Monday, February 28, 2011

কিউবায় অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ

কিউবার অর্থমন্ত্রী মারিনো মুরিলো যাতে অর্থনৈতিক সংস্কারে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেজন্য তাঁকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে প্রথম উপমন্ত্রী আদেল ইজকুয়েরডোকে। আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টি সম্মেলনে ওই সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে গত শুক্রবার জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিবৃতিতে সরকারি একজন কর্মকর্তা জানান, মারিনো মন্ত্রিপরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের ইকনোমিক পলিসি কমিশনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি কিউবার অর্থনৈতিক মডেলের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধানকারীর ভূমিকা পালন করবেন। এ ছাড়া তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের তত্ত্বাবধান করবেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বৈঠকে অর্থনীতির সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়ার পর মারিনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারও তাঁর স্ত্রী রসালিন আগামীকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কিউবা সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কার্টারের এক মুখপাত্র এ কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, কিউবার নতুন অর্থনৈতিক নীতি ও আসন্ন কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলন সম্পর্কে জানার জন্য তিনি এ সফরে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোসহ সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

ভারত-ইংল্যান্ডের স্বস্তি ও অস্বস্তি

ভারতের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন। ইংল্যান্ডের একটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের হাহাকার মেটানোর অভিযান। এই দুই লক্ষ্য নিয়েই আগামীকালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি দুই দল। এই ম্যাচের আগে দুটি দলেরই রয়েছে কিছু স্বস্তি আর অস্বস্তির জায়গা।
ভারতের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি আপাতত শচীন টেন্ডুলকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো ব্যাটিং করতে করতেও রানআউট হয়েছেন বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। এরপর অনুশীলনে বাঁ হাঁটুতে পেয়েছিলেন চোট। স্ক্যান করে দেখা গেছে সমস্যা আপাতত নেই। টেন্ডুলকারের রান না পাওয়া আর হালকা চোটের সঙ্গে ভারতের দুশ্চিন্তা শ্রীশান্তের বোলিং। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ ওভার বোলিং করে ৫৩ রান দিয়ে কোনো উইকেটের মুখ দেখেননি এই পেসার।
এই দুই দুশ্চিন্তা বাদ দিলে ভারত-শিবিরে স্বস্তিই বেশি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৭ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে তেরঙা বাহকদের। শ্রীশান্ত ভালো না করলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো বোলিং করেছেন জহির খান আর মুনাফ প্যাটেল। শ্রীশান্তের জায়গায় পীযূষ চাওলাকে নিয়ে নিলেই লেঠা চুকে যায়। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের স্পিন ভালো খেলতে না পারার বিষয়টি মাথায় রাখলে ভারত হয়তো এটাই করবে।
শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা তো বোলিং নিয়েও। হল্যান্ডের বিপক্ষে দলের মূল পেসার জেমস অ্যান্ডারসন সুবিধা করতে পারেননি একেবারেই। ১০ ওভার বল করে ৭২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
মন্থর উইকেটে দলের একমাত্র স্পিন ভরসা গ্রায়েম সোয়ানও যে খুব ভালো করেছেন, এটা বলা যাবে না। ১০ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। হল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাও তেমন দুর্দান্ত নয়। স্কোরশিটে ৬ উইকেটের জয় লেখা থাকলেও তা ছিল খুব কষ্টসাধ্যই। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলেছেন, ‘আমরা সাধারণত ভালো দলের বিপক্ষে ভালো খেলি।’
ইংল্যান্ডের অবশ্য একটা স্বস্তির জায়গা আছে। আইপিএল ব্যাটসম্যান রবি বোপারা রান পেয়েছেন প্রথম ম্যাচে। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২০ বলে অপরাজিত ৩০ রান করে কলিংউডের সঙ্গে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। তবে সত্য হলো, বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দুই স্পিনার খেলানোর পরিকল্পনায় বোপারার ওপরই হয়তো কোপটা বসাবে ইংল্যান্ড। দলে ঢুকতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার মাইকেল ইয়ার্ডি।

লিভারপুলের ত্রাতা কিউট

প্রাগে প্রথম লেগে গোলশূন্যভাবে ড্র করে ফিরে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন লিভারপুল কোচ কেনি ডালগ্লিস। চিন্তার ঘুণপোকা তাঁকে কুরে কুরে খেতে শুরু করেছিল অ্যানফিল্ডে নিজেদের উঠোনেও। শেষ পর্যন্ত তাঁকে এবং দলকে চিন্তামুক্ত করেছেন ডির্ক কিউট। ইউরোপা লিগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্পার্তা প্রাগকে। ৮৬ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে দারুণ একটা হেডে লিভারপুলকে শেষ ষোলোতে উঠিয়ে দেন এই ডাচ স্ট্রাইকার। শেষ ষোলোয় লিভারপুল খেলবে পর্তুগালের স্পোর্টিং ব্রাগার সঙ্গে।
নিজেদের মাঠে পরশু জয় পেয়েছে আরেক ইংলিশ দল ম্যান সিটিও। গ্রিক ক্লাব আরিসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে কার্লোস তেভেজরাও। মস্কোয় পাওকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও প্রি-কোয়ার্টারে উঠেছে সিএসকে মস্কো। দুই লেগ মিলিয়ে জিতল ২-১-এ।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম অ্যানফিল্ডে কোনো ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টে জয় পেলেন লিভারপুল কোচ ডালগ্লিস। স্বস্তির এই জয়ের পর বললেন, ‘এটা খুবই কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। আমরা প্রথম খেলাতেই বুঝেছিলাম যে তারা বেশ শক্তিশালী দল, বিশেষ করে শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী প্রাগের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচ জেতাবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে!

কেউ বলছে পেস আক্রমণ, কেউ বা স্পিন। কারও মতে, দলটার ব্যালান্স অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়। পাকিস্তান কেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিপজ্জনক দল, এমন নানা ব্যাখ্যা। কিন্তু দলটির সাম্প্রতিক জয়গুলো ঘাঁটলেই চোখে পড়বে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটিং পাওয়ার প্লের পাকিস্তান!
ছয়ে উমর আকমল, সাতে শহীদ আফ্রিদি, আটে আবদুল রাজ্জাক—খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে বলে ফেলা যায় ওয়ানডে ইতিহাসেরই সবচেয়ে ভয়ংকর লোয়ার মিডল অর্ডার! শেষ এখানেই নয়, ব্যাটের হাতটা মন্দ নয় উমর গুল, ওয়াহাব রিয়াজ, আবদুর রেহমানদেরও। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে চালু হওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ দলই পাওয়ার প্লের শুরুতেই একটা-দুটো উইকেট খুইয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এমন গভীরতার জন্যই একটি-দুটি উইকেট হারানো পাকিস্তানকে খুব বেশি ঝামেলায় ফেলে না। প্রায় সব দলই যেখানে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খাবি খাচ্ছে, পাকিস্তান ব্যবধান গড়ে তুলছে এখানেই! প্রথম ম্যাচের কথাই ভাবুন না, পাকিস্তান তিন শ ছাড়াল তো ওই পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে ৬০ রান হওয়াতেই! নিকট অতীতে পাকিস্তানের এই পাওয়ার প্লে ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডও।
কুমার সাঙ্গাকারা সবই জানেন। প্রেমাদাসায় আজ ম্যাচের নিয়ন্তা হতে পারে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, এটাও মানছেন। তবে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক যেমন আপাদমস্তক ‘স্মার্ট’ ক্রিকেটার, তাঁর জবাবটাও হলো তেমনই, ‘আমরা জানি, পাকিস্তান ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে বিপজ্জনক, পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে খেলার মজাটাই এখানে। বিপদের হাত ধরেই তো আসে শঙ্কা। ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ওদের ব্যাটিং যেমন খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তেমনি এই সময় আমরা ভালো বোলিং করলেও ম্যাচ আমাদের দিকে হেলে পড়বে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ, আর আমরা চালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি।’
এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে সাঙ্গাকারার মূল হাতিয়ার হতে পারেন লাসিথ মালিঙ্গা। গতি, অ্যাকশন আর রিভার্স সুইং মিলিয়ে শেষের ওভারগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সেরা মালিঙ্গা। কিন্তু হালকা চোটের কারণে তাঁকে প্রথম ম্যাচে খেলায়নি শ্রীলঙ্কা। তবে কাল অনুশীলনে পুরো রানআপেই বোলিং করেছেন, কে জানে চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হয়তো আজই নিজের মূল অস্ত্রকে মাঠে নামিয়ে দেবেন সাঙ্গাকারা।
সাঙ্গাকারাকে চ্যালেঞ্জে জেতাতে পারেন আরেকজনও। ক্যারিয়ার-জুড়েই যিনি ছিলেন সব অধিনায়কের সবচেয়ে বড় ভরসা—মুত্তিয়া মুরালিধরন। কিন্তু বয়স আর প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় কিছুটা নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স মিলিয়ে ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্টে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি স্পিন জাদুকর। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে যে দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন (৯৫টি), সেই দলের কোচ ওয়াকার ইউনুস যেমন মুরালি-শঙ্কা স্রেফ উড়িয়ে দিলেন, ‘মুরালিকে আমরা সব সময়ই ভালো খেলেছি, ওকে নিয়ে আলাদা করে ভাবার কিছু নেই। তা ছাড়া ওর বয়স তো এখন ২৮ নয়। ওর জন্য কিন্তু কাজটা সহজ হবে না!’
কথাগুলো মুরালির কানে গেছে কি না, কে জানে। ক্যারিয়ারে প্রায় সব পাওয়ার পর যদি খানিকটা আয়েশি ভাব চলেও আসে, এই মন্তব্য মুরালিকে তাতিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
মুরালির বোলিং, ব্যাটিং পাওয়ার প্লে এমন লড়াইয়ের ভেতর অনেক লড়াইয়ের মঞ্চ তাই প্রস্তুত।

পন্টিংদের হাতে আগেই একটা ট্রফি

দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার টানা চতুর্থ আর অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিংয়ের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, পরের প্রশ্ন। সেটি পূরণ হোক আর না হোক, বিশ্বকাপ-যাত্রার দ্বিতীয় ম্যাচেই একটা ট্রফি পেয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া!
ব্যস্ত সূচির কারণে এবার চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজ হচ্ছে না। তাই অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দুই পক্ষ মিলে নাগপুরের বিশ্বকাপ ম্যাচটিকেই ঘোষণা করে ‘চ্যাপেল-হ্যাডলি’ ম্যাচ।
কাল নাগপুরের ম্যাচটি ছিল আবেগ ও শোকেরও। ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে দুই দলের ক্রিকেটাররাই মাঠে নামেন কালো ব্যাজ পরে। চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজের স্বাদ, স্বজন হারানোর শোক—কোনোটাই ভেট্টোরির দলের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেনি।
বলে-ব্যাটে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতল ৭ উইকেটে। প্রথমবারের মতো তাসমান অঞ্চলের বাইরে থেকে জিতল চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফি। বিশ্বকাপে টানা জয়ের হিসাবটাকে টেনে তুলল ২৫-এ।
জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম ম্যাচেই লি-টেইট-জনসন ত্রয়ী বুঝিয়েছেন, কেন পেস বোলিংয়ের ওপর অস্ট্রেলিয়ার এত আস্থা। কাল বুঝিয়ে দিলেন আরও বেশি করে। টস জিতে পন্টিংয়ের বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে নিউজিল্যান্ডকে শেষ করলেন ২০৬ রানে। উইকেট শিকারে যথারীতি নেতৃত্ব দিলেন বাঁহাতি পেসার মিচেল জনসন। কালও নিলেন ৪ উইকেট, টেইট ৩ উইকেট, লি-ওয়াটসন ১টি করে।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচে জনসনকে হারিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন ওয়াটসন। কাল সেই ওয়াটসনকে হারিয়েই ম্যাচ-সেরা জনসন। ১ উইকেট পেয়েছেন, সঙ্গে আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি।
ব্রেট লির করা ইনিংসের প্রথম ওভারে রান পেলেন না। পরের ১২ বলেও মার্টিন গাপটিল রানবিহীন, ১৮ বলে ০। ধারাভাষ্য কক্ষে তখন সুনীল গাভাস্কার আর ম্যাথু হেইডেন প্রসঙ্গ।
১৯৭৫-এ প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পুরো ৬০ ওভার ব্যাটিং করে গাভাস্কার ১৭৪ বল খেলে অপরাজিত থেকে যান ৩৬ রানে! গাপটিল গাভাস্কারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসলেন না তো? ২০০৭ চ্যাপেল-হ্যাডলি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৮১ রান করেন হেইডেন। অথচ প্রথম ১৮ বলে করেছিলেন শূন্য। হেইডেনের মতো গাপটিলও কি স্মরণীয় ইনিংসের প্রস্তুতিই নিচ্ছেন?
গাভাস্কার-হেইডেন কাউকেই অনুসরণ করা হয়নি গাপটিলের। ২৫ বলে ১০ রান করে আউট। গাপটিল যেন পুরো দলেরই প্রতীক!
ও পাশে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম শুরু করেন ঝোড়ো গতিতে। তবে সেই দৌড় থামিয়ে দিয়েছেন টেইট। গাপটিল রানের খাতা খোলার আগেই ম্যাককালাম (১২ বলে ১৬) আউট। গাপটিলকে ফেরান ওয়াটসন। পরে জনসন-তোপে ৭৩ রানেই ৬ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। নাথান ম্যাককালাম আর অধিনায়ক ভেট্টোরির কল্যাণে নিউজিল্যান্ড ২০০ পেরোয়। নাথান করেন বিশ্বকাপে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি (৫২), ভেট্টোরি ৪৪।
লক্ষ্য ২০৭। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা কোনো বিষয়! ৩৪ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে সেটি তারা বুঝিয়েছেও। ওয়াটসন-হাডিন উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ১৩৩ রান। দুজনেই করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। হাডিনের (৫৫) এটা বিশ্বকাপে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি, ওয়াটসনের (৬২) তৃতীয়। পন্টিং ফিরে যান ১২ রানে। বাকি কাজটুকু হেলেদুলেই শেষ করেছেন মাইকেল ক্লার্ক (২৪*) আর ক্যামেরন হোয়াইট (২২*)।

মুরালিকে মোকাবিলায় প্রস্তুত পাকিস্তান: মিসবাহ

বিশ্বকাপের সূচনাটা দুর্দান্তভাবে করেছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা দুই দলই। পাকিস্তান কেনিয়াকে হারিয়েছে ২০৫ রানে আর শ্রীলঙ্কা কানাডাকে হারিয়েছে ২১০ রানের বিশাল ব্যবধানে। এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ’৯২ ও ’৯৬-এর শিরোপাজয়ীরা।
এবারের বিশ্বকাপের পরপরই ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত শেষ বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই নিশ্চয়ই থাকবে তাঁর। আর উপমহাদেশের স্পিনারবান্ধব কন্ডিশনে মুরালি সত্যিই হয়ে উঠতে পারেন ব্যাটসম্যানদের যম। সব মিলিয়ে কলম্বোয় আজকের বিগ ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই সবার নজর থাকবে স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরনের দিকে। তবে পাকিস্তানের সহঅধিনায়ক মিসবাহ-উল হক আশা করছেন, মুরালিকে খুব ভালোভাবেই সামলাতে পারবেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। তিনি বলেছেন, ‘এটা দুই দলের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমাদের মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে। কোনো সন্দেহ নেই যে, মুরালি বিশ্বমানের একজন বোলার। আমরা কিন্তু তাঁকে আগেও খুব ভালোমতোই মোকাবিলা করেছি। ইউনুস খান স্পিন খুব ভালো খেলেন। অন্যান্য তরুণ ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। ফলে আমি নিশ্চিত, আমরা তাঁদের ভালোমতোই সামলাতে পারব।’
শ্রীলঙ্কা অনেক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে, তার ওপর এবার বিশ্বকাপটা হচ্ছে তাদের নিজেদের দেশেই। সব মিলিয়ে লঙ্কানদেরই কিছুটা এগিয়ে রেখেছেন অনেকে। কিন্তু পুরো শক্তি দিয়ে খেলতে পারলে পাকিস্তান জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে বলেই বিশ্বাস মিসবাহর। বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরেই শ্রীলঙ্কা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছে। নিজেদের মাটিতে তারা খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ। কাজেই আমাদের খুবই ভালোমতো পরিকল্পনা করে মাঠে নামতে হবে। সম্মিলিতভাবে ভালো খেলতে পারলেই আমরা তাদের হারাতে পারব।’

জেগে ছিল ঢাকা

আয়ারল্যান্ডের তখনো দুই উইকেট বাকি, উল্লাসটা শুরু হয় তখনই। ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে অসংখ্য ক্রিকেটপাগল মানুষ। শফিউলের বলে আয়ারল্যান্ডের শেষ ব্যাটসম্যান র্যাঙ্কিনের পতন ঘটতে না ঘটতেই ঢাকা পরিণত হয় উত্সবের নগরে। বিজয় এসেছে, প্রতিশোধের বিজয়, স্বস্তির বিজয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার বিজয়। সারা রাত ধরে ঢাকায় চলেছে এই বিজয় উত্সব। বিজয়ের উন্মাদনায় সারা রাত জেগে ছিল ঢাকা।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর চলেছে বিজয়ের উত্সব। সে উত্সবে যোগ দেয় সর্বস্তরের মানুষ। লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় ঢাকার মহাসড়ক থেকে অলিগলি। যে যেভাবে পেরেছে উত্সব করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা কণ্ঠ ফাটিয়ে ঢাকার আকাশে-বাতাসে বিজয়ের ধ্বনি তুলেছে। ভুভুজেলার কর্ণবিদারী শব্দ সে বিজয়ের আনন্দে যোগ করে নতুন উন্মাদনা। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর নাচগানে রাতটি হয়ে ওঠে শুধুই ঢাকার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন হল, পুরান ঢাকা, নীলক্ষেত, শাহবাগ, মিরপুর, উত্তরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর চলেছে উল্লাস মিছিল। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সাইকেলে করে মানুষ নেমে আসে রাজপথে। আর যাদের বাহন ছিল না, তারা পায়ে হেঁটেই যোগ দেয় আনন্দ উত্সবে। সবার মুখেই ছিল ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগান।
আয়ারল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে জিতে দেশবাসীর এই উল্লাস আসলেই একটু অদ্ভুত। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান কিংবা ভারত হলেও না হয় একটা কথা ছিল। আসলে কালকের জয়টা ছিল নিশ্চিত পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক বিজয়গাথা। দর্শকের আনন্দটাও তাই অনেকটাই নতুন জীবন পাওয়ার আনন্দের মতোই। সেই সঙ্গে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ ও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ তো ছিলই।
এই প্রতিশোধের আনন্দেই শেষ রাত পর্যন্ত চলেছে দর্শক-সমর্থকদের আনন্দ। নগরের প্রতিটি মোড় থেকে ভেসে এসেছে বিজয়ের প্রতিধ্বনি। ভোরে শ্রান্ত দেহে মানুষ ফিরেছে, কিন্তু তখনো তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্মিত হাসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জিতেছে, আর কী লাগে !

Sunday, February 27, 2011

মিয়ানমারে পাঁচ ভিন্নমতাবলম্বীর কারাদণ্ড

সামরিক জান্তাশাসিত মিয়ানমারের একটি আদালত পাঁচ ভিন্নমতাবলম্বীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে। ভিন্নমতাবলম্বী বিদেশে অবস্থানরত সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করাসহ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে তাঁদের ১১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক আইনজীবী গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।
একটি উৎসবে বোমা হামলাকারী সন্দেহে ২০১০ সালের এপ্রিলে ইয়াঙ্গুনে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আয়ারল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

আয়ারল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনে গতকাল শুক্রবার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। পার্লামেন্টের ১৬৫ আসনের বিপরীতে মোট ৫৬৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে আজ শনিবার রাত পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে গত নভেম্বরে সাড়ে ১১ হাজার কোটি ডলার প্যাকেজ ঋণ গ্রহণের পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। নির্বাচনে এই বিষয়টিই ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত তা চলে। সারা দেশে ছয় হাজার বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। আজ সকাল নয়টায় ভোট গণনা শুরু হবে। রাত নাগাদ ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি হবে আয়ারল্যান্ডের ৩১তম পার্লামেন্ট। আগামী ৯ মার্চ এই পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে।

নিউজিল্যান্ডে এখনো ২০০ জন নিখোঁজ

নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্পের ঘটনায় এখনো ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ধসে পড়া ভবনের নিচে কমপক্ষে ১২২ জন চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানায়, ভূমিকম্পে নিহত ১১৩ জনের মধ্যে প্রথমবারের মতো চারজনের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন পূর্ণবয়স্ক এবং পাঁচ ও নয় মাস বয়সী দুটি শিশু রয়েছে। গত বুধবারের পর ভূমিকম্পের ঘটনায় আর কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত যে চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাঁরা হলো: জেইম রবার্ট ম্যাকডোয়েল গিলবার্ট (২২), জোসেফ টেহাউ পোহিও (৪০), বাক্সটার গোউল্যান্ড (পাঁচ মাস) ও জেয়দেন হারিস (নয় মাস)।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, নিহত ব্যক্তিদের নামের তালিকা করার ক্ষেত্রে কঠোর সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ক্রাইস্টচার্চের করোনার সু জনসন পরিবারগুলোকে তাদের নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্তকরণ চিহ্ন জানাতে অনুরোধ করেছেন। এতে উদ্ধারের পর তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

ভারতে সন্তান জন্মদানের পর ১২ নারীর মৃত্যু

দূষিত স্যালাইন পুশ করায় ভারতের একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই ১২ জন নারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। রাজস্থান রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যোধপুরের উমায়েদ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ অপর তিন নারীকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই ১২ জন নারীর মৃত্যু হয়।
যোধপুরের সহকারী পুলিশ সুপার স্বরুপ শর্মা জানান, পুলিশ কর্মকর্তারা স্যালাইন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও তাঁর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের পরীক্ষায় স্যালাইনগুলোতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ে। তিনি জানান, উমায়েদসহ তিনটি সরকারি হাসপাতাল থেকে ওই স্যালাইন উৎপন্নকারী প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার বোতল স্যালাইন জব্দ করা হয়েছে।
চিকিৎসক নরেন্দ্র চাঙ্গানি জানান, মৃত্যুর আগে ১২ জন নারীর ১১ জনই নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পেরেছেন। এর মধ্যে এক নারীর সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে গাদ্দাফির কোটি কোটি পাউন্ডের সম্পদ জব্দ করা হবে

যুক্তরাজ্যে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির রাখা শত শত কোটি পাউন্ডের সম্পদ খুব শিগগিরই জব্দ করা হবে। গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্যের পত্রিকা টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে লিবিয়ায় আটকে পড়া অন্তত ৫০০ জন ব্রিটিশ নাগরিক দেশটি ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছেন। ব্রিটিশ সামরিক বিমান ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে করে তাঁরা লিবিয়া ত্যাগ করেন।
টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে গাদ্দাফির শত শত কোটি পাউন্ড থাকতে পারে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সম্পত্তি এবং লন্ডনে তাঁর এক কোটি পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল একটি বাড়ি রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার দেশটিতে গাদ্দাফির সম্পদ অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করেছে।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এরপর যুক্তরাজ্যে গাদ্দাফির সম্পদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কাজ শুরু হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনী নিষ্ক্রিয়

জর্ডানের রাজধানী আম্মানে গতকাল শুক্রবার রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। জর্ডানভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের সঙ্গে মিলে অন্যান্য বিরোধী দল এ বিক্ষোভ করে।
বিক্ষোভের সময় প্রচুরসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু পুলিশ নিষ্ক্রিয়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে উল্টো বিক্ষোভকারীদের পানি ও জুসের বোতল সরবরাহ করে। দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মাইসারা মালাস বলেন, ‘আমরা আজ আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ও সরকারে সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছি। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি সংসদীয় ব্যবস্থা চাই।’
ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের প্রধান হামজা মানসুর সমবেত জনতাকে বলেন, সংস্কার অবশ্যম্ভাবী, এটা এড়ানো যাবে না।

ব্রিটিশদের ফিরিয়ে নিতে দেরি হওয়ায় ডেভিড ক্যামেরনের দুঃখ প্রকাশ

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠা লিবিয়ায় আটকে পড়া ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশে দেরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি বলেন, লিবিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সম্ভাব্য সব কিছুই করবে সরকার। দেশটিতে এখনো ২০০ জন ব্রিটিশ নাগরিক আটকা পড়ে আছেন।
ওমানের মাস্কট থেকে টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, লিবিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের সরিয়ে নিতে তাঁর সরকারের আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ যথাযথভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া হয়নি বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্সকে জানিয়েছেন।

রাশিয়ার ৬৫ হাজার কোটি ডলারের বিপুল সমরসজ্জার উদ্যোগ

রাশিয়া ২০২০ সালের মধ্যে তার সামরিক খাতকে বিপুল আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তারা সামরিক বিভাগে আরও আটটি পরমাণু সাবমেরিন, ৬০০ জঙ্গি বিমান এবং এক হাজার হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এ খাতে তাদের ব্যয় হবে ৬৫ হাজার কোটি ডলার।
এর বাইরে রাশিয়ার ১০০ যুদ্ধজাহাজ ও দুটি হেলিকপ্টারবাহী রণতরী কেনার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স থেকে রাশিয়া দুটি হেলিকপ্টারবাহী রণতরী কেনার আলোচনা সেরেছে।
কর্মকর্তারা বলেন, যেসব সাবমেরিন কেনার কথা রয়েছে, সেগুলো রাশিয়ার নিজের তৈরি বুলাভা ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এ পদক্ষেপে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে, মান্ধাতা আমলের সামরিক ব্যবস্থাকে নবায়ন করে রাশিয়া আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হতে চায়।
একটি বার্তা সংস্থা জানায়, সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করতে এর মধ্যে রাশিয়াকে বিপুল জনবল ছাঁটাই করতে হয়েছে। অস্ত্র কেনার খরচ জোগাতে সশস্ত্র বাহিনী থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মকর্তাকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। প্রতি দশটি সেনা ইউনিটের মধ্যে নয়টিকেই ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিকল্পনামতো রাশিয়া যদি এসব সরঞ্জাম সামরিক খাতে যোগ করতে পারে, তাহলে সাবেক সোভিয়েত আমলের পুরোনো অস্ত্রভান্ডারের ওপর মস্কোর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমে যাবে।
পাভেল ফেলজেনহাওয়ের নামের একজন সামরিক বিশ্লেষক এপিকে বলেন, এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম হাতে পাওয়ার পর সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে রাশিয়ার একটি পেশাদারি নন-কমিশনড্ অফিসার কর্পস নিয়োগ করতে হবে। যেসব বিশেষজ্ঞ এসব অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনা করবেন, তাঁদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়াই হবে ওই অফিসার কর্পসের কাজ।
গত সপ্তাহে রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যালেক্সি কুদরিন বলেন, রাশিয়ার বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট জাতীয় প্রবৃদ্ধির ০৫ শতাংশ। আগামী বছর থেকে এ ব্যয় তিন গুণ করে ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার মস্কোয় রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পোপোভকিন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের খসড়া বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। পোপোভকিন বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নকেই এ মুহূর্তে আমরা আমাদের প্রধান কাজ বলে মনে করছি।’ তিনি জানান, নৌবাহিনীর উন্নয়নে প্রস্তাবিত ব্যয়ের বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় করা হবে। সাবমেরিনের পাশাপাশি ৩৫টি করভেট (দ্রুতগামী রণতরী) এবং ১৫টি ফ্রিগেট (সমরাস্ত্রবাহী বিশেষ রণতরী) কেনা হবে।
রাশিয়া ফ্রান্সকে যে দুটি রণতরী সরবরাহের ফরমায়েশ দিয়েছে তা কয়েক শ সেনা ও কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান নিয়ে বিদেশি ভূখণ্ডে অভিযান চালাতে সক্ষম হবে। এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রবিধ্বংসী ব্যবস্থাসম্পন্ন সামরিক বাহিনীর ১০টি ডিভিশন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এপি বলেছে, নতুন যেসব এয়ারক্র্যাফট রুশ বাহিনীতে যোগ হতে যাচ্ছে সেগুলো হলো, এসইউ-৩৪ ও এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান, এমআই-২৬ পরিবহন বিমান এবং এমআই-৮ গানশিপ হেলিকপ্টার।

Saturday, February 26, 2011

ইসলামে মাতৃভাষা চর্চার গুরুত্ব by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলামে মাতৃভাষা চর্চার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মাতৃভাষা মানে মায়ের ভাষা। মানবশিশু দুনিয়াতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে যে ভাষা শোনে এবং তাদের সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলে তা-ই তার মাতৃভাষা। পৃথিবীতে অসংখ্য মাতৃভাষা প্রচলিত আছে। জগতের সব মানুষই কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করে। সবার ভাষা কিন্তু এক নয়। জাতিগোষ্ঠী ও মানচিত্রভেদে একেকজন একেক ভাষায় কথা বলে। পৃথিবীতে প্রায় ছয় হাজারের অধিক ভাষার অস্তিত্ব রয়েছে। বিচিত্র এসব ভাষায় বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও অঞ্চলের মানুষ কথা বলে। এ ভাষাগুলোই প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের মাতৃভাষা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন।’ (সূরা আর-রূম, আয়াত-২২)
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সৎপথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁদের ওপর যেসব আসমানি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল তার ভাষা ছিল ওই সব নবী-রাসূলের স্বজাতির মাতৃভাষা। আম্বিয়ায়ে কিরাম ও তাঁদের ওপর প্রেরিত ঐশীগ্রন্থ মাতৃভাষায় অবতীর্ণ না হলে সেটা জাতি বুঝতে পারত না। ফলে মানুষ সেই নবীর ভাষা না বোঝার দরুন বিভ্রান্তিতে নিপতিত হতো। এমনিভাবে প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার প্রতি ইসলাম বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেছে। কারণ মাতৃভাষার সঙ্গে প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর সভ্যতা ও সংস্কৃতি জড়িত থাকে। তাই ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য...।’ (সূরা ইবরাহীম, আয়াত-৪)
হজরত ঈসা (আ.)-এর জাতির মাতৃভাষা ছিল সুরিয়ানি, এ ভাষায় তাঁর প্রতি ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়। হজরত মূসা (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ভাষা ছিল ইবরানি, এ ভাষায় তাওরাত নাজিল হয়। হজরত দাউদ (আ.)-এর গোত্রের ভাষা ছিল ইউনানি, তাই যাবুর ইউনানি বা আরামাইক ভাষায় অবতীর্ণ হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের ভাষা ছিল আরবি, তাই মহাগ্রন্থ আল-কোরআন তাঁর মাতৃভাষা আরবিতে নাজিল হয়। তদানীন্তন আরবদেশে ভাষা ও সাহিত্যে কার কতটুকু দক্ষতা তা নির্ণয়ের জন্য কাব্য-প্রতিযোগিতা চলত। নবী করিম (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ ঐশীগ্রন্থের ভাষার প্রাঞ্জলতা দেখে সমকালীন কবি-সাহিত্যিকেরা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তখন আরবদের মাতৃভাষায় অবতীর্ণ আল-কোরআনের ভাষার লালিত্য ও নৈপুণ্য দেখে দলে দলে লোকেরা ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এসে প্রশান্তি লাভ করে।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাতৃভাষা যেহেতু আরবি ছিল, তাই মুসলমানদের অনুসৃত ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরিফকে আল্লাহ তাআলা ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে প্রেরণ করেছেন। যাতে সহজেই বিপথগামী লোকেরা তাওহিদ বা একত্ববাদ স্বীকার করে ইসলামি জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে। মহানবী (সা.) আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। আরবি ছিল তাঁর স্বজাতির ভাষা। মাতৃভাষায় তাঁর দক্ষতাও ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন ভাষা ও সাহিত্যে সর্বাধিক নৈপুণ্যের অধিকারী, আরবের সবচেয়ে সুন্দর ও বিশুদ্ধভাষী। বাল্যকালেও তিনি বিশুদ্ধ মাতৃভাষায় কথা বলতেন। তাঁর বাচনভঙ্গি, মাতৃভাষায় বিশুদ্ধতা এবং উচ্চারণে সুস্পষ্টতা ছিল নবীচরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যাঁরা তাঁর কাছে বসে থাকতেন, তাঁরা তাঁর কথাগুলো শুনে মুখস্থ করতে পারতেন, লিখে নিতে পারতেন, হাদিস সেভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, অন্যরা শুনেছেন, মুখস্থ করেছেন এবং লিখেছেন। তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী এমনভাবে উচ্চারিত হতো বা বলা হতো যাতে অন্যেরা তা লিখে নিতে পারতেন। তিনি দ্রুত বাক্য বলতেন না। তাঁর কথা বলার ধরন এমন সুস্পষ্ট ছিল যে প্রতিটি বাক্য নয়, যেন প্রতিটি অক্ষর সবাই সহজে বুঝতে পারেন। এভাবে মহানবী (সা.) তাঁর মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে বলতেন এবং সুস্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘আমি সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরবি ভাষাভাষী।’
ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষা চর্চা বা বিশুদ্ধভাবে কথা বলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম সুন্নাত। যেসব গুণ মানুষের ব্যক্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে তার মধ্যে বিশুদ্ধ ভাষণ ও সুস্পষ্ট উচ্চারণ অন্যতম। শ্রোতাদের ওপর বক্তব্যের প্রভাব অনস্বীকার্য। জনগণকে মাতৃভাষায় বিশুদ্ধ ও সুন্দর উচ্চারণে বোঝানো দরকার। নেতৃত্বের একটা বিশেষ গুণ হলো সুন্দরভাবে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা। ভাষার ওপর দখল থাকলে শ্রোতার ওপর বক্তব্যের প্রভাব অনেক বেশি হয়।
দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি সর্বপ্রকার জ্ঞান-গরিমা, ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুশাসনের ব্যাপক প্রচার, প্রসার ও পরিচিতি মাতৃভাষা চর্চার ওপর নির্ভরশীল। যে বিধিবিধান বা ধর্মীয় অনুশাসন মানবজাতিকে আল্লাহর পথে, সত্য ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে নেয় এবং জীবনকে ঐশীজ্ঞানের আলোকে আলোকিত করে, সেই বিশাল জ্ঞানভান্ডার পবিত্র কোরআন ও হাদিসসহ অন্য বহু মূল্যবান ধর্মীয় গ্রন্থ মাতৃভাষা বাংলায় অনুবাদ হওয়ায় আজ আমরা জ্ঞানের নবদিগন্তে এগিয়ে চলেছি। পরস্পরের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান করা, সৎকাজ করা এবং অন্যায় থেকে বিরত থাকা বা বাধা প্রদান করা, ধর্মের বিধিবিধান প্রতিপালন করা, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা কেবল মাতৃভাষার মাধ্যমেই সম্ভব। ইসলামের দৃষ্টিতে, মাতৃভাষা মানবজাতির জন্য আল্লাহর দেওয়া সুমহান নিয়ামত। তাই সৃষ্টিকর্তার পরম কৃতজ্ঞতাস্বরূপ বিশুদ্ধ মাতৃভাষা চর্চায় নৈপুণ্য আনয়ন ও বিশেষ দক্ষতা অর্জনে অত্যন্ত সচেষ্ট হতে হবে।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: শিক্ষক, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়; পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

সাংহাইয়ে এক কুকুর নীতি

চীনের সাংহাই নগর কর্তৃপক্ষ এক-সন্তান নীতির মতো ‘এক কুকুর’ নীতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এ নীতির আওতায় একটি পরিবার একটিমাত্র কুকুর পুষতে পারবে। নগরে কুকুরের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে নতুন এ আইনটি পাস করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র চায়না ডেইলির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১৫ মে থেকে আইনটি কার্যকর হবে

জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত পদ থেকে গাদ্দাফির মেয়েকে বহিষ্কার

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মেয়ে আয়শা আল-গাদ্দাফিকে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) শুভেচ্ছাদূতের পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসার্কি গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি লিবিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালানোর কারণে গাদ্দাফির মেয়েকে ইউএনডিপির কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আয়শা আল-গাদ্দাফিকে এইডস ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতারোধে কাজ করতে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
পেশাগত জীবনে আয়শা আইনের অধ্যাপক। জানা গেছে, তিনি ইরাকের সাবেক একনায়ক সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকের প্রতিরক্ষা দলে বিভিন্ন ধরনের আইনি সহায়তা দেন।

বুশকে জুতা ছোড়া ইরাকি সাংবাদিক ফের গ্রেপ্তার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারা ইরাকি সাংবাদিক মুনতাজা আল জায়েদিকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টাকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জায়েদি গতকাল বাগদাদের সুন্নি অধ্যুষিত আদামিয়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করার চেষ্টা চালান। এ সময় ইরাকি সেনারা তাঁকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যান। জায়েদি প্রথমে সেনাদের সঙ্গে যেতে রাজি না হলে কর্নেল পদমর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তা বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পরোয়ানা রয়েছে তাঁদের। পরে জায়েদিকে একটি পিকআপ ট্রাকে তোলে সেনারা।

লিবিয়ার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা আল-কায়েদার

লিবিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির প্রতি নিন্দা জানিয়েছে আল-কায়েদার আফ্রিকা শাখা। একই সঙ্গে তারা লিবিয়ার সংগ্রামী জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
আল-কায়েদা দ্য ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম) গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার জন্য গাদ্দাফি আফ্রিকার পেশাদার খুনিদের ভাড়া করছে এবং বিমানবাহিনীকে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। দেশটির আন্দোলনকারী জনগণের প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানায় একিউআইএম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের জনগণ এবং নিরস্ত্র মুসলিম ভাইদের ওপর গাদ্দাফির এই কাপুরুষোচিত হত্যাযজ্ঞে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমাদের ভাইয়েরা শুধু গাদ্দাফির দমন-পীড়ন এবং তাঁর একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল।’
আলজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেই মূলত ঘাঁটি ছিল একিউআইএমের। কিন্তু দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের মুখে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে সংগঠনের অনেক কর্মী নাইজার, মালি, আলজেরিয়া ও মৌরিতানিয়ার মরু অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গম ও মরু অঞ্চলকেই তাঁরা এখন নিজেদের অভয়াশ্রম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিবৃতিতে একিউআইএম বলেছে, ‘লিবিয়ার মুসলিম ভাইদের প্রতি আমাদের আহ্বান, আপনারা লক্ষ্যে অনড় থাকুন আর ধৈর্য ধরুন। সংগ্রাম-বিপ্লব চালিয়ে যান, জালিমের পতন হবেই।’

বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের নির্দেশ

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ তাঁর ৩২ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতিটি পড়ে শোনান ইয়েমেনের প্রেস অ্যাটাচে। এতে বলা হয়, সালেহ চান নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের পূর্ণ সুরক্ষা দেবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
ইয়েমেনে গত সপ্তাহ থেকে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছে। সালেহপন্থীদের অনেকে সানা ও অন্যান্য স্থানে সরকারবিরোধী অনেক বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করে দিয়েছে।
গত বুধবার পার্লামেন্টের সদস্যরা জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতি সরকারের সহিংস আচরণের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে নয়জন এমপি পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারী এমপি আবদুল আজিজ জুবায়ের বলেন, ‘৮০ শতাংশ এমপি এখনো সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে জনগণের অবশ্যই অধিকার রয়েছে।’
জুবায়ের বলেন, এমপিরা প্রেসিডেন্টের কাছে ১০ দফা দাবিসংবলিত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অবিলম্বে সেনাবাহিনীর সংস্কার ও পুনর্গঠন করা।
প্রেসিডেন্ট সালেহ অবশ্য ২০১৩ সালে তাঁর ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই পদত্যাগের অঙ্গীকার করেছেন।

পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ করছে সিরিয়া

সিরিয়া তার রাজধানী দামেস্কের কাছের একটি এলাকায় গোপনে পারমাণবিক স্থাপনা করছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ধারণা করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জার্মান সংবাদপত্র জিটপাটেক সাইতুঙ্গ এ কথা জানিয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গত বুধবার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ওই এলাকার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে।
জার্মান পত্রিকাটি জানিয়েছে, রাজধানী দামেস্ক থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে একটি সামরিক এলাকার দুটি পৃথক ভবনের ছবি তারা হাতে পেয়েছে। এ ছবি দুটির সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, আরব দেশটি তথাকথিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সিরিয়া ওই এলাকায় জাতিসংঘের কোনো তদন্ত দলকে ঢুকতে দিচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (আইএসআইএস) জানিয়েছে, দামেস্কের নিকটবর্তী মার্জ অ্যাজ সুলতান শহরে স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই স্থাপনার সঙ্গে দায়ির আলজোর যা কিনা আল-কিবার নামেও পরিচিত স্থাপনাটির যোগসূত্র থাকতে পারে। ইসরায়েল ২০০৭ সালে এই আল-কিবারে হামলা চালিয়েছিল। সেখানে একটি আণবিক বোমা তৈরির স্থাপনা ছিল। বর্তমান স্থাপনাটি থেকে আল-কিবার পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি সরবরাহে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আইএসআইএসের পাওয়া ছবিগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল-কিবারে আবারও স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ওই মার্জ অ্যাজ সুলতান শহরে সুউচ্চ ও ধাতব সব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
সিরিয়া তার বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা তৈরি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ নগরে ভূমিকম্পে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৯৮ জনে পৌঁছেছে। ২২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে দেশটির উদ্ধারকর্মীরা জানান। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিধ্বস্ত দেশটির উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সব ধরনের সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ডেভ ক্লিফ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৮ জন। এখনো ২২৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জন কি বলেছেন, ‘আমরা কল্পনা করতে পারি না এমন পর্যায়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছে যায় কি না, সেই আশঙ্কা হচ্ছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জন কি গত মঙ্গলবারের ভূমিকম্পকে একটি জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এতে শুধু বিমা কোম্পানিগুলোর লোকসানই হয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি ডলার। ক্রাইস্টচার্চের মেয়র বব পার্কার বলেছেন, শহরটির পানি ও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা ধসে গেছে। ভেঙে যাওয়া পানি সরবরাহকারী পাইপগুলো থেকে পানি উপচে পড়ছে। তিনি শহরবাসীকে ট্যাপের পানি যথাযথভাবে ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। তা না হলে রোগবালাই মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃক্ষরোপণে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ফিলিপাইনের পরিবেশবাদীরা

বৃক্ষরোপণে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ফিলিপাইনের পরিবেশবাদীরা। নতুন করে বনায়ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় সাত হাজার মানুষ একযোগে মাত্র ১৫ মিনিটে ৬৪ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ করে এই রেকর্ড গড়েন। আয়োজকেরা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন।
গত বুধবার ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চলীয় কামারিনস সুর প্রদেশের একটি বৃক্ষশূন্য বনে তাঁরা এই বিপুল সংখ্যক চারা রোপণ করেন। এল ভারদি প্রকল্পের মুখপাত্র মারা জোনেইল কর্দোভা এ কথা জানান।
গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডস রেকর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, চারা রোপণ প্রক্রিয়ার সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।
কর্দোভা বলেন, আগে এই রেকর্ডটি ছিল ভারতের।

প্রতিশোধ নিয়ে গেল বায়ার্ন

মধুর প্রতিশোধই নিল বায়ার্ন মিউনিখ। পরশু সান সিরোতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ইন্টার-বায়ার্ন ম্যাচটি ছিল একটি ফাইনালেরই ছায়া। তাতে মারিও গোমেজের শেষ মিনিটের গোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ১-০ গোলে হারিয়েছে গত বছরের রানার্সআপ বায়ার্ন। মার্শেইয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-মার্শেই ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য ড্র।
ম্যাচের আগে বায়ার্ন কোচ লুইস ফন গল গত বছরের ফাইনালে হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন হোসে মরিনহোর ইন্টারের অতিরক্ষণাত্মক কৌশলকে। আর ম্যাচের পর সেই ইন্টারকেই দিয়েছেন প্রশংসার মালা। কোচ বদলেছে, মরিনহোর বদলে এসেছেন লিওনার্দো, ইন্টারও রক্ষণাত্মক খোলস ঝেড়ে ফেলেছে। ফন গল এটা দেখে নিজেই অবাক, ‘ওরা জিততে চেয়েছিল বলে আক্রমণাত্মক খেলেছে। ইন্টারের এই আক্রমণাত্মক খেলা আমাকে বিস্মিতই করেছে।’ ফন গলের চোখে ম্যাচটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, ‘ম্যাচটি খুব আকর্ষণীয় হয়েছে। ভালো একটি ম্যাচ দেখার তৃপ্তি নিয়েই সবাই বাড়ি ফিরেছে।’
ইন্টারের মাঠে আরও বড় জয়ই পেতে পারত জার্মানির দলটি। আরিয়েন রোবেনের নেতৃত্বে তারা করে গেছে একের পর এক আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল তারা। প্রতিশোধের নেশায় ফুঁসতে থাকা বায়ার্নের কাছে ইন্টার মিলানকে তখন অসহায়ই লাগছিল। গোমেজরা কয়েকটি সুযোগ মিস না করলে আরও বড় জয়ই পেত বায়ার্ন।
ওদিকে অলিম্পিক মার্শেইয়ের মাঠে ম্যানইউ গোলশূন্য ড্র করায় একটু দুশ্চিন্তাতেই পড়ে গেছেন ম্যানইউ কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন, ‘এ ধরনের ফল কখনো কখনো ভয়ংকর হয়, বিশেষ করে যখন আপনি নিজেদের মাঠে গোল খেয়ে বসবেন। এটা আবার সহজও। কারণ জিতলেই আমরা পরের রাউন্ডে চলে যাব।’

সাকিব-তামিমেই চোখ পোর্টারফিল্ডের

নদীতে নেমে কুমির খুন করার চিন্তা করে কী লাভ! আয়ারল্যান্ড সে চিন্তা করছেও না। বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও স্পিনের বিপক্ষে যেহেতু সে রকম পাল্টা অস্ত্র নেই, আইরিশরা তাকাচ্ছে সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের দিকে।
কাল সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড নাম ধরেই বললেন বাংলাদেশের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কের কথা, ‘তাদের দলে কয়েকজন খুবই বিপজ্জনক খেলোয়াড় আছে। টপ-অর্ডারে তামিম আছে, যেকোনো দলের জন্যই অনেক বড় উইকেট। শুরুতেই তাকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চাই আমরা। এ ছাড়া মিডল-অর্ডারে সাকিবও খুব বিপজ্জনক।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই ঢাকায় চলে আসা আয়ারল্যান্ড দলের বাংলাদেশের জল-হাওয়া এর মধ্যেই চেনা হয়ে যাওয়ার কথা। পরশুর ঠান্ডা আবহাওয়া তো অফ স্পিনার অ্যান্ড্রু হোয়াইটের কাছে খুবই ‘হোমলি’ মনে হচ্ছিল! অবশ্য পোর্টারফিল্ড জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতিটা অনেক দিন ধরেই নিচ্ছেন তাঁরা, ‘এ রকম একটা আসরে খেলার জন্য কয়েক বছর ধরেই প্রস্তুত হচ্ছি আমরা। বিশেষ করে গত কয়েকটা মাস তো কঠোর পরিশ্রম করলাম।’ প্রস্তুতির কথাটাই আরেকটু ব্যাখ্যা করে বললেন আয়ারল্যান্ডের ক্যারিবীয় কোচ ফিল সিমন্স, ‘গত দুই বছর আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষেই ম্যাচ আছে ১২টি।’
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ঘুরে ঘুরেই আসছে দুই দলের ২০০৭ বিশ্বকাপের ম্যাচটা। বাংলাদেশের স্মরণীয় বিশ্বকাপ মাটি করে দিয়েছিল ওই আয়ারল্যান্ডই। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং গত যুক্তরাজ্য সফরেও বাংলা-বধের তৃপ্তি পেয়েছিল তারা। তবে পোর্টারফিল্ড এবারের বিশ্বকাপটাকে দেখছেন নতুন আয়নায়, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন। এবার নিজেদের মাঠে পরিচিত দর্শকদের সামনে খেলবে বাংলাদেশ।’ সবকিছু পরিচিত বলে এ ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেবারিটও মানছেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক, সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, ‘অনেক দর্শকের কারণে হয়তো তারাই (বাংলাদেশ) ফেবারিট থাকবে। তবে সেটা আবার চাপও।’
২০০৮ সালে বাংলাদেশে এসে এপ্রিলের প্রচণ্ড গরমে ভুগতে হয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে। সে তুলনায় এবার তাপমাত্রা কিছুই না। তা ছাড়া এই তিন বছরে আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতাও বেড়েছে। সব মিলিয়ে এবারের সঙ্গে সেবারকে খুব বেশি মেলাতে চাইছেন না আইরিশ অধিনায়ক।
নিজেদের মাঠে পরিচিত দর্শকের সামনে বাংলাদেশের জন্য বড় শক্তি স্পিন বোলিং। পোর্টারফিল্ডের মাথায় আছে সেটাও, ‘সন্দেহ নেই এই বিশ্বকাপে স্পিন বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।্রবাংলাদেশ দলে ভালো ভালো স্পিনার আছে এবং আমরাও তাদের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’ শিশির-তত্ত্বের কথা ভেবে ভারত ম্যাচে টসে জিতেও আগে বোলিং করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কাল পোর্টারফিল্ডও বললেন, বিশ্বকাপে শিশির একটা ব্যাপার।
ভারত ম্যাচে শিশির-তত্ত্ব ছিল, এ ম্যাচেও তা উড়িয়ে দেননি পোর্টারফিল্ড। তাঁর ধারণা, আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটের আচরণও থাকবে আগের ম্যাচের মতোই। আর তাই এ ম্যাচে টসটাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু মনে হচ্ছে না তাঁর কাছে, ‘গত ম্যাচে শেবাগ একাই বাংলাদেশের হাত থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এর পরও বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাট করল, আমার মনে হয় না টস এখানে বড় কোনো ব্যাপার হবে।’
কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ কিংবা দুই দুলের অতীত লড়াইয়ের ইতিহাস—সবকিছু মাথায় রেখেই বিশ্বকাপটা জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আয়ারল্যান্ড। লক্ষ্য পূরণে তারা ভরসা মানছে দীর্ঘদেহী ট্রেন্ট জনস্টনের বোলিং, সঙ্গে তরুণ ব্যাটসম্যান পল স্টার্লিংয়ের ব্যাটিংকেও। তবে দলটার সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত আত্মবিশ্বাস আর বড় কিছু অর্জনের তাড়না। বিশ্বকাপটা যে আয়ারল্যান্ডের কাছে শুধু একটা টুর্নামেন্ট মাত্র নয়, বড় মঞ্চে নিজেদের চেনানোর উপলক্ষও!

শিশির-তত্ত্ব মুছে জয়ের আকাঙ্ক্ষা

কাঁধে ব্যাগ, ডান হাতের কনুইটা একটু যেন ফোলা। তার পরও ইমরুল কায়েসের মুখে স্মিত হাসি। টিম বাস থেকে নেমে তাঁর পেছন পেছন ড্রেসিংরুমের দিকে গেলেন শফিউল ইসলামও। হাতের আইসব্যাগ আর ঠোঁটের কোণে ঝোলানো শুকনো হাসিটাই বলে দিচ্ছিল খবর ভালো নয়।
একটু পর ওয়ার্মআপে নেমে গেল পুরো দল। এরপর নেট প্র্যাকটিসে...সুস্থ হয়ে ওঠায় ইমরুল সবখানেই থাকলেন। কিন্তু শফিউল কোথাও নেই! থাকার কথাও নয়। আগের দিন ক্যাচ প্র্যাকটিসের সময় পড়ে গিয়ে ডান কাঁধে চোট পাওয়া এই পেসারকে কাল বিশ্রামই দেওয়া হয়েছিল। অথচ চোট পাওয়ার পর পরশু সন্ধ্যায়ও সমস্যা গুরুতর নয় ভেবে তিনি আশাবাদী ছিলেন। ব্যথা বেড়েছে রাতে এবং সেটা এতটাই যে কাল সকালে নাকি হাত নাড়াতেই সমস্যা হচ্ছিল!
আগের রাতের অভিজ্ঞতার পর কালকের রাতটাও পর্যবেক্ষণে রাখা হলো শফিউলকে। সন্ধ্যার দিকে ব্যথা কমে গেলেও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা না-খেলাটা নির্ভর করছে ম্যাচের আগে আজ সকালের সর্বশেষ অবস্থার ওপর। তবে শফিউলের খেলার সম্ভাবনা কম বলে টিম ম্যানেজমেন্ট বিকল্প পেসার ঠিক করে রেখেছে কালই—নাজমুল হোসেন। কাল পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত, মাহমুদউল্লাহর জায়গা নিয়ে আজকের ম্যাচটা খেলছেন মোহাম্মদ আশরাফুলও।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য সব ব্যাপারেই রহস্য রেখে দিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দলটল কিছু ঠিক হয়নি বলে জানালেন, সব চূড়ান্ত হবে আজ সকালে। আয়ারল্যান্ড ম্যাচের আগেও দল চূড়ান্ত করায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষার একটাই কারণ—প্রতিপক্ষ হিসেবে আইরিশদের মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। নেবেই বা কেন? এক অর্থে এটা তো প্রতিশোধের ম্যাচও!
গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হরিষে বিষাদ উপহার দিয়েছিল আইরিশরা। হারিয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং যুক্তরাজ্য সফরেও। যে দলের বিপক্ষে নিজেদের অতীতটা এমন বিক্ষত, নিজেদের মাটিতে পেয়ে তাদের কেন ছেড়ে কথা কইবে বাংলাদেশ? সংবাদ সম্মেলনে সাকিব যতই বলুন, ‘প্রতিশোধের চিন্তা করছি না’, বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচটা আয়ারল্যান্ডকে তিক্ততা ফিরিয়ে দেওয়ারই উপলক্ষ।
অধিনায়ক হওয়ায় সাকিব তবু সংবাদ সম্মেলনে এলেন, অন্যদের মুখ থেকে তো কাল প্রতিশোধের ‘প’ও বের করার উপায় থাকল না! বোর্ড থেকে খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—এটা বিশ্বকাপ, যখন-তখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। অনেকে তাই ফোনই ধরলেন না। অনেকে ধরলেন, কথাও বললেন, কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলেন, ‘কোট করা যাবে না।’
এ রকম দু-একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু আবহ বোঝা গেল তাতে আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা অনেকের কাছে প্রতিশোধের, অনেকের কাছে আবার আরেকটা ম্যাচ মাত্র। তবে বেশির ভাগ খেলোয়াড় আজ জিততে চান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে যেতে আয়ারল্যান্ডকে হারানো জরুরি বলে। সংবাদ সম্মেলনে সাকিবও শুধু এই কারণেই ম্যাচটাকে গুরুত্বপূর্ণ বললেন, ‘ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। না জিতলে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া কঠিন হবে। এটা তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।’ তা ছাড়া আইরিশদের বিপক্ষে তিক্ত স্মৃতির চেয়ে সুখের অভিজ্ঞতাটাকেই বেশি মনে করতে চান, ‘২০০৮ সালে আমরা তাদের ৩-০-তে হারিয়েছি। কাজেই এ ম্যাচে আমরাই এগিয়ে আছি। তা ছাড়া আমি মনে করি না যে তারা এই কন্ডিশনে খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবে।’
আয়ারল্যান্ডকে হারাতে দুটি বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক—সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে খেলতে হবে এবং আগের ম্যাচের ভুল শোধরাতে হবে। জোর দিয়ে বললেন বাংলাদেশের স্পিন শক্তির কথাও, ‘গতবার এসে ওরা আমাদের স্পিনে ভালো খেলতে পারেনি। ওদের জন্য এই চ্যালেঞ্জটা এবারও থাকবে। ভালো খেললে আশা করি ফলাফল আমাদের দিকেই থাকবে।’ আর আগের ম্যাচের ভুলের তালিকায় শেষ ৬-৭ ওভারের ব্যাটিংয়ের কথা আলাদা করেই বললেন অধিনায়ক, ‘প্রথম ম্যাচে যেভাবে ব্যাটিং করেছি ওটাই ধরে রাখতে হবে। তবে শেষ ৬-৭ ওভারের ব্যাটিংয়ে উন্নতি দরকার। সেটা হলে আমরা ভালোভাবেই ৩০০ রান করতে পারব।’
গত তিন-চার দিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কোনো শিশির দেখেননি সাকিব। ভারত ম্যাচের শিশির-তত্ত্বকে আজ তাই সরিয়েই রাখছেন। গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না টসটাকেও। তবে সেটি যতটা না কন্ডিশনের কারণে, তার চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত কারণে, ‘মনে হয় না টস কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাখলেও সেটা আমাদের হাতে নেই। টস-ভাগ্য আমার খুব একটা ভালো না। এটা নিয়ে তাই ভাবি না।’
সাকিব কেন, ভাগ্যজয়ের টোটকা কারও হাতেই নেই। তবে কন্ডিশন, মাঠ, দর্শক—সবই যখন সাকিবের হাতে, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ বসন্ত উৎসব তো হতেই পারে!

২০৬ রানেই গুটিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড

প্রথম ম্যাচে কেনিয়াকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুটা মোটেই ভালোভাবে করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। স্কোর বোর্ডে মাত্র ৭০ রান জমা করতেই ফিরে গেছেন প্রথম সারির ছয়জন কিউই ব্যাটসম্যান। শেষপর্যন্ত পাচ ওভার বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে গেছে ২০৬ রানে।
টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। আর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা খুব ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন চার অসি পেসার। ব্রেট লি, শন টেইট, মিচেল জনসন আর শেন ওয়াটসরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ ওভারেই বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ফিরিয়েছিলেন শন টেইট। ১২ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান ম্যাককালাম। নবম ওভারে বল করতে এসেই আবার কিউইদের একটা বড় ধাক্কা দেন শেন ওয়াটসন। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান মার্টিন গুপ্তিল। ১৪ তম ওভারে জেসি রাইডার ও জেমস ফ্রাঙ্কলিনকে সাজঘরমুখী করে অস্ট্রেলিয়াকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান মিচেল জনসন। পরের ওভারেই স্কট স্ট্রাইরিসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন শন টেইট। এক ওভার পর আবার নিউজিল্যান্ডের দুঃস্বপ্নে পরিণত হন টেইট। কিউই সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন রস টেলর। সপ্তম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন জেমি হাউ ও নাথান ম্যাককালাম। কিন্তু দলীয় ১২১ রানের মাথায় স্টিভেন স্মিথের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে যান হাউ।
শেষপর্যন্ত ম্যাককালামের ৫২ ও অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরির ৪৪ রানের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২০৬ রানে। মিচেল জনসন মাত্র ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ৩টি উইকেট পেয়েছেন শন টেইট।

ক্রেজার দিকে তাকিয়ে পন্টিং

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্মরণীয় এক অভিষেক হয়েছিল জেসন ক্রেজার। নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে এই অসি অফস্পিনার নিয়েছিলেন ১২টি উইকেট। কিন্তু তারপর কেন জানি নির্বাচকদের আর নজরে আসতে পারেননি। এবার নাথান হরিজ, জাভিয়ের ডোহার্টিদের ইনজুরি খুলে দিয়েছে তাঁর ভাগ্য। সুযোগ পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে। শুধু সুযোগ পাওয়াই নয়, এবার তিনিই হয়তো হয়ে উঠবেন অস্ট্রেলিয়া শিবিরের অন্যতম প্রধান ভরসা।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ২৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ২টি উইকেট। আজ আবার তাঁর স্মরণীয় অভিষেক ভেন্যু নাগপুরেই নামতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আজকের ম্যাচে ক্রেজা অভিষেক টেস্টের স্মৃতিটা আবার নতুন করে ঝালিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন পন্টিং। আর এবারের বিশ্বকাপে স্পিনাররা যেভাবে ভেল্কি দেখাচ্ছেন, তাতে ক্রেজার দিকে যে পন্টিং একটু আলাদা দৃষ্টি দেবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুশীলন শুরুর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘ক্রেজা মাঠে নামার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। আজ সকালেও সে বল নিয়ে অনুশীলনে নামতে চেয়েছিল, আমরা ওকে কোনোমতে আটকেছি। এই উইকেটের কন্ডিশন তার খুব ভালোমতো জানা আছে। এটা নিশ্চিতভাবেই তাকে অনেক সাহায্য করবে। প্রতিটি ম্যাচেই সে অনেক ভালো করছে।’
নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটা নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এ ছাড়া একটা অন্য গুরুত্বও আছে এই ম্যাচটার। ঐতিহ্যবাহী চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফিটা কার হাতে উঠবে, সেটাও নির্ধারিত হবে আজকের এই মুখোমুখি লড়াই দিয়েই।

Friday, February 25, 2011

‘আইসিসির উচিত ছোট দলগুলোকে সহায়তা করা’

আগামী বিশ্বকাপ থেকে সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে ছেঁটে ফেলার যে পরিকল্পনা আইসিসি করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্রিকেটের কিংবদন্তি ইমরান খান। তিনি বলেছেন, আইসিসির উচিত, সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নে যথাযথ সহায়তা করা। ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতি ছাড়া কোনো দেশ মানসম্মত ক্রিকেট জাতিতে পরিণত হতে পারে না। তাই তাদের সহযোগিতা করা ছাড়া আইসিসি যদি তাদের কাছ থেকে ভালো ক্রিকেট আশা করে, সেটা একটু বাড়াবাড়িই।
ইমরান খানের মতে, কেনিয়া, কানাডা, হল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলো বড় দলের বিপক্ষে অঘটন ঘটাতে সক্ষম, যদি কন্ডিশন তাদের পক্ষে যায়। ২০০৭ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। কারণ, সংশ্লিষ্ট ভেন্যুর কন্ডিশন তাদের পক্ষে গিয়েছিল। তিনি ২০০৭ বিশ্বকাপের ফরম্যাট থেকে বেরিয়ে আসায় আইসিসির প্রশংসা করে বলেন, ওটা কোনো ফরম্যাটই ছিল না, ২০০৭ বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচে বাজে খেলার জন্য ভারত ও পাকিস্তান প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছিল, যা বিশ্বকাপের গ্ল্যামারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর বিপক্ষে বড় দলের খেলাগুলো প্রায় সব কটিই একপেশে ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন হচ্ছে। ব্যাপারটি নিয়ে ইমরান খানও ভেবেছেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, আইসিসির যথাযথ সহযোগিতা পেলে এই দলগুলোও নিজেদের দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ঘটাতে পারে। ইমরান খান মনে করেন, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপ অবশ্যই তার উত্তেজনা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।
বিশ্বকাপে নিজ দেশের সাফল্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক বলেন, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের মতো দুজন বোলার ছাড়া খেলছে পাকিস্তান। এই দুজনের অভাব মাঠে অবশ্যই বড় ম্যাচগুলোয় অনুভূত হবে।
ইমরান আরও বলেন, এই দুজন খেলোয়াড় দলে থাকলেও ভারত ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি পাকিস্তানকেও ফেবারিটের তালিকায় রাখা যেত।

দক্ষিণ আফ্রিকার চাই ২২৩ রান

সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নেই। সরাসরি ডাক পেয়েছিলেন বিশ্বকাপে। ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচেই বিশ্বকে নিজের আগমনি বার্তা জানিয়ে দিলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার ইমরান তাহির। তাঁর লেগ স্পিনের কবলে পড়ে ৪৭.৩ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২২২ রানে।
প্রথম পরীক্ষায় তাহির তুলে নিয়েছেন চারটি উইকেট। প্রথম ওভারেই ক্রিস গেইলের বিদায়। এর পর ডেভন স্মিথ ও ড্যারেন ব্রাভোর ১১১ রানের জুটি। বড় স্কোরই গড়তে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তাহিরদের কবলে পড়ে বড় স্কোর তো দূরের কথা, লড়াই করার মতো পুঁজিও সংগ্রহ করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ডেল স্টেইন তিনটি ও ইয়োহান বোথা নেন দুটি উইকেট।ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ড্যারেন ব্রাভো। এ ছাড়া ডোয়াইন ব্রাভো ৪০, ডেভন স্মিথ ৩৬ ও শিবনারায়ন চন্দরপল ৩১ রান করেন।

বেঙ্গালুরুতে টিকিটের দাবিতে বিক্ষোভ

বিশ্বকাপের একটা টিকিট জোগাড় করতে কী পরিমাণ ঝক্কি পোহাতে হয়, তার অভিজ্ঞতা খুব ভালোমতোই হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের। এবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে টিকিটের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেছে হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ।
ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি ম্যাচ। রোববারের এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে। কিন্তু মাঠ প্রস্তুত না হওয়ায় খেলাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। সেখানে মাত্র চার হাজার টিকিট ছাড়া হয়েছিল দর্শকদের জন্য। ম্যাচটির টিকিট কেনার জন্য গতকাল বুধবার থেকেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভিড় জমায় সমর্থকেরা। কিন্তু আজ সকালে টিকিট-ঘাটতির কথা শোনার পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে উপস্থিত জনতা। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে বলেও জানা গেছে।
পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই টিকিট একটা বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন আয়োজকেরা; বিশেষত স্বাগতিক ভারতের খেলাগুলো এবং ২ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচটার ক্ষেত্রে।
এদিকে অনলাইনে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কাটতে গিয়ে আইসিসির অফিশিয়াল সহযোগীদের একটা ওয়েবসাইট পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দিয়েছে টিকিট-প্রত্যাশী বহু মানুষ। মাত্র ২০ মিনিটেই সেই ওয়েবসাইটে হানা দিয়েছে প্রায় এক কোটি মানুষ। একসঙ্গে এত মানুষের চাপ সহ্য করতে না পেরে কার্যত অচল হয়ে গেছে Kyazoonga.com নামের সাইটটি

শোকাহত ভেট্টোরিরা

৬ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেবল ক্রাইস্টচার্চই কাঁপল না, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরাও একটা ধাক্কা খেলেন। সুদূর ভারতে বসে মার্টিন গাপটিলরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত দেশবাসীর জন্য ফেলছেন দীর্ঘশ্বাস।
কাল সকালে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় বড় শহর ক্রাইস্টচার্চে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের খবর মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ড্যানিয়েল ভেট্টোরিদের কাছে। টুইটারে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট লিখেছে, ‘ক্রাইস্টচার্চে ভূমিকম্পের খবরে খেলোয়াড়দের ঘুম ভেঙেছে। সবাইকেই ঘটনাটি স্পর্শ করেছে। দেশবাসীর জন্য মঙ্গলকামনা করেছে তারা।’ নিউজিল্যান্ডের ওপেনার গাপটিল লিখেছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চ আবারও ভয়াবহতার শিকার হলো।’
ক্রাইস্টচার্চের ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে ৬৫ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা। গত সেপ্টেম্বরেও ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭।
যেসব খেলোয়াড়ের পরিবার ও স্বজনেরা ক্রাইস্টচার্চে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য উদ্বেগ জানিয়েছেন অলরাউন্ডার স্কট স্টাইরিস, ‘সিএনএনে দেখেছি ভূমিকম্পের ভয়াবহ দৃশ্য। এতে খেলোয়াড়দের কেউ কেউ উদ্বিগ্ন। দেশবাসীর জন্য নিরাপত্তা কামনা করছি।’ ইংল্যান্ড স্পিনার গ্রায়েম সোয়ানও নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্পে মর্মাহত, ‘ক্রাইস্টচার্চের ঘটনা দুঃখজনক। এটা সবাইকেই স্পর্শ করেছে। আমরা সবার নিরাপত্তা কামনা করছি।’ শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নাগপুরে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ড। শোকে ডুবে থাকা কিউইদের জন্য নিজেদের সেরাটা দেওয়া এখন কঠিন হয়ে গেল। শোক তো আবার শক্তিও হতে পারে।
এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে আইসিসি।

আসছেন জুনাইদ

আজ পাকিস্তানের সোয়াবি শহরের সবাই উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে থাকবে হাম্বানটোটায়। না, পাকিস্তান দল নয়, তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবে পাকিস্তানের একাদশ। জুনাইদ খান কি ঠাঁই পাবেন তাতে?
এই প্রশ্নটা আজ সোয়াবি শহরের সবার। জুনাইদ যে এই জেলার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছেন পাকিস্তান দলে। আজ কেনিয়ার বিপক্ষে খেললে সোয়াবির প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকও হয়ে যাবে তাঁর।
জাতীয় দলের আশপাশে অনেক দিন থেকেই ঘুরঘুর করছেন। মোহাম্মদ আমির আর তাঁর উত্থান একই সময়ে। কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৯ দল থেকে দ্রুতই জাতীয় দলে ঢুকে যান আমির, যশ-খ্যাতি কুড়িয়ে আবারও নির্বাসিতও হন; কিন্তু জুনাইদের অপেক্ষা বাড়তেই থাকে।
এই বিশ্বকাপে খেলবেন সেই সম্ভাবনাও ছিল না। মোহাম্মদ আমির, আসিফের নির্বাসনও দুয়ার খুলে দেয়নি। খুলেছে আসলে শেষ মুহূর্তে সোহেল তানভির পুরো ফিট হয়ে উঠতে না পারায়। তাঁর নিজের কি কোনো অবদান নেই? অবশ্যই আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে এই বাঁহাতি পেসার ছিলেন খুবই ধারাবাহিক। ৩৫ ম্যাচে ১৬৭ উইকেট নিয়েছেন ২১.৩২ গড়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে জুনাইদের এই নৈপুণ্য নজর কাড়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। ওয়াসিম আকরামের মতো সাবেক তারকার ক্যাম্পেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জুনাইদের ‘হিরো’ অবশ্য আকরাম নন, আরেক খান—ইমরান। ‘যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করি, তত দিন ইমরান তো অবসর নিয়েছেন। আমি সরাসরি তাঁর কোনো খেলা দেখিনি। তবে ইউটিউবে তাঁর ভিডিও দেখেছি’—বলেছেন ২১ বছর বয়সী জুনাইদ।
আমির থাকলে হয়তো তাঁর খেলা হতো না। আমিরের না-থাকাটা শাপে বর তো অবশ্যই এই তরুণের জন্য। যদিও বন্ধু না থাকায় জুনাইদের মনটা যেন একটু খারাপও, ‘আমি তো অবশ্যই চাই, ও আর আমি যেন একসঙ্গে খেলতে পারি। কিন্তু সেটা তো এখন অন্তত সম্ভব হচ্ছে না।’
শোয়েব আখতারের ফিটনেস, আজ হাম্বানটোটার কন্ডিশন, তিন পেসার নিয়ে খেলা হবে কিনা—এসবের ওপর নির্ভর করছে জুনাইদের অভিষেক। বিশ্বকাপেই প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু করার অপেক্ষায়। বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল জাভেদ মিয়াঁদাদ, আবদুল কাদিরেরও। জুনাইদের ক্যারিয়ারও তেমন বর্ণাঢ্য হবে কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে।
তবে আজ হাম্বানটোটায় অভিষেক হলে দলের বাকি খেলোয়াড়দের চেয়ে অন্তত এক জায়গায় এগিয়েই থাকবেন। শ্রীলঙ্কার এই নতুন ভেন্যুতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে শুধু তাঁরই! গত বছর পাকিস্তান ‘এ’ দলের হয়ে এখানে একটা বেসরকারি টেস্ট খেলেছিলেন। ওই ম্যাচে ৮৩ রানে নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।
সেই ম্যাচের স্মৃতি ভালোই মনে আছে জুনাইদের, ‘এটা আমার জন্য খুবই সৌভাগ্যের একটা ভেন্যু। এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আজ সুযোগ পেলে আমি আবারও স্পেশাল কিছু করে দেখাব।’

আলো কাড়লেন ডয়েসকেট

ক্রিকেটেও জাত-বিভেদ আছে। সেই বিভেদে রায়ান টেন ডয়েসকেট আর তাঁর হল্যান্ড সাধারণ প্রজার দলে। আর ইংল্যান্ড রাজা। তবে পরশু শাসকের ওপর ছড়ি ঘোড়ালেন সামান্য (পড়ুন অসামান্য) এক প্রজা! ১১০ বলে ১১৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে শাসককেই শোষণ করলেন ডয়েসকেট।
ডয়েসকেটের বীরত্বগাথা অবশ্য নতুন নয়। এই ম্যাচের আগে সর্বশেষ ৮টি ওয়ানডেতে দুটি অপরাজিত সেঞ্চুরি (১০৬* ও ১০৯*) এবং নব্বইয়ের ঘরের দুটি ইনিংস (৯৮* ও ৯০) খেলার তৃপ্তি নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছেন হল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। কালকের ম্যাচটি খেলতে নামার আগেই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ গড়ের (৬৮-এর ওপরে) ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিল তাঁর নাম।
ক্রিকেটে পরিসংখ্যানই সব। তবে এতে কি আর রাজারা প্রজার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেয়। হয়তো ভ্রু কুঁচকে মনে মনে বলেছে—খেলেছিস তো বড় কেনিয়া, বারমুডা, আফগানিস্তান, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে! প্রজার ওপরে প্রজা ছড়ি ঘুরিয়েছে, এ আর এমন কী! যিনি পারেন, তিনি যে সবার বিপক্ষেই পারেন—এটা প্রমাণের জন্যই বড় মঞ্চে বড় দলের বিপক্ষে কিছু একটা করে দেখানোর প্রয়োজন ছিল ডয়েসকেটের। নাগপুরে সেটা করলেন খোদ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। নিজের গড়টাও নিয়ে গেলেন অবিশ্বাস্য ৭১.২১-তে।
ক্রিকেটের ‘ছোট ভাই’ বলে বিবেচিত দেশগুলোর বিপক্ষে যেমন খেলেন, ডয়েসকেটের ব্যাট কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল ঠিক তেমন চওড়া। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৯টি চার ও ৩টি বিশাল ছয় দিয়ে। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসের কল্যাণেই হল্যান্ডের স্কোর হয় ৬ উইকেটে ২৯২। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা ডয়েসকেটকে ৪৯তম ওভারে ফিরিয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। আর না হলে হয়তো তিন শ রানই পেরিয়ে যেতে পারত হল্যান্ড।
আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপ থেকে সহযোগী দেশগুলোকে বাদ দেওয়া হবে। ছোট দলগুলো এই নিয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার। তবে বিশ্বকাপের শুরুর দিকেই নিউজিল্যান্ডের কাছে কেনিয়া এবং শ্রীলঙ্কার কাছে কানাডা উড়ে গিয়ে কিছু বলার অধিকারটা হারিয়ে ফেলার উপক্রম করেছিল। এমন সময়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডয়েসকেটের এই সেঞ্চুরি দুর্বলের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরও বটে।
ক্রিকেটে ‘ছোট ভাই’ থেকে ‘মেজো ভাই’-এ উত্তীর্ণ হওয়া বাংলাদেশের জন্য ডয়েসকেটের এই সেঞ্চুরি চিন্তার কারণই হওয়ার কথা। আগামী ১৪ মার্চ চট্টগ্রামে এই হল্যান্ডই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। ‘বড় ভাই’ ইংল্যান্ডকে ভয় পাইয়ে হল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষেও ভালো কিছু করতে চাইবে। ডয়েসকেটই থাকবেন অগ্রসেনানী। সাবধান, বাংলাদেশ!

আমাদের পা মাটিতেই থাকবে: আফ্রিদি

গত বিশ্বকাপটা একটা বিভীষিকা হয়েই থেকে গেছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কাছে। আয়ারল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনকভাবে তিন উইকেটের হার, তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল কোচ বব উলমারের রহস্যময় মৃত্যু। সব মিলিয়ে রীতিমতো মাথা হেট করে দেশে ফিরতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। দেশে ফিরেও পড়তে হয়েছিল কড়া সমালোচনার মুখে। পাকিস্তানের মানুষ জোর দাবি তুলেছিল ক্রিকেটারদের শাস্তি দেওয়ার। এবার পাকিস্তান যে বিশ্বকাপ স্মৃতিটা আবার নতুন করে রাঙাতে চাইবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় কেনিয়ার বিপক্ষে আজকের ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ মিশন।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি কেনিয়া। মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর হেরে গেছে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। তবে গতবারের স্মৃতি মাথায় রেখে এবার কেনিয়াকেও ছোট করে দেখতে চাচ্ছে না পাকিস্তান। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেছেন, ‘বিগত বিশ্বকাপগুলোতে অনেক অঘটন ঘটেছে। চার বছর আগে আমরাও এ রকম অঘটনের শিকার হয়েছিলাম আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। সুতরাং প্রতিটা ম্যাচেই আমাদের পা মাটিতেই থাকবে। প্রতিপক্ষ কেনিয়াই হোক বা শ্রীলঙ্কা।’
গত বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই লজ্জাজনক ম্যাচটায় মাঠে নামতে হয়নি আফ্রিদিকে। বর্তমান দলের চারজন ক্রিকেটারের সেই ম্যাচটায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ইউনুস খান, উমর গুল, মোহাম্মদ হাফিজ ও কামরান আকমল। তবে মাঠে না নামলেও সেই ম্যাচটার দুঃস্বপ্ন এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় আফ্রিদিকে। আর এবারও ভালোমতো মনসংযোগ করতে না পারলে আবারও সে ধরনের অঘটন ঘটতে পারে বলে সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, ‘কেনিয়া গত ম্যাচটা ভালো করতে পারেনি। এবার আমাদের বিপক্ষে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

ঘুরে দাঁড়াতে চায় কেনিয়া

অঘটনঘটনপটীয়সী।’ বিশ্বকাপের আসরে এককথায় কেনিয়ার পরিচয় দিতে গেলে সবচেয়ে যুতসই শব্দ বোধহয় এটাই। ’৯৬ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সবার নজর কেড়েছিল পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটি। ২০০৩ বিশ্বকাপে তো উঠে এসেছিল সেমিফাইনাল পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত আইসিসির সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেলেও টেস্ট মর্যাদাটা পাওয়া হয়নি কেনিয়ার। তবে মাঝেমধ্যেই নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়াটা কেনিয়ান ক্রিকেটের একটা অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
এবারের বিশ্বকাপের শুরুটা অবশ্য আশানুরূপ হয়নি কেনিয়ার। প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে গেছে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। ১০ উইকেটে হারার চেয়েও প্রথমে ব্যাট করে ৬৯ রানে অল আউট হওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা মাঠে নামতে যাচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে। শুরুটা ভালোভাবে না করতে পারলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামবে কেনিয়া। আর প্রতিপক্ষ পাকিস্তান যে তাদেরকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না, এটা বাড়তি সাহস জোগাচ্ছে কেনিয়া শিবিরে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্টিভ টিকোলো বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি যে কেনিয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না, এটা শুনে খুব ভালো লাগল। আমি অন্যদের কাছেও এই বার্তাটা পৌঁছে দেব। নিশ্চিতভাবেই এতে তারা উজ্জীবিত হবে। আমরা এখানে এসেছি ভালো, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে।’
শুধু কেনিয়া দলেরই না, এবারের বিশ্বকাপেরও অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্টিভ টিকোলো। পঞ্চমবারের মতো তিনি অংশ নিচ্ছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরটিতে। বিগত বিশ্বকাপগুলোতে অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকলেও এবারে সেই বিচারে কিছুটা দুর্বলই বলতে হবে কেনিয়াকে। তবে দলের তরুণ ক্রিকেটাররাও যথেষ্ট ভালো করতে পারবে বলে আশাবাদী টিকোলো। তিনি বলেছেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০৩ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অনেক ক্রিকেটারই একসঙ্গে খেলেছে। কিন্তু আমাদের বর্তমান দলটা গোছানো হয়েছে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ে। কিন্তু এখানে অনেক মেধাবী খেলোয়াড় আছে। আশা করছি এবারও আমরা ভালো করতে পারব।’

ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী অ্যারোর সফল পরীক্ষা

ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ‘অ্যারোর’ সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরীক্ষায় অ্যারো একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গতকাল মঙ্গলবার এ পরীক্ষা চালানো হয়। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অ্যারো সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে তার পথ অনুসরণ করে গেছে। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে সব তথ্য ‘সাইট্রন ট্রি’ যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে জানিয়েছে।
দুই দশক আগে ব্যয়বহুল অ্যারো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। মূলত ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

তদন্তে যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটি গঠনের ঘোষণা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং টেলিযোগাযোগ খাতের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল লোকসভার চলতি অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। মনমোহন জানান, যৌথ পার্লামেন্টারি কমিটি শিগগিরই কাজ শুরু করবে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ পার্লামেন্টে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।
দ্বিতীয় প্রজন্মের মুঠোফোনের লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতির অভিযোগে এই কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিরোধী দলগুলো। পার্লামেন্টে এ দাবিকে ঘিরে গত শীতকালীন অধিবেশনে অচলাবস্থা বিরাজ করে। এর আগে গত রোববার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে সরকার এ দাবি মেনে নেয়।
২০০৮ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের মুঠোফোনের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইয়েমেনে ছাত্রদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট সমর্থকদের সংঘর্ষ

ইয়েমেনে গতকাল মঙ্গলবার সানা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পাঁচজন আহত হয়। প্রেসিডেন্টের সমর্থকেরা ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হামলা করলে অস্ত্রধারী ছাত্ররাও পাল্টা হামলা চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আল হুরিয়া চত্বরে গতকাল সকালে প্রায় চার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়। তারা প্রেসিডেন্ট সালেহর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল বের করলে ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রেসিডেন্টের সমর্থকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় সংঘর্ষে তিনজন ছাত্র ও দুজন সালেহর সমর্থক আহত হয়। এদিন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনের পার্শ্ববর্তী এলাকার রাস্তাঘাটেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এর মধ্যে শেখ ওসমান, আল-তাওয়াহি ও মুয়াল্লায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে দেশটির উত্তরাঞ্চলের উপজাতি-অধ্যুষিত সাদাহ অঞ্চলে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

গোয়েন্দা সংস্থা চালু করছে জাপান

বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান এই প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৬-এর আদলে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোপন তারবার্তার বরাত দিয়ে গত সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
পত্রিকাটি জানায়, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ওপর গোয়েন্দাগিরির পাশাপাশি নতুন ওই গোয়েন্দা ইউনিট দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তথ্য সংগ্রহ করবে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা কেবিনেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিসার্চ অফিসের (নাইকো) অধীনে এ গোয়েন্দা ইউনিটটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত

ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ২০০২ সালে ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রধান আসামি মওলানা উমরজিসহ ৬৩ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গুজরাটের একটি বিশেষ আদালত এই রায় দেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি দোষী ব্যক্তিদের সাজা ঘোষণা করবেন আদালত।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। রায় প্রদানের সময় ওই আদালতের বাইরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গতকাল সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণা করার পর সরকারি কৌঁসুলি জে এম পাঞ্চল বলেন, বিশেষ আদালতের বিচারক পি আর প্যাটেল ওই ঘটনায় ৩১ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। ষড়যন্ত্র করা ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য তাদের দায়ী করা হয়। অন্য ৬৩ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
পাঞ্চল বলেন, সাজার বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে। এর পর দোষী ব্যক্তিদের সাজা ঘোষণা করা হবে। ।
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অযোধ্যা থেকে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী সবরমতি এক্সপ্রেস নামের ওই ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় ৫৯ জনের মৃত্যু হয়। কট্টরপন্থী হিন্দুরা অভিযোগ তোলে, মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আগুন লাগিয়েছে। এর জের ধরে ওই রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

সুয়েজ খালে ঢুকেছে ইরানের দুটি জাহাজ

ইরানের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ সিরিয়া যাওয়ার পথে গতকাল মঙ্গলবার সুয়েজ খালে ঢুকেছে। সুয়েজ খালের এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ইসরায়েল এ ঘটনাকে উসকানিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা ৪৫ মিনিটে টহল জাহাজ আলভান্দ ও এর সহযোগী জাহাজ খার্জ সুয়েজ খালে অনুপ্রবেশ করে। তিনি এর বেশি কিছু জানাননি।
১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে সুয়েজ খালে ইরানের কোনো জাহাজের এটাই প্রথম অনুপ্রবেশ। মিসরের সরকারি বার্তা সংস্থা মেনা জানায়, সুয়েজ খালকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের জন্য ইরান অনুরোধ করেছিল। সেই অনুরোধ বার্তায় জাহাজ দুটিতে কোনো অস্ত্র অথবা পারমাণবিক বা রাসায়নিক উপাদান নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, দেড় হাজার টন ওজনের আলভান্দ জাহাজে টর্পেডো ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত। আর ৩৩ হাজার টন ওজনের খার্জ জাহাজে ২৫০ জন নাবিক আছেন। এতে তিনটি হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারে। দুটি জাহাজই সত্তরের দশকে ব্রিটেনে তৈরি করা হয় ইরানের জন্য।
আরব বিশ্বজুড়ে যখন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সুয়েজ খালে ইরানের জাহাজ অনুপ্রবেশের ঘটনা ইসরায়েলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাহাজ অনুপ্রবেশের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

গাদ্দাফির পদত্যাগ দাবি করলেন লিবীয় কূটনীতিকেরা

জাতিসংঘে নিযুক্ত লিবিয়ার কূটনীতিকেরা অবিলম্বে সে দেশের শাসক কর্নেল মোয়াম্মার গাদ্দাফির পদত্যাগ দাবি করেছেন। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি জানান। কূটনীতিকেরা গাদ্দাফিকে গণহত্যাকারী হিসেবেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিবীয় মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ইবরাহিম দাব্বাসি বলেন, লিবিয়ায় এখন যা চলছে তা স্রেফ গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তিনি বলেন, ‘চলমান অবস্থায় আমরা নীরব থাকতে পারি না। লিবিয়ার জনগণের কণ্ঠস্বর আমরা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ইবরাহিম দাব্বাসি বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি, শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করি না। লিবিয়ায় শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এখন রীতিমতো গণহত্যা শুরু করেছে।’
গাদ্দাফি গণহত্যার জন্য আফ্রিকার অজ্ঞাত অঞ্চল থেকে ভাড়া করে সেনা নিয়ে আসছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘আমরা আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন গণহত্যা চালানোর জন্য লিবিয়ায় সেনা না পাঠায়। আফ্রিকার সেনারা লিবিয়ায় হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য এলে তারা জীবিত ফেরত যেতে পারবে না। লিবিয়ায় বিদেশি ভাড়াটে সেনা গমন প্রতিরোধের জন্য সে দেশের আকাশকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
গাদ্দাফির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত শুরু করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রতি আহ্বান জানান লিবিয়ার কূটনীতিকেরা।
ইবরাহিম দাব্বাসি সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত শুক্রবার থেকে জাতিসংঘে নিযুক্ত লিবিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লিবিয়ার জনগণের ঝুঁকির চেয়ে আমাদের ঝুঁকি অতি নগণ্য।’
এর আগে আরব লীগে নিযুক্ত লিবীয় দূত আবদুল মোনায়েম আল হাউনি পদত্যাগ করে বলেছেন, গাদ্দাফি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাঁর শাসনকাল ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সময় হয়েছে। পদত্যাগের পর চীনে নিযুক্ত লিবীয় কূটনীতিবিদ হোসেইন আল-সাদিক আল-মাসরাতি আল-জাজিরা টেলিভিশনকে বলেছেন, তিনি আর ‘গাদ্দাফি’ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন না। এ কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Thursday, February 24, 2011

শিকাগোর নতুন মেয়র রাম ইমানুয়েল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাবেক চিফ অব স্টাফ রাম ইমানুয়েল শিকাগো শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার মেয়র নির্বাচিত হন ইমানুয়েল।
সাবেক কংগ্রেসম্যান ইমানুয়েল পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। শিকাগোর নির্বাচনী বোর্ড জানায়, ৯৭ শতাংশ ভোট গণনায় দেখা যায়, ইমানুয়েল ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে ইমানুয়েল বলেন, ‘শিকাগোর প্রতিটি এলাকার মানুষের ভোট পেয়ে আমি মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।

ওমান উপকূলে অপহূত চার মার্কিনকে হত্যা করেছে জলদস্যুরা

ওমানের উপকূল থেকে অপহূত চার মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছে সোমালির জলদস্যুরা। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
গত শুক্রবার ওই চার মার্কিন নাগরিকসহ একটি ইয়ট ছিনতাই করে জলদস্যুরা।
এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ওই চার নাগরিকের সন্ধানে মার্কিন সেনারা অভিযান চালানোর সময় তারা গুলির শব্দ পায়। শব্দ পেয়ে সেনা সদস্যরা জলদস্যুদের নৌযানে পৌঁছার পর তিন মার্কিনিকে মৃত দেখতে পান। ম্যাকে নামের একজন তখনো জীবিত ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা-সহায়তা দেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ সময় দু পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে দুই জলদস্যু নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ছিনতাই হওয়া এস/ভি কোয়েস্ট নামের ৫৮ ফুট লম্বা ওই ইয়টটির মালিক জিন ও স্কট অ্যাডাম দম্পতি। ইয়টটিতে ফিলিস ম্যাকে এবং জিন অ্যাডাম নামের আরও দুই মার্কিন নাগরিক অবস্থান করছিলেন।

‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিলেন সিমন পেরেজ

সুয়েজ খালে ইরানের দুটি জাহাজের অনুপ্রবেশকে ‘রাজনৈতিক উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট সিমন পেরেজ।
গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে বড় কোনো ঘটনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি না। আমার ধারণা, রাজনৈতিক উসকানিমূলক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরান এ কাজটি করেছে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’
গত মঙ্গলবার ইরানের নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ সিরিয়া যাওয়ার পথে সুয়েজ খালে ঢুকে পড়ে।

বাহরাইনের বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড়

বাহরাইনে বিক্ষোভকারীরা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত পার্ল স্কয়ার থেকে এক চুলও না নড়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির বাদশা বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও এ ঘোষণা দেয় তারা।
রাজধানী মানামার সড়কে সড়কে গণবিক্ষোভের পর শিয়া আন্দোলনকারীরা আবার গতকাল বুধবার পার্ল স্কয়ারে জড়ো হয়। তারা স্লোগান দিতে থাকে, ‘শিয়া-সুন্নি ভাই ভাই, আমরা এ দেশ ছাড়ব না’ ইত্যাদি। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, তাদের এখন একটাই দাবি, সরকারের পতন।
১৪ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ শুরুর পর গত মঙ্গলবারই প্রথম দেশটির রাজনৈতিক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁরা সরকারের পদত্যাগ ও শাসনব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেন। তিউনিসিয়া ও মিসরের পর বাহরাইনেও অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে সরকার পতনের ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে গত মঙ্গলবার বাদশা হামাদ বিন ঈশা আল-খাইফ বলেন, ‘সরকারি চত্বর জাতীয় ইস্যুতে কোনো সংলাপ বিনিময়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা না। আলোচনার জন্য টেবিলে আসুন।’ সরকারি সংবাদ সংস্থা বাদশার এ বিবৃতি প্রচার করে।

হাইতিতে খেতে দিতে না পেরে সন্তান বেচে দিচ্ছেন বাবা-মা

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত হাইতির অসহায় বাবা-মায়েরা খেতে দিতে না পেরে অল্প মূল্যে শিশুসন্তানদের বিক্রি করে দিচ্ছেন পাচারকারীদের কাছে। সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইতির দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারীরা নিজেদের আখের গোছানোর লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মা-বাবা তাঁদের বাচ্চাদের লেখাপড়া তো দূরের কথা, দুই বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন। আর এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা। তারা অসহায় বাবা-মাদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে তাদের হাতে তুলে দিলে শিশুসন্তানদের জীবন তুলনামূলক অনেক ভালো হবে। আর এ আশায় বাবা-মায়েরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাঁদের সন্তানদের তুলে দিচ্ছেন পাচারকারীদের হাতে।
বাস্তব সত্য হলো, পাচার হওয়া কতিপয় শিশু পশ্চিমা দেশগুলোর ধনী পরিবারে আশ্রয় নিয়ে অবস্থার তুলনামূলক উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হলেও বেশির ভাগ শিশুকেই জোর করে পতিতাবৃত্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত করা হচ্ছে।
দেশটিতে ৭৬ পেন্সের কম মূল্যে সন্তান বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। সন্তান বিক্রির অর্থ দিয়ে বাবা-মায়েরা অল্প কিছুদিন চলতে পারলেও সন্তান হারাচ্ছেন চিরদিনের জন্য।
ভূমিকম্পের সময় মা-বাবা হারানো অনেক শিশু খাদ্যের খোঁজে পাশের দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যায়। ওই সব শিশুকেও ধরে নিয়ে দেদারছে পাচার করা হচ্ছে। ভূমিকম্পের সময় যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাদের আর কেনার প্রয়োজন হচ্ছে না পাচারকারীদের।
ভূমিকম্পের আগে দেশটিতে প্রতিবছর কমপক্ষে দুই হাজার শিশু অপহূত ও পাচার হতো। বর্তমানে এ সংখ্যা চার গুণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতিতে ৭ দশমিক শূন্য মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় তিন লাখ লোকের মৃত্যু হয়। ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। এরপর ধীরগতিতে চলতে থাকে পুনর্গঠনের কাজ। গত বছরের শেষের দিকে বাস্তুহারা মানুষের জন্য নির্মিত অস্থায়ী তাঁবুতে মহামারি ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

পন্টিংয়ের হতাশার এমন রূপ!

বোঝাই গিয়েছিল, ড্রেসিংরুমে রিকি পন্টিংয়ের টিভি ভাঙার ঘটনাটা এত দূর যাবে। তাঁকে অবশ্যই জরিমানা গুনতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি।
পন্টিংয়ের ঔদ্ধত্য আচরণে ভারতীয় গণমাধ্যমে শুরু হয়েছে তাঁর মুণ্ডুপাত। ক্রিকেট-বোদ্ধারা বলেছেন, ড্রেসিংরুমের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন পন্টিং।
ভারতীয় একটি পত্রিকা লিখেছে, ‘এটাই হলো কুৎসিত অস্ট্রেলিয়ানদের চেহারা।’ আরেকটি পত্রিকার ভাষ্য, ‘ক্রিকেটের জন্যই এটা একটা বিষাদের দিন।’
পন্টিংয়ের আচরণে হতাশ দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি ব্যারি রিচার্ডসের কথা, ‘ড্রেসিংরুম একটা পবিত্র স্থান। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটা হতাশার। বিশ্বকাপে এমন খবর কেউই শুনতে চায় না।’
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অরুণ লালের সমালোচনা আরও কঠোর, ‘এটা জঘন্য ব্যাপার। হতাশায় উন্মত্ত হয়ে ওঠার কোনো কারণ তো দেখছি না। ব্যর্থ হওয়া মানে কোথাও না কোথাও ভুল হয়েছে। কিন্তু পন্টিং যেভাবে জিনিসপত্র ছুড়ে মারল, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটা ছেলেমানুষী।’
ক্ষুব্ধ অরুণ অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘ঈশ্বরের দোহাই, তুমি বড় হয়ে ওঠো।’
বাইরে মুণ্ডুপাত চললেও দলের সমর্থন পাচ্ছেন পন্টিং। অস্ট্রেলিয়া দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘পন্টিং তাঁর ব্যাট-প্যাড ব্যাগে ছুড়ে মারার সময় এগুলো টিভিতে লাগে। এতে টিভি পর্দার একপাশটা কালচে হয়ে যায়। টিভি নষ্ট হয়নি।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৮ রানে রান আউট হন পন্টিং। হতাশা নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেই ঘটান হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি চান থারাঙ্গা

এমনিতেই একটু মুখচোরা স্বভাবের। নিজেকে আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। মিডিয়ার সামনে সপ্রভিত নন। গুরুতর একটা ‘অভিযোগ’ তোলায় উপুল থারাঙ্গা যেন আরও মিইয়ে গেলেন। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের গ্যালারিতে বসে মাথা নিচু করে ‘অপরাধী’র হাসি হাসলেন।
একজন বাংলাদেশির কাছ থেকে ওঠা অভিযোগটা গুরুতরই। বাংলাদেশকে পেলেই কেন ইঞ্চি ছয়েক চওড়া হয়ে যায় তাঁর ব্যাট? কেন সেরাটা সব সময়ই জমা রাখেন বাংলাদেশের জন্য? ৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৩টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিং-গড় (৪৫.৫৩) ক্যারিয়ার গড়ের চেয়ে ১১ বেশি! ‘আমি তো সব সময়ই চেষ্টা করি উইকেটে থিতু হয়ে গেলে বড় ইনিংস খেলতে। সব দলের বিপক্ষেই লক্ষ্য একই থাকে। কেন জানি না বাংলাদেশের বিপক্ষেই লক্ষ্যটা বেশি পূরণ করতে পেরেছি’—থারাঙ্গার উত্তরে যেন মিশে রইল ‘অপরাধ বোধ’।
এমন ‘অপরাধ’ অবশ্য এখন নিয়মিতই করছেন থারাঙ্গা। শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে নয়, সব দলের বিপক্ষেই। সনাৎ জয়াসুরিয়াকে দলে না রাখতে তাই বিন্দুমাত্র ভাবতে হয়নি নির্বাচকদের। সুনামিতে সর্বস্ব হারানো যে তরুণকে ব্যাট-প্যাড কিনে দিয়েছিলেন কুমার সাঙ্গাকারা, সেই তরুণ এখন তাঁর দলের অন্যতম ভরসা। বয়সভিত্তিক দলগুলোয় রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া যে ছেলেকে ভাবা হচ্ছিল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঝপথেই সেটি কি আরও উজ্জ্বল দেখাচ্ছে না?
তিলকরত্নে দিলশানের সঙ্গে তাঁর জুটিটা মানিয়েও গেছে দারুণ। একপাশে দিলশানের ঝড়, উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, ঝুঁকি। আরেক পাশে থারাঙ্গার প্রথাগত সব ক্রিকেট শট আর নির্ভরতা। এই নির্ভরতার জন্যই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং-অর্ডারে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থারাঙ্গাকে। দিলশান, সাঙ্গাকারা তো বটেই, টি-টোয়েন্টি পাল্টে দিয়েছে জয়াবর্ধনেকেও। এই তিনজনের কাছেই ব্যাটিং এখন রোমাঞ্চের আরেক নাম। তাঁদের সম্ভব সর্বোচ্চ স্ট্রাইক দেওয়ার পাশাপাশি এক পাশ আগলে রাখার কাজটা তাই থারাঙ্গাকেই করতে হয়।
তার পরও আরেক পাশে দিলশানকে এভাবে ডানা মেলতে দেখে তাঁরও কি ইচ্ছে হয় না হাত খুলতে? থারাঙ্গার সাবধানী ব্যাটিং এখানেও, ‘আমি চাইলেও দিলশানের মতো ব্যাটিং করতে পারব না। আর আমি চাইও না, নিজের খেলাটাই চেষ্টা করি। ও সব সময় আক্রমণ করে খেলে বলেই আমি নিজের মতো খেলতে পারি, রানরেট নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তা ছাড়া আমরা সবাই টিম ম্যান, দলের স্বার্থ দেখতে হবে, বুঝতে হবে দল আমার কাছে কী চায়।’
দল তাঁর কাছে চায় ৪০-৪৫ ওভার পর্যন্ত একপাশ আগলে রাখা, ঝুঁকি খুব বেশি না নিয়ে রানের চাকাটাও সচল রাখা। তবে এ মুহূর্তে তাঁর নিজের কাছে নিজেরও একটা চাওয়া আছে, সেঞ্চুরি! এমন নয় যে তিন অঙ্ক তাঁর কাছে সোনার হরিণ। ১১৩ ওয়ানডেতে ৯টি সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে ১২ ম্যাচ খেলেও যে সেঞ্চুরি নেই একটি! নেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ ম্যাচেও, যে দলের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার পরের ম্যাচ। দুটো অপূর্ণতা একসঙ্গেই ঘোচাতে চান ২৬ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে, ‘বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিটাই আমার মাথায় ঘুরঘুর করছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি নেই, এটা মাথায় ছিল না। দুটো একসঙ্গে হলে তো খারাপ হয় না! ওদের বোলিং আক্রমণ দুর্দান্ত। তবে এমন নয় যে এমন বোলিং আক্রমণ প্রথম খেলছি। নিজের খেলাটা খেলতে পারলে আশা করি আমি পারব।’
দলের চাওয়া আর নিজের চাওয়া তো তাহলে মিলেই গেল। এখন শুধু চাওয়া বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যাওয়ার অপেক্ষা!

আফ্রিদির স্পিনেই শেষ কেনিয়া

দেখতে দেখতেই ম্যাচটা শেষ। জিততে না পারলেও একটু লড়াই তো করতে পারত কেনিয়া। তা আর হলো কই। শহীদ আফ্রিদির লেগ ব্রেক ঘূর্ণি সামলাতে না পেরে অলআউট মাত্র ১১২ রানে। ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান অধিনায়ক হয়ে গেলেন কেনিয়ার ঘাতক।
উপমহাদেশের উইকেটে স্পিনাররাই গড়বেন ম্যাচের ভাগ্য—বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশেষজ্ঞরা ঘুরেফিরে কথাটি বলেছেন। কিন্তু আগের ৫ ম্যাচে সেভাবে স্পিনাররা আলোটা কাড়তে পারেননি। ষষ্ঠ ম্যাচ দেখল আফ্রিদি-জাদু।
নিজেরা ব্যাট হাতে করেছেন ৩১৭। কেনিয়া এই রান তাড়া করে জিতবে—বাজি ধরার লোক বলতে গেলে ছিলই না। কেনিয়া আর আগের কেনিয়া নেই—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে পাকিস্তানের জয়টাই দেখছিলেন অনেকে। এই অবস্থায় কেনিয়া যখন ১৮ ওভার ২ উইকেটে ৬০, জয় তো তখন প্রায় আলিঙ্গনই করে ফেলেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
১৯তম ওভারে বল হাতে নেন আফ্রিদি। প্রথম প্রথম ওভারে রান দেননি। দ্বিতীয় ওভারে ৪ রান। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে স্টিভ টিকোলোকে বোল্ড। পঞ্চম ওভারের তৃতীয়, ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয়, সপ্তম ওভারের পঞ্চম, অষ্টম ওভারের প্রথম ও পঞ্চম বলে উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন কেনিয়াকে।
কেনিয়া তখন ধ্বংসস্তূপ, ৯ উইকেটে ১২২। শেষ উইকেটটা তাঁর নেওয়া হলো না, ওটা যে রানআউট। ওয়ানডেতে এর আগে আফ্রিদির সেরা বোলিং ছিল ৩৮ রানে ৬ উইকেট। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, দুবাইয়ে। শেষ উইকেটটা রানআউট না হয়ে আফ্রিদি নিলে এদিনই নিজের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়তে পারতেন।
নানা বিতর্কের ছায়া নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে পাকিস্তান। অধিনায়ক কাকে করা হবে, সেটা নিয়েও জল ঘোলা হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত ওই দায়িত্ব পেয়ে দলটাকে এক সূত্রে গাঁথার কথা বারবারই বলেছেন আফ্রিদি। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে মাত্র ৭, কিন্তু বল হাতে একাই কেনিয়াকে শেষ করে নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। পাকিস্তান তাদের অধিনায়ককে এভাবেই দেখতে চায়। কিন্তু ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী ইমরান খানের জুতোয় কি পা গলাতে পারবেন আফ্রিদি?

টেন্ডুলকারের ‘ডাবলে’ চোখ গেইলের

বীরেন্দর শেবাগের নাকি ব্যাপারটা মাথাতেই ছিল না। ভণিতা করে কথাটা বললেন কি না, কে জানে। তবে ক্রিস গেইলের কোনো ভণিতা নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বলছেন, তাঁর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ওয়ানডেতে শচীন টেন্ডুলকারের ২০০!
যদিও রেকর্ডটা ভাঙতে পারলে শেবাগ আর গেইলই পারবেন বলে মনে করে অনেকে। গেইল নিজেও সেটি মনে করেন, ‘দ্য মাস্টার-ব্লাটার (টেন্ডুলকার) এটি করে দেখিয়েছেন। শেবাগের পক্ষেও সেটি করে দেখানো সম্ভব। এঁরা এমন খেলোয়াড়, ভালো একটা শুরু পেলে যাঁদের পক্ষে ২০০ রানের ইনিংস খেলা সম্ভব। পুরো ৫০ ওভার যদি ব্যাট করতে পারেন, তাহলে এটা সম্ভব। সুযোগ পেলে অবশ্যই আমি ২০০ রান করার চেষ্টা করব।

এবার সতর্ক পাকিস্তান

প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় পাকিস্তান। স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চায় ২০০৭ বিশ্বকাপের ক্ষত। চার বছর আগে পুঁচকে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল ৩ উইকেটে। এই হারই ছিটকে দেয় তাদের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে। পাকিস্তানের বিব্রতকর অবস্থাকে আরও বিব্রতকর করে দেয় তাদের ইংলিশ কোচ বব উলমারের ‘সন্দেহজনক’ মৃত্যু। পুলিশি তদন্তের মুখে পড়েন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। উলমারের মৃত্যুকে জ্যামাইকান পুলিশ প্রথমে হত্যাকাণ্ড ভেবে জেরা করে কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে।
উলমারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ঘোষণা করার পরও নিস্তার পাননি খেলোয়াড়েরা। দেশে ফিরে আসার পর সমর্থকদের তীব্র রোষের কবলে পড়েন তাঁরা। প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়ায় ক্রিকেটারদের শাস্তি দেওয়ারও দাবি ওঠে।
তাই এবার খুব সাবধানী পাকিস্তান। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলেছেন, ছোট-বড় সব দলকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর দল। আগামীকাল কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযাত্রা। মাত্র পরশুই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ রানে অলআউট হয়ে ১০ উইকেটে হেরেছে কেনিয়া। অতীতের কথা মনে করে পাকিস্তান হালকাভাবে নিচ্ছে না কেনিয়াকেও। ‘চার বছর আগে আয়ারল্যান্ডের কাছে আমাদের পরাজয়ের মতো অনেক অঘটন হয়েছে বিশ্বকাপে। আমাদের এটা মনে আছে এবং কেনিয়া বা শ্রীলঙ্কা প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, পা আমাদের মাটিতেই থাকবে,’ বলেছেন আফ্রিদি।
বিশ্বকাপ দলে থাকা ইউনুস খান, উমর গুল, মোহাম্মদ হাফিজ ও কামরান আকমল খেলেছিলেন আয়ারল্যান্ডের কাছে হারা সেই ম্যাচটিতে। তবে আফ্রিদি বলেছেন দলের কোনো খেলোয়াড়ই ওই ভয়াবহ পরাজয়টিকে ভুলতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই ম্যাচে না খেলা পাকিস্তানি অধিনায়ক বলেছেন, ‘আপনি যদি সতর্ক না থাকেন, তবে যেকোনো সময়ই এটি (অঘটন) হতে পারে। আর আয়ারল্যান্ডের কাছে ওই পরাজয় কখনোই ভোলা যাবে না।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেনিয়ার শোচনীয় পরাজয় দেখেও রাশ আলগা করছেন না আফ্রিদি, ‘তাদের একটা খারাপ দিন গেছে, তাই তারা আমাদের বিপক্ষে সব শক্তিই প্রয়োগ করবে। যেহেতু আমাদের লক্ষ্য গ্রুপের সব কটি ম্যাচ জেতা, তাই সেভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে আরও আছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও কানাডা।
বিশ্বকাপে দলের ভালো ফলাফল পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আবার জাগিয়ে তুলবে বলে ভাবছেন কোচ ওয়াকার ইউনুস, ‘এ নিয়ে আমার মনে এতটুকু সন্দেহ নেই যে এই বিশ্বকাপ পাকিস্তানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটার গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ পাকিস্তান ক্রিকেট সম্প্রতি অনেক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।’
পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক বিশ্বকাপের জন্য দলের প্রস্তুতি নিয়ে খুব খুশি, ‘আমরা বাংলাদেশে প্রায় ১০ দিন ছিলাম ও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। এই সময়ে আমরা ফিল্ডিং দক্ষতা ও ফিটনেস বাড়ানোর জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছি।

আয়ারল্যান্ড ম্যাচেই আশরাফুল

মাঠে এসে কাল সাকিব আল হাসানের কাছে প্রথম শুনলেন খবরটা, ‘আপনি পরের ম্যাচে খেলছেন।’ একটু পর নেটে ব্যাটিং করতে যাওয়ার সময় কোচ জেমি সিডন্সও ডেকে বললেন, ‘আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দলে আছ তুমি।’ মোহাম্মদ আশরাফুল তাই ২৫ ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায়। সব ঠিকঠাক থাকলে দেশের মাটির বিশ্বকাপে ওই দিনই খেলবেন প্রথম ম্যাচ।
১৯ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচের আগেও আশরাফুল ভালোভাবেই আলোচনায় ছিলেন। একটা পর্যায়ে তো এমনও শোনা গিয়েছিল, সাত নম্বরে নাঈম ইসলামের পরিবর্তে আশরাফুল থাকবেন একাদশে। শেষ পর্যন্ত সেটা না হলেও আয়ারল্যান্ড ম্যাচের দলে অন্তত এই পরিবর্তনটা নিশ্চিত। কে বাদ যাবেন—প্রশ্নে সিডন্সের চিন্তায় কাল পর্যন্ত ‘নাঈম কিংবা মাহমুদউল্লাহ’ ঘুরপাক খেলেও জানা গেছে, বাদ পড়তে যাওয়া ক্রিকেটারটির নাম নাঈম ইসলাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আশরাফুল ও শাহরিয়ারকে সিডন্স আগেই বলে দিয়েছেন, বিশ্বকাপে তাঁরা দলের ব্যাকআপ খেলোয়াড়। হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনেই কেবল খেলার সুযোগ পাবেন। আশরাফুল যেমন এখন সুযোগ পাচ্ছেন মূলত পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ের জন্য। সাত নম্বরে ব্যাটিং করবেন, এমনটাই তাঁকে জানানো হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে।
আশরাফুলকে নিয়ে যে রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে তাতে টিম ম্যানেজমেন্টের সুস্থ চিন্তার প্রকাশ ঘটছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজে বাদ দেওয়ার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে বলা হলো তাঁকে অন্তত প্রথম তিনটি ম্যাচে খেলানো হবে। অথচ সুযোগ পেলেন কেবল প্রথম ম্যাচটাতে! কানাডার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে একটা চার মেরে আউট হয়ে গেলেও আউট হলেন খুব ভালো একটা বলে। চার রানের ওই ইনিংস দেখে আশরাফুলকে যাচাই করারও কোনো উপায় ছিল না। এ ছাড়া প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে সিডন্সের দর্শন শুনেও মনে হচ্ছিল, আশরাফুল হয়তো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটা খেলছেন। হলো উল্টো।
একজন ব্যাটসম্যানকে যদি প্রতিটি ম্যাচের আগেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ম্যাচটা তার জন্য হয়ে যেতে পারে শেষ পরীক্ষা, এই ম্যাচে ভালো না খেললে ভবিষ্যৎ অন্ধকার, সেটা চাপ হয়ে বসে যায় বৈকি! আশরাফুল এখন সেই চাপ নিয়েই খেলছেন, খেলবেন আয়ারল্যান্ড ম্যাচেও। প্রতিটি ম্যাচেই এখন তাঁর ওপর থাকছে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ। অন্য ব্যাটসম্যানদের বেলায় নীতি যা-ই হোক, তাঁর একটা খারাপ ইনিংস যে কোচ থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক কেউই মেনে নেবে না, সেটা আশরাফুলও এখন জেনে গেছেন। কে জানে, হয়তো এ কারণেই পূর্ণদ্যুতিতে দেখা যাচ্ছে না তাঁর ব্যাটটাকে। নির্ভার ব্যাটিংয়ের জন্য তো আগে প্রয়োজন নির্ভার আশরাফুলকে!

‘কমলানগর’ হতে পারে ডাচদের প্রেরণা

ভারতের ‘কমলানগর’ নাগপুর ডাচদের পছন্দ হতেই পারে। এ নগরের কমলা সৌন্দর্য থেকেই আজকের ম্যাচে তারা পেতে পারে উজ্জীবিত হওয়ার শক্তি। নয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি হতে পারে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আরেকটি ম্যাড়মেড়ে লড়াই।
২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল হল্যান্ড। সেই ম্যাচটিও আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে হল্যান্ডের সঞ্জীবনী সুধা। নয়তো, ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা আর অভিজ্ঞতার দৌড়ে ‘কমলা বাহিনী’ যে ক্রিকেটের জনকদের চেয়ে বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে।
হল্যান্ডের যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচের আগেই ঘুরে ফিরে আসে ফুটবলের প্রসঙ্গ। বিশ্ব ফুটবলে ডাচদের অবস্থানের সঙ্গে ক্রিকেটে তাঁদের অবস্থানের একটা তুলনামূলক চিত্র উঠে আসে বারবারই। বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বশেষ আসরে যে দেশটি ফাইনালে খেলেছে, বিশ্ব ফুটবলের অনেক নামী তারকার জন্ম যে দেশে, ক্রিকেটে সেই দেশটি যে নিতান্তই শিশুশ্রেণীর। জনপ্রিয়তার দিক দিয়েও ক্রিকেটের কোনো অবস্থান নেই হল্যান্ডে। তার পরও এবারেরটা নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলতে আসাটা হল্যান্ডের জন্য এক ধরনের সাফল্যই।
১৯৯৬ সালে একদিনের ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে নাম লিখিয়েছিল হল্যান্ড। তারপর থেকে ৪৫টি একদিনের ম্যাচে হল্যান্ডের সাফল্য বলতে কেবল বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি জয়। রেকর্ডপত্রে চোখ বুলিয়েই কেবল নয়, খুব কাছ থেকে নিজ দলের শক্তি অনুধাবন করে ডাচ কোচ পিটার ড্রিনেন আজ নাগপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে বাস্তবেই বিচরণ করতে চান।
‘পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়, সে ব্যাপারে হল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের জ্ঞানে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের এ ব্যাপারটি নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। তার পরও ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আজ আমাদেরকে কিছুটা উদ্দীপ্ত করবেই।’ বলেছেন ড্রিনেন।
হল্যান্ডের এই দলটির তারকা বলতে কেবল দুজন। অধিনায়ক পিটার বোরেন ও অভিজ্ঞ বাস জাইডারেন্ট। তার পরও অলরাউন্ডার রায়ান টেন ডয়েসকেট প্রস্তুতি ম্যাচে কেনিয়ার বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। আলোচনাটা মূলত এসেক্সের হয়ে তাঁর কাউন্টি অভিজ্ঞতার কারণেই। এ ছাড়া উস্টারশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অ্যালেক্সেই কারভেজি হল্যান্ডের শক্তির উত্স হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
দলের উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার অভাবকেই বড় করে দেখছেন কোচ ড্রিনেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতে পারলে আমরা অনেক সমস্যারই সমাধান করে ফেলতে পারতাম।’
ড্রিনেন যত যা-ই বলুন, ক্রিকেটের অভিভাবক আইসিসির কাছেই হল্যান্ডের মতো দলগুলো যে ব্রাত্য হয়ে দেখা দিয়েছে!

‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হল্যান্ডের হারানোর কিছু নেই’

নাগপুরে আজকের ম্যাচ হল্যান্ড ইংল্যান্ডের চেয়ে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু, সত্যিই কি ইংল্যান্ড আজকের ম্যাচের আগে একেবারে নির্ভার সময় কাটাতে পারবে? তাদের মনে কি দুই বছর আগে লর্ডসের সেই দুঃসহ স্মৃতি বারবার ফিরে ফিরে আসবে না?
২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই হল্যান্ডের কাছেই হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচটির স্মৃতিই আজ নাগপুরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হয়ে দেখা দিতে পারে।
ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসও স্বীকার করেছেন ব্যাপারটি। বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আজকের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হল্যান্ডের হারানোর কিছু নেই। আর এটিই শক্তি হয়ে কাজ করতে পারে ডাচ দলের জন্য।’
‘হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি আমাদের জন্য ভালো পরীক্ষা হয়ে দেখা দিতে পারে।’ স্ট্রাউসের মন্তব্য।
এবারের ইংল্যান্ড দলটিকে একটু অন্য চোখেই দেখা হচ্ছে। ২৪ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জিতে অন্যতম ফেবারিট হিসেবেই বিশ্বকাপের ময়দানে আবির্ভাব হয়েছে তাঁদের। তবে, বিশ্বকাপের ঠিক আগ দিয়ে সেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজে ৬-১ ব্যবধানে হার দলটিকে কি মানসিক দিক দিয়ে একটু পিছিয়ে রেখেছে? এমনই এক প্রশ্নের জবাবে স্ট্রাউস জানিয়ে দিয়েছেন, চার বছর পরপর বিশ্বকাপের মতো আসরে খেলতে পারার মজাটাই অন্য রকম। তাই বিশ্বকাপে খেলার গৌরব দিয়েই সব মানসিক পশ্চাত্পদতা জয় করতে চান তাঁরা। ‘একজন ক্রিকেটার ভাগ্যবান হলে তাঁর ক্যারিয়ারে খুব বেশি হলে তিনটি বিশ্বকাপ খেলতে পারে। এমন একটি আসরে খেলতে এসে অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে কেউ পড়ে থাকতে চায় না।’ স্ট্রাউসের বক্তব্য।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে যতটা সম্ভব বেশি ম্যাচ জিততে চান স্ট্রাউস। তিনি বলেন, ‘খুব বেশি হলে গ্রুপ পর্যায়ে এক-দুটি ম্যাচে আপনি হারতে পারেন। এর বেশি নয়। তবে সবগুলো ম্যাচে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যই থাকবে আমাদের।’
ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই কেভিন পিটারসেনকে দিয়ে ইনিংসে গোড়াপত্তন করার পরিকল্পনা করে কাঁপিয়ে দিয়েছে চারিদিক। ম্যাট প্রিয়রের জায়গায় কেভিন পিটারসেনের ইনিংস ওপেন করার বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চাচ্ছেন স্ট্রাউস। তিনি বলেছেন, ‘অন্য দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ব্যাপারটি পিটারসেন খুব ভালো পারে। সে জন্যই ম্যাচের শুরুতে চাপটা তৈরি করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’ পিটারসেন ইনিংসের উদ্বোধন করলে স্ট্রাউসই হবেন তাঁর সঙ্গী। পিটারসেনের সঙ্গে ইনিংসের গোড়াপত্তন নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়ে আছেন স্ট্রাউস। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাপারটি নিয়ে আমি সত্যিই খুব উচ্ছ্বসিত। পিটারসেনের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারাটা হবে দারুণ এক অভিজ্ঞতা। আশা করছি, আমরা দুজনে মিলে দারুণ একটা শুরু উপহার দিতে পারব দলকে।’

ডয়েসকেটের সেঞ্চুরিতে হল্যান্ড ২৯২

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি বলতে দুটি। একটিও অবশ্য বিশ্বকাপ আসরের নয়। বিশ্বকাপ আসরের প্রথম সেঞ্চুরিটাও আজ তুলে নিয়েছেন রায়ান টেন ডয়েসকেট। কপাল পুড়েছে ইংল্যান্ডের। ডয়েসকেটের সেঞ্চুরির ওপর ভর করেই ইংলিশদের প্রতি যে ২৯২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুঁড়ে দিয়েছে হল্যান্ড!
অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসদের ‘ভুল’ ভেঙে গেছে সন্দেহ নেই। ওরা আবার কী করবে—মুখে না বললেও ডাচদের প্রতি এমন ‘অবজ্ঞা’ থাকটাই স্বাভাবিক ছিল ইংল্যান্ডের। তবে অসহায়ত্ব প্রকাশ নয়, বরং ইংল্যান্ডকে নাড়িয়ে দিয়েছে ডাচরা। ম্যাচের প্রথমার্ধ অন্তত তা-ই প্রমাণ করে। পুরো ৫০ ওভার বোলিং করে হল্যান্ডের মাত্র ছয়টি উইকেট শিকার করতে পেরেছেন ইংল্যান্ডের বোলাররা।
দলীয় ৩৬ রানে প্রথম আর ৫৮ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। তবে এরপর ৭৮ রানের জুটি গড়েন টম কুপার ও রায়ান টেন ডয়েসকেট। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে সাজঘরে ফেরেন কুপার। ডয়েসকেটও ফিরেছেন, তবে এর আগে ঘাম ঝরিয়ে দিয়েছেন ইংলিশদের। ১১০ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছয়ে এই ব্যাটসম্যান খেলেন ১১৯ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।

কাসাবের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট

ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালের সন্ত্রাসী হামলার একমাত্র জীবিত সন্ত্রাসী আজমল আমির কাসাবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন মুম্বাইয়ের হাইকোর্ট। নয় মাস আগে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
গতকাল সোমবার মুম্বাই হাইকোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই ও আরভি মোরের সমন্বিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে ওই হামলায় সহায়তাকারী দুই ভারতীয়কে অব্যাহতি দেওয়ার বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকারের করা আবেদনও নাকচ করে দেন আদালত। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে এ আবেদন নাকচ করা হয়। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ফাহিম আনসারি ও সাবাউদ্দিন আহমেদ।
রায়ের আদেশে আদালত জানান, পাকিস্তানি নাগরিক কাসাব সাতজনকে হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী এবং ৬৬ জনেরও বেশি লোকের হত্যায় সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া বাকিদেরও হত্যা করতে তিনি ষড়যন্ত্র করেছেন।
আদালত আরও জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার কাসাবের রয়েছে। কাসাব আপিল করতে চাইলে তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
আর্থার রোড কারাগারে আটক কাসাব একটি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতের রায় শোনেন। এ সময় কাসাব সাদা পোশাক পরা ছিলেন এবং তাঁর মাথা ছিল নিচু। এ কারাগারেই তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আটক রাখা হয়েছে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর কাসাব ও তাঁর সহযোগীরা মুম্বাইয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে ১৬৬ জন নিহত হয়।

বেতন কমানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে উইসকনসিনে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমানোসহ তাঁদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকার খর্ব করার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত শনিবার পঞ্চম দিনের মতো ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ওই বিক্ষোভে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়।
কংগ্রেসে রিপাবলিকান গভর্নর স্কট ওয়াকার প্রণীত এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ চলছে। বিলটি পাস হলে সরকারি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা কমে যাবে।

Wednesday, February 23, 2011

অ্যালকোহলের কারণে যুক্তরাজ্যে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুঝুঁকিতে

যুক্তরাজ্যের কয়েকজন চিকিৎ সাবিজ্ঞানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ অ্যালকোহল সেবনজনিত মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের বদভ্যাস থেকে জনগণকে ফেরানো না গেলে আগামী দুই দশকে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে এ কারণে মৃতের সংখ্যা আড়াই লাখে পৌঁছে যাবে। তাঁদের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকার জনস্বাস্থ্য নয়, বরং মদ ব্যবসায়ীদের মুনাফা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছে। দি ল্যানসেট নামের স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকীতে গত সোমবার তাদের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের সাবেক সভাপতি ইয়ান গিলমোর, সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিক শেরন ও নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস হ্যাওকি এ গবেষণা চালিয়েছেন।
গবেষকেরা বলেছেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা বেড়ে গেছে। ১৯৮০-এর দশকে প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে ৪ দশমিক ৯ জন অ্যালকোহল সেবনজনিত রোগে ভুগে মারা গেছে। এখন সেই হার ১১ দশমিক ৪ জনে এসে পৌঁছেছে। এর জন্য তাঁরা অ্যালকোহলের সহজলভ্যতা ও নজরদারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে ফ্রান্সে অতিরিক্ত মদ্যপান জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে বহু লোক ক্যানসারসহ যকৃৎ ও পাকস্থলীর প্রদাহজনিত রোগে মারা যায়। এ ছাড়া মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণও বেড়ে যায়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য সরকার সে সময় মানহীন সস্তা মদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি সাধারণ মদের ওপর বাড়তি কর আরোপ করে। দাম বেড়ে যাওয়ায় অ্যালকোহল সেবনের মাত্রা কমে যায়।
গবেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য এ সংকট থেকে বাঁচতে ফ্রান্সের নীতি অনুসরণ করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা অ্যালকোহল সেবনকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখতে ‘কড়া পদক্ষেপ’ নিচ্ছে। অন্যদিকে, অ্যালকোহল উৎ পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, তারাও অ্যালকোহলের অপব্যবহার ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
গবেষক দলের প্রধান ইয়ান গিলমোর বলেছেন, সাবান বা পাউডারের মতো অ্যালকোহল কোনো নিত্যপণ্য নয়। এটি একটি মাদক। ফলে এটির অপব্যবহার ঠেকাতে অবশ্যই সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
তবে, মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ওয়াইন অ্যান্ড স্পিরিট ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পুরো ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অ্যালকোহল ব্যবসায়ীরাই যে সরকারকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দেন, সে বিষয়টি গবেষকেরা এড়িয়ে গেছেন।

সৌদি আরবের কাছে বেন আলীকে ফেরত চেয়েছে তিউনিসিয়া

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীকে দেশে ফেরত পাঠাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেন আলী ২৩ বছর তিউনিসিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। গত মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ৭৪ বছর বয়সী বেন আলী বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তিনি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎ সাধীন।
তিউনিসিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বেন আলী ‘সাংঘাতিক অপরাধে’ জড়িত। তিনি তিউনিসিয়ার জনগণকে হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন। বেন আলীকে ফেরত চাইলেও তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বেন আলীর শাসনামলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলেও তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মুসেভেনিকে জয়ী ঘোষণা বিরোধীদের প্রত্যাখ্যান

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনিকে গত রোববার জয়ী ঘোষণা করেছে সে দেশের নির্বাচন কমিশন। এতে মুসেভেনির ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। ২৫ বছর ধরে দেশ শাসন করছেন তিনি। বিরোধী দলের নেতারা নির্বাচনের এই ফলাফলকে নাকচ করেছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত উগান্ডার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসেভেনি ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টার-পার্টি কো-অপারেশনের নেতা কিজ্জা বেসিগাই পেয়েছেন ২৬ শতাংশ ভোট। বেসিগাই নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এর আগে বেসিগাই হুমকি দেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানাবেন। তবে মুসেভেনি রাজপথে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ দমনের অঙ্গীকার করেছেন।
ক্ষমতাসীন দল ভোটের জন্য ভোটারদের ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে এই ঘুষ দেওয়া হয় বলে বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ।
অপর বিরোধী দল উগান্ডা পিপলস কংগ্রেস পার্টির নেতা ওলারা ওতুনু সাংবাদিকদের বলেন, তিনিও নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। শুক্রবারের নির্বাচনে ভোট না দেওয়া এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল তাঁরা যা খুশি ঘোষণা করতে পারেন, এ ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তের কোনো হেরফের হবে না।

ভোটে হারলেই ক্ষমতা ছাড়বেন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। ভোটে হেরে গেলে তিনি পদত্যাগ করবেন। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট সালেহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। গতকালও পুলিশের গুলিতে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সালেহ বলেন, ‘তারা (বিক্ষোভকারীরা) আমাকে সরাতে চাইলে নির্বাচনের মাধ্যমে সরাতে হবে। নির্বাচনে হারলেই আমি পদত্যাগ করব।’ তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছে, যার অনেকই অবৈধ। সালেহ আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন বিক্ষোভ ‘নতুন কিছু’ নয়। বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে সানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বিরোধীদলীয় এমপি, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষ গতকাল ব্যাপক বিক্ষোভ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের চারদিকে ঘিরে রাখে। ‘জনতা পরিবর্তন চায়’, ‘জনগণ বর্তমান শাসনের অবসান চায়’, ‘চলে যাও, সালেহ’ প্রভৃতি স্ল্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা।
পার্লামেন্টের বিরোধী জোট দ্য কমন ফোরাম বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সব দল, বিশেষত তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তাদের এই বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট সালেহর নিপীড়ন, জুলুম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এর আগে জাতীয় মতৈক্যের সরকার গঠনে প্রেসিডেন্ট সালেহর আহ্বান নাকচ করে দেয় বিরোধী জোট।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে গতকাল পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দেশটিতে নিহত লোকের সংখ্যা ১২-তে দাঁড়াল। বিক্ষোভে এ পর্যন্ত সাত সেনাসহ কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে।
এডেন শহরে বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালালে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে আলী আল খালাকি নামের একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। অন্য চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল দেশটির ধর্মীয় নেতারা এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগকে ‘অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে জনগণের প্রতি নির্যাতন ও গ্রেপ্তার বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শেখ আবদুল মাজিদ জিনদানির নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতারা এই বিবৃতি দেন। উল্লেখ্য, আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র শেখ জিনদানির নাম কালো তালিকভুক্ত করেছে।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সাত বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আলী আবদুল্লাহ সালেহ। এর আগে তিনি ঘোষণা করেন, মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি নন।

Tuesday, February 22, 2011

একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা প্রয়োজন একুশে ফেব্রুয়ারি

আবার এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো দিন। জাতীয় শোক ও শহীদ দিবস। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি ভাষাসৈনিকদের।
১৯৫২ সালের এই দিনে বাঙালি তরুণেরা ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছিলেন মাতৃভাষার অধিকারকে সর্বজনীন মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ। কিন্তু ওই আত্মবলিদান শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ক্রমশ তা গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন ও অঙ্গীকার হিসেবে দানা বেঁধেছিল। বাঙালির ইতিহাসের প্রতিটি ধাপে আমাদের পথ দেখিয়েছে সেই স্বপ্ন। ফেব্রুয়ারি তাই স্বাধীনতা, মুক্তি, সাম্য, গণতন্ত্র—আধুনিক বাঙালির সব শুভ চেতনার মাস।
শুধু তা-ই নয়, জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা বাংলার জন্য বাঙালি ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছে ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে। মাতৃভাষার অধিকার যে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার, এ সত্যটি বিশ্ববাসী উপলব্ধি করেছে। জীববৈচিত্র্যের মতোই ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও যে মানবসভ্যতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের অধিকার তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও বাংলা ছাড়া ছোট অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সেসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয় পরিপুষ্টির সুযোগ অবারিত রাখা প্রয়োজন।
যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের সেই প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষার আজ কী অবস্থা? কাগজ-কলমে বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। কিন্তু সরকারি দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার ব্যবহার আংশিক। এ দেশে এখনো ইংরেজির প্রাধান্য বেশি। উচ্চ আদালতে এখনো বাংলা চালু হয়নি। ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলা ভাষার জায়গা খুব সীমিত। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলার ব্যবহার প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। উন্নয়ন খাতও চলছে মূলত ইংরেজি ভাষায়। এনজিওদের সেমিনার, সিম্পোজিয়ামগুলোর ভাষা প্রধানত ইংরেজি, তাদের প্রতিবেদন ও অন্যান্য লেখালেখির ভাষাও তা-ই। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে ইংরেজি রপ্ত করতে বেশি আগ্রহী। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যবই অধিকাংশই ইংরেজিতে রচিত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে ইংরেজি বেশি প্রাধান্য পেয়ে থাকে। মাতৃভাষা বাংলায় শুদ্ধ করে, সুন্দরভাবে লিখতে না পারা অগৌরব বলে বিবেচিত নয়। শিশুদের শিক্ষাক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ের প্রসার ঘটে চলেছে। সাধারণ বিদ্যালয়েও বাংলার প্রতি অবহেলার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
ফেব্রুয়ারি মাস এলে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে নানা কথা বলা হয়, অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু এসব কথায় ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না। বাংলার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হলে শিক্ষাসহ জীবনের সর্বস্তরে বাংলা চালু করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাই প্রথমে প্রয়োজন একটি জাতীয় ভাষা পরিকল্পনা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কিছু স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও মানুষ, যাঁরা বাংলা ভাষার বিকাশের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাবেন।

প্রোটিয়াদের আরেক অসুখ

দলের নাম যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, তখন নানা ধরনের শব্দ তো তাদের আগে-পরে যোগ হবেই। এত দিন আসল সময়ে ‘চোক’ করে যাওয়ার একটা রোগ তাদের ঘিরে থাকত। সেই রোগ যে সেরে গেছে তা নয়। তবে এই বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগে আরেকটি উপসর্গ যোগ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে। প্রস্তুতির জন্য হোটেলের চার দেয়ালে বন্দী থেকে একধরনের আতঙ্কে ভুগছে তারা, যাকে বলা হয় ‘কেবিন ফিভার’—গৃহবন্দী-জ্বর!
দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতে পা রেখেছে সপ্তাহ দেড়েক আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ২০১১ বিশ্বকাপ অভিযান যখন শুরু হবে, ভারতে প্রায় দুই সপ্তাহ থাকা হয়ে যাবে তাদের। অনুশীলন, হোটেল, আবার অনুশীলন—দুই সপ্তাহ ধরে এই একই রুটিন না আবার খেলোয়াড়দের হাঁপিয়ে তোলে, এই ভয় পেয়ে বসেছে প্রোটিয়াদের।
মরনে মরকেল অবশ্য একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন, ‘নিজেদের হোটেলে আবদ্ধ না করে রাখা এবং চার দেয়ালে বন্দী থেকে হাঁপিয়ে না পড়াটা জরুরি। এটা কাটাতে আমরা দেশটি ঘুরে দেখতে পারি।’ তবে ভারতে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ঘুরে বেড়ানোটাও এক সমস্যা, মরকেল সেটাও জানেন, ‘বাইরে গেলে আবার নানা গুজব উঠবে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এখানে ব্যাপারটা সহজ নয় যে বাইরে গেলাম আর একটা গাড়িতে চেপে বসলাম এবং যেখানে খুশি চলে গেলাম।’
মরকেল যে শুধু চার দেয়ালের বন্দিত্ব কাটানোর পরিকল্পনাই করছেন, তা নয়। ডেল স্টেইনের বোলিং সঙ্গী ভাবছেন মাঠের লড়াই নিয়েও। সবাই স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে ভাবলেও এবারের বিশ্বকাপে পেসাররাও কিছু করবে বলে বিশ্বাস মরকেলের, ‘আমাদের কাজটা খুবই কঠিন। কারণ, সব দলই প্রথম ১৫ ওভারকে টার্গেট করবে। এটা অবশ্য দুই রকমভাবেই কাজ করতে পারে। সবাই যদিও এটাকে স্পিনারদের বিশ্বকাপ হবে বলছে, তবু আমরাও কিছু উইকেট তুলে নিতে পারি। মানুষদের ভুল প্রমাণ করাটা হবে দারুণ ব্যাপার!’

সোয়ানকে নিয়েই ইংল্যান্ডের চিন্তা

ছেলের বাবা হয়েছেন। গ্রায়েম সোয়ান খুব খুশি। কিন্তু নিজের আনন্দটা দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারছেন না ইংল্যান্ড স্পিনার। আগামীকাল নাগপুরে হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু। এই ম্যাচের আগে সোয়ানই বরং ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম!
তিন-তিনবার ফাইনাল খেললেও ইংল্যান্ড কখনোই বিশ্বকাপ ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের দলকে ঘিরে এবার আজন্ম এই আক্ষেপ মুছে ফেলার স্বপ্ন ইংলিশদের। কিন্তু ইংল্যান্ডকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে চোট। এই চোট বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছে এউইন মরগানকে। দলের সঙ্গে থাকলেও জোনাথন ট্রট, কেভিন পিটারসেনদের চোট নিয়েও একটু সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে চোটের বড় ছোবলটা ছিল বোলিং আক্রমণে। স্টুয়ার্ট ব্রড, টিম ব্রেসনান, আজমল শেহজাদ, জেমস অ্যান্ডারসন—এই চার পেস বোলারের সঙ্গে চোটে ভুগছেন দলের প্রধান স্পিন-ভরসা গ্রায়েম সোয়ানও।
কানাডা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে ব্রড, ব্রেসনান, শেহজাদ, অ্যান্ডারসনরা অবশ্য নিজেদের ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু সদ্যোজাত সন্তানের কারণে ইংল্যান্ডে থাকায় সোয়ান খেলতে পারেননি একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও। হল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবারের প্রথম ম্যাচেও খেলবেন কি না, ঠিক নেই। কারণ দলের সঙ্গে তিনি যোগ দিয়েছেন গতকাল। চোটের সঙ্গে দীর্ঘ বিমান-ভ্রমণের ক্লান্তির একটা ব্যাপারও আছে। ইংল্যান্ডের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার বলেছেন, ‘হল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে দুটি দিন পাচ্ছে সে। এখন আমাদের দেখতে হবে, জেট ল্যাগটা সে কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে।’
আঙুলের ব্যথা সত্ত্বেও ট্রট অবশ্য ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় ভালোই আছেন। বিবেচনায় পিটারসেনও। ইংল্যান্ডের দুশ্চিন্তা তাই সোয়ানকে নিয়েই বেশি। দলের সেরা স্পিনার তিনি। ইংলিশদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বড় ভরসা সোয়ান।