Tuesday, August 30, 2016

সম্পর্কে গতি আনতে ভারতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আনতে গতকাল সোমবার দুই দিনের ভারত সফরে গেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আমন্ত্রণে কিউ এই সফর করছেন। গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর এটিই প্রথম বিদেশ সফর। সফরে কিউয়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী দো সু সু লুইন, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং কর্মকর্তারা রয়েছেন। সফরের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে থিন ও তাঁর সফরসঙ্গীদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে কিউ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে টুইটার বার্তায় বলা হয়, ‘মিয়ানমার আমাদের জন্য বিশেষ একটি দেশ। ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে মিয়ানমারের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।’ বার্তায় বলা হয়, ‘দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্থায়ী ভিত্তি গড়তে সহযোগিতা করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।
যোগাযোগ, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নানা খাতে আমাদের কাজের সুযোগ রয়েছে।’ মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটারের স্থলসীমান্ত রয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার রাজ্যের সঙ্গে রয়েছে মিয়ানমারের সীমান্ত। এই অঞ্চলে সক্রিয় বেশ কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী বেশ আগে থেকেই মিয়ানমারের স্থলসীমা ব্যবহার করে। এই সফরে দুই দেশের সীমান্তে অস্ত্র-মাদক-বন্য প্রাণী চোরাচালান বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হবে। মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনী, মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কর্মী এবং বন্য প্রাণী চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বাহিনীর প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরের যোগাযোগ এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সব যোগাযোগ বিষয়েও এ সফরে ইতিবাচক আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভারত সহযোগিতা করতে চায়। ইতিমধ্যে ভারত মিয়ানমারের ২০ জন এমপিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আইএসবিরোধী অভিযানে যাচ্ছে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তা করতে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডেয়ারিং পাঠানো হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেছেন, আগামী শুক্রবার জাহাজটি নৌঘাঁটি পোর্টসমাউথ ত্যাগ করবে। মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান আক্রমণ পরিচালনা করছে। যুক্তরাজ্যের এই যুদ্ধজাহাজ সেখানে থাকা মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজকে সহায়তা দেবে। মার্কিন রণতরি থেকেই বিমানগুলো ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে আক্রমণ চালায়। এর আগে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের জাহাজ এইচএমএস ডিফেন্ডারকে গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরত আনা হয়। একই ধরনের দ্য টাইপ ৪৫ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ডেয়ারিংয়ের ক্রুর সংখ্যা ১৯০। এই জাহাজ ব্যস্ত নৌপথেও নজরদারি করবে। সেখান থেকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে তথ্য সহায়তা দেবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বলেন, আইএসকে পরাজিত করতে নৌ, বিমান ও পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা সমানতালে লড়ে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বোমা হামলা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ইরাকি বাহিনীকে বিস্ফোরক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।
আর নৌবাহিনী আইএসবিরোধী জোটের বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেবে। এইচএমএস ডেয়ারিং যুদ্ধজাহাজ সি ভাইপার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী। পুরো নৌবহরকে বিমান হামলা থেকে রক্ষার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ৭৫ মাইল দূর থেকে এটি হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। টাইপ ৪৫ ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবহরের সর্বাধুনিক যুদ্ধজাহাজ হলেও এ বছরের শুরুতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ নৌবহরের এ ধরনের জাহাজে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন করতে হবে। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল স্যার ফিলিপ জোনস গত জুলাইয়ে হাউস অব কমন্স কমিটিকে বলেন, উপসাগরের অত্যন্ত উষ্ণ পানিতে ভেসে এর গ্যাসচালিত ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ব্রিটিশ নৌবাহিনী মনে করছে, এ ধরনের জাহাজ ‘সব জায়গায় বছরের সব সময় থাকতে সক্ষম নয়।’ এর আগে পাঠানো এইচএমএস ডিফেন্ডারের মতোই ভূমিকা পালন করবে এবার পাঠানো এইচএমএস ডেয়ারিং। এইচএমএস ডিফেন্ডার নয় মাস মধ্যপ্রাচ্যে ছিল। সেখানে তারা আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ফরাসি বিমান হামলায় সহায়তা দেয়। গত জুন মাসে মাদক ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় এইচএমএস ডিফেন্ডার ওমানের দক্ষিণ উপকূলে একটি সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌযান আটক করে।

অভিশংসন প্রশ্নে আত্মপক্ষ সমর্থন

দিলমা রুসেফ
রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ গতকাল সোমবার সিনেটে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। রুসেফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নির্বাচনের আগে জনসমর্থন হারানোর ভয়ে কারসাজি করে বাজেট ঘাটতির তথ্য গোপন করেছিলেন এবং প্রবৃদ্ধির হিসাব বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছিলেন। রুসেফের বক্তব্য রেকর্ড করার পর চলতি সপ্তাহের শেষে সিনেট সদস্যরা তাঁকে অভিশংসন করা হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট দেবেন। সিনেট সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিলে ব্রাজিলে ১৩ বছরে বামপন্থী শাসনের অবসান হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রুসেফ বিদায় হলে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মাইকেল টেমার ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবিসি

কমানো হোক জ্বালানি তেলের দাম

সর্বমহল থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি থাকলেও সরকার বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে ২০১৩ সাল অবধি সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছিল। সেই সময়ে সরকারকে ভর্তুকি গুনতে হলেও গত তিন বছরে সুদে-আসলে তা উঠে গেছে। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) চলতি আগস্ট মাস পর্যন্ত গত ৪০ বছরের মধ্যে ২০ বছর লোকসান দিয়েছে এবং বাকি ২০ বছরে যে লাভ করেছে, তা লোকসানের প্রায় দ্বিগুণ। বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গত ২৫ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমিয়েছে, কিন্তু তাতে সাধারণ মানুষ খুব একটা সুফল পায়নি। বিশেষ করে পরিবহন খাতের ভাড়া এক পয়সাও কমেনি। তখন বলা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠা-নামার পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাস অন্তর দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেই।
অথচ গত দুই মাসে ভারত তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমানো হলে মূল্যস্ফীতি কমবে ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং উৎপাদন বাড়ার কারণে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হবে। গবেষণা সংস্থা সিপিডি বলেছে, জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ১০ শতাংশ কমানো হলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। জ্বালানি তেলের বেশি দাম রেখে সরকার যে মুনাফা করছে সেই তুলনায় দাম কমালে সার্বিক অর্থনীতিতে তার যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটা দেশের জন্য বেশি লাভজনক। তেলের দাম কমালে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন খরচ যেমন কমবে, তেমনি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ও হ্রাস পাবে আশা করা যায়। গত মে-জুন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৩০ ডলার থেকে কিছুটা বাড়লেও ফের এখন কমতির দিকে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম না কমানোর কোনো যুক্তি নেই।

সুরাইয়ার করুণ মৃত্যু

বখাটে যুবকের হাতে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসার মৃত্যু আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এ দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় সমস্যা রয়েছে। বখাটে ওই যুবক রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় একটি পদচারী-সেতুতে প্রকাশ্য দিবালোকে অনেক লোকের সামনে রিসাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। মাস ছয়েক আগে স্কুলের ড্রেস বানাতে রিসা মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল একটি টেইলার্সে। সেই টেইলার্সের কর্মচারী ওই বখাটে যুবক ফোন নম্বর পেয়ে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে রিসাকে, পিছু নেয় তার। সেই মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে তাতেই হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ওই যুবক। এরই জেরে এই হত্যাকাণ্ড। এটা বিস্ময়কর যে খুন বিষয়টি এখন কতটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে! তা না হলে এ ঘটনার জের ধরে একটি খুনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে! কাকরাইলের মতো জনবহুল একটি এলাকায় এভাবে একটি মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্রকেই তুলে ধরে।
কেউ মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। ওই পদচারী-সেতুর সামনে ও পেছনের মোড়ে পুলিশ ছিল, তারা কেন কিছু করতে পারল না, সেটাও এক বড় প্রশ্ন। আমাদের দেশে বখাটেদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা নতুন নয়। বখাটেদের অত্যাচার সইতে না পেরে অনেক মেয়ে আত্মহত্যাও করেছে। এসবের কি কোনো বিহিত নেই? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়টি এখানে সবচেয়ে বেশি। সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতার বিষয়টিও রয়েছে। বখাটেদের কারণে আর কোনো মেয়ের করুণ মৃত্যু আমরা দেখতে চাই না। আর কোনো বাবার হাহাকার, মায়ের আহাজারি আমরা শুনতে চাই না। এই বয়সের একটি মেয়েকে হারিয়ে মা-বাবা কোন পরিস্থিতির মধ্যে সময় পার করছেন, তা আমাদের ধারণার বাইরে। রিসার পরিবারের প্রতি রইল আমাদের শোক ও সমবেদনা। রিসার খুনি দ্রুত ধরা পড়ুক, যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত হোক।