ম্যান্ডেলাকে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এনএসজির সদস্যপদে ভারতকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের

নিউক্লিয়ার সাপ্লাইয়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্যপদ পেতে ভারতকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান বলেছে, ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্ত ‘দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপদ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে’।
জানা গেছে, নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এনএসজির সদস্যপদ পেতে ভারতের প্রতি সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কনফারেন্স অন ডিজআর্মামেন্টে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি জামির আকরাম চলতি সপ্তাহে বলেন, এনএসজির সদস্যপদ পেলে ভারতের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি, পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো ও সরবরাহ করার সামর্থ্য বেড়ে যাবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানও তার অস্ত্র বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান নিরাপদ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
আকরাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংস্থা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম, অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ ও ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্টের সদস্যপদ পেতে ভারতের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও বিরোধিতা করে পাকিস্তান। দেশটির সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে তুলনা করে পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং ২০০৯ সালে নয়াদিল্লির তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিনের ব্যাপারেও সচেতন রয়েছে।
প্রতিরক্ষা-বিষয়ক বিশ্লেষক হাসান-আসকারি রিজভি বলেন, ভারত বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। তখন নয়াদিল্লি ইসলামাবাদের পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাধার সৃষ্টি করবে—পাকিস্তান হয়তো এই ভেবে ভয় পাচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত যদি সত্যিই সেই সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে ইসলামাবাদের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি (তা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য হলেও) চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
অন্য বিশ্লেষকদের মত, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পারমাণবিক অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর মতো অবস্থায় নেই। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান বিক্রম সুদ বলেন, পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির অজুহাত দেখিয়ে তার অস্ত্রের ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে চায়। এর মাধ্যমে দেশটি নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করারও সুযোগ খুঁজছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটা এক প্রকার ব্ল্যাকমেইল। এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির আওতায় থাকব। এতে অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিও অনুসরণ করা হবে।’
দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

উত্তর কোরিয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দক্ষিণের

সামরিক বিষয় নিয়ে পার্লামেন্ট পর্যায়ে আলোচনার উত্তর কোরিয়ার প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি বলেছে, উত্তর
কোরিয়ার প্রস্তাবে আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। তাই তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পরমাণু আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুংঅং পত্রিকায় গতকালের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া এখন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়াসহ উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে আলাদাভাবে দেখছে। এ জন্য তারা আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে সরে এসেছে।
তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পার্লামেন্ট পর্যায়ে আলোচনার যে প্রস্তাব উত্তর কোরিয়া দিয়েছে তা আন্তরিক মনে করছে না দক্ষিণ কোরিয়া। তাই ওই প্রস্তাবও তারা মেনে নিতে পারছে না।

পাকিস্তানে মার্কিন কনসুলেট কর্মীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

পাকিস্তানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মার্কিন কনসুলেট কর্মীর বিরুদ্ধে জোড়া খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগে গতকাল শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা। পুলিশ জানায়, লাহোরে মোটরসাইকেল আরোহী দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ এই বন্দুকধারীকে রেমন্ড ডেভিড বলে শনাক্ত করেছে। তিনি আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোড়েন বলে দাবি করেন। পুলিশকে ডেভিড বলেন, দুই মোটরসাইকেল আরোহী ডাকাতির উদ্দেশে আগ্নেয়াস্ত্র বের করার পর তিনি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বেসামরিক মার্কিন নাগরিক রেমন্ড ডেভিড লাহোরে মার্কিন কনসুলেটের হয়ে কাজ করছিলেন।
লাহোরে পুলিশের প্রধান আসলাম তারিন বলেন, রেমন্ড ডেভিড কূটনীতিক নন। তিনি কনসুলেট ভবনে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।

সালভাদর আয়েন্দের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করবে চিলি

চিলির সাবেক সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন-সমর্থিত এক সেনা অভ্যুত্থানের সময় আয়েন্দে মারা যান। সেনা ও বিমান অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়।
আলোচিত ওই সেনা অভ্যুত্থানে মার্কিন-সমর্থিত জেনারেল আগুস্তো পিনোশে ক্ষমতা দখল করেন। পিনোশের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে দেশে তিন হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
অভ্যুত্থানের সময় আয়েন্দে আত্মহত্যা করেছেন, না সেনারা তাঁকে হত্যা করেছে, ওই বিষয়টিই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানী সান্তিয়াগোর একটি বিশেষ আদালতে গত বুধবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৭২৬টি অভিযোগ বিচারের উদ্দেশ্যে তোলা হয়। এর মধ্যে আয়েন্দের ঘটনাটি অন্যতম। বিশেষ আদালতের জজ মারিও ক্যারোজা বলেছেন, ‘আয়েন্দের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করা একটি সুমহান দায়িত্ব।’
সরকারি আইনজীবী বেট্রিজ পেড্রেলস মামলাটি আদালতে তোলেন। চিলিতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনসংক্রান্ত যেসব ঘটনা এখন পর্যন্ত বিচারের আওতায় আসেনি, তা চিহ্নিত করতে এই আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেট্রিজ পেড্রেলস বলেন, ‘যা তদন্ত করা হয়নি, আদালত তা তদন্ত করবেন। তখন কী হয়েছিল, তা উন্মোচিত হবে।’
অতীতে এক সরকারি ময়নাতদন্তে বলা হয়, আয়েন্দে আত্মহত্যা করেছিলেন। আত্মহত্যায় তিনি যে রাইফেলটি ব্যবহার করেন, সেটি ছিল তাঁর কিউবান বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রোর দেওয়া উপহার।

ঝাড়খণ্ডে বন্দুকযুদ্ধে ৯ মাওবাদী নিহত

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নয়জন মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের লেতাহার জেলায় এ ঘটনা ঘটে।
রাজ্যের পুলিশপ্রধান নেওয়াজ আহমেদ জানান, গতকাল ভোরে লেতাহারের মাওবাদী অধ্যুষিত লুহুর জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ওই মাওবাদীরা নিহত হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হননি।
ভারতের কয়েকটি রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মাওবাদীরা বলছে, তারা গরিব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মাওবাদীদের বিদ্রোহকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছেন।
গত অক্টোবর থেকে ভারতীয় সরকার মাওবাদীদের বিদ্রোহ দমনে অপারেশন গ্রিন হান্ট নামে একটি অভিযান শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওডিশা ও ছত্তিশগড় রাজ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ৫০ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছে।

জাপানের চতুর্থ না অস্ট্রেলিয়ার প্রথম?

জাপানের সামনে দারুণ এক রেকর্ডের হাতছানি। আজ এশিয়ান কাপের ফাইনাল জিতলেই টুর্নামেন্টের সফলতম দলের তকমা উঠবে তাদের গায়ে। ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তিনবার শিরোপাজয়ী জাপান সর্বোচ্চ চারবার শিরোপা জয়ের গৌরবে ভাসবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে এটিই নীল সামুরাইদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।প্রেরণা দলের ইউরোপীয় কোচ আলবার্তো জাকেরনিও। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর যখন দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো ইতালীয় এই কোচের হাতে, খোদ জাপানের ফুটবল মহলেই ছিল অনেক প্রশ্ন। আগে কখনো জাতীয় দলের কোচ ছিলেন না এমন একজনের হাতে কি দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হলো? জাতীয় দলে কোচিংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই ঠিক, কিন্তু লাৎসিও, ইন্টার, এসি মিলানের মতো বড় দলের দায়িত্ব সামলেছেন একসময়। জাপানের দায়িত্ব নিয়েই আর্জেন্টিনাকে হারিয়েছেন প্রীতি ম্যাচে। ওই ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন, আজ জিততে পারলে সংশয় থাকবে না বিন্দুমাত্র। তবে ফাইনালে শিনজি কাগাওয়াকে না পাওয়াটা জাকেরনির জন্য একটা দুঃসংবাদ। জাপানকে শেষ চারে তোলার অন্যতম নায়ক শিনজি কাগাওয়া নেই ফাইনালে, এই মৌসুমটাই শেষ হয়ে গেছে তাঁর। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে পায়ের চোট নিয়ে কাতার ছেড়ে গেছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের স্ট্রাইকার।
শিরোপার দিকে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়াও। ২০০৭ এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালেই। প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেই সেই যন্ত্রণার ক্ষতে উপশমের প্রলেপ দিতে চায় তারা। মাঠে নেমে নিশ্চিতভাবেই একটি রেকর্ড গড়বেন অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ বছর বয়সী গোলরক্ষক মার্ক শোয়ার্জার। ফাইনালটি হবে দেশের হয়ে তাঁর সর্বোচ্চ ৮৮তম ম্যাচ।

ফাইনালে মারেকে পেলেন জোকোভিচ

গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছিলেন মা জুডি মারে। কখনো হাতে তালি দিয়ে ছেলেকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন খেলায়, কিন্তু মাঝেমধ্যেই টেনশনে নখ কামড়াতে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই টেলিভিশন ক্যামেরা ঘুরে গেল তাঁর দিকে, লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন জুডি। কারণ স্পেনের ডেভিড ফেরারকে ৪-৬, ৭-৬ (৭/২), ৬-১, ৭-৬ (৭/২) গেমে হারিয়ে যে ফাইনালে পৌঁছে গেছেন তাঁর ছেলে অ্যান্ডি মারে।
প্রথম সেটে হারের পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কাল সেমিফাইনাল জিতলেন, তাতে অ্যান্ডি মারেকে নিয়ে এবার হয়তো একটু বেশি করেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ব্রিটিশরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠা মারে আগামীকাল ফাইনালে পাচ্ছেন বন্ধু ও অনুশীলন-সঙ্গী সার্বিয়ান নোভাক জোকোভিচকে।
মারে গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠেন আর শুরু হয় ব্রিটিশদের স্বপ্ন দেখার। এবার কি পারবেন পুরুষ এককে ব্রিটিশদের ৭৫ বছরের গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা-বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে? ২০০৮-এর ইউএস ওপেনে প্রথমবারের মতো তাঁর স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন রজার ফেদেরার। গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালেও স্বপ্নভঙ্গের নাম ছিল ফেদেরার। কিন্তু এবার সেমিফাইনালেই ফেদেরারের বিদায়ে মারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল লাগছে।
দ্বিতীয় সেট টাইব্রেকারে জিতে মারে তৃতীয়টি জেতেন সহজেই। চতুর্থ সেটটি টাইব্রেকারে নিয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ফেরার। শেষ পর্যন্ত ফেরারকে পঞ্চম সেটে টেনে নিতে দেননি ম্যাচটি। ৩ ঘণ্টা ৪৬ মিনিটে চার সেটের সেমিফাইনাল জিতে ফেরারকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি মারে, ‘ও আসলে অবিশ্বাস্য রকমের এক অ্যাথলেট। অবিশ্বাস্য প্রতিদ্বন্দ্বী ।’

লড়াই জমিয়েছেন মিসবাহ-আফ্রিদি

পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে দৃশ্যত একে অপরের বিপক্ষে লড়ছে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে আরেকটা লড়াইও সমানে চলছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলের সম্ভাব্য দুই অধিনায়কের মধ্যে। আর আজ চূড়ান্ত ঘোষণার শেষ মুহূর্তে সেই লড়াইটা বেশ ভালোই জমিয়ে তুলেছেন মিসবাহ-উল হক ও শহীদ আফ্রিদি। দলের খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থায় ৬৪ বলে ৩৫ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলে ব্যাটিং বিপর্যয়টা সামাল দিয়েছেন মিসবাহ। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে মাত্র ২৫ বলে ৬৫ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে আফ্রিদি পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন ২৯৩ রানের লড়িয়ে ইনিংস। আজকের চমত্কার এই পারফরমেন্স দিয়ে পিসিবিকে বোধহয় আরও সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিলেন দুজনই!
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। শুরুতেই মাত্র ১৪ ওভারের মধ্যেই আহমেদ শাহজাদ, কামরান আকমল ও ইউনুস খানকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুটাও চমত্কারভাবে করেছিলেন কিউই বোলাররা। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয়টা সামলে নেন মিসবাহ ও ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। ৩৫ রান করে মিসবাহ ফিরে গেলেও আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেছেন হাফিজ।
৪৪তম ওভারে ১১৫ রান করে হাফিজ ফিরে যাওয়ার পর শুরু হয় উমর আকমল আর আফ্রিদির তাণ্ডব। নিউজিল্যান্ড বোলারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন আফ্রিদি। ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে তিনি আউট হন ২৫ বলে ৬৫ রান করে। উমর আকমল করেছেন ২৯ বলে ৪৪ রান। শেষ পাঁচ ওভারে তাঁরা তুলেছেন ৭৫ রান!

সিরিজে সমতা আনল পাকিস্তান

ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৩ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১-এ সমতা এনেছে পাকিস্তান। ২৯৪ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে নয় উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয়েছে ২৫০ রানে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরে ব্যাট করে পাকিস্তানকে নয় উইকেটে হারানোর পর আজকেও টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক রস টেলর। কিউই বোলাররা শুরুটাও করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। মাত্র ৫৬ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ, কামরান আকমল ও ইউনুস খানকে। কিন্তু চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৯৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সেই ধাক্কাটা সামলে নেন মিসবাহ-উল হক ও ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ। মিসবাহ ৩৫ রান করে আউট হয়ে গেলেও আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেছেন হাফিজ। ৪৪তম ওভারে ১১৫ রান করে হাফিজ ফিরে যাওয়ার পর কিউই বোলারদের ওপর রীতিমতো নির্যাতন চালান উমর আকমল ও শহীদ আফ্রিদি। শেষ পাঁচ ওভারে নিউজিল্যান্ড বোলারদের নাকানিচুবানি খাইয়ে তাঁরা সংগ্রহ করেছিলেন ৭৫ রান! পাঁচটি ছয় ও পাঁচটি চারে সাজানো ৬৫ রানের সাইক্লোন ইনিংসটি আফ্রিদি খেলেছেন মাত্র ২৫ বলে। উমর আকমল ২৯ বলে করেছেন ৪৪ রান।
২৯৪ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বেশ ভালোমতোই এগিয়ে যাচ্ছিল নিউজিল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র সাত দশমিক চার ওভারেই জেমি হাউ আর মার্টিন গাপটিল তুলেছিলেন ৪৪ রান। কিন্তু উমর গুল, সোহেল তানভির আর ওয়াহাব রিয়াজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে খুব বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে পারেনি কিউই শিবির। দলীয় ৮০ রানের মধ্যেই বিদায় নেন হাউ, টেলর আর গাপটিল। চতুর্থ উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়ে আবার কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন স্টাইরিস ও উইলিয়ামসন। কিন্তু দলীয় ১৬১ রানের মাথায় স্টাইরিস আউট হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ পুরোপুরিই চলে যায় পাকিস্তানের হাতে। পরে আর কোনো বড় পার্টনারশিপও গড়ে তুলতে পারেননি কিউই ব্যাটসম্যানরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৫০ রানে। উমর গুল, তানভির সোহেল ও ওয়াহাব রিয়াজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নাপিয়েরে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে। রয়টার্স/ক্রিকইনফো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ২৯৩/৭ (৫০ ওভার)
মোহাম্মদ হাফিজ ১১৫, শহীদ আফ্রিদি ৬৫ ও উমর আকমল ৪৪
টিম সোউদি ১০-০-৫৭-২, কেইল মিলস ১০-০-৬১-২
নিউজিল্যান্ড ২৫০/৯ (৫০ ওভার)
স্কট স্টাইরিস ৪৬, কেন উইলিয়ামসন ৪২
উমর গুল ১০-০-৩১-২, সোহেল তানভির ১০-০-৫৬-২

বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ সরেই যাচ্ছে

ঐতিহাসিক ভেন্যু ইডেন থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি না সরাতে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। বরং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এই ম্যাচের বিকল্প ভেন্যু খুঁজে বের করে তাদের জানাতে বিসিসিআইকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিসি।
ইডেনে বিশ্বকাপ উপলক্ষে চলমান সংস্কারকাজ আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের আগে শেষ হবে না—এই অজুহাতে আইসিসি গত বৃহস্পতিবার এক সিদ্ধান্তে ওই ম্যাচটি কলকাতার ইডেন গার্ডেন থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (ক্যাব) সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া বিসিসিআইয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেন। এ ছাড়া সংস্কারকাজ শেষ করে ফেলার জন্য ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়েও আবেদন করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাতে বিসিসিআইয়ের সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসির প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত জানিয়ে দিয়েছেন, এই অনুরোধ তাঁদের পক্ষে রাখা সম্ভব নয়।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো ইডেনের সংস্কারকাজ শেষ হওয়া না হওয়া নিয়ে তাঁদের অবিশ্বাস। সময় বাড়ালেও কাজ আসলেই ঠিক সময়ে শেষ করা যাবে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস নাকি থেকেই যাচ্ছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষও নাকি এ ব্যাপারে জোর দিয়ে তাঁদের কিছু বলতে পারেনি।
এদিকে, কলকাতায় অনুষ্ঠেয় বাকি তিনটি খেলার ভবিষ্যত্ নিয়েও সংশয়টা কাটছে না। ৩১ জানুয়ারির পরই আসলে জানা যাবে, খেলাগুলো আদৌ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে কি না। তবে, বিশ্বকাপের যে চারটি খেলা আয়োজনের দায়িত্ব কলকাতা পেয়েছিল, তার মধ্যে ভারত-ইংল্যান্ডের খেলাটিই ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ‘অর্থকরী’। এই ম্যাচটি সরে যাওয়ায় কলকাতাবাসীর যে বাকি তিনটি খেলা নিয়ে কোনো আগ্রহই অবশিষ্ট থাকবে না, তা তো দিবালোকের মতোই পরিষ্কার। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাকি তিনটি খেলার প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো যে সবাই ‘সহযোগী’।

Saturday, January 29, 2011

গল্প- বট মানে গরুর ভুঁড়ি by নাসিমা আনিস

দ্বিতীয় বিয়েটা করেছিল একটা কারণেই, পরিষ্কার হাতে ভুঁড়ি ধুয়ে খাওয়াবে। এমনভাবে পরিষ্কার করবে যেন পরিষ্কার করার পরই কাঁচা ভুঁড়ি কচকচ করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছা হয়। বিয়ে করার সময় শর্তও দিয়েছিল—সিগরেট খাই না, বিড়ি খাই না, পানও খাই না, খাই একটু বট। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন গরুর বট পরিষ্কার করন লাগব, গাইগুই করলে চলবে না।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু

পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিটি তাদের পরিচিতি পর্ব শেষ করেছে।
গতকাল বিকেলে কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কমিটির অপর দুই সদস্যকে নিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব শেষ করেন। এসইসি এই কমিটিকে সাচিবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে।
কমিটির প্রধান ইব্রাহিম খালেদ টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার বলেছে, এসইসি আমাদের সাচিবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে। এসইসির অনেকের সঙ্গে আমাদের ভালো পরিচয় নেই। তাই আমরা আজ তাঁদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্ব শেষ করেছি।’
কমিটির প্রধান জানান, পরিচিতি বৈঠকে তাঁরা এসইসির কর্মকর্তাদের কাছে রোববার থেকে কাজ শুরুর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সহায়তাও চেয়েছেন। তিনি আরও আশা করছেন, রোববার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করা যাবে।
জানা গেছে, তদন্ত কমিটির দপ্তর হবে এসইসিতে। একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে কমিটি তাদের কাজ শুরু করবে। আগামী রোববারের মধ্যেই এই কর্মপরিকল্পনা তৈরি হতে পারে বলে কমিটির প্রধান জানান।
গত বুধবার বিকেলে সরকারের নির্দেশে এসইসি তিন সদস্যের কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে তদন্তকাজের জন্য কমিটিকে ১১টি কার্যপরিধি ঠিক করে দেওয়া হয়। এর বাইরে কমিটি চাইলে বাজারসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির (সুশীল সমাজের সদস্যসহ) সাক্ষ্য নিতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকার চাইলে কমিটিতে অন্য যেকোনো সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
বাজার পরিস্থিতি: গতকাল সপ্তাহের শেষ দিনে শেয়ারবাজার কিছুটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। আগের দুই দিন অনেকাংশে বিক্রেতাশূন্য ছিল বাজার। মঙ্গল ও বুধবার লেনদেনের শুরুতেই বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনের সর্বোচ্চ সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) পৌঁছে যায়। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক বাড়ে প্রায় ৯৫৪ পয়েন্ট। বাজার বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাজারের ওই আচরণ ছিল স্বাভাবিক।
তবে গতকাল বাজার যে আচরণ করেছে, সেটিকে অনেকটা পরিণত আচরণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতারা। তাঁরা বলেন, বৃহস্পতিবার বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা-বিক্রেতা ছিল, যে কারণে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
ডিএসই: আগের দুই দিন যথাক্রমে ২০৬ ও ৫৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। আর গতকাল লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৩০ কোটি টাকার বেশি। ঢাকার বাজারে এদিন ২৫৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৯টির ও কমেছে ১১৫টির। অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দাম। দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০৬ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে সাত হাজার ৩৮৬।
সিএসই: চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকালও কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রেতাশূন্য ছিল। দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক প্রায় ৯০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৬৫ পয়েন্টে।
গতকাল সিএসইতে ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৬টির এবং কমেছে ১০০টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির দাম। এদিন ১২৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের দিনের তুলনায় তা ১৭ কোটি টাকা বেশি।
বিএমবিএর সভা: এদিকে গত কয়েক দিনের শেয়ারবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল বিকেলে সভা করেছেন মার্চেন্ট ব্যাংকার্সদের সংগঠন বিএমবিএর নেতারা। রাজধানীর মতিঝিলের পূর্বাণী হোটেলে অনুষ্ঠিত সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনও করা হয়। তাতে বিএমবিএর নেতারা বলেন, বর্তমান বাজার আশানুরূপ আচরণ করছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে। গতকালের বাজার বেশ পরিপক্ব আচরণ করেছে বলেও দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। এভাবে চলতে থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলেও মত দেন তাঁরা।

আলু রপ্তানিতে ২০% নগদ সহায়তা প্রদানের সুপারিশ

চাহিদার অতিরিক্ত আলু বিদেশে রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি নীতিগত সহায়তা দেবে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার আলু রপ্তানিতে নগদ সহায়তা প্রদানসংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সভায় এই সুপারিশ করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
সভায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য আলু রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে পটেটো ফ্লেক্স শিল্প চালুর উদ্যোগ, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে বিশেষ ধরনের আলুর উৎপাদন ও আলুর রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানের সুপারিশ করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (রপ্তানি) মনোজ কুমার রায়, বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, আলু রপ্তানিকারক ও গবেষক ফেরদৌসী বেগমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, গত অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ লাখ মেট্রিক টনের বিপরীতে প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। এ বছরও একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এবার আলুর ফলন এক কোটি মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ধারণক্ষমতা আগের চেয়ে ১০ লাখ মেট্রিক টন বেড়েছে। অর্থাৎ বর্তমান ধারণক্ষমতা ৩৬ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সরকারের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সভায় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন।
২০০৯-১০ অর্থবছরে ২০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করে ৩৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। প্রধানত মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ে আলু রপ্তানি হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপে বাংলাদেশের আলুর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর যে পরিমাণ আলু বিদেশে রপ্তানি করা হয়, তার মধ্যে গ্রানুলা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া রয়েছে আটলান্টা, স্পুন্টা, ডায়মন্ড ও মাল্টা।

বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী পথে তিন দিন পর বাণিজ্য শুরু

টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ও ভারতের ফুলবাড়ী স্থলবন্দর দিয়ে আবার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভারতীয় শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডাকায় আগের তিন দিন এই পথে ভারত ও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। নেপালি পণ্যবাহী ট্রাকগুলো থেকে জিরো পয়েন্টে লোড-আনলোড করার দাবিতে ভারতীয় শ্রমিকেরা গত সোমবার থেকে ধর্মঘট পালন করে আসছিলেন।
নেপালি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে বাংলাদেশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা সাংবাদিকদের জানান, ভারত ও নেপালি কাস্টমস, স্থানীয় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতা, আমদানি-রপ্তানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শ্রমিকদের নিয়ে ফুলবাড়ীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে শ্রমিকদের জানানো হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় ও নেপালি পণ্যবাহী সব ট্রাক বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউসে আনলোড হওয়ার কথা। তা করা না হলে চুক্তির বরখেলাপ হবে। এই বক্তব্য শুনে ভারতীয় শ্রমিকেরা কোনো রকম শর্ত ছাড়াই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।
বাংলাবান্ধা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা প্রথম আলোকে জানান, ভারতীয় শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে বেলা তিনটায় নেপাল থেকে আসা ৩০০ টন মসুর ডালবাহী ১৭টি ট্রাক বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউসে প্রবেশ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে চার ট্রাক ব্যাটারি ও এক ট্রাক তুলা ভারতের ফুলবাড়ী ওয়্যারহাউসে প্রবেশ করে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইন্সপেক্টর আল আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পণ্য আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হয়েছে।
নেপালের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নবীন দাহাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, ভারত ও নেপালের কাস্টমস, স্থানীয় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতা, আমদানি-রপ্তানিকারক-সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে ফুলবাড়ীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর ফলে তিন দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ঢাকায় তিন দিনের ইন্দো-বাংলা বাণিজ্য মেলা ৫ মে থেকে

ঢাকায় ভারত ও বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে ‘ইন্দো-বাংলা বাণিজ্য মেলা (আইবিটিএফ-২০১১)’ শীর্ষক একটি মেলা আগামী ৫ মে শুরু হবে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় এ মেলাটি ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই) আয়োজন করছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন মেলা আয়োজন সহায়তায় করেছে।
মেলার বিস্তারিত জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।
এ সময় আইবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি দেওয়ান সুলতান আহমেদ, ট্রিউন এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের (টিমস) প্রধান নির্বাহী ও মেলার প্রধান সমন্বয়ক কাজী ওয়াহিদুল আলম ও টিমসের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এ বছর মেলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দো-বাংলা ট্রেড ফেয়ার’ করা হয়েছে। যাতে বেশিসংখ্যক স্থানীয় কোম্পানি অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়। এ বাণিজ্য মেলা কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই দৃঢ় করবে না, উপরন্তু বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আইবিসিসিআইয়ের সভাপতি আরও বলেন, আগের মেলার মতো এবারও এ মেলাটি হবে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের প্রস্তুতকারী কোম্পানি ও রপ্তানিকারকের জন্য নিজস্ব পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের একটি ভালো সুযোগ। এর মাধ্যমে উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।
আইবিসিসিআইয়ের সভাপতি জানান, গত বাণিজ্য মেলার ফলে দুটি ভারতীয় কোম্পানি—এসআরএফ গ্রুপ ও অরভিন্দ ট্রেনিং প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে আরও এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গতবারের মতো এবারও মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে টিমস। এবারের মেলায় কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) ও ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (এফআইইও) সার্বিক সহায়তা করছে।

সংগীতগুরুর প্রয়াণে by দিঠি হাসনাত

যখন আমরা একজন গুণী শিল্পীর কাছে যাই, তখন শুধু সেই ব্যক্তির একটা নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সই দেখি না; নির্দিষ্ট পারফরম্যান্সের সঙ্গে লুকিয়ে থাকে একজন ব্যক্তির বহু বছরের সাধনা, অভিজ্ঞতা।
আর এই উপলব্ধিটা অনেক বেশি সত্য উচ্চাঙ্গসংগীতের দিকপাল গুরু পণ্ডিত ভীমসেন যোশির মতো ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে। একটা এক ঘণ্টার রাগের খেয়াল গাওয়ার পেছনে তাঁর প্রতিদিনের ১৬-১৮ ঘণ্টার অদম্য সাধনা, অথবা সংগীতকে ভালোবেসে গুরুর খোঁজে ঘর ছেড়ে অনেক কষ্ট মেনে নেওয়া গুরুকে সন্তুষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা লুকিয়ে থাকে।
আর তাঁর মৃত্যু তাই ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীতজগতের জন্য অপূরণীয়। ২৪ জানুয়ারি সকালে তিনি পুনে শহরের শাহাদ্রি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ১৯২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি কর্ণাটকে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন স্কুলশিক্ষক। ছোটবেলা থেকেই সংগীত তাঁকে এমনভাবে আকর্ষণ করে যে মাত্র ১১ বছর বয়সে গুরুর খোঁজে বাড়ি ছাড়েন। অনেক দোর ঘুরে তিনি রামপুরে পৌঁছান। সেখানে ওস্তাদ মুশতাক হুসেন খানের কাছে বছর খানেক কাটিয়ে লক্ষেৗতে ঠুমরির আন্দাজ নিতে তালিম নেন। তখন ডিসি দত্ত বলে আমিনাবাদের এক চায়ের দোকানের মালিকের গীত-গজল গাইয়ে হিসেবে খুব নামডাক ছিল। তাঁরই চেষ্টায় ভীমসেন রেডিওর স্টাফ আর্টিস্ট হন এবং ২৫ টাকা ফি-তে খেয়াল ও প্রধানত ভজন গাইতেন। তাঁকে পাওয়া যায় কুমারপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পাহাড়ি সান্যালের কথোপকথনে... কুমারপ্রসাদ বলছেন তাঁর কুদরতি রঙ্গীবিরঙ্গী বইয়ে। এক অনুষ্ঠান শেষে ভীমসেনজি এসে পাহাড়ি সান্যালকে বলছেন, ‘আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না? আমি ওই ভীমসেন, যে আপনার বসন্ত রায় রোডের বাসায় থাকতাম।’ চলে গেলে পাহাড়ি সান্যাল কপাল চাপড়ে কুমারপ্রসাদকে বলছেন, ‘হা ভগবান, এই সেই ভীমসেন! জানিস, এই ব্যাটার তখন চাল নেই চুলা নেই, কলকাতা শহর বিদেশবিভূঁই, গান শেখার অসম্ভব শখ। বেশ কিছুদিন আমার বাড়িতে ছিল, ফাইফরমাশ খাটত। গানের গলা মোষের বাচ্চার মতো। আমি শুনেটুনে বললাম, তোমার বাছা হবে না। ভগবান তোমায় গলা দেননি, তুমি থাকো, খাও আমার বাড়িতে, চেষ্টাচরিত্র করে স্টুডিওতে একটা ছোটখাটো কাজের চেষ্টা করে দেখব। তা এই সেই ভীমসেন!’
এই গল্পটা থেকে বোঝা যাবে ভীমসেন যোশি কত পরিশ্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছেন, অসাধারণ কণ্ঠ তৈরি করেছেন। একনিষ্ঠ সাধনার রেওয়াজের ফসল তাঁর এই গলা। দৈনিক ১০ ঘণ্টারও বেশি রেওয়াজ করেছেন তিনি। তাঁর রেওয়াজের নিয়মটা ছিল—সকালে মোষের দুধ খেয়ে খরজে পুরো একটি রাগ গেয়ে সেই রাগ বিকেলে মধ্য ও তার সপ্তকে তানের সঙ্গে নিয়মিত অভ্যাস করতেন।
যোশি কিরানা ঘরানার জন্য গর্ব ছিলেন। কিরানা ঘরানার দিকপাল শিল্পী ওস্তাদ আবদুল করিম খানের শিষ্য সওয়াই গন্ধর্বের কাছে তালিম নেন। ওস্তাদ আবদুল করিম খান হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গসংগীত নান্দনিকতার ওপর প্রয়োগ করে উত্তর ভারতীয় সংগীতে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছেন। গোয়ালিয়র ঘরানার সংগীতগুরু ওস্তাদ হাফিজ আলী খান ভীষণ ভালোবাসতেন ভীমসেন যোশিকে। সওয়াই গন্ধর্বের কণ্ঠও একটু অন্য রকম ছিল। বংশগতভাবে তাঁর গলার নেতিবাচক দিকটিকেই তিনি ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করেছেন। ভীমসেন যোশিরও আওয়াজ লাগানোর পদ্ধতি একটু আলাদা ছিল। তাঁর আওয়াজ অনেক বলিষ্ঠ ছিল, তিনি চমৎকার ভলিউম কন্ট্রোল করতে পারতেন। ২০০৮ সালে ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘ভারতরত্ন’ পান তিনি। তাঁর প্লাটিনাম ডিস্ক বের হয় ১৯৮৬ সালে। ১৯৭২ সালে তিনি ‘পদ্মশ্রী’ পান, ‘সংগীত নাটক একাডেমি’ পান ১৯৭৬ সালে। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ পান। তিনি শুধু খেয়ালই গাননি, ভজনও গেয়েছেন। তানসেন আখে, বসন্ত বাহার, ব্রাইডাল মাই ব্রাদার প্রভৃতি চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন। দূরদর্শনের জন্য তাঁর সংগীত আয়োজন মিলে সুর তুমহারা মেরা,
যেখানে পণ্ডিত রবিশংকর, হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া, ওস্তাদ আমজাদ আলী খান প্রমুখ সংগীতের মহারথীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই আয়োজনটা বেশ জনপ্রিয় হয়।
ভীমসেনের জনপ্রিয় রাগ শুদ্ধ কল্যাণ, শংকরা ইমন, মূলতানি, পুরীয়, পুরিয়া ধানেশ্রী, মালকোষ, দরবারি। তিনি নিজেই ছিলেন একটা প্রতিষ্ঠানের মতো; নিজস্ব একটা স্টাইলের প্রবর্তন করেছিলেন। পণ্ডিত ভীমসেন যোশির মৃত্যু তাই পাঁচ দশকের তাঁর সংগীত সাধনার, পরম্পরার অবসান।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অব্যবস্থাপনা

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এসবের প্রতিকার চেয়ে অবশেষে অর্থমন্ত্রীর শরণাপন্ন হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে লেখা এক দাপ্তরিক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান ঋণ অনুমোদন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই উদ্বেগ মোটেই অমূলক নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছিল। এর জন্য পূর্বাপর সরকারের ভুল নীতি যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। সামরিক সরকারগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে মোটা অঙ্কের ঋণ মঞ্জুর করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
আশা করা গিয়েছিল, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে যখন দিনবদলের কথা ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল, দেশবাসী সত্যিকারভাবে দিনবদলই চেয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা জেঁকে বসেছে, তাতে মনে হয় রথ উল্টো দিকেই ধাবিত হচ্ছে। মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন সরকার এসে নতুন পর্ষদ করবে, সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে ব্যাংকিং বিষয়ে অনভিজ্ঞ সদস্যের সংখ্যা বেশি হলে তা প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। যেকোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব আইন বা বিধি দ্বারাই নির্ধারিত। পর্ষদ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। কাকে ব্যাংক-ঋণ দেওয়া হবে, কাকে দেওয়া হবে না, কাকে কোথায় বদলি করা হবে, কাকে পদোন্নতি দেওয়া হবে, সেসব ব্যাপারে পরিচালকদের কিছু বলার থাকতে পারে না। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া পরিচালকেরা এসব আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন না। তাঁরা গায়ের জোরে সবকিছু চালাতে চান। কোনো কোনো পরিচালক সদলবলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজ আদায় করিয়ে নেন বলেও অভিযোগ আছে। এ ধরনের জবরদস্তি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতে পারে না। অতীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে জবরদস্তির কারণে। এখন এসব প্রতিষ্ঠানকে দেশি-বিদেশি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই টিকে থাকতে হবে।
অতএব, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। যাঁরা ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ, কেবল তাঁদের নিয়েই পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দলীয় লোকদের দিয়ে আর যা-ই হোক, ব্যাংক চলতে পারে না। আশা করি, অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সমস্যাটি অনুধাবন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। ব্যাংকিং খাত পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকার দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির যে কুদৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হবে দুর্ভাগ্যজনক। অতএব, সব দলীয় লোক বাদ দিয়ে পেশাদারি ব্যক্তিদের নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের বিকল্প নেই। যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক চালাতে হবে আইন ও বিধি অনুযায়ী, কারও খেয়ালখুশি মতো নয়।

যে তাহেরকে আমি জানতাম ব্য লরেন্স লিফশুলজ

তাহেরের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭৪ সালে। আমি তখন বাংলাদেশেই বাস করছি। ওই বছরে প্রচণ্ড বন্যায় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শস্য। রংপুর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বেশি। পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে জমির ফসল ছিল পানির নিচে। এর ফলে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষক কাজের অভাবে খুব বিপাকে পড়েন। নিজেদের ক্ষুধা নিবারণেও তাঁরা চাল কিনতে পারেননি।
ওই শরতেই হাজার হাজার ক্ষুধার্ত চাষি খাদ্য, কাজ ও ত্রাণের আশায় শহরে ভিড় জমাতে শুরু করেন। আমি যখন অক্টোবরে রংপুরে পৌঁছাই, দুর্ভিক্ষ তখন শহর ও তার আশপাশের এলাকা গ্রাস করেছে। দৃশ্যটি দান্তের ইনফারনোর সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে হাজার হাজার নারী ও শিশু খাদ্যের জন্য ভিক্ষা করছে। তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজ কিংবা ত্রাণ ও বাড়িতে টাকা পাঠানোর আশায় বহু আগেই দূরবর্তী শহরে চলে গেছেন। অনেকেই তাঁদের কোনো খোঁজখবর পাচ্ছিলেন না।
এমনই একটি পরিবেশে আমি ঢাকায় আমার সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইলাম, তাঁরা এমন কারও কথা জানেন কি না, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যাঁর উন্নত ধারণা রয়েছে। এমন কেউ কি আছেন, যিনি বুঝতে পারেন, কেন বছরের পর বছর ধরে বারবার বন্যা হচ্ছে।
একজন সম্পাদক সহকর্মী আমাকে বললেন, তিনি এমন একজন সেনা কর্মকর্তাকে জানেন, যিনি সদ্য সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁর লেখায় যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা হলো তাঁর উদ্ভাবনীমূলক ধারণা, যাতে মনে হচ্ছে তিনি সমস্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন এবং কেন পৌনঃপুনিক বন্যা হচ্ছে তার সঠিক কারণও তাঁর জানা। এই কর্মকর্তার নাম আবু তাহের।
আমি তাহেরের সঙ্গে তাঁর অফিসে সাক্ষাৎ করি। তিনি সম্প্রতি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছেন এবং বর্তমানে সি-ট্রাক ইউনিট নামে এক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার কর্তাব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন। আমি তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলে চমৎকৃত হলাম। তিনি জানতেন, দেশের পৌনঃপুনিক বন্যা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান না করে ভবিষ্যতের উপর্যুপরি দুর্ভিক্ষ প্রতিহত করা যাবে না। মোগল আমল থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের যেসব কলাকৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, তাহের সে সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করেন। এমনকি ঔপনিবেশিক যুগের বন্যা-পরিস্থিতির বিষয়েও তাঁর ছিল ব্যাপক অধ্যয়ন। স্পষ্টতই ইতিহাসের এসব পর্ব থেকে এমন অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার ছিল, যে সম্পর্কে আধুনিক বিশেষজ্ঞরা একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
শুধু এই চিন্তাভাবনা দিয়ে তাহেরকে চেনার সুযোগ নেই। কিন্তু আমি একটি বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলাম, আমি এমন একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়েছি, যিনি ছিলেন একজন ‘বিজ্ঞ সৈনিক’। যিনি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে আজকের সমস্যার বাস্তব সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। আমি ঢাকায় অনেককেই জানতাম। একজন রিপোর্টার হিসেবে সেটাই ছিল আমার কাজ। কিন্তু এবারে আমি এমন একজন তাহেরকে জানলাম, যিনি অবিস্মরণীয়, বুদ্ধিদীপ্ত, বাস্তববাদী এবং বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও অনুন্নয়ন দূরীকরণের চিন্তায় সমৃদ্ধ। আমি এরপর তাঁর সঙ্গে বহু সন্ধ্যা কাটিয়েছি এবং কথা বলেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
আমি তাঁর কাছ থেকে জেনেছি গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল, যা তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে আরও জানলাম, কুমিল্লা ব্রিগেডের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি কীভাবে সেনাবাহিনীর জন্য একটি ‘নতুন দৃষ্টান্তের’ বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। তাহের মনে করেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সংযোগস্থলে দাঁড়ানো। এই সেনাবাহিনী হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাঠামো ও সাংগঠনিক প্রকৃতিতে গঠিত হবে অথবা তার নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি খাটিয়ে এমন একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় আগে কখনো দেখা যায়নি। যদি এই সেনাবাহিনী আদর্শগত ও কাঠামোগতভাবে পাকিস্তানি মডেল গ্রহণ করে, যেখানে প্রায় সব সেনাসদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও ভবিষ্যতে কোনো একপর্যায়ে একটি সামরিক কিংবা একটি সামরিক-বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের এজেন্সিতে পরিণত হবে।
তাহের মনে করতেন, যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা হয়ে থাকে হতদরিদ্র ও নিরন্ন মানুষের জীবনের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য, সে ক্ষেত্রে এমন একটি সেনাবাহিনীর প্রবর্তন দরকার হবে, যারা দরিদ্র মানুষের স্বপ্ন পূরণে সচেষ্ট থাকবে। তাঁর ভাবনা ছিল, এটা সম্ভব হতে পারে, সেনাবাহিনী যদি গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন আলাপ-আলোচনায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে। এটা হবে এমন একটি সেনাবাহিনী, যারা অস্ত্র বহনকারী শক্তির চেয়ে অধিকতর কিছু। সে কারণেই তাহের সেনাবাহিনীর এই পর্যায়ের নামকরণ করেছিলেন, ‘উৎপাদনশীল সেনাবাহিনী’।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী অন্যান্য প্রথাগত সেনাবাহিনীর মতোই দেশের মূল্যবান সম্পদ অপচয়ের কান্ডারি ছিল। বিপুল অর্থ ব্যয় হতো প্রতিরক্ষা খাতে। এর ফলে স্কুল, হাসপাতাল ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে সম্পদের ব্যবহার সংকুচিত হতো। দশকের পর দশক ধরে বিরাজমান সামরিক একনায়কতন্ত্র ও আধিপত্য বজায় রাখার কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কার্যত দেশের অর্থনীতির জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাহের মনে করতেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ছিল এক দানবীয় পরগাছা, যা সবকিছু শুষে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে গরিব ও পশ্চাৎপদ রেখেছিল।
তিনি নিজেকেই জিজ্ঞেস করতেন, একটি স্বাধীন বাংলাদেশে এ রকম একটি দানব গড়ে তোলার জন্যই কি লাখ লাখ মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিল? তার জবাব ছিল, না এবং একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তা ঘটতে দিতে পারেন না। কীভাবে একটি নতুন দৃষ্টান্তে উত্তরণ ঘটানো যায়, তার পথ দেখাতে তিনি সচেষ্ট হন।
কুমিল্লা ব্রিগেডে তাহের তাঁর সেনাসদস্যদের ‘উৎপাদনশীল সৈন্য’ হিসেবে সংগঠিত করেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিগেড তার খাদ্যের জোগান নিজেই নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয় এবং এ ক্ষেত্রে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। এ প্রয়াসের লক্ষ্য ছিল সমাজের ওপর তারা যাতে কোনো অর্থনৈতিক বোঝার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্রিগেডের সদস্যরা আশপাশের গ্রামগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ, ফসল কাটা এবং সেচব্যবস্থার কাজে সহায়তা করতেন। তাঁরা সেনাবাহিনীর অবশিষ্ট অংশের কাছে ‘লাঙল সেনা’ হিসেবে পরিচিতি পান। অনেকে ভাবতেন, এটা মজার বিষয়। কিন্তু অন্যরা দেখেছেন, এর পেছনে নিশ্চয় গুরুতর উদ্দেশ্য রয়েছে।
তাহের দেখেছিলেন, এভাবে সেনা ও সাধারণ লোকদের দৈনন্দিন আলোচনা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরের সংস্কৃতি পরিবর্তন ঘটাতে পারে। সেনাদের ‘কর্তৃত্বের মানসিকতাই’ প্রকারান্তরে একটি সামরিক স্বৈরাচারের জন্মদানের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তাহেরের এই নীতিই আসলে পরবর্তী সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য গণবাহিনী গঠনের দর্শন হয়ে ওঠে। তাহের আমার কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছিলেন এই কারণে যে তাঁর মতো যাঁরা সমমনা কর্মকর্তা, যাঁরা দুর্নীতির ভ্রূণের বিরুদ্ধে এবং একটি নতুন কাঠামোর প্রতি একটি আন্দোলন সৃষ্টির জন্য উদ্গ্রীব, তাঁরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। প্রথাগত ধ্যান-ধারণাই তাঁদের পুনরায় আচ্ছন্ন করতে বসেছে। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত কর্মকর্তা, বাংলাদেশের যুদ্ধের আদর্শগত প্রভাব যাঁদের স্পর্শ করেনি, ক্রমবর্ধমানভাবে তাঁরাই বৃহত্তর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
তাহেরের সঙ্গে বৈঠকে মুজিব বিষয়টিতে সায় দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আসলে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। কর্তৃত্বপরায়ণতা ও সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন হচ্ছিল। কিন্তু মুজিব তা দেখতে পাননি। পাকিস্তানি ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটবে। তাহের সেই দিনটি আসার আগেই একটি বিকল্প তৈরির প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীর বাইরে এলেন। সর্বশেষ বৈঠকে তাহের তাঁকে যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা না বুঝতে পেরে মুজিব চড়া মূল্য দিলেন।
১৯৭৪ সালের শেষের দিকে আমি বাংলাদেশ ত্যাগ করি। আমাকে ফার স্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ পত্রিকার দিল্লিভিত্তিক সংবাদদাতা নিয়োগ করা হয়। সুতরাং আমাকে গোটা দক্ষিণ এশিয়া কভারে মনোযোগী হতে হয়। আমি যখন তাহেরের কাছে বিদায় জানাতে গেলাম, তখন আসলে আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি জাসদের একজন গোপন সদস্য। কিংবা তিনি সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে একটি মোর্চা গঠনে সক্রিয়, যারা সেই মুহূর্তের জন্য নিজেদের তৈরি করছিল, যখন বাংলাদেশি সমাজের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন এবং যা একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের কবর দিতে হুমকি সৃষ্টি করবে।
তাহেরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা থেকে আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হলো, তিনি বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে নিজেকে একজন বিপ্লবী সমাজতন্ত্রীতে পরিণত করেছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে আমাকে এ বিষয়ে বিদেশ থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বই বা সাময়িকী এনে দিতে বলতেন। স্পষ্টতই সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বিতর্ক এবং উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল। আমাদের আলোচনায় তাহেরের অন্তর্দৃষ্টি ও যুক্তিবাদী মননের প্রতিফলন ঘটত।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিদ্রোহের পর তাহেরের সঙ্গে আমার আবার দেখা হয়। আমি বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পারি, তিনিই ছিলেন সেই বিদ্রোহের সামরিক অধিনায়ক। এটা আমাকে বিস্মিত করলেও একই সঙ্গে আমার কাছে তা ছিল যৌক্তিক। তাহের আসলে তাঁর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিলেন।
তাহেরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণরূপে পেশাগত। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ। তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এ অবস্থায় আমরা পুনরায় আলোচনা করি। ৭ নভেম্বরে যদিও তাহের জিয়ার জীবন রক্ষা করেন (জিয়া প্রকাশ্যেই এ কথা উল্লেখ করেছিলেন)। জিয়ার অবস্থান সম্পর্কে তাহের এবং জাসদের ইতিবাচক মূল্যায়ন ছিল ভুল। যদিও ঘরোয়াভাবে জিয়া দাবি করেছিলেন, একমাত্র সমাজতান্ত্রিক নীতি বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য ঘোচাতে পারে।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হই। তাহেরের বড় ভাই আবু ইউসুফ খান এ ব্যাপারে সাহায্য করেন। আমরা প্রায় ৯০ মিনিট আলোচনা করেছিলাম। সেখানে আমি ৭ নভেম্বর সম্পর্কে তাহেরের বক্তব্য জানতে পারি। আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিতে চাইলে তিনি বললেন, আবার তাঁকে স্বাগত জানাতে পারলে তিনি খুশি হবেন। তাহের ছিলেন আশাবাদী। তাঁর ভাবনা ছিল, তাঁদের দিন আসছে।
আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম, যদি তাঁরা ক্ষমতায় আসেন, তাহলে তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীদের ভিড় থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে অবলোকন করবেন। আমি বললাম, তাঁরা বিষয়টিকে কীভাবে নেন, তার ওপর নির্ভর করবে আমাকে তখন ‘স্বাগত’ জানানো হবে কি না। আমি তাঁকে বললাম, যদি গ্রেপ্তার কিংবা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে, তা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আমিই হব প্রথম। তেমন পরিস্থিতিতে আমাকে স্বাগত নাও জানানো হতে পারে। তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিই, আমি আসলে সব ক্ষমতা সম্পর্কেই সন্দিগ্ধ। তিনি মাথা ঝাঁকালেন, হাসলেন এবং বললেন, তিনি আমার ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছেন। আমি বললাম, আপনি যদি আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন, তাহলে সে সম্পর্কে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রেও আমি হাজির থাকব। নতুন সেনাবাহিনী গঠন করুন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সমস্যা সমাধান করুন, দরিদ্রকে সাহায্য করুন, তাদের দারিদ্র্যের অবসান ঘটান—আমি সবকিছুরই বৃত্তান্ত লিখব।
আমরা বিদায় নিলাম। সেটাই ছিল তাহেরের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। আমি এরপর তাঁকে আর দেখিনি। এরপর আমি অবশ্য তাঁর নিকট দূরত্বে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেই দিনটিতে, যেদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর গোপন বিচার শুরু হয়েছিল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম কারাগারের সামনে।
২০০৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মূল বক্তৃতার শুরুতে প্রদত্ত স্মৃতিচারণা, ইংরেজি থেকে অনূদিত।
লরেন্স লিফশুলজ: প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক।

নারীর মর্যাদাহানির জন্য বেরলুসকোনিকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে

নারীর মর্যাদাহানির জন্য ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনিকে ক্ষমতা ছাড়া হতে হবে। গত বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার রোজি বিন্দি এ কথা বলেছেন।
বেরলুসকোনিকে ‘সুলতান’ অভিহিত করে তিনি বলেন, যৌন কেলেঙ্কারির জন্য বেরলুসকোনিকে ক্ষমতা ছাড়া হতে হবে। তাঁর এ কেলেঙ্কারির জন্য ইতালির নারীদের সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে। সুলতানের কারণে দেশের নারীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি নারীদের দেহসর্বস্ব ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করেছেন। নারীদের মধ্যে আগে যাঁরা ভোট দিয়ে বেরলুসকোনিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেছিলেন, তাঁরাই পরবর্তী নির্বাচনে তাঁকে আর ভোট দেবেন না। রোজি বিন্দি বলেন, গত নির্বাচনে বেরলুসকোনির সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নারীরা। তবে এখন নিঃসন্দেহে নারীদের মধ্যে বেরলুসকোনির জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে এবং নারীরাই তাঁর অভিসার জীবনের সমাপ্তি ঘটাবেন। গত বুধবার বিকেলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে তাঁর কার্যালয়ে রয়টার্সকে তিনি এ সাক্ষাৎকারটি দেন।

ইরানের বিরোধী দলকে অর্থ দিতে চেয়েছিলেন মাহমুদ আব্বাস

ইরানে ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সে দেশের বিরোধী দলকে একটি বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে সহযোগিতা করার ব্যাপারে একজন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে প্রভাবিত করেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়া এক গোপন নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আল-জাজিরার প্রকাশিত নথির উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ২০০৯ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জর্জ মিশেলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার (পিএলও) মুখ্য আলোচক সায়েব এরাকাতের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এরাকাত মিশেলকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এখন এক কঠিন সময় চলছে। গাজা ও লেবাননে আহমাদিনেজাদের একচেটিয়া প্রভাব। আরব রাষ্ট্রগুলোও তেমন কিছু করছে না। আপনি জানেন, মুসাভিকে (ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা) বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে মাহমুদ আব্বাস (ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট) একজন ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীকে প্রভাবিত করছেন। পরে জানা গেছে, আব্বাস ফিলিস্তিনি ওই ব্যবসায়ীকে ইরানের বিরোধীদলীয় নেতা মির হোসেন মুসাভিকে পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার দিতে বলেছিলেন। গাজায় হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাকে ইরান অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। পিএলওকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইরানকে প্রতিরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আব্বাস ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোপন নথি থেকে জানা যায়, এরাকাত আরেক বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেন, আলজাজিরা টেলিভিশনের মালিক কাতারের আমির ব্যক্তিগতভাবে আব্বাসের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০০৯ সালের মে মাসে আরেক বৈঠকে এরাকাত জানান, তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান সফর করেছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব খুব বেশি।
হামাস প্রসঙ্গে এরাকাত বলেন, ইরান হামাসকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিকায়নের জন্য ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রয়োজন। তিনি বলেন, আজ যদি কায়রোতে ইসরায়েলের দূতাবাস না থাকত তাহলে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন হয়তো মিসরেই থাকতেন। তাঁর সহকারী আয়মান আল জাওয়াহিরিকেও সেখানে কোনো দোকান গড়ে বসে থাকতে দেখা যেত।

‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত বুধবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত গোপন আলোচনার নথিপত্র প্রকাশ হওয়ার পরও এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের তালিকায় এখনো শীর্ষে। হিলারি জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক চার মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে মিউনিখ যাবেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের জুদাহর সঙ্গে এ নিয়ে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
জুদাহর সঙ্গে ওয়াশিংটনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হিলারি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা আমাদের উভয় দেশের কাছে এখনো অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে।’ তিনি জানান, দুই দেশের (ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন) মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে ইহুদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ আকাঙ্ক্ষাও বাস্তবায়িত হবে।
হিলারি বলেন, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, এ ধরনের একটি চুক্তি দুই দেশে শুধু শান্তি ও সমৃদ্ধিই আনবে না, সন্ত্রাসবাদমুক্ত বিশ্ব গড়ার ক্ষেত্রে এটি হবে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ। কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা স্যাটেলাইট টেলিভিশন রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইসরায়েলকে ব্যাপক ছাড় দেওয়ার হাজার হাজার গোপন নথিপত্র প্রকাশ শুরু করার পর ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক নিজ দেশে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছেন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ-সমর্থিত শক্তি সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

লেবাননে ঐকমত্যের সরকার গঠনের আহ্বান সিরিয়ার

লেবাননের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য সিরিয়া সে দেশের দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের প্রতি গতকাল বৃহস্পতিবার আহ্বান জানিয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-মুয়ালেম সাংবাদিকদের বলেন, লেবাননে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সরকার গঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। সে দেশের সব দল এতে অংশ নেবে। নাজিব মিকাতি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর এটাই প্রভাবশালী প্রতিবেশী সিরিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

২০ বছরে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে দ্বিগুণ হারে

আগামী ২০ বছরে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা অমুসলিমদের চেয়ে দ্বিগুণ হারে বাড়বে। সে হিসাবে ২০৩০ সালে মুসলমানদের সংখ্যা হবে ২২০ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ। মার্কিন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ ফোরামের নতুন একটি সমীক্ষায় এ তথ্য জানা গেছে।
‘দ্য ফিউচার অব দ্য গ্লোবাল মুসলিম পপুলেশন’ বা বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নামে ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে মুসলিম জনসংখ্যা ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে বেশি হবে পাকিস্তানে। আর ভারত হবে তৃতীয় মুসলিমপ্রধান দেশ। সন্তান জন্ম দেওয়ার সক্ষমতা, মৃত্যু ও অভিবাসনের হারকে বিবেচনায় নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১৬০ কোটি। পরবর্তী দুই দশকে প্রতিবছর গড়ে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে, আর অমুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে দশমিক ৭০ শতাংশ হারে।
এতে বলা হয়, ২০৩০ সালে ৬০ শতাংশ মুসলিম এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, ২০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে, ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে, ২ দশমিক ৭ শতাংশ ইউরোপে এবং দশমিক ৫ শতাংশ লোক বাস করবে আমেরিকায়।

‘যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি’ উজ্জ্বল হয়েছে

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ওবামা প্রশাসনের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে বহির্বিশ্বে গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির বেশ উন্নতি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র মাইক হ্যামার বলেন, তাঁরা যতটা মনে করছেন তাতে মনে হচ্ছে, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা অন্যান্য দেশে অনেক বেড়েছে। আর এটা হয়েছে ওবামা প্রশাসনের বিভিন্ন তৎপরতার কারণে।
হ্যামার বলেন, ওবামা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো মর্যাদা আবার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মনোযোগী হন। এ লক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেন নিষ্ঠার সঙ্গে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে মনোযোগী হন। এ ক্ষেত্রে তিনি পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। আর এ বিষয়গুলো অন্য দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নে এবং ভাবমূর্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা বলেন, এ সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কাছে এ বার্তাও পৌছে দেয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অংশীদার বা সহযোগী দরকার। তারা অন্যদের নিয়ে কাজ করতে চায়। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের মতো বড় শক্তির দিকে যেমন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে, তেমনি ভারতের মতো উদীয়মান শক্তির দিকেও বন্ধুত্বের হাত সম্প্রসারণ করেছে।

১০০ লাগেজ নিয়ে পালালেন মোবারকের ছেলে গামাল

বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় সঙ্গে দেড় টন সোনা নিয়ে গেছেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর স্ত্রী লায়লা আলী। আর এবার দেশে বিক্ষোভ শুরু হতে না-হতেই ১০০ লাগেজ নিয়ে পালিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ছেলে গামাল মোবারক।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট আখবার আল-আরব জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর দুই দিনের মাথায় বুধবার গামাল দেশ ছেড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে তিনি একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন প্রায় ১০০টি লাগেজ। তবে লাগেজগুলোতে কী ছিল, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
৩০ বছর ধরে ক্ষমতাসীন হোসনি মোবারকের বয়স এখন ৮২ বছর। সম্প্রতি তাঁর স্বাস্থ্য বেশ ভেঙে পড়েছে। অনেকে ধারণা করছেন, ক্ষমতার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি ছেলে গামালকেই (৪৮) বেছে নেবেন। যদিও দেশের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী তা মেনে নেবে বলে মনে হয় না।
দরিদ্রতা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বেকারত্বসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত মঙ্গলবার থেকে মিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে এবং জানিয়ে দিয়েছে, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে সব ধরনের বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এর পরও বিক্ষোভে নেমে বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে চারজন।

গ্যাবনের বিরোধীদলীয় নেতার নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা

গ্যাবনের বিরোধীদলীয় এক নেতা আদ্রেঁ এমবা ওবাম নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর স্বীকৃতির দাবিতে বর্তমানে দেশটির জাতিসংঘের একটি দপ্তরে অবস্থান করছেন। এদিকে গ্যাবন সরকার দেশের রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করেছে এবং আদ্রেঁ এমবাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আদ্রেঁ এমবা ওবাম মঙ্গলবার নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেন এবং সরকারের একটি রূপরেখা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় ৫৩ জাতির আফ্রিকান ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এ ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে আদ্রেঁ এমবা ওবামের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এ ছাড়া তাঁকে ও তাঁর সমর্থকদের বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং তাঁদের রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগের সম্মুখীন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এমবা গত বুধবার আবারও বলেন, ‘আমিই গ্যাবনের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।’ এক বিবৃতিতে তিনি ‘অবৈধ ক্ষমতাধারীদের উৎখাতে’ গ্যাবনবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৯ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বরাবরই নিজেকে বিজয়ী হিসেবে দাবি করে আসছেন। তবে সরকারি ফলাফলে আলী বংগো ওদিমবাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

আইটিএফ অনূর্ধ্ব-১৪ টেনিস

আইটিএফ অনূর্ধ্ব-১৪ এশিয়ান টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশের দেলোয়ার হোসেন। ইয়াঙ্গুনে অনুষ্ঠানরত টুর্নামেন্টে শেষ চারে দেলোয়ার হোসেন ৩-৬, ২-৬ গেমে হেরে গেছেন ইয়েমেনের আল আনসি ঘাসানের কাছে। বালক দ্বৈতের কোয়ার্টার ফাইনালেও হেরেছে বাংলাদেশের দেলোয়ার-ওয়াই মং মারমা জুটি। সিরিয়ার আলাফ করিম ও মোহাম্মদ আজহারি জুটির কাছে তারা হেরেছে ৩-৬, ৫-৭ গেমে।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয়

জুবায়েরের দারুণ বোলিংয়ে (৫/১২) নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে প্রথম এক দিনের ম্যাচে ১৪৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সিলেটে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২১১ রান করে বাংলাদেশ। তৌহিদ ৫৫ ও সৈকত ৪৫ রান করেন। জবাবে ২৯ ওভারে ৬৬ রানেই গুটিয়ে যায় নেপাল।

এবারও পারলেন না ওজনিয়াকি

গত বছর মেয়েদের টেনিস র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটা দখল করেছিলেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। নতুন বছরও শুরু করেছিলেন এক নম্বর হিসেবেই। কিন্তু শীর্ষস্থানে পৌঁছলেও এখন পর্যন্ত একটিও গ্র্যান্ডস্লাম না জেতার জন্য মাঝেমধ্যেই নানা রকম কটু মন্তব্য সহ্য করতে হয় ডেনমার্কের এই তারকাকে। সুযোগ ছিল এবারের মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার। সেই ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছিল ওজনিয়াকির পারফরমেন্স থেকে। দাপটের সঙ্গেই পৌঁছেছিলেন সেমিফাইনালে। কিন্তু শেষ চারের লড়াইয়ে চীনের লি নার কাছে ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩ গেমে হেরে আরও একবার সেমিফাইনালেই শেষ হলো ওজনিয়াকির প্রথম গ্র্যান্ডস্লামের স্বপ্ন।
প্রথম সেটটা ৩-৬ গেমে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় সেটে খুব চমত্কারভাবে ঘুরে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নবম বাছাই লি না। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বিতীয় সেটটা জিতে নেন ৭-৫ গেমে। এরপর শেষ সেটটা ৬-৩ গেমে জেতার পরই গড়ে ফেললেন ইতিহাস। প্রথম চীনা খেলোয়াড় হিসেবে পৌঁছালেন গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে।
ফাইনালে ভেরা জভোনরেভা বা কিম ক্লাইস্টার্সের মুখোমুখি হবেন লি না।

সোহরাওয়ার্দীর বিশ্বকাপ-দর্শন

রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে নির্মাণ স্কুল ক্রিকেটের ম্যাচ খেলতে গেছে আল-হেরা স্কুল। খেলার আগে হঠাৎ জানা গেল একজন খেলোয়াড় আসেনি। মাঠে ছিল ওই স্কুলেরই ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্র। বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে নামিয়ে দেওয়া হলো তাকেই। আকস্মিক দলে ঢুকে খুদে ক্রিকেটারটি কিন্তু খারাপ খেলল না—৫ ওভার বল করে ১০ রানে ৫ উইকেট!
মাঠে বসে খেলা দেখা অনেকের উৎসাহে ছেলেটির মা-বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন বিকেএসপিতে। সেদিনের সেই খুদে ক্রিকেটারই আজকের মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী—সোহরাওয়ার্দী শুভ। চোখে যাঁর বিশ্বকাপ-স্বপ্ন পূরণের ঝিলিক।
বিশ্বকাপ নিয়ে স্বপ্নের আঁকিবুঁকি বাংলাদেশ দলের ১৫ ক্রিকেটারের চোখেই। তবে সোহরাওয়ার্দীর স্বপ্নটা একটু অন্য রকম। ২০০৯ সালে হজ পালন তাঁর জীবনদর্শন এতটাই বদলে দিয়েছে যে, বিশ্বকাপ-স্বপ্ন অন্যদের সঙ্গে মেলে না, ‘দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ হবে। আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া, তিনি যেন আমাদের মানসম্মান রাখেন। আমরা যেন ভালো খেলতে পারি। সারা দুনিয়ার মানুষ যেন জানে, এই মুসলিম দেশটা ভালো ক্রিকেট খেলে।’
যেদিন থেকে বল-ব্যাট নিয়ে নাড়াচাড়া, সেদিন থেকেই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে ভালো খেলতে দেখে স্বপ্নপূরণের তাড়নাটা বেড়েছে। তবে হজ করে আসার পর স্বপ্ন কিংবা বাস্তবতা—সবকিছুই সমান তাঁর কাছে। স্বপ্নপূরণের দরজায় দাঁড়িয়ে বরং সোহরাওয়ার্দীর মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপটাই সব না। জীবনের প্রতিটি অণু-পরমাণুর অর্থই দুই বছর আগের চেয়ে ভিন্ন, ‘আগে সব সময় একটা অভাববোধ থাকত। মনে হতো আরেকটু করলে, আরেকটু পেলে বোধ হয় ভালো হয়। কিন্তু এখন সবকিছু খুব শান্তিপূর্ণ, খুব পরিপূর্ণ মনে হয়। আগে মৃত্যু নিয়েও ভাবতাম না। হজের পর এ ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারি এখন।’ উপলব্ধির পরিবর্তন আছে ক্রিকেটীয় বিষয়েও, ‘আগে বলতাম, আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দাও, টাকা-পয়সা দাও। হজের পর এসব বদলে গেছে। আল্লাহর কাছে এখন একটা জিনিসই চাই, তিনি আমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করুন। অন্য তরুণ ক্রিকেটাররা যেন বুঝতে পারে নামাজ পড়েও ভালো খেলা যায়।’
নামাজের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকে। কিন্তু হজ করে এসে ধর্মের সবকিছুকেই জীবনের অংশ করে নিয়েছেন, ‘হজে গিয়ে কিছু জিনিস দেখে আশ্চর্য হয়েছি। কী দেখেছি বলব না, এসব একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আসলে হজ এমন একটা জিনিস, ওখানে গেলে মানুষের একটা না-একটা দিক খুব শক্তিশালী হয়।’ বদলে যাওয়া সোহরাওয়ার্দীর যেমন মনে হয়, আগের জীবনটা খুবই অনিশ্চিত ছিল। জাগতিক মোহে এতটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে, এই জীবনটাকেই মনে হতো সবকিছু। নতুন উপলব্ধি, ‘পৃথিবীতে আসার সিরিয়াল আছে, যাওয়ার কোনো সিরিয়াল নেই...।’
সোহরাওয়ার্দী অদৃষ্টবাদী বিশ্বকাপ নিয়েও, ‘আল্লাহ চাইলে বিশ্বকাপ খেলব। তিনি না চাইলে আর সবাই চাইলেও খেলতে পারব না। হয়তো ইনজুরিতে পড়ে যাব, কিছু করার থাকবে না। সব ক্ষমতাই তাঁর হাতে।’ অনেকে বলেন, সাকিব-রাজ্জাক থাকতে সোহরাওয়ার্দীর মতো আরেকজন বাঁহাতি স্পিনার না হলেও তো চলত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে! সোহরাওয়ার্দী প্রতিবাদ করেন, তবে পাল্টা আঘাত করে নয়, ‘আমার মনে হয়, আমার খেলার প্রয়োজন আছে বলেই খেলছি। প্রয়োজন না থাকলে আমাকে কেউ নিত না। নিশ্চয়ই দলে আমার প্রয়োজন আছে।’
ধর্মের মধ্যে থেকেই তিনি জেনেছেন, ধর্মের সঙ্গে বিরোধ নেই ক্রিকেটের। ইসলাম বরং পরিপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে উঠতেই সাহায্য করে। হয়তো এই বিশ্বাস থেকেই সোহরাওয়ার্দীর মতো ধর্মভীরু-শ্মশ্রুমণ্ডিত ক্রিকেটার আজকাল অনেকেই আছেন। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইউসুফ, দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলা কিংবা ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের মঈন আলী। তাঁদেরও আগে আছেন সাঈদ আনোয়ার। পাকিস্তানের সাবেক এই ওপেনার বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকায় এসে যাঁদের খোঁজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দীও ছিলেন। সোহরাওয়ার্দীর মাধ্যমে আজ তাঁর সঙ্গে দেখা করার কথা সাকিব-তামিমসহ বাংলাদেশ দলের আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের। কিন্তু দেখা হলে তাঁদের কী বলবেন সাঈদ আনোয়ার! বিশ্বকাপ সামনে বলে ক্রিকেটীয় পরামর্শই দেবেন, নাকি শোনাবেন ধর্মের কথা? হয়তো সোহরাওয়ার্দীকে যেটা বলেছেন, তাঁদেরও বলবেন সেটাই, ‘খেলার সঙ্গে ধর্মের বিরোধ নেই। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে খেলো।’
কথাটা অক্ষরে অক্ষরে মানেন। সোহরাওয়ার্দী বিশ্বকাপ-স্বপ্নের মধ্যে থেকেও তাই বিশ্বাস করেন, ‘আল্লাহ পাশে ছিলেন বলেই এত কিছু সম্ভব হয়েছে। নইলে আমি হয়তো আজ কোথাও থাকতাম না...।’

আরেকটা এল ক্লাসিকোর অপেক্ষা

এ মৌসুমে আলমেরিয়ার নিয়তি কি বার্সেলোনার হাড়িকাঠে গলা পেতে দেওয়া? না হলে এই দলটিকে সামনে পেলেই কেন বার্সেলোনার গোলতৃষ্ণা বন্যার বেগে ধেয়ে আসবে? লিগে ৮-০ গোলে জয়ের পর পরশু স্প্যানিশ কাপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আলমেরিয়াকে ৫-০ গোলে হারাল কাতালানরা। রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থা বার্সার ঠিক উল্টো। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সেভিয়ার বিপক্ষে কোনো রকমে বিতর্কিত এক জয় পেয়েছে তারা (১-০)।
এটাও যেন নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে, বার্সেলোনার বড় জয় আসবে মেসির অবদানে। আলমেরিয়ার বিপক্ষেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ১৫ মিনিটের মধ্যে বার্সা ৩-০-তে এগিয়ে গেছে মেসির জোড়া গোলেই। মেসির গোল দুটি ৯ ও ১৫ মিনিটে। ৩ গোলের আরেকটি ডেভিড ভিয়া করেছেন ১০ মিনিটে। ৩০ মিনিটে পেদ্রো করেন ৪-০।
আলমেরিয়ায় তখন হয়তো আরেকটি ৮-০ গোলের শঙ্কাই ছড়িয়ে পড়েছে। সেটা হয়তো হয়েও যেত, যদি না মেসি-ভিয়াদের গোলপোস্ট বঞ্চিত না করত। আলমেরিয়ার গোলরক্ষক সুয়ারেজ করেছেন দারুণ কিছু সেভ। তবে ব্যবধানটা ৫-০ হয় সেইডু কেইটার শেষ মুহূর্তের গোলে। এটি ছিল মেসির দুর্দান্ত এক পাসের ফসল।
রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দলের জয়ে তেমন কোনো অবদানই রাখতে পারেননি। পরশু ছিল রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোর ৪৮তম জন্মদিন। জন্মদিনে কোচ সবচেয়ে বড় উপহারটি পেয়েছেন তাঁর কাছে একদা ‘ব্রাত্য’ করিম বেনজেমার কাছ থেকে। ফরাসি এই স্ট্রাইকারের গোলেই সেভিয়া থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পেরেছে রিয়াল।
তবে রিয়ালের এই জয় আর মরিনহোর জন্মদিনের উপহারে লেগেছে বিতর্কের আঁচড়। সেভিয়ার লুইস ফ্যাবিয়ানোর একটি শট দৃশ্যত গোললাইন অতিক্রম করলেও রেফারি গোল দেননি। কোচ মানজানোর দাবি, ‘ওটা গোলই ছিল। এই পরাজয় আমার খেলোয়াড়দের প্রাপ্য নয়।’
স্প্যানিশ লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা কিংস কাপ, যে প্রতিযোগিতাই হোক; রিয়াল-বার্সার মধ্যে আরেকটা লড়াই চলে। লড়াইটা মেসি-রোনালদোর। সেই লড়াইয়ে পরশু মেসির কাছে হেরে গেছেন রিয়ালের রোনালদো। মেসি এ মৌসুমে তাঁর গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ৩৫-এ (৩১ ম্যাচ)। আর রোনালদো ৩২ ম্যাচ খেলে গোল পেয়েছেন ৩২টি।
গোল করানোর দিক দিয়েও দুজনের বিস্তর ব্যবধান। মেসি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৮ গোল, রোনালদোর সংখ্যা ঠিক এর অর্ধেক। রোনালদো অবশ্য এসব নিয়ে ভাবেন না। রিয়াল স্প্যানিশ কাপের ফাইনালে ওঠার পথে এক পা এগিয়ে আছে, এতেই তাঁর আনন্দ, ‘আমরা আরও গোল করতে পারতাম। তবে এটাই যথেষ্ট।’
শেষ পর্যন্ত রিয়াল ফাইনালে উঠলে এ মৌসুমে ফুটবল রোমান্টিকরা আরেকটা এল ক্লাসিকোর দেখা পাবেন। দেখতে পাবেন আরেকটা মেসি-রোনালদো মুখোমুখি লড়াই।
দেখা যাক, সেটা যদি হয় তাহলে রোনালদো কী করতে পারেন। সর্বশেষ এল ক্লাসিকোতে ৫-০ গোলে উড়ে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। মেসির কাছে হেরে গেছেন রোনালদো। স্প্যানিশ কাপেও মেসির বার্সাকে এগিয়ে রাখতে হয়। এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৫ বারের চ্যাম্পিয়ন তো তারাই।
ইতালিয়ান কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার ও এসি মিলান। নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে নাপোলিকে ৫-৪-এ হারিয়েছে ইন্টার। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার আলেসান্দ্রে পাতোর জোড়া গোলে মিলান আন্তোনিও কাসানোর সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। এদিকে জার্মান কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।

অস্ট্রেলিয়ায় চীনা ইতিহাস

আগের রাতে ভালো ঘুম হয়নি। স্বামী বড্ড জ্বালাতন করছিলেন। না, রোমান্টিক কিছু নয়, স্বামী বেচারার আবার নাক ডাকার ধাত। লি নার ঘুম আজ এবং কালও ভালো হওয়ার কথা নয়। ইতিহাস গড়ার ধুকপুকানি বুকে নিয়ে বেঘোরে ঘুমাতে চাইলে কুম্ভকর্ণের বংশধর হতে হয়। লি অবশ্যই তা নন।
চীনের ২৮ বছর তরুণী অবশ্য এরই মধ্যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন। ওপেন যুগে প্রথম এশিয়ান নারী হিসেবে উঠে এসেছেন কোনো গ্র্যান্ড স্লাম এককের ফাইনালে। সেটিও টুর্নামেন্টের এক নম্বর বাছাই ক্যারোলিন ওজনিয়াকিকে ৩-৬, ৭-৫, ৬-৩ গেমে হারিয়ে। ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রত্যাবর্তন-রানি কিম ক্লাইস্টার্স। ২০০৯ সালের শেষাশেষি ফিরে আসার পর তৃতীয় শিরোপার সন্ধানে শনিবার রড লেভার অ্যারেনায় ক্লাইস্টার্স মুখোমুখি হবেন লির। কাল আরেক সেমিফাইনালে বেলজিয়ান তারকা সরাসরি সেটে (৬-৩, ৬-৩) হারিয়েছেন ভেরা জনারেভাকে।
কালকের দিনটা ‘এশিয়ার দিন’ হয়ে গেল পুরুষ দ্বৈতের ফাইনালে ভারতীয় জুটি মহেশ ভূপতি আর লিয়েন্ডার পেজ ওঠায়। ফাইনালে তাঁদের প্রতিপক্ষ ব্রায়ান ব্রাদার্স বব আর মাইক।
চীনের অনেক ‘প্রথম’-এর জন্ম দিয়েছেন লি। প্রথম ডব্লুটিএ শিরোপা জেতা চীনা নারী, র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে ওঠার দিক দিয়েও প্রথম। প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে এসে মজা করেই বললেন, ‘প্রথম চীনা নারী হিসেবে ফাইনালে উঠতে পেরে আমি গর্বিত। আসলে আমি সব সময়ই প্রথম দৃষ্টান্ত গড়তে চাই।’
লির রসবোধের পরিচয় কোর্টেও পাওয়া গেছে। প্রথম সেটে খুব একটা জমিয়ে লড়াই করতে পারেননি। দ্বিতীয় সেটেও পিছিয়ে পড়েছিলেন। ওজনিয়াকি ম্যাচ পয়েন্টের জন্য সার্ভ করছিলেন, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে কোচ জিয়াং শানের দিকে তির্যক চোখে তাকাচ্ছিলেন বারবার। না, পরামর্শ চাইতে নয়, জিয়াং যে তাঁর স্বামীও, তাঁর কারণেই তো ভালো ঘুম হয়নি।
পরে কোর্টে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও মজা করে বলেছেন, ‘সেমিফাইনাল বলে নার্ভাস তো ছিলামই। তবে কালকে ভালো ঘুম হয়নি। ও বারবার নাক ডাকছিল। প্রায় প্রতি ঘণ্টায় আমার ঘুম ভেঙে গেছে।’
গতবারও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দুর্দান্ত খেলেছিলেন। ওজনিয়াকি, ভেনাসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন। আফসোস, সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন সেরেনা, টুর্নামেন্টের ভাবী চ্যাম্পিয়ন। এবার আর কোনো হতাশায় পুড়তে চান না। কাল শিরোপা জিতেই দিতে চান শান্তির ঘুম!

এবার ফেদেরারেরও বিদায়

২০০৮ যেন ফিরে এল ২০১১-তে। সেবারও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে গোলিয়াথ বধ করেছিল এক ডেভিড। শেষ পর্যন্ত পুরুষ এককের শিরোপাও উঠেছিল তাঁর হাতে। সেই ডেভিড গায়ে-গতরে বেড়ে উঠলেও গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার সংখ্যায় সেই ২০০৮-ই সবেধন। তবে কাল নোভাক জোকোভিচ যেভাবে সরাসরি সেটে পত্রপাঠ বিদায় করে দিলেন রজার ফেদেরারকে, বাজি ধরতে চাইলে এই সার্বিয়ানের ওপরই ধরুন!
হারলে ‘ফেদেরারের শেষ’ অনেকেই দেখে। অনেকবারই দেখেছেও। কালকেও ৭-৬ (৭/৩), ৭-৫, ৬-৪ গেমের পরাজয়ের পরও হয়তো আবারও আলোচনাটা জমে উঠবে। বিশেষ করে টানা চারটি গ্র্যান্ড স্লামেই যে খালি হাতে ফিরলেন ফেদেরার। গত আট বছরে এমনটা আর হয়নি!
আগের দিন বিদায় নিয়েছেন রাফায়েল নাদাল। তখন হয়তো অনেকেই ভেবেছিলেন, ফেদেরারের সামনে ১৭ নম্বর গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয়ের পথের কাঁটা দূর হয়ে গেল। কিন্তু পরদিনই ফেদেরারকেও বিদায় জানাতে হলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দর্শকদের। ২০০৮ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও এমনটাই হয়েছিল। তিন বছর পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল হবে, যেখানে ফেদেরারও নেই, নাদালও নেই।
২০০৮-এ জো-উইলফ্রায়েড সোঙ্গাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন জোকোভিচ। এবার এই তিন নম্বর বাছাইয়ের প্রতিপক্ষ বেছে নেবে আজকের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। যেখানে অ্যান্ডি মারে মুখোমুখি হবেন নাদালকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে আসা ডেভিড ফেরার।
আলোচনা একটা শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। নাদালের ফিটনেস নিয়ে সংশয়, ফেদেরারের ভাটার টান এই ইঙ্গিতই নাকি দিচ্ছে, দুই ‘আর’-এর আধিপত্য আর থাকবে না। জোকোভিচও আকারে-ইঙ্গিতে সে কথাই বললেন, ‘ওদের দুজনকে চ্যালেঞ্জ জানানো আসলেই কঠিন। সেটি আরও কঠিন বড় টুর্নামেন্টে, যেখানে তারা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলে। তবে এখন কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে শুরু করেছে। সেদিক দিয়ে দেখলে এটা খেলাটার জন্যই একটা সুখবর।’
এ ধরনের মন্তব্য করা বাঘের গলায় হাত ঢোকানোর মতোই। গত ২৩টি গ্র্যান্ড স্লামে ফেদেরার-নাদালই জিতে নিয়েছেন ২১টি শিরোপা। জোকোভিচ তাই পরক্ষণেই সতর্ক, ‘রজার কিন্তু এখনো ক্ষুধার্ত, এক নম্বর জায়গাটি ও ফিরে পেতে উন্মুখ। নাদাল এখনো অদম্য। আমরা আসলে এখনো ওদের চেয়ে পিছিয়েই আছি। তবে এখন এমন অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে, যাদের পক্ষেও গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জেতা সম্ভব। এটাই শুভ লক্ষণ।’
জোকোভিচের এই পূর্বাভাসের পাল্টা জবাব অবশ্য কালই দিয়ে রেখেছেন ফেদেরার। বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছেন, ‘এটাই শেষ নয়। আমি ফিরে আসবই।’ অবশ্য এদিন জোকোভিচ যে তাঁর চেয়ে অনেক ভালো খেলেছেন, নির্দ্বিধায় সেটিও স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘নোভাক আমার চেয়ে আজ ভালো খেলেছে। এটা মেনে নিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিততে পারলে ভালোই লাগত। কিন্তু সেটা আজ আর সম্ভব হলো না।’

আফ্রিদিই হতে পারেন পাকিস্তানের অধিনায়ক

অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো একটা বড় আসর শুরুর মাত্র ২১ দিন আগেও যে তারা এই বিতর্কের ঘেরাটোপেই আটকে থাকবে, সেটা একটু বেশিই বাড়াবাড়ি বলে মনে হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি ভালোভাবে নেওয়া তো দূরে থাক, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলের জন্য এখনো পর্যন্ত অধিনায়কই ঘোষণা করতে পারেনি পিসিবি। মিসবাহ-উল-হক নাকি শহীদ আফ্রিদি—কার হাতে তুলে দেওয়া হবে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশনের নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিশ্বকাপের জন্য শেষ পর্যন্ত আফ্রিদিকেই অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করতে পারে পিসিবি।
ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিদিই পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক হবেন, এটাই ছিল স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহ যে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়েছেন, তাতেই নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন পিসিবির কর্মকর্তারা। এ ছাড়া নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে, পিসিবি সভাপতি ইজাজ বাট নাকি আফ্রিদির চেয়ে মিসবাহকেই অধিনায়ক হিসেবে দেখতে বেশি আগ্রহী। পিসিবির সেই সূত্র বলেছে, ইজাজ বাট এই মুহূর্তে অধিনায়ক হিসেবে আফ্রিদির চেয়ে মিসবাহকেই বেশি সমর্থন করছেন। এমনকি ইউনুস খানও অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহকেই চান। কিন্তু অন্য অনেকের সুপারিশ, পরামর্শ মাথায় রেখে শেষ সময়ে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক পরিবর্তন করার ঝুঁকিটা পিসিবির প্রধান নিতে চাচ্ছেন না।
নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেই ইজাজ বাট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দলটা পাকিস্তান বলেই নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত কোনো কিছু অনুমান করা যাচ্ছে না।

স্বপ্ন পূরণ হবে মিসবাহর

তরুণদের ভিড়ে জাতীয় দলে ঠাঁই হচ্ছিল না। এভাবে চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মিসবাহ-উল-হক। গত বছরের জুলাইয়ের ঘটনা এটি। সেই মিসবাহ এখন পাকিস্তানের টেস্ট দলের অধিনায়ক। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপেও নেতৃত্ব যেতে পারে তাঁর কাঁধে। তবে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ আসুক আর না আসুক, বিশ্বকাপে খেলতে পারলে স্বপ্ন পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন মিসবাহ।
‘বিশ্বকাপে খেলা যেকোনো পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য বিরল সম্মানের। প্রশ্নাতীতভাবে এখানে খেলা যেকোনো ক্রিকেটারের স্বপ্ন। আমি সেই স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় আছি’—এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া মিসবাহর বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে দ্য নেশন।
বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে বিতর্ক চলছে। কেউ বলছেন, ওয়ানডে দলের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির ওপরই বিশ্বকাপে আস্থা রাখা হোক। কেউ আবার বলছেন, আফ্রিদিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হোক মিসবাহর ওপর। এ প্রশ্ন্নে ৩৬ বয়সী মিসবাহর প্রতিক্রিয়া, ‘বাকিটা দলের ম্যানেজমেন্টের ওপর নির্ভর করছে। তাঁরা যদি মনে করেন দলে আমার কোনো ভূমিকার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমি কাউকে আশাহত করব না।’

Friday, January 28, 2011

আবাহনীকে শীর্ষে তুললেন ফ্রাঙ্ক

অনেক বিদেশি স্ট্রাইকার আবাহনীতে খেলে গেছেন। কজন দর্শকমনে ঠাঁই নিয়েছেন? তুয়াম ফ্রাঙ্ক এসব জানেন না। তবে আবাহনীর জার্সি গায়ে স্মরণীয় হয়ে থাকার স্বপ্ন দেখছেন ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার। আরেকটি ম্যাচে দলকে জিতিয়ে সেই স্বপ্ন তিনি দেখতেই পারেন।
ব্রাদার্সের বিপক্ষে ১-০ ম্যাচে আবাহনীর জয়সূচক গোলদাতার নাম ফ্রাঙ্ক। এ নিয়ে চার ম্যাচে ৪ গোল করলেন। সব ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নরা। একটি মাত্র গোল করে দলকে জেতালেন দুবার। শেখ জামাল ও ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে গোল পাননি। দলও জেতেনি। পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রাঙ্ক গোল করলে আবাহনী জেতে। তিনি এখন আবাহনীর ‘অমূল্য সম্পদ’।
ব্রাদার্সের সম্পদ ছিলেন এভারটন, ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার পারেননি বড় ম্যাচে দলকে পয়েন্ট এনে দিতে। তাঁরই স্বদেশি ডিফেন্ডার ড্যানিলো নিয়েছেন গোলরক্ষকের ভূমিকা! ৪০ মিনিটে ব্রাদার্সের নিয়মিত গোলরক্ষক মিতুল আঘাত পাওয়ায় মাঠে আসা সবুজ দাস (রঘু) গোল বাঁচাতে লাল কার্ড দেখেছেন ৭৫ মিনিটে। মিতুলের জার্সি পরেই ড্যানিলো পোস্টের নিচে ছিলেন বাকি সময়। দু-তিনবার বলও ধরেছেন। বল নয়, যেন কই মাছ ধরেছেন!
‘উপভোগ্য’ এই দৃশ্য নয়, ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ফ্রাঙ্কের দুর্দান্ত ভলিতে লক্ষ্যভেদ—ওটাই কাল কমলাপুর স্টেডিয়ামে সবচেয়ে দৃষ্টিকাড়া ছবি। তরুণ গোলরক্ষক সোহেল যেভাবে দলকে নির্ভরতা দিলেন, সেটিও আবাহনী সমর্থকদের কাছে ছিল স্বস্তির। প্রধান দুই গোলরক্ষক না থাকায় গোলপোস্টই এখন আবাহনীর বড় উদ্বেগের জায়গা। সেই উদ্বেগ জয় করে যোগ্যতর দল হিসেবে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ফেরা চ্যাম্পিয়নদের জন্য প্রেরণাও বটে।
ফ্রাঙ্ক ২-০ করতে পারলে জয়টা সহজ হতো। ইব্রাহিমের থ্রু ধরে ফ্রাঙ্ক এগিয়ে যাচ্ছিলেন গোলমুখে, ব্রাদার্স গোলরক্ষক রঘু বক্সের বাইরে ফ্রাঙ্ককে ফাউল করে দেখলেন লাল কার্ড। ম্যাড়মেড়ে বড় ম্যাচে নাটকীয়তা!
ব্রাদার্স সমর্থকেরা লাল কার্ড মানতে পারেনি, স্টেডিয়ামের চতুর্থ তলা থেকে তারা চেয়ার ছোড়া শুরু করল! ‘দেখ, আমরা কেমন মাস্তানি করতে পারি’—তাদের উগ্রতায় ছিল এমন ঘোষণা। এর আগেও চেয়ার ছুড়ে মেরেছে এই সমর্থকেরা, প্রতিকার না হওয়ায় এরা বেপরোয়া।
ম্যাচের পর আরেক কাণ্ড। আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) রেফারিকে কী যেন বলেছিলেন। এক পুলিশ তাঁকে থামতে বললে রুপু ওই পুলিশ সদস্যকে বলেন, তাঁর (রুপুর) পরিচয়টা যেন পুলিশ জেনে নেয়। এরপর সবুজবাগ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক ফাহিম ছাপার অযোগ্য ভাষায় রুপুকে গালি দেন বলে অভিযোগ। আবাহনী এর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। স্লোগানও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের ফুটবলে অবদান রেখেছেন, ছিলেন অধিনায়ক, সেই রুপুকে গালি দেওয়ার ঘটনায় উপস্থিত সবাই ছিলেন বিস্মিত।
ব্রাদার্সের রক্ষণাত্মক ফুটবলের বিপরীতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে টানা তৃতীয় জয়। ছয় ম্যাচে চার জয়, এক ড্র, এক হার—১৩ পয়েন্ট নিয়ে এই প্রথম এবারের লিগের শীর্ষে উঠল আবাহনী (৫ ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার ১২, শেখ রাসেলের ১০, মোহামেডানের ৯ ও শেখ জামালের ৮ পয়েন্ট)। আজই আবাহনীকে শীর্ষস্থানচ্যুত করতে পারে মুক্তিযোদ্ধা। তা যদি হয়ও, ফ্রাঙ্কের হাত ধরে এক দিনের জন্য শীর্ষে ওঠার স্বাদও তো কম নয়!
ঢাকা আবাহনী: সোহেল, লিঙ্কন, সামাদ, আমিনু, প্রাণতোষ, সিরাজী, মামুন, চৌমিন (অরূপ), ইব্রাহিম, রনি, ফ্রাঙ্ক।
ব্রাদার্স: মিতুল (রঘু), অপু, ইউসুফ, ড্যানিলো, আশরাফুল, ফয়সাল, ইমরোজ, তপু (নাদিম), কবির (তরু), এভারটন, রিচার্ড।

কিবরিয়া ভাইকে মনে পড়ে by শাহ মোহাম্মদ ইমাম মেহেদী

সেদিন ছিল ২০০৪ সালের অক্টোবর অথবা নভেম্বরের রোববারের এক সকাল। রোববারের ভোর সব সময় আমার কাছে অলস সময় কাটানোর দিন। সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে এই রোববার এলে যেন কিছুই করতে ইচ্ছা হয় না, এমনকি একটি টেলিফোন কল রিসিভ করাও আলসেমিতে ভরে যায়।
সেই আচমকা মুহূর্তে ফোন পেলাম। ওপাশ থেকে কিবরিয়া ভাই বললেন, ‘আমি আজ সারা দিন কোথাও বের হচ্ছি না। তোমরা সবাই চলে আসো না। নানা গল্প করা যাবে।’ শুনে খুবই ভালো লাগল। লন্ডনে বসে এই ভাবনাহীন দিনে অনেক কিছুই স্মরণ করা যাবে।
মনে পড়ে বছরের দুই ঈদের দিনে আশপাশের সবাইকে নিয়ে চিন্তা করা অথবা কে কোথায় কেমন আছে খবরাখবর নেওয়া।
আমরা গেলাম। সাউথ লন্ডনের একটি হোটেলে বসলাম। অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে পারিবারিক বিষয়-আশয় নিয়ে আলাপ শুরু হলো। আমাদের পরিবারের কে কোথায় কী করছেন, এ প্রসঙ্গেই আলাপ উঠল। বুঝলাম, পরিবারের কে কোথায় কী করছেন, তার জ্ঞান পুরোপুরি পাকা বা ওয়াকিবহাল। আমাদের দাদার দেওয়া জামে মসজিদ থেকে শুরু করে গ্রামের ও এর আশপাশের অনেক ঘটনাই উঠে এল। কিবরিয়া ভাইয়ের সঙ্গে এতটা নিরিবিলি পরিবেশে শুধু লন্ডনে বসে পরিবারের সুখ-দুঃখের অনেক ঘটনার সুরাহা খোঁজা আমাদের পক্ষে ছিল একটি অবিস্মরণীয় আলোচনা।
দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বললেন, ‘মেহেদী, তুমি বুঝতে পারছ না, এই লন্ডনে বসে দেশে আজ কী চলছে? এর বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে, সর্বশক্তি দিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে, তা না হলে সাধারণ মানুষের মুক্তি নেই। ধর্মের নাম নিয়ে এরা যে অপরাধ করছে, তা কোনো অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। ওদের আইনের আওতায় সোপর্দ করতেই হবে।’
এ উপলক্ষে বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যে বাংলাভাই ও তার অনুসারীরা ৬৪টি জেলায় বোমা ফাটিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক মতবাদ তারা জোরেশোরে চালিয়েছে এবং দাম্ভিকভাবে বলেছে, তারা বাংলার যেকোনো জায়গায় যেকোনো মানুষের বিরুদ্ধে যেকোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখে। তাই এই নিষ্ঠুর খড়গের খোরাক হয়েছিলেন আইভি রহমানের মতো নারী আর কত জানা-অজানা প্রাণ, যা প্রতিদিনের নানা মিডিয়ায় চলে আসছিল।
ক্ষণিকের জন্য হলেও আমরা সবাই নিশ্চুপ। তখন কিবরিয়া ভাইয়ের মুখের দিকে তাকালাম, তাঁর চোখে দেখতে পেলাম আগুনের ফুলকি। যার মধ্যে সর্বদাই দেখে আসছি অফুরন্ত জ্ঞানের সমাহার, অসংখ্য অভিজ্ঞতায় ভরপুর। অত্যন্ত ব্যথিত মনে দেশে ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু সেটি তাঁরই জীবনে এভাবে ঘটে যাবে, আমরা কেউ ভাবতে পারিনি।
মনে পড়ে, ভাষা আন্দোলনের কথা। সেই আন্দোলনে কিবরিয়া ভাই সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং অভিযুক্তও হন। তিনি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। কিবরিয়া ভাই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি তখন খুবই ছোট। তবে স্পষ্ট মনে আছে, সকালের চা-নাশতা শেষ করে মা-চাচিরা কিবরিয়া ভাইয়ের পড়ার ঘরে আসতেন, গল্পগুজব করতেন। একদিন মা-চাচিরা বসেছেন। কিবরিয়া ভাই আমার মাকে ডাকলেন, ‘ছোট চাচি, বরকত-সালাম-জব্বারের মতো যদি আমার অবস্থা হতো, তবে কী না ভালো হতো, আজ আমি বেহেশতে থাকতাম।’
কিবরিয়া ভাইয়ের মা এ কথা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সেদিন হয়তো কিবরিয়া ভাই মনের আবেগে কোটি কোটি মানুষের অন্তরের সুখ-দুঃখকে প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, কী যন্ত্রণা আর অনাচার-অবিচার তাঁকে দগ্ধ করে চলেছিল। সেদিন কি তিনি জানতেন, সময়ের গতিতে ঝড়ঝঞ্ঝার আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যে যে শিকড় গড়ে উঠেছিল জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার খেলায়, দেশ-দশকে তাঁর জ্ঞানের আলো শুধু দেওয়ার সময়, তখন তাঁর আপন জন্মস্থান বৈদ্যেরবাজারে, একটি ছোট্ট এলাকায়, আন্তর্জাতিক দেশি-বিদেশি চক্রের বিষাক্ত থাবায়, গ্রেনেডের প্রচণ্ড আঘাতে ঝাজরা হবে সে মানুষটির শরীর? দিনটি ছিল ২৭ জানুয়ারি ২০০৫। দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার প্রতিফল এভাবে দিতে হলো।
কিবরিয়া ভাই অর্থমন্ত্রী থাকাকালে সাধারণ মানুষের মনে ছিল একটু স্বস্তির নিশ্বাস। এটা বিনা দ্বিধায় বলা যেতে পারে, তাঁর অর্থমন্ত্রী থাকাকালে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের যে জিনিস—চাল, ডাল, মাছ, তরিতরকারি ইত্যাদির দাম ছিল সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। তার কোনো শত্রুও বলতে পারবে না দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল। তিনি অসহায় মানুষের সমস্যা জানতেন, বুঝতেন।
কিবরিয়া হত্যা সারা জাতির জন্য একটি নিষ্ঠুর কলঙ্কজনক অধ্যায়। তার কালিমা সারা জাতিকে বহন করতে হবে। এই নিষ্পাপ মানুষকে যারা খুন করেছে, এরা কোনো সাধারণ লোক নয়। এরা সমাজের হোমড়াচোমড়া, উঁচু স্তরের লোক। ক্ষমতায় অন্ধ হয়েই এরা এই কাজ করেছে। কিবরিয়া ভাইয়ের মৃদু ভাষণ ওদের শেলবিদ্ধ করেছে।
সত্যি কথা বলতে কি, কিবরিয়া হত্যা জাতির কাছে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের বুদ্ধিজীবী, লেখক, সমাজসেবক অনেকেই অনেক কিছু লিখেছেন, বলেছেন। কিন্তু ছয় বছর পরও সেই হত্যার বিচার হয়নি। অথচ তাঁর দলই এখন ক্ষমতায়। আমরা এই ঘাতকদের বিচার চাই।
আসুন, আমরা সবাই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে শপথ করি, হত্যাকারীরা যে দলেরই হোক, যত শক্তিশালীই হোক, আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং শাস্তি নিশ্চিত করব।
ই-মেইল: emmymehdishah@yahoo.co.uk