Wednesday, November 11, 2009

ঘরের কোর্টে ফেদেরারের হার

নিজের শহর। চেনা কোর্ট। সমর্থকেরাও তাঁর সঙ্গেই ছিল। কিন্তু বাসেলে সুইস ইনডোর টেনিসের ফাইনালে হেরে গেলেন রজার ফেদেরার। সর্বশেষ হেরেছিলেন ২০০৩ সালে, দ্বিতীয় রাউন্ডে। এবার ফাইনালে, শিকার নোভাক জোকোভিচের। আগের দিন বাল্যবন্ধু চিউডিনেলিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা ফেদেরারকে ৬-৪, ৪-৬, ৬-২ গেমে হারিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের তিন নম্বর তারকা।
ঘরের মাটিতে এভাবে হেরে কোনো অজুহাত খুঁজতে চাইলেন না ১৫টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক, ‘দেশের মাটিতে ফাইনালে হারা খুবই হতাশার। জেতার চেষ্টা করেছি ভীষণই কিন্তু আমি আসলে পর্যুদস্ত হয়েছি। ২০০৭ সালের ইউএস ওপেনের ফাইনালের মতো ম্যাচ এটা ছিল না। সেখানে আমি বেসলাইন থেকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক খেলেছিলাম এবং ওর ওপর আধিপত্য ধরে রেখেছিলাম। তবে এখানে হারের কোনো অজুহাত দিতে চাই না। নোভাক কঠিন লড়াই করেছে, ও অনেকগুলো ব্রেকপয়েন্ট বাঁচিয়েছে। আমার দরকার ছিল আরও আক্রমণাত্মক খেলা।’
টানা তিনবারের শিরোপাজয়ী ফেদেরারের জয়রথ থামিয়ে উচ্ছ্বসিত জোকোভিচ, ‘ঠিক যখনই আমার এমন একটা জয়ের প্রয়োজন হয়ে পড়ল, তখনই আমি সপ্তাহের সেরা ম্যাচটা খেললাম।’ গত নভেম্বরে সাংহাইয়ে মাস্টার্স কাপ জেতার পর এ বছরে এই প্রথম ইনডোরে খেললেন জোকোভিচ। আগামী সপ্তাহে বছরের শেষ এটিপি টুর্নামেন্ট প্যারিস মাস্টার্সে খেলার আগে এই জয়টা তাঁর কাছে বাড়তি অনুপ্রেরণা, ‘ঠিক সময়ে ফর্মের দেখা মিলল। সাফল্যটা বাসেলে এসেছে বলেই এটা আমার কাছে বিশেষ কিছু। আমরা সবাই জানি ঘরের মাটিতে রজার কতটা ভালো খেলে—ও এখানে তিনবার জিতেছে। আমি এখানে যেভাবে খেলেছি এবং যে কৌশলে জিতেছি তাতে আমি সত্যি খুশি।’

উঠে এল মিলান

সান সিরোর দুই প্রান্তে দুই রকমের রাত ছিল পরশু। এসি মিলান শিবিরে ছিল লািসওর বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের আনন্দ। আর ইন্টার মিলানে রোমার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের দুঃখ।
নতুন কোচ লিওনার্দোর অধীনে এসি মিলানের নতুন মৌসুমটা অন্য রকম এক ইঙ্গিতই দিচ্ছিল—কাকাবিহীন মিলান হয়তো অধঃপাতেই যাচ্ছে! কিন্তু শুরুর সেই হতাশা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছে মিলান। কালকের জয়সহ টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত রইল লিওনার্দোর দল।
আড়মোড়া ভেঙে এসি মিলানের জেগে ওঠায় বড় অবদান দুই ব্রাজিলিয়ানের—রোনালদিনহো ও আলেক্সান্ডার পাতো। পরশু রোমের জয়টাও দুই ব্রাজিলিয়ান-মণ্ডিত। পাতো করেছেন একটি গোল। আর রোনালদিনহো করিয়েছেন। রোনালদিনহো উত্স ছিলেন মিলানের পক্ষে দিয়াগো সিলভার করা প্রথম গোলের। আত্মঘাতী গোল করে লািসওকেও ব্যবধান কমানোর ‘আনন্দ’ উপহার দিয়েছেন দিয়াগোই।
নিজেদের মাঠে ইন্টার মিলান ভুচিনিচের গোলে ১৩ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে। স্যামুয়েল ইতোর ৪৮ মিনিটের গোলে ম্যাচে ফিরলেও জয়সূচক গোল আর পায়নি ইন্টার। এর পরও ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই আছে হোসে মরিনহোর দল।

গর্ভাবস্থায়ও শিশু বোঝে মায়ের ভাষা

শিশুরাও মাতৃভাষা বোঝে। আর সেই বোঝার শুরুটা হয় মায়ের গর্ভে থাকার সময় থেকেই। বাবা-মা যে ভাষায়, যে উচ্চারণে কথা বলে, শিশুরা সে ভাষাতেই কাঁদে। সম্প্রতি একদল জার্মান গবেষক এমন দাবিই করেছেন। ফরাসি ও জার্মানভাষী পরিবারে জন্ম নেওয়া তিন থেকে পাঁচ দিন বয়সী ৬০টি শিশুর ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন ফলাফল পান।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাতৃগর্ভে থাকার সময় শিশুরা তার মাতৃভাষাকে অনুসরণ করে। আর এ কারণেই ফরাসিভাষী পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুরা উচ্চ স্বরে কাঁদে। আর জার্মান শিশুরা কাঁদে নিচু স্বরে। সম্প্রতি কারেন্ট বায়োলজি নামের একটি সাময়িকীতে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রচলিত আছে, মাতৃগর্ভে থাকার শেষ তিন মাসে শিশুরা অনেক সংবেদনশীল আচরণ করে। এ সময় তারা গান ও মানুষের কণ্ঠ শুনে নিজের মধ্যে ধারণের চেষ্টা করে। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, ১২ সপ্তাহের শিশুরা বড়দের কথা থেকে স্বরধ্বনি দ্রুত রপ্ত করে নেয়।
নতুন এই গবেষণাটির দলপ্রধান ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাথলিন ওয়ার্কি জানান, এ গবেষণার নাটকীয় অর্জন হলো, শিশু গর্ভাবস্থায় যে ভাষাটা শোনে, পরবর্তীকালে সে ভাষাতেই কাঁদে, এটা বের করা। তিনি আরও বলেন, শিশুরা তার মায়ের দৃষ্টি কাড়তে মা যা যা করে, সেও তা শিখতে উদগ্রীব থাকে। আর এই পর্বটা শুরু হয় মাতৃগর্ভে থাকার সময় থেকেই।

মুক্তিযোদ্ধার কান্না

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন দেশের জন্য। আর আমরা তাঁকে পারিনি এক ব্যাগ রক্ত দিতে। তাই তো তিনি হাসপাতালের মেঝেতে আকুল হয়ে কাঁদছিলেন এক ব্যাগ রক্তের জন্য, তাঁর জীবনের এ মুহূর্তের মূল্যবান সম্পদ মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্রের বিনিময়ে। তাঁর রক্ত কেনার টাকারও হয়তো অভাব হতো না, যদি না হাসপাতাল থেকে তাঁর সাড়ে তিন হাজার টাকা চুরি হতো। বলছি ২৩ অক্টোবর প্রথম আলোর ‘বিশাল বাংলা’ পাতায় প্রকাশিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলামের ছবিটির কথা। একজন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ কীভাবে কাঁদছেন এক ব্যাগ রক্তের জন্য, বিনিময়ে দিতে চেয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সনদ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটুকু। যে সনদ তাঁকে এতটুকু সম্মান করে না, তা রেখে লাভ কী? শুধু রক্ত কেন, জীবনও যেতে পারে জেনে যুদ্ধ করেছেন। কোনো ভাতা, সনদ বা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। আর আমরা তাঁদের কী দিচ্ছি? তাঁদের ন্যূনতম অধিকার কি নিশ্চিত করছি? এ প্রশ্ন সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে। নূরুল ইসলামরা আর কত দিন কষ্টে বাকি দিন কটা কাটাবেন?
মিরাজ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

নির্বাসিত জীবনের ৫০তম বছরে আবার অরুণাচলে দালাই লামা

চীনের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা গতকাল রোববার ভারতের অরুণাচল প্রদেশে পৌঁছেছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম তিব্বতি মঠ ‘তাবাং মঠ’ পরিদর্শন করেন এবং একটি জাদুঘর উদ্বোধন করেন। নির্বাসিত জীবনের ৫০তম বছরে আবার অরুণাচল সফর করছেন দালাই লামা। তিব্বতে ১৯৫৯ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এই তাবাং শহর থেকেই দালাই লামার নির্বাসিত জীবনের সূচনা। এরপর ১৯৮৩, ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে এখানে এসেছিলেন তিনি।
জাদুঘর উদ্বোধন করার পর দালাই লামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার যেকোনো সফর নিয়েই চীন প্রতিবাদ জানাবে। বিষয়টি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তবে তিব্বত নিয়ে আমি বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালাচ্ছি—চীন সরকারের এমন দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। তাবাংয়ে আমার এই সফর সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক।’ অর্ধশতাব্দী আগের তাবাং সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখানে আবার আসতে পেরে আমি খুশি। তাবাংয়ে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে।’
তিব্বতে বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতি একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে দালাই লামা বলেন, ‘তবে আমি নিরাশ নই, বরং আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। কারণ আমি দেখছি, কীভাবে অরুণাচল প্রদেশে এই ধর্ম ও সংস্কৃতি টিকে আছে।’
গতকাল একটি হেলিকপ্টারে চেপে ভারতের গুয়াহাটি থেকে অরুণাচলের তাবাং শহরে পৌঁছান তিনি। সেখানে তাঁকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দর্জি খাণ্ডু ও অন্য মন্ত্রীরা। এর পর তাঁকে তাবাং মঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী তিব্বতি এই নেতাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। জীবন্ত এই কিংবদন্তিকে স্বাগত জানাতে তাবাং শহরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখার ব্যাপারে তত্পর রয়েছে।
দালাই লামা এই সফরের সময় ৯ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত তাবাং বৌদ্ধ মঠে অবস্থান করবেন এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে সেখানকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পরে ১২ নভেম্বর দিরাং, ১৩ নভেম্বর বোমদিয়াল ও ১৪ নভেম্বর রাজ্যের রাজধানী ইটানগরে ধর্মীয় বিষয়ে বক্তৃতা করবেন।
এ ছাড়া সফরে সেন্টার ফর বুড্ডিস্ট কালচার স্টাডিজের ধর্মীয় বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার উদ্বোধন এবং অনুসারীদের নিয়ে কেন্দ্রে উপাসনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এদিকে দালাই লামার এই সফর উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। দালাই লামার এ সফর উপলক্ষে তাবাং মঠের প্রধান তুলকু রিমপোচে জানান, ‘তাঁকে নিজেদের কাছে পেয়ে খুবই খুশি আমরা। আধ্যাত্মিক নেতার প্রিয় খাবার রান্নার জন্য মঠের রাঁধুনিদের মাসখানেক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে উপহারসামগ্রী জমিয়ে রাখা হয়েছে।’
এর আগে ৭৪ বছর বয়স্ক তিব্বতি নেতার এ সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানায় চীন। তাদের বক্তব্য, দালাই লামার এ সফর তাঁর চীনবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবকে আরও প্রকট করে তুলবে। তবে ভারত সরকার এর জবাবে বলেছে, দালাই লামা তাদের সম্মানিত অতিথি এবং দেশের যেকোনো স্থানে সফর করার অধিকার তাঁর রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের অধিকার নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। দুই দেশের সরকারই একে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।

ইতিহাসের নতুন শুরু -বার্লিন প্রাচীর পতন by সরাফ আহমেদ

‘জার্মান জাতির গৌরব করার তেমন কিছু নেই। তবে বার্লিন প্রাচীরের পতন এবং জার্মান জাতির একত্রকরণ নিয়ে আমরা সবাই গর্বিত।’
বার্লিন প্রাচীর পতনের কুড়ি বছর পূর্তিতে ওই ঘটনার অনুঘটক আরও দুই বিশ্ব রাজনীতিক মিখাইল গর্বাচেভ এবং জর্জ বুশ সিনিয়রকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন জার্মান জাতির ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রধান স্থপতি সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর হেলমুট কোহল। আত্মসমালোচনা মানুষকে, জাতিকে ছোট করে না, বরং তাদের সম্বন্ধে মানুষের সমীহ আর সম্মানই বাড়িয়েই দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে জার্মানি প্রায় সমগ্র ইউরোপ দখল করে নিয়েছিল, তাদের নিয়ে মানুষের ভীতি ও সংশয় থাকারই কথা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব এডলফ হিটলারের স্বপ্ন ছিল নিষ্কলুষ তৃতীয় রাইখ গড়ার, জার্মানদের পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। প্রায় ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু এবং ইউরোপজুড়ে ধ্বংসলীলার চিহ্ন রেখে যুদ্ধে হেরে যায় জার্মানি। বিজয়ী মিত্রশক্তি ৪৫ বছর জার্মানিকে দ্বিখণ্ডিত রেখেছিল। দ্বিখণ্ডিত এই জার্মানির প্রতীক ছিল বিশ্বখ্যাত বার্লিন প্রাচীর। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর পূর্ব বার্লিনের হাজার হাজার মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এই প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এক বছর পর ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর আবার একত্র হয় জার্মানি। কুড়ি বছর আগেও জার্মানি তথা পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের রাজনীতির আমূল পরিবর্তন অভাবনীয় ছিল। কিন্তু জনগণই রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অনেক হিসাব গরমিল করে দেয়।
১৯৪৫ সালের যুদ্ধে জার্মান জাতির পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে জার্মানি বিভাগের মাধ্যমে দুটি অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ব্যবস্থা চালু হয়েছিল—পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র। আর দুই জার্মানি তাদের পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ধারা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছিল।
তবে আশির দশকের শেষে সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের শুরু করা গ্লাসনস্ত আর পেরস্ত্রোইকা কর্মসূচির হাত ধরে, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে অধিকতর গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ঢেউ লাগে সাবেক পূর্ব জার্মানিতেও। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে সাবেক পূর্ব জার্মানির বড় শহরগুলোতে প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে নাগরিক আন্দোলন এবং চার্চের ব্যানারে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমে আসে। তারা গণতন্ত্র আর রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানাতে থাকে।
৯ অক্টোবর পূর্ব জার্মানির লাইপজিগে নাগরিক আন্দোলনের ডাকে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সেটাই ছিল পূর্ব জার্মানির সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তম নাগরিক বিদ্রোহ। এরপর শুধু লাইপজিগ নয়, ছোট-বড় শহরসহ আন্দোলনের ঢেউ লাগে রাজধানী পূর্ব বার্লিনেও। ৪ নভেম্বর পূর্ব বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র আলেকজান্ডার স্কয়ারে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। নানা অস্থিরতার মাঝে পূর্ব জার্মানির চ্যান্সেলর এরিখ হোনিকার পদত্যাগ করেন। ধস নামতে শুরু করে কমিউনিস্ট সরকারের অভ্যন্তরে, ৮ নভেম্বর পদত্যাগ করেন পূর্ব জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যরা। ৯ নভেম্বর ধসিয়ে দেওয়া হয় ২৮ বছর আগে গড়া বার্লিন প্রাচীর। প্রাচীর ভাঙার ধ্বংসযজ্ঞ চলছিল দুই রাত ধরে। প্রাচীর ভাঙার আনন্দে কেউ হেসেছে, কেউ কেঁদেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে প্রাচীর গোটা জার্মানিকেই মানসিকভাবে দ্বিখণ্ডিত করে রেখেছিল, প্রাচীর ভাঙার আনন্দে হাজার হাজার পূর্ব আর পশ্চিমের বার্লিনবাসী প্রাচীর পেরিয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করেছিল। সেই সময় জার্মানরা আবারও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, জার্মানরা আবার এক হবে। বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল বিশ্ববাসীও। প্রাচীর পতন-পরবর্তী ঘটনাগুলো আরও দ্রুত, আরও নাটকীয়।
পূর্ব জার্মানির চ্যান্সেলর এরিখ হোনিকারের পর ক্ষমতায় আসেন এরিখ কেনু ক্রেঞ্জ। তাঁকেও সরে দাঁড়াতে হয়। গঠিত হয় পূর্ব জার্মানির সংস্কারপন্থীদের তত্ত্বাবধায়ক ধাঁচের সরকার, যার প্রধান হন গর্বাচেভপন্থী হিসেবে পরিচিত হ্যানস মদরোভ। এই সরকারের আওতায় সার্বভৌম নির্বাচনে পশ্চিমের মতো পূর্বেও ক্ষমতায় আসেন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটরা। চ্যান্সেলর হন লোথার ডে মিজিয়ার।
পূর্ব আর পশ্চিমে একই রাজনৈতিক মতাদর্শের সরকার থাকার কারণে পূর্বের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটরা পশ্চিমের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী ৪৫ বছর ধরে জার্মানি দেশ ও জাতির ওপর মিত্রশক্তিদের (সোভিয়েট ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন) সৈন্য ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ থাকায় তারা ঐকবদ্ধ জার্মানি হওয়ার পথে বাদ সাধে। মিত্রশক্তির নেতাদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে জার্মানি ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালাতে থাকেন পূর্ব এবং পশ্চিম জার্মানির নেতারা। আর এই আলোচনার ফলে ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর জার্মান জাতির ঐক্যপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সেই সময় জার্মান রাজনীতিকেরা, মিত্র চার শক্তি তথা ইউরোপের দেশগুলোকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে জার্মানি ইউরোপ তথা বিশ্ব ঐক্য ও শান্তির পথে কাজ করে যাবে। সেই কাজটি জার্মান রাজনীতিকেরা সার্বিকভাবেই করছেন বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তবে প্রাচীর পতনের কুড়ি বছরেও যে সাবেক দুই জার্মানির মধ্যে সব বৈষম্য-সংশয়-অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধি সমভাবে ঘটেছে, তা বলা যাবে না।
৪৫ বছরের বিপরীতধর্মী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো পূর্বে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পশ্চিমের মতো করে পুঁজিবাদী অর্থনীতি সহসাই সম্ভব নয়। বিগত কুড়ি বছরে পূর্বের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেও বাস্তবতার কারণে অনেক কিছুই সম্ভব হয়নি, ফলে সামাজিক সমস্যা ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতাও রয়েছে দুই দিকের মাঝে।
বার্লিনের প্রাণকেন্দ্র প্যারিসার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হবে ‘শান্তির জন্য গান’ শীর্ষক কনসার্ট। কনসার্ট মঞ্চে বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে উপস্থিত হবেন হিলারি ক্লিনটন, নিকোলাই সারকোজি, গর্ডন ব্রাউন, দিমিত্রি মেদভেদেভ। আর এই বিশ্বনেতাদের পাশে থাকবেন শান্তিতে বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রাচীর পতনের কুড়ি বছর পূর্তিতে এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, জার্মানি এগোচ্ছে, সময় লাগলেও পূর্ব-পশ্চিমের অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্যের দেয়াল ভাঙছে, বেকারত্বের হারও কমছে। বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকেরা জার্মান জাতি সম্পর্কে বিশ্ববাসীর অবিশ্বাস, ভয়-ভীতি-সংশয়কে পেছনে ফেলে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঐক্যবদ্ধ জার্মানিকে।
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলো’র প্রতিনিধি, হ্যানোভার, জার্মানি।
Suaraf.ahmed@gmx.net

জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার তথ্য ভারতকে জানায়নি পাকিস্তান

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় লস্কর-ই-তাইয়েবার হামলার ষড়যন্ত্রের কথা জানত পাকিস্তান। কিন্তু নয়াদিল্লিকে এ ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানায়নি ইসলামাবাদ। যদিও দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের তথ্য আদান-প্রদানের কথা রয়েছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গত শুক্রবার এ অভিযোগ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ভারতে নতুন করে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও লস্কর-ই-তাইয়েবার সদস্য ডেভিড কোলম্যান হেডলি ২০০৬ সালের পর ভারতে বেশ কয়েকবার এসেছেন। এ সময় তিনি হামালার লক্ষ্যস্থলগুলো পরিদর্শন করে থাকতে পারেন।
পি চিদাম্বরম বলেন, ‘নতুন করে এ হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে অবশ্যই পাকিস্তান জড়িত। হেডলি বেশ কয়েকবার পাকিস্তান সফর করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, এফবিআইয়ের নির্দেশেই পাকিস্তানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) গত ৩ অক্টোবর ডেভিড হেডলি এবং ১৮ অক্টোবর তাঁর সম্ভাব্য সহযোগী তাহাউর হুসাইন রানাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পরই এফবিআই ভারতের মাটিতে হামলার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে (এফআইএ) জানায়। কিন্তু পাকিস্তান সে তথ্য ভারতকে জানায়নি। লস্কর-ই-তাইয়েবা নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, উত্তরাখন্ডের দেরাদুনের উডস্টক ও ডুন স্কুল এবং দিল্লি, কেরালা ও গোয়ার পাঁচতারা হোটেলে হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল।
মিসরে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের সম্মেলনের বাইরে পাকিস্তান ও ভারতের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো সন্ত্রাসী হামলার হুমকির ব্যাপারে আগাম তথ্য পেলে দুটি দেশ তা পরস্পরের কাছে বিনিময় করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন, নতুন করে হামলার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো আভাস পায়নি ভারত। তিনি বলেন, ‘বড়জোর এ ব্যাপারে আমি হেডলি-সম্পর্কিত খবর পেয়েছি। আমার মনে হয় না, এ ব্যাপারে আমরা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য পেয়েছি।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান লস্কর-ই-তাইয়েবার নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের এমন ভূমিকার পর সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র-সম্পর্কিত তথ্যের ব্যাপারে পাকিস্তানের ওপর আর নির্ভর করার পরিকল্পনা নেই ভারতের। এর চেয়ে বরং এফবিআইয়ের ওপর নির্ভর করাটা হবে অনেক বেশি যৌক্তিক।
হেডলির বিরুদ্ধে শিকাগোর ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালের পর হেডলি পাকিস্তান, ভারত ও ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশ একাধিকবার সফর করেছেন। হেডলির ই-মেইল বার্তা থেকে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে তিনি পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েছেন। এ সময় তিনি টানা কয়েক মাসও ওই সব দেশে অবস্থান করেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এটা ঠিক নয় যে কেবল লস্কর-ই-তাইয়েবাই ২৬-১১ মতো আরও হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। হুজি ও আল-কায়েদার মতো অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনও ভারতে হামলার ব্যাপারে লস্কর-ই-তাইয়েবাকে সহযোগিতা করছে।
এফবিআইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের গোয়েন্দা দলের তদন্ত কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তাঁরা সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া হেডলি ও রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, ভারতের মাটিতে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় পাকিস্তানের জানা আছে। এমনকি তাদের একজনকে পাকিস্তান সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেও আবার ছেড়ে দিয়েছে।
ভারতের কাছে সরবরাহ করা এফবিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, ভারতের মাটিতে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে পাকিস্তানের তিন ব্যক্তি জড়িত। তাঁদের সঙ্গে হেডলি ও রানার যোগাযোগ ছিল।

পরমাণু স্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে কেনিয়া

কেনিয়া পরমাণু স্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে ফ্রান্সের সহায়তায় তারা এই স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিনগা গত শনিবার এ কথা জানান।
ওডিনগা বলেছেন, ‘আমরা একটি পরমাণু স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গড়ে এক হাজার থেকে দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব—এমন একটি স্থাপনা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা পরমাণু কর্মসূচি শুরু করতে চাই। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটি স্থাপন করা হবে।’
কেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুুর জন্য ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমনের হার কমাতেই তাঁরা এ পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকেই এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করতে চাই। পরমাণু স্থাপনা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি আমরা শুরু করতে পারি। এ ব্যাপারে ফ্রান্স সহায়তা দেবে।

সাইনবোর্ডে পশ্চিমবঙ্গের বদলে গুর্খাল্যান্ড লিখছেন জনমুক্তির স্বেচ্ছাকর্মীরা

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলাকে পৃথক গুর্খাল্যান্ড রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনরত গুর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবার গোটা দার্জিলিংয়ের সব হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে পশ্চিমবঙ্গের স্থলে গুর্খাল্যান্ড লেখা শুরু করেছে। জনমুক্তি মোর্চার গড়া স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী জিএলপির সদস্যরা সাইনবোর্ডে গুর্খাল্যান্ড লেখার কাজ তদারকি করছেন। তাঁরা ৬০ রুপিতে বিক্রি করছেন গুর্খাল্যান্ড লেখা বিশেষ সাইনবোর্ড।
একই সঙ্গে গত শনিবার থেকে দার্জিলিংয়ের সর্বত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মদের দোকানও। শুধু তা-ই নয় আগের ঘোষণা অনুযায়ী জনমুক্তি মোর্চা ওই দিন থেকে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম অচল করে দিয়েছে। বহু পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

‘ডিজিটাল টাইম’ এবং ঘোড়ার মৃতদেহ -সাদাসিধে কথা by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

এই বছর জুন মাসের ১৯ তারিখ বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের একটা কাজ করা হবে এ রকম কানাঘুষা হচ্ছিল, আমার ধারণা ছিল এত বড় একটা ব্যাপার—সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে, দেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষেরা বলবেন, এটা নেহায়েত এক ধরনের খামখেয়ালিপনা—সোজা কথায় পাগলামো। তখন আর এই সিদ্ধান্তটা নেওয়া হবে না। দেশ যখন রাজা-বাদশাহরা শাসন করতেন তখন তাঁরা এ রকম খামখেয়ালিপনা করতেন—কথা নেই বার্তা নেই তাঁরা পুরো রাজধানী এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যেতেন। রাজা-বাদশাহদের সেই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দটি করত না, কার ঘাড়ে দুটি মাথা আছে যে, এর প্রতিবাদ করে নিজের গর্দানটি হারাবে? আমি ভেবেছিলাম, এখন তো রাজা-বাদশাহদের আমল নয়—এখন গণতান্ত্রিক সরকার, এ রকম একটা সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই কিছু খামখেয়ালি মানুষ নিয়ে ফেলবে না।
কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আমি অবাক হয়ে দেখলাম, দেশের ইলেকট্রিসিটি বাঁচানোর কথা বলে হুট করে একদিন ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়া হলো! আমি দুর্বলভাবে পত্রিকায় একটা লেখা লিখেছিলাম—কিন্তু কার সময় আছে আমাদের মতো মানুষের লেখা পড়ার কিংবা সেই লেখা বিবেচনা করার? আজকে আবার লিখতে বসেছি, আগের বার যখন লিখেছিলাম তখন নিজের ভেতর যে অনুভূতিটা ছিল সেটা ছিল খানিকটা হতাশার। এখন যখন লিখছি তখন আমার ভেতরকার অনুভূতিটা রীতিমতো ক্রোধের অনুভূতি। আস্ত একটা দেশের মানুষকে প্রতারণা করা হলে যেটুকু ক্রোধান্বিত হওয়ার কথা আমি এই মুহূর্তে ঠিক সে রকম ক্রোধান্বিত। ‘ডে লাইট সেভিং’ এর কথা বলে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এখন বলা হচ্ছে, এটা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সময় নির্ধারণের পদ্ধতির বাইরে ঠেলে দিয়ে পাকাপাকিভাবে এক ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর কী হতে পারে?
যে সব দেশে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেওয়া হয় এবং পিছিয়ে নেওয়া হয় আমি সে রকম একটি দেশে প্রায় ১৮ বছর ছিলাম। কাজেই এই ব্যাপারটি কী আমি সেটা খুব ভালো করে জানি। আমার ধারণা, কেন এই ধরনের বিচিত্র একটা কাজ করা হয় সে ব্যাপারে এ দেশের বেশির ভাগ মানুষের ধারণা ছিল না। কাজেই হুট করে যখন এটা করা হলো, তখন সবাই নিশ্চয়ই আকাশ থেকে পড়েছে। ইলেকট্রিসিটি বাঁচানোর একটা খোঁড়া যুক্তি দিয়ে ঘটনাটা ঘটানো হয়েছিল, তাই অনেক পত্র-পত্রিকাও এর পক্ষে সম্পাদকীয় লিখে ফেলেছিল, আমি আবিষ্কার করেছিলাম এর বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ বলতে গেলে কেউ ছিল না।
আমার ধারণা ছিল, ব্যাপারটা ঘটার পর দেশে এমন একটা গোলমাল লেগে যাবে যে, সরকার সঙ্গে সঙ্গে টের পাবে কাজটা খুব বড় ধরনের বোকামি হয়েছে। (আমার মাঝে মাঝে জানার ইচ্ছা করে, সরকারটা কে বা কী! এটা কী একটা বিমূর্ত ব্যাপার, যারা অদৃশ্য থেকে দেশের বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, কিন্তু কে ঘটনাটা ঘটিয়েছে সেটা কী কেউ জানতে পারবে না?) যাই হোক, আমি সবিস্ময়ে লক্ষ করলাম, দেশে কোনো বড় ধরনের গোলমাল হলো না, সবাই ব্যাপারটা বেশ সহজেই মেনে নিল। বলতে দ্বিধা নেই, আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম।
দেশে কেন বড় ধরনের কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না, সেটা বুঝেছি অনেক পরে। আমার পরিচিত একজন হঠাত্ খুব বড় ধরনের ঝামেলায় পড়েছে, রীতিমতো পুলিশের হস্তক্ষেপ করিয়ে তাকে ঝামেলামুক্ত করা হয়েছে। মানুষটি সবিস্তারে যখন আমার কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করছে, তখন তাকে আমি মাঝপথে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘রাত তখন কয়টা?’
মানুষটি বলল, ‘আসল টাইম ১০টা। ডিজিটাল টাইম ১১টা।’
আমি তখন সবিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম, এ দেশের অনেক মানুষ ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টা গ্রহণ করেনি। তারা এখনো সেটাকে সরকারের এক ধরনের খামখেয়ালি কাণ্ড হিসেবে ধরে নিয়ে ‘আসল টাইমে’ তাদের জীবন চালিয়ে যাচ্ছে! শুধু তাই নয়, তারা সরকারের হুট করে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া এই নতুন সময়টার নাম দিয়েছে ‘ডিজিটাল টাইম’—যদিও ডিজিটাল প্রযুক্তি বলতে যা বোঝায় তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
এই সরকার নির্বাচনে জিতে দেশ চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে দেশের কমবয়সী ভোটারদের ভোটে, তারা মেনিফেস্টোর দুটি বিষয়কে খুব আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করেছিল, একটা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কথাটা খুব সুন্দর দুই শব্দে বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে, আমরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটা দেশ গড়তে চাইছি। শব্দটি অত্যন্ত ইতিবাচক, শব্দটির মাঝে একটা স্বপ্ন লুকিয়ে আছে।
‘ডিজিটাল টাইম’ শব্দটিতে কোনো স্বপ্ন লুকিয়ে নেই, এটা একটা টিটকারি! এটা একটা রসিকতা। সরকারের চমত্কার একটা স্বপ্নকে টিটকারিতে পরিণত করার সুযোগ যাঁরা করে দিয়েছেন তাদের কী জিজ্ঞেস করা যায়, তাঁরা কার বুদ্ধিতে এটা করেছেন?

২.
সরকার যখন প্রথম ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তখন আমরা সতর্ক করে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম কাজটি বুদ্ধিমানের মতো হয়নি। কারণ যদি কখনো গ্রীষ্মকালে এক ঘণ্টা সময় এগিয়ে নেওয়া হয় তাহলে শীতকালে এটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নিতে হয়। মার্কিন যুক্তিরাষ্ট্র বা ইউরোপের মতো দেশ সেটা করতে পারে, আমাদের মতো দেশের জন্য সেটা এত সহজ নয়, বছরে দুবার করে এই হাঙ্গামা করার মতো ক্ষমতা আমাদের দেশের নেই। কাজেই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে এ রকম ঝামেলার মাঝে না যাওয়া। সরকার তার পরেও এই ঝামেলাটা নিজের ঘাড়ে তুলে নিল, আমরা এটা সহ্য করেছি এবং এতদিন নিঃশ্বাস বন্ধ করে সহ্য করে আছি যে, শীতকালে ঘড়ির কাঁটা আবার এক ঘণ্টা পিছিয়ে নেওয়ার সময় সরকার বুঝতে পারবে কাজটা বুদ্ধিমানের মতো হয়নি। তারপর ভবিষ্যতে আর এ ঝামেলায় পড়তে চাইবে না।
ঠিক যখন ঘড়ির কাঁটা আবার পিছিয়ে নেওয়ার সময় হলো, তখন হঠাত্ করে একদিন রাতের বেলা আমার টেলিফোন বাজতে থাকে, ফোন ধরতেই শুনতে পেলাম, বিবিসি থেকে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করছেন, ‘আপনি কী জানেন সরকার ঠিক করেছে তারা ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে নেবে না?’ আমি আকাশ থেকে পড়লাম, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলাম না! ঘড়ির কাঁটা নাড়াচাড়া করার পেছনে তবু এক ধরনের যুক্তি আছে, কিন্তু ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আর কোনোদিন সেটা পিছিয়ে না আনাটা স্রেফ এক ধরনের পাগলামি, তুঘলক খান বা কালিগুলারা এগুলো করত—তাই বলে একটা গণতান্ত্রিক সরকার? তারা কী জানে যে, এ ব্যাপারটা হঠাত্ করে ঘোষণা করাতে এই শুক্রবারটিকে শনিবার বলে বিবেচনা করার মতো? কিংবা ২০০৯ সালের পর ২০১০ সাল না এসে ২০১১ সাল আসবে—এ রকম একটা ঘোষণা দেওয়ার মতো? বিবিসির প্রতিবেদক আমাকে বললেন, ‘আপনি কী জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যটা শুনতে চান?’
আমি শুনতে চাইলাম, তখন তাঁরা আমাকে সেটা শোনালেন। আমাদের জ্বালানি উপদেষ্টা বললেন, ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে না আনার কারণে যে সব সমস্যা হবে, সেই সমস্যার সমাধান করা হবে অফিস-আদালত বা স্কুলের সময়সূচি এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়ে! রসিকতাটা কী কেউ ধরতে পেরেছেন? ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেয়া হলো, সেই সমস্যাটা মেটানোর জন্য অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের সময়সূচিও এক ঘণ্টা পরিবর্তন করা হলো! যদি সময়সূচি পরিবর্তন করেই সমস্যায় সমাধান করতে হবে তাহলে সেই গ্রীষ্মকালে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের সময়সূচি পরিবর্তন করে দেওয়া হলো না কেন? তাহলে তো ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করতে হতো না। এটা হুবহু হবুচন্দ্র রাজার গল্পের মতো—পা দুটো ঢেকে ফেললেই পায়ে ধুলো-মাটি লাগে না! পাকে ধুলো-বালি থেকে রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীকে চামড়া দিয়ে ঢাকতে হয় না। ঠিক সে রকম অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের সময়সূচিকে পরিবর্তন করলেই ইলেকট্রিসিটির খরচ কমানো যায়—সে জন্য সারা দেশের সব ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দিতে হয় না।
বিবিসির প্রতিবেদক এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য জানতে চেয়েছিলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে আমি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ গলায় কিছু কথা বলেছিলাম, একাধিকবার ‘উন্মাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলাম। ধারণা করছি, বিবিসির মতো সম্ভ্রান্ত প্রতিষ্ঠান আমার ক্রুদ্ধ চিত্কারকে কাটছাঁট করে সেটাকে ভদ্র একটা রূপ দিয়ে প্রচার করেছিল।

৩.
এতক্ষণ ছিল ভূমিকা, এবার আসল কথায় আসি! পৃথিবীর বড় বড় মনীষী মিলে সারা পৃথিবীর মাঝে একটা সমন্বয় করেছেন, সেটাকে নানাভাবে ভাগ করেছেন। একটা ভাগের নাম দ্রাঘিমাংশ। পৃথিবীটা গোলাকার, গোলাকার বৃত্তের কেন্দ্রে মোট কোণের পরিমাণ ৩৬০ ডিগ্রি। ৩৬০ ডিগ্রি হচ্ছে চারটি সমকোণ, প্রত্যেকটি সমকোণ হচ্ছে ৯০ ডিগ্রি, কাজেই পৃথিবীর ওপর চারটি সমকোণের ওপর দিয়ে চারটি দ্রাঘিমারেখা চলে গেছে। ০ ডিগ্রির দ্রাঘিমারেখাটা গেছে গ্রিনিচের ওপর দিয়ে, (সে জন্য আমরা কথায় কথায় বলি গ্রিনিচের সময়!) এর পরের সমকোণটি হচ্ছে ৯০ ডিগ্রি, আমাদের দেশের অনেকেই হয়তো জানেন না, এই ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাটি ঠিক বাংলাদেশের ওপর দিয়ে চলে গেছে। (আমার একটা জিপিএস আছে আমি সেটা দিয়ে এই ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা খুঁজে বের করেছি—যতবার আমি সেটা অতিক্রম করি, আমি আনন্দের একটা শব্দ করি। মানিকগঞ্জের চৌরাস্তার মোড় থেকে উত্তর-দক্ষিণে যে রাস্তাটা গেছে সেটা প্রায় ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা দিয়ে গেছে!)
৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখার একটা খুব বড় গুরুত্ব আছে—সেটা হচ্ছে গ্রিনিচের সময় থেকে এর পার্থক্য হচ্ছে কাঁটায় কাঁটায় ছয় ঘণ্টা। ভারত, পাকিস্তান বা মিয়ানামার তাদের ঘড়ি একটু এদিক-সেদিক করতে পারে, তাতে পৃথিবীর সৌন্দর্যের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। কিন্তু যে দেশের ওপর দিয়ে ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাটি গেছে সেই দেশ যদি তাদের সময়টি গ্রিনিচের সময় থেকে ঠিক ছয় ঘণ্টা পরে নির্ধারণ না করে তাহলে তারা যে কাজটি করবে সেটা আমার চোখে একটা অনেক বড় অপরাধ। পৃথিবীর বড় বড় মনীষী মিলে সারা পৃথিবীকে একটা নিয়মনীতির মাঝে এনেছেন, কয়েকজন খামখেয়ালি মানুষ মিলে আমাদের দেশকে সারা পৃথিবীর নিয়মনীতি থেকে সরিয়ে উদ্ভট একটা জায়গায় নিয়ে যাবেন, সেটা কোনোমতে মেনে নেয়া যায় না।
যাঁরা এ সিদ্ধান্তগুলো নেন, তাদের কাছে আমি হাত জোড় করে অনুরোধ করি, এ দেশের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের বড় বড় প্রফেসরকে ডেকে একটিবার তাদের সঙ্গে কথা বলে নিন। তাদের জিজ্ঞেস করে দেখুন ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা যে দেশের ওপর দিয়ে গেছে গ্রিনিচ সময় থেকে সাত ঘণ্টা পরে সময় নির্ধারণ করার কোনো নৈতিক অধিকার সেই দেশের আছে কি না। আমরা স্কুলের বাচ্চাদের শেখাই ২৪ ঘণ্টা সময়টি কেমন করে সারা পৃথিবীতে ভাগ করে দেয়া হয়েছে, খুব জোর গলায় বলি, প্রতি ৯০ ডিগ্রি হচ্ছে ছয় ঘণ্টা সময়। আমাদের কিছু খামখেয়ালি মানুষের কারণে আমরা আমাদের স্কুলের বাচ্চাদের এই বিষয়টি আর বলতে পারছি না!

৪.
আমি যে প্রফেসরের সঙ্গে পিএইচডি করেছি তিনি আমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখিয়েছিলেন। তার একটি হচ্ছে, ‘যদি কোনো কিছু কাজ করে তাহলে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করো না!’ অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়াটি এবার আমরা মোবাইল টেলিফোনের এসএমএস দিয়ে করে ফেলেছি। এটা করার জন্য যে ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছিল, সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যখন দেখতে পেলাম ঠিক ঠিক কাজ করছে তারপর আমরা একবারও সেটাতে হাত দিইনি! কেউ কেউ সেটাকে আরেকটু সংস্কার করার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন, আমি সেটা করতে দিইনি—আমি আমার প্রফেসরের আপ্তবাক্য স্মরণ রেখেছি যেটা কাজ করছে সেটাকে ঠিক করার চেষ্টা করতে হয় না। আমার ধারণা, সে কারণে আমরা একটিবারও কোনো সমস্যায় পড়িনি।
আমার প্রফেসর আমাকে আরেকটা জিনিস শিখিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ‘তুমি তোমার ঘোড়াকে নিয়ে কেরদানি করতে চাও কর—আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেই কেরদানি করতে গিয়ে যদি তোমার ঘোড়া মারা যায় তাহলে খবরদার ঘোড়ার মৃতদেহ নিয়ে টানাহেঁচড়া করবে না—দ্রুত সেটাকে মাটিতে পুঁতে ফেলবে।’
ঘড়ির কাঁটা নিয়ে যারা কেরদানি করেছেন তাদের জানতে হবে ঘড়ির কাঁটা নামক এ ঘোড়াটা মারা গেছে। এর মৃতদেহটি নিয়ে টানাহেঁচড়া করে কোনো লাভ নেই—এখন এটাকে মাটিতে পুঁতে ফেলার সময় হয়েছে।
যদি সেটা না করা হয়, তাহলে সেটা পচে-গলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াবে, আর কোনো লাভ হবে না।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকায় ইউএস ট্রেড শো আগামী ফেব্রুয়ারিতে

ঢাকায় ২০১০ সালের ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ইউএস ট্রেড শো শীর্ষক এক মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন পণ্য ও সেবার তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা শেরাটন হোটেলে।
চলতি ২০০৯ সালেও একই জায়গায় অনুষ্ঠিত হয় ইউএস ট্রেড শো। এতে ৬০টি স্টল অংশ নেয়, যারা আমেরিকার দেড় শতাধিক কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।
যারা এ মেলায় মার্কিন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করতে আগ্রহী তাদের অ্যামচেমের ঢাকা শেরাটন হোটেলের ৩১৯ নম্বর রুমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যোগাযোগের ফোন নম্বর— ৮৩৩০০০১, ৮৩৫৮০৬০, ফ্যাক্স:৯৩৪৯২১৭; ইমেইল: amcham@cmchambd.org

ধর্মঘট কাম্য ছিল না -ওষুধের দোকানে অভিযান

ওষুধের দোকানে অভিযানের ঘটনায় শনিবার ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে যে ধর্মঘট হয়ে গেল, তা আমাদের সামনে কিছু প্রশ্ন ও বিষয় তুলে এনেছে। প্রথমত, কোনো অভিযান হলেই কি ধর্মঘট করে তার প্রতিবাদ জানাতে হবে, বিশেষ করে ওষুধের মতো একটি জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী সামগ্রীর বিক্রি বন্ধ রেখে? একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ত্রুটি এবং ওষুধ প্রশাসনের দায়িত্ব পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু গলদও স্পষ্ট হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় র্যাব চট্টগ্রামে একটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে কিছু ওষুধ আটক এবং দোকানের তিনজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। ব্যস, এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার থেকেই পাইকারি ওষুধের দোকানে ধর্মঘট শুরু হয়ে যায়। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে শনিবার ঢাকায়ও ধর্মঘট হয়ে গেল। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, কোনো জব্দতালিকা ছাড়াই অভিযান পরিচালনাকারী র্যাবের সদস্যরা দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তাই বলে সারা দেশে দোকান বন্ধ করে দিতে হবে? যদি কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, এর প্রতিকার চাওয়ার কি অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না? সরকারের সঙ্গে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে দেনদরবার করার ক্ষমতা কি সমিতি হারিয়ে ফেলেছে? যদি সেটা না হয়ে থাকে, তবে শুরুতেই ধর্মঘটের মতো পদক্ষেপ কেন? আর ওষুধ ব্যবসায়ীরা কি এ নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে, সব ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন বা আমদানি-নিষিদ্ধ ওষুধ কেউ বিক্রি করেন না। ওষুধের বাজারে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে সমিতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং এ জন্য জনগণের যে দুর্ভোগ হলো, এর দায়ভার মূলত তাদেরই নিতে হবে।
তবে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে চাই। যথাযথ তালিকা না করে যদি ওষুধ জব্দ করা হয়ে থাকে, সেটা কেন হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি। আমরা মনে করি, ওষুধ একটি সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত পণ্য। এ ক্ষেত্রে যাঁরা কোনো অভিযানে যাবেন, তাঁদের সেই বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থাকতে হবে। র্যাবের এ অভিযানে ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন ড্রাগ সুপারও নেতৃত্বে ছিলেন। ফলে এ অভিযানে কোনো নিয়মবহির্ভূত কাজ হয়ে থাকলে এর দায় ওষুধ প্রশাসনকেও নিতে হবে।
কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি জানিয়েছে, প্রতিবছর বাজারে নতুন ওষুধ আসছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সে তালিকা হালনাগাদ করা হয় না। সমিতির এ অভিযোগের দায় সরকার এড়াতে পারে না। বাজারে নতুন ওষুধ আসবে এবং তা হালনাগাদ করা জরুরি। সেটা করা না গেলে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সময় বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সমিতি জানিয়েছে, চিকিত্সকেরা তাঁদের ব্যবস্থাপত্রে যেসব ওষুধ দিয়ে থাকেন, তারা সে অনুযায়ী ওষুধ আমদানি ও বিক্রি করে থাকে। বিষয়টি নিশ্চয় তাই। কারণ, চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্রের ওপর ভিত্তি করেই দোকানে ওষুধ খুঁজতে আসে ক্রেতারা। এখন চিকিত্সক যদি এমন ওষুধের নাম লিখে থাকেন যা আমদানি-নিষিদ্ধ, তবে তো বুঝতে হবে, পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় গলদ রয়েছে।
আমরা পুরো বিষয়টির ব্যাপারে সরকার ও ওষুধ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

ইলেকট্রনিক মাধ্যমের জন্য আইন প্রয়োজন -দশ টিভি চ্যানেলের অনুমোদন

সরকার সম্প্রতি ১০টি নতুন টিভি চ্যানেলের প্রাথমিক অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ নেতিবাচক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হচ্ছে। এর মূল কারণ, অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়াটি মোটেও স্বচ্ছ নয়। যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এসব অনুমতি পেয়েছেন, তাঁরা কী কী যোগ্যতায় পেয়েছেন, আর যাঁরা আবেদন করেও পাননি, তাঁরা কী অযোগ্যতার কারণে পাননি—এসবের কোনো কিছুই পরিষ্কার নয়।
তবে এটা মোটামুটি পরিষ্কার, যাঁদের বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেই বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের ঘনিষ্ঠ লোকজন, মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয়, সাংসদ, সরকারি দলের অনুগ্রহভাজন ব্যক্তি/ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। ১৯৯৮ সালে তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া-সংক্রান্ত যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল, তাতে বলা হয়েছিল, ‘বেতার, টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বেসরকারি মালিকানায় আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরখাস্ত আহ্বান করা যেতে পারে।’ এবং সরকারের গঠিত একটি কারিগরি উপকমিটি পেশাগত ও কারিগরি মান নির্ধারণ করবে, যা একটি জাতীয় রেগুলেটরি অথরিটি কর্তৃক অনুমোদিত হবে। সে নীতিমালাটি এখনো আছে, বাতিল করা হয়নি। ১০টি নতুন চ্যানেলের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সে নীতিমালায় উল্লিখিত কোনো বিধান অনুসরণ করা হয়নি, না বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দরখাস্ত আহ্বান, না কারিগরি উপকমিটি করে আবেদনকারীদের পেশাগত ও কারিগরি মান নির্ধারণ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী কী যোগ্যতার ভিত্তিতে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিভি চ্যানেলের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উত্তর পাওয়া যায়নি। ওয়াকিবহাল মহলে বলাবলি চলছে, সরকারের উচ্চমহলের নির্দেশে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মনে পড়ছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও ঠিক একইভাবে শুধু নিজ দলীয় লোকজনকে টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অস্বচ্ছ, অন্যায্য, স্বৈরতান্ত্রিক সেই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি দিনবদলের অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে মোটেও প্রত্যাশিত ছিল না।
পেশাগত যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা এবং আর্থিক ও কারিগরি সামর্থ্য যাচাই না করে শুধু রাজনৈতিক আনুগত্যের বিবেচনায় এবার যাদের টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, একটি দৈনিকে খবর বেরিয়েছে, তাঁদের কেউ কেউ এখন অর্থলগ্নিকারী খুঁজছেন। তাহলে বিষয়টি দাঁড়ায় অনেকটা লাইসেন্স-পারমিট বিক্রি করার মতো। এভাবে শক্তিশালী পেশাদার ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম গড়ে ওঠা সম্ভব নয়, বরং শিল্পটি কলুষিত হবে, নানা অনৈতিক চর্চার কারণে বেসরকারি টিভি মাধ্যম একটি সুস্থ শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে বাধাপ্রাপ্ত হবে।
মুদ্রণ মাধ্যম বা প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট রয়েছে, সেখানে প্রকাশনার ডিক্লারেশন বা অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা নিয়মনীতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে; স্রেফ সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না কে ডিক্লারেশন পাবেন, কে পাবেন না। আইনের শর্তাবলির দ্বারাই তা নির্ধারিত হয়। সব যোগ্যতা নিয়ে আবেদন করার পরেও যদি কাউকে ডিক্লারেশন না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও এমনটিই হওয়া বাঞ্ছনীয়। সে জন্য একটি আইন বা নিদেনপক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান প্রণয়নের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণবাদী -চীন

১৯৯৮ সালে খেলেছেন প্রথম বিশ্বকাপ এবং সেটি উদ্যাপন করেন জয় দিয়ে। ২০০০ সালে তাঁর গোল্ডেন গোলে ইতালিকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে ফ্রান্স। ২০০৪ সালে জায়গা পেয়েছেন জীবিত গ্রেট ফুটবলারদের ১২৫ জনের তালিকায়। ২০০৬ সালে পেয়েছেন জুভেন্টাসের পক্ষে ১২৫ গোল করার স্মারক। ডেভিড ত্রেজেগের ক্যারিয়ারে পরশু যোগ হলো আরেকটি সোনালি অধ্যায়। সিরি ‘আ’তে আটালান্টার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের পঞ্চম গোলটি করে ফরাসি স্ট্রাইকার ছুঁয়ে ফেলেছেন জুভেন্টাসের পক্ষে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড।
জুভেন্টাসের সাদা-কালো জার্সি গায়ে এই নিয়ে ত্রেজেগের গোল হয়ে গেল ১৬৭টি। এর আগে জুভেন্টাসের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকার শীর্ষে ছিলেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ওমর সিভোরি। ১৯৬১ সালে ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতা সিভোরি জুভেন্টাসের হয়ে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ৮ বছর।
আর্জেন্টিনার পাতানেস এবং মোনাকো ঘুরে ত্রেজেগে জুভেন্টাসে যোগ দেন ২০০০ সালে। সেই থেকেই আছেন জুভেন্টাসের সুখে-দুঃখে। ঘর-বাড়ি বানিয়ে ফেলা দলের হয়ে এমন কীর্তি গড়তে পেরে মহা আনন্দিত ত্রেজেগে, ‘এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরে খুব খুশি আমি। জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তি করার সময় ভাবতেই পারিনি কখনো এটা করতে পারব।’

ত্রেজেগের রেকর্ড

১৯৯৮ সালে খেলেছেন প্রথম বিশ্বকাপ এবং সেটি উদ্যাপন করেন জয় দিয়ে। ২০০০ সালে তাঁর গোল্ডেন গোলে ইতালিকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে ফ্রান্স। ২০০৪ সালে জায়গা পেয়েছেন জীবিত গ্রেট ফুটবলারদের ১২৫ জনের তালিকায়। ২০০৬ সালে পেয়েছেন জুভেন্টাসের পক্ষে ১২৫ গোল করার স্মারক। ডেভিড ত্রেজেগের ক্যারিয়ারে পরশু যোগ হলো আরেকটি সোনালি অধ্যায়। সিরি ‘আ’তে আটালান্টার বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানে জয়ের পঞ্চম গোলটি করে ফরাসি স্ট্রাইকার ছুঁয়ে ফেলেছেন জুভেন্টাসের পক্ষে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড।
জুভেন্টাসের সাদা-কালো জার্সি গায়ে এই নিয়ে ত্রেজেগের গোল হয়ে গেল ১৬৭টি। এর আগে জুভেন্টাসের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকার শীর্ষে ছিলেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার ওমর সিভোরি। ১৯৬১ সালে ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতা সিভোরি জুভেন্টাসের হয়ে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ৮ বছর।
আর্জেন্টিনার পাতানেস এবং মোনাকো ঘুরে ত্রেজেগে জুভেন্টাসে যোগ দেন ২০০০ সালে। সেই থেকেই আছেন জুভেন্টাসের সুখে-দুঃখে। ঘর-বাড়ি বানিয়ে ফেলা দলের হয়ে এমন কীর্তি গড়তে পেরে মহা আনন্দিত ত্রেজেগে, ‘এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পেরে খুব খুশি আমি। জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তি করার সময় ভাবতেই পারিনি কখনো এটা করতে পারব।’

ফাইনালে জোকোভিচকে পেলেন ফেদেরার

রজার ফেদেরারের বাল্যবন্ধু, কিন্তু টেনিস-বিশ্বে মার্কো চিউডিনেলির কোনো নামডাক নেই। সেই অখ্যাত চিউডেনেলি কিন্তু পরশু সুইস ইনডোরে ঘাবড়ে দিয়েছিলেন বিখ্যাত বন্ধু ফেদেরারকে। টাইব্রেকারে গড়ানো প্রথম সেটটা ঘাম ঝরিয়েই জিততে হয়েছে এক নম্বর তারকাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৭-৬ (৯/৭), ৬-৩ গেমে জিতে নিজের ঘরের এই টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ ফাইনালে উঠে গেছেন ফেদেরার।
ফাইনালে ফেদেরারের প্রতিপক্ষ নোভাক জোকোভিচ। সেমিফাইনালে এই সার্বিয়ানকেও ঘাম ঝরাতে হয়েছে রাদেক স্তেপানেকের বিপক্ষে। টাইব্রেকারে প্রথম সেট হারার পর দ্বিতীয় সেটেও একটু হলেই হেরে ফাইনালে ওঠার আশাই শেষ হতে বসেছিল তাঁর। টানা তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেট তো বটেই, ৬-৭ (৪/৭), ৭-৫, ৬-২ গেমে ম্যাচটাও জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় বাছাই।
ফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে চাপের মুখে জোকোভিচের ঘুরে দাঁড়ানোর এই দৃঢ় মানসিকতাকেই ভয় পাচ্ছিলেন ফেদেরার, ‘জোকোভিচ বেশ নিখুঁত টেনিস খেলছে। এই সপ্তাহেই দু-দুটো কঠিন ম্যাচে ও মাথা ঠান্ডা রেখে জিতেছে। সাধারণত আমরা মুখোমুখি হলে ম্যাচটা কঠিনই হয়। নির্দিষ্ট দিনে যে ভালো খেলে সে-ই জেতে।

বদলাবেন না আফ্রিদি

প্রথম ম্যাচে ৫০ বলে ৭০, পরের ম্যাচে প্রথম বলেই আউট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের পারফরম্যান্সই যেন ব্যাট হাতে শহীদ আফ্রিদির পুরো ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। ম্যাচের পরিস্থিতি, দলের অবস্থা যা-ই হোক ব্যাট হাতে মাঠে নামলে আফ্রিদির মন্ত্র বরাবরই একটাই—আক্রমণ। এখন তিনি ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক, ম্যাচ খেলেছেন ২৮৭টি, বয়সও ত্রিশ হতে চলল। দায়িত্ব কি তবে বদলে দেবে আফ্রিদির ব্যাটিংয়ের ধরন? ওয়ানডের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান বলেছেন, অভিজ্ঞতা-দায়িত্ব সবই ঠিক আছে, কিন্তু নিজের ব্যাটিংয়ের ধরন বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করবেন না তিনি।
যাঁরা আফ্রিদির ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ের ভক্ত, তাঁরা জেনে খুশিই হবেন যে খেলার ধরন তিনি বদলাতে চান না, ‘আমি ঝুঁকি নিয়ে খেলতে ভালোবাসি, এটাই আমার ধরন। আমি আমার খেলার ধরন বদলাব না। লোকের উচিত তাদের চিন্তাভাবনা, মানসিকতায় পরিবর্তন আনা।’ তাঁর মেজাজ কখনো কখনো দলের বিপদ ডেকে আনে, এটা অবশ্য মেনে নিয়েছেন আফ্রিদি। কেন এটি বদলাতে পারবেন না, দিয়েছেন সেটির ব্যাখ্যাও, ‘এটা আমার রক্তে মিশে আছে। ‘পাখতুন’দের জন্য উগ্র মেজাজটা স্বভাবজাত, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই শান্ত হয়ে আসে। উগ্র মেজাজের কারণে জীবনে খারাপ অনেক কিছুই ঘটে যায় এবং এটা থেকে শিক্ষা নিতে হয়। কিছু লোক দ্রুত শেখে, কিছু শেখে সময় নিয়ে। আমিও সময় নিতে চাই।’
তাঁর দৃষ্টিতে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডেও পাকিস্তানের মতো অবস্থা। অথচ অন্য দলগুলো ওই দেশগুলোয় খেলতে গেলেও পাকিস্তানে আসতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক, ‘পাকিস্তানে ধর্মের পর ক্রিকেটই সবকিছু। ক্রিকেটকে পাকিস্তানিরা পাগলের মতো পছন্দ করে এবং চায় দলগুলো পাকিস্তানে আসুক। আমরাও এটাই চাই।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সও যেন আফ্রিদির মতোই। প্রথম ম্যাচে বিশাল জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বড় পরাজয়। আজ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তান তাই তাকিয়ে থাকবে আফ্রিদির দিকেই।

রুনির মূল্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড

মাঠের লড়াইয়ে আর যা-ই হোক, রেকর্ড মূল্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কিনে ফুটবল-বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্যটা ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের দেখানো পথেই এবার এই অঙ্গনে রিয়ালের আধিপত্য ভাঙতে চায় বার্সা। নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ট্যাবলয়েডের খবর, রোনালদোর ৮০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের চেয়ে ৫ মিলিয়ন ইউরো বেশি দিয়ে একজন ফুটবলার কিনে বার্সা তাঁকে বানাতে চায় ‘বাণিজ্যিক হাতিয়ার।’ কাতালানদের সেই কাঙ্ক্ষিত ফুটবলারের নাম ওয়েইন রুনি।
ট্যাবলয়েডটির খবর অনুয়ায়ী, সম্প্রতি বার্সার বোর্ড সভায় আলোচনা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার দলে থাকলে বাণিজ্যে রিয়ালের সমতায় আসা যাবে। আগামী গ্রীষ্মে তাই রুনির জন্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড টোপ দিতে যাচ্ছে স্প্যানিশ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। তবে এই চোখ কপালে তোলা মূল্যেও ইংলিশ স্ট্রাইকারকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে আছে বার্সা। কারণ যতটা না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ বা স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, এর চেয়ে বেশি রুনি নিজেই। ২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বেশ কয়েকবারই প্রকাশ্যে বলেছেন, ক্যারিয়ারটা শেষ করতে চান ওল্ড ট্রাফোর্ডেই।

বায়ার্নের দুঃসময় আর কাটছে না

বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগা জিতেছে সর্বোচ্চ ২১ বার, চ্যাম্পিয়নস লিগ ৪ বার। শালকে জিরো ফোর বুন্দেসলিগা জিতেছে মাত্র ৭ বার, চ্যাম্পিয়নস লিগ একবারও নয়। কিন্তু বুন্দেসলিগায় পরশু শালকে জিরো ফোর আর বায়ার্নের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। দুই দলের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে।
জার্মানির সফলতম দলটির এবার বেশ খারাপ অবস্থা। লিগের ১২ ম্যাচ শেষে ৮ নম্বরে থাকা বায়ার্ন মাত্র ৫টিতে জিতেছে, ড্র করেছে ৫টিতে।
নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা বাযার্ন এদিন ৩১ মিনিটে ফন বাইতেনের গোলে এগিয়ে গিয়েও লিডটা ধরে রাখতে পারেনি। ১২ মিনিট পরই শালকে সমতায় ফেরে জোয়েল মাতিপের গোলে। কোচ লুইস ফন গল দলের পারফরম্যান্সে একটু বিরক্ত, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল শালকেকে হারানো। কিন্তু সেটা হয়নি। অনেক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। এই ধারাটা বদলাতে হবে।’ তবে শালকে কোচ ফেলিক্স মাগাথ বায়ার্নকে রুখতে পেরে খুশি, ‘ফল এবং পারফরম্যান্স দুটিতেই আমি খুব খুশি।’
আনন্দে ভাসছেন আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও। জুবার, ফ্যাব্রিগাস, আরশাভিনের গোলের সঙ্গে ক্রাডকের আত্মঘাতী গোল মিলিয়ে উলভারহ্যাম্পটনকে ৪-১-এ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে উঠে গেছে আর্সেনাল। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি কোচ মার্ভ হিউজের মনে আনন্দ নেই। লিগে টানা পঞ্চম ড্র করেছে তাঁর দল। পরশুর ড্রটি বার্নলির সঙ্গে (৩-৩)।
২-০-তে পিছিয়ে পড়েও ড্র করে খুশি হওয়াই উচিত ছিল হিউজের। কিন্তু খুশি নন তিনি এক সময় জয়ের আশা জেগে ওঠাতেই। আলেক্সান্ডার ও ফ্লেচার ৩২ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে এগিয়ে দেন বার্নলিকে। পরে শন রাইট-ফিলিপসের (৪৩) ও তোরের (৫৫) গোলে তা হয়ে যায় কাটাকাটি। পরে ৫৮ মিনিটে বেলামির গোলে এগিয়ে গিয়েও অগ্রগামিতা ধরে রাখতে পারেনি সিটি। ম্যাচ শেষের ৩ মিনিট আগে ম্যাকডোনাল্ডের গোলে ম্যাচ ড্র করে ফেলে বার্নলি।
সিরি ‘আ’র পরশুর দিনটি ছিল ফরাসি স্ট্রাইকার ডেভিড ত্রেজেগের। আটালান্টার বিপক্ষে জুভেন্টাসের ৫-২ গোলের জয়ে একটি গোল তাঁর। এই গোলেই ছুঁয়েছেন ব্যক্তিগত এক মাইলফলক।

পন্টিংদের জন্য বিশাল বোনাস

অ্যাশেজ খুইয়ে বসা কিংবা টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নেমে যাওয়া চার নম্বরে—অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা দ্রুতই কাটিয়ে উঠছে রিকি পন্টিংয়ের দল। অ্যাশেজের পর ইংল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে ৬-১ ব্যবধানে হারানোর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়, সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা অস্ট্রেলিয়া টেনে নিল ভারতেও।
এমন সময় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের জন্য আনন্দের সংবাদ দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। অনুমিত ধারণার চেয়ে গত ৪ বছরে বেশি আর্থিক লাভ করায় ক্রিকেটারদের বিশাল অঙ্কের বোনাস ঘোষণা করেছে বোর্ড। পাশাপাশি বেতনও বাড়ছে তাঁদের। কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ২৫ জন ক্রিকেটার বছরে মোট ২ কোটি ৩ লাখ ডলার বেতন পাবেন। গড়ে প্রত্যেকের কামাই হবে ১০ লাখ ডলার করে। তবে তাঁদের মধ্যে পন্টিং পাবেন সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি থাকছে বোনাস।
শুধু কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররাই নন, রাজ্য পর্যায়ে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররাও এই বোনাস পাচ্ছেন। যাঁদের কারও কারও বোনাসের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত। বিগত ৪ বছরের এই আয় থেকে বোনাস দেওয়া হচ্ছে বলে ২০০৫ সাল থেকে চুক্তিবদ্ধ সব ক্রিকেটার বোনাস পাচ্ছেন তাঁদের মোট আয়ের ১৬ শতাংশ। অর্থাত্ শেন ওয়ার্ন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট আর জাস্টিন ল্যাঙ্গারদের মতো সাবেক ক্রিকেটাররাও পাচ্ছেন বোনাস। ২০০৬-০৭ অ্যাশেজের মাঝপথে টেস্ট ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া ডেমিয়েন মার্টিনও পাচ্ছেন কমপক্ষে ১ লাখ ডলার।
২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) সঙ্গে সিএর চুক্তি হওয়ার সময় ধারণা করা হয়েছিল, বোর্ডের সম্ভাব্য আয় হবে ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ভারতের ক্রিকেট বাজার দ্রুত বিকশিত হওয়ায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বেশি আয় করেছে সিএ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটাররা সিএর সম্ভাব্য মোট আয়ের ২৫ শতাংশ পেয়ে থাকেন। অনুমিত অঙ্কের চেয়ে আয় বেশি হলে বাড়তি বোনাস দেওয়া হয়। কম হলে অবশ্য টাকা ফেরত দিতে হয় না। যদিও পরের বছর থেকে তাঁদের বেতন কমানো হয়।
সিএর বিশাল অঙ্কের বোনাস ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত এসিএর প্রধান নির্বাহী পল মার্শ বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে খেলাটি যে এত ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে তার কৃতিত্ব ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আর খেলোয়াড়দের। সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় প্রকৃত আয় বেশি হওয়ায় তাদের এই বোনাস দেওয়া হচ্ছে।’
পন্টিংরাও নিশ্চয়ই খুশি হবেন। পন্টিংয়ের খুশি হওয়ার বাড়তি কারণ, আগের দিনই তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, টি-টোয়েন্টির টাকার ছড়াছড়িতে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ ক্রিকেটাররা না জাতীয় দলের চেয়ে আইপিএলের মতো বেসরকারি লিগগুলোয় বেশি আকৃষ্ট হয়। ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ আর আইপিএল থেকে বড় অঙ্কের টাকা আসায় তরুণ কিছু ক্রিকেটারের মনোভাব দেখে আমি উদ্বিগ্ন। আশা করি, পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আমার মতোই জাতীয় দলে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকবে। আমি নিজে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছেড়ে দিয়েছি যেন আগামী কয়েক বছরে আমি ৫০ ওভার আর টেস্ট ক্রিকেটটা ভালো খেলতে পারি’—বলেছেন পন্টিং।

মুখোমুখি দুই খান

ভারতে খান সাহেবদের রাজত্ব চলছে সগৌরবে। শাহরুখ, আমির, সালমান—বলিউডের শীর্ষ তিন তারকাই খান বংশের। তবে সব খানদের অহং ‘খান খান’ করে দৃশ্যপটে ১২ বছর বয়সী এক খান। নাম যার সরফরাজ। কদিন আগে ভারতের স্কুল ক্রিকেটে ৪৩৯ রানের রেকর্ড ইনিংস গড়ে খানদের মধ্যে আপাতত এই খানই সবচেয়ে আলোচিত!
পরশু ছোট্ট খান মুখোমুখি হলো বড় খানের। রিজভি স্প্রিংফিল্ড হাইস্কুলের এই কিশোরকে বান্দ্রায় নিজের বাড়ি মান্নাতে ডেকে নিয়েছিলেন শাহরুখ। সরফরাজে এতটাই মুগ্ধ কিং খান, তাকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্যাম্পে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন। কথা দিয়েছেন, সরফরাজের জন্য তাঁর সহযোগিতার দুয়ার খোলা থাকবে সব সময়।
একটা ইনিংস জীবনটাই পাল্টে দিয়েছে সরফরাজের। তাঁর পেছন পেছন এখন ছুটছে সাংবাদিক, ক্যামেরা। ওই একটা ইনিংসের কারণেই পর্দার নায়কটা জলজ্যান্ত, স্পর্শের দূরত্বে ধরা দিয়েছে তার কাছে। সরফরাজ নিজেও তাই শাহরুখের দেখা পেয়ে মুগ্ধ, ‘তিনি বলেছেন, আমি কেকেআরের ক্যাম্পে যেতে পারব। দাদা (সৌরভ গাঙ্গুলী) আর রিকি পন্টিংয়ের কাছ থেকে শিখতে পারব। আইপিএল চলার সময় কেকেআরের খেলা দেখারও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।’
শাহরুখ ভালো পরামর্শও দিয়েছেন তাকে, ‘তিনি আমাকে খেলাটাকে উপভোগ করতে বলেছেন। যত সম্ভব রান করতে বলেছেন। উনি কীভাবে ক্রিকেট খেলতেন সেই গল্প বলেছেন। বলেছেন, ছেলেবেলায় তিনি এতটাই শুকনো আর খাটো ছিলেন, থাই প্যাডটাই চেস্ট গার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারতেন। তাঁর কোচ তাঁকে কীভাবে গালিগালাজ করতেন সেটিও বলেছেন।’
সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র তাঁর দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন শাহরুখের সঙ্গে দেখা করতে। শাহরুখ নিজে এই সাক্ষাতের জন্য আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছেন কেকেআরের প্রতিভা অন্বেষণ উইংয়ের প্রধান মাকরান্দ ওয়েঙ্গাঙ্কার।

ইনজুরি সত্ত্বেও বসনিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচে ডাক পেয়েছেন রোনালদো

ইনজুরি সত্ত্বেও রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বসনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফ ম্যাচে খেলার জন্য পর্তুগাল দলে ডাক পেয়েছেন। গতকাল রোববার পর্তুগালের কোচ কার্লোস কুইরোজ ২৩ সদস্যর দলের নাম ঘোষণা করে।
আগামী ১৪ ও ১৮ নভেম্বর বসনিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের প্লে-অফ ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। এই ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় রোনালদোর দলের বিশ্বকাপে খেলার ভবিষ্যত।
রোনালদো ইনজুরির কারণে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত সাতটি ম্যাচ খেলতে পারেনি। এ অবস্থায় কোচ কুইরোজ বলেছেন জাতীয় দলের ডা. রোনালদোর ইনজুরি পরীক্ষা করে যে সিদ্ধান্ত দেবেন তার ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

ম্যাককালামের ব্যাটে শুরুটা ভালই করেছে নিউজিল্যান্ড

পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যেকার তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট করছে নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির পর আজও ম্যাককালামের হাফ সেঞ্চুরিতে শুরুটা ভালই করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ২২ ওভারে দুই উইকেটে ১২০ রান। ম্যাককালাম ৬৭ বলে ৭১ ও টেইলর ১৬ বলে ১১ রান। আউট হয়েছেন রেমন্ড (২১) ও গাপটিল (৮)। ওমর গুল ও সাঈদ আজমল একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কাম কোচ ডেনিয়েল ভেট্টরি দুবাইয়ের শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ও দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয় পাওয়ায় আজকের ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

ভালো শুরুর পরও আজমলের বোলিংয়ে বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ড

তৃতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের করা ২১২ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে পাকিস্তান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ৪ ওভারে ২৬ রান। ব্যাট করছেন সালমান বাট ৯ (১৪) ও খালিদ লতিফ ১৫ (১০)।
এর আগে ম্যাককালামের দুর্দান্ত শুরুর পরও স্পিনার সাঈদ আজমলের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ৩৯ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ পর ৪৬ ওভার তিন বলে ২১১ করতেই সব উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। আর এটা সম্ভব হয়েছে আজমলের স্পিন ঘূর্ণিতে। আজমল ভেট্টরি, ওরাম, টেইলর ও ব্রুমকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। আজমল ১০ ওভারে ৩৩ রানে নেন ৪ উইকেট। পেস বোলার মো. আমের ৪১ রানে নেন দুই উইকেট। এছাড়াও গুল, আফ্রিদি ও শোয়েব মালিক একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কাম কোচ ডেনিয়েল ভেট্টরি দুবাইয়ের শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দুই ওপেনার ম্যাককালাম ও রেডমন্ড ১১ ওভার দুই বলে দলের রান নিয়ে যান ৭২ এ। এর পরের বলেই ওমর গুলের বলে রেডমন্ড আউট হলেও রানের চাকা সচল রাখেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাককালাম। গাপটিল দ্রুত আউট হলেও তৃতীয় উইকেটে টেইলর ও ম্যাককালাম দলের রান নিয়ে যান ২৬ ওভার দুই বলে ১৩৮। এরপরের বলে ৭৮ বলে ৭৬ রান করা ম্যাককালামকে দলীয় ১৩৮ রানেই ফেরান শোয়েব মালিক। এরপর টেইলর কিছুটা চেষ্টা করলেও ৩৮ ওভার তিন বলে আজমলের স্পিনে টেইলরের (৬৯ বলে ৪৪ রান) বিদায়ের পরে নিউজিল্যান্ড আর দাড়াতে পারেনি।
প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ও দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জয় পাওয়ায় আজকের ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে পরিণত হয়েছে।