Saturday, November 8, 2014

৭ নভেম্বরের বিপ্লবে দেশ এগোলো না পেছাল?

৭ নভেম্বর কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে যদি অভ্যুত্থান না হতো, তাহলে এই বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ার মতো রক্তাক্ত হতো। কিন্তু অভ্যুত্থানের নায়ক তাহেরকেই প্রতিবিপ্লবীরা হত্যা করে। এর জন্য দায়ী প্রতিবিপ্লবীদের প্রতিনিধি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়ক দ্বীপে এক আলোচনা সভায় এই অভিমত দেন আলোচকেরা। ৩৯তম সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কর্নেল তাহের সংসদ এ আলোচনার আয়োজন করে। আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সভায় ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ এগিয়েছে না পিছিয়েছে, সে প্রশ্নও ওঠে।

>>৩৯তম সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে কর্নেল তাহের সংসদ আয়োজিত ‘ফিরে দেখা: সাত নভেম্বর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: প্রথম আলো
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এম আকাশ বলেন, ‘৭ নভেম্বরের বিপ্লবের আউটকাম খুবই খারাপ হয়েছে। বিপ্লবের নায়ক ফাঁসিতে মারা গেলেন, এটা শ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি। তাহলে ৭ নভেম্বরের বিপ্লবে দেশ এগোলো না পেছালো?’
এ প্রসঙ্গে তৎকালীন জাসদ আর বর্তমান জাসদের কিছু পরিবর্তনের উল্লেখ করে এম এম আকাশ বলেন, আজকের জাসদ আর তখনকার জাসদ এক নয়। তখন জাসদের প্রধান স্লোগান ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। এখন তা নয়। এখন জাসদ হয়তো ধর্মনিরপেক্ষ কর্তৃত্ববাদী পুঁজিবাদের পক্ষ নিয়েছে। তিনি বলেন, তখন আওয়ামী লীগ ছিল জাসদের শত্রু, এখন মিত্র। তাতে একটা প্রশ্ন জাগে, কর্নেল তাহেরের আদর্শ অনুসরণ করব, না জাসদ করব। দুটো একসঙ্গে চলতে পারে কি না, এর তিক্ত আত্মসমালোচনা দরকার। আওয়ামী লীগ জাসদকে ব্যবহার করছে, না জাসদ আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করছে, এটি এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।
পরে হাসানুল হক ইনু তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে জাসদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি বলেই কি বঙ্গবন্ধু মারা গেছেন? বামপন্থীরা, সিপিবি কি আন্দোলন করেনি? নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করা কি পাপ?’ তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন মীরজাফর। বঙ্গবন্ধু এই মীরজাফরকে চিনতে পারেননি। আমরাও চিনতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু প্রাণ দিয়ে কাফফারা দিয়েছেন। আমরা জিয়ার সঙ্গে কোনো আঁতাত করিনি। কিন্তু জিয়া কেন ক্ষমতায় গেল তার জন্য আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে।’
ওই সময় জাসদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্নজনের সমালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘যাঁরা শেখ হাসিনা-খালেদাকে এবং জাসদ-খালেদাকে এক পাল্লায় মাপছেন, তাঁরা কোনদিন বুঝতে পারবেন না, ১৫ আগস্টের পর মাথা নিচু করে নির্যাতন সহ্য করার দল জাসদ না। আমাদের মাথা উঁচু করে প্রথম শক্ত প্রতিবাদের প্রচেষ্টা ছিল সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান।’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। কিছুক্ষণ ক্ষমতায় ছিলাম। এর মানে এই নয় যে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিলাম।’
ইনু আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আমি নব্য রাজাকার বলি। যাঁরা জঙ্গিবাদ নিপাত যাক স্লোগান দিতে পারেন, রাজাকারের সমালোচনা করতে পারেন, তাঁরা নব্য রাজাকার খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করে তাঁকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে বলতে পারেন না কেন?’ তিনি বলেন, ‘এই জায়গাটা হচ্ছে আপসের ধূসর জায়গা। যেখানে কতিপয় কালো কোটপরা নামকরা বুদ্ধিজীবী হাঁটছেন।’
আলোচনায় হাসানুল হক ইনু জেনারেল খালেদ মোশাররফকে ‘জঘন্য আঁতাতকারী’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, খালেদ মোশাররফই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। তাই যাঁরা খালেদা মোশাররফকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের সতর্ক হতে বলব।
কর্নেল তাহেরের ভাই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, এ কে খন্দকার একটি বই লিখেছেন, বইটি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমস্যা শুধু একে খন্দকার নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব সেনা কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় বা অবস্থার চাপে পড়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের একটা অবস্থান আছে। তিনি বলেন, সেনানায়কেরা যখন বই লিখেন, তখন তাঁরা ৭ নভেম্বর, একাত্তরকে হঠাৎ করে আসা ঘটনা মনে করেন।
এম এম আকাশের বক্তব্যের রেশ ধরে আনোয়ার হোসেন বলেন, জাসদের পরিবর্তনগুলোকে স্থান-কাল-পাত্রের দৃষ্টিতে দেখতে হবে। এখন জাসদ মহাজোট সরকারে যোগ দিয়ে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে।
কর্নেল তাহের সংসদের সহ-সভাপতি মোশতাক হোসেন ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও জাসদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘সিরাজুল আলম খানেরা মুখ খুলছেন না। এই অবস্থায় আজ এ নিয়ে অনেকে রগরগে উপন্যাস, বইপত্র লিখছেন। একসময় আমাদের দলও করত, এসব কুলাঙ্গারেরা এখন মিথ্যাচার করছে।’
সভাপতির বক্তব্যে হায়দার আকবর খান রনো বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানে একটি বিপ্লবী প্রয়াস ছিল। কিন্তু প্রতিবিপ্লবীদের কাছে সে প্রয়াস পরাজিত হয়। জিয়াউর রহমান প্রতিবিপ্লবী ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। আমার মতে, পরাজয়ের অনেক কারণের মধ্যে বড় ভুল ছিল জিয়ার ওপর আস্থা স্থাপন করা।’

কামারুজ্জামানকে সব আইনি সুযোগ দিতে হবে : লর্ড কার্লাইল

খ্যাতনামা ব্রিটিশ আইনজীবী এবং হাউজ অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কার্লাইল কিউসি বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না হলে কিংবা আইনি সুযোগগুলো না দিয়ে তার ফাঁসি কার্যকর করা হলে তা হবে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল। শুক্রবার ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. আবদুল হান্নানকে লেখা এক চিঠিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তিনটি রায় প্রদান করেছে। জামায়াতের দুই সিনিয়র নেতাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি-জেনাজেলের দণ্ড সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বহাল রেখেছে। এই রায়গুলোর সবই আসলে ত্রুটিপূর্ণ বিচারিকপ্রক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এবং বিশেষ করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, তার ফাঁসি কার্যকর ‘এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।’ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত দেশীয় আইন অনুসারে কামারুজ্জামানকে ওই রায় ‘রিভিউ’ করার এবং ক্ষমা প্রার্থনা করার অধিকার দিতে চাচ্ছে না। লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘বিচারিকপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়ে না যাওয়ায় শাস্তি কার্যকর করার যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এটা করতে ব্যর্থ হলে এবং কামারুজ্জামানকে তার অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ দিতে ব্যর্থ হলে তা হবে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সামিল। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া এবং আপিলপ্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক আইনি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ বিচারের মান এবং বিশেষভাবে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার খর্ব করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনও বারবার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা করতে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের গোটা প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষের সুযোগ খর্ব করা হয়েছে। আসামিপক্ষকে প্রমাণ জমা দেয়া, প্রস্তুতির সময় এবং সাক্ষীর সংখ্যা সীমিত করা হয়েছে। লর্ড কার্লাইল আরো বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দুর্ভাগ্যজনক ইতিহাস রয়েছে। তবে এই ট্রাইব্যুনাল সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ নজির গড়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপট একটি প্রজন্মের জন্য মেরুকরণ এবং বিষাক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো : আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে এবং তদারকিতে অবিলম্বে নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা, ট্রাইব্যুরনালের সব দণ্ডাদেশ স্থগিত করা, আইসিটির বিরাজমান বিচারগুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্ত করা, এবং উল্লেখিত ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব বিচার স্থগিত করা। লর্ড কার্লাইল বলেন, বাংলাদেশ যদি বর্তমান পথে চলতে থাকে, তবে আরেকটি রাজনৈতিক ডামাডোল শুরু হতে পারে। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের আন্তর্জাতিক চাপ, মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেই কেবল বাংলাদেশ অতীতের বিরোধ মিটিয়ে ফেলে জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ সরকারকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করতে এবং কামারুজ্জামানকে রিভিউ করার অধিকার মঞ্জুর করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি সব মৃত্যুদণ্ডাদেশ (নীতিগত কারণে এর বিরোধী) অবিলম্বে হ্রাস করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছেও আবেদন করছি।

হত্যার পর নরমাংস ভক্ষণ

বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে বৃটেনের সাউথ ওয়েলস অঞ্চলে। নরখাদকদের অস্তিত্ব সভ্য পৃথিবীতে নেই। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, ৩৪ বছর বয়সী ম্যাথিউ উইলিয়ামস সেই কাজটিই করেছে। ২২ বছরের এক তরুণীকে হত্যার পর তার শরীরের কিছু অংশ খেয়েছে সন্দেহভাজন খুনি ম্যাথিউ। এদিকে গ্রেপ্তারের সময় ম্যাথিউ মারা যায়। পুলিশ উচ্চ ভোল্টেজসম্পন্ন টেইজার পিস্তল ব্যবহার করায় তার মৃত্যু হয়। ওই তরুণীর মুখম-লের কিছু অংশ খাওয়ার সময় একটি হোটেল থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। মুখে ভয়াবহ ক্ষতসহ ওই তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুখে বিশাল ক্ষতের কারণে রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ওই হোটেলের নিরাপত্তা কর্মীরা দরজা ভেঙে ম্যাথিউকে হাতেনাতে পাকড়াও করে এবং পুলিশকে খবর দেয়। আরেকটি সহিংস অপরাধে জড়িত থাকায় দীর্ঘ সময় জেল খাটার পর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মুক্তি পায় সে। ওই তরুণীকে একসঙ্গে মদপানের জন্য ওই হোটেলে নিয়ে গিয়েছিল ম্যাথিউ। এরপরই লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটায় সে।

কেউ জঙ্গি কিনা তা নির্ধারণ করবে আদালত -পুলিশকে ড. মিজান

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, একজন ব্যক্তি জঙ্গি কিনা তা নির্ধারণ করবে আদালত। আদালতের মাধ্যমে সে জঙ্গি প্রমাণিত হলেই তাকে আমরা জঙ্গি বলবো। পুলিশ জঙ্গি বললে হবে না। তাদের কাছে যতো প্রমাণই থাকুক। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন সভ্য আইনে পায়ে ঠেকিয়ে গুলি করার কথা নেই। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না। আর তাকে দেখতে গেলেই মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়। তিনি আরও বলেন, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলবেন না। নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করুন। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। শনিবার সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত বিষমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতকরণ:গৃহিত ব্যবস্থা ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ড. মিজান ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দায়েরের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার ভয় হয়। হাইকোর্ট বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যাদি রাখার অপরাধে অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য পুলিশকে আদেশ দিয়েছে। তারা এই ক্ষমতার কারণে কৃষকের খাদ্য উৎপাদনে ও বিকাশে বাধাগ্রস্থ করবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন সর্ম্পকে ড. মিজান বলেন, এটি একটি কালো আইন। কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলতে শিখতে হবে। আমাদের আইনগুলো এমনভাবে করা ক্ষমতাধর অপরাধীরা সহজে পার পেয়ে যায়। ভুক্তভোগী হয় গরীব কৃষকরা। তিনি বলেন, ৪৩ বছর ধরে রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। খাদ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মূলনীতি হিসেবে দেখিয়ে যাচ্ছে।

‘বঙ্গবন্ধু যে কারণে পারেননি একই কারণে পারেনি বিএনপিও’

বঙ্গবন্ধু যে কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারেননি একই কারণে বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ক্যান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, অভিনেত্রী সুমনা সোমা। ‘৭১’র মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত’ মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার হচ্ছে সেটা আন্তর্জাতিক মানের নয়। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর আমরা দেখেছি একজন বিচারক বলছেন, ‘সরকার বিচারের জন্য চাপ দিচ্ছে’। আসলে এই বিচার কাজের সঙ্গে যারা আছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মী। তবে হ্যাঁ ১৯৭১ সালে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, খুন, হত্যা, নারী ধর্ষণ করেছে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে সেটা হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের স্বচ্ছ বিচার।” ১৯৯৬ সালের উহারণ দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, “জামায়াত নেতারা যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে একত্রে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য আন্দোলন করে তখন তারা (জামায়াত) আর যুদ্ধাপরাধী থাকে না। এই বিচার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে হচ্ছে না। এই বিচার হচ্ছে ২০ দলীয় জোটের একটি শরিকের বিচার। এখন আওয়ামী লীগের জামায়াতকে শিক্ষা দিচ্ছে কেন তাদের সঙ্গে থাকলো না।” সমগ্র জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে মন্তব্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জাতি দুই ভাগে বিভক্ত এটা ঠিক নয়। দুই ভাগে বিভক্ত হলো পাকিস্তান আর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকারী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। আপনি যদি ইবলিস আর ফেরেশতাকে এক পাল্লায় মাপেন এটা ঠিক হবে না।” অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করবেন শারমিন রমা। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন শারমিন রমা।

লাদেনের কপালে গুলি করেছিলেন রবার্ট ওনিল

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের কপালে গুলি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিলের সাবেক কমান্ডো রবার্ট ওনিল। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী ওই সাবেক কমান্ডার দাবি করেন, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনের বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে তিনিই লাদেনকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন। তবে নেভি সিলের আরেক সাবেক সদস্য ম্যাট বিসসোন্যাট তার লেখা বইয়ে দাবি করেন তিনিই লাদেনকে গুলি করেছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি এনবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার জন্য মার্কিন বিশেষ বাহিনী নেভি সিল অভিযান পরিচালনা করে। হাজারও মাইল অতিক্রম করে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে এ অভিযান চালান তারা। ২০১১ সালে পরিচালিত বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত অভিযানটি কাকপক্ষীও টের পায়নি। এমনকি পাকিস্তানের দক্ষ সেনাবাহিনীও বিষয়টি জানত না।
ওয়াশিংটন পোস্টকে রবার্ট ওনিল জানান, তার গুলিতেই লাদেন নিহত হন। তিনিই প্রথম গুলি চালান লাদেনের ওপর। নিল বলেন, ওই অভিযানে তিনি ও তার আরেক সহকর্মী অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়ির তিন তলায় জানালা বেয়ে উঠেন। এরপর একটি রুমের জানালার বাইরে থেকে লাদেনের মাথায় গুলি করেন তিনি। এ সময় লাদেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার ওই সহকর্মীর নাম গোপন রাখেন তিনি। নিল দাবি করেন, সঙ্গে থাকা সহকর্মী গুলি চালালেও সেটি লক্ষ্যচ্যুত হয়।
নিল বলেন, শয়নকক্ষের ভেতরে ওসামা দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। তার দুই হাত ছিল এক নারীর কাঁধে। ওই নারীকে তিনি সামনে ঠেলে দিচ্ছিলেন। ওনিলের দাবি, কক্ষটি অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকা সত্ত্বেও অন্ধকারে দেখার মতো যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি ওসামাকে পরিষ্কারভাবে চিনে নিতে পারেন এবং গুলি করেন। তার ছোড়া গুলিতে মাথার খুলি ফেটে নিহত হন ওসামা বিন লাদেন।
হত্যা নিয়ে বিতর্ক : বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নেভি সিলের আরেক সাবেক সদস্য ম্যাট বিসসোন্যাট দাবি করেন, তার গুলিতেই নিহত হয়েছেন লাদেন। তিনি বলেন, আমিই সেদিন প্রথম গুলি করি। ওই গুলিতেই লাদেন নিহত হন। তবে তিনি ওনিলের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেননি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুইজন মানুষ পৃথক দুই কারণে পৃথক দুইটি কাহিনী বলছে।
অন্যদিকে পেন্টাগনও নিলের দাবি অস্বীকার করেনি। আবার সত্যি বলে নিশ্চিতও করেনি। এখনও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে লাদেনের হত্যাকারী কে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নেভি সিলের প্রত্যেক সদস্যকে কোনো অভিযানের ব্যাপারে নীরবতা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের জনগণের সামনে কৃতিত্ব নেয়ার বিষয়টিও এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

আবারও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার

আড়াই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজে একদম রাজার মতোই ফিরেছন সাকিব আল হাসান। রাজসিক প্রত্যাবর্তনের পর এবার রাজমুকুটও ফিরে পেলেন বাংলাদেশের এই চ্যাম্পিয়ন অলরাউন্ডার। খুলনা টেস্টে ব্যাটে-বলে অনবদ্য পারফরম্যান্স আইসিসি টেস্ট অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরিয়ে দিয়েছে তাকে। সাকিবই এখন বিশ্বসেরা টেস্ট অলরাউন্ডার। গত সেপ্টেম্বরে যার কাছে শীর্ষস্থান হারিয়েছিলেন সেই রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে হটিয়েই কাল সিংহাসনে বসলেন সাকিব। তৃতীয় স্থান থেকে এক লাফে শীর্ষে উঠে আসা সাকিবের রেটিং পয়েন্ট এখন ৪১৯। এটাই তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রেটিং পয়েন্ট। সাকিবের উত্তরণে একধাপ করে পিছিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে নেমে গেছেন ভারতের অশ্বিন (৩৫৭) ও দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্যান্ডার (৩৪৮)। খুলনা টেস্টে সেঞ্চুরির পাশাপাশি দশ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন সাকিব। ইয়ান বোথাম ও ইমরান খান। নামগুলো শুনলেই শ্রদ্ধায় নুয়ে আসে ক্রিকেটরসিকদের মাথা। এই কিংবদন্তিদের অনন্য এক কীর্তির ভাগিদার হয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের ক্রিকেটের রূপকথার নায়কের সৌজন্যে ৩১ বছর পর বিরল এক অলরাউন্ড নৈপুণ্যের সাক্ষী হল টেস্ট ক্রিকেট। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৭ বছরের ইতিহাসে এই কীর্তি আছে মাত্র তিনজনের। ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানের পর ইতিহাসের তৃতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে কাল সেই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালেন বাংলাদেশের সোনার ছেলে সাকিব আল হাসান।খুলনা টেস্টে কাল জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাকিবের হাত ধরে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। খুলনা টেস্টটা বাংলাদেশের মতো সাকিবের জন্যও সব পাওয়ার এক ম্যাচ। প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। তার ঘূর্ণি জাদুতেই জিম্বাবুয়েকে ৩৬৮ রানে অলআউট করে ৬৫ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ। এর আগে ব্যাট হাতেও দলকে পথ দেখান সাকিব। তার ১৩৭ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৪৩৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংয়ে আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন সাকিব। এবার মাত্র ৪৪ রানে নিলেন পাঁচ উইকেট। সাকিবের ভেলকিতে শেষদিনে ১৫১ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে। টেস্টে এই প্রথম দশ উইকেট নিলেন সাকিব। তাতে বাংলাদেশ সিরিজ তো জিতলই, জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে আইসিসি টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের নয় নম্বরে উঠে আসাও নিশ্চিত হল মুশফিকদের।একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট। সাকিবের আগে এই কীর্তি ছিল মাত্র দু’জনের। এতেই বোঝা যায় সাকিবের অর্জন কত বড়। গত ৩১ বছরে অনেক চ্যাম্পিয়ন অলরাউন্ডারের আবির্ভাব হলেও সাকিবই প্রথম বোথাম-ইমরানের পাশে বসলেন। স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে সেঞ্চুরি ও দশ উইকেট নেয়া প্রথম ক্রিকেটার সাকিব। কাকতালীয়ভাবে বিরল এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যের তিনটি কীর্তিই উপমহাদেশের মাটিতে। প্রথম নজিরটি গড়েছিলেন ইংলিশ গ্রেট বোথাম। ১৯৮০ সালে ভারতের বিপক্ষে মুম্বাই টেস্টে। বোথামের সেঞ্চুরি (১১৪) ও ১৩ উইকেটের সুবাদে ম্যাচটা দশ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। বোথামের তিন বছর পর ইমরানের কীর্তিও ভারতের বিপক্ষে। ফয়সালাবাদ টেস্টে বিধ্বংসী সেঞ্চুরির (১১৭) পর ১১ উইকেট নিয়ে ভারতকে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন ইমরান। এরপর কাল সাকিবের সৌজন্যে এমন কীর্তি দেখল টেস্ট ক্রিকেট। এর আগে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তি দু’বার গড়ে স্যার গ্যারি সোবার্স, বোথাম, মুশতাক মোহাম্মদ ও জ্যাক ক্যালিসদের পাশে নাম লিখিয়েছিলেন। কাল সেই কীর্তি ছাপিয়ে ইতিহাসে ঠাঁই করে নিলেন সাকিব।

সাকিবে সবুজ বাংলাদেশ

গোটা স্টেডিয়ামের দর্শক তখন উঠে দাঁড়িয়েছেন। সাকিবের বলে চাতারার শট বাতাসে ভাসছে। কয়েক সেকেন্ড পর গ্যালারিজুড়ে ইশশশ... শব্দ। মিড-অনে জিম্বাবুয়ের শেষ ব্যাটসম্যানের ক্যাচটা যে ধরতে পারেননি ফিল্ডার শাহাদাত হোসেন। এরপর সাকিবকে পরপর দুটি চার মেরেছেন পানইয়ানগারা। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ক্ষণিকের সেই গুমোট ভাব কেটে গেছে পরের ওভারেই। একটা ক্যাচ মিসে বাংলাদেশের জয়ের উন্মাতাল আনন্দে ভাটা পড়েনি একটুকু। সেই চাতারাকে যখন এলবিডব্ল–র ফাঁদে ফেললেন তাইজুল, স্ট্রাইক প্রান্তের একটি স্টাম্প তখন মুশফিকের হাতে। উইকেট নিয়ে হাত ঘোরানোর সময় স্টাম্প লাগলো শুভাগত হোমের মাথায়, সেদিকে খেয়ালই নেই অধিনায়কের। অন্য প্রান্তের তিন উইকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে সাকিব-তাইজুল-জুবায়ের ও রুবেলের মধ্যে। ম্যাচের মতো এখানেও তিন স্পিনার পেসার রুবেলকে হতাশ করলেন। উইকেট গেল তিন স্পিনারের হাতে। যারা দিনমান হাত ঘুরিয়েছেন ক্লান্তিহীনভাবে। পুরস্কার বিতরণ শেষ হওয়ার পর আবার উদযাপন। উত্তাল দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার সময় নেতৃত্ব দিলেন সেই সাকিবই। যার সবুজাভ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভাস্বর বাংলাদেশের সিরিজ জয়। একের পর এক রেকর্ড গড়া এই অলরাউন্ডার কাল টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই মাঠে সেঞ্চুরি এবং ১০ উইকেট পাওয়ার অনন্য অর্জনের আবিরে রাঙালেন তিনি নিজেকে। আর বাংলাদেশ ১৬২ রানের জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ নিজেদের করে নিল ২-০-তে। খুলনায় এই বড় জয় প্রয়াত মানজারুল ইসলাম রানার প্রতি উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশ দল। রানের বিচারে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। আর সব মিলিয়ে ষষ্ঠ টেস্ট জয়। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু হবে ১২ নভেম্বর, চট্টগ্রামে।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ভাবনায় সব সময়ই ছিল জয়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি যে, ম্যাচটা ড্র হবে।’ একই টেস্টে সেঞ্চুরি এবং ১০ উইকেট। সাকিবের আগে এই কীর্তি ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম ও পাকিস্তানের ইমরান খানের। এই দু’জনই রেকর্ড গড়েছেন ভারতের বিপক্ষে। কাল সাকিব সেই রেকর্ডের অংশ হয়ে বলেন, ‘আমি শুনেছি একটি রেকর্ড হয়েছে। তবে আমার কাছে রেকর্ডের চেয়ে দলের জয়ই বড়।’ মাঠে বসেই নিজের দেশ জিম্বাবুয়েকে হারতে দেখেও খুশি বলে জানালেন বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদসহ অন্য দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও হাবিবুল বাশার বললেন, দারুণ ম্যাচ। বাংলাদেশের এখন নয় নম্বর র‌্যাংকিং নিশ্চিত হয়ে গেল। চট্টগ্রামে শেষ টেস্ট হারলেও জিম্বাবুয়ের উপরেই থাকবেন মুশফিকুর রহিমরা। ম্যাচ শেষেও মুশফিক জানালেন, র‌্যাংকিংয়ে উন্নতির ধারা ধরে রাখতে চান তিনি। দুই বছর আগে খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের অভিষেক টেস্ট ১৩৫২ রানের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরেছিল ১০ উইকেটে। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২০০ রানের ম্যাচে বাংরাদেশ জয় পেল ১৬২ রানে।খুলনার উইকেট নিয়ে আশাবাদী ছিলেন মুশফিকুর রহিম। খুলনার দর্শকদের উত্তুঙ্গ আগ্রহ, খুলনা শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুনে টেস্ট ম্যাচের কথা জানান দেয়া, স্পিনসহায়ক উইকেট- সবই ছিল বাংলাদেশের অনুকূলে। তবে নিজেদের চাহিদামতো উইকেট পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশ কয়েকবার প্রশ্ন তুললেও স্পিন ফাঁদেই জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিল তারা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে জ্যোতিষী বলায় খানিকটা লজ্জা পেলেন তিনি। ম্যাচের তৃতীয় দিনে জয়ের কঠিন তিন শর্ত তিনিই দিয়েছিলেন। চতুর্থ দিনে তার কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। পঞ্চম দিনে মিলে গেল। আপনি কি তাহলে এখন জ্যোতিষী? সাকিব বলেন, ‘এমন কথা আমি নিজেও বিশ্বাস করি না। আমাদের ধর্মে তো এমন কথা মানাই হয় না।’পঞ্চম দিনের সকালে বাংলাদেশ ১৯.৫ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৪৭ রান তোলে। তখন কমপক্ষে ৬৮ ওভার খেলতে হবে জিম্বাবুয়েকে। আগেরদিনের পাঁচ উইকেটে ২০৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ কাল নয় উইকেটে ২৪৮ রানে তাদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১৪ রান। হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ আবারও সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ। এক ম্যাচে দুটি হাফ সেঞ্চুরি হল তার। এবার ৭১ রান। প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পেলেন শুভাগত হোম। তিনি আউট হওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। জিম্ববুয়েকে ৬৮ ওভারে এই রান তুলতে হতো। সময় থাকলে আরও কয়েক ওভার বাড়তে পারত। কিন্তু অপেক্ষায় থাকতে হয়নি বাংলাদেশকে। মাত্র ৫১.১ ওভারেই জিম্বাবুয়েকে ১৫১ রানে অলআউট করেন বাংলাদেশের তিন স্পিনার। মুশফিক শুরুটা করেন তাইজুল ইসলামের হাতে বল দিয়ে। এরপর সাকিব। উইকেট নেয়ার ক্ষেত্রেও মিল এই দুই বাঁ-হাতি স্পিনারের মধ্যে। নিজের তৃতীয় ওভরে ব্রায়ান চারিকে ফেরান তাইজুল। এর দুই ওভার পরই আরেক ওপেনার সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন সাকিব। টেলরকে রানের খাতা খোলার সুযোগই দেননি সাকিব। চতুর্থ উইকেটে চাকাবভা ও মাসাকাদজা ৭০ রানের জুটি গড়লে একটু চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এই জুটি খেলে ২৩.৫ ওভার। সাকিবকে এ সময় বিরতি দিয়ে পেসার রুবেল হোসেনকে দিয়ে চার ওভার করিয়ে নেন অধিনায়ক। জুবায়ের হোসেন এই জুটি ভাঙার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করা মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে বুনো উল্লাসে মাতেন সাকিব। তবে শেষটা লুকিয়ে ছিল তাইজুলের জন্যই। চাতারাকে আউট করার পর পুরো গ্যালারি জয়োল্লাসে ফেটে পড়ে। মাঠের পশ্চিম পাশে মানজারুল ইসলাম রানা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড তখন আরও উজ্জ্বল। পরে রানার উদ্দেশে এই জয় উৎসর্গ করে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ তাদের টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বার সিরিজ জিতল। আর ২০০৯-এর জুলাইয়ের পর প্রথম। সিরিজ হেরে জিম্বাবুয়ের অধিনাযক ব্রেন্ডন টেলর স্বীকার করে নিলেন, ‘এককথায় বাংলাদেশ আমাদের উড়িয়ে দিয়েছে।’ একদম ঠিক। ঢাকার পর খুলনায়ও বড় জয়ে বাংলাদেশ টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে তলানিতে থেকে উঠে এলো নবম স্থানে। আর দশমে নেমে গেল জিম্বাবুয়ে। চট্টগ্রামে যা-ই ঘটুক, এতে কোনো হেরফের হবে না। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

ইইউর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা

জীবাণুর অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের সবজি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেলজিয়ামস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। একাধিকবার সতর্কের পরও বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে একটি টাস্কফোর্সও। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া সবজিতে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরপর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত সবজি রফতানির জন্য গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও বাংলাদেশ থেকে পাঠানো সবজিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইইউ। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও তারা পাঠিয়েছে বেলজিয়ামস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পাঠানো সবজির সাতটি চালানে ব্যাকটেরিয়ার মতো মারাÍক জীবাণু ধরা পড়েছে। জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি জানি। সবজি ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ইউরোপের বাজারে সবজি রফতানির বিদ্যমান পরিস্থিতি তুলে ধরে গত মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালককে একটি চিঠি দেয় বেলজিয়ামস্থ ইইউ’র বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর তপনকান্তি ঘোষ। তার চিঠিতে বলা হয়, ইইউ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সময়সীমা উত্তীর্ণের পরও ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, যে কোনো সময় সবজি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় তপনকান্তি ঘোষের চিঠিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরে ১৪শ’ কোটি টাকার সবজি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, সেক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এই খাত। এদিকে ইইউ’র বাজারে সবজি রফতানির ব্যাপারে সরকার একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি করা হয়। এ প্ল্যান বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ের জন্য গঠন করা হয়েছে একটি টাস্কফোর্স। সূত্র মতে, ব্যাকটেরিয়ার অভিযোগে এর আগে বাংলাদেশের পান রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। সে বিষয়ের এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বর্তমানে পান রফতানি বন্ধ আছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে পান ও সবজি রফতানির সময় ২০১১ সালের জুন ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত ৬৭৪টি ব্যাকটেরিয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পেয়ে বারবার সতর্ক করেছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু এটি আমলে না নিয়ে দেশের রফতানিকারকরা ব্যাকটেরিয়ামুক্ত না করে সবজি রফতানি করে। ফলে প্রথমে ইইউ থেকে পান রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ব্যাকটেরিয়া পায় সবজিতে। এ নিয়ে ইইউ বারবার উদ্বেগও প্রকাশ করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) শওকত আলী ওয়ারেছী যুগান্তরকে বলেন, পান ও সবজি রফতানি নিয়ে বাংলাদেশ একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে সবজি রফতানির ক্ষেত্রে প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্যাকেজিং স্থান থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ট্রান্সপোর্ট সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অ্যাকশন প্ল্যান পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের শঙ্কা কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফুট অ্যান্ড ভেজিটেবলস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর হোসেন স্বীকার করেন, ব্যাকটেরিয়া দু-একটি থাকতেই পারে। তবে এতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। তবে উন্নত বিশ্বের জন্য এটি স্বাস্থ্যসম্মত নয় বিধায় তারা এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এরপরও ইইউর প্রশ্ন হল সবজির সঙ্গে পোকা আসবে কেন। তারা বলছে, এই পোকা যেন আমাদের দেশে ঢুকতে না পারে। তিনি আরও বলেন, সবজিতে ছোট ছোট পোকা থেকে যায়। এটি পানিতে ধোয়ার পর মারা যায়। কিন্তু তারা এটি মানতে রাজি নয়। আমরা চেষ্টা করছি এ ধরনের অভিযোগ থেকে বের হয়ে আসতে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাকটিয়া মুক্ত রাখতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অবহিত করে একটি প্রতিবেদন ইইউ বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত অফিসে পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ব্যাকটেরিয়ার ব্যাপারে সচেতন না থাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানের রফতানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত হবেন, তাদের একটি কালো তালিকা তৈরিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ৩ শতাধিক ব্যবসায়ী সবজি রফতানি করছে। অভিযোগ রয়েছে, অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু ব্যবসায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত। যারা কোনো রকম প্যাকেট করেই বিদেশে রফতানি করছে। ফলে তাদের কারণে পুরো সবজি রফতানি হুমকির মধ্যে পড়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধের বিচার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হতে হবে’ -বিবিসি বাংলা সংলাপে বক্তারা

বিবিসি বাংলা সংলাপের প্যানেল আলোচকরা বলেছেন, যুদ্ধাপারাধীদের বিচার আরও আগেই হওয়া উচিৎ ছিল। দেরিতে হলেও এ বিচাকাজ হচ্ছে। তবে বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এই বিচারকাজকে যেন রাজনীতিকরণ করা না হয়। শনিবার দুপুরে রাজধানরি বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বিবিবি বাংলা সংলাপের ৯০তম পর্বে অংশ নিয়ে প্যানেল আলোচকরা এসব কথা বলেন। এই পর্বে আলোচনায অংশ নেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র সভাপতি ও তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির ও অভিনেত্রী সুমনা সোমা। শারমিন রমার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত এক দর্শকের প্রশ্ন  ছিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া তাকে নিরাময়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি-না?

জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু এই বিচারের উদ্যাগ নিয়েছিলেন। এমনকি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরুর হয়েছিল। কারও কারও শাস্তিও হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মুশতাক ও জিয়া ক্ষমতায় এসে এই বিচারকাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জাতি বিভক্ত হবে না। জামায়াত ও তাদের  যুদ্ধাপরাধীরা কখনই জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। তবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, যে বিচার হচ্ছে তা আান্তর্জাতিক মানের নয়। তিনি বলেন, ৪৩ বছর আগেই বিচার অনুষ্ঠিত হওয়া উচিৎ ছিল। বঙ্গবন্ধু যে কারণে পারেননি। বিএনপিও একই কারণে পারেনি। এখন বিচারকাজ হচ্ছে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে এই শিক্ষা দেয়ার জন্য ‘তোমরা কেন আওয়ামী লীগকে ছেড়ে বিএনপিতে গিয়েছো’। হাফিজ বলেন, যখন জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সঙ্গে বসে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যু করার চেষ্ঠা করে তখন জামায়াত ও তার দরের নেতারা যুদ্ধাপরাধী হয়না। এবিষয়ে ফারাহ কবির বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আগে কেন হয়নি এ নিয়ে বিতর্ক করা উচিৎ হবে না।

‘আমি কিছু জানি না’ -আইনমন্ত্রী

জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের দন্ড মওকুফের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সাতদিনের (৭ কার্যদিবস) সময় শেষ হচ্ছে রোববার। শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক। সাতদিন শেষ হলে রায় কার্যকর হবে কি-না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি কিছু জানি না। তিনি বলেন, যে রায় আছে তার ওপরে তো আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। জেল কোডের ৯৯১ বিধি মোতাবেক রায় জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আসামিকে সাত দিনের সময় দিতে হয়। সেটা তাকে দেয়া হয়েছে। গত ৩রা নভেম্বর জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ডের আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, চূড়ান্ত রায়ের বিস্তারিত কপি হাতে পেলে তারা রিভিউ আবেদন করবেন এবং এরপরে কামারুজ্জামান সিদ্ধান্ত নেবেন যে  তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা।

দেশে স্বৈরশাসন চলছে : ব্যারিস্টার মঈনুল

দেশে বর্তমানে পাকিস্তান আমলের স্বৈরশাসন চলছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের কতবড় সাহস যে তারা বাসায় বসে ১৫৩ আসন নিয়েছে। এ সরকার যেভাবে ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছে তা পাকিস্তান আজও করতে পারেনি।

শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ‘বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ৭ বছর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষা পেয়েছেন কেজরিওয়াল

প্রথমবার দিল্লির মসনদে বসার সুযোগ পেয়েও ৪৯ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাড়ান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি দিল্লির সাধারণ মানুষ। ফলে আপ প্রধানের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা তলানিতে এসে ঠেকতে শুরু করেছে।

বিধানসভা ভেঙে ফের নির্বাচনের পথে দিল্লি। আগামী বছরের শুরু দিকেই হতে পারে নির্বাচন।
কেজরিওয়ালের আশা দিল্লির মানুষ তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দেবে। আর তাই আগেভাগেই জানিয়ে দিলেন, দ্বিতীয়বার সুযোগ পেলে আর পদত্যাগ করবেন না তিনি।
এনডিটিভিকে দেয়া সাাৎকারে কেজরিওয়াল বলেন- আমি শিক্ষা পেয়ে গেছি। আর কখনো সুযোগ পেয়ে তা নষ্ট করব না। ভবিষ্যতে আর কখনও পদত্যাগ করব না।

দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থা -ডয়েচে ভেলে

প্রতিষ্ঠার ৭৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামি রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী৷ দলটির আমিরসহ চার শীর্ষ নেতার মাথার ওপর ঝুলছে ফাঁসির দণ্ড৷ দলটির আধ্যাত্মিক নেতা গোলাম আযমও ৯০ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে মুত্যুবরণ করেছেন৷ এছাড়া বর্তমান কর্মপরিষদের ২২ জনের ৯ জন আছেন কারাগারে৷ বাকিরা হয় নিষ্ক্রিয়, নয় পলাতক৷ গত সপ্তাহের কর্মদিবসের চারদিনই ছিল জামায়াতের হরতাল৷ আর একদিন ছিল আশুরার সরকারি ছুটি৷ জামায়াত এই চার দিনসহ মোট পাঁচদিন হরতাল করেছে তাদের দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে৷ কিন্তু এবার হরতালে নেতা-কর্মীদের রাজপথে দেখা যায়নি৷ জনজীবনে পড়েনি তেমন কোনো প্রভাব৷ হরতাল ডাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল৷ অনেকেই ৫ জানুযারির নির্বাচনের আগে জামায়াতের হরতাল বা আন্দোলনের সঙ্গে এবারের হরতালকে মেলাতে পারেননি৷ জামায়াতের এই হোমিওপ্যাথিক হরতাল তাদের বিস্মিত করেছে৷ আরেক দিকে জামায়াতের দীর্ঘদনের রাজনৈতিক বন্ধু এবং একই জোটের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি জামায়াতের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে৷ জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির দণ্ডের রায়ের পরও বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না৷ এমনকি বাংলাদেশে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা এবং আধ্যাত্মিক গুরু গোলাম আযমের মৃত্যুর পরও বিএনপি আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি৷

জামায়াতের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই জামায়াতের দুর্দিন শুরু৷ একের পর এক আটক হতে থাকেন দলের শীর্ষ নেতারা৷ ১৯৭১ সালে দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়৷ কিন্তু ১৯৭৮ সাল থেকে তারা আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে শুরু করে৷ বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে ২০০১ সালে দলটি সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় চলে যায়৷ তারা সংসদে ১৭টি আসন পায় এবং জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মন্ত্রিত্ব পান৷ দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় যায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার৷ বিএনপি জামায়াতের জোট এখনো অটুট, কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিশেষ করে কাদের মোল্লা এবং সাঈদীর দণ্ডের পর জামায়াত-শিবির যে সহিংসতা দেখায় তা বিপাকে ফেলে বিএনপিকে৷ ৫ জানয়ারির একতরফা নির্বাচনের মতোই এই সহিংসতা দেশে, বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে৷ তাই এই দায় এড়াতে বিএনপি জামায়াতের কাছ থেকে পোশাকি দূরত্ব বজায় রাখছে৷
জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদের ২২ সদস্যের ৯ জনই এখন কারাগারে৷ বাইরে থাকা ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৯ জন একাধিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে৷ দুজন আদালত অবমাননার অপরাধে দণ্ডিত হয়ে পলাতক৷ বাকিরা অসুস্থ, নয়তো রাজনীতিতে নিস্ক্রিয়৷ একজন বিদেশে৷
কর্মপরিষদেরও একই অবস্থা৷ ১৪ জন কারাগারে৷ বাকিরা গ্রেপ্তার, পলাতক নয়তো রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়৷ পাঁচ নায়েবে আমিরের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে৷ অন্যরা কারাগারে, নয়তো পলাতক৷ এ পরিস্থিতিতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুজিবুর রহমানকে নায়েবে আমির পদে পদোন্নতি দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা হচ্ছে৷
জামায়াতের নিজস্ব হিসাবে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাদের মোল্লার রায়ের পর থেকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সাড়ে তিন শতাধিক নেতাকর্মীর প্রাণ গেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ও সহিংসতায়৷ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন তৃণমূলের ৩৭ নেতাকর্মী৷ রাজপথে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৪৪ হাজার নেতাকর্মী৷ এদের বড় অংশ এখনও কারাগারে৷
মহানগরে রাজপথে দলকে সক্রিয় রাখার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শিবিরের সাবেক সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিকের মতো তরুণ নেতারা৷ তাঁরা দুজনই গত আগস্ট থেকে কারাগারে৷ মহানগরের নায়েবে আমির ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম ছিলেন সামনের সারিতে৷ তিনিও গ্রেপ্তার হয়েছেন৷
জামায়াত নেতাদের বক্তব্য
জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়ত তার ইতিহাসে সবচেয়ে দুঃসময় পার করছে৷ কেন্দ্র থেকে তাই সবাইকে ধৈর্য্য ধারণের জন্য বলা হয়েছে৷ আর বিএনপির আচরণ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে৷ কারাগারের বাইরে থাকা জামায়াতের নেতারা এখন সহিংস আচরণ না করার কৌশল নিয়েছে৷ কারণ তাঁরা মনে করেন, নতুন করে সহিংসতা করলে জামায়াতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করতে সরকারের সুবিধা হবে৷ আর তাহলে জামায়াতের অস্তিত্বই নাজুক হয়ে যেতে পারে৷ কারণ এরই মধ্যে আদালতের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে৷ আর যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের বিচার শুরু হতে পারে৷ এজন্য সরকার ট্রাইবুন্যাল আইন সংশোধনেরও চিন্তা করছে৷ নেতারা চাইছেন এই অবস্থায় অন্তত জামায়াতকে দল হিসেবে রক্ষা করতে৷ নোয়াখালী জামায়াতের নায়েবে আমির জানান, কেন্দ্র থেকে আমাদের ধৈর্য্য ধারণের জন্য বলা হয়েছে৷
আর জামায়াতের মুখপাত্র সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, জামায়াতের প্রতিক্রিয়া দেখানো বা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষমতা আছে৷ কিন্তু জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশের কারণে তারা মাঠে নামতে পারছে না৷ তিনি বলেন, জামায়াত বিপাকে আছে সত্য কিন্তু জামায়াত নিঃশেষ হয়ে গেছে এই ধারণা ভুল৷ সময় হলেই জামায়াত তার অবস্থান সংহত করবে৷
বিএনপি যা বলছে
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আযম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আদর্শিক ঐক্য নেই৷ এটি একটি নির্বাচনি জোট৷ তাই জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সংকটে বিএনপির কোনো করণীয় নেই৷ এটা জামায়াতের নিজস্ব ব্যাপার৷ তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতারা দণ্ডিত হয়েছেন, কারোর দণ্ড কার্যকর হয়েছে, গোলাম আযম মারা গেছেন এগুলো বিএনপির বা জোটের কোনো বিষয় নয়, তাই বিএনপি কোনো বিবৃতি, প্রতিবাদ বা শোক প্রকাশ করেনি, দেখায়নি কোনো প্রতিক্রিয়া৷ তবে তিনি মনে করেন, এই কারণে বিএনপি-জামায়াতের জোটগত সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হবে না৷ জোট আছে, থাকবে৷
আওয়ামী লীগের বক্তব্য
এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি জামায়াতের সম্পর্ক অটুট আছে৷ তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে মাত্র৷ এখন তারা গোপনে যোগাযোগ রাখছে৷ বিএনপি দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালে গোপনে সম্পর্ক ঠিক রাখছে৷ তিনি অবশ্য জামায়াতের সঙ্গে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনো গোপন চুক্তি বা সমঝোতার অভিযোগ উড়িয়ে দেন৷

ইরাকে আরো ১৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

 ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য দেশটিতে আরো অতিরিক্ত ১৫০০ মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের এই তথ্য জানিয়েছে। খবর:বিবিসির।
পেন্টাগন বলেছে, এসব সৈন্যরা ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা করবে। ইরাকি সরকারের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পরে ওবামা এই সেনা পাঠানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে পেন্টাগন জানিয়েছে, নতুন করে পাঠানো এই সেনাদলে সামরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শীদের পাঠানো হচ্ছে। তারা দেশটির নবম ইরাকি আর্মি এবং কুর্দি পিসমিরগা ব্রিগেডের তিনটি দলকে প্রশিণ দেবে।
আইএস জঙ্গিরা ইরাক ও সিরিয়ার একটি বিরাট অংশ দখল করে নেওয়ার পর গত আগস্ট থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বাহিনী সেখানে বিমান হামলা পরিচালনা করে আসছে।

পুরুষের উৎপাদনশীল শেল : নির্দিষ্ট ধরনের মানব টিস্যু

সুইডেনের রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র একদল বিজ্ঞানী খুবই নির্দিষ্ট ধরনের মানব টিস্যু হিসেবে পুরুষের উৎপাদনশীল শেল শনাক্ত করেছে। খবর বিবিসি’র। দলটি মানব শরীরের কোন টিস্যুতে কোন প্রোটিন সক্রিয় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, সুনির্দিষ্ট আচার-আকার-প্রকৃতির প্রোটিন পুরুষের উৎপাদনশীল শেল’র কাজে  দরকারী। দ্য হিউম্যান প্রোটিন আটলাস নিবন্ধে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘‘নতুন ওষুধ উন্নয়নে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।’’
প্রায় ২০ হাজার প্রোটিন নির্মাণের জন্য মানব ডিএনএ শিক্ষা নেয়। যৎ সামান্য জীববিজ্ঞান (Biological) যন্ত্রকার্য আমাদের শরীরকে চালিত করে।  
শেলে সক্রিয় প্রোটিনের সম্মিলন শরীরের কার্যপ্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেয়- রক্ত ফিলটার করার জন্য একটি শেল মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ অপেক্ষা বৃক্কে ভিন্নভাবে কাজ করে।

ভারতে ২০ কোটি নববধূর বেনারসি প্রয়োজন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেনারসি শাড়ির বিক্রি বৃদ্ধির জন্য তাঁতী ও ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিলেন। বারাণসী মোদির নিজের নির্বাচনী এলাকা। সেখানকার উন্নয়নের জন্য তিনি বেনারসি শাড়ি ব্যবহার করতে চাইছেন। বাজার চাহিদার কথা বলতে গিয়ে মোদি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলা ২০ কোটি মেয়ের জন্য ২০ কোটি বেনারসি শাড়ি প্রয়োজন হবে। এ চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বেনারসি শাড়ির বাজার সম্প্রসারিত করতে ই-কমার্স ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে ভোক্তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, এ কাজে সফল হতে কারখানাগুলো সংস্কার করতে হবে। তাঁতীদের উদ্দেশে মোদি বলেন, সব মা-ই তার মেয়ের বিয়েতে অন্তত একটি বেনারসি শাড়ি চান... আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২০ কোটি মেয়ের বিয়ে হবে। এনডিটিভি

আল আকসায় হামলা মেনে নেবে না জর্ডান : বাদশাহ

পবিত্র মসজিদ আল আকসায় হামলা জর্ডান মেনে নিবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির বাদশাহ আবদুল্লাহ।
অপরদিকে জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসরাইল নীতির পরিবর্তন করবে না বলে জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফোনে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহকে ফোন দিয়েছেন নিয়াহু। নিয়াহু জেরুজালেমের পবিত্রতা রক্ষায় জর্ডানকে আশ্বস্ত করেছেন।
সম্প্রতি আল আকসা ইস্যুতে দেশে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিয়াহু।
ফোনে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, পবিত্র আল আকসা মসজিদের কোনো ক্ষতি হলে তা মেনে নিবে না জর্ডান। আল আকসা মসজিদ এলাকায় ইসরাইলি পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে বুধবার ইসরাইলি দূতকে তলব করেছে জর্ডান। আল-জাজিরা।
বিপ্লবের ডাক মেশালের : বায়তুল মোকাদ্দাসে ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের শীর্ষ নেতা খালেদ মেশাল। তিনি বলেছেন, শুধু বিপ্লবের মাধ্যমেই ইসরাইলকে এ ধরনের বর্বরতা থেকে বিরত রাখা যাবে।
মসজিদ রক্ষায় বিশ্বের সব মুসলমানকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি। আল আকসা মসজিদে ইহুদিবাদীদের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর তিনি এ ডাক দিলেন। এদিকে বৃহস্পতিবারও মসজিদুল আকসা এলাকায় ফিলিস্তিনি ও ইহুদিবাদীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। হামাস নেতা বলেন, আল আকসা মসজিদ রক্ষার দায়িত্ব শুধু ফিলিস্তিনি জাতির ওপরই নয় বরং গোটা মুসলিম জাতিরই এ বিষয়ে দায়দায়িত্ব রয়েছে। আল আকসা রক্ষায় হামাসের পাশাপাশি সব ফিলিস্তিনি দল ও সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। খালেদ মেশাল বলেন, পবিত্র আল আকসা মসজিদ এখন মহাঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের সব মুসলিম জাতি, সরকার, দল, সংগঠন, চিন্তাবিদ, লেখক, নেতা ও আলেমের উচিত আল আকসা মসজিদের সমর্থনে এগিয়ে আসা। ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে হবে সর্বাত্মক এবং জোরালো। আরব দেশগুলো বিশেষ করে মিসর ও জর্ডানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন, বায়তুল মোকাদ্দাস, আল আকসা মসজিদ ইস্যুতে এসব দেশের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। কাজেই এসব দেশের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে খালেদ মেশাল বলেছিলেন, প্রয়োজনে হামাস আল আকসা মসজিদ রক্ষায় যুদ্ধ করবে। আল আকসা মসজিদ হচ্ছে মুসলমানদের প্রথম কেবলা এবং তৃতীয় পবিত্রতম স্থান।

মোদি আর যা-ই হোন কথা রাখেন, বিশ্বস্ত : ইমরান

পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতা ইমরান খান বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি আর যা-ই হোন, কথা রাখেন। বিদেশী ব্যাংকগুলোতে ভারতের ধনকুবেরদের জমানো কালো টাকা ফেরত আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে মোদির বক্তব্যের প্রশংসা করে ইমরান এ কথা বলেছেন। শুক্রবার এনডিটিভি অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানে অর্থপাচারকারীদের কালো টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে দেশটির সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই ইনসাফ পাকিস্তান (পিটিআই)। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবির পক্ষে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ায় তা নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন ইমরান। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নওয়াজ শরিফ জালিয়াতি ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে জয়ী হয়েছেন- এমন অভিযোগ এনে এ বছরের আগস্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলন-বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান ও তার ভক্ত-সমর্থক অনুসারীরা। পাকিস্তানের কোনো নেতার পক্ষে মোদির প্রশংসা করার বিষয়টি খুবই বিরল।

কৌঁসুলি লরেটা লিঞ্চকে এর্টনি জেনারেল নিয়োগের পরিকল্পনা ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ কৌঁসুলি লরেটা লিঞ্চকে এর্টনি জেনারেল হিসেবে মনোনিত করার পরিকল্পনা করেছেন। ওবামার এ মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি এরিক হোল্ডারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। এছাড়া তিনি হবেন এ পদে নিয়োগ পাওয়া প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান নারী। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়েছে, ওবামা আজ শনিবার তার এ মনোনয়নের ঘোষণা দেবেন।
এদিকে ধারণা করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় লিঞ্চের অনুমোদন পেতে ওবামাকে বেগ পেতে হবে। তবে আশার কথা তিনি ওবামার একান্ত ঘনিষ্ঠজনদের কেউ নন। ফলে সিনেটের অনুমোদন তিনি পেলেও পেতে পারেন।
সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাক কনেল বলেন, সিনেটে মিজ লিঞ্চকে ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করা হবে। নতুন কংগ্রেসে তার মনোনায়ন স্বাভাবিক নিয়মেই বিবেচিত হবে।

হাইয়ানের ক্ষতি কাটাতে ৫ বছর লাগবে

গত বছর ৮ নভেম্বর ফিলিপিন্সের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছিল ঘূর্ণিঝড় হাইয়ান। ঝড়ের আঘাতে প্রাণ হারায় ছয় হাজারের বেশি মানুষ। আর গৃহহীন হয় ৪০ লাখের বেশি মানুষ। হাইয়ান আঘাত হানার এক বছর পার হলেও এখনও পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে পাঁচ বছর সময় লাগবে বলেও জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা। দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের অপারেশ ডিরেক্টর জেনিফার ম্যাককান বলেন, ‘এটাই বিশ্বের অবস্থা। এটাই ফিলিপিন্সের বাস্তবতা।’ দুর্গতদের জন্য ফিলিপিন্স সরকার ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম ছাড়া তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। যার ফলে হাইয়ান বিধ্বস্ত এলাকায় ২৫ লাখ মানুষ এখনও তাদের বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি। অন্তত এক লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় বাস করছে। তাদের বেশিরভাগই বাস করছে পলিথিন দিয়ে বানানো অস্থায়ী বাড়িতে। গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) করা এক জরিপে দেখা গেছে, হাইয়ানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশের মধ্যে একটি হচ্ছে সামার। ৬৩৪ আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। এক চতুর্থাংশ কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪০০টি কেন্দ্রের বড় ধরনের সংস্কার করা প্রয়োজন।

কংগ্রেসের কাছে হাত পাতবেন ওবামা

ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য মার্কিন আইন প্রণেতাদের কাছে অতিরিক্ত ৩২০ কোটি ডলার অর্থ চাইবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার বিষয়টি কংগ্রেসের সভায় তোলার কথা রয়েছে। এই তহবিল হতে ইরাকের সরকারি বাহিনীর জন্য অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের জন্যও ব্যয় করা হবে। দুজন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, বিশাল এই তহবিল আইএস জিহাদিদের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার খরচ জোগাতে সহায়তা করবে। এছাড়াও চলমান এই লড়াইয়ে ইরাকের সেনাবাহিনী ও কুর্দি বাহিনীর জন্য স্থলযুদ্ধে সহায়তা করবে।সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের উপর বিমান যুদ্ধ কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পেন্টাগনের তথ্যানুযায়ী এ অভিযানে প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮৩ লাখ ডলার খরচ হচ্ছে।কিন্তু স্বাধীন বিশ্লেষকদের মতে, বিমান হামলার সম্পূর্ণ খরচ, বিশেষ করে অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান দ্বারা পরিচালিত অসংখ্য বিমান হামলার পুরো খরচ বিবেচনায় নেয়া হলে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হবে। পেন্টাগনের হিসেব মতে, ১৬ অক্টোবর হতে শুরু হওয়া চলমান এই বিমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৮ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত এই তহবিল হতে ইরাকি ও কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন এমন প্রায় ৬০০ মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা এবং মার্কিন দূতাবাস ও বাগদাদ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রায় ৮০০ আমেরিকান সৈন্যের জন্য অর্থ প্রদান করা হবে।বুধবার ওবামা জানান, তিনি যুদ্ধের জন্য কংগ্রেস কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ অনুমোদনের জন্য অনুরোধ জানাবেন। এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের জন্য অর্থ ব্যয় করতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন এই অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কারণ, নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেস এখন আর ওবামার হাতে নেই। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এখন রিপাবলিকানদের। সুতরাং, অর্থ চাইলেই যে তা সহজেই পেয়ে যাবেন- সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এএফপিখামেনিকে গোপন চিঠিইরাক ও সিরিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের দখল নেয়া জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দমনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাহায্য চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি সম্প্রতি খামেনিকে লেখা এক গোপন চিঠিতে এই সহায়তা চেয়েছেন। বিখ্যাত ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, চিঠিতে ওবামা খামেনিকে পরমাণু চুক্তিতে সই করার জন্যও অনুরোধ করেছেন।আগামী ২৪ নভেম্বর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির আলোচনা শুরু হবে। সেখানে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের যে কোনো সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে ওবামা তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউস ওবামার ব্যক্তিগত এই চিঠির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত অক্টোবরে ওবামার চিঠিটি খামেনির কাছে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ নিয়ে চতুর্থবার ওবামা ইরানি এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে চিঠি লিখলেন।গোষ্ঠীশাসনের অবসানই জয়ের চাবিকাঠিইসলামিক স্টেট (আইএস) জিহাদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল লয়েড অস্টিন বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কতজন মার্কিন সৈন্য রয়েছে তা বড় কথা নয়, বাগদাদে গোষ্ঠীগত শাসনের অবসানই আইএস জিহাদিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয়ের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, যদি তিনি নিশ্চিত হন যে, রণক্ষেত্রে আরও সৈন্য পাঠানো প্রয়োজন তবে তিনি এ ব্যাপারে সুপারিশ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। আটলান্টিক কাউন্সিল থিংক ট্যাংক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্টিন এসব কথা বলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরাকে বসবাসরত সুন্নিদের প্রতি দেশটির সরকারের আচরণ এই সংঘাতের ফলশ্র“তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে। জেনারেল অস্টিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবে আইএসের বিরুদ্ধে বিমানহামলা পরিচালনা করছেন। মার্কিন এই জেনারেল আরও বলেন, কিন্তু আমি আপনাদের বলছি যে, ইরাকের নেতৃত্বে যদি সুন্নী ও কুর্দিদের অন্তর্ভুক্ত করা না যায়, আপনি যত সৈন্যই রণক্ষেত্রে মোতায়েন করেন না কেন, তা কোনোই কাজে আসবে না।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সেরা অভিযাত্রী ওয়াসফিয়া

নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফির বর্ষসেরা অভিযাত্রীর খেতাব পেয়েছেন এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশি ওয়াসফিয়া নাজরীন। শুক্রবার ন্যাশনাল জিওগ্রাফির ওয়েবসাইটে বর্ষসেরা অভিযাত্রীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি বর্ষসেরা অভিযাত্রীর খেতাব দেয়া হয় এ বাংলাদেশি নারীকে।
দুঃসাহসী অভিযানের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে নিজের অঙ্গীকার ও কর্মতৎপরতার জন্য বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়াকে ২০১৪ সালের অন্যতম বর্ষসেরা হিসেবে মনোনীত করা হয়।
তিনি সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি এবং দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে তিনি ২০১২ সালের ২৬ মে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।
প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে ১০ জনকে বর্ষসেরা পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি।
২০১২ সালের ৯ জুন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট চূড়ায় উঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এর আগে বাংলাদেশি প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার।
এর আগে ২০১১  সালের ২ অক্টোবর ওয়াসফিয়া আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমানজারো এবং ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত অ্যাকোনকাগুয়া জয় করেন। ২০১১ সালের জুলাই মাসে ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বত এলবার্সের চূড়ার ৩০০ মিটার নিচে থেকে খারাপ আবহাওয়ার জন্য ফিরে আসেন ওয়াসফিয়া। এছাড়া তিনি ২০০৯ সালে নেপালের লু রী পর্বত, ২০১০ সালে আইল্যান্ড পিক জয় করেন। ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলব্রুস জয় করেন। রাশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা ৫১ মিনিটে তিনি এলব্রুস চূড়ায় আরোহণ করে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ান।

ভারতে জঙ্গি সন্দেহে ২২ বাংলাদেশী গ্রেফতার

জঙ্গি সন্দেহে পেট্রাপোলে শুক্রবার ছয় বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গের গোয়েন্দা পুলিশ সিআইডি। জঙ্গিবিরোধী অপারেশনে সিআইডির সঙ্গে ছিল সন্ত্রাস দমনে বিশেষ নিরাপত্তা গোষ্ঠী এসওজি (স্পেশাল অপারেশন গ্র“প)। গ্রেফতার ব্যক্তিদের সঙ্গে বর্ধমান বিস্ফোরণে যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মনে করছেন সিআইডি অফিসাররা। তারা পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরছিল। তাদের বনগাঁ সীমান্ত থেকে দুপুরে কলকাতার ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিন মালদহে বর্ধমান বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ইউসুফ শেখ এবং মজিদ তালহার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসী জিয়াউল হককে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। জিয়াউল স্বীকার করেছে, আত্মগোপন করে থাকা জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাজিদ ও সাকিবের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তার। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ট্রেনিং দেয়ার পাশাপাশি ভারতের একাধিক শহরে দাঙ্গার ভিডিও দেখাতো জিয়াউল। মালদহে জিয়াউলদের ডেরা থেকে একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করে এনআইএ। ওই ল্যাপটপে অনেক তথ্য রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি। এদিন বারাসাতে চার শিশুসহ আরও ১৫ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এ ১৫ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ ও সাতজন নারী। তাদের কাছ থেকে সন্ত্রাসী কাজকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশকিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার করেছে ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীরা।
বিশেষ সূত্রে খবব পেয়ে সকালে বনগাঁ সীমান্তে পেট্রাপোলে ভারতীয় কাস্টমস অফিসে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন সিআইডি ও এসওজির প্রায় ত্রিশজন অফিসার। কলকাতা থেকে ঢাকা অভিমুখী বাসে ছয় জঙ্গি আসছে খবর পেয়ে ইমিগ্রেশনে চলে যান ওই অফিসাররা। দুটি বাস থেকে তাদের নামিয়ে প্রথমে কাস্টমস অফিসে ও পরে পার্শ্ববর্তী নিরাপত্তা চৌকিতে রাখা হয়। বর্ধমান বিস্ফোরণকাণ্ড এবং জেএমবি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গ্রেফতার ছয়জনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে মনে করছেন সিআইডি অফিসাররা। তবে সরকারিভাবে চার শিশুসহ ১৫ জনকে গ্রেফতারের কথা সিআইডি জানালেও জঙ্গি সন্দেহে ছয় বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেননি গোয়েন্দারা। যদিও এনআইএ প্রেস বিবৃতি দিয়েই জিয়াউলকে গ্রেফতার এবং তদন্তের অগ্রগতির কথা স্বীকার করেছে।প্রথমে বাংলাদেশমুখী দুটি সরকারি বাস সৌহার্দ্য থেকে ওই ছয় ব্যক্তিকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার করার খবর শোনা যায়। কিন্তু পরে সৌহার্দ্যরে বাস চালকরা কোনো যাত্রী গ্রেফতার করার কথা অস্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেনাপোলের কাস্টম অফিসাররা বলেন, কাটাবাস সার্ভিসে পরিবহন পরিষেবা থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খুলনায় এএসআইকে ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়

পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড়-থাপ্পড় মারলেন ছাত্রলীগ নেতা। শুক্রবার সকালে এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে খুলনা বিএল কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে তারা কলেজের সামনের সড়ক ১ ঘণ্টা অবরোধ করে।
শুক্রবার এলএলবির ফাইনালের ২য় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার বিএল কলেজ কেন্দ্রের কমার্স ভবনে এ পরীক্ষা চলছিল। বেলা ১১টার দিকে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল দাস সহযোগীদের নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত পুলিশ তাদের হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড় মারেন। পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এএসআই আলমগীর বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মুসা খন্দকার বলেন, এলএলবি পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় বাকবিতণ্ডার পর ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের এএসআই আলমগীরকে থাপ্পড় মারেন।
পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড়-থাপ্পড় মারলেন ছাত্রলীগ নেতা। শুক্রবার সকালে এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে খুলনা বিএল কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে তারা কলেজের সামনের সড়ক ১ ঘণ্টা অবরোধ করে।
শুক্রবার এলএলবির ফাইনালের ২য় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার বিএল কলেজ কেন্দ্রের কমার্স ভবনে এ পরীক্ষা চলছিল। বেলা ১১টার দিকে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল দাস সহযোগীদের নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত পুলিশ তাদের হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড় মারেন। পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এএসআই আলমগীর বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মুসা খন্দকার বলেন, এলএলবি পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় বাকবিতণ্ডার পর ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের এএসআই আলমগীরকে থাপ্পড় মারেন। - See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/11/08/170544#sthash.zxifMDDk.dpuf
পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড়-থাপ্পড় মারলেন ছাত্রলীগ নেতা। শুক্রবার সকালে এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে খুলনা বিএল কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে তারা কলেজের সামনের সড়ক ১ ঘণ্টা অবরোধ করে।
শুক্রবার এলএলবির ফাইনালের ২য় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার বিএল কলেজ কেন্দ্রের কমার্স ভবনে এ পরীক্ষা চলছিল। বেলা ১১টার দিকে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল দাস সহযোগীদের নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত পুলিশ তাদের হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় সেখানে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেনকে চড় মারেন। পুলিশ সদস্যরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টা ধাওয়া করেন। এএসআই আলমগীর বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মুসা খন্দকার বলেন, এলএলবি পরীক্ষার হলে প্রবেশে বাধা দেয়ায় বাকবিতণ্ডার পর ছাত্রলীগ নেতা উজ্জ্বল দাস ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের এএসআই আলমগীরকে থাপ্পড় মারেন। - See more at: http://www.jugantor.com/last-page/2014/11/08/170544#sthash.zxifMDDk.dpuf

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়তে হবে : ড. কামাল

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাতে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে সংবিধান প্রণেতা এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন ভিন্ন দলও থাকবে। তবে নিজেদের বিবেক দ্বারা কোনটা করতে হবে কোনটা করা যাবে না তা নির্ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর আন্দোলন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত গণতন্দ্র ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক ড. সুকমল বড়–য়া, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ।স্বাধীনতা প্রজন্ম বাংলাদেশ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এসএম সায়মন কামালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. কামাল হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, তার মূল স্তম্ভ হলো গণতস্ত্র। আমাদের মনে রাখতে হবে জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। তিনি বলেন, ইতিহাসের মৌলিক বিষয় নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বে দিয়েছেন, তার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বির্তক করা উচিত নয়। রেসকোর্স ময়দানে তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেয়া হয়েছিল। তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। দেশের স্বার্থে সব দ্বিধাভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়তে হবে।বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান কখনো অস্বীকার করা যাবে না। সেই রাষ্ট্রনায়কের অনেক ভুল থাকতে পারে। কিন্তু এজন্য রাষ্ট্রনায়ককে হত্যাই কি একমাত্র সমাধান ? স্রোতে গা না ভাসিয়ে স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করতে হবে এবং স্বাধীনতার চেতনায় নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। আর তখনই গণতন্ত্র মজবুত হবে। তিনি বলেন, দুই রাজনৈতিক দল বা দুই জোট কারও হাতেই দেশ নিরাপদ নয়। এ দুটি রাজনৈতিক দলই এক রকম। তবে তারা যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তাহলে কোনো কথা নেই।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বর্তমান সরকারের সবচেয়ে ভালো কাজ স্বীকার করে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, দেশের সব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হমলার বিচার দ্রুত করা হোক।

গাছেরও খাচ্ছেন তলারও কুড়াচ্ছেন

একই সঙ্গে দুটি করে সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন ৯ আমলা। কয়েক বছর আগে তাদের বদলি করা হলে তারা নতুন বাসা বরাদ্দ পেলেও একইসঙ্গে দখলে রেখেছেন আগের বাসাও। বিদ্যমান বেতন স্কেল অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা দুই বাসার ভাড়া কিভাবে পরিশোধ করছেন- সেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি অনুসন্ধান করছে দুদক। এ প্রক্রিয়ায় দুটি করে বাসা দখলে রাখা কর্মকর্তাদের তালিকা চেয়ে গত ২৩ আগস্ট পূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। সম্প্রতি এ চিঠির জবাব পেয়েছে দুদকে। প্রথম পর্যায়ে ই এবং এফ শ্রেণীর বাসা দখলে রাখা ৯ কর্মকর্তার তথ্য পাঠায় মন্ত্রণালয়। এতে দেখা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আবদুল হান্নান শেখকে ২০১২ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম পোর্টের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনের সদস্য হিসেবে বদলি করা হয়েছে। বদলি হওয়ার পর চট্টগ্রামে তিনি একটি বাসা বরাদ্দ পান। অথচ রাজধানীর ১, ইস্কাটন রোডের বি-১০/ই- নম্বরের বাসাটিতেও তিনি বসবাস করছেন। ধানমণ্ডি কামরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস বেগমকে ২০০৯ সালের ৯ জুলাই বদলি করা হয় টাঙ্গাইল বাসাইল উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। নিয়মানুযায়ী তিনি সেখানে একটি সরকারি বাসা পেয়েছেন। কিন্তু তাই বলে দখল ছাড়েননি রাজধানীর মতিঝিলস্থ বি-৮/ই-২ নম্বর সরকারি বাসাটিও। বাসা খালি করে দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর বারবার তাগিদ দিলেও তিনি উল্টো রিট (নং-৬২৮৭/২০১০) করে আগের বাসার দখলস্বত্ব বজায় রেখেছেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন-বিসিকের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরীকে ২০১১ সালের ১ জুন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়। সেখানে সরকারি বাসা পেলেও বসবাস করছেন মতিঝিলস্থ বি-৯/ই-৭ নম্বর বাসাটিতে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোঃ সাইফুল ইসলাম বাদলকে বদলি করা হয় মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে। তবে তিনি রাজধানীর গ্রিন রোডস্থ গোধূলী-৫ বাসাটির দখল ছাড়েননি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব টি.কে.এম মোশফেকুর রহমান বিদেশে পোস্টিং হলেও দখলে রেখেছেন সার্কিট হাউজস্থ এফ-এ ১ (পূবালী) বাসাটি। একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সরোয়ার আলমকে পদায়ন করা হয়েছে বিদেশে। কিন্তু তিনিও দখলে রেখেছেন রাজধানীর ৮/৬ বেইলি স্কোয়ারের বাসাটি। উপসচিব এম.এন. সেলিমকে বদলি করা হয়েছে ভূমি সংস্কার বোর্ড, বরিশালে। সেখানে বাসা পেলেও তিনি এখনও বসবাস করছেন ৭৬, নিউ সার্কিট হাউসের বাসায়। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন আক্তারকে বদলি করা হয়েছে কিশোরগঞ্জ ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে। অথচ দখল ছাড়েননি স্যুট নং-১৪-৫ ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসার। সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আলমগীর হোসেনকে বদলি করা হয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে। সেখানে সরকারি বাসা পেলেও দখলে রেখেছেন ঢাকার সার্কিট হাউসস্থ ৪৮/২-আই নম্বরের বাসা।
দুটি করে বাসা দখলে রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অস্থায়ী বাসা বরাদ্দ শাখা এ বিষয়ে কাজ করছে। শাখার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় দুদককে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে।
সূত্র মতে, একসঙ্গে দুটি সরকারি বাসা দখলে রেখে এসব কর্মকর্তা সরকারের কি পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধন করছেন দুদক তা খতিয়ে দেখছে। যদি তারা দখলে থাকা দুটি বাসারই ভাড়া পরিশোধ করে থাকেন তাহলে অতিরিক্ত পরিশোধকৃত অর্থের উৎস কি তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের উপপরিচালক হামিদুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের একটি টিম বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। অপর তিন সদস্য হলেন- উপপরিচালক মাহবুব আলম, উপসহকারী পরিচালক ওমর ফারুক ও তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া।

স্কাইপি আলাপে প্রকাশ হল নতুন জঙ্গি নেতার নাম

শায়খ জসিম উদ্দিন রাহমানীর পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) নতুন আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শায়খ তামিম আল আদনানী। তার সঙ্গে অপারেশন টিমের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক। সম্প্রতি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দুই জঙ্গির স্কাইপি আলাপে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, তামিম আল আদনানী ও সাইফুল ইসলাম দুজনই বাংলাদেশী নাগরিক। তাদের নেতৃত্বে এবিটি জঙ্গি তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। তারা দুজন এখন দেশেই আছেন।
জানা গেছে, জর্ডানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শেখ আবু ইসা আলীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুফতি জসিম ও তামিম আদনানী। আবু ইসা ২০০২ সালে বাংলাদেশ সফর করে রাজধানীর বারিধারায় একটি দোতলা বাসা নিয়ে জামায়েতুল মুসলেমিন নামে একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেন। পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেলে তিনি সেদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। তামিম আদনানী, মুফতি জসিম ও আবু ইসা পাকিস্তানের অনলাইনভিত্তিক উগ্রপন্থী ফোরাম বাবউল ইসলামের দাওয়াতে করাচিতেও গিয়েছিলেন। ডিবি পুলিশের হাতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গণমাধ্যম শাখার প্রধান মোরশেদ ইসলাম গ্রেফতারের পর নানা তথ্য দিয়েছেন। মোরশেদ বাবউল ইসলাম সাইটে নিজের নাম গোপন করে ছদ্মনামে পাকিস্তানে যোগাযোগ ছাড়াও স্কাইপিতে কথাবার্তা বলতেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, বাবউল ইসলামের গণমাধ্যম শাখার প্রধান ওমর আলীর প্রস্তাবে মোরশেদ বাংলাদেশে বাংলাভাষায় উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সাইফুল ইসলাম এ কাজে তাকে সহায়তা করতেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শায়খ
জসিম ও তার সহযোগীরা গ্রেফতারের পর এবিটির সদস্যরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। তারা বিভিন্ন কৌশলে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এবিটির নতুন আধ্যাত্মিক নেতাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তারা যতই প্রযুক্তি জানা ও কৌশলী হোক না কেন গোয়েন্দা জালে ধরা পড়তেই হবে। ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মোরশেদকে গ্রেফতারের পর তামিম আদনানীর নাম আসে। তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা তৎপরতা চালিয়ে থাকে।
ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবিটির স্লিপার সেলের অনেক সদস্য যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তারা গ্রুপ হয়ে কাজ করে থাকে। এ ধরনের কয়েকটি গ্রুপের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ চলছে।

‘মেক্সিকোয় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের লাশ পুড়িয়ে ভাসিয়ে দেয়া হয়’

মেক্সিকোতে গত সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ ৪৩ শিক্ষার্থীকে স্থানীয় মেয়রের নির্দেশে পুলিশ অপহরণ করার পর তাদেরকে একটি চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে- ওই চক্রটি শিক্ষার্থীদের হত্যা করে তাদের কিছু লাশ পুড়িয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জেসাস মুরিলো কারাম।
তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া লাশগুলোর পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে লাশগুলো পুড়িয়ে দেয়ার কারণে ডিএনএ পরীক্ষাও বেশ সহজ হবে না।
তিনি বলেন- আমাকে পরিচয় বের করতে হবে, আমার ক্ষমতার মধ্যে সব কিছু করতে হবে। যদি লাশগুলো শিক্ষার্থীদের হয়ে থাকে, তা বের করতেই হবে। 
উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বরে ইগুয়ালায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে ৪৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। আন্দোলরত ওই শিক্ষার্থীরা সবাই ছিলেন প্রশিক্ষণরত শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের জোর করে একটি পুলিশের গাড়িতে ওঠাতে দেখা গিয়েছিল। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এ ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থী নিহত হন।
এ সময় বাকি শিক্ষার্থীদের একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনার পর ইগুয়ালা শহরের উপকণ্ঠে সম্প্রতি একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ধারণা করা হয়, গত সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ আন্দেলনরত ৪৩ শিক্ষার্থীর লাশ সেখানে রয়েছে। পরে অবশ্য তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বেচ্ছায় অ্যানাকোন্ডার পেটে!

সিনেমায় আস্ত মানুষ গিলে খেতে দেখা গেছে দক্ষিণ আমেরিকার অতিকায় সাপ অ্যানাকোন্ডাকে। অবশ্য এ সাপকে ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও অ্যানাকোন্ডা আসলে মানুষ এড়িয়ে চলে। এমনকি মানুষের গাঁয়ের গন্ধ পেলেই তারা লুকিয়ে যায়। এবার শখ করে এমন অতিকায় সাপের পেটে যাওয়ার মনস্থির করেছেন এক ব্যক্তি। শুনে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটাই জানিয়েছেন পল রসোলি নামে এক ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার। অ্যানাকোন্ডা সাপ তাকে গিলে ফেলার এ দৃশ্য ডিসকভারি চ্যানেলে সরাসরি দেখানো হবে বলেও জানা গেছে। পল রসোলি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অ্যাডভেঞ্চারের নেশাতেই অ্যানাকোন্ডার পেটের ভেতর যাবেন তিনি। তবে সাপের পেটে যাওয়ার আগে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। আর তাই ফ্যাবরিকের তৈরি একটি বিশেষ পোশাকও তৈরি করা হয়েছে। পোশাকটি সাপের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে বলে দাবি করেন পল। অবশ্য পলের এ পোশাকের নিরাপত্তা নিয়ে এরইমধ্যে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, এ পোশাক ছোট সাপের কামড় থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হলেও অ্যানাকোন্ডার মতো দৈত্যাকার সাপের পেটে যাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। ওয়াশিংটন পোস্ট।

সারা দেশে অনুপস্থিত ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থী

অবশেষে নির্ধারিত সময়ের ৫ দিন পর শুক্রবার জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত বছরের মতো এবার এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম দিনে সারা দেশে ৪৬ হাজার ৪০ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর হরতালের কারণে ২ নভেম্বর এ পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পারা যায়নি। এবারের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় সারা দেশে পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন। হরতালের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, সময়সূচি না জানায় তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি। অনেকে দেরিতে পরীক্ষা হলে এসে কান্নাকাটি শুরু করে। বরগুনার আমতলীতে ২০১২ সালের প্রশ্ন দিয়ে ৪ পরীক্ষার্থীর দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্নিয়ায় সেলাই নিয়েই জেএসসিতে অংশ নেয় শিক্ষকের কলমের আঘাতে আহত রাব্বি।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হলের ভেতরে ঢিলেঢালা ও দেখাদেখির পরিবেশ বিরাজ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঢাকার যে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, তিনি চলে আসার পর ওই দুটি কেন্দ্রে এ পরিস্থিতি বিরাজ করে। এর বাইরে পরীক্ষাকালে মন্ত্রীর লটবহরসহ হলের ভেতরে প্রবেশ ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। অথচ শিক্ষার্থীদের ‘ডিস্টার্ব’ হবে বলে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় হলের ভেতরে প্রবেশ করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবীর দুলু যুগান্তরকে টেলিফোনে জানান, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়নি, এটা ইতিবাচক। কিন্তু হলের ভেতরে শিক্ষার্থীদের দেখাদেখির সুযোগ করে দেয়া প্রশ্ন ফাঁসের চেয়েও মারাত্মক। মন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানসহ শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এদিন মতিঝিলের সরকারি বালক ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ দুটি কেন্দ্রে ভিকারুননিসা নূন ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পরীক্ষার্থীদের আসন ব্যবস্থা করা হয়েছে।অষ্টম শ্রেণীর এ সমাপনী পরীক্ষা শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশের ২ হাজার ৫২৫টি কেন্দ্রে শুরু হয়। এদিন জেএসসিতে বাংলা প্রথমপত্র ও জেডিসিতে কোরআন মজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক দিলারা হাফিজ মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে জানান, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা হয়েছে। কোনো জায়গা থেকে কোনো গোলযোগ বা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।শুক্রবার মোট অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১২৭৩৮, রাজশাহীতে ৩২৯০, কুমিল্লায় ৩৫৪২, যশোরে ৩৪৯৭, চট্টগ্রামে ২০৯৫, সিলেটে ১৮৩২, বরিশালে ২২০৫, দিনাজপুরে ২৫৯৮ এবং মাদ্রাসা বোর্ডে ১৪২৪৩ জন অনুপস্থিত ছিল। আর বহিষ্কৃতদের মধ্যে ২ জন যশোর বোর্ডে, ১ জন ঢাকা বোর্ডে ও ৪ জন মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থী। আর এবার জেএসসিতে ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৫ এবং জেডিসিতে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯৭ পরীক্ষার্থী ছিল।এ বছর বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া অন্য বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে সৃজনশীল প্রশ্নে। বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে দুটি বিভাগ থাকলেও দুটি অংশ মিলে ৩৩ পেলেই পাস বলে গণ্য হবে। এসএসসির মতো দুটি অংশে আলাদা আলাদা পাসের প্রয়োজন নেই। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা এবারও অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাচ্ছে। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই তারা শ্র“তি লেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারছে।এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র দুটি পরিদর্শনের পর শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, হরতালকারীরা ‘অমানুষ’। এরা ১৯৭১ সালেও বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছে। এখন নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানোর খবর-বরিশাল: সময়সূচি জানতে বিলম্ব হওয়ায় জেএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় বরিশালে ২ হাজার ২শ’র বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া অনেক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পরও হলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি সময়জনিত কারণে হয়নি বলে দাবি করেন বোর্ড চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক।নাটোর : জেলার ২২ হাজার ৩০২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৪১ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। ২০১৪ সালের জেএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩৪৭ এবং জেডিসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজার ৫৪৯ জন। অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান, পরিবর্তিত সময় ভালোভাবে প্রচার না করায় অনেক পরীক্ষার্থী সকাল ১০টায় পরীক্ষা মনে করে বিলম্বে এসে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে।নড়াইল : জেলায় ১৪টি কেন্দ্রে প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষার মোট জেএসসি পরক্ষার্থী ছিল ৯ হাজার ৯৭ জন। পরীক্ষা দিয়েছে ৮ হাজার ৯২০ জন। পরীক।ষা দেয়নি ১৭৭ জন।বরগুনা : আমতলী মফিজ উদ্দিন বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ৪ পরীক্ষার্থীকে ২০১২ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।প্রায় দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা চলার পর পার্শ্ববর্তী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের প্রশ্ন অমিল থাকায় বিষয়টি ধরা পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকদের জানালে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাদের প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেয়া হয়।সিলেট : সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় ১ লাখ ১১ হাজার ২১১ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে শুক্রবার পরীক্ষা প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ১ হাজার ৮৩২ জন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া : শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ছোড়া কলমে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র গোলাম রাব্বি অবশেষে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শুক্রবার সকালে চোখের কর্নিয়ায় সেলাই নিয়েই পরীক্ষা শুরু হওয়ার একটু আগেই পরীক্ষা হলে গিয়ে সে উপস্থিত হয়।রাজশাহী : নওগাঁর মান্দায় জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে আট ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার পরীক্ষার প্রথম দিন মান্দা এসসি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া ওইসব ভুয়া পরীক্ষার্থী সবাই চকবাবন বৈলশিং দাখিল মাদ্রাসা ও জামদই আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ভুয়া পরীক্ষার্থীরা জানায়, ৬০০ টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।চট্টগ্রাম : শুক্রবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রথম দিনে চট্টগ্রাম বোর্ডে দুই হাজার ৯৫ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযূষ দত্ত জানান, বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় এক লাখ ৪০ হাজার ৬৫১ ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।দৌলতখান : ভোলার দৌলতখানে শুক্রবার অনুষ্ঠিত জেএসসি ও জেডিসি বাংলা প্রথম পত্র ও কোরআন মজিদ পরীক্ষায় ৯৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। জেএসসির দুটি মূল ও দুটি ভেন্যু এবং জেডিসির একটি মূল ও একটি ভেন্যু কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২ হাজার ৩৪৩ জন।পূর্বধলা (নেত্রকোনা) : উপজেলায় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলায় জেএসসি ৪টি কেন্দ্রে ও জেডিসি পরীক্ষার ২টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও ৫৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মাহাবুবুল আলম শুক্রবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে শতাধিক মোবাইল ফোন জব্দ এবং ৫ পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র ১০ মিনিট করে আটকিয়ে রাখে।স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) : উপজেলার ২টি কেন্দ্র ও ২টি ভেন্যুতে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। স্বরূপকাঠি কলেজিয়েট একাডেমি কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ জন। স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ১ হাজার ২০৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ২৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।আগৈলঝাড়া : প্রথম দিনের পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৬৮৫ জন উপস্থিত ছিল। ৪৬ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল।ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) : ফুলবাড়িয়ায় সারা দেশের মতো জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় শুক্রবার প্রথম দিনে ৬ হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে ১৬২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর মধ্যে জেএসসি ১০২ ও জেডিসিতে ৬০ জন অনুপস্থিত ছিলেন।আখাউড়া : প্রথম দিনে আখাউড়া উপজেলায় ৫৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। শুক্রবার সারা দেশের মতো আখাউড়া উপজেলার ৪টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৩১ জন।কুমিল্লা : কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সাড়ে ৩ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অপরদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের আওতাধীন জেডিসি পরীক্ষায় কুমিল্লা জেলার ১৬ উপজেলায় ৩১২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।

প্রাপ্তবয়স্কদের ছবিতে ইভলিন

‘ম্যায় তেরা হিরো’ এবং ‘ইয়ারিয়া’ ছবিতে ব্যাপক খোলামেলা হয়ে ক্যামেরাবন্দি হয়ে আলোচনায় আসেন জার্মান-ভারতীয় মডেল ও অভিনেত্রী ইভলিন শর্মা। গত দুই বছর ধরে একাধিক ছবিতে কাজ করলেও এই দুটি ছবিতে তার অভিনয়-পারফরমেন্স-আবেদনময়ীরূপ বেশ প্রশংসিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নতুন একটি ছবির কাজ শুরু করেছেন তিনি। ছবির নাম ‘ডানক’। পরিচালনা করছেন হাসনাইন হায়দরাবাদওয়ালা। ক্রাইম-থ্রিলারধর্মী এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এরই মধ্যে বলিউডের দাপুটে অভিনেতা অনুপম খেরের কাছে হিন্দি ভাষার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ইভলিন। কারণ, হিন্দি ভাষা এখনও শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না তিনি। প্রায় প্রতিদিনই তার এই হিন্দি ভাষার প্রশিক্ষণ চলছে। এ ছবিতে রাফ এন্ড টাফ চরিত্রেই আবিষ্কার করা যাবে ইভলিন শর্মাকে। তবে নতুন খবর হলো, এ ছবিটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ছবি হিসেবে মুক্তি দিতে যাচ্ছেন পরিচালক। কারণ, ছবিতে বেশ কিছু আপত্তিকর দৃশ্য এরই মধ্যে ধারণ করা হয়েছে। ছবির একাধিক দৃশ্যে নগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন ইভলিন শর্মা। এছাড়া এক তরুণ অভিনেতার সঙ্গে রগরগে দৃশ্যে পারফরম করতেও দেখা যাবে এ অভিনেত্রীকে। অবশ্য পাশাপাশি এ ছবিতে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে মেলে ধরার যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছেন ইভলিন, যা এর আগে কোন ছবিতে পাননি। তাই সব মিলিয়ে এ ছবির মাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনাটাও কম নয়। এ বিষয়ে ইভলিন শর্মা বলেন, গত দুই বছরে দর্শক আমাকে অনেক ভালভাবে গ্রহণ করেছেন। তারা হট ইভলিনকেই দেখতে পছন্দ করেন। ‘ডানক’ ছবিতে সুপারহটরূপে আমাকে আবিষ্কার করা যাবে। তাছাড়া এখানে আমার চরিত্রটিও অনেক চমৎকার। আমি শতভাগ দিয়েই ছবিটির কাজ করার চেষ্টা করছি। বাকিটা দর্শকই বিচার করবেন।

জামায়াত পর্যুদস্ত, নেতারা হতোদ্যম by সেলিম জাহিদ

মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতার ফাঁসির রায়ে আরও পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। এঁদের মধ্যে একজনের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। এ অবস্থায় রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলটির নেতা-কর্মীরা হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন।
জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, নেতাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দলের নীতি-নির্ধারকেরা আরও উদ্বেগে আছেন অপরাধী সংগঠনের বিচারের জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের খসড়া নিয়ে। এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বস্তুত এ আইনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ অবস্থায় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে ঘোরতর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, এর আগে জামায়াতের চিন্তাশীল ব্যক্তি ও নেতাদের একটি অংশের চিন্তা ছিল, দল নিষিদ্ধ হলে নতুন নামে রাজনৈতিক দল গঠন করা। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু দলের ভেতর থেকে একটি অংশের আপত্তির পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সে চিন্তা আর এগোয়নি। একসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী চেয়েছিলেন, জামায়াতের নাম বাদ দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে আরেকটি দল গঠনের। কিন্তু জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ মূল নেতৃত্ব এ চিন্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গত সোমবার কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। এখন তাঁর দণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় আছে। একই অপরাধে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধেও গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর নিজামীরও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয় ট্রাইব্যুনালে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদের একাধিক নেতা জানান, নেতাদের প্রাণদণ্ডের পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারকেরা এখন গভীর চিন্তায় আছেন জামায়াতের ভবিষ্যৎ নিয়ে। নেতাদের দণ্ড রহিত করা বা দল নিষিদ্ধ হলে পরবর্তী করণীয় এখনো ঠিক করতে পারেননি। তাঁরা এ সংকট থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি এবং জুতসই উপায় খুঁজছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার পর আর কী কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখে ধীরেসুস্থে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান দলের নীতিনির্ধারকেরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত এর আগেও একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে আমরা মোটেও চিন্তিত না। সে প্রস্তুতি আমাদের আছে। নিষিদ্ধ হলে কীভাবে কাজ করতে হয়, সে অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।’
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপাতত হরতাল বা বিক্ষোভের মতো গতানুগতিক কর্মসূচিতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। দলের নেতাদের কারও ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হলেও এ কর্মসূচির বাইরে ভিন্ন কিছু চিন্তা করা হচ্ছে না বলে দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান। যদিও দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর তিন দফায় ঘোষিত পাঁচ দিনের হরতাল ছিল ঢিলেঢালা ও অসফল। তবে এ বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্য হচ্ছে, তারা চরম বৈরী পরিবেশে কর্মসূচি দিয়েছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ট্রাইব্যুনালে দলের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের পর জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সারা দেশে যে উগ্র ও সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, এবার সে ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। এর কারণ, গতবারের সহিংসতার ফল হিতে বিপরীত হয়েছে। তাই আবারও সহিংসতায় জড়িয়ে নতুন করে জনবলের ক্ষয় করতে চান না জামায়াতের নীতিনির্ধারকেরা।
এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী মতিউর রহমান আকন্দের কথায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি গত বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াত গণতান্ত্রিকভাবেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে। আমাদের নেতা-কর্মীরা রায়ে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা ধৈর্যহারা হয়ে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে নিয়োজিত হবেন না।’
দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হঠাৎ করে তিন নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর জামায়াতের নীতিনির্ধারকেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ওপরও।
অবশ্য দলের নেতাদের একের পর এক সর্বোচ্চ দণ্ডকে ‘পরীক্ষা’ বলে মন্তব্য করেন মুজিবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। তিনি যাঁর হায়াত রেখেছেন, তাঁকে কেউ মারতে পারবে না। আর যাঁর ভাগ্যে শাহাদাত আছে, তিনি শহীদ হয়ে জান্নাতে যাবেন। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ।’
জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, তিনটি কারণে অপেক্ষমাণ রায়গুলোকে দ্রুত সামনে আনা হয়েছে। এক, জামায়াতের নেতৃত্ব ও দলকে নিশ্চিহ্ন করা। এতে বাইরের কোনো দেশের চাপ থাকতে পারে। দুই, বিরোধী দল নতুন করে আন্দোলনের যে ঘোঁট পাকছে—তা অঙ্কুরেই নস্যাৎ করা। তিন, গোলাম আযমের জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সরকারের জন্য যে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা আড়াল করা।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘গোলাম আযমের জানাজায় মানুষ পঙ্গপালের মতো ছুটে এসে সরকারকে একটা বার্তা দিয়েছে। তা হচ্ছে, সরকার জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছে, জনগণ তা বিশ্বাস করে না। জানাজায় মানুষের জাগরণ দেখেই মাত্র চার কার্যদিবসে তড়িঘড়ি করে তিনটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।’

আমান আযমীকে নিয়ে গুঞ্জন: গোলাম আযমের জানাজায় তাঁর ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীর নামাজ পড়ানো, তার আগে বাবা সম্পর্কে উত্তেজক বক্তব্য, এরপর গেলাম আযমের জানাজায় বিএনপির কেউ না আসায় ফেসবুকে বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে তাঁর মন্তব্যের পর গুঞ্জন ছড়ায় যে আমান আযমী জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ এ নিয়ে মাতামাতি শুরু করে।
অবশ্য, আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ গুঞ্জন নাকচ করে দেন। গত বুধবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখন রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করছি না। এ মুহূর্তে আমি দেশে কিছু দক্ষ সুনাগরিক তৈরি করতে একটি স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি।’
জামায়াতের নেতাদের বড় একটি অংশ মনে করে, গোলাম আযমের মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় নেতা-কর্মীদের লক্ষণীয় উপস্থিতি দলকে নতুন করে সরকারের রোষানলে ফেলেছে। যদিও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে জনসভার পর গত ২৫ অক্টোবর গোলাম আযমের জানাজা ঘিরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বায়তুল মোকাররমে নীরবে দলীয় জনশক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পান।
যদিও বায়তুল মোকাররমে জানাজা অনুষ্ঠানে জামায়াতের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন আমান আযমীসহ দলের একাধিক নেতা। বরং গণমাধ্যমে আমান আযমী জানাজার স্থানের নাম আগাম প্রকাশ করায় জামায়াতের নীতিনির্ধারকেরা অস্বস্তিতে পড়েন। সরকার ও বিরোধীপক্ষ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, সে আশঙ্কায় ভুগছিলেন নেতারা।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দুটি প্রস্তাব by মো. সালাহ উদ্দীন

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র। প্রায় প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে বহু প্রাণ, স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু পরিবার। তবে সম্প্রতি নাটোরের বড়াইগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা অতীত রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলা যায়। একটি দুর্ঘটনায় ৩৬ জন মানুষের প্রাণ চলে যাওয়া খুবই মর্মান্তিক। এক একটা দুর্ঘটনা ঘটার পর দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। অতীতে মানিকগঞ্জ জেলায় দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন সচিব এবং তারেক মাসুদ ও মিশুক মনির নিহত হওয়ার পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। দিন দিন যেন এই লাশের মিছিল বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন হল, কেন এত দুর্ঘটনা? এর থেকে পরিত্রাণের উপায়ই বা কী? পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট দুর্ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার সাতশ’রও বেশি। সড়ক-মহাসড়কের এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। আর প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনার পরই গাড়িচালকদের অদক্ষতার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
আমি মাঠ পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তা। চাকরি জীবনে বহু দুর্ঘটনা দেখার সুযোগ হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার বহু কারণ রয়েছে। এসব বিষয়ে আমার কিছু লেখার আছে। এ বিষয়ে স্বল্প পরিসরে বিস্তারিত বর্ণনা করা সম্ভব না হলেও আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ চালক নিজে। আমাদের দেশের চালকদের রোড সাইন সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। কোথায় ওভারটেক করা যাবে এবং কোথায় যাবে না, সেটা বেশিরভাগ চালক জানে না। নাটোরের দুর্ঘটনাটি অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, চালকের ইচ্ছামতো ওভারটেক করার প্রবণতা ছিল। সবার জানা উচিত মহাসড়কে কোনো টার্নিং পয়েন্ট বা ব্রিজের কাছে রাস্তার মাঝখান দিয়ে যে সাদা লম্বা দাগ চলে গেছে সেটাকে বলা হয় ওভারটেকিং নিষিদ্ধ সাইন। একজন চালকের উচিত ওভারটেকিং নিষিদ্ধ সাইন থাকা অবস্থায় ওভারটেক না করে রাস্তার বাম পাশ দিয়ে গাড়ি চালানো। এ পর্যন্ত যত মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগ ঘটেছে এই টার্নিং পয়েন্টে। এটাকে বর্তমানে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়াভাবে খেয়ালখুশিমতো ওভারটেক করা।
আমাদের দেশের চালকদের দেখে মনে হয়, তাদের দেখার কেউ নেই। তাই তারা ইচ্ছামতো বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। বর্তমানে বেশি বেপরোয়া বাসের চালকরা। একজন বাসচালকের মনে রাখা উচিত তার ওপর নির্ভর করছে বাসে অবস্থানকারী সব যাত্রীর জীবন এবং তার সঙ্গে জড়িত তাদের পরিবারের জীবন।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমি দুটি প্রস্তাব রাখতে চাই। দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। যেহেতু বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটায় বাস ও ট্রাক, তাই রেজিস্ট্রেশন দেয়ার সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক প্রতিটি গাড়িতে স্পিড লিমিট গভর্নর সিল সংযুক্ত করে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ৮০-এর দশক পর্যন্ত এ পদ্ধতির প্রচলন ছিল। এক্ষেত্রে বাস ও ট্রাকের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে গভর্নর সিল সংযুক্ত করা প্রয়োজন। চালক পরবর্তী সময় এই সিল পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে অবশ্যই গাড়ি আটকের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
আমার দ্বিতীয় প্রস্তাব, যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ চালক নিজে, তাই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশকে পর্যাপ্ত স্পিড ডিটেক্টর সরবরাহ করা যেতে পারে। স্পিড ডিটেক্টর সম্পর্কে আমাদের অনেকের ধারণা নেই। এটা দেখতে অনেকটা মুভি ক্যামেরার মতো। একজন পুলিশ সদস্য কোনো গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে গাড়ির গতি ডিটেক্ট করে সামনের টিমকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে অবহিত করে সেই গাড়ির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দিলে চালক গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকবে। কারণ তখন প্রত্যেক চালক মনে করবে অতিরিক্ত গতির কারণে যে কোনো সময় তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তখন সে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাবে না। এই টিমের সঙ্গে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকতে পারে। মহাসড়কে চালক অপরাধ করলে নগদ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা করে একটা টিমকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা নির্ধারণ করে দিলে এবং তারা স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রসিকিউশন দ্বারা নগদ জরিমানা আদায় অব্যাহত রাখলে চালক বেপরোয়া ও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে সাহস পাবে না। এক্ষেত্রে যে নগদ জরিমানা করা হবে সেই অর্থের ৫০ শতাংশ ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুরো টিমকে প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হলে পুরো টিম কাজ করতে উৎসাহিত হবে। ফলে ওই কাজে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। বাকি ৫০ শতাংশ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা যেতে পারে।
এ পদ্ধতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় দুটি করে টিম কাজ করতে পারে। আমার ধারণা, সারা দেশে মহাসড়কে যদি একযোগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্পিড ডিটেক্টর দিয়ে স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে নগদ জরিমানা আদায় করা চলতে থাকে, তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে সারা দেশের রাস্তায় গাড়ি চলাচলে শৃংখলা ফিরে আসাসহ জাতি অভিশপ্ত দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাবে। জরুরি ভিত্তিতে ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্তৃক প্রত্যেক চালককে ট্রাফিক আইন ও রোড সাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
মোঃ সালাহ উদ্দীন : পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন)

বড় হামলা চালাতে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আল–কায়েদা

ভারতীয় উপমহাদেশে বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য একজোট হয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা ও ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন (আইএম)। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ দাবি করেছে। তারা বলছে, সংগঠন দুটির মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আটক কয়েকজনের জবানবন্দি থেকে বিষয়টি জানা গেছে। খবর রয়টার্সের। ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা আল-কায়েদা ও আইএম জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা উদ্ঘাটন করতে পেরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের অপহরণ এবং ভারতকে অব্যাহত সংঘাতময় সিরিয়া ও ইরাকে পরিণত করা। সম্প্রতি আল-কায়েদা ভারতীয় দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শাখা সংগঠন খোলার ঘোষণা দেয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আইএম সদস্যরা আল-কায়েদা এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেছে। প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতে এখন পর্যন্ত অনেকটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিদ্যমান। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নতুন এসব তথ্য-উপাত্ত জানান দিচ্ছে, এ দেশটিতেও জঙ্গিবাদী কার্যকলাপের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের দাবির সপক্ষে দুটি ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
একটি হলো সীমান্তের ওপারে পাকিস্তান ওয়াগাহতে গত রোববারের ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা। অন্যটি হচ্ছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি নৌ-বন্দরে গত মঙ্গলবারের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্কতা। ওই সতর্কবার্তার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি যুদ্ধজাহাজকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছিল। জঙ্গিরা যে ঐক্যবদ্ধ এবং তাদের তৎপরতা যে আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, তার প্রমাণ হিসেবে এসব ঘটনাকে তুলে ধরছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ভারতের সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) প্রধান শারদ কুমার বলেন, ‘আমরা যে বিষয়টি খোঁজার চেষ্টা করছি, তা হলো, আল-কায়েদা বা আইএসের সঙ্গে স্থানীয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর কী ধরনের যোগসূত্র রয়েছে।’ আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে আল-কায়েদার পাশাপাশি ভারতকেন্দ্রিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএমের কিছু সদস্যও লড়াইরত রয়েছে বলে এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। আইএমের সন্দেহভাজন ১১ সদস্যের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগপত্র তৈরি করেছে এনআইএ। অভিযোগপত্রটির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে এনআইএ ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গিদের মধ্যে ইন্টারনেটে যোগাযোগ এবং সরাসরি বৈঠকসংক্রান্ত শত শত ঘটনার উদাহরণ দিয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আইএমের প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ ভাটকলকে তাঁর অনুসারীদের বলতে শোনা গেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সঙ্গ ত্যাগ করে আল-কায়েদার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এখন জরুরি। এ ছাড়া পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নিষেধ সত্ত্বেও আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের উপজাতি-অধ্যুষিত এলাকায় আল-কায়েদার নেতাদের সফর নিয়েও কথা বলেছেন ভাটকল।

বন্ধ করতেই হবে এমন আত্মঘাতী ব্যবসা by ড. বেগম জাহান আরা

ইতিহাস বলে, মানুষ বেচাকেনার ব্যবসাটা বহু পুরনো। কোনো বড় কাজে শ্রম দেয়ার জন্য জনবল না কিনলেই চলত না। অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশের মানুষদের ক্রীতদাস হিসেবে ব্যবহার করেছে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়া। আরব দেশে ক্রীতদাস দিয়ে কাজ করানোর রেওয়াজ ছিল। চীনে মহাপ্রাচীর নির্মাণের সময় অগুনতি অলিখিত ক্রীতদাস শ্রম দিয়েছে। রোম সাম্রাজ্যের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার মধ্যে মিশে আছে ক্রীতদাসের শ্রম-ঘাম-অশ্র“। আমেরিকায় নগরায়ণের কাজে ক্রীতদাসের রীতিমতো অংশীদারিত্ব থাকার কথা। ব্রিটেনের সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের ইতিহাসে ভদ্র ক্রীতদাস হিসেবে আমরাও নথিভুক্ত ছিলাম একদা। ইজমের দেশে সর্বহারা নামের কাঙাল মানুষদের ক্রীতদাস ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না আমি। শ্রমের ফসল তারা রাষ্ট্রকে দিতে বাধ্য থাকত। এমনকি আমাদের দেশের পোশাক শ্রমিকরাও তো বলতে গেলে আংশিক ক্রীতদাসই। শ্রমের ফসলে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। আমরা যে গৃহকর্মী
খাটাই, তারাও তো ক্রীতদাসের সমগোত্রীয়ই। পরিবারের ভালো-মন্দে তাদের কোনো ভাগ থাকে না বলা যায়।
তারপরও শ্রমদানের জন্য পাওয়া যায় অজস্র মানুষ। দেদার চলে আদম ব্যবসা। বিদেশে গিয়ে তাদের অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। বিনিময়ে কিছু টাকাও পায় তারা। কপাল খারাপ হলে পড়ে যায় ঠগের পাল্লায়। পেটে-ভাতে খাটে। দেশের নগণ্য সহায়-সম্পদ বিক্রি করে দালালের হাতে তুলে দেয় যে আশায়, তা মাটি হয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় পরিবার, জীবন। চোরাপথ ক্রীতদাসত্বের জন্য সমর্পিত জীবনে কখনও জোটে সলিল সমাধি। শোক তাপেরও থাকে না কেউ। আমাদের দেশের প্রায় ৭০-৮০ লাখ (টকশোতে শোনা) লোক বর্তমানে শ্রমদাস। রাজনৈতিক নেতারা তাদের শ্রমদানের টাকার গল্প করেন বুক ফুলিয়ে। তবে কোনো গল্প শোনা যায় না শ্রমদাসদের। কোনো পরিকল্পনার কথাও জানা যায় না তাদের উন্নত মানবিক জীবনযাপন নিয়ে। যেন এটাই স্বাভাবিক!
তবু বাংলাদেশের গ্রামীণ সহজ-সরল মানুষগুলো শ্রমক্রেতাদের ফাঁদে পা দেয় কিছু একটা করে আয়-রোজগারের আশায়। উন্নত জীবনযাপন পরের কথা, খেয়ে-পরে বাঁচতে চায় মানুষগুলো। জনবহুল এ দেশে গিজগিজে মানুষ। ঘাস-লতা-পাতার মতো জন্ম নিচ্ছে অপরিমাণ সংখ্যায়। খেয়ে না খেয়ে অপুষ্টি আর অসুখ-বিসুখের মধ্য দিয়ে এক সময় বড়ও হয়ে উঠছে। শিশু বয়সেই বাবা-মা তাদের ঠেলে দেয় রোজগারের জন্য। না হলে খাবে কী? আমরা দেখি কচি কচি শিশুরা বাজারের মিনতি, গ্যারেজের পিচ্চি, হোটেল-রেস্তোরাঁর পিচ্চি কখনও ফুল, বাদাম বা ভুট্টার খৈ বিক্রি করে। এসবে পেট ভরে কতটুকু, জানি না। তবে দারিদ্র্য জড়িয়ে থাকে তাদের চেহারায় ও পোশাকে। এরা যখন আরেকটু বড় হয় তখন বুঝতে পারে, এভাবে চলবে না। কিছু একটা করতে হবে। দালালরা অপেক্ষা করে থাকে এ সময়টার জন্য। তারা টোপ ফেলে। বিদেশে রোজগারের স্বপ্ন দেখায়। তার পরের কথা সব না হলেও তথ্যপ্রযুক্তির বরাতে আজকাল অনেকটাই জানা যায়। এই যেমন জানা গেল থাই জঙ্গলে বাংলাদেশী ক্রীতদাসের খবর।
প্রায় প্রতিটি দৈনিকে এবং টিভি চ্যানেলের বরাতে জানা গেছে, থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গল থেকে ১৩০ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে থাই কর্তৃপক্ষ, যাদের ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রির জন্য সেখানে নেয়া হয়। ওদের ভালো চাকরির প্রলোভন দিয়ে অপহরণের পর জাহাজে করে থাইল্যান্ডে নেয়া হয়। তারপর তারা স্থান পায় নির্জন জঙ্গলে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই, পরনে সাধারণ লুঙ্গি, গেঞ্জি, শার্ট। টিভিতে দেখা গেল অসহায়ের মতো তারা কাঁদছে। চরম অনিরাপত্তায় অসহায়বোধ করছে। কেউ কেউ দেশে ফিরে আসতেও চাইছে।
বিবিসির বরাতে জানা যায়, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে একটি চক্র রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের শ্রমিকদের দিয়ে ক্রীতদাসের মতো কাজ করাচ্ছে। কাজের জায়গা হল বিভিন্ন খামার। এসব প্রাণীসদৃশ মানুষকে বাংলাদেশ ছাড়ার পর ওষুধ খাইয়ে, হাত-পা বেঁধে নৌকায় করে থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়। ওই নৌকায় প্রায় ৩০০ বন্দি ছিল। ওদের থাইল্যান্ডের উপকূলে জঙ্গলের মধ্যে লুকানো কিছু ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিক্রি করে দেয়া হয় দাস শ্রমিক হিসেবে (যাযাদি, ১৯.১০.১৪)। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ধরা পড়েছে ১৩০ বাংলাদেশী। বাকি ১৭০ জন তাহলে কোথায় গেল? দ্বিতীয় প্রশ্ন, বাংলাদেশ ছাড়ার পর কথাটার মানে কী? কোন পয়েন্টে ওরা বাংলাদেশ ছাড়ে? তৃতীয় প্রশ্ন, বাংলাদেশে থাই দাস ক্রেতাদের সহযোগী কারা? নিশ্চয় এ দেশেও আছে সংগঠন বা কোনো চক্র, যারা আদম বিক্রিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে। থাইল্যান্ড থেকে এসে বাংলাদেশের মাটি থেকে শত শত লোক চুরি করে নিয়ে যাওয়া তো সহজ কাজ নয়! অর্থাৎ থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী নিরন্ন মানুষদের বিক্রি হওয়ার ঘটনায় এ দেশের দুষ্টচক্রও
নিশ্চয় জড়িত। তারা কারা? শুধু থাই দস্যু এবং মানব ক্রেতাদের কথা সামনে আনলে দাস ব্যবসার পুরো ঘটনা জানা যাবে না। বিবিসি সূত্র বলছে, পাচারকারী চক্রের হোতারা প্রভাবশালী এবং উচ্চ পর্যায়ে তাদের যোগাযোগ খুব ভালো। তারাই বা কারা?
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, থাই দালালরা বন্দি মানুষদের শুধু খাওয়া-পরার কষ্টই দেয় না, প্রচণ্ড মারধরও করে। মুক্তি পাওয়া দাসশ্রমিক আবদুর রহিম জানায়, তাদের জঙ্গলে নিয়ে রাখা হয়েছিল এবং ১০ দিন কোনো খাবার দেয়া হয়নি। তারা শুধু গাছের পাতা খেয়ে বেঁচে ছিল। থাই দালালরা আবদুর রহিমকে এমনভাবে মারধর করেছে যে সে এখন ভালো করে হাঁটতে পারে না। কোনোমতে খুঁড়িয়ে চলে। এমন খবর পত্রিকায় প্রকাশের পর দেশে বা থাইল্যান্ডে কী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, জানি না। আমার ক্ষমতা থাকলে তাকে বিশেষ প্লেনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতাম। ওই শ্রমিকের দল থেকে ৬০ জন নিখোঁজ। দুদেশের শাসকদের একটা জবাবদিহি এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই থাকতে হবে। নইলে অভিধান থেকে ফেলে দিতে হবে জবাবদিহি শব্দটি।
থাইল্যান্ডের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ছাতা ধরেছে থাইদের মাথায়। থাই দাস ক্রেতার হোতাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না থাই আইনশৃংখলার লোকজন। পাচারের মাধ্যমে আমদানিকৃত বাংলাদেশী ক্রীতদাস আগেও ধরেছে থাই পুলিশ প্রশাসন। তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে থাই জেলে পাঠানো হয়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবার তাদের পাচারকারীদের কাছেই বিক্রি করা হয়েছিল (যাযাদি, ১৯.১৪.১০)। ঘটনাটা কি দাঁড়াল তাহলে? বাংলাদেশী মানুষগুলো থেকেই গেল থাইল্যান্ডে, কখনও জঙ্গলে বন্দি, কখনও জেল, কখনও শ্রমদাস? বাংলাদেশের কোনো মাথাব্যথা নেই ওই অসহায় পাচারকৃত ও বিক্রীত মানুষদের জন্য? কেউ খোঁজ করবে না, ওদের দেশ থেকে পাচার করতে সাহায্য করল কারা বা কেন ওরা নিজেদের জীবন বিক্রি করে দিল? শখে নিশ্চয় নয়? নিশ্চয় দারিদ্র্য? বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আবেদন, আপনারা কিছু করুন। মানবতার দরজায় প্রতিকার ও
প্রতিবাদের ডঙ্কা বাজান।
দেশের ভেতরেও দাস ব্যবসা তথা মানুষের শ্রম ঘণ্টা নিঃশর্তভাবে কেনার রেওয়াজ আছে। কয়েক মাস আগে এক টিভি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে মানুষ বিক্রি হচ্ছে শ্রমদাস হিসেবে। কেউ এক সপ্তাহ, কেউ দুই সপ্তাহ বা এক মাস, কেউ বা আরও বেশি সময়ের জন্য। যারা দাস কিনবে তারা কথা বলছে দাস বিক্রেতাদের সঙ্গে। হবু দাসরা প্রাণীমাত্রের মতো নির্বাক। ওরা কথা বলতে পারে কিনা বোঝা যায়নি। পরনে শার্ট, পাজামা বা প্যান্ট। দাস ক্রেতারা মৌসুমি কোনো কাজের চাপ সামাল দেয়ার জন্য সস্তায় শ্রম কিনতে চায়। আদম ব্যবসায়ীরা নিতান্ত অসহায় মানুষদের জোগাড়ও করছে। গরু-ছাগলের মতোই তাদের প্রকাশ্যে শ্রমবাজারে তুলছে। গলায় দড়ি বাঁধা নেই, এটুকুই তফাত। সন্দেহ নেই, এ সচিত্র টিভি প্রতিবেদন দেখেছেন বহু মানুষ। কিন্তু এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা প্রতিবাদ কিছুই হয়নি। যেন বাতাস। যেন নিউমার্কেটের মোড়ে প্রতি সকালে ডালি কোদাল ইত্যাদি নিয়ে বসে থাকা শ্রমজীবী মানুষের ঘটনার মতোই স্বাভাবিক ঘটনা। তাই কি?
এক আত্মীয় বলল, গ্রামাঞ্চলে শস্য সংগ্রহের মৌসুমে শ্রমদাস কেনা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কথাটা আমিও শুনেছি কয়েকবার। ঘরবাড়ি, সংসার, সন্তান রেখে মানুষ দাস হয়ে চলে যায় মালিকের এলাকায়। টলস্টয়ের উপন্যাসেও পেয়েছি, জমিদাররা শস্য কাটার মৌসুমে শ্রমদাস জোগাড় করত। মাঠেই তাদের কাজ, খাওয়া-দাওয়া এবং রাতের ঘুম খড়ের ওপর। সোমত্ত বা সন্তানবতী মেয়েদের শরীরও তাদের দখলে থাকত। দারিদ্র্যের নিষ্পেষণে সতীত্ব-মাতৃত্ব-নারীরত্ব মিশে যেত নগণ্য ধূলিকণার সঙ্গে। সেই দিনকাল তো চলে গেছে। গেছে জমিদারি ও জমিদারদের দাপট। কিন্তু যায়নি মানবতার অপমান-লাঞ্ছনা আর নির্লজ্জ শোষণ। এখনও নাকি সচ্ছল গৃহস্থ ধানপানের মৌসুমে চুক্তি বিয়ে করে বউ আনে ঘরে। আসলে আনে শ্রমদাসী। এসব কথা তো মোটামুটি সবাই জানে। কিন্তু প্রতিকার বা প্রতিবাদের পথে পা রাখে না কেউ। না রাজনীতির নেতারা, না মানবাধিকার কর্মীরা, না শিক্ষিত বুঝমান সুশীল সমাজের ভণ্ড লোকজন। কারণ, যে দেশে অর্ধেকেরও বেশি লোক অশিক্ষার আঁধারে প্রাণীমাত্রের জীবনযাপন করে, যে দেশের কোটি কোটি শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের পেটে ক্ষুধার আগুন জ্বলে, তাদের জন্য কর্মশূন্য, মমতাশূন্য মানবতার কথা শোনাতে যাওয়ায় সাহসই নেই কারও। তাই সব জেনেও আমরা ভোন্দাগাজী সেজে বসে থাকি। হজম করি নিজেদের প্রতি নিজেদের বঞ্চনা।
পত্রপত্রিকার পাতা খুললে দেখি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জিডিপি বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে মানুষের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। জিপিএ-পাঁচ পাওয়া কিশোরদের মেধার প্লাবনে ভাসছে দেশ। অবশ্যই আলোকিত মানুষেরা এমন সব ইতিবাচক প্রাপ্তিতে খুশি। তাই বলে ডিজিটাল নকল, প্রশ্ন ফাঁস, কোচিংয়ের রমরমা ব্যবসা, নগরে প্রতিদিন কয়েক কোটি শ্রমঘণ্টার নিশ্চিত অপচয় জ্যামের কারণে, হাইওয়েতে নিত্য মারাত্মক গাড়ি দুর্ঘটনা এবং পথচারীর অপঘাত মৃত্যুকে না দেখে থাকা যায় না। লোভজনিত দুর্নীতি, খুন, অপরাধীর সাজা না হওয়া, নারী নির্যাতন, হতাশালগ্ন পারিবারিক খুন, কিশোর অপরাধ, নেশা বা ড্রাগ সম্পর্কিত অপরাধ, মানি লন্ডারিং ইত্যাদিকে ম্লান করে দিয়েছে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে বন্দি অসহায় ক্রীতদাসদের পরিস্থিতি। মানবতার এমন অপমান একুশ শতকে কী করে হতে পারে?
বিশ্বাস করি, দ্বান্দ্বিকতা শুধু কোনো দার্শনিক তত্ত্বের কথা নয় বা কোনো ইজমের একচেটিয়া জ্ঞানচর্চার বিষয় নয়, জীবনের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দই সব দ্বান্দ্বিকতার মূল। আরও বিশ্বাস করি, দেশটা সত্যিই সোনার দেশ। কী নেই এ দেশে? বিলাসের হ্যাংলামি আর দুঃখবোধের অযথা ন্যাকামি বাদ দিতে পারলেই সাধারণ এই আমরা খেয়ে-পরে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারব। পারব ভালো-মন্দের দ্বান্দ্বিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে। শুধু চাই সুশাসন। চাই দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন। তখন সাধ্য কী এ দেশের জনসম্পদরূপী মানুষকে কেউ ক্রীতদাস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে? আমরা ক্রীতদাস ব্যবসা চক্রে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। আর চাই, থাইল্যান্ডের ক্রীতদাসদের দেশে ফেরত এনে পুনর্বাসনের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা। দেশেই তো কত কাজ! প্রয়োজন শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। শোষণ-বঞ্চনা নির্মূল করা। মানবতার প্রতি মানুষকে সচেতন করে তোলা। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা। আমাদের দেশের মানুষ আমাদেরই দেশজ আত্মীয়, অন্য দেশের ক্রীতদাস হয়ে ইতর জীবনযাপন করতে পারে না কিছুতেই। বন্ধ করতেই হবে এমন হীন আত্মঘাতী ব্যবসা।
ড. বেগম জাহান আরা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, গবেষক