Wednesday, January 22, 2014

প্লেবয় ম্যাগাজিনের নগ্ন মডেল বাংলাদেশি শাহিরা!

এবার প্লেবয় ম্যাগাজিনের জন্য নগ্ন হয়ে পোজ দিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইরিশ যুবতী শাহিরা ব্যারি। তার ক্যারিয়ারের শুরুটা শিক্ষকতা দিয়ে হলেও তিনি বর্তমানে একজন নামকরা আইরিশ সুপারমডেল। ফ্যাশন দুনিয়ায় জনপ্রিয় এ মডেল বিশ্বখ্যাত প্রাপ্তবয়স্কদের ম্যাগাজিক প্লেবয় ম্যাগাজিনের জন্য বিবস্ত্র হচ্ছেন- এমন খবর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বছর খানেক ধরেই চলছে।

জানা যায়, ২১ বছর বয়সী এ সুন্দরী প্রথমে স্বল্প বসনে মডেলিং করলেও প্লেবয়ের জন্য ক্যামেরার সামনে বিবস্ত্র হতে একেবারেই রাজি ছিলেন না। তার চেয়ে বড় কথা তার পরিবার তাতে সায় দেয়নি। তাই প্লেবয় কর্ণধার হিউ হেফনারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়, তিনি রাজি হয়ে গেছেন।
শাহিরার বসবাস আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়েতে। তাকে প্লেবয়ের জন্য পোজ দিতে আমন্ত্রণ জানালে জোর গলায় বলেছিলেন, এমন পোজ দেয়াতে তার আগ্রহ নেই। জানা যায়, হিউ হেফনারের প্লেবয় ম্যাগাজিনের জন্য মডেল যারা নির্বাচন করেন তাদের প্রধান স্যাম রিমা প্রস্তাব পাঠান শাহিরাকে। এর পরপরই আয়ারল্যান্ডের একটি ম্যাগাজিনে খবর প্রকাশিত হয় যে, তিনি প্লেবয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি যেখানে নিশ্চিতিভাবে বলা হয়েছে, এ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মডেলের নগ্ন হওয়ার কথা।
শাহিরা গত বছর সফর করেছেন প্লেবয় ম্যানসনে। পার্টি করেছেন। শুরুতে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও এ বছরের শেষের দিকে তিনি লস এনজেলেস ঘুরতে যান। সেখানে গিয়েই প্লেবয় ম্যানসনে ঢুঁ মারতে ভুল করেননি তিনি। হিউ হেফনারকে দেখার পর তার মন্তব্য, আমি এত প্রেমময় মানুষ কখনো দেখিনি।
প্রসঙ্গত প্লেবয়ের পার্টি মানেই যে কেউ বুঝে নেন অন্যকিছু রগরগে পার্টি। দামী মদ আর সুন্দরীদের হাঁট। স্বল্পবসনা নারীর এলোমেলো চলাফেরা। উদ্দাম নাচ। সুইমিং পুলে ভালোবাসায় বিভোর থাকা। কিন্তু হিউ হেফনারের দেয়া নৈশভোজে তেমন রগরগে কোনো ঘটনা ছিল না। ওই রাতে গার্লফ্রেন্ডদের সঙ্গে মজা করতে হাজির ছিলেন তিনি নিজেও।

অগ্রাধিকার- নির্বাচন: তারপর কী by বদিউল আলম মজুমদার

বহু তর্ক-বিতর্ক, নানা নাটকীয়তা ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে।

অগ্রাধিকার- নির্বাচন: তারপর কী by বদিউল আলম মজুমদার

বহু তর্ক-বিতর্ক, নানা নাটকীয়তা ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে।
২৯ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। নির্বাচনটির আইনসিদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও, এটি একটি বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে অগ্রসর হওয়া ছাড়া নাগরিকদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত, আইনে ‘ডকট্রিন অব ফেকটাম ভেলেট’ (Doctrine of factum valet) বলে একটি তত্ত্ব আছে। তত্ত্বটির অর্থ হলো—যদি এমন কিছু ঘটে যায় যা আদৌ ঘটা উচিত ছিল না, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘড়ির কাঁটা উল্টে দেওয়া সম্ভবপর নয়, তাহলে সে বাস্তবতা মেনে নিয়েই সামনে অগ্রসর হতে হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অপরিবর্তনীয় ধরে নিয়েই সামনে এগোতে হবে, যেমনিভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ তারিখের বিতর্কিত নির্বাচনটি সবাইকে মেনে নিতে হয়েছিল। আর ১২ জুন ১৯৯৬ তারিখের নির্বাচনটি ছিল সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন—ষষ্ঠ নয়। একইভাবে পরবর্তী নির্বাচন হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে একাদশ সংসদ নির্বাচন দ্রুততার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

নবগঠিত সরকারের সামনে বর্তমানে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ, যার অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং অনতিবিলম্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। যেহেতু উপজেলা নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, তাই উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনটির সংশোধন করাও এই মুহূর্তে জরুরি। আরও জরুরি দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং সংসদে এরশাদের জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা অবসানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে এবং এগুলোর প্রতিকারও ভিন্ন ভিন্ন। একটি কারণ অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত। জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধের বিচার ভন্ডুল করতে বদ্ধপরিকর, তাই তাদের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আর এরা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এ নিয়ে আর ‘রাজনীতি’ না হতে পারে। এ ছাড়া তাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি কারণ হলো, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার নির্বাচনকালীন সরকারসংক্রান্ত বিরোধ। এটি রাজনৈতিক বিরোধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার বা বলপ্রয়োগ করে এর সমাধান সম্ভবপর নয়। এই বিরোধের মীমাংসা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। তাই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। আর এই সমঝোতা না হলে আমাদের দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম হবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আরও প্রয়োজন বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ প্রদান করা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দেওয়া।
তবে সাম্প্রতিককালে যারাই সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে, বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে—তাদেরই দলমত-নির্বিশেষে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এ জন্য অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা জরুরি। কমিশনের মাধ্যমে ২০০১ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছিল এবং রামুর ঘটনায় যারা জড়িত হয়েছিল, তাদেরও যথাযথ শাস্তি দেওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ ‘কালচার অব ইম্পিউনিটি’ বা অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার অতীতের সংস্কৃতির অবসান চিরতরে ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে আইনের শাসনের খাতিরে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের অপসংস্কৃতির ইতি টানতে হবে।
গত কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভবপর নয়। বস্তুত, আমাদের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে, ভবিষ্যতেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে মনে হয় না। একইভাবে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত থাকলে, শেখ হাসিনাও নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারেন। আর নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা বদল হওয়ার সুযোগ না থাকলে, অনিয়মতান্ত্রিক তথা বল প্রয়োগের মাধ্যমে তা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়। আর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের কারণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিকব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।
আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে আজ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা এবং এর ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য, যেখানে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের কথা বলেছেন, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বক্তব্য। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা এবং সেই রোডম্যাপের ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া হবে সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত। আর বৃহত্তর পরিসরে সংলাপের আয়োজন করে সবগুলো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখার আদলে একটি ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হবে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই।
নবগঠিত মন্ত্রিসভা থেকে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে যাঁরা অতীতে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের মালিক হয়েছেন, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। এ ছাড়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন, যা কোনোভাবেই উৎসাহব্যঞ্জক নয়। নতুন মন্ত্রিসভায় অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসায়িক মুনাফা। সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার প্রমুখ ‘প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে’ অধিষ্ঠিত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের মুনাফাজাতীয় আয় অর্জন হবে সংবিধানের লঙ্ঘন (প্রথম আলো, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। তাই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া জরুরি।
আরও কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সব ক্ষমতাধরকে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর প্রদান এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। এ ব্যাপারে মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর অতীতের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ক্ষমতাধরদের পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে অন্যদের এ ধরনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, আবাসিক এলাকায় প্লট প্রদানের মতো অন্যান্য নাগরিকের তুলনায় পক্ষপাতমূলক সুবিধা প্রদান থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা উৎসাহব্যঞ্জক। এ ছাড়া আরও আবশ্যক, অনতিবিলম্বে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করা, যার ফলে তাঁরা তাঁদের ‘প্রাইভেট ইন্টারেস্ট’ বা সরকারি দায়িত্ব পালনের বাইরে যেসব কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁরা জড়িত, তা প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন।
উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ধারণা করা যায় যে জেলা পরিষদ ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের আইনগুলো, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পরিষদ আইনে অনেকগুলো গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আরও সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, উপজেলা পরিষদের ওপর সংসদ সদস্যদের কর্তৃত্ব সম্পর্কিত আইনি বিধান পরিষদকে অকার্যকর করে ফেলেছে। তাই স্থানীয়
সরকার আইনগুলোর সংস্কার আজ জরুরি। আরও জরুরি একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি প্রণয়ন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলেও, মূলত বিরোধী দলের অব্যাহত সংসদ বর্জনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এরশাদের জাতীয় পার্টিকে একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে রাখার সিদ্ধান্ত সংসদকে অকার্যকর করেই রাখবে। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল কথা হলো—ক্ষমতার ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্সেস’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে নজরদারিত্বের বিধান। যেমন, ‘প্রিন্সিপল অব সেপারেশন অব পাওয়ার’ বা ক্ষমতার বিভাজনের নীতির ভিত্তিতে প্রশাসন, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের ওপর নজরদারি করে, যাতে কোনো বিভাগই ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে। একইভাবে সংসদীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সংসদীয় বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের মতো অপকর্মে লিপ্ত
হওয়া থেকে বিরত করা যেতে পারে। কিন্তু এরশাদের জাতীয় পার্টির জগাখিচুড়ির ভূমিকা আমাদের সংসদ তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ব্যাপারে নেতিবাচক ভূমিকাই পালন করবে। তাই এ ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক।

MSPs call on Scottish Government to develop national strategy for tackling child sex exploitation

THE Public Petitions Committee called for new research into the nature and scope of child sex exploitation in Scotland and new Government guideline for dealing with it.
>> The inquiry called for a national strategy for tackling child sex exploitation
SCOTLAND needs a national strategy for tackling child sexual exploitation, according to a Holyrood committee.

An inquiry by the Public Petitions Committee found that at times there can be a "piecemeal approach" to the issue, with a lack of co-ordination among groups and organisations working in this area.

It also found that further research is needed to reveal the full extent of child sexual exploitation.

The committee's inquiry was launched following a petition from charity Barnardo's Scotland, calling for new research into the nature and scope of the problem in Scotland and new Scottish Government guidelines for dealing with it.

Further recommendations from the committee include establishing refuges for young victims across the country and establishing education programmes in schools.

It has also suggested mandatory training for frontline and specialist police officers on the legislative options available to them to disrupt the perpetrators of exploitation.

Committee convener David Stewart MSP said: "During the course of this inquiry our committee has heard some difficult, and at times challenging, evidence about child sexual exploitation in Scotland.

"We received powerful first-hand accounts which were anonymised and included in full in our report.

"The committee recognises that although there is a lot of positive work being done, it can be piecemeal. It lacks the clear leadership and co-ordination needed to tackle effectively the sexual exploitation of our children.

"There is also the very real danger that child sexual exploitation will continue to be a hidden problem in Scotland, which is why further research must be carried out to establish the scale of the problem and how best to shape services to address it."

dailyrecord.co.uk/news/scottish-news/msps-call-scottish-government-develop-3021169

সংরক্ষিত স্পিকার অসাংবিধানিক by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা মুক্তিযুদ্ধের ফসল। যার মূলে ছিল জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির চেতনা। সেই লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তির সনদ হিসেবে
’৭২-এর সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায় ধারণ করার প্রক্রিয়া অনেক সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। কখনও কখনও সংবিধান ব্যক্তি, দলীয় বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ স্বার্থরক্ষায় পরিণত হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উদ্ভবের সম্ভাবনা দিন দিন তিরোহিত হচ্ছে। সংবিধানের প্রতি আস্থাহীনতা ভয়ঙ্কর প্রকট হয়েছে, ফলে সংবিধান লঙ্ঘন হলেও নীরবে সবাই মেনে নিচ্ছে। সরকার ও সংসদ সংবিধান লঙ্ঘন করছে, ফলে কেউ প্রতিকারের জন্য এগিয়ে আসার নৈতিক শক্তি পাচ্ছে না।

দেশের নবম সংসদে একজন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকে অসাংবিধানিকভাবে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়েছে, দশম সংসদেও নাকি সংরক্ষিত আসন থেকে স্পিকার নির্বাচন করা হবে। আমাদের বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যতীত প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার কোন সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এসব পদসমূহ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত এবং সুরক্ষিত। এসব রাষ্ট্রীয় পদ কেবলমাত্র প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিতদের জন্য, সুতরাং এগুলো সংবিধানের অলঙ্ঘনীয় ও অপরিবর্তনীয় বিধান আইনগতভাবে লঙ্ঘনের কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যক্ষ ভোটের সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ-সদস্যের ক্ষমতা বিভাজন সুস্পষ্ট-সুনির্দিষ্ট ও নির্ধারিত করে দিয়েছে। সংবিধানের বেঁধে দেয়া ক্ষমতার বিভাজনকে লঙ্ঘন করার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের নেই। সংবিধান যেখানে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা পৃথকীকৃত করে নির্দেশনা দিয়েছে, সেখানে অনির্বাচিত মহিলা সংসদ সদস্যদের একীভূত করা সংবিধানের চরম লঙ্ঘন। জনগণের ভোটে নির্বাচিতদের সুরক্ষিত পদ অনির্বাচিত দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট-ই হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি এবং সংবিধানের আদর্শিক নীতি। নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ প্রজাতন্ত্রের সমগ্র জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি নয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হলেই নির্বাচিত প্রতিনিধি হয় না তা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত মামলার রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেছেন ‘রাষ্ট্রপতি সংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী ব্যক্তি বটে কিন্তু তিনি গণতান্ত্রিকভাবে প্রজাতন্ত্রের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন’।
সংবিধানের ৭৪(১) মোতাবেক ৩০০ আসনের সংসদ থেকে স্পিকার নির্বাচন অপরিহার্য করেছে। ‘স্পিকার পদ’ নির্বাচিতদের জন্য সুরক্ষিত। সুতরাং এখানে সংরক্ষিত আসনের কোন সুযোগ নেই। ৩০০ আসনের কোন একটি আসন শূন্য হলে যেমন সংরক্ষিত দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায় না, তেমনি নির্বাচিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় পদ অনির্বাচিত দিয়ে পূরণ করা যায় না। ‘নির্বাচিত’ এবং ‘সংরক্ষিত’ কখনও সমকক্ষ হতে পারে না।
আমাদের সংবিধানে ১৫২ অনুচ্ছেদে স্পিকার পদের ব্যাখ্যায় ‘স্পিকার’ অর্থ এই সংবিধানের ৭৪ অনুসারে সাময়িকভাবে স্পিকারের পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি’ নির্ধারণ করেছে। শূন্য আসনে যে সময়েই যতবার নির্বাচন হোক তা হবে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্য থেকে-এটা সংবিধানের অলঙ্ঘনীয় বিধান। যে বিধান লঙ্ঘন করা যায় না। স্পিকার পদের সঙ্গে সাধারণ নির্বাচন অবিচ্ছেদ্যভাবে ঘনিষ্ঠ। কারণ স্পিকার নির্বাচন করতে গেলেও সাধারণ নির্বাচন লাগে, আর স্পিকার পদ শূন্য করতে গেলেও সাধারণ নির্বাচন আবশ্যক। সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদটি কেবলমাত্র ৩০০ আসনের সংসদকে একমাত্র নির্ধারণ করেছে। এই অনুচ্ছেদে সাধারণ নির্বাচন ছাড়া অন্যকোন সংসদ সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালি জাতি বহুবার সংগ্রাম করেছে, বহুবার আত্মত্যাগ করেছে। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।
৩০০ আসনের সংসদ ব্যতিরেকে যদি স্পিকার নির্বাচিত হয়, তাহলে সংরক্ষিত আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ নির্ধারিত হতে পারবেন। তাতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এর মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মর্যাদা হরণ, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং সংসদীয় চেতনাকেই হত্যা করা হবে। সাংবিধানিকভাবে নিরূপিত ৩০০ আসনের অধিক্ষেত্র ও ক্ষমতা আইন শাস্ত্রের অনেক পণ্ডিতরা বুঝতে অক্ষম বা উদাসীন। অনির্বাচিতকে স্পিকার নির্বাচন করায় জনগণকে অপমানিত করার ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশিত হয়েছে। ৩০০ আসনের নির্বাচিত সংসদ নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারই রক্ষা করতে পারে না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জাতীয় সংসদে সিদ্ধান্ত নিলেই তা সাংবিধানিক হয় না। জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন আর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী জনগণ’। সুতরাং সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের অধিকার বা ক্ষমতা অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন যোগ্য নয়। জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষমতায়ন, গণতন্ত্র ও প্রজাতান্ত্রিকতা এগুলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো যা সংসদ পরিবর্তন করতে পারে না।
আমাদের সংবিধান ১২২(১) মোতাবেক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক করেছে। যা সংবিধানের ৬৫(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ থেকে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হইবে নিশ্চিত করেছে।
ফলে সংরক্ষিত নারী আসন ছাড়াই ৩০০ আসনের সংসদ গঠিত হয়ে যায়। সেই ৩০০ আসনের সংসদ থেকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা গঠন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। প্রত্যক্ষ ভোটের সংসদ হচ্ছে মূল সংসদ। যে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন প্রধানমন্ত্রী হবেন ৩০০ আসন থেকে। সেই সংসদের অভিভাবক হবেন প্রত্যক্ষ ভোটের সাংসদ ছাড়া- এ অমূলক চিন্তা গণতন্ত্রের বহুমাত্রিক গবেষণার জন্য গুরুত্ব পেতে পারে নিঃসন্দেহে কিন্তু বিদ্যমান সংবিধান তা সমর্থন করে না।
সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদ মোতাবেক গঠিত সংসদই মূল ভিত্তি। সংবিধান নির্বাচিত সংসদের ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যেমন-
১.    সাধারণ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি, ৫৬(৩) অনুযায়ী যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রষ্ট্রিপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
২.    সাধারণ নির্বাচনের পর স্পিকার নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের ৭৪(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করিবেন, এবং এই দুই পদের যে কোনটি শূন্য হইলে সাত দিনের মধ্যে কিংবা ঐ সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকিলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তাহা পূর্ণ করিবার জন্য সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে নির্বাচিত করিবেন। অর্থাৎ কোন সাধারণ নির্বাচনের পর (ধহু মবহবৎধষ বষবপঃরড়হ বষবপঃ ভৎড়স ধসড়হম রঃং সবসনবৎং) যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অর্থাৎ স্পিকার নির্বাচিত হবেন ৩০০ আসনের সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে, এটা সংবিধানে প্রদত্ত বাধ্যবাধকতা। যিনি একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহের কোন না কোন একটি হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নহেন, তিনি কোন ক্রমেই স্পিকার নির্বাচিত হতে পারবেন না।
৩.    সংবিধানের ৭২(২) অনুযায়ী এই সংসদ সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হইবে।
৪.    ৭২(৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে;
৫.    ৭৩(২) সংসদ-সদস্যদের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের সূচনায় এবং প্রত্যেক বৎসর প্রথম অধিবেশনের সূচনার রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করিবেন। এসব নির্দেশনা ৩০০ আসনের সংসদের ক্ষমতার অধিক্ষেত্র নির্ধারিত করেছে।
সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ মোতাবেক বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টও একটি একক প্রতিষ্ঠান। যা আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে গঠিত। উভয় বিভাগের বিচারকগণকে বিচারপতি বলা হয়। তাই বলে কি হাইকোর্টের কোন বিচারপতি আপিল বিভাগের এখতিয়ার বা ক্ষমতা প্রতিস্থাপন করতে পারবে? নিঃসন্দেহে না। এমনি ভাবে সংসদ সদস্য হলেই কি নির্বাচিত সংসদের এখতিয়ার বা ক্ষমতা সংরক্ষিত আসন দিয়ে কি প্রতিস্থাপন করা যাবে? অবশ্যই না !
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের জন্য সংবিধান ‘নির্বাচিত’ ও ‘সংরক্ষিত’ দুই ধরনের সংসদ সদস্য নির্ধারণ করেছে। (যেমন ১৬২ কিশোরগঞ্জ-১ জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বেগম তহুরা আলী, মহিলা আসন-১৯)। কেউ কেউ মনে করেন ৩০০ আসন এবং সংরক্ষিত আসনের সবাইকে সংসদ সদস্য হিসেবে অভিহিত করায়, প্রত্যক্ষ ভোটের সংসদ সদস্য আর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এক ও অভিন্ন হয়ে যায়! যা একেবারেই অমূলক এবং বিভ্রান্তিকর চিন্তা। সংসদ সদস্যদের আসন শূন্য হলে অনুচ্ছেদ ১২৩(৩) (ক, খ) এবং (৪) মোতাবেক যেভাবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নির্বাচন হবে সংরক্ষিত আসনে কি সেভাবে প্রত্যক্ষ ভোটেই নির্বাচন হবে? তাহলে নির্বাচিত আসন আর সংরক্ষিত আসন একাকার হয়ে যাবে কিভাবে? সংবিধানের সকল নির্দেশনা ৩০০ আসন নিয়ে আর সংরক্ষিত আসন নিয়ে শুধু ৬৫(৩)-এ একবারই বলা হয়েছে। সংবিধানের কোথাও আর সংরক্ষিত আসন নিয়ে একটি নির্দেশনাও নেই।
সংরক্ষিত আসন থেকে যদি স্পিকার ক্ষেত্র মতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে কোন নারী আর ৩০০ আসনের সংসদের প্রার্থী হতে উৎসাহী হবেন না বা প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে না। যা আনুপাতিক বা সংরক্ষিত আসনের চেতনাকে বিপন্ন করবে।
১৯৭২-এ প্রবর্তিত সংবিধানের অন্তরাত্মার গভীরতা অনুধাবন না করায় সংবিধান লঙ্ঘনকে লাগামহীন করে তুলছে। এর মধ্য দিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ক্ষতি সাধনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতেও সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারাকে বিপজ্জনক পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে জাতিকে অতি উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে।
স্পিকার নির্বাচন নিয়ে আবেগের আতিশয্যে সাংবিধানিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ফেলেছি। সংসদীয় চেতনায় বড় ধরনের আত্মঘাতী কাজ আমরা করে ফেলেছি। স্পিকার নির্বাচনে যে ব্যত্যয় ঘটে গেছে তা সংশোধন করা জাতীয় প্রয়োজনে জরুরি। কারণ সংসদের অভিভাবক যদি সংবিধান লঙ্ঘন দায়ে অভিযুক্ত হন তা গণতান্ত্রিক চেতনার আত্মহননকে উৎসাহিত করবে।
আমাদেরকে যেমন ক্ষমতার প্রলোভন থেকে সংযত থাকতে হবে তেমনি সংবিধানের প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে হবে, যা পবিত্র কর্তব্য হিসেবে বিবেচনার জন্য সংবিধানের প্রস্তাবনায় নির্দেশনা রয়েছে। সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখার যে পবিত্র দায়িত্ব তা আমরা পালন করতে গত ৪২ বছরে বহুবার ব্যর্থ হয়েছি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে খন্দকার মোস্তাক সামরিক আইন জারি করে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানকে সামরিক আইনের অধীনে আনা হয়। অনুরূপভাবে ১৯৮২ সালে এইচ এম এরশাদ সামরিক আইন জারি করে সংবিধানকে স্থগিত ঘোষণা করেছিল। এখন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকে বর্তমান সরকার তাদের প্রয়োজন এবং ইচ্ছার অধীন পরিচালিত করছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই স্বাধীনতার ঘোষণা ও সংবিধান প্রণয়ন করেছিল। আর আজ সেই আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সাংবিধানিক চেতনা থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্রব্যবস্থা আইনগত ও নৈতিকভাবে ভেঙে পড়বে। অথচ সরকার সংবিধান ও আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দিতে শপথ দ্বারা বাধ্য। বাংলাদেশকে আমরা যেন ক্ষমতার উন্মত্ততায় ধ্বংসের আবর্তে ফেলে না দেই। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের উপযোগী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা জরুরি।
লেখক: গীতিকার

সংরক্ষিত স্পিকার অসাংবিধানিক by শহীদুল্লাহ ফরায়জী

বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা মুক্তিযুদ্ধের ফসল। যার মূলে ছিল জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির চেতনা। সেই লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তির সনদ হিসেবে

‘সোহাগ মরেনি, মরেছে আমার স্বপ্ন’ by সিদ্দিক আলম দয়াল

ছেলের হাফেজ হওয়ার আশা পূরণ করতে পারল না পিতা সফিক কাজী। নিজে কাজীর করে অসচ্ছল হিসেবে জীবনযাপন করে শুধু পেটে ভাত যোগাড় হয়েছে। নিজের সন্তানদের একটু রাস্তায় তুলে দিতে চেয়েছিলেন।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ছেলেকে দিয়েছিলেন মাদরাসায়। বড় হয়ে কিছু করবে। নিজের ভাগ্যকে পরিবর্তন করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন- বুকভরা আশা আর স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গেছে হতভাগ্য পিতার ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র রাজবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কাজী সফিক। জমিজমা সামান্য। যা আছে তাতে ছোট সংসার মোটামুটি চলে যায়। চার ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় সোহাগ। বাড়ির কাছে বলে পিতা কাজী সফিক তার ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেন খানাবাড়ি মাদরাসায়। সফলতার সঙ্গে মাদরাসা শিক্ষায় সোহাগ অষ্টম শ্রেণীতে পড়লেখা করছিল ।
মা জেলেখা বেগম বলেন, পরিবারের সবার আদরের বলে দাদা-দাদী নাম রাখেন সোহাগ। তখন থেকেই সোহাগ হয়ে যায় সবার কাছে সোহাগী। ছোটবেলা থেকেই নামাজ পড়তো এরং রোজা রাখতো। ধর্মেও যেমন কর্মেও তেমন ছিল সে। সেজন্য গ্রামের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাদরাসার সহপাঠীদের প্রিয় সোহাগ ভাই ।
সুন্দর মার্জিত চেহারার এক কিশোর সোহাগ কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে পিতার খবর তার জানা নেই। সে কারণে পিতা কাজী সফিক ও মা জেলেখা বেগমের চোখের মণি ছিল সে। মাদরাসার ক্লাসশেষে বাড়ি ফিরেই প্রতিদিন মায়ের বুকে মাথা রেখে আদর খুঁজতো। মা তাকে বুকে জড়িয়ে কপালে দিতেন চুমু। তারপর গোসল-খাওয়া সেরে ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় মনোযোগ দেয়া। মায়ের স্বপ্ন ছিল সোহাগ বড় হয়ে তাদের সংসারের হাল ধরবেন। নিজের জীবনকে সৎ চরিত্রে গঠন করে সরকারি চাকরি করে সারাজীবন মানুষের সেবা করে যাবেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে সোহাগের কোন কমতি ছিল না। তাই নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে স্থান করে নেবে মানুষের মনে। কিন্তু সে আশা আর পূরণ হলো না। একটি বুলেট পিতা সফিক ও মা জেলেখা বেগমের স্বপ্ন খান খান করে দিলো। সোহাগের মা তার ছেলের মরা মুখ দেখে হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, আমার সোহাগ মরেনি। মরেছি আমি। মরেছে আমার স্বপ্ন। গুলিটা যেন আমার বুক ভেদ করে আমার প্রাণটা কেড়ে নিয়েছে। সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত-শিবির ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা ৪ পুলিশকে হত্যাসহ সংখ্যালঘুদের ঘবরাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালায়। এজন্য সুন্দরগঞ্জ থানায় অন্তত ৩২টি মামলা দায়ের করা হয়। আভিযুক্ত করা হয় জামায়াত-শিবির ও বিএনপি কর্মীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে ।
সমপ্রতি ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালায়। তারা বিভিন্নস্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনার পর গত শনিবার আসামি গ্রেপ্তার করতে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ।
অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথবাহিনীও  সেনাবাহিনীর সহায়তায় আবারও ওইসব গ্রামে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। রাতভর অভিযানের যৌথবাহিনী গুলিবর্ষণ করে। এ সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা পালিয়ে গেলেও ফাঁকে পড়ে গ্রামবাসী ও মহিলা-শিশুরা। আতঙ্কে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় খানাবাড়ি মাদরসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সোহানুর রহমান সোহাগ (১৪)।  গ্রেপ্তার এড়াতে সোহাগকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। গতকাল ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগ মারা যায়। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল সকাল থেকেই ওই এলাকায় শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমায়। তার মা জেলেখা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে সোহাগ একজন নিষ্পাপ সন্তান। এ কিশোর বয়সেই তার প্রাণ কেড়ে নিয়ে যারা আমার স্বপ্ন খান খান করে দিয়েছে তাদের বিচার আল্লার হাতে ছেড়ে দিলাম। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় সোহাগের লাশ এসে পৌঁছায় খানাবাড়ি মাদরাসা প্রাঙ্গণে। পরে মাদরাসার পাশের মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার ভাই মাওলানা নজরুল ইসলাম জানাজা নামাজ পড়ান এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।

‘সোহাগ মরেনি, মরেছে আমার স্বপ্ন’ by সিদ্দিক আলম দয়াল

ছেলের হাফেজ হওয়ার আশা পূরণ করতে পারল না পিতা সফিক কাজী। নিজে কাজীর করে অসচ্ছল হিসেবে জীবনযাপন করে শুধু পেটে ভাত যোগাড় হয়েছে। নিজের সন্তানদের একটু রাস্তায় তুলে দিতে চেয়েছিলেন।

সবটুকুই বিলিয়ে দিতে চাই... মম

নিজের সবটুকুই বিলিয়ে দিতে চান এসময়ের জনপ্রিয় তারকা জাকিয়া বারী মম। তবুও দর্শকদের মন জয় করা চাই তার। সম্প্রতি নতুন সিনেমা নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন লাক্স তারকা মম।

সরল গরল- রেহমান সোবহানের নির্বাচনী ভাবনা by মিজানুর রহমান খান

১৯ জানুয়ারি ডেইলি স্টার-এ অধ্যাপক রেহমান সোবহানের নিবন্ধে বাংলাদেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ ছাপা হয়েছে।
তবে তিনি সম্ভবত ধরে নিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। এ ধারণা সত্যি হলে আগামী নির্বাচন যখনই হোক একই প্রশ্ন টিকে রইল, দলীয় প্রধানমন্ত্রীকে রেখে প্রকৃত বিরোধী দল নির্বাচনে যাবে কি যাবে না।

তাঁর সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ সামান্যই। তবে তিনি যেভাবে ‘আওয়ামী লীগের ৬৫ বছরের জীবনকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ের ভ্যানগার্ড’ বলেছেন, তা পুরোপুরি মানা কঠিন। দলের ৬৫ বছরকে অন্তত তিনটি ভাগে ভাগ করতে হবে। পাকিস্তান আমল, বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আমল। তিনি যাদের ‘সেনানিবাসে জন্ম’ বলে খোঁটা দিয়েছেন তার একটি জাতীয় পার্টি, এখন ভ্যানগার্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
বিগত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ার কারণে যদি তাঁর দাবি অনুযায়ী দেশের গণতন্ত্র হ্রাস পায়, তাহলে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সব বিকল্প খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে প্রতিটি বুথে নির্বাচনী এজেন্ট নিশ্চিত করা, ভোটারের হাতে মুঠোফোন থাকা, দুই থেকে তিন লাখ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সমান্তরাল ভোট গণনাপদ্ধতি বজায় থাকাটাকে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনের রক্ষাকবচ মনে করেন বলে প্রতীয়মান হয়। অথচ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝাঁঝরা থাকা অবস্থায় এগুলো চূড়ান্ত অর্থে রক্ষাকবচ নয়। খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী রেখে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে না।
অধ্যাপক রেহমান আগামী ও মধ্যবর্তী নির্বাচন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই কল্পনা করেছেন বা অন্যতম বিকল্প ভাবছেন কি না, তা খুবই স্পষ্ট নয়। তবে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি ভরসা করে বলেছেন, ‘একটি অপেক্ষাকৃত স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া দেশে আছে। এমনকি তারা ৫ জানুয়ারিতেও সারা দেশে (বস্তুত, ১৪৭টি সংসদীয় আসনে) উপস্থিত থেকেছে। এবং তাৎক্ষণিক কিংবা পরদিন সকালে তারা কেবল ভোটারদের নিম্ন উপস্থিতি তুলে ধরেনি, ভোটকেন্দ্র দখল এবং অবৈধভাবে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার বিষয়টিও উন্মোচিত করেছে।’ প্রশ্ন হলো, তাতে কি ফল হয়েছে? আমি মনে করি না যে অপেক্ষাকৃত স্বাধীন গণমাধ্যম সুপ্রিম কোর্টের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপারগতাকে অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বশর্তহীন সংলাপ এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি সম্পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক একাদশ সংসদ নির্বাচনই তাঁর আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি সহিংসতায় থাকলে ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে সেটাই তার প্রধান দায় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে সেটা বুঝেই কর্মসূচি বদলেছেন।’ কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর আয়ুষ্কাল কতটুকু?
অধ্যাপক রেহমান বলেছেন গ্রেপ্তারকৃত বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের (প্রকৃত অভিযুক্ত ছাড়া) সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে ছেড়ে দিতে। কে কাকে অনুকম্পা করছে? দমনের উদ্দেশ্যে নিরীহ নেতা-কর্মীদের ধরলে তো সরকারি দলের দুঃখ প্রকাশ করার কথা। অধ্যাপক রেহমান যখন ‘শর্তহীন সংলাপের’ কথা বলছেন, তখন তিনি আবার ‘বিদ্যমান সংবিধানের চৌহদ্দির’ মধ্যে থাকাটাকেও ‘অগ্রাধিকার’ দিয়েছেন। সামরিক সরকারের ফরমানের শর্তে সংবিধান এ দেশে কার্যকর থেকেছে। এখন বেসামরিক সরকারের ফরমানের শর্তাধীনে একটি সংবিধান বলবৎ রয়েছে। তা ছাড়া সংবিধানের মধ্যে থেকেও নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী সরকার গঠন করা যায়। খালেদা জিয়া সম্প্রতি ক্ষমতায় গিয়ে স্থায়ী সরকারের রূপরেখা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। রেহমান সোবহানও স্থায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের নির্দিষ্ট প্রস্তাবসমূহ দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারভুক্ত করা এবং একাদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিষয়ে নির্বাচনী ম্যান্ডেট গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর এই সুপারিশ পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ, কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন না পেলে সংবিধান সংশোধন করা অসম্ভব হবে। সুতরাং সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচনকালীন সরকারের একাধিক পূর্ণাঙ্গ বিকল্প রূপরেখা সর্বসাধারণের জানা-বোঝার জন্য প্রকাশ করতে পারে।
তা ছাড়া আপিল বিভাগের রায় বাসি হয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার নির্দেশনা টিকে আছে। সরকারি দলের প্রচারণার কৌশল হচ্ছে যখন তাকে নির্বাচনী বৈধতার প্রশ্নে কেউ চেপে ধরবে, তখন তারা বলবে, আমরা তো বলেছি এটা নিয়মরক্ষার নির্বাচন। আর ভেতরে ভেতরে পুরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা এবং তার পরও ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রীকে রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের চাপ অব্যাহত রাখা।
অধ্যাপক রেহমান লিখেছেন, ‘এখন ক্ষমতাসীন জোট “সর্বদা” যুক্তি দিচ্ছে যে দশম সংসদ একটি সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা। এবং একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’ স্মরণ করতে পারি, ত্রয়োদশ সংশোধনী আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে শিকার করার পর তারা সংবিধান ছাপিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটিতে দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানে একটি নীরব অভ্যুত্থানে নাকচ হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেই তারা বলেছিল, বিরোধী দলের সঙ্গে তারা আলোচনায় প্রস্তুত। সেই আলোচনাটা কী এবং তাতে যে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়ার বাসনা লুকানো ছিল, সেটা নির্দিষ্টভাবে জানার আগে তত দিনে কয়েক শ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছিল। এবারও ওই একই খেলার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
তিনি যথার্থই লিখেছেন, ‘একটি সংলাপের জন্য বিপজ্জনক হুমকি হচ্ছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল পরস্পরের দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন। ক্ষমতাসীন জোট এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে রাজপথে পর্যাপ্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার আগ পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে। বিরোধী দল রাজপথে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে তার জবাব দেবে, যেটা করতে এখন তারা জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল। আর জামায়াত সহিংসতার মাত্রা তীব্র করতে পারে।’
এই ভাষ্য নিশ্চিত করছে যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এখন স্তব্ধ। তাই গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উচ্চারিত ‘দ্রুত সংলাপ,
দ্রুত নির্বাচন’ দিল্লি হনুজ দূর অস্ত কথাটিই স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিএনপির উদ্দেশে অধ্যাপক রেহমান বলেছেন, তারা যদি মনে করে যে তারা আবার ক্ষমতায় আসার জনসমর্থন জোগাড় করতে সক্ষম, তাহলে তাদের এ বাস্তবতা মানতে হবে যে তারা কেবল সেটা অর্জন করতে পারে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এবং সেটা সহিংস মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত বিদ্রোহ কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশীর্বাদনির্ভর হতে পারে না। বিএনপিকে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা নিশ্চিত করতে হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। ভোটাররা যাতে জানতে পারেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান কী?
এর সঙ্গে আমরা পুরোপুরি একমত। বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ—এসবের সঙ্গে আসলেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সংঘাত নেই, বরং পরিপূরক—সেটা খালেদা জিয়াকে পরিষ্কার করতে হবে। আওয়ামী লীগও জামায়াতের ‘দোসর’ ছিল—এ কথা বলে নতুন প্রজন্মকে জয় করা যাবে না। নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম জনসভাটি খালেদা অবশ্য গতকাল জামায়াতকে ছাড়াই করলেন। কিন্তু এসবে চিড়া ভিজবে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সমঝোতার ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। শুধু অনির্বাচিত ব্যক্তির প্রতি অরুচির কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়েছে? সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছেন বলেই কি? কিংবা তথাকথিত নৈতিক ও আদর্শগত লড়াইটাই এখানে নিয়ামক? অন্য সব মেকি? অধ্যাপক সোবহানের লেখাকে কেন্দ্র করে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর পেতে নাগরিক সংলাপ শুরু হওয়া দরকার।
অধ্যাপক রেহমান লিখেছেন, ‘যেকোনো সরকার যারা দুর্বল নির্বাচনী ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে, অব্যাহতভাবে তাদের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবং ক্রমবর্ধমান হারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিপীড়নমূলক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে। এবং একই সঙ্গে তারা ক্ষমতায় থাকতে নিজস্ব পেশিশক্তির ওপর নির্ভর হতে পারে। এর ফলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র খর্ব হয়।’ আওয়ামী লীগ গত পাঁচ বছরে যুক্তির চেয়ে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পেশিশক্তির ওপরই প্রধানত নির্ভরশীল ছিল। এখন তিনি সম্ভবত এক্ষেত্রে আরো
এ সরকার বেআইনি কিংবা বৈধ সেই বিতর্কে না গিয়ে তিনি অসাধারণ মন্তব্য করেছেন, ‘এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী—তা নিয়ে আমরা বিতর্ক করতে পারি। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের তাতে হেরফের ঘটে না।’ ২০০৮ সালের নির্বাচনে শতকরা ৮৭ ভাগ ভোটারের ম্যান্ডেটের বিপরীতে ৫ জানুয়ারিতে বিনা ভোটে ১৫৩ আসন ও বাকি ১৪৭ আসনে ১৮ ভাগ ভোটের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয়েছে তারা। এ তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের জন্য এটাই বাধ্যকর যে জরুরি ভিত্তিতে তার গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা।’ আমরা বলি, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র হরণের স্বীকৃতি ও অনুশোচনা আগে করা দরকার।
সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য আপাতত ৫ জানুয়ারির আগের ধারায় ফিরতে হবে। সে জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের স্থায়ী অবয়বটা কী হবে, তা নিয়ে সর্বাগ্রে সংলাপ শুরু করা দরকার। হাউস অব কমন্স ও ইইউ পার্লামেন্টের নির্বাচিত রাজনীতিকদের কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে গণতন্ত্রবিরোধী বলেননি। তবে বিরোধী দলের নেতা গতকালও নিরপেক্ষ সরকারের নির্দিষ্ট রূপরেখা প্রকাশে অক্ষম থাকলেন। এর আগে তিনি মৃত ব্যক্তিদেরও যুক্ত করেছিলেন!

মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

সরল গরল- রেহমান সোবহানের নির্বাচনী ভাবনা by মিজানুর রহমান খান

১৯ জানুয়ারি ডেইলি স্টার-এ অধ্যাপক রেহমান সোবহানের নিবন্ধে বাংলাদেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ ছাপা হয়েছে।

সপ্তাহের হালচাল- ব্যাকফুটে বিএনপি by আব্দুল কাইয়ুম

সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গণসমাবেশে জামায়াত-শিবিরকে ব্যানার নিয়ে দৃশ্যমানভাবে উপস্থিত থাকতে না দেওয়ায় এটা পরিষ্কার যে বিএনপি এখন ‘ব্যাকফুটে’ খেলতে চাচ্ছে।
তা-ই যদি না চাইত, তাহলে জামায়াতকে ঠেকিয়ে রাখবে কার সাধ্য। যদিও বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে না যে তাদের কোনো নিষেধ ছিল। ওদের ব্যাখ্যা হলো, সেদিন নাকি ১৮ দলের সমাবেশ ছিল না, ছিল বিএনপির সমাবেশ। কিন্তু এসব কথা বলে জামায়াতের অনুপস্থিতির সাফাই গাওয়া যাবে না। এই মুহূর্তে জামায়াতকে একটু দূরে দূরে রাখার কৌশলের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। একটি হলো বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শ। অন্যটি জামায়াতকে সঙ্গে রাখার বিপদ।

বিদেশি বন্ধুরা জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে সুস্পষ্ট দূরত্ব রাখা, সোজা কথায় তাদের সঙ্গ ছাড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়ার পর বিএনপির পক্ষে আগের মতো করে চলা কঠিন। তাই অনেকটা ‘ব্যাকফুটে’ খেলার কৌশল নিতে হয়েছে। পাকা খেলোয়াড়েরা সব সময় পিটিয়ে খেলেন না। বিশেষত শতরান পূর্ণ করার বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে কিছুটা ধীরে, দেখেশুনে খেলার কৌশল নিলে দলের হতাশ হওয়ার কিছু থাকে না। বরং সবাই উত্সাহিত হয়। বিএনপি ২৯ জানুয়ারি হরতাল না ডেকে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে। আরও ভালো করেছে, অন্তত ছয় মাস শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির বাইরে কিছু না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে।
যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হয়, তাহলে জামায়াতকে সামনে রাখা বিপজ্জনক। যেমন সেদিন যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের দলীয়ভাবে যোগদানের সুযোগ থাকত, তাহলে মাঠের চিত্রটা একটু চিন্তা করুন। জামায়াতের টার্গেট হলো মঞ্চের সামনের পুরো জায়গাটা ব্যানার-মিছিল নিয়ে আগে থেকেই দখল করে রাখা। এটা সব সময় দেখা গেছে। বিএনপির সমাবেশে গেলে তো তাদের মহা সওয়াবের কাজ হয়। কারণ, কিছু একটা ছলছুতায় ককটেল ফুটিয়ে দোষটা সরকারের এজেন্সির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। এই মুহূর্তে, যখন বিদেশি বন্ধুরা জামায়াতের ব্যাপারে সন্দিহান, তখন তাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশে আনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিএনপি সেই বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে।
বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা বলেছে বটে, কিন্তু সেটাই কি যথেষ্ট? বিএনপি কি তাদের আগের অনুসৃত রাজনৈতিক অবস্থানের পর্যালোচনা করবে না? যদি না করে, তাহলে আর লাভ কী হলো। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, তাদের দলের প্রতি মানুষের এত বড় সমর্থন থাকা সত্ত্বেও কেন এখন কপাল চাপড়াতে হচ্ছে? নির্বাচনের ১০-১২ দিন আগেও তাদের দলের মধ্যে এমন একটা ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে দিন সাতেকের মধ্যে সরকার পড়ে যাবে, নির্বাচন ভেসে যাবে। কে ভাসিয়ে দেবে নির্বাচন? সাধারণ মানুষ, নাকি কর্মীরা? নাকি জামায়াত-শিবিরই তাদের একমাত্র ভরসা ছিল? যেটাই হোক না কেন, তাদের হিসাব যে মেলেনি, বিরাট গরমিল ছিল, সেটা না বুঝতে চাইলে দলের আরও বড় ক্ষতি হতে পারে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচন করে ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু তাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি না সেটা বোধ হয় আওয়ামী লীগও বোঝে। একতরফা নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগেই ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে পড়ায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার লজ্জায় মাথা কাটা গেছে, এটাও ঠিক। মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা আওয়ামী লীগ উড়িয়ে দেয়নি। যদিও শর্ত দিয়েছে, বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে, তারপর আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতা! তার মানে এই নির্বাচন নির্বাচন না, আরও নির্বাচন আছে।
এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক আন্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অব্যাহত রাখা এবং আগের মতোই ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার কথা বলার পর বিএনপির পক্ষে সরকারের বৈধতার প্রশ্ন তুলে কঠোর লাইনে চলাও কঠিন। তাদের বিবেচনায় এটা আছে নিশ্চয়, না হলে কেন তারা বলবে যে জামায়াতের সঙ্গে তাদের ঐক্য স্থায়ী কিছু নয়, কৌশলগত। আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের কথাও তো তারা বলেছে।
এ অবস্থায় জোট-ছুট যেন না হতে হয়, সে জন্য জামায়াত বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ওরা না থাকলে যে বিএনপির আগামী দিনের আন্দোলনে বর্শাফলক হিসেবে কাজ করার কেউ থাকবে না, এ রকম একটা কিছু তারা দেখাতে চাইবে। এখন বিএনপিকে ঠিক করতে হবে, পেট্রলবোমা ও ককটেল মারার লোকের জন্য তারা জামায়াত-শিবিরের কাছে ধরনা দেবে কি না। পুলিশ ও সাধারণ নাগরিক হত্যার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত দলের লোকজনকে তারা রাজনৈতিক ছাড়পত্র দেবে কি না। এসব সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।
জামায়াত-শিবিরকে দূরে ঠেলে দেওয়ার সুস্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে বিএনপি যে সেই আগের সুরে আলোচনার মাধ্যমে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে’ দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে চলেছে, তা তো কোনো ফল দেবে না। ‘ব্যাকফুটে’ খেলতে হলে কিছু কৌশল তো বদলাতে হবে। না হলে আবার হরতাল-অবরোধের পথে কি তারা যেতে চায়?
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তত তিনটি দেশে এখন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংকট চলছে। শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন এমন নগ্নভাবে প্রভাবিত করে যে কল্পনাও করা যায় না। সেদিন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ উত্তর প্রাদেশিক কাউন্সিল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে এসে বললেন, ওরে সর্বনাশ, বল প্রয়োগ কাকে বলে, ভোট জালিয়াতি নিয়ে কারও টুঁ শব্দটি করার উপায় নেই! এ অবস্থার মধ্যে নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও যাচ্ছেন।
থাইল্যান্ডে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে সরকার ২ ফেব্রুয়ারি যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়েছে, বিরোধী দল তা বর্জন করে একটি অনির্বাচিত ‘পিপলস কাউন্সিল’-এর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি করছে। প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা হাসিমুখে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছেন। বিরোধী পক্ষের আন্দোলন-অবরোধ সত্ত্বেও তিনি অবিচল। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিরোধীরা দখল করে নিলে সরকার তাদের মন্ত্রণালয় অন্য ভবনে স্থানান্তর করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে কোনো রকম বল প্রয়োগ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। আন্দোলন-বর্জন নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা নেই। গত রোববার থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দনবার্তা পাঠিয়েছেন।
কম্বোডিয়ার অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হুনসেন ক্ষমতায় রয়েছেন। গত বছর জুলাই মাসের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে হুনসেনের বিরুদ্ধে। কিন্তু হুনসেন নির্বিকার। নির্বাচন হয়, কিন্তু বিরোধী দল সুবিধা করতে পারে না। কারণ, হুনসেনের সরকার ক্ষমতায় এসেছিল পূর্ববর্তী পলপটের খুনি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে পলপট সরকার অন্তত ২০ লাখ কম্বোডীয় নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। ‘সমাজতন্ত্রের’ নামে তারা ভিয়েতনামি, মুসলিম ও বিশেষভাবে ‘বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের’ নির্মূল করার অভিযান চালায়। যার চোখে চশমা, তাকেই বুদ্ধিজীবী বলে চিহ্নিত করে হত্যা করা হয়। একপর্যায়ে ভিয়েতনামের বাহিনী অভিযান চালিয়ে পলপট চক্রকে উত্খাত করে। হুনসেন সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই থেকে ওই সরকার চলছে।
গত মাসে কম্বোডিয়ার বিরোধী দল আন্দোলন শুরু করলে বল প্রয়োগে দমন করা হয়। পোশাককর্মীদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকে সামনে রেখে বিরোধী দল আন্দোলন করছিল। পোশাককর্মীরা মজুরি দ্বিগুণ করে ১৬০ ডলার দাবি করছিল। এরপর আন্দোলন দমন করা হয়। তখন বিরোধীদলীয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলো গার্মেন্টস শ্রমিকদের ধর্মঘট ও মিছিল বন্ধ করে কাজে যোগদানের আহ্বান জানায়। অবস্থা এখন ঠান্ডা।
আপাতত সেখানে বিরোধী দল ‘ব্যাকফুটে’ খেলছে। কারণ, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, তাদের একটা প্লাস পয়েন্ট। তারা পলপট আমলের বিভীষিকাময় অধ্যায়ের অবসানে সামনের সারিতে ছিল।
বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপি এখন ‘ব্যাকফুটে’ খেলে কতটা সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপর। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংস্রব ত্যাগ এবং হরতাল-অবরোধ-সহিংসতা বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলনই হবে তাদের উত্কৃষ্ট দাওয়াই। এর মধ্য দিয়ে আলোচনা ও আগামী নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হতে পারে।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।

সপ্তাহের হালচাল- ব্যাকফুটে বিএনপি by আব্দুল কাইয়ুম

সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গণসমাবেশে জামায়াত-শিবিরকে ব্যানার নিয়ে দৃশ্যমানভাবে উপস্থিত থাকতে না দেওয়ায় এটা পরিষ্কার যে বিএনপি এখন ‘ব্যাকফুটে’ খেলতে চাচ্ছে।

নির্বাচন: তারপর কী

বহু তর্ক-বিতর্ক, নানা নাটকীয়তা ও ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বে ৪৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভাও গঠিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। নির্বাচনটির আইনসিদ্ধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও, এটি একটি বাস্তবতা এবং এই বাস্তবতাকে আমলে নিয়ে অগ্রসর হওয়া ছাড়া নাগরিকদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। বস্তুত, আইনে ‘ডকট্রিন অব ফেকটাম ভেলেট’ (Doctrine of factum valet) বলে একটি তত্ত্ব আছে। তত্ত্বটির অর্থ হলো—যদি এমন কিছু ঘটে যায় যা আদৌ ঘটা উচিত ছিল না, কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘড়ির কাঁটা উল্টে দেওয়া সম্ভবপর নয়, তাহলে সে বাস্তবতা মেনে নিয়েই সামনে অগ্রসর হতে হবে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে অপরিবর্তনীয় ধরে নিয়েই সামনে এগোতে হবে, যেমনিভাবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ তারিখের বিতর্কিত নির্বাচনটি সবাইকে মেনে নিতে হয়েছিল। আর ১২ জুন ১৯৯৬ তারিখের নির্বাচনটি ছিল সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন—ষষ্ঠ নয়। একইভাবে পরবর্তী নির্বাচন হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে একাদশ সংসদ নির্বাচন দ্রুততার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। নবগঠিত সরকারের সামনে বর্তমানে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ, যার অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা এবং অনতিবিলম্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা। যেহেতু উপজেলা নির্বাচন-প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, তাই উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনটির সংশোধন করাও এই মুহূর্তে জরুরি।\
আরও জরুরি দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে এবং সংসদে এরশাদের জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা অবসানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে এবং এগুলোর প্রতিকারও ভিন্ন ভিন্ন। একটি কারণ অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত। জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধের বিচার ভন্ডুল করতে বদ্ধপরিকর, তাই তাদের সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। আর এরা রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে হবে, যাতে এ নিয়ে আর ‘রাজনীতি’ না হতে পারে। এ ছাড়া তাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি কারণ হলো, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার নির্বাচনকালীন সরকারসংক্রান্ত বিরোধ। এটি রাজনৈতিক বিরোধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার বা বলপ্রয়োগ করে এর সমাধান সম্ভবপর নয়। এই বিরোধের মীমাংসা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। তাই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। আর এই সমঝোতা না হলে আমাদের দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম হবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আরও প্রয়োজন বিরোধী দলকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ প্রদান করা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দেওয়া।
তবে সাম্প্রতিককালে যারাই সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে, বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে—তাদেরই দলমত-নির্বিশেষে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। এ জন্য অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা জরুরি। কমিশনের মাধ্যমে ২০০১ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছিল এবং রামুর ঘটনায় যারা জড়িত হয়েছিল, তাদেরও যথাযথ শাস্তি দেওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ ‘কালচার অব ইম্পিউনিটি’ বা অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার অতীতের সংস্কৃতির অবসান চিরতরে ঘটাতে হবে। সেই সঙ্গে আইনের শাসনের খাতিরে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের অপসংস্কৃতির ইতি টানতে হবে। গত কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভবপর নয়। বস্তুত, আমাদের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে, ভবিষ্যতেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে মনে হয় না। একইভাবে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত থাকলে, শেখ হাসিনাও নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারেন। আর নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা বদল হওয়ার সুযোগ না থাকলে, অনিয়মতান্ত্রিক তথা বল প্রয়োগের মাধ্যমে তা ঘটার আশঙ্কা থেকে যায়।
আর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের কারণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিকব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে হলে আজ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা এবং এর ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য, যেখানে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি নির্বাচনের কথা বলেছেন, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বক্তব্য। এ অবস্থায় অনতিবিলম্বে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করে একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা এবং সেই রোডম্যাপের ভিত্তিতে অগ্রসর হওয়া হবে সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত। আর বৃহত্তর পরিসরে সংলাপের আয়োজন করে সবগুলো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯০ সালের তিন জোটের রূপরেখার আদলে একটি ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হবে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাই। নবগঠিত মন্ত্রিসভা থেকে অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তবে যাঁরা অতীতে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্পদের মালিক হয়েছেন, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। এ ছাড়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন,
যা কোনোভাবেই উৎসাহব্যঞ্জক নয়। নতুন মন্ত্রিসভায় অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসায়িক মুনাফা। সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার প্রমুখ ‘প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে’ অধিষ্ঠিত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের মুনাফাজাতীয় আয় অর্জন হবে সংবিধানের লঙ্ঘন (প্রথম আলো, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩)। তাই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজর দেওয়া জরুরি। আরও কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সব ক্ষমতাধরকে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রতিবছর প্রদান এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। এ ব্যাপারে মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীর অতীতের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ক্ষমতাধরদের পরিচ্ছন্ন রাখতে হলে অন্যদের এ ধরনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি, আবাসিক এলাকায় প্লট প্রদানের মতো অন্যান্য নাগরিকের তুলনায় পক্ষপাতমূলক সুবিধা প্রদান থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণা উৎসাহব্যঞ্জক। এ ছাড়া আরও আবশ্যক, অনতিবিলম্বে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করা, যার ফলে তাঁরা তাঁদের ‘প্রাইভেট ইন্টারেস্ট’ বা সরকারি দায়িত্ব পালনের বাইরে যেসব কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁরা জড়িত, তা প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন।
উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ধারণা করা যায় যে জেলা পরিষদ ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের আইনগুলো, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পরিষদ আইনে অনেকগুলো গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আরও সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, উপজেলা পরিষদের ওপর সংসদ সদস্যদের কর্তৃত্ব সম্পর্কিত আইনি বিধান পরিষদকে অকার্যকর করে ফেলেছে। তাই স্থানীয় সরকার আইনগুলোর সংস্কার আজ জরুরি। আরও জরুরি একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি প্রণয়ন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলেও, মূলত বিরোধী দলের অব্যাহত সংসদ বর্জনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেকটাই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এরশাদের জাতীয় পার্টিকে একই সঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে রাখার সিদ্ধান্ত সংসদকে অকার্যকর করেই রাখবে। কারণ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল কথা হলো—ক্ষমতার ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্সেস’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে নজরদারিত্বের বিধান। যেমন, ‘প্রিন্সিপল অব সেপারেশন অব পাওয়ার’ বা ক্ষমতার বিভাজনের নীতির ভিত্তিতে প্রশাসন, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের ওপর নজরদারি করে, যাতে কোনো বিভাগই ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে। একইভাবে সংসদীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সংসদীয় বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের মতো অপকর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত করা যেতে পারে। কিন্তু এরশাদের জাতীয় পার্টির জগাখিচুড়ির ভূমিকা আমাদের সংসদ তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার ব্যাপারে নেতিবাচক ভূমিকাই পালন করবে। তাই এ ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক।

সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা

সংঘাতের কেন্দ্রে এশিয়ার নতুন নেতারা
এশিয়ার শহরমুখী অভিবাসন ঘটাচ্ছে এক ‘ফাটানো পালাবদল’। কীভাবে এশিয়ায় ধনকুবের হওয়া যায়, তা নিয়ে পাকিস্তানি ঔপন্যাসিক মোহসিন হামিদ বই লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘সহায়ক, সীমাবদ্ধ, স্থায়ী সম্পর্কের বন্ধন আলগা হয়ে জায়গা করে দিচ্ছে, জাগিয়ে তুলছে নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ, উৎপাদনশীলতা ও সম্ভাবনাকে।’ এশিয়াজুড়েই এই পালাবদলের রাজনৈতিক সম্ভাবনা ব্যাপক। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সময় এর প্রথম দেখা মিলেছিল। সেখানে রেজা শাহ পাহলভির আমলে মহাসমারোহে দ্বিগুণ গতিতে নগরায়ণ করতে গিয়ে কৃষকেরা উচ্ছেদ হন। এই বিক্ষুব্ধ শ্রেণীটিকেই নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে ইসলামি বিপ্লবীরা এবং তাঁরাই হন এদের প্রধান অনুগত ভিত্তি। হাল আমলে জনসংখ্যার গঠনের রদবদলের সুফল নিয়ে ক্ষমতাসীন হয় তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। এর নেতা রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রায় এক দশক অপ্রতিহত অবস্থানে দেশ শাসন করেন। থাইল্যান্ডের টেলিকম বিলিয়নিয়ার থাকসিন সিনাওয়াত্রার উত্থানের গল্পটাও এ রকমই।
তিনি এর আগে উপেক্ষিত দুটি গোষ্ঠী: ব্যাংককের শহুরে গরিব আর উত্তর থাইল্যান্ডের বঞ্চিত গ্রামবাসীকে একতালে আলোড়িত করেন। শহর এলাকা থেকে নতুন ধরনের মোহজাগানো রাজনীতিকের উত্থান ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়ও। তিনি হলেন জাকার্তার গভর্নর জোকো উইদোদো। ভারতের নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উত্থানের চালিকাশক্তিও এই শহুরে নিম্নবর্গ। নতুন নেতাদের ব্যতিক্রমী অতীত পেশাদার রাজনীতিকদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের কাছে টেনেছে। জনপ্রিয়তার সুবাদে তাঁরাও পুরোনো পৃষ্ঠপোষকতার নেটওয়ার্ক এবং জাত, ধর্ম ও আঞ্চলিকতাকে তেল-তোয়াজ করা এড়িয়ে যেতে পেরেছেন। এশিয়াজুড়ে সাবেকি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক এলিটদের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে; কখনো কখনো তাঁরা উৎখাতও হয়ে যাচ্ছেন। একেবারে নতুন সামাজিক যোগাযোগজাল, এনজিও-ধরনের তৎপরতা এবং মিডিয়াবান্ধব ঘষামাজা ইমেজ ও প্রতীক—যেমন কেজরিওয়ালের বেলায় গান্ধী টুপি—রাজনীতির বিকল্প পথ গড়ে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, ক্ষমতার দালাল ও ব্যবসায়ীদের গড়ে তোলা ভারসাম্য ভেঙে দিচ্ছে শহুরে শ্রমিক এবং চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এশিয়াজুড়ে ঘটে চলা এই নতুন ঘটনা যতই ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র’ অথবা ‘আমজনতা’ আবিষ্কারে উল্লসিত হোক না কেন, এ ফাটানো পরিবর্তনের অন্য দিকটির দিকে অনেকেরই নজর নেই। এটা জন্ম দিচ্ছে সংঘাতেরও বিস্ফোরণ।
সর্বক্ষেত্রে অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে আসা এই সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেমন বলা যায়, আমজনতার বিদ্রোহ এলিট মহলের তরফে পাল্টা-বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছে। সাবেকি এলিটরা নিজের অবস্থান আপসে আপ ছেড়ে দেবে না। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বাইরে থেকে থাই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে মধ্যবিত্তের ক্রোধ দেশটাকে অবশ এবং অর্থনীতিকে করে দিচ্ছে অবশ। যে এরদোয়ান একসময় তুরস্কের ওপর প্রায় ওসমানিয়া সাম্রাজ্যকালীন অধিরাজ হয়ে উঠেছিলেন, তাঁকে এখন বিরোধী জোটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই বিরোধী জোট গঠিত হয়েছে মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী এবং সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক এলিটদের নিয়ে। ঠিক এ ধরনেরই একটা জোট থাকসিনকে নির্বাসিত করেছিল এবং এখন তাঁর বোনের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করছে। দিল্লিতে কেজরিওয়ালের অপ্রত্যাশিত অর্জন সুনিশ্চিত হয়েছিল মধ্যবিত্ত এবং শহুরে গরিব ভোটারদের ঐক্যের মধ্য দিয়ে। কিন্তু এ জোট কেজরিওয়ালের দিল্লির দপ্তরকে বেশি দিন শান্তিতে থাকতে দেবে বলে মনে হয় না। কারণ, মধ্যবিত্তরা চায় স্বচ্ছ ও দক্ষ সরকারি সেবা, অন্যদিকে সুবিধাবঞ্চিতরা চায় মৌলিক সামাজিক অধিকারের বাস্তবায়ন। দেখা যাচ্ছে, সংখ্যায় বৃহত্তর গরিব শ্রেণীই কেজরিওয়ালের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য। ব্যাংককে থাকসিনের বোনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ দেখায় যে, দুই ধরনের গণতন্ত্রের মধ্যকার সংঘাতে একটি দেশ কেমন অচল হয়ে যেতে পারে। এই গণতন্ত্রগুলোর একটি গঠিত হয়েছে আগেকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে, যারা চায় যে রাজনীতিবিদেরা তাদের ওপর ভর্তুকি, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধার ঝরনা ঝরান। অন্য পক্ষটি শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে ঘিরে পাক খাচ্ছে।
এরা জনমনকে খুশি করার কাজকারবার ঘৃণা করে, উঠে আসা সামাজিক শ্রেণীগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকাকে ভয় পায়। এ ভয় থেকেই তাদের দৃষ্টিতে অদক্ষ সরকারের পতনের জন্য তারা মরিয়া। ভারতে সাবেকি রাজনৈতিক আনুগত্য জাত-বর্ণের সংহতি এবং অন্যান্য ধরনের পরিচয় ও পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি দিয়ে কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে। দলিত, সাম্প্রদায়িক, আঞ্চলিক ও শ্রেণীসংঘাত যখন পরস্পরকে দুর্বল করায় ব্যস্ত, তখন দিল্লির মতো জায়গায় দুর্নীতি ও সুশাসনের মতো স্থানীয় ইস্যু সবকিছু ছাপিয়ে ওঠে। আর তাই কেজরিওয়ালকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জাত-সম্প্রদায়ের সনাতন ক্ষমতাকেন্দ্রগুলোর কাছে ধরনা দিতে হয়নি। তিনি সরাসরি সবার জন্য নাগরিক অধিকারের দাবি তুলেছেন। তবে অচিরেই তাঁর বামমনা সহকর্মী, মধ্যবিত্ত থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক কর্মী এবং নিচুতলার ভোটারদের মধ্যে বেসুরো মতাদর্শিক মতভেদ তৈরি হতে পারে। গত সপ্তাহে কেজরিওয়াল আগের সরকারের আমলের মাল্টিব্র্যান্ড সুপারশপে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করেছেন। এটা খুদে দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের খুশি করলেও আরও সচ্ছল ভোটারদের মনঃপূত হবে না। যেসব করপোরেশন সাততাড়াতাড়ি তাঁর রাজনৈতিক গতিধারার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে, এটা তাদেরও নাখোশ করবে। যেসব কায়েমি রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আম আদমির রাজনৈতিক উত্থানে বেকায়দায় পড়ে গেছে, তারাও চাল দেওয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তারা জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মতো বিতর্কিত ইস্যুতে কেজরিওয়ালকে কথা বলার জন্য চাপ দিচ্ছে। নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা যতটা হানিমুন-সময় পান,
সেটাও কেজরিওয়াল পাচ্ছেন না। জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে এঁদের আক্রমণের শিকার কেজরিওয়াল হরহামেশাই হচ্ছেন। কার্যকর বামপন্থী দল না থাকার সুবিধা কেজরিওয়াল সাময়িকভাবে পাচ্ছেন। ভারতের কোনো বামপন্থী দলই সর্বভারতীয় স্তরে সামাজিক ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ফায়দা নিতে সক্ষম নয়। এমনকি মৌলিক পরিবর্তনকামী রাজনীতিবিদেরাও নিজেদের সব আদর্শের প্রতি নিরপেক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করছেন। শাসকের বিরুদ্ধে শাসিতদের চালনা করে কেজরিওয়াল খুব আকর্ষণীয় ও সহজ রাজনৈতিক কর্মসূচি হাজির করেছেন। অস্পষ্টতা কিংবা সবাইকে খুশি করার চেষ্টা রাজনীতির এক অনস্বীকার্য সম্পদ। কিন্তু সারা দেশের আগে অন্তত দিল্লিতে হলেও কেজরিওয়ালকে বিভক্ত রাজনৈতিক দৃশ্যপটের সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিতেই হবে; যেখানে গ্রামীণ গরিব, শহরে অভিবাসিত পল্লির মানুষ এবং মধ্যবিত্তরা পরস্পরের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেঁষি উত্তেজনার মধ্যে বাস করছে। আর এ চাপ ঘনীভূত হচ্ছে শ্রেণী ও বর্ণগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা অনিবার্য ও ক্রমবর্ধমান সংঘাতের পটভূমিতে।
গালফ নিউজ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ ফারুক ওয়াসিফ
পঙ্কজ মিশ্র: ভারতীয় লেখক ও ঔপন্যাসিক।

খালেদা জিয়ার মন্তব্য

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর প্রথম জনসভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি দ্রুত সংলাপ ও নির্বাচনের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি আছে। কেননা, এই নির্বাচনে যেমন দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি, তেমনি বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের বর্জন ও প্রতিরোধের মুখে যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়, তাতে ভোটারের উপস্থিতিও ছিল খুব কম। সরকারের পক্ষ থেকেও এটিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন বলে অভিহিত করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে খালেদা জিয়ার প্রশ্ন তোলা এবং সবার অংশগ্রহণে দ্রুততম সময়ে আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু এই সমাবেশেই খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও উসকানিমূলক। সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আপনারা দেখেছেন, কীভাবে মানুষকে নির্যাতন করেছে। আদৌ যৌথ বাহিনী ছিল কি না, সেটা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহ আছে।’ একই সন্দেহ তিনি করেছেন গাইবান্ধার অভিযান সম্পর্কেও। বিএনপির নেত্রীর এই সন্দেহের পেছনে কি কোনো যুক্তিসংগত কারণ আছে? তাঁর হাতে কি তথ্য-প্রমাণ আছে?
যদি না থাকে ‘কানে চিল নিয়ে গেছে’ বলে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা কেন? খালেদা জিয়া কেবল একটি দলের প্রধান নন, তিনি দুবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দুবার জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। তথ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উড়ো খবর দিয়ে একজন দায়িত্বশীল নেতা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা বলতে পারেন না। এর আগে তিনি তাঁর বাড়ির ফটকে উপস্থিত সাংবাদিক, পুলিশ ও অন্যদের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সিকিমের সাবেক নেতা লেন্দুপ দর্জির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো যখন হাজারটা বিষয় দৃশ্যমান, তখন অদৃশ্য বা গায়েবি বিষয় সামনে এনে রাজনৈতিক বৈরিতা বাড়ানোর কী কারণ থাকতে পারে? এ ধরনের উসকানিমূলক ও বিদ্বেষপ্রসূত কথাবার্তা দুই দলের মধ্যকার আলোচনার পরিবেশই কেবল নষ্ট করে না, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কও ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। অতএব, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য-বিবৃতিতে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। কোনো দলের কোনো নেতা বা নেত্রীই যেন না ভাবেন যে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সোল এজেন্সি জনগণ তাঁকে দিয়েছে এবং তিনি বা তাঁর দলের বাইরে সবাই অ-দেশপ্রেমী। তাই যা খুশি বলে পার পাওয়া যাবে। দেশপ্রেমের পরীক্ষা একবারই হয়েছে, একাত্তরে। ভবিষ্যতে সে ধরনের পরিস্থিতি হলেও দেশের ১৬ কোটি মানুষই এক কাতারে দাঁড়াবে, কারও হাওয়াই অভিযোগের অপেক্ষায় থাকবে না।

এবার ‘বন্দুকযুদ্ধ’

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কি নতুন মাত্রা পেল? ‘ক্রসফায়ার’, ‘এনকাউন্টার’-এর পর এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নতুন পরিভাষা ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যার নাম ‘বন্দুকযুদ্ধ’। গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘গুলিবিনিময়’ বা ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়ে নয়জন নিহত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। এর মধ্যে পাঁচজন নিহত হন পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় সরকারি দাবি অনুযায়ী ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘গুলিবিনিময়ে’। অপর চারজনের লাশ মিলছে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকারি ভাষ্য যথেষ্ট সন্দেহের চোখে দেখছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী। নীলফামারীতে সাম্প্রদায়িক শক্তির নির্বাচনপূর্ব বর্বরোচিত হামলায় চারটি প্রাণ নিভে গিয়েছিল। এরপর রাষ্ট্রের কাছে সর্বজনীন প্রত্যাশা ছিল প্রকৃত দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে সোপর্দ করা এবং দ্রুততার সঙ্গে শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসামিদের মধ্যে দুজন অল্প সময়ের ব্যবধানে নিহত হলেন। এর ফলে দুই সন্দেহভাজন আসামি ও হামলায় নিহত ব্যক্তিদের শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা কার্যত একই সমতলে এসে দাঁড়াতে পারেন। আর সেটা হলো ন্যায়বিচার না লাভ করার বোধ। এখন রাষ্ট্রের দিকে সন্দেহের তির।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে এখনো সদুত্তর মেলেনি। বিএনপির নেতা গোলাম রাব্বানী ও ছাত্রদলের নেতা আতিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কে বা কারা হত্যা করেছে, সে বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য নেই। অথচ এই দুই সন্দেহভাজনের মায়েরা অভিন্ন আক্ষেপ করে বলেছেন, তাঁদের ছেলেরা অপরাধ করে থাকলে বিচার তাঁদের প্রাপ্য ছিল। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ খবর অন্তত একটি যুক্তিসংগত ধারণা সৃষ্টি করে। মেহেরপুরে জামায়াতের নেতা সাইফুল ইসলামের নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশের কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ বয়ান মিলেছে। কিন্তু এর চেয়েও ভয়ানক হচ্ছে, কেউ উধাও হওয়ার পর তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশের সন্ধান পাওয়া। নীলফামারীতে পুলিশ কেবলই দুজনের লাশ পেয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু তাদের জানা নেই। পুলিশ প্রশাসন কোনো বিবৃতিও দেয়নি। তবে এভাবে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে তাঁদের অতীত অপরাধের বৃত্তান্ত প্রকাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো আগের মতোই উৎসাহী। অন্যদিকে নির্জীব মানবাধিকার কমিশনও নীরব। সম্ভাব্য বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম বৃদ্ধির আশঙ্কায় আমরা উদ্বিগ্ন এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানাই।

প্লাস্টিক ও পলিথিন

দেশে প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ১২ জানুয়ারি প্রথম আলোয় অর্থ ও বাণিজ্য পাতায় একটি খবরের শিরোনাম ছিল: ‘চালের বিপণন এখনো প্লাস্টিকের বস্তায়’। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে ধান ও চালের বিপণন শুধু পাটের বস্তায় করা বাধ্যতামূলক করে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ২০১০ সালে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক আইন করে। কিন্তু এসব আইন-নির্দেশ উপেক্ষা করে চাল ও মিলমালিকেরা আগের মতো প্লাস্টিকের বস্তায় বিপণন করে চলেছেন। এর কারণ হিসেবে সামনে এসেছে পাটের বস্তার দাম বেশি ও সহজে না প্রাপ্তির বিষয়টি। পরিবেশদূষণের যেসব উপাদান রয়েছে, তার মধ্যে পলিথিন অন্যতম। তৎকালীন সরকার ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা শহরে এবং ১ মার্চ থেকে সারা দেশে পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর কিছুদিন পাটের (চটের) ও কাগজের ব্যাগের ব্যবহার লক্ষ করা গেলেও প্রচার-প্রচারণার অভাবে এবং মানুষের অসচেতনতার অভাবে আবার পলিথিনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন যে খালি হাতে বাজারে গিয়ে ১০ থেকে ১২টি রঙিন পলিথিন ব্যাগ নিয়ে ঘরে ফেরা যায়।
পলিথিন এমন একটি উপাদানে তৈরি, যা পরিবেশের জন্য মোটেই উপযোগী নয়। এর মধ্যে থেকে বিষ নির্গত হয় এবং খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে মিশে যায়। পলিথিন মাটির সঙ্গে মেশে না। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে। ডাস্টবিনে ফেলা পলিথিন বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে ঢুকে পড়ে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পলিথিন নদীর তলদেশে জমা হয়ে নদী ভরাট করে ফেলে। পলিথিন পোড়ালে তা বায়ুদূষণে সহায়তা করে। এখন কাগজ ও পাটের ব্যাগের ব্যবহারই আমাদের পলিথিনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পারে। পাটের ব্যাগ পরিবেশবান্ধব। পলিথিনের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে সরকারের ব্যাপক নজরদারিসহ প্রচারমাধ্যমগুলোয় (রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকা) ব্যাপক প্রচারণা দরকার। পাশাপাশি পাটের ও কাগজের ব্যাগের ইতিবাচক দিক, দাম কম ও সহজে প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার। আসুন, আমরা সবাই মিলে পলিথিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।
সাধন সরকার
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

সহিংসতার আগুন- ৫৬ দিন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন রুবেল by শর্মী চক্রবর্তী

দীর্ঘ ৫৬ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন পেট্রল বোমায় আহত সিএনজিচালক রুবেল (৫০)। ২৫শে নভেম্বর আহত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এখনও চিকিৎসা চলছে।
কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন তার নিশ্চয়তা নেই। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে আর ভাল লাগে না। বাড়ি ফিরে যেতে চান। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় ডাক্তাররা ছাড়ছেন না। এখন পর্যন্ত ২০ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরও দিতে হবে। তার স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, এই দুনিয়ায় আমার নিজের বলতে কেউ নেই। ছেলেমেয়েগুলো একা বাড়িতে পড়ে আছে। তার স্বামীও সন্তানদের কথা মনে করে কাঁদেন। তিনি বলেন, ডাক্তার বলেছেন আরও অন্তত মাস খানেক থাকতে হবে। অপারেশন করতে হবে। আমরা গরিব মানুষ। নিজের সহায় সম্পত্তি কিছুই নাই। এতদিন মানুষের সাহায্য নিয়ে চলেছি। আর কতদিন এভাবে থাকতে হবে জানি না। আমার স্বামীর কিছু হলে আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। রুবেলের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। পেট চালাতে অবরোধে বেরিয়ে ছিলেন সিএনজি নিয়ে। কচুয়ার চৌমুহনীতে শিকার হয়েছিলেন দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায়।

শুধু রুবেলই নয়, তার মতো আরও অনেকেই এখনও কাতরাচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তাদের আর্তনাদ যেন  থামছে না। হরতাল-অবরোধে পেট্রল বোমায় আহত হয়েছেন এমন ২০জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ২জন, এইচডিইউতে ৭ জন, পেইং ওয়ার্ডে ৯ জন এবং কেবিনে আছেন দু’জন। পেইং ওয়ার্ডে আহত শাহাদাত (৩৫) আর্তনাদ করে বলেন, আমি আর যন্ত্রণা সইতে পারছি না। প্রচণ্ড  কষ্ট হচ্ছে। আমাকে একটু ওষুধ দিবেন- যাতে আমার যন্ত্রণা সেরে যায়? কেরানীগজ্ঞের ফল বিক্রি করতেন শাহাদত। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না। বলেন, গত ৭ই ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের আলম মার্কেটের ফুটপাতে আমি ফল বিক্রি করছিলাম। হঠ্যৎ আমার সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে তার শরীরের প্রায় ৩৫ শতাংশ ঝলসে যায়। ককটেল বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে দোকানে ছেলে বসে ছিল। ছেলেকে বাসায় পাঠানোর পরপরই ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শাহাদাত বলেন, সেদিন যদি ছেলেকে বাসায় না পাঠাতাম তাহলে তাকে হারাতে হতো। এক ছেলে আর তিন মেয়ে নিয়ে শাহাদাতের সংসার। পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ নেই। বলেন, আমার কিছু হলে ছেলেমেয়েগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আমি ছাড়া তো তাদের আর কেউ নেই। বাবার এই কান্না দেখে পাশে চিৎকার করে কান্না শুরু করে এক বছরের ছোট্ট মেয়েটি।
পেশায় সিএনজি চালক রিপন (৩৫)-এর গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায় আহত হয়ে গত ৭ই ডিসেম্বর তিনি ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা মেডিকেলে। শুধু আগুনে শরীরই পুড়ে যায়নি তার, হারিয়েছেন ডান চোখ। কিছুই দেখতে পান না সেই চোখ দিয়ে। বারবার একটা কথাই জানতে চাচ্ছিলেন তিনি, আমি কি আর এই চোখ দিয়ে দেখতে পারবো না? আমার চোখ কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবেন না? আমি যদি দেখতে না পাই তবে আমার সংসার কিভাবে চালাবো? আমার তো আর কেউ নেই। বার্ন ইউনিটের চিকিৎসাধীন হরতাল-অবরোধের আগুনে পোড়ারা সবাই এখন ফিরে পেতে চান স্বাভাবিক জীবন। সুস্থ হয়ে ফিরে যেতে চান নিজ নিজ পরিবারের কাছে। চিকিৎসাধীন অন্যরা হলেন- চাঁপাই নবাবগঞ্জের ট্রাকচালক জামাতুল ইসলাম (২৭), রংপুরের সবজি ব্যবসায়ী লোকমান (৪৫), চট্টগ্রামের সিএনজিচালক খোরশেদ আলম (৫০), যশোরের কৃষক মেহের আলী (৬০), গাইবান্ধার পুলিশ কনস্টেবল আবুল কালাম (৪৫), চানখাঁপুলের কাজল (৩০), চট্টগ্রামের ট্রাকচালক আবু মিয়া (৪০), ট্রাকের হেলপার মো. বিল্টু (৩০), উত্তরার এডভোকেট উজ্জ্বল সরকার (২৭), বরিশালের মিশুকচালক সুলতান সরকার, ট্রাকচালক কামরুল ইসলাম (৩৪), ডিম বিক্রেতা মো. আবুল (৪০), এবি আবির (৪০), এসআই নুরুন্নবি (৫৫)। এদের চিকিৎসা এখনও চলছে। বাড়ি যাওয়ার জন্য উদ্বিগ্ন সবাই। এ ব্যাপারে বার্ন ইউনিটে আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, এদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা এখন ভাল। তবে তাদের বাড়ি ফিরতে একটু সময় লাগবে। তার কারণ প্লাস্টিক সার্জারি। এ অপারেশনটি না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের ছাড়তে পারছি না। এ ছাড়া সুস্থ হতে সময় লাগার আরেকটি কারণ শীতে পোড়া ক্ষত শুকাতে সময় লাগছে। তবে আমরা আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সবাইকে সুস্থ করে পাঠাতে পারবো।

সহিংসতার আগুন- ৫৬ দিন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন রুবেল by শর্মী চক্রবর্তী

দীর্ঘ ৫৬ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন পেট্রল বোমায় আহত সিএনজিচালক রুবেল (৫০)। ২৫শে নভেম্বর আহত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এখনও চিকিৎসা চলছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে দেয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করে।
৯ই জানুয়ারি ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ওই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর ইউজিসি এ ধরনের সুপারিশ করল। বর্তমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নফাঁস হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ঘটনার জের ধরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন জনপ্রিয় শিক্ষক পদত্যাগও করেছিলেন। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একপ্রকার যুদ্ধ করতে হয়। কেউ কেউ ১০টি বা তার অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েও চান্স পান না। কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিতে হয়। তাতেও চান্স না পেলে দু’টি বছর পিছিয়ে যেতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এক্ষেত্রে অর্থ ও শ্রম দু’টোই যায়। সমপ্রতি গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় এলেও বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরোধিতার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এছাড়া এই পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার জের ধরে সমপ্রতি অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা করা হয়। আলোচনার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়- বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রথম বর্ষে ভর্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনার উপর কমিশন গুরুত্ব আরোপ করে। ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য চলমান প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ভর্তি পরীক্ষাসমূহ কেবলমাত্র বোর্ড পরীক্ষার একটি অতি সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এ পরীক্ষার গুণগতমান বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ। একাধিক ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল ধরা পড়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বোর্ড পরীক্ষায় ভাল ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত পরীক্ষায় কোন কারণে ব্যর্থ হলে তারা কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়। যা তাদের প্রতি অবিচার বলে কমিশন মনে করে। এছাড়া বর্তমান পদ্ধতিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে ৬-১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় এবং দীর্ঘসময় তাদের কোচিং সেন্টারের শরণাপন্ন হতে হয়। মানসিক চাপ ও একই বিষয়বস্তু নিয়ে দীর্ঘকাল অধ্যয়নরত থাকার ফলে তাদের সৃজনশীলতা বহুলাংশে হ্রাস পায়। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যে সময় ব্যয় হয় তার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। এই সময়টুকু শিক্ষকরা বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেন। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠাসমূহের এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত আয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি হয় বটে, তবে এই আয়ের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নসাপেক্ষ। কমিশন প্রচলিত ভর্তি পরীক্ষার বিকল্প উদ্ভাবন করে ভর্তি প্রক্রিয়ার আমূল সংস্কারের সুপারিশ করছে ইউজিসি। তবে ইউজিসির এ সুপারিশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইউজিসির এ ধরনের সুপারিশ কাল্পনিক। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের পদ্ধতি নেই। তিনি বলেন, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আলাদা স্বাতন্ত্র্য আছে। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, বোর্ড পরীক্ষার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোন যৌক্তিকতা নেই। কেননা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সিলেবাস রয়েছে। অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কেন কথা বলা হচ্ছে? আমরা একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একমাসে মাত্র ১২ টাকা বেতন নিই। সেখানে প্রাইভেট বিশ্বদ্যিালয়ে বিভিন্ন নামে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নেয়। সেখানে ইউজিসি কোথায় থাকে। অনামিকা ভট্টাচার্য  এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চান্স পেয়েছেন। তিনি এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি প্রচলিত পদ্ধতিকেই সমর্থন করেন। অনামিকা বলেন, একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় একেকভাবে পরীক্ষা নেয়। এতে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ হয়। একটা পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে মেধা বিকাশের সুযোগ থাকবে না। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কোন শিক্ষার্থী তার পছন্দ বিষয়ে পড়তে চাইলে তার ১০-১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তাদের টাকা ব্যয় হয়। শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। এটা না করে গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করলে এতো সময় ও অর্থ ব্যয় হবে না। তিনি বলেন, মানবিকের জন্য একটি, সামাজিক বিজ্ঞানের জন্য একটি, বিজ্ঞানের জন্য একটি পরীক্ষা নিলেই হয়। অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, আমেরিকার বিশ্বদ্যিালয়গুলোতে এ ধরনের পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনে (জিআরই) অংশ নিয়ে যে নম্বর পায় তা দিয়ে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের প্রেসিডেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে দেয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করে।

দিল্লি-কেন্দ্রীয় সরকার মুখোমুখি

পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের দাবিতে গতকাল কেন্দ্রীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশ দিল্লির
মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে থামিয়ে দেয়।
এ সময় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দিতে গাড়ি
থেকে নেমে আসেন তিনি। এএফপি
ক্ষমতার অধিকার ও তার পরিধিকে কেন্দ্র করে দিল্লির নবনির্বাচিত আম আদমি পার্টির (এএপি) সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্ব এমন অবস্থায় পৌঁছাল, যা অদৃষ্টপূর্ব। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের দাবিতে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ধরনায় বসতে গেলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়।
জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। সমর্থকদের রুখতে ওই এলাকার অন্তত পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটু দূরে রেল ভবনের সামনে ধরনা শুরু করেন কেজরিওয়ালসহ দিল্লির সব মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করেন। কেজরিওয়ালও আগামী ১০ দিন ধরনাস্থল থেকে সরকার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেজরিওয়ালের সরকার অভিযোগ করেছে, দিল্লির পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসৎ। তাই পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে তিনি নারাজ। দ্বন্দ্বের সূত্রপাত চার দিন আগে। দিল্লির আইনমন্ত্রী সোমনাথ ভারতী গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খিড়কি এলাকায় বেশ কিছু বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পুলিশকে চাপ দেন। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকায় আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের লোকজন মাদক ও দেহব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বাসিন্দারা তাদের আচরণে অতিষ্ঠ। দিল্লির মন্ত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ কোনো ধরনের ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি চালাতে অস্বীকার করে।
ক্ষুব্ধ মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পুলিশও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দাখিল করে। একই রাতে নারীকল্যাণমন্ত্রী রাখী বিড়লা নারী নির্যাতনের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। সেখানেও পুলিশ অসহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। দিল্লির উপরাজ্যপাল নাজিব জং ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজি নন। এর পরই দিল্লিবাসী গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখল। মুখ্যমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ধরনার দাবিতে অনড়। কিন্তু পুলিশও তাদের সেখানে যেতে দেবে না। পরে কেজরিওয়াল ও তাঁর সমর্থকেরা পাশের পার্কে ধরনায় বসলেন, ভাষণ দিলেন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানালেন। পাঁচ দিন পর প্রজাতন্ত্র দিবস। প্যারেড এখানেই। কেজরিওয়ালদের ধরনা তাই সরকারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই লড়াইয়ের তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, দিল্লি পুলিশের অধিকার কোন সরকারের কাছে থাকবে—কেন্দ্র, না রাজ্য? এটি দীর্ঘদিনের এক বিতর্ক।
দিল্লি দেশের রাজধানী বলে এখানকার পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। সিন্ধে সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন, এই অধিকার তাঁরা ছাড়বেন না। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, মন্ত্রীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করায় পুলিশের অভিযুক্ত কর্তাদের এখনই শাস্তি দেওয়া। এ ক্ষেত্রেও তদন্ত শেষ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিপক্ষে সিন্ধে। এএপি জানতে চায়, দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নির্বাচিত সরকারের আছে কি না। তৃতীয়টি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক আঙ্গিক। আফ্রিকার বেশ কিছু দেশের কিছু নাগরিকের বিরুদ্ধে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মাদকের সঙ্গে যুক্ত এক নাইজেরীয় যুবককে গোয়ায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ভারত-নাইজেরিয়া কূটনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। এবারও তেমন এক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবৃতিও দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দিল্লির সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বন্দ্ব এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। দিল্লির আইনমন্ত্রী সোমনাথ ভারতী ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। কেজরিওয়ালও জানান, ১০ দিন রেল ভবনের পাশের পার্কে ধরনাস্থল থেকেই তাঁরা দিল্লির সরকার চালাবেন।

শেষ দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুনন্দা

সুনন্দা পুশকার
ভারতের মানবসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুশকার গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। জীবনের শেষ দিনগুলোতে ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করেননি। তাঁর অন্তরঙ্গ দুই বন্ধু এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন সুনন্দাকে নাজুক করে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রয়াত সুনন্দার ওই দুই বন্ধুর নাম রোহিত কোছার ও শ্রীদেবী বাদিগা। তাঁদের ভাষ্য, স্বামী শশীর সঙ্গে পাকিস্তানি সাংবাদিক মেহর তারারের কথিত সম্পর্কের খবরই ছিল সুনন্দার ওই অসুস্থতার সবচেয়ে বড় কারণ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইভিত্তিক একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রোহিত বলেন, সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারি তিনি দুবাই থেকে টেলিফোনে সুনন্দার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি কেরালার একটি হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসা নেন। তাঁর যকৃতে ক্ষয়রোগ হয়েছিল। নতুন ওষুধ তাঁর সহ্য হয়নি এবং তিনি খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। দুবাইভিত্তিক একটি আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রীদেবী বলেন, অসুস্থ অবস্থায় খেতে পারতেন না সুনন্দা। তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর (শ্রীদেবী) সঙ্গে গোয়ায় একই কক্ষে ছিলেন। তখন তিনি বিছানা থেকেও উঠতে পারছিলেন না। আর তাঁদের দাম্পত্য জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির খবরে তিনি অনেক বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন। প্রশ্নের মুখোমুখি শশী:
স্ত্রী সুনন্দার রহস্যজনক মৃত্যুর ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেও শশী থারুরকে বেশ কিছু বিব্রতকর ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। উপবিভাগীয় হাকিমের (ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতে তাঁকে গতকাল সোমবার এসব প্রশ্ন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী শশীর জবানবন্দি গ্রহণকালে ম্যাজিস্ট্রেট অলক শর্মা দাম্পত্য কলহ এবং মেহরের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তিনি মেহরকে চিনতেন এবং তাঁদের ‘সুসম্পর্ক’ ছিল বলে স্বীকার করেন। তবে সম্পর্কের ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি শশী। এ ছাড়া টেলিভিশন সাংবাদিক নলিনী সিংয়ের মৌখিক জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। তিনি সুনন্দার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর আগের রাতে কথা বলেছিলেন। আরও জবানবন্দি দেন সুনন্দার ভাই কর্নেল রাজেশ, ছেলে শিব এবং শশীর ব্যক্তিগত সহকারী আর কে শর্মা প্রমুখ। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সুনন্দার মৃত্যু আমাকে তাড়িয়ে বেড়াবে: মেহর

মেহর তারার
ভারতীয় নারী সুনন্দা পুশকারের মৃত্যু নিয়ে গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি সাংবাদিক মেহর তারার। তিনি বলেন, ‘ওই মৃত্যু আমাকে ভেঙেচুরে দিয়েছে এবং ঘটনাটি আমাকে বছরের পর বছর তাড়িয়ে বেড়াবে।’ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী শশী থারুরের স্ত্রী সুনন্দার (৫২) রহস্যজনক মৃত্যুর নেপথ্যে মেহরের ভূমিকা রয়েছে বিভিন্ন খবরে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মেহর তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মেহর বলেন, তিনি ই-মেইল ও টেলিফোনে শশীর সঙ্গে ‘ভার্চুয়াল’ বন্ধুত্ব করেছেন। জীবন, রাজনীতি ও বইপত্র নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হতো। তিনি (মেহর) টুইটারে এক বার্তায় শশীর ব্যাপক প্রশংসা করেছিলেন। এতে ‘সুদর্শন’ শশীর ব্যক্তিত্ব ও আকর্ষণীয় কণ্ঠস্বর প্রভৃতি গুণাবলিকে চিত্রতারকা শাহরুখ খানের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তুলনা করেন। ব্যাপারটি হয়তো সুনন্দাকে ক্রুদ্ধ করেছিল। জি নিউজ।

বিনা গোসলে ৬০ বছর!

আমু হাজি
তিনি পচা মাংস ভালোবাসেন, বিশেষ করে শজারুর। আর ধূমপানের পাইপে তিনি তামাকের পরিবর্তে রাখেন প্রাণীর মলমূত্র। আমু হাজি নামের ওই ৮০ বছর বয়সী ব্যক্তি পানি খুবই অপছন্দ করেন। আর তিনি গোসল না করেই কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের ৬০টি বছর। তেহরান টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আমু হাজির বসবাস ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেজগা এলাকার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। জীবনের শুরুর দিকে কয়েকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি এ ধরনের অদ্ভুত জীবনযাপনের পথ বেছে নেন। গোসল বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমু হাজি আসলে ছাড়িয়ে গেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বারনসি বা বেনারস শহরের ৬৯ বছর বয়সী গুরু কৈলাস সিংকে।
তিনি ১৯৭৪ সালে বিবাহিত জীবনের শুরু থেকেই গোসল বন্ধ রেখেছেন। তিনি সারা দিন গঙ্গা নদীর তীরেই কাজ করেন। সন্তান লাভের আশায় তিনি একজন গুরুর পরামর্শে গোসল না করার সিদ্ধান্ত নেন। অবশ্য ওই গুরুর ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হয়েছে। কৈলাস সাত মেয়ের বাবা হয়েছেন। তিনি গোসল না করলে তাঁর সঙ্গে একই বিছানায় শুবেন না বলে হুমকিও দিয়েছিলেন স্ত্রী। অনেক চেষ্টা করেও স্বামীকে গোসল করাতে ব্যর্থ হয়ে পরে স্ত্রী অবশ্য হাল ছেড়ে দেন। আর আমু হাজি মনে করেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাঁকে অসুস্থ করে দেবে। তিনি দিনে পাঁচ লিটার পানি পান করেন। চুল কাটানোর প্রয়োজন হলে তিনি তা আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। মাথা উষ্ণ রাখার জন্য তিনি ব্যবহার করেন যুদ্ধে ব্যবহার্য একটি পুরোনো হেলমেট। আইএএনএস।

আন্দোলন দমনে জরুরি অবস্থা!

থাইল্যান্ডে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতা সুথেপ থাগসুবান
গতকাল ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। রয়টার্স
থাইল্যান্ডে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন বন্ধে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা ‘সক্রিয়ভাবে’ বিবেচনা করছে সরকার। গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান পারাধর্ন পাত্তানতাবুতর এ কথা জানান। থাই উপপ্রধানমন্ত্রীও একই রকম আভাস দিয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে মনে হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১২টি প্রদেশে সরকারি কার্যালয়গুলো অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। থাই জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান পারাধর্ন বলেন, ‘আমরা জরুরি আইন জারির বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।
সরকার, সামরিক বাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই জরুরি আইন জারির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে বৈঠকের পরই পারাধর্ন এ কথা জানান। পারাধর্ন বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা বিভিন্ন স্থানে সরকারি কার্যালয়গুলো বন্ধ করে দেবেন। তাঁরা বলছেন, এটা প্রতীকী আন্দোলন। কার্যালয়ে ঢুকে অবস্থান নিয়ে আবার ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের এই অবস্থানের পরিবর্তন হলে অর্থাৎ স্থায়ীভাবে কার্যালয় বন্ধ করে দিলে অস্থিরতা বাড়বে। তখন আমরা জরুরি আইনের আশ্রয় নেব।’ জরুরি আইন জারি হলে থাইল্যান্ডের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা বাড়বে। সংস্থাগুলো তখন কারফিউ জারি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক, গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ ও রাজনৈতিক সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে। উপপ্রধানমন্ত্রী সুরাপং টোভিস্কাচাইকুল গতকাল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর জন্য জরুরি আইন জারি করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আরও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক।’
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলে সরকারবিরোধীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ১২টি প্রদেশে সরকারি কার্যালয়গুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বিক্ষোভকারীরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যালয়ে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। সেন্টার ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব পিস অ্যান্ড অর্ডারের মুখপাত্র আনুচা রোমায়ানান বলেন, বিক্ষোভকারীরা তাঁদের কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। কার্যালয়ের বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভেতরে অবস্থানরত কর্মীদের বেরিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। গত শুক্র ও রোববার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশে গ্রেনেড বিস্ফোরণে একজন নিহত ও অনেকেই আহত হন। থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার পদত্যাগের দাবিতে প্রায় দুই মাস ধরে আন্দোলন করছেন সরকারবিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, ইংলাক তাঁর ভাই ২০০৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ওপর নির্ভর করেই দেশ পরিচালনা করছেন। ফলে দুর্নীতি বেড়ে গেছে। এএফপি।

৩৫০ কোটি মানুষের সমান সম্পদের মালিক ৮৫ ধনী

কার্লোস স্লিম, বিল গেটস
বিশ্বজুড়ে অসাম্য বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ ব্যক্তির কাছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের অবকাশ যাপন কেন্দ্র দাবোসে বার্ষিক সম্মেলনের আগে বিশ্বের প্রভাবশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
আগামী ২২ থেকে ২৫ জানুয়ারি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওই সম্মেলন হবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে বিশ্বের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এই অসাম্যের চিত্র তুলে ধরেছে।  ওয়ার্কিং ফর দ্য ফিউ’ শিরোনামের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে ধনশালী ব্যক্তিরা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। তাতেই ফুলে-ফেঁপে ওঠে তাঁদের বিত্তবৈভব। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে অক্সফামের প্রধান নির্বাহী উইনি বাইয়ানিমা বলেন, একটি দ্বিতল বাসে খুব সহজে ধরবে এমনসংখ্যক মানুষের সম্পদের পরিমাণ পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক, অর্থাৎ দরিদ্রতম প্রায় ৩৫০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান। এটা একুশ শতকের বিস্ময়।
উইনি আরও বলেন, ‘সম্পদ ও ক্ষমতা মাত্র কয়েকজন মানুষের হাতের মুঠোয় বন্দী হয়ে যাচ্ছে। আমরা এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছি, যেখানে সাম্য একটি স্বপ্নের মতো মনে হবে।’ অক্সফাম জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ৮৫ জন মানুষের কাছে ১ দশমিক ৭০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থসম্পদের মালিক মেক্সিকোর টেলিকম ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম হেলুর কাছে। তাঁর সম্পদের পরিমাণ সাত হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর পরই রয়েছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ছয় হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই ধনীদের কাতারে আরও রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট (পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার), গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ (দুই হাজার ৩০০ কোটি) প্রমুখ। গার্ডিয়ান।