Saturday, July 8, 2017

এদেশে রাজনীতি করাটা চোরদের জন্যই সহজ by মোহাম্মদ এ আরাফাত

মোহাম্মদ এ আরাফাত
এদেশে রাজনীতি করাটা চোরদের জন্যই সহজ। সৎ মানুষদের পক্ষে রাজনীতি দিনে দিনে আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ এদেশের অধিকাংশ মানুষই দুর্নীতিবাজ আর সৎ মানুষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এই পার্থক্য করাটা খুবই জরুরি। নইলে সৎ মানুষরা রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে দূরে চলে যাবে। আর দুর্নীতিবাজ অসৎ মানুষ এসে সেই জায়গা দখল করবে। যারা সৎ তাদেরও যদি আমরা দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিই, সবাইকে একই দলে ফেলে দিই তাহলে এরপরেও তারা কেন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবে? আমরা যদি দেশে-বিদেশে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারতাম আর অন্যদিকে সৎ মানুষদেরকে স্বীকৃতি দিতে পারতাম (সবার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ না করে), তাহলে অসৎ ও দুর্নীতিবাজরা রাজনীতিতে টিকতে পারতো না। চোরের মায়ের বড় গলা এখনও দেখতে হতো না। কিন্তু আমরা প্রমাণিত অসৎ রাজনীতিকদের সঙ্গে সৎ রাজনীতিকদেরও গুলিয়ে ফেলে পক্ষান্তরে অসৎ রাজনীতিকেই সমর্থন করছি। দুঃখজনক!

বিক্ষোভে অচল কাশ্মির, কারফিউ; কঠোর নিরাপত্তা

স্বাধীনতাকামী জনপ্রিয় নেতা বুরহান ওয়ানির প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের পরিবেশ। সেখানে জনতার বিক্ষোভ-প্রতিবাদ ঠেকাতে কঠোর সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আজ (শনিবার) কারফিউ জারি করা হয়েছে; পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে নয়াদিল্লি সরকার।
নিরাপত্তা রক্ষার নামে ভারত সরকার কাশ্মিরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া, বুরহান ওয়ানির নিজ জেলা ত্রালে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গত বছরের ৮ জুলাই মাসে বুরহান ওয়ানিকে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করে ভারতীয় সেনারা।  ওই হত্যকাণ্ডের পর কাশ্মিরের জনগণ প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন নিহত ও ১২ হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি এর আগে আর এমন কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আর দেখেন নি। তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই লোকজনকে গুলি করা হবে। বিভিন্ন খবর থেকে জানা যাচ্ছে- কারফিউয়ের কারণে কাশ্মিরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে এবং লোকজনের চলাচল ঠেকাতে হাজার হাজার মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এদিকে, লোকজনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় জনতার সংঘর্ষ হয়েছে। তাদের পাথর ছোঁড়ার জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও বুলেট ছোঁড়ে। তবে প্রথামিক অবস্থায় কারো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় নি।

হলিউডের শিক্ষাবিষয়ক চলচ্চিত্রে শিনা চৌহান

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) খ্যাত ভারতের জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রী শিনা চৌহান অভিনয় করলেন এবার হলিউড  নতুন আরেক ছবিতে। শিক্ষাবিষয়ক কমেডি-ওয়েব একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্রে দেখা যাচ্ছে তাকে। এর আগেও হলিউডের কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্যরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শিনা চৌহান। তবে এটি সেগুলোর চেয়ে আলাদা ধাঁচের। ছবিটিতে শিনা চৌহানের সহশিল্পী হিসেবে আছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান জিম মেসকিমেন। ছবিটির নাম ‘ওয়ার্ডস’। এরই মধ্যে ইউটিউবে ছবিটি মুক্তিও দেয়া হয়েছে। শিনা চৌহান জানান, এটি মজার ও শিক্ষামূলক মনে হবে দর্শকদের। শিক্ষাবিষয়ক ছবিটি দেখার পর সবাই শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ হবেন বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে শিনা চৌহান বলেন, আমি খুব খুশি। কারণ শিক্ষাবিষয়টি আমার খুব পছন্দের। শেখানোর মাধ্যমে সবকিছুই সম্ভব। আর এ ছবিতে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি দেখলে সবাই এর সঙ্গে সহজে স¤পৃক্ত হতে পারবেন। শিক্ষার মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে আমার জীবন বদলে গেছে। সেজন্যই এ ছবিতে কাজ করতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত।

মুসলিমরা ডোনাট খায় না গুজবের নেপথ্যে

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও এই বলে মিথ্যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে মুসলিমরা 'ডোনাট' খায় না। আর এই গুজব ছড়াচ্ছে মুসলিমরাই। কেন তারা এই কাজ করছেন?
মূলত ইসলামবিদ্বেষী ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের জবাব দিতে তারা এই রসিকতা বেছে নিয়েছেন।
২০১৪ সালে প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হয় যে 'ডোনাট' হালাল নয়, কাজেই এটি মুসলিমদের খাওয়া নিষেধ। টুইটারে গত তিন বছর ধরে এই গুজব ছড়ানো হয়।২০১৬ সালে কিছু মসজিদের বাইরে শুকরের মাংস রেখে যাওয়ার ঘটনার পর একই গুজব ছড়ানো হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
একজন তখন টুইটারে মজা করে লেখেন, "ডোনাট হারাম। দয়া করে আমাদের মসজিদের বাইরে গাদা গাদা ডোনাট রেখে যাবেন না, আমরা এটা ঘেন্না করি।"তবে এই রসিকতা বুঝতে না পেরে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। একজন টুইটারে প্রশ্ন করেন, "ডোনাট হারাম হলো কিভাবে?"
কিন্তু এর পর টুইটারে আরও পোস্ট ছড়িয়ে দেয়া হয় ডোনাট ইসলামে নিষিদ্ধ এমন কথা বলে।এবছর ডোনাট নিয়ে এই গুজব আবার নতুন করে ছড়াতে থাকে সাংবাদিক মেহেদী হাসান এটি টুইট করার পর।
তিনি লিখেন, "আমার অনেকদিনের বিশ্বাস, আমরা যদি 'ডোনাট হারাম' এমন গুজব ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে আমাদের লোকে এখন থেকে ডোনাট দিয়ে আক্রমণ করবে।"
আরেকজন এর উত্তরে মজা করে অনলাইনে লেখেন, "আমি স্টারবাকস, টাকিস, পিজ্জা, কুকি, আইফোন, প্লেস্টেশন ফোর সবকিছু ঘৃণা করি। দয়া করে আমাকে এসব দিয়ে অপমান করার চেষ্টা করো।"
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

বিদেশে কেন চিকিৎসা? by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

বিশ্বাস, ব্যবহার আর আচরণ- এ তিন গুণ বাংলাদেশি রোগীদের টেনে নেয় বিদেশে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রতি অনাস্থাও বড় একটি কারণ। ক’দিন আগে ভারতের চেন্নাই থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন ইমরাজ শিকদার। ভারতে কেন চিকিৎসা-এমন প্রশ্নের জবাবে ইমরাজ বলেন, সবচেয়ে বড় ব্যাপার চিকিৎসক ও নার্সদের সুন্দর আচরণ। এ আচরণ ও ব্যবহারের কারণে রোগীরা ৩০ শতাংশ সুস্থ হয়ে যান। তিনি বলেন, একই মানের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সে দেশে পরীক্ষার সঠিক ফল পাওয়া যায়। দেশে একেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একই রোগীর পরীক্ষার একেক ধরনের ফল মিলে। থাকে টাকার ব্যবধানও। ভুল চিকিৎসা হয় অনেক ক্ষেত্রে। ভারত, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা বেশ কজন রোগী জানান, চিকিৎসার নামে ওই সব দেশে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়নি। ভুল চিকিৎসার ঘটনাও কম। একই ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একাধিকবার করানো, রোগীকে সময় কম দেয়া, বাড়তি আয়ের জন্য রোগীকে অতিরিক্ত সময় কেবিন বা বিছানায় রাখার প্রবণতা নেই সেখানে। ভুল চিকিৎসার জন্য মাশুল গুনতে হয় দেশগুলোর ডাক্তারদের। অভিযুক্ত ডাক্তারের  লাইসেন্স বাতিল বা ফৌজদারি মামলা হয়। কঠোর আইনের মধ্যেই থাকতে হয় ডাক্তারদের। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। ভুল চিকিৎসার জন্য রোগীর মৃত্যু ঘটলেও স্বজনরা অসহায়। ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। কয়েকজন বলেন, দেশের চিকিৎসকরা কথায় কথায় টেস্ট এবং অনেক ওষুধ দেন। অযাচিত এন্টিবায়োটিক। কিন্তু বিদেশে এই চিত্র কম। দুই বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামাল হোসেন চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। দেশটির বামরুনগ্রাদ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তিনি জানান, সেখানে তিনি এমআরআই পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ অনেক চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তিন লাখ টাকার ওপর চিকিৎসা ব্যয় হয়েছে থাইল্যান্ডে। কিন্তু সেখানকার সেবা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
বেশ ক’বছর ধরে বাংলাদেশি রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। দেশে আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, চালানোর দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। দেশের সরকারি চিকিৎসা খাতে এ বেহাল চিত্র। অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসাসেবাও আকর্ষণ করতে পারছে না রোগীদের। বেসরকারি চিকিৎসাসেবা বিশেষ করে ডাক্তার, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আরোপ হয়নি। ফলে অসম বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা হচ্ছে বেসরকারি খাতে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চিকিৎসার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ায় প্রতি বছর চার থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোগী সুচিকিৎসার খোঁজে বিদেশে যাচ্ছে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতে রোগীপ্রতি গড়ে দেড় লাখ টাকা খরচ হলে বিদেশে চিকিৎসা বাবদ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। রোগীর সঙ্গে স্বজনদের খরচ হিসাব করলে এ খরচের সঙ্গে যোগ হবে আরো প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। ভারত ছাড়া সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও অন্যান্য দেশেও চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিরা নিয়মিত যাচ্ছেন।
প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এজেন্টের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার নামে লাখ লাখ রোগী পাঠানো হচ্ছে। চিকিৎসা বাবদ দেশ থেকে প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশ চলে যায় বলে একটি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন প্রয়াত বিশিষ্ট চিকিৎসক জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান। ধারণা করা হচ্ছে, দেশব্যাপী তিন শতাধিক এ রকম এজেন্ট রয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার রোগী বিদেশে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ভারতেই যাচ্ছেন গড়ে প্রতি মাসে ১৫ হাজার রোগী। বাকিরা থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বলে এজেন্ট প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন। এসব এজেন্ট প্রতিনিধি ভিসা প্রসেস ও সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানোর জন্য ব্যবস্থা নেন। এজন্য তারা প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে তিন হাজার টাকা ফি নেন। এ প্রক্রিয়া ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তা ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিরা অনেক সময়ে বিদেশে ভ্রমণ করার সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন।
রাজধানীর ধানমন্ডির এমন একটি প্রতিষ্ঠান ইনটেক্স কেয়ার (গ্লোবাল ট্রেড লিংক)। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা ভারতের বিখ্যাত হাসপাতালসমূহে হার্ট, ক্যানসার, কিডনি চিকিৎসা, লিভার চিকিৎসা, বাইপাস সার্জারি, হাঁটুর অপারেশন, বনমেরু ট্রান্সপ্লান্টসহ সব ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা করানোর কাজ করেন। এছাড়া তারা মেডিকেল ভিসা সহায়তা ও এয়ার অ্যামু্বলেন্সের ব্যবস্থা করান বলে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে উচ্চবিত্ত শ্রেণির রোগী এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এতে ইতিবাচক বা নেতিবাচক দেখার কিছু নেই। তারা আরো বলেন, দেশের চিকিৎসাসেবা নিয়ে মানুষের মধ্যে আস্থার অভাব রয়েছে। অভিযোগ আছে অতিরিক্ত ব্যয়েরও। অন্যদিকে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তিও সহজ করেছে দেশটি। এসব কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
স্বাস্থ্যসেবা রপ্তানি নিয়ে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব কমার্শিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (ডিজিসিআইঅ্যান্ডএস) একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। এটি চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশ করা হয়। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল বাংলাদেশি। অর্থবছরটিতে ভারতে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে মোট প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার জন বিদেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকেই গেছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৭০ হাজার জন। তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৮ হাজার ৩৬০ বাংলাদেশি নাগরিককে মেডিকেল ভিসা দিয়েছে ভারত। তবে পর্যটন ভিসায় ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের অধিকাংশেরই লক্ষ্য থাকে চিকিৎসা নেয়া। ভারতে মেডিকেল ভিসা গ্রহণের দিক থেকে বাংলাদেশের পরই রয়েছে আফগানিস্তান। অর্থবছরটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮৭টি মেডিকেল ভিসা দিয়েছে ভারত। যেসব রোগী ভারতে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি ও নিউরো সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা। উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসতে যত সময় লাগে, ভারতে যেতে তার চেয়ে কম সময় লাগে। এছাড়া আমাদের কিছু ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতার অভাবের পাশাপাশি চিকিৎসকদের ব্যবহারও অনেক ক্ষেত্রে রোগীবান্ধব নয়। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণেই মূলত বেশি সংখ্যক রোগী দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে টুরিস্ট ভিসায় গিয়েও চিকিৎসা করান মানুষ। ওখানেও ভুল চিকিৎসা হয় না, এমন নয়। বাংলাদেশে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি রেগুলেটরি সিস্টেম না থাকাকে দায়ী করেন তিনি।
বাংলাদেশী রোগীরা কেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান- এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা তো অনেক সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি না। ফলে রোগীরা অপেক্ষা না করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমান। এখানে রোগীদের জন্য এত বেশি বিনোদনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, লোকসংখ্যা বাড়ছে, তার সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীরা বিদেশে চিকিৎসাসেবা নেয়ার দিকে ঝুঁকছেন। এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যাদের সামর্থ্য আছে তারাই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। এটা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে দেখার কিছু নেই। দেশীয় চিকিৎসাসেবার প্রতি রোগীদের অনীহা কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা রোগীদের মনোজতাত্ত্বিক বিষয়। অনেকে ভ্রমণে যান এবং ব্যবসায়িক কাজে গিয়েও বিদেশ থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে এর সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। এই প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, অনেকগুলো কারণে মানুষে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। বিশেষ করে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট অর্থাৎ সীমান্তবর্তী এলাকার লোক সহজে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন। অনেক সময়ে মানুষ বিদেশে ঘুরতে গিয়েও চিকিৎসা করান। তাছাড়া কিছু কিছু চিকিৎসা যেমন-হার্টের, চোখের এবং ক্যানসারের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে ওখানে ভালো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমাদের দেশের করপোরেট হাসপাতালগুলোতে খরচ বেশি হওয়ায় মানুষ ভারতসহ অন্য দেশে চিকিৎসার জন্য পাড়ি জমান। বিশাল জনসংখ্যার চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ যেখানে সন্তুষ্ট হন সেখানেই মুভ করেন। এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কিছু কিছু চিকিৎসকের আচরণেও ঝামেলা আছে। বিষয়টি তাদের একটু বিবেচনায় নিতে হবে।

বোরকা পরে আদালতে গেলেন রাখি সাওয়ান্ত

নানা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য কিংবা নগ্নতার কারণে বরাবরই সংবাদের শিরোনাম হতে দেখা যায় বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত। শুধু তাই নয়, মামলার আসামিও হতে হয়েছে তাকে। বাদ পড়েননি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির তালিকা থেকেও। নির্দিষ্ট সময়ে মামলার হাজিরা না দিলে রাখিকে যেতে হবে কারাবাসে। তবে সেটা থেকে রেহাই পেতে ৬ই জুলাই লুধিয়ানা আদালতে যান তিনি। জামিনও পেয়েছেন। গত বছর একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বাল্মিকী মুনিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পরই রাখির বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু মজার বিষয় হলো, তিনি এবার আদালতে গেলেন বোরকা পরে! ‘খুল্লম খুল্লা’ রাখি হঠাৎ বোরকার আদলে কেন? এমনটাই প্রশ্ন অনেকের। একটি  সূত্রে জানা গেছে আদালত চত্বরে মিডিয়া যাতে তাকে চিনতে না পারে, সে জন্যই নাকি বোরখাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন রাখি। কখনও জনসমক্ষে গায়ক বন্ধুকে চুমু, তো কখনো বিতর্কিত টুইট বা বেফাস মন্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই রাখি নানা কারণে বলিউডের ‘বিতর্কিত’ চরিত্র। গত বছর একটি টিভি শো-তে গিয়ে বাল্মিকী মুনি প্রসঙ্গে আপত্তিকর মন্তব্য করায় শালীনতা পেরোনোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। এখানেই আরও এক নাটকের শুরু। অনুষ্ঠানটিতে কথা চলছিল তার বন্ধু, বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক মিকা-কে নিয়ে। আর সেখানেই রাখি বলে ফেলেন, বাল্মীকি যেমন দস্যু থেকে রতœাকর হয়ে উঠেছিলেন। তার বন্ধু মিকাও তেমনই অনেক বদলে গিয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্য করেই ফেঁসে গিয়েছিলেন রাখি। সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় এ অভিনেত্রীকে ঘিরে। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় ‘বাল্মীকি কমিউনিটি’র সদস্যরা। তাদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই রাখির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অবশ্য সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সে মামলায় জামিন পান তিনি।

ট্রাম্পের মেয়ের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

ইতালীয় একটি জুতা কোম্পানির নকশা চুরির অভিযোগ উঠল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ের বিরুদ্ধে। ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলায় সাক্ষ্য দিতেই হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্যাথরিন ফরেস্ট।
সময় নেই, এই যুক্তি দেখিয়ে হোয়াইট হাউজের একজন কর্তা হিসেবে সাক্ষ্য দেয়া থেকে নিষ্কৃতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন ইভাঙ্কা। নিউ ইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট জজ ক্যাথরিন ফরেস্ট এ আবেদন খারিজ করে দেন। আদেশে বলা হয়, ‘ইভাঙ্কার বিরুদ্ধে এ মামলায় ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই অনুযায়ী তিনি সাক্ষ্য দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেন না।’
আদালত ইভাঙ্কার সাক্ষ্য দেয়ার সময়সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, মাত্র দু’ঘণ্টার মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করতে হবে এবং চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে ওয়াশিংটনে সাক্ষ্য নিতে হবে। ইতালির বিলাসবহুল ব্র্যান্ড অ্যাকুয়াজ্জুরা গত বছর নকশা চুরির অভিযোগ এনে ইভাঙ্কা ও তার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মার্ক ফিশার ফুটওয়্যারের বিরুদ্ধে এই মামলা করে। এই সময় প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক কাজকর্ম ও অন্যায় প্রতিযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, ইভাঙ্কা ওই কোম্পানির ‘ওয়াইল্ড থিং শু’ নামের একটি পণ্য পুরোপুরি নকল করেছেন। অবশ্য ইভাঙ্কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কাঁদলেন ফখরুল

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে কাঁদলেন সংগঠনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, খুব কষ্টের মধ্যে আছেন আপনারা। অনেক কষ্ট, অনেক যন্ত্রণা, ব্যথা-বেদনা। এর মধ্যে আমরা আমাদের অনেক বন্ধুকেও হারিয়ে ফেলেছি। তারপরও আপনারা এতটুকু নড়েননি। যে বিশ্বাস যে আদর্শকে নিয়ে আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন সেই বিশ্বাস এবং আদর্শকে শক্তি করে নিয়ে এই চরম দুর্দশার মধ্যে দুর্দিনের মধ্যেও আপনারা বুকে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এখনও এই কষ্টের শেষ হয়নি। এখনও অবৈধ সরকারের পেটোয়া বাহিনী পুলিশ যখন-তখন এসে আপনাদের বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। শনিবার ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। মহাসচিবের কান্নায় অনুষ্ঠানস্থলে এসময় আবেগঘন পরিবেশ তৈরী হয়। বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, আওয়ামী লীগের চরিত্র এটা, তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেই। আমাদের পথ একটাই সেটা হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে। আওয়ামী লীগকে মিথ্যাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনে আমরা কয়লাভিত্তিক কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প চাই না। এই সরকার মিথ্যাবাদী, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে। ইউনেস্কো নাকি তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে। মিথ্যা কথা গতকালই তাদের পুরো রিপোর্ট আমি পড়েছি। ইউনেস্কো সরকারকে আশ্বাস দিয়েছে যে, এর উপর আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা চালানো হবে। তারপরে এই প্রকল্প নিয়ে আগাবে তারা।

সূচ-মানবের দেহ থেকে ৯২ সূচ অপসারণ

ভারতের রাজস্থানের কোটা এলাকার বদ্রি লালের (৫৬) দেহ থেকে চিকিৎসকরা অপারেশনের মাধ্যমে বের করে এনেছেন ৯২টি সূচ। চিকিৎসকরা ধারণা করছেন তার দেহের বিভিন্ন স্থানে এমন ১৫০টি সূচ বিঁধে আছে। এ জন্য এরই মধ্যে বদ্রি লাল স্থানীয়ভাবে ‘পিন ম্যান’ বা সূচ মানব উপাধি পেয়েছেন। তিনি রেলওয়েতে কর্মরত। তার দেহে এতগুলো সূচের মধ্যে অনেক পিন তার শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, স্বরযন্ত্র, রক্ত প্রবাহের সঙ্গে মিশে ছিল। এ সব স্পর্শকাতর অঙ্গে এভাবে সূচ বিঁধে থাকায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছিলেন বদ্রি লাল। অবশেষে তিনি চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কিভাবে এতগুলো সূচ তার শরীরের ভিতর তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি বদ্রি লাল বা তার পরিবারের সদস্যরা। তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন বদ্রি লাল মানসিক অসুস্থতার সময়ে দেহে সূচ ফুটিয়ে থাকতে পারেন। এখন সেগুলো তার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, সম্প্রতি তার অপারেশন করেছেন চিকিৎসকরা। তার দেহে যেসব স্থানে পিন বা সূচগুলো প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল শুধু সেসব সূচ অপসারণ করেছেন। এমন সূচের সংখ্যা ৯২ টি। বিষয়টি বদ্রি লালের পরিবার তখনই জানতে পারে যখন তার পায়ে ইনফেকশন হয়। তা পেকে পুজ বের হয়। এক পর্যায়ে সেখান দিয়ে একটি সূচের মাথা বেরিয়ে আসে। এরপরই তার শরীরের এক্সরে করা হয়। পুরো শরীর এক্সরে করে দেখা যায় শরীর ভর্তি শুধু সূচ। অনেক জটিলতা থাকায় ৬টি হাসপাতাল তাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বদ্রি লালের ডায়াবেটিক আছে। এখন সূচের কারণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এমনকি তিনি খাবারও গ্রহণ করতে পারেন না। ফলে গত তিন মাসে তার ওজন কমে ৩০ কেজিতে নেমে এসেছে।

সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ আর নেই

বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ আর নেই। শনিবার রাজধানীর গ্রীন রোডের নিজ বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। বিএনপি'র চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ডা. মাজেদ বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি। এছাড়ার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশে প্রথমবারের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সরকারে উপদেষ্টা হিসেব দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ডা. এম এ মাজেদ।

ফরহাদ মজহারের কাছেই সব প্রশ্নের জবাব

চার দিন চলে গেলেও কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের অপহরণের রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। তিনি (ফরহাদ মজহার) এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এমনকি প্রথমদিকে মুখ খুললেও অজ্ঞাত কারণে তার পরিবারের সদস্যরা এখন নিশ্চুপ। অপহরণ নিয়ে তারা কোনো কথা বলছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফরহাদ মজহারের বরাত দিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছে, এগুলোও যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্নের। দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে রহস্যের জট। একমাত্র ফরহাদ মজহার মুখ খুললেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। শুক্রবার দিনভর চেষ্টা করেও তার পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের চাপ আছে কিনা, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করছেন না ফরহাদ মজহারের পরিবারের কেউ। ফরহাদ মজহার শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার কেবিন নম্বর ১১০৬। ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনার পর থেকে জনমনে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল যুগান্তরকে বলেন, এর আগে অনেকেই অপহরণের পর গুম হয়েছেন। যারা সৌভাগ্যক্রমে ফিরে এসেছেন তারা কোনো কথা বলেননি। এমনকি তাদের আত্মীয়স্বজনরাও এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। ফরহাদ মজহার ফিরে আসার পর এখন পর্যন্ত মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। পুলিশের বরাত দিয়ে অনেক কথা শুনেছি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তার আগে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয়নি। এতে তার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি যেসব কথা বলছেন, তা মুক্ত মানুষের মতো বলছেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে তিনি কোনো কথা বলবেন কিনা, তা-ও জানি না। ফরহাদ মজহারের অপহরণ নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, এই ঘটনাটি রহস্যজনক। এর রহস্য উন্মোচন করতে হবে। যারা অপহরণ করেছে, যারা সহযোগিতা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য মিলিয়ে তদন্তকারীরা একটি উপসংহারে পৌঁছলে রহস্য উন্মোচন হবে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে অনেক তথ্য প্রকাশ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ঘটনার সত্যতা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তকারীরা তদন্ত করছেন। তারা আশ্বস্ত করেছেন এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করবেন। জনগণ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ফরহাদ মজহার ইচ্ছে করে ঘটনা ঘটিয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে এটি সংঘটিত হয়েছে, তা বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সুপরিচিত ব্যক্তি এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে, অনেকেই এর রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে। সরকারের প্রতি দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। আর বাংলাদেশে খুন-গুমের একটি অভিযোগ তো বিভিন্ন মানিবাধিকার সংস্থা প্রকাশ করছে। তদন্তে যদি বেরিয়ে আসে ফরহাদ মজহারের ঘটনার পেছনে সরকারি কোনো বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নেই, তাহলে অতীতে যেসব গুমের অভিযোগ এসেছে, সে দাবি হালকা হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলেও তাকে কারা, কী উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছে, তাও উদ্ঘাটিত হয়নি। খুলনা থেকে ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিট কে কেটেছিল- এ নিয়েও রয়েছে নানা রহস্য। অপহরণের পর ফরহাদ মজহারের অবস্থান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছয়বার চিহ্নিত করেছিল। তারপরও কেন সারা দিন অভিযান চালানো হয়নি, এমন প্রশ্ন অনেকের। তিনি যখন খুলনার হোটেলে খাচ্ছিলেন তখন আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছিল। তারপরও কেন তাকে তখন খুঁজে পাওয়া যায়নি, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন। রাতে তাকে কে ফোন করে বাইরে নিয়ে গেছে, এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেননি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ফরহাদ মজহার অপহরণ মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার রহস্য ভেদ করা যায়নি। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) হাফিজ আল আসাদ যুগান্তরকে বলেন, ফরহাদ মজহার অপহরণের ঘটনাটি রহস্যজনক। ফরহাদ মজহারের বক্তব্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবার ভোরে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগর এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রথমে ফরহাদ মজহারকে খুলনায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকার আদাবর থানায় আনা হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে সেখানে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। কথা বলেননি কেউ : ফরহাদ মজহার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার দুপুরে ১১০৬ নম্বর কেবিনে নক করলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন ফরহাদ মজহারের পারিবারিক বন্ধু এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উবিনিগ-এর পরিচালক সীমা দাশ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ফরহাদ মজহার অপহরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানাননি। তাছাড়া তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার কারণে এ বিষয়ে তাকে কিছু জিজ্ঞাসাও করিনি। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তবে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মানসিকভাবে তিনি এখনও বিপর্যস্ত। তার স্ত্রী ফরিদা আখতার ও মেয়ে সমতলী হক কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা কোথায় এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পরে ফরহাদ মজহারের বাসা শ্যামলীর রিং রোডের জেনেটিক গার্ডেন হাউসে গেলে প্রধান নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। তিনি বলেন, ভেতরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে। পরে ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ফোন রিসিভ করেন একজন নারী। তিনি ফরিদা আখতারকে ফোনটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি একজন পুরুষকে ফোনটি দেন। ওই ব্যক্তি জানান, ফরিদা আখতার কথা বলবেন না। ফরহাদ মজহারের মেয়ে সমতলী হক কোথায় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানান, সমতলী বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। কেন, কী কারণে তিনি হঠাৎ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন এ নিয়ে তিনি কিছু জানাননি। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উবিনিগ-এর পাবলিক রিলেশন্স অফিসার আবদুল জব্বার বলেন, সমতলী হক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় আছেন। গত ৭ জুলাই তিনি দেশে আসেন। বৃহস্পতিবারই তার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আগে থেকেই বিমানের টিকিটও কাটা ছিল। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তার কিছু সিডিউল প্রোগ্রাম আছে। এ কারণে তিনি ফিরে গেছেন।

বৃটেনের প্রথম পুরুষ-মা জন্ম দিলেন কন্যা সন্তান

বৃটেনের প্রথম পুরুষ-মা জন্ম দিলেন এক কন্যা সন্তান। বর্তমানে ওই পুরুষ-মা ও তার কন্যা সুস্থ আছেন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, হেডেন ক্রস নামের এই পুরুষ-মা জন্মেছিলেন মেয়ে হয়ে। পরে তিনি হিজড়া বিষয়ক হরমোনের চিকিৎসা থামিয়ে দিয়ে পুরুষে পরিণত হন। এক পর্যায়ে ফেসবুকে একজন স্পার্ম ডোনারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। সেই ব্যক্তি তাকে স্পার্ম দিতে রাজি হন। তার কাছ থেকে স্পার্ম বা ডিম্বাণু নিয়ে তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন। জানুয়ারিতে ২১ বছর বয়সী হেডেন ক্রস নিজে অন্তঃসত্ত্বা এ ঘোষণা দেন। এ নিয়ে তখন বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনাম হয়। বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে সব কিছুকে পিছনে রেখে গত ১৬ই জুন তিনি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি হলেন বৃটেনের ইতিহাসে প্রথম কোনো পুরুষ-মা। এর আগে বৃটেনে এমন ঘটনার নজির পাওয়া যায় নি। বলা হয়েছে, বর্তমানে কন্যা সন্তান ও হেডেন ক্রস দু’জনেই সুস্থ আছেন। তার কন্যার নাম রাখা হয়েছে ট্রিনিটি লেই। তার জন্ম হয়েছে গ্লুসেস্টারশায়ারের রয়েল হাসপাতালের মাতৃমঙ্গল বিষয়ক শাখা ওমেনস সেনটারে। বুধবার তার কন্যা সন্তান জন্মের সনদ দেয়া হয়েছে। তাতে হেডেন ক্রসকে ওই কন্যার মা হিসেবে পরিচয় দেয়া হযেছে। তবে রেজিস্ট্রারে ওই কন্যার পিতার নামের স্থানটি ফাঁকা রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথমে হেডেন ক্রসের নাম ছিল পেইজি। কিন্তু তিনি জানুয়ারিতে জানান দেন যে, গত সেপ্টেম্বরে তিনি গর্ভ সঞ্চার করেছেন। তাই নাম পাল্টে হেডেন ক্রস নাম ধারণ করেছেন। তবে কার কাছ থেকে তিনি স্পার্ম ধার নিয়ে গর্ভ সঞ্চার করেছেন তা প্রকাশ করেন নি। এটুকু বলা হয়েছে যে, ওই স্পার্ম তার ধরের দরজায়ই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার তার দাদী পাম এজওয়ার্থ নিশ্চিত করেছেন হেডেন ক্রসের মা ক্রিস্টিন এজওয়ার্থ তার পঞ্চম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে হেডেন ক্রস নিজের সন্তানের মা হয়েছেন। পাম বলেছেন, আমি খুশিতে উদ্বেলিত। কারণ মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আমি দাদী হয়েছি এবং একই সঙ্গে গ্রান্ডমাদার হয়েছি।

ট্রাম্পকে ‘অপমান’ করার ভিডিও ভাইরাল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হ্যান্ডশেক না করে ‘অপমান’ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি ট্রাম্পের সম্প্রতি পোল্যান্ড সফরের সময় ঘটেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আন্দ্রেজ দুদা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করছেন। এরপরে পোল্যান্ডের ফার্স্ট লেডি আগাতা কর্নহাওসের দিকে হাত এগিয়ে দেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিলেনিয়া ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যান আগাতা। মিলেনিয়ার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গেও করমর্দন করেন তিনি। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আগাতা যখন ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে যান, তথন ট্রাম্প ভ্যাবাচেকা খেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে অবশ্য ভিডিওটি টুইটারে দেখার পর ঘটনার ব্যাখ্যা করেছেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, যেভাবে ঘটনাটি দেখা হচ্ছে, ব্যাপারটি আসলে তা নয়। আগাতা ট্রাম্পের হাত বাড়িয়ে দেয়া লক্ষ্য করেননি। শুক্রবার জার্মানির হামবুর্গে শুরু হওয়া জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের আগে পোল্যান্ড সফর করেন ট্রাম্প।

সিরিয়ায় রোববার থেকে যুদ্ধবিরতিতে মতৈক্য ট্রাম্প-পুতিনের

সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দামেস্কের স্থানীয় সময় রোববার থেকে এ বিরতি কার্যকর হবে। শুক্রবার জার্মানির হামবুর্গে জি-২০ সম্মেলনে দুই নেতার প্রথম সাক্ষাতে এ মতৈক্য হয় বলে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানিয়েছে আল জাজিরা। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই লাভরভের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় তাস। লাভরভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিদ্যমান প্রতিটা পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঠিক কোন এলাকাটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে তাৎক্ষণিভাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, সিরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, আমার মনে হয় এটাই তার প্রথম ইঙ্গিত। আর সে কারণেই সিরিয়ার অন্য অঞ্চলেও একসঙ্গে কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের আলোচনা দীর্ঘ হয়েছে। ব্রিটেনভিত্তিক সংস্থা সিরিয়ান অবর্জাভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসেবে, সিরিয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্য দেশে পালিয়ে গেছেন কয়েক লাখ।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ১৮ রাজ্যের মামলা

ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষাঋণ সুবিধা বাতিলের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি রাজ্য। সম্প্রতি মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রী বেটসি ডেভোস ঋণ সুবিধা বাতিলের জন্য একটি রুল জারি করে। ফলে কোরিন্থিয়ান কলেজ ইনকর্পোরেশন ও মুনাফাভিত্তিক অন্য কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের ঋণ সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসন ওই শিক্ষাঋণ সুবিধা প্রকল্প চালু করে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ওই শিক্ষাঋণ সুবিধা প্রকল্প কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রী ডেভোস শিক্ষাঋণ সুবিধা নতুন করে পর্যালোচনা করার দরকার বলে গত মাসে এটি আটকে দেন। খবর রয়টার্সের। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা নথিভুক্ত করে ম্যাসাচুসেটস ও কলাম্বিয়া রাজ্যসহ আরও ১৭টি রাজ্য বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সীমিত বিজ্ঞপ্তি ও মন্তব্যের সুযোগ ছাড়াই শিক্ষাঋণ সুবিধা প্রকল্প আটকে দিয়ে ফেডারেল আইন ভঙ্গ করেছে।
১৮টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা বৃহস্পতিবারের ওই মামলায় স্বাক্ষর করেছে। তারা সবাই ডেমোক্রেটিক দলের অ্যাটর্নি জেনারেল রাজ্যগুলো হল: ক্যালিফোর্নিয়া, কানেক্টিকাট, ডেলাওয়ার, হাওয়াই, ইলিনয়, আইওয়া, মেরিল্যান্ড, মিনেসোতা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলিনা, ওরিগন, পেনসিলভেনিয়া, রোধেহ আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাঋণ সুবিধা বাতিল করে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করার জন্য বিচারাধীন মামলাকে ‘নিছক প্রতারণা’ হিসেবে ব্যবহার করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রী ডেভোস। প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণ সুবিধা প্রকল্প গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় একটি গরম ইস্যুতে পরিণত হয়। ডেমোক্রেটরা চেয়েছিল ওবামা সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সংরক্ষণ করতে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শিক্ষাঋণের ‘ব্যবসা থেকে সরকারকে’ বের আসতে হবে।

ভারতের 'কোল্ড স্টার্ট'র বিপরীতে পাকিস্তানের 'কোল্ড ওয়াটার'

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘শীতল শুরু’ (কোল্ড স্টার্ট) তত্ত্বের বিপরীতে ‘ঠাণ্ডা পানি’ (কোল্ড ওয়াটার) তত্ত্ব দিয়েছে পাকিস্তান। একটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ’ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পর এ তত্ত্বের কথা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। খবর ডনের।দেশটির সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নসর’ নামে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে পারবে।
পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে এখন আগের চেয়েও দ্রুতগতিতে প্রস্তুত করা যাবে বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে আইএসপিআর। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রবিরোধী প্রতিরক্ষাসহ ‘প্রচলিত হুমকির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ভূমিকা’ রাখতে পারবে বলেও দাবি তাদের। বক্তৃতায় বাজওয়া যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ এড়িয়ে চলাই তাদের সেনাবাহিনীর কৌশল উল্লেখ করে বলেন, ‘উচ্চমাত্রার সামরিক ক্ষমতাসম্পন্ন ও ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী প্রতিবেশী বিরুদ্ধে পাক সেনাবাহিনীর কৌশলগত উন্নয়নই শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে।’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক এই উৎক্ষেপণের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুতিন-ট্রাম্পের প্রথম সাক্ষাৎ নিয়ে রঙ্গ-তামাশা

হামবুর্গে জি-টুয়েন্টি শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই দুজনের সাক্ষাৎ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কদিন ধরেই নানা জল্পনা-কল্পনা আর রঙ্গ চলছিল। অনেকে টুইটারে এই বৈঠক নিয়ে নানা রকম কৌতুক আর দুজনের ফটোশপ করা ছবি পোস্ট করেছেন। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুতিনের কোলে চড়েছেন ট্রাম্প, আর এক হাতে টি-পি (ট্রাম্প-পুতিন) লেখা একটি পতাকা, অন্যহাতে এক গোছা ফুল ধরে রেখেছেন।
আরেকটিতে দেখা যাচ্ছে পুতিনের সুতোর টানে পুতুল নাচ নাচছেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানের সময় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে গোপন সম্পর্ক বা সমঝোতা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। ভ্লাদিমির পুতিন অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ প্রশংসা করেন। গত জুনে তিনি বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব 'সোজাসাপ্টা এবং খোলা মনের' মানুষ। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যাপারে বেশ ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ জানিয়েছেন, দুজনের মধ্যে যখন দেখা হয় তখন তারা করমর্দন করেন এবং শীঘ্রই একটি বৈঠকে মিলিত হতে রাজি হয়েছেন। আজই আরও পরের দিকে এই বৈঠক হওয়ার কথা।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে কিশোরের বিয়ে



ইন্দোনেশিয়ায় সামজিক প্রথা ও আইন ভঙ্গ করে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে বিয়ে করেছে ১৬ বছরের এক কিশোর। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ভাইরাল হয়। ১৬ বছরের বর এখনও বিয়ের অনুপযুক্ত। তারপরও গ্রামের কর্তাব্যক্তিরা ‘অনিবন্ধিত বিয়ের’ অনুমতি দিয়েছেন। কারণ বিয়ের অনুমতি না দিলে এ দম্পতি আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার আইন অনুসারে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীদের বয়স কমপক্ষে ১৬ এবং পুরুষদের ১৯ হতে হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ছেলেটা একবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে তার সেবা-শুশ্রুষা করে সারিয়ে তোলেন ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। সে সময়েই তারা একে অপরের কাছাকাছি আসেন। দক্ষিণ সুমাত্রার ওই গ্রামের প্রধান সিক এনি বলেন, ‘যেহেতু ছেলেটি এখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই বিয়ের ব্যাপারটা আমরা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’ তিনি আরও বলেন, ব্যভিচারের পাপ এড়াতে ২ জুলাই কনে রোহায়ার সঙ্গে বর সালামতের বিয়ে দেয়া হয়। ছেলের বাবা কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন এবং মা আরেক জনের সঙ্গে পুনর্বিবাহ করেছেন।

সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুতে শীর্ষে ভারত

সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে নিহতের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারত। ‘মি. মাইসেলফ অ্যান্ড কিলফি : ক্যারেক্টারাইজিং অ্যান্ড প্রিভেনটিং সেলফি ডেথস’ শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন যৌথভাবে গবেষণাটি করেছে। দেখা গেছে, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে যত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, এর মধ্যে ৬০ শতাংশই ঘটেছে ভারতে। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, ভারতে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মুম্বাই পুলিশ ১৫টি স্থানকে সেলফি তোলার জন্য বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া শহরের কোন কোন এলাকা ‘সেলফি ফ্রি পয়েন্ট’ তাও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেলফি তুলতে গিয়ে সারা বিশ্বে ১২৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর এর মধ্যে ৭৬ জনই ভারতের। মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার পরমজিৎ দাহিয়া বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হাতে নিয়েছে।

'দক্ষিণ কোরিয়াকে কেকের মতো পিষে দেব'

উত্তর কোরিয়া হুমকি দিয়ে বলেছে, এক টুকরা কেকের মতো সহজেই দক্ষিণ কোরিয়াকে পিষে দেয়া যাবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রস্থলেও পরমাণু বোমা হামলা চালানো যাবে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ হুমকি দেয়া হয়েছে। খবর এএফপি ও পিপলস ডেইলির। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ার সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) প্রতিবেদনে সিউলকে তাঁবেদার ‘সামরিক অপরাধী চক্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এক টুকরো কেকের মতো সহজেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ধ্বংস করা যাবে। পিয়ংইয়ং এখন ধ্বংস করে দিতে পারবে মহাসাগরের ওপারে অবস্থিত আমেরিকাকেও। পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, আমেরিকার কেন্দ্রস্থলে বড় পরমাণু বোমা হামলা চালানো যাবে। ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার দিবসে উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো আইসিবিএম’র সফল পরীক্ষা করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এ পরীক্ষাকে আমেরিকার জন্য উপহার হিসেবে অভিহিত করেন। দেশটির সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার জন্য আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্র জেমস ম্যাটিস। তবে তিনি বলেন, পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটন ‘একটি যুদ্ধের কাছাকাছি’ রয়েছে বলে মনে করে না আমেরিকা। আমেরিকা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সামরিক খাতগুলোতে পণ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ করা হবে বলে জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এর পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মিলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার পথও খোলা রাখতে চায় ওয়াশিংটন। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী বার্নাবাই জয়েস বলেন, উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরমাণু অস্ত্র নিক্ষেপ করলে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের পাশে থাকবে ক্যানবেরা। স্কাই নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরমাণু ওয়ারহেড নিক্ষেপ করলে ‘এএনজেডইউএস’ জোটকে তলব করা হবে।’ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা চুক্তি ‘এএনজেডইউএস’ নামে পরিচিত।

নিজেকে সম্মানিত মনে করছি: ট্রাম্প

জার্মানির হামবুর্গে শিল্পোন্নত ২০টি দেশের জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের শুরুতে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে শুক্রবার সকালে সম্মেলনের প্রথমদিনেই তারা প্রাথমিক সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। সিএনএন জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে আধঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়েছে। পুতিনের সঙ্গে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায় নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। উত্তরে পুতিন রুশ ভাষায় বলেন, আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ায় আমি আনন্দিত। বৈঠকে এ দুই নেতার দোভাষীর ভূমিকা পালন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ, ইউক্রেন ইস্যু ও সিরিয়া সংকট নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক মেরামত করতে সম্মত হন ট্রাম্প ও পুতিন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে ট্রাম্পের উদ্দেশে পুতিন বলেন, ’দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপনার সঙ্গে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছি। তবে ফোনালাপই যথেষ্ট নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর মীমাংসা করতে চাই, তাহলে আমাদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ অবশ্যই প্রয়োজন। আমি আশা করি, আপনি যেমনটা বলেছিলেন, এ বৈঠক থেকে একটা ইতিবাচক ফলাফল আসবে।’ গত জানুয়ারি এবং মে মাসে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের পর ক্রেমলিন এবং হোয়াইট হাউস থেকে তাদের বক্তব্যের সারাংশ প্রকাশ করা হয়েছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার পোল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্প রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ করেন। এদিকে জি-২০ সম্মেলন শুরুর আগেই জার্মানির হামবুর্গ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৭৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মার্কেলের সাক্ষাতের এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১২ হাজার বিক্ষোভকারী মুখোশ পরে সম্মেলন ভেন্যুর কাছেই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। তারা ট্রাম্পকে ‘নরকে স্বাগত’ বলে স্লোগান দিতে দিতে এগোতে শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। সেখানকার একটি ভবনে তারা স্লোগান লিখেছে, ‘জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে সীমানাহীন সংহতি, জি-২০-কে আক্রমণ কর।’ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ একপর্যায়ে জলকামান ও পেপার স্প্রে করে। তখন বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পানির বোতল, পাথর ও মশাল ছুড়ে পাল্টা জবাব দেয়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয় এবং যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের একটি হেলিকপ্টারের পাইলটকে বিভ্রান্ত করতে বিক্ষোভকারীরা নানা দিকে ধারাবাহিকভাবে লেজার রশ্মি ছোড়ে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। ভয়াবহ বিক্ষোভের কারণে সম্মেলন সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে। ট্রাম্পপত্নী মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেয়া অন্য নেতাদের স্ত্রীদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তার হোটেল থেকে বের হতে পারেননি। রয়টার্স জানিয়েছে, জার্মান অর্থমন্ত্রী উলফগ্যাং শহরের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে স্কুল ছাত্রছাত্রীদের একটি অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিক্ষোভের আয়োজকরা জি-২০ সম্মেলনস্থলের দিকে যাত্রা বাতিল করে। তবে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা দখল করে রাখায় বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিবিসি জানায়, হামবুর্গে সম্মেলনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় প্রায় ২০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা যেন সম্মেলনস্থলে পৌঁছতে না পারে সে জন্য ভেন্যুর আশপাশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তারপরও বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। জি-২০ সম্মেলনের দু’দিন শুক্র ও শনিবার হামবুর্গজুড়ে অন্তত এক লাখ বিক্ষোভকারী উপস্থিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ সৌদি জোটের

কাতারের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আইনগত পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশের জোট। তারা বলছে, কাতার অবরোধ প্রত্যাহারে জোটের দেয়া ১৩ শর্ত পূরণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্টতাই প্রমাণ করেছে। এদিকে কাতারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব বজায় রাখার কথা পুনঃনিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস। খবর বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের। অবরোধ প্রত্যাহারে কাতারকে ১৩ দফা শর্ত দিয়েছিল সৌদি জোট। মঙ্গলবার কুয়েতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্তের ব্যাপারে নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরে কাতার। সেই আনুষ্ঠানিক জবাব পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ নিয়ে বুধবার মিসরে আলোচনায় বসে সৌদি জোট। ওই বৈঠকেই কাতারবিরোধী অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং পরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত আসে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের তরফ থেকে। যৌথ বিবৃতিতে সৌদি জোট জানায়, ওই ১৩ শর্ত পূরণে কাতারকে বাধ্য করতে এবার কাতারের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তারা। বুধবার সকালে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টুইটার অ্যাকাউন্টে দোহার সরবরাহকৃত জবাব হাতে পাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে সৌদি নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যথাসময়ে কাতারের কাছে জবাব পৌঁছে যাবে।’ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক বিবৃতির মাধ্যমে কাতারের দেয়া জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানায় সৌদি জোট। বিবৃতিতে জানানো হয়, সরবরাহকৃত উত্তর পর্যালোচনা করে তারা সংকট নিরসনের ব্যাপারে কাতারের সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করেছে। ‘কাতার নিজের অবস্থানে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ধ্বংসের চেষ্টা করছে। ‘চার দেশের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থ সংরক্ষণে কাতারের বিরুদ্ধে সব রকমের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক এবং আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

উত্তর কোরিয়ায় কি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো কার্যকর উপায় নেই। ধ্বংসাত্মক কোনো প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের কথা উঠলেই অনেকে বলেন, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বর্বরোচিত পাল্টা হুমকির কারণ হবে এবং দেশটি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করতে সক্ষম একটি পরমাণু অস্ত্রাগার তৈরির লক্ষ্যে অগ্রসর হলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় আঘাত হানতে সক্ষম। গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য সংকট নিরসনে পেন্টাগন কয়েকটি যুদ্ধ পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রতিশোধমূলক আক্রমণসহ দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বার্ষিক মহড়ার আয়োজন রয়েছে। বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন সিউলের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংকে হুমকি দিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল ভিনসেন্ট কে ব্রুকস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের’ পথ বেছে নিয়েছে। জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন,"তার দেশের ‘উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা’ রয়েছে। বাধ্য হলে আমরা অবশ্যই সে শক্তি ব্যবহার করব, যদিও ওই পথে আমরা যেতে চাই না।" কিন্তু সামরিক পন্থাগুলো আগের তুলনায় এখন আরও নির্মম। এমনকি সবচেয়ে স্বল্পমাত্রার স্ট্রাইকেও বড় ধরনের হতাহতের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ সীমান্তের কাছে হওয়ায় হাজার হাজার অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে উত্তর কোরিয়া। যদিও উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রগুলো স্বল্পমাত্রার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া যদি এটি ব্যবহার করে তবে এটি সম্ভবত অধিক লোকের প্রাণনাশের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। যদিও সামরিক আক্রমণের মাধ্যমে কোনো দেশের পরমাণু অস্ত্রাগার ধ্বংসের ইতিহাস পূর্বে নেই। জানা যায়, ১৯৯৪ সালে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম হামলার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী উইলিয়াম জে পেরি পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু চুল্লিতে হামলার পরিকল্পনা তৈরির জন্য পেন্টাগনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত হাজার হাজার মৃত্যুর শঙ্কায় এ পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরিস্থিতি এখন আরও তুঙ্গে। মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, উত্তর কোরিয়া কয়েকডজন পরমাণু বোমা নির্মাণ করেছে- সম্ভবত আরও অনেক কিছু। এমনকি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর হামলার সক্ষমতা দেশটির আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে দেশটির অর্থনৈতিক বন্ধু চীনকে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। কোরীয় উপদ্বীপে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং পরমাণু সমস্যার সমাধানে সেখানে যুদ্ধজাহাজও পাঠিয়েছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রাগারকে গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকার আক্রমণাত্মক হামলা ব্যর্থ হতে পারে। কারণ, উত্তর কোরিয়ার বহু ক্ষেপণাস্ত্র পাহাড়ের গুহায় বা ভূগর্ভস্থ এবং কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মোবাইল লঞ্চারে লুকানো রয়েছে। উত্তর কোরিয়া বারবার হুমকি দিয়েছে, দেশটি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবে। অধিকাংশ বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্ররোচণাকে এড়িয়ে কিম এখনই তার কেমিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকছেন। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিসের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অ্যান্থনি কোর্ডেসম্যান বলেন, ত্রি-মাত্রিক এক জটিল দাবা খেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিটি পক্ষের জন্য সংঘাত শুরুর বহু পন্থা ও কারণ রয়েছে। তবে এটি একবার বেধে গেলে থামানো আরও কঠিন হবে।

ক্ষতিপূরণের লোভে বাঘের খাদ্য হচ্ছেন বৃদ্ধরা!

বনের পাশে বসতি হলে মাঝেমধ্যেই গরু, ছাগল এমনকি মানুষের ওপরও আক্রমণের খবর শোনা যায়। তবে এর ব্যতিক্রম ভারতের উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট টাইগার রিজার্ভ অঞ্চলে। এ বনের পাশেই আছে ছোট্ট একটা গ্রাম। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেই ছোট্ট গ্রামটিতে বাঘের আক্রমণে মারা গেছে সাতজন। রহস্যজনকভাবে মৃতদের সবাই বৃদ্ধ। এ বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে অভিনব তথ্য নজরে আসে পিলিভিট টাইগার রিজার্ভ (পিটিআর) কর্তৃপক্ষের। বেশ কয়েকটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে তারা বুঝতে পারেন ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই ঘটানো হচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বাঘের আক্রমণে কেউ মারা গেলে বন দফতরের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। গ্রামের লোকজন এ টাকার লোভে ইচ্ছাকৃতভাবেই বাড়ির বৃদ্ধদের বাঘের খাদ্য হিসেবে বনে পাঠাচ্ছে। তবে তারা এটাও ধারণা করছেন যে, ঘটনার সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবেই যুক্ত থাকছেন পরিবারের বৃদ্ধরাও। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রামে জার্নেল সিংহ নামে ষাটোর্ধ্ব এক কৃষক এমন তথ্য মেনেও নিয়েছেন। তার দাবি, গ্রামবাসী জঙ্গল থেকে তেমন সুবিধা পান না। দারিদ্র্যের রোষানলে পড়ে তারা বাধ্য হয়ে এ কাজ করেন। বৃদ্ধরাও ব্যাপারটি মেনে নিয়েছেন। পিটিআরের এই পর্যবেক্ষণ সামনে আসার পরেই ঘটনার তদন্তে নামে বণ্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। বাঘের আক্রমণে প্রতিটি মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ ও সম্পূর্ণ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তারা। তদন্ত কর্মকর্তা কালিম আথার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনা আলাদা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে ব্যুরোর কাছে। পূর্ণ প্রতিবেদন জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ দফতরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এ ঘটনার ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।

স্ত্রীর 'অস্বাভাবিক' মৃত্যু, স্বামী আটক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার মুরারিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এলিনা বেগম (২৩) উপজেলার কৈশবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে। আটক স্বামী মাসুম আলী (২৮) গোগ্রাম ইউনিয়নের মুরারিপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে মাঝে মধ্যেই স্বামী মাসুম এলিনাকে নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এলিনার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তবে শনিবার ভোরে মাসুম এটি স্বাভাবিক মুত্যু বলে প্রচার করতে থাকেন। তারা আরো জানান, এলিনার দুই কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাসুমকে আটক করেছে। নিহত এলিনার মা ছবি আরা বেওয়া অভিযোগ করে জানান, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিন বছর আগে এলিনার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই মাসুম তার মেয়েকে নির্যাতন করে আসছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। গোদাগাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিহতের স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বৃদ্ধি, নিচু এলাকা প্লাবিত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও অবিরাম বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাঁধের বাইরে এবং চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শনিবার সাকালে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা গেছে। যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যেই নদী তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
কোনো কোনো চরের নীচু এলাকার বাড়ি-ঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিৎ কুমার জানান, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে সমতল ও নিচু এবং চরাঞ্চলের ২৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেন। তিনি আরও জানান, যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

গাইবান্ধায় তৃতীয় দিনের অভিযানেও কিছুই মেলেনি

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে তৃতীয় দিন শনিবারেও অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আগের দুইদিনের মতো আজও কোনো জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায়নি তারা। শনিবার ভোর ৫টা থেকে সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে দুর্গম এলাকায়  এ অভিযান শুরু হয়।  অভিযান চলে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এ অভিযানে অংশ নেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি),
জেলা পুলিশ লাইনের পুলিশ ও সাঘাটা থানা পুলিশের প্রায় ৫০জন সদস্য। যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. মইনুল হক। তিনি বলেন, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দিঘলকান্দিসহ আশপাশের চরগুলোতে জঙ্গি আস্তানার খোঁজে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানে  কোনো জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। জঙ্গিদের তৎপরতা ও নাশকতা প্রতিরোধে এ অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সদর উপজেলা ও ফুলছড়ি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের দুর্গম চরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়।

দেশে জমির দাম কমে যাওয়ায় টাকা পাচার হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশে জমির দাম কমে যাওয়াতে টাকা পাচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার সকালে সিলেট নগরীর নাওয়ের পুলে একটি ফুয়ারা উদ্বোধন শেষে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমানো টাকা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে কালো টাকা বেড়ে গেছে। আর জমির দাম কমার কারণে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার আগামী মাস থেকে ট্রান্সফার ফি কমাবে বলে জানিয়েছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনাকারী মাহফুজসহ আটক ৪

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জঙ্গি নেতা মাহফুজ সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে তিন সহযোগীসহ তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাহফুজ সোহেল নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডারের দায়্ত্বি পালন করছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) টি এম মোজাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাত ২টার দিকে শিবগেঞ্জর পুশকিনি এলাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটক অন্য তিনজন হলেন- জেএমবির আইসিটি এক্সপার্ট হাফিজ, সামরিক শাখার সদস্য জামাল এবং জেএমবি সদস্য জুয়েল। পুলিশ সুপার আরও জানান, আটক মাহফুজ সোহেল রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার। তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তাদের নিয়ে ঢাকা রওনা হয়েছে। এসপি জানান, ঢাকায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সালিশে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মারধর চুল কর্তন

‘আমি অন্যজাতের লোকের সঙ্গে খারাপ কাজ করছি, অপবাদ দিয়ে মারধরের পর আমার মাথার চুল কেটে সিঁথির সিঁদুরও মুছে দেয়।’ এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন রংপুরের বদরগঞ্জে ‘চরিত্রহীনা’ অপবাদ দিয়ে সালিশে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুচিত্রা রানী (৩৫)। শুক্রবার সকালে বদরগঞ্জ থানায় সুচিত্রা রানী বলেন, বৃহস্পতিবার ঘটনার সময় স্বামী ও ছেলেমেয়েরাও বাড়িতে ছিল না। মমিনুল বাড়িতে ঢুকে আমার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার চিৎকারে সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামের মানুষ আমাকে ‘খারাপ, নষ্টা, চরিত্রহীনা’ বলে সালিশে আমার ওপর নির্যাতন চালায়। লাঠি দিয়ে মারধরের এক পর্যায়ে আমার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলে বিবস্ত্র অবস্থায়ই আমার মাথার চুল কেটে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ভয়ে এখন তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরপত্তাহীনতার মাঝে আছেন। তাকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতনকারী ১৮ জনকে আসামি করে বদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন দিনমজুর গণেশ চন্দ্র রায়ের (৪৫) স্ত্রী সুচিত্রা রানী। পুলিশ ওই মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তারা হল কিশোরী মোহন (৬০), তার স্ত্রী সূর্যবালা (৫০), মলিন চন্দ্র রায় (৪০) ও তার স্ত্রী জ্যোতিকা রানী (৩২)। এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এলাকার খাদেমুল হকের ছেলে মমিনুল হক। তার একটি মুদি দোকান রয়েছে চম্পাতলীর বাজারে। ওই দোকান থেকে নিয়মিত খরচ নেন সুচিত্রা রানী। খরচের প্রয়োজনে তিনি মমিনুলের দোকানে গেলে তাকে নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত মমিনুল হক। বিষয়টি সুচিত্রা তার স্বামীকেও জানান। এরপর তিনি দোকানে খরচ নেয়া বন্ধ করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে মমিনুল হক তার বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এক পর্যায়ে ওই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে মমিনুল হক। এক পর্যায়ে নির্যাতিতা গৃহবধূর আর্তচিৎকারে মমিনুল হক পালিয়ে যায়। বিষয়টি গ্রামে জানাজানি হলে মমিনুল হক প্রভাশালী হওয়ায় তাকে অপবাদ থেকে বাঁচাতে ওই গৃহবধূকে ‘চরিত্রহীনা’ আখ্যায়িত করা হয়। এরপর গ্রামের লোকজন সালিশেও সুচিত্রাকে চরিত্রহীনা অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। তার মাথার চুল কেটে দিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে দেয় সালিশকারীরা। বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, ঘটনাটি গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় মমিনুল হককে প্রধান আসামি করে নির্যাতিত গৃহবধূর অভিযোগ মামলা হিসেবে নেয়া হয়েছে। চার আসামিকে গ্রেফতার করে রংপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বেনাপোলে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে

গ্রিনলাইন পরিবহনের কাউন্টার ভাংচুর ও চারজন পরিবহন শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে বেনাপোলে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শনিবার সকাল থেকে এই ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। ধর্মঘটের শুরুতে সকালে বেনাপোল প্রধান সড়কের ওপর পরিবহন বেরিকেট দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে শতশত পাসপোর্ট যাত্রী আটকা পড়েছে বেনাপোল চেকপোস্টে। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার বিকালে আগামী ১০ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগের (মেয়র সমর্থিত) নেতাকর্মীরা বন্দরে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি যখন বেনাপোল পরিবহন স্ট্যান্ডে আসে, তখন গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসের বক্সে যাত্রীদের ল্যাগেজ ওঠাচ্ছিলেন মোহন (৩৫) নামে এক শ্রমিক। এ নিয়ে ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে তার সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। এর পরই ছাত্রলীগের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে মোহনকে বেধড়ক মারপিট করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ওই বাসের চালক জামাল, সুপারভাইজার আলাল ও হেলপার লিয়াকতকে মারপিট করে আহত করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। পরে তারা বিজিবি ক্যাস্পের সামনে গ্রিনলাইন কাউন্টার ভাংচুর করে।
এ ঘটনার পরপরই পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে গাড়ি রেখে অবরোধ করে যশোর-বেনাপোল সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিজিবি‘র একটি প্রতিনিধি দল ভারত থেকে সীমান্ত সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। তাদের অনুরোধে পরিবহন শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়ে শনিবার সকাল থেকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক না করা পর্যন্ত বেনাপোল থেকে সব পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। শনিবারের পরিবহন ধর্মঘটের সমর্থনে মাইকেও প্রচার করা হয়। বেনাপোল গ্রীনলাইন পরিবহনের ম্যানেজার রবীন বাবু বলেন, বিষয়টি ঢাকায় মালিককে জানানো হয়েছে। তারা ওখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। শনিবার সকালে এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। বেনাপোলের সব পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো বসে এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে তিনি জানান। বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। থানায় এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শ্রমিক সংগঠন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি দেখা হবে।

সুনামগঞ্জে নিখোঁজ দুই সহোদর স্কুলছাত্র উদ্ধার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর দুই সহোদর স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ডে একটি চায়ের দোকান থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃতরা হল, উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের বালিজুরী গ্রামের সাইদুল ইসলামের শিশুপুত্র আবু সুফিয়ান (১৩) ও আবু তালহা (১১)। আবু সুফিয়ান উপজেলার বালিজুরী হাজি এলাহি বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম ও আবু তালহা ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জানা গেছে, আবু সুফিয়ান ও আবু তালহা গত ৩ জুন সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। বিকাল গড়িয়ে রাতেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় অভিভাবক ও স্বজনরা তাদের খোঁজাখুঁজি করেন। মঙ্গলবার দিনভর অপেক্ষা আর খোঁজাখুঁজির পর তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে তাদের বাবা সাইদুল ইসলাম তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্স কাজে লাগিয়ে পুলিশ শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট কুমারগাঁও সিলেট-সুনামগঞ্জ বাস স্ট্যান্ডে মামুর চায়ের দোকান থেকে উদ্ধার করে। রাতেই সিলেট থেকে ওই দুই শিশুকে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অানা হয়েছে বলে জানা গেছে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খাঁন যুগান্তরকে দুই শিশু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিশু দুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের কারণ এখনো জানা যায়নি। শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ছাতকে ১৪ দিন বাসায় রেখে তরুণীকে ধর্ষণ

ছাতকে প্রেমের অভিনয় ও বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ১৪ দিন বাসায় রেখে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আবদুল আলীমকে রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ আলীম ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এক এমপির ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনও আইনি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করছে। আবদুল আলীমের মা রীনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ছাতকের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক আমার চাচাতো ভাই। আলীমের মামা বিলাল উদ্দিন উত্তর কুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বিলালের উদ্যোগে সালিশ কমিটি বসে মেয়েটির জন্য ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছেন। ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমানও বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য সহযোগিতা করছেন। বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ছাতক থানার ওসির অনুরোধে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহেরকে জানাই। পরে এ নিয়ে কোনো পক্ষই আমাকে জানায়নি। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি জানি না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। ছাতক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিরুল্লাহ খান বলেন, বিষয়টি দৈনিক যুগান্তর পড়ে জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দেশে ফিরেই দেবেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের দিকে তাকিয়ে আছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কারণ এ সফরের মধ্য দিয়েই নির্বাচন ও প্রয়োজনে আন্দোলনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে।দলের নীতিনির্ধারক বলছেন, লন্ডন থেকে ফিরলে বিএনপিকে নতুন রূপে দেখা যাবে। দেশে ফিরেই তিনি জাতির সামনে সহায়ক সরকারের ফর্মুলা দেয়া ছাড়াও নির্বাচন বিষয়ে অনেক কিছু খোলাসা করবেন। এছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্তসহ তাদেরকে প্রত্যক্ষভাবে মাঠে নামার গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হতে পারে। এজন্য বিভিন্ন জরিপের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকাও খালেদা জিয়া সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন। লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা যুগান্তরকে আরও জানান, দেশে ফিরে সরকারবিরোধী জনমত তৈরিতে রাজপথে নামবে দলটি। লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বিভাগীয় ও জেলা শহরে সমাবেশ করতে পারেন খালেদা জিয়া। এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শও নেয়া হবে। তবে একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানই চাচ্ছেন চেয়ারপারসন রাজপথে সক্রিয় হোক। এর মাধ্যমে নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবেন, যা আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে সাংগঠনিক শক্তি আর ক্ষয় করবে না দলটি। নেতারা মনে করেন, আন্দোলনের নামে শক্তি ক্ষয় নিষ্প্রয়োজন। কারণ বর্তমানে মাঠে দলটির ভোটের যে শক্তি রয়েছে সেটাই সরকারের জন্য বড় আতঙ্কের বিষয়। তাই আন্দোলনের নামে কোনো ঝামেলায় না গিয়ে নির্বাচনের তফসিল পর্যন্ত আরও শক্তি সঞ্চয় করার ওপর অগ্রাধিকার দেয়া হবে। আর যদি সত্যিই আন্দোলন করতেই হয় তবে আন্দোলন যাতে সফল হয় সেদিকটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
দলটির নেতারা মনে করেন, মুখে যাই কিছু বলুক না কেন সরকার কখনই চাইবে না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কেননা খালেদা জিয়া নির্বাচনে এলে ক্ষমতাসীনদের পরাজয়ের শংকাই বেশি। তাছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে একতরফা বা বড় ধরনের কারচুপিও করতে পারবে না। তাই সরকারকে চাপে রেখে কীভাবে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করানো যায় বিএনপি সেদিকটাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ জুলাই খালেদা জিয়ার লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তাই আপাতত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি এ রূপরেখা দেবেন। একইসঙ্গে সরকারবিরোধী জনমত ও নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে বিভাগীয় ও জেলা শহরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হতে পারে লন্ডন সফরে। ওই সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হয়ে লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির এক তরুণ নেতা ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা। একই সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও এক ভাইস চেয়ারম্যানেরও লন্ডনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাই মা-ছেলের সাক্ষাতে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সেখানে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কোনো কারণে ১৫ জুলাই যাওয়া সম্ভব না হলে চলতি মাসেই তিনি লন্ডন যাচ্ছেন এমনটা নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার এক ঘনিষ্ঠ নেতা। জানতে চাইলে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও কূটনৈতিক উইংয়ের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান রিপন যুগান্তরকে বলেন, চোখ ও পায়ের চিকিৎসা করাতে চেয়ারপারসনের লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেও তিনি সেখানে চিকিৎসা করিয়েছেন। এ মাসেই তিনি যেতে পারেন। তবে কবে কখন যাবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সূত্র জানায়, আগামী একাদশ নির্বাচনে অংশ নেয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। দলের শীর্ষ দুই নেতার সাক্ষাৎ ছাড়া এসব সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। তাই আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে ওই নির্বাচন কীভাবে হবে, নির্বাচনী জোট করলে কাদের সঙ্গে হবে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে। খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গীদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, মা-ছেলের আলোচনায় মূল এজেন্ডা থাকবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দলের জয়ের ব্যাপারে করণীয় চূড়ান্ত করা হবে। তাই স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় স্থান পাবে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকাও। ওই সূত্রটি আরও জানায়, খালেদা জিয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা লন্ডনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিন ক্যাটাগরি বিবেচনা করে এসব প্রার্থীর তালিকা করা হয়েছে। প্রথম বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে ভোটের ফলাফল কী হবে, দ্বিতীয়ত- প্রতিটি আসনে তিনজন করে প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে কে কত ভোটে এগিয়ে থাকবেন এবং তৃতীয়ত- জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলে ফলাফল কী হবে। সম্ভাব্য এ তিন ক্যাটাগরির জরিপকে সামনে রেখেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তে চমক দেখা যেতে পারে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন বিভিন্ন পেশার ক্লিন ইমেজের লোকদের এনে দলের মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছিলেন, তেমনি এবার সেই পথ অনুসরণ করা হতে পারে। বিগত সময়ে যেসব মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের অনেককেই এবার মনোনয়ন দেয়া নাও হতে পারে। এদের জায়গায় নতুন মুখ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয় এমন নতুন মুখও মনোনয়ন পেতে পারেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাঠে নামার আগে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও শেষ করা হবে। এখন পর্যন্ত দলের স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু জেলার পুনর্গঠনও বাকি। দলের এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা করাতে লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ওই সময় প্রায় দুই মাসের বেশি সময় তিনি সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটান। দীর্ঘদিন পর ঈদুল আজহা উদযাপন করে ওই বছর ২১ নভেম্বর দেশে ফেরেন খালেদা জিয়া।

অর্থবছরের শুরুতেই অর্থমন্ত্রীর কপালে ভাঁজ

২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুটা হয়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে। কেউ ভাবেনি নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কাজ দুই বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে। ধারণা করা হচ্ছিল ভ্যাটের হার কমানো হতে পারে। প্রস্তাব ছিল ১৫ শতাংশের। সবার দাবি ছিল ১০ থেকে ১২ শতাংশ করার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো আইন বাস্তবায়নের কাজই সংসদ স্থগিত করে দেয়। এতে নতুন অর্থবছরের বাজেট এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অনিশ্চয়তা খরচের বাজেট নিয়ে নয়, অনিশ্চয়তা রাজস্ব আয়ের বাজেট নিয়ে। কারণ খরচ নিয়ে চিন্তা নেই, এটা হবেই যদি না খরচ কাটছাঁট করা হয়। যত চিন্তা রাজস্ব নিয়ে। এবার এ চিন্তা, চিন্তা বলি কেন, দুশ্চিন্তার মধ্যেই বাজেটের প্রথম মাস জুলাই শুরু হয়েছে। কারণ কী? কারণ অর্থমন্ত্রী ভেবেছিলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা গেলে তিনি ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব পাবেন। এ আশাতেই তিনি চার লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে না। এটা তো হল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার আশু ফল। ফল তো আরও রয়েছে। কোনো বছরেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। এবারও তাই হবে বলে আশঙ্কা করা যায়। আর তা হলে শেষ পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়াবে বিপুল অংকের। এর বাড়ি কোথায়? কীভাবে এ ঘাটতি পূরণ হবে তা-ই ভাবার বিষয়। অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ২০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতেই তিনি বিচলিত। সাংবাদিকদের বলেছেন, এ মুহূর্তে তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। মিটিং-সভা করে পরে বলবেন। এ অবস্থায় পরিষ্কার বোঝা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের নতুন বাজেট তার প্রথম মাসেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমাদের বেশকিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে বুঝতে যে কী হচ্ছে শেষ পর্যন্ত। সরকারের হাতে নানা অস্ত্র আছে। আছে ঋণের অস্ত্র। সরকার তা ব্যবহার করে বেশি বেশি ঋণের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। সরকার ধনীদের ওপর ট্যাক্স আরোপ করতে পারে, যা আশা করা সমীচীন হবে না। কারণ সরকার ধনীদের উদার হস্তে দিতেই ব্যস্ত। এবারও গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের আয়কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে, যেখানে সাধারণ করদাতাদের আয়কর হারে কোনো পরিবর্তন ঘটানো হয়নি। সরকার আবার এমআরও (স্টেটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার) নামের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ব্যবহার করতে পারে। এর মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ড যে কোনো সময় যে কোনো পণ্য ও সেবার ওপর যে কোনো হারে কর বসাতে পারে। করের হার সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্ধন করতে পারে। সরকার তার সেবাগুলোর দাম বাড়াতে পারে। এ ধরনের বহু অস্ত্র আছে, যা ব্যবহার করা হতে পারে। ক্লান্ত মানুষ কত প্রতিবাদ করবে? আর প্রতিবাদ করার আগে তো জানতে ও বুঝতে হবে। যদি কৌশলটি হয় ‘চোরাগোপ্তা’, তাহলে বুঝতে বুঝতেই চলে যাবে বছর, যেমনটি ঘটেছে এবার আবগারি শুল্ক নিয়ে। এ অবস্থায় অপেক্ষায় থাকতে হবে সরকার কোন্ পথে তার ২০ হাজার কোটি টাকার ‘ভ্যাট ঘাটতি’ পূরণ করে তা দেখতে। নতুন অর্থবছরটি শুধু ভ্যাটজনিত কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েনি। প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে অর্থনীতির খবর ভালো নয়। গেল মাস গেছে রোজার মাস। পরে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদ। এ উপলক্ষে এবং নতুন বাজেট ঘোষণা উপলক্ষে পুরো জুন মাস গেছে মূল্যবৃদ্ধির মাস। সবকিছুর মূল্য আরেক দফা বাড়িয়েছে ‘দেশপ্রেমিক’ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। মূল্যস্ফীতির ধাক্কাজনিত কষ্ট, অনিশ্চয়তার জীবন শেষ হতে না হতেই অর্থনীতিতে ঘটেছে আরও কিছু ঘটনা। এসব ঘটনা প্রাকৃতিক। কিন্তু এর প্রভাব অর্থনীতিতে ভীষণভাবে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা কোথা থেকে শুরু করব? যখন এ কলাম লিখছি তখনও ঢাকা শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলাবদ্ধ। যে পুরান ঢাকায় জীবনে জল জমতে কেউ দেখেনি সেখানেও জল। নাজিমউদ্দিন রোড হাঁটু জলের তলে। নারিন্দা, গোপীবাগ, মতিঝিল, নটর ডেম কলেজ রোড, মালিবাগ চৌধুরীপাড়াসহ ঢাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলের নিচে পড়ে এক রাতের বৃষ্টিতে। অথচ পুরো ঢাকায় চলছে জল নিষ্কাশনের বিশাল আয়োজন। বড় বড় ড্রেন খোঁড়া হয়েছে পুরো ঢাকায়। তারপরও মানুষের কেন এত কষ্ট, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। ডিএনডি বাঁধের মানুষ জলের তলে। অর্থবছরের শুরুতে এ বিপর্যয় অর্থনীতিকে বিপদগ্রস্ত করবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড় ধস, ভূমি ধস আরেকটি বিপদ। এতে প্রাণ যেমন গেছে, তেমনি হয়েছে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি। চট্টগ্রাম শহর অর্থবছরের প্রথম মাসেই জলের তলে। খবরের কাগজে তার ছবি প্রতিদিন ছাপা হচ্ছে। এদিকে আরেক প্রাকৃতিক বিপদ হচ্ছে বন্যা। এটা অকাল বন্যা নয়। অকাল বন্যায় মাস দেড়েক আগে বৃহত্তর সিলেটের সমগ্র অঞ্চল, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের মানুষ ফসল হারিয়েছে, গবাদিপশু হারিয়েছে। জীবনযাপন তাদের জন্য হয়েছে এক জ্বালা। অকাল বন্যা, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের জ্বালাতন শেষ হতে না হতেই এবার আষাঢ়ী বন্যা শুরু হয়েছে। সরকারসমর্থিত একটি দৈনিকের খবরের শিরোনাম, প্রথম পাতায় প্রথম খবরের শিরোনাম : ‘বন্যার পানি আরও বেড়েছে’। ভেতরে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি, দুর্ভোগ চরমে, দুর্গত এলাকায় মেডিকেল টিম, কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু। স্টাফ রিপোর্টারের রিপোর্ট পড়লে রীতিমতো ভয় জাগে। উত্তরবঙ্গ, সিলেট, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের অনেক অঞ্চল বন্যার জলে প্লাবিত। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এমন সময়ে হচ্ছে যখন ইতিমধ্যেই মানুষ নানা সমস্যায় আক্রান্ত। চালের সমস্যা শুরু হয়েছে। চাল আমদানির খবর হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, তারা এ বছর ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি করবে। বিপরীতে অবশ্য দেশের ভেতরে চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। সরকার চাল সংগ্রহ করতে পারেনি। এর সুযোগ নিয়েছে চাল আমদানিকারক ও চাল ব্যবসায়ীরা। তারা মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের চালের দাম হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এ এক অসম্ভব ঘটনা। অতএব ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শুরুটা যে খারাপ, তা আর বুঝিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বন্যা পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে, তাহলে নতুন বাজেটের ওপর যে চাপ বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। এদিকে রফতানির খবরও ভালো নয়। রেমিটেন্সের খবরও ভালো নয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিটেন্স হ্রাস পেয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এ খারাপ খবর নিয়েই নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ধরে ধরে ফিরতি বিমানেই দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবৈধভাবে বসবাসকারী প্রায় এক লাখ লোককে ফেরত আনতে বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের খবরও ভালো নয়। হ্রাসমান রেমিটেন্সের এ ধারা কীভাবে ঠেকানো যাবে তা-ই এবারের বাজেটের আরেক প্রশ্ন। রফতানি আয়ও আমাদের আশানুরূপ হচ্ছে না। একমাত্র পণ্য গার্মেন্ট, যা রফতানিতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। মূল্য প্রতিযোগিতা তো বহুল কথিত সমস্যা। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক সমস্যা। এ খাতে নতুন করে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ধীরে ধীরে গার্মেন্ট খাত হয়ে উঠছে আধুনিক যন্ত্রায়িত খাত, যেখানে শ্রমিকের প্রয়োজন কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট এসব সংকট ও সমস্যা নিয়েই শুরু হয়েছে।কাগজে দেখলাম ২০১৬-১৭ অর্থবছরটি শেষ হয়েছে আরেকটি খারাপ খবর দিয়ে। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরটি শুরু হচ্ছে বেসরকারি খাতে কম ঋণ প্রবাহ দিয়ে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে; কিন্তু এপ্রিল ও মে মাসে ওই ঋণের পরিমাণ আবার হ্রাস পেতে শুরু করেছে। ১৬ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে ঋণ প্রবাহের পরিমাণ মে মাসে ১৬ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। এদিকে বছরের শুরুতে দৃশ্যত একটি ভালো খবর আছে। তা হচ্ছে, সরকারি ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সরকার ধরিয়ে দেবে ‘হাইট্র্যাক’ বেসরকারি বিদ্যুৎ খাতে। দৃশ্যত এটি ভালো খবর। কিন্তু এটি ধরিয়ে দেয়ার আগে দশবার ভাবা উচিত। পরীক্ষা করে দেখা উচিত বড় বড় বেসরকারি, পিপিপি ইত্যাদি খাতে যে ঋণ যাচ্ছে, তা আদায় হচ্ছে কিনা। না দেখে নতুনভাবে ঋণ দেয়া হবে নিয়মবহির্ভূত কাজ। সবকিছু মিলিয়ে বছরের শুরুটা ভালো নয়। বাকিটা রূপালী পর্দায় দেখতে হবে।
ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতিবিষয়ক লেখক; সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
rmdebnath@yahoo.com

অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারে অনিদ্রা ও আবেগজনিত সমস্যা হয়

যুক্তরাজ্যে এডুকেশন পলিসি ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায় টিনএজারদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক অসুস্থতার সংযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা ও আবেগজনিত সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে আরও কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন অত্যধিক মাত্রার শরীরবৃত্তীয় উত্তেজনা, মনোযোগের ঘাটতি, অস্থিরতা, অসামাজিক হয়ে যাওয়া, সমাজ বিচ্ছিন্নতা ও টেকনোলজিক্যাল অ্যাডিকশন। যারা স্কুলের বাইরে ৬ ঘণ্টা সময় ইন্টারনেটে ব্যয় করে গবেষণায় তাদের এক্সট্রিম ইন্টারনেট ইউজার বলা হয়েছে। গবেষণাটির জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ১৫ বছর বয়সী ৩৭.৮ শতাংশ টিনেজার এক্সট্রিম ইন্টারনেট ইউজার। অন্যান্য দেশের তুলনায় যা কয়েক গুণ বেশি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কোনো কারণে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই উদ্বিগ্নতায় ভুগে থাকে। তবে কম বয়সী ছেলেমেয়েকে জোরপূর্বক দূরে রাখার ব্যাপারেও গবেষণাটিতে সতর্ক করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, এরকম আচরণ ছেলেমেয়েদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। যা পরে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় তাদের মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতাকে হ্রাস করবে। টেকশহর।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক ফেসবুকের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। ওই মামলায় ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট হয়ে যাওয়ার পরও ব্যবহারকারীদের ওয়েব ব্রাউজিং শনাক্ত করে ফেসবুক। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ফেসবুক অন্যান্য ওয়েবসাইটে থাকা তাদের ‘লাইক’ বাটন ব্যবহার করে ব্যবহারকারী কোন কোন সাইট ব্রাউজ করছে সে তথ্য সংগ্রহ করে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ওই তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রেখে দিতে পারে। তাই ফেসবুকের এমন কর্মকাণ্ড দেশটির প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘন বলেও মনে করছে ওই বাদীপক্ষ। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন সাইটে যেসব ফেসবুক লিঙ্ক দেয়া থাকে সেখান থেকে ফেসবুকে গেলে এমন ব্রাউজিং তথ্য রেখে দেয় ফেসবুক। তবে মামলাটি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জেলা বিচারক এডওয়ার্ড ডেভিলা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, বাদীপক্ষ এমন অভিযোগ বিষয়ে শক্তপোক্ত প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে মামলাটি খারিজ হয়েছে। বিচারক জানান, যেহেতু এটি একটি অপশনাল বিষয় তাই বাদীপক্ষ চাইলে তাদের প্রাইভেসি অপশন বন্ধ করে রাখতে পারে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। বাদীপক্ষ আর প্রাইভেসি বা আড়িপাতা নিয়ে অভিযোগ আনতে পারবে না, কিন্তু চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে পারে বলেও জানান তিনি। আদালতের এমন রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ফেসবুক।

পেট ব্যথা ও যকৃতে ফোড়া হলে

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ইনফেকশন সৃষ্টিকারী জীবাণু ও বিভিন্ন অঙ্গের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী পরজীবীগুলোকে সাধারণত চারটি বড় ভাগে ভাগ করা হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রটোজোয়া এবং প্যারাসাইট। এর মধ্যে ভাইরাস অতি আণুবীক্ষণিক জীব যা কেবল অন্য কোষের মধ্যে প্রবেশ করেই বংশ বিস্তার করতে পারে।
ব্যাকটেরিয়া হল আণুবীক্ষণিক এককোষী জীব যার সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই। প্রটোজোয়া হল এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব যার কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে এবং প্যারাসাইট (বা পরজীবী) হল বহুকোষী ক্ষুদ্র জীব যা কেবল অন্য জীবের দেহ থেকে জৈবরস নিয়ে বেঁচে থাকে।
লিভারে অ্যাবসেস
শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো আমাদের লিভার ও পিত্তথলিতে জীবাণু ও পরজীবীগুলো ইনফেকশন করে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। লিভার বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও প্রটোজোয়া দিয়ে আক্রান্ত হতে পারে। ইনফেকশনের সবচেয়ে সাধারণ (কমন) কারণ হল হেপাটাইটিস ভাইরাস। এই ভাইরাসগুলোর লিভার কোষের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ থাকে বিধায় এদের বলা হয় হেপাটোট্রফিক ভাইরাস। হেপাটো শব্দটি গ্রীক ‘হেপার’ শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ হল লিভার। আমরা জানি, হেপাটাইটিস ভাইরাস জনিত লিভার প্রদাহ স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এছাড়াও, স্বল্পমেয়াদি প্রদাহ থেকে হেপাটিক ফেইলিওর এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ থেকে সিরোসিস এবং ক্যান্সারও হতে পারে। হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত প্রদাহ খুব কমন বিধায় এটি নিয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা ও লেখালেখি বেশি হয়। কিন্তু ভাইরাস ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, প্রটোজোয়া ও প্যারাসাইট দিয়ে লিভার আক্রান্ত হতে পারে। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা এ ধরনের কিছু লিভার ইনফেকশন, তার লক্ষণ ও নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা ও তার চিকিৎসা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।
লিভারে ফোড়া বা লিভার অ্যাবসেস
সাধারণ অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া লিভারে প্রবেশ করতে পারে না। তবে খাদ্যনালী ও পিত্তনালীর ইনফেকশন হলে জীবাণু ওই স্থান থেকে যথাক্রমে পোর্টাল ভেইন নামক রক্তনালীর মাধ্যমে ও সরাসরি লিভারে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও, পিত্তনালী ও থলির বিভিন্ন রোগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করতে গিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও ব্যাকটেরিয়া লিভারে প্রবেশ করতে পারে। ব্যাকটেরিয়া লিভারে কোনো একটি বা একাধিক স্থানে প্রবেশ করে বংশবৃদ্ধি শুরু করলে আক্রান্ত লিভার কোষ নষ্ট হতে থাকে। এ অবস্থায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠে এবং ওই ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে বিভিন্ন ধরনের শ্বেত রক্ত কণিকা পাঠাতে শুরু করে। অসংখ্য শ্বেত রক্ত কণিকা ব্যাকটেরিয়ার কলোনিকে চারদিক থেকে আবৃত করে ফেলে এবং ব্যাকটেরিয়াকে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের মাধ্যমে ধ্বংস করতে থাকে। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ওই আবৃত এলাকার ভেতরে জীবিত ও মৃত লিভার কোষ, জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়া ও বিভিন্ন ধরনের শ্বেত রক্ত কণিকার সমন্বয়ে বিশেষ ধরনের রস (স্যাপ) জমা হতে থাকে, যাকে বাংলায় পুঁজ বলে। ওই পুঁজসমেত আবৃত এলাকাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় হেপাটিক বা লিভার অ্যাবসেস। ঠিক একই প্রক্রিয়ায় Entamoeba histolytica নামক প্রোটোজোয়া দিয়েও লিভারের অ্যাবসেস হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত লিভার অ্যাবসেসকে মেডিকেলের পরিভাষায় বলে পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেস এবং এন্টামিবাজনিত লিভার অ্যাবসেসকে বলে অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস। ব্যাকটেরিয়াজনিত লিভার অ্যাবসেস এক বা একাধিক স্থানে হতে পারে এবং সাধারণত আকারে বড় হয়। অ্যামিবাজনিত লিভার অ্যাবসেস সাধারণত একটি স্থানেই হয় এবং আকারে বড় হয়।
লিভার অ্যাবসেস-এ আক্রান্ত রোগীর উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর ও পেটের ডান দিকের উপরিভাগে ব্যথা হয়। এছাড়াও পিঠের ডান দিকের উপরিভাগের হাড়ে ব্যথা এবং শুকনো কাশিও থাকতে পারে। লিভারের আকার সাধারণত বড় হয়ে যায় এবং পেটে ধরলে ব্যথা হয়। অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস-এর তুলনায় পায়োজেনিক লিভার অ্যাবসেস-এ জন্ডিস হওয়ার আশংকা বেশি থাকে। এছাড়াও লিভার অ্যাবসেস থেকে জীবাণু যদি ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ফুসফুসের আবরণীতে পানি জমতে পারে এবং ফুসফুসে ইনফেকশন ও অ্যাবসেস হতে পারে। ফুসফুসে সমস্যা হলে রোগীর বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও ঘন কফযুক্ত কাশি হতে পারে। লিভার অ্যাবসেস-এর রোগীদের রোগ নির্ণয়ের জন্য মূলত পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। অ্যাবসেস অনেক ছোট হলে অনেক সময় এমআরআই নামক পরীক্ষাও করানো লাগতে পারে।
লিভার অ্যাবসেস-এর চিকিৎসার জন্য ওষুধ গ্রহণ করার পাশাপাশি সিরিঞ্জ দিয়ে পুঁজ বের করতে হয়। ব্যাকটেরিয়াজনিত অ্যাবসেস-এর ক্ষেত্রে রক্তনালীতে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। এন্টিবায়োটিক কোনটি দেয়া হবে তা নির্ভর করে সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতির ওপর। সাধারণত ২ সপ্তাহ রক্তনালীতে এন্টিবায়োটিক দেয়ার পর ৪ সপ্তাহ মুখে খাওয়ার জন্য এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। অ্যামিবিক লিভার অ্যাবসেস-এর ক্ষেত্রে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন উচ্চমাত্রায় মেট্রোনিডাজল ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। অ্যাবসেস একটি হলে সিরিঞ্জ দিয়ে যতটুকু সম্ভব পুঁজ বের করে ফেলা হয়। অ্যাবসেস একাধিক হলে বড়টির পুঁজ বের করা হয়। ছোট অ্যাবসেসগুলো এন্টিবায়োটিক চিকিৎসাতে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

ক্যাটের সঙ্গে তুলনায় চটেছেন সোনম

বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুরের সঙ্গে সোনম কাপুরের সম্পর্ক খুব একটা ভালো না। এ কথা সবাই জানে। তার উপর সম্প্রতি রণবীর সোনমকে নিয়ে এমন একটা কথা বলেছেন, যাতে চটেছেন নায়িকা।
খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে ক্যাটরিনা কাইফ ও রণবীর কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘জাগ্গা জাসুস’।
আপাতত এই ছবির প্রচারণায় ব্যস্ত তারা। তার ফাকেই রণবীর যখনই পারছেন, ক্যাটরিনাকে খুশি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাজার হোক সাবেক প্রেমিক বলে কথা। আর সেটা করতে গিয়েই এবার একটু গোলমাল করে ফেলেছেন নায়ক।
এক সাক্ষাৎকারে ক্যাটরিনার ফ্যাশন সেন্স সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ তিনি বলেন, ভারতে অন্যদের চেয়ে ফ্যাশন-বোধে অনেকটাই এগিয়ে ক্যাটরিনা। লোকে নামও জানে না, এমন সব ব্র্যান্ড খুঁজে বার করে ও। সেগুলো জনপ্রিয় হওয়ার বেশ কয়েক মাস আগেই পরে ফেলে। সেই জন্যই বোধহয় লোকে সোনম কাপুরের ফ্যাশন সেন্স নিয়ে যতটা মাতামাতি করে, ক্যাটরিনার ফ্যাশন সেন্স নিয়ে ততটা করে না!
ক্যাটরিনার প্রশংসা করতে গিয়ে সোনমকে মারাত্মক চটিয়ে দিয়েছেন রণবীর। সোনমের মতে, ক্যাটরিনা কখনোই নিজের স্টাইল বা লুক নিয়ে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন না, যেটা তিনি হামেশাই করে থাকেন। তাই ক্যাটরিনা এবং তার ফ্যাশন সম্পর্কে ধারণার কোনো তুলনা করা উচিত নয়।
রণবীরের এমন কথায় ক্যাট অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বলেছিলেন, সোনমের ফ্যাশন সেন্স অসামান্য! আমার অতটাও নয়। যা ভাল লাগে, তাই পরি।