Monday, April 28, 2014

শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় আচ্ছাদন কেন? by কাবেরী গায়েন

প্রথম আলোর সাংবাদিক শরিফুজ্জামানকে ধন্যবাদ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অধীনে সাধারণ শিক্ষার মূল পাঠ্যবইগুলোকে ‘মাদ্রাসা শিক্ষার উপযোগী’ করে তুলতে গিয়ে বইগুলোর আঙ্গিক ও আদর্শিক যে পরিবর্তন হতে চলেছে, সেই ধরনটি তুলে ধরার জন্য (১০ এপ্রিল, ২০১৪)। প্রতিবেদনটি পড়ে খানিকক্ষণ বিমূঢ় হয়ে ছিলাম। দেশটি বাংলাদেশ, পঞ্চাশের দশকের পাকিস্তান নয় যে ভাষা সংস্কার কমিটি যা কিছু আছে ‘হিন্দুয়ানি’ ভাষার মধ্যে, তা কাটছাঁট করে ঝেঁটিয়ে বিদায় দেবে। পরিহাস আরও বড় যে শুধু ভাষা নয়, চিহ্নায়নের সব স্তরে ‘অমুসলিম’ বলে যা কিছু বিবেচিত হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছে, তার সবকিছুই ঝেড়ে পবিত্র করা হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার বইগুলোকে মাদ্রাসা উপযোগী করার জন্য!

পঞ্চায়েতের ‘বিচার’ নিয়ে তোলপাড় by রজত রায়

এই ভোটের বাজারে সবাই যখন দলের হয়ে প্রচারে ব্যস্ত, তখন পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীন জনজাতি সাঁওতাল সমাজের মধ্যে আলোড়ন চলছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। বীরভূমের সুভলপুরের একটি গ্রামে গত জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখে এক সাঁওতাল মেয়েকে একটি মুসলমান ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে প্রথমে সাঁওতাল গ্রাম পঞ্চায়েতে বিচার হয় এবং পরে তাদের অনুমতি পেয়ে মেয়েটিকে গণধর্ষণ করে ‘শাস্তি’ দেয় বলে অভিযোগ।

দারিদ্র্য বিচারপ্রাপ্তিতে বাধা নয় by মো. জসিম উদ্দিন

আজ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। ২৮ এপ্রিলকে দিবসের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হলো ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ এই দিনে কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশে আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপিত হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ´Law Day´ এবং ´Legal Services Day´ দুটিই উদ্যাপিত হয়।

মিসরে ব্রাদারহুডের ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ

মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহামেদ বাদিসহ ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার এ আদেশ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনা প্রদেশে গত বছরের ১৪ আগস্ট পুলিশ সদস্যদের হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের এই ৬৮৩ জনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই আদালত গত মার্চে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৫২৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন। তবে আজ সেই দণ্ড সংশোধন করেছেন আদালত। ৫২৯ জনের মধ্যে ৪৯২ জনের মৃত্যুদণ্ড সংশোধন করা হয়েছে। অধিকাংশেরই দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'অভিবাসীকে শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উত্পাদনের উপাদান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যান্য নাগরিকের মতো তাঁদের জন্যও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।'

আজ সোমবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে '২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন-সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ সভায়' প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর বাসসের।

২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন ইস্যুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রত্যেক অভিবাসীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপাদানের পরিবর্তে একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সমাজ এবং অর্থনীতি বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং উত্পাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক সেবার চাহিদা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে; যা বৈশ্বিক মানব স্থানান্তরের গতিধারাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। পাশাপাশি অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো জোরালো হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো পরিবেশ নাজুক এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো এসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য সব উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই জনগণকে রাখতে হবে। জনগণের মর্যাদা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এটা সমানভাবে প্রযোজ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক প্রতিনিধি স্যার পিটার সুথারলেন্ডর একটি ভিডিওবার্তা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জনমিতি-সংক্রান্ত 'বৈশ্বিক নেতৃত্ব' বৈঠকে শেখ হাসিনা উন্নয়নের ওপর অভিবাসনের প্রভাব বিষয়ে যে মতামত দিয়েছিলেন তার উল্লেখ করেন। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈশ্বিক জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং এর ফলজনিত চ্যালেঞ্জ কীভাবে কল্যাণকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে এবং পাশাপাশি অভিবাসন এবং স্থানান্তরের সুফল কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে তখন তিনি তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০১৫-পরবর্তী এজেন্ডায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজিএসের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক খাতে, বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও ৬ শতাংশেরও বেশি হারে আমাদের জিডিপি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অতিদরিদ্রের সংখ্যা ২৯ শতাংশে হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩১ শতাংশ অর্জন করেছি।'

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছেন, অভিবাসন-প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক এবং কল্যাণমূলক করা প্রয়োজন। তিনি বলেন,  'আমাদের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে অভিবাসীদের অধিকারের বিষয়টি। উত্স এবং গন্তব্য উভয় দেশে অভিবাসন এবং অভিবাসীকর্মীদের ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদের জনগণকে বলতে হবে, অভিবাসন সব সমাজের জন্যই একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।'

এ ক্ষেত্রে তিনি ছয়টি বিষয়ের প্রস্তাব করে বলেন, এগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্য এবং সূচক হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সেগুলো হলো: প্রথমত, ২৫ কোটির কাছাকাছি অভিবাসী আজ বিশ্বব্যাপী কাজ করেন, বসবাস করেন অথবা ভ্রমণ করেন। নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে তাঁরা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। দেশে ফেরার সময় তাঁরা কাজ ও জীবনের যেসব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং ধ্যান-ধারণা নিয়ে ফিরে আসছেন, তার মাধ্যমেও নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

দ্বিতীয়ত, মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতেই হয়। টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষের অধিক হারে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগতভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যার দৃশ্যপট পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ। একজন অভিবাসীকর্মীকে উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে দেখতে হবে এবং প্রক্রিয়াটিতে প্রত্যেক ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।

তৃতীয়ত, একজন অভিবাসীকর্মী যখন বিদেশে যান, তখন তাঁকে সামাজিক-আবেগিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বিশেষ করে অভিবাসী নারী এবং বালিকাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি করে প্রযোজ্য। নিজ সমাজেও তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারণার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁদের জন্য আরও সুন্দর এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

চতুর্থত, বাংলাদেশের মতো দেশে ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত যুব জনসংখ্যার কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকে এই প্রশিক্ষণযোগ্য যুব জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। উন্নত দেশগুলোকে এশিয়া এবং আফ্রিকার যুব জনসংখ্যাকে জ্ঞান ও দক্ষতা বিষয়ে প্রস্তুত করতে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে আমরা এই বিশালসংখ্যক যুবক এবং যুব মহিলার দ্রুত প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

পঞ্চমত, ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনায় অংশীদারিত্ব এবং সহযোগিতা দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সম্পদ ও সামর্থ্যের জোগান দিয়ে যাচ্ছি। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য উন্নত দেশগুলোকে আরও বেশি করে তাদের অর্থ-জ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

২০১২ সালে রিও-তে অভিবাসীদের সব ধরনের অধিকার প্রদানের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় ঐকমত্য পোষণ করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রত্যেক অভিবাসী পুরুষ ও নারীর অধিকারকে সমর্থন দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের এমন উপায় চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে অভিবাসন দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখতে পারে, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, অসমতা কমায় এবং বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়ক হয়। তিনি বলেন, অভিবাসন-প্রক্রিয়ায়, অভিবাসীদের বিশেষ করে নারী ও বালিকাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য গুণগত মৌলিক শিক্ষা, ভকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ছাড়া উত্স ও গন্তব্য উভয় দেশে যাতে তাঁরা অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য অভিবাসীদের সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক বিষয়ে সহায়তা প্রদান এবং অর্থ প্রেরণসহ তাঁদের সব ধরনের খরচের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সঙ্গে এগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমেই আগামী ১৫ বছরে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- এসডিজিএস সব দেশের জন্য একটি দূরদর্শী এবং বৈপ্লবিক লক্ষ্য হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মনে করেন, এগুলো সর্বজনীন এবং প্রতিটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও চাহিদা বিবেচনায় সমস্যার সামগ্রিক সমাধান প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি জব্দ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি লেফটেন্যান্ট  কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আজ সোমবার সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর এক একর  সম্পত্তি জব্দ করা হয়। এর পরই এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিষয়ে সরকার কর্তৃক গঠিত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই সম্পত্তি জব্দ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কানুনগো আবুল কাশেম জানান, হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন সোনাইমুড়ী ২৪৬ মৌজার  নাল, বাগান, ভিটি ও পুকুরে ১৩৬ নম্বর খতিয়ানে ৯.২২৫০ একর সম্পত্তি রয়েছে রাশেদ চৌধুরীর বাবা মৃত শিহাব উদ্দিন চৌধুরীর নামে। ওই হিস্যা অনুযায়ী রাশেদ চৌধুরীর নামে ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। তিনি আরও জানান, রাশেদ চৌধুরীর বাড়ির ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ, নালা ৬৩১ দাগে ৭৫ শতাংশ ও মাঠে ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজা জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তির ওপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু হানিফ বলেন, 'সম্পত্তির ওপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড ঝোলানো হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।'

এদিকে রাশেদ চৌধুরীর চাচাতো ভাই শোহেব আহমেদ বলেন, রাশেদ চৌধুরীর বাবার দুই বিয়ে। দুই পরিবারের মোট ২০ সন্তান রয়েছেন। তিনি বলেন, সম্পত্তির  সুষম বণ্টন হয়নি।

৩ এপ্রিল চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন দক্ষিণ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল বাহার আখন্দ সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার ৮ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ স্মারকলিপির মাধ্যমে ৯ এপ্রিল সম্পত্তি শনাক্ত করার ব্যবস্থা সম্পর্কে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-১ এর স্মারক নম্বর ৭৮৩ ও ৭৮৪-তে দেখা গেছে, সম্পত্তির বণ্টননামার ভিত্তিতে রাশেদ চৌধুরীর প্রাপ্য জমি পৃথক করে বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাশেদ চৌধুরীর এক বোন ও ৮ ভাই রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাছান, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম, ভূমি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের নমুনা দেখলেই আইনি ব্যবস্থা

উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা চলার সময় সাজেশন আকারে, মুঠোফোনে খুদেবার্তা, হাতে লেখা ও টাইপ করা কোনো কাগজ বা তথ্য কারও কাছে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে জরুরি এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হেনস্তা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হবে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিতে কয়েক দিন দেরি হতে পারে। তাই এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, 'আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তাই দোষী চক্রটিকে চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাইব।'
এদিকে তদন্ত কমিটি গঠনের পরও একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আসছে। গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীলের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। পরীক্ষার আগের দু-তিন দিন ধরে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। গতকাল পরীক্ষার পর দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের অধিকাংশই মূল প্রশ্নের সঙ্গে মিলেছে।
পদার্থ বিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল অংশের মোট নম্বর ৪০। এ পরীক্ষায় ছয়টি প্রশ্ন থেকে চারটির উত্তর দিতে বলা হয়। পরীক্ষার পর ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নগুলোর থেকে চারটি শব্দগত ও ক্রমিক সংখ্যার কিছু পরিবর্তন ছাড়া বিষয়বস্তু মিলে গেছে। অর্থাৎ যারা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়েছে, তারা ৪০ নম্বরের উত্তরই দিতে পেরেছে।
একাধিক অভিভাবক ও পরীক্ষার্থী প্রথম আলো কার্যালয়ে এসে এ ব্যাপারে তাঁদের ক্ষোভের কথা জানান। তাঁদের বক্তব্য হলো, এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকলে শিক্ষার্থীরা দুই বছর ধরে পড়বে কেন? তাঁরা তো পরীক্ষার আগে প্রশ্নের পেছনে ছুটবে।
গতকালের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম বলেন, 'পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের বিষয়টি আমি বলব সাজেশন। কারণ, আমিও ফেসবুকে দেখেছি। তাতে মনে হয়েছে, যেভাবে পরীক্ষার প্রশ্ন হয় সেভাবে হয়নি। তার পরও আমি বলব এ বিষয়ে গোয়েন্দাদের সক্রিয় হতে হবে। না হয় এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন হবে।'
তদন্ত কমিটির প্রাথমিক সুপারিশ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটি মনে করে, পরীক্ষা চলাকালে জরুরি ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এর ভিত্তিতেই কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তদন্ত কমিটি মনে করে, চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ, র‌্যাব, এসবি এবং এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করা প্রয়োজন। তবে এ প্রক্রিয়ায় নিরাপরাধ কেউ যেন হেনস্থা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
এ ছাড়া পরীক্ষার দিন জেলা ট্রেজারি ও উপজেলা পর্যায়ে থানা ভল্ট বা ব্যাংকের ভল্ট থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র সরবরাহের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজেদের উপস্থিত থেকে আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রথম ধরা পড়ে ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তদন্ত কমিটি মনে করে, ওই উপজেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তথ্য (ক্লু) খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা দরকার। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রকে চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, র‌্যাব, এসবি এবং এনএসআইয়ের তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার প্রশপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ১০ এপ্রিল এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এরই মধ্যে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নও ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম পত্রের সৃজনশীলের প্রশ্নও ফাঁস হয় বলে অভিযোগ করেন একাধিক পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক।

অভিবাসীকে মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অভিবাসীকে শুধু অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উত্পাদনের উপাদান হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মানুষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যান্য নাগরিকের মতো তাঁদের জন্যও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’ আজ সোমবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ‘২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডায় অভিবাসন-সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ সভায়’ প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর বাসসের।

এক ছবিতে চল্লিশ পোশাকে মম!

লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মম। দীর্ঘদিন ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের পর বর্তমানে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে। সম্প্রতি তিনি ‘প্রেম করব তোমার সাথে’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। এখানে তাঁর সহ-অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন ও জায়েদ খান। এ ছাড়া শি‏হাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মম। ছবিটিতে নানা রঙের ৪০টি পোশাক পরবেন বলেই জানিয়েছেন জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী।

পোশাক-বাণিজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া?

২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে লন্ডনে যত ধরনের অনুষ্ঠান হয়েছে, সম্ভবত ঢাকার পর বিশ্বের অন্য আর কোনো শহরে এত আয়োজন হয়নি। এ রকম একটি আয়োজন ছিল বাংলা টাউনের র‌্যাগ ফ্যাক্টরিতে, যার আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন। পুরোনো একটা গুদামঘরে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন শ দুয়েক শ্রোতা। তাঁদের সবাই এসেছিলেন ১০ পাউন্ড মূল্যের টিকিট কেটে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের মালিক কোম্পানিগুলোকে আইনগতভাবে বাধ্য করার উপায় নিয়ে একপর্যায়ে সেখানে শুরু হলো প্রশ্নোত্তর পর্ব। দর্শকদের সারি থেকে একজন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গ্যাপের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানালে দেখা গেল মিলনায়তনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাতে হাত তুলে সম্মতি জানালেন। তাঁদের ক্ষোভের কারণ, রানা প্লাজা ধসের হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন তহবিলে অংশ নিতে গ্যাপের অস্বীকৃতি। সেদিন লন্ডনের তিনটি আয়োজনে আমি উপস্থিত হতে পারলেও অন্তত আরও ছয়টি অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। এগুলোর মধ্যে ছিল সমারসেট হাউস এবং ব্রিকলেনে দুটো আলাদা সেমিনার, ওয়েস্টমিনস্টার ইউনিভার্সিটিতে একটি নতুন তথ্যচিত্রের প্রদর্শনী, কভেন্ট গার্ডেনে ফ্যাশনের নৈতিকতাবিষয়ক প্রদর্শনী। ধারণা করি, এসব আয়োজনে আরও কয়েক শ লোক অংশ নিয়েছেন। সকালের দিকে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের ইউনাইটেড কালার্স অব বেনিট্টন ব্র্যান্ডের এক শোরুমে দুজন বিক্ষোভকারী দরজার সঙ্গে নিজের গলায় তালা লাগিয়ে বসে পড়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করায় শেষ পর্যন্ত দোকানটি সেদিনের জন্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। অক্সফোর্ড স্ট্রিট ছাড়াও লন্ডনে আরও অনেক জায়গায় দিনভর এ ধরনের নানা প্রতিবাদ সংঘটিত হয়। বাইরে কেমব্রিজেও প্রতিবাদকারীদের কারণে গ্যাপের একটি দোকান বন্ধ হয়ে যায়। ফ্যাশন বিপ্লব দিবস নামে আরেক দল প্রতিবাদকারী কাপড় উল্টো করে পরে এক অভিনব প্রচারণায় শামিল হন। ‘কে বানিয়েছে আপনার কাপড়?’ এই প্রশ্নের জবাব জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রেতা ও ভোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই ফ্যাশন বিপ্লব দিবস পালিত হয় বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে। নৈতিক বাণিজ্যের প্রবক্তা, মানবাধিকার সংগঠন, ফ্যাশন তারকা, ছাত্রছাত্রী ও ভোক্তাদের পাশাপাশি রাজনীতিকেরাও এই প্রচারণায় অংশ নেন। তাঁদের প্রচারণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এঁরা কেউই বাংলাদেশকে বয়কটের কথা বলেননি, বরং বহুজাতিক ব্র্যান্ডগুলো যেখান থেকেই পোশাক আনুক, সেখানে কাজের নিরাপদ পরিবেশ এবং বাঁচার মতো মজুরি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।
রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় পাশ্চাত্যের নাগরিকসমাজের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া রাজনীতিকদের পক্ষে উপেক্ষা করা অসম্ভব বলেই এসব দেশের মন্ত্রী এবং এমপিদের অনেককেই এখন এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী জাস্টিন গ্রিনিং এবং তাঁর ডেপুটি অ্যালান ডানকান বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সংস্কার এবং হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কী কী করছেন, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য জিম মারফি এবং রুশনারা আলী এসব প্রচারাভিযানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। ‘ফ্যাশনের জন্য আর কোনো প্রাণহানি নয়’ (নো মোর ফ্যাশন ভিকটিমস) স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরা ছবি তুলে তা প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন। এই প্রচারাভিযানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি মূলত সংগঠিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক এবং টুইটারের মাধ্যমে। ফলে, রাস্তাঘাটে প্রতিবাদকারীদের সশরীরী উপস্থিতি যতটা দেখা গেছে, সাইবারজগতে তাদের অশরীরী উপস্থিতি ছিল তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি। বিপরীতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন, বিজিএমইএর সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আগাম প্রচার করলেন যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিশ্বের নানা প্রান্তে কাপড় উল্টো করে পরার কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, তারা বলবে ‘ডোন্ট বাই বাংলাদেশ গার্মেন্ট’ (প্রথম আলো অনলাইন, ২৩ এপ্রিল, ২০১৪)। বাংলাদেশের রাজনীতিকদের একটা বড় অংশ সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপবাদ দিয়ে যেমন অভ্যস্ত, এটা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই বদভ্যাসের সংক্রমণ কি না জানি না। তবে, তেমনটি ঘটলে তা বড়ই দুশ্চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে, বিদেশের সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার কতটা বিবেচনাপ্রসূত কাজ হয়েছে সেটা কী তাঁরা ভেবে দেখবেন? তাঁদের উচিত হবে ওই বিবৃতি প্রত্যাহার।

দারিদ্র্য বিচারপ্রাপ্তিতে বাধা নয়

আজ জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছর ২৮ এপ্রিল জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়। ২৮ এপ্রিলকে দিবসের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হলো ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ এই দিনে কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বহু দেশে আইনগত সহায়তা দিবস উদ্যাপিত হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ´Law Day´ এবং ´Legal Services Day´ দুটিই উদ্যাপিত হয়। বাংলাদেশে ‘আইনগত সহায়তা’র ধ্যান-ধারণা কাঠামোগতভাবে নতুন হলেও সাংবিধানিক আইনের ইতিহাসে এটি বেশ পুরোনো। রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য মূলনীতি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯(১) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবে।’ আবার নাগরিকদের রক্ষাকবচ হিসেবে খ্যাত ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।’ সাংবিধানিক তত্ত্ব অনুযায়ী ধনী-দরিদ্রকে এক কাতারে আনা হলেও বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, যারা আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে কিংবা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যাতে কেউ আইনের আশ্রয়লাভের অধিকার থেকে কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়, তার জন্য লিগ্যাল এইড-ব্যবস্থার সৃষ্টি। শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে একমাত্র আইন-আদালতের মাধ্যমেই মানুষ তার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আর্থিক দৈন্য বা অসচ্ছলতা একজন মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিখ্যাত মামলায় (Jackson v. Bishop, Eight Circuit Court of Appeal, USA) বিচারক Harry Blackmun বলেন, The concept of seeking justice cannot be equated with the value of dollars. Money plays no role in seeking justice. ভারতের সাবেক প্রধান বিচারপতি P N Bhagwati-র মতে, ‘তিনটি জিনিসের অভাব দেখা দিলে গরিবরা তাদের ন্যায়সংগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এগুলো হলো: ১. সচেতনতা, ২. অধিকার দাবি করা এবং ৩. সম্পদের অপ্রতুলতা।’ আইনগত সহায়তাকে এত দিন রাষ্ট্রের দান বা বদান্যতা মনে করা হলেও আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। গরিব, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আইনি সহায়তা দান করা এখন আর রাষ্ট্রের করুণা বা বদান্যতা নয়। বরং এটি নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের এক অপরিহার্য দায়িত্ব। বর্তমানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে আইনগত শিক্ষার প্রসার, আইনগত তথ্য সহজলভ্যকরণ, আইনগত ক্ষমতায়ন, ন্যায়বিচারে সহজ অভিগম্যতা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ইত্যাদিকে আইনগত সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে দরিদ্রবান্ধব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। হাতে গোনা যে দু-একটি প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে

ঢাকার ৬৫ শতাংশ ভূখণ্ড তপ্ত by ইফতেখার মাহমুদ

ভবনের ভেতরে ভাপসা গরম। বাইরে যেন আগুনের হলকা। আর গণপরিবহনগুলো অগ্নিচুল্লির মতো। সূর্য ডোবার পর সন্ধ্যা নামলেও গরম কমছে না। রাজধানীর পুরোটাই দিনে দিনে ‘তপ্ত ভূখণ্ড’ হয়ে উঠছে। পুরান ঢাকা থেকে উত্তরা, মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর, বাড্ডা থেকে বাসাবো, গাবতলী থেকে গুলশান—যেখানেই যান, অসহনীয় দাবদাহ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, রাজধানীর আটটি অঞ্চলের ২৫টি এলাকা এরই মধ্যে তপ্ত ভূখণ্ড হয়ে উঠেছে। এখানকার গড় তাপমাত্রা অন্য এলাকার চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।