Tuesday, July 31, 2018

অন্য রকম এক লাভস্টোরি!

অন্য রকম এক লাভস্টোরি! লন্ডনের ৬৬ বছর বয়সী মিলিয়নিয়ার ক্রিস্টিয়ানি শেলার্ডের সঙ্গে ‘প্রেম’ গড়ে উঠেছিল তার চেয়ে ৩৭ বছরের ছোট ২৯ বছর বয়সী টয়বয় ক্রিশ্চিয়ান মিহালিয়ার। ক্রিশ্চিয়ান মিহালিয়ার দাবি, তার প্রেমিকার নামে একটি ফ্লাট কিনতে তাকে ৫ লাখ পাউন্ট লোন দিয়েছিলেন শেলার্ড। কিন্তু শেলার্ড বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, ওই অর্থ নিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে মিহালিয়া। তাই তার এই রোমানিয়ান প্রেমিক মিহালিয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছেন শেলার্ড। মিহালিয়ার দাবি তাকে ওই অর্থ উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন শেলার্ড, যখন তারা নিয়মিত অন্তরঙ্গ সম্পর্কে মিলিত হতেন তখন। তবে তার এ দাবি অস্বীকার করেছেন শেলার্ড। তিনি বলেছেন, তারা নিয়মিত যৌন সম্পর্কে মিলিত হতেন না। মাত্র দু’বার এমন সম্পর্কে মিলিত হয়েছিলে এবং তা সন্তোষজনক ছিল না। এ প্রসঙ্গে শেলার্ড বলেছেন, একবার ওয়েস্ট লন্ডনের কিংস রোডের ব্লুবার্ড রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ সারছিলেন তিনি। এ সময় বাইরে দেখতে পান ধুমপানরত পূর্ব ইউরোপিয় একজন হ্যান্ডসাম যুবককে। তিনি তার কাছে এগিয়ে যান। মিহালিয়ার কাছে গিয়ে তার ম্যাচ লাইটার চান নিজের সিগারেট ধরানোর জন্য। তিনি বলেন, এ সময় মিহালিয়াকে খুবই আকর্ষণীয় দেখাচ্ছিল। ওই সময় আমি তার প্রতি ভীষণ আকৃষ্ট হযে পড়ি। সে ছিল ২০১৬ সালের কথা। এ সময় আমরা কথা বলি। একে অন্যের টেলিফোন নম্বর বিনিময় করি। এক পর্যায়ে সেপ্টেম্বরে সে আমার বাসায় আসা শুরু করে। আমরা একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাত করতে থাকি প্রতি রাতে। এরপর তা পনের দিন পর পর ঘটতে থাকে। কারণ, আমি কারো সম্পদ হতে চাই নি। এক পর্যায়ে সে আমার কাছে অর্থ দাবি করে।
তাদের এ সম্পর্ক টিকে ছিল দেড় বছর। এ সময়ে মিহালিয়াকে মোরিতিয়াস ও সেইন্ট লুসিয়ায় বিলাসবহুল অবকাশ যাপনে নিয়ে যান শেলার্ড। তাকে কিনে দেন একটি পোর্শে পানামেরা, বিভিন্ন ব্রান্ডের ঘড়ি, তার পিতার জীবনরক্ষার জন্য চিকিৎসা করাতে দেন এক লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড।
ক্রিশ্চিয়ানে শেলার্ড বলেন, মিহালিয়ার যা ছিল তা হলো সব মিলিয়ে একটি ভ্যান। তার কোনো কাজ ছিল না। সে তার বাসার ভাড়া দিতে পারতো না। আমি তাকে ৭০০ পাউন্ড দিই। অদ্ভুত ব্যাপার হলো সে কখনো আমাকে বলতো না যে, কোথায় বসবাস করে সে। তা বের করতে পরে আমি প্রাইভেট গোয়েন্দা লাগাই। এরপর তার বিএমডব্লিউ ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে গেছে বলে কান্নাকাটি শুরু করে। বলে, তা মেরামত করাতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। আমি তাকে বলি আমি তাকে একটি গাড়ি কিনে দেবো। এ জন্য তাকে ২০ হাজার পাউন্ড দেবো বলে আমি চিন্তা করি। তাকে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড পোর্শে পানামেরা কিনে দিই। কিন্তু সে কখনো আমাকে ওই গাড়ি কেনার রিসিপ্ট দেখায় নি। দেড় বছর ধরে তার ব্যক্তিগত একাউন্টে আমি অর্থ জমা দিতে থাকি। সে বলেছিল, তার পিতা লিভার ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। জার্মানির একটি হাসপাতালে গিয়ে লিভার প্রতিস্থাপন না করালে তিনি ছয় মাসের বেশি বাঁচবেন না। মিহালিয়া বলে, তারা একজন ডোনারও পেয়ে গেছে। এ সময় আমি তার কাছে জানতে চাই তাতে কত অর্থ লাগবে। সে আমাকে অঙ্কটা জানানোর পর তাকে এক লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড দিই। এখন আমি বিশ্বাস করি সে মিথ্যা বলেছে। আমি তাকে আমার বয়ফ্রেন্ড হিসেবে ভেবেছিলাম। সেও তাই বলেছিল। সে অন্য কারো সঙ্গে চলে যাবে এটা আমি কখনো ভাবি নি।
শেলার্ড এখন মনে করেন তাকে একটি ‘উন্মুক্ত পার্স’ হিসেবে টার্গেট করেছিল মিহালিয়া। তিনি বলেন, আমি এত্ত বোকা ছিলাম। ৩৮ বছর সংসার করার পর সম্প্রতি আমি বিবাহ বিচ্ছেদে গিয়েছিলাম স্বামীর সঙ্গে। তার কাছে আমি কখনো অবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু আমি যা করেছি তা এর আগে কখনো আর করি নি। আমার চেয়ে ৩৭ বছরের কম বয়সী বয়ফ্রেন্ডকে আমার বাহুবন্ধনে পেয়ে আমি ছিলাম আপ্লুত।
এ নিয়ে প্রেমিক মিহালিয়ার বক্তব্য অন্যরকম। তার দাবি তাদের মধ্যে প্রেম ছিল। কিন্তু শেলার্ড আরো কম বয়সী একজন মডেলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতে তিনি আপসেট হয়ে পড়েন। মিহালিয়া বলেন, গত নভেম্বরে আমি লক্ষ্য করি শেলার্ড আরেকজন যুবকের সঙ্গে তিন মাস ধরে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। আমি দেখেছি তার মোবাইলে ‘লাভ ইউ’ ম্যাসেজ ও ছবি। নতুন যে ছেলেটির সঙ্গে তিনি প্রেম করছেন সে আরো কম বয়সী। তাই আমি শেলার্ডের সুনাম নষ্ট করতে চাই নি। আমি ওই যুবকের বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি কি বলেছিলেন আমার তা প্রকৃতপক্ষে মনে নেই। এতে আমি ভীষণ আপসেট হয়ে পড়ি। ২০১৩ সালে শেলার্ডের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তারপর আমার সঙ্গে তার সম্পর্ক। এক্ষেত্রে তিনি আমাকে একমাত্র বয়ফ্রেন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন এটা তার একেবারে ননসেন্স কথাবার্তা। মিহালিয়া বলেন, শেলার্ডের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তারা যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যদিও বয়সের ফারাক আকাশ পাতাল। তিনি ২০১৭ সালের আগস্টে ওয়েস্ট লন্ডনের ব্রেন্টফোর্ড ডকে একটি বাড়ি কিনতে তিনি আমাকে ৫ লাখ পাউন্ড উপহার দেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার কোনোই চুক্তি হয় নি। কারণ, ভালবাসার সম্পর্কে আমরা ছিলাম ‘কাপলের’ মতো। আমি অবশ্যই তার সঙ্গে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলাম। আমি সম্ভবত সপ্তাহভিত্তিতে তাকে দেখতে যেতাম। যখনই আমাদের এমন সাক্ষাত হতো তার বেশির ভাগ সময়ই আমরা যৌন সম্পর্কে মিলিত হতাম। প্রায় দু’বছরের মতো আমরা ছিলাম বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড। এক্ষেত্রে বয়সের ফারাক আমাকে প্রভাবিত করে নি। আমরা একসঙ্গে অবকাশ যাপনেও গিয়েছি।

রাজ্যের ‘ভালো নাম’ই দিয়েছেন দিদি -টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়

রায় দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা। এখন থেকে এই রাজ্যের নাম হবে বাংলা। ‘পশ্চিম’ শব্দটি বাদ দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত মনে হয়। কারণ, পূর্ব বাংলা বলে এখন কিছু নেই। ওই নাম অনেক আগেই প্রতিস্থাপন করেছে বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রটি। সেই কারণে ‘পশ্চিম’ শব্দটি অপচয় ছাড়া কিছু ছিল না। আর যারা যুক্তি দেখান যে, ‘পশ্চিম’ শব্দটি ঐতিহাসিক অতীতের নির্দেশক, তাদের উচিৎ বর্তমানের সঙ্গে তাল মেলাতে শেখা। তারা কি জানে না যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদির শাসনাধীনে এসব শুধুই পরিবর্তন, পরিবর্তন আর পরিবর্তন! ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম বদলে বাংলা করার বিষয়ে এক সম্পাদকীয়তে এসব বলেছে দেশটির টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকা।
এতে বলা হয়, এখন রাজ্য বিধানসভার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রের। এই নাম পরিবর্তন নিয়ে দুই বছর ধরে দোদুল্যমান অবস্থায় আছে দিল্লি। এর আগে তিনটি নাম প্রস্তাব করেছিল পশ্চিমবঙ্গ: ইংরেজি ভাষায় বেঙ্গল, বাংলা ভাষায় বাংলা আর হিন্দিতে বাঙ্গাল। তবে কেন্দ্র চেয়েছিল শুধু একটি নামের সুপারিশ। তাই রাজ্য বিধানসভা কেবল ‘বাংলা’ই বেছে নিল।
পুরো বিষয়টি  নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এর উদ্দেশ্য ছিল সামনে এগিয়ে যাওয়াÑ অন্তত রাজ্যগুলোর বর্ণনানুক্রমে তো বটেই। দৃশ্যত, মমতা দিদি রাজ্য সরকারগুলোর বৈঠকে বর্ণনানুক্রমে সবার শেষে বক্তব্য দিতে দিতে ক্লান্ত আর অসুস্থ হয়ে উঠেছেন। বাংলা নামকরণের ফলে তিনি একলাফে সামনের সারিতে চলে গেলেন।
নিজের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে এটি বেশ কাজের একটি কৌশল। যখন সাধারণ একটি নাম পরিবর্তনই আপনাকে শীর্ষে তুলে দিতে পারে, তখন রাজ্যের উন্নয়ন সূচক নিয়ে এত চিন্তার কী আছে!
এখন কি উত্তর প্রদেশ রাজ্যও নাম পরিবর্তন করে ‘অধঃপ্রদেশ’ হওয়ার কথা ভাববে? একই ভাবে ত্রিপুরাও নিজের প্রাচীন নাম ‘কিরত দেশ’-এ ফেরত যেতে পারে। শোনা যাচ্ছে সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব রাজ্যটিকে তার প্রাচীন শেকড়ে ফিরিয়ে নিতে চান।
তবে বাংলা আবার বাংলা ভাষারও নাম। আবার এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না যে, ‘কালচার’ ছাড়া লোকেদের কাছে বাংলা নামের প্রথম ও প্রধান অর্থই হলো দেশী মদ।

পাকিস্তানে বৃহত্তর বিরোধী দলীয় জোট গঠন

পাকিস্তানে নতুন পার্লামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই বিরোধী দলগুলো গড়ে তুলছে বৃহত্তর বিরোধী দলীয় জোট বা গ্রান্ড অপোজিশন এলায়েন্স। যৌথভাবে ২৫ শে জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথিত অভিযোগের বিরুদ্ধে তারা পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে যৌথভাবে প্রতিবাদ জানাবে। সোমবার এ নিয়ে বড় চারটি দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। দলগুলো হলো পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), মুত্তাহিদা মজলিশে আমল (এমএমএ) ও আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি)। এ চারটি দলের সিনিয়র নেতারা পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের বিদায়ী স্পিকার আয়াজ সাদিকের ইসলামাবাদের বাসায় সোমবার মিলিত হন।  সেখানে তারা একমত হন যে, বিরোধী পক্ষ বা সরকার পক্ষকে তারা মাঠ ফাঁকা ছেড়ে দেবেন না। ইমরান খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) যে ভবিষ্যত সরকার গঠন হবে তাকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্টে পিটিআই জাতীয় পরিষদে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে নির্বাচিত হলেও এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না। ২৭২ আসনের জাতীয় পরিষদে সরকার গঠন করতে হলে একটি দলকে কমপক্ষে ১৩৭টি আসন পেতে হয়। সেখানে ইমরান খানের পিটিআই পেয়েছে ১১৫টি আসন। ফলে সরকার গঠন করতে হলে তাদের প্রয়োজন আরো ২২টি আসন। এই আসনগুলো পূরণ করতে পিটিআই ছোট ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দুয়ারে ধরনা দিচ্ছে।
সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন সূত্রগুলো ডন’কে বলেছেন, বৈঠকে বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছেন মাওলানা ফজলুর রেহমান। তিনি বলেছেন পার্লামেন্টারি দায়িত্বের প্রতিটি পদে তাদেরকে যৌথভাবে প্রার্থী দিতে হবে। পিটিআই যেন কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে না পারে সে জন্য তাদেরকে সব রকম প্রচেষ্টা নিতে হবে। উল্লেখ্য, নির্বাচনে তার দল এমএমএ পেয়েছে ১২টি আসন। তাদের সহ পিপিপি, পিএমএলএনের মোট আসন দাঁড়ায় ১১৭, যা পিটিআইয়ের চেয়ে দুটি বেশি। ফলে যদি তারা পিটিআইকে সরকার গঠনে আটকে দিতে পারেন তাহলে তাদের সামনে একটি সুযোগ চলে আসতে পারে। এর আগে আসন্ন জাতীয় পরিষদের বৈঠকে যোগ দেয়া বর্জনের দাবি জানিয়েছিলেন মাওলানা ফজলুর রেহমান। তিনি সোমবারও একই দাবি করেছেন। তবে এ নিয়ে তার দলেই নাকি বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন। সোমবার আয়াজ সাদিকের বাসায় যে বৈঠক হয়েছে সেখানে চারটি দলই তাদের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যখন নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন তারপর প্রথম অধিবেশন বসবে তখন জাতীয় পরিষদের ভিতরে ও বাইরে তারা কড়া প্রতিবাদ জানাবেন। তারা দাবি জানাবেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপি তদন্তের জন্য একটি পার্লামেন্টারি কমিশন গঠন করতে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপের অভিযোগও তদন্ত করবে ওই কমিশন। রাজা রাব্বানির মতো ব্যক্তিদের নিয়ে এমন কমিশন হতে পারে বলে মত দিয়েছেন পিএমএলএনের সিনিয়র এক নেতা। এ বেঠকে কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার পিএমএলএনের সভাপতি শাহবাজ শরীফের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত হলো পিপিপির নেতাদের। এতে পিএমএলএনের আরো যেসব নেতা উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন আয়াজ সাদিক, রাজা জাফরুল হক, মুশাহিত হোসেন সাইদ, শাহিদ খাকান আব্বাসি, আমির মুকাম, শাহ মুহাম্মদ শাহ, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাদির বেলুচ। পিপিপির প্রতিনিধিদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ খুরশিদ শাহ, শেরি রেহমান, ইউসুফ রাজা গিলানি, সাইদ নাভিদ কমর, রাজা পারভেজ আশরাফ ও ফরহাতুল্লাহ বাবর। মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন আকরাম দুরানি। এএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন গোলাম আহমেদ বিলোর ও মিয়া ইফতিখার হোসেন।

ক্ষোভে ফুঁসছেন ট্রাম্প

বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের প্রতি নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন কি না, সেই তদন্তে অগ্রগতি হওয়াতেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। রোববার এক টুইট বার্তায় তদন্তকারী দলের প্রধান মুয়েলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে।
খবরে বলা হয়, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত যত এগিয়ে চলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে তার ক্ষোভ ততই উগরে দিচ্ছেন। রোববার একাধিক টুইট বার্তায় তিনি তদন্তকারী দলের প্রধান ও প্রাক্তন এফবিআই প্রধান রবার্ট মুয়েলারকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন। এমনকি ‘স্বার্থের সংঘাত’ থাকায় মুয়েলার আদৌ এমন দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প মুয়েলারকে চ্যালেঞ্জ করে লেখেন, তিনি কি কখনো তাদের মধ্যে অতীতের বিদ্বেষভরা সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করবেন? নিজেই এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মুয়েলারকে এফবিআই প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার ঠিক এক দিন পরেই না কি মুয়েলার ‘স্পেশাল কাউন্সিল’ হিসেবে রাশিয়া কেলেঙ্কারির তদন্ত টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। এ ছাড়া সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কোমি-ও মুয়েলারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
 প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তার টিম রাশিয়ার সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, এমন অভিযোগ আবার সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ট্রাম্প উল্টো পক্ষপাতের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বিরোধী ডেমোক্রেটিক দল গোটা প্রক্রিয়ার উপর নানা রকম প্রভাব খাটিয়ে চলেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হোয়াইট হাউসের এক আইনজীবীকেও তদন্ত টিমে ঢোকানো হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন টাকা ঢেলে প্রতারণাপূর্ণ এক দলিল তৈরি করিয়ে তার ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করিয়েছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, সমপ্রতি জানা গেছে যে ট্রাম্পের প্রাক্তন ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সংলাপ রেকর্ড করেছিলেন। তার মধ্যে একটি এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। কিছু যৌন কেলেঙ্কারি ছাড়াও কোহেন দাবি করেছেন, যে প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প তার টিমের সঙ্গে রাশিয়ার অবৈধ যোগাযোগের বিষয়টি জানতেন। ফলে ট্রাম্পের অস্বস্তি আরো বেড়ে চলেছে।
এদিকে ট্রাম্পের বর্তমান আইনজীবী ও নিউ ইয়র্ক শহরের প্রাক্তন মেয়র রুডি জুলিয়ানি দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভবত রবার্ট মুয়েলারের কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন। অর্থাৎ কিছু বিষয়ে তাকে জেরা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে শর্ত স্থির করতে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। চলতি অথবা আগামী সপ্তাহেই ট্রাম্প এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে দাবি করেন জুলিয়ানি।
এমন প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত শীর্ষ বৈঠক নিয়ে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতি যে নরম মনোভাব দেখিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দলমত নির্বিশেষে তা কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিল। প্রবল চাপের মুখে পড়েও ট্রাম্প চলতি বছরেই রুশ প্রেসিডেন্টকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তারপর আরো সমালোচনা ও মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত তদন্তের প্রেক্ষাপটে তিনি সেই আমন্ত্রণের সময়সীমা আগামী বছরের শুরুতে পিছিয়ে দেয়ার কথা বলেন। এবার পুতিন নিজেই ট্রাম্পকে মস্কোয় আমন্ত্রণের প্রস্তাব দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে কথার লড়াই
সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস। রোববার ট্রাম্প ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক সালজবার্গার পরস্পরকে কথার বাণে বিদ্ধ করেন। লড়াইয়ের সূচনা করেন ট্রাম্প। প্রকাশক এজি সালজবার্গারের সঙ্গে একটি  বৈঠকের বিষয়ে তিনি টুইটারে লেখেন, সালজবার্গের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। তার সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ ভুয়া সংবাদের বিষয়ে কথা হয়েছে। এতে তিনি ভুয়া সংবাদের জন্য সাংবাদিকদেরকে জনগণের শত্রু (এনিমি অফ দ্যা পিপল) বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ অন্য গণমাধ্যমগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ প্রচার করে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
ট্রাম্পের ওই টুইটের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ করেন সালজবার্গার। তিনি বলেন, একটি ব্যক্তিগত বৈঠককে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যমবিরোধী বক্তব্যে উদ্বেগ জানানোর জন্যই তিনি গত ২০শে জুলাই হোয়াইট হাউসের দেয়া আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছিলেন। তার ভাষায়- ‘আমি  প্রেসিডেন্টকে সরাসরি বলেছি যে, তার বক্তব্য শুধু বিভেদ সৃষ্টিকরই না, এটা ক্রমবর্ধমানভাবে বিপজ্জনকও। যদিও ‘ভুয়া সংবাদের’ বিষয়টি ক্ষতিকর ও অসত্য, তার পরেও আমি সাংবাদিকদের ‘জনগণের শত্রু’ আখ্যা দেয়ায় অধিক চিন্তিত। আমি তাকে বলেছি, এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে। সাংবাদিকদের উপরে তার এ আক্রমণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে ও আমাদের যে গণতান্ত্রিক আদর্শ রয়েছে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশক এসব কথা বলেন।
সালজবার্গারের দীর্ঘ ও সপষ্ট বক্তব্য হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রামেপর বক্তব্যের বিরুদ্ধে চরম এক প্রত্যুত্তর। এই ৩৭ বছর বয়সী প্রকাশকের সঙ্গে ডনাল্ড ট্রামেপর রয়েছে দীর্ঘ রেষারেষির সমপর্ক। ট্রামপ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সংবাদপত্রগুলোর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বেশ কয়েকটি টুইট বার্তা দিয়েছেন। তিনি সংবাদপত্রগুলোকে দেশপ্রেমহীন বলে দাবি করেছেন।  তিনি লিখেছেন, আমি কোনোভাবেই এ ধরনের সংবাদপত্রগুলোকে আমাদের এ মহান দেশকে বিক্রি করতে দেবো না। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট আজেবাজে খবর ছাড়া কিছুই লেখে না।  এমনকি আমাদের অর্জনের খবরগুলোও তারা খারাপভাবে প্রকাশ করে। তারা কখনোই পরিবর্তিত হবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রামপ নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে তার গল্‌ফ ক্লাব থেকে টুইট করে বলেন, সালজবার্গারের সঙ্গে তার অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার সাক্ষাৎকার হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের মানুষের শত্রু আখ্যা দেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু সপষ্ট করেন নি। তিনি ক্রমাগত সংবাদমাধ্যম-গুলোকে আক্রমণ করে যাচ্ছেন। জনসভা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোতেও তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করতে ছাড়েন না।

সড়ক যখন মৃত্যুকূপ by জসিম মজুমদার

এ বছর দফায় দফায় প্রবল বৃষ্টিপাতে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩টি মহাসড়ক এবং ৪২টি আন্তঃউপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পর্যটকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে হারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে সড়কগুলোতে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সড়কগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে।
বৃষ্টিতে ভেঙে লেকের মধ্যে বিলিন হয়ে গেছে রাস্তা
বৃষ্টিতে ভেঙে লেকের মধ্যে বিলিন হয়ে গেছে রাস্তা
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর মধ্যে ৩টি মহাসড়কের মধ্যে খাগড়াছড়ি হতে রাঙামাটি পর্যন্ত মহাসড়কের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার, খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়কের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার এবং খাগড়াছড়ি থেকে ফেনী মহাসড়কের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। এই তিনটি মহাসড়কের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪২টি আন্তঃউপজেলা সড়ক ও ইউনিয়ন সড়ক। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে যাওয়ার সড়কগুলোর মধ্যে মহালছড়ি উপজেলায় রয়েছে ৪টি, মাটিরাঙা উপজেলায় ৬টি, গুইমারা উপজেলায় ৫টি, মানিকছড়ি উপজেলায় ৭টি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ৫টি, রামগড় উপজেলায় ৭টি, পানছড়ি উপজেলায় ৪টি এবং দীঘিনালা উপজেলায় ৪টি আন্তঃউপজেলা সড়ক রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
বৃষ্টিতে রাস্তার পিচ উঠে গেছে
বৃষ্টিতে রাস্তার পিচ উঠে গেছে
মহাসড়কগুলোর ৩৩০ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। আর ৭০ কিলোমিটার রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ করছে সেনাবাহিনীর ইসিবি। এছাড়া অন্যান্য সংস্থা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার আয়তনের ৬৬টি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এরমধ্যে ৪২টি রাস্তার অনেক স্থানে প্রবল বর্ষণের কারণে ভেঙে যাওয়ায় বা ধসে যাওয়ায় রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলো ভাঙার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীসাধারণ, পর্যটক ও পরিবহন মালিকেরা।
মাটিরাঙা উপজেলার ট্রাকচালক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘খাগড়াছড়ি থেকে আসা-যাওয়ার প্রত্যেকটি রাস্তার অবস্থাই খারাপ হওয়ায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। বিভিন্ন সময় গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে।’
বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে
বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মাইক্রোচালক মো. বাদশা মিয়া বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা মেরামত না করাই বর্ষা মৌসুমে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ঢাকার পল্লবী থেকে সাজেকগামী পর্যটক সামছুল আরেফিন বলেন, ‘অনেক রাস্তারই বেহাল অবস্থা। অনেক জায়গায় পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে যায়। অনেক স্থানে পাহাড় ধসে গেছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তাগুলোর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। যাতায়াতে আগের তুলনায় সময় বেশি লাগছে। এ বছর বর্ষায় রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে মনে হচ্ছে। ’
পাহাড় ধসে রাস্তার ওপর পড়েছে, রাস্তা পরিষ্কারে কাজ করছেন কয়েকজন
পাহাড় ধসে রাস্তার ওপর পড়েছে, রাস্তা পরিষ্কারে কাজ করছেন কয়েকজন
খাগড়াছড়ি এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা বলেন, ‘এলজিইডির তত্ত্বাবধানে থাকা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো সংস্কারে বিগত ২৭ জুন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে আমরা ৩ কোটি ৩ লাখ টাকা চেয়েছি। টাকা বরাদ্দ পেলে রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ শুরু করবো।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রবল বর্ষণে মহাসড়কগুলোর অনেক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সংস্কার কাজ চলছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আশা করি আগামী দুই মাসের মধ্যে রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ শেষ হবে।’

আসলে লিভ টুগেদার

প্রেম করে বিয়ে। সুখের সংসারে আসে তিন সন্তান। অতঃপর স্ত্রীকে রেখে অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে লিভ টুগেদার। প্রাইভেটকারে ঘুরে বেড়ানো আর আনন্দ-ফুর্তিই ছিল তাদের নিত্যদিনকার রুটিন। বাইরে থেকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে এজন্য নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিত। ভালোই চলছিল সব কিছু। কথায় আছে ‘বেশি ভালো ভালো না’। জিদ উঠলেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়তো ৮ বছরের শিশু গৃহপরিচারিকা মাহির উপর। এক সময় নির্যাতন সইতে না পেরে চিৎকার করে কেঁদে উঠে মাহি। এবার যায় কোথায়? প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। খবর দেয়া হয় থানায়। পুলিশ এসে উদ্ধার করে আহত মাহিকে। আটক করা হয় নির্যাতনকারী পরকীয়া প্রেমিকযুগল আতাউল্লাহ খোকন ও উর্মীকে। গত ১৯শে জুলাই তাদের আটক করার পর ২১শে জুলাই ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তাদের ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে রেখে যায়। ওই বাড়িতে খোকনের আসবাবপত্রসহ একটি প্রিমিও প্রাইভেটকার রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর আনন্দনগর এলাকার শহীদুল্লার বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতো তারা। উর্মি এদিকে ঊর্মির স্বামী সোহাগ এবাধিকবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে না পেরে আদালতে মামলা করেন।
অন্যদিকে ভরণপোষণের খরচ চেয়ে খোকনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নেন তার স্ত্রী রেজোয়ানা চৌধুরী। এর মধ্যেই ঘটে যায় খোকন ও ঊর্মির বর্বর নির্যাতনের ঘটনা।
শিশু নির্যাতনের ঘটনার আট দিন পর গত ২৮শে জুলাই বিকালে খোকনের স্ত্রী রেজোয়ানা চৌধুরী ওই বাড়িতে লোকজন নিয়ে এসে ঘরের তালা ভেঙে আসবাবপত্র নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়িওয়ালা ও স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেন। এর পর রেজোয়ানার মুখ থেকে বেরিয়ে আসে খোকন ও ঊর্মির অজানা নানা কাহিনী।
বাড়িওয়ালা শহীদুল্লাহ বলেন, পুলিশ ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ করে আমার জিম্মায় তাদের আসবাবপত্র রেখে গেছেন। পুলিশের নির্দেশ নিয়ে না আসা পর্যন্ত ওই ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কারো কাছে আমি দিতে পারি না। আমাকে খোকন বলেছে, সে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। ইসদাইরে তার বাবার জমিতে বাড়ি করবে, তাই কিছু দিনের জন্য আমার বাসায় তার স্ত্রী ঊর্মিকে নিয়ে ভাড়া থাকবে। আমি জানতাম না খোকনের স্ত্রী ও তিন সন্তান আছে। এখন জেনেছি।
রেজোয়ানা চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার হোমনা থানার কাশিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম মিয়ার ছেলে আতাউল্লাহ খোকন। সে কোনো কাজকর্ম করে না। ফতুল্লার ইসদাইরে খোকনের বাবা একটি বাড়ি করে মারা যান। তার অন্য কোনো ভাই বেঁচে নেই। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ইসদাইরের বাড়ির ভাড়া উঠিয়ে খোকন হাত খরচ চালায় এবং একটি প্রাইভেটকার কিনে। আমাকে বিয়ে করার পর থেকে ঢাকার শাহজাদপুরে আমার বাবার বাড়িতে আমাদের সঙ্গে থাকত। আমাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। আমাদের পাশের বাড়িতেই ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়া তার স্ত্রী ঊর্মিকে নিয়ে বসবাস করতেন। এতে ঊর্মির সঙ্গে খোকনের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পালিয়ে যাওয়ার পর তা জানতে পারি।
রেজোয়ানা চৌধুরী আরো বলেন, আমি চেষ্টা করেছি খোকনকে ফিরিয়ে নিতে, কিন্তু সে কোনো কিছুতেই আমার কথা শুনেনি। ঊর্মিকেও চেষ্টা  করেছে তার স্বামী সোহাগ ফিরিয়ে নিতে। ঊর্মি তার স্বামীর কথা শুনেনি। স্ত্রী ও স্বামী-সন্তানদের মনে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হতে পারে না। খোকন ও ঊর্মি পারেনি। তারা যে বিয়ে করেছে, তার প্রমাণ হিসেবে কাবিননামাও দেখাতে পারেনি। তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের বিচার হতে হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই ইলিয়াস জানান, ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর আনন্দনগর এলাকার শহীদুল্লাহর বাড়ির ভাড়াটিয়া আতাউল্লাহ খোকন ও ঊর্মি আক্তারের বাসায় তিন মাস ধরে আট বছর বয়সী শিশু মাহি গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ নেয়। এরপর থেকে শিশুটিকে প্রায় সময় বাসায় ভারী কাজ করতে না পারলেই মারধর করা হতো। গত ১৯শে জুলাই রাতে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ওই দম্পতির বাসায় গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জাকির হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি আরো জানান, শিশুটির ওপর তারা অমানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে। এর মধ্যে গরম খুন্তির আঘাতে শিশুটির ডান হাতের এক পাশের চামড়া উঠে গেছে। মারধরের ফলে শিশুটির দুই গালসহ দুটি চোখ ফুলে যায়। তাকে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদ হেফাজতে রাখতে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দেন আদালত। এরপর শিশু মাহিকে সেখানে রাখা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের এসআই হানিফ বলেন, ২৩শে জুলাই অনাথ শিশু মাহিকে (৮) নির্যাতনকারী পাষণ্ড আতাউল্লাহ খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই সময় ঊর্মি আক্তার নিজেকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করায় তার বিরুদ্ধে পুলিশের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

পুরনো বই বিক্রেতা থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লোক কে - এ প্রশ্ন করা হলে কিছুদিন আগেও উত্তর হতো: মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। কিন্তু এখন আর তা নয।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন অনলাইনে কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস।
তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার। তার থেকে অনেকটা পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বিল গেটস, যার সম্পদের পরিমাণ ৯৫ বিলিয়ন ডলার।
তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি অ্যামাজন এক সময় ছিল অনলাইনে পুরোনো বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান। আর এখন তা শিগগীরই হতে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়ন-ডলার কোম্পানি - অর্থাৎ তার মূল্য হবে এক লক্ষ কোটি ডলার।
অ্যামাজনে কেনা যায় না - বোধ হয় সারা দুনিয়ায় এমন কিছুই এখন নেই। আপনার পোষা বেড়ালের খাবার থেকে শুরু করে বহুমূ্ল্য ক্যাভিয়ার পর্যন্ত সব কিছুই কেনা যায় অ্যামাজনে - বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে। শুধু তাই নয় অ্যামাজনের আছে স্ট্রিমিং টিভি, এমন কি নিজস্ব এ্যারোস্পেস কোম্পানি - যাতে শিগগীরই মহাশূন্য ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে।
কি করে এত ধনী হলেন তিনি?
তিনি যেন নিজেই জানতেন তার ভবিষ্যৎ
তার গল্প শুনলে মনে হয় যেন জেফ বেজোসের হাতে একটা ক্রিস্টাল বল ছিল - যাতে তিনি তার নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন।মাত্র দু'দশক আগেও তিনি ছিলেন সাধারণ এক উদ্যোক্তা।
কিন্তু তিনি দেখতে পেয়েছিলেন এমন এক যুগ আসছে - যখন কম্পিউটারের এক ক্লিকে যে কোন জিনিস কেনা যাবে, শপিং মলের জনপ্রিয়তা কমে যাবে, দোকানগুলো ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য নানা রকমের 'অফার' দিতে বাধ্য হবে।
বেশ কয়েক বছর আগে তার হাইস্কুলের বান্ধবী এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, তার সব সময়ই মনে হতো জেফ বেজোস একদিন বিরাট ধনশালী হবেন।
তার কথা ছিল: "ভাববেন না যে আমার এটা মনে হতো তার টাকার জন্য - বরং টাকা দিয়ে কি করা হবে, কি ভাবে ভবিষ্যৎকে বদলে দেয়া যাবে - সেটাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য।"
জেফ বেজোসের ছিল সেই উচ্চাভিলাষ, অন্তর্দৃষ্টি আর ভবিষ্যতের গতিপ্রকৃতি বুঝতে পারার ক্ষমতা - যা হয়তো সবার থাকে না। এবং সেটা বোঝা গিয়েছিল কয়েক দশক আগেই।
তার জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে, তখনও তার বাবা-মার বয়েস ১৯ পেরোয় নি। খুব দ্রুতই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।এর পর তিনি বড় হন তার মা জ্যাকি আর দ্বিতীয় স্বামী মাইক বেজোসের ঘরে।
এই মাইক বেজোস তখন চাকরি করতেন এক্সন কোম্পানিতে। তার আসল দেশ কিউবায়, কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর তিনি পালিয়ে চলে আসেন আমেরিকায়।জেফরি বেজোসের এক জীবনী লিখেছেন ব্র্যাড স্টোন।
তাতে বলা হয়, ছোট্ট বয়েস থেকেই জেফের আগ্রহ দেখা যায় বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিংএর দিকে। তিন বছর বয়েসেই তিনি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে তার খেলনা খুলে ফেলতে শিখেছিলেন।
জেফ বেজোস যখন হাইস্কুলে পড়েন তখন তার গ্রাজুয়েশন বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন এক অনাগত সময়কে দেখতে পাচ্ছেন - যখন মানুষ মহাশূন্যে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করবে।
জেফ বেজোস ইঞ্জিনিয়ারিং আর কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তার পর নিউ ইয়র্কে গিয়ে চাকরি করেন কয়েকটি ফিনান্স কোম্পানিতে।
তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সাথে এসময়ই পরিচয় হয় তার।
বেজোসের বয়স যখন ৩০, তখন একটা পরিসংখ্যান চোখে পড়ে তার - যাতে বলা হয়েছিল ইন্টারনেটের দ্রুত বৃদ্ধির কথা। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, চাকরি নয়, নিজেই কিছু একটা করবেন।
বেজোস চলে গেলেন আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের শহর সিয়াটলে।
তার নিজের জমানো কিছু টাকা, আর পরিবারের কিছু সাহায্য - সব মিলিয়ে এক লাখ ডলারের কিছু বেশি অর্থ, এই ছিল তার বিনিয়োগ।
সাইবারকমার্স কিং
তিনি ১৯৯৫ অ্যামাজন নামে একটা কোম্পানি চালু করলেন - অনলাইনে পুরোনো বই বিক্রির।
মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার ব্যবসা হু হু করে বাড়তে লাগলো।
এক মাসের মধ্যে অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ৪৫টি দেশে অর্ডার পাঠালো। পাঁচ বছর পর অ্যামাজনের ক্রেতার এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ালো ১ কোটি ৭০ লাখে।
বিক্রি শুরুতে ছিল ৫ লাখ ১১ হাজার ডলার, আর পাঁচ বছর পর তা দাঁড়ালো ১৬০ কোটি ডলারে।বড় বড় কোম্পানি আমাজনের দরজায় ছুটে আসতে শুরু করলো।১৯৯৭ সালে অ্যামাজন পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হলো, আর অর্থ উঠলো ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
বয়েস ৩৫ হবার আগেই মি. বেজোস হয়ে গেলেন পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের একজন।১৯৯৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে আখ্যা দিলো 'কিং অব সাইবার-কমার্স' আর মনোনীত করলো পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়স্ক 'পিপল অব দি ইয়ারের' একজন হিসেবে।
কি ছিল আমাজনের ব্যবসার কৌশল?
জেফ বেজোসের কৌশল ছিল, তিনি অর্থ আয় করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হন নি।
অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির জন্য তিনি ফ্রি শিপিং সুবিধা দিয়েছেন, দাম কম রেখেছেন ২৩ বছরের মধ্যে ১০ বছর ধরে - বার্ষিক লাভের কথা না ভেবে। কিন্ডল ই-বুক রিডারের মতো যন্ত্র তৈরির জন্য বছরের পর বছর সময় ব্যয় করেছেন।
অন্যদিকে আবার অ্যামাজন যেখানে যেভাবে সম্ভব - টাকা বাঁচিয়েছেও।
অ্যামাজনের হেড অফিসে কর্মীদের গাড়ি পার্ক করার জন্য পয়সা দিতে হয়েছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে লড়তে হয়েছে, তারা ওয়্যারহাউজে শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে গেছে, এবং যেখানে যতটা সম্ভব - ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে।
এ বছর জুন মাসে অ্যামাজন পণ্য বিক্রি করেছে ৫৩০ কোটি ডলারের। প্রথম তিন মাসে মুনাফা করেছে ২৫০ কোটি ডলার।
অ্যামাজনে চাকরি করেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার লোক - যা ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের জনসংখ্যার প্রায় সমান।
আমাজনে যারা পণ্য বিক্রি করেন তাদের জন্য পণ্য আনা নেয়া, ঋণ, বিক্রির প্ল্যাটফর্ম দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি এর 'ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ' অসংখ্য বড় বড় কোম্পানির জন্য অনলাইন ডেটা স্টোরেজ সুবিধা দিচ্ছে - যা এখন পৃথিবীর বৃহত্তম।
গত বছর তারা খাদ্যপণ্যের কোম্পানি গোল ফুডস কিনে নিয়েছে, অনলাইন ফার্মেসি কিনেছে। আরো নানা রকম চুক্তির আলোচন চলছে।
এক কথায়, অ্যামাজনের নতুন নতুন উদ্যোগ হাতে নেবার উৎসাহ এতটুকু কমে নি।জেফ বেজোস নিজে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার মালিক।অন্য অনেক ধনীর মতোই মি. বেজোসের শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার সমালোচকদের একজন।
সমালোচকদের মোকাবিলা করতে এখন লবিইস্ট নিয়োগের পেছনে খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যামাজন।অনেকে বলেন, অন্য ধনীদের তুলনায় জেফ বেজোসের দাতব্য কর্মকান্ড অনেক কম।
সে কারণে এখন দাতব্য কর্মকান্ডও বাড়াতে যাচ্ছেন তিনি। শিগগীরই নাকি এ নিয়ে একটি 'ঘোষণা' আসতে যাচ্ছে।
সুত্রঃ- বিবিসি

১০ বছরেও ভল্টের স্বর্ণ বিক্রি না হওয়ার নেপথ্যে

বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত স্বর্ণের নিলাম হয়েছিল ২০০৮ সালে। এরপর গত ১০ বছরে আর কোনো নিলাম হয়নি। এজন্য বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দু’মাস আগে নিলাম ডাকার জন্য শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে বলা   হলেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, প্রধান দুই কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণের নিলাম ডাকা হচ্ছে না। এর মধ্যে একটি হলো- মূল্য খুবই কম দিতে চান স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। অপরটি হলো- ভল্টে জমা রাখা বেশিরভাগ স্বর্ণের বিষয়ে মামলা এখনও বিচারাধীন। নিলাম বন্ধ থাকায় ভল্টে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ জমা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, মামলা নিষ্পত্তির পর রক্ষিত সোনা নিলামে তোলার কথা। কিন্তু ২০০৮ সালের ২৩শে জুলাইয়ের পর নিলামে আর স্বর্ণ বিক্রি করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এস এম রবিউল হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুল্ক গোয়েন্দার সঙ্গে ঝামেলার কারণে আপাতত নিলাম হচ্ছে না। চলমান সমস্যার সমাধান হলেই শিগগিরই নিলাম ডাকা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, নিলাম ডাকা হলে ব্যবসায়ীরা ৪০ হাজার টাকার সোনার দাম বলে তিন হাজার টাকারও কম। এ কারণে গত ১০ বছর ধরে সোনার নিলাম হয়নি। ২০০৮ সালের নিলামের সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, দেশে নাকি সোনার চাহিদা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (কারেন্সি অফিসার) আওলাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বেশিরভাগ সোনা সংক্রান্ত মামলাই বিচারাধীন। আর বিচারাধীন থাকার কারণে সোনার নিলাম হচ্ছে না।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আমাদের কাছে আন্তর্জাতিক বাজার দরে সোনা বিক্রি করলে, আমরা সব সোনা নিয়ে নেবো। আন্তর্জাতিক বাজারে যে দাম আছে, তা-ই দেবো।
বর্তমান বাজার দর অনুসারে, ভালোমানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৪৯ হাজার ৮০৫ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের বাজার চলছে ৪৭ হাজার ৫৩০ টাকা, আর ৪২ হাজার ৪৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ।
জানা গেছে, যেসব স্বর্ণের বিপরীতে করা মামলার নিষ্পত্তি হয় এবং ভল্টে রাখা স্বর্ণ যদি আদালতের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়, সেসব স্বর্ণের নিলাম করা হয়। তবে যেসব স্বর্ণের বার বা ‘বিস্কুট’ আকারে আছে, সেগুলোকে বিশুদ্ধ স্বর্ণ মনে করা হয়। এগুলো সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নেয়। পরে তারা এগুলোকে রিজার্ভে দেখানোর জন্য ভল্টে রেখে দেয়। নিলামের টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে দিয়ে দেয়।
সূত্র মতে, সর্বশেষ ২০০৮ সালে চার দফায় ৯১ কেজি সোনা নিলাম করা হয়। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ৯৬৩ কেজির কিছু বেশি পরিমাণ জব্দ করা স্বর্ণ আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অস্থায়ী খাতে জমা পড়েছে।
সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে জব্দ হওয়া স্বর্ণের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে আদালত থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ২ হাজার ৩০০ কেজি সোনা কিনে রিজার্ভে যোগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বছরে ১৮ কেজি স্বর্ণ রিজার্ভে নেয়ার কথা ছিল। এছাড়া ১০ কেজি স্বর্ণ নিলামে বিক্রির কথা থাকলেও আপাতত তা স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভল্টে জমা থাকা এই স্বর্ণ নিয়ে তৈরি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শুল্ক গোয়েন্দারা যে স্বর্ণ নিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তার মধ্যে অস্থায়ী খাতে আছে ৯৩৫ কেজি ৪৫০ গ্রাম, যার বিপরীতে এখনও মামলা চলমান। আর আদালত থেকে নিষ্পত্তির পর সমপ্রতি স্থায়ী খাতে জমা করা হয়েছে ২৮ কেজি স্বর্ণ। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৫৫টি বারের ১৮ কেজি স্বর্ণ কিনে নিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ কেজি সোনার অলঙ্কার নিলামের জন্য সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তাসহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ মোট ৫ সদস্যের ১টি কমিটি করা হয়েছে। তবে ওই সোনার পরিমাপ ও মান নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে নিলাম প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট ৪ হাজার ৬৪৫ কেজি বা ১১৬ মণের বেশি স্বর্ণ জব্দ করেছে। এরমধ্যে বেশির ভাগই আদালত বাজেয়াপ্ত করেছে। বাজেয়াপ্ত সোনার মধ্যে ২ হাজার ২৯৯ কেজি বা ৫৭ মণ ১৯ কেজি স্বর্ণ সমসাময়িক আন্তর্জাতিক দরে কিনে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বাইরে ২৪ মণ বা ৯৬৩ কেজি স্বর্ণ নিয়ে এখন আদালতে মামলা চলছে। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে নিলামের মাধ্যমে কিছু স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আদালতের নির্দেশে শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে কিছু স্বর্ণ ফেরত দেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ নিলাম হয়েছে ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই। সে সময় ২১ কেজি ৮২২ গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি করা হয়েছিল। একই বছরে আরও তিন ধাপে ২৫, ২৫ ও ২০ কেজি স্বর্ণ নিলামে বিক্রি করা হয়।
এদিকে বাণিজ্যিকভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকে পড়ে থাকা স্বর্ণ কিনতে চান ব্যবসায়ীরা। এ ধরনের স্বর্ণ কেনার জন্য বাজুস গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে স্বর্ণ আমদানির প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগারওয়াল। তিনি বলেন, স্বর্ণের চাহিদা বাড়লেও আমদানির জটিলতা কারণে ব্যবসায়ীরা সেদিকে যেতে পারেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম অনুসারে নিলাম করে আসছিল। কিন্তু স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট করে বাজারদরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে স্বর্ণ কিনে নিতে চায়। ফলে বাধ্য হয়েই নিলাম বন্ধ করে দেয়া হয়।
সমপ্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে সঠিকভাবে স্বর্ণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চাকতি ও আংটি, তা হয়ে গেছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। যদিও এই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এত কিছুর পরও স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে এসব স্বর্ণ ভল্টে রেখে না দিয়ে নিলাম করা হচ্ছে না কেন? তাহলে এটা নিয়ে অনিয়মের কোনো প্রশ্ন উঠতো না।

আশার আলো দেখছে ভেরোনিকা

কে না চায় তার জীবন হাসি আর আনন্দে কাটুক। কিন্তু ভেরোনিকার জীবনে তাড়া করে ফিরছে এক শারিরীক সমস্যা। যা তাকে জন্মেও পর থেকেই কষ্টের মধ্যে রেখেছে। ১৪ বছর বয়সী ফিলিপাইনের ভেরোনিকা কমিঙ্গেজ। ছবির মতো দেখতে ইলিগান শহরে তার জন্ম। তবে আর সব শিশুর মতো তার জন্ম  কিন্তু স্বাভাবিক ছিল না। ভেরোনিকা জন্মায় চার হাত নিয়ে। জন্মগতভাবেই তার বুকের উপর দেখা যায় অতিরিক্ত দুটি হাত এবং আয়তাকার অঙ্গ। ছোটবেলায় আকৃতি ছোট থাকলেও দিন যত বাড়তে থাকে, অতিরিক্ত অঙ্গগুলোও বড় হতে থাকে। ফলে বিপত্তিতে পড়ে ছোট্ট ভেরোনিকা। সে জানায়, আগে খুব বেশি সমস্যায় পড়তাম না। তবে হাত দুটো যখন বড় হতে শুরু করে তখন এর ওজন বাড়তে থাকায়  আমার চলাচলে বেশ বাঁধা তৈরি করে। মাঝে মাঝে পিচ্ছিল রস কিংবা রক্তও বের হয় এখান থেকে যা দূর্গন্ধযুক্ত। এর ফলে প্রায় সবসময়ই আমার নাভি ভেজা অবস্থায় থাকে এবং পোশাক নষ্ট করে দেয়। ডেইলি মেইল ভেরোনিকাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
ভেরোনিকার মা ফ্লোরা কমিঙ্গেজ জানায়, আমাদের বংশে যমজ বাচ্চা জন্মের ইতিহাস আছে। আমাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকার জন্য আমার গর্ভকালীন সময় কোন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারিনি। তাই অপর সন্তানটি ঠিক মতো বেড়ে উঠতে পারেনি।
ছোট্ট এ শিশুর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি গ্রামের সবাই টাকা তুলে ভেরোনিকাকে থাইল্যান্ডে অপারেশনের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।
ফিলিপাইন শিশু মেডিকেল সেন্টারের সার্জন বিভাগের ডাঃ বেডা ইসপিনেদা জানান, এ ধরণের পরিস্থিতিতে অপারেশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত অঙ্গ বিচ্ছেদ ঘটানো সম্ভব। এতে মূল শরীরের কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। তবে তার বয়সের কথা মাথায় রেখে আমরা কোন ঝুঁকি নিতে চাই না। তাই উন্নত প্রযুক্তির চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য অপারেশন থাইল্যান্ডে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তা জানান, আমাদের কল্যাণ তহবিলের আওতায় তাকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। আগামী সপ্তাহেই তাকে আমরা থাইল্যান্ডে অপারেশনের জন্য পাঠাবো।
তিনি আরো জানান, ভেরোনিকার জীবন খুব কষ্টদায়ক হলেও এত কম বয়সে সে খুব সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ ৪০ লাখ মানুষ

আসামে নাগরিক তালিকায় জায়গা হলো না ৪০ লাখ মানুষের। সোমবার প্রকাশিত নাগরিকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এর চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ২ কোটি ৮৯ লাখকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে ‘টেকনিক্যালি’ ৪০ থেকে ৪১ লাখ মানুষ ভারতীয় নাগরিক হতে পারেন নি। তাদেরকে গণহারে বের করে দেয়া হতে পারে বলে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব মানুষ বাংলাভাষী। তাদের বেশির ভাগই মুসলিম। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে সরকার বলছে, যাদের নাম নেই এই তালিকায় তারা দীর্ঘমেয়াদি একটি আপিল করতে পারবেন।
তাছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে না। বিবিসির এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এর ফলে ভারত তার অভ্যন্তরে একটি নতুন সংকট সৃষ্টি করছে। এনআরসি সমন্বয়কারী সোমবার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা শুধুই একটি খসড়া। এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। যেসব মানুষ এ তালিকার মধ্যে নেই তারা অভিযোগ ও আপত্তি তোলার সুযোগ পাবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আসামে অবস্থানরত বাংলাভাষী প্রায় ২০ লাখ মুসলিম আতঙ্কে রয়েছেন। তাদেরকে রাজ্যটি থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। কারণ, তাদেরকে বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করা হয় আসামে। এখন যে ৪০ থেকে ৪১ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদেরকে কি করা হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয় নি। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি বলেছিল, অবৈধ অভিবাসীদের আসাম থেকে বের করে দেয়া হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, সীমান্তবর্তী রাজ্য আসাম ও অন্যান্য স্থানে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আসামে ধর্মীয় রাজনীতির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসী ইস্যুটি আবেগ ও রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আসাম হলো ভারতের একমাত্র রাজ্য যেখানে নাগরিকত্বের রেজিস্ট্রার করা হচ্ছে। এর কারণ হলো বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী ইস্যু। এটাই এখানকার প্রধান টপিক। আসামের কিছু গ্রুপ দাবি করছে, এসব অভিবাসী অবৈধভাবে ভোট দিচ্ছেন এবং তারা রাজ্যের জনসংখ্যাতত্ত্বকে পাল্টে দিচ্ছেন। 
বিবিসি বলছে, এনআরসি হলো ওইসব মানুষের তালিকা যারা প্রমাণ করতে পেরেছেন ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের আগে আসামে প্রবেশ করেছিলেন। ভারত বলছে, এই প্রক্রিয়া হলো বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের দলে দলে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু এতে আসামে যেসব জাতিগত সংখ্যালঘু আছেন তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন তারা এর শিকারে পরিণত হবেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে বের করে দেয়া হবে না।
তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি একটি আপিল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন সবাই। বিবিসি লিখেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ পালিয়ে প্রতিবেশী ভারতে চলে যায়। তাদের অনেকে আসামে বসতি গড়েছে।  যেসব মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে বৈধ নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে নিশ্চিত থাকতে পারছেন না হাসিতুন নিসা। এনসিআর প্রকাশ হওয়ার কয়েকদিন আগে তিনি কথা বলেছেন বিবিসি’র সাংবাদিক জো মিলারের সঙ্গে। আসামের বাইরে কোনো বাড়িঘর আছে এমনটা কখনও জানেন না হাসিতুন নিসা। তার জন্মই আসামে। পড়াশোনা করেছেন সেখানে। স্কুলশিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। বিয়ে করেছেন। আছে চারটি সন্তান। তিনি বলেছেন, তার পরিবার ভারতে প্রবেশ করেছে ১৯৭১ সালের আগে। কিন্তু তার মধ্যে ভয়, তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হবে। ভূমির অধিকার, ভোটের অধিকার এমনকি স্বাধীনতাকে কেড়ে নেয়া হতে পারে। হাসিনাতুন নিসা একা নন। তার মতো প্রায় ৪০ লাখ বাংলাভাষী এমন এক জটিল প্রক্রিয়ায় পড়েছেন।
দিল্লি থেকে বিবিসি’র সাংবাদিক স্বস্তিক বিশ্বাস বলেছেন, সরকারের সর্বশেষ এই পদক্ষেপে রাতারাতি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া এত মানুষের মধ্যে সহিংসতা দেখা দিতে পারে। এমনিতেই ওই রাজ্যটি উত্তেজনায় ভরা থাকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি বর্তমানে আসাম শাসন করছে। তারা এর আগে বলেছে, অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। কিন্তু প্রতিবেশী বাংলাদেশ অবশ্যই তাদেরকে গ্রহণ করে নেয়ার অনুরোধ মেনে নেবে না। ফলে ভারতে রাষ্ট্রহীন মানুষদের নিয়ে নতুন করে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সেটা হবে দেশের ভেতর বেড়ে ওঠা সংকট। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের পরিণতিও হয়তো তেমন হতে পারে।

সরকারি টাকায় রাজনৈতিক কর্মীরা যাচ্ছেন হজে by দীন ইসলাম

সরকারি টাকায় রাজনৈতিক কর্মীরা যাচ্ছেন হজে। তাদের পাশাপাশি সমাজের ধনাঢ্য, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সরকারি টাকায় হজ করতে সৌদি আরবে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় খরচে হজ পালনের জন্য ৮৬ জনের সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ শাখা। নতুন করে আরো একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দুয়েক দিনের মধ্যে এ তালিকা জারি করা হতে যারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ মুহূর্তে তালিকা কাঁটাছেঁড়ার কাজ চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা ধর্মমন্ত্রী এবং সচিবের নির্দেশনা অনুযায়ী কাঁটাছেঁড়ার কাজ করছেন। তবে সচিবের দেয়া তালিকা অনেক ক্ষেত্রে বাদ যাচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাষ্ট্রীয় খরচে হজে যাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা ঘেটে দেখা গেছে, রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জিয়াউদ্দিন খান, চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মনির হোসেন, আওয়ামী লীগ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন ফারুক, রংপুর পীরগঞ্জের ১নং চৈত্রকোল ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. সেকেন্দার আলী, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন হাওলাদার।
এদিকে সাধারণ ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি খরচে হজ করতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন-গোপালগঞ্জ সদরের হাসমত আলী শেখ, টুঙ্গিপাড়ার মো. আয়ুব আলী শেখ ও মুন্সী মো. কামরুজ্জামান, কোটালীপাড়ার বেগম নুরুন নাহার মাহমুদা ও অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার, রংপুরের পীরগঞ্জের মো. রফিকুল ইসলাম (বকুল), সাভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের মো. হাবিবুর রহমান, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মো. ইদ্রিস মোল্লা, পটুয়াখালির দশমিনার সৈয়দ মাহবুব আলম, নরসিংদী সদরের মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ পৌরসভার মো. আনছার আলী, নাটোরের দুর্গাবাহারপুরের হাফেজ মো. মহসীন আলী, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার জিয়াউর রহমান ও মো. জহিরুল ইসলাম মামুন মিয়া, পটুয়াখালীর বাউফলের মো. হাবিবুর রহমান, চট্টগ্রামের পটিয়ার মফজল আহমদ (মাস্টার), সূত্রাপুরের ঋষিকেশ দাস রোডের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. জসিম উদ্দিন, খিলগাঁও ঈদগাহ জামে মসজিদের খাদেম মো. সাইদুর রহমান, নরসিংদীর ভিরিন্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. খলিলুর রহমান এবং মাদারীপুরের বিসিক শিল্প নগরীর মো. আজাদ হোসেন মুন্সী।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অডিটর কেরামত আলী মোল্লা, ফ্ল্যাট নং- সি-৪, স্কাইভিউ গার্ডেন, ৭৭/১, শান্তিনগরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কন্ট্রোলার মির্জা সিরাজুল আলমও রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করতে যাচ্ছেন। এদের বাইরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় খরচে হজ করতে সৌদি আরবে যাবেন। এ তালিকায় সহকারী প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অফিস সহায়ক, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী রয়েছেন।

শাজাহান খান যা বললেন

নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন না নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বললেন, দুর্ঘটনা ঘটলেই অনেকেই আমার পদত্যাগ দাবি করেন। আমি তাদের বলবো, আপনারা যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারেন বা বলতে পারেন, হ্যাঁ, আপনি (নৌমন্ত্রী) গেলেই সব সমস্যার সমাধান হবে, আমার চলে যাওয়ার তো কোনো অসুবিধা নেই। এর আগেও শহীদ মিনার থেকে অনেকেই আমার এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু পদত্যাগ সমস্যার সমাধান নয়। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই ছাত্রছাত্রী নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এসব কথা বলেন।
এর আগে গত রোববার দুপুরে হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার ঘেঁষে রাস্তার বাঁ-পাশে দাঁড়ানো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একদল শিক্ষার্থীর ওপর উঠে যায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন আরো বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। প্রতিবাদে তখন বেশকিছু গাড়ি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, মিরপুর-আব্দুল্লাহপুর রুটের জাবালে নূরের একাধিক বাস পাল্লাপাল্লি করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটায়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আজকে বাংলাদেশে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যখন প্রধানমন্ত্রী আহ্বান করলেন, আগুন-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তখন কিন্তু এই সড়ক পরিবহন শ্রমিকরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, গাড়ি চালু রেখে ছিলেন। এর জন্য ৯২ জন চালক-হেলপারকে জীবন দিতে হয়েছে। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের অবদান আছে। তিনি বলেন, মালিকদের এক হাজারের মতো গাড়ি পুড়িয়েছে, তিন হাজারের মতো গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
তাহলে একটি দেশের প্রতি মালিক-শ্রমিকদের যদি দায়-দায়িত্বই না থাকে, তাহলে আমরা এ ঝুঁকিটা নেবো কেন? এই ঝুঁকির মধ্যে আমি কিন্তু যেখানেই গাড়ি পুড়িয়েছে সেখানেই ছুটেছি। বিভিন্ন জায়গায় ছুটে ছুটে গাড়িগুলো চালু রাখার ব্যবস্থা করেছি। মন্ত্রী বলেন, আমি গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, শুধু এই সেক্টর নয়, ২০১৩ সালে গার্মেন্টসে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আমাকেই দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালের পরে আর কোথাও গার্মেন্টস-এ জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে? তাহলে আমি এ উদাহরণ দিতে চাই, আমি এখানে আছি বলে অনেক দুর্ঘটনা কমানোর ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করছি। ঢাকার রাস্তায় যারা মিনিবাস চালায় তারা চরম বিশৃঙ্খল, একজন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি একমত। এটা নিয়ে সিরিয়াসলি আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি যে, আমাদের করণীয় কী। আমরা কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেবো। শুধু বিআরটিএ আর সরকারকে দায়িত্ব দিলে হবে না, আমরা নিজেরাও কিছু দায়িত্ব পালন করতে চাই। সে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা কমাতে পারবো।
আগে অনেক লঞ্চডুবি হতো, শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। আমি তো প্রমাণ করেছি, বিগত সাড়ে তিন বছরে একটাও লঞ্চ ডোবেনি। এটা যদি আমি এখানে করতে পারি, আমি আশা করি, সড়ক-পরিবহন খাতেও আমার প্রচেষ্টা দিয়ে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে পারবো। রোববারের দুর্ঘটনাটিকে খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে নৌমন্ত্রী বলেন, আপাতত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে জাবালে নূরের চালকরা দোষী। তদন্তে এটা প্রমাণ হলে জাবালে নূরের রুট পারমিট বাতিল করা হবে। এ ঘটনায় যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে এটা ঘটেছে বলে পত্র-পত্রিকায় শুনেছি। এই অসম প্রতিযোগিতা আমরা মেনে নেবো না। আমি গতকালকেও একটা কথা বলেছি, সেটা আজকেও বলছি, যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে মালিক-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ করতে আমরা রাজি নই। আমরা এর দায়-দায়িত্ব নেবো না। জাবালে নূর পরিবহনের মালিক মন্ত্রীর আত্মীয় বলে খবর ছড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে শাজাহান খান বলেন, আমি জানি না ঠিক, আমি জোর দিয়ে বলছি না। এটা তো একটা কোম্পানি। সেখানে ১০ বা ২০ জন মালিক থাকতে পারে। সেখানে আমার কোনো আত্মীয় আছে কি-না তা জানা নেই।

যে কারণে শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদের অনীহা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

দেশে শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে। নানা কারণে এই অনীহা অনেক মায়ের ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মধ্যে সচেতনার অভাব, চাকরিজীবী মায়েদের কাজে ব্যস্ততা, কিছু অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারের কৌটার দুধে মায়েদের আসক্ত এবং কখনও কখনও কিছু মায়েদের সৌন্দর্যের বিষয়টিও পরিলক্ষিত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে দেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার আশানুরূপ নয়। গত চার বছর ধরে এই হার একই অবস্থায় স্থির রয়েছে। ১৯৯৪ সালে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার ছিল ৪৬ শতাংশ। ২০১৪ সালে তা বেড়ে উন্নীত হয় ৫৫ শতাংশে। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও এই হার বাড়েনি। তা ৫৫ শতাংশেই স্থির রয়েছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বত্র এ হার হওয়া উচিত ৯০ শতাংশ। আর তাই পুষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগের থেকে কিছুটা উন্নতি করলেও এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পানের সুযোগ কম পায়। এ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দেশে মাতৃদুগ্ধ পানের হার বাড়তে প্রয়োজন মায়েদের কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ। মায়েদের আরো সচেতন হলেই এই হার বেড়ে যাবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ৯৯ শতাংশ এবং আফগানিস্তানে ৯৮ শতাংশ শিশুকে শিশুকালে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। বাংলাদেশ ছাড়া এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে এই হার ৯৪ থেকে ৯৭ শতাংশ। বাংলাদেশে নবজাতকদের মাত্র ৫১ শতাংশকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা হয় এবং ছয় মাসের কম বয়সী ৫৫ শতাংশ শিশুকে কেবল বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, এ হার আরো বেশি হবে। সমপ্রতি এ সংক্রান্ত কোনো জরিপ না হওয়ায় এই হার এত কম।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের (বিবিএফএফ) চেয়ারপারসন ডা. এস কে রায় এই বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, দেশে নিরবচ্ছিন্ন মাতৃদুগ্ধ পানের হার যে ৫৫ শতাংশের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা আরো বেশি। ওই প্রতিবেদনকে আমরা পান্থা দেই না। বিবিএফএফের ভাইস চেয়ারপারসন ও শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন মানবজমিনকে বলেন, শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পানের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সচেতনতা আছে। তবে একজন মা সমস্যায় পড়লে কোথায় যাবেন- সেই জায়গা খুব কম। বিবিএফএফের মাধ্যমে ‘মাদার সাপোর্ট গ্রুপ’ কাজ করছে। এর সুফল পাওয়ার আশা করছেন এই বিশেষজ্ঞ। এই বিষয়ে হাসপাতালে নার্স, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইউনিসেফের প্রতিবেদনটা ঠিক না। এ বিষয়ে নতুন কোনো গবেষণা না থাকায় পুরনো তথ্যই আমাদের উপস্থাপন করতে হচ্ছে। তাই এ সংখ্যা একই জায়গায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। কোনো সমস্যা হলে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সমস্যা দূর করতে হবে এবং প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তিনি বলেন, বাচ্চা প্রসবের পর মায়েরা বাড়ি যাওয়ার পর আর হাসপাতাল আসতে চান না। তিনি বলেন, কোম্পানির লোকরা কৌটার দুধ খাওয়ানোর জন্য উদ্ধুদ্ধ করেন। এটা ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তারা চিকিৎসকদের মটিভেটেড (প্ররোচনা) করে থাকেন। যা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বলে এই চিকিৎসক মনে করেন।
ইউনিসেফের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বুকের দুধ খাওয়ানোর অভ্যাস যাতে কমে না যায় তার জন্য সংস্থাটি বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে অনেক সহায়ক উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে ওঠা এবং মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার জন্য জন্মের পর থেকে প্রতিটি শিশুকে দুই বছর এবং সম্ভব হলে আরো বেশি সময় বুকের দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। একজন মা যদি এক বছর তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে তার স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের বুকের শাল দুধ পান করালে শতকরা ৩১ ভাগ নবজাতকের মৃত্যুরোধ হতে পারে। পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ পান করালে ১৩ শতাংশ শিশুমৃত্যু এবং ৬ মাস বয়সের পর মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করলে শতকরা ৬ ভাগ শিশুমৃত্যু হার কমানো সম্ভব। এ পরিস্থিতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে আগামী ১লা আগস্ট থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৮ পালন করা হবে দেশে। শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর উৎসাহ দিতে এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। এবার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘মায়ের দুধ পান, সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ।’

১২টায় ব্যালট শেষ, বুলবুলের অন্যরকম প্রতিবাদ by আসলাম-উদ-দৌলা ও প্রতীক ওমর

নগরীর ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে দুপুরেই শেষ হয়ে যায় মেয়র প্রার্থীর ব্যালট পেপার। পরে এ পদে ভোট দেয়ার জন্য ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা আর মেয়র পদের ব্যালট পাননি। বেলা ১২টায় এই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মেয়র পদে ভোট পড়েছে ৪৫ ভাগ এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট পড়েছে ১৮ ভাগ। খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রে ছুটে যান বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ওই কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নেন। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এদিকে কেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়ার প্রতিবাদে বুলবুল নিজেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। বিকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মূল্যহীন হয়ে পড়ায় তিনি আর ভোট দেননি।
ইসলামি কলেজ কেন্দ্রে আসা ভোটার বাবুল জানান, তিনি দু’দফা ঘোরাঘুরি করে শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট দিতে পেরেছেন। মেয়রের ব্যালট না থাকায় ওই পদে ভোটটি দিতে পারেননি। তিনি তার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চান।
অবশ্য ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল শাফি বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, এমন ভোটার আছেন যারা শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট দিয়েছেন। এজন্য ভোটের শতাংশ কাউন্সিলর এবং মেয়র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন এসেছে। ব্যালট পেপার সংকট নেই। একজন মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রে অবস্থান করায় ভোট গ্রহণে একটু বিঘ্ন ঘটেছে মাত্র।
এদিকে ভোর থেকেই নগরীজুড়ে গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছিল। কেন্দ্রগুলোর বাইরে ধানের শীষের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। রাতে অনেক পোলিং এজেন্টের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়ার অভিযোগ ছিল। তালাইমারী বাদুরতলা এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা কমপ্লেক্স ভোটকেন্দ্রে এমন অভিযোগ পেয়ে গেলে সেখানে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্টকে পাওয়া যায়নি। সকাল সাড়ে ৮টার থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেববাজার এলাকার মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিএন সরকারি গার্লস হাইস্কুল, শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ স্কুল ভোটকেন্দ্রে একজনও ধানের শীষের ব্যাজধারী ব্যক্তিকে দেখা যায়নি। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে যেতেই মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ মামুনকে আওয়ামী লীগসমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মোমিন সরকারের ব্যাচ গলায় পরে থাকতে দেখা যায়। ষষ্ঠীতলা এলাকা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও চিত্রের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। নাজমুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে বিএনপির পোলিং এজেন্ট থাকলেও বাইরে থেকে বোঝা কঠিন ছিল নৌকা ব্যতীত অন্য কোনো প্রার্থী মেয়র ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। ভোটের রব কাউন্সিলরকে ঘিরে।
সকাল ১০টা পর্যন্ত ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের অধিকাংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। তার প্রমাণ মেলে নৌকা প্রতীকের ভোটার সংবলিত স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে দেখে। তেরখাদিয়া এলকায় দুপুর ১২টার দিকে বিভাগীয় স্টেডিয়াম ভোটকেন্দ্রের বাইরে তিনমাথার মোড়ে ভোটের আমেজ চোখে পড়ে। যার পুরোটাই ছিল কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের অবস্থান, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিয়ে আসার প্রচেষ্টা। 
প্রথমে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত মতিহার থানার ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রধানফটক বন্ধ করে নৌকা মার্কায় সিল মারার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হলে ঢাকা রেঞ্জের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসে মানবজমিনের দুই প্রতিবেদককে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন। এ সময় কথা হয় প্রিজাইডিং অফিসার বদিউজ্জামানের সঙ্গে। সকাল ১১টায় ২৬৭০ ভোটের মধ্যে ভোট পড়ে ২০ শতাংশ, ভোট শেষে তা প্রায় ৭০ শতাংশে দাঁড়ায়। দীর্ঘ লাইন দেখতে পেলেও সে হারে ভোট গ্রহণ না করায় বাইরে দাঁড়ানোর প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ওই সেন্টারের মোহনপুর এলাকার বুথে চাপ কম থাকলেও বাইরে থেকে ভোটারদের বুথে নিতে অজানা কারণে বিলম্ব হচ্ছিল। বুধপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ভোটার নম্বর সংবলিত স্লিপধারী আজিজ নামের একজন ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ভোটকেন্দ্রের বাইরে থাকলেও তিনি গেটের ভেতরেই যেতে পারেননি। 
ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রে ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে সিল মারার অভিযোগ নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই কেন্দ্রের বুথে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেন ঢাকা রেঞ্চের এক পুলিশ কর্মকর্তা। প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহ হিল শাফির সঙ্গে দেখা করলে তিনি বলেন, বুথের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেয়া যাবে না। ওপর থেকে নিষেধ আছে। রিটার্নিং অফিসারের লিখিত অনুমতি লাগবে। পরে তিনি বুথ প্রদর্শনে নিয়ে যেতে রাজি হলেও ওই ঢাকা রেঞ্চ কর্মকর্তার তার সঙ্গে গোপনে কিছু বললে তিনি আর রাজি হননি। এরই মধ্যে নৌকা সমর্থকদের ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ পকেট ভর্তি করে ব্যালট পেপার নিয়ে ওপরে ওঠে। পরে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহারা খাতুন নিম্ন উচ্চ-মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভেতরেও সাংবাদিকদের ঢুকতে দেননি প্রিজাইডিং অফিসার রঞ্জিত কুমার শাহ। এ কর্মকর্তা বলেন, আপনাদেরকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া বুথের ভেতরে যেতে পারবেন না। এ সময় ঢাকা রেঞ্চের এক কর্মকর্তা তার নামের ব্যাচ খুলে রেখে সেখানে অবস্থান নেন।
সকাল থেকে রাজশাহী সিটির ৩০নং ওয়ার্ডের বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং ওয়ার্ডের গুড়িপাড়া, ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা কমপ্লেক্স, তালাইমারী এলাকার বাদুড়তলা, বিনোদপুর এলকার ইসলামিয়া কলেজ, ১২নং ওয়ার্ডের পিএন গার্লস স্কুল, পিএসপি স্কুল, ১৩নং ওয়ার্ডের রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ, কাদিরগঞ্জ এলাকার শহীদ নাজমুল হক বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, দারুস সুন্নাহ্‌ দাখিল মাদরাসাকেন্দ্র ঘুরে ভোটের বিচিত্র দৃশ্য চোখে পড়ে। সকাল ৯টা পর্যন্ত কিছু কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে কোনো বাধা না থাকলেও পরে এই বাধা তীব্র হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রে ঢুকতে পদে পদে বাধা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা রেঞ্জের কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেননি।
ভোট দেননি বুলবুল:  নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজেই ভোট দেননি। ভোট দেননি সদ্য বিদায়ী মেয়রের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপুও। সোমবার সকালে বরিশাল, সিলেটের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেই বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন প্রার্থীরা। তবে এদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন বুলবুল। নিজে ভোট না নিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে বের হন তিনি।
বেলা দুটার পর বুলবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন, তিনি ভোট দিচ্ছেন না। কারণ, জানতে চাইলে তিনি তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বলেন, ‘এই বিপন্ন গণতন্ত্রে আমার পোলিং এজেন্টরা ভোট দিতে পারেনি, সেখানে আমার ভোট দিয়ে লাভ কী?’ তিনি আরো বলেন, মেয়র পদের ভোট বেলা ১১টার মধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন শুধু কাউন্সিলরদের ভোট হচ্ছে।
নির্বাচন প্রত্যাখ্যান পুনরায় তফসিল দাবি: রাজশাহী সিটি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের  মেয়র পদে অবৈধ, নিয়ম-বহির্ভূত ভোট ডাকাতি হয়েছে। এই ডাকাতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঢাকা থেকে আসা একটি বিশেষ বাহিনী এই ডাকাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন। 
বুলবুল বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং পুলিশ বিভাগ নির্বাচনের তফসিল পর থেকে প্রকাশ্যে অনিয়ম, বে-আইনি কার্যকলাপ এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন যেগুলো আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে বারবার জানানো হয়েছে এবং মৌখিকভাবে ও মিডিয়াতে জানানো হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি অভিযোগ জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন নির্বাচন কমিশন অফিস। সরকারদলীয় প্রার্থীর পছন্দমতো বেছে বেছে কট্টর আওয়ামীপন্থী ‘প্রিজাইডিং অফিসার’, ‘সহকারী প্রিজাইডিং নিয়োগ দিয়েছেন এবং বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও (লিখিত) আমাদেরকে তার তালিকা দেয়া হয়নি।
সকাল ১০টা হতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ কর্মকর্তারা এবং আওয়ামী লীগ যৌথভাবে মোট ৭৭টি কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বলপূর্বক বের করে দেয়। প্রিজাইডিং অফিসারগণ, এজেন্টদের ব্যালট বাক্স হিসাব, ব্যালট পেপারের হিসাব দেয়নি এবং তাদের কাছে রক্ষিত ফর্মে আমাদের এজেন্টদের স্বাক্ষর নেয়নি; যা নির্বাচনী বিধানের পরিপন্থি।
তিনি এই অবৈধ নির্বাচন বাতিল এবং পুনরায় আইনসঙ্গতভাবে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান।

সিলেটে নজিরবিহীন ভোট by রোকনুজ্জামান পিয়াস

‘শান্তির’ শহরে আজব কিসিমের এক নির্বাচনের সাক্ষী হলো সিলেটের মানুষ। ভোটের মাঠে এবার এমন কিছু দেখলো, যা আগে কখনো দেখেনি তারা। কেন্দ্র  দখল, ভোট ডাকাতি, বিরোধীপক্ষকে মারধর, পুলিশের সহযোগিতায় জালভোট, প্রতিপক্ষ এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা, দুপুরেই ব্যালট পেপার শেষ- কি ছিল না এই নির্বাচনে। নগরবাসী বলছে, এমন ভোট তারা আগে কখনো দেখেনি। হামলার শিকার হয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দায়িত্বরত সাংবাদিকরাও এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। একের পর এক কেন্দ্র দখলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গণমাধ্যম কর্মীরা। কিন্তু ক্যামেরা তাক করা মাত্রই পুলিশসহ সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাদের ওপর। এসব ঘটনার নির্বাক দর্শক হওয়া ছাড়া কিছুই করার ছিল না তাদের। গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। ভোট দিতে না পেরে হা-হুতাশ করে অনেকেই ক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্র ছেড়েছেন।
সকাল সাড়ে ৮টা। পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের পুরুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ২টি ছাড়া আর কোনো বুথেই নেই ধানের শীষের এজেন্ট। জিজ্ঞেস করলে পোলিং অফিসারের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরীর কক্ষে নির্দিষ্ট সময় পরপর তিন দফা গিয়ে দেখা যায় তার কক্ষটি ছিল তালাবদ্ধ। পনের মিনিট পর চতুর্থবারের মতো তার কক্ষে গেলে দেখা মেলে। এ সময় ধানের শীষের এজেন্ট নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা তিনি বলতে পারবেন না। তাদেরকে কার্ড দেয়া হয়েছে, না আসলে তার কিছুই করার নেই। একই বিদ্যালয়ের মহিলা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো কক্ষেই ধানের শীষের এজেন্ট নেই। এদিকে ওই কেন্দ্রে অবস্থানকালীন একের পর এক বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নৌকার প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে বের করে দেয়ার খবর আসতে থাকে।
নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। সেখানেও কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। বুথের সামনে জটলা পাকিয়ে একদল যুবক বুথের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এ সময় ওই কেন্দ্রে থেকে একা বের হচ্ছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, ২০নং ওয়ার্ডের কোনো কেন্দ্রেই তার এজেন্টদের আসতে দেয়া হয়নি।
সোয়া ১০টার দিকে টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজের ভোট কেন্দ্রে ঢুুকতেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সাংবাদিকদের কেন্দ্রে ঢোকা নিষেধ। তাদেরকে তেমন নির্দেশনাই দেয়া হয়েছে। পরে বাধা উপেক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও বুথে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ সময় দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তার কক্ষেও ঢুকতে দেয়া হয়নি। আনসার সদস্যরা তার রুমের সামনে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। তাদের সাফ জবাব, স্যারের সঙ্গে দেখা করা যাবে না। ভোট কেন্দ্রের কয়েকজন অভিযোগ করেন, তার রুমেই জাল ভোট দেয়া হচ্ছে। শাহজালাল উপশহর একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মহড়া। কেন্দ্রের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রে ভোটারের লম্বা লাইন থাকলেও ৫নং বুথের সামনে জটলা। এ সময় ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট লিয়াকত হোসেনকে বের করে দেয় নৌকার সমর্থকরা। এ নিয়ে কিছু সময়ের জন্য সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে একে একে সব প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। এই অবস্থায় ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মহিম উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র শান্ত রয়েছে। এজেন্টদেরকে বের করে দেয়ার বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় বেরিয়ে গেলে তার কিছুই করার নেই। ওই কেন্দ্রে অবস্থানের সময়ই খবর পাওয়া যায়, নগরীর পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামীয়া কামিল (এমএ) মাদরাসায় সংঘর্ষ চলছে।
১২টার দিকে ওই কেন্দ্রে পৌঁছলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে কেন্দ্রের বাইরে আখালিয়ার দিক থেকে কামরান সমর্থকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে করতে কেন্দ্রের দিকে এগুতে থাকে। এ সময় উল্টো দিক থেকে ঘড়ি প্রতীকের সমর্থক ছাত্রশিবিরের লোকজনও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছোঁড়ে। এতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির এলাকা থেকে সরে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর একদল সমর্থক কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। এ সময় পুলিশের সহযোগিতায় তারা কেন্দ্রের ভেতর থেকে সব ভোটারকে বের করে দেয়। কেন্দ্রের সব বুথ তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ওই কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, দোতলা ও তিনতলার সব ক’টি বুথ দখলে। বুথের বাইরে একদলের জটলা, ভেতরে আরেকদল জাল ভোটের মহোৎসব চালাচ্ছে। এ সময় জটলা ঠেলে ছবি তুলতে গেলে নয়া দিগন্তের ফটো সাংবাদিক বাপ্পির ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় বুথের সামনে অবস্থান করা পুলিশের এসআই রহমাতুল্লাহ মিয়া। পরে তোলা ছবিটি ডিলিট করে তার ক্যামেরা ফেরত দেন তিনি। ধাক্কা দিয়ে সাংবাদিক বাপ্পিকে নিচ তলায় নামিয়ে দেন।
শুধু পুলিশ কর্মকর্তা রহমাতুল্লাহই নন, বেশির ভাগ পুলিশ সদস্যই ক্যামেরা তাক করা মাত্রই সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। পরে আবারো জাল ভোটের মহোৎসব দেখতে ভবনের তিনতলায় ওঠে ছবি তোলার চেষ্টা করলে এই প্রতিবেদকের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ ও নৌকার সমর্থকরা। ছবি না ওঠানোর শর্তে সেখানে অবস্থান করলে দেখা যায়, ভেতরে একদল ব্যালটে সিল মারছে, আর দরজা বন্ধ করে পাহারায় আছে সুঠামদেহি এক যুবক। পুলিশ সেখানে ভোটারদের যেতে বাধা দিচ্ছেন। বিশেষ করে এসআই রহমাতুল্লাহ ও কয়েকজন কনস্টেবল এ ব্যাপারে অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করছিলেন। সাংবাদিকরা নির্বাক দর্শক হয়ে জাল ভোটের মহোৎসব চেয়ে চেয়ে দেখেন। আধাঘণ্টা পর নিচ তলার একটি বুথে এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এক যুবক জাল ভোটের ব্যালট সাংবাদিকদের দেখাতে উদ্যত হন। এ সময় নৌকার সমর্থক ও পুলিশ গিয়ে তাকে রুমে আটকে রাখে। পুলিশ ওই রুমে ঢুকে তাকে বেদম মারধর করে। পরে তাকে পুলিশি ভ্যানে তুলে দেয়া হয়। এরও আধাঘণ্টা পর জালভোট দিয়ে দলে দলে লোকজন নিচে নামে। এ সময় আরেক যুবক জাল ভোট দেয়ার কথা সাংবাদিকদের জানালে পুলিশ তাকে বেদম মারধর করে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় এই প্রতিবেদকের মোবাইল আরেক দফা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। ঘটনার শুরুতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সিলেটের এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, ঘটনা শুরুর কিছুক্ষণ পর এরশাদুল হক ও আশিক নামে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার প্যানিক ছড়াচ্ছেন।’ ঘটনার পর থেকে ওই কেন্দ্রে আর কোনো সাধারণ ভোটারকে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। অনেকে ভোট দিতে গেলে জানানো হয়, ব্যালট পেপার শেষ!
বেলা দুইটার আগে-পরে বিভিন্ন কেন্দ্র দখলের খবর আসতে থাকে। সুবিদবাজার এলাকার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ভোটারকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ওই কেন্দ্রের ভেতরে তখনো জাল ভোট চলছিল। এ সময় ছবি তুলতে গেলে আবারো সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ঘণ্টাখানেক পরে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয় পুলিশ। তবে আইডি কার্ড দেখিয়ে। অনেকে ভোটার নাম্বার বললেও কার্ড দেখাতে না পারায় কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. নাবিল আহমেদ অভিযোগ করেন, তাকে একঘণ্টা ধরে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় ওই প্রতিষ্ঠানের মহিলা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দু’জন করে ভোটার ভেতরে ঢুকবে। তারা ভোট দিয়ে বাইরে বের হয়ে গেলে পরবর্তী দু’জন ঢুকবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুর একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্রে পুলিশ সাধারণ ভোটারদের প্রবেশে বাধা দেয়। ওই সময়ই কেন্দ্র দখল করে জালভোটের মহোৎসব চলে। এদিকে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ দেখে নগরবাসী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, অতীতে সিলেটে এমন ভোট কেউ দেখেনি। এতে ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ভোট সিলেটের ঐতিহ্য ‘সম্প্রীতি’কে নষ্ট করে দিয়েছে।

ইমরানের মোবাইলে কি দেখেছিলেন রেহাম খান?

বিবাহ বিচ্ছেদের আগে ইমরান খানের মোবাইল ফোনে কি দেখতে পেয়েছিলেন তার বিচ্ছেদপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী রেহাম খান! অভিযোগ আছে, বিচ্ছেদের আগে পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানের ফোন ‘চুরি’ করেছিলেন রেহাম খান। এ নিয়ে একজন টুইটে তাকে প্রশ্ন করলে রেহাম খান জানিয়েছেন, কিছু ম্যাসেজ তিনি সহসাই পোস্ট করবেন। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে কি থাকছে ওই টেক্সট ম্যাসেজে। চারদিকে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেখা দিয়েছে কৌতুহল। পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এ নিয়ে সংবাদ শিরোনাম ‘আই উইল বি পোস্টিং সাম টেক্সটস সুন: রেহাম খান’।

এতে বলা হয়েছে, তার সাবেক স্বামী ইমরান খানের দল পাকিস্তানের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হওয়ার পর সমালোচনায় মুখিয়ে উঠেছেন রেহাম। ইমরান খান কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে ও পরে সব সময়ই ইমরান খানের বিরুদ্ধে টুইট করে তার কড়া সমালোচনা করেছেন রেহাম।
এ জন্য ইমরান খান ও তার দলের বিষয়ে তার মতামত নিতে বিদেশী গণমাধ্যমগুলো এগিয়ে গেছে। এরই মধ্যে রেহাম সাক্ষাতকার দিয়েছেন ভারতের অনলাইন দ্য হিন্দুকে। তাতে তিনি ইমরান খানকে সেনাবাহিনীর হাতের পুতুল বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, দুই বা তিন বছর আগে থেকেই ইমরানকে ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল সেনাবাহিনী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে রেহাম খানের অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখ ৯৭ হাজার। এই একাউন্ট ব্যবহার করে তিনি পিটিআই ও এর চেয়ারম্যানের সমালোচনা করেন। ইমরান খানের বিজয় নিয়ে পাকিস্তানে বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেমন সংশয় প্রকাশ করেছে তেমনি এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেহাম খানও। ফলে তার বিরুদ্ধে উল্টো কড়া সমালোচনা করেছেন ইমরান খানের সমর্থকরা।
টুইটে একজন ব্যবহারকারী তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তার তখনকার স্বামী ইমরান খানের মোবাইল চুরি করেছিলেন তিনি বিচ্ছেদের আগে সে বিষয়ে। জবাবে টুইটারে রেহাম বলেছেন, বেশ কিছু টেক্সট ম্যাসেজ তিনি শিগগিরই প্রকাশ করবেন। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেন নি।

নতুন মডেল

অভিযোগ সত্যি হলে তিন সিটির নির্বাচন শেষ পর্যন্ত গাজীপুর ও খুলনা মডেলকে হারিয়ে দিয়েছে বলেই গণ্য হবে। এবার একদিনে তিন সিটিতে তিনটি আলাদা মডেল জন্ম নিয়েছে। জালভোট, ব্যালট  পেপার ছিনতাই, এজেন্টদের বের করে দেয়া এবং সাংবাদিক প্রহারের মতো সব উপাদানই যুক্ত হয়েছে। তবে বরিশাল মডেল নতুন রেকর্ড গড়েছে। সেখানে ১০টার মধ্যেই  ভোটপর্ব সাঙ্গ হওয়ার ধারণায়   মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে ছুটে  গেছেন। সিলেটে বিএনপি প্রার্থী নির্বাচন বাতিল দাবি করেছেন। বরিশালে বিএনপিসহ ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন ঘটেছে। রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী বুলবুলের ভোট না দিয়ে মাঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাঁয় বসে থেকেছেন। এসবই নতুন মাত্রা। নতুন ইতিহাস। অনেকে বলছেন, মাগুরার একটি উপ-নির্বাচনে বিএনপির কারচুপি  দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের সূচনা করেছিল। কিন্তু দুটি সিটির পরে তিন সিটির অনিয়ম সার্বিকভাবে যে অবস্থার জন্ম দিয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণ কি? অধিকাংশ নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক একমত যে, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠেয় ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কি করে বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে? কেন মানুষ বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে নির্বাচনে দাঁড়াবে। 
আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে  রেখে এখন কোটি টাকা দামের প্রশ্ন হলো, আগামী সাধারণ নির্বাচন কোন মডেলে হবে? আর পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মডেল-টডেল যাই হোক, ৫ সিটি নির্বাচনে জয় কার, পরাজয় কার। সারকথাটা হলো, হারলো কে?
যদিও বিএনপির মুখপাত্র তিন সিটির নির্বাচনকে তামাশা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র যথারীতি ‘উৎসব মুখর’ পরিবেশে ভোট দেয়ার দাবি করেছেন, কিন্তু গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত সিলেটের ভোটের ফলাফলে দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানই প্রচার পাচ্ছিল। অবশ্য সরকারঘেঁষা সূত্র  থেকে প্রচারিত পূর্বাভাসে সিলেটে এরকম হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরই আভাস দেয়া হয়েছিল।   
 তবে এটা পরিষ্কার যে, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থাটি ইতিমধ্যে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়েছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সামনে নির্বাচন হলে তার বিশ্বাসযোগ্যতার গ্যারান্টি কে কীভাবে  দেবে, সেটা আর কোনো মামুলি প্রশ্ন নয়।
সিলেটের রাজনীতি দেশের অন্যান্য স্থান থেকে কম সহিংসপ্রবণ ছিল। প্রাক নির্বাচনী ব্যবস্থায় তেমন কোনো সহিংসতা দেখাই যায়নি। দুই প্রধান  মেয়র প্রতিদ্বন্দ্বী পরস্পরের সম্পর্কে  কোনো ধরনের কটূকাটব্য করেননি। দুই দলের সমর্থকরা পাশাপাশি মিছিলে অংশ নিয়েছে। কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি করেনি। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর যা ছড়িয়ে পড়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে। ২২ নং উপ-শহরের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবু জাফর। তার একটি ফেসবুকে লেখা: আমার নিজের ভোটটি আমি দিতে পারি নাই। এদেশে জন্ম মনে হয় পাপ হয়ে  গেছে।
সিলেটভিউটুয়েন্টিফোর বলেছে, কেন্দ্র দখল ও জালভোটের প্রতিবাদে ২২ নং ওয়ার্ডে পুনরায় নির্বাচন চান ৫ কাউন্সিলর প্রার্থী। আরেক সাংবাদিকের তার ফেসবুকে  দেখা যায়, এরকম একটি পোস্ট: ‘সিলেটে ১২টি কেন্দ্রে ১০০% ভোট কাস্ট হওয়ার পরও শতাধিক ভোটার লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন। ব্যালট পেপার না থাকায় তাদের ফিরে যেতে হয়। উৎসব উৎসব।’ সিলেটে সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে মুখে হাত দিয়ে মুখবন্ধ রাখার প্রতিবাদ করেছেন।
অবশ্য অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, বিএনপির আসলে কোনো লোকজন নেই। তাই তারা অর্থহীন অভিযোগ আনছেন। 
তবে অনেকেই বলছেন, তিন সিটি নির্বাচনের অনেক ভিডিও ফুটেজ নির্বাচন কমিশন চাইলে আমলে নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বাধার সম্মুখীন হলেও অনেক স্থানে তারা নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালে একাত্তর টিভির আলোকচিত্রি একজন ভোটারকে বুথে ঢুকে ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। নির্বাচন এজেন্টের কাছে সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, আপনাকে তো ভোট দিতে দেখলাম। এজেন্ট ধরা গলায় বলছেন, না স্যার। সাংবাদিকরা আরো সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, বরিশালের পশ্চিম কাউনিয়ায় ২৪০৭ ভোটারের একটি কেন্দ্রে শতাধিক ব্যক্তি গণহারে সিল মেরেছে। ব্যালটের পুরো মুড়িটাই একদল লোক সেখানে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। রাজশাহীতে বেলা ১২টায় নগরীর ইসলামিয়া কলেজে ব্যালট শেষ হয়ে গেছে।
তিন সিটির নির্বাচনী উত্তাপ আজ সরকারিভাবে প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। কিন্তু যে প্রশ্নটি বারবার ঘুরপাক খাবে, তাহলো, তিন মেয়র জয়ী হবেন। আগে সরকার দলীয় দুই মেয়র জিতেছেন। এবারে সরকারি দল থেকে সবাই জিতলে ৫ বছর আগের ইতিহাসের শোধ নেয়া সম্পন্ন হবে। ৫ বছর আগে ৫টি সিটি নির্বাচনে বিএনপির কাছে একত্রে হেরে আওয়ামী লীগ হয়তো মনে করেছিল, তারা সাধারণ নির্বাচনটাই হেরে বসে আছে।
২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই দেয়া হয়নি, সেই পাঁচ সিটির পরাজয়ের গ্লানি হার থেকে, এটা কারো কারো বিশ্লেষণ। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, এবারে তারা ৫টিতে জিততে পারলে, তারা নিশ্চিত মনে আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণকে সহজভাবে নিতে পারবে?
এরকম যোগ বিয়োগ, হিসাব নিকাশ চলতেই থাকবে। তবে রাজনীতির পণ্ডিতরা বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বা অনিয়ম দিয়ে গোটা নির্বাচনকে মূল্যায়ন করার মধ্যে একটা ঝুঁকি থাকে। কিন্তু রাজনীতিতে পারসেপশন বা জনমনে ধারণা বলে একটা কথা আছে। এটা সবসময় তথ্য যাচাই দিয়ে চলে না। সমাজে একটি বার্তা রটেছে বা রটবে। আর তাতে প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে, দলীয়ভাবে জয়ী হবেন। তাদের অভিষেক হবে। গণসংবর্ধনা হবে। রাস্তায় হয়তো ব্যান্ড পার্টি নামবে। বাদ্য বাজবে। 
কিন্তু হারবে তো কেউ। কিংবা কোনো একটি পক্ষ হেরে বসে আছে। সিলেটের ইতিহাসে ১৯৪৭ সালের পরে কিংবা আসামের সঙ্গে সিলেটের থাকা না থাকা নিয়ে যে গণভোট হয়েছিল, সেই সময়টা বিবেচনায় নিলে, কাল যা ঘটলো বলে প্রতীয়মান হলো, তার কোনো নজির নেই।
সবমিলিয়ে হয়তো সন্দেহ সামান্য যে, হেরেছে জনগণ। কারণ বিজয়ী জনপ্রতিনিধিগণের বৈধতার প্রশ্নটি আগামী ৫ বছর ধরেই তাদের তাড়া করে ফিরবে।

মিথ্যা মামলায় কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘মিথ্যা মামলায় কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রকৃত আসামি কিংবা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় কিংবা বৃদ্ধ পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা আত্মীয়-স্বজনকে মামলায় জড়িত করার প্রবণতা আমাদের পরিহার করতে হবে।’
সোমবার (৩০ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ‘নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘এ বছরের হিসাব অনুযায়ী সারাদেশের বিচারাধীন নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৮২টি। এর মধ্যে গত বছরেই দায়ের হয়েছে ৫০ হাজার ৩৩২টি মামলা। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৬৬টি মামলা। সম্প্রতি ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে। ফলে আরও অধিক হারে মামলা নিষ্পত্তি হবে বলে আমি আশাবাদী।’
তিনি বলেন, ‘শুধু মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি নয়, গুণাগুণের ভিত্তিতের মামলা নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এজন্য দরকার সঠিক তদন্ত, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, সঠিক ডাক্তারি পরীক্ষা ও মামলা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগীতা।’
আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। প্রকৃত আসামি কিংবা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বৃদ্ধ পিতা-মাতা, ভাই-বোন বা আত্মীয় স্বজনকে মামলায় জড়িত করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা ছাড়াও নারীর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মাতৃত্বকালীন সেবার উন্নয়নে মহিলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সাধারণ মামলার বিচারের সঙ্গে একই ফর্মুলায় ধর্ষণের বিচার করলে সত্যিকারের বিচার কোনোদিনই পাওয়া যাবে না। ধর্ষণের বিষয়টা অন্যরকম, স্পর্শকাতর। ইদানীং কতগুলো সহিংসতা বাড়ছে। আগে ধর্ষণ হতো কিন্তু ধর্ষণের পরও ধর্ষণের শিকার নারী বেঁচে থাকতেন। কিন্তু এখন ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। কারণ যাতে চিনতে না পারে, বলতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘ভেজালবিরোধী ম্যাজিস্ট্রেটরা গিয়ে জেল দিয়ে দেন। অন্যান্য কিছু অপরাধ আছে স্পট অনুসন্ধান, স্পট সাজা। ধর্ষণের শিকার নারীদের ব্যাপারেও এগুলোর মতো করা যায় কিনা, সেটা ভেবে দেখা দরকার। ভিক্টিম নিজে সঙ্গে সঙ্গে যাতে বিচারের জায়গায় যেতে পারেন এবং রাত হোক, দিন হোক একজন বিচারক নির্ধারণ করা থাকবেন, ধর্ষণের শিকার কোনও নারী যদি আসে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ডাক্তার ডেকে পরীক্ষা করাবেন। তৎক্ষণাৎ সাক্ষী নেবেন, আসামি ধরা থাকলে তাকে বলা হবে উকিল নিয়োগ করো, তাকে জেরা করো। পলাতক থাকলে পরবর্তীতে তাকে কীভাবে জেরা করা যায় ইত্যাদি বিষয়ে ভাবতে হবে।’ এ জন্য সমাজবিজ্ঞানী, আইনবিদ ও বিচারকসহ সবার সম্মিলিত প্রয়াস হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমার মতে নারীর নির্যাতনের আসল কারণ স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব। দরিদ্রদের মধ্যে ঝগড়া হয় আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে। অনেক সময় যৌতুকের জন্য নারীকে নির্যাতন করা হয়। আর বিত্তশালী পরিবারগুলোতে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার কারণে। এর সমাধান হিসেবে বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়েকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উপদেশ ও পরামর্শ দেওয়া উচিত।’
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমাদের সমাজ এখন দুভাগে বিভক্ত। আমরা যারা স্বাভাবিক শিক্ষায় শিক্ষিত তারা এক রকম, আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের চিন্তাধারা একরকম। আবার যারা মাদ্রাসার শিক্ষায় শিক্ষিত তাদের মূল্যবোধ আরেক রকম। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকলে আমাদের দেশে সেটি নেই। এটা একটা চিন্তার বিষয়।’
মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় আইনগত সহায়তার পরিচালক জাফরোল হাসান, লিগ্যাল এইড সুপ্রিম কোর্ট শাখার চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

Monday, July 30, 2018

৩৬ বছর বয়সী নারী হবেন পুরুষ

আসাম সরকারের ৩৬ বছর বয়সী নারী কর্মী রীতা দেবী। তিনি এখন আর নারী থাকতে চান না। অপারেশন করিয়ে পুরুষে রূপান্তরিত হতে চান। তাই যোগাযোগ করেছেন মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে। সেখানে তার প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। প্রক্রিয়া চলছে তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষে রূপান্তরের। শুধু তিনি একাই নন। একই রকমভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন করানোর লাইনে রয়েছেন আরো ১২ জন। ভারতের একটি অনলাইন ট্যাবলয়েড দৈনিক এ খবর দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে ললিত সালভে নামে একজন কনস্টেবল সম্প্রতি এমন প্রক্রিয়ায় লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়েছেন। তার কাহিনী শুনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন আসাম সরকারের বিদ্যুত বিভাগের কর্মী রীতা দেবী। এ জন্য তিনি যোগাযোগ করেছেন মুম্বইয়ের সেইন্ট জর্জ হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার তার প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। এরপর তিনি আসামে ফিরে গেছেন। তবে এই যে লিঙ্গ পরিবর্তনের যে ধাপে তিনি পা দিয়েছেন তাতে তার সামনে বড় একটি বাধা রয়েছে। তা হলো রাজ্য সরকারের অনুমোদন। তারা যদি কোনো অনাপত্তি না করে তাহলেই রীতা দেবী এই অপারেশন করাতে পারবেন। তা ছাড়া তার কমপক্ষে এক মাসের ছুটি প্রয়োজন হবে।
রীতা দেবী বলেছেন, তিনি নারী হলেও নিজের ভিতর কখনো মেয়েত্ব বা নারীত্ব অনুভব করেন নি। তার ভাষায়, যখন আমি ললিতের লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়ে শুনতে পাই তখনই সামনে এগুনোর সাহস পাই। আমার বাড়ি এমন একটি গ্রামে যেখানকার মানুষ জানেই না যে লিঙ্গ পুনর্গঠন করা যায় বা লিঙ্গ পরিবর্তন করা যায়। আমার এখন বয়স ৩৬ বছর। অনেক মানুষ আমার কাছে বিয়ের বিষয়ে জানতে চান। তবে এ বিষয়ে আমি সিরিয়াসলি কিছু ভাবি নি। কারণ, আমার লিঙ্গগত পরিচয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। এক্ষেত্রে আমার আত্মীয়রা আমাকে সব সময় সমর্থন দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
ওই হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেন্ডেন্ট ড. মাধুকর গাইকওয়াড বলেছেন, রীতা দেবীকে এ প্রক্রিয়ায় আসতে হলে আসাম রাজ্য সরকারের অনুমোদন আনতে হবে। তা ছাড়া প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি। তাই তাকে মেডিকেল ছুটি আনতে হবে। এক্সরেতে দেখা গেছে তার যৌনাঙ্গের গঠন পরিপূর্ণ। এ জন্য আমাদের জন্য কাজটি খুব সহজ হবে। আমরা শুধু সেটাকে তুলে ফেলবো। তারপর সেখানে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে বসিয়ে দেব পুরুষের একটি লিঙ্গ। তবে এখনও বিষয়টি অনেক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছে।
আরো ১২ জন একই লাইনে
লিঙ্গ পরিবর্তনের এই একই ধারায় আছেন মহারাষ্ট্রের আরো ১২ জন। তারা লিঙ্গ পরিবর্তনের অপারেশনের জন্য হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর বেশির ভাগই নারী। এর মধ্যে রয়েছে ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ে। ডা. মাধুকর বলেন ললিত, তার চিকিৎসক ড. রজত কাপুর ও আমি নিয়মিত ফোন পাচ্ছি। এখন আমরা আগ্রহীদের ডাটা একত্রিত করছি। এমনকি ৫ বছর বয়সী একটি মেয়ের পরিবার ললিতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার কাছে সহায়তা চাইছে কিভাবে আমাদের নাগাল পাওয়া যায়।

ইয়াসির আরাফাতের সমাধিতে তামিমি, প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার

ফিলিস্তিনি জাতিমুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে যে নামটি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে, প্যালেস্টানিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সেই প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বীরকন্যা আহেদ তামিমি। রবিবার ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর সাংবাদিকদের সামনে তামিমি অঙ্গীকার করেন, জাতিগত মুক্তি না আসা পর্যন্ত তার প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
ইয়াসির আরাফাতের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান আহেদ তামিমি
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেনাদের গালে থাপ্পড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের জীবন্ত প্রতীকে পরিণত হন তামিমি। তাকে ইসরায়েলের কারাগারে নেওয়া হয়। মার্চে সামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে ঘোষিত হয় জরিমানাসহ আট মাসের কারাদণ্ড। সে হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে থাকা তামিমির মুক্তি পাওয়ার কথা ১৯ আগস্ট। তবে বিশেষ মূল্যায়নে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ কারও কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারে। সেই বিশেষ মূল্যায়নেই রবিবার তামিমির কারামুক্তি দেওয়া হয়। আহেদ তামিমির চূড়ান্ত মুক্তির সময় তার বাবা বাসেম তামিমি তাকে সাংবাদিকদের ভিড়ের মধ্যে হাত দিয়ে ঘিরে বের করে নিয়ে যান। ওই সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, আমরা স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।

মুক্তির পর রানটিস চেকপয়েন্ট থেকে তামিমি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের সমাধিতে যান। পিএলও প্রধান ইয়াসির আরাফাত ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সম্পন্ন হয়নি মরদেহের ময়নাতদন্তও। পরে তাকে রামাল্লায় সমাধিস্থ করা হয়। সেই সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তামিমি।
ভাইকে বাঁচাতে ইসরায়েলি সেনার হাতে কামড় দেন আহেদ তামিমি
২০০৪ সালেই আরাফাতের জামাকাপড়ে পোলোনিয়াম-২১০ তেজস্ক্রিয় বিষের হদিস পাওয়া গিয়েছিল এবং আরাফাতের স্ত্রী সুহা আরাফাত বিষয়টির তদন্ত দাবি করেছিলেন। ফ্রান্স, রাশিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে আরাফাতের লাশ থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষাগারে পাঠান। ২০১৩ সালে সুইশ বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল রামাল্লায় ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষ এবং সুহা আরাফাতকে প্রদান করেন। আল-জাজিরার তখনকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞানীদের রিপোর্টে পোলোনিয়াম-২১০'-এর বিষক্রিয়ায় আরাফাতের মৃত্যুর স্পষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। যদিও রিপোর্টের বয়ানে ‘মডারেট' বা মাঝারি গোছের সাক্ষ্যপ্রমাণের কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘রাইজ অ্যান্ড কিল ফাস্ট: দ্য সিক্রেট হিস্টোরি অব ইসরায়েল’স টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন্স’ নামের বইতে ইসরায়েলের অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক রনিন বার্গম্যানও দাবি করেন, রেডিয়েশনের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগে ফিলিস্তিনের নেতা ইয়াসির আরাফাতকে হত্যা করেছিল ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনা সদস্যের সঙ্গে বাদানুবাদরত আহেদ তামিমি
প্রয়াত আরাফাতের সমাধি থেকে তামিমি যান তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এক ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই বাড়ির এক সদস্য নিহত হন। ফিলিস্তিনিদের ঐহিত্যবাহী পাগড়ি কেফিয়েহ পরে আহেদ তামিমি সেই বাড়িতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই শহীদের বাড়ি থেকে আমি ঘোষণা করছি, দখলদারিত্ব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ জারি থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, জেলে বন্দি সব নারী শক্তিশালী। জেলে থাকা অবস্থায় যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদও জানান তামিমি।
বাবা বাসেম তামিমির সঙ্গে আহেদ তামিমি
২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর তামিমির বাড়িতে হানা দেয় দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাড়ির প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে দখলদার সেনাদের চলে যেতে বলেন ১৬ বছরের তামিমি। কথায় কাজ না হওয়ায় পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় একপর্যায়ে সেনাদের থাপ্পড় মারতে শুরু করেন তামিমি। এই দুঃসাহসিক ভূমিকার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তামিমি ও তার মাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি সেনারা। একাধিক দফায় নেওয়া হয় রিমান্ডে। বিপরীতে ফিলিস্তিনের বাইরে যুক্তরাজ্যসহ দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে তার মুক্তির দাবি ওঠে। সেই সময়ে ১৬ বছরের মেয়ে তামিমি হয়ে উঠেন ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি আন্দোলন ও তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রতীকী চরিত্র।