Friday, July 8, 2011

তিন কোম্পানিকে এসইসির শোকজ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, কেয়া ডিটারজেন্ট লিমিটেড এবং বস্ত্র খাতের কোম্পানি আলহাজ টেক্সটাইল, কোম্পানি তিনটির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবদের শোকজ কাম শুনানি নোটিশ দিয়েছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড একই নিরীক্ষককে তিন বছরের বেশি সময় ধরে রাখার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করায় এসইসি এই শোকজ নোটিশ দেয়। একই অভিযোগে কেয়া ডিটারজেন্ট লিমিটেডকেও শোকজ কাম শুনানি নোটিশ দিয়েছে এসইসি।
অন্যদিকে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে সিকিউরিটিজ আইন অমান্য করায় আলহাজ টেক্সটাইল, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিবদের শুনানি নোটিশ দিয়েছে কমিশন।

হরতালের দ্বিতীয় দিনেও পুঁজিবাজার চাঙা

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে চাঙাভাব দেখা গেছে। গত দুই দিনের ধারাবাহিকতায় আজও দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
আজ বেলা ১১টায় ২১৭টি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে ২১৬টি হাউস ডিএসইর ট্রেড সার্ভারে লগইন করায় যথাসময়ে লেনদেন শুরু হয় বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬৮.৪৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬,৩১১.৮০ পয়েন্ট দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। কমেছে ৬০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
এ দিকে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে এক হাজার ৩৪৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ১৯০ কোটি টাকা বেশি। এর আগে গত ২১ মার্চ এক হাজার ৫৯২ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আজ ব্যাংকিং, সিমেন্ট, প্রকৌশল, অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি, বিমা, বস্ত্র ও টেলিযোগাযোগ খাতে চাঙাভাব দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতের ৩০টির মধ্যে ২৭টির দাম বাড়ে আজ। এ ছাড়া অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২১টির মধ্যে সবকটির ১৮টির, সিমেন্ট খাতের ছয়টির মধ্যে সবকটির, জ্বালানি খাতের ১৩টির মধ্যে নয়টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৩৭টির, বস্ত্র খাতের ২৫টির মধ্যে ১৯টির ও টেলিযোগাযোগ খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের দাম বাড়ে।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বেক্সিমকো, ওয়ান ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, বেক্সটেক্স, ইউসিবিএল, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ার, গ্রামীণফোন ও আফতাব অটো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২৫৫.৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৭৭২২.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ১৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩০ কোটি টাকা বেশি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তায় নজরদারি দরকার-অধঃপতিত শিক্ষক

একজন ছাত্রীর সঙ্গে একজন শিক্ষকের আচরণ কতটা নিচে নামতে পারে? আর সেই ছাত্রী যদি হয় স্কুল-পর্যায়ের! রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় একজন শিক্ষক তাঁর নিজের ছাত্রীর প্রতি জঘন্যতম নিপীড়নটিই করেছেন। ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীটির বাবা মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন শিক্ষক পরিমল মজুমদারের বিরুদ্ধে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে; ইতিমধ্যে পুলিশও তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বোঝা যায়, বিদ্যালয়টিতে এ সমস্যা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। অথচ ব্যবস্থা নিতে এক ছাত্রীর নির্যাতিতা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো!
পরিমল মজুমদার তাঁরই এক ছাত্রীকে বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। তিনি যা করেছেন, পরিকল্পিতভাবেই করেছেন। এমনকি সেই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে অব্যাহতভাবে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করে গেছেন। একজন শিক্ষকই বটে! কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ছাত্রীরা লিখিতভাবে অভিযোগ করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রীদের এই অভিযোগের পর আরও ঘটনা। অভিযোগ ওঠে আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁরা ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে অশালীন আচরণ করে গেছেন। ছাত্রীদের একটি স্কুলে এ ধরনের বিষয়ে নজরদারির যে প্রয়োজন রয়েছে, তা মনে হয় কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় ছিল না।
ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, আন্দোলন আর দাবির মুখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শেষ পর্যন্ত টনক নড়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের জন্য মোট সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে এটা স্পষ্ট, এই সাতজন শিক্ষকই কোনো না কোনোভাবে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ সচেতন থাকলে ওই ছাত্রীটিকে হয়তো পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো না।
রাজধানীর একটি অভিজাত স্কুলে যৌন নিপীড়নের এ রকম প্রকোপ দেখে ভয় হয় যে, আমাদের সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলো কি মেয়েদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে? প্রায়শই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির খবর জনমনকে ভারাক্রান্ত করে। এসব বিবেচনা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা ও অভিযোগ সেল গঠনের দাবিটি সর্বস্তরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। উচ্চ আদালতও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি কেন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, সে ব্যাপারে রুল জারি করেছিলেন। শিক্ষা ও কর্মস্থলে এ ধরনের নীতিমালা ও অভিযোগ সেল থাকাটাই স্বয়ং একটা রক্ষাকবচ। অভিযোগের নিরপেক্ষ জায়গা থাকলে শিক্ষার্থীরাও নির্ভয়ে অভিযোগ করতে পারবে। তাতে কোণঠাসা থাকবে নিপীড়কমনা পুরুষের অভিলাষ।
মানুষ গড়ার কারিগর—এই যাঁদের পরিচয়, তাঁদের কারও এ ধরনের অপকর্মে পুরো শিক্ষকসমাজ কলঙ্কিত হোক, তা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। এ ধরনের অধঃপতিত সহকর্মীকে রক্ষার চেষ্টা না করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শিক্ষকসমাজের স্বার্থেই জরুরি। এ ঘটনা শেখায় কোনো শিক্ষক কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করলে গোপন না করে, মুষড়ে না গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো।
আমরা আশা করব, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

নেপালে দালাই লামার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেতে বাধা

তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার ৭৬তম জন্মদিন উদ্যাপনকালে গতকাল বুধবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে দাঙ্গাপুলিশ নির্বাসিত তিন তিব্বতিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া শত শত লোককে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যেতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা দেশ নেপালে প্রায় ২০ হাজার তিব্বতি নির্বাসিত জীবন যাপন করছে। তবে বেইজিংয়ের চাপের কারণে নেপালের সরকার তিব্বতিদের কর্মকাণ্ডের বিরদ্ধে ক্রমেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র ধিরাজ প্রতাপ সিং বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী দেশ চীনের বিরুদ্ধে কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করব না।’ তিনি বলেন, ‘তিব্বতিরা ব্যক্তিগতভাবে তাদের নেতার জন্মদিন উদ্যাপন করতে পারে। তবে প্রকাশ্যে দালাই লামার জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ।’
গতকাল কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নমোগ্যাল স্কুলে আয়োজিত দালাই লামার জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন নির্বাসিত কয়েক শ তিব্বতি। তাদেরই একজন শেরিং নাইমা বলেন, ‘নারী, শিশু ও বয়স্কসহ আমরা জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে ওই স্কুলে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।’
বর্তমানে দালাই লামা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।

ইন্দোনেশিয়ায় পশু রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অস্ট্রেলিয়ার

ইন্দোনেশিয়ায় পশু রপ্তানির ওপর থেকে গতকাল বুধবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জোই লডউইঙ এ কথা জানিয়েছেন। মাস খানেক আগে ইন্দোনেশিয়ায় পশু রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটি।
মাস খানেক আগে এবিসি টেলিভিশনের তথ্যচিত্রে ইন্দোনেশিয়ার একটি কসাইখানায় গবাদিপশুর ওপর নির্দয় আচরণের দৃশ্য প্রচারিত হয়। এরপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান গবাদিপশু রপ্তানিকারক দেশ। বছরে দেশটি ইন্দোনেশিয়ায় ৩০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি মূল্যের গবাদিপশু রপ্তানি করে থাকে।
কৃষিমন্ত্রী লডউইঙ বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন আইনে পশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন আইনে রপ্তানির অনুমতি পেতে অস্ট্রেলিয়ার কৃষকদের যেমন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তারা পশুস্বার্থ সংরক্ষণ করছে মর্মে প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, তেমনি ইন্দোনেশিয়ার আমদানিকারকদেরও প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। তা ছাড়া কসাইখানাগুলো পরিদর্শনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

মিসর থেকে মেথিদানা আমদানি নিষিদ্ধ ইইউর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিসর থেকে মেথিদানা আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাজার থেকে এসব দানা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এই দানার মাধ্যমে জার্মানি ও ফ্রান্সে ঘাতক ব্যাকটেরিয়া ই. কোলাইজনিত রোগের বিস্তার ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউরোপীয় খাদ্যনিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (ইএফএসএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসর থেকে আমদানি করা মেথিদানার মাধ্যমে ই. কোলাইজনিত রোগের বিস্তার ঘটে। এতে জার্মানি ও ফ্রান্সে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়।
ইইউর স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিশনার জন ডালি বলেন, ‘এই সংকেটের শুরু থেকেই ইইউর লক্ষ্য ছিল জার্মানি ও ফ্রান্সে ই. কোলাইয়ের বিস্তারের কারণ অনুসন্ধান করা।
এ ব্যাপারে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সে অনুযায়ী মিসর থেকে আমদানি করা কিছু শস্যদানা ইইউর বাজার থেকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ছাড়া ওই দেশ থেকে সব ধরনের শস্যদানা ও বীজ আমদানির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।’
ডালি বলেন, এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্পেন ক্ষতিপূরণ দাবি করবে: ইইউর কাছে সাড়ে ১১ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চাইবে স্পেন।
গত মঙ্গলবার স্পেনের কৃষিমন্ত্রী রোজা অ্যাগুইলার বলেন, জার্মানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্পেন থেকে আমদানি করা শসার মাধ্যমে ই. কোলাইয়ের বিস্তার ঘটেছে। পরে এ অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। কিন্তু এ অভিযোগের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয় স্পেনের সবজির বাজার। এ জন্য তাঁরা ইইউর কাছে এই ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন।

লোহিতসাগরে নৌকাডুবি ১৯৭ জনের প্রাণহানি

লোহিতসাগরে নৌকাডুবিতে অন্তত ১৯৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা গেছে মাত্র তিনজন যাত্রীকে। গত মঙ্গলবার সুদান থেকে অবৈধ অভিবাসী নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার পথে আগুন ধরে গিয়ে নৌকাটি এক পর্যায়ে ডুবে যায়।
সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আধা-সরকারি সুদান মিডিয়া সেন্টারের (এসএমসি) এক খবরে বলা হয়, লোহিতসাগরে সুদানের জলসীমায় নৌকাডুবির এই ঘটনা ঘটে। নৌকাটি প্রতিবেশী দেশগুলোর অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে সৌদি আরব যাচ্ছিল। প্রায় চার ঘণ্টা চলার পর নৌকাটিতে আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবে যায়। এতে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। নৌকার যাত্রীদের মধ্য থেকে মাত্র তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুদানের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নৌকাডুবিতে ১৯৭ জনের মৃত্যুর খবর সত্য।
এসএমসির খবরে আরও বলা হয়, দক্ষিণ পোর্ট সুদান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় টোকার এলাকায় মানব পাচারের পরিকল্পনা করা হয়। সেখান থেকেই প্রতিবেশী চাদ, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া থেকে অবৈধ অভিবাসীদের সৌদি আরবে পাচারের চেষ্টা চলছিল। তবে নৌকাটিতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন এবং কী কারণে এতে আগুন ধরে যায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কিউবার পতাকাবাহী ওই নৌকার কথিত ইয়েমেনি চারজন মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এসএমসির খবরে বলা হয়, টোকার এলাকা দিয়ে আরও অন্তত ২৪৭ অবৈধ অভিবাসীকে সৌদি আরবে পাচারের আরেকটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
আফ্রিকার অধিকাংশ অভিবাসীকে নৌকায় করে আরব উপদ্বীপে পাচারের জন্য সুদানের উপকূলীয় সাগর পথ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী সুদানের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় এক লাখেরও বেশি ইরিত্রীয় নাগরিক বিভিন্ন তাঁবুতে বসবাস করছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী সোমালিয়ায় সহিংসতার কারণে অন্তত এক লাখ ৩৫ হাজার নাগরিক উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

পাকিস্তানি তালেবানকে কালো তালিকাভুক্ত করল কানাডা

কানাডা গত মঙ্গলবার পাকিস্তানি তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র গত বছর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত ওই সংগঠনটিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফপিও) হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
কানাডা বলেছে, ক্রিমিনাল কোড অব কানাডা অনুযায়ী, টিটিপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। দেশটির জননিরাপত্তামন্ত্রী ভিক টোয়েস বলেন, জাতি হিসেবে তাঁরা যেসব গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, এর মধ্যে একটি হলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। সন্ত্রাসবাদকে সত্যিকারের হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এ হুমকি মোকাবিলায় তাঁরা সতর্ক রয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, টিটিপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজেদের সম্প্রদায়গুলোকে নিরাপদ রাখার প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং ২০১০ সালের মে মাসে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলার চেষ্টার দায় স্বীকার করেছে টিটিপি।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার-শাসিত আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকা থেকে প্রধানত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে টিটিপি।
এদিকে মঙ্গলবার আফগানিস্তানে কানাডার মিশনও শেষ হয়েছে। ২০০২ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীতে যোগ দেয় কানাডা। মিশনে কানাডার ১৫৭ জন সেনা প্রাণ হারায়।
২০০৬ সাল থেকে লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলমসহ (এলটিটিই) বেশ কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করে কানাডা।

সিরিয়ার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অ্যামনেস্টির

সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তাল কালাখ শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশটির সরকারকে অভিযুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত মঙ্গলবার মানবাধিকার সংগঠনটির নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি সিরিয়ায় সহিংসতা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে গত মে মাসে লেবানন সীমান্তের কাছে তাল কালাখে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই অপরাধ করেন।
তাল কালাখে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের সময় নির্যাতন, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু এবং নির্বিচারে আটক করার ঘটনা ঘটেছে বলে অ্যামনেস্টি নতুন ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করে।
অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক ফিলিপ লুথার বলেন, ‘তাল কালাখের প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে আমরা যে বিবরণ শুনেছি, তা মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ।’
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ১৪ মে তাল কালাখে নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করেন। লেবাননের ৫০ জনেরও বেশি লোকের সঙ্গে ফোনালাপের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য, অ্যামনেস্টির কর্মকর্তাদের সিরিয়ায় প্রবেশের অনুমতি নেই।
মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী একজনের বিবরণ অনুসারে, বহু পুরুষ বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ লোকের ওপর নির্যাতন করা হয়। নিরাপত্তা হেফাজতে কমপক্ষে নয় ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে।
ফিলিপ লুথার বলেন, প্রতিবেদনে বর্ণিত অধিকাংশ অপরাধই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে বিচারের যোগ্য। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলকে প্রথমেই সিরিয়ার পরিস্থিতির বিষয়ে আদালতের কৌঁসুলিকে জানাতে হবে।
আরব বিশ্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর গত মার্চে সিরিয়াতে বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্ধ্র প্রদেশে বনেধর দ্বিতীয় দিনেও জনজীবন বিপর্যস্ত

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে তেলেঙ্গানাকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবিতে ৪৮ ঘণ্টা বনেধর দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবারও ওই অঞ্চলের ১০টি জেলার জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। প্রদেশের রাজধানী হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল থাকে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকাটপাট, পেট্রল পাম্পসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গতকালও বন্ধ থাকে। বাস চলেনি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারই ছিল সড়কপথে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। অন্ধ্র প্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (এপিএসআরটিসি) নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করে বন্ধ্ চলাকালে তাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখে। এ ছাড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। রাজ্যের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গতকাল হাতেগোনা কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজে যোগ দেন।
অন্ধ্র প্রদেশের ২৩টি জেলা থেকে ১০টি নিয়ে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের দাবিতে তেলেঙ্গানা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) গত মঙ্গলবার এ বন্ধ্ শুরু করে।
একই দাবিতে গত সোমবার অন্ধ্র প্রদেশ বিধানসভার ৭২ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জন মন্ত্রী রয়েছেন। পদত্যাগী বিধায়কদের মধ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত সদস্যও আছেন।

ত্রিপোলির প্রবেশপথে বিদ্রোহীদের হামলা

ন্যাটোর বিমানের সহায়তা নিয়ে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা গতকাল বুধবার রাজধানী ত্রিপোলির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে হামলা চালিয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা জানান, ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বিমানবাহিনীর সহায়তায় বিদ্রোহীরা গুয়ালিশ এলাকায় সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
জিনতান শহর থেকে বিদ্রোহীদের একজন নেতা বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁর বাহিনী হামলা চালিয়েছে। বিদ্রোহীদের এই নেতা আরও বলেন, ‘হামলা চালানোর জন্য জন্য আমরা অপেক্ষা করতে থাকি। অবশেষে আজ সকালে আমরা ন্যাটোর পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাই ও হামলা শুরু করি।’
এএফপির সংবাদদাতা জানান, গুয়ালিশের চারপাশে অবস্থানরত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক গোলা বিনিময় হয়েছে।
এদিকে গতকাল ন্যাটো জানায়, ঘারইয়ানে চারটি ট্যাংক ও দুটি সাঁজোয়া যানে হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। এ ছাড়া বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত শহর মিসরাতার কাছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় ব্রেগা শহরে হামলা চালিয়েছে ন্যাটো।
এর আগে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, গাদ্দাফি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের জন্য বিমান থেকে প্যারাসুটের সাহায্যে অস্ত্র ফেলার আর দরকার নেই। কারণ বিদ্রোহীরা এখন আগের চেয়ে সংগঠিত এবং তারা নিজেরাই অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারবে।
গত সপ্তাহে প্যারিস স্বীকার করে, বিদ্রোহীদের জন্য বিমান থেকে প্যারাসুটের সাহায্যে রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ফেলা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন হূদেরাগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়

যেসব নারী স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, ধূমপানের মতো বদ অভ্যাস এড়িয়ে চলেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের অধিকাংশই হালকা-পাতলা গড়নের হয়ে থাকেন। এ ছাড়া তাঁদের শারীরিক গঠনশৈলীও হয় আকর্ষণীয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক বলেছেন, স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপন শুধু যে মেয়েদের শারীরিক সৌন্দর্য ও সুস্থতা উপহার দেয় তা-ই নয়, এর ফলে অকস্মাৎ হূদেরাগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর (হার্ট অ্যাটাক) ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন নামের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ২৬ বছর ধরে ৮১ হাজারের বেশি নারীর ওপর গবেষণা চালিয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব নারী স্বাস্থ্যসচেতন ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করেন, তাঁদের অকস্মাৎ হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও বোস্টনের উইমেনস হসপিটালের চিকিৎসক স্টেফাইন চিউভি বলেন, ‘আপনি যত বেশি সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করবেন, আপনার অকস্মাৎ হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তত কমে যাবে।’ গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ ১০ হাজার লোক হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাদের অর্ধেকই মারা যায় অকস্মাৎ আক্রান্ত হয়ে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব নারী সবজি, ফলমূল ও মাছ বেশি খান এবং অল্প পরিমাণ লাল মাংস খান, তাঁদের অকস্মাৎ হূদেরাগের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে যায়। দিনে যেসব নারী ২৫টি করে সিগারেট খান, তাঁদের চেয়ে অধূমপায়ীর মৃত্যুর ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ কমে যায়।

লোকজনের ফোনে আড়ি পেতেছিল পত্রিকা

২০০৫ সালের ৭ জুলাই (৭/৭) লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলার পর নিহত ও আহত লোকজনের আত্মীয়স্বজনের ফোনে সম্ভবত আড়ি পাতা হয়েছিল। এ খবর প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যজুড়ে হইচই পড়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গতকাল বুধবার এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, মিডিয়া মোগল বলে পরিচিত রুপার্ট মারডকের মালিকানাধীন ট্যাবলয়েড পত্রিকা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফোনে আড়ি পাতার কাজ করেছিল। ভেতরের খবর পাওয়ার জন্যই পত্রিকাটি এ কাজ করে। আর এ জন্য পত্রিকাটি পুলিশকে অর্থ দিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
৭/৭ হামলায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের কয়েকজন আত্মীয়র এক কৌঁসুলি জানান, একটি পরিবার তাদের জানিয়েছে, তাদের ফোনে সম্ভবত আড়ি পাতা হয়েছিল।
নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন জানিয়েছেন, তাঁদের ফোনের ভয়েসমেইল হ্যাক করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ তাঁদের জানিয়েছে।
৭/৭ হামলায় নিহত ৫২ জনের একজন ছিলেন ডেভিড। তাঁর বাবা গ্রাহাম ফাউলকেস গতকাল বিবিসি রেডিওকে বলেছেন, ঘটনা তদন্তের সময় একটি তালিকায় তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
গ্রাহাম বলেন, ‘২০০৫ সালে ওই হামলার পর আমরা কয়েক দিন ধরে ডেভিডের সম্পর্কে কিছুই জানতে পারিনি। তাঁর খোঁজ পাওয়ার জন্য আমরা পাগলের মতো যাকে-তাকে ফোন করেছি। সত্যিই যদি আমাদের সেসব কথাবার্তা কেউ আড়ি পেতে শুনে থাকে, তাহলে কী সাংঘাতিক কাজই না তারা করেছে।’
ফোন হ্যাকিংয়ের এসব ঘটনা ফাঁস হওয়ায় যুক্তরাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল পার্লামেন্টে এক বিতর্কে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ঘটনা তদন্তের অঙ্গীকার করেন।
ক্যামেরন বলেন, ঘটনা যা শোনা যাচ্ছে সত্যিই যদি তা ঘটে থাকে, তাহলে তা হবে খুবই বিব্রতকর। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষ যা শুনছে এবং টেলিভিশনে যা দেখছে, তাতে পার্লামেন্টের সবাই এমনকি দেশের প্রতিটি মানুষই বিদ্রোহ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ঘটনা অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তবে হামলার ঘটনা তদন্তে পুলিশের কাজ শেষ হওয়ার পরই ওই তদন্ত শুরু হবে।
তবে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেন, তদন্ত এখনই শুরু করতে হবে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে তা পারেন। একটি সংবাদপত্র কীভাবে এমন কাজ করতে পারে, তা তদন্ত করার জন্য চাইলে একজন বিচারককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা মিলিব্যান্ড।

আগামী বছর আফগানিস্তান থেকে ৫০০ সেনা প্রত্যাহার করা হবে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে আরও ৫০০ ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার করে হবে। এর ফলে আফগানিস্তানে নিযুক্ত ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা হবে নয় হাজার।
আফগানিস্তান সফর শেষে দেশে ফেরার এক দিন পর গতকাল বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্যামেরন এ কথা বলেন। আফগানিস্তানে দুই দিনব্যাপী সফরের সময় তিনি ব্রিটিশ সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০১৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেশটির সরকারের কাছে হস্তান্তরকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মাসে সে দেশ থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। এরপরই যুক্তরাজ্য আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ওই ঘোষণা দিল।
১০ বছর আগে টুইন টাওয়ারে হামলার পর আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন লড়াইয়ে যুক্তরাজ্য অংশ নেয়। এ লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ৩৭৫ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রত্যাহারকে সামনে রেখে দেশটির তরুণ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই ৫০০ ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে ১০ হাজার সেনা প্রত্যাহার করবে এবং আগামী বছরের গ্রীষ্মের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে প্রায় ৩৩ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে।’
ক্যামেরন বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমি আগেই বলেছিলাম, ২০১২ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৪২৬ জন সামরিক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হবে এবং আজ (গতকাল) আমি ঘোষণা করতে পারি, যুক্তরাজ্য ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ৫০০ সেনা প্রত্যাহার করতে সক্ষম। এতে দেশটিতে ব্রিটিশ সেনার সংখ্যা নয় হাজার ৫০০ থেকে নয় হাজারে নেমে আসবে।’
কানাডার সেনা প্রত্যাহার
আফগানিস্তানে কানাডার নয় বছরের মিশন শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে কানাডীয় সেনারা দেশে ফিরতে শুরু করেছে। এর আগে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ জায়গার নিয়ন্ত্রণ মার্কিন বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।
কানাডার পার্লামেন্ট ২০১১ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। অন্য দেশগুলোও আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন বন্ধ হলে বহু রোগী মারা যাবে

ভারত এইডসের চিকিৎসায় ব্যবহূত স্বল্পমূল্যের জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যাবে। এইডসবিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইডস গত মঙ্গলবার এ সতর্কতা উচ্চারণ করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইউএনএইডসের এ হুঁশিয়ারি এলো। বিশেষ এ বাণিজ্য চুক্তিটি সম্পাদিত হলে ভারতে স্বল্পব্যয়ে এইডস চিকিৎসায় ব্যবহূত অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ওষুধ উৎপাদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে। এইডসের জন্য দায়ী এইচআইভি জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত-ইইউ ওই চুক্তি হলে বিশ্বব্যাপী বহু দরিদ্র মানুষ কম দামে এইডস উপশমের ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ পাবে না।
জেনেরিক ওষুধ সাধারণত কোনো ব্র্যান্ড নাম ছাড়া বিক্রি হয়। এ ধরনের ওষুধের কোনো একক প্যাটেন্ট না থাকায় বিভিন্ন উৎপাদনকারীর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে দাম বেশ কম হয়।
ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক মিশেল সিদিবে বলেন, ‘ভারতের উচিত, ওই বিশেষ সুযোগটি বাতিলে রাজি না হওয়া। কারণ, ভারত এসব ওষুধ উৎপাদন করতে না পারলে পুরো বিশ্বের জন্য তা হবে ভয়াবহ একটি ব্যাপার।’ রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদিবে জানান, ভারতের স্বল্পমূল্যের ওষুধ উৎপাদন ব্যাহত হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আফ্রিকা। সারা বিশ্বে এইডসের চিকিৎসা গ্রহণকারী ৮৬ শতাংশ মানুষই ভারতে উৎপাদিত ওষুধ গ্রহণ করে থাকে।
সিদিবে বলেন, বাণিজ্য চুক্তিটি হলে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অর্জিত সাফল্য ব্যাহত হবে। তিনি বলেন, ‘দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসা সহজপ্রাপ্য করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছি। আমার মতে, এ চুক্তিটি হবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুযোগের পুনর্বণ্টনে আমাদের অর্জিত সফলতা ধ্বংসের সূচনা।’ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো চুক্তি করা থেকে বিরত থাকতে ভারতের প্রতি আফ্রিকার নেতারাও আহ্বান জানিয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করেন সিদিবে।

ওসামার স্ত্রী-সন্তানদের ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ তদন্ত কমিশনের

অ্যাবোটাবাদে আটক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের স্ত্রী-সন্তানদের ফেরত না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের তদন্ত কমিশন। কমিশন অনুমতি দিলে কেবলই তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাবে।
অ্যাবোটাবাদে মার্কিন গোপন কমান্ডো অভিযানের তদন্ত করছে এই কমিশন। গত ২ মে ভোররাতের ওই অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা নিহত হন। পরে ওসামার কম্পাউন্ড থেকে আটক করা হয় তাঁর তিনজন স্ত্রী ও নয়জন সন্তানকে। তারা পাকিস্তান সরকারের হেফাজতে রয়েছে।
কমিশন বলেছে, কমিশনের অনুমতি ছাড়া ওসামা বিন লাদেনের পরিবারের সদস্যদের যেন ফেরত পাঠানো না হয়, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইএসআইকে (ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওসামার কনিষ্ঠ স্ত্রী আমল আবদুল ফাত্তাহকে কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর দেশ ইয়েমেনে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন খবর প্রচারের পর তদন্ত কমিশন এ নির্দেশ দিয়েছে। গত মঙ্গলবার কমিশনের সদস্যরা প্রথমবারের মতো বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চার সদস্যের এ কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক। তদন্তকালে কমিশন ওসামার পরিবারের সদস্যসহ যে কাউকে সমন জারি করার ক্ষমতা রাখে। তবে তদন্ত শেষ করতে কমিশনকে কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘তাঁরা (ওসামার পরিবারের সদস্যরা) শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের পাকিস্তানে থাকতে হচ্ছে। ওসামার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁরাও (নিরাপত্তা কর্মকর্তারা) কথা বলতে চান।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা ফিরে যাওয়ার দাবি করতে পারেন এবং তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়াও হবে।’
কমিশনের এ সিদ্ধান্তের ফলে ওসামার ইয়েমেনি স্ত্রী আবদুল ফাত্তাহর পরিবার হতাশ হতে পারে। তাঁরা গত মাসে সাংবাদিকদের জানান, আবদুল ফাত্তাহ ও তাঁর সন্তানকে তাঁরা ফিরে পেতে চান।
অ্যাবোটাবাদে অবস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একাডেমি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে একটি বাড়িতে পালিয়ে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওসামা। সামরিক একাডেমির একদম কাছে ওসামার মতো একজন সন্ত্রাসী কীভাবে বছরের পর বছর নিভৃতে অবস্থান করেছেন, তা নিয়ে বিশ্ববাসীর মনে সন্দেহ রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থা জড়িত ছিল কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।
এ পর্যন্ত যা খবর, অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িটিতে ওসামা পাঁচ বছর ধরে অবস্থান করেছিলেন। তাঁকে হত্যায় মার্কিন সামরিক বাহিনী পাকিস্তান সরকারের অনুমতি ছাড়াই অভিযান চালায়। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ অভিযানকে ভালোভাবে নেয়নি।
এ অবস্থায় বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের দাবির মুখে বিষয়টি তদন্তে পাকিস্তান সরকার কমিশন গঠন করেছে। বিরোধীদের দাবি, সেনাবাহিনী তদন্ত করলে আসল ঘটনা না-ও বেরিয়ে আসতে পারে।
কমিশন তদন্তের স্বার্থে সেনাবাহিনীর যেকোনো সদস্য এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি আশ্বস্ত করেছে কমিশন। আগামী সপ্তাহে কমিশন ফের বৈঠকে বসতে পারে।

লবণ খাওয়া কমানোর সুফল নিয়ে সংশয়!

স্বাস্থ্যের ওপর খাবার লবণের প্রভাব নিয়ে একটি পর্যালোচনা ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক বলেন, লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমালে হূদেরাগ কিংবা অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি পর্যালোচনায় তাঁরা দেখেছেন, লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমানো হলে রক্তচাপ কিছুটা কমে। তবে তার মানে এই নয়, এতে অকালমৃত্যু কিংবা হূদেরাগের ঝুঁকি কমে। ওই গবেষকেরা বলেন, হূৎপিণ্ডের সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য এত দিন ধরে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে, তা যথেষ্ট ছিল না। এ জন্য শিগগির বড় পরিসরের গবেষণা শুরু করার প্রয়োজন।
পর্যালোচনার নেতৃত্বে ছিলেন এক্সিটার বিশ্ববিদ্যালয়ের রড টেইলর। তিনি বলেন, লবণ খাওয়া কমানোর উপকারিতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা অর্জনের জন্য বড় পরিসরে কিছু গবেষণামূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওই পর্যালোচনার তীব্র সমালোচনা করেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ফ্রান্সেসকো কাপ্পুচিও বলেন, ওই পর্যালোচনাটি ছিল ‘বিস্ময়করভাবে দুর্বল’। বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধে লবণ খাওয়া কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। একটিমাত্র পর্যালোচনার ফলে মানুষ এ স্বাস্থ্যবিধি পরিবর্তন করবে না।
লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইমন কেপওয়েল বলেন, পর্যালোচনাটি হতাশাজনক ও এটি কিছুই প্রমাণ করে না। লবণ খাওয়া-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে এটি মানুষের ধারণার পরিবর্তন করেনি।
বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি স্বাভাবিক রক্তচাপ কমে।
আগের পরীক্ষাগুলোতে লবণ খাওয়া কমানোর ফলে রক্তচাপ প্রতিরোধে কিছু উপকারিতা পাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে তাতে বৃহত্তর জনসাধারণের হূৎপিণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় বলে কোনো গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। বিশ্বজুড়ে মানুষের অকালমৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ থেকে সৃষ্ট হূৎপিণ্ড ও ধমনির বিভিন্ন রোগ।
টেইলর বলেন, ওই পর্যবেক্ষণে লবণ খাওয়া কমিয়ে বড় ধরনের কোনো উপকারিতা না পাওয়ার কারণ হচ্ছে, তুলনামূলক কম মানুষের ওপর জরিপটি চালানো হয়। এ ছাড়া তিনি বলেন, ওই পরীক্ষায় যাদের পর্যবেক্ষণ করা হয় তারা লবণ খাওয়া অতি অল্প পরিমাণ কমিয়েছিল। তাই রক্তচাপ ও হূদেরাগের ক্ষেত্রে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।
এ পর্যবেক্ষণের জন্য টেইলরের গবেষণাদল সাতটি জরিপ চালায়, যাতে মোট ছয় হাজার ৪৮৯ জন অংশগ্রহণ করেন। গবেষকেরা বলেন, এতে তাঁরা উপসংহারে যাওয়ার মতো যথেষ্ট উপাত্ত পেয়ে যান। কিন্তু তার পরও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, স্বাস্থ্যের উপকার হয় বলে স্পষ্টভাবে কোনো কিছু শনাক্ত করার জন্য অন্তত ১৮ হাজার লোকের ওপর জরিপ চালিয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করা প্রয়োজন ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির পুষ্টিবিজ্ঞানের অধ্যাপক এলেরিন রাশ বলেন, একটিমাত্র পরীক্ষা এবং একটিমাত্র পুষ্টি উপাদানের ওপর এ ধরনের সাধারণ সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে পরামর্শ দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক নয়।

বলিভিয়া-কোস্টারিকা ম্যাচেও আগ্রহ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, মেসি-নেইমার—কোপা আমেরিকা নিয়ে যা আলোচনা তা মূলত এই দুই দলকেন্দ্রিক। তবে মাঠে নেমে অন্য দলগুলো কিন্তু দেখাচ্ছে তারাও প্রস্তুত হয়ে এসেছে।
এই যে বলিভিয়া আর্জেন্টিনাকে ড্রর ফাঁদে আটকে দিল, ব্রাজিলকে জিততে দিল না ভেনেজুয়েলা, পেরুও রুখে দিল গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট উরুগুয়েকে। আর এ কারণেই ছোট দলের ম্যাচগুলোও চলে আসছে আলোচনায়। আগামীকাল ভোরেই যেমন কোস্টারিকার বিপক্ষে বলিভিয়ার ম্যাচ দেখতে বসে যাবেন অনেকেই। বলিভিয়া কোপার অতিথি দল কোস্টারিকার বিপক্ষে কী করতে পারে, দেখতে হবে না! আর্জেন্টিনাকে রুখে দেওয়ার সূত্র ধরেই হয়তো আর্জেন্টিনা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের এই বাংলাদেশেও বলিভিয়ার পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়ে যাবে।
পক্ষ নিন কিংবা বিপক্ষ, আগামীকাল কোস্টারিকার বিপক্ষে বলিভিয়াই এগিয়ে। যদিও এর আগে দুই দলের একমাত্র ম্যাচে জিতেছে কোস্টারিকাই। ২০০১-এর কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে বলিভিয়াকে কোস্টারিকা উড়িয়ে দিয়েছিল ৪-০ গোলে। তবে এখন সময় বদলেছে। কোস্টারিকার সেই দল আর নেই। রোনালদো ফনসেকা, পাওলো ওয়ানচোপ, রোনাল্ড গোমেজ, রিকার্ডো গঞ্জালেসদের সেই দল এটি নয়। কোচ লা ভোলপে এবারের কোপায় যে দল নিয়ে এসেছেন, সেটিকে কোস্টারিকার অনূর্ধ্ব-২৩ দল বললেও খুব একটা ভুল হবে না।
এই দলের বেশির ভাগেরই এখনো দেশের বাইরে ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা হয়নি। ২২ সদস্যের দলে ৭ জন এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। ২৫ বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড় দলে মাত্র ৩ জন। মাত্র ৩ জনেরই আছে ১০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। বলিভিয়ার চিত্রটা এর ঠিক উল্টো। দলের ৯ জনের বয়সই ত্রিশের বেশি। ২৫-এর নিচে বয়স ৫ জনের। ১০টির নিচে ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়ও মাত্র ৬ জন।
অভিজ্ঞতায় যোজন-যোজন পিছিয়ে থাকার পরও ভালো কিছুর প্রত্যাশা কোস্টারিকার। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুজন, মিডফিল্ডার হেইনর মোরা (১৩ ম্যাচ) ও ফরোয়ার্ড হোসুয়ে মার্টিনেজ (১২ ম্যাচ) অভিন্ন কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমাদের ভালো করতেই হবে।’ কোচ লা ভোলপের চাওয়া এত বেশি নয়। দলটি গুছিয়ে উঠুক এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে প্রস্তুতিটা ভালো হোক—এই শুধু তাঁর চাওয়া।
ছোট দল হলেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই ড্র করার পর বলিভিয়ার স্বপ্নটা পাখা মেলছে। কোচ গুস্তাভো কুইনতেরোসের স্বপ্নটা কোয়ার্টার ফাইনালের সীমানা ছাড়িয়ে আরও দূরে। আর আগামীকাল জুজুইয়ে স্টাডিও ২৩ ডি আগস্টোতে বলিভিয়াকে প্রেরণা জোগাতে মাঠে যাবেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস।
বলিভিয়া সীমান্ত থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে জুজুই। এমনিতেই আর্জেন্টিনায় বলিভিয়ার অনেক মানুষ থাকে, এর ওপর সীমান্তের এত কাছে খেলা; বলিভিয়ার দর্শকে গ্যালারি ভর্তিই থাকার কথা। সবার প্রেরণা নিয়ে দূরের স্বপ্ন অর্জনে কত দূর যেতে পারবে বলিভিয়া?

মেসিদের অনুশীলনে ফতুল্লা স্টেডিয়াম

মেসিদের ঢাকা সফর সফল করতে বাফুফের ডাকে এগিয়ে এসেছে সরকার। বাফুফে ভবনে কাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার তাঁর পারিষদবর্গ নিয়ে সভায় বসেছিলেন। বাফুফের প্রায় সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই ছিলেন। ঐতিহাসিক এই সফর উপলক্ষে গঠিত কমিটির পৃষ্ঠপোষক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে মাঠ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সংস্কারের আবেদন জানিয়েছে বাফুফে। সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচ ৬ সেপ্টেম্বর। দুই দলের অনুশীলন সেশন থাকবে দুটি করে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তো আছেই, মিরপুর ও ফতুল্লা স্টেডিয়াম এনএসসির কাছে চেয়েছিল বাফুফে। মিরপুর নয়, ফতুল্লা স্টেডিয়াম দিচ্ছে এনএসসি।
মন্ত্রীর সঙ্গে কাল সভা শেষে সেটিই জানালেন বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায়, ‘ফতুল্লা স্টেডিয়াম দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। ওই মাঠের পিচ এমনিতেই বিসিবির তুলে ফেলার কথা। কাজেই পিচটা উঠে যাবে। আমরা পরিপূর্ণ একটা মাঠই দেব অতিথি দলকে অনুশীলনের জন্য।’ এই সফর উপলক্ষে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক হেলাল যোগ করলেন, ‘দুই দলের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধাই চাই। কোথায় কী লাগবে, সেটা আমরা জানিয়েছি এনএসসিকে।’
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দুই দলের একটি করে অনুশীলন সেশন থাকছে। ফতুল্লায় সম্ভবত অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা, কমলাপুরে নাইজেরিয়া। তবে খেলা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হওয়ায় এখানকার মাঠ নিয়েই যত চিন্তা।
গত ১০ বছরে ১০০ কোটি টাকার ওপরে সংস্কারের কাজ হলেও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজও পানিনিষ্কাশন পদ্ধতি বলতে কিছু নেই। একটু ভারী বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে। এ জন্য এনএসসি ছয় মাসের জন্য মাঠটা চেয়েছে। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তা ছাড়া মাঠটা আন্তর্জাতিক মানে নেওয়া যাবে কি না, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্স, ভিআইপি বক্স...ইত্যাদি সংস্কারও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুমের আধুনিকায়ন চেয়েছে বাফুফে। এমনকি আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেসিং রুমের দাবিও তোলা হয়েছে মন্ত্রীর কাছে। মন্ত্রী কোনো বিষয়েই ‘না’ করেননি।
‘বাফুফেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। বঙ্গবন্ধু, কমলাপুর এবং ফতুল্লা স্টেডিয়ামে আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করে দেব’—বলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

শুরুতেই বিপর্যয় উইন্ডিজের

পূর্বাভাস ছিল বৃষ্টির। কিন্তু সকাল থেকেই ডমিনিকার আকাশ মেঘমুক্ত, ঝকঝকে রোদ। ১০৬তম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে উইন্ডসর পার্কের যাত্রা তাই নির্ধারিত সময়েই হয়েছে। বাউন্সি উইকেট আর সকালের আর্দ্রতা—টস জিতে ফিল্ডিং নিতে খুব একটা ভাবতে হয়নি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। পেসাররা প্রত্যাশিত সূচনাও এনে দিয়েছেন ভারত অধিনায়ককে। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে দ্রুতই হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর লাঞ্চ বিরতির তিন ওভার পরই পূর্বাভাসকে সঠিক প্রমাণ করে বৃষ্টির আগমন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খেলা আর শুরু হয়নি। সেই পর্যন্ত ৩১.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে রান হয়েছে ৭৫।
কাইরান পাওয়েল ও কার্ক এডওয়ার্ডস কারও অভিষেকই সুখকর হয়নি। প্রাভিন কুমারের আউট সুইংয়ে স্লিপে লক্ষ্মণের হাতে ধরা পড়েছেন ওপেনার পাওয়েল (৩)। ইশান্ত শর্মার বাউন্সার ফিরিয়েছে ওয়ান ডাউনে নামা এডওয়ার্ডসকে (৬)। ইশান্তকেই পুল করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে এনেছেন আরেক ওপেনার বারাথ (১২)। ড্যারেন ব্রাভোর (২২) সঙ্গে উইকেটে ছিলেন ১৩৩তম টেস্ট খেলতে নামা শিবনারায়ণ চন্দরপল (১৭)। কোর্টনি ওয়ালশকে (১৩২) ছাড়িয়ে উইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলার রেকর্ড এখন তাঁর।

জয়ের পথে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডকে সিরিজে ফেরাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। ক্যারিয়ারের দ্রুততম ফিফটি (৩৭ বলে) করে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপরাজিত আছেন ৬৭ রানে। সঙ্গী কিসওয়েটারও অপরাজিত ৩২ রানে। দলের রান ১৪ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৭। জিততে হলে করতে হবে আরও ৬৪ রান। বৃষ্টির জন্য পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্য ৪৮ ওভারে ১৭১। ওয়েবসাইট, স্টার ক্রিকেট।
এর আগে শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়েছে মাত্র ১৭৪ রানে। জেমস অ্যান্ডারসনের তোপে প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা ২০ রানেই হারায় ৪ উইকেট, ৫৭ রানে গিয়ে আরও একটি। এরপর শ্রীলঙ্কার মান বাঁচিয়েছেন কাউড্রে বক্তৃতায় আগুন ঝরানো কুমার সাঙ্গাকারাই। অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুসকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে করলেন ৭২। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন ৭৫ রানে। লঙ্কান ইনিংসে দ্বিতীয় সেরা ম্যাথুসের ৩৯।
ট্রেন্টব্রিজের সবুজ উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং নেন অ্যালিস্টার কুক। প্রথম ওভারেই অ্যান্ডারসনের শিকার অধিনায়ক দিলশান (০)। জয়াবর্ধনে (৯), চান্দিমাল (০) ও কান্দাম্বিও (৬) ফেরেন দ্রুতই। সাত শ্রীলঙ্কান আউট হয়েছেন দশের নিচে। অ্যান্ডারসন ও ডার্নব্যাখ তিনটি, ব্রেসনান ও ব্রড নিয়েছেন দুটি উইকেট।

‘জোগালি’ মাসুদের এথেন্স জয়

এথেন্স থেকে বাহরাইন হয়ে ঢাকা হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর। সাড়ে সাত ঘণ্টার বিমান ভ্রমণের ক্লান্তি ছিল মাসুদ রানার চোখেমুখে। সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের রহস্য উপন্যাসের কোনো নায়ক নন, বাস্তবেই এখন নায়ক স্পেশাল অলিম্পিকে সোনাজয়ী ২০ বছরের যুবক। কাল ভোরে মাসুদকে যখন ফুলের তোড়া দিচ্ছিলেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী, তাঁর বাবা লোকমান মণ্ডল তখন বগুড়ায় রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করতেই মা কুলসুম বেগমের উত্তর, ‘হ। টিভিতে দেখছি আমার মাসুদরে। কী যে খুশি লাগছে।’ খুশি লাগারই কথা। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মাসুদকে দিয়ে যখন কিছুই হবে না ভেবেছিল প্রতিবেশীরা, তখনই সে দেখিয়ে দিল দেশকে সেও কিছু দিতে পারে!
মাসুদের এই প্রাপ্তির আড়ালে আছে এক করুণ গল্প। মাসুদ একজন নির্মাণশ্রমিক। বাবা লোকমান মণ্ডলের হাত ধরে সে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজে ঢোকেন। অভাবের সংসারে বাবার সঙ্গে মাসুদকেও প্রতিদিন রড-সিমেন্ট মাথায় তুলতে হয়, ইট ভাঙতে হয়। এমনকি স্পেশাল অলিম্পিকের অনুশীলন ক্যাম্পে বিকেএসপিতে যোগ দেওয়ার আগে বন্ধুদের সঙ্গেও জোগালির কাজ করতে হয়েছে ঢাকায়।
বাড়ি গাইবান্ধা হলেও মাসুদরা এখন বগুড়ায় থাকেন। অভাবের কারণে মাসুদের বাবা যখন কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তখনই সপরিবারে চলে আসেন বগুড়ায়। সেটা বছর পাঁচেক আগের কথা। বাবার সঙ্গে কাজে গেলেও মাসুদের ইচ্ছে হতো স্কুলে যেতে। স্কুলের পোশাকে, বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে পাশ দিয়ে সমবয়সীরা গেলে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতেন। কিন্তু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো স্কুলই তাঁকে ভর্তি করতে চাইত না। সেই কষ্টের কথা বলছিলেন মা কুলসুম বেগম, ‘ছেলের পড়াশোনার আগ্রহ দেখে স্কুলে নিয়ে যাই। কিন্তু প্রতিবন্ধী বলে কেউ ওকে নিতে চাইত না। পরে এক দারোগা সাহেবের বউয়ের পরামর্শে আমি বগুড়ায় প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করি ওকে। এরপর ঢাকা থেকে একদিন বড় স্যাররা আসেন। ওনারা আমার কাছে জিজ্ঞাসা করে তোমার ছেলে কি খেলাধুলা পারে? আমি বললাম, ও তো ভালো সাঁতরাতে পারে। বাড়ির পাশে নদীতে ভালোই সাঁতরায়। এরপরই ওরা ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে যায়।’
বাকি গল্পটা এখন ইতিহাস। সুইড স্কুলের সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এথেন্স স্পেশাল অলিম্পিকে গিয়েও ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে বাংলাদেশের হয়ে জেতে প্রথম সোনা। ২০০৭ সাংহাই গেমসেও এই ইভেন্টে রুপা জেতেন মাসুদ। কোচ গোলাম মোস্তফা মাসুদের ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী, ‘ওর সঠিক পরিচর্যা হলে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে ছেলেটা। এথেন্সে ওর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ।’ জোগালির কাজ মোটেও ভালো লাগে না মাসুদের। পড়াশোনাতেই বেশি আগ্রহ। কাল ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে জানালেন, ‘আমি কাজ করতে চাই না, পড়তে চাই।’ কিন্তু মাসুদের পরিবারের যে অবস্থা তাতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া মুশকিল। মাসুদের মায়ের দাবি, গতবার রুপা জেতার পর মাত্র ২ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এবারও কি ওই রকম একটা সংবর্ধনা আর নামমাত্র মূল্যের পুরস্কার জুটবে মাসুদের ভাগ্যে?

৫ রানে ৬ উইকেট!

তাঁর মূল কাজ ব্যাটিং। বোলিং করেন শুধু দলের প্রয়োজনে। এই কাজ চালানোর বাঁহাতি স্পিন দিয়েই পরশু বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ফেললেন আরুল সুপিয়াহ। টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট পাওয়াই একটা বড় ঘটনা, ৬ উইকেট হলে তো কথাই নেই। পরশু গ্ল্যামরগনের বিপক্ষে সুপিয়াহ ৬ উইকেট পেয়েছেন মাত্র ৫ রানে! ওয়ানডেতেও এত কম রানে ৬ উইকেট নেই, টেস্টে আছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্মেইন লসনের (৬/৩)।
ছয় নম্বর বোলার হিসেবে পরশু বোলিংয়ে এসেছিলেন ১২তম ওভারে। টার্নিং উইকেটে গ্ল্যামরগনের রান তখন ৪ উইকেটে ৭৫। পরের ছয়টি উইকেটই সুপিয়াহর। প্রথম ওভারে ১ উইকেট, পরের দুই ওভারে দুটি করে—দুবারই ছিল হ্যাটট্রিকের সুযোগ। শেষ ওভারে আরেকটি। দুটি বল তখনো বাকি, গ্ল্যামরগনের উইকেট দু-একটি থাকলে হয়তো ৭ উইকেটই পেয়ে যেতেন ২৭ বছর বয়সী স্পিনার!
নামটা দেখে সন্দেহ জাগতে পারে, পুরো নাম শুনলে নিশ্চিত হয়ে যাবেন—আরুল ভিভাসবন সুপিয়াহ ইংলিশ নন! জন্ম, বেড়ে ওঠা মালয়েশিয়ায়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর ক্রিকেট—দুটিরই ভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে ১৩ বছর বয়সে পাড়ি জমান সমারসেটের মিলফিল্ড স্কুলে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ২০০২ সালে। এর আগেই অবশ্য জন্মভূমির হয়ে খেলে ফেলেছেন, মালয়েশিয়ার হয়ে খেলা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের (১৫ বছর) রেকর্ডটা এখনো তাঁর। যদিও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটাই ছিল মূল লক্ষ্য। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৮ দলে খেলেছেন, তবে এর বেশি এগোতে পারেননি। ১০ বছর সমারসেটে খেলে একাদশে জায়গা মোটামুটি পাকা করতে পেরেছেন মাত্রই বছর দুয়েক হলো। পরশুর পর নিশ্চয়ই আর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না!

মাঠে প্রতিপক্ষই ছিলাম

খেলাটেলা নিয়ে তামিমের সঙ্গে আমার কথা কমই হয়। কম কী, হয়-ই না বলতে পারেন। ও কাউন্টি খেলতে এসেছে, আমাদের দলের বিপক্ষে খেলল—এসব নিয়েও কোনো কথাবার্তা হয়নি। এমনকি খেলার আগের রাতটা আমার বাসায় একসঙ্গে থাকার পরও না।
খেলার আগের দিন সকালে আমি নটিংহ্যাম গেলাম। সারা দিন একসঙ্গে ঘুরলাম, শপিং করলাম। সন্ধ্যায় একসঙ্গে খেলাম। রাতে আমার বাসায় থাকল ও। সিনেমা দেখলাম, গল্পগুজব করলাম। সকালে উস্টারের মাঠে যাওয়ার আগে ওকে নাশতা বানিয়ে খাওয়ালাম। পরোটা, কলিজা ভুনা আর ফ্রায়েড এগ। না, কলিজা ভুনা আমি রান্না করিনি। ওটা বাসায় ছিল। একজন এসে রান্না করে দিয়ে গিয়েছিল।
সকালে মঈন আলী এলে আমরা তিনজন একসঙ্গে মাঠে গেছি। ভাবতে পারেন, আমি খেলি উস্টারশায়ারে, তামিম নটিংহ্যামে। দুই দলের খেলার আগের রাতেও আমরা কী করে একসঙ্গে থাকি! আসলে খেলার বাইরে কে কী করল, কোথায় কার সঙ্গে থাকল এসব নিয়ে এখানে কারও মাথাব্যথা নেই। ঠিক সময়ে মাঠে গিয়ে খেলে দিয়ে এলেই হলো।
এটা ঠিক, তামিম আসাতে এখানে আমার সময়টা ভালো কাটছে। বাংলাদেশ থেকে আমরা দুজন কাউন্টিতে খেলছি, ছোটখাটো এক্সাইটমেন্ট তো আছেই। আমার সঙ্গে কেউ আলোচনা করে না, তবে বুঝি এটা নিয়ে এখানেও ফিসফাস কম হচ্ছে না। আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা তো খুবই খুশি। দেখা হলে কথা বলে, অভিনন্দন জানায়। পরশু তো এখানে মেহরাব ভাইও (মেহরাব হোসেন জুনিয়র) এসেছিলেন। আর টেলিভিশনে নিশ্চয়ই দেখেছেন পরশুর ম্যাচে গ্যালারিতে একদল বাংলাদেশি ছিল। ওরা কিন্তু উস্টার বা নটিংহ্যামের জার্সি পরে আসেনি, এসেছে বাংলাদেশের জার্সি পরে। তার মানে ওরা আমার এবং তামিমের খেলা দেখতেই এসেছে। তবে তামিম হোটেলে থাকছে বলে ওর সঙ্গে বাংলাদেশিদের খুব বেশি দেখা-সাক্ষাৎ হচ্ছে না।
উস্টারশায়ার-নটিংহ্যাম ম্যাচ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বেশ এক্সাইটমেন্ট থাকলেও আমার মধ্যে তেমন ছিল না। ওই যে বললাম, খেলা নিয়ে তামিমের সঙ্গে আমার সেভাবে কথাই হয় না। এমনকি মাঠে যে আমি তামিমের একটা ক্যাচ ফেললাম বা মঈন আলী ক্যাচ ফেলায় আমি তার উইকেট পেলাম না, সেটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি না। খেলায় যে কারও ক্যাচ ফেললে বা উইকেট পেতে পেতেও না পেলে খারাপ লাগেই। বিশেষ কারও উইকেট পেতে হবে সে রকম লক্ষ্য থাকে না। এ ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা সে রকম। একইভাবে তামিম যে আমার ক্যাচটাই ধরে ফেলল বা আমরা তাদের কাছে হেরে গেলাম—সেটা নিয়েও আমার বিশেষ দুঃখ নেই। তামিম আমার বন্ধু বলে তো আর আমি বলতে পারি না, ‘তুই আমার ক্যাচ নিস না!’
মাঠে বরং আমরা সত্যিকার অর্থেই প্রতিপক্ষ ছিলাম। সাঈদ আজমল বল করতে আসার পর তো তামিমকে আউট করার জন্য নিজ থেকে গিয়ে টিপসও দিলাম তাঁকে। তবে আমার খুবই ভালো লাগছে, তামিম এখানে এসে অল্প সময়েই মানিয়ে নিয়েছে। দারুণ খেলছে সে এবং ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরেছে আমাদের বিপক্ষে ম্যাচেও। একটা ছক্কা মারল দুর্দান্ত। বল গিয়ে গ্যালারির ছাদ ফুটো করে আটকে যাওয়ায় তা নিয়ে এখানকার মানুষের সে কী কৌতূহল! বিশেষ করে বয়স্ক দর্শকেরা দেখলাম এটাতে খুবই মজা পাচ্ছে। আটকে থাকা বলের ছবি তুলছে। তামিমের এমন পারফরম্যান্স দেশের জন্য ভালো, দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো।
আশা করছি, আগামী ১৭ জুলাই সকালে আমি ও তামিম একসঙ্গে দেশে ফিরব। তার আগে দুজনের বেড়ানোর পরিকল্পনা আছে। দেখি কোথায় যাওয়া যায়। এখানে প্রতিপক্ষ হলেও আসল জায়গায় তো আমরা সতীর্থ, বন্ধু!

সাকিব-তামিম সমতা

তামিম নাকি সাকিব? এ প্রতিবেদন লেখার সময় ম্যাচের ফলাফল বলার উপায় ছিল না। তবে নটিংহ্যামশায়ার বনাম উস্টারশায়ার ম্যাচে ব্যক্তিগত লড়াইয়ে থাকল সমতা। আগের ম্যাচে ৩৭ বলে ৪৭ রান করা তামিম কাল করেছেন ২৫ বলে ৩৫। ৩টি চার ছাড়াও মেরেছেন বল গ্যালারির ছাদে আটকে ফেলা এক ছক্কাও। ২২ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়া সাকিব ব্যাট হাতে ২২ বলে ২০ রান করেছেন। লং অফে ক্যাচটা নিয়েছেন তামিমই!
তামিমের ৩ চারের একটি সাকিবের বলেই। সাকিবের মুখোমুখি প্রথম বলটাই শূন্যে মেরে দিয়েছিলেন। ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচটা জমাতে পারেননি মঈন আলী। উল্টো বল গড়িয়ে গড়িয়ে সীমানাছাড়া। শেষ পর্যন্ত মঈনের বলেই স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে তামিম। অবশ্য ওপেনিং জুটিতে এনে দিয়েছেন ৬৯ রান। শেষ বলে অলআউট হওয়া নটিংহ্যামশায়ার তোলে ১৫২ রান। জবাবে শেষ চার ওভারে ৩৬ রান দরকার ছিল উস্টারের, হাতে ৭ উইকেট।

জাতীয় মহিলা ফুটবল

নুবাই চিং মারমার একমাত্র গোলে জাতীয় মহিলা ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে কাল বাংলাদেশ আনসার হারিয়েছে যশোরকে। এই জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল আনসার, হেরেও গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সঙ্গী যশোর। চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অন্য ম্যাচে গাইবান্ধা ৫-২ গোলে হারিয়েছে কিশোরগঞ্জকে। বেলী ও মিতু করেছেন দুটি করে গোল। অন্যটি তিথির।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

আগামী আগস্টে শ্রীলঙ্কাতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাবে অস্ট্রেলিয়া। সে লক্ষ্যে আজ বুধবার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করা হয়েছে। যথারীতি ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দেবেন মাইকেল ক্লার্ক, টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেবেন ক্যামেরন হোয়াইট। টেস্ট দল ঘোষণা করা হবে আরও কিছুদিন পরে।
ওয়ানডে দল: মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), শেন ওয়াটসন, অ্যারন ফিনচ, ব্র্যাড হাডিন, জন হেস্টিংস, ডেভিড হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, শন মার্শ, জেমস প্যাটিনসন, রিকি পন্টিং ও স্টিভেন স্মিথ।
টি-টোয়েন্টি দল: ক্যামেরন হোয়াইট (অধিনায়ক), শেন ওয়াটসন, অ্যারন ফিনচ, ব্র্যাড হাডিন, জন হেস্টিংস, ডেভিড হাসি, মিচেল জনসন, ব্রেট লি, শন মার্শ, স্টিভেন ও’ক্যাফি, জেমস প্যাটিনসন, স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।