Thursday, May 3, 2012

আমার দেশ-এর মুখোমুখি ভাষাসৈনিক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদঃ আবুল বরকতের আহ্ শব্দটি আজও কানে বাজে সাক্ষাত্কার গ্রহণ

ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ ১৯৩৩ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লার গৌরীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন পরমাণু বিজ্ঞানী। আমেরিকা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করার পর তিনি আণবিক বিকিরণ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি এজেন্সি (আইএই) ভিয়েনাতে দীর্ঘ চব্বিশ বছর চাকরি করেন এবং আণবিক বিকিরণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন অবস্থায় ১৯৯৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

জাতীয় আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসঙ্গতি by মোহাম্মদ মতিন উদ্দিন

দেশব্যাপী সরকারি দল, সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজিকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি এখন সবারই জানা বিষয়। এসব নিয়ে কখনও কখনও আন্তঃদলীয় সংঘাতকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও অজানা কোনো বিষয় নয়।

ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা by এডওয়ার্ড প্রবীর মণ্ডল

বাংলাদেশের সামাজিক দায়বদ্ধতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী রয়েছেন। সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, জনহিতকর কাজে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না। দেখা যায়, কোনো আর্থিক প্রত্যাশা ছাড়াই দায়সারাভাবে বিভিন্ন দাতব্য ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে দান করা হয়।

চিনির বাজার লাগামহীনঃ সরকার নির্বিকার by নোমান চৌধুরী

দেশে চিনির দাম লাগামহীন হয়ে উঠেছে। গত কয়েক মাসের মধ্যে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৩৮ টাকা থেকে বর্তমানে ৫৮ টাকায় উঠেছে। মূল্য বৃদ্ধির পারদ যে এখানেই থেমে যাবে এমনটি বলা খুবই কঠিন। আমাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা আমদানিকারক কারও পক্ষেই এমনটি বলা সম্ভব নয়।

বাজার দর চড়ছে বেতন বাড়ছে নাঃ গার্মেন্ট শ্রমিকরা বেকায়দায়

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যসহ জীবনযাপনের ব্যয়ভার বাড়লে সবার আগে এর চাপ পড়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের ওপর। বর্তমানে যেভাবে বাজার দর চড়ে যাচ্ছে সেভাবে তাদের আয় বাড়ছে না। ফলে স্বভাবতই দেশের লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকসহ কম মাইনের চাকুরেদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনাহার-অর্ধাহার অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে নির্মম নিয়তি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সবাইকে নিয়েই সমাধান করুন by আতাউস সামাদ

গত শনিবার রাতে বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে দেশের সবাই বাংলাদেশে একটা খণ্ডযুদ্ধের ছবি দেখেছেন, শুনেছেন আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে লাগাতার গুলি ছোড়ার শব্দ। আরও দেখেছেন পাহাড়ের কোলে কুঁড়েঘরে আগুন ধরেছে। সেই আগুনের শিখা ও ধোঁয়া পাহাড়ের মাথা ছাড়িয়ে উঠেছে আকাশে।

অশান্ত রাঙামাটিঃ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ চাই

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়িতে শনিবারের সংঘর্ষে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ২ উপজাতি জীবন হারিয়েছেন। বাঙালি ও উপজাতির মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে আসা সেনাসদস্যদের ওপর উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের হামলার ফলে গোলাগুলির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেশি দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে।

সাংস্কৃতিক দূষণঃ কিছু প্রাসঙ্গিক কথা by শাহ্ আবদুল হান্নান

বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে দেখা গেছে— উত্সবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা দিবসের নামে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ পালিত হলো। ফুল, কার্ড, উপহার সামগ্রী ও মেসেজ প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, বিবাহিতরা বিতরণ করে থাকেন। শত শত মানুষকে এই দিনটি বিশেষভাবে পালন করতে দেখা গেছে।

সাদা কথাঃ একুশের সৃষ্টিশীলতা by মুহম্মদ নূরুল হুদা

আবার দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। ধর্মবর্ণ সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাঙালির দ্বিতীয় কোনো সর্বজনগ্রাহ্য উত্সব নেই যা একুশের সঙ্গে তুলনীয়। যদিও একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকায় শহীদ মিনারের মূল বেদীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে এই উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিক আলোকায়ন, আসলে এর বিস্তৃতি মাসব্যাপী।

ভাষাসৈনিক মাহফিল আরা আজমত by নাসরীন মাশকুরা রোকন

আমার আম্মা, যার নামের আগে কিছু বিশেষণ যুক্ত না করলে নামের অপূর্ণতা থেকে যায়। তিনি একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, শিল্প-সংস্কৃতি সাধক, সমাজসেবক ও সংস্কারক, বন্ধু ও দরিদ্র-বত্সল মহীয়সী নারী অধ্যাপক মাহফিল আরা আজমত।

খোলা জানালাঃ রাজনীতি কোন্ পথে by ড. তারেক শামসুর রেহমান

দীর্ঘ ৬৪ দিন পর বিরোধী চারদলীয় জোটের সংসদে ফিরে আসা এবং একাধিকবার সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা, সংসদের বাইরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র অসন্তোষ ও ছাত্র অসন্তোষের রেশ ধরে তিনজন মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু এবং দেশব্যাপী ‘শিবির খেদাও’ অভিযানের পর সঙ্গত কারণেই যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, তা হচ্ছে রাজনীতি এখন কোন্ পথে।

শুরু হচ্ছে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণঃ জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ চাই

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত বরাক নদীর টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না ভারত।

একুশ কি শুধুই উদযাপনের- মাতৃভাষার বিকাশ নিশ্চিত হোক

আজ অমর একুশে। মহান ভাষা দিবস। বাহান্নের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য যারা ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন জাতি আজ তাঁদের শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছে। বাংলাদেশের সব মানুষ ভাষা শহীদদের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে মাতৃভাষাকে ক্রমাগত আরও ঋদ্ধ করার শপথ নেবে।

মোহমুক্ত জীবন সাধনা by আতাউর রহমান

বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার নিয়ে যখন ভাবছিলাম এবং প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছিলাম, তখনই কীর্তিমান ভারতীয় সাংবাদিক এমজে আকবরের একটি প্রতিবেদন পড়ে যেন আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। কিছুদিন আগে আমাদের শ্রদ্ধেয় গুণী এক ব্যক্তির স্মরণ সভায় বক্তারা অনেকেই বলছিলেন যে, তার গুণগ্রাহী একাধিক ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হয়েছেন অথচ প্রয়াত এই গুণীজন রাষ্ট্রীয় সম্মান লাভ করেননি।

অভিমতঃ যানজট নিরসনে প্রয়োজন রাজধানী বিকেন্দ্রীকরণ by মোহাম্মদ সদরুল আমীন রাশেদ

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ এবং ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মেগাসিটি। বর্তমানে ঢাকা শহরের লোকসংখ্যা প্রায় সোয়া এক কোটি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ জীবিকা অন্বেষণের তাগিদে এখানে এসে ভিড় জমাচ্ছে।

ট্রানজিট থেকে আয়ের কল্পিত পরিমাণ এবং অন্ধের হাতি দর্শন by এম. এ. কামাল এফসিএ

চট্টগ্রাম বন্দর অন্য দেশকে ব্যবহার করতে দেয়া হলে বছরে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সার্ভিস চার্জ অর্জিত হবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের উপদেষ্টা ড. এএম রহমত উল্লাহ জানিয়েছেন (আমাদের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০১০)। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের বন্দর এবং রেল ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা হলে বছরে ট্রানজিটের মাধ্যমে ৭০ হাজার কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ট্রানজিট থেকে বাংলাদেশ বছরে ৭ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে (দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০)। এসব উক্তি কি অন্ধ লোকের হাতীর বর্ণনার সমতুল্য নয়? বর্ণিত অভিমতগুলো সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান গভীর (?) সমুদ্রবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়ে যে প্রতিবেদন পেশ করেছে তা থেকে ভিন্ন।
কাল্পনিক অংকের ডলার আয়ের আশায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরকে ভারত কর্তৃক ব্যবহারের জন্য প্রদান করায় তোলপাড় চলছে। রটারডম বন্দর ও সিঙ্গাপুর বন্দর একাধিক দেশ ব্যবহার করে থাকে—একথা বলে চট্টগ্রাম বন্দরকেও অনুরূপ ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হোক মর্মে একশ্রেণীর লোক মত প্রকাশ করছেন। ইউরোপের সার্বজনীন স্বার্থ দেখার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আছে। ওই ইউনিয়নের দেশগুলো নদীমাতৃক দেশ নয়। ওই স্থানে স্থলপথে যাতায়াত অনেক সহজ, যা বাংলাদেশে নয়। রটারডম বন্দরকে ভৌগোলিক কারণে ইউরোপের দেশগুলো তাদের প্রবেশদ্বার করেছে। আর সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ শাসকের সৃষ্টি। সমুদ্র পরিবহনের সুবিধাই সিঙ্গাপুরের একমাত্র অর্থনৈতিক সম্পদ। এদের বাংলাদেশের মতো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে পনেরো কোটি লোকের পদভার বহন করতে হয় না এবং এরা বাংলাদেশের মতো বছরে এক কোটি চল্লিশ লাখ টন খাদ্য উত্পাদন করে না। তবে বাংলাদেশ এমন সব আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে যা সিঙ্গাপুর করে না। অতএব জনসাধারণকে বোকা বানানোর জন্য এই দুটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা হয়। আরেকটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য, যা হচ্ছে আমাদের জাতিগত বৈশিষ্ট্য। প্রায় তিরিশ বছর আগে মারা যাওয়া এক শহীদ রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে দেশের সংসদে যেসব অশোভনীয় কথাবার্তা বলা হচ্ছে—শুধু পূর্বোক্ত দেশ নয়, কোনো সভ্য দেশে এর নজির নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বিশ্বের কোথাও নেই, কিন্তু বাংলাদেশে তা প্রবর্তিত হয়েছে। অতএব সিঙ্গাপুর ও রটারডমের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের তুলনা হয় না।
একটি বিশেষ বিষয়ে ডক্টরেটধারী কেউ কেউ দেশের অর্থনীতি বুঝে ফেলার ঘুড়ি শূন্যে উড়িয়ে থাকেন। তাদের সৌভাগ্য যে তাদের বক্তব্যের জন্য কারও কাছে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। কাজ করে ফলাফল প্রদর্শনের জন্য তাদের কোনো কর্মক্ষেত্র এবং দায়িত্ব নেই। সভায় এবং মিডিয়ায় তারা যা বলেন তা বাস্তবে পাওয়া না গেলে তার জন্য তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। চট্টগ্রাম বন্দরে এর প্রধান হিসেবে কাজ করার সময় ঢাকাতে অনুষ্ঠিতব্য সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত নিয়মটির এক সভায় যোগদানের জন্য নির্ধারিত দিনের একদিন পর ঢাকায় গমনের কারণ ব্যাখ্যা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দিতে হয়েছিল আমাকে। ব্যবস্থা ছিল যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে আমি ঢাকায় গেলে সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ড. রহমত উল্লার পঠিত শাস্ত্রে আমার ডক্টরেট ডিগ্রি নেই। কিন্তু এতে আমি পাঁচ বছর লেখাপড়া করেছি। আগে বর্ণিত কোটি কোটি টাকা কবে অর্জিত হবে তা বক্তারা বলেননি। অন্তহীন শূন্যে ছুড়ে দেয়া হয়েছে অনুমান করার জন্য। চট্টগ্রাম বন্দর ২০০৮-০৯ সালে ৩.৩৬ লাখ টিইউ কনটেইনার এবং ১১.০৮ লাখ মেট্রিক টন ব্রেক বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং করে ১১২৭ কোটি টাকা আয় করেছে।
চট্টগাম বন্দরের ২০০৮-০৯ সালের ১,১২৭ কোটি টাকা আয়কে আগে বর্ণিত ৩,৫০০, ৭,০০০ এবং ৭০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে যথাক্রমে ২,৩৭৩, ৫,৮৭৩ ও ৬৮,৮৭৩ কোটি টাকার আয় সংযোজন করতে হবে। বার্ষিক ৮ ভাগ চক্রবৃদ্ধি হারে (৬ ভাগ জিডিপি + ২ ভাগ বন্দরের সেবার মূল্য হার) উপরোক্ত সংযোজনী অর্জন করতে লাগবে যথাক্রমে ১২, ২০ এবং ৫০ বছর। বন্দরের ফটক খুলে দিলে বাঁধভাঙা পানির মতো ওই অর্থ হু হু করে ঢুকে পড়বে না। এটা জানা দরকার, ওই বন্দরকে বর্তমান অবস্থায় আসতে সময় লেগেছে ১২০ বছর। ১৯৯০ সালে বন্দরটি এর শতবার্ষিকী উদযাপন করেছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরে এ পর্যন্ত যত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য হয়েছে। বাইরের ব্যবহারকারীকে পাওয়া যাবে এ আশায় হয়নি। যদি বাইরের ব্যবহারকারীদের ব্যবহার পরিকল্পনায় থাকত, তাহলে বন্দরের স্থাপনাদির এবং যন্ত্রপাতিগুলোর পরিমাণ ও ধরন অন্যভাবে নির্ধারিত হতো। সবচেয়ে বেশি নির্ধারিত হতো বন্দরের বিনিয়োগে অংশীদার এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। কিন্তু তা হয়নি। হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
ভারতকে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার সুযোগদান প্রস্তাবিত গভীর (?) সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। ৮টি জাহাজের পণ্য একযোগে খালাস ও ভর্তি করার জন্য ২০১৫ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জেটি স্থাপনের একটি পরিকল্পনা সমুদ্রবন্দরটির প্রকল্পে রয়েছে। এর জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে যত কনটেইনারজাত এবং সাধারণ পণ্য ওঠানো-নামানো হচ্ছে তার পরিমাণ এক নেত্রীর মতে ক্ষমতার ৩০ ভাগ, অন্য নেত্রীর মতে ক্ষমতার ৬০ ভাগ। জাপানি প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃক পেশকৃত গভীর (?) সমুদ্রবন্দরের ওপর সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ২০০৮-০৯ সালে যত পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, তা ওই বন্দরের ক্ষমতার ৬৫ ভাগ। কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বন্দর প্রধান বলেছেন, ওই বন্দরে অব্যবহৃত ক্ষমতা রয়েছে। বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের যেসব প্রদেশ বাংলাদেশের বন্দরকে ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাদের এত পরিমাণ সমুদ্রজাত পণ্য নেই এবং অদূর ভবিষ্যতেও হবে না; যার ফলে অব্যবহৃত ক্ষমতার বাকি ৩৫ ভাগ ব্যবহৃত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ গত ৩৫ বছরে তার বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১৫০ থেকে ৬৫০ ডলারে উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছে । অতএব বন্দরের বাকি ৩৫ ভাগ ক্ষমতা কবে ব্যবহার করা যাবে তা অনুমান করা যায়। নিশ্চয়ই আগামী ২০ বছরের মধ্যে নয়। এসব কারণে আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে বলা যায়, ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দেয়া হলে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরের এক অংশ নির্মাণ অলাভজনক হবে। ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনাটি টিকিয়ে রাখতে হলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অন্য কিছু চিন্তা করতে হবে।
বন্দরে এবং বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে বড় সমস্যা বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় রেল এবং গাড়ি চলাচল পথের সীমাবদ্ধতা। চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রাম শহরের অংশবিশেষ বিধায় এর প্রয়োজনীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব নয়। ড. রহমতউল্লাহ কর্তৃক কথিত বন্দর এবং রেল পদ্ধতির সংস্কার সাধনের বিষয়টি গভীর (?) সমুদ্রবন্দর স্থাপন পরিকল্পনার সঙ্গে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ তা দেখতে হবে।
গত ২০-২৫ বছরব্যাপী চট্টগ্রাম বন্দরে যে সুযোগ-সুবিধা এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি সাধন করা হয়েছে তা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে করা হয়েছে। হঠাত্ করে কিছু করা হয়নি। অব্যবহৃত অংশটুকু ভবিষ্যতে ব্যবহৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য পরিবাহিত পণ্য দিয়ে। একটি লক্ষণীয় বিষয় এই যে, একটি বিষয়ে দুজন ডক্টরেটধারী, যারা বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত হয়ে বন্দরের উন্নতি সাধনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নে ব্যস্ত আছেন, তাদের ধ্যান-ধারণা এবং বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। একজন ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গভীর (?) সমুদ্রবন্দর স্থাপনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিচ্ছেন। অন্যজন বলছেন, এখন যা আছে এতে কিছু পরিবর্ধন ও পরিবর্তন করে অতিরিক্ত ৩,৫০০ কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব। ওই পরিমাণ আয় বর্তমান আয়ের তিনগুণ। দ্বিতীয়জনের কথা সঠিক হলে প্রথমজনের সুপারিশটি বাতিল করার প্রশ্ন আসে।
এখন জানার প্রয়োজন, ভারত যে পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশের বন্দর দিয়ে পরিবাহিত করতে চায় তা বর্তমানে কত এবং আগামী ২০ বছরে কত হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তথ্য থাকলে অর্থমন্ত্রী এবং উপদেষ্টার কথা এক হতো।
আমাদের দেশের মাটির নম্রতা, শুষ্ক মাটির অপ্রতুলতা, ভালো রাস্তা দিয়ে চলাচলের জন্য মানুষের তীব্র প্রয়োজনীয়তা, দেশব্যাপী নদী-নালার আধিক্য ইত্যাদির কারণে নতুন নতুন রাস্তা ও রেলপথ নির্মাণে প্রবল সীমাবদ্ধতা আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনীতিকে সম্পৃক্ত করা ঠিক নয়, যারা দেশবাসীকে নসিহত করেন তারা আসলে রাজনীতিই করেন। কোনো উত্পাদনমুখী কর্মকাণ্ডে তারা সম্পৃক্ত নন। তারা হয় বুদ্ধিজীবী, না হয় রাজনৈতিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে যারা ডক্টরেটধারী তাদের জ্ঞান চর্চা এবং বক্তব্য প্রদান সেমিনার-টকশোতে সীমাবদ্ধ থাকে। সমস্যাজড়িত কর্মক্ষেত্রে তারা নেই।
ডক্টরেটধারী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তান আমলে সাবেক ইপিআইডিসি’তে প্রকল্প প্রণয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সময় ১৯৬০ দশকের দ্বিতীয়ার্ধে চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানার উত্পাদন ক্ষমতা দেড় লাখ টন থেকে আড়াই লাখ টনে উন্নীত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা মতে, বাড়তি এক লাখ টন হতে ষাট হাজার টন ইস্পাতের হেভি প্লেট তৈরি করা হবে । ওই ষাট হাজার টন প্লেট বিক্রির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে বলা হলো, ইপিআইডিসি’র প্রতিষ্ঠান ড্রাইডক কিছু প্লেট কিনে জাহাজ তৈরি করবে। বাকিটুকু রফতানি হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম ইস্পাত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওই মিলে একুনে পাঁচ হাজার টন হেভি প্লেট তৈরি হয়নি। তার প্রণীত পরিকল্পনায় স্থাপিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি অনুরূপ আরেকটি অচল প্রতিষ্ঠান ছিল।
পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব অনভিজ্ঞ এবং থিওরিটিসিয়ানদের হাতে পড়ে আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা থেকে ঈপ্সিত ফল পাওয়া যায়নি।
ভারতকে ট্রানজিট দিলে তার পণ্য কোন পথে পরিবাহিত হয়ে ভারত-বাংলাদেশ-ভারতের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছবে তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব এলাকার প্রদেশগুলোর ভৌগোলিক কারণে দু’দেশের মধ্যে পরিবহন পথে পণ্যের ওঠা-নামা একাধিকবার সংঘটিত হবে। সুবিধা ও অসুবিধা দু’পক্ষের জন্য আছে। এই প্রসঙ্গে একটি কথা বলতে চাই যা হলো, নদ-নদী অধ্যুষিত কোনো একটি দেশে একই পরিবহন যান দিয়ে ডোর-টু-ডোর ডেলিভারি করা যায় না। যাত্রার পথে একাধিকবার জার্নি ব্রেক করতে হয়। সিঙ্গাপুর এর সুবিধা নিচ্ছে। একই পরিবহন যান বন্দর থেকে মাল তুলে আমদানিকারকের গুদামে অথবা রফতানিকারকের গুদাম থেকে মাল তুলে বন্দরের ভেতরে পৌঁছে দেবে—এটা আশা করা আকাশ-কুসুম কল্পনার সমান।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর থেকে নদীপথে সরাসরি পণ্য পরিবহন করে ভারতে নেয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটা করা হলে, উজানে ভারতে বাঁধ দিয়ে নদ-নদী থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে তা নিরসনের জন্য ভারত নিজেই এগিয়ে আসবে।
সোনাকান্দায় একটি আধুনিক বন্দর নির্মাণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে যার জন্য বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করতে হবে। ভারত বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে চাইলে এর বিনিয়োগে অংশগ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশের বর্তমান বন্দর ভারতকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হলে এবং সোনাকান্দায় বন্দর স্থাপিত হলে নতুন বন্দরটি আগামী কয়েক যুগব্যাপী অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকবে। যারা ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার কথা বলেন, তারা কি চান না ৮টি জাহাজ ভেড়ানো যায় সোনাকান্দায় এমন একটি বন্দর স্থাপিত হোক? বর্তমানের চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ স্থলপথে অন্য দেশকে ব্যবহার করতে দেয়া হলে অসুবিধা আছে। ওই বন্দর চট্টগ্রাম শহরের একটি অংশ। এর পশ্চিম তীরে আছে কিছু শিল্প-প্রতিষ্ঠান, নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় স্থাপনা এবং আছে একটি বড় জনবসতিপূর্ণ এলাকা। রেল বা সড়কপথে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহার এসব স্থাপনার ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করবে। ফলে ওইসব স্থাপনার অনেকগুলোকে কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
ভারতে পণ্য পরিবহনের নিমিত্তে বন্দর ও রেলকে উপযুক্ত করে তোলার জন্য বিনিয়োগ করার পর সারা দিনে শুধু একটি মালবাহী ট্রেনপথে যাতায়াত করতে পারলে ওই বিনিয়োগ লাভবান হবে না। বর্তমানে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথ দিয়ে দৈনিক গড়ে দুটি কনটেইনারবাহী ট্রেন যাতায়াত করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলপথ সংস্কার করা হলে ওই পথ দিয়ে ভারতের জন্য দৈনিক বর্তমান পরিমাণের দশ ভাগের এক ভাগ কনটেইনার পরিবাহিত হবে কিনা সন্দেহ আছে।
ভারতের চাহিদার সমাধান সোনাকান্দায় খোঁজা দরকার। প্রতিবেশীর সুখ-সমৃদ্ধি অবশ্যই আমরা চাই, কিন্তু নিজের জীবন দুর্বিষহ করে নয়।
লেখক : চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (অর্থ) ও চেয়ারম্যান এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক

আবারও কি নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র by ড. মাহবুব উল্লাহ্

বিগত কয়েক সপ্তাহজুড়ে শাসক দলের মন্ত্রীবর্গ এবং তাদের বুদ্ধিশ্রমিকরা যেসব কথাবার্তা বলছেন এবং যেভাবে আচার-আচরণ করছেন তা থেকে এমন আশঙ্কা করা অমূলক হবে না যে, অচিরেই দেশে বেসামরিক স্বৈরাচারের উদ্ভব ঘটতে যাচ্ছে।

জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মুখে বাংলাদেশঃ সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ব্যর্থ

জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর মানুষ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকারের সব প্রচেষ্টা। এ পর্যন্ত ঘোষিত কোনো লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ করতে না পারায় জনসংখ্যা বিস্ফোরণের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের হামলাঃ গণতন্ত্রসম্মত নয়

রাজপথ আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো। নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনকালে বিরোধীদলের ওপর পরিকল্পিতভাবে পুলিশের উন্মত্ত লাঠিচার্জ ও সংঘর্ষে শুধু রক্তই ঝরেনি, আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেন এক হতভাগ্য ব্যক্তি।

জোড়া হাতি রিমান্ডে by হাসান হাফিজ

হাতি হলো দুষ্টলোকের অপকর্মের সাথী। হাতি নিয়ে মাতামাতি যথেষ্টই হয়ে গেল। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ঘটেছে এ ঘটনা। সংরক্ষিত বন এলাকায় রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে সাবাড় করছিল বনদস্যুরা। সেই কুকামে লাগানো হয় দুটি অবলা হাতিকে।

ভয়াবহ লাসা জ্বর by কাজী জহিরুল ইসলাম

আমাদের করিডোরে সারাদিন বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হয়। এখন বিদ্যুৎ নেই। ঘুঁটঘুঁটে অন্ধকার। তার চেয়েও অধিক অন্ধকার এক কালো পুরুষ বিড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে হেঁটে এসে আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালেন। ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলে ডাক্তার ময়িস বললেন, খবর জান, মনরোভিয়াতে লাসা ধরা পড়েছে।

এই নগরীর দিনরাত্রিঃ নগরে নগরে আতঙ্ক by রেজোয়ান সিদ্দিকী

এই নগরে কত কারণে যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কখনও ছিনতাইকারীর আতঙ্ক। কখনও ওয়াসার বিল চেককারীর আতঙ্ক। কখনও ডাকাতের আতঙ্ক। কখনও বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লুর আতঙ্ক। কখনও বা মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টির আতঙ্কে নাগরিকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে।

সরকারের কোপানলে অধিকারঃ আপত্তি কোথায়?

দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানবাধিকার সংস্থাই এ ব্যাপারে সোচ্চার নয়। বিভিন্ন মহল থেকে যখন এ ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে তখন একটি সক্রিয় মানবাধিকার সংস্থা সরকারি বাধা-নিষেধের বেড়াজালে আটকে গেল।

চালের দাম নিয়ে দুর্ভাবনা বাড়ছেঃ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে

বাজারে চালের দাম বাড়ছে। মোটা চালের দাম ৩০ টাকা ছুঁয়েছে। সরু ও মাঝারি মানের চালের দামও জরুরি অবস্থার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। সরু চাল কেজিপ্রতি ৪৫-৪৬ টাকা ও মাঝারি চালের দাম ৩৬-৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভাষাসৈনিক অচেনা ইউসুফ হাসান by আইয়ুব হোসেন

ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকদের প্রবর্তিত দ্বিজাতি তত্ত্বের বিপজ্জনক মন্ত্রে সাতচল্লিশ সালে ভারত ভাগের মধ্য দিয়ে এ তত্ত্বের উদ্গাতা সাম্প্রদায়িক শক্তির প্রতিভূরা বিজয়ী হয়। সৃষ্টি হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। কিন্তু এর সাড়ে চার বছরের মাথায় বাঙালি জনগোষ্ঠীর একটি অগ্রসর অংশ জনবিচ্ছিন্ন এ শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রয়োজন কি? by বদরুদ্দীন উমর

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সম্পর্কে অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো অবস্থা দেশে এখন তৈরি হয়েছে। যে অর্থে ও যে কাজের জন্য একটি দেশে জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট থাকে সে অর্থে কোনো কাজ এ জাতীয় সংসদের দ্বারা হচ্ছে না এবং পরিস্থিতির মধ্যে আমূল পরিবর্তন না ঘটলে এটা পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মানবাধিকার লঙ্ঘনে রেকর্ডঃ সুশাসনের অঙ্গীকার পূরণ করবে কে?

জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদকে বলা হয় আধুনিক সভ্যতার ম্যাগনাকার্টা। কিন্তু বাস্তবে সেই সনদে স্বাক্ষরকারী কোনো কোনো দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি ও আচরণে তার প্রতিফলন ঘটে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নটি দিন দিন প্রবল হয়ে উঠছে।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা হতাশাজনকঃ বাস্তবতাকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা

বিনিয়োগ ও শিল্পখাতে মহাজোট সরকারের ব্যর্থতা ঢাকা দেয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাদের ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পরও দেশের বিনিয়োগ ও শিল্প উত্পাদন বৃদ্ধি দূরে থাক ক্রমেই পিছু হটছে। গত দু’মাসেই গ্যাসভিত্তিক শিল্প কারখানায়গুলোর উৎপাদন প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে।

মানুষের শত্রুমিত্রঃ রং চড়ানো ইতিহাস-৬ by মাহমুদ শামসুল হক

হিটলারের ঘনিষ্ঠ সহচর গোয়েবলস বলেছিলেন, একটি মিথ্যাকে বারবার সত্য বলে চালিয়ে দিলে তা সত্যে পরিণত হয়। এই অসত্ পরামর্শের পরিণতি তিনি নিজেই দেখে গেছেন। ঝোলা গুড়কে শেষ পর্যন্ত মধু বলে বিক্রি করা যায়নি। তার পরও বিশেষ করে চতুর রাজনীতিকরা সুযোগ পেলেই এই গোয়েবলসীয় তত্ত্বটি প্রয়োগ করেন।

চিরুনি অভিযানঃ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং মাফলার পরা সাত-আটজন by শাহ আহমদ রেজা

আওয়ামী লীগ সরকার হঠাত্ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ায় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা শুধু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের লাশ ও কবর নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষণ-বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছেন না, তারা লগি-বৈঠার তাণ্ডবের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।

চারদিক-কিশোরগঞ্জে ছড়ার মেলা by সাইফুল হক মোল্লা

‘ছড়াকার, কবি আর লেখকের উক্তি কলমের স্বাধীনতা, চিন্তার মুক্তি।’ ২০০৫ সালে এ স্লোগান ধারণ করে শুরু হয়েছিল কিশোরগঞ্জ ছড়া উত্সব। পরে ২০০৬ সালে ‘মানবিক শুভতার লক্ষ্যে, ছড়া হোক মানুষের পক্ষে’। ২০০৭ সালে ‘বিবেকের মুক্তির জন্য, ছড়া হোক হাতিয়ারে গণ্য’।

দুর্নীতি দমন-কথায় নয়, কাজে বড় হতে হবে by বদিউল আলম মজুমদার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণকে ‘অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়’-এর মধ্যে দ্বিতীয়—দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধের পরই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে: ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা-আঞ্চলিক বৈষম্য বনাম বিভেদকারী আঞ্চলিকতাবাদ by সাজ্জাদ জহির

আঞ্চলিক বৈষম্যের সূত্র ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা রচিত হয়েছিল। আজ সেই স্বাধীন দেশেই আঞ্চলিক বৈষম্য লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুষ্ঠু সমাজ অগ্রগতির প্রয়োজনে সাধারণভাবেই অর্থনৈতিক বৈষম্য কাম্য নয়। আর বৈষম্য আঞ্চলিক ব্যাপ্তি নিলে, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিভেদমুখী ধারা প্ররোচিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

চিত্র-বিচিত্র by আশীষ-উর-রহমান

রুক্ষ শহর অনেক দিন থেকে বৃষ্টি পড়ে না শহরে। সবশেষ বৃষ্টি হয়েছিল গত বছরের ১৮ নভেম্বর। সে-ও না হওয়ার মতোই। আবহাওয়া বিভাগের রেকর্ডে আছে, বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র এক মিলিমিটার। পুরো শহরে নয়, খাপছাড়াভাবে এখানে-ওখানে বর্ষণ হয়েছিল সেদিন। খুব শিগগির বৃষ্টি নামবে এমন সম্ভাবনাও নেই।

বিশ্ব মানবতার সামনে হাইতিকে রক্ষার দায়িত্ব-ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হাইতির হাহাকার

অসহায় মানবতার করুণ কান্নায় নিমজ্জিত ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞে নিহত হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। এর সঙ্গে কেবল প্রলয়েরই তুলনা চলে। দারিদ্র্য, জনসংখ্যার ভারে নিমজ্জিত, প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার চরমে থাকা দেশটি আজ তীব্র মানবিক সংকটে।

আগামী দিনগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা-চড়া বাজারদর ভোগান্তি বাড়াচ্ছে

বাজারদর সন্তোষজনক অবস্থায় নেই, থাকতে পারছে না। চড়া হয়ে রয়েছে। এটি ভোগান্তি বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের। বিশেষত, চালের দাম যেভাবে বেড়েছে, তা খানিকটা বিস্ময়করই বটে। এবং যথারীতি দাম বাড়ার যুক্তিসংগত কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

চারদিক-মাছের মেলার মাছের কাহন by আকমল হোসেন

মৌলভীবাজারের শেরপুরে মাছের মেলা শেষ হলো কাল। মাছে-ভাতে বাঙালি—এই প্রবাদটা পুরোনো। তবে প্রবাদটা খামাখা তৈরি হয়নি। বাংলার খাল-বিল, নদী-নালা আর হাওর-বাঁওড়—একটা সময় সবখানেই মাছের ঘাই ছিল, লাফালাফি ছিল, সাঁতার ছিল।

অর্থনীতি-মধ্যবিত্তের বিকাশ কেন জরুরি by আবু আহমেদ

আমাদের এক সাহিত্যের অধ্যাপক একদিন আমাকে প্রায় পাকড়াও করার অবস্থা। অবশ্য শারীরিকভাবে নয়, কথার মাধ্যমে। ওনার কথা হলো, আমরা যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাচ্ছি, তাতে গরিব কৃষক ও ভূমিহীন লোকদের কোনো উপকার হবে না।

ধর্ম-ইসলামের দৃষ্টিতে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর বিশ্বের সবকিছু মানব জাতির কল্যাণ ও সেবার জন্য তৈরি করেছেন। তিনি মানুষকে জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্মস্পৃহা, কর্মদক্ষতা ও মননশীলতা দিয়েছেন।

চিরকুট-তুষারপাত by শাহাদুজ্জামান

নোবেল বিজয়ী মার্কেজের জগত্খ্যাত উপন্যাস হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিচ্যুড-এর চরিত্র বুয়েন্দিয়ার জীবনে স্মরণীয় একটি দিন, যেদিন সে প্রথম বরফ দেখে। উষ্ণ কলম্বিয়ার প্রত্যন্ত এক গ্রামের নিরীহ বুয়েন্দিয়ার কোনো ধারণাই ছিল না যে জগতে বরফ নামক একটি বস্তুর অস্তিত্ব আছে। জীবনে প্রথম বরফ দেখে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ে সে। বরফের শীতল গায়ে হাত রেখে এক ধরনের আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগে তার।

সময়চিত্র-প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে কী অর্জিত হলো by আসিফ নজরুল

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে ভারতের অনুকূলে কিছু বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের পত্রপত্রিকার খবর অনুসারে, উলফা নেতাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ ভারতের হাতে সমর্পণ করা হয়েছিল। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার লক্ষ্যে এটি ছিল যুগান্তকারী এবং অসাধারণ একটি পদক্ষেপ।

কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না-হাসপাতালে শিশু চুরি

শিশু চুরি যাওয়ার পর হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা রোগী মারা যাওয়ার পর বাড়িতে চিকিত্সক পাঠানোরই শামিল। যে মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে, এখন কোনো ব্যবস্থাই তাঁকে আশ্বস্ত করতে পারবে না। গত সোমবার হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে (বেবি কেয়ার ইউনিট, সিজার ওটি ও লেবার রুম) সালমা আক্তার নামের এক মায়ের নবজাতক ছেলে চুরি হয়ে যায়।

উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য-দুদকের আইন সংশোধন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন সংশোধনের চলমান প্রক্রিয়াটি অনেকাংশে অপরিচ্ছন্ন, অস্পষ্ট ও প্রশ্নসাপেক্ষ। জরুরি অবস্থায় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দুদকের দায়ের করা মামলার মধ্য দিয়ে একটা জবাবদিহির মুখোমুখি হয়েছিল। সে কারণে তাঁদের অনেকেই দুদকের বর্তমান কার্যক্রম সুনজরে দেখতে অপারগ থাকছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ।

প্রণবের সফরে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তিস্তার পানি by আশরাফুল হক রাজীব

ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরে তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে। তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চাইবে বাংলাদেশ। অভিন্ন এ নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ওপর নির্ভর করছে দুই দেশের অনেক অমীমাংসিত ইস্যু মীমাংসার সম্ভাবনা।

অবৈধ বিদেশযাত্রা ঠেকাতে বিমানবন্দরে চোখ রাখবে 'ভিজিল্যান্স টিম' by আবুল কাশেম

রাজধানীর ফকিরাপুলে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা! এক শ্রেণীর ট্রাভেল এজেন্সি এসব জাল ভিসা দিয়ে গ্রামের যুবকদের বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ পাতছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ১৭টি সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে হাত করেই বিদেশগামী বিমানে উঠছেন এসব যুবক।

বিলাসবহুল গাড়িতে সিএনজি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ

গণপরিবহন ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে বিলাসবহুল গাড়িতে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

গ্যাস-বিদ্যুৎ-নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে দিতে হবে বেশি টাকা-শুনানিতে অংশ নেননি ব্যবসায়ী নেতারা by আরিফুজ্জামান তুহিন

শিল্প ও আবাসিকে বিশেষ শ্রেণীর (কিউ শ্রেণী) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে ব্যবসায়ী ও আবাসিক গ্রাহকদের তা বেশি দামে কিনতে হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কিউ শ্রেণীর বিশেষ এ বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণে একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ-রহস্য-অগ্রগতি প্রতিবেদনে শুধুই গাড়ির খবর

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ঘটনার তদন্তে ষষ্ঠবারের মতো আদালতে দাখিল করা ৪৮ ঘণ্টার অগ্রগতি প্রতিবেদনে শুধুই পরিত্যক্ত গাড়ির খবর। প্রতিবেদনে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে কোনো তথ্য নেই। বনানী থানার ইন্সপেক্টর কাজী মাইনুল ইসলাম গতকাল বুধবার আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেছেন।

সাক্ষাতের পর জানালেন তাহসিনা রুশদীর-ইলিয়াসকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সন্তানদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইলিয়াসের স্বজনদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইলিয়াসকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ইলিয়াসের স্ত্রী ও সন্তানরা এসব কথা জানিয়েছেন।

ইলিয়াসের স্ত্রীকে 'বিধবা' বলে বিতর্ক তুললেন মন্নুজান

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর তাঁর স্ত্রীকে বিধবা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে তিনি ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীরের প্রতি আহ্বান জানান ইলিয়াস আলীর খুনি কে, তা প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর জন্য।

হাইকোর্টের রুল-পাবলিক পরীক্ষার সময় হরতাল কেন অবৈধ নয়

পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হরতাল দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হরতাল দেওয়া থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তারও কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের জামিন আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বিব্রত-খোকনকে নিয়ে বিভক্ত আদেশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের আগাম জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করতে বিব্রত হয়েছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। একই সঙ্গে অন্য একটি বেঞ্চও 'এখতিয়ার নেই' বলে জামিন আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন।

দুই দিনে দুই বৈঠক-নেতাদের শাসালেন খালেদা জিয়া by মোশাররফ বাবলু

শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করার পর রাজপথে তাৎক্ষণিক আন্দোলন না হওয়ায় সিনিয়র নেতাদের শাসিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁদের শাসানোর পর 'তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বাংলাদেশে ভিসা অফিস বন্ধ করে দিয়েছে কানাডা

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা বাংলাদেশে তাদের ৩টি ভিসা অফিসের সব ক’টিই বন্ধ করে দিয়েছে। গত ৩০শে এপ্রিল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থীদের ভিসা ইস্যু করা হবে সিঙ্গাপুরের কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে। এজন্য আবেদন করতে হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটস্থ বেসরকারি সংস্থা ‘ভিএফএস’-এর মাধ্যমে। কানাডার ভিসা অফিস বন্ধ সংক্রান্ত তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হলে হাইকমিশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিবাসন সংক্রান্ত কানাডার সরকারি দপ্তর ‘সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন কানাডা’ (সিআইসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত খরচ কমানোর জন্য কানাডা সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ শুধু বাংলাদেশ নয়, জার্মানির বার্লিন, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ও জাপানের টোকিও থেকেও ভিসা অফিস তুলে দেয়া হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, ‘ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটের ভিসা অফিসও গুটিয়ে নেয়া হয়েছে।’ তবে যারা ৩০শে এপ্রিলের আগে আবেদন করেছেন, তাদের ভিসা বাংলাদেশ থেকেই দেয়া হবে বলে তিনি জানান। এখন থেকে বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের ভিসা দেয়া হবে সিঙ্গাপুরের কানাডিয়ান হাইকমিশন থেকে। হাইকমিশনের ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশী আবেদনকারীদের ‘ভিএফএস’ নামের ভিসা প্রসেসিং এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের ভিসা আবেদন ভিএফএস সিঙ্গাপুরের কানাডাডিয়ান হাইকমিশনে পাঠানোর পর সেখানকার ভিসা অফিসাররা ভিসার সিদ্ধান্ত নেবেন। নতুন এ প্রক্রিয়ায় ভিসা আবেদনকারীদের ভিসা পেতে কোন ‘প্রতিবন্ধকতা’ হবে না বলেও হাইকমিশনের দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। সূত্র: বাংলানিউজ

মৌলভীবাজারে ১০ ঝটিকা অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে: নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ১২শ’ অভিযানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা অন্যতম স্পট হিসেবে গণ্য হলেও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ব্যাপারে অবহিত নন। মৌলভীবাজারের র‌্যাব কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা এ নিয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে ইলিয়াস আলী উদ্ধারের ব্যাপারে জেলার বিভিন্ন স্থানে দশটিরও অধিক ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করছে। সূত্র মতে, র‌্যাবেরই একটি স্পেশাল টিম নিজেদের গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে গভীর রাতে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। অপারেশনের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যেতে পারে এ আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইলিয়াস আলী অপহৃত হয়েছেন কিংবা আত্মগোপনে রয়েছেন এ দু’টি ধারণাকে সামনে রেখেই তল্লাশি অভিযান চলছে। লোকালয়ের পরিবর্তে পাহাড়ি এলাকাতে এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বেশি। সূত্রমতে, ইতিমধ্যে কুলাউড়া উপজেলার লোহাইউনী, গাজীপুর এবং কাড়েরগজ, কমলগঞ্জের পাত্রখলা, আদমপুর, আলীনগর এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুবাড়ী, নূরজাহান ও রাজঘাট চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় স্পেশাল টিমের ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়েছে গভীর রাতে। অভিযান স্থলগুলোর মধ্যে রয়েছে চা বাগানের বাংলো, আনারস ও লেবু বাগানের স্থাপনা, পানপুঞ্জি ও বাগান সংলগ্ন বসতি। গত সংসদ নির্বাচনে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাজী মুজিবের সঙ্গে ইলিয়াস আলীর সুসম্পর্ক থাকায় হাজী মুজিব সমর্থক একটি পানপুঞ্জিতেও তল্লাশি চলেছে। একইভাবে শ্রীমঙ্গলের একাধিক বিএনপি নেতার আনারস ও লেবু বাগানেও অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়ায় অবস্থিত বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন ৪টি বাগান বাংলোতেও তল্লাশি অভিযান সম্পন্ন হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করছে। এদিকে মৌলভীবাজার সদরে সাইফুর রহমানের মালিকানাধীন বাগানবাড়ী ও মৎস্য খামারে এখন পর্যন্ত কোন তল্লাশি অভিযান পরিচালিত না হলেও এগুলোতে নজরদারি চলছে। এখানে খালেদা রব্বানী সমর্থিত বিএনপির একাধিক নেতার বাড়ি ও বাসার প্রতি নজরদারি রয়েছে বলেও গুঞ্জন আছে। কমলগঞ্জের বনানীঘেরা ক্যামেলিয়া হাসপাতালে ইলিয়াস আলী অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন এমন গুজবে সেখানেও তল্লাশি হয়েছে।

বর্ধিত দামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের বিষয়ে আদেশ ১৩ই মে

স্টাফ রিপোর্টার: শিল্প ও আবাসিকে বিশেষ শ্রেণীর গ্রাহকদের বর্ধিত দামে নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে আগামী ১৩ই মে। গতকাল এ বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে গণশুনানি শেষে এই কথা জানানো হয়। সকাল ১১টায় কমিশন কার্যালয়ে শুনানি শুরু হয়ে তা চলে বিকাল সোয়া তিনটা পর্যন্ত। শুনানি গ্রহণ করেন বিইআরসির  চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন, সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ ও প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। বিইআরসির কাছে পিডিবির দেয়া প্রস্তাবে আবাসিকে প্রতি ইউনিট ১৩ দশমিক ১৫ টাকা, শিল্পে ১৬ দশমিক ৭৩ টাকা (১৩২ কেভি লাইন), ১৭ দশমিক ৫২ টাকা (২২ কেভি লাইন) ও ১৮ দশমিক ২৩ টাকা (১১ কেভি লাইন) মূল্য নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। বিইআরসি জানায়, বিশেষ শ্রেণীর গ্রাহক হতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। বিদ্যুৎ লাইন, সাব-স্টেশন স্থাপনসহ অবকাঠামো উন্নয়নের খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে। শুনানিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগ নেতার প্রকাশ্যে ছিনতাই!

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: প্রকাশ্যে মোবাইল-মানিব্যাগ ছিনতাই করলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতা। ছিনতাইকারী রিফাত হোসেন জিকু মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সভাপতি। ছিনতাইকালে আবদুস সামাদ, নাসিম ও দিদারুল ইসলাম নামে ৩ চাকরি-জীবীকে বেধড়ক মারধরও করে তার দলবল। মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান গেইটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিচিত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মঙ্গলবার ওই তিন চাকরিজীবী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে আসে। এ সময় তারা উদ্যান গেইটে নিজেদের মধ্যে আড্ডা দিচ্ছিল। কিন্তু বিষয়টি জিকু ও ছিনতাইকারীদের নজর কারে। প্রথমে তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু ‘ছিনতাইকারী’ বলে চিৎকার করলে তাদেরকে ‘শিবির’ বলে বকাঝকা দেয় জিকু। তার বিরুদ্ধে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ দেয়া হয়নি। এ সময় জিকুর সঙ্গে যোগ দেয় তার হলের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে পরিচিত জিয়া, প্রিন্স, মঞ্জুর, নুরুল হুদা, রহিম ও হাবিব। ছিনতাইয়ের শিকার প্রত্যেকের কাছ থেকেই মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে দায়িত্বরত পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছিনতাইয়ের শিকার সামাদ রাজধানীর এক মেডিকেল কলেজের কর্মচারী, নাসিম বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরিরত ও দিদার পুরান ঢাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী। মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে এলে ওই নেতা আমাদের মারধর করে। তারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বলেও জানায়। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর বোন খাদিজা হোসেনের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপার্টার: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট বোন খাদিজা হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৩ মেয়ে, ১ ছেলেসহ বহু নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর স্বামী মরহুম সৈয়দ হোসেন বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব ছিলেন। খাদিজা হোসেনের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাসভবনে যান এবং সেখানে দীর্ঘসময় অবস্থান করেন। ধানমন্ডির ৭নং সড়কস্থ মসজিদে মঙ্গলবার বাদ জোহর জানাজা শেষে বনানী গোরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়। খাদিজা হোসেনের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ শোক প্রকাশ করেছেন।

অধিকার-এর মাসিক তথ্য- ৫ গুম, ক্রসফায়ারে ১১ খুন

স্টাফ রিপোর্টার: এপ্রিল মাসে ৫ জন গুম হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১১ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৪ জন ও গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। গত ১লা মে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ‘অধিকার’ জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের ধরে নিয়ে গেছে এবং এরপর থেকে তারা গুম হয়েছেন। ১৮ই এপ্রিল সাবেক এমপি ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালক আনসারকে রাজধানীর বনানীর রাস্তা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি। এর আগে ৩রা এপ্রিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিলেট জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদকে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঢাকার উত্তরা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। ৪ঠা এপ্রিল গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি’র সংগঠক আমিনুল ইসলাম (৪১)-কে আশুলিয়া থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ধরে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। পরে ৫ই এপ্রিল  পুলিশ টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। এসময় নিহতের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। ২০০৬ ও ২০১০ সালেও আমিনুলকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকবার আটক করে তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল। ‘অধিকার’ গুম হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলোতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী গত মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৪ জন নিহত এবং ২৫২৮ জন আহত হয়েছেন। এপ্রিল মাসে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২৫টি এবং বিএনপি’র ১১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৪ জন নিহত ও ৩৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছেই: অধিকার জানায়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সন্দেহভাজন অপরাধীসহ অন্যদের হত্যা করছে। এর ধারাবাহিকতায় গত মাসে ১১ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ২রা এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার গাজীরকান্দি গ্রামের মৃত আবু সৈয়দ ও রজেবা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল মোমিন মোল্লা (২৪)কে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পূর্ব চরাইল এলাকায় বাসার সামনে থেকে সাদা পোশাকে র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা আটক করে। মিরপুর সেকশন-১৩ কৃষি ব্যাংকের পেছনে, রোড নম্বর ১২ টিনশেড কলোনির ৩৮৩ নম্বর বাসার সামনে রাত ১২টার পরে র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা মোমিনকে গুলি করে হত্যা করে বলে তার পরিবারের অভিযোগ। এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড-এর নির্যাতনের কারণে মারা গেছেন। গণপিটুনিতে মৃত্যু: এপ্রিল মাসে ৮ ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা গেছেন।  ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় মানুষের নিজের হাতে আইন তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খুলনায় থানা হাজতে ছাত্রনেতাকে ঝুলিয়ে নির্যাতন: গত ২২শে এপ্রিল হরতালের দিন খুলনা সরকারি সিটি কলেজের ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটোকে খুলনা সদর থানার দ্বিতীয় তলার একটি ঘরের ছাদের সঙ্গে লাগানো হুকে ঝুলিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান নির্যাতন করেছে। অধিকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এহেন নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। বিএসএফ-এর তাণ্ডব: অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত আছে। গত মাসেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নিরস্ত্র বাংলাদেশী নাগরিকদের ওপর আক্রমণ করেছে। ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশীদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে বিএসএফ ৪ বাংলাদেশীকে হত্যা ও ১৭ বাংলাদেশীকে আহত করেছে।ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা: গত ২৭শে মার্চ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আবুল মনসুর আহমেদের লেখা ‘হুজুর কেবলা’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকটিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের জের ধরে ৩১শে মার্চ ফতেপুর গ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়ের পাঁচটি বাড়িসহ ১০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে হিন্দু সমপ্রদায়ের আরও ১৫-১৬টি বাড়িতে লুটপাট করা হয়। পরদিন ১লা এপ্রিল ফতেহপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চাকদাহ গ্রামে হিন্দু সমপ্রদায়ের সাতটি পরিবারের বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ‘অধিকার’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা: ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী গত এপ্রিল মাসে ১৬ জন সাংবাদিক আহত, ১ জন হুমকির সম্মুখীন এবং ১ জন আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তৈরী পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকের প্রতি সহিংসতা: এ সময়কালে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে  পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা বকেয়া বেতন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও কারখানা খোলা রাখার দাবিতে আন্দোলন করলে প্রায় ৮০ জন শ্রমিক পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। নারীর প্রতি সহিংসতা: চলতি মাসেও নারীর প্রতি সহিংসতা অব্যাহত আছে এবং নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী এপ্রিল মাসে ধর্ষণ, যৌতুক, এসিড সন্ত্রাস এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত ২২শে এপ্রিল সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত এমপি হোস্টেলের ৬ নম্বর ব্লকের তেতলার একটি বাথরুম থেকে পুলিশ এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। ‘অধিকার’-এর তথ্য অনুযায়ী গত মাসে ২৯ জন নারী যৌতুক, সহিংসতা, ৪৭ জন নারী যৌন হয়রানি, ৫০ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১০ জন।

শ্বশুর ও পুত্রবধূর মাথা ন্যাড়া করে ঘোরানো হলো

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে: শ্বশুরের সঙ্গে পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগে শ্বশুর আবদুুর রশিদ (৫০) ও পুত্রবধূ সালমা বেগম (২০)-কে মারপিটের পর মাথা ন্যাড়া করে আর কালো রঙ মাখিয়ে সারা গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে গ্রাম্য মাতব্বররা। ঘটনাটি তাকিয়ে দেখলেও মাতব্বরদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি। এ ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ দামগারা গ্রামে গত রোববার সন্ধ্যায়। ওই ঘটনায় গত সোমবার গভীর রাতে গ্রাম্য মাতব্বর ওবায়দুল্লাহসহ সালিশ  বৈঠকের ৩২ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলো- ওই গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে আবুল কাসেম মণ্ডল (৩০), আবদুল হামিদ মণ্ডলের ছেলে তোফাজ্জল মণ্ডল (৩৫) ও রবিউল ইসলাম (৩৮)।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলার সৈয়দ দামগারা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে ট্রাকের হেলপার জাকির মণ্ডল গত ৭ মাস আগে আদমদীঘি উপজেলার বিনসারা গ্রামের আবদুস ছালামের মেয়ে সালমা বেগমকে বিয়ে করে। স্বামী ট্রাকের হেলপার হওয়ার সুবাদে প্রায়ই বাইরে থাকতো। এই সুযোগে গ্রামের কতিপয় বখাটে যুবক নববধূ সালমাকে প্রায় উত্ত্যক্ত করতো। এমনকি নানা রকম কু-প্রস্তাব দিতো। সালমা বিষয়টি একদিন তার স্বামী জাকিরকে জানালে সে গিয়ে বখাটেদের বারণ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এরপর থেকেই তারা নানাভাবে ওই পরিবারকে সমাজে হেয় করার জন্য ফন্দি-ফিকির করে আসছিল। ঘটনার ১৫ দিন আগেও গ্রামের কতিপয় মাতব্বর পুত্রবধূর সঙ্গে আবদুর রশিদের অবৈধ সম্পর্ক আছে দাবি করে বাড়িঘর ভেঙে অন্য কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। তা না হলে বাড়িঘর উচ্ছেদের হুমকিও দেয় তারা। এ ঘটনায় জের ধরে গত রোববার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের মাতব্বর মো.  ওবায়দুল্লাহ (৫০), ইছহাক আলী (৩২), রজীবউদ্দিন (৪০) জাহিদুল ইসলাম (৩৫), ধলু মুন্সীসহ (৩৮)সহ কমপক্ষে ৩০/৩৫ জন বেআইনিভাবে আবদুর রশীদের বাড়িতে গিয়ে শ্বশুর ও পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্ক আছে দাবি করে জোর করে সালিশ বসায়। সালিশের নামে প্রথমে তারা উভয়কে লাঠি দিয়ে প্রহার করে। এতে তারা দু’জন অসুস্থ হয়। পরে অবৈধ সম্পর্কের শাস্তি হিসেবে বৃদ্ধ আঃ রশীদ ও নববধূ সালমা বেগমের মাথার সব চুল কেটে ন্যাড়া করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাদের দু’জনকে পুরো গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়ায়। এরপর সালিশকারীরা উল্লাস করতে করতে তাদেরকে টেনে-হিঁচড়ে দুই কিলোমিটার দূরে ত্রিমোহনী এলাকায় ইসাহার আলীর দোকানের সামনে আটকে রাখে। এই বর্বরোচিত ঘটনা কমপক্ষে ৬-৭শ’ মানুষ প্রত্যক্ষ করে। রাত ১০টার দিকে পুলিশ আসছে শুনে সালিশকারীরা পালিয়ে যায়। ওই গ্রামের আবদুল হামিদ জানান, মাতব্বরদের ভয়ে কেউ ওই ঘটনার প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এ ঘটনায় আবদুর রশীদের ছোটভাই ভ্যানচালক আবদুল জলিল মণ্ডল বাদী হয়ে গ্রাম্য মাতব্বর সালিশকারী ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানায়, উপজেলার কোমরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমল চন্দ্র মোহান্ত (৬০) প্রাইভেট পড়িয়ে জীবন চালাতেন। মঙ্গলবারও উপজেলা সদরের কৃষ্ণপুর এলাকার বাড়ি থেকে বাইসাইকেল নিয়ে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফিরেননি। গতকাল সকালে মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে রাস্তার ধারে তার লাশ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, শিক্ষক বিমল চন্দ্র মোহান্তের গলা কাটা ছিল। এছাড়া, তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার সাইকেলটিও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা

গত ১লা মে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজিবির নির্যাতন’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন সদর দপ্তর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অপারেশন ও প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর গোয়েন্দা শাখার জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা। তিনি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশিত সংবাদের যথার্থতা অনুসন্ধানে গিয়ে পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংবাদে প্রকাশিত মৃত ব্যক্তির নাম সাহেদ (২৮), পিতা মৃত আবু তাহের, সাং- দক্ষিণ মোড়াইল, থানা ও জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া। যিনি গত ২৮শে ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী ‘মহানগর প্রভাতী’ ট্রেনে চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্স কর্তৃক আটক হন। ওইদিন টাস্কফোর্সের দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান ও উদ্ধারকৃত মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার অপরাধে ওই ব্যক্তিসহ মোট ৪ জনকে আটক করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিজিবি কর্তৃক কোন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৯৮, তারিখ ২৮শে ডিসেম্বর ২০১১। অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বর্ণিত সাহেদ মাদকাসক্ত ছিলেন, যিনি ৩ মাসের অধিক সময় কারাগারে থাকার পর আনুমানিক ১ মাস পূর্বে জামিনে মুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে তার নিজ বাড়িতে ফিরে যান। পরে মাদকাসক্ত ওই ব্যক্তি ৩০শে এপ্রিল নিজ বাড়িতে অজ্ঞাত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাবিতে ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি, তীব্র উত্তেজনা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছে ক্যাম্পাসে। কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা স্বাক্ষরিত কমিটি দেয়া হয়েছে প্রেসে। কমিটিতে পদবঞ্চিতদের দফায় দফায় মহড়া আর স্লোগানে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। যে কোন সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের গ্রুপ তার দেয়া কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে। অপরদিকে ঢাবি সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ তার গ্রুপ নিয়ে শোডাউন করেছে মধুর ক্যান্টিনে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ মহড়া। গত ৩/৪ মাস আগে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি গঠন করে তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মনমতো না হওয়ায় কমিটি ঝুলিয়ে রাখে দীর্ঘদিন। মঙ্গলবার হঠাৎ করে আগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ভেঙে ১৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। নতুন পদ দেয়া ৬৪ জন নেতার প্রায় সবাই কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী। কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কোন স্বাক্ষর নেই। সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সোহেল রানা টিপু ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশাহ’র স্বাক্ষর রয়েছে এ কমিটিতে। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদকও তাদের স্বাক্ষরিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি প্রেসে পাঠিয়ে দেন। সাধারণ সম্পাদক জানান, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত গঠন করা যায় না। এদিকে ছাত্রলীগের সংবিধানমতে জেলা শাখার কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২১ হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ঘোষিত কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ১৩৭। বর্তমান  কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার পরে ছাত্রলীগের সংবিধান সংশোধন করে সদস্য সংখ্যা ৭১ থেকে ১২১ করা হয়। কেন্দ্র ঘোষিত নতুন কমিটিতে খুলনা ও জামালপুর অঞ্চলের রয়েছে আধিক্য। অপরদিকে ছাত্রলীগের পদ-পদবিতে বরাবর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চল এগিয়ে থাকলেও এবার তাদের পদ সংখ্যা অনেক কম। অনেকে জুনিয়র ও শিবিরের সংশ্লিষ্টতা অভিযোগ রয়েছে এমন নেতাদের দেয়া হয়েছে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ। ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা ওয়াহিদুজ্জামানকেও দেয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনি হল ও ছাত্রলীগ থেকে আজীবন বহিষ্কৃত। ছাত্রলীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, কোটি টাকার পদ বিক্রির বাণিজ্য বহাল রাখতেই কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সবার অগোচরে কমিটি ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্বদ্যিালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ বলেন, যে কমিটি সম্পর্কে আমরা জানি না তা মেনে নেয়ার প্রশ্নই আসে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাদের- আমরা কমিটি গঠন করবো। আমাদের না জানিয়ে কমিটি গঠন করে দিলে তা নিয়ে আমরা রাজনীতি করবো কি করে। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা জেলা শাখা। বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমাদের তালিকা দিয়েছে আমরা তা আরও একটু বাড়িয়েছি। এখানে তাদের স্বাক্ষরের কোন বিষয় নয়। কমিটি আমরা যেটা দিয়েছি সেটাই থাকবে। অন্য কোন পদক্ষেপের প্রশ্ন আসে না।

বিএনপি শ্রমিকদের হত্যা করে: প্রধানমন্ত্রী

ইকবাল আহমদ সরকার, টঙ্গী থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রক্ত নেয়াই বিএনপি’র চরিত্র। হরতালেও পাঁচ জনকে খুন করেছে তারা। ’৭৫-এর পর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে অনেক ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। দেশ ও মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে চলবে। মে দিবসে মঙ্গলবার টঙ্গীর টেলিফোন শিল্প সংস্থার মাঠে শ্রমিক লীগ আয়োজিত শ্রমিক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দিনটি শ্রমিকদের। শহীদ শ্রমিকদের, বিশ্বের নিবেদিতপ্রাণ শ্রমিকদের। আমাদের সরকারের কাছে শ্রমিকদের কিছু চাইতে হয় না। শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষ দু’বেলা পেট পুরে খাবে এবং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হোক এটাই আমাদের লক্ষ্য। বতর্মান সরকারের আমলে শিল্পোন্নয়ন ও নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেই শ্রমিকদের বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। সরকার ৬৮ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ সরকারি। সরকার ২৭টি বন্ধ কারখানার মধ্যে ২৪টি চালু করেছে। বিএনিপি’র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্ত নেয়াই বিএনপি’র চরিত্র। হরতালেও পাঁচ জনকে হত্যা করেছে তারা। ঘুমন্ত পরিশ্রান্ত শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করে তারা। শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ঘটনা এবং ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। হরতাল প্রসঙ্গে বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলন করুন ভাল কিন্তু মানুষ পুড়িয়ে মারবেন কেন? একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে পুড়িয়ে মারে কি করে? উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যে হরতাল দেয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, উনি (খালেদা জিয়া) চান না, আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখুক। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সংবিধান সংশোধন করে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কমর্সূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার মিলে চালের কেজি ৪০ টাকায় নিয়ে গিয়েছিল, যা  বর্তমানে ২৮ টাকায় চাল পাওয়া যাচ্ছে। শ্রমিকদের ছেলে-মেয়ের জন্য ওএমএস-এর মাধ্যমে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট করার সুযোগ রয়েছে, বিদ্যুতে ২০ শতাংশ রেয়াত দেয়া হচ্ছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম তিন হাজার টাকা মজুরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কল-কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার আশ্বাসও দেন তিনি। জেলাবাসীর উদ্দেশে তিনি টেলিফোন শিল্প সংস্থার মাঠে স্টেডিয়াম নির্মাণ, গাজীপুরের হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের পাশাপাশি গাজীপুরকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা দেয়ার আশ্বাস দেন। সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনাকে আরেকবার সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান। এ শ্রমিক সমাবেশে গাজীপুর জেলার সব এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দুপুর থেকেই মিছিল করে ব্যানার-ফেস্টুনের পাশাপাশি অনেকে বাদক দলও নিয়ে আসতে থাকেন। বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশস্থলে পৌঁছার সময় বিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকে অবস্থান নেন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ওপর। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, গাজীপুরের সংসদ সদস্য রহমত আলী, আকম মোজাম্মেল হক, জাহিদ আহসান রাসেল, মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ।

সিটি করপোরেশনের রাস্তায় জ্বলবে সৌরবাতি

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের সিটি করপোরেশনের রাস্তাগুলোয় জ্বলবে সৌর বিদ্যুৎ চালিত বাতি। এজন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। শেরেবাংলানগরের এনইসি ভবনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গতকাল এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি করপোরেশন’ নামের প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুৎ বিভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর সিটি করপোরেশনের রাস্তায় সৌর বিদ্যুৎ চালিত বাতি স্থাপন করবে। করপোরেশনগুলোয় এক হাজার কি.মি. রাস্তা এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে। জানুয়ারি ২০১২-ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ব্যয়ের ২৩৭ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর কাছ থেকে পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, দেশের সর্বত্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ছাড়া, প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০০৮-এর সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ। এ নীতিমালায় নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫% এবং ২০২০ সালের মধ্যে ১০% নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া একনেক সভায় ‘টঙ্গী শহরে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং ড্রেনেজ প্রকল্প’ নামে অপর একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। টঙ্গী ইজতেমা মাঠসহ টঙ্গী পৌরসভার পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সমপ্রসারণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রণীত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬২ কি.মি. পাইপ লাইন, ৩ তলা বিশিষ্ট ২২টি টয়লেট ভবন, স্বল্প ব্যয়ের ৫০০টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন, পর্যাপ্ত অজুখানা, টিউবওয়েল, পাম্প হাউজ ও বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হবে। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রী এ কে খন্দকার, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনসহ একনেকের অন্য সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, এ সভায় সর্বমোট ৮৭৫ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ৬টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৬ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ৪৮৯ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে।

ভৈরবনগরে অরাজকতা



স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: ঘরের বেড়া-চালা নেই, ঘরের ভেতরও ফাঁকা। নেই কোন কিছুই। লুট হয়ে গেছে সব। বাড়িতে পুরুষ নেই। আতঙ্কে মেয়েছেলেরা। তাদেরও দেয়া হচ্ছে বাড়ি ছাড়ার হুমকি। অরাজক অবস্থার এ চিত্র নবীনগরের ভৈরবনগর গ্রামের। দু-মাস ধরেই চলছে এখানে লুটপাট। গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প আছে। কিন্তু তারপরও বন্ধ নেই বাড়িঘরে হামলা। সবকিছু লুট করে নেয়ার পর এখন রান্না করে খাওয়ার হাঁড়িপাতিল পর্যন্ত লুটে  নেয়া হচ্ছে। লুট করে নেয়া হয়েছে বাড়িতে থাকা মহিলাদের কাছ থেকে এক-দেড়শ’ মোবাইল ফোন। দাড়িয়াবান্দা খেলাকে কেন্দ্র করে গত ৪ঠা মার্চ খুন হয় ইয়াছিন নামের এক যুবক। এরপরই পালিয়ে যায় একপক্ষের পুরুষরা। ঘটনার পর থেকেই তাদের বাড়িঘরে লুটপাট শুরু হয়। যা এখন এক অমানবিক অবস্থায় এসে ঠেকেছে। ভৈরবনগর পশ্চিমপাড়ার মমতাজ বেগম জানান, দু’দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা করে। ধানকাটার কামলাদের জন্য রান্না করা ভাত-তরকারি মাটিতে ফেলে সব হাঁড়িপাতিল নিয়ে যায়। কুলসুম নামে আরেক গৃহবধূ জানান, হাঁড়িপাতিল নিয়েই তারা ক্ষান্ত হয় না। মারধরও করে। পাশের রাজাপুর গ্রামে পালিয়ে থাকা হানিফ মিয়া জানান, তার মুদি দোকানে হামলা করে দু-আড়াই লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তার দুটি টিনের ঘর, একটি পাকা বিল্ডিংয়ে যা ছিল সবই লুট হয়েছে। আবদুল মজিদ জানান, লুটপাট করা হয়েছে তার ৪টি ঘর। সরজমিনে ভৈরবনগর গ্রাম ঘুরে একটি পক্ষের কোন বাড়িঘরই আস্ত দেখা যায়নি। মন্নাফ, হারুন মিয়া, মলাই মিয়া, হাসু মিয়া, মোকাদ্দেস, মোবারক, শিশু মিয়া, ইসমাইল, ইব্রাহিম, ইউসুফ, হানিফ, বশু মিয়া, মোজাম্মেল, বিল্লাল, আবদুর রহমান, ফুল মিয়া, নাজির মিয়া, আবদুল আলিম, আবু কালাম, খলিল, জসিম, জাহার মিয়ার ঘরের কোন বেড়া-চালা নেই। ঘরের ভেতরও নেই কোন কিছু। অর্ধ শতাধিক বাড়িঘরে চালানো হয় ভাঙচুর আর লুটপাট। মদন মিয়ার পক্ষের এসব লোকজন ধান কাটারও সুযোগ পাচ্ছে না। বাড়িতে থাকা বউ-ঝি’রা জানান, অলেক মিয়া, তিতন মিয়া, আবু তাহের, নাছির, বশির ও সংগ্রামের নেতৃত্বেই ঘরে ঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে প্রতিদিন। সরজমিন গ্রাম ঘুরার সময় ছুটে আসেন তিতন মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের সামনেই লুটপাট করার অভিযোগ আনায় ধমকাতে থাকেন মমতাজ বেগমকে। তিতন মিয়া জানান, লুটপাট, ভাঙচুর হয়েছে মার্ডারের দিনই। এরপর আর কিছু হয়নি। তার দাবি তিনি হামলাকারীদের দমন করতেই কাজ করছেন। ঘটনার পরই গ্রামের পূর্বপ্রান্তে ভৈরবনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়। ক্যাম্পটির অবস্থান  হামলাকারীদের এলাকায়। তাই সেখান থেকে বেড়িয়ে গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে কি ঘটছে না ঘটছে পুলিশ সে খবর নেয় না। তবে ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এসআই শফিকুল ইসলাম গ্রামের পরিস্থিতি ভাল বলেই দাবি করেন। এর বাইরে থানা বা জেলার পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি কেউই যাননি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এ গ্রামটিতে। স্থানীয় মহিলা মেম্বার জ্যোস্না বেগম বলেন মার্ডারের পর আমি ওই গ্রামে ২/৩ বার গেছি। তখন দেখেছি ছেলেপুলেরা বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। লুটপাট করছে। পুলিশ একদিকে আর তারা আরেকদিকে এসব করছে। আমি বাধা দিলে তারা আমাকেও অপমান করে। নবীনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান এখন বলেছেন শিগগির ভৈরবনগর গ্রামের লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হবে। পুলিশ সুপার মো. জামিল আহমেদ জানান ভৈরবনগরে আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে নবীনগর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এলাকার সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন জানিয়েছেন তিনি আইন-শৃঙ্খলা যেন কেউ নিজের হাতে তুলে না নেন সেজন্য ভৈরবনগর গ্রামে গিয়ে একটি সভা করবেন।

জেলেরা ধরতে পারবেন ইলিশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি: ১লা মে থেকে মেঘনায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় জেলেরা জাটকা ছাড়া ইলিশ ধরতে পারবে। সরকারের দেয়া ইলিশের অভয়াশ্রম কর্মসূচির মেয়াদ ৩০শে এপ্রিল শেষ হয়। তবে ৩১শে মে পর্যন্ত জাটকা রক্ষা কর্মসূচি বলবৎ থাকবে। ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় ২০০৬ সাল থেকে চাঁদপুরের মেঘনাসহ দেশের ৪টি অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। গত বছর পদ্মাকে পঞ্চম অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর থেকে তা কার্যকর হবে। এরই অংশ হিসেবে মার্চ-এপ্রিল চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ছিল। এ সময়ের মধ্যে কেউ অভয়াশ্রম অঞ্চলে জাল ফেললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং জাল পুড়িয়ে ফেলা হবে। চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার ও লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১শ’ কিলোমিটার এবং শরীয়তপুরের তারাবুনিয়া থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পদ্মা নদীর অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত।  জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্ত জানান, চাঁদপুরের মেঘনার অভয়াশ্রম কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাটকা নিধনকালে শতাধিক জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে। গত বছর ১৬৪ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছেল।

অভয়নগরে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে:  ভাত দিতে দেরি হওয়ায় অভয়নগরে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। গতকাল ভাত দিতে দেরি হওয়ায় হালিম মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী আকলিমা বেগমকে ইট দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী পলাতক রয়েছে। উপজেলার ধোপাদী গ্রামের পূর্বপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ধোপাদী গ্রামের আনোয়ার মোল্যার ছেলে হালিম মোল্যা ১৬ বছর আগে বিয়ে করে যশোর শঙ্করপুর বস্তির জনৈক ভিক্ষুকের মেয়ে আকলিমা বেগমকে। স্বামী বেকার হওয়ায় অভাবের সংসারে প্রতিনিয়ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। তিন সন্তান, স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির মুখে অন্ন তুলে দিতে আকলিমা কাজ নেয় অন্যের বাড়িতে। এ ভাবেই চলতো আকলিমার ১৬ বছরের সংসার জীবন। গতকাল সকালে স্বামী হালিম মোল্যাকে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হালিম মোল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী আকলিমার ঘাড়ে ইট দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আকলিমার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হালিম মোল্যা কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ আকলিমার লাশটি উদ্ধার করে যশোর মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাগুরায় বিএনপি’র ৫৫ নেতাকর্মীর জামিন

মাগুরা প্রতিনিধি: হরতালে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে দায়েরকৃত তিনটি মামলায় ইলিয়াস আলীর শ্যালকসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ৫৫ নেতাকর্মী জামিন পেয়েছেন। গতকাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহেদ হাসান টগর জানান, গত ২৩ ও ২৪শে এপ্রিল হরতাল চলাকালে দুটি ট্রাক ও ১টি মাইক্রোবাসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে তানজেল হোসেন খান ২৮ জন, মিজানুর রহমান ২০ জন, সুজাদ্দৌলা বাদী হয়ে ৮ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে ৩টি মামলা দায়ের করেন। ৩টি মামলায় মোট ৫৫ আসামির মধ্যে ১টি মামলায় এম ইলিয়াস আলীর শ্যালক যুবদল নেতা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার আঞ্জুম হাসান সুমনকে  প্রধান আসামি করা হয়। গতকাল দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহারের আদালতে হাজির হয়ে অভিযুক্তরা জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিকে এ মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক দাবি করে, জামিনপ্রাপ্তদের নিয়ে শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপ। শহরের মিছিল শেষে সেগুনবাগিচার দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি সভাপতি কবির মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক আলী আহম্মদ, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শেলি, সদর থানা যুবদল সভাপতি আবু সাইদ আল মামুন। অপরদিকে, ঢাকা রোডে বিদ্রোহী গ্রুপের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ইকবাল আকতার খান কাফুর, ফারুক আহমেদ বাবুল, ফারুকুজ্জামান ফারুক,  জেলা যুবদল সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আশারাফুজ্জামান শামীম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কুতুব উদ্দিন প্রমুখ।

নবীগঞ্জের ২টি চা বাগানে উৎপাদন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে: নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানীসহ কয়েকটি চা বাগানের উৎপাদন ১২ দিন ধরে বন্ধ  রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাগানের চা গাছগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা করে  ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া, একদিকে  ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের সহস্রাধিক চা শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। অন্যদিকে এ বছর কমপক্ষে ১ লাখ কেজি চা উৎপাদন কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন বাগান কর্র্তৃপক্ষ। ১৯শে এপ্রিল রাত ১২টায় শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবলীলা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিলাবৃষ্টির আঘাত। একটানা কয়েক ঘণ্টা পর রাত আড়াইটার দিকে ঝড়ের বেগ কমতে থাকে। এরই মধ্যে চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মৃণাল কান্তি দেবসহ শ্রমিক কলোনির ২০/৩০টি ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। গাছ ভেঙে ধসে পড়ে স্টাফদের ৩০/৪০টি ঘর। প্রায় অর্ধশত কাঁচাঘর সম্পূর্ণরূপে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে চা বাগানের সহস্রাধিক শেড ট্রি, ২/৩ শ’ রাবার গাছ, ৪/৫ শ’ কাঁঠাল ও কলাগাছ  ভেঙে পড়ে। শুধু ভেঙেই পড়েনি। গাছগুলো চা বাগানের উপর ভেঙে পড়াতে চা গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়, কমপক্ষে আড়াইশ’ গ্রাম ও আধাকেজি ওজনের শিলাবৃষ্টিতে বাগানের নার্সারি সম্পূর্ণ রূপে বিনষ্ট হয়। নার্সারির এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস লাগবে। তাছাড়া, পূর্ণাঙ্গভাবে বাগানের স্বাভাবিক উৎপাদন শুরু হতে কমপক্ষে ৬ মাস প্রয়োজন হবে। বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঝড়ে নার্সারি বিনষ্ট হওয়াতে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। তারা জানান, ২০১১ সালে যেখানে সাড়ে ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, সেখানে এবার দুই/আড়াই লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হতে পারে। এ ব্যাপারে বাড়ি-ঘর ধসে পড়া চা শ্রমিক সুভাষ মুণ্ড, জহর লাল, অচিন্ত বাগচির সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, ঝড়ে বাড়িগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করতে হচ্ছে। তারা জানায়, বাগান কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পেলে আমাদের বসবাসের সুযোগ নেই।  রোববার সরজমিন ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানে গেলে দেখা যায়, চা বাগানের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকরা বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। অনেকে ধসে পড়া বাড়িঘর মেরামত করছে। আবার কিছু শ্রমিক চা বাগানে ভেঙে পড়া শেড ট্রি ও অন্যান্য গাছ কেটে পরিষ্কার করছে। এ ব্যাপারে ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানের ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলাম জানান, চা বাগানের ৩০ বছরের চাকরি জীবনে এতো বড় প্রলয়ঙ্করী ঝড় তিনি দেখেননি। আর এ ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এ দু’টি চা বাগান। এতে অনেক শ্রমিক বেকার হবে। চা উৎপাদন চরমভাবে হ্রাস পাবে। বাগানের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কমপক্ষে ৬ মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ইমাম ও বাওয়ানীতেই শুধু ৪ কোটি  টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বৃন্দাবন, মধুপুর চা বাগানেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

চারদিক-নাম তাঁর ‘কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী’ by কেয়া চৌধুরী

স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁরা শৌর্য-বীর্যে বীরত্বে দেশপ্রেমের অনন্য স্বাক্ষর বহন করে স্মরণে বরেণ্য হয়ে আছেন, স্বাধীনতার সূর্যসৈনিক, কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী তাঁদেরই একজন। একাত্তরের ২৫ মার্চ পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নিষ্ঠুরতম দিন। সেদিন বর্বর ইয়াহিয়া বাংলার নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছিল।

চিকিৎসা-রোগী মরিলেন, ডাক্তারও মরিয়া গেলেন by সুমন রহমান

ছোট্ট একটি খবর ছাপা হয়েছে প্রথম আলোর ১০ জানুয়ারি ২০১০ সংখ্যার শেষ পৃষ্ঠায়। কবিরাজের দেওয়া আমাশয়ের ওষুধ খাওয়ার পর পেটের ব্যথায় মৃত্যু হয় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার যুবক হাবিবুর রহমানের। পরে ওই যুবকের আত্মীয়স্বজন কবিরাজকে হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর জন্য দায়ী করতে চাইলে কবিরাজ ময়দান আলী

বরেন্দ্রভূমি-জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চল by মো. জামাত খান

আজ পৃথিবীর দিকে তাকালে দেখা যাবে, পৃথিবীজুড়েই বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও হারিকেনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ হারাচ্ছে তার ষড়্ঋতুর খেলা, একেবারেই হারিয়ে গেছে দুই ঋতু শরত্ ও হেমন্ত।

ইউরোপ-পুনর্বিজয় থেকে পুনর্দখল by তারিক আলি

আমাকে আপনারা পুরস্কৃত করেছেন বলে আমি সম্মানিত বোধ করছি। ১৪৯২ সালের এই দিনে (২ জানুয়ারি) স্পেনের শেষ মুসলিম শাসক ক্যাথলিক রাজা ফার্ডিনান্ড ও রানি ইসাবেলার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তবে আমি আরও বেশি আগ্রহী ইসলাম-বিষয়ে আমার পাঁচ পর্বের উপন্যাস ইসলাম কুইনটেট-এর প্রথম পর্বে বিবৃত ধারণাগুলোর বিষয়ে।

দুই দু’গুণে পাঁচ-জেনারেল উইন্টার! by আতাউর রহমান

স্বনামধন্য রুশ ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয়ের কালজয়ী উপন্যাস ওয়ার অ্যান্ড পিস যাঁরা পাঠ করেছেন, তাঁদের ব্যাপারটা বলা অনেকটা বিলেতের নিউক্যাসল শহরে কয়লা নিয়ে যাওয়ার সমান, কিন্তু যাঁরা ওটা পড়েননি, তাঁদের উদ্দেশে নিবেদন করছি: সময়টা ১৮১২ সাল, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন তাঁর বিরাট সেনাবাহিনী দিয়ে রাশিয়া আক্রমণ করে বসলেন।

সময়ের প্রতিবিম্ব-ভূমিদস্যুতা ও একজন ব্যতিক্রমী প্রতিমন্ত্রী by এবিএম মূসা

এসব কী শুনলাম গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের জবানিতে। আবাসন ব্যবসায়ের কতিপয় দুর্বৃত্ত ও সর্বজনবিদিত ভূমিদস্যুর সঙ্গে বৈঠকে এমন কঠোর ভাষায় বাতচিত করলেন কিসের ভরসায়? অগ্রপশ্চাত্ বিবেচনা না করে এমন সব চাঁচাছোলা কথা বললেন প্রভাবশালী কোটি-কোটিপতি অর্থবানদের, পত্রিকায় সেই বিবরণী পড়ে অবাক হয়ে গেলাম।

দস্যুদের পাকড়াও করতে হবে-গাছ উজাড়

গাছ কাটার বিরুদ্ধে আইন করা হবে বলে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা যে বনদস্যুদের চৈতন্যোদয় ঘটাতে পারেনি, চট্টগ্রামের চকরিয়া ও বগুড়ার ধুনটের ঘটনাই তার প্রমাণ। চকরিয়ার বিভিন্ন সড়কের পাশের গাছ নির্বিচারে কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।

চুক্তি-সমঝোতার সুফল জনগণ পেতে চায়-দিল্লি শীর্ষ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ৫০ দফার যে যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হলো, তা থেকে এটা পরিষ্কার যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের অধিকতর সহযোগিতামূলক ধারা সূচিত হতে যাচ্ছে, যা দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্র ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উভয় দেশের জনগণের জন্যই আশাব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে হাসিনা-মনমোহন শীর্ষ বৈঠক।

বিদেশে শীতলপাটির চাহিদা

রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকাভুক্ত করা হোক দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নিভৃত পল্লীর শ্রমজীবী, সৃজনশীল মানুষও যে ব্যাপক অবদান রাখতে পারেন, যদি সে রকম সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা যায়, এরই সাক্ষ্য মিলেছে গত ২৮ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এটি একটি সুসংবাদ। 'শীতলপাটির বিদেশযাত্রা'

ধান-চালের মূল্য নির্ধারণ-কৃষক বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ

অবশেষে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বোরো মৌসুমে ধান ওঠার পর সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৃষককে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করবে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমবে বলে ধারণা করা যেতে পারে।

জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত আদালত

হরতালের সময় দুই মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আগাম জামিনের আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করেছে হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও এ কে এম শহীদুল হকের বেঞ্চ। বিএনপি নেতাদের পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আজ সকালে হাইকোর্টে গিয়ে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও এ কে এম শহীদুল হকের বেঞ্চে আগাম জামিনের আবেদন শুনতে অনুরোধ করেন। বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া জানান, এ আবেদন দিনের কার্যতালিকায় না থাকায় শুনানি করা সম্ভব নয়। বিএনপি নেতাদের আইনজীবীদের আবেদনটি কার্যতালিকাভুক্ত করে রোববার আসতে বলেন।  এ সময়ে মওদুদ আহমদ বলেন, তাদের আবেদনটি অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় শুনানি হওয়া দরকার। পরে বিচারপতি এ কে এম শহীদুল হক আবেদনটি শুনতে বিব্রত বোধ করলে মওদুদসহ বিএনপি নেতাদের আইনজীবীরা আদালত থেকে চলে যান। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার।

৫০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা, রিজভী গ্রেপ্তার

গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের ৫০ নেতার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করা হয়েছে। রাতেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভি আহমেদকে নয়া পল্টন থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। দু’টি মামলার মধ্যে একটিতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় বিস্ফোরক আইনে ২৮ জন ও তেজগাঁও থানায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে ৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ব্যক্তিকে দু’টি মামলায় আসামি করার ঘটনাও ঘটেছে। রোববার মধ্যরাতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করে। দু’টি মামলাতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ফখরুল, সাদেক হোসেন খোকা ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এরই মধ্যে হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছেন। বুধবার এ ব্যাপারে শুনানি হতে পারে। বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানার বাসায়। আসামি যারা: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ১৮ দলীয়  জোটের শরিক এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি, এনপিপি সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নীলু, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আসম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রিজভী আহমেদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এমপি, শাম্মী আখতার এমপি, নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, রেহানা আক্তার এমপি, মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল সম্পাদক ইয়াছিন আলী, ছাত্রদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্রশিবির নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আবদুল জব্বার,  মহানগর উত্তর যুবদলের সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, মহানগর দক্ষিণ যুবদল সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদল সহ-দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলাল, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সম্পাদক হাবীবুর রশীদ হাবিব, ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল মতিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক নাছির, মহানগর উত্তর ছাত্রদল সম্পাদক কামাল আনোয়ার, সাবেক কমিশনার আবুল বাসার, ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আনোয়ার হোসেন, মহিলা দল নেত্রী রেহানা আক্তার ডলি, ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি এল রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান ও খিলগাঁও থানা বিএনপি সভাপতি ইউনুছ মৃধা। এজাহারে যা বলা হয়েছে: তেজগাঁও থানার মামলার এজাহারে তেজগাঁও থানার এসআই ইসমাইল মজুমদার উল্লেখ করেছেন, গত ২৯শে এপ্রিল রাত ৯টার দিকে ৬-৭টি মাইক্রোবাস যোগে উক্ত আসামিরা এসে মহাখালী রেল ক্রসিং থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় তারা ঢাকা মেট্রো-জ- ১১২১০৯ নম্বরের একটি বাস থামানোর চেষ্টা করে। বাসটি থামতে না চাইলে বাসে থাকা সোহেল মিয়া ও জসিম চালককে জিম্মি করে বাসটি ফ্যালকন টাওয়ারের সামনে থামাতে বাধ্য করে। এসময় ধৃত আসামি সোহেল মিয়া, জসিম, মানিক রতন, কামরুজ্জামান রতন ও পলাতক আসামি আমানউল্লাহ আমান, মির্জা আব্বাস, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মীর শরফত আলী সফু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আনিছুর রহমান খোকন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর, মজনু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ইয়াছিন আলী, সাইফুল ইসলাম নীরব, শফিউল আলম প্রধান, শেখ শওকত হোসেন নীলু, আবদুল মতিন, ওবায়দুল হক নাছির, হাবীবুর রশীদ হাবিব, কামাল আনোয়ার, আবুল বাসার, আনোয়ার হোসেন, এল রহমান, নবী সোলায়মান, ইউনুছ মৃধা, বুলবুল, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, আবদুল জব্বারসহ অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জন আসামি ওই গাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। মামলার বাদী এসআই ইসমাইল মজুমদার আরও উল্লেখ করেন, বাস ভাঙচুরের সময় আমি তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কিন্তু আসামিদের ত্রাসে ভীত-সন্ত্রস্ত যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পড়লে আসামিদের একজন ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষয়টি বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করি। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার আগেই গাড়িটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিনি আরও বলেন, আমি তখন ঘটনাস্থল থেকে সোহেল, জসিম, মানিক রতন ও কামরুজ্জামান রতনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। উক্ত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি, এ ঘটনা ঘটানোর জন্য প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে নির্দেশনা, পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমকে আনোয়ার, ব্রি. হান্নান শাহ, সাদেক হোসেন খোকা, রুহুল কবির রিজভী, কর্নেল অলি আহম্মেদ, ডা. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ। এ আসামিরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বেআইনি বল প্রয়োগে ঢাকা মেট্রো-জ -১১-২১০৯ যানবাহনে ক্ষতি করে ধারা ৪ ও ৫ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন-২০০ সংশোধনী ২০১০-এ অপরাধ করেছে। বিস্ফোরক মামলার এজাহারে যা আছে: শাহবাগ থানার এ মামলা নম্বর-৪৪। মামলার বাদী এসআই হীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ২৯শে এপ্রিল বিকাল ৪টার দিকে বেতার যন্ত্রে খবর পাই সচিবালয়ের ২নং গেটের প্রায় ১০০ গজ পূর্বদিকে সীমানা সংলগ্ন রাস্তার ফুটপাতে এবং সীমানা প্রাচীরের ভেতরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে গাড়ি রাখা গ্যারেজের পশ্চিম পাশে দু’টি ককটেল কে বা কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ককটেলের ধ্বংসাবশেষের আলামত হিসেবে সংগ্রহ করি। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, ৩টা ৫৩ মিনিটে সচিবালয়ের পশ্চিম দিক থেকে একটি কালো রঙের মোটরসাইকেলযোগে দু’জন অজ্ঞাতনামা যুবক এসে ২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে দ্রুত পূর্বদিকে পালিয়ে যায়। ওইদিন বিএনপি ও সমমনা ১৮ দলের হরতাল চলাকালীন জনমনে আতঙ্ক ও জানমালের ক্ষতি সাধনের জন্য আসামি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৮ জন নেতা ও অজ্ঞাতনামা নেতৃবৃন্দ ষড়যন্ত্র করেছে। রতন রিমান্ডে, ডলি কারাগারে: এদিকে  হরতাল চলাকালে রোববার বিকালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির নেতা কামরুজ্জামান রতনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামি  রেহানা আক্তার ডলিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইন্সপেক্টর বিপ্লব কুমার শীল  মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রতনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন  চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, লিবারেল  ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি (এলডিপি) অলি আহমদসহ ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। শাহবাগ থানার এসআই হীরেন্দ্রনাথ প্রামাণিক রোববার রাতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এদিকে বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতনকে রোববার রাত পৌনে একটার দিকে মৌচাক এলাকার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেশটিভির কার্যালয়ের নিচ থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও তেজগাঁও থানা পুলিশ এজাহারে উল্লেখ করেছে, রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে ফ্যালকন টাওয়ারের সামনে থেকে। রোববার রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এসআই তাজুল ইসলাম। তবে শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, রতনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেছে। এতে মামলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাইকোর্টে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ: বিকাল ৪টার দিকে খবর আসে আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন বিএনপি সমর্থক সিনিয়র আইনজীবীরা। সমিতির সভাপতি ছাড়াও সেখানে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সানাউল্লাহ মিঞা প্রমুখ। এরই মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের জামিন চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়। তবে হরতালের কারণে গতকাল হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম চলেনি। আজও মে দিবসের ছুটির কারণে উচ্চ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গতকাল সন্ধ্যায় অথবা আজ বিশেষ কোন বেঞ্চে তিন বিএনপি নেতার জামিন আবেদনের শুনানি করার অনুরোধ নিয়ে বিএনপি সমর্থক সিনিয়র আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। তবে প্রধান বিচারপতি বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের আবেদনে কোন ধরনের সাড়া দেননি। তিনি তাদেরকে নিয়মিত বেঞ্চে জামিন আবেদন উত্থাপনের পরামর্শ দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিন বিএনপি নেতার জামিনের আবেদন বিশেষ বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করতে আমরা প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেছিলাম। অতীতে এ ধরনের অনেক নজির আছে। তবে প্রধান বিচারপতি আমাদের আবেদনে সাড়া দেননি। তিনি নরমাল বেঞ্চে শুনানি করতে বলেছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান বিচারপতি আমাদের কথায় সম্মত হননি। আমাদের আশা পূরণ হয়নি। অথচ অতীতে গভীর রাতে আদালত বসে জামিন দেয়ারও নজির রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার আমাদের ভয় পেয়েছে। আমরা আদালত ও রাজপথে থাকবো। আমাদের আন্দোলন চলবে। বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচি কাল: গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হয়েছে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের হরতাল। টানা দুই দিনের হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামীকাল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। বুধবার বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ইলিয়াসের সন্ধান দাবির পাশাপাশি হরতালে বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। হরতালের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে বিকালে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিং দেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। এদিকে প্রথম দিনের হরতালে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ মামলায় আত্মগোপনে গেছেন জোটের সিনিয়র নেতারা। হরতালের শুরুতেই সকালে নয়াপল্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হককে। সন্ধ্যায় কাকরাইল মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে। আগের রাতেই মৌচাক থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতনকে। এছাড়া ভোর থেকে দিনভর দফায় দফায় তল্লাশি চালানো হয় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস ও মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানার বাসায়। ফলে হরতালের দ্বিতীয় দিন ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ। প্রথম দিনের হরতালের রাজধানীতে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও কাল ছিল অনেকটাই ব্যতিক্রম। তবে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল ও কয়েক জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে ককটেল বিস্ফোরণ এবং ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় দিনের হরতালেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধেছে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের। দ্বিতীয় দিনের হরতালে সারা দেশে ২০০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি। এদিকে হরতালে রাজধানীর রাজপথ ছিল পুরোপুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দখলে। সেই সঙ্গে নগরীর অলি-গলিতে র‌্যাব-পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারপরও মূল সড়কগুলোতে টহল দিতে থাকে রায়ট কার। মোতায়েন করা হয় জলকামান। নগরীর গলির মোড়ে মোড়ে ছিল পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ, আনসার ও র‌্যাবের সতর্ক পাহারা। টহল দিতে থাকে ১০ ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মহড়া। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি দেখা যায় সরকারি দলের কর্মীদেরও। হরতালের কারণে দূরপাল্লার যান চলাচল না হলেও রাজধানীতে দুপুরের পর কিছু যানবাহন চলাচল করেছে। আন্দোলন স্তব্ধ করতেই মামলা -রিজভী: এদিকে বিকালে নয়াপল্টনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, ইলিয়াস আলীকে ফেরত দেয়ার চলমান আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে ১৮ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নতুন অপকৌশল নিয়েছে সরকার। মামলার পেছনে সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে। রোববার সচিবালয়ের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা দু’টি সরকারের লোকজনই করেছে। রিজভী বলেন, ইলিয়াস ইস্যুকে অন্যদিকে প্রভাবিত করতেই সরকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা ইলিয়াস আলীর ব্যাপারে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছেন এবং ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, হরতালের দুই মামলায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা আলমগীরসহ বিএনপি ও জোটের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন সারির অর্ধশতাধিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা ছিল মির্জা আলমগীরের। কিন্তু তার জামিন আবেদন শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি নিরাপদ অবস্থানে চলে যান। পরে রিজভী আহমেদই সংবাদ সম্মেলনটি করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি এবং বেলাল আহমেদসহ কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দিনভর চাপা উত্তেজনা নয়াপল্টনে: ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের নামে পরপর দু’টি মামলার প্রভাব পড়ে নয়াপল্টনে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরের চিত্র ছিল অন্যদিনের হরতালের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। হরতালের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর নয়াপল্টনে সারাদিনই ছিল চাপা উত্তেজনা। কেন্দ্রীয় কার্যালয়মুখী হতে পারেনি। দলীয় কার্যালয়ে যাননি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা। কর্মী উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যে দিনভরই ছিল গ্রেপ্তার আতঙ্ক। সবার ভেতরেই যেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। ফখরুলসহ সদ্য দায়ের দুই মামলার আসামি হওয়া নেতাদের নিয়েই আলোচনা করছেন সবাই। তবে কার্যালয়ের সামনে সারাদিন যথারীতি সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ ও র‌্যাব। এদিকে হরতালের শুরুতেই নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হকসহ তিনজনকে। এর আগে ভোর সাড়ে ৫টায় দলীয় কর্মী আবদুল আজিজকে আটক করা হয়। এ অবস্থায় সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিং করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলাগুলো প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেন। তিনি বলেন, ফখরুলের বক্তব্য সরকারের সুখ-স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটায় এবং ফখরুল চোখে আঙুল দিয়ে সরকারের বিভিন্ন অন্যায় ধরিয়ে দিচ্ছেন বলেই তার বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ফখরুলের বাড়ির আশপাশে পুলিশের অবস্থান এবং তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশির নিন্দা জানান তিনি। রিজভী আহমেদ বলেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। সরকারের দৃষ্টি এখন উপরের দিকে। কিন্তু সরকারের এ সুখ-স্বপ্ন আমরা মিথ্যা করে দেবো। কামরুজ্জামান রতনকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক ও নগর নেতা আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে নেতাদের বাসায় বাসায়।

পবিত্র কোরআনের আলো-পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত মূলত অনিশ্চয়তা ও হতাশার

২৩. ফালাম্মা-আনজা-হুম ইযা-হুম ইয়াব্গূনা ফিল আরদ্বি বিগাইরিল হাক্কি; ইয়া-আইয়্যুহান্না-ছু ইন্নামা- বাগইউকুম আ'লা-আনফুছিকুম্ মাতা-আ'ল হাইয়া-তিদ্ দুনইয়া-ছুম্মা ইলাইনা-মারজিউ'কুম ফানুনাবি্বউকুম বিমা-কুনতুম তা'মালূন।

আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে by হুমায়ুন কবির

বাংলাদেশে বিশ্বের তিনজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তির একই সময় আসাটা কাকতালীয় বলা যায়। তবে এটা তো বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ অবশ্যই। বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় বড় নেতাদের নিজের কাছে পাচ্ছে- এটা উল্লেখযোগ্য তো বটেই, তবে তাঁদের কাছ থেকে আমরা কতটা আদায় করতে পারছি এটা নির্ভর করবে আমাদের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের ওপর।

চ্যানেল জুড়ে অনুষ্ঠান নকল প্রবণতা

তাবৎ দুনিয়ার টেলিভিশন মাধ্যম যেখানে এগিয়ে চলছে দারুণ গতিতে, সেখানে আমাদের দেশের টেলিভিশন ধীরগতিতেই চলমান। দিন দিন টেলিভিশন চ্যানেল বৃদ্ধি, সে অনুযায়ী অনুষ্ঠান, নাটক ও সংবাদে নতুনত্ব আর বৈচিত্র্যের অভাব এবং আরও নানাবিধ কারণে বাংলাদেশের টেলিভিশন এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। এ চ্যালেঞ্জের আদ্যোপান্ত নিয়েই ধারাবাহিক এই প্রতিবেদন। লিখেছেন মাহমুদ মানজুর ‘কাশেম টিভি’র কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। দেশীয় টিভি চ্যানেলের দর্শক পাল্লা দিয়ে কমলেও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে হানিফ সংকেতের অনবদ্য সৃষ্টি স্যাটায়ার ঘরানার সেই ‘কাশেম টিভি’র জনপ্রিয়তা কিন্তু দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। যে কাশেম টিভি’র নানা ব্যঙ্গাত্মক প্রতীকী নাটিকার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়ে আসছে টিভি দর্শকদের মনের কথা এবং দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর অপরিপক্বতার ধারাবাহিক ঘটনা। নাম এবং লোগো ভিন্ন হলেও দেশীয় সিংগভাগ টিভি চ্যানেলের চেহারায় এখন ভর করে আছে সেই প্রতীকী ‘কাশেম টিভি’র হুবহু প্রতিচ্ছবি। আপামর দর্শকদের জন্য কি কি থাকছে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানমালায়? মোটা দাগে হিসাব কষলে সংবাদ, নাটক, গান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, পলিটিক্যাল টকশো, লাইভ শো, ফোনোলাইভ কনসার্ট, মেলা, রিয়েলিটি শো, সিনেমা প্রভৃতি। যেমনটা পৃথিবীর অন্য কোন জনপ্রিয় চ্যানেলে একসঙ্গে পাওয়া যায় বলে মনে হয় না। বিশ্লেষকদের মতে, চ্যানেলগুলোর এই জগাখিচুড়ি নীতিই আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ। শুধু জগাখিচুড়ি নীতিই নয়, এর সঙ্গে রয়েছে একটি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠান কোনমতে দর্শকরা গ্রহণ করলেই হলো, এরপর সর্বোচ্চ দু’মাসের মাথায় একই অনুষ্ঠান দেশের প্রায় প্রতিটি চ্যানেলে একই সময়ে সমপ্রচার হতে দেখা যাবে! অর্থাৎ চ্যানেলগুলোতে বেশ ক’বছর ধরেই চলছে মেধাহীন কিংবা অনভিজ্ঞ প্রযোজকদের আস্ফালন। যার ফলে অনুষ্ঠান প্রযোজকদের বড় একটি অংশ নিজেদের মেধা বিকিয়ে অনুষ্ঠান পরিকল্পনার বাইরে অন্যেরটা নকল করতেই বেশি অভ্যস্ত। কিংবা এটাই এখন কালচারে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে বৈচিত্র্যহীনতা। এ প্রসঙ্গে বিটিভি’র মহাপরিচালক ম. হামিদ বলেন, কি বলবো আর। স্যাটেলাইট চ্যানেলের পাশাপাশি এমনটা ঘটছে বিটিভি এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডের ক্ষেত্রেও। আসলে আমাদের এখানে মেধাবীদের সমাবেশ ঘটানো বেশ কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সর্বত্র এখন নকলের ছড়াছড়ি। যার কারণে বিটিভিসহ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে ক্রমশ। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ থেকে উত্তরণের পথ যে নেই তা কিন্তু নয়। আমার মনে হয়, টিআরপি নামক আজব বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যদি টিভি কর্র্তৃপক্ষ সরাসরি দর্শকদের কাছে যেতে পারেন, তবেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা কিংবা নকল প্রবণতা থেকে আমরা বেরুতে পারবো। এদিকে চ্যানেলজুড়ে নকল প্রবণতার স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে চলে আসে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের নাম। এর মধ্যে চ্যানেল আই বেশ ক’বছর আগে শুরু করেছিল সংবাদপত্র পর্যালোচনাভিত্তিক মধ্যরাতের টক টকশো ‘গ্রামীণফোন আজকের সংবাদপত্র’। এ অনুষ্ঠানটি জনপ্রিয় হতে না হতেই বিটিভিসহ দেশের প্রত্যেকটি চ্যানেলে একই সময়ে একই আঙ্গিকে সমপ্রচার শুরু করে এ ধারার অনুষ্ঠান। একইভাবে বিটিভি’র ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’, এনটিভি-ইউনিলিভারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ রিয়েলিটি শো কিংবা একুশে টিভির মধ্যরাতের ‘ফোনোলাইভ কনসার্ট’, প্রথমে বিটিভি পরে চ্যানেল আইতে কৃষক ও কৃষিভিত্তিক অনন্য আয়োজন ‘মাটি ও মানুষ’-এর ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। অনুষ্ঠানই শুধু নকল হচ্ছে না, নকল হচ্ছে অনুষ্ঠান সমপ্রচারের সময়ও! যেমন একই সময়ে দেশের প্রায় সবক’টি চ্যানেল সমপ্রচার করছে প্রায় একই ধারার অনুষ্ঠান, সিনেমা, টকশো কিংবা খবর। এদিকে বিদেশী চ্যানেলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান কিংবা নাটক নকলের বিষয়টি তো অনেক আগেই অলিখিত বৈধতা পেয়ে গেছে দেশীয় চ্যানেলগুলোতে। এ প্রসঙ্গে নন্দিত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত বলেন, চ্যানেলগুলোর এই নকল প্রবণতা কিংবা মেধাহীনতা নিয়ে গেল দশ বছর ধরে আমি কম স্যাটায়ার করিনি। স্যাটায়ার করতে করতে এখন আমার কাল্পনিক ‘কাশেম টিভি’ পুরো পুরি স্ট্যাবলিস্ট হয়ে গেছে। তবুও টনক নড়েনি চ্যানেলওয়ালাদের। সবাই যেন কেন এক হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার সুরে আপন মনে ছুটে চলেছেন দল বেঁধে। আমরা যখন উপস্থাপনা শুরু করি তার আগে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অডিশন দিয়ে পাশ করে উপস্থাপক হয়েছি। ২৪টি বছর ধরে নিজের সঙ্গে নিজেই প্রতিযোগিতা করে চলছি নিত্যদিন। আমাকে অথবা ইত্যাদিকে নকল করে অনেকেই এসেছেন, চলেও গেছেন। এখানেই হচ্ছে মৌলিক ক্রিয়েশন আর নকল ক্রিয়েশনের মধ্যে বড় পার্থক্য। আর এখন শিল্পী থেকে শুরু করে কৌতুক অভিনেতারাও উপস্থাপক হয়ে যায় রাতারাতি! এখন টিভি অনুষ্ঠানে হরহামেশা গামছা মাথায় দিয়ে লুঙ্গি পরেও অতিথি কিংবা উপস্থাপকের আসনে বসে পড়েন অনেকে। এতগুলো চ্যানেলের কোথাও কোন অনুষ্ঠানে কোন রকম ক্রিয়েশনের বালাই নেই। এই চিন্তাটা আমাকে প্রতিনিয়ত পোড়ায়। আরও খারাপ লাগে একটা মানুষ আরেকটা মানুষের ক্রিয়েশন হুবহু নকল করে নিজের নতুন ক্রিয়েশন বলে অবলীলায় চালিয়ে দেয়। নকল করলেও সেটা যদি বলে কয়ে করা হয়, তাতেতো কোন সমস্যা নেই। হানিফ সংকেত প্রসঙ্গক্রমে আরও বলেন, এর জন্য আমি পুরোপুরি দায় দিবো টিভি চ্যানেলগুলোর শীর্ষ কর্তাদের। তাদের অজ্ঞানতা এবং অদূরদর্শিতার কারণেই এমনটা হচ্ছে। হতে হতে এখন দেশের টিভি মাধ্যমটা একেবারে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে খাদে পড়ার আগেই ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এদিকে দেশীয় টিভি চ্যানেলের সবচেয়ে তরুণ এবং সফল অনুষ্ঠান প্রধান (বাংলাভিশন) শামীম শাহেদ একই প্রসঙ্গে খানিক আফসোসের সুরেই বলেন, আমাদের এ অঙ্গনে প্রচণ্ড মেধা সঙ্কট রয়েছে। এটুকু না বললেই নয়। তবে এটা ঠিক, এ সঙ্কট থাকবে না। তরুণরাই এ মেধা সঙ্কটের পথ থেকে বের করে আনবে। এটা আমার বিশ্বাস। তবে মজার বিষয় হলো, প্রতি বছর যে হারে চ্যানেলের জন্ম হচ্ছে, তাতে আমরা টেলিভিশন কর্মীরা তেমন কিছু শেখার আগে, বোঝার আগেই তর তর করে পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছি। এক চ্যানেলে তিন মাস সহকারী প্রযোজক হিসেবে কাজ করে অন্য চ্যানেলে লাফ দিচ্ছি সিনিয়র প্রযোজক হিসেবে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন কিংবা পুরাতন কিছু মেধাহীন লোক। চ্যানেল সংখ্যা এভাবে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকলে চলমান নকল প্রবণতা কিংবা মেধা সঙ্কট থেকে উত্তরণ একটু কঠিন হবে, হয়তো।

আর্সেনাল একাডেমিতে রুনা লায়লার নাতি

মাহমুদ মানজুর: বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। যিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন লন্ডনে। তানি লায়লার দুই সন্তান। এরা হলেন জেইন ইসলাম (৮) ও অ্যারন ইসলাম (৫)। গতকাল সকালে এ দুই নাতির সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়লেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ কণ্ঠশিল্পী। ঢাকা ছাড়ার আগে রুনা লায়লা মানবজমিনকে বলেন, আমার এবারের লন্ডন সফর অন্যবারের চেয়ে বেশ ব্যতিক্রম। কারণ, এবার আমার বড় নাতি জেইন যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব আর্সেনাল একাডেমিতে পাঁচ সপ্তাহ মেয়াদি একটি ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। গত ২৬শে এপ্রিল ক্লাবটি পাঁচ সপ্তাহ মেয়াদি ফুটবল প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে। নাতির এমন সাফল্যে বেজায় খুশি রুনা লায়লা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, নাতির এ ধরনের সাফল্যে আমি গর্বিত, আমি অনেক আনন্দিত হয়েছি। কয়েকশ’ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নিজের নৈপুণ্য দেখিয়ে ২০-২৫ জনের মধ্যে জায়গা করে নেয়াটা কিন্তু সহজ কথা নয়। নাতির এ ধরনের সাফল্য অনেক বড় একটা সম্মান বলেও মনে করছি। রুনা লায়লা এও বলেন, যতদূর শুনেছি এ কোর্সে যদি সে ভাল ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখাতে পারে, তাহলে তাকে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচন করা হবে। জানা গেছে, আর্সেনালে সাধারণত ১৪ বছর বয়স থেকে পেশাদার ফুটবল খেলতে দেয়া হয় খেলোয়াড়দের। এদিকে দুবাইয়ে ধারণ করা ভারত-পাকিস্তানকেন্দ্রিক সংগীত প্রতিভা সন্ধানের রিয়েলিটি শো ‘কুরুক্ষেত্র’ সম্পর্কে রুনা লায়লা বলেন, আইপিএল আসর শেষ হলেই এর প্রচার কাজ শুরু হবে। কন্যা আর নাতির সঙ্গে মধুর সময় পার করে রুনা লায়লা চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে সংগীতের এই জীবন্ত কিংবদন্তি গানের পাশাপাশি নতুন করে নিজেকে এরই মধ্যে তুলে ধরেছেন ফ্যাশন শিল্পেও। এ উদাহরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। নাম লেখালেন ফ্যাশন ডিজাইনারের খাতায়। ২০০৯ সালের পহেলা আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সিগনেচার বাই রুনা লায়লা’ নামে এই অধ্যায়ের যাত্রা শুরু। বিশ্ব বাজারের অভিজ্ঞতা নিয়ে সর্বদা ফ্যাশন সচেতন রুনা লায়লা তার নিজের পছন্দের কাপড়-নকশা নিয়ে অভিষেক আসর থেকে গেল প্রায় দু’বছর দারুণ সাড়া পেয়েছেন। কথা ছিল এ শাড়ির পাশাপাশি আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে রুনা লায়লা নিজস্ব পছন্দ এবং ডিজাইনের অর্নামেন্টস/জুয়েলারিও তুলবেন ‘সিগনেচার বাই রুনা লায়লা’তে। পর্যায়ক্রমে আরও স্থান দিবেন পুরুষ এবং বাচ্চাদের পোশাকেও। আফসোস! অতি সমপ্রতি প্রশংসিত এই কার্যক্রমটি বন্ধ হয়ে গেছে। রুনা লায়লা জানান, এটা একটু কষ্টের। আসলে কারোরই করার কিছু ছিল না। অনিবার্য কারণবশত গুলশানের ইটিসি শোরুমটা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমার অংশটাও বন্ধ। এ কারণে আমার কার্যক্রমটা ছিল ইটিসিকেন্দ্রিক। রুনা লায়লা আরও জানান, তবে আমার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকলেও আশা করছি শিগগিরই আবার শুরু করবো। এবার এককভাবেই শোরুম নেয়ার কথা ভাবছি। ব্যস্ততার কারণে কত তাড়াতাড়ি সেটা সম্ভব হবে জানি না। তবে এই কার্যক্রম আমি যেভাবেই হোক অব্যাহত রাখবো। রুনা লায়লা জানান, চলতি মাসের শেষের দিকে লন্ডন থেকে ফিরে এসেই আমি ফ্যাশন হাউজ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিবো। কারণ আমার গান এবং ডিজাইনের অনেক ভক্ত ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে চাপ দিচ্ছেন। বলছেন দুই ঈদকে সামনে রেখে ‘সিগনেচার বাই রুনা লায়লা’ বন্ধ রাখার কোন অধিকার নাকি আমার নেই! শ্রোতা এবং ক্রেতাদের ভালবাসায় আমি আবার শুরু করবো।

আলোচনায় রাজনৈতিক বিষয়ই প্রাধান্য পাবে by অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি এবং জাপানের উপপ্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসছেন। আমাদের দেশের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনজনকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে আসবেন- এটা পূর্বনির্ধারিত ছিল।

সিটি তারকাদের ফ্যাশন শো

স্পোর্টস ডেস্ক: কেবল নগর-প্রতিদ্বন্দ্বীকেই হারানো নয়, সঙ্গে ঐতিহাসিক শিরোপার হাতছানি- ম্যানচেস্টার সিটি পরিবারের উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। আর তাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারানোর আনন্দটা উদযাপনে ম্যানসিটির খেলোয়াড়রা পরদিনই হাজির হন এক ফ্যাশন শোতে। না, নিছক আনন্দে নয় এর পেছনে এক দাতব্য উদ্দেশ্যও ছিল। মঙ্গলবার রাতে ম্যানসিটির সব খেলোয়াড় স্ত্রী বা বান্ধবীকে নিয়ে নেমে পড়েন ক্যাটওয়াকে। ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এ ফ্যাশন শোর আয়োজক চেলসির সাবেক গোলরক্ষক শেই গিভেন ও তার স্ত্রী জেইন। এতে মডেল বেশে অংশ নেন সোমবারের ম্যাচজয়ী গোলদাতা ও দলের অধিনায়ক ভিনসেন্ট কোম্পানি, কোলো তোরে, গারেথ ব্যারিসহ আরও অনেকে। তবে গোলরক্ষক জো হার্ট পায়ে আঘাতের কারণে ক্যাটওয়াকে অংশ নিতে পারেননি। এদের মধ্যে বেশি নজর কাড়েন ইংলিশ দলের উইঙ্গার অ্যাডাম জনসন পুরুষদের স্কার্ট গায়ে চড়িয়ে। এ অনুষ্ঠান থেকে উত্তোলিত হাজার হাজার পাউন্ড দুটি ক্যান্সার হাসপাতাল ও একটি স্কুল প্রকল্পে দান করা হয়। এ পর্যন্ত গিভেন দম্পতি ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ বিভিন্ন দাতব্যমূলক কাজে দান করেছেন।

ভাটদের ছবিতে ব্যাপক খোলামেলা বিপাশা

ভাটদের হাত ধরেই ‘রাজ’ ছবির মধ্যে দিয়ে বলিউডে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সেক্সসিম্বল অভিনেত্রী বিপাশা বসু। প্রথম ছবির মাধ্যমেই ব্যাপক খোলামেলা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। এরপর ভাটদের আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু অন্য প্রোডাকশনের ছবিতে বেশি মনোযোগী হওয়ায় এক সময় ভাটদের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল হয়ে যায় বিপাশার। এরপর ভাটদের কোন ছবিতে বিপাশাকে দেখা যায়নি। তবে এবার ভাটদের নতুন একটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন বিপাশা। শুধু তাই নয়, এ ছবিতে সিরিয়াল কিসারখ্যাত ইমরান হাশামির বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। জানা গেছে ছবির অন্য একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘জান্নাত-২’ এর অভিনেত্রী ইশা গুপ্তা। এদিকে খুব শিগগিরই ছবির শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে। ছবিতে একাধিক গানে বিপাশা ব্যাপক খোলামেলা হয়ে দর্শকদের সামনে আসবেন। তবে আকর্ষণ বাড়াতে অন্যরকম একটি দৃশ্যও চিত্রায়ণের পরিকল্পনাও বিত্রম ভাট করেছে তার এ ছবিতে। আর তা হলো ইমরান হাশমি, বিপাশা বসু ও ইশা গুপ্তা একসঙ্গে একটি বিছানার দৃশ্যে অভিনয় করবেন। আর এ দৃশ্য ব্যবহার হতে পারে কোন গানেও। এদিকে ছবিটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী বিপাশা বসু। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভাটদের সঙ্গে ছবি করতে যাচ্ছি। তাদের ছবি মানেই অন্যরকম কিছু চমক। এ ছবিতেও অনেক চমক থাকছে। বিশেষ করে ইমরান, ইশা ও আমার যে বিছানার দৃশ্য চিত্রায়ণ করা হবে সেটি নিয়ে আমি অনেক এক্সাইটেড। এ ধরনের দৃশ্যে এর আগে কখনও আমি কাজ করিনি। আর ছবিতে দর্শকরা বরাবরের মতোই হট বিপাশা বসুকেই পাবেন।

চরাচর-আজ মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস by বিশ্বজিৎ পাল বাবু

মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতাও রয়েছে প্রত্যেকের। একইভাবে ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই মতামত পোষণ ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে।

নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনাকারী মার্কিন নাগরিক অভিযুক্ত

পাকিস্তানে আল-কায়েদার ক্যাম্পে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক মার্কিন নাগরিক আদিস মেদুনজানিনকে (২৮) নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে আজ দোষী সাব্যস্ত করেছে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। এ খবর দিয়ে অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কুইন্স এলাকার বাসিন্দা আদিসের বিচার শুরু হয়েছিল ৪ সপ্তাহ আগে। ব্রুকলিনের ফেডারেল ডিসট্রিক্ট আদালতে একটি জুরি বোর্ড গঠনের পর তার সে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদিসের বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রসী হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দুই বন্ধুর সহায়তায় নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ সাবওয়েগুলোতে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করেছিল সে। পরিকল্পনা সফল হলে, এটি হতো ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের পর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারপতি জন গ্লিসন অভিযু্‌ক্ত সন্ত্রাসীর সাজার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে আদিসকে। এটি অনেকটাই নিশ্চিত।

সরকারি কলেজে ৪০০০ শিক্ষকের পদ শূন্য

সোলায়মান তুষার: সরকারি কলেজে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। জেলা পর্যায়ের প্রায় ১০০ সরকারি কলেজে শিক্ষক-স্বল্পতা চলছে। এ কারণে সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব কলেজের প্রায় ১৫০টি বিভাগ একেবারেই শিক্ষকশূন্য। অবস্থা এত ভয়াবহ যে, উপজেলা পর্যায়ে কোন কোন কলেজে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ চলছে। একমাত্র শিক্ষক পালা করে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স ক্লাসের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। সরকারি কলেজে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররাই শুধু নন, সরকারি কলেজের শিক্ষকরাও চাকরির জন্য ঢাকা ছাড়তে নারাজ। বছরের পর ঢাকায় সরকারি কলেজে চাকরি করছেন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক। এর বাইরেও অনেক শিক্ষক রয়েছেন যারা শিক্ষকতার চেয়ে শিক্ষা প্রশাসনে সম্পৃক্ত হওয়ার পর আর শিক্ষকতায় ফিরে যেতে চাইছেন না। এরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমী (নায়েম), পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ), শিক্ষা বোর্ডগুলোয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রেষণে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংযুক্তি হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়াও রয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে শিক্ষকরা। মাউশি সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় অবস্থানরতদের কারও স্বামী ঢাকায় অন্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি করেন। কারও স্ত্রী ঢাকায় চাকরিরত অন্য কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একসঙ্গে থাকার জন্য এসব শিক্ষক-শিক্ষিকা মন্ত্রণালয়ে ও মাউশি’তে বছরের পর বছর ওএসডি হয়ে ঢাকায় পড়ে আছেন। কলেজে কোন ক্লাস নেন না। প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। যারা ঢাকার বাইরে বদলি হতে অনিচ্ছুক রাজধানীর ১০টি সরকারি কলেজে একই পদে শিক্ষকতা করছেন বছরের পর বছর। ঢাকার বাইরে বদলির আদেশ দেয়া হলেও এ সব শিক্ষক নানা কৌশলে রাজধানীতেই থাকছেন। তারা সব সরকারের আমলেই তদবিরের জোরে এবং অন্যান্য সুযোগ নিয়ে ঢাকায় রয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে- অনেক সময় শিক্ষকরা ঢাকায় আসার জন্য রাজধানীর সরকারি কলেজ, এনসিটিবি, সাধারণ, মাদ্‌রাাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদপ্তর ও দপ্তরকে টার্গেট করে মন্ত্রণালয়ে ও মাউশিতে তদবির করেন। এজন্য অনেক সময় শিক্ষকরা তাদের বিদ্যমান পদের চেয়ে নিম্নপদে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর যেখানে সুযোগ পান বা পদ খালি পান সেখানে যোগ দেন। সহযোগী অধ্যাপক এনসিটিবি’তে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে ডেপুটেশনে আছেন প্রায় ১০ জনের বেশি। যদিও একজন সহযোগী অধ্যাপক গবেষণা কর্মকর্তার অনেক উপরের পদ। মাউশি’র একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকরা সাধারণত গ্রামে থাকতে চান না। রাজধানী, বিভাগ এবং জেলা শহরের নামী সরকারি কলেজে আসার জন্য ওএসডি/ডেপুটেশন ছাড়াও বদলির তদবিরে ব্যস্ত থাকেন তারা। এর মধ্যে ঢাকায় থাকার প্রবণতা বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি। জীবন যাপনের সুবিধা এবং প্রাইভেট কোচিংয়ের কারণে অনেক শিক্ষক গ্রামের কলেজে যেতে চান না। তীব্র শিক্ষক সঙ্কটের কারণে শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে সরকারি কলেজগুলো ছিটকে পড়ছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও মাউশি’র পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়ার কথা বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে শোনা গেলেও তার বাস্তবায়ন নেই। রাজনৈতিক চাপ ও তদবিরের কারণে তা ভাটা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান-উর-রশিদ বলেন, দেশের সরকারি কলেজগুলোতে প্রায় চার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর শিক্ষকরা ঢাকায় বিভিন্ন উপায়ে থাকছেন।
তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, তীব্র শিক্ষক সঙ্কটে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন প্রভাববলয়ে বাংলাদেশ! by তারেক শামসুর রেহমান

আগামী ৫ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে যে প্রশ্নটি এখন বেশি করে আলোচিত হচ্ছে তা হচ্ছে, বাংলাদেশ কি একটি মার্কিন প্রভাবাধীন রাজনৈতিক ও সামরিক জোটে নিজেকে জড়িত করতে যাচ্ছে? এ ধরনের একটি ধারণা আরো বদ্ধমূল হয়েছে গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি শীর্ষ সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায়।

কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পরাজয় হলো

যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অথরিটিতে নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের কাছে আমাদের প্রগতিশীল দলের হলুদ প্যানেলের প্রার্থীদের বিরাট ব্যবধানে পরাজয় ঘটেছে। এ পরাজয় উপাচার্যের প্রত্যক্ষ ষড়যন্ত্রের ফল, যদিও উপাচার্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের।