Friday, February 10, 2017

সবার দৃষ্টি রায়ের দিকে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে বিশ্ববাসী। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত মামলায় যুক্তি-তর্ক শেষ হয়েছে। এখন রায়ের অপেক্ষা। চলতি সপ্তাহের যে কোনো সময় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আপিল আদালত। এ রায় কেবল সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কাটাবে না, ট্রাম্পের অভিবাসী নীতিকেও বদলে দিতে পারে। অথবা বহাল রাখতে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশ। আর তাতে কথিত ‘প্রটেকশনিজম’ চরিত্রে সংরক্ষিত ভূমি হয়ে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন অবস্থায় রায়ের অগেই আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিচারকদের তিনি ‘রাজনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘হৃদয়বিদারক’ এবং ‘মনোবল ভেঙে দেয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিমকোর্টে তারই মনোনীত বিচারক নিল গসার্চ। খবর সিএনএন ও এএফপির। ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশে পরবর্তী চার মাসের জন্য সব ধরনের শরণার্থী ও পরবর্তী তিন মাসের জন্য ওই সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
গত শুক্রবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ স্থগিত করে রুল জারি করেন। কিন্তু স্থগিতাদেশের একদিন পরই শনিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। আপিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার আবেদন জানানো হলেও তা অগ্রাহ্য করে বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগকে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করার কথা বলেন আপিল আদালত। সান ফ্রান্সিসকোর আপিল আদালত দুই পক্ষের বক্তব্য শুনতে সম্মত হন। শুনানিতে তিন বিচারকের প্যানেল প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা এবং সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগ সূত্রের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারকদের দু’জন (একজন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও অন্যজন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের নিয়োগ) প্রশ্ন রাখেন, এমন কি ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে বলা যায় ওইসব দেশের নাগরিকদের আগমনে বিপদ রয়েছে? উত্তরে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত যে এমন বিপদ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট কি চাইলেই মুসলিমদের আসতে না দেয়ার নির্দেশ জারি করতে পারেন- এ প্রশ্নে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, প্রেসিডেন্টের সে এখতিয়ার রয়েছে। আদালতের তৃতীয় বিচারক (জর্জ ডব্লিউ বুশ কর্তৃক নিয়োগকৃত) জানতে চান, এই নির্দেশে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়েছে, সে কথার কি প্রমাণ আছে? জবাবে বেসরকারি আইনজীবী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘মুসলিম নিষিদ্ধকরণের’ প্রস্তাব করেছিলেন। এসময় আদালত জানতে চান, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞাকে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেয়া যাবে কিনা। নতুন সপ্তাহ শুরুর আগে অর্থাৎ রোববারের মধ্যেই এই রায় পাওয়া যাবে। তবে ওই রায় মার্কিন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে গেলে আইনি লড়াই এখানেই শেষ না হতে পারে।
বিষয়টা গড়াতে পারে সুপ্রিমকোর্টে। এদিকে, বুধবার ওয়াশিংটন হোটেলে প্রধান শহরগুলোর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আদালতের দেয়া নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গটি টেনে আনেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি একটি আদালতকে পক্ষপাতদুষ্ট বলতে চাই না। সুতরাং আমি এটাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলব না। তাছাড়া আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তবে আদালতের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে তারা খুব রাজনৈতিক। তারা যদি পুরো বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হবে আমাদের বিচার পদ্ধতির জন্য মঙ্গলময়। আমি মনে করি, আজ একটি বাজে দিন গেছে। আমার মনে হয় আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’ এর আগে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার ওপর দেশজুড়ে স্থগিতাদেশ জারি করায় সিয়াটলের ফেডারেল বিচারককে ‘তথাকথিত বিচারক’ ও তার রায়কে ‘হাস্যকর’ বলেন প্রেসিডেন্ট। বিচারকদের এভাবে আক্রমণের সমালোচনা করেছেন তারই মনোনীত সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিল গসার্চ। এক ডেমোক্রেট সিনেটরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ট্রাম্পের অভিযোগকে ‘হৃদয়বিদারক’ এবং ‘মনোবল ভেঙে দেয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গসার্চের মুখপাত্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তারই কর্মক্ষেত্রকে ট্রাম্পের এভাবে সন্দেহ, প্রশ্নবিদ্ধ ও অপমানিত করার কারণে এখন বেশ অস্বস্তিতেই আছেন বিচারিক মেজাজ ও তীক্ষœ আইনি মানসিকতার নিল গসার্চ।

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সাহায্যের বিরুদ্ধেও ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভ

মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। তবে ত্রাণবাহী মালয়েশীয় জাহাজ মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন বন্দরে রোহিঙ্গাবিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুন বন্দরে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেয়। বিক্ষোভে অংশ নেন রোহিঙ্গাবিরোধী বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও। এসময় তারা ‘নো রোহিঙ্গা’ বলে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভের কারণে জেটিতে অবস্থানরত জাহাজ থেকে ত্রাণের পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়নি। খবর এএফপির। প্যাট্রিয়টিক মিয়ানমার মনকস ইউনিয়নের ইয়াঙ্গুন শাখার নেতা ভিক্ষু থুসেইত্তা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়ে দিতে চাই, এখানে কোনো রোহিঙ্গা নেই।’ সংখ্যাগুরু বৌদ্ধদের চাপে দেশটির সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে নারাজ। এমনকি বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী মনে করে।
রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় মালয়েশিয়া সরকার। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠানোর ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫০০ টন খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রীর বহর ইয়াঙ্গুন পৌঁছেছে। ইয়াঙ্গুন বন্দর হয়ে এসব ত্রাণের নির্দিষ্ট একটা অংশ রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য পাঠানোর কথা রয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার এসব ত্রাণ রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ- উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিতরণের আহ্বান জানিয়েছে। বাকি অংশ বাংলাদেশের টেকনাফ বন্দর হয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিতরণ করা হবে। জাতিসংঘের হিসাবে, গত তিন মাসে অন্তত ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে তারা আশ্রয় নিয়েছেন। এমন এক সময় এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল যখন জাতিসংঘ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে। জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের কাছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্ণনা করা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের লক্ষ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নিয়েছে।

ইরানি বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী ঘোষণার বিপক্ষে পেন্টাগন

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইরানের এলিট এ বাহিনী এবং মিসরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনকে (মুসলিম ব্রাদারহুড) ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে সিএনএন টিভি নেটওয়ার্ককে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে ট্রাম্প এখনও এ ইস্যুতে নির্বাহী আদেশে সই করেননি।
এর আগেই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পরিণতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে হুশিয়ার করেছেন দেশটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কর্মকর্তারা। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমসের। সোমবার ফ্লোরিডার টাম্পায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দফতর পরিদর্শনের সময় আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনার জন্য নির্বাহী আদেশে সই করার কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দফতরের তীব্র আপত্তির মুখে ট্রাম্প তা স্থগিত করেন। তবে ট্রাম্প আদৌ এ নির্বাহী আদেশে সই করবেন কিনা তা পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলা হয়েছে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দেয়া হলে তা ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদির জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরি করবে। কারণ তিনি ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন বাহিনীর পাশাপাশি আইআরজিসির সাহায্য নিচ্ছেন। এ ছাড়া মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলেছে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা দেয়া হলে ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন। আমেরিকা ‘কাগুজে বাঘ’ -আইআরজিসি : আমেরিকাকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের রেভ্যুলশনারি গার্ড বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি। তিনি বলেন, মার্কিন সরকারের অর্থহীন হুমকিকে ভয় পায় না তেহরান। জেনারেল জাফারি বুধবার ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরে আইআরজিসির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের ইসলামি বিপ্লবের শত্রুরাও আমেরিকাকে এ পরামর্শ দেয় যে,
তেহরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই বরং এতে যুক্তরাষ্ট্রেরই ক্ষতি হবে।’ আইআরজিসির কমান্ডার বলেন, শত্রুরাও আজ ইসলামি বিপ্লবের বিশালত্ব ও গভীর প্রভাবের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এটিই এ বিপ্লবের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন। ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদ বিস্তৃতির আশংকা সিআইএ’র : ট্রাম্প প্রশাসনের নেয়া ব্রাদারহুড নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশংকা করছেন সিআইএ’র বিশ্লেষকরা। কেন্দ্রীয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক গোপন নথির বরাতে এ খবর দিয়েছে পলিটিকো। ওই নথিতে সিআইএ বিশ্লেষকরা আশংকা করেছেন, ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হলে মিসরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা, চরমপন্থী মতাদর্শে মদদ এবং দেশটিতে বৈদেশিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে মুসলিম দুনিয়াকে। জর্ডান, কুয়েত, মরক্কো, তিউনিশিয়ার মতো দেশগুলোতে ব্রাদারহুডের শাখা আছে। তবে এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। সিআইএও প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্রাদারহুডের ওপর নিষেধাজ্ঞা-পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইসংক্রান্ত এক নথি ৩১ জানুয়ারি অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশ করে সিআইএ। পলিটিকো জানায়, একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওই সংক্ষিপ্ত গোয়েন্দা অনুলিপি তাদের দিয়েছেন। ওই নথি থেকে জানা যায়, ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক বাধার মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সিআইএ’র বিশ্লেষকরা।

দুদক টিমের ওপর হামলায় আহত ৪

ঘুষের টাকাসহ সরকারি কর্মচারীকে আটক করার সময় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার হয়েছে দুদকের অভিযান পরিচালনাকারী টিম। হামলায় টিমের কনস্টেবল মিসবাহ উদ্দিন আহমদসহ চারজন জখম হয়েছেন। মিসবাহর অবস্থা গুরুতর। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা হলেন : দুদক সিলেট অফিসের ডিএডি রঞ্জিত কুমার কর্মকার, ওয়াহিদ মুরাদ সোহাগ ও গাড়িচালক বিপ্লব। বৃহস্পতিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয় দুদকের পরিচালক শিরীন পারভিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী টিমকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন জেলা প্রশাসক অফিসের কর্মচারীরা। পরে রাত সোয়া ৭টায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন এবং কোতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহমদ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। জানা যায়, নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা অকিল চন্দ্র সূত্রধর পায়েল এন্টারপ্রাইজ পেট্রুল পাম্প স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ব্যবসা-বাণিজ্য শাখায় আবেদন করেন। অনুমতির জন্য তিনি ধরনা দিতে থাকেন।
একপর্যায়ে অফিসের কর্মচারী আজিজুল ইসলামের সঙ্গে তার ২০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ফাইল ছাড়িয়ে নিতে বৃহস্পতিবার বিকালে টাকা লেনদেনের সময় ডিসির কার্যালয়ে দুদক অভিযান চালিয়ে আজিজুলকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরিয়ে নিচে নেমে আসে। ফের সাক্ষ্য-প্রমাণের জন্য আটক কর্মচারীকে নিয়ে ওপরে গেলে ডিসির কার্যালয়ের কর্মচারীরা নিচের গেট তালাবদ্ধ করে দেন। এরপর দুদকের টিমের ওপর হামলা চলে। কর্মচারীরা লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে মিজবাহর মাথা ফাটিয়ে দেন। দুদক পরিচালক শিরীন পারভিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘুষের ১০ হাজার টাকা ও জব্দকৃত কাগজ ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালিয়ে আজিজের সহযোগীরা নিয়ে গেছে। আত্মরক্ষার্থে আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেই। হাতেনাতে অপরাধী ধরার পরও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ রকম হামলার ঘটনা নজিরবিহীন।’ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রুকন উদ্দিন আহমদ জানান, একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। ঘটনার পর জেলা প্রশাসন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর স্থানীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে আজিজুল ইসলাম থরথর করে কাঁপতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে ঢলে পড়ে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক দুদক পরিচালক শিরীন পারভিনের অনুমতি নিয়ে আজিজুল ইসলামকে দ্রুত ওসমানী হাসপাতালে পাঠান। রাত পৌনে ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তিনি হৃদরোগের রোগী বলে জানা গেছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, গত ৪ জানুয়ারি আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জনৈক আবেদনকারীকে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নিয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।