Wednesday, August 25, 2010

নেইমারে মুগ্ধ লুলা

নেইমারে মুগ্ধ লুলা
ছবির লোক দুজনকে চিনতে পারছেন? দুজনের নামের শেষেই ‘ডা সিলভা’। বিশ্বাস করুন, হেসে কুটি কুটি হতে থাকা নেইমার ডা সিলভার সামনে মজা করতে থাকা লোকটি স্বয়ং ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভা! কিন্তু প্রেসিডেন্টের এত আনন্দের কারণ কী?
কারণ, নেইমারের ব্রাজিলেই থেকে যাওয়া। চেলসির ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের প্রস্তাব পায়ে দলে সান্তোসের ছেলে নেইমার সান্তোসেই থেকে গেছেন। এতেই তরুণ এই স্ট্রাইকার এখন ব্রাজিলিয়ানদের চোখের মণি।
সাধারণ ব্রাজিলিয়ানদের কথা কী বলবেন, পরশু সাও পাওলোর এক হোটেলে নেইমারকে পেয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট লুলা। ব্রাজিলের ফুটবলের প্রতি এমন দায়বদ্ধতা দেখানোয় নেইমারকে ধন্যবাদ জানালেন। সান্তোসেই খেলা চালিয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্টের প্রশংসা পেলেন আরেক তরুণ ব্রাজিলিয়ান পাউলো হেনরিকে গানসোও। ফুটবলভক্ত ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট সান্তোস ক্লাবেরও প্রশংসা করলেন এই তারকাদের ধরে রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা করায়।
আর বড় বার্তাটা দিলেন দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান তারকাদের। বললেন, দেশের ঘরোয়া ফুটবলের মান বাড়াতে সবারই উচিত নেইমারের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা।

আবাহনীর নতুন কোচ ইরানের আলী আকবর

বিদেশি কোচ আনার উদ্যোগ বেশ আগেই নিয়েছিল আবাহনী। মূলত ইরান ও ঘানায় চলছিল যোগাযোগ। শেষ পর্যন্ত নতুন কোচ হয়ে আসছেন ইরানের আলী আকবর পোর মুসলিমি। তাঁর বেতন হবে মাসে প্রায় চার হাজার ডলার।
এএফসি প্রো-লাইসেন্সধারী আলী আকবর গত মৌসুমে ইরানের প্রিমিয়ারের দল পাস হামাদানের কোচ ছিলেন। এএফসির এই কোচিং ইনস্ট্রাকটর বিভিন্ন দেশে কোচিং কোর্স পরিচালনা করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে ইরানের স্থানীয় লিগে খেলতেন, তবে জাতীয় দলে খেলা হয়নি।
আবাহনীতে ইরানি কোচ এই প্রথম। আশির দশকের শেষ দিকে এই দলে খেলে গেছেন ইরাকের সামির শাকির ও করিম মোহাম্মদরা। সামির পরে কোচও হয়েছিলেন আবাহনীর। অন্যদিকে মোহামেডানের হয়ে খেলে যান ইরানের নালজেগার, বোরহানজাদেরা। মোহামেডান এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলে কোচ হিসেবে কাজ করে গেছেন ইরানের নাসের হেজাজি।
আবাহনী কেন এবার ইরানি কোচ আনছে? আবাহনীর পরিচালক ও ফুটবল পরিচালনা কমিটির অলিখিত প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ জানাচ্ছেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে গত চার বছরে এসেছেন দুজন আর্জেন্টাইন—কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি, ট্রেনার কাম কোচ ডিয়েগো। এবার ভাবলাম, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোচ এনে দেখা যাক, কী হয়। বিশ্বকাপে ইরানের খেলা দেখেছি আগে। খেলার মানটা বাদ দিলে বাকি সব দিক থেকে ওরা আমাদের কাছাকাছি। এই কোচের অভিজ্ঞতা দেখে মনে হয়েছে, আমাদের জন্য ভালো হবে। তা ছাড়া যাঁর মাধ্যমে আলী আকবরকে চূড়ান্ত করেছি আমরা, তাঁর ব্যক্তিগত রেফারেন্সও কাজ করেছে এতে।’
পেশাদার ফুটবল লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবার কিছুটা শক্তি হারাচ্ছে। কয়েকজন মূল খেলোয়াড় দল ছেড়ে যাওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, বিদেশি কোচ আনা হলে সেটি দলের জন্য ভালো হবে। সে জন্যই আনা। আপাতত নতুন কোচ আনা হচ্ছে ছয় মাসের জন্য। পছন্দ হলে গোটা মৌসুমই রাখার চেষ্টা হবে।
আগামী ৬-৭ সেপ্টেম্বর নাগাদ আসামের বরদুলই ট্রফিতে খেলতে যাচ্ছে আবাহনী। ১৫ সেপ্টেম্বর নাগাদ দল দেশে ফিরবে। তারপর ২০-২২ সেপ্টেম্বরই নতুন কোচকে নিয়ে আসা হবে বলে জানালেন নাবিল।

অসুস্থ ও ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানে রোজার বাধ্যবাধকতা, সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে না জানার কারণে অনেকে গুরুতর অসুস্থতা নিয়েও প্রতিদিন রোজা পালন করে থাকে। ইসলামের বিধি-বিধান অবগত হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি অসুস্থ অবস্থায় রোজা পালন করতে গিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করে, তাহলে তা সুস্পষ্টভাবে দেহ ও মনের ওপর জুলুম বা অত্যাচার করা হবে, এটা আল্লাহ তাআলা অপছন্দ করেন। কোনো কোনো রুগ্ণ ব্যক্তির জন্য রোজা বা উপবাস খুবই স্বাস্থ্যহানিকর। সে ক্ষেত্রে উপবাসী হলে তার রোগ-ব্যাধি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এমতাবস্থায় রোজা থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নিয়ম মোতাবেক তার বিকল্প পদ্ধতির বিধান দেওয়া হয়েছে। এ জন্য রমজান মাসে অসুস্থতার কারণে কিংবা ভ্রমণরত অবস্থায় রোজা পালন করা কষ্টদায়ক হলে অন্য সময়ে অনুরূপসংখ্যক অর্থাৎ যে কটি রোজা পালন করা সম্ভব হয়নি তা অবশ্যই পালন করার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য সে রোজা পালনও সম্ভব না হলে ফিদইয়া হিসেবে গরিব-মিসকিনকে খাদ্যদানের মাধ্যমে তা পূরণের সুযোগ রয়েছে। অবশ্য সম্ভব হলে অর্থাৎ কষ্টদায়ক না হলে রোজা পালন করাই বিশেষ কল্যাণকর।
ইবাদতের বিষয়ে শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রুগ্ণ ও প্রবাসী ব্যক্তির জন্য রোজার বিধান যথেষ্ট শিথিল করা হয়েছে। অসুস্থ এবং ভ্রমণরত ব্যক্তিদের রোজা পালন সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে যায় কিংবা কেউ যদি সফরে থাকে, সে ব্যক্তি সমপরিমাণ দিনের রোজা (সুস্থ হয়ে গেলে অথবা সফর থেকে ফিরে এলে) পরে আদায় করে নেবে। এরপর যাদের জন্য রোজা রাখা একান্ত কষ্টকর ব্যাপার বলে মনে হবে, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সঙ্গে সৎকর্ম করে, তার জন্য তা কল্যাণকর হয়। আর যদি রোজা রাখ তবে তা তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৪)
রমজান মাসে গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়েদের জন্য রোজা পালন বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহ তাআলা গর্ভজাত ও নবজাত শিশুসহ মায়েদের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য মাহে রমজানে রোজা পালনের কড়াকড়ি শিথিল করেছেন। সুস্থ হলে বা সক্ষমতা অর্জন করলে পরবর্তী সময়ে অবশ্যই এ রোজা পূর্ণ করতে হবে। যেসব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, তাঁরা রোজা রাখলে দুধের পরিমাণ কমে যায় বলে শিশু পর্যাপ্ত দুধ পায় না। অন্যদিকে গর্ভবতী মহিলা রোজা রাখলে কষ্ট হওয়া ছাড়াও গর্ভজাত সন্তানের প্রয়োজনীয় পুষ্টিপ্রাপ্তি, শারীরিক গঠন ও বয়োবৃদ্ধিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই যে নবজাতকের মা শিশুকে দুধ পান করান, তার জন্য রোজা পালন করার বাধ্যবাধকতা পর্যন্ত শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। এসব দৃষ্টিকোণ থেকে মসজিদের ইমাম, খতিব, আলেম সমাজ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর মায়েদের রোজা না রাখার পরামর্শ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ মুসাফিরের ওপর থেকে চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের অর্ধেক রহিত করে দিয়েছেন এবং মুসাফির, স্তন্যদানকারিণী ও গর্ভবতী মহিলা থেকে মাহে রমজানের রোজা পালন করার বাধ্যবাধকতাও শিথিল করে দিয়েছেন।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসাঈ)
কোনো বিশেষ রোগ-ব্যাধির উল্লেখ করে অসুস্থ ব্যক্তির রোজা কাজা করার নির্দেশের পরিধিকে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়নি। যেকোনো ধরনের রোগ যাতে রোজা রাখা তার জন্য দুরূহ হয়ে যায় সে বিশেষ ক্ষেত্রের জন্য এই অনুমতি। প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ ব্যক্তি যদি রোজা রাখার কারণে কোনো শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর আশঙ্কাবোধ করে, তাহলে এ অবস্থায় রোজা রাখবে না। সুস্থ হওয়ার পর কাজা আদায় করবে। শুধু মনের ধারণায় অসুস্থতার অজুহাতে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকা দুরস্ত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ বা নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো লক্ষণ দ্বারা প্রবল ধারণা জন্মে যে রোজা রাখলে ক্ষতি হবে তখন রোজা ত্যাগ করা যাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাহে রমজানের একদিনের রোজা কোনো (শরিয়ত অনুমোদিত) ওজর বা অসুস্থতা ব্যতীত ভঙ্গ করবে, সারা জীবনের রোজাও এর ক্ষতিপূরণ হবে না, যদি সে সারা জীবনও রোজা রাখে।’ (তিরমিজি, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদ)
ভ্রমণরত ব্যক্তি বলতে পবিত্র কোরআনের তাফসিরকারক এবং শরিয়তের পরিভাষাবিদেরা ব্যাখ্যা করেছেন যে ওই মুসাফির ব্যক্তি, যিনি সফরে আছেন। প্রবাসে থাকলে বা শুধু বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও গেলেই কেউ মুসাফির হন না। তার নির্দিষ্ট নিয়ত, নির্দিষ্ট দূরত্বে গমন এবং অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। এতে কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে। প্রথম শর্ত হলো, সফর দীর্ঘ হতে হবে। নবী করিম (সা.)-এর হাদিস এবং সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে ইমাম আবু হানিফা (র.) এবং অন্যান্য ফিকহবিদ সফরের দূরত্বকে তিন মনজিল বলে অভিমত প্রকাশ করেন। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে তিন দিনে যতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে, ততটুকু দূরত্বকে বোঝায়। পরবর্তীকালের ফিকহবিদেরা এ দূরত্বকে ৪৮ মাইল সাব্যস্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী সফরের সময়সীমা বলতে সফরকালীন এবং মধ্যবর্তী যাত্রাবিরতির মেয়াদ ঊর্ধ্বপক্ষে ১৫ দিনের কম সময়কে বোঝায়। কেউ যদি ভ্রমণের মধ্যেই কোথাও ১৫ দিন অবস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন সেটা আর সফরের মধ্যে বিবেচিত হবে না। সফরের দূরত্ব ও অবস্থানের মেয়াদ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করলে দেখা যায় বিজ্ঞানের বদৌলতে এখন স্বল্প সময়ে প্রায় বিনা ক্লেশে অনেক দূরের পথ অতিক্রম করা সম্ভব এবং অবস্থানস্থল অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতীতের মুসাফিরের মতো নয়। রোজা পালনের ক্ষেত্রে অতীতে যেসব প্রেক্ষাপটে বিশেষ বিবেচনায় প্রযোজ্য ছিল আধুনিককালে তা অবস্থা অনুযায়ীই প্রযোজ্য হবে। যে সফর কঠিন বিপজ্জনক, সমস্যাসঙ্কুল এবং রোজা পালনের জন্য অনুকূল নয় সে সফরের দূরত্ব ও সময়সীমা ওই আলোকেই বিবেচিত হবে।
রোজার সময় সুবহে সাদিক বা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার না করার ফলে শরীরের ওপর একটা প্রভাব পড়ে। সেটি কাটিয়ে ওঠার জন্য এ সময় শরীরকে ভিন্ন নিয়মে চালাতে হয়। যেনতেন অসুস্থতা বা সফরের দোহাই দিয়ে রোজা পালনে বিরত থাকার সহজ ব্যাখ্যা বা অজুহাত দাঁড় করার কোনো অবকাশ নেই। রমজান মাসে রোজা না রাখার জন্য অনেকেই বিভিন্ন অজুহাত খোঁজেন। বিশেষ করে কারও যদি সামান্য অসুস্থতা থাকে তাহলে তিনি রোজা না রাখার পেছনে সে বিষয়কেই তুলে ধরেন। অথচ সামান্য অসুস্থতা তো দূরে থাক, অনেক দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগেও রোজা রাখার ব্যাপারে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। আর সুস্থ অবস্থায় রোজা রাখা যে শরীরের জন্য উপকারী তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ অর্জনের জন্য তাঁর দেওয়া ফরজ বিধান রোজা পালন সৌভাগ্যেরই বিষয়। সুতরাং সে রোজা পালনে বিরত থাকার কোনো উপায় ও উপলক্ষ খোঁজা আত্মপ্রবঞ্চনার শামিল।
কতগুলো কঠিন রোগ-ব্যাধি নিয়ে রোজা পালন করলে স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এসব জটিল অসুস্থতা নিয়ে রোজা পালন না করাই শ্রেয়। বস্তুত অসুস্থতা কিংবা ভ্রমণের কারণে শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, শ্রান্তি ও অবসাদে রোজাদার যাতে ইসলামের সকল প্রকার হুকুম-আহকাম পালন করে যথার্থভাবে ইবাদত করতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সেজন্য অসুস্থতা ও সফরকালে রোজা পালন থেকে সাময়িক অব্যাহতির বিধান দেওয়া হয়েছে। রোজা পালনের মাধ্যমে রোজাদার যাতে সজীবতা, হূদয়ের পবিত্রতা এবং চিন্তাধারার বিশুদ্ধতা অর্জনসহ রুহানি তৃপ্তি, নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা লাভ করে সেজন্য অসুস্থ ও ভ্রমণরত অবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

সীমান্তের অবকাঠামো দেখলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সীমান্তের অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ তারিক করিম।
গত শনি ও রোববার তারিক করিম পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং মালদহের মহদিপুর পরিদর্শন করেন; খতিয়ে দেখেন সীমান্তের আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সুবিধা-অসুবিধার বিভিন্ন দিকসহ বর্তমান অবকাঠামো। এ সময় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মো. হাবিবুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার দুই সীমান্তে কর্মরত শুল্ক ও অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা, বিএসএফ ও বিডিআরের কর্মকর্তা এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরে তারিক করিম স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা।’ তিনি আরও বলেন, সীমান্তের স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নত হলে সীমান্ত-বাণিজ্য আরও সহজ হবে।
এদিকে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হাবিবুর রহমানের সঙ্গে গতকাল সোমবার বিকেলে যোগাযোগ করা হয়। তখন তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ভারত থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করি। ভারত সেখানে আমাদের দেশ থেকে মাত্র ৩০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে। আমরা চাইছি, এই বাণিজ্য-ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ভারত আরও বেশি করে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করুক।’

ডিএসই: সাধারণ সূচক বেড়েছে ৩৬.৫৮ পয়েন্ট

ঢাকা শেয়ারবাজারে (ডিএসই) গতকাল সোমবার সাধারণ সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও আজ মঙ্গলবার তা বেড়েছে। তবে আর্থিক লেনদেন গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৩৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৭৭ পয়েন্টে। এ ছাড়া আজ মোট এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যা গতকালের চেয়ে ৪০ কোটি টাকা কম।
আজ শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪২টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
লেনদেনে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, বেক্সিমকো টেক্সটাইল, আফতাব অটোমোবাইলস, বিএসআরএম স্টিলস ও তিতাস গ্যাস।
দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো হক্কানি পালপ অ্যান্ড পেপার, বিডি ওয়েল্ডিং ইলেক্ট্রডস, সমতা লেদার, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর ও ইনটেক অনলাইন।
দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি হলো সাফকো স্পিনিং, কাশেম সিল্ক, আইসিবি এএমসিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ ১ স্কিম ২ মিউচুয়াল ফান্ড, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।

আশা-নিরাশার দোলাচলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা

মাহমুদ আব্বাস ও নেতানিয়াহু
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে পুনরায় সরাসরি শান্তি আলোচনা নিয়ে আশাবাদের সঞ্চার হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে মতৈক্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তবে শুরুর বিষয়টিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
প্রেসিডেন্ট ওবামার সন্ত্রাস দমনবিষয়ক উপদেষ্টা জন ব্রেনান বলেন, ‘আমরা খুবই আশাবাদী, এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।’ ব্রেনান আরও বলেন, ‘আমরা এই আশাবাদ নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, আলোচনা সফল হবে।’
আগামী ২ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিআমিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে সরাসরি শান্তি আলোচনায় মিলিত হতে যাচ্ছেন। একে ওবামার কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর ঘোষণা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধান অর্জন অনেকটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। জেরুজালেমের মর্যাদা, ফিলিস্তিনি শরণার্থী, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সীমানাসহ নানা ইস্যুতে মতৈক্যে পৌঁছানো অনেক কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল দুই পক্ষই জেরুজালেমকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে থাকে।
দুই পক্ষকে সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজি করানোকে এখনই সফলতা হিসেবে দেখতে রাজি নন অনেক বিশ্লেষক। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী থমাস মান বলেন, সরাসরি শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়টিকে এখনই সত্যিকারের অর্জন হিসেবে ঘোষণা করাটা আগাম হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অসম্ভব রকম কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এটা ছোট, তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন ওয়াল্টের সুর ছিল অনেক কঠোর। বিদেশি নীতিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, সরাসরি আলোচনা নিছক একটা বিভ্রম।এদিকে ২০ মাসের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রাক্কালে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, আলোচনায় সীমান্তের চেয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবে তারা। প্রধানমন্ত্রী বেনিআমিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন হলেও সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা সমালোচক ও পূর্বাভাসদানকারীদের চমকে দিতে চাই। কিন্তু সেটি করতে ফিলিস্তিনি পক্ষে আমাদের একজন সত্যিকারের অংশীদার দরকার।’ নেতানিয়াহু বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে ইসরায়েল ইহুদি জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্র এবং এখানকার মানুষের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’অন্যদিকে পরীক্ষামূলকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার জন্য প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটির কাছে এক মাস সময় চেয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গতকাল সোমবার লন্ডনভিত্তিক আরবি ভাষার পত্রিকা আল-কুদস আল-আরাবি এ খবর জানিয়েছে।পিএলওর নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরা হাসের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির খবরে বলা হয়েছে, আব্বাস মনে করেন, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের বসতি স্থাপন কার্যক্রমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আলোচনা ভেস্তে যাবে। সরাসরি আলোচনায় ফিলিস্তিন পক্ষের অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার নির্বাহী কমিটির বৈঠকে কোনো ভোটগ্রহণ হয়নি। কারণ বৈঠকে কমিটির অর্ধেক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন।মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক চার দূত—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আব্বাস বলেছেন, ইসরায়েল বসতি স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে ফিলিস্তিন আলোচনা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করবে। সরাসরি আলোচনায় মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ চার দূতের একজন টনি ব্লেয়ারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।অবশ্য এই আলোচনায় অংশ নিতে আব্বাস রাজি হওয়ায় গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস এবং আব্বাসের বিরোধী অংশ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

আবারও বিতর্কে ঔপন্যাসিক নাইপল

নতুন বইয়ে আফ্রিকার কয়েক দশকের অন্ধকারতম অধ্যায়কে তুলে ধরে আবার বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নোবেল পুরস্কারজয়ী ঔপন্যাসিক ভি এস নাইপল। সমালোচকদের মতে, দ্য মাস্ক অব আফ্রিকা নামের বইয়ে নাইপল আফ্রিকার আদিম অতীতে চষে বেড়িয়েছেন। এতে উঠে এসেছে আফ্রিকার মানুষের পোষা প্রাণী ভক্ষণের প্রবণতা।
ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক রবার্ট হ্যারিস সম্প্রতি বইটি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন, যা প্রকাশিত হয়েছে সানডে টাইমস পত্রিকায়। হ্যারিস মন্তব্য করেন, বইটির বর্ণনা তাঁর কাছে ‘বীভৎস’ মনে হয়েছে। এর আগে নাইপল সাম্প্রদায়িকতা, নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও ইসলামের অবমাননার অভিযোগে বিতর্কে জড়ান।
বইটি সম্পর্কে দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, ত্রিনিদাদে জন্ম নেওয়া এই লেখক তাঁর নতুন বইয়ে ডাকিনি চিকিৎসা ও রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার বর্ণনা দিয়েছেন। বইয়ে আইভরিকোস্টের পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠোর বলে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে পোষা বিড়ালের ছানা পর্যন্ত খাবারের তালিকায় থাকে।
এ ব্যাপারে নাইপল লিখেছেন, ‘সেখানে একটি বিড়াল বা তার ছানাকে মেরে ফেলার সবচেয়ে ভালো কৌশলটি আমি দেখতে পেয়েছি। বিড়াল বা ছানাকে থলের ভেতর ভরে ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিলেই হলো।

ফিলিপাইনে জিম্মি নাটক: নিহত ৯

ফিলিপাইনের নিরাপত্তা বাহিনী গতকাল সোমবার রাজধানী ম্যানিলায় একটি ছিনতাই হওয়া বাসে অভিযান চালিয়ে সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে। এর আগে ওই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা অস্ত্রের মুখে পর্যটকদের বহনকারী ওই বাস ছিনতাই করে এর যাত্রীদের জিম্মি করেন এবং আটজন পর্যটককে গুলি করে হত্যা করেন। বাসটিতে ২৫ জন পর্যটক ছিলেন। এদের অধিকাংশই হংকংয়ের নাগরিক।
বাস ছিনতাইকারী সাবেক এই পুলিশ পরিদর্শকের নাম রোলান্ডো মেনডোজা (৫৫) । চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে ২০০৮ সালে বরখাস্ত করা হয়। তিনি তাঁর চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য বাসটি ছিনতাই করেন বলে জানা যায়। মেনডোজা গতকাল সকালে ম্যানিলার পর্যটন এলাকা রিজাল পার্ক থেকে বাসটি ছিনতাই করেন। ১২ ঘন্টা পর রাতে জিম্মি নাটকের অবসান হয়। ছিনতাইয়ের পর মেনডোজা শিশুসহ সাত পর্যটককে ছেড়ে দেন। পরে তাঁর গুলিতে আট পর্যটক নিহত ও আটজন আহত হন।
পুলিশ জানায়, তারা বাসটিতে অভিযান শুরুর পর মেনডোজা আত্মরক্ষার জন্য যাত্রীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। পরে আড়াল থেকে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হলে তিনি মারা যান।

‘আমরা এখনো বেঁচে আছি’

চিলিতে সোনা ও তামার একটি ছোট খনির ভেতর ১৭ দিন ধরে আটকে পড়ে থাকা ৩৩ জন শ্রমিক এখনো বেঁচে আছেন। গত রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা জানান চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা।
প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রায় ৭০০ মিটার (দুই হাজার ৩০০ ফুট) মাটির নিচে আটকে পড়া শ্রমিকেরা বিশেষ কৌশলে পাঠানো লিখিত বার্তায় জানান, ‘আটকে পড়া ৩৩ জনের সবাই আমরা এখনও বেঁচে আছি।’
লাল কালিতে লিখে একটি ড্রিল মেশিনের মাধ্যমে বার্তাটি পাঠান ওই শ্রমিকেরা। প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান এই বার্তা দেশবাসীর উদ্দেশে পড়ে শোনান। এই সুখবরে দোদুল্যচিত্তে অপেক্ষায় থাকা আটকে পড়া শ্রমিকদের বন্ধু ও স্বজনেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। খুশিতে অনেকে কেঁদে ফেলেন এবং পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন।
প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান বলেন, আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। তবে এটি কোনো বিষয় নয়। ভালোয় ভালোয় তাঁদের উদ্ধার করতে পারাটাই আসল। কর্তৃপক্ষ এখন ওই শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তাঁদের কাছে পানি, ওষুধ ও বিশেষ খাওয়ার জেল পাঠানোর চেষ্টা চলছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে ওই খনিতে গত ৫ আগস্ট এক দুর্ঘটনায় ভূগর্ভে আটকা পড়েন ওই শ্রমিকেরা। কপিয়াপো শহরের পার্শ্ববর্তী সান হোসে খনিতে কাজ করার সময় পাথরধসে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ইরানে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ উৎপাদন শুরু

মনুষ্যবিহীন বোমারু বিমান উদ্বোধনের এক দিনের মাথায় গতকাল সোমবার ইরান উচ্চগতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রবাহী দুটি জাহাজ উৎপাদনের কাজ শুরু করেছে। ‘সিরাজ’ ও ‘জুলফাকার’ নামের এ জাহাজ দুটি দেশটির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জলসীমায় মোতায়েন করা হবে। শত্রুদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তেহরান বলেছে, ইরানে কেউ হামলা চালালে তা হবে ‘আগুন নিয়ে খেলা’।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জাহাজনির্মাণ শিল্পকারখানায় এ জাহাজ দুটির নির্মাণকাজ করা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমদ ভাহিদি গতকাল জাহাজ দুটির উৎপাদন কাজের উদ্বোধন করেন।
আহমদ ভাহিদি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করবে এ জাহাজ। কেউ হামলা চালালে ইরান তার কল্পনাতীত জবাব দেবে। ইরানে হামলা চালানো হলে তা হবে আগুন নিয়ে খেলা।’
আইআরএনএ বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে জুলফাকের হচ্ছে নতুন সংস্করণ। টহল ও হামলা উভয় ক্ষেত্রে এ জাহাজ ব্যবহার করা যাবে।

স্বতন্ত্রদের দলে ভেড়াতে দুই দলই তৎপর

অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড ও বিরোধী নেতা টনি অ্যাবোট সরকার গঠনের জন্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত তিন সাংসদকে দলে ভেড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গতকাল সোমবার তাঁরা আলাদা আলাদাভাবে ওই তিন সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ওই তিন সাংসদ এখনো কোনো পক্ষকে সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার তাঁরা নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে কথা রয়েছে।
১৫০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৭৬টি আসন অপরিহার্য হলেও প্রধানমন্ত্রী গিলার্ডের লেবার পার্টি অথবা টনি অ্যাবোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট কেউ ৭৫ আসনে জয়ী হতে পারেনি। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী গিলার্ডের দল ৭২ এবং বিরোধী রক্ষণশীল জোট ৭০ আসনে জয়ী হয়েছে। গ্রিন পার্টি পেয়েছে একটি আসন। তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বব কাটার, টনি উইন্ডসর ও রব ওকেশট জয়লাভ করেছেন। বাকি পাঁচটি আসনের ভোট গণনা এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ওই পাঁচটি আসনের ফলাফল কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে কিছু বলেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তা প্রকাশিত হতে আরও কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগবে। এ অবস্থায় স্বতন্ত্র সাংসদেরা যে দলকে সমর্থন দেবেন তাঁরাই সরকার গঠনে সমর্থ হবেন।
স্বতন্ত্র সাংসদদের গতকাল সোমবার রাজধানী ক্যানবেরায় নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সে বৈঠক পিছিয়েছেন। গতকাল তাঁরা প্রধানমন্ত্রী গিলার্ড ও বিরোধী নেতা টনি অ্যাবোটের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তাঁদের সঙ্গে ওই দুই নেতার কী কথা হয়েছে তা জানা যায়নি। আজ তাঁদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওই তিন সাংসদের বৈঠকে বসার কথা।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজনীতিকেরা চাইলে নতুন সরকার গঠনে তাঁরা আরও তিন মাস সময় বেশি নিতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনীতিকেরা সরকার গঠনের জন্য অত দিন দেরি করবেন না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার গঠন করা হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

নিউজিল্যান্ডে সোয়াইন ফ্লুতে মৃত ১০

নিউজিল্যান্ডে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরিচালক মার্ক জ্যাকবস বলেছেন, সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক মানুষকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সোয়াইন ফ্লুর এইচ১এন১ ভাইরাস সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জ্যাকবস বলেন, সরকার সোয়াইন ফ্লু মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। আরও ৩৫ হাজার ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে।
গত বছর বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে সোয়াইন ফ্লু ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে সারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হিসেবে ঘোষণা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, এ বছরও কয়েকটি দেশে সোয়াইন ফ্লু ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পাকিস্তানে লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে আছে: জাতিসংঘ

পাকিস্তানের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ খাদ্যের অভাবে ভুগছে। জাতিসংঘ গতকাল সোমবার এ কথা জানায়। এদিকে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার আরও অবনতি ঘটায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক মুখপাত্র মৌরিজিয়ো গিউলিয়ানো ইসলামাবাদে বলেছেন, আমরা এখনো এ কথা বলতে পারি না যে, কেউ না খেয়ে মারা গেছে। কিন্তু আমরা এ কথা বলতে পারি, লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, লাখ লাখ মানুষ সেখানে না খেয়ে আছে। আর এই পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে মানবেতর অবস্থাকেই নির্দেশ করে।”
এদিকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে বন্যায় বিপর্যস্ত একটি নগরকে রক্ষায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মাসব্যাপী দীর্ঘ বন্যায় এক হাজার ৫০০ লোক মারা গেছে এবং ভয়াবহ এ বন্যায় দেশব্যাপী প্রায় দুই কোটি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করা লোকজনের মধ্যে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যে জাতিসংঘ প্রাথমিকভাবে চার শ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের একটি ত্রাণ তহবিল গঠন করেছে।
গিউলিয়ানো বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই এক লাখের মতো লোকের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। আরও দুই কোটি চার লাখ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাইপলাইনের ভেতর এই ব্যবস্থা করা হবে।’ এদিকে বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যে দাতাগোষ্ঠী এ পর্যন্ত ৮০ কোটি ডলারের বেশি ত্রাণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মসজিদে বোমা হামলা: পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরস্তানে গতকাল একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক একজন সাংসদ মৌলভী নূর মুহাম্মদ রয়েছেন। তাঁকে তালেবান পন্থী মনে করা হতো।

মাছের মৃত্যুকে স্মরণীয় করতে

ইংল্যান্ডে দানবাকৃতির একটি মিরর কার্প মাছ মারা যাওয়ার পর সেটির স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কেন্টে অবস্থিত কনিংব্রুক লেক ছিল ‘টু টন’ নামের ওই মাছটির বিচরণক্ষেত্র। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছ হিসেবে এটিকে গণ্য করা হয়। এ মাসের গোড়ার দিকে টু টনের মৃতদেহ লেকে ভাসতে দেখা যায়।
লেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টু টনের বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। আর এটির ওজন ছিল ৬৭ পাউন্ড ১৪ আউন্স। বার্ধক্যজনিত কারণে মাছটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাছটির স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য লেকের পাড়ে নানা তথ্যসংবলিত একটি প্লাক বা স্মারকফলক বসানো হবে। ইতিমধ্যে মাছটির মৃতদেহ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
কনিংব্রুক লেকে যাঁরা ছিপ ফেলে মাছ শিকার করেন, তাঁদের সবারই লক্ষ্য থাকতো টু টনকে বড়শি গেলানো। এ পর্যন্ত টু টন প্রায় ৫০ বার শিকারিদের বড়শিতে ধরা পড়েছে। কিন্তু কেউই তাকে খাওয়া বা বিক্রির জন্য বাড়িতে নিয়ে যাননি। জাতীয় সম্পদ বিবেচনা করে তাকে আবার লেকে ছেড়ে দিয়েছেন।
লি জ্যাকসন নামের একজন মৎস্যশিকারি বলেছেন, টু টনকে হারিয়ে শিকারিরা এখন এ লেকে মাছ ধরার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। বহু শিকারি বছরের পর বছর তাকে বড়শিতে আটকানোর জন্য সাধনা করছিলেন। জ্যাকসন জানান, তিনি নিজে টানা আট বছর চেষ্টা করে মাত্র একবার টু টনকে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনা হয়নি: কারজাই

আফগানিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তালেবানের কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। সে দেশের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গত রোববার এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।
কারজাই বলেন, ভবিষ্যতে তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার কেবল আফগান তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে ওই আলোচনা করবে, যাঁরা আল-কায়েদা কিংবা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অংশ নন। তালেবানের যে অংশ আফগান সংবিধানকে শ্রদ্ধা করে এবং সরকারের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দেয়, সরকার ওই অংশের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবে। অন্যদের সঙ্গে নয়।

মুর্শিদাবাদে সিপিএম ও কংগ্রেসের সংঘর্ষ, নিহত ৮, আহত ১৪

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে কংগ্রেস এবং সিপিএম নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। গত রোববার মুর্শিদাবাদের ইসলামপুর থানার একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সিপিএম-প্রার্থীরা জয়ী হলে সন্ধ্যার পর থেকে সিপিএম ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
গতকাল সোমবার সকালে ঘুঘুপাড়া ও চর পিরোজপুর গ্রামে সংঘর্ষ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা নিয়ে এই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আটজন নিহত হন। এর মধ্যে ছয়জন সিপিএমের নেতা-কর্মী এবং দুজন কংগ্রেসের কর্মী। গুরুতর আহত হয়েছেন ১৪ জন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এখনো এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নামানো হয়েছে র‌্যাফ এবং কমব্যাট ফোর্সকে। পুলিশ ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আফগানিস্তানে শান্তি আলোচনা বন্ধ করতে চেয়েছিল পাকিস্তান

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে জড়িত তালেবান নেতা আবদুল গনি বরদারকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তানের সরকারের সঙ্গে তালেবানগোষ্ঠীর চলমান শান্তি আলোচনা পণ্ড করে দেওয়ার একটি উদ্যোগ। গত রোববার প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে সিআইএর সহায়তায় বরদারকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। বরদার তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরের ডান হাত হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু তালেবানের ওই শীর্ষস্থানীয় নেতার গ্রেপ্তারকে আপাতদৃষ্টিতে একটি বড় সাফল্য মনে করা হলেও এখন ভিন্ন খবর জানা যাচ্ছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা বরদারকে গ্রেপ্তার করেছিলেন কারণ তাঁরা চাচ্ছিলেন আফগান সরকারের সঙ্গে বরদার গোপনে যে শান্তি আলোচনা চালাচ্ছিলেন তা বন্ধ হয়ে যাক। যেহেতু ওই আলোচনায় পাকিস্তানকে সঙ্গে রাখা হয়নি, তাই এমনটি করেন তাঁরা।
তালেবান নেতাকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতর্ক ছিল। এ ব্যাপারে কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি এবং অনেক তথ্যই মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। বরদারের গ্রেপ্তারের পরপরই পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আরও ২৩ জন তালেবান নেতাকে আটক করেন। যাঁদের বেশির ভাগই পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ছত্রছায়ায় আশ্রিত ছিলেন। ওই গ্রেপ্তারের কারণে কার্যত আফগান সরকার ও তালেবানের আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।
পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, ‘আমরা বরদার ও অন্য নেতাদের আটক করি, কারণ তারা আমাদের বাদ দিয়েই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। আমরা তালেবানকে নিরাপত্তা দিয়েছি। তারা আমাদের ওপর নির্ভরশীল। কারজাই ও ভারতীয়দের সঙ্গে তাদের চুক্তি করতে দিতে পারি না আমরা।’
অবশ্য বেশ কিছু মার্কিন কর্মকর্তা এখনো জোর দিয়ে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নয়ন হচ্ছে এবং বরদারের গ্রেপ্তারের ঘটনায় পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষের মূল ভূমিকা রাখার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন তাঁরা। কর্মকর্তারা বলেন, নিজেদের আরও প্রভাবশালী প্রমাণ করতে পাকিস্তানিরা এখন আবার নতুন করে ইতিহাস রচনা করতে চাচ্ছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এগুলো নিজে নিজে বানানো গল্প। ওই অভিযান চালানোর সময় যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা নিজেরাও জানতেন না, কাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে পরে পাকিস্তানি ও আমেরিকানরা নিশ্চিত হয় কাকে আটক করা হয়েছে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের আরেকটি অংশের ধারণা, শান্তিপ্রক্রিয়ার গতি ধীর করতে পাকিস্তানিরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ব্যবহার করেছে। বরদারের গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়েছে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রকে আসলে কত ধরনের সমস্য সামলাতে হচ্ছে—তাদের বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে, একটি দুর্বল সরকারকে সমর্থন দিতে হচ্ছে এবং পাকিস্তানি নেতাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে, যারা মার্কিন সরকারের কাছ থেকে সাহায্য নিচ্ছে এবং তালেবান বিদ্রোহীদের সমর্থন করছে।
কাবুলে ন্যাটোর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরদার ও অন্য তালেবান নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পাকিস্তানিরা কালক্ষেপণ করতে চাইছে। তারা দেখতে চাইছে আফগানিস্তানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামার রণকৌশল কার্যকর হয় কি না। যদি তা হয়, তাহলে আফগান সরকারের সঙ্গে তালেবানকে চুক্তি করতে দেবে পাকিস্তানিরা। যদি আমেরিকানরা ব্যর্থ হয় এবং আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করে তাহলে সেখানকার ক্ষমতা গ্রহণে পাকিস্তান হয়তো আবার তালেবানকে সমর্থন জোগানো শুরু করবে।
এদিকে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে আফগানিস্তানে তালেবান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি মাসে ইরাক থেকে সর্বশেষ রণাঙ্গনে নিয়োজিত সেনাদের ইরাক থেকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর আসন্ন সপ্তাহগুলোতে বারাক ওবামা আরও ৩০ হাজার সেনা আফগানিস্তানে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এতে সেখানে ন্যাটো বাহিনীর সেনাসংখ্যা বেড়ে দেড় লাখে পৌঁছাবে। আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর প্রধান জেনারেল পেট্রাউস সতর্ক করে বলেছেন, সেখানকার রণাঙ্গনে সামনের দিনগুলোতে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। কারণ তালেবান বিদ্রোহীরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

লোকসভার ৩১৫ জন সাংসদ কোটিপতি

ভারতের আইনসভার নিম্নকক্ষ লোকসভায় ৫৪৪ জন সাংসদের মধ্যে ৩১৫ জন সাংসদই কোটিপতি। তাঁদের সম্পদ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের অধিকাংশের রয়েছে নিজস্ব ব্যবসা, বাণিজ্যিক সংস্থা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশাল খামার বাড়ি।
ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ (এনইডব্লিউ) সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় বলেছে, বর্তমানে ভারতের লোকসভার ৫৪৪ জন সাংসদের মধ্যে ৩১৫ জন সাংসদের সঞ্চিত সম্পদের পরিমাণ এক কোটি রুপির ওপর। আর আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় সদ্যনির্বাচিত ৫৪ সাংসদের ভেতর ৪৩ জনই কোটি রুপির বেশি সম্পদের মালিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে লোকসভায় কংগ্রেসদলীয় সাংসদদের ১০ জনের মধ্যে সাতজন কোটিপতি। লোকসভায় কংগ্রেসের ২০৬ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কোটিপতি ১৪৬ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিজেপির সাংসদেরা। এখন ১১৬ জন সাংসদের মধ্যে কোটিপতি ৫৯ জন। এ ছাড়া কোটিপতি সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন মুলায়ম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির ১৪ জন, এম করুণানিধির ডিএমকের ১৩ জন, মায়াবতীর বহুজন সমাজপার্টির ১৩ জন, শারদ-যাদবের সংযুক্ত জনতা দলের আটজন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের সাতজন। প্রসঙ্গত, পাঞ্জাব থেকে জয়ী সব সাংসদই কোটিপতি।

গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশ

নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো এলাকায় গত রোববার মসজিদ নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে। মৌসুমী বৃষ্টি উপেক্ষা করে দুইপক্ষের প্রতিবাদকারীরা ওই এলাকায় উপস্থিত হন। একপক্ষ গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেয়। এ পক্ষে ছিলেন মুসলমান এবং উদারপন্থী মার্কিনিরা। এদের কয়েকশ গজ দূরে অন্যপক্ষ মসজিদ নির্মাণের বিপক্ষে স্লোগান দেয়।
দুইপক্ষের পূর্বঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে বেশ উৎকণ্ঠা ছিল। এ জন্য আগে থেকেই গ্রাউণ্ড জিরো এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং দুইপক্ষের সমাবেশের মাঝখানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের উত্তেজনা থাকলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুইপক্ষের কর্মসূচি শেষ হয়।
মসজিদ নির্মাণের পক্ষের সমাবেশে মার্কিন নাগরিক ভিক্টর হার্নান্দেজ বলেন, মসজিদ স্থাপনের বিরোধীদের বোধোদয় হওয়া উচিত, মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতার অর্থ বিদ্বেষ ও বৈষম্যকে উসকে দেওয়া। এর ফলে জঙ্গিরাই লাভবান হবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় টুইন টাওয়ার থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া টিম ব্রাউন বলেন, ‘গ্রাউন্ড জিরো আমাদের শ্মশানের মতো। এখানে মসজিদ নির্মাণ হলে ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় নিহতদের প্রতি অবিচার করা হবে। ঘটনাটির সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার কোনো যোগসূত্র নেই।
থেমে থেমে দুইপক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মধ্যে মেডিকেল কলেজের ছাত্র মাইকেল রোজ (২৭) নাটকীয় উত্তেজনার জন্ম দেন। ‘ধর্মীয় সহিষ্ণুতাই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশাল করেছে’— লিখা প্লেকার্ড নিয়ে তিনি এগিয়ে যান মসজিদ নির্মাণের বিরোধীদের সমাবেশের দিকে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাঁর ওপর হামলায় চালায়। অবশ্য কয়েক ডজন পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে। পরে অবশ্য হামলাকারীদের একজন মাইকেল রোজের কাছে ক্ষমা চায়। হামলাকারী রোজকে বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে, তোমার সঙ্গে আমার মতের মিল নেই। কিন্তু তোমারও নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার আছে।’
গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন চলছে তুমুল বিতর্ক। টুইন টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি ইসলামী কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প নিয়েছেন ইমাম রউফ খান। যুক্তরাষ্ট্রে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইমাম রউফ খান বলেন, ‘মুসলমানদের সঙ্গে অন্যদের সম্পর্ক উন্নয়নে এ প্রকল্প সহায়ক হবে।’
নিউইয়র্ক নগরীর মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রক্ষণশীলদের ব্যাপক বিরোধিতার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ঘোষণা দেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার এ দেশে মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতার কোনো সুযোগ নেই। রোববার মসজিদ নির্মাণের বিরোধীরা বারাক ওবামার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেয়।
এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ডেভিড পেটার্সন বলেছেন, প্রয়োজনে সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়ে মসজিদ প্রকল্পকে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করবেন তিনি। উদ্যোক্তা ইমাম রউফ খানের স্ত্রী ডেইজি খান বলেন, প্রকল্পের স্থানান্তর নিয়ে তারা এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না, বা এ নিয়ে কোনো পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনাও হয়নি।
মসজিদ প্রকল্প নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে তখন প্রকল্পের উদ্যোক্তা ইমাম রউফ খান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন। মুসলিম দেশসমূহের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক উন্নয়নে তিনি দূত হিসেবে কাজ করছেন

পন্টিংয়ের সামনে নতুন এক রোমাঞ্চ

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, ৫১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর ক্রিকেটে নতুন রোমাঞ্চ খুঁজে পাচ্ছেন রিকি পন্টিং। আগামী আটটি মাসের দিকে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে রয়েছেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। তাঁর ধারণা, দল এই সময়ে উপহার দিতে যাচ্ছে ‘বিশেষ কিছু’।
আগামী আট মাসে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাবে অস্ট্রেলিয়া। অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ, অক্টোবরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ, নভেম্বরে অ্যাশেজের ৫ টেস্ট ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপ। ‘বিশেষ কিছু’ কী নির্দিষ্ট করে বলেননি পন্টিং, তবে গত অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্মের মতো জিততে চান সবকিছুই, ‘আগামী আটটি মাসের দিকে আমি এমনভাবে তাকিয়ে আছি, ক্যারিয়ারে আর কখনোই মনে হয় এতটা উন্মুখ হয়ে কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করিনি। বেশ কয়েকটি অসাধারণ দলে খেলার অভিজ্ঞতা আমার আছে...কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এই দলটা বিশেষ কিছু করার দ্বারপ্রান্তে। গত অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্মে অপরাজিত থাকাটা ছিল দারুণ একটা অর্জন, কিন্তু সামনের কয়েক মাসে দল আরও ভালো করবে।’
সিরিজগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করলে আসলেই সামনের সময়টা অস্ট্রেলিয়া ও পন্টিংয়ের জন্য দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। পন্টিংয়ের সময়ই ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, কিন্তু চোটের কারণে সে সময় তিনি ছিলেন বাইরে। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে আবার পুনরুদ্ধার হবে অ্যাশেজ। এই দুটো সিরিজ জিতলে আবারও টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা আছে পন্টিংয়ের দলের। বিশ্বকাপ জিতলে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র অধিনায়ক হয়ে ইতিহাসে ঢুকে যাবেন পন্টিং।
গত কিছু দিনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সব তৎপরতা দেখলে অবশ্য মনে হবে, সামনে বুঝি অ্যাশেজ ছাড়া আর কিছু নেই। অ্যাশেজকে ঘিরে দুদলের ক্রিকেটারদের কথার লড়াইও শুরু হয়ে গেছে। গতকাল যে ‘‘ক্যাপ্টেন’স ডায়েরি’’ প্রকাশ করেছেন পন্টিং, তাতে ১০ হাজার শব্দ আছে অ্যাশেজ নিয়ে। অথচ ভারত সিরিজ নিয়ে আলাদা কোনো অংশ পর্যন্ত নেই। তবে এখন পন্টিং নিজেই অ্যাশেজকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছেন। গতকাল বলেছেন, অন্য সিরিজগুলোর কথা ভুলে গেলে চলবে না, ‘জানি, অ্যাশেজ নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। আমাদের শুধু অ্যাশেজের দিকে মন দিলেই চলবে না। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ আছে, এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। তার পরই শুধু অ্যাশেজ নিয়ে ভাবতে পারি। ভারত সিরিজটা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ওদের কন্ডিশনে ওদের হারানো যতটা কঠিন, বিশ্বের আর কোনো দেশকে নিজেদের মাটিতে হারানো অত কঠিন নয়।’
‘ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা খুবই সম্ভব’—এই পূর্ব ঘোষণা থেকে অবশ্য একটু সরে এসেছেন পন্টিং। এখন বলছেন, খুব ভালো খেললেই কেবল তা সম্ভব।

পরিশ্রমটাও উপভোগ করছেন ক্রিকেটাররা

অন্যবারের তুলনায় এবার একটু কঠোরই হচ্ছে অনুশীলনটা। তার পরও ক্রিকেটাররা খুশি। উপভোগ করছেন বলে অনুশীলনের বাড়তি পরিশ্রম গায়ে লাগছে না কারও।প্রথম দিনের মতো কালও হয়েছে টানা চার ঘণ্টার অনুশীলন। দলে দলে ভাগ হয়ে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস আর ফিটনেস ট্রেনিং। অনুশীলন শেষে কোচ জেমি সিডন্স কয়েকজন ক্রিকেটারকে আলাদা করে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, তাঁরা অনুশীলন উপভোগ করছেন কিনা। ক্রিকেটাররা ইতিবাচক উত্তরই দিয়েছেন। সিডন্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী টানা চার দিন অনুশীলনের পর সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে খেলবেন অনুশীলন ম্যাচ। শুক্র-শনি দুই দিন বিশ্রাম।উপভোগের প্রশ্নটা থাকছে জেমি সিডন্সের জন্যও। অনেক নতুনত্বের অনুশীলনে এবার ক্রিকেটারদের সমস্যা নিয়ে আরও বিস্তারিত কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ। অনুশীলনে নিজের ভূমিকাটাও এবার একটু অন্যরকম সিডন্সের। বোলিং কোচ আসার আগে নেটে তিনিই বোলারদের অভিভাবক। বোলিং কোচের কাজ কেমন লাগছে—জানতে চাইলে কাল কোচ হেসে উত্তর দিলেন, ‘ভালোই...। কাউকে না কাউকে তো কাজটা করতেই হবে। আর আমি মৌলিক কিছু বিষয় নিয়েই কাজ করছি।’‘বোলিং কোচ’ হিসেবে কাল জেমি সিডন্সের সঙ্গে যোগ হয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। মূলত একাডেমির অনুশীলন ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকলেও প্রতিদিন সেটা শেষ করে সালাউদ্দিন কাজ করবেন জাতীয় দলের স্পিনারদের সঙ্গে, এমনটাই নাকি বলা হয়েছে তাঁকে বোর্ড থেকে। সালাউদ্দিন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের বাইরে চলে যাওয়ায় স্পিন বোলিং কোচ নিয়ে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটার তাই আপাত সমাধান হলো।

প্রাক-বাছাই দেশেই খেলবে বাংলাদেশ

২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের প্রমীলা ফুটবলের প্রাক-বাছাইপর্বের বাংলাদেশের গ্রুপের খেলা হবে বাংলাদেশে। ব্যাপারটা গতকাল নিশ্চিত করেছেন মহিলা ফুটবলের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওরফে বাচ্চু, ‘বাংলাদেশে প্রাক-বাছাইয়ের এই টুর্নামেন্ট হবে। আশা করছি, আগামী দু-একদিনের মধ্যে এই সংক্রান্ত চিঠি হাতে পেয়ে যাব আমরা। আগামী বছর ২৫-২৮ মার্চের মধ্যে টুর্নামেন্টটি শুরু হতে পারে।’
টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের তুলনায় গ্রুপের অন্য দুটি দল যথেষ্ট শক্তিশালী—ভারত ও উজবেকিস্তান। ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে প্রমীলা সাফ ফুটবলের জন্য অনুশীলনরত ৩৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ ও সিনিয়রদের সমন্বয়ে গড়া হবে বাংলাদেশ দল। এই টুর্নামেন্টে খেলার আগে বিদেশে অনুশীলন ম্যাচও খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম, ‘আমরা চেষ্টা করব অলিম্পিক প্রাক-বাছাইয়ের আগে থাইল্যান্ডে বা নেপালে গিয়ে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে। এর আগে নভেম্বরে সাফ ফুটবলে অংশ নেবে মেয়েরা, তাতে আরও ভালো হবে প্রস্তুতি।’
লন্ডন অলিম্পিকের জন্য এশিয়া অঞ্চলের প্রাক-বাছাইপর্বে রয়েছে ৩টি গ্রুপ। ‘এ’ গ্রুপে থাইল্যান্ড, হংকং, ভিয়েতনাম, চীনা তাইপে ও মিয়ানমার। ‘সি’ গ্রুপে বাহরাইন, ইরান, ফিলিস্তিন, জর্ডান ও কাতার। তিন গ্রুপের ১৩টি দেশ থেকে মাত্র ৫টি দেশ যাবে বাছাইয়ের চূড়ান্ত পর্বে। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এই পর্বের চ্যাম্পিয়ন দলই যাবে লন্ডনে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, উত্তর কোরিয়া, চীন ও অস্ট্রেলিয়া আগেই নিশ্চিত করেছে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা।

শাহনাজ-শ্রাবণীর কোরিয়া-যাত্রা

গত বছর কোরিয়ান ওপেন আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দোতে সোনা জিতেছিলেন মিজানুর রহমান ও রাসিউল কবির। একই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে গত রাতে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের দুই তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় শাহনাজ পারভীন ও শ্রাবণী বিশ্বাস। শাহনাজ খেলবেন অনূর্ধ্ব-৫৭ কেজিতে, শ্রাবণী অনূর্ধ্ব-৬২ কেজিতে। টুর্নামেন্ট শুরু ২ সেপ্টেম্বর। কোরিয়ান ওপেনের পর ১০-১২ সেপ্টেম্বর সপ্তম গিওগন্যাম প্রাদেশিক আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলবেন তাঁরা।

আজ ন্যু ক্যাম্পে রোনালদিনহো

আজ আবার সেই পথে...। হ্যাঁ, আজ আবার সেই পথে ফিরছেন রোনালদিনহো। সেই পথে মানে ন্যু ক্যাম্পে। না, এসি মিলানের সঙ্গে হিসাব চুকিয়ে আবার বার্সেলোনার জার্সি গায়ে তুলছেন না রোনালদিনহো। অনেক স্মৃতিবিজড়িত বার্সেলোনায় ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার হুয়ান গাম্পার ট্রফিতে অংশ নিতে। ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার সম্মানে বার্সার এই বার্ষিক আয়োজনে এবার বার্সার প্রতিপক্ষ রোনালদিনহোর বর্তমান দল এসি মিলান।
রোনালদিনহোর ক্যারিয়ারের সেরা সময় কেটেছে এখানে। এই ক্লাবে থাকতেই দুবার হয়েছেন ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। পেয়েছেন ইউরোপের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি, চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদও। আজ আবার ন্যু ক্যাম্পে ফিরে সেসব স্মৃতি নিশ্চয়ই মনে পড়বে রোনালদিনহোর।
অন্য সবারই যেন তা মনে পড়ে, সেই ব্যবস্থাও করে রেখেছে বার্সেলোনা। রোনালদিনহোকে সম্মান জানাতে তৈরি করা হয়েছে স্মৃতির মন্তাজ। ২০০৩ থেকে ২০০৮—এই পাঁচ বছরে বার্সেলোনার জার্সি গায়ে রোনালদিনহোর কীর্তি আজ ভেসে উঠবে ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের বড় পর্দায়।

উডস-এলিন ছাড়াছাড়ি

তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা টিকছে না—এমন একটা আভাস আগেই পাওয়া গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটল—গতকাল ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল টাইগার উডস ও এলিন নর্ডেগ্রেনের। দুজনের এক যৌথ বিবৃতি সোমবার তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ নিশ্চিত করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা দুঃখিত যে আমাদের সম্পর্কটা আর নেই। আমরা পরস্পরের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। বিবাহের সম্পর্ক না থাকলেও আমরা চমৎকার দুই শিশুর অভিভাবক, তাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যই আমাদের কাছে সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।’

কিপকেটারকে মুছে দিলেন রুডিশা

৮০০ মিটার দৌড়ে ১৩ বছরের পুরোনো
বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে ফেলার পর ডেভিড লেকুতা রুডিশা
১৩ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ৮০০ মিটারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন কেনিয়ার ডেভিড লেকুতা রুডিশা। রোববার বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তিনি নতুন রেকর্ড গড়তে সময় নিলেন ১ মিনিট ৪১.০৯ সেকেন্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১ মিনিট ৪১.১১ সেকেন্ডের; ১৯৯৭ সালে জার্মানির কোলনে যা গড়েছিলেন কেনীয় বংশোদ্ভূত ডেনমার্কের উইলসন কিপকেটার।ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অনেক বিশ্ব রেকর্ডের সাক্ষী বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে একটা কিছু করার তাড়না ছিল রুডিশার মধ্যে। গত বছর এই মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এই ইভেন্টে সেমিফাইনালেই ছিটকে পড়েছিলেন অপ্রত্যাশিতভাবে। সেই তাড়না থেকে শেষ পর্যন্ত এসে গেল বিশ্ব রেকর্ড। দৌড় শেষে রুডিশার প্রতিক্রিয়া, ‘সত্যিকার অর্থে এটাই আমার প্রথম রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা। জানতাম, আমি ভালো অবস্থায় আছি। কঠোর পরিশ্রমও করেছি।’ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যর্থতা যে ভালো করার জন্য তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছে বললেন সেটিও, ‘গত বছর বার্লিনে সময়টা খুব বাজে কেটেছিল আমার। তাই এই রেসের আগে বিশ্ব রেকর্ড নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাইনি। তবে আমি জানতাম, দিনটি হবে আমার। আবহাওয়াও ভালো ছিল।’ট্র্যাকে অবশ্য গত কিছুদিন থেকেই ভালো করে আসছেন ২১ বছর বয়সী এই কেনীয়। জুনে ডায়মন্ড লিগের অসলো মিটে ১ মিনিট ৪২.০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন সেবাস্তিয়ান কোর ৩১ বছরের পুরোনো মিট রেকর্ড। এরপর বেলজিয়ামের এক মিটে ১ মিনিট ৪১.৫১ সেকেন্ড টাইমিং করে গড়েন নতুন আফ্রিকান রেকর্ড। কিপকেটারের রেকর্ডের পর এটিই ছিল এই ইভেন্টের সেরা টাইমিং। এবং শেষমেশ ছাপিয়েই গেলেন কিপকেটারকে। এই ইভেন্টে টাইমিং আরও কমিয়ে আনারও স্বপ্ন দেখেন রুডিশা ‘এই দৌড়ে আমি যে সময় নিয়েছি, আমি বলতে পারি তার চেয়ে আরও কম সময়ে, আরও দ্রুত দৌড়ানো সম্ভব।’ পরে কী করবেন সেটা পরের কথা, আপাতত উপভোগই করছেন বার্লিনের সাফল্য, ‘৮০০ মিটারে সেরা টাইমিং করতে পেরে আমি খুবই খুশি। দৌড়ানোটা আমার কাছে পেশার মতো। সবকিছুও।’বাবা ড্যানিয়েল রুডিশাও ছিলেন অ্যাথলেট। ১৯৬৮ অলিম্পিকে ৪–৪০০ মিটার রিলেতে রুপা জিতেছিলেন ড্যানিয়েল। দৌড় ব্যাপারটা রুডিশা জুনিয়রের রক্তে না থেকে পারে?এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আগলে রাখা রেকর্ডটির মালিকানা বদলের পর কিপকেটার বলছেন, ‘খবরটা শুনে আমি খুব বেশি বিস্মিত হইনি। ডেভিড এই বছরটা, এমনকি গত বছরটাও খুব ভালো দৌড়েছে। ভেবেওছিলাম একদিন সে এটা করবে।’রুডিশার রেকর্ডের দিনে পুরুষদের ৩০০০ মিটারে জিতেছেন ইথিওপিয়ার তারিকু বেকেলে (৭:২৮.৯৯), ১০০ মিটারে জ্যামাইকার নেস্টা কার্টার (৯.৯৬)। তবে পোল ভল্টে হতাশ করেছেন বিশ্ব ও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভেন হুকার।

অবশেষে শিরোপার হাসি

সাত মাস পর আবার শিরোপা—সিনসিনাটি মাস্টার্স টুর্নামেন্টের ট্রফিটা
তাই রজার ফেদেরারের জন্য বাড়তি খুশির উপলক্ষ হয়েই এল
একের পর এক গ্র্যান্ড স্লাম জয় আর রেকর্ড গড়লেও বরাবরই সামনে ধরা পড়তেন বিনয়ী ফেদেরার। সেই ফেদেরারকেই কি না মুখ খুলে বলতে হয় নিজের ফর্ম নিয়ে, ব্যাখ্যা করতে হয় নিজের অবস্থান, স্মরণ করিয়ে দিতে হয় নিজের যোগ্যতা! এতেই স্পষ্ট, বড় কঠিন একটা সময় পার করছিলেন অনেকের মতেই টেনিসের সর্বকালের সেরা। তবে কঠিন সেই সময়ের চাঁই যেন সরিয়ে দিলেন সিনসিনাটি মাস্টার্সের শিরোপা জিতে।
গত জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর যে শিরোপা তাঁর কাছে সোনার হরিণ হয়ে উঠেছিল, অবশেষে সেটি ধরা দিল। পরশু সিনসিনাটি মাস্টার্সের ফাইনালে মার্ডি ফিশকে হারিয়ে দীর্ঘ সাত মাসের শিরোপা-বন্ধ্যাত্ব ঘোচালেন ফেদেরার।
ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডনে ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই কোর্টে গড়াবে ইউএস ওপেন। ঠিক সময়মতোই আবারও নিজের জাত চিনিয়ে ফিরলেন ফর্মে। বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লামের শেষ প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট সিনসিনাটি মাস্টার্স জিতলেন সুইস তারকা, চতুর্থবারের মতো।নাদাল, জোকোভিচ, মারেরা বিদায় নিয়েছিলেন আগেই। ফাইনালে তাই সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছিলেন ফেদেরার। তবে মারে-রডিককে হারিয়ে ফাইনালে আসা যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ কঠিন পরীক্ষাই নিয়েছেন ফেদেরারের। টাইব্রেকারে প্রথম সেট জিতে এগিয়ে যান ফিশ। দ্বিতীয় সেটও যায় টাইব্রেকারে, এবার জেতেন ফেদেরার। শেষ সেটটি ফেদেরার জেতেন তাঁর মতো করেই। ৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট স্থায়ী ম্যাচটি জেতেন ৬-৭ (৫-৭), ৭-৬ (৭-১), ৬-৪ গেমে।ক্যারিয়ারে ৬৩তম শিরোপা জিতে নিজেকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতিতেই আচ্ছন্ন ফেদেরার, ‘দুই সপ্তাহ ধরেই আমি ভালো খেলছি। স্রেফ আজ আবার প্রমাণিত হয়ে গেল সত্যিই আমি ভালো খেলছি।’আগে শিরোপাজয়ী যে ফেদেরারের মুখে অবিরাম বৃষ্টির মতো ঝরত প্রতিপক্ষের প্রশংসা, সেই ফেদেরারেরই এখন আত্মবন্দনা, ‘আমি সব সময় ইতিবাচকই ছিলাম। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম আমি ভালো খেলছি। প্রথম সেট হারার পরও আমি আত্মবিশ্বাস হারাইনি এবং আমার সামর্থ্য নিয়ে সংশয় জাগেনি মনে। ম্যাচেও সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।’প্রতিপক্ষ ফিশের বিশ্বাস, ইউএস ওপেনে আরও ভয়ংকর রূপে দেখা দেবেন ফেদেরার। কারণ গ্র্যান্ড স্লাম হলেই অন্য রূপে আবির্ভূত হন ১৬টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক। ইউএস ওপেনে ফেদেরারের রয়েছে বিস্ময়কর রেকর্ড। ফ্লাশিং মিডোয় গত ছয়বারের ফাইনালে উঠে হেরেছেন কেবল গতবার, হুয়ান মার্টিন দেলপোত্রোর কাছে।

মোহামেডানে ফিরলেন মানিক

মানিকের হাতে দল তুলে দিল মোহামেডান; ফুল তুলে দিলেন কর্মকর্তারা
সালাম মুর্শেদী, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, সৈয়দ রুম্মন ওয়ালি বিন সাব্বির, মোহাম্মদ পনির—মোহামেডানের সাবেক তারকা ফুটবলাররা সবাই উপস্থিত নতুন কোচের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। সালাম মুর্শেদীর কণ্ঠে হাহাকার শোনা গেল, ‘মোহামেডান ক্লাব একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।’
সত্যিই তা-ই। পুরোনো কর্মকর্তাদের বিদায়, অভ্যন্তরীণ নানা সংকট, আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ; সর্বোপরি জাতীয় দলের এক ঝাঁক খেলোয়াড় ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ায় মোহামেডান ‘ক্রান্তিকালে’ পড়ে গেছে। একেবারে তরুণ ও প্রায় অচেনা ১৪ খেলোয়াড়কে নিয়ে এবারের পেশাদার লিগের দল গড়েছে মোহামেডান।সংকট থেকে উদ্ধার পেতে মোহামেডানের এমন সময়ের সঙ্গে পরিচিত এক ‘সৈনিক’কেই তাই ফিরিয়ে আনল ক্লাবটি। অনভিজ্ঞ ও তরুণ মোহামেডানকে এই মৌসুমের বৈতরণী পার করাতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো তাদেরই সাবেক কোচ এবং সাবেক জাতীয় দলের কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকের হাতে।২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মোহামেডানের কোচ হিসেবে কাজ করা মানিককে এবার দুই বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলো। তবে কর্মকর্তারা বললেন, এক বছর পর উভয় পক্ষের সম্মতি ও আলোচনার ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হবে।মানিক ‘নতুন মোহামেডানের’ দায়িত্ব পেলেন একেবারেই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে। সেখানেই ছোট্ট একটা রুমে ঠাসাঠাসি করে একটা সংবাদ সম্মেলনও হলো। সেই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে কর্মকর্তাদের সবার মুখেই এই ‘ক্রান্তিকালে’র কথা। এই অনুষ্ঠানেও আসেননি মোহামেডান ফুটবল কমিটির কোনো সদস্য।ফুলের তোড়া দিয়ে মানিককে বরণ করে নেওয়ার আগে ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির প্রধান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বললেন, ‘আমরা এমন একটা সময়ে দায়িত্ব নিয়েছি, যখন ক্লাবের তারকা খেলোয়াড়েরা প্রায় সবাই চলে গেছে। মানছি, এটা একটা সংকট। কিন্তু এটাও ঠিক, মোহামেডান যেমন দলই গড়ুক, তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই লড়াই করে। সেই লড়াই চালানোর যোগ্যতা যার আছে, সেই শফিকুল ইসলাম মানিককেই নিয়ে এসেছি আমরা।’হ্যাঁ, মোহামেডানের হয়ে মানিক ‘লড়াই’ আগেও করে দেখিয়েছেন। ২০০৭ সালে এমনই তরুণ ও প্রায় তারকাহীন দল পেয়েছিলেন তিনি। সেবার বি-লিগে মোহামেডানকে রানার্সআপ করা মানিক বলছেন, ‘২০০৭ সালের অভিজ্ঞতা থেকে আমি সাহস পাচ্ছি। সেবারই আমি টের পেয়েছি, সাদা-কালো জার্সি পরলে খেলোয়াড়দের চেহারা বদলে যায়।’তবে মুখে যা-ই বলুন না কেন, অনভিজ্ঞ দল নিয়ে একটু হলেও আতঙ্কিত কোচ-কর্মকর্তারা। সবাই তাই আশ্বাস দিলেন, ভালো বিদেশি খেলোয়াড় এনে ঘাটতি পূরণ করা হবে। তবে ভাগ্যের সন্ধানে ঢাকায় আসা বিদেশিদের ভরসা নয়; মানিক বলেছেন, রাশিয়া, ইরান বা কেনিয়া থেকে ফুটবলার আনার চেষ্টা থাকবে।আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও ক্লাবের একটা সূত্র বলছে, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনেই দু-এক দিনের মধ্যে চুক্তি করে ফেলা হবে ক্লাবের পুরোনো খেলোয়াড় হাসান আল মামুনের সঙ্গে।