Monday, November 9, 2015
‘গরু-বিতর্কে’ গোহারা মোদি-অমিত জুটি
![]() |
| ভারতের বিহার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দেশটির এবেলা পত্রিকার ব্যঙ্গচিত্র ও সংবাদ। |
ভারতের বিহার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জোটের পরাজয় ও বিজেপিবিরোধী মহাজোটের বিপুল বিজয়কে এমনই একটি ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে দেশটির এবেলা পত্রিকা। আজ সোমবার প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত সংবাদের শিরোনাম মোটা হরফে করা হয়েছে ‘গোহারা’।
পত্রিকাটি বলছে, গরুর মাংস ও এ-সংক্রান্ত অসহিষ্ণুতা—বিহারে বিজেপির গোহারা হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করে দেশের মানুষ।
ভোটের দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণার সময় গো-মাংস এবং তা নিয়ে তুমুল অসহিষ্ণুতা পুরো ভারতকে নাড়িয়ে দেয়। এই বিতর্কে বিশিষ্টজনরাও জড়িয়ে পড়েন। বিজেপির বিভিন্ন নেতা-সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ‘অর্বাচীন’ মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
বিহারের রাজনীতিতে গরুর ‘আগমন’ নতুন কিছু নয়। তবে সমাজ-সভ্যতা অনেক এগিয়ে গেছে। এই যুগে গো-মাংস নিয়ে ‘হঠকারী’ রাজনীতি করে বিহারের ভোট-বৈতরণি পার হতে চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তাদের অঙ্কে বড় ধরনের ভুল ছিল। তারা ধরা খেয়েছে। গরু-বিতর্ক বুমেরাং হয়েছে।
গরু-বিতর্ক তুঙ্গে থাকাকালে বিজেপির কোনো কোনো নেতা ঘোষণা দেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বিহারে গো-মাংস নিষিদ্ধ করবেন।
গো-মাংস বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে যখন চারদিকে প্রতিবাদ, মোদি তখন নির্বাক। বরং বিহারে ভোটের প্রচারে গিয়ে তিনিও ‘আত্মঘাতী’ মন্তব্য করেছেন। তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন অমিত শাহ।
নির্বাচনী প্রচারের একপর্যায়ে বিজেপি তাদের কথিত উন্নয়নের ঢাকঢোল পেটানো ছেড়ে ধর্মীয় মেরুকরণের আশ্রয় নেয়। কিন্তু বিহারের মানুষ একে ভালোভাবে নেয়নি।
বিজেপির এই অবস্থান লালু-নিতীশদের জন্য সুবিধা বয়ে আনে। দলিত, অতিদলিত ও অনগ্রসর মানুষের একটা বড় অংশ ভোট-সন্ধিক্ষণে মহাজোটকেই তাদের ত্রাতা হিসেবে মনে করে। লালু-নিতীশের ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির ওপর তারা ভরসা রাখে।
গতকাল রোববার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৪৩ আসনের বিধানসভায় মাত্র ৫৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি জোট। মহাজোট পেয়েছে ১৭৮ আসন। অথচ, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিহারে বিজেপি জোট ৯৪টি আসন পেয়েছিল। এবার তাদের অধোগতি হলো।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ন্যায়বিচার ও রিমান্ড by খন্দকার মাহবুব হোসেন
ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্বশর্ত যেমন ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও দক্ষ বিচারক; তেমনি বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় সত্যিকার দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। একটি ফৌজদারি মামলায় যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা থাকেন, তাঁর সততা ও দক্ষতা দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ দ্বারা শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা থাকে। কিন্তু গণতন্ত্রবিহীন একটি দেশে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও বিবেক বিসর্জন দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবান্বিত হয়, তখন অনেক সত্যিকার দোষী ব্যক্তি আইনের আওতায় আসেন না এবং নির্দোষ ব্যক্তি সাজানো সাক্ষ্য–প্রমাণের কারণে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। ফলে একদিকে যেমন জনগণ বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা হারায়, অপর দিকে দোষী ব্যক্তিরা সমাজে নির্বিচারে তাঁদের জঘন্য কর্মকাণ্ড চালাতে সক্ষম হন। ফলে স্বাভাবিকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, জনগণের জানমাল বিপন্ন হয়।
এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের অদক্ষতা এবং অসৎ পথে অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে ফৌজদারি মামলায় তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের সঠিক ভূমিকা রাখে না। শুধু তা-ই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্যিকার দোষী ব্যক্তিদের আড়াল করার জন্য অনেক নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে এবং নির্যাতনের ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তার শেখানো মতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে কথিত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে—জনগণকে এই ধারণা দিয়ে তাদের ব্যর্থতা এবং অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করে।
ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্বশর্ত যেমন ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও দক্ষ বিচারক; তেমনি বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় সত্যিকার দোষী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ক্ষেত্রে তদন্তকালীন যখন কোনো মামলায় আসামিকে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করে পুলিশ রিমান্ড চায়, তখন ওই বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের একটি বিরাট আইনগত দায়িত্ব থাকে। এবং তাঁর ওপর নির্ভর করে একজন নিরীহ মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে যাতে নির্যাতনের শিকার হতে না হয় এবং নির্যাতনের ফলে পুলিশের শেখানো মতে মিথ্যা স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য না হয়। এ ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, তদুপরি আমাদের উচ্চ আদালতেরও রিমান্ড-সংক্রান্ত ব্যাপারে বিভিন্ন মামলায় নির্দেশনা রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শফিউজ্জামান বনাম রাষ্ট্র গং ৫৬ ডিএলআর পৃ. ৩২৪ মামলায় বিচারপতি এস কে সিনহা (বর্তমান প্রধান বিচারপতি) ও বিচারপতি শরিফউদ্দিন চাকলাদার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রিমান্ড প্রদান–সংক্রান্ত ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪, ৬০, ৬১ ও ১৬৭ ধারা এবং আমাদের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের আলোকে নিরীহ নাগরিকেদের ফৌজদারি মামলায় আসামি হিসেবে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যখন হাজির করা হয়, সেই মামলার বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে পুলিশের চাহিদামতে রিমান্ডে দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের অবশ্য পালনীয় বিষয় ওই মামলার আলোকে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছেন।
‘ক) যখন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিবেন, তখন গ্রেপ্তারের কারণ উল্লেখপূর্বক একটি বিবরণ তৈরি করিয়া তাৎক্ষণিকভাবে উহাতে গ্রেপ্তারের তারিখ ও সময় উল্লেখপূর্বক গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর নিবেন এবং তাঁর নিকটস্থ কোনো আত্মীয় অথবা বন্ধুকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞাত করিবেন।
‘খ) তাঁহার ডায়েরিতে গ্রেপ্তারের কারণ, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম, ঠিকানা এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কাহার হেফাজতে আছেন উল্লেখ করিবেন।
‘গ) ওই সকল বৃত্তান্তসহ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ডে) রাখার আবেদন করিতে হইবে। (ধারা-১৬৭ ফৌ. কার্যবিধি অনুযায়ী) এবং বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ডায়েরি দেখিতে মামলার তদন্তের স্বার্থে সাক্ষ্য–প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের সময় দিতে পারিবেন এবং রিমান্ডের সময় অতিক্রমের পর অবশ্যই আসামিকে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির করিতে হইবে।
‘ঘ) গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ রিমান্ড অথবা জেলে প্রেরণের পূর্বে অবশ্যই তাঁহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করিতে হইবে। যদি কোনো গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ওপরে বর্ণিত বিবরণসহ পুলিশ কর্মকর্তা তাঁহাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন করেন, কিন্তু পুলিশ ডায়েরিতে তাঁহার বিরুদ্ধে আনীত যথোপযুক্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ উল্লেখ না থাকিলে সে ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে যদি তাঁহার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে মামলা–সংক্রান্ত ব্যাপারে কোনো উপযুক্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ আসার সম্ভাবনা থাকে, তখন তিনি পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হাজির হইবেন মর্মে ফৌ. কার্যবিধি ১৬৯ ধারা মোতাবেক মুচলেকা নিয়া মুক্তি দিবেন।
‘ঙ) যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনো মামলার আসামিকে যিনি ইতিমধ্যে জেলে আছেন, তাঁহাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চান, তাহলে তাঁহাকে অবশ্যই বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নতুন মামলাসংক্রান্ত ডায়েরিসহ উপস্থাপন না করিলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত মামলায় গ্রেপ্তারের অনুমতি দিবেন না।
‘চ) একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট যখন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থিত করিয়া পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করিবে, তখন অবশ্যই বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটকে উপরিউক্ত নির্দেশনাবলি পালিত হইয়াছে কি না, সেই মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া প্রয়োজন বোধে রিমান্ডের আদেশ দিবেন। উপরিউক্ত নির্দেশনাবলির মূল লক্ষ্য যাহাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি অযথা হয়রানির শিকার না হন।’
ওই রায়ে মাননীয় বিচারপতি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করিয়াছেন যে উপরিউক্ত নির্দেশনাবলি যদি কোনো পুলিশ কর্মকর্তা অথবা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট পালন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁরা আদালত অবমাননার দায়ে শাস্তিযোগ্য হইবেন এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ওই ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের শরণাপন্ন হতে পারবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ওই নির্দেশনাসমূহ প্রায় ক্ষেত্রেই পালন করা হয় না; যা শুধু আইনের ব্যত্যয় নয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রতি অবজ্ঞার সমতুল্য, যাহা আদালত অবমাননারও শামিল।
রিমান্ডের নামে পুলিশের হেফাজতে কোনো আসামিকে যাতে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ভোগ করতে না হয়, সে কারণে আমাদের উচ্চ আদালতের নির্দেশনাগুলো পালন করা উচিত। তদুপরি আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আগে এবং তাঁকে যখন রিমান্ড থেকে আদালতে আনা হয়, উভয় ক্ষেত্রে তার ওপর কোনো শারীরিক নির্যাতন হয়েছে কি না, তার জন্য বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা দেওয়া একান্ত আবশ্যক। তাহলে দেখা যাবে, অনেক নিরীহ ব্যক্তি একদিকে যেমন পুলিশ কর্তৃক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হবেন না, অপর দিকে পুলিশের শেখানো মতে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হবেন না।
বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট যখন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন, তখন স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, মিথ্যা স্বীকারোক্তি করার কারণে একজন নির্দোষ ব্যক্তির জীবনে নেমে আসতে পারে চরম দুর্ভোগ, এমনকি দীর্ঘ কারাবাস ও মৃত্যুদণ্ড। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের যে মানবিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে, তা পালনে অবশ্যই সতর্কতার দাবি রাখে।
খন্দকার মাহবুব হোসেন: সভাপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আক্রমণের মুখে আমার প্রজন্ম by কাবেরী গায়েন
![]() |
| কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ, বিমর্ষ, হতাশ প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও প্রকাশক |
আমার প্রজন্মের শেষ গৌরবের মৃত্যুবরণ করেছিলেন ছাত্রনেতা মইন হোসেন রাজু। অস্ত্রবাজ দুই ছাত্রসংগঠনের গোলাগুলির মাঝে স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না।’ ঘাতকের বুলেটে তাঁর নিষ্প্রাণ দেহ তাঁকে ক্যাম্পাসে মৃত্যুঞ্জয়ী প্রমিথিউসের সম্মান দিয়েছিল। রাজু ভাস্কর্য সেই সম্মানের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই-ই শেষ। এরপর আমাদের ক্রমাগত খুন করা হয়েছে, আর সেই সব খুন হয়ে উঠেছে রাজনীতির বলি। তত দিনে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার এতটাই প্রকট হয়েছে যে কাউকে ধর্মের দুশমন নাম দিয়ে কেবল তাঁকে খুন করাই জায়েজ হয় না, তাঁর হত্যার বিচার না করলেও চলে, এমনকি তাঁর মৃত্যুতে রাজনীতির মানুষেরা, ক্ষমতার মানুষেরা দুঃখ প্রকাশ করতেও ভয় পান।
২০১৩ সালে যখন আহমেদ রাজীব হায়দার শোভনকে হত্যা করা হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাড়িতে গিয়ে শোক জ্ঞাপন করেছিলেন, রাজীবকে দ্বিতীয় প্রজন্মের শহীদ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজীবকে ‘নাস্তিক’ হিসেবে পরিচিত করে ক্রমাগত বিকৃত প্রচারণার মাধ্যমে তাঁকে ঘৃণার পাত্রে পরিণত করা হয়। সেই ঘৃণা তারপর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গোটা শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে। ব্লগার নামের সঙ্গেই সেঁটে দেওয়া হয়েছে নাস্তিক পরিচয়। আর নাস্তিক পরিচয় দেওয়া গেলে তাঁদের হত্যার বিচার না হলেও চলে। ঘটনার দুই বছর পরে এ বছরের ২১ এপ্রিল থেকে বিচার শুরু হয়েছে রাজীব হত্যার।
এরপর ২০১৫ সালে একে একে খুন হয়েছেন অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। এই চারজনের নামের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ‘নাস্তিক’ পরিচয়, ফলে তাঁদের হত্যার বিচারে সরকারের তেমন তৎপরতা থাকবে না, এটা স্বাভাবিক। তবে ভীষণ অস্বাভাবিক ছিল এ বিষয়ে সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থেকে আসা অকপট সব বক্তব্য। তাঁরা বলেছেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য অপরাধের চেয়ে এই অপরাধগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না তাঁরা। সত্যিই এত অকপট উক্তি সরকারের পক্ষ থেকে সচরাচর দেখা যায় না। দেশে কোনো আহমেদ শরীফ বেঁচে নেই, যিনি বলবেন, ‘অষ্টম সংশোধনী হলে এ দেশের অন্যান্য ধর্মাবলম্বী কিংবা এই যে আমার মতো যাঁরা নাস্তিক, তাঁদের কী হবে?’ জোর দিয়ে কেউ বলেননি, রাষ্ট্রেরসব নাগরিকেরই বাঁচার অধিকার আছে।
এরই মধ্যে দফায় দফায় দেশের শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্লগার, সংস্কৃতিকর্মীদের তালিকা করে মৃত্যুর পরোয়ানা ঘোষণা করেছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, কখনো বা আল-কায়েদার উপমহাদেশ শাখা। সেই সব হুমকি কিংবা তালিকার কতটা সত্য, সে বিষয়ে বিতর্ক হয়েছে, অথচ সরকারের তরফ থেকে যাচাই করে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে দেখা যায়নি। সরকারের এমন নির্লিপ্ততা বিস্ময়কর।
![]() |
| কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ, বিমর্ষ, হতাশ প্রগতিশীল লেখক, শিল্পী ও প্রকাশক |
এসব খুনের ব্যাপারে সরকারের বিস্ময়কর নির্লিপ্তির বিষয়ে অবহিত ছিলেন না অধ্যাপক অজয় রায় বছরের শুরুতে, যখন তাঁর সন্তানকে হত্যা করা হয়েছিল টিএসসির সামনে। তিনি ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীকে ছাত্রীসম সম্বোধন করে বিচার চেয়েছিলেন। সেই চাওয়ার কোনো ফল যে এখনো মিলেনি, তা আমরা জানি। কিন্তু জাগৃতির প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের পিতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-গবেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক এই ভুলটি করেননি। তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার চাননি।
আজ বন্যা আহমেদ, অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী এবং মুক্তমনা লেখক, ফেসবুকে একটি নোট প্রকাশ করেছেন, তিনিও আর অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের বিচার চান না এই সরকারের কাছে। একজন পিতার, একজন স্ত্রীর এই প্রকাশ্য অনাস্থা বোঝার মতো কি কেউ নেই সরকারে? রাষ্ট্রে? আমরা কি শুধু আমাদের বন্ধুদের মৃত্যু দেখতে থাকব আর নিজেদের মাথায় মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে ঘুরব?
তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুন হলে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কারও বেডরুমে পাহারা দেওয়া সরকারের কাজ নয়। দেশের কোনো মুরব্বি তখন বলেননি, সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয় যেন বেডরুমে মানুষের ঘুম নিশ্চিত হয়। সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি। এই বিচারহীনতা, জবাবদিহি না থাকার বলি আমাদের প্রজন্ম।
আমাদের পক্ষে বলার কেউ নেই। যাঁরা বলতে পারতেন, তাঁদের খুন করা হয়েছে একাত্তরে। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা নিজেদের পদ-পদবি নিয়ে ব্যস্ত। আর তাই দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে সরকারি বক্তব্য পাঠ করেন। ক্রমাগত খুন হতে থাকা লেখক-ব্লগারদের ‘সংযত’ হয়ে লেখার উপদেশ দেন। আইসিটির ৫৭ ধারা বলে মানবাধিকার কর্মী মোহন মণ্ডলকে ধরতে ব্যস্ত সরকার দেখতে পায় না ফেসবুকে দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানানোর জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটার লিটন দাশকে করা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য।
এবং আমাদের দুঃখের কোনো পরিসীমা থাকে না, যখন আমাদের মেধাবী তরুণেরা খুন হচ্ছেন ধর্মীয় মৌলবাদী আক্রমণ আর রাষ্ট্রীয় উদাসীনতায়; প্রতিষ্ঠিত শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের পরিতৃপ্ত জীবনে এতটুকু চিড় না ধরিয়ে, তখন আমরা, এই আক্রান্ত প্রজন্মের প্রগতিশীল বন্ধু-স্বজনেরাই ব্যস্ত থাকছি খণ্ডিত হয়ে পরস্পরের দোষ ধরতে। দলে দলে তরুণ ব্লগার, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মী, অ্যাক্টিভিস্ট দেশ ছেড়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। প্রতিদিন কমে যাচ্ছে হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার মানুষ, থেমে যাচ্ছে লেখার কলম।
আক্রান্ত প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলের স্ত্রী প্রকাশ্যে বলেছেন, তাঁরা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। সরকার যেন তাঁদের দেশের বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
আমি চাপাতি ও আক্রমণের মুখে থাকা আমার প্রজন্মের বন্ধু-স্বজনদের নিরাপত্তা দাবি করি রাষ্ট্রের কাছে। তীব্রভাবে অনুভব করি আক্রান্ত প্রজন্ম হয়েছে ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে বিনীত আরও একটি প্রশ্ন আমাকে হতবিহ্বল করে রাখে, রামুর ঘটনার ওপরে ডেইলি স্টার-এর ফোরাম-এ লিখেছিলাম যে কথা, সেই ২০১২ সালে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কে বাঁচাবে? সাতক্ষীরা, রামু, পাবনার সাম্প্রদায়িক হামলায় দেখেছি অসংখ্য কিশোরের অংশগ্রহণ। শনিবার আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যা করতে এসেছে যারা, তাদের বয়সও অল্প ছিল বলেই জেনেছি। কী তাদের ভবিষ্যৎ? কে নিশ্চিত করবে তাদের ভবিষ্যৎ?
কাবেরী গায়েন: অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার? by মাহমুদুজ্জামান বাবু
![]() |
| নিরাপত্তাহীনতার কথা জানানোর পরও ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা এবং আহমেদুর রশীদ টুটুল ও তার দুই বন্ধুক কীভাবে হামলার শিকার হন |
দেশের একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা জনাব হানিফের এই বক্তব্যের মধ্যেই আছে আমার ভয় পাওয়ার উৎস। লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর অফিসে হামলা হয়েছে শনিবার বেলা আড়াইটায়। হামলাকারীরা তিনজনকে কুপিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা মেরে চলে যায়। বন্ধু ও স্বজনেরা আহত ব্যক্তিদের টেলিফোন পেয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ তালা ভেঙে যখন তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে, তার কিছুক্ষণ পরেই আজিজ মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীতে প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনের মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। গণমাধ্যমকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীপনের মৃত্যু আঘাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই হয়েছে। অর্থাৎ দীপন ও শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কর্ণধার টুটুল এবং অন্য দুজনকে কাছাকাছি সময়েই আক্রমণ করা হয়েছিল।
চাপাতির ঘায়ে ক্ষতবিক্ষত হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় হত্যা করা হয়েছিল মঞ্চের সংগঠক ও ব্লগার রাজীবকে। রাজীব বিজ্ঞান নিয়ে ব্লগে লিখতেন। বিজ্ঞানচর্চা করলে কুসংস্কার প্রতিপক্ষ হবেই। সে কারণেই বিজ্ঞান-বিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী বন্যা আক্রান্ত হয়েছিলেন, অভিজিৎ খুন হয়ে বেঁচে গেছেন আর বন্যা অঙ্গহানির বাহ্যিক ক্ষত এবং আরও বেশি অন্তর্গত বেদনা নিয়ে দূর প্রবাসে জীবন্মৃত হয়ে আছেন। একে একে খুন হয়েছেন ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয়, নিলয়। ৩১ অক্টোবর খুন হলেন প্রকাশক ও বিজ্ঞান-বিষয়ক লেখক দীপন। আর এক প্রকাশক গুরুতর আহত টুটুলসহ মোট তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
৩১ অক্টোবরের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন প্রকাশক সম্প্রদায়। শুদ্ধস্বর ও জাগৃতি—এই দুই সংস্থা থেকেই অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশিত হয়েছিল। তাহলে কী দাঁড়াল? দাঁড়াল না, চলতে থাকল। বিজ্ঞান লেখক-ব্লগার অ্যাকটিভিস্টদের যেহেতু হত্যা করে, হুমকি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, সুতরাং যাঁরা তাঁদের বইয়ের প্রকাশক, এবার তাঁদের হত্যা করা হোক, সর্বব্যাপক একটি ভয়ের বিস্তার ঘটানো হোক। মৌলবাদী গোষ্ঠী, জঙ্গি বা জামায়াত-শিবির চক্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে, রাষ্ট্রকে, অস্থিতিশীল করার চেষ্টা যে করছে, সেটা তো আমজনতার চেয়েও বেশি জানে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহ। জানেন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। এটা জানার পরও সেই সব অন্ধকারের খুনে শক্তি কীভাবে একের পর এক রক্তাক্ত ও ছিন্নভিন্ন করতে পারছে আলোকিত স্বপ্নে বিভোর বিজ্ঞানমনস্ক মন ও শরীরকে?
যাঁরা খুন হয়েছেন, তাঁরা হুমকি পেয়ে আগেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার কথা যথাযথ জায়গায় জানানোর পরও তাঁদের অরক্ষিত রাখা হয়েছিল বা হয় কেন? আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। জনগণ ও তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক বন্ধুত্বের। নির্ভয়ের। দুই দিক থেকেই। কিন্তু তাঁরা যখন কোনো অনুষ্ঠানে আসেন বা যান, অথবা দাপ্তরিক কাজে চলাচল করেন, গাড়িবহরে নিরাপত্তার বলয় এত বজ্রকঠিন করতে হয় কেন? কিসের ভয়? তার মানে কি আমরা একটা ভয়ের বাংলাদেশে বেঁচে থাকার অভিনয় করছি? ভয়হীনতার অভিনয়?
আমার কয়েকজন স্বনামখ্যাত লেখক-বন্ধু বেশ কিছুদিন থেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে চলাচল করছেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচল করেন। বাসা থেকে গাড়িতে চড়ে বের হন। অফিসের দোরগোড়ায় গাড়ি থামলে নিরাপত্তারক্ষীসহ লিফটের সামনে দাঁড়ান। তারপর সারা দিন নিরাপদ বহুতল ভবনে প্রাত্যহিক কাজ শেষে আবার একইভাবে ঘরে ফেরা। এটা কি স্বাধীন দেশের জীবন? এ রকম সকাল-দুপুর-রাত নিয়ে লেখক ও শিল্পীসত্তা বাঁচে? সৃজনশীল নির্মাণ হয়? অচলায়তন টিকিয়ে রেখে, স্ব-আরোপিত নিষেধাজ্ঞার খাঁচায় বন্দী থেকে মুক্তির কবিতা লেখা যায়? গান গাওয়া যায়? তার ওপরে যদি ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’র মতো রাষ্ট্রের ঔদাসীন্য ভেংচি কাটে নিত্য প্রহর? প্রশ্নগুলো সহজ। কিন্তু উত্তর আসে না। তাঁরাই বেশি মৌন, যাঁরা বাঙ্ময় ছিলেন সেদিনও। যাঁরা বলেন, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। কেন মৌন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, সংগঠক ও সংস্কৃতিজন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ ৩১ অক্টোবর ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘মর্মাহত! বাকরুদ্ধ! কে কার কাছে কিসের প্রতিবাদ করবে? কে কার কাছে কিসের বিচার চাইবে? কে চিহ্নিত করবে আততায়ীকে? রক্তের এই স্রোত, মৃত্যুর এই ধারা দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে? কতটা অন্ধকার নামলে আমরা বুঝব যে আলো নেই? কে জেগে আছে এই রাত্রির গুহায়? জীবনের এই অপচয়, এই অপঘাত, এই মৃত্যু, এই রক্তের স্রোত কি আমাদের প্রশ্ন করতে শেখাবে আমি কী ভূমিকা পালন করেছিলাম? আজ পথে দাঁড়ানোর আগে আসুন, নিজের বিবেকের সামনে দাঁড়াই সবাই। আজ উচ্চকণ্ঠে ক্ষোভের আগে নিজেকে প্রশ্ন করি, এই মৃত্যুর দায় আমারও কি না—প্রশ্ন করুন, আসুন আমরা সবাই প্রশ্ন করি।’ অধ্যাপক আলী রীয়াজ আজ পড়ন্ত বিকেল থেকে রাতের প্রথম প্রহর অবধি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে না দাঁড়াতে পারলেও সবার অনুভূতির পক্ষে উচ্চকিত হয়েছেন।
৩১ অক্টোবরের আগমনী সন্ধ্যায় যখন পুলিশের গাড়িতে করে দীপনের ক্ষতবিক্ষত নিষ্প্রাণ শরীরটা আনা হলো জরুরি বিভাগে, শত শত তরুণ-তরুণী, গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরার লাইট, বিশিষ্টজনদের বক্তব্য প্রদান, মন্ত্রী, নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর শোকার্ত মুখাবয়ব আর চারপাশের উপায়হীনতার মধ্যে আমি ভাবছিলাম, আমার লেখার কলমটি এখনো স্বাধীন। কারণ, এটা ভাষা আন্দোলনের ও মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার। শহীদুল্লা কায়সার, মুনীর চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, ড. জি সি দেব, জহির রায়হানের উত্তরাধিকার। আমার গান ও সুর এখনো স্বাধীন। কারণ, তা মুকুন্দ দাস, লালন, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, আলতাফ মাহমুদের উত্তরাধিকার। তাঁরা অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, তুমি কে হে? আর আমার কানে এই মুহূর্তে বাজছে জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সেই গান.—‘এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার?’
মাহমুদুজ্জামান বাবু: গায়ক ও সংস্কৃতিকর্মী।
mzamanbubu71@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশিরাও সিরীয়দের জন্য অর্থ দিতে পারেন -বিশেষ সাক্ষাৎকারে: স্টিনা লুংডেল by রাহীদ এজাজ
প্রথম আলো : সিরিয়ার জন্য ইউএনএইচসিআরের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হয়েছে?
স্টিনা লুংডেল : তুরস্কের সৈকতে সিরিয়ার তিন বছরের শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহ সিরিয়ার সংকট নিয়ে ইউরোপের দ্বিধা যেমন ভেঙেছে, তেমনি সারা বিশ্বের ঘুম ভাঙিয়েছে। মা, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির তুরস্ক থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে এই করুণ পরিণতি বাংলাদেশ ও এর জনগণকেও নাড়া দিয়েছে। লোকজন জানতে চেয়েছে, সিরিয়ার ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের জন্য কীভাবে হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়। এ দেশের মানুষের এমন আগ্রহের কারণেই সিরিয়ার জন্য জাতিসংঘের তহবিল সংগ্রহের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। আমি তো মনে করি, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই যাঁদের সন্তান আছে, তাঁরা শিশু আয়লানের ঘটনার সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করে নিয়েছেন। শিশুটির বিয়োগান্ত পরিণতি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে সমবেদনার এক অবিশ্বাস্য প্রচারণা। বাংলাদেশের অসংখ্য লোক আমাদের ফোন করেছেন। কীভাবে সিরিয়ার লোকজনের পাশে দাঁড়ানো যাবে, সেটা তঁারা জানতে চেয়েছেন। সাগরপথে ভয়ংকর যাত্রার করুণ পরিণতি এখানকার মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে।
প্রথম আলো : তহবিল-সংকটের কারণেই কি বিশ্বজুড়ে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
স্টিনা লুংডেল : সিরিয়ার পর্যুদস্ত লোকজনের জন্য যে মানবিক সহায়তা দরকার, তা মেটাতে যে তহবিলের প্রয়োজন, সেখানে প্রায় অর্ধেক তহবিলের সংকট রয়েছে। তাদের সহায়তার জন্য তাঁবু, কম্বল ও রান্নার চুলার মতো ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলোর অভাব রয়েছে। এসব ছাড়া তাদের সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব। মৌলিক এ চাহিদাগুলো মেটানো না গেলে তাদের সেখান থেকে অন্য জায়গায় সরে পড়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই অসহায় এসব মানুষকে সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলো : এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা কি আগে থেকেই ছিল?
স্টিনা লুংডেল : সিরিয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে বেসরকারি খাত থেকে তহবিল সংগ্রহে আমাদের একটি কর্মসূচি আছে। অনেক দেশেই এ তহবিল পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে তা নেই। আয়লানের মৃত্যুর পর এখানকার মানুষের আগ্রহ দেখে বাংলাদেশে তহবিল চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। আয়লানের মৃত্যু বাংলাদেশের লোকজনকে সিরিয়ার চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেতুবন্ধে ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের লোকজনের পারিবারিক বন্ধন অত্যন্ত জোরালো। কাছের মানুষকে হারানোর বিষয়টি তাদের গভীরভাবে স্পর্শ করে। তা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে ঠাঁই নিয়েছিল পাশের দেশে। জনগণের একাংশ নিজেরাই ওই দুর্দশার সাক্ষী। আবার তরুণ প্রজন্ম তাদের অভিভাবকদের কাছে শরণার্থী হওয়ার দুর্বিষহ যন্ত্রণার কথা শুনেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের দুঃসহ এসব স্মৃতি এখনো এখানকার মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তাই সিরিয়ার মানুষের দুর্ভোগ এখানকার মানুষকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছে।
প্রথম আলো : ভূমধ্যসাগরে লোকজন যেভাবে সাগর পাড়ি দিচ্ছে, গত মে মাসে বঙ্গোপসাগরেও নৌকায় চড়ে মানব পাচারের ঢল নেমেছিল। বর্ষা মৌসুম শেষে বঙ্গোপসাগরে আবার মানব পাচারের শুরুর আশঙ্কা কতটুকু?
স্টিনা লুংডেল : দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, একান্ত নিরুপায় হয়ে সাগরপথে লোকজনের পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমধ্যসাগর ও বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির মধ্যে মিল রয়েছে। ন্যূনতম মর্যাদার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে আবাসভূমিতে থাকতে ব্যর্থ হওয়ার পর লোকজনকে অজানার পথে পাড়ি দিতে দেখছি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্বদেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে লোকজনের মধ্যে মরিয়া ভাব বেশি চোখে পড়ছে। বিশ্বায়নের এ কালে যেকোনো উপায়ে সীমান্তে পাড়ি দেওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। কাজেই মাতৃভূমিতে কেউ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বাস করতে ব্যর্থ হলেই লোকজন নতুন গন্তব্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। প্রথমেই লোকজন নিজের অঞ্চলে থাকার চেষ্টা করে। নিরাপত্তা ও মর্যাদা না পেলে তখন তারা অজানার পথে পা বাড়ায়। এই প্রবণতা আমরা সিরিয়াতে দেখছি। সিরিয়ার লোকজন প্রথমে পা বাড়ায় তুরস্ক, জর্ডান ও লেবানন। তারা যদি ওই দেশগুলোয় প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা ও নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেত, তবে তাদের বেপরোয়া হয়ে অজানার পথে পা বাড়াতে হতো না।
প্রথম আলো : রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে?
স্টিনা লুংডেল : বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাদের পরিণতিও সিরিয়ার লোকজনের মতোই হয়েছে। মিয়ানমারে নিরাপত্তা ও মর্যাদা না থাকায় তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। মৌলিক মানবাধিকার না থাকায় তারা শুরুতে বাংলাদেশে আসে। এখানে এসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতা না পেয়ে তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার এই প্রবণতা খুবই স্বাভাবিক। সিরিয়া সংকটের মূল সমস্যার সমাধান হয়নি। মিয়ানমারেও মূল সমস্যা দূর হয়নি। আমাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শেষে আবার বঙ্গোপসাগরে নৌকায় চড়ে মানুষের অজানায় পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা শুরু হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে, এর ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। মানুষ যেসব সময় বিকল্প উপায় খুঁজতে থাকে, সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি রাস্তা বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে—এটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রথম আলো : ভূমধ্যসাগরে পাড়ি দেওয়া লোকজনকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে ইউরোপের দেশগুলো দ্বিধায় আছে। অনেক দেশই নিঃস্ব লোকজনকে আশ্রয় দিতে অস্বীকার করছে। ইউএনএইচসিআর ইউরোপের দেশগুলোর এই অবস্থানকে কীভাবে দেখে?
স্টিনা লুংডেল : আশ্রয়প্রার্থী লোকজনকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে আমাদের দেখতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরের অবস্থান খুব স্পষ্ট। যখন কেউ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আর্তি জানায়, তাদের অবশ্যই আশ্রয় দিতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে অস্বীকার করাটা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেকোনো দেশে আশ্রয় প্রার্থনা মৌলিক মানবাধিকার এবং এটি সমুন্নত রাখতে হবে। বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্য এটি প্রযোজ্য। ইউরোপে অনেক বেশি শরণার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। গ্রিসে যেসব শরণার্থী আসে, তাদের ৭০ শতাংশ সিরিয়ার নাগরিক। সিরিয়া ছাড়াও আফগানিস্তান, ইরাকসহ অনেক দেশ থেকে শরণার্থীরা ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে। আবার অনেক বাংলাদেশিও এই দলে রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতি, কাদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, সেটি ঠিক করা চ্যালেঞ্জের। তাই ইউএনএইচসিআর ইউরোপে যাচাই-বাছাই পদ্ধতি চালুর কথা বলছে। যে লোকগুলো ইউরোপে আসছে, তারা কতটা নিরুপায় হয়ে এসেছে, আবার কতটা নিজেদের ভাগ্য বদলের জন্য এসেছে, সেটি ঠিক করতে হবে। কেউ যদি অর্থনৈতিক কারণে আসে, নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।
প্রথম আলো : বঙ্গোপসাগরে মানব পাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে?
স্টিনা লুংডেল : ইউএনএইচসিআর এ সমস্যার সমাধানে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে যৌথ উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংস্থার (আসিয়ান) বাইরে এসে একটি বৃহৎ পরিমণ্ডল গড়ে তোলা জরুরি। কারণ, এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে যেমন ৩২ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তেমনি এ দেশে ঠাঁই নিয়েছে অনিবন্ধিত প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের জন্য এটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাই এ সমস্যা সমাধানে আমরা আঞ্চলিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করে আসছি। কেন এসব লোক এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাচ্ছে, তার উৎস খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি মানব পাচারকারীদের মোকাবিলায় আমরা আরও কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। অসহায় লোকজনের মরিয়া মনোভাবকে পুঁজি করে যেসব পাচারকারী এ ব্যবসা করছে, তাদের ধরতে হবে। পাশাপাশি লোকজনের অবৈধ পথে যাওয়া নিরুৎসাহিত করতে অর্থনৈতিক অভিবাসন-প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। মোট কথা, সমন্বিতভাবে এ সমস্যা দূর করার বিকল্প নেই। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি আছি। তবে এই অঞ্চলের দেশগুলোকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা মানব পাচার বন্ধে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না যে লোকজন যতক্ষণ নিজেদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা বন্ধ করছে না, নতুন নতুন চক্র আর পাচারকারীর দৃশ্যপটে আসা বন্ধ করা যাবে না।
প্রথম আলো : রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন আবার শুরুর জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনায় বসার সময় হয়েছে কি না?
স্টিনা লুংডেল : লোকজন যেখান থেকে এসেছে, সেখানে তাদের ফিরিয়ে দেওয়াকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সেটা চায়। চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই তাদের যেতে হবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক নয়। রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, তাদের চলাফেরার ওপর বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়া এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের রাজি করাতে হবে। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ যা করছে, তা যে ঠিক হচ্ছে না, সেটি ইউএনএইচসিআরসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সব উদ্যোগই ভেস্তে গেছে। সুতরাং, এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসনের মতো পরিস্থিতি নেই। এমন বৈরী পরিস্থিতির পরও আমাদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।
প্রথম আলো : আপনাকে ধন্যবাদ।
স্টিনা লুংডেল : আপনাকেও ধন্যবাদ।
যাঁরা সাহায্য করতে চান: সিরীয় শরণার্থীদের সহায়তা করতে আগ্রহীরা ইউএনএইচসিআর তহবিলে অর্থ জমা দিতে পারেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, হিসাবের নাম: UNHCR, হিসাব নম্বর ০২–৫৬২৫২৭০–০২
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামলে পড়তে আইএস স্বীকারোক্তির চেষ্টা
কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা ও বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিয়ে বিচার করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিচ্ছিন্ন হলেও পরিকল্পিত ঘটনা। এসব ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য দেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকাদের খুঁজে বের করতে জনগণ ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
গণভবনের ব্যাঙ্কুইট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে নেদারল্যান্ডস সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতেই একজন সাংবাদিক ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ এর বিষয়ে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এরপর তিনি প্রশ্ন রাখেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে বিদেশীরা তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার প্রধানের অবস্থান কি।
নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশকে কোনমতে অনিরাপদ ঘোষণা করা, বাংলাদেশে ওই আইএস আছে, জঙ্গি আছে এ ধরনের একটা স্বীকার করানো। আর এটা যদি কারনো যায় তাহলে বাংলাদেশের ওপর তারা হামলে পড়তে পারে। সে ধরনের একটা পরিকল্পনা কিন্তু অনেকের আছে। এই ব্যাপারে আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান করবো যে, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে থাকতে চায়। একসময় এখানে জঙ্গির উত্থান হয়েছিল। কিন্তু আমরা তা কঠোর হাতে দমন করেছি এবং জনগণের সাহায্য আমরা পেয়েছি। বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের নাম করে জ্বালাও পোড়াও থেকে শুরু করে মানুষ খুন করা, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন ঠোকনোর নামে ৩টা মাস যেভাবে মানুষ খুন করা, ককটেল আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা, এসব করার পরেও যখন দেখেছে যে না কিছু করা যাচ্ছে না তখন স্বাভাবিকভাবে একটা শ্রেণী গুপ্ত হত্যায় নেমে পড়েছে। বিভিন্ন গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীলতায় নিয়ে আসা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভেবে দেখবেন আজকে ইরাকে কি হয়েছে, সিরিয়া, মিশরে কি হয়েছে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কথাই চিন্তা করেন। এই সব জায়গায় যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে বাংলাদেশকে ঠিক এমন জায়গায় নিয়ে আসার যে ষড়যন্ত্র এটি আন্তর্জাতিকভাবেও যেমন আছে, তেমনি আমাদের দেশের কিছু মানুষও এতে সম্পৃক্ত আছে। এ ব্যাপারে জাতি হিসেবে আমরা যদি সচেতনতা অর্জন না করি তাহলে এদেশের সর্বনাশ হবে। বাংলাদেশে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া এসব দেশের অবস্থা সৃষ্টি হোক তা আমাদের কাম্য নয়।
তিনি বলেন, মুসলমান হয়ে মুসলমানদের কেন মারবে? শেষ বিচার করবেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তো আল্লাহর উপর কি ভরসা নেই? জুমার নামাজের সময়ও মসজিদে বোমা মেরে মুসলমানদের হত্যা করা বা এক মুসলমান আরেক মুসলমানকে হত্যা করছে। যদি বিশ্বের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো মুসলমানই কিন্তু মুসলমানদের হত্যা করছে। কিন্তু খেলছেটা কে? সুতোটা কার হাতে? তাদের হাতের ক্রীড়নক কেন হচ্ছে? কেন এদের সচেতনতা আসবে না। কাজেই এ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের মানুষের আরও সচেতন হতে হবে। আমরা চাইনা আমাদের এই ভূখণ্ড কেউ ব্যবহার করুক বা এখানে কোন ঘটনা ঘটুক। আপনারা জানেন, প্রচণ্ড চাপ, আমরা কেন স্বীকার করি না। আমার কথা স্পষ্ট যে, আমরাতো দেখতে পাচ্ছি এসব কারা করছে। আমাদের যে সমাজ একে অপরের খুব চেনা। অচেনা কেউ না। কাজেই যে-ই এসব করছে সে-ই ধরা পড়ছে। আমরা দেখছি যে তারা একটি বিশেষ দলের সদস্য। ছাত্রজীবনে তারা হয়তো শিবির করেছে অথবা বিএনপি করেছে। তারাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। তারাই একেকটা ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর বাইরেতো আমরা কাউকে দেখছি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তখন বাংলাদেশকে একটি ‘অনিরাপদ’ ‘অনিরাপদ’ বলে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে এটুক চাইবো যে অন্তত আপনারাও (সাংবাদিক) গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সাহায্য করুন। আমি দেশবাাসীকে বলবো, বাংলাদেশকে যারা অনিরাপদ, জঙ্গি, সন্ত্রাস এসব করতে চাইছে এগুলোতো কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষতো এ ধরনের নয়। আমাদের মধ্যে সবসময় একটা সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় আছে। ইমামবাড়ায় যে বোমা হামলা হলো সেখানে যারা মারা গেলো তারাও সুন্নি, যারা আহত হলো তারাও সুন্নি। এখানেও শিয়া সুন্নি গোলমাল দেখানোর একটা চেষ্টা ছিল। বাংলাদেশে কিন্তু সেই গোলমাল হয় না, হবেও না। কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সবসময় এরকম একটা প্রচেষ্টা চলছে। আর অর্থের উৎসের বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন। কারা এসব ঘটনায় অর্থায়ন করছে তা আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কিছু তথ্যও আমরা পেয়েছি। মূলত একটি দল অর্থায়ন করছে আর মাঠে এই খুন খারাবি করছে আরেকটি দল। এটি একেবারেই স্পষ্ট। এর বেশকিছু তথ্য আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর বিষয়ে সরকারের মন্ত্রী ও দলের নেতারা বিচ্ছিন্ন বলে বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি কি এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করেন নাকি রাজনৈতিক সংকট বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মনে করেন।
জবাবে পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু দিন আগে আমেরিকায় আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নজমুলকে নিউ ইয়র্ক শহরের রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। কানেকটিকাটে আওয়ামী লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি এবং পরবর্তী সময়ে ইউএস আওয়ামী লীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি তাকেও নিউ ইয়র্কের রাস্তায় হত্যা করা হয়েছে। ফ্লোরিডায় একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। আপনি যে প্রশ্নটা আমাকে করেছেন সেই প্রশ্নটা আমেরিকানদের করতে পারবেন? আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসা করেন যে এটা কি ঘটনা?
তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলোতো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। সামনে তাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে। তারা শুধু একটা উদ্দেশ্য নিয়ে আরও বেশি দূর যেতে চায় সেটা হলো বাংলাদেশ অনিরাপদ। বাংলাদেশে যেন আফগানিস্তান, পাকিস্তানের মতো যখন তখন হামলা হতে পারে। তারা সেই ধরনের একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। তো আপনারা কি সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে দিতে চান? আমি জানি আমার কথাগুলো খুবই স্পষ্ট। এত স্পষ্ট করে কোন সরকার প্রধান কখনও বলবে না। কিন্তু আমার দেশকে আমি ভালোবাসি।
আর আমি আমার মা, বাবা, ভাইকে হারিয়েছি। তারপরও আমি এদেশে রাজনীতি করছি। অনেক বাধা অতিক্রম করেছি। এজন্য কাউকে পরোয়া বা ভয় আমি করি না। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশ, ৫৪ হাজার বর্গমাইল। ১ মাইলের মধ্যে ৮শ থেকে ১২শ মানুষ বাস করে। সেখানে এরকম ঘটনা যে খুব অস্বাভাবিক তা নয়। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা অন্য শহরে প্রতিদিন প্রতি মিনিটে যত মানুষ মারা যাচ্ছে তা খোঁজ নিয়ে দেখেন। তারপর তুলনা করেন। এতটুকু জায়গায় ১৬ কোটি মানুষের দেশ। ওখানে প্রতি মিনিটে কত অপরাধ হচ্ছে আর আমাদের এখানে কত অপরাধ হচ্ছে সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক নিরাপদ। মোটেও অনিরাপদ নয়।
পরিস্থিতি উত্তরণে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সরকার প্রধান হিসেবে অবস্থান জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নকারী সাংবাদিকের দিকে পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি যদি কারও বাড়িতে যান আর তিনি যদি দরজা বন্ধ করে দেন তাহলে তার সঙ্গে আপনি সংলাপ করবেন কিনা? জবাব দেন? তাহলে আমাকে প্রশ্ন করেন কেন? আমি মানুষ। আমার একটি দেশ আছে, দল আছে। আমি তাকে ফোন করেছি। ফোন করে কী ধরনের কথা শুনতে হয়েছে। কী ধরনের ঝাড়ি খেতে হয়েছে। আপনাকে যদি কেউ ঝাড়ি মারে আপনি কী তার সঙ্গে কথা বলবেন। আমি নির্বাচনের আগে তাকে অফার দিয়েছিলাম, আসুন আমরা সর্বদলীয় সরকার গঠন করি। এমনকি এটাও বলেছিলাম, আপনি যে মন্ত্রণালয় চান সেটি দেবো। তিনি কী এসেছিলেন? যখন সত্যিকারভাবে জাতীয় ঐক্যমতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল তখন তিনি সাড়া দিলেন না। তিনি নির্বাচন বানচাল করার জন্য শত শত মানুষকে হত্যা করেছেন। পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। ওনার কাছে গেলেই তো পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যাবে। এত রাজনৈতিক সঙ্কটে দেশ পড়েনি যে এ ধরনের একটা খুনির সঙ্গে বসতে হবে। তাকে বলবো, যেসব মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হোক। তাদের জীবন ফিরিয়ে দিক। তারপর ভেবে দেখবো। যে মানুষ পোড়ে তার সঙ্গে বসার আমার কোন ইচ্ছা নেই। তারপরও আমি অনেক সহ্য করেছি। রাজনীতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে তারপরও তার সঙ্গে বসেছি।
তিনি বসার যোগ্যতা তখনই অর্জন করবেন যখন বলবেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। বিচার হোক, যা হচ্ছে তা সঠিক হচ্ছে। ওদের সঙ্গ ছাড়তে বলেন। দয়া করে আমাকে ওই খুনির সঙ্গে বসতে বলবেন না।
একজন সাংবাদিক সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে নিজের পেশার জায়গায় নিরাপত্তাহীনতাবোধ করছেন উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকদের নাম, লেখক প্রকাশক ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামও তালিকায় দেয়া হচ্ছে। ঘটনাগুলো জঙ্গিবাদ কিনা, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কিনা সেটা না, আমি আমার কাজের জায়গায় নিরাপত্তা চাই। এই যে আমি আপনার সামনে কথা বলছি এতেও আমি নিরাপদবোধ করছি না। পুলিশ সদস্যরা নিরাপদবোধ করছেন না। আপনার কাছ থেকে আমরা আশার কথা শুনতে চাই। যাতে আমি এখান থেকে বাইরে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপদবোধ করবে। এছাড়া সরকারের কারও কারও পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে লেখালেখির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য। এই সতর্কতার মাত্রা কী এ বিষয়টি আপনার কাছ থেকে আমরা জানতে চাই।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা কথা আছে, বাংলাদেশে বনের বাঘ খায় না মনের বাঘ খায়। বনের বাঘের চেয়ে মনের বাঘ বেশি ভয়ের। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, জানতে পারছেন যে এটি একটি গভীর চক্রান্ত। বাংলাদেশ যখনই উন্নয়নের পথে আসে তখনই বাধা দেয়া হয়। যখনই যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে তখনই বাধা দেয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, বরং অন্যান্য রাষ্ট্র যা না করে আমরা তার চেয়ে বেশি করেছি। আমি চাইবো যে জনসচেতনতা তৈরি করা, জনগণের মাঝে সেই বোধটা আনা, কারা এভাবে একটার পর একটা ঘটনা ঘটাচ্ছে। কারা এভাবে সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক ও রাজনীতিবিদদের হুমকি দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। এদেরকে ধরার জন্য আমি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই, দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।
আর লেখার ব্যাপারে আমি একটা কথা বলবো, আমরা সেক্যুলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। প্রত্যেক ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আমরা নিশ্চিত করেছি। কিন্তু আমি একটা ধর্ম পালন করি। আমি আল্লাহকে মানি, নবী করিম (সা.)-কে মানি। আমার এ ধর্ম নিয়ে যদি কেউ বিকৃত লেখা লেখে, নোংরা খেলা লেখে তাতে আমার অনুভূতিতে লাগে। হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধ বা অন্য ধর্মের বিষয়েও এভাবে লিখলে অনুভূতিতে লাগবে।
আমি সব জায়গায় যাই, গির্জা, মসজিদ, মন্দির বা প্যাগোডা। কিন্তু আমি আমার ধর্ম পালন করি। নামাজ পড়ে কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে আমি দিন শুরু করি। কিন্তু অন্য ধর্মকেও আমি সম্মান করি।
তিনি বলেন, লেখালেখির বিষয়ে সতর্ক হওয়ার মানে হলো কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যেন লেখালেখি না হয়। কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোন কথা যেন বলা না হয়। কারণ, সেক্যুলারিজম মানে ধর্মহীনতা না। কেউ যদি ধর্ম মানতে না চায় সেটা তার ব্যাপার। সে তার বিশ্বাস নিয়ে থাকবে কিন্তু অন্য ধর্মে আঘাত দিতে পারবে না। এটাই হচ্ছে মানবিক গুণ। তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২০ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। পুলিশ, আর্মি, বিজিবি, প্রত্যেককে আক্রান্ত করা হয়েছে। তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য, মানসিক শক্তি নষ্ট করার জন্য এটি করা হয়েছে। এই যে ইব্রাহিমকে মারা হলো, এ ঘটনায় একজনকে ধরা হলো। এরপর প্রমাণ হলো আশুরার সময় তাদের কী পরিকল্পনা ছিল। কাজেই নিরাপত্তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেটুকু দেয়ার আমরা দিয়ে যাবো। আর প্রত্যেকের যেটুকু করা দরকার করতে হবে। মনে সাহস থাকতে হবে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই নন্দনাল হতে চাই না।
বিএনপি চেয়ারপারসন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন একটি জাতীয় সংলাপ এবং নির্বাচনই পারে বর্তমান সঙ্কট থেকে উত্তরণ ঘটাতে। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাদের কোন যোগসূত্র আছে বলে মনে করেন কি- একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংলাপ হলে এটি বন্ধ হয়ে যাবে, তার মানে এখানে তার হাত আছে। অথবা তার সুপুত্রকে নিয়ে লন্ডনে বসে গুট পাকাচ্ছেন। যেখানে তিনি জাতীয় সংলাপের কথা বলেছেন সেখানে আমাকে তিনি কী হিসেবে অভিহিত করেছেন? আমাকে এভাবে অভিহিত করবেন আবার আমার সঙ্গে বসতে চাইবেন এটি কেমন কথা। তার নিজের কথায়ই বেরিয়ে এসেছে যেখানেই যা ঘটছে তার একটা সংযোগ আছে। এটি যে তারই উৎসাহে হচ্ছে এটিতো স্পষ্ট।
আপনি বলছেন যে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দিয়ে লেখার জন্য। আপনার এ বক্তব্যে হত্যাকারীরা উৎসাহিত হতে পারে, এমন প্রশ্ন অনেকে করেন। এছাড়া এ ধরনের খুনের বিচার না হওয়ার কারণে মানুষ অনিরাপদবোধ করছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি মনে করি এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। প্রত্যেকটা বিচারই দ্রুত হোক আমরা চাই। যুদ্ধাপরাধের যে বিচার হচ্ছে সেটিও আমরা চাই দ্রুত হোক। এই ব্লগার হত্যার বিচার যে হচ্ছে না তা না। যখন যে ঘটনা ঘটছে তাকে ধরা হচ্ছে। ধরছে না তা কিন্তু নয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত করছে। সূত্রও পাওয়া যাচ্ছে। আমার বক্তব্যে তারা উৎসাহিত হবে আমি তা বিশ্বাস করি না। এখানে একজন আরেকজনকে হত্যা করছে। এখানে আমরা হত্যাকারীকে হত্যাকারী হিসেবেই দেখবো। তাদের বিচারও আমরা করবো।
একজন সাংবাদিক কোন প্রশ্ন না করে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। কিন্তু ওইসব দেশের দূত এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরাই আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এটি অনেকটা তাদের দ্বৈত অবস্থান প্রকাশ করে।
তার এ বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলে এগুলো পরিকল্পিত। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের লোক কতজন মারা গেছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের লোক মারা গেলে কারও কান্নাকাটি দেখা যায় না। জ্ঞানী-গুণী কেউ কিছু বলে না। আর তালিকার কথা বলেছেন, এই তালিকায় আমি এক নম্বরে।
অনেক জায়গায় অনেকে ভালো সেজে তারা আওয়ামী লীগে ঢুকে। ঢুকে খুন করে পরে বলে এটি আওয়ামী লীগের কর্মীর কাজ। যেজন্য আমি আওয়ামী লীগের লোকজনকে বলি, আমাদের অনেক লোকবল আছে। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন যদি ভালোও হয়ে যায় তারপরও এদের আমাদের দলে নেয়ার দরকার নেই। কোথাও যেন ওদের গ্রহণ করা না হয়। কারণ, এরা যেসব কাজ করেছে, এরা মানুষের জাত নয়।
গত ২৭শে অক্টোবর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে বক্তব্য দিয়েছে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সাকা, মুজাহিদ বা যুদ্ধাপরাধী যে অপরাধ করেছে এটা তো তাদের স্মরণ করতে হবে। এ বিষয়ে তারা যে কথা বলেছে এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের বক্তব্য যেখান থেকে আসবে আমরা তা গ্রহণ করবো না। অ্যামনেস্টির বক্তব্যেও আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং প্রতিবাদ জানাবো।
এদিকে লিখিত বক্তব্যে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বাস্তবায়নে কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো ও পানিসম্পদ খাতকে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের আমন্ত্রণে গত মঙ্গলবার দেশটিতে সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি দেশে ফেরেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে সন্ত্রাসবাদ নতুন মাত্রা পেতে চলেছে :সাক্ষাৎকারে -এম মুনিরুজ্জামান by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| মেজর জেনারেল এম মুনিরুজ্জামান |
প্রথম আলো: এই হামলাকে কীভাবে দেখছেন?
মুনিরুজ্জামান: প্রতিনিয়ত আমরা হুমকি ও সহিংসতাকবলিত হচ্ছি। এটা একটা নতুন সমস্যা। একই সঙ্গে আমার কাছে আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে হামলাগুলো হচ্ছে, তার মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। এর আগে হোসেনি দালানে যে হামলা হলো এবং এবারে বগুড়ায় যে শিয়া মসজিদে হামলা হলো, দুটোই আমাদের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা। এসবই আমাদের জাতীয় জীবনে নতুন ধরনের ব্যাপার, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এসব ঘটনা বড় ধরনের একটা গোষ্ঠীগত সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে, যেটা বাংলাদেশে কোনো সময়ে ছিল না। বাংলাদেশে সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর একটা সহাবস্থান ছিল। পাবনায় একজন পাদরি হামলার শিকার হন। তিনি বেঁচে গেছেন। এরপর ইতালীয় ধর্মযাজকের ওপর আক্রমণ চলে। সব শেষ আরও ১০ জন ধর্মযাজককে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এখানেও আমরা একটি গোষ্ঠীগত হিংসাশ্রয়ী রূপ দেখতে পাচ্ছি। এসব আলামত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব যদি আরও বিস্তার লাভ করে, তাহলে আমাদের জন্য তা একটি বড় হুমকি হিসেবে আসবে।
প্রথম আলো: সবশেষ হামলার কোনো বিশেষ তাৎপর্য?
মুনিরুজ্জামান: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ যে এভাবে একটা গোষ্ঠীগত নতুন মাত্রা পেতে চলেছে, তার একটা আভাস আমরা সম্প্রতি সিরীয় পত্রিকা দাবিক-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে দেখতে পেয়েছিলাম। ওই নিবন্ধ আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছি, সেখানে শিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে একধরনের বিদ্বেষের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই হামলা চালানো হলো কি না, সেই প্রশ্নের মুখে আমরা দাঁড়িয়ে গেছি। ওই নিবন্ধে কিন্তু আভাস ছিল, এভাবে তাদের হামলা করতে হবে। তাই অনেকে বলতে পারেন, বগুড়ার ঘটনাকে খুব আকস্মিক বলা যায় না।
প্রথম আলো: জঙ্গিবাদের সমস্যা আগেও ছিল, তার সঙ্গে আমরা অনেক সময় আফগানিস্তান ও আল-কায়েদাকেন্দ্রিক চিন্তাচেতনার একটা যোগসাজশ দেখে আসছিলাম, এখনো কি তারই ধারাবাহিকতা, নাকি কোনো নতুন ধারার সূচনা ঘটছে?
মুনিরুজ্জামান: প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করে আমরা দেখি, আল-কায়েদা এত দিন ধরে যে ধরনের হামলা চালিয়েছে, তার সঙ্গে এবারের ধারার কোনো মিল নেই। এটা একটা নতুন ধারা, সিরীয় যুদ্ধের ভেতর থেকে যে নতুন গোষ্ঠী বিস্তার লাভ করেছে, তাদের দ্বারা সংঘটিত কর্মকাণ্ড ও প্রবণতাগুলোর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যাচ্ছে। দাবিক নিবন্ধ তারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। শিয়া মসজিদে হামলার পরেই আইএস কথিতমতে এটা তাদের হামলা বলে দাবি করেছে।
প্রথম আলো: সিরিয়ার বাইরে বিশ্বের অন্যত্র আইএসের নামে যা ঘটছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে, সেখানে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সহিংসতা ঘটছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না, এখানে কেন ঘটছে? যারা করছে তারা কি দ্রুত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে চায়?
মুনিরুজ্জামান: এটা বলা হচ্ছে যে, তাদের তরফে আমরা ধীরে ধীরে বড় কোনো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার প্রস্তুতিপর্ব দেখছি কি না। অজানা বৃহত্তর কোনো লক্ষ্য সামনে রেখে হয়তো এখানে এত ঘন ঘন হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, যা আমরা এখনো হলফ করে বলতে পারি না। আল-কায়েদার ভারতীয় চ্যাপ্টারের সঙ্গে সিরিয়াভিত্তিক ওই সংগঠনের একটা প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখি।
প্রথম আলো: কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার এত জায়গা থাকতে বাংলাদেশ কেন অগ্রাধিকার পাচ্ছে?
মুনিরুজ্জামান: এই প্রশ্নের উত্তরে ওই দাবিক নিবন্ধের বরাতেই এটা উল্লেখ করতে চাই, তারা হয়তো ভবিষ্যতে মিয়ানমারকে লক্ষ্য করে এখানে আগে তাদের সক্রিয় উপস্থিতির কথা জানান দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু তারা লক্ষ করছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর একটা চাপ বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে। বাংলাদেশ থেকে তারা সেখানে কোনোভাবে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাতে পারে। সেটা বাস্তবে ঘটবে কি না জানি না, তবে আমাদেরকে এটা নিরাপত্তা হুমকির জায়গা থেকে মনে রাখাই সমীচীন হবে। তাদের লক্ষ্যবস্তুটা কোনদিকে, সেটা আরও কিছুটা সময় গেলে হয়তো সম্পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করা যাবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিতীশ-লালুর জয়ের ১০ কারণ!
![]() |
| জয়ের পর লালু প্রসাদ-নীতিশ কুমারের সমর্থকদের উল্লাস |
গত বছরের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করেছিল মোদির দল বিজেপি। সম্প্রতি দেশটিতে অসহিষ্ণুতা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিহারের এই নির্বাচনকে তাঁর জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষায় তিনি হেরে গেলেন। এই পরাজয়কে মোদির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দিল্লির নির্বাচনেও ভরাডুবি হয় বিজেপির।
নির্বাচনে নিতীশের বিজয় ও বিজেপির পরাজয়ের ১০টি কারণের কথা উল্লেখ করেছে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণ। প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য তা উল্লেখ করা হলো—
১. নিতীশের জনপ্রিয়তা
বিহারের ভোটারদের মধ্যে নিতীশ কুমারের জনপ্রিয়তাই সম্ভবত এ বিজয়ের সবচেয়ে বড় কারণ। প্রায় সব ধরনের জরিপেই নিতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের অতীতের নির্বাচনগুলোতেও দেখা গেছে যারা একবার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে কাজ করেছেন তাঁদের জনপ্রিয়তার জন্য পরেরবার ভোট দিয়ে আবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন ভারতের জনগণ। গুজরাটে নরেন্দ্র মোদি, মধ্য প্রদেশে শিবরাজ সিং চৌহান, ছত্তিশগড়ে রমন সিং এবং ওডিশাতে নবীন পাটনায়েক তাঁদের জনপ্রিয়তার জন্য পরেরবার আবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তৃতীয়বারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে নিতীশ দেখিয়ে দিলেন জাতীয় পর্যায়ে বিপরীত ধারা থাকলেও জনপ্রিয় এবং রাজ্যের জন্য কাজ করা প্রার্থীরাই রাজ্যের নির্বাচনগুলোতে জয়ী হন।
২. রাজ্য বনাম লোকসভা
ভারতে জাতীয় পর্যায়ে এবং রাজ্য পর্যায়ে আলাদা আলাদা নির্বাচন হয়। আর ভোটাররাও বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনে বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেন। ভারতের ভোটাররা ‘যেখানে যাকে প্রয়োজন (হর্সেস ফর কোর্সেস) ’ নীতিতে বিশ্বাসী। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দিল্লির নির্বাচন। যেখানে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দিল্লির সবগুলো আসনেই জয় লাভ করে সেখানে ২০১৫ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে মাত্র তিনটি আসন পায় বিজেপি।
৩. আরএসএস প্রধানের মন্তব্য
‘ভারতীয়রা আসলে ভোট দেয় না, তাঁদের গোত্রকেই নির্বাচিত করে’—এই মতবাদ বিহারে সমর্থন পেয়ে আসছে। বিহার এমন একটা রাজ্য যেখানে নির্বাচনে জাতপাতের রাজনীতি ভীষণভাবে প্রচলিত ও প্রমাণিত। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রধান মোহন ভাগওয়াতের মন্তব্য করেন ‘গোত্র অনুযায়ী কোটা’ বিষয়টি নিয়ে পুনরায় চিন্তা করা দরকার। তিনি জাতপাত প্রথা ফেলে দেওয়ার বিপক্ষে। আর এ মন্তব্যটিই বিজেপির জন্য নির্বাচনে একটি নেতিবাচক উপকরণ হিসেবে কাজ করেছে।
৪. মুসলিম এবং বিজেপির মধ্যে বিশ্বাসের কমতি
ভারতীয় মুসলমান এবং বিজেপির মধ্যে সব সময় বিশ্বাসের একটি ঘাটতি ছিল। বিহারে ১৫ শতাংশ লোক মুসলিম এবং এই লোকগুলো সব সময় বিজেপির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি বিজেপির জন্য সুযোগ হয়েই এসেছিল। কিন্তু লালু প্রাসাদ এবং নিতীশ কুমারের এক হওয়ার ফলে মুসলিম ভোটাররাও আবার এক হয়ে যায়। এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় বিজেপির জন্য।
৫. আসাদুদ্দিন ওয়াসির কিছু করতে না পারা
বিহার নির্বাচনে আসাদুদ্দিন ওয়াসি এবং তাঁর সর্ব ভারতী মজলিশ-এ-ইত্তেহাদি-উল মুসলিমীন (এআইএমআইএম) ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করার কথা ছিল। তাঁর নির্বাচনে যাওয়াটাও বিজেপির জন্য ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ভোটের সময় যত গড়িয়েছে মহাজোট আসাদুদ্দিন ওয়াসিকে ভোটের ক্ষেত্রে নেতিবাচকভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। যার কারণে নির্বাচনে তিনি কোনো প্রভাবই বিস্তার করতে পারেননি।
৬. কংগ্রেসের কৌশল
ভারতে কংগ্রেস ক্রমশই প্রাণশক্তি হারাচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেসের এই প্রাণশক্তি হারানোটা বিজেপির জন্য ইতিবাচক না হয়ে বরং নেতিবাচক হয়েই দেখা দিয়েছে। এমনকি বিপুলসংখ্যক অসন্তুষ্ট কংগ্রেস ভোটার দিল্লির নির্বাচনে আম আদমি পার্টিকেই ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেসের বিহারের হার নিশ্চিত জেনে দলটি মহাজোটে গেছে এবং চেষ্টা করেছে যেন বিজেপিও জিততে না পারে।
৭. মোদির ক্রমশ হ্রাসমান জনপ্রিয়তা
প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু তাঁর নাম দিয়েই বিজেপি সব নির্বাচন জিতবে এটা সম্ভব না। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মোদি যখন প্রচার চালাচ্ছিলেন তখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দুর্দান্ত রেকর্ড ছিল যা ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে অনেক বিষয়ের, অনেক প্রশ্নে সম্মুখীন হতে হয়েছে। যদিও এটি মোদির দক্ষতা যে তিনি এখনো অনেককেই তাঁর পক্ষে রেখেছেন কিন্তু ভারতে তাঁর জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে।
৮. বিজেপির স্থানীয় নেতার অভাব
একটা সময় ছিল যখন স্থানীয় নেতারাই বিজেপির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। গুজরাটে মোদি, মধ্যপ্রদেশে শিবরাজ, ছত্তিশগড়ে রমন সিং এবং রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজেসহ আরও অনেকে। তাঁরা সবাই ছিলেন কংগ্রেসের হিংসার পাত্র। কিন্তু মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পর সবার কেন্দ্রে যাওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বিহারের মতো জায়গায় স্থানীয় কোনো বড় নেতা না থাকার এই সুবিধাটাই পেয়েছে বিজেপি।
৯. ভিকে সিংহের ‘কুকুর’ মন্তব্য
ভারতের ফরিদাবাদে দলিত সম্প্রদায়ের দুটি শিশু খুন হওয়ার ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং মন্তব্য করেছিলেন, ‘কুকুরের দিকে কেউ ঢিল ছুড়ে মারলে তার দায়িত্ব সরকারের নয়।’ ভিকে সিংহের এই মন্তব্য ব্যাপক প্রভাব ফেলে নির্বাচনে। এই মন্তব্যের ফলে দলিত সম্প্রদায়ের ভোট নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয় মহাজোট।
১০. হেলিকপ্টার প্রচারে ‘না’
অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিহারে মহাজোটের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি, কিন্তু প্রচারের কিছু টোটকা তিনি নিতীশ কুমারকে ঠিকই দিয়েছিলেন। কেজরিওয়ালের দিল্লির ‘ঘরে ঘরে যেতে হবে’ স্লোগানের মতো নিতীশও টোকা দিয়েছেন প্রতি ঘরের দরজায়। এরপরে ভোটারদের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল নিতীশের। বড় র্যালিতে বক্তৃতা দেওয়ার চেয়েও নিতীশ ব্যক্তিগতভাবে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। আর এই চেষ্টায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য একটি বড় সফলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিপ্লব খুনের নেপথ্যে...
ধারালো অস্ত্র ও রডের এলোপাতাড়ি আঘাতে শিক্ষানবিস আইনজীবী এনামুল হক বিপ্লবকে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আটক হওয়া রাব্বী (২২) জানায়, পাশাপাশি এলাকায় বসবাসকারী নিহত বিপ্লব প্রায়ই তার মা-বাবা পরিবার নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথা বললো। বিপ্লবের এসব কথায়ই ক্ষুব্ধ ছিল তারা দুই ভাই। শনিবার সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে তার ওপর হামলা করা হয়। তার আটক হবার ব্যাপারে সে আরও জানায়, ঘটনার পরই সে এলাকা ছেড়ে পালাতে থাকে। সকালে বাসা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ইজ্জতপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে হাঁটাহাঁটির সময় কয়েকজন যুবক তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকাসহ সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। এরপর ওই যুবকরা রাব্বীর মোবাইল ফোনের সিম চালু করলে মোবাইল ফোনে রিং বাজতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই ওই যুবকরা তাকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত হয় এবং তার ডান হাতের কেটে যাওয়া আঙুলে ব্যান্ডেস করা অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। আটক হওয়া মাহবুবুল হাসান রাব্বী নগরের জয়দেবপুরের কাজী আজিম উদ্দীন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং গাজীপুর আদালতের পেসকার মাসুদুর রহমানের ছেলে। জয়দেবপুরের বরুদায় বসবাসকারী মাসুদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী সদরের সাহেপ্রতাপ এলাকায়।
নিহতের ভাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার আমিনুল হক টুটুল জানান, তার ভাইয়ের সঙ্গে কোন ধরনের শত্রুতা ছিল না কারও। এরপরও তার মতো নিরীহ, সহজ-সরল ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। তিনি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। কি কারণে তাকে খুন করা হয়েছে সে সম্পর্কে প্রতিবেশীরাও কোন তথ্য জানাতে পারেননি। তবে প্রতিবেশী কয়েকজন জানান, বিপ্লবের বাসার সামনে নির্মাণাধীন একটি বাসায় প্রায়ই বখাটে কিছু ছেলেরা আড্ডা দিতো। আর তাদের প্রায়ই ধমকাতেন, বকাঝকা দিতেন। সেসব বিরোধের কারণে তাকে খুন করা হতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লবণ লাগে অনেক কাজে
লবণ হলো খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ যার মূল উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl)। এটি প্রাণীর জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অধিকাংশ স্থলজ উদ্ভিদের জন্য বিষের মতো। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়। পৃথিবীর সর্বত্র এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।
মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরণের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন, অপরিশোধিত সৈন্ধব লবণ (sea salt), পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, ইত্যাদি। লবণ দেখতে দানাদার, সাদাটে বর্ণের। সমূদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে লবণ আহরণ করা হয়।
লবণ একটি পানিগ্রাহী পদার্থ, তাই বর্ষাকালে লবণের মধ্যে পানি জমতে থাকে।
মোটামুটি এই হচ্ছে লবণ সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য। এবার লবণের ১০ বিশেষ ব্যবহারের প্রথমটি আমি শ্রোতাদের জানিয়ে দিচ্ছি।
ব্যবহার ১ : শাক-সবজির তিক্ততা দূর করতে লবণের ব্যবহার
হ্যাঁ, যেকোনো শাক-সবজি রান্নায় কমবেশি লবণের ব্যবহার তো আছেই। কিন্তু রান্নার পরও অনেক সবজি তিক্ত লাগে। এ থেকে রেহাই পেতে রান্নার আগেই লবণের ব্যবহার করুন। সবজি কাটার পর সেগুলো লবণ দিয়ে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। তারপর ধুয়ে রান্না করুন। দেখবেন রান্নাকৃত সবজি খেতে তিক্ত লাগবে না।
ব্যবহার ২ : দাঁত মাজার ব্রাশ ব্যাক্টেরিয়ামুক্ত করতে
সাধারণত দাঁত মাজার ব্রাশ তিন মাস পর পর পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়ে থাকে দন্তচিকিত্সকরা। তবে এর মানে এই নয় যে, ব্রাশ নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে না! ব্রাশকে ব্যাক্টেরিয়ামুক্ত করতে ব্যবহার করুন লবণ। হ্যা, ব্যবহারের পর কিছুক্ষণ ব্রাশটি ডুবিয়ে রাখুন লবণপানিতে। এতে ব্রাশ যেমন পরিস্কার হবে, তেমনি মুক্ত হবে সব ধরনের ব্যাক্টেরিয়া থেকে।
ব্যবহার ৩ : দাঁতের ক্ষয়রোধে ও দাঁতকে দৃঢ় ও সাদা করতে
লবণের মধ্যে 'ফ্লোরিন' নামক পদার্থ থাকে, যা ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, দাঁত মাজার সময় লবণমিশ্রিত পানি ব্যবহার করলে আপনার দাঁত ব্যাক্টেরিয়ামুক্ত হবে এবং আরো দৃঢ় ও সাদা হবে। দাঁতের ক্ষয়ও রোধ হবে। কখনো কখনো মাড়ির কিছুটা অংশ ফুলে যায়। সে ক্ষেত্রে স্ফীত স্থানে খানিকটা লবণ দিন, দেখবেন কিছুক্ষণ পর ফোলা কমে যাবে।
ব্যবহার ৪ : চুল পড়া বন্ধ ও খুশকি দূর করতে
লবণমিশ্রিত পানিতে চুল ধুলে, খুশকি থেকে আপনি রেহাই পেতে পারেন। এতে আপনার চুল পড়াও অনেক কমে যাবে। তবে প্রতিদিন এ থ্যারাপি চালালে হিতে বিপরীত হতে পারে। সপ্তাহে একবার লবণমিশ্রিত পানি দিয়ে চুলে পরিচর্যা করুন। উপকার পাবেন।
ব্যবহার ৫ : জিন্সের প্যান্টের রঙ রক্ষায়
আপনার নতুন জিন্সের প্যান্টটি লবণমিশ্রিত পানিতে দশ থেকে পনের মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার প্যান্টের রঙ ঠিক থাকবে।
ব্যবহার ৬ : মুখের ত্বক পরিষ্কারে
ব্যবহার ৭ : ক্ষত সারাতে ও রক্ত পড়া বন্ধে
শরীরের কোনো ক্ষতস্থান লবণপানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে, সেটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে। তা ছাড়া, রক্তপড়া বন্ধেও লবণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য বড় ধরনের ক্ষত বা রক্তপাত বেশি হলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অনেকে মাছ খেতে পছন্দ করেন, কিন্তু মাছের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না। মাছকে লবণমিশ্রিত পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, মাছের গন্ধ আর থাকবে না। এ অবস্থায় মাছটি রান্না করলে, রান্নার সময় সেটি ভেঙেও যাবে না, আস্ত থাকবে। অর্থাত লবণ আপনার মাছকে গন্ধমুক্ত করবে এবং মাছটিকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
ব্যবহার ৯ : সিরামিকের তৈজষপত্রের আয়ু বাড়াতে
আপনি জানেন কি, সিরামিকের বাসন-পেয়ালার আয়ু বাড়াতে লবণের ব্যবহার আছে? সিরামিকের তৈজষপত্র কিনে তার প্রথমে লবণপানিতে খানিকক্ষণ বয়েল করুন। দেখবেন বাসন-পেয়ালা সহজে ভাঙবে না।
ব্যবহার ১০ : কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যেরর সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে লবণমিশ্রিত পানি খেতে পারেন। এটি আমাদের পেট ও অন্ত্র পরিস্কার করে। ফল হচ্ছে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে আপনাকে স্বস্তি দেবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে আইএসের হুমকি, সরকারের অস্বীকার -নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধ by এলেন ব্যারি
![]() |
| ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাতে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতিতে হোসনি দালানে শিয়াদের সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে |
পরের দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক হামলা ও হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে, যাতে দৃশ্যত ওই সতর্কবার্তার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। একজন ইতালীয় সাহায্য সংস্থার কর্মী ঢাকা শহরের কূটনৈতিকপাড়ায় গুলিতে নিহত হয়েছেন। এরপর দেশের উত্তরাঞ্চলে গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন জাপানি কৃষিবিদ। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ঢাকায় শিয়া মুসলিমদের একটি বিরাট সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। অথচ ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি। নিরাপত্তার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে চালানো এই হামলায় একজন কিশোর নিহত হওয়ার পাশাপাশি বহু লোক আহত হয়। (এ ঘটনায় পরে আরও একজন মারা যায়)
প্রতিটি হামলার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এই দায় স্বীকার করা হয়েছে, সেগুলো ওই সন্ত্রাসীদেরই বলে ধারণা করা হয়।
কিন্তু, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন। এমনকি বিদেশি দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিলেও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, দেশে ইসলামিক স্টেট, আইএসআইএস বা আইএসআইএলের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। যেমনটি তারা করেছিল ইরাকে অভিযান চালানোর আগে।
উপরন্তু, শেখ হাসিনা এসব ঘটনাকে তাঁর সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একটা ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। তিনি গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। এটা অব্যাহত থাকবে। আমাকে একটি কথা বলার সুযোগ দিন: দুটি বোমা বা পাঁচটি ডিম নিক্ষেপের ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। যারা এমনটি মনে করছে, তারা ভুল করছে।’
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই সংযোগ-বিচ্ছিন্নতা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিদেশিদেরও দ্বিধাগ্রস্ত করছে। এটা দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সম্প্রসারণ ঠেকানোর চেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। তাদের উত্থানের পরিণতি হতে পারে বিপর্যয়কর। সেটা হলে বছরের পর বছরের চেষ্টায় অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্টোপথে হাঁটতে পারে।
দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কিছু সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের উৎপাতে জর্জরিত। কিছু ক্ষেত্রে তাদের বিরোধী রাজনৈতিক গ্রুপগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর চলতি বছর সন্ত্রাসীরা পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। তারা এমন চারজনকে হত্যা করেছে, যাঁরা ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। একই সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্তরাজ্যের লন্ডন, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এবং আরও কিছু শহরে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছে, যারা ইসলামিক স্টেটের তৎপরতায় সক্রিয় রয়েছে। তাদের কেউ কেউ জঙ্গিগোষ্ঠীটির জন্য সদস্য সংগ্রহ করে, অন্যরা সরাসরি যোদ্ধা।
এসব গোষ্ঠীর মধ্যে নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ পর্যায়ের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে তা বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে, যে দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় সবাই সুন্নি।
ঢাকায় নিযুক্ত একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা ইসলামিক স্টেটের দাবিগুলোকে গুরুত্বসহকারে নিচ্ছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা বিশ্বব্যাপী ডানা মেলছে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত এসব যোগাযোগের প্রমাণগুলো বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ এরই মধ্যে আইএসের ৩০ জনের বেশি অনুসারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী এবং তারা উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য। এসব ব্যক্তি সিরিয়া বা আফগানিস্তানে জঙ্গিদের পক্ষে লড়াই করতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। তিনি বলেন, তাঁরা আইএসের পক্ষে লন্ডনভিত্তিক একজন সদস্য সংগ্রহকারীকেও গ্রেপ্তার করেছেন। ওই ব্যক্তি ছেলেদের দলে ভেড়াতে বাংলাদেশে এসেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি বিশ্লেষক আলী রীয়াজ বলছেন, বাংলাদেশে বড় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর ‘সাংগঠনিক উপস্থিতি’ আছে, এ বিষয়ে তিনি ‘খুবই সন্দিহান’। কিন্তু অভ্যন্তরীণ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এসব বড় গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে যে খুবই আগ্রহী, সেটাও মনে করেন তিনি। আলী রীয়াজ বলেন, ‘সুযোগ সামনে এলে এবং পথ খুঁজে পেলে, এসব স্থানীয় গ্রুপ আইএসের সহযোগী হতে সময়ক্ষেপণ করবে না।’
গত মাসের সতর্কবার্তা জারির ঘটনাগুলো বাংলাদেশ ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান পারস্পরিক সুগভীর সন্দেহ-অবিশ্বাসেরই একটা ইঙ্গিত। যদিও তারা সবাই সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে।
মাস খানেক আগে কথিত ‘ফাইভ-আইস’ জোটের (অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র এর অন্তর্ভুক্ত) গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য পায়, বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। গত ২৫ সেপ্টেম্বর, অস্ট্রেলিয়া তার নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণবার্তা হালনাগাদ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে ‘অস্ট্রেলীয়দের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার তথ্য বিশ্বাসযোগ্য’। টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ক্রিকেট দলের ঢাকা সফরের প্রস্তুতিকালে ওই তথ্যকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
মনে করা হচ্ছিল, জঙ্গিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ‘গ্লিটার বল’। ‘গ্লিটার বল’ হচ্ছে একটি বার্ষিক কসটিউম পার্টি, যেটি বিদেশিদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নাগরিকদের জন্য অনুরূপ সতর্কবার্তা জারি করে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার ‘জঙ্গি ভীতি’কে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। ওই সময় আমেরিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র সফররত শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কর্মকর্তাদের কাছে হুমকির বার্তাটি পৌঁছে দেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মনে করেছিলেন ওই সতর্কবার্তাগুলো সুনির্দিষ্ট নয় এবং হতাশাজনক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য দিতে পারেনি, যার ওপর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’ তারা ওই তথ্য কোথা থেকে এল, তা-ও বলেনি।
এক সাক্ষাৎকারে গওহর রিজভী বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করার ক্ষেত্রে আমাদের একটা লম্বা ইতিহাস রয়েছে। এ ঘটনায় কেন আপনারা একতরফা পদক্ষেপ নিলেন? কেন আপনারা তথ্য আদান-প্রদান করলেন না?’ তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ত্রুটিপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে অতীতে ‘বিশ্বের বিশ্বাসপ্রবণতার পরীক্ষা’ হয়ে গেছে। ইরাকযুদ্ধের আগে দেশটিতে ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে দাবি তুলেছিল, তার প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে রিজভী প্রথমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গত ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ওই ব্রিফিং করেছিল। কিন্তু পরে তিনি বলেন, সেটি হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর।
এই ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যাতেই ঢাকায় খুন হয়েছিলেন ইতালীয় নাগরিক সিজার তাবেলা। ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় হাঁটার সময় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্দেহভাজন ইসলামিক স্টেটের কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে এ ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়। মুঠোফোনে বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ‘টেলিগ্রামের’ একটি অ্যাকাউন্টে এবং টুইটারের দুটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই দায় স্বীকার করা হয় বলে জানিয়েছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ, যারা অনলাইনে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর প্রোপাগান্ডা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের এসব বার্তা নির্ভরযোগ্য নয়। জাপানি নাগরিক হত্যা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের সমাবেশস্থলে হামলার পর জঙ্গিরা দায় স্বীকার করলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তখনো একই কথা বলেছেন।
উপদেষ্টা রিজভী বলছেন, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের উপস্থিতির সম্ভাব্যতাকে উড়িয়ে দিলে তা হবে ‘হঠকারিতা’। কিন্তু সেটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, এখানে অন্যতম তত্ত্বটা হচ্ছে, বিরোধী শক্তিগুলো শেখ হাসিনাকে সংকটে ফেলার চেষ্টা করছে।
গওহর রিজভী বলেন, ‘নিচু সারির কেউ বলে থাকতে পারে, ‘চলেন, কিছু বিশৃঙ্খলা উসকে দিই। এই সরকার তো সংবাদমাধ্যমে অনেক বেশি প্রচার পাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা ছিল তাঁর (শেখ হাসিনার) জন্মদিন। যেদিন তিনি ভাষণ দিচ্ছিলেন, সেদিন এটা ঘটেছিল।’
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, যখন সতর্কবার্তাটি আসে, তখন তাবেলা হত্যা এড়ানোর মতো সময় আর হাতে ছিল না। তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগেই তাদের উচিত ছিল নির্ভরযোগ্য তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তারা সেটা করলে হয়তো ওই হত্যাকাণ্ড এড়ানো যেত।’
বাংলাদেশের সমালোচনার বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা বলতে রাজি হননি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একজন মুখপাত্র ন্যান্সি ভ্যানহর্ন। এমনকি গোয়েন্দা তথ্য সঠিকভাবে কাজে না লাগানোর কারণে বাংলাদেশকে সমালোচনা করতেও অস্বীকৃতি জানালেন তিনি।
মুখপাত্র বলেন, ‘বিদেশি সরকারগুলো তাদের কাছে যেসব তথ্য ছিল, তা তাদের বাংলাদেশি অংশীদারদের কাছে প্রদান করেছে। কিন্তু এটা স্বীকার করে নেওয়া জরুরি যে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাংলাদেশে যে ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা প্রতিরোধ করা বিশেষভাবে কঠিন। আমরা এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।’
ইউনিভার্সিটি অব হাইডেলবার্গের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সিগফ্রিড ও. উলফ বলছেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশ থেকে পাওয়া স্পর্শকাতর তথ্যগুলো এই ভয়ে চাপা রেখেছিল যে সেগুলোর অপব্যবহার হতে পারে। কারণ, দেশটি এখন চরম রাজনৈতিক মেরুকরণের কবলে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভেতরেও দলাদলি ও শত্রুতা রয়েছে।
আর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বাংলাদেশে সন্দেহ-অবিশ্বাসের শিকড় অনেক গভীরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এই সন্দেহ-অবিশ্বাসের একটি ব্যক্তিগত উপাদানও রয়েছে। এটার শুরু তাঁর বাবা শেখ মুজিবকে (জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান) ১৯৭৫ সালে হত্যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটা হাত ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সন্দেহ থেকে। আর অতি সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তাঁর দলের জয় নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া এবং পোশাকশিল্প খাতে দেওয়া বাণিজ্যিক সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনাগুলোতে তিনি হতাশ হয়েছেন।
জঙ্গিদের বিষয়ে শেখ হাসিনার সন্দেহকে সমর্থন করেছে কিছু দেশ। ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার এ. নিকোলায়েভ ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হুমকির বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছে। দুই বিদেশি হত্যার ঘটনার পর তিনি এ–ও মন্তব্য করেছেন যে ‘দুই ফোঁটা জল পড়ার অর্থই বৃষ্টিপাত নয়’।
এক মাসের বেশি সময় পার হওয়ায় বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কগুলো এখন কমে এসেছে। তাঁরা এখন ঢাকার বিপণিবিতান ও পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে আবার যাওয়া-আসা শুরু করেছেন। তবে এখনো তাঁরা রাস্তায় হাঁটেন না, স্কুটারে চড়েন না, বাইসাইকেল-রিকশায় চড়েন না।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি পোশাকশিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমা কিছু ক্রেতা তাদের বার্ষিক সফর বাতিল করেছে। শীতকাল সামনে রেখে পোশাক আমদানির জন্য এই বার্ষিক সফরকে সাধারণত ব্যবহার করে থাকে তারা।
এখানকার কূটনীতিকেরা বলছেন, হুমকি এখনো মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। প্রটোকলের কারণ দেখিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেছেন, এই সর্বোচ্চ হুমকিটি ছিল একটি ‘সম্পূর্ণ গেম চেঞ্জার’। এটা বিদেশিদের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করবে। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘এটা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বোতল থেকে বেরিয়ে আসা দৈত্যটা আবার বোতলে ফিরে যাচ্ছে না।’
জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে যেসব বাংলাদেশি ওয়াকিবহাল, পরস্পরবিরোধী এসব বার্তা তাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোর সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘সরকার যেভাবে ইসলামিক স্টেটের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে যাচ্ছে, তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ চীনের ইসলামপন্থী উইঘুর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে নিয়ে নিবন্ধ লেখার পর গত মাসে তিনি নিজেও সন্দেহভাজন আইএস সদস্যদের কাছ থেকে মুঠোফোনের খুদে বার্তার মাধ্যমে একটি হুমকি পেয়েছেন। ‘ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ’ নামে পাঠানো ওই লিখিত বার্তায় বলা হয়, ‘ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী লেখা বন্ধ কর। তা না হলে, আমরা তোমাকে নরকে পাঠানোর জন্য এখানে আছি।’
দুই সপ্তাহ পরে মিজানুর রহমান খান যখন একটি রিকশায় উঠছিলেন, তখন একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর গতি রোধ করে। ওই ব্যক্তি অস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে হুমকি দেয়। তিনি তখন আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান যখন বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেন, তখন পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাঁকে রিকশায় আর না চড়ার পরামর্শ দেন। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি টেলিভিশনের কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। আর পত্রিকার সম্পাদকের পরামর্শে তিনি একেকদিন একেক পথ ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করছেন।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘প্রকৃত বিপদ উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে আমরা খুবই কঠিন একটা অবস্থায় রয়েছি। হুমকিটা আসলে কী ছিল, সে বিষয়ে আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনো কিছুই জানতে পারছি না; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নয়। এমনকি সরকারের পদক্ষেপ কী ছিল, কেনই বা তারা সহযোগিতা করছে না, সেসব বিষয়েও কিছু জানা যাচ্ছে না।’
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: হারুন-অর-রশীদ
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন ঢাকা থেকে জুলফিকার আলী মানিক ও ওয়াশিংটন থেকে এরিক স্মিডট
এলেন ব্যারি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো-প্রধান।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৪৮ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি ছিনিয়ে নেয়া নববধূ by বিল্লাল হোসেন রবিন
এদিকে সুবর্ণা আক্তারকে ছিনিয়ে নেয়ার পর পিতা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা হাতেম আলীর ছেলে মোফাজ্জল (২৪), জামাল উদ্দিনের ছেলে আলমগীর (২০), ইসমাইল মেম্বারের ছেলে রাকিব (১৯), ইব্রাহিমের ছেলে ইয়াছিন (২৫), ফারুকের ছেলে ফাহিম (২৩) ও রাসেলের (২৪) নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১৫/১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ মামলার কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না।
এলাকাবাসী সূত্রমতে, ঘটনার মূলহোতা মোফাজ্জল মালয়েশিয়ায় থাকে। দেড়-দুই মাস আগে সে দেশে আসে। এরপর এলাকার মেয়েদের নানাভাবে সে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। এ নিয়ে সাতগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে বেশ কয়েকজন অভিভাবক বিচার দেয়। পরে চেয়ারম্যান মোফাজ্জলকে সতর্ক করে দিলেও কোন কাজ হয়নি। বাবার প্রভাবে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠে মোফাজ্জল।
সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওদুদ মাহমুদ জানান, বখাটে মোফাজ্জল সদ্যবিবাহিত সুবর্ণাসহ বিভিন্ন স্কুল ছাত্রীকে রাস্তাঘাটে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো। নেশাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন লোকজনকে শারীরিক মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সালিশ করে সতর্ক করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর তথ্যমতে, মোফাজ্জলের বাবা হাতেম আলী এক সময় ডাকাতি করতো। ডাকাত হাতেম নামেই সে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের সঙ্গে হাতেম আলীও আত্মসমপর্ণ করে। এ সময় সে একটি কাটারাইফেল জমা দেয়। পরবর্তীতে হাতেম আলী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। বর্তমানে সে সাতগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তার অপকর্ম ও প্রভাবের কাছে দলের নেতাকর্মীরা অসহায়। মাদকবিরোধী সভা করায় এবং মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রইস উদ্দিনের ওপর ক্ষুব্ধ হয় হাতেম আলী। একপর্যায়ে হাতেম আলীর ভয়ে রইস উদ্দিন বর্তমানে এলাকা ছাড়া।
সুবর্ণা আক্তারের পিতা আ. লতিফ জানান, গত ঈদুল আজহার দিন নামাজ পড়া নিয়ে উল্লেখিত মামলার আসামিদের নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে আমার ছেলে আশিক (১৭) ও তার বন্ধু কাউসারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে সন্ত্রাসীরা আমাকেও কুপিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে মামলা দায়ের করেন আব্দুল লতিফ। মামলা দায়েরের পর থেকেই সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিল।
উল্লেখ্য, উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগাঁও চৌধুরী বাড়ির আ. লতিফের মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের সঙ্গে গত ৯ই অক্টোবর রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর পুটিয়া গ্রামের জহিরুল হকের ছেলে নাদিমের কাবিন হয়। ৬ই নভেম্বর শুক্রবার ছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সন্ধ্যায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূ সুবর্ণাকে নিয়ে প্রাইভেট কারে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় বর নাদিম ও তার স্বজনরা। বর-কনেকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি উপজেলার রসুলপুরে গেলে দুটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে বরের গাড়ির গতিরোধ করে মোফাজ্জল গংরা। বরযাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বর নাদিমসহ তার সহযাত্রীদের পিটিয়ে নববধূ সুবর্ণাকে জোর করে সিএনজিতে তুলে মাধবদীর দিকে চলে যায়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, কাউকে গ্রেপ্তার এবং নববধূকে উদ্ধার করা সম্ভব যায়নি। তবে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
November
(600)
-
▼
Nov 09
(13)
- ‘গরু-বিতর্কে’ গোহারা মোদি-অমিত জুটি
- ন্যায়বিচার ও রিমান্ড by খন্দকার মাহবুব হোসেন
- আক্রমণের মুখে আমার প্রজন্ম by কাবেরী গায়েন
- এ কোন সকাল, রাতের চেয়েও অন্ধকার? by মাহমুদুজ্জামা...
- বাংলাদেশিরাও সিরীয়দের জন্য অর্থ দিতে পারেন -বিশেষ ...
- হামলে পড়তে আইএস স্বীকারোক্তির চেষ্টা
- দেশে সন্ত্রাসবাদ নতুন মাত্রা পেতে চলেছে :সাক্ষাৎকা...
- নিতীশ-লালুর জয়ের ১০ কারণ!
- বিপ্লব খুনের নেপথ্যে...
- লবণ লাগে অনেক কাজে
- বাংলাদেশে আইএসের হুমকি, সরকারের অস্বীকার -নিউইয়র্...
- ৪৮ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি ছিনিয়ে নেয়া নববধূ by বিল্লা...
- সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের বিকল্প নেই by তামান্না ম...
-
▼
Nov 09
(13)
-
▼
November
(600)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...












