Tuesday, October 5, 2010

আহা রে সেই কিশোরীবেলা by মৃত্যুঞ্জয় রায়

ঘটনাটি শুভ জন্মাষ্টমীর আগের দিনের। আমরা খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দিকে যাচ্ছিলাম। পথটা বেশ আঁকাবাঁকা আর উঁচু-নিচু। রাস্তার দুই পাশে রাবারবাগান, সবুজ পাহাড়ের ঢাল, জুম-জঙ্গল, আদিবাসীদের ঘরবাড়ি। রাস্তার কোল ঘেঁষে ঝোপ ধরে ফোটা সাদা কাশফুলগুলো যেন শরতের বিজয়বার্তা ঘোষণা করছে। ঘাড় দুলিয়ে পড়ন্ত বিকেলে আমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে। আমরা চলেছি এক অজানা দেশে, এক টিপরাপাড়ায়। টিপরারা রাস্তার পাশে ওই পাড়াটায় যাওয়ার জায়গাটাকে বলে পাঁচমাইল, পোশাকি নাম কামিনীপাড়া। খাগড়াছড়ি শহর থেকে হয়তো জায়গাটার দূরত্ব পাঁচ মাইল বলে ও রকম পরিচিতি পেয়েছে। ওখানেই গাড়ি থেকে নেমে পড়লাম। এরপর টিলায় ওঠার পালা। পাড়ার মুখে একটা বড় বটগাছ প্রবেশপথটাকে ছায়াময় করে রেখেছে। সে ছায়ায় ছাপরামতো দুটি চায়ের দোকান। নিচে পাকা রাস্তায় একটা চান্দের গাড়িতে (জিপগাড়ি) ঠেসে কলার কাঁদি বোঝাই করা হচ্ছে। রাস্তার ওপারে আরও উঁচু টিলা। সেখানে পুলিশক্যাম্প। রাস্তাটা ওখানে বাঁক খেয়ে চলে গেছে দীঘিনালা উপজেলায়। আমরা বটতলা পেরিয়ে একটা চওড়া রাস্তা দিয়ে খানিকটা হেঁটেই পাড়ায় পৌঁছে গেলাম। কামিনীপাড়া একটা টিপরা বা ত্রিপুরা আদিবাসী-অধ্যুষিত পাড়া। ৪৩ ঘর লোক থাকে সে পাড়ায়। সে পাড়ার পাড়াপ্রধান কার্বারি মনমোহন ত্রিপুরা আমাদের স্বাগত জানালেন।
পাশেই একটা বাড়িতে বসলাম। বাড়িতে প্রবেশের মুখেই দেখলাম একটা জঙ্গলের মধ্যে আগুন জ্বলছে। কাছে গিয়ে দেখলাম, তিন টিপরা মেয়ে একটা ছাগলের মাথা আগুনে ছেঁকছে। পুড়িয়ে খাবে। টিপরা জীবনযাত্রার ওটাই প্রথম দর্শন। একটা পাটি পেতে উঠানে বসেছি। খড়-বাঁশের কুঁড়েঘর। পাশে লাউয়ের মাচান। লাউগাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। উঠানের এক পাশে কয়েকটা মরা বাঁশের ডগায় লতিয়ে উঠে গেছে শসার মতো একধরনের গাছ, ওটার নাম মারফা। পেছনে কিছু ফলের গাছ। উঠানের পশ্চিম দিকে একটা আমলকীগাছ। আমলকীতে সারা গাছ ভরে আছে। আমলকী দেখতেই চোখ পড়ে গেল আমলকীর ডালের ফাঁকে। কে ওখানে? মিনতি ত্রিপুরা বললেন, ‘আমার মেয়ে। আপনারা আমাদের অতিথি। এখন তো থাইফং নেই, থাইচুকও শেষ। কী দিয়ে আপনাদের আপ্যায়ন করি? তবে থাইলি খেতে পারেন।’ শঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠল। থাইলি কি তাহলে ছাগলের মাথা পোড়া? সঙ্গী রমণী ত্রিপুরাকে জিজ্ঞেস করতেই সে হেসে ফেলল। বলল, ‘না, ওসব কিছু না। টিপরারা কলাকে বলে থাইলি। আমকে বলে থাইচুক আর থাইফং হলো কাঁঠাল।’ বুঝলাম, গৃহকর্ত্রী আমাদের আমলকী দিয়ে আপ্যায়ন করবেন। দেখতে দেখতে কিশোরী আমলকী গাছের মগডালে উঠে পড়ল। থোকা থোকা আমলকী ছিঁড়ে একটা থলিতে ভরছে। শরতের আকাশের মতোই তার মুখজুড়ে উজ্জ্বল হাসির খেলা। এ রকম কিশোরীবেলা যে কতকাল দেখিনি! এত কষ্টকর দারিদ্র্যপীড়িত জীবনের মধ্যেও ওরা এমন করে হাসতে পারে? কেউ বাড়িতে এলে এমন করে খুশি হয়? নিজেদের কথা ভেবে সত্যিই লজ্জা হলো।
উঠানে বসে আমরা একটু দূরের উঁচু পাহাড়ের জুম দেখছি। পাহাড়ের সবুজ ঢালগুলো এখন সোনা ছড়িয়ে হলুদ হতে শুরু করেছে। মিনতি বললেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই জুম কাটা শুরু হবে। কিশোরী ততক্ষণে আমলকীগাছ থেকে নেমে এসেছে। একটা থালায় করে সে আমাদের সামনে আমলকীগুলো নিয়ে এল। আর একজন নিয়ে এল এক গামলা পেয়ারা। আর একটা থালায় এল পাইন্যাগোটা ফল। ভাবলাম, ওই কষ্টের জীবনে ওগুলো বেচে তো কটা টাকা পেত ওরা। আমাদের খাইয়ে ওদের লাভ কী? মনের কথা মনেই চেপে গেলাম। এসব কথা বললে না জানি ওরা আবার খেপে যায়। কিশোরীকে বললাম, ‘স্কুলে পড়ো?’ মাথা কাত করল।
‘কোন ক্লাসে?’
‘সিক্সে।’ বলেই ছুট দিল। ওর সাথিরা এসে গেছে। পাশের বাড়ির উঠানে গিয়েই শুরু হয়ে গেল ছোটাছুটি। মাটিতে দাগ কেটে দে ছুট দে ছুট। চার-পাঁচজন কিশোরীর সে কী উল্লাস! খুব ছোটরা ওদের সে খেলা দেখে হাততালি দিয়ে আনন্দ করছে। হাসির যেন ফোয়ারা ছুটছে। কী খেলা জানি না। তবে সন্ধ্যা হওয়ার আগ পর্যন্ত সে খেলা চলতেই থাকল। শেয়াল যেমন মুরগি ধরে, তেমনি করে ওরাও ধরাধরি খেলা খেলতে লাগল। খেলার একপর্যায়ে সবাই মিলে গোল হয়ে দাঁড়াল। হাতের তালি বাজিয়ে সুর করে ছড়া কাটতে লাগল। ত্রিপুরা ভাষার কিছুই বুঝি না। অতএব, আমার বোঝার কোনো সাধ্য নেই। এরপর শুরু হলো কোরাস গান। সুরটা কী মিষ্টি আর নরম। সবাই এক সুরে গাইছে। শুনে মনটা ভরে গেল। রমণীকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী গাইছে ওরা?’
‘ওটা আমরা চৈত্রসংক্রান্তির সময় গাই। ওরা সে গানটা গেয়েই হয়তো আনন্দ করছে।’
টিপরারা সনাতন ধর্মাবলম্বী। রমণী ত্রিপুরা জানাল, ত্রিপুরাদের মধ্যে ৫৬ গোত্র আছে। সবার ভাষাও নাকি হুবহু এক নয়। কার্বারি বললেন, ‘কাল আপনাদের আমন্ত্রণ রইল। কাল শুভ জন্মাষ্টমী। সবাই মিলে আমরা উৎসব করব। মন্দিরে পূজা দেব। দেখতে আসবেন।’ বিনয়ের সঙ্গেই সে আন্তরিক আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে হলো। ফিরে এলাম কিশোরীর সেই হাসিমুখের ছবিটা নিয়ে।

মার্কিন-সৌদি অস্ত্র চুক্তি: আরেকটি যুদ্ধের প্রস্তুতি

পরিকল্পিত মার্কিন-সৌদি অস্ত্র চুক্তির নানা দিক এখনই সাধারণ্যে আলোচিত হওয়া জরুরি। কেননা এই চুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, বিপুল তেলসমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবের কাছে যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির নতুন চুক্তি অনুমোদন করার দ্বারপ্রান্তে মার্কিন কংগ্রেস। চুক্তিটি হবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের। অস্ত্র সরবরাহ চলবে ১০ বছর ধরে। সম্ভাব্য এ চুক্তিকে এরই মধ্যে ইতিহাসের অন্যতম বড় অস্ত্র চুক্তি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
চুক্তির প্রধান দিক হলো, এতে সৌদি আরবে ৮৫টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পাঠানো এবং অতীতে পাঠানো এ ধরনের ৭০টি যুদ্ধবিমানকে উন্নীতকরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামরিক বিমান হিসেবে এফ-১৫ মডেলটি অপেক্ষাকৃত পুরোনো, কিন্তু আকাশযুদ্ধে প্রতিপক্ষের ক্ষতিসাধনের উপায় হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর বলে পরিচিত। এর প্রস্তুতকারক বোয়িং করপোরেশন পেন্টাগনে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। তা ছাড়া এটি বিশ্বায়িত অস্ত্রশিল্পের অন্যতম করপোরেশন। এ চুক্তি নিশ্চয়ই বোয়িং, ইউনাইটেড টেকনোলজিস এবং অন্য সুবিধাভোগীদের অনুপ্রাণিত করবে। কংগ্রেসকে প্রভাবিত করতে তারা লবি করে যাচ্ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে গত ৩০ বছরে কয়েকটি যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। অত্যন্ত সংঘাতমুখর এ অঞ্চলে এই চুক্তির ফল কেমন করে মূল্যায়ন করা যায়? অতীতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এখানে বহুবার অস্ত্র রপ্তানি করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এই চুক্তিকে কীভাবে যাচাই করা যায়?
সর্বাগ্রে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েল মার্কিন-সৌদি চুক্তির ব্যাপারে কোনো আপত্তি না জানিয়ে বরং ‘সবুজ সংকেত’ পাঠিয়েছে। পরিকল্পিত চুক্তি নিয়ে উত্তেজনা প্রশমন করে এর পথ মসৃণ করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের ওয়াশিংটন সফর জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে মনে হয়। ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে এ চুক্তি সাংঘর্ষিক হতে পারে—ইসরায়েলের এমন আশঙ্কা দূর করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রাপ্ত ব্যাখ্যাটি হলো, ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোয় সেন্সর ও এমন প্রযুক্তি থাকবে, যা একই ধরনের ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ব্যবহূত হওয়া প্রতিহত করবে। অন্যদিকে সৌদি আরবের কাছে এফ-১৫ বিক্রির সমান্তরালে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে বিক্রি করবে সর্বাধুনিক সামরিক যুদ্ধবিমান মার্টিন লকউডস এফ-৩৫। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সব প্রতিপক্ষের চেয়ে আকাশপথে ইসরায়েলের আধিপত্য জারি থাকা নিশ্চিত হবে। ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েল লবির প্রভাব কত ব্যাপক, তা মার্কিন-সৌদি চুক্তির এই ত্রিমুখী কূটনীতি থেকে আবারও দেখা যাচ্ছে। ফলে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিক্রি বাড়বে, যা মার্কিন অস্ত্র প্রস্তুতকারক এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। কারণ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার (জেএসএফ) নামের সমধিক পরিচিত এ যুদ্ধবিমানটি বিক্রির কৌশল থেকে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সরকার সামরিক খাতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেমন করে মার্কিন অর্থনীতির সার্বিক বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করছে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোকপাত করার আগে দেখা যাক, মার্কিন-সৌদি অস্ত্র চুক্তি কীভাবে একটি পরম্পরার অংশ। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করা শুরু করে। অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্য তেল উৎপাদক রাষ্ট্রগুলো ১৯৭৩ সালে তেলসংকট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা একটি নতুন লেনদেনের কৌশল প্রণয়ন করেন। তেল উৎপাদক রাষ্ট্রগুলোর চাপ প্রতিহত করাকে অব্যাহত রাখার বদলে তখন থেকেই মার্কিন সরকার নতুন কৌশল নেয়। চেষ্টা চালাতে থাকে, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর আয় বৃদ্ধি থেকে কীভাবে সুবিধা আদায় করে নিতে পারে। বিশেষত, সৌদি আরব ও ইরানকে(!) যুক্তরাষ্ট্র পরামর্শ দিয়েছিল তাদের বাড়তি আর্থিক সম্পদের বড় একটি অংশ পশ্চিমা অস্ত্র ক্রয়ে ব্যয় করার জন্য। এমন লেনদেন-ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বশীল একটি চুক্তি হলো আল ইয়ামামাহ চুক্তি। ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব এই বিনিময় চুক্তি অনুসরণ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাজ্য অস্ত্র সরবরাহ করেছে সৌদি আরবকে। অশোধিত তেলের বিনিময়ে সরাসরি অস্ত্র দিয়েছে। বর্তমান মার্কিন-সৌদি চুক্তি আকারের দিক থেকে আল ইয়ামামাহ চুক্তির সমকক্ষ, যদিও বর্তমান চুক্তিটি বিনিময় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু সৌদি সরকার অস্ত্র কিনতে তেলসম্পদের আয় থেকেই যে অর্থসংস্থান করবে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
অবশ্য এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত অতীতের এক নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। সেই নীতিটি ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ক্লিনটন প্রশাসন তৈরি করে। সেই সময় মার্কিন ব্যবসায়ী চক্রকে উদ্দীপিত করার প্রাথমিক শক্তি হিসেবে মার্কিন সরকার যেন আবারও সামরিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে পারে, সে জন্য পেন্টাগন নতুন ভাবনার বিকাশ ঘটায়। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য সামরিক ব্যয়ের ওপর প্রাথমিক নির্ভরতার ফলে আবারও অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হতে পারে, এ আশঙ্কা থেকে ক্লিনটন সরকার নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। তাত্ত্বিক দিক থেকে একে ‘সামরিক কেইনসবাদ’ বলে অভিহিত করা হয়। শুধু সামরিক বাজেট বাড়িয়ে যাতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টার পরিবর্তে মার্কিন সরকার অস্ত্র রপ্তানির ওপর আরও বেশি নির্ভর করে, সেই লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হয়। অস্ত্র রপ্তানির শীর্ষে ছিল জেএসএফ। নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকে নতুন সহস্রাব্দের প্রথম দশকজুড়ে জেএসএফ ও অন্যান্য অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমত ইউরোপীয় দেশগুলোকে টার্গেট করেছিল। আর পরের সারিতে ছিল চীন ও ভারতের মতো এশিয়ার উদীয়মান শক্তি। তবে এখন মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র রপ্তানি মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি উদ্দীপনা এনে দেবে, এমন আশা করা হচ্ছে। আরেকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন-সৌদি চুক্তির সমান্তরালে ইরাকি সামরিক বাহিনীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি। সাম্প্রতিক খবর হলো, সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মতো ইরাকও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য অস্ত্র কিনতে রাজি হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব যুদ্ধাস্ত্রের মূল্য পড়বে ১৬ বিলিয়ন ডলার।
প্রশ্ন হলো, মধ্যপ্রাচ্যের ‘স্থিতিশীলতা’র প্রশ্নে এমন সব সমান্তরাল অস্ত্র বিক্রির কী প্রভাব পড়বে? যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মার্কিন-সৌদি চুক্তির প্রধান লক্ষ্য স্থিতিশীলতা। সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে এই মাল্টিবিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনাকে সহজেই বিরাট ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা যায়। এ ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের ক্ষতি। তারা বিদেশি অস্ত্র কেনার জন্য অত্যন্ত চাপের মধ্যে আছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ব্যাপারে সংশয়ী হওয়ার মতো অনেক যুক্তি আছে। আবার ইতিহাসের দিকে তাকালে এ চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণও পাওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র রপ্তানির পরিণতিতেই গত শতকের আশির দশকের পর তিনটি উপসাগরীয় যুদ্ধ বেধেছে—এ কথা বলা ঠিক হবে না। কেননা, তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের বাসনাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। মার্কিন সরকারের এক বিবৃতি সেটিকে নিশ্চিত করে। তবে কোনো সন্দেহ নেই, সেসব নৃশংস যুদ্ধের পেছনে অন্যতম উপাদান ছিল অস্ত্র রপ্তানি। ১৯৯১ সালের দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের উদ্দেশ্য বাহ্যত কুয়েতকে স্বাধীন করা হলেও বিশ্বগণমাধ্যমের মতে, এ যুদ্ধ ব্যবহূত হয়েছিল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্রের কার্যকারিতা প্রদর্শনের জন্য। প্যাট্রিয়ট নিক্ষেপণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছ থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে প্রলুব্ধ করেছে। আশির দশকের প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরান ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী পরিখাযুদ্ধ চলে। যুদ্ধরত দুই দেশের কাছেই পশ্চিমাদের অস্ত্র বিক্রির ফলে যুদ্ধের উত্তাপও বাড়ে। তাই অভ্যন্তরীণ ও ‘বহিস্থ’ সামরিক কেইনসবাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি নির্ভরতার বাস্তবতায় অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক আগ্রহ আছে—মধ্যপ্রাচ্যের পর্যবেক্ষকদের এমন সন্দেহ কি অমূলক হবে? এবার যদি সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ না-ও বাধে, তবু মার্কিন স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা কি জরুরি নয়?
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
পিটার কাস্টার্স: প্রথম আলোর ইউরোপ প্রতিনিধি।

রুমির বাগানে মহাত্মা গাঁধী by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

এলাহাবাদ কোর্টের রায় বেরিয়েছে। মসজিদ ও মন্দির দুটিই থাকবে।
২৯ সেপ্টেম্বর রুমির ও ২ অক্টোবর গাঁধীর জন্মদিন।
রুমির মসনবি আজ পৌঁছেছে সবার কাছে। ১৯০৭ সালের বসন্তে লন্ডনের একটি পত্রিকার কলামে বের হতো হ্যাডলান্ড ডেভিসের সাপ্তাহিক বক্তব্য: ‘পূবের জ্ঞানসমুদ্র’। মাওলানা জালালউদ্দিন রুমিকে নিয়ে এই লেখাগুলো একত্র করে প্রথম পুস্তকটি প্রকাশ করেন একজন জন মেরি। সম্পাদকের আশা ছিল, পূব ও পশ্চিমের জ্ঞানকে একই আবর্তে আনলে মানুষ আসবে কাছাকাছি, দূর করবে তা সংশয়ের কালো মেঘ। ‘মেলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে’।
মোহনদাস করমচাঁদ গাঁধী, বিলেতফেরত ব্যারিস্টার, জোহানেসবার্গে কর্মরত। কোনো বইয়ের দোকান থেকে সংগ্রহ করেছেন বইটি। গাঁধী অভিভূত। তখন সম্পাদনা করছেন নিজ পত্রিকা, ইন্ডিয়ান ওপিনিয়নস। আত্মার পবিত্রতা ও ঈশ্বরপ্রেম যার প্রেমফসল, সেই রুমি গাঁধীর অনুপ্রেরণা। গাঁধী রুমিকে উদ্ধৃত করে লিখছেন: ঈশ্বরকে খুঁজতে গেলাম ক্রুশ ও খ্রিষ্টানদের কাছে, মন্দিরে। হেরাটে, কান্দাহারে, পর্বতে, গুহায়—কোথাও তিনি নেই। অবশেষে জানলাম তাঁর অবস্থান নিজ হূদয়মন্দিরে, শুধু সেখানেই, অন্য কোথাও নয়। লিখছেন প্রবন্ধ শেষে: রুমি পড়ার জন্য আহ্বান জানাই, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে, যা পড়ে অন্তরের ময়লা সাফ হবে।
পৃথিবী বদলেছে, পুরোনো বিভক্তিগুলো বদলায়নি। দাঙ্গা শেষ হয়েও হয়নি, মনের দাঙ্গা চলছেই। হিন্দু-মুসলমান বিরোধ রাজনীতিকে করেছে কলুষযুক্ত। লালকৃষ্ণ আদভানির রক্তরঞ্জিত রথযাত্রা ও পথ মন্দিরের চাবি খোলার ২৪ বছর অতিক্রান্ত, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ১৮ বছর অতিক্রান্ত। ‘কে আর হূদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে’?
আমাদের আছে রুমি, আছে গাঁধী। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর পত্রপত্রিকায় কলামিস্টদের অসংখ্য বক্তব্য। একজন গাঁধীভক্ত লিখছেন: মন্দিরে যা পাইনি তা পেতে পারি ‘রাম রহিম দরওয়াজা’য়। এমন প্রার্থনালয়ে প্রবেশ করতে চাই, যেখানে আমি মানুষ, বিভক্তি ভুলে পাঠ করব গীতা, বাইবেল, কোরআন, ত্রিপিটক। আমি আমেরিকায় গিয়ে পেয়েছি বাহাইদের প্রার্থনালয়। সেখানে নামাজ পড়েছি। যেখানে মূর্তি নেই, কিয়োটোর বৌদ্ধ বিহারে, প্রভুর মুখোমুখি। প্রভুকে পেলেই সব সমস্যার সমাধান। মুসলমানেরা যেকোনো স্থানে তাই জায়নামাজ বিছাতে পারেন। প্রয়োজন নেই আকবরের ‘দ্বীন ই ইলাহি’র, প্রয়োজন দ্বীন ও ইলাহির উপলব্ধি।
আজ ত্রয়োদশ শতাব্দীর রুমিকে টাইমস লিটারেরি সাপ্লিমেন্ট সম্বোধন করছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক কবি হিসেবে। মহাত্মা গাঁধী যাত্রাপথে রুমিকে আর কোথাও স্মরণ করেছিলেন কি না জানা যায় না। তবে আল্লামা স্যার আবদুল্লাহ আল মামুন আল সোহরাওয়ার্দী সংকলিত নবীর সেয়িংস অব মুহাম্মদ (সা.) সংকলনগ্রন্থের ভূমিকায় মহাত্মা গাঁধী একই কথা বলেছেন, তারিখ: কলিকাতা ২৪.০৩.১৯৩৮। লিখছেন: ‘নবীর বাণীগুলো পাঠ করেছি আগ্রহের সঙ্গে, যা আমার জীবনের সঙ্গে গ্রথিত। এগুলো মুসলমানদের জন্য শুধু নয়, সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য মহামূল্যবান। এগুলোর অধ্যয়ন বাড়াবে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মূল্যবোধ।’ নবীকে মহাত্মা গাঁধী ভালোবাসতেন। রুমির সুন্দরতম চয়ন মুহাম্মদ (সা.)-এর সামগ্রিক জীবন ও কোরআন থেকে। অধম বইটির অনুবাদ করেন মুহাম্মদের বাণী (সা.) নামে ১৯৯৯ সালে। লক্ষাধিক কপি বিতরিত। ‘রুমির অলৌকিক বাগানে’র ছত্রেও হূদয়মন্দিরেরই অন্বেষা।
সাংবাদিক রামচন্দ্র গুহ তাঁর ‘পলিটিকস অ্যান্ড প্লে’ প্রবন্ধে লিখছেন: তুলসী দাসের পর মহাত্মা গাঁধীর মতো রামভক্ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি আর কোনো মন্দিরে প্রবেশ করার সুযোগ নেননি। মাওলানা রুমির কথাটি তাঁর মনে গেঁথে গিয়েছিল।
পৃথিবীর মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের মধ্যে তৃতীয় আমরা। দুই লাখেরও বেশি মসজিদ যে দেশের গ্রাম-বন্দরে, মসজিদ ভালোবাসে তারা। কখনো চায় না মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য প্রার্থনালয় ভেঙে ফেলা হোক। এই রায় নিয়ে এসেছে ‘সমঝোতার সুযোগ’ (স্বপন দাশগুপ্ত)। সিদ্ধার্থ ভারাদারাজন লিখেছেন: ‘যুক্তির নয়, বিশ্বাসের জয়’। প্রথম আলো সম্পাদক লিখছেন: ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ উন্মুক্ত হলো।
কারও মতে, এখানে তৈরি হতে পারে মানবতার একটি নতুন তাজমহল, একটি হাসপাতাল। রুমির আত্মা হয়তো এতেই তৃপ্তি পেত। কোনিয়াতে দেখে এসেছি, তাঁর সমাধি ও মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত।
মদন বাউল গেয়েছেন: ‘তোমার পথ ঢাইকাছে মন্দিরে মসজিদে’
অধম বলছে: দোয়া কবুল সেদিনই (মুনাজাত ই মকবুল) হবে,
যেদিন হূদয় ও মসজিদ পাবে অভিন্নতা।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: লেখক-গবেষক, সংগীতব্যক্তিত্ব।
mabbasi@dhaka.net

নারীর বিরুদ্ধে এসিড-সহিংসতা

আমাদের দেশে নারীরা নানা নিপীড়ন-নির্যাতন, অবিচার ও বৈষম্যের শিকার। যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে মারধর, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, খুন—কোনো কিছুই বাদ নেই। উপরন্তু এসিড ছুড়ে নারীর মুখ ও শরীর ঝলসে দেওয়া হয়। প্রায় সময় দেখা যায়, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দুর্বৃত্তরা নারীর বিরুদ্ধে এই ভয়াবহ এসিড-সহিংসতা চালায়। গত শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরের জয়নগর এলাকার বাসায় কোনো দুর্বৃত্ত ঘুমন্ত তিন বোনকে লক্ষ্য করে এসিড ছুড়ে মারে। তাঁদের মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে। এসিডদগ্ধ একজনের আগামী সপ্তাহে বিয়ে হওয়ার কথা।
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ যথাযথ তদন্তের কথা বলেছে। আমরা চাই, সেটা হোক। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা চলে ধীরগতিতে। অনেক সময় এসিড-সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তারও হয় না। অথবা গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেয়, মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এসিডদগ্ধরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
সম্প্রতি ফরিদপুর, নোয়াখালী, শিবচর, কুমিল্লা, ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এসিড-সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। অথচ এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এর যথাযথ প্রয়োগ হলে এসিড-সন্ত্রাস বাড়ার কথা নয়। ‘এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সারা দেশে এসিড-সন্ত্রাসের প্রায় দেড় হাজার মামলায় মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে; তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। অবশ্য ৯৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এবং অন্যান্য সাজা পেয়েছে ১৬৫ জন।
এটা ঠিক যে এসিড অপরাধ দমন আইনের কিছু অপব্যবহারও হয়। সম্প্রতি এসিড অপরাধসংক্রান্ত মিথ্যা মামলার জন্য শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে এসিড নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০১০ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এতে মিথ্যা মামলা করতে চক্রান্তকারীরা নিরুৎসাহিত হবে। কিন্তু যেসব মামলা প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো রকম শৈথিল্য দেখানো যাবে না। এ জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান নিশ্চিত ও তা কার্যকর করতে হবে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিটি শাস্তি প্রদানের ঘটনায় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার দরকার। অপরাধীরা যেন বুঝতে পারে, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

স্থায়ীভাবে কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপন

ইতালির চিকিৎসকেরা ১৫ বছরের একটি শিশুর দেহে সফলভাবে স্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপন করেছেন। বিশ্বে স্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপনের ঘটনা এটাই প্রথম। দেশটির বার্তা সংস্থা এএনএসএ গতকালরোববার এ কথা জানায়।
বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, রোমের জেসু চিলড্রেনস হাসপাতালের শল্যচিকিৎসকেরা গত বৃহস্পতিবার ১০ ঘণ্টা ধরে সফল এ অস্ত্রোপচার
করেন। সচরাচর ব্যবহূত অস্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্রের পরিবর্তে তাঁরা একটি স্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপন করেছেন।
সংস্থাটি জানায়, বিকল্প ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সাধারণত রোগীর দেহে অস্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপন করা হয়। কিন্তু শিশুটির অবস্থা এতটাই
খারাপ ছিল, বিকল্প অস্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। তাই তার দেহে স্থায়ী কৃত্রিম হূৎযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিস্থিতি

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই একটি কথা বেশ জোরের সঙ্গে বলে থাকেন, ‘অনির্বাচিত সরকার কখনো জনগণের স্বার্থ দেখে না। তারা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত থাকে। জনগণের কল্যাণের জন্য জনগণের সরকার প্রয়োজন।’ অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁদের এ দাবির যৌক্তিকতা থাকলেও দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি নামে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের বেলায় তা একেবারেই অসার। শনিবার চট্টগ্রামে ‘বিশ্ব বাণিজ্য এবং চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ব্যবসায়ীরা বন্দরের নাজুক অবস্থার জন্য মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন। কেউ কেউ মন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি করেছেন। যদিও মন্ত্রী তাঁর ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেননি। প্রশ্ন হলো, বন্দরের অবস্থা আর কতটা খারাপ হলে তিনি ব্যর্থতা স্বীকার করবেন? মন্ত্রী বলেছেন, ১৫ দিনের মধ্যে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ করা হবে। এত দিন হলো না কেন? কাদের স্বার্থে বারবার দরপত্র আহ্বান করেও কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি, সে কথাও কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীস্বার্থে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানটির সর্বনাশ করতে দেওয়া যায় না। কেননা এর সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও বাজার-পরিস্থিতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্যা সমাধানের কথা বলে আসছেন। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখিও কম হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মন্ত্রী ও বন্দর চেয়ারম্যান ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে বহুবার আশ্বাসবাণী শোনা গেছে। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়নি। এবারও যে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এর নিশ্চয়তা কী? বন্দরে সেবার মান বাড়াতে হলে এর অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে নিশ্চয়তাও সরকারকে দিতে হবে।
সংসদীয় কমিটির দায়িত্ব হলো, বন্দর বা মন্ত্রণালয়ের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা তদারক করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা। বন্দরে কাকে অপারেটর নিয়োগ করা হবে না-হবে, সেটা ঠিক করা তাদের কাজ নয়। অথচ এসব ব্যাপারে সংসদীয় কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সংসদীয় কমিটির একাধিক সদস্য নৌপরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাঁরা বন্দরের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যা আছে আরও একাধিক সংসদীয় কমিটিতে, যে কারণে তাঁরা সুপারিশের চেয়ে তদবিরে ব্যস্ত থাকেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী ব্যবসায়িক স্বার্থ আছে, এমন সংসদীয় কমিটিতে কোনো সাংসদ থাকতে পারেন না।
ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরকে পূর্বাবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে দাবি জানিয়েছেন, তার সঙ্গে দ্বিমত করার উপায় নেই। মানুষের দৃষ্টি থাকে সামনে। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষ যে পেছনের দিকে হাঁটতে শুরু করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হলে এখন হবে না কেন?

আফগান সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড বলেছেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তাপরিস্থিতির উন্নতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশটির সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে তাঁর দেশ। গত শনিবার রাতে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে নৈশভোজের সময় তিনি এ কথা বলেন।
ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে আছেন গিলার্ড। আকস্মিক সফরে শনিবার তিনি আফগানিস্তান যান। গতকাল রোববার সিডনিতে তাঁর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা, শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে আফগান সারকারকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন গিলার্ড এবং এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশার বিষয়টিও তিনি জানিয়ে দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার দেড় হাজারের বেশি সেনা বর্তমানে আফগানিস্তানে মোতায়েন রয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগ রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় উরুজগান প্রদেশে। আফগানিস্তানে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ২১ সেনা নিহত হয়েছে। আফগান যুদ্ধে দেশের ভূমিকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে শিগগির বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।
কাবুলে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে উরুজগানে নিজ দেশের সেনাদের সঙ্গে দেখা করেন গিলার্ড। তিনি সেনাদের তৈরি খাবার খান এবং ফুটবল খেলা দেখেন।
কাবুল সফরের সময় আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার জেনালের ডেভিড পেট্রাউসের সঙ্গেও বৈঠক করেন গিলার্ড। আফগান বাহিনীর হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।
আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা চলে গেলে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে দেশের সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হামিদ কারজাই। গত শনিবার আফগান সেনাদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ আমাদের সঙ্গে আছে, একদিন তাদের স্বার্থ ফুরাবে। তখন তারা আমাদের ফেলে রেখে চলে যাবে, যেমন গিয়েছিল অতীতে।’

বসতি স্থাপন বন্ধে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান বান কি মুনের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় এই আহ্বান জানান তিনি। গত শনিবার জাতিসংঘ মহাসচিবের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন কার্যক্রমের ওপর ১০ মাসের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ গত ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পক্ষের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ওই আলোচনা শুরু হয়।
টেলিফোনে নেতানিয়াহু বান কি মুনকে বলেন, ‘তিনি এখনো আশা করেন ইসরায়েল বসতি স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনার মাধ্যমেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি পক্ষ তাদের নিজ নিজ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জর্জ মিশেলকেও টেলিফোন করেন বান কি মুন। আলোচনা অব্যাহত রাখার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকেও স্বাগত জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী দল কাদমিয়ার নেতা জিপি লিভনিও শান্তিপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেননি তিনি। লিভনিকে উদ্ধৃত করে ইসরায়েলি পত্রিকা জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ বিবেচনার চেয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘ মেয়াদি স্বার্থকেই বিবেচনায় নেওয়া উচিত নেতানিয়াহুর।
এদিকে ফিলিস্তিনি নেতারা জানিয়েছেন, বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাবেন তাঁরা। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে শুক্রবার লিবিয়ায় আরব নেতাদের বৈঠকের পর। ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্বকারী প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নেতারা গত শনিবার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেন।
অবশ্য ফিলিস্তিনিদের আলোচনা থেকে বেরিয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যে আলোচনা আমরা শুরু করেছিলাম তা যেন অব্যাহত রাখা হয়।’
১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। সেখানে ১০০টি বসতিতে প্রায় পাঁচ লাখ ইহুদি বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ। কিন্তু ইসরায়েল এটা মানতে নারাজ। বরং আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে তারা বসতি স্থাপন অব্যাহত রেখেছে।

ইউরোপ সফরে নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউরোপ সফরের সময় মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে ভ্রমণ-সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার এই সতর্কতা জারি করা হয়। কমান্ডো স্টাইলে আল-কায়েদা হামলার আশঙ্কায় তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
মার্কিন ও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভ্রমণ-সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এতে কোনো দেশকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি বলে এক ব্রিটিশ কর্মকর্তা জানান। একই সঙ্গে ইউরোপ সফর না করার পরামর্শও এতে দেওয়া হয়নি।
তার পরও পর্যটকেরা যদি মনে করেন হামলার ঝুঁকি আছে, তাহলে তাঁরা ইউরোপ সফর বাতিল করতে পারেন।
মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দারা গত সপ্তাহে জানান, লন্ডনসহ ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার মতো কমান্ডো স্টাইলে হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল আল-কায়েদা। বিষয়টি গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর কর্মকর্তারা জানান, ষড়যন্ত্র একেবারে নস্যাৎ করে দেওয়া যায়নি, তবে খুব শিগগির এ ধরনের হামলার আশঙ্কা নেই।
ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে অনেকের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে আছে কয়েকজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক এবং আফগান বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের কর্মকর্তারা এর আগে জানান, ওসামা বিন লাদেনসহ আল-কায়েদার অন্য নেতারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁরা মনে করছেন। আল-কায়েদা নেতাদের হত্যা করতে পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রতি চালকবিহীন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আদিবাসী ওই এলাকায় গত এক মাসে এ ধরনের ২৫টি হামলা চালানো হয়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করতে পাকিস্তান সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করে, জঙ্গিরা পাকিস্তানের আদিবাসী এবং ওই পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে আছে।

পাকিস্তানে চালকবিহীন মার্কিন বিমান হামলায় ১৫ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানে দুটি চালকবিহীন মার্কিন বিমান হামলায় গত শনিবার ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন বিমান হামলা পাকিস্তানের জন্য স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ এই হামলার ফলে পাকিস্তানে মার্কিনবিরোধী মনোভাব বেড়ে যাচ্ছে।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত জেলা মিরানশাহের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে আদিবাসী-অধ্যুষিত দাত্তাখেল শহরের কাছে দুটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
প্রথম হামলা চালানো হয় দাশগাহ গ্রামের এক বাড়িতে। এ সময় ওই বাড়িতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ছয় জঙ্গি নিহত হয়।
পেশোয়ারে পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বাড়িটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এ সময় এই হামলায় ছয় জঙ্গি নিহত হয়। তবে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, যারা নিহত হয়েছে, তারা সবাই হাক্কানি গোষ্ঠীর জঙ্গি।
এদিকে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয় ইনজারকাস গ্রামে। এতে নয় জঙ্গি নিহত হয়। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, দ্বিতীয় হামলায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি যানবাহনে এবং অন্য দুটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি বাড়িতে আঘাত করে।

যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হবে: আহমাদিনেজাদ

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এ অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবে। গতকাল রোববার এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেওয়া কিছু আক্রমণাত্মক বক্তৃতায় আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘স্বেচ্ছায় না ছাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো খুব শিগগির আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এ অঞ্চল ছাড়া করবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবারই ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। কর্মসূচি থেকে দেশটিকে বিরত রাখতে অবরোধও আরোপ করেছে। তবে ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিকে বরাবরই কেবল শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হবে বলে দাবি করে আসছে।
তেহরানের বাইরে একটি গৃহায়ণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘৯/১১ সম্পর্কে আমাদের শত শত প্রশ্ন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সেসব প্রশ্নের জবাব দেওয়া। আমরা অবশ্যই এসব প্রশ্নের উত্তর চাই। ওই হামলায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, এর হোতাদের খুঁজে বের করে ফাঁসি দেওয়া।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাঁর উত্তরসূরি বারাক ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘চাইলে আমরা উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সহযোগিতাও করতে পারি, কিন্তু তা ওবামা কিংবা বুশের কথায় হবে না।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনই তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে না, অন্য দেশের কথা তো বাদই দিলাম।’
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় ইরানের প্রেসিডেন্ট সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করলে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আফগানিস্তানে আট নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ঘোষণা

আফগানিস্তানে ব্যক্তিমালিকানাধীন আটটি বিদেশি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে আনুুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ ওমর গতকাল রোববার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ওয়াহিদ ওমর বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করা ও তাদের অস্ত্র সংগ্রহের কাজ সাফল্যের সঙ্গে চলছে। এ রকম কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হলো: এনসিএল, এফএইচআই, হোয়াইট ইগল ও এক্সই (সাবেক ব্ল্যাকওয়াটার)।
গত বছর শপথ নেওয়ার সময় হামিদ কারজাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে দেশে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা তিনি কমিয়ে আনবেন। গত আগস্ট মাসে তিনি একটি ডিক্রিতে সই করেন। সেই ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ গুটিয়ে নেওয়ার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হয়।
এদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি দূতাবাস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে, যেসব প্রতিষ্ঠান এর আওতায় পড়বে না। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে নিবন্ধনকৃত দেশি ও বিদেশি ৫২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারাই বাশারি বলেন, জাতিসংঘ ও ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসহায়তা বাহিনী বা আইএসএএফ তাঁদের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে। বিলুপ্ত ঘোষিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগ করা যাবে।

জুলাইয়ে বাণিজ্যঘাটতি প্রায় ১৩ কোটি ডলার

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাই মাসে দেশে পণ্যবাণিজ্যে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে ১৪ শতাংশের সামান্য বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
লেনদেনের ভারসাম্যের সারণি অনুসারে, জুলাই মাসে ১৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলার রপ্তানি আয়ের বিপরীতে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে ১৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে এই সময়ে প্রকৃত আমদানি ব্যয় (সিঅ্যান্ডএফ ভিত্তিতে) দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু পরিবহন ও বিমা খরচ বাবদ গড়ে ১০ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব করে, সেহেতু লেনদেনের ভারসাম্যে আমদানি ব্যয় কিছুটা কমে আসে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে পণ্যবাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৫১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এতে আরও দেখা যায়, জুলাই মাসে সেবা খাতের বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা গত বছরের জুলাই মাসে ছিল ১৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান অনুসারে জুলাই মাসে সেবাবাণিজ্যে প্রাপ্তি হয়েছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। কিন্তু একই সময়ে এ জন্য ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেবাবাণিজ্যে ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ, পর্যটন প্রভৃতি সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত হয়।
তবে প্রবাসী-আয়ের উচ্চপ্রবাহ বজায় থাকার কারণে জুলাই মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৫০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্তাবস্থা দেখা দিয়েছে।
এটি অবশ্য গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় সামান্য কম। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি হিসাবে মূলত কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব প্রতিফলিত হয়। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত এটাই বোঝায় যে নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরের পর আর কোনো অর্থবছরই বাংলাদেশকে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির সম্মুখীন হতে হয়নি, বরং প্রতিবছরই উদ্বৃত্তাবস্থা বেড়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় ২০০৯-১০ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে চলতি হিসাবে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা এ যাবৎ কালের মধ্যে সর্বোচ্চ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, জুলাই মাসে আর্থিক হিসাবে ৪৯ কোটি ডলারের ঘাটতি রয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ৪০ লাখ ডলার।
জুলাই মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাবদ পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেশে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুসারে, জুলাই মাসে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যে সাত কোটি ৮০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্তাবস্থা দেখা দিয়েছে। গত বছর জুলাই মাসে এর পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

আইনে সংশোধন চেয়েছেন প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারকেরা

পাট মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ‘পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন, ২০১০’ জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ আইনটি খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়েছে। এই খসড়ায় কিছু সংশোধন আনার জন্য দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিপিজিএমইএ)।
সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, এই আইন পাস হলে পাটপণ্য ব্যতীত অন্য সব মোড়কীকরণ (প্যাকেজিং) শিল্প সমস্যার সম্মুখীন হবে।
গতকাল রোববার সমিতির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিপিজিএমইএ নেতারা এসব কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল, ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি সামিম আহমেদ, সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেকুর রহমান নান্নু ও পিপি ওভেন ব্যাগ-সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক কাজী আনোয়ারুল হক প্রমুখ।
নেতারা বলেন, বর্তমানে ধান, চাল, খাদ্যজাতীয় পণ্য, সিমেন্ট, লবণ, চিনি ও সার প্রভৃতির ক্ষেত্রে মোড়ক হিসেবে ওভেন পিপি ব্যাগ ব্যবহূত হচ্ছে। কিন্তু পণ্যের মোড়কীকরণে পাটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন পাস করা হলে সব ওভেন পিপি ব্যাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিপিজিএমইএর সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল বলেন, আইনের খসড়া প্রণয়নের আগে উপদেষ্টা কমিটিতে কারখানা মালিক, এফবিসিসিআই ও ভোক্তা প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এমনকি তাঁদের মতামতও নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আইনটির খসড়া প্রণয়নকালে কেবল পরিবেশের দিক দেখা হয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক দিকসহ অন্যান্য দিক দেখা হয়নি। ভারতের ১৯৮৭ সালের পাট সংরক্ষণ নীতিমালার আলোকে খসড়া আইনটি করা হয়েছে। তা ছাড়া সে দেশে ২০ বছরের পুরোনো আইনটি ইতিমধ্যে শিথিল করে দিয়েছে।
বিপিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, সব পণ্যের পাটজাত মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে একদিকে যেমন বিভিন্ন পণ্যের গুণগতমান ধরে রাখা যাবে না, অন্যদিকে প্লাস্টিক খাতের বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
হেলাল বলেন, সমিতি পাটশিল্পের বিকাশের বিপক্ষে নয়। আর বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় এ শিল্পের বিকাশ হবেই। তবে আইনটি চূড়ান্ত করার আগেই পিপি ওভেন ব্যাগ ব্যবহারকারী ও প্রস্তুতকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
সমিতির নেতারা আরও জানান, দেশে প্রতিবছর এক কোটি ২০ লাখ পিপি ওভেন ব্যাগ ও ১০ লাখ পাটের ব্যাগ উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি পিপি ওভেন ব্যাগের দাম ১০ টাকা। কিন্তু একই আয়তনের একই পাটের ব্যাগের দাম ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা।

ডিএসইর লেনদেন নতুন উচ্চতায়

দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার সবচেয়ে বেশি লেনদেনের নতুন নজির স্থাপিত হয়েছে। সূচক ও বাজার মূলধনের পরিমাণও এ দিন আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মোট লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার শেয়ার। স্টক এক্সচেঞ্জটির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই এক দিনে সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে গত ১৬ জুন ডিএসইতে দুই হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। এতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ দুই হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা।
ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক গতকাল ১২৬ পয়েন্ট বেড়ে সাত হাজার ২২৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৩৫৯ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৮৯ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) যখন বাজার স্থিতিশীল রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন বাজারে এ ধরনের উল্লম্ফন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনাটি দুজন বিনিয়োগকারীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্থগিত করায় তেমন কোনো পদক্ষেপও নিতে পারছে না সংস্থাটি। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাজারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে প্রতিদিন নতুন নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হচ্ছে। এতে বাড়ছে তারল্যপ্রবাহ। আর এর প্রভাবে বাড়ছে লেনদেন ও মূল্যসূচক। তাঁরা আরও বলছেন, বাজারে যে হারে তারল্য বেড়েছে, সেই হারে বাড়েনি শেয়ারের সরবরাহ। উপরন্তু, গত দেড় বছরে নিয়মনীতি পরিপালন না করায় প্রায় ৬০টি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। ফলে বেশি পুঁজি স্বল্পসংখ্যক শেয়ারের পেছনে তাড়া করছে। এতে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেক আগেই তার মৌল ভিত্তিকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ অবস্থায় দাম আরও বাড়লে তা বাজারের জন্য ঝুঁকিই বয়ে আনবে। কারণ বাজার কোনো সময় মূল্য সংশোধনের ধারায় ফিরলে আজ যেসব নতুন বিনিয়োগকারী মুনাফা করে আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন, তাঁরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। তাই তাঁদের উচিত এ ব্যাপারে এখনই সতর্ক হওয়া।
অনেকে অবশ্য এ-ও বলছেন যে পুঁজিবাজারে এখনো অনেক কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোর দাম মৌল ভিত্তির তুলনায় কম। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীরা সেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল দুই বাজারেই বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বিমা ও অব্যাংকিং আর্থিক খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। আগ্রহের তালিকায় ছিল সিমেন্ট ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারও।
ডিএসইতে এ দিন লেনদেন হয়েছে ২৪৪টি কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে ১৬০টি কোম্পানিরই দাম বেড়েছে। কমেছে ৭৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল সাতটি কোম্পানির শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮৬টি কোম্পানির শেয়ার। দাম বেড়েছে ১১৭টির, কমেছে ৬৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার।

মবিল যমুনা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়তে যাচ্ছে

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেল মবিল যমুনা এমজিএল বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে চার কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আর বাজার থেকে এ পরিমাণ টাকা তোলা সম্ভব হলে গ্রামীণফোনের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় আইপিও।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সভায় গতকাল রোববার কোম্পানিটির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সভায় তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির রাইট শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। কোম্পানি দুটি হলো এক্সিম ব্যাংক ও অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড।
এক্সিম ব্যাংক ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে প্রায় ২২ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার রাইট শেয়ার ছাড়বে। ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নির্ধারিত ব্যাসেল-২ বাস্তবায়নে মূলধন বাড়ানোর প্রয়োজনে ব্যাংকটি রাইট শেয়ার ছাড়ছে।
আর তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড বাজারে প্রায় এক কোটি দুই লাখ ৫৭ হাজার রাইট শেয়ার ছাড়বে। ১০ টাকা প্রিমিয়াম ও ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ভিত্তিতে কোম্পানিটির প্রতিটি রাইট শেয়ারের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ টাকা।
সভা শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, মবিল যমুনার প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। কিন্তু বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত দরপত্রের জন্য প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ১২৭ টাকা ধরা হয়েছে।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট পরিশোধিত মূলধন ১৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা ১৪ কোটি তিন লাখ ২০ হাজার শেয়ারে বিভক্ত। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে তিন কোটি শেয়ার রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েলের হাতে। আর বাকি শেয়ারগুলো রয়েছে ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানায়।
এসইসিকে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার থেকে সংগৃহীত টাকা কোম্পানিটি খুলনায় লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস ইউনিট স্থাপনসহ ব্যবসা সম্প্রসারণ কাজে ব্যয় করবে। এ ছাড়া জমি ক্রয় ও করপোরেট কার্যালয় তৈরিতেও খরচ করা হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্তানুযায়ী মবিল যমুনার আইপিওর মোট শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৬০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১০ শতাংশ করে শেয়ার বরাদ্দ থাকবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড কোম্পানিটির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বের রয়েছে।
মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ব্যাংকিং এবং ব্রোকারেজ বিভাগকে পৃথক কোম্পানিতে রূপান্তরের সময়সীমা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ বিভাগকে আলাদা কোম্পানি করতে হবে।
এ নিয়ে তিন দফা সময়সীমা বাড়ানো হলো।
প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে আলাদা করার জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় এই সময় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই সময়ের মধ্যেও অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকিং বিভাগকে আলাদা করতে ব্যর্থ হয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় সময় বাড়ানোর আবেদন করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকালের কমিশন সভায় এই সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ডিএসইতে নতুন রেকর্ড: সাধারণ সূচক দাঁড়িয়েছে ৭২৬২.৫১ পয়েন্টে

ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ সোমবার সাধারণ সূচক ও বাজারমূলধনের নতুন রেকর্ড হয়েছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৩৯ দশমিক ০৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭২৬২ দশমিক ৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ ডিএসইর বাজারমূলধন ৩,১৮,৯৬২ কোটি টাকা হয়েছে, যা ডিএসইতে সর্বোচ্চ।
তবে আর্থিক লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে মোট দুই হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম।
আজ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৭টির, কমেছে ১৪১টির এবং অপরিবর্তিত আছে পাঁচটির।
লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সর্ভিসেস, বিএসআরএম স্টিল, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এক্সিম ব্যাংক ও দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক।
আজ সব চেয়ে বেশি বেড়েছে অগ্রণী ইনস্যুরেন্সের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া অ্যাপেক্স স্পিনিং, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও বিজিআইসি দাম বাড়ায় শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এ ছাড়া দাম কমে যাওয়া শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—ইমাম বাটন, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সাফকো স্পিনিং, দুলামিয়া কটন ও আম্বি ফার্মা।

গ্রাহকদের পাঁচটি তথ্য দিতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে এসইসির নির্দেশ



পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এক কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি লেনদেন করা গ্রাহকদের নিম্নোক্ত লেনদেনের তথ্য দিতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।
তথ্যগুলো হলো—শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয়ের নির্দেশ, বিও আইএসআইএন হোল্ডিং রিপোর্ট, বিগত এক সপ্তাহের লেনদেনের খতিয়ান, গ্রাহকদের শেষ মাসের ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী ও গ্রাহকপ্রতি সর্বশেষ সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্ত তথ্য।
আজ সোমবার থেকে এসইসির এ নির্দেশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবত থাকবে বলে এসইসি জানায়।

মিন্টু আবাহনীর না শেখ জামালের

দলবদলের প্রথম দিনেই নাম লিখিয়েছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। বিকেএসপিতে শেখ জামালের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনও করছেন মিন্টু শেখ। কিন্তু কাল দলবদলের তৃতীয় দিনে আবাহনীর ২৪ খেলোয়াড়ের তালিকায় দেখা গেল ফেনী সকারের সাবেক এই ডিফেন্ডারের নাম।
গতকাল বাংলাদেশ লিগের খেলোয়াড় নিবন্ধনের সময় আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস (রুপু) দাবি করলেন, মিন্টু শেখ তাঁদেরই খেলোয়াড়, ‘এখানে যে কজনের নাম রয়েছে ওরা সবাই আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে।’ মিন্টু এটা শুনে অবাক, ‘আমি শেখ জামালের খেলোয়াড়। শেখ জামালেই অনুশীলন করছি। আবাহনী কী করেছে না করেছে সে সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। আমি তো শুনে অবাকই হচ্ছি।’
কাল আবাহনীর নিবন্ধিত ২৪ জনের খেলোয়াড় তালিকায় দেখা গেল দুই পরীক্ষিত ঘানাইয়ান আউডু ইব্রাহিম ও সামাদ ইউসুফের নাম। আছেন আরামবাগ থেকে আসা স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ, ঘরের ছেলে মেহেদি হাসান (উজ্জ্বল), প্রাণতোষ কুমার, আবুল হোসেনরাও। গত মাসেই বরদুলই ট্রফি জিতে আসা কোচ অমলেশ সেন ‘ভালো’র সনদ দিলেন আবাহনীকে, ‘এই দলের সবাই ভালো খেলে। গত মাসে বরদুলইতেও ছেলেরা ভালো করেছে। ওদের ওপর আমার আস্থা আছে। আশা করি, ফেডারেশন কাপ ও বাংলাদেশ লিগে ভালো করবে আবাহনী।’

মাঠের বিতর্কে শুরু হচ্ছে জাতীয় লিগ

নিউজিল্যান্ড সিরিজের উত্তাপের মধ্যেই আজ শুরু হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের আসর। তবে প্রতিবারের মতো এবারও বিতর্ক দিয়েই শুরু হচ্ছে লিগ। গতবার বিতর্ক উসকে দিয়েছিল টাকা-পয়সা নিয়ে খেলোয়াড়দের আন্দোলন। এবার লিগটাকে বিতর্কিত করে দিল খেলার অনুপযোগী মাঠ।
প্রথম পর্বে জাতীয় লিগের খেলা হবে রাজশাহী, বগুড়া, যশোর, সিলেট ও বিকেএসপিতে। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে খেলবে ঢাকা-খুলনা। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম-বরিশাল। রাজশাহী-সিলেট ম্যাচটি হওয়ার কথা যশোরের শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে। কিন্তু শুরুর আগেই সমস্যা দেখা দিয়েছে যশোরের মাঠ নিয়ে।
সূত্র জানিয়েছে, যশোরে আজ কোনোভাবেই ম্যাচ শুরুর সম্ভাবনা নেই। গত তিন-চার দিন প্রখর রোদ থাকার পরও তার আগের বৃষ্টির ধকল সামলে উঠতে পারেনি এই মাঠ। আউটফিল্ডের অবস্থা শোচনীয়, কিছু জায়গায় নাকি পা দিলেই দেবে যাচ্ছে! মাটি নরম বলে কাল ঘাসও কাটা যায়নি ভালোভাবে। উইকেটও নাকি পুরোপুরি খেলার উপযোগী নয়।
মাঠের দুরবস্থার কথা জানিয়েছেন রাজশাহী বিভাগীয় দলের অধিনায়ক খালেদ মাসুদও, ‘মাঠ খেলার একদমই অনুপযোগী। এ মাঠের অবস্থা আগে থেকেই খারাপ। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে আমরা তা জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। আমরা চাই খেলার জন্যই খেলা হোক, আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার জন্য না।’ সিলেট অধিনায়ক অলক কাপালি বলেছেন, ‘বুঝতে পারছি না খেলা সময়মতো শুরু হবে কি না। আউটফিল্ড নরম।’
মাঠ যে খেলার অনুপযোগী, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তা স্বীকার করেছেন এ মাঠের কিউরেটর জাহিদ রেজাও, ‘খেলা হয়তো সময়মতো শুরু হবে না। তবে আমি নিশ্চিত কাল (আজ) লাঞ্চের পর থেকে খেলা শুরু করতে পারব। সেটা না হলে পরশু (কাল) থেকে অবশ্যই শুরু হবে।’ উইকেট পুরোপুরি প্রস্তুত বললেও আউটফিল্ড সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘মাঠের একটা দিক একটু নরম। আসলে পানি জমে থাকায় গত ২৭ তারিখ পর্যন্ত আমরা মাঠের কোনো কাজই শুরু করতে পারিনি।’
অভিযোগ উঠেছে, টুর্নামেন্ট কমিটি জেনেশুনেই যশোরের অপ্রস্তুত মাঠে ম্যাচ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও অভিযোগটা মানলেন না টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য আমাদের মাঠসংকট আছে। হাতে যে অপশন ছিল আমরা সে অনুযায়ীই এগিয়েছি।’

হেরেও সিদ্দিকুরের ৪২ লাখ

গত আগস্টে এমনই একটা প্লে-অফ স্মরণীয় এক জয় এনে দিয়েছিল তাঁকে ব্রুনাই ওপেনে। সেই প্লে-অফেই কাল একটুর জন্য গলফার সিদ্দিকুর রহমানের মুঠো ফসকে বেরিয়ে গেল ৫ লাখ ডলার প্রাইজমানির শিরোপা। তৃতীয় রাউন্ড শেষে শীর্ষে থাকা সিদ্দিকুরকে কাল শেষ রাউন্ডে ছুঁয়ে ফেলেন থাইল্যান্ডের পারিয়া জুনহাসাভাসদিকুল। দুজনেরই স্কোর হয়ে যায় সমান (২৮৬)। প্লে-অফে সিদ্দিকুরকে হারিয়ে দিয়ে তাইওয়ান মাস্টার্সের শিরোপার পাশাপাশি ১ লাখ ডলার জেতেন পারিয়া। দ্বিতীয় হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্দিকুর জিতেছেন ৬০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা!
প্রথম দুই রাউন্ডে এগিয়ে ছিলেন পারিয়াই। তৃতীয় রাউন্ডে তাঁকে টপকে যান সিদ্দিকুর। শেষ পর্যন্ত হলো না। এত কাছাকাছি এসেও ব্রুনাই ওপেনের চেয়েও বড় শিরোপাটি হাতে তুলতে পারলেন না। স্বভাবতই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়ান ট্যুর জেতা এই গলফার হতাশ, ‘এখানে জিততে না পারাটা অবশ্যই হতাশার। যদিও দ্বিতীয় হওয়াটাও আমার জন্য একটা বড় অর্জন। আসলে সেরা খেলোয়াড়টিই সব সময় জেতে। এ সপ্তাহটা হয়তো আমার ছিল না।’

‘ভালো’ সময়ই কাটাচ্ছে বাংলাদেশ দল

যার সঙ্গেই কথা হয়, সবার মুখে একই কথা—‘এখানে ভালোই আছি আমরা। কোনো সমস্যা নেই।’
বাংলাদেশ আর্চারি দলের কর্মকর্তা রাজীব উদ্দিন আহমেদ তো গেমসের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত, ‘গেমস ভিলেজ নিয়ে কত কথাই না শুনেছি। কিন্তু এসে দেখলাম সব ঠিক। আমাদের আর্চারি দলের ১০ জনের জন্য ৫টি রুম। সবগুলোই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাথটাব, শাওয়ারের জন্য আলাদা জায়গা, কনফারেন্স রুম আছে...খাওয়াও মানসম্মত।’
আয়োজন-আতিথেয়তা নিয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশের সব প্রতিযোগী ও কর্মকর্তাই। পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টিটা যোগ হলেও সোনায় সোহাগা হয়। আজ প্রতিযোগিতার প্রথম দিনই সেই পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। আর্চারির বাছাইপর্ব আর ভারোত্তোলনে মোল্লা সাবিরা সুলতানার খেলা আছে প্রথম দিনে। পরশু থেকে শুরু হবে আসল পরীক্ষা। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে পদকের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন শ্যুটার আসিফ হোসেন এবং তাঁর সতীর্থরা। ওদিকেই থাকবে সবার চোখ।
শ্যুটিং দলের ম্যানেজার ইমরান চৌধুরী জানান, ‘দিল্লি এসে দুই দিন অনুশীলন করার সুযোগ পেয়ে ভালোভাবেই তা কাজে লাগানো হয়েছে। ‘সবকিছু ঠিকঠাক। এখানে এখন পর্যন্ত আমরা ভালো সময়ই কাটাচ্ছি। প্রতিযোগিতার দিন কার কেমন স্কোর হয়, সেটার ওপরই আসলে সবকিছু নির্ভর করছে।’
বাংলাদেশ দল এখানে এসে এতটাই ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে যে, গেমসে কঠোর নিরাপত্তার কারণে কখনো কখনো বিড়ম্বনায় পড়লেও সেটি নিয়ে কারও বিরক্তি নেই। গেমসের নিরাপত্তাব্যবস্থা রীতিমতো বজ্র আঁটুনি। গেমস ভিলেজ থেকে সামান্য সময়ের জন্য এক পা বাইরে দিতে হলেও ৩-৪ জনের অনুমতি লাগে। তার পরও এটাকে হাসিমুখেই মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশ দল।
রাজীব উদ্দিন যেমন বলছিলেন, ‘নিরাপত্তা এত কঠোর ভাবাই যায় না। তার পরও আমরা ভিলেজে কাটানো সময়টা উপভোগই করছি।’ আর্চারি দলের প্রস্তুতি নিয়েও বলছিলেন এই ফাঁকে, ‘ভালো কিছু করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছি না।’
শ্যুটিং দলের পাশাপাশি আর্চারি দলও পদকের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ভালো থাকাটা তাই ভালো খবরই।

আলো ছড়ানো অনুষ্ঠানে প্রাণ পেল কমনওয়েলথ গেমস

‘জয় হিন্দ’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন সুরেশ কালমাডি। করতালিতে ফেটে পড়ল ৬০ হাজার দর্শকে ভরা গ্যালারি। ১৯তম কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যানের মুখে আপাতত তৃপ্তির ছাপ, ‘নিরাপত্তা এবং আয়োজনের নানা ত্রুটির কথা বলে আমাদের সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম, এমন একটা বৃহৎ আয়োজন ভারতবর্ষ করতে পারে। আজ সত্যিই আমরা আনন্দিত।’
ভারতের আনন্দিত হওয়ারই কথা। ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমসের পর এত বড় আয়োজন যে এটিই প্রথম। তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বলতে শোনা যায়, ‘এটি আমাদের জন্য গর্বের এক মুহূর্ত। গোটা ভারতবাসীই এই গর্বের অংশীদার।’
গর্ব তো গোটা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্যই। এই প্রথম কমনওয়েলথভুক্ত ৭১টি দেশই খেলছে ১২ দিনের আসরে। অংশ নেওয়া অ্যাথলেটের সংখ্যার বিচারেও এটি এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় কমনওয়েলথ গেমস। আজ থেকে ১৭টি খেলায় শুরু হয়ে যাচ্ছে মাঠের লড়াই।
কমনওয়েলথ গেমস শুধুই একটা গেমস নয়, এটি কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে চার বছর পর এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার উপলক্ষও, কুইন্স ব্যাটন রিলে দিয়ে যার শুরু হয়। এবার এক লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার পরিভ্রমণ করে কুইন্স ব্যাটন এসেছে দিল্লি। কাল সন্ধ্যায় ওই কুইন্স ব্যাটনের পাশে দাঁড়িয়ে মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পক্ষে শুভেচ্ছাবাণী পড়লেন যুবরাজ চার্লস। রানি শুভকামনা জানিয়েছেন সব অ্যাথলেটের জন্য। সবশেষে যুবরাজ বললেন, ‘গেমসের উদ্বোধন করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল বক্তব্য শেষ করলেন গেমসের শুরু ঘোষণা করে।
বক্তব্যপর্ব শেষে ওড়ানো হয়েছে কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। পরপরই ফেয়ার প্লের আহ্বান জানিয়ে সংক্ষিপ্ত শপথবাক্য পাঠ করালেন ভারতের ইতিহাসে একক অলিম্পিক সোনাজয়ী একমাত্র ক্রীড়াবিদ, শ্যুটার অভিনব বিন্দ্রা।
জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের দর্শক এরপর দেখল বিখ্যাত সুরকার এ আর রহমানের থিম সং। সাড়ে পাঁচ কোটি রুপি খরচ করে তৈরি এই থিম সং আর তাঁর পরিবেশনায় ছড়িয়ে দেওয়া হলো বন্ধুত্বের আহ্বান। ছিল আতশবাজির খেলাও। তবে সেটা খুব বেশি ছিল না।
এর আগে যতটুকু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে, সবই ছিল ভারতের নানা বর্ণ, ভাষা আর সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। দৃষ্টি কেড়েছে ‘রিদম অব ইন্ডিয়া’ নৃত্যগীত পরিবেশনায় ১০ বছরের শিশু কেশবের তবলা বাজানো। যতটা ছন্দের তালে তবলা বাজিয়ে গেল শিশুটি, ততটাই ছন্দ নিয়ে গেমসটা আয়োজনে মরিয়া ভারত।
আর এই গেমসে ভালো করার স্বপ্ন নিয়ে আসা আর সব দলের সঙ্গে মার্চপাস্টে ছিল বাংলাদেশও। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাটা ছিল শ্যুটার আসিফ হোসেন খানের হাতে। পতাকাটা হাওয়ায় উড়ছিল, গেমসেও কি এভাবেই উড়বে লাল-সবুজ?

ইতালিতে মিলান স্পেনে ভ্যালেন্সিয়া

এসি মিলান শুধু ইতালিরই নয়, ইউরোপেরই পরাশক্তি। স্প্যানিশ লিগের ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে তাদের তুলনা হতে পারে না। তবে পরশু দুই দলের ভাগ্য মিলে গেছে এক বিন্দুতে। যার যার ঘরোয়া লিগে জয় পেয়েছে দুই দলই।
আন্দ্রে পিরলোর একমাত্র গোলে পার্মার মাঠ থেকে জিতে এসেছে মিলান, আর নিজেদের মাঠে আদুরিজ ও ভিসেন্তের গোলে অ্যাথলেটিকো বিলবাওকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া। এই জয়ে ভ্যালেন্সিয়া স্প্যানিশ লিগের শীর্ষস্থানটা ধরে রেখেছে। আর ইন্টার মিলান, শিয়েভো ও লাৎসিওকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে গেছে এসি মিলান।
কাল ইন্টার মিলান, লাৎসিও আর শিয়েভো জয় পেয়ে থাকলে অবশ্য এসি মিলানের শীর্ষস্থানটা আর থাকবে না। কাল এই তিন দলের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল এসি মিলান। ইন্টার ও লাৎসিওর ৫ ম্যাচে ছিল ১০ পয়েন্ট করে, শিয়েভোর পয়েন্ট ছিল ৯।
কিন্তু স্প্যানিশ লিগে কাল রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা বা ভিয়ারিয়াল জিতে থাকলেও ভ্যালেন্সিয়ার শীর্ষস্থানের নড়চড় হবে না। ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট ভ্যালেন্সিয়ার। কালকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের পয়েন্ট ১২। বার্সেলোনারও তাই। সমান ম্যাচ খেলে ১১ পয়েন্ট রিয়াল মাদ্রিদের।
২০০৮-০৯ মৌসুমেও দ্বিতীয় ম্যাচেই পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছিল ভ্যালেন্সিয়া। অষ্টম রাউন্ড পর্যন্ত তা ধরেও রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত লিগ শেষ করে ষষ্ঠ স্থানে থেকে। গত মৌসুমে বেশ খানিকটা পথ বার্সা-রিয়ালের গা ঘেঁষে চলেও চ্যাম্পিয়ন বার্সার সঙ্গে ২৮ পয়েন্ট পিছিয়ে লিগ শেষ করে।
তবে এবার দলের দুই প্রধান ভরসা ডেভিড ভিয়া ও ডেভিড সিলভাকে হারিয়েও যে তারা ভেঙে পড়েনি! ভিয়া-সিলভার অভাব ভ্যালেন্সিয়া ঢেকে ফেলেছে মূলত আরেক স্প্যানিশ জুটি স্ট্রাইকার অরিজ আদুরিজ ও উইঙ্গার জোয়াকুইন সানচেজ রদ্রিগেজের কল্যাণে। ৬ ম্যাচে দলের ১১ গোলের ৫টিই করেছেন এ দুজন।
এসি মিলানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার খেলোয়াড়ের অভাব নেই। রোনালদিনহো-পাতো-রবিনহোর ব্রাজিলিয়ান ত্রয়ীর সঙ্গে আছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও। দুর্দান্ত এক আক্রমণভাগ। কিন্তু পরশু মিলানকে বাঁচালেন মিলানের পুরোনো সৈনিক পিরলো। মিলানকে লিগে ষষ্ঠ ম্যাচে তৃতীয় জয় এনে দিয়েছেন তিনি।
জয়টি ন্যূনতম ব্যবধানের। তবে এ মৌসুমে এই প্রথম দলের খেলায় সন্তুষ্ট হলেন কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি, ‘দল ভালো খেলেছে। আমি খুব খুশি।’

ফেডারেশন কাপে রুবচিচের চাওয়া

টেবিলের ওপরে রাখা কাচের জার থেকে ছোট্ট একটা বল তুললেন ফুটবলের নতুন কোচ রবার্ট রুবচিচ। প্লাস্টিকের বলের খোলস খুলে টুকরো কাগজ থেকে পড়ে শোনালেন—রহমতগঞ্জ। পরে একইভাবে বলের ভেতর থেকে নাম তুললেন কায়সার হামিদ, ছাইদ হাসান কানন, শফিকুল ইসলাম মানিকরা। কাল বাফুফে ভবনে হয়ে গেল মৌসুম সূচক টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের ড্র। ৮ অক্টোবর কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।
বাংলাদেশ লিগের ১২টি দলের সঙ্গে আরও ৬টি দলকে নিয়ে হচ্ছে এবারের ফেডারেশন কাপ। এগুলো হলো ইয়ংমেন্স ফকিরেরপুল, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ ও বিকেএসপি। ‘এ’ গ্রুপে খেলবে রহমতগঞ্জ, চট্টগ্রাম আবাহনী, পুলিশ। ‘বি’ গ্রুপে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া। ‘সি’ গ্রুপে মুক্তিযোদ্ধা, ফরাশগঞ্জ, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী। ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে আরামবাগ, শেখ জামাল ধানমন্ডি, ইয়ংমেন্স ও বিকেএসপি।
প্রথম পর্বের খেলা শেষ হবে ১৩ অক্টোবর। প্রথম পর্বের চার গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন চার দলের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বে সরাসরি খেলবে বাংলাদেশ লিগের শীর্ষ চার দল—হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী, ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান, শেখ রাসেল ও ফেনী সকার। দ্বিতীয় পর্ব শুরুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঠে দেখতে উন্মুখ কোচ রুবচিচ। এরই মধ্যে গত সপ্তাহে দেশের বড় দুটি ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানের অনুশীলন দেখে এসেছেন। বিকেএসপিতে দেখেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ও মুক্তিযোদ্ধার অনুশীলনও। জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কেই ফেডারেশন কাপে খেলতে দেখতে চান রুবচিচ, ‘আমি চাই বেশির ভাগ ফুটবলারই যেন এখানে খেলে।’ কিন্তু চাইলেই তো হবে না। এবার নবাগত দল শেখ জামালই নিয়েছে সর্বোচ্চ ১৪ জন খেলোয়াড়। সঙ্গে ৩ জন বিদেশিকেও নিবন্ধন করিয়েছে তারা। সুতরাং শেখ জামালে যাওয়া কয়েকজন জাতীয় খেলোয়াড়কে সাইডবেঞ্চেই বসে থাকতে হবে। রুবচিচ কীভাবে মূল্যায়ন করবেন তাঁদের? ‘এ ব্যাপারে আমি ক্লাবগুলোর সমর্থন চাই। এই টুর্নামেন্টে সবাই খেললে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলে সবাই চূড়ান্ত ফর্মে থাকবে’—বলেছেন জাতীয় দলের কোচ।

ফেডারেশন কাপে রুবচিচের চাওয়া

উইকেট নিয়ে গোপনীয়তা সব বোর্ডই রক্ষা করে। সিরিজ-টিরিজের আগে মিডিয়ায় এ নিয়ে কথা বলে বিসিবির কিউরেটররা বোর্ড কর্মকর্তাদের ধমক খেয়েছেন, এমন নজিরও আছে। কিন্তু এবার খোদ বিসিবিই সিরিজের আগে প্রতিপক্ষ দলের কাছে উইকেটের অবগুণ্ঠন খুলে দিল! বিসিবির সৌজন্যে পরশু নিউজিল্যান্ড দল প্রায় ৭০ ওভারের মতো অনুশীলন করেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঝ উইকেটগুলোর একটিতে। নিউজিল্যান্ড হয়তো এই সুযোগ পেয়ে বিসিবির ওপর খুশি, কিন্তু ক্ষোভের আগুন যে জ্বলে উঠেছে ঘরেই!
সফরসূচি অনুযায়ী আগামীকাল থেকে শুরু পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে বিকেএসপিতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড দলের। কিন্তু বৃষ্টিতে মাঠ খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় ম্যাচ হয়নি একটিও। নিউজিল্যান্ড এই সুযোগটাই নিয়েছে। দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচের বিনিময়ে সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিসের অনুমতি চায় তারা। পাছে নিউজিল্যান্ড আবার বাংলাদেশের অনুশীলন সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সে আশঙ্কায় বিসিবিও আপত্তি করেনি তাতে। বোর্ডের এই ‘উদারতা’কে ‘বোকামি’ মনে করছে বাংলাদেশ শিবির। সরাসরি কেউ কিছু না বললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভের কথা জানালেন দল-সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘কারও বাবা এসে বললেও সিরিজের আগে সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করতে দেওয়া উচিত না। আমরা কোনো দেশে গিয়ে এই সুবিধা পাই না। নিউজিল্যান্ড দলকে সুবিধাটা দিয়ে বোর্ড বোকার মতো কাজ করেছে।’ আরেক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘এটা নজিরবিহীন। এত দেশে খেলতে গেছি কখনো ম্যাচের আগে মাঠের মাঝখানে গিয়ে প্র্যাকটিস করতে পারিনি। আমাদের দেশে সবই হয়।’
অন্যরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেও প্র্যাকটিস শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসে আবদুর রাজ্জাক বলেই ফেললেন, ‘ওরা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলতে পারেনি, এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। তবে ওরা এক দিন সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করেছে। এতে আমাদের জন্য একটু খারাপ হলো। আমরা আসলে কোনো দিন কোথাও গিয়ে সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করতে পারিনি।’ পরে অবশ্য রাজ্জাক এও বলেছেন, ‘ঠিকই আছে এক দিক দিয়ে। ওরা এখানে কোনো ম্যাচ খেলেনি। বোর্ডেরও মনে হয় কোনো উপায় ছিল না।’ তবে এ ব্যাপারে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অবশ্য কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
দল সূত্রে জানা গেছে, কোচ জেমি সিডন্স গত পরশুর আগের দিনই বোর্ডকে অনুরোধ করেছিলেন নিউজিল্যান্ডকে যেন সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিসের সুবিধা না দেওয়া হয়। বোর্ড তাঁর অনুরোধে সাড়া না দিয়ে নিউজিল্যান্ডকে সুবিধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সিডন্সও। কাল নাকি এ নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা বলেছেন কোচ। তবে সিডন্স খেলোয়াড়দের এটা নিয়ে না ভেবে বিষয়টা তাঁর ওপর ছেড়ে দিতে বলেছেন। যদিও কাল সিডন্সের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। শুধু বলেছেন, ‘বিষয়টা খুবই অস্বাভাবিক।’
সৌজন্য দেখাতে গিয়ে সফরকারী দলকে ম্যাচ ভেন্যুর কন্ডিশন বুঝে নেওয়ার সুযোগ আগেও দিয়েছে বিসিবি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে টেস্টের ভেন্যু বিভাগীয় স্টেডিয়ামে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে দেওয়া হয়েছিল অ্যালিস্টার কুকের দলকে। অথচ বিদেশ সফরে উল্টো অভিজ্ঞতাই হয় বাংলাদেশ দলের। যে নিউজিল্যান্ড দলকে এবার সেন্টার উইকেট উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো, গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের দেশে গিয়েই সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করতে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। সেবার বাংলাদেশের অনুশীলনও ছিল বৃষ্টিবিঘ্নিত। নিউজিল্যান্ড সেন্টার উইকেটে প্র্যাকটিস করতে দেবে বললে শেষ পর্যন্ত তো সেটা দেয়ইনি, উল্টো দুর্ব্যবহার করেছে বলেই অভিযোগ।

বহু বর্ণের ভিড়ে..

‘আমরা গেমসের শুরু ঘোষণা করছি’—রোববারের টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রধান শিরোনাম।
ভেতরের পাতায় বেশ কয়েকটি ছবির একটি আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ল—দুই অস্ট্রেলিয়ান অ্যাথলেট ভারতীয় রীতির অনুকরণে হাত জোর করে নমস্কার করছেন। এরই পাশে বিশাল এক বিজ্ঞাপন। ভারতের বিভিন্ন খেলার তারকাদের ছবির নিচে লেখা: ‘উই দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া’।
এগুলো খণ্ডছবি। ১৯তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী দিনে স্থানীয় পত্রিকাগুলো তাদের দলকে উজ্জীবিত করতে আরও অনেক বিজ্ঞাপনই ছেপেছে। আছে নানা প্রতিবেদন। একটিতে সানডে টাইমস-এর আশাবাদ, ‘গেমসে ভারত ১০০টি পদক জিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করুক।’
সানডে পাইওনিয়ার ভারতের সম্ভাব্য সোনাজয়ী ৩২ খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ছাপিয়ে লিখেছে, ‘এবার রেকর্ডসংখ্যক ৬১৯ ভারতীয় অ্যাথলেটের এই গেমস ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে আসবে।’
‘এটা আমাদের ক্রীড়ার অহংকার’—সানডেরই আরেক প্রতিবেদনে গর্ব করা হলো এই আয়োজন নিয়ে। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রধান শিরোনাম, ‘দিল্লি কাম আউট অ্যান্ড প্লে’। পাশে জহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে কর্মরত কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের উচ্ছ্বাসমাখা ছবি। শেষ মুহূর্তে ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে যাওয়া গেমস-পল্লির যেসব ছবি ছাপা হচ্ছে, তার একটি এমন, ভারতীয় দলের কুস্তিগীর নির্মলা দেবীকে শাড়ি পরতে সাহায্য করছেন ওই দলেরই এক সদস্য। কুস্তিগীর সুশীল কুমারকে নিয়ে সতীর্থদের ভি-চিহ্ন দেখিয়ে ছবির জন্য পোজ দেওয়া... স্ত্রী-ছেলের সঙ্গে গেমস ভিলেজে শ্যুটার মনশের সিংয়ের ছবি...আরও কত কী।
দক্ষিণ আফ্রিকার চার মহিলা অ্যাথলেট পানির পাইপ নিয়ে জলকেলিতে ব্যস্ত। কেনিয়ার অ্যাথলেটদের আড্ডার ছবির ক্যাপশন, ‘প্রতিযোগিতার মঞ্চে এরা আর এমন খোশমেজাজে থাকবে না।’ হাসিমাখা ছবি নিয়ে পত্রিকায় হাজির ভারতীয় মহিলা হকি দল, কোচ-বিতর্ক (সাবেক কোচের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ) পেছনে ফেলে এসেছে বলেই মনে হলো ছবিটা দেখে। ভি-চিহ্ন দেখিয়ে তোলা ছবিটা নজর কাড়ে আলাদাভাবে।
অ্যাথলেটদের কারও হাতে মিকি মাউস, কেউ ভুভুজেলা বাজানোয় মগ্ন। কাল দুপুরে প্রধান মিডিয়া সেন্টারের বাইরে স্থানীয় এক টিভি সাংবাদিক ভুভুজেলা হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘ভুভুজেলা বাজান, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিন। ভারতীয়দের ভালো ফল করার জন্য এটা একটা মহৌষধ হতে পারে!’
গেমস নিয়ে আগে নাক সিঁটকালেও এখন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডও প্রশংসায় ‘পঞ্চ’ না হোক ‘চতুর্থমুখ’ তো বলাই যায়। অস্ট্রেলিয়ায় ছয়টি চ্যানেলে দেখানো হবে এই গেমসের খেলাগুলো। সেটির আয়োজন নিয়ে মহাব্যস্ত একজন অস্ট্রেলীয় টিভি কর্মীর বলা কথাটা বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘আর বলিস না-রে ভাই। ঝামেলায় আছি। এতগুলো খেলা সরাসরি দেখানো তো আর চাট্টিখানি কথা নয়!’
জুডি ইওয়ারিরও হিসাবটা অবশ্য অন্য। তাঁর অ্যাথলেটরা ট্র্যাকে নামবেন আর টপাটপ সোনা কুড়োবেন। নেহেরু স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেই জ্যামাইকার অ্যাথলেটিকস দলের ম্যানেজারের ভোঁ দৌড়, গেমস-পল্লিগামী বাস যে ছেড়ে দিচ্ছে। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘বোল্টের (উসাইন বোল্ট) আগামী বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আছে তো, তাই সে আসেনি। তা ছাড়া হালকা একটু ইনজুরিও আছে। পাওয়েলও (আসাফা পাওয়েল) ফিট নয়। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলেই তারা দিল্লি গেমসে আসেনি।’
যত কাজই থাকুক দিল্লি আসতেই হলো প্রিন্স চার্লসকে। পরশু ভারতীয় রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের সঙ্গে দেখা করেছেন ব্রিটিশ রাজপুত্র। সেই ছবি জাগরণসহ কয়েকটি পত্রিকার প্রথম পাতায় শোভা পাচ্ছে। রানি এলিজাবেথের প্রতিনিধি হিসেবে প্রিন্স চার্লসেরই দিল্লি গেমস এককভাবে উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু ভারতীয় কূটনীতি তা হতে দেয়নি। প্রিন্স চার্লস এবং প্রতিভা পাতিল দুজনই গেমসের যৌথ উদ্বোধক! যা গেমসের ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি।
বহু বর্ণের ভিড়ে কেনিয়ার তরুণ বার্নার্ডের গায়ের টি-শার্টে লেখা, ‘অ্যান অলিম্পিয়ান ইজ অ্যান অলিম্পিয়ান ফর এভার।’ কেনিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিলের হয়ে গেমস কাভার করতে এসেছেন। জানালেন এই টি-শার্ট পরার কারণটা, ‘এটা কমনওয়েলথ গেমস। কিন্তু আমি অলিম্পিকের বাণীটিই এই গেমসে সুউচ্চে তুলে রাখতে চাই। গেমস তো গেমসই, সব গেমসেরই মর্মবাণী এক। সৌভ্রাতৃত্ব আর সহযোগিতা।’

গোলখরা কাটালো রিয়াল মাদ্রিদ

ইউরোপিয়ান ফুটবলের এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের পরিসংখ্যান খুব একটা খারাপ বলা যাবে না। স্প্যানিশ লিগ আর চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলে মোট আটটি খেলার ছয়টিতেই জিতেছে গতবারের লা লিগার রানার্সআপরা। ড্র করেছে দুটিতে। কিন্তু তার পরও রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে উদ্বেগ কাটছিল না সমর্থকদের। কারণ, গোলের অনেক সুযোগ সৃষ্টি করলেও শেষপর্যন্ত প্রতিপক্ষের জালে বলটা জড়াতে পারছিলেন না রোনালদো-হিগুয়েইনেরা। এ নিয়ে অনেক সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। অবশেষে স্প্যানিশ লিগে নিজেদের মাঠে ডেপোর্টিভো কোরুনাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়ালো হোসে মরিনহোর শিষ্যরা।
তবে এ বিশাল ব্যবধানে জয়ের পরও খুব বেশি উচ্ছ্বসিত না হয়ে বরং সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মরিনহো। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ডেপোর্টিভোকে ৬-১ গোলে হারিয়েই আমরা দুনিয়ার সেরা দল হয়ে যাইনি। রিয়াল মাদ্রিদে এখনো পুনর্গঠন কাজ চলছে। এ বিশাল জয় বা সমর্থকদের হাততালি কোনো কিছুতেই এটা মনে করা যাবে না যে আমাদের কাজ শেষ। আমি খুবই শান্ত আছি। আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে’।
হ্যাঁ, একটা ম্যাচে এ রকম বড় জয় পেয়ে উচ্ছ্বসিত না-ই হতে পারেন মরিনহো। কারণ, তিনি শুধু দু-একটা ম্যাচ জেতার জন্য তো স্পেনে আসেননি। এসেছেন শিরোপা জিততে। কাজেই তিনি শান্ত থাকবেন—এটাই স্বাভাবিক। তবে একটা ব্যাপার নিশ্চয়ই খুব স্বস্তি দিয়েছে মরিনহোকে। গোল পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর অন্যতম প্রধান ভরসা রোনালদো। রিয়ালের গোল উৎসবের শুরু-শেষ দুটাই করেছেন এই পর্তুগিজ স্ট্রাইকার।