Friday, July 3, 2026

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে আল সাইয়েদকে সমর্থন দিলেন ওকাসিও কর্তেজ

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল আল সাইয়েদকে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ।

গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এই সমর্থন ঘোষণা করেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতারা অবশ্য আগে থেকেই চিন্তিত ছিলেন, এই দোদুল্যমান রাজ্যে জয়ের জন্য সাইয়েদ হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বামপন্থি।

এক বিবৃতিতে ওকাসিও কর্তেজ বলেন, ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই নির্বাচনী প্রচার দেখার পর এটি স্পষ্ট যে, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে এই আসনটি ধরে রাখার জন্য আবদুল আল সাইয়েদই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে এজেন্ডা তৈরি করে একটি বিজয়ী জোট গড়ে তুলছেন।’

ওকাসিও কর্তেজকে নিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার গুঞ্জন রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থার নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের তুলনায় ওকাসিও কর্তেজ এবার প্রার্থী সমর্থনে বেশ বেছে বেছে পা ফেলছেন। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাউস নির্বাচনে হেরে যাওয়া তার সাবেক চিফ অব স্টাফ সাইকত চক্রবর্তীর পক্ষেও তিনি সমর্থন দেননি। এমনকি গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জোহরান মামদানি সমর্থিত দুই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট বিজয়ী হলেও ওকাসিও কর্তেজ তাদের পাশে দাঁড়াননি।

আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানের এই প্রাইমারি বা দলীয় বাছাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৮ সালে আল সাইয়েদ যখন গভর্নর পদে লড়েছিলেন, তখনও ওকাসিও কর্তেজ তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

ওকাসিও কর্তেজের এই সমর্থনে গভীর সম্মান প্রকাশ করেছেন আবদুল আল সাইয়েদ। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও কর্তেজ মার্কিন রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছেন। তিনি একটি প্রজন্মকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন যে সরকার সত্যিই শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।’

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানে জিতেছিলেন। এবার কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে এবং এই আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে মিশিগানের এই প্রাইমারি নির্বাচনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লড়াইয়ে আল সাইয়েদ ছাড়াও রয়েছেন মধ্যপন্থি হেইলি স্টিভেন্স।

স্টিভেন্সকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মূলধারার নেতারা সমর্থন করছেন। এছাড়া আছেন উদারপন্থি স্টেট সিনেটর ম্যালরি ম্যাকমোরো, যার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন।

সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার মনে করেন, এই রাজ্যে জেতার সবচেয়ে বেশি সুযোগ রয়েছে হেইলি স্টিভেন্সের। ওয়াশিংটনের কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার আশঙ্কা, আল সাইয়েদ প্রাইমারিতে জিতে গেলে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে হেরে যেতে পারেন। তবে দলের ভেতরে এল সাইয়েদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। ইতোমধ্যেই তিনি মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের সমর্থন পেয়েছেন।

এই নির্বাচনে ইসরাইল ইস্যুটি একটি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মিশিগানের ডেট্রয়েট ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক আরব-আমেরিকান এবং ইহুদি ভোটার রয়েছেন।

এল সায়েদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একজন 'যুদ্ধাপরাধী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে তিনি 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্য প্রার্থী ম্যাকমোরো গত শরতে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় গাজার ঘটনাকে প্রথম 'গণহত্যা' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি ভোটারদের বলেছেন, সংজ্ঞার চেয়ে সংকটের 'সমাধান' বেশি জরুরি।

তিনি মনে করেন গাজায় যুদ্ধাপরাধ হয়েছে এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরাইলপন্থি লবি 'আইপ্যাক'-এর সমর্থন তিনি চাইবেন না।

অন্যদিকে হেইলি স্টিভেন্সের পেছনে আইপ্যাকের সমর্থন রয়েছে। তিনি গাজার সামরিক অভিযানকে 'গণহত্যা' বলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রগতিশীল প্রার্থীদের উত্থান নিয়ে বেশ চাপে রয়েছে। কারণ এই প্রগতিশীলরা বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল আসনে জয়ী হয়েছেন এবং দলের কিছু পুরোনো প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। মূলধারার ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য এই জয়গুলোকে স্রেফ কিছু অতি-উদারপনন্থি এলাকার ঘটনা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে প্রগতিশীলদের জয়ের পর হাউসের মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিস সিএনএন-কে বলেন, ‘দেশের অন্যতম ব্লু বা ডেমোক্র্যাট-প্রধান একটি শহরের সামান্য কয়েকটি প্রাইমারি নির্বাচনের ফল দিয়ে নভেম্বরের মূল নির্বাচনের হিসাব করা যাবে না। নভেম্বরে আমাদের প্রতিটি আসনে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা ডেমোক্র্যাটদের জেতাতে হবে, যারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী চরমপন্থি রিপাবলিকানদের রুখে দেবে।’

সূত্র: সিএনএন

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে আল সাইয়েদকে সমর্থন দিলেন ওকাসিও কর্তেজ
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্তেজ এবং মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে প্রগতিশীল প্রার্থী আবদুল এল সাইয়েদ। ছবি: এপি

ইস্তাম্বুল যখন ‘ক্যাটস্তাম্বুল’

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের বিড়ালপ্রেমের গল্পটা বেশ পুরোনো—সেই অটোমন আমলের। বিড়ালপ্রেম এখনো টিকে আছে। শহরের আনাচকানাচে অগুনতি বিড়ালের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। তাই তো বিশ্বজুড়ে বিড়ালপ্রেমীদের কাছে শহরটি আরেক নামে পরিচিত—‘ক্যাটস্তাম্বুল’। আর অনেক ভ্রমণপিপাসুই ইস্তাম্বুলে ছুটে যান শুধু এই বিড়ালের জন্য।

ইস্তাম্বুল তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, খুব ব্যস্ত। শহরটিতে দেড় কোটি মানুষের পাশাপাশি বসবাস করে আনুমানিক আড়াই লাখ বিড়াল। রাস্তাঘাট, মসজিদ, ক্যাফে ও মেট্রোস্টেশনগুলো—কোথায় দেখা যায় না এই বিড়ালগুলোকে। পর্যটকদের ভালোবাসা পেতেও ছুটে যায় বিড়ালগুলো। তাঁরাও তাই বিড়ালের সঙ্গে নিজেদের ক্যামেরাবন্দী করতে ভোলেন না।

ইস্তাম্বুলে বিড়ালের একটি মিউজিয়াম রয়েছে। মিউজিয়ামটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাতিহ দাগলি বলছিলেন বিড়ালের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার কথা। তিনি বলেন, শহরের প্রতিটি পৌর এলাকায় রাস্তাঘাটে বেড়ে ওঠা বিড়ালদের জন্য বিনা মূল্যে পশুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আর বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো ছাড়ে বিড়ালের চিকিৎসা দেয়। অনেক সময় চিকিৎসার খরচ জোগান স্থানীয় লোকজনও।

ইস্তাম্বুলের মানুষ বিড়াল পালেন, বেশির ভাগ বিড়াল বেড়ে ওঠে রাস্তাঘাটে। তবে ঘরের কিংবা বাইরের—কোনোটির প্রতি বাসিন্দাদের ভালোবাসার কমতি নেই বলে মনে করেন আলোকচিত্রী মার্সেল হাইজনেন। তাঁর ভাষায়, ইস্তাম্বুলের সব বিড়ালের মালিক শহরের মানুষেরাই। নিজ নিজ এলাকার বিড়ালগুলোর প্রতি তাঁদের যত্নআত্তির কোনো কমতি নেই।

বিড়ালের সঙ্গে ইস্তাম্বুলের এক বাসিন্দা
বিড়ালের সঙ্গে ইস্তাম্বুলের এক বাসিন্দা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

কোথায় হারিয়ে গেলেন ১৭ বছরে ‘মিস ইন্ডিয়া’ জয়ী সেই নায়িকা

প্রকাশ ২০ নভেম্বর ২০২৫ঃ ১৭ বছর বয়সে মিস ইন্ডিয়া খেতাব জিতে হিন্দি সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন, অচিরেই সেই সময়ের দুই শীর্ষ নায়িকা—শ্রীদেবী ও মাধুরী দীক্ষিতের সমান জনপ্রিয়তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। পরে হারিয়ে গেছেন ব্যর্থতার কারণে। এই অভিনেত্রী আর কেউ নন, মীনাক্ষী শেশাদ্রি। প্রথম ছবি ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ছবি ‘হিরো’ তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়।

‘দামিনী’ দিয়ে শীর্ষে
মিস ইন্ডিয়া জয়ের পর মীনাক্ষী শেশাদ্রি ১৯৮৩ সালে ‘পেইন্টার বাবু’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। প্রথম ছবি ব্যর্থ হলেও তার পরপরই মুক্তি পায় ‘হিরো’, যা ব্লকবাস্টার হয় এবং মীনাক্ষীকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দামিনী’ তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ছবির সাফল্যের পর তিনি শ্রীদেবী ও মাধুরী দীক্ষিতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত—ক্যারিয়ারের চূড়ায় থেকেই চলচ্চিত্র ছাড়ার ঘোষণা।

মীনাক্ষীর আসল নাম কী
মীনাক্ষী শেশাদ্রির আসল নাম শশীকলা শেশাদ্রি। তিনি ১৯৬৩ সালের ১৬ নভেম্বর বিহারের (বর্তমানে ঝাড়খণ্ড) সিন্দ্রিতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি শাস্ত্রীয় নাচ শিখেছেন। ভারতনাট্যম, কুচিপুড়ি, কথক ও ওডিসি—এই চারটি নৃত্যধারাতেই দক্ষতা ছিল তাঁর। ১৯৮১ সালে মিস ইন্ডিয়া জয়ের পর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান তিনি। এ সময়ই তাঁর ওপর নজর পড়ে নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের। পরে ঘাইয়ের ‘হিরো’-ই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়।

যাঁদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন
মীনাক্ষী শেশাদ্রি–জ্যাকি শ্রফ জুটি জনপ্রিয় ছিল। ‘হিরো’র সাফল্যের পর তিনি একের পর এক বড় তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন—অমিতাভ বচ্চন, সানি দেওল, অনিল কাপুরের মতো নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন বহু সফল ছবিতে।

অভিনয়, নাচের কুশলতা আর পর্দায় উপস্থিতির জোরে তিনি লাখো দর্শকের মন জিতেছিলেন। তবে নিজের সেরা সময়েই বিয়ে করে সিনেমা ছাড়ার ঘোষণা দেন।

ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-19%2Fwwy15seg%2Funtitled-design-60-16685740904x3.webp?rect=0%2C0%2C1350%2C900&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মীনাক্ষী শেশাদ্রি। আইএমডিবি