Thursday, August 22, 2019

জেন্ডার সমতা আনতে ভুটান উইমেন পার্লামেন্টারি ককাস গঠিত

জেন্ডার সমতা আনতে ১৪ আগস্ট ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (এনসিডাব্লিউসি) এবং ভুটান নেটওয়ার্ক ফর এমপাওয়ারিং উইমেন (বিএনইডাব্লিউ)।

এই পদক্ষেপের নাম দেয়া হয়েছে ভুটান উইমেন পার্লামেন্টারি ককাস (বিডাব্লিউপিসি)। নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারী রোল মডেলের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে তারা। নারী নেতৃত্বরা যাতে তাদের যোগ্যতা বাড়িয়ে সমাজের আস্থা এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে, সেজন্য সহযোগিতা দেবে এই ককাস।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নারী নেতৃত্বকে তুলে ধরা হবে। এটা নারীদের কণ্ঠ তুলে ধরবে এবং নারীদের দৃশ্যমান করে তুলবে যাতে সমাজের নেতৃত্বের অবস্থানে যাওয়ার ব্যাপারে তারা আস্থা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে। এবং এর মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

একই সাথে এই প্ল্যাটফর্ম নিশ্চিত করবে যাতে নারীদের অধিকার, জেন্ডার সমতা, শিশুদের অধিকার এবং সামাজিক এজেন্ডাগোলো পার্লামেন্টে যথাযথ মনোযোগ পায়।

ফুন্তশোক শোডেন বলেন, “এই ককাসের মাধ্যমে পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে নারীদের ঐক্যবদ্ধ করা হবে”।

এটা একই সাথে নির্বাচিত, অনির্বাচিত ও সম্ভাব্য নারী নেতাদের দক্ষতা বাড়াবে। “এটা শুধু নারী বা পার্লামেন্টের জন্য নয়, বরং সবার জন্য”।

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বলিউড অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম ‘নিখোঁজ’

‘ঈমান’ বা ধর্মবিশ্বাসের কারণে অভিনয় জগত ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বলিউডপাড়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন কাশ্মীরি কিশোরী জায়রা ওয়াসিম। কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জায়রার কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না পরিচিতজনরা।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, অভিনয় জগত ছাড়ার আগেই ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’ নামে একটি ছবিতে কাজ করেছিলেন জায়রা ওয়াসিম।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের পর থেকে ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা জায়রার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ তথ্য জানিয়েছেন ছবিটির পরিচালক সোনালি বোস। জায়রার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ কারণেই কাশ্মীর নিয়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন এই বলিউড পরিচালক।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে জায়রার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন সোনালি। সঙ্গে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘দুই সপ্তাহ হয়ে গেল জম্মু- কাশ্মীরের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভারতের গণতন্ত্র অন্ধকার। কংগ্রেসের সময় থেকে উপত্যকায় মানুষের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। আমার কষ্ট হয় ওই মানুষগুলোর জন্য।
বাঙালি, মারাঠি, গুজরাটি, তামিল সবার কেমন লাগবে যদি রাতারাতি আপনাদের রাজ্য ভেঙে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেয়া হয়?’
বোস আরও বলেন, ‘৩৭০-কে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়ে সৎভাবে এর উত্তর দিন। আমাদের নিজেদের লোকেরাই কীভাবে এই দেশে বাস করছেন, এটা ভেবেই আমার বিস্ময় ও রাগ এখন দুঃখে পরিণত হয়েছে। ওদের অনুভূতির সম্পর্কে আমরা শুধুই ধারণা করতে পারি।’
জায়রা তার মেয়ের মতো-উল্লেখ করে পরিচালক জানান, তার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না। গত এক বছরে জায়রা ও তার পরিবারের সঙ্গে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। এমনকি ৩৭০ ধারা বাতিলের আগের দিনও জম্মুতে জায়রার সঙ্গেই ছিলেন তিনি।
সোনালি বোস বলেন, কাশ্মীরে হঠাৎ সেনাবাহিনীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ায় খুবই চিন্তিত ছিল জায়রা।
এদিকে কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন বাতিলের পর বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষনিক একটি টুইট করেছিলেন জায়রা ওয়াসিম। জায়রা লিখেছিলেন, এও একদিন কেটে যাবে। পাশে ‘হ্যাশ ট্যাগ’ দিয়ে লেখেন ‘কাশ্মীর’।
গত ৩০ জুন অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন ‘দঙ্গলকন্যা’ খ্যাত জায়রা ওয়াসিম।
অভিনয় ছাড়ার কারণ হিসেবে ভারতের জাতীয় পুরস্কারজয়ী এ অভিনেত্রী জানান, সিনেমা কিংবা তারকা-জীবন ধর্মবিশ্বাস বা ‘ঈমান’ থেকে তাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছিল।
২০১৬ সালে আমির খানের সঙ্গে ‘দঙ্গল’ ছবিতে অভিনয় করেন জায়রা ওয়াসিম। এটাই ছিল তার ডেব্যু ফিল্ম। এত কম বয়সে তার অভিনয় দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।
ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-ন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর একসেপশনাল অ্যাচিভমেন্ট পেয়েছেন জায়রা।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

‘অধিকার না পেলে ফেরা নয়’: মিয়ানমারে ফিরতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অস্বীকৃতি

বাংলাদেশের ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত মুসলিম রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে অস্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের শরণার্থী কমিশনার আবুল কালাম মঙ্গলবার বলেছেন যে, যে ১০৫৬টি পরিবারকে প্রত্যাবাসনের জন্য বাছাই করা হয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ২১টি পরিবার কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতকারের ব্যাপারে রাজি হয়েছে।

কোন পরিবারই বলেনি যে তারা ফিরে যেতে চায়। অনেকে বলেছেন যে, মিয়ানমার তাদেরকে নাগরিকত্ব না দিলে তারা ফিরে যাবে না।

কালাম বলেন, কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থানরতদের মনোভাব শান্ত ও আন্তরিক রয়েছে। প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী এখানে বাস করছে।

তিনি বলেন, “অতীতের মতো কোন বিশৃঙ্খলা এখন নেই। তারা কর্মকর্তাদের সাথে খোলামেলা কথা বলেছে। এটা খুবই ইতিবাচক, এখন তারা পরিস্থিতিটা আরও ভালো বুঝতে পারছে”।

তিনি বলেন, “আমাদের কালও সময় আছে। আমরা আশাবাদী যে আরও অনেক পরিবার সাক্ষাতকারে অংশ নেবে”।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনানের এক মুখপাত্র লুই ডোনোভান এক ইমেইলে জানিয়েছেন যে শরণার্থীদের দ্বিতীয় দফা সাক্ষাতকার নেয়া হবে।

নাগরিকত্ব এখনও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে, যদিও তাদের বহু পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানে বাস করে আসছে।

নয় সদস্যের একটি পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেন রুহুল আমীন। তিনি বলেন, “আমরা প্রথমে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চাই এবং আমাদেরকে অবশ্যই রোহিঙ্গা বলতে হবে। তবেই আমরা যেতে পারি। আমাদের অধিকার না পেলে আমরা সেখানে যেতে পারি না”।

মিয়ানমার এই পরিবারগুলোকে যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, তারা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হামলার পর সেখান থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছিল। এদের সংখ্যা ৩৪৫০ জন।

শুক্রবার মিয়ানমারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ইউএনএইচসিআরের সহায়তা চেয়েছে।

গত বছর, দুই দেশের এ ধরনের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। কোন শরণার্থীই স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজি হয়নি।

জাতিসংঘের একটা তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন গত বছর বলেছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, সেটার জন্য কমান্ডারদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হওয়া প্রয়োজন। মিয়ানমার ওই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের কোন অপরাধ তারা স্বীকার করেনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, তার প্রশাসন শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর জন্য কোন বল প্রয়োগ করবে না এবং তারা রাজি হলেই কেবল তাদের ফেরত পাঠানো হবে।

>>>হান্নাহ এলিস পিটারসেন, শেখ আজিজুর রহমান

কাশ্মীরে শুক্রবার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলের ডাক by শুভজ্যোতি ঘোষ

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে আগামিকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর যাতে মানুষ কারফিউ অমান্য করে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়, সেই ডাক দিয়ে শ্রীনগরে হুরিয়ত নেতাদের নামে পোস্টার পড়েছে।
কাশ্মীর থেকে বিবিসি ও রয়টার্স সংবাদদাতারা নিশ্চিত করেছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের যৌথ সংগঠন 'জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপের'র নামে ওই ধরনের পোস্টার চোখে পড়ছে।
তবে যেহেতু ওই নেতারা এখনও আটক বা গৃহবন্দী, ফলে সত্যিই তারা ওই ডাক দিয়েছেন কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
দুসপ্তাহ আগে শ্রীনগরেরই সৌরা এলাকায় শুক্রবারের নামাজের পর বেশ কয়েকশো মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল, যে ভিডিও বিবিসিতে প্রকাশিত হলে তা আলোড়ন ফেলে দেয়।
৩৭০ ধারা বিলোপের বিরুদ্ধে শ্রীনগরের উপকন্ঠে বিক্ষোভ। ২০শে আগস্ট, ২০১৯
কাল শুক্রবারের নামাজের আগেও নিরাপত্তাবাহিনী শ্রীনগর-সহ গোটা কাশ্মীরকে কঠোর নিরাপত্তা ও কারফিউতে মুড়ে রেখেছে।
গত ৫ আগস্ট ভারত সরকারের কাশ্মীরের স্বশাসন কেড়ে নেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘোষণার অনেক আগে থেকেই সেখানকার হুরিয়তপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হয় গৃহবন্দী, নয় জেলে আটকে রাখা হয়েছিল।
ফলে সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, মিরওয়াইজ ওমর ফারুক বা ইয়াসিন মালিকের মতো কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা 'জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ' নামে যে যৌথ নেতৃত্ব গঠন করেছিলেন তাদের দিক থেকে এযাবত কোনও কর্মসূচীর ঘোষণা আসেনি।
কিন্তু ভারতের পার্লামেন্টে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার দুসপ্তাহ পর অবশেষে সেই যৌথ নেতৃত্বের নামে পোস্টার পড়েছে - সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে তারা যেন এই শুক্রবারের নামাজের পর বিপুল সংখ্যায় সরকার-বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। ফাইল ছবি
শ্রীনগর থেকে বিবিসি উর্দুর রিয়াজ মাসরুর এদিন বলছিলেন, "পোস্টারগুলো যে হুরিয়ত নেতাদের সঠিক লেটারহেডে তা ঠিক বলা যাবে না, তবে সৌরা-সহ শ্রীনগরের কিছু এলাকায় সত্যিই এগুলো দেখা যাচ্ছে।"
"তবে ২০১৬তে বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়ার পর জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ পোস্টারে যে ধরনের ক্যালেন্ডার বের করত - যে অমুক দিন হরতাল হবে, তমুক দিন বিক্ষোভ মিছিল - এই পোস্টারগুলোও অনেকটা সে ধরনের।"
"কিন্তু এগুলো আসলেই হুরিয়ত নেতাদের জারি করা আহ্বান কি না, তা যাচাই করার কোনও উপায় নেই।"
"কারণ তাদের শীর্ষ নেতৃত্বই শুধু নয় - দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির নেতারাও সবাই গত বেশ কয়েকদিন ধরে আটক, বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।"
হুরিয়তের যৌথ নেতৃত্বের দুই স্তম্ভ - ইয়াসিন মালিক (বাঁয়ে) ও মিরওয়াইজ ওমর ফারুক
"এই পটভূমিতে পোস্টারগুলো সত্যিই তাদের কিনা, এটা বলা খুব মুশকিল", বলছিলেন ওই বিবিসি সংবাদদাতা।
এদিকে রয়টার্স জানাচ্ছে, শ্রীনগরের দেওয়ালে সাঁটা এমনই একটি পোস্টারে লেখা হয়েছে, "প্রত্যেক কাশ্মীরি - তরুণ বা বৃদ্ধ, পুরুষ বা মহিলা - সবাইকে বলা হচ্ছে শুক্রবারের নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিতে।"
সেই প্রতিবাদ যে 'হুকুমত' বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেটাও।
শ্রীনগরে জাতিসংঘের যে সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর (ইউএনএমওজি) কার্যালয় আছে, প্রতিবাদ মিছিল সেই অভিমুখে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
১৯৪৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে প্রথম যুদ্ধের পরই জাতিসংঘের এই কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল।
এখন এই পোস্টারের আহ্বানে কতটা সাড়া মিলবে তা স্পষ্ট নয়, কিন্তু নামাজ-পরবর্তী জমায়েত ঠেকাতে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী কোনও ঝুঁকি নিচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের একটি বন্ধ বাজারের সামনের দৃশ্য
রিয়াজ মাসরুর বলছিলেন, "কাশ্মীরে এক মাস বা দুমাস ধরে টানা কারফিউ বা ব্ল্যাকআউট কোনও নতুন ঘটনা নয়।"
"কিন্তু তার পরেও এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা, কারণ যোগাযোগের একটা রাস্তাকেও এবার ছাড় দেওয়া হয়নি।"
"আগামিকাল শুক্রবারের আগে সেই ফাঁস যেন আরও এঁটে বসেছে।"
"যে এলাকাতেই যাচ্ছি, মানুষ ঘিরে ধরে প্রশ্ন করছেন - এবার কি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগবে? আরও কঠোর ক্র্যাকডাউন শুরু হবে? উত্তর কারওরই জানা নেই, আর সাধারণ মানুষও যেন নিরবিচ্ছিন্ন আতঙ্কের ঘেরাটোপে বন্দী!"
গত কয়েকদিনে কাশ্মীরের যেখানেই মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেছে - নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তা ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।
চালানো হয়েছে বা পেলেট গান বা ছররা বন্দুকও, যাতে ঘায়েল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই।
কাল শুক্রবারেও শ্রীনগরে এমন কোনও সংঘাত দেখা যাবে কি না, সেই আশঙ্কা রয়েছে পুরোদস্তুরই।
বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীনগরের রাজপথে

বাড়ির কাজ বন্ধ, ৯০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাব পুলিশ কর্মকর্তার! by নুরুজ্জামান লাবু

পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম
৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। সে অনুযায়ী টাকা না পেয়ে তিনি রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় ৩১ জনের যৌথ মালিকানার একটি প্লটে ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মালিকদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় একটি চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দফতর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে নড়েচড়ে বসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগকারীসহ অন্যদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ তদন্ত শুরু করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম বলেন, ‘আমার কাছে জহিরুল নামে একজন আবেদন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম জমি সংক্রান্ত বিষয় সমাধানের কাজ আমার নয়। তবু আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে আমি দুই পক্ষকে ডেকেছিলাম।’ তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেননি বা তাদের কাছে কোনও টাকাও চাননি বলে দাবি করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি আমাকে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য বলেছেন। আমি তাকে বলেছি জমির মালিককে ‘কম্পেনসেশন’ দিয়ে আপনারাই এটা সমাধান করেন।” পরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ সদর দফতর (স্মারক নং ১০৫৬) ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ভাষানটেক থানার টোনারটেক মসজিদের পাশে ৫৮৫-সি নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে ওই জমি কেনেন ৩১ জন। গত বছরের ১৬ জুলাই তারা নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ বছরের ১৮ এপ্রিল হঠাৎ পল্লবী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম বাড়ির মালিকদের কাছে একটি চিঠি [স্মারক নং ২১৯(২)এসি (পল্লবী জোন)] পাঠান। ওই চিঠিতে তিনি বলেন, জহরিুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জমির মালিক পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেছেন। এ জন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র নিয়ে ২২ এপ্রিল হাজির হতে বলেন এস এম শামীম। তবে এ চিঠি ইস্যুর একদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
জমির ৩১ মালিকের একজন নটরডেম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শহীদুল হাসান পাঠান। তিনি পুলিশ সদর দফতরে করা আবেদনে বলেন, বাড়ির কাজ বন্ধ না করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ‘ক্রসফায়ার’-এ দেওয়ার হুমকিও দেন। এ সময় তারা রাজউকের অনুমোদিত নকশা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভূমি কমিশনার জমিতে কোনও সমস্যা নেই বলে জানান। পরে আবারও তারা কাজ শুরু করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম ক্ষিপ্ত হন। গত ১৪ জুন তাদের ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি জিডি (নং ৪৯৮) করা হয়।
ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই পল্লবীর ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজুর রহমান সরদার, এসএম সাদিকুরসহ ৩০-৩৫ জন তাদের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেন। বাড়ির কাজ করলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোরও হমকি দেওয়া হয়। ওই দিনই মালিকদের কয়েকজন বিষয়টি এসি শামীমকে জানালে তিনি হাফিজুর রহমানের সঙ্গে টাকা-পয়সা দিয়ে মীমাংসা করতে বলেন। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা শামীম বলেন, আপনারা ৩১ মালিকের প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৯০ লাখ টাকা হাফিজকে দিয়ে দিন। এতে রাজি না হওয়ায় পরদিনই মোস্তাফিজুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে মালিকদের মধ্যে ৫ জনের নামের একটি মামলা দায়ের করানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা শামীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এসি শামীম নিজেই হাফিজের মাধ্যমে জহিরকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাজ বন্ধ করে রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা এস এম শামীম বিষয়টি সমাধানের জন্য বাদী শহীদুল হাসান পাঠানসহ অন্য মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা না হয় সেজন্যও তদবির শুরু করেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠান পুলিশ মহাপরিদর্শক ও ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে জমি সংক্রান্ত যেকোনও ঘটনায় পুলিশের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে নিষেধ রয়েছে। দেওয়ানি মামলা সম্পর্কিত সব ঘটনা আদালতের মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশনা রয়েছে।
এদিকে ডিএমপি কমিশনার অভিযোগটি আমলে নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেন। মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগকারী শহীদুল হাসান পাঠানকে গত ১৯ আগস্ট একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তার বক্তব্য রেকর্ড করা হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহেন শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে বিষয়টি আমি তদন্ত করছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া এসি তো আমার এখানেই রয়েছে।’ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ভারত ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ করছে, অভিযোগ পাকিস্তানের

বাঁধ খুলে দেওয়ায় পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। পানি ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বমুখী যুদ্ধ ভারত শুরু করেছে বলে মনে করছে দেশটি। আর এটিকে ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাম্মিল হুসেইন এমন অভিযোগ করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে ভারত। এর পর থেকে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশ দুইটির মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে। এরই মধ্য বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির অভিযোগ তুলল পাকিস্তান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মোজাম্মিল হুসেইন বলেছেন, ভারত এখন পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকেও চেপে ধরতে চাইছে ভারত। তারা আমাদের বিরুদ্ধে পানিকে ব্যবহার করছে। পানি প্রবাহ কমে গেলে কৃষি ও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

মোজাম্মিল হুসেইন আরও বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই পাকিস্তানে পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি এ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোকে অমান্য করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন মোজাম্মিল হুসেইন।

পাকিস্তানের দাবি, ভারত হঠাৎ করে উজানে বাঁধ খুলে দেওয়ায় সুতলেজ নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দীর্ঘদিনের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ভারত। পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবের বন্যা মোকাবিলায় কাজ করছে।

পাঞ্জাবের প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক খুররম শাহজাদ বলেছেন, ভারত বাঁধ খুলে দেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ অবহিত করেনি।

পাকিস্তানের অভিযোগের ব্যাপারে ভারতের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তবে কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে ভারত সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্ষ মৌসুমে এটি নিয়মিত কাজের অংশ। আর পানি ছাড়ার ব্যাপারটি দুই দেশের চুক্তি মোতাবেকই হচ্ছে।

ভারত ও পাকিস্তানের পানি চুক্তির পর থেকেই পাকিস্তান নানা অভিযোগ করে আসছে। আর অনেকেই বলে থাকেন, পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের কৃষিকাজের ৮০ শতাংশই নির্ভর করে ভারতের পানির ওপর।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের পাকিস্তানের জঙ্গিদের হামলা হয়। এতে ৪০ জন আধা সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। তখনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পানির সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন।

সীমান্তে সন্ত্রাস বন্ধ না করায় পাকিস্তানের সমালোচনা করে ২০১৬ সালে মোদি ভারতের কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, ‘রক্ত আর পানি একসঙ্গে বইতে পারে না।’

ভারতের বিজেপি সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করেছে। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৪৭ সালে কাশ্মীরকে সংযুক্তকরণের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তাও ভেঙে দেওয়া হলো। ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠক আয়োজনের জন্য তারা নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে রেল, ট্রেন ও বাস যোগাযোগ পাকিস্তান বন্ধ করে দিয়েছে। এরপরই পাকিস্তানের অভিযোগ ভারত বাঁধ খুলে দিয়েছে। আর এতে পাকিস্তানের অনেক এলাকায় বন্যা হচ্ছে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারত ও অন্যান্য দেশেকে লড়াই করতে হবে, বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন যে, এক সময় আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারত, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ককে লড়াই করতে হবে। সন্ত্রাসী দমনের কাজটি এখন যুক্তরাষ্ট্র একাই করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন যে, আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশগুলো এখন তেমন চেষ্টা করছে না।

আফগানিস্তানে আইএসের উত্থান সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এক সময় রাশিয়া, আফানিস্তান, ইরান, ইরাক, তুরস্ককে তাদের নিজেদের জন্য লড়তে হবে। আমরা খেলাফতের ১০০ ভাগ নির্মূল করেছি। আমি রেকর্ড সময়ে এটা করেছি। কিন্তু এসব দেশকে একসময় এই কাজটি করতে হবে কারণ আমরা আরো ১৯ বছর সেখানে থাকতে চাইনা। আমি তেমনটি ভাবছি না।

তালেবানরা যেন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে সে জন্য আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে না বলে ইংগিত পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনারা ৭০০০ মাইল দূরে আফগানিস্তানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। অথচ পাশে থেকে পাকিস্তান ও ভারত তা করছে না।

তিনি বলেন, দেখুন ভারত সেখানে আছে। কিন্তু তারা লড়ছে না। আমরা লড়ছি। পাশে পাকিস্তানও আছে। তারা খুবই কম লড়ছে। এটা ঠিক নয়।

তার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র আইএসকে নির্মূল করেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

কাশ্মীরের যে এলাকা এখনো মুক্ত

কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ও প্রধান শহর শ্রীনগরের শহরতলী সৌরা। প্রায় ১৫ হাজার জনগণের ওই এলাকাটির প্রত্যেক প্রবেশদ্বারে ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিচ্ছে সেখানকার তরুণরা। শহরতলিটির কয়েক ডজন প্রবেশদ্বারে তৈরি করা হয়েছে ইট-কাঠের অস্থায়ী ব্যারিকেড। পাহারাদারদের হাতে ভারী অস্ত্রের বদলে শোভা পাচ্ছে পাথরের টুকরা। তাদের লক্ষ্য- ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ ঠেকানো। কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসনের অধিকার হারানোর পর পার হয়ে গেছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে অঙ্গরাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ সেনা।
অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মীরিদের। কিন্তু এখনো সৌরায় ঢুকতে পারেনি ভারতীয় সেনাবাহিনী।

কাশ্মীরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক
সৌরার তরুণ বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী এজাজ। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটছে। এছাড়া আমাদের হাতে অন্যকোনো উপায় নেই। বিশ্ব যদি আমাদের কথা না শোনে, তাহলে আমাদের কী করা উচিত? বন্দুক হাতে তুলে নেবো? সাক্ষাৎকারে এজাজ নিজের নামের শেষাংশ বলেননি।
সৌরার এই প্রতিবাদ কাশ্মীরের অভ্যন্তরে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কার্যকরভাবে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ সেখানে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। কাশ্মীরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখন সৌরা।
সরকারের দাবি, কাশ্মীরকে পুরোপুরি ভারতের অংশ করে তুলতেই তাদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়া হয়েছে। রাজ্যটি থেকে দুর্নীতি দূর করতে, উন্নয়ন ঘটাতে ও সন্ত্রাসবাদ দূর করতে এটা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু সৌরা সরকারের পদক্ষেপের মুখে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানের কোনো বাসিন্দাই মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থক করে না। গত সপ্তাহে এলাকাটির কয়েক ডজন বাসিন্দার সাক্ষাৎকার শেষে এমনটা জানিয়েছে রয়টার্স। তারা মোদিকে ‘জালিম’ বা অত্যাচারী হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কাশ্মীর ঘিরে সাংবিধানিক পরিবর্তন আসায় এখন সেখান থেকে যে কেউ জমি কিনতে পারবেন। সেখানের স্থানীয় সরকারের হয়ে কাজ করার আবেদন জানাতে পারবেন। আগে ৩৭০ ধারার আওতায়, তা অসম্ভব ছিল। কেবল কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারাই এই সুযোগ ভোগ করতেন। কাশ্মীরিরা আশঙ্কা করছেন, ধারাটি রদ হওয়ায় এখন সেখানে হিন্দুদের ঢল নামবে। পুরো রাজ্যজুড়ে প্রতিস্থাপিত হবে মুসলিমরা। তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এই ভীতি থেকেই সৌরার জনগণ এলাকাটি কঠোরভাবে পাহারা দিয়ে রাখছে।
এজাজ বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে আমরা এখানে লাইন অব কনট্রোল রক্ষা করছি। উল্লেখ্য, লাইন অব কনট্রোল হচ্ছে, পাকিস্তান ও ভারতের এসব সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। আটক হয়েছেন অনেকে। তবে কতজন আটক হয়েছে সে বিষয়ে সপষ্ট কোনো ধারণা নেই তাদের। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। সাড়া মেলেনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও।

যেভাবে সেনাদের প্রবেশ ঠেকাচ্ছে বিদ্রোহীরা
কাশ্মীর অবরুদ্ধ হওয়ার পর প্রথম বড় বিক্ষোভ হয় শ্রীনগরে। সেখানে চার জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তার প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট। আটক করা হয়েছে পাঁচশর বেশি স্থানীয় নেতাদের। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা। এতে সরকার-বিরোধীদের জন্য বিক্ষোভ করা কঠিন হয়ে পড়ে। সমপ্রতি পুরো কাশ্মীরজুড়ে ইন্টারনেট ও ল্যান্ডলাইন ফোনসেবা ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। কেবল সৌরায় কোনো ধরণের পরিষেবা ফেরত আসেনি। অঞ্চলটির মুসলিমদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, একটি প্রসিদ্ধ প্রশিক্ষণ হাসপাতালের জন্যও এলাকাটি সুপরিচিত।
তবে সরকারি বাধা উপেক্ষা করেও জড়ো হচ্ছে সৌরার জনগণ। যোগাযোগ হচ্ছে ভিন্ন উপায়ে। সেখানকার কোনো বাসিন্দা সামরিক সেনাদের প্রবেশ করতে দেখলে, তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদে গিয়ে বাকিদের সতর্ক করে। তারা এমনটা করে মসজিদের মাইকগুলো ব্যবহার করে। আযানের আদলে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানায় তারা।
আগস্টের ৯ তারিখ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সৌরায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। এতেই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের বিক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠে সৌরার জনগণ। আশেপাশের অঞ্চলের মানুষজনও তাদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয় সেদিন। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা।
সৌরার বাসিন্দারা জানান, ৯ তারিখ বিক্ষোভের পর সেখানে প্রবেশ করতে চেয়েছিল ১৫০ থেকে ২০০ সেনা। তাদের পরনে ছিল দাঙ্গা দমনকারী পুলিশের পোশাক। সেদিন রাত পর্যন্ত সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় সৌরার বাসিন্দাদের। আহত হন অনেকে। প্রাথমিকভাবে ওই বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কথা অস্বীকার করেছিল ভারত সরকার। দাবি করেছিল, সৌরায় ২০ জনের বেশি মানুষের কোনো বিক্ষোভ হয়নি। তবে পরে বিবিসি ও আল জাজিরায় বিক্ষোভের ফুটেজ প্রচার হলে জানায়, ওই বিক্ষোভে ১ হাজার থেকে ১৫০০ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
সৌরার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে সেনা সদস্যদের সঙ্গে ছোট ছোট সংঘর্ষ লেগেই রয়েছে সৌরার বিক্ষোভকারীদের। প্রায় প্রতিদিনই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছে। ওয়াইস নামের স্থানীয় এক তরুণ জানান, সেনারা প্রতিদিনই প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তিনি বলেন, তারা প্রতিদিনই এখানে হামলা চালানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমরাও পাল্টা লড়াই করে চলেছি। মনে হচ্ছে আমরা চারদিক থেকে আটকা পড়ে গেছি।  ভারতীয় সেনারা সৌরার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় এক আধা-সামরিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আমরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এলাকাটি থেকে প্রচুর বিদ্রোহের সম্মুখীন হচ্ছি।

বাংলাদেশ বিমানের তৃতীয় ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নতুন বিমানের ভেতরে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যোগ হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ গাঙচিলের বাণিজ্যিক যাত্রার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল থেকে নতুন বোয়িং (৭৮৭-৮) ড্রিমলাইনার বিমানটির যাত্রা উদ্বোধন করা হয়। 
এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। সেই সঙ্গে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে হবে।
বিমানের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরও বলেন: বিমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যখন আমাদের বিমান যায়, তখন পৃথিবীর মানুষ বাংলাদেশকে চিনবে-জানবে এবং বুঝবে। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে আপনাদেরকে (দায়িত্বরত) আমি বলব, আপনারাও সেই আন্তরিকতার সঙ্গে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিমান পরিচালনা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার জন্য ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে এগুলোর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ যুক্ত হয়েছে। বাকি চারটি ড্রিমলাইনারের ২০১৮ সালে বাংলাদেশ বিমানের বহরে আকাশবীণা ও হংসবলাকা যুক্ত হওয়ার পর আজ যুক্ত হলো ড্রিমলাইনার গাঙচিল। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আসবে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজটি কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি ওজনে হালকা। ড্রিমলাইনার একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে পারে। অন্যান্য উড়োজাহাজের চেয়ে এর জ্বালানি খরচও ২০ শতাংশ কম। ড্রিমলাইনার গাঙচিলে ২৭১ আসনের মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাসের আসন রয়েছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা দেবে যাত্রীদের। যাত্রীরা ইন্টারনেট ব্রাউস করতে পারবেন এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থিত বন্ধুবান্ধব ও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন।

সরজমিন ঢামেক হাসপাতাল: পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরের দিন আগের চিত্র by পিয়াস সরকার

ছবিঃ জীবন আহমেদ
ডেঙ্গুতে নাকাল পুরো দেশ। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন আক্রান্তরা। আর এই প্রাণঘাতী রোগের বাহক এডিস মশা তাড়ানোর তোড়জোড় সর্বত্র। আর রাজধানীবাসী আক্রান্ত হয়ে সর্বাধিক পরিমানে চিকিৎসা নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু এই হাসপাতালের আঙ্গিনাই যেন মশা উৎপাদনের আতুর ঘর। যত্রতত্র জমাট পানি, ময়লা আর্বজনার স্তুপ।
মঙ্গলবার ছিলো বিশ্ব মশা দিবস। এই দিবসটিকে ঘিরে সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালানো হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ছিলেন সেই অভিযানে।
তিনি হাসপাতালের সামনের অংশে করেন পরিচ্ছন্নতা অভিযান। প্রতীকী এই অভিযানে তিনি মশা মারার ওষুধও ছিটান। আর এরপর পরিচালনা করেন হাসপাতালের সামনে থাকা অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান।
তবে অভিযানের দিনের মতো গতকালও হাসপাতাল ঘিরে একই দৃশ্য দেখা যায়। ঢাকা মেডিকেলের পানির পাম্পের সামনে মেলে জমাট পানি। সেখানে উড়ছে মশা। পরিচ্ছন্ন কর্মীর ছোঁয়া লাগেনি বেশ কদিন দেখে বুঝাই যায়। পাম্পের এক কর্মী বলেন, পরিষ্কার করা হয়না এই স্থানে। তবে মশার ওষুধ দেয়। তারপরও মশা মরে না।
জরুরি বিভাগ পার হয়ে ডানের ড্রেনেও দেখা মেলে একই চিত্র। ড্রেনের জমানো পানিতে উড়ছে মশা। আবার উপর থেকে পড়ছে অহরহ ময়লা। আর বার্ন ইউনিটের পার্কিং এলাকা। থরে থরে সাজানো অ্যাম্বুলেন্স। আর পিছনের দিকে ময়লা। পলিথিন, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমে আছে পানি। কথা হয় অ্যাম্বুলেন্স চালক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গাড়ি রেখে দরজা খুলে বসে থাকতে পারি না। ভয় লাগে। মশা উড়ছে। ডেঙ্গু রোগী নিয়ে আসতে আসতে না নিজে আক্রান্ত হই।
হাসপাতালের ভিতরের প্রায় প্রতিটি ভবনের মাঝের স্থানে জমে আছে পানি। পানির পাইপ, এসি থেকে চুইয়ে পড়ছে পানি। পানির প্রবাহ না থাকায় তা জমছে। ফলে এখানে জন্ম নেবার সম্ভাবনা আছে এডিস মশার। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী আকিমুল ইসলাম বলেন, মশার ওষুধতো দু’একদিন পর পর দিচ্ছে। কিন্তু তাও তো মশা মরে না।
হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, তাদের লোকবল কম। এই লোক দিয়ে প্রতিদিনের সৃষ্ট ময়লা পরিষ্কার করতেই তারা হিমশিম খাচ্ছেন। আনাচে কানাচে পরিষ্কার করার সময় তাদের নেই। আর এসব পরিষ্কারের জন্য আছে আলাদা লোক। তারা ড্রেন, ময়লার ভাগাড় ইত্যাদি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, তারা নিয়মিত কাজ করলেও এসব পরিষ্কারের লোকদের দেখা মেলে না সচারচর।
অবহেলা আছে রোগীর স্বজনদেরও। হাসাপাতালের এককোণায় দাঁড়িয়ে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় বিভিন্ন তলা থেকে পড়ছে ময়লা। ৬ তলায় ডেঙ্গু বিশেষায়িত ইউনিট। সেখানে বারান্দার পাশে অবস্থান আলী আকবরের। তিনি এসেছেন তার বাবাকে নিয়ে। বাবার জন্য আনা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেললেন বারান্দার গ্রিল দিয়ে। সেইসঙ্গে খাবার নিয়ে আসার পলিথিনটাও ফেললেন। তার পাশেই থাকা আরেক রোগীর স্বজনও ৫ লিটারের পানির খালি বোতল নিচে ফেলে দিলেন। এমন ময়লা ফেলার দৃশ্য অহরহ। কিন্তু সেখানে দেখা মেলে ময়লা ফেলার বেশ কয়েকটি কন্টেইনার। কিন্তু এসব স্থানে ময়লা না ফেলে তারা ফেলছেন নিচে।
হাসপাতালের চারপাশ ঘিরে চিত্র আরো ভয়াবহ। মর্গের ঢোকার গেটের পাশে ময়লা ও পানি জমে আছে। সেখানে উড়তে দেখা যায় মশা। আর অন্যান্য কীটপতঙ্গের অবস্থানও স্পষ্ট। মূল ফটকের বাইরে পরিত্যক্ত ওভারব্রিজ ঘিরে প্রায় সব কোণাতেই ময়লা ও জমাট পানি। আর এর সিঁড়ি বেয়ে দেখা মেলে ডাবের খোসা, প্যাকেট, বোতল ইত্যাদিতে জমে আছে পানি। বিশেষ করে ফেনসিডিলের পরিত্যক্ত বোতল আর ভাঙ্গা স্থানে জমে আছে অনেক পানি। গত মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা হয় হাসপাতালের বাইরে থাকা প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এর মাঝে মূলত ছিলো ভাতের হোটেল, ফলের দোকান, চায়ের দোকান, রোগীর প্রয়োজনীয় জিনিস ইত্যাদি। কিন্তু একদিন পরেই ফের পুরনো চিত্র। সকল দোকানই বসেছে আগের মতো করে।
খাবার হোটেলের এক মালিক বলেন, আমরা জানতাম সেদিন উচ্ছেদ হবে। আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো। দোকানের প্রায় অধিকাংশ জিনিস সরিয়ে ফেলা হয়। আর কিছু জিনিস রাখতে বলা হয়। যাতে ভাঙ্গতে পারে। তিনি দেখিয়ে বলেন, আমার হোটেলে ৮টি বেঞ্চ ও ৪টি টেবিল। আমি ২টি বেঞ্চ ও একটি টেবিল রেখে দিয়েছিলাম। আর খাবার রাখার ৩টি র‌্যাকের ২টি সরিয়ে ফেলি আর একটিতে রাখি অল্প কিছু খাবার। সঙ্গে মাথার ওপরে ছাউনি। এরপর অপেক্ষা কখন আসবে। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে যাবার সময়ই শুরু করি এসব সরানো। এর মাঝে সব সরিয়ে ফেলি আর তারা ভেঙ্গে দেয় ছাউনি।
এইসব ভাতের হোটেলে প্রতিদিন ভাড়া দিতে হয় ৩শ’ টাকা করে। কিন্তু গত মঙ্গলবার দোকান ভাঙ্গা হবে জন্য এই একদিনের ভাড়া নেয়া হয়নি। ভাতের হোটেলের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানের রয়েছে বিভিন্ন ভাড়া।

পাকিস্তানকে চাপে রাখতে হাইড্রোজেন বোমা বানিয়েছিলেন রাজীব গান্ধি!

ভারতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী  রাজীব গান্ধি পাকিস্তানকে চাপে রাখতে হাইড্রোজেন বোমা বেছে নিয়েছিলেন। ১৯৮৫ সালে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি এবং তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র গোপন দলিল থেকে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইন্দিরা গান্ধির আমলে তৈরি পরমাণু বোমার থেকে বহু শক্তিশালী ছিল ওই বোমা। এই খবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিগানের কাছে পৌঁছাতেই চিন্তিত হয়ে পড়েন তিনি।

সম্প্রতি সিআইএ গোপন দলিলের ওই অংশ আপলোড করেছে। এই নথিতে রয়েছে ১৯৮০-র দশকে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিবরণ।

সিআইএ জানিয়েছে, রাজীব গান্ধির নির্দেশে অত্যন্ত গোপনে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি ও পরমাণু কর্মসূচি চালাচ্ছিল ভারত। নিরাপত্তার এতই কড়াকড়ি ছিল যে মার্কিন গোয়েন্দাদের অনেক ঘাম ঝরাতে হয়।

আশির দশকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি। তখনই পাঞ্জাবে খালিস্তানি জঙ্গি সমস্যা তীব্র আকার নেয়। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির চলে গিয়েছিল উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের দখলে। সে সময় শুরু হয় অপারেশন ব্লু স্টার। জঙ্গি মুক্ত করা হয় স্বর্ণমন্দিরকে। জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছিল, পাকিস্তান তার পরমাণু কর্মসূচি বিশেষ শক্তিশালী করছে। একইসঙ্গে পাঞ্জাবের খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও মদত দিচ্ছিল পাকিস্তান সরকার। এ রকম পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ইন্দিরা গান্ধি।

স্বর্ণ মন্দির অভিযানের পর খুন করা হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধিকে। মায়ের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী হয়েই রাজীব গান্ধি পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির থেকে অনেক শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন রাজীব গান্ধি। ১৯৮৫ সালের ৪ মার্চ তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান যতই তার পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করুক, ভারত এক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালী।

কেমন ছিল রাজীব গান্ধির পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি?

সিআইএ-এর রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের ৩৬ জন পরমাণু বিজ্ঞানীর দলের প্রস্তুতি শেষ হয়েছিল। তাঁরা মুম্বাইয়ের কাছেই কোনও এক স্থানে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করেছিলেন। পরমাণু অস্ত্র তৈরির অন্যতম প্লুটোনিয়াম ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছিল।

এসব জানতে পেরেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের। তিনি দেরি করেননি। বিশেষ দূত পাঠিয়েছিলেন দিল্লিতে। ভারতের হাইড্রোজেন বোমা তৈরির পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির তীব্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাবনা দেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তড়িঘড়ি ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির কাছে দূত পাঠিয়ে ছিলেন তিনি।

তবে সেই দূতের সঙ্গে দেখা করেননি তিনি। সিআইএ জানিয়েছে, পাকিস্তান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ‘দোস্তি’-র কারণেই মার্কিন দূতকে পাত্তা দেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল রাজীব গান্ধির অবলম্বন।

ভারতের হাইড্রোজেন বোমা তৈরির ক্ষেত্রে সোভিয়েত রাশিয়ার (অধুনালুপ্ত) মদত ছিল কিনা সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেয়নি সিআইএ। এদিকে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি হলেও তার পরীক্ষা করেননি রাজীব গান্ধি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নির্দেশে ভারত পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। পাকিস্তানও পাল্টা পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

চীনকে নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়ছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা by স্নেহা আলেজান্ডার

কাশ্মীর ইস্যুটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে টেনে নেয়ার চীনা প্রয়াসে অস্বস্তিবোধ করে ভারতের একটি বাণিজ্য সংস্থা চীনা পণ্য ও পরিষেবা বয়কট ও তাদের প্রতি শুল্ক প্রাচীর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের আহ্বান এই প্রথম নয় এবং খুব সম্ভবত তা শেষও নয়।

অবশ্য বাণিজ্য ফ্রন্টে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিয়ে ভারতকে সতর্কতা অবলম্বন করার অনেক কারণ রয়েছে। কারণ এটি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। সাম্প্রতিক বাণিজ্য চিত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য সঙ্ঘাতের ফলে চীনা বাজারে ভারতের উপস্থিতি আরো বাড়ছে। মার্কিন বাজারে রফতানি ব্যাপকভাবে হ্রাস না পেলেও গত বছর চীনে রফতানি অনেক বেড়েছে। ২৯ জুলাইয়ের এসবিআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভারত যত রফতানি করে, চীনে করে তার তুলনায় অনেক কম হলেও গত কয়েক বছর ধরে রফতানি বাজারটি সম্প্রসারিত হওয়ায় চীনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ভারতের কাছে। বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায়, চীন তার অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানোর ফলে এই বাজার অব্যাহতভাবে ভারতীয় পণ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে থাকবে।

চীনে রফতানি বাড়ার আংশিক কারণ হলো নতুন আরোপিত কর। মার্কিন পণ্য ও পরিষেবার ওপর চীন করারোপ করায় ২০১৭-১৮ সময়কালের তুলনায় ২০১৮-১৯ সময়কালে জীবন্ত প্রাণী ও প্রাণীজ পণ্য, সব্জি পণ্য, প্লাস্টিক ও রাবার খাতে চীনে ভারতের রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ৩৩৫%, ১৩৪%, ৯৩.৭% হারে। আবার বেস মেটালের মতো পণ্যের ওপর কর বাড়ানো সত্ত্বেও ভারতের রফতানি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে রত্নপাথর ও অলঙ্কার, পাদুকার মতো খাতে কর না বাড়ালেও সেগুলো ধীর গতিতে রফতানি কমছে বা বাড়ছে।

চীনা আমদানিতে ভারতের অংশ বাড়লেও তা ছিল ২০১৮ সালে মোট চীনা আমদানির ১ ভাগেরও কম। একই বছর আমেরিকার আমদানিতে ভারতের অংশ ছিল ২.১ ভাগ।

শ্রমঘন শিল্পে ভারতের রফতানি পণ্যের (২২ ভাগ) যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে যদি এই বাজার সম্প্রসারিত না হয় তবে বৈশ্বিক শ্রমঘন শিল্পে ভারতের সার্বিক হিস্যা বাড়বে না। চীনাদের শূন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো। কেবল চীনে রফতানি বাড়লেই এই খাতে ভারতের অবস্থা ভালো হবে। ভারতের শ্রমঘন রফতানি পণ্য চীনে পাড়ি দেয় খুবই কম একটি অংশ (৩.৬ ভাগ)।

আঙ্কটাডের শ্রেণীবিভাজন অনুযায়ী শ্রমঘন শিল্পের মধ্রে রয়েছে বস্ত্র, পাদুকা ও চামড়া শিল্প।

এই খাতে চীনে ভারতের রফতানি বাড়ারে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতিগুলো থেকে সংরক্ষণবাদের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীনই কি ভারতের জন্য আকষর্ণীয় বাজার হতে পারে? এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে আমাদের আরো একটু অপেক্ষা করতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর বাজার হাতছাড়া করা ভারতের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সূচকগুলোতে দেখা যায়, চীনই এ দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি ২০১৯ অর্থবছরে ৫৩.৬ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি (এটা কমছে, ২০১৮ অর্থবছরে ছিল ৬৩.১ বিলিয়ন ডলার) সত্ত্বেও এই বাজারেই ভারতের প্রবেশের সুযোগ বেশি।

আবার চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও সেইসাথে প্রযুক্তিগত যে যুদ্ধ চলছে, তা নিয়েও ভারতের সতর্ক থাকা উচিত। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আধিপত্য থেকে রক্ষার করতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করছে চীন।

বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ ও ভূকৌশলগত সঙ্ঘাত তীব্রতর হওয়ায় ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এগিয়ে যাওয়াটা সহজ হবে না। তবে সঙ্ঘাতের ফলে ভারতের জন্য সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।

এই সাহসী নতুন বিশ্বে টিকে থাকা ও সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য ভারতকে অবশ্যই রোমাঞ্চবাদভিত্তিক নীতি এড়িয়ে অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।

লঙ্কা-মার্কিন সম্পর্কে ধাঁধার সৃষ্টি করেছে নতুন সেনা প্রধান ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব

লে. জেনারেল সাভেন্দ্র সিলভা
মঙ্গলবার শ্রীলংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ সম্পর্কিত খবরের প্রতিবাদ করে বেশ কঠোর ভাষায় এক বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, সেনা কমান্ডার নিয়োগ নিয়ে বিদেশী পক্ষগুলো যেসব মন্তব্য করছে তা কাঙ্ক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটা রাষ্ট্রপ্রধানের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত।

মূলত একদিন আগে নতুন সেনাপ্রধান লে. জেনারেল সাভেন্দ্র সিলভার নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বিবৃতিরই প্রতিবাদ জানায় শ্রীলংকা।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বিবৃতিতে লে. জেনারেল সাভেন্দ্র সিলভা নতুন আর্মি কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা তার বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে তা গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য। এই নিয়োগ শ্রীলংকার আন্তর্জাতিক সুনাম এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে তার প্রতিশ্রুতির ক্ষতি করবে, বিশেষ করে এমন একটি সময় এটা করা হলো যখন সমঝোতা ও সামাজিক ঐক্যের খুবই প্রয়োজন। সিলভার নিয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। কিন্তু পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) এ যাবতকালের সবচেয়ে কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে।

ইউএনপি’র বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু দ্বিপাক্ষিক অংশীদার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নিয়োগের ব্যাপারে অভিযোগের ভিত্তিতে যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তা দু:খজনক এবং এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকল দায়িত্বশীল সদস্যের সমর্থিত আইনানুগ বিচারের নীতির পরিপন্থী।

বিদায়ী সেনা প্রধান লে. জেনারেল মহেষ সেনানায়কের জায়গায় সোমবার সিলভাকে নিয়োগ দেয়া হয়। এই নিয়োগ শ্রীলংকার তামিল সম্প্রদায়ের মধ্যেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সিলভা যে ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দেন সেটি শীর্ষ এলটিটিই কমান্ডারদের নিশ্চিহ্ন করে। বলা হয়, ২০০৯ সালের মে মাসে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গিয়ে এলটিটিই কমান্ডাররা আত্মসমর্পনের জন্য সাদা পাতাকা তুলেছিলো কিন্তু সিলভার ব্যাটালিয়ন তাতে পাত্তা দেয়নি।

শুরু থেকেই কঠোর ভাষায় এই নিয়োগের প্রতিবাদ জানান তামিল রাজনীতিকরা। তামিল ন্যাশনাল এলায়েন্সের মুখপাত্র এমএ সুমান্থিরান নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই নিয়োগ সংখ্যালঘু তামিল সম্প্রদায়ের জন্য অপমানজনক। এর মাধ্যমে সরকারের সমঝোতা উদ্যোগ ভণ্ডুল হয়ে গেলো।

শ্রীলংকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তিন মাস আগে প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ দিলেন। নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার ভাই ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব গোটাভায়া রাজাপাকসার বিজয়ী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাহিন্দার তিন বছর বয়সী দল শ্রীলংকা পদু জানা পেরামুনা (এসএলপিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

এদিকে দেশে-বিদেশে কিছুটা হলেও বিতর্কিত একজনকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করায় তার সমর্থক ও সমালোচক নির্বিশেষে সবাই স্বীকার করছেন যে এতে পশ্চিমা মানবাধিকার লবি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে (ইউএনএইচসিআর) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময় শ্রীলংকার মানবাধিকার নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে যখন তাদের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধেই অভিবাসন বিরোধী নীতি অনুসরণের জন্য সারা বিশ্ব থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যে নীতি শিশুদেরকে তাদের বাবা-মার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ২০১৮ সালে ইউএনএইচসিআর ছেড়ে গেছে।

সার্বিকভাবে শ্রীলংকানরা এই নিয়োগকে দেশের নিজস্ব এবং জাতীয় সার্বভৌত্বের ব্যাপার বলে মনে করেন। এ বিষয়ে অন্য দেশের বলার কিছু নেই। বিশেষ করে জেনারেল সিলভার বিরুদ্ধে যখন কোন অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। শ্রীলংকার ৩০ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার তামিল, সিনহলিজ ও মুসলমান নিহত হয়। শ্রীলংকার সশস্ত্র বাহিনী এলটিটিইকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্য দিয়ে ২০০৯ সালের মে মাসে এই যুদ্ধ শেষ হয়।

কেই কেউ মনে করেন এই নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হৈচৈ-এর কারণ হলো আঙ্গুর ফল টক। কারণ তারা শ্রীলংকা সরকারের সঙ্গে স্ট্যাটাস অব ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট (সোফা), একসেস এন্ড ক্রস সার্ভিসেস এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ) ও মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কোঅপারেশন ফান্ড এগ্রিমেন্ট (এমসিসি) চুক্তি করতে চেয়েও পারেনি।

মোটের উপর, সিলভার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া সিনহলা জাতীতাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় কাজে লাগাতে পারবে এসএলপিপি। তামিল ও মুসলমানদের কাছ থেকে তেমন সমর্থন পাবে না ধরে নেয়ায় জনতাকে খেপিয়ে তোলার মতো এ ধরনের বক্তব্য এসএলপিপি’র খুবই প্রয়োজন। যদিও গোটাভায়ার পক্ষে শ্রীলংকার মুসলমানদের সমর্থন জোরদার হচ্ছে বলে কিছু ইংগিত পাওয়া যাচ্ছে। এই বিষয়টি আলাদা নিবন্ধে তুলে ধরবে সাউথ এশিয়ান মনিটর।

তবে, সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের ঘোষিত ও সরব মার্কিনবিরোধী অবস্থানের কারণে ‘ডাল মে কুচ কালা’ হ্যায়’ বলে সন্দেহ করছেন অনেকে। এই কিছু দিন আগেও গোটাভায়া ছিলেন মার্কিন নাগরিক এবং সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন বলে এসএলপিপি জানিয়েছে। গোটাভায়া যদিও জাতীয়তাবাদ, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করে আসছেন এবং এগুলোই তার নির্বাচনী প্রচারণার ভিত্তি কিন্তু কোন কোন বিশ্লেষক মনে করে যুক্তরাষ্ট্র তার কাছ থেকে পুরোপুরি সরে যায়নি। তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া নির্বাচনের পর পর্যন্ত বিলম্বিত করতে পারতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে গোটাভায়ার বিরুদ্ধে দুই শ্রীলংকানের দায়ের করা দুটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা চলমান থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি। মামলা দুটির একটি হলো ১০ বছর আগে নিহত সানডে লিডার পত্রিকার সম্পাদক লাসানথা বিক্রমেতুঙ্গা সম্পর্কিত। তার মেয়ে এই মামলা দায়ের করেন। কারণ তখন গোটাভায়া ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী ছিলো তার নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছিল, বিশেষ করে বেসামরিক লোকজন হতাহতের জন্য গোটাভায়ার তীব্র সমালোচনা করতেন লাসানথা।

কাশ্মীরে নারীদের যৌন হয়রানি করছে জওয়ানরা

কাশ্মীরিদের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ছে ভারতীয় সেনারা। শিশু, যুবক, কিংবা বৃদ্ধ- ঘর থেকে বের হলেই চোখ-মুখ লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ছোড়া হচ্ছে গুলি।

আগে থেকেই ছররা গুলির ব্যবহার থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নতুন করে আহত হয়েছেন অনেকেই। অন্ধ হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কেউ কেউ। গুরুতর আহত হলেও অনেকেরই চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই তাদের দিকে ‘পেলেট গান’ তাক করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ঠিক কতজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নয়াদিল্লিভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, বাড়ি তল্লাশির নামে বহু নারী ও অল্প বয়সী কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং শতশত কিশোরকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিউ ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের একদিন পর (৬ আগস্ট) ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসরার আহমেদ। বাড়ির বাইরে বের হলে সেনারা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

এতে তার মাথা, চোখ, কাঁধ ও মুখে মারাÍক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ১৫ দিন ধরে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস (এসকেআইএমএস) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে ছররা গুলি খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘একটা বল আনতে বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে বের হই আমি।

ঠিক তখনই কিছু দূরে দাঁড়ানো সেনারা প্রথমে আমার দিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে মারে। পরপরই আমার চোখে ও মুখে ছররা গুলি ফায়ার করে।’ ছররা গুলিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) চক্ষু বিভাগ খোলা হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এখানে। এখন অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। শ্রীনগর পুরনো শহরের বাসিন্দা সামির হোসেন তাদেরই একজন। একটি ওষুধের দোকান চালান হোসেন। তিনি জানান, গত শনিবার ছররা গুলি লাগে তার।

ওই সময় নিজের ওষুধের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাম চোখে এসে লাগে গুলি। দোকান থেকে ফেরার পথে পুলিশ গুলি চালায়। আমি ঠিক জানি না, তারা কেন আমার দিকে তাক করল।’

সামির হোসেনের বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। তার চোখেও ছররা গুলি লেগেছে। সাদিক বলছিলেন, ‘মাগরিবের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরছিলাম আমি। ওই সময় মসজিদের কাছেই কিছু মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। আমি বিক্ষোভে অংশ নিইনি। কিন্তু আমাকেও গুলি করা হয়েছে।’

হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ছররা গুলির রোগীর ভিড় থাকলেও এ পর্যন্ত ঠিক কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন, সে ব্যাপারে একেবারে নীরব রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে হাসপাতালের স্টাফরাও ছররা গুলির রোগীর ব্যাপারে সহজেই তথ্য দিতেন।

কিন্তু এখন একেবারেই চুপ। রোগীদের দর্শনার্থীদের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। রাতে দায়িত্ব পালন করা চক্ষু বিভাগের এক ডাক্তারের সঙ্গে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে বর্তমানে ঠিক কতজন রোগী ভর্তি আছেন তা তিনি জানেন না।

সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার নেই আমাদের।’ বিক্ষোভ রুখতে ২০১০ সাল থেকে পেলেট গান (এক ধরনের অস্ত্র) ব্যবহার করছে বাহিনী।

ভারতে শুধু কাশ্মীরেই এই পেলেট গান ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্দুকের গুলির মতো মারণাস্ত্র নয় এ ছররা। একেকটি শেলের মধ্যে ছোট ছোট পাঁচ শতাধিক লোহার বল থাকে। বন্দুক থেকে এই শেল ছোড়া হলে বাইরের খোলস ফেটে বলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাশ্মীর সরকারের এক তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে আট শতাধিক কাশ্মীরি চোখে আহত হন। তবে পিলেট ভিকটিম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মতে, ২০১৭ সালে ১২০০-এর বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর চোখে ছররার গুলি লাগে। এর মধ্যে শতাধিক কাশ্মীরির এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালকে তো ‘গণ-অন্ধত্ব বছর’ বলা হয়ে থাকে। ওই বছরের ৮ জুলাই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানির হত্যার পর উত্তপ্ত কাশ্মীরে ১১০০ জনের চোখে ছররা ঢোকে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১শে আগস্ট হামলা

একুশে আগস্টের ভয়াল গ্রেনেড হামলা তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তখন খালেদা জিয়াই কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল, সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দায়িত্ব তো অস্বীকার কেউ করতে পারে না। গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা সে সময়ের সরকারের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। সেদিন আমি ওই এলাকা ছেড়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় লাঠিচার্জ।
সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে পানি দিয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। আমি জানতে পেরে নানককে বলি, আলামত নষ্ট করছে, তোমরা ওখানে যাও। আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলার স্থানগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে আলামত রক্ষার চেষ্টা করে। অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সেটি সেনা অফিসার নিয়ে যায়, সে সেটা রাখতে চেয়েছিল বলে চাকরি হারায়। কোনও আলামত না রাখার চেষ্টা তারা করেছিল। দলীয় প্রচেষ্টায় আলামত রক্ষা করার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরাই রক্ষা করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানে সরকারের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা ছিল না। যেখানে এতো বড় একটা এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে।
তার মানে এই ঘটনার যাতে কোন আলামত না থাকে, সেই চেষ্টাটাই কিন্তু তারা করেছিল। জনমতের চাপে একজন হাইকোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে একটা তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির যা রিপোর্ট সেটা তো তাদের ফরমায়েশি রিপোর্ট। সেখানে একটা সাধারণ মানুষ ধরে নিয়ে এসে তাকে আসামি করা হয়। সে নাকি এই আক্রমনটার ব্যবস্থা করেছিল, সেই নাকি এই ষড়যন্ত্রের হোতা। তখন এই জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। এখন আস্তে আস্তে সবই বেরোচ্ছে। কিভাবে এই জজ মিয়াকে নিয়ে আসে। কিভাবে তার উপর টর্চার করে তাকে দিয়ে স্বীকার করায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জজ মিয়া তো গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ সে এতো গ্রেনেড কোথা থেকে কিনবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা অনেক কিছু বের করে এনেছেন। এটিও বের করতে পারেন-খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ধানমন্ডির ৫ নম্বরে তার শ্বশুরবাড়িতে আগের ১০ মাস থাকতো। ঠিক ১লা আগস্ট ক্যান্টনমেন্টের বাসায় কেন চলে যায়? এ সময় ওখানে বসে বসে তার কাজ কী ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ওই দিন বাসায় পৌঁছে আমি সবার খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। আহতদের উদ্ধার করতে কাউকে আসতে দেয়া হয়নি। ঢাকা মেডিকেলে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছিল। আমাদের যারা সমর্থক তারাই সেদিন কাজ করেছে, আমাদের লোকজন রক্ত দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি, সারা ঢাকা শহরের হাসপাতালের খোঁজ নিয়েছি। আমি খুঁজে খুঁজে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। পরে বিদেশে পাঠিয়েছি। শান্তিনগরের ক্লিনিকে সাহারা আপাকে খুঁজে পেলাম। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো, শেখ হাসিনা হ্যান্ডব্যাগে গ্রেনেড এনে নিজে মেরেছে। আমরা সুইসাইড করতে গিয়েছি যেন! ওরা কী না পারে। মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দিলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বোধহয় খালেদা জিয়ার তৈরি করা ছিল যে আমি মরলে পরে একটা কন্ডোলেন্স জানাবে। সেটাও না কী তার প্রস্তুত করা ছিল। কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সেটাই বড় কথা। শেখ হাসিনা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে থাকার কথা নয়। ওরা ভাবেনি যে বেঁচে থাকবো। অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমি জানি। যারা হামলা করেছে তারা এক জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে ফোন করেছে যে আমি মারা গেছি কী না। তিনি বলেন, অজ্ঞাতনামা দুজন যে মারা গেল তাদের খবর কেউ নেয়নি, লাশও কেউ নেয়নি।
যাই হোক আল্লাহর মাইর বলে দুনিয়ায় একটা কথা আছে। মানুষ বোঝে না, আল্লাহর শক্তি কত। যে অভিশাপ আমার জন্য দিয়েছিল, সেটা তার কপালেই জুটে গেছে। এটা হল বাস্তবতা। তবে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই তদন্তের মধ্য দিয়ে যারা আসামি তারা শাস্তি পেয়েছে। তবে এখানে ঠিক, খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়নি। তার যে সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব রয়েছে, এটা তো অস্বীকার করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে বিএনপি-জামায়াত সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের ঘটনা কোনদিন ঘটা সম্ভব না। এটা আজকে প্রমাণিত সত্য এবং যার জন্য এতোদিন পরে মামলা করে আমরা একটা রায়ও পেয়েছি। এখন এটা উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সে যাবে। আমি আশা করি, এর বিচার হবে কিন্তু যাদেরকে আমরা হারিয়েছি তাদেরকে তো আর ফেরত পাব না। শেখ হাসিনা বলেন,আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। পঙ্গু করেছে। অত্যাচার করেছে। চোখ তুলেছে। পা কেটে দিয়েছে। কত পরিবারকে ধ্বংস করেছে। ঠিক হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী একাত্তরে আমাদের উপর যেভাবে আক্রমণ করেছে, হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি ঠিক একইভাবে করেছে। এখানে জিয়াউর রহমান শুরু করেছিল। এরশাদও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। খালেদা জিয়াও সেই একই পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তাদের একটাই উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ যেন কখনো ক্ষমতায় আসতে না পারে। তাহলে বাংলাদেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, কখনো ভয়ে ভীত হইনি, হবো না। নিজের জীবনের কখনো মায়া করিনি। কখনো ভয়ে ভীত হইনি। যতক্ষণ জীবন আছে আমি কাজ করে যাবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর ১৫ আগস্ট ও ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নেতাদের মধ্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য ও তৎকালীন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বক্তব্য রাখেন। দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

প্রত্যাবাসনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, তবে...

প্রত্যাবাসনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। চীনের মধ্যস্থতায় আজই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার সময়ক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের রাজি করাতে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের কক্সবাজার ক্যাম্প পরিদর্শন এবং জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের চেষ্টার ফল এখনও দৃশ্যমান নয়। অর্থাৎ মিয়ানমার যাদের গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে তারা যেতে রাজী কি-না? তা এখনও অস্পষ্ট। গতকাল সন্ধ্যা অবধি একটি পরিবারের তরফেও ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি মিলেনি। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা স্বেচ্ছায় যেতে রাজী হলেই কেবলমাত্র পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের সীমান্ত পার করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এটাই বাংলাদেশের একমাত্র কাজ। অন্য কিছু নয়।
মাঠ পর্যায়ে এটারই প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে তারা রাজী কি-না?
সেই রিপোর্ট বা মতামত গ্রহণ করছে ইউএনএইচসিআর। চূড়ান্ত বিবেচনায় তাদের ওই রিপোর্টই বলবে প্রত্যাবাসন হচ্ছে কি-না? প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ক্লিয়ারেন্স পাওয়া ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই বাছাই শেষে ৩৩৯৯জনের ফিরে যাওয়ার সম্মতি আছে কি-না? যাচাই করছে ইউএনএইচসিআর। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদের মুখে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। আজকে এটি দ্বিতীয় চেষ্টা। সূত্র মতে, দুই দফায় দুই শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে বেশিরভাগই জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরবে না। ফলে প্রত্যাবাসন প্রস্ততি সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) ও ইউএনএইচসিআর মঙ্গল ও বুধবার দু’দিনে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করেন। তালিকায় থাকা ৯৫ ভাগ রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসনের বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যাবাসনের জন্য কেরুনতলী ও ঘুমধুম ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে সেনা, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের টহল জোরদার রয়েছে।
গতকাল টেকনাফে শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরেও ওই প্রস্তুতি দেখা গেছে। শালবাগান সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) অফিসে সাক্ষাৎকার প্রদান শেষে ফেরার পথে রোহিঙ্গা মোঃ আলম, ইসমাইল, নুর বাহার, নুরুল ইসলাম, নুর হাসান, শব্বির আহমদের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি দাওয়া পূরণ হলে মিয়ানমারে ফিরে যাবেন বলে জানান। অন্যথায় তারা স্বদেশে ফিরতে রাজি নয়। তাদের এ দাবী দাওয়া গুলোর মধ্যে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত, কারাগারে বন্দি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা, ধর্ষনের বিচার, অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা প্রদানসহ একাধিক শর্ত । তবে এসব রোহিঙ্গাদের সবাইকে একই সুরে কথা বলতে দেখা গেছে। অনেকটা শেখানো বুলি’র মত। এদিকে প্রত্যাবাসন বিরোধী একটি চক্র ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের চোখ রাঙ্গানীতে তটস্থ সাধারন রোহিঙ্গারা। এমনকি তারা উচ্চ স্বরে ক্‌থা বলতেও শঙ্কিত। অদৃশ্য এ চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নয়। প্রত্যাবাসনের রাজি ১০-১৫টি পরিবারের খবর জানা গেলেও স্পস্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। টেকনাফ নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (নং- ২৬) ইনচার্জ মোঃ খালিদ হোসেন জানান, দুই দিনে ২৩৫ পরিবার প্রধানের সাক্ষাৎকার গ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ২১ পরিবার সাক্ষাৎকার দিয়েছে। তবে এদের মধ্যে কত পরিবার প্রত্যাবাসনের জন্য রাজি হয়েছে তা সাক্ষাৎ প্রক্রিয়া শেষে জানা যাবে বলে জানান তিনি। আবার আগের দিনের চেয়ে সাক্ষাৎকার প্রদানে রোহিঙ্গাদের আগ্রহ বেড়েছে। টেকনাফ র‌্যাবের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ মির্জা শাহেদ মাহতাব জানান, র‌্যাবের তিনটি টহল দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বক্ষনিক তৎপর রয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানীমুলক কর্মকান্ড ঠেকাতে কাজ করছে তারা। 
প্রত্যাবাসনে প্রস্তুত টেকনাফের কেরুনতলী ও ঘুমধুম ঘাট: এদিকে প্রত্যাবাসনের জন্য টেকনাফের কেরুনতলী ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম ঘাট প্রস্তুত রয়েছে। নাফ নদীর কিনারে কেরুনতলী প্রত্যাবাসন ঘাটে রোহিঙ্গাদের সাময়িক অবস্থানের জন্য ৩৩ টি ঘর ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জলপথে প্রত্যাবাসন হলে এঘাট দিয়েই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে এ ঘাটটি এখনই ব্যবহার করা  হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে। অপরদিকে স্থল পথে প্রত্যাবাসন হলে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ফেরত পাঠানো হবে। চুক্তি অনুযায়ী একটি পয়েন্ট দিয়ে দিনে ১৫০জন রোহিঙ্গা ফেরার কথা।

কথা বলতে মাত্র এক মিনিট সময় পাচ্ছেন কাশ্মীরিরা

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি। যদিও সেখানে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে ল্যান্ডলাইন ফোন, ইন্টারনেট পরিষেবা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও সাধারণ কাশ্মীরিদের অভিজ্ঞতা সে কথা বলছে না।
ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ জেলায় চালু হয়েছে টুজি ইন্টারনেট পরিষেবা। জম্মু, রেয়াসি, সাম্বা, কাঠুয়া, এবং উধমপুর- এই পাঁচ জেলায় প্রাথমিক পরিষেবা চালু হয়েছে।
তবে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসবাসকারী কাশ্মীরিরা জানিয়েছেন, পরিবারের লোকজনকে থানায় গিয়ে লম্বা লাইন দিয়ে কথা বলতে হচ্ছে-আর তারা সেখানে বড়জোর মিনিটখানেকই কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।
দিল্লিতে থাকেন বারামুলার মেয়ে সাদাফ ওয়ানি জানান, তার আব্বু ছোট মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে থানা থেকে ফোন করেছিলেন-কিন্তু সে কথাটা মেয়েকে বলার আগেই লাইন কেটে যায়।
মোবাইল ফোন তো দূরস্থান, সাধারণ কাশ্মীরিদের বাড়িঘর-ব্যবসা-দোকানপাটে এখনও ল্যান্ডলাইন পর্যন্ত চালু হয়নি। বস্তুত মোবাইল, টেলিফোন বা ইন্টারনেটে কাশ্মীর উপত্যকা বাকি পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে ঠিক দুসপ্তাহ হতে চলল।
জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের মুখপাত্র রোহিত কানসাল শনিবার শ্রীনগরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, তারা ৫০ হাজারেরও বেশি ল্যান্ডলাইন অবিলম্বে চালু করে দিচ্ছেন, যাতে সাধারণ মানুষের পক্ষে যোগাযোগ এখন অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু দিল্লিতে থেকে যে কাশ্মীরিরা পড়াশুনো বা চাকরি করেন তাদের অভিজ্ঞতা বলছে এখনও আসলে পরিস্থিতি কিছুই পাল্টায়নি।
এদিকে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ল্যান্ডলাইন চালু হয়ে গেছে- প্রশাসনের এমন দাবির বিষয়ে সাদাফ জানান, ‘দেখুন, গোটা কাশ্মীর জুড়ে, শ্রীনগর-বারামুলা-সোপোরে আমার আত্মীয়স্বজনরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। আমি ক্রমাগত তাদের নম্বর ঘুরিয়ে চলেছি, কিন্তু কাউকে এখনও পাইনি। দিল্লিতে আমি এমন কাউকেই জানি না যে কাশ্মীরে কাউকে ল্যান্ডলাইনে ধরতে পেরেছে বলে। কাজেই সরকারের এই দাবিটা খুবই বিভ্রান্তিকর।’
গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের দিন তিনেক আগে থেকেই কাশ্মীরে ইন্টারনেট এবং ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কারফিউ, ইন্টারনেট বন্ধ, ইত্যাদি নিয়ে একটি মামলার প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছে, এক রাতে কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। ওখানে শান্তি ফেরাতে সময় লাগবে। কেন্দ্র সেই সময় নিক। আমরা চাই উপত্যকায় শান্তি বিরাজ করুক।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদীরা যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে নাশকতা না করতে পারে, সে কারণেই এই পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রপতি বিলে স্বাক্ষর করায় আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে আত্মপ্রকাশ করবে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ।
বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর গোটা রাজ্য জুড়ে ছিল কারফিউ, স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকে সেখানের জনজীবন। সর্বত্র ভারতীয় সেনাদের টহল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে অনেকে নিহত হন এবং গ্রেপ্তার করা হয় সহস্রাধিককে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি: কী করছে কর্তৃপক্ষ? by ফারহানা পারভীন

বাংলাদেশে ১১জন মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাব শনিবার তাকে আটক করে।
এর আগেও নারায়ণগঞ্জের আরেকটি মাদ্রাসায় ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করা হয়।

সম্প্রতি এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে: কর্তৃপক্ষ এসব আবাসিক ও কওমী মাদ্রাসার ওপর কতোটা নজর রাখছে?
নারায়ণগঞ্জে র‍্যারের কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দুজন ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকের অভিযোগের পর তারা ঐ মাদ্রাসাটির উপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, "এই মাদ্রাসার যিনি বড় হুজুর, তার বিরুদ্ধে আগেই ভাসা ভাসা এমন সব কথা শোনা গেছে। প্রাথমিক সত্যতার পর আমরা মাদ্রাসায় অভিযান চালাই এবং তাকে গ্রেফতার করি।"
র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলছিলেন, "প্রথমে চারজন শিক্ষার্থীর কথা শোনা গেলেও তার কাছে জানতে চাইলে তিনি ১১ জনের কথা বলেছেন - যাদের উপর তিনি যৌন নির্যাতন করেছেন।"
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই অধ্যক্ষ জানিয়েছেন মাদ্রাসাটি কওমী মাদ্রাসার অন্তর্ভুক্ত এবং কওমী মাদ্রাসার একটি পরীক্ষাকেন্দ্রও ছিল এটি।
১৯৭৮ সালের 'বাংলাদেশ মাদ্রাসা এডুকেশন অর্ডিন্যান্স' এ বলা হয়েছে বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত বা অন্তর্ভুক্ত নয় এমন সব মাদ্রাসার ব্যাপারে তদন্ত করা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রশাসনিক ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে বোর্ডের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিষয়ক বিভাগের শিক্ষক খন্দকার ফারজানা রহমান, যিনি মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের বিষয়ে গবেষণা করছেন, তিনি বলছেন, এবিষয়ে যে মাদ্রাসা বোর্ডগুলোর তত্ত্বাবধানের অভাব রয়েছে সেটা একেবারে পরিষ্কার।
"চূড়ান্তভাবে কিন্তু আমাদের এই মাদ্রাসা ব্যবস্থার ওপর সঠিক পর্যবেক্ষণ নেই। যথেষ্ট জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।"
তিনি বলেন, "তারা (বোর্ড) বলছে তারা তো (মাদ্রাসাগুলো) আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, আমাদের কিছু করার নেই, এই যে একটা দায় এড়িয়ে চলার প্রবণতা সেটা কিন্তু জবাবদিহিতার অভাবের উদাহরণ। তারা আসলে কোন দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। এমনকি আইনে যা বলা হয়েছে সেটাও তারা মানছে না।"
সংবাদ মাধ্যমে মাদ্রাসায় এমন একাধিক ধর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
সেক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নিতে পারছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড?
কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড যেটা 'বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ' নামে পরিচিত তার সহ-সভাপতি মুফতি ফয়জুল্লাহ বলছিলেন, মাদ্রাসার নামে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তারা একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে এদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি বলেন, "প্রথমত এরা কী করছে সেটা দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি দেখছে আসলে এরা কারা। সেখানে কোন অনৈতিক ঘটনা হলে নিশ্চয়ই আমাদের কাছে সুপারিশ আসবে। সেই অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ আমরা ব্যবস্থা নেব।"
কওমী শিক্ষা বোর্ড বলছে যে দুটি মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটেছে - সেগুলো বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা আইন অনুযায়ী কোন শিক্ষা বোর্ডের এসব ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মাদ্রাসার ওপর কর্তৃপক্ষের খুব একটা নজরদারি নেই

সাদা পাথরে নজর সবার by ওয়েছ খছরু

সিলেটে সবার নজর এখন সাদা পাথরে। কারো নজর পর্যটনে। কারো নজর ব্যবসায়। তবে পর্যটন ও ব্যবসা দুটোই চান স্থানীয়রা। কেবলমাত্র পর্যটন দিয়ে সাদা পাথর এলাকা চলতে পারে না বলে অভিমত তাদের। পাশাপাশি একচেটিয়া ব্যবসাও চান না তারা। এতে করে পর্যটন বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে সাদা পাথর এলাকা নিয়ে এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
সাদা পাথর- একটি নাম। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথররাজ্য ভোলাগঞ্জের উৎসমুখ এটি। সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছে। সাদা সাদা পাথরে ভরপুর ওই এলাকা। এ কারণে সাদা পাথর নাম দেয়া হয়েছে এখানে। এবারের ঈদে সিলেটের পর্যটকদের কাছে সাদা পাথর পরিচিত নাম। বলতে গেলে পর্যটনের নতুন স্পট। যারাই যাচ্ছেন মন জুড়িয়ে আসছেন।
ভারত থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ পানির ধারা আর সাদা পাথরের সমাহারে জলকেলি কাছে টানছে সবাইকে। এবারের ঈদে হাজার হাজার পর্যটকের ঢল নেমেছে এখানে। কয়েক বছর আগেও সাদা পাথরের কোনো নামগন্ধ ছিল পর্যটনে। এবার সেটি নতুন স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কয়েক বছর আগে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির ভেতরেই ছিল সাদা পাথর এলাকা। স্থানীয়দের মতে, এখনো ওই এলাকা কোয়ারির ভেতরে। সীমান্তের দেড়শ’ গজ এলাকা বাদ দিলেই বাকি সব কোয়ারি। এখান থেকে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে কোনো বাধা নেই। কিন্তু যান্ত্রিক দানব বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের আশঙ্কায় সব পদ্ধতিতেই পাথর উত্তোলন বন্ধ রেখেছে। রাতের আঁধারে কিছু কিছু বারকি শ্রমিক সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে তারা চুরি করে নিচ্ছে সাদা পাথর। নৌকাপ্রতি ৪ হাজার গ্রহণ করে সেখান থেকে পাথর চুরির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এতে আপত্তি স্থানীয়দের। তারা বলেন, দেশের সম্পদ এভাবে চুরিতে বিক্রি কিংবা অন্যত্র স্থানান্তর করা অপরাধ।
একেবারে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা হওয়ার কারণে রাতের বেলা কেউ ওখানে যায় না। আর এই সুযোগে পাথর লুটের ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন ১০-১২ লাখ টাকার পাথর চুরির অভিযোগ করেছেন তারা। কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া গ্রামের বিল্লাল আহমদ জানিয়েছেন, সাদা পাথরের জন্য ৪ কিংবা ৫শ’ গজ এলাকা সংরক্ষিত করে রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর বাইরে যেসব পাথর রয়েছে সেগুলো রয়্যালিটি আদায়ের মাধ্যমে উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে উজান থেকে পাথর আসবে না। আর পাথর না এলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নামবে। তিনি বলেন, শ্রমিকরা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনে কোনো আইনি বাধা নেই। অথচ সেটিও করতে দেয়া হচ্ছে না। ভোলাগঞ্জ গ্রামের আক্তারুজ্জামান নোমান বলেন, ভোলাগঞ্জে পর্যটন প্রয়োজন। পর্যটনের অতীতের দুর্নাম ঘুচাতে পারবে। পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংস না করে পাথর উত্তোলন করার সুযোগ দিলে স্থানীয় শ্রমিকরা উপকৃত হবে। সাদা পাথরে পর্যটন আকৃষ্ট হওয়ায় সিলেটে প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। শুক্রবার সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলামসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা। সাদা পাথর কেন্দ্র করে সেখানে নৌকা ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকরা যাতে ভোগান্তির শিকার না হন সে কারণে নৌকার জন্য ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রতি নৌকা ৮০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে যেতে পারবেন পর্যটকরা।
স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বীজেন ব্যানার্জি এই ভাড়া নির্ধারণ করে দেন। শনিবার পর্যটন কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামানও। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদ জানিয়েছেন, আমরা চাই দুটো। পরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন এবং প্রকৃতির পরিচর্চা। একটি রেখে অপরটি সম্ভব নয়। সুতরাং এ বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে এলাকার সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনিও ভোলাগঞ্জের ব্যাপারে আন্তরিক। সুতরাং সাদা পাথরের কিছু এলাকাকে সংরক্ষিত করে বাকি জায়গা থেকে পরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া জানিয়েছেন, কোম্পানীগঞ্জকে পর্যটন করার প্রক্রিয়া সেই স্পিকারের যুগ থেকে শুরু হয়েছিল। সুতরাং যা করার প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেই করতে হবে।

ভারতের সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব এ দেশেও পড়ে: -ইমতিয়াজ আহমেদ by মিজানুর রহমান খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুল ধরা হলো:
ভারতের নির্বাচনী ফল কি আপনাকে বিস্মিত করেছে?
পরিবারতান্ত্রিকতা কংগ্রেসের একটি বড় দুর্বলতা। তারা সম্মিলিত বিরোধীদলীয় মোর্চাও করতে পারেনি। সুতরাং রাহুল গান্ধীর ওপর মানুষ ভরসা রাখতে পারেনি। সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহার করে বিজেপি তার ভোটব্যাংক বিস্তৃত করেছে। তাই যে ভারতকে চিনতাম, সেটি কতটা টিকবে, তা একটা প্রশ্ন। বেকারত্বের হার, বিশ্বের ৩০টি দূষিত শহরের ২২টিরই ভারতে থাকা, কৃষকের দুরবস্থা, ডিমনিটাইজেশন–কাণ্ড, জঙ্গির সংখ্যা ও সৈন্যদের হতাহত হওয়াসংক্রান্ত তথ্যগুলো কিন্তু বলে যে বিজেপির জেতার কারণ ছিল না। উত্তর আধুনিক যুগে বিজেপি নির্বাচনী ফলাফলে কারসাজির উপকরণগুলো এতটাই দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে যে ওই বাস্তবতা ঢাকা পড়েছে। অনধিক ৩৬ শতাংশ ভোটে পেয়ে এর আগে মোদি দুই-তৃতীয়াংশ আসন জেতেন, এবার কী করলেন, সেটা জানতে তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। তবে সাম্প্রদায়িকতার উত্থান শুধু ভারতের নয়, তার প্রতিবেশীদের জন্যও উদ্বেগের।
বাংলাদেশে ভারতীয় নির্বাচনের প্রভাব কী?
বাংলাদেশ ও ভারতীয় জনগণের মেধা-মনন কাছাকাছি। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত যদি নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহার করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশেও তেমনটা ঘটার আশঙ্কা থাকে। নির্বাচনে জিততে সাম্প্রদায়িক স্লোগানের ব্যবহার হতে পারে। তবে তা হয়তো অবিকল ভারতের মতো হবে না। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে শুধু মুসলিমবিরোধী নয়, বাংলাদেশবিরোধী মনোভাবও লক্ষ করা গেছে। সেখানে বাংলাদেশবিরোধিতা তীব্রতা পেলে এখানে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্র না হওয়ার কারণ নেই। ভারতবিরোধী উপাদানের মধ্যে হিন্দুবিরোধী উপাদান থাকবে। সেখানে একটা ভয় রয়ে গেছে। ভারতের নির্বাচনে বিজেপির গান্ধীবিরোধিতা থেকে মুসলিমবিরোধিতার কমবেশি প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে।
নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রথম মেয়াদে প্রথমে সফর করেছিলেন ভুটান, আর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমে বেছে নিলেন মালদ্বীপ। দিল্লির কাছে ঢাকার গুরুত্ব আসলে কেমন?
মালদ্বীপে ভারতপন্থী বা চীনবিরোধীদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটা বিষয় ছিল। সেখানকার ক্ষমতাসীনেরা অতটা চীনের পক্ষে নেই। দক্ষিণ এশিয়া তো ইউরোপের মতো নয়। সেখানে শীর্ষ নেতাদের আসা–যাওয়া অনেকটাই লৌকিকতা। কিন্তু এখানে কে কখন এল, কী দিল—সেসব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা তো ছিলই, তারপর যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা। ভারত রোহিঙ্গা প্রশ্নে কী বলে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালের আগস্টে অনেকে ভেবেছিল, ভারত হয়তো মিয়ানমারকে চাপ দেবে, কিন্তু ঘটল উল্টো। ভারত এখনো রোহিঙ্গা প্রশ্নে চুপ থাকতে চাইছে।
বাংলাদেশ কি চীনের দিকে ঝুঁকছে?
মূলত অর্থনৈতিক কারণে। বাংলাদেশ এমন কোনো জোটে যাবে না, যার নিরাপত্তাগত বা সামরিক তাৎপর্য রয়েছে। চীনের কাছে এখন অঢেল মূলধন, যা পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নেই। পাঁচ বছর অন্তর যারা নির্বাচনে জয়ী হতে চাইবে, তাদের বড় উন্নয়ন দেখাতেই হবে। আর ১০ শতাংশ জিডিপির দিকে যেতে চাইলে তার বৃহৎ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ লাগবে। অন্যদিকে চীনই ভারতের একক বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদারে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সব থেকে বেশিসংখ্যক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী যুক্তরাজ্যে না গিয়ে চীনে গেছে। তাদের বেশির ভাগই বিজ্ঞানের। সুতরাং আগামী ১০ বছরে চীন-ভারত সম্পর্কে একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। এই মুহূর্তে অবশ্য ভারতের আমেরিকাকে দরকার। কিন্তু ট্রাম্পে ভরসা করার নাজুক বাস্তবতায় মোদি প্রকারান্তরে বলেছেন, তিনি চীন-রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। আবার দেখুন, পাকিস্তানের কারণে ভারত সার্কে অনীহা দেখালেও সাংহাই কো–অপারেশনে ভারত ও পাকিস্তান সক্রিয় থাকতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
সার্ক কি ভেঙে গেছে?
আমি মনে করি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই নরেন্দ্র মোদি সার্ককে ব্যবহার করছেন। সাংহাই কো–অপারেশনে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে পারেন। কিন্তু সার্কে পারেন না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী চীনে গেছেন।
আশা করব, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এবার আমরা চীনের তরফে ইতিবাচক বার্তা পাব। কারণ, মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সুবিদিত। ভারত ও চীনকে বাংলাদেশের বলা উচিত যে তোমাদের মধ্যে যা–ই থাক, সেসবের মধ্যে আমরা নেই। আমাদের উন্নয়ন দরকার। কারও দিকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকে পড়ার ব্যাপার নেই।
তিন নারী নোবেল বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিন্যাল কোর্টের (আইসিসি) শরণাপন্ন হতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি তখন তাতে সায় দেননি। এখন দিয়েছেন। এর ফলাফল কী হতে পারে?
সত্তর ও নব্বইয়ের দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ ভেবেছিল, এবারও রোহিঙ্গাদের সেভাবেই ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। তা ছাড়া সরকারের সামনে নির্বাচন ছিল, এ বিষয়ে কম মনোযোগ দিতে পেরেছে। তাই তখন আইসিসিতে যেতে চায়নি। নব্বইয়ে যখন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঘটে, তখন আমি ওই প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলাম। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটির সুরাহা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলাম। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছিলেন, মিয়ানমার যখন রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে, তখন তাদের নাগরিকত্বের সুরাহা একটা হবেই। আমি মনে করি, জাতিসংঘ ও উদ্বাস্তুবিষয়ক হাইকমিশনের একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেমন কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের প্রভাব মিয়ানমারে কী হতে পারে, সেই হোমওয়ার্ক জাতিসংঘ করেনি। তারিখগুলো দেখুন। ২৩ আগস্ট রিপোর্ট দিল। ২৪ আগস্ট তা ছাপা হলো। ২৬ তারিখে আরসার আক্রমণ ঘটল। ২৭ তারিখে তথাকথিত এথনিক ক্লিনজিং বা গণহত্যা শুরু হলো। অন্যত্র গণহত্যা করেছে—এমন একটি কুখ্যাত রেজিমেন্ট যখন আরাকানে আনা হলো, তখনই বাংলাদেশের প্রশ্ন করা উচিত ছিল যে এই রেজিমেন্ট কেন মিয়ানমারে আসছে? তবে এবার সাক্ষ্য–প্রমাণ দ্বারা প্রমাণিত যে রাখাইনে একটি গণহত্যা ঘটেছে। এই ফ্যাক্টর আগে ছিল না। যখন কোনো দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটে, তখন তা আর দ্বিপক্ষীয় থাকে না। আজ বা আগামী এক কি পাঁচ বছরে যদি শতভাগ প্রত্যাবাসন ঘটে, তাহলেও গণহত্যার প্রশ্ন মুছবে না। আইসিসি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। সত্তরের দশকে ধর্ষণ গণহত্যারই উপাদান হিসেবে স্বীকৃত ছিল না। এখন তা আছে। চীন ও ভারত ছাড়া অং সান সু চি অন্যত্র যেতে পারছেন না। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে বিব্রত সু চি দায়মুক্তির জন্য আদালতের ঝক্কি কোনোমতে এড়িয়েছেন। আইসিসির উদ্যোক্তা দেশগুলোতেও সু চি যেতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে। এখন তারা এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে পারবে। গাম্বিয়ার পরে ওআইসি এগিয়ে এসেছে। এসবের মাধ্যমে অন্তত একটা বড় চাপ সৃষ্টি করা যাবে। তাই আন্তর্জাতিকীকরণটা দিন দিন বাড়াতে হবে। এর ফলে যতটা না মিয়ানমার চিন্তিত হবে, তার থেকে বেশি হবে চীন। ওয়ান বেল্ট অ্যান্ড রোডের বড় বিষয় হলো বিনিয়োগ। আরাকানে বিনিয়োগে সে ১০ বার ভাববে। কারণ, সে জানে এর ওপর বিশ্বের নজর আছে। আমরা বুঝতে পেরেছি, দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে এর সমাধান হবে না। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশ সেফ জোনসহ নানা বিষয়ে আরও সোচ্চার হবে।
সেফ জোন করতে বলা নিয়ে ভিন্নমত আছে।
চীন তিন স্তরের (সংঘাত বন্ধ, প্রত্যাবাসন ও সমস্যার মূলে গিয়ে উন্নয়ন দিয়ে সমাধান) একটি নীতি দিয়েছিল, তার মধ্যে এটা আছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের এখান থেকে নেপিডোতে গিয়েও একই জিনিস বলেছিলেন। একজন চীনা স্কলারও একটি আনএট্রিবিউটেড জোনের কথা বলেছিলেন, যে জোনের দায়িত্ব হবে নিরাপত্তা ইত্যাদি।
উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ইউনান অঞ্চলের ৩০ কোটি মানুষের নিকটবর্তী সমুদ্রবন্দর কক্সবাজার, যার ব্যবহার অশান্ত রাখাইন অনিশ্চিত করতে পারে। এটা তো চীন-ভারতের অভিন্ন স্বার্থ, তাহলে?
চীন যে চোখ–কান বুজে আছে তা নয়, বেইজিং-সাংহাইয়ে গিয়ে কথাবার্তায় বুঝি, তারা উদ্বিগ্ন। অং সান সু চিতে যে তাদের খুব আস্থা, তা না। সু চির প্রতি ভারতীয় নমনীয়তার কারণে চীন মনে করে, ভারত মিয়ানমারে আমেরিকার হয়ে প্রক্সি দিচ্ছে। তবে মিয়ানমারের চিন্তায় পরিবর্তন আসছে। তারা ভেবেছিল, রোহিঙ্গাদের তাড়ালে আরাকান আর্মির স্বায়ত্তশাসনের লড়াই থামবে। কিন্তু সেটা থামেনি। আরাকান আর্মি বলেছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের কোনো সংঘাত নেই। মজার বিষয় হলো, রোহিঙ্গারা স্বায়ত্তশাসন চায় না, তারা নাগরিকত্ব নিয়ে দেশটির যেকোনো অংশে মাথা গোঁজার ঠাঁই চায়।
একটি ওয়াকিবহাল সূত্রের দাবি, আরসার শক্তিও সমীহ করার মতো, তাই কি?
আমি তা মনে করি না। বরং আরাকান আর্মির অস্ত্রের উৎস হিসেবে কারেন বা চীনের যোগসূত্র আছে বলেই প্রকাশ। চীনের হাতে খেলার মতো যথেষ্ট কার্ড আছে। আবার ভারত ভাবে, মিয়ানমারে তার একটা অর্থনৈতিক জায়গা তৈরিতে সু চির সমর্থন দরকার। তার নীতি হলো মিয়ানমারকে যতটা সম্ভব চীন থেকে সরিয়ে রাখা। নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনা ও সু চিকে দিল্লিতে ডেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে মিয়ানমারের দিকে ঝুঁকে তিনি ব্যর্থতার নজির তৈরি করেছেন। প্রথম দুই সপ্তাহ বাংলাদেশ সরকার চুপ করে ছিল। মোদি যেহেতু নেপিডো যাচ্ছেন, অনেকে ভরসা করছিলেন। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন, তাতে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছে। অবশ্য মনে রাখতে হবে, কংগ্রেসের সঙ্গে আমাদের যা সম্পর্ক, সেটা বিজেপির সঙ্গে নেই। বিজেপি হয়তো ভাবে, তুমি তো কংগ্রেসের লোক, তোমার সঙ্গে কেন আমরা এটা করব। এভাবে মধ্যস্থতা করার সুযোগ হাতছাড়া করে পুরো বিষয়টি চীনের দিকেই ঠেলে দেওয়া হলো। বাংলাদেশের মানুষ এখন ভাবছে, ভারত আমাদের সঙ্গে নেই।
রোহিঙ্গারা যত দিন আছে, তত দিন আমাদের করণীয় কী?
মিয়ানমারের ওপর থেকে চোখ সরানো যাবে না। ভুটানের মোট জনসংখ্যার চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেশি। আমাদের সাংবাদিকদের মিয়ানমার সম্পর্কে আরও জানতে হবে। কোন মন্ত্রণালয়ের কী কাজ, কোন পশ্চিমা কোম্পানি সেখানে ব্যবসা করছে, এসব জানা দরকার।রোহিঙ্গাদের কাছে তাদের ভাষায় বার্তা পৌঁছাতে হবে। সে জন্য দুই মাস আগে পররাষ্ট্রসচিব ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমি একটি এফএম রেডিও চালুর প্রস্তাব করেছিলাম। তাঁরা দুজনেই ফলোআপ করার কথা বলেছিলেন।
ভারতের সঙ্গে আমাদের অভিন্ন নদীগুলোর পানি ভাগাভাগির বিষয়ে কিছু বলুন।
নদী শুধু পানিসম্পদ নয়। উপনিষদ বলছে, এটা রক্তের ধমনি। তিনটি বিষয় থাকতে হবে। আত্মা, প্রাণ ও শক্তি। আমরা যারা পানি নিয়ে কাজ করি, তারা বলি, চারটি উপাদান বা ‘ওয়েবস’ থাকতে হবে। ওয়াটার, এনার্জি, বায়োডাইভারসিটি ও সেডিমেন্ট। আমরা যখন ন্যায্য হিস্যার কথা বলি, তখন শুধু পানির কথা বলি। সুতরাং নদী বিষয়ে সবার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ভারতীয় জনগণকে বোঝাতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত হাইড্রোডিপ্লোম্যাসির কোর্সে বলেছি, আপনারা যখন পানি আলোচনায় অংশ নেবেন, বলবেন, সেডিমেন্ট (পলি) ও জীববৈচিত্র্য কী করে ভাগ হবে। তখন তাঁরা বুঝবেন, এটা অসম্ভব। তখনই একটি বেসিন বা অববাহিকা অ্যাপ্রোচ সামনে আসবে। সেখানে ভুটান, নেপাল ও দরকারে চীনকেও আনতে হবে। ব্রহ্মপুত্রের মাত্র ১৮ শতাংশ পানি হিমালয় থেকে আসে। বাকি ৮২ শতাংশ পানিই বৃষ্টির। তবে ওই ১৮ শতাংশ অবশ্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বড় মাপের হাইড্রোলজিস্ট আছে, সেডিমেন্টলজিস্ট নেই। পলি যদি বুঝতে পারি, তাহলে গত ৫০ বছর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যে রাজনীতি হয়েছে, সেখানে বড় পরিবর্তন আসবে। দুই দেশের জনগণই উপকৃত হতে পারে। আমাদের রেইন হার্ভেস্টিংয়ে (বৃষ্টির পানি ধরে রাখা) বড় আকারে এগিয়ে আসতে হবে।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে বলুন।
ভারতের নদী-বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রর তিস্তা রিপোর্ট বের হলো না। সিকিম ১৮ থেকে ২০টি বাঁধ তৈরি করেছে। মমতা পানি কতটা পশ্চিমবঙ্গে আসবে, সিকিমের কাছে তার গ্যারান্টি চান। সেটা না পেলে, মমতা বলছেন, আমি কিসের ফিফটি ফিফটি দেব। ফুল গ্লাসের নাকি হাফ গ্লাসের নাকি জিরো গ্লাসের।
তার মানে তিস্তা চুক্তি করে পানি পাওয়ার চেয়ে রাজনীতিটা বড় হয়ে উঠেছে?
একটা লোকদেখানো ব্যাপার তো থাকেই। ফারাক্কা চুক্তি নিয়েও ঘটেছে।
মমতা প্রকাশ্যে সিকিম প্রসঙ্গে বলেছেন বলে নজরে আসেনি। কল্যাণ রুদ্রকে তিনিই অবশ্য নিয়োগ দিয়েছিলেন।
রুদ্র রিপোর্টে তা স্পষ্ট।
আপনি পড়েছেন?
আমি রুদ্র এবং অপর বিশেষজ্ঞ জয়ন্তর কাছ থেকে শুনেছি, বীণা সিক্রিসহ আমরা সিকিমে গিয়েছিলাম। ছয়–সাত বছর আগের কথা। বীণা বলছিলেন, ‘পানি তো নেই।’ এতগুলো ড্যাম পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পানি কম আসছে। এখন সেটাই ভাগাভাগির কথা চলছে, কিন্তু এতে আমাদের খুব লাভ হবে বলে মনে হয় না। তাই আগে ক্ষতিকর ওই ড্যাম বন্ধ করতে হবে।
তাহলে এত দিন আমরা কী শুনলাম? মনমোহন সিং পর্যন্ত মমতার দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করলেন। যা সত্য তা মানুষকে বলা হচ্ছে না। তাহলে শুভেচ্ছা-ইলিশ আমরা সিকিমে পাঠাব?
অন্তত যাতে তারা ড্যামগুলো ভাঙতে শুরু করে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ।