Monday, June 1, 2026

সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে মানুষের অন্যরকম সখ্যতা

কথায় আছে ভালোবাসার মায়ায় কে না বন্দি হয়। ভালোবাসা পেলে পাথরও মোমে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এক মন কাড়া দৃশ্যের দেখা মিলেছে চিলির সমুদ্রসৈকতে। রদ্রিগো সেপেদা নামের এক বন্দরকর্মীর সামুদ্রিক প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার দৃশ্য ইন্টারনেটে বেশ সাড়া ফেলেছে। যেখানে দেখা যায়, তিনি চিলির উত্তরাঞ্চলের মেজিলোনেস সৈকতে মাছ ধরার বন্দরে সমুদ্রের সিংহ নামে পরিচিত সিল মাছকে খাওয়াচ্ছেন এবং আদর করছেন পরম মমতার সাথে।

সামুদ্রিক প্রাণীর সঙ্গে সেপেদার ভিন্ন রকম এ ভালোবাসা গড়ে ওঠার পেছনে রয়েছে এক করুণ ঘটনা। তিনি বলেন, একটি সিল মাছকে হত্যা করার জন্য ইস্পাতের তার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি সেটিকে উদ্ধার করে সমুদ্রে ছেড়ে দেন। কিন্তু মাছটি তাকে ছেড়ে সমুদ্রের গহিনে চলে যায়নি, বরং তীরেই রয়ে যায়। এক সময় মাছটির মায়ায় জড়িয়ে যায় রদ্রিগো। দিয়েছেন একটু সুন্দর নামও।

রদ্রিগো বলেন, মাছটিকে খাওয়াতে শুরু করলাম, যত্ন নিতে লাগলাম। প্রতিদিন সকাল ৯টার সময় সৈকতে আসার আগ পর্যন্ত সিল মাছটি তার জন্য অপেক্ষায় থাকত। তবে মাঝে মধ্যে সিল মাছটি লম্বা সময়ের জন্য সমুদ্রে চলে যেত। তখন তাকে না দেখলে চোখে জল আসত। নিজের পোষা প্রাণীকে হারালে যেমনটা হয়, ঠিক তার ক্ষেত্রেও তেমনটা অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তিনি মাছটির নাম রেখেছেন কাবেসিতা। এই নামে ডাকলেই মাছটি তার কাছে ছুটে আসে এবং সাড়া দেয়।

রদ্রিগো আরও বলেন, এই প্রাণীগুলো খুব একটা শান্ত নয়। কারণ তাদের কাছে মানুষ মানেই শত্রু, তাই তারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটা আগে থেকে বলা যায় না। তবে সেপেদা আশা করছেন তার কাবেসিতার সঙ্গে যে বন্ধন তৈরি হয়েছে তা মানুষকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির উপকূলজুড়ে সিল মাছের ব্যাপক বিচরণ রয়েছে। যা পেরু থেকে শুরু করে মহাদেশটির দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। ধারণা করা হয়, চিলিতে সিল মাছের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার। 

ছবি : সংগৃহীত

তরুণীর হাতে পুরুষের হাত প্রতিস্থাপণের পর ঘটল অদ্ভুত ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী দুটি হাত হারান। দুর্ঘটনার দিন ওই তরুণী বাসে করে তার গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথে বাসটি উল্টে গেলে তার দুই হাত চূর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তরুণীর কনুইয়ের নিচ থেকে দুটি হাত কেটে ফেলতে বাধ্য হন। কিন্তু এই ঘটনার পরে এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে।

চিকিৎসকরা তার দুটি হাতই জীবীত এক তরুণের হাতের সঙ্গে অপারেশনের মাধ্যমে সফলভাবে প্রতিস্থাপণ করেন। আর এর পরপরই ওই তরুণীর প্রতিস্থাপিত হাতে দেখা যায় আশ্চর্যজনক এক পরিবর্তন। দেখা যায়, শ্রেয়া সিদ্দানগৌড়া নামের ভারতীয় ওই তরুণীর নতুন প্রতিস্থাপিত হাতটির রং সময়ের সঙ্গে এবার বদলাতে শুরু করে। এটির রং একসময় পুরোপুরি বদলে গিয়ে তার শরীরের ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলে যায়। আর এর পরেই বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক রহস্যময় ঘটনা হয়ে ওঠে। বিশ্বের চিকিৎসা ইতিহাসে এটিই প্রথমবার, যেখানে এক পুরুষদাতার হাত এক নারীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এমন অভাবনীয় ঘটনার পর এবার চিকিৎসকরা দেখছেন আশার আলো।

তিন বছর আগে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শ্রেয়ার দুই হাত কেটে ফেলার পর ভারতের কেরালার অমৃতা ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে তিনি হাত প্রতিস্থাপনের জন্য নিবন্ধন করেন। তখন এই প্রতিষ্ঠানটিই ছিল এশিয়ার একমাত্র সফল হাত প্রতিস্থাপন কেন্দ্র। ভাগ্যের জোরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ভালো খবর আসে তার কাছে।

দাতা হিসেবে মেলে ২০ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রের হাত, যার নাম ছিল শচিন। পরে মোট ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে জটিল এই অস্ত্রোপচার, যেখানে ২০ জন সার্জন ও ১৬ সদস্যের অ্যানেসথেসিয়া টিম একসঙ্গে কাজ করেন এবং তারা এতে সফল হন। এই অস্ত্রোপচারটি ছিল এশিয়ার প্রথম নারী-পুরুষ আন্তঃলিঙ্গ হাত প্রতিস্থাপনের একমাত্র ঘটনা।

প্রথমদিকে শ্রেয়ার নতুন হাত দুটি তার নিজের তুলনায় অনেক গাঢ় রঙের ছিল, আর আকারেও ছিল কিছুটা মোটা আকৃতির। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তার প্রতিস্থাপিত হাতদুটির রঙ বদলাতে শুরু করে। এখন সেই হাত দুটি আশ্চর্যজনকভাবে প্রায় পুরোপুরি তার নিজের শরীরের রঙের সঙ্গে মিলে গেছে।

চিকিৎসকদের ধারণা, এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করছে শরীরের মেলানিন কোষ। প্রতিস্থাপনের এক বছর পর শরীরের লিম্ফ্যাটিক চ্যানেল খুলে যাওয়ার ফলে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষগুলো হয়তো ধীরে ধীরে দাতার কোষগুলোকে প্রতিস্থাপন করেছে। ফলে হাতের ত্বক নিজের মতো রঙ ধারণ করেছে।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো—শুধু রঙ নয়, হাতের গঠনেও পরিবর্তন এসেছে। একসময় মোটা ও পুরুষসুলভ হাতগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্কুচিত হয়ে নারীর হাতের মতো হয়ে উঠেছে। শ্রেয়ার মা বলেন, তার আঙুলগুলো এখন আরও সরু আর লম্বা মনে হয়, কবজিটাও ছোট হয়েছে। সবকিছু সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এমন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন আগে কখনও দেখা যায়নি। এখন তারা এই ঘটনাটি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতিস্থাপন নিয়ে আরও নির্ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। শ্রেয়া বর্তমানে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন। এখনো পুরোপুরি স্নায়ু ও পেশির নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পেলেও, তিনি এখন নিজ হাতে লেখাপড়া ও দৈনন্দিন কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। 

ছবি : সংগৃহীত