Thursday, March 29, 2018

সময় মাত্র ৩৬৫ দিন by তেরেসা মে

২৯ শে মার্চ। রাত এগারটা থেকে শুরু। এ সময় থেকে এক বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে বৃটেনকে। এটা করতে পারলে আমরা প্রক্রিয়াটির শেষ বিন্দুতে পৌঁছাতে পারবো, যা শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে। সেটা শুরু হয়েছিল দেশে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় একক গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের মাধ্যমে।
অবশ্যই এমন অনেকে আছেন যারা চাইছেন ভিন্ন কিছু। আমি জানি এখনও এমন অনেকে আছেন, যারা ওই গণভোটের ফল উল্টে গেলে বা তা অবজ্ঞা করা হলে খুশি হন।
কিন্তু আমি সারা দেশ ঘুরেছি। ওয়েস্টমিনস্টার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাতে দ্রুততার সঙ্গে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে। হতে পারে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে অথবা বিপক্ষে। বেশির ভাগ মানুষই গণভোটের পর এ নিয়ে বিভক্তিমুলক সেই পুরনো কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত। তাই তারা চাইছেন ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া যাতে সফল হয় সে লক্ষ্যে আমাদেরকে কাজ করতে।
তাদের এমন ভাবনা যথার্থ। কারণ, বৃটেনের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার কাজ হলো তার বাস্তবায়ন করা।
এ জন্যই আর্টিকেল ৫০ সক্রিয় করার পর গত ১২ মাসে আমার সরকার বৃটেনের পক্ষে ব্রেক্সিট সম্পাদনে কাজ করে যাচ্ছে। এ নিয়ে বৃটেন ও ব্রাসেলসের মধ্যে অসীম সময় পর্যন্ত সমঝোতা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশ কিভাবে চলবে তা নির্ধারণ করতে বা কর্মপরিকল্পনা করতে হোয়াইটহল জুড়ে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কাজ করছেন।
আমি ইউরোপজুড়ে সফর করেছি। সামনের পথ কি হওয়া উচিত তা নিয়ে আমি জাতীয় পর্যায়ের ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব নিয়েছেন। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। কিভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সে বিষয়ে সাম্প্রতিক চুক্তির বিষয়ে দেখুন।
কেউ বলেছেন, এমন সমঝোতা বা ঐকমত্য হবে এক অসম্ভাব্য কাজ। কিন্তু আমরা সেটা করে ফেলেছি। বৃটেনের পক্ষে যায় এমন ব্যবস্থা পাকা করেছি। এটাকে গত সপ্তাহে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের কাউন্সিলের নেতারা উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছেন। বাস্তবায়নকালীন সময়ের চুক্তিতে দেখা যায় যে, আমরা যখন একত্রিত একটি জাতি হিসেবে আবির্ভূত হবো এবং আমাদের ভবিষ্যত কি হবে তা অর্জন করা যাবে।
ভবিষ্যতে আমার উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য আছে। ভবিষ্যতে আমরা বন্ধু ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারদের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য করবো। এর মধ্য দিয়ে আমরা অগ্রগতি করবো, যেটা কয়েক বছর করে আসছি।
অনেকে যেমনটা পূর্বাভাষ করেছিলেন তার চেয়ে শক্তিশালী উপায়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে অর্থনীতি। ঘাটতি কমে গেছে তিন-চতুর্থাংশ। কর্মসংস্থানের রেকর্ড উচ্চ।
শুধু অর্থনৈতিক সফলতাকে নিশ্চিত করারই ব্রেক্সিটের লক্ষ্য নয়। একই সঙ্গে আমাদের দেশকে আরো সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করা আমাদের লক্ষ্য। আগামী বছর ২৯ শে মার্চ রাত এগারটায় শুক্রবারে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে বৃটেন। এ জন্য আমি বৃটেনের চারটি দেশেই সফর করেছি। ব্যবসায় ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এখন ব্রেক্সিট সম্পাদন করতে পারি। আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে, আমরা ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ত্যাগ করবোই। এবং তা হবে আগামী এক বছরের মধ্যে। আর তার মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধন হবে একক। কারণ, বৃটেন হলো বিশ্বের সবচেয়ে সফল একটি ইউনিয়ন। তাই বৃটেনকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আর সময় আছে মাত্র ৩৬৫ দিন। এর মধ্যেই আমরা আমাদের সন্তান, তাদের সন্তানদের কাছে হস্তান্তর করে যাবো লিগ্যাসি।
আমরা যদি আমাদের মতপার্থক্য ভুলে সবাই এক লক্ষ্যে অগ্রসর হই তাহলে এমন একটি ব্রেক্সিট উপহার দিতে পারবো, যা প্রতিটি মানুষের কল্যাণে আসবে। এটাই দেশবাসীর চাওয়া। আর এটাই আমরা তাদেরকে দিতে চাই।
(অনলাইন ডেইলি মেইলে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

কিমের চীন সফর: পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত উত্তর কোরিয়া

অবশেষে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকার করেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
বৈঠকে কিম জং উন বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের নেয়া উদ্যোগের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখালে বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে। নিজের পিতা ও দাদার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, ‘প্রয়াত প্রেসিডেন্ট কিম ইল সাং ও কিম জং ইলের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা এই উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের এই প্রচেষ্টার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব।’ এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন কিম।
এর আগে রোববার কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সস্ত্রীক চীন সফর করেন কিম জং উন। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে সবুজ রঙের বিলাসবহুল ট্রেনে চড়ে বেইজিং পৌঁছান তিনি। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে বুধবার বিকালে বেইজিং ছেড়ে যান তিনি। উত্তর কোরিয়ার নেতার চারদিনের চীন সফরের বিষয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও এই বিষয়ে নীরব থাকে দু’দেশ। কয়েক দিনের লুকোচুরির পর অবশেষে দুই দেশই সফরের বিষয়টি প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম কোনো বৈদেশিক সফরে গেলেন কিম জং। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিতেই অকস্মাৎ চীন সফর করলেন কিম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কিমের সফরকে ‘অনির্ধারিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। চারদিনের সফরে বেইজিংয়ের গ্রেট হলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন কিম। কিম ও তার স্ত্রী রি সল জু’কে সেখানে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার মুখপাত্র বাইক তায়ে হিউন বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন শি জিনপিং ও কিম জং। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, দুই কোরিয়ার সম্মেলন ও ট্রাম্প-কিমের বৈঠককে সামনে রেখে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়টি কোরিয়া উপদ্বীপের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে।’ তবে উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’র খবরে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের অঙ্গীকারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, কিম জংয়ের সফরের বিষয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে চীন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে একটি ‘ব্যক্তিগত বার্তা’ পাঠিয়েছেন শি জিনপিং। তবে ওই বার্তার বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু বলেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, কিম জংয়ের পূর্বসূরি পিতা কিম জং ইল ও দাদা কিম ইল সাং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু গোপনে নিজেদের পারমাণবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে দেশটি। ২০০৬ সালে কিম জং ইলের শাসনামলে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বন্ধের আহ্বান জানায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায় উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকরা বলছেন, পূর্বপুরুষের হাতে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে কিমের আগ্রহ অবিশ্বাস্য। তাদের ধারণা, আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রকৃতপক্ষে উত্তর কোরিয়া এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

কী পরিমাণ সম্পদের মালিক বারাক ওবামা?

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ থেকে তিনি প্রায় ১৩ লাখ ডলার কামাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের আর্ট গ্যালারিতে উপস্থিত হওয়ার বিনিময়ে পেয়েছেন কয়েক হাজার ডলার। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের পর জাপান ও সিঙ্গাপুরে এক সপ্তাহব্যাপী সফর থেকে ঘরে তুলবেন কাড়ি কাড়ি ডলার। বৃটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলের এক খবরে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই হ্যারি ওয়াকার এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই এজেন্সি প্রতি বক্তৃতার জন্য ৫ লাখ ২০ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত চেয়ে থাকে।
শুধু বক্তৃতা থেকেই নয়। স্ট্রিমিং সার্ভিস নেটফ্লিক্সে একটি বিশেষ শো আয়োজনের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে ওবামা দম্পতির। এখান থেকেও যে বিপুল অংকের অর্থ ঘরে তুলবেন তারা, তা না বললেও চলে।
বারাক ওবামার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এরিক শুলৎস বলেন, সব ঠিকঠাক থাকলে নেটফ্লিক্সে নিজের অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা অনুপ্রেরণাদায়ী গল্প বলবেন। এ ক্ষেত্রে নিজের শাসনামলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তুলে ধরবেন তিনি। যেমন, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসন। অপরদিকে মিশেল ওবামা আলোচনা করবেন পুষ্টি নিয়ে। ফার্স্টলেডি থাকাকালে এ নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। শুধু নেটফ্লিক্স নয়। অ্যাপল ও অ্যামাজনও ওবামা দম্পত্তির সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে আগ্রহী।
এর বাইরে তারা দু’ জনই বর্তমানে নিজেদের আত্মজীবনী লেখার কাজে হাত দিয়েছেন। এই বইয়ের জন্য তারা ইতিমধ্যে অগ্রিম হাতে পেয়েছেন ৬ কোটি ডলারেরও বেশি।
তবে সমস্ত ব্যয় ও ঋণ বাদ দিয়ে বারাক ওবামার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ডলার। তার সম্পদের বেশিরভাগই এসেছে তার বই ‘অডাসিটি অব হোপ’ ও ‘ড্রিম অব মাই ফাদার’ বিক্রি থেকে। নতুন বই বিক্রি থেকে স্বাভাবিকভাবেই এই সম্পদ আরও বাড়বে।
কীভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন বারাক ওবামা?
২০০৪ সালে বারাক ওবামা ইলিনয় রাজ্য সিনেটে থাকাকালে বেতন-ভাতা হিসেবে ৬০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। এছাড়া শিকাগো আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়ে পেয়েছিলেন ৩২ হাজার ডলার। এর বাইরে চারটি আর্থিক তহবিলে তার অর্থ গচ্ছিত ছিল। এগুলোর একেকটির মূল্যমান ছিল ৫০ হাজার ডলার থেকে ১ লাখ ডলার।
এক বছর পর তিনি বই লেখার জন্য অগ্রিম ৮ লাখ ৪৭ হাজার ডলার ও রয়্যালটি (বিক্রি বাবদ) হিসেবে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন তহবিলে রাখা তার অর্থও বেড়ে যায়। ২০০৫ সালে ওবামা দম্পত্তি শিকাগোর কেনউডে ১৬ লাখ ডলার মূল্যের বাড়িতে উঠেন।
২০০৬ সালে তিনি ফের বইয়ের রয়্যালটি পান ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে বছর আরেকটি বইয়ের কাজে হাত দেন তিনি। ওই বই থেকে তিনি অগ্রিম সম্মানি পান ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তখন বিভিন্ন খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তহবিলে অর্থ জমা রাখতে শুরু করেন তিনি।
পরের বছর তিনি র‌্যান্ডম হাউজ থেকে আয় করেন ৩৩ লাখ ডলার। ডিস্টেল ও গোডরিচ লিটারেরি ম্যানেজমেন্ট থেকে পান ৮ লাখ ১৬ হাজার ডলার। এছাড়া মার্কিন রাষ্ট্রীয় ট্রেজারি থেকে বন্ড কিনেছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে তিনি যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ট্রেজারিতে তার সম্পদ ছিল ১০ লাখ থেকে ৫১ লাখ ডলারের মধ্যে।
২০০৯ সালে এই দম্পত্তির আয়কর রিটার্ন থেকে দেখা যায়, পারিবারিকভাবে তাদের আয় ছিল ৫৫ লাখ ডলার। ২০০৭ সালে যা ছিল ৪২ লাখ ডলার। ২০০৫ এ ছিল ১৬ লাখ ডলার।
২০১০ সালে, নিজের আয়ের ১৪ শতাংশ তিনি অলাভজনক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দান করেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার গেছে ফিশার হাউজ ফাউন্ডেশনে। এই দাতব্য সংস্থা যুদ্ধাহত প্রবীন যোদ্ধাদের পরিবারকে সহায়তা করে।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বছরে ৪ লাখ ডলার বেতন পেতেন তিনি। এছাড়া দেড় লাখ ডলারের বিশেষ তহবিল, ১ লাখ ডলারের ভ্রমণ ভাতা ও ২০ হাজার ডলারের বিনোদন ভাতা পেতেন তিনি।
এই মিলিয়ে বারাক ওবামার ঋণ বাদে মোট সম্পদ আনুমানিক ৪ কোটি ডলার। তার স্ত্রী মিশেল ওবামারও মোট সম্পদ একই।

প্রবীণদের মানবাধিকার রক্ষায় জামাকনের কমিটি by মহিউদ্দিন অদুল

দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে এখন ৭২। অর্থাৎ দেশে বাড়ছে ষাটোর্ধ্ব প্রবীণের সংখ্যা। কিন্তু সন্তানদের কাছে কিংবা পরিবারে ও সমাজে বহু প্রবীণের মানবাধিকার রক্ষা হচ্ছে না। বরং প্রবীণদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের হার দিন দিন বাড়ছে। বার্ধক্যজনিত অসুখ, অবহেলা ও নিঃসঙ্গতায় মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছেন তারা। অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এতে দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ও নদী ভাঙনে রাতারাতি উদ্‌বাস্তু হচ্ছে মানুষ। রাতারাতি সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসছে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী শত শত উপকূলীয় পরিবার। ক্রমেই প্রবীণ ও জলবায়ু উদ্‌বাস্তুদের মানবিক বিপর্যয় বাড়ায় তাদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ (জামাকন)। গঠিত হয়েছে দু’টি কমিটি। প্রবীণ অধিকার বিষয়ক ও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটি। এ নিয়ে সংস্থাটির বিষয়ভিত্তিক কমিটির সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ তে। প্রবীণ ও জলবায়ু উদ্‌বাস্তুদের ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয় রোধে গঠিত দু’কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। সংস্থাটির মানবাধিকার কমিশন সদস্যদের নিয়ে গঠিত উভয় কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। প্রবীণদের মানবিক বিপর্যয় বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একদিকে আশার কথা হলো আমাদের দেশে শিশু মৃত্যুর হার কমছে। এটা একটা বড় অর্জন। কারো বয়স ৬০ বছর হলেই আমরা তাকে প্রবীণ বলছি। দেশে গড় আয়ু বেড়ে এখন ৭২। ফলে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে। ২০৫০ সালে প্রতি ৫ জনে একজন প্রবীণ হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রবীণ নারী ও পুরুষ সর্বস্ব ত্যাগ করে সন্তানদের মানুষ করলেও বহু পরিবারে এখন একা ও অবহেলিত হয়ে পড়ছেন। অনেকে জীবন সঙ্গীকে হারাচ্ছেন। সন্তানরা যথাযথ মর্যাদা ও সেবা দিচ্ছে না। ফলে প্রবীণদের অসহায়ত্ব বাড়ছে। দেশে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন ও জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা থাকলেও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ফলে ক্রমেই বাড়ছে প্রবীণদের মানবিক বিপর্যয়। পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যেতে থাকায় জামাকন প্রবীণদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেছে। প্রবীণ অধিকার রক্ষায় একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
জামাকন কর্মকর্তারা বলেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায় দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা। ডুবছে দেশের বিস্তীর্ণ উপকূল। বাস্তুভিটা হারাচ্ছে উপকূলীয় মানুষ। স্রোত ও ঢেউয়ে ভাঙছে প্রতিনিয়ত নদ-নদী ও সমুদ্র তীর। বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ায় বাড়ছে পাহাড় ধস। ভাঙনে ঘুমের মধ্যে মানুষ খাট-পালং ও ঘরসহ নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘুমন্ত মানুষ চাপা পড়ছে ধসেপড়া পাহাড়ের মাটির নিচে। তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনায় ঘটছে মর্মান্তিক প্রাণহানি। একই সঙ্গে আহত হচ্ছে অনেকে। বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। এভাবে একের পর এক রাতারাতি বাস্তুভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ। একেবারে পথে বসছে। অন্নসংস্থান, মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো অমানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। তাদের অনেকে একাধিকবার বাস্তুভিটা হারিয়ে উদ্‌বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বাড়ছে কিন্তু রাষ্ট্রীয় এই মানবাধিকার সংস্থাটি গত বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এ বিষয়টির উপর তেমন নজর দেয়নি।
প্রবীণ ও জলবায়ু উদ্‌বাস্তুদের ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার বিপর্যয় বাড়ায় গত বছরের জুলাই থেকে এ বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছে জামাকন। জুলাইতে এই রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার কমিশনে ওই দু’বিষয়ে পৃথক কমিটি গঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির প্রধান জামাকন চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এই বিষয়ে বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়, নদী ভাঙন ও পাহাড় ধসে মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বাড়ছে। সেই সঙ্গে রাতারাতি সব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো নারী ও শিশু নিয়ে পথে বসছে। তাদের মানবাধিকার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে দিন দিন উদ্‌বাস্তুদের সংখ্যা বাড়ছে। এই গত বছর থেকে এই বিষয় নিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে মানবাধিকার কমিশন।
মানবাধিকার কমিশন সূত্র জানায়, ২০১০ সালে এই রাষ্ট্রীয় সংবিধিবদ্ধ মানবাধিকার সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৯টি বিষয় কমিটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করে আসছিল। এরই কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক. অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক কিমিটি, খ. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটি, গ. দলিত, হিজড়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র গোষ্ঠী, ঘ. ব্যবসা ও মানবাধিকার এবং কর্পোরেট স্যোসাল রেসপনসিবিলিটি, ঙ. অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, চ. প্রতিবন্ধী ও অটিজম, ছ. ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং অনাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, জ. শিশু অধিকার, শিশুশ্রম ও মানবপাচার বিরোধী এবং অভিবাসী ইত্যাদি বিষয়ক কমিটি। এর সঙ্গে গতবছর প্রবীণ অধিকার বিষয়ক ও জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটি।
এ বিষয়ে জামাকনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ওই দু’ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ায় তা কমিশনের নজরে আসে। এরপর নতুন কমিটি গঠন করে প্রবীণ ও জলবায়ু উদ্‌বাস্তুদের মানবাধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করেছে কমিশন। তবে এ দু’বিষয়ে মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

কিমের কূটনৈতিক মিশন

যে কিম জং উনকে কেন্দ্র করে কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলে যুুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা মোতায়েন করেছিল যুদ্ধজাহাজ, চারদিকে ছিল রণপ্রস্তুতি, সেই কিম জং উনকেই এখন রাজসিক আপ্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি কূটনৈতিক দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়ার সঙ্গে তলে তলে তার সম্পর্ক গভীর করেছেন। অন্যদিকে সর্বশেষ চীন সফরে এলেন। সেখানে তাকে রাজকীয় অভিষেক জানানো হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং তাকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে দেয়া প্রটোকল অনুসরণ করেছেন। সহাস্যে তাদেরকে দেখা গেছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কিম জং উনের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনে বৈঠকে বসার কথা বলছে। বলা হচ্ছে, এমন আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন কিম জং উন। ফলে কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলের উত্তেজনা দৃশ্যত ফিকে হয়ে যাচ্ছে। তবে কিম জং উন চীনে যে ট্রেনে করে সফরে গিয়েছিলেন তার একটি তাৎপর্য আছে। তাকে বহনকারী ট্রেনটি ছিল বুলেটপ্রুফ। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার। এর ভিতরে আছে সব রকমের প্রসাধনী। আছে বিলাসবহুল সব ব্যবস্থা। আছে চাহিবামাত্র এলকোহল। এই ট্রেনটি ২০০০ সালের মে মাসে চীন সফরে ব্যবহার করেছিলেন কিম জং উনের পিতা কিম জং ইল। তিনি চীনের ওই সময়ের নেতা জিয়াং জেমিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন বেইজিংয়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার ২০০৯ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই ট্রেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রায় ৯০টি সাজোয়া যান। এ ছাড়া ছিল আলাদা দুটি ট্রেন। একটি ছিল কিম জং ইলকে বহনকারী ট্রেনের সামনে। অন্যটি পিছনে। তাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য এ ব্যবস্থা। এ কারণে জিম জং ইলকে বহনকারী ট্রেনটির গতি ছিল ধীর, ঘন্টায় প্রায় ৩৭ মাইল। ওই ট্রেনে ২০০১ সালে কিম জয় ইলের সঙ্গে মস্কো সফরে গিয়েছিলেন রাশিয়ার একজন কর্মকর্তা কন্টান্তিন পুলিকোভস্কি। তিনি দিয়েছেন এমনি অনেক তথ্য। সেই একই সবুজ-হলুদ রঙের ট্রেনে করে তার ছেলে কিম জং উন চীন গেলেন। এটি তিনি দেশের ভিতরে ব্যবহার করে থাকেন।

পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের আতুঁড়ঘর বললেন তসলিমা

সন্ত্রাসের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরোক্ষে তোপ দেগেছেন বাংলাদেশি বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বুধবার নিজের টুইটারে তিনি পরোক্ষে আমেরিকাকে আক্রমণ করে লিখেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫ বছরে পাকিস্তানকে ৩৩ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সাহায্য করেছে। অবিলম্বে এই আর্থিক সাহায্য বন্ধ হওয়া দরকার বলে দাবি করেছেন তসলিমা। তিনি লিখেছেন, পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করার সময় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। একইসঙ্গে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তসলিমার মতে, বিশ্বে সন্ত্রাসের পিছনে অন্যতম বড় অবদান রয়েছে পাকিস্তানের। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে পাক যোগ দেখা গিয়েছে বহুবার। জঙ্গি উৎপাদনের কারখানা বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের এই নির্বাসিত লেখিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বিশেষ নিরাপত্তায় বসবাস করছেন।

যমুনায় মাইলের পর মাইল ধু-ধু বালুচর by সাগর বসাক

এক সময়ের প্রবলা, প্রমত্তা, প্রগলভা, সমুদ্রের যোগ্য সহচারী, রাক্ষুসী, ভয়াল, উত্তাল, আগ্রাসী ও স্রোতস্বিনী যমুনা নদী ভারতের মরূকরণ প্রক্রিয়ায় পাষাণ বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে শুষ্ক মৌসুমে যৌবন হারিয়ে এক শান্ত মরা খালে পরিণত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অতীতের তুলনায় উদ্বেগজনকহারে বর্তমানে নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি যমুনার বিভিন্ন শাখা নদী, খাল-বিল শুকিয়ে চারদিকে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। যমুনা নদী তীরবর্তী শাহজাদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সেচ কাজের জন্য সচল গভীর-অগভীর নলকূপ থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে, দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। যমুনা নদীনির্ভর এসব অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ও অতিমাত্রায় ব্যবহার এবং সেচ কাজে পানির অপচয় রোধ করা না গেলে বাংলাদেশ এক মহাসংকটের মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করেছেন। যমুনাসহ দেশের বৃহত্তর নদ-নদীগুলোতে পানির অভাবে দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্প, তিস্তা প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিরাজ করছে। ভারতের মরুকরণ প্রক্রিয়ার নির্মম, নিষ্ঠুর যাঁতাকলে আবদ্ধ ও পিষ্ট হয়ে যমুনায় তীব্র নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, যমুনার বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য ছোট বড় বালু চরে মাইলের পর মাইল বিস্তার করছে ধু-ধু বালুচর। ওই চরের দিকে তাকালে হাহাকার করে উঠছে এলাকাবাসীর মন। কালের আবর্তনে অনেক স্থানে ভয়াল যমুনা নদীর পানি প্রবাহ এলাকা প্রায় ৬০০-৭০০ মিটারে বর্তমানে নেমে এসেছে। পানির অভাবে যমুনার শাখা নদী এক সময়ের রাক্ষুসী হুরাসাগর, পারজামিরতাসহ বহু নদী বর্তমানে পুরোপুরি শুকিয়ে মরে গেছে। এসব শাখানদী বক্ষে এক ফোটাও পানি আর দেখা যাচ্ছে না। করতোয়ার পরিণতিও বর্তমানে একই পথে! নাব্য সংকট, বাসযোগ্য পানি ও প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করায় যমুনা নদী থেকে দেশীয় ৪০ প্রজাতির ছোট মাছ নিশ্চিহ্নের পথে। এসব কারণে যমুনানির্ভর কৃষক ও এলাকাবাসীর বুকভরা আশা ক্রমশ হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এছাড়া যমুনা নদীতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় একদিকে যেমন নৌ-চলাচল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা বিধৌত শাহজাদপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত জুড়ান সরদারের ছেলে প্রবীণ অনাথ সরদার (৮৫), হাটবায়রা গ্রামের মৃত লালু শেখের ছেলে প্রবীণ রিয়াজ উদ্দিন (৭০), কাশিপুর গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার মোল্লার ছেলে প্রবীণ আবুল মোল্লাসহ (৭০) বয়োবৃদ্ধ অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানান, ‘ছোটবেলায় তারা ভয়াল উত্তাল যমুনার এপার (পশ্চিম) থেকে ওপারে (পূর্ব) তাকালে চোখে পড়তো দিগন্ত ছোঁয়া পানি আর পানি। আর এখন সেখানে চোখে পড়ছে ধু-ধু বালু চর। বিজলী বাতি জ্বলা জাহাজ তো দূরের কথা! পানির অভাবে পাল তোলা নৌকাও সচরাচার আর দেখা যাচ্ছে না। যমুনায় আগে ভূখণ্ড থেকে ৫ মানুষ সমান (দীর্ঘ) বা ৩০ ফুট গভীরে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর পাওয়া গেলেও বর্তমানে তদস্থলে ১২-১৩ মানুষ সমান (দীর্ঘ) বা ৬০-৬৫ ফুট গভীরেরও অনেক নিচে পানির স্তর নেমে গেছে। যমুনার বিস্তীর্ণ জলসীমা সংকুচিত হয়ে প্রায় দেশীয় প্রায় ৪০টি ছোট-বড় মাছ যমুনা থেকে নিশ্চিহ্নের পথে! মরুকরণের কুপ্রভাবে যমুনাসহ মিঠা পানির প্রায় ২০ শতাংশ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বসবাস ও প্রজনন ক্ষেত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যমুনাসহ শাখা নদী করতোয়া, হুরাসাগর, পারজামিরতাসহ বিভিন্ন খাল, বিল, নালা ও জলাশয় থেকে নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় ছোট ৪০টি প্রজাতির মাছ।
জানা গেছে, প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে- এই ৫ মাসে (শুষ্ক মৌসুম) পানির অভাবে যমুনা নদী ও এর বেশ ক’টি শাখানদীসহ খাল-বিল প্রতি বছরেই শুকিয়ে যায়। ফলে যমুনা নদী তীরবর্তী অঞ্চলবাসীর শুরু হয় নানা দুঃখ দুর্দশার পালা। প্রকৃতি নির্ভর কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকা হয়ে যায় মিনি মরুভূমি। দ’ুচোখ যেদিকে যায় সেদিকেই দেখা যায় ধু-ধু বালুচর। প্রতিবেশী দেশ ভারত নদ-নদীগুলোর স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়ায় সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে মরু অঞ্চলে পরিণত হতে চলেছে। যমুনা নদী উত্তরাঞ্চলের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে অবস্থান করায় এর মরূকরণের কু-প্রভাব এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশকে করছে ভারসাম্যহীন। এসব কারণে যমুনার শাখানদীসহ খাল-বিলের গতি প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটছে। আমরা হারাতে বসেছি আমাদের অনেক গ্রামীণ ঐতিহ্য। আবহমানকাল থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষের প্রিয় সুস্বাদু দেশি মাছ এখন সোনার হরিণের মতো। এখন আর দেখা যায় না গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ, খরা জাল, সূতি ফাঁদ, সেচের মাধ্যম দাঁড়। মৎস্যভাণ্ডার সংকুচিত বা শুকানোর ফলে অনেক মৎস্যজীবী বর্তমানে বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। আবার অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

৪৮ বছরের লিভ টুগেদার অতঃপর বিয়ে

টানা ৪৮ বছর বিবাহ ছাড়াই লিভ টুগেদার করেছেন তারা। এ সময়ে ছেলেমেয়ে হয়েছে তাদের। নাতিপুতি হয়েছে। অবশেষে তাদেরকে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হলো। রীতি অনুযায়ী বিয়ে পড়ানো হলো। এখন তারা সামাজিক রীতি অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী। উদয়পুরের ঝাদল ফালাসিয়া ব্লকের গ্রাম পারগিয়াপাড়া। সেখানেই বসবাস দেবদাস কালাসুয়া (৮০) ও মাগডু বাই (৭৬)-এর। অবশেষে তাদের বিয়ে দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, দেবদাস কালাসুয়া তখন বিবাহিত। তিনি পাশের গ্রামের মাগডু বাইকে সঙ্গে নিয়ে পালালেন একদিন। তাকে সঙ্গে নিয়ে চলে এলেন নিজের গ্রামে। সেখানে তার প্রথম স্ত্রী চম্পা বাই ও সন্তানরা থাকে। কিন্তু বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন নি চম্পা বাই। তিনি সন্তানদের নিয়ে চলে যান ফালাসিয়ায়। অন্যদিকে বান্ধবী মাগডু বাইকে নিয়ে নিজের আদিভিটায় রয়ে যান দেবদাস। কিন্তু প্রথম স্ত্রী ও মাগডু দু’জনের সঙ্গেই অব্যাহত থাকে তার সম্পর্ক। কিন্তু স্থানীয় রীতির আওতায় তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাদের সম্পর্ককে কেউ মেনে নিতে পারে না। ফলে তাদেরই সন্তানরা তাদের বিয়ের আয়োজন করতে থাকে, যা মেনে নেয় তার সমাজ। মঙ্গলবার পালিত হয় ভঞ্জনা রীতি। এদিন কনের বাড়ি যায় বরযাত্রী। তারা কনেপক্ষকে ৫০ কেজি চাল দেন উপঢৌকন হিসেবে। তার জবাবে কনের বাড়ি থেকে পাঠানো হয় ১০ কেজি চাল। দেবদাসের ছেলে অর্জুন লাল। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেছেন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য তার পিতামাতা অধীর হয়ে ছিলেন। তবে রীতি অনুযায়ী বিয়ে না হওয়ায় সমাজ তা মেনে নিচ্ছিল না। ফলে পঞ্চায়েত সদস্যরা বসে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেন। ৪৮ বছর পরে মাগডু বাইকে স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলেন দেবদাস।

ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষা by সুদীপ অধিকারী

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে বেশ কিছু দিন আগেই লাগানো হয়েছে ত্রিভুজাকৃতির সাইনবোর্ড। কিন্তু পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকাগুলোতে এখনো বহাল তবিয়তে চলছে ভিক্ষাবৃত্তির ব্যবসা। ২০১১ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রথম এক জরিপে জানা যায়, শুধুমাত্র রাজধানীতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ভিক্ষা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এদের মধ্যে ২ হাজার জনকে বাছাই করা হয় পুনর্বাসনের জন্য। তবে তাদের মধ্যে শুধুমাত্র ৬৬ জন ভিক্ষুককেই বিভিন্ন জেলায় পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু জানা যায়, স্বাবলম্বী করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ভ্যান, রিকশা, সেলাইমেশিনসহ বিভিন্ন সাহায্যের জিনিসপত্র বিক্রি করে তারা আবারও ফিরে যায় পুরানো ব্যবসায়। ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়াতে প্রথমভাগে ব্যর্থ হয়ে সংস্থাটি জেলা প্রশাসকদের সহায়তায় আবারও নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি জেলাতে। এর আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বাড়িধারা, এয়ারপোর্ট, ধানমন্ডির বিভিন্ন অংশসহ হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, রেডিসন ব্লু এলাকাতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে। জানা যায়, এসব সাইনবোর্ড লাগানো এলাকাগুলোতে কাউকে ভিক্ষা করতে দেখলে জরিমানাসহ শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু সরজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিদেশি ও ভিআইপিদের নিয়মিত রুট হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সোনারগাঁও হোটেল এলাকা কাওরান বাজার গোলচত্বরে কিছু দিন আগেও দেখা যেত ঢাকা সিটি করপোরেশনের লাগানো সেই সাইনবোর্ডটি। কিন্তু বর্তমানে এলাকাটিতে সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু তাতে নেই কোনো লেখা বা ছবির চিহ্ন। স্টিল সিটের তৈরি ত্রিভুজাকৃতির খালি সাইনবোর্ডটি দাঁড়িয়ে আছে মাঝ রাস্তা বরাবর। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মীদের বিচরণ থাকলেও ট্রাফিকের কারণে হোটেলটির সামনে দাঁড়ানো গাড়িতে চলছে ভাসমান ভিক্ষা ব্যবসা। ধানমন্ডি ৮ নম্বর রবীন্দ্র সরোবর এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত হিসাবে ঘোষণা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। আনাম র‌্যাঙ্গস শপিংমলের পাশ দিয়ে ধানমন্ডি লেকের কোল ঘেঁষে মুক্ত মঞ্চের দিকে যেতেই চোখে পড়ে ভিক্ষুক মুক্ত এলাকার সাইনবোর্ড। আর সেই সাইনবোর্ডের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে কিছু শিশু। যারা লোক-জন দেখলেই দৌড়ে কাছে যাচ্ছে। কারোর জামা টানছে কারোর বা প্যান্ট। টাকা না পাওয়া পর্যন্ত সহজে কারোরই পিছু ছাড়ে না তারা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীই তাদের টার্গেট। টাকা না দেয়া পর্যন্ত জোকের মতো লেগে থাকে পিছনে। বিকাল হলেই আবার সেখানে অবস্থান নেয় এক দল হিজড়া। আপসে টাকা না দিলে, বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে কিছুটা জোর করেই মানুষের কাছ থেকে টাকা নেয় তারা। এ বিষয়ে তাদের কেউ কিছু বললেই আইডি কার্ড বের করে বলে, আমাদের কাছে সরকারি কার্ড আছে। এতে পুরুষের পাশাপাশি ঘুরতে আসা নারীরাও পরছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বেসরকারি চাকরিজীবী আশিকুর রহমান বলেন, রাস্তার যানজট ও সময় বাঁচানোর জন্য আমার মতো অনেকেই প্রতিদিনই এই লেকের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেন। নগর জীবন থেকে একটু স্বস্তি পেতে পরিবারের সদস্যের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকেও নিত্যদিন আনাগোনা হয় এখানে। কিন্তু ঘুরতে আসা প্রায় সব মানুষকে পরতে হয় ভিখারিদের কবলে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এলাকাটিতে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি তো আর থেমে নেই। এখনো দেদারছে চলছে ভিক্ষা ব্যবসা। তিনি বলেন, শুধু মাত্র সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখলেই এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত হয়ে যায় না। এর জন্য সরকারের সঠিক নজরদারি ও পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাজধানীর বারিধারা, বনানী ও গুলশানের বিভিন্ন স্থানে ‘নবীর শিক্ষা, করো না ভিক্ষা, ইনকাম করতে হবে, স্বয়ং সম্পূর্ণ হতে হবে, যে মানুষ ভিক্ষা করে তার যেমন ইজ্জত থাকে না, জাতি হিসাবে তাদেরও ইজ্জত থাকে না’ বিভিন্ন স্লোগানে ভিক্ষুকমুক্ত সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও দেখা যায় এলাকাগুলোতে ঠিকই চলছে ভিক্ষাবৃত্তি। গুলশানে অবস্থিত আমেরিকা, কানাডা, জর্মান দূতাবাসের কাছে পুলিশ বক্সের পাশে বসেও ভিক্ষা করতে দেখা যায় এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুককে। এবিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এর আগেও কাজ করেছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। এজন্য এখন আমরা নতুন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে, স্ব স্ব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছি। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে পেশাদারি ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছি। কিন্তু দেখা যায় পুনর্বাসিত হওয়ার পরও তারা আবার ভিক্ষা করা শুরু করছে। এজন্য তাদের চিহ্নিত করে তাদের সাজার মাধ্যমে ভিক্ষা পেশা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করছি। ঢাকার পাশাপাশি নিলফামারি, কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরকেও ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শিডিউল চূড়ান্ত by কাজী সোহাগ

আগামী ২৪শে এপ্রিল দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। স্যাটেলাইটটি নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের বরাত দিয়ে স্যাটেলাইট ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আমেরিকা স্পেস এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শিডিউল নির্ধারণ করা হয়েছে। একই মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ও বিভিন্ন দেশের আরো ১৩টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শিডিউল চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই তথ্য মৌখিকভাবে জেনেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কর্মকর্তারা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাননি বলে জানান তারা। বিটিআরসি জানিয়েছে, স্যাটেলাইট নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস টুইট বার্তায় বলছে, বুধবার (গতকাল) কানের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস প্ল্যান্ট ত্যাগ করবে স্যাটেলাইটটি। পরে স্যাটেলাইট বহনকারী কার্গো বিমান অ্যানতোনোভ নাইস বিমানবন্দর থেকে আজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। আগামী ২৯শে মার্চ বোস্টনে যাত্রাবিরতির পর ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বহনকারী কার্গো বিমানটি ফ্লোরিডার কেপ কার্নিভালে পৌঁছাবে ৩০শে মার্চ। স্পেসএক্সের লঞ্চ ফ্যাসিলিটিতে লঞ্চ ভেহিকল ফ্যালকন ৯-র ইন্ট্রিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শুরু হবে কেপ কার্নিভালেই। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি মহাকাশের উদ্দেশে উৎক্ষেপণ করা হবে। টুইটে আমেরিকা স্পেস বলছে, উৎপাদন ও লঞ্চার মেনিফেস্ট বিলম্বের কারণে আগামী ২৪শে এপ্রিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখের ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির সচিব সরওয়ার আলম গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনো জানানো হয়নি। তবে আমরা শুনেছি ২৪শে এপ্রিল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। আমরা আমাদের দিক থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনা হয়েছে। মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় প্রায় ২১৯ কোটি টাকায় ১৫ বছরের জন্য এই কক্ষপথ কেনা হয়েছে। স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যা নিয়ন্ত্রণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করেছে বিটিআরসি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সঠিকভাবে পাঠানো গেলে আট দিন পর এটি মহাকাশে বরাদ্দ পাওয়া ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছবে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার চূড়ান্তভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে বলে জানান তারা। এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন হলেও স্যাটেলাইট নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে নিজ কক্ষপথে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে স্যাটেলাইটটি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। দেশের প্রায় ৩৭ স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ১২৫ কোটি ডলার আয় করা যাবে। এসব চ্যানেল এখন বিদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে ফ্রিকোয়েন্সি কিনে অনুষ্ঠান প্রচার করছে। এতে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তবে এ টিভি চ্যানেলগুলো এখনকার প্রচলিত ক্যাবলভিত্তিক প্রচারের পরিবর্তে ছোট ডিশ অ্যান্টেনার ডাইরেক্ট টিভি সিগন্যাল পাবে। গাজীপুরে প্রায় ১৩ একর জায়গার ৫ একরজুড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০ ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি বিদেশি বা প্রতিবেশী দেশের কাছে ভাড়া দেয়া যাবে। উৎক্ষেপণের পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত এর তদারক করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। এটি আগামী ১৮ বছর পর্যন্ত মহাকাশে থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি এবং কাজ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। সেখানে আরো উপস্থিত থাকবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ এ প্রকল্পের পরিচালক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার ও বিটিআরসি’র কর্মকর্তারা। বিটিআরসি জানিয়েছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে সারা দেশে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে সেজন্য সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সমপ্রচার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে দেশে থেকেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করবেন।

বিচার এখন করছেন না কেন: রিজভী

আওয়ামী লীগ এখনও ক্ষমতায় আছে তাহলে এখন কেন ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার করছেন না প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় বলেছেন- ‘১/১১-এর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তারের পেছনে কারা ছিল সেই তথ্য জানা গেছে। তাদের বিষয়ে হিসাব পরে নেয়া হবে।’ হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য রহস্যজনক ও কৌতূহলোদ্দীপক। কারণ এখনও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তাহলে পরে কেন, এখন বিচারের মুখোমুখি করছেন না কেন? এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। সেই সঙ্গে এই সরকার মাইনাস ওয়ান ফর্মুুলা বাস্তবায়নে মরিয়া বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। রিজভী বলেন, রিজভী বলেন, আপনাদের মনে আছে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন করার জন্য ওয়ান-ইলেভেনের সরকার উঠে পড়ে লেগেছিল। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সে সময় তাদের সঙ্গে আঁতাত করে চিকিৎসার নামে কারাগার থেকে বের হয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। আবার বিদেশ থেকে ফেরার পর বিমানবন্দরে নেমে দায় মুক্তির ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন- ‘আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সকল কাজের বৈধতা দেবে।’ রিজভী বলেন, তিনি তাদের সমর্থনে সরকার গঠন করে কেবল দায় মুক্তিই দেননি পুরস্কৃতও করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে তাই হ্যামলেট নাটকের একটি উক্তি মনে পড়ছে- ‘ডেনমার্কে কিছু পচছে’। কি এমন হলো এতবছর পর তিনি উল্টো কথা বলতে শুরু করলেন? এখনওতো আপনি ক্ষমতায়, তাহলে পরে কেন, এখন বিচারের মুখোমুখি করছেন না কেন? এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। আসলে ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের ক্ষমা করে দেয়ার শর্তে ষড়যন্ত্র করে তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার আসলে ওয়ান-ইলেভেন সরকারেরই এক্সটেনশন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদ্বেষ ও উগ্রতা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে চান। কিন্তু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সম্পূর্ণভাবে অবিশ্বাসী। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের ইচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন। কিন্তু সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে নিজের জমিদারী মনে করে। বিএনপি’র মুখপাত্র বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করা, কিন্তু বৈদেশিক নীতি এতোই পরনির্ভরশীল যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অন্যের কথা শুনে দেশ শাসন করেন। তা না করলে তাঁর গদিওয়ালা চেয়ার চোরাবালিতে ডুবে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে একদলীয় শাসন চালু রেখে বিনাশ ও সংকীর্ণতার পথে দেশকে ঠেলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক স্বৈরাচারের খেতাব পাওয়ার পরেও তিনি নির্বিকার ও বেপরোয়া। কেবলমাত্র দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিকেই কোনো কর্মসূচি করতে দেয়া হচ্ছে না। রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান যিনি ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে জনগণের মাঝে স্বীকৃতি পেয়েছেন সেই খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে মাইনাস করতে চাইছেন। সে জন্য জাল নথি তৈরির মাধ্যমে অসত্য মামলায় প্রতিহিংসার বিচারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁর জামিনে সরাসরি বিরোধিতা করছে সরকার। এখন আন্দোলনের ফসলদের মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বিনাভোটের নির্বাচনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন করে স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন। শোষণ, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি করে গোটা দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। এখন ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এদেশ তো কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কোনো দলের নয়, এদেশ জনগণের। এদেশে অন্যায় করে কেউ পার পায়নি। অন্যায়ভাবে কোনোদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। বর্তমান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্ব্বৈরশাসকও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। আগামীতে জনগণের প্রতিনিধিরা দেশ চালাবে। জনগণের প্রতিনিধি কারা- যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। তিনি বলেন, ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে সেটি জেল-জুলুম, অমানবিক নির্যাতন ও বেআইনি হত্যার মাধ্যমে দমানো যাবে না। আন্দোলনের মাধ্যমেই বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ্‌। খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে পাতানো প্রহসনের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনকে প্রতিহত করেই ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রীর নেতৃত্বে বিএনপি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নেবে। রিজভী বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিএনপি’র গ্রামসরকার সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শিশিরকে কয়েক ঘণ্টা বাসা ঘেরাও করে রাখার পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সেন্টু ও সহ-প্রকাশনা সম্পাদক জালাল উদ্দিন, বগুড়া জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও শহর বিএনপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান বকুল, জেলা বিএনপি’র যুুগ্ম সম্পাদক শেখ তাহাউদ্দিন নাঈন ও জেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম খাদেমসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি জানিয়েছেন রিজভী। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের মদদপুষ্টদের ব্যাপক তাণ্ডবের অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ, শিক্ষা সম্পাদক প্রফেসর ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ কি স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হচ্ছে?

সম্প্রতি জার্মানির বার্টলসম্যান ফাউন্ডেশন প্রকাশ করেছে তাদের ‘ট্রান্সফর্মেশন ইনডেক্স-২০১৮’। ১২৯টি উন্নয়নশীল দেশের এই সূচকে ৫৮টি দেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বার্টলসম্যান বলছে, এই বছর স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় ঢুকেছে নতুন করে পাঁচটি দেশ। এগুলো হলো- বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা। বাংলাদেশ কি তাহলে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হচ্ছে? জার্মানির সরকার-অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে এ নিয়ে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন ছেপেছে। প্রতিবেদনটির অনূদিত সংস্করণ মানবজমিনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। এতে বলা হয়, নিজেদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বার্টলসম্যান লিখেছে, ‘নির্বাচনের মানের অবনতি ঘটায় একসময়কার পঞ্চম বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি ফের স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘নাগরিকদের জন্য এই বিষয়গুলো উদ্বেগজনক। কেননা, স্বৈরতান্ত্রিক সমাজে দুর্নীতি, সামাজিকভাবে ছিটকে পড়া এবং সুষ্ঠু অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাধা-বিপত্তি অব্যাহতভাবে বেশি বিরাজমান।’ ২০০৬ সাল থেকে ১২৯টি উন্নয়নশীল ও রূপান্তরশীল দেশের গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও সুশাসনের মানের ওপর সূচক প্রণয়ন করে আসছে ব্যার্টলসম্যান।
বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগ এই গবেষণামূলক সূচককে ভিত্তিহীন হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অবশ্য দাবি করেছে, এই সূচক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সত্যিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল মতিন খসরু স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শতভাগ গণতান্ত্রিক দেশ। এই গণতন্ত্রের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘সম্ভবত, জার্মানি-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্কটি ভুল সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে যাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অথবা বাংলাদেশ বিরোধী ও আওয়ামী লীগ বিরোধী লোকজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে।’
বার্লটসম্যান ফাউন্ডেশনের এই সূচকের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবার্ট সোয়ার্জ বলেছেন, গবেষণার ফলাফলের ব্যাপারে মন্তব্য করার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের উচিত হবে প্রতিবেদনটি পড়ে দেখা। তিনি বলেন, ‘রিপোর্টের বাংলাদেশ অংশে এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে যে, সরকার ও বিরোধী দল উভয়েই কিছু ক্ষেত্রে এই ক্রমবর্ধমান অবনতিতে ভূমিকা রেখেছে।’
সোয়ার্জ আরো বলেন, প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক উৎপাদন, ব্যাষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসার মতো অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থার পৃথক্‌করণ ও বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতার মতো রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অবনতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
গণতন্ত্র ‘অবনতিশীল’
বাংলাদেশ সম্পর্কে বার্টলসম্যানের গবেষণায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অবনতিশীল যেই অবস্থার কথা উঠে এসেছে তার সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের অভিমতেরও মিল রয়েছে। এই অবনতিশীল অবস্থাকে ত্বরান্বিত করছে রাজনৈতিক বহুত্বের অভাব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত রেষারেষি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক উইড্রো উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, বাংলাদেশ খুব দ্রুতগতিতে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শাসক দল বিরামহীনভাবে বারবার রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এই দমন-পীড়ন প্রায়ই বেশ সহিংস ছিল। এই দেশটি একদলীয় রাষ্ট্র হওয়ার বিপজ্জনক পথে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটি পথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হলে আলাদা কথা।’
প্রধান বিরোধী নেত্রী কারাগারে
বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফেব্রুয়ারিতে এক দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এক দশক আগে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই মামলা দায়ের করা হয়। রাজধানী ঢাকার একটি বিশেষ আদালত তাকে একটি তহবিলের অর্থ তছরুপের অভিযোগে ৫ বছরের সাজা দেয়।
অভিযোগ আছে, ৭২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের কারাদণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তাকে এ বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার চেষ্টার অংশ। কুগেলম্যান বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগের মধ্যে শত্রুতার ইতিহাস এবং বিরোধী পক্ষকে নাজেহাল রাখতে সরকারের বিরামহীন চেষ্টার কথা বিবেচনায় নিয়ে, আমি নিশ্চিতভাবেই মনে করবো যে, এসব আইনি পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের গবেষণা পরিচালক সিগফ্রিড ও. ওলফ এ ব্যাপারে একমত যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির গণতান্ত্রিক পরিপ্রেক্ষিত বেশ ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন না যে, সব দোষ কেবল বর্তমান সরকারের। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই সংকীর্ণ হবে যদি কেউ শুধু বর্তমান সরকারকেই দেশটির গণতন্ত্রের বেহাল দশার জন্য দায়ী করেন। এমন যুক্তিতে যে তথ্য অনুপস্থিত তা হলো, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। অনেক দুর্ভাগ্যজনক গতিপথের সঙ্গে সংশ্লেষ পাওয়া যাবে পূর্বেকার সরকারগুলোর।’
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে
বিরোধী দল বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে সহিংস বিক্ষোভ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরের ওই সহিংস প্রতিবাদে শতাধিক মানুষ নিহত হন। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল। দলটির দাবি ছিল, নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হোক। ১৯৯১ সালের পর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এই নির্বাচন হতো। কিন্তু বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ২০১০ সালে ওই পদ্ধতি বাতিল করা হয়। বিএনপি এরপর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে। দলটির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেই সহিংসতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ঝুলছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত, অপহৃত অথবা কারান্তরীণ।
সিগফ্রিড ওলফ বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দলের ওপর দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ যখন আসবে, তখন এটি বিবেচনা করা উচিত যে, এই দল দু’টি কেবল রাজনৈতিক সহিংসতা, জঙ্গিবাদ ও জিহাদবাদের সঙ্গেই জড়িত নয়, তারা দেশটিকে ইসলামীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত দ্বন্দ্ব ও তাদের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ক্রোধও দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।’
অংশগ্রহণ নির্বাচন কি হবে?
খালেদা জিয়া কারান্তরীণ থাকলে বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বর্জন করার হুমকি দিয়েছে। শাসক দল আওয়ামী লীগ বিরোধী পক্ষকে নির্বাচনে আনতে কোনো ছাড় দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় নি। ঢাকার একজন রাজনীতি বিজ্ঞানী শান্তনু মজুমদার মনে করেন, আসছে সাধারণ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া বৈ বিএনপির সামনে কোনো পথ খোলা নেই। আবার ২০১৪ সালের মতো একতরফা নির্বাচন করার পর্যায়ে নেই আওয়ামী লীগও।
বিশ্লেষক কুগেলম্যানও প্রায় কাছাকাছি মত দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘বিএনপি খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা নির্ভর করছে দলটি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উপযুক্ত বলে বিবেচনা করবে কিনা তার ওপর। এই নির্বাচনে কারচুপি হওয়ার সম্ভাবনা আছে ভালোই। আমার মনে হচ্ছে যে, খালেদা জিয়া শেষ পর্যন্ত মুক্তি পাবেন। মুক্তি দেয়ার আগে তাকে আটকে রেখে কড়া বার্তা দিতে চায় শাসক দল।’
বার্টলসম্যানের সূচকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, সরকারের উচিত হবে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে আসছে মাসগুলোতে প্রধান বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপে বসা।

সড়কের নাম ভিআইপি by মরিয়ম চম্পা

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি। চারশ’ বছরের পুরনো শহর ঢাকা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে এই শহরের আয়তন, জনসংখ্যা। বেড়েছে রাস্তা, গলি আর বাজার। হরেক রকম নাম। নানা ইতিহাস। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়ক পরিচিত  আলাদা নামে। কখনো বা লোকমুখে প্রচারিত নামের আড়ালে হারিয়ে গেছে আসল নাম।
ভিআইপি রোড। এ নামেই খ্যাত সড়কটি। রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের কারণেই মূলত এ পরিচিতি। প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা চলাচল করেন এ সড়কে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচল প্রায় নিয়মিত। মন্ত্রী-এমপিরাও করেন যাতায়াত। বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান এলেও এ পথে ছুটতে দেখা যায় তাদের। অতিথিদের অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো হয় নানা ব্যানার-ফেস্টুন। বার্তা দেয়া হয় বন্ধুত্বের। কাগজে-কলমে এ সড়কটির নাম নজরুল ইসলাম এভিনিউ। পুরনো এয়ারপোর্ট থেকে ফার্মগেট হয়ে শাহ্‌বাগে চলে যাওয়া এ সড়কের খুব বেশি আলাদা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে না। সড়কটি অবশ্য রিকশামুক্ত। যদিও রাতে ভ্যানগাড়ি কিংবা কিছু রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়। ফুটপাথে কাটাছেঁড়া চলতে থাকে বছরব্যাপীই। এ কাজের যেন শেষ নেই। যানজট লেগে থাকে সবসময়ই। ব্যক্তিগত গাড়ি আর গণপরিবহনের লম্বা সারি- এ সড়কের স্বাভাবিক দৃশ্য। কাওরানবাজার অংশে গভীর রাতেও দেখা যায় যানবাহনের ভিড়। তবে ভিভিআইপি মুভমেন্টের সময় পরিস্থিতি থাকে একেবারেই আলাদা। মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যায় সবকিছু। এ সড়কের আশপাশেই গত ৭ই মার্চ আওয়ামী লীগের জনসভার দিন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন এক কলেজছাত্রী। এ ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত ধরা পড়েনি জড়িতদের কেউ। সড়কটিতে ছিনতাইয়ের ঘটনাও নজিরবিহীন নয়। নগর পরিকল্পনাবিদদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সাল থেকেই সড়কটি ভিআইপি সড়ক নামে পরিচিত। ট্রাফিক পুলিশও এ নামেই ট্রিট করে সড়কটিকে। যদিও সিটি করপোরেশনের খাতায় এ নাম নেই।
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রী-এমপিরা এই রাস্তা ধরে যাতায়াত করেন। ঢাকার একাধিক পাঁচ তারকা হোটেলও এই সড়ক সংলগ্ন। মূলত এইসব কারণেই সড়কটি ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ১৯৮৬ সালের দিকে এরশাদ সরকার ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তা থেকে রিকশা উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তখন রিকশাচালকরা প্রধান সড়ক ধরে রিকশা চলার বিষয়ে দাবি তুললে সরকারের পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয় যে, ভিআইপি রোড ধরে কোনো রিকশা চলতে পারবে না। তিনি বলেন, ভিআইপি রোড হিসেবে ফরমালি কোথাও এই সড়কের নাম লেখা নেই। এটা মূলত এরশাদ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। বর্তমান কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ নামটা সিটি করপোরেশন কর্তৃক দেয়া। আগে ঢাকা ময়মনসিংহ রোড, এয়ারপোর্ট রোড এভাবে বিভিন্ন ধরনের নাম ছিল। ভিআইপি সড়কেও কেন যানজট এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রচলিত ভিআইপি বা প্রধান সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হচ্ছে- প্রাইভেট গাড়ি বেড়ে যাওয়া। রাস্তার ধারণক্ষমতার তুলনায় গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে যানজট বেশি হচ্ছে এ সড়কে। তিনি বলেন, রাস্তার বিশৃঙ্খলা কমাতে গেলে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা ম্যাস ট্রানজিটের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কন্সট্রাকশন দ্রব্যাদি রাখা ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ না করলে রাস্তার শৃঙ্খল অবস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না। এছাড়া প্রধান সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও অপ্রীতিকর ঘটনা দূর করতে পুলিশের যেটা করণীয় সেটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পুলিশের কর্তব্যরতদের নিয়মিত মনিটরিং থাকা দরকার।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভিআইপি সড়ক নামটা আসলে কোথা থেকে এলো জানি না। এ রাস্তাটির নাম কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ। তবে এ রাস্তায় ভিআইপি মুভমেন্ট হয়। ভিআইপি রোড একটি প্রচারিত এবং প্রচলিত কথা হতে পারে। প্রধান সড়কে যানজট নিরসণের বিষয়ে নগরপরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসণে ঢাকা শহরের প্রধান ৫টি সংস্থা আছে যারা সমন্বিতভাবে কাজ করলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রথম বিষয়টি হচ্ছে মাস্টারপ্লান। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ হচ্ছে অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ করা। অর্থাৎ রাস্তা ভেঙে গেলে সেটার মেরামত করা। ফুটপাথে পথচারীরা যেন স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে। এবং রাস্তা পারাপারে জেব্রাক্রসিং নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে রাস্তার ভেতর যেন কেউ কোনো অবৈধ স্ট্রাকচার রেখে চলাচলে বিঘ্ন না ঘটায় সেটা নিশ্চিত করা।
নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ভিআইপি সড়ক কোনো আধুনিক শহরে আছে বলে আমার জানা নেই। এখন বাংলাদেশে যদি কেউ কোনো সড়ককে ভিআইপি সড়ক নাম দেন তাহলে যারা দেন তারাই বলতে পারবেন ভিআইপি সড়কের সংজ্ঞা। আমি পৃথিবীর কোনো শহরে দেখি না যে, ভিআইপি সড়ক বলে কোনো সড়ক আছে। তবে আমাদের দেশে প্রধান সড়ককে যে ভিআইপি সড়ক বলা হয় এটা হয়তো পুলিশের নিজস্ব ধারণা। পুলিশই মূলত বলতে পারবে কাকে ভিআইপি সড়ক বলা হয়। সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক কথায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা ট্রান্সপোর্ট ট্রাফিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। আমরা যদি বিদেশের উদাহরণ দেই বা শিক্ষা নেই তাহলে দেখা যাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট পথ চলাচলের সময় পথচারীদের চলার পথ বন্ধ করে দিয়ে বা আটকে রেখে চলাফেরা করেন না। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত উন্নত দেশগুলোর নিয়ম-কানুনগুলো অনুসরণ করা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আমাদের মূলত তিনটি আর্টারি রয়েছে। ভিআইপি সড়ক, মিরপুর ও প্রগতি সরণি। এই তিনটি হচ্ছে- আমাদের ঢাকা শহরের মূল সড়ক। ঢাকা শহরে ঢোকা এবং বের হওয়ার জন্য আমরা সাধারণত এই প্রধান তিনটি সড়কই ব্যবহার করি। এই প্রধান সড়কের মধ্যে ভিআইপি সড়কটি নাম্বার ওয়ান। কারণ এই সড়ক ধরে আমাদের রাষ্ট্রীয় চলাচল বা মুভমেন্টগুলো বেশি হয়। অর্থাৎ জরুরি সার্ভিসের গাড়ি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচল ও সাধারণ মানুষের চলাচল সবকিছু বিবেচনা করেই মূলত এটাকে ভিআইপি সড়ক বলা হয়। মোসলেহ উদ্দিন বলেন, প্রথমত হচ্ছে- যেটা দিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ভিআইপি, ভিভিআইপিরা চলাচল করেন এবং অনেক বেশি ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ যে রাস্তা ধরে সাধারণ জনগণ অনেক বেশি চলাচল করে- এটাই হচ্ছে আমাদের ভিআইপি রাস্তার বৈশিষ্ট্য। ঢাকা শহরে ভিআইপি রোড হচ্ছে একটাই যেটা এয়ারপোর্ট থেকে রূপসী বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত। আর অন্যান্য সড়কগুলোর আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। ভিআইপি সড়কে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম দেখামাত্রই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পুরো ভিআইপি সড়ক জুড়েই আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার আছে। যখনই কেউ ট্রাফিক রুলস মানছে না সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার হওয়ার পর থেকে ভিআইপি সড়কে বিশেষ করে বাংলামোটর অংশে গাড়ির চাপ আরো বেড়েছে। বেড়েছে যানজট। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার রিফাত রহমান শামীম বলেন, যে গাড়িগুলো রাজারবাগ-মৌচাক হয়ে ৩/৪টি সিগন্যাল পেরিয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত আসতো সেগুলো এখন ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে সিগন্যাল ছাড়াই অল্প সময়ে বাংলামোটরের দিকে চলে আসছে। যে কারণে বাংলামোটর ভিআইপি সড়কে যানজট তৈরি হচ্ছে।
উড়াল সড়কটির বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও এই প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত কুমার পাল বলেন, ফ্লাইওভারের সবগুলো নামার পথে তেমন একটা যানজট নেই। তবে বাংলামোটর সিগন্যালের আগ পর্যন্ত যানজট কিছুটা সৃষ্টি হচ্ছে, এটা আসলে ফ্লাইওভারের জন্য নয়। বাংলামোটরের এই সিগন্যালটি অনেক আগে থেকেই খুবই ব্যস্ত একটি সিগন্যাল। এখন ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াতের সুবিধার কারণে আরো বেশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে যানজট দেখা দিচ্ছে। ফ্লাইওভার হলেই যে যানজট কমে যাবে- এটা ঠিক নয়। যানজট কমানোর জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপের মধ্যে ফ্লাইওভার একটি পদক্ষেপ।
এ বিষয়ে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তার পরিকল্পনা অবকাঠামো সাধারণত এলজিইডি মন্ত্রণালয় তৈরি করে। এটা যদি আমাদের সিটি করপোরেশন থেকে হতো তাহলে আমরা অবশ্যই পরামর্শ দিতাম যে, বাংলামোটরকে ক্রস করে ওপারে গিয়ে প্রধান সংযোগ নামানো। বাংলামোটরে মুভমেন্ট বেশি হওয়ায় এখানকার সিগন্যালের পয়েন্টটা পার করে যদি ব্রিজটা নামানো হতো তাহলে যানজটের মাত্রা আরো কমে আসতো।

মন্ত্রী-সচিবের স্বাক্ষর জাল করে তদবির, তদন্তে সিআইডি by রুদ্র মিজান

টাকার বিনিময়ে মন্ত্রী, এমপি, সচিবের মাধ্যমে তদবির করা হয়। একদম লিখিত সুপারিশ। সফলও হয়েছেন অবৈধ ‘সেবা’ গ্রহীতারা। কারণ প্রভাশালী মন্ত্রীদের সুপারিশ সহজে এড়িয়ে যাওয়া দুষ্কর। মন্ত্রীদের লাগামহীন সুপারিশে বিব্রত হয়েছেন কেউ কেউ। বাধ্য হয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। তারপরই শুরু  হয় হইচই। সুপারিশের স্বাক্ষর, সিল জাল। অন্তত চার মন্ত্রীসহ ১০ এমপির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। স্বাক্ষর জাল করে বিদেশে প্রশিক্ষণ, বদলিসহ নানা সুযোগ নিচ্ছিল তারা। বিষয়টি ধরা পড়ার পর শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত। বরখাস্ত করা হয় অবৈধ সেবা গ্রহণকারীদের। মামলাও হয় আদালতে। মামলার তদন্ত করছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। সিআইডি’র তদন্ত এবং বিভাগীয় তদন্তে মিলেছে অভিযোগের সত্যতা। একে একে বেরিয়ে আসছে এতে জড়িত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম। মন্ত্রী, এমপি সচিবদের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা তদবির করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সেবা পরিদপ্তরের কয়েক কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন নজরদারিতে। ইতিমধ্যে এই অপরাধ ছাড়াও তাদের নানা অপকর্ম উঠে এসেছে তদন্তে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হচ্ছে, এত কিছুর পরও জাল স্বাক্ষর ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং ঘটনা জানার পর তারা বরখাস্ত হলেও মামলা তদন্তাধীন থাকাবস্থাতেই চাকরি ফিরে পেয়েছেন। এই রহস্যের মূলে রয়েছে বিপুল অঙ্কের উৎকোচ। আড়ালে থেকে কাজ করছেন অসাধু কর্মকর্তারা। সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, নার্সিং কাউন্সিল ও সেবা পরিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। বদলি, পদোন্নতি, বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর কাজ করে এই সিন্ডিকেট। বিনিময়ে হাতিয়ে নেয় জনপ্রতি লাখ-লাখ টাকা। সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন থেকে মন্ত্রী, এমপি ও সচিবের স্বাক্ষর জাল করে নানা ধরনের সুপারিশ-তদবির করে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি ও সচিবের সুপারিশ থাকায় সহজেই কাজ হাসিল করে নেয় এই চক্র। অসংখ্য চাকরিজীবী বদলি করিয়েছে চক্রটি। চক্রের কর্মকর্তারা সরাসরি প্রার্থীর কাছ থেকে উৎকোচ নেন না। উৎকোচ নেয়া হয় নিম্নপদস্থদের মাধ্যমে। কর্মকর্তারা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এরকম অন্তত ১০-১২ জনের নাম এসেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে। চারজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, প্রভাবশালী ক’জন সংসদ সদস্য, একজন সচিব ও একজন অতিরিক্ত সচিব। নকল প্যাড ও সিল ব্যবহার করে অবাধে সুপারিশ করেছে বিভিন্ন স্থানে। সূত্রমতে, চাকরি-বদলি-পদোন্নতি প্রার্থীদের কাছে থেকে মন্ত্রী, এমপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে আদায় করেছে বিপুল টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের শেষ দিকে হলেও সম্প্রতি আড়ালে থাকা হোতাদের সন্ধান পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সেবা পরিদপ্তরের আওতায় জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচিভুক্ত নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রোগ্রামের অপারেশনাল প্লানের সংস্থান অনুযায়ী সরকারি ব্যবস্থাপনায় নার্সিং কর্মকর্তাদের স্পেশালাইজড প্রশিক্ষণের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। যদিও তার আগেও এরকম সুপারিশ নিয়ে বিব্রত ছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নার্সিং কর্মকর্তাদের স্পেশালাইজড প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল-স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সিং কর্মকর্তাদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহ্বানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে বিপুল দরখাস্ত আসে। সেইসঙ্গে সুপারিশ। যাচাই করতে গিয়ে টনক নড়ে সংশ্লিষ্টদের। অন্তত ১৭ জনের আবেদনে ভুয়া সুপারিশ পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালের ১৭ই আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নাছিমা পারভীন বাদী হয়ে এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ওইদিনই বরখাস্ত করা হয় জাল স্বাক্ষর ব্যবহারকারীদের।
থানা পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন হয়ে মামলা আসে সিআইডিতে। তদন্তে দীর্ঘদিন তেমন কোনো অগগ্রতি না হলেও সম্প্রতি বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল।
জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি ধরা পড়ার বিষয়ে আরো জানা গেছে, সেবা পরিদপ্তরের এক আদেশে ফয়জুন্নেসাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পেতে ‘সুপারিশ’ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ফজলুল করিম সেলিম এমপি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা এতে অবাক হন। আদেশটি জনস্বার্থবিরোধী জানিয়ে চিঠি পাঠান সেবা পরিদপ্তরে। ফয়জুন্নেসা সফল হননি। তারপর একই আদেশ আসে, এবার প্রার্থী মনোয়ারা আনসার। তার আগে একই আদেশ আসে শ্রিপা রানীর ক্ষেত্রে। আদেশে নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে প্রেষণাদেশ দেয়া হয়। এবারও বাধ্য হয়ে আদেশ জনস্বার্থবিরোধী জানিয়ে পত্র দেন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। তারপর থেকেই সুপারিশের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর আগে আরেক মন্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স আঞ্জুয়ারা পারভিন মিডওয়াইফ নার্স হিসেবে বদলি হয়েছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকন্দিতে। তার আগে সরকারি খরচে এক মাসের প্রশিক্ষণ নেন শ্রীলঙ্কায়। মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ নেন ঢাকায়। সবই জাল সুপারিশে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বরখাস্ত করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জোসনা আরা খাতুন, জেবুন্নেসা খাতুন, মেরি মার্গারেট প্রভাতি সেরাও, ধরিত্রী রানী ঘোষ, রজবুনেসা খাতুন, মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, সদরুল ইসলাম, এসএম আসাদুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম ও পবা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৌহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের শামসুন নাহার, পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটের শাহেদা পারভিন, চাঁদপুরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবু ইউসুফ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রুবিয়া আক্তারসহ জড়িতদের।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তারা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। যদিও অভিযুক্তরা দাবি করেছেন কে বা কারা তাদের পক্ষে জাল সুপারিশ করেছেন তারা তা জানেন না। কিন্তু সিআইডির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, টাকার বিনিময়ে এই তদবির করিয়েছেন তারা। জাল সুপারিশ করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেট।
এ বিষয়ে সিআইডি’র অর্গানাইজড (হোমিসাইডাল স্কোয়াড) এর উপ-পুলিশ পরিদর্শক নিউটন কুমার দত্ত বলেন, সুবিধাভোগীরা মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের স্বাক্ষর জাল করে অপরাধ করেছেন। তাদের সঙ্গে একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। চক্রটি মন্ত্রী, এমপিদের নাম ভাঙ্গিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই নানা ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি। তথ্যগুলো যাচাই করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উত্তরায় কিশোর গ্যাং আতঙ্ক by মারুফ কিবরিয়া

উত্তরায় কিশোর গ্যাংগুলো ফের পুরোদমে সক্রিয়। এই গ্যাং এখন রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বেপরোয়া কাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। চায়ের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়ক এমনকি বিভিন্ন শপিং মলের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক দলের সদস্য ঘোরাঘুরি করে। চায়ের দোকানগুলোয় সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আড্ডায় মেতে থাকে। আর স্কুল-কলেজের ছুটির সময়ও এদের উৎপাতে অস্থির হয়ে ওঠেন সেখানে আগত অভিভাবকরা। পাশাপাশি রাস্তাঘাট এমনকি দিয়াবাড়ির মতো নিরিবিলি পরিবেশকে তারা মুহূর্তে অশান্ত করে তোলে। এমনই নানা অভিযোগ স্থানীয়দের।
দিয়াবাড়িতে রেহানা নামের এক চায়ের দোকানি বলেন, এই ছেলেগুলো প্রতিদিন গ্রুপে গ্রুপে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দোকানে বসে থাকে। ছোট্ট বাচ্চা। বয়স মনে হয় ১৫-১৬ বছর হবে। আর এরাই একটার পর একটা সিগারেট টানে। কোনো মুরব্বিও মানে না। যতক্ষণ থাকে তাদের দখলে চলে যায় দোকানটা। তিন-চারজন হলে একটা কথা। একসঙ্গে আট-দশজন আসে। রেহানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিশোরদের এই গ্রুপগুলো দিয়াবাড়ির বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়। একেক জায়গায় একেক গ্রুপ বসে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে আসে। চায়ের দোকানে ভিড় করে হইহুল্লোড় করেই ক্ষান্ত হয় না কিশোর গ্যাংয়ের ওই দলগুলো। দিয়াবাড়িতে বেড়াতে আসা সাধারণ মানুষদেরও উত্ত্যক্ত করে তারা। বিশেষ করে কোনো প্রেমিক যুগলকে একসঙ্গে বসে গল্প করতে দেখলে নানাভাবে বিরক্ত করে। এতে কেউ ক্ষিপ্ত হলে তার ওপর চড়াও হয়।
সরজমিন গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, একদল কিশোর যাদের বয়স ১৬-১৭ বছর। কারো পরনে কলেজের ইউনিফর্ম। আবার কেউ সাধারণ পোশাকে। দিয়াবাড়ির বটতলা থেকে একটু এগিয়ে দেখা মেলে তাদের। ৪টি মোটরসাইকেলে করে আটজন এসেছে। স্কুল-কলেজের পোশাক পরিহিত হলেও তাদের কারো কাঁধে ব্যাগ ছিল না। এদের মধ্যে একজন অনিক নাম ধরে আরেকজনকে ডাক দিতে শোনা যায়। একে অপরকে বলছিল ‘নেক্সট মিশন’ কি হবে। কিন্তু কি মিশন নিয়ে কথা বলছিল সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। পার্শ্ববর্তী এক চটপটি ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে জানা গেল এদের সবার ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে। কেউ নাইনএমএম বয়েজ উত্তরা আর কেউ ডিস্কো বয়েজ নামে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চটপটি ব্যবসায়ী জানান, প্রায়ই তার দোকানে এসে অড্ডা দেয় কয়েকটি গ্রুপ। তবে একাধিক গ্রুপ একসঙ্গে আসে না। তাদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে কেউ কারো সামনে আসে না। তিনি বলেন, এদের মধ্যে মারামারির ঘটনা হয়। মাঝে মাঝে এই রাস্তার উপরই মারামারি শুরু করে। মারামারির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই চটপটি ব্যবসায়ী বলেন, কি নিয়ে মারামারি হয় সেটা তাদের আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। তবে একই এলাকায় ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ হওয়া নিয়ে মারামারি বাঁধে। কয়েকবারই দোকানের সামনে এসে মারামারি করেছে। মাঝে মাঝে তাদের এসব কাণ্ড দেখে ভয়ে অনেকে এখানে বসতে চান না। এদিকে কিশোর গ্যাংগুলোর আতঙ্কে উত্তরার স্থানীয়রাও। ১২নং সেক্টরের (সোনারগাঁও জনপথ) পরের রাস্তাটি অনেকটাই ফাঁকা থাকে প্রায় সময়। এই জায়গাগুলোতে সন্ধ্যার পর আড্ডা জমায় ১০-১২ জনের মতো কিশোর। মাঝে মাঝে তারা এলাকার মধ্যে হট্টগোল বাধিয়ে দেয়। আশপাশের চলাচলকারী অনেকেই তাদের ঝামেলার কারণে পথ চলতে অসুবিধায় পড়েন। বেশির ভাগ সময় এদের একগ্রুপ আরেক গ্রুপের মধ্যে মারামারি করে। একপর্যায়ে কেউ কেউ মারাত্মকভাবে জখম হতেও দেখা যায়। আর এ সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অত্র এলাকায় বসবাসকারী সাইদুল হক নামের এক ব্যক্তি জানান, এই ছোট ছোট ছেলেগুলো সন্ধ্যার পর আড্ডা জমায়। পড়ালেখার কোনো খবর নেই। দিনের বেলায় স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা আর রাতে আড্ডা দেয়া তাদের কাজ। মাঝে মাঝে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তখনই ভয় হয়। শুনেছি এরা এখন আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
গত ২০শে মার্চ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নাবিল নামের এক স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে জীবন ঢালী নামের আরেক কিশোর। জানা যায়, জীবন ঢালী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এ বিষয়ে উত্তরার পশ্চিম থানায় মামলা হওয়ার পর জীবনের পরিবার তাকে থানায় নিয়ে পুলিশের হেফাজতে দেয়। তবে গতকাল সে কিশোর আদালত থেকে জামিন পায় বলে জানান উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, জীবনকে তার পরিবার থানায় নিয়ে এসেছিল। তারপর আমরা আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জামিন দেন। আসলে ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। যে কারণে নাবিলের ওপর ওভাবে ছুরিকাঘাত করে।
উত্তরা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের এই উৎপাত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আলী হোসেন আরো জানান, এই বয়সটাতে ছেলেরা এসবই করে বেড়ায়। এটা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি। তবে এখানে অভিভাবকরা যদি তাদের সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন না করেন তাহলে আরো আক্রমাণত্মক হয়ে উঠবে ওরা। সন্তানদের প্রচুর ভালোবাসতে হবে। তাদের খোঁজ খবর নিতে হবে। আমিও একজন বাবা। আমার দুটি ছেলে রয়েছে। তাদের প্রতিদিন বাসায় গিয়ে চুমু খাই। তারা অপেক্ষা করে বাবা কখন আসবে আর কখন চুমু খাবে। এই বন্ধনটা প্রত্যেক বাবা-মায়ের সন্তানের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে। আসলে এটাই বড় অভাব। যে কারণে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। তবে আমরা যারা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছি সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। প্রতিটি স্কুল-কলেজ ক্যাম্পাস ও শপিং মলগুলোর সামনে পুলিশের টহল থাকছে।

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় ১১ ইউলুপ নির্মাণ অনিশ্চিত by সুদীপ অধিকারী

যানজট মুক্ত রাজধানী গড়ার লক্ষ্যে তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত ১১টি ইউলুপ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজ ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় তা থেমে গেছে। আনিসুল হকের মৃত্যুর পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উত্তর সিটি করপোরেশনের টানাপড়েনে থেমে যায় এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতরাস্তা, নাবিস্কো, মহাখালী বাস টার্মিনাল, মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি, বনানী কবরস্থান, কাকলী, আর্মি গলফ ক্লাব, শ্যাওড়াপাড়া, উত্তরা ও খিলক্ষেতের মাঝামাঝি কাওলা, র‌্যাব-১ অফিসের সামনে, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের জসীম উদ্‌দীন রোড ও আবদুল্লাহপুরে নির্মাণ হওয়ার কথা ১১টি ইউলুপ। ‘এ’ ও ‘বি’ দুই টাইপে নির্মিত এই ইউলুপগুলো হবে ১৪৪ ও ১০৪ ফুট প্রশস্ত। শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার থেকে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরত্বের এই ইউলুপের ‘এ’ টাইপে চলবে বড় গাড়ি এবং টাইপ ‘বি’ নকশা করা হয়েছে ছোট গাড়ির জন্য। ঘোষণা অনুযায়ী এই নির্মাণ প্রকল্পের পুরো কাজই শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে। কিন্তু সরজমিন দেখা যায়, উত্তরা রাজলক্ষ্মী ও র‌্যাব-১ অফিসের সামনে বাদে পুরো প্রকল্পের কাজই এখন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুদরত উল্লাহ বলেন, যত্রতত্র গাড়ির ইউটার্ন নেয়ার জন্যই রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। আর যানজটের এই অসহনীয় যন্ত্রণার হাত থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দেয়ার জন্যই ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র। ডিএনসিসির প্রকল্প পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সিটি করপোরেশনের জায়গার পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১ দশমিক ৩৬ একর, রেলওয়ের দশমিক ২২ একর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের দশমিক শূন্য ৯ একর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দশমিক শূন্য ৬ একর জমি ব্যবহার প্রয়োজন। প্রকল্পের শুরুতে কেউ জমি দিতে আপত্তি না করলেও, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো এখন ঝামেলা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তাদের জমি ব্যবহারের কথা নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও কাজ শুরু করতে বলি। কিন্তু নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই জমি কিনে নিতে হবে বলে ঝামেলা শুরু করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ অন্য কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জমি দেয়া নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে তাদের কোনো দালিলিক কথাই হয়নি। এ জন্য নির্মাণ কাজ শেষ করতে হলে ডিএনসিসিকে জমি কিনে নিতে হবে। কিন্তু প্রকল্প ছোট হওয়ায়, জমি ক্রয় করে কাজ করার মতো অর্থ ডিএনসিসির ফান্ডে নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এই নির্মাণ কাজে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪  কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেয়া হবে উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে। আর বাকি ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার যোগান দেবে সরকার। এই নির্মাণ জটিলতা নিয়ে গত বছরের ৩০শে নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে ডিএনসিসি একটা চিঠি পাঠিয়েছে বলেও জানান তিনি। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, বিভিন্ন সংস্থার জমি হস্তান্তর বা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্প কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পটি ছোট হলেও ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমের ওপর এটা তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করবে বলেও জানান তিনি। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি ইকবাল বলেন, ইউলুপ প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত একই জায়গায় সড়ক ও জনপথের বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিআরটি প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডারও দিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ইউলুপ প্রকল্পের সঙ্গে বিআরটি প্রকল্পের সাংঘর্ষিক না হলে, ডিএনসিসিকে জমি হস্তান্তর করে দেয়া হবে। জানা যায়, গত বছরে ইউলুপ প্রকল্প কাজ নিয়ে একটি ডিপিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার সচিব আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে এই ডিপিপি নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। এখন ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে চূড়ান্ত হলেই, কাজ শুরু করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। কিন্তু আনুষ্ঠিকতা শেষ করে এটি কবে নাগাদ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাবে, সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারে নাই। ফলে ইউলুপ নির্মাণ কবে নাগাদ শুরু হবে এবিষয়ে কোনো ধোঁয়াশাই কাটছে না নগরবাসীর কাছে।

জনগণের মালিকানা দখল করেছে ক্ষমতাশালীরা

সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিকানা মানুষের- একথা লেখা থাকলেও ভূমিদস্যু ও লুটেরারা যেভাবে অন্যের জমি দখল করে রাখে, সেভাবে  বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা ক্ষমতাশালীরা দখল করে রেখেছে। সরকারি অফিস আদালতে গেলেই টের পাওয়া যায় দেশের মালিক কারা। কৃষক-শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর-উত্তম গতকাল সকালে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, বড় বড় মানুষেরা বাংলাদেশের মাথা বিশ্ব দরবারে নিচু করেছে, আর ছোট ছোট ছেলেরা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে, স্বাধীনতা সম্মাননা পদক থেকেও সরকারি লোকেরা চুরি করে। শিক্ষামন্ত্রী নিজে বলেছেন, তিনি চোর, তার সহকর্মী মন্ত্রীরাও চোর। ভোট ছাড়া যারা সরকারে থাকে, আমি সেই দল করি না, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করি। যৌবনে আমার প্রেম হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে, এই দেশের সঙ্গে। সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল সিদ্দিকী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী বলেন, যে হাত একাত্তরে দেশ মাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের ট্রিগারে ছিলো, যে হাত বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ও প্রতিরোধ করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে ছিল মুষ্টিবদ্ধ, যে হাত পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজীর সম্প্রসারিত হাতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল ঘৃণাভরে, সেই হাতে, সেই পবিত্র হাতের ছোঁয়া আজ আমাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে এবং সে কারণে আজকে আমরা আনন্দে উদ্বেলিত, উজ্জীবিত ও শিহরিত। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনীষা দেবনাথের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-এর সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ. কে. এম. বদরুল আলম লিটন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ছবদের হাসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম হেলাল, মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. ফিরোজ মিয়া।

কুয়েটের ৩ শিক্ষার্থীর অবস্থা সংকটাপন্ন

হাসপাতালের আইসিইউ’র বারান্দায় ছেলের জন্য দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন কুয়েটের মেধাবী ছাত্র মো. শাহীন মিয়ার মা। তিনি দোয়া-দুরূদ পড়ে ছেলের জন্য প্রাণ ভিক্ষা চাচ্ছেন আল্লাহর কাছে। অনেকটা বাকরুদ্ধ তিনি। পাশেই সিঁড়িতে বসে কপালে হাত দিয়ে মন খারাপ করে ছোট ভাইর জন্য চিন্তা করছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের অপর মেধাবী ছাত্র হাফিজের বড় ভাই রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, তার ভাইকে আইসিইউতে (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) রাখা হয়েছে। তার ভাইয়ের  সহপাঠীরা যে খবর দিচ্ছেন, এর বাইরে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। গত শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকার আরএস টাওয়ারের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে কুয়েটের মেধাবী ছাত্র মো. তৌহিদুল ইসলাম অপু নিহত এবং দীপ্ত সরকার, মো. শাহীন মিয়া ও মো. হাফিজুর রহমান অগ্নিদগ্ধ হন। অগ্নিদগ্ধ তিনজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢামেক  হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এনে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন মানবজমিনকে বলেন, তাদের তিন জনেরই ৫০ শতাংশের উপরে বার্ন হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপূর্ণ।
এদিকে একাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে এসে বড় দুর্ঘটনায় পড়লেন কুয়েট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের মেধাবী চার শিক্ষার্থী। কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় তাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন। হতাহত হয়েছেন কুয়েটের এ চার ছাত্র। একাডেমিক শিক্ষা শেষে বাধ্যতামূলক অ্যাটাচমেন্ট (ইন্টার্নশিপ) করতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রোববার  থেকে কুয়েটের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল জলিলসহ কয়েকজন শিক্ষক ঢামেকে অবস্থান করছেন। ওই  ঘটনায় নিহত মো. তৌহিদুল ইসলাম অপুর গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা গ্রামে। এ ছাড়া আহত দীপ্ত সরকারের বাড়ি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার দিঘল গ্রামে। তার বাবা নেই। মো. শাহীন মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামে। তারও বাবা বেঁচে নেই। মো. হাফিজুর রহমান নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার বান্দিপুর গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তাদের সকলের বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। তারা প্রায় সকলেই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন। আহতদের বন্ধুরা জানান, তারা ২০১৩ সালে কুয়েটে ভর্তি হন। পরের বছর ২০১৪ সালে তাদের ক্লাস শুরু হয়। বর্তমানে তারা ছিলেন চতুর্ষ (শেষ) বর্ষের ছাত্র। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সব পরীক্ষা শেষ হয়েছে। বাকি ছিল শুধু বাধ্যতামূলক অ্যাটাচমেন্ট (ইন্টার্নশিপ) পরীক্ষা। অন্যান্য বিষয়ের পরীক্ষা শেষে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণের জন্য গত ১০ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চার সপ্তাহের ইন্টার্নশিপ করতে ময়মনসিংহের ভালুকার একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে তাদের পাঠানো হয়। ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী ছয়তলা ভবনের চারতলায় ভাড়া নিয়ে তারা থাকতেন। শনিবার রাত ১টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তৌহিদুল ইসলাম অপু নিহত হন। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ নাঈম হাসান মানবজমিনকে বলেন, আহতদের মধ্যে শাহীনের ৮৩ শতাংশ, হাফিজের ৫৮ শতাংশ ও দীপ্তর শরীরের ৫৪ শতাংশ ঝলসে গেছে বলে চিকিৎসকরা তাদেরকে জানিয়েছেন। অনেক কষ্ট করে আহতের চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছে পরিবার। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল জলিল এই প্রতিবেদককে জানান, হতাহত চারজনই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে নিহত অপু ক্লাসে ছিলেন সেকেন্ড। তারা ইন্টার্ন করার পরই গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট পেতেন। এরপরই তারা কর্মজীবনে প্রবেশ করতেন। কিন্তু তার আগেই তাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হলো।

বিমানবালাকে যৌন হয়রানি অতঃপর...

বিমানবালাকে যৌন হয়রানি করার কারণে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে। শুধু তাই নয়। তার নাম ‘নো ফ্লাই লিস্টে’ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির বাড়ি পুনে। ভিস্তা বিমানে আরোহণ করে একজন বিমানবালাকে তিনি হয়রানি করেন বলে অভিযোগ আছে। এ অভিযোগে গত শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি এখন পুলিশে চলে গেছে। এ নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে ‘নো ফ্লাই লিস্টে’ রাখা হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো বিমানবালার কাছ থেকে শারীরিক কোনো সুবিধা নেয়ার জন্য চেষ্টা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তিন মাসের এবং তাকে স্পর্শ করেন তাহলে তার ছয় মাসের জেল হওয়ার বিধান আছে। ভিস্তারা বিমানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত ২৪শে মার্চ আমাদের বিমানের ইউকে-৯৯৭ ফ্লাইট যাচ্ছিল লক্ষ্ণৌ থেকে দিল্লি। ওই ফ্লাইটের একজন কেবিন ক্রু বলেছেন, বিমানের একজন আরোহী ওই বিমানবালাকে যৌন হয়রানি করেছেন। তিনি শুধু তাই করেন নি। একই সঙ্গে কেবিন ক্রু ও অন্য যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন। আমরা এ বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন চলছে তদন্ত। আমরা সব কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিমানটি যখন দিল্লি অবতরণ করে তখনই ওই যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। বিমানে দায়িত্বে ছিলেন মেঘালয়ের একজন বিমানবালা। এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। একবার নয়। একাধিকবার। ফলে ওই বিমানবালা বিষয়টি তার সিনিয়র ও কয়েকজন আরোহীকে জানান।

মন্টি-দয়াসোনা অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও তাদের সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়ন বিরোধী নারী-যুব-ছাত্র সংগঠনসমূহ
পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী মন্টি চাকমা এবং দয়াসোনা চাকমাকে সুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধারের দাবী জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়ন বিরোধী নারী-যুব-ছাত্র সংগঠন সমুহ।
গত ১৮ মার্চ হিল উইমেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মন্টি চাকমা এবং রাঙ্গামাটি জেলা সাধারন সম্পাদক দয়াসোনাকে “রাষ্ট্রীয় মদদ পুষ্ট সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা” অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে  অভিযোগ করেছেন নেত্রীবৃন্দ।
এ ঘটনায় সেদিন সকাল ৯টায় রাঙ্গামাটিতে কুতুবছড়ি আবাসিক এলাকায় ছাত্রদের একটি মেসে সন্ত্রাসীরা প্রথমে গুলি চালায় এবং অন্ততঃ দুজনকে আহত করে। তারা ছাত্রদের মেসে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং মন্টি চাকমা এবং দয়াসোনা চাকমাকে আস্ত্রের মুখে মারতে মারতে হাটভর্তি লোকদের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন ঘটনার কয়েক মিনিট আগে ঘটনাস্থলের পাশে খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে দুটি জীপ নিয়ে সেনা সদস্যদের টহল দিতে দেখেছে। এ অবস্থায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কিভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারল তা নিয়ে সকলের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, কুতুবছড়ি সেনা ক্যাম্প ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার-এর মধ্যে অবস্থিত হলেও সেখানে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের পৌঁছাতে সময় নিয়েছে তিন ঘন্টার বেশী। এর ফলে জনমনে সন্দেহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতি।
নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে “অঘোষিত সেনা শাসন” চলছে। সেখানে সাধারন মানুষের উপর দমন-নীপিড়ন জারি রয়েছে। জনগন যাতে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে না পারে সে জন্য ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত চলছে। সেখানে প্রতিরোধ আন্দোলন দমন করতেই রাজনৈতিক হত্যা, গুম, অপহরণ, ধর্ষন সহ নানা ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।
অপহরকৃত দুই নারী নেত্রীকে উদ্ধার, অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার, অপরাধ সমুহের বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা সহ পার্বত্য আঞ্চল থেক “অঘোষিত সেনা শাসন” প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিপীড়ন বিরোধী নারী-যুব-ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
তাদের দাবীর সমর্থনে ২ এপ্রিল ঢাকায় মশাল মিছিল এবং ৬ এপ্রিল ঢাকায় নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হিল উইমেন ফেডারেশনের সভাপতি নিরুপা চাকমা, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি রওশন আরা রুশো, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোর্তাজা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন প্রমুখ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন নাঈমা খালেদ মনিকা, সভাপতি সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্ট (মার্কসবাদী)

বিএনপিকে নিয়ে আমরা কী করি

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে সরকার খুব বেকায়দায় আছে। বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিলে বলে, সরকার বাধ্য হয়ে অনুমতি দিয়েছে। আবার অনুমতি না দিলে বলে, দেশে গণতন্ত্র নেই। এখন আপনারাই বলেন, বিএনপিকে নিয়ে আমরা কী করি? গতকাল সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কি না, মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের ব্যাপার। তারা বিএনপির সমাবেশকে নিরাপদ মনে করলে অনুমতি দেবে। নিরাপদ মনে না করলে অনুমতি দেবে না। এই সমাবেশের অনুমতি দেয়া না-দেয়া নিয়ে আমরা বেকায়দায় আছি। এ সময় বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারকে বাধ্য করতে গত নয় বছরে নয় মিনিটের জন্যও বিএনপি কিছু করে দেখাতে পারেনি। তাদের শাসনামলে আওয়ামী লীগের এমনও দিন গেছে যে দলের কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত দাঁড়ানো যায়নি। সেতুমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন ইলেকশনের মুডে আছে, আন্দোলনের মুডে নয়। ভোট পেতে হলে উন্নয়ন দেখাতে হয়, কাজ দেখাতে হয়। বিএনপির এমন কোনো কাজ নেই, যা নিয়ে মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি পদত্যাগ করেন তাহলে দেশ চালাবে কে? মির্জা ফখরুল সাহেব, নাকি খালেদা জিয়া? তিনি কি কারাগারে বসে দেশ পরিচালনা করবেন? নির্বাচনকালীন সরকার সংবিধানে যেভাবে আছে, সেভাবেই হবে। এতে কোনো নড়চড় হবে না। সংবিধান পরিবর্তনের আর সুযোগ নাই। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগের অবস্থা কী জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা শক্তিশালী।’ ভালো অবস্থানে আছি। সুপ্রিম কোর্টে জিতে বিএনপি মনে করছে দেশ জয় করে ফেলেছে। আমরা যে এত জায়গায় জয়ী হই, তার কোনো সংবাদ আসে না। সমপ্রতি জার্মানির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে স্বৈরতান্ত্রিক দেশ হিসেবে অভিহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ যখন বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এমন প্রতিবেদনের কী উদ্দেশ্য, তা খতিয়ে দেখছি। আমরা এরই মধ্যে কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এ সময় সাংবাদিকেরা রাস্তাঘাটের বেহাল দশার বিষয়ে সেতুমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল নয়। তিন-চার মাসের মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর মানুষ সুখে-শান্তিতে ও আরামে চলাফেরা করতে পারবে।

বাংলাদেশের কারাগারে মোবাইল সেবা কতটা পরিবর্তন আনবে?

বাংলাদেশের কারাবন্দীদের জন্য প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে মোবাইল সেবা। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বন্দীরা সরকারি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। প্রথমে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সব কারাগারে এই ব্যবস্থাটি চালু করা হবে।
কিন্তু এর ফলে বন্দীদের জন্য কী পরিবর্তন আসবে?
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বিবিসিকে বলছেন, ''এর ফলে বন্দীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণে অনেকে হয়তো কারাগারে আসতে পারে না, নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করতে পারে না। কিন্তু টেলিফোনে যদি পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর পায়, তার মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে। সেই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক চাপও কমে যাবে।''
তিনি জানান, এজন্য প্রতি মিনিটে এক টাকা হারে বন্দীদের চার্জ দিতে হবে। একেকজন বন্দী প্রতি ১৫ দিনে একবার ১০ মিনিট করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
এক্ষেত্রে আগেই পরিবারের ঘনিষ্ঠ দুইজন সদস্যের মোবাইল নম্বর কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকাভুক্ত করে রাখতে হবে। সেই দুইটি নির্দিষ্ট নম্বরেই তারা কথা বলতে পারবেন।দুই বছর আগে এই উদ্যোগটি নেয়া হলেও নিরাপত্তার নানা সম্পন্ন করে অবশেষে এই সুবিধাটি চালু হচ্ছে।
সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলছেন, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব কথোপকথন হবে, যাতে সবকিছু নজরদারির মধ্যে থাকে। একজন জেল সুপার মনে করলে তিনি সরাসরি কথা শুনতে পারবেন। এসব কথাবার্তাও হবে একজন কারা সদস্যের উপস্থিতিতে।
সাধারণ সদস্যরা কথা বলার সুযোগ পেলেও শীর্ষ সন্ত্রাসী বা জঙ্গিরা এসব সুবিধা পাবে না।
কিন্তু কারাগারে এখনো যে অবৈধ মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, সেটি কতটা ঠেকাতে পারছে কারা কর্তৃপক্ষ?
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখারউদ্দিন বলছেন, সেটা বন্ধ করার জন্য আমরা অনেকদূর সফল হয়েছি। কারাগারে নিয়মিত সার্চ হচ্ছে, লাগেজ স্ক্যানার বসানো হয়েছে। ফলে অবৈধ জিনিসপত্রের প্রবেশ রোধ করতে পেরেছি। তবে তারা যে কারাগারের অভ্যন্তরের ভেতরে বসেই হুমকিধামকি বা কথা বলছে, হয়তো তা নয়। হয়তো তারা আদালতে যাবার পথে বা সেখানকার হাজতে বসেও কথা বলতে পারে।
তিনি বলেন, তবে আমাদের নজরদারি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করছি, সাধারণ বন্দীদের জন্য এই সুবিধা চালু করার পর অবৈধ মোবাইল প্রবেশটাও বন্ধ হয়ে যাবে।