Friday, September 6, 2024
‘নাটক কম করো পিও!’—এমন সাড়া ফেলেছিল আরও যত কার্টুন by সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
রাজনৈতিক কার্টুন
বাংলাদেশের প্রথিতযশা কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব গত ৩ আগস্ট একটি কার্টুন প্রকাশ করেন। তাতে দেখা যায়, লালের ওপর (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনের রং) আঁকা হয়েছে একটি বালুঘড়ি। ঘড়ির ওপরে আর তখন নামমাত্র বালু আছে নিচে নামতে। লেখা আছে ‘কাউন্ট ডাউন’। ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলন সফল হওয়ার মাত্র এক দিন আগে এ কার্টুনটি ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিছু একটা ঘটতে চলেছে। পাঁচ দিন পর ৮ আগস্ট তিনি আবার আঁকলেন একই রকম আরেকটি ছবি। পার্থক্য হচ্ছে বালুর অবস্থান। এবার সবটুকু একপাশে। আহসান হাবীব ক্যাপশন দেন, ‘ডান---নিউ স্টার্ট’। তাঁর সম্পাদিত রম্য সাময়িকী উন্মাদ–এর আগস্ট সংখ্যার নাম দেওয়া হয় ‘নতুন সরকার নতুন উন্মাদ’।
মেহেদী হক কার্টুন এঁকেছেন ধারাবাহিকভাবে। শেখ হাসিনা, সালমান এফ রহমান, সাকিব আল হাসান—কেউই বাদ যাননি তাঁর হাত থেকে। এর মধ্যে গত ৩০ জুলাই নিউ এজ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর একটি কার্টুন খুব জনপ্রিয় হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিকে ছয় সমন্বয়ককে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে আটকে রাখা ও খাওয়ার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও করার দৃশ্য ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আঁকেন এ কার্টুন। কার্টুনটি সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের নুডলসের বাটি হাতে নিয়ে বসে থাকার দৃশ্য। টেলিভিশনের ভেতর থেকে তারেক রহমানের আধাআধি বের হয়ে আসা কার্টুনটিও সাড়া ফেলে। একই রকম জনপ্রিয় হয় ছাত্রদের সঙ্গে শেখ হাসিনার আলোচনার প্রস্তাবের নামে উপহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া কার্টুনটি।
পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে রাজনৈতিক কার্টুন আঁকা ও প্রকাশের ধরন। যেমন তরুণ কার্টুনশিল্পী মাহাতাব রশিদ ১৫ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার কার্টুন এঁকেছেন। যেখানে বানরের মতো মানুষ বসে আছে হেলমেট, রামদা, লাঠি নিয়ে। চারপাশে রক্তের দাগ। মাথার ওপর আছে শাড়ি পরা এক নারীর আশীবার্দের হাত। এই তরুণ আর্টিস্টই ৫ আগস্ট আঁকলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ অবয়ব। যেখানে লেখা আছে—এক দফা এক দাবির কথা। এ কার্টুনে দেখা যাচ্ছে, তাঁকে দড়ি বেঁধে টেনে নামাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও জনগণ। এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেবে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা ‘হীরক রাজার দেশ’–এর কথা। মাহাতাব রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এবারের আন্দোলনে আমার আঁকা শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ অবয়বের প্রথম কোনো কার্টুন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁর পদত্যাগের পর। এর আগে আমার আঁকা তাঁর কোনো পরিপূর্ণ আদলের কার্টুন পত্রিকায় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।’
এবারের আন্দালেন নাজমুস সাদাতের কার্টুনে নিজের দিকে বন্দুকের নল টেনে নেওয়া হাত, আসিফ মাহবুবের আঁকা রক্তাক্ত মুঠোফোন, রিশাম শাহাব তীর্থর আঁকা গণতন্ত্রকে নিরাপত্তা বাহিনী আর ছাত্রলীগের পেটোয়া বাহিনীর নির্যাতন অথবা পুলিশের বুটের তলা আটকে রাখা শিক্ষার্থীর দলের কার্টুনগুলো আন্দোলনের সময় ঘটনার বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে। মানিক রতনের আঁকা এক কার্টুনে পাওয়া গেল নারীর শক্তিশালী এক হাতের ভেতর পিষ্ট হচ্ছে ছাত্র। যেখানে লেখা আছে—এই কোমলমতি...।
আরাফাত করিমের আঁকা কার্টুনটি গভীর এক অর্থ বহন করেছে। এই কার্টুন আন্দোলন–পরবর্তী সময়ের, যেখানে দেখা যাচ্ছে উদোম শরীরের একজনের হাতে ভাঁজ করা টি–শার্টে লেখা ছাত্রলীগ। এবার সে টি–শার্টটি বদলে এগিয়ে যাচ্ছে আলনার দিকে, যেখানে আছে জামায়াত, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন দলের নাম লেখা পোশাক। গণ-অভ্যুত্থানের পরপর দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিতে চেষ্টা করেছেন তিনি। কার্টুনিস্ট রাকিব এঁকেছিলেন শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে কারও আর্তনাদ করে ‘আমারেও নিয়া যাও’ বলার দৃশ্যটি। এবারের আন্দালন ঘিরে রাজনৈতিক কার্টুন শুধু শেখ হাসিনা, ছাত্র-জনতা, পুলিশের গুলির মতো প্রসঙ্গেই থেমে থাকেনি; গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা থেকে আঁকা হয়েছে ‘ঐক্য অথবা মৃত্যু’র মতো কার্টুনও। রায়িদ হোসেনের আঁকা এই কার্টুনে দেখা যায়, একটি বাঘের শরীরের অবয়ব ঠিকই আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন। শিল্পী ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘বাঘের বিভিন্ন অংশ আমাদের লোকেদের (দেশের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষের) প্রতিনিধিত্ব করে। তিনটি জল লিলি মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতিকে প্রতিনিধিত্ব করে।’
ঐক্য অথবা মৃত্যু কার্টুনটি মনে করিয়ে দেয় প্রথম এডিটোরিয়াল কার্টুনটির কথা। ১৭৫৪ সালে প্রকাশিত সে কার্টুনে দেখা যায়, একটি সরীসৃপের শরীর কয়েক খণ্ড করে কাটা। একেকটি খণ্ডে বিভিন্ন রাজ্যের নাম উল্লেখ করা। এই কার্টুনের ক্যাপশন ছিল, জয়েন অর ডাই। এডিটোরিয়াল কার্টুনের ইতিহাস নিয়ে লেখা এক ইংরেজি প্রবন্ধে পাওয়া যাবে সেই কার্টুনের ইতিহাস। তবে এবারের আন্দোলনে উঠে আসা সব কার্টুনই যে খুব ভালো হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কিন্তু এই যে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ, সেটাই ছিল এক শক্তি।
‘সব কার্টুনই মানোত্তীর্ণ নয়’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকে শুরু করে পরে স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসনের সময়েও দেশের সংবাদপত্রে কার্টুন ছাপা হয়েছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে স্বৈরশাসক প্রয়াত জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার। এর পরের প্রায় দুই দশক আলোচিত নানা ইস্যু বা ব্যক্তিকে ঘিরে আঁকা কার্টুন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল সংবাদপত্রে। তখন প্রথম পাতায়ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে নিয়মিত কার্টুন প্রকাশ করেছে সংবাপত্রগুলো। জনপ্রিয় হয়েছেন অনেক শিল্পী।
কিন্তু গত এক দশক ধরে মূলধারার রাজনৈতিক কার্টুন প্রকাশের সুযোগ ছিল সংকীর্ণ। এবারের আন্দোলনে দেখা গেছে কার্টুনিস্ট, শিল্পী, শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমে প্রকাশের অপেক্ষায় না থেকে যাঁর যেভাবে সুযোগ ছিল সেভাবেই প্রকাশ করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে শহরের দেয়ালে দেয়ালে উঠে এসেছে কার্টুন। তবে সবই যে মানোত্তীর্ণ, তা নয়। কারো কারো হয়তো এটাই ছিল প্রথম প্রতিবাদের ভাষা। কার্টুনিস্ট মেহেদী হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব কার্টুন যে মানোত্তীর্ণ, তা বলা যাবে না। কিন্তু এবার অনেক নতুন শিল্পী চমৎকার কাজ করেছেন। যাঁদের পড়াশোনা চারুকলায় নয়, এমনকি কার্টুন আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও নেই, তাঁদের মধ্যে শাদাত মাহবুব, নাতাশা জাহান অনেক ভালো ভালো কাজ করেছেন।’
আমাদের কার্টুনের ইতিহাস
বিলেতের ‘পাঞ্চ পত্রিকা’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪১ সালে। সিপাহি বিদ্রোহের সময় এই পত্রিকা ভারতবাসীকে অপমান করে কয়েকটি ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করেছিল। এর মাত্র দুই দশকের মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছিল বাংলার প্রথম ব্যঙ্গচিত্রের বই। ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয় হরবোলা ভাঁড় এবং বসন্তক ব্যঙ্গ পত্রিকা। ব্যঙ্গের তীব্র কশাঘাতে ব্রিটিশ শাসপ্রণালিকে বিদ্ধ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে এ পত্রিকা। একে একে প্রকাশিত হয় হুতোম, বঙ্গীয় ভাঁড়, সচিত্র ব্যঙ্গ রহস্য ইত্যাদি। ফলে বাঙালি যে একেবারে বেরসিক অথবা ব্যঙ্গ বোঝে না, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। কার্টুনের এই ইতিহাস পাওয়া যাবে ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বাংলা পত্রিকার কার্টুন চর্চা (১৮৭২-১৯৪০)’ নামের বইয়ে।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে রম্যরচনা আর চিত্রকলার কার্টুন একই অর্থ বহন করে থাকে। বাঙালি রম্যরসপ্রিয় না হলে এত বিধিনিষেধের পরও আঁকিয়েদের প্রবল উৎসাহ থাকত না কার্টুন নিয়ে। এত দিন পরও মানুষ কার্টুনের প্রসঙ্গ এলেই বলত না শিশির ভট্টাচার্য্যের কথা। একসময় শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্যের আঁকা রাজনৈতিক কার্টুনগুলো গণমাধ্যমের প্রথম পৃষ্ঠায় উপস্থিত হয়ে তির্যক ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে বলে দিত অনেক কিছু। এই কার্টুনগুলো হচ্ছে এডিটোরিয়াল ব্যঙ্গচিত্র।
সম্প্রতি রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে হয়ে গেল ‘কার্টুনে বিদ্রোহ’ শিরোনামে এক প্রদর্শনী। সেখানে মেহেদী হকের আঁকা শেখ হাসিনার দৌড়ে পালানোর একটি দৃশ্য এঁকে ই-আরকি লিখেছে, ‘দৃকে স্বৈরাচার পতনের কার্টুন এক্সিবিশনে আসতে পারবেন স্বৈরাচাররাও।’ আর র্যাটস আসিফ নামের একজন শিল্পীর আঁকা ‘নাটক কম করো পিও!’ কার্টুনটি যে কতটা জনপ্রিয় হয়েছে, তা একবার অন্তর্জালে ঢুঁ দিয়ে খুঁজলেই বোঝা যাবে।







About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আত্মসমর্পণের পরেও ইউক্রেনীয় সেনাদের যেভাবে গুলি করে মারা হয়
ভিডিওটি সিএনএনের হাতে এসেছে। সেটি ধারণ করা হয়েছিল গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে—পূর্ব ইউক্রেনের পোকরোভস্ক শহরে। সেখানে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাদের লড়াই চলছে। ভিডিওতে যে তিন সেনাকে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা ইউক্রেনীয়। আশপাশে থাকা রুশ সেনারা তাঁদের হত্যা করেছেন বলেই ভিডিওটি দেখে মনে হচ্ছে।
গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সিএনএনকে এমন ১৫টি ঘটনার তালিকা দিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সূত্রগুলো। বেশির ভাগ ঘটনাই ড্রোন থেকে ধারণ করা বা অডিও ক্লিপ থেকে পাওয়া। সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধের সম্মুখসারিতে আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনাদের বন্দী না করে হত্যা করছেন রুশ সেনারা। চলতি বছর এমন হত্যাকাণ্ড বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল আন্দ্রি কস্তিন সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এমন ২৮টি ঘটনা তদন্ত করছে তাঁর কার্যালয়। এসব ঘটনায় মোট ৬২ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। এমনই একটি ঘটনা পোকরোভস্কে ওই তিন সেনাকে হত্যা।
ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বড় সাফল্য পেয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনারা। এতে একটা আশা দেখা দিয়েছিল যে ইউক্রেন থেকে রুশ সেনাদের সরিয়ে নিজেদের সীমান্ত রক্ষায় মোতায়েন করবে মস্কো। তবে তেমন কিছু হয়নি। পোকরোভস্কে ইউক্রেনের যে কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তা দখলে এগিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী।
আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনাদের হত্যার ঘটনাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন প্রসিকিউটর জেনারেল আন্দ্রি কস্তিন। সিএনএনকে তিনি বলেন, যুদ্ধে কোনো সেনা যদি আত্মসমর্পণ করেন; তখন তাঁদের হাতে কোনো অস্ত্র না থাকে। তারপরও তাঁদের হত্যা করাটা যুদ্ধাপরাধ।
‘হত্যার পর আমাকে জানাও’
আন্দ্রি কস্তিন বলেন, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন দল এর সঙ্গে জড়িত। এই কর্মকাণ্ডের পেছনে ক্রেমলিনের হাত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে দাবি করার সুযোগ রয়েছে কিয়েভের সামনে।
ইউক্রেনের যে কর্মকর্তা পোকরোভস্কে ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওটি সিএনএনকে দিয়েছেন, তিনি জানান, রুশ বাহিনীর এমন হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা আগে থেকেই জানতেন। তবে সেগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়নি বা তদন্ত করা হয়নি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সবাইকে জানানো হয়েছিল।
এমনই একটি ঘটনা ঘটে পূর্ব ইউক্রেনের তোরেৎস্ক শহরে। গত মঙ্গলবার ওই ঘটনার ড্রোন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, একটি ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে বের হয়ে আসছেন ইউক্রেনের তিন সেনা। আত্মসমর্পণের পর তাঁরা হাত উঁচিয়ে ছিলেন। ওই তিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করে রুশ বাহিনী। পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্কের অঞ্চলের কয়েকজন কৌঁসুলি জানিয়েছেন, যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তাঁরা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন।
ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের আরেকটি ড্রোন ভিডিও সিএনএনের হাতে এসেছে। গত মে মাসে ধারণ করা ওই ভিডিও রোবোতিন গ্রামের। তাতে দেখা যায়, আত্মসমর্পণের পর তিনজন ইউক্রেনীয় সেনাকে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে বলছেন রুশ সেনারা। এরপর তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনার একটি অডিও ক্লিপও সিএনএনকে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দারা। তাতে ‘টার্ক’ নামের এক সামরিক কর্মকর্তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ‘মেলয়’ নামের এক সেনাসদস্যের সঙ্গে বেতারে কথা বলতে শোনা যায়। টার্ক বলেন, ‘ওদের (ইউক্রেনের সেনা) হত্যা করো।’ জবাবে মেলয় বলেন, ‘বুঝতে পেরেছি।’ তখন টার্ক আবার আদেশ দেন, ‘হত্যা করার পর আমাকে জানাও।’
‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’
ইউক্রেনীয় শিশুদের জোর করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। মস্কোর বিরুদ্ধে এখন গণহত্যার অভিযোগ আনতে জোরেশোরে তৎপরতা শুরু করেছে কিয়েভ। এ ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনাদের হত্যাকাণ্ডকে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল আন্দ্রে কস্তিন।
এরই মধ্যে গত মে মাসে কিয়েভের আমন্ত্রণে ইউক্রেনে গিয়েছিলেন বিচারবহির্ভূত হত্যাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মরিস টিডবল-বিঞ্জ। দেশটিতে যুদ্ধক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যার যেসব খবর আসছে, সেগুলো নিরীক্ষা করতেই ছিল তাঁর ওই সফর। জাতিসংঘের তদন্ত দলের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনাদের হত্যার কয়েকটি ঘটনা তাঁরা নিরীক্ষা করে দেখেছেন। এই হত্যাকাণ্ডগুলো প্রতিটি যুদ্ধাপরাধ। আর একসঙ্গে সেগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলা চলে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান করতে হবে -পিটিআইকে প্রধান উপদেষ্টা
ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎকার দেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের সমস্যা অবশ্যই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশগুলোর এ ব্যাপারে অধিকার রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
পানিবণ্টন ইস্যুটি ঝুলিয়ে রেখে কোনো উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে না উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ভাটির দেশগুলোর কিছু অধিকার আছে এবং আমরা সেই অধিকার চাই। এই ইস্যুটি (পানিবণ্টন) ঝুলিয়ে রেখে কোনো উদ্দেশ্য সাধন হচ্ছে না। আমি যদি জানি, আমি কতটুকু পানি পাব, সেটা ভালো হতো। এমনকি পানির পরিমাণ নিয়ে যদি আমি খুশি নাও হই, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। এই বিষয়টি সমাধান হতেই হবে।'
দ্রুত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির জন্য ভারতকে অন্তর্বর্তী সরকার চাপ দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘চাপ একটি বড় শব্দ। আমি এটা বলছি না। তবে আমাদের একসঙ্গে বসে সমাধান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা নতুন কোনো সমস্যা নয়, অনেক পুরনো সমস্যা। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় পাকিস্তান আমলে। আমরা সবাই চেয়েছিলাম এই চুক্তি হোক, এমনকি ভারত সরকারও এর জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমাদের এটি সমাধান করতে হবে।’
সম্প্রতি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে ঢাকার গণমাধ্যমের খবরের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের সংকটে আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একসঙ্গে কাজ করে এর সমাধান করতে পারি।’
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বগ্রহণ করার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাক্ষাৎ করেন। বিষয়টি তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভারতের হাইকমিশনার যখন আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, আমি বলেছি যে কীভাবে বন্যা মোকাবিলা করা যায় সে ব্যাপারে আমরা আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারি। দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের সমন্বয়ের জন্য কোনো চুক্তিরও প্রয়োজন নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করেই এই সমস্যা সমাধানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। কেননা, এটি গণমানুষের দুর্দশা লাঘব করবে। এ ধরনের মানবিক পদক্ষেপ সত্যিকার অর্থেই সহায়তা করবে।’
সীমান্ত হত্যার নিন্দা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড কোনো সমাধান নয়। কাউকে হত্যা করা কোনো সমাধান নয় কারণ এটি মোকাবিলার আইনি উপায় রয়েছে।’
সীমান্ত হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা একতরফা ব্যাপার। আপনার দেশ দখলের জন্য কেউ সীমান্ত অতিক্রম করছে না। এই হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে বন্ধুর খোঁজে ভারত, বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব ইতিবাচক দেখছেন নীতিনির্ধারকরা -বিবিসির প্রতিবেদন
ওই সম্পাদকীয়তে আরও লেখা হয়েছিল, “কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী রাজনীতিরই উপসর্গ। ভারতের এখন সময় এসেছে হাসিনার পর কী, তা নিয়ে ভাবার!” ('ইন্ডিয়া মাস্ট থিংক বিয়ন্ড হাসিনা')।
বিগত দেড় দশক ধরে ভারতের বাংলাদেশ নীতি আর শেখ হাসিনা যেভাবে প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল, তাতে দিল্লির একটি মূল ধারার শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ভারতকে ‘বিয়ন্ড হাসিনা’ ভাববার পরামর্শ দিচ্ছে – সেটা তখনও কিন্তু প্রায় অকল্পনীয় ছিল।
ওই সম্পাদকীয় প্রকাশিত হওয়ার ঠিক দু’সপ্তাহের মাথায় ঢাকায় নাটকীয় পটপরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতকে কিন্তু এখন ঠিক সেটাই করতে হচ্ছে – বা বলা ভাল, হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারত কী কৌশল নিয়ে এগোবে - দিল্লি সেটা ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।
শেখ হাসিনা চিরকাল ঢাকার ক্ষমতায় থাকবেন না, এটা জানা থাকলেও সেই দিন যে এত তাড়াতাড়ি আসবে ভারত আসলে তা ভাবতেই পারেনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওই সম্পাদকীয় থেকে আরও কিছুটা অংশ উদ্ধৃত করা যাক : “আজকের বাংলাদেশ আসলে গণতন্ত্রের মৌলিক চেক-বক্সগুলোতে টিক দিতেই ব্যর্থ হয়েছে – যেগুলো হল একটি কার্যকরী বিরোধী পক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচারবিভাগ।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনরোষ ভারতের জন্যও একটি নিরাপত্তাগত দ্বিধা বা সংকট তৈরি করেছে।”
“আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে অপসারিত হলে তার জায়গায় একটি পাকিস্তান-সমর্থিত সরকার আসুক, ভারত আর যাই হোক এটা কোনও মতেই চাইবে না। ফলে তাদের এখনই দিশা পাল্টাতে হবে, নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ রক্ষা করতেই বাংলাদেশের সমাজের প্রতিটি শ্রেণির কাছেই তাদের রিচ আউট করতে হবে।”
ভারতে ক্ষমতার অলিন্দে শীর্ষ কর্মকর্তারা একান্ত আলোচনায় মেনে নিচ্ছেন, তখন এ সতর্কবার্তা অনেকটা ‘প্রোফেসি’ বা ভবিষ্যদ্বানীর মতো শোনালেও, ওই সম্পাদকীয়র প্রায় প্রতিটি কথা এখন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।
ফলে ভারতকে এখন তড়িঘড়ি সে দেশের নতুন অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুগুলো তৈরি করতে হচ্ছে। দিল্লি বোঝার চেষ্টা করছে, সেই সরকারে কাদের প্রভাব বেশি, এবং সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলোকে তারা আদৌ চেনেন কি না!
পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আপাতত অন্ধকার, এটাও বোঝা যাচ্ছে দিব্বি। সে বাস্তবতা থেকেই বিকল্প কোন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা যেতে পারে এবং সেটা কীভাবে – ভাবতে হচ্ছে তা নিয়েও।
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর সে দেশে জামায়াত বা হেফাজতে ইসলামের মতো ইসলামী শক্তিগুলোর দাপট ও রমরমাও ভারতের জন্য একটা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
তা ছাড়া গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে শত শত কোটি টাকা লগ্নি করেছে, এই সংকটের মুহুর্তে সে বিনিয়োগ কীভাবে আর কতটা রক্ষা করা সম্ভব - সেটাও ভারতের আর একটা বড় দুশ্চিন্তা!
এই ধরনের বহু প্রকল্পের কাজ এখন থমকে আছে।
এবং সর্বোপরি 'গোদের ওপর বিষফোঁড়া'র মতো ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা আজ এক মাস হল ভারতের মাটিতেই অবস্থান করছেন – কর্মকর্তারাই এখন একান্তে স্বীকার করছেন নানা কারণে ভারত তাকে “না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে!”
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ঠিক এক মাস আগের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক – দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিকেই ভারতকে এক অপ্রত্যাশিত সংকটে ফেলেছে।
দিল্লি এই মুহুর্তে ঠিক কীভাবে সেগুলো সামলানোর চেষ্টা করছে – এই প্রতিবেদনে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে সেটাই!
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ‘পরিচয়’
বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা কতটা, তা নিয়ে সে দেশের ভেতরেও হয়তো প্রশ্ন উঠছে তবে ভারত কিন্তু ওই সরকারকে স্বীকৃতি দিতে কয়েক মিনিটের বেশি সময় নেয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মুহাম্মদ ইউনূস গত আট অগাস্ট শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানান।
দুই দেশের মানুষের ‘স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে’ একযোগে কাজ করতে ভারত যে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবে, ওই পোস্টে সে কথাও জানান মি মোদী।
এর কিছুদিন পরে ভারত যে ‘গ্লোবাল সাউথে’র শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করেছিল, তাতেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ ইউনূসই যোগ দেন এবং সভায় ভার্চুয়ালি ভাষণ দেন। পরে দু’জনের মধ্যে টেলিফোনে কথাবার্তাও হয়েছে।
ফলে ভারতের চোখে বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান যে তিনিই, এ নিয়ে কখনোই দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবকাশ ছিল না।
শুধু এই নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়, শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশের জন্য ‘অতীত’ – সেটাও গত এক মাসে ভারত বারেবারেই বুঝিয়ে দিয়েছে।
গত ছয়ই অগাস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে জানান, ‘আপাতদৃষ্টে’ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিয়েই ভারতে এসেছেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং ঢাকা থেকে শেখ হাসিনার বিদায়পর্ব যতই বিতর্কিত বা রহস্যে ঘেরা হোক – ভারত কিন্তু সে দেশের নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ার কাজে হাত দিয়েছে।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গেছে – কিন্ত ঢাকাতে যখন যে সরকার ক্ষমতায়, দিল্লি তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে চলবে ‘এটাই স্বাভাবিক’!
সেই সঙ্গেই তিনি বলেন, “আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হবেই এবং এই ধরনের পরিবর্তন কখনও কখনও ‘ডিসরাপ্টিভ’ হবে। সেরকম ক্ষেত্রে আমাদের স্পষ্টতই দেখতে হবে কোথায় আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের মিল হচ্ছে।”
ফলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গেও ভারতের ‘স্বার্থ’ কোথায় কোথায় মিলতে পারে, দিল্লি এখন সেই ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার ওপরেই জোর দিচ্ছে। আর তারও আগে চলছে নতুন সরকারকে ভাল করে চেনাজানার পালা।
সাউথ ব্লকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলছিলেন, “আসলে সত্যি কথা বলতে কী, এই নতুন সরকারের উপদেষ্টা বা নীতিনির্ধারকদের অনেককেই আমরা ভাল করে চিনি না। কীভাবে তারা সরকারে এলেন, কে তাদের নাম সুপারিশ করল সেটাও খুব ভাল জানি না।”
“এমন কী, মুহাম্মদ ইউনূসকেও যে পুরোটা জানি বা বুঝি সেটাও দাবি করতে পারি না। কাজেই বলতে পারেন, শুরুর এই দিনগুলোতে আমরা তাদের ভাল করে চেনার ও বোঝার ওপরেই জোর দিচ্ছি।”
দিনকয়েক আগে ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা যখন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যান, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিন্তু সেই সাক্ষাৎ-কেও ‘পরিচিতিমূলক’ বলেই বর্ণনা করেছিল।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, গত এক মাস ছিল দু’পক্ষের আলাপ-পরিচয়ের পর্ব – যা এখনও বেশ কিছুদিন চলবে ধরেই নেওয়া যায়।
বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ?
গত প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে একটা প্রধান অভিযোগ ছিল, তারা শুধু শাসক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে চলেছে এবং ‘আওয়ামী প্রিজম’ দিয়েই বাংলাদেশের সব কিছুকে দেখার চেষ্টা করেছে।
মজার বিষয় হল, দিল্লিও কিন্তু এই অভিযোগ কখনও পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।
বরং তারা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলার চেষ্টা করেছে, যে সব দল চিরকাল ভারত-বিরোধিতার রাজনীতি করে এসেছে কিংবা যাদের ট্র্যাক রেকর্ড বলে তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে – তাদের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক গড়া সম্ভব?
তা ছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি বা বিএনপি সম্পর্কে ভারতের আর একটা বক্তব্য ছিল, যতদিন না তারা সুস্পষ্টভাবে জামায়াত-ই-ইসলামীর সঙ্গ ত্যাগ করছে ততদিন তাদের সঙ্গেও ভারতের কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে না।
আসলে জামায়াতের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শ ভারতের কাছে এতটাই ‘অস্পৃশ্য’ যে জামায়াতের কোনও রাজনৈতিক সঙ্গী বা শরিককেও বিশ্বাস করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয় – মোটামুটি এ যুক্তিটাই দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক সার্কিটে ও অ্যাকাডেমিয়াতে এতদিন ধরে দেওয়া হত।
তবে ঢাকায় গত এক মাসের ঘটনাক্রম ভারতের জন্য বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছে বলেও অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করছেন।
বিশেষ করে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে যেভাবে সম্প্রতি নানা ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, সেটাকেও ভারতের নীতিনির্ধারকরা ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
‘জামায়াত-মুক্ত’ বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গড়ার কাজ অনেক সহজ হতে পারে বলেও তাদের অভিমত।
আর একটা বিষয় হল, বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সব পর্যায়ে ভারতের সব ধরনের যোগাযোগ এতদিন ধরে সম্পূর্ণ স্তব্ধ ছিল, এটাও ঠিক নয় - বলে ভারতের অনেক বিশ্লেষকই জানাচ্ছেন।
সব সময় প্রকাশ্যে না-হলেও যোগাযোগের কিছু চ্যানেল চালু ছিল বলে তাদের দাবি।
সম্ভবত এরকমই একজন হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ – দীর্ঘ প্রায় এক দশক ভারতে কাটিয়ে যিনি সদ্যই বাংলাদেশে ফিরে গেছেন।
শেখ হাসিনার পতনের দু-চারদিন পরেই, মি. আহমেদের বাংলাদেশে ফেরার ঠিক আগে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তার দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা হয়।
লক্ষণীয় বিষয় হল, ভারতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশে’র সব মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি যে বছরের পর বছর দেশে ফিরতে পারেননি, সেজন্য তিনি সেদিন একবারও কিন্তু দিল্লিকে দোষারোপ করেননি – বরং যাবতীয় দায় চাপিয়েছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের ওপরেই।
পাশাপাশি ভারতে তার সুদীর্ঘ ‘প্রবাসজীবনে’ ভারত সরকার যেভাবে সহযোগিতা করেছে, শিলংয়ে তার গেস্টহাউসে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের এসে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ করে দিয়েছে, কিংবা দিল্লিতে গিয়ে চিকিৎসা করানোরও অনুমতি দিয়েছে – তাতে তিনি যে ভারতের প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞ, কথাবার্তায় মি আহমেদ সেটাও গোপন করেননি।
ভারতের পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, এহেন সালাউদ্দিন আহমেদ আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে বিএনপি-র সেতু রচনার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
তবে বিএনপি-র সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হলে দীর্ঘদিনের বন্ধু আওয়ামী লীগের সম্পর্কে ভারতের মনোভাব কী হবে?
“এটা তো আর কোনও ‘বাইনারি’ নয়, যে একটা থাকলে অন্যটা থাকতে পারবে না! ভারত অবশ্যই চাইবে সে দেশের পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাতে অংশ নেয় এবং সেখানে একটা সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ থাকে”, জানাচ্ছেন দিল্লিতে একজন প্রথম সারির কর্মকর্তা।
দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ
গত ২৭শে অগাস্ট ভারতের প্রথম সারির অর্থনৈতিক পত্রিকা ‘দ্য ইকোনমিক টাইমসে’র এক রিপোর্টে জানানো হয়, ভারতের পাঁচটি বিদ্যুৎ সংস্থার বাংলাদেশের কাছে মোট বকেয়া অর্থের পরিমাণ এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যে, একা ‘আদানি পাওয়ারে’রই ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে ৮০ কোটি ডলার পাওনা ছিল বলে বলা হয়।
এই সংস্থাটি ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় অবস্থিত তাদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনের পুরোটাই বাংলাদেশে রফতানি করে থাকে।
এছাড়াও এসইআইএল এনার্জি, পিটিসি ইন্ডিয়া, এনটিপিসি (ডিভিসি ও ত্রিপুরা) ও পাওয়ার গ্রিডের মতো আরও বিভিন্ন সংস্থারও বাংলাদেশের কাছে কোটি কোটি ডলার পেমেন্ট বাকি রয়ে গেছে বলে ওই রিপোর্টে জানানো হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যে এই অর্থ পরিশোধের সম্ভাবনাকে ব্যাহত করতে পারে, সেই আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে।
ইতোমধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, গত পাঁচই অগাস্টের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারতের প্রায় সব দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে, কর্মীরাও অনেকে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।
“পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে” এই প্রকল্পগুলোর কাজ যে চট করে আবার শুরু হচ্ছে না, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জানা যাচ্ছে, এরই মধ্যে রামপালের মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বা নুমালিগড়-পার্বতীপুর জ্বালানি পাইপলাইনের মতো বহু প্রকল্পের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তাহলে কি বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো-সহ বিভিন্ন সেক্টরে ভারতের বিভিন্ন সংস্থার বিপুল বিনিয়োগ এখন ঝুঁকির মুখে?
দিল্লিতে থিঙ্কট্যাঙ্ক আরএইএস-র অর্থনীতিবিদ প্রবীর দে কিন্তু এ ব্যাপারে এখনই নিরাশ হতে রাজি নন।
তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি বা সমঝোতা পুনর্বিবেচনা করার কথা বললেও সে দেশের কোনও ভারতীয় প্রকল্প কিন্তু বাতিল ঘোষণা করেনি।
ড. দে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “তাছাড়া এই ধরনের বিনিয়োগে সব সময় একটা ‘সভারেইন গ্যারান্টি’ বা সার্বভৌম নিশ্চয়তার আওতায় থাকে। অর্থাৎ প্রকল্প বাতিল করা হলে রাষ্ট্রের ওপর সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার দায় বর্তায়।”
এধরনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানির ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন কোর্ট বা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার রাস্তাও খোলা থাকে।
বছর কয়েক আগে মালদ্বীপ যখন তাদের দেশের প্রধান বিমানবন্দরটির পরিচালনার ভার একটি ভারতীয় কোম্পানির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল, সেই সংস্থাটি সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সালিশিতে গিয়ে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও আদায় করতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এখনই সে রকম কোনও সম্ভাবনা না-দেখলেও সে দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মেটাতে যে বেশ কিছুটা সময় লাগবে ও ভারতীয় সংস্থাগুলোকে লগ্নির রিটার্ন পেতে আরও অপেক্ষা করতে হবে – সেই বাস্তবতা অবশ্য দিল্লি এরই মধ্যে অনুধাবন করেছে।
শেখ হাসিনা এবং অত:পর
ঢাকা-দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য বাড়তি অস্বস্তি বয়ে এনেছেন বাংলাদেশের অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি গত এক মাস ধরে ভারতের রাজধানীতেই অবস্থান করছেন।
তাকে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হলে সেটা যে বাংলাদেশের অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে ও সে দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে, ভারত তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে।
কিন্তু তা সত্ত্বেও বিগত প্রায় ৫০ বছর ধরে যিনি ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও আস্থাভাজন, সেই শেখ হাসিনার বিপদের মুহুর্তে তার পাশে না দাঁড়ানোটাও ভারতের জন্য কোনও ‘অপশন’ বা বিকল্প নয়!
ফলে তাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উপযুক্ত সম্মান দিয়ে ভারত প্রথম দিন থেকেই সব ধরনের আতিথেয়তা দিয়ে চলেছে। তবে কতদিন সেটা করে যেতে হবে, এই মুহুর্তে ভারতেরও সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই।
ভারতের সাবেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ ড. মোহন কুমার, যিনি দীর্ঘদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি কিন্তু মনে করেন এই ‘সংকট’কেও কাজে লাগানোর উপায় ভারতের হাতে আছে।
তিনি বলছেন, “আমেরিকার একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছিলেন, কোনও ‘ক্রাইসিস’কেই অপচয় করতে নেই! মানে সব সংকটকেই সুযোগে বদলে ফেলা যায় – আর আমি মনে করি এক্ষেত্রেও সেটা সত্যি।”
শেখ হাসিনা সংক্রান্ত ‘বিপর্যয়’ থেকেও ভারতের আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস শেখার আছে বলে ড. মোহন কুমার মনে করেন।
তিনি বলছেন, “আমাদের নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি-র একটা খুব বড় ত্রুটি হল, অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবেশী দেশগুলোতে আমরা রাজনৈতিক বিনিয়োগ করেছি কোনও একজন ব্যক্তির ওপর, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করিনি!”
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা, মালদ্বীপে মোহামেদ নাশিদ, আফগানিস্তানে হামিদ কারজাই, শ্রীলঙ্কায় মৈত্রীপালা সিরিসেনা বা নেপালে বাবুরাম ভট্টরাইকে নিয়ে এই ধরনের ‘ভুল’ ভারত আগেও বারবার করেছে, দিল্লিতে অনেক পর্যবেক্ষকই আসলে সে কথা বিশ্বাস করেন।
“হাসিনা সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যদি এখন থেকে বন্ধু দেশগুলোতে কোনও ব্যক্তিবিশেষের বদলে ‘স্ট্রাকচারাল’ বা কাঠামোগত ফ্যাক্টরে লগ্নি করি, সেটা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে বলে আমার বিশ্বাস। কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়”, বলছেন ড. কুমার।
আর এভাবেই বাংলাদেশ-জনিত ‘সংকট’কে ভারতে ‘সুযোগে’ বদলে দিতে পারে বলে যুক্তি দিচ্ছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশে পালাবদলের পর সে দেশে ‘নতুন বন্ধু’দের খুঁজে বের করা ও তারপর ‘কাঠামোগত’ ফ্যাক্টরে বন্ধুতার বিনিয়োগ – সব মিলিয়ে কাজটা যে আদৌ সহজ হবে না, ভারতের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেটা দিব্বি টের পাচ্ছেন!
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড. ইউনূসের ভাবনা আজ আমাদের আগের চেয়েও বেশি প্রয়োজন -এন আর নারায়ন মূর্তির লেখা
উদ্যেক্তাদের মধ্যে এই অঞ্চলের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশের একমাত্র অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি গত শতকে সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং কয়েক বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্তত কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তার তৈরি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই বিশ্বমানের। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় তিনি তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে গোটা পৃথিবীর কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। সামাজিক উন্নয়নে তিনি যে মডেল তৈরি করেছেন তা এখন বিশ্বব্যাপী চর্চিত হচ্ছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে মানুষ এখন রীতিমতো গবেষণা করছেন। তার তৈরি মডেলগুলো ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, কেনিয়া এবং ভারতের মতো বৈচিত্রময় অঞ্চলেও চর্চিত হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী এবং সামাজিক উদ্যোক্তাদের একটি প্রজন্মের চিন্তাভাবনা ও কাজের ওপর তার প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অবশ্যই তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। সমাজের দরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থান তৈরিতে বেশ ভূমিকা রয়েছে এই ব্যাংকটির। বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আজ আমরা ক্ষুদ্রঋণের ধারণা সম্পর্কে জানি। কিন্তু যতক্ষণ না ড. ইউনূস আমাদের দেখিয়েছেন যে, কীভাবে এই ধারণা সমাজে ব্যাপক আকারে প্রয়োগ করা যায়, ততক্ষণ আমাদের কাছে এই ক্ষুদ্রঋণের ধারণা অযৌক্তিই বলে মনে হয়েছিল। এই ক্ষুদ্রঋণ ধারণা দিয়ে তিনি এমন কিছু করেছেন যা এক সময় আমাদের কাছে অচিন্তনীয় বিষয় ছিল। গ্রামীণ ব্যাংককে প্রথম দিন থেকেই বিশ্বমানের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করাতে ইউনূসের ভূমিকা ছিল অনন্য। এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন একটি রূপ পেয়েছে। তার নেতৃত্বে গ্রামীণ ব্যাংক সফলভাবে প্রমাণ করেছে যে একটি ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান একটি কার্যকর ব্যবসা হতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংকের দেয়া ঋণ পুনরুদ্ধারের হার ৯৬ শতাংশের বেশি ছিল, যদিও ব্যাংকটির ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো জামানত গ্রহণ করেনা।
কিন্তু অনেকেই জানে না যে, ড. ইউনূসের কাজ ক্ষুদ্রঋণকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই দশক ধরে, তিনি প্রথম উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য একটি মডেল তৈরি করেছেন যাকে তিনি ‘সামাজিক ব্যবসা’ বলে অভিহিত করেছেন। পরে এর মাধ্যমে তিনি কয়েক ডজন সংস্থা তৈরি করেছেন যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ এবং খেলাধুলা খাতে ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে সমাজের উন্নতিতে বেশ ভূমিকা রাখবে। অবিশ্বাস্যভাবে, ৮৪ বছর বয়সে তিনি আগের মতোই গতিশীল রয়ে গেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে তার চিন্তা পৌঁছে দিতে সারা বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। আজকের অস্থির বিশ্বে, আমাদের ইউনূস এবং তার ধারণার প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি। তার চিন্তা ভারত সহ ছোট ও স্বল্পন্নোত দেশ এবং অঞ্চলে বেশ কার্যকরী। এই মিশনে ইউনূসকে সমর্থন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তাকে তার ধারণা এবং শক্তিকে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং একাডেমিতে কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হবে। যেন তিনি যা করতে চান তা সর্বাধিকভাবে করতে পারেন। আমার অদম্য আশা যে কোনো মুক্ত সমাজ ড. ইউনূসের অসাধারণ কাজ থেকে উপকৃত হওয়ার আশা করবে এবং তারা তাকে তার মহান কাজটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে দেবে।
ব্যবসায়ীরা প্রায়শই কীভাবে সমাজে বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরি হবে সে সম্পর্কে কথা বলেন। এছাড়া সামাজিক উদ্যোক্তারাও এই বিষয়টি নিয়ে ভাবেন। এ বিষয়ে ভারতে একটি এজেন্ডা তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে দেশের বাইরের সামাজিক ব্যবসা, বিনিয়োগ, সামাজিক স্টক এক্সচেঞ্জ এবং এর মতো বিষয়গুলিকে উৎসাহিত হয়। এক্ষেত্রে ইউনূসের মতো নেতাদের সৃজনশীল দক্ষতাকে উৎসাহিত এবং সমর্থন করার বিকল্প নেই। যেমন অ্যাকশন ফর ইন্ডিয়া যা সামাজিক উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলতে আগ্রহী। এবারের প্যারিস অলিম্পিকে ড. ইউনূসের প্রভাব সবার নজর কেড়েছে। তিনি প্রস্তাব করেছিলেন, এবারের অলিম্পিক ফ্রান্সের গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে যাতে গেমগুলি শেষ হয়ে গেলে, আবাসন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিম্ন আয়ের প্যারিসবাসী সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যবাহার করতে পারে। আয়োজকরা তার ধারণা গ্রহণ করেছেন এবং তাকে তাদের সম্মানিত অতিথি এবং অংশীদারদের একজন বানিয়েছেন।
সূত্র- দ্য প্রিন্ট
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বৈত নাগরিকদের সংসদ সদস্য হওয়ার পথে সংবিধানে বাধা রাখা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? by ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পট-পরিবর্তনের পর সদ্য বরখাস্ত হওয়া মেয়রও ছিলেন দ্বৈত নাগরিক। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদার, এমপির অনেক উপরে। অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিকরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন মেয়র হতে পারবেন কিন্তু সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই বাধা বা প্রতিবন্ধকতা যে কেন রাখা হয়েছে তা বুঝে আসে না।
দ্বৈত নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে পারবেন এমনকি প্রধান বিচারপতি হতে পারবেন তাতে সাংবিধানিক কোন বাধা নেই। বস্তুত: নিকট অতীতে প্রধান বিচারপতি হবার দৌড়ে ছিলেন আপিল বিভাগের এমন দুজন সিনিয়র বিচারপতি ছিলেন দ্বৈত নাগরিক (বৃটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন)। এখনও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক বিচারপতি আছেন যারা দ্বৈত নাগরিক। খোদ বর্তমান প্রধান বিচারপতিও দ্বৈত নাগরিক।
ইতিহাস সাক্ষী উন্নত বিশ্বে পড়াশোনা করা দ্বৈত নাগরিক সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা তুলনামূলকভাবে অধিকতর যোগ্যতার সাথে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিচারকার্য চালিয়েছেন বা চালাচ্ছেন বিদেশে অর্জিত তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে।
দ্বৈত নাগরিকরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হতে পারবেন কিন্তু এমপি হতে পারবেন না! আচ্ছা এখন প্রশ্ন কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন-একজন এমপি না একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি? নিশ্চয়ই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বলা হয় সংবিধানের গার্ডিয়ান। তাদের আদি ক্ষমতা (inherent power) আছে। তারা শপথ নেন বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করার, কিন্তু এমপিদের শপথে এ কথাগুলো বলতে হয় না। রাষ্ট্রাচারের ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্ট (Warrant of Precedence) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এমপিদের উপরে। এমপিদের ঝবৎরধষ (ক্রমিক) হচ্ছে ১২, পক্ষান্তরে হাইকোর্টের বিচারপতিদের ক্রমিক হচ্ছে ৯ ও আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ক্রমিক হচ্ছে ৮। তাছাড়া মন্ত্রী (যেমন ঢাকা সিটি উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র পূর্ণ মন্ত্রীর পদ মর্যাদার) ও প্রতিমন্ত্রী (যেমন সিলেট সিটি মেয়র) মর্যাদার মেয়র যদি দ্বৈত নাগরিকরা হতে পারেন তাহলে এমপি না হতে পারার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখছি না।
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আনুগত্যের মোড়কে কেন যে এই বাধা রাখা হচ্ছে তার যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা পাইনি। আধুনিক বিশ্বে ও বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে আনুগত্য ঘোষণা ও স্বীকার এক absurd concept (অযৌক্তিক ধারণা)। দ্বৈত নাগরিক নন এবং দেশের প্রতি তথাকথিত পূর্ণ আনুগত্যকারী জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে এমপি হয়েও তো হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি করছেন এবং বিদেশে টাকা পাচার করছেন। আবার অনেক দ্বৈত নাগরিক তথ্য গোপন করে এমপি হয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। ‘সরকারের সাথে বা সরকারি দলের হলে সকল কুল মাফ’- এমন ধারণাও বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল। পতিত সরকারের প্রভাবশালী এক এমপি বৃটিশ পাসপোর্ট (হিথ্রো এয়ারপোর্টে আমার নিজের চোখে দেখা) নিয়েও তো বাংলাদেশে এমপি হয়েছেন। তাহলে আনুগত্যের মোড়কে সংবিধানে এই বাধা রাখার হেতু কি?
অপরদিকে দ্বৈত নাগরিক সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক সিনিয়র বিচারপতির কথা জানি সারা জীবন উচ্চ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরও ঢাকা শহরে একটি বাড়ি করতে পারেন নি। দ্বৈত নাগরিক (বৃটিশ ও বাংলাদেশি) হবার পরও লন্ডনে ফিস দিয়ে তার সন্তানকে পড়ানোর আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। ভাগ্যিস তার সন্তান গ্রামার স্কুলে স্কলারশিপ পাওয়ায় তার কোনো চিন্তা করতে হয়নি। সুতরাং আনুগত্য ও দ্বৈত নাগরিকত্ব দিয়ে ব্যক্তির গুণাগুণ, সততা ও দেশপ্রেমের বিচার বা পরিমাপ করা যাবে না।
সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত সংসদে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অযোগ্যতার অন্যতম হলো ‘তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন’। দ্বৈত নাগরিকত্ব নিতে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা তাদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব বা আনুগত্য ত্যাগ করতে হয় না। অনেক সময় শপথও (Oath) নিতে হয় না। যেমন, বৃটিশ নাগরিকত্ব নেয়ার সময় একজন আবেদনকারী ঙধঃয এর পরিবর্তে Affirmation করতে পারেন। এক কোটি ৩০ লাখের উপর প্রবাসীরা বাংলাদেশের বাহিরে থাকেন। ইমিগ্রেশন ও প্রায়োগিক (practical) এবং পদ্ধতিগত (procedural) সুবিধার্থে অনেকে বিভিন্ন দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের নিজ দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বা আনুগত্য ত্যাগ করতে হয় না। তাই এ ক্ষেত্রে সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই প্রতিবন্ধকতা রাখার দরকারই বা কি?
সংবিধানে যখন প্রায় দেড় যুগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছিল তখন দ্বৈত নাগরিক প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধান উপদেষ্টা হতে পারতেন-যেমন হাইকোর্টের বিচারপতি, পরবর্তীতে আপিল বিভাগের বিচারপতি, পরে প্রধান বিচারপতি, শেষে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি (last retired Chief Justice) হয়ে। অথচ এমপি হতে পারতেন না। ব্যাপারটি হাস্যকর মনে হয়। এমনকি ড. ফখরুদ্দিন আহমদ ও ড. ইফতেখারুজ্জামান তাদের দুজনের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল বলে সর্বজন বিদিত, অথচ তারা ১/১১ পরবর্তী সরকারের যথাক্রমে প্রধানমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে প্রায় দুবছর দেশ চালিয়েছেন।
গণতন্ত্রের সূতিকাগার বৃটেনে বিদেশি পাসপোর্ট ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়েও এমপি হওয়া যায়। কমনওয়েলথ নাগরিক হিসেবে বৃটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াবার জন্য এক্ষেত্রে দুটি শর্ত: ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে এবং অন্তত: (বিদেশি পাসপোর্টে) ইনডিফিনিট লিভ তথা সেটেল্ড স্ট্যাটাস থাকতে হবে। বৃটিশ সিটিজেন হওয়া বা বৃটিশ পাসপোর্ট থাকা মোটেই আবশ্যিক (compulsory) নয়। শুধু তাই নয়, দ্বৈত নাগরিক বা বৃটেনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্টধারী (স্থায়ীভাবে বসবাসকারী) বিদেশি নাগরিক বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হতে পারেন যদি তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন ও বৃহৎ দলের নেতা নির্বাচিত হোন। সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। তাহলে আমরা কি গণতন্ত্রের সূতিকাগার বৃটেনের চেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক হয়ে গেছি?
বৃটেন অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক উদার। কানাডা নামক ভিন দেশের নাগরিক ও ভিন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মার্ক কার্নিকে এনে বৃটেনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর পর্যন্ত বানিয়েছে বৃটিশ সরকার। কই তার বিদেশি রাষ্ট্র কানাডার প্রতি আনুগত্য নিয়ে তো কোনো প্রশ্ন তুলা হয়নি। তাহলে আমরা কেন বাস্তব ও প্রায়োগিক কারণে দ্বৈত নাগরিকত্ব নেয়া জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সংবিধানে এই বাধা রাখছি? এতে কিন্তু পক্ষান্তরে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সফল গণ-অভ্যুত্থানে পট পরিবর্তনের প্রাক্কালে সময় এসেছে সংবিধান থেকে এই অযৌক্তিক বাধা দূর করা। বাংলাদেশের বাইরে প্রচুর দ্বৈত নাগরিক কিন্তু জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক আছেন যারা শিক্ষা-দীক্ষায় ও অভিজ্ঞতায় অনেক অগ্রসর (advanced)। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে তারা তাদের উন্নত বিশ্ব থেকে নেয়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আইন প্রণয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাদেরকে অযথা আনুগত্যের মোড়কে সাংবিধানিক বাধা দিয়ে আটকিয়ে রাখা উচিৎ নয়। সাংবিধানিকভাবে দ্বৈত নাগরিকরা যদি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও প্রধান বিচারপতি হতে পারেন তাহলে এমপি হতে বাধা থাকবে কেন? সংবিধান থেকে এই অযৌক্তিক ও হাস্যকর বাধা দূর করা আশু প্রয়োজন যদি বাংলাদেশের রাজনীতি, আইনপ্রণয়ন ও সরকার পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হয়।
লেখক: বিশিষ্ট আইনজীবী, রাষ্ট্রচিন্তক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার।
Email:
ahmedlaw2002@yahoo.co.uk
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী থেকে আদাবরের জমিদার! by শরিফ রুবেল
পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে তাদের সম্পদ। বাড়ি, গাড়ি, হোটেল, দোকান, বাংলো, ফ্ল্যাট, প্লট, হাউজিং কি নেই তাদের? আদাবর শেখেরটেক এলাকায় হাসু-কাসুর ক্ষমতার কাছে কেউই পাত্তা পাননি। ক্ষমতা খাটিয়ে দখল করেছেন বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ি। অঢেল টাকার জোরে আওয়ামী লীগ ইউনিটের নেতা থেকে দুই ভাই পর্যায়ক্রমে হয়েছেন কাউন্সিলরও। কাউন্সিলর হয়েই যেন আলাদিনের চেরাগ পান হাসু-কাসু। ২০১০ সাল থেকে দুই ভাইয়ের দখলে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন আদাবর শেখেরটেকের অনেক মানুষ। গেল কয়েকদিনে আদাবর শেখেরটেক এলাকায় ঘুরে হাসু-কাসুর অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাদের চাঁদাবাজি ও দখলবাজির নানা তথ্য দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেল আট বছরে পুরো মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় প্রায় ১০ একর জমি দখল করেছেন হাসু-কাসু। দখল করেছেন আস্ত একটি হাউজিংও। সরকারি জমি ভরাট করে গড়েছেন মার্কেট। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিলেন। জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ভিটেমাটি হারিয়েও কেউ ভয়ে কথা বলার সাহস পান না। নীরবে সহ্য করেছেন। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছেন। প্রতিবাদ করলেই হাসু-কাসু বাহিনীর নির্মম অত্যাচার শুরু হতো। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতারাও হাসু-কাসুর মারধর, নির্যাতন, অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি। মতের অমিল হলেই দলীয় নেতাদেরও মারধর করতেন কাসু। দখলে বাধা হয়ে দাঁড়ালেই দলবল নিয়ে হামলে পড়তেন। কুপিয়ে জখম করতেন। হাসু-কাসুর হামলায় মৃত্যু থেকেও ফিরে এসেছেন কেউ কেউ। প্রয়োজনে হত্যা করতেও পিছপা হননি এই হাসু-কাসু বাহিনী। হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, প্রতারণা, মারধর, দখলের অভিযোগে হাসু-কাসু দুই ভাইয়ের নামে অন্তত ৪০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
সরজমিন আদাবর শেখেরটেকের স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মাসেই নিজের বাহিনী নিয়ে জমি দখলে যান হাসু-কাসু। ফাঁকা জমি পেলেই দলবল নিয়ে হামলে পড়েন হাসু। দখল করে ঝুলিয়ে দেন সাইনবোর্ড। কেবল জমি দখলই নয়, নতুন ভবন নির্মাণকারীর কাছ থেকে চাঁদা, দোকান ও অফিস থেকে মাসোহারা, মাদক কারবার সব কাজে তারা দুই ভাই সক্রিয়। আদাবর শেখেরটেকে হাসু-কাসুর কথার বাহিরে চলা যায় না। আধিপত্য ধরে রাখতে এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব হেলমেট বাহিনী। এই বাহিনী দিয়ে পুরো আদাবরে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। কাউন্সিলর আবুল কাশেম কাসু ও তার ভাই হাসু মিলে মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, শেখেরটেক, ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, নবোদয় হাউজিং, সিলিকন বেলী, বেড়িবাঁধের নিম্নাঞ্চল এলাকায় বিপুল পরিমাণ দখল করেছেন। হাসু-কাসু চলাফেরা করেন টয়োটা হ্যারিয়ার ঢাকা মেট্রো- ঘ ১৫-১৫৭৫, রেভ-৪ ও একটি প্রাডো গাড়িতে। এ ছাড়া তাদের পরিবারের ৬টি নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে।
যাদের মাধ্যমে দখলবাজি করেন: কাউন্সিলর কাসু ও তার ভাই সাবেক কাউন্সিলর হাসুর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, মামলা-হামলা, ভুয়া দলিল তৈরি করে জাল স্বাক্ষরে সাধারণ মানুষের জমি দখলের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউন্সিলর আবুল কাশেম কাসু ও তার ভাই সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসু তাদের দখলবাজি চালান দুই ব্যক্তির মাধ্যমে। এরা হলেন মোজাম্মেল হক ওরফে মোজা হাজী ও শাহজাহান। তাদের নামে ভুয়া দলিল করে জমি দখল করে পরে তাদের থেকে বুঝে নেন হাসু-কাসু। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি’র একটি অনুসন্ধানেও এই তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদকের হাতে থাকা ডিবি’র একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে মোজা হাজী কাউন্সিল কাসু ও হাসুর হয়ে দখলবাজি করেন এবং অসহায় লোকের বিপুল পরিমাণ জমি, ফ্ল্যাট, প্লট দখলের কথা স্বীকার করে আর এমন কাজ করবেন না মর্মে ডিবিতে একটি মুচলেকা দিয়েছেন। তবে ডিবিতে মুচলেকা দিয়ে এসে তার দখলবাজি আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
হাসু-কাসুর যত জমি, প্লট: মোহাম্মদপুর, আদাবর, ঢাকা উদ্যান, শেখেরটেক এলাকায় তাদের বেশকিছু জমি, ফ্ল্যাট ও প্লটের সন্ধান মিলেছে। রামচন্দ্রপুর মৌজার আরএস ২০৩ নং দাগে ৬৪ কাঠা, আরএস ২০৯ নং দাগে ১৬০ কাঠা জমি দখল করে রেখেছে হাসু- কাসু। এই জমির মালিক মো. আলী হোসেন। আদাবর এলাকার হারুন ও কামাল নামের দুই ব্যক্তির ৫৬ কাঠা জমি দখল করে নেয় হাসুর ক্যাডার বাহিনী। সেখানে শাওন ট্রেডার্স নামের একটি দোকান উঠিয়ে ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। পাশেই সাতটি প্লট তৈরি করে বিক্রি করে দেন হাসু। এ ছাড়া আদাবরের ১০ নম্বর রোডের ৫ কাঠার প্লট, শেখেরটেকের ৭ নম্বর রোডের ৩ কাঠার প্লট, বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে ৮ ও ১০ কাঠার দুটি প্লট, উত্তর আদাবরের আজিজ গার্মেন্ট নামের ৬ তলা বাড়ি রয়েছে। ঢাকা উদ্যানের ৫ নম্বর রোডে সি ব্লকে রামচন্দ্রপুর মৌজায় সিএস,এসএ ২৬১ নং দাগে ৫ কাঠা জমি দখল করে দেয়াল করে রেখেছে এই হাসু-কাসু। এই জমির মালিক হাজী কালাচাঁন কোম্পানি। এ ছাড়া রামচন্দ্রপুর মৌজায় ঢাকা উদ্যান ওয়াকওয়ের পাশে ৬ নম্বর রোডে সি ব্লকে সিএস,এসএ ২৫৮ দাগে ৩ কাঠা জমি দখল করে রেখেছে কাসুর ডানহাত মোজাম্মেল ওরফে মোজা হাজী। এই জমিরও মালিক হাজী কালাচাঁন কোম্পানি। একই এলাকার ৩ নম্বর রোডে সি ব্লকে সিএস, এসএ ২৬৩ দাগে ৭ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। জমির প্রকৃত মালিক শুক্কুর পোদ্দার ও আনিসুর রহমান। হাসু-কাসুর দখলবাজি থেকে রেহাই পাননি ২ মুক্তিযোদ্ধা ও আদাবর থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের জমিও। রামচন্দ্রপুর মৌজায় শেখেরটেক এলাকায় সিএস, এসএ ২০৯ দাগে ৩০ কাঠা জমি দখল করে টিনশেড বাড়ি তৈরি করেছেন কাউন্সিলর কাসু। জমির মালিক মুক্তিযোদ্ধা মো. বদিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ ও সালাউদ্দিন শামীম। একই মৌজার সিএস, এসএ ২৬৩, আরএস ১৫২ ও ১৫৪ দাগে ৫ কাঠা জমি দখল করে রেখেছেন কাসু। জমির মালিক মাসুদা দিলারা ও ফারুক আহমেদ সরদার। এ ছাড়া আদাবর বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির ১০ নম্বর রোডে আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শামীমের বায়নামূলে কেনা ১০ কাঠা জমি দখল করে কাউন্সিলর অফিস বানিয়েছেন আবুল কাসেম কাসু। এই জমি নিয়ে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা চলমান আছে। মামলা নং ১১২/১৬। এদিকে আদাবর ১০ নম্বর রোডে সিএস, এসএ ২৮ নং দাগে হাজী বশির উদ্দিন ও হাজী নাছির উদ্দিনের ৫ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া শেখেরটেক ১২ নং রোডে রাস্তার জমি দখল করে বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন হাসু-কাসু। মার্কেট থেকে মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ভাড়া তোলা হয়। শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পের রামচন্দ্রপুর মৌজায় সিএস, এসএ ২১৯ দাগে ২৪ কাঠা জমি দখল করেছেন কাউন্সিলর কাসু। মালা হাউজিংয়ে সিএস, এসএ ২০৯ ও আরএস ১৭৩২ দাগে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি দখল করে কাশেম প্রপার্টি নামে প্লট তৈরি করে রেখেছেন এই সাবেক কাউন্সিলর। ওই জমির মালিক মজিবুর রহমান। তিনি হাসু-কাসুর ভয়ের এলাকাছাড়া। এ ছাড়া শেখেরটেক বালুর মাঠ এলাকায় ২০টি প্লট দখলের অভিযোগ রয়েছে। দখল করা প্লটগুলো পর্যায়ক্রমে বিক্রি করছেন কাউন্সিলর কাসু। রামচন্দ্রপুর মৌজায় সিএস, এসএ ৯১ দাগে ১৪ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এই জমির মালিক শাহানা ইসলাম, আবু মুছা, আবু সাঈদ ও শাহজাহান কবির। দখলের পরে ওই জমিতে টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছেন কাসু।
কাউন্সিল হাসুর আমলে যত দখল: প্রথমে কাউন্সিলর হন আবুল হাসেম হাসু। তিনি বিপুল পরিমাণ জমি দখল করেন। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, উত্তর আদাবরের ১৪৫/৩ নম্বরের দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি প্লট দখল। হাজী মো. ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির শেখেরটেক এলাকায় ৩ কাঠা, বায়তুল আমান হাউজিংয়ে সাড়ে ৫ কাঠা জমি দখল। নবোদয় হাউজিং এলাকায় চারটি প্লট, মালেক গলিতে দুটি, আদাবরের বিভিন্ন রোডে সাতটি প্লট, আদাবরের ১০ নম্বর রোডের ৫৯৫ নম্বরের ১০ কাঠা প্লট, ১৩ নম্বর রোডে জমি দখল করে ১০টি দোকান, হোসনাবাদ মার্কেটের পাশে ১০ কাঠার প্লট দখল। আলিফ হাউজিংয়ের খাল দখল করে অফিস নির্মাণ, মনসুরাবাদ ব্রিজের পাশে জায়গা দখল করে অফিস নির্মাণ। কমফোর্ট হাউজিং ও সুনিবিড় মধ্যস্কুল এলাকায়ও কয়েকটি প্লট দখলে রয়েছে। আজিজ গার্মেন্টসের জায়গা মাদ্রাসার নামে লিখে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। শেখেরটেক ও বায়তুল আমান হাউজিংয়ের ১০ নম্বর রোডের শেষ মাথায় ৫টি প্লট দখলে নিয়েছে হাসুর ঘনিষ্ঠ হাজী মোজাম্মেল হক মোজা হাজী ও অন্যরা। কমফোর্ট হাউজিংয়ের আদাবর ১৭/এ রোডের শেষ মাথায় ২টি প্লট, ১৬ নম্বর রোডের কাঁচা বাজারের সাত কাঠা জমি দখল এবং ১৬/এ রোডের মসজিদ গলিতে জমি দখল করে কাউন্সিলরের লোকজন ব্যবসা করছেন। নিজের বাড়ি রক্ষা পেলেও চার বছর ধরে হাসু-কাসুর দখলে আদাবরের বাসিন্দা বাবুলের শ্বশুরের জমি। মনসুরাবাদ মসজিদের পশ্চিম পাশে আক্তার প্রোপার্টিজের আগের জমিটা তার শ্বশুরের। ১১ শতাংশ জমিটি দখলে বাধা দেয়ায় একইভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বাবুলের শ্যালক আবু জাফর তানসেমকে। এ ছাড়া আদাবর ১০নং রোডের মাথায় ৫৯৫ নম্বরের ১০ কাঠা প্লট দখল করে সেখানে জাতীয় পার্টির কার্যালয় বানিয়ে দখলে রাখা হয়েছে। এ প্লট সংলগ্ন অনেক দোকানও রয়েছে।
চাঁদাবাজির যত স্পট: শ্যামলী ক্লাব মাঠ থেকে মুনসুরাবাদ হাউজিং পর্যন্ত ফুটপাথে রাস্তার দুই ধারে ৩০০ ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হতো। এতে মাসে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আদায় হয়। এসব টাকা তুলতেন ইদ্রিস। পরে ইদ্রিস এই টাকা বুঝিয়ে দিতেন কাউন্সিলরের ভাই আবুল হাসেম হাসুর কাছে। সেখান থেকে চাঁদার একটি অংশ কাউন্সিলরের পকেটে চলে যেত। এ ছাড়া নবোদয় বাজারের দুই পাশে ফুটপাথে ৫০টি দোকান বসিয়ে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা তোলা হতো। শেখেরটেক ১ নাম্বার রোডের মাথা থেকে বেগম নুরজাহান রোড পর্যন্ত রাস্তার ফুটপাথে ১৫০টি দোকান বসানো হতো। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন চাঁদা তোলা হতো। এই চাঁদা তুলতেন সেলিম ও রায়হান। পরে তারা এই টাকার একটি অংশ কাউন্সিলরের কাছে পৌঁছে দিতেন। শ্যামলী, আদাবর শেখেরটেক ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় প্রায় ২৫টি হাউজিং রয়েছে। এসব হাউজিংয়ে অন্তত ১২ হাজার বাসাবাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে। ফ্ল্যাট প্রতি মাসে ১০০ টাকা ময়লা বিল তোলা হয়। এতে প্রতি মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা ময়লা বিল আসে। এই টাকা থেকে অর্ধেক নিতেন সাবেক কাউন্সিলরের বোন মনোয়ারা বেগম। তবে ভ্যান সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। কাউন্সিলর তার বোন মনোয়ারা বেগমের মাধ্যমে ময়লা নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংগ্রহের কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা বলছেন, সুমন আবুল কাশেমের আপন চাচাতো বোনের ছেলে। ওই ওয়ার্ড থেকে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তাদের কাউকে প্রত্যয়ন দেননি কাউন্সিলর। তার ভাগিনা দরপত্র পাওয়ার পরেই আমাদের এলাকা ছাড়তে হয়েছে। আদাবর রিং রোড, আদাবর, শ্যামলী এলাকার বেশকিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। চাঁদার টাকা দিতে দেরি হলে হাসপাতালের সামনে সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ডিবি পুলিশের করা প্রতিবেদনেও এই তথ্য উঠে এসেছে। এ ছাড়া চাঁদা না দিলে রোগী ভাগিয়ে দেয়া, এবং হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো হয়। এই চাঁদা তোলেন কাসুর সহযোগী সেলিম। অভিযোগ আছে, রিং রোডের এসপি হাসপাতাল থেকে মাসে ১ লাখ ২০ হাজার, ডিপিআরসি হাসপাতাল থেকে মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার, গ্রীন হাসপাতাল থেকে মাসে ১ লাখ ১০ হাজার, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে মাসে ১ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হতো। এ ছাড়া ক্লিনিকগুলো মাসিক ৫০ হাজার সালামি দিতেন।
ওদিকে শ্যামলী হাউজিং প্রথম প্রকল্পের পশ্চিম মাথায় বাঁশের সাঁকোর আশপাশে মাদকের স্পট চলে। এখানে থেকে পুরো শেখেরটেক, আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় মাদকের সাপ্লাই হয়। এই স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করেন মাঈনুদ্দিন ও বাবু ওরফে চা বাবু। এই স্পট থেকে দৈনিক ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এই চাঁদা আদায়ের কাজ করেন মাঈনুদ্দিন, বাবু ও কবির। পরে সেই টাকা থেকে কিছু অংশ কাউন্সিলরের ভাগিনা সুমনের কাছে পৌঁছে দেয়া হতো।
৩০নং ওয়ার্ডে হাসু-কাসুর হয়ে কোন এলাকা কে নিয়ন্ত্রণ করে এমন একটি তালিকা এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। এতে দেখা যায়, আদাবর ও আদাবর উত্তর নিয়ন্ত্রণ করতেন ইদ্রিস, রায়হান ও সোহান। মালা হাউজিং নিয়ন্ত্রণ করতেন আলামিন ও ইয়ামিন। সুনিবিড় হাউজিং নিয়ন্ত্রণ করতেন কালা রাজ্জাক। নবোদয় হাউজিংয়ের বাজারঘাট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন মাসুদ ওরফে কালা মাসুদ। পুরো শেখেরটেকে একক আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন সেলিম। সেলিমের সহযোগী রয়েছে সাগর। আদাবর ও মুনসুরাবাদ এলাকার কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতেন বাতেন।
শেখেরটেক, আদাবর ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় কাউন্সিলর আবুল কাশেম কাসু ও তার ভাই আবুল হাসেম হাসুর নিজস্ব কিশোর গ্যাং বাহিনী ছিল। এই বাহিনী দিয়ে পুরো এলাকায় রাজত্ব করতেন কাউন্সিলর দুই ভাই। এরা বিভিন্ন হাউজিংয়ে হামলা চালিয়ে ফ্লাট, প্লট ও জমি দখল করে নিতেন। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশেও এসব কিশোর গ্যাং বাহিনী ব্যবহার করা হতো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে কাউন্সিলর আবুল কাশেম কাসুকে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়েও সাড়া মেলেনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই by ড. মুহাম্মদ ইউনূস
‘আজ আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি, যারা জঘন্য হত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।’
তিনি বলেন, গত মাসে আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও সমস্ত জানা-অজানা শহীদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে, তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।
তরুণদের উদ্দেশ্যে ড. ইউনূস বলেন, তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বিপ্লবের সময় তোমরা পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারা দেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদের ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেন না বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।
তিনি বলেন, মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এদেশে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এ ছাড়া আমি জুলাই ও আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল তৈরি করার প্রয়াসে শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা খুনিদের প্রত্যর্পণ এবং স্বৈরাচারের সময় দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও আমলারা যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই। এজন্য বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ শুরু করেছি।
‘আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি হলো বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূরদূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলোতে পূর্ণাঙ্গতা দেয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে। যাদের শাহাদতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে, আমরা তাদের কখনোই ভুলবো না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি আমরা বলপূর্বক গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন সনদে স্বাক্ষর করেছি। ফলে স্বৈরাচার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘গুম সংস্কৃতি’র সমাপ্তি ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। আলাদাভাবে, আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনের ১৫ বছরে বলপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করছি। যেসব পরিবার তাদের নিখোঁজ পিতা, স্বামী, পুত্র ও ভাইদের পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে যন্ত্রণার সঙ্গে অপেক্ষা করছেন, আমরা আপনাদের বেদনায় সমব্যথী। আয়নাঘরগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই আমরা বলপূর্বক গুমের শিকার ভাইবোনদের কষ্ট ও যন্ত্রণা সম্পর্কে জানতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, গত মাসের শেষের দিকে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া আমার ভাষণে আমাদের সরকার এ পর্যন্ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার গ্রহণ করেছে, আমরা তার একটা প্রতিবেদন তুলে ধরেছি। আমরা রাজনৈতিক দল, সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের নেতা এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে ক্রমাগতভাবে বৈঠক করে যাচ্ছি। তারা আমাদের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। আমরা আমাদের বিদেশি বন্ধুদের কাছ থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়ে অভিভূত হয়েছি। আমাদের সাহসী এবং দেশপ্রেমিক প্রবাসীরাও জাতি পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
‘আজ এই স্মৃতিময় বিষাদ দিনে আমি শহীদদের প্রতিটি পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের প্রতি জানাই অসীম কৃতজ্ঞতা। আমি সব শহীদ পরিবারের সদস্যদের রাজধানীতে আমন্ত্রণ জানাবো, কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের সঙ্গে দেখা করবো। আমি তাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা কখনই শহীদদের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবো না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুঃশাসন ও স্বৈরাচার দ্বারা সৃষ্ট ক্ষত পূরণ করা। এজন্য আমাদের প্রয়োজন একতা ও সমন্বয়। আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহীদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের আত্মত্যাগকে জাতি হিসেবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে আবারো প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই।’
মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আ’লীগ নেতাকর্মীরা দিশেহারা, রাজনীতি ছাড়তে চান অনেকে
গত ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
শীর্ষ নেতারাও অনেকে দেশ ছেড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ কেউ ‘দেশ ছাড়ার চেষ্টাকালে' গ্রেফতার হয়েছেন।
এর বাইরে, নেতাদের মধ্যে এখনো যারা দেশে অবস্থান করছেন, তাদের প্রায় সবাই ‘আত্মগোপন’ করেছেন।
এমন অবস্থায় গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগে চরম নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছে।
এতে সাংগঠনিকভাবে দলটির রীতিমত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা।
তাদের অনেকেই এখন উদ্বগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কথা বলার সময় কেউ তাদের নামও প্রকাশ করতে চাননি।
আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা বলেন,‘আমাদের দলের এখন দিশাহারা বিপর্যস্ত অবস্থা হয়ে গেছে। একমাস হয়ে গেলো অথচ কেন্দ্র থেকে কার্যকর কোনো নির্দেশনা দেয়া হলো না। ফোন দিলেও কেউ ধরে না। হামলা-মামলা সব মিলিয়ে নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেতা-কর্মীদের অনেকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের এখনকার যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, সেটার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের দায়ী করছেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।
ফরিদপুরের একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, ‘ক্ষমতা হারালে এমন অবস্থা যে হতে পারে, সেটা তো নেতাদের অজানা থাকার কথা না। তারাই তো এর জন্য দায়ী।’
এলাকা ছেড়ে একমাস আগে তিনি ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
‘ক্রিম খাইলো নেতারা, কোটি কোটি টাকা বানাইলো তারা; আর তাদের পাপের শাস্তি ভোগ করতে হইতেছে আমাদের মতো তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের,’ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ওই ব্যক্তি।
এদিকে, গত ৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বেশ সক্রিয় অবস্থান দেখা গেলেও এখন আর সেটি চোখে পড়ছে না।
অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করার পর তারা ‘একটু চাপে’ রয়েছেন বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকে রাতে বাড়িতে থাকছেন না বলেও জানা গেছে।
তবে পরিস্থিতি যত খারাপই হোক, আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে জানাচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করা দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন,‘আওয়ামী লীগের নেতৃ্ত্বে ৭১ সালে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কাজেই দেশ যতদিন থাকবে, আমাদের দলও থাকবে। আমরা আবারো ঘুরে দাঁড়াবো।
একমাস ধরে ঘরছাড়া
দল ক্ষমতা হারানোর পর গত একমাসে ঢাকাসহ অনেক জেলাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।
চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাটসহ বেশ কয়েকটি জেলায় গণপিটুনি ও আগুনে পুড়ে বেশ কয়েকজন প্রাণও হারান।
এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যারা বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারা এখনো এলাকায় ফিরতে পারেননি।
আওয়ামী লীগের মধ্যমসারির এক নেতা বলেন,‘একমাস হয়ে গেলো আমরা বাড়ি-ঘরে যেতে পারছি না, পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কবে এলাকায় ফিরতে পারবো, তাও জানি না।’
ঢাকার কাছাকাছি একটি জেলায় তাদের পৈত্রিক বাড়িতে হামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন। এছাড়া এলাকায় তার যত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল, গত ৫ আগস্টের পর সবগুলোই দখল করে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
ওই নেতা বলেন, এলাকায় একটা বাজারে আমার দু’টি সার-সিমেন্টের দোকান এবং একটা স মিল আছে, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। সবই দখল হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে সামনে কীভাবে চলবো, কোথায় দাঁড়াবো, সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।
কিন্তু দোকান-মিল দখল করলো কারা?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, কারো নাম ধরে বলতে চাচ্ছি না। যারা মনে করতেছে ক্ষমতা পেয়ে গেছে, তারাই এটা করেছে এতটুকু বলতে পারি।
অন্যদিকে, খুলনার মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা জানিয়েছেন যে, তাদের এলাকার বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ওই বলেন, পদধারী নেতা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ যত নেতা-কর্মী আছে, সবাই এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
‘আর রাজনীতি করবো না’
হামলার ভয়ে নিজেরা গা ঢাকা দিলেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বেশিরভাগের পরিবার-পরিজন তাদের এলাকাতে রয়েছেন। তবে আয়-রোজগার না থাকায় সংসার চালাতে গিয়ে অনেকের স্ত্রী-সন্তানরা বিপাকে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেয়া ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, আমরা নিজেরাই তো পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কাজ-কাম করবো কী করে? আর আয় না থাকলে সংসারের কী অবস্থা হয়, তা তো বুঝতেই পারছেন?
পেশায় অটোচালক ওই ব্যক্তি জানান, সংসার চালাতে না পেরে তার স্ত্রী প্রায়ই ফোন করে কান্নাকাটি করে।
‘টাকা-পয়সা যা রেখে আসছিলাম সব এই কয়দিনে শেষ হয়ে গেছে। এখন বাজার করার মতো অবস্থাও নেই। ঘরে ছোট ছোট দু’টি ছেলে, তারা কী খাবে? মোবাইল করে আমার বউ ডেইলি কান্নাকাটি করে,’ বলছিলেন ওই আওয়ামী লীগ কর্মী।
এ অবস্থায় সপ্তাহখানেক আগে সন্তানদের নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে গিয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফরিদপুরের ওই আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন, ‘কিন্তু এভাবে কতদিন থাকবে? ভাবতে গেলেই কান্না আসে। মনে হচ্ছে, রাজনীতি করাই পাপ হয়েছে। তাই আর রাজনীতি করবো না বলে সিদ্ধান্ত নিছি।’
কর্মীদের মধ্যে আরো অনেকেই এমন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন বলে জানাচ্ছেন আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের এক নেতা।
দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলার অন্যতম শীর্ষ নেতা বলেন, অনেকেই খুব হতাশ হয়ে পড়েছে। রাজনীতি ছেড়ে দিবে এমন কথাও কয়েক জন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছে। আমার জায়গা থেকে আমি বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরে কী হবে জানি না।
‘আপা পালাইছে, মানতেই কষ্ট হয়’
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বেশ কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে একটি গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল যে, প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে শেখ হাসিনা পলায়ন করেছেন। তখন এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছিলেনে যে, শেখ হাসিনা পালায় না।
‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, শেখ হাসিনা নাই, শেখ হাসিনা চলে গেছে; শেখ হাসিনা পালায় না,’ গত ২৪ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
অথচ এ ঘটনার ঠিক ১০ দিন পরে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর গত ৫ আগস্ট দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান, যা এখনো মানতে পারছেন না দলটির নেতা-কর্মীরা।
আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলার এক নেতা বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। আপা পালাইছে, মানতেই কষ্ট হয়।’
তিনি আরো বলেন,‘শেখ হাসিনাকে যারা চেনেন, জানেন। যারা কাছ থেকে তাকে দেখেছেন, তারা কেউই এটা মানতে পারবে না। কারণ উনি মোটেও পালিয়ে যাওয়ার মানুষ না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতির দেশ ছেড়ে না গেলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা জেলার ওই নেতা বলেন, ‘আপা দেশে থাকলে নেতা-কর্মীরা মনে বল পেতেন। ফলে দলে অন্তত এখনকার মতো বিপর্যয় দেখতে হতো না।’
একই কথা বলেছেন তৃণমূলের আরেক নেতা।
ওই নেতা বলেন, ক্ষমতা হারানোর পর খালেদা জিয়া ছাড়েননি, এমনকী এরশাদের মতো স্বৈরাচারও পালায়নি। সেখানে নেত্রী কেন দেশ ছাড়লো , সেটাই আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।
বিচারের মুখোমুখি হতে হলেও এখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা উচিৎ বলেও মনে করছেন তারা।
ঢাকা জেলার আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আমি মনে করি, আপার দ্রুত দেশে ফিরে আসা উচিৎ। উনি দেশের মাটিতে পা রাখলেই দেখবেন নেতা-কর্মীরা আবার সব জেগে উঠেছে।’
মামলায় জর্জরিত নেতারা
পালিয়ে থাকা অবস্থাতেই একের পর এক মামলায় আসামি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই সারা দেশে শতাধিক মামলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হত্যা মামলা।
ওইসব মামলার আসামির তালিকায় তার শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের অনেকের নাম রয়েছে।
এর বাইরে, জেলা পর্যায়ে তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধেও অসংখ্য মামলা হতে দেখা যাচ্ছে।
খুলনা মহানগরীর শীর্ষ এক নেতা বলেন,‘আমাকেই যে কতগুলো মামলায় আসামি করা হয়েছে, তার কোনো হিসেব নেই। খুলনার যেখানে যত মামলা হচ্ছে, সবখানেই অকারণে আমার নাম ঢোকানো হচ্ছে।’
দেশে পরিস্থিতি আরও শান্ত হয়ে আসলে আদালতে গিয়ে মামলার জামিন নিবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
খুলনার ওই নেতা বলেন, দেশ তো এখনো অশান্ত। ফলে আমরা আদালতেও যেতে পারছি না, জামিন নিতে পারছি না। শান্ত হলে আদালতে যাবো।
চাপে গোপালগঞ্জের নেতারা
‘শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকাসহ অন্য জেলাগুলোর নেতা-কর্মীরা যখন ‘আত্মগোপনে’ যাচ্ছিলেন, তখন ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছিল আওয়ামী লীগ সভাপতির নিজ জেলা গোপালগঞ্জে।
‘শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে’ দাবি করে গত ৫ আগস্টের পরপরই বেশ কয়েক দফায় বিক্ষোভ মিছিলও করেছিলেন তারা।
ওই সময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে সেনা সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুঃখপ্রকাশ’ করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
কিন্তু গত ১৫ আগস্টের পর গোপালগঞ্জেও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদেরকে আর আগের মতো সক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
মূলত সেনা সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই তাদের ওপর ‘চাপ’ ছিল, যা এখন আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
গোপালগঞ্জের থানা পর্যায়ের এক নেতা বলেন,‘সবমিলিয়ে আমরা এখন চাপের মধ্যে আছি, বিশেষ করে যৌথ অভিযান শুরু পর চাপ একটু বেড়েছে।’
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গত চৌঠা সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাদের অনেকেই রাতে নিজ বাড়িতে থাকছেন না বলেও জানা যাচ্ছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে জেলার শীর্ষ দুই নেতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল বিবিসি বাংলা। কিন্তু তাদের ফোন পাওয়া গেছে। এছাড়া হটসঅ্যাপ যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
হাল ধরবে কে?
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কিছুদিন পর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন যে, তার মার আর রাজনীতিতে ফিরবেন না।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, আমার মনে হয় এখানেই শেষ। আমার পরিবার এবং আমি- আমাদের যথেষ্ট হয়েছে।
তবে কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য তার কণ্ঠে ভিন্ন সুর শোনা যায়।
বিবিসিকে দেয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘অবশ্যই তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে ফিরবেন, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে।’
এরপর একটি বিবৃতিতে গত ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক দিবস পালনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
গোপালগঞ্জ ও বরিশালের দু’জন জেলা পর্যায়ের নেতার সাথেও তখন কথা বলেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, যার কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েও পড়েছিল তখন।
এছাড়া জয়ও জানিয়েছিলেন যে, তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে প্রস্তুত। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাদের সেভাবে আর কোনো নির্দেশনা দিতে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় বহু নেতারাও ‘আত্মগোপনে’ রয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে। ফলে নেতৃত্বশূন্যতা অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
এমন অবস্থার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, শিগগিরই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, সেটি নিয়েও নানান আলোচনা শোনা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এসব সবই অপপ্রচার। কমিটি পরিবর্তনের ওইরকম কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি।’
কিন্তু হঠাৎ এমন ‘অপপ্রচার’ ছড়ানোর কারণ কী? কারাই-বা এটি ছড়াচ্ছে?
ওই নেতা বলেন, ‘এটি ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগকে দ্বিধাবিভক্ত করা। দলকে ফাঁটল ধরানোর জন্যই বিএনপি-জামায়াত এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা আগেও বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি।’
এছাড়া তৃণমূলের কর্মীরা শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, সেটি স্বীকার করেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ ওই নেতা বলেন, ‘আমাদের যে ভুল আছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন কীভাবে সেই ভুল শুধরে দলকে আবারও সক্রিয় করা যায়, মিটিং হলে আমরা সেটিই আলোচনা করবো।’
সূত্র : বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার শেষের আগে রাজনীতি করতে পারবে না ফ্যাসিবাদ -উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমনটি জানান। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়েও কথা বলেছেন আসিফ।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ তাদের অপতৎপরতা বিষয়ে সজাগ আছে। ছাত্র-জনতা হত্যার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনর্বাসনের সুযোগ নেই।
ফ্যাসিবাদী দল বলতে কাদের বুঝানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে রাজনৈতিক দল বা জোট বাংলাদেশে রাজনীতির নামে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদেরই বুঝানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজনীতি করার সুযোগ পাবে কি না সেটি আমরা জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তারা পাবলিক প্রোগ্রাম করতে পারবে কিনা সেটি এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা এটিকে নিরুৎসাহিত করব।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে কি না তা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় চিন্তা করবে। তারা যেহেতু বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে সেহেতু তাদের হত্যার দায় স্বীকার করতে হবে। তাদের বিচারও নিশ্চিত করা হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো পরাজিত আওয়ামী লীগকে গণহত্যার দায় স্বীকার করতে হবে। গণহত্যার দায় স্বীকার না করে তারা এখানে রাজনীতি করবে কী করে? আমি তো মনে করি না সেটা করা উচিত। বরং তাদের দায় স্বীকার করে বিচারের সম্মুখীন হওয়া উচিত। তারপরে তারা পলিটিক্স করতে পারে। তার আগে না। আসিফ বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক মাসপূর্তিতে দেশের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সকল শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকলের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়া শহীদদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটা সম্মেলন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। সরকার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে বন্যার্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেছে।
শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া সমাধানে কাজ করবে। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আসিফ মাহমুদ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন শেখ হাসিনা : মামুনুল হক
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষকে ভয় দেখিয়ে আতঙ্কিত করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী ধরে রাখার চেষ্টা করেছিল। বাংলাদেশ প্রমাণ করে দিয়েছে জোর করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না। সাবাশ বাংলাদেশ। স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, গুম ও হত্যাকারীরা যদি আবার ওঠার চেষ্টা করে আমরা আবারও রাজপথে নামবো ইনশাআল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর রেজিস্টারি মাঠে খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ও আহদের স্মরণে এবং বিচারের দাবিতে সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার অবৈধভাবে দেশ শাসন করেছে। পরিশেষে ৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের কাছে শেখ হাসিনা ধিক্কৃত মানুষ। শেখ হাসিনার কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না ইনশাল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটি ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই। মত পার্থক্য থাকবে কিন্তু সংঘাত থাকবে না। মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সেবার কাজ চালিয়ে যেতে চাই। যদি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত সফলতা চাই তাহলে ন্যায় ও ইনসাফ নিয়ে ইসলামকে সঙ্গে রাখতে হবে। আমরা বলতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই স্যার সলিমুল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে উন্মোচন করতে হবে। স্বাধীনতার ২০-৩০ বছর আগে মৃত্যুবরণকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণকারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাংলাদেশ বিরোধী রবীন্দ্র সংগীত জাতীয় সংগীত হতে পারে কিনা দেখতে হবে। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। ছাত্র-জনতার সঙ্গে ন্যায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।
মামুনুল হক বলেন, এখন সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে। তিনি সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সারাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে পেরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনা সরকার হটিয়েছে। এর ফলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি সিলেটে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাব, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী রুদ্ধ সেন এবং গোলাপগঞ্জসহ ছাত্র আন্দোলনে সব নিহতদের মাগফিরাত কামনা করে সুষ্ঠু বিচার ও তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা গাজি রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাওলানা এমরান আলম ও জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা ফখরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মাওলানা আতা উল্লাহ আমিন, মাওলানা আব্দুল আজিজ, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা সামিউর রহমান মুসা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফয়েজ আহমদ, সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হুসাইন ও যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান কাসেমী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্র–জনতার ‘শহীদি মার্চ’ বৈষম্যবিরোধী দেশ গড়ার শপথ
‘শহীদি মার্চ’ শিরোনামে এই পদযাত্রায় বারবার ওঠে মুক্তির স্লোগান, মুক্ত বাংলাদেশের স্লোগান।
একই সঙ্গে উচ্চারিত হয় আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ গণ–আন্দোলনে নিহত অনেকের নাম।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বেলা তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে ‘শহীদি মার্চ’ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেলা দুইটা থেকেই সেখানে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র–ছাত্রীরা। তাঁদের প্রায় প্রত্যেকের মাথায় দেশের পতাকা বাঁধা ছিল। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হওয়া ‘শহীদি মার্চ’ পদযাত্রা নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, কলাবাগান, মিরপুর রোড হয়ে ধরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের সামনে যায়। সেখান থেকে ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে ‘শহীদি মার্চ’ যখন শহীদ মিনারে এসে পৌঁছায়, তখন সেখানে আগে থেকেই হাজারো মানুষ অবস্থান করছিল।
শহীদ মিনারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণহত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিটি শহীদ পরিবারকে আর্থিক ও আইনি সহযোগিতা দেওয়া। প্রশাসনে দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টদের দোসরদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা। গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ ঘোষণা করা এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রোডম্যাপ (পথনকশা) দ্রুত ঘোষণা করা।
‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচির সমাপ্তি শেষ করার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে আমরা আবার রক্ত দিতে প্রস্তুত আছি।’
সারজিস বলেন, ‘ভুলেও কেউ ফ্যাসিস্টদের দোসর হওয়ার চেষ্টা করবেন না। যাঁরা ফ্যাসিস্টদের বিন্দুমাত্র ধারণ করেন, তাঁদের উদ্দেশে বলতে চাই, যদি দোসর হয়ে থাকার চেষ্টা করেন, তাহলে এ দেশের ছাত্র–জনতা একসঙ্গে তাঁদের প্রতিহত করবে। কোনো চাঁদাবাজ, ক্ষমতার অপদখলকারী, সিন্ডিকেটদের অবস্থান এ দেশে হবে না। ’
‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, আবু বাকের মজুমদার, আবদুল কাদের ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আখতার হোসেনসহ অনেকে অংশ নেন।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গত জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া ছাত্র–জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে আহতদের মধ্যে এখনো যাঁরা হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন, যাঁরা হাত-পা-চোখ হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। যাঁদের নেতৃত্বে গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
সন্তানের ছবি নিয়ে স্বজনদের আকুতি
গত জুলাই ও আগস্টের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরাও গতকালের ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের একজন ঢাকার ডেমরার বাসিন্দা আবদুর রব মিয়া। গত ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে তাঁর বড় ছেলে মিরাজ হোসেন নিহত হন।
নিহত মিরাজের বাবা আবদুর রব প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলনে নিহত প্রত্যেককে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। ছেলের আয়ে সংসার চলত জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও ছাত্র–জনতার কাছে প্রত্যাশা, শহীদ পরিবারগুলোকে কেউ যাতে ভুলে না যায়।
নিহত ছেলের ছবি নিয়ে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন বাবা রমজান আলী। তাঁর ছেলে মোবারক হোসেন (১৩) গত ১৯ জুলাই রাজধানীর গ্রিন রোড এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
রমজান আলী প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের গুলি তাঁর ছেলের মাথায় লেগেছিল। ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন তিনি।
স্লোগানে স্লোগানে বিচার দাবি
আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির এক মাস পূর্তিতে ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচিতে খুনের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ছাত্র–জনতা। আন্দোলনে নিহতদের বিচারের দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেন তাঁরা।
কখনো স্লোগান উঠেছে, ‘আমার ভাই কবরে/ খুনি কেন বাইরে’; ‘বিচার চাই, বিচার চাই/ খুনি হাসিনার বিচার চাই’। পথ চলতে চলতে কখনো আবার স্লোগান উঠেছে ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ/ শেষ হয়নি যুদ্ধ’; ‘স্বৈরাচারের ঠিকানা/ এই বাংলায় হবে না’, ‘তুমি কে আমি কে/ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’। আবার কখনো স্লোগান হয়েছে ‘ভারতের দালালেরা/ হুঁশিয়ার, সাবধান’; ‘দিল্লি না ঢাকা/ ঢাকা ঢাকা’।
‘শহীদি মার্চ’–এ অংশ নেওয়া ঢাকার বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা সাঈদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অন্যায়–অবিচার, গুম, খুন, জুলুম ও বৈষম্য দূর করতে ছাত্র–জনতা রাজপথে নেমেছিলেন। অতীতের মতো জুলুম–অনাচার–বৈষম্য যাতে না হয়, সেটাই সবার প্রত্যাশা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক: সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন নয়
আজ বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটা বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের পঞ্চম বৈঠক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তির দিনে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়।
পরে সন্ধ্যায় রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পেয়েছি। যেহেতু আমরা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে গঠিত একটি সরকার, আমরা মনে করি, সম্পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী যে রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক জোট বাংলাদেশে যে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না, এই প্রশ্ন জনগণের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। তবে পাবলিক প্রোগ্রাম (প্রকাশ্য কর্মসূচি) করার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ভাবছি, সেটাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। সেটি এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে আমরা অবশ্যই নিরুৎসাহিত করব। সম্পূর্ণভাবে বিচারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন, বিচারের বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয় দেখছে। কীভাবে বিচার হবে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত একটি রূপরেখা প্রকাশ করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে।
আওয়ামী লীগ দল হিসেবে কার্যক্রম চালাতে পারবে কি না, ব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। যেহেতু আওয়ামী লীগ দেশে একটি গণহত্যা ঘটিয়েছে, সেই গণহত্যার দায় নিয়ে তারা কীভাবে ফিরবে বা তাদের ফিরতে দেওয়া হবে কি না, এটি দেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটি জনগণের সিদ্ধান্ত।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, গণভবন জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি এবং বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যত অন্যায়, অবিচার হয়েছে, তার সবকিছু সংরক্ষণ করার জন্য এটাকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হবে, জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, গণভবন যে অবস্থায় আছে, জনগণ যেভাবে রেখেছে, সে অবস্থায়ই রাখা হবে। এর মধ্যে ভেতরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। যাতে অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গার অভিজ্ঞতা নিয়ে এই জাদুঘর করা হবে। এ বিষয়ে খুব দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণপূর্ত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজটি সম্পন্ন করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এস আলমের গাড়ি–কাণ্ড: ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হলো সেই বিএনপি নেতাকে
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই বিএনপি নেতাকে সৌদি আরবের মদিনাগামী একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে আটকে যায় তাঁর বিদেশযাত্রা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের গাড়ি–কাণ্ডে ওই বিএনপি নেতার বিদেশযাত্রা আটকে যায়। তিনি যে ভবনের ফ্ল্যাটে থাকেন, সেটির পার্কিং থেকে গতকাল বুধবার রাতে এস আলমের একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে একটি ফ্লাইট করে স্ত্রীসহ মদিনায় যেতে ফ্লাইটে বসে যান মঞ্জুর রহমান চৌধুরী নামের এক যাত্রী। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হয়। পরে তাঁকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে ছাড়াই ফ্লাইটটি দেরিতে ৬টা ২২ মিনিটে ছেড়ে যায়।
গতকাল রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের জামালখান এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচে পার্কিং থেকে এস আলম গ্রুপের একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। গাড়িটির নম্বর চট্ট-মেট্রো ঘ-১১-৫৩৪৪। বাংলাদেশ সড়ক পরিববহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধনে গাড়িটি এস আলমের মালিকানাধীন সোনালী লজিস্টিকসের নামে নিবন্ধন করা। এ ছাড়া ঠিকানা হিসেবে নগরের আসাদগঞ্জ এস আলম ভবনের ঠিকানা দেওয়া আছে।
বহুতল ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন কোতোয়ালি থানার বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী। সেখানে জব্দ করা ওই গাড়ি ছাড়াও আরও দুটি গাড়ি ছিল। পুলিশ যাওয়ার আগে এগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
এস আলমের গাড়ি–কাণ্ডে মঞ্জুর রহমান চৌধুরীকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা প্রসঙ্গে জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গতকাল রাতে প্রথম আলোকে তিনি বলেছিলেন, ‘গাড়িটি আমার বাসার নিচে পার্কিংয়ে কে রেখেছে জানি না। আমি রাখিনি।’
এর আগে গত ২৮ আগস্ট এস আলম গ্রুপের গাড়িতে চড়ে কক্সবাজারের পেকুয়ার নিজ এলাকায় সংবর্ধনায় এসে সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় নগরের কালুরঘাট এলাকার একটি কারখানা থেকে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি বের করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানসহ তিন বিএনপি নেতাকে দল থেকে শোকজ করা হয়। পরে তাঁদের তিনজনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: সেই মিয়া আরেফি, হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক অব্যাহতি পেলেন by আসাদুজ্জামান
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পল্টন থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা থেকে মিয়া আরেফি, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক হোসেনকে অব্যাহতি দিতে ১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। ফলে মামলা থেকে তাঁরা অব্যাহতি পেয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর মক্কেল ইশরাক হোসেনসহ তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষের কারণে নয়াপল্টনে দলটির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া আরেফি। এ সময় সেখানে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরদিন ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়া আরেফিকে আটক করে পুলিশ। ওই দিনই ‘মিথ্যা পরিচয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগে মিয়া আরেফি, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা করেন মহিউদ্দিন শিকদার নামের এক ব্যক্তি। সেই মামলায় মিয়া আরেফি, হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক হোসেন গ্রেপ্তার হন।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন (গত ৬ আগস্ট) মিয়া আরেফি, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক জামিন পান।
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মহিউদ্দিন শিকদার আওয়ামী লীগের মতাদর্শী। অপর দিকে আসামি মিয়া আরেফি একজন বাংলাদেশি ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। তিনি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করে আসছেন। আর চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রেখেছেন। আর ইশরাক হোসেন দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংগঠন বিএনপির নেতা। ঘটনার দিন কাকতলীয়ভাবে পল্টনে বিএনপির অফিসে উপস্থিত ছিলেন।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করেন। বাদী তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছেন। তিনি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ (তথ্যগত ভুল) হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুজ্জামান।
মামলায় মহিউদ্দিন শিকদার দাবি করেছিলেন, সেদিন বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বলে পরিচয় দেন মিয়া আরেফি। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, মিয়া আরেফি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা নন। তিনি মার্কিন সরকারের কেউ নন।
গত বছরের ২ নভেম্বর গ্রেপ্তার হওয়া চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী আদালতকে বলেছিলেন, ‘মিয়া আরেফি নামের কাউকে আমি চিনি না। সেদিন নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে আমার পরিচিত কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যাই। কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে গিয়ে আহত কয়েকজনকে দেখতে পাই। পরে বিএনপি নেতা ইশরাকের সঙ্গে দেখা হয়। এরপর বিএনপি অফিসে যাই। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে চেয়ার দেওয়া হলে আমি বসি। আমি কোনো কথা বলিনি।’
গত বছরের ২ নভেম্বর জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিয়া আরেফি ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ আমলে নেওয়ার বিষয়ে অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রমিক বিক্ষোভ আশুলিয়া ষড়যন্ত্র by পিয়াস সরকার
আন্দোলনের শুরু হয় যেসব কারখানা থেকে তারমধ্যে একটি আশুলিয়ার পার্ল গার্মেন্টস। তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ২৮শে আগস্ট। শুরুতে তারা মৌখিকভাবে দাবির কথা জানায়। আন্দোলনে অংশ নেয়া এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের মূলত দাবি ছিল হাজিরা বোনাস ৮০০ টাকা করার দাবিতে। এরপর আমরা লিখিতভাবে জানাই। গার্মেসন্ট থেকে আমাদের জানানো হয় বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর আমরা যথারীতি কাজ করছিলাম। এরপর আমাদের সঙ্গে জুয়েল নামে এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে। তিনি শিমুলতলা এলাকার দি ড্রেস অ্যান্ড দি আইডিয়াস পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসাবে পরিচয় দেন। তার সঙ্গে থাকা সাইফুল ইসলাম পরিচয় দেন জামগড়ের আলীস জেন্টস ড্রেসাপ নামে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। দি ড্রেস অ্যান্ড দি আইডিয়াস নামে কারখানার খোঁজ পাওয়া গেলেও আলীস জেন্টস ড্রেসাপ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, এখনই আমাদের সময় বেতন বৃদ্ধি করার। আমাদের শুধু বেতন ও ওভার টাইম হাজিরা ৮০০ টাকা করার কথাই বলা হয়। গত ২৯শে আগস্ট আমাদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। আমরা কি করবো তখন বুঝতে পারছিলাম না। এরপর সেদিন রাতে এই দুই নেতা আবারও আসেন। তারা বলেন, এখুনি সময় দাবি আদায় করে নেবার। এখন নতুন সরকার আমাদের দাবি তুলে বেতন বাড়িয়ে নিতে হবে। গত ৩১শে আগস্ট আমরা মাঠে নামি। কারণ হিসেবে বলেন, আমাদের বেতন খুবই কম। আমরা প্রচুর পরিশ্রম করি। একটা আন্দোলন করে যদি বেতন বাড়িয়ে নেয়া যায় তাহলে ক্ষতি কি?
৩১শে আগস্ট আন্দোলনে নামা আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের দাবি জানিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করছিলাম। এ সময় কিছু লোক এসে বলতেছে সড়ক আটকাইতে। আন্দোলনে অধিকাংশই ছিল নারীকর্মী। তারা নানা ধরনের উসকানি দিয়ে তাদের সামনে পাঠিয়ে দেয়। ইসমত আরা নামে এক সুইং অপারেটর বলেন, আমরা স্ল্লোগান দিচ্ছিলাম আর যাদের চিনি না তারা ঢিল মারছিল। আর লাঠি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙছিল। এরপর আমাদের অনেকেই ঢিল দেয় কিন্তু তারা শুরু করে দিয়ে পিছনে চলে যায়।
অত্র এলাকার একটি সিরামিক ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়। সিরামিক কারখানাটি নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নয়। এখানে বিভিন্ন কারখানার উদ্বৃত্ত কাজ করা হয়। এই সিরামিকের সামনে থাকা দোকানদারদের সঙ্গে ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। গত ৪ তারিখ আন্দোলন করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় একদল লোক এসে দেয়াল টপকে ঢুকে পড়ে কারখানায়। এরপর তারা একটি পকেট গেট খুলে দিয়ে বের হয়ে আসে। সেখানে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীরা। কিছু সময় থাকার পর পুলিশ চলে আসায় সরে যায় তারা।
সাঈদ নামে এক দোকানদার বলেন, যারা লাঠিসোটা হাতে প্রথম ঢুকেছিল তাদের আগে দেখি নাই। আর তাদের দেখে মনেও হচ্ছিল না শ্রমিক। তারা সামনে থাকা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকদের লাঠি তুলে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেয়। একজনকে চড় থাপ্পড়ও মেরেছে। দোকানে থাকা শহিদুল ইসলাম বলেন, এরা আন্দোলনকারীদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে পাহারা দিচ্ছিল আর উসকানি দিচ্ছিল যাতে ভাঙচুর করে। আগুন লাগিয়ে দেয়ার কথাও বলছিল। তারা সংখ্যায় আট থেকে ১০ জনের মতো ছিল।
আশুলিয়ার জামগড় এলাকায় রয়েছে বেশক’টি গার্মেন্ট। এই এলাকায় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক বেশ জোরালোভাবে ক’দিন ধরে আন্দোলন করেন। গত ৪ তারিখ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর চালানো হয়। গতকাল জোহরের নামাজের পর বেশ কয়েকজন আলোচনা করছিলেন। এ সময় শরিফুল নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের বেতন যে খুবই কম এটাতো মানতেই হবে। তবে আমরা চাই না আমাদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের বেতনের দাবি কাজে লাগিয়ে একপক্ষ আমাদের সামনে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু আমরা যে ব্যবহার হচ্ছি- সেটাও বুঝতে পারতেছি।
তাদের আন্দোলনে নামার জন্য একত্র করেছেন সজীব নামে এক ব্যক্তি। তিনি গাজীপুরের শ্রমিক নেতা বলে পরিচয় দেন তাদের। তার সঙ্গে ছিল আরেক ব্যক্তি। তারা কেউই ফোনে যোগাযোগ করতেন না। তারা আমাদের বলেন- আপানার শুধু আন্দোলনে নামবেন। আমরা আপনাদের দাবি নিয়ে কথা বলবো। এরপর গত মঙ্গলবার ও বুধবার জামগড় সড়কে তারা আগেই উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাদের পিছনে রেখে সামনে সড়কে আগেই নেমে যায়। এরপর আমরা যাই প্রথমে তারা স্লোগান ধরে। এরপর সরে আসে।
গত বুধবারে গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ১০/১৫ জনের এই গ্রুপটা আমাদের নানা বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত করে তোলে। তারা বলে, আমাদের রক্ত-ঘামে ইনকাম করে তারা বিলাসবহুল বাড়িতে থাকে। গাড়িতে চড়ে। আমাদের পেটে ভাত জোটে না। এসব নানা কথা বলে ক্ষিপ্ত করে তোলে। এরপর তাদের কয়েকজন লোক গাড়িকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে থাকে।
এই তিনজনের বাইরে শ্রমিকদের ক্ষিপ্ত করে তোলার কাজ করেন ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয় নামে এক ব্যক্তি। তিনি আন্দোলন চলাবস্থায় মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে শ্রমিকদের উত্তপ্ত করে তুলতেন। তার সঙ্গে থাকা আর দুই মোটরসাইকেলে থাকা চারজন কাউকে ভিডিও করতে দিতেন না। এক আন্দোলনকারী তার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে বলতে শোনা যায়, আপনাদের গার্মেন্ট মালিকরা আপনাদের টাকা দিচ্ছে না। আপনাদের শ্রম দিয়ে যে মেশিন চলে সেই মেশিন দিয়ে তারা টাকা ইনকাম করে। আপনারা টাকা আদায়ে রাস্তায় থাকবেন না আপনারা গার্মেন্টে যান। যে মেশিন দিয়ে পোশাক বানান সেই মেশিনগুলো ছিনিয়ে নিয়ে আসুন।
এই উসকানি দেয়া চার ব্যক্তির পরিচয় জানতে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা হয়। অধিকাংশরাই তাদের ঠিকমতো চেনেন না। আবার অনেকেই বলেন, এই চারজনই সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের লোক। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু কেন এই বিশৃঙ্খলা? এই বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান। এটা মূলত ঝুট ব্যবসার কারণে। গার্মেন্টে কোটি কোটি টাকার ঝুট ব্যবসা হয়। যেগুলো মূলত স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করতেন। এখন তাদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় এই ব্যবসা হাত ছাড়া হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই একটা পক্ষ শ্রমিকদের উসকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করবার চেষ্টা করছে কিংবা নতুন যারা ব্যবসার হাল ধরবেন তারা এগুলো করাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ কারখানায় কাজ চলছে। কয়েকটি কারখানার সামনে বিক্ষোভ করছিলেন শ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারাও চোখে পড়ে। সেইসঙ্গে কারখানার স্টাফরাও লাঠিহাতে পাহারা দিচ্ছিলেন।
আশুলিয়ায় বহিরাগতদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, আশুলিয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে বেশকিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ কারখানাতেই স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। এছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের সদস্য আহতসহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। সরজমিন আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু স্টাফ মূল ফটকে অবস্থান করছেন। কোথাও দাবি আদায়ে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তবে বুধবার যেসব কারখানা বন্ধ ছিল, সেগুলোর অধিকাংশেই কাজ চলছে। এর মধ্যে সকালে অনন্ত গার্মেন্টস’র শ্রমিকরা কারখানায় প্রবেশ করলেও কাজ না করে বিভিন্ন দাবি আদায়ে কাজ বন্ধ করে বসে থাকে। এ সময় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কিছু দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা না মেনে কারখানা থেকে বেরিয়ে যায়। কারখানায় বিশৃঙ্খলা করে বেরিয়ে যাওয়ার পথে অতর্কিতভাবে ৫০-৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোটা হাতে হামলা চালালে বেশক’জন শ্রমিক আহত হন। একই ঘটনা ঘটে পার্শ্ববর্তী নিউ এইজ কারখানায়। সকালে শ্রমিকরা কারখানাটিতে প্রবেশ করলেও ভেতরে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে না জানিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে মালিকপক্ষ কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার আশপাশে স্থানীয় ৫০-৬০ জনের একটি গ্রুপ লাঠিসোটা হাতে অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে এলে লাঠিয়াল গ্রুপটি তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন শ্রমিক আহত হন। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যায়ক্রমে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জিরাবো এলাকা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নরসিংহপুর এলাকার শারমিন গ্রুপের কারখানাগুলো বুধবার সকালে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সেগুলোতে উৎপাদন চলছে। এ সময় কারখানার সামনে পুলিশের পাশাপাশি কয়েকজন যুবকে লাঠি হাতে পাহাড়া দিতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক নিজেকে শারমিন গ্রুপের স্টাফ দাবি করে বলেন, আমরা কারখানার নিরাপত্তায় সড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছি। কারণ অন্য কারখানার শ্রমিক ও চাকরি প্রত্যাশীর নামে বহিরাগতরা কারখানায় হামলা করে। শারমীন গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, দুপুর ১২টার পর কারখানার শ্রমিকরা কাজ না করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে। এতে রাশেদুল গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরির অভিযোগে নরসিংহপুর এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা দুইজনকে আটক করে শিল্প পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গাজীপুরে নিরাপত্তা জোরদার করে কল-কারখানা চালু
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, গাজীপুরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে খুলে দেয়া হয়েছে তৈরি পোশাক কারখানাসহ সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান। গতকাল সকাল থেকে দলে দলে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করেছেন। কারখানা এলাকার নিরাপত্তায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। টহলে রয়েছেন সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন স্থানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে মানববন্ধন করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় গাজীপুরে বেশকিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন কর্তৃপক্ষ। পরে বুধবার বিজিএমইএ’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সকল কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন মালিকরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজীপুরের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, কাশিমপুরসহ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো খোলা হয়। কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ কারখানায় এসেছেন। নগরের ছয়দানা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এলাকাবাসী ও কারখানা মালিকপক্ষ বিশৃঙ্খলা মোকাবিলার লক্ষ্যে সকালে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
আয়োজকরা বলছেন, ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে হামলা চালিয়ে, ভাঙচুর করে শিল্পখাতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি ও ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্যই তারা মাঠে রয়েছেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ জানান, সব কারখানাই খোলা রয়েছে। কারখানা এলাকায় নিরাপত্তায় প্রায় ৯০০ শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিজিবি ও সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।
শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা নিরসনে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা জরুরি বৈঠকে বসেন। পরে শ্রম ও কর্ম সংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে অ্যাকশন শুরু হবে। যারা ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যে তথ্য রয়েছে, সেটার ভিত্তিতে তাদের (ইন্ধনদাতাদের) গ্রেপ্তার করা হবে। সেখানে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, সেটার জন্য পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
September
(772)
-
▼
Sep 06
(26)
- ‘নাটক কম করো পিও!’—এমন সাড়া ফেলেছিল আরও যত কার্টুন...
- আত্মসমর্পণের পরেও ইউক্রেনীয় সেনাদের যেভাবে গুলি কর...
- তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান করতে হবে -পিটিআইক...
- বাংলাদেশে বন্ধুর খোঁজে ভারত, বিএনপি-জামায়াত দূরত্ব...
- ড. ইউনূসের ভাবনা আজ আমাদের আগের চেয়েও বেশি প্রয়োজন...
- দ্বৈত নাগরিকদের সংসদ সদস্য হওয়ার পথে সংবিধানে বাধা...
- ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী থেকে আদাবরের জমিদার! by শরিফ রুবেল
- ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই by ড. মুহাম্মদ ইউনূস
- আ’লীগ নেতাকর্মীরা দিশেহারা, রাজনীতি ছাড়তে চান অনেকে
- বিচার শেষের আগে রাজনীতি করতে পারবে না ফ্যাসিবাদ -উ...
- ভারতে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন শেখ হাসিনা : মামু...
- ছাত্র–জনতার ‘শহীদি মার্চ’ বৈষম্যবিরোধী দেশ গড়ার শপথ
- উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক: সম্পূর্ণ বিচার না হওয়া পর্য...
- এস আলমের গাড়ি–কাণ্ড: ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আনা হলো সে...
- রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: সেই মিয়া আরেফি, হাসান সারওয়ার্...
- শ্রমিক বিক্ষোভ আশুলিয়া ষড়যন্ত্র by পিয়াস সরকার
- শহীদি মার্চ থেকে বিচারের প্রত্যয়
- হাসিনা পরিবারের নামে জমি বরাদ্দ টপ সিক্রেট কেন?
- ‘চাইলেই যেকোনো বিজ্ঞাপন করতে পারবেন না ক্রিকেটাররা...
- নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগেই কি দায়মুক্তি? by মো. আল...
- মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপ আগেই সতর্ক যুক...
- বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাইয়ে হতভম্ব ওয়াসিম আকরাম
- সিলেটে চিনির সাম্রাজ্যে মিললো মহিষের চালান by ওয়েছ...
- ‘গণহত্যার বিচার করতে হবে’ -জামায়াত
- বিএসএফকে শিশু স্বর্ণা বলেছিল- ‘আমাদের মেরো না আইনে...
- সীমান্তে স্বর্ণা দাশ হত্যা: কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশের
-
▼
Sep 06
(26)
-
▼
September
(772)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...