Monday, May 28, 2018

ভোট রাজনীতিতে নয়া জোটের আওয়াজ

বছর শেষে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে এ নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন আর বিতর্ক থাকলেও বিরোধী জোটের দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। আর সরকারি দল বলছে, সংবিধান অনুয়ায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনের সময় সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে। নির্বাচনকালীন সরকারের পরিসর হবে ছোট। এমন পাল্টাপাল্টি আলোচনার মধ্যে নির্বাচনী বড় জোট গঠনের চেষ্টায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। এক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলগুলো। ঈদের পর থেকেই এই ঐক্য প্রক্রিয়া শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতারা। প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হলে জাতীয় সমাবেশে ডেকে ঐক্যের ঘোষণা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
অনেক দিন থেকেই দুই জোটের বাইরে থাকা ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। ঐক্য নিয়ে কথা বললেও মতের ঐক্য না হওয়ায় নেতারা এক প্ল্যাটফরমে আসতে পারেননি। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে বৃহৎ রাজনৈতিক জোট গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন নেতারা। বিশেষ করে বিরোধী জোট ২০ দল একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবিতে জাতীয় ঐক্যের আহবান করে আসছে অনেক দিন থেকে। একই দাবিতে জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এসব দল ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকদেরও এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। সূত্র বলছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহৎ নির্বাচনী জোট গড়ে তুলাই তাদের লক্ষ্য। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বিরোধী জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের বাইরে থাকা এসব দলের নেতারা প্রায়শই ২০ দল বা সমমনা দলের রাজনৈতিক সভা সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি বিএনপি ঘরানার বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতেও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। রাজনীতিবিদদের সম্মানে আয়োজিত বিএনপির ইফতার মাহফিলে ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা অংশ নেন। যদিও ওই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর তার বক্তব্যে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ার প্রসঙ্গ এনে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
পরে অবশ্য তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এদিকে সর্বশেষ গতকাল নাগরিক ঐক্যের ইফতার মাহফিলে ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। ওই ইফতার পার্টিতে দেয়া বক্তব্যে নেতারা প্রায় সবাই জাতীয় ঐক্যের আহবান জানান। নেতারা বলছেন, সরকারের বাইরে থাকা প্রায় সব দলের মধ্যে বৃহৎ ঐক্যের বিষয়ে চিন্তা করছেন তারা। আর এটি নির্বাচনের আগেই হবে। তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতকে কোনভাবেই এই রাজনৈতিক ঐক্যে স্থান দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব মানবজমিনকে বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আমরা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট শরিক এবং জামায়াত ছাড়া অন্য সব দলের মধ্যে এই ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি নির্বাচনের আগেই তেমন একটি বৃহৎ ঐক্য গড়ে উঠবে। এবং এই ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আদায় করা হবে। তিনি বলেন, আগামী মাসের শুরুতে জেএসডি একটি গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করবে। এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা সমমনা দল ও পেশাজীবীদের কাছে ঐক্যের একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরব।
গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আসছে ঈদের পরে জাতীয়ভাবে মহাসমাবেশ করে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কাজ চলছে। জাতীয় ঐক্যে কোন কোন দল থাকবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখন ক্ষমতাসীন দল ছাড়া বাকি সবাই জাতীয় ঐক্য চাইছে। আশা করি ক্ষমতাসীনদের বাইরে অন্য সবাই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে। বিরোধী রাজনৈতিক জোট বা বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন সম্ভাবনা আছে। একটি প্রক্রিয়া চলছে। যথা সময়ে সবকিছু জানা যাবে। এদিকে রাজনৈতিক জোট গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র বলছে, একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টির অবস্থানও তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিরোধী ছিলেন। যদিও পরে পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি অবস্থান বদলান। এখন যদি তার দল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চায় তাও বিবেচনা করা হবে। নেতারা বলছেন, এরশাদ বরাবরই সুবিধা বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সামনে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি হয়তো নিজেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবেন।
সূত্র বলছে, তৃতীয় রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টায় থাকা দলগুলো আগামী নির্বাচনের আগেই তাদের জোটসঙ্গী চূড়ান্ত করতে চায়। পৃথক জোট গঠন এবং বিরোধী জোটের সঙ্গে মিশে বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এই দুই বিকল্প নিয়ে নেতারা কাজ করছেন। সূত্র বলছে, বৃহৎ জোট গঠনের দিকেই নেতারা বেশি আগ্রহী। এলক্ষ্য সামনে রেখেই গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বার বার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান করে আসছেন। নানা কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া জাতীয় নেতাদেরও ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এছাড়া দেশের খ্যাতিমান পেশাজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিকরাও থাকবেন এ প্রক্রিয়ায়। এ ছাড়া বাম ধারার কয়েকটি দলও যুক্ত হতে পারে ঐক্য প্রক্রিয়ায়। এসব ছোট দলের নেতাদের দাবি আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হলেও বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের আগস্টে একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটানোর জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গণমাধ্যমে দেয়া এক যৌথ ঘোষণায় তারা এ ঐক্যের ডাক দেন। যৌথ ঘোষণায় তারা আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং অবাধ, সুুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনী আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে এবং দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছাত্রসমাজ, শিক্ষিত ও সুধীজন, আইনজ্ঞ, চিকিৎসক, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারবর্গ, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক, সাবেক সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য পেশাজীবী মানুষের সমন্বয়ে বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।
তাদের এ ঐক্যের আহ্বানের পর যদিও জোট গঠন প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে সম্প্রতি তারা তৎপরতা জোরদার করেছেন। সমমনা দলগুলার ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা অংশ নিচ্ছেন। আলাপ আলোচনা করছেন। অভিন্ন কণ্ঠে বক্তব্য দিচ্ছেন। সামনে নির্বাচনী জোট গঠন বা জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন নেতারা।

সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি সংসদীয় কমিটি

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সঙ্গে আরো আলোচনা করে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে ওই আইনের প্রস্তাবিত সংশোধিত ধারাসমূহের উপর খসড়া সুপারিশমালা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন। এসময় কমিটির সদস্য ড. হাছান মাহমুদ, গোলাম মোস্তফা, এসএম আবুল কালাম আজাদ, মোহা. মামুনুর রশিদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছলিম উদ্দিন তালুকদার, মো. আব্দুল কুদ্দুস ও সেলিনা আক্তার বানু এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে  অংশ নেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবিরসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা।
কমিটি সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের জন্য একটি সংসদীয় সাব-কমিটি গঠিত হয়। সেই সাব-কমিটির দেয়া প্রতিবেদন নিয়ে কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে সংসদীয় সাব-কমিটির প্রতিবেদনে উল্লিখিত বেশকিছু সুপারিশ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। তারা অভিযোগ করেন, একতরফাভাবে চাপিয়ে দেয়া এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বকীয়তা নষ্ট হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক প্রকার সরকারি হয়ে যাবে। কমিটি সূত্র আরো জানায়, গত বছরের ৮ই অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাব-কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য, শিক্ষক নিয়োগ কমিটি, অর্থ কমিটি এবং শিক্ষার্থী ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধি ও অনুমোদন বাধ্যতামূলকসহ বেশকিছু সুপারিশ করা হয়। ওই বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই সুপারিশের বিষয়ে মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কমিটির বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী বৈঠকে হবে বলে কমিটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

‘সিজারিয়ান ডেলিভারি মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক’

এক হাজার মায়ের মধ্যে ১৫ জনের সিজারিয়ান ডেলিভারি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য হার হলেও বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালের এই হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। আজ ২৮শে মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সিজারিয়ান ডেলিভারির এই হার মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। অপ্রয়োজনে সিজার মায়ের জন্য ক্ষতিকর। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, এখন এটা (প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির হার) ৪২ শতাংশ, এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া দরকার। ক্লিনিক বা হাসপাতালে যদি ডেলিভারি না হয়, বাসাবাড়িতে হয় যেখানে প্রশিক্ষিত নার্স বা মিডওয়াইফ থাকে না। সেজন্য মা ও শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের আরো সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের অভিযোগ রয়েছে। এটা কমানোর কী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার- জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কথাটা সঠিক। আমাদের দেশে সি-সেকশন (সিজারিয়ান ডেলিভারি) অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্রহণযোগ্য হার হচ্ছে প্রতি হাজারে ১৫ জন। সরকারি হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ হয়। টার্শিয়ারি লেভেলে হাসপাতালেও হয়ে থাকে। জটিল কেসগুলো আসে বলে ওটা (সিজারিয়ান ডেলিভারি) একটু বেড়ে যায়। ইদানীং কিছু পরিসংখ্যান পেয়েছি বেসরকারি হাসপাতালে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সিজারিয়ান ডেলিভারি করা হয়। তিনি বলেন, এটা কমানোর জন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি, এখন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ফরম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে, চেকলিস্ট। সেই ফরমে বিভিন্ন ধরনের রিকিয়্যারমেন্ট আছে। সেটা ফিলাপ করে আমাদের দিতে হবে। রোগীর টোটাল তথ্যটা- কেন, কী কী কারণে তাকে সিজার করা হলো, পরিবারের অনুমোদন নেয়া হয়েছে কি-না, এটার জটিলতা ছিল কি-না। বিভিন্ন ধরনের কমেন্ট ওখানে আছে, এটা আমাদের কাছে আসবে। জাহিদ মালেক বলেন, অযথা সিজার না করার জন্য সবাইকে আমাদের বলা আছে। দুই মাস হলো হাসপাতালগুলোতে ফরম দেয়া হচ্ছে, আমরা এখন ফিডব্যাক করছি।
ফরম ফিলাপ হয়ে আসার পর আমাদের একটি বিশেষজ্ঞ দল থাকবে, তারা ওটা দেখবেন। দেখার পর কোথাও গাফিলতি পাওয়া গেলে অবশ্যই যে শাস্তি বিধানে আছে, তা দেব। যে প্রতিষ্ঠান এই কাজ করবে তাদের জরিমানা ও বন্ধ করে দেয়া হবে। অন্যায় কাজ করলে তো ছেড়ে দেয়া হবে না। দেশে সিজারিয়ানের বর্তমান হার নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য উদ্বেগজনক মনে করেন কি-না জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কিছুটা তো উদ্বেগজনক বটেই। আমাদের কখনই কাম্য নয় ৭০/৮০ শতাংশ সিজার হোক। যেখানে অ্যাকসেপ্টট্যাবল লিমিট হলো ১৫ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনে সিজার করা হলে সেই মায়ের তো ক্ষতি হলো। তাদের দুর্বল করে দিলেন। মিডওয়াইফ তৈরি করতে পারলে সিজার কমে যাবে। কারণ ডাক্তারের মাধ্যমে ডেলিভারি করলে তিনি সময় দিতে পারেন না। একটি ডেট দিয়ে ডাক্তার একটি হাসপাতালে যায়, সেখানে মায়েরা অপেক্ষা করেন, সিজার করে চলে আসেন। মিডওয়াইফ থাকলে তিনি সময় দেবেন, ডেলিভারিতে তো সময় লাগে। প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মদসহ মন্ত্রণালয়ের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মহাদেবপুরের টুপি by এম সাখাওয়াত হোসেন

নওগাঁর মহাদেবপুরের টুপি রপ্তানি হচ্ছে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। সংসারের কাজের পাশাপাশি টুপি তৈরি করে এই উপজেলার ১০ হাজার নারী স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। সারা বছর টুপি তৈরি হলেও পবিত্র ঈদ উপলক্ষে রমজান মাসে বেড়েছে কাজের চাপ। ইতোমধ্যেই নওগাঁর মহাদেবপুরের টুপি মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। বিশেষ করে মহাদেবপুর উপজেলা তৈরি টুপি ওমানের জাতীয় টুপির চাহিদা মিটাচ্ছে। নিপুণ কায়দায় সেলাই ও ভাঁজ করে কাপড় দিয়ে বানানো হচ্ছে টুপি। সুইয়ের ফোড়ে নান্দনিক নকশা ফুটে উঠেছে এক এক কাপড়ে এক এক রকম টুপি। এসব টুপি তৈরি করছেন মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা। টুপি তৈরীর আয় থেকে অভাবেব সংসারের সচ্ছলতা ফিরেছে, এসেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্য। উপজেলার শিবরামপুর, রামচন্দ্রপুর, মধুবন, খাজুর, বিলমোহাম্মদপুর, চাঁন্দাশ, রামরায়পুর, চককন্দরপুর, শিবপুর, শিবগঞ্জ, বাগডোব, ডিমজাউনসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক নারী টুপি সেলাই করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ঈদকে সামনে রেখে তাদের বেড়েছে কাজের ব্যস্ততা। কেউ বাড়ির উঠানে আবার কেউ দলবদ্ধ ভাবে টুপি তৈরী করছেন। এসব কারিগরদের কাছে মহাদেবপুরের খুচরা ব্যবসায়ীরা বিদেশী ব্যবসায়িদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশার ছাপ দেওয়া সাদা রঙের টুপির কাপড় ও সতা কারিগরদের পৌছে দেন। আগে যে পরিবারগুলো শুধুমাত্র পুরুষ সদস্যের আয়ের উপর নির্ভরশীল ছিল সেই পরিবারে মেয়েরা এখন টুপি সিলাই এর মাধ্যমে বাড়তি আয় করে সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। শিবরামপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া, চককন্দরপুর, ডিমজাউন, মধুবনসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বাড়ি বাড়ি চলছে টুপি তৈরির কাজ। এখানকার টুপি তৈরির কারিগর তানজিমা, জ্যোস্না, মিলি, মরিয়ম, কল্পনাসহ আরো অনেকেই জানান, তারা অবসর সময়ে টুপি তৈরি করে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আয় করছেন। শুধু এরাই নয় ঐ গ্রামগুলোর বেলী, মুক্তা, মাসুদা, রেবেকা, বর্ষা, চাঁদনি, আশাসহ ৫ শতাধিক গৃহবধূ টুপি তৈর করে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সংসারের ব্যয় মিটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন। এলাকার অনেক ছাত্রীও এখন লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে টুপি সিলাই করে লেখাপড়ার খরচ যোগাচ্ছেন বলে তারা জানান। বাগডোব গ্রামের স্কুলছাত্রী মেহেরোন ও আয়েশা জানান, তাদের দরিদ্র পিতার পক্ষে জামাকাপড়সহ লেখাপড়ার খরচ যোগানো সম্ভব হচ্ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছে টুপি সেলাই করা শিখে এখন তারা বাড়তি আয় করে লেখাপড়ার খরচসহ নিজেদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটাতে পারছেন। টুপির কারিগর মুক্তা জানান, মহাজনরা তাদের টুপি তৈরির সুতা, কাপড়সহ জাবতীয় কিছু সরবরাহ করেন। সেই কাপড় ও সুতা দিয়ে টুপি সিলাই হলে মহাজনরা এসে নিয়ে জায়। প্রতিটি টুপি সেলাইয়ের জন্য তাদের দেওয়া হয় ৩৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি । তারা জানান, কাজ ও নকশর উপর টাকার পরিমান কমবেশি হয়। একজন নারী তার সংসারের কাজ কর্মের পরও অবসর সময়ে কাজ করে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫টি টুপি সিলাই করতে পারেন। টুপি ব্যবসায়ি জাহিদুল ইসলাম জানান,মহাদেবপুর উপজেলার ১০ হাজারেরও অধিক নারী টুপি তৈরি করেন। তাদের তৈরি টুপি সৌদি আরব, দুবাই ও কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ জানান, এ উপজেলার তৈরি টুপি দুবাই, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে মহাদেবপুর উপজেলা তৈরী টুপি ওমান এর জাতীয় টুপির চাহিদা মিটাচ্ছেন। এতে দেশের সুনাম অর্জনসহ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে মহাদেবপুর উপজেলার টুপির কারিগররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এদের অচিরেই একটি সেমিনারের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করে ক্ষুদ্র কুটির শিল্পে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ মাস: বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ

২৫শে আগস্টে আচমকা রোহিঙ্গা ঢলের ৯ মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে সংকট সামাল দেয়ার চেষ্টায় দফায় দফায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে ঢাকা। সীমান্ত খুলে দেয়া, না দেয়া নিয়ে খোদ সরকারের ভেতরেই নানা মত ছিল। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে কেবল সীমান্তই উন্মুক্ত হয়নি, হৃদয়ও খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ। সমালোচকরা এখন মানছেন- বর্মী নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সীমান্তে জড়ো হওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারী-শিশু-বৃদ্ধদের সেদিন আশ্রয় না নিলে অনেকে ওখানেই মারা পড়তো। এ নিয়ে বিতর্কের পক্ষ-বিপক্ষ তথা গোটা বাংলাদেশের এখন একটাই চাওয়া যেকোনো মূল্যে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা লাঘব, অন্য কিছু নয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং প্রত্যাবাসন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী সেদিন এক আলাপে বলেন- মাছ আর মেহমান, এটা সারা দুনিয়াতেই সমাদৃত। কিন্তু এ থেকেও তৃতীয় দিনে গন্ধ বের হয়! উপদেষ্টার কথায় মানবতার প্রতি দায় থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয় দিয়েছে। তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে গোটা জাতি। কিন্তু এ সংকটের সমাধান একটাই তা হলো- তাদের টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এটাই এখন বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের চেয়ে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনাই বেশি হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি ভিন্নমত পোষণকারীদের বক্তব্য হচ্ছে- রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধন চেষ্টার অভিযোগে মিয়ানমারের ওপর বহুপক্ষীয় চাপ যখন তুঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন পুঞ্জিভূত এ সংকটের সমাধানে সুচি সরকারকে প্রায় কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন ঠিক তখনই আচমকা দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তি সই করে ফেলে বাংলাদেশ। এ নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের পেশাদার কূটনীতিকরাও গররাজী ছিলেন। পররাষ্ট্র সচিব বা মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূতও এত দ্রুত চুক্তিটি সইয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে মন্ত্রী নেপি’ডতে চুক্তি সই করেই ঢাকায় ফিরেন। নভেম্বরে অনেকটা তড়িঘড়ি করে বাস্তুচ্যুত রাখাইনের বাসিন্দাদের ফেরানো সংক্রান্ত অ্যারেঞ্জমেন্ট সই হয়। পরবর্তীতে এর আওতায় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সই করা সহ আরো অনেক কাজ করতে হয়েছে। চুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও আজ অবধি (৬ মাসেও) তা হয়নি। চিঠি চালাচালি আর বৈঠক, বক্তৃতা-বিবৃতিতে আটকে গেছে আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবাসন। এখনো এর কোনো দিন-তারিখ নেই। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল মিয়ানমারের তরফে গণমাধ্যমে প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে এ নিয়ে কোনো আলোচনা আছে কি? জবাবে মন্ত্রী বলেন-না। আমাদের কাছে কোন দিন-তারিখ নেই, তবে আমরা আশাবাদী এটি হবে। প্রত্যাবাসন একটি জটিল ও কঠিন প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা অতীতে অনেককে ফেরত পাঠিয়েছি। এবারো পারবো। আমি আশাবাদী। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না।
আইসিসিতে অভিমত পাঠাতে ভিন্নমত-দ্বিধা: এদিকে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) অভিমত পাঠাতেও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ভিন্নমত ও দ্বিধা কাজ করছে। মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান হবে নাকি আন্তর্জাতিক চাপে রেখে এর সুরাহা হবে, এ নিয়ে শুরু থেকেই সরকারের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আইসিসিতে মতামত পাঠানো নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবস্থা তৈরি হয়েছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) ডা. সাদিয়া ফয়জুন্নেচ্ছা মানবজমিনকে বলেন, পররাষ্ট্র সচিবের নির্দেশনা মতে মতামত পাঠানোর প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আইসিসিতে অভিমত পাঠানোর বিষয়ে গত বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন- আমরা বিষয়টি দেখছি, দেখি কী করা যায়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নৃশংসতার ব্যাপারে তদন্ত শুরুর আগে বাংলাদেশের অভিমত জানতে চেয়েছে আইসিসি। চলতি মাসের ৭ তারিখ আইসিসির প্রাক?-বিচারিক শুনানিতে তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে অভিমত চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বাংলাদেশকে এ নিয়ে আগামী ১১ই জুনের মধ্যে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে অভিমত পাঠাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় সংঘটি। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, শুরুতে এ বিষয়ে অভিমত পাঠাতে আগ্রহী ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চীন ও জাপান দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জোর দেয়ায় আইসিসিতে পর্যবেক্ষণ পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ দ্বিধায় পড়ে গেছে। এবারের রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে দ্বিপক্ষীয় সমাধানে মধ্যস্থতা করছে চীন। এ সমস্যাকে আন্তর্জাতিকীকরণ না করতে চীনের তরফে অনুরোধ রয়েছে।
চীনের পর ইদানীং জাপানও একই পথে হাঁটছে। দেশটি বলছে, বাংলাদেশকে এ সমস্যা মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধানে মনোযোগী হতে হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত সান গুয়োশিয়াং মিয়ানমারের পর বাংলাদেশ সফর করেছেন। গত মঙ্গলবার তিনি নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় আসেন। সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেন। চলতি বছর এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো ঢাকা সফর করলেন। টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর টোকিও সফরের সময় মিয়ানমারকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের বিষয়টিতে জাপান জোর দিয়েছে। সূত্র মতে, সরকারের কেউ কেউ মনে করেন, আন্তর্জাতিক পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ দেয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ সমস্যার সমাধান করা উচিত। আবার অনেকের মত হচ্ছে, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রেখে বাংলাদেশকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আইসিসি বাংলাদেশের মতামতের ব্যাপারে যে অনুরোধ জানিয়েছে, তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়া উচিত বলে মনে করেন পেশাদাররা।

১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত গুনতে হবে শিক্ষার্থীদের by নূর মোহাম্মদ

একাদশ শ্রেণির বই ছাপাতে সরকারের অতিরিক্ত গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য, বাংলা সহপাঠ (উপন্যাস ও নাটক) এবং ইংরেজি প্রথমপত্র (ইংলিশ ফর টুডে)-এ তিনটি বই প্রকাশনা ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের দিয়ে ছাপানো হয়। কিন্তু এবার প্রাক্কলিত দরের সঙ্গে বাজারের কাগজসহ অন্যান্য কাঁচামালের সামঞ্জস্য না থাকায় কেউ টেন্ডারে অংশ নেয়নি। পরে বাধ্য হয়ে এনসিটিবি প্রত্যেক বইয়ের বর্তমানের দরের ওপর অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে ২৪ লাখ বই ছাপাতে অতিরিক্ত খরচ হবে ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। পুরো টাকাই যাবে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের পকেট থেকে। ২৪ লটে ২৪ লাখ বইয়ের মধ্যে প্রথম দফায় ১৭টি লটে মোট ১৯ লাখ ৮৯ হাজার বই ছাপা হবে। পরবর্তীতে বাকি বই ছাপার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দুই দফায় ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি বিষয়টি বহাল থাকবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি প্রথমপত্র ১৫ শতাংশ বাড়তি দামের পর  দাম পড়বে ৯৩ টাকা। বর্তমানের এটির দাম ৮১ টাকা। একই ভাবে বাংলা সহপাঠ বইয়ের বর্তমান দাম ৫৫ টাকা বাড়তি দামের পর এটি হবে ৬৩ টাকা এবং বাংলা সাহিত্যের ১১৩ টাকার বইয়ের বাড়তি দামে কিনতে হবে ১৩০ টাকায়। তিনটি বইয়ের মোট দাম বেড়েছে ৪১ টাকা। তবে এনসিটিবি এই ছাপাতে ১১ শতাংশের যে রয়েলিটি (সম্মানী) পায় সেটি কমানোর দাবি করলের তা করা হয়নি।
এ ব্যাপারে এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা মানবজমিনকে বলেন, এটি মিটমাট হয়েছে। ১লা জুলাইয়ের মধ্যে বই পেতে এখন আর কোনো বাধা রইল না। তিনি বলেন, বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটু দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে সেটি সবার নাগালের মধ্যেই। এনসিটিবির সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির ৩০টি বইয়ের মধ্যে এ তিনটি বই এনসিটিবি প্রকাশক ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের দিয়ে ছাপিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এতে প্রকাশকদের কাছ থেকে ১১ শতাংশ রয়েলিটি পায় এনসিটিবি। এবার ২৪টি লটে মোট ২৪ লাখ বই ছাপার জন্য গত ১৬ই এপ্রিল টেন্ডার আহ্বান করে এনসিটিবি। এতে দরপত্র বিক্রি হয় ৮৭টি। মে মাসের ৩ তারিখ টেন্ডার খোলার পর রীতিমত ‘থ’ হয়ে যায় কর্মকর্তারা। একটি প্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নেয়নি। এরপর ব্যবসায়ী কয়েক দফা সমঝোতা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এনসিটিবি। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল বইয়ের দাম ২০ শতাংশ এবং রয়েলিটি ১১ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করার। পরে এনসিটিবি ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হয়নি ব্যবসায়ীরা। পরে বাধ্য হয়ে ১৫ শতাংশ করতে রাজি হয় এনসিটিবি। শিগগিরই প্রকাশক ও মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের কাজের সম্মতিপত্র দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান মানবজমিনকে বলেন, এনসিটিবি গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বেশি দামে কাগজ কিনেছে। সেখানে গত বছরের দামে আমাদের বই ছাপানোর জন্য প্রাক্কলন ধরেছে। এটা হতে পারে না। আমাদের দাবি ছিল বইয়ের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো, রয়েলিটি কমানো এবং বইয়ের পরিমাণ কমানো। আমরা শুনেছি, এ ধরনের প্রস্তাব আসছে। তবে কাজ করার সম্মতিপত্র এখনও দেয়া হয়নি। যদি ১৫ শতাংশ বাড়তি দাম এবং ১৭ লট করা হয় তবে আমরা কাজ করতে প্রস্তুত।
কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দফায় ১৭টি লটের মোট ১৯ লাখ ৮৯ হাজার বই ছাপানো হবে। এতে ইংরেজি প্রথমপত্র ও বাংলা সাহিত্যে প্রতি লটে ৪০ হাজার ৫০০ এবং বাংলা সহপাঠে প্রতি লটে ৩৬ হাজার বই ছাপানো হবে। প্রথম দফায় বই বাজারে বিক্রি করার পর দ্বিতীয় দফায় বাকি কাজ করার সম্মতিপত্র দেয়া হবে। এনসিটিবি’র কর্মকর্তারা বলেন, এ প্রথম সরকারি কাজের টেন্ডারে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নেয়ার নজির তৈরি হয়েছে। সদ্য পাস করা এসএসসি শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণির ভর্তির পর ১লা জুলাই শিক্ষার্থীদের হাতে তিনটি বই তুলে দেয় সরকার। এবার বই নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল সমঝোতার মাধ্যমে হওয়ার এ পক্রিয়ার পর ১লা জুলাই বই তুলে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। জানা গেছে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত এনসিটিবি নিজেই এসব বই বাজারজাত করতো। এতে প্রতি বছর লোকসানের কারণে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে অফারিং পদ্ধতিতে ১৭ জন প্রকাশকের মাধ্যমে বাজারজাত শুরু করে। গত বছর প্রকাশকদের ছাপে ১৫% দাম পর্যন্ত বাড়ায়। এবার কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ না নেয়ায় এবারও ১৫% দাম বাড়ানো হলো। এনসিটিবি প্রতি লটের জন্য ১৮-২০ লাখ টাকা রয়েলিটি পায় এনসিটিবি। এ টাকা সরকারের ফান্ডে জমা দেয়া হয় না। বিভিন্ন বোনাস, নানা খাত উপখাত দেখিয়ে এ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়।

ফেসবুক আসক্তি: বাড়ছে একাকিত্ব-হতাশা by মারুফ কিবরিয়া

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করেছে। বিশ্বের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের কাছে টেনে নেয়ার মতো সুযোগ এই মাধ্যমটিই করে দিয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভালো সময় কাটানোর একটি অন্যতম প্ল্যাটফরম ফেসবুকই। আর সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের এ জায়গাটি যতই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে ততটাই নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করার পাশাপাশি ফেসবুকে থেকে নিজেরা হতাশায় ভুগছেন- এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা।
বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, ফেসবুক মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনলেও এর থেকে প্রভাবিত হয়ে হতাশ হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে এ হতাশা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজের মাঝে বেশি লক্ষণীয়। দেখা যায়, কেউ সারাদিন ব্যস্ততার পর বাড়ি ফিরে ফেসবুক অনলাইনে আসেন। ওয়াল ঘুরে দেখলেন কাছের বন্ধুদের অনেকে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন সেসব ছবি, যেখানে তার থাকার কথা থাকলেও পারেননি। আবার অনেকে আছেন অনলাইনে প্রায়ই কোনো এক বন্ধুর সঙ্গে চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ তিনি লাপাত্তা। তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েও পারছেন না। এর থেকে হতাশায় ভোগেন তারা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম জানান, গত এক মাস ধরে ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছি। ফেসবুক অনলাইনে থাকলে মাঝে মাঝে অলস সময় কাটানো যায়। কিন্তু এর থেকে বড় সমস্যা হলো- প্রায়ই হতাশ হয়ে যাই। বন্ধুবান্ধবের অনেকের অ্যাক্টিভিটি দেখি। নানা কারণে সেসবে অংশ নিতে পারি না। নিউজফিডে সবার কাজকর্ম দেখে সময়গুলোতে অস্থিরতা কাজ করে।
আফসার নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুক যতটা আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে ততটাই খারাপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে চ্যাটিংয়ে অনেকের সঙ্গে কথা হয়। দেখা যায়, যে বন্ধুকে বেশি ভালো লাগে তার সঙ্গে হঠাৎ কথোপকথন বন্ধ হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগে। এ সময় খানিকটা একাকিত্ব অনুভব করি। সারাদিন কাজকর্ম শেষ করে এসে যদি দেখি ওই ভালোলাগার বন্ধুটি অনলাইনে নেই তখন সত্যিই খুব বিষণ্নতায় ভুগি। এসব কারণে অনেক দিন হয় সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটিতে খুব একটা আসা হয় না।
ওহিও স্টেট ইউনির্ভাসিটির জ্ঞাপন বিভাগের অধ্যাপক সিলভিয়া নবলক ওয়েস্টারইউক বলছেন, যখন আপনি ভালো মুডে থাকেন, তখন আপনি সেলিব্রিটিদের ফলো করতে ভালোবাসেন। কিন্তু যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তখন আপনি সাধারণ মানুষদের জীবনেও আগ্রহ দেখান। যারা আপনার মতো কোনো না কোনোভাবে ভেঙে পড়েছেন তাদের প্রতি আপনার সহানুভূতি জন্মায়। এই সমীক্ষা আরো জানাচ্ছে, ফেসবুকের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ ব্যবহারকারীদের খিটখিটে করে দেয়। কারণ, এক সময় বন্ধুদের কাছ থেকে তাদের সাফল্যের আপডেট পেতে পেতে আপনার নিজেকে একা, পিছিয়ে পড়া, হেরে যাওয়া বলে মনে হতে পারে। তাই কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে সাবধান। সমীক্ষা বলছে, মন খারাপের সময় আপনি সেই সমস্ত মানুষদের প্রোফাইল বেশি ভিজিট করেন যারা আপনার থেকেও বেশি পিছিয়ে রয়েছে বা কম সাফল্যের মুখ দেখেছে।
গত কয়েক বছরে এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। এ রকমই কিছু গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এবং মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাকিত্ব নিয়ে আমাদের সাধারণ ধারণা হচ্ছে বয়স হলে মানুষ একা হয়ে যায়। কিন্তু কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছে ফেসবুকের কারণে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলছে। ফেসবুকে আসক্তির কারণে কিশোর-কিশোরীরা অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই একাকিত্ব থেকে বাড়ছে হতাশা। দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে তারা হয়ে পড়ছে আত্মহত্যাপ্রবণ। দিল্লির ফরটিস হেলথ কেয়ার হাসপাতালের মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড বিহ্যাভিরিয়াল সায়েন্সেসের পরিচালক ডা. সামির পারিখ জানিয়েছেন, একাকিত্ব শারীরিক ও মানসিক দুদিক দিয়েই রোগীদের ক্ষতি করে। এরা আস্তে আস্তে সবার থেকে দূরে সরে যায় এবং তাদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে নয়াদিল্লির সরোজ সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের কনসালটেন্ট ডা. সন্দীপ গোভিল বলেন, তনয় নামের ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফেসবুকে সে এতটাই আসক্ত ছিল যে ফোন বন্ধ করে রাখলে সে অস্থির হয়ে পড়তো। আমরা তার এই ‘স্ক্রিন এডিকশন’-এর চিকিৎসা শুরু করি। তখন ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই আসক্তি থেকে সে আরো বড় কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারতো। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন, একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কে বিপজ্জনক সিগন্যাল পৌঁছায়। যার ফলে হোয়াইট ব্লাড সেলের উৎপাদন ব্যাহত করে। তাই একাকিত্ব থেকে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান ভিন্ন মতই পোষণ করেন। তিনি বলেন, মানুষ একা হয়ে যাচ্ছে, হতাশ হচ্ছে এসবের জন্য ফেসবুককে দোষ দেয়া যাবে না। আসল কারণ কোনটা সেটা খুুঁজে বের করতে হবে। আমার কাছে যেটা মনে হয়, মানুষ অতিমাত্রায় আয়মুখী ও ভোগবাদী হয়ে উঠেছেন। মানুষের জীবনযাত্রায় ফেসবুক একটা কম্পোন্যান্ট মাত্র। এখানে মানুষ বরং কিছু কোয়ালিটি টাইম পাস করছে। আসলে ফেসবুকে মানুষ কি করে? ছবি পোস্ট করে, স্ট্যাটাস দেয়, অন্যদের ছবি দেখে, অন্যদের ছবি-স্ট্যাটাসে লাইক কমেন্ট করে! এখানে ফেসবুকের দোষের কিছু দেখছি না। মূল সমস্যা হচ্ছে- ওই যে বললাম, মানুষের উপার্জনমুখী মনোভাব এবং ভোগবাদিতা। আর নৈতিক শিক্ষা।

সম্ভাবনার নাম সুন্দরবন by জাহিদ সুমন

প্রাণ, প্রকৃতি ও জীবন পরস্পর আন্তঃনির্ভরশীল এক প্রাকৃতিক বন্ধন। পৃথিবী বিখ্যাত প্রাণবৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক ভাণ্ডার ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল এবং ১৩ প্রজাতির অর্কিড। চিতল হরিণ, বানর, শূকর, গুঁইসাপ, পাইথন ও বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ ৩৭৫-এর অধিক বন্যপ্রাণী, ৩শ’রও বেশি প্রজাতির পাখি এবং জালের মতো বিছানো ৪৫০টির মতো নদী-খাল এবং কুমির, হাঙ্গরসহ প্রায় ২৯১ প্রজাতির মাছের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান সুন্দরবন। সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার। মোট আয়তনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত। সুন্দরবনের উপর প্রায় ৬ লক্ষাধিক বনজীবী-বাওয়ালী, মৌয়ালী, জেলে, জোংরাখুটা (চুনারি), মুন্ড, মাহাতো এবং অন্যদের জীবন-জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল।
সুন্দরবন শুধু আমাদের সম্পদ দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে তা নয়, প্রাকৃতিক সকল দুর্যোগ থেকে উপকূল অঞ্চল তথা বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে। প্রকৃতির স্বর্গ এবং বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ক্ষতিকর কার্বন হজম করে পৃথিবীর উষ্ণতা রোধে অবিচল অবদান রাখছে। সুন্দরবনের মধু, মাছ, কাঁকড়া, প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণী বিশ্ববিখ্যাত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য। সুন্দরবনের দৃশ্য নয়নাভিরাম এবং ২৪ ঘণ্টায় সুন্দরবন তার অপরূপ রূপ বদলায় ৬ বার। সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি/বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থেকে সরাসরি সুন্দরবন দর্শন করা যায়। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি ভরে হাজার হাজার পর্যটক শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, কদমতলা ও বুড়িগোয়ালিনী বন বিভাগ থেকে পাস পারমিট করে সুন্দরবন ভ্রমণ করছে। পর্যটক দল এক, দুই ও তিন দিন সুন্দরবনে অবস্থান করে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে। অনেকে বনের হরিণ, বানর ও প্রকৃতির সঙ্গে সেলফি তুলে ও ভিডিও করে পোস্ট করছে। গল্প, কবিতা ও গবেষণা প্রবন্ধ লিখছে। বেশির ভাগ মানুষ সুন্দরবনের প্রাণ ও প্রকৃতির স্বাদ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের বিশাল পর্যটন সম্ভাবনা সুন্দরবন।
সম্প্রতি প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই দর্শনকে ধারণ করে সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিজম নামে একটি সংগঠন সুন্দরবন পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বব্যাপী প্রচারে তার যাত্রা শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিজমের মো. নাজমুস সাদাত পলাশ বলেন, পৃথিবীর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সুন্দরবনের অবদান বলে শেষ করা কঠিন। আমরা সুন্দরবন সুরক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সুন্দরবনকে সুন্দর রেখে পর্যটকদের বিশ্ববিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনের প্রকৃতি ও প্রাণের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি সুন্দরবন প্রাণ, প্রকৃতি ও নির্ভরশীল জীবনযাত্রা সুরক্ষায় বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী জনমত সৃষ্টিতে সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিজম যাত্রা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকোট্যুরিজম কলাগাছিয়া ফরেস্ট স্টেশনে একজন ইকো গাইড নিয়োগ করা হয়েছে।
সুন্দরবন গবেষক মো. শাহীন ইসলাম বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু সে সব উন্নয়ন প্রকল্প সুন্দরবনকে রক্ষা ও উন্নয়নে কি কাজ করছে তা বুঝতে পারি না। নির্বিচারে বনের নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, মহামূল্যবান খলিশা গাছসহ সকল ধরনের গাছ কাটা, প্রজনন মৌসুমে বনের মাছ ও কাঁকড়া শিকার করা হচ্ছে, বনের নদী ও পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে, পাচার করা হচ্ছে বাঘ, হরিণ, বানর, সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী, অসহায় বনজীবীদের জিম্মি করে ফায়দা লুটছে বনদস্যুরা।
পর্যটক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জুলফিকার আলী ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতের মহামূল্যাবান সম্পদ সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আরো বেশি সরকারি- বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সরাসরি সুন্দরবন দেখা যায়। কিন্তু, শ্যামনগরে শত শত পর্যটকদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ঘাটতি। এখানকার বন অফিসগুলোর সঙ্গে কোনো ওয়াশব্লক ও ডাস্টবিন নেই। বনের পরিবেশ দূষণ রোধে পর্যটকদের সচেতন করার কার্যকরী প্রচেষ্টা সীমিত, ট্যুর ম্যাপ, প্যাকেজ, অর্গানিক খাবার ও জলযানেরও সংকট।

থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন, জানেনই না তিন কোটি মানুষ by তাসকিনা ইয়াসমিন

দেশে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষ থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাদের প্রায় ৩ কোটি অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি রোগীই জানেন না, তাদের এই সমস্যা রয়েছে। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির (বিইএস) তথ্য অনুযায়ী, নারীদের থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি।
এই অবস্থার পরিবর্তনে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জানার ব্যাপারে জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা।
থাইরয়েড গ্রন্থিটি গলার সামনের দিকে অবস্থিত। এটি দেখতে প্রজাপতির মতো এবং ট্রাকিয়া বা শ্বাসনালীকে পেঁচিয়ে থাকে। যদিও এটি একটি ছোট গ্রন্থি, কিন্তু এর কার্যকারিতা ব্যাপক।
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মানব পরিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ হরমোনের তারতম্যের ফলে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি, হঠাৎ করে শরীর মোটা বা চিকন হওয়া, ত্বক, হার্ট ও ঋতুস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা, চোখ ভয়ংকর আকারে বড় হয়ে যাওয়া, বন্ধ্যাত্ব, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। সাধারণত, একজন পুরুষের বিপরীতে ১০ জন নারী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক কার্যক্ষমতা সঠিক রাখার জন্য এ হরমোন শরীরে নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা একান্ত জরুরি।
বিইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রায় ২ ভাগ এবং পুরুষদের প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হাইপারথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের বৃদ্ধিজনিত রোগে ভোগেন। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ ভাগ থেকে ৯ দশমিক ৪ ভাগ হারে হাইপোথাইরয়েডিজম অর্থাৎ থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত সমস্যা থাকতে পারে। আরও প্রায় ৭ ভাগ নারী ও পুরুষ সাবক্লিনিক্যাল হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগে থাকে। নবজাতক শিশুদেরও থাইরয়েডের হরমোন ঘাটতিজনিত সমস্যা হতে পারে। তার হার প্রতি ১০ হাজার জীবিত নবজাতকে ২-৮ জনের হতে পারে। বাড়ন্ত শিশুরাও থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিতে ভুগতে পারে। এ সময় থায়রয়েডের হরমোন ঘাটতি হলে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
দেশে বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে হরমোন বিশেষজ্ঞরা এ রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। পরমাণু চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক;  নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ; গাইনি বিশেষজ্ঞ; শিশু বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েড চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই রোগের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশে আয়োডিনের ডোজ মাত্র ৩০০ টাকা আর সিঙ্গাপুরে তার খরচ ৫০ হাজার টাকা। অন্যান্য দেশে খরচ আরও বেশি। এই রোগের পরীক্ষা করাতে দেশের সরকারি হাসপাতালে খরচ মাত্র ২৫০ টাকা আর বেসরকারিতে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।
বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি (বিইএস) এর সাধারণ সম্পাদক ডা. হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সচেতনতার ওপর বেশি জোর দিচ্ছি। কিছু থাইরয়েড আছে, যেগুলো কিছুদিন পর অর্থাৎ তিন মাস, ছয় মাস পর ভালো হয়ে যায়। কিছু আছে দীর্ঘমেয়াদি। প্রাথমিকভাবে যদি শিশুদের শরীরে থাইরয়েডের পরিমাণ কমে যায় তাহলে তার চিকিৎসা করলে ক্ষতি হবে না। শিশুটি ‘হাবাগোবা’ হবে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা জনগণকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন করতে চাইছি। চিকিৎসকদেরও সচেতন করতে কাজ করছি। আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে কারা আক্রান্ত, কারা আক্রান্ত না সেটা খুঁজে বের করা। কারণ ২৫-৩০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষকে তো সরাসরি চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাই যদি প্রতিরোধ করা যায় সেটা ভালো কাজ হবে।’
এ রোগ নির্ণয়ের ঘাটতি নারীদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতি ১০ জন নারীর বিপরীতে একজন পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত অনেক নারী সন্তান নিতে ব্যর্থ হন। তাদের চিকিৎসার শুরুতেই যদি তার থাইরয়েড অস্বাভাবিক কিনা, আর অস্বাভাবিক হলে সেটা কী ধরনের তা নির্ণয় করে চিকিৎসা করা যায়, তাহলে তাদের আর ছুটোছুটি করতে হয় না।’
ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘এ রোগের ক্ষেত্রে আয়োডিনের ঘাটতি অনেক বড় ইস্যু। আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ করা গেলে থাইরয়েড সমস্যার সমাধান করা যাবে। আবার লবণে আয়োডিন ঠিকমতো মেশানো গেলে শুধু খাদ্যের লবণ দিয়েই এক থেকে দেড় কোটি মানুষকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামুদ্রিক খাদ্য আমাদের দেশে ততটা জনপ্রিয় নয় এখনও। সামুদ্রিক খাবার জনপ্রিয় করা গেলে তা থেকে অনেক আয়োডিন পাওয়া যাবে। এগুলো টার্গেট করে যদি এগোনো যায়, তাহলে থাইরয়েডে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক কমে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সব বয়সের মানুষের স্ক্রিনিং, আয়োডিনের অভাব, ভেজাল খাদ্য ও আর্সেনিকযুক্ত পানি পান না করা–এ রোগের প্রধান প্রতিরোধক বিষয়। এছাড়া, সরকার খুব সহজে থাইরয়েডের বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালু করতে পারে। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া লবণে আয়োডিনের মান নিশ্চিত করতে পারে। জন্মের পরই শিশুর বাধ্যতামূলকভাবে থাইরয়েড পরীক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।’

কিশোর অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে by মরিয়ম চম্পা

ছোট থেকে বড়। ছিনতাই থেকে খুনখারাবি। নানা অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোররা। গড়ে তুলছে নিজস্ব গ্যাং। এ চিত্র শুধু রাজধানী ঢাকার নয়। সারা দেশেই ক্রমশ বাড়ছে কিশোর অপরাধীর সংখ্যা। ভিনদেশি সংস্কৃতির প্রভাব আর পরিবারের যথাযথ দেখাশোনার অভাবের কারণেই শিশু-কিশোররা অপরাধে জড়াচ্ছে বলে মনে করেন সমাজ বিশ্লেষকরা। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মত তাদের।
কৈশোরে শিশুর শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক পরিবর্তনও হতে থাকে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কিশোররা। পরিস্থিতি, পরিবেশ তাদের যৌন হয়রানি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে উৎসাহিত করতে পারে বলে মত মনোবিজ্ঞানীদের। মাদকের ভয়াবহতা ও কথিত বড় ভাইদের উসকানিকে কিশোরদের অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ মনে করেন, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষার অভাবও এর জন্য দায়ী। সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের প্রতি অভিভাবকদের যতটা মনোযোগ দেয়া দরকার, প্রায়ই তা দেয়া হয় না। অন্যদিকে মাদক বিক্রেতা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত অনেকেই নিজের সামান্য লাভের জন্য কিশোরদের অপরাধ জগতে টেনে নেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের ব্যবহার করেন। ফলে একসময় এ কিশোররা পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন শুধু পাড়াপড়শির নয়, নিজের পরিবারের জন্যও তারা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, অপরাধ সব দেশেই আছে। কোনো দেশে কম কোনো দেশে বেশি। অর্থাৎ এক এক দেশের অপরাধের মাত্রা এক এক ধরনের হয়ে থাকে। কিশোর অপরাধও তেমনই একধরনের অপরাধ। আমাদের দেশে কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে কিশোরদের মনের সুষ্ঠু বিকাশ হওয়ার কোনো মাধ্যম নেই। তাই তারা বাধ্য হয়ে বাসার ছাদে, পাড়ার গলিতে, বন্ধুর বাসায় সময় কাটায়, আড্ডা দেয়। তাদের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই, বিনোদনের পার্ক নেই। একই সঙ্গে বাবা মায়েরও সঠিক তত্ত্বাবধান নেই। অনেক বাবা মা আছে তাদের বাচ্চাদের ডেইলি রুটিন সম্পর্কেই খোঁজ রাখেন না বা জানেন না। ছেলে-মেয়ে স্কুল কলেজের নাম করে কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কখন ঘুমাতে যায়, ঘুম থেকে উঠছে। কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির আর একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করা। এক্ষেত্রে পরিবারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণ শিশুদের চলাফেরায় তাদের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রেখে বাবা মাকে অবহিত করতে হবে।
সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, মানুষের আকাঙ্ক্ষার মাত্রা যখন বেড়ে যায় তখনই অপরাধ বৃদ্ধি পায়। আমাদের সমাজে কিশোর বয়স থেকেই একটি বদ্ধমূল ধারণা জন্মায় কম খাটবো বা পরিশ্রম করবো তবে বেশি উপার্জন করবো। এবং খুব অল্প সময়ে বেশি কিছু অর্জন করে আয়েশি জীবনে পৌঁছাতে চাই। ফলে আমাদের সমাজের কিশোররা শিক্ষাদিক্ষা এবং বেশি দক্ষ হওয়ার দিকে নজর না দিয়ে দ্রুত বিলাশী জীবনে পৌঁছাতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, প্রত্যেকটি দেশেরই নিজস্ব সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি রয়েছে। একটি দেশের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, নিয়ম-নিষ্ঠা, মূল্যবোধ তৈরি করতে না পারলে সে দেশের কিশোররাতো অপরাধের সঙ্গে জড়াবেই। আমাদের প্রচলিত সামাজিক জীবন ধারায় পূর্বের সম্পর্ক গুলো যৌথ থাকলেও বর্তমানে তা ভেঙ্গে একক পরিবারে পরিণত হচ্ছে। পূর্বের যৌথ পরিবারগুলোতে পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। যেটা বর্তমানে একদম নেই বললেই চলে। শিশু কিশোররা ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে অনেক স্বাধীন ভাবে চলতে, ফিরতে ও মিশতে চায়। এসকল কারণে কিশোর অপরাধের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়ে এমন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে যে একে অন্যর দ্বারা অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বড়রা যখন অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তখন কিশোররাও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে নিজেদের জড়ায়। যে সমাজে বড়দের বড় বড় অন্যায়ের শাস্তি লঘু সেখানে বাচ্চারাতো উৎসাহী হবেই। এখন শোনা যাচ্ছে ঢাকা শহরে কিশোরদের নাকি গ্যাংও আছে। এই কিশোর গ্যাংতো শুধু কিশোররা মিলে তৈরি করেনি। এতে নিশ্চয়ই বড় গ্যাংদের আশীর্বাদ বা অনুপ্রেরণা রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিল্পী রানী দে কিশোর অপরাধ নিয়ে ২০১৫ সালে একটি গবেষণা করেন। তাতে তিনি ১৯৯০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কিশোর অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে রাজধানী ঢাকায় মোট কিশোর অপরাধের মামলা ছিল ৩ হাজার ৫০১টি। এর মধ্যে ৮২টি হত্যা ও ৮৭টি নারী নির্যাতনের মামলা ছিল। পরের ১০ বছরে এ দুই ধরনের মামলার সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৩৮ ও ২২৪। এই ১০ বছরে (২০০১-১০) মোট মামলা হয় ৪ হাজার ৮৮২টি। আরেক হিসাবে দেখা যায়, ২০১৬ সালে কিশোর অপরাধের ঘটনায় সারা দেশে মামলা রেকর্ড হয়েছে এক হাজার ৫৯৬টি। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৮৪টি। এ হিসাবে এক বছরে কিশোর অপরাধের মামলা বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি। ২০১৬ সালে দেশে কিশোর অপরাধের ঘটনায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১৭৯ জন। ওই সময়ে কিশোর অপরাধ-সংক্রান্ত এক হাজার ৪২২টি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এতে মোট আসামির সংখ্যা এক হাজার ৮৬৭ জন। ২০১৫ সালে কিশোর অপরাধ-সংক্রান্ত এক হাজার ১৮৪টি মামলায় আসামি ছিল এক হাজার ৭১৯ জন। ২০১৪ সালে মামলা হয়েছে ৮১৮টি, আসামির সংখ্যা এক হাজার ২৬৩। ২০১৩ সালে কিশোর অপরাধের ৫৮৯ মামলায় আসামি ৮৪৮ জন। ২০১২ সালে ৪৮৪ মামলায় আসামির সংখ্যা ৭৫১ জন। বর্তমানে কিশোর অপরাধের ঘটনায় সারা দেশে বিচারাধীন মামলা আছে এক হাজার ২৮২টি। ২০১৬ সালে বিচার নিষ্পন্ন ২৯টি মামলায় খালাস পেয়েছে ৪৭ জন। ছয় মামলায় সাজা হয়েছে সাতজনের। তদন্তাধীন মামলা রয়েছে ১১১টি।

‘আমাকে বাঁচতে দিন আর মাইরেন না’ by মরিয়ম চম্পা

ওয়ার্ড ১০১, বেড নং ১০। ওয়ার্ডে ঢুকতেই চোখে পড়ে সোহেলকে ঘিরে বসে আছে ১০-১২ জন বন্ধু। পাশেই করুণ চাহনি আর এক বুক হতাশা নিয়ে আহত ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন সোহেলের বিধবা মা। হামলায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র এপিএম সোহেল। একইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন সোহেল ও তার মা। দুপুর ১২.১০ মিনিটে ঢামেকের জরুরি বিভাগের সামনে জামতলায় সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন সোহেল। কান্না জড়িত কণ্ঠে সোহেল বলেন, বাবা মৃত মো. নাজির হক মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেন তার মা জমিলা বেগম। ৪ ভাই ১ বোনের মধ্যে সোহেল ৪র্থ। অন্যের ক্ষেতে কাজ করে চলে তাদের সংসার। মায়ের স্বপ্ন পূরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ভর্তি হয়ে টিউশনি করে কোনোমতে লেখাপড়া চলে তার। কিন্তু কোটা আন্দোলনে জড়িত থাকার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সামনে ২৩শে মে নির্মম ভাবে তাকে আহত করে একদল সন্ত্রাসী।
সোহেল তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, আমি যে বেডে শুয়ে আছি। সেই বেডের কয়েক বেড পরই দুইজন আসামিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আসামির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশের ২জন সদস্য। এই কয়দিন বিছানা থেকে উঠতে পারি নাই তেমন। পিঠের দাগগুলো কালো হয়ে আছে। প্রচণ্ড ব্যথা। ওরা মারার সময় হাত দিয়ে মুখ ঢেকে রেখেছিলাম। হাতেও ব্যথা। লিখতে কষ্ট হচ্ছে যদিও। ডান পায়ের হাঁটুতে ওরা অনেকগুলো আঘাত করেছিল। পা সোজা/বাঁকা করতে গেলেই হাঁটুর জয়েন্টে টান পড়ে। আমাকে চারপাশে কয়েকজন ধরে রেখেছিল। একজন সেলফি তুলতেছিল এই বলে যে “ভাইয়ের চেহারা খুব সুন্দর, আয় মাইরের আগে সেলফি তুলি।”
নিজে খুব কষ্ট করে বড় হয়েছি, তাই অন্যের কষ্ট আমার কাছে লাগত। আমি নিজ থেকে খুঁজে খুঁজে আমার মত যারা তাদের টিউশনি, কোচিং,পার্ট টাইম জব ম্যানেজ করে দিতাম। বিনিময়ে কোনদিন ১কাপ চাও খাই নি। অথচ আমাকে মারার পরেও প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে আমাকে নাকি আরো মারবে। মাইর নাকি কম হয়ে গেছে। কোটা আন্দোলনের জন্য দ্বিতীয়বার মারল আমাকে। প্রথমবার থাপ্পড়, লাথি। আর দ্বিতীয়বারতো দেখতেই পাচ্ছেন। ঠোঁটের বাইরে ৮-৯টা সেলাই। ঠোঁটের ভিতরে ২টা সেলাই। আর সারা শরীরে ব্যথাতো আছেই। পিঠের মাইরের দাগগুলো এখনো স্পষ্ট। কোটা অ্যান্দোলনে সমর্থন দিয়ে আমি আমার প্রথম সেমিস্টার ফাইনালটাও মিস করি। আমার পরিবারের সবাই কাঁদছে। আপনারা যারা রাজনীতি করেন, যারা করেন না, যারা আমার বন্ধু, যারা আমার ভাল চান, যারা আমার খারাপ চান, সবার কাছে করজোড়ে মিনতি আমাকে বাঁচতে দিন। আমাকে আর মাইরেন না। আমার বিধবা মায়ের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে দেন। আমার আব্বা নাই। আমিই আমার পরিবারের সব। প্লিজ, আমাকে বাঁচতে দিন। আমাদের নিরাপত্তা দিন। আমরা বাংলাদেশের সন্তান। আমরাও বাঁচতে চাই। বিধবা মায়ের মুখে হাঁসি ফোটাতে চাই। ভাইয়ের কান্না দেখতে চাই না।
সোহেল মানবজমিনকে বলেন, ২৩শে মে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পরপরই ৩-৪ জন ছেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ওখানে নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরা থাকায় ফুজি গলির ভেতরে আমাকে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। তারা সকলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট গ্রুপের কর্মী। আমি কোটা আন্দোলন তো আমার জন্য করি নাই। কোটা আন্দোলনটা সবার ছিল। তাহলে ওরা আমাকে মারলো কেন এভাবে। আমি খুব গরিব ঘরের সন্তান। এই যে দেখছেন আমার মা ভাই তারা অন্যের জমিতে কাজ করে। আমরা খুব কষ্ট করে এতদূর পর্যন্ত আসছি। আমাদের পরিবারে আমার মতো কেউ নাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। আমার বাবা নাই। আমি একটা এতিম ছেলে। আমাকে মারলো কেন। আমি এর বিচার চাই। সোহেলের মা জমিলা বেগম বলেন, আমার ছেলে সবার ভালোর জন্য আন্দোলনে গেছে। তার পরেও আমার ছেলেটাকে কিসের জন্য মারলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাইছি।
ঢাকা মেডিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ বলেন, তারা চেষ্টা করছে আমাদের আন্দোলনে যারা আছে তাদেরকে যেকোন সময় হেনস্থা করা। এবং তারা সবসময় সুযোগে আছে কখন আমাদেরকে হত্যা করবে। এবং আমাদের যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবে। আমরা দোষীদের শাস্তি দাবি করছি। তাছাড়া ভবিষ্যতে আর কোনো কর্মীর উপর হামলা হলে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

সিটি নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণা: যে কারণে একমত হতে পারেননি এক নির্বাচন কমিশনার

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারণার সুযোগ রেখে সিটি নির্বাচন আচরণবিধি-২০১৬ এর সংশোধনী অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়ার বিপক্ষে ছিলেন একজন নির্বাচন কমিশনার। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সভায় সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার ২(১৩) সংশোধনের বিরোধিতা করে লিখিত মতামত দেন ওই কমিশনার। কমিশন সভায় একটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ পড়ে শোনান তিনি। ‘নোট অব ডিসেন্টে’ তিনি উল্লেখ করেছেন, বিগত ১২ই এপ্রিল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারকার্যের বিধি-নিষেধ তুলে দেয়ার প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে বলা হয়, সিটি নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে এমপিদের অংশগ্রহণ অবারিত করা আবশ্যক। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের প্রচারের সুযোগ দিতে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালার ২(১৩) সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। বিগত ১৩ই মে আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির সুপারিশে ‘সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে এমপিদের বাদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের অংশগ্রহণে ভিন্নমত পোষণ করি।
ওই কমিশনার নোটে আরো বলেন, এমপিদের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হলে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নস্যাৎ হবে। এর আগে কাজী রকিব উদ্দীন কমিশন এমপিদের সিটি নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ দিয়ে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে তারা পিছু হটে যেতে বাধ্য হয়। বর্তমান সরকারের আমলে ২০১০ সালে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি সংশোধন করেছিল। তার আওতায় এমপিসহ সব সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির এই নির্বাচনে প্রচারণার সুযোগ নেই। নোটে আরো বলা হয়, সংসদ সদস্যদের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা থেকে বাদ দেয়া ঠিক হবে না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমপিরা স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমপিদের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। বিশেষত নির্বাচনের আগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। প্রশাসন ও অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠানই তাদের আদেশ-নির্দেশে চলে। শিক্ষায়তনগুলো তাদের করায়ত্ত বলা যায়। এ দেশে বাস্তবতা হচ্ছে এমপিরা নিজেদের এলাকায় সর্বেসর্বা। এমতাবস্থায় এমপিদের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হলে স্থানীয় প্রশাসনের অফিসার ও পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। এমপিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। আমার জানামতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের কোনো দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার জন্য ম্যান্ডেট দেয়া হয় না। এমপিরা সরকারি সুবিধাভোগী নন বলে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তা নিতান্তই পরিহাসমূলক। তারা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না, এ কথা সত্য। কিন্তু তারা এমপি হিসেবে কোটি টাকার গাড়ি ক্রয়ে ট্যাক্স রেয়াত পেয়ে থাকেন। এটা কি সরকারি সুবিধাভোগ নয়? এ ছাড়া তারা রাজউক, চউক ইত্যাদি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যক্তিগতভাবে যে প্লট বা জমি পেয়ে থাকেন তা কি সরকারি সুবিধাভোগ নয়? এ বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। ওই নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে আইন ও বিধিমালা পরিবর্তন করে যেভাবে মাননীয় এমপিদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে বাদ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা অভিনব। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমরা সর্বমহলে নিন্দিত হয়ে পড়বো। আজ পর্যন্ত এই সংশোধনের পক্ষে কেউ অভিমত প্রকাশ করেছেন বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি না যে, এমপিরা নির্বাচনকালে তাদের নিজস্ব এলাকায় না গেলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। বরং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না।

টিআর, কাবিখা, কাবিটার অর্থ আত্মসাৎ বন্ধে দুদকের ১০ সুপারিশ by দীন ইসলাম

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি টিআর, কাবিখা ও কাবিটার অর্থ আত্মসাৎ বন্ধে ১০টি সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ২১শে মে এসব সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন দুদকের সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিন। এছাড়া দুই পাতার চিঠির অনুলিপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাবিখা/টিআর/কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়। এছাড়া পত্র পত্রিকায় এ বিষয়ে নানা ধরনের অনিয়মের প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। দুদক কর্তৃক পরিচালিক গণশুনানিকালেও এ সংক্রান্ত নানা অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এসব অভিযোগ ও কমিশনের অনুসন্ধানের বর্ণনা থেকে কাবিখা/টিআর/কাবিটা প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যেসব অনিয়ম হয়ে থাকে তা রোধ করতে ১০টি সুপারিশ দেয়া হয়। দুদকের সুপারিশে বলা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর অর্থ ছাড় করবে। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে অর্থ ছাড় করা হলে আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এজন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড় করা প্রয়োজন। বিশেষ প্রকল্পে অর্থ বা সম্পদ বরাদ্দ দিতে হলে মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরকে প্রকল্প প্রস্তাব সরজমিনে যাচাই করে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে নির্ধারণ করা যেতে পারে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর কেন্দ্রিক সক্রিয় দালাল চক্র ও সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তাদের এজেন্টদের নিষ্ক্রিয় করা যেতে পারে। বিশেষ প্রকল্পে বরাদ্দের প্রস্তাব প্রয়োজনীয়তার নিরিখে সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এসব বিশেষ প্রকল্পের প্রস্তাব শতভাগ সরজমিন যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এসব কর্মকাণ্ড ভুয়া প্রকল্পের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিশেষ ও সাধারণ বরাদ্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণ হয়েছে কিনা তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে শতভাগ নিশ্চিত করবেন। এ বিষয়ে ইউএনওদের নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। এসব কর্মকাণ্ড ভুয়া কমিটি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় একাধিক সাইনবোর্ড সহজে দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক অডিট কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। নতুন করে একটি পরিপত্র জারি করে বলতে হবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হলে এবং এর ফলে কোনো প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে সবাই সমানভাবে দায়ী হবেন। এছাড়া অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পিআইসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা কাবিখা প্রকল্পের অর্থ সরাসরি পিআইসির ব্যাংক একাউন্টে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ছাড়া অন্য কোন প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ না দেয়া যেতে পারে। এছাড়া উপজেলার অধীন সব রাস্তা, খাল, নালা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ প্রণয়ন ও সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নকারী সংস্থার নাম ও উন্নয়নের সন অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কোনো বছরে কোনো সংস্কার হলে তা আগের বছরের সংষ্কার কাজের সঙ্গে তুলনা করে একটি তুলনামূলক বিবরণী পেশ করতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা দুদকের ১০টি সুপারিশ পেয়েছেন। এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

হালুয়াঘাটের সেই নুরজাহান বিবির পাশে দাঁড়ালেন শিক্ষক by ওমর ফারুক সুমন

‘বাবা ঘরে কিছু নাই, হুদা করলা ভাজা দিয়া সেহরি খাইছি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে হালুয়াঘাটের দর্শারপাড় গ্রামের ৯২ বছরের সেই অসহায় নুরজাহান বিবির পাশে এবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সেন্ট মেরিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাকলি রাকসাম। তিনি শুক্রবার বিকালে অসহায় নুরজাহানের বাড়িতে যান এবং তার হাতে নিত্য প্রয়োজনীয় বস্ত্র, দ্রব্যাদি ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় নুরজাহান মৃদু হাসিতে বলেন, ‘মা’ আমার কার্ডটি কি হবে না? আমার কার্ডটি কইরা দেইন। বাঁচমু আর কয়দিন। আমি মরবার আগে একটু দেইখা যাইবার চাই। নুরজাহানের দাবি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। নুরজাহানের দুইটি ছেলে ছিল। একজন অসুখে মারা যায়। আরেকজন জীবিত থাকলেও অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে আছে। একজন স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু তাকে খেয়ে না খেয়ে দেখাশোনা করেন। কোনো বেলা খায় আবার কোনো বেলা না খেয়েই চলে নুরজাহানের জীবন। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই বয়সেও সে একটি রোজা ভাঙেনি। কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলতে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ফ্যাঁলফ্যাঁল করে তাকিয়ে থাকে। এদিকে স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, মারে লইয়া উপজেলা পরিষদে চার দিন গেছি। কইছে ছাগল দিবো, কার্ড দিবো। মেম্বারে দুই দিন যাইবার কইছে। পরে গেছি। পরে হেরা কিছুই দেই নাই। নামই নিছে না! ছাগল দিবো কেমনে? বইয়া থাইকা চইলা আইছি। কত গেলাম, পাত্তাই পাই না! অনেক মানুষ ধরলাম কিছুই পাইলাম না। মাইনসে বয়স্ক ভাতা পায়! আমার মা পায় না। জানা যায়, এই বয়সেও একটি রোজাও ভাঙেনি নুরজাহান বিবি। তবে, তার শরীর ভালো নেই। রোগ শোকে জর্জরিত। হয়তো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে শান্তিতে মরতে পারতেন। কিছুটা হলেও তার তৃষ্ণা মিটতো। আমরা কি পারি না প্রায় শতবর্ষী এই নুরজাহান বিবির মুখে একটু হাসি ফোটাতে!

যে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন মমতা

সংস্কৃতি, শিক্ষা ও বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সঙ্গে আলোচনার পর একে ইতিবাচক বলে আখ্যায়িত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অঘোষিতভাবে তিনি এড়িয়ে গেছেন তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা তার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি তা কৌশলে এড়িয়ে যান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এশিয়ান এইজ। এতে বলা হয়, পানি বণ্টন নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে নানা রকম পূর্বাভাস ছিল। এ নিয়ে মমতার কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, আলোচনায় কি পানি বণ্টন চুক্তি এসেছিল কিনা। কিন্তু মমতা এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দু’দিনের ভারত সফরে অবস্থান করেন আলিপুরে একটি হোটেলে।
সেখানেই শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার প্রায় এক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ওই হোটেলে উপস্থিত হন মমতা। বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এশিয়ান এইজ লিখেছে, এরপর দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হয় রুদ্ধদ্বার। এরপরই ওই রাতে দেশে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈঠক ইতিবাচক ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। যেহেতু আমরা একই সম্পর্ক, সংস্কৃতি ও রীতি চর্চা করি তাই অনেক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। কথা হয়েছে বাণিজ্য সম্পর্ককে উন্নত করা নিয়ে। এসব সম্পর্ক উন্নত হলে উভয় পক্ষই সুবিধা পাবে। মমতা বলেন, যেহেতু পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ একই অবস্থানে (সেম পেইজে) আছে তাই কোনো রাজনীতি বা ভৌগোলিক সীমারেখা কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করতে পারবে না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বর্ণনা দিয়ে মমতা বলেন, আমরা একজন অন্যজনকে ভালোবাসি। ২৫ বছরের বেশি সময় আমি হাসিনাজি, রেহানাজি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জানি। আমরা চাই, তারা আবার এখানে আসুন। এ সময় মমতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেছেন, তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে পশ্চিমবঙ্গে বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী তিনি। মমতার ভাষায়, তিনি বলেছেন তার পিতা এখানকার শেক্সপিয়ার সরণিতে অবস্থান করতেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর নামে ওই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেছেন এবং আমরা তা করবো। বর্তমানে ওই বাড়িটি শ্রী অরবিন্দ আশ্রম। বাংলাদেশ সরকার অনুমতি দিলে আমরা সেখানেই জাদুঘর নির্মাণ করবো। কাজী নজরুল ইউনিভার্সিটি থেকে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি দেয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। মমতা বলেন, দু’দেশই সহমর্মিতাপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করছে। আমরা প্রতিটি ইস্যুতে একে অন্যের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

৩৮ বছর ধরে সেহরি খেতে ডাকেন শাহজাদপুরের সামাদ by সাগর বসাক

‘ঘুমে ওয়ালী জাগো হে, আল্লাহর দাওয়াত করো কবুল’- এই গজল গেয়ে গেয়ে প্রায় ৩৮ বছর একটানা রমজান মাসের প্রতিটি দিনের আগের গভীর রাতে শাহজাদপুরের রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লা, রূপপুর দক্ষিণপাড়া মহল্লা, রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লা ও পাঠানপাড়া মহল্লার মুসলমানদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে রোজার দাওয়াত দিয়ে চলেছেন শাহজাদপুরের আব্দুস সামাদ। কখনও বা লাঠি হাতে, আবার কখনও বা লাঠির সঙ্গে বাঁশি নিয়ে একাকী আঁধার রাতে দুষ্কর ও কষ্টসাধ্য ওই কাজটি তিনি করে চলেছেন। লেখাপড়া খুব একটা করার ভাগ্য নিয়ে জন্মাননি তিনি। কিন্তু তার পরেও একজন মুসলমান হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধে সর্বশক্তিমান আল্লাহু সুবহানু তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একটানা ৩৮ বছর ঘুমন্ত রোজাদার মুসলমানদের ঘুম থেকে ডেকে রোজা রাখার জন্য সেহরির প্রস্তুতির যে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ওই কয়েকটি পাড়ামহল্লার এমন একজন মুসলমানকে খুঁজে পাওয়া সত্যই দুষ্কর যে গভীর রাতে তার রোজার দাওয়াত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। শাহজাদপুর পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকর্মী আব্দুস সামাদ বর্তমানে বয়সের ভারে নুব্জ হলেও তার দাওয়াতি আদর্শ থেকে একদিনের জন্যও বিচ্যুতি হননি। গত ১৬ বছর সার্কুলার না আসায় পৌরসভায় তার নিয়োগও স্থায়ী হয়নি। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আল্লাহর করুণা লাভের জন্য এভাবেই ঘুমন্ত রোজাদারদের ডেকে রোজার দাওয়াত দিয়ে যেতে চান। সেইসাথে ২ মেয়ে ২ ছেলে ও স্ত্রী’র অভাবী সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ও পরিবারের ভবিষ্যত শান্তির জন্য শাহজাদপুর পৌরসভায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্থায়ীকরণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই রসিকতার কারণে স্থানীয় অনেকেই তাকে টেলিসামাদও বলে ডেকেছেন। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম গালা ইউনিয়নের পাড়াদুগালী গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আজগার আলী শেখের ছেলে হতদরিদ্র আব্দুস সামাদ গত ১৯৭৭ সালে গ্রামের বাড়ি পাড়াদুগালী থেকে শাহজাদপুর পৌরসদরের রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বদি’র রাইসমিলের ড্রাইভারি করার জন্য গ্রাম থেকে শহরে আসেন। এরপর থেকে বদিউজ্জামান বদির বাড়িতেই থেকে রাইসমিলে ড্রাইভারি করতেন। ১৯৮০ সালে রূপপুর মহল্লার মৃত তাজের উদ্দিন ব্যাপারী ছেলে শাহাদৎ হোসেন সাঈদের সঙ্গে গজলপার্টি করেছেন। তখন থেকেই গত ৩৮ বছর ধরে রমজানের প্রতি রাতেই ওই কয়েকটি মহল্লার মুসলমানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ঘুমন্ত রোজাদারদের রোজা রাখার দাওয়াত দিয়ে চলেছেন। 
সুদীর্ঘ ওই ৩৮ বছরের দু’চারটি রাতে ঝড়বৃষ্টি হলেও ছাতি নিয়ে এমনকি তিনি অসুস্থ থাকাবস্থায়ও একই দাওয়াত দিয়ে চলেছেন। এ ব্যাপারে আব্দুস সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র আল্লাহপাকের ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি লাভের জন্যই তিনি একটানা ৩৮ বছর রমজান মাসের প্রতিটি রাতে রূপপুর পুরাতনপাড়া মহল্লা, রূপপুর দক্ষিণপাড়া মহল্লা, রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লা ও পাঠানপাড়া মহল্লার মুসলমানদের প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে গজলের মাধ্যমে প্রত্যয়ী ঘুমন্ত রোজাদারদের ডেকেছেন ও মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ডেকে যেতে চেয়েছেন।’

ডি-লিট ডিগ্রি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের অভিনন্দন

গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন থেকে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’ থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জনিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল দলের পক্ষে এ অভিনন্দন জানান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিবৃতিতে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আচার্য, উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তীতে তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও মর্যাদার অনন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কবি নজরুলের স্বপ্নাকাঙ্ক্ষিত আত্মশক্তি, বিদ্রোহী বীর, সাম্যবাদী সত্য-সাধক। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ? ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণ তথা দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার সংগ্রামে অর্জিত হিমাদ্রি-শিখর সফলতার কাব্যমালঞ্চে অভিষিক্ত আজ নজরুলের স্বপ্ন-সাধ। বিবৃতিতে তিনি বলেন, নবজাগরণের অগ্নি-গিরি-গর্ভের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এদেশের মানুষের প্রাণ-প্রদীপ মুক্তির অগ্নিস্পর্শে প্রজ্জ্বলিত হওয়ায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অর্জিত হয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প-বাণিজ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন আজ বিশ্বসভায় রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার কল্যাণকর নেতৃত্বে উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও শান্তির স্নিগ্ধ-কলরবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

হতাশায় মেঘনা নদীর জেলেরা by আব্বাছ হোসেন

লক্ষ্মীপুরে গত এক সপ্তাহে ধরে মেঘনা নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ না পাওয়ায় হাজার হাজার জেলে পরিবারের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। মাছ ঘাটগুলোতে ইলিশের আমদানি না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন  জেলে ও আড়তদাররা। তবে, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছের আকাল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাছ আরো বেশি ধরা পড়বে বলে আশা করেন জেলা মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছে ২৭ হাজার ৮শ’ জেলে। এদের অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কি.মি. পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্য মার্চ-এপ্রিল দু’মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ২৬ দিন পার হলেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। মতিরহাট, মজুচৌধুরী হাট, লধুয়াঘাট ও মোল্লারহাটসহ বিভিন্ন হাটে ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললে চলে। জেলে ও আড়তদাররা অলস সময় পার করছেন। এ সময় জেলে কবির হোসেন, মনির মাঝি, সালামত উল্যাহ ও আড়তদার লিটন মেম্বারসহ অনেক জেলে অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেক আগে কিন্তু নদীতে মাছ নেই। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে এবং মাছ শিকার করলে দুই/চারটার মাছ পাওয়া যায়। এ দিয়ে ইঞ্চিন চালিত নৌকার তেলের খরচও জোগাড় করা যায় না। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময় দুই মাস ও মে-জুন দুই মাসসহ চার মাস ৪০ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু এসব ঘাটের আশপাশের তেমন কোনো জেলেই চাল পায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে তাদের চাল দেয়া হয়। এসব তালিকার বেশিরভগই জেলে নয় বিভিন্ন পেশার লোকজন বলে দাবি তাদের। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত  ভিজিএফের কার্ড নিতে এক হাজার টাকা করে আদায় করছেন চেয়ারম্যানরা। এরপরও চাউল দেয়া হয়নি। পুরোটায় আত্মসাৎ করে নেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। গত এক সপ্তাহে ধরে হঠাত করে নদীতে মাছ নেই। জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে।  অপরদিকে জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকাদায় পড়ছে দাদন ব্যবসায়ীরা। মাছ ধরা না পড়ায় তারা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। বর্তমানে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া জাটকা নিধনের ফলে মাছের আকাল বলেও দাবি করেন তারা।
এ দিকে সদর উপজেলার চরমনী মোহন ও চরকালকিনির ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও মোহাম্মদ সাইুফল্লাহ এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব এলাকায় যে পরিমাণ জেলে রয়েছে, তার অর্ধেকও নিবন্ধিত নয়। এ কারণে কার্ড পায়নি। যারা কার্ড পায়নি তারা চাল না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। পর্যায়ক্রমে সব জেলে যেন তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারে, সে চেষ্টা করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচএম মহিব উল্যাহ জানান. জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্যে ওপর ভারসাম্যহীন আঘাতের ফলে মেঘনা নদীর গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ মাছের অকাল দেখা দিয়েছে। জাটকা ইলিশ যেখানে প্রতিপালিত হয় সে ৮/১০টি স্পট আছে সেগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে গেছে ওই স্পটগুলো ড্রেজিং করলে আবার নদীতে ইলিশের দেখা মিলতে পারে এমনটাই মনে করেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

আমরা অলআউট যুদ্ধে নেমেছি

সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সফল করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা নিয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত এই ‘যুদ্ধ’ চলবে। ঈদ সামনে রেখে গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, আমরা অল আউট যুদ্ধে নেমেছি। এ যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি মাসে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর প্রতি রাতেই বহু মানুষ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে। ১৯শে মে রাত থেকে গত নয় দিনেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭৯ জনের। কতদিন এই অভিযান চলবে- জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে পর্যন্ত আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারবো, সেই পর্যন্ত অভিযান চলবে। নির্দিষ্ট সময়সীমা এটার মধ্যে নেই। তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের চেষ্টা নেব। কোনো চেষ্টাই ফাইনাল নয়। যা করলে আমরা মনে করি ভালো হবে, আমরা সেখানেই যাবো। বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রার সময় সড়কে চাপ সহনীয় রাখতে ১২, ১৩ ও ১৪ই জুন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ৭ই জুনের মধ্যে বেতন এবং ১০ই জুনের মধ্যে উৎসব ভাতা দিতে গার্মেন্ট মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। ঈদের আগে মহাসড়কে যানজট নিরসনে কাঁচপুর ও চন্দ্রায় পুলিশের কন্ট্রোল রুম থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সাদল্যাপুরে বর্ষালি ধান চাষাবাদে ঝুঁকেছে কৃষকরা by তোফায়েল হোসেন জাকির

ইরি-বোরো ধান কাটার রেস কাটতে না কাটতেই সাদুল্যাপুর উপজেলায় বর্ষালি ধান আবাদে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। গত সপ্তাহ থেকে জমিতে ধান রোপণ করার জন্য জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন তারা।
উপজেলার বিশেষ করে উঁচু এলাকায় ইরি ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে বর্ষালি ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই রোপণকৃত বীজ জমিতে রোপণ করার উপযোগী হয়ে যায়। ইরি/বোরো মৌসুমে ধান পাকার সময় এবং কাটার সময় কাল বৈশাখী ঝড়/বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় কৃষকরা নাকাল হয়ে পরলেও আবাদি জমি পতিত রাখতে নারাজ তারা। তাই পুরো বর্ষা নামার আগেই তড়িঘড়ি করে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। জমির আইল কাটা এবং জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ করে রোপণের জন্য তৈরি কাজে চরম ব্যবস্থা হয়ে পড়েছেন। সদ্য ধান কাটা শেষ হতে না হতেই কৃষকরা লাভের আশায় ঝুঁকে পরেছেন বর্ষালি ধানের আবাদে।
উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক সোলাইমান প্রধান জানান, এবারে বর্ষালি ধান আবাদের জন্য ইতোমধ্যে ২ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছেন। তিনি আরও বলেন গত মওসুমেও বর্ষালি ধান চাষাবাদ করে ভাল ফলন পাওয়া গেছে।  প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ থেকে  মন হারে ধানের ফলন পাওয়া সম্ভম।
শ্রমিক আনোয়ারুল, ছায়েদ আলী ও ছাইদার রহমান জানান, আমরা শ্রম বিক্রি করে দিনাতিপাত করি। ইরি-বোরো ধান কাটার পর আমাদের দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সংকটের শিকার হই। এখন ওই চিন্তা থেকে  রেহাই পেয়েছি। কারণ-বোরো ধান কাটার পরই বর্ষালি ধান রোপন করছেন কৃষকরা। তাই এ চাষাবাদে আমার শ্রম বিক্রি করতে পারছি। এখন আর বসে থাকতে হয়না।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, বর্ষালি ধান রোপনে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা ব্রি-৪৮ ও ৫৫ এবং কুদরত জাতের ধান রোপণ করা শুরু করেছেন। বিঘাপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ১১০ দিনের মধ্যে এ ধান কর্তন করে আমন ধান চাষাবাদ করতে পারবেন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জোবায়দুর রহমান জানান, গত বর্ষালি মৌসুমে এই উপজেলায় মাত্র ৪৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। কৃষকরা ভাল ফলন পাওয়ায় এবারে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বর্ষালি ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চারা রোপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রোপন কাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান তিনি।

‘ক্ষমতায় চিরদিন থাকবো না’ -ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশে আমি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছি, এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি, চট্টগ্রাম ডিভিশনে একজন, ইতিহাসে আর কেউ সাধারণ সম্পাদক হয়নি, তারপরেও আমি সংবর্ধনা নেইনি, গেট করতে দেয়নি। আমার এগুলো দরকার নেই। কারো ভালো না লাগলে চলে যান, তবে দলে থেকে কোনো অপকর্ম সহ্য করা হবে না। কারো মনে কষ্ট দিয়ে নেতা হওয়ার চেষ্টা করবেন না। বিলবোর্ডে ছবি দিয়ে নেতা হওয়া যায় না, কাজ লাগবে, কৃতী লাগবে। যারা আমার ছবির সঙ্গে আপনাদের ছবি দিয়ে গাছের উপরে বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন, অতিসত্বর আপনারা এসব বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলুন, নচেত আমি নিজে এসব বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলবো। বিলবোর্ড দিয়ে জনপ্রিয়তা নির্ণয় করা যায় না। ক্ষমতায় চিরদিন থাকবো না, আজ আছি কাল নাও থাকতে পারি। কিন্তু আমি মানুষের মাঝে আছি, থাকবো। সুখের মুহূর্তে, দুঃখের মুহূর্তে, আমি সব সময় জনগণের মাঝে আছি। আমি কোনো অন্যায় করিনি, আপনারা জনগণকে খুশি করুন। জনগণ আপনাদের খুশি করবে, ভালোবাসবে। গতকাল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বসুরহাট পৌরসভা মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ঢাকা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসে নেতা হইনি। আমি তৃণমূল থেকে বড় নেতা হয়েছি, আমার নেত্রী আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে। আমার নেত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এখানে আমার জন্ম, আপনারা আমাকে ভালোবাসেন এবং ভোট দেন বলেই আমি এমপি হই, মন্ত্রী হই। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ভারত সফরে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছি, এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পাশাপাশি বসে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, আমার জীবনে এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কি হতে পারে। এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সফরে দেশের জনগণের স্বার্থের কথা তুলে ধরেছি। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সাহাব উদ্দিন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান আরিফ, স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত প্রমুখ।

ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ

লক্ষ্মীপুরে আপত্তিকর অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লবকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পুলিশে দেয়া হয়। শনিবার রাতে সদর উপজেলার চরউভূতির চকবাজার এলাকার আবদুল জাহেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গণধোলাইয়ের শিকার ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লব কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চরউভূতির চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী (আবদুল জাহেরের) স্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার রাকিব হোসেন বিপ্লব  অবৈধ সর্ম্পক চলে আসছিল। এসব অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয়রা যেনেও রাকিব হোসেন বিপ্লবের ভয়ে  প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। শনিবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে লোকজন মসজিদের দিকে চলে গেলে এ সুযোগে রাকিব হোসেন বিপ্লব ঘরে ঢুকে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে অপকর্ম লিপ্ত হয়। এ খবর পেয়ে মুসল্লিরা নামাজ শেষ করে একত্রিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীর ঘর ঘোরাও করে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লব ও নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে গণধোলাই দিয়ে বিপ্লব ও ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করে। অভিযোগ রয়েছে, রাকিব হোসেন বিপ্লব ছাত্রলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে তোরাবগঞ্জ বাজারে তার বাসায় ভাড়া থাকতো টেইলার্স ব্যবসায়ী আবদুল জাহের ও স্ত্রী এবং তার দুই সন্তান। এরপর থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে  রাকিব হোসেন বিপ্লববের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এসব বিষয়ে জানাজানির পর তার বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় তারা। কিন্তু তাদের অবৈধ সম্পর্কে ভাটা পড়েনি। বরং আরো সম্পর্ক গভীর হয়। এ বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত বিপ্লব। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে সে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতে না বলে জানান অনেকে।  এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভবানীগঞ্জ ইউনয়ন পরিষদের ৪নং চরউভূতি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. নাছির উদ্দিন জানান, স্থানীয় এক/দেড়শ লোক রাকিব হোসেন বিপ্লব ও ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে আপত্তির অবস্থায় আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দু’জনকে থানায় নিয়ে যায়। কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায়িত্ব উপজেলা ছাত্রলীগ নিবে না। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়সাল আহমদ রতন জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এ ঘটনার খবর শুনেছি। তবে বাস্তবতা কি? সেটা আমি জানি না। যেহেতু ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে ঘটনাটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘ভীষণ চতুর আর ফাপরবাজ টাইপের একটি চরিত্র’ by কামরুজ্জামান মিলু

চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী বর্তমানে দুটি ছবির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ২’ এবং ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ‘নায়ক’ নামে দুটি ছবির কাজ করছেন তিনি। বাপ্পি মানবজমিনকে বলেন, গত ১৩ই মে থেকে রাজধানীর প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজে এর শুটিং শুরু হয়েছে। ছবির গল্পটি ভিন্ন ধরনের। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম থাকছে আবীর। ভীষণ চতুর আর ফাপরবাজ টাইপের একটি চরিত্র। দর্শক ছবিটি দেখে বেশ উপভোগ করবেন। এবারই প্রথম এ ছবিতে অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয় করছেন বাপ্পি চৌধুরী। কেমন লাগলো কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব ভালো লেগেছে কাজ করে। আর ছবির নির্মাতা  দেবাশীষ দা’র সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। শুটিংয়ে তার কাছে অনেক সহযোগিতা পাচ্ছি। তিনি নিজে বিভিন্ন সিক্যুয়েন্স বুঝিয়ে দিচ্ছেন। খুব রিলাক্সভাবেই কাজটি করতে পারছি। এ ছবির প্রথম অংশের কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে আগামীকাল থেকে বাপ্পি ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ‘নায়ক’ ছবির শেষ অংশের কাজে ঢাকার বাইরে আউটডোরে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নায়ক’ ছবির গল্প ও আমার চরিত্রটি অন্য ছবিগুলো থেকে আলাদা। ছবিতে মৌসুমী আপু ও অমিত হাসান ভাইয়ের মতো সিনিয়র শিল্পীরাও রয়েছেন। ছবির নাম ‘নায়ক’ হলেও চরিত্রটি নায়ক নয়। ধনী পরিবারের এক তরুণ, যে কি-না সবখানে নায়কোচিতভাবে হাজির হয়, তার জীবনেও  ট্রাজেডি আসে, এমন কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে। আর এবারই প্রথম আমার বিপরীতে অধরা খান কাজ করছেন। আমরা বান্দরবান এবং কক্সবাজারে গানের শুটিংয়ে অংশ নিতে আউটডোরে যাব আগামীকাল। তিনটি গানের শুটিং হবে সেখানে। গানের কাজ শেষ হলেই ছবির ক্যামেরা ক্লোজ হবে। আশা করি, এ ছবিটিও দর্শক পছন্দ করবেন। সবশেষ চিত্রনায়ক বাপ্পি  চৌধুরী অভিনীত ‘পলকে পলকে  তোমাকে চাই’ ছবিটি মুক্তি পায়। শাহনেওয়াজ শানু পরিচালিত এ ছবিতে বাপ্পির বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি। বাপ্পির কাছে ছবির দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জানতে চাইলে বলেন, ছবিটি মুক্তির পর আমি খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এমনকি গত ছয় মাসে এ ধরনের সেল কোনো ছবি পায়নি বলে আমি জেনেছি। এটাই তো অনেক বড় পাওয়া। তবে ছবি মুক্তির আগে প্রমোশনের জন্য সময় বের করাটা বেশ জরুরী। অন্যদিকে এর বাইরে বাপ্পি ‘বেসামাল’ নামে আরও একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করেছেন। রাহুল রওশনের পরিচালনায় এ ছবিতে তার নায়িকা নিঝুম রুবিনা। ছবিটি নিয়ে বাপ্পি বলেন, এ ছবিতে দুইদিন শুটিং করেছি। সামনে আবারো কাজ শুরু করার কথা রয়েছে। গল্প শুনে মনে হয়েছে ছবিতে অভিনয় করার অনেক জায়গা রয়েছে আমার। আশা করি, এ ছবিটিও দর্শক পছন্দ করবেন। এরই মধ্যে বাপ্পি নায়ক হিসেবে অনেকদূর এগিয়েছেন এবং ইন্ডাস্ট্রিতে শক্ত আসন তৈরি করছেন। এরই মধ্যে তিনি নায়ক হিসেবে মিম, ববি, মাহি, আঁচলসহ অনেক নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছেন। সামনে কোন ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত জানতে চাইলে বাপ্পি বলেন, সামনে আমার অভিনীত ‘দাগ’ ছবিটি মুক্তি পাবে। এ ছবির শুটিং এবং ডাবিং শেষ হয়েছে। তারেক শিকদার পরিচালিত ছবিটিতে আমার বিপরীতে মিম ও আঁচল অভিনয় করবেন। এরইমধ্যে এ ছবির ‘তুমি বাঁধনি আমাকে’ শিরোনামের একটি গানও ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। গানের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান এবং কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা ও আতিক হাসান। সংগীতায়োজনে ছিলেন আলী আকরাম শুভ। ছবিটিতে কাজ করে ভালো লেগেছে। আশা করি, দর্শক পছন্দ করবেন। এ ছবি ছাড়া চিত্রনায়িকা জলির সঙ্গে বেলাল সানীর ‘ডেঞ্জার জোন’ নামে একটি ছবির ৯০ ভাগ কাজ শেষ করেছেন বাপ্পি। সামনে এর বাকি কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

ভাইরাল ভিডিও

উচ্চ শক্তিসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে গেলেন এক ব্যক্তি। সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়লেন বৈদ্যুতিক তারের ওপর। ব্যস, যা হওয়ার তাই হলো। বিদ্যুতায়িত হয়ে একপর্যায়ে তার শরীর থেকে ধোঁয়া বেরুতে থাকে। সেখানেই তিনি মারা যান। এ দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার এশিয়া জয়া এলআরটি স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় সঞ্চালন লাইনে ছিল উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ। এক মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়ে গেছে। লোকজন বলাবলি করছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২৬শে মে পেটালিং জয়াতে। তবে এশিয়া জয়া এলআরটি সঞ্চালন লাইনে ভোল্টেজ অনেক বেশি থাকলেও ভিডিওতে যে ট্রান্সমিশন টাওয়ার দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে ওই এলাকার ট্রান্সমিশন টাওয়ারের কোনো মিল নেই। আরো তদন্তে দেখা গেছে ওই ঘটনাটি আসলে ঘটেছে কলম্বিয়ার বারানকুইলা শহরে গত ১৬ই মে। বৃটেনের সংবাদ মাধ্যম মেট্রো রিপোর্ট করেছে যে, নিহত ওই ব্যক্তি একজন বধির। তার বয়স ২০ বছর। নাম ভিক্টর হোসে আরোয়ো গনজালেস। তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তিনি ওই সঞ্চালন টাওয়ার বেয়ে ওপরে উঠে যান। হুমকি দিতে থাকেন লাফিয়ে পড়বেন তারের ওপর। এ খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। কিন্তু তাদের কারো কথায় কান না দিয়ে তিনি লাফিয়ে পড়েন তারের ওপর। এ সময় তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে ঝুলে থাকেন। অনেকক্ষণ পরে নিচে পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।