Saturday, January 30, 2016

গুগল-ফেসবুকের লড়াইয়ে কে জিতবে?

গুগলের প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ
গুগলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ফেসবুক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুগলকে টক্কর দেওয়া শুরু করেছে ফেসবুক। গুগল কী ছাড় দেবে? এই দুই বড় প্রতিষ্ঠানের লড়াইয়ে জয় হবে কার? বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইন্টারনেটরে শক্তিশালী এই দুটি প্রতিষ্ঠানের লড়াইয়ে উভয়ই লাভবান হবে।
সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫৯ কোটি। ২০০৪ সালে যে ফেসবুকের জন্ম, তা এখন কৈশরে পা দিয়েছে। ফেসবুক দিন দিন এমন এক অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে, যেখানে ইন্টারনেটের সবচেয়ে শক্তিশালী কোম্পানি গুগলকে টেক্কা দিতে সক্ষম হবে।
২৭ জানুয়ারি গত বছরের শেষ প্রান্তিক, অর্থাৎ, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই তিন মাসের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। গত প্রান্তিকে আয়ের ধারায় যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখিয়েছে ফেসবুক, এতে গুগলকে টপকে যেতে আর বেশি দেরি নেই।
ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো ফেসবুকের প্রান্তিক আয় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। তিন মাসে ফেসবুকের যে আয়, তা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইয়াহুর এক বছরের আয়ের চেয়েও বেশি। ভারচুয়াল রিয়েলিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল অ্যাড নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছানোর মতো বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগের পরও ফেসবুকের আয় দ্বিগুণ বেড়েছে।
অর্থ আয়ের দিক থেকে এখনো ফেসবুকের চেয়ে তিনগুণ এগিয়ে গুগল। তবে এই পার্থক্য ধীরে ধীরে ঘুচিয়ে ফেলছে ফেসবুক। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন, ভিডিও লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করে গুগলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ফেসবুক।
২০১৪ সালে ভারচুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট নির্মাতা অকুলাস রিয়েলিটিকে ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে অধিগ্রহণ করে ফেসবুক। এটি ফেসবুকের জন্য আকর্ষণীয় বাজার হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারটি গুগলও ধরতে পেরেছে। গুগলও এখন ভারচুয়াল রিয়েলিটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে ফেসবুকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
অবশ্য ফেসবুকের মূল বিষয়টি এখনো সামাজিক যোগাযোগের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত বছরের শেষ তিন মাসে চার কোটি ৬০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী বেড়েছে, যা ফেসবুকের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ।
বুধবার বিশ্লেষকেদের সামনে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ‘আমাদের এগিয়ে চলা, ভবিষ্যতের জন্য দারুন কিছু তৈরি করার বিষয় নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’
এদিকে গুগল এখন আর বৃহৎ কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে নেই। মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এটি। বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন, ইউটিউব, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সফটওয়্যারসহ গুগলের সেবা ব্যবহারকারী সংখ্যা ১০০ কোটি। এখন আয়ের দিক বিবেচনায় ধরলে ফেসবুক গুগলকে যেকোনো সময় টপকে যেতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন গুগল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি আয় করছে। গুগল তাদের চতুর্থ প্রান্তিকে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের ঘোষণা দিতে পারে। বিজ্ঞাপন কমিশন খরচ বাদ দিয়ে প্রান্তিক হিসেবে অ্যালফাবেটের যা আয় দাঁড়াবে, তা অবশ্য ফেসবুকের চেয়ে তিনগুণ বেশি হবে।
বাজার বিশ্লেষকেরা গুগল ও ফেসবুকের আয়ের হার তুলনা করে দেখেছেন ফেসবুক গুগলের চেয়ে এগিয়ে। গত প্রান্তিকে ফেসবুকের আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ আর গুগলের ২৫ শতাংশ। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও গুগলকে পেছনে ফেলেছে ফেসবুক।
ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইমার্কেটারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার যেখানে ছিল আট শতাংশ। ২০১৫ সালে তা বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে। এক্ষেত্রে গুগলের বাজার দখল ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে এসেছে।
ইমার্কেটারের বিশ্লেষক ডেব্র আহো উইলিয়ামসন বলেন, ‘আমি ফেসবুককে খাটো করে দেখছি না। একাধিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ফেসবুক নাড়া দিয়েছে। মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রটিতে পরিবর্তন এনেছে।’
গুগল ও ফেসবুকের এই প্রতিযোগিতার কথা ছেড়ে একটু পেছনে ফেরা যাক। ২০০৪ সালে ইয়াহুর চেয়েও ছোট একটি প্রতিষ্ঠান ছিল গুগল। ইয়াহুকে টপকে যেতে গুগলের বেশি সময় লাগেনি। এর কারণ হচ্ছে ইয়াহু তাদের মূল ব্যবসা বাদ দিয়ে অন্য দিকে নজর দিয়েছিল। গুগল অনুসন্ধান বিজ্ঞাপনে নজর দিয়েছিল। ফেসবুকের চ্যালেঞ্জটি তাই গুগল ভালো করে বোঝে। মুল সার্চ ব্যবসাকে ঠিক রেখেই গুগল ইউটিউব, অ্যান্ড্রয়েড, জিমেইল, ক্রোম ব্রাউজারের মতো সেবা তৈরি করেছে। এখন বিনিয়োগকারীরা গুগল ও ফেসবুক দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়েই বাজি ধরতে রাজি। গত বছরে ফেসবুকের শেয়ারের দাম ৩৪ শতাংশ বেড়েছে আর অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রোজেনব্লান্ট সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মার্টিন পিকোনেন বলেন, ‘কিছু মানুষ ভাবছেন, ফেসবুক জিতলে কি গুগল হারবে? আমার মতে, গুগল ও ফেসবুক দুজনেরই জয় হবে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে ফেসবুক আর গুগল দুটি প্রতিষ্ঠানই এখন বড় দুটি গরিলা।’ বিবিসি, রয়টার্স, আইবিএনলাইভ অবলম্বনে

দেশ এগোচ্ছে, কিন্তু রাজনীতিটাই আছে পিছিয়ে by সোহরাব হাসান

এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ নিয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআরআই (ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট) বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি জনমত জরিপ প্রকাশ করে। পরদিন বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশ করে দুর্নীতির ধারণাসূচক বা সিপিআই-২০১৫ (করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স) প্রতিবেদন। এতে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় আমাদের অবস্থান ১৩তম। অন্যদিকে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়, তা মোটেই সুখকর নয়। এতে বলা হয়, গত বছর মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রচণ্ড আঘাত আসে। সেক্যুলার ব্লগার ও বিদেশি ত্রাণকর্মীদের নিশানা বানায় কট্টরপন্থীরা। আর গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কর্মীদের ওপর জবরদস্তির পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগ বা অস্পষ্ট আইনের আওতায় তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করে সরকার।
তিনটি প্রতিবেদনের ধরন ভিন্ন হলেও একটি অভিন্ন সূত্র আছে—গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। এই তিনের মধ্যে আইআরআইয়ের জরিপটি এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে এটি দেশের রাজনীতির হিসাবনিকাশ অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আইআরআইয়ের জরিপের শিরোনাম: ‘অপটিমিজম গ্রোয়িং ফর বাংলাদেশস ইকোনমিক ফিউচার’। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য আশা বাড়ছে। ভোট দেওয়ার বয়স হয়েছে, এমন ২ হাজার ৫৫০ জনের মুখোমুখি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। আইআরআই গত তিন বছরে বাংলাদেশ নিয়ে যে চারটি জরিপ করেছে, তার ধারাবাহিকতা নিয়ে যেকোনো নাগরিক প্রশ্ন তুলতে পারেন। ২০১৪ সালের পর নেওয়া জরিপ যেমন সরকারের সব কাজকে নাকচ করে দিয়েছিল, তেমনি এবারে বলা যায় সব কাজকেই ‘অনুমোদন’ দিয়েছে। এতে বিরোধী মহল বেজার হলেও সরকারি মহল উৎসাহিত হবে। গত সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদে আইআরআইয়ের জরিপ নিয়ে আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়।
জরিপে দেখা যায় যে ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করে বাংলাদেশ সঠিক পথেই চলছে। এর কারণ হিসেবে তারা অধিক উন্নয়ন, ভালো অর্থনীতি, জোরদার নিরাপত্তা, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের কথা বলেছেন। জুন ২০১৩ ও ৬ জুন ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৩ ও ৩৫ শতাংশ। কিন্তু যে তথ্যটি ক্ষমতাসীনদের অস্বস্তির কারণ সেটি হলো এখনো ৬৮ শতাংশ মানুষ চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পক্ষান্তরে মাত্র ২৩ শতাংশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। গত জরিপে ৬৭ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে এবং ২২ শতাংশ মানুষ বিরুদ্ধে মত দিয়েছিলেন।
জরিপে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রথম চমকপ্রদ তথ্যটি হলো, জরিপে অংশগ্রহণকারীরা যেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অনুমোদন করেন, তার অগ্রভাগে রয়েছে সেনাবাহিনী (৮৬ শতাংশ), গণমাধ্যম (৮৩ শতাংশ), নাগরিক সমাজ (৮০ শতাংশ)। আর শেষের দিকে রয়েছে জাতীয় সংসদ (২১ শতাংশ), বিরোধী দল (৪১ শতাংশ), পুলিশ (৪৩ শতাংশ)। মাঝামাঝি অবস্থানে আছে আদালত (৭৩ শতাংশ), উপজেলা (৭৪ শতাংশ), প্রধানমন্ত্রী (৬৭ শতাংশ)। প্রধানমন্ত্রী সূচক ৬৭ হলেও সরকারের সূচক এক ধাপ নিচে ৬৬ শতাংশ। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন ৭৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা ৭৩ শতাংশ, অবকাঠামো নির্মাণ ৭৩ শতাংশ, নারী-পুরুষের সমতা রক্ষা ৭২ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দেশের প্রধান সমস্যা কী? জবাবে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, দুর্নীতি। এরপর অবকাঠামো ১৭ শতাংশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এসেছে ৩ নম্বরে, মাত্র ১৩ শতাংশ।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে পছন্দ করার কথা বলেছেন ৬০ শতাংশ মানুষ আর বিএনপিকে ৪২ শতাংশ। বিএনপিকে অপছন্দ করেছেন ৪৬ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ২৯ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী—দুটো দলকেই অপছন্দ করেছেন ৬০ শতাংশ মানুষ। আওয়ামী লীগের শিক্ষা কর্মসূচিকে যথাযথ মনে করেন ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা, আর বিএনপির শিক্ষা কর্মসূচিকে সমর্থন করেন ২৭ শতাংশ। অবকাঠামো উন্নয়নে আওয়ামী লীগের পক্ষে ৫৩ শতাংশ, বিএনপির পক্ষে ২৩ শতাংশ; স্বাস্থ্যসেবায় আওয়ামী লীগের পক্ষে ৪১ শতাংশ, বিএনপির পক্ষে ২৩ শতাংশ মানুষ; অর্থনৈতিক নীতিতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছেন ৪৪ শতাংশ, বিএনপিকে ২৮ শতাংশ মানুষ। রাজনৈতিক স্থিতি আনতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ৪১ শতাংশ, বিএনপির পক্ষে ২৫ শতাংশ; শক্তিশালী নেতৃত্ব অর্জনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫৪ শতাংশের সমর্থন, বিএনপি ২২ শতাংশ। তবে ২৪ শতাংশ বলেছেন কোনো দলের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই। তরুণ নেতৃত্ব গঠনে আওয়ামী লীগের সূচক ৫১, বিএনপির ২৩; নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগ ৪৯ ও বিএনপি ২৪; গরিববান্ধব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ৪২ শতাংশ ও বিএনপি ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিটি সূচকেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে।
এ ছাড়া জরিপে একটি প্রশ্ন ছিল পরিবার মৌলিক চাহিদা (চাল, দুধ, ডিম, মাছ, ডাল ইত্যাদি) পূরণে সক্ষম হচ্ছে কি না? এ প্রশ্নে জবাবে ৪৮ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। সক্ষম নয় জানিয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ছিল ২১ শতাংশ।
গণতন্ত্র গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৫৯ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে ছিল ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ জরিপ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্ত টানতে পারি না যে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেছে। যাঁরা কম গণতন্ত্র দিয়ে বেশি উন্নয়নের কথা ভাবছেন, তাঁরা যে জনগণের মনের ভাষা পড়তে অপারগ, সেই সত্যটিই বেরিয়ে এসেছে এই জরিপে। মানুষ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন দুটোই চায়। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের জুনের করা জরিপে ৬৮ শতাংশ মানুষ গণতন্ত্রকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন। এবার তা কমে ৫১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। গত জরিপে উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন ২৭ শতাংশ, এবার ৪৫ শতাংশ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আবার ৮৮ শতাংশ মনে করেন গণতন্ত্রে সমস্যা থাকলেও অন্য যেকোনো ধরনের সরকারের চেয়ে এটা উত্তম।
জরিপের ফলাফল বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব ভালো বা মোটামুটি ভালো। এর মধ্যে ৭২ শতাংশ মানুষ আশা করছেন, আগামী বছর তাঁদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। জরিপে আরও দেখা গেছে, সরকারের পদক্ষেপগুলো ৭২ শতাংশ মানুষ সমর্থন করছেন। গত জুনের চেয়ে এটা ৬ শতাংশ বেশি।
কিন্তু জরিপে যে দুটি বিষয়ে অসংগতি মনে হয়েছে তা হলো, কোন সূত্র থেকে খবর পান এই প্রশ্নের জবাবে ৮১ শতাংশ বলেছেন টিভি, মুখে মুখে শুনে খবর পান ১৩ শতাংশ। এর বিপরীতে সংবাদপত্র থেকে মাত্র ২ শতাংশ, সামাজিক গণমাধ্যম থেকে ২ শতাংশ, বেতার মাধ্যম থেকে ২ শতাংশ ও অনলাইন থেকে ১ শতাংশের খবর পাওয়া অস্বাভাবিক বলেই মনে হয়। অন্যদিকে জরিপে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু বলে মনে করেন ৫৯ শতাংশ মানুষ। আবার সেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা না রেখে ৬৮ শতাংশ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে পেতে চাইছে। বিষয়টি স্ববিরোধী।
রাজনৈতিক দলগুলো এ জরিপকে বিচার করবে নিজের লাভালাভের ভিত্তিতে। যদি তারা মনে করে জরিপটি তাদের বিপক্ষে গেছে, তাহলে এর মধ্যে ‘ষড়যন্ত্র’ খুঁজবে। আর যদি পক্ষে যায়, সেটি জোরেশোরে প্রচার করবে। যেমন টিআইএর প্রতিবেদনের সমালোচনা করে সরকারি দলের কোনো কোনো নেতা বলেছেন, ‘ওরা আমাদের ভালো দেখতে পারে না বলেই খুঁত ধরে।’ আবার বিএনপির নেতারা টিআইয়ের প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘দুর্নীতিতে এক ধাপ নিচে নেমেছে। গুম-খুন জরিপ হলে বাংলাদেশ প্রথম হতো।’ কিন্তু তাঁরা হয়তো ভুলে গেছেন যে বিএনপি সরকারের আমলেই টিআইএর সূচকে বাংলাদেশ পর পর চারবার দুর্নীতিতে প্রথম হয়েছিল। তার আগে আওয়ামী লীগ আমলেও আমরা একবার এই ‘শিরোপা’ পেয়েছিলাম।
আইআরআইয়ের সাম্প্রতিক জরিপ বিরোধী দলকে হতাশ করবে সন্দেহ নেই। কিন্তু সরকারি দলেরও খুব উৎসাহিত হওয়ার কারণ দেখি না। তারা যদি জরিপের অর্থনৈতিক অংশকে স্বাগত জানায় তাহলে রাজনৈতিক অংশকে নাকচ করে দিতে পারে না। একই জরিপ থেকেই দুটো ধারণা এসেছে। ক্ষমতাসীনদের দাবি, তারা দেশের শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি করছেন। মানুষ অনেক ভালো আছে। তারা আরেকটু বেশি ভালো থাকত, যদি রাজনীতিটা সুস্থধারায় চলত; যদি পাঁচ বছর পরপর আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে পারতাম। সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টারা মানুষ ভালো আছে বলে যে অভয়বাণী আওড়াচ্ছেন, তাও কিন্তু নিষ্ফল রোদনে পরিণত হতে বাধ্য, যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টেকসই না হয়। মধ্য আয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশে তো ‘নিম্নমানের’ নির্বাচন হতে পারে না। যে জাতি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে উন্নীত হতে পারে, সেই জাতি একটি ভালো নির্বাচন কেন করতে পারবে না?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান গত বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে বলেছেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন, নাগরিক ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং জবাবদিহি—এই চারটি সূচকের ভিত্তিতে গণতন্ত্রের অগ্রগতি সম্ভব।’ এই চার সূচকের প্রথম ও প্রধান শর্তই
হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও বলেছেন, ‘মানবিক প্রগতি ও অর্থনৈতিক উন্নতি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।’
সেই যুক্ত সম্পর্ককে বিযুক্ত করলে দেশের প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও রাজনৈতিক ‘সুনামির’ সমূহ আশঙ্কা আছে। কেবল আইআরআইয়ের জরিপ নয়, দেশি–বিদেশি সব পরিসংখ্যানই বলছে, বাংলাদেশ এগোচ্ছে। মানুষ খেয়ে–পরে ভালো আছে। কিন্তু দেশ পরিচালনা করে যে রাজনীতি, সেটাই আছে পিছিয়ে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

কাশ্মীরে ২৬ বছরে ৮ হাজার গুম

কনকনে শীতের মধ্যে কাশ্মীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাঠের তৈরি একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসে আছেন বেগম জান (৩৮)। দশ সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ও বিষন্নতায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন তার নিখোঁজ স্বামীর সংবাদ শোনার জন্য। গত নভেম্বরে হারিয়ে যাওয়ার পর এখনো জানেন না কী ঘটেছে তার ভাগ্যে। বেগম জানের স্বামী গোলাম জিলানি খাতানাকে (৪২) ভারতীয় সেনাবাহিনী গুম করেছে বলেই আশংকা করছেন তার পরিবার। জান জানান, স্বামী ফিরে আসার কোনো আশাই তিনি করতে পারছেন না। সেনাবাহিনী যদি নিয়ে থাকে, তবে তাকে মেরেই ফেলেছে। গোলাম জিলানির মতো আরও অনেকেই গুম হয়ে গেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি। হিমালয় কোলঘেঁষা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরে যখন থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে,
তখন থেকেই হত্যা-গুম ও নির্যাতনের শিকার সেখানকার অধিবাসীরা। কয়েক দশক ধরে সাজানো বন্দুকযুদ্ধ, বিক্ষোভ দমন, আর পাকিস্তানি অনুচর প্রতিরোধের নামে কাশ্মীরিদের হত্যা করে আসছে ভারত। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ হাজার কাশ্মীরি গুম হয়ে গেছে। এদের অধিকাংশই তরুণ। তারা আর কখনো ফিরে আসেনি। এএফপির অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাশ্মীরিদের হত্যা করলে ভারতীয় সেনাসদস্যরা সরকারের কাছ থেকে অর্থপুরস্কার ও পদোন্নতি পেয়ে থাকে। ২০১০ সালে ভারতীয় সেনা সদস্যরা পাকিস্তানি জঙ্গি আখ্যা দিয়ে হত্যা করে। ওই তিন তরুণের মৃত্যুতে কাশ্মীরব্যাপী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষোভ দমনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১২০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। পরবর্তীতে এক বিরল পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ওই তিন তরুণকে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ইচ্ছা করেই হত্যা করেছিল সেনাসদস্যরা।

কে ভারতকে স্বাধীন করেছেন, গান্ধী না বসু?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর গোপন নথি প্রকাশের পর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জনক নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত বিভিন্ন নথির সূত্র ধরে বলা হচ্ছে, ভারতে স্বাধীনতা এসেছিল নেতাজির কারণে, মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের জন্য নয়। নেতাজির গোপন নথি কেন এতদিন কংগ্রেস ও তার পরবর্তী সরকারগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে- তা হল ভারতে এতদিন যে ইতিহাস পড়ানো হয়েছে তা নতুন করে লিখতে হতে পারে।
এতে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ লাগতে পারে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। এ কারণে নেতাজির গোপন নথিগুলো প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সদ্য প্রকাশিত গোপন নথি থেকে জানা যাচ্ছে, গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে ভারতের জন্ম হয়নি। ভারতের জন্ম হয়েছে নেতাজি আজাদ হিন্দ ফৌজের কর্মকাণ্ডের জন্য। ব্রিটিশদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল নেতাজির সামরিক কর্মকাণ্ড। ব্রিটিশদের পতাকাতলে থাকা ভারতীয় সৈন্যরা যে কোনো সময় বিদ্রোহ ঘোষণা করতে পারে। এ সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছিল সেদিন। যে কারণে ব্রিটিশ সরকার ভারতকে স্বাধীন ঘোষণা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নেতাজি বিশেষজ্ঞ ও সামরিক ইতিহাসবিদ জেনারেল জিডি বকশির লেখা একটি বই এ বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। ‘বোস : এন ইন্ডিয়ান সামুরাই’ নামের ওই বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বইয়ের অংশবিশেষ তুলে ধরেছে মেইল টুডে নামক একটি দৈনিক। ওই বইয়ে লেখক সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমন্ট এটলির নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিষয়ক মন্তব্য তুলে ধরেছেন। ১৯৫৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গভর্নর পিবি চক্রবর্তীর সঙ্গে ক্লেমন্ট এটলি কথোপকথন টেনে আনেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর পিবি চক্রবর্তী ইতিহাসবিদ আরসি মজুমদারের বই ‘এ হিস্টরি অব বেঙ্গলে’র প্রকাশককে এক চিঠিতে ওই কথোপকথন লিখে জানিয়েছিলেন। ক্লেমন্ট এটলি ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা সিদ্ধান্তের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেদিন তিনি কলকাতার পিবি চক্রবর্তীর গেস্ট হাউসে রাত কাটিয়েছিলেন। পিবি চক্রবর্তী বলেন,
‘আমি ক্লেমন্ট এটলিকে প্রশ্ন করেছিলাম, ‘কী কারণে আপনারা এত দ্রুত ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’ তিনি আমাকে বলেন, ‘নেতাজির সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে ব্রিটিশ রাজের প্রতি বিদ্রোহ দানা বাঁধছে। তারা আর অনুগত থাকছে না।’ আমি আরও জানতে চাইলাম, ভারত ছাড়ার পেছনে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের ভূমিকা কতটুকু?’ এটলি ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপের হাসি টেনে বললেন, মি-নি-মা-ল (সা-মা-ন্য)। মেইল টুডে আরও জানায়, ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় রয়াল নৌবাহিনীর ২০ হাজার নাবিক বিট্রিশ রাজত্বের প্রতি আনুগত্যহীনতা প্রকাশ করেছিল। নেতাজির প্রতিকৃতি নিয়ে তারা মুম্বাইয়ে গিয়ে ‘জয় হিন্দ’ বলে স্লোগানও দিয়েছিল। নৌবাহিনীর জাহাজগুলো থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকাও নামিয়ে দিয়েও বিদ্রোহ প্রকাশ করেছিল তারা। জাবালপুরে একই ধরনের বিদ্রোহ দেখিয়েছিল রয়াল ভারতীয় বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ১৯৪৬ সালের সামরিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী সে সময় ভারতে ব্রিটেনের ৪০ হাজার সেনা ছিল। তবে সবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছে। এসব সেনা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে ২৫ লাখ ভারতীয় সেনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এসব সেনাদেরও ভয় পাচ্ছিল ভারতে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনারা। আর ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে এসব বিদ্রোহের বীজ বপন করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

সেলিব্রেটি বিগ ব্রাদার্সে প্রকাশ্যে যৌনমিলন

বেসামাল হয়ে পড়লেন স্টেফানি ডেভিস এবং জেরেমি ম্যাকনেল। প্রকাশ্যে অন্য সবার সামনে শারীরিক সম্পর্কে ধরা পড়লেন। আপত্তিকর এ অবস্থায় ওই কক্ষে উপস্থিত অন্যরা বাধ্য হয়ে বেরিয়ে যান। এ সময় তাদের উন্মত্ততা চরম পর্যায়ে। এমন ঘটনা ঘটেছে লন্ডনে সেলিব্রেটি বিগ ব্রাদার প্রতিযোগিতায়। এতে অংশগ্রহণকারীরা থাকেন এক স্থানে। একই কক্ষে তারা আড্ডা মারেন, হৈ হুল্লোড় করেন। তেমনি এক জুটি স্টেফানি ডেভিস ও জেরেমি ম্যাকনেল। গত কয়েকদিন ধরেই তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গতা বেড়েছে। এক বিছনায় পাওয়া যাচ্ছে তাদের। কিন্তু তারা সে মাত্রাকে অতিক্রম করেছেন। যখন কক্ষে অন্যরা উপস্থিত তখন বিছানায় তারা অসংযত আচরণ শুরু করেন। আপত্তিকর শব্দ বেরিয়ে আসতে থাকে। এতে অস্বস্তিতে পড়েন অন্যরা। ফলে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন তারা। স্টেফানি ডেভিস ‘হলিওক’ এর বরখাস্তকৃত অভিনেত্রী। তিনি আইরিশ মডেলও। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের অভিনেতা জেরেমি ম্যাকনেলের সঙ্গে সেলিব্রেটি বিগ ব্রাদার্সে শারীরিক সম্পর্কে জড়ালেন। প্রকাশ্যে অন্যদের উপস্থিতিতে তাদের শারীরিক সম্পর্কের এ খবর বৃটিশ পত্রপত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হচ্ছে। অনলাইন সংস্করণগুলো জুড়ে দিচ্ছে ভিডিও। অনলাইন মিরর বলছে, প্রযোজকরা যখন এমন ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন তারা নিশ্চিত হয়েছেন তাদের আপত্তিকর সম্পর্কের বিষয়টি। তারা গত কয়েক দিন ধরেই এমন সম্পর্কে জড়িত। তবে এবার তা এতটা প্রকাশ পাওয়ার কারণ, কোন রাখঢাক রাখেন নি তারা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রকাশ্যে, অন্যদের সামনে এমন সম্পর্কের ফুটেজ রসাত্মক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে স্টেফানির এজেন্ট তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।